জাতীয়

মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের পদক্ষেপের পেছনে ক্ষোভ নাকি রাজনীতি?

বাংলাদেশেও ক্ষমতার পালাবদলে এমন পরিবর্তন ঘটেছে। কখনো চট্টগ্রাম এম এ হান্নান বিমানবন্দরের নাম বদলে করা হয়েছে শাহ আমানত বিমানবন্দর আবার কখনো জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বদলে হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক, ভবন কিংবা পুরো দেশের নামই পরিবর্তন করার নজির নতুন নয়। যার পেছেনে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক কিংবা ঐতিহাসিক নানা কারণ রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। যদিও বাংলাদেশে নাম পরিবর্তনের ইতিহাসে সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বারবার সামনে এসেছে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদের শাসনামলে শেখ পরিবারের নামে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান বা সড়কের নামকরণের উদাহরণ যেমন রয়েছে, তেমনি শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ঢালাওভাবে অনেক নামের অযৌক্তিক পরিবর্তনের উদাহরণও তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এ ধরনের পরিবর্তন ঐতিহাসিক স্মৃতি মুছে রাজনীতিতে 'কাউন্টার ন্যারেটিভ' কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতি হিসেবেও দেখার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি আবাসিক হল বা স্থাপনার নাম পরিবর্তন ঘিরে আবারও নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণের বিষয়টি যে বাড়াবাড়ি মাত্রা পেয়েছিল, তারই পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখন দেখা যাচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
শেখ পরিবারের নামে থাকা ঢাবির ৫ ভবনের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা পাঁচটি আবাসিক ভবনের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সিন্ডিকেট সভার সভাপতিও উপস্থিত ছিলেন। এতে ঢাবির শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ এবং ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল সিতারা পারভীনের নামে করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে এসব নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটের সভায়। ফলে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তটি এখন সেখানে পাঠানো হবে এবং সিনেটের সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জানা গেছে, শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে দুটি আবাসিক হল, একটি হোস্টেল এবং দুটি স্টাফ কোয়ার্টার। এগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং সুলতানা কামাল হোস্টেল। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাবির শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ এবং ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল সিতারা পারভীনের নামে করার সুপারিশ করা হয়েছে। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নাম পরিবর্তন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) লিখিতভাবে অনুরোধ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সভার সিদ্ধান্ত শেষে বিষয়টি আজ সিন্ডিকেটের সভায় উঠেছে। সেখানে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে এসব নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সিনেটের সভায়। কেননা সিন্ডিকেটের সেটি করার এখতিয়ার নেই। তাই বিষয়টি সিনেটের সভায় পাঠানো হবে এবং সেখানেই নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ২১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং ডাকসুর নেতারা এই নাম পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার হন। শিক্ষার্থীদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার প্রস্তাব নিয়ে ভিসি দপ্তর ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
কক্সবাজারে মাটি চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় আজ অবৈধভাবে পাহাড়ের মাটিকাটার সময়ে মাটি চাপা পড়ে মোহাম্মদ আমিন (২৬) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাইছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  নিহত মোহাম্মদ আমিন জেলার উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া চরপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মীর আহমেদের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং এলাকায় হেলাল উদ্দিন ও তার ছোট ভাই সরওয়ার অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটির ব্যবসা করে আসছিল। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ভোরেও ডাম্পার দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি বহনের সময় শ্রমিক মোহাম্মদ আমিন হঠাৎ মাটির নিচে চাপা পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল আমিন জানান, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত হেলালের বিরুদ্ধে ৫ টি বন মামলা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।  বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
নির্বাচনের আগে ‘সিল’ করা হবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বর্ডার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বর্ডার ‘সিল’ করা হবে। এ নিয়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সে আলোচনা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মতামতে এ সিদ্ধান্ত অনেকটা চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সভাপতিত্বে রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত সরকারের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৪৮তম রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয় ছিল-জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার ঠেকানো। রোহিঙ্গাদের যেন কেউ কোনোভাবেই আসন্ন নির্বাচনে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে, এ বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ভোটের আগে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে আরও তৎপরতা বাড়ানোর কথা এসেছে। সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প সিল করার কথা আসলেও পুরোপুরি বন্ধ না করে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাতায়াতকারী রোহিঙ্গাদের ওপর কঠোর নজরদারিসহ গোটা এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখার কথা এসেছে। ভোটের কাজে দায়িত্ব দেয়ার জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উপ-ক্যাম্পগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারদের পরিবর্তন না করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় জানানো হয়, প্রতিদিনই নতুন নতুন রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগে যেন অনুপ্রবেশ না বেড়ে যায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কার্যক্রম চলমান রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্থ হবে এমন কোনো কার্যক্রম রোহিঙ্গাদের করতে দেওয়া হবে না। সরকার এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবে না। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সোয়া চারটার দিকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার গুলশানের কার্যালয়ে পৌঁছালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে স্বাগত জানান। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। সাক্ষাৎকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
পঞ্চগড়ে শিশুদের নিয়ে ‘শীত আনন্দ উৎসব’

পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় আজ ১২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একহাজার ২৮০ জন শিশু শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘শীত আনন্দ উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আজ শুক্রবার দুপুরে বোদা উপজেলার পাঁচপীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ উৎসবে শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে শীতের পোশাক, স্কুলব্যাগ ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিটি শিশুর হাতে একটি করে হুডি, উন্নতমানের স্কুলব্যাগ, খাতা-কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য ডিম ও মুরগির মাংস দিয়ে গরম খিচুড়ির আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কবির আহমেদ আকন্দ। পাঁচপীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাদিরা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক রায়হানুল আনম প্রধান রিয়েল এবং সমাজসেবক হুমায়ুন কবীর লায়ন। শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কবির আহমেদ আকন্দ বলেন, সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র শিশুদের শীতকালে যেন পড়াশোনায় ব্যাঘাত না ঘটে, সেলক্ষ্যেই এ আয়োজন। আজ একহাজার ২৮০ জন শিশুকে শীতের পোশাক, শিক্ষা উপকরণ, স্কুলব্যাগ ও দুপুরের খাবার দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি আয়োজনের মাধ্যমে মোট সাড়ে সাতহাজার শিশুকে এ উপহার দেয়া হচ্ছে।  তিনি জানান, শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ভালোলাগা থেকেই ১৮ বছর আগে এ সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড- এর সহযোগিতায় ‘শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশন’ এ উৎসবের আয়োজন করেছে। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
তারেক রহমানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বৈঠকটি আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
আপিল শুনানিকালে ইসিতে আপিলকারীসহ ৩ জন প্রবেশ করতে পারবে

 আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি কক্ষে আপিলকারীসহ সর্বোচ্চ তিনজন প্রবেশ করতে পারবে। আজ শুক্রবার ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (আইন-২) মো. আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।  এতে বলা হয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনে দায়েরকৃত আপিলসমূহের উপর আগামী ১০ জানুয়ারী হতে ১৮ জানুয়ারী পর্যন্ত মোট ৯ দিন আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত আপিল শুনানি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আপিল শুনানিকালে আপিল শুনানি কক্ষে প্রতিটি আপিলের প্রসঙ্গে আপিলকারীসহ সবোর্চ্চ তিনজনের বেশি লোক শুনানি কক্ষে প্রবেশ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল আপিলকারীগণকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ নির্বাচন কমিশনে দায়েরকৃত আপিল আবেদনসমূহের শুনানি আগামীকাল থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেইজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফুল কমিশন এই শুনানি গ্রহণ করবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
মুন্সীগঞ্জে সুতার মিলে অগ্নিকান্ড

মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় আজ অগ্নিকান্ডে একটি সুতার মিলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় দেড়ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে।  আজ শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মালির পাথর এলাকায় জনৈক দুলাল বেপারীর সুতার মিলে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।  মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এবং এলাকাবাসীর প্রায় দেড়ঘন্টার চেষ্টায় পঞ্চসার ইউনিয়নের মালির পাথর এলাকার সুতার মিলের আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। মুন্সীগঞ্জে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. মেহফুজ তানজির জানান, বৈদ্যুৎতিক গোলযোগ থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত বলে ধারনা করা হচ্ছে। অগ্নিকান্ডে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশন ও প্রিজাইডিং অফিসার যেসব ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করতে পারেন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে যেসব ক্ষেত্রে নির্বচন কমিশন ও প্রিজাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ বন্ধ করতে পারেন এ সম্পর্কিত এক পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের উপসচিব নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি বৃহস্পতিবার জারি করা হয়।  পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে যদি কোন সময় ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত বা বাধাগ্রস্ত হয় এবং তা ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হয়, তা হলে তিনি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ২৫ এর বিধান (পরিশিষ্ট-ক) অনুসারে অনতিবিলম্বে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিবেন এবং রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করিবেন। ভোটকেন্দ্রে ব্যবহৃত কোন স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রিজাইডিং অফিসারের হেফাজত হতে বেআইনীভাবে ও জোরপূর্বক অপসারণ করা হলে বা দুর্ঘটনাক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা হলে বা হারিয়ে গেলে বা এরূপ ক্ষতিগ্রস্ত বা বিকৃত হলে বা এই পরিমাণ হস্তক্ষেপ করা হয় যে, সেই কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করা যাবে না, সেক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেবেন এবং রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন। সেক্ষেত্রে বন্ধ ঘোষিত কেন্দ্রের ভোট গণনা করা যাবে না। রিটার্নিং অফিসার অনতিবিলম্বে উক্ত ঘটনা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের নিকট একটি প্রতিবেদন পেশ করবেন এবং যথা শিগগির সম্ভব, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিয়ে নতুন ভাবে ভোটগ্রহণের জন্য একটি তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করবেন।’ পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘যে ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হবে সেই ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ব্যতীত যদি উক্ত নির্বাচনী এলাকার ফলাফল অবশিষ্ট ভোটকেন্দ্রের ফলাফল দ্বারা নির্ধারিত না হয়, তা হলে নির্বাচন কমিশন উক্ত ভোটকেন্দ্রে পুনঃভোটগ্রহণের জন্য রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করবেন। রিটার্নিং অফিসার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশক্রমে উক্ত ভোটকেন্দ্রে/ভোটকেন্দ্রসমূহে ভোটগ্রহণের জন্য একটি দিন ও সময় ধার্য করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন। এরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রাধীন সকল ভোটার ভোট দিতে পারবেন।’ এ ছাড়া কতিপয় ক্ষেত্রে কমিশনের নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করার ক্ষমতা বিষয়ে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৯১ এর বিধান অনুসারে কমিশনের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, নির্বাচনে বল প্রয়োগ, ভীতি-প্রদর্শন এবং চাপ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিরাজমান অপকর্মের কারণে যুক্তিযুক্ত ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষভাবে এবং আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিতকরা সম্ভব নয় বা দ্বৈব দূর্বিপাকের কারণে উক্ত নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব হবে না, সেক্ষেত্রে যে কোন ভোটকেন্দ্র বা ক্ষেত্রমত, সম্পূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের যে কোন পর্যায়ে ভোটগ্রহণসহ নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবেন।’ 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫ আপিল, কাল থেকে নিষ্পত্তি শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন দায়ের করা হয়েছে।  আপিল গ্রহণের শেষ দিনে আজ শুক্রবার ইসিতে ১৭৬টি আপিল দায়ের করা হয়েছে বলে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন।   আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানি শুরু হবে এবং আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি চলবে।  শনিবার ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রোববার ১১ জানুয়ারি ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, সোমবার ১২ জানুয়ারি ১৪১-২১০ নম্বর আপিল এবং মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী আপিল শুনানির তারিখ শীঘ্রই জানিয়ে দেওয়া হবে। গত ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে আজ শুক্রবার শেষ হয়।  গতকাল বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনে ইসিতে ১৭৪টি আপিল দায়ের করা হয়। বুধবার ১৩১টি এবং মঙ্গলবার ১২২টি আপিল দায়ের করা হয়। এ ছাড়া গত সোমবার প্রথমদিনে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৪১টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে একটি আপিল দায়ের করা হয়। গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
শেষ দিনেও আপিল করতে ইসিতে ভিড়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিরুদ্ধে আপিল করতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) শেষ দিনে ভিড় ছিল লক্ষণীয়।   শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল দায়েরের সময় থাকলেও লাইনে প্রার্থী থাকায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করা হয়। ১৩১ জন প্রার্থী আজ আপিল করেছেন।   ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।   এদিকে, গত চার দিনে নির্বাচন কমিশনে মোট ৪৬৯টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। যার মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ১৭৪টি আপিল দায়ের করা হয়। সে হিসেবে শেষদিন পর্যন্ত মোট ৬০০টি আপিল করা হয়েছে ইসিতে।   ছাব্বিশের নির্বাচনের সংশোধিত তফসিলের সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ দিন ছিল আজ ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। পরদিন ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবে।   তারপর ২২ জানুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়  ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন ইসির

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে বিশ্বের ১২১টি দেশে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৮ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।   ইসি সূত্র জানায়, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়। প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নিবন্ধনকারী প্রবাসী ভোটারদের কাছে সব ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ হয়েছে।   ডাক বিভাগের এয়ারপোর্ট সর্টিং অফিসের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল শামীম সোহানী জানান, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ইসি থেকে পাওয়া সব পোস্টাল ব্যালট বহির্বিশ্বে পাঠানোর কাজ বৃহস্পতিবার শেষ করেছে।   বিমান বাংলাদেশ, এমিরেটস, মালয়েশিয়ান, সিঙ্গাপুর এবং সৌদিয়া এয়ারলাইনসের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে এসব ব্যালট পাঠানো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে এগুলো সব গন্তব্যে পৌঁছে যাবে। নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক বিভাগ, সিভিল এভিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ (ওসিভি)-এর এই বিশাল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।   এ বিষয়ে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, নিবন্ধিত প্রবাসীদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজারের বেশি ভোটার সঠিক ঠিকানা দেননি।   ফলে তাদের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরো জানান, দেশের অভ্যন্তরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তাদের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু হবে। দেশের ভেতরে ব্যালট পাঠানো এবং তা ফিরে আসার পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭ দিন সময় লাগতে পারে।   সালীম আহমাদ খান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা ভোটারের নিজের দায়িত্ব। কেউ এই গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করে দেওয়া হতে পারে।   ইসি কর্মকর্তারা জানান, সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতেই ৯১টি দেশে ৩৯ হাজার ৩৮ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে।   দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় ৮৪ হাজার ১৭৪ জন, কাতারে ৭৫ হাজার ৮৬৯ জন এবং ওমানে ৫৬ হাজার ৬৩ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে।   ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন প্রবাসী এবং ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটার।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
নাগরিক সেবা সহজ ও জনবান্ধব করতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি : ফয়েজ তৈয়্যব

নাগরিকদের জন্য সরকারি সেবা সহজ, সমন্বিত ও জনবান্ধব করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সেবাকে একীভূতভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।   আজ শুক্রবার কুমিল্লার সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ সরকারের একটি সংস্কারমূলক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ, যার মাধ্যমে নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমিয়ে এক ছাদের নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা নিশ্চিত করা হবে।   তিনি বলেন, আলাদা আলাদা দপ্তরে ঘুরে বেড়ানোর পরিবর্তে নাগরিকরা এখন একটি কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন, যা সেবার মান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।   তিনি আরো বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে স্থাপিত নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো হবে সরকারের সেবাদানের বিশ্বাসযোগ্য ও দৃশ্যমান প্রতিফলন। সেবাগ্রহীতার আস্থা, সন্তুষ্টি ও অভিজ্ঞতাই এই উদ্যোগের সফলতার প্রধান সূচক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তারাই নাগরিক সেবা কেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন এবং সেবার মান নিশ্চিত করবেন।   একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত তথ্য ও উপাত্ত সুরক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানান, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন এবং নিজ নিজ এলাকায় নাগরিক সেবা কেন্দ্র কার্যকরভাবে পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।   তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।   কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দীন এবং এটুআই-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম।   কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার মো. সালমান ফার্সি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
গুজব ও অপতথ্য রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অপরিহার্য : তথ্য সচিব

গুজব ও অপতথ্য রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অপরিহার্য উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনে গুজব রোধে সংবাদ কর্মীদের সহায়তা চেয়েছেন তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা।  আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত নির্বাচন সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ- পিআইবি’র সেমিনার কক্ষে শুরু হওয়া দুই দিনের নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন তিনি। গণভোট নিয়ে সারাদেশের ভোটারদের সচেতন করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘আপনাদের ক্ষুরধার লেখনী এখন জরুরি। গুজব ও অপতথ্য রোধে আমাদের সহায়তা করবেন। একসঙ্গে হাতে হাত ধরে চললে দেশটা সুষ্ঠু পরিণতির দিকে যাবে। আমরা সবাই মিলে গণভোট নিয়ে ভোটারদের সচেতন করবো।’  সচিব জানান,  প্রান্তিক মানুষকে গণভোট সম্পর্কে অবহিত করতে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ৬৪ জেলায় ৪৯৫ উপজেলায় ভোটালাপ উঠান বৈঠক ও টেনমিনিট ব্রিফ করছে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। মোবাইলফোন ব্যবহার করে গণভোটের নিয়ম শেখাচ্ছেন তথ্যআপা।    তিনি তরুণ, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ও নারীদের ভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। পিআইবি পরিচালক কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে যুগ্মসচিব রিয়াসাতুল ওয়াসিফ, জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।  অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল। কর্মশালায় বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইনে কর্মরত ৫০ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বারোপ

নাগরিকদের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আজ চাঁদপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালায় এ গুরুত্বারোপ করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, সরকারি সেবার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সেবাগ্রহীতার আস্থা ও সন্তুষ্টির ওপর। আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো তখনই কার্যকর হয়, যখন নাগরিকরা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান। তিনি বলেন, এক ছাদের নিচে সমন্বিত সেবা প্রদানের মাধ্যমে নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হবে। তিনি আরও বলেন, নাগরিক সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে উদ্যোক্তারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। মাঠপর্যায়ে তারাই সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবেন। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, নাগরিক সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো সরকারকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানান, এ কর্মশালার মাধ্যমে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁদের ধারণা আরও পরিষ্কার হয়েছে এবং নিজ-নিজ এলাকায় নাগরিক সেবা কেন্দ্র কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটুআই’র হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) একরামুল ছিদ্দিক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, এটুআই’র হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ সফিউল আযম, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর অশোক কুমার বিশ্বাসসহ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, কর্মশালায় চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ : সিডিএফ

ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংগঠনগুলোর জাতীয় নেটওয়ার্ক—ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ)। সংগঠনটি বলছে, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ক্ষুদ্রঋণবান্ধব নয় কিংবা এটি মুনাফাভিত্তিক উদ্যোগ—এ ধরনের আশঙ্কার সঙ্গে অধ্যাদেশের মূল দর্শনের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বরং এই আইন পাস হলে ক্ষুদ্রঋণ খাতের কাঠামো আরও শক্তিশালী ও টেকসই হবে। সিডিএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে-ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ। সিডিএফের মতে, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে—এ বিষয়টি অধ্যাদেশের খসড়াতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। খসড়ার ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংকটি সামাজিক ব্যবসার নীতিতে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের অতিরিক্ত কোনো লভ্যাংশ নিতে পারবেন না। ফলে এটিকে মুনাফাভিত্তিক বা ব্যক্তিমালিকানার উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।  গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো—ব্যাংক হলে ক্ষুদ্রঋণের মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে কি না। এ বিষয়ে সিডিএফ বলছে, প্রস্তাবিত ব্যাংকের লক্ষ্য মুনাফা নয়; বরং দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কুটির শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা। ব্যাংকটির কার্যক্রম হবে বহুমাত্রিক—এর আওতায় ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ইনস্যুরেন্স সেবা, রেমিট্যান্স, দেশি-বিদেশি অনুদান ও ঋণ গ্রহণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি কৃষি খাতেও ঋণের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে। আরেকটি বড় বিতর্কের জায়গা হলো—এনজিও ও ব্যাংকের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ। এ প্রসঙ্গে সিডিএফের বক্তব্য, ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক আইন কার্যকর হলেও কোনো এনজিওকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকে রূপান্তর করা হবে না। কোনো সংস্থা চাইলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তাদের কার্যক্রম ব্যাংকের আওতায় আনতে পারবে। তবে যে অংশ ব্যাংকে রূপান্তরিত হবে, তা সম্পূর্ণ আলাদা কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে এবং তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে। অন্যদিকে এনজিও অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) অধীনে। ফলে একই কাঠামোয় দ্বৈত নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নই ওঠে না। এসেট বা সম্পদ স্থানান্তর নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে বলে মনে করছে সিডিএফ। সংগঠনটির মতে, কোনো এনজিওর কেবল যে অংশটুকু ব্যাংকে রূপান্তর হবে, সেই অংশের দায়-দেনাই স্থানান্তরিত হবে। সব সম্পদ বা দায় একসঙ্গে ব্যাংকে চলে যাবে—এমনটি নয়। প্রস্তাবিত ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সিডিএফ। তাদের ভাষ্য, ব্যাংকের মোট শেয়ারের ৬০ শতাংশ থাকবে দরিদ্র সদস্যদের হাতে। ফলে অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডার হবেন তারাই, যারা ক্ষুদ্রঋণের মূল লক্ষ্যগোষ্ঠী। এতে দরিদ্র সদস্যদের ক্ষমতায়ন হবে এবং ব্যাংকের সম্ভাব্য উদ্বৃত্তের সুফলও তারা সরাসরি পাবে।  বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোর উদাহরণ টেনে সিডিএফ বলছে, সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারই দরিদ্র সদস্যদের হাতে রয়েছে। সিডিএফ আরও বলছে, প্রস্তাবিত ব্যাংকে বিনিয়োগকারীরা কেবল তাদের বিনিয়োগকৃত মূলধনের সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন। অতিরিক্ত মুনাফা বা ডিভিডেন্ট নেওয়ার সুযোগ না থাকায় ব্যক্তি মুনাফার আশায় এ ধরনের ব্যাংকে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন না। ফলে অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ শেয়ারের বিনিয়োগ মূলত বিভিন্ন এনজিওর উদ্বৃত্ত তহবিল থেকেই আসবে। এতে ব্যাংকের যে কোনো উদ্বৃত্ত শেষ পর্যন্ত আবার দরিদ্র সদস্যদের কল্যাণেই ব্যবহৃত হবে।  সিডিএফের দাবি, এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংকের আইন থাকলেও সেগুলো মূলত মুনাফাভিত্তিক। সে তুলনায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক একটি ব্যতিক্রমী ও উন্নত ধারণা নিয়ে আসছে, যেখানে সামাজিক উন্নয়নই হবে মূল লক্ষ্য। তাদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে তা শুধু দেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতেই নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ঢাবিতে ইসলামী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ইসলামী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ সম্মেলন শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে  ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিন্যান্স বিভাগ এবং সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সম্মেলন আয়োজন করে। ‘টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইসলামী ফিন্যান্স’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের শরীয়াহ উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.  আবু বকর রফিক, ইউনাইটেড ফিন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং অ্যাকাউন্টিং এন্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফিন্যান্স ইনস্টিটিউশনসের মহাসচিব ওমর মোস্তফা আনসারি বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশারফ হোসেন এবং সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকি আন-নদভী স্বাগত বক্তব্য দেন। সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম সাদিকুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কবির হাসান, যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাবিব আহমেদ, ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ইমরানুল হক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়ার অধ্যাপক ড. হাবিবুল্লাহ জাকারিয়াহ, আইএসআরএ কনসাল্টিং মালয়েশিয়ার সিইও অধ্যাপক ড. এস্কান্দার শাহ মোহাম্মদ রাশিদ এবং এএওআইএফআই'র গভর্নেন্স এন্ড এথিক্স বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক রেজা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. জামশেদ এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ফার্স্ট অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুফতি মুহাম্মদ হেদায়েতুল্লাহ অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক সংকট তুলে ধরে বলেন, এধরনের সম্মেলন ব্যাংকিং খাতের সংকট উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে পারস্পরিক সংলাপ, সহযোগিতা ও নেটওয়ার্কিং জোরদার করার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘বাংলাদেশে ইসলামী ফিন্যান্স শিক্ষা’ শীর্ষক ৫টি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. গোলজারে নবী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম মুফতি মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী আন-নদভী এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। প্যানেল আলোচনা সঞ্চালন করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কবির হাসান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
নাটোর-২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা গণঅধিকার পরিষদের

নাটোর জেলায় আজ নাটোর-২ (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে সমর্থন জানিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় নাটোর-২ (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং গণঅধিকার পরিষদ নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সাগর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।  এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর, নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহ আলম, গণঅধিকার পরিষদ নাটোর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মিল্টন হোসেন, যুব অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নুর হোসাইন সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  গণঅধিকার পরিষদ নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সাগর জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদের কোনো প্রার্থী না থাকায় গণঅধিকার পরিষদ, ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা নাটোর-২ (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনের আগে পে স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই : গভর্নর

জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামো ঘোষণা করার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণার সময় নেই এবং সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বিষয়টি পরে বিবেচনা করা হবে। গভর্নর আরও বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতির জন্য মূল প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনীতিতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। এসব বিষয়েই সরকারের বাজেট ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু রয়েছে। নতুন পে স্কেল ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব সঞ্চয় এবং জাতীয় বাজেটের প্রাধান্য বিবেচনা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে উত্তেজনা বা প্রত্যাশা থাকতে পারে, তবে বাস্তবে তা নির্বাচনের আগে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। পে স্কেল সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকারি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও বাজেটের ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য। অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্বাচনের আগে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা না করা সরকারের জন্য একটি নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ। এতে সরকারি খাতের আর্থিক চাপ সীমিত থাকে এবং নির্বাচনী সময়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। গভর্নর জানান, নির্বাচনের পর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আয় এবং সরকারি বাজেট অনুযায়ী পে স্কেল পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে। এ বিষয়ে সময়মতো সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। সংক্ষেপে বলা যায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই এবং এ বিষয়ে কোনো শীঘ্রই ঘোষণা আশা করা ঠিক হবেনা।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মেট্রোরেলের কাজ চূড়ান্ত করতে ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিরা

 ঢাকার গাবতলী থেকে ডেমরা পর্যন্ত মেট্রোরেলের প্রকল্পের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসতে ঢাকা আসছেন বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা। তারা প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করবেন এবং বাস্তবায়নের নানা দিকের বিষয় নিয়ে সমন্বয় করবেন। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ, অর্থায়ন এবং সময়সূচি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য যাচাই করবেন। এছাড়া তারা প্রকল্পের বাজেট, কাজের মানদণ্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নিয়েও মতবিনিময় করবেন। ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাবতলী-ডেমরা রুটে নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই যথাযথ অগ্রগতি দেখাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি আসার পর প্রকল্পের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে প্রকল্পের সময়মতো সমাপ্তি এবং উদ্বোধন নির্ভরযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্প সূত্র আরও জানায়, গত কয়েক মাসে নির্মাণ কাজে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। এগুলো সমাধানে বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি আসার পর প্রকল্পের কাজের প্রগতির ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। এতে গাবতলী-ডেমরা মেট্রোরেল রুটে যাত্রী পরিবহণ শুরুর তারিখ নির্ধারণে সহায়তা মিলবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বব্যাংকের সরেজমিন পরিদর্শন ও পরামর্শ মেট্রোরেল প্রকল্পের মান উন্নয়নে এবং সময়মতো সমাপ্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

জাতীয়

হসপিটালিটি সেক্টরে অবহেলা: ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হোটেল কর্মীরা

বিশেষ প্রতিবেদক জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0