সারাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
রিসোর্টে আগুনের পর নিখোঁজ নাহিদসহ পরিবারের চারজন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ রয়েছেন নাহিদুর রহমান তুহিন, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাদের বুকিং ছিল। অথচ হাসপাতাল, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পরিবারের সবার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিহত ও আহতদের তালিকায়ও তাদের নাম পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। বুকিংয়ের নথি থাকার পরও পরিবারের সদস্যদের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগে রয়েছেন তারা।   নাহিদুর রহমান যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা এবং সাত বছর বয়সি মেয়ে রোবাইনা ও তিন বছর বয়সি মেয়ে সুনাইনাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন।   রিসোর্টের বুকিং নথি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুই রাতের জন্য নাহিদুর রহমানের নামে ২০২ নম্বর সুপার ডিলাক্স কক্ষটি দুই অতিথির জন্য বুক করা হয়েছিল। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। বুকিংয়ের বিলের একটি কপি সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে।   নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, তার ভাই শুক্রবার কক্সবাজার যাবেন বলে জানিয়েছিলেন। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তিনি নাহিদুরকে ফোন করেন। কিন্তু নাহিদুর বা তার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এরপর থেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন।   নাহিদুরের কর্মস্থল গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা রকিবুজ্জামান জানান, তিনি চীনে রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর শোনার পর তিনি ও প্রতিষ্ঠানের অন্যরা নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। নাহিদুরকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর থেকে তিনি অসহায় বোধ করছেন।   নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহিরা সিদ্দিকা সূচি জানান, নাহিদুরের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বাড়িতে তার বৃদ্ধ বাবা-মা আছেন; তারাও যোগাযোগ করতে পারছেন না।   কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নাহিদ নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ জেনেছে। পরে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।   কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়। সেগুলো উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে; পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এ ঘটনায় মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ছয়জন আহত হন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিহতদের তালিকায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ, নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।   আহত ছয়জন হলেন চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীর প্রায় ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।   অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা প্রশাসক আ. মো. মান্নান জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।   কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, টুপটুপ রিসোর্টের কউকের অনুমোদন ছিল না। এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান থাকায় অনুমোদন যাচাইয়ে সময় লাগছে। ইতিমধ্যে যাচাই করা আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা নিশ্চিত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।   ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জানান, টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টের ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। আগে সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেয়নি। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রিসোর্টটি ছাড়াও দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স না থাকায় নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা শনিবার ঢাকায় থেকে এসেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে হত্যা মামলা, প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে গণপিটুনিতে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেবহাটা সার্কেল, কালীগঞ্জ-দেবহাটা থানা ও এসআরবি-৬’র সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর দেবহাটায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক যুবক গণপিটুনির শিকার হন। পরে তার মৃত্যু হয়। শামীম উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে।   এ ঘটনায় শামীমের ভাই আব্দুল জলিল সানা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়। এতে পারুলিয়ার ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।   মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় পাঁচ ও ছয় নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এবার মামলার প্রধান আসামি আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হলো।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
