টেলিকম ও প্রযুক্তি

প্রাইভেসি সংক্রান্ত বিতর্কের মুখে ক্যামেরাবিহীন এআই চশমা আনছে মেটা

বিশ্বজুড়ে গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং নারীদের অজান্তে তাদের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একাধিক নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বা ‘ওয়্যারাবল’ উন্মোচন করেছে মেটা। এর মধ্যে রয়েছে ক্যামেরাবিহীন, শুধু অডিও সুবিধা সম্বলিত এক জোড়া স্মার্ট চশমা।   মেনলো পার্কে মেটার সদর দফতরে আয়োজিত বার্ষিক ‘কানেক্ট’ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ চশমার এই নতুন লাইনআপের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি তাদের নতুন পার্সোনাল এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘মিউজ’-এর সুবিধাও তুলে ধরেন।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।    ডেভেলপার ও শীর্ষ নির্বাহীদের উদ্দেশে জাকারবার্গ বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ চশমা ব্যবহার করেন। আমরা মনে করি যে আগামী বছরগুলোতে তাদের বড় একটি অংশ এআই চশমায় উন্নীত হবে।’   স্মার্ট চশমা ও অন্যান্য ডিভাইসে থাকা ক্ষুদ্র ক্যামেরার মাধ্যমে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই অডিও-ভিত্তিক চশমা বাজারে আনছে মেটা। সমালোচকেরা এই ধরনের গোপন ক্যামেরা সম্বলিত চশমাকে ‘বিকৃত চশমা’ নামে অভিহিত করেছেন।   সাধারণ স্মার্ট চশমার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ড করা, গান শোনা, ফোন কল করা, ভাষা অনুবাদ বা এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের সাথে মিথস্ক্রিয়া করার সুযোগ পান।   ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা রয়েছেÑএমন আরও ডজন খানেক নতুন স্মার্ট চশমা মডেলের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে বাজারে থাকবে এই ক্যামেরাবিহীন অডিও সংস্করণটি।   বুধবার এএফপি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেটার এআই প্রোডাক্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশাল শাহ বলেন, রেকর্ডিং নির্দেশক ইন্ডিকেটর লাইটের মতো প্রাইভেসির ফিচার যুক্ত করা ‘সত্যিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেয়েছিলাম মানুষ যেন স্পষ্ট বুঝতে পারে যে ডিভাইসটি দিয়ে কিছু রেকর্ড করা হচ্ছে। তাই সময়ের সাথে সাথে আমরা এই ইন্ডিকেটর লাইটটি আরও দৃশ্যমান করেছি।   তিনি আরও বলেন, ‘চশমাটি প্রথম উন্মোচনের সময় আমরা বিষয়টি নিয়ে অনেক কথা বলেছিলাম। তবে সম্প্রতি আমাদের মনে হচ্ছে এই বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি প্রচার করা প্রয়োজন। কারণ, প্রাইভেসির এই বিষয়গুলো কিন্তু এতটুকুও পরিবর্তন হয়নি।   মেটা ২০২১ সালে তাদের প্রথম স্মার্ট চশমা বাজারে আনে এবং সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হয়েছে।   গত বছর কোম্পানিটি ‘ডিসপ্লে’ চশমা উন্মোচন করে, যা চশমার লেন্সে ছবি ও তথ্য ফুটিয়ে তুলতে পারে।   চলতি বছরের শুরুর দিকে চশমা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসিলোর-লাক্সোটিকা’র সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে উৎপাদিত রে-ব্যান ও ওকলি মেটা মডেলগুলোর বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব ‘মেটা’ ব্র্যান্ডের এআই চশমা উন্মোচন করে কোম্পানিটি।   এছাড়া তাদের মূলধারার মেটা রে-ব্যান চশমারও বেশ কিছু নতুন স্টাইল চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এর ডিসপ্লে সংস্করণটির প্রাথমিক মূল্য রাখা হয়েছে ৭৯৯ ডলার এবং যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি ও কানাডাসহ নতুন নতুন বাজারে এটি শিগগিরই পাওয়া যাবে।   কোম্পানিটি খুব শিগগিরই তাদের পূর্বের ‘কোয়েস্ট ভিআর’ হেডসেটের চেয়ে অনেকটাই হালকা ও উন্নত ‘মিক্সড রিয়েলিটি’ চশমা বাজারে আনবে।   ‘মেটা ভিআর গ্লাসেস’ নামের এই ডিভাইসটিতে তারযুক্ত একটি এক্সটার্নাল ব্যাটারি ও মেমোরি প্যাক ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে মূল হেডসেটটি অনেক হালকা রাখা সম্ভব হয়েছে।   জাকারবার্গ জানান, এই চশমাটির ওজন একটি তাসের প্যাকেটের মতোই হালকা। এটিতে বাইরের কোনো দৃশ্যমান সুইচ বা বোতাম নেই; এটি কেবল হাতের অঙ্গভঙ্গি (হ্যান্ড জেসচার) এবং ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।   ভিআর চশমাটি ২০২৭ সালে ১ হাজার ২৯৯ ডলার মূল্যে বাজারে পাওয়া যাবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
হোয়াটসঅ্যাপে থার্ড-পার্টি এআই এজেন্ট চালুর উদ্যোগ মেটার

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। সুবিধাটি চালু হলে হোয়াটসঅ্যাপে অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট ব্যবহার করা যাবে।     এসব এআই এজেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার পাশাপাশি কাজের তালিকা, বার্তার খসড়া এবং প্রতিদিনের কাজের পরিকল্পনাও তৈরি করা সম্ভব হবে। খবর টেকইনএশিয়া হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকেই তৃতীয় পক্ষের তৈরি এআই এজেন্ট ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাবে। প্রতিটি এজেন্টের জন্য আলাদা নাম ও প্রোফাইল ছবি নির্ধারণ করা যাবে। এ জন্য এআই এজেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে হোয়াটসঅ্যাপ একটি এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) ‘কি’ দেবে।     ওই কি ব্যবহার করে এজেন্টকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত সেবার সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।     তবে এসব এআই এজেন্টের সঙ্গে হওয়া কথোপকথন সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মতো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের আওতায় থাকবে না। কারণ, এজেন্টগুলো পরিচালনা করবে তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান। হোয়াটসঅ্যাপ মূলত বার্তা প্রক্রিয়াকরণের কাজ করবে।     ফলে এআই এজেন্টের সঙ্গে শেয়ার করা তথ্য সাধারণ ব্যক্তিগত চ্যাটের মতো একই মাত্রার নিরাপত্তা পাবে না।   নতুন সুবিধা চালু হলে একজন ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ পাঁচটি এআই এজেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এজেন্টগুলো ব্যবহারকারীর পুরো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। ব্যবহারকারী যেসব বার্তা বা কনটেন্ট সরাসরি এআই এজেন্টের সঙ্গে শেয়ার করবেন, শুধু সেগুলোই এজেন্ট পড়তে পারবে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত চ্যাট, পরিচিত ব্যক্তিদের ফোন নম্বর কিংবা ফোনে থাকা ছবি, ভিডিওসহ অন্যান্য মিডিয়া ফাইল দেখার সুযোগ থাকবে না এআই এজেন্টগুলোর।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
কাজের জন্য সেরা ৫টি হেডফোনের সুবিধা-অসুবিধা

