মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ফুটবল বিশ্বে আরেক বড় খবর সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মধ্যেই প্রতারণা ও অর্থ পাচারের সন্দেহে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এই তদন্ত শুরু করেছে। আর্জেন্টাইন সংবাদপত্র লা নাসিওনের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ও স্পোর্টস মেক্সিকোর প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন এবং ফক্স স্পোর্টস মেক্সিকোর বরাতে জানা গেছে, এএফএ সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এই ফুটবল ফেডারেশন এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং এফবিআই-এর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কীভাবে শত শত মিলিয়ন ডলার লেনদেন করা হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো অর্থ পাচার বা ব্যাংক জালিয়াতি হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। মার্কিন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, ক্লদিও তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এই ফুটবল সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কীভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তা খতিয়ে দেখা। তদন্তের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী গিয়ের্মো তোফোনিকে টানা তিন ঘণ্টা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসি ও মায়ামির ফেডারেল প্রসিকিউটর এবং এফবিআই এজেন্টরা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তবে তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এএফএর প্রধান ক্লদিও তাপিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তদন্তের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে। তদন্তকারীরা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের সাবেক কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের তালিকায় রাখার কথা ভাবছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এএফএর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারক করেছিলেন কিংবা সংস্থাটির সংবেদনশীল তথ্য যাদের কাছে রয়েছে, তাদের কাছ থেকেই জবানবন্দি নেওয়া হতে পারে। জানা গেছে, ২০২৫ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাথমিক তদন্তের রূপরেখা তৈরি হচ্ছিল। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি
চলতি ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে দারুণে ছন্দে থাকা স্পেন গড়তে পারে এমন এক বিশ্বরেকর্ড, যা বিগত ৯৬ বছরে বিশ্বের কোনো দেশ করে দেখাতে পারেনি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা স্প্যানিশরা এই বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি। এবারের আসরেও প্রত্যেকটি দলই গোল হজম করেছে। এদিক দিয়ে একমাত্র আলাদা স্পেন। গ্রুপ পর্ব তো বটেই, নক আউট পর্বের দুটো ম্যাচ খেলে ফেললেও এখনও নিজেদের গোলবার অক্ষত রাখতে পেরেছে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ থেকে শুরু করে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ নকআউট পর্ব- প্রতিপক্ষের কোনো স্ট্রাইকারই এখন পর্যন্ত স্পেনের জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। উনাই সিমনের অসাধারণ গোলকিপিং আর লা রোহাদের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের সামনে এসে পরাস্ত হয়েছে সবাই। পুরো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স-আপ হয়েও কোনো গোল না খাওয়ার অবিশ্বাস্য কীর্তি ফুটবল বিশ্ব কখনও দেখেনি। স্পেনের বর্তমান যে রক্ষণাত্মক ফর্ম, তাতে তারা যদি এই ক্লিন শিট (কোনো গোল না খাওয়া) ধরে রেখে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারে, তবে সেটি হবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডিফেন্সিভ রেকর্ড। শেষ আটের লড়াইয়ে ওঠার পর এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর- স্পেনের এই অভেদ্য দুর্গ কোন দল প্রথম ভাঙতে পারে, নাকি কোনো গোল না খেয়েই বিশ্বজয়ের এক নতুন ইতিহাস লিখবে লুইস ডে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা!
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দারুণ লড়াই উপহার দিয়ে আলোচনায় আসে মিশর। ম্যাচে একসময় আলবিসেলেস্তেদের বিদায়ের শঙ্কাও তৈরি করেছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। যদিও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে, তবুও এবারের বিশ্বকাপে মিশরের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার প্রাইজমানি থেকে রেকর্ড ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পেতে যাচ্ছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। এবারের আসরে ইতিহাসও গড়েছে মিশর। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় দলটি। পাশাপাশি একক কোনো বিশ্বকাপ আসরে প্রথমবারের মতো পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে তারা। আক্রমণভাগেও ছিল মিশরের সেরা পারফরম্যান্স। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল করে বিশ্বকাপের এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ে ফারাওরা। বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে শেষ ষোলোতে ওঠা দলটি শেষ পর্যন্ত দুটি জয়, দুটি ড্র ও একটি হার নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে। বর্তমান প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য মিশর পাচ্ছে ২.