জাতীয়

সংগৃহীত ছবি
রাস্তায় পড়ে থাকা শত শত চামড়ায় ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ

ন্যায্যমূল্য আর ক্রেতা সংকটে কোরবানির পশুর চামড়া কিনে বিপাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। লোকসানের মুখে পড়ে সড়কের পাশে শত শত চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের দৌরাত্মে ন্যায্য দাম না পেয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। তাই সম্ভাবনাময় এই শিল্পটিকে রক্ষায় দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।      ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন কাচারি সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কের পাশে থরে থরে করে রাখা হয়েছে কোরবানির বিভিন্ন পশুর চামড়া। নেই কোন ক্রেতা-বিক্রেতা। মূলত ন্যায্যমূল না পেয়ে এবং ক্রেতা সংকটে সড়কের পাশে এভাবেই শত শত চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন ব্যবসায়ীরা। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বাড়ি থেকে ১শ থেকে ৫শ টাকা করে কিনে নেন নানা ধরণের পশুর কাঁচা চামড়া। যা বিক্রি হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন কাচারী সড়কের অস্থায়ী চামড়ার হাটে। ঈদুল আজহার দিন দুপুরের পর থেকেই শহরের কাচারী মোড় ও টি. এ. রোডে চামড়া নিয়ে আসতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবার কাঙ্খিত ক্রেতা ও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে এসব ব্যবসায়ীরা। সারারাত অপেক্ষা করেও ক্রেতা সংকটে চামড়া বিক্রি করা যায়নি। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা জানান, ৫০০ টাকায় কেনা চামড়ার দাম ২০০ টাকাও উঠেনি। ফলে এবার চামড়া কিনে বড় রকমের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। তাই বাধ্য হয়েই চামড়া সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে গেছেন। মূলত সরকারের নজরদারির অভাবে চামড়া ব্যবসা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এদিকে, কাঁচা চামড়া সড়কের পাশে স্তূপ করে ফেলে রাখায় দুর্গন্ধ ছড়ানোয় ভোগান্তি বাড়ছে পথচারীদের।   মৌসুমী ব্যবসায়ী আলম বলেন, গতকাল থেকে চামড়া নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু ক্রেতা পাচ্ছি না। যারা বড় বড় ব্যবসায়ী তারা চামড়া কিনতে আসেনি। আর যারা আসেন তারাও চামড়ার দাম দুইশো টাকার বেশি দিতে চান না। তাই ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে এসব চামড়া ফেলে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। রফিক নামের অপর বিক্রেতা বলেন, এ বছর ক্রেতাই পাচ্ছি না। মূলত সিন্ডকেটের দৌরাত্মে আমাদের কপাল পুড়ছে।  মো. ইমাম হোসেন নামের এক নাগরিক বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পটি আজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্মের কারণে ধ্বংস হওয়ার পথে। চামড়ার জুতার দাম বৃদ্ধি পায় অথচ চামড়ার দাম কমছে। সরকার এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই চামড়া শিল্পটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ তিনি বলেন, চামড়া ফেলে চলে যাওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। মালিক না থাকায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে চামড়াগুলো আগ্রহী মাদ্রাসায় দিয়ে দিতে। চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন মাদ্রাসা ও প্রতিষ্ঠানে সরকারিভাবে লবণ দেওয়া হয়েছে। তবে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কিছু দাবি ছিলো তা সরকারকে জানানো হয়েছে। সেগুলোর বাস্তবায়ন সময় সাপেক্ষ। 

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
পানির দামে বিক্রিও নেই, সড়ক-নদীর পাশে স্তূপ চামড়া, হতাশ ব্যবসায়ীরা

