পর্তুগাল জাতীয় দলকে ঘিরে নানা আলোচনার মধ্যেই ক্লাব ফুটবলে ফিরেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে মাঠে নেমেই গোলের দেখা পেয়েছেন এই পর্তুগিজ তারকা। আল দিরিয়াহর বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে দলের প্রথম গোলটি করেন তিনি। এটি পেশাদার ফুটবলে রোনালদোর ৯৮০তম গোল। সৌদি প্রো লিগের ম্যাচে কিংসলে কোম্যানের নেওয়া শট গোলরক্ষক ওয়ালিদ আলী পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বল পেয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি রোনালদো। সহজ ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে আরেক পর্তুগিজ ফুটবলার সামু কস্তা আল নাসরের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। পরে ৭৭ মিনিটে কোম্যান গোল করলে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়। এই জয়ের ফলে লিগের শীর্ষে থাকা আল কাদসিয়ার সমান ১৯ পয়েন্ট অর্জন করেছে আল নাসর। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রোনালদোর দল। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গোল উদ্যাপনের ছবি প্রকাশ করেন রোনালদো। সেখানে তিনি লেখেন, ‘কাজ শেষ। এবার পরের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে!’ ক্লাবের হয়ে গোল পেলেও পর্তুগাল জাতীয় দলকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা এখনও শেষ হয়নি। কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে আসার ঘটনায় বিতর্কে জড়িয়েছেন রোনালদো। তাঁর অভিযোগ, কোচ তাঁকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। গত মৌসুমে জেসুসের অধীনেই সৌদি আরবের শিরোপা জিতেছিল আল নাসর। পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেওয়াএক বিবৃতিতে তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য এখনও প্রস্তুত। তবে দলের ক্যাম্প ছেড়ে আসার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জাতীয় দলকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ক্লাবের হয়ে গোল করে নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার বার্তা দিলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।
এবিজি স্পোর্টস সিটির কিংস অ্যারিনায় গোল উৎসব করল বসুন্ধরা কিংস। গতকাল ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ম্যাচে ওয়ান্ডারার্সকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দলের পক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন সাব্বির হোসেন। এ ছাড়া রাকিব হোসেন দুটি এবং মানিশ দাঙ্গি ও আবদুল্লাহ একটি করে গোল করেছেন। এই ওয়ান্ডারার্সকে গত মঙ্গলবারও গোলবন্যায় ভাসিয়েছিল কিংস। ফেডারেশন কাপের সেই ম্যাচে দলটা জয় পেয়েছিল ৫-০ ব্যবধানে। গতকাল মুষলধারে বৃষ্টি ছিল। সেই বৃষ্টির মধ্যেই খেলা হলো কিংস অ্যারিনায়। মাঠের উন্নত ড্রেনেজ সিস্টেম দ্রুত পানি শুষে নেওয়ায় খেলা হতে কোনো সমস্যা হয়নি। আর গ্যালারিতে হাজার হাজার সমর্থক ‘বসুন্ধরা, বসুন্ধরা’ চিৎকার করে দলকে উৎসাহ দিয়েছেন। এর মধ্যেই গোল উৎসব করল বসুন্ধরা কিংস। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শুরু করে ৬ বারের চ্যাম্পিয়নরা। ওয়ান্ডারার্সের রক্ষণভাগকে শুরুতেই চেপে ধরে তারা। খেলা শুরুর মাত্র প্রথম মিনিটেই গোলের খাতা খোলে বসুন্ধরা (১-০)। ডি-বক্সের ডান দিক থেকে রাকিবের মাপা ক্রসে বল পান সোহেল। তিনি সরাসরি শট নিতে না পারলেও বল পেয়ে যান ছোট ডি-বক্সে থাকা মানিশ দাঙ্গি। নেপালি এই ফুটবলার সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন। এর মাত্র তিন মিনিট পর, ম্যাচের ৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাব্বির (২-০)। মাঠের নিচ থেকে আসা একটি দীর্ঘ লং বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে জোরালো শটে গোল করেন তিনি। দুই গোল করার পরও আক্রমণের তোড় বাড়াতে থাকে বসুন্ধরা কিংস। ৪৫ মিনিটে ম্যাচের পরিস্থিতি পুরোপুরি বসুন্ধরার অনুকূলে চলে যায়। কিংসের উইঙ্গার রাকিবের একটি বিপজ্জনক শট ডি-বক্সের বাইরে এসে হাত দিয়ে আটকান ওয়ান্ডারার্সের গোলরক্ষক। রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। একজন কম নিয়ে খেলতে থাকা ওয়ান্ডারার্সের ওপর দ্বিতীয়ার্ধে আরও চড়াও হয় বসুন্ধরা কিংস। ৪৯ মিনিটে ডি-বক্সের ভিতর থেকে দৃষ্টিনন্দন এক চিপ শটে দলের তৃতীয় এবং নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সাব্বির (৩-০)। ৭০ মিনিটে ডি-বক্সের ভিতরে রাকিব ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে ব্যবধান ৪-০ করেন রাকিব। ৮০ মিনিটে রবসনের সহায়তায় আসে পঞ্চম গোল। ডি-বক্সের ভিতর ডান দিক থেকে রবসনের বাড়ানো চমৎকার ক্রস প্লেসিং শটে জালে জড়ান আবদুল্লাহ (৫-০)। ম্যাচের শেষভাগে আরও দুটি গোল করে কিংস। ৮৯ মিনিটে ডি-বক্সের ভিতর থেকে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করেন রাকিব (৬-০)। এর কিছুক্ষণ পরই রাকিবের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের ভিতর থেকে ফিনিশিং টেনে নিজের হ্যাটট্রিক ও দলের ৭-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন সাব্বির। ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে এই বিশাল জয়ের পর বাংলাদেশ ফুটবল লিগের পয়েন্ট টেবিলে বসুন্ধরা কিংসের অবস্থান আরও সুসংহত হলো। ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে তারা। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ফর্টিস এফসি। সমান পয়েন্ট রয়েছে সিটি ক্লাবেরও।
উয়েফা নেশন্স লিগে ব্যর্থতার চক্রে যেভাবে ঘুরপাক খেয়েছে তুরস্ক, তাতে এমনটা যেন হওয়ারই ছিল। কোচ ভেনচেনজো মন্তেল্লাকে ছাঁটাই করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ)। টিএফএফ শুক্রবারের বিবৃতিতে জানিয়েছে, এর নির্বাহী বোর্ড মন্তেল্লাকে দায়িত্ত্বে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো কারণ জানানো হয়সি। তার কোনো উত্তরসূরির নামও বলা হয়নি। জুন-জুলাইয়ের বিশ্বকাপে দল গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়ার পরও, এই ইতালিয়ান কোচের ওপর ভরসা রাখে তুরস্ক। ওই হতাশা মুছে নেশন্স লিগে ঘুরে দাঁড়াবে কী, উল্টো যেন আরও বেশি ব্যর্থতার খোলসে বন্দি হয়ে পড়ে তারা। সদ্য শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতিতে চারটি ম্যাচ খেলেছে দলটি, এবং হেরেছে সবগুলোয়; ফ্রান্সের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হেরে আসর শুরুর পর, নিজেদের আঙিনাতেই তারা ইতালির বিপক্ষে ধরাশায়ী হয় ৪-১ ব্যবধানে। এরপর বেলজিয়ামের মাঠে ৩-০ গোলে এবং ইতালির বিপক্ষে ফিরতি লেগে ৩-১ ব্যবধানে হারে দলটি। এতেই মন্তেল্লার ওপর আস্থা উঠে যায় সংস্থাটির। মন্তেল্লার কোচিংয়ে তুর্কিদের শুরুর যাত্রাটা অবশ্য বেশ ভালোই ছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া এই কোচের হাত ধরে ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলে তারা।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুস। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের অধিনায়কের সঙ্গে কোচের বিরোধের বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘সিএম জার্নাল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকাকালে রোনালদোর সঙ্গে জেসুসের আচরণকে ‘অশোভনীয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়লে কোচের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হতে পারে। তবে অভিযোগ দায়েরের সময়ের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেননি। ফলে জেসুসের বিরুদ্ধে কোনো প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। বিষয়টি আপাতত সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে। ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে রোনালদো জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই কোচ ও তারকা ফরোয়ার্ডকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও দলে ছিলেন না পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। চার ম্যাচের মধ্যে কেবল প্রথমটিতে খেলেছিলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জেসুসের মন্তব্যকে রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। সেখানে কোচ জোর দিয়ে বলেন, দলের কোন খেলোয়াড়কে বাইরে রাখা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁরই। এর পরপরই প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো। পরবর্তী সময়ে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে পর্তুগিজ অধিনায়ক অভিযোগ করেন, জেসুস তাঁকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দুইবার ভঙ্গ করেছেন। তবে এ বিষয়ে কোচ প্রকাশ্যে বিস্তারিত আলোচনা এড়িয়ে গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় রোনালদোর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে আর্থিক জরিমানা থেকে শুরু করে ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও রয়েছে। তবে কোচ কিংবা রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পর্তুগাল জাতীয় দলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ এক বিবৃতিতে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার কারণ, কোচ জর্জে জেজুসের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন, নরওয়ে ম্যাচে খেলানো নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এবং সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি। রোনালদো জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকি পর্তুগিজ জনগণের উদ্দেশে বিদায়ী চিঠিও লিখে রেখেছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পথে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। নতুন কোচের নাম নিয়েও তাঁর মতামত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান রোনালদো। জাতীয় দলের নতুন কোচের সঙ্গে আলোচনায় রোনালদোকে নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচে খেলানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে নরওয়ে ও ডেনমার্কে দলের সঙ্গে না গিয়ে পর্তুগালে থাকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। পরে নরওয়ে ম্যাচে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা বলে তাঁকে ওয়ার্ম-আপ করানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। এ ঘটনায় কোচের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানান রোনালদো। রোনালদোর পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হলো: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বক্তব্য প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সর্বশেষ জাতীয় দলের ক্যাম্পে আসলে কী ঘটেছিল, তা এবার আমি সরাসরি এবং নিজের ভাষায় জানাতে চাই। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের জনগণের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেই চিঠি এখনো আমার কাছে আছে। জাতীয় দল থেকে চূড়ান্তভাবে বিদায় নেওয়ার সময় পর্তুগিজ জনগণকে যে কথাগুলো বলতে চাই, সেখানে সেগুলোই লিখেছি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার বিমানে ফেডারেশনের সভাপতি আমাকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেন এবং এ বিষয়ে জোরও দেন। কারণ, ফেডারেশন চেয়েছিল আমি জাতীয় দলে থেকে যাই। এরপর তিনি বর্তমান প্রধান কোচের নাম নিয়ে আমার মতামত জানতে চান। আরও কয়েকজনের নামও তাঁর বিবেচনায় ছিল, তবে সেগুলো তিনি আমাকে জানাননি। আমি ফেডারেশন সভাপতিকে বলেছিলাম, আমার মতে বর্তমান কোচই সঠিক পছন্দ হবেন। তাই বর্তমান কোচের নাম ঘোষণা করার দিন আমি সত্যিই খুশি হয়েছিলাম। আমার কাছে এটি সঠিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল, যার প্রমাণ এখন ফলাফলেই দেখা যাচ্ছে। কয়েক দিন পর জাতীয় দলের নতুন কোচ প্রথমবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। আমি রাজি হই এবং ছুটি শেষ হওয়ার সময় দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়। আমরা সিদাদে দো ফুটবলে দেখা করি, যেখানে আমার ক্লাবের প্রাক-মৌসুমের ক্যাম্প চলছিল। সেদিন প্রধান কোচ আমাকে বলেন, তিনি আমাকে তাঁর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চান এবং তাঁর প্রকল্পে আমার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানেই তিনি জাতীয় দলে আমার ভূমিকা নিয়ে একটি পরিকল্পনা আমার সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, আমি প্রথম ও শেষ ম্যাচ খেলব। শারীরিক সক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য প্রতিটি ম্যাচে তিন-চারজন করে খেলোয়াড় পরিবর্তন করবেন বলেও জানান তিনি। এরপর তিনি প্রস্তাব দেন, আমি যেন দলের সঙ্গে নরওয়ে ও ডেনমার্ক সফরে না যাই। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, আমি প্রথম ম্যাচটি খেলব, এরপর পর্তুগালে থাকব এবং পোর্তোর দো দ্রাগাঁও স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেব। আমি সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। আমার কাছে বিষয়টি গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। বিদেশে ম্যাচ খেলব না ঠিক আছে, কিন্তু আমি তখনও জাতীয় দলের অধিনায়ক। অধিনায়ক হিসেবে শুধু নিজের জন্য এই বিশেষ সুবিধা নেওয়া দলের জন্য ভালো উদাহরণ হতো না। প্রধান কোচ শেষ পর্যন্ত আমার বক্তব্য মেনে নেন। সেই আলোচনায় আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কুতিনিও উপস্থিত ছিলেন। গত মৌসুমে বর্তমান প্রধান কোচ তাঁর কাছেই রিপোর্ট করতেন এবং ২০২৫ সালে ক্লাবটিতে কোচকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ক্যাম্প শুরুর আগের দিন প্রধান কোচের অনুরোধে তিনি আমার লিসবনের বাসায় আসেন। আমাদের মধ্যে আরেকটি আলোচনা হয়। কথোপকথনটি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আগস্টে যে বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছিলাম, সেগুলোই বহাল থাকে। আমি আলভালাদে ম্যাচটি খেলি। আমাকে বদলি করা হলেও আমি কোনো আপত্তি করিনি। নিজেই ব্রুনো ফার্নান্দেজের হাতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তুলে দিয়েছিলাম। তখনও ভাবিনি, জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে হয়তো সেটিই আমার শেষ সময়গুলোর একটি। সেদিন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলের জয়। জয় সবসময়ই ভালো। আর পর্তুগালের হয়ে, দেশের জন্য জয় আরও বেশি আনন্দের। নরওয়ে ম্যাচের দিন দুপুরে দলের সবাই যখন খাবার খাচ্ছিলাম, তখন প্রধান কোচের এক সহকারী আমার টেবিলে এসে জানান, কোচ আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমি ভীষণ অবাক হয়ে যাই। কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি ৩০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত কি না। তখন আমি পুরোপুরি শারীরিক পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগী ছিলাম, সবসময়কার মতো সতীর্থদের সঙ্গে দলের অংশ হয়েই ছিলাম এবং ধরে নিয়েছিলাম সেদিন আমি খেলব না। তাতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না। এই প্রস্তাবটি আমার শারীরিক পুনরুদ্ধার ও অনুশীলনের পরিকল্পনার বাইরে ছিল। কারণ, আমার শুধু ৪ তারিখ দো দ্রাগাঁওয়ের ম্যাচে খেলার কথা ছিল। তারপরও আমি অবশ্যই রাজি হই। তিনি আমাকে বলেন, প্রস্তুত থাকতে, কারণ আমি ৩০ মিনিট খেলব। এরপর যা ঘটেছে, তা সবাই জানেন। দ্বিতীয়ার্ধের বিরতিতে আমি ওয়ার্ম-আপ করি। মিনিটের পর মিনিট চলে যায়, কিন্তু আমাকে মাঠে নামানো হয়নি। প্রধান কোচ তাঁর দেওয়া কথা রাখেননি। ম্যাচ শেষে আমার একমাত্র চাওয়া ছিল জয় নিয়ে সবকিছু শেষ হোক এবং আমাকে কিছু সময় একা থাকতে দেওয়া হোক। আমি দর্শকদের অভিবাদন জানাতে যাইনি। এটি পুরোপুরি আমার ভুল এবং এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। সেখানে আমাদের সমর্থন করতে আসা পর্তুগিজ জনগণের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। যারা পর্তুগিজ না হয়েও আমাকে দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং আমার কারণে হতাশ হয়ে থাকলে তাঁদের কাছেও ক্ষমা চাইছি। ৪৮ ঘণ্টা পর আমাদের মধ্যে একটি আলোচনা হয়। সেখানে আমি, প্রধান কোচ এবং সিমাও কুতিনিও উপস্থিত ছিলেন। আগস্টের আলোচনাগুলোতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন বলেই তাঁকে রাখা হয়েছিল। সেটি ছিল গভীর এবং অত্যন্ত খোলামেলা একটি আলোচনা। সেখানে কোনো কিছুই গোপন রাখা হয়নি। আমরা একমত হয়েছিলাম, এই বিষয়টি শেষ করার একমাত্র উপায় হলো প্রধান কোচ ব্যক্তিগত আলোচনায় আমাকে যা বলেছিলেন, সেটিই সিমাও কুতিনিওর সামনে সংবাদ সম্মেলনে বলা। আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছিলাম, তা খুবই সহজ ছিল। প্রধান কোচ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিষয়টি তুলে ধরবেন এবং সত্যটা বলেই বিষয়টির ইতি টানবেন। তিনি বলবেন, আমি কখনো কোনো মিনিট খেলার অনুরোধ করিনি। বরং তিনিই এই ক্যাম্পের জন্য আমার সঙ্গে খেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। আমাকে ওয়ার্ম-আপ করিয়ে মাঠে না নামানো তাঁর ভুল ছিল এবং এমন ঘটনা আবার ঘটলে তিনি তা করবেন না। আলোচনা শেষে প্রধান কোচ আমাকে জড়িয়ে ধরার অনুরোধ করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সংবাদ সম্মেলনে আমার সঙ্গে যে কথা বলেছেন সেটিই বলবেন এবং এরপর বিষয়টি আমরা পেছনে ফেলে আসব। আমি ডেনমার্কে খেলব না এবং দো দ্রাগাঁওয়ের ম্যাচে খেলব। এসব কথাই সিমাও কুতিনিওর উপস্থিতিতে বলা হয়েছিল। প্রধান কোচের অনুরোধে এরপর তাঁর সঙ্গে সিমাও কুতিনিও ও তিয়াগো ক্রাভেইরোর একটি ভিডিও বৈঠক হয়। সেখানে আমাদের আলোচনার বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। এরপর একটি ছোট নথি তৈরি করা হয়। আমি সেটি যাচাই করে অনুমোদন করি এবং আমার জ্ঞাতসারে নথিটি প্রধান কোচের কাছে দেওয়া হয়, কারণ তিনিই এটি চেয়েছিলেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটেছে, তা সবাই জানেন। তাঁর আচরণের সঙ্গে আমাদের আগের বৈঠকের কোনো মিল ছিল না। আমি এমন কিছু কথা শুনেছি এবং এমন এক ধরনের আগ্রাসী আচরণ দেখেছি, যা আমার মনে হয় আমি প্রাপ্য ছিলাম না। সেখানে এমন একটি ‘সবজান্তা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ মনোভাব ছিল, যা আগের দিন ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি একবারও, সামান্যতমভাবেও দেখাননি। আমি যে নোটটি অনুমোদন করেছিলাম, সেখানে লেখা ছিল: ১. ডেনমার্ক নিয়ে কথা বলার আগে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলোই সত্য। জাতীয় দলের এই মৌসুমের জন্য আমিই এককভাবে ক্রিশ্চিয়ানোর সঙ্গে একটি পরিকল্পনা করেছিলাম। আমাদের মধ্যে দীর্ঘ ও খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছিল। ২. আমি জানি, সে জাতীয় দলকে কতটা ভালোবাসে এবং জাতীয় দলের জন্য কতটা বাঁচে। বিশ্বে তার যে মর্যাদা, আর টানা ২৪ বছর জাতীয় দলে তার যে গুরুত্ব ও ইতিবাচক প্রভাব, সেটিও আমি জানি। ৩. আমি ক্রিশ্চিয়ানোর জন্য যে পরিকল্পনা দিয়েছিলাম, সে সেটি গ্রহণ করেছিল। ৪. সে কখনো আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। সে ছিল আদর্শ, বিশ্বস্ত ও পেশাদার। ৫. নরওয়ের ম্যাচটি তার জন্য তৈরি করা পরিকল্পনার অংশ ছিল না। তবে আমার মনে হয়েছিল, প্রথম ম্যাচের পর সে শারীরিকভাবে ভালোভাবে সেরে উঠেছে। তাই তাকে বলেছিলাম, প্রয়োজন হলে তাকে খেলাতে হতে পারে। ক্রিশ্চিয়ানো তাতে রাজি হয়েছিল। ৬. পেলের বা ম্যারাডোনার মতো মর্যাদার একজন খেলোয়াড়কে ওয়ার্ম-আপ করিয়ে মাঠে না নামানো আমার ভুল ছিল। আজ যদি একই পরিস্থিতি হতো, আমি এমনটা করতাম না। ৭. বিষয়টি শেষ করার জন্য বলছি, আমি ক্রিশ্চিয়ানোকে জাতীয় দলে চাই। শুধু একটু চাই না, আমি তাকে অনেক বেশি চাই। সৌভাগ্যবশত, সেও আমার ওপর বিশ্বাস রাখে। সে আল নাসরে আমাকে বিশ্বাস করেছিল, এখানেও করছে। ৮. সে কেন দর্শকদের অভিবাদন জানায়নি, সে বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যে কথা বলেছি। জাতীয় দলের হয়ে ২৩০টির বেশি ম্যাচ খেলা একজন মানুষকে পর্তুগালের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আমার কাছ থেকে কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি ছিল হতাশার একটি মুহূর্ত, যা তার ভালোবাসার কোনো কিছুই মুছে দেয় না। সে-ই এমন খেলোয়াড়, যে সবচেয়ে বেশি অটোগ্রাফ দেয়, সবচেয়ে বেশি সেলফি তোলে এবং সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা দেখায়। যেখানে কোনো সমস্যা নেই, সেখানে সমস্যা তৈরি করা উচিত নয়। আমরা যখন খুশি থাকি না, তখন প্রতিক্রিয়া দেখাই। এটুকুই ঘটেছে। এসব নোটে প্রধান কোচের পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা চাওয়ারও কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু এটি ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি আমার কাছে দেওয়া কথা রাখেননি। আর কোনো প্রতিশ্রুতি ভাঙার অপেক্ষায় না থেকে আমি ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার কাছে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সত্য যতই কষ্টদায়ক হোক, আমাকে সত্য বলুন। সত্যি বলতে, সংবাদ সম্মেলনের দিন সকালে ফেডারেশনের সভাপতি ও প্রধান কোচের সঙ্গে আমার যে আলোচনা হয়েছিল, তাঁরা নিশ্চয়ই সেটি নিশ্চিত করতে পারবেন। সেখানেও আমি বলেছিলাম, তাঁরা যদি আমাকে দলে না চান, তাহলে সরাসরি যেন আমাকে বলেন। শুধু আমার সঙ্গে সৎ হতে হতো। আমি সেটা মেনে নিতাম। এমনকি আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা মিলে একটি সুন্দর বিদায়ের আয়োজন করব, যেভাবে আমি স্বপ্ন দেখি। কেউ কারও ওপর রাগও করত না। আজকের মতোই ঘটনাটি আমার মনে আছে। তাঁরা দুজন একসঙ্গে বলেছিলেন, ‘না।’ তাঁরা বলেছিলেন, জাতীয় দলেই আমার জায়গা। প্রায় ২৫ বছরের ফুটবল জীবনে জাতীয় দলের কোনো কোচ বা ম্যানেজারের কোনো কৌশলগত বা কারিগরি সিদ্ধান্তে আমি কখনো হস্তক্ষেপ করিনি। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নেন, সেটি আমার পছন্দ হোক বা না হোক, আমি শুধু সেটি মেনে নিই। আমি সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। কিন্তু যখন আমার সঙ্গে দেওয়া কথা ভেঙে দেওয়া হয়, তখন আমি অনুভব করি, সেখানে আমার জায়গা নেই। ক্যাম্প ছেড়ে আসার জন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছেও আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধান কোচের কথায় যে আস্থার সম্পূর্ণ ভাঙন ঘটেছিল, আমাদের আলোচনার প্রত্যক্ষদর্শীরা তা জানেন। তারপরও আমার ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়া উচিত হয়নি। এর পুরো দায় আমার। পর্তুগালের জনগণের কাছে আবারও ক্ষমা চাইছি। কিন্তু কারও দেওয়া কথা ভেঙে ফেলা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমার মনে হয়েছিল, এরপর আমি দলে থেকে গেলে পুরো দলেরই ক্ষতি হবে। তাই আমি সবসময় যা বলে এসেছি, সেটিই করেছি। যখন মনে হয়েছে আমি আর উপকারী নই, ব্যাগ গুছিয়ে চলে এসেছি। আমার এই সিদ্ধান্তের পরিণতি পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের মূল্যায়ন ও শাস্তির আওতায় আসা উচিত। আমার বিশ্বাস, এখানে কোনো ধরনের ছাড় থাকা উচিত নয়। আমি শুধু আর দশজন খেলোয়াড়ের মতো নই। আমি দলের অধিনায়ক। সেটি বরং শাস্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। আমি ইতিমধ্যে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু আমি জানি, কাজের পরিণতি থাকতেই হয়। ফুটবলে আমার মতো দীর্ঘদিন থাকা যে কেউ জানেন, প্রত্যেকের অবস্থান বা মর্যাদা যা-ই হোক, নিয়ম সবার জন্য একই। এ বিষয়ে আমি অনেক কথা শুনেছি, আমার বিদায়ী ম্যাচ হওয়া উচিত, আমাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানানো উচিত এবং ফেডারেশন আমাকে সেই সুযোগ দিতে চায়। জীবনে ক্ষুধার্ত অবস্থায়, খাওয়ার মতো কিছু না থাকা অবস্থায় আমি শিখেছি, কেউ কাউকে বিনা কারণে কিছু দেয় না। আমি আমার সব ভক্তকে, বিশেষ করে পর্তুগালের জনগণকে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিশ্রুতি দিতে পারি, আমাদের একটি বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ হবে। এর জন্য সময় আছে। কিন্তু জাতীয় দলের কথা ভাবলে আমি যা ভাবি, তা হলো প্রতিযোগিতা করা। আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। যেদিন আমার বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছিলাম, সেদিনও আমি এটাই ভেবেছিলাম। আমি জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলাম এবং পরের দিনের ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার কোনো ক্লাবের জন্য যা করা সম্ভব নয়, দেশের জন্য আমি সেদিন সেটিই করেছিলাম। তাই আমি যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকি, ক্লাবের হয়ে খেলি এবং আশা করি গোলও করি, এরপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে তা শেষ করার পর আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলতে প্রস্তুত থাকব। আজ পর্যন্ত আমি যেমন প্রস্তুত ছিলাম, তেমনই দেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং জিততে প্রস্তুত থাকব। বিশ্বাস করুন, এটাই সবচেয়ে নির্মল সত্য। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচটিও হয়ে থাকল তাঁর নিজের মতোই- গোল, অ্যাসিস্ট আর আবেগে মোড়ানো। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমে বেনিনের বিপক্ষে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে ম্যাচটি ঘিরে শুরু থেকেই ছিল বিদায়ের আবহ। ম্যাচ শুরুর আগে বিশাল ‘গ্রাসিয়াস’ লেখা ১০ নম্বর জার্সি মাঠে মেলে ধরা হয়। আর ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে মেসিকে এক মিনিট ধরে সম্মান জানায় পুরো স্টেডিয়াম। গ্যালারিজুড়ে তখন শুধু ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাননি মেসি। ৭ মিনিটে তাঁর দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন বেনিনের গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকেও গোলের চেষ্টা করেন তিনি। ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বাড়ানো বল থেকে ভলিতে শট নিলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। তবে বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপট। ৪৮তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে আসে গোলটি। এরপর ৬০তম মিনিটে আবারও মেসির পাস থেকে গোল করেন নিকো পাজ। বাঁ দিক থেকে মেসির নিখুঁত পাস পেয়ে পাজ বল নিয়ন্ত্রণ করে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বেনিনের জালে পাঠান। ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সতীর্থকে গোল করিয়ে ব্যবধান বাড়ান মেসি। এর ১১ মিনিট পর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। বেনিনের ডিফেন্ডারের ফাউলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। ৭১তম মিনিটে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে গোলের খাতা খোলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ১২৬তম গোল। শেষ দিকে আরও একবার গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সের মধ্যে পেয়েও শট বাইরে মারেন তিনি। গোলটি হলে বিদায়ী ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স আরও বর্ণিল হয়ে উঠত। ম্যাচের আগে মেসি নিজের বিদায় নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি, নিজের সবটুকু দিয়েছি। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, গর্ব ও জীবন।’ ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর কেটে গেছে ২১ বছরেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ পথচলায় ছিল হতাশা, ব্যর্থতা, শিরোপার অপেক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের মতো সাফল্য। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পূর্ণতা পেলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তাঁর বিদায় নিয়ে তৈরি হয়েছিল অপেক্ষা। অবশেষে সেই বিদায়ও হলো তাঁর চেনা ছন্দে- গোল ও অ্যাসিস্টে। নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়ার সময় তাই শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় হয়নি; শেষ হয়েছে আর্জেন্টিনার হয়ে এক কিংবদন্তির মহাকাব্যিক অধ্যায়ের।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছেন লিওনেল মেসি। কিংবদন্তির বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে ম্যাচের ১০ মিনিটে থামিয়ে দেওয়া হলো খেলা। পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে এক মিনিট ধরে করতালিতে বিদায় জানাল আর্জেন্টিনার মহাতারকাকে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই মেসিকে ঘিরে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। ১০ মিনিটে রেফারি বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামিয়ে দিলে মাঠের খেলোয়াড়, বেঞ্চে থাকা কোচিং স্টাফ এবং গ্যালারির দর্শক- সবাই দাঁড়িয়ে পড়েন। মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সেই ভালোবাসা গ্রহণ করেন মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে তিনিও হাততালি দেন, পরে দর্শকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। টানা প্রায় এক মিনিট ধরে চলে এই বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন। বিদায়ী ম্যাচের আগে মেসির জন্য মাঠে নামানো হয় বিশাল আকারের ১০ নম্বর জার্সি। তবে সেখানে ছিল না তার নাম। লেখা ছিল ‘Gracias’। সেই দৃশ্যের পর থেকেই গ্যালারিতে শুরু হয় ‘মেসি, মেসি’ স্লোগান। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের শেষ হতে যাচ্ছে। ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নেমেছেন ২০৮ ম্যাচে। করেছেন ১২৬ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৬৮ গোল। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, অলিম্পিক স্বর্ণ- জাতীয় দলের হয়ে প্রায় সব বড় অর্জনই এসেছে তার ক্যারিয়ারে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতে অপূর্ণতা ঘোচানোর পর মেসি পরিণত হন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ফুটবল কিংবদন্তিদের একজন হিসেবে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। এরপর দেশের মাটিতে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। বিদায়ী ম্যাচের আগে মেসি বলেছিলেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। আমি আমার সর্বস্ব দিয়েছি। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, আমার গর্ব এবং আমার জীবন।’ আর বেনিনের অধিনায়ক সেসি দা’আলমেইদাও ম্যাচের আগে মেসিকে বিশেষ উপহার দেন। অ্যামাজন যোদ্ধার একটি মূর্তি ও একটি চিঠি তুলে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়কের হাতে। সব মিলিয়ে মনুমেন্টালে এ যেন শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়- একটি যুগের বিদায়ের সাক্ষী হওয়ার রাত।
আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের প্রথমার্ধ কেটেছে গোলশূন্যে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে ফিফা প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা-বেনিন দুই দলই গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও বল জালে পাঠাতে পারেনি কেউ। এস্তাদিও মনুমেন্টালে ঐতিহাসিক ম্যাচটি সময় মতো মাঠে গড়াতে পারেনি। নানা আনুষ্ঠানিকতা সারতে ১৫ মিনিট পিছিয়ে শুরু হয় ম্যাচ। ম্যাচের আগেই মাঠে উপস্থিত ৮৫ হাজারের দর্শকের অফুরন্ত ভালোবাসা পান মেসি। জাতীয় সংগীতের সময় আপ্লুত হতে দেখা যায় তাকে। এছাড়া ম্যাচের আগে বেনিনের পক্ষ থেকে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ উপহার। বিদায়ী ম্যাচে এখনও গোল না পেলেও সেরা খেলোয়াড় ওই মেসিই। গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। বেনিনের গোলমুখে নেওয়া প্রথম শটটিই ছিল তার। যদিও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক সেটি রুখে দেন। এরপর ফ্রি কিক থেকেও বল জালে জড়ানোর সুযোগ এসেছিল মেসির সামনে। এ যাত্রায়ও বাধা বেনিন গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু। প্রথমার্ধের শেষদিকে লাউতারো মার্টিনেজের দারুণ এক ক্রসে গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন মেসি। তবে ভলিতে নেওয়া তার শটটি পোস্ট ঘেঁষে চলে গেলে হতাশাই বাড়ে আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ীর। ম্যাচে বেনিনও গোলের সুযোগ তৈরি। লক্ষ্যে দুটি শট রাখলেও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দৃঢ়তায় অতিথিরাও গোলের দেখা পায়নি। এদিকে, খেলা চলাকালীন ১০ মিনিটের সময় বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামিয়ে দেন রেফারি। এসময় মাঠের খেলোয়াড়, বেঞ্চে থাকা কোচিং স্টাফ এবং গ্যালারির দর্শক- সবাই দাঁড়িয়ে পড়েন। মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সেই ভালোবাসা গ্রহণ করেন মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে তিনিও হাততালি দেন, পরে দর্শকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। টানা প্রায় এক মিনিট ধরে চলে এই বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন। বিদায়ী ম্যাচের আগে মেসির জন্য মাঠে নামানো হয় বিশাল আকারের ১০ নম্বর জার্সি। তবে সেখানে ছিল না তার নাম। লেখা ছিল ‘Gracias’। সেই দৃশ্যের পর থেকেই গ্যালারিতে শুরু হয় ‘মেসি, মেসি’ স্লোগান।
বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচ খেলার কিছুক্ষণ আগে ক্লাব রিবার প্লেইতের সম্মানসূচক সদস্য কার্ড পেলেন লিওনেল মেসি। স্বদেশের ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট স্তেফানো দি কার্লো এই সময়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের হাতে একটি স্মারক ও বিশেষ জার্সিও তুলে দেন। জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায় রাঙিয়ে রাখতে আয়োজনের কমতি নেই আর্জেন্টিনায়। তাকে সস্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে বুয়েন্স আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়। মেসির বিদায়ী ম্যাচ হচ্ছে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে। এখানেই রিবার প্লেইত প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে দি কার্লোর হাত থেকে উপহার গ্রহণ করেন মেসি। সামাজিক মাধ্যমে ছবি দিয়ে মহানায়ককে ধন্যবাদ জানায় আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। কার্ডে সাধারণ কোনো নাম্বার দেওয়া হয়নি। বিশেষ কার্ডে লেখা এআরজি ১৮১২২০২২। অর্থাৎ আর্জেন্টিনা ১৮ ডিসেম্বর ২০২২, কাতারে যেদিন জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিলেন মেসি। স্বদেশের সব ক্লাবের প্রতিই মেসি সম্মান দেখিয়ে এসেছেন। তবে রিবার প্লেইতের সঙ্গে তার সম্পর্ক বরাবরই খুব ভালো। এই ক্লাবের ঘরের মাঠ মনুমেন্তালে আছে তার অনেক সুখস্মৃতি। এখানে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলেছেন, প্রীতি ম্যাচ খেলেছেন, জাতীয় দলের হয়ে জেতা চারটি শিরোপা ভক্তদের সঙ্গে উদযাপন করেছেন। মনুমেন্তালে ২৮ ম্যাচ খেলে কোনোটিতেই হারেননি মেসি। এখানে তিনি গোল করেছেন মোট ১৯টি। ২০০০ সালে ১৩ বছর বয়সে রিবার প্লেইতে যোগ দেওয়ার খুব কাছেই ছিলেন মেসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি চলে যান বার্সেলোনায়। কাতালান ক্লাবটির হয়েই ২০১৫ ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে প্লেইতের মুখোমুখি হন তিনি। ৩-০ ব্যবধানের জয়ে একটি গোল করেন মেসি। ওই গোল উদযাপন না করে ইয়োকোহামা স্টেডিয়ামে ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি।
এইতো শেষবার! ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীতের সময় তাই নিজেকে ধরে রাখতে বেশ বেগ পেতে হলো লিওনেল মেসিকে। মহাতারকার চোখের কোণে দেখা গেল জল। বিদায়ী ম্যাচের জন্য অনুশীলন কমপ্লেক্স থেকে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আসতে সময় লাগে এক ঘণ্টার বেশি। রাস্তায় নেমে আসেন ভক্তরা। সে সময়ও মেসির চোখে দেখা যায় জল। বিশেষ জার্সি পরে সতীর্থদের সঙ্গে ওয়ার্মআপ করেন মেসি। দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেন তিনি। গ্যালারিতে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ী দলের আনহেল দি মারিয়া, হার্মান পেস্সেইয়া, হন্সালো মন্তিয়েল, মার্কুস আকুনা ও আনহেল কোররেয়া আছেন মাঠে। চোট নিয়েও এসেছেন থিয়াগো আলমাদা। আমন্ত্রণ পেলেও নানা কারণে আসতে পারেননি পাউলো দিবালা, নাউয়েল মলিনা, ফ্রাঙ্কো আরমানি ও হুয়ান ফয়থ। বিশেষ এক বল দিয়ে হচ্ছে বেনিনের বিপক্ষে মেসির বিদায়ী ম্যাচ। বলে দুটি লরেল পুষ্পস্তবকের মাঝে ১০ নম্বর লেখা হয়েছে এবং উপরে রাখা হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকা। ম্যাচের তারিখের সঙ্গে লেখা হয়েছে ‘এল আল্তিমো বেইলে’ বা ‘দা লাস্ট ড্যান্স।’ বিশেষ একটি জার্সি পরে খেলছেন মেসি। দুটি নীল রঙয়ের স্ট্রাইপের মাঝে আছে একটি লম্বা সাদা স্ট্রাইপ। জাতীয় পতাকার সূর্য রাখা হয়েছে মাঝে। মেসির নাম ও নম্বর লেখা হয়েছে সোনালী রঙয়ে। ম্যাচের আগে প্রদর্শন করা হয়েছে মেসির বিশাল এক জার্সি। যেমনটা দেখা গিয়েছিল রোসারিওতে। ৩০ মিটার দীর্ঘ ওই জার্সির ছবি ও ভিডিও দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছিল ভক্তদের মাঝে।
আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। মেসির সেই বিদায়ী মুহূর্তের আগে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক সতীর্থ নেইমার। বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। প্রায় দুই দশক ধরে আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে থাকা মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘিরে এরই মধ্যে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মেসির বিদায়ের আবেগ অবশ্য সীমাবদ্ধ থাকছে না আর্জেন্টিনায়। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন নেইমার। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমার লিখেছেন, ‘যারা ফুটবল ভালোবাসে, তারা বছরের পর বছর তোমাকে উপভোগ করেছে। আজ তোমার দল ও দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচ। আশা করি, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবে।’ মেসির অবদানের জন্য শুধু আর্জেন্টিনা নয়, বিশ্বের সব ফুটবলপ্রেমীর পক্ষ থেকেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নেইমার। তাঁর ভাষায়, ‘শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো বিশ্ব তোমাকে ধন্যবাদ জানায় ফুটবলের জন্য তুমি যা করেছ তার জন্য। তুমি আমাকে ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শিখিয়েছ।’ মেসির বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতাকেও বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। নেইমার বলেন, ‘তোমার বিপক্ষে খেলতে পারা ছিল সম্মানের, আর তোমার সঙ্গে ইতিহাস গড়তে পারা ছিল আরও বড় সম্মানের। ধন্যবাদ, লিও।’ মেসি ও নেইমারের বন্ধুত্বের গল্প অবশ্য বহু পুরোনো। বার্সেলোনায় লুইস সুয়ারেজকে সঙ্গে নিয়ে মেসি-নেইমার গড়ে তুলেছিলেন ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ। পরে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়েও আবার সতীর্থ হন তাঁরা। মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব ছিল গভীর। কিশোর বয়সে আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর প্রায় দুই দশক ধরে দলটির সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে খেলেছেন মেসি। বড় টুর্নামেন্টের একাধিক ফাইনালে ব্যর্থতার কারণে দীর্ঘ সময় সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় শিরোপা পান মেসি। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয় এবং আরও আন্তর্জাতিক সাফল্য তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেয়। এবার সেই আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে মেসি। আর বিদায়ী ম্যাচের আগে নেইমারের বার্তায় ফুটে উঠল দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও বন্ধুর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা এবং আবেগ।
লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ। প্রতিপক্ষ বেনিন। এমন ঐতিহাসিক ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে আটকানোর পরিকল্পনা থাকার কথা প্রতিপক্ষের। কিন্তু বেনিনের এক খেলোয়াড় জানিয়ে দিলেন অবাক করা পরিকল্পনার কথা। হ্যাঁ, বিদায়ী ম্যাচে লিওনেল মেসিকে মার্কিং করার কোনো ইচ্ছাই নেই তাদের! বরং মেসিকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে মুহূর্তটি উপভোগ করতে চায় তারা। এমনকি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ও চান! আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে এরই মধ্যে উত্তেজনায় ফুটছে বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে বেনিনের ডিফেন্ডার তিজানি মোহামেদ কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম সিফাইভএন-এর সঙ্গে। সেখানেই মেসিকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান তিনি। তিজানি বলেন, ‘আমরা মেসিকে মার্কিং করব না। আমরা শুধু এই ম্যাচটা উপভোগ করব। আমি তাকে দেখব এবং বলব…মেসি, তুমি একজন কিংবদন্তি।’ শুধু তাই নয়, মেসিকে ‘বিশ্বের সেরা’ খেলোয়াড় বলেও অভিহিত করেছেন বেনিনের এই ডিফেন্ডার। তার মুগ্ধতা এতটাই যে, ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ই চান তিনি। তিজানির কথায়, ‘সে বিশ্বের সেরা। আমি আশা করি আর্জেন্টিনাই জিতবে।’ মেসির জন্য রাতটি যে অন্যরকম, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১২৫ গোল করা এই মহাতারকা এবার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন। তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়, যে ট্রফিটি নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে বেনিনের জন্যও এই ম্যাচটি সহজে আসেনি। আর্জেন্টিনায় পৌঁছাতে দলটিকে প্রায় ২৩ ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমণ করতে হয়েছে। থাকার ব্যবস্থাও তাদের প্রত্যাশামতো ছিল না। এতসব ঝামেলার পরও মেসির বিদায়ী ম্যাচের অংশ হতে পেরে রোমাঞ্চিত তারা। তিজানি বলেন, ‘এই উদ্যাপনকে নিখুঁত করতে আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেব।’ মেসিকে থামানোর বদলে তাকে উপভোগ করতে চান প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়। জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচের আগে এর চেয়ে বড় সম্মান আর কীই-বা হতে পারে আর্জেন্টাইন মহাতারকার জন্য!
