সারাদেশ

রবিবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম বন্দর। এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ না হলে আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সংগঠনটির এক জরুরি সভায় এই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে সচল হওয়ার একদিন পরই আবারও অচল হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর।


​সংগঠনটির নেতা এ এম নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নেতারা অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আলোচনার পর রমজান মাস ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনা করে শ্রমিকরা দুদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছিলেন। উপদেষ্টা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

​নেতারা বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ১৫ জন শ্রমিকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও তাদের সম্পদ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। স্কপের দাবি, এটি নৌপরিবহণ উপদেষ্টার নির্দেশেই করা হয়েছে।


এই পদক্ষেপকে ‘অনৈতিক ও গর্হিত’ আখ্যা দিয়ে স্কপ নেতারা বলেন, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কিংবা সম্পদ তদন্তের হুমকিতে শ্রমিকরা ভীত নন। বরং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নৌ উপদেষ্টা, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বন্দর চেয়ারম্যানের সম্পদের হিসাব নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

​বক্তারা আরো সতর্ক করে বলেন, এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দমনে যেকোনো হয়রানিমূলক পদক্ষেপ প্রতিহত করা হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ যা করছে, তা নিতান্তই আগুন নিয়ে খেলার শামিল।


জানা যায়, শ্রমিকদের টানা কর্মসূচিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় ১৫ শ্রমিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদককে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক চিঠিতে এই আবেদন করা হয়। চিঠিতে মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকনসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে, যাদের অনেককে ইতিমধ্যে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।
​সভা থেকে দাবি জানানো হয়, আগামীকালের (শনিবার) মধ্যে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়কে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বদলি ও হয়রানিমূলক কার্যক্রম প্রত্যাহার করতে হবে।


অন্যথায় রবিবার থেকে বন্দরে সর্বাত্মক ও লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হবে।
​ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, এস কে খোদা তোতন, মো. হারুন, তসলিম হোসেন সেলিম ও ফজলুল কবির মিন্টুসহ প্রমুখ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ধানের ক্ষেতে ফুটে উঠল স্মৃতিসৌধ, দেশপ্রেমে মুগ্ধ সবাই

  কুড়িগ্রামের উলিপুরে ধানক্ষেতে জাতীয় স্মৃতিসৌধের নকশা ফুটিয়ে তুলে আলোচনায় এসেছেন এক স্কুলশিক্ষক। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সি মানুষ।   ওই শিক্ষক জাফর সাদিক। তিনি উলিপুর পৌরশহরের পুব নাওডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এবং উলিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।   চলতি বোরো মৌসুমে নিজস্ব প্রায় ১৭ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করছেন জাফর সাদিক। এর মধ্যে ব্রি ধান-১১৩ জাতের ক্ষেতে বেগুনি রঙের ধানের চারা ব্যবহার করে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের আকৃতি ফুটিয়ে তুলেছেন। দূর থেকেই স্পষ্ট দেখা যায় এই নকশা, যা পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে।   এর আগেও তিনি ধানক্ষেতে জাতীয় ফুল, জাতীয় পতাকা এবং বাংলাদেশের মানচিত্রের নকশা তৈরি করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। পেশায় শিক্ষক হলেও কৃষির প্রতি তার রয়েছে গভীর অনুরাগ। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি তিনি নিজেই জমিতে চাষাবাদ করেন এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে দেশপ্রেম তুলে ধরার চেষ্টা করেন।     স্থানীয় এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিব হাসান, শরিফ উদ্দিন ও আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ধানক্ষেতে এমন নকশা দেখে খুব ভালো লাগছে। এর মাধ্যমে আমরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুনভাবে উপলব্ধি করতে পারছি।’   স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘একজন শিক্ষক হয়ে কৃষিকাজে এমন সৃজনশীলতা দেখানো সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি আমাদের এলাকার গর্ব।’   শিক্ষক জাফর সাদিক বলেন, ‘শিক্ষকতা আমার পেশা, কৃষি আমার নেশা, আর দেশপ্রেম আমার বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস থেকেই কৃষিক্ষেত্রকে দেশপ্রেম জাগানোর একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছি। বিদ্যালয়ে আমি বইয়ের মাধ্যমে ইতিহাস শেখাই, আর মাঠে মাটির মাধ্যমে সেই ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করি।’   উলিপুর-রাজারহাট সড়কের পাশে অবস্থিত তার এই ধানক্ষেত প্রতিদিন শত শত মানুষের নজর কাড়ছে। অনেক পথচারী থেমে ছবি তুলছেন, স্মরণ করছেন স্বাধীনতার ইতিহাস। মানুষের আগ্রহই তার কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