কোরবানির ঈদের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা চামড়ার বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কোথাও আবার ক্রেতাই মিলছে না। এতে রাস্তার পাশে, নদীর ধারে ও খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে শত শত চামড়া। অনেক জায়গায় দুর্গন্ধ ও লোকসান এড়াতে চামড়া মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।   ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করায় বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, সিন্ডিকেটের কারণেই দামের এমন দরপতন। প্রতি পিস চামড়ায় যে দাম মিলছে, তাতে খরচই উঠছে না তাদের।    রাজধানীর পোস্তায় বড় গরুর চামড়া বিক্রি করতে আসা কয়েকজন গণমাধ্যমকে জানান, একটি ভালো মানের বড় চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বলা হচ্ছে। কোথাও সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে দাম নেমে যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। এক ধরনের সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।   সাতক্ষীরায় কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। কোনোভাবেই বিক্রি করতে না পেরে লোকসান আর দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচতে জেলার বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।   সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর জানান, চামড়া একটি জাতীয় সম্পদ। এভাবে চামড়া অবিক্রীত থেকে নষ্ট হওয়া বা মাটিতে পুঁতে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। চামড়া সংরক্ষণের জন্য স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আড়তদারদের সমন্বয় করা জরুরি।   ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কোরবানির চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া কিনে এখন ক্রেতার অপেক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে চামড়ার স্তূপের সামনে বসে থেকে হতাশ হয়ে সময় পার করছেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন রাস্তার পাশে শতাধিক ব্যবসায়ী শত শত কাঁচা চামড়া নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে।   সিরাজগঞ্জের তাড়াশেও চামড়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। কোরবানির পর দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় চামড়া সংগ্রহ শুরু হলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম। কোথাও কোথাও কোনো ব্যবসায়ীই চামড়া কিনতে যাননি। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে উপজেলা সদরে চামড়া নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে কেউ কেউ চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন।   চট্টগ্রামেও একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা শত শত গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের আশা ছিল, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হয়নি। কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে চলে যান। কেউ নামমাত্র দামে বিক্রি করেন। আবার কেউ জোর করে আড়তে চামড়া জমা দিয়ে ফিরে যান।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৯, ২০২৬
রুহুল কবির রিজভী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো : রিজভী

অতীতের তুলনায় দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এবার গরুর হাটে কঠোরভাবে চাঁদাবাজি দমন করা হয়েছে।   শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাতারাতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। বিদেশেও এমনটা হয় না। তবে সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তৎপর কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশংসা করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, দুই সিটি কর্পোরেশন খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। বিকালের মধ্যেই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও সড়ক থেকে কোরবানির বর্জ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অতীতে এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সরকার বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।   রিজভী বলেন, রামিসাকে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনাও সবাই জানেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়েছেন, পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালতও দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার কোথাও ভুল করলে তা তুলে ধরা যেতে পারে। তবে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বা উসকানিমূলক ইঙ্গিত দেশের মানুষ ভালোভাবে নেয় না এবং ভবিষ্যতেও নেবে না। এ সময় তিনি বিরোধী দলকে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান।   এদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে বলে জানান রিজভী। তিনি বলেন, এতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দলটির পক্ষ থেকে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৯, ২০২৬
বিক্রি না হওয়ায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হলো দেড়শতাধিক চামড়া

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিক্রি না হওয়ায় দেড়শতাধিক কোরবানির পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রামনগর মাদিনাতুল উলুম দাখিল মাদরাসায় এমন ঘটনা ঘটে।   মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাদরাসার পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাড়ি থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। তবে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়া এবং পাইকারি ক্রেতার সংকটের কারণে চামড়াগুলো বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। এতে সংরক্ষণে রাখতে না পেরে দুর্গন্ধ ও পঁচে যাওয়ার আশঙ্কায় চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্টরা।   স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতি বছরই চামড়া নিয়ে এমন সংকট তৈরি হচ্ছে। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।   মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রতি বছর মাদরাসার পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এবারও শ্রমিক নিয়োগ ও গাড়ি ভাড়া করে বিভিন্ন বাড়ি থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। চামড়া বিক্রির জন্য কোনো পাইকারি আড়তদার না পাওয়ায় চামড়াগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এতে পরিবেশ রক্ষায় প্রায় ১৫০টি চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। এতে মাদরাসাটির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।   মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান বলেন, মাদরাসার ফান্ড থেকে অর্থ ব্যয় করে শ্রমিকের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিক্রির জন্য অপেক্ষা করেও কোনো পাইকার পাওয়া যায়নি। এতে বাধ্য হয়ে চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে। এ ঘটনায় মাদরাসার বড় ধরনের লোকসান হয়েছে।   নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। চামড়া সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল। এমনটি হওয়ার কথা নয়। খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৯, ২০২৬
হজ ফিরতি ফ্লাইট শুরু আজ রাতে, প্রথম দিন ফিরছেন ৫৪৩৪ হাজি

হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে ফিরতি হজ ফ্লাইট। তিন জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদির স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়াল দেবে প্রথম ফিরতি ফ্লাইট।   সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি ৫৮০৬ ফ্লাইটের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে হাজিদের দেশে ফেরার এই যাত্রা। প্রথম দিনে ১৩টি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন ৫৪৩৪ জন হাজি।   শুক্রবার (২৯ মে) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, গত ১৭ এপ্রিল রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী নিয়ে শেষ ফ্লাইটটি সৌদি আসে ২১ মে। এ বছর সৌদি সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই হজযাত্রীদের তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি, বাসা ভাড়া ও ভিসার কাজ শেষ করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।   এ ছাড়া হজযাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা সুন্দর ও নির্বিঘ্ন করার জন্য এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ফলে কোনোরূপ শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই নিবন্ধিত শতভাগ হজযাত্রী সৌদিতে আসতে পেরেছে।   উল্লেখ্য, আগামী ১ জুলাই শেষ হবে হজের ফিরতি ফ্লাইট।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৯, ২০২৬
সামান্য ঝড়েই বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পল্লী বিদ্যুতে গ্রাহকদের ক্ষোভ

একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে সারা বছর ধরে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে কম-বেশি অভিযোগ লেগেই থাকে। এছাড়া রাজধানীসহ শহর এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলে।   এদিকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় শুক্রবার (২৯ মে) বিকালে ঝড় হয়। ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা সদর ছাড়াও পদ্মপুকুর, চাঁপাতলা ও কাশিপুরসহ আশপাশের সব এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।   এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের অনেকেই তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের কথা জানান।   এদিকে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে কুরবানির মাংস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী উপজেলাবাসী। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ফ্রিজের ভেতরে থাকা মাংস নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।   গ্রাহকদের অভিযোগ, সামান্য বাতাস কিংবা হালকা বৃষ্টিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।   ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাসাবাড়িতে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।   গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট আরও বেড়ে যায় বলে তারা জানান।   গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ নম্বরে যোগাযোগ করলেও সাধারণ গ্রাহকদের ফোন ধরেন না তারা। কিন্তু বিদ্যুৎ বিলে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। আর এসব অভিযোগ শোনার মতো কেউ নেই।   আবার অনেক এলাকায় লাইন মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে।   তারা আরও জানান, বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা ছিল। অনেকের বাসা-বাড়িতে কুরবানি হয়েছে। মাংস বিলি-বণ্টনও সম্পন্ন হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে মাংস ফ্রিজে রাখা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা মাংস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সবাই।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ঝিকরগাছার ডিজিএম ইমাম হাসান যুগান্তরের যশোর ব্যুরোকে বলেন, ঝড়ে বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের উপর গাছ পড়েছে। এছাড়াও কয়েকটি জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে। এজন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গাছ ও ডাল অপসারণের কাজ চলছে। গাছের ডাল অপসারণ ও মেরামতে সময় লাগছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা চলছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৯, ২০২৬
কুরবানির বর্জ্য রাস্তায়, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে

রাজধানীর কয়েকটি এলাকার রাস্তায় কুরবানির পশুর বর্জ্যসহ ময়লা থাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।   ওই দুই কর্মকর্তা হলেন— ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (জোন-৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (জোন-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।   শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি দেখতে বের হন। গুলশানের বাসা থেকে তিনি রামপুরা, মালিবাগ, বাসাবো হয়ে কমলাপুরের দিকে চলে যান।   এরপর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাই খাল, নারিন্দা হয়ে বংশাল, গুলিস্তান, শাহবাগ, নিউ মার্কেট ঘুরে জিগাতলা, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, বিজয় সরণি হয়ে মহাখালী সড়কের পরিস্থিতি তিনি দেখেন।   স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং কুরবানির পশু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখতে বেরিয়েছিলেন। তিনি কয়েকটি স্থানে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।   হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোডে এবং গ্রিনরোড, ফার্মগেট ও কারওয়ানবাজার এলাকায় রাস্তায় ময়লা জমে থাকায় দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।   মীর শাহে আলম বলেন, তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ অ্যাডভোকেট মেহেদুল ইসলাম গাড়িতে ছিলেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৯, ২০২৬
ডিএসসিসি ডাম্পিং করেছে ১৯ হাজার ৬৪১ টন কুরবানির বর্জ্য

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৬৪১ টন কুরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে চূড়ান্ত ডাম্পিং করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।   ডিএসসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেবল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৮২৭ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল্ডে চূড়ান্ত ডাম্পিং করা হয়েছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

প্রচণ্ড কালবৈশাখী ও দমকা হাওয়ার কারণে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল পৌনে ৫টা থেকে এ নৌরুটে সব ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।   বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্র জানায়, আকস্মিক কালবৈশাখী, তীব্র বাতাস ও নদীতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় শতাধিক যানবাহন আটকা পড়েছে। যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।   ঘাট এলাকায় অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী জানান, বিকেল থেকেই আকাশ কালো হয়ে আসে। পরে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হলে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঈদকে সামনে রেখে ঘাটে যানবাহনের চাপও বেড়েছে।   বিআইডব্লিউটিসির আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. সালাম হোসেন জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু করা হবে। বর্তমানে নৌরুটে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   এবার ঈদে এ নৌ-রুটে ১৫টি ফেরি ও ১৬টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নবম পে স্কেল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো। নতুন এই পে স্কেলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন নিম্ন আয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনেও আসছে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।   গত ২১ মে সচিবালয়ে নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করতে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   নতুন পে স্কেলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং কম বেতনে কর্মরতদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।   নতুন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগসহ সরকারি চাকরির সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন বলে জানা গেছে।   এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে যেসব পেনশনার ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, নতুন পে স্কেল চালু হলে তারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।   সরকার আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর করতে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক স্বস্তি বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।  

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দিতে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৮ জন

ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে বৃহস্পতিবার (২৮মে) দেশজুড়ে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপন হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ইসলাম ধর্মের বৃহৎ এই উৎসব উদযাপনের দ্বিতীয় দিন আজ (শুক্রবার)।   এদিনও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পশু কোরবানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুই দিনের এই কোরবানি দিতে গিয়ে পশুর লাথি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহতের ঘটনা ঘটেছে অনেক।   রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নিটোর (পঙ্গু) হাসপাতালের তথ্য বলছে, পশু কোরবানিসংক্রান্ত কারণে আহত হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৮ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে তারা। শুক্রবার (২৯ মে) হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ঘুরে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিত্র দেখা গেছে।   নিটোর অর্থোপেডিক, স্পাইন অ্যান্ড ট্রমা সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো-সার্জারি) ডা. নির্মল কান্তি বিশ্বাস বলেন, ঈদের আগের রাত ও প্রথম দিনে ১৪২ জন কোরবানিসংক্রান্ত আহত রোগী এসেছেন। সব রোগীর কাটিং ইনজুরি, আঘাতপ্রাপ্ত ইনজুরি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৯, ২০২৬
হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৭৩২ জন শিশু।   শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।   এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৪৮৫টি শিশুর।   আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯০টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৫৭৫টি শিশু মারা গেছে।  

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৯, ২০২৬
ফাইল ছবি।
যমুনা সেতুতে ৪ দিনে ১৪ কোটি টাকার টোল আদায়