১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো যে নীল-সাদা জার্সিটি গায়ে চাপিয়েছিলেন, ৩৯ বছর বয়সে এসে সেটি তুলে রাখতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের মহাতারকাকে এক স্মরণীয় ও জমকালো বিদায় জানাতে আফ্রিকান দেশ বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা নামতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রূপকথার মতো ‘মেসি অধ্যায়’। বুয়েনস এইরেসের ৮৫ হাজারেরও বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামটি যে প্রিয় নায়ককে বিদায় জানাতে কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে, তা বলাইবাহুল্য। এ ছাড়া ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের যেসব সদস্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন, তারাও মাঠের গ্যালারিতে কিংবা উপস্থিত থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মেসির শেষ নাচের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। আর্জেন্টাইন সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভৌগোলিক সময়ের ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশি ভক্ত-সমর্থকদের জন্য মেসির এই ঐতিহাসিক শেষ ম্যাচটি সরাসরি দেখা বেশ কষ্টসাধ্য হবে। ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘুম থেকে জাগতে হবে তাদের। বুয়েনস এইরেসে যখন বাঁশি বাজবে, তখন বাংলাদেশের ঘড়ির কাঁটায় সময় হবে বুধবার ভোর ৫টা। খেলার সূচি মেনে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলেও বাংলাদেশিদের জন্য ম্যাচটি সরাসরি দেখা হবে এক চরম সংগ্রামের বিষয়। কারণ বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেল বা স্থানীয় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না। তবে ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বা মিডিয়া অ্যাপ ‘জি-ফাইভ’-এর সাবস্ক্রিপশন থাকলে সহজে ম্যাচটি উপভোগ করা সম্ভব হবে, কারণ ভারতীয় উপমহাদেশে কেবল এই অ্যাপেই ম্যাচটি দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন থার্ড-পার্টি এপের উপর নির্ভর করে বাংলাদেশি ভক্তরা ম্যাচটি দেখার সুযোগ পাবেন।
আর বাকি মাত্র কয়েক প্রহর। আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসি অধ্যায়ের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে এক বর্ণাঢ্য গল্পের মধ্য দিয়ে। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে ১০৫ গোল—এই অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। অথচ শুরুটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। লাল কার্ড, ব্যর্থতা, ফাইনালে হার এবং তীব্র সমালোচনার মধ্য দিয়ে এগোতে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত সেই মেসিই আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন একের পর এক বড় শিরোপা। চলুন এই কিংবদন্তির মহাকাব্যিক যাত্রা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক- ২০০৫: অভিষেকেই লাল কার্ড আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ভিলমোস ভানচাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর রেফারি মার্কুস মের্ক তাকে লাল কার্ড দেখান। মাঠ ছাড়ার সময় চোখে পানি ছিল তরুণ মেসির। ২০০৬: দুর্দান্ত শুরু, শেষটা হতাশার সার্বিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে অভিষেকেই নজর কাড়েন মেসি। আর্জেন্টিনা ম্যাচটি জেতে ৬-০ গোলে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় দল। অতিরিক্ত সময়ে মেসিকে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্তের কারণে কোচ হোসে পেকেরমানকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। ২০০৭: প্রথম ফাইনালেই পরাজয় ভেনেজুয়েলায় কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা। এটি ছিল মেসির প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ফাইনাল। রিকেলমেসহ অভিজ্ঞদের ছায়ায় থাকা মেসিকেও এরপর থেকে জাতীয় দলের হয়ে পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ২০১০: ম্যারাডোনার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি দিয়েগো ম্যারাডোনা মেসির ওপর আস্থা রেখে তাকে নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে সেই আস্থা পুরোপুরি ফেরাতে পারেননি মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে গোল না পাওয়ায় মেসিকে ঘিরে সমালোচনা আরও তীব্র হয়। ২০১১: সমালোচনার তীব্রতা বাড়ে ঘরের মাঠে কোপা আমেরিকাতেও ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় তারা। এরপর মেসির জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আরও প্রশ্ন ওঠে। এমনকি তাকে এমন খেলোয়াড় হিসেবেও কটাক্ষ করা হয়, যিনি ক্লাবের মতো জাতীয় দলের হয়েও নিজের সেরা খেলাটা দিতে পারেন না। ২০১৪: বিশ্বকাপের খুব কাছে গিয়েও শিরোপা হারানো ব্রাজিল বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দারুণভাবে এগিয়ে যায় ফাইনাল পর্যন্ত। কিন্তু শেষ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়। ম্যারাডোনার পাশে নিজের নাম লেখানোর বড় সুযোগ হাতছাড়া করেন মেসি। ২০১৫: চিলির কাছে আরেক ফাইনাল হার কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। আরও একটি ফাইনাল পরাজয় যোগ হয় মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে। নেতৃত্ব ও শিরোপা জেতার ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনাও বাড়তে থাকে। ২০১৬: অবসরের ঘোষণা কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালেও প্রতিপক্ষ ছিল চিলি। ম্যাচের পর টাইব্রেকারে আবারও হারে আর্জেন্টিনা। শুটআউটে নিজের পেনাল্টি মিস করার পর ভেঙে পড়েন মেসি। এরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ২০১৮: প্রত্যাবর্তন, কিন্তু শিরোপা অধরা অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আবার জাতীয় দলে ফেরেন মেসি। তবে রাশিয়া বিশ্বকাপেও অপেক্ষার অবসান হয়নি। শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের হয়ে মেসির শিরোপা জয়ের প্রশ্নটি তখনও অমীমাংসিত। ২০১৯: ব্রাজিলের কাছে আবারও থেমে যাওয়া কোপা আমেরিকায় মেসির ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ছিল এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট। সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে হেরে আবারও শিরোপা থেকে দূরে সরে যায় আর্জেন্টিনা। তখন পর্যন্ত তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে হতাশার অধ্যায়ই যেন বেশি দীর্ঘ ছিল। ২০২১: বদলে গেল মেসির গল্প এরপরই আসে বড় পরিবর্তন। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে নতুনভাবে গড়ে ওঠা আর্জেন্টিনা দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মেসি। মারাকানায় কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটায় আর্জেন্টিনা। মেসিও পান তার প্রথম মেজর আন্তর্জাতিক ট্রফি। এরপর ওয়েম্বলিতে ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা জেতে আর্জেন্টিনা। মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গল্প তখন ব্যর্থতা থেকে সাফল্যের দিকে মোড় নেয়। ২০২২: পূরণ হলো বিশ্বকাপের স্বপ্ন কাতার বিশ্বকাপ হয়ে ওঠে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পথে একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে অবশেষে পূর্ণতা পায় তার বিশ্বকাপের স্বপ্ন। যে মেসিকে একসময় জাতীয় দলের হয়ে ব্যর্থতার জন্য সমালোচিত হতে হয়েছিল, বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই মেসিই আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান। ২০২৪: আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা বিশ্বকাপ জয়ের পরও থামেনি আর্জেন্টিনার সাফল্য। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়াকে হারিয়ে আরও একটি শিরোপা ঘরে তোলে আলবিসেলেস্তে। মেসির নেতৃত্বে দলটি তখন পরিণত হয় বিশ্বের অন্যতম সফল জাতীয় দলে। ২০২৬: শেষ অধ্যায়েও অনন্য মেসি ৩৯ বছর বয়সে এসে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেন মেসি। আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যান স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটি হয়ত তুলে ধরা হয়নি, তবে বয়সের ভারকে পেছনে ফেলে এত দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যাওয়া তার অসাধারণ স্থায়িত্বেরই প্রমাণ। পরবর্তীতে কিলিয়ান এমবাপ্পে তার বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেও মেসির গল্প ম্লান হওয়ার নয়। কারণ তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আসল গল্প শুধু গোল বা পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। লাল কার্ড দিয়ে শুরু হওয়া সেই যাত্রা পেরিয়েছে অসংখ্য পরাজয়, সমালোচনা, অবসর ঘোষণা ও প্রত্যাবর্তনের অধ্যায়। শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়, বিশ্বকাপের গৌরব এবং আর্জেন্টিনার মানুষের ভালোবাসায় পূর্ণ হয়েছে সেই গল্প। ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার এই দীর্ঘ পথই মেসিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের চিরস্মরণীয় কিংবদন্তিদের একজন করে তুলেছে।