কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে জার্মানির সাবেক ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানকে বহনকারী গাড়ির বহর। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া কুতুপালং এলাকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওজিল কিংবা প্রতিনিধি দলের কেউ আহত হননি। তবে বহরে থাকা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর চালক আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহত চালকের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়ার শাহপুরী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানের গাড়ির বহরটি ভিআইপি প্রোটোকল ভেঙে হঠাৎ একটি মোটরচালিত অটোরিকশা ঢুকে পড়ে। এতে গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় আহত অটোরিকশার চালক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নরওয়ের আর্কটিক বৃত্তে রূপকথার আরেক অধ্যায় লিখল অখ্যাত ক্লাব বোদো/গ্লিম্ট। এবার তাদের শিকার ইতালির জায়ান্ট ইন্টার মিলান। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে শক্তিশালী ইন্টারকে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চমক দিল নরওয়েজিয়ান ক্লাবটি। নিজেদের দেশের লিগে এখনো অফ-সিজন চলছে বোদোর। তবু মাঠে তাদের তেজ-দাপট ছিল পুরোদস্তুর প্রতিযোগিতামূলক। গত মাসে ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারানোর পর এবার ইন্টার মিলানকেও কাবু করল তারা। ম্যাচের ২০ মিনিটে কৃত্রিম টার্ফের মাঠে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কাসপার ওয়ার্টস হগের চমৎকার ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন সন্ড্রে ফেট। তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি ইন্টার। ফ্রানচেসকো পিও এসপোসিতোর জোরালো শটে সমতা ফেরে। এরপর ৬১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে আবার এগিয়ে যায় বোদো। হগের পাস থেকে বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে ইয়েন্স পেটার হাউগে দুর্দান্ত বাঁ-পায়ের শটে বল জালে জড়ান। এর তিন মিনিটের মাথায় ওলে দিদরিক ব্লমবার্গের পাস থেকে সহজ গোলে দলের জয় নিশ্চিত করেন হগ। সেরি আ’তে আট পয়েন্টে শীর্ষে থাকা এবং গত তিন মৌসুমে দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠা ইন্টার মিলানকে আর্কটিক বৃত্তে এভাবেই সাধারণ এক দলে পরিণত করল বোদো/গ্লিম্ট।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি শীর্ষে থাকা আর্সেনাল। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে উলভের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে মিকেল আর্তেতার দল। ২৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকলেও, এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান এখন মাত্র পাঁচ পয়েন্ট। সিটি পরের ম্যাচ জিতলে সেই ব্যবধান কমে দাঁড়াবে তিনে। উলভসের মাঠ মোলিনাক্সে বুধবার রাতে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় আর্সেনাল। বিরতির আগে ১-০ লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে আরও একটি গোল করে তারা ব্যবধান বাড়ায়। তবে এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। স্বাগতিকরা দুটি গোল শোধ করে সমতায় ফেরে। যোগ করা সময়ে আর্সেনাল ডিফেন্ডারের আত্মঘাতী গোলেই ২-২ সমতা আসে এবং পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য হয় গানাররা। আর্সেনালের হয়ে গোল করেন বুকায়ো সাকা ও পিয়েরো ইনকাপিয়ে। অন্যদিকে উলভসের হয়ে একটি গোল করেন হুগো বুয়েনো, আর সমতার গোলটি আসে রিকার্দো কালাফিওরির আত্মঘাতী প্রচেষ্টায়। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট হারানোয় শিরোপা দৌড়ে চাপে পড়েছে আর্সেনাল। ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করে সাকা বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধে দলের খেলায় স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। নিজেদের মান ধরে রাখতে না পারার কারণেই পয়েন্ট খোয়াতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন নিজেদের পারফরম্যান্সে উন্নতি করাই প্রধান লক্ষ্য। একসময় লিগে নয় পয়েন্টে এগিয়ে ছিল আর্সেনাল। কিন্তু পরপর দুটি ড্র তাদের শিরোপা স্বপ্নে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অথচ টেবিলের তলানিতে থাকা উলভস এ মৌসুমে মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছিল। ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা আর্সেনাল পঞ্চম মিনিটে সাকার হেডে এগিয়ে যায়। ৫৬ মিনিটে ইনকাপিয়ে দারুণ এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই দূরপাল্লার বাঁকানো শটে গোল করে ব্যবধান কমান বুয়েনো। শেষদিকে টম এডোজির শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে তা কালাফিওরির গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়, আর তাতেই নিশ্চিত হয় ড্র।
মঙ্গলবার বিকেলে নতুন সরকারের মন্ত্রীগণ শপথ গ্রহণ করেছেন। আজই প্রথম সচিবালয়ে অফিস করেছেন তারা। প্রথম দিনে সাধারণত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মত বিনিময় বা কুশলাদি হয়ে থাকে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজের প্রথম কার্য দিবসে মন্ত্রণালয় থেকে নয়টি কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কোন প্রতিষ্ঠান কোনটা বাস্তবায়ন করবে সেই তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। সাবেক জাতীয় ফুটবলার আমিনুল হক গত দেড় বছর থেকেই ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তার স্বপ্নের কথা বলে আসছিলেন। তার দল বিএনপির ইশতেহারেও ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিফলন ছিল। আজ প্রথম কর্ম দিবসেই তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে চারটি ক্রীড়া সংস্থা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া পরিদপ্তর, বিকেএসপি, ক্রীড়া কল্যাণসেবী ফাউন্ডেশন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নয়টি কর্মসূচি এই চার অধীনস্থ সম্বলিতভাবে বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশ করেছে। ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরে দেশের অন্য সকল খেলোয়াড়রা তেমন সুযোগ-সুবিধা পান না। এজন্য তিনি জাতীয় দলে সকল খেলোয়াড়কে বেতনের আওতায় আনতে চান এবং খেলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের চেষ্টা করছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া অনুবিভাগ-১ ও ২ , জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিকেএসপি। চতুর্থ শ্রেনী থেকে খেলাধূলা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে তদারকি করবে। খেলাধূলার জন্য প্রয়োজন সরঞ্জাম। বাংলাদেশ অধিকাংশ সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আনে। দেশে সেই সরঞ্জাম তৈরি এবং সামনে রপ্তানির পরিকল্পনা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিদপ্তর। খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও খেলার জন্য প্রয়োজন অর্থ দেবে। ফেডারেশনকে সরকার থেকে তেমন আর্থিক অনুদান দেয়া হয় না। পৃষ্ঠপোষকরাও সেভাবে ফেডারেশনের পাশে দাঁড়ায় না। নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন ব্যাংক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে একেকটি খেলা কিংবা ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছেন। এই দায়িত্ব বাস্তবায়ন করবে মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। খেলাকে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে নিতে চান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এজন্য উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিস স্থাপন ও ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ করতে হবে। ক্রীড়া পরিদপ্তর এই বিষয়টি দেখভাল করবে। ৬৪ জেলায় ইনডোর ভিলেজ স্থাপনের দায়িত্ব বর্তেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানরে কাছে। গতকাল শপথ নেয়ার পর মিরপুর পল্লবীস্থ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আমিনুল। সেখানে তিনি বলেছিলেন ক্রীড়া উন্নয়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার আগে তিনি ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বসতে চান। কথা মোতাবেকই কাজ করেছেন। আগামী রোববার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান এই সংক্রান্ত চিঠি তিন ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠনকে প্রেরণ করেছেন আজ বিকেলে।
লা লিগার শীর্ষে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল বার্সেলোনা। ফ্রান বেলত্রানের শেষ মুহূর্তের গোলে জিরোনা ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিলে কাতালান ডার্বি থেকে হতাশ মুখেই মাঠ ছাড়তে হয় বার্সাকে। জিরোনার মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। বার্সার হয়ে রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পাননি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পেলেও ইয়ামালের স্পটকিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বিরতির পর ৫৯ মিনিটে পাউ কুবারসির হেডে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। কিন্তু দুই মিনিটের মধ্যেই থমাস লেমার গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়ায় জিরোনা। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ফ্রান বেলত্রান নিচু শটে বল জালে জড়ালে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিক সমর্থকেরা। বার্সা শিবিরের আপত্তি সত্ত্বেও বহাল থাকে গোল। অতিরিক্ত সময়ে স্বাগতিক খেলোয়াড় জোয়েল রোকা লাল কার্ড দেখলেও ম্যাচের ফল বদলায়নি। এই হারে ২৪ ম্যাচ শেষে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচ খেলে দুই পয়েন্ট এগিয়ে থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ আছে শীর্ষে। অপরদিকে ২৪ ম্যাচ শেষে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে ১২তম স্থানে আছে জিরোনা।
প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যে চার গোল দিলো আর্সেনাল। লিগ ওয়ানের দল উইগান অ্যাথলেটিককে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করল তারা। মিকেল আর্তেতার দল ছয় বছরে প্রথমবার এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে উঠে গেলো। এমিরেটস স্টেডিয়ামে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তরের ক্লাবের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে গানাররা। ১১ থেকে ২৭- প্রথমার্ধের এই ১৭ মিনিটেই সব গোল হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্টফোর্ডের সঙ্গে ড্র করা দলে আটটি পরিবর্তন আনেন আর্তেতা। তারপরও আক্রমণভাগে ছিলেন বুকায়ো সাকা, এবেরেচি এজে, ননি মাদুয়েকে, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। তাদের তিনজনই জাল খুঁজে পেয়েছেন। ১১তম মিনিটে মাদুয়েকের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। মার্তিনেল্লি সাত মিনিট পর স্বাগতিকদের ব্যবধান বাড়ান। ২৩ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করেন জ্যাক হান্ট। জেসুসের গোলে প্রথম আধঘণ্টাতেই ৪-০ তে এগিয়ে যায় গানাররা। আর্সেনাল আর গোল যোগ করতে পারেনি। কিন্তু একপেশে জয়ে তারা ২০২০ সালের এফএ কাপ জয়ের পর প্রথমবার চতুর্থ রাউন্ড পার করল। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে হতাশাজনক ৪৫ মিনিটের পর হাফটাইমেই এজেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। গত নভেম্বরে টটেনহ্যামের বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিকের পর থেকে মাত্র একটি অ্যাসিস্ট, ছিল না কোনো গোল। উইগানের বিপক্ষেও গোলখরা কাটাতে পারেননি, তবে এখানে তিনি ছিলেন আর্সেনালের প্রথম দুটি গোলের কারিগর। এজে পাস বাড়িয়েছিলেন মাদুয়েকেকে। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে পড়ে প্রথম ছোঁয়াতে দারুণ ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপাতে কোনো ভুল করেননি মাদুয়েকে। শিগগিরই এজে আবারো চালকের আসনে বসেন। তার পাস ধরে মার্তিনেল্লি স্যাম টিকলকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। আর্সেনাল তাদের ব্যবধান আরও বাড়ায় পাঁচ মিনিট পর। মরগান ফক্সকে গতিতে পরাস্ত করে মাদুয়েকে পাস দেন সাকাকে। ইংল্যান্ডের এই উইঙ্গারের পুলব্যাক জেসুসের পায়ের আঙুলে লেগে সরে যায় এবং বিভ্রান্ত হয়ে হান্ট নিজের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে হেডে আত্মঘাতী গোল করে বসেন। জেসুস ক্রিশ্চিয়ান নরগার্ডের উপর দিয়ে বাড়ানো লম্বা বল নিয়ন্ত্রণে নেন এবং এগিয়ে আসা টিকলের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে দলের চতুর্থ গোলটি করেন। উইগান লিগ ওয়ানের ২২তম স্থানে রয়েছে, তাদের শেষ সাতটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই হার। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গ্লেন হুইলান হয়তো সবচেয়ে খারাপ কিছুরই আশঙ্কা করছিলেন। কিন্তু তার দল চার গোলের ব্যবধান নিয়েই কোনোমতে বিরতি পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তারা একটি গোল শোধ করার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু জো টেলরের শট কেপা আরিজাবালাগা দক্ষতার সঙ্গে আটকে দেন। সাকার জায়গায় হাফটাইমে ভিক্টর গিওকেরেসকে নামানো হয়। সুইডেনের এই আন্তর্জাতিক তারকা পঞ্চম গোলটি প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু তার প্রথম ছোঁয়ার ডিফ্লেক্টেড শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর এক ঘণ্টার মাথায় এজে সাইড-নেটে বল মারেন। টিকল এরপর মার্তিনেল্লির কাছ থেকে নেওয়া হেডারটি বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। উইগানের গর্বের ব্যাপার যে তারা স্কোরলাইনকে বিশাল হতে দেয়নি। শুরুর ৩০ মিনিটের গোল উৎসবের ম্যাচটি ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে পড়ে।
ঘরের মাঠে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারল না লেস্টার সিটি। অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে এফএ কাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে হামজা চৌধুরীর ক্লাবকে। ২-১ ব্যবধানে জিতে পঞ্চম রাউন্ড নিশ্চিত করেছে সাউদাম্পটন। ইনজুরির কারণে এদিনও মাঠে নামতে পারেননি বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। শনিবার রাতে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় সাউদাম্পটন। পেনাল্টি এরিয়ায় স্যামুয়েল এডোজিকে ফাউল করলে স্পট কিকের সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। কাইল লারিন সফল শটে দলকে লিড এনে দেন। বিরতির পর দ্রুতই ম্যাচে ফেরে লেস্টার। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে সমতায় ফেরে তারা। অধিনায়কের চমৎকার বাইসাইকেল কিকে জালে বল জড়ালে ১-১ সমতা ফিরে আসে ম্যাচে। এরপর দুই দলই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও নির্ধারিত সময়ে আর গোল হয়নি। ইনজুরি সময়ের শেষদিকে গোললাইনের সামনে দারুণ রক্ষণে লেস্টারকে হতাশ করেন সাউদাম্পটনের নাথান উড। সমতা নিয়েই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১৯ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে উড়ে আসা বলে জেমস ব্রির শক্ত হেড টপ কর্নারে জাল খুঁজে নেয়। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সাউদাম্পটন। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা। অন্য ম্যাচে চমক দেখিয়েছে ম্যানসফিল্ড টাউন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল বার্নলি-কে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৯৭৫ সালের পর প্রথমবারের মতো এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে উঠেছে তারা। প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। সালফোর্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে পেপ গার্দিওলার দল। বেঞ্চের কয়েকজনকে সুযোগ দিয়েই জয় তুলে নেয় সিটি।
অবশেষে গোলের দেখা পেলেন মার্ক গেহি।ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর নিজের প্রথম গোলের দেখা পাওয়ার দিনে জয় পেয়েছে তার দলও। তার গোলের সৌজন্যেই আজ শনিবার এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে পুঁচকে স্যালফোর্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। তবে দিনের অন্য ম্যাচে তৃতীয় স্তরের দল ম্যানসফিল্ডের কাছে হেরে বড় অঘটনের শিকার হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের দল বার্নলি। নিজেদের ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটির জয়টা যতটা সহজ হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। আলফি ডরিংটনের আত্মঘাতী গোলে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল সিটি। কিন্তু চতুর্থ স্তরের দল স্যালফোর্ডের বিপক্ষে ব্যবধান বাড়াতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের। ম্যাচের ৮১ মিনিটে রায়ান শেরকির পাস থেকে ট্যাপ-ইনে জালের দেখা পান ডিফেন্ডার গেহি। সিটির জার্সিতে এটিই তাঁর প্রথম গোল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুই কিংবদন্তি গ্যারি নেভিল ও ডেভিড বেকহামের মালিকানাধীন ক্লাব স্যালফোর্ড এবারই প্রথম এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে খেলার সুযোগ পেয়েছে। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে রায়ান আইত-নুরির ক্রস ওমার মারমুশের দিকে যাওয়ার পথে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন স্যালফোর্ডের ডরিংটন। সিটি ভক্তরা বড় জয়ের আশায় থাকলেও প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি গার্দিওলার শিষ্যরা। উল্টো বেন উডবার্ন ও কেলি এন’মাইয়ের আক্রমণ রুখে দিয়ে সিটিকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ড। দিনের অন্য ম্যাচে আজ টার্ফ মুরে বড় অঘটন ঘটিয়েছে ম্যানসফিল্ড। প্রিমিয়ার লিগের দল বার্নলিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৯৭৫ সালের পর প্রথমবারের মতো এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ক্লাব প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তার পদত্যাগের কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে আবারও সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লাপোর্তা। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন ভিক্টর ফন্ট। বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনে সাবেক তারকা ফুটবলারদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সাবেক কোচ জাভি হার্নান্দেজ প্রকাশ্যে ভিক্টর ফন্টকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে লিওনেল মেসি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি। লাপোর্তার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ভালো নয় বলে আলোচনায় রয়েছে। সে কারণে ফন্টকে সমর্থনের সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ডিয়ারিও স্পোর্ট–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বার্সেলোনার চলমান নির্বাচনে সরাসরি যুক্ত না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি। তিনি ভোটদান করবেন না এবং কোনো প্রার্থীর পক্ষেও অবস্থান নেবেন না। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইয়াহু স্পোর্টস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসি কোনো প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না। এমনকি ভিক্টর ফন্টের সঙ্গেও নয়। যদিও ফন্ট আগেই জানিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে তার প্রথম ফোনকল যাবে মেসির কাছেই। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লাপোর্তার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। তবুও এবার নির্বাচনে ভোট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন। কারণ অতীতে বার্সেলোনার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিয়মিতভাবে অংশ নিয়েছেন মেসি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন মেসি। তিনি কোনো প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে মন্তব্য করতে চান না। তার আশঙ্কা, সামান্য ইঙ্গিতও নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে তার যুক্তরাষ্ট্রে ব্যস্ত জীবনকেই দেখানো হচ্ছে। ইন্টার মায়ামির হয়ে সক্রিয় ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ায় আপাতত বার্সেলোনার ক্লাব রাজনীতির বাইরে থাকতে চান তিনি। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার রাতে অ্যানফিল্ডে নাটকীয় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। যোগ করা সময়ে এরলিং হালান্ডের পেনাল্টিতে লিভারপুলকে ২-১ গোলে হারায় পেপ গার্দিওলার দল। এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে সিটির পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়াল ছয়। প্রথমার্ধে গোল হয়নি। তবে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। লিভারপুল বেশির ভাগ সময় রক্ষণেই ব্যস্ত ছিল। ৭৪তম মিনিটে ম্যাচে প্রথম গোল আসে। প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে ডমিনিক শবোস্লাইয়ের বাঁকানো ফ্রি-কিক জালে জড়ায়। এতে এগিয়ে যায় লিভারপুল। গোল খাওয়ার পর চাপ বাড়ায় সিটি। ১০ মিনিট পর সমতায় ফেরে তারা। হালান্ড ডিফেন্সের ওপর দিয়ে হেড করে বল বাড়ান। সেই বল থেকে ছয় গজ বক্সের সামনে থেকে গোল করেন বার্নার্দো সিলভা। এরপর ম্যাচ গড়ায় যোগ করা সময়ে। তখন বড় সুযোগ পায় সিটি। মাতেউস নুনেসকে ফেলে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। দায়িত্ব নিয়ে স্পট কিক নেন হালান্ড। গোল করে অ্যানফিল্ডের দর্শকদের চুপ করিয়ে দেন তিনি। শেষ মুহূর্তে নাটক আরও বাড়ে। আলিসন কর্নারে উঠে গেলে অর্ধমাঠ থেকে রায়ান চের্কি বল জালে পাঠান। তখন হালান্ড ও সোবোস্লাই বল নিয়ে টানাটানিতে জড়ান। ভিএআর দেখে গোল বাতিল করা হয়। সেই সঙ্গে হালান্ডের শার্ট টানার কারণে সোবোস্লাইকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। সিটি ফ্রি-কিক পায়। চের্কির শট দর্শকসারিতে গেলে রেফারি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজান।
২০২৬ সালে লা লিগায় নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখল রিয়াল মাদ্রিদ। মেস্তায়ায় তারা হারাল ভ্যালেন্সিয়াকে। ম্যাচটি সহজ ছিল না। তবু শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাদ্রিদ। এই ম্যাচে আলভারো আরবেলোয়া খেলান ৪-৪-২ ফরমেশনে। কারণ ভিনিসিয়াস জুনিয়র ছিলেন না। তিনি নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন। রদ্রিগো গোয়েস ছিলেন চোটে। আক্রমণে একসঙ্গে খেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও গঞ্জালো গার্সিয়া। প্রথমার্ধে তারা তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে সুযোগ ছিল খুব কম। সেরা সুযোগটি পান রাইট-ব্যাক ডেভিড হিমেনেজ। এটি ছিল তার লা লিগা অভিষেক ম্যাচ। ডান দিক থেকে নেওয়া তার শট ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক স্তোল দিমিত্রিয়েভস্কি ঠেকিয়ে দেন। এর আগে তাকে খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি। ৬৫ মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। আলভারো কারেরাস আলো জ্বালান রিয়াল শিবিরে। তিনি দুই ভ্যালেন্সিয়া ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যান। এরপর কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান। গোল হজমের পরই সমতায় ফেরার বড় সুযোগ পায় ভ্যালেন্সিয়া। লুকাস বেলত্রানের শট পোস্ট ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। এটিই ছিল তাদের সবচেয়ে কাছাকাছি চেষ্টা। এরপর আর ম্যাচে ফেরা হয়নি তাদের। স্টপেজ টাইমের প্রথম মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। ব্রাহিম দিয়াসের পাস থেকে এমবাপ্পে গোল করেন। এটি ছিল ম্যাচে রিয়ালের দ্বিতীয় গোল। মোটের ওপর এটি রিয়াল মাদ্রিদের আরেকটি দুর্বল পারফরম্যান্স ছিল। তবু তারা তা নিয়ে ভাববে না। জয়ই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই জয়ে তারা লা লিগা তালিকায় বার্সেলোনার থেকে এক পয়েন্টের মধ্যে চলে এসেছে। আগামী সপ্তাহে ফর্মে থাকা রিয়াল সোসিয়েদাদের হারাতে পারলে তারা সাময়িকভাবে শীর্ষেও উঠতে পারে। বার্সেলোনা খেলবে সোমবার রাতে জিরোনার বিপক্ষে।