উখিয়ায় রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নারী-শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীও রয়েছেন।   এ ঘটনায় আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে ভেতরে থাকা পর্যটকেরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কয়েকজন দরজা-জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন।   ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রথম দফায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারও অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।   একই পরিবারের ছয়জন নিহত অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা রয়েছেন। নিহত হয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভীও।   নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- ইসরাত জাহান মালিহা, নাফিসতা মীম, ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান আহমেদসহ অন্যরা।   পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাফিজ তেহামী, নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির ছিলেন নাফিজের বড় বোন এবং শিশু ফাইজান তার ভাগ্নে। তাদের পরিবারের ৯ সদস্য বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই রিসোর্টে। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।   আশিকুল ইসলামের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগুন লাগার পর আশিকুল ইসলাম রিসোর্টের দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। তবে তার স্ত্রী, স্ত্রীর বোনসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছেন। ওই স্বজন কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানান।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য জানান। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।   জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   আহতদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক ও তার স্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।   কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় পাঁচ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য একজন পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   উদ্ধারকাজে একাধিক বাহিনী অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।   ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করেন।   রিসোর্টটির ইনচার্জ মো. সুমন ইসলাম বলেন, আগুন লাগার পরপরই তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে বলে তারা ধারণা করছেন।   স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ঘুম থেকে উঠে তিনি রিসোর্টটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভবনটি আগুনে পুড়ে যায়।   একই এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন লাগার পর কয়েকজন পর্যটককে জীবন বাঁচাতে লাফ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।   ইউনুস নামের এক স্থানীয় যুবক অভিযোগ করেন, রিসোর্টটিতে আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।   স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া বলেন, পর্যটন এলাকায় প্রায়ই ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে উখিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে।   তদন্ত কমিটি গঠন   জেলা প্রশাসন গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করা হবে।   কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে প্রায় ২৯ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে এর অবস্থান। আগুনে রিসোর্টটির পুরো স্থাপনা পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, আরেক হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই একদল লোককে তাড়া শুরু করলেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।   পিস্তলের স্লাইড টেনে সেটিকে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে “অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া” বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে।   শনিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে এরকম একটা ভিডিও আপলোড করা হয়।   ভিডিওর ক্যাপশন লেখা, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’।   ঘটনাটি গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় শনিবার ঘটেছে বলে ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে।   ভিডিওতে ইশরাক ছাড়াও সাদা পোশাকের আরও একজনকে অস্ত্র হাতে কিছু লোককে তাড়া করতে দেখা যায়।   গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, "উনারা ৬ জনকে ধরে মাদকসেবী বলে জানালে আমরা গিয়ে নিয়ে আসি। তাদের কাছে কিছু পাউডার পাওয়া গেছে, সেগুলো কী, তা পরীক্ষায় জানা যাবে।”   তারা এ ধরনের 'অভিযান' চালানোর সময় পুলিশকে জানিয়েছিল কিনা জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি ওসি।   ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ওয়ারি বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি, ছয়-সাতজনকে ধরে তিনি থানায় দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় (অভিযানের বিষয়ে) পুলিশকে আগে থেকে জানাননি, আমরা পরে বিষয়টি জেনেছি।”   পিস্তল হাতে একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর এরকম অভিযানের ঘটনায় নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।   ইশরাকের ভিডিওর নিচে সাখাওয়াত হোসেন খান নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, “এভাবে ওপেন কেউ পিস্তল ব্যবহার করতে পারে!”   তার মন্তব্যের নিচে ৪৫টি মন্তব্য পড়েছে। বেশির ভাগ উত্তরে বলা হয়েছে, পিস্তলের লাইসেন্স থাকলে এভাবে ব্যবহার করতে পারে।   মো. হোসেইন আক্তার তানজিন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “গরীবের ফাটাকেষ্ট”।   মো. মাসুম নামে একজন লিখেছেন, “প্রথমে ভাবছিলাম কোনো ছবির শ্যুটিংয়ের দৃশ্য,পরে দেখি বাস্তব ঘটনা।”   মোহাম্মদ হোসেইন লিখেছেন, “দেশে পুলিশের অভাব পড়ছে?”   সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ইশরাকের ভিডিওতে পাঁচ হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।   সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে আরেকটি পোস্টে আসে। সেখানে বলা হয়, “ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।   তিনি বলেছেন, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তাঁর শাস্তি আরও বড় হবে।”   পোস্টে আরও বলা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘সামাজিক প্রতিরোধে’ সতর্ক করতেই অস্ত্র দেখিয়েছি: ইশরাক

রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামার যুক্তি হিসেবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘সামাজিক প্রতিরোধের’ কথা বলছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।   তিনি বলেন, “বিগত সময়ে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অন্তত ছয়জন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যে কারণে আজকে আমি সতর্কতা অবলম্বন করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছি।”   শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেওয়া এ ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রতিমন্ত্রী গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়লে কী হতো সেই প্রশ্নও উঠেছে।   তবে প্রতিমন্ত্রী বলছেন, “আমাদের সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার, আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। যে কারণে আমরা শুধু পুলিশের উপর নির্ভর করে চলছি না।”   এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলছেন, “এখানে আইনের কোনো বাত্যয় নেই। তবে এটা না করলেই পারতেন। একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন।“   তিনি বলেন, “ওনার প্রটেকশনের জন্যতো ঢাকা মেট্রোপলিটনের অফিসাররা আছেন। তাদের নিয়ে সেটা করলেই ভালো হতো।”   এদিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, আরেক হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই একদল লোককে তাড়া শুরু করলেন ইশরাক। পিস্তলের স্লাইড টেনে সেটিকে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে “অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া” বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে।   ভিডিওর ক্যাপশন লেখা, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’।   ঘটনাটি গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকার বলে ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে।   ভিডিওতে ইশরাক ছাড়াও আরও একজনকে অস্ত্র হাতে কিছু লোককে তাড়া করতে দেখা যায়।   এ ঘটনার বিষয়ে গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, "উনারা ছয়জনকে ধরে মাদকসেবী বলে জানালে আমরা গিয়ে নিয়ে আসি। তাদের কাছে কিছু পাউডার পাওয়া গেছে, সেগুলো কী, তা পরীক্ষায় জানা যাবে।”   তারা এ ধরনের 'অভিযান' চালানোর সময় পুলিশকে জানিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি ওসি।   পিস্তল হাতে ‘অ্যাকশনের’ বিষয়ে জানতে চাইলে রাত ৮টার দিকে ইশরাক হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকের ঘটনার বিষয়ে বলতে হলে লম্বা প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে হবে। আপনারা জানেন, ঢাকা ৬ নম্বর আসনের গেন্ডারিয়া এলাকার ঘুণ্টিঘর, মুন্সিরটেক এলাকার অবস্থা সস্পর্কে… বিগত ছয় মাসে মাদকের বিস্তার যেভাবে এলাকাটিকে গ্রাস করেছে। আপনারা ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই ভিডিওতে দেখেছেন দিনেদুপুরে সেখানে মাদক কেনাবেচা, সেবন চলছে। বাসাবাড়ি থেকে রশিতে করে মাদক বিক্রি হচ্ছে। বাড়ির ভেতরে অবৈধ মদ, ইয়াবাসহ আরো বিভিন্ন রকমের মাদক পাওয়া গেছে।   “আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে গেন্ডারিয়া থানা, ওয়ারি অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে মিটিং করেছি, তারা বিভিন্ন বাস্তবতা ও কারণে অসহায়; তাদের ওখানে একটা ফাঁড়ি দরকার, আমার পক্ষ থেকেও সহযোগিতা ছিলো, কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় ফাঁড়ি হয়নি এখনো।"   তিনি বলেন, " যে কারণে এই এলাকায়, স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও মাদকের বিস্তার ঘটেছে, ছড়িয়ে পড়েছে কলেজ, স্কুলগুলোয়। যে কারণে এলাকার মানুষ আসে আমার কাছে। এখন বলুন, আমরা কতক্ষণ অসহায়ত্ব দেখাবো?   "আমাদের সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার, আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। যে কারণে আমরা শুধু পুলিশের উপর নির্ভর করেই চলছি না। আমি নির্বাচিত হওয়ার আগে বারবার জনগণের সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ওয়াদা করেছি মাদক বন্ধ করবো, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।"   প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, “এই পরিপ্রেক্ষিতেই আমি আজকে গিয়েছিলাম। যে আগ্নেয়াস্ত্রটি আমার হাতে দেখা গেছে, সেটি বৈধ অস্ত্র, আমার কোমরেই থাকে। বিগত সময়ে সেখানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অন্তত ছয়জন সদস্য সেখানে অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যে কারণে আজকে আমি সতর্কতা অবলম্বন করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছি।"   তিনি বলেন, “এলাকার জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আমি এটা করেছি সামাজিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে। স্থানীয় পুলিশও নানা সীমাবদ্ধতার জন্য তাৎপর্যমন্ডিত ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আমি নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অবহিত করেছি এলাকার বিষয়ে, উনিও কী করবেন, সারাদেশে মাদকের বিস্তার। তাই আমরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলবো।"   ইশরাক হোসেন বলেন, " আমি সেখানে আজকে যাওয়ার ১০ মিনিট পরই পুলিশকে অবহিত করেছি, 'আপনারা আসেন'। তারপর তারা ব্যবস্থা নিয়েছে।"   ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ওয়ারি বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি, ছয়-সাতজনকে ধরে তিনি থানায় দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় (অভিযানের বিষয়ে) পুলিশকে আগে থেকে জানাননি, আমরা পরে বিষয়টি জেনেছি।”   