গত তিন বছরে ফুটবলে ব্রাজিলিয়ানদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যদিও জনসংখ্যার বেশিরভাগই ফুটবলকে অনুসরণ করেন। ডাটাফোলহার জরিপে উঠে এসেছে, ১৬ বছর বা তার ঊর্ধ্বের ৬৪ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান বলেছেন, ফুটবলে তাদের অনেক (২৮ শতাংশ) বা কিছু আগ্রহ (৩৫ শতাংশ) আছে। বাকি ৩৬ শতাংশ বলেছেন, তারা ফুটবল দেখেনই না। এই বিষয়ে আগের জরিপের সঙ্গে তুলনা করা যাক। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত জরিপে ৭২ শতাংশ উত্তর প্রদানকারী বলেছিলেন, তারা ফুটবল অনুসরণ করেন, ২৮% বলেছিলেন তাদের কোনো আগ্রহ নেই। মানে এবার ফুটবলে অনাগ্রহীর সংখ্যা ৮% কমেছে। এই গবেষণায় উঠে এসেছে, আরেকটি বড় ধরনের পার্থক্য। পুরুষদের মধ্যে ৭৭% বলেছেন, তারা ফুটবল অনুসরণ করেন। নারীদের মধ্যে এই হার ৫২%। ব্রাজিল ফুটবলে আগ্রহ হারানোর অন্যতম কারণ হচ্ছে, নিকট অতীতে তাদের তেমন কোনো সাফল্য নেই। ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। ২০০২ সালে জিতেছিল শেষ বিশ্বকাপ। তারপর সেরা সাফল্য তারা পেয়েছিল ২০১৪ সালে সেমিফাইনালে উঠে। আর শেষ আসরে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার শেষ ষোলোতেই থেমে গিয়েছিল তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা। তাছাড়া দলের পারফরম্যান্সেও মন্ত্রমুগ্ধ হওয়ার মতো কিছু চোখে পড়ে না। ছন্দহীন তাদের খেলার ধরন। ব্রাজিল কি ফিরে পাবে তাদের নান্দনিক ফুটবল খেলার ধরন, তাহলেই হয়তো ব্রাজিলিয়ানদের ফুটবলের প্রতি আগ্রহ আবার ফিরবে!
দ্বিতীয় দফায় রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে ফিরেই ‘স্পেশাল ওয়ান’খ্যাত হোসে মরিনহো স্কোয়াডে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসছেন। তার একের পর এক সাইনিংয়ে তৈরি হয়েছে মধুর সমস্যা! বার্নার্দো সিলভা, মার্ক কুকুরেয়া, ডেঞ্জেল ডামফ্রিস ও ইব্রাহিমা কোনাতে এসেছেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যু শিবিরে। ইয়ান দিওমান্দের আগমনও কার্যত নিশ্চিত, তবে স্প্যানিশ তারকা রদ্রিগো হার্নান্দেজকে পেতে বড় মুখ ছাটাই করতে হবে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে। গ্রীষ্মের দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি করতে গিয়েই রিয়ালকে আসল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কারণ ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় শুধু নতুন খেলোয়াড় আনলেই হবে না, খেলোয়াড় বিক্রির অনেক বেশি জটিল সমীকরণও বাস্তবায়ন করতে হবে। কেমন দল চান ইতোমধ্যেই তা নির্ধারণ করেছেন মরিনহো, কিন্তু এটি গড়তে মাঠের প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার পরিকল্পনার সঙ্গে খাপ খান না, খেলার সুযোগ পাওয়ার উপযোগী এবং বিক্রি করলে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হবে– এমন খেলোয়াড়ের ব্যবস্থাপনা হতে হবে ঠিকঠাক। এক্ষেত্রে প্রথমেই যে নামটি আলোচনায় আসছে, তা হলো ডিফেন্ডার রাউল অ্যাসেনসিও। এই মুহূর্তে লস ব্লাঙ্কোস থেকে তারই বিদায়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যদিও এই স্প্যানিশ সেন্টারব্যাক ছুটির সময়েও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন শুধুমাত্র মরিনিয়োকে সন্তুষ্ট রাখার লক্ষ্যে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্তুগিজ কোচের হাতে। পরবর্তী আলোচনা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে ঘিরে। ফরাসি এই তারকার চাহিদা এখনও রয়েছে, বিশেষত ইংল্যান্ডে। রিয়ালও বোঝে যে তাকে বড় অঙ্কের টাকায় বিক্রি করতে পারলে মরিনহোর কাছে অপরিহার্য রদ্রিকে দলে নেওয়া সহজ হয়ে যাবে। যদিও কামাভিঙ্গার সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে রিয়ালের। আবার ক্লাবও তাকে ছাড়ার কথা ক্লাব ভাবছে না, এবং তার বয়সী ও সম্ভাবনাময় একজন খেলোয়াড়কে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে রাজি নয়। তবে গত মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স না করায় কামাভিঙ্গা আর দলের অপরিহার্য খেলোয়াড় নন। তার জায়গা হয়নি ফ্রান্সের বিশ্বকাপ দলেও। রিয়ালের প্রাক-মৌসুমের আক্রমণভাগে একটি অপ্রত্যাশিত মোড় এসেছে। গঞ্জালো গার্সিয়ার ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন থাকলেও, তার সামর্থ্য দেখে মত বদলাতে পারেন মরিনহো। মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াল কোচের মতে– গার্সিয়ার মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অন্য কোনো স্ট্রাইকার নেই এবং তিনি এমন একজন নম্বর নাইন যে সেন্টার-ব্যাকদের আটকে রাখতে, বাতাসে বলের দখল নিতে এবং ম্যাচে ভিন্ন কৌশলের প্রয়োজনে বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ফলে তাকে ধরে রাখা অপরিহার্য বলে মনে করছেন মরিনিয়ো। যদিও কিলিয়ান এমবাপের স্বাভাবিক বিকল্প হওয়ায় তিনি গত মৌসুমে খুব কম খেলার সুযোগ পেয়েছেন। গার্সিয়া থেকে গেলে এর প্রভাব পড়বে ব্রাজিলিয়ান বিস্ময়বালক এন্ড্রিকের ওপর। তিনি নিজেকে কয়েক মাস আগের পরিস্থিতির মতোই এক অবস্থায় খুঁজে পেতে যাচ্ছেন! নিজের উন্নতি অব্যাহত রাখতে তার খেলার সুযোগ প্রয়োজন, কিন্তু আক্রমণভাগে প্রতিযোগিতা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রাক-মৌসুমে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে, তার অগ্রগতি যাতে আবারও থেমে না যায়, সেজন্য তাকে ধারে অন্য ক্লাবে পাঠানোর বিষয়টি একটি বাস্তব সম্ভাবনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনোর ক্ষেত্রেও একই বিবেচনা প্রযোজ্য। এই আর্জেন্টাইন তরুণ তার প্রথম অনুশীলন পর্ব থেকেই মরিনহোর ওপর এক অসাধারণ ছাপ ফেলেছেন। তার প্রতিভা সমস্ত প্রত্যাশাকে সত্যি প্রমাণ করেছে, এবং বার্নাব্যুতে নিজের ছাপ ফেলতে সক্ষম এই খেলোয়াড়ের ওপর ক্লাবের অটল আস্থা রয়েছে। ঠিক এই কারণেই, কয়েক সপ্তাহ আগেও যে সম্ভাবনাটি প্রায় বিবেচনাতেই আসেনি, তা এখন গতি পাচ্ছে। তার জন্য এমন একটি ঠিকানা খুঁজে বের করা যেখানে সে নিয়মিত খেলতে পারবে। সবমিলিয়ে মরিনিয়োকে এখন জটিল ধাঁধার সমাধান করতে হবে।
প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচে চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। যোগ করা সময়ে ব্রাজিলিয়ান তারকা রিচার্লিসনের গোলে জয় তুলে স্পার্সরা। ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও নাটকীয় এই জয় তুলে নেয় টটেনহ্যাম। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টটেনহ্যামের হয়ে ১৭ মিনিটে গোল করে লিড এনে দেন সান্দ্রো টোনালি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কেভিন ডানসো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় টটেনহ্যাম। ৪৯ মিনিটে চেলসির হয়ে সমতায় ফেরান এস্তেভাও। খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে জেমি ডনলির শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে বক্সে সবচেয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বল জালে পাঠান রিচার্লিসন।
ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে এক দশকের পথচলা শেষে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানে যোগ দিয়েছেন জন স্টোন্স। গত জুনে সিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ফ্রি এজেন্ট ছিলেন এই ইংলিশ ডিফেন্ডার। সেরি আ চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছেন তিনি। গণমাধ্যমের খবর, ইতালিয়ান ক্লাবটিতে প্রতি মৌসুমে ৪০ লাখ ইউরো পাবেন স্টোন্স। সিটির হয়ে ১০ বছরে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ আরও অনেক শিরোপা জিতেছেন তিনি। সিটি অধ্যায় শেষ করে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে যান ৩২ বছর বয়সী এই সেন্টার-ব্যাক। ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হওয়া ইংল্যান্ডের আট ম্যাচের পাঁচটিতে খেলেন তিনি। ক্যারিয়ারে এই প্রথম দেশের বাইরের কোনো ক্লাবে খেলবেন স্টোন্স।
নিয়ম ভঙ্গের অপরাধে চেলসিকে ১ কোটি পাউন্ড জরিমানা করেছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। একই সঙ্গে ক্লাবটির ওপর টানা দুই ট্রান্সফার উইন্ডোর জন্য খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, সেটি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় এফএ। বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশনের তদন্তে চেলসির বিরুদ্ধে আনা ৭৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। শুরুতে ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়ার শাস্তি দেওয়া হলেও, আপিলে সেটি বাতিল হয়। পরিবর্তে স্থগিত ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ফুটবল এজেন্ট, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কাজ এবং খেলোয়াড়দের চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগসংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ আনে এফএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব অনিয়মের বেশির ভাগই রোমান আব্রামোভিচের মালিকানাকালে ২০১০-১১ থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুমের মধ্যে ঘটেছে। এফএ বলছে, শুনানির আগেই ৭৪টি নিয়ম ভঙ্গের কথা স্বীকার করে চেলসি। এরপর ১ কোটি পাউন্ড জরিমানা ও স্থগিত ছয় পয়েন্ট কাটার শাস্তি দেয় স্বাধীন কমিশন। পরে আপিল বোর্ড পয়েন্ট কাটার সিদ্ধান্ত বাতিল করে তার পরিবর্তে দুই ট্রান্সফার উইন্ডোর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে। ২০২২ সালে মালিকানা বদলের পর বিষয়টি সামনে আসে। নতুন মালিকানা প্রতিষ্ঠান ব্লুকো ক্লাব অধিগ্রহণের সময় অতীতের আর্থিক লেনদেনে সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করে এবং স্বেচ্ছায় প্রিমিয়ার লিগ, এফএ ও ইউয়েফাকে তা জানায়। এক বিবৃতিতে চেলসি জানিয়েছে, এফএর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। ক্লাবটির দাবি, শুরু থেকেই তারা সংশ্লিষ্ট সব নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং স্বেচ্ছায় হাজার হাজার নথিপত্র সরবরাহ করেছে। একই বিষয়ে এর আগে ইউয়েফা ও প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গেও সমঝোতায় পৌঁছেছিল তারা।
ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবে উয়েফা সদস্যদের বিশ্বকাপ বয়কটের হুংকার এখন ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে কোনো দল বা মহাদেশীয় সংস্থার ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এমন কঠোর অবস্থান নেওয়ার নজির ইতিহাসে এবারই প্রথম নয়। ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা সম্প্রতি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের শেয়ার বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে ভোট দিয়েছে। উয়েফার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘কনকাকাফ’। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় সদ্য সমাপ্ত হওয়া এ বছরের বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের ৪১টি সদস্য সংস্থাই ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাবটি ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে। উয়েফার মতো শক্তিশালী কোনো সংস্থা আগে কখনো সরাসরি এমন বর্জনের হুমকি না দিলেও, ভূ-রাজনীতি কিংবা ফুটবলের অভ্যন্তরীণ কারণে বিভিন্ন দেশ ও পরিচালনা পর্ষদের বিশ্বকাপ বর্জন করার বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক উদাহরণ রয়েছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে চার বছর পর ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। দক্ষিণ আমেরিকায় আয়োজিত সেই প্রথম টুর্নামেন্টে পর্যাপ্ত ইউরোপীয় দল অংশ না নেওয়ার প্রতিবাদেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় প্রতিবেশী দেশ আর্জেন্টিনাও, যারা নিজেরা সেই টুর্নামেন্ট আয়োজনের আশা করেছিল। অন্যদিকে, ১৯৫৮ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও সুদান। পরবর্তীতে ইসরায়েলকে হারাতে একটি বিশেষ প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে হয়েছিল ওয়েলসকে। ১৯৬৪ সালের অক্টোবরে আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ‘ক্যাফ’-এর অন্তর্ভুক্ত ১৫টি আফ্রিকান দেশ বাছাইপর্ব থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। তাদের ক্ষোভ ছিল—যেখানে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইউরোপের জন্য ১০টি স্পট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশের জন্য যৌথভাবে মাত্র ১টি স্পট রাখা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। এর আট বছর পর, ১৯৭৩ সালে চিলিতে অগুস্তো পিনোশের ক্ষমতা দখলের পর সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। এর প্রতিবাদে সান্তিয়াগোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্লে-অফ টাইয়ের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি খেলতে অস্বীকার করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ফলে চিলির একাদশ একাই সান্তিয়াগোর ‘এস্তাদিও নাসিওনাল’ মাঠে নামে এবং কিক-অফের পর অধিনায়ক ফ্রান্সিসকো ভালদেস হেঁটে গিয়ে ফাঁকা জালে বল প্রবেশ করান। পরবর্তীতে চিলিকে ২-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফাইনালের পর সংঘর্ষ এবং সেমিফাইনালে রাজনৈতিক বার্তা সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), কয়েকজন খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি জানিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর প্রদর্শিত ব্যানারসহ একাধিক ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। ফাইনালের পর সংঘর্ষের ঘটনায় মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি হামলার অভিযোগ এবং একটি অসংখেলোয়াড়সুলভ আচরণের অভিযোগ। সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া থিয়াগো আলমাদা ও স্পেনের গাভির বিরুদ্ধে অসংখেলোয়াড়সুলভ আচরণের অভিযোগে তদন্ত চলছে। এদিকে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা 'লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস' লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ব্যানারটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের অবস্থানকে তুলে ধরে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক বা অ-ক্রীড়াসুলভ বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ কারণেও তদন্তের আওতায় এসেছে আর্জেন্টিনা। শুধু খেলোয়াড় নয়, সমর্থকদের আচরণ নিয়েও তদন্ত করছে ফিফা। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী স্লোগান বা অঙ্গভঙ্গি, গ্যালারি থেকে বস্তু নিক্ষেপ, নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘন এবং ম্যাচ নির্ধারিত সময়ের পরে শুরু হওয়ার ঘটনা। তদন্ত শেষে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দিতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের একাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। কোচিং স্টাফের সদস্যদের টাচলাইন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড আরোপের পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দেওয়া হতে পারে। সমর্থকদের আচরণের জন্য ভবিষ্যতে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন অথবা নির্দিষ্টসংখ্যক দর্শক নিয়ে খেলার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগও রয়েছে ফিফার। তবে এই তদন্তের কারণে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শিরোপা বাতিল হওয়া বা দলটিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা নেই। ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, বর্তমান অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শাস্তি মূলত জরিমানা, ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা। সোর্স: আল জাজিরা
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার ফিফার বিতর্কিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এর আগে উয়েফা ও কনকাকাফ একই ধরনের আপত্তি জানিয়েছিল। এএফসি এক বিবৃতিতে জানায়, ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো নিয়ে তাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। সংস্থাটির মতে, বিষয়টি শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রস্তাব নয়; এটি ফিফার পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এফএফই নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করে বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালনা করা হবে। প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির কথা বলা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থ্রাইভ ইটারনাল-এর নাম আলোচনায় এসেছে। এর আগে উয়েফা সতর্ক করে বলেছিল, প্রস্তাবটি প্রত্যাহার না হলে তারা বিশ্বকাপসহ সব ফিফা প্রতিযোগিতা বর্জনের বিষয় বিবেচনা করবে। কনকাকাফও পরিকল্পাটির বিরোধিতা করেছে। সর্বশেষ এএফসির অবস্থানের ফলে ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪৩টি দেশ এখন প্রস্তাবটির বিরোধিতায় রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সূত্র জানিয়েছে। এতে পরিকল্পনাটি অনুমোদনের পথ অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এএফসি অভিযোগ করেছে, প্রকল্পটি প্রকাশের আগে সদস্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি। সংস্থাটি আরও বলেছে, বিশ্বকাপ বর্জনের মতো বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় চলে আসা ফুটবলের জন্য উদ্বেগজনক এবং এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল না। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি কার্যকর করতে সদস্যদেশগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন। তবে উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসির সম্মিলিত বিরোধিতার পর প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলার ইচ্ছাই তাকে ইন্টার মায়ামিতে নিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে তিনি আখ্যা দিয়েছেন ‘ফুটবলের দেবতা’ হিসেবে। একই সঙ্গে বলেছেন, মেসিকে আরও শিরোপা জিততে সাহায্য করাই এখন তার অন্যতম লক্ষ্য। গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন ৩৪ বছর বয়সী ক্যাসেমিরো। ২০২৭ মৌসুম পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি করেছে এমএলএসের ক্লাবটি। যেখানে চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে। ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নতুন চ্যালেঞ্জ ও মেসির সঙ্গে খেলার অনুভূতি নিয়ে কথা বলেন ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার। ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও কেন ইন্টার মায়ামিকে বেছে নিয়েছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যাসেমিরো বলেন, ‘আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই, আমি এখানে এসেছি ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলারের সঙ্গে খেলতে। আমি এটা উপভোগ করতে চাই, তাকে জিততে সাহায্য করতে চাই। কারণ সে একজন জন্মগত বিজয়ী। জেতার মানসিকতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষুধা নিয়ে আরও একজন ফুটবলার তার সঙ্গে যোগ দিল।’ তিনি জানান, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে নিজের সিদ্ধান্তেই মায়ামিতে এসেছেন। ক্যাসেমিরো বলেন, ‘আমি এমন এক জায়গায় এসেছি, যেখানে আমি নিজেই আসতে চেয়েছি। ইউনাইটেড ছাড়ার পর ইতালির ক্লাবসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রস্তাব ছিল। কিন্তু আমি তার পাশে খেলতে চাই, তাকে জিততে সাহায্য করতে চাই। সে ফুটবলের অন্যতম সেরা, নাকি ফুটবলের দেবতা, সেটা বলা কঠিন। আমি শুধু তাকে সাহায্য করতে চাই।’ রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালে এল ক্লাসিকোতে বহুবার মেসির মুখোমুখি হয়েছেন ক্যাসেমিরো। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘মেসি আমাকে অতীতে অনেক কষ্ট দিয়েছে। তখন থেকেই একদিন তার সঙ্গে একই দলে খেলার ইচ্ছা ছিল। আমি সবসময় সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলতে চেয়েছি। রিয়ালে থাকতে তাকে আমি কখনোই একা থামাতে পারিনি, প্রতিবারই সতীর্থদের সাহায্য লাগত। এখন তার সতীর্থ হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত এবং তার সঙ্গে ট্রফি জিততে চাই।’ ইতোমধ্যে সিএফ মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির হয়ে অভিষেক হয়েছে ক্যাসেমিরোর। বিশ্বকাপ শেষে কয়েকদিনের বিরতি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন লিওনেল মেসিও। ফলে খুব শিগগিরই প্রথমবারের মতো একই একাদশে দেখা যেতে পারে সাবেক দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে।
বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টে ফিফার বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। সংস্থাটি ঘোষণা দিয়েছে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন পেলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জন করবে ইউরোপের ৫৫টি সদস্যদেশ। আজ জরুরি বৈঠকের পর উয়েফা এক বিবৃতিতে জানায়, সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিফার টুর্নামেন্টে ব্যক্তিমালিকানার পরিকল্পনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো উয়েফাভুক্ত জাতীয় দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, সর্বশেষ বিশ্বকাপের আট কোয়ার্টার-ফাইনালিস্টের ছয়টিই ছিল ইউরোপের দল। স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মতো দল ছাড়া বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মূল্য ও আকর্ষণ বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করছে উয়েফা। এর আগে ফিফা 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)' নামে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নালের নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার, সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে তিনি আলোচনায় রয়েছেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেলে ২০২৭-৩১ চক্রে 'ফিফা ফরোয়ার্ড' কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করা হবে। পাশাপাশি এককালীন আরও ২ কোটি ডলার দেওয়া হবে সমর্থনকারী সদস্যদের। তবে প্রস্তাব পাস না হলে অনুদান দাঁড়াবে ১ কোটি ডলারে, অর্থাৎ প্রতিটি সদস্যদেশ ৩ কোটি ডলার কম পাবে। এই বিষয়টিকেই চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছে উয়েফা। বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘জাতীয় সংস্থাগুলোর সামনে এখন এক ধরনের আল্টিমেটাম রাখা হয়েছে—হয় বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে, নয়তো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভয় দেখিয়ে সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা।’ উয়েফার ভাষ্য, বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং এর মালিকানা বিক্রির অধিকার কারও নেই। তাদের দাবি, ‘যেদিন থেকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ফিফার প্রতিযোগিতার মালিকানায় অংশীদার হবে, সেদিন থেকেই ফুটবলের সিদ্ধান্ত খেলাটির স্বার্থে নয়, শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফার স্বার্থে নেওয়া হবে।’ উয়েফা আরও বলেছে, ‘ফুটবলের ভবিষ্যৎ এমন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, যাদের প্রথম কাজ সর্বোচ্চ লাভ করা। বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্পদ, এটি কখনোই বিক্রির জন্য নয়।’ ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন প্রয়োজন। তাই ইউরোপের পাশাপাশি অন্য কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন আদায়ও এখন উয়েফার বড় চ্যালেঞ্জ।
সদ্যই ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে স্পেন। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে হারিয়ে ট্রফির উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন। বিশ্বকাপ মিশন শেষে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজের সূচি ইতোমধ্যে চুড়ান্ত করেছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। আগামী সেপ্টেম্বরে ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে মাঠে ফিরবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে হতাশাজনক বিদায় নেয় ব্রাজিল। দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি তরুণদের নিয়ে নতুনভাবে দল গঠনের পরিকল্পনা শুরু করেছেন। বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হবে। আগামী ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অস্ট্রেলিয়ার টাউনসভিল ও ব্রিসবেনে হবে ম্যাচ দুটি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেলেসাওদের দুই ম্যাচই বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হবে। ফিফার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির কারণে আরও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলেও, সেই প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত করেনি ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হওয়া আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের সূচি নির্ধারিত হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে মেক্সিকোর বিপক্ষে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর টেক্সাসে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে লে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচ দুটি বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে।
অর্থের চেয়ে পছন্দের ক্লাবকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন রবার্ট লেভানডফস্কি—এমনই এক তথ্য প্রকাশ করেছেন তার দীর্ঘদিনের এজেন্ট পিনি জহাভি। তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার হওয়ার সুযোগ পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন পোলিশ এই স্ট্রাইকার। পোলিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্টসেফ্রাক্টিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জহাভি জানান, লেভানডফস্কির সামনে দুই বছরের জন্য মৌসুমপ্রতি ১০০ মিলিয়ন ইউরোর একটি প্রস্তাব ছিল। “রবার্টের টেবিলে মৌসুমপ্রতি ১০০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের দুই বছরের একটি চুক্তির প্রস্তাব ছিল,” — বলেন জহাভি। কেন সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কারণ তিনি বার্সেলোনার হয়ে খেলতে চেয়েছিলেন।” সৌদি আরব ছিল বিকল্প পরিকল্পনা: জহাভির দাবি, যদি বার্সেলোনা ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতো, তবে সৌদি আরবই ছিল লেভানডফস্কির প্রথম পছন্দ। এর পেছনে শুধু অর্থ নয়, ভৌগোলিক সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তিনি বলেন, “রবার্ট সৌদি আরবে খেলতে চেয়েছিলেন। রিয়াদ ও ওয়ারশর সময়ের পার্থক্য খুব কম, আর যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পোল্যান্ড