সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের সরকারি কাজে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ভ্রমণ বিল এবং অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন এই নিয়মে ভ্রমণ বিল পরিশোধ এবং অগ্রিম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ প্রমাণপত্র ছাড়া এখন থেকে ভ্রমণ বিলের অর্থ ছাড় করা সম্ভব হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি প্রয়োজনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা দেশের ভেতরে এবং বাইরে ভ্রমণ করে থাকেন। তাদের এই ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিগণ বিষয়ক ইউনিটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে সফরের আগে অগ্রিম বরাদ্দ অথবা সফর শেষে প্রকৃত খরচ পরিশোধের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বিল পাঠানো হয়। তবে প্রায়ই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে দাখিল না করার কারণে বিল ছাড়করণে জটিলতা তৈরি হয়। এই জটিলতা দূর করতে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নতুন পরিপত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভ্রমণকারী মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রস্তুতকৃত বিলের সঙ্গে বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। সেগুলো হলো: বৈদেশিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকার প্রধান কর্তৃক অনুমোদিত সারসংক্ষেপের কপি। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে জারি করা অফিস আদেশের কপি সংযুক্ত করতে হবে। যাতায়াত খরচের ক্ষেত্রে যানবাহনের ভাড়ার প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখ থাকা টিকিট। আকাশপথের ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকিটের সঙ্গে বিমানের বোর্ডিং পাস। অনুমোদিত ভ্রমণ বিবরণী ও ভ্রমণসূচি। আবাসিক হোটেলের প্রকৃত পরিশোধিত বিলের মূল কপি বা প্রমাণক। বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো বিল পরিশোধ করা হলে টাকার সঙ্গে বিনিময় হারের বিবরণী অন্য সব আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ভাউচার বা প্রমাণপত্র। অনেক সময় অনুমোদিত সময়ের বাইরেও সফরের মেয়াদ বাড়াতে হয়। এ বিষয়ে নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার প্রধানের অনুমোদিত সারসংক্ষেপে উল্লিখিত ভ্রমণকালের চেয়ে অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করা হলে তার জন্য পুনরায় অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সর্বশেষ জারিকৃত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে ভ্রমণ শেষ করার পর এক মাসের মধ্যে সেই অগ্রিমের সমন্বয় বিল দাখিল করতে হবে। যদি পূর্ববর্তী কোনো ভ্রমণের অগ্রিম বিল যথাসময়ে সমন্বয় করা না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পরবর্তী ভ্রমণের জন্য কোনো নতুন অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নথি ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে বিল দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিল দাখিলের সময় মূল কপিসহ মোট তিন সেট বিল জমা দিতে হবে এবং সব ফটোকপি অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই নতুন পরিপত্রটি জারি করেছে। এর মাধ্যমে গত বছরের ৪ মের পরিপত্রটি প্রতিস্থাপিত হবে, যা এত দিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ভ্রমণ বিলের ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল। নতুন পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাংলাদেশ ও ভারতের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল আবারও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং উভয় পক্ষই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেন। একই সময়ে ভারতীয় হাইকমিশনারও জানান, ঢাকা কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে শিগগিরই সুখবর আসতে পারে। মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে আশাবাদ ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই ট্রেনটি চালুর একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীবাহী ট্রেন চালুতে দুই দেশের ইতিবাচক মনোভাব সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও সেটি কীভাবে পুনরায় চালু করা যায়, তা নিয়ে দুই দেশই ইতিবাচকভাবে ভাবছে। মন্ত্রী জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতীয় পক্ষ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আবারও এই রেল যোগাযোগ চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনটি ট্রেন চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস ও মিতালী এক্সপ্রেসের যাত্রীসেবা বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তিনটি ট্রেনই পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস, খুলনা কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা নিউ জলপাইগুড়ি রুটে মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল করত। দুই দেশের রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি আন্তদেশীয় রেল যোগাযোগ আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন রেল রুটের প্রস্তাবও থাকছে বিদ্যমান ট্রেন সার্ভিস পুনরায় চালুর পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে নতুন কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে রাজশাহী কলকাতা রুটে নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার প্রস্তাবও আলোচনায় আসতে পারে। আন্তদেশীয় রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যাত্রীদের জন্য আরও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করাই এসব প্রস্তাবের লক্ষ্য। নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি তবে মৈত্রী এক্সপ্রেসসহ অন্য ট্রেনগুলো ঠিক কবে থেকে নিয়মিত চলাচল শুরু করবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ট্রেন চালুর আগে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়সহ কয়েকটি বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে। দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হলে চিকিৎসা, পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসার কাজে যাতায়াতকারী মানুষের