আশাশুনিতে দলিল লেখকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ছবি : সংগৃহীত

দোকানপাট খোলা রাখার সময়সীমা বাড়ল

ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীতে হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৫ শিশুর মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত
১৪৪ ধারা ভেঙে সড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

লক্ষ্মীপুর শহরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত আটজন আহত হন।   রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।   একই সময় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জুলাই ফাইটার্সের ব্যানারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছে। এসব ঘটনায় শহরের চকবাজারসহ আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ নিয়ে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে, ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছেন।   হাতাহাতির ঘটনায় ওসি ছাড়া অন্য আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে পুলিশ আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।   পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন লক্ষ্মীপুর শাখার কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। ওই ঘটনায় দুই পক্ষের দুজন আহত হন।   এর জের ধরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা আজ বিকেল ৫টায় চকবাজার মসজিদের সামনে থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জুলাই ফাইটার্সের ব্যানারে একই সময় ওই স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পৌর শহরে উপজেলা প্রশাসন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।   জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘এখানে ছাত্রদলের কোনো প্রোগ্রাম ছিল না। জুলাই ফাইটার্সের প্রোগ্রাম ছিল। তবে ঘটনার বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে আগ্রহী নই।’   এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন লক্ষ্মীপুরের সদস্য সচিব সাহেদুর রহমান রাফিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।   অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে দুপক্ষকে দুই দিকে সরিয়ে দিয়েছি। এ ঘটনায় ওসিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কেউ আটক নেই।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বাড়ির পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

ফাইল ছবি

দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

হামের রোগী বাড়ায় ভর্তি বন্ধ শিশু হাসপাতাল ও আজিমপুর মাতৃসদনে

ছবি : সংগৃহীত
প্রতিটি গণমাধ্যমকে সংবাদের ফ্যাক্ট চেক নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রতিটি গণমাধ্যমকে সংবাদ জনগণের কাছে পৌঁছানোর আগে ফ্যাক্ট চেকিং নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাক্ট চেকিংয়ের শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো সংবাদ যদি প্রচারিত হয় তাহলে ওই সংবাদ প্রকাশকারী সংশ্লিষ্টদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারব।   ‎শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পাবনার সাঁথিয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অপতথ্য ছড়ানোর যে ঝুঁকি সেটা মোকাবিলা করার জন্য ফ্যাক্ট চেকিংয়ের এই শর্তটাকে আমরা জুড়ে দেব গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতাকে নিশ্চিত করার জন্য। আমি বিশ্বাস করি, সৎ সাংবাদিকরা আমাদের এই ভূমিকাকে সমর্থন করবেন।   ‎তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতাকে আমি যদি একটা দায়িত্বের সীমানার মধ্যে না আটকায় তাহলে স্বাধীনতার নামে একটা নৈরাজ্য তৈরি হবে। অপতথ্য ও বিকৃত তথ্যর মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ধ্বংস তো হবেই তাছাড়া নানান রকম বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অপতথ্য রোধে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, একদিকে যেমন তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রয়োজন, তেমনি অপতথ্যের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করতে নির্দিষ্ট রেগুলেশন এবং দায়িত্বশীলতার সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি।   তিনি আরও বলেন, সাইবার জগৎ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো গণমাধ্যম জগতে আসার পর তথ্যের সংজ্ঞায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী আইন-কানুন ও কাঠামো তৈরি করা হয়নি। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়কে আধুনিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীও এই ডিজিটাল পরিবর্তনের বিষয়ে পূর্ণ অবগত আছেন। খুব দ্রুতই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সময়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   ‎এ সময় প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক মীর নজমুল বারী নাহীদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য মাসুদুল হক মাসুদসহ ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

কারখানায় আগুনের পুনরাবৃত্তি, প্রশাসন আগেই বন্ধ করেছিল

ছবি : সংগৃহীত

‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যারা কাজ করছেন তারা সদকায়ে জারিয়া পাবেন

ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে পাচারের পথে ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ, আটক ১২

0 Comments