সব ঠিক থাকলে আগামীকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) ভুটানের থিম্পু সফর করবেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে সব বিমান সেখানে সরাসরি যাতায়াত করে না। থিম্পু যাওয়ার পথে সৈয়দপুর, ঢাকা কিংবা ভারতের কোথাও ট্রানজিট করতে পারেন ইনফান্তিনো। ফলে বিশ্ব ফুটবল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তার আগামীকাল বাংলাদেশে স্বল্প সময় অবস্থান করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাফুফে এখনো নিশ্চিত না হলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। জানা গেছে, বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেছেন। যদি ফিফা সভাপতি বাংলাদেশে ট্রানজিট নেন এবং তিনি যদি চান তাহলে যেন ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা খুব দ্রুত হয়। ইনফান্তিনো যদি বিমানবন্দরে ভিআইপি জোনে ট্রানজিটে থাকেন, সেক্ষেত্রে বাফুফে সভাপতি ও সহসভাপতিরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এর আগে আগে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফিফা আসিয়ান কাপ চলাকালে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সবুজের ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আগামীকাল ঢাকায় পা রাখলে ফিফা সভাপতির সঙ্গে আবারও দেখা করবেন তাবিথ আউয়াল।
অনেকদিন পর গোলের দেখা পেলেন ফিল ফোডেন, যদিও সেই ব্যবধান দুই মিনিটও স্থায়ী হলো না। এরপর দলকে আবার পথ দেখালেন আর্লিং হলান্ড। শেষ সময়ে আরেকটি গোল শোধ করে নাটকীয়তা জাগাল ইপ্সউইচ টাউন, তবে সম্ভাব্য ফল বদলাল না। প্রিমিয়ার লিগে শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখল ম্যানচেস্টার সিটি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শনিবার ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে সিটি। টানা সপ্তম জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে তারা। সাত জয়ে সিটির পয়েন্ট হলো ২১। এক ম্যাচ কম খেলে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে আর্সেনাল। প্রিমিয়ার লিগের আইন ভাঙার দায়ে অভিযুক্ত হয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে আছে সিটি। এই কঠিন সময়ে সমর্থকদের পাশে থাকতে ম্যাচের আগে বিশেষ বার্তা দেন কোচ এন্টসো মারেস্কা। তার চাওয়াই যেন ফুটে ওঠে গ্যালারিতে, সিটি সমর্থকদের হাতে শোভা পায় হলুদ রঙের কলা আকৃতির বেলুন। ম্যাচ শুরুর আগে প্রিমিয়ার লিগের জাতীয় উদ্বোধনী সঙ্গীত বেজে উঠতেই হাজারো সিটি সমর্থক দুয়ো দেয়, এরপরই তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়- সিটি, সিটি, সিটি। প্রত্যাশিতভাবেই আক্রমণাত্মক শুরু করে সিটি এবং দ্রুত গোলও পেয়ে যায় তারা। ১৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে জেরেমি ডোকুর পাস ডি-বক্সের মাঝামাঝি পেয়ে, প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়ের চ্যালেঞ্জের মুখে দারুণ ফ্লিক শটে দলকে এগিয়ে নেন ফোডেন। চলতি মৌসুমে এটাই তার প্রথম গোল। আর প্রিমিয়ার লিগে ১০ মাস পর এবং এই বছরে প্রথম জালের দেখা পেলেন তিনি। দুই মিনিটের মধ্যেই দারুণ নৈপুণ্যে পাল্টা জবাব দেন দাইজেন মায়েদা। বল দখলের লড়াইয়ে ডিফেন্ডার মার্ক গেয়িকে পরাস্ত করে ওয়ান-অন-ওয়ান জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন জাপানিজ ফরোয়ার্ড। দারুণ ছন্দে ছুটে চলা হলান্ডের নৈপুণ্যে ৩৪তম মিনিটে আবার এগিয়ে যায় সিটি। ডান দিকে একজনকে কাটিয়ে মাতেও কোভিসিচ ক্রস বাড়ান, আর প্রায় ১০ গজ দূর থেকে হেডে গোলটি করেন নরওয়ের তারকা। প্রিমিয়ার লিগে এই নিয়ে টানা ছয় ও সব মিলিয়ে সিটির হয়ে টানা আট ম্যাচে জালের দেখা পেলেন হলান্ড। বিরতির পরও একইরকম চাপ ধরে রেখে ৬৯তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় সিটি। ইলিমান এনদিয়াইয়ের থ্রু পাস শুরুতে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি হলান্ড, তবে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের দুর্বলতায় তার থেকে বল কেড়ে নিয়ে শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। এবারের লিগে হলান্ডের গোল হলো আটটি, মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২টি। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তিনটি সহজ সুযোগ নষ্ট হয় সিটির। হলান্ডের পাস পেয়ে এন্সো ফের্নান্দেসের নেওয়া শট রুখে দেন গোলরক্ষক, এরপর হলান্ডের হেডপাস পেয়ে এনদিয়াইয়ের প্রচেষ্টা লাগে ক্রসবারে। সবশেষে, ফের্নান্দেসের বাড়ানো বল জোরাল ভলিতে জালে পাঠান হলান্ড; কিন্তু এ যাত্রায় অফসাইডে ছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার ফের্নান্দেস। ওই গোল মিসের হতাশা খানিক পরই দ্বিগুণ হয় সিটির। ডি-বক্সে ঘানার উইঙ্গার আব্দুল ফাতাউকে ডিফেন্ডার গেয়ি ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সফরকারী। সোজাসুজি জোরাল স্পট কিকে রোমাঞ্চ ছড়ান জিয়ান ফ্লেমিং। যোগ করা সময় দেওয়া হয় ১২ মিনিট। তাই ম্যাচের নতুন মোড় নেওয়ার সময় যথেষ্টই ছিল, তবে ইপ্সউইচ আর পারেনি তেমন কিছু করতে। সাত ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দশম স্থানে আছে ইপ্সউইচ।
প্রথমে এগিয়ে যাওয়ার পর একজনকে হারানোর ধাক্কা খেল ব্রেন্টফোর্ড। প্রতিপক্ষের সেই দুর্বলতার সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগাল লিভারপুল। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল অ্যানফিল্ডের দলটি। ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে লিভারপুল। কিন লুইস-পটারের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, সফরকারীদের সমতায় ফেরান ভিক্তর মুনিয়োস। আর ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেন আলেকসান্দের ইসাক। শেষ দিকে স্বাগতিকদের আরও একজনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। শেষ পর্যন্ত ৯ জনের দল নিয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ব্রেন্টফোর্ড। সাত ম্যাচে তিনটি করে জয় ও ড্রয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে পঞ্চম স্থানে আছে লিভারপুল। শতভাগ জয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগে আগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় লিভারপুল। এরপর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতল আন্দোনি ইরাওলার দল। গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অস্ট্রিয়ান ক্লাব এলএএসকে-কে ৬-৩ গোলে হারায় তারা। এদিন ম্যাচের শুরুতে আধিপত্য করে লিভারপুল। একের পরে এক আক্রমণে ব্রেন্টফোর্ডকে চেপে ধরে তারা। ২০তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পান বাহডলে বাহকোলা। প্রতি আক্রমণে ব্রেন্টফোর্ডের গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান তিনি। আগুয়ান গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল পাঠাতে গিয়ে বাইরে মারেন এলএএসকে-এর বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা ফরাসি ফরোয়ার্ড। এরপর আক্রমণে ছড়ি ঘোরাতে শুরু করে ব্রেন্টফোর্ড। দারুণ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে তারা। এর মাঝেই ৪২তম মিনিটে ব্রেন্টফোর্ডের ডি-বক্সে আলেক্সিস মাক আলিস্তের ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পরে ভিএআরের সহায়তায় রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদল করেন তিনি। ৪৪তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেয়ে যায় ব্রেন্টফোর্ড। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ক্রস বাড়ান ইগর থিয়াগো। ছুটে গিয়ে দারুণ হেডে বল জালে পাঠান কিন লুইস-পটার। চলতি মৌসুমে ইংলিশ লেফট-ব্যাকের এটি দ্বিতীয় গোল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বড় ধাক্কা খায় ব্রেন্টফোর্ড। লিভারপুল ফ্রি কিক নেওয়ার আগে ডি-বক্সে জেহেমি জ্যাকের মাথায় মাথা দিয়ে ধাক্কা দেন ইয়েহর ইয়ামুলিউক। পরে ভিএআর মনিটরে দেখে ব্রেন্টফোর্ড মিডফিল্ডারকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। বিরতির পর গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে লিভারপুল। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। ৫৮তম মিনিটে অল্পের জন্য গোল পাননি মাক আলিস্তের। বক্সের বাইরে থেকে তার বুলেট গতির শট কোনোমতে আটকে দেন ব্রেন্টফোর্ড গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর সমতা টানেন মুনিয়োস। ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসের পাসে বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ওসাসুনা থেকে গত জুলাইয়ে যোগ দেওয়া মুনিয়োসের লিভারপুলের জার্সিতে এটি দ্বিতীয় গোল। ১০ জনের ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে এগিয়ে যেতে বেশি সময় লাগেনি লিভারপুলের। ৭০তম মিনিটে সতীর্থের ক্রস বক্সে পেয়ে হেডে ইসাককে খুঁজে নেন বাহকোলা। দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড। ঊরুর চোটের কারণে আগের দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি ইসাক। ফিরেই গোলের দেখা পেলেন তিনি। মৌসুম এটি তার পঞ্চম গোল। দুই মিনিট পর সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন থিয়াগো। বাইলাইন থেকে সতীর্থের পাস গোলমুখে পান তিনি। দরকার ছিল সামান্য ছোঁয়ার, সেটাই করতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। কিছুক্ষণ পর দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় বাহকোলার। বক্সের মধ্য থেকে তার শট ক্রসবার কাঁপিয়ে ফেরে। এরপর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে লিভারপুল, কিন্তু সেগুলোকে গোলে পরিণত করতে ব্যর্থ হয় দলটি। ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দ্বিতীয় ফুটবলার হারায় ব্রেন্টফোর্ড। ডি বক্সের সামান্য বাইরে লিভারপুলের রিও নুগোমোহাকে পেছন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন ভিটালি ইয়ানেল্ট। জার্মান মিডফিল্ডারকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখাতে দেরি করেননি রেফারি।
মৌসুমের শুরুতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তবে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে টানা ম্যাচ খেলার ধকল সামলাতে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভাবছে সিটি। ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের কোচ। কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে ১০ গোল করেছেন হালান্ড। পিএসজির বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে নতুন গোলের মাইলফলকও গড়েছেন এই ফরোয়ার্ড। সংবাদ সম্মেলনে সিটি কোচ জানান, খেলোয়াড়দের শারীরিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে বিশ্রামের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু হালান্ড নন, ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলা অন্য ফুটবলারদের নিয়েও ভাবছেন তাঁরা। কোচের ভাষ্য, একপর্যায়ে হালান্ডকে বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে টানা ম্যাচ খেলা দলের অন্য খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে আর্জেন্টাইন তারকা এনজো ফার্নান্দেজেরও প্রশংসা করেছেন কোচ। তাঁর মতে, ফার্নান্দেজ একজন ভালো মানুষ ও পেশাদার ফুটবলার। মাঠের বাইরের নানা আলোচনা এবং বাস্তব ব্যক্তিত্বের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিগে অপরাজিত থাকা ম্যানচেস্টার সিটি শনিবার নিজেদের মাঠে ইপসউইচ টাউনের মুখোমুখি হওয়ার কথা। ঘরোয়া ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ব্যস্ত সূচিতে খেলোয়াড়দের সতেজ রাখা এখন দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করতে আগামী সপ্তাহে স্পেন সফরে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি। তাঁর এই সফরকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হলেও ইন্টার মায়ামির কোচ ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেস মনে করছেন, এতে দলের হয়ে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতে বড় কোনো সমস্যা হবে না। গত জুনে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্ট’ জেতেন মেসি। আগামী ২২ অক্টোবর স্পেনের ওভিয়েদো শহরে অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সেখানে পুরস্কার গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মায়ামি দলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। মেসির সফর নিয়ে চিন্তিত নন কোচ স্পেনে পুরস্কার গ্রহণের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে মেসিকে ম্যাচ খেলতে হতে পারে। দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে তাঁর শারীরিক প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন মায়ামির কোচ। ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেস বলেন, ওভিয়েদোর অনুষ্ঠানে মেসির উপস্থিত থাকার বিষয়টি ক্লাবের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই স্বীকৃতি শুধু মেসির ব্যক্তিগত অর্জন নয়, তাঁর পরিবারের জন্যও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কোচের ভাষ্য, ‘ওভিয়েদোয় তার এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি রয়েছে। যেভাবে সে সবকিছু সামলাচ্ছে, তাতে আমি খুবই খুশি। পুরো ক্লাব একমত যে তার সেখানে থাকা প্রয়োজন। কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুরস্কার। শুধু তার জন্য নয়, তার পরিবারের জন্যও।’ তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ম্যাচে আমি তাকে দলে চাই। লিওর ওই সক্ষমতা আছে। আমি চাই, সে ভালো শারীরিক অবস্থায় থাকুক। এই স্বীকৃতি তার প্রাপ্য। সে সেখানে যাবে, এরপর ম্যাচের জন্য আমার সঙ্গে যোগ দেবে। তাই এ নিয়ে আমি একেবারেই চিন্তিত নই।’ মাঠের বাইরের অবদানেও স্বীকৃতি সাহিত্য, সামাজিক বিজ্ঞান, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয় ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার। এই সম্মাননা পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মেসি জানিয়েছিলেন, পুরস্কারটি তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। কারণ, এটি শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মাঠের বাইরের অবদানকেও স্বীকৃতি দেয়। মেসি বলেন, ‘এই স্বীকৃতি পেয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্মাননা। আর এটি শুধু মাঠে আমার কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মাঠের বাইরের কাজকেও স্বীকৃতি দেয়। আমি খুবই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।’ এমএলএসে দারুণ ছন্দে মেসি চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মেসি। ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্টার মায়ামি গত বুধবার ২০২৬ সালের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’-এর দৌড়ে ২৩ গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। তাঁর চেয়ে চার গোল কম করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন এফসি ডালাসের স্ট্রাইকার পেতার মুসা। স্পেনে পুরস্কার গ্রহণের পর দ্রুত দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে মেসি-ভক্তদের।
