প্রথম সাফ মুকুট জয়ের পর ২০২২ সালে সাবিনাদের ঘিরে আবেগ-উচ্ছ্বাসে মেতেছিল ঢাকাবাসী। সে উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি ২০২৪ সালে শিরোপা ধরে রেখে দেশে ফেরার পর। তাতে কি! সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন হওয়া সাবিনা খাতুনদের জন্যও থাকছে ছাদখোলা বাস। এবারের সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্যদের থাইল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলো ঘুরে দেখানো হয়েছে। যে কারণে পুরুষ দল ফিরলেও নারী দলের বিলম্ব হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে সাবিনা খাতুন-কৃষ্ণা রানী সরকারদের। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব কালবেলাকে বলেছেন, ‘নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন দলকে বরণে প্রস্তুত করা হয়েছে ছাদখোলা বাস। সন্ধ্যায় ঢাকায় নামার পর বিজয়ীদের সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এবারের সাফল্যটা সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভীন, মাতসুশিমা সুমাইয়া ও নিলুফার ইয়াসমিন নীলার জন্য অন্য রকম। ২০২৪ সালে সাফ জয়ের পর জাতীয় নারী ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ছিটকে যান একঝাঁক সিনিয়র ফুটবলার। যার অন্যতম উল্লিখিত পাঁচজন। উপেক্ষিত ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ফুটসাল দলে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন সাবিনা খাতুন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সর্বস্ব উজাড় করে ভালো কিছুর জন্য চেষ্টা করবেন। সে চেষ্টার ফল হিসেবে নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ মুকুট জয়ের পথে অপরাজিত ছিল লাল-সবুজরা। একই সঙ্গে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছে পুরুষ সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ। আসরে বাংলাদেশ অবশ্য ভালো করতে পারেনি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে হারিয়েছে ভারতকে। পরের ম্যাচেই অবশ্য ধাক্কা খেতে হয়েছে— ভুটানের বিপক্ষে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে শেষদিকের নাটকীয়তায় ৩-৩-এ ড্র করে বাংলাদেশ। এ ধাক্কার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার দিকে যাত্রা শুরু। পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে শিরোপার আরও কাছে চলে যায় লাল-সবুজরা। শেষ ম্যাচে দুর্বল মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে শিরোপা জয়ের উল্লাস করেছে বাংলাদেশ। শিরোপা জয়ের মিশনে ব্যক্তিগত পুরস্কারেও ছিল বাংলাদেশের আধিপত্য। সর্বোচ্চ গোল করেছেন সাবিনা খাতুন। আসরে তার গোলসংখ্যা ছিল ১৪। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বাংলাদেশেরই কৃষ্ণা রানী সরকার। তার গোলসংখ্যা ছিল সাবিনা খাতুনের অর্ধেক ৭। ভারতের খুশবুর গোলসংখ্যা ছিল কৃষ্ণা রানী সরকারের সমান।
আগামী জুনে শুরু হবে ফিফা বিশ্বকাপ। ফিফার মেগা এই টুর্নামেন্ট শুরুর বাকী মাত্র ৫ মাস। তার আগেই আর্জেন্টাইন ভক্ত-অনুরাগীদের দুঃসংবাদ দিলেন দেশটির বিশ্বকাপজয়ী রক্ষণসৈনিক হুয়ান ফয়েথ। অনেক আগেভাগেই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন যে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে তার। গত শনিবার ভিয়ারিয়ালের হয়ে লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলার মাঝে চোটে পড়েছেন আর্জেন্টিনার এই ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার। ২৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের কারও সঙ্গে সংঘর্ষ না হলেও, পায়ে চোট পান ফয়েথ। একপর্যায়ে তীব্র ব্যথায় তিনি বদলি হয়ে উঠে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। পরবর্তীতে জানা যায়, ফয়েথের অ্যাকিলিস হিল টেন্ডন (গোড়ালি) ছিড়ে গেছে। গুরুতর এই চোটে চলতি মৌসুমের বাকি সময়ে আর মাঠে নামা হচ্ছে না হুয়ান ফয়েথের। তার ক্লাব ভিয়ারিয়াল জানিয়েছে, পরীক্ষায় ফয়েথের চোটের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। পরবর্তীতে তার অস্ত্রোপচারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এ ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে কমপক্ষে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে বিশ্বকাপ খেলা অনিশ্চিত হয়ে গেল এই আলবিসেলেস্তে সেন্টারব্যাকের। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস সরাসরি বলেই দিয়েছে যে, ফয়েথের আর বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না। এর আগেও ফয়েথ দীর্ঘমেয়াদি হাঁটু ও কাঁধের চোটে ভুগেছেন। সম্প্রতি ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে তাকে আর পাচ্ছে না স্প্যানিশ ক্লাবটি। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আগে বিশ্বকাপের স্কোয়াড প্রস্তুত করা অবশ্য অমূলক। তবে ইতোমধ্যে নিজের প্রাথমিক দলের তালিকা তৈরির কথা জানিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেই দলে থাকার প্রবল সম্ভাবনা ছিল হুয়ান ফয়েথের। কিন্তু এই চোঁট তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্যই মাঠ থেকে ছিটকে দিল। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপ আসর শুরু হবে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা খেলবে গ্রুপ ‘জে’-তে। গ্রুপপর্বে তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রে হবে। ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু, এরপর ২২ জুন ডালাসে অস্ট্রিয়া এবং ২৭ জুন একই ভেন্যুতে জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বার্সেলোনা ছেড়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) যোগ দিলেন পেদ্রো ফার্নান্দেজ; মায়ের সূত্রে ফিলিপিনো বংশোদ্ভূত প্রতিভাবান এ ফুটবলার দ্রো ফার্নান্দেজ নামে বেশি পরিচিত। বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমি দিয়ে উঠে আসা এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার একই সঙ্গে উইংয়ের বাঁ দিকে খেলতে সক্ষম। বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং পাসিং দক্ষতার কারণে তাকে কাতালান ক্লাবটির ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। কিন্তু গেম টাইম নিয়ে বার্সায় নাখোশ ছিলেন দ্রো ফার্নান্দেজ; যে কারণে ক্লাবটির চুক্তি বর্ধিত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। এ অবস্থার মাঝেই প্রতিভাবান ১৮ বছর বয়সী এ ফুটবলারকে দলভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল পিএসজি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘প্যারিস সেন্ট জার্মেই অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে দ্রো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে। ১৮ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার ২৭ নম্বর জার্সি পরিধান করবেন। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এ পদক্ষেপ ক্লাবের ক্রীড়া কৌশলের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা মূলত তরুণ প্রতিভা এবং দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেয়।’ উত্তর-পশ্চিম স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গালিসিয়ায় ২০০৮ সালের ১২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন পেদ্রো ফার্নান্দেজ। চার বছর বয়সে ইডি ভাল মিনোর নিগ্রানে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০২২ সালে তিনি বার্সেলোনায় যোগ দেন। বহুমুখী মিডফিল্ডার সেখানে তিন মৌসুম নিজের বিকাশ ঘটান এবং তার মান, খেলার ধরন এবং আক্রমণভাগে ক্ষমতার কারণে দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নতুন মিশন সম্পর্কে ফার্নান্দেজ বলেছেন, ‘আমি পিএসজিতে যোগ দিতে পেরে অত্যন্ত খুশি এবং গর্বিত। এটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য গর্বের মুহূর্ত। পিএসজি একটি বিশাল ক্লাব যা আমি শৈশব থেকেই অনুসরণ করছি এবং এখানে অনেক কিংবদন্তি ইতিহাস গড়েছেন। আমি এই জার্সির জন্য মাঠে নামতে এবং নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে অত্যন্ত রোমাঞ্চিত ও অনুপ্রাণিত।’
দল থেকে বাদ পড়ে প্রহসনের অভিযোগ এনেছেন ইনতিশার মোস্তাফা চৌধুরী। যে কারণে সম্ভাবনা থাকার পরও নাকি সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো কিছু অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। এমন অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন দল সংশ্লিষ্ট সূত্র। থাইল্যান্ডে গতকাল শেষ হওয়া আসরের শিরোপা ভাগ্য আগেই লেখা হয়ে যাওয়ায় কৌতূহল ছিল রানার্সআপ ও তৃতীয় স্থান নিয়ে। ছয় ম্যাচের সবগুলো জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মালদ্বীপ। গতকাল ভুটানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছে নেপাল। ভারত ও পাকিস্তান দুই দলের সামনে সুযোগ ছিল রানার্সআপ হওয়ার। পাকিস্তানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে রানার্সআপ হয়েছে ভারত। পাকিস্তানকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে চতুর্থ স্থান নিয়ে। ছয় ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্র থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান পেয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ইনতিশার মোস্তাফা চৌধুরী ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের সাফ জেতা উচিত ছিল অথবা অন্তত দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অবস্থানে থেকে পোডিয়ামে থাকা উচিত ছিল! কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্বজনপ্রীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, হিংসা, অন্যায্য সিদ্ধান্ত ছিল! শুধু দল এবং নিজের জন্য শক্ত অবস্থান নেওয়ায় আমাকে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক কিছু বলার ছিল, সংক্ষেপে শুধু এটাই বলব যে, আমরা এটি প্রাপ্য ছিলাম না। শেষ পর্যন্ত এটি আমাদের দেশের জন্যই একটি ক্ষতি ছিল!’ দলের এক কোচিং স্টাফ কালবেলাকে বলেছেন, ‘কোনো দলই চায় না একটা প্রতিযোগিতার মাঝপথে বিতর্ক সৃষ্টি হোক। কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কিন্তু সময়টাও আদর্শ ছিল না। কারণ এমন সিদ্ধান্ত দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আসলে বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। অন্যদের বেলায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো না, শুধু একজনের বেলায় কেন এমনটা ঘটবে?’
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে শেষ হয়েছে সাফ নারী ও পুরুষ ফুটসাল। রোববার এই টুর্নামেন্টের মধ্যেই সাফের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পরই সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের ড্র সম্পন্ন হয়। ড্রয়ে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে পড়ে, যেখানে অন্য দুই দল হলো শক্তিশালী ভারত ও পাকিস্তান। আগামী ২৫ মার্চ থেকে শুরু হবে টুর্নামেন্ট, যা মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের সমাপ্তি হবে ৩ এপ্রিল। এই আসরে সাফের সাত দেশের সব দলই প্রতিনিধিত্ব করবে। উপমহাদেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ক্রীড়াঙ্গনেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দাবিকে আইসিসি প্রত্যাখ্যান করায় দেশটি ভারতে খেলতে যাচ্ছে না। পাকিস্তানও বাংলাদেশের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে এবং বিশ্বকাপ বয়কটের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টে তিন দেশ একই গ্রুপে পড়েছে। অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। দুই গ্রুপের দুই চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল সেমিফাইনালে উঠবে। মালদ্বীপ এবারই প্রথম আয়োজক হিসেবে অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। এই পর্যায়ে এর আগে দুইবার সাফের আসর বসেছিল। ২০২২ সালে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল ভারত, এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বিতীয় আসরে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। অনূর্ধ্ব-২০, ১৯ ও ১৮ পর্যায়ের আসরগুলো যুব সাফ হিসেবে বিবেচিত হয়। অ-১৮ ও অ-১৯ পর্যায়ে ভারত দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বাংলাদেশের এই দুই আসরে এখনও শিরোপা নেই, যদিও চারবার রানার্সআপ হয়েই তারা শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নাটকীয় পাঁচ গোলের ম্যাচে শীর্ষে থাকা আর্সেনালকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের শেষ দিকে মাতেউস কুনহার দুর্দান্ত গোল স্বাগতিকদের হতবাক করে দেয়। এই জয়ে লিগ আরও জমিয়ে তুলেছে রেড ডেভিলসরা। চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে এটিই প্রথম হার মিকেল আর্তেতার দলের। দারুণ শুরু করা আর্সেনাল ২৯ মিনিটে এগিয়ে যায় লিসান্দ্রো মার্তিনেজের আত্মঘাতী গোলে। তবে মাঝমাঠে মার্টিন সুবিমেন্দির ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৩৭ মিনিটে সমতা ফেরান ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড ব্রায়ান এমবুয়েমো। গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে কাটিয়ে সহজেই বল জালে পাঠান তিনি। বিরতির পরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ৫০ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন প্যাট্রিক ডর্গু। বল ক্রসবারের নিচে লেগে জালে ঢুকে পড়লে এমিরেটস স্টেডিয়ামে নেমে আসে নীরবতা। চাপে পড়ে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন করেন। ভিক্টর গিয়োকেরেস, এবেরেচি এজে, মিকেল মেরিনো ও বেন হোয়াইটকে মাঠে নামান তিনি। এই পরিবর্তনের সুফল আসে ৮৪ মিনিটে। কর্নার থেকে জটলার মধ্যে বল ঠেলে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান মিকেল মেরিনো। তবে সমতার উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৮৭ মিনিটে কোবি মাইনুর পাস থেকে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁকানো শটে দারুণ গোল করেন মাতেউস কুনহা। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আবারও এগিয়ে যায় ম্যানইউ—৩–২। শেষ মুহূর্তে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আর্সেনাল। এই জয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড উঠে এসেছে লিগের চতুর্থ স্থানে। এই হার আর্সেনালের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলার জয়ের ফলে লিগ শীর্ষে আর্সেনালের ব্যবধান এখন নেমে এসেছে মাত্র চার পয়েন্টে। ঘরের মাঠে প্রথম হার আর্তেতার দলের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা হয়ে রইল।
লামিনে ইয়ামাল চোখ ধাঁধানো এক গোল করলেন। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে বার্সেলোনার ৩-০ ব্যবধানের জয়ে তার এই গোল নজর কেড়েছে। বড় এই জয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল বার্সা। আগের লিগ ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে হেরেছিল তারা। দানি ওলমো ও ফর্মে থাকা রাফিনহাও গোল করেছেন। তবে ইয়ামালের অ্যাক্রোবেটিক প্রচেষ্টার কাছে ম্লান হয়ে গিয়েছিল তাদের গোল। হ্যান্সি ফ্লিকের দল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের ওপর তাদের এক পয়েন্টের ব্যবধান ধরে রাখল। ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল ওলমোর ক্রস পেনাল্টি এরিয়ার প্রান্তে পেয়ে শট নেন। সেটি গোলরক্ষক অ্যারন এসকান্দেলকে পরাস্ত করে দূরের পোস্টের ভেতর দিয়ে জালে জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা ঘুরে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ থেকে কোনো জয় না পাওয়া ওভিয়েদো প্রথম ৪৫ মিনিট স্বাগতিকদের হতাশ করে। প্রথমার্ধের পুরো সময়ে বার্সেলোনা যতগুলো শট লক্ষ্যে রেখেছিল, দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম নয় মিনিটেই তারা তার চেয়ে বেশি দুটি শট লক্ষ্যে রাখে। রাফিনহার শট ইনজুরি টাইমে এসকান্দেলকে পরীক্ষা করে। দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা প্রথম সুযোগটিই গোল বানায়। রবার্ট লেভানডোভস্কি ও ওলমো দুজনেই ভালো সুযোগ পেয়ে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন। তারপর ৫২ মিনিটে ওলমো ডেডলক ভাঙেন। ইয়ামালের চাপে থাকা কোয়াসি সিবো বলটি ওলমোর দিকেই পাঠাতে পেরেছিলেন, তারপর ১৬ গজ দূর থেকে একটি কোণাকুণি শটে গোল করেন। এরপর লেভানডোভস্কির একটি হেডার এসকান্দেল রুখে দেন। কিন্তু এরপরই রাফিনহা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন; ডিফেন্ডার ডেভিড কোস্টাস উইঙ্গারের চাপে পড়ে অত্যন্ত দুর্বল ব্যাকপাস দিলে গোলরক্ষক তাকে আটকাতে এগিয়ে আসেন, আর রাফিনহা তার মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার চিপ শটে ৫৭ মিনিটে গোলটি করেন। যদিও সেটি মুগ্ধতা ছড়িয়েছে, কিন্তু সেরা মুহূর্তটি আসা তখনও বাকি ছিল—ইয়ামাল বড়দিনের পর মাত্র তার দ্বিতীয় গোলটি করেন ৭৩তম মিনিটে। এই গোল স্বাগতিকদের জন্য ম্যাচে স্বস্তি ফেরায়। তবে শুরুর ৪৫ মিনিট মোটেও তেমন ছিল না। ওভিয়েদোর ইলিয়াস চাইরা একটি শট পোস্টের সামান্য বাইরে মারেন এবং হাইসেম হাসান বার্সেলোনা কিপার জোয়ান গার্সিয়াকে সেভ করতে বাধ্য করেন। এরপর চাইরা একটি দুরূহ কোণ থেকে আবারো গার্সিয়াকে পরীক্ষা করেন। অন্যদিকে, প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে রাফিনহার শটটিই ছিল এসকান্দেলের নেওয়া প্রথম পরীক্ষা। গতকাল রিয়াল জিতে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছিল। ২৪ ঘণ্টা না যেতেই তা ফিরে পেল বার্সা। ২১ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট তাদের।
নারী ফুটবল লিগে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ফরাশগঞ্জ ও রাজশাহী স্টারস। দুই দলই জয়ের ধারায় ছিল। দুই দলের মধ্যকার আজকের (শনিবার) ম্যাচটি ছিল অলিখিত ফাইনাল। বিকেলে কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রাজশাহী স্টারস ১-০ গোলে ফরাশগঞ্জকে পরাজিত করে। ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন আলপি আক্তার। প্রথমার্ধেই তিনি গোলটি করেন। ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রাজশাহী স্টারস। এক ম্যাচ বেশি খেলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পয়েন্টও ২১। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান ফরাশগঞ্জের। ফরাশগঞ্জের বিগত ছয় ম্যাচেই গোল করেছিলেন জাতীয় দলের ফুটবলার শামসুন্নাহার জুনিয়র। ৬ ম্যাচের ছয়টিতেই গোল করেছিলেন। টানা পাঁচ ম্যাচ সেরার কৃতিত্ব পেয়েছিলেন। আজ তিনি গোলও পাননি, দলও পয়েন্ট পায়নি। ফরাশগঞ্জ ও রাজশাহী দুই দলে দশের অধিক জাতীয় ফুটবলার খেলছেন। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের প্রধান তারকা ঋতুপর্ণা চাকমা, অধিনায়ক আফিদা খন্দকার রাজশাহীতে, আর ফরাশগঞ্জে রয়েছেন মারিয়া মান্দা, দুই শামসুন্নাহার, মনিকা ও তহুরা খাতুনের মতো ফুটবলারও। দুই দলই জাতীয় দলের খেলোয়াড় নিয়ে খেলায় ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে। ।
আরও একটি দক্ষিণ এশীয় গৌরব হাতছানি দিচ্ছে বাংলাদেশের সামনে। চলমান সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে শেষ ম্যাচে জয় পেলেই চ্যাম্পিয়ন হবে লাল-সবুজরা। ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ। ২০২২ সালে সাবিনা খাতুন ও কৃষ্ণা রানীদের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশীয় নারী ফুটবল শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালেও সেই সাফল্য ধরে রাখে দলটি। তবে ওই আসরের পর কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জাতীয় ফুটবল দল থেকে ব্রাত্য হয়ে যান একঝাঁক সিনিয়র ফুটবলার। ব্রাত্য হওয়া সেই ফুটবলারদের মধ্যেই রয়েছেন সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভীন, মাতসুশিমা সুমাইয়া ও নিলুফার ইয়াসমিন নীলা। এই পাঁচজনই বর্তমানে ফুটসাল দলে খেলছেন এবং তাদের হাত ধরেই আরও একটি সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। সাত দলের এই আসরে ৫ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে হারালেই নিশ্চিত হবে শিরোপা। এমনকি হার বা ড্র হলেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে, যদি নেপালের বিপক্ষে ভুটান জয় পেতে ব্যর্থ হয়। তবে বাংলাদেশ বিকল্প কোনো সমীকরণে যেতে চাইছে না। কারণ ৫ ম্যাচের সবগুলোতে হেরে টেবিলের তলানিতে রয়েছে মালদ্বীপ। বাংলাদেশের শিরোপার পথ আরও সুগম হয়েছে শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯-১ গোলের বড় জয়ে। অন্য ম্যাচে ভুটানের কাছে ২-১ গোলে হেরে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গেছে ভারত। বর্তমানে বাংলাদেশকে টপকে শিরোপা জয়ের গাণিতিক সম্ভাবনা রয়েছে কেবল ভুটানের। নেপালের বিপক্ষে ভুটানের জয়ের পাশাপাশি মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের হারই কেবল সেই সমীকরণ পূরণ করতে পারে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয়ে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। ৮, ১৬, ৩৪ ও ৪০ মিনিটে চারটি গোল করেন তিনি। নওশীন জাহান ও কৃষ্ণা রানী সরকার জোড়া গোল করেন, আর অন্য গোলটি আসে নিলুফার ইয়াসমিন নীলার পা থেকে। হ্যাটট্রিকে শিরোপার পথ আরও প্রশস্ত করা সাবিনা খাতুন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও এগিয়ে গেছেন। ১০ গোল নিয়ে তিনি বর্তমানে শীর্ষে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দুই ভারতীয় খেলোয়াড় দিতি ও খুশবুর চেয়ে চার গোল এগিয়ে আছেন বাংলাদেশের এই অধিনায়ক।
ইনজুরির ধাক্কা যেন কিছুতেই পিছুই ছাড়ছে না বার্সেলোনার। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবারও বড় আঘাত পেল কাতালানরা। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে এবার এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেলেন মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা পেদ্রি। ফলে লা লিগা, কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে অন্তত সাত ম্যাচে এই স্প্যানিশ তারকাকে পাচ্ছেন না হান্সি ফ্লিক। দলের সর্বশেষ ম্যাচ শেষে মঙ্গলবার সকালে সিউতাত এসপোর্তিভায় মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নেন পেদ্রি। সেখানেই তার চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্লাব। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্লাভিয়া পারগার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। ক্লাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘তার সেরে উঠতে প্রায় এক মাস সময় লাগবে।’ চলতি মৌসুমে এটি পেদ্রির তৃতীয় ইনজুরি। এর আগে চোটের কারণে ৫টি ম্যাচ মিস করেছিলেন তিনি, চারটি পেশির চোটে এবং একটি কাফে অস্বস্তির কারণে। নতুন এই ইনজুরিতে তালিকায় যোগ হচ্ছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ওভিয়েদো, কোপেনহেগেন, এলচে, আলবাসেতে, মায়োরকা, জিরোনা ও লেভান্তের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে তাকে পাচ্ছেন না ফ্লিক। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারির ১০, ১১ অথবা ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা কোপা দেল রের প্রথম লেগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফের প্রথম লেগও তার অনুপস্থিতিতে খেলতে হতে পারে, যদি বার্সা সরাসরি সেরা আটে উঠতে না পারে। স্লাভিয়া পারগার বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের একেবারে শুরুতে ২-২ সমতায় থাকা অবস্থায় হঠাৎই অস্বস্তিতে পড়েন পেদ্রি। এক চতুর্থাংশ সময় খেলার পরই মাঠে বসে পড়েন, দু'হাতে মাথা চেপে ধরে। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে পেশির সমস্যার আশঙ্কা করলে তাকে আর ঝুঁকি না নিয়ে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তখন। পেদ্রির চোটের চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে কাতালান কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের। ম্যাচের শেষে তিনি বলেন, এটা দলের জন্য ভালো খবর নয়। তার ভাষায়, ‘তার চোট আসলে কতটা গুরুতর, আমি জানি না। তবে সমস্যাটা হ্যামস্ট্রিংয়ে। যা হওয়ার, হয়েছে। কখনও কখনও এসব ঘটে। আমি জানি না তাকে কতদিন বাইরে থাকতে হবে। এটা ভালো খবর নয়। দেখা যাক কী হয়।’
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনায় অনড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। জার্মান ফুটবল ফেডারেশনকে এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সংসদ-সদস্যরা। জার্মান সরকারের এতে সম্মতি আছে। গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ডেনমার্ক, জার্মানিসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। সেটি কার্যকর হলে পালটা ব্যবস্থা হিসাবে বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটতে পরে জার্মানি। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ তিনটি হলেও অধিকাংশ ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রে। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করেন, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ বিশ্বকাপ বর্জন করতে পারে। আপাতত জার্মানি নিজেদের কাজ এগিয়ে রাখছে। বিশ্বকাপে খেলা বা না খেলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি)। বয়কটের পক্ষে জনমত গঠনে প্রচারণা চালাচ্ছেন রাজনীতিবিদরা। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির ৪৭ শতাংশ মানুষ ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে। বিপরীতে বিশ্বকাপে খেলার পক্ষে ৩৫ ভাগ মানুষ।
ইতিহাস গড়ার রাতটা স্মরণীয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লিসবনের আলোয় লেখা হলো পিএসজির আরেকটি ইউরোপীয় হতাশার গল্প। বল দখল, আক্রমণ আর সুযোগের ছড়াছড়ি থাকলেও শেষ পর্যন্ত হাসিমুখে মাঠ ছাড়া হলো না ফরাসি ক্লাবটির ফুটবলারদের। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং সিপির কাছে ২-১ গোল ব্যবধানে হেরেছে পিএসজি। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে ৩০০তম ম্যাচ খেলতে নামে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন। রেকর্ড গড়ার ম্যাচে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষই পায় চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এস্তাদিও হোসে আলভালাদিওতে সহজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নামেন লুইস এনরিখের শিষ্যরা। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় জুড়েই আধিপত্য ছিল পিএসজির। প্রথমার্ধে ৭৮ শতাংশ বল দখলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলবারের দিকে নেয় ১৫টি শট। এর মধ্যে চারটি অন টার্গেটে। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। সুযোগ নষ্টের মাশুল দিতে হয় শেষ পর্যন্ত। দ্বিতীয়ার্ধে নাটক জমে ওঠে। ৭৪তম মিনিটে স্পোর্টিং সিপিকে এগিয়ে দেন লুইস সুয়ারেজ। পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় পিএসজি। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা খভিচা কভারাতস্কেলিয়া দুর্দান্ত এক শটে গোল করে পিএসজিকে সমতায় ফেরান। এসময় মনে হচ্ছিল ১-১ ব্যবধানেই শেষ হবে ম্যাচ। কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও বাকিই ছিল। ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে আরও একবার পিএসজির জালে বল পাঠান লুইস সুয়ারেজ। ফরাসি ক্লাবটির রক্ষণভাগের ঢিলেমি ও গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়েরের ভুল সিদ্ধান্ত কাজে লাগান তিনি। সব মিলিয়ে ম্যাচ হাতছাড়া হয় পিএসজির। ২-১ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় স্বাগতিক স্পোর্টিং সিপি। অবশ্য এই হারের পরও পয়েন্ট টেবিলের পিএসজির নিজেদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ৭ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরেই রয়েছে ফরাসি ক্লাবটি। অন্যদিকে পিএসজির বিপক্ষে ৩ পয়েন্ট অর্জন করে বড় লাফ দিয়েছে স্পোর্টিং সিপি। ছয় ধাপ এগিয়ে ছয় নম্বরে অবস্থান করছে তারা। ৭ ম্যাচে তাদেরও সংগ্রহে আছে ১৩ পয়েন্ট।
দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে ফিরেই দুর্দান্ত ফর্মে খেললেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের মাঠে জোড়া গোল করে আর্সেনালকে ৩–১ ব্যবধানে জয় এনে দিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। মঙ্গলবার সান সিরোতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্সেনাল। ১০ মিনিটে জুরিয়েন টিম্বারের শট থেকে বল পেয়ে জেসুস গোল করেন। ১৮ মিনিটে পেতার সুসিচের গোলে সমতা ফেরায় ইন্টার মিলান। সমতার পরও আর্সেনালের চাপ অব্যাহত থাকে। ৩১তম মিনিটে বুকায়ো সাকার কর্নার থেকে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ডের হেড ক্রসবারে লাগে। রিবাউন্ডে জেসুস সহজেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একাধিক সুযোগ পেলেও ইন্টার তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়; বড় সুযোগ নষ্ট করেন মার্কাস থুরাম। উল্টো দিকে আর্সেনালের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত জেসুসের বদলি হিসেবে নামা গয়োকেরেস গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির নিখুঁত পাস থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান ৩–১ এ। এই জয়ের ফলে গ্রুপের শীর্ষে থেকে আর্সেনাল নিশ্চিতভাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় টানা সাত ম্যাচ জয়ের নতুন ক্লাব রেকর্ডও গড়েছে তারা। আর্সেনাল এখনও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেনি। ২০০৬ সালে ফাইনালে উঠলেও বার্সেলোনার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল। ম্যাচ শেষে জেসুস বলেন, "এটা স্বপ্নের রাত। আমি সবসময় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। ছোটবেলায় সিরি আ অনেক দেখতাম। এই স্টেডিয়ামে এসে গোল করতে পারাটা চোখে জল এনে দেয়, কারণ এটা আমার স্বপ্ন ছিল। জীবনে ভালো বা খারাপ—সব কিছুরই কারণ থাকে। মাঠের বাইরে কাটানো ১১ মাসে আমি সেটা শিখেছি। আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বলেন, এটা দারুণ। আমরা গ্যাবিকে অনেক মিস করছিলাম। এটা তার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে। এই পজিশনে এখন আমাদের ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড় আছে। ভিক্টর বদলি হয়ে নেমে দারুণ প্রভাব রেখেছে, এটাই আমাদের আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
কার্লো আনচেলত্তির জায়গায় গত গ্রীষ্মে ক্লাব বিশ্বকাপের আগেই রিয়ালের ডাগআউটে বসেন আলোনসো। বায়ার লেভারকুসেনে সফলভাবে প্রয়োগ করা তার হাই-প্রেসিং ও উচ্চ গতির ফুটবল দর্শন বাস্তবায়নের জন্য ক্লাবের শীর্ষ মহলের সমর্থনও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সমর্থন হারিয়ে ফেলেন আলোনসো। শুধু তাই নয়? স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হারের পর তাই তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সাফল্যের উল্টো চিত্রটা দেখে ফেললেন আলোনসো। আলোনসোর বরখাস্তের পর এবার মুখ খুললেন রিয়াল মাদ্রিদের সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলোনসোর ব্যাপারে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা বলেন, ‘আলোনসো যে রিয়াল মাদ্রিদে সাফল্যের দেখা পাচ্ছিল না তা মোটেও সত্য নয়। কোন শিরোপা নির্ধারণ হওয়ার আগেই তাকে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়তে হয়েছে। সে চমৎকার একজন কোচ হতে চলেছেন।’ বায়ার লেভারকুসেনের সাবেক এই সফল কোচের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে এমবাপ্পে বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। সেইসঙ্গে তার সফলতাও কামনা করি আমি। আধুনিক ফুটবল সম্পর্কে তার বেশ ভালো জানাশোনা। তবে তাকে বরখাস্ত করার বিষয়টি একেবারেই ক্লাবের সিদ্ধান্ত। যাকে আমাদের অবশ্যই সম্মান করতে হবে। এখন আমাদের নতুন কোচ। তাকেও আমরা সমর্থন করছি।’ জাবির সাথে যোগাযোগ হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে এমবাপ্পে বলেন, ‘হ্যাঁ, খবরটি যখনই ব্রেকিং হয়েছিল ঠিক তখনই তার সঙ্গে আমি কথা বলি। তখন আমি তাকে সমর্থন করার চেষ্টা করেছি। কেননা, এটা মোটেও সহজ ব্যাপার নয়। তবে কোনটা ঠিক আর কোনটা সঠিক নয় সেটা বলা অবশ্য আমার দায়িত্ব নয়। এটাই আসলে ফুটবল। বিশ্বের শীর্ষসারির ফুটবলারদের জীবনটাও এমন। তবে আমাদেরকে অবশ্যই রিয়াল মাদ্রিদের সম্মান রক্ষা করতে হবে।’ স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে একজনের মতামতই চূড়ান্ত। তিনি হলেন প্রেসিডেন্ট পেরেজ। আলোনসোর আগেও নতুন কোচদের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্লাব সভাপতি। ২০১৫-১৬ মৌসুমে রাফায়েল বেনিতেজ ছিলেন মাত্র ছয় মাস, ২০১৮ সালে হুলেন লোপেতেগুই টিকেছিলেন কেবল ১৪ ম্যাচ।
বাংলাদেশের মেয়েদের দাপট চলছেই। সাফ উইমেনস ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেও বড় জয় পেয়েছে সাবিনা–কৃষ্ণারা। ব্যাংককের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে আজ সোমবার ৩–০ গোলে নেপালকে উড়িয়ে দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই দাপুটে জয়ে টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে একটি জয় ও একটি ড্র পাওয়া বাংলাদেশ এদিনও ছিল দারুণ আত্মবিশ্বাসী। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। ১৪ মিনিটে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। এই নিয়ে টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল চার। প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ১৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কৃষ্ণা রানী সরকার। ফলে ২–০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য বজায় রাখে বাংলার মেয়েরা। লিপি আক্তারের দারুণ এক গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে গোলরক্ষক স্বপ্না আক্তার ঝিলি পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের ‘ক্লিন শিট’ নিশ্চিত করেন। সাত দলের এই টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচ শেষে ৭ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে শুভসূচনা করে দলটি। দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ৩–১ গোলে পিছিয়ে পড়েও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩–৩ ড্র করে সাবিনারা। আজকের জয়ে টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকল বাংলাদেশ।
নাটকীয় বললে আপনার চোখে ভেসে উঠতে পারে মাঠের ‘খেলায়’ উত্থান পতনের গল্প। তবে আফ্রিকান নেশন্স কাপে আক্ষরিক অর্থেই একগাদা নাটক হয়ে গেছে। নাটকীয় ও বিশৃঙ্খল ঘটনার পর আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতেছে সেনেগাল। রবিবার ফাইনালে তারা স্বাগতিক মরক্কোকে ১-০ গোলে হারায়। ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় অতিরিক্ত সময়ে। এই ট্রফি সাদিও মানের দলের জেতারই কথা ছিল না। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়। পেনাল্টির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে মানের অনুরোধে তারা আবার মাঠে ফেরেন। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে মরক্কো পেনাল্টি পায়। ভিএআর দেখে কঙ্গোর রেফারি জ্যঁ-জ্যাক এনডালা এই সিদ্ধান্ত দেন। কর্নার ঠেকাতে গিয়ে সেনেগালের ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফ ব্রাহিম দিয়াজকে টান দেন বলে রায় আসে। এই সময় মাঠে দীর্ঘ ১৪ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পেনাল্টি নিতে এসে মরক্কোর তারকা ব্রাহিম দিয়াজ প্যানেনকা শট নেন। তার দুর্বল শট সহজেই ধরে ফেলেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি। এই সুযোগ নষ্টে হতাশ হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নেন সাদিও মানে। তিনি বল দেন ইদ্রিসা গানা গেইকে। সেখান থেকে পাপে গেইকে পাস দেন তিনি। ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার পাপে গেই মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিকে পেছনে ফেলে দারুণ শটে গোল করেন। বল জালে জড়িয়ে যায় গোলরক্ষক ইয়াশিন বুনোর হাত ছুঁয়ে। গোলের পর স্তব্ধ হয়ে যায় প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়াম। ৬৬ হাজারের বেশি দর্শক হতাশায় ডুবে যান। ব্রাহিম দিয়াজকে পরে বদলি করে নামানো হয়। মরক্কো সমতায় ফেরার চেষ্টা করেছিল। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় ভাগে নাইয়েফ আগুয়ের্দের হেড ক্রসবারে লাগে। তবে শেষ পর্যন্ত আর গোল আসেনি। এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় যোগ করা মিনিটে সেনেগালের একটি গোল বাতিল হয়। কর্নার থেকে আবদুলায়ে সেকের হেড পোস্টে লাগে। ফিরতি বলে ইসমাইলা সার গোল করেন। রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন। এই সিদ্ধান্তেও ক্ষুব্ধ ছিল সেনেগাল দল। শেষ দিকে সেনেগাল ২-০ করতে পারত। শেরিফ এনদিয়ায়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। তবুও তারা জয় ধরে রাখে। এটি সেনেগালের দ্বিতীয় আফ্রিকা কাপ শিরোপা। গত তিন আসরের মধ্যে দুইবার তারা চ্যাম্পিয়ন হলো। ২০২২ সালে তারা মিসরকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতেছিল। এই জয়ের মাধ্যমে সেনেগাল যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন বিশ্বকাপের দিকে তাকাতে পারে। তারা আশা করবে সাদিও মানে আবারও আফ্রিকা কাপে খেলবেন। মানে আগেই জানিয়েছিলেন, এই ফাইনালই হতে পারে তার শেষ আফ্রিকা কাপ ম্যাচ।
লা লিগায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে হেরে গেছে বার্সেলোনা। বৃষ্টিভেজা রিয়ালে আরেনায় ম্যাচটি শেষ হয় ২-১ ব্যবধানে। তাতে থেমে গেছে তাদের ১১ ম্যাচের জয়যাত্রাও। এই হারের ফলে টেবিলের শীর্ষে বার্সেলোনার লিড নেমে এসেছে মাত্র এক পয়েন্টে। শনিবার লেভান্তেকে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ফলের পর যেন চাপেই পড়ে যায় কাতালানরা। বার্সেলোনা ম্যাচে চারবার বল পোস্টে লাগায়। দু’টি গোল বাতিল হয়। নতুন মার্কিন কোচ পেলেগ্রিনো মাতারাজ্জোর অধীনে রিয়াল সোসিয়েদাদ টানা চার ম্যাচ অপরাজিত থাকল। শেষ দিকে কার্লোস সোলের লাল কার্ড দেখলেও জয় ধরে রাখে স্বাগতিকরা। ম্যাচের শুরুটা ছিল খুব দ্রুত। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে মিকেল ওইয়ারসাবাল গোল করেন। তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। অন্য প্রান্তে ফেরমিন লোপেজ দূর থেকে গোল করেন। বিল্ডআপে দানি ওলমোর ফাউল থাকায় সেটিও বাতিল হয়। ডান দিক দিয়ে বারবার আক্রমণ চালান লামিন ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার সুযোগ তৈরি করেন। তবে ওলমোর শট চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। ইয়ামাল নিজেও গোল করেন। খুব অল্প ব্যবধানে অফসাইড ধরা পড়ে। গোল বাতিল হয়। খেলার ধারার বিপরীতে প্রথম গোল পায় রিয়াল সোসিয়েদাদ। গনসালো গুয়েদেসের ক্রস থেকে দারুণ ভলিতে গোল করেন ওইয়ারসাবাল। বল ঢুকে যায় গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়ার কাছের পোস্ট দিয়ে। বিরতির আগে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন ইয়ামাল। রেফারি পেনাল্টি দেন। পরে ভিএআর দেখে অফসাইড ধরা পড়ে। সিদ্ধান্ত বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়ায় বার্সেলোনা। গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরো একের পর এক সেভ করেন। দানি ওলমোর শট পোস্টে লাগে। পরে কাছের পোস্টে ভালো সেভ দেন রেমিরো। রবার্ট লেভান্ডভস্কির হেড ক্রসবারে লাগান তিনি। ৭০ মিনিটে সমতা ফেরান মার্কাস রাশফোর্ড। ইয়ামালের ক্রসে হেডে গোল করেন তিনি। তবে আনন্দ বেশি সময় থাকেনি। এরপরই আবার এগিয়ে যায় রিয়াল সোসিয়েদাদ। কার্লোস সোলের শট ঠিকমতো ধরতে পারেননি গার্সিয়া। ফিরতি বল পেয়ে গুয়েদেসকে ক্রস দেন সোলের। গুয়েদেস গোল করেন। তৃতীয় গোল হতে পারত। গার্সিয়া গোল ছেড়ে বেরিয়ে ছিলেন। ওইয়ারসাবালের শট গোললাইন থেকে হেড করে ফেরান পাউ কুবারসি। শেষ দিকে জোয়াও ক্যানসেলোর ক্রসে জুল কুন্দের হেড ক্রসবারে লাগে। পরে সোলের পেদ্রিকে কঠিন ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন। যোগ করা সময়ে রাশফোর্ড সরাসরি কর্নার থেকে পোস্টে বল মারেন। তবুও গোল আসেনি। শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।
ফুটবলের দুই মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির দ্বন্দ্ব মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নয়—অর্থের দুনিয়াতেও সেই প্রতিযোগিতা সমানতালে চলছেই। তবে ২০২৫ সালে এই লড়াইয়ে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদো। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্রীড়াবিদদের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে ইতিহাস গড়েছেন তিনি, যেখানে মেসি নেমে গেছেন তৃতীয় স্থানে। খ্যাতনামা স্পোর্টস বিজনেস পোর্টাল স্পোর্টিকো-এর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের ফরোয়ার্ড রোনালদো গত এক বছরে মোট ২৬০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এর মধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলার এসেছে ক্লাব বেতন থেকে, আর বাকি ৬০ মিলিয়ন ডলার এসেছে স্পনসরশিপ ও ব্যক্তিগত ব্যবসা থেকে। টানা তৃতীয় বছরের মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা ক্রীড়াবিদের স্বীকৃতি পেলেন তিনি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মেক্সিকান বক্সিং তারকা সাউল ‘ক্যানেলো’ আলভারেজ। সাম্প্রতিক সময়ে টেরেন্স ক্রফোর্ডের কাছে পরাজিত হলেও আয়ের দিক থেকে তার অবস্থান শক্তই রয়েছে। ২০২৫ সালে ক্যানেলোর মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৭ মিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি এ বছর আয় করেছেন আনুমানিক ১৩০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার এসেছে স্পনসরশিপ ও বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠের পারফরম্যান্স এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার বৈশ্বিক প্রভাব তাকে এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে ধরে রেখেছে। শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন আরও দুই তারকা— বেসবলে নিউইয়র্ক মেটসের হুয়ান সোটো ১২৯.২ মিলিয়ন ডলার আয় করে চতুর্থ, আর লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের বাস্কেটবল কিং লেব্রন জেমস ১২৮.৭ মিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। ফুটবল থেকে রোনালদো ও মেসির পাশাপাশি শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন ফরাসি তারকা করিম বেনজেমা। সৌদি ক্লাব আল-ইত্তিহাদের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড ১১৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন। ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ আয় করা ১০ ক্রীড়াবিদ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল, ফুটবল) — ২৬০ মিলিয়ন ডলার ক্যানেলো আলভারেজ (মেক্সিকো, বক্সিং) — ১৩৭ মিলিয়ন ডলার লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা, ফুটবল) — ১৩০ মিলিয়ন ডলার হুয়ান সোটো (ডোমিনিকান রিপাবলিক, বেসবল) — ১২৯.২ মিলিয়ন ডলার লেব্রন জেমস (যুক্তরাষ্ট্র, বাস্কেটবল) — ১২৮.৭ মিলিয়ন ডলার করিম বেনজেমা (ফ্রান্স, ফুটবল) — ১১৫ মিলিয়ন ডলার স্টিফেন কারি (যুক্তরাষ্ট্র, বাস্কেটবল) — ১০৫.৪ মিলিয়ন ডলার শোহেই ওতানি (জাপান, বেসবল) — ১০২.৫ মিলিয়ন ডলার কেভিন ডুরান্ট (যুক্তরাষ্ট্র, বাস্কেটবল) — ১০০.৮ মিলিয়ন ডলার জন রাহম (স্পেন, গলফ) — ১০০.৭ মিলিয়ন ডলার
আগামী জুনে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। যার উত্তাপ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তার আগে গত বুধবার বাংলাদেশ সফর করে গেছে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি। যা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও। তারা না পারলেও আগামী প্রজন্ম ঠিকই একদিন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে নেবে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এবার বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার খোদ সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও দারুণ আশার এক মন্তব্য করেছেন। যা শুনলে হয়তো আপনিও অবাক হতে পারেন। হ্যাঁ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ইনফান্তিনোর কাছে তাঁর এক অনুসারী প্রশ্ন রাখেন; বাংলাদেশ কি কখনো বিশ্বকাপ খেলবে। সেই প্রশ্নর উত্তর দিয়েছেন আজ। এক পোস্টে ফিফা সভাপতি বলেন, ‘অবশ্যই, বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারে। বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশগুলো যাতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে, সেটাই ফিফার লক্ষ্য। আগামী বছরের বিশ্বকাপে আমাদের বেশ কয়েকটি নবাগত দল রয়েছে যারা আগে কখনো অংশ নেয়নি। আমাদের এখানে আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দ, কনক্যাকাফ অঞ্চল থেকে কুরাসাও রয়েছে। আমাদের এখানে উজবেকিস্তান রয়েছে যারা প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করেছে এবং জর্ডান রয়েছে যারা প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করেছে।’ বাংলাদেশকে নিয়ে কেন আশা দেখছেন ফিফা বস? তার যুক্তিও দেখিয়েছেন তিনি। ইনফান্তিনো বলেন, ‘বাংলাদেশ ফুটবলের দারুণ এক দেশ, যেখানে ফুটবল বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, তাদের অবশ্যই একটি সুযোগ আছে। বাংলাদেশ ফুটবল ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেড়ে উঠতে ফিফা প্রচুর বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব জায়গায় প্রতিভা রয়েছে এবং আমরা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় আছি।’ ফিফা সভাপতির এমন মন্তব্য কী আসলে কখনও বাস্তবতার মুখ দেখবে? তার উত্তর কেবলই বলতে পারবে সময়। তবে পরিসংখ্যান বলে বিশ্বকাপ তো দূরের কথা বাংলাদেশ এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চেই যেতে পেরেছে কেবলমাত্র একবার। তাও আবার সেই ১৯৮০ সালে। এবারের এশিয়ান কাপ বাছাই নিয়েও দেশের কোটি-কোটি ভক্ত-অনুরাগীর প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বি। কিন্তু হামজা চৌধুরী, শমিত শোমদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়েও সেই আশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তারপরও মানুষ বাঁচে আশায়।
কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বার্সেলোনা। ফেরান তরেস ও লামিনে ইয়ামালের গোলে রেসিং সান্তান্দেরের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো এক জয় পেয়েছে কাতালানরা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে দ্বিতীয় স্তরের দল রেসিংয়ের মাঠে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছে শিরোপাধারীরা। প্রথমার্ধে চেনা ছন্দে ছিল না বার্সেলোনা। সান্তান্দেরের বিপক্ষে প্রথম ৪৫ মিনিট কাটে গোলশূন্য। তবে বিরতির পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ফেরান তরেসের গোলে লিড পায় কাতালানরা। আর ম্যাচের শেষ ভাগে জাল কাঁপিয়ে জয় নিশ্চিত করেন ওয়ান্ডার কিড ইয়ামাল। ম্যাচে ৭৭ শতাংশ বল দখলে রেখে হান্সি ফ্লিকের দল শট নেয় ১৭টি, যার ৭টিই ছিল অন টার্গেট। অন্যদিকে, রেসিং গোটা ম্যাচে ৬টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার দায়িত্বে অভিষেকটা ভালো হলো না। তার প্রথম ম্যাচেই কোপা দেল রে থেকে বিদায় নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তাও আবার দ্বিতীয় বিভাগের তলানীতে থাকা আলবাসেতের কাছে ৩-২ গোলে হেরে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহাম খেলতে না নামলেও প্রথম ৪২ মিনিটে বলের দখল ছিল রিয়ালের প্রায় ৮০ শতাংশ। পাঁচটি শট নিলেও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এগিয়ে যায় আলবাসেতে। হোসে লাজোর কর্নার থেকে জাভি ভিয়ার হেডে গোল করেন, বল যায় আন্দ্রেই লুনিনের পাশ দিয়ে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ১৮ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কো মাসতান্তুয়োনো সমতা ফিরিয়ে আনেন রিয়ালের হয়ে। তিনি রাউল লিজোয়াইনের ভুল সুযোগ কাজে লাগান। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই তীব্র লড়াই চালায়। রিয়াল জয়ের জন্য চাপ বাড়ায় এবং আরবেলোয়া একের পর এক বদলি আনে। মাঠে নামেন ডেভিড আলাবা, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও দানি কারভাহাল। শেষ আট মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বদলি জেফতে বেন্তানকো ৮২ মিনিটে আলবাসেতকে এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ে রিয়াল সমতা ফিরিয়ে আনে গনসালো গার্সিয়ার গোলে। কিন্তু মাত্র দুই মিনিট পর আবার গোল করে জেফতে, শেষ হাসি হাসে আলবাসেতের। এই জয়ে কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তারা। রিয়ালের বিপক্ষে এটি আলবাসেতের প্রথম জয়। রিয়ালের এই হার আসে বার্সেলোনার কাছে স্প্যানিশ সুপার কাপ হারের কয়েক দিনের মধ্যেই। ফলে দলের দুঃসময় আরও ঘনীভূত হলো।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।