জাতীয়

ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বগুড়ার দুই ইউনিয়নের নাম বদলে যাচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবশেষে বদলে যাচ্ছে বগুড়ার মোকামতলায় নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এবং বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোনে আমাকে দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করা হবে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় সম্প্রতি ‘মীরবাড়ী’ ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারের পর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেন। তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের গণশুনানি টিম গঠন করেন। টিমের প্রধান সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, তিনি সঠিকভাবে গণশুনানি করেছেন। কিন্তু এলাকায় সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সঠিকভাবে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে খুশি করতে তার পৈতৃক বাড়ির নামে ‘মীরবাড়ী’, দুই ছেলের নামে ‘সীমান্ত’ ও দিগন্ত এবং লন্ডন প্রবাসী ভাতিজির নামে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন নামকরণের প্রস্তাব করেন।   এদিকে প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে নবগঠিত ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে খোদ সংসদ থেকে শুরু করে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। রীতিমতো সরগরম টিভি টকশো থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠ। প্রশ্ন উঠেছে-স্বজনপ্রীতি আর নীতি-নৈতিকতার। সব মিলিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম।   তবে এসবে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছেন না প্রভাবশালী এই প্রতিমন্ত্রী। বরং তাকে ঘিরে সংবাদ প্রকাশের জেরে গণমাধ্যমের ওপর বেজায় নাখোশ তার কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি ইতোমধ্যে স্থানীয় একটি পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। ফলে ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নন স্থানীয়রাও।   অবশ্য নামকরণের বিষয়টিকে ‘কাকতালীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার দাবি, এভাবে নিজের ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণের পেছনে তার কোনো ভূমিকা নেই।   তবে বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন প্রতিমন্ত্রী। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ নবগঠিত ইউনিয়নের এমন নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে সংসদে প্রতিমন্ত্রী জানান, উপজেলা প্রশাসন গণশুনানির মাধ্যমে ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তি দেখান, সৈয়দপুর ইউনিয়ন গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত। সে কারণে এটার নাম ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ করা হয়েছে। আরেকটি গাইবান্ধার কাছে। অনেক দূরে হওয়ায় এটার নাম ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ রাখা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব নামকরণ ‘মিরাকলি’ হয়েছে।   গণশুনানি নিয়ে ধোঁয়াশা : নবগঠিত চারটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণশুনানির কথা বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে তেমন কোনো গণশুনানি হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, গণশুনানি থেকে পাওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়।   সম্প্রতি স্থানীয় মোকামতলা উপজেলার ভরিয়া গ্রামে গিয়ে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’-এর নামকরণ নিয়ে গণশুনানির বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামবাসীদের কয়েকজন জানান, এমন কিছু তারা শোনেননি। ভরিয়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম, শিক্ষক মিজানুর রহমান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন বলেন, ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে এলাকায় গণশুনানি হয়েছে এমন কিছু তাদের জানা নেই।   তবে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, গণশুনানির নামে মূলত কতিপয় দলীয় নেতাকর্মীরাই এমন নামের প্রস্তাবক ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীকে খুশি করতে তার দুই ছেলে, লন্ডন প্রবাসী ভাতিজি এবং পৈতৃক বাড়ির নামে ইউনিয়নের নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন তা সুপারিশ আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায়।   শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ৩ জুন এক সভায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুব আলম মানিক ও দলের কয়েকজন নেতাকর্মী ইউনিয়নগুলোর নামকরণের প্রস্তাব দিলে সভায় তা গৃহীত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল।   জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মাহবুব আলম মানিক জানান, সভায় তিনি স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের ব্যাপারে প্রস্তাব করেছিলেন। অন্যরা সীমান্ত, দিগন্ত ও মীরবাড়ী ইউনিয়নের নাম প্রস্তাব করে। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে নামগুলো লিখিত প্রস্তাব আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে ১১ ও ১৪ জুন যথাক্রমে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম নামে চারটি ইউনিয়নের গেজেট প্রকাশ করা হয়।   স্থানীয়রা বলছেন, শুধু ইউনিয়ন নয়, এর আগে একইভাবে খোদ প্রতিমন্ত্রীর নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় একটি কলেজ ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে খোদ মীর শাহে আলম ও তার পিতা-মাতার নামে। ফলে ছেলেদের নামে তিনটি ইউনিয়নের নামকরণের বিষয়ে আগে থেকে তিনি কিছুই জানতেন না, বিষয়টি পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য নয়।   মুখ খুলতে রাজি নন কেউ : বগুড়ায় মীর শাহে আলম খুবই প্রভাবশালী হিসাবে পরিচিত। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই তাকে সমীহ করে চলেন। প্রতিমন্ত্রী নাখোশ হতে পারেন-এমন কোনো মন্তব্য করতে স্থানীয়দের কেউ রাজি নন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নামকরণে তেমন ক্ষতির কিছু দেখছেন না অনেকে।   এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কয়েকজন বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরে শাহে আলম বহাল তবিয়তে ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। এ কারণে জেলা বিএনপির সহসভাপতি পদে থাকলেও কোটি কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে তাকে তেমন বেগ পেতে হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি : সংগৃহীত
অপতথ্য ছড়ানো নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত অপতথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বা তার পক্ষে দাবি করে কোনো ব্যক্তি যেন নিজ উদ্যোগে মামলা, বিবৃতি কিংবা অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, সে বিষয়ে সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।   শুক্রবার (১৯ জুন) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমানের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এতে বলা হয়, এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদন বা নির্দেশনার সম্পর্ক নেই।   বিবৃতিতে সম্প্রতি দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের চারজনকে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়। এতে প্রতিমন্ত্রী ঘটনাটির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবে এবং গ্রেপ্তার করা সাংবাদিক দ্রুত মুক্তি পাবেন।   একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মামলার বাদীও একজন সাংবাদিক এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ। ফলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজের দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী তার সম্পর্কে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সম্মানিত সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ জানিয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
আবারও পরিবর্তন হচ্ছে পুলিশের পোশাক, প্রজ্ঞাপন জারি

বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে আবারও পরিবর্তন এনেছে সরকার। গাঢ় নীল এবং হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের সংমিশ্রণে আগের পোশাক বহাল করা হয়েছে। এছাড়া সবার প্যান্টের রং হবে খাকি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশের ইউনিফর্মের পরিবর্তন এনে পুলিশ সদর দফতর থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হয় শুক্রবার (১৯ জুন)। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পূর্বে নির্ধারিত আয়রন রঙের শার্টের পরিবর্তে জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল রঙের টিসি (সাধারণ বুননের) কাপড়ের শার্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে শার্ট হবে লাইট অলিভ রঙের টিসি কাপড়ের। এ ছাড়া কফি রঙের ট্রাউজারের পরিবর্তে খাকি রঙের ট্রাউজার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, পূর্বে নির্ধারিত আয়রন রঙের জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভারের পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভার ব্যবহার করা হবে। তবে মহানগর পুলিশের জ্যাকেট হবে লাইট অলিভ রঙের। নারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জেলা পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, বিশেষায়িত পুলিশ ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের নারী সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল শাড়ি ও গাঢ় নীল ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের নারী সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে লাইট অলিভ রঙের ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। হেড কভার অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশোধিত বিধানে গ্রীষ্মকালে অর্ধহাতা এবং শীতকালে পূর্ণহাতা শার্ট পরার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন। এর আগে গত মে মাসের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, সরকার পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোশাকের ওপরের অংশ আগে যেটা ছিল মেট্রোর জন্য এবং সারা দেশের জন্য, সেটা বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্যান্ট, পায়জামা সেটা আমরা খাকি ড্রেস দিয়েছি। পোশাক পরিবর্তনে কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ করেছি সারা দেশে এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিদ্যমান পোশাক আছে এটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না এবং এটার যেটা দৃশ্যমান যে এই পোশাকটা আসলে ওয়াইডলি একসেপ্টেডও হয়নি। মানানসই না শুদ্ধ বাংলায়। সেজন্য পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিষয়টা বিবেচনা করেছি যে এই ড্রেসটা কিভাবে হয়। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে পুলিশ অবস্থান নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। কেউ কেউ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবিও করেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ। সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তারাও পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, এই রঙের পোশাক দেখতে ভালো লাগছে না। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল হওয়ায় তারা অস্বস্তি বোধ করেন। বিএনপি সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পুলিশের পোশাক আরেক দফা পরিবর্তন আনল। বর্তমানে যে পোশাক পুলিশের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, বিএনপির আগের মেয়াদে (২০০১-২০০৬) একই পোশাক ছিল।

