উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই নানা নতুনত্বের সাক্ষী হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপজয়ী দলকে দেওয়া হবে বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ বা আংটি। মার্কিন ক্রীড়াঙ্গনে চ্যাম্পিয়ন দলকে আংটি প্রদান দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। বিশেষ করে এনএফএলের সুপার বোলজয়ীরা এই সম্মান পেয়ে থাকে। সেই সংস্কৃতিই এবার প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ফিফার কোনো প্রতিযোগিতার সঙ্গে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপীয় শক্তি স্পেন। ঐতিহ্যবাহী বিশ্বকাপ ট্রফি ও স্বর্ণপদকের পাশাপাশি বিজয়ী দলের জন্য থাকবে এই নতুন সম্মাননা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে মোট ২ হাজার ২৬টি চ্যাম্পিয়নশিপ রিং তৈরি করা হবে। এর মধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৩০টি আংটি। বাকি ১ হাজার ৯৯৬টি আংটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থকদের জন্য বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। আংটির এক পাশে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা। অন্য পাশে ফুটে উঠবে চ্যাম্পিয়ন দলের পরিচয় ও অর্জনের স্মারক। বিজয়ী দলের জন্য তৈরি প্রতিটি আংটিই হবে স্বতন্ত্র নম্বরযুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আঙুলের মাপ অনুযায়ী বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হবে। প্রতিটি আংটির সঙ্গে দেওয়া হবে সত্যায়নপত্রও। ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলের অধিনায়ক ও প্রধান কোচের হাতে প্রতীকী বা অস্থায়ী আংটি তুলে দেওয়া হবে। পরে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য নির্ধারিত ৩০টি আংটি ব্যক্তিগত মাপ অনুযায়ী তৈরি করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হবে।
ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে এবার অংশ নিয়েছে ৪৮টি দল। তবে বাছাইপর্বে অংশ নেয় বিশ্বের প্রায় সব দেশের জাতীয় দল। বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রমে বরাদ্দ দেয় ফিফা। সেই অর্থের অংশ পাবে বাংলাদেশও। এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড পরিমাণ ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছে ফিফা, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পেয়েছে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, রানার্সআপ ৩৩ মিলিয়ন, তৃতীয় স্থান অধিকারী দল ২৯ মিলিয়ন এবং চতুর্থ স্থান পাওয়া দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার করে। রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬ মিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ১২ মিলিয়ন ডলার করে। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে প্রস্তুতি ও যাতায়াত ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত আড়াই মিলিয়ন ডলারও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, ‘যখন দলের সংখ্যা বাড়ানো হয় তখন অন্যান্য দলগুলোও উৎসাহিত হবে এই ভেবে যে–আমারও হয়তো সুযোগ রয়েছে। এশিয়া কিংবা আফ্রিকার দিকে দেখলে দেখা যাবে। দলের সংখ্যা যেহেতু বাড়ছে, সেহেতু কোয়ালিফাই করার জন্য প্রতিযোগিতাটাও বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে আয় করে, তার একটি অংশ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। যেমন বড় শো, প্রাইজ মানিও আকাশ ছোঁয়া। এবার সব মিলিয়ে ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। লভ্যাংশ থেকে ফিফা সব দেশকেই অর্থনৈতিক সহযোগিতা করবে। গেইম ডেভেলপমেন্টের জন্য বাংলাদেশও বিশ্বকাপ শেষে পাবে বড় অঙ্কের টাকা। অন্যদিকে মাঠের পারফরম্যান্সেও এবারের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়েছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত হয়েছে ২৯৭টি গোল। সর্বোচ্চ আটটি করে গোল করেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। রোববারের (১৯ জুলাই) ফাইনালের পরই নির্ধারণ হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের পাশাপাশি আসরের সেরা খেলোয়াড় ও অন্যান্য ব্যক্তিগত পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম।
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে রোববার (১৯ জুলাই) রাতে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচের আগে প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সেখানে স্পেনের উদীয়মান তারকা লামিনে ইয়ামালকে ভূয়সী প্রশংসা করলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইতিহাস গড়ার পথে এবার তাদের বাধা হয়ে দাঁড়ানোর লক্ষ্যই থাকবে আর্জেন্টিনার। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফাইনাল-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মেসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অনুষ্ঠানে ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসা, বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা এবং ইয়ামালকে নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। আলোচনার একপর্যায়ে ইয়ামালকে নিয়ে মেসি বলেন, ‘ইয়ামাল অসাধারণ একজন ফুটবলার। আমি তাকে অনেক দিন ধরেই অনুসরণ করছি, কারণ সে এমন একটি ক্লাবে (বার্সেলোনা) খেলে, যেটিকে আমি ভালোবাসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্ব ফুটবলের আইকনে পরিণত হয়েছে। সামনে তার পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে এবং ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগও রয়েছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন সেটা এবার না হয়।’ শৈশবে ইয়ামালকে কোলে নিয়ে তোলা বহুল আলোচিত ছবির প্রসঙ্গও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে। সে বিষয়ে মেসি বলেন, ‘আমি যখন ওর সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম, তখন সে ছিল ছোট্ট একটি শিশু। আর এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে নামব—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। জীবনে এমন ঘটনাও ঘটে! এখন সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।’ প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান দেখালেও ফাইনালে তাকে আটকে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির ভাষায়, ‘আমি চাই ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক, কারণ ওর ভালো মানে বার্সেলোনারও ভালো। কিন্তু ফাইনালে আমরা চেষ্টা করব যেন ও নিজের সেরাটা খেলতে না পারে। যদিও সেটা সহজ হবে না। স্পেনের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে এবং তাদের খেলার ধরনও দুর্দান্ত। তবে আমাদেরও নিজেদের শক্তি রয়েছে।‘ চলতি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে শিরোপা লড়াইয়ে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। এই ম্যাচকে অনেকেই বলে থাকেন সান্ত্বনার লড়াই। দলগুলোর পাশাপাশি দর্শকেরও ম্যাচটি নিয়ে আগ্রহ কম থাকে। ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল তো জানিয়েই দিয়েছেন, তার দলের কোনো খেলোয়াড় ম্যাচটা খেলতে চায় না। তবে এবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি একেবারে গুরুত্বহীন নয়। দুই দলের অন্তত চার খেলোয়াড়ের কাছে ম্যাচটি গুরুত্ব পাচ্ছে। সেমিফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হলেও টুর্নামেন্টের অন্যতম মর্দাযাপূর্ণ পুরস্কার গোল্ডেন বুট জেতার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি তাদের। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের সামনে এখনও সুযোগ রয়েছে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি নিজের করে নেওয়ার। কারণ, এই ম্যাচের গোলও যোগ হয় টুর্নামেন্টের মোট গোলসংখ্যায়। অর্থাৎ, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও গোল্ডেন বুটের হিসাবেই ধরা হয়। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যৌথভাবে সবার ওপরে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাদের দুজনেরই গোল ৮টি করে। তবে একটি বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় আপাতত এগিয়ে আছেন মেসি। নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের গোল ৭টি। তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই তার দলের বিদায় হওয়ায় আর গোল বাড়ানোর সুযোগ নেই এই ম্যানসিটি তারকার। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের গোলসংখ্যা ৬টি করে। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালের গোল ৫টি করে। তাই ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার ম্যাচটি শুধু তৃতীয় স্থান নির্ধারণের লড়াই নয়। এই ম্যাচটি গোল্ডেন বুটের ভাগ্যও অনেকটা নির্ধারণ করে দিতে পারে। ফিফার নিয়মানুযায়ী, একাধিক খেলোয়াড়ের গোল সমান গোল হলে প্রথমে তাদের অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়। সেখানেও সমতা থাকলে দেখা হয় কে কম সময় খেলে সেই গোল করেছেন। অর্থাৎ, গোল্ডেন বুট নির্ধারণে ফিফার ক্রম হলো- সর্বোচ্চ গোল, সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট এবং সবচেয়ে কম খেলার সময়। এ কারণে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম এখনও গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে টিকে আছেন। এর আগেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাতজন গোল্ডেন বুটজয়ী এই ম্যাচে গোল করেছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন জার্মানির টমাস মুলার (২০১০), ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকর (১৯৯৮), ইতালির সালভাতোরে শিলাচি (১৯৯০) ও ব্রাজিলের লিওনিদাস (১৯৩৮) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলের সুবাদেই শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন। এ ছাড়া পোল্যান্ডের গ্রেজেগোর্জ লাতো (১৯৭৪), পর্তুগালের ইউসেবিও (১৯৬৬) ও ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনও (১৯৫৮) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও ওই গোল ছাড়াও তারা গোল্ডেন বুট জিততেন।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের হাতে ট্রফি দেখতে চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বকাপ প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি। ট্রাম্প নিজেও নাকি ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনের খেলার খবরাখবর রাখতেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারে সেমিফাইনালে থেমেছে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এদিকে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে মার্কিন খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা বাতিলে হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। কিন্তু ৬০ মিনিটের পর থেকে এই কোচের রক্ষণাত্মক কৌশলই ইংলিশদের ডুবিয়েছে বলে সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের ধারণা। শেষ দিকে আর্জেন্টিনা দুটি গোল করে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে। বিশ্লেষকদের চোখে ধরা পড়া সেই সুরই এবার শোনা গেল ট্রাম্পের মুখে। গতকাল (শুক্রবার) ট্রাম্প টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইংল্যান্ডে একজন দারুণ খেলোয়াড় আছে, যার সঙ্গে আমি গলফ খেলেছি। সে হলো হ্যারি (কেইন), অসাধারণ একজন ফুটবলার। আমার মনে হয়, তাকে রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় বানিয়ে তারা হয়তো ভুল করেছে। ফুটবল সম্পর্কে আমি-ই বা কতটা জানি? তারা এগিয়ে ছিল, আর তখনই তাদের সেরা খেলোয়াড়কে রক্ষণে পাঠিয়ে দিল।’ ইংল্যান্ড কোচের সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক উল্লেখ করলেও, নিজেকে ফুটবল জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাও স্বীকার করেন ট্রাম্প, ‘আমাদের তো একটু আক্রমণাত্মক হওয়া উচিত, তাই না? তবে না, আমি কোচিং নিয়ে মন্তব্য করব না। কোচিং সম্পর্কে আমি-ই বা কী জানি? কিন্তু সিদ্ধান্তটা একটু অস্বাভাবিক ছিল।’ এদিকে, চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দেওয়া বিষয়গুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। বিষয়টি ফিফাকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প। ২৫ বছর বয়সী এই তারকা আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ে কড়া ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে নিজেদের নীতির বাইরে হাঁটে ফিফা। ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেওয়া ওই বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি (বিশ্বকাপ) অন্য যেকোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে আলাদা। যেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অবিস্মরণীয় সব মুহূর্ত ছিল। সম্ভবত সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাটি ছিল যখন ওই ভদ্রলোককে... ওটা কি লাল কার্ড ছিল? তখন আমি বাধ্য হয়ে জিয়ান্নি (ইনফান্তিনো)–কে ফোন করি। আমি বলেছিলাম, “জিয়ান্নি, আমি একটি সুপারিশ করতে চাই। ছেলেটিকে খেলতে দাও!” না, আমি আসলে সেটা বলিনি। আমি বলেছিলাম, আমি একটি অভিযোগ জানাতে চাই।’ ফিফার বালোগানের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্তে কোনো বিতর্ক দেখেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্টো ট্রাম্পের আক্ষেপ ফিফা উপযুক্ত কাজের স্বীকৃতি পাবে না, ‘আসলে এরপর কী হবে, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেভাবে বিষয়টি হলো, সেটিই অনেক ভালো হয়েছে, কারণ এতে আর কোনো বিতর্ক থাকেনি। (বেলজিয়াম) ম্যাচটি জিতেছে এবং আমাদের দলও সব খেলোয়াড়কে নিয়ে খেলেছে। এখন ভেবে দেখলে বলতে হয়, তোমরা আরেকটি দারুণ সিদ্ধান্ত নিয়েছ। তবে এর জন্য তোমরা কখনোই যথাযথ স্বীকৃতি পাবে না।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে ফিফার এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানান, ফুটবল সম্পর্কে তারও কিছুটা ধারণা রয়েছে। মেসির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “আমি মেসির দেওয়া সেই পাসটি দেখেছি। ফুটবল সম্পর্কে আমি কিছুটা হলেও বুঝি। তাকে খুব ভালোভাবে মার্ক করা হয়েছিল, কিন্তু এরপরও সে ডানদিকে সরে গিয়ে যেভাবে সুযোগ তৈরি করেছিল, তা ছিল অসাধারণ।” তিনি আরও বলেন, মেসির নেওয়া শটটি গোল হওয়ার খুব কাছাকাছি ছিল এবং সেটি তার কাছে দারুণ একটি মুহূর্ত বলে মনে হয়েছে। অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গেও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কথা বলেন ট্রাম্প। বিশ্বকাপ ফাইনাল প্রসঙ্গে তিনি জানতে চান, “তোমরা কি আবার ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত?” এদিকে, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) ইস্যুতে ব্যানার প্রদর্শন নিয়েও আলোচনা চলছে। বিষয়টি ফিফার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়তে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খেলোয়াড়দের মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। ট্রাম্পের উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করে এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই খেলোয়াড়দের অবস্থানকে দেখা উচিত। আগামী রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের নাটকীয় পরাজয়ের পর দলটির কৌশল নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বিতর্কেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। শুক্রবার ট্রাম্প টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের মতো একজন আক্রমণাত্মক ফুটবলারকে রক্ষণাত্মক ভূমিকায় নামিয়ে আনা ছিল অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত। তার ভাষায়, “হ্যারি অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। আমার মনে হয়েছে, তাকে রক্ষণে নামিয়ে দিয়ে তারা ভুল করেছে। আমি ফুটবল সম্পর্কে খুব বেশি জানি না, তবে দল এগিয়ে থাকার সময় সেরা খেলোয়াড়কে পেছনে টেনে নেওয়াটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।” যদিও নিজের ফুটবল জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোচিং নিয়ে মন্তব্য করতে চান না, তবে ইংল্যান্ডের সিদ্ধান্তটি তাকে বিস্মিত করেছে। অন্যদিকে, চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার বিষয়টি। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এ সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে সেটিকে তিনি কোনো চাপ প্রয়োগ নয়, বরং একটি মতামত বা অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের দাবি, ফিফা শেষ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি টুর্নামেন্টের জন্য ইতিবাচক ছিল এবং এতে বড় কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। তার মতে, বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলেও সিদ্ধান্তের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। ইংল্যান্ডের বিদায়ের ফলে এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। আর সেই ম্যাচকে ঘিরেই ফুটবল বিশ্বের সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনাও সমানভাবে জমে উঠেছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ চরমে। শিরোপার লড়াইয়ে স্পেন নাকি আর্জেন্টিনা—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যাম ও রিকার্ডো কাকা। শুক্রবার নিউইয়র্কে ফিফার এক অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রাজিলের সাবেক তারকা কাকা নির্দ্বিধায় স্পেনকে এগিয়ে রাখেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম কূটনৈতিক উত্তর দিলেও ব্যক্তিগতভাবে লিওনেল মেসির প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানান। বেকহ্যাম বলেন, স্পেন ও আর্জেন্টিনা—দুই দলই দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। তিনি ভালো একটি ফাইনাল দেখতে চান। তবে ব্যক্তিগতভাবে তার প্রত্যাশা, মেসি যেন নিজের সেরাটা উপহার দিতে পারেন। বর্তমানে মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক বেকহ্যাম স্মরণ করিয়ে দেন, মেসি এখন তার ক্লাবের খেলোয়াড়। তিনি বলেন, এমন একজন কিংবদন্তিকে দলে পাওয়া ক্লাবের জন্য গর্বের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের প্রসার নিয়েও কথা বলেন বেকহ্যাম। তার মতে, তিনি যখন এমএলএসে খেলতে এসেছিলেন তখন লিগে দলের সংখ্যা ও অবকাঠামো ছিল সীমিত। এখন ক্লাব ও আধুনিক স্টেডিয়াম—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বকাপ এই উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে কাকা বলেন, লিওনেল মেসির মতো একজন ফুটবলার যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। তবুও তার বিশ্বাস, এবারের স্পেন দল সামগ্রিকভাবে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। কাকার ভাষায়, ফ্রান্সের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স করে স্পেন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। অনেকেই যেখানে ফ্রান্সকে ফেবারিট ভাবছিলেন, সেখানে স্পেন জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে উঠেছে। তাই শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় তিনি স্পেনকেই এগিয়ে রাখছেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের বহু পুরোনো একটি ছবি। ২০০৭ সালে বার্সেলোনা ও ইউনিসেফের একটি চ্যারিটি ফটোশুটে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করানোর সেই ছবির প্রসঙ্গ এবার নিজেই তুললেন মেসি। শুক্রবার নিউইয়র্কে ফিফার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ছবিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসি বলেন, “সত্যি বলতে ছবিটা খুবই অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করে। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম, আর আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” মেসি আরও বলেন, ইয়ামাল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। স্পেনের হয়ে ইউরো জয়ের পর সে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফর্ম করছে এবং সামনে তার আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে ফাইনালে আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরাটা খেলতে চায়, যাতে ইয়ামাল নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে না পারেন। বার্সেলোনায় দীর্ঘ সময় কাটানোর কারণে ইয়ামালের সঙ্গে নিজের এক ধরনের আবেগের সম্পর্কও রয়েছে বলে জানান মেসি। তার ভাষায়, “বার্সেলোনায় অনেক সময় কাটিয়েছি। সেখান থেকেই ওর সঙ্গে পরিচয়।” ২০০৭ সালের সেই ছবি প্রথম আলোচনায় আসে ২০২৪ সালে। প্রায় দুই দশক পর সেই ছবির দুই চরিত্র এখন ফুটবল বিশ্বের দুই প্রজন্মের প্রতীক—একজন কিংবদন্তি, অন্যজন ভবিষ্যতের তারকা। রবিবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বড় ম্যাচের চাপ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, “আমরা স্বাভাবিকভাবেই খেলতে চাই। ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই।”
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামীকাল রবিবার আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হলেও ফিফার টিকিট বিক্রি নিয়ে শুরু হওয়া তদন্ত থামছে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ডেভেনপোর্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ৮টি ম্যাচের টিকিট বিক্রির পদ্ধতি নিয়ে তাদের তদন্ত অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার দ্য অ্যাথলেটিক-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি এ কথা বলেন। গত মে মাসে নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে নিউ জার্সি কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ, ফিফা টিকিট বিক্রির সময় দাম বাড়িয়েছে, টিকিট বিক্রির পর স্টেডিয়ামের আসন বিন্যাস (সিট ম্যাপ) পরিবর্তন করেছে এবং কৃত্রিমভাবে টিকিটের সংকট তৈরি করেছে। ডেভেনপোর্ট বলেন, শুরুতে ফিফা স্টেডিয়ামের আসনগুলোকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছিল। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-১ ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। কিন্তু টিকিট বিক্রি শেষ হওয়ার পর নতুন করে আরও কিছু বিশেষ জোন তৈরি করা হয়, যেখানে সবচেয়ে ভালো আসনগুলো রাখা হয়। “অনেক সমর্থক নতুন জোন চালুর আগেই টিকিট কিনেছিলেন। পরে তারা সেই আসনগুলো না পেয়ে তুলনামূলক কম সুবিধাজনক আসনে বসতে বাধ্য হন। এমন অভিযোগও এসেছে, কেউ কেউ যে ক্যাটাগরির টিকিটের মূল্য পরিশোধ করেছেন, বাস্তবে সেই ক্যাটাগরির আসন পাননি।” শুধু নিউ জার্সি বা নিউ ইয়র্কই নয়, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যেও ফিফার টিকিট বিক্রি নিয়ে একই ধরনের অভিযোগের তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের একটি আদালত ফিফার টিকিট রিসেলসংক্রান্ত নীতিকে প্রতারণামূলক ও প্রভাবিত করার কৌশল বলে মন্তব্য করেছে। টিকিট রিসেল প্ল্যাটফর্ম টিকোম্বোতে ফিফার টিকিট বিক্রি বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নিউজউইক-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশ অমান্য করলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোমের বিরুদ্ধে জরিমানা এমনকি কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ভ্রমণ জটিলতায় পড়েছে আর্জেন্টিনা। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দলটির নিউইয়র্কে যাওয়ার নির্ধারিত যাত্রা বিলম্বিত হওয়ায় প্রস্তুতিতে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থরা আটলান্টাতেই অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নিউইয়র্কে গিয়ে ফাইনালের শেষ প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। জানা গেছে, আর্জেন্টিনা দল ও তাদের সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল দীর্ঘ সময় আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে ছিলেন। স্বাভাবিক বিমান চলাচল শুরু হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয় তাদের। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার ভোরে নিউইয়র্কে পৌঁছায় আর্জেন্টিনা। সাধারণত আটলান্টা থেকে নিউইয়র্কের বিমানযাত্রায় প্রায় ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় লাগে। এই বিলম্বে ফাইনালের আগে দলের প্রস্তুতির সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। বুধবার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে থমাস টুখেলের দল এগিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ ৬০ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল ইংলিশ সমর্থকরা। তবে ম্যাচের শেষদিকে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। এরপর ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের একাধিক ভুলের সুযোগ নিয়ে লাউতারো মার্তিনেজ জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে দেন। আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পরপরই টিকিটের চাহিদা ১৬৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করা স্পেন ইতোমধ্যে নিউ জার্সিতে পৌঁছে অনুশীলন শুরু করেছে। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে ফাইনালে উঠেছে। সূত্র: এওএল ডট কম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের পাশাপাশি বাড়ছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা লড়াই দেখতে নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও ফাইনাল ম্যাচ দেখতে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেখানে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন। এই টুর্নামেন্টে এর আগে কোনো ম্যাচে তাকে গ্যালারিতে দেখা না গেলেও ফাইনালের মঞ্চে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনাল দেখতে যাবেন। তার উপস্থিতি নিয়ে আগে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সফরসূচি সমন্বয় করে ম্যাচে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। স্পেনের রাজপরিবারের সদস্যরাও ভিআইপি বক্সে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। তবে ফাইনালে থাকছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। দলটি টুর্নামেন্টে যেভাবে এগিয়ে এসেছে, সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তিনি নিজের ‘সৌভাগ্যের রীতি’ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মিলেই জানিয়েছেন, আগের ম্যাচগুলোর মতোই তিনি সরকারি বাসভবন থেকে খেলা দেখবেন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের এই ফাইনাল শুধু দুই দলের শিরোপা লড়াই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতির কারণেও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামবে, আর স্পেন চাইবে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতে।
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটি একটি বিশেষভাবে তৈরি লুই ভিটঁ ট্রাঙ্কে করে নিউইয়র্ক-নিউজার্সির স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হবে। ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই ট্রফিটির বহনকারী ট্রাঙ্ক ডিজাইনের দায়িত্ব আবারও পেয়েছে এই ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউজ। সাধারণত মূল বিশ্বকাপ ট্রফিটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ফিফা মিউজিয়ামে সংরক্ষিত থাকে। ট্রাঙ্কটির সামনের অংশে ‘ভিক্টরি’ ও ‘ভিটঁ’-কে নির্দেশ করে একটি সোনালি রঙের ‘ভি’ অক্ষর রয়েছে। এর সাথে ব্র্যান্ডটির সুপরিচিত মনোগ্রাম প্যাটার্ন এবং সোনা দিয়ে প্রলেপ দেওয়া পিতলের কর্নার প্রোটেক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাঙ্কটির ভেতরের অংশ বেইজ রঙের চামড়া দিয়ে মোড়ানো এবং এতে লুই ভিটঁ ও ফিফার মধ্যকার অংশীদারিত্বের স্মারক হিসেবে একটি বিশেষ প্যাচ যুক্ত করা হয়েছে। এবার নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো ফরাসি এই কোম্পানিটি বিশ্বকাপ ট্রফির জন্য ট্রাঙ্ক ডিজাইন করল। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও তারা ট্রাঙ্ক তৈরি করেছিল। ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটি একটি বিশেষভাবে তৈরি লুই ভিটঁ ট্রাঙ্কে করে নিউইয়র্ক-নিউজার্সির স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হবে। ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই ট্রফিটির বহনকারী ট্রাঙ্ক ডিজাইনের দায়িত্ব আবারও পেয়েছে এই ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউজ। সাধারণত মূল বিশ্বকাপ ট্রফিটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ফিফা মিউজিয়ামে সংরক্ষিত থাকে। ট্রাঙ্কটির সামনের অংশে ‘ভিক্টরি’ ও ‘ভিটঁ’-কে নির্দেশ করে একটি সোনালি রঙের ‘ভি’ অক্ষর রয়েছে। এর সাথে ব্র্যান্ডটির সুপরিচিত মনোগ্রাম প্যাটার্ন এবং সোনা দিয়ে প্রলেপ দেওয়া পিতলের কর্নার প্রোটেক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাঙ্কটির ভেতরের অংশ বেইজ রঙের চামড়া দিয়ে মোড়ানো এবং এতে লুই ভিটঁ ও ফিফার মধ্যকার অংশীদারিত্বের স্মারক হিসেবে একটি বিশেষ প্যাচ যুক্ত করা হয়েছে। এবার নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো ফরাসি এই কোম্পানিটি বিশ্বকাপ ট্রফির জন্য ট্রাঙ্ক ডিজাইন করল। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও তারা ট্রাঙ্ক তৈরি করেছিল।
২০২২ বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভবিষ্যদ্বাণী করে আলোচনায় এসেছিল গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইএ স্পোর্টস। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরেও তাদের পূর্বাভাস নতুন করে ফুটবল দুনিয়ায় চর্চার জন্ম দিয়েছে। আর সেই পূর্বাভাস আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য খুব একটা সুখবর বয়ে আনছে না। ইএ স্পোর্টসের হিসাব বলছে, এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি উঠতে পারে স্পেনের হাতে। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্পেন। পরদিন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফলে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তির শিরোপা নির্ধারণী লড়াই। তবে মাঠের এই মহারণের আগেই নিজের পূর্বাভাস জানিয়ে দিয়েছে ইএ স্পোর্টস। তারা বলছে, ফাইনালে জয় পাবে স্পেন এবং ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতবে লা রোহারা। গত চারটি বিশ্বকাপেই তাদের পূর্বাভাস অবিশ্বাস্যভাবে মিলেছে। ২০১০ সালে স্পেন, ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আগে-ভাগেই ঘোষণা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সবশেষ ২০০৬ বিশ্বকাপে তাদের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। সেবার ইএ স্পোর্টস চেক প্রজাতন্ত্রকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন বলেছিল, কিন্তু দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এরপর থেকে টানা চারটি বিশ্বকাপে তাদের অনুমান বাস্তবতার সঙ্গে মিলে গেছে। এ কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে ইএ স্পোর্টসের এই পূর্বাভাস নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। তবে পরিসংখ্যান ও সিমুলেশন যতই স্পেনের দিকে ঝুঁকুক, মাঠের ৯০ মিনিট কিংবা তারও বেশি সময়ের লড়াইয়ে শেষ কথা বলবে ফুটবলাররাই। ফাইনালে আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে অপ্রত্যাশিত এক সমস্যার মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। খারাপ আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে নিউজার্সিতে পৌঁছাতে পারেনি লিওনেল মেসিদের বহর। ফলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে দলের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। রোববার (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তার আগে বৃহস্পতিবার রাতে কানসাস সিটি থেকে নিউইয়র্ক অঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল দলের। তবে আটলান্টা অঞ্চলে বজ্রঝড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। এতে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে, মধ্যরাতে নিউজার্সিতে পৌঁছায় আর্জেন্টিনা দল। ফাইনালের আগে প্রতিটি ঘণ্টাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্রাম, অনুশীলন এবং কৌশল চূড়ান্ত করার পরিকল্পনায় তাই কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। এবারের ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বসেরার মুকুট জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন। ফিফাও ফাইনালের আগে দুই দলের সূচিতে কিছু পরিবর্তন এনেছে। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত অনুশীলন ও সংবাদ সম্মেলন থাকলেও শনিবার আর্জেন্টিনা ও স্পেন—দুই দলই বন্ধ দরজার অনুশীলন করবে।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি শুধু মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই নয়, ব্যবসায়িক সাফল্য দিয়েও নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। রেকর্ড ভাঙা, শিরোপা জয় এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি ইউরোপের পর্যটন শিল্পে বিলাসবহুল হোটেল ব্যবসা গড়ে তুলে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। বর্তমানে স্পেন ও অ্যান্ডোরাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছয়টি অভিজাত বুটিক হোটেলের মালিক মেসি। ‘এমআইএম হোটেলস’ নামে পরিচালিত এই হোটেল চেইন এখন ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর অন্যতম আকর্ষণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীরা শুধু ভ্রমণের জন্যই নয়, মেসির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অনুভূতি পেতেও এসব হোটেলে অবস্থান করতে আগ্রহী। মেসির মালিকানাধীন হোটেলগুলো এমন সব স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলো পর্যটকদের কাছে আগে থেকেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর মধ্যে রয়েছে বার্সেলোনার উপকূলীয় শহর সিটজেস, ভূমধ্যসাগরের বিখ্যাত দ্বীপ ইবিজা, শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত মায়োর্কা, পিরেনিজ পর্বতমালার পর্যটনকেন্দ্র বাকেইরা, অ্যান্ডোরা এবং আন্দালুসিয়ার সোটোগ্রান্দে। প্রতিটি হোটেলই নিজস্ব পরিবেশ, নকশা ও সেবার কারণে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। বার্সেলোনা থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত এমআইএম সিটজেস আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ৭৭টি কক্ষ নিয়ে গড়ে ওঠা এই হোটেলটি অবকাশযাপনকারীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয়। অন্যদিকে ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত এমআইএম ইবিজা বিলাসবহুল পরিবেশের জন্য সুপরিচিত। এখানে এক রাতের কক্ষভাড়া শুরু হয় প্রায় ৬০০ ইউরো থেকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ হাজার টাকার সমান। যারা নিরিবিলি পরিবেশে ছুটি কাটাতে চান, তাদের জন্য রয়েছে এমআইএম মায়োর্কা। আবার শীতকালীন পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র এমআইএম বাকেইরা, যা স্পেনের বিখ্যাত পিরেনিজ পর্বতমালায় অবস্থিত। স্কি মৌসুমে এই হোটেলে পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অ্যান্ডোরার কার্লেমানি অ্যাভিনিউতে অবস্থিত পাঁচতারকা এমআইএম অ্যান্ডোরা তার স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ধাঁচের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। অন্যদিকে এমআইএম সোটোগ্রান্দে একটি নৌ-থিমভিত্তিক বুটিক হোটেল, যেখানে অবস্থান করেই উপভোগ করা যায় ভূমধ্যসাগরের মনোরম দৃশ্য। যদিও হোটেলগুলোর দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে স্পেনের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘মেলিয়া হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল’, তবুও সবকটি হোটেলের মালিকানা রয়েছে লিওনেল মেসির প্রতিষ্ঠানেই। ‘দ্য মেলিয়া কালেকশন’-এর অধীনে পরিচালিত এই হোটেলগুলো আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিয়ে ইতোমধ্যেই পর্যটকদের আস্থা অর্জন করেছে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এমআইএম হোটেলসকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে মেসির ব্যক্তিগত উপস্থিতির নানা ছাপ। কয়েকটি হোটেলে রয়েছে বিশেষ ‘লিও মেসি সুইট’, যেখানে অতিথিরা মেসির ক্যারিয়ারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নানা উপাদানের ছোঁয়া অনুভব করতে পারেন। এছাড়া লবি ও নির্দিষ্ট প্রদর্শনী এলাকায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে তার জেতা ব্যালন ডি’অর ট্রফির প্রতিরূপ, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। আবাসনের পাশাপাশি রসনাবিলাসীদের কথাও ভেবেছেন মেসি। বাকেইরা, অ্যান্ডোরা ও সোটোগ্রান্দের হোটেলগুলোতে রয়েছে ‘হিনচা’ নামের বিশেষ রেস্তোরাঁ। মিশেলিন তারকাপ্রাপ্ত স্প্যানিশ শেফ নান্দু জুবানির সহযোগিতায় পরিচালিত এই রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয় আন্তর্জাতিক মানের খাবার। এখানকার সবচেয়ে আলোচিত ডেজার্টের নাম রাখা হয়েছে ‘ব্যালন ডি’অর’, যা মেসির কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু হোটেলে অতিথিদের জন্য রয়েছে ব্যক্তিগত রুফটপ জাকুজি, আধুনিক ওয়েলনেস স্পা এবং উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা। হোটেল ব্যবসার বাইরেও মেসি নিজের বিনিয়োগের পরিধি ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছেন। ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে তিনি রিয়েল এস্টেট, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে অংশীদারত্ব, মিডিয়া, প্রযুক্তি খাত, পোশাক শিল্প এবং ভোগ্যপণ্যের ব্যবসাতেও বিনিয়োগ করেছেন। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা এই বহুমুখী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তাকে মাঠের বাইরেও আর্থিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, মাঠে যেভাবে মেসি ধৈর্য, পরিকল্পনা ও সাফল্যের সমন্বয় ঘটিয়েছেন, ব্যবসায়ও সেই একই দূরদর্শিতা কাজে লাগাচ্ছেন। ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে তিনি প্রমাণ করেছেন, মাঠের বাইরেও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন অনেক আগে থেকেই। ফলে লিওনেল মেসি এখন শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলার নন, সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও বিশ্বজুড়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করে তুলছেন। সূত্র: এনডিটিভি
লিওনেল মেসির স্ত্রী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও আন্তোনেলা রোকুজ্জো নিজের যোগ্যতায়ও একজন সফল মডেল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করা এই আর্জেন্টাইন সুন্দরী টিফানি অ্যান্ড কোং ও অ্যাডিডাসের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার স্টেলা ম্যাককার্টনির সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। ৩৮ বছর বয়সী আন্তোনেলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। ইনস্টাগ্রামে নিয়মিত নিজের ফিটনেস রুটিন, ফ্যাশন, পারিবারিক মুহূর্ত ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় ছবি প্রকাশ করেন তিনি। মেসির নতুন সাফল্যের পাশাপাশি তার স্ত্রীকে নিয়েও মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। আন্তোনেলার সৌন্দর্য ধরে রাখার কৌশল নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ আমিশ প্যাটেল। ‘দ্য মিরর ইউএস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আন্তোনেলা প্রাকৃতিকভাবেই সুন্দর এবং মডেলিংয়ের অভিজ্ঞতার কারণে ক্যামেরার সামনে নিজেকে উপস্থাপনের কৌশল খুব ভালোভাবে আয়ত্ত করেছেন। প্যাটেলের মতে, আন্তোনেলা নিজের জন্য উপযুক্ত অ্যাঙ্গেল ও আলোর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন। তার ইনস্টাগ্রামের বেশিরভাগ ছবিতেই দেখা যায়, তিনি এমনভাবে পোজ দেন যাতে তার মুখের সৌন্দর্য আরও ফুটে ওঠে। মাথার অবস্থান ও পোজের ছোট ছোট বিষয়েও তার দক্ষতা রয়েছে। সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞের মতে, ত্রিশের শেষ দিকে সাধারণত মানুষের ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে। সূক্ষ্ম রেখা, ত্বকের গঠন ও উজ্জ্বলতায় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে আন্তোনেলার ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ খুব একটা চোখে পড়ে না। এর পেছনে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং জেনেটিক কারণ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। প্যাটেল আরও বলেন, একজন মডেল হিসেবে আন্তোনেলা মেকআপ, স্কিন কেয়ার এবং ফটোগ্রাফির বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি আধুনিক সৌন্দর্য চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং উন্নত স্কিন কেয়ার পদ্ধতিও তার সৌন্দর্য ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি চিকিৎসা, স্কিন বুস্টার, মাইক্রোনিডলিংসহ বিভিন্ন নন-সার্জিক্যাল পদ্ধতির মাধ্যমে ত্বকের উজ্জ্বলতা ও দৃঢ়তা বাড়ানো সম্ভব। এসব পদ্ধতি ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনেও সহায়তা করে। প্যাটেল জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাল, ঠোঁট ও কানের পাশের অংশে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এসব জায়গায় প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা ফিলারের মাধ্যমে মুখের তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব। আন্তোনেলার মুখের গঠন নিয়েও প্রশংসা করেছেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, আন্তোনেলার নাকের গড়ন পুরো চেহারার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ এবং এটি তার সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সবশেষে প্যাটেল বলেন, আন্তোনেলার ঠোঁট কিছুটা বেশি ভরাট মনে হলেও সেটি মেকআপের কৌশল কিংবা স্বাভাবিক সৌন্দর্যের অংশ হতে পারে। তার মতে, আন্তোনেলা নিজের সৌন্দর্যকে যেভাবে উপস্থাপন করছেন, তা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয়।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আলো ছড়াচ্ছেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। রোববার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামবে স্পেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গ্যালারিতে ছেলের খেলা দেখতে থাকতে পারছেন না তার বাবা মুনির নাসরাউই। ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ছেলের প্রতিটি ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন মুনির। কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তিনি যেতে পারেননি। কারণ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগ (এপিলেপসি) সমস্যায় ভুগছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল এস্পানিওল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শারীরিক অবস্থার কারণে দীর্ঘ সময় বিমানে ভ্রমণ করা তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে বিরত থাকেন তিনি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এক সাক্ষাৎকারে মুনির নাসরাউই বলেন, প্রতিদিন তাকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। ফাইনালের মতো উচ্চচাপের ম্যাচের উত্তেজনায় যে কোনো সময় খিঁচুনি (এপিলেপটিক সিজার) হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, নিজের পাশাপাশি ছেলে ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার কথাও ভাবতে হয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিবর্তে ঘরে বসেই ছেলের খেলা দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বাবা মাঠে থাকতে পারছেন না, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ইয়ামালের পাশে রয়েছেন তার মা শিলা এবং ছোট ভাই কেইন। স্পেনের প্রতিটি গোলের পর ছোট ভাইয়ের উচ্ছ্বাসের ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার আনন্দ উদযাপন নিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত) ইস্যুতে রাজনৈতিক বার্তা সংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অফিসিয়াল ম্যাচে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ হওয়ায় এ ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা। রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের ঘটনায় আগেও শাস্তি দিয়েছে ফিফা এ ধরনের ঘটনায় ফিফার শাস্তি দেওয়ার নজির রয়েছে। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে জাপানকে হারানোর পর দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলার পার্ক জং-উ বিতর্কিত লিয়াংকোর্ট রকস (কোরিয়ায় ডকদো এবং জাপানে তাকেশিমা নামে পরিচিত) নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার দাবির সমর্থনে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। যদিও ম্যাচটি শেষ হয়ে গিয়েছিল, তার পরও ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাকে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেয়নি। তার ১৭ সতীর্থ ব্রোঞ্জ পদক গ্রহণ করলেও পার্ক মঞ্চে পদক পাননি। পরে তাকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়। ফিফার নিয়ম কী বলছে? ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড এবং লজ অব দ্য গেম অনুযায়ী, অফিসিয়াল প্রতিযোগিতায় মাঠে বা স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ ধরনের ঘটনায় এর আগেও শাস্তি পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে ‘Las Malvinas son Argentinas’ (বাংলায়: মালভিনাস বা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জরিমানা করেছিল ফিফা। ফাইনালে কি নিষিদ্ধ হতে পারেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা? ঘটনাটি নিয়ে ফিফা তদন্ত শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে সম্ভাব্য শাস্তি হতে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা। তবে ব্যানার প্রদর্শনে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধেও ব্যক্তিগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে সময় খুবই কম এবং একাধিক খেলোয়াড় এ ঘটনায় জড়িত থাকায় তাদের নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ফিফা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বিবৃতি দেয়নি। ফলে আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড় ফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন কি না, নাকি বিষয়টি কেবল জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে— তা এখনো অনিশ্চিত।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনাকে খোঁচা দিলেন স্পেনের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ও ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস। তার দৃঢ় বিশ্বাস, এবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে চতুর্থ বিশ্বকাপজয়ী তারকা যুক্ত হবে না; বরং স্পেনই জিতবে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্যাসিয়াস লেখেন, তোমরা এবার চতুর্থ তারকাটি পাচ্ছো না। চতুর্থ তারকার কোনো সুযোগ নেই। এবার আমাদের দ্বিতীয় তারকা জয়ের পালা। এগিয়ে যাও স্পেন। বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে ইংল্যান্ড প্রথমে এগিয়ে গেলেও তাদের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্যাসিয়াস। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। তবে গোলের পর কোচ টমাস টুখেলের দল আক্রমণাত্মক ফুটবল ছেড়ে রক্ষণ সামলাতেই বেশি মনোযোগ দেয়। বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেননি সাবেক স্প্যানিশ অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের কৌশল নিয়ে ক্যাসিয়াস বলেন, গোল করার পরই তারা পুরো দল নিয়ে নিচে নেমে যায়। একেবারে কাপুরুষোচিত কৌশল! নিজেদের ডি-বক্সের বাইরে প্রায় বেরই হয়নি তারা। ফলে আর্জেন্টিনা বারবার আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচের ফল অন্যরকম হওয়ার সুযোগ খুব কম ছিল। ম্যাচ শেষে আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ইংল্যান্ড নিজেদের ভুল রণকৌশলের কারণেই হেরেছে। শেষ ৩০ মিনিট তারা আর্জেন্টিনাকে পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দিয়েছে। ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে শেষ পর্যন্ত সফল হয় আর্জেন্টিনা। ৮৫তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। এরপর যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি জিততে পারলে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বার এবং ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। অন্যদিকে স্পেন জয় পেলে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলবে।
বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে হ্যারি কেইন-বেলিংহামদের রুখে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লিওনেল মেসির দল। প্রিয় দলের এই দারুণ জয়ে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের মতো উচ্ছ্বাসে মেতেছেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমাও। সামাজিকমাধ্যমে এক বার্তায় নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আর্জেন্টিনার জয় উদযাপন করে তিনি লেখেছেন, ‘চ্যাম্পিয়নদের পাশে আছি। আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে। শেষ আরেকটি লড়াইয়ের অপেক্ষা।’ এর আগে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। সেই জয়ের পরও এক পোস্টে এই অভিনেত্রী লিখেছিলেন, ‘বিশুদ্ধ আবেগ। বিশুদ্ধ আবেগ। সেমি ফাইনালিস্ট!’ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আগামী ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।