৫ মিলিয়ন ডলার। মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করায় তাদের প্রাপ্তি ১০ মিলিয়ন ডলার, আর শেষ ষোলোতে ওঠার কৃতিত্বে যোগ হয়েছে আরও ৬ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ থেকে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো একক আসর থেকে মিশরের সর্বোচ্চ আর্থিক পুরস্কার।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিল দলে নেমেছে ভিন্ন এক বাস্তবতা। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর সেলেসাওদের বহনকারী বিমান ব্রাজিলে ফিরলেও ২৬ সদস্যের স্কোয়াড থেকে দেশে ফিরেছেন মাত্র একজন ফুটবলার। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লামেঙ্গোর ডিফেন্ডার দানিলো লুইজই ছিলেন একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) চার্টার্ড বিমানে দেশে ফেরেন। দলের বাকি খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ ক্লাব কিংবা ব্যক্তিগত ছুটির গন্তব্যে চলে যান। রিও ডি জেনিরোতে বিমান অবতরণের প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। দানিলোর সঙ্গে ছিলেন সিবিএফের নির্বাহী সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানো এবং টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর হুয়ান। তবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশায় দানিলো গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। এদিকে দলের ব্যর্থতার পরও কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতি আস্থা রেখেছে সিবিএফ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে কায়েতানো জানান, কোচিং স্টাফের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নতুন বিশ্বকাপ চক্রের পরিকল্পনা শুরু করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। ফলাফল অবশ্যই প্রত্যাশিত হয়নি, তবে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্টে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রীতি ম্যাচগুলোর প্রস্তুতি শুরু করব।’ শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়াকে হতাশাজনক উল্লেখ করে কায়েতানো বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আরও অনেক দূর যাওয়ার আশা করেছিলাম। তবে সামগ্রিকভাবে গত এক বছর চার মাসের কাজকে ইতিবাচক বলেই মূল্যায়ন করছি। যদি তা না হতো, তাহলে আনচেলত্তিকে দায়িত্বে রাখা হতো না।’ বিশ্বকাপ-পরবর্তী বিরতি শেষে আগামী সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচ থেকেই ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মিশরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ চলাকালেই লিওনেল মেসিদের হটিয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছে ফ্রান্স। শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে দিদিয়ের দেশমের দল মূল্যবান র্যাঙ্কিং পয়েন্ট অর্জন করে। ফলে সামান্য ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে তারা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের রেটিং পয়েন্ট ১৯২৫.৮৬, আর আর্জেন্টিনার ১৯২৫.১৫। দুই দলের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ০.৭১ পয়েন্ট। ফলে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করে আবারও শীর্ষস্থান বদল হতে পারে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রীতি ম্যাচে স্পেনের ড্র এবং ফ্রান্সের পরাজয়ের সুযোগে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। বর্তমানে ১৯১২.৩৪ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে স্পেন। তিন দলই এবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এদিকে ইতিহাস বলছে, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ জেতার নজির এখনো নেই। ১৯৯২ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং চালুর পর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে এক নম্বর দল হিসেবে আসর শুরু করেছিল জার্মানি, কিন্তু তারা বিদায় নেয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। শিরোপা জেতে ব্রাজিল। এরপর ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১০ ও ২০২২ বিশ্বকাপে শীর্ষ র্যাঙ্কিং নিয়ে খেলেও শিরোপা জিততে পারেনি ব্রাজিল। একইভাবে ২০০২ সালে ফ্রান্স, ২০১৪ সালে স্পেন এবং ২০১৮ সালে জার্মানিও এক নম্বর দল হিসেবে বিশ্বকাপ শুরু করেও ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েক ডজন আইনপ্রণেতা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর দাবি তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই দাবি উঠেছে। গত ১ জুলাই বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগুন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচে তার খেলার সুযোগ ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরই ইনফান্তিনোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য। ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা উলটার্স ও নিলস ফুগলসাং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন লাল কার্ডের শাস্তির নিয়ম বদলে দেওয়া ফুটবলের ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার পরিপন্থি। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে ফিফা। আইনপ্রণেতারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোকে ফিফার এথিকস কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আবেদন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা জানতে চান, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো প্রভাব ছিল কি না এবং ফিফা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করেছে কি না। এদিকে ফিফা জানিয়েছে, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটি। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতারা। ইতোমধ্যে ৩৫ সদস্য তদন্ত দাবির পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের ভাষ্য, খেলাধুলার সৌন্দর্য নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নিয়মের ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিয়ম বদলে গেলে ফুটবলের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন মিসর জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের মানুষের দুর্ভোগ কোনো ধর্ম বা জাতিগত বিষয় নয়, এটি মানবতার প্রশ্ন। এক তুর্কি সাংবাদিক জানতে চান, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পরের মতো এবারও তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা উড়াবেন কি না। জবাবে সরাসরি উত্তর না দিয়ে মানবিক আবেদন জানান হোসাম হাসান। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে যদি কেউ ফিলিস্তিনের মানুষের কষ্ট অনুভব না করে, তাহলে সে প্রকৃত অর্থে মানুষ নয়। সে আরব, ইউরোপীয় বা অন্য যে দেশেরই হোক না কেন, এতে কিছু আসে যায় না।’ হাসান বলেন, বিশ্বের অনেক মানুষ পশু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন। অথচ প্রতিদিন শিশু ও নারীদের ওপর হামলা চলছে, মানুষ খাদ্য, পানি ও আশ্রয়হীন অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে আরামে বসবাস করছি। কিন্তু অন্য একটি জনগোষ্ঠী রাস্তায়, খাবার-পানি ও মাথা গোঁজার ঠাঁই ছাড়া দিন কাটাচ্ছে। তাদের কষ্ট যদি আমরা অনুভব করতে না পারি, তাহলে আমাদের মানবতাই হারিয়ে গেছে।’ মিসরের এই কোচ বলেন, ‘আমি একজন আরব বা মিসরীয় হওয়ার আগে একজন মানুষ। এই বিষয়টি ধর্ম বা জাতীয়তার নয়, এটি মানবতার বিষয়।’ শেষে ফুটবলকে মানবতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফুটবলের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের কাছে একটি বার্তা দিতে চাই—দয়া করে ফিলিস্তিনের মানুষকে বাঁচতে দিন। তাদের বাঁচতে দিন।’ সূত্র: ইলমফিড
চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। সেখানে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা। এদিকে, মিসরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ দিকে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর তিনি বলেছেন, ‘পিছিয়ে থেকে ফিরে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু এ দল কখনো হাল ছাড়ে না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি। আমরা ভাগ্যবান যে, গোলগুলো করেছি এবং ম্যাচটা ঘুরিয়ে দিতে পেরেছি লিওনেল মেসি বলেন, ‘আমরা আবারও ফিরে এসেছি। শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পেরে স্বস্তি লাগছে।’ নকআউট পর্বে দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এই নকআউট পর্বে দল যা করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমাদের উদযাপন মানুষ উপভোগ করতে পারছে, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিচ্ছে।’ কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। ম্যাচটা খুব কঠিন ছিল। বিশেষ করে আমরা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিলাম। এরপর আবারও ফিরে আসা, আবারও কষ্ট সহ্য করে জয় তুলে নেওয়া ছিল রোমাঞ্চকর। এটাই বিশ্বকাপ। এখানে প্রায় সব ম্যাচই একই রকম কঠিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব দলই প্রায় সমান শক্তিশালী। তাই এ জয় এবং পরের পর্বে উঠতে পেরে আমি সত্যিই খুব খুশি।’
বিশ্বকাপের নকআউটে ইতিহাস গড়ল সুইজারল্যান্ড। টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে ৩-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে তারা। সেখানে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা। দলের পক্ষে রুবেন ভার্গাস জয়সূচক পেনাল্টিটি মেরে ৪-৩ গোলের শুটআউট জয় নিশ্চিত করেন। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে কলম্বিয়া প্রথমার্ধে কিছুটা প্রাধান্য দেখালেও গ্রেগর কোবেলকে পরাস্ত করতে পারেনি। সুইজারল্যান্ডও দ্বিতীয়ার্ধে দান এনদোয়ে ও ফাবিয়ান রিডারের মাধ্যমে চাপ বাড়ায়, কিন্তু কামিলো ভার্গাসও ছিলেন সতর্ক। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য গোলে সমতায় থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে সুইসদের অভিজ্ঞতার কাছে হেরে যায় লুইস দিয়াজরা। টাইব্রেকারে প্রথম শটেই গোল করেন কুইন্তেরো। সুইজারল্যান্ডের হয়ে জবাব দেন গ্রানিত জাকা। এরপর কলম্বিয়ার দাভিনসন সানচেসের শট ক্রসবারে লাগে, আর জেকি আমদুনি গোল করে সুইসদের এগিয়ে দেন। যদিও ম্যানুয়েল আকাঞ্জি নিজের শট বারের ওপর দিয়ে মারায় সমতায় ফেরার সুযোগ পায় কলম্বিয়া। কিন্তু কুচো হার্নান্দেসের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন সুইস গোলরক্ষক কোবেল। লুইস দিয়াস গোল করে আশা বাঁচালেও শেষ শটে রুবেন ভার্গাস কোনো ভুল করেননি। তার জয়সূচক পেনাল্টিতেই ৪–৩ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড
আজও ম্যাজিক দেখালেন লিওনেল মেসি। দলের বড় বিপদের সময় আবারও ত্রাতার ভূমিকায় লিওলেন। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে দারুণ এক শটে গোল করেন তিনি। আর তাতে ২-২ গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এটি চলতি বিশ্বকাপে মাত্র ৫ ম্যাচে ৮টি গোল করলেন। এর মাধ্যমে তিনি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে নিজের করা মোট ৭টি গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেলেন, যে আসরে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কাতারে এই ১০ নম্বর জার্সিধারী তারকা শুধুমাত্র পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন সেই ম্যাচে তিনি একটি পেনাল্টি মিস করেন। এছাড়া প্রথম রাউন্ডে সৌদি আরব ও মেক্সিকো, শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়া, কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া এবং গ্র্যান্ড ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে (জোড়া গোল) লক্ষ্যভেদ করেছিলেন তিনি। এখন ২০২৬ সালে ৩৯ বছর বয়সেও এই আর্জেন্টাইন জাদুকর আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে হ্যাটট্রিক (৩ গোল), অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে একটি গোল করেন। এরপর শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে কেপ ভার্দে এবং এবার শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে জালের দেখা পেলেন তিনি। এর মাধ্যমে মেসি চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে (৭ গোল) পেছনে ফেলে এককভাবে শীর্ষে উঠে এলেন। সেই সাথে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রাজত্ব আরও পাকাপোক্ত করলেন তিনি। বর্তমানে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা ২১টি, যেখানে ফরাসি তারকা এমবাপ্পের গোল ১৯টি।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ের সর্বশেষ ম্যাচে কলম্বিয়া মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড। এ ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে দারুণ ছন্দে থাকা লুইস দিয়াজরা। তবে ছেড়ে কথা বলবে না এই আসরে এখন পর্যন্ত অপরাজিত সুইজারল্যান্ড। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাদের জয় ১৯৩৮ সালের পর নকআউট পর্বে তাদের দীর্ঘ জয়খরা কাটিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে এফসি বায়ার্নের তারকা ফুটবলার আবারও শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েছেন। তবে চোটের কারণে এই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন সুইজারল্যান্ডের জোহান মানজাম্বি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার পর থেকেই এসসি ফ্রাইবার্গের এই মিডফিল্ডার দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। মুরাত ইয়াকিনের শুরুর একাদশে এখনও বুন্দেসলিগার তিনজন খেলোয়াড় রয়েছেন। নিয়মিত একাদশের গ্রেগর কোবেল ও নিকো এলভেদির সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছেন এফসি অগসবার্গের ফাবিয়ান রিডার। অন্যদিকে রাউন্ড অব ৩২-এ ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে কুঁচকির পেশিতে চোট পাওয়ায় স্ট্রাইকার জন কর্ডোবাকে হারিয়েছে কলম্বিয়া। ম্যাচের স্কোয়াডে তার নাম থাকলেও তার খেলার সম্ভাবনা নেই। এ ম্যাচে জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে। কলম্বিয়া একাদশ: ভার্গাস; মুনিয়োজ, লুকুমী, সানচেজ, মোজিকা; লের্মা, পুয়ের্তা; হামেস রদ্রিগেজ (অধিনায়ক), লুইস দিয়াজ, আরিয়াস; সুয়ারেজ। সুইজারল্যান্ড একাদশ: কোবেল; জাকারিয়া, এলভেদি, আকানজি; রদ্রিগেজ, জাকা (অধিনায়ক), ফ্রয়লার, এনদোয়ে; রিডার, জাশারি; এমবোলো।
মিসরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস এক জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ৩-২ গোলের এই জয়ে আকাশি-সাদারা চলে গেছে শেষ আটে। তৃতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার সামনে আসতে পারে কলম্বিয়া বা সুইজারল্যান্ড। সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য সুখবর আছে সেই ম্যাচে। সকাল বেলা দেখা যাবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ। আগামী শনিবার মাঠে গড়াবে এই দ্বৈরথ। ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনার শেষ আটের এই লড়াই।
মিসরের বিপক্ষে গোল করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে আরও একটি রেকর্ড ভাঙা থেকে মাত্র এক গোল দূরে আছেন লিওনেল মেসি। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের দিনে এই আসরে নিজের অষ্টম গোলটি করেন এই মহাতারকা। এর মাধ্যমে তিনি ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা আর্জেন্টাইন সাবেক তারকা গিয়ের্মো স্তাবিলের কীর্তি ছুঁয়ে ফেললেন। মেসি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি বিশ্বকাপের এই আসরের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন। ইতিমধ্যে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে এবং মিসর তার গোলশিকারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, এ বছর সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে থাকা কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হলান্ড এবং হ্যারি কেইন অন্তত একটি ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করে চলেছেন মেসি। মিসরের বিপক্ষে আজ গোল করার পর এই আর্জেন্টাইন তারকার মোট বিশ্বকাপ গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১-এ। তাই এককভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। চলতি আসরে এই আর্জেন্টাইনের গোল আটটি। এবং সাতটি গোল নিয়ে তাঁর ঠিক পেছনেই আছেন এমবাপে ও হলান্ড। কেইন এখন পর্যন্ত ছয়টি গোল করে এই দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে আছেন। তাদের সবার দলই কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং টুর্নামেন্টে প্রত্যেকেরই অন্তত আরও একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে মিসরকে ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের এই গল্পের মধ্যেও নিজের নাম উজ্জ্বল করেছেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। মিসরের এই গোলরক্ষক ম্যাচে মেসির নেওয়া একটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। এ নিয়ে চলতি আসরে দুটি পেনাল্টি সেভ করলেন তিনি। এর আগে গ্রুপ পর্বে তিনি ইরানের মেহদি তারেমির নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন। এতে বিশ্বকাপের কোনো একটি আসরে দুটি পেনাল্টি ঠেকানো চতুর্থ এবং প্রথম আফ্রিকান গোলরক্ষক হলেন শোবেইর। শোবেইর ২০২০ সাল থেকে মিশরের ক্লাব ‘আল আহলি’-র হয়ে খেলছেন এবং ক্লাবটির হয়ে ৬৩টি ম্যাচ খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন ১৪টি ম্যাচ। এই গোলরক্ষক আহমেদ শোবেইরের ছেলে, যিনি ১৯৯০ বিশ্বকাপে মিসরের হয়ে খেলেছিলেন। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিশরের দুটি ড্র ম্যাচে আহমেদ শোবেইর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে তিনি মিশরের হয়ে মাঝেমধ্যে মাঠে নেমেছেন। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য তাকে দলের প্রধান গোলরক্ষক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তিনি জাতীয় দলের হয়ে ১৫টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ছয়বার ক্লিন শিট রুখে দিয়েছেন।
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত মিসরকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ম্যাচটি শুরু হয়। জয়সূচক গোল আসে ম্যাচের যোগ করা সময়ে। কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এসে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোলটা করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে পিছিয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পথ ছিল মাত্র কয়েক মিনিট দূরে। এরপরই আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, আর তা মেসির হাত ধরেই। ৭৯তম মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে একটি গোল শোধ দিলেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। ৮৩ মিনিটে ম্যাচে সমতা নিয়ে এলেন মেসি নিজেই। মূলত, তখনই ‘লাইফলাইন’ পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা, জেগে ওঠে মেসির বিশ্বকাপে টিকে থাকার সম্ভাবনাও। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের ক্রসে এনজো ফার্নান্দেজের হেড করে দেয় বাকি কাজটা। ৩–২ গোলে জিতে আর্জেন্টিনা উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে।
‘উদ্ভট ও বিব্রতকর’ এক প্রেসিডেন্ট জালিয়াতি করার পরও ফুটবল মাঠে যুক্তরাষ্ট্র দলের এই ভরাডুবি দেখা সত্যিই দারুণ! তবে তাদের এই হার পুরো বিশ্বকে এক সুতোয় বেঁধেছে। বেলজিয়ামের এমন প্রতিরোধে শেষ কবে বিশ্বজুড়ে এত মানুষ একসঙ্গে উল্লাস করেছিল, সেই প্রশ্ন উঠতে পারে। সেটা সম্ভবত ১৯১৪ সালে, যখন জার্মানরা প্রথম মিউজ নদী পার হয়। আপনারা হয়ত এরইমধ্যে জেনেছেন, এবারের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বিদায় করেছে সবদিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দেখানো বেলজিয়াম। এর আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়াই করে বলেছিলেন, ‘মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড প্রত্যাহারের জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে তিনবার ফোন করেছি। হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলেও জালিয়াতি করে, কথাটা সবাইকে জানিয়ে দিন।’ ফিফা ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে ‘শিটহাউসারি’ (মাঠে প্রতিপক্ষকে উসকানি দেওয়া বা নোংরা কৌশল খাটানো) শব্দটা আমাদের সামনে এসেছে, আপনারা অনেক শুনেছেন। এমনকি মার্কিন ধারাভাষ্যকারদের কেউ কেউ অত্যন্ত দৃষ্টিকটূভাবে তাদের আলোচনায় শব্দটা ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন। ভাইসব, দয়া করে থামুন- শব্দটা আপনাদের জন্য নয়। আপনাদের জন্য ‘আর্বস’, ‘আ কাপল থিংস’, কিংবা ‘আ ওয়েজ টু গো’-এর মতো বুলিই ঠিক আছে। তবে গত কয়েকদিন ক্ষমতা অপব্যবহারের যে নগ্ন রূপ দেখা গেছে, তাকে বিশ্বের সব ভাষায় যে নামে ডাকা উচিত, তা হলো- ‘হোয়াইটহাউসারি’ (হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার অপব্যবহার)। আর এই ‘হোয়াইটহাউসারি’ ভুলে যেতে আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। ট্রাম্প নিজে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এতটাই আতঙ্কিত ছিলেন যে, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বিড়বিড় করে বলেন- সপ্তাহান্তে তার এই অন্যায্য হস্তক্ষেপ নাকি দারুণ এক কাজ ছিল! কারণ তিনি এসব কাজে ওস্তাদ। মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প নাকি খেলাধুলা খুব ভালো বোঝেন! অথচ তিনি এই সহজ সমীকরণটা বোঝেন না যে, আপনি যদি প্রতিপক্ষের সঙ্গে চরম অন্যায় কিছু করেন, তবে তারা সেই অন্যায়কে নিজেদের তাতিয়ে তোলার হাতিয়ার বানিয়ে আপনাকে ধুয়ে দেবে। অনেকে স্ট্রাইকার বালোগানের জন্য সহানুভূতি বোধ করছেন। কারণ তিনি তো সেধে প্রেসিডেন্টের এই কলুষিত ছায়া নিজের ওপর চাননি। লন্ডনে বেড়ে ওঠা বালোগান এটি একেবারেই চাওয়ার কথা নয়। কারণ তিনি এমন শ্রেণির মানুষ, যাদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার খর্ব করতে ট্রাম্প সবকিছু করতে পারতেন, যদি না গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট সেই প্রচেষ্টা নাকচ করে দিত। কী আর বলার- ‘যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে।’ ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর জন্য কারও মনে বিন্দুমাত্র সহানুভূতি এই মুহূর্তে নেই- এটি দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। তবু এখন সব আলো তার দিকেই ঘুরিয়ে দেওয়া দরকার। কারণ, ফিফার তথাকথিত স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সংস্থাকে দিয়ে রহস্যময় ‘ধারা ২৭’ সচল করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পেছনে ইনফান্তিনো চরম আষাঢ়ে গল্প ফেঁদেছেন। আর তাকে বাহবা দিয়ে একটি মার্কিন সাময়িকী লিখেছে, ‘ফিফার সততা রক্ষা করলেন ইনফান্তিনো।’ আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, আমাদের এই দিনও দেখতে হচ্ছে! আমরা এখন আক্ষরিক অর্থেই শূন্যতাবাদী ‘ব্লাটারকে ফিরিয়ে আনো’ যুগে বাস করছি। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার, যাকে শেষবার দেখে মনে হয়েছিল তিনি গাড়ির ভেতর ঘুমান। গত বছর আপিলে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে কোনোমতে খালাস পেয়েছেন তিনি। গতকাল তার উত্তরসূরির (ইনফান্তিনো) ওপর দুই পায়ে স্লাইডিং ট্যাকল করেছেন। ব্লাটার হুংকার দিয়ে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক তদবিরের ফোনে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বাতিল হয় না।’ তাহলে কীসে হয়? বস্তাভর্তি টাকা আর দামি হাতঘড়িতে? দৃশ্যত তাও নয়। ব্লাটার বলেন, ‘নিয়ম, প্রমাণ এবং স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমেই কেবল সিদ্ধান্ত বাতিল হতে পারে।’ বাঃ, কে জানত! এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা যে ইনফান্তিনোকে এর চেয়ে বেশি ঘৃণা করতে পারত না, তা ভুল প্রমাণিত হলো। তারা এখন তাকে আরও বেশি ঘৃণা করে। উয়েফা নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘যখন নিয়মের অভিভাবকরাই নিয়মের নিশ্চয়তা দিতে পারেন না, তখন খেলার সততা ঝুঁকির মুখে পড়ে। একটি টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয় এই ধরনের নজিরবিহীন, অবিশ্বাস্য এবং অসমর্থনযোগ্য সিদ্ধান্তে আমরা বিস্ময় প্রকাশ করছি।’ উয়েফা বলেছে, ফিফার সিদ্ধান্তটি ‘রেড লাইন’ বা সব সীমা অতিক্রম করেছে। রেড লাইন, সব সীমা- এসব আবার কী? মানচিত্রের বালাই যদি নাই-ই থাকে, নৈতিকতার গ্যালাক্সিও আমরা পেরিয়ে এসেছি কয়েক আলোকবর্ষ আগে। সম্ভবত তখনই, যখন ইনফান্তিনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই ‘গাজা শান্তি সম্মেলন’-এর ফটোসেশনে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। অথবা যখন নিজেই ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ চালু করে তা ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছেন। যাই হোক, জল অনেক দূর গড়িয়েছে। বালোগান-কাণ্ডের কারণে ফিফার বিরুদ্ধে নৈতিকতা তদন্তের দাবি তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েক সদস্য। একদিকে তদন্তের এই দাবি, অন্যদিকে সততা নিয়ে খোদ সেপ ব্লাটারের প্রশ্ন! একটা নাটক বটে! আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই দলটি যদি ১৯৯৩ সালের ঘুস-সহায়তা পাওয়া মার্সেই দলের বিপক্ষে খেলে এবং ম্যাচটি যদি দুর্নীতিবাজ জার্মান রেফারি রবার্ট হয়জার পরিচালনা করেন, তবু ইনফান্তিনোর ফিফা প্রেসিডেন্ট পদ দুর্বল হবে না। কারণ, সবকিছু মিলিয়ে ইনফান্তিনো এই মুহূর্তে তার সংস্থায় অপরাজেয়। ইউরোপের বাইরের সদস্য দেশগুলোকে তিনি অনুদান ও উন্নয়ন তহবিল দিয়ে দারুণভাবে হাতের মুঠোয় রেখেছেন। তবে নিশ্চয় একদিন এই চিত্র বদলাবে। কেননা, ফিফায় ক্ষমতার জন্য আরও বেশি লোভী কেউ না কেউ সবসময় ওত পেতে আছেন। এখন শুধু এটাই আশা করার, শেষ পর্যন্ত যারা চ্যাম্পিয়ন হবেন, তারা যেন তাদের গৌরব ছিনতাই করার সুযোগ না দেন।
ফুটবল বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি আজ জিতলে চলে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। বিশ্বকাপের নকআউট সূচি অনুযায়ী, শেষ ষোলোর আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া। এই দুই দলের মধ্যে জয়ী দলই কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে দাঁড়াবে। অর্থাৎ মিসরকে হারাতে পারলে বাংলাদেশ সময় আগামী ১২ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড অথবা কলম্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। শেষ আটের লড়াইয়ে ওঠার পর মেসিদের সামনে অপেক্ষা করবে ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের হিসাব-নিকাশের আগে আর্জেন্টিনার মূল লক্ষ্য এখন মিসরকে হারানো। আফ্রিকার দলটিকে কোনোভাবেই সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বড় দলকে চমকে দেওয়ার সামর্থ্য থাকা মিসর নকআউট পর্বে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে অপরাজিত থেকে নকআউট পর্বে উঠেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের লক্ষ্য এখন শিরোপা ধরে রাখার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। তবে সেই পথের প্রথম বাধা মিসর। আর্জেন্টিনা যদি শেষ ষোলোর এই ম্যাচে জয় পায়, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের ফলাফলে। তাই মিসর ম্যাচের পাশাপাশি ওই লড়াইয়ের দিকেও নজর থাকবে মেসি ও তার দলের সমর্থকদের। এখন দেখার বিষয়, মিসরের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিতে পারে কি না বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