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
খেলাধুলাই রুখবে মাদক ও মোবাইল আসক্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব অনস্বীকার্য।’ আগামীকাল (২০ জুন) অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে আজ (১৯ জুন) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তিনি বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সেজন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাশ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এ টুর্নামেন্টে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক-৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন, বালিকা-৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের স্ক্রিনশট
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পেজে জুয়ার বিজ্ঞাপন, হ্যাকের অভিযোগ

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শুক্রবার বিকেলে ধারবাহিকভাবে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়েছে। কয়েকটি বিজ্ঞাপন রিমুভ করার পর, আবারও পোস্ট করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, তার পেজটি হ্যাক হয়েছে। তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।   শুক্রবার বিকেল সাড়ে ছয়টার দিকে Aminul Haque নামে প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড পেজ থেকে জুয়ার পোস্ট করা শুরু হয়। পর পর চারটি বিজ্ঞপন পোস্ট করার পর তা মুছে ফেলা হয়। পরবর্তীতে বিকেল ৬টা ৩৭ মিনিটে আবার তিনটি বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়। এসব পোস্টে ইংরেজি এবং তুর্কি বর্ণমালায় জুয়ার প্রচার চালানো হয়। এরপর প্রতিমন্ত্রীর পেজটি ডিঅ্যাক্টিভিট করা হয়।   সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ। আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার পোর্টাল, অ্যাপস বা ডিভাইস তৈরি করেন বা পরিচালনা করেন বা জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করেন বা খেলায় সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান করেন বা উৎসাহ প্রদানে বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচার বা বিজ্ঞাপিত করেন, তা হবে অপরাধ। আইনানুযায়ী এই অপরাধের সাজা অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড অথবা এক কোটি টাকা জরিমানা। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আমিনুল হকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তার আইডি থেকে অসঙ্গতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হলে, তা যেন কেউ বিশ্বাস না করেন বা বিভ্রান্ত না হন। এসব কর্মকাণ্ডের দায়ভার আমিনুল হকের নয়। বরং এটি তার ভাবমূর্তি নষ্টের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। আইডি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলমান রয়েছে। তা সম্পন্ন হলে প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তা অবহিত করবেন। কীভাবে হ্যাক হয়েছে তা জানাতে পারেননি আমিনুল হক। তবে তিনি বলেছেন, পেজটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে- আমার এবং সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে সংঘবদ্ধ চক্র জুয়ার বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে।

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘জামায়াতের পতনের ঘণ্টা বেজে গেছে’: ফেসবুকে রাশেদ খান

বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।   শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, খুব শিগগিরই জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে এবং দলটি ‘বিরোধী দল হিসেবে পতনের মুখে পড়বে’। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি দলটির নিজেদের নেতাকর্মীদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন।   রাশেদ খান অভিযোগ করেন, সমালোচনার জবাবে তাকে নিয়মিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে গালাগাল করা হয়। তিনি উদাহরণ হিসেবে একটি স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন এবং বলেন, গালিগালাজ করে তাকে থামানো যাবে না।   তিনি আরও বলেন, “আমাকে থামাতে গালিকে হাতিয়ার করা হচ্ছে, কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না।” তাঁর মতে, এসব প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।   পোস্টে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ‘পতনের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে’ এবং তাদের অযোগ্যতা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান হচ্ছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, দলটি যত বেশি বক্তব্য দেবে, তাদের দুর্বলতা তত বেশি প্রকাশ পাবে।   সবশেষে তিনি বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে ‘দুর্বল বিরোধী দল’ হিসেবে জামায়াতের দ্রুত পতন ঘটবে বলে তিনি মনে করেন, যার দায় দলটির নিজেদের নেতাকর্মীদের ওপরই বর্তাবে।   এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় প্রেসক্লাবে বর্ণিল ফল উৎসব ও গানের আয়োজন

