জাতীয়

ছবি: সংগৃহীত
তেলের দাম বাড়ানোয় সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জামায়াতের

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।   রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।   তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।   মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শিল্প ও কৃষি খাতেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র করতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।   বিবৃতিতে তিনি সরকারের প্রতি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন

ছয়টি ইসলামী ধারার ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছেন।   রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।   মানববন্ধনে অংশ নেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি—এই ছয় ব্যাংকের চাকরিচ্যুত শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী।   আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, “ব্যাংকিং খাতে বৈষম্য ও গণহারে চাকরিচ্যুতি বন্ধ করুন” শীর্ষক দাবিতে তারা স্বপদে পুনর্বহাল এবং বর্তমান ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন।   তারা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক বদলি, আইডি নিষ্ক্রিয়করণ এবং তথাকথিত দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বহু কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।   মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত পরিচয়ের কারণে তাদের চাকরি হারাতে হয়েছে, যা তারা বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেন।   আন্দোলনকারীরা বলেন, এসব ঘটনায় প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।   তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপ করে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবি জানান।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চাকরিতে ফিরতে পুলিশ সদস্যদের রাজধানীতে মানববন্ধন

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় পাওয়ার পরও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা।   রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।   মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাবেক পুলিশ সদস্যরা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনায় তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করে রায় পান এবং প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালেও সেই রায় বহাল থাকে।   চাকরিচ্যুত উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, আদালতের রায় তাদের পক্ষে এলেও পুলিশ সদর দপ্তর তা বাস্তবায়ন না করে উচ্চ আদালতে আপিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে এবং তাদের অনিশ্চয়তায় রাখা হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য বা স্ট্যাটাসের মতো ঘটনাকেও শাস্তির কারণ হিসেবে দেখিয়ে অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   বক্তারা অভিযোগ করেন, একই ধরনের রায়ের ভিত্তিতে অতীতে প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ জন পুলিশ সদস্যকে পুনর্বহাল করা হলেও বর্তমানে অনেককে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।   তাদের দাবি, আদালতের রায় অনুযায়ী সকল চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যকে বৈষম্যহীনভাবে পুনর্বহাল করতে হবে।   মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তারা জানান, দাবি আদায় না হলে আইনগতভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদী হাসপাতাল বর্ধিত ভবনের কাজ ৮ বছরেও শেষ হয়নি

নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করতে নির্মাণাধীন বর্ধিত ভবনের কাজ দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ হয়নি। এতে করে কাঙ্ক্ষিত উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার মানুষ।   গণপূর্ত বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ৪০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩ তলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় ৮ তলা পর্যন্ত কাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হলেও এখনো লিফট স্থাপন, বাথরুম ফিটিংস, রং করা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে।   নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন তলায় জরুরি বিভাগ, আউটডোর, আইসিইউ, সিসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি, প্রশাসনিক অফিস ও ডায়ালাইসিস সেন্টারসহ আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থাকার কথা রয়েছে।   গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ভবনের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বেসিন, কমোড, লাইট ও লিফট এখনো স্থাপন করা হয়নি। তিনি আরও জানান, বাকি কাজ সম্পন্নে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, নির্ধারিত কাজ ২০২২ সালেই হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের কোনো কাজ চলমান নেই।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শতভাগ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভবন বুঝে নেওয়া হবে না। এছাড়া চিকিৎসা সেবা চালুর জন্য জনবল, যন্ত্রপাতি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।   এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি চালু হলে ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং স্থানীয় রোগীরা সহজে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, দুই নেতা বহিষ্কার

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।   শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপকে তার পদ থেকে এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।   এছাড়া, পৃথক আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার তদন্তে কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ছাত্রাবাসে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মোটরসাইকেলে তেল ভরাকে ঘিরে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়, যা পরে ধস্তাধস্তি ও মারধরে রূপ নেয়। পরবর্তীতে প্রতিশোধমূলক হামলায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।   ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী মীর হামিদুর ও মো. মুয়াজকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। উভয়ের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।   ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় আগামী সাত দিনের জন্য সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।   এদিকে, কলেজ প্রশাসন পৃথকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
দূষণের মাত্রা বেড়ে চতুর্থ স্থানে ঢাকা, বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’