লিওনেল মেসির বিদায়ের পর নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। চলতি বছরের শেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ দুটিতে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আমেরিকার পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ে এবং মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এরপর ১৭ নভেম্বর কর্দোবার মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে কোস্টারিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল। মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর এই ম্যাচ দুটি আর্জেন্টিনার জন্য নতুন করে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক গত ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি টানেন। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জয় পায়। বিদায়ী ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি আরও দুটি গোলে অবদান রাখেন মেসি। মেসিকে ছাড়াই বড় জয় আর্জেন্টিনার মেসির বিদায়ের আগে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল আর্জেন্টিনা। সেসব ম্যাচে দলের সঙ্গে ছিলেন না এই মহাতারকা। তবে তাঁকে ছাড়াও দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় আলবিসেলেস্তেরা। কর্দোবায় বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারানোর পর রিভার প্লেটের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। টানা বড় জয়ে দলের শক্তিমত্তার প্রমাণ মিলেছে বলে মনে করছেন সমর্থকেরা। স্কালোনির অধীনেই নতুন পথচলার অপেক্ষা আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তির মাধ্যমে পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের পর স্কালোনি জানিয়েছিলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন। ফলে নভেম্বরের ম্যাচ দুটি তাঁর দলকে নতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হতে পারে। নতুন নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা মেসির পাশাপাশি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও। তাঁর বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে উঠে এসেছেন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তাঁর নেতৃত্বেই মাঠে নেমেছিল দলটি। এদিকে, ২০৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্যাপনকে ঘিরে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচগুলো আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকায় বাছাইপর্বের নিয়মেও ব্যতিক্রম থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, মেসি ও ওতামেন্দিকে ছাড়া নতুন নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা কতটা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, নভেম্বরের দুটি প্রীতি ম্যাচে সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে চোট পেয়ে বার্সেলোনার সমর্থকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছিলেন রাফিনিয়া। ব্রাজিলের হয়ে শেষ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। তবে এবার স্বস্তির খবর দিয়েছেন বার্সেলোনা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। তার আশা, শনিবার রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচ থেকেই মাঠে ফিরতে পারবেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে গেতাফে ও গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে খেলতে পারেননি রাফিনিয়া। বৃহস্পতিবার দলের সঙ্গে অনুশীলনেও ফিরেছেন ২৯ বছর বয়সি এই ফুটবলার। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার প্রত্যাবর্তন বার্সেলোনার জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে রাফিনিয়ার ফিটনেস নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘সে শুরু থেকেই খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। তবে আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। বৃহস্পতিবার অনুশীলন করেছে সে এবং ভালো করছে। সামনে অনেক ম্যাচ রয়েছে, তাই তার খেলার সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।’ রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচের পর বার্সেলোনার সামনে অপেক্ষা করছে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলতে প্যারিসে যাবে কাতালান ক্লাবটি। এরপর মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে আতিথ্য দেবে তারা। তাই রাফিনিয়ার ফিটনেস নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে চান ফ্লিক। চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সিতে দারুণ ছন্দে রয়েছেন রাফিনিয়া। আট ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ১৪। এমন পারফরম্যান্সের পর চোটের কারণে তার অনুপস্থিতি দলের আক্রমণভাগে বড় প্রভাব ফেলেছিল। এদিকে, রাফিনিয়ার পাশাপাশি এই সপ্তাহে বার্সেলোনার স্কোয়াডে ফিরতে পারেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংও। হাঁটুর সমস্যার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ খেলতে পারেননি ডাচ মিডফিল্ডার। তার প্রত্যাবর্তনও দলের শক্তি বাড়াবে বলে আশা করছে বার্সেলোনা। বেতিসের বিপক্ষে রাফিনিয়া মাঠে ফিরলেও পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তাকে কতক্ষণ খেলানো হবে, তা নির্ভর করবে তার শারীরিক অবস্থার ওপর। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে পুরোপুরি ফিট রাখাই এখন ফ্লিকের প্রধান লক্ষ্য।
লিওনেল মেসিকে ছাড়াই নতুন অধ্যায়ের পথে হাঁটতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। আগামী নভেম্বরের ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ সময় আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে উরুগুয়ে ও কোস্টারিকা। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস আইরেসে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঐতিহাসিক লা বোমবোনেরা স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হতে পারে ম্যাচটি। বিকল্প ভেন্যু হিসেবে লা প্লাতার এস্তাদিও উনিকো স্টেডিয়ামের কথাও বিবেচনায় ছিল। তবে সেখানে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় লা বোমবোনেরাই এগিয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর। কর্ডোবার মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলবে দলটি। এর আগে নিজেদের সর্বশেষ সফরে এই শহরেই বলিভিয়াকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এই দুটি ম্যাচের মধ্য দিয়ে মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার নতুন পথচলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে যাচ্ছে। বেনিনের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে আবেগঘন পরিবেশে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ঐতিহাসিক অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি। শুধু মেসিই নন, বছরের শেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে দেখা যাবে না অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিকেও। তার অনুপস্থিতিতে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে দলের নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে। এদিকে, আসন্ন ট্রেনিং ক্যাম্পে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির চুক্তি নবায়নের বিষয়টিও আরও এগোতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের মার্চে পরবর্তী বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরুর আগে দল গোছানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে এই দুটি ম্যাচকে কাজে লাগাতে চান স্কালোনি। এ সময় নতুন খেলোয়াড়দের পরখ করার পাশাপাশি দলের কৌশল ও একাদশ নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে পারেন তিনি। মেসি ও ওতামেন্দিকে ছাড়াই নতুন নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা কতটা কার্যকর ফুটবল খেলতে পারে, উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচ দুটি হবে তারই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