হেডফোন কেনার সময় শুধু শব্দের মান বা ব্যাটারি ব্যাকআপ দেখলেই হয় না। দীর্ঘ সময় কানে রাখার পর সেটি কতটা আরামদায়ক, বাইরের শব্দ কতটা কমাতে পারে, মিটিংয়ে মাইক্রোফোন কেমন কাজ করে এবং ফোন ও কম্পিউটারের মধ্যে সহজে বদলানো যায় কি না এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে ৫টি ওভার-ইয়ার হেডফোন পুরো কর্মদিবসজুড়ে ব্যবহার করে এসব দিক তুলে ধরা হয়েছে। মিটিং, গান শোনা, অফিসের কাজ ও বাইরের শব্দের মধ্যে ব্যবহার করে দেখা হয়েছে সনি, জেবিএল, সেনহাইজার, সাউন্ডকোর ও সিএমএফ বাই নাথিংয়ের পাঁচটি মডেল।       সনি ইউএলটি ওয়্যার সনি ইউএলটি ওয়্যার ডব্লিউএইচ-ইউএলটি৯০০এন মূলত শক্তিশালী বেস পছন্দ করেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য। এতে রয়েছে অ্যাডাপটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন, ৪০ মিলিমিটারের ড্রাইভার এবং মাল্টিপয়েন্ট ব্লুটুথ।   এএনসি চালু থাকলে ব্যাটারি প্রায় ৩০ ঘণ্টা চলে। হেডফোনটির ওজন ২৫৫ গ্রাম। ইউএলটি বোতাম ব্যবহার করে দ্রুত বেস-নির্ভর সাউন্ড মোড চালু করা যায়।     ব্যবহারকারীরা এর শক্তিশালী বেস, আরামদায়ক ফিট, ব্যাটারি ব্যাকআপ ও নয়েজ ক্যানসেলেশনের প্রশংসা করেছেন।     তবে আকার কিছুটা বড় মনে হতে পারে। বেশি বেসের সাউন্ডও সব ধরনের গানের সঙ্গে সবার পছন্দ নাও হতে পারে।     জেবিএল লাইভ ৭৭০এনসি দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ ও নয়েজ ক্যানসেলেশনকে গুরুত্ব দিলে জেবিএল লাইভ ৭৭০এনসি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে রয়েছে ট্রু অ্যাডাপটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন, স্মার্ট অ্যাম্বিয়েন্ট মোড ও মাল্টিপয়েন্ট কানেক্টিভিটি।     এএনসি চালু রেখেও ব্যাটারি ৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে।     এতে ৪০ মিলিমিটারের ড্রাইভার ও ব্লুটুথ ৫.৩ রয়েছে। জেবিএল হেডফোনস অ্যাপের মাধ্যমে সাউন্ডও নিজের পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়।   তবে প্লাস্টিকের নির্মাণের কারণে এটি খুব প্রিমিয়াম অনুভূতি নাও দিতে পারে। কিছু ব্যবহারকারী সেটআপের সময় অ্যাপ নিয়ে সমস্যার কথাও জানিয়েছেন।       সেনহাইজার অ্যাকসেন্টাম ওয়্যারলেস দীর্ঘ সময় গান শোনা বা কাজের সময় হেডফোন পরে থাকার ক্ষেত্রে সাউন্ডের মান ও আরামকে গুরুত্ব দিলে সেনহাইজার অ্যাকসেন্টাম ওয়্যারলেস স্পেশাল এডিশন নজরে আসতে পারে।     এতে রয়েছে হাইব্রিড অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন, ৩৭ মিলিমিটারের ড্রাইভার এবং ৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ। মাল্টিপয়েন্ট ব্লুটুথের কারণে ফোন ও কম্পিউটারের মতো দুটি ডিভাইসের মধ্যে সহজে পরিবর্তন করা যায়।     এর সঙ্গে থাকা বিটিডি ৬০০ ডঙ্গল উন্নতমানের ওয়্যারলেস অডিও ব্যবহারের সুবিধা দেয়। ব্যবহারকারীরা সাউন্ডের মান, আরাম ও ব্যাটারি নিয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। তবে নয়েজ ক্যানসেলেশন কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী মডেলের মতো শক্তিশালী নয়।     সাউন্ডকোর কিউ২০আই সাউন্ডকোর কিউ২০আইয়ের অন্যতম সুবিধা দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ। এএনসি চালু রেখেও এটি ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। এতে রয়েছে হাইব্রিড অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন, ৪০ মিলিমিটারের ড্রাইভার এবং দুটি ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ রাখার সুবিধা।     সাউন্ডকোর অ্যাপ ব্যবহার করে সাউন্ড নিজের পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়। নরম ইয়ার কুশনের কারণে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি স্বস্তিদায়ক হতে পারে।     তবে এর নির্মাণে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেশি। মানুষের কথা বা হঠাৎ তৈরি হওয়া শব্দ কমানোর ক্ষেত্রে এর নয়েজ ক্যানসেলেশন সবসময় সমান কার্যকর নাও হতে পারে। ভালো সাউন্ড পেতে অনেকের ইকিউ সেটিং পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে।     সিএমএফ হেডফোন প্রো সিএমএফ বাই নাথিংয়ের হেডফোন প্রোতে ব্যাটারি, নয়েজ ক্যানসেলেশন ও সাউন্ড নিয়ন্ত্রণ—তিনটি বিষয়েই জোর দেওয়া হয়েছে। এএনসি চালু থাকলে ব্যাটারি ৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে।     এতে রয়েছে ৪০ মিলিমিটারের ড্রাইভার, ব্লুটুথ ৫.৪ এবং সর্বোচ্চ ৪০ ডেসিবেল পর্যন্ত হাইব্রিড অ্যাডাপটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন। এলডিএসি ও হাই-রেজ অডিও সাপোর্টের পাশাপাশি নাথিং এক্স অ্যাপ থেকে সাউন্ডও নিজের মতো করে সাজানো যায়।     ব্যবহারকারীরা ব্যাটারি ব্যাকআপ, নয়েজ ক্যানসেলেশন, সাউন্ড ও আরামের প্রশংসা করেছেন। তবে প্লাস্টিকের নির্মাণের কারণে এটি সবার কাছে প্রিমিয়াম মনে নাও হতে পারে। বেস-প্রধান সাউন্ডও সব শ্রোতার পছন্দ নাও হতে পারে।     হেডফোন কেনার সময় যা দেখবেন দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য হেডফোন কিনলে শুধু ব্যাটারি বা নয়েজ ক্যানসেলেশন দেখলেই হবে না। হেডফোনটির ওজন, কানে কতটা চাপ পড়ে, ইয়ারকাপ কতটা আরামদায়ক এবং মাইক্রোফোনের মানও গুরুত্বপূর্ণ।     যারা কাজের সময় ফোন ও ল্যাপটপের মধ্যে নিয়মিত পরিবর্তন করেন, তাদের জন্য মাল্টিপয়েন্ট কানেক্টিভিটি বেশ সুবিধাজনক। আবার ভ্রমণের সময় ব্যবহার করলে বাইরের একটানা শব্দ কমানোর ক্ষমতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।     গান শোনার ক্ষেত্রে সাউন্ডের মান, ইকিউ পরিবর্তনের সুযোগ এবং উন্নত ব্লুটুথ কোডেক কাজে আসে। তাই হেডফোন বাছাইয়ের সময় সবচেয়ে বেশি ফিচার আছে কি না, শুধু সেটি না দেখে নিজের ব্যবহার ও প্রয়োজন অনুযায়ী মডেল বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
বিরল রোগের ওষুধ আবিষ্কারে এআই, নতুন গবেষণাগার চালু করলো অ্যানথ্রপিক

  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ওষুধ গবেষণার পরিধি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় নিজস্ব ‘ওয়েট ল্যাব’ বা জীববিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপন করেছে অ্যানথ্রপিক। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ল্যাবটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান এরিক কডারার-আব্রামস। এত দিন কম্পিউটারভিত্তিক গবেষণায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া অ্যানথ্রপিক এখন নিজস্ব স্থাপনায় বাস্তব জীববৈজ্ঞানিক পরীক্ষাও চালাচ্ছে। তবে ল্যাবটির কার্যক্রম নির্দিষ্টভাবে ষুধ আবিষ্কারে সীমাবদ্ধ নয় বলে জানা যায়। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরের অংশীদারদের দিয়েও পরীক্ষা করানো হবে।   চলতি বছর জুনে সান ফ্রান্সিসকোর এক অনুষ্ঠানে অ্যানথ্রপিক প্রথমবারের মতো ওষুধ গবেষণা কার্যক্রমের পরিকল্পনা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি এমন রোগ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছে, যেগুলো প্রচলিত ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত গবেষণার আওতায় আসেনি। বিশেষ করে বিরল এবং প্রচলিত পদ্ধতিতে চিকিৎসার ওষুধ তৈরি করা কঠিন, এমন রোগের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করে গবেষণার সময় কমানো এবং সম্ভাব্য ওষুধ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় বিনিয়োগ ও জনবল বাড়াচ্ছে অ্যানথ্রপিক।   গবেষণাগারের পরীক্ষাগুলোও এআই-এর সমন্বয়ে স্বয়ংক্রিয় করার সক্ষমতা যাচাই করছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব এআই ক্লডকে রোবোটিক যন্ত্রপাতির সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে মানব হস্তক্ষেপ কমিয়ে এনে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করছে। তবে পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়ায় মানব তদারকি রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া গত আগস্ট মাসে ‘মডেল হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড’ চালু করে গবেষণাগারে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সঙ্গে এআই মডেলের কাজ করার জন্য একটি সাধারণ প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয় অ্যানথ্রপিক। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ল্যাবরেটরি সরঞ্জামের সঙ্গে এআই মডেলের সমন্বয় সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।   জীববিজ্ঞান গবেষণায় ক্লড এআই-এর ব্যবহার বাড়াতে ৬০টির বেশি বৈজ্ঞানিক ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত ‘ক্লড সাইন্স’ প্ল্যাটফর্মও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্ল্যাটফর্মটিতে জিনোমিকস, প্রোটিওমিকস ও স্ট্রাকচারাল বায়োলজিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সরঞ্জাম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৪০ কোটি ডলারের শেয়ারের বিনিময়ে ক-ইফিশিয়েন্ট বায়ো অধিগ্রহণ করেছে অ্যানথ্রপিক। এছাড়াও বিভিন্ন বড় ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব অংশীদারত্বের মাধ্যমে গবেষণা, ওষুধ উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য ওষুধ শনাক্তকরণে ক্লডের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইব ও রোশের জেনেনটেকের কর্মীরাও গবেষণা ও ওষুধ উন্নয়নের কাজে ক্লড ব্যবহার করতে পারছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কভিত্তিক ওষুধ কোম্পানি নোভো নরডিস্কের সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয় অ্যানথ্রপিক।    তবে আপাতত নিজস্বভাবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার পরিকল্পনা নেই অ্যানথ্রপিকের। ওষুধ বাজারজাত করার চূড়ান্ত ধাপ পর্যন্ত যাওয়ার পরিবর্তে ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে প্রাথমিক ও প্রি-ক্লিনিক্যাল গবেষণায় এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করাই তাদের বর্তমান লক্ষ্য।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ল্যাপটপের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক ও টিপস