ঢাকার বাতাসে আবারও বেড়েছে দূষণের মাত্রা। চলতি মৌসুমে ওঠানামার মধ্যেই রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা।   আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান (AQI) ছিল ১৫৭, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এর আগের দিন শনিবার ঢাকার অবস্থান ছিল ২০তম, তখন স্কোর ছিল ৯৯—যা তুলনামূলকভাবে ‘মাঝারি’ মানের বাতাস নির্দেশ করে।   তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি, যার AQI ৪০৮—‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই (১৯১) এবং তৃতীয় স্থানে নেপালের কাঠমান্ডু (১৭৮) রয়েছে।   শীর্ষ ১০-এর মধ্যে চীনের চারটি শহরও রয়েছে, যাদের মধ্যে চেংদু, সেনজেন, হাংজু ও গুয়াংজু উল্লেখযোগ্যভাবে দূষিত বাতাসের তালিকায় আছে।   অন্যদিকে, কলকাতা, মুম্বাই ও হংকংও তালিকায় রয়েছে, যাদের বায়ুমান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর থেকে মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে।   বায়ুমানের মানদণ্ড অনুযায়ী: ০–৫০: ভালো ৫১–১০০: মাঝারি ১০১–১৫০: সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর ১৫১–২০০: অস্বাস্থ্যকর ২০১–৩০০: খুব অস্বাস্থ্যকর ৩০১+: ঝুঁকিপূর্ণ   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন এমন দূষিত বাতাসে থাকা শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে তিস্তা তীরে ভাঙন আতঙ্ক, অরক্ষিত ৩.৫ কিমি এলাকায় চরম ঝুঁকি

কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাড়ছে ভাঙন আতঙ্ক। জেলার উলিপুর উপজেলার তিস্তার বাম তীরের প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার অরক্ষিত এলাকায় বসবাসরত হাজারো মানুষ অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।   এছাড়া প্রায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার নদী প্রতিরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এখনো কাজ শুরু না হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।   কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন (দক্ষিণ) প্রকল্পের আওতায় ৪০টি প্যাকেজে কাজ হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও এখনো ৩টি প্যাকেজের কাজ শুরু হয়নি।   অন্যদিকে, বজরা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বাম তীরের সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকা এখনো সম্পূর্ণ অরক্ষিত রয়েছে। এ অংশে কোনো বাজেট বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাশের এলাকাগুলোতে নদী ভাঙন রোধে কাজ হলেও মাঝামাঝি অংশে কোনো কার্যক্রম না থাকায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। বন্যা এলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিতে হয়, অনেকেই গবাদিপশুসহ রাস্তায় অবস্থান করেন।   বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম সরকার বলেন, “আমাদের ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার নদী তীরের মধ্যে ৩ কিলোমিটারে কাজের বরাদ্দ থাকলেও ৩টি প্যাকেজ এখনো শুরু হয়নি। বাকি সাড়ে ৩ কিলোমিটারের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই।”   এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, “তিস্তা নদীতে দুই ধাপে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার এলাকায় কাজ চলমান রয়েছে। কিছু অংশে ডাম্পিং কাজ হলেও স্লোপ ব্লক বসানো এখনো শুরু হয়নি। পানি কমে গেলে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।”   তিনি আরও বলেন, নতুন করে আরও সাড়ে ৩ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অংশের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো অনুমোদন মেলেনি। তবে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সরকারকে সাধুবাদ জানাল মালিক সমিতি

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করায় সরকারকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে। এতে জ্বালানি তেলের মজুত প্রবণতা কমবে এবং বিক্রিতে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে সংগঠনটি মনে করে। এর আগে শনিবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, দেশে বিদ্যমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে তার মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।   শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে ‘হুজ হু বাংলাদেশ ২০২৬’ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে ঐক্য, আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রয়াস অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, অতীতের বিতর্কে না গিয়ে ভবিষ্যতের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়াই সময়ের দাবি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে ধারণ করে সবাইকে দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। নিজের পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি যুক্তরাজ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে যুক্ত করেন এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অনুষ্ঠানে ‘হুজ হু বাংলাদেশ ২০২৬’ সম্মাননা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রদান করা হয়। কৃষিতে অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, শিল্প ও সংস্কৃতিতে ববিতা, শিল্প ও সাহিত্যে কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম, শিক্ষায় মনসুর আহমেদ চৌধুরী পুরস্কার পান। উদ্যোক্তা (পুরুষ) ক্যাটাগরিতে এরশাদ উল্লাহ, উদ্যোক্তা (নারী) কনা আলম, পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে শাখাওয়াত হোসেন, সাংবাদিকতায় শফিক আহমেদ, ক্রীড়ায় সাঈদ উর রব, সমাজসেবায় শান্তি শ্রী এবং আজীবন সম্মাননা পান আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। উল্লেখ্য, ১৮৪৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘হুজ হু’ গুণীজনদের জীবনী প্রকাশ ও সম্মাননা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে এই আয়োজন প্রতি দুই বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এসএসসি-দাখিল পরীক্ষা ঘিরে কঠোর নির্দেশনা ডিএমপির