থেকেও অনেক কাছাকাছি। আমরা জানতাম, সেখানে আমাদের জন্য বিপুল অর্থ অপেক্ষা করছিল।” তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি। জহাভির মতে, সৌদি আরবের নীতিগত পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগের মতো বাজার আর ছিল না। একাদশে জায়গা নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা: জহাভির ভাষ্য অনুযায়ী, বার্সেলোনা ছাড়ার সম্ভাবনার মূল কারণ ছিল নিয়মিত শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা। তিনি বলেন, ক্লাব সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা লেভানডফস্কিকে দলে রাখতে চাইলেও, কোচ হান্সি ফ্লিক এবং ক্রীড়া পরিচালক ডেকো তাকে নিয়মিত একাদশে রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। “লাপোর্তা চেয়েছিলেন রবার্ট থেকে যাক। কিন্তু তিনি কোচদের কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। ডেকো ও হান্সি ফ্লিকই স্কোয়াড ঠিক করেন। তারা রবার্টকে নিয়মিত একাদশে রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। আর সেটাই তার কাছে অর্থের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল,” — বলেন জহাভি। এই মন্তব্য নতুন করে দেখাচ্ছে, ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়েও লেভানডফস্কির কাছে নিয়মিত খেলার সুযোগ ও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিপুল অঙ্কের অর্থ নয়।
লক্ষ্যে অবিচল থাকার পুরস্কার পেয়েছেন জিনেদিন জিদান। রেয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর, শুধু ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচই হতে চেয়েছেন তিনি। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর ফরাসি কিংবদন্তি জানিয়েছেন, এজন্য গত পাঁচ বছর অন্য কোনো দলের দায়িত্ব নেননি তিনি। জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে মঙ্গলবার জিদানকে নিয়োগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। ৫৪ বছর বয়সী এই কোচের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করে তারা। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলের সঙ্গে কাজ করবেন জিদান। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে যাওয়ার অনেক আগেই দিদিয়ে দেশোঁ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, ফ্রান্সের ডাগআউটে এটাই হবে তার শেষ টুর্নামেন্ট। সেই ধারাবাহিকতায় ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করা বিশ্বকাপজয়ী এই কোচের স্থলাভিষিক্ত হলেন জিদান। খেলোয়াড়ি জীবনের পর কখনও কোনো মূল দলের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা ছাড়াই, ২০১৬ সালে রেয়ালের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন জিদান। প্রথম দফায় প্রায় আড়াই বছরে তার হাত ধরে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটি। পরে আরেক দফায় মাদ্রিদের ক্লাবটিতে কোচ হিসেবে ফেরেন জিদান। সেবারও পান শিরোপার স্বাদ। দুই দফায় রেয়ালের হয়ে দুটি লা লিগা ও তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ১১টি ট্রফি জয় করেন তিনি। ২০১৭ সালে জেতেন ফিফা বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারও। ২০২১ সালে রেয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করার পর, আর কোনো দলের দায়িত্ব নেননি জিদান। মাঝে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেন তিনি। সেই অপেক্ষায় কাটিয়ে দেন পাঁচটি বছর। স্বপ্নের দায়িত্ব পেয়ে জানালেন নিজের অনুভূতি। “আমি কেবলই ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হতে চেয়েছিলাম। সবসময় এই দলকে এর ভবিষ্যৎ কোচের চোখে দেখেছি। ঠিক এই কারণেই কোনো ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণ করিনি। রেয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর, আমি শুধুই ফ্রান্স জাতীয় দলকে কোচিং করাতে চেয়েছিলাম। “আমি চাইলে তিন বছরের জন্য (অন্য কোনো দলের) দায়িত্ব নিতে পারতাম, কারণ তখনও দেশোঁ ফ্রান্স দলের দায়িত্বে ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার সিদ্ধান্ত জানান, এর ঠিক পরদিনই বুঝে যাই, পরবর্তী কোচ আমিই হতে চাই। এরপর সভাপতির সঙ্গে দেখা করি এবং চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়।” জিদান ও দেশোঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা ফ্রান্স দলের সতীর্থ ছিলেন দুজন। ওই আসরে ফরাসিদের নেতৃত্ব দেন দেশোঁ। আর দলের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন জিদান। ওই বছর ব্যালন দ’রও জেতেন তিনি। ২০০৬ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে ফাইনালে টাইব্রেকারে ইতালির বিপক্ষে হেরে যায় ফরাসিরা। সব মিলিয়ে ফ্রান্সের জার্সিতে ১০৮ ম্যাচ খেলে ৩১ গোল ও ২৯ অ্যাসিস্ট করেন এই গ্রেট প্লেমেকার। কোচ হিসেবে দেশোঁর মতো অতোটা অভিজ্ঞ না হলেও, তার মধ্যে যে একটা জাদু আছে, সেটার প্রমাণ ক্লাব ফুটবলে এরই মধ্যে দিয়েছেন জিদান। জাতীয় দলের দায়িত্বেও নিজের ছাপ রাখতে মুখিয়ে আছেন তিনি। “খুব শিগগিরই আমার কোচিংয়ের ধরন দেখতে পাবেন। ফুটবলই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। আমি একজন নাম্বার টেন ছিলাম, আর আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে গোল করা। ২৫ বছর স্পেনে কাটিয়েছি, এর অর্থ কী তা আপনারা জানেন। মাঠে একজন নেতা ছিলাম। এখন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নেতা হয়ে উঠছি। “১৯৯৮ সালে সতীর্থদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয় ছিল আমার জীবনের সেরা ঘটনা। সেই দিনের জন্য চার-পাঁচ বছর অপেক্ষা করেছিলাম। (এই মুহূর্তে) আমি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে আছি; আপনারা হয়তো তা বুঝতে পাচ্ছেন না, তবে আমি সত্যি ভীষণ রোমাঞ্চিত। খুব খুশি।” ফ্রান্সের কোচ হিসেবে জিদানের পথচলা শুরু হতে পারে তুরস্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্সে লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২ অক্টোবর ঘরের মাঠে ইতালির বিপক্ষে খেলার কথা রয়েছে ফরাসিদের।
ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হতে আর মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় বাকি আছে। এর মধ্যেও বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার এখনো কোনো ক্লাব পাননি। এই খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা স্ব স্ব ক্লাবে কাপ জিতেছেন। মাল্টি-মিলিয়ন ইউরোর ট্রান্সফারে যুক্ত ছিলেন। কিংবা মহাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাবগুলোর মূল খেলোয়াড় ছিলেন। তারা সবাই এখন এমন একটি প্রস্তাবের অপেক্ষায় আছেন, যা তাদেরকে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নিতে অনুপ্রাণিত করবে। মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রান্সফারমার্কেটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দশজন ফুটবলার হলেন সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের ফ্রি এজেন্ট। জুভেন্টাসের সাথে চুক্তি নবায়ন না করায় বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দামের ফ্রি এজেন্ট সার্বিয়ান স্ট্রাইকার দুসান ভ্লাহোভিচ। ২৬ বছর বয়সী এই তারকার মার্কেট ভ্যালু ৩৫ মিলিয়ন ইউরো। এই তালিকায় মোহাম্মদ সালাহ এবং জ্যাডন সানচোর মতো তারকা খেলোয়াড়রাও রয়েছেন, যারা বর্তমানে ক্লাবহীন। ফ্রি এজেন্ট হিসেবে মোহাম্মদ সালাহ মার্কেট ভ্যালু ২২ মিলিয়ন। এই মিশরীয় তারকা লিভারপুলের সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। ক্লাবটির হয়ে ২৫০ গোলের মাইলফলক অতিক্রম করে সর্বকালের অন্যতম সেরা কিংবদন্তিতে পরিণত হন। ১৮ মিলিয়ন ইউরোতে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে অবিক্রিত এখনো ইংলিশ উইঙ্গার জাডন সানচো। ২০২১ সালে ৮৫ মিলিয়ন ইউরোতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেয় এই ইংলিশ তারকা। ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল সাইনিং হলেও ধারাবাহিকতার অভাব এবং কোচদের সাথে দ্বন্দ্বে ক্যারিয়ারে স্থবিরতা নেমে আসে। ডর্টমুন্ডে ফিরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেললেও চেলসি ও অ্যাস্টন ভিলায় লোনে থাকার সময় তার ক্যারিয়ারের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার চিত্রই ফুটে ওঠে। এছাড়া সেনেগালের তারকা স্ট্রাইকার বাম্বা ডিয়েং এবং জার্মান তারকা জুলিয়ান ব্রান্ডট ১৫ মিলিয়ন ইউরো রয়েছেন ফ্রি এজেন্ট হিসেবে। ১২ মিলিয়ন ইউরোতে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে আছেন ইউনিয়ন বার্লিনের হয়ে খেলা পর্তুগিজ ডিফেন্ডার দিয়োগো লেইতে। আল-আহলির হয়ে টানা এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পর ক্লাব ছাড়া আইভোরিয়ান মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক কেসির মূল্য ১২ মিলিয়ন ইউরো। সাবেক লিভারপুল তারকা এবং ব্রাজিলীয় রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ফ্যাবিনহো তিন মৌসুম কাটানোর পর সৌদি আরবের ক্লাব আল-ইত্তিহাদ ছেড়েছেন। ৩২ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বর্তমানে কোনো ক্লাব ছাড়াই মুক্ত এজেন্ট হিসেবে নতুন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় আছেন। ১২ মিলিয়ন ইউরো ৩২ বছর বয়সী ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার জন স্টোন্সও চুক্তি শেষ হওয়ায় ফ্রি এজেন্টের তালিকায় রয়েছেন। রক্ষণভাগ থেকে দারুণভাবে বল নিয়ে আক্রমণে ওঠার দক্ষতার কারণে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয়। জার্মানির সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার লিওন গোরেটস্কাও ১২ মিলিয়ন ইউরোতে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে আছেন। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ ও বক্স-টু-বক্স খেলার ক্ষমতার জন্য বিশেষ দক্ষ তিনি। তারকাখচিত এই তালিকা থেকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ না করে ক্লাবগুলো প্রতিভাদের দলে কাজে লাগতে পারে। এছাড়াও কারভাহাল, সেবাইয়োস, পেলেগ্রিনি, মাহরেজ, গেরেইরো, ব্রোজোভিচ, জিনচেঙ্কো বা বিসুমার মতো প্রমাণিত ফুটবলাররাও এখনও দলবিহীন রয়েছেন। এখনও বেশ কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকায়, সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে দলবদলের উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে এই নামগুলোর অনেকেই পাদপ্রদীপের আলোয় আসবে।
ইতালি জাতীয় দলের কোচ হতে প্রথমে কার্লো আনচেলত্তির ‘না’এবং পরে পেপ গুয়ার্দিওলাও রাজি না হওয়ায়, সম্ভাবনার দৌড়ে এগিয়ে যান আন্দ্রেয়া পিরলো। তবে শেষ মুহূর্তে আবার সবকিছু ভেস্তে গেছে। রাশিয়ান বেটিং কোম্পানির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায়, দেশের জাতীয় দলের কোচ হওয়ার লড়াই থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। গত কয়েক দিনে, ইতালিয়ান গণমাধ্যমে পিরলোর কোচ হওয়ার ‘প্রায় নিশ্চিত’ খবর আসছিল। তবে, সবকিছু দ্রুত পাল্টে যেতে শুরু করে বেটিং কোম্পানি ফনবেতের বৈশ্বিক দূত হিসেবে তার দায়িত্বের বিষয়টি সামনে আসার পর। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা এবং ইতালিয়ান আইনপ্রণেতারা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেননি। তুমুল সমালোচনা শুরু করেন তারা। মূলত তাতেই, পিরলোর ইতালির কোচ হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। রোববারই তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, তিনি আর ফেডারেশনের বিবেচনায় নেই। পিরলো নিজেই ইনস্টাগ্রাম বার্তা দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। “আমি আর ইতালিয়ান জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থী নই, এটা গত রাতে জানার পর, আমার মনে হচ্ছে কিছু বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। “গত কয়েক দিনে, খুবই বিরক্ত সহকারে একটা বিতর্ক পর্যবেক্ষণ করলাম, যেটার শুরু হয়েছিল আমাকে নিয়ে এবং ইতালি জাতীয় দলের প্রধান কোচ পদে আমার দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে। বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক এই মিডফিল্ডার আরও বলেছেন, দেশের আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কখনও তিনি কিছু করেননি। “ক্যারিয়াজুড়ে প্রথমে একজন খেলোয়াড় ও বর্তমানে কোচ হিসেবে সবসময় আমি দেশের আইন মেনে চলেছি এবং যেখানে কাজ করেছি, তাদের সঙ্গে চুক্তির শর্ত মেনে চলেছি।” বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব ইউনাইটেড এফসির প্রধান কোচের দায়িত্বে আছেন পিরলো। গত অক্টোবরে ফনবেতের দূত হিসেবে চুক্তিতে সই করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার কাজের সম্পর্ক পুরোপুরি বাণিজ্যিক ও ক্রীড়াসুলভ বলেও দাবি করেছেন পিরলো। টানা তিনবার বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব উতরাতে ব্যর্থ ইতালি কক্ষপথে ফেরার লক্ষ্যে সবকিছু নতুনভাবে শুরুর চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের প্রধান কোচ নিয়োগের পথে নতুন নতুন বাধা আসছে।