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে ল্যাপটপ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে অনেকেই ল্যাপটপের ব্যাটারি লাইফ নিয়ে সমস্যায় পড়েন। একটি ল্যাপটপ একবার চার্জে কতক্ষণ চলবে তা মূলত এর ব্যাটারির ক্ষমতা এবং ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। কিছু নিয়ম মেনে চললে ল্যাপটপের ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ভালো রাখা সম্ভব।     একবার চার্জে ল্যাপটপ কতক্ষণ চলা স্বাভাবিক? সাধারণ অফিশিয়াল কাজ বা পড়াশোনার জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপগুলো একবার ফুল চার্জে ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সচল থাকা স্বাভাবিক। তবে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির আল্ট্রাবুক বা ম্যাকবুকগুলো ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে পারে। অন্যদিকে, হাই-কনফিগারেশনের গেমিং বা ভিডিও এডিটিং ল্যাপটপগুলোর পাওয়ার কনসাম্পশন বেশি হওয়ায় এগুলো সাধারণত ২ থেকে ৪ ঘণ্টার বেশি ব্যাকআপ দেয় না।     ব্যাটারির আয়ু বা লাইফস্প্যান কী? ল্যাপটপের ব্যাটারি প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে এর কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। একে পরিমাপ করা হয় চার্জ সাইকেল দিয়ে। ১টি ফুল চার্জ সাইকেল মানে হলো ব্যাটারি ০% থেকে ১০০% পর্যন্ত একবার চার্জ হওয়া। একটি ভালো মানের ল্যাপটপ ব্যাটারি সাধারণত ৩০০ থেকে ১,০০০ চার্জ সাইকেল (প্রায় ২ থেকে ৫ বছর) ভালো সার্ভিস দেয়। এরপর ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ৮০% বা তার নিচে নেমে আসে।      ল্যাপটপের ব্যাটারি ভালো রাখবেন যেভাবে  ১. ল্যাপটপের ব্যাটারি ভালো রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এর চার্জের পরিমাণ ২০% থেকে ৮০% এর মধ্যে রাখা। চার্জ কখনো ২০% এর নিচে নামতে দেবেন না এবং ৮০% হয়ে গেলে চার্জার খুলে ফেলুন। সবসময় ১০০% চার্জ করা এবং চার্জ শেষ হয়ে ল্যাপটপ পুরো বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটিই ব্যাটারির আয়ু দ্রুত কমিয়ে দেয়।     ২. ল্যাপটপের ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অতিরিক্ত তাপ। বিছানা, বালিশ বা সোফার মতো নরম জায়গায় ল্যাপটপ রেখে কাজ করলে এর বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং ল্যাপটপ দ্রুত গরম হয়। তাই সবসময় শক্ত ও সমতল টেবিল বা কুলিং প্যাড ব্যবহার করুন।     ৩. ল্যাপটপ চার্জ করার জন্য সবসময় ডিভাইসের সাথে আসা আসল চার্জার বা সার্টিফাইড ব্র্যান্ডের চার্জার ব্যবহার করুন। কমদামী বা লোকাল চার্জার ব্যাটারির স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া ল্যাপটপের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখা এবং উইন্ডোজের ব্যাটারি সেভার মোড অন রাখলে ব্যাটারির ওপর চাপ কম পড়ে।     ৪. কাজ শেষ হওয়ার পর পেনড্রাইভ, মাউস বা এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক ল্যাপটপ থেকে খুলে রাখুন, কারণ এগুলো ল্যাপটপ থেকে পাওয়ার টেনে নেয়। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা অপ্রয়োজনীয় ভারী সফটওয়্যার, অতিরিক্ত ব্রাউজার ট্যাব এবং ব্লুটুথ বা ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখলে ব্যাটারি দীর্ঘায়ু হয়।     ল্যাপটপের ব্যাটারি একটি ক্ষয়িষ্ণু উপাদান, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কার্যক্ষমতা হারাবে, এটি খুবই স্বাভাবিক। তবে আমাদের প্রতিদিনের কিছু ছোট ও সচেতন অভ্যাস ব্যাটারির এই ক্ষয় হওয়ার গতিকে অনেকটাই ধীর করে দিতে পারে। সঠিক নিয়মে চার্জ দেওয়া, ল্যাপটপ ঠান্ডা রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়ার সেভিং সেটিংস ব্যবহার করার মাধ্যমে একটি ল্যাপটপ থেকে দীর্ঘদিন চমৎকার ব্যাকআপ পাওয়া সম্ভব। তাই ডিভাইসের যত্ন নিন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করুন এবং আপনার ল্যাপটপকে রাখুন দীর্ঘকাল সচল ও প্রাণবন্ত।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
পৃথিবী-চাঁদ কক্ষপথে সংঘাতের ঝুঁকি, কৌশলগত পথের ওপর নজর গবেষকদের

ভবিষ্যতে পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী মহাকাশ এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন চীনের গবেষকরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। চীনের মহাকাশ গবেষণা বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তখন প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।       জার্নাল অব কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোলে প্রকাশিত এই গবেষণায় সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী মহাকাশযান একে অপরকে ধাওয়া করতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলতে মহাকাশের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারে।     গবেষকদের মতে, মহাকাশযানগুলো চাঁদের জটিল মহাকর্ষীয় পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট অবস্থানে টিকে থাকতে পারে। ফলে পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারে।        গবেষণায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল বা চোক পয়েন্ট চিহ্নিত হয়েছে যেখানে মহাকাশ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী পথগুলো একে অপরের কাছাকাছি চলে আসে। নিয়ন্ত্রণকারী কোনো দেশ সরাসরি সংঘাত ছাড়াই প্রতিপক্ষের চলাচলের পথ আটকে দিতে পারে, তাদের গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে অথবা কোনো অভিযানের সময়ক্ষেপণ ঘটাতে পারে।       গবেষকদের মতে, এই অঞ্চলের গুরুত্ব কেবল কোনো নির্দিষ্ট মহাকাশযান বা নির্দিষ্ট পথের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং সামগ্রিকভাবে মহাকাশে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করাটাই একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
একাধিক ভাষা ও বক্তার কথাকে লাইভ টেক্সটে রূপান্তর করবে মেটার নতুন এআই