মিশরের সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহ। তবে শুধু সালাহ নন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন দলটির তরুণ ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকরিম। বয়স মাত্র ১৮। কিছুদিন আগেই নাম লিখিয়েছেন স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনায়। ইতোমধ্যে মিশরের ফুটবল ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেকের রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন। বলা হচ্ছে, চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আবিষ্কার সে। মিশরীয় গণমাধ্যমগুলো তার নাম দিয়েছে ‘নতুন সালাহ’। আজ শেষ ১৬-র হাইভোল্টেজ ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এই তরুণ তুর্কি হুঙ্কার দিয়েছেন, “আমরা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলছি, মেসির বিপক্ষে নয়।” সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে কোনো ম্যাচ না খেলেই মিশরের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন এই তরুণ স্ট্রাইকার। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে মোহাম্মদ সালাহর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে বহুকাঙ্ক্ষিত অভিষেকটাও সেরে ফেলেছেন। এবার তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ভাঙা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের মানসিকতা প্রকাশ করে হামজা বলছিলেন, ‘আমি যখন মাঠে নামি, স্রেফ নিজের খেলাটা উপভোগ করি। মাঠের বাইরে কে কী বলল বা করল, তা নিয়ে আমি একদমই ভাবি না। আমার পুরো মনোযোগ শুধুই মাঠের খেলায়।’ হামজাকে মিশরের ফুটবলের ভবিষ্যৎ বলা হচ্ছে। সেও স্বীকার করেছেন তার আইডল সালাহ। হামজা বলেন, ‘তিনি শুধু আমার নয়, সালাহ পুরো দলের মেন্টর। তিনি সব অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে ভাগ করে নেন। সালাহর মতো ক্যারিয়ার গড়া অবিশ্বাস্য ব্যাপার। তার পাশে থাকা আমার জন্য স্বপ্ন সত্যি হওয়া এবং অনেক বড় সম্মানের।’ কে এই হামজা আবদেলকারিম? ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি কায়রোতে জন্ম নেওয়া এই স্ট্রাইকারের ফুটবলে হাতেখড়ি মালয়েশিয়ায়, যেখানে তার বাবা ভলিবল কোচ হিসেবে কাজ করতেন। ২০২০ সালে তিনি মিশরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আল আহলির যুব একাডেমিতে যোগ দেন। এরপর শুধুই ওপরে ওঠার গল্প। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ১৭ বছর এক মাস বয়সে আল আহলির মূল দলে অভিষেক করে চলতি শতাব্দীতে ক্লাবটির সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। মিশরের অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ২১ ম্যাচে ১২ গোল করার পর ইউরোপীয় স্কাউটদের নজরে আসেন হামজা। ফেইনুর্ড তাঁকে দলে নিতে চাইলেও আল আহলি চুক্তি নবায়ন করে। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বার্সেলোনা তাকে ধারে ‘বার্সেলোনা বি’ দলের জন্য নিয়ে আসে। ‘নতুন সালাহ’ খেতাব পাওয়া হামজা বার্সার যুব দলের হয়ে প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়েন। মাঠে নামার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে হেডে হ্যাটট্রিক করে দলকে লিগ শিরোপা জেতান। এরপর বার্সা বি টিমের হয়ে ১১ ম্যাচে ৮ গোল করার পর বার্সেলোনা ১.৫ মিলিয়ন ইউরোর বাই-আউট ক্লজ দিয়ে তাকে পাকাপাকিভাবে কিনে নেয়। বার্সার মূল দলের কোচ হ্যান্সি ফ্লিকও নিশ্চিত করেছেন, আগামী প্রি-সিজন ট্যুরে হামজা তার পরিকল্পনায় আছেন। ইউরোপ মাতানো এই বিস্ময় বালককে মিশরের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি বিশ্বকাপের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। উইঙ্গারনির্ভর মিশরীয় স্কোয়াডে হামজাই একমাত্র খাঁটি ‘নাম্বার নাইন’ (স্ট্রাইকার)। আজ রাতে মেসি-স্কালোনিদের ডিফেন্স লাইনের জন্য এই মিশরীয় রত্নই বড় মাথা ব্যথার কারণ হতে পারেন।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এগিয়ে চলা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি সম্ভাব্য ফাইনাল নিয়ে মুখ খুলেছেন। শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সুযোগ পেলে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে চান। কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠা আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ মিশর। তবে সেই ম্যাচের আগে স্কালোনি বলেন, স্পেন টুর্নামেন্টে ম্যাচের পর ম্যাচ নিজেদের পারফরম্যান্সের উন্নতি করেছে এবং বর্তমানে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। যদিও স্পেনের প্রশংসা করেছেন, তবুও কোনো দলকে একক ফেবারিট বলতে রাজি নন আর্জেন্টাইন কোচ। তার মতে, ভ্রমণ, আবহাওয়া, মাঠের অবস্থা এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি—এসব কারণে এবারের বিশ্বকাপ অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং কোনো দলই ধারাবাহিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। হাস্যরসের ছলে স্কালোনি বলেন, "স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে হলে আমি আজই চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগে আমাদের এবং স্পেন—উভয় দলেরই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ক্লাব মৌসুম শেষে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ায় অনেক ফুটবলার শারীরিকভাবে ক্লান্ত। এজন্য টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো দলই তাদের সর্বোচ্চ মানের ফুটবল উপহার দিতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি।
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ এর মাঝেই আলোচনা চলছে পরবর্তী ২০৩০ বিশ্বকাপ। পরের আসরে পূরণ হবে বিশ্বকাপের শতবর্ষ। এ উপলক্ষ্যে তিন মহাদেশে আয়োজন হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টটি। শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক মোট ৬ দেশ। প্রধান তিন দেশ হিসেবে থাকছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। এছাড়া টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচ উনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়েতে। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিশ্চিত এই ৬ দেশের। তবে আয়োজক হিসেবে কোয়ালিফাই করলেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেবে লাতিন দেশ তিনটি। আগামী বিশ্বকাপের মূল আয়োজকের দায়িত্বে থাকবে ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগাল এবং আফ্রিকার মরক্কো। তবে ২০৩০ সালে এই বৈশ্বিক এই আয়োজনের ১০০ বছর পূর্ণ হবে। এমন ঐতিহাসিক আয়োজনে অংশ হতে চেয়েছিল উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়ে। ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল উরুগুয়ে। চ্যাম্পিয়নও ছিল তারাই। রানারআপ ছিল আর্জেন্টিনা। তাই বিশ্বকাপ আয়োজনের বড় দাবিদার ছিল তারাও। আর প্যারাগুয়ে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল এর ঘরবাড়ি হিসেবে পরিচিত। তাই দেশগুলোর প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদেরও আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করেছে ফিফা। ফিফার প্রাথমিক পরিকল্পনায় ৬টি দেশের ১৮টি শহরের ২১টি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের দীর্ঘতম টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে আসন্ন আসর। প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপ শুরু হবে ৮ জুন এবং শেষ হবে ২১ জুলাই।
নরওয়ের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর, কার্লো আনচেলত্তি ও তার ব্রাজিল দলের কোণঠাসা অবস্থা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও প্রতিকূল হলেও, এই অভিজ্ঞ কোচের ওপর আস্থা হারাচ্ছে না ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন। সংস্থাটির ফুটবল ডিরেক্টর রদ্রিগো কায়েতানো স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলের ডাগআউট থাকছেন আনচেলত্তিই। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চ থেকে আনচেলত্তির দল ছিটকে যায় নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে। ফলে, ২০০২ সালে বিশ্বকাপের পঞ্চম শিরোপা জয়ের পর থেকে দলটির ‘হেক্সা’ পূরণের অপেক্ষা দীর্ঘ হলো আরও। নিউ ইয়র্কের ম্যাচে জোড়া গোলে ব্রাজিলের সর্বনাশ করেন আর্লিং হলান্ড। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার, শেষ দিকে সফল স্পট কিকে এক গোল ফিরিয়ে দিতে পারলেও, শেষ রক্ষা হয়নি ব্রাজিলের। অন্তত ২৮ বছরে ঠেকেছে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা। দুঃসময়ে ব্রাজিলের হাল ধরেছিলেন আনচেলত্তি। তিন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ বদলের মধ্য দিয়ে যাওয়া সেলেসাওরা মূলত অপেক্ষায় ছিল এই ইতালিয়ান কোচের। গত বছর মে মাসে, আনচেলত্তি রেয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়েন এবং ওই মাসেই তার হাতে ব্রাজিলের দায়িত্ব তুলে দেয় সিবিএফ। ৬৭ বছর বয়সী এই কোচের পরে মেয়াদ বাড়ায় সিবিএফ। চুক্তি অনুযায়ী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সেলেসাওদের দায়িত্বে থাকার কথা তার। কিন্তু নরওয়ে ম্যাচের হারের পর থেকে, ইতালিয়ান এই কোচের দিকে তোপ দাগাতে থাকে সমালোচকেরা। তবে, কায়েতানো রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এক ঝড়ে ব্রাজিলের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যাওয়া থেকে আনচেলত্তিকে বিদায় করবেন না তারা। “তিনি আমাদের ম্যানেজার এবং এই চক্র জুড়েই (২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত) থাকবেন। “এই বিশ্বকাপে আমাদের ব্যর্থতার কারণগুলোর একটি ছিল, আমাদের দীর্ঘমেয়াদে সঠিক ও স্থিতিশীল দিকনির্দেশনার অভাব। বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলকে যেভাবে প্রস্তুত করা উচিত ছিল, যেভাবে প্রস্তুত করা যেত (সেগুলো হয়নি) এবং আমরা একই ভুল আবারও করতে পারি না।” ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তিও একই সুরে ২০৩০ বিশ্বকাপ ঘিরে প্রস্তুতির কথা বলেন। “একটা পরাজয় কেবলই নতুন এক রোমাঞ্চকর যাত্রার শুরু। আমাদের উন্নতির ধারা বজায় রাখতে হবে, নতুন পরিকল্পনা করতে হবে। এটাই সব শেষ নয়, বরং এটা নতুন এক চক্রের শুরু।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।