পিস্তল হাতে একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর এরকম অভিযানের ঘটনায় নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।   ইশরাকের ভিডিওর নিচে সাখাওয়াত হোসেন খান নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, “এভাবে ওপেন কেউ পিস্তল ব্যবহার করতে পারে!”   তার মন্তব্যের নিচে ৪৫টি মন্তব্য পড়েছে। বেশির ভাগ উত্তরে বলা হয়েছে, পিস্তলের লাইসেন্স থাকলে এভাবে ব্যবহার করতে পারে।   মো. হোসেইন আক্তার তানজিন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “গরীবের ফাটাকেষ্ট।”   মো. মাসুম নামে একজন লিখেছেন, “প্রথমে ভাবছিলাম কোনো ছবির শ্যুটিংয়ের দৃশ্য,পরে দেখি বাস্তব ঘটনা।”   মোহাম্মদ হোসেইন লিখেছেন, “দেশে পুলিশের অভাব পড়ছে?”   সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ইশরাকের ভিডিওতে পাঁচ হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন।   পরে সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে আরেকটি পোস্টে আসে। সেখানে বলা হয়, “ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।”   তিনি বলেছেন, “মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।”   পোস্টে বলা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাজারে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বাজারের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন মোঃ মামুন মিয়া ও শাহজালাল মিয়া। বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে সলিমগঞ্জ বাজারের একটি মিষ্টির দোকানে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী একটি প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকানে আঘাত হানে। আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়রা দীর্ঘ দুই ঘণ্টা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে আগুন পুরোপুরি নেভানোর আগেই মিষ্টির দোকান ও প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান দুটির ভেতরে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।    নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাকিবুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি আমি অবহিত নয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যদি উপজেলা প্রশাসনে আবেদন করেন তাহলে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৮ জন প্রবীণ ও দক্ষ মৃৎশিল্পীকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
বরিশালে বিশেষ সম্মাননা পেলেন ১৮ মৃৎশিল্পী

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সংরক্ষণ, প্রসার এবং এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারুশিল্পীদের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে বরিশালে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘১৭তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা-২০২৬’।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বরিশাল নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা, বরিশাল-এর উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ধারাবাহিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এই সম্মেলন নতুন প্রজন্মের কাছে মাটির শিল্পকে পরিচিত করে তুলছে।   সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কনিষ্ঠপুত্র ও শিল্পানুরাগী প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।   বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ এবং পরিব্রাজক অনু তারেক।   এ বছর দেশের বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ এবং রাজশাহীসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দেড় শতাধিক মৃৎশিল্পী এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৮ জন প্রবীণ ও দক্ষ মৃৎশিল্পীকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আজীবন সম্মাননা’ লাভ করেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ ইউনিয়নের প্রবীণ মৃৎশিল্পী নিরঞ্জন পাল।   সম্মেলন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মৃৎশিল্পীরা তাদের নিজেদের হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের মাটির পাত্র, মনসার ঘট, পুতুল, শখের হাঁড়ি, মাটির খেলনাসহ নানাবিধ ঐতিহ্যবাহী লোকজ শিল্পসামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রি করেন। এ সময় মৃৎশিল্পীরা তাদের অঞ্চলের এক সময়ের প্রসিদ্ধ ও প্রায় বিলুপ্তপ্রায় মৃৎ উপকরণের সাথে দর্শনার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া সকালে শিশুদের জন্য একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।   উদ্বোধকের বক্তব্যে প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বাবা জয়নুল আবেদিনের মৃৎশিল্প সংগ্রহের সঙ্গে বেড়ে ওঠায় এই শিল্পের প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহ আরও গভীর হয়েছে। মৃৎশিল্প বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই শিল্পের বৈচিত্র্য, history ও নান্দনিকতা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে সংরক্ষণ এবং এর প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতে শিল্পাঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি।’   সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ তাওর বক্তব্যে বলেন, “সৃজনশীল কাজের সঙ্গে সামিট গ্রুপ সবসময় ছিল, আগামীতেও থাকবে। ১৭টি বছর ধরে মৃৎশিল্পীদের এই কাজের উৎসাহ ধরে রাখতেই তাদেরকে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। সেই শুরুর দিনটি থেকে আজও এই মহৎ কাজের সঙ্গে সামিট গ্রুপ আছে।’   প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘মৃৎশিল্প আমার দেশের ঐতিহ্য। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে যেমন পরিবেশ বাঁচবে, তেমনি মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষ বাঁচবে।’   অনুষ্ঠানে পরিব্রাজক অনু তারেক জানান, বরিশালে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি প্রতিবছর নিয়মিত আয়োজনের চেষ্টা চলছে। আড়ালে থাকা মৃৎশিল্পীদের জনসমক্ষে নিয়ে আসার মাধ্যমে প্রায় বিলুপ্ত হতে বসা এই শিল্পধারাটিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। সম্মেলনে আসা দর্শনার্থীরা এমন আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং যুগের তালে হারিয়ে যেতে বসা এই শিল্প ও শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি জোর হস্তক্ষেপ ও সবার প্রতি মাটির জিনিস ব্যবহারের আহ্বান জানান।   উক্ত অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট গবেষক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজের গতিবিধি দেখবেন যাত্রীরা, বসছে ৩২ ক্যামেরা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, লাগেজের নিরাপত্তা জোরদার এবং লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এই ব্যবস্থার আওতায় বিমানবন্দরের ৮টি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৬৫ ইঞ্চি আকারের ১৮টি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।   নতুন এই উদ্যোগের ফলে বিমানবন্দরে নামার পর যাত্রীরা লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে পরিবহন, বাছাই করা এবং শেষ পর্যন্ত লাগেজ বেল্টে পৌঁছানো—পুরো প্রক্রিয়ার দৃশ্য বসানো মনিটরগুলোতে সরাসরি (লাইভ) দেখতে পাবেন যাত্রীরা।   এর মাধ্যমে যাত্রীরা তাদের লাগেজ পরিবহনের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন এবং লাগেজ সংগ্রহের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকতে পারবেন। এই প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগের ফলে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় সার্বিক স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।   বেবিচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষা, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীসহ দেশি-বিদেশি সব যাত্রী যেন ভ্রমণ শেষে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে তাদের লাগেজ সংগ্রহ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর ও যাত্রীবান্ধব সেবার সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।   দেশের প্রধান এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার সার্বিক মান আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে বেবিচকের এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সনদবিহীন অপারেটরের মাধ্যমে পরীক্ষা: পপুলার ডায়াগনস্টিকের সঙ্গে ফাইব্রোস্ক্যান সেবা বন্ধ করল কেএনএস কানাডা

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেডের সঙ্গে ফাইব্রোস্ক্যান সংক্রান্ত সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কেএনএস কানাডা (বিডি)। আজ শুক্রবার থেকেই এই সেবা বন্ধের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে দেশের অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই সেবা অব্যাহত থাকবে।    আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে কেএনএস কানাডা (বিডি)-এর পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেএনএস'র কাছে থাকা তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কয়েকটি শাখায় অননুমোদিত ফাইব্রোস্ক্যান মেশিন, যথাযথভাবে ক্যালিব্রেশন (পরিমাপক যন্ত্রের মান নির্ধারণ) না করা এবং সনদবিহীন অপারেটরের মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালনার বিষয়টি উঠে এসেছে।    ফাইব্রোস্ক্যান লিভারের অবস্থা মূল্যায়নে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রযুক্তি। এই পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে অনুমোদিত যন্ত্র, উপযুক্ত কারিগরি ব্যবস্থা, যন্ত্রের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্যালিব্রেশন এবং প্রশিক্ষিত ও যোগ্য অপারেটর থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   কেএনএস কানাডা জানিয়েছে, বাংলাদেশে ফাইব্রোস্ক্যান প্রযুক্তির একমাত্র অনুমোদিত ও এক্সক্লুসিভ পরিবেশক হিসেবে ২০০৮ সাল থেকে তারা এই প্রযুক্তির সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। প্রযুক্তিটির প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের ইকোসেন্স'র সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত মান ও পেশাগত সুনাম বজায় রাখাকে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এ অবস্থায় ফাইব্রোস্ক্যান প্রযুক্তির অনুমোদিত ব্যবহার, পরীক্ষার মান এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি মানদণ্ড নিয়ে উদ্বেগের কারণে পপুলারের সঙ্গে সেবা বন্ধ করা হয়েছে।     প্রতিষ্ঠানটি আরও বলছে, আজ থেকে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষার ক্ষেত্রে কেএনএস কানাডা (বিডি)-এর অনুমোদন, কারিগরি তত্ত্বাবধান কিংবা সেবাসংশ্লিষ্ট কোনো সমর্থন থাকছে না। এ ছাড়া পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে পরিচালিত ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষার রিপোর্টে কোনো ত্রুটি, অসংগতি বা কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা ও রিপোর্টের দায়ভার কেএনএস কানাডা (বিডি) ও ইকোসেন্স নেবে না।     রোগীদের নিরাপত্তা এবং পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতার স্বার্থে কেএনএস কানাডা (বিডি) সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সেবাগ্রহীতাদের ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষা করানোর আগে ব্যবহৃত যন্ত্রের অনুমোদন, প্রোবের ক্যালিব্রেশন এবং অপারেটরের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতার বিষয়টি যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ইনানীর রিসোর্টে আগুনে মৃত্যুর ঘটনায় ম্যানেজার আটক

কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু ও ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।   শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনকে থানায় আটক রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। সকাল ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।   দুপুর ২টা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার এবং ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন।   তিনি জানান, এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। রিসোর্টটির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করা সম্ভব হয়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।   নিহতদের মধ্যে এ পর্যন্ত সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।   পরিচয় পাওয়া নিহত সাতজন হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), ফায়িজান আহম্মেদ (৫) এবং আশুলিয়ার নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৮)।   এ ঘটনায় আহত ছয়জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।   কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও দুজনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।   আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি বলে জানান জেলা প্রশাসক। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   এদিকে, ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জানিয়েছেন, পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টটির কোনো লাইসেন্স ছিল না। এ বিষয়ে আগে সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ বৈধতা নেয়নি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা সফিপুরে অবস্থিত ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট।    শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কারখানাটির হারবাল সেকশনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।    কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী জানান, আগুনের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে। পরে আরো তিনটি ইউনিট যোগ দেয়।   ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুণ লাগার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী ফায়ার স্টেশনের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে গাজীপুর চৌরাস্তা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ২টি ইউনিট যুক্ত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর অর্থাৎ সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-রৌমারী মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। শনিবার দুপুরে ঢাকা-রৌমারী মহাসড়কের সায়েদাবাদ বাজারের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   স্থানীয়রা জানান, সায়েদাবাদ বাজারের কাছে একটি বেপরোয়া মালবাহী ট্রাক অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজন মারা যান।   রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলী পাঁচজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। পরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন, নিহত বেড়ে ১০

কক্সবাজারের ইনানীতে ‘টুপটুপ’ নামের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।   শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিনড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা আশিকুল নামে ব্যক্তির পরিবারের ৬ সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন- ফারিয়া কবির (৩৩), নাফিস ইবতে হামিদ (২৪), পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান, মিথিলা মেহজাবিন (২৩), লাইলা জাহান নাবিলা (২৪) ও মালিহা (২৮)। এছাড়া নাসিমা আক্তার মুক্তা (২৮) নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন। বাকিদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়। দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোরশেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রথম দিকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। এছাড়া আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরো চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   তাদের মধ্যে একজন পুরুষ, দুইজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। ’ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে, টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার সহায়তায় যোগ দিয়েছে বিজিবিও।   বেলা ১১টার দিকে উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, ওই রিসোর্টে ২৭ জনের এন্ট্রি ছিল, এর মধ্যে ৯ জন রিসোর্টের বাইরে ছিলেন।  উদ্ধার তৎপরতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, হতাহতরা সবাই পর্যটক ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে- রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত। কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন, নিহত একই পরিবারের ৬ জন