 একটি দীর্ঘ বৈঠক বা আলোচনায় একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে কথা বললে এবং কথোপকথনের মধ্যে বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করা হলে পরে অডিও রেকর্ডিং থেকে কে কী বলেছেন, তা আলাদা করে শনাক্ত করা বেশ জটিল হয়ে উঠতে পারে। এমন জটিল ও বহুভাষী কথোপকথনের সময় রিয়েলটাইমে বক্তব্য লিখিত আকারে রূপান্তরের পাশাপাশি প্রতিটি বক্তাকে আলাদাভাবে শনাক্ত করার সক্ষমতা নিয়ে সম্প্রতি নতুন এআই মডেল ‘মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব’ উন্মোচন করেছে মেটা।   মেটার সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস গত ১ সেপ্টেম্বর ‘মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব’ লঞ্চ করে। এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম রিয়েলটাইম অডিও পারসেপশন মডেল। একই সঙ্গে কথাকে লেখায় রূপান্তর, বক্তা শনাক্তকরণ এবং বক্তার কথা শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণের মতো জটিল কাজ করতে পারে এটি। মেটার দাবি, ২০ জনের বেশি বক্তার দীর্ঘ কথোপকথনও মডেলটি অনায়াসে প্রক্রিয়া করতে সক্ষম।   বর্তমানে প্রচলিত অডিও ট্রান্সক্রাইবারগুলো একটি ভিডিও বা অডিও ফাইল থেকে বক্তব্য বা কথোপকথন একাধারে টেক্সটে রূপান্তর করতে পারে। তবে একাধিক বক্তা বা বহুভাষী কথোপকথনের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বক্তা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না এবং রূপান্তর প্রক্রিয়াতেও অনেক ভুল হয়ে থাকে। মেটার নতুন এই মডেলটি প্রচলিত ট্রান্সক্রাইবারের এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে সক্ষম।   মডেলটির অবকাঠামোগত প্রযুক্তিগুলোর অন্যতম হলো স্ট্রিমিং অটোমেটিক স্পিচ রিকগনিশন বা এএসআর। প্রচলিত ট্রান্সক্রিপশন ব্যবস্থায় সাধারণত পুরো অডিও রেকর্ড হওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করা হয়। অন্যদিকে, স্ট্রিমিং এএসআর কথোপকথন চলার সময়ই ধাপে ধাপে বক্তব্যকে টেক্সটে রূপান্তর করে। ফলে বৈঠক, সাক্ষাৎকার বা বক্তৃতার লাইভ ট্রান্সক্রিপশন তৈরি করা সম্ভব হয়।   কোনো শব্দ স্পষ্ট ও সহজে শনাক্ত করা গেলে এআই দ্রুত সেটিকে লিখিত রূপে দেখায়। তবে উচ্চারণ অস্পষ্ট হলে বা পরের শব্দগুলো না শুনে সঠিক অর্থ ও শব্দ নির্ধারণ করা কঠিন হলে মডেলটি কিছুটা বেশি সময় নিয়ে অতিরিক্ত অডিও বিশ্লেষণ করে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিক্রিয়ার সময় পরিবর্তন করে দ্রুত ট্রান্সক্রিপশন এবং শব্দ শনাক্তকরণের নির্ভুলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে প্রযুক্তিটি।   মডেলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো স্পিকার ডায়ারাইজেশন। এই প্রযুক্তি একটি কথোপকথনে একাধিক বক্তার কথার মধ্যে কোন অংশটি কোন বক্তার, সেটিও আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারে। এতে দীর্ঘ বৈঠক, সাক্ষাৎকার বা প্যানেল আলোচনার ট্রান্সক্রিপ্ট পড়ার সময় সহজেই বোঝা যাবে কে কোন বক্তব্য দিয়েছেন।   একই সঙ্গে একাধিক ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কাজ করতে পারে মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব। মেটার তথ্যমতে, মডেলটি ৭০টির বেশি ভাষার তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত হয়েছে এবং ২৫টির বেশি ভাষায় এর সক্ষমতা সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে কোড-সুইচিং শনাক্ত করার সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ, একজন বক্তা কথা বলার সময় এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় চলে গেলে বা একই কথোপকথনে একাধিক ভাষা ব্যবহার করলে সেটিও শনাক্ত করবে মডেলটি। এ ছাড়া এন্ডপয়েন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই বুঝতে পারে কখন একজন বক্তার বক্তব্য শেষ হয়েছে বা কখন নতুন বক্তব্য শুরু হচ্ছে।   মিউজ ভয়েস ট্রান্সক্রাইব বর্তমানে মেটার মডেল এপিআইয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে। এটি ম্যাকের জন্য মেটা এআইয়ের ডিকটেশন সুবিধা এবং মিউজ কোডেও ব্যবহার করা যায়। মেটার নির্ধারিত এপিআই মূল্য প্রতি এক হাজার মিনিট অডিওর জন্য ৩ ডলার।   অনলাইন বৈঠক, সংবাদ সাক্ষাৎকার, শিক্ষা, গ্রাহকসেবা ও ভয়েসভিত্তিক এআই ব্যবস্থায় এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে। বিশেষ করে একাধিক বক্তা ও ভাষার দীর্ঘ কথোপকথন দ্রুত লিখিত রূপে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মডেলটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
এআইয়ের সাহায্যে তৈরি প্রতীকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ বছরের কম বয়সীদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করবে মেটা

যুক্তরাষ্ট্রে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বড় ধরনের কড়াকড়ি আনতে সম্মত হয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। তবে দেশটিতে শিশুদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, অঞ্চল এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ৫২ জন অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার আওতায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। মেটা জানিয়েছে, সমঝোতার অধিকাংশ শর্ত ১০ বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীরা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা ব্যবহার করতে পারবে। এই সময়সীমা কিশোর-কিশোরীরা নিজেরা পরিবর্তন বা বন্ধ করতে পারবে না। সীমা বাড়াতে হলে অভিভাবকের অনুমতি প্রয়োজন হবে।   এ ছাড়া রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে বাধা থাকবে। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া এ বিধিনিষেধও তুলে দেওয়া যাবে না।   স্কুল চলাকালে বন্ধ থাকবে নোটিফিকেশন নতুন ব্যবস্থায় স্কুল চলাকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বেশির ভাগ পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কিশোরদের কাছে নোটিফিকেশন পাঠানোর ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা থাকবে। একটানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিরতি দেওয়ার জন্য প্রতি ১৫ মিনিট পরপর সতর্কবার্তা দেখানো হবে। দৈনিক ব্যবহারের সময় ৬০ মিনিট ও ৯০ মিনিটে পৌঁছালেও আলাদা সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।   ১৩ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্তে জোর সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহারকারীদের বয়স শনাক্ত করার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, যাতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে সেগুলো সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। দেশটির শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, ১৩ বছরের কম বয়সীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাধারণত অভিভাবকের যাচাইকৃত সম্মতি প্রয়োজন হয়।   লাইক ও ফিল্টারেও বিধিনিষেধ নতুন সমঝোতায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের পোস্টে কতটি ‘লাইক’ বা প্রতিক্রিয়া পড়েছে, সেই সংখ্যা প্রদর্শন না করার শর্ত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কসমেটিক সার্জারি বা শারীরিক গঠন পরিবর্তনের মতো ধারণা তৈরি করে—এমন কিছু ইমেজ ফিল্টার কিশোরদের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে। কিশোরেরা চাইলে এমন একটি ফিড ব্যবহারের সুযোগও পাবে, যেখানে তাদের আগের অনলাইন আচরণের ভিত্তিতে অ্যালগরিদম দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কনটেন্ট সাজানো হবে না। ক্ষতিকর কনটেন্ট রিপোর্ট করার ব্যবস্থাও উন্নত করতে হবে মেটাকে। কিশোরদের করা এ ধরনের ৯০ শতাংশ রিপোর্ট ছয় ঘণ্টার মধ্যে পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।   প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করা এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। মেটা এসব অভিযোগে কোনো অন্যায় করার কথা স্বীকার করেনি। তবে মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলের সঙ্গে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছেছে প্রতিষ্ঠানটি। মেটার হিসাবে, এর প্রায় ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার আগামী ১০ বছরে অংশগ্রহণকারী অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলগুলো পাবে। আরও প্রায় ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার নির্ভর করবে টিকটক ও ইউটিউব একই ধরনের শিশু-কিশোর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না, তার ওপর। আদালতের অনুমোদনে শেষ বিচার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গঞ্জালেজ রজার্সের আদালতে গত ১৮ আগস্ট বিচার শুরু হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে বিচারক মূল সমঝোতাটি অনুমোদন করেছেন। এর ফলে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে শিশু-কিশোরেরা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারী ও অভিভাবকদের যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে মেটা এসব অভিযোগে কোনো অন্যায় করার কথা স্বীকার করেনি।   টিকটক নিষিদ্ধ হচ্ছে না এই সমঝোতার অংশ নয় টিকটক। ফলে চুক্তিটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক নিষিদ্ধও হচ্ছে না। মেটা বরং টিকটক ও ইউটিউবকেও একই ধরনের শিশু-কিশোর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তারা এতে যুক্ত হলে কিশোরদের দৈনিক ব্যবহারের সীমা আরও কমিয়ে প্রতি প্ল্যাটফর্মে এক ঘণ্টা করা হতে পারে। পাশাপাশি রাতের ব্যবহারের ওপরও আরও দীর্ঘ সময়ের বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৭, ২০২৬
শিশু নিরাপত্তায় মেটার সঙ্গে ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা

শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে চলা মামলার নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫২টি অঙ্গরাজ্য, বিভিন্ন অঞ্চল ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা। এই সমঝোতার আওতায় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী কিশোরদের জন্য নতুন করে বেশ কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, সমঝোতার অংশ হিসেবে মেটাকে সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার দিতে হতে পারে। তবে মেটা তাদের বিবৃতিতে অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে। এই অর্থ ১০ বছর ধরে প্রতিবছর কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। অর্থের একটি অংশ তরুণদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কাজে ব্যয় করা যাবে।   সমঝোতা অনুযায়ী, কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে দৈনিক ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। রাতের নির্দিষ্ট সময়ে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও দিতে হবে। পাশাপাশি স্কুল চলাকালে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা, অভিভাবকদের জন্য আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের শনাক্ত করতে কার্যকর বয়স যাচাইব্যবস্থা চালু করতে হবে।   মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, শিশুদের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা-সংক্রান্ত একাধিক কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য আইন প্রতিষ্ঠানটি লঙ্ঘন করেছে। মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে মেটা শিশু-কিশোরদের আকৃষ্ট করেছে এবং তাদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রাখার চেষ্টা করেছে। এর ফলে শিশু-কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে, প্রতিষ্ঠানটি তা উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।   তবে সমঝোতায় পৌঁছালেও কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ স্বীকার করেনি মেটা।   সমঝোতা ঘোষণার পর ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শোয়ালব এটিকে ‘জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মেটাকে যে নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো চালু করতে হবে, তা তরুণদের ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ব্যবহারের ধরন মৌলিকভাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করবে।   মেটা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য, বিভিন্ন অঞ্চল ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার মোট ৫২ জন অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এই সমঝোতা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন এবং কিশোরদের সহায়তা করার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি করা হয়েছে।   অন্য প্ল্যাটফর্মকেও একই পথে আসার আহ্বান মেটা মনে করছে, শুধু তাদের প্ল্যাটফর্মে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। তাই টিকটক ও ইউটিউবসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মকেও একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   মেটার প্রধান আইন কর্মকর্তা সি জে মাহোনি বলেন, নতুন সময়সীমা, ‘নাইট মোড’ এবং স্কুল চলাকালে ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার মতো উদ্যোগ পুরো প্রযুক্তি খাতের জন্য সঠিক পথ দেখাচ্ছে। তবে এই কাঠামো তখনই কার্যকর হবে, যখন অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোও এতে যুক্ত হবে।   মেটার ভাষ্য, একটি প্ল্যাটফর্মে কিশোরদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও অন্য প্ল্যাটফর্মে তাদের উপস্থিতি বেড়ে যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আমরা জানি, একটি অ্যাপে কিশোরদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তারা সহজেই অন্য অ্যাপে চলে যেতে পারে। তাই কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব বড় প্ল্যাটফর্মের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।   বিবৃতিতে মেটা আরও জানিয়েছে, নতুন এই সমঝোতা কিশোরদের সহায়তা এবং অভিভাবকদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে।   প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, অন্যান্য প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মও একই ধরনের পদক্ষেপ নেবে। এর ফলে কিশোরদের জন্য অনলাইন পরিবেশ আরও নিরাপদ ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরদের জন্য আলাদা চ্যাটজিপিটি চালু, কারণ জানাল ওপেনএআই

কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটির বিশেষ সংস্করণ চালু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। নতুন এই সংস্করণে আত্মহানি, আত্মহত্যা, সহিংসতা ও যৌনতাসহ সংবেদনশীল কনটেন্টের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে। একই সঙ্গে সন্তান কীভাবে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে বাবা-মাকে আরও কিছু নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া হবে। তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।        ওপেনএআই জানিয়েছে, সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো ব্যবহারকারীকে ১৮ বছরের কম বয়সী মনে হলে, অথবা ব্যবহারকারী নিজেই জানালে যে তার বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে, তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিশোরদের জন্য তৈরি চ্যাটজিপিটি সংস্করণে নেওয়া হবে।     এই সংস্করণে আত্মহানি, আত্মহত্যা, সহিংসতা, খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক সমস্যা এবং যৌন বিষয় নিয়ে কথোপকথনে বাড়তি সীমাবদ্ধতা থাকবে।     এ ছাড়া কিশোরদের যেন চ্যাটজিপিটির ওপর অতিরিক্ত আবেগগতভাবে নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষের মতো কোনো আবেগগত বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক হিসেবে উপস্থাপন না করার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।     বাবা-মায়ের জন্য বাড়তি নিয়ন্ত্রণ বাবা-মা নিজেদের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সন্তানের অ্যাকাউন্ট যুক্ত করলে চ্যাটজিপিটির কিছু সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এর মধ্যে মেমোরি ও চ্যাটের ইতিহাস ব্যবহারের বিষয়টি রয়েছে। নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে সেই সময়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও করা যাবে।     তবে সাধারণভাবে বাবা-মা তাদের সন্তানের কথোপকথন সরাসরি দেখতে পারবেন না। তবে গুরুতর আত্মহানির ঝুঁকির কোনো লক্ষণ শনাক্ত হলে সীমিত কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মাকে সতর্কবার্তা দেওয়া হতে পারে।     পড়াশোনায়ও সহায়তা করবে কিশোরদের জন্য তৈরি সংস্করণে পড়াশোনার বিভিন্ন সুবিধাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টাডি মোড, যা শিক্ষার্থীদের শুধু সরাসরি উত্তর না দিয়ে ধাপে ধাপে সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।     এ ছাড়া কুইজসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক সুবিধাও থাকবে।     তরুণদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ার মধ্যেই নতুন এই সংস্করণ চালু করল ওপেনএআই। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শে আসা, মানসিক সহায়তার জন্য চ্যাটবটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়া এবং পড়াশোনায় এআইয়ের প্রভাব নিয়ে অভিভাবক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগও বাড়ছে।     কিশোরদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে ওপেনএআই আইনি চ্যালেঞ্জেরও মুখে পড়েছে। কয়েকটি পরিবার অভিযোগ করেছে, চ্যাটবট ব্যবহারের সঙ্গে তাদের সন্তানদের আত্মহত্যার ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। এসব অভিযোগের পর অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর কোম্পানিটির চাপও বেড়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অন্যান্য টেক জায়ান্টদের চেয়ে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের শীর্ষে মেটা

ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও মেটা এআইয়ের মতো অ্যাপের মাধ্যমে অন্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করছে মেটা। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ইউরোনিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।     সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্কের গবেষণায় গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, অ্যামাজন ও মেটার তৈরি অ্যাপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে থাকা এসব কোম্পানির ১৭১টি অ্যাপ নিয়ে গবেষণাটি করা হয়।     গবেষণায় ব্যবহারকারীর তথ্যের ৩৫টি ধরন বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রাউজিং ইতিহাস, সঠিক অবস্থান, কেনাকাটার তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য।     গবেষণা অনুযায়ী, মেটার অ্যাপগুলো গড়ে ৩৫ ধরনের তথ্যের মধ্যে ২৫ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। এই হার অন্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি এবং মাইক্রোসফট ও অ্যাপলের তুলনায় গড়ে তিন গুণেরও বেশি।     সবচেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপগুলোর মধ্যে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও মেটা এআই রয়েছে। এ ছাড়া মেটার আরও কয়েকটি অ্যাপ, যেমন মেটা হরাইজন, মেটা অ্যাডস ম্যানেজার, মেটা বিজনেস স্যুট ও ফোরামও তালিকায় রয়েছে।     তুলনায় গুগলের অ্যাপগুলো গড়ে ১৭ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। অ্যামাজন ১২ ধরনের, মাইক্রোসফট ৮ ধরনের এবং অ্যাপল ৭ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে।     তবে সবচেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপের সংখ্যার দিক থেকে গুগল এগিয়ে। গবেষণায় বিশ্লেষণ করা ৪০টি বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপের মধ্যে ২৯টিই গুগলের। সেখানে মেটার অ্যাপ রয়েছে ৯টি এবং অ্যামাজনের মাত্র ২টি।     গবেষণায় বলা হয়েছে, গুগলের প্রতিটি অ্যাপ মেটার তুলনায় গড়ে কম ধরনের তথ্য সংগ্রহ করলেও গুগলের বিশাল অ্যাপ ইকোসিস্টেমের কারণে ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায়।     এদিকে অ্যামাজনের অ্যালেক্সা সবচেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপগুলোর মধ্যে মেটার বাইরে শীর্ষে রয়েছে। অ্যাপটি ৩৫টির মধ্যে ২৮ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে।     গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে অ্যাপল ও মাইক্রোসফট তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম তথ্য সংগ্রহ করে। বিশেষ করে অ্যাপলের ইউটিলিটি অ্যাপগুলো গড়ে মাত্র ৬ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। একই ধরনের গুগলের অ্যাপগুলো গড়ে ১৭ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে।   সূত্র: ইউরো নিউজ

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৫–৬ হাজার টাকায় মিলবে স্মার্টফোন, উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষকে মোবাইল ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেছেন, দেশে প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল ফোনের মধ্যে অর্ধেকই এখনো ২জি বা বাটন ফোন। কম দামের স্মার্টফোনের পাশাপাশি সহজ কিস্তি সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে প্রায় ৭ কোটি মানুষকে ডাটা নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলিডে ইন হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ : এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন তিনি। রেহান আসাদ বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মোবাইল ফোন এখনো ২জি। সর্বশেষ হিসাবে দেশে প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল ফোন থাকলে এর অর্ধেক ব্যবহারকারীকে রাতারাতি স্মার্টফোনে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তবে শিল্পসংশ্লিষ্ট সবাই ও নির্মাতাদের সম্মিলিত উদ্যোগে ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন আনা সম্ভব। কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটের দুই সপ্তাহ আগে এ বিষয়ে কাজ শুরু করা হয়। শিল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্মাতারা দেখিয়েছেন, কম দামে এ ধরনের ফোন তৈরি করা সম্ভব। শুরুতে ৩ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরি করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাতারা সাত দিনের মধ্যে বিল অব ম্যাটেরিয়াল তৈরি করে জানান, ৩ হাজার টাকায় ফোন তৈরি সম্ভব নয়। তবে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে তা তৈরি করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজার পর্যালোচনা করে রেহান বলেন, সবচেয়ে কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোন ভারতের রিলায়েন্সে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩৯ ডলারে একটি ফোন বিক্রি করছে। ফোনটির পুরোটা টাচস্ক্রিন নয় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ টাচস্ক্রিন এবং এক-তৃতীয়াংশ কিপ্যাড। এতে স্ক্রিনের আকার কমিয়ে ও কিপ্যাড ব্যবহার করে প্রায় ৬ ডলার খরচ কমানো হয়েছে। এই মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের নির্মাতারাও কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। রেহান আসাদ বলেন, বাংলাদেশের নির্মাতারা প্রায় ৩০ বছর ধরে এ শিল্পে কাজ করছেন। দুই সপ্তাহ আগে তারা জানিয়েছেন, রিলায়েন্সের মডেল অনুসরণ করে ৫০ থেকে ৫৫ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে ফোন তৈরি করা সম্ভব। কম দামের ফোন তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর শূন্য কর দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে রেহান আসাদ বলেন, এসব কাঁচামালের ক্ষেত্রে কোনো ট্যাক্স, ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক (এসডি) বা ভ্যাট থাকবে না। সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন। টিআরএনবি সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)। এসময় আরও বক্তব্য দেন এমটব সভাপতি ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে, টেলিকম বিশেষজ্ঞ নূরুল কবির ও এমটব মহাসচিব মো. জুলফিকারসহ সংশ্লিষ্টরা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৫, ২০২৬
ধনকুবের বাবা বিল গেটসের সঙ্গে ফিবি গেটস। ফাইল ছবি
জালিয়াতির অভিযোগে বিপাকে বিল গেটসের মেয়ে

