বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্রাদার্স স্টোর্সের দোকানি মো. তামিম বলেন, কাশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিক থেকে অর্ধশতাধিক লোক মিছিল নিয়ে আসে। তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা এক নারী চা দোকানি বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে কয়েকজনকে জয় বাংলা স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যেতে দেখেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আনিসুর রহমান বলেন, বিকট শব্দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সড়কের মধ্যে কিছু বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে আশপাশে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। শব্দের উৎস কী ছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে প্রায় দেড় বছর আগে গাঁজাসহ আটক করেছিলেন অপ্রতিমের মা কুবি’র বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন। গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বর থেকে ফাহাদসহ সাত কিশোরকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নাহিদা বেগম। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে আটকদের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এর প্রায় দেড় বছর পর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন- সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), কামরুল হাসান (১৬) ও মো. সিয়াম (১৯)। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন ও মো. সিয়ামকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চার আসামির মধ্যে সিয়াম ছাড়া সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদিকে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লালন চত্বর থেকে গাঁজাসহ সাত কিশোরকে আটকের ছবি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারও নিশ্চিত করেছেন, ছবিতে থাকা সাত কিশোরের একজন ফাহাদ। জানা গেছে, ফাহাদ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে। তার বাবা অটোচালক। ফাহাদ ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, চলতি মাসের ২ তারিখে ফাহাদ তার ইলেকট্রিক অফিসে চাকরি নেয়। তবে ফাহাদের মা জুলি আক্তার দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গাঁজাসহ আটক হওয়া সাত কিশোরের মধ্যে ফাহাদ ছিল না। এদিকে অপ্রতিমকে বিভিন্নভাবে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা আমি মেনে নেব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তার শাস্তি আমি পাব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো?’ নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না।’
গোপালগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জেলা কার্যালয় ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের সূচনা হয়। পরে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় দুর্নীতিবিরোধী রচনা প্রতিযোগিতা। আয়োজকরা জানান, এবারের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জেলার ১৬টি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের বিতার্কিক দল অংশ নিয়েছে। দলগুলো মোট আটটি বিষয়ের ওপর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল বিতর্ক শেষে চিত্রাঙ্কন, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি হবে।
বগুড়ায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের পুনঃপদায়নের সিদ্ধান্ত বাতিল ও তাকে অন্যত্র বদলির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন আইনজীবীরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলা বারের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ আইনজীবীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের হয়রানি এবং বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তাকে বগুড়া থেকে বদলি করা হয়। সম্প্রতি তাকে আবারও বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবারই তার বগুড়ায় যোগদানের কথা রয়েছে। কর্মসূচিতে জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির অ্যাডভোকেট (জিপি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে এর আগে বগুড়া থেকে বদলি করা হয়েছিল। এরপর আবার কেন একই স্থানে তাকে পদায়ন করা হলো, তা বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে বারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তিনি অবিলম্বে তার পুনঃপদায়নের আদেশ বাতিল করে অন্যত্র বদলির দাবি জানান। জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সভাপতি শেখ রেজাউর রহমান মিন্টুর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, আব্দুল বাছেদ পিপি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ও স্পেশাল পিপি আলী আজগার, স্পেশাল পিপি মোজাম্মেল হক, বারের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান খান মুক্তা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক একেএম সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী শফিকুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান মাখনসহ অনেকে। এদিকে মো. মনিরুজ্জামানকে পুনরায় বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আদালতপাড়ায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
গ্রাম আদালত কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা ও সক্রিয় করা গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ আদালতের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। বুধবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের মিনি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গ্রাম আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে হবে। গ্রাম আদালত যত বেশি সক্রিয় হবে, সাধারণ মানুষের আস্থাও তত বাড়বে।’ মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় জনসচেতনতা সৃষ্টি ও স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপায়ণ দেব, গাংনী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক নাসিমা খাতুন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ মাসুদ, পিএফএ সাহাজুল ইসলামসহ উপজেলা সমন্বয়কারীরা। সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন জেলা ব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান।
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিদিন দানের টাকা গণনা হবে। প্রাপ্ত টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে জন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে, আর বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে টাকা মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সভা শেষে এসব তথ্য জানান এই কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর ফলে শাহজালাল মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রায় দুই মাসের সিদ্ধান্তহীনতার অবসান হলো। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখন থেকে শাহজালাল মাজারের দানের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকা থেকে ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে জন্য সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে। এই অ্যাকাউন্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও মাজারের মতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকী ৬৫ শতাংশ টাকা মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে।’ জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘টাকা গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মাজার কমিটির পক্ষে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। এছাড়া একজন হিসাব রক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।’ মাজার পরিচালনায় একটি কমিটি গঠন করা হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কমিটির সদস্য হবেন সাতজন। এর আহ্বায়ক হবেন জেলা প্রশাসক। কমিটিতে সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদের একজন করে প্রতিনিধি ও পুলিশ সুপার থাকবেন। আর মাজারের মতোয়াল্লি এই কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে থাকবেন। এছাড়া নিয়োগকৃত ম্যানেজার এই কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি মাজারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’ হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ ও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে গত ২৩ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এক মাসের মধ্যে কমিটি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ দেবে বলে সেদিন জানানো হয়েছিল। তবে প্রায় আড়াই মাস পর এই কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে। এতদিন কোনো নীতিমালা না হওয়ায় বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগের পর থেকে মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে এবং গণনার পর টাকা জেলা প্রশাসনের খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হচ্ছে। এতে মাজার পরিচালনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে জানিয়েছেন হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের খাদেমরা। প্রসঙ্গত, হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। দানবাক্স ও ডেগ সিলগালার পর জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের এ উদ্যোগের পক্ষে-বিপক্ষে সিলেটজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। একপক্ষের দাবি, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসক কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যপক্ষের অভিযোগ, মাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার নামে তার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ছিল একতরফা ও জোরপূর্বক, যা মাজারকেন্দ্রিক প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। এর পরদিন তার উপস্থিতিতে দানবাক্স সিলগালার চারদিন পর জনসমক্ষে বাক্সের তালা খুলে টাকা গণনা করা হয়। গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণ-রূপাও পাওয়া যায়। সর্বশেষ ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়। সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। এদিনও দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়।
কুমিল্লায় হত্যার শিকার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে বিভিন্ন আইডি থেকে ব্লেইম করা হচ্ছে। আমার ছেলে কিছু বোঝে? আমার দুধের শিশুকে অপরাধী বানাতে চাইলে আমি এটা কখনোই মেনে নেব না। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা কোটবাড়ি গন্ধমতিতে অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি আইনজীবীদের কাছে এসব কথা বলেন। নাহিদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা আমি মেনে নেব না। অপ্রতিমের মা আরও বলেন, আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তার শাস্তি আমি পাব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো? আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না। ড. নাহিদা বলেন, আমি শুধু আমার ছেলের জন্য বিচার চাই না। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন নেবে, কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে— সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক। এ সময় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) অ্যাডভোকেট তারেক আবদুল্লাহ, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল হক খন্দকার এবং সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে আইনজীবীরা অপ্রতিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সমবেদনা জানান। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আইনজীবীদের একই প্রতিনিধি দল বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক করে।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটে মেঘনা নদীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা জলবিলাস নামে একটি হোটেল এবং নির্মাণাধীন আরেকটি হোটেলের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদফতর। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরিবেশ অধিদফতর চাঁদপুরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়াসহ কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। এ সময় ‘জলবিলাস’ ও নির্মাণাধীন ‘হাওয়া বদল’ নামে আরেকটি হোটেল মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। চাঁদপুর পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, নদীর তীরে হোটেল চলমান এবং নির্মাণ হচ্ছে এমন শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে। এই দুই হোটেলের মালিক পরিবেশ অধিদফতরের কোনো ছাড়পত্র নেননি। যদিও তারা দাবি করছেন এই সম্পত্তি তাদের। তারপরও বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে দুই হোটেলের মালিককে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এর আগে, গত ২৪ আগস্ট মেঘনা নদীর তীর ও নদীর তীরবর্তী সরকারি জায়গা দখল করে হোটেল নির্মাণের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তের নির্দেশ দেন চাঁদপুরের মতলব আমলি আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ। একই সঙ্গে ওই এলাকায় নির্মিত স্থাপনার সংখ্যা, নির্মাণকাজে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব বিষয় তদন্ত করে মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাভারের আশুলিয়ায় প্রীটি গ্রুপের ‘এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ চত্বরে সিলিন্ডারবাহী গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত নূর ইসলাম (৪০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক হারুন অর রশিদ জানান। তিনি বলেন, নূর ইসলামের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং তার শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নূর ইসলামের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার দিঘরাজ এলাকায়। রোববার সন্ধ্যায় কারখানা চত্বরে আগুন ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানা প্রাঙ্গণে থাকা সাত-আটটি সিলিন্ডারবাহী গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে লরির ভেতর থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এদের মধ্যে একজন চালকের আসনে বাসা অবস্থাতেই দগ্ধ হয়ে মারা যান। বিস্ফোরণের পর সিলিন্ডারের ছিটকে আসা অংশের আঘাতে রাস্তার কাপড়ের দোকানি মোছাম্মত জয়নব বেগম (৫৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুলবুল নামের আরও একজন মারা যান। মঙ্গলবার নূর ইসলাম মারা গেলেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। আহতদের মধ্যে পরিবহন শ্রমিক, পথচারী, আনসার সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে এখনও দুজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি করেছে।
বৃষ্টিপাত বেড়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্যাপ্রবণ তিস্তা, কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি বাড়তে পারে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এমন তথ্য জানিয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দেশের অভ্যন্তরে ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে, যমুনা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল আছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল আগামী পাঁচ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। অপরদিকে, যমুনা নদীর পানির সমতল আগামী এক দিন হ্রাস পেতে পারে এবং পরবর্তী চার দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। গঙ্গা নদীর পানির সমতল হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে, পদ্মা নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল আছে, যা আগামী পাঁচ দিন হ্রাস পেতে পারে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিন বাড়তে পারে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল হ্রাস পেয়েছে। তিস্তা নদীর পানির সমতল আগামী এক দিন হ্রাস পেতে পারে এবং পরবর্তী দুদিন বাড়তে পারে। অপরদিকে, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রিপন মিয়া (৩৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতারের সময় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের ওপর হামলা করে রিপনকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের ওপর কেউ হামলা করেনি এবং কোনও পুলিশ সদস্য আহত হননি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বৈদ্যরবাজার খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া রিপন মিয়া কুমিল্লার মেঘনা থানার কুদরত আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন মেঘনার বাসিন্দা হলেও চলাচলের সুবিধার জন্য সোনারগাঁয়ের বৈদ্যরবাজার এলাকায় আসা-যাওয়া করতেন। সোমবার বিকালে তাকে গ্রেফতারের জন্য সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুরুজ্জামানের নেতৃত্বে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাসমত উল্লাহসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ রিপনকে গ্রেফতার করার পর তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তারা রিপনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলেও স্থানীয় সূত্র জানায়। সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত বলেন, বিকেলে দুই পুলিশ সদস্য সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম হাসমত উল্লাহ। তারা সম্ভবত ধস্তাধস্তির ঘটনায় আহত হয়েছেন। তবে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই সুরুজ্জামান বলেন, ‘আমি সহ তিনজন পুলিশ সদস্য খেয়াঘাট এলাকায় দ্রুত বিচার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিলাম। এ সময় আসামি আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে আমাদের ওপর কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি।’ সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল বারিকও বলেন, আসামিকে গ্রেফতার করতে গেলে সে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশের ওপর হামলার কোনও ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ কর্মকর্তাদের আহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মেঘনা থানার দ্রুত বিচার আইনের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেফতারের জন্য সোনারগাঁ থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। গ্রেফতারের সময় তার নাম-পরিচয় জানতে চাইলে সে কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় পুলিশের ওপর কেউ হামলা করেনি এবং কোনও পুলিশ সদস্য আহত হননি।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মো. সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফ (২৩) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মতিঝিল থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গোয়েন্দা রমনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে নাশকতা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে আসে। পরে তারা ককটেল সদৃশ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর গোয়েন্দা রমনা বিভাগের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মতিঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। পরে গ্রেফতার সাকিবকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চারটি ককটেল সদৃশ অবিস্ফোরিত বস্তু উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি। ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) নিয়াজ মেহেদী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চারটি ককটেল সদৃশ অবিস্ফোরিত বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেফতার সালমান ইসলাম সাকিব নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মতিঝিল থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজ এলাকা বরগুনায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে রুবেল হোসেন নামে এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন নজরদারিতে রাখার পর নিজ বিভাগের সদস্যদের অভিযানে আটক হন তিনি। পরে ডোপ টেস্টে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে আদালত তাকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করা হলে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন। এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল হোসেন বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকার হামিদ মৃধার ছেলে। তিনি বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তিনি বরগুনায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত, এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে অধিদপ্তর। অধিদপ্তর সূত্র আরও জানা গেছে, রোববার রুবেল হোসেন ঢাকা থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে বরগুনায় আসছেন, এমন তথ্য পেয়ে বেতাগীর চান্দখালী বাজারের কিছুটা সামনে চেকপোস্ট বসান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। সেখানে রুবেলকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি একটি সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। তবে আটকের সময় রুবেলের সঙ্গে থাকা একটি ছোট ব্যাগ পাওয়া যায়নি। ওই ব্যাগে মাদক ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডোপ টেস্টে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এরপর দুপুরে তাকে বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কনস্টেবল পদে চাকরিতে যোগ দেন রুবেল। চাকরির পর বরিশাল ও বরগুনায় তিনি ও তার পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে উঠেছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, চার বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন রুবেল ও তার পরিবার। তবে এসব সম্পদের উৎস ও মালিকানার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল, রুবেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। যাচাই বাছাই করে আমরা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হই। রোববারও তথ্য ছিল, তিনি ঢাকা থেকে ইয়াবার একটি চালান নিয়ে বরগুনায় আসছেন। এ কারণে আমরা চেকপোস্ট বসাই। রুবেলকে একটি ছোট ব্যাগসহ আটকের চেষ্টা করা হলে তিনি একটি সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে পেছন দিক থেকে বের হয়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। তবে তার কাছে ব্যাগটি পাওয়া যায়নি এবং জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি ব্যাগটির বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। তিনি ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছেন। পরে ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, রুবেল হোসেনের মামলার বিষয়ে ইতিমধ্যে অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। নীতি অনুযায়ী অধিদপ্তর রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুতে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সেতু রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের কাজ রাতের আঁধারে করা হচ্ছিল। এতে সন্দেহ হলে তারা গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। রাতে একপর্যায়ে সেতুর কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল উপজেলাধীন বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০.০৬ মিটার দৈর্ঘ্য গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের কাজ পাই মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ও শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে। পরে এই সেতুর কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এই সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ২০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, আমাদের এই মাইজখাড়ার ভেতরে যে সেতুটি হচ্ছে, এই সেতু বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিল, এই টাকাগুলো তাহলে গেলো কোথায়? আর এতো দুর্নীতি করছে আমাদের এই সেতুতে! এই ঠিকাদারের সঙ্গে আরও হয়তো স্থানীয় মানুষ জড়িত আছে। নয়তো ঠিকাদার তো এই জায়গায় এসে এভাবে সাহস পাবে না বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার। সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক ও বিচার চাই। স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, সেতুটির কাজ করবে দিনে, তারা কাজ করছে রাতে। রাতে এলাকার ছেলেরা সেতুতে দেখে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দিচ্ছে। কিছু বালি-সিমেন্ট ও বাঁশ শুধু ঢালাই দিয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, এই গ্যাপগুলোর ভেতরে খোলা শাটার বের করার সুযোগ নাই। বড়গুলোর ভেতরে শাটার দিয়ে কাজ করেছি, আর ওইগুলো এই গ্যাপ দিয়ে বের করেছি। আর এটা বাঁশ দিয়ে স্লাব বানিয়ে ওপরে সিমেন্টের একটা বস্তা দিয়ে খাঁচা দিয়ে আমরা ঢালাই করেছি। এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, সেতুর নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে। এ প্রসঙ্গে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ফজলুল করিম বলেন, “মরিয়ম যে রুমে থাকতো, সে রুম থেকে তার লেখা কিছু চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। তাতেও চিরকুট উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। একটি চিরকুটে লেখা আছে, “শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…। আরেকটিতে লেখা, “আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। “আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ। আরেকটি চিরকুটে আছে দুটি লেখা। একটিতে আছে, “সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর…!!! আর আমি ছিলাম বোকা…!!!অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…! অপর লেখায় আছে, “কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়…ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ! মামলার এজাহারে বাবা মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম। এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন’ করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। শেরেবাংলা নগর থানার একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তারা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্পিকারকে অবগত করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে সাতদিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (জেএফসিএল) দীর্ঘ ২১৬ দিন পর আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। কারখানা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কারখানার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও ইউরিয়া কারখানাটি পুরোপুরি বাণিজ্যিক উৎপাদনে ফিরতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯১ সাল থেকে যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটির দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাস-সংকট ও কারখানার যন্ত্রপাতির দুর্বলতার কারণে বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। যমুনা সার কারখানায় উৎপাদিত সার জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের মোট ১৯টি জেলায় সরবরাহ করা হয়।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ন্যাম ভবনের একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ পাওয়া যায়। গত জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নৈতিক স্খলনের দায়ে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, খবর পেয়ে আমিসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছি। ভবনের একটি রুমের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। এরপর থানা পুলিশ রুমে প্রবেশ করবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) কাছে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। পুলিশ সুপার বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে আমরা জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করি। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হই যে, ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখি ও পর্যালোচনা করি। এতে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার আগেই আমরা হেফাজতে নেই। আনিসুজ্জামান বলেন, একটানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আমাদের কাছে স্বীকার করে যে, অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশেই পরিকল্পনা করে সে তাকে ওই নির্জন ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। তুহিন আরও জানায়, এ ঘটনায় ফাহাদ এবং ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার আরেক বন্ধু কামরুলও জড়িত। ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কামরুলকে হেফাজতে নেই। পুলিশ সুপার বলেন, তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে, প্রথমে সে আমাদের ভুল পথে পরিচালিত করেছিল। আইফোনটি উদ্ধারের জন্য আমরা তিন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করি। কোথাও না পাওয়ার পর অবশেষে তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান পরিচালনা করি। সেখানে তার দেখানো স্থান থেকে আইফোনটি আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হই। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, ঘটনার দিন বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় প্রথমে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। একপর্যায়ে অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন আইফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ছাড়া আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করেছি। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। জেলা পুলিশ সুপার বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যাচ্ছি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুতই পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। তিনি বলেন, আমরা আদালতের কাছে আবেদন রাখব, লামিসা হত্যার মামলাটি যেমন দ্রুত রায় এসেছে, এ মামলাটিও যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়।
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বাহরাইন প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ‘উধাও’ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসী ইব্রাহিম খলিলের বাবা হারুনুর রশিদ শাহরাস্তি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে শেখ রহমত উল্লাহ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তাদের দুজনের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পরদিন রোববার সকালে শেখ রহমত উল্লাহর স্ত্রী, প্রবাসী ইব্রাহিম খলিলের দুই শিশু কন্যা ফাতেহা জাহান (১০) ও ফারহান জাহান (৬) এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা থানায় উপস্থিত হন। অভিযোগকারী হারুনুর রশিদ দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে শেখ রহমত উল্লাহ ও মরিয়ম বেগমের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর ইব্রাহিম খলিলকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। ইব্রাহিম খলিলের ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হলে শ্যালককে অবহিত করা হয়। এর মধ্যেই শনিবার রাতে তারা পালিয়ে যায়। শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় শেখ রহমত উল্লাহ ও মরিয়ম বেগমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে মহাসড়কের উভয় লেনে যানজটের শঙ্কা। অবরোধ চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। এর ফলে মহাসড়কের ওই অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এর আগে, সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ১১টায় গন্ধমতি এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। এর আগে, শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তার মরদেহের সন্ধান মেলে। পুলিশের তথ্য মতে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি নির্জন স্থানে স্থানীয় কয়েকজন অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তুহিন নামে একজনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে আরও দুজনসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত বলে দাবি পুলিশের। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে পুলিশ। শনিবার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শনিবার রাতে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত হয়েছে। তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলছেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও আলামতে অপ্রতিমকে আইফোনের জন্যই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন বিষয় অনেকটাই পরিষ্কার। জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেছেন, আমরা পুরো ঘটনার বিস্তারিত রোববার দুপুর ১২টার সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরব। সেই পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। এদিকে হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নানা বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকার মাদক সিন্ডিকেট এবং কিশোর গ্যাং জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইফোন ছিনতাই এবং অপ্রতিমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ কোনো চক্র এতে জড়িত থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এদিকে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, এসআরবি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম তার স্বামী এবং একমাত্র সন্তান অপ্রতিমকে নিয়ে কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে একমাসের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়রা জানায়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসে মাদক সেবনরত অবস্থায় সালমানপুর এলাকার ৮ কিশোরকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগম তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করেন। সে সময় সালমানপুরের মাদক ব্যবসায়ী মিলন এবং আল আমিনের নাম উঠে আসে। ওই ঘটনায় এলাকার কিশোর গ্যাং এবং মাদক চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া অপ্রতিমের হাতের মূল্যবান আইফোন ছিনতাইসহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শুক্রবার প্রথমে ছবি তোলার প্রলোভন দেখিয়ে তুহিন নামের এক কিশোর গ্যাং সদস্য তাকে পাহাড়ে নিয়ে যায়। এ সময় আনাছ নামের অপর কিশোরসহ কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছিল বলে জানা যায়। সূত্র জানায়, সেখানে কিশোর গ্যাং এর একটি চক্র আগে থেকেই ওঁতপেতে ছিল। তাকে শ্বাসরুদ্ধ এবং মারধর করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। তার আইফোন এবং মানিব্যাগ লুটে নেওয়া হয়। পরে ঘাতকরা তার লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক’-এর পেছনের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে কুবি ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। নিহতের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার। নিখোঁজের পর থেকেই অপ্রতিমকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর ছিল। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল পুলিশ। নিহত অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, কী কারণে আমার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করা হলো আমি জানি না। আমি ঘাতকদের বিচার চাই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।