আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন জার্মানির তারকা ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। জাতীয় দলের হয়ে ৮৬টি ম্যাচ খেলেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই সেন্টার-ব্যাক। দীর্ঘ সময়ের ভাবনা-চিন্তার পর তরুণ ফুটবলারদের জায়গা করে দিতেই জার্মানির জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রুডিগার বলেন, কিছু সময় ভাবার পর মনে হয়েছে, জাতীয় দলের ক্যারিয়ার শেষ করার এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করে দেওয়ার সময় এসেছে। ২০১৪ সালে জার্মানি জাতীয় দলে অভিষেক হয় রুডিগারের। তবে অভিষেকের মাত্র এক মাস আগে জার্মানি বিশ্বকাপ জেতায় ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাননি তিনি। পরবর্তী সময়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন এই ডিফেন্ডার। জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করার পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে চান রুডিগার। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ রয়েছেন তিনি। রুডিগার বলেন, আমার জন্য এখন নতুন একটি অধ্যায় শুরু হচ্ছে। যেখানে আমি পুরোপুরি আমার ক্লাবের দিকে মনোযোগ দেব। বার্লিনে জন্ম নেওয়া রুডিগার বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও স্টুটগার্টের যুব একাডেমিতে বেড়ে ওঠেন। এরপর ইতালির রোমায় খেলেন তিনি। ২০১৭ সালে যোগ দেন ইংলিশ ক্লাব চেলসিতে। লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে ২০২১ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেন রুডিগার। ২০২২ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পরও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তিনি। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগা দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জেতেন। তবে রুডিগারের জাতীয় দলের ক্যারিয়ার কেটেছে জার্মান ফুটবলের একটি কঠিন সময়ে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানি ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপেও শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেয় দলটি। প্যারাগুয়ের কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচটিই জার্মানির হয়ে রুডিগারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে ২১ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন লিওনেল মেসি। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক হয় লিওনেল মেসির। অভিষেকের পর দেশের হয়ে ২০৭ ম্যাচ খেলে ইতিহাসের পাতায়-পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার হয়ে বহু রেকর্ডের মালিক হয়েছেন মেসি। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ডের পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলের বড় সব শিরোপাও জিতেছেন এই খুদে ফুটবল জাদুকর। দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ড ও অর্জনে ক্যারিয়ারকে রঙিন করেছেন মেসি। বিদায়বেলায় এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মেসির রেকর্ড ও অর্জনগুলো। ২০০৫ সালের আগস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মেসির। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার এবং গোলের রেকর্ডের মালিক তিনি। ২০৭টি ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের জার্সিতে ১২৫টি গোল করেছেন মেসি। ১১ হ্যাটট্রিকের সঙ্গে ৬৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে গোল বা অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনার ১৯৩টি গোলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এলএমটেন। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক জয়ী আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি। ২০১৪ সালে মেসির নেতৃত্বে ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হারে মেসির দেশ। ঐ আসরে চার গোল করেন তিনি এবং টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরমেন্সে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে গোল্ডেন বল জিতেন মেসি। ২০২১ সালে মেসির নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৮ বছর পর কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারায় তারা। আসরে কলাম্বিয়ার লুইস ডিয়াসের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৪ গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার লাভ করেন মেসি। ২০২২ সালে মেসির অধীনে ফিনালিসিমা ট্রফি ঘরে তোলে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটান মেসি। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ৩-৩ গোলে ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারসহ ফাইনালে তিন গোল করেন মেসি। পুরো আসরে ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্টে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জেতেন মেসি। বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুবার গোল্ডেন বল জয়ের রেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে ২০১৪ সালেও গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি। ২০২৪ সালে আবারও আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকার শিরোপা এনে দেন মেসি। ফাইনালে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার ইতিহাসে ৩৯ ম্যাচ খেলে ১৪ গোল করেছেন তিনি। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও মেসির নেতৃত্বে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে হৃদয় ভাঙে আর্জেন্টিনার। এবারের আসরে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেন মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনাল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসির শেষ ম্যাচ হয়ে রইল। বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার নজির গড়েন মেসি। তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম একাদশে থাকা একমাত্র খেলোয়াড়ও তিনিই। এছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১৬ বার ম্যাচসেরা হওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে সমান সর্বোচ্চ ৬টি বিশ্বকাপ খেলেছেন মেসি। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৩ ম্যাচে জয় পেয়েছেন মেসি। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৭ জয়ের রেকর্ড ভাঙেন মেসি। সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড মেসির। ৩৯ বছর ২৫ দিন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেন তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি ১৮ গোল করেছেন মেসি।
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৬ সালের সেই বিষণ্ন রাতের কথা। সেবারও আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। আর তার সেই সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন দীর্ঘদিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনাল। চিলির বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের লড়াই গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে মেসির পেনাল্টি মিস করে বসে আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত চিলির কাছে হেরে আবারও শিরোপাশূন্য থাকতে হয় আলবিসেলেস্তেদের। পরপর কয়েকটি ফাইনালে ব্যর্থতার যন্ত্রণা তখন মেসিকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই তাই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার ঘোষণা দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মেসির সেই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়েছিল ফুটবল বিশ্ব। হতাশা ছিল আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীর এমন দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রোনালদোও। সেই সময় মেসির সিদ্ধান্ত নিয়ে রোনালদো বলেছিলেন, “মেসি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মানুষের তা বোঝা উচিত।” মেসির পেনাল্টি মিস নিয়েও সহমর্মিতা জানিয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা। তার ভাষায়, “সে পরাজয় ও হতাশায় অভ্যস্ত নয়, এমনকি দ্বিতীয় হওয়াতেও নয়। পেনাল্টি মিস করলেই কেউ খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যায় না।” মাঠে দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে কম আলোচনা হয়নি। একজন আর্জেন্টিনার, অন্যজন পর্তুগালের। ক্লাব ফুটবলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের লড়াই ছিল ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরেও মেসির প্রতি ছিল রোনালদোর শ্রদ্ধা। তাই মেসিকে কাঁদতে দেখে কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। চেয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবারও যেন ফিরে আসেন এই মহাতারকা। রোনালদো বলেছিলেন, মেসিকে কাঁদতে দেখে কষ্ট হচ্ছে। আমি আশা করি, সে তার দেশে ফিরবে, কারণ তার এটা প্রয়োজন। রোনালদোর সেই আশা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার কয়েক মাস পরই সিদ্ধান্ত বদলে আর্জেন্টিনার হয়ে ফিরে আসেন মেসি। এরপর যেন বদলে যায় পুরো গল্প। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা একটির পর একটি শিরোপা জিতে পূর্ণতা দেন নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে। তবে এবারের গল্পটা যেন ভিন্ন। উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা থেমেছে। এরপর গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আর আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যাবে না তাকে। ২০১৬ সালে যে সিদ্ধান্তে রোনালদো বলেছিলেন, “ফিরে আসুক মেসি”-এবার সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা হয়তো আর থাকবে না। সূত্র : এনডিটিভি
ফুটবলকে বিদায় বললেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। আজ সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এই মহাতারকা। ২০০৫ সালের আগস্টে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে ২১ বছরে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন মেসি। তার ঝুলিতে রয়েছে ৮টি ব্যালন ডি'অর এবং রেকর্ড সংখ্যক দলীয় ও ব্যক্তিগত অর্জন। মেসির শিরোপা জয় শুরু ২০২১ সাল থেকে। ২০২১ থেকে ২০২৪—এই চার বছরে মেসি জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের জার্সিতে কিছুই জিততে পারেন না—সমর্থকদের এই অপবাদ মাথায় নিয়ে ২০১৬ কোপা আমেরিকা ফাইনালে হারের পর অভিমানে একবার অবসর ঘোষণা করেছিলেন মেসি। কিন্তু পরে ফিরে এসে ক্যারিয়ারের শেষ অর্ধে সব অপূর্ণতা ঘুচিয়েছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। দেশটির জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা তো বটেই, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোল করায় এগিয়ে শুধু পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এক পঞ্জিকা বর্ষে সর্বোচ্চ গোল ২০১২ সালে ক্লাব ও দেশের হয়ে এক বছরে ৯১টি গোল করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট রেকর্ড ৬ বার ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট জয়ের অনন্য কীর্তি তার। বিশ্বকাপ ও আন্তর্জাতিক রেকর্ডবিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড মেসির দখলে। বিশ্বকাপে সর্বাধিক অ্যাসিস্ট ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপের মূল পর্বে সবচেয়ে বেশি গোলে সহায়তা করার রেকর্ডও তার। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক অ্যাসিস্ট পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা তিনি। কোপা আমেরিকা রেকর্ড টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড মেসির। ক্লাব ও লিগ রেকর্ড লা লিগায় সর্বোচ্চ গোল বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় ৪৭৪টি গোল করে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। লা লিগায় এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল ২০১১-১২ মৌসুমে লা লিগায় একাই ৫০টি গোল করেছিলেন মেসি। পিচিচি ট্রফি রেকর্ড ৮ বার লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে পিচিচি ট্রফি জয়।
জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ ঘোষণা দেন। ফেসবুক পোস্টে মেসি লেখেন, ‘ফাইনালের পর বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি…’ তিনি আরও লিখেন,এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা নিতে গিয়ে অনেক কষ্ট হয়েছে এবং এখনো হৃদয়ে ব্যথা দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এটাই সঠিক সময়। আমি শপথ করে বলছি, আমি সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছর নয়, তারও আগে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তখনও। এই জার্সির জন্য, আপনাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য এবং ফুটবলের মাধ্যমে যেন আপনারা আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য গর্ববোধ করেন—সেই জন্য আমি সবসময় লড়াই করেছি এবং নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি। আর বেশি সময় বাকি নেই, একে একে অধ্যায়গুলো শেষ হয়ে আসছে। আর এই অধ্যায়টি শেষ করতে গিয়ে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি জাতীয় দলে থাকা ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবেসে যাব। আমি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, এখন আর দেওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই। পাশাপাশি, পেছনে আরও অনেক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যারা জাতীয় দলে থাকার যোগ্য। গত ২০ বছর ধরে আপনাদের কাছ থেকে পাওয়া সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। দলের ভেতর থেকে আপনাদের সমর্থনের আওয়াজ অনেক মিস করব। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে সবসময় দলকে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়ে যাব—ভালো সময়ে যেমন, খারাপ সময়ে তার চেয়েও বেশি। সবসময় পাশে থাকার জন্য আমার পরিবারকে ধন্যবাদ। এই সুন্দর কিন্তু কঠিন যাত্রায় আমাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্যও ধন্যবাদ। যেসব কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। তাদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি ও মুহূর্ত আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি, যেগুলো কখনো ভুলব না। আমি এই শান্তি ও গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি যে, সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আপনাদের এমন কিছু স্বপ্নের মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি, যা আমরা কল্পনা করেছিলাম। আপনাদের সঙ্গে এসব মুহূর্ত বেঁচে থাকাটা ছিল অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা। আমি আপনাদের ভালোবাসি! আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। ভামোস আর্জেন্টিনা!’ পোস্টটির শেষে আর্জেন্টাইন এই তারকা আরও লিখেছেন, ‘এই কথাগুলো আমি ২১ জুলাই, ফাইনালের দুই দিন পর লিখেছিলাম। আজ আমার বাবাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত যে, এটাই আমার সঠিক সিদ্ধান্ত।
লেস্টার সিটি ছেড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশী মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। চুক্তিটা এক বছরের, কিন্তু চুক্তির সঙ্গে জড়িত অর্থ প্রকাশ করা হয়নি। ২৮ বছর বয়সী চৌধুরী ২০২৪-২৫ মৌসুমের শেষদিকে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন। সান্ডারল্যান্ডের কাছে চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে-অফ ফাইনালের হারা দলটির হয়ে লিগে ১৬ ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ফুটবলার লেস্টার সিটি একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন। ক্লাবের হয়ে ১১ মৌসুমে ১৬৬ ম্যাচে অংশ নিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। চলতি মৌসুমে ৩ ম্যাচ খেলেছেন। লেস্টারের ২০১৫-১৬ প্রিমিয়ার লিগ জয়ী স্কোয়াডের অংশ ছিলেন এবং ২০২১ সালে চেলেসির বিরুদ্ধে তাদের এফএ কাপ ফাইনাল জয়েও খেলেছিলেন বাংলাদেশী এই তারকা। ‘কার্ডিফের বিপক্ষে ম্যাচের পর আমি বলেছিলাম কীভাবে আমাদের শক্তিশালী হওয়া দরকার এবং আমাদের বর্তমান কয়েকটি ইনজুরির কারণে রাইট-ব্যাক পজিশনে প্রতিযোগিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি ছিল’—ক্লাবের ওয়েবসাইটে শেফিল্ড ইউনাইটেড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার বলেছেন। এই কোচ যোগ করেন ‘আমরা সবাই জানি হামজা ওই ভূমিকা পালন করতে পারে এবং এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু করতে পারে। এখানে তার প্রথম ধাপের শেষ ১০ ম্যাচে তিনি সম্ভবত আমাদের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন, যার মধ্যে প্লে-অফ সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল অন্তর্ভুক্ত ছিল।’ চৌধুরী ২০২২-২৩ মৌসুমে ওয়াটফোর্ডে ধারে খেলার সময়ও ওয়াইল্ডারের অধীনে খেলেছিলেন। আমি ওয়াটফোর্ডে স্বল্প সময়ের জন্য এই ম্যানেজার অধীনে কাজ করেছি এবং তারপর নিশ্চিতভাবেই এখানে আমার শেষ ধাপে খেলেছি। আমরা সবসময় যোগাযোগ রেখেছি’—সাবেক গুরুর সান্নিধ্য আসা নিশ্চিত হওয়ার পর বলছিলেন হামজা চৌধুরী বলেছেন। ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষিক্ত এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘তার অধীনে খেলা আমি সত্যিই ভীষণ পছন্দ করি। এটি আমার জন্য একটি বড় পরিবর্তন। আমি ২০ বছর ধরে লেস্টারে আছি, তাই এটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্যও পরিবর্তন। এটি এমন একটি বিষয় যার জন্য আমি সত্যিই মুখিয়ে আছি এবং আশা করি এখানে আমাদের একটি দুর্দান্ত মৌসুম কাটবে।’
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইংলিশ লিগ কাপের ম্যাচ একই দিনে পড়ায় সূচি পরিবর্তন করতে হয়েছে ইংলিশ ফুটবল লিগকে (ইএফএল)। এ ঘটনায় উয়েফার সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সূচি অনুযায়ী, এভারটন ও ওলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের মধ্যকার লিগ কাপের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচটি ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। একই দিনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের মুখোমুখি হওয়ার কথা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের। একই দিনে লিভারপুল শহরের দুই ক্লাবের নিজ নিজ মাঠে ম্যাচ থাকায় স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। স্থানীয় নীতিমালা অনুযায়ী, একই দিনে দুটি ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে উয়েফার সঙ্গে আলোচনা করলেও বিদেশি সমর্থকদের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের সূচি পরিবর্তনে রাজি হয়নি ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এর ফলে এভারটন ও উলভসের লিগ কাপ ম্যাচটি এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে ওই একই দিনে লিভারপুল ও টটেনহ্যাম হটস্পারের মধ্যকার লিগ কাপের ম্যাচ নির্ধারিত ছিল। সূচির সংঘাত এড়াতে ম্যাচটি একদিন এগিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয়েছে। ইএফএল বলেছে, ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ঘরোয়া প্রতিযোগিতার আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হচ্ছে না। এর ফলে ক্লাব ও সমর্থকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ম্যাচের সূচি পরিবর্তনের কারণে সমর্থকদের যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে ইএফএল।