কক্সবাজারের ইনানীতে ‘টুপটুপ’ নামের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মধ্যে একই পরিবারের ৬ জন রয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে মেরিনড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।   নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা আশিকুল নামে ব্যক্তির পরিবারের ৬ সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন- ফারিয়া কবির (৩৩), নাফিস ইবতে হামিদ (২৪), পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান, মিথিলা মেহজাবিন (২৩), লাইলা জাহান নাবিলা (২৪) ও মালিহা (২৮)।   এ ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০), সামিদা (৩২), নাফিজা নওয়ার খান (২৯) ও সাহাবুদ্দিন (৩১)। উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ওই রিসোর্টে আশিকুলের পরিবারের ৯ সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি তিনজন হাসপাতালে ভর্তি।   বেলা ১১টার দিকে উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, ওই রিসোর্টে ২৭ জনের এন্ট্রি ছিল, এর মধ্যে ৯ জন রিসোর্টের বাইরে ছিলেন। উদ্ধার তৎপরতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।   দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোরশেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রথম দিকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। এছাড়া আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   পরবর্তীতে আরো চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ, দুইজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। ’ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে, টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার সহায়তায় যোগ দিয়েছে বিজিবিও।   কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, হতাহতরা সবাই পর্যটক ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে- রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত। কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সীতাকুণ্ডে গুলিতে যুবক নিহত, আহত আরও ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তারেক হোসেন বাপ্পি (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাফসির আলম শাওন (২২) নামে আরেক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার বাড়বকুণ্ডের অলিনগরে সাদ্দামের অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।   নিহত তারেক হোসেন বাপ্পি সীতাকুণ্ডের মধ্যম মাহদাবাদ এলাকার কুরবান আলীর বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত আলী আহমদ এবং মায়ের নাম জমিলা খাতুন। আহত তাফসির আলম শাওন একই থানার বাড়বকুণ্ডের অলিনগর এলাকার ইউসুফের নতুন বাড়ির বাসিন্দা। তার বাবার নাম ইউসুফ।    স্বজনদের বরাতে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক বলেন, উপজেলার অলিনগরে সাদ্দামের অফিসের সামনে এলাকার কয়েকজন দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালালে দুজনেই গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাদেরকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারেক হোসেন বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত তাফসির আলম শাওনকে হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাথরঘাটায় চাঁদাবাজদের ঠাঁই নেই, কঠোর বার্তা চিফ হুইপের

বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, চাঁদাবাজি করে যারা খাবেন, তাদের কোনো জায়গা নেই পাথরঘাটায়। বিএনপি আপনাদের ‘ফ’ উপহার দিয়েছে, আর আওয়ামী লীগও ‘ফ’ উপহার দিয়েছে। তার মানে—বিএনপির ‘ফ্ল্যাগ’, আর আওয়ামী লীগের ‘ফাঁসি’।    শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।   পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনগণের উদ্দেশে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আপনারা ভালো কাজের ও সততার মূল্যায়ন দিতে জানেন না। আমি রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, বিএফডিসি, পৌরসভা, পল্লী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন করেছি। তারপরও আমার দুঃখ তো থাকতেই পারে। এরপরও আমি এলাকায় আসছি, আপনাদের খোঁজখবর নিচ্ছি।   তিনি বলেন, আপনারা বলুন তো, আমার নির্বাচনী এলাকায় এমন কোনো উন্নয়ন খাত আছে, যেখানে আমার ছোঁয়া নেই? সব ক্ষেত্রেই আমি উন্নয়ন করেছি। আমি কোনো অসৎ কাজ করেছি বলে আমার মনে হয় না। আমি সৎ জীবন যাপন করেছি। কারও কোনো ক্ষতি করেছি কিনা... আমার মনে পরে না। তারপরও আপনারা আমার সততার মূল্যায়ন দিতে পারেননি।   এলাকার সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, আমার এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাং থাকবে না।   উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং দমন করতে না পারলে তারা এ এলাকায় থাকতে পারবেন না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সরকারি মাঠ দখল করে হচ্ছে চাষাবাদ
মাঠ দখল করে চাষাবাদ: উল্লাপাড়ায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চার বিঘা সরকারি মাঠ ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সলপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হেকমত আলী সরকারের বিরুদ্ধে। যে মাঠে এত দিন স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণরা ফুটবল-ক্রিকেট খেলতো, সেই মাঠেই এখন চলছে চাষাবাদ।     ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জমিটি সরকারি বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে হেকমত আলীর দাবি, জমিটি তাদের নিজস্ব এবং এ নিয়ে মামলা চলছে।     ঘটনাটি ঘটেছে উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের নওকৈর পূর্বপাড়া গ্রামে।  স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে সরকার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ট্রাক্টর দিয়ে মাঠটি চাষ করেন। এতে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।     স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন বলেন, জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত।     তিনি জানান, ২০১৯ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান গৃহহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনায় সেখানে মাটি ভরাট করেছিলেন। তবে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়নি। এরপর থেকে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা মাঠটিতে নিয়মিত ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতো।     স্থানীