টেলিকম ও প্রযুক্তি

ফাইল ছবি।
শিশুদের মানসিক ক্ষতির দায়ে মেটাকে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

  শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়ানোর অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক। এর আগে একই মামলায় ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার পর নতুন এই আদেশে প্রতিষ্ঠানটির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার সমান। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডসের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত মামলায় নজিরবিহীন এই রায় দিয়েছেন নিউ মেক্সিকোর বিচারক ব্রায়ান বিয়েডশেইড। নতুন আদেশে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা একটি বিশেষ তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে সামাজিক ক্ষতি কমানো। রায়ে বিচারক মেটাকে একটি দূষণকারী কারখানার সঙ্গে তুলনা করেন। তার ভাষায়, একটি কারখানার বিষাক্ত দূষণ যেমন জনস্বার্থের ক্ষতি করে, তেমনি মেটার বিজ্ঞাপন ও কনটেন্টের মাধ্যমে শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি এবং যৌন শোষণের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব ক্ষতি শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবার, বিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। ২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর কয়েকজন আইনজীবী এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের যৌন শিকারি ও ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে নিয়ে যাচ্ছে। বিচারের প্রথম ধাপে আদালত মত দেন যে, মেটা বারবার নিউ মেক্সিকোর ‘আনফেয়ার প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, প্রতিষ্ঠানটির সুপারিশমূলক অ্যালগরিদম কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে ধাবিত করছে। দ্বিতীয় ধাপের রায়ে বিচারক এই ক্ষতিকে ‘জনদুর্ভোগ’ বা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেন। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনা এটিই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থের মধ্যে ৪২০ মিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। এছাড়া শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। রায়ে মেটার জন্য বেশ কয়েকটি বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট কোনো প্রাপ্তবয়স্কের কাছে সুপারিশ না করা, প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বার্তা পাঠানো বন্ধ করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নগ্নতা সংবলিত কনটেন্ট আদান-প্রদান নিষিদ্ধ করা এবং যৌন শোষণে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ‘ওয়ান-স্ট্রাইক’ নীতি কার্যকর করা। এছাড়া প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ‘লাইক’ সংখ্যা প্রদর্শন বন্ধ রাখা, স্কুল চলাকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং মাসে ৯০ ঘণ্টা বা গড়ে প্রতিদিন তিন ঘণ্টার বেশি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক ব্যবহারসীমা নির্ধারণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় এবং এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তিনি দাবি করেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে মেটা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। অনলাইনে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় নিজেদের পদক্ষেপের ওপরও প্রতিষ্ঠানটি আস্থা রাখে। শিশু সুরক্ষা ইস্যুতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো মামলার মুখোমুখি রয়েছে মেটা। চলতি বছরের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসেও একই ধরনের একটি মামলায় হেরেছিল প্রতিষ্ঠানটি। আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশু গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে আরও একটি বড় বিচারকার্য শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রায় তিন ডজন অ্যাটর্নি জেনারেল অংশ নিচ্ছেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
হোটেলের ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ে এক ক্লিকেই হতে পারে সাইবার হামলা

ভ্রমণে গিয়ে হোটেলের বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করছেন? এক ক্লিকের ভুলেই হারাতে পারেন ব্যক্তিগত তথ্য, এমনকি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে আপনার স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ।      নতুন ধরনের একটি সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্ক করে ব্যবহারকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট।     মাইক্রোসফটের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্যাপটিভক্রাঞ্চ’ নামে পরিচিত এই সাইবার অভিযানের মাধ্যমে হ্যাকাররা হোটেল ও হসপিটালিটি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, এ হামলার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। চলতি বছরের মে মাস থেকে এমন কার্যক্রম নজরদারিতে রেখেছে তারা।     মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা হোটেলের ওয়াই-ফাইয়ে সংযুক্ত হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া পপ-আপ বার্তা দেখতে পান।   এসব বার্তাকে সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, বাস্তবে সেগুলো ক্ষতিকর সফটওয়্যার ডাউনলোড করানোর ফাঁদ। একবার সেই সফটওয়্যার ডিভাইসে ইনস্টল হলে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর পর্দার স্ক্রিনশট সংগ্রহ, কিবোর্ডে টাইপ করা তথ্য নজরদারি এবং দূর থেকেই ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের মতো বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। এতে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড ও আর্থিক তথ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।     এ কারণে হোটেলের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় হঠাৎ কোনো অপ্রত্যাশিত পপ-আপ বার্তা দেখা গেলে তাতে ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছে মাইক্রোসফট।     বিশেষ করে ওয়াই-ফাইয়ে সংযুক্ত হওয়ার পরপরই যদি আপডেট বা সফটওয়্যার ইনস্টলের অনুরোধ আসে, তবে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সাইবার ঝুঁকি এড়াতে ভ্রমণের সময় সম্ভব হলে পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে নিজের মোবাইল হটস্পট বা নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে মাইক্রোসফট।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্ন্যাপচ্যাটের নতুন ফিচার ‘নাও প্লেয়িং’, জানা যাবে বন্ধুদের গান

স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি ফিচার চালু করেছে। আর এই ফিচারের নাম  ‘নাও প্লেয়িং’, যার মাধ্যমে এখন বন্ধুদের রিয়েল টাইমে শোনা গান দেখা যাবে।   ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচারটি স্ন্যাপ ম্যাপে যুক্ত করা হয়েছে। শুরুতে এটি স্পটিফাইয়ের সঙ্গে কাজ করবে।  টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে জানা যায়, নতুন এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে নিজের স্পটিফাই অ্যাকাউন্ট স্ন্যাপচ্যাট-এর সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এরপর তিনি বর্তমানে যে গানটি শুনছেন, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ন্যাপ ম্যাপে বন্ধুদের কাছে দেখা যাবে।     একইভাবে বন্ধুরাও কী গান শুনছেন, তা রিয়েল টাইমে জানা যাবে। স্ন্যাপচ্যাটের মিউজিক বিভাগের প্রধান ম্যানি অ্যাডলার বলেন, গান মানুষের অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বন্ধুদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগই দেবে ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচার।   ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচারটি শুধু স্ন্যাপ ম্যাপেই সীমাবদ্ধ নয়।     স্পটলাইট ভিডিওর সঙ্গেও এটি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কোনো স্পটলাইট ভিডিওতে পছন্দের গান শুনলে সেটি সরাসরি স্পটিফাইয়ে সংরক্ষণ করা যাবে। চাইলে গানটির স্পটিফাই পেজেও প্রবেশ করা যাবে। তবে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছে স্ন্যাপচ্যাট। কে আপনার শোনা গান দেখতে পারবেন, তা আপনি নিজেই নির্ধারণ করতে পারবেন।     এ ছাড়া আপনার আগের শোনা গান বা পুরো প্লেলিস্ট কেউ দেখতে পারবেন না। শুধু বর্তমানে যে গানটি বাজছে, সেটিই দেখা যাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গান শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ার মধ্যেই নতুন এই ফিচার এনেছে স্ন্যাপচ্যাট। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং স্পটিফাই ইতিমধ্যে এ ধরনের সুবিধা চালু করেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো স্ন্যাপচ্যাটও। যেসব দেশে স্পটিফাই ও স্ন্যাপচ্যাট উভয় সেবা চালু আছে, সেখানে ধাপে ধাপে নতুন এই ফিচার উন্মুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্ন্যাপচ্যাট।  

মারিয়া রহমান জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
এআই-এর কারণে ২০৩৬ সালের মধ্যে কমতে পারে টাকার প্রয়োজনীয়তা: ইলন মাস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে ২০৩৬ সালের মধ্যে মানুষের জীবনে টাকার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে দাবি করেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তার মতে, এআই যদি মানুষের চাহিদার চেয়েও বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে পারে, তাহলে অর্থের গুরুত্ব আগের মতো থাকবে না।   এমনকি ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির (ইনফ্লেশন) বদলে মূল্যহ্রাস (ডিফ্লেশন) বিশ্ব অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক এসব কথা বলেন। এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।     সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, মানুষ মূলত বাসস্থান, যাতায়াত, বিনোদনসহ প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা কেনার জন্য অর্থ ব্যবহার করে।     কিন্তু যদি এআই ও রোবট এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যেখানে তারা মানুষের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে পারে, তাহলে অর্থের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।   এ সময় এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। ব্যাপক হারে মানুষ চাকরি হারালে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মাস্ক বলেন, সরকার চাইলে নাগরিকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে পারে।     তবে এমন উদ্যোগ মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে—এমন মন্তব্যের জবাবে মাস্ক বলেন, এআইনির্ভর অর্থনীতিতে প্রচলিত অর্থনৈতিক ধারণা বদলে যেতে পারে।   তার ব্যাখ্যায়, অর্থের পরিমাণের তুলনায় যদি পণ্য ও সেবার উৎপাদন দ্রুত বাড়ে, তাহলে মূল্যস্ফীতির পরিবর্তে মূল্যহ্রাসই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে ডিফ্লেশনই অর্থনীতির প্রধান ইস্যু হতে পারে।     তবে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চিন্ত নন। মাস্ক বলেন, এআই একই সঙ্গে রোমাঞ্চকর এবং ভীতিকর। কোনো কোনো দিন এই প্রযুক্তি নিয়ে তিনি যেমন আশাবাদী থাকেন, আবার কখনো এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।   বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও কর্মসংস্থান, আয় বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই এআইনির্ভর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা যতটা উজ্জ্বল, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি : এআই জেনারেটেড
দক্ষিণ কোরিয়ার ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমিতে বড় সাইবার হামলা, তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কোরিয়া ন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমির অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির সরকার।   হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো হ্যাকার গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।   মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।      মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পার্ক ইল জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তথ্য ফাঁসের পরিমাণ বেশ বড় হতে পারে। তবে ঠিক কত তথ্য ফাঁস হয়েছে বা কী ধরনের তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।     পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলাকারীরা সফটওয়্যারের আগে থেকে অজানা একটি ‘জিরো-ডে’ দুর্বলতা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি কাজে লাগিয়ে একাডেমির অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফরমে প্রবেশ করে। তারা ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে একটি সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে গোপনে প্রবেশাধিকার বজায় রাখে। পরে একটি সরকারি সংস্থা সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করলে সিস্টেমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।     এই প্ল্যাটফরমে প্রশিক্ষণ ভিডিও, কোর্স পরিচালনার তথ্য, অংশগ্রহণকারীদের নাম ও ব্যবহারকারী আইডি সংরক্ষিত ছিল।     তবে ঠিক কী কী তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডং-আ ইলবো জানিয়েছে, প্রায় ৬ হাজার বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিক এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর মধ্যে বিদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের তথ্যও থাকতে পারে।     যদিও এখন পর্যন্ত হামলার পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত প্রযুক্তিগত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবু দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট কোনো হ্যাকারগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।   ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে।   একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে দেশের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে ফেসবুকে বিভ্রাট, ডেস্কটপে ব্যবহার ব্যাহত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ডেস্কটপ সংস্করণে হঠাৎ প্রযুক্তিগত বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরের পর থেকে অনেক ব্যবহারকারী লগইন করতে পারছেন না। একই সঙ্গে নিউজফিড, প্রোফাইল এবং অন্যান্য ফিচার ব্যবহারে সমস্যার মুখে পড়েছেন তারা। তবে মোবাইল অ্যাপে অধিকাংশ ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারছেন বলে জানা গেছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইয়াহু নিউজ জানিয়েছে, ডেস্কটপে ফেসবুক ব্যবহার করতে গেলে অনেকের স্ক্রিনে ‘Account Temporarily Unavailable’ বার্তা দেখা যাচ্ছে। সেখানে উল্লেখ করা হচ্ছে, ‘সাইটের সমস্যার কারণে আপনার অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে। অনুগ্রহ করে কয়েক মিনিট পর আবার চেষ্টা করুন।’   এছাড়া অনেক ব্যবহারকারীর নিউজফিড সম্পূর্ণ খালি দেখা যাচ্ছে। সেখানে একটি বার্তায় লেখা রয়েছে, “আপনি যখন কাউকে ফলো করবেন, তাদের পোস্ট এখানে দেখা যাবে।” ফলে নতুন পোস্ট দেখা, ফিড রিফ্রেশ করা এবং বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।   বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৯টার আগে থেকেই ‘Facebook Down’ সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী ফেসবুকের সমস্যা সম্পর্কে অভিযোগ জানান।   এদিকে, কিছু ব্যবহারকারী মেটার আরেক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামেও একই ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন।   এখন পর্যন্ত এ বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করছে বলে বার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: ইয়াহু নিউজ

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ১৯, ২০২৬
হোয়াটসঅ্যাপ। প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
হোয়াটসঅ্যাপে চালু হচ্ছে ইউজারনেম, ব্যক্তিগত নম্বর থাকবে সুরক্ষিত

বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ইউজারনেম ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগের মতোই ফোন নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে। মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ কয়েক বছর ধরে ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কাজ করছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করতে পারবেন। তবে ফিচারটি ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে চালু হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের শেষ দিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। হোয়াটসঅ্যাপের তথ্যমতে, ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে যেকোনো ইউজারনেম নির্বাচন করতে পারবেন। তবে সেটি অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারবে না। এছাড়া জনপ্রিয় তারকা, ভিআইপি ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু ইউজারনেম সংরক্ষিত রাখা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কনটেন্ট নির্মাতারা চাইলে তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের একই ইউজারনেম হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যবহার করতে পারবেন। যখন কোনো দেশে এই সুবিধা চালু হবে, তখন ব্যবহারকারীরা একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর Settings > Account > Username অপশনে গিয়ে নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সেট করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা চাইলে একটি Username Key নির্ধারণ করতে পারবেন, যা জানলে তবেই অন্য কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। মেটা জানিয়েছে, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। তাই একই ইউজারনেম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই আগে থেকে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম সার্চ করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র যাদের কাছে নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকবে, তারাই সেই ব্যক্তিকে বার্তা পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় এই ফিচার বন্ধ করতে বা নিজেদের ইউজারনেম পরিবর্তন করতে পারবেন। হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, কারণ ফোন নম্বর ব্যক্তিগত তথ্য এবং জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে যুক্ত। ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবে, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে। তবে প্রাথমিকভাবে ইউজারনেম অন্যদের জানাতে হবে লিখিত বার্তা বা মুখে বলার মাধ্যমে। এখনই কিউআর কোড স্ক্যান করে শুধু ইউজারনেমের সাহায্যে যোগাযোগের সুবিধা থাকছে না। উল্লেখ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং ওয়্যারের মতো অ্যাপগুলোতে বহু বছর ধরেই ইউজারনেমের মাধ্যমে ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাইলফলক, এগিয়ে সৌরশক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়লা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালালেও যুক্তরাষ্ট্রে সৌরবিদ্যুতের অগ্রযাত্রা থামেনি। বরং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মে মাসে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লাকে ছাড়িয়ে গেছে সৌরশক্তি।   জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এম্বারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদ্যুতের ১২ দশমিক ৮ শতাংশ এসেছে সৌরশক্তি থেকে। একই সময়ে কয়লার অবদান ছিল ১২ দশমিক ২ শতাংশ, যা কয়লার ইতিহাসে অন্যতম সর্বনিম্ন মাসিক অংশীদারিত্ব।   এম্বারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক নিকোলাস ফুলগাম বলেন, কয়লা একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিদ্যুতের উৎস ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অবস্থান হারিয়েছে। অন্যদিকে সৌরশক্তির ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে।   বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাস ও পারমাণবিক শক্তির পর সৌরবিদ্যুৎ যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎসে পরিণত হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নতুন শিল্প স্থাপন ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই চাহিদা পূরণে সবচেয়ে দ্রুত এগিয়ে আসছে সৌরশক্তি।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কয়লা শিল্পে প্রায় ৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কয়লা রপ্তানিতে সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ট্রাম্পের দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার মতো শক্তিশালী জ্বালানি আর নেই।   তবে জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন লাভজনক খাতেই অর্থ ঢালছেন, আর সেই খাতটি হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ।   সোলার এনার্জি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, টানা পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রধান উৎস সৌরশক্তি। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্ত হওয়া নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৯১ শতাংশই এসেছে সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা থেকে।   যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কয়েকটি সৌর ও বায়ুশক্তি প্রকল্প বাতিল করেছে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীর করেছে এবং সাশ্রয়ী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিলও বাতিল করেছে।   জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ এখন সবচেয়ে সস্তা, সহজে সম্প্রসারণযোগ্য এবং সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস। তাই সরকারি নীতিগত বাধা থাকলেও এর অগ্রযাত্রা থামানো কঠিন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প বিজয়ী হয়েছিলেন এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতেই ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ৭৪ শতাংশ হয়েছে। টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ওহাইও, ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, অ্যারিজোনা ও মিসিসিপি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে শীর্ষে রয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাণিজ্যিক প্রকল্প, কমিউনিটি সোলার ও ছাদের সৌরপ্যানেল মিলিয়ে মোট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনার সংখ্যা ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
প্রতারণা রুখতে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন চমক: চ্যাট শুরুর আগেই সতর্কবার্তা

হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতারকেরা কখনো সরকারি কর্মকর্তা, কখনো কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আবার কখনো পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে। ডিজিটাল প্রতারণার এ ঝুঁকি মোকাবিলায় অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথোপকথন শুরুর আগে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতে নতুন নিরাপত্তাসুবিধা চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ।     প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ডব্লিউ আ বেটা ইনফোর তথ্যমতে, নতুন সুবিধাটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস উভয় প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হবে। সুবিধাটি চালু হলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা আগে কখনো যোগাযোগ করেননি, এমন ফোন নম্বরের সঙ্গে চ্যাট শুরু করতে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা দেখতে পাবেন। সতর্কবার্তায় নম্বরটি কোন দেশে নিবন্ধিত, সেটি পরিচিত কোনো তালিকায় সংরক্ষিত আছে কি না এবং দুই পক্ষের কোনো অভিন্ন গ্রুপ রয়েছে কি না, তা জানা যাবে। তথ্যগুলো দেখে ব্যবহারকারী চাইলে কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারবেন অথবা চ্যাট শুরু না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। সতর্কবার্তা সম্পর্কে অপর পক্ষ কোনো ধরনের তথ্য জানতে পারবে না।     হোয়াটসঅ্যাপের নতুন এ নিরাপত্তা সুবিধার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি চ্যাট শুরু হওয়ার আগেই ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের বেশির ভাগ নিরাপত্তাব্যবস্থা মূলত চালু হয় কথোপকথন শুরু হওয়ার পর। নতুন এই সুবিধা সেই জায়গাতেই পরিবর্তন আনছে। সাধারণত প্রতারকেরা অপরিচিত নম্বর থেকে এমন বার্তা পাঠায়, যা প্রথম দেখায় সন্দেহজনক মনে হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা দাবি করে, পুরোনো নম্বর পরিবর্তন করে নতুন নম্বর ব্যবহার করছেন। আবার কখনো শুধু পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করে কথোপকথন শুরু করতে চায়। ব্যবহারকারী যখন পরিস্থিতি বুঝে ওঠার চেষ্টা করেন, তখনই প্রতারকেরা বিশ্বাস অর্জনের সুযোগ খোঁজে। নতুন সতর্কবার্তা ব্যবহারকারীকে সেই মুহূর্তে থেমে বিষয়টি যাচাই করার সুযোগ দেবে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো নম্বর যদি অন্য দেশে নিবন্ধিত হয়, তাহলে সেটি সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। ফলে নম্বরটির উৎস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সহজ হবে।     সব অপরিচিত নম্বরই যে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত, তা নয়। পরিচিত কেউ নতুন নম্বর ব্যবহার শুরু করলেও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেখা যাবে। কোন পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তাটি দেখানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি হোয়াটসঅ্যাপ।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ফেসবুক | ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুকে আসছে বড় পরিবর্তন, ঘোষণা মেটার

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেইসবুকে আমূল পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে এর মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (এআই) প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এবং ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মেটার এক সাম্প্রতিক ব্লগ পোস্টে জানানো হয়েছে, নতুন এই এআই ফিচারগুলো ফেইসবুকে তথ্য খোঁজা, কনটেন্ট তৈরি এবং যোগাযোগের ধরনকে পুরোপুরি বদলে দেবে। বদলে যাচ্ছে সার্চ পদ্ধতি নতুন পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ফেইসবুকের ‘এআই মোড’। এর ফলে ফেইসবুকে কোনো কিছু খোঁজার চিরাচরিত পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। এখন থেকে কোনো তথ্য পেতে ব্যবহারকারীদের শত শত পোস্ট স্ক্রল করতে হবে না; বরং সাধারণ ভাষায় প্রশ্ন করলেই ‘মেটা এআই’ পাবলিক পোস্টগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি উত্তর জানিয়ে দেবে। তবে ব্যবহারকারীদের পোস্টের ওপর ভিত্তি করে এই সারাংশ তৈরি হওয়ায় এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা। ভিডিও এডিটিং ও এআই ফটো প্রিসেটে চমক ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের সৃজনশীলতা বাড়াতে মেটা নিয়ে এসেছে নতুন ভিডিও এডিটিং টুলস। এর পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে ‘এআই ফটো প্রিসেট’ নামক একটি বিশেষ ফিচার। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের ছবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পোশাক, চুলের স্টাইল এবং চেহারার ধরনে বৈচিত্র্য আনতে পারবেন। এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে স্থির ছবিকে সচল করতে ‘অ্যানিমেটেড প্রোফাইল ফটো’ ফিচারও চালু করেছিল মেটা। এদিকে, ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ কিছু ফিচারের ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এজন্য তারা বিভিন্ন ব্রডকাস্টার, ফুটবল দল, খেলোয়াড় এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সাথে অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে। ফলে বিশ্বকাপের সময় ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ফুটবল বিষয়ক বিশেষ ইন্টারেক্টিভ ফিচার উপভোগ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৬, ২০২৬
এআই জেনারেটেড ছবি
অফিসের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ৫টি সেরা এআই টুল

আধুনিক করপোরেট বিশ্বে সময়ের মূল্য অপরিসীম। প্রতিদিনের রুটিন মাফিক কাজ যেমন-শত শত ইমেইলের উত্তর দেওয়া, জটিল ডেটা বিশ্লেষণ করা কিংবা ক্লায়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি করা— অফিসকর্মীদের একটি বড় সময় কেড়ে নেয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কল্যাণে এই চিত্রটি এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। চ্যাটজিপিটিসহ বেশ কিছু আধুনিক এআই টুলস ব্যবহার করে এখন ঘণ্টার কাজ শেষ করা যাচ্ছে মাত্র কয়েক মিনিটে। অফিসের কাজকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিখুঁত করতে দারুণ কার্যকরী পাঁটি এআই টুলস এবং সেগুলোর ব্যবহার নিয়ে একটি বিশেষ প্রফেশনাল গাইড তুলে ধরা হলো– ১. চ্যাটজিপিটি ও জেমিনাই প্রধান কাজ: প্রফেশনাল ইমেইল রাইটিং ও কনটেন্ট ড্রাফটিং অফিসের যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য প্রতিদিন প্রচুর ইমেইল লিখতে হয়। চ্যাটজিপিটি বা গুগলের জেমিনাইয়ের মতো টুলগুলো এই কাজকে অবিশ্বাস্য রকমের সহজ করে দিয়েছে। কীভাবে ব্যবহার করবেন: ‘একটি ক্লায়েন্ট মিটিংয়ের জন্য প্রফেশনাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট রিকোয়েস্ট ইমেইল লিখে দাও’— এ ধরনের সাধারণ প্রম্পট বা নির্দেশনা দিলেই এআই আপনাকে চমৎকার একটি ড্রাফট তৈরি করে দেবে। সুবিধা: বানান বা ব্যাকরণের ভুল সংশোধন, লেখার টোন (ফর্মাল, ক্যাজুয়াল বা পারসুয়াসিভ) পরিবর্তন এবং বড় কোনও রিপোর্টের সামারি বা সারসংক্ষেপ তৈরিতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী। ২. ডেল্টা অ্যাডভান্সড বা চ্যাটজিপিটি ডেটা অ্যানালিস্ট প্রধান কাজ: জটিল ডেটা অ্যানালাইসিস ও চার্ট তৈরি মাইক্রোসফট এক্সেল বা গুগল শিটের হাজার হাজার লাইনের ডেটা বিশ্লেষণ করতে এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় করার প্রয়োজন নেই। চ্যাটজিপিটির অ্যাডভান্সড ডেটা অ্যানালিস্ট ফিচার বা সমসাময়িক ডেটা এআই টুলগুলো এখন নিমেষেই এই কাজ করতে পারে। কীভাবে ব্যবহার করবেন: আপনার অফিসের এক্সেল ফাইলটি আপলোড করে এআই-কে বলুন, ‘এই ডেটা থেকে শীর্ষ পাঁচটি বিক্রয়কারী পণ্যের নাম বের করো এবং একটি পাই-চার্ট তৈরি করো।’ সুবিধা: কোনও জটিল সূত্র বা ফর্মুলা না জেনেই আপনি ডেটার ট্রেন্ড, গ্রাফ এবং সম্পূর্ণ বিজনেস রিপোর্ট পেয়ে যাবেন। ৩. গামা অ্যাপ বা টোম প্রধান কাজ: এআই-ভিত্তিক প্রেজেন্টেশন ও স্লাইড মেকিং মিটিং বা পিচ-ডেকের জন্য চমৎকার প্রেজেন্টেশন তৈরি করা অনেকের জন্যই বেশ ঝামেলার। গামা অ্যাপ বা টোমের মতো টুলগুলো এই কাজটিকে স্লাইড ডিজাইনারদের চেয়েও দ্রুত করে দেয়। কীভাবে ব্যবহার করবেন: আপনি শুধু আপনার প্রেজেন্টেশনের টপিক বা মূল আইডিয়াটি লিখে দেবেন। এআই নিজে থেকেই স্লাইডের লেআউট, আকর্ষণীয় হেডলাইন, মানানসই ছবি এবং কনটেন্ট সাজিয়ে একটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির প্রেজেন্টেশন তৈরি করে দেবে। সুবিধা: ডিজাইন সেন্স ভালো না থাকলেও করপোরেট স্ট্যান্ডার্ডের মডার্ন ও মিনিমালিস্টিক স্লাইড তৈরি করা সম্ভব। ৪. নোশন এআই প্রধান কাজ: প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও মিটিং নোটস তৈরি অফিসের বিভিন্ন প্রজেক্ট ট্র্যাক করা, মিটিংয়ের কার্যবিবরণী (Minutes of Meeting) লিখে রাখা এবং দৈনন্দিন কাজের প্ল্যানার তৈরিতে নোশন এআই একটি দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট। কীভাবে ব্যবহার করবেন: মিটিংয়ের অগোছালো আলোচনাগুলো নোশনে ইনপুট দিলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেখান থেকে ‘অ্যাকশন আইটেম’ বা কাকে কী কাজ দেওয়া হয়েছে, তা আলাদা করে বুলেটেড লিস্ট আকারে সাজিয়ে দেয়। সুবিধা: টিমের কাজের সমন্বয় বা কোলাবোরেশন অনেক সহজ হয় এবং প্রজেক্টের ডেডলাইন মিস হওয়ার ঝুঁকি কমে। ৫. ফায়ারফ্লাইস ডট এআই বা অটার ডট এআই প্রধান কাজ: অনলাইন মিটিংয়ের অটোমেটিক ট্রান্সক্রিপশন ও নোট গ্রহণ জুম, গুগল মিট বা মাইক্রোসফট টিমস-এ দীর্ঘ মিটিং চলার সময় নোট নেওয়া বেশ কঠিন। এই টুলগুলো আপনার হয়ে মিটিংয়ের প্রতিটি কথা রেকর্ড এবং টেক্সটে রূপান্তর করবে। কীভাবে ব্যবহার করবেন: এই এআই বটটিকে আপনার অনলাইন মিটিংয়ে যুক্ত করে দিন। মিটিং শেষ হওয়া মাত্রই এটি পুরো কথোপকথনের একটি লিখিত রূপ এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের একটি সংক্ষিপ্ত সামারি আপনার ইমেইলে পাঠিয়ে দেবে। সুবিধা: মিটিংয়ে নোট নেওয়ার পেছনে মনোযোগ না দিয়ে সরাসরি আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া যায়। করপোরেট ট্রেইনার ও প্রযুক্তিবিদদের মতে, এআই টুলগুলো মানুষের বিকল্প নয়, বরং মানুষের কাজের গতি বাড়ানোর অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। অফিসে নিজের পেশাদার দক্ষতা বাড়াতে এবং অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে এই টুলগুলোর সঠিক ব্যবহার বা ‘প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং’ শেখা এখন সময়ের দাবি। আপনার অফিসের দৈনন্দিন কাজের তালিকায় আজই এই টুলগুলো যুক্ত করে কাজের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে নিন বহুগুণ!

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইনভার্টার নাকি সাধারণ এসি—কোনটি কিনলে লাভ বেশি?

তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই নতুন এয়ার কন্ডিশনার বা এসি কেনার কথা ভাবছেন। তবে বাজারে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষই একটি সাধারণ প্রশ্নে দ্বিধায় পড়ে যান যে  ইনভার্টার এসি কিনবেন নাকি নন-ইনভার্টার তথা সাধারণ স্প্লিট এসি। দুটি এসি-ই ঘর ঠান্ডা করার মূল কাজটি করলেও এদের ভেতরের প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ খরচ, দাম এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেট এবং দীর্ঘমেয়াদি খরচের হিসাব মাথায় রেখে কোন এসি নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে, তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।   ইনভার্টার এসির মূল শক্তি হলো এর ভেতরের স্মার্ট কম্প্রেসর প্রযুক্তি। এই কম্প্রেসরটি ঘরের তাপমাত্রা মেপে নিজের গতি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি বারবার পুরোপুরি বন্ধ বা চালু হয় না, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী কম বা বেশি ক্ষমতায় একটানা চলতে থাকে। ফলে বিদ্যুৎ খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে যায়। সাধারণত ১.৫ টনের একটি ইনভার্টার এসি চালাতে প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ০.৮ থেকে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে, সাধারণ স্প্লিট এসি একটি নির্দিষ্ট গতিতে কাজ করে। ঘর ঠান্ডা করার জন্য এটি পুরো শক্তিতে চলে এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর কম্প্রেসরটি বন্ধ হয়ে যায়। ঘরের তাপমাত্রা আবার বেড়ে গেলে কম্প্রেসরটি নতুন করে চালু হয়। এই বারবার স্টার্ট এবং স্টপ হওয়ার কারণেই বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেড়ে যায়, যা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১.২ থেকে ১.৫ ইউনিট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। দামের তারতম্য ও প্রাথমিক বাজেট দামের দিক থেকে সাধারণ স্প্লিট এসিগুলো বেশ বাজেট-ফ্রেন্ডলি হয়। বাজারে সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যেই ভালো মানের নরমাল স্প্লিট এসি পাওয়া সম্ভব। অপরদিকে, উন্নত প্রযুক্তির কারণে ইনভার্টার এসির প্রাথমিক দাম কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। একটি ভালো মানের ইনভার্টার এসির দাম শুরু হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা থেকে এবং ব্র্যান্ড ও ফিচারের ওপর নির্ভর করে তা আরও বাড়তে পারে। যদিও শুরুতে ইনভার্টার এসি কিনতে পকেট থেকে কিছু বাড়তি টাকা খসে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি বিদ্যুতের মাসিক বিল বাঁচিয়ে সেই বাড়তি খরচ উসুল করে দেয়। সার্ভিসিং ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ উভয় ধরনের এসির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে নিয়মিত ফিল্টার ও কয়েল পরিষ্কার করার মতো সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। তবে মেকানিজমের দিক থেকে ইনভার্টার এসিতে আধুনিক ইলেকট্রনিক পার্টস এবং জটিল পিসিবি (PCB) সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। ফলে কোনো কারণে ইনভার্টার এসি নষ্ট হলে তা মেরামত করার খরচ তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হয়। অন্যদিকে সাধারণ স্প্লিট এসির ভেতরের গঠন ও সিস্টেম বেশ সহজ সরল হওয়ায় এটি মেরামত করা অনেক সহজ এবং খরচও বেশ কম সাপেক্ষ। আপনার জন্য ঠিক কোনটি কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে   নতুন এসি কেনার আগে আপনার প্রতিদিনের ব্যবহারের ধরনটি বুঝে নেওয়া জরুরি। আপনি যদি দৈনিক মাত্র ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মতো কম সময়ের জন্য এসি চালাতে চান, তবে কম দামের সাধারণ স্প্লিট এসি আপনার জন্য একটি সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। কিন্তু আপনার ঘরে যদি প্রতিদিন দীর্ঘ সময়, বিশেষ করে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে এসি চালানোর প্রয়োজন পড়ে, তবে চোখ বন্ধ করে ইনভার্টার এসি কেনাই সবচেয়ে লাভজনক। এটি শুধু আপনার পকেটের বিদ্যুৎ বিলই বাঁচাবে না, বরং ঘরে কম শব্দ করে দীর্ঘক্ষণ চমৎকার কুলিং পারফরম্যান্স দেবে। তাই প্রাথমিক দামের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার কথা চিন্তা করলে বর্তমান সময়ে ইনভার্টার এসি কেনাই হবে সবচেয়ে স্মার্ট ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩১, ২০২৬
ফ্রিজ নষ্ট হওয়ার আগে দেয় ৫ সতর্ক সংকেত, বেশিরভাগ মানুষই অবহেলা করেন

বর্তমান সময়ে বাসাবাড়ির অন্যতম প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক পণ্য হলো ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর। বিশেষ করে গরমের সময় এবং কোরবানির ঈদের মতো বড় উৎসব ঘিরে ফ্রিজের ব্যবহার কয়েকগুণ বেড়ে যায়। খাবার সংরক্ষণ থেকে শুরু করে দুধ, ফল, মাছ-মাংস সতেজ রাখতে ফ্রিজের বিকল্প নেই। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিংবা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যেকোনো সময় ফ্রিজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজ হঠাৎ পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে সাধারণত কিছু আগাম সংকেত দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলো সময়মতো শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ক্ষতি, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ এবং ব্যয়বহুল মেরামতের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই ফ্রিজের আচরণে সামান্য অস্বাভাবিকতাও অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞরা। ১. খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়া বা দুর্গন্ধ ছড়ানো ফ্রিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রেখে খাবার সতেজ রাখা। কিন্তু যদি দেখা যায় ফ্রিজে রাখা দুধ দ্রুত টক হয়ে যাচ্ছে, রান্না করা খাবার দুই-একদিনেই নষ্ট হচ্ছে কিংবা ফল ও শাকসবজি দ্রুত পচে যাচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে কুলিং সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক সময় ফ্রিজের ভেতর থেকে এক ধরনের ভ্যাপসা বা দুর্গন্ধও বের হতে পারে। এটি মূলত পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হওয়ার কারণে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত থার্মোস্ট্যাট, কুলিং ফ্যান বা কম্প্রেসরের ত্রুটির কারণে এমনটি হয়ে থাকে। এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করানো জরুরি। ২. অতিরিক্ত বরফ জমা বা ডিফ্রস্ট সমস্যা আধুনিক ফ্রস্ট-ফ্রি ফ্রিজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরফ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু যদি ডিপ ফ্রিজের দেয়ালে অস্বাভাবিক পুরু বরফ জমতে শুরু করে, তবে এটি বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অটো-ডিফ্রস্ট সিস্টেম, থার্মোস্ট্যাট বা ডিফ্রস্ট হিটার ঠিকমতো কাজ না করলে এই সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় বরফ জমে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পুরো কুলিং সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে ফ্রিজের ভেতরের কয়েল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। ৩. কম্প্রেসর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ একটি স্বাভাবিক ফ্রিজ চলার সময় হালকা গুঞ্জনের মতো শব্দ হতে পারে। তবে যদি ফ্রিজ থেকে হঠাৎ করেই জোরালো ঠকঠক শব্দ, কাঁপুনি, ক্লিকিং বা একটানা খড়খড়ে আওয়াজ আসতে থাকে, তাহলে সেটিকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখতে হবে। এ ধরনের শব্দ সাধারণত কম্প্রেসর, মোটর বা ফ্যানের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। অনেক সময় মোটরের ভেতরের যন্ত্রাংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হলে কিংবা লুব্রিকেশন কমে গেলে এমন শব্দ তৈরি হয়। এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কম্প্রেসর সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যেতে পারে, যা পরিবর্তন করতে বড় অঙ্কের খরচ গুনতে হয়। ৪. ফ্রিজের গায়ে অতিরিক্ত তাপ অনুভূত হওয়া ফ্রিজ চলার সময় এর পেছনের অংশ বা পাশ সামান্য গরম হওয়া স্বাভাবিক। কারণ কম্প্রেসর এবং কনডেনসার কাজ করার সময় কিছু তাপ উৎপন্ন হয়। তবে যদি ফ্রিজের গায়ে হাত রাখা কঠিন হয়ে যায় বা অস্বাভাবিক উত্তপ্ত লাগে, তাহলে এটি মোটেই স্বাভাবিক নয়। সাধারণত কনডেনসার কয়েলে ধুলো জমে গেলে অথবা ভেতরের মোটর অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করলে ফ্রিজ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায় এবং কম্প্রেসরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে মোটর পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ৫. ফ্রিজের নিচে পানি জমা বা লিকেজ ফ্রিজের নিচে পানি জমে থাকা অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এটি বড় ধরনের ত্রুটির পূর্বাভাসও হতে পারে। সাধারণত ডিফ্রস্ট ড্রেন পাইপ বন্ধ হয়ে গেলে বা ভেতরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হলে পানি বাইরে বের হতে শুরু করে। এছাড়া দরজার রাবার ঢিলা হয়ে গেলেও ভেতরে অতিরিক্ত আর্দ্রতা তৈরি হয়ে পানি জমতে পারে। এই পানি দীর্ঘদিন জমে থাকলে ফ্রিজের নিচে মরিচা ধরতে পারে এবং মেঝেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্মার্ট ফ্রিজে বাড়ছে নতুন ধরনের ঝুঁকি বর্তমানে বাজারে থাকা অনেক স্মার্ট বা আইওটি ফ্রিজে ডিজিটাল ডিসপ্লে, টাচ কন্ট্রোল ও সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ডিসপ্লেতে ভুল তাপমাত্রা দেখায়, ফ্রিজের লাইট নিজে থেকেই অন-অফ হয় কিংবা টাচ স্ক্রিন ল্যাগ করে, তাহলে এটি ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল বোর্ডের ত্রুটির ইঙ্গিত হতে পারে। ভোল্টেজ ওঠানামা বা বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে এমন ত্রুটি বেশি দেখা যায়। তাই স্মার্ট ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার এবং নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে ফ্রিজের আয়ু বাড়াবেন? বিশেষজ্ঞরা ফ্রিজ ভালো রাখতে কিছু নিয়মিত অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন— ফ্রিজের পেছনের কয়েল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে দেয়াল থেকে অন্তত কয়েক ইঞ্চি দূরে ফ্রিজ স্থাপন করা উচিত অতিরিক্ত গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখা যাবে না দরজা অপ্রয়োজনে বেশি সময় খোলা রাখা ঠিক নয় বিদ্যুৎ ওঠানামা হলে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা ভালো বছরে অন্তত একবার সার্ভিসিং করানো উচিত বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজের এসব ছোট ছোট লক্ষণ অবহেলা না করলে বড় ধরনের ক্ষতি ও অতিরিক্ত খরচ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

মারিয়া রহমান মে ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ দিচ্ছে বাংলালিংক

৯ মাসের সহজ কিস্তিতে নির্দিষ্ট মডেলের স্মার্টফোন কেনার সুযোগ দিচ্ছে বাংলালিংকের ডিজটাল প্ল্যাটফর্ম টেকভ্যান। এ অফারের আওতায় ‘টেকনো স্পার্ক ৫০’ ও ‘টেকনোস্পার্ক গো থ্রি’ মডেলের দুটি স্মার্টফোন কিস্তিতে কেনার পাশাপাশি এক বছরের ডেটা-বান্ডেল বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ পাবেন ক্রেতারা। আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলালিংক। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলালিংকের যেকোনো গ্রাহক ফোনগুলো কিনলে এক বছরের জন্য বিনা মূল্যে ৮০ গিগাবাইট ইন্টারনেট, ৮০০ মিনিট টকটাইমসহ জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। দেশের যেকোনো প্রান্তে থাকা টেকনো রিটেইল আউটলেট এবং বাংলালিংক কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে স্মার্টফোন দুটি কেনা যাবে। বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, দেশে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের পথে স্মার্টফোনের দাম এখনো বড় একটি বাধা। টেকভ্যানের মাধ্যমে সহজ কিস্তি সুবিধা ও বান্ডেল অফারের সাহায্যে আমরা স্মার্ট ডিভাইস এবং ডিজিটাল সংযোগ আরও সহজলভ্য করে তুলতে কাজ করছি। টেকনো স্পার্ক গো থ্রি মডেলের স্মার্টফোন কিনতে গুনতে হবে ১৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। আর টেকনো স্পার্ক ৫০ মডেলের ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।

মারিয়া রহমান মে ২৫, ২০২৬
ফাইল ছবি
মেয়েদের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার প্রসঙ্গে যা বললেন ইলন মাস্ক

ইনস্টাগ্রাম নিয়ে একটি মন্তব্য করে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক। এক্সে তার এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় বিতর্ক তৈরি হয়।   বিষয়টি শুরু হয় যখন মাস্ক একটি ভাইরাল থ্রেডে মন্তব্য করেন। সেই থ্রেডে পুরুষ ও নারীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কীভাবে আলাদাভাবে আচরণ করেন তা নিয়ে আলোচনা ছিল। মূল পোস্টে ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন টুলস নিয়ে রসিকতা ছিল। এর জবাবে মাস্ক লেখেন, ‘ইনস্টাগ্রাম মেয়েদের জন্য।’ এই ছোট্ট মন্তব্যটিই মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এরপর আরেকটি পৃথক জবাবে মাস্ক লেখেন, ‘মাঝেমাঝে পরিণত বয়সের পুরুষরা আমাকে তাদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল পাঠায় আর আমি ভাবি, তুমি লিঙ্গ পরিবর্তন করছো নাকি?’ এই দ্বিতীয় মন্তব্যটি সমালোচনাকে আরও তীব্র করে তোলে। অনেকে বলেছেন এটি লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপ এবং সমাজে বিদ্যমান কঠোর লিঙ্গ ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে। ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত ও বিভক্ত। এক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ হয়ে এই ধরনের কথা বলো কীভাবে?’ আরেকজন বলেন, ‘মাস্কের মতো বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে এই ধরনের কথা এলে এটি আর সামান্য ইন্টারনেট মন্তব্য থাকে না, রাজনৈতিক বিষয় হয়ে ওঠে।’ একজন তথ্যভিত্তিক পাল্টা জবাব দেন এই বলে যে ইনস্টাগ্রামে নারী ও পুরুষ ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সমান। তবে সবাই সমালোচনা করেননি। কেউ কেউ দুটি প্ল্যাটফর্মের তুলনা নিয়ে রসিকতা করেছেন। একজন লেখেন, ‘এক্স হলো সেই জায়গা যেখানে একটাই টাইপোতে যুদ্ধ, কোম্পানি, ষড়যন্ত্র আর গ্রুপচ্যাট শুরু হয়ে যায়। ইনস্টাগ্রাম হলো সেখানে যেখানে ৩৭টি ফিল্টার লাগিয়ে বলা হয় — আমি বাইরে আছি।’ বিতর্কটি এখন শুধু ইনস্টাগ্রামে সীমাবদ্ধ নেই। স্ক্রিনশট ও প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক প্ল্যাটফর্মে। সেলিব্রিটিদের প্রভাব, অনলাইনে লিঙ্গবৈষম্য আর ভাইরাল বিতর্কের ক্রমবর্ধমান শক্তি নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২২, ২০২৬
অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ফাইল শেয়ারিং আরও সহজ করতে নতুন ফিচার চালু করছে গুগল।
অ্যান্ড্রয়েড থেকে আইফোনে সরাসরি ফাইল শেয়ারের সুবিধা চালু

অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ফাইল শেয়ারিং আরও সহজ করতে নতুন ফিচার চালু করছে গুগল। নতুন এই আপডেটের মাধ্যমে এখন কুইক শেয়ার ব্যবহার করে কিউআর কোডের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড থেকে আইফোনে ফাইল পাঠানো যাবে। সম্প্রতি ‘The Android Show: I/O Edition’ অনুষ্ঠানে গুগল এই নতুন সুবিধার ঘোষণা দেয়। কীভাবে কাজ করবে নতুন ফিচার নতুন ব্যবস্থায় অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী কুইক শেয়ার দিয়ে ফাইল পাঠানোর সময় একটি কিউআর কোড তৈরি করতে পারবেন। আইফোন ব্যবহারকারী সেই কোডটি ক্যামেরা অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করলে ফাইলটি ডাউনলোডের সুযোগ পাবেন। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, স্ক্যান করার পর ফাইলগুলো নিরাপদভাবে ক্লাউডে আপলোড হয়ে একটি প্রাইভেট ডাউনলোড লিংকের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে। পুরো প্রক্রিয়ায় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করা হবে।   কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তৈরি হওয়া ডাউনলোড লিংক অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না, ফলে নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত থাকবে। ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকবে ফাইল গুগল জানিয়েছে, শেয়ার করা ফাইলগুলো কিউআর কোড তৈরি হওয়ার পর সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ডাউনলোডের সুযোগ থাকবে। এই নতুন ফিচারটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ফাইল আদান–প্রদান আরও সহজ করবে, বিশেষ করে যারা দুই ধরনের ডিভাইসই ব্যবহার করেন তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক হবে। গুগলের মতে, এই কিউআর কোডভিত্তিক শেয়ারিং সুবিধা চলতি জুন মাসের শেষের দিকে সব ব্যবহারকারীর জন্য চালু করা হবে।

মারিয়া রহমান মে ১৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিদ্যুৎ ছাড়াই শীতল বাতাস, নতুন প্রযুক্তিতে চমক সউদী বিজ্ঞানীদের

  তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। একটু স্বস্তির আশায় মানুষ ছুটছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের দিকে। কিন্তু বাড়তি বিদ্যুৎ বিল, বিদ্যুৎ সংকট এবং পরিবেশ দূষণের কারণে অনেকের কাছেই এসির স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। ঠিক এমন সময়েই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছেন সউদী আরবের একদল বিজ্ঞানী। তারা উদ্ভাবন করেছেন এমন এক অভিনব শীতলীকরণ প্রযুক্তি, যা চালাতে প্রয়োজন হবে না এক ফোঁটা বিদ্যুৎও।   সউদী আরবের কিং আবদুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।–এর গবেষকরা এই প্রযুক্তির নাম দিয়েছেন ‘নেসকড’। এটি এমন একটি পরিবেশবান্ধব শীতলীকরণ ব্যবস্থা, যা কোনো মোটর, কম্প্রেসর কিংবা প্রচলিত এসির মতো বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্র ছাড়াই ঘর ঠান্ডা রাখতে সক্ষম। গবেষকদের দাবি, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী শীতলীকরণ ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে।   বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি একটি বিশেষ তাপশোষী রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নামের এক ধরনের লবণ পানির সঙ্গে মেশানো হলে তা চারপাশের পরিবেশ থেকে দ্রুত তাপ শোষণ করে নেয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। পরীক্ষাগারে দেখা গেছে, মাত্র ২০ মিনিটে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে প্রায় ৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে।   সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ব্যবহারের পর লবণটিকে পুনরায় আলাদা করে আবার ব্যবহার করা সম্ভব। সউদী আরবের প্রখর রোদ ও সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানি বাষ্পীভূত করা হয়, ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি হয়ে ওঠে আরও টেকসই ও সাশ্রয়ী।   গবেষকদের মতে, প্রচলিত এসি শুধু ঘর ঠান্ডা করে না, একই সঙ্গে বাইরে গরম বাতাস ছেড়ে দিয়ে নগরাঞ্চলের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া অধিকাংশ এসিতে ব্যবহৃত গ্যাস পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। কিন্তু নেসকড প্রযুক্তিতে নেই কোনো ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন, নেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ। ফলে এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎবিহীন দুর্গম অঞ্চল, শরণার্থী শিবির কিংবা দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোর জন্য এই প্রযুক্তি হতে পারে আশীর্বাদ। কম খরচে এবং সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছেও এটি সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।   শুধু ঘর ঠান্ডা রাখাই নয়, বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌর প্যানেল ঠান্ডা রাখা এবং বাতাস থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের মতো আরও আধুনিক ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনাও করছেন। তাদের আশা, বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে এই উদ্ভাবন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।   পরিবেশবান্ধব, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এবং স্বল্প খরচের এই প্রযুক্তি এখন বিশ্ববাসীর জন্য নতুন আশার নাম। হয়তো খুব শিগগিরই এসির আরাম আর বিলাসিতা থাকবে না, বরং সবার নাগালের এক বাস্তব সুবিধায় পরিণত হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খবর পেতে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে ঝুঁকছে, জরিপে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে অনেক এলাকায় স্থানীয় সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষ খবর পাওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইনফ্লুয়েন্সার ও পরিচিতদের ওপর বেশি নির্ভর করছে— নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মেডিল লোকাল নিউজ ইনিশিয়েটিভের এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ বলছে, যেসব এলাকায় কোনো স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নেই, সেসব জায়গার ৫১ শতাংশ মানুষ স্থানীয় খবর পায় অ-পেশাদার উৎস থেকে। অর্থাৎ ফেসবুক গ্রুপ, বন্ধু-পরিবার, ইনফ্লুয়েন্সার বা সার্চ ইঞ্জিনই এখন অনেকের প্রধান তথ্যের উৎস হয়ে উঠেছে। প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ থেকে স্থানীয় খবর দেখে এবং ৪১ শতাংশ মানুষ স্থানীয় টিভি সংবাদ দেখে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই এলাকাগুলোর মানুষ মনে করে তারা খবরের অভাবে ভুগছে না। নিউজ ডেজার্ট অর্থাৎ যে এলাকায় সংবাদমাধ্যম কম, সেসব এলাকায় ৪৯ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন স্থানীয় খবর দেখে, আর যেখানে সংবাদমাধ্যম আছে সেখানে এই হার ৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষ খবর দেখছে ঠিকই, কিন্তু তা সব সময় যাচাই করা সাংবাদিকতার মাধ্যমে নয়। গবেষকরা বলছেন, এখানেই বড় ঝুঁকি। মানুষ বুঝতে পারছে না যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খবর তারা পাচ্ছে না। আর যাচাই করা সাংবাদিকতা না থাকলে স্থানীয় সরকার বা ক্ষমতাবানদের ওপর নজরদারি কমে যেতে পারে। জরিপে আরও দেখা গেছে, যেসব এলাকায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নেই সেখানে মানুষের সংবাদমাধ্যমের প্রতি আস্থা কম। সংবাদসমৃদ্ধ এলাকায় প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ স্থানীয় সংবাদে আস্থা রাখে, কিন্তু নিউজ ডেজার্ট এলাকায় এই হার মাত্র ৪৬ শতাংশ। সাংবাদিকদের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগও কমে গেছে। গত ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ শতাংশ সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ কোটি মানুষ এখন স্থানীয় সংবাদে সীমিত সুযোগ নিয়ে বসবাস করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় সাংবাদিক না থাকলে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়াতে পারে এবং নাগরিক অংশগ্রহণ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মানুষ খবর পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যাচাই করা সাংবাদিকতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে—এটাই এই গবেষণার বড় সতর্কবার্তা। তথ্যসূত্র : পয়েন্টার

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
অনুবাদে গুগলকে টেক্কা দিতে চ্যাটজিপিটির নতুন ঘোষণা

২০২২ সালের নভেম্বরে সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিল চ্যাটজিপিটি। প্রথম থেকেই চমক দিতে থাকে ওপেনএআই নির্মিত চ্যাটবটটি। গুগলকে টেক্কা দেওয়াই লক্ষ্য স্যাম অল্টম্যানের এই সংস্থার। আর সেই লক্ষ্যে এগোতে এবার চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট নিয়ে বিবৃতি দিল ওপেনএআই। জানা গেছে, এই ট্রান্সলেশন টুলের লক্ষ্যই হলো এমন এক পরিষেবা, যার সাহায্যে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা যাবে। কার্যত গুগল ট্রান্সলেটরকে বড়সড় টক্কর দেওয়াই লক্ষ্য এই টুলের, মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। ওপেনএআইয়ের ঘোষণার পর থেকেই এই নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে বলে রাখা ভালো, চ্যাটজিপিটিতে অনুবাদ আগে থেকেই লভ্য। কিন্তু নতুন টুলে বদলে যাবে অভিজ্ঞতা। ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘চ্যাটজিপিটি ভাষা ব্যবহারে বরাবরই পারদর্শী। সঠিক ভাব ও সাংস্কৃতিক সূক্ষ্মতা বজায় রেখে ৪০টিরও বেশি ভাষায় নির্ভুল অনুবাদ করতে পারে এটি। চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট সেই সক্ষমতাকেই তুলে ধরবে এবং আমরা একে আরো উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।   মনে করা হচ্ছে, এই ঘোষণার মাধ্যমে যেন বুঝিয়ে দেওয়া হলো গুগল একা নয়। চ্যাটজিপিটিও এখনো অনুবাদে দক্ষ হয়ে উঠছে এবং ভবিষ্যতে আরো জনপ্রিয় হবে। সোজা কথায়, নাম না করলেও নতুন বিবৃতিতে টেক জায়ান্ট সংস্থাকেই যেন নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ল তারা। প্রসঙ্গত, ২৪৯টি ভাষা নিয়ে কাজ করে গুগল ট্রান্সলেটর। সেখানে এখনো পর্যন্ত চ্যাটজিপিটি স্বচ্ছন্দ ৪৭টি ভাষায়। নাম না করলেও নতুন বিবৃতিতে টেক জায়ান্ট সংস্থাকেই যেন নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ল ওপেনএআই। যুগটা এআইয়ের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দুনিয়ায় চমকের পর চমক সৃষ্টি করে চলেছে। ফলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর মধ্যে ‘প্রতিযোগিতা’ শুরু হয়ে গেছে অনেক দিন ধরেই। গত নভেম্বরে অল্টম্যান লিখেছিলেন, ‘আমরা একটি সংস্থা হিসেবে যথেষ্ট শক্তি নির্মাণ করেছি। এতে দুর্দান্ত মডেল তৈরি করে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারি। সুপার ইন্টেলিজেন্সে পৌঁছানোর জন্য আমাদের গবেষণা দলের বেশিরভাগ সদস্যকে আরো বেশি মনোনিবেশ করতে হবে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’    পাশাপাশি গুগলের সঙ্গে ‘রেস’ নিয়েও তিনি প্রতিক্রিয়া দেন। স্বীকার করে নেন, এই ‘লড়াইয়ে’ এগিয়ে গেছে গুগল। তবে সেই সঙ্গে তার দাবি, এই এগিয়ে থাকা সাময়িক। এবার নতুন ঘোষণায় সেটাই আবারও প্রতিফলিত হলো। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
হোয়াটসঅ্যাপে নতুন সিকিউরিটি ফিচার

ডিজিটাল দুনিয়ায় হ্যাকারদের ফাঁদ দিন দিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে প্রতারণার নানা কৌশল বহুদিন ধরেই সক্রিয়। লোভনীয় অফার, তাৎক্ষণিক ক্যাশব্যাক বা এক্সক্লুসিভ ডিলের নামে প্রতারকরা ব্যবহারকারীদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।   এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে নতুন একটি সিকিউরিটি ফিচার চালু করতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। ফিচারটির নাম ‘স্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্ট সেটিংস’। এটি একটি ওয়ান-ক্লিক সুরক্ষা ব্যবস্থা—একবার চালু করলেই একাধিক নিরাপত্তা ফিচার একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে যাবে। এই সেটিংস অন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন ও সিকিউরিটি নোটিফিকেশন চালু হবে। ফলে কোনো পরিচিত কনট্যাক্টের এনক্রিপশন কোডে পরিবর্তন হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারী সতর্কবার্তা পাবেন। এছাড়া লাস্ট সিন, অনলাইন স্ট্যাটাস, প্রোফাইল ছবি ও প্রোফাইল লিঙ্ক কেবল পরিচিত কনট্যাক্টদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অপরিচিত নম্বর থেকে পাঠানো ছবি, ভিডিও বা অডিও ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হয়ে যাবে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে অচেনা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল এলে সেটি নিজে থেকেই সাইলেন্ট হয়ে যাবে, ফলে সন্দেহজনক বা বিরক্তিকর কল এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে এই ফিচার চালু করা হবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী বা যাদের সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বেশি, তাদের জন্য এই ফিচার বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এটি বাধ্যতামূলক নয়—ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজ উদ্যোগেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে পারবেন। সাম্প্রতিক সময়ে মেটা সংস্থার কর্মীরা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারেন—এমন অভিযোগ ও বিতর্কের আবহে এই নতুন ফিচারকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬
প্রতীকী ছবি : এআই
বিভিন্ন রোগের নতুন চিকিৎসার পথ খুলবে গুগলের নতুন এআই টুল

গুগল বুধবার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন টুল উন্মোচন করেছে, যা মানব জিনোমের জটিল রহস্য উন্মোচনে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন রোগের নতুন চিকিৎসার পথ খুলে দিতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। ডিপ লার্নিং মডেল আলফাজিনোমকে বাইরের গবেষকেরা ‘একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি বিজ্ঞানীদের কঠিন জেনেটিক রোগগুলোর মূল কারণ বিশ্লেষণ ও এমনকি সেগুলো অনুকরণ করে পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে। গুগল ডিপমাইন্ডের গবেষণা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পুশমিত কোহলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০০৩ সালে মানব জিনোমের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র আমাদের হাতে “জীবনের বই” তুলে দিয়েছিল, কিন্তু সেই বই পড়া তখনও ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে লেখা আছে’—অর্থাৎ ডিএনএর তিন বিলিয়ন নিউক্লিওটাইড জোড়ার ক্রম, যা A, T, C ও G এই চারটি অক্ষরে প্রকাশ করা হয়। তবে কোহলির মতে, ‘এই জিনোমের ব্যাকরণ বোঝা—ডিএনএতে কীভাবে তথ্য সঙ্কেতিত আছে এবং তা কীভাবে জীবন পরিচালনা করে—এই বিষয়টিই এখন গবেষণার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত।’ তিনি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণাপত্রের সহলেখক। মানব ডিএনএর মাত্র প্রায় দুই শতাংশ অংশ প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা বহন করে। প্রোটিনই মূলত শরীর গঠন ও পরিচালনার কাজ করে। বাকি ৯৮ শতাংশ ডিএনএ দীর্ঘদিন ধরে ‘জাঙ্ক ডিএনএ’ হিসেবে পরিচিত ছিল, কারণ বিজ্ঞানীরা এর কাজ বুঝতে পারছিলেন না। কিন্তু এখন ধারণা করা হচ্ছে, এই তথাকথিত ‘নন–কোডিং ডিএনএ’ একটি অর্কেস্ট্রার কন্ডাক্টরের মতো কাজ করে—আমাদের প্রতিটি কোষে জেনেটিক তথ্য কীভাবে সক্রিয় হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে। এই অংশগুলোর মধ্যেই এমন বহু ভিন্নতা (ভ্যারিয়েন্ট) রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আলফাজিনোম মূলত এসব জটিল জিনগত অংশ বোঝার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
বিনোদন

ঢাবি নাটমণ্ডলে ‘শ্রাবণ বরিষণে’: কাব্যকুহুকের নান্দনিক বর্ষা উদযাপন

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৩, ২০২৬