রকমারি দেশি ফলের প্রদর্শনী এবং দেশাত্মবোধক গানের পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ। উৎসবমুখর এই আয়োজনে ক্লাব সদস্য ও তাঁদের পরিবারের অংশগ্রহণে দিনভর চলে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।   শুক্রবার (১৯ জুন) আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোট ৪২ ধরনের দেশি ফল প্রদর্শন ও রস আস্বাদনের সুযোগ রাখা হয়। দেশি ফলের এই সমাহার দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে এবং পুরো পরিবেশকে উৎসবের রূপ দেয়।   অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের থিম সং “প্রেসক্লাব আমাদের সেকেন্ড হোম” পরিবেশনার মাধ্যমে। এরপর ধারাবাহিকভাবে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন তামান্না হক, শাহরিয়ার রাফাত, মিনি আলাউদ্দিন ও বাবু।   ফল প্রদর্শনীতে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে, পেয়ারা, ড্রাগন ফল, তরমুজ, বাঙ্গি, কামরাঙ্গা, আমলকি, লটকনসহ নানা মৌসুমি ও স্থানীয় ফল স্থান পায়। পাশাপাশি কিছু বিদেশি ফলও প্রদর্শিত হয়, যা উপস্থিতদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করে।   সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে ক্লাব সদস্য ও তাঁদের পরিবার উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন।   অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।   প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং বিশেষ অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক কাদের গনি চৌধুরীসহ অন্যান্য সদস্যরা।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিন সংস্থার প্রধানের পরিচয়পত্র পেশ

তিন নবনিযুক্ত প্রধান পার্টনারস ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি) সচিবালয়ের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. জোসেফ আকিনকুগবে অ্যাডেলেগান; বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কোকো এইচ উশিয়ামা; আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) চিফ অব মিশন ড. লরা নিকোল টম-বন্ডে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন।   তিন প্রতিনিধিকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিন্ন উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করতে বাংলাদেশের আগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তাদের দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় নবনিযুক্ত তিন জন প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।     প্রফেসর ড. অ্যাডেলেগানের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যের প্রচারে পিপিডির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আস্থা প্রকাশ করেন যে, টেকসই উন্নয়ন এবং জনসংখ্যা সম্পর্কিত উদ্যোগে পিপিডি এর অবদানকে আরও জোরদার করবে।     উশিয়ামার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, স্কুলে খাওয়ানো এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ডব্লিউএফপির দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন। তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতি ডব্লিউএফপির অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা প্রতিক্রিয়ায় টেকসই আন্তর্জাতিক সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   ড. টম-বন্ডের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ ও আইওএম কীভাবে সম্ভাব্য অভিবাসীদের জন্য জনশিক্ষা ও বাজার-প্রাসঙ্গিক দক্ষতা জোরদার করতে, অভিবাসন চক্রজুড়ে ডেটা সিস্টেম উন্নত করতে, নিরাপদ ও নিয়মিত পথ সম্প্রসারণ এবং সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিবাসন সংক্রান্ত গ্লোবাল কম্প্যাক্ট বাস্তবায়ন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাড়া এবং সংকট কবলিত দেশগুলোতে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তায় আইওএমের অবদানের প্রশংসা করেন। ড. টম-বন্ডে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাকুন্দিয়ায় গরু চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে আতঙ্কে খামারিরা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে গরু চুরির ঘটনা বাড়ছে। এক সপ্তাহের কম সময়ে একাধিক খামারে চুরির ঘটনায় স্থানীয় খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ চোরচক্র রাতের আঁধারে খামার ও গোয়ালঘরের তালা ভেঙে গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা বসতঘরের বাইরে তালা লাগিয়ে রেখে খামার থেকে গরু সরিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।   সম্প্রতি পৌরসদরের শ্রীরামদী গ্রামের একটি খামার থেকে চারটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এতে খামারির প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। একইভাবে চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের চিলাকাড়া গ্রামে আরেকটি খামার থেকে পাঁচটি গরু চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে।   ভুক্তভোগী খামারিরা জানান, তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য দীর্ঘদিন ধরে খামার গড়ে তুললেও এসব চুরির ঘটনায় মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই সব পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।   অন্যদিকে উপজেলার চরআলগী, কুমারপুর, হোসেন্দী, নারান্দী, জাংগালিয়া ও এগারোসিন্দুরসহ বিভিন্ন এলাকায়ও একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।   ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, কিছু চোর ধরা পড়লেও আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।   এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ওসি জানান, গরু চুরি প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং এরই মধ্যে বেশ কিছু চোরকে গ্রেপ্তার ও চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে পাহারার ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।   স্থানীয়রা দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে কৃষি ও খামারভিত্তিক জীবিকা সুরক্ষিত থাকে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে: জামায়াত আমীর

দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।   শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর ঐতিহাসিক কর্মী সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।   জামায়াতের আমীর বলেন, ইতোমধ্যে সরকার অনেকগুলো অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত বাড়ানো, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দলের একান্ত অনুগত কর্মীদের ভিসি হিসেবে নিয়োগ এবং জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়েদেওয়া হয়েছে। এভাবে বাংলাদেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা চলছে।   গণভোটের রায় নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সংসদে নোটিশ দিয়ে ৬৮ বিধিতে আলোচনা করেছিলাম। গণভোট যাতে হারিয়ে না যায় এবং গণভোটকে যেন সম্মান দেখানো হয়, সে কথা বলেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা কখনও গণতন্ত্রপন্থী হতে পারে না।   তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের দাবি হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়কে সম্মান করা। যেহেতু প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, অতএব সরকারকে সংস্কার প্রস্তাবের সব বিষয় বাস্তবায়ন করতে হবে।   সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট মেনে নিন, মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। নাহলে মনে রাখবেন, মানুষের রায়কে উপেক্ষা করে জোর করে যদি শাসনব্যবস্থা চালাতে চান, তাহলে এই জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে যাবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৯, ২০২৬
তিস্তা প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন না নেওয়ার চিন্তা সরকারের

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে চায় না সরকার। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আজ শুক্রবার পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ একটি প্রতিনিধিদল তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শনে যাবে। এর আগে এ প্রকল্পে চীনা অর্থায়নের বিষয়টি আলোচনায় ছিল।     তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদীর উজানে বাঁধ দেওয়াসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি প্রবাহ কমে যায়। যার ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জলাধার তৈরি করে সারা বছর পানিপ্রবাহ ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে। অন্যদিকে প্রতি বছর তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার একর আবাদি জমি ও বসতবাড়ি বিলীন হয়। পরিকল্পিত ড্রেজিং ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এ ভাঙন রোধ করা সম্ভব। এ ছাড়া ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী খননের মাধ্যমে নৌ চলাচল সহজ ও পণ্য পরিবহন সাশ্রয়ী করা সম্ভব। নদীকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক জোন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও মৎস্য চাষের সুযোগ তৈরি হবে, যা পুরো অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প। তিস্তা নদী অববাহিকার স্থায়ী সমস্যা সমাধান এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য এ মহাপরিকল্পনা অপরিহার্য।     এদিকে, গত বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা কার্যক্রম এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ (নদী শাসন), ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর রাস্তা নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নকাজ প্রস্তাব করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, তিস্তা এলাকার ৫টি জেলায় (রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট) নদীভাঙন রোধে বিগত ও চলতি অর্থবছরে ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে, যা এ মাসেই শেষ করার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এ কাজের মধ্যে রংপুর-৪ সংসদীয় এলাকার তিস্তা নদীর অংশে ভাঙন রোধে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান আছে, যার বাস্তবায়নও চলতি মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীভাঙন অনেকাংশেই প্রশমিত হবে।     তথ্যমতে, কয়েক বছর আগে চীনা বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক সমীক্ষা পরিচালনা করে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ের একটি ধারণাপত্র বাংলাদেশকে দিয়েছিল। ওই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নতুন গতি দেওয়া। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেবল অর্থনৈতিক বা কারিগরি বিবেচনাই নয়, বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক হিসাবও কাজ করছে। কারণ তিস্তা নদীর উজান ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে বিরোধ কয়েক দশকের পুরোনো। ১৯৮৩ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়েছিল। সেখানে তিস্তার পানির ৩৯ শতাংশ ভারতের এবং ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়। অবশিষ্ট পানি নদীপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সে সমঝোতা কখনো স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নেয়নি।     ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। দুই দেশের মধ্যে একটি খসড়াও চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে শেষমুহূর্তে তা আটকে যায়। এর পর একাধিকবার বিষয়টি আলোচনায় এলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী পানিবণ্টন চুক্তি হয়নি।     কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতেরও আগ্রহ রয়েছে। দিল্লি চাইছে না যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর শিলিগুড়ি করিডোরের নিকটবর্তী এলাকায় চীনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি তৈরি হোক। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী এ করিডোরকে দেশটির নিরাপত্তা কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।     অন্যদিকে চীন দক্ষিণ এশিয়ায় তার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে বড় প্রকল্পে যুক্ত হতে আগ্রহী। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বন্দর, সেতু, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে চীনের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিস্তা প্রকল্পকে বেইজিং বাংলাদেশে তাদের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এসব কারণে তিস্তা প্রকল্পে সম্ভাব্য বিদেশি ঋণ গ্রহণের বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অর্থায়ন, ঋণের শর্ত এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে ঝুঁকছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৯, ২০২৬
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন-আল-রশিদের জানাজা অনুষ্ঠিত

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন-আল-রশিদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।      আজ (শুক্রবার) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম ক্বারী মো. আবু রায়হান।   জানাজার আগে মরহুম হারুন আল রশিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. খালেদ হোসেন মাহবুব।    অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপদের পক্ষে হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং পরিবারের পক্ষে মরহুমের ভাতিজা কামাল হোসেন।     স্পিকার তার বক্তব্যে বলেন, হারুন আল রশিদ একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন এবং পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তি জীবনে অমায়িক, সজ্জন সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।    তিনি আরও উল্লেখ করেন, হারুন আল রশিদ দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন জাতীয়তাবাদী ঘরাণার নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। এসময় তিনি মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিরাবের প্রতি সমবেদনা জানান।   ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হারুন আল রশিদ একজন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সততা ও নিষ্ঠার জন্য তার জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে হারুন আল রশিদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।   হারুন আল রশিদ গতকাল রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।    জানাজায় মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ-সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাছ-মুরগির দাম স্থিতিশীল, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি বাজারে

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পরও রাজধানীর বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।   শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায়। ডিমের ডজনের দাম রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।   মাছের বাজারেও উল্লেখযোগ্য কোনো ওঠানামা হয়নি। প্রজাতিভেদে দাম কিছুটা পার্থক্য থাকলেও বেশিরভাগ মাছ আগের দামের কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পাঙাশ কেজি ১৮০–২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০–২৩০ টাকা, রুই ২৬০–৩৫০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০–৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি মাছের দাম তুলনামূলক বেশি, আকারভেদে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।   সবজির বাজারে তুলনামূলক কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। অধিকাংশ সবজি এখন ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। করলা ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লাউ ৫০–৬০ টাকা এবং শসা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গাজরের দাম কিছুটা বেশি, ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।   ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, মাছ বা ডিমের ওপর সরাসরি কোনো শুল্ক আরোপ না থাকায় বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। ঈদের পর কিছু পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও সার্বিকভাবে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।   গরুর মাংসের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে, প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।   ক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরেছে, তবে কিছু পণ্যের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি থাকায় পুরো বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সব রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবায় একক ভ্যাট হার নির্ধারণের দাবি সমিতির

রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবায় বিদ্যমান ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাট হারকে ব্যবসায়িক অসাম্য ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সব ধরনের সেবায় একই হার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।   শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।   সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, বর্তমানে রেস্তোরাঁ সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ক্যাটারিং সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ থাকায় খাতটিতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তাই সব ধরনের রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট হার ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।   সংগঠনটি আরও ছয়টি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এর মধ্যে রয়েছে—নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর ও সম্পূরক শুল্ক কমানো, প্রতি মাসে ভ্যাট আদায়ের পুরোনো পদ্ধতি পুনর্বহাল, রেস্তোরাঁ ব্যবসার জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, খাতভিত্তিক শিল্পনীতি প্রণয়ন, সমিতির সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা এবং শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ।   সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপে রেস্তোরাঁ খাত বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই নীতি সহায়তা ও কর কাঠামো সহজীকরণ ছাড়া এই খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।   সমিতির নেতারা আরও বলেন, বাজেটে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও কিছু প্রস্তাব খাতটিকে আরও ব্যয়বহুল ও জটিল করে তুলতে পারে। তাই বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ সুলতান খোকনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং সংঘাত প্রতিরোধে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।   তিনি আরও বলেন, নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, যা মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করা প্রয়োজন।   রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের জন্য চলমান অর্থায়ন সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে উত্তেজনার আশঙ্কা, দেশজুড়ে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সারাদেশের পুলিশ ইউনিটকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, ব্যানার প্রদর্শন এবং ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করতে পারেন। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অন্য রাজনৈতিক সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে উত্তেজনা কিংবা সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।   এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে জনসমাগমস্থল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   পুলিশের আশঙ্কা, কোনো পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এ পরিস্থিতিতে দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।   সম্প্রতি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নামে ঝটিকা মিছিল, প্রচারপত্র বিতরণ এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জে নদীর তীরে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় কালনী নদীর তীর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম শফিক মিয়া (৩৫)। তার মুখমণ্ডল থেঁতলানো এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   শুক্রবার সকালে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর নৌকা ঘাটসংলগ্ন নদীর পাড়ে স্থানীয় লোকজন একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।   নিহত শফিক মিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আজিজুল হকের ছেলে বলে জানা গেছে।   স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে নদীর তীরে মানুষের নজরে আসে মরদেহটি। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহটির মুখমণ্ডল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে মনে করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।   অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।   ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ হত্যার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভরিতে সোনার দাম কমল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, নতুন মূল্য কার্যকর

দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে। এর আগে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।   বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয় বলে সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।   নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।   সোনার পাশাপাশি রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন দামে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ২০৮ টাকা।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সোনার ওপর ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে। আগে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলেও নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার জন্য নির্দিষ্ট ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট ধার্য করা হয়েছে।   বাজুসের মতে, নতুন ভ্যাট কাঠামোর ফলে সোনার বাজারে মূল্য সমন্বয় সহজ হবে এবং ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়েই কিছুটা সুবিধা পাবেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামাও স্থানীয় বাজারে সোনার মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কদমতলীতে বাড়ি ফেরার পথে সবজি ব্যবসায়ী খুন

রাজধানীর কদমতলী এলাকায় ব্যবসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তের হামলায় মো. কুদ্দুস (৫০) নামে এক সবজি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পূর্ব জুরাইনের একটি সড়কে এ ঘটনা ঘটে।   পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, কুদ্দুস স্থানীয় বৌ বাজারে সবজির ব্যবসা করতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও ব্যবসা শেষে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা হন। পথে পূর্ব জুরাইনের নবারণ গলির পপি স্কুলসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়।   হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।   হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক কুদ্দুসকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   নিহতের বাড়ির মালিক কামাল শিকদার জানান, রাতের দিকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় কুদ্দুসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা তাকে আর বাঁচাতে পারেননি।   ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।   পুলিশ বলছে, কারা এবং কী কারণে এই হামলা চালিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৪০ মিনিটের বৃষ্টিতেই জলমগ্ন চট্টগ্রাম, হাঁটু পানিতে আটকে জনজীবন

চট্টগ্রামে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের ভারী বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার সকালে অল্প সময়ের প্রবল বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।   সকাল সাড়ে আটটার দিকে শুরু হওয়া বৃষ্টির পর চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত পানি জমতে থাকে। কোথাও হাঁটু, কোথাও আরও বেশি উচ্চতার পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়ে, আর পথচারীদের বাধ্য হয়ে জমে থাকা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।   ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। রিকশাচালক ও দিনমজুরেরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা সম্ভব হয়নি, ফলে আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   এদিকে প্রবর্তক মোড়ে আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। চলমান উন্নয়নকাজের কারণে সেখানে পানি জমার প্রবণতা কমলেও আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো জলাবদ্ধতার বাইরে ছিল না। ফলে সামগ্রিক দুর্ভোগ বহাল রয়েছে।   চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে স্বল্প সময়ে ঘন মেঘের কারণে ভারী বর্ষণ হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। দিনভর আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি থেমে থেমে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।   নগরবাসীর মতে, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, খাল পুনরুদ্ধার এবং চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন ছাড়া চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অল্প বৃষ্টিতেই নগরবাসীকে দুর্ভোগে পড়তে হওয়ায় এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাপানে ৫ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য বিকেটিটিসির

জাপানে আগামী আড়াই বছরে পাঁচ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিকেটিটিসি) হলরুমে আয়োজিত জব অ্যান্ড এডুকেশন ফেয়ারে এই প্রত্যাশার কথা জানানো হয়।     জাপান ও কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা, চাকরি এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সম্পর্কে তরুণ-তরুণীদের অবহিত করতে টিএমএসএস নর্দান রিক্রুটিং এজেন্সি এ মেলার আয়োজন করে।     মেলায় অংশগ্রহণকারীদের জাপান ও কোরিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, স্কলারশিপ, শিক্ষাজীবন, কর্মসংস্থান এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য স্পট অ্যাডমিশন ও ভিসা সাপোর্ট সুবিধা রাখা হয়। মেলায় এইচএসসি, ডিপ্লোমা ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং চাকরি প্রত্যাশীরা অংশ নেন।     বিকেটিটিসি’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী লুৎফর রহমান বলেন, ‘২০২৮ সালের মধ্যে ৫ লাখ কর্মী জাপানে পাঠানোর টার্গেট রয়েছে বিকেটিটিসির। জাপানে যেতে কর্মীতের সরকার নির্ধারিত ব্যয় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা। যা খুবই ব্যয় সাশ্রয়ী। এক্ষেত্রে কর্মীদের যেমন দক্ষ হয়ে উঠতে হবে তেমনি শিখতে হবে জাপানি ভাষা।’     টিএমএসএসের আইসিটি অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্ট সেক্টরের পরিচালক ড. নিগার সুলতানা বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে জাপানিজ ও কোরিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা প্রদানসহ বৈধ উপায়ে ও নিরাপদে জাপান ও কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা, চাকরি এমনকি স্থায়ী বসবাসের সুযোগ করে দিচ্ছে। ঢাকা, রংপুর, বগুড়া ও মাদারীপুর-এই চারটি জেলায় জাপানিজ ও কোরিয়ান ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।     তিনি বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে মেলায় আগতদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। জাপান ও কোরিয়ায় পড়াশোনা কিংবা চাকরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে আগ্রহীদের মধ্যে এ মেলা ব্যাপক সাড়া ফেলে।’     টিএমএসএস নির্বাহী পরার্মশক ড. মোহাম্মেদ খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শহিদুল ইসলাম চৌধুরী প্রধান অতিথি ও জাপানের টোকিওতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে বর্তমানে লেবার উইংয়ের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জয়নাল আবেদীন বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।     অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাপানি প্রতিষ্ঠান মিরাইয়ের এডুকেশন কলসালটেন্ট নোরবনী নোরিকেল ও টিএমএসএস নর্দান রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রউফ।     বক্তারা বলেন, জাপানের স্পেসিফাইড স্কিল্ড ওয়ার্কার প্রোগ্রামের আওতায় কেয়ারগিভিং, ড্রাইভিং ও সিভিল কনস্ট্রাকশন খাতে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের যুবসমাজকে বৈশ্বিক শিক্ষা ও শ্রমবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৯, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

এমবাপে, মেসি ও ইয়ামাল। ছবি : সংগৃহীত
খেলাধুলা

২০২৬ বিশ্বকাপ কে জিতবে? চার এআই চ্যাটবটের একই ভবিষ্যদ্বাণী

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৫, ২০২৬