জন্য রেলপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা আবারও চালু হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তদেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দেশব্যাপী সরকারি হারানো অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সমন্বিত এই অভিযান সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে এলিট ফোর্স র্যাব-কে প্রধান সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়ে অবহিত করে তথ্য ও সংবাদ পরিবেশনে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হারানো অস্ত্রের সঠিক তথ্য দিয়ে যৌথ অভিযানকে সহায়তা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে নিরাপদে পুরস্কার প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে র্যাব। হারানো অস্ত্রের যেকোনও তথ্য জানাতে সাধারণ মানুষ র্যাবের ডেডিকেটেড নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে পারবেন। যোগাযোগের মাধ্যম ও হটলাইন নম্বর হটলাইন নম্বর: ০১৭৭৭৭১১৪৪১, ০১৭৭৭৭১১৪৪২, ০১৭৭৭৭১১৪৪৩, ০১৭৭৭৭১১৪৪৪ এবং ০২৫৫৬৬৯৯৯৯। অ্যাপস ভিত্তিক যোগাযোগ: উল্লেখিত নম্বরগুলোতে ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ভাইবারের মাধ্যমেও সরাসরি গোপন তথ্য ও ছবি পাঠানো যাবে। জনস্বার্থে ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ তথ্যগুলো বহুল প্রচারের জন্য গণমাধ্যমগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে র্যাব ফোর্সেস।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে দেড় শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, 'আমি তো একা খাব না। আমি তো ১৮ কোটি মানুষ নিয়ে খেতে চাই। আমি সবাইকে নিয়ে খেতে চাই। তারপরও ধন্যবাদ প্রস্তাবটি দেওয়ার জন্য।'আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির সাধারণ আলোচনার একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর দেড় শ টাকার মধ্যাহ্নভোজের প্রশংসা করলে তিনি আমন্ত্রণ জানান। 'তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ' বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে বলেন, 'আমরা উৎসাহিত হই, যখন দেখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আমার ভালো লাগে। এত কম টাকায় আমিও খাইতে পারি না।' এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত দিয়ে ইশারা করেন, 'আসুন খাওয়াব।' একই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও মাইক ছাড়াই মুখে বলেন, 'আপনাকে খাওয়ানো হবে।' তিনি এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইশারা করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাদামাটা জীবন যাপন করেন, সুন্দর। একেবারে পশ, স্যুটে-বুটে নয়। প্লেন পথে চলেন। এটা উৎসাহিত হওয়ার মতো বিষয়। কিন্তু তাঁর এই জীবনযাপন নিয়ে যাঁদের প্রশংসা করতে দেখি, তাঁরা আবার উল্টাপাল্টা চলেন। শফিকুর রহমান আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী যদি এসব মানুষের আইকন হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে তো অনুসরণ করা উচিত। সব ক্ষেত্রেই তাঁকে অনুসরণ করা উচিত। এটা তো আমরা দেখি না। আমরা ঠিক তার বিপরীতটা দেখি। আমরা আশা করি, এখন থেকে আইকন বলার আগে সাবধান হয়ে বলবেন। আর আইকন বললে তাঁকে ফলো করতে হবে।' প্রধানমন্ত্রীও মানুষ মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিনি ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাঁর সবকিছুতে 'হ্যাঁ' বলা যাবে না। হ্যাঁ বলা যাবে কেবল শিশুদের দাবিতে। তারা যা বলবে, তাতে হ্যাঁ বলা যাবে। সূত্রঃ আজকের পত্রিকা
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর কাজের তদারকি ও নজরদারির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া হালনাগাদ বক্তব্যে এই কথা জানান। অধিবেশনে ভলকার তুর্ক বলেন, বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর নজরদারির জন্য আমরা একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠানের আহ্বান জানিয়ে আসছি। তিনি জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সামরিক ভাবধারা বা মনোভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে তার সংস্থা বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। জাতীয় নিরাপত্তার নামে যা করা হয়, তা নিয়ে অনেক দেশই অস্বস্তিতে থাকে উল্লেখ করে তুর্ক বলেন, এই ধরনের পুরোনো পদ্ধতি সরকারের জন্য গলায় ঝুলে থাকা বোঝা হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভলকার তুর্ক বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময় তিনি নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং অতীতে দমন-পীড়নের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বিচারিক ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সেই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তুর্ক বলেছিলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও নিরাময়ের পথে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে তার দফতর অঙ্গীকারবদ্ধ।
স্বপ্নের থার্ড টার্মিনাল। বিশাল অবকাঠামো আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যার অপেক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রী ও এভিয়েশন খাত। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছেহযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরথার্ড টার্মিনাল। তবে ১৬ ডিসেম্বর পুরোপুরি চালু হচ্ছে না টার্মিনালটি। সফট লঞ্চের পর অপারেশনাল কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। পুরোপুরি চালু করতে সময় লাগবে আরও প্রায় পাঁচ মাস। বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, থার্ড টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে ১৬ ডিসেম্বর। প্রথম দিনে চলাচল করবে ২০টি উড়োজাহাজ। তিনি বলেন, থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার আয়ের ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ। আর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ৫০ শতাংশ করবে বিমান বাংলাদেশ। তবে থার্ড টার্মিনাল পুরোদমে চালু হবে আগামী বছরের মে মাস নাগাদ বলেও জানান বিমানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোন রাজনৈতিক দল নয়, এটা মাফিয়া দল। অভিনেত্রী বাঁধনের ক্ষেত্রে যা হয়েছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়েসরকারের অগ্রগতি কার্যক্রম ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন বোয়িং কেনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক চাপ নেই। এয়ারবাস কেনার ক্ষেত্রেও আলোচনা চলছে। কেনাকাটার ক্ষেত্রে বাইরের কোন চাপ নেই।’