পারল না বাংলাদেশ। নেপালের পোখরায় সাফ অনুর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। ফাইনালে আজ ভারত ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ভারত ১-০ গোলে এগিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে কোনরকম প্রতিরোধই গড়তে পারেনি লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। বরং এই সময়ে ৩ গোল হজম করে বাংলাদেশ। আর তাতেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশের মেয়েদের। অথচ, টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে দাপুটে ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৮ গোল করলেও বাংলাদেশের জালে কেউ বল পাঠাতে পারেনি। তবে আজ ফাইনালে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। বাংলাদেশ কোনো গোল করতে পারেনি। ভারত বাংলাদেশের জালে চার বার বল পাঠিয়েছে। ভারত বাংলাদেশের বিপক্ষে নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত ফুটবল খেলেছে। সেখানে বাংলাদেশ একেবারে ছন্নছাড়া। গ্রুপ পর্যায়ের খেলায় বাংলাদেশ ২-০ গোলে ভারতকে হারায়। ঐ ম্যাচে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ জোড়া গোল করেছিল। পুরো ম্যাচই ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ। আজ ফাইনালে বাংলাদেশ সেই খেলা খেলতে পারেনি। কোচ বাটলারের রক্ষণ বারবার পরাস্ত হয়েছে। গোলরক্ষক ইয়ারজান দুই বার শিশুসুলভ ভুল করেছেন। ম্যাচের ৪২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণের ভুলে ভারতীয় অধিনায়ক বক্সে পুরো আনমার্কড ছিলেন। প্লেসিংয়ে গোল করতে কোনো সমস্যা হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে। ৬১ মিনিটে ভারতের একটি লং বল বক্সের সামনে ধরতে এসে ব্যর্থ হন গোলরক্ষক ইয়ারজান। গোলরক্ষক ভারতের ফরোয়ার্ডকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। ভারতের ফরোয়ার্ড বলের পেছনে ছুটে না পেয়ে ডাইভ দিয়ে পড়ে যান। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। পেনাল্টি থেকে ভারত ব্যবধান দ্বিগুণ করে। মিনিট কয়েক পর প্রতীমার ব্যাক পাসে ইয়ারজান শট নিতে গেলে সামনে দৌড়ে আসেন পার্ল ফার্নান্দেজ। ইয়ারজানের শট নেন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়েরর শরীর বরাবর। এরপর আলতো টোকায় গোল করেন ভারতীয় স্ট্রাইকার। ৮৩ মিনিটে ডিফেন্সের ভুলে ৪ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাটলারের দল।
চমকপ্রদ এক দলবদলের জন্য 'সবুজ সংকেত' দিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। যেখানে জুড়ে দেয়া আছে এক অদ্ভুত শর্তও। প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচ নয়। মূলত, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে ফিট রাখার জন্যই এমন শর্ত। আর সেই কারণেই স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে ইউরোপে ফেরার চিন্তাভাবনা করছেন তিনি। আর সেই সুযোগে কাজে লাগাতে চায় তুর্কি জায়ান্ট গালাতাসারাই। তুরস্কের খ্যাতনামা ফুটবল বিশ্লেষক লেভেন্ট তুজেমান দাবি করেছেন, গালাতাসারাই ও মেসির মধ্যে আলোচনা এরমধ্যেই হয়েছে। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী নাকি চার মাসের চুক্তিতে তুর্কি ক্লাবটির হয়ে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যেখানে মোট ম্যাচ হবে ১২টি। এই ম্যাচগুলোর সবগুলোই ইস্তাম্বুলে, অর্থাৎ র্যামস পার্কে। মেসির শর্ত—তিনি কেবল ঘরের মাঠের ম্যাচেই খেলবেন। শর্তটি কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও, তুরস্কে তার উপস্থিতি যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করবে, তা এড়াতেই নাকি এই সিদ্ধান্ত। তুজেমান অ্যা স্পোর'র লাইভ অনুষ্ঠানে কায়সারিসপোরের বিপক্ষে গালাতাসারাইর ৪–০ গোলের জয়ের পর এই বিস্ফোরক দাবি করেন। তার মতে, বিশ্বকাপের আগে আরও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতেই এই ট্রান্সফার বাস্তবায়িত হতে পারে। সাহসী মন্তব্যের জন্য পরিচিত তুজেমান বলেন, ‘ম্যানেজমেন্টও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে লিওনেল মেসিকে গালাতাসারাইতে আনার চেষ্টা করেছিল। মেসি বলেছেন, আমেরিকান লিগে খেলার গতি তার জন্য খুব ভারী হয়ে যাচ্ছে এবং তিনি চোট নিয়ে বিশ্বকাপে যেতে চান না।’ সৌদি প্রো লিগ থেকে মেসি প্রস্তাব পেলেও তা নাকচ করার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আল-হিলাল প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। মেসি এলে এক মিলিয়ন মানুষ বিমানবন্দরে যাবে।’ তুজেমান আরও জানান, তুরস্কে আসার শর্ত পরিষ্কার করে দিয়েছেন মেসি। তার ভাষায়, ‘মেসি বলেছেন, তিনি ইস্তাম্বুলে খেলবেন—এই শর্তেই আসবেন। তিনি ১২টি ম্যাচ খেলবেন, তবে কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচে যাবেন না।’ যদিও গালার হয়ে তিনি শুধু হোম ম্যাচ খেলতেই আগ্রহী, তবে, তুজেমানের দাবিতে সত্যতা থাকলে ওকান বুরুকের দল তুর্কি কাপের ফাইনালে উঠলে, মেসি সেই ম্যাচেও খেলতে পারেন। এর আগে মেসি নিজেই বলেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য তিনি যেন ‘বোঝা’ না হয়ে যান। কারণ নতুন এমএলএস মৌসুম শুরু হবে বসন্তে, ফলে বিশ্বকাপের আগে হয়তো তিনি প্রত্যাশিত মানের কঠিন চ্যালেঞ্জ পাবেন না। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিকল্প খোঁজার পরামর্শও পেয়েছেন তিনি। সাবেক ফুটবলার টেরি ফেলান, যিনি খেলোয়াড়ি জীবনে চার্লস্টন ব্যাটারির হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে খেলেছিলেন, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মেসি কি বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে ভাবছেন—‘‘আমাকে আরও ভালো প্রতিযোগিতায় খেলতে হবে, ফিট থাকতে হবে?’’ সৌদি আরব? সেখানে যাওয়ার জন্য তার টাকার দরকার নেই। সৌদি দলগুলো ক্লাব বিশ্বকাপে ভালো করেছে ঠিকই, ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়েছে, এক-দুটি ম্যাচ জিতেছে—কিন্তু সেটাই সব নয়।’ এসময় তিনি আরও যোগ করেন, ‘মেসির যদি সত্যিই সেই ক্ষুধা থাকে, তাহলে তাকে এমন জায়গায় যেতে হবে, যেখানে সে নিজেকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে। এখন তো তার জন্য সবকিছু খুব সহজ। পরিসংখ্যান, ভিডিও দেখলে মনে হয়—এই মুহূর্তে এটা তার জন্য প্লেস্টেশন খেলার মতো। এটা স্বাস্থ্যকর নয়।’ লিওনেল মেসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তিনি প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির ডাকে সাড়া দেবেন এবং টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার অধিনায়কত্ব করবেন। এই টুর্নামেন্ট খেলার সময়ই তার আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে চলছিল যোগ করা সময়ের খেলা। যেকোনো সময়ই শেষ বাঁশি বাজাতে পারেন ম্যাচ রেফারি। এমন সময় পেনাল্টি পেয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি দলের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। শেষ মুহূর্তের এই গোলেই রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ২-১ গোল ব্যবধানে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্ন্যাবুতে তুলনামূলক কম শক্তিশালী দল রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে সহজ জয়ই পাবে রিয়াল মাদ্রিদ, এমনটিই ভেবেছিলেন সবাই। ম্যাচের পরিসংখ্যানও রয়েছে স্বাগতিকদের পক্ষেই। বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল রিয়াল। পুরো ম্যাচের ৫৭ শতাংশ সময় নিজেদের অধীনে বল ধরে রাখে স্বাগতিকরা। আর প্রতিপক্ষের গোলবার বরাবর শট নেয় মোট ২৩টি। অন্যদিকে রায়ো ভায়েকানো নিজেদের অধীনে বল ধরে রেখেছে ৪৩ শতাংশ সময়। আর রিয়াল মাদ্রিদের গোলবার লক্ষ্য করে শট নিয়েছে ১৪টি। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ১৪তম মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। দলের স্প্যানিশ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো বলে নিখুঁত শট মেরে গোল আদায় করেন ভিনিসিয়ূস জুনিয়র। বিরতির আগ পর্যন্ত লিড ধরে রাখেন আলভারো আরবেওলার শিষ্যরা। প্রথমার্ধ শেষ জয় ১-০ গোল ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই গোলের দেখা পায় রায়ো ভায়েকানো। মাঠে নামার চতুর্থ মিনিটেই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান জর্জ ডি ফ্রুটোস। এরপর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালায় রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু রক্ষণভাগ ভেদ করে আর গোল আদায় করা হচ্ছিল না তাদের। এমতাবস্থায় মনে হচ্ছিল, ১-১ ব্যবধানেই শেষ হচ্ছে ম্যাচ। কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও বাকিই ছিল। যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে অবৈধভাবে বাধা দেওয়ার কারণে হলুদ কার্ড দেখেন আলফোনসো এস্পিনো। তাতেই পেনাল্টি পেয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। স্পট কিক থেকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপে। এ জয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমালো রিয়াল। ২২ ম্যাচ শেষে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছেন আরবেওলার শিষ্যরা। সমান ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। তিনে রয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। তাদের সংগ্রহ ৪৫ পয়েন্ট। আর ২২ পয়েন্ট নিয়ে ১৭তম স্থানে আছে রায়ো ভায়েকানো।
সাফ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মতোই শুরু করেছে বাংলাদেশ। শনিবার নেপালের পোখারায় বাংলাদেশ ১২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভুটানকে। প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে এগিয়েছিল বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টের সর্বশেষ আসরে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার শিরোপা নিজেদের করে নিতে বাফুফে বয়সভিত্তিক এই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে মহা গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় দলকে ঢাকায় রেখে প্রধান কোচকে পাঠিয়েছে নেপালে। সেই মিশনে শুরুটা দুর্দান্তই করেছে বাংলাদেশ। প্রথম গোল পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ২৭ মিনিট। তারপর ভুটানের মেয়েরা শুধু জাল থেকে বলই কুড়িয়েছেন। প্রথমার্ধে চার ও দ্বিতীয়ার্ধে ৮ গোল দিয়ে বাংলাদেশ রীতিমতো ভুটানের জালে গোল উৎসব করেছে। চার গোল করেছেন মুনকি আক্তার। তিনটি করেছেন তৃষ্ণা রানী ও আলপি আক্তার। অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস, মামুনি চাকমা একটি করে গোল করেছেন। বাংলাদেশের মেয়েরা ম্যাচে যোগ করা সময়েই করেছেন ৩ গোল। চার দেশের টুর্নামেন্টে লিগ ভিত্তিতে খেলা শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দলের মধ্যে হবে ফাইনাল। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে।
লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে নাটকীয় লড়াইয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে–অফের ড্রয়ে একই দুই দলকে ফের একবার প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের নিওনে অনুষ্ঠিত ড্রয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, ফেব্রুয়ারিতে দুই লেগের লড়াইয়ে শেষ ষোলোতে ওঠার জন্য রিয়াল ও বেনফিকাকে আবার মাঠে নামতে হবে। লিগ পর্বের শেষ দিনে একই সময়ে শুরু হওয়া ১৮টি ম্যাচের মধ্যে রিয়াল–বেনফিকা ম্যাচই শেষ হয়েছিল সবার শেষে। যোগ করা সময়ের নাটকীয়তায় সেই ম্যাচের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছিল দুই দলের ভবিষ্যৎ। রিয়ালের প্রয়োজন ছিল একটি গোল করে সেরা আটে জায়গা নিশ্চিত করা, যাতে প্লে–অফ এড়ানো যায়। অন্যদিকে বেনফিকার দরকার ছিল একটি গোল করে ২৪তম হয়ে প্লে–অফে জায়গা নিশ্চিত করা। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে বেনফিকার গোলেই তাদের লক্ষ্য পূরণ হয় এবং রিয়াল নবম স্থানে নেমে গিয়ে প্লে–অফ খেলতে বাধ্য হয়। লিগ পর্বে নবম থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলোকে নিয়ে প্লে–অফ ড্র অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী রিয়ালের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ছিল বোডো/গ্লিমট অথবা বেনফিকা। ড্রয়ে শেষ পর্যন্ত বেনফিকার নামই ওঠে। রিয়াল–বেনফিকার পাশাপাশি ড্রয়ের আরেকটি আকর্ষণীয় ম্যাচআপ হলো মোনাকো ও পিএসজির মুখোমুখি হওয়া। দুই দলই ফরাসি লিগে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় এই লড়াইকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্লে–অফের প্রথম লেগের ম্যাচগুলো হবে ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি। দ্বিতীয় লেগ অনুষ্ঠিত হবে ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি। প্লে–অফে মুখোমুখি দলগুলো বেনফিকা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ মোনাকো বনাম পিএসজি কারাবাগ বনাম নিউক্যাসল বোডো/গ্লিমট বনাম ইন্টার মিলান গালাতাসারাই বনাম জুভেন্টাস ডর্টমুন্ড বনাম আতালান্তা ক্লাব ব্রুগা বনাম আতলেতিকো মাদ্রিদ অলিম্পিয়াকোস বনাম লেভারকুসেন
প্রথম সাফ মুকুট জয়ের পর ২০২২ সালে সাবিনাদের ঘিরে আবেগ-উচ্ছ্বাসে মেতেছিল ঢাকাবাসী। সে উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি ২০২৪ সালে শিরোপা ধরে রেখে দেশে ফেরার পর। তাতে কি! সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন হওয়া সাবিনা খাতুনদের জন্যও থাকছে ছাদখোলা বাস। এবারের সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্যদের থাইল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলো ঘুরে দেখানো হয়েছে। যে কারণে পুরুষ দল ফিরলেও নারী দলের বিলম্ব হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে সাবিনা খাতুন-কৃষ্ণা রানী সরকারদের। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব কালবেলাকে বলেছেন, ‘নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন দলকে বরণে প্রস্তুত করা হয়েছে ছাদখোলা বাস। সন্ধ্যায় ঢাকায় নামার পর বিজয়ীদের সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এবারের সাফল্যটা সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভীন, মাতসুশিমা সুমাইয়া ও নিলুফার ইয়াসমিন নীলার জন্য অন্য রকম। ২০২৪ সালে সাফ জয়ের পর জাতীয় নারী ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ছিটকে যান একঝাঁক সিনিয়র ফুটবলার। যার অন্যতম উল্লিখিত পাঁচজন। উপেক্ষিত ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ফুটসাল দলে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন সাবিনা খাতুন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সর্বস্ব উজাড় করে ভালো কিছুর জন্য চেষ্টা করবেন। সে চেষ্টার ফল হিসেবে নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ মুকুট জয়ের পথে অপরাজিত ছিল লাল-সবুজরা। একই সঙ্গে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছে পুরুষ সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ। আসরে বাংলাদেশ অবশ্য ভালো করতে পারেনি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে হারিয়েছে ভারতকে। পরের ম্যাচেই অবশ্য ধাক্কা খেতে হয়েছে— ভুটানের বিপক্ষে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে শেষদিকের নাটকীয়তায় ৩-৩-এ ড্র করে বাংলাদেশ। এ ধাক্কার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার দিকে যাত্রা শুরু। পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে শিরোপার আরও কাছে চলে যায় লাল-সবুজরা। শেষ ম্যাচে দুর্বল মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে শিরোপা জয়ের উল্লাস করেছে বাংলাদেশ। শিরোপা জয়ের মিশনে ব্যক্তিগত পুরস্কারেও ছিল বাংলাদেশের আধিপত্য। সর্বোচ্চ গোল করেছেন সাবিনা খাতুন। আসরে তার গোলসংখ্যা ছিল ১৪। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বাংলাদেশেরই কৃষ্ণা রানী সরকার। তার গোলসংখ্যা ছিল সাবিনা খাতুনের অর্ধেক ৭। ভারতের খুশবুর গোলসংখ্যা ছিল কৃষ্ণা রানী সরকারের সমান।
আগামী জুনে শুরু হবে ফিফা বিশ্বকাপ। ফিফার মেগা এই টুর্নামেন্ট শুরুর বাকী মাত্র ৫ মাস। তার আগেই আর্জেন্টাইন ভক্ত-অনুরাগীদের দুঃসংবাদ দিলেন দেশটির বিশ্বকাপজয়ী রক্ষণসৈনিক হুয়ান ফয়েথ। অনেক আগেভাগেই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন যে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে তার। গত শনিবার ভিয়ারিয়ালের হয়ে লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলার মাঝে চোটে পড়েছেন আর্জেন্টিনার এই ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার। ২৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের কারও সঙ্গে সংঘর্ষ না হলেও, পায়ে চোট পান ফয়েথ। একপর্যায়ে তীব্র ব্যথায় তিনি বদলি হয়ে উঠে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। পরবর্তীতে জানা যায়, ফয়েথের অ্যাকিলিস হিল টেন্ডন (গোড়ালি) ছিড়ে গেছে। গুরুতর এই চোটে চলতি মৌসুমের বাকি সময়ে আর মাঠে নামা হচ্ছে না হুয়ান ফয়েথের। তার ক্লাব ভিয়ারিয়াল জানিয়েছে, পরীক্ষায় ফয়েথের চোটের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। পরবর্তীতে তার অস্ত্রোপচারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এ ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে কমপক্ষে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে বিশ্বকাপ খেলা অনিশ্চিত হয়ে গেল এই আলবিসেলেস্তে সেন্টারব্যাকের। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস সরাসরি বলেই দিয়েছে যে, ফয়েথের আর বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না। এর আগেও ফয়েথ দীর্ঘমেয়াদি হাঁটু ও কাঁধের চোটে ভুগেছেন। সম্প্রতি ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে তাকে আর পাচ্ছে না স্প্যানিশ ক্লাবটি। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আগে বিশ্বকাপের স্কোয়াড প্রস্তুত করা অবশ্য অমূলক। তবে ইতোমধ্যে নিজের প্রাথমিক দলের তালিকা তৈরির কথা জানিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেই দলে থাকার প্রবল সম্ভাবনা ছিল হুয়ান ফয়েথের। কিন্তু এই চোঁট তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্যই মাঠ থেকে ছিটকে দিল। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপ আসর শুরু হবে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা খেলবে গ্রুপ ‘জে’-তে। গ্রুপপর্বে তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রে হবে। ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু, এরপর ২২ জুন ডালাসে অস্ট্রিয়া এবং ২৭ জুন একই ভেন্যুতে জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বার্সেলোনা ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) যোগ দিলেন পেদ্রো ফার্নান্দেজ; মায়ের সূত্রে ফিলিপিনো বংশোদ্ভূত প্রতিভাবান এ ফুটবলার দ্রো ফার্নান্দেজ নামে বেশি পরিচিত। বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমি দিয়ে উঠে আসা এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার একই সঙ্গে উইংয়ের বাঁ দিকে খেলতে সক্ষম। বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং পাসিং দক্ষতার কারণে তাকে কাতালান ক্লাবটির ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। কিন্তু গেম টাইম নিয়ে বার্সায় নাখোশ ছিলেন দ্রো ফার্নান্দেজ; যে কারণে ক্লাবটির চুক্তি বর্ধিত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। এ অবস্থার মাঝেই প্রতিভাবান ১৮ বছর বয়সী এ ফুটবলারকে দলভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল পিএসজি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘প্যারিস সেন্ট জার্মেই অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে দ্রো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে। ১৮ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার ২৭ নম্বর জার্সি পরিধান করবেন। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এ পদক্ষেপ ক্লাবের ক্রীড়া কৌশলের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা মূলত তরুণ প্রতিভা এবং দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেয়।’ উত্তর-পশ্চিম স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গালিসিয়ায় ২০০৮ সালের ১২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন পেদ্রো ফার্নান্দেজ। চার বছর বয়সে ইডি ভাল মিনোর নিগ্রানে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০২২ সালে তিনি বার্সেলোনায় যোগ দেন। বহুমুখী মিডফিল্ডার সেখানে তিন মৌসুম নিজের বিকাশ ঘটান এবং তার মান, খেলার ধরন এবং আক্রমণভাগে ক্ষমতার কারণে দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নতুন মিশন সম্পর্কে ফার্নান্দেজ বলেছেন, ‘আমি পিএসজিতে যোগ দিতে পেরে অত্যন্ত খুশি এবং গর্বিত। এটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য গর্বের মুহূর্ত। পিএসজি একটি বিশাল ক্লাব যা আমি শৈশব থেকেই অনুসরণ করছি এবং এখানে অনেক কিংবদন্তি ইতিহাস গড়েছেন। আমি এই জার্সির জন্য মাঠে নামতে এবং নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে অত্যন্ত রোমাঞ্চিত ও অনুপ্রাণিত।’
দল থেকে বাদ পড়ে প্রহসনের অভিযোগ এনেছেন ইনতিশার মোস্তাফা চৌধুরী। যে কারণে সম্ভাবনা থাকার পরও নাকি সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো কিছু অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। এমন অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন দল সংশ্লিষ্ট সূত্র। থাইল্যান্ডে গতকাল শেষ হওয়া আসরের শিরোপা ভাগ্য আগেই লেখা হয়ে যাওয়ায় কৌতূহল ছিল রানার্সআপ ও তৃতীয় স্থান নিয়ে। ছয় ম্যাচের সবগুলো জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মালদ্বীপ। গতকাল ভুটানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছে নেপাল। ভারত ও পাকিস্তান দুই দলের সামনে সুযোগ ছিল রানার্সআপ হওয়ার। পাকিস্তানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে রানার্সআপ হয়েছে ভারত। পাকিস্তানকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে চতুর্থ স্থান নিয়ে। ছয় ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্র থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান পেয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ইনতিশার মোস্তাফা চৌধুরী ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের সাফ জেতা উচিত ছিল অথবা অন্তত দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অবস্থানে থেকে পোডিয়ামে থাকা উচিত ছিল! কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্বজনপ্রীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, হিংসা, অন্যায্য সিদ্ধান্ত ছিল! শুধু দল এবং নিজের জন্য শক্ত অবস্থান নেওয়ায় আমাকে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক কিছু বলার ছিল, সংক্ষেপে শুধু এটাই বলব যে, আমরা এটি প্রাপ্য ছিলাম না। শেষ পর্যন্ত এটি আমাদের দেশের জন্যই একটি ক্ষতি ছিল!’ দলের এক কোচিং স্টাফ কালবেলাকে বলেছেন, ‘কোনো দলই চায় না একটা প্রতিযোগিতার মাঝপথে বিতর্ক সৃষ্টি হোক। কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কিন্তু সময়টাও আদর্শ ছিল না। কারণ এমন সিদ্ধান্ত দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আসলে বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। অন্যদের বেলায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো না, শুধু একজনের বেলায় কেন এমনটা ঘটবে?’
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে শেষ হয়েছে সাফ নারী ও পুরুষ ফুটসাল। রোববার এই টুর্নামেন্টের মধ্যেই সাফের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পরই সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের ড্র সম্পন্ন হয়। ড্রয়ে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে পড়ে, যেখানে অন্য দুই দল হলো শক্তিশালী ভারত ও পাকিস্তান। আগামী ২৫ মার্চ থেকে শুরু হবে টুর্নামেন্ট, যা মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের সমাপ্তি হবে ৩ এপ্রিল। এই আসরে সাফের সাত দেশের সব দলই প্রতিনিধিত্ব করবে। উপমহাদেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ক্রীড়াঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দাবিকে আইসিসি প্রত্যাখ্যান করায় দেশটি ভারতে খেলতে যাচ্ছে না। পাকিস্তানও বাংলাদেশের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে এবং বিশ্বকাপ বয়কটের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টে তিন দেশ একই গ্রুপে পড়েছে। অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল সেমিফাইনালে উঠবে। মালদ্বীপ এবারই প্রথম আয়োজক হিসেবে অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। এই পর্যায়ে এর আগে দুইবার সাফের আসর বসেছিল। ২০২২ সালে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল ভারত, এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বিতীয় আসরে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। অনূর্ধ্ব-২০, ১৯ ও ১৮ পর্যায়ের আসরগুলো যুব সাফ হিসেবে বিবেচিত হয়। অ-১৮ ও অ-১৯ পর্যায়ে ভারত দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বাংলাদেশের এই দুই আসরে এখনও শিরোপা নেই, যদিও চারবার রানার্সআপ হয়েই তারা শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।