মাঠে ফুটবলের লড়াই, গ্যালারিতে বিদ্বেষের স্লোগান। এমনটা খেলার পরিপন্থী। সেই ঘটনার শাস্তি তাই এবার পেল স্পেন। মুসলিমবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী স্লোগানের কারণে নিজেদের পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্টেডিয়ামের ১৫ শতাংশ আসন বন্ধ রাখতে হবে স্পেনকে। এতেই পার পায়নি স্পেন। স্পেন ফুটবল ফেডারেশনকে ২০ হাজার ডলার জরিমানাও করেছে ফিফা। গত ৩১ মার্চ বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে মিসরের বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলেছিল বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। গোলশূন্য ড্র হওয়া সেই ম্যাচের প্রথমার্ধের প্রায় ১০ মিনিটে একদল স্প্যানিশ সমর্থক মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান দেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও একই ঘটনা ঘটে। স্লোগান ছিল এমন, ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্টেডিয়ামের পর্দায় বৈষম্যবিরোধী বার্তা দেখানো হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও তা পুনরায় প্রচার করা হয়। কিন্তু উল্টো গ্যালারির কয়েকটি অংশ থেকে দুয়োধ্বনি দেওয়া হয়। ঘটনার পর স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করে ফিফা। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ঘটনাটিকে ‘অসহনীয়’ বলে আখ্যা দেন। তার মতে, ‘হিংস্র মানসিকতার মানুষ ফুটবলকে নিজেদের জায়গা তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।’ এদিকে ঘটনাটিকে ‘ঘৃণ্য বর্ণবাদী আচরণ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে মিসরের ফুটবল ফেডারেশন। তবে তাদের মতে, কিছু সমর্থকের এমন আচরণ দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের সুসম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না। তবে ফিফার কাছে লিখিত বক্তব্যে স্প্যানিশ ফেডারেশন দাবি করে, ওই স্লোগান বৈষম্যমূলক আচরণের পর্যায়ে পড়ে না। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। তাদের মতে, স্লোগানকে নিরীহ দাবি করার পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা পরস্পরবিরোধী। তারই শাস্তি হিসেব স্পেনের পরের ম্যাচে স্টেডিয়ামের ১৫ শতাংশ আসন খালি থকাবে। অবশ্য ফিফার অনুমতি সাপেক্ষে সেখানে পরিবার, শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী সংগঠনের সদস্যদের বসানো যেতে পারে। মূলত দুই গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারিতে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। স্পেনের পরের প্রীতি ম্যাচ হবে জুনে। তবে নেশনস লিগের ফাইনালে উঠলে শাস্তি কার্যকর হবে ইউরো ২০২৮ বাছাইপর্বের আগামী শরতের কোনো বিরতিতে।
ফুটবল মাঠে তার কীর্তি আগেই জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসে। এবার প্রকৃতির জগতেও অমর হয়ে থাকছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার প্রতি সম্মান জানিয়ে পেরুর বিজ্ঞানীরা আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত একটি সুগন্ধি উদ্ভিদের নাম রেখেছেন ‘সালভিয়া মেসি’। ফুলটির নীল-সাদা পাপড়িতে যেন ফুটে উঠেছে মেসির দেশের পতাকা ও আর্জেন্টিনার জার্সির রং। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেরুর দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় এই উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। আন্দিজ পর্বতমালার পাথুরে ঢালে জন্মানো উদ্ভিদটি আগে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচিত ছিল না। গবেষণার পর নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘সালভিয়া মেসি’ ল্যামিয়াসি পরিবারের একটি গুল্মজাতীয় সুগন্ধি উদ্ভিদ। এই পরিবারেই রয়েছে তুলসী, পুদিনা, রোজমেরি ও সেজের মতো পরিচিত গাছ। উদ্ভিদটির আবিষ্কার ও বৈজ্ঞানিক বর্ণনায় যুক্ত ছিলেন পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পল গঞ্জালেস, আর্জেন্টিনার স্বাধীন গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর হুরারাঙ্গো নেচারের জ্যঁ কাপচা-রামোস। তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ফাইটোতাক্সা-তে। মেসির নামে উদ্ভিদটির নামকরণের পেছনে ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন গবেষকেরা। মায়মোনাইডস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ন্যাচারাল, এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সায়েন্সেস এবং আজারা ফাউন্ডেশনের গবেষক ক্লদিও বের্তোনাত্তির মতে, বিজ্ঞানীরাও সমাজ ও মানুষের আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন নন। তার ভাষায়, বৈজ্ঞানিক গবেষণা মানুষেরই সৃষ্টি। তাই মেসির মতো বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানাতে গবেষকদের ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা কাজের ক্ষেত্রের পার্থক্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। এমন ঘটনা অবশ্য মেসির ক্ষেত্রে নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন প্রাণী ও জীবের বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার নাম। আর্জেন্টিনার বারিতু জাতীয় উদ্যানে আবিষ্কৃত একটি ছত্রাকের নাম রাখা হয়েছে ‘সেরকোপেমসেস মেসি’। এ ছাড়া ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’ নামে একটি মাকড়সা, ‘লিওলায়েমুস মেসি’ নামে একটি টিকটিকি এবং ‘ভালচার মেসি’ নামে আন্দিজ অঞ্চলের একটি প্রাগৈতিহাসিক শকুনের নামকরণ করা হয়েছে। ‘ডিস্কনিস্কা মেসি’ নামেও পরিচিত একটি প্রাগৈতিহাসিক খোলসধারী প্রাণী।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে দুটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বিভাগ দুটি হলো মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ডের রুবি ক্যাটাগরি এবং গ্রাসরুট ফুটবলের সিলভার ক্যাটাগরি। আগামী ১৯ নভেম্বর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এএফসির অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে খেলোয়াড়, কোচ ও ফুটবল সংগঠনসহ বিভিন্ন বিভাগে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করেছে এএফসি। গ্রাসরুট ফুটবলে এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ গ্রাসরুট ফুটবলের সিলভার ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে ভারত ও গুয়াম। গত বছর এএফসি প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ডের ব্রোঞ্জ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার রৌপ্য ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পাওয়াকে দেশের তৃণমূল ফুটবলের অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাসরুট ফুটবলে সিলভার পর্যায়ে উন্নীত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিভাগে পুরস্কারের মনোনয়ন পাওয়ায় বিষয়টি বাফুফের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন। তবে এ ক্যাটাগরিতে ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। রুবি ক্যাটাগরিতেও পুরস্কারের প্রত্যাশা মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ডের রুবি ক্যাটাগরিতেও মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশ। গত বছরও এই বিভাগে মনোনয়ন পেলেও পুরস্কার জিততে পারেনি বাফুফে। এবার এই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে লাওস ও গুয়াম। গতবার পুরস্কারজয়ী লাওসও এবার তালিকায় থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এবার বাংলাদেশের পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাফুফের ধারাবাহিক সাফল্য ২০১৫ সালে এএফসির অ্যাসপায়ার মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল বাফুফে। এরপর দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে গত বছর আবার এএফসির পুরস্কার অর্জন করে সংস্থাটি। গত বছরই প্রথমবারের মতো দুটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও দুই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পাওয়ায় এএফসির স্বীকৃতির ক্ষেত্রে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল।
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে একসঙ্গে খেলাতে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ দলের ভারসাম্য হারাচ্ছে বলে মনে করেন ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ফুটবলার মার্সেল দেশাই। তাঁর মতে, দুই তারকার জুটি প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই ভিনিসিয়ুসকে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল স্প্যানিশ ক্লাবটির। দেশাই বলেন, রিয়াল মাদ্রিদের উচিত ছিল ভিনিসিয়ুসের পরিবর্তে অন্য খেলোয়াড় খোঁজা। এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুসের জুটি এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সাবেক এই ফরাসি ডিফেন্ডার বলেন, ভিনিসিয়ুসের ক্লাব ছাড়াই ভালো হতো। এরপর তিনি নিজের সম্পর্কে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা ও সমালোচনা কাটিয়ে উঠতে পারেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়। নতুন চুক্তির পরও ছন্দে ফেরার অপেক্ষা গ্রীষ্মকালীন দলবদলে দীর্ঘ আলোচনার পর রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এর আগে তাঁকে দলে নেওয়ার বিষয়ে আর্সেনালের আগ্রহ নিয়ে গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। তবে নতুন চুক্তির পরও নিজের সেরা পারফরম্যান্সে ফিরতে লড়াই করছেন ভিনিসিয়ুস। মাঠে এমবাপ্পের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়ার ঘাটতি নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। দেশাইয়ের মন্তব্যে সেই বিতর্কই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রোমার বিপক্ষে ম্যাচে হতাশা চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে ম্যাচেও ভিনিসিয়ুসের কঠিন সময়ের প্রতিফলন দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্টাদিও অলিম্পিকোতে রিয়াল মাদ্রিদ ৩-১ গোলে পিছিয়ে থাকার সময় দলের দ্বিতীয় গোলের আক্রমণে বল হারানোর পর ম্যাচের এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁকে তুলে নেন কোচ হোসে মরিনিয়ো। ভিনিসিয়ুসের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে এন্দ্রিক ও আরদা গুলের ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে ভূমিকা রাখেন। এন্দ্রিক, কার্লোস এসপি ও আন্তোনিও রুডিগারের গোলে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল। মাঠ ছাড়ার সময় ভিনিসিয়ুসকে অসন্তুষ্ট দেখাচ্ছিল। পরে এ বিষয়ে তিনি জানান, বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া হলে রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক, কারণ তিনি সব সময় মাঠে খেলতে চান। এদিকে এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুটির কার্যকারিতা নিয়ে দেশাইয়ের মন্তব্য রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের সমন্বয় ও দলীয় ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন ফুলহ্যামের কোচ আলভারো আরবেলোয়া। ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) তাকে ২৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর ফুলহ্যামের মাঠ ক্রাভেন কটেজে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আরবেলোয়া দাবি করেছিলেন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে সিদ্ধান্তগুলো বারবার তাদের পক্ষেই গেছে। ম্যাচ শেষে রেফারিকে নিয়ে ক্ষোভ ম্যাচের প্রথমার্ধে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ফুলহ্যাম। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে, ৮৯তম মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার গোলে সমতায় ফেরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল। ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরবেলোয়া। তার অভিযোগ ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পক্ষে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, সব ফাউল তাদের পক্ষে গেছে। সব সিদ্ধান্তই ছিল তাদের পক্ষে।’ এরপর ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ইউনাইটেডের আগের ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন ফুলহ্যাম কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম, ম্যানসিটির বিপক্ষে ম্যাচের পর এখানে তারা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারতে দেবে না।’ তদন্তে পক্ষপাতের ইঙ্গিত আরবেলোয়ার মন্তব্যের পর বিষয়টি তদন্ত করে একটি স্বাধীন কমিশন। কমিশনের লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়, তার বক্তব্যে ম্যাচ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ ছাড়া আগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে হওয়া কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরবর্তী ম্যাচে কর্মকর্তারা পরিকল্পিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—এমন ইঙ্গিতও ছিল তার মন্তব্যে। ফুটবল ম্যাচ পরিচালনায় রেফারিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনসমক্ষে এ ধরনের অভিযোগকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জরিমানার পাশাপাশি সতর্কবার্তা বিতর্কিত মন্তব্যের দায়ে আরবেলোয়াকে ২৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে কোচ ও খেলোয়াড়দের অসন্তোষ ফুটবলে নতুন নয়। তবে ম্যাচ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কঠোর অবস্থান আবারও সামনে এসেছে এই ঘটনায়।
ফুটবল বিশ্বের দুই পরিচিত মুখ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ওয়েন রুনি। একসময় ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে একসঙ্গে মাঠ মাতিয়েছেন তারা। তবে এবার জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় সাবেক সতীর্থ রোনালদোর কঠোর সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ফুটবলার ওয়েন রুনি। পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রোনালদো। পরবর্তী সময়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোচের বিরুদ্ধে দুইবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। একই সঙ্গে জাতীয় দলের সতীর্থ ও দেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চান তিনি। তবে রোনালদোর এমন সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মোটেও সন্তুষ্ট নন রুনি। তার মতে, একজন অভিজ্ঞ ও বিশ্বমানের ফুটবলারের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। রোনালদোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন রুনির সম্প্রতি ‘স্টিক টু ইউনাইটেড’-এর সঙ্গে আলাপকালে রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনা নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন রুনি। তিনি বলেন, ‘রোনালদো নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। কিন্তু যেভাবে সে পর্তুগালের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়েছে এবং পরবর্তী সময়ে বক্তব্য দিয়েছে, আমার কাছে পুরো বিষয়টিই ভুল মনে হয়েছে।’ রুনির মতে, কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোচের মতবিরোধ তৈরি হতেই পারে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোচ-সতীর্থদের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ শুধু ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্তই নয়, রোনালদোর আচরণে কোচিং স্টাফ, সতীর্থ এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতি অসম্মান প্রকাশ পেয়েছে বলেও মনে করেন সাবেক ইংলিশ তারকা। রুনি বলেন, ‘কোচ ও সতীর্থদের প্রতি তার আচরণ ছিল ভুল। এমনকি পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিও সে যথাযথ সম্মান দেখায়নি। ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো ঘটনাটি নেতিবাচক।’ তার মতে, এমন ঘটনা শুধু একজন খেলোয়াড় ও কোচের সম্পর্কেই প্রভাব ফেলে না, বরং পুরো দলের পরিবেশ এবং পারস্পরিক আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ সময় নিয়েও মন্তব্য রোনালদোর দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ার ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন রুনি। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক ফুটবলারের জীবনেই এমন একটি সময় আসে, যখন তাকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা বলেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে হয়। এটা স্বাভাবিক বাস্তবতা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রোনালদো পরিস্থিতিটি ভালোভাবে সামলাতে পারেনি। পুরো বিষয়টি দেখা ছিল বিব্রতকর।’ দীর্ঘদিনের সাবেক সতীর্থের এমন আচরণে হতাশা প্রকাশ করলেও রোনালদোর ফুটবলীয় দক্ষতা ও অর্জনের প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন রুনি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড় রোনালদোকে ঘিরে এমন মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে একজন তারকা ফুটবলারের সিদ্ধান্ত, নেতৃত্ব এবং পেশাদার আচরণ কেমন হওয়া উচিত—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
ইস্তাম্বুলের উত্তপ্ত আবহাওয়ায় পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বার্সেলোনা। গ্যালাতাসারাইকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন ইংলিশ তারকা অ্যান্টনি গর্ডন। ম্যাচের শুরুতেই বল দখলের আধিপত্য নিয়ে গ্যালারির গর্জন থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বার্সেলোনা। তবে উল্টো প্রথম আক্রমণেই এগিয়ে যায় গ্যালাতাসারাই। পেনাল্টির জন্য গর্ডনের আবেদন নাকচ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরই বাঁ প্রান্ত ধরে দুর্দান্ত এক চড়াও আক্রমণ চালান রাফায়েল লিয়াও। তার বাড়ানো বল থেকে শট নেন আলেকসি বাত্রাকভ। জোয়াও কানসেলোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বল খুঁজে নেয় ঠিকানা। ছয় মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ এসেছিল স্বাগতিকদের সামনে। ভিক্টর ওসিমেনের হেড থেকে বারিস আলপের ইলমাজ জালে বল পাঠালেও ভিএআর (VAR) পর্যালোচনায় সামান্য অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক দুই মিনিট আগে ম্যাচে সমতা ফেরায় হান্স ফ্লিকের দল। দানি ওলমোর বাড়িয়ে দেওয়া বলে নিখুঁত কার্ভিং শটে তুর্কি গোলরক্ষক উগুরকান চাকিরকে পরাস্ত করে লক্ষ্যভেদ করেন জোয়াও কানসেলো। কানসেলোর গোলেই মূলত নীরব হয়ে যায় ইস্তাম্বুলের বাঁধভাঙা গ্যালারি। প্রথমার্ধে কিছুটা নড়বড়ে মনে হলেও দ্বিতীয় অর্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করে সফরকারীরা। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বাগতিকদের জালে জোড়া বল পাঠায় তারা। ৫০ মিনিটে লামিন ইয়ামালের বাড়ানো ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে দলকে এগিয়ে নেন ফারমিন লোপেজ। এর ঠিক তিন মিনিট পর ইয়ামালের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ও বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে ব্যবধান ৩-১ করেন অ্যান্টনি গর্ডন। বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথম গোলের দেখা পাওয়ার ঠিক তিন দিন পরেই ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতায় ক্লাবের হয়ে প্রথম গোলটি করলেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। পরবর্তীতে গর্ডনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন গ্রীষ্মকালীন দলবদলে দলে আসা কারিম আদেয়েমি। ইয়ামালের ক্রসে গ্যাব্রিয়েল জেসুস ছোঁয়া দেওয়ার পর বাঁ প্রান্ত থেকে ডি-বক্সের ভেতর কোনাকুনি শটে বার্সেলোনার হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন তিনি। জার্মান কোচ হান্স ফ্লিকের অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২৮ ম্যাচে ৮৪টি গোল করল বার্সেলোনা। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের পর অন্তত ২০ ম্যাচে কোনো নির্দিষ্ট কোচের অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দলগুলোর ম্যাচপ্রতি গড়ে সর্বোচ্চ (৩টি) গোল করার রেকর্ড এখন বার্সার দখলে। লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ ব্যবধানে উড়ানোর পর এই জয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট দাঁড়াল ৬। আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) প্যারিস সেন জার্মেইর (পিএসজি) মুখোমুখি হতে ফ্রান্সে সফর করবে ফ্লিকের দল। অন্যদিকে, গত মাসে স্পোর্টিং সিপির কাছে ৩-১ ব্যবধানে পরাস্ত হওয়া তুর্কি সুপার লিগের শীর্ষে থাকা গ্যালাতাসারাই এখনো জয়হীন। ২১ অক্টোবর (বুধবার) লিলের মুখোমুখি হয়ে মৌসুমের প্রথম জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামবে তারা।
পেশাদার ফুটবলে ১ হাজার গোলের মাইলফলকের আরও কাছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে উজবেকিস্তানের নেফৎচি ফারগোনার বিপক্ষে আল নাসরের জয়ে আবারও গোল করেছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে আল আইনের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর এই প্রতিযোগিতায় সৌদি ক্লাব প্রথম জয় পেয়েছে ৩-১ গোলে। কিং ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে ৩০তম মিনিটে প্রথম গোল হয়। নাওয়াফ বৌশালের অ্যাসিস্টে গোলকিপার বোতিরালি এরগাশেভকে পরাস্ত করেন অ্যাঞ্জেলো। এই গোলের আগে কিংসলে কোমান পেশির ইনজুরি নিয়ে ১৫ মিনিটে মাঠ ছাড়লে আল নাসর বড় ধাক্কা খায়। আইমান ইয়াহিয়া তার বদলে মাঠে নামেন। প্রথমার্ধের খেলা যখন শেষ হওয়ার পথে, তখন দলের ব্যবধান বাড়ান রোনালদো। আইমানের কাছ থেকে পাস পেয়ে পর্তুগিজ সুপারস্টার আল নাসরের দ্বিতীয় গোল করেন। এটি ছিল তার পেশাদার ক্যারিয়ারের ৯৮১তম গোল। এক হাজারের মাইলফলকে যেতে আর ১৯ গোল দরকার তার। দ্বিতীয়ার্ধে ফারগোনা এগিয়ে যায় আলিশার ওদিলোভের গোলে। উজবেকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় পানি ঢালে আনভারজো গোফুরোভের আত্মঘাতী গো। খেলা শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগেই ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় আল নাসর। আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগাল কোচের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ার পর রোনালদো মাঝপথে জাতীয় দল ছাড়েন। ডেনমার্ক ম্যাচের আগে ক্যাম্প ছাড়ার কারণে সাময়িকভাবে তাকে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। তবে সব বিতর্ক একপাশে সরিয়ে রেখে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বা মালিকানার কোনো অংশ বিক্রি ছাড়াই সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ফুটবলের গভর্নিং বডি কনকাকাফ। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন ও কনকাকাফ প্রধান ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি যৌথভাবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে ফিফার তহবিল থেকে সরাসরি ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি (২০০ কোটি ডলার+) অর্থ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে অবিলম্বে ছাড় করার আহ্বান জানানো হয়। সংস্থা দুটির যুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বকাপের মালিকানা বা বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি তহবিলের কাছে বিক্রি না করেই ফিফার নিজস্ব রিজার্ভ তহবিল থেকে এই অর্থ বণ্টন সম্ভব। এতে ইনফান্তিনোর ওপর প্রশাসনিক চাপ আরও বাড়ল। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিটিকে ১ কোটি ডলার করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশন পাবে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার করে। আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর জন্যও থাকছে ৩০ লাখ ডলার করে বরাদ্দ। উয়েফা ও কনকাকাফের হিসাব অনুযায়ী, এই অর্থ বিতরণের পরও ফিফার হাতে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের নগদ রিজার্ভ থাকবে। ফিফার ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) পরিকল্পনা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন দুই সংস্থার প্রধান। ওই পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব ছিল। ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার কথা বললেও, সেই অর্থ পেতে তার পরিকল্পনায় সমর্থন দেওয়ার শর্ত ছিল বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস। ফিফা কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করেই এমন পরিকল্পনা নেওয়ায় ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেছেন কনফেডারেশন প্রধানেরা। তাদের মতে, ফিফার হাতে থাকা অর্থ থেকেই সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে বাড়তি সহায়তা দেওয়া সম্ভব। সে জন্য বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বিক্রি করার প্রয়োজন নেই। আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে অর্থ বিতরণের প্রস্তাব ও সংস্থাটির আর্থিক অবস্থার বিষয়টি আলোচনায় আসার কথা। সদস্য দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে ইনফান্তিনোও আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে কত অর্থ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মাঠের পারফরম্যান্স ও শৃঙ্খলাজনিত ঘটনায় চাপে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অস্থিরতার খবর সামনে এসেছে। প্রেমিকা ভার্জিনিয়া ফনসেকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ইতি ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি নেটওয়ার্ক। স্প্যানিশ লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ভিনিসিয়ুস। ফলে তাঁর শাস্তির মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আগামী ২৫ অক্টোবর বার্সেলোনার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত এল ক্লাসিকোতে খেলতে নাও পারেন এই ফরোয়ার্ড। এর মধ্যেই ফনসেকার সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর সামনে আসে। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফনসেকার প্রেস অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো বিরোধ বা তর্ক ছাড়াই পারস্পরিক নীরব সম্মতির ভিত্তিতে সম্পর্কের সমাপ্তি হয়েছে। তবে ভিনিসিয়ুস কিংবা ফনসেকা—কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে ব্রাজিল ও স্পেনের সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলছিল। চলতি বছরের মে মাসে একবার বিচ্ছেদের খবর এলেও জুলাইয়ে আবার একসঙ্গে দেখা যায় দুজনকে। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁদের একসঙ্গে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি স্প্যানিশ ফর্মুলা ওয়ান গ্রাঁ প্রিতে হাত ধরে উপস্থিতি তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। অন্যদিকে, মাঠেও সময়টা ভালো যাচ্ছে না ভিনিসিয়ুসের। চলতি মৌসুমে প্রথমবার তাঁকে বেঞ্চে থাকতে হয়েছিল। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে মাঠে নেমে গোল করার পর উদ্যাপনের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত লাল কার্ডের ঘটনায় আলোচনায় আসেন তিনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচের ৭০ মিনিটে গোলের পর গোলের বিল্ডআপের সময় কানাডীয় ফুটবলার নাথান সালিবার চুল টেনে ধরার অভিযোগে ভিনিসিয়ুসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন কোচ হোসে মরিনিও। ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও উপস্থিত হননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মাঠের শাস্তির আশঙ্কা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন—দুই দিক থেকেই কঠিন সময় পার করছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। তবে লাল কার্ডের শাস্তির চূড়ান্ত মেয়াদ এবং বিচ্ছেদের খবরের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে স্বস্তি ফিরেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) শিবিরে। নির্ধারিত বিশ্রাম শেষে দলের অনুশীলনে ফিরেছেন দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার উসমান দেম্বেলে ও নুনো মেন্দেস। তাদের প্রত্যাবর্তনে শক্তি বেড়েছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের। চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে বুধবার ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে পিএসজির। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচকে সামনে রেখে দল সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন কোচ লুইস এনরিকে। আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা দেম্বেলে এবং রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মেন্দেসের ফেরায় একাদশ নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পাবেন স্প্যানিশ এই কোচ। আন্তর্জাতিক বিরতির ব্যস্ত সূচির পর শারীরিক ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে দুই ফুটবলারকে অতিরিক্ত বিশ্রাম দিয়েছিল পিএসজি কর্তৃপক্ষ। সেই বিশ্রাম শেষে তারা অনুশীলনে যোগ দেওয়ায় ম্যানচেস্টার সফরে প্রায় পূর্ণ শক্তির দল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ-এর বরাতে জানা গেছে, ক্লাবের মেডিকেল ও কোচিং স্টাফদের পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই খেলোয়াড়ের ফেরার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। শনিবার প্রথমে অনুশীলন কেন্দ্রে ফেরেন উসমান দেম্বেলে। পরদিন রোববার দলের সঙ্গে যোগ দেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস। চলতি মৌসুমের ব্যস্ত সূচিতে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পিএসজি। গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় ম্যাচের আগে দুই তারকার প্রত্যাবর্তন তাই দলের প্রস্তুতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্বস্তির খবরের মধ্যেও চোটজনিত দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কাটেনি ফরাসি ক্লাবটির। তরুণ মিডফিল্ডার সেনি মায়ুলুকে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফ্রান্সের যুব দলের হয়ে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের সময় পেশির চোটে পড়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ফুটবলারের ফেরায় আত্মবিশ্বাস বাড়ছে পিএসজির। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে লুইস এনরিকের দল।
ম্যাচের আগে পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। প্রিমিয়ার লিগের আইন ভাঙার দায়ে দোষী প্রমাণিত হওয়া ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিলেন লিভারপুলের ভক্তরা। এমন আবহে টলে যায়নি এন্টসো মারেস্কার দল। দ্বিতীয়ার্ধের উজ্জীবিত ফুটবলে স্বাগতিকদের উড়িয়ে লিগে শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখে তারা। লিভারপুলের মাঠে রোববার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে সিটি। তাদের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে রায়ান খাফেনবেখের লাল কার্ড। ১৪ মিনিটের ব্যবধানে ডাচ মিডফিল্ডার দুটি হলুদ কার্ড দেখার পর পাল্টে যায় খেলার চিত্র। ৬২তম মিনিটে লিভারপুল ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর একে একে জালের দেখা পান আর্লিং হলান্ড, জেরেমি ডোকু ও রায়ান শের্কি। অ্যানফিল্ডে শুরুটা ভালো করে লিভারপুল। আগের পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থাকা দলটি আক্রমণাত্মক ফুটবলে চেপে ধরে সিটিকে। রক্ষণ জমাট রেখে দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে নেয় সফরকারীরা। কোনো দলই পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। রক্ষণ ভাঙতে না পেরে ৩৫তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে চেষ্টা করেন এন্সো ফের্নান্দেস। শট দূরের পোস্টে ঝাঁপিয়ে ঠেকান লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন। লক্ষ্যে এটাই ছিল সিটির প্রথম শট। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এগিয়ে যেতে পারত লিভারপুল। কিন্তু দারুণ ডাবল সেভে তাদের হতাশ করেন সিটি গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। ৪৯তম মিনিটে লুইস কুমাসের শট ঠেকান দোন্নারুম্মা। ফিরতি বলে রায়ান খাফেনবেখের শটও ব্যর্থ করে দেন তিনি। আলগা বলে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি আলেক্সিস মাক আলিস্তের। ৬০তম মিনিটে দারুণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি হলান্ড। ছুটে গিয়ে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে প্রথম স্পর্শে আড়াআড়ি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার। দুই মিনিট পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন খাফেনবেখ। ৬৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় সিটি। ডোকুর শট এক জনের গায়ে লাগলে পেয়ে যান অরক্ষিত হলান্ড। গতিময় শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে নেন তারকা স্ট্রাইকার। ৬৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডোকু। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সে ঢুকে যান তিনি। এবার ক্রস না করে একটু সময় নিয়ে বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড। ঝাঁপ দিলেও বলের নাগাল পাননি আলিনসন। ৭৮তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান শের্কি। ইয়োশকো ভার্দিওলের ব্যাকহিলে বল পেয়ে শট নেওয়ার ভান করেন ফরাসি মিডফিল্ডার। এতে বিভ্রান্ত হয়ে তাড়াহুড়া করে স্লাইড করেন লিভারপুল ডিফেন্ডার, সেই সুযোগে ঠাণ্ডা মাথায় জাল খুঁজে নেন শের্কি। ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় লিভারপুল। বাকি সময়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৬ ম্যাচে ৬ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে সিটি। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আর্সেনাল। ৯ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে আছে লিভারপুল।
সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পরিত্যক্ত হয়েছে স্প্যানিশ লা লিগায় রায়ো ভায়েকানো ও অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মধ্যকার ম্যাচ। ক্লাবের অবকাঠামোর বেহাল দশা এবং সভাপতি রাউল মার্টিন প্রেসার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে মাঠে কাগুজে বিমান ও রাবারের বল ছুড়ে প্রতিবাদ জানান সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন ম্যাচ কর্মকর্তারা। শনিবার (১০ অক্টোবর) রায়ো ভায়েকানোর মাঠ এস্তাদিও দে ভায়েকাসে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে খেলার ১৩তম মিনিটে গ্যালারি থেকে মাঠে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ শুরু করেন সমর্থকেরা। এ সময় প্রেসার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন তারা। পরিস্থিতির কারণে প্রথমে খেলা বন্ধ করে দেন রেফারি। স্টেডিয়ামের মাইকে সমর্থকদের মাঠে কোনো বস্তু না ছোড়ার অনুরোধ জানানো হয়। একই সময়ে মাঠকর্মীরা ঘাসের ওপর পড়ে থাকা বস্তু সরিয়ে নেন। প্রায় ১৫ মিনিট পর খেলা আবার শুরু হলেও দক্ষিণ গ্যালারি থেকে পুনরায় বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য অবস্থায় ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ রায়ো ভায়েকানোর সমর্থকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্লাবের নিজস্ব স্টেডিয়ামটি জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোর আধুনিকায়নে ব্যর্থতা এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারার দায়ও ক্লাব সভাপতি প্রেসার ওপর চাপাচ্ছেন তারা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুতর ঝুঁকির কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্টেডিয়ামটির লাইসেন্স বাতিল করেছিল। এর ফলে চলতি মৌসুমের প্রথম তিনটি হোম ম্যাচ অন্য মাঠে, লেগানেসে আয়োজন করতে হয় ক্লাবটিকে। দীর্ঘ বিরতির পর নিজেদের মাঠে ফিরেও এবার ম্যাচ শেষ করতে পারেনি দলটি। গত মৌসুমেও রায়ো ভায়েকানোর মাঠ ও অনুশীলন সুবিধা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন খেলোয়াড়েরা। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশ করা খেলোয়াড়দের একটি চিঠিতে মাঠের খেলার অনুপযোগী অবস্থা, ড্রেসিংরুমের গোসলখানায় গরম পানির সংকট এবং অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছিল। সমর্থকদের ভোগান্তি নিয়েও প্রশ্ন শুধু অবকাঠামো নয়, টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থাও সমর্থকদের অসন্তোষের কারণ। অভিযোগ রয়েছে, অনলাইনে টিকিট কেনার ওয়েবসাইট না থাকায় দর্শকদের স্টেডিয়ামের ছোট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এদিকে, ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর অ্যাথলেটিক বিলবাও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাদ্রিদে দলকে সমর্থন জানাতে যাওয়া সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। চলতি লা লিগা মৌসুমে প্রথম সাত ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১৩তম স্থানে ছিল রায়ো ভায়েকানো। তবে মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা ক্লাবটির অবকাঠামো ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সমর্থকদের প্রতিবাদ এবং ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনা রায়ো ভায়েকানোর দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ক্লাব পরিচালনা নিয়ে চলমান অসন্তোষকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।