নারী এশিয়ান কাপে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপের অন্য দুই দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন নারী জাতীয় ফুটবল দল এবং সাবেক চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া নারী জাতীয় ফুটবল দল। ১২ দলের এই আসরে সবচেয়ে ভালো ফিফা র্যাংকিং (৭) উত্তর কোরিয়ার। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার কোচ বাংলাদেশ দলকে নিয়ে প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনজন খেলোয়াড়কে ঘিরে শঙ্কার কথাও জানান। এবারই এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অভিষেক। প্রথম ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে পিটার বাটলারের দল দারুণ লড়াই করেছে। সেই ম্যাচ দেখেই উত্তর কোরিয়ার কোচের উপলব্ধি, ‘আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।’ বাংলাদেশের শক্তির জায়গা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের আক্রমণভাগ অনেক দ্রুত। বিশেষ করে রক্ষণ থেকে আক্রমণে তারা বেশ দক্ষ এবং তীক্ষ্ণ। সাধারণভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশ খুব দ্রুতগতির দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা গোল করার কোনো সুযোগ না পায়। বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড় উত্তর কোরিয়ার জন্য হুমকি হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে কোচ রি সন হো বলেন, ‘মূলত আমি আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী (ঋতুপর্ণা চাকমা) নিয়ে আমি সতর্ক, যিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারেন। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষেও বাংলাদেশের ঋতুপর্ণা ও মনিকারা ডিফেন্স ভাঙার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে ১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমা ক্ষিপ্রগতিতে বল কেড়ে নিয়ে দূর থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন। সেটি গোল হলে টুর্নামেন্টের সেরা গোলের তালিকায় থাকত। ঋতুপর্ণার জার্সি নম্বর উল্লেখ করলেও বাকি দুই খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর স্পষ্ট করেননি উত্তর কোরিয়ার কোচ। তবে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একটু আগেই বলেছি তাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের গতি অনেক বেশি। আক্রমণ এবং রক্ষণ উভয়ক্ষেত্রেই তাদের গতি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তাই আগামীকাল ম্যাচে এই খেলোয়াড়দের রুখতে আমাদের রক্ষণভাগকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।’ ১২ দলের এই টুর্নামেন্টে তিনটি গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দুই দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। আগামীকাল চীন ও উত্তর কোরিয়া নিজেদের ম্যাচ জিতলে দুই দলেরই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে। তখন শেষ ম্যাচটি হবে গ্রুপসেরা নির্ধারণের লড়াই। গোল ব্যবধান বাড়ানোর কৌশল নিয়ে কোচ বলেন, ‘আমি পরিস্থিতি বুঝতে পারছি যে দু’টি ম্যাচের পর তৃতীয় ম্যাচটি যদি ড্র হয় তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দল সুবিধা পাবে। কিন্তু এটি আমাদের প্রধান কৌশল নয়। আমরা গ্রুপের তিনটি ম্যাচই জিততে চাই। তাই গোল ব্যবধান বাড়িয়ে সুবিধা পাওয়ার চেয়ে প্রতিটি ম্যাচে জোর দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। উত্তর কোরিয়া দল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যে কোনো দেশের জন্যই কঠিন। বাংলাদেশ কোচকেও সীমিত ভিডিও ফুটেজ নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। তবে এটিকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে মানতে নারাজ উত্তর কোরিয়ার কোচ। তার মতে, ‘দীর্ঘ ১০ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে আসার কারণে আমরা অনেকটা নতুন দলের মতোই। তাই আমরা নিজেদের খুব বেশি শক্তিশালী ভাবছি না। বাংলাদেশের মতো আমরাও প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। আমরা কোনো প্রতিপক্ষকেই খাটো করে দেখছি না। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’ বাংলাদেশ সাধারণত উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে খেলে না। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের ক্লাব ঢাকা আবাহনী উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল ২৫ দলের মুখোমুখি হয়েছিল। ছয় বছর পর আবার দুই দেশের লড়াই। এ প্রসঙ্গে উত্তর কোরিয়ান কোচ বলেন, ‘পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মান বেশ নিচে ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমি দেখতে পাচ্ছি যে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করছে। আপনি ২০১৯ সালের ম্যাচের কথা বললেন, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি গতকালের (চীনের বিপক্ষে) ম্যাচ দেখে যা বুঝেছি, বাংলাদেশ দল অনেক বড় এবং দ্রুত উন্নতি করেছে। এখন তারা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।’
সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামের দর্শকধারণ ক্ষমতা হাজার বিশেকের বেশি। নারী এশিয়ান কাপ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ও চীনের ম্যাচে ছয় হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন। এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও সবচেয়ে বেশিবারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের এশিয়ান মঞ্চের অভিষেক ম্যাচের স্বাক্ষী হয়েছেন কয়েক হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীও। চীনের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত বীরের মতো লড়াই করে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলার বাঘিনীরা। স্কোরবোর্ড বলছে চীন জিতেছে।ভালো ফুটবল খেলেই জিতেছে। কিন্তু বাংলাদেশও একেবারে ছেড়ে কথা বলেনি। সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েই লড়াই করেছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৭তম চীনের বিপক্ষে ১১২ তম বাংলাদেশের ম্যাচে ফল কী হতে পারে সেটা তো বোঝাই যায়। ফলটা বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশামতো হলেও বাংলাদেশ দলেরও তৃপ্তির জায়গা আছে। মেয়েদের এশিয়ান কাপে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন তাদের সর্বশেষ ১০ ম্যাচে ২৬ গোল করেছে। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি ২.৬ টি করে গোল করেছে চীন। সেখানে র্যাঙ্কিংয়ে যোজন ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও বাংলাদেশ হজম করেছে মাত্র দুই গোল। প্রথমার্ধে ৪৪ ও ৪৬ মিনিটে গোল দুটি হজম করে। দ্বিতীয়ার্ধে গোল হজম না করাটা তো এক অর্থে বাংলাদেশের জন্য মনস্তাত্ত্বিক জয়ই। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণার বাঁ পায়ের দুরপাল্লার শট জালে পৌঁছালে হয়তো আরও বেশি তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও দুরপাল্লার শট নিয়ে গোলের চেষ্টা করেন ঋতুপর্ণা। ম্যাচে বেশির ভাগ সময়ই রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করেছে বাংলাদেশ। গোল হজমের দুটি মুহূর্ত ছাড়া এই কাজে পুরো ম্যাচে বাংলাদেশকে সফল বলাই যায়। ৪৪ মিনিটে চীনের হয়ে গোল করেন ওয়াং সুয়াং। ৪৬ মিনিটে গোলটি ঝ্যাং রুইয়ের।এরপর আর কোন গোলের দেখা পায়নি কেউ। ‘বি’ গ্রুপ থেকে এই জয়ে ১ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পেল চীন (+২)। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে থাকা উত্তর কোরিয়া (+৩) গোল ব্যবধানে চীনের সঙ্গে এগিয়ে। ১ ম্যাচে শূন্য পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশ (–২) তৃতীয়। সমান ম্যাচে শূন্য পয়েন্ট পাওয়া উজবেকিস্তান (–৩) চতুর্থ।
বাজে সময় পার করতে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এটি আরেকটি দুঃসংবাদ। আর ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্য বিশাল ধাক্কা। ডান হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে রদ্রিগোর। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠে মাঠে ফিরতে কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ মাস সময় লাগবে ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের। ফলে এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ রদ্রিগোকে আর পাবে না। এমনকি আগামী জুন-জুলাইয়ে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপেও খেলতে পারবেন না। আজ (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ জানিয়েছে, ‘আমাদের চিকিৎসক দল আজ আমাদের খেলোয়াড় রদ্রিগোর ডান পা পরীক্ষার পর বুঝতে পেরেছে, তার ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ফেটে গেছে এবং পার্শ্বীয় মেনিসকাস ছিঁড়ে গেছে।’ শিগগিরই রদ্রিগোর হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। মাসখানেক ধরে চোটের সঙ্গে করছিলেন রদ্রিগো। গত ১ ফেব্রুয়ারির গতকাল রাতে হেতাফের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন। বদলি হিসেবে খেলেছেন ৩৫ মিনিট। এতে আবার নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছেন। বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
১৯৮০ সালে সর্বশেষ এশিয়ান কাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেটা ছিল পুরুষদের আসর। নারী এশিয়ান কাপে এবারই প্রথম খেলছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ৪৬ বছর পর মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এ প্রতিযোগিতায় নেমেছে বাংলাদেশ। আজ এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সময় দুইটায় চীনের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামের কঠিন এই লড়াইয়ে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার একাদশ সাজিয়েছেন দলের সেরা গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে বাইরে রেখে। এছাড়া সিনিয়র ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুনকেও শুরুর একাদশে রাখেননি তিনি। রূপনার জায়গায় বাংলাদেশের গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব থাকছে তরুণ মিলি আক্তারের কাঁধে। দল সূত্রে জানা গেছে, উচ্চতার বিষয় মাথায় রেখে মিলিকে খেলনো হচ্ছে। নারী এশিয়ান কাপে চীন সর্বোচ্চ ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে তাদের অবস্থান ১৭তম। অন্যদিকে বাংলাদেশ আছে ১১২তম স্থানে। সিনিয়র পর্যায়ে এই প্রথম চীনের মুখোমুখি হচ্ছেন ঋতুপর্ণা, আফঈদারা। পিটার বাটলার একাদশ সাজিয়েছেন পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে। রক্ষণ সামলাবেন শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু ও নবিরন খাতুন। মিডফিল্ডে থাকছেন মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও উমেহ্লা মারমা। ফরোয়ার্ড লাইনে কেবল একজন শামসুন্নাহার সিনিয়র। ‘বি’ গ্রপে থাকা বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। আজ দিনের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বাংলাদেশ একাদশ : শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), কোহাতি কিসকু, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, নবিরন খাতুন, মিলি আক্তার ও উমেহ্লা মারমা চীনের একাদশ : চেন চেন, ওয়াং লিনলিন, উ হাইয়ান, ঝ্যাং চেংজু, লু ইয়াটং, ওয়াং সুয়াং, ওয়াং আইফাং, লিউ জিং, ঝ্যাং রুই, উরিংগুমুলা, জিন কুন
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬৮ নম্বরে অবস্থান ইরানের। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান ২১তম। দুই দলের মাঠের লড়াইয়ে ফল কী হতে পারে, তা আন্দাজ করে নেওয়া কঠিন কিছু না। স্কোরলাইনেও কোরিয়ার পক্ষেই, ৩–০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে ইরান। তবে ম্যাচে হারলেও ইরানের মেয়েরা তো আসলে মাঠে নেমেই জিতে গেছে! দেশের বাতাসে বারুদের গন্ধ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে একের পর এক বাড়ছে ধ্বংসস্তূপ। নিহত হয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরান পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ইরানের সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ইরান রেড ক্রিসেন্টের তথ্যনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ৫৫৫ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝে স্বজনদের রেখে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে মেয়েদের এশিয়ান কাপে আজ সোমবার নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলল ইরান। কোরিয়ার মেয়েদের বিপক্ষে তিন গোল হজম করে টুর্নামেন্ট শুরু করল তারা। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে চো ইউ–রির গোলে প্রথম এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কিম হেই–রি এবং ৭৫ মিনিটে ইউ জিন–কোর গোলে বড় জয় পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে এটা কেবলই মাঠের স্কোরলাইন। স্বদেশে চলমান ধ্বংসযজ্ঞ, স্বজনদের জীবন নিয়ে শঙ্কার মতো বিষয়গুলো বুকে পাথরচাপা দিয়ে খেলার মাঠে দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা কি স্কোরলাইনের চেয়েও বড় নয়? ইরানের মেয়েরা অন্তত সে জন্য একটি করতালি পেতেই পারেন এবং গ্যালারি থেকে সেটা তারা পেয়েছেনও। কোরিয়ার রক্ষণে ইরানের মেয়েরা একটু ভীতির সঞ্চার করলেই করতালি ভেসে এসেছে গ্যালারি থেকে। ২০২২ সালে প্রথমবার এশিয়ান কাপে অংশ নিয়েছিল ইরান। সেবার বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিনিধিত্ব করে এবার ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়া ইরানের বাকি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন। আগামী ৫ মার্চ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরান খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
চীন ও উত্তর কোরিয়া এশিয়ান পরাশক্তি, দেশ দুটি নারী এশিয়ান কাপের শিরোপা প্রত্যাশী। অপরদিকে বাংলাদেশ আসরের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দল। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ খেলতে যাওয়ার আগে তাই প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের নিয়েই ভাবছেন মনিকা চাকমা। প্রতিযোগিতা শুরুর দিনে বাংলাদেশ মিডফিল্ডার বলছিলেন, ‘অবশ্যই আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। রেজাল্ট যাই হোক, আমরা আমাদের সেরাটাই দেব। আমরা আমাদের নিজেদের নিয়েই বেশি ভাবছি। কারণ আমাদের এখানে পারফর্ম করতে হবে।’ গতকাল আসরের উদ্বোধনী দিনে ফিলিপাইনকে ১-০ গোলে হারিয়ে মিশন শুরু করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ‘বি’ গ্রুপে চীন ও উত্তর কোরিয়া ছাড়া বাংলাদেশের আরেক প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। ফিফা র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে দেশটি লাল-সবুজদের চেয়ে এগিয়ে আছে বটে, তার পরও এ ম্যাচে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। ম্যাচের আগে এ প্রসঙ্গে মনিকা চাকমা বলেছেন, ‘আমরা ওদের সঙ্গে খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যেহেতু ওদের সঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছে, আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাব। আর মিডফিল্ডের কথা বলতে গেলে—আমরা যখন খেলব, তখন সবকিছু মেনটেইন করে কার কী দায়িত্ব, সেটা পালন করে খেলার চেষ্টা করব।’ ফুটবলে কোচের কৌশল ম্যাচের ভাগ্যনির্ধারক, গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়াও। এ সম্পর্কে মনিকা চাকমা বলেছেন, ‘সবদিক দিয়ে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। শুধু মিডফিল্ড নয়, আমাদের স্ট্রাইকার, ডিফেন্ডার এবং গোলকিপার—সব বিভাগকেই দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুত।’ আগামীকাল নিজেদের প্রথম ম্যাচে চীনের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়) শুরু হবে ম্যাচ। একই ভেন্যুতে ৬ মার্চ দ্বিতীয় ম্যাচে এশিয়ার আরেক পরাশক্তি উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজরা। সিডনিতে দুই ম্যাচ খেলার পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে পার্থ যাবে বাংলাদেশ দল। রেক্টাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে ৯ মার্চ শেষ গ্রুপ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সে ম্যাচ জিতলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকছে। মনিকাদের ভাবনা উজবেকিস্তান ম্যাচ নয়, আপাতত ভাবনায় চীন ম্যাচ। সে ম্যাচের আগে মনিকা চাকমা বলেছেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরে এখানে (সিডনিতে) আছি। আমরা এই আবহাওয়ার সঙ্গে এখন অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। আমরা এখানে ভালো অনুশীলন করছি।’ দলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘দিন দিন আমাদের উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে দল ভালো আছে। গোলকিপার থেকে স্ট্রাইকার পর্যন্ত সবাইকেই শক্তিশালী হতে হবে।’ প্রতিপক্ষ দলগুলো সম্পর্কে মনিকা বলেছেন, ‘যেহেতু ওরা শক্তিশালী, তাদের সঙ্গে আগে আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা নেই; তাই মাঠে নেমে পরিস্থিতি বুঝে আমাদের খেলতে হবে। দেশের জন্য, নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য আমরা এখানে খেলতে এসেছি। তাই আমরা আমাদের দেশের কথাই ভাবছি। আমরা ডিফেন্ডিং এবং অ্যাটাকিং—দুই দিক নিয়েই কাজ করছি। বল পেলে অবশ্যই আমরা অ্যাটাক করব, আর বল হারালে দ্রুত পজিশনে ফিরে আসার চেষ্টা করব।’
সমালোচনার মুখে শেষ মুহূর্তে নারী দলের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় বাংলাদেশি ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে হঠাৎ করেই অসুস্থ হযে পড়েন ফিজিও থেরাপিস্ট জাকিয়া রহমান। তার অনুপস্থিতিতে হন্যে হয়ে ফিজিও খোঁজায় নামে ফেডারেশন। যদিও সভাপতির দাবি ফিজিও নেই এটা নাকি তিনি জানতেন না। এ থেকেই আঁচ করা যায় ফেডারেশনের মাঝে সমন্বয়হীনতা কতটুকু! এতবড় একটা আসরের আগে এমন বেহাল দশা! শেষ মুহুর্তে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ইসনাদ জামকনকে নিয়োগ দিয়েছে বাফুফে। তার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশ দল। এদিকে প্রস্তুতি ম্যাচে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ পিটার বাটলার। ছোটখাটো ঘটতির জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করছেন কোচ। কখনো তীব্র রোদ আবার ভারী বৃষ্টি। সিডনির এমন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট হলেও ইতিহাস গড়ার মঞ্চে নামার আগে প্রতিবন্ধকতা জয়ের লক্ষ ফুটবলারদের। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিম বলেন, ‘এখানে অনেক গরম, আসার পর আমরা মানিয়ে নিয়েছি। এখন আবার বৃষ্টি হচ্ছে। আগের চেয়ে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি।’ আগামী ৩রা মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান কাপ অভিযানে নামে বাংলাদেশ।
রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগে পাঁচ সমর্থককে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বেনফিকা। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধও হতে পারেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি লিসবনের স্টেডিয়াম অব লাইটে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের পর কয়েকজন সমর্থককে গ্যালারিতে বানরসুলভ অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। বিবৃতিতে বেনফিকা জানায়, ‘ম্যাচের পর গ্যালারিতে বর্ণবাদী ও অনুপযুক্ত আচরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু করা হয়। ক্লাবের মূল্যবোধ ও নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এমন আচরণ আমরা মেনে নেই না।’ চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের প্রথম লেগের সেই ম্যাচে ১০ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। রিয়ালের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অভিযোগ করেন, তাকে বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে।রেফারি তখন বর্ণবাদবিরোধী প্রোটোকল চালু করেন। অভিযোগের তীর ছিল বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির দিকে। তবে আর্জেন্টাইন উইঙ্গার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ক্লাবও তাকে সমর্থন দিয়ে বলেছে, তিনি ‘মানহানির শিকার’ হয়েছেন। এই ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা। প্রেস্তিয়ান্নিকে সাময়িকভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞার কারণে বুধবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগের ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগে ৩ হাজারের বেশি বেনফিকা সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচের শুরুতে ভিনিসিয়ুস বল ছুঁলেই তাকে দুয়ো দেওয়া হয়, এমনকি শুরুর একাদশে তার নাম ঘোষণার সময়ও শিস শোনা যায় গ্যালারি থেকে। প্রথম লেগে লিসবনে ১-০ ব্যবধানে জেতার পর, ঘরের মাঠে ২-১ গোলের জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্লে-অফের ফিরতি লিগ সম্পন্ন হয়েছে গত দু’দিনে। যেখানে ৮টি দল শেষ ষোলো এবং সমান সংখ্যক ক্লাব বিদায় নিয়েছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, টানটান উত্তেজনা ও অবিশ্বাস্য কামব্যাক– কী ছিল না সেখানে। ১৬ দলের লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রেকর্ড শিরোপাধারী রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি, নিউক্যাসলের মতো ক্লাব যেমন পরের রাউন্ডে উঠেছে; তেমনি চমক দেখিয়েছে অভিষেক আসর খেলতে নামা বোডো/গ্লিমট কিংবা আটালান্টাও। অন্যদিকে, জায়ান্টদের মধ্য থেকে ইন্টার মিলান, জুভেন্তাস ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মতো ক্লাবগুলো ছিটকে গেছে প্লে-অফ থেকে। ইতালির একমাত্র ক্লাব হিসেবে টিকে আছে আটালান্টা। গত দু’দিনে অনুষ্ঠিত প্লে-অফের ফিরতি লিগ থেকে শেষ ষোলোয় জায়গা পাওয়া ৮টি দল হচ্ছে– রিয়াল মাদ্রিদ, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ, পিএসজি, নিউক্যাসল ইউনাইটেড, বায়ার লেভারকুসেন, বোডো/গ্লিমট, আটালান্টা ও গালাতাসারেই। রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকার লড়াইটি ছিল নাটকীয়। পর্তুগিজ ক্লাবটির কোচ হোসে মরিনিয়ো ও বর্ণবাদের দায়ে ফুটবলার প্রেস্তিয়ান্নি ছিলেন না। তার ওপর বেনফিকা প্রথম লেগে ১-০ গোলে হেরেছিল, এবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাদের ২-১ গোলে হেরে ৩-১ অ্যাগ্রিগেটে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। পিএসজি ও মোনাকোর লড়াইয়ে লড়াই জমে উঠেছিল শেষদিকে। স্টপেজ টাইমে দেওয়া গোলে ২-২ সমতায় খেলা শেষ হলেও, পিএসজি উৎরে গেছে ৫-৪ অ্যাগ্রিগেটের সুবাদে। জুভেন্তাস ও গালাতাসারের লড়াইটাও ছিল রোমাঞ্চকর। প্রথম লেগে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারে। গতকাল ফিরতি লেগে নেমে আগের তিন গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিলেও শেষ রক্ষা হলো না জুভেন্তাসের। ৩-২ স্কোরলাইন নিয়ে খেলা শেষ করলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৫ ব্যবধানে অ্যাগ্রিগেটে পিছিয়ে ছিল। গালাতাসারে অবশ্য এদিন গোলটি দুটি পায় শেষদিকে। যা বিদায় ঘটিয়ে দেয় ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্তাসের। এ ছাড়া প্রথম লেগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে ২-০ গোলে হারা আটালান্টা গতকাল ঘরের মাঠে জিতেছে ৪-১ গোলে। ৪-৩ গোলের অগ্রগামিতায় ইতালিয়ান দলটি শেষ ষোলোয় উঠেছে। এর আগের দিন প্লে-অফ থেকে শেষ ষোলোর টিকেট নিশ্চিত করেছিল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ, বায়ার লেভারকুসেন, নিউক্যাসল ইউনাইটেড ও বোডো/গ্লিমট। এর মধ্য দিয়ে ১৬ দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর স্লট পূর্ণ হলো। শেষ ষোলোর ড্র অনুষ্ঠিত হবে আগামী শুক্রবার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলমান আসরে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ আটে থেকে আগেই সরাসরি শেষ ষোলো বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল– আর্সেনাল, বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল, টটেনহ্যাম হটস্পার, বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্টিং সিপি ও ম্যানচেস্টার সিটি।
মেক্সিকোর শক্তিশালী এক মাদক কার্টেলের প্রধান সেনা অভিযানে নিহত হওয়ার পর দেশটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্বকাপ ২০২৬–এর আয়োজক শহর গুয়াদালাহারার কাছাকাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার পুরুষদের শীর্ষ লিগের কেরেতারো বনাম হুয়ারেজ এবং নারীদের লিগের চিভাস বনাম আমেরিকা ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় বিভাগের আরও দুটি ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, বুধবার কেরেতারোর কোরেগিদোরা স্টেডিয়ামে নির্ধারিত মেক্সিকো ও আইসল্যান্ডের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচও বাতিল করা হয়েছে। মেক্সিকোর সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এল মেনচো নামে পরিচিত নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা কারভেন্টাস এবং জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের প্রধান নিহত হয়েছেন। তাকে জালিস্কোর তাপালপা এলাকায় আহত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর কার্টেল সদস্যরা প্রায় এক ডজন অঙ্গরাজ্যে গাড়ি পুড়িয়ে সড়ক অবরোধ করে। জালিস্কোর রাজধানী গুয়াদালাজারায় আগামী জুনে ফিফা ওয়াল্ড কাপ-২০২৬০এর চারটি ম্যাচ আয়োজনের সূচিতে রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি ম্যাচও আছে। টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ মেক্সিকো ছাড়াও স্পেন, উরুগুয়ে ও কলম্বিয়া এই ভেন্যুতে খেলবে। ম্যাচগুলো আক্রোন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জালিস্কো কার্টেলকে মেক্সিকোর সবচেয়ে শক্তিশালী অপরাধচক্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রায় ১৯ হাজার সদস্যের এই সংগঠনটি দেশের ৩২টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২১টিতে কার্যক্রম পরিচালনা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সংগঠনটিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এদিকে, গেরেরো অঙ্গরাজ্যের আকাপুলকোতে জিএনপি এরেনায় সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে এটিপি টেনিস টুর্নামেন্ট মেক্সিকান ওপেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
সারা বিশ্বে আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের এই দিনে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গন–ও মহান শহীদ ও মাতৃভাষা দিবস বিশেষভাবে পালন করছে। ফিফা বিশ্বকাপের ফেসবুক পেজ থেকে অংশ নিয়েছে মাতৃভাষা দিবসে। কানাডিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশি তারকা ফুটবলার সামিত সোমের ছবি দিয়ে তারা ক্যাপশনে লিখেছে– ‘ভিন্ন ভাষায় একই আবেগ।’ পাশে ফুটবল ও ভালোবাসার ইমোজি দেওয়া হয়েছে। আর সামিতের ছবিতেও বাংলা ভাষায় লেখা হয়– ‘ফুটবলই আমাদের ভাষা।’ অর্থাৎ, বাংলা ভাষার মাধ্যমে ফুটবলেরও নিজস্ব ভাষা আছে সেটাই স্মরণ করিয়ে দিলো ফিফা। অবশ্য ফিফার ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে প্রাইভেসি ‘কাস্টম’ করে, কেবল বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সম্ভবত পোস্টটি দেখতে পারবেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী হামজা চৌধুরীর পথ ধরে আরও বেশ কয়েকজন ফুটবলার বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। বিশ্বফুটবলে তারা নতুন করে তুলে ধরছেন লাল-সবুজের পতাকা। তারই প্রতীকি চিত্র ফুটে উঠল ফিফা বিশ্বকাপের পেজে সামিত সোমের ছবি ব্যবহারে! এর আগে বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষার অধিকার, তাদের স্মৃতি চিরদিন বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে। শহীদদের রক্তে রাঙানো একুশ আমাদের গৌরব, আমাদের পরিচয়।’ নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), ‘তারুণ্যের নব চেতনায় একুশ রবে সকলের অনুপ্রেরণায়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা।’
সময়টা ভালো যাচ্ছে না ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের। সেই প্রভাবটা পড়েছে তার ক্যারিয়ারেও। যে কারণেই এবার ৩৪ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়েছেন সাবেক বার্সেলোনার এই তারকা ফরোয়ার্ড। সম্প্রতি ব্রাজিলের অনলাইন চ্যানেল কেজ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষেই তিনি ফুটবল থেকে অবসর নিতে পারেন। মূলত ক্যারিয়ারজুড়ে একের পর এক চোট এবং বর্তমান ফিটনেস সমস্যাই তাকে এমন কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত বছরের জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল থেকে নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন নেইমার। ক্লাবটির সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। গত বছর চোট নিয়ে খেলে সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর জন্য তাকে শারীরিক বড় মূল্য দিতে হয়েছে। ডিসেম্বরে বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তিনি মাঠে ফেরেন। তবে নেইমার স্বীকার করেছেন, পূর্ণ ফিট না হওয়ায় তাকে কিছুটা সাবধানে খেলতে হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা নেইমারের অন্যতম বড় লক্ষ্য। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর চোটের কারণে তিনি আর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামতে পারেননি। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তার জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলা রাখলেও শর্ত দিয়েছেন পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার। নেইমার নিজেও মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া এক ‘বড় চ্যালেঞ্জ’। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে নেইমার বলেন, ‘আগামী বছর কী হবে আমি জানি না। সম্ভবত ডিসেম্বর এলে আমি অবসর নিতে চাইব। এখন আমি কেবল এ বছরটি নিয়ে ভাবছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ক্যারিয়ারের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত তার হৃদয়ের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার ১২৮ ম্যাচে ৭৯টি গোল করেছেন। ইউরোপীয় ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে ট্রেবল জয়ের পাশাপাশি পিএসজির হয়েও অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন তিনি। এর আগে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই তারকা ফুটবলার এ মৌসুমে নিজের শতভাগ দিয়ে খেলতে মুখিয়ে আছেন। উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ‘সি’ গ্রুপের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। নেইমার যদি সত্যিই ডিসেম্বরে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার আগে শেষবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন এই ফরোয়ার্ড।
কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে জার্মানির সাবেক ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানকে বহনকারী গাড়ির বহর। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া কুতুপালং এলাকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওজিল কিংবা প্রতিনিধি দলের কেউ আহত হননি। তবে বহরে থাকা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর চালক আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহত চালকের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়ার শাহপুরী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানের গাড়ির বহরটি ভিআইপি প্রোটোকল ভেঙে হঠাৎ একটি মোটরচালিত অটোরিকশা ঢুকে পড়ে। এতে গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় আহত অটোরিকশার চালক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নরওয়ের আর্কটিক বৃত্তে রূপকথার আরেক অধ্যায় লিখল অখ্যাত ক্লাব বোদো/গ্লিম্ট। এবার তাদের শিকার ইতালির জায়ান্ট ইন্টার মিলান। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে শক্তিশালী ইন্টারকে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চমক দিল নরওয়েজিয়ান ক্লাবটি। নিজেদের দেশের লিগে এখনো অফ-সিজন চলছে বোদোর। তবু মাঠে তাদের তেজ-দাপট ছিল পুরোদস্তুর প্রতিযোগিতামূলক। গত মাসে ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারানোর পর এবার ইন্টার মিলানকেও কাবু করল তারা। ম্যাচের ২০ মিনিটে কৃত্রিম টার্ফের মাঠে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কাসপার ওয়ার্টস হগের চমৎকার ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন সন্ড্রে ফেট। তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি ইন্টার। ফ্রানচেসকো পিও এসপোসিতোর জোরালো শটে সমতা ফেরে। এরপর ৬১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে আবার এগিয়ে যায় বোদো। হগের পাস থেকে বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে ইয়েন্স পেটার হাউগে দুর্দান্ত বাঁ-পায়ের শটে বল জালে জড়ান। এর তিন মিনিটের মাথায় ওলে দিদরিক ব্লমবার্গের পাস থেকে সহজ গোলে দলের জয় নিশ্চিত করেন হগ। সেরি আ’তে আট পয়েন্টে শীর্ষে থাকা এবং গত তিন মৌসুমে দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠা ইন্টার মিলানকে আর্কটিক বৃত্তে এভাবেই সাধারণ এক দলে পরিণত করল বোদো/গ্লিম্ট।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি শীর্ষে থাকা আর্সেনাল। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে উলভের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে মিকেল আর্তেতার দল। ২৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকলেও, এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান এখন মাত্র পাঁচ পয়েন্ট। সিটি পরের ম্যাচ জিতলে সেই ব্যবধান কমে দাঁড়াবে তিনে। উলভসের মাঠ মোলিনাক্সে বুধবার রাতে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় আর্সেনাল। বিরতির আগে ১-০ লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে আরও একটি গোল করে তারা ব্যবধান বাড়ায়। তবে এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। স্বাগতিকরা দুটি গোল শোধ করে সমতায় ফেরে। যোগ করা সময়ে আর্সেনাল ডিফেন্ডারের আত্মঘাতী গোলেই ২-২ সমতা আসে এবং পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য হয় গানাররা। আর্সেনালের হয়ে গোল করেন বুকায়ো সাকা ও পিয়েরো ইনকাপিয়ে। অন্যদিকে উলভসের হয়ে একটি গোল করেন হুগো বুয়েনো, আর সমতার গোলটি আসে রিকার্দো কালাফিওরির আত্মঘাতী প্রচেষ্টায়। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট হারানোয় শিরোপা দৌড়ে চাপে পড়েছে আর্সেনাল। ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করে সাকা বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধে দলের খেলায় স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। নিজেদের মান ধরে রাখতে না পারার কারণেই পয়েন্ট খোয়াতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন নিজেদের পারফরম্যান্সে উন্নতি করাই প্রধান লক্ষ্য। একসময় লিগে নয় পয়েন্টে এগিয়ে ছিল আর্সেনাল। কিন্তু পরপর দুটি ড্র তাদের শিরোপা স্বপ্নে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অথচ টেবিলের তলানিতে থাকা উলভস এ মৌসুমে মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছিল। ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা আর্সেনাল পঞ্চম মিনিটে সাকার হেডে এগিয়ে যায়। ৫৬ মিনিটে ইনকাপিয়ে দারুণ এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই দূরপাল্লার বাঁকানো শটে গোল করে ব্যবধান কমান বুয়েনো। শেষদিকে টম এডোজির শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে তা কালাফিওরির গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়, আর তাতেই নিশ্চিত হয় ড্র।
মঙ্গলবার বিকেলে নতুন সরকারের মন্ত্রীগণ শপথ গ্রহণ করেছেন। আজই প্রথম সচিবালয়ে অফিস করেছেন তারা। প্রথম দিনে সাধারণত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মত বিনিময় বা কুশলাদি হয়ে থাকে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজের প্রথম কার্য দিবসে মন্ত্রণালয় থেকে নয়টি কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কোন প্রতিষ্ঠান কোনটা বাস্তবায়ন করবে সেই তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। সাবেক জাতীয় ফুটবলার আমিনুল হক গত দেড় বছর থেকেই ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তার স্বপ্নের কথা বলে আসছিলেন। তার দল বিএনপির ইশতেহারেও ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিফলন ছিল। আজ প্রথম কর্ম দিবসেই তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে চারটি ক্রীড়া সংস্থা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া পরিদপ্তর, বিকেএসপি, ক্রীড়া কল্যাণসেবী ফাউন্ডেশন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নয়টি কর্মসূচি এই চার অধীনস্থ সম্বলিতভাবে বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশ করেছে। ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরে দেশের অন্য সকল খেলোয়াড়রা তেমন সুযোগ-সুবিধা পান না। এজন্য তিনি জাতীয় দলে সকল খেলোয়াড়কে বেতনের আওতায় আনতে চান এবং খেলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের চেষ্টা করছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া অনুবিভাগ-১ ও ২ , জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিকেএসপি। চতুর্থ শ্রেনী থেকে খেলাধূলা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে তদারকি করবে। খেলাধূলার জন্য প্রয়োজন সরঞ্জাম। বাংলাদেশ অধিকাংশ সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আনে। দেশে সেই সরঞ্জাম তৈরি এবং সামনে রপ্তানির পরিকল্পনা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিদপ্তর। খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও খেলার জন্য প্রয়োজন অর্থ দেবে। ফেডারেশনকে সরকার থেকে তেমন আর্থিক অনুদান দেয়া হয় না। পৃষ্ঠপোষকরাও সেভাবে ফেডারেশনের পাশে দাঁড়ায় না। নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন ব্যাংক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে একেকটি খেলা কিংবা ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছেন। এই দায়িত্ব বাস্তবায়ন করবে মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। খেলাকে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে নিতে চান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এজন্য উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিস স্থাপন ও ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ করতে হবে। ক্রীড়া পরিদপ্তর এই বিষয়টি দেখভাল করবে। ৬৪ জেলায় ইনডোর ভিলেজ স্থাপনের দায়িত্ব বর্তেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানরে কাছে। গতকাল শপথ নেয়ার পর মিরপুর পল্লবীস্থ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আমিনুল। সেখানে তিনি বলেছিলেন ক্রীড়া উন্নয়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার আগে তিনি ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বসতে চান। কথা মোতাবেকই কাজ করেছেন। আগামী রোববার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান এই সংক্রান্ত চিঠি তিন ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠনকে প্রেরণ করেছেন আজ বিকেলে।
লা লিগার শীর্ষে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল বার্সেলোনা। ফ্রান বেলত্রানের শেষ মুহূর্তের গোলে জিরোনা ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিলে কাতালান ডার্বি থেকে হতাশ মুখেই মাঠ ছাড়তে হয় বার্সাকে। জিরোনার মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। বার্সার হয়ে রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পাননি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পেলেও ইয়ামালের স্পটকিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বিরতির পর ৫৯ মিনিটে পাউ কুবারসির হেডে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। কিন্তু দুই মিনিটের মধ্যেই থমাস লেমার গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়ায় জিরোনা। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ফ্রান বেলত্রান নিচু শটে বল জালে জড়ালে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিক সমর্থকেরা। বার্সা শিবিরের আপত্তি সত্ত্বেও বহাল থাকে গোল। অতিরিক্ত সময়ে স্বাগতিক খেলোয়াড় জোয়েল রোকা লাল কার্ড দেখলেও ম্যাচের ফল বদলায়নি। এই হারে ২৪ ম্যাচ শেষে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচ খেলে দুই পয়েন্ট এগিয়ে থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ আছে শীর্ষে। অপরদিকে ২৪ ম্যাচ শেষে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে ১২তম স্থানে আছে জিরোনা।
প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যে চার গোল দিলো আর্সেনাল। লিগ ওয়ানের দল উইগান অ্যাথলেটিককে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করল তারা। মিকেল আর্তেতার দল ছয় বছরে প্রথমবার এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে উঠে গেলো। এমিরেটস স্টেডিয়ামে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তরের ক্লাবের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে গানাররা। ১১ থেকে ২৭- প্রথমার্ধের এই ১৭ মিনিটেই সব গোল হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্টফোর্ডের সঙ্গে ড্র করা দলে আটটি পরিবর্তন আনেন আর্তেতা। তারপরও আক্রমণভাগে ছিলেন বুকায়ো সাকা, এবেরেচি এজে, ননি মাদুয়েকে, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। তাদের তিনজনই জাল খুঁজে পেয়েছেন। ১১তম মিনিটে মাদুয়েকের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। মার্তিনেল্লি সাত মিনিট পর স্বাগতিকদের ব্যবধান বাড়ান। ২৩ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করেন জ্যাক হান্ট। জেসুসের গোলে প্রথম আধঘণ্টাতেই ৪-০ তে এগিয়ে যায় গানাররা। আর্সেনাল আর গোল যোগ করতে পারেনি। কিন্তু একপেশে জয়ে তারা ২০২০ সালের এফএ কাপ জয়ের পর প্রথমবার চতুর্থ রাউন্ড পার করল। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে হতাশাজনক ৪৫ মিনিটের পর হাফটাইমেই এজেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। গত নভেম্বরে টটেনহ্যামের বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিকের পর থেকে মাত্র একটি অ্যাসিস্ট, ছিল না কোনো গোল। উইগানের বিপক্ষেও গোলখরা কাটাতে পারেননি, তবে এখানে তিনি ছিলেন আর্সেনালের প্রথম দুটি গোলের কারিগর। এজে পাস বাড়িয়েছিলেন মাদুয়েকেকে। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে পড়ে প্রথম ছোঁয়াতে দারুণ ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপাতে কোনো ভুল করেননি মাদুয়েকে। শিগগিরই এজে আবারো চালকের আসনে বসেন। তার পাস ধরে মার্তিনেল্লি স্যাম টিকলকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। আর্সেনাল তাদের ব্যবধান আরও বাড়ায় পাঁচ মিনিট পর। মরগান ফক্সকে গতিতে পরাস্ত করে মাদুয়েকে পাস দেন সাকাকে। ইংল্যান্ডের এই উইঙ্গারের পুলব্যাক জেসুসের পায়ের আঙুলে লেগে সরে যায় এবং বিভ্রান্ত হয়ে হান্ট নিজের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে হেডে আত্মঘাতী গোল করে বসেন। জেসুস ক্রিশ্চিয়ান নরগার্ডের উপর দিয়ে বাড়ানো লম্বা বল নিয়ন্ত্রণে নেন এবং এগিয়ে আসা টিকলের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে দলের চতুর্থ গোলটি করেন। উইগান লিগ ওয়ানের ২২তম স্থানে রয়েছে, তাদের শেষ সাতটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই হার। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গ্লেন হুইলান হয়তো সবচেয়ে খারাপ কিছুরই আশঙ্কা করছিলেন। কিন্তু তার দল চার গোলের ব্যবধান নিয়েই কোনোমতে বিরতি পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তারা একটি গোল শোধ করার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু জো টেলরের শট কেপা আরিজাবালাগা দক্ষতার সঙ্গে আটকে দেন। সাকার জায়গায় হাফটাইমে ভিক্টর গিওকেরেসকে নামানো হয়। সুইডেনের এই আন্তর্জাতিক তারকা পঞ্চম গোলটি প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু তার প্রথম ছোঁয়ার ডিফ্লেক্টেড শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর এক ঘণ্টার মাথায় এজে সাইড-নেটে বল মারেন। টিকল এরপর মার্তিনেল্লির কাছ থেকে নেওয়া হেডারটি বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। উইগানের গর্বের ব্যাপার যে তারা স্কোরলাইনকে বিশাল হতে দেয়নি। শুরুর ৩০ মিনিটের গোল উৎসবের ম্যাচটি ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে পড়ে।
ঘরের মাঠে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারল না লেস্টার সিটি। অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে এফএ কাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে হামজা চৌধুরীর ক্লাবকে। ২-১ ব্যবধানে জিতে পঞ্চম রাউন্ড নিশ্চিত করেছে সাউদাম্পটন। ইনজুরির কারণে এদিনও মাঠে নামতে পারেননি বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। শনিবার রাতে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় সাউদাম্পটন। পেনাল্টি এরিয়ায় স্যামুয়েল এডোজিকে ফাউল করলে স্পট কিকের সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। কাইল লারিন সফল শটে দলকে লিড এনে দেন। বিরতির পর দ্রুতই ম্যাচে ফেরে লেস্টার। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে সমতায় ফেরে তারা। অধিনায়কের চমৎকার বাইসাইকেল কিকে জালে বল জড়ালে ১-১ সমতা ফিরে আসে ম্যাচে। এরপর দুই দলই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও নির্ধারিত সময়ে আর গোল হয়নি। ইনজুরি সময়ের শেষদিকে গোললাইনের সামনে দারুণ রক্ষণে লেস্টারকে হতাশ করেন সাউদাম্পটনের নাথান উড। সমতা নিয়েই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১৯ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে উড়ে আসা বলে জেমস ব্রির শক্ত হেড টপ কর্নারে জাল খুঁজে নেয়। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সাউদাম্পটন। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা। অন্য ম্যাচে চমক দেখিয়েছে ম্যানসফিল্ড টাউন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল বার্নলি-কে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৯৭৫ সালের পর প্রথমবারের মতো এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে উঠেছে তারা। প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। সালফোর্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে পেপ গার্দিওলার দল। বেঞ্চের কয়েকজনকে সুযোগ দিয়েই জয় তুলে নেয় সিটি।
অবশেষে গোলের দেখা পেলেন মার্ক গেহি।ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর নিজের প্রথম গোলের দেখা পাওয়ার দিনে জয় পেয়েছে তার দলও। তার গোলের সৌজন্যেই আজ শনিবার এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে পুঁচকে স্যালফোর্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। তবে দিনের অন্য ম্যাচে তৃতীয় স্তরের দল ম্যানসফিল্ডের কাছে হেরে বড় অঘটনের শিকার হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের দল বার্নলি। নিজেদের ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটির জয়টা যতটা সহজ হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। আলফি ডরিংটনের আত্মঘাতী গোলে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল সিটি। কিন্তু চতুর্থ স্তরের দল স্যালফোর্ডের বিপক্ষে ব্যবধান বাড়াতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের। ম্যাচের ৮১ মিনিটে রায়ান শেরকির পাস থেকে ট্যাপ-ইনে জালের দেখা পান ডিফেন্ডার গেহি। সিটির জার্সিতে এটিই তাঁর প্রথম গোল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুই কিংবদন্তি গ্যারি নেভিল ও ডেভিড বেকহামের মালিকানাধীন ক্লাব স্যালফোর্ড এবারই প্রথম এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে খেলার সুযোগ পেয়েছে। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে রায়ান আইত-নুরির ক্রস ওমার মারমুশের দিকে যাওয়ার পথে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন স্যালফোর্ডের ডরিংটন। সিটি ভক্তরা বড় জয়ের আশায় থাকলেও প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি গার্দিওলার শিষ্যরা। উল্টো বেন উডবার্ন ও কেলি এন’মাইয়ের আক্রমণ রুখে দিয়ে সিটিকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ড। দিনের অন্য ম্যাচে আজ টার্ফ মুরে বড় অঘটন ঘটিয়েছে ম্যানসফিল্ড। প্রিমিয়ার লিগের দল বার্নলিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৯৭৫ সালের পর প্রথমবারের মতো এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ক্লাব প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তার পদত্যাগের কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে আবারও সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লাপোর্তা। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন ভিক্টর ফন্ট। বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনে সাবেক তারকা ফুটবলারদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সাবেক কোচ জাভি হার্নান্দেজ প্রকাশ্যে ভিক্টর ফন্টকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে লিওনেল মেসি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি। লাপোর্তার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ভালো নয় বলে আলোচনায় রয়েছে। সে কারণে ফন্টকে সমর্থনের সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ডিয়ারিও স্পোর্ট–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বার্সেলোনার চলমান নির্বাচনে সরাসরি যুক্ত না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি। তিনি ভোটদান করবেন না এবং কোনো প্রার্থীর পক্ষেও অবস্থান নেবেন না। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইয়াহু স্পোর্টস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসি কোনো প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না। এমনকি ভিক্টর ফন্টের সঙ্গেও নয়। যদিও ফন্ট আগেই জানিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে তার প্রথম ফোনকল যাবে মেসির কাছেই। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লাপোর্তার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। তবুও এবার নির্বাচনে ভোট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন। কারণ অতীতে বার্সেলোনার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিয়মিতভাবে অংশ নিয়েছেন মেসি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন মেসি। তিনি কোনো প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে মন্তব্য করতে চান না। তার আশঙ্কা, সামান্য ইঙ্গিতও নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে তার যুক্তরাষ্ট্রে ব্যস্ত জীবনকেই দেখানো হচ্ছে। ইন্টার মায়ামির হয়ে সক্রিয় ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ায় আপাতত বার্সেলোনার ক্লাব রাজনীতির বাইরে থাকতে চান তিনি। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।