আসন্ন এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি, এসএসসি (ভোকেশনাল), দাখিল এবং দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা আগামী ২১ এপ্রিল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে শুরু হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের আওতায় কার্যকর হবে।   এতে আরও জানানো হয়, পরীক্ষার দিনগুলোতে পরীক্ষা চলাকালীন সময় পর্যন্ত এ নির্দেশনা বহাল থাকবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষা নিশ্চিত করতেই এ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
‘ফুয়েল পাস বিডি’র যত সুবিধা

দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে রাজধানী ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ মোবাইল অ্যাপ চালু হয়েছে। শুরুতে ঢাকার কিছু পেট্রল পাম্পে এর ব্যবহার শুরু হলেও ইতোমধ্যে আরও ছয়টি জেলা ও নগরীতে এর পাইলট কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।   জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের অপচয় ও মজুতদারি রোধ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতেই এই ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুয়েল কার্ড বা অ্যাপভিত্তিক এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা কিউআর কোড ব্যবহার করে নির্ধারিত পাম্প থেকে জ্বালানি নিতে পারবেন। এতে নগদ অর্থ ছাড়াই দ্রুত লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।   ডিজিটাল পেমেন্ট ও খরচ নিয়ন্ত্রণ এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজে বিল পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে জ্বালানি ক্রয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা যাবে, যা অপচয় কমাতে সহায়ক হবে।   লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রতিটি জ্বালানি ক্রয়ের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই তাদের জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব ও রিপোর্ট দেখতে পারবেন।   নিরাপত্তা ও অপব্যবহার রোধ ফুয়েল কার্ড নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের তথ্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় চুরি বা অপব্যবহারের ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি এটি কালোবাজারি ও অবৈধ মজুতদারি প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখবে।   সময় সাশ্রয় ও সহজতা এই পদ্ধতিতে কাগজের রসিদের প্রয়োজন হবে না। দ্রুত লেনদেনের ফলে গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।   জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সে লক্ষ্যে ডিজিটাল ফুয়েল কার্ড বা ‘ফুয়েল পাস’ চালুর বিকল্প নেই।   তারা আরও জানান, এই পদ্ধতিটি পুরোপুরি চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে এবং জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘসময় সংসদ বয়কটে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, সংসদে ওয়াক আউট করা বিরোধী দলের অধিকার, আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখন আমরাও অনেক ওয়াক আউট করেছি। এটি একটি রাজনৈতিক চর্চা। তবে দীর্ঘস্থায়ী ওয়াক আউট কিংবা দীর্ঘসময় সংসদ বয়কটে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে জনগণ আবার তাদের অধিকার হারিয়ে ফেলবে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বারিশাল সার্কিট হাউজে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রিজের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্পিকার এসব কথা বলেন। তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন কারণে-অকারণে ওয়াক আউট না করে। আর সরকারি দলের প্রতি আহ্বান তারা যেন বিরোধীদলকে একোমোডেট করার চেষ্টা করে। বিরোধীদল যেন কাজ করে, সেই স্পেসটা দেওয়া। বিশেষ করে যেসব দল স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে একত্রে রাজপথে আন্দোলন করেছে, তারা যেন নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখে। তা না হলে যারা বিদেশে পালিয়ে আছে, তারা এদেশে ফিরে এসে আবার দু:শাসন কায়েম করবে। সুতরাং নিজের রাজনৈতিক দলের মেনুফেস্টো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জনগণের অধিকার যাতে হরণ করা না হয়, সে ব্যাপারে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই যত্নবান থাকবেন বলে আশা করি। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই, কারণ দেশের জনগণ এখন গণতন্ত্রের প্রতি সচেতন এবং এর রক্ষায় সদা সজাগ। এর আগে ভোলা সফর শেষে বরিশাল সার্কিট হাউজে পৌঁছালে স্পিকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তিনি বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন। বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তিন দেশ থেকে এক দিনে এলো ৩৪ জন প্রবাসীর মরদেহ

কুয়েত, মালয়েশিয়া এবং লিবিয়ায় স্বাভাবিক মৃত্যুবরণকারী ৩৪ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) পৃথক ফ্লাইটে মরদেহগুলো দেশে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মরদেহগুলো দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আটকে ছিল। দেশে পৌঁছানো মরদেহের মধ্যে কুয়েত থেকে ৩০ জন, মালয়েশিয়া থেকে ২ জন এবং লিবিয়া থেকে ২ জন প্রবাসী রয়েছেন। মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে দাফন ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মৃত প্রবাসীদের পরিবার অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা বীমার পাওনা পাওয়ার যোগ্য হলে তা দ্রুততম সময়ে দেওয়া হবে। স্বজনদের নিকট মরদেহ হস্তান্তরের সময় বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাম নিয়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণার আহ্বান

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ২৫ হাজার ৬৮৭ জন। এদের মধ্যে ১১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে অংশ নেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আগামী সোমবার থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে চার সিটি ও ৩৬ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোনো রোগের বিস্তার যখন সময়, স্থান ও আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তা সামাল দিতে হিমশিম খায়, তখন সেটিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডিপিপিএইচের মতে, দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, সরকার এরই মধ্যে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল, নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়নি। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, হামের সংক্রমণ অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়। টিকা নেওয়ার পর কার্যকারিতা পেতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালভিত্তিক সেবার পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। তিনি জানান, আগে দেশে হামে প্রতি হাজারে তিনজনের মৃত্যু হতো, যা বর্তমানে বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এই মৃত্যুহার বৃদ্ধির কারণ খুঁজে বের করতে গুরুত্বসহকারে বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে প্রান্তিক এলাকার শিশুরা। শিশু বিশেষজ্ঞ কাজী রকিবুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শুধু টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি ছিল না; বরং হাম-পরবর্তী জটিলতা প্রতিরোধেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব ছিল।  সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ডিপিপিএইচের সদস্য ফয়জুল হাকিম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব শাকিল আখতার। সুপারিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে ডিপিপিএইচ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে– অবিলম্বে সারাদেশে গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করা, উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা উন্নতি করা। শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৩ হাজার ২৭৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৫২২ জন, যার মধ্যে ১১ হাজার ৭৫১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। এ সময় নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। তবে সন্দেহভাজন হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জনের।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, আগের দিন প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭ বলা বলেও পরে তা সংশোধন করে ৩৫ করা হয়েছে। বরগুনা জেলায় ভুলক্রমে দুজনের মৃত্যুকে নিশ্চিত হাম হিসেবে গণনা করা হয়েছিল।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
চাঁদ দেখা যায়নি, জিলকদ মাস শুরু ২০ এপ্রিল

বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ কোথাও দেখা যায়নি। ফলে, রবিবার (১৯ এপ্রিল) শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু হবে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।   জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি দেশের সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।   সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক মোঃ শাহীন হোসেন, প্রধান তথ্য অফিসার ইয়াকুব আলী, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল প্রফেসর মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ মমিনুল ইসলাম, স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে ‘পিপিপি মডেল’ তুলে ধরলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

তুরস্কে আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত নতুন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেল উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ‘শ্রিংকিং এইড অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ শীর্ষক একটি প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেন। সেশনে জাতিসংঘ, টার্কিশ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন মডেল (টিকা) এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রচলিত সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উন্নয়নের জন্য সহায়তানির্ভরতা থেকে সক্ষমতাভিত্তিক পদ্ধতিতে রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা অপরিহার্য। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো মানবসম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়ন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন এবং একইভাবে স্বাস্থ্য খাতে সক্ষমতা ও সেবার মান উন্নত করতে স্বাস্থ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণ অপরিহার্য। উপদেষ্টা বলেন, সহায়তা হতে হবে সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য, যা বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি কার্যকর ও টেকসই পথ নির্দেশ করে।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
সংসদে গিয়ে নারীদের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে চাই