পালমেইরাস থেকে ২২ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার অ্যালান এলিয়াসকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে দলে ভেড়াল ম্যানচেস্টার সিটি। দলবদলের মৌসুমে ক্লাবে এটি ক্লাবটির ষষ্ঠ সংযোজন। সোমবার (৩১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সিটির ফুটবল পরিচালক হুগো ভিয়ানা বলেন, অ্যালান সত্যিই একজন চমৎকার ফুটবলার। আমরা মনে করি, সে দলের জন্য একটি বড় সম্পদ হয়ে উঠবে। তার সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারেই সে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাও পাওলোর এই ক্লাবের একাডেমি থেকে উঠে আসা এবং মূল দলের হয়ে ৯৬টি ম্যাচ খেলা এই খেলোয়াড়ের জন্য সিটি প্রায় ৪০ মিলিয়ন ইউরো (৪৭ মিলিয়ন ডলার) খরচ করতে সম্মত হয়েছে। এই দলবদলের মৌসুমে এলিয়ট অ্যান্ডারসন, জেরোনিমো রুলি, আইয়ুব বুয়াদি, জেরেমি মঙ্গা এবং পিয়ার্স চার্লসও ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। অ্যালান বলেন, আমার জন্য এটি এক অবিশ্বাস্য মুহূর্ত। গত ১৫ বছরে যা কিছু তারা অর্জন করেছে, তার সুবাদে খেলোয়াড়দের কাছে ম্যানচেস্টার সিটি বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি ক্লাব। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত। আমি পালমেইরাসকে ভালোবাসি এবং সবসময়ই ভালোবাসব, তবে সিটিতে আসার সিদ্ধান্তটি নেওয়া ছিল খুবই সহজ। ফ্লোরিয়ানোপলিসে জন্ম নেওয়া এই ব্রাজিলিয়ান আশা প্রকাশ করেন, তিনি প্রিমিয়ার লিগে আরেকজন ভালো ব্রাজিলিয়ান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং গ্যাব্রিয়েল জেসুস, এডারসন ও ফার্নান্দিনহোর মতো খেলোয়াড়দের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন। যারা সবাই সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা চৌধুরীকে স্থায়ীভাবে দলে ভেড়ানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। লেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডারকে প্রায় বিনা ট্রান্সফার ফিতেই দলে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার। শেফিল্ডের ডিফেন্ডার ফেমি সেরিকির চোটের পর তার জায়গায় বিকল্প খুঁজতে গিয়ে হামজাকে দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাবটি। রোববার হামজার মেডিকেল সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে মঙ্গলবার রাতে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ম্যাচেই নতুন করে শেফিল্ডের জার্সিতে মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে। শেফিল্ডের সঙ্গে হামজার সম্পর্ক অবশ্য বেশ পুরোনো। ২০২৪-২৫ মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে লেস্টার সিটি থেকে ধারে শেফিল্ডে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ওই সময় তার পারফরম্যান্সে ভর করে দলটি প্লে-অফের ফাইনাল পর্যন্ত জায়গা করে নিয়েছিল। এরপর লেস্টার সিটি টানা দুই মৌসুমে অবনমনের শিকার হয়ে বর্তমানে লিগ ওয়ানে খেলছে। ক্লাবের বেতন ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হামজাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিল লেস্টার। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই মিডফিল্ডারকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় শেফিল্ড। শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারের সঙ্গেও হামজার পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে। ওয়াটফোর্ড ও শেফিল্ড—দুই ক্লাবেই ওয়াইল্ডারের অধীনে খেলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই ফুটবলার। হামজা সম্পর্কে ওয়াইল্ডার আগে বলেছিলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই খেলোয়াড়কে অনুসরণ করছেন এবং তার ব্যক্তিত্বও পছন্দ করেন। প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের অভিজ্ঞতা থাকা হামজা কীভাবে এই বিভাগ থেকে দলকে ওপরে তুলতে হয়, সেটিও জানেন বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। হামজাকে দলে ফেরানোর পাশাপাশি দলটির রক্ষণভাগ আরও শক্তিশালী করতে শেষ মুহূর্তে একজন সেন্টার-ব্যাকও দলে নেওয়ার চেষ্টা করছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। বর্তমানে ক্লাবটির সেন্টার-ব্যাক হিসেবে রয়েছেন জ্যাফেট টাঙ্গাঙ্গা, মার্ক ম্যাকগিনেস ও জামাল ব্যাপটিস্ট। প্রয়োজনে রিস নরিংটন-ডেভিসও এই পজিশনে খেলতে পারেন।
দলে একজন স্ট্রাইকারের প্রয়োজনের কথা বারবার বলেছেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তার সেই চাওয়া হয়তো এবার পূরণ হতে যাচ্ছে। বিবিসির খবর, আর্সেনালের গাব্রিয়েল জেসুসকে চুক্তিভুক্ত করার কাছাকাছি অবস্থায় পৌঁছে গেছে কাতালান ক্লাবটি। আগামী মঙ্গলবার গ্রীষ্মের দলবদল শেষ হবে। বিবিসির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এর আগেই চুক্তির সবকিছু চূড়ান্ত করতে কাজ করছে দুই পক্ষ। ২৯ বছর বয়সী ফুটবলারের জন্য বার্সেলোনার খরচ হতে পারে এক কোটি ইউরো। জেসুসকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল নাপোলিও। তবে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এখন লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের শিবিরে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, মেডিকেল সারতে সোমবার তিনি বার্সেলোনায় যাবেন। দলে নাম্বার নাইনের শূন্যতা পূরণে প্রথমে হুলিয়ান আলভারেসকে পেতে মরিয়া ছিল বার্সেলোনা। তবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী তারকাকে কিছুতেই বার্সেলোনার কাছে বিক্রি করা হবে না, গত বৃহস্পতিবার সাফ জানিয়ে দেয় আতলেতিকো মাদ্রিদ। এরপরই এলো জেসুসের স্প্যানিশ ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার খবর। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ২০২২ সালে আর্সেনালে যোগ দিয়ে দলটির হয়ে ১২৩ ম্যাচ খেলে ৩২টি গোল ও ২২টি অ্যাসিস্ট করেছেন জেসুস। লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে গত মৌসুমে জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।