বছর দুয়েক ধরে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে বাংলাদেশের, তবে রাজনৈতিক সংকটের বিপরীত চিত্রের দেখা মিলছে অর্থনীতিতে। বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে, আর প্রতিবেশী দেশটি থেকে পণ্য আমদানি চলছে আগের মতই। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) মঙ্গলবার রপ্তানি আয়ের দেশভিত্তিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে— গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) ভারতে ৩৩ কোটি ৫২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-অগাস্ট সময়ে ভারতের বাজারে ৩১ কোটি ১৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। এই প্রবৃদ্ধি অপ্রচলিত বা নতুন বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে এই দুই মাসে চীনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়াতেও বেড়েছে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। জাপানে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ নেতিবাচক (নেগেটিভ) প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ইপিবির এ তথ্যই বলছে, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েনের প্রভাব পড়েনি বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে। ভারত থেকে পণ্য আসা যেমন কমেনি; তেমনই বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি তো কমেইনি, বরং বাড়ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি এখন ৯০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) ডলারের বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশ যত পণ্য আমদানি করে, তার অনেক কমই রপ্তানি করে থাকে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ আয় করেছিল ১৯৯ কোটি ১৪ লাখ (১.৯৯ বিলিয়ন) ডলার, যা ছিল ২০২০-২১ অর্থবছরের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। ভারতে রপ্তানি করে বাংলাদেশের ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় সেটিই প্রথম। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সেই রপ্তানিতে ভাটা পড়ে; এক ধাক্কায় প্রায় ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে নেমে আসে ১৫৬ কোটি ৯২ লাখ (১.৫৭ বিলিয়ন) ডলারে। পরের বছরেই (২০২৪-২৫ অর্থবছর) অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায়; সাড়ে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। ওই আর্থিক বছরে ভারতে ১৭৬ কোটি ৪২ লাখ (১.৭৬ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে সার্বিক পণ্য রপ্তানিতে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ নেতিবাচক (নেগেটিভ) প্রবৃদ্ধি হয়। প্রায় সব দেশেই রপ্তানি কমে; ভারতে কমে মাত্র ১ শতাংশ। বাংলাদেশ গত অর্থবছরে ভারতের বাজারে ১৭৪ কোটি ৬২ লাখ (১.৭৫ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে; ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে এই অঙ্ক ছিল প্রায় একই, ১৭৬ কোটি ৪২ লাখ (১.৭৬ বিলিয়ন) ডলার। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের শুরুতে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়; তা অগাস্টের শুরুতেই জনবিস্ফোরণে রূপ নিলে পতন ঘটে শেখ হাসিনার সরকারের। তিনি আশ্রয় নেন ভারতে। এরপর থেকে ঢাকা-নয়া দিল্লি কূটনৈতিক টানাপড়েন চললেও নভেম্বরে এসে তা তীব্রতা পায় হিন্দু ধর্মীয় নেতা চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার ঘিরে। তার জেরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এক বিক্ষোভ থেকে বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনে হামলা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধেরও হুমকি দেন। এরই মধ্যে ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক হয়। তবে ওই বৈঠকেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হয়নি। এসবের মধ্যেই গত বছরের ৯ এপ্রিল ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে ভারতের বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশের পণ্য যাওয়ার ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে ভারত সরকার। ভারতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হচ্ছে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাতপণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্লাস্টিক দ্রব্য। এছাড়া কিছু সুতা ও বস্ত্রজাত পণ্যও রপ্তানি হয়। প্রতিবেশী দেশটিতে মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই তৈরি পোশাক। গত বছরের ১৭ মে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) ঘোষণা দেয়, শুধু ভারতের নবসেবা ও কলকাতা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে দেশটির আমদানিকারকেরা বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামে ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (এলসিএস)/ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে ফল, ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক পণ্য, সুতা, সুতার উপজাত, আসবাবপত্র রপ্তানি করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ী শুল্ক স্টেশন বা এলসিএসের জন্যও একই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এরপর ২৭ জুন বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কাপড় আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। ভারতে প্রায় সব পণ্যই স্থলপথে রপ্তানি হত। এর মধ্যে বেশিরভাগই যেত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির তালিকায় পাট ও পাটজাত পণ্য অন্যতম প্রধান। দেশটিতে মোট রপ্তানি আয়ের ২৫ শতাংশের মত আসে এই খাত থেকে। ১৭ মের প্রজ্ঞাপনে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ডিজিএফটি জানায়, বাংলাদেশ থেকে এসব পণ্য নবসেবা বা জওহরলাল নেহরু সমুদ্রবন্দর দিয়ে ভারতে ঢুকতে পারবে। বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের মধ্য দিয়ে নেপাল ও ভুটানে এসব পণ্য রপ্তানিতে কোনও বিধিনিষেধ নেই। তবে এসব পণ্য পুনরায় রপ্তানি করা যাবে না। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের মধ্য দিয়ে যেসব পণ্য নেপাল ও ভুটানে যাবে, সেসব পণ্য নেপাল বা ভুটান থেকে ভারতে যেতে পারবে না। দেশের বস্ত্র ও স্পিনিং শিল্প সুরক্ষার জন্য ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশ সরকার। তার জেরেই ভারত সরকার ধাপে ধাপে স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে বলে ধারণা করা হয়। মাঝে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়েও দুদেশের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। মোস্তাফিজকে আইপিএলে খেলতে না দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। এ নিয়ে দুদেশের সম্পর্কের আরও অবনতি দেখা দিয়েছিল। উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বিসিসিআই। এ বছরের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে (কেকেআর) খেলার কথা ছিল তার। নিলামের মাধ্যমে দলভুক্ত করা মোস্তাফিজকে এভাবে বাদ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তবর্তী সরকার। দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে অন্তবর্তী সরকারের দেড় বছরে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু দুদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি। এরই মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার এখন দেশ পরিচালনা করছে। এই সরকারের সাড়ে ছয় মাস পার হয়েছে। কিন্তু দুদেশের সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয়নি। আগের মতই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। সবশেষ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখনো ভারত সফরে না যাওয়ায় টানাপড়েন কাটেনি। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ মনে করেন, সম্পর্ক ভালো থাকলে ভারতে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “নানা বাধাবিপত্তির মধ্যেও ভারতে আমাদের রপ্তানি কিন্তু ভালোই বাড়ছিল। মাঝে আমরা ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিলাম। অনেক দেশে আমাদের রপ্তানি কমলেও বৈরি সম্পর্কের মধ্যেও কিন্তু ভারতে বাড়ছে।” তিনি বলেন, “ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের কদর বাড়ছে। দেড়শ কোটি লোকের চাহিদা মেটাতে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতেই হবে। “ভারতে পোশাক তৈরি করতে যে খরচ হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করলে তার চেয়ে অনেক কম পড়ে। সে কারণে সব হিসাব-নিকাশ করেই তারা বাংলাদেশ থেকে বেশি করে পোশাক কিনবে।” ভারতের বাজারে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, রাজনৈতিক কারণে তা যেন নষ্ট হয়ে না যায় তা চাইছেন পোশাক ব্যবসায়ীরা। নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের তৈরি পোশাকের খুবই সম্ভাবনা এবং ভালো বাজার হয়ে উঠছিল ভারত। এটা ধরে রাখতে হবে। সেজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। বর্তমানে যে সম্পর্ক দেখা দিয়েছে, তার সম্মানজনক সমাধান করতে হবে। মনে রাখতে হবে, পাশের দেশ হওয়ায় ভারতে পণ্য রপ্তানি করতে আমাদের পরিবহন খরচ অনেক কম হয়। সে কারণে ভারতে আমাদের রপ্তানি যত বাড়বে, ততই ভালো। “তবে সবার আগে একটা কথা—গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। তা নাহলে অন্যান্য বাজারের পাশাপাশি ভারতের বাজারও হাতছাড়া হয়ে যাবে। মহাবিপদে পড়ব আমরা।” বাংলাদেশের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে, তার উন্নতি না হলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, “ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব। সেজন্য রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। “ভারতের বাজারে অনেক সময় অযৌক্তিকভাবে অশুল্ক বাধা আরোপ করা হয়। এই বাধা দূর করার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং রপ্তানিকারকদের নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে হবে।” এখনও বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের ডিজিএফটি’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ ভারতীয় অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে মোট ১ হাজার ২৩৬ কোটি ৭৫ লাখ (১২.৩৬ বিলিয়ন) ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারত থেকে ১ হাজার ৫৮ কোটি ৭৪ লাখ (১০.৫৮ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে দেশটিতে পণ্য রপ্তানি করে ১৭৮ কোটি ১৭ লাখ (১.৭৮ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫-২৬ ভারতীয় আর্থিক বছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৮৮০ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। ভারতে আর্থিক বছর শুরু হয় এপ্রিল মাস থেকে; শেষ হয় মার্চে। গত ২৪ আগস্ট সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। “এসব সমস্যা চিহ্নিত করে কীভাবে ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরো সহজ ও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।” ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই একটি স্থায়ী সমাধান। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এ পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই আমাদের একটি পরিবারের মতো করে তোলে। আমরা এ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে চাই।” তিনি বলেছিলেন, “যখন অর্থনীতি রাজনীতির চেয়ে এগিয়ে যায়, তখন রাজনীতিও ধীরে ধীরে তার পেছনে চলে আসে।”
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশন উদ্বোধনের আগে সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি-নির্বাচিত খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এ অধিবেশনে খলিলুর রহমানের নেতৃত্বকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো কূটনীতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও পিটিশন কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিন সংবিধান ও কার্যপ্রণালি-বিধি মেনে সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তার পক্ষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কমিটিগুলোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার পিটিশন কমিটি গঠন করেন। কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ২৬৪ বিধি অনুযায়ী ২৬৩ ও ২৬৫ বিধিতে বর্ণিত কাজ ও দায়িত্ব পালনের জন্য ১২ সদস্যের কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমকে। কমিটির সদস্যরা হলেন—ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (নেত্রকোনা-১), সালাহউদ্দিন আহমদ (কক্সবাজার-১), নূরুল ইসলাম মনি (বরগুনা-২), মো. আসাদুজ্জামান (ঝিনাইদহ-১), এ. এম. মাহবুব উদ্দিন (নোয়াখালী-১), মুহাম্মদ নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), সাকিলা ফারজানা (মহিলা আসন-৮), সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১), শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫), মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (পাবনা-১) এবং আখতার হোসেন (রংপুর-৪)। পিটিশন কমিটিও স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ২৩১ ও ২৩২ বিধি অনুযায়ী নাগরিকদের পিটিশন পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য ১০ সদস্যের পিটিশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতিও মনোনীত হয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। পিটিশন কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (নেত্রকোণা-১), নূরুল ইসলাম মনি (বরগুনা-২), এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) (লক্ষ্মীপুর-৪), রকিবুল ইসলাম (খুলনা-৩), এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (নাটোর-২), মো. জি কে গউছ (হবিগঞ্জ-৩), মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু (শরীয়তপুর-৩), নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১) এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪)। এ ছাড়া সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন থানায় ৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগের ১৮ জন, লালবাগের ২৮ জন, ওয়ারীর ৫৫ জন, মতিঝিলের ৭২ জন, তেজগাঁওয়ের ৯৪ জন, মিরপুরের ১৩৪ জন, গুলশানের ৩২ জন, উত্তরা বিভাগের ৫০ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগের ১৯ জন রয়েছেন। অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ মাদক ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ৯৪২ পিস ইয়াবা, ৫ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ৩ দশমিক ২ গ্রাম হেরোইন। এ ছাড়া পুলিশের অভিযানে একটি মোবাইল ফোন, একটি ছুরি, চারটি চাপাতি, একটি স্পোকেট, দুটি হেলমেট, দুটি পিকআপ, ১৫০ লিটার ডিজেল, একটি ড্রাম, একটি ব্যাটারি, একটি প্লাস্টিকের পাইপ এবং নগদ ২ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসতে চাইলে তাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির কাষ্ঠে নিয়ে যেতে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরাই যথেষ্ট। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঝালকাঠি জেলা এনসিপি আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভার শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ‘শেখ হাসিনার মৃত্যু থেকে দাফন—কোনোটাই এই বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।’ সরকারের বিভিন্ন কার্ড প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই মুখ্য সংগঠক। তিনি বলেন, সরকার শুরুতে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার কথা বলেছিল। শুধু কার্ড বানাতেই ২৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা ছিল অপচয়। তারা বুঝতে পেরেছে, এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই এখন এই প্রকল্প নিয়ে কোনও কথা বলছে না। এনসিপির কর্মসূচি প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু করেছি। তারা এটাকে বলছে লংড্রাইভ। অথচ বেগম খালেদা জিয়া কিন্তু এভাবেই লংমার্চ করেছিলেন।’ বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখন তারা বলছে, তারা শিশু। তাহলে আপনারা কবে তরুণ বা যুবক হবেন? বিএনপি সরকারে আসার পর এত সংকট তৈরি হয়েছে। এতটা সংকট আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও দেখিনি। অথচ সরকার পরিচালনার জন্য তাদের কোনও ব্যাকআপ বা প্রস্তুতি ছিল না।’ সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু, সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, মহিউদ্দিন রনি এবং ঝালকাঠি জেলা এনসিপির সদস্য সচিব জুবায়ের হাওলাদারসহ অন্যান্য নেতাকর্মী।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নানকে বদলিপূর্বক প্রেষণে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান পদে পদায়ন করা হলো। গত ১৭ মে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান আব্দুল মান্নান। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি সংস্থাটির চেয়ারম্যান পদে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পেলেন।
বিদ্যুৎ বিলে মিটার ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের মোট ২৯ হাজার কোটি টাকার বিশাল তহবিলের প্রয়োজন হবে। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আলোচনায় বিরোধী দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, সরকার আপাতত পুরো টাকা মওকুফ করতে না পারলেও গ্রাহকদের জন্য বিকল্প পথ খোলা রেখেছে। কোনো গ্রাহক যদি নিজ খরচে মিটার কিনে নেন, তবে তাকে আর কোনো মাসিক ভাড়া দিতে হবে না। এছাড়া ভুতুড়ে বিল ও বিলিং সংক্রান্ত যাবতীয় অনিয়ম চিরতরে বন্ধ করতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদ্যুৎ গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতাকে বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকারের কাছে সুস্পষ্ট স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে তুলনা করে প্রতিমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন আশ্বস্ত করে বলেছেন আই হ্যাভ এ প্ল্যান, তখন সরকারের পুরো দল একযোগে বলছে উই হ্যাভ এ প্ল্যান। এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে মেয়াদ শেষে অবসরে যাওয়া ৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং এ সপ্তাহ থেকেই কোনো প্রকার ক্যাপাসিটি চার্জ না দিয়েই সেখান থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার এরইমধ্যে এইচএফওভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা সংকটে বন্ধ থাকা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চলতি সপ্তাহেই চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। সমুদ্র ও ভূ-ভাগে অনুসন্ধান জোরদার করতে গত মে মাসে শুরু হওয়া অফশোর বিডিং রাউন্ডের পাশাপাশি ১০৬টি কূপ খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ৩০টির কাজ এখন সরাসরি মাঠে চলছে। গ্যাস সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে এ বছরের মধ্যেই দুটি নতুন এফএসআরইউ চুক্তির পাশাপাশি মাতারবাড়িতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালের জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। জ্বালানি তেলের আধুনিকায়ন ও শোধন সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার মাধ্যমে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের ক্ষমতা বর্তমানের ১৫ লাখ টন থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশে শিল্পোদ্যোক্তা ও আমদানিকারকদের মাত্র ১ শতাংশ শুল্কে রুফটপ সোলার প্যানেল আমদানির সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ৬ মাসের জন্য অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট মওকুফের ঘোষণা দেন তিনি। উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রির সুবিধা চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের জ্বালানি খাত সম্পূর্ণরূপে সংকটমুক্ত হবে বলে সংসদে আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
অবশেষে গতি পাচ্ছে এমআরটি-৫ এর দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার মাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫ (দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট) হবে বিএনপি সরকারের অনুমোদন পাওয়া প্রথম এমআরটি প্রকল্প। পরিকল্পনা অনুসারে ১৭ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি হবে ভূগর্ভস্থ। এডিবি প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরে ৩০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাকি অর্থের কিস্তিগুলো ছাড় দেওয়া হবে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রকল্পের নথি অনুসারে, দুই উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা ঋণ পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে গতকালের বিনিময় হার অনুযায়ী, তাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৫ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি মাস থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ৫৪ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। পরিকল্পনা কমিশন ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর বর্তমান সরকারের ব্যয় কমিয়ে ৪৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। প্রকল্পটির প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে অনেকটাই এগিয়েছে। এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মৌলিক প্রকৌশল নকশা, বিস্তারিত নকশা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় সহায়তা, ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা ও পুনর্বাসন কর্মপরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় রুটটি গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও ও আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাবে। এতে ১৫টি স্টেশন থাকবে—১১টি ভূগর্ভস্থ এবং ৪টি উড়াল। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ভূগর্ভস্থ অংশটি গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত এবং উড়াল অংশটি আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। শুরুতে এই রুটে ১৯টি ট্রেন চলবে। প্রতিটি ট্রেনে থাকবে ৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। মাঝের ৪টি কোচে সর্বোচ্চ ৩২৩ জন করে এবং দুপ্রান্তের প্রতিটি ট্রেলার কোচে ৩০৮ জন করে যাত্রী থাকতে পারবেন। গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ২৮ মিনিট সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রেন চলাচলের ব্যবধান হবে ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। পুনর্বাসন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ২ কোটির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তা প্রায় ৩ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। প্রকল্পটি ঢাকা ও আশপাশের এলাকার যানজট হ্রাস এবং পরিবেশের উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত মাসে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ঢাকা শহরে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চাই। লাস্ট-মাইল কানেকটিভিটি নিশ্চিত করতে আমরা এই ব্যবস্থার সঙ্গে মনোরেলও যুক্ত করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘এক বছরে সব কিছু করা সম্ভব নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ঢাকাকে রক্ষা করতে, ঢাকাবাসীকে যানজট থেকে মুক্তি দিতে এবং সামগ্রিক দক্ষতা বাড়াতে গণপরিবহন ব্যবস্থার বিকল্প খুবই কম।’ রাজধানীর যানজট কমাতে সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় পাঁচটি লাইন নিয়ে এমআরটি নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নেটওয়ার্কটি সম্পন্ন হলে ৫০ লাখ যাত্রী এতে চলাচল করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এমআরটি লাইন-৬ বর্তমানে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চালু রয়েছে। এটি মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ এর (উত্তরাঞ্চলীয় রুট) কাজও এগিয়ে চলছে। নতুন এমআরটি-৫ এর দক্ষিণাঞ্চলীয় রুটের মতো নয়, বিদ্যমান এমআরটি প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন করছে জাপান। তবে এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ (উত্তরাঞ্চলীয় রুট) ধীরে এগোচ্ছে। উভয় প্রকল্পের ব্যয় ব্যাপক বেড়েছে এবং সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। এমআরটি লাইন-১ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এর ১২টি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র একটির জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করেছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা, যার মধ্যে জাপানের ঋণ ছিল ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড এখন প্রকল্পটির ব্যয় ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার নিচে রাখার প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে ৮৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা জাপানের অর্থায়ন থেকে আসবে। প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখন তা ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ লাইন ঢাকার বিমানবন্দরকে কমলাপুরের সঙ্গে যুক্ত করবে। আর ১১ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল লাইন নতুন বাজার থেকে নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জ পর্যন্ত যাবে। একইভাবে, এমআরটি লাইন-৫ এর (উত্তরাঞ্চলীয় রুট) প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এর ১০টি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র একটির জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করেছে। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনটি ভূগর্ভস্থ ও উড়াল অংশ নিয়ে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত যাবে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা জাপান থেকে ঋণ পাওয়ার কথা ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা জাপান থেকে আসবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে প্রস্তাবিত সংশোধিত সময়সীমা অনুযায়ী তা ২০৩৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। সরকার গত এপ্রিলে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে। গত মাসে ওই কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এমআরটি-১ ও এমআরটি-৫ (উত্তরাঞ্চলীয় রুট) মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যয় ২ লাখ কোটি টাকা হতে পারে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, কারণ পরিকল্পনা কমিশন প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করছে। প্রস্তাবিত এমআরটি-২ হবে ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি গাবতলী থেকে মোহাম্মদপুর, নীলক্ষেত, আজিমপুর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, গুলিস্তান, সদরঘাট, মুগদা, ডেমরা ও চট্টগ্রাম রোড হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত যাবে। এর প্রাথমিক আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা। সূত্র জানিয়েছে, এই লাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও কারিগরি সহায়তার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে মৌখিক আলোচনা করলেও এখনো বৈশ্বিক এই দাতা সংস্থার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়নি।
বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব করা হয়েছে। হংকং বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও উন্মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল। বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারী দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে হংকংয়ের অবস্থান ষষ্ঠ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার মনে করছে, প্রস্তাবিত চুক্তি দুই পক্ষের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে। এর ফলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষের বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, এর মেয়াদ হবে ১০ বছর। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের তিন বছর পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে এটি সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়াতে একটি কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করছে সরকার।
জাতীয় সংসদে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাদাসিধে জীবনযাপন ও স্বল্পমূল্যের দুপুরের খাবারের প্রশংসা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তার বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে ১৫০ টাকার দুপুরের খাবারে আমন্ত্রণ জানান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আওতায় ‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনা চলছিল। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও মিতব্যয়িতার প্রসঙ্গ উঠে আসে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর দুপুরের খাবারের খরচের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ হয়—এটি দেখে তিনি উৎসাহিত হন। এত কম খরচে নিজেও দুপুরের খাবার খেতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংসদে হাস্যরসের পরিবেশ: বিরোধীদলীয় নেতার এ বক্তব্যের পর সংসদ কক্ষে হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাত নেড়ে শফিকুর রহমানকে খাবারের আমন্ত্রণ জানান। একই সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও আসন থেকে মাইক ছাড়াই জানান, বিরোধীদলীয় নেতাকে ওই খাবার খাওয়ানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের জবাবে শফিকুর রহমান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি বলেন, একা খাওয়ার পরিবর্তে তিনি দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে খেতে চান। প্রধানমন্ত্রীর সরল জীবনযাপনের প্রশংসা: বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পোশাক ও জীবনধারারও প্রশংসা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং তার এই মিতব্যয়ী জীবনধারা অনুসরণযোগ্য। তিনি বলেন, জাঁকজমক ও বিলাসী জীবন এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাধারণভাবে চলাফেরা করা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তবে প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপনের প্রশংসা করলেও তার অনুসারীদের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীকে আদর্শ বা আইকন হিসেবে তুলে ধরা হলেও দলের অনেক কর্মী-সমর্থকের জীবনযাপনে সেই মিতব্যয়িতার প্রতিফলন নেই। ‘আদর্শ হলে সব ক্ষেত্রেই প্রতিফলন থাকা উচিত’: শফিকুর রহমান বলেন, কেউ যদি প্রধানমন্ত্রীকে নিজের আদর্শ বা আইকন হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে তার জীবনাদর্শের প্রতিফলন আচরণ ও জীবনযাপনের সব ক্ষেত্রেই থাকা উচিত। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে সংযম ও বিবেচনাবোধের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীও একজন মানুষ এবং ভুলের ঊর্ধ্বে নন—এ কথা উল্লেখ করে তার সব সিদ্ধান্তে অন্ধভাবে সম্মতি না দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তার ভাষ্য, যুক্তিসংগত বিষয়ে মতামত ও সমালোচনার সুযোগ থাকা উচিত; নিঃশর্ত সম্মতি কেবল শিশুদের যৌক্তিক দাবির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে জারি করা প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদনটি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় উঠেছে। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কার্যতালিকায় রিটটি ৬০ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। এর আওতায় প্রকাশনা, গণমাধ্যমে প্রচারণা, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, মিছিল, সভা-সমাবেশ এবং সম্মেলন আয়োজনসহ বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ: ওই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে মো. আল আমিন নামে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটের আবেদনে ২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছে। হাইকোর্টের কার্যতালিকায় রিটটি ওঠায় এখন প্রজ্ঞাপনটির বৈধতা নিয়ে আদালতের শুনানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির প্রাথমিক ঘোষণায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আরিফুল ইসলাম আদীব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম থাকলেও এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে দলটি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী করার বিষয়ে দলীয়ভাবে প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এরই মধ্যে দুই নেতাই সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হিসেবে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদ দক্ষিণ সিটি থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তর সিটি থেকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনও বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ধরনের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ছয় মাস আগের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন: চলতি বছরের ২৯ মার্চ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ঢাকাসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল এনসিপি। দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ওই ঘোষণা দেন। সেসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করার কথা জানানো হয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় ছয় মাস পর সেই অবস্থানে পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী করার বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে দল প্রাথমিকভাবে যে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল, সময়ের প্রয়োজনে সেখানে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, দলের নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় নিজেদের ভোটার করছেন। বিষয়টি একটি ইঙ্গিত বহন করলেও এটিকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বা চূড়ান্ত মনোনয়ন দাখিলের আগ পর্যন্ত প্রার্থী পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। বদলেছে দুই নেতার ভোটার এলাকা: এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের তথ্য অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। দুই নেতাই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর নির্বাচন কমিশন তাদের আবেদন অনুমোদন করেছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনই একমাত্র লক্ষ্য নয়: এনসিপির রাজনীতি শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয় উল্লেখ করে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে এনসিপির রাজনীতির পুরো বিষয়টি নির্ধারিত হবে না। বরং নির্বাচনকে সংগঠন বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছে দলটি।
পরিবেশ সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের ওপর দৃষ্টি রেখে বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি বা সামুদ্রিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সভাপতিত্বে আজ সোমবার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিং সভায় এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন। সভায় মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান কমোডর শেখ মাহমুদুল হাসান (অব.) একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। এতে বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি খাতের মূল সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো বিশদভাবে উঠে আসে। উপস্থাপনায় সামুদ্রিক মৎস্য ও সমুদ্রে মাছ চাষ, সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন, অফশোর জ্বালানি, উপকূলীয় পর্যটন এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এতে সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম সুরক্ষিত রেখে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ কাজে লাগাতে দেশের সামুদ্রিক সম্পদকে টেকসই উপায়ে ব্যবহারের গুরুত্বও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকা থেকে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করে এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের ভোটার হয়েছেন তিনি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক বার্তায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছে এনসিপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঢাকা-৮ আসনে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-ইউ-১৩ ব্যবহার করে আবেদন করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের পর নির্বাচন কমিশন আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিপি। এর আগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোটার হওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তার ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, চলতি সেপ্টেম্বরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। নভেম্বর মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।