সারাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ সময় গ্যাস সংকটে ভুগবে যেসব এলাকার বাসিন্দারা

গ্যাস লাইন প্রতিস্থাপন কাজের জন্য আগামীকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।   সোমবার (২০ জুলাই) এক বার্তায় তিতাস গ্যাস জানায়, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, পুকুরপাড়, ধানমন্ডি, ঢাকা এলাকায় লিকেজযুক্ত পুরাতন বিতরণ লাইন পরিবর্তন ও সার্ভিস লাইন প্রতিস্থাপন কাজের জন্য মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা ঘটিকা পর্যন্ত মোট ৮ ঘণ্টা ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, ভূতের গলি, কিচেন রোড, আল আমিন রোড, কাঁঠালবাগান এলাকায় বিদ্যমান আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।   এছাড়া আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। গ্রাহকবৃন্দের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিবাহবার্ষিকীর আনন্দের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিরনিদ্রায় সেনাসদস্য

দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীর আনন্দ তখনো শেষ হয়নি। স্ত্রী নিঝুম ইমাকে (২২) নিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. সাকিব ইমন (২৬)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেই আনন্দের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল একটি তাজা প্রাণ। মুহূর্তেই উৎসবের হাসি পরিণত হলো আজীবনের কান্নায়।   রোববার (১৯ জুলাই) রাতে কক্সবাজারের ঝিলংজা দরগাপাড়া স্টেশনের পূর্ব পাশে ট্রেনিং পয়েন্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।   স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই স্ত্রীকে নিয়ে দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন ইমন। কে জানত, সেটিই হবে তাদের একসঙ্গে কাটানো শেষ আনন্দের দিন!   নিহত সেনাসদস্য মো. সাকিব ইমন বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের শহরতলীর চরগ্রামের সাবেক সেনা সদস্য কবির ডাকুয়ার একমাত্র পুত্র। মাত্র দুই বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল। তাদের কোনো সন্তান নেই।   ইমনকে হারিয়ে তার মা-বাবা এখন শোকে বাকরুদ্ধ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ। যে সন্তানকে ঘিরে ছিল তাদের জীবনের সব আশা-ভরসা, সেই সন্তান আজ চিরবিদায় নিয়েছেন।   বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সোমবার (২০ জুলাই) পরিবারের কাছে মৃত্যুর সংবাদ আসে। জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে ক্যান্টনমেন্টে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা সম্পন্ন করে আজ হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ বাগেরহাটে পাঠানো হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
টেকনাফ উপকূলে একের পর এক ভেসে আসছে মরদেহ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে আরও এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত ১২ দিনের ব্যবধানে টেকনাফ উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হলো। ধারাবাহিকভাবে মরদেহ ভেসে আসার ঘটনায় সমুদ্রপথে মানবপাচার কিংবা মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।   সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।   শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সনজীব জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহটির চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। মৃত ব্যক্তির পরনে গাঢ় নীল রঙের হাফ প্যান্ট ও হালকা সবুজ রঙের জার্সি ছিল। মুখে হালকা দাড়ি-গোঁফ রয়েছে এবং বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে পারে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।   টেকনাফ নৌ পুলিশের এসআই সুমন চন্দ্র নাথ বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি নাকি রোহিঙ্গা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   এদিকে সম্প্রতি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, মালয়েশিয়াগামী দুটি নৌকা বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করা দুটি নৌকায় মোট পাঁচ শতাধিক যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কিছু বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিলেন।   এর আগে ৮ জুলাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন ও রাজারছড়া সৈকত থেকে তিন অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ১০ জুলাই শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন সৈকত থেকে একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।   পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক ট্রলারডুবির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগে বলা সম্ভব নয়।   স্থানীয়দের মতে, কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কারণে নাফ নদী ও উপকূলীয় এলাকায় আরও মরদেহ ভেসে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ঢাকায় বড় আয়োজন, জেনে নিন কোথায় দেখবেন ম্যাচ

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্মুক্ত মাঠ, পার্ক, হোটেল ও কনভেনশন সেন্টারে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা-স্পেনের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ দেখার আয়োজন করা হয়েছে।   রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সবচেয়ে বড় আয়োজন করেছে কোকা-কোলা বাংলাদেশ। তাদের সহযোগিতায় টিএসসিতে হাজারো দর্শকের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখানো হবে। এছাড়া হাজী মুহম্মদ মহসীন হলে বিশেষ ওয়াচ পার্টির আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও জাতীয় দলের ফুটবলার শেখ মোরসালিন। একই সঙ্গে জগন্নাথ হল ও হলপাড়া এলাকাতেও থাকবে বড় পর্দার ব্যবস্থা।   মিরপুরের দর্শকদের জন্য মিরপুর সিটি ক্লাব মাঠ এবং মিরপুর ডিওএইচএস সেন্ট্রাল ফিল্ডে খেলা দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কেও থাকছে বিশেষ আয়োজন। ম্যাচ শুরুর আগে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামের শিল্পী সঞ্জয় সংগীত পরিবেশন করবেন।   এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়, ধানমন্ডির পুরাতন ১৯ নম্বর সড়ক এবং পশ্চিম রামপুরার ওমর আলী লাইসিয়াম গ্রামার স্কুলের সামনেও বড় পর্দায় ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে ধানমন্ডি ও রামপুরার এসব স্থানে বসার ব্যবস্থা থাকবে না।   আরও আরামদায়ক পরিবেশে খেলা দেখতে চাইলে রাজধানীর কয়েকটি পাঁচতারকা হোটেলেও বিশেষ আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা, দ্য আলট্রাস ফেস্টিভ্যাল (গুলশান), লেকশোর গ্র্যান্ড, হোটেল আমারি ঢাকা, লে মেরিডিয়ান ঢাকা এবং ক্রাউন প্লাজা।   এ ছাড়া এলিট কনভেনশন হল (গুলশান-১), আর্টিসান ওয়াচ পার্টি (তেজগাঁও) এবং আইসিসিএল কনভেনশন হল (মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ের পাশে) সহ কয়েকটি বাণিজ্যিক ভেন্যুতেও বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ দেখানো হবে। তবে এসব স্থানে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত টিকিট বা ফি পরিশোধ করতে হবে।   ফাইনাল উপলক্ষে দর্শকদের ব্যাপক সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় আয়োজকরা ম্যাচ শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ভেন্যুতে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি গভীর রাতে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ভোলায় খাটের নিচে লুকানো ৩৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার

ভোলার লালমোহন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এক মুদি দোকানির বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে।   শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাতানি বাজার এলাকার মুদি দোকানি জসিমের বাড়ি থেকে এসব চাল উদ্ধার করা হয়।   উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান ব্যবসায়ী জসিমের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে জসিমের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে ৩৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। এরমধ্যে ৩০ কেজির ২৪ বস্তা ও ৫০ কেজির ৯ বস্তা চাল রয়েছে। এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যবসায়ীর স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।   বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করেন। পরে মুদি ব্যবসায়ী মো. অভিযানে মুদি দোকানি জসিমের বসতঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা ৩৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে।   তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া চাল মৎস্য বিভাগের হেফাজতে রয়েছে, নিয়ে বিষয়টি তদন্ত চলছে। এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্জনের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, একাত্তরে একটি গোষ্ঠী আমাদের মা-বোনদের পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য বুদ্ধিজীবীদের তুলে দিয়েছে হত্যার করার জন্য। সেই রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্জন করতে হবে। নয়তোবা এ বাংলাদেশ থাকবে না।   তিনি বলেন, রাজাকার ও পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই আজকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।   শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদীর গাংকুলকান্দী ভূইয়া বাজার মাঠ সংলগ্ন মাঠে নব দিগন্ত ক্লাব আয়োজিত মেধা বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।   নবদিগন্ত ক্লাবের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোস্তাক আহমেদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান, সহকারী কমিশনার ভূমি সজীব মিয়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, সদস্য গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন শাহীন মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম ফরহাদ।   অনুষ্ঠানে ৪০ জন শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তির ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তোলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হাসনাত আব্দুল্লাহর বৈঠকে আ. লীগ নেতারা, ক্ষুব্ধ বিএনপি

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠন । শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সংচাইল এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আউয়াল চেয়ারম্যানের প্রভাতী ফিসারিজ অফিস কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সভায় বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আউয়াল চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রশিদ শামীম, ছোটশালঘর আওয়ামী লীগের নেতা মো. শাজাহান মাস্টারসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   সভায় স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনসেবাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি আলোচনায় উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার বিষয় নিজ হাতে একটি ডায়েরিতে নোট করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।   এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদদীন সরকার দৈনিক আমার দেশ কে বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর কথার সাথে কাজের কোন মিল নেই । সে মাঠে বলে একরকম কাজ করে আর একরকম । সে কিভাবে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়ে মিটিং করে । জনগণ তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ।   এই বিষয়ে বড়শালঘর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি আউয়াল চেয়ারম্যানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।   আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে বৈঠক করেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা -৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ কে হোয়াটসঅ্যাপে খোদে বার্তা পাঠিয়ে কোন উত্তর পাওয়া যায় নি এবং তিনি ফোন ধরেননি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৮, ২০২৬
চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
‘আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি’, কক্সবাজারে বন্যাদুর্গতদের মাঝে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি রাষ্ট্রীয় কাজে বিদেশে থাকার কারণে বন্যার মূল সময়ে আপনাদের কাছে ছুটে আসতে পারিনি, সে জন্য আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। পরে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনারা নিশ্চয়ই আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন? এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে এবং যে কোনো দুর্যোগে সাধারণ মানুষের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আয়োজিত বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মেজর মোজাফফর আহমদ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজন পলাতক আসামি। তিনি এতদিন পলাতক ও আত্মগোপনে ছিলেন। তার হদিস পাওয়া মাত্রই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে, যেন যে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিচার করা হয়েছিল- সে আইনেই তার বিচার সম্পন্ন করা যায়। বিষয়টি সেনাবাহিনী দেখছে। চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপি হচ্ছে জনগণের সরকার এবং দলটি সবসময় জনগণের পাশে থাকবে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যাদুর্গত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বর্তমানে সরকারিভাবে জরিপ চলছে। এই জরিপের ভিত্তিতে দুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের পুনর্বাসন উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে। মন্ত্রী জানান, দেশের যেসব এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় জরিপ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, যেন তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামিম আরা স্বপ্না, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকসার খান, সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার মো. সাজেদুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিন দেলোয়ার, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
‘পছন্দ না হলেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন’: ছাত্রদল নেতার অভিযোগে ক্ষুব্ধ এসপি

‘এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ না, আপনার বহু আগে আমি ঢাকায় ছাত্রদল করে আসছি’ কুমিল্লায় জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতির এক অভিযোগের জবাবে এভাবেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি কুমিল্লা আসার পরে ফ্যাসিস্টরা কুমিল্লায় চলে এসেছে। আপনি তাদের গ্রেপ্তার করছেন না।’ জবাবে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা উচিত। আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। এটা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়; কথা বললে তথ্য নিয়ে বলবেন। নিজের ছাত্রজীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছাত্রদল আমি নিজেও করেছি। আপনার বহু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করে এসেছি। পুলিশের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না তোলার আহ্বান জানিয়ে আনিসুজ্জামান বলেন, যাকে আপনার পছন্দ হয় না, তাকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন! মামলায় কাকে গ্রেপ্তার করব, সেটা আইন অনুযায়ী নির্ধারণ হবে। ওসি কাকে গ্রেপ্তার করবে, সে নির্দেশ আপনারা দিতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, কথা বলার আগে চিন্তা করবেন। একটি বাহিনী সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে বাস্তবতা জানা দরকার। ৫ আগস্টের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যখন কোথাও পুলিশ ছিল না। সেই নড়বড়ে অবস্থা থেকে পুলিশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারকে পুনর্গঠনের সময় দিতে হবে। একটি সরকারের বয়স মাত্র চার মাস। তাদের কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। বিচারহীনতার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বিচার হয় না এ কথা মোটেই ঠিক নয়। বিভিন্ন আলোচিত মামলায় বিচারক রায় দিয়েছেন, অনেকের ফাঁসির আদেশ হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আমি নিজেই অনেককে গ্রেপ্তার করেছি এবং চার্জশিট দিয়েছি।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৮, ২০২৬
মার্কেটে কেনাকাটা চলছে। ছবি : সংগৃহীত
শনিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

আমাদের প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রয়োজনে মার্কেটে যেতে হয়। তবে রাজধানী ঢাকায় একেক দিন একেক এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকে। আজ আপনি হয়তো প্রস্তুতি নিচ্ছেন আপনার পছন্দের কোনো মার্কেটে যাবেন। যদিও সেই মার্কেট খোলা আছে কি-না, তা হয়তো জানা নেই।   আসুন জেনে নেয়া যাক শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট, শপিংমল ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকে।   বন্ধ থাকবে যে সব এলাকার দোকান শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, চাঁনখারপুল, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেন্ডারিয়া, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতিবাজার, লক্ষ্মীবাজার, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, স্বামীবাগ, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, দোলাইপাড়, বংশাল, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শাঁখারী বাজার।   বন্ধ থাকবে যে সব মার্কেট ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, নয়াবাজার, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, বাবুবাজার, শারিফ ম্যানসন ও আজিমপুর সুপার মার্কেট।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বরিশালে শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ আজ। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টায় কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহে অনুষ্ঠাতব্য এই সমাবেশে অংশ নেবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।   এছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মসজিল, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জগপা) সহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন।   বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি। সমাবেশ স্থলে মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি বরিশালজুড়ে পোস্টার, বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। দফায় দফায় বৈঠক করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা।   জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল অঞ্চল পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল জানিয়েছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। দুপুর ২টায় কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহে সমাবেশ শুরু হবে।   তিনি জানান, বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সভাপতিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল।   এছাড়াও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ-বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা’র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বিডিপি’র চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ ঐক্য জোটের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।   মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান শনিবার সকালে সড়ক পথে বরিশাল এসে পৌঁছাবেন। নগরীর প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপার থেকে শুরু করে নথুল্লাবাদ, হাতেম আলী চৌমাথা, আমতলার মোরসহ সার্কিট হাউস পর্যন্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বরণ এবং সংবর্ধনা জানাবেন।   তিনি বলেন, সমাবেশ বাস্তবায়ন এবং সুশৃঙ্খল করতে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পরিবহন ও নৌযান নোঙরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, চিকিৎসা সহায়তা ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।   সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সমাবেশের নিরাপত্তায় দায়িত্বপালন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও মিডিয়া কর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজার সৈকতে আচমকা মিনি টর্নেডো

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে আচমকা আঘাত হেনেছে একটি মিনি টর্নেডো। এতে সৈকতে পর্যটকদের বসার জন্য রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টর্নেডোটি ৩ থেকে ৫ মিনিট স্থায়ী ছিল। সাগরের মাঝখান থেকে কালো মেঘের মতো একটি ঘূর্ণি দ্রুত সুগন্ধা পয়েন্টের বালুচরের দিকে ধেয়ে আসে। মুহূর্তেই সৈকতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।   কক্সবাজার কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, সাগর থেকে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিটি ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে এসে সুগন্ধা পয়েন্টে আঘাত হানে। এতে ব্যবসায়ীদের ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ভেঙে যায়।   ঘটনার সময় সৈকতে থাকা পর্যটক মেহেদী হাসান বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যে সাগরের মাঝ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে বাতাসটি বিচের দিকে ধেয়ে আসে। চোখের সামনে চেয়ার-ছাতাগুলো বাতাসে উড়তে দেখে সবাই দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে।’   এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিওতে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এটি সাগর থেকে পানি টেনে আনা একটি ঘূর্ণি, যা তীরে এসে বালির ঘূর্ণিবাত বা ছোট টর্নেডোর রূপ নেয়। তার ভাষ্য, এটি কোনো বড় সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় নয়; বরং তীরবর্তী এলাকায় মেঘ ও বাতাসের তারতম্যের কারণে এমন স্বল্পস্থায়ী ঘূর্ণির সৃষ্টি হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতন, অভিযুক্ত চাচি গ্রেপ্তার

নরসিংদীর মাধবদীতে দুই মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মুচড়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি চাচি ফারজানা আক্তার লতা (৩২)কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১।   শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-১১ নরসিংদী সিপিএসসির ক্যাম্প কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম।   তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নির্যাতনের ভিডিওর সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে লতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   র‍্যাব জানায়, নরসিংদীর মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদি গ্রামের বাসিন্দা জহির মিয়া ও সাইফা আক্তারের দুই মাস বয়সী ছেলে রিজিকের ওপর নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।   ভিডিওতে দেখা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা মুচড়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় গত ১৪ জুলাই রাতে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করেন।   মামলার পর র‍্যাব-১১ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রধান আসামি ফারজানা আক্তার লতা আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   র‍্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লতা ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।   এর আগে একই মামলায় লতার স্বামী কাউছার আহম্মেদ ও তার বাবা আলমাছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনের মামলায় ঘটনাস্থল ভুল, তদন্তে বিভ্রান্তি

গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগের দিন রাজধানীর পল্টন এলাকার ‘আজাদ প্রোডাক্টসের’ গলিতে গুলিবিদ্ধ হন শাকিল মোল্লা ওরফে বাপ্পি। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। জুলাই যোদ্ধাদের যে সরকারি গেজেট করা হয়েছে, সেখানেও আছে তার নাম।   গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করে ২০২৫ সালের ৬ মে নিজে বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন এই জুলাই যোদ্ধা। মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের ও স্থানীয় নেতা, পুলিশের শীর্ষ কর্তাসহ ৩৪৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।   মামলার তদন্ত ভার পড়ে পল্টন থানা পুলিশের ওপর। তদন্তে নেমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে বেগ পেতে হয় তদন্ত কর্মকর্তার। পর পর দুইজন কর্মকর্তা তদন্ত করেও ঘটনাটি সত্য কিনা, তা জানতে পারেননি। তৃতীয় কর্মকর্তা এসে সত্যতা যাচাই না করতে পারার রহস্য উন্মোচন করেন।   এই তদন্ত কর্মকর্তা খুঁজে পান, মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে, সেটি সঠিক নয়। তাই আগের কর্মকর্তারা তদন্ত শেষ করতে পারেননি।   প্রায় এক বছরের বেশি সময় দুই কর্মকর্তা তদন্ত করেন, তৃতীয় তদন্ত কর্মকর্তার এসে প্রকৃত ঘটনাস্থলের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন। ঘটনাস্থল নিয়ে এই রহস্য কেন, তা জানার চেষ্টা করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।   গেল ৩০ জুন মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান।   সেই তদন্ত প্রতিবেদনে মামলার বাদী শাকিল মোল্লার জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই মামলার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। মামলা যেদিন দায়ের করা হয়েছে, সেদিন তার এক নিকট আত্মীয় তাকে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে, এমন আশ্বাসে একজন আইনজীবীর কাছে পাঠান।   শাকিল যখন সেই আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন তিনি কিছু কাগজপত্রে তার স্বাক্ষর নেন এবং চলে যেতে বলেন।   এক পর্যায়ে মামলার তদন্ত শুরু হলে তিনি মামলার বিষয়ে জানতে পারেন এবং অবাক হন।   ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন এক পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, ৫ অগাস্ট ভারতে চলে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে।   শাকিলের মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আল্লাহ করিম মসজিদ এলাকায় নতুন ফুটব্রিজের নিচে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। একটি বুলেট এসে তার বুকে লাগে। এরপর সেখান থেকে তাকে আন্দোলনকারীরা প্রথমে সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্রও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।   এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম মামলার বাদী শাকিল মোল্লার সঙ্গে কথা বলেছে।   তিনি বলেন, “আমি এই মামলার বিষয়ে জানতামই না। আমাকে সহায়তার কথা বলে ডেকে নিয়ে আইনজীবী রুবেল ভূঁইয়া কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে এই মামলা করিয়েছে। আমার বাড়ি বরিশালে হলেও কাজের সুবাদে আমি মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকি। আমি আল্লাহ করিম মসজিদের সামনেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলাম।   “তারা (নিকট আত্মীয় ও আইনজীবী) যখন আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিল তখন আমার শরীরের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। গুলিবিদ্ধ শরীর নিয়ে এত আগপিছ ভাবি নাই আমি।”   ঘটনাস্থল সঠিক না হওয়ায় মামলার তদন্ত করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল পল্টন থানার এসআই আতিকুজ্জামানের।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনাস্থল সঠিক থাকলে আমরা অনায়াসেই মামলাটি শেষ করতে পারতাম। ঘটনা মোহাম্মদপুরে আর তদন্তের সময় আমরা সত্যতা যাচাই করেছি পল্টনের আজাদ প্রোডাক্টসের গলিতে।   “সেখানে ফল বিক্রেতা থেকে শুরু করে ভবঘুরে সবার কাছেই দিন, তারিখ ও সময় উল্লেখ করে জানতে চেয়েছি। কেউ কিছু বলতে পারে নাই। ফলে আমার আগে দুইজন কর্মকর্তা এটার রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি।”   একটি সত্য ঘটনার ঘটনাস্থল কেন ভুল দেওয়া হল? জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “জবানবন্দি অনুযায়ী উনি (বাদী) তো জানতেনই না মামলা হচ্ছে। তাকে যারা ডেকে এনেছিল, তারাই এই কাজটি করেছে।”   যারা শাকিল মোল্লাকে ডেকে নিয়ে সহায়তার কথা বলে কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে মামলা করেছেন বলে তার অভিযোগ, তাদের একজন আইনজীবী রুবেল ভূঁইয়া।   বৃহস্পতিবার রাতে এই আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। তিনি শাকিল মোল্লার মামলা সম্পর্কে জানেন কিনা, এ প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন এই আইনজীবী।   না জানিয়ে মামলার করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুবেল ভূঁইয়া বলেন, “এই বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। তাই এই মুহূর্তে আপনার সঙ্গে এটি নিয়ে কথা বলতে চাইছি না।”   ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের গত বছরের অগাস্টের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ দমন-পীড়নের বিভিন্ন ঘটনায় রাজধানীর ৫০টি থানায় ৭০৭টি মামলা হয়েছে।   ডিএমপি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এসব মামলার মধ্যে ১২৬টির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। গেল ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তত ২১ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।   এই ১২৬টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এজাহারে দেওয়া ঘটনাস্থল সঠিক নয়, এমন মামলার সংখ্যা ১৪। এর মধ্যে পল্টন থানাতেই রয়েছে এমন ১২টি। এছাড়া এজাহারে প্রকৃত ঘটনাস্থল নেই, এমন মামলার সংখ্যা ৩৭।   জুলাই আন্দোলনের দুই বছরেও সারাদেশে দায়ের করা মামলার বেশির ভাগেরই তদন্ত শেষ না হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। সারাদেশে ১ হাজার ৮২৬টি মামলার মধ্যে ২৫৪টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার তথ্য এসেছে এসব খবরে। মামলায় ঢালাও আসামি করা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও এসেছে।   মামলা তদন্তের ক্ষেত্রেও বাদী ও ভুক্তভোগী কেউ সহায়তা করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে নেমে এজাহারে দেওয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা না পেয়ে বাদী ও ভুক্তভোগীকে ডেকেও সাক্ষাৎ না পাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তদন্ত কর্মকর্তাদের।   পল্টন থানায় ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি একটি মামলা হয়েছে, যেখানে মো. মোবারক হোসেন নামে এক ব্যক্তি কোটা সংস্কারের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মোবারক যেখানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সেটি পল্টন থানার আওতাধীন এলাকা। তবে মামলার তদন্তে নেমে ঘটনাস্থলে (তদন্ত চলমান থাকায় সুনির্দিষ্ট জায়গার নাম বলা হল না) গিয়ে এমন দাবির সত্যতা পাননি এসআই মো. নূর ইসলাম।   বৃহস্পতিবার তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিস্তারিত জানার জন্য বাদী ও ভুক্তভোগীকে কয়েকবার থানায় ডেকেছিলাম, তারা আসে নাই।”   এই মামলার বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভুক্তভোগীর বোন খাদিজা ইসলামের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কথা বলেছে।   তিনি বলেন, “আমার ভাই ঢাকা মেডিকেলে ছিল। সেখানে একটা সংস্থার নাম করে কিছু টাকা দিয়ে আমাদের কাগজপত্র নিয়ে যায় এবং তারাই মামলাটি করেছে। এর বেশি কিছু জানি না।”   মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল ভুল, এক থানা এলাকার ঘটনায় আরেক থানায় হওয়া মামলাগুলো ত্রুটিমুক্ত করার কথা বলেছেন ডিএমপির সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।   বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি সদর দপ্তরে কর্মরত এই কর্মকর্তা এসবের ভুলের কারণে তদন্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার কথাও বলেছেন।   বৃহস্পতিবার তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামলার একাধিক ঘটনাস্থল বা সঠিক তথ্য না থাকার মতো যেসব প্রতিবন্ধকতা ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে আমলে নেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।   “জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড এবং হত্যাচেষ্টার মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুরুতে তদন্তের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছিল। যেমন—একই ঘটনায় একাধিক থানায় মামলা দায়ের হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা পরবর্তীতে আমরা ত্রুটিমুক্ত ও সংশোধন করেছি। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রকৃত ঘটনাস্থল পড়েছে এক থানায়, অথচ মামলা রুজু হয়েছে অন্য থানায়; সেগুলোও তদন্তের স্বার্থে ইতোমধ্যে ঠিক করা হয়েছে।   নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে যে যার মতো করে যেভাবে পেরেছে তথ্য দেওয়ায় এই ধরনের কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে এগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি এখন একটি নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে চলে এসেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
চুরির অভিযোগ, বিচিত্র শাস্তি হিসেবে যুবককে আদায় করতে হলো ১০০ রাকাত নামাজ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে এবং তওবা করিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।    শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ সোনাপাহাড় ফকির আস্তানা এলাকায় এই ঘটনা ঘট।    অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম রেজাউল করিম (৩৫)। তিনি মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছিল, তবে কাউকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। গতকাল দুপুরে একটি মোবাইল ফোন ও প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির সময় স্থানীয়রা রেজাউল করিমকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তাকে নিজের ভুল স্বীকার করতে বলা হয়। সেখানে উপস্থিত জনসাধারণের সিদ্ধান্তে শাস্তিস্বরূপ তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয় এবং ভবিষ্যতে কোনো অপরাধে জড়াবেন না, এমন অঙ্গীকার করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।   বিষয়টি নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মদ খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ ছিলেন এলাকাবাসী। শুক্রবার হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তাকে মারধর না করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সে যেন ভবিষ্যতে আর এমন পথ বেছে না নেয়, সেজন্য তাকে তওবা করিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয়েছে।’   জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত নই, কেউ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ জানায়নি। তবে চুরির অভিযোগে কাউকে আটক করা হলে আইন অনুযায়ী তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
তাবিজ দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীতে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তার মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং পেশায় তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক। বাড়ির পাশে তার একটি ফার্মেসির দোকান রয়েছে।   ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (১৬ জুলাই) বৃহস্পতিবার জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ওই নারীর ভাইয়ের ছেলের পড়াশোনার উন্নতির জন্য তাবিজ দেওয়ার কথা বলে ঘরে ডাকেন। এসময় ওই নারীকে ঘরের মধ্যে জোরপূর্বক আটকে রেখে টানাহেঁচড়া করে তার পরিহিত বোরখা ও হিজাব খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মোস্তাফিজুর রহমান।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। এক বছর আগে তার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। সে প্রায়ই পল্লী চিকিৎসক জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাবিজের জন্য যেতেন। এই সুবাদে বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ হত। বৃহস্পতিবার সকালে জামায়াত নেতা তার স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে পাঠিয়ে দেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে ওই নারীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসেন। প্রায় দু-ঘণ্টা তারা ঘরের ভেতরে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে ওই ঘর থেকে নারীর চিৎকার শুনতে পেয়ে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন। পরে এই ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজ বলেন, সন্ধ্যার দিকে ওই নারীর উপস্থিতি দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন গিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে ওই নারী অভিযোগ করেন, তাবিজ দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে এনে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে।   উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এখনও আমি জানি না। অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে ওই নারী বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামি  মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ, মিলল যুবকের মরদেহ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল ফোনে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে খালে পড়ে আহাদ নূর নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই দিন পর শুক্রবার সকালে উপজেলার সাপমরা খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।   আহাদ নূর (২৬) মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান (মাইজহাটি) গ্রামের কাঁচা মিয়ার ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে তিনি চাচা কালা মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে মোহনগঞ্জে এসেছিলেন।   মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে মাঘান গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাপমরা খালের পাড়ে বসে মোবাইল ফোনে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন আহাদ। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত খালের পানিতে পড়ে যান। তিনি সাঁতার জানতেন না বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।   পরদিন সকাল থেকে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন খালে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।   ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। এটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভেসে ওঠে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খেলা দেখতে গিয়ে খালের পাড় থেকে পানিতে পড়ে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।   মাঘান–সিয়াধার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আহাদের চাচার বাড়ি খালের পাড়েই। বুধবার রাতে তিনি খালের কিনারায় বসে মোবাইলে খেলা দেখছিলেন। সম্ভবত অসাবধানতাবশত খালে পড়ে যান। বর্তমানে খালটিতে পানির গভীরতা অনেক বেশি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আহাদ সাঁতার জানতেন না।   পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় ব্যবস্থা নেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের যেসব অঞ্চল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় সরকারি উদ্যোগে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জরিপ চলছে। জরিপ শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।   তিনি বলেন, “জনগণের দুর্দিনে সরকার সব সময় তাদের পাশে রয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”   এ সময় তিনি আরও বলেন, “বিএনপি জনগণের সরকার। জনগণের সুখ-দুঃখে আমরা সব সময় পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।”   ত্রাণ বিতরণ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চকরিয়ার ছড়াকুল এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, সড়ক ও বসতবাড়ি পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।   এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ারসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হবে ৯ হাজার কিউসেক পানি

রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের পানি প্রায় বিপৎসীমার কাছাকাছি। তাই শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হবে ৯ হাজার কিউসেক পানি। এরই মধ্যে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটে ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে বলে জানায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ।   জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রায় প্রতিনিয়ত রাড়ছে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের পানি। এরই মধ্যে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানির রয়েছে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুলকার্ভ অনুযায়ী ১০৪.০১ ফুট বা এমএসএল। যদি ১০৯.০০ ফুট বা এমএসএল হয় তাহলে বিপৎসীমা অতিক্রম করবে। তাই কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের ভারসাম্য রক্ষা করতে হ্রদের পানি কর্ণফুলী নদীতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   রাঙামাটি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, শনিবার বেলা ১১টায় রাঙামাটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হবে। আর কর্ণফুলী নদীতে পানি ছাড়া হবে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি, খোলা হচ্ছে ১৬টি গেট

কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট আংশিক খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নিয়েছে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। তবে লেকের পানির উচ্চতা, উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় গেট খোলার সময় ও পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে। ‎বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। ক্যাচমেন্ট এলাকায় সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‎এ পরিস্থিতিতে আগামী শনিবার সকাল ১১টার পর যেকোনো সময় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হতে পারে। ‎কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পানির প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে গেট আরও বেশি খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণও বাড়ানো হবে। ‎ ‎তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। ‎কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত, হ্রদের পানির উচ্চতা ও পানির প্রবাহ পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে পরিচালনার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৭, ২০২৬
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কঙ্কাল চুরির ঘটনার পর কবরস্থানে মানুষের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে কবর খুঁড়ে ৯টি কঙ্কাল চুরি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি কবরস্থান থেকে ৯টি কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর টেকি বাড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে এ চুরির ঘটনা ঘটে। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী জানান, কবরস্থানটিতে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও আগাছা জমে ছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ওই আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে কয়েকটি কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে কবরের ওপরের মাটি সরিয়ে দেখা যায়, ভেতরে কোনো কঙ্কাল বা লাশ নেই। বিষয়টি মুহূর্তে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মৃতদের স্বজনরা এসে ভিড় করতে থাকেন। এ সময় এলাকাবাসী কবরস্থানে কিছু জামাকাপড় ও কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেন। তারা জানান, ওই কবরস্থানের ৯টি কবরে কঙ্কাল নেই। তবে সকালেই খোঁড়া কবরগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেন কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কঙ্কাল চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’

মারিয়া রহমান জুলাই ১৭, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
অন্যান্য

মৃত্যুর পরও সওয়াব পৌঁছায় যে ৬ আমলে

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৬, ২০২৬