কাতালান গায়িকা আইতানা ২০২৬ বিশ্বকাপে স্প্যানিশ জাতীয় দলের প্রতি তার খোলাখুলি সমর্থনের জন্য আর্জেন্টিনায় সমালোচনার ঝড়ের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই বিতর্ক স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে সংগীত ও শিল্পের জগতে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি এখন আগামী অক্টোবরে নির্ধারিত তার কনসার্টকে হুমকির মুখে ফেলেছে। গোল.কমের প্রতিবেদন। কাতালান পত্রিকা ‘স্পোর্ট’-এর মতে, আর্জেন্টিনার একটি পোশাক ব্র্যান্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছে যে তারা তাদের ট্রেডমার্ক হিসেবে ‘আইতানা’ নামটি বাদ দেবে। একটি বিতর্কিত বিবৃতিতে ব্র্যান্ডটি বলেছে যে তারা ‘একজন স্প্যানিশ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত কোনো নামের সঙ্গে এখন কোনো সম্পর্ক রাখতে চায় না।’ তারা বিখ্যাত আর্জেন্টাইন গায়িকার নামানুসারে ‘তিনি’ হিসেবে ব্র্যান্ডটির পুনঃনামকরণ করছে। উদযাপন থেকে বিতর্ক স্পেনের শিরোপা উদযাপনের সময় মাদ্রিদে আইতানা পারফর্ম করেছিলেন। স্প্যানিশ ফেডারেশন তাকে টুর্নামেন্টজুড়ে জাতীয় দলের অন্যতম থিম গান ‘সুপারএস্ত্রেয়া’ গাওয়ার জন্য নিয়োগ করেছিল। তিনি পুরো বিশ্বকাপজুড়ে খোলাখুলিভাবে দলকে সমর্থন করেছিলেন। তবে ফাইনালে তিক্ত পরাজয়ে এখনো ব্যথিত আর্জেন্টাইন সমর্থকরা তা মেনে নেয়নি। এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়া আইতানাই একমাত্র স্প্যানিশ শিল্পী নন। গায়িকা রোজালিয়াও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। আয়োজকরা কর্ডোবার মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আরবান আর্টের স্কয়ারে গত বৃহস্পতিবার নির্ধারিত তার ট্রিব্যুট কনসার্টটি ‘শিল্পীদের নিরাপত্তা রক্ষা করতে’ স্থগিত করেছিল। আর্জেন্টিনা সম্পর্কে সমালোচনা করে তার একটি পোস্ট প্রকাশ করার পর ভেসে আসা গালিগালাজপূর্ণ বার্তার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। রোজালিয়া শেষ পর্যন্ত তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে আইতানা কখনোই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দলের উল্লেখ করেননি, এমনকি আর্জেন্টিনার সমালোচনা করেননি। তিনি কেবল নিজের দেশকে সমর্থন করেছিলেন। আর ঠিক এ কারণেই তাকে লক্ষ্য করে তৈরি হওয়া সমালোচনা এত ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই সবই আগামী অক্টোবরে আর্জেন্টিনায় আইতানার কনসার্টকে প্রভাবিত করতে পারে। কারণ বিশ্বকাপ ফাইনাল হারার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না পারা কিছু সমর্থকদের মনের ক্ষোভ এখনো কমেনি।
ফুটবল বিশ্বের এই সময়ের সেরা তারকাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার ক্যারিয়ারের অন্তিম পর্যায়ে আছেন। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপই ছিল রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। এবার তাকে দেখা যাবে নতুন ভূমিকায়। হলিউডে পা রাখছেন রোনালদো। ব্রিটিশ ফুটবল নিয়ে তৈরি একটি সিরিজে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাকে। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরে খেললেও তাকে পরিচিতি দিয়েছে ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। সেই ক্লাবে থাকাকালীন তার জীবন দেখানো হবে সিরিজে। ইংল্যান্ডের আর এক ক্লাব আর্সেনালের সাবেক তারকা ফ্রান্সের থিয়েরি অঁরিকেও দেখা যাবে সিরিজে। রোনালদো শুধুমাত্র এই সিরিজে অভিনয় করছেন তা-ই নয়, তিনি এই সিরিজের কার্যকরী প্রযোজক। ফুটবলের পাশাপাশি একটি প্রোডাকশন হাউস খুলেছেন রোনালদো। সেই প্রোডাকশন হাউসই এই সিরিজ প্রযোজনা করছে। এই বিষয়ে রোনাল্ডো বলেন, ‘আমার কাছে খুবই উত্তেজক একটা বিষয়। জীবনের নতুন একটা দিক খুলে গেল। আমরা বরাবরই নতুন কাজ করতে ভালোবাসি। আশা করছি সকলে পছন্দ করবেন।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের পরের আচরণের জন্য রবের্তো ফাবিয়ান আয়ালা যা কিছু বলে ক্ষমা চেয়েছেন, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন দানি ওলমো। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ সত্য তুলে ধরেননি বলে দাবি করেছেন এই স্প্যানিশ তারকা। গত ১৯ জুলাই আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন। উত্তাপ ছড়ানো ফাইনাল চলাকালে এবং শেষেও দুই পক্ষের খেলোয়াড়রা জড়ান হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কিতে। শেষ বাঁশির পর পুরো বিষয়টি খুব বাজে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে এগিয়ে এসে ওলমোকে ‘ধাক্কা মারেন’ আয়ালা। অনেকের দাবি, ওলমোকে আসলে ঘুষি মেরেছেন তিনি। পরে নিজের কাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আয়ালা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ওলমোর সঙ্গে কখনও দেখা হলে ক্ষমা চেয়ে নেবেন তিনি। একই সঙ্গে এই আর্জেন্টাইন জোর দিয়ে বলেন, ওটা ছিল ‘ধাক্কা দেওয়ার মতো’ এবং ওলমোর মন্তব্যের জবাবে তিনি এমনটা করেছেন বলে দাবি করেন। এবার বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন ওলমো। ‘দিয়ারি দে তেরাসা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড দাবি করলেন, ম্যাচের পর তিনি কিছুই বলেননি। “কেউ দুঃখ প্রকাশ করছে, কিন্তু দাবি করছেন একটি মন্তব্যের জবাবে ঘুষি মেরেছেন এবং এভাবে ওই ঘটনাকে ন্যায্য প্রমাণ করতে চাচ্ছেন, তাহলে তিনি হয়তো অনুতপ্ত নন, কারণ তিনি মিথ্যা বলছেন। আমি তাকে কিছুই বলিনি, তাই তার কাছে আমার ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ভুল নয়, বরং বিনয়, সত্য ও মর্যাদার সঙ্গে তা স্বীকার করে নেওয়ার সাহসই আমাদের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে অবদান রাখার পর, বার্সেলোনার এই তারকা বর্তমানে ছুটিতে আছেন। আগামী ১২ অগাস্ট হান্সি ফ্লিকের দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলের আচরণ নিয়ে যখন ফিফার তদন্ত চলছে, ঠিক সে সময় দলটির ‘পেশাদারিত্বের’ প্রশংসা করে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে পাঠানো ইনফান্তিনোর একটি ব্যক্তিগত চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন ফিফা প্রধান। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ স্পেনের কাছে ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে বর্তমানে তদন্ত করছে ফিফা। একদিকে আর্জেন্টিনা ফুটবলারদের বিশৃঙ্খল আচরণ নিয়ে ফিফার তদন্ত, অন্যদিকে আলবিসেলেস্তেদের পেশাদারিত্বের জন্য ইনফান্তিনোর ধন্যবাদ- অনেকেই দুটি বিষয়কে সাংঘর্ষিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তা ফিফা কেন আর্জেন্টিনাকে নিয়ে তদন্ত করছে? এর বেশ কয়েকটি কারণ থাকলেও সবচেয়ে সাম্প্রতিক ছিল ফাইনাল ম্যাচের শেষ বাঁশির বাজার পরের ঘটনা। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ আছে, ওই সময় লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। এ ঘটনায় ফিফা তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্ত চলাকালেই এএফএ সভাপতি তাপিয়াকে ধন্যবাদ জানানো ইনফান্তিনোর চিঠি সামনে এসেছে। শুরুতে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এ চিঠির সত্যতা যাচাই করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল। ওই চিঠিতি ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এই বিশ্বকাপকে অসাধারণ একটি আয়োজনে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’ আর্জেন্টিনার প্রশংসা করে ওই চিঠিতে ফিফা সভাপতি আরও লিখেছেন, ‘এই ধরনের সাফল্য আসে ধারাবাহিক পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব, খুঁটিনাটির প্রতি মনোযোগ, পাশাপাশি আবেগ, নিবেদন ও ভালোবাসা থেকে।’ চিঠিতে ইনফান্তিনো আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়, কোচ লিওনেল স্কালোনি, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদেরও অভিনন্দন জানান। তবে ফিফা সভাপতির এই মন্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিতর্কের বিষয়টি অনেকের কাছেই সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। দলটির বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষকে উসকানি দেওয়া, সময় নষ্ট করা এবং রেফারির সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ফাইনালের পরের ঘটনা নিয়ে ফিফার তদন্তের পাশাপাশি সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই ম্যাচে জুড বেলিংহামের সঙ্গে রেফারির সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনার কিছু খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উদযাপন নিয়েও সমালোচনা হয়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা সংবলিত ব্যানার ব্যবহারের ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করেছিল। এদিকে, ফিফার তদন্তের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে একদিকে আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে তদন্ত, অন্যদিকে ইনফান্তিনোর প্রশংসা— দুই বিষয় মিলিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বড় আর্থিক সংকটে সৌদি প্রো লিগের অন্যতম হেভিওয়েট ক্লাব আল-নাসর। প্রায় ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল (২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি) ঋণের বোঝায় জর্জরিত ক্লাব, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। যার ফলে গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে কোনো নতুন খেলোয়াড়কে সই করাতে পারেনি তারা। আর দলের এই পরিস্থিতির জন্য অনেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিপুল বেতনের দিকে আঙুল তুলেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লাবটির মালিক পক্ষ ‘সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ দল বিক্রির পরিকল্পনা শুরু করেছে। গোল.কমের প্রতিবেদন। বিশাল ঋণের কারণে আল-নাসরের বর্তমান দলবদল পুরোপুরি থেমে গেছে। রিয়াল মায়োর্কার মিডফিল্ডার সামু কোস্টার সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া সত্ত্বেও অর্থের অভাবে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া উইঙ্গার আব্দুলরহমান ঘরিবের চুক্তি নবায়নও আটকে গেছে। পিআইএফ ক্লাবটির বর্তমানে ক্লাবের আর্থিক ক্ষমতায় কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছে। যার মধ্যে রয়েছে নিজস্ব আয় ছাড়া নতুন খেলোয়াড় কেনা যাবে না। দ্বিতীয়ত, আয় বাড়ানো ও খরচ কমাতে অতিরিক্ত আর্থিক, বাণিজ্যিক ও আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, ক্লাবের আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ মালিকানা বিক্রির পথ খোলা রাখা হয়েছে। সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আরিয়াদিয়া’র রিপোর্ট অনুযায়ী, আল-নাসর কেনার জন্য এরই মধ্যে পিআইএফ দুটি বড় প্রস্তাব পেয়েছে। তবে পুরো ক্লাব বিক্রি না করে তারা মূলত আংশিক অংশীদারত্বের দিকে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। কেন হঠাৎ এত বড় আর্থিক দেনার মুখে পড়ল আল-নাসর? গত মৌসুমে বেশ কিছু বড় আকারের চুক্তি, খেলোয়াড়দের আকাশছোঁয়া বেতন এবং দুর্বল আর্থিক সিদ্ধান্তের কারণেই মূলত আল-নাসরের ঘাড়ে এই ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালের পাহাড়সমান দেনা চেপেছে। তবে আর্থিক সংকটের প্রভাব রিয়াদ ডার্বির প্রতিপক্ষ আল হিলালের ওপর পড়েনি। কেননা, আল-হিলাল কিংডম হোল্ডিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করেছে।
বিশ্বকাপ শেষে দেশের মাটিতে ফিরে বিশ্রামের বদলে পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন নেইমার। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁর পেশাদারিত্ব নিয়ে। তবে সমালোচকদের জবাব দিতে খুব বেশি সময় নিলেন না এই তারকা। ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে গত রাতে শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে মাঠে নামে সান্তোস। অবনমন অঞ্চলের শঙ্কায় থাকা দলটির জন্য ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই সামনে এসে দাঁড়ালেন নেইমার। ম্যাচের শুরুতেই সতীর্থের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। গোলের পর উদযাপনে দেখা যায় পোকার খেলার পরিচিত হাতের ইশারা। সমালোচকদের উদ্দেশে এ যেন ছিল এক নীরব বার্তা। তবে ম্যাচ সহজ ছিল না। প্রথমার্ধের ধাক্কা সামলে শাপকোয়েন্স ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তখন মনে হচ্ছিল, নেইমারের প্রত্যাবর্তনের গল্পটা হয়তো হতাশাতেই শেষ হতে চলেছে। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগে আবারও জ্বলে ওঠেন ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে করা তাঁর দ্বিতীয় গোল সান্তোসকে এনে দেয় মূল্যবান এক পয়েন্ট। আর সেই সঙ্গে সমালোচনার উত্তরে আরও একবার কথা বলে তাঁর পা। বিশ্বকাপ চলাকালে চোট ও ফিটনেসজনিত কারণে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি নেইমার। পরবর্তীতে কোপা সুদামেরিকানার একটি ম্যাচে অনুপস্থিত থেকে পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় তাঁকে ঘিরে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। সমালোচনার মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় নেইমার বলেছিলেন, “আমি সকালে অনুশীলন করেছি। ম্যাচে খেলিনি কারণ আমি মাত্র অনুশীলন শুরু করেছি। পরদিন আমার ছুটি ছিল।” সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ ছিল আরও স্পষ্ট, “আমি কি অনুশীলন করতে পারি, নাকি তোমরা শুধু সমালোচনাই করবে? নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকো।” শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর আলাদা করে আর কিছু বলতে হয়নি তাঁকে। পোকার ভঙ্গিতে উদযাপন করে যেন বুঝিয়ে দিলেন বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ে না, আর তিনিও বিতর্ককে নিজের মতো করেই জবাব দিতে জানেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।