ঈদযাত্রার শুরুর দিকে যমুনা সেতুতে যান চলাচল স্বস্তিদায়ক থাকলেও শেষের দিকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গত ৪ দিনে যমুনা সেতু দিয়ে এক লাখ ৯৫ হাজার ২৯৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা। গত ২৪ মে থেকে ২৭ মে রাত ১২টা পর্যন্ত ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের এসব যানবাহন সেতু পারাপার হয়। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদযাত্রার প্রথম দিন ২৪ মে সেতু দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয় তিন কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ২২ হাজার ১১২টি যানবাহন পারাপার হয়।  এতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা।  অপরদিকে ঢাকাগামী ১৭ হাজার ৮০৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয় এক কোটি ৫৭ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫০ টাকা। ২৫ মে সেতু দিয়ে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন পারাপার হয়। এর বিপরীতে টোল আদায় হয় এক কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। ২৬ মে সেতু দিয়ে ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩৬ হাজার ৪২৬টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ২১ লাখ চার হাজার ২০০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৮১৩টি যানবাহন পারাপার হয়। এর বিপরীতে টোল আদায় হয় এক কোটি ৬১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫০ টাকা। ঈদের আগের দিন ২৭ মে সেতু দিয়ে ৪৫ হাজার ৮৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ৯০৭টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয় দুই কোটি ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১২ হাজার ৯৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয় এক কোটি ১১ লাখ ছয় হাজার ৯০০ টাকা। এদিকে ঈদযাত্রার শেষ দিনে বুধবার ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে প্রায় ২০ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। যানজট নিরসনে পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়েছে।  এর মধ্যে আলাদা দুটি বুথ দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার করা হয়।  ফিরতি পথেও আমাদের একই প্রস্তুতি থাকবে।

মারিয়া রহমান মে ২৯, ২০২৬
আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড। ছবি: সংগৃহীত
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, তদন্তে নির্মাণ ত্রুটি শনাক্ত

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে নির্মাণত্রুটির প্রমাণ পেয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি আগামীকাল শনিবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছু নির্মাণগত ত্রুটি পাওয়া গেছে। সেগুলো নবজাতকদের চিকিৎসা পরিবেশে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলেছিল কিনা, তা তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থা, বায়ু চলাচল, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্ত কমিটি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছে। গত কয়েক দিনে আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথকভাবে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। পরিবারগুলোর পক্ষ থেকেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবি জানানো হয়। ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে দায়–দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশও থাকবে।

মারিয়া রহমান মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কারাভোগ শেষে ভারতে থেকে দেশে ফিরলেন ৩৬ বাংলাদেশি

ভারতে প্রায় ১৭ মাস কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন ৩৬ বাংলাদেশি যুবক। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহার দিন সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবাসন আইনের আওতায় তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। ফেরত আসা ব্যক্তিদের বাড়ি বগুড়া, খুলনা, নাটোর, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাদের দাবি, গার্মেন্টসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্র সীমান্তপথে ভারতে নিয়ে যায়। পরে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। আদালতের নির্দেশে তাদের চেন্নাই সেন্ট্রাল কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফেরার সুযোগ পান তারা। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া যায় বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফেরত আসা কয়েকজন অভিযোগ করেন, দেশে ফেরানোর আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এখনও ভারতের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি আটক রয়েছেন বলেও জানান তারা। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ফিল্ড অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, চাকরির প্রলোভনে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তারা নিজ নিজ দায়িত্বে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক তাপস কুমার আঢ্য জানান, দেশে ফেরত আসা ৩৬ বাংলাদেশিকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান মে ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এস আলম গ্রুপের সম্পদ জব্দ করল সাইপ্রাস

ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান একটি তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সাইপ্রাসে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে দেশটির আদালত।   ঢাকার উদ্যোগে শুরু হওয়া পারস্পরিক আইনি সহায়তা পদ্ধতির অধীনে সাইপ্রাসের অর্থ পাচার বিরোধী ইউনিট ‘মোকাস’-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ মে নিকোসিয়া জেলা আদালত জব্দের আদেশ জারি করেছে বলে জানায় সাইপ্রাস মেইল এবং সাইপ্রাস ইনফর্ম।   সম্পত্তিটি দেশটির পারেক্লিসিয়ায় অবস্থিত একটি দোতলা আবাসিক ভবন।   এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সাইফুল, ২০১৬ সালে দেশটির বর্তমানে বিলুপ্ত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব লাভ করেন।   সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশি তদন্তকারীরা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একটি কোম্পানি নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেনের সাথে যুক্ত প্রতারণামূলক ঋণদান, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন।   সম্পদ জব্দের আদেশের একদিন পর, এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ইসলামী ব্যাংক থেকে দেওয়া প্রায় ৬০ লাখ ইউরোর একটি ঋণ সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশের একটি আদালত সাইফুল এবং তার দশজন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ৮০০ কোটি ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে।   ঢাকার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সাইফুলের সাথে যুক্ত কোম্পানিগুলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল, যার মধ্যে অনেকগুলোই পরে খেলাপি হয়ে যায়।   তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং জার্সিতে নিবন্ধিত কোম্পানি ও ট্রাস্টের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এস আলম বিদেশে তহবিল স্থানান্তর করেছেন কিনা।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৯, ২০২৬
বাস্তবায়নের আগ মুহূর্তে পে স্কেলের সুবিধায় যুক্ত হচ্ছেন যারা। সংগৃহীত ছবি
বাস্তবায়নের আগ মুহূর্তে পে স্কেলের সুবিধায় যুক্ত হচ্ছেন যারা

এবার প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেলের সুবিধায় যুক্ত হচ্ছেন সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত পৌনে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে তারা সুবিধা পাবেন। তাদের জন্যও জুলাইয়ে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দুই মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, সরকারি পর্যায়ে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তবে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে শতভাগ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর আলোচনাও রয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরিসহ দেশে এমপিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৬ হাজার ৯৩টি। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৮।   পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চতুর্থ গ্রেডভুক্ত এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে, তা গিয়ে দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকায়। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের বর্তমান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে হতে পারে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা। সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের ২৯ হাজার টাকার মূল বেতন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকায়। একইভাবে, নবম গ্রেডের কলেজ প্রভাষকদের বর্তমান ২২ হাজার টাকার বেতন বেড়ে ৩৩ হাজার টাকা এবং দশম গ্রেডের বিএডধারী সহকারী শিক্ষকদের ১৬ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ২৪ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য দুই ধরনের হিসাব সামনে এসেছে। একটিতে ৫০ শতাংশ এবং অন্যটিতে ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। ১১তম গ্রেডের বিএডবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে, তা হবে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। শতভাগ কার্যকর হলে তা গিয়ে দাঁড়াবে ২৫ হাজার টাকায়। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে হবে ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা এবং দ্বিগুণ হলে দাঁড়াবে ১৮ হাজার ৬০০ টাকায়। ১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের বর্তমান ৮ হাজার ৮০০ টাকার মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়লে হবে ১৩ হাজার ২০০ টাকা এবং ১০০ শতাংশ বাড়লে হবে ১৭ হাজার ৬০০ টাকা। ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াদের ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেসিক ৫০ শতাংশ বাড়লে দাঁড়াবে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকা। আর শতভাগ কার্যকর হলে তারা পাবেন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।   অপরদিকে, বেতনের পাশাপাশি বাড়ছে এমপিওভুক্তদের বাড়িভাড়া ভাতাও। গত বছরের ২১ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা দুই ধাপে মোট ১৫ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।   প্রথম ধাপে গত বছরের নভেম্বর থেকে মূল বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া কার্যকর হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে দ্বিতীয় ধাপে, আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ যুক্ত হয়ে মোট বাড়িভাড়া ভাতা দাঁড়াবে মূল বেতনের ১৫ শতাংশে। তবে সর্বনিম্ন ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকবে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাতের মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য সরানো সম্ভব হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আধঘণ্টার ব্যবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কাজ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।   ঈদের দিন আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে প্রথমে বর্জ্য অপসারণ কাজের উদ্বোধন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আর বেলা দুইটার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নির্ধারিত সময়ের (১২ ঘণ্টা) আগেই রাতের মধ্যে পুরো নগরীর বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ ছাড়া আগামী দুই দিনও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে। কারণ, এখনো অনেকেই কোরবানি দিচ্ছেন এবং মাংস কাটার কাজ করছেন। বেলা দুইটার দিকে মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের সিরামিক রোড এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটির বর্জ্য অপসারণ কাজ শুরু হয়। এ সময় ওই এলাকার বর্জ্য অপসারণের কাজ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, এই কার্যক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রায় ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ নিয়েছেন এবং ৭৫২টি যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রশাসকসহ পুরো সিটি করপোরেশন দলের ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে। নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে নিরলসভাবে কাজ চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা নির্ধারিত ব্যাগে বর্জ্য রেখে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি আট ঘণ্টার মধ্যে; অর্থাৎ আজ রাত ৯টার মধ্যে ঈদের প্রথম দিনের বর্জ্য অপসারণ কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর ঢাকা উত্তর সিটি এই কাজটি ১২ ঘণ্টার আগেই; অর্থাৎ রাত দুইটার আগেই শেষ করবে বলে জানিয়েছে। সবাইকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঈদের দিন ও পরের দুই দিনসহ টানা ৭২ ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা হলুদ পলিথিনে বর্জ্য সংরক্ষণ করে নির্ধারিত স্থানে রাখতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান শফিকুল ইসলাম খান। এতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সহজে সেগুলো সংগ্রহ করে অপসারণ করতে পারবেন বলেন তিনি। দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ঈদের প্রথম দিনে মাঠপর্যায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম দিনে প্রায় ১৫ হাজার ৯৩৫ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদের তিন দিনে মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য অপসারণের ব্যাপক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ডিএসসিসি।  

