ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ শপথ গ্রহণের পরপরই নিজ নির্বাচনী এলাকায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এলাকায় ফেরার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই তিনি বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে শহীদ পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং আহতদের সঙ্গে সময় কাটান। সকাল থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গ্রাম সফর করেন। তিনি শহীদ আব্দুর রাজ্জাক রুবেলের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। এসময় তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদান এবং একটি পাকা ঘর নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর তিনি শহীদ আমিনুল ইসলাম সাব্বিরের পরিবারকে ২ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য একটি দোকান করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। পর্যায়ক্রমে মহেশপুর গ্রামের শহীদ জহিরুল ইসলাম ও বড়শালঘর গ্রামের শহীদ সাগরের বাড়িতেও যান তিনি এবং তাদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। বিকেলে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় জুলাই আন্দোলনে আহতদের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করার আশ্বাস দেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। এ সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের বেইমানি সহ্য করা হবে না। শহীদ ও আহতদের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ চাঁদাবাজি বা দখলবাজির চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকা তার অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্বের অংশ এবং এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর হাতে নিজের ১২দফা নির্বাচনি ইশতেহার তুলে দিয়েছেন সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজিত ১১ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম। এ ঘটনা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাংসদ ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু এনসিপি ভালুকা উপজেলা কার্যালয়ে এনসিপি, জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় শ্রমিক শক্তি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। ওই সময় এনসিপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। ওই সময় নবনির্বাচিত এমপির হাতে নিজের ১২ দফার ইশতেহার তুলে দিয়ে আগামীর সমৃদ্ধ ভালুকা বিনির্মাণে যেকোনো উন্নয়নমূলক উদ্যোগে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এনসিপি ভালুকা উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন মাস্টার বলেন,‘বিজয়ীর হাতে বিজিতের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে দেয়া স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বিরল ঘটনা।’ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু রাজনীতিতে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন বলে জানান এবং ওই ইশতেহার পর্যালোচনা করে যেগুলো বাস্তবায়ন যোগ্য সেগুলো বাস্তবায়ন করবেন বলে উল্লেখ করেন।
রমজান উপলক্ষে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য টিসিবির সরবরাহ করা পণ্যের একটি চালানে তেলের পরিবর্তে পানি পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় টিসিবির তেলের কার্টন খুলে সয়াবিন তেলের পরিবর্তে ৯ বোতল পানিভর্তি বোতল পাওয়া যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চালানটি গ্রহণ না করে ফেরত পাঠায়। গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সংলগ্ন এলএসডি গুদামে একটি ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের সময় এ ঘটনা ধরা পড়ে। ট্রাকটি দিনাজপুরের দশমাইল টিসিবি ডিপো থেকে বোদা উপজেলা এলএসডি গুদামে পণ্য সরবরাহের জন্য আসে। গুদাম সূত্রে জানা যায়, ট্রাক থেকে কার্টুন নামানোর সময় শ্রমিকদের কাছে ওজন নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে একটি কার্টন খুলে দেখা যায়, সেখানে ২ লিটার ধারণক্ষমতার ৯টি বোতল রয়েছে, যেগুলোতে সয়াবিন তেলের পরিবর্তে পানি ভর্তি। বোদা উপজেলা এলএসডি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল করিম সিদ্দিকী জানান, সন্দেহের ভিত্তিতে একটি কার্টন খোলা হলে তেলের বদলে পানির বোতল পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট চালান গ্রহণ করা হয়নি। ট্রাকটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ভুট্টা চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। অনাবাদি ও উঁচুনিচু পাহাড়ি জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা এখন ভুট্টা চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, পরিকল্পিত চাষ ও আধুনিক জাত ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বাড়ছে এবং কৃষকের আয়েও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাটিরাঙ্গায় ৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। ওই বছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৫১ মেট্রিক টন। অপরদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১০ মেট্রিক টন। জমির পরিমাণ কিছুটা কমলেও ফলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ‘কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাটিরাঙ্গা কার্যালয়ের উদ্যোগে বিএম-৫১৮ (হাইব্রিড) জাতের ৪টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে ৩৩ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। প্রদর্শনীগুলো মাটিরাঙ্গা পৌরসভা, গাজিনগর, বেলছড়ি, তবলছড়ি সহ মোট চারটি ব্লকে স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রদর্শনীতে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন কৌশল কৃষকদের হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে। কৃষক আব্দুর মালেক জানিয়েছেন, তিনি চলতি মৌসুমে তার ৩৩ শতক জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। জমি পরিষ্কার করা, আগাছা দমন, সার প্রয়োগ ও সময়মতো বপন—all মিলিয়ে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রতি কানি জমিতে প্রায় ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, যার মধ্যে বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক ও পরিচর্যার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, সঠিক সময়ে সার ও সেচ দিতে পারলে ফলন ভালো হয়। বিশেষ করে গাছের বৃদ্ধি পর্যায়ে পরিচর্যা ঠিকভাবে করলে দানা ভরাট হয় এবং ফলন আশানুরূপ পাওয়া যায়। যদি বাজারে দাম ভালো থাকে, তাহলে এই জমি থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। বিএম-৫১৮ (হাইব্রিড) জাতের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—উচ্চ ফলনশীলতা, ভালো দানা গঠন, আবহাওয়া সহনশীলতা, শক্ত ও মজবুত গাছের গঠন। গাছের উচ্চতা ১০৫-১১৫ সেমি পর্যন্ত হয়। গাছের জীবনকাল ১৪০-১৪৫ দিন এবং সম্ভাব্য ফলন হেক্টরপ্রতি ১৩-১৪ মেট্রিক টন। উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্মত বীজ ব্যবহারের ফলে পাহাড়ি মাটিতেও আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। কৃষক করিম মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি বিএম-৫১৮ জাতের ভুট্টা চাষ করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। এই জাতের গাছগুলো শক্ত ও মজবুত হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি কিংবা দমকা হাওয়াতেও সহজে হেলে পড়ে না। পাহাড়ি এলাকার অনিশ্চিত আবহাওয়ার মধ্যেও গাছ ভালোভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, যা ফলন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, রোগবালাই তুলনামূলক কম দেখা যায়। সময়মতো সার ও পরিচর্যা করলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং মোচাগুলো দানায় পরিপূর্ণ হয়। দানাগুলো মোটা, ভরাট ও আকর্ষণীয় রঙের হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা বেশি। ফলে বিক্রির সময় ভালো দাম পাওয়া যায়, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে ভুট্টা একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। মাটিরাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়া ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক সময়ে বপন, সুষম সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিএম-৫১৮ জাতের প্রদর্শনী প্লটগুলোতে কৃষকরা হাতে-কলমে আধুনিক চাষ পদ্ধতি শিখছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চলেন, তাহলে আগামী মৌসুমগুলোতে মাটিরাঙ্গায় ভুট্টা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। মাটিরাঙ্গা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ভুট্টা আজ আর শুধু পশুখাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের পুষ্টিকর খাদ্য, শিল্পের মূল্যবান কাঁচামাল এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উজ্জ্বল দ্বার। পাহাড়ি অঞ্চলের ঢালু জমিতে ভুট্টা চাষের বিস্তার ঘটালে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রধান খাদ্য—ভাত এবং ধানের প্রতি নির্ভরতা বিবেচনায় রেখে ধানের জমিতে ভুট্টার আবাদকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনা করে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নতুন সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। এর আগে অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করে গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন সহকারী সচিব এ.বি.এম. আবু বকর ছিদ্দিক। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হিজরি ১৪৪৭ (২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) সনের পবিত্র রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। রমজানে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। তবে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব আইন ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিজস্ব সময়সূচি নির্ধারণ ও অনুসরণ করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং এর অধীনস্থ সব আদালতের সময়সূচি সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নির্ধারিত হবে।
আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বই মেলা। এ ঘোষণা দিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী । বুধবার সন্ধ্যায় মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি ও প্রকাশকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমিতে পৌঁছান। এর একদিন আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন মন্ত্রীরা শপথ নেন। সন্ধ্যা ৭টায় বৈঠক শুরু হয়। সেখানে প্রকাশকরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। পরে নিতাই রায় চৌধুরী ঘোষণা দেন, ‘অংশগ্রহণকারী সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্টল ভাড়া শতভাগ মওকুফ করা হলো।’ তিনি সবাইকে মেলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত স্টলের জন্য আবেদন করা যাবে। একই দিন পরে লটারির মাধ্যমে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘যদি কখনো ভুল করি বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হই, তাহলে আপনারা (সাংবাদিক) চুপ থাকবেন না, ভুলগুলো লিখবেন।’ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি। কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘রাজনীতি ও সমাজ উন্নয়নে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাংবাদিকরা ইতিবাচকভাবে সহযোগিতা করলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হয়।’ তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিত্ব নয়, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার উন্নয়নেই মনোযোগ দিতে চাই। রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে কথা বলা, উন্নয়ন ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করা।’ রতন বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়া সম্মানের হলেও সেটি আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য ছিল না। সুযোগ থাকলেও কোনো পদ বা চেয়ার চাইনি।কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে চাই।’ মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন হায়দার জনির সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ইরাদত হোসেন মানু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শহিদুল ইসলাম শহিদ, সুলতান আহমদ, মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক মঞ্জুর মোর্শেদ, সাবেক সভাপতি আরিফ উল ইসলাম, শহীদ ই হাসান তুহিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন সজল, সোনিয়া হাবিব লাবনী, সহসভাপতি রশীদ আহমদ, কোষাধ্যক্ষ সাইফুর রহমান টিটু প্রমুখ।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) সংসদীয় আসন থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মিথ্যা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে দীর্ঘদিন নির্বাসনে কাটানোর পর দেশে ফিরে মন্ত্রী হওয়া তার জন্য একটা সময় অসম্ভবই ভাবা হচ্ছিল। কায়কোবাদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। এলাকায় বিপুল জনপ্রিয় এ নেতা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এবার ডাবল হ্যাটট্রিক করেছেন। ব্যাক্তিগতভাবে তিনি ৬ কন্যা সন্তানের জনক। রাজনৈতিক জীবনে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছেন। তিনি বহু নির্যাতনের শিকার হয়ে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের কর্মজীবন শুরু হয় ব্যবসায়ী এবং ঠিকাদার হিসেবে। তিনি ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালের শেষ দিকে তিনি সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলামের নিকট পরাজিত হন। ১২ জুন ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টি প্রার্থী হিসেবে ৩য় বারের মতো সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগদান করে চতুর্থবারের মতো তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয়রা জানায়, ২০১০ সালে তাকে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। পর থেকে তিনি বিদেশে নির্বাসনে থেকেই দলের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং দলকে সংগঠিত করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর বিদেশে অবস্থান করে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা তথা মুরাদনগর উপজেলা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। ২০১৬ সালে নির্বাসনে থেকেই কায়কোবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ লাভ করেন। তিনি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৩ আসন থেকে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এতে তার ডাবল হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ধর্মমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এদিকে মন্ত্রিত্ব লাভের পর থেকে তাকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। একজন জননেতাকে মুল্যায়ন করায় এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, সবকিছু আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় হয়। আমার আল্লাহ যা চায় তাই হয়। তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী। মুরাদনগরের মানুষ আমাকে ৬ষ্ঠ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। এবার তারেক রহমান আমাকে ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমার জীবনে আর কোন প্রত্যাশা নেই। তিনি বলেন, সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি এখন লড়াই করব। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমি কাজ করব। জনগণ যেভাবে চায় সেভাবেই এলাকার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব।
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় রংপুর নগরীতেও ট্রাকের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি স্থানে ট্রাকসেলের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে সীমিত সংখ্যক ট্রাক ও বিক্রয় পয়েন্টের কারণে পণ্য সংগ্রহে মানুষের দীর্ঘ লাইন ও চরম ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হয়। ভর্তুকি মূল্যে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, রমজানের বিশেষ প্যাকেজে নিয়মিত পণ্যের সঙ্গে ছোলা ও খেজুর যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯০ টাকা। প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রায় ৪০০ জন গ্রাহক পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। সেই হিসেবে ১৫টি ট্রাকের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৬ হাজার মানুষ এ সুবিধা পাচ্ছেন। আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত স্পটে ট্রাক পৌঁছানোর আগেই নিম্ন ও নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। অনেকেই সকাল থেকে অপেক্ষা করেও পণ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। এতে কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন আয় ব্যাহত হচ্ছে। টিসিবির পণ্য নিতে আসা শাহিন ও বাবলু মিয়া বলেন, “বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে টিসিবির এই পণ্য আমাদের মতো হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বড় সহায়তা। যদিও নির্দিষ্ট কিছু পণ্য দেওয়া হয়, তারপরও পুরো রমজানজুড়ে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক, সেটাই চাই।” রমজান আলী বলেন, “বাংলাদেশে রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে অনেক পণ্যের দাম বাড়ছে। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই মাসটা খুব কঠিন। টিসিবির পণ্য কিছুটা স্বস্তি দেয়, তবে আরও ট্রাক বাড়ালে বেশি মানুষ উপকৃত হতো।” শাহানা বেগম ও জয়নাল মিয়া জানান, “দিন আনি দিন খাই। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন পণ্য পাব, তার নিশ্চয়তা নেই। কাজ ফেলে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তবুও উপায় নেই, কারণ বাজারদরে কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।” এ বিষয়ে টিসিবির রংপুর আঞ্চলিক উপপরিচালক ও অফিস প্রধান হাবিবুর রহমান বলেন, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিনই পণ্য বিক্রি করা হবে। ফ্যামিলি কার্ডধারীদের পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকরাও পণ্য কিনতে পারবেন। তিনি জানান, রংপুর সিটি করপোরেশনের আওতায় যাতে নিম্ন আয়ের মানুষ পর্যায়ক্রমে পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন, সেজন্য প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন স্পটে ট্রাকসেল পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে রংপুর সিটির ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে ট্রাকসেল পরিচালনার সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলায় পাঁচটি পয়েন্টে পণ্য বিক্রি অব্যাহত আছে। নগরবাসীর দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি করে ট্রাকসেল চালু করা হলে দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা। রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিসিবির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কক্সবাজার টেকনাফ নাফনদের মোহনা নাক্ষংদিয়া এলাকা থেকে পাঁচ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফনদ ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে ট্রলারসহ তাদের ধরে নিয়ে যায়। তারা হলেন- টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার মৃত সৈয়দ আলমের ছেলে শাহ আলম (২০), মৃত নজু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন, মৃত মকবুল আহমেদের ছেলে মো. আব্বাস (৪০), আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল সাহেদ (১৮) এবং মৃত মো. হোসেনের ছেলে মো. ইউনুস (৪০)। শাহপরীর দ্বীপ বোট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল গণি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ট্রলার মালিক মো. আবুল হোসেন বলেন, সেন্টমার্টিনের কাছে মাছ ধরার পর তারা ট্রলারটি নোঙর করে নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় অবস্থান করছিল। হঠাৎ স্পিডবোটে করে এসে আরাকান আর্মি সদস্যরা ট্রলারসহ জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে অন্তত চার শতাধিক জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক রয়েছেন। প্রথম দফায় ৭৩ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও বাকিদের মুক্তির জন্য সীমান্ত ও কূটনৈতিক পর্যায়ে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম জোন কোস্ট গার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আকিব বলেন, বিষয়টি শুনেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
রাজবাড়ীতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে হারানো ১০৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেন করেন এসপি মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ। এ সময় পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, জেলার পাঁচ থানায় করা জিডির সূত্র ধরে সদর থানা থেকে ৪৬টি, গোয়ালন্দঘাট থানা থেকে ১৪টি, পাংশা মডেল থানা থেকে ৯টি, কালুখালী থানা থেকে ২৪টি এবং বালিয়াকান্দি থানা থেকে ১৩টি , মোট ১০৬টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ফোনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জেলা পুলিশ হারানো মোবাইল উদ্ধারে নিয়মিত কাজ করছে। সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের একটি চৌকস টিম এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে।’ মোবাইল ফিরে পেয়ে মালিকরা আবেগাপ্লুত হয়ে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ফোন মালিকরা।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা পালন শুরু করবে বাসিন্দারা। এসব গ্রামে মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা রাখেন, যা প্রতি বছরই চলে আসছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সেহরি খেয়ে আজ রোজা শুরু করবেন সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে হাজার হাজার মুসলিম। এই অঞ্চলগুলোর মানুষ ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে আরব বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা পালন করে আসছে। মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালীসহ ৫০ গ্রামের এক লাখেরও বেশি মানুষ আজ রোজা পালন শুরু করবেন। এছাড়া, দেশের অন্যান্য অঞ্চল যেমন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন ভারত, মিয়ানমার, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ডসহ মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা সেহরি খেয়ে রোজা পালন শুরু করবেন। মির্জাখীল দরবারের একটি সূত্র জানায়, প্রায় আড়াই’শ বছর আগে মির্জাখীল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি (রহ.) পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় চাঁদ দেখা গেলে রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা পালন করার ফতোয়া দিয়েছেন। সেই থেকেই মুরিদরা একই নিয়মে সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। মির্জাখীল দরবারের দায়িত্বশীল মুহাম্মদ জালালুল হাই জানিয়েছেন, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশের হিসেব অনুযায়ী, আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর এবং স্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজান মাসের সিয়াম পালন শুরু হবে।
গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তন, জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণকাজের জন্য মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সিলেট মহানগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লালাবাজার ফিডারের আওতাধীন তেলিবাজার, বদিকোনা, ভালকি, ভরাউট, লালাবাজার নিজগাঁও, টেংরা, বেতসান্ধি, মুন্সীরগাঁও, মুন্সিবাজার, ফরহাদপুর, কারাড়পাড়, গাঙ্গাপাড়, মনোকুপা, আলমনগর, ছমিপুর ও এর আশপাশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে না। তবে শাটডাউন চলাকালে বিদ্যুৎ লাইন সচল বলে গণ্য হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে যখনই কাজ শেষ হবে, তাৎক্ষণিক সরবরাহ চালু হবে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্ৰকাশ করে সবার সহযোগিতা চেয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩।
নিরিবিলি সমুদ্র আর শান্ত ঢেউয়ের ফাঁকে হঠাৎই জেগে উঠছে একের পর এক রুপালি ঝলক। বিস্তীর্ণ বেলাভূমির সামনে নীল জলরাশিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডলফিনের ঝাঁক। কোলাহল কমে যাওয়ায় এখন নিয়মিতই দেখা মিলছে এই সামুদ্রিক প্রাণীর মুক্ত বিচরণ। বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল ও বিকেলে ডলফিনের লাফিয়ে ওঠার দৃশ্য চোখে পড়ছে। কখনো একসঙ্গে কয়েকটি, আবার কখনো দল বেঁধে ঢেউ কেটে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। সমুদ্রের বুকে তাদের ছুটোছুটি যেন সৃষ্টি করছে অপার্থিব সৌন্দর্য। সৈকতে দায়িত্বে থাকা সি-সেইফ লাইফ গার্ডের সদস্য জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এখন সমুদ্র অনেক শান্ত। তাছাড়া পর্যটকের ভিড়ও নেই।প্রায় প্রতিদিনই ডলফিন দেখা যাচ্ছে। কখনো তীরের বেশ কাছাকাছি চলে আসে। ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা লাফায়। দৃশ্যটা সত্যিই অসাধারণ।’ আরো পড়ুন সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বলেন, ‘শব্দদূষণ ও মানুষের আনাগোনা কমে গেলে ডলফিন উপকূলের কাছে চলে আসে। শান্ত পরিবেশে তারা খাবারের সন্ধানে দল বেঁধে ঘোরাফেরা করে।’ সামুদ্রিক প্রাণিবিদদের মতে, ডলফিন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বুদ্ধিমান প্রাণী। তারা পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রতি দ্রুত সাড়া দেয় এবং দলবদ্ধভাবে চলাচল করে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়োজিত বিচকর্মী মাহবুব আলম জানান, ২০২০ সালের করোনাকালে পর্যটকশূন্য সৈকতের তীরবর্তী এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিন দেখা যেত। কিন্তু পরবর্তীতে পর্যটকের ভিড় বাড়ায় তাদের উপস্থিতি কমে যায়। এখন প্রতিদিন বিকেলে বেলাভূমিতে দাঁড়ালেই দেখা যায়—সমুদ্রের বুকে ডলফিনের লাফিয়ে ওঠা, ডুব দেওয়া এবং আবার ভেসে ওঠার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। প্রকৃতির এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি যেন জানিয়ে দিচ্ছে, সমুদ্র তার নিজস্ব ছন্দেই বেঁচে আছে; আর সেই ছন্দের প্রাণকেন্দ্রে ফিরে এসেছে ডলফিনের মুক্ত বিচরণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ আসন ছেড়ে দেওয়ায় শূন্য ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ-সংক্রান্ত গেজেট জারি করেছে ইসি সচিবালয়। গেজেটে বলা হয়, নির্বাচনী এলাকা ৪১ বগুড়া-৬ ও ১৯০ ঢাকা-১৭ হইতে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত প্রার্থী তারেক রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদের (২)(ক) দফার বিধান অনুসারে নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ এর প্রতিনিধিত্ব করিবার ইচ্ছা জ্ঞাপন করিয়া ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাচন কমিশনের নিকট স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র দাখিল করায় ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ হইতে নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৬ আসন শূন্য বলিয়া ঘোষণা করা হইলো। এর আগে, সোমবার বিকেলে বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে ইসিতে চিঠি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩টি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে বিজয়ী হলে তিনি কেবল একটি আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেন। বাকিগুলো ছেড়ে দিতে হয়। সেগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী উপ-নির্বাচনের আয়োজন করে ইসি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীর এমপিওভুক্তির তদবির করতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ‘উপহারের প্যাকেটে’ মুড়িয়ে ৮ লাখ টাকা ঘুষ দিতে এসে রংপুরে আটক হয়েছেন সাবেক শিক্ষক পরিচয় দেওয়া কুড়িগ্রামের এক ব্যক্তি। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর নগরীর কাচারীবাজার এলাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তির নাম মাইদুল ইসলাম (৫০)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি নিজেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন। পুলিশ ও আঞ্চলিক উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী এমপিও সুপারিশের জন্য গত সোমবার উপপরিচালকের কার্যালয়ে যান মাইদুল ইসলাম। এক সপ্তাহ পর আবারও আজ সোমবার উপহারের বাক্সে করে ৮ লাখ টাকা নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক উপপরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম কক্ষে যান। সেখানে তাকে সুপারিশের বিনিময়ে বাক্সটি গ্রহণ করতে বলেন। এ সময় বক্সের ভেতরে টাকা থাকার বিষয়টি জানালে রোকসানা বেগম কর্মচারীদের মাধ্যমে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টাকাসহ ওই ব্যক্তিকে আটক করে বিকেলে থানা নিয়ে যান। অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি আলাপ করতে আসছি। ম্যাডাম ঘুষ খায় না সেটা আমি জানি না। এটা আমারই দোষ। মহানগর কোতোয়ালি থানার ওসি শাহজাহান আলী কালবেলাকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ সময় ৮ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানানো হয়েছে। দুদক এলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভালোবাসা দিবসে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন স্ত্রী। দুদিন পরও স্ত্রী ফিরে না আসায় তার সন্ধান দাতার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বামী। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) স্ত্রীর সন্ধান না পেয়ে সরাইল থানায় জিডি করেছেন স্বামী শামাউন রেজা মিঠু। জিডিতে বলা হয়েছে, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকার শামাউন রেজা মিঠুর স্ত্রী স্বামীর বাড়ি থেকে বাইরে যান। বিকেল পর্যন্ত ফিরে না আসায় খোঁজাখুজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে সম্ভাব্য সকল স্থান ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শাওনের স্বামী শামাউন রেজা মিঠু বলেন, স্ত্রীকে খুঁজে পেতে পরিবারের সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো ব্যক্তি যদি তার সন্ধান পেয়ে থাকেন, তাহলে তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে। সরাইল থানার ওসি মনজুরুল কাদের বলেন, এ রকম অভিযোগে থানায় জিডি করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রামের কক্সবাজার থেকে ২২২ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে বঙ্গোপসাগরে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, এটি অগভীর ভূমিকম্প ছিল, যার গভীরতা ছিল মাটির নিচে ১০ কিলোমিটার। তবে এখনও কেউ এটি অনুভব করার খবর জানায়নি। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের মেঘালয় রাজ্যসংলগ্ন অঞ্চলে একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.০। এতে বাংলাদেশের সিলেটেও কম্পন অনুভূত হয়। ইএমএসসি’র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২ মিনিটে ঘটে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মেঘালয় অঞ্চলে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের কেন্দ্র ছিল ভারতের গোয়াহাটি শহর থেকে প্রায় ১২৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং বাংলাদেশের সিলেট শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার উত্তরে। ভূমিকম্পের কম্পন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি বাংলাদেশের সিলেট ও আশপাশের এলাকায়ও অনুভূত হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম ঘিরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলার আজ (১৬ ফেব্রুয়ারি) তৃতীয় দিন। এ উপলক্ষে মেলায় লাখো সনাতনী পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে। সোমবার ভোর থেকে দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীরা দল বেঁধে আসতে শুরু করে চন্দ্রনাথ ধামে। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সীতাকুণ্ডের মন্দির সড়ক থেকে চন্দ্রনাথ ধাম মন্দিরসহ পুরো কলেজ রোড এলাকা। জাগতিক পাপ মোচন ও পুণ্য সঞ্চয়ের আশায় মেলায় আসা পুণ্যার্থীরা ব্যাসকুণ্ডে স্নান করেন। তারপর পায়ে হেঁটে যাত্রা করেন সমতল ভূমি থেকে এক হাজার ২০০ ফুট ওপরে অবস্থিত চন্দ্রনাথ ধাম মন্দিরের দিকে। আয়োজকরা জানান, সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চন্দ্রনাথ ধাম একটি তীর্থস্থান। আনুমানিক ৫০০ বছর আগে ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী তিথিতে (শিবরাত্রি) চন্দ্রনাথ ধাম ঘিরে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলা। তখন থেকে এ মেলা ঘিরে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ ফুট ওপরের পথ হেঁটে ধামে পৌঁছান। কলিযুগের মহাতীর্থখ্যাত ধাম দর্শনের পাশাপাশি শিবরাত্রিতে দেবাদিদেব মহাদেবের পূজা-অর্চনা করা হয়। সীতাকুণ্ড তীর্থধামের পণ্ডিত রাজীব ভরদ্বাজ জানান, তিন দিনব্যাপী এবারের শিবচতুর্দশী মেলায় রবিবার বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে শিবচতুর্দশী তিথি আরম্ভ হয়। তা সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। পুণ্যার্থীরা এই তিথিতে চন্দ্রনাথ ধামে এসে মঠ-মন্দির দর্শনসহ দেবাধিদেব মহাদেবের আরাধনা করবেন। সীতাকুণ্ড রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার নিজাম উদ্দিন জানান, শিবচতুর্দশী মেলায় তীর্থযাত্রী আনা নেওয়ার সুবিধার্থে গত শুক্রবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ে ছয়টি এক্সপ্রেস ট্রেন সীতাকুণ্ড স্টেশনে দুই মিনিট করে থামবে। মেলায় আসা পুণার্থী যাতায়াতে সীতাকুণ্ড স্টেশনে দাঁড়ানো ট্রেনগুলো হলো চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী ঢাকা মেইল, চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস, ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বিজয় এক্সপ্রেস, চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মেঘনা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস। চন্দ্রনাথ ধাম দর্শনে সপরিবার রংপুর থেকে আসা পুণ্যার্থী মন্টু মণ্ডল জানান, তারা রিজার্ভ বাস নিয়ে শিবচতুর্দশী মেলা পরিক্রমা করতে রবিবার বিকেলে সীতাকুণ্ডে পৌঁছান। তাঁদের সঙ্গে আসা অন্য তীর্থযাত্রীরা মঠ-মন্দিরে উঠলেও তিনি উঠেছেন আত্মীয়ের বাসায়। সোমবার ভোরে ব্যাসকুণ্ডে স্রান সেরে সবাইকে নিয়ে উঠেছেন চন্দ্রনাথ মন্দিরে। সেখানে দেবাদিদেবের পূজার্চনার পর আবার নিচে নেমে এসেছেন। এদিন সন্ধ্যায় শিবচতুর্দশী তিথি শেষ হওয়ার পর তাঁরা ব্যাসকুণ্ডে পিতৃপুরুষের জন্য তর্পণ ও পিণ্ডদান করবেন। এরপর পুনরায় বাড়ি ফিরে যাবেন তাঁরা। কক্সবাজার চকরিয়া থেকে আসা আরেক পুর্ণার্থী রতন শীল বলেন, রবিবার বিকেলে শিবচতুর্দশী তিথি শুরুর পর ব্যাসকুণ্ডে স্নান সেরে তাঁরা স্বপরিবারে চন্দ্রনাথ মন্দির দর্শনে ওঠেন। সেখানে তাঁরা দেবাদিদেব মহাদেবের চরণে অর্ঘ্য প্রদানের পাশাপাশি মঙ্গল কামনায় শিবের মাথায় জল ঢালেন। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম বলেন, শিবচতুর্দশী মেলা ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হয়েছে উপজেলার প্রত্যেক মঠ, মন্দিরসহ পুরো এলাকা। মেলায় আসা সনাতনী পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশের ১৫টি মোবাইল টিম। মেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ফখরুল ইসলাম বলেন, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ছয়টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। চিকিৎসকদের একটি দল এবং আনসারের পাশাপাশি পুলিশের প্রায় ৫০০ সদস্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন।
মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে বিভিন্ন সময়ে নাফনদে মাছ শিকারের সময় আটক হওয়া ৭৩ জন বাংলাদেশি জেলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া। দীর্ঘদিন পর দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরে জেলেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। টেকনাফ ঘাটে এসময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, অপেক্ষায় থাকা পরিবার-পরিজনদের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি। বিজিবির সিও বলেন, টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া সংলগ্ন ট্রানজিট জেটিঘাট দিয়ে জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ধাপে ধাপে মিয়ানমারে আটক সব বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নাফ নদ ও সাগর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের মুক্ত করতে বিজিবি আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করে তৎপরতা চালাচ্ছে। বিজিবি সূত্র জানায়, গত পাঁচ মাসে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন উপকূলীয় জলসীমা থেকে অন্তত ৪২০ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা হুমায়রা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে অপহরণের পাঁচ মাস ধরে জানি না তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে। আজ তিনি ফিরবেন এ আশায় বসে আছি। শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মিয়ানমারে আটক নুরুল আলমের ভাই ছৈয়দ আলম বলেন, আজ জেলেরা ফেরত আসবেন শুনে এখানে এসেছি। খুব খুশি লাগছে, তবে তালিকায় আমার ভাইয়ের নাম আছে কি না, জানি না। বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে মাছ শিকার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বাংলাদেশি জেলেরা জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারে ঢুকে পড়লে আরাকান আর্মি তাদের আটক করে। পরবর্তীতে তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছিল। তারা আরও জানান, আটক জেলেদের ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজার অঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সমন্বিত মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। আরাকান আর্মির ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ, মধ্যস্থতা এবং সফল আলোচনার প্রেক্ষিতে আজ প্রথম ধাপে ৭৩ জনকে মুক্তি দেয়া হয়। এদিকে জেলেদের ফেরত আনার খবরে অনেক পরিবার দুপুর থেকে টেকনাফ জেটিঘাটে ভিড় করেছেন। প্রিয়জনদের একনজর দেখতে অনেকে সকাল থেকেই সেখানে অপেক্ষা করছেন।
লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে নদীপথে পাচারকালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ৩০০ বস্তা টিএসপি ও ডিএপি সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট ফেরিঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাশ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে একটি চক্র ভোলা-বরিশাল লক্ষ্মীপুর নৌ-রুট মজুচৌধুরী ফেরিঘাট দিয়ে অবৈধভাবে বিএডিসির সার পাচার করে যাচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ ফেরীঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ইঞ্জিনচালিত লোহার ট্রলারর ভর্তি ৩০০ বস্তা টিএসপি ও ডিএপি সার জব্দ করা হয়। এ সময় দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাশ বলেন, দেলোয়ার সার পাচারকারী চক্রের নিয়ন্ত্রক। ভবিষ্যতে যেন সার পাচার না হয় সেজন্য কৃষি অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।