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মডেল ও অ্যাক্টিভিস্ট ফারজানা সিঁথি বলেছেন, ‘সংসদে গিয়ে নারীদের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে চাই। সংরক্ষিত নারী আসন এমন একটি জায়গা, যেখানে দল-মত-নির্বিশেষে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।’ শনিবার (১৮ এপ্রিল) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ফারজানা সিঁথি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণেই এ আন্দোলন সফল হয়েছে। এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা তৈরি হচ্ছে। সংসদে গিয়ে প্রতিহত করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘মানুষের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে যেতে চাই। নারীদের পাশাপাশি শ্রমিক, প্রবাসীসহ সব শ্রেণির মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে চাই।’ সিঁথি জানান, ‘ছাত্রজীবনে কোনো দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলাম না। মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কাজ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘৫০ হাজার টাকাসংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এটি মনোনয়ন ফরমের অফিশিয়াল ফি। কোনো অনৈতিক লেনদেন নয়।’ ফারজানা সিঁথি বলেন, ‘বিএনপি মনোনয়ন দিলে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করব। দেশের মানুষের ভালোবাসাই বড় শক্তি।’

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিসেস বেরিস একিনচি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে তুরস্কের আন্তালিয়ায় কূটনৈতিক ফোরামের বাইরে এক আয়োজনে তারা সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালীকরণ, বাণিজ্য-বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মঞ্চে সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তিতে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো গভীর করার ব্যাপারে আলোচনা করেন। মিসেস একিনচি বিশেষত অর্থনৈতিক অংশীদারি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করার ব্যাপারে তুরস্কের দৃঢ় আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলিও উঠে আসে। উভয়পক্ষ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংলাপ, কূটনীতি এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অংশীদারির প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এবং নিয়মিত উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ওসমান হাদি হত্যা: অস্ত্র সরবরাহকারী মাজেদুলের দায় স্বীকার

 ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায়, হত্যাকা-ে অস্ত্র সরবরাহকারী মাজেদুল হক হেলাল দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর ঘটনার দায় স্বীকার করে তিনি সেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায়, তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।  আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন জশিতা ইসলাম তার এ মামলায়  তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে, পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও, ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।  পরে ২০ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দ-বিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন। গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।  তবে ওই চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদি।  আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিকে হস্তান্তর করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সার্ক প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্মরণ আন্টালিয়া ফোরামে

তুরস্কের আন্টালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অগ্রণী ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। আজ (শনিবার) ফোরামের ওই অধিবেশনে বক্তারা আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংলাপ বাড়াতে সার্কের দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং আফগানিস্তানের পরিবহন মন্ত্রী আজিজি অংশগ্রহণ করেন। অধিবেশনে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈদেশিক নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বক্তারা একমত হন যে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের বাধা দূর করে আঞ্চলিক সংহতি বাড়াতে টেকসই সংলাপ এবং কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর পথ বলে জোর দেন তারা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: পিএমও
উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং উন্নত ল্যাব প্রায় সবকিছুই ঢাকা কেন্দ্রিক। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। যদিও কাজটি এক মাস বা এক বছরে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তবুও সরকার ধাপে ধাপে এটি অর্জনের পথে রয়েছে।’ আজ শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল চিকিৎসক ও কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসা পেশার গুরুত্ব যে কোনো পেশার চেয়ে বেশি এবং বর্তমান সরকার সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।' তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকগণ রোগে-শোকে কাতর মানুষের পরম বন্ধু এবং বিপদের প্রকৃত সঙ্গী। একজন চিকিৎসকের উপদেশ ও আন্তরিক ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।  তাই পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’ বর্তমান সরকার ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে আগে আমরা জনগণের কাছে স্বাস্থ্যনীতির রূপরেখা তুলে ধরেছিলাম। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, 'প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর' বা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা যদি রোগের শুরুতেই রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে পারি তাহলে রোগের বিস্তার মোকাবিলা সম্ভব। আমাদের এই নীতি বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।' প্রধানমন্ত্রী বলেন,  বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ  বলছেন, দেশের মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে উপযুক্ত সচেতনতা সৃষ্টি  করার পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে প্রণীত ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে।  তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও  জলবায়ু পরিবর্তনের  অভিঘাতের কারণে সংক্রামক রোগের পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ যেমন শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, হৃদরোগ ইত্যাদি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর  নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে উপজেলা পর্যায়েই গুরুত্বসহকারে  ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং নিয়মিত করা প্রয়োজন।   জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করার ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরী জরুরি।' প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, 'বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে ইউ-এইচ-এফ-পি-ও অর্থাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাগণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি।’ মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কর্মযজ্ঞে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সদস্যগণ প্রথম সারির যোদ্ধা। হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট এবং হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট’ এর একটি অপরটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।' তিনি বলেন,  একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নিজ নিজ কর্মস্থলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার কাজটিও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হয়।   কারণ, হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট এবং হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট এই দুটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং সমউন্নয়ন না হলে স্বাস্থ্য সেবায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।  দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বিএনপি সরকারের বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ' ‘আজকের স্বাস্থ্যসেবা ভবিষ্যতের বিনিয়োগ' আমেরিকার বিখ্যাত পুষ্টিবিদ প্রয়াত 'জ্যাক লালেন' এর উক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, 'এ কারণেই যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এনএইচএস'এর জেনারেল প্র্যাকটিশনার-জিপি'র আদলে প্রতিটি উপজেলা এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন করার চিন্তা  রয়েছে। ' 'এই স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে সারাদেশে ১ লাখ 'হেলথ কেয়ারার' নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই হেলথ কেয়ারারদের ৮০ শতাংশই হবেন নারী। হেলথ কেয়ারারগণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে জনগণকে প্রাথমিক হেলথ কেয়ার দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন’- উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন,  'ভবিষ্যতের স্বার্থে যে কোনো মূল্যে আমাদেরকে মা ও শিশু'র পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পরিপূর্ণ মাতৃত্বকালীন সেবা, নিরাপদ সন্তান প্রসব, নবজাতক এবং শিশু স্বাস্থ্যসেবার নিরাপদ স্থানে পরিণত করতে হবে।' সারাদেশে শিশুদেরকে 'হামে'র টিকা না দেওয়ার ফলে বিগত দুই সরকারের 'জীবনবিনাশী ব্যর্থতা' ক্ষমাহীন অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন,  'আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, ভবিষ্যতে আর কখনোই যাতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। ' প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,  'বর্তমান সরকার সারাদেশে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা দিয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ায় আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য আমি সকল চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাই। যারা তাদের প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন সেই সকল পিতামাতা এবং স্বজনদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে নাগরিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।' প্রধানমন্ত্রী বলেন,  'বর্তমানে সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে। এতে যে কোনো নাগরিক প্রয়োজনে দেশের যে কোনো হাসপাতালে সহজেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যাতে কোনো নাগরিক চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।' চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা রক্ষায় সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  'নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং জীবন মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি সম্পর্কেও সরকার ওয়াকিবহাল। এ ব্যাপারেও সরকার সাধ্যমতো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধ পরিকর। ' সবশেষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, 'এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, সেটি হলো প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজ নিজ এলাকায় একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা একটি জবাবদিহিমূলক, টেকসই এবং জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। আপনাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার কর্মস্থলকে একটি মডেল স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে পরিণত করবেন, আপনাদের কাছে এই প্রত্যাশা।' মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবাকে জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, সার্বিক কার্যক্রম অবহিত হওয়াসহ সরকারের নির্দেশনা তাদের কাছে দেওয়ার জন্য এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবারই প্রথম বৈঠক করেন। উপজেলা পর্যায়ের ৬ জন চিকিৎসক ডা. শোভন কুমার বশাখ, ডা. মনজুর আল মোর্শেদ চৌধুরী, ডা. মজিবুর রহমান, ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী, ডা. সুমন কান্তি সাহা এবং ডা. তাসনিম জুবায়েরকে কর্মদক্ষতার জন্য ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

বন্যা ও নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের দাবি এমপি রফিকুল আলমকে খোলা চিঠি

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0