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মেনুতে মাছ-মাংস-ডিম, হোল্ডিং সেন্টারে ‘বিদেশি’ অতিথিদের জন্য এলাহি আয়োজন!

এ যেন বিদেশিদের অতিথি নিবাস! ঝাঁ চকচকে পাকা ভবনে রাত্রিযাপন। এক-একটি ঘরে একাধিক সিলিং ফ্যান। ঘুমেও কোনওরকম ব্যাঘাত ঘটছে না। আর খাওয়াদাওয়ায় এলাহি আয়োজন। মেনুতে মাছ, মাংস, ডিম। সঙ্গে সরু চালের ভাত, দেশি গমের রুটি। আর বাচ্চাদের দেওয়া হচ্ছে চারবেলা দুধ। সঙ্গে বেবি ফুড। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে নতুন নতুন পোশাক। স্নানের জন্য সুগন্ধি সাবান, এমনকী শ্যাম্পুও! এমনই বন্দোবস্ত করা হয়েছে মালদহের হোল্ডিং সেন্টারে, যেখানে রাখা হয়েছে অবৈধভাবে সীমান্ত টপকে ভারতে ঢুকে পড়া বাংলাদেশিদের।   অনুপ্রবেশকারী হলেও বাংলাদেশে পুশব্যাকের আগে তাঁদের যেন সুখ-সাচ্ছন্দ্যের বালাই নেই। বুধবার মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং বলেন, “হোল্ডিং সেন্টারে যাঁরা থাকছেন তাঁদের থাকা-খাওয়াদাওয়ার সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলার পুলিশ প্রশাসন ও সিভিল প্রশাসন ভালো খাওয়াদাওয়ার বন্দোবস্ত করেছে।” রান্নার জন্য স্বনির্ভর মহিলা গোষ্ঠীর মহিলারা নিযুক্ত। চারবেলা দেওয়া হচ্ছে খাবার। বড়দের রুটি, ভাত। মাছ, মাংস, ডিম।   উত্তরবঙ্গে প্রথম হোল্ডিং সেন্টার সোমবার থেকে চালু করা হয়েছে মালদহের ইংলিশবাজার শহর লাগোয়া বাগবাড়ির চন্দনপার্কে। স্বনির্ভর দলের মহিলাদের বিপণন কেন্দ্রের পাকা ঝাঁ চকচকে ভবনে। চারপাশে তিনজন পুলিশ আধিকারিক, এক ডজন পুলিশ কর্মী এবং একাধিক সিভিক ভলান্টিয়ার। থাকছেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও। বসানো হয়েছে হ্যালোজেন লাইট এবং সিসি ক্যামেরা। হ্যালোজেন লাইটে রাতভর এলাকা আলোকিত থাকছে। পুলিশ সুপার জানান, সেন্টারে নতুন কোনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আনা হয়নি। বর্তমানে তিন মহিলা, ছয় শিশু ও বালক-সহ ন’জন। রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তর রিপোর্ট করবে। বিএসএফ চাইলেই হেফাজতে দেওয়া হবে।    

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কাউন্টারে নয়, মাঝপথের যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে : সেতুমন্ত্রী

বুধবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীতে বিআরটিএ’র কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন শেষে এই কথা বলেন তিনি।   সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে কিছু চাপ রয়েছে, তবে ভালো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আবহাওয়ার জন্যও বেশ সমস্যা হচ্ছে। ৫৭ হাজারের বেশি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে গতকাল। এতেই বোঝা যায় গাড়ি চলাচল করতে পারছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘টিকিট কাউন্টারে বসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিয়েছে এরকম নজির আমি এখনো পর্যন্ত পাইনি। দু-এক জায়গায় আড়ালে করছে হয়তো। আমরা অভিযোগ পেলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।’   রবিউল আলম বলেন, ‘যাত্রীদের একটা প্রবণতা রয়েছে, অনেকে আগে টিকিট করতে চান না। কখন ছুটি হবে তাও তিনি জানেন না। ছুটি হয়েছে মাত্র লাগেজ নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। যেকোনো বাস পেলেই ওঠার চেষ্টা করছেন। তখন কিছু মানুষ ভাড়া একটু বেশি নেয়ার চেষ্টা করে। তখন যাত্রীরা ভাবেন- ১০০ টাকা বেশি হোক সমস্যা নাই, আকাশের অবস্থা খারাপ, উঠে পড়লেই চলে, যাওয়া দরকার।’   নগরবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবহন খাত পর্যাপ্ত সক্ষম না। প্রয়োজনের তুলনায় গাড়ি কম। পরিবহন খাতকে মাল্টিমোডাল সিস্টেমে চালানো গেলে মানুষ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় একটা স্বস্তিদায়ক যাত্রা পেত। এজন্য মনোরেলের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মেট্রোস্টেশনকে আরও সম্প্রসারণ করছি এবং আরো কয়েকটা মেট্রোরেল যাতে চালু করা যায় সেই পদক্ষেপ সরকার এরইমধ্যে নিয়েছে। আমরা রুট ভিত্তিক কোম্পানি করে মানসম্মত বাস চালাবো।’   সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ৩৫ লাখের মতো শ্রমিকের ছুটি হয় ঈদের দুদিন আগে। ফলে বাড়ি যাওয়ার জন্য তারা একদিন সময় পায়। এরা যখন রাস্তায় এসে যেকোনো মূল্যে যেতে চায় তখন পরিবহন ব্যবস্থাপনা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। এরভেতর যদি বৈরী আবহাওয়া থাকে, তখন সবাই যেভাবে পারে গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করেন।’   তিনি বলেন, ‘বিগত সরকার একটা বিআরটি প্রকল্প নিয়েছিল। সেটা এখন অকেজো। চালুই করা যায়নি। কারণ সম্পূর্ণ ভুল ছিল। ফলে রাস্তার প্রশস্ততায় এবং যানবাহনের সমন্বয়ে এত লোককে দুই দিনে যাতায়াত সুযোগ দেয়া নিয়ে আমাদের অন্যভাবে ভাবতে হচ্ছে। আমরা সেভাবেই চেষ্টা করছি।’

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবাই যার যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে দেশটাকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার।   পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ আয়োজিত এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেনানিবাসে থাকাকালীন তার শৈশব ও জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জীবনের বড় একটা অংশের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে।   প্রীতিভোজ শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনাসদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে সেনা মেসে অবস্থানরত সৈনিকদের জীবনযাপনের খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেনা মেস চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।    এ ছাড়া সেনা মেসের মসজিদে জোহরের নামাজ আদায়ের পর উপস্থিত সেনা কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারেক রহমান।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব

ইরানকে ঘিরে নৌ অবরোধে ১০০ জাহাজ আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৪, ২০২৬