চট্টগ্রামে আগস্ট এক মাসে মোট এক হাজার ২০২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৯ জনের বেশি করে আক্রান্ত হয়। সর্বশেষ গত সোমবার, ৩১ জুলাই একদিনেই নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ৭২ জন। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত সোমবার ৩১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মোট আক্রন্ত হন ২ হাজার ১০৮ জন। এর মধ্যে জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয় ১ হাজার ২০২ জন। এর আগে জানুয়ারি মাসে আক্রান্ত হয় ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন, জুনে ১২২ জন। প্রতিদিন গড়ে ৩৮ দশমিক ৭৭ জন আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে মহানগর এলাকার ৯১৮ জন, উপজেলার ৯০৪ জন ও অন্যান্য জেলার ২৮৬ জন। তাছাড়া, আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১১৬ জন, মহিলা ৫৭৯ জন ও শিশু ৪১৩ জন। চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান পাঁচজন। এর মধ্যে পুরুষ তিনজন, মহিলা দুইজন। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. এএসএম লুৎফুল কবির বলেন, ডেঙ্গুকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিদিনই হাসপতাল ও চেম্বারে রুটিন করেই রোগী পাচ্ছি। বর্ষা শেষ হলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে গেছে। থেমে থেমে বৃষ্টি এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ায়। তাই সবাইকে ডেঙ্গু থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। ঢাকায় অবস্থিত ইউএই দূতাবাসের ফরেন এইড অফিসের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন দুর্যোগকবলিত এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও নন-ফুড প্যাকেজ বিতরণ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০০ পরিবারের মধ্যে এসব মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক সচিব ড. মো. জাকারিয়া। এ সময় বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের ডিরেক্টর অব ফরেন এইড রাশেদ মোহাম্মদ নাসের আলেমইল আলজাবি উপস্থিত ছিলেন। রাশেদ মোহাম্মদ নাসের আলেমইল আলজাবি বলেন, বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এবং তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতেই এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। তাদের জরুরি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর চাহিদা পূরণে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আরব আমিরাত সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটের সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকার দেশটির অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।
গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিএইড রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন- গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রনজিত বকশি সূর্য। এছাড়া তিনি সাবেক ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিল ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার পৌরসভার মাস্টারপাড়া এলাকার মৃত রবিন্দ্র বকশির ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট গাইবান্ধা জেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রনজিত বকশি সূর্যকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ সদর উপজেলার পৌরসভা এলাকার ভিএইড রোড থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জেলা ডিবি পুলিশ সদর থানায় এই নেতাকে হস্তান্তর করে। বর্তমানে সদর থানার হেফাজতে আছে এই নেতা। এদিকে জেলা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভিএইড রোড এলাকা থেকে এই আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নি-সংযোগ মামলার একজন আসামি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি সদর থানার পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।
হামের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। দ্রুত ভ্যাকসিন কেনার জন্য তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে তিন দফা অনুরোধও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত না করে ভ্যাকসিন না কিনেই বিদায় নেয় ওই সরকার। এর আগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারও কয়েক বছর হামের ভ্যাকসিন দেয়নি। এমন দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্টক যাচাই করে দেখা যায়, দেশে হামের কোনো ভ্যাকসিন মজুত নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফ ও গ্যাভিকে ডাকা হয়। আমরা মাত্র ২১ দিনের মধ্যে দেশে হামের ভ্যাকসিন নিয়ে আসি। এরপর দেশের অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারে এডিবির প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাইভেট সেক্টর উন্নয়ন সংক্রান্ত স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এর যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আলোচনা করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন। সভায় তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বিনিয়োগ বান্ধব করতে হলে জ্ঞানভিত্তিক ইকোনমির কোনো বিকল্প নেই। সরকার আগামী ২০ বছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে এডিবির কারিগরি সহায়তায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করছে তাতে প্রাইভেট সেক্টরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই ব্যবসায়ীদের চাহিদা ও পরামর্শ অনুযায়ী যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে দেশের আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে। চেম্বার সভাপতি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা এবং ভূ-কৌশলগত ঝুঁকি মাথায় রেখে কোস্টাল বেল্ট-এর পাশ দিয়ে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-চাঁদপুর-নারায়গঞ্জ-ঢাকা বিকল্প সড়ক তৈরি করা জরুরি। কারণ যে কোন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একাধিক বিকল্প সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অপরিহার্য। একই সঙ্গে মাল্টিমোডাল যোগাযোগের অংশ হিসেবে রেল ও নৌ-পথকেও গতিশীল করা জরুরি। তিনি মাল্টিমোডাল সিস্টেমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা, সোনাদিয়া-মহেশখালী-চট্টগ্রাম বন্দর-মিরসরাই ইকোনমিক জোনকে অর্থনৈতিক করিডরে রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্পায়ন গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে দুবাইয়ের শারজাহ বিমান বন্দরের আদলে কার্গো হাবে পরিণত করা, ঢাকা বিমান বন্দরের চেয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের ট্যারিফ কমিয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে আরও গতিশীল করা এবং বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে বাংলাদেশি ফ্লাগশিপ ব্যবসায়ীসহ বিদেশি কোম্পানিদের যৌথ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, কলকারখানা ও শিল্পের চাহিদানুযায়ী মানব সম্পদ তৈরি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের এই ধরণের দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন করতে হলে এসব বিষয়কে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন চেম্বার সভাপতি। এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট তাহসিন এইচ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ৭০-৮০ ভাগ উন্নয়ন হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে। সরকার বগুড়া-ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নিয়ে একটি ইন্টিগ্রেটেড ইকোনমিক করিডোর গড়ে তুলতে চায়। সরকার প্রাইভেট সেক্টরের সাথে যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। তাই সরকার আইজিএনডি প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি সক্ষমতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যে প্রাইভেট সেক্টরের চাহিদা জানতে এ ধরণের অংশীজন মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্রো পলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী, বিকেএমইএ’র পরিচালক আহমেদ নূর ফয়সাল, চেম্বারের সাবেক পরিচালক রাহবার এ আনোয়ার ও প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেনসহ চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন, এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট, বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যা মামলায় দুই আসামির ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী সোমবার দুপুরে বলেন, “গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা কারাগার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।” ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত করছে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়। তাদের সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী ছিলেন। তারা আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন। তখন পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী বলেছিলেন, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ‘অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর’। আসামিদের কারাগার থেকে বাইরে আনা হলে তাদের ওপর হামলা বা মব সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়ে টেকনোলজিস্টদের কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই আসামিদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ‘গুরুতর ঘাটতি ও অবহেলা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি। ওই ঘটনায় ‘দ্য শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুলস-২০১১’ অনুযায়ী ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক ছিদ্র করার সময় শ্রমিকরা গ্যাস মাস্ক বা স্বয়ংসম্পূর্ণ শ্বাসযন্ত্র (এসসিবিএ) ব্যবহার করেননি। ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি চলছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে; ওই সময় ঘটনাস্থলে সেফটি ম্যানেজার, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক বা জরুরি উদ্ধারকারী দলও উপস্থিত ছিল না। গত ১৪ অগাস্ট সীতাকুণ্ডের ওই ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ব্যালস্ট ট্যাংক ছিদ্র করার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S) গ্যাস নির্গত হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহের গাড়ির একজন হেলপারও (বহিরাগত) ছিলেন। এ ঘটনার পর শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে সম্প্রতি কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সোমবার দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ফেরদৌস স্টিলের ওই ঘটনায় কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষাক্ত গ্যাস কোথা থেকে এল জাহাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ব্যালাস্ট ট্যাংকে পানি জমিয়ে রাখতে হয়। নৌযান চলাচলের নিয়ম অনুসারে একটি আন্তর্জাতিক সীমা থেকে অন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌ সীমায় প্রবেশ করতে হলে জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি পাল্টে ‘নতুন ব্যালাস্ট ওয়াটার’ নিতে হয়। ‘এমটি রাসি’ নামের প্রায় ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের জাহাজটি গত বছরের জুলাই মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি ইউনিয়নের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য নিয়ে আসা হয়। ভাঙার জন্য তীরে ভেড়ানোর সময় জাহাজটির চারটি ব্যালাস্ট ট্যাংকই ছিল পানিতে পূর্ণ। জাহাজটি ভাঙার কাজ প্রায় শেষ দিকে হওয়ায় একে একে ব্যালাস্ট ট্যাংকগুলো কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই জাহাজের চারটি ব্যালাস্ট ট্যাংকের মধ্যে একটি আগে কাটা হয়েছিল। দ্বিতীয়টি কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজের ব্যালস্ট ট্যাংকের তলায় দীর্ঘদিন ধরে সামুদ্রিক পানি জমে ছিল। ওই পানির সঙ্গে কাদা, তলানি ও জৈব পদার্থও জমে ছিল। দীর্ঘদিন পানি স্থির থাকায় ধীরে ধীরে সেখানে অক্সিজেন কমে যায়। অক্সিজেন কমে যাওয়া এই পরিবেশে তলানিতে থাকা জীবাণু জৈব পদার্থ ভাঙার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস তৈরি করে। ১৪ অগাস্ট ট্যাংকের তলায় ছিদ্র করে পানি বের করার সময় জমে থাকা সেই গ্যাসও পানির সঙ্গে বেরিয়ে আসে। ট্যাংকের মুখের কাছে গ্যাসের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। সেখানে থাকা শ্রমিকরা অল্প সময়ের মধ্যেই বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাদের মৃত্যু হয়। গাফিলতির চিত্র তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। সেদিন ইয়ার্ডের নিয়মিত কাটিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরদিনের কাজের প্রস্তুতি হিসেবে ট্যাংক ছিদ্র করার ‘রুটিন’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। ছুটির দিনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চললেও ইয়ার্ডে সেফটি ম্যানেজার, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক বা জরুরি উদ্ধারকারী দল ছিল না। দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকদের গ্যাস মাস্ক বা সেলফ-কন্টেইন্ড ব্রিদিং অ্যাপারেটাস (এসসিবিএ) দেওয়া হয়নি। এমনকি উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া শ্রমিকদেরও পর্যাপ্ত এসসিবিএ ছাড়াই ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এতে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে বলে কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়ার্ডের পিপিই স্টোরে সাধারণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম মজুদ থাকলেও উচ্চঝুঁকির কাজে সেগুলো যথাযথভাবে সরবরাহ ও ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া দুর্ঘটনার খবর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে জানাতেও বিলম্ব হয়েছিল বলে তদন্ত কমিটির কাছে তাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। ইয়ার্ডে নতুন এনভিআর ভিত্তিক সিসিটিভি ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চললেও সেটি তখনও কার্যকর হয়নি। ফলে দুর্ঘটনার কোনো সিসিটিভি ভিডিও পাওয়া যায়নি। শ্রমিকের তালিকায় গরমিল দুর্ঘটনার দিন ইয়ার্ডে কর্মরত শ্রমিকদের তালিকার সঙ্গে বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডে জমা দেওয়া অনুমোদিত তালিকার উল্লেখযোগ্য গরমিল পেয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত মূল পাঁচ শ্রমিকের মধ্যে একজন ছাড়া অন্যদের নাম অনুমোদিত জনবল তালিকায় ছিল না। এ ছাড়া দুর্ঘটনার দিনের প্রকৃত হাজিরা শিটও তদন্ত কমিটির কাছে দেখাতে পারেনি ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার পর বহিরাগত শ্রমিকদের নথিপত্র নষ্ট হয়ে যায়। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ট্যাংক ছিদ্র করার সিদ্ধান্তকে ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ‘রুটিন’ কাজ হিসেবে বিবেচনা করেছিল। সাধারণত এ ধরনের সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনাকে জানানো হয় না। তদন্ত কমিটি এটিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও তদারকির একটি উল্লেখযোগ্য ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে গ্যাস-ফ্রি সনদ নিয়েও প্রশ্ন তদন্ত প্রতিবেদনে জাহাজটির গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেট নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ইন্টারটেক কিমসকোর দেওয়া গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেটে সব ট্যাংক প্রকৃতপক্ষে পরিদর্শন না করেই সনদে ‘একসেপ্টেবল’ লেখা হয়েছে। ওই সনদে হাইড্রোজেন সালফাইড ও কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস পরীক্ষা করা হয়নি; শুধু অক্সিজেন ও দাহ্য গ্যাসের নিম্ন বিস্ফোরণসীমা ‘গ্রহণযোগ্য’ বলা হয়েছিল। তবে জাহাজ আমদানি, বিচিং, সৈকতায়ন ও বিভাজনের অনুমতি দেওয়ার প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইয়ার্ডটির পরিবেশগত ছাড়পত্র ১২ অগাস্ট ২০২৬ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও তা নবায়ন না করে জাহাজ কাটার কার্যক্রম চলছিল বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানানোর আইনি বাধ্যবাধকতাও যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে মৃত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ১ লাখ টাকা এবং শ্রম আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য ২ লাখ টাকা শ্রম আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ৩৫ সুপারিশ ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ৩৫টি সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজের প্রতিটি ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি ও তলানির নমুনা পরীক্ষা, ডিজিটাল ব্যালাস্ট ওয়াটার এক্সচেঞ্জ রিপোর্ট সংরক্ষণ, প্রতিটি জাহাজের জন্য সুনির্দিষ্ট গ্যাস-ফ্রি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু এবং প্রশিক্ষিত কারিগরি দল দিয়ে শিপ রিসাইক্লিং প্ল্যান বাস্তবায়ন। প্রতিটি ইয়ার্ডে ব্যালস্ট ট্যাংকের ভেন্টিলেশন পরিকল্পনা, সিসিটিভি ও রেকর্ড সংরক্ষণ, নিয়মিত মহড়া এবং আধুনিক মাল্টি-গ্যাস ডিটেক্টর ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। কোনো শ্রমিক আবদ্ধ স্থানে প্রবেশ বা কাজ শুরুর আগে অক্সিজেন, বিষাক্ত ও দাহ্য গ্যাসের মাত্রা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। কাজ চলাকালে প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর গ্যাস পরীক্ষা এবং তার রেকর্ড সংরক্ষণের সুপারিশও রয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানে প্রশিক্ষিত এইচএসই সুপারভাইজার নিয়োগ, হট ওয়ার্ক বা কনফাইন্ড স্পেসে প্রবেশের আগে ‘পারমিট টু ওয়ার্ক’ ব্যবস্থা চালু করা, বিষাক্ত বা সংকুচিত স্থানের বাইরে সার্বক্ষণিক উদ্ধারকারী দল রাখা এবং শ্রমিক ও সেফটি কর্মীদের এসসিবিএ ব্যবহারের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিটি ইয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সাড়া দেওয়ার দল রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে জানানোর সুপারিশ করেছে কমিটি। সবশেষে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের নিরাপত্তা গাফিলতির জন্য ‘দ্য শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুলস-২০১১’ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। কমিটির সার্বিক মতামতে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা তদারকি ও সেফটি ক্লিয়ারেন্স ছাড়া ছুটির দিনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ পরিচালনা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও উদ্ধার ব্যবস্থার ঘাটতি, অনুমোদিত জনবল তালিকায় অসামঞ্জস্য এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম চালানো ইয়ার্ডটির নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নির্দেশ করে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত রাসায়নিক কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে চূড়ান্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে তদন্ত কমিটি মত দিয়েছে।
বান্দরবানে থানচিতে পাহাড়ি সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ল্যান্ড স্কুজার গাড়ি উল্টে দেরাজ মিয়া (৬০) নামে গাড়ি চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অবৈধ পাথর ব্যবসায়ী আরও ৩ জন। রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে তমাতুঙ্গী সড়কের ১০ কিলো নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত চালক চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উজিরহাট এলাকার কবির আহমদের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গাড়িতে করে অবৈধ পাথর ব্যবসায়ী লেমনপাড়া থেকে থানচির দিকে ফিরছিলেন। ফেরার পথে ঢালুতে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উল্টে যায়। এসময় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে চালক নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় গাড়ী থাকা আরও অবৈধ তিন পাথর ব্যবসায়ী। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বান্দরবান পুলিশ সুপার থা. ওয়াবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘থানচিতে সড়ক দূর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৩ জন। নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।’
নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে মারুফ মুন্সি (২২) নামের এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দশমিনা থানার ওসি আতিকুল ইসলাম। তিনি জানান, রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত মারুফকে ঢাকা থেকে দশমিনা থানায় স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস অঞ্চল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, একটি আইফোন কেনার টাকা জোগাড় করতেই তিনি নিজের সন্তানকে বিক্রি করেছিলেন; তবে পুলিশি অভিযানে শিশুটিকে ইতিমধ্যে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মারুফের বাড়ি দশমিনা উপজেলার বড় গোপালদী গ্রামে। তিনি মফিজ মুন্সির ছেলে এবং ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। পুলিশ ও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মারুফ ও তার স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের মধ্যে পারিবারিক মনোমালিন্য চলছিল। একপর্যায়ে তারা আলাদা থাকতে শুরু করলে শিশুটিকে তার দাদি মাহফুজা বেগম দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের ভাষ্যমতে, শনিবার সকালে মারুফ তার সন্তানকে ভালো জামাকাপড় পরিয়ে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যান। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান। পরে জানা যায়, ঢাকায় কর্মরত মারুফের সহকর্মী ইমরানের শ্বশুর মহিবুল শিশুটিকে অর্থের বিনিময়ে নিয়ে গেছেন। তার কন্যাসন্তান থাকলেও ছেলেসন্তান নেই। শিশুটির স্বজনদের দাবি, শিশুটির দাম ধরা হয়েছিল এক লাখ টাকা। এর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী লিখিতভাবে নগদ ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে শিশুটিকে হস্তান্তর করেন মারুফ। মাহফুজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শিশুটিকে বিক্রির টাকা ও নিজের পুরনো আইফোনের মূল্যের সঙ্গে আরো কিছু টাকা যোগ করে মারুফ একটি নতুন আইফোন কেনেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে পুলিশ হেফাজতে মারুফ জানান, এলাকায় তার কিছু দেনাপাওনা ছিল। সেই দেনা মেটাতে সহকর্মী ইমরান ও তাঁর শ্বশুরের কাছে সন্তানকে লালন-পালনের শর্তে হস্তান্তর করে ৫২ হাজার টাকা নিয়েছেন। দশমিনা থানার ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশি তৎপরতা চালানো হয়। তবে পরিবারের দিক থেকে লিখিত অভিযোগ না থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।
সুন্দরবনের দুবলার চরের মেহেরআলী এলাকায় বঙ্গোপসাগরে রবিবার দুপুরে জাল ফেলা নিয়ে জেলেদের দুই গ্রুপর মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময়ে ফিশিং ট্রলারের থাকা নগদ টাকা, ইলিশসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম লুট করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জেলেরা। দুবলার মেহেরআলী থেকে মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আলিম রবিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে জানান, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সুন্দরবনের মেহেরআলী সংলগ্ন সাগরে জাল পাতাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের জেলেরা ট্রলারে করে এসে তার কেরিং বোটে হামলা করে দুই জেলেকে গুরুতর আহত করে। হামলাকারী জেলেরা কেরিং বোট থেকে নগদ টাকা, ইলিশসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত জেলেরা হচ্ছেন, আশিক (২৫) রিয়াজ হাওলাদার (৩৫)। অন্যপক্ষের জেলে মিজানুর রহমানও (৩০) গুরুতর আহত হয়। আহত জেলেদের আলোরকোল কোষ্টগার্ড কন্টিনজেটে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় কোষ্টগার্ড। সুন্দরবনের দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, রবিবার দুপুরে বঙ্গোপসাগরের মেহেরআলী এলাকায় মাছ ধরার জাল পাতাকে কেন্দ্র কওে জেলেদের দুই গ্রুপর সংঘর্ষ হয়েছে। উভয়গ্রুপের গুরুতর আহত ৩ জেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরণখোলায় গেছে বলে জানতে পেরেছি।
মত প্রকাশের ব্যাপারে সরকার ‘খুব উদার’ বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। গেল ছয় মাসে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারকে ‘পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই’। রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে একটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিষ্ঠান একটা ডেটা আমাদের সামনে এনেছে। সেটা হল-১৮০ দিনে আমাদের বিরুদ্ধে অপতথ্য প্রচারিত হয়েছে বড় ধরনের ৪৬৪টা। এর মধ্যে এর মধ্যে ১৫৭টা হয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। “মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের এবং উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে যতগুলো হয়েছে এর মধ্যে বেশ ওপরের দিকে আমার অবস্থানও আছে।” তিনি বলেন, “ঘটনাচক্রে আমি তথ্য উপদেষ্টা, মানে কেউ কিছু আর পাত্তাটাত্তা দিচ্ছে না। সরকারকে পাত্তা দেয়ার দরকার নেই, ‘আই লাইক ইট’। আমি এটা বলতে চাইছি সরকার মত প্রকাশের ব্যাপারে আসলে খুব উদার আছে, উদার থাকবে। “একটা গণতান্ত্রিক সরকারের মত প্রকাশের ব্যাপারে উদার থাকাটারই কথা আসলে। মত প্রকাশ বন্ধ করে দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার, যেটা ভবিষ্যতে আরেকটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চায়, তার কোনো লাভ নাই। জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমি এভাবেই যদি বলি, খুব ক্রুডলি যদি বলি, একটু পার্সোনাল, তারপরও বলি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পাদকদের সাথে যখন বসেছেন, তিনি এই কথাটা আসলে বলেছিলেন যে, মানে সংবাদপত্র বা মিডিয়ার সাথে সংঘাতে গিয়ে সরকারের কোনো বেনিফিট নেই।” সাংবাদিকতা বিষয়ে গবেষণা, প্রকাশনা ও প্রশিক্ষণের জাতীয় প্রতিষ্ঠান পিআইবির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক সাংবাদিক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখছিলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকীর্ণ করে স্বৈরাচারী সরকার, যা সাংবাদিক সালামের জীবনীতে পাওয়া যায় এবং তাকে এক ধরনের ‘অ্যাক্টিভিজম’ করতে হয়েছে। সাংবাদিকতার মাধ্যমে ‘অ্যাক্টিভিজম’ হতে পারে বলেও মনে করেন জাহেদ উর রহমান। সাংবাদিকতায় ‘অ্যাক্টিভিজম’ করে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহবায়ক আবদুল হাই সিদ্দিক, সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, দেশের সকল জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য মজুত আছে। কোনো অসুবিধা নেই। সাধারণ জনগণের কাছে যে চাল-গম আছে সেগুলো আমরা ঠিকমতো সরবরাহ করতে পারবো। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা এলাকায় অবস্থিত খাদ্য গুদামে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের দুর্যোগ মোকাবিলা প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এই পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছি। যাতে দেশে যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি, ঠিক সেভাবেই মজুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। খাদ্যের সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে আমি তো বেশি দিন হয়নি দায়িত্ব নিয়েছি। মাত্র কয়েকদিন হয়েছে। অতএব আমাকে দেখতে হবে, অবজারভেশন করতে হবে, আসলেই সত্যি কোনটি বা কি হচ্ছে? তারপর এই সম্পর্কে মতামত দিতে পারবো। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাছরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক লজিস্টিকস ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার আশা ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশকে শুধু লজিস্টিকস হাব নয়, বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ও উন্মুক্ত বাজার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।’ রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দরে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার অবকাঠামো নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমির খসরু বলেন, ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে বিশ্বের সেরা লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান, আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও উন্নত বন্দর প্রয়োজন। লালদিয়া টার্মিনালের মতো প্রকল্প এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য একটি লজিস্টিকস ও বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলজুড়ে আরও কয়েকটি বড় বন্দর ও লজিস্টিকস সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা চলছে।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাণিজ্য খাতকে ঘিরে পরিচালিত হয়। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও অনেকাংশে বন্দরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। এ কারণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে নেতৃত্বের ভূমিকায় আনতে চায় সরকার।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব হবে প্রয়োজনীয় নীতি, সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে লালদিয়া টার্মিনালে বছরে প্রায় ১০ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। এতে দেশের কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়বে। টার্মিনালে থাকবে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি, ৭টি শিপ-টু-শোর ক্রেন, ৩২টি বৈদ্যুতিক রাবার-টায়ারড গ্যান্ট্রি ক্রেন ও ৪১টি বৈদ্যুতিক টার্মিনাল ট্রাক্টর।’ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘টার্মিনালটি চালু হলে একসঙ্গে ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজ পরিচালনা করা যাবে, যা বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি নোঙর করা জাহাজের সক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে হ্রদে পানির উচ্চতা বেড়ে যায়, যা বিপৎসীমায় পৌঁছেছে। এতে রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল ও জুরাছড়িসহ জেলার হ্রদবেষ্টিত বিভিন্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ডুবে গেছে রাঙামাটি পর্যটন মোটেলের আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, কাপ্তাই হ্রদের অতিরিক্ত পানির চাপ কমাতে বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৩ ফুট করে খুলে দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হ্রদ থেকে পানি ছাড়ার কারণে ভাটির অঞ্চলের লোকজনকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে পানি ছাড়া শুরু হয়। এ সময় প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হয়েছে। পরে এদিন রাত সাড়ে ১০টার পর আবার পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল। এরপরও পরিস্থিতি অনুকূলে না আসায় রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রতিটি গেট ৩ ফুট করে খুলে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হ্রদে পানির স্তর ছিল ১০৬ দশমিক ০২ ফুট বা এমএসএল (মিন সি লেভেল)। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট। এর ১০৫ ফুট পার করলে বিপৎসীমা ধরা হয়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। এর মাধ্যমে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো বা কমানো হতে পারে। এ কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে কাপ্তাই হ্রদে দ্রুত পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি সদরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, স্থাপনা ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বাঘাইছড়িতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে রোববার দুপুর থেকে পানি সরে যেতে শুরু করেছে বলে জানান বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান। রাঙামাটি পর্যটন মোটেলের আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুটি আধা ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানান মোটেলের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি অটো রাইস মিলে ব্রয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার রূপসী এলাকায় অবস্থিত সিটি ইকোনোমিক জোনের অটো রাইস মিলে এ ব্রয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন, উপজেলার তালতলা এলাকার আমির হোসেনের ছেলে সাব্বির মিয়া (২৫) হামিদ প্রদানের ছেলে মোজাম্মেল হক (৪৫)। শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি ইকোনমিক জোনের অটো রাইস মিলে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ করে অটো রাইস মিলের ব্রয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সাব্বির মিয়া ও মোজাম্মেল হক দগ্ধ হন। পরে তাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। দগ্ধ মোজাম্মেল হকের স্ত্রী আমেনা বেগম জানান, তার স্বামী মোজাম্মেল হকের শরীরের অর্ধেক অংশ ঝলসে গেছে। একই অবস্থা সাব্বিরেরও। তবে এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মিল কর্তৃপক্ষ কথা বলতে রাজি হননি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
কাপ্তাই হ্রদের পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাটের গেটের ওপেনিং বাড়িয়ে ৩ ফুট করা হয়েছে। আজ রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ৩ ফুট করে গেট খুলে দেয়ায় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। এর আগে হ্রদের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়। পরে গেটের ওপেনিং বাড়িয়ে ১ ফুট এবং সবশেষ ২ ফুট করা হয়। হ্রদের পানি আরও বাড়তে থাকায় আজ সকাল ১০টা থেকে গেটগুলো ৩ ফুট করে খোলা হয়েছে। এ বিষয়ে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কাপ্তাই হ্রদ তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়া। তাই স্লুইসগেট ৩ ফুট করে খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আপাতত ৩ ফুটের বেশি খোলার ব্যাপারে আমরা ভাবছি না, কারণ এর বেশি খুললে কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে পারে। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর রয়েছে ১০৬.০২ ফুট মিনস সী লেভেল। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। এদিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়ও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ পানি ছেড়ে দেয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানি কমতে শুরু করেছে। এতে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকলের নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত এলাকার পানিও কমতে শুরু করেছে। তবে বাঁধের গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কারণে কর্ণফুলী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। তাই নদীর নিম্নাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীসহ কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম হয়ে এখনো সন্ধান মেলেনি এমন ২৫০ জনের ঘটনা একসঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এর মধ্যে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ বিভিন্ন সময়ে গুমের ঘটনা রয়েছে। এসব ঘটনায় একই ধরনের প্যাটার্ন পাওয়ায় এগুলোকে ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত’ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ করতে পাঁচজন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে ২৫০ ব্যক্তির গুমের ঘটনা একক বিচারে আনার চেষ্টা চলছে বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন। এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম-নির্যাতন ও গুমের ফলে হত্যার ঘটনায় চলমান তিন মামলার বিচারও শেষের পথে। এসব মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গুম করে গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা, নির্যাতন এবং তুলে নেওয়ার পর নিখোঁজ করে দেওয়ার নানা রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসছে। অন্যদিকে গুমের শিকার পরিবারগুলো থেকে এই ধরনের মামলার বিচার ও তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিশেষ বিশেষ কিছু অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়েছে। এখন তারা রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে মুক্তি চায়। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আজ ৩০ আগস্ট পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। জাতিসংঘ ২০১০ সালে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১১ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটিকে কেন্দ্র করে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের আগস্টের আগপর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গুমের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনে তিন শতাধিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে যাচাইবাছাই করে ২৫০টি ঘটনা একসঙ্গে করে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আনা হচ্ছে। এই ২৫০ জন জীবিত না মৃত, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দায়ের হওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে ১৫০ জন গুমের ঘটনায় ‘মায়ের ডাক’ এবং ৬০ জন গুমের ঘটনায় ‘আমরা গুম পরিবার’ অভিযোগ দাখিল করেছে। বিএনপির পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিসংগঠন থেকে সব মিলিয়ে তিন শতাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ২৫০ ব্যক্তির ঘটনা একক বিচারে আনার চেষ্টা করা হলেও প্রত্যেকের ঘটনায় আলাদা কাউন্ট ও অভিযোগ থাকবে। যার বিরুদ্ধে যে ধরনের প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেই অনুযায়ী আসামিদের পরিচয় ও অভিযোগ নির্ধারণ করা হবে। তদন্তে এরই মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তিকে কোথা থেকে, কবে এবং কীভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল, তার তথ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার গণশুনানি করা হয়েছে। অনেকের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের মতে, আলাদা আলাদাভাবে বিচার করার পরিবর্তে একটি বিচারের মধ্যে আনতে পারলে সময় বাঁচবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এসব ঘটনা যে একই ধরনের প্যাটার্নে এবং ব্যাপকভাবে সংঘটিত হয়েছে, সেটিও আদালতের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে। গুমের শিকার পরিবারগুলো থেকে ধীরগতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গণ অভ্যুত্থানের মামলাগুলোর সব তথ্যপ্রমাণ যেমন চোখের সামনে রয়েছে, গুমের ঘটনার অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো। এ ধরনের মামলার এখন পর্যন্ত অনেক গুমের শিকার ব্যক্তি ফিরেও আসেননি। তিনি বলেন, যেহেতু বিভিন্ন বাহিনী এই গুমের ঘটনা ঘটাত, তারা পরিকল্পিতভাবে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে ফেলত। তাই একটু সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পরিবারগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বসছি আমরা। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের আবারও শুনানি নেওয়া হবে। এরপর প্রতি সপ্তাহে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ২৫০ জনের বিষয়ে একটি সমন্বিত রিপোর্ট দাখিলের চেষ্টা চলছে।’ তদন্ত চলছে সালাহউদ্দিন আহমদ গুমের মামলাও : গুমের পর যাঁরা ফিরে এসেছেন, তাঁদের ঘটনাও আলাদাভাবে তদন্ত করছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ গুমের অভিযোগের তদন্তও এগিয়েছে। এ ঘটনায় ভারতের আদালতের নথি সংগ্রহ করেছে তদন্ত সংস্থা। প্রসিকিউশনের দাবি, ভারতীয় আদালতের নথিতে ভুক্তভোগী, তাঁর পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক এবং তাঁকে উদ্ধারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রয়েছে। এসব নথি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে এই মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, এ তদন্তও প্রায় শেষ পর্যায়ে। মূল তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনেকে ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন। তদন্তের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও চলছে। শেষের পথে তিন মামলার বিচার : গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে তিনটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ২০০-এর বেশি গুম-খুনের অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) ও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা পৃথক দুই মামলা সেনা কর্মকর্তাদের বিচারও চলছে ট্রাইব্যুনালে। এসব মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে গুমের বিভিন্ন ঘটনা এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য উঠে আসছে। এই তিন মামলাসংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর শাঈখ মাহাদী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জিয়াউল আহসানের মামলায় ২০ জনের বেশি ব্যক্তিকে সাক্ষী করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা শেষ হয়েছে। এই মামলায় ভুক্তভোগীর সংখ্যা ২০০-এর বেশি। তিনি বলেন জেআইসিতে ২৩ জনকে গুম-নির্যাতনের মামলায় এখন পর্যন্ত ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই মামলায় ৪০ জনের বেশি সাক্ষী রয়েছেন। পাশাপাশি ১৪ জনকে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা টিএফআই সেলের মামলায় ৩০ জনের বেশি সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনটি মামলায়ই আগামীকাল সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। সাক্ষ্যে বন্দিশালার ভয়াবহতা : চলমান গুমের তিনটি মামলাতেই সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে আসছে ভয়াবহ সব তথ্য। জেআইসিতে গুম করে রাখার মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন নূরে আলম। তাঁর জবানবন্দিতে উঠে এসেছে বন্দিশালার অমানবিক পরিবেশের বর্ণনা। নূরে আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে যে সেলে রাখা হয়েছিল, সেটি এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে পড়লে তাঁর পা শৌচাগার পর্যন্ত চলে যেত। সেলের মধ্যেই ছিল শৌচাগার ও পানির ব্যবস্থা। বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনাও উঠে এসেছে ট্রাইব্যুনালের সাক্ষ্যে। সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস তাঁর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে গুমের আগে ও পরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দেন। ইমরুল কায়েস সে সময় জিয়াউল আহসানের সঙ্গে কাজ করতেন। তাঁর জবানবন্দি অনুযায়ী, ইলিয়াস আলীকে গুমের আগে মহাখালী এলাকায় একটি মাইক্রোবাসে অপেক্ষা করার বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। পরে গণমাধ্যমে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পারেন বলে সাক্ষ্যে জানান তিনি। তদন্ত ও বিচার যেন রাজনৈতিক বিবেচনায় না হয় : অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিশেষ কয়েকটি মামলায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। গত মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এমন দাবি করেন। তিনি বলেন, গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রত্যাশা ছিল তাঁদের দেওয়া গুমের অভিযোগ তদন্ত ও বিচার ট্রাইব্যুনালে গতি পাবে। মায়ের ডাক থেকে প্রায় ১৫০টির মতো গুমের অভিযোগ তারা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দিয়েছেন। এক যুগের বেশি সময়ের তথ্য-উপাত্ত তাঁরা দিয়েছেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের এক বছর তিন মাস তাঁরা কোনো তদন্ত দেখেননি। গুম কমিশনে দেড় হাজার অভিযোগ : ২০২৪ সালের গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি গঠনের পর তাদের কাছে ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১১৩টি অ-যোগ্য মামলা বাদ দেওয়ার পর ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ প্রকৃত গুমের ঘটনা হিসেবে যাচাই হয়। এই কমিশনের হিসাবে, ১ হাজার ২৮২ জন বিভিন্ন মেয়াদে অবৈধ আটকাবস্থার পর ফিরে এসেছেন। ২৫১ জন কখনো ফিরে আসেননি। ৩৬ জনের লাশ পরে উদ্ধার হয়েছে (নদীতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়)। এই ২৫১ জনের তাঁদের অনেকেরই ১০, ১২ কিংবা ১৪ বছর ধরে কোনো খোঁজ নেই। গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ১ হাজার ৫৬৯ জন গুমের শিকার হয়েছেন, যাঁদের প্রত্যেককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছিল। এই ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো ২৫১ জন ফিরে আসেননি এবং তাঁদের পরিণতি সম্পর্কেও জানা যায়নি। তবে সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এখনো সুযোগ আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করার। তারা চাইলে ওই সব গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিণতি কী হয়েছিল, তা বের করতে পারবে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের আওতাধীন ছয়টি থানা এলাকায় যানজট, সড়ক ও ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, অটোরিকশার দৌরাত্ম্যসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক লালবাগ বিভাগ। সভায় যানজটের চারটি বড় ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে পুরান ঢাকার আজিমপুর নিউ পল্টনে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-লালবাগ) কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের ডিসি মো. মফিজুল ইসলাম, এডিসি এহসানুল কামরান তানভীর, লালবাগ জোনের এসি মাহাতাব হোসেন, কোতোয়ালি জোনের এসি একেএম মনজুরুল আলমসহ বিভিন্ন এলাকার টিআই ও সার্জেন্টরা উপস্থিত ছিলেন। ডিসি মফিজুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয়টি থানা এলাকায় সড়ক দখলমুক্ত ও যানজট নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পুরোপুরি সমাধানে পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ঢাকায় অটোরিকশা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকার আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও জীবিকা বা ছোট ব্যবসা হিসেবে অটোরিকশা নামিয়েছেন। তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়। তবে নিয়মবহির্ভূত ও আইনভঙ্গকারী অটোরিকশার বিরুদ্ধে মামলা, ডাম্পিংসহ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় জব্দ করা গাড়ি দীর্ঘদিন আটকে রাখা সম্ভব হয় না। তাই অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। চার ‘হটস্পট’ ট্রাফিক বিভাগ ফুলবাড়িয়া, বাদামতলী, ধোলাইখাল ও ভিক্টোরিয়া পার্কসংলগ্ন বাসস্টপ এলাকাকে যানজট ও সড়ক প্রতিবন্ধকতার বড় চারটি স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফুটপাত ও সড়ক দখল, অবৈধ পার্কিং এবং অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে এসব এলাকায় নিয়মিত যানজট হয়। ডিসি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। ফুলবাড়িয়ায় বিআরটিসি বাসস্টপ নিয়ে আগেও সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ঢাকার বাইরে বাসস্টপ করার কথা থাকলেও জায়গার সংকটে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য বর্তমানে সেখানে বাস রাখা হচ্ছে। বিআরটিসির প্রায় ৩৫০টি বাসের তুলনায় পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই বাস রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জায়গা দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসন ও সরকারকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, বিআরটিএ থেকে রুট পারমিটের তালিকা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত অভিযানে গাড়ির হেডলাইটসহ ফিটনেস পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ও ডাম্পিং করা হচ্ছে। ছয় মাসে ৩০ হাজার মামলা ডিসি জানান, গত ছয় মাসে বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। জরিমানা আদায় হয়েছে ৫৫ লাখ ২৬ হাজার টাকার বেশি। বাসসহ বিভিন্ন পরিবহনের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ৩ থেকে ৫ শতাংশ মানুষ আইন না মানলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ আইন অমান্য করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন। তাই মামলা-জরিমানার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা জরুরি। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটি পুলিশ কাজ করছে। তবে ট্রাফিক বিভাগে পর্যাপ্ত জনবল সংকট রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নে আজিমপুরের রেন্ট-এ-কার স্ট্যান্ড সাংবাদিকরা আজিমপুর গোরা শহীদ মাজারসংলগ্ন সড়কে রেন্ট-এ-কার স্ট্যান্ড থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি মফিজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেও গণমাধ্যমে সংবাদ হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর এবং রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কয়েকবার স্ট্যান্ডটি সরানো হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদের পর আবার গাড়ি রাখা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে, যাতে সেখানে ফের স্ট্যান্ড বসতে না পারে। বাবুবাজারে সিএনজি নিয়ে প্রশ্ন বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় দীর্ঘদিনের সিএনজি সমস্যা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, আগে সেখানে ব্যাপক যানজট থাকলেও গত এক বছর ধরে পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি সিএনজি চলাচল করে, যার অনেকগুলোরই ঢাকার বাইরের নম্বর। তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেখানে সিএনজি রাখার অনুরোধ করেছেন। বিশেষ করে মিটফোর্ড হাসপাতালে রোগীদের যাতায়াতে পরিবহন সংকট বিবেচনায় সিএনজি রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও আইনগতভাবে সেখানে সিএনজি রাখা নিষিদ্ধ। ডিসি বলেন, যাত্রী নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা অর্থনৈতিক কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। তিনি দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত জনভোগান্তি মেনে নেওয়া হবে না এবং সরকারও এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না। নবাবগঞ্জ সেকশনে লেগুনা নিয়ে প্রশ্ন সাংবাদিকরা নবাবগঞ্জ সেকশন ঢাল এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন লেগুনা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে প্রশ্ন করেন। লালবাগ জোনের এসি মাহাতাব হোসেন বলেন, এসব লেগুনার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, মামলা ও ডাম্পিং করা হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, অধিকাংশ গাড়িরই ফিটনেস নেই। তিনি বলেন, এলাকায় সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ বেশি চলাচল করায় ট্রাফিক পুলিশ মানবিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। অনেক চালককে অপ্রাপ্তবয়স্ক মনে হলেও তাদের ভোটার আইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। ফলে আইনগতভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকসহ অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায় কর্মকর্তারা বলেন, পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকায় সড়কের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি। এর সঙ্গে ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন যুক্ত হয়ে যানজট বাড়াচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা এবং সহযোগিতা প্রয়োজন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—কসবা টি. আলী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সায়মুন চৌধুরী (৩১) এবং চারগাছ এন.আই. ভূঁইয়া ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আজমির হক (৩২)। পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে কসবা নতুন বাজার এলাকা থেকে সায়মুন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার শাহপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। এর আগে একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে কসবা টি. আলী মোড় এলাকা থেকে আজমির হককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি চারগাছ গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে। শনিবার গভীর রাতে পুলিশের মিডিয়া গ্রুপে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, কসবা থানায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে কী কারণে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না—এ বিষয়ে পুলিশের মিডিয়া গ্রুপে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় মরদেহ গোসল করানোর জন্য গোসলঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার পর মিরপুরের তালাব ক্যাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, বিহারি ক্যাম্পে মরদেহ গোসলের জায়গা নির্মাণে বাধা দিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা পাঁচ রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, পল্লবীর তালাব ক্যাম্পের ১১ নম্বর ব্লকের ৪ নম্বর লাইনে মরদেহ গোসল করানোর জন্য গোসলঘর তৈরিকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনার নেপথ্যে বিহারি সংগঠনের নেতা সাদাকাত খান ফাক্কু জড়িত। ক্যাম্পে নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে তিনি বাসিন্দাদের মরদেহ গোসল করানোর জন্য জায়গা তৈরিতে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গোসলঘর নির্মাণ করতে আসা জামায়াতের কর্মীদের ওপর ফাক্কুর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও ককটেল নিক্ষেপ করেছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সংঘর্ষের সময় জামায়াতের কর্মী মানিক ও সুমনের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী এবং ফাক্কুর নেতৃত্বে বিএনপি ও ছাত্রদলের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ক্যাম্পের বিএনপি নেতা ফাক্কুর নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজন আহত হয়েছেন, তা আমাদের জানা নেই। এ ঘটনায় ক্যাম্পের ভেতর গোলাগুলি হয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমরা এখনো এর সত্যতা পাইনি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে সাজেক ভ্যালির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ২ ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই হ্রদের ১৬ জলকপাট২ ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই হ্রদের ১৬ জলকপাট শনিবার (২৯ আগস্ট) বাঘাইহাট এলাকার সড়কের দুপাশে আটকে পড়ে শত শত পর্যটকবাহী গাড়ি। তবে বিকালে পানি কিছুটা কমে আসায় সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ছুটিতে মেঘের রাজ্য সাজেকে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। শনিবার সকাল ও বিকালের এসকর্টে পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার কথা থাকলেও বাঘাইহাট এলাকার সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে বিকালে পানি কমে গেলে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটকে পড়া পর্যটকরা নিরাপদে গন্তব্যে রওনা হন। একই সময়ে নতুন কিছু পর্যটকবাহী গাড়ি সাজেকে প্রবেশ করে। সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন জানান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সাজেকের প্রায় ৮০ শতাংশ রুম আগে থেকেই বুকিং ছিল। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিচু এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, শনিবার সকাল ও বিকাল মিলে অন্তত ১ হাজার ৫০০ পর্যটক সাজেক থেকে নিরাপদে বেরিয়ে গেছেন এবং নতুন করে প্রায় ৮৫০ জন পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।