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচের সঙ্গে শেষ হতে যাচ্ছে তার বর্ণিল আন্তর্জাতিক অধ্যায়ও। বুধবার ভোরে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আলবিসেলেস্তেদের হয়ে আর মাঠে দেখা যাবে না এই মহাতারকাকে। পেছনে পড়ে থাকবে কিছু অমর স্মৃতিসহ অনন্য সব কীর্তি। এর মধ্যে এমন চারটি রেকর্ড রয়েছে, যেগুলো ছোঁয়া পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে। আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া নিঃসন্দেহে এমন একটি রেকর্ড, যেটি ছোঁয়া যে কারও জন্যই কঠিন। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ২০৭ ম্যাচে মেসি পেছনে ফেলেছেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার ৫৬ গোলের রেকর্ড। তার নামের পাশে এখন ১২৫ গোল। যেখানে ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ০.৬০। সক্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা লাওতারো মার্তিনেজের গোল ৪২টি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যাচ খেলার সংখ্যাতেও সবার ওপরে মেসি। আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে তার ম্যাচ এখন ২০৭টি। শুধু আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ নয়, পুরো মহাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যেও এই সংখ্যার ধারেকাছে কেউ নেই। মেসির পেছনে রয়েছেন হাভিয়ের মাসচেরানো। খেলেছেন ১৪৭ ম্যাচ। অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া ও হাভিয়ের জানেত্তির ম্যাচ ১৪৫টি করে। নিকোলাস ওতামেন্দি খেলেছেন ১৩৯ ম্যাচ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর ওতামেন্দিও আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও গোল ২০২৬ বিশ্বকাপে চতুর্থ তারকা যোগ করার স্বপ্ন পূরণ হয়নি আর্জেন্টিনার। তবে মেসির ব্যক্তিগত রেকর্ডের খাতায় যোগ হয়েছে আরও একটি ঐতিহাসিক কীর্তি। কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে তার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াই জমে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত ২২ গোল নিয়ে ফরাসি তারকা এমবাপ্পে এগিয়ে গেছেন। তবে মেসির ২১ গোলই তাকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার পেছনে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। তার গোল ১০টি। গিয়ের্মো স্তাবিলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার গোল ৮টি করে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও মেসির দখলে। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে বিশ্বকাপে তিনি খেলেছেন ৩৪ ম্যাচ। তার পেছনে রয়েছেন ম্যারাডোনা। খেলেছেন ২১ ম্যাচ এবং মাসচেরানো ২০ ম্যাচ নিয়ে তার পরেই রয়েছেন। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা মহাদেশীয় পর্যায়েও মেসি রেখে যাচ্ছেন বিশাল এক রেকর্ড। কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তার গোলসংখ্যা ৩১। এই কীর্তিতে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। তবে তার ইন্টার মায়ামির সতীর্থ ও বন্ধু লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে রেকর্ডটি ভাগাভাগি করেছেন। তাদের পেছনে রয়েছেন বলিভিয়ার মার্সেলো মোরেনো মার্টিনস। তার গোল ২২। হার্নান ক্রেসপোর গোল ১৯টি। চিলির অ্যালেক্সিস সানচেজ করেছেন ২০ গোল এবং উরুগুয়ের এদিনসন কাভানি ১৭ গোল। এদের সবাই ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন।
আত্মবিশ্বাসী শুরু করেও পিছিয়ে পড়ল তুরস্ক। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা টেনে প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার আশা জাগাল তারা। কিন্তু পরে আরও দুটি গোল করে জয়ের আনন্দে ভাসল ইতালি। বোলোনিয়ায় সোমবার উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। জানলুকা স্কামাক্কার গোলের পর আরাল শিমশিরের নৈপুণ্যে সমতা টানে তুরস্ক। পরে রিকার্দো কালাফিওরির গোলে ইতালি আবার এগিয়ে যাওয়ার পর, জয নিশ্চিত করা গোলটি করেন পিও এস্পোজিতো। এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপে চার ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ইতালি। একই সময়ে শুরু আরেক ম্যাচে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ফরাসিরা। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেলজিয়ানরা। এখনও কোনো পয়েন্ট না পাওয়া তুরস্কের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে গেছে। আগের তিন ম্যাচে আটটি গোল খেয়ে কেবল একটি করতে পারা তুরস্ক এবার শুরুটা বেশ আত্মবিশ্বাসী করে। চার মিনিটের মধ্যে তিনটি সুযোগ তৈরি করে তারা, তবে জানলুইজি দোন্নারুম্মার দেয়াল ভাঙতে পারেনি। ত্রয়োদশ মিনিটে ওজান কাবাকের ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে আটকে দেন ইতালির গোলরক্ষক। ষোড়শ মিনিটে সালিহ ওজকানের শটও আটকে দেন তিনি। পরের মিনিটে নিজেদের ভুলেই বিপদে পড়তে যাচ্ছিল স্বাগতিকরা; তবে অরক্ষিত আকগুনের হেড ঠেকাতে বেগ পেতে হয়নি আগের ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে সাতটি সেভ করা দোন্নারুম্মার। ২৬তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগেই এগিয়ে যায় ইতালি। ডান দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে ছয় গজ বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের একজনের গায়ে লেগে বল পেয়েই শট নেন জানলুকা স্কামাক্কা, ক্রসবারে লেগে জালে জড়ায় বল। জাতীয় দলের হয়ে এটা তার দ্বিতীয় গোল। প্রথমটি করেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইউরো বাছাইয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের নবম মিনিটে সমতায় ফিরতে পারতো তুরস্ক, কিন্তু ছয় গজ বক্সের বাইরে অরক্ষিত শিমশিরের হেড রক্ষণে প্রতিহত হয়। চার মিনিট পর অন্যপাশে ইসা দুম্বিয়ার শট রুখে দেন তুর্কি গোলরক্ষক। ৬১তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় তুরস্ক। সতীর্থের ব্যাকহিল পাস গোলমুখে ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে জালে ঠেলে দেন শিমশির। জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে এবং প্রথমবার শুরুর একাদশেই খেলতে নেমে গোলের খাতা খুললেন এই উইঙ্গার। সফরকারীদের স্বস্তি অবশ্য তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। ডান দিকে ফ্রি কিক পেয়ে ডি-বক্সে ক্রস বাড়ান নিকোলো বারেল্লা, আর লাফিয়ে কোনাকুনি হেডে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রিকার্দো কালাফিওরি। জাতীয় দলের জার্সিতে ১৭ ম্যাচে প্রথম গোল করলেন এই ডিফেন্ডার। ৭৮তম মিনিটে আবারও ভীতি ছড়ায় তুরস্ক। জোরাল শট নেন ওজকান, দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল বাইরে পাঠান দোন্নারুম্মা। নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট বাকি থাকতে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন এস্পোজিতো। আলেস্সান্দ্রো রোমানোর শট প্রায় লক্ষ্যেই ছিল, তবে মাঝপথে পা বাড়িয়ে বলের দিক পাল্টে স্কোরলাইনে নাম লেখান ২১ বছর বয়সি স্ট্রাইকার। তুরস্কের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও একটি গোল করেন তিনি। ইতালির ডাগআউটে দ্বিতীয় মেয়াদে এসে ঘরের মাঠে প্রথম জয় পেলেন রবের্তো মানচিনি।
জার্মান জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতিতেই জশুয়া কিমিচকে ঘিরে আলোচনায় এসেছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে ক্লপের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন জার্মানির সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক অলিভার কান। আন্তর্জাতিক বিরতির শুরুতে ৪৪ সদস্যের স্কোয়াডের প্রথম ধাপের জন্য কিমিচকে দলে রেখেছিলেন ক্লপ। নেদারল্যান্ডস ও গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর তাকে ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে কিমিচ জাতীয় দলের সঙ্গে থেকে যেতে চেয়েছিলেন এবং ক্লপের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেছিলেন বলে জানা যায়। এরপর কিমিচকে ছাড়াই সার্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতে জার্মানি। ওই ম্যাচে টম বিশফ, আলেক্সান্দার পাভলোভিচ ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজের মাঝমাঠের পারফরম্যান্স প্রশংসা পাওয়ার পর জাতীয় দলে কিমিচের জায়গা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ক্লপ বলেছিলেন, কিমিচকে ছাড়া দল কীভাবে পারফর্ম করে, সেটিও তিনি দেখতে চেয়েছেন। ক্লপের এই বক্তব্যই ভালোভাবে নেননি অলিভার কান। কানের মতে, কিমিচকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য প্রকাশ্যে না করাই ভালো। তার দৃষ্টিতে, এমন বক্তব্য জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়কে কিছুটা খাটো করে দেখানোর বার্তা দিতে পারে। অবশ্য ক্লপ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কিমিচকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। বরং জার্মানির মাঝমাঠে একাধিক যোগ্য খেলোয়াড় তৈরি ও যাচাই করতেই তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। তার মতে, কিমিচ বনাম অন্য খেলোয়াড়—এমন তুলনামূলক বিতর্কও এখনই শুরু হওয়ার কথা নয়। এদিকে কিমিচের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চললেও জার্মানির স্পোর্টিং ডিরেক্টর রুডি ফোলার প্রকাশ্যেই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে তিনি ‘দারুণ অধিনায়ক’ ও ‘দারুণ খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জার্মানির হয়ে আগামী দিনগুলোতে কিমিচের কাছ থেকে আরও অনেক কিছু পাওয়ার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন ফোলার।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল জাতীয় দলে ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কোচ জর্জে জেজুসের সঙ্গে টানাপোড়েনের পর সম্প্রতি জাতীয় দল ছেড়ে যান পর্তুগিজ তারকা। এরপর থেকেই গুঞ্জন চলছে, দেশের জার্সিতে হয়তো আর দেখা যাবে না তাকে। তবে সতীর্থদের কাছে রোনালদোর মর্যাদা এখনো আগের মতোই অটুট। পর্তুগালের ফুলব্যাক জোয়াও কান্সেলো বলেছেন, রোনালদোই তাদের অধিনায়ক এবং জাতীয় দলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। তার বিশ্বাস, সব পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সম্মানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান হবে। নেশন্স লিগে রবিবার নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও কান্সেলোর দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে দলটি। পরে গনসালো রামোসের গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। চার ম্যাচে চার জয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালও নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে রোনালদো প্রসঙ্গে কান্সেলো বলেন, রোনালদো পর্তুগালের অধিনায়ক এবং জাতীয় দলের সবচেয়ে বড় প্রতীক। তিনি বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আমাদের অধিনায়ক এবং আমাদের জাতীয় দলের প্রতীক। আমাদের সর্বকালের সেরা তিনি। পর্তুগালের জন্য তিনি কী করেছেন এবং এই দেশকে কতটা প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তা সবাই জানে। আমি বিশ্বাস করি, সবকিছু সবচেয়ে ভালোভাবেই শেষ হবে। আমরা চাই পরিস্থিতিটি শান্তভাবে এবং ক্রিশ্চিয়ানোর প্রাপ্য সম্মানের সঙ্গে সমাধান হোক।’ রোনালদো জাতীয় দলে ফিরলে তাকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আরেক পর্তুগিজ তারকা নুনো মেন্দেস। তিনি বলেন, জাতীয় দলে ফিরলে রোনালদোকে সতীর্থরা দুহাত বাড়িয়ে স্বাগত জানাবেন। এদিকে রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি কোচ জর্জে জেজুস। তিনি জানিয়েছেন, রোনালদো আল-নাসরে খেললে পরবর্তী জাতীয় দলের স্কোয়াডে তাকে ডাকা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রোনালদোকেই নিতে হবে। জেজুস বলেন,‘ক্রিস যদি চায়, অবশ্যই জাতীয় দলে ফিরবে। পরবর্তী স্কোয়াড ঘোষণার আগে আমরা তার সঙ্গে কথা বলতে পারি। তবে সিদ্ধান্তটা ক্রিসকেই নিতে হবে।’
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রভাব শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও তার ভূমিকা অনন্য—এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী মানুয়েল কাস্ত্রো আলমিদা। তার মতে, রোনালদো হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যার কারণে বিশ্বের বহু মানুষ পর্তুগালকে চেনে। এমনকি রোনালদোকে দেশের সুনাম বৃদ্ধিকারী ‘সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান’ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে রোনালদোর হঠাৎ বিদায় নিয়ে যখন আলোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই এমন মন্তব্য করলেন পর্তুগিজ মন্ত্রী। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য রেসিডেন্ট’-এ প্রচারিত এক বক্তব্যে আলমিদা জানান, বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে রোনালদো এক বিশাল সম্পদ। তিনি বলেন, ‘পর্তুগালের প্রচার ও প্রসার বাড়াতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রভাব অপরিসীম।’ তারকা ফুটবলারকে পর্তুগালের ‘সবচেয়ে বিখ্যাত কোনো প্রতিষ্ঠানের’ সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি। তবে রোনালদো ও কোচ জর্জ জেসুসের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি অর্থমন্ত্রী। নিজেকে ফুটবল বিশেষজ্ঞ না দাবি করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কে ঠিক বা কে ভুল তা বিচার করার এখতিয়ার তার নেই। বরং দেশের বাইরে রোনালদোর বৈশ্বিক প্রভাবের দিকেই নজর কাস্ত্রো আলমিদার। তার মতে, এই আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণেই রোনালদো দেশের জন্য একটি অনন্য সম্পদে পরিণত হয়েছেন, ‘পর্তুগালের ভাবমূর্তি ও সুনাম বৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিস্টিয়ানোর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পর্তুগাল যেন প্রতিনিয়ত তার এই প্রভাব থেকে সুবিধা পেতে পারে, সেটাই হবে সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয়।’ এদিকে উয়েফা নেশনস লিগের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে রোববার রাতে নরওয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পর্তুগাল। অন্যদিকে আল-নাসর তারকা রোনালদো তার ক্লাবে যোগ দিতে ইতোমধ্যে মাদ্রিদ হয়ে রিয়াদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
বসনিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে হারের স্মৃতি এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় ইতালির সাবেক কোচ জেনারো গাত্তুসোকে। ওই ম্যাচের পর কয়েক মাস পর্যন্ত ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বসনিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন গাত্তুসো। তিনি জানান, মানসিকভাবে সেই সময় পার করা তার জন্য বেশ কঠিন ছিল। ঘুমানোর জন্য নিজেকে শারীরিকভাবে ক্লান্ত করতে দীর্ঘ সময় হাঁটতেন বলেও জানান সাবেক এই ইতালিয়ান তারকা। গাত্তুসো বলেন, ফুটবলে অনেক সময় ছোট ছোট ঘটনাই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে দলের খেলোয়াড় ও স্টাফরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, ওই ম্যাচের স্মৃতি জীবনের বাকি সময়ও তার মনে একটি ক্ষত হয়ে থাকবে। তবে ম্যাচের ফলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করতে চান না তিনি। বিশেষ করে আলেসান্দ্রো বাস্তোনির লাল কার্ডের প্রসঙ্গে গাত্তুসো বলেন, ভুল ফুটবলেরই অংশ। কোনো খেলোয়াড় ইচ্ছা করে লাল কার্ড দেখেন না। তাই বাস্তোনির প্রতি অভিযোগ না রেখে তার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। গাত্তুসোর মতে, একটি ম্যাচ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু ফলাফল দেখলেই হবে না। দল কীভাবে খেলেছে এবং মাঠে কী ধরনের ইতিবাচক কাজ করেছে, সেগুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। সেই ম্যাচের পরের সময়ের কথা বলতে গিয়ে গাত্তুসো বলেন, প্রথম কয়েক মাস তার ঘুমাতে বেশ সমস্যা হতো। নিজেকে ক্লান্ত করে তুলতে দীর্ঘ সময় হাঁটতেন, যাতে শেষ পর্যন্ত ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। গাত্তুসোর মতে, ওই হার তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা হলেও দলের ইতিবাচক দিকগুলোও স্মরণে রাখা উচিত।
জাতীয় দলের হয়ে লিওনেল মেসির গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটতে চলেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচেই শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামবেন বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই বিদায়ী ম্যাচে তার পরিহিত আইকনিক আর্মব্যান্ডটি ফুটবল ইতিহাসের এক চিরন্তন স্মারক হিসেবে সংরক্ষিত হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচের পর এই আর্মব্যান্ড বিশেষ মর্যাদায় সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির অন্যতম সুরক্ষিত এক জাদুঘরে স্থান পাবে এটি। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আর্মব্যান্ড আর কখনোই কেউ পরতে পারবে না। ফলে খেলার মাঠের সাধারণ এক ক্রীড়া সামগ্রী রূপান্তরিত হবে দেশটির অমূল্য জাতীয় স্মৃতিচিহ্নে। এর আগে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনা অবসরের পর তার আর্মব্যান্ড একটি সংস্থার উদ্যোগে সংরক্ষণ হলেও মেসির ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে ঘটছে তা। অন্যান্য অধিনায়ক যেমন দানিয়েল প্যাসারেলা, আন্তোনিও রাত্তিন কিংবা হাভিয়ার মাসচেরানোর মতো কিংবদন্তিদের ব্যবহৃত আর্মব্যান্ড সাধারণত তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ বা বিভিন্ন প্রদর্শনীতে জায়গা পেলেও কোনো সরকারি বা জাতীয় জাদুঘরে স্থায়ী ‘অস্পর্শনীয় স্মারক’ হিসেবে সংরক্ষণের জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মেসির এই আর্মব্যান্ড সংরক্ষণ কেবল তার গোল, অ্যাসিস্ট বা শিরোপা জয়ের স্বীকৃতি নয়; বরং এটি এমন এক কিংবদন্তির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য, যার প্রভাব খেলার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে অনেক দূর। এটি হবে এক স্বর্ণযুগের বাস্তব প্রতীক—যা তুলে ধরবে মেসির অনন্য নেতৃত্ব এবং জাতীয় দলের জার্সির প্রতি তার গভীর আবেগঘন সম্পর্ক। সমর্থকদের জন্য এমন একটি স্মারক চিরতরে সুরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্তটি এক অনন্য সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। খুব কম ফুটবলারের ভাগ্যেই এমন সম্মান জোটে, যেখানে তাদের ব্যবহৃত পোশাক বা সামগ্রী দেশের ক্রীড়া ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে অমরত্ব পায়। মেসির এই আর্মব্যান্ডটি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের চিরন্তন প্রতীক হয়েই থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।