প্রথম ম্যাচে মন খারাপ করে বসে থাকা লামিন ইয়ামালের মুখে হাসি ফিরেছে পরের ম্যাচে। স্বাভাবিকভাবেই তা স্বস্তি হয়ে এসেছে বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের জন্য। এলচেকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আসর শুরু করে বার্সেলোনা। লা লিগায় ওই ম্যাচে ৬০ মিনিট খেলেন ইয়ামাল। মাঠ ছাড়ার পর মুখ ভার করে বসে ছিলেন তিনি। পরের ম্যাচে গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা ২-০ গোলে হারায় আথলেতিক বিলবাওকে। এই ম্যাচের পর হাসিখুশি ইয়ামালের দেখা মেলে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ১টায় (এএম) রায়ো ভাইয়েকানোর বিপক্ষে খেলবে বার্সেলোনা। এর আগে ফ্লিকের সংবাদ সম্মেলনে এলো ইয়ামালের প্রসঙ্গ। বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড যে ধীরে ধীরে স্বরূপে ফিরবেন, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই বার্সেলোনা কোচের। “একজন খেলোয়াড়ের মুখে হাসি থাকা সবসময়ই ভালো কিছু। তবে প্রতিদিন একরকম হয় না। আমি জানি, সবাই লামিনকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে পরিস্থিতি এমনই। “হয়তো প্রথম ম্যাচে সে তার সেরা অবস্থায় ছিল না। তবে সে যেমন পরিশ্রম করেছে, তাতে আমি খুশি। সে সুযোগ তৈরি করেছে। আথলেতিকের বিপক্ষে ৯০ মিনিট খেলেছে, পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারা তার জন্য ভালো। আমরা তাকে উঁচু পর্যায়ে পারফরম করতে দেখেছি, অনুশীলনেও তাকে আমি সেটা করতে দেখি। আজ অনুশীলনে সে ছিল দুর্দান্ত। তাকে আমাদের সাহায্য করে যেতে হবে, আমি সেটা করব।” দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দুই নম্বরে আছে বার্সেলোনা। সমান পয়েন্ট রেয়াল মাদ্রিদ, সেভিয়া ও রেয়াল বেতিসেরও। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম দুটি স্থানে আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আলাভেস।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। বয়সে ঊনচল্লিশকেও ছাড়িয়ে গেছেন এলএম টেন। তারপরও পায়ের জাদু দেখিয়ে চলছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা। আজও মেজর লিগ সকারে মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে বল জালে পাঠালেন চার-চারবার। আবার মনে করিয়ে দিলেন, ক্যানভাসের রং পাল্টালেও তার সেই তুলির টান বদলায়নি এতটুকু। পরিসংখ্যানের খাতা খুললে বিস্ময় জাগে। সব মিলিয়ে ১,১৭১টি পেশাদার ম্যাচ, আর গোল কত? ৯২৭টি! ফুটবল ইতিহাসের কোনো কোনো গল্প এতই নিখুঁত যে সেখানে সংখ্যাগুলো কেবল তথ্য থাকে না, মহাকাব্যের অধ্যায় হয়ে ওঠে। এই পথচলায় হ্যাটট্রিকের সংখ্যা পৌঁছে গেছে ৬২টিতে। যার মধ্যে বার্সেলোনাই দেখেছে সর্বোচ্চ ৪৮টি, জন্মভূমি আর্জেন্টিনার গায়ে ১১টি আর এখন ইন্টার মায়ামিতে ৩টি। মেসির ১,১৭১ ম্যাচের এই গোল-মানচিত্রের হিসাবটা বেশ রোমাঞ্চকর। ৫৬০ ম্যাচে তিনি গোল পাননি। ৩৬৬ ম্যাচে একটি করে গোল। ১৮৩ ম্যাচে জোড়া গোল। আর ৫৩ ম্যাচে হ্যাটট্রিক। এর বাইরে আছে বড় বিস্ফোরণের দিনগুলো। সাত ম্যাচে চার গোল। দুবার পাঁচ গোল। অর্থাৎ, এক ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল করা মেসির কাছে কোনো চমক নয়; বরং নিয়মিত ঘটনার মতোই। অর্থাৎ এই ৯ ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা ৩৮টি। যা রীতিমতো অবিশ্বাস্যই। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেইসব ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিলেন কারা। প্রথম বড় বিস্ফোরণটা এসেছিল ২০১০ সালে। চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে। সেদিন চারবার জালে বল জড়িয়েছিলেন। এরপর ২০১২ সাল যেন হয়ে ওঠে তার গোলের উৎসবের বছর। ফেব্রুয়ারিতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে চার গোল। মার্চে বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে পাঁচ গোল, যা এখনো চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে অনন্য এক অধ্যায়। একই বছরের মে মাসে এস্পানিওলের বিপক্ষেও চার গোল। এক বছরেই তিনবার চার বা তার বেশি গোল, ভাবলেও অবাক লাগে! এরপর ২০১৩ সালে ওসাসুনার বিপক্ষে আবার চার গোল। মাঝখানে কিছুটা বিরতি। তারপর ২০১৭ সালে এইবারের বিপক্ষে চার গোল। তিন বছর পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আবারও চারবার জালে বল পাঠান তিনি। যেন কিছু প্রতিপক্ষ তার সামনে এলেই আলাদা করে জেগে ওঠেন। ক্লাব ফুটবলের এই রাজকীয় রূপ রূপকথা হয়ে ঝরে পড়েছে নীল-সাদা জার্সিতেও। ২০২২ সালের ৫ জুন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে এস্তোনিয়ার রক্ষণভাগ ধুয়ে–মুছে দিয়ে একাই করেছিলেন পাঁচ গোল। সেটি ছিল তার এক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করার তালিকায় নবম কীর্তি। হ্যাটট্রিকের হিসাবেও কিছু দল বারবার ফিরে আসে। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে চারটি হ্যাটট্রিক। এরপরই আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ, এস্পানিওল, দেপোর্তিভো লা করুনিয়া ও ওসাসুনার মতো নামগুলো। যাদের প্রত্যেকের বিপক্ষে তিনটি করে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ড আছে তার। দেশের জার্সিতেও সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, গুয়াতেমালা, পানামা, ইকুয়েডর, হাইতি, বলিভিয়া, এস্তোনিয়া, কুরাসাও থেকে শুরু করে আলজেরিয়ার বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক উদ্যাপন করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।
সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনিহো। জাতীয় দলের খেলার কারণে টানা তিন সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ক্লাবের বাইরে থাকতে হওয়াকে কঠিন পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন তিনি। বিশেষ করে জাতীয় দলে ডাক পেলেও যারা নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন না, তাদের নিয়ে বেশি চিন্তিত রিয়াল কোচ। ২০২৬-২৭ মৌসুমের প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হবে ২১ সেপ্টেম্বর। সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত বিরতির সঙ্গে অক্টোবরের বিরতি মিলিয়ে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে আন্তর্জাতিক ফুটবল। এ সময়ে জাতীয় দলগুলো দুটি ম্যাচের পরিবর্তে চারটি ম্যাচ খেলবে। ফলে রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবগুলোকে দীর্ঘ সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ছাড়াই অনুশীলন ও প্রস্তুতি নিতে হবে। মালাগার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মরিনিয়ো বলেন, আন্তর্জাতিক বিরতির সময়কাল তাকে চিন্তায় ফেলছে। এত দীর্ঘ সময় খেলোয়াড়দের না পাওয়াটাই তার বড় দুশ্চিন্তা। তবে জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত ম্যাচ খেলবেন এমন ফুটবলারদের নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন মরিনিহো। তার মূল চিন্তা, যারা জাতীয় দলে যাবেন কিন্তু নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবেন না, তাদের নিয়ে। ক্লাবের অনুশীলনে খেলোয়াড়দের না পাওয়ার বিষয়টিও হতাশ করেছে রিয়াল কোচকে। বাকি খেলোয়াড়দের নিয়ে কীভাবে কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়, এখন সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তিনি। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতিতে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি মরিনিহোকে ভাবাচ্ছে, সেটি হলো চোটের ঝুঁকি। তার মতে, আন্তর্জাতিক বিরতির সময় কিংবা বিরতি শেষে ক্লাবে ফেরার পর অনেক খেলোয়াড় চোটে পড়েন। যদিও জাতীয় দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন এবং বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত নাটকীয়তা তৈরি করতে চান না। চোটের ঝুঁকি কমাতে খেলোয়াড়দের কাজের চাপ ও ম্যাচ খেলার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কারণে এ ক্ষেত্রে ক্লাবের হাতে খুব বেশি কিছু করার নেই বলেও মনে করেন মরিনিহো।
করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ডার্বির আগে সান্তোসের অনুশীলনে দেখা যায়নি দলের অধিনায়ক নেইমার জুনিয়রকে। ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি। রোববার (৩০ আগস্ট) নিও কুইমিকা এরেনায় করিন্থিয়ান্সের মুখোমুখি হবে সান্তোস। এর আগে শুক্রবারের অনুশীলনে দলের সঙ্গে ছিলেন না নেইমার। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে সান্তোস জানায়, নেইমারের ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে শুক্রবারের অনুশীলন থেকে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার অনুশীলনে ফেরার কথা রয়েছে নেইমারের। তিনি অনুশীলনে ফিরতে পারলে ডার্বির স্কোয়াডে তাকে রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চলতি মৌসুমে সান্তোসের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন নেইমার। এখন পর্যন্ত ২৪ ম্যাচে তার গোল ৯টি, আর অ্যাসিস্ট ৮টি। নেইমারকে ছাড়া কোপা দো ব্রাসিলের ম্যাচে পালমেইরাসের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল সান্তোস। এবার ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রেলিগেশন জোন থেকে দূরত্ব বাড়াতে করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে ভালো ফলের দিকে তাকিয়ে দলটি। করিন্থিয়ান্সের ম্যাচের পরই কোপা দো ব্রাসিলের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে পালমেইরাসের মুখোমুখি হবে সান্তোস। সেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে নেইমারের উপস্থিতি তাই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নতুন বুন্দেসলিগা মৌসুমের শুরুতেই অনন্য দুটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার। বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলেও জার্মান ক্লাবটির গোলবারের নিচে এখনও আস্থার প্রতীক হয়ে আছেন তিনি। নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬০০ ম্যাচ পূর্ণ করেছেন নয়ার। একই ম্যাচে বুন্দেসলিগায় নিজের ২১তম মৌসুমও শুরু করেছেন তিনি। ২০১১ সালে শালকে-০৪ থেকে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন নয়ার। এরপর দীর্ঘ দেড় দশকে ক্লাবটির অন্যতম সফল ও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন জার্মান এই গোলরক্ষক। বায়ার্নের হয়ে ক্যারিয়ারে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন নয়ার। তার ট্রফি ক্যাবিনেটে রয়েছে একাধিক বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপের শিরোপা। এছাড়া দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতেছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বয়স তার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেও পারফরম্যান্স ও খেলার প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছেন নয়ার। নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই দুটি ব্যক্তিগত রেকর্ড স্পর্শ করে আবারও নিজের দীর্ঘস্থায়ী ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিলেন তিনি। বায়ার্নের হয়ে ৬০০ ম্যাচ এবং বুন্দেসলিগায় ২১ মৌসুম—দুটি মাইলফলকই জার্মান ফুটবলে নয়ারের দীর্ঘ ও সফল অধ্যায়ের অনন্য স্বাক্ষর হয়ে থাকল।
চোট নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়া কার্লোস বালেবার শিগগির মাঠে ফেরা হচ্ছে না। ইংলিশ ক্লাবটির কোচ মাইকেল ক্যারিক জানিয়েছেন, সেরে উঠতে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এই মিডফিল্ডারের। ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিওন থেকে গত বুধবার বালেবাকে দলে টানে ইউনাইটেড। ক্যামেরুনের এই ফুটবলারের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করে প্রিমিয়ার লিগের সফলতম ক্লাবটি। আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর শর্তও রাখা হয়েছে চুক্তিতে। ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার আগে প্রাক-মৌসুমে অ্যাঙ্কেলে চোট পান বালেবা। সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পথে আছেন ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার। আপাতত ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটির জার্সিতে অভিষেকের জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে তাকে। প্রিমিয়ার লিগে রোববার ইপ্সউইচ টাউনের মুখোমুখি হবে ইউনাইটেড। শুক্রবার সাংবাদিকদের বালেবার শারীরিক অবস্থার কথা জানান ক্যারিক। “তার অ্যাঙ্কেলে সামান্য সমস্যা রয়েছে। তার (মাঠে ফিরতে) হয়তো দুই সপ্তাহের মতো কিংবা তিন সপ্তাহও লাগতে পারে। তবে এটা আমরা আগেই জানতাম, তাই এটা বড় কোনো সমস্যা নয়। যখন তাকে পাব, সেটা দলের জন্য দারুণ ব্যাপার হবে।” পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতির আগে বালেবা মাঠে ফিরতে পারবেন কি না, জানতে চাইলে ক্যারিক বলেন, “আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, দেখা যাক কী হয়। আমরা আশাবাদী, তবে এখনই আমি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে চাই না।” ইউনাইটেডের সমর্থকদের জন্য একটি স্বস্তির খবর দেন ক্যারিক। পিএসজির বিপক্ষে প্রাক-মৌসুম ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া ইংলিশ মিডফিল্ডার ম্যাসন মাউন্ট অনুশীলনে ফিরেছেন। তবে অনুশীলনে চোট পাওয়া আমাদ জিয়ালো এখনো খেলার জন্য প্রস্তুত নয় বলে জানিয়েছেন ক্যারিক, “এই সপ্তাহে আমাদ খেলতে পারবে না। তাকে আরও কিছুদিন বাইরে থাকতে হবে।
