দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে ঐক্য পরিষদের সভাপতি ঊষাতন তালুকদার, ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, নির্মল রোজারিও এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ এই শুভেচ্ছা জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে প্রতিটি ধর্মীয় উৎসব সম্প্রীতি ও সৌহার্দের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে। মুসলিম ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরও তেমনি সমস্ত দেশবাসীর সম্প্রীতি ও সৌহার্দের প্রতীক। এ ধর্মীয় উৎসবের সাম্যের শিক্ষা নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
দেশের সর্বস্তরের জনগণকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ শুক্রবার এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি সর্বস্তরের জনগণ, দলের নেতাকর্মী, পেশাজীবীসহ সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। পরিবার পরিজনকে সাথে নিয়ে সকলে আনন্দে-নিরাপদে ঈদ আনন্দ উপভোগ করবেন এই প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর ঘরে ঘরে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসুক। খন্দকার মুক্তাদির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জনগণ বিএনপিকে নির্বাচিত করে দেশ পরিচালনার যে মহান দায়িত্ব দিয়েছে তা যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারে, সে ব্যাপারে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি। গণতন্ত্রের এই অভিযাত্রায় অতীতের মত সবসময় আপনাদের পাশে পাবো সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’
ত্যাগ-তাকওয়া আর সংযমের শিক্ষা দিয়ে বিদায় নিয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হই এবং একে অপরের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বার্তাটি প্রচার করে। তারেক রহমান বলেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর এসেছে মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশ্বজনীন ঐক্য, সংহতি, সহমর্মিতা ও অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে। তিনি আরও বলেন, ঈদের আনন্দ পৌঁছে যাক প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি পরিবারে এবং প্রতিটি মানুষের কাছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি দেশের জনগণকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন।
ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের অবস্থা দেখার জন্য রাজধানীর কমলাপুর হতে ছেড়ে যাওয়া কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে প্রতিমন্ত্রী কমলাপুর স্টেশন হতে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন এবং একই ট্রেনে তিনি চট্টগ্রাম যান। ট্রেন পরিদর্শনকালে তিনি সকল কোচের যাত্রীর সাথে মত বিনিময় করেন। যাত্রীদের মতামত ও পরামর্শ শোনেন। এ সময় তিনি যাত্রীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। প্রতিমন্ত্রী রেল পরিষেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে আরো কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আজ শুক্রবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের গৃহীত জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপে যাত্রী সাধারণ সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্বাঞ্চল) মো. সুবক্তগীন উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামায়াত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, হুইপরা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মুসল্লিরা এ জামায়াতে অংশ নেবেন। এ ঈদ জামায়াত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। জামায়াতে আগ্রহী মুসল্লিদের অংশগ্রহণের জন্য সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশের ৭৩টি কারাগারে এবার ঈদ উদযাপন করবেন প্রায় ৭৫ হাজার বন্দি। ঈদ আনন্দের দিনটিতে প্রিয়জনকে ছেড়ে ভিন্ন পরিবেশেই কাটাতে হবে তাদের। তবে তাদের জন্য ঈদ ঘিরে বিশেষ আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের তিন বেলা পরিবেশন করা হবে উন্নত মানের খাবার, চাইলে স্বজনের দেওয়া খাবারও খেতে পারবেন তারা। এ ছাড়া স্বজনের সঙ্গে দেখা করা বা ফোনে কথা বলার সুযোগও পাবেন তারা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলার আয়োজন। কারা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত–উল ফরহাদ সাংবাদিককে বলেন, ঈদ উপলক্ষে প্রতিবারই বন্দিদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়। এবার ঈদে কারাগারে থাকা ভিআইপি বন্দিসহ সবার জন্য দুপুরে পোলাও, গরু বা খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, সালাদ, মিষ্টি ও পান–সুপারির ব্যবস্থা থাকবে। আর সকালে পায়েস বা সেমাই ও মুড়ি এবং রাতে ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা দেওয়া হবে। কারাসূত্র জানা যায়, কারাগারে এখন ১৭৯ জন ডিভিশন বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ভিআইপি বন্দি আছেন। তাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ৩৪ জন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী, ৪২ জন সংসদ সদস্য, ৯৮ জন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ছাড়া ডিভিশন না পাওয়া ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন একজন প্রতিমন্ত্রী, ২৮ জন সংসদ সদস্য, দুজন সরকারি কর্মকর্তা ও অন্যান্য ১১ জন। তারা সবাই ঈদে এই বিশেষ খাবার পাবেন। এ ছাড়া অন্যান্য সময় সাধারণ বন্দিদের সকালে রুটি, হালুয়া ও ডিম; দুপুরে ভাত, ডাল, সবজি এবং রাতে ভাত, ডাল, মাছ বা মাংস দেওয়া হয়। অবশ্য ডিভিশন পাওয়া বন্দিরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার পান। কারা কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত ১৫ দিন পরপর বন্দির স্বজন দেখা করতে পারেন। তবে সেই হিসাবের বাইরে ঈদের তিন দিনে (২১ থেকে ২৩ মার্চ) একবার করে দেখা করতে পারবেন স্বজন। এই সময়ের মধ্যে একবার বাড়ির খাবার দেওয়া যাবে। সেগুলো নিয়মমাফিক পরীক্ষা করে বন্দিদের কাছে পৌঁছে দেবে কারা কর্তৃপক্ষ। আর একজন বন্দি ফোনে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। এদিকে বন্দিদের জন্য ঈদের জামাত কারাগারগুলোর ভেতরেই অনুষ্ঠিত হবে। আর বিকেল–সন্ধ্যায় কিছু কারাগারে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলার ব্যবস্থা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কারাগারগুলোর তত্বাবধায়কদের এই আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে কারা অধিদফতর।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গনি ভূঁইয়ার সমর্থক গোষ্ঠীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইফতার পরবর্তী সময়ে তিতাস উপজেলার মাছিমপুর গ্রামে মো. ওসমান গনি ভূঁইয়ার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিন নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে। আহতরা হলেন—মো. তালিম, মাহআলম, মো. মুকবুল ও মজিবুর রহমান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে তিতাস স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এর মধ্যে মজিবুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গনি ভূঁইয়ার সমর্থক গোষ্ঠী ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। ওই ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি মো. তফাজ্জল হোসেনকে আওয়ামী লীগের দালাল বলে দাওয়াতবঞ্চিত কলাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান হামলা চালান। এ সময় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে চারজন আহত হন। মামলার বাদী তফাজ্জল হোসেন জানান, ইফতার মাহফিলের আয়োজকরা তাকে দাওয়াত দিয়েছিলেন বলে সামাজিকতা রক্ষায় তিনি সেখানে যান। তিনি বলেন, ইফতার শেষে বিএনপি নেতা গাজী হানিফের সঙ্গে কথা বলছিলেন, এমন সময় আনিছুর রহমান এসে তাকে আওয়ামী লীগের দালাল বলে মারধর শুরু করেন। তখন তার স্বজনরা ছাড়াতে এলে তাদেরও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তিতাস থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মফিজুল ইসলাম জানান, মাছিমপুরে মারামারির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং একজনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিকে শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপদে রাখতে প্রয়োজনীয় সব করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এছাড়া যুদ্ধকালীন হামলায় নিহত প্রবাসীর পরিবারকে ৩ লাখ টাকা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করবে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার (২০ মার্চ) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তারা। এর আগে সৌদি আরবের আলখারাজ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মোশাররফ হোসেনের মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের প্রধান কাজ প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপদে রাখা। তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সব করা হচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘প্রবাসী যারা থাকতে চায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। আর যারা দেশে আসতে পারবে তাদের সরকারি খরচে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘যে প্রবাসীরা এই যুদ্ধে নিহত হয়েছে তাদের প্রাথমিকভাবে তিন লাখ টাকা ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় বহন এবং পরবর্তীতে আরও আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।’ এর আগে সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় নিহতের মরদেহ। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় মরদেহ।
আগামীকাল শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন লাখ লাখ মানুষ। এতে পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে গৃহীত সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে পদ্মা সেতুতে চলতি বছরের প্রথম তিন দিনে (১৭ থেকে ১৯ মার্চ) ১ লাখ ৯ হাজার ২৫টি যানবাহন পারাপার হয়ছে, ২০২৫-এ এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। চলতি বছর প্রথম তিন দিনে মোট টোল আদায় হয় ১২ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা। একইভাবে যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে চলতি বছর ১৮ মার্চ ১ দিনে সর্বোচ্চ ৫১,৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়, ২০২৫-এ এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৮,৩৬৮টি। ২০২৬ সাল ১ দিনে সর্বোচ্চ মোট টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা। ২০২৫ সালের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এই বছর বড় কোন দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের যানজট পরিলক্ষিত হয়নি। এই পরিসংখ্যানগুলো দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও দক্ষতার প্রতিফলন।
সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অর্ধশতাধিক গ্রামে আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন মুসল্লিরা। শুক্রবার সকালে এসব এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে সকাল ১০টায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় একই এলাকায় আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। স্থানীয়রা জানান, প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ১৯২৮ সাল থেকে এ অঞ্চলে আগাম রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপনের প্রথা চালু রয়েছে। সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক (রহ.) এ নিয়ম চালু করেন। তার অনুসারীরা সেই ধারাবাহিকতায় এখনো মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তর উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, সুরঙ্গচাইল, কাইতাড়া, উভারামপুর, পাঁচানীসহ অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ এদিন ঈদের নামাজ আদায় করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদগাহ মাঠ ও মসজিদ মিলিয়ে সকাল থেকেই মুসল্লিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আগাম ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন কয়েকটি গ্রামের মুসল্লিরা। জেলার পাঁচটি উপজেলার অন্তত ছয়টি গ্রামে শুক্রবার সকালে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙা ও ছিট পাইকেরছড়া, ফুলবাড়ী উপজেলার জেলে পাড়া জামে মসজিদ, চিলমারীর ডাটিয়ারচর, রৌমারীর গয়টাপাড়া এবং চর রাজিবপুর উপজেলার করাতিপাড়ায় পৃথকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মুসল্লিরা জানান, তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা পালন শেষে একই দিনে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এতে তারা ধর্মীয়ভাবে স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করছেন। ফুলবাড়ী উপজেলার জেলে পাড়া জামে মসজিদের ইমাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নির্দিষ্ট মতাদর্শ অনুসরণ করে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্থানীয় ও আশপাশের গ্রামের মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করেছেন। অন্যদিকে, চিলমারী উপজেলার ডাটিয়ারচর এলাকার এক মুসল্লি জানান, প্রতি বছরই তারা একই নিয়মে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে থাকেন। এ ধরনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে গ্রামগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবং অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
আজ পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার, জুমাতুল বিদা। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি সারাদেশে পালন করছেন মুসলমানরা। একইসঙ্গে সূর্যাস্তের পর বিদায় নেবে ১৪৪৭ হিজরি সনের মাহে রমজান। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে আজ জুমার নামাজে অংশ নেবেন অসংখ্য মুসল্লি। নামাজের আগে খতিবরা জুমাতুল বিদার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে খুতবা প্রদান করবেন। জুমার নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি পবিত্র রমজানকে বিদায় জানিয়ে আবেগঘন মোনাজাতে অংশ নেবেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। প্রতিবারের মতো এবারও সবচেয়ে বড় জুমার জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। এখানে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে বিশেষ মোনাজাত করা হবে। ইসলামে রমজান মাস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনের চেষ্টা করেন মুমিনরা। জুমাতুল বিদার মধ্য দিয়ে সেই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাসকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, আজ রমজানের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। আগামীকাল দেশজুড়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর, যা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন এতো বড় একটি প্রতিষ্ঠান। যেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা একেবারেই নেই। আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ বিটিভিকে জনগণের আস্থাভাজন একটা সম্প্রচার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। আপনারা দোয়া করবেন বিটিভিকে যেন জনগণের আস্থার জায়গায় নিয়ে আসতে পারি। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) নিজ নির্বাচনী এলাকা বরিশালের গৌরনদী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী জানান, তথ্য মন্ত্রণালয়কেও সময়োপযোগী করে তুলতে চান তিনি। তিনি বলেন, আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছি, এই মন্ত্রণালয়কে সময়োপযোগী হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সকলকে সাথে নিয়ে মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজানোর কাজে হাত দিয়েছি। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নির্বাচনী সময়ে ওয়াদা করেছিলাম গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করবো। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিটিভি এবং বাংলাদেশ রেডিওকে কিভাবে সময়োপযোগী করা যায় এবং সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে মিলিয়ে কতটা স্বায়ত্তশাসন দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
তালিকায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কোথাও বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। কোনো কোনো যাত্রী বাসে বেশি ভাড়া অফার করছেন বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে এসে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণত চার্টের চেয়ে কম ভাড়ায় বাসস্টপেজ থেকে যাত্রীরা গিয়ে অভ্যস্ত। যখনই চাপ থাকে না তখন চার্টের চেয়েও কম ভাড়ায় বাস মালিকরা যাত্রী নেন। এখন চার্টের নির্ধারণ ভাড়াটাই নেওয়া হচ্ছে। যেসব যাত্রী কম ভাড়ায় যেত বা গিয়ে অভ্যস্ত তাদের কাছে মনে হচ্ছে ভাড়া বেশি নিচ্ছেন মালিকরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিবহনগুলোতে সরকার নির্ধারিত ভাড়াই আদায় করা হচ্ছে। বেশি ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পুলিশের কাছে নেই। তবে কাউন্টার থেকে বাস ছেড়ে যাওয়ার পর রাস্তা থেকে যাত্রী তোলার সময় বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।’ মাঝপথ থেকে অনেক যাত্রী চালকদের বেশি টাকা অফার করে যেতে চান দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘চলার পথে যাত্রীদের একটা প্রবণতা আছে, যেহেতু আসন কম, বাস কম এবং যাত্রী অনেক। তখন কেউ কেউ ১০০ বা ২০০ টাকা বেশি অফার করে নিজের স্বেচ্ছায় যেতে চাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও বাড়তি ভাড়া নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তবে এর মাঝেও বিচ্যুতি হচ্ছে না, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যেখানে কিছু ব্যত্যয়, বিচ্যুতি রয়েছে সেখানেই অভিযান চালানো হচ্ছে।’ এবারের স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় ভাড়া আদায়ের এই নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে বলে দাবি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদে বাসে ও মিনিবাসে শুধু অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবেই যাত্রীদের পকেট থেকে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেওয়া হবে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করেছেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। সমিতির সাধারণ সম্পাদকে ওপেন ডিবেটের চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি।’
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ২০২৬ সালে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। ভিসা-মুক্ত নীতির ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীদের কোনো ধরনের ভিসা ফি পরিশোধ করতে হয় না। এ ক্ষেত্রে শুধু পাসপোর্টই ভ্রমণের একমাত্র প্রয়োজনীয় নথি হিসেবে বিবেচিত হয়। ভিসা ছাড়াই বার্বাডোস, বাহামাস, ভুটান, মাইক্রোনেশিয়া, গ্রানাডা, গাম্বিয়া, হাইতি, জামাইকা, কুক আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, ফিজি, কিরিবাতি, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, মাদাগাস্কার, মন্টসেরাট, নিয়ু, ভার্জিন আইল্যান্ডস, রুয়ান্ডা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস ও ভানুয়াতুতে যেতে পারবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা। পৌঁছানোর পর ভিসা পাওয়া যাবে যেসব দেশে এছাড়া কিছু দেশে পৌঁছানোর পরই ভিসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরা। এ তালিকায় রয়েছে- বলিভিয়া, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, মালদ্বীপ, নেপাল, সিশেলস, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, তিমুর-লেসতে, টুভ্যালু ও সামোয়া। ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) প্রয়োজন যেসব দেশে কিছু দেশে ভ্রমণের আগে অনলাইনে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ নিতে হয়। এ সুবিধা রয়েছে- কেনিয়া ও শ্রীলংকার ক্ষেত্রে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী রেবেকা সুলতানা ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসসকে জানান, ‘রাষ্ট্রপতি সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। তিনি বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীর প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা জানাবেন।’ রাষ্ট্রপ্রধান বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, বিচারক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এই আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বঙ্গভবনে প্রায় ৮ হাজার ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করে আপ্যায়ন করা হবে। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন। ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ঈদ মোবারক!’ তিনি বলেন, ‘ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই আনন্দঘন উৎসব উপলক্ষে আপনাকে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।’ রমজান মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে গত এক মাস ধরে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেছেন।’ ঈদের মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঈদুল ফিতর উদযাপন আমাদের সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব ও একাত্মতার চিরন্তন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা বিশ্বব্যাপী মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করি।’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক।’ বার্তার শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও শুভকামনা পুনর্ব্যক্ত করেন।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেছেন, মাঝনদীতে নৌকা থেকে লঞ্চে যাত্রী ওঠা সম্পূর্ণ বন্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, প্রয়োজনে এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হবে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী নিরাপত্তা, সেবা ও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঈদযাত্রায় নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠা রোধে সরকার অত্যন্ত কঠোর। বিশেষ করে মাঝনদী থেকে নৌকা ব্যবহার করে যারা লঞ্চে ওঠেন, তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। লঞ্চে নৌকা থেকে কোনো যাত্রী উঠতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে আমরা আপসহীন।’ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে নিয়ম মেনে চলার এবং জীবনের নিরাপত্তার প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে রাজিব আহসান বলেন, ‘অনিয়ন্ত্রিতভাবে নৌকা-লঞ্চ চলাচল বন্ধ করতে ভবিষ্যতে পারাপারের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে। ঘাট থেকে কিছুটা দূরে একটি স্থায়ী ও পরিকল্পিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।’ অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী এ ধরনের অভিযোগ করেননি। তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার এরই মধ্যে ভাড়া ১০ শতাংশ কমিয়ে নির্ধারণ করেছে এবং তা কার্যকর রয়েছে। যদি কেউ অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ করেন, তবে যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ তা উপস্থাপনের অনুরোধ করছি।’ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সেবার মান নিশ্চিত করছে।
বাংলাদেশের আকাশে কোথাও আজ হিজরি ১৪৪৭ সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শনিবার ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আজ শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এ বছর রোজা ৩০ দিন পূর্ণ হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাগরিবের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের সভাকক্ষে চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। বৈঠক শেষে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, দেশের সাতটি বিভাগীয় এবং ৬৪টি জেলা কার্যালয় থেকে চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর থেকেও পর্যবেক্ষণ চালানো হয়েছে। কিন্তু কোথাও চাঁদ দেখার খবর পাওয়া যায়নি। বৈঠকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এ সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম এশিয়া) মো. হুমায়ুন কবীর, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ছাদেক আহমদ, প্রধান তথ্য অফিসার ইয়াকুব আলী, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল প্রফেসর মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আরিফুল হক মৃদুল, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ওয়ারেছ আনসারী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক মো. ফারুক আহম্মদ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মন্ত্রী মুসলিম উম্মাহসহ দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র্যাব। র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র্যাব ফোর্সেসের গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মধ্যে রয়েছে- দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা, ব্যাটালিয়নসমূহ নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন, ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য রয়েছে র্যাবের কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, ফুট ও মোবাইল পেট্রোল, ভেহিক্যাল স্ক্যানার, অবজারভেশন পোস্ট, চেকপোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা। এছাড়াও রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দানকে ঘিরে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দেশব্যাপী ঘরমুখো মানুষকে নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি র্যাবের সেবা সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাটালিয়নসমূহের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল, ফেরিঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থানসমূহে বিশেষ নজরদারি রয়েছে। যাত্রী হয়রানি রোধে টিকিট নিয়ে কোনো প্রকার কারসাজি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহে (জাতীয় ঈদগাহ, শোলাকিয়া ঈদগাহ ও দিনাজপুর বড় ঈদগাহ) নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহসহ গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ সমূহে নিরাপত্তা সুইপিং করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সিসিটিভি কাভারেজ থাকবে। ভার্চুয়াল জগতে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে যেকোন ধরণের গুজব/উস্কানিমূলক তথ্য/মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে র্যাব সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এতে বলা হয়, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে র্যাব ফোর্সেসর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ আজ জাতীয় ঈদগাহ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেছেন।
দেশের সর্বস্তরের জনগণকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, ‘এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর ঘরে ঘরে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসুক, পরিবার পরিজনকে সাথে নিয়ে সকলে আনন্দে-নিরাপদে ঈদ উদযাপন করুক এটাই কামনা করি।’ আমীর খসরু দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বিপুল ভোটে জনগণ বিএনপিকে নির্বাচিত করে দেশ পরিচালনার যে, মহান দায়িত্ব দিয়েছে তা যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারি, সে ব্যাপারে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি। গণতন্ত্রের এই অভিযাত্রায় অতীতের মতো সবসময় আপনাদের পাশে পাবো সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।