এআই-চালিত শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ (Phia)-কে ঘিরে ওঠা ‘কুকি স্টাফিং’ অভিযোগের কারণে বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা ও দেওয়ানি মামলার মুখে পড়তে হতে পারে।   সাইবার ল’ ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার স্টার ক্যাশম্যান জানান, ফেডারেল ওয়্যার জালিয়াতির ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই দশকের কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রসিকিউটরদের প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে, ফিবি গেটস জেনেশুনেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই স্কিমে অংশ নিয়েছিলেন।   নিউ ইয়র্ক পোস্টকে ক্যাশম্যান বলেন, ‘এটি কোনো অসতর্ক বা অবহেলাজনিত ভুল হতে পারে না।’   তিনি আরও বলেন, ‘ওয়্যার জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে এটি দেখাতে হবে যে, এই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর (অ্যাফিলিয়েট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) অর্থ আত্মসাৎ করার জন্য জেনেশুনে একটি সুসংগঠিত প্রতারণার ছক কষা হয়েছিল।’   ক্যাশম্যানের মতে, ফিবি গেটস ও ফিয়ার জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ হতে পারে আর্থিক ক্ষতি।   তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার সম্ভাবনাই বেশি।’   ক্যাশম্যান বলেন, ফিয়ার কথিত এমন কর্মকাণ্ডের কারণে যেসব পক্ষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা চাইলে কমিশন, চুক্তি ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের পাশাপাশি গোপনীয়তা এবং ভোক্তা-অধিকার সুরক্ষার ইস্যুতে দেওয়ানি মামলা করতে পারবেন।   মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের ২৩ বছর বয়সী মেয়ে ফিবি গেটস এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী সোফিয়া কিয়ানি মিলে ‘ফিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি এআই-চালিত শপিং প্ল্যাটফর্ম, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাদের কনজ্যুমার অ্যাপ এবং ব্রাউজার এক্সটেনশন চালু করে।   এ সপ্তাহে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফিয়ার ব্রাউজার এক্সটেনশনটি ক্রেতাদের ডিভাইসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাফিলিয়েট ট্র্যাকিং কুকি বসিয়ে দিত। এমনকি ক্রেতারা কোনো পণ্য না কিনলেও ফিয়া বিক্রির কৃতিত্ব দাবি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে রাখত। প্রযুক্তি বিশ্বে এই পদ্ধতিটি ‘কুকি স্টাফিং’ নামে পরিচিত। ব্লুমবার্গের মতে, এই চর্চার ফলে নাইকি, নর্ডস্ট্রম এবং গ্যাপ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব কোম্পানি এখনো এই কেলেঙ্কারি নিয়ে জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করেনি।   প্রতিবেদনে ফিয়ার অভ্যন্তরীণ স্ল্যাক বার্তা এবং সোর্স কোড উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জনসমক্ষে এই সমস্যাটি প্রকাশ করার কয়েক মাস আগেই স্বয়ংক্রিয় কুকি-প্লেসমেন্ট ফিচারের বিষয়টি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতারা জানতেন। ফিয়া অবশ্য ব্লুমবার্গের এই প্রতিবেদনের কিছু বিষয় অস্বীকার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।   ক্যাশম্যান বলেন, ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু করা হলেও, মামলা বা বিচার প্রক্রিয়া কখনোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হয় না।’ তিনি আরও যোগ করেন, পরিচ্ছন্ন অতীত থাকা একজন তরুণ উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে প্রথম অপরাধেই সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার ঘটনা ‘খুবই বিরল’। তবে আইনি মামলার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।   ক্যাশম্যান বলেন, ‘যদি এটি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এই কথিত প্রতারণার দায়ে তাকে এবং তার কোম্পানিকে আদালতে নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।’   এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লাভজনক অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিং সিস্টেম, যা ফিয়ার ব্যবসার মূল ভিত্তি। কোনো ক্রেতা যখন কোনো অ্যাফিলিয়েটের লিংক বা কুপন ব্যবহার করে পণ্য কেনেন, তখন একটি ট্র্যাকিং কুকি সেই অ্যাফিলিয়েটকে শনাক্ত করে, যার ফলে তারা কমিশন পেয়ে থাকে।   ‘কুকি স্টাফিং’ এই সিস্টেমকে ম্যানিপুলেট করতে পারে। এর মাধ্যমে ট্র্যাকিং কুকি বসিয়ে কোনো অ্যাফিলিয়েট এমন বিক্রির কৃতিত্বও নিতে পারে, যা মূলত তারা বিক্রিই করেনি। দীর্ঘদিনের বিজ্ঞাপন গবেষক বেন এডেলম্যান ফিয়ার এই কার্যক্রম পর্যালোচনা করেছেন। তিনি নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেন, যখন ব্রাউজার এক্সটেনশনের মতো ক্লায়েন্ট-সাইড সফটওয়্যার জড়িত থাকে, তখন তিনি এটিকে ‘ফোর্সড ক্লিকস’ বা ‘জোরপূর্বক ক্লিক’ বলতে বেশি পছন্দ করেন। যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কুকি স্টাফিংয়ের সঙ্গে এর পার্থক্য ‘খুবই সামান্য’।   এক ইমেইল বার্তায় এডেলম্যান বলেন, ‘ব্যবহারকারী যখন কোনো লিংকের সঙ্গে সেভাবে যুক্তই হননি, তখন একটি এক্সটেনশনের অ্যাফিলিয়েট লিংক চালু করার বা অ্যাফিলিয়েট কুকি বসানোর কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না।’ ‘তবে এর একটি সুস্পষ্ট অন্যায্য কারণ রয়েছে, আর তা হলো— আরও বেশি (প্রচুর) অর্থ উপার্জন করা।’ এডেলম্যান এই জোরপূর্বক ক্লিককে ‘নেটওয়ার্ক এবং ব্যবসায়িক নিয়মের সবচেয়ে মৌলিক লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এর ফলে একটি অ্যাফিলিয়েটের আয় দ্রুত বেড়ে যায়, অন্যদিকে বিক্রেতাদের খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।   পারফরম্যান্স-মার্কেটিং শিল্পে কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্ব করা দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অ্যাটর্নি রিচার্ড নিউম্যান দ্য পোস্টকে জানান, অ্যাফিলিয়েট চুক্তিতে সাধারণত কুকি স্টাফিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।   নিউম্যান বলেন, ‘কুকি স্টাফিং... সাধারণত এমন একটি পদ্ধতি যার কারণে কমিশন বাতিল হয়ে যায়।’   প্রসিকিউটররা যদি প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেন, তবে ফিবি গেটসকে আরও অনেক বড় আইনি ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে। তবে নিউম্যানের মতে, এই ধরনের বিবাদ ‘সাধারণত’ বেসরকারি পক্ষগুলোর মধ্যকার চুক্তিভিত্তিক বিষয় হয়ে থাকে। যেসব অ্যাফিলিয়েট এই ধরনের শর্ত লঙ্ঘন করে, তাদের সম্পর্কে নিউম্যান বলেন, ‘তারা তাদের কমিশন হারায়।’   ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, বিতর্কিত ফিচারগুলো বন্ধ করার পর ফিয়ার গড় দৈনিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার থেকে নেমে ১০ হাজার থেকে ২৮ হাজার ডলারের মধ্যে চলে আসে। যদিও ফিয়া দাবি করেছে, তাদের অধিকাংশ মনিটাইজেশন বা আয়ের খাত বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই মূলত এই পতন ঘটেছে। নিউ ইয়র্ক পোস্ট এই বিষয়ে ফিবি গেটস এবং ফিয়ার মন্তব্য জানতে চেয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
নিরাপদ ও ইন্টারনেটহীন এআই ব্যবহারের সুবিধায় মেটার ‘মিউজ গ্লিমার’

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা নিয়ে এসেছে নতুন ওপেন-ওয়েট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘মিউজ গ্লিমার’। তিন হাজার কোটি প্যারামিটারযুক্ত শক্তিশালী এই এআই মডেলটি সরাসরি কম্পিউটারে ব্যবহারের পাশাপাশি সহজেই প্রয়োজন অনুযায়ী এআই এজেন্ট তৈরি করে দিতে পারে। এমনকি এআই এজেন্ট তৈরির জন্য আর ক্লাউড সার্ভারের ওপরও নির্ভর করতে হবে না।     মিউজ গ্লিমারের মূল বিশেষত্ব হলো- এটি সরাসরি ব্যবহারকারীদের কম্পিউটারে চালানো যাবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি বড় এআই মডেলগুলো সাধারণত ব্যবহারকারীদের অনুরোধ প্রথমে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডেটা সেন্টারে পাঠিয়ে থাকে। কিন্তু মিউজ গ্লিমার মডেলটি সেই কাজ ব্যবহারকারীর কম্পিউটারেই করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা যাবে। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা যাবে মডেলটিতে।       মেটার দেওয়া তথ্যমতে, মিউজ গ্লিমারকে সাধারণ চ্যাটবটের মতো শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়নি। এটি মূলত ‘এজেন্টিক’ এআই মডেল। অর্থাৎ একাধিক ধাপে কাজের পরিকল্পনা করার পাশাপাশি মডেলটি সেগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন টুল ব্যবহারসহ মডেলটি কৃত্রিম ছবি তৈরি, কোড লেখা ও ত্রুটি সংশোধন করতে পারে। একসাথে টেক্সট ও ছবি বুঝতে পারার পাশাপাশি একশটির বেশি ভাষাও সমর্থন করে এই মডেলটি।     এছাড়া মিউজ গ্লিমার এআই মডেলের মাধ্যমে ডেভেলপাররা এমন এআই এজেন্ট তৈরি করতে পারবেন, যেটি কম্পিউটারের ফাইল, কোড লেখার সরঞ্জাম ও বিভিন্ন সফটওয়্যারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে পারবে।     নতুন এআই মডেলটি নিয়ে মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, ‘মেটা ওপেন সোর্স প্রযুক্তি ব্যবহার সমর্থন করে। আর তাই এই মডেলটি উন্মুক্ত করতে পেরে মেটা গর্বিত।’       মূলত মিউজ গ্লিমারের মাধ্যমে মেটা এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে শক্তিশালী এআই শুধু ক্লাউডে নয়- ব্যবহারকারীর নিজের কম্পিউটারেও চলবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কাজ ব্যবহারকারী নিজেই সম্পন্ন করতে পারবে।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

মারিয়া রহমান আগস্ট ১২, ২০২৬
ফাইল ছবি।
শিশুদের মানসিক ক্ষতির দায়ে মেটাকে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

  শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়ানোর অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটাকে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক। এর আগে একই মামলায় ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার পর নতুন এই আদেশে প্রতিষ্ঠানটির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার সমান। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডসের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত মামলায় নজিরবিহীন এই রায় দিয়েছেন নিউ মেক্সিকোর বিচারক ব্রায়ান বিয়েডশেইড। নতুন আদেশে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা একটি বিশেষ তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে সামাজিক ক্ষতি কমানো। রায়ে বিচারক মেটাকে একটি দূষণকারী কারখানার সঙ্গে তুলনা করেন। তার ভাষায়, একটি কারখানার বিষাক্ত দূষণ যেমন জনস্বার্থের ক্ষতি করে, তেমনি মেটার বিজ্ঞাপন ও কনটেন্টের মাধ্যমে শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি এবং যৌন শোষণের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব ক্ষতি শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবার, বিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। ২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর কয়েকজন আইনজীবী এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের যৌন শিকারি ও ক্ষতিকর কনটেন্টের সংস্পর্শে নিয়ে যাচ্ছে। বিচারের প্রথম ধাপে আদালত মত দেন যে, মেটা বারবার নিউ মেক্সিকোর ‘আনফেয়ার প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, প্রতিষ্ঠানটির সুপারিশমূলক অ্যালগরিদম কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে ধাবিত করছে। দ্বিতীয় ধাপের রায়ে বিচারক এই ক্ষতিকে ‘জনদুর্ভোগ’ বা জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেন। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনা এটিই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থের মধ্যে ৪২০ মিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। এছাড়া শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। রায়ে মেটার জন্য বেশ কয়েকটি বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট কোনো প্রাপ্তবয়স্কের কাছে সুপারিশ না করা, প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বার্তা পাঠানো বন্ধ করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নগ্নতা সংবলিত কনটেন্ট আদান-প্রদান নিষিদ্ধ করা এবং যৌন শোষণে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ‘ওয়ান-স্ট্রাইক’ নীতি কার্যকর করা। এছাড়া প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ‘লাইক’ সংখ্যা প্রদর্শন বন্ধ রাখা, স্কুল চলাকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং মাসে ৯০ ঘণ্টা বা গড়ে প্রতিদিন তিন ঘণ্টার বেশি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক ব্যবহারসীমা নির্ধারণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় এবং এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তিনি দাবি করেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে মেটা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। অনলাইনে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় নিজেদের পদক্ষেপের ওপরও প্রতিষ্ঠানটি আস্থা রাখে। শিশু সুরক্ষা ইস্যুতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো মামলার মুখোমুখি রয়েছে মেটা। চলতি বছরের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসেও একই ধরনের একটি মামলায় হেরেছিল প্রতিষ্ঠানটি। আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশু গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে আরও একটি বড় বিচারকার্য শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রায় তিন ডজন অ্যাটর্নি জেনারেল অংশ নিচ্ছেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
হোটেলের ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ে এক ক্লিকেই হতে পারে সাইবার হামলা

ভ্রমণে গিয়ে হোটেলের বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করছেন? এক ক্লিকের ভুলেই হারাতে পারেন ব্যক্তিগত তথ্য, এমনকি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে আপনার স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ।      নতুন ধরনের একটি সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্ক করে ব্যবহারকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট।     মাইক্রোসফটের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্যাপটিভক্রাঞ্চ’ নামে পরিচিত এই সাইবার অভিযানের মাধ্যমে হ্যাকাররা হোটেল ও হসপিটালিটি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, এ হামলার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। চলতি বছরের মে মাস থেকে এমন কার্যক্রম নজরদারিতে রেখেছে তারা।     মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা হোটেলের ওয়াই-ফাইয়ে সংযুক্ত হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া পপ-আপ বার্তা দেখতে পান।   এসব বার্তাকে সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, বাস্তবে সেগুলো ক্ষতিকর সফটওয়্যার ডাউনলোড করানোর ফাঁদ। একবার সেই সফটওয়্যার ডিভাইসে ইনস্টল হলে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর পর্দার স্ক্রিনশট সংগ্রহ, কিবোর্ডে টাইপ করা তথ্য নজরদারি এবং দূর থেকেই ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের মতো বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। এতে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড ও আর্থিক তথ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।     এ কারণে হোটেলের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় হঠাৎ কোনো অপ্রত্যাশিত পপ-আপ বার্তা দেখা গেলে তাতে ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছে মাইক্রোসফট।     বিশেষ করে ওয়াই-ফাইয়ে সংযুক্ত হওয়ার পরপরই যদি আপডেট বা সফটওয়্যার ইনস্টলের অনুরোধ আসে, তবে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সাইবার ঝুঁকি এড়াতে ভ্রমণের সময় সম্ভব হলে পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে নিজের মোবাইল হটস্পট বা নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে মাইক্রোসফট।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্ন্যাপচ্যাটের নতুন ফিচার ‘নাও প্লেয়িং’, জানা যাবে বন্ধুদের গান

স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি ফিচার চালু করেছে। আর এই ফিচারের নাম  ‘নাও প্লেয়িং’, যার মাধ্যমে এখন বন্ধুদের রিয়েল টাইমে শোনা গান দেখা যাবে।   ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচারটি স্ন্যাপ ম্যাপে যুক্ত করা হয়েছে। শুরুতে এটি স্পটিফাইয়ের সঙ্গে কাজ করবে।  টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে জানা যায়, নতুন এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে নিজের স্পটিফাই অ্যাকাউন্ট স্ন্যাপচ্যাট-এর সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এরপর তিনি বর্তমানে যে গানটি শুনছেন, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ন্যাপ ম্যাপে বন্ধুদের কাছে দেখা যাবে।     একইভাবে বন্ধুরাও কী গান শুনছেন, তা রিয়েল টাইমে জানা যাবে। স্ন্যাপচ্যাটের মিউজিক বিভাগের প্রধান ম্যানি অ্যাডলার বলেন, গান মানুষের অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বন্ধুদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগই দেবে ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচার।   ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচারটি শুধু স্ন্যাপ ম্যাপেই সীমাবদ্ধ নয়।     স্পটলাইট ভিডিওর সঙ্গেও এটি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কোনো স্পটলাইট ভিডিওতে পছন্দের গান শুনলে সেটি সরাসরি স্পটিফাইয়ে সংরক্ষণ করা যাবে। চাইলে গানটির স্পটিফাই পেজেও প্রবেশ করা যাবে। তবে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছে স্ন্যাপচ্যাট। কে আপনার শোনা গান দেখতে পারবেন, তা আপনি নিজেই নির্ধারণ করতে পারবেন।     এ ছাড়া আপনার আগের শোনা গান বা পুরো প্লেলিস্ট কেউ দেখতে পারবেন না। শুধু বর্তমানে যে গানটি বাজছে, সেটিই দেখা যাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গান শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ার মধ্যেই নতুন এই ফিচার এনেছে স্ন্যাপচ্যাট। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং স্পটিফাই ইতিমধ্যে এ ধরনের সুবিধা চালু করেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো স্ন্যাপচ্যাটও। যেসব দেশে স্পটিফাই ও স্ন্যাপচ্যাট উভয় সেবা চালু আছে, সেখানে ধাপে ধাপে নতুন এই ফিচার উন্মুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্ন্যাপচ্যাট।  

মারিয়া রহমান জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
এআই-এর কারণে ২০৩৬ সালের মধ্যে কমতে পারে টাকার প্রয়োজনীয়তা: ইলন মাস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে ২০৩৬ সালের মধ্যে মানুষের জীবনে টাকার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে দাবি করেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তার মতে, এআই যদি মানুষের চাহিদার চেয়েও বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে পারে, তাহলে অর্থের গুরুত্ব আগের মতো থাকবে না।   এমনকি ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির (ইনফ্লেশন) বদলে মূল্যহ্রাস (ডিফ্লেশন) বিশ্ব অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক এসব কথা বলেন। এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।     সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, মানুষ মূলত বাসস্থান, যাতায়াত, বিনোদনসহ প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা কেনার জন্য অর্থ ব্যবহার করে।     কিন্তু যদি এআই ও রোবট এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যেখানে তারা মানুষের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে পারে, তাহলে অর্থের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।   এ সময় এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। ব্যাপক হারে মানুষ চাকরি হারালে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মাস্ক বলেন, সরকার চাইলে নাগরিকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে পারে।     তবে এমন উদ্যোগ মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে—এমন মন্তব্যের জবাবে মাস্ক বলেন, এআইনির্ভর অর্থনীতিতে প্রচলিত অর্থনৈতিক ধারণা বদলে যেতে পারে।   তার ব্যাখ্যায়, অর্থের পরিমাণের তুলনায় যদি পণ্য ও সেবার উৎপাদন দ্রুত বাড়ে, তাহলে মূল্যস্ফীতির পরিবর্তে মূল্যহ্রাসই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে ডিফ্লেশনই অর্থনীতির প্রধান ইস্যু হতে পারে।     তবে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চিন্ত নন। মাস্ক বলেন, এআই একই সঙ্গে রোমাঞ্চকর এবং ভীতিকর। কোনো কোনো দিন এই প্রযুক্তি নিয়ে তিনি যেমন আশাবাদী থাকেন, আবার কখনো এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।   বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও কর্মসংস্থান, আয় বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই এআইনির্ভর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা যতটা উজ্জ্বল, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি : এআই জেনারেটেড
দক্ষিণ কোরিয়ার ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমিতে বড় সাইবার হামলা, তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কোরিয়া ন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমির অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির সরকার।   হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো হ্যাকার গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।   মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।      মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পার্ক ইল জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তথ্য ফাঁসের পরিমাণ বেশ বড় হতে পারে। তবে ঠিক কত তথ্য ফাঁস হয়েছে বা কী ধরনের তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।     পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলাকারীরা সফটওয়্যারের আগে থেকে অজানা একটি ‘জিরো-ডে’ দুর্বলতা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি কাজে লাগিয়ে একাডেমির অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফরমে প্রবেশ করে। তারা ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে একটি সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে গোপনে প্রবেশাধিকার বজায় রাখে। পরে একটি সরকারি সংস্থা সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করলে সিস্টেমটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।     এই প্ল্যাটফরমে প্রশিক্ষণ ভিডিও, কোর্স পরিচালনার তথ্য, অংশগ্রহণকারীদের নাম ও ব্যবহারকারী আইডি সংরক্ষিত ছিল।     তবে ঠিক কী কী তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডং-আ ইলবো জানিয়েছে, প্রায় ৬ হাজার বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিক এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর মধ্যে বিদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের তথ্যও থাকতে পারে।     যদিও এখন পর্যন্ত হামলার পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত প্রযুক্তিগত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবু দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট কোনো হ্যাকারগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।   ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে।   একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে দেশের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে ফেসবুকে বিভ্রাট, ডেস্কটপে ব্যবহার ব্যাহত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ডেস্কটপ সংস্করণে হঠাৎ প্রযুক্তিগত বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরের পর থেকে অনেক ব্যবহারকারী লগইন করতে পারছেন না। একই সঙ্গে নিউজফিড, প্রোফাইল এবং অন্যান্য ফিচার ব্যবহারে সমস্যার মুখে পড়েছেন তারা। তবে মোবাইল অ্যাপে অধিকাংশ ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারছেন বলে জানা গেছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইয়াহু নিউজ জানিয়েছে, ডেস্কটপে ফেসবুক ব্যবহার করতে গেলে অনেকের স্ক্রিনে ‘Account Temporarily Unavailable’ বার্তা দেখা যাচ্ছে। সেখানে উল্লেখ করা হচ্ছে, ‘সাইটের সমস্যার কারণে আপনার অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে। অনুগ্রহ করে কয়েক মিনিট পর আবার চেষ্টা করুন।’   এছাড়া অনেক ব্যবহারকারীর নিউজফিড সম্পূর্ণ খালি দেখা যাচ্ছে। সেখানে একটি বার্তায় লেখা রয়েছে, “আপনি যখন কাউকে ফলো করবেন, তাদের পোস্ট এখানে দেখা যাবে।” ফলে নতুন পোস্ট দেখা, ফিড রিফ্রেশ করা এবং বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।   বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৯টার আগে থেকেই ‘Facebook Down’ সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী ফেসবুকের সমস্যা সম্পর্কে অভিযোগ জানান।   এদিকে, কিছু ব্যবহারকারী মেটার আরেক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামেও একই ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন।   এখন পর্যন্ত এ বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করছে বলে বার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: ইয়াহু নিউজ

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ১৯, ২০২৬
হোয়াটসঅ্যাপ। প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
হোয়াটসঅ্যাপে চালু হচ্ছে ইউজারনেম, ব্যক্তিগত নম্বর থাকবে সুরক্ষিত

বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ইউজারনেম ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগের মতোই ফোন নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে। মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ কয়েক বছর ধরে ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কাজ করছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করতে পারবেন। তবে ফিচারটি ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে চালু হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের শেষ দিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। হোয়াটসঅ্যাপের তথ্যমতে, ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে যেকোনো ইউজারনেম নির্বাচন করতে পারবেন। তবে সেটি অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারবে না। এছাড়া জনপ্রিয় তারকা, ভিআইপি ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু ইউজারনেম সংরক্ষিত রাখা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কনটেন্ট নির্মাতারা চাইলে তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের একই ইউজারনেম হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যবহার করতে পারবেন। যখন কোনো দেশে এই সুবিধা চালু হবে, তখন ব্যবহারকারীরা একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর Settings > Account > Username অপশনে গিয়ে নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সেট করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা চাইলে একটি Username Key নির্ধারণ করতে পারবেন, যা জানলে তবেই অন্য কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। মেটা জানিয়েছে, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। তাই একই ইউজারনেম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই আগে থেকে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম সার্চ করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র যাদের কাছে নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকবে, তারাই সেই ব্যক্তিকে বার্তা পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় এই ফিচার বন্ধ করতে বা নিজেদের ইউজারনেম পরিবর্তন করতে পারবেন। হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, কারণ ফোন নম্বর ব্যক্তিগত তথ্য এবং জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে যুক্ত। ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবে, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে। তবে প্রাথমিকভাবে ইউজারনেম অন্যদের জানাতে হবে লিখিত বার্তা বা মুখে বলার মাধ্যমে। এখনই কিউআর কোড স্ক্যান করে শুধু ইউজারনেমের সাহায্যে যোগাযোগের সুবিধা থাকছে না। উল্লেখ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং ওয়্যারের মতো অ্যাপগুলোতে বহু বছর ধরেই ইউজারনেমের মাধ্যমে ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০২, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম কেমন

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