আবার নিজ দেশের ফুটবলে ফিরলেন আলভারো মোরাতা। কোমো থেকে এক মৌসুমের জন্য ধারে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব লেগানেসে যোগ দিলেন অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার। উভয় ক্লাবই শুক্রবার জানিয়েছে এই খবর। আগামী মৌসুমে মোরাতাকে পাকাপাকিভাবে কিনে নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে ধারের চুক্তিতে। কোমোর সঙ্গে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি আছে মোরাতার। সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন লিখেছে, ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলারের ইচ্ছা ছিল জন্ম শহর মাদ্রিদে ফেরা, আর লেগানেস তাকে সেই সুযোগটি দিয়েছে। তিন মৌসুমের মধ্যে মোরাতার চতুর্থ ক্লাব এটি। স্পেনের সাবেক অধিনায়ক গত দুই মৌসুমে গালাতাসারাই, এসি মিলান ও কোমোর হয়ে খেলেছেন। মিলান থেকে ধারে কোমোতে এক মৌসুম থাকাকালীন ৩০ ম্যাচে কেবল একটি গোল করতে পারেন মোরাতা। চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে ক্লাবটিতে চুক্তি স্থায়ী করেন তিনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে লা লিগা থেকে অবনমন হয় লেগানেসের। আবার শীর্ষ লিগে ফেরার অভিযানে মোরাতার মতো ফুটবলারকে দলে পাওয়াটা তাদের উজ্জীবিত করবে। মোরাতা ক্যারিয়ার শুরু করেন রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে। মাদ্রিদের দলটির হয়ে দুটি করে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ জেতেন মোট সাতটি শিরোপা। ২০১৪ সালে তিনি ইউভেন্তুস যোগ দেন এবং ইতালিয়ান দলটিকে দুটি সেরি আ শিরোপা জেতাতে সহায়তা করেন। প্রিমিয়ার লিগে চেলসিতেও তিনি খেলেছেন দুই মৌসুমে, খেলেছেন আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়েও। স্পেনের ২০২৪ ইউরো জয়ী এই ফুটবলার জাতীয় দলের হয়ে ৮৭ ম্যাচে গোল করেছেন ৩৭টি। ২০২৫ সালের পর আর দলে সুযোগ পাননি তিনি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের এক সদস্যের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আবেদনের পর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ফিফা। লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদাকে যথাক্রমে ১০, ৭ ও ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকেও দেওয়া হয় তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। শাস্তির মেয়াদ দ্রুত শেষ করার সুযোগ চেয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছিল এএফএ। তাদের অনুরোধ ছিল, নিষেধাজ্ঞার ম্যাচগুলো যেন ‘এ’ শ্রেণির আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও গণনা করা হয়। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি সেই আবেদন অনুমোদন করেছে। আগের নিয়মে আন্তর্জাতিক উইন্ডোর সব ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কাটানোর ক্ষেত্রে বিবেচিত হতো না। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও শাস্তির মেয়াদ পূরণ করতে পারবেন নিষিদ্ধ খেলোয়াড়েরা। এতে চলতি বছরের শেষ দিক ও ২০২৭ সালের শুরুতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে পারেদেস ও মোলিনাদের নিষেধাজ্ঞা দ্রুত শেষ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এএফএ অবশ্য এখানেই থামছে না। নিষেধাজ্ঞার মাত্রা কমানোর লক্ষ্যে ফিফার আপিল কমিটির কাছে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। রায়ের পূর্ণাঙ্গ নথি হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে। এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাতন এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞাকে মাত্রাতিরিক্ত বলে মন্তব্য করেছেন। ফিফার আপিল প্রক্রিয়ায় সুরাহা না হলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসের (সিএএস) দ্বারস্থ হওয়ার পথও খোলা রাখছে আর্জেন্টিনা।
আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হচ্ছে ফিফা আসিয়ান কাপ টুর্নামেন্ট। প্রথমবারের মতো ফিফা স্বীকৃত কোনো চূড়ান্ত পর্যায়ের টুর্নামেন্টে খেলবে বাংলাদেশ। আর আসন্ন এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে রাজধানীর এক শীর্ষ হোটেলে আজ থেকে ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। আসিয়ান টুর্নামেন্টের জন্য জাতীয় দলের আমেরিকান-জার্মান কোচ থমাস ডুলি ২৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। আজ সকালে ফুটবলারদের রিপোর্টিং ছিল। নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট করেছেন ১৮ জন ফুটবলার। মোহামেডানের মোট নয়জন ফুটবলাররা আজ সন্ধ্যায় যোগ দিয়েছেন। শুধুমাত্র গোলরক্ষক মিতুল মারমা আজ রিপোর্ট করেননি। জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার আমের খান বলেন, ‘মিতুলের স্ত্রী অসুস্থ। পরিবারের পাশে থাকতে তিনি সময় চেয়েছেন। কোচও তাতে সায় দিয়েছেন। পরিবারের সংকট কাটিয়ে মিতুল ক্যাম্পে ফিরবে।’ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য খেলোয়াড়দের ছাড় দেওয়া নিয়ে খানিকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল ক্লাবগুলো। আজ সকালে মোহামেডান ক্লাব ফুটবলারদের ডেকেছিল। এরপরই বিকেলে জাতীয় দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত হয়। মোহামেডানের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূইয়া বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থে আমরা অবশ্যই খেলোয়াড় ছাড়ব। তবে ফেডারেশন থেকে চিঠি তো পেতে হবে। চিঠি পাওয়ার পরেই আমরা জাতীয় দলে ছাড়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছি। ক্লাব ক্যাম্প শুরু হলে আবার ফিরে আসতে হবে।’ আজ বিকেলে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ দলের অনুশীলন করার কথা থাকলেও হয়নি। কোচিং স্টাফ কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করেছে। আগামীকাল থেকে পুরোদমে প্র্যাকটিস হওয়ার কথা। ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার আগে কয়েকদিন জাতীয় স্টেডিয়ামেও হতে পারে অনুশীলন।
ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক দোমিনিক লিভাকোভিচকে দলে ভেড়ানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা। তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাহচে থেকে ৩১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে চার বছরের চুক্তিতে নিয়েছে লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বার্সেলোনার সঙ্গে লিভাকোভিচের চুক্তির মেয়াদ থাকবে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। ক্লাবটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তার দলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই লিভাকোভিচকে দলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। বার্সেলোনার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, তাকে চুক্তিবদ্ধ করে চলতি মৌসুমে ধারে অন্য কোনো ক্লাবে পাঠানো। পরবর্তীতে উয়জচিয়েখ শেজনির চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাকে মূল দলে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর চলতি সপ্তাহের শুরুতেই কাতালোনিয়ায় পৌঁছান লিভাকোভিচ। সেখানে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করার পাশাপাশি দলবদলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও শেষ করেন তিনি। লিভাকোভিচের জন্য লা লিগায় ফেরাটা নতুন অভিজ্ঞতা নয়। গত মৌসুমের প্রথমার্ধে ফেনেরবাহচে থেকে ধারে জিরোনার হয়ে খেলেছিলেন তিনি। বার্সেলোনার বিবৃতিতে দলবদলের নির্দিষ্ট আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এই চুক্তিতে প্রায় ২০ লাখ ইউরো খরচ হয়েছে। পারফরম্যান্সভিত্তিক বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে আরও ২০ লাখ ইউরো যোগ হতে পারে। নতুন মৌসুমে বার্সেলোনার গোলবারের প্রথম পছন্দ হিসেবে থাকবেন হোয়ান গার্সিয়া। তার ব্যাকআপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লিভাকোভিচ। অন্যদিকে উয়জচিয়েখ শেজনিকে দলের তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের ফুটবলে রোনান ও ডেকলান সুলিভানকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল হঠাৎ করেই। মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দুই যমজ ভাইয়ের পারফরম্যান্স নজর কেড়ে নেয়। বিশেষ করে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে রোনানের সাহসী পানেনকা পেনাল্টি বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার এই দুই তরুণ এর আগে কখনো বাংলাদেশে আসেননি। কিন্তু একটি ইনস্টাগ্রাম বার্তা থেকেই শুরু হয় তাদের বাংলাদেশ জাতীয়তার সূত্র খোঁজা এবং বয়সভিত্তিক দলে খেলার যাত্রা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে আসা, দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং মাঠের বাইরের নানা অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তারা। ইনস্টাগ্রাম ডিএম থেকেই শুরু: ডেকলান সুলিভান জানান, বাংলাদেশে খেলার প্রস্তাবটি প্রথমে তাদের কাছে আসে ‘সেভ বাংলাদেশ ফুটবল’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে। তার ভাষায়, বিষয়টি শুরু হয়েছিল একটি ইনস্টাগ্রাম ডিএম দিয়ে। প্রথমে তারা বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলেন। কারণ, একটি ফ্যান পেজ কীভাবে তাদের পাসপোর্ট না থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে এসে ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে—তা বুঝতে পারছিলেন না। পরে তারা জানতে পারেন, অ্যাকাউন্টটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে কাজ করা একটি বৈধ প্ল্যাটফর্ম। পরে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার আগ্রহ জানালে ওই প্ল্যাটফর্ম তাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। দেশের হয়ে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি: রোনান বলেন, কলেজে ভর্তি হওয়ার আগে তাদের হাতে কিছুটা অবসর সময় ছিল। তাই বাংলাদেশে গিয়ে ফুটবল খেলার পাশাপাশি দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগটি তারা কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশে আসার পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। ডেকলানের ভাষায়, পরবর্তী প্রায় তিন মাসের প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ ‘পাগলাটে’। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া। কারণ তাদের মায়ের নিজের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত মার্চে নিউইয়র্ক থেকে দিল্লি হয়ে ঢাকায় পৌঁছান দুই ভাই। ডেকলানের মতে, এটিই ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ ভ্রমণ। শিরোপা জয়ের পর বদলে যায় সবকিছু: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্যের পর বাংলাদেশে তাদের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যায়। শিরোপা জয়ের পর ঢাকায় ফিরে ফুল, শুভেচ্ছা ও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তারা। ডেকলান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের দল শিরোপা জিতিয়ে দেওয়ায় অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের যুব ফুটবলে এমন উচ্ছ্বাস খুব একটা দেখা যায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশে অবস্থানের সময় নিজেদের জন্যও কিছুটা সময় বের করেন দুই ভাই। ঘুরে দেখার পাশাপাশি বাংলাদেশের খাবার উপভোগ করেন এবং নানির সঙ্গে সময় কাটান। এর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রেই নানির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। পানেনকা নিয়ে ভাইয়ের আস্থা ছিল: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে রোনানের নেওয়া পানেনকা পেনাল্টি ছিল ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। রোনান জানান, জীবনে এর আগে মাত্র দুবার পানেনকা পেনাল্টি নিয়েছিলেন। দুটিই ছিল অনুশীলনের সময়। এর একটিতে বল ক্রসবারে লেগেছিল। তবু ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একই ধরনের পেনাল্টি নিতে দ্বিধা করেননি তিনি। ডেকলান জানান, রোনান শেষ পেনাল্টি নিলে এমন কিছুই করবে—এটা তিনি পুরো সময়ই জানতেন। তার মতে, এটি রোনানের স্বভাবেরই অংশ। শুরুতে স্থানীয়দের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি: বাংলাদেশে এসে সব অভিজ্ঞতা অবশ্য সুখকর ছিল না। বিদেশে বেড়ে ওঠা ফুটবলার হওয়ায় দলের স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুরুতে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানান রোনান। তিনি বলেন, বিদেশি হওয়ায় শুরুতে তাদের কাছে বল পাওয়া কঠিন ছিল। ভাষাগত সমস্যার পাশাপাশি দলের কয়েকজন খেলোয়াড় শুরুতে তাদের বাংলাদেশে আসায় খুব একটা খুশি ছিলেন না। তবে মাঠে কয়েকবার বল পাওয়ার পর নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় বলে জানান তিনি। প্রবাসী প্রতিভা কাজে লাগানোর আহ্বান: ডেকলান মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার ছড়িয়ে আছেন। সুলিভান ভাইদের বাংলাদেশে খেলার পর আরও বিদেশি খেলোয়াড়ের বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে আগ্রহী হয়ে ওঠার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ভালো একাডেমিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণরা খেলছেন। এখন এসব প্রতিভাকে খুঁজে বের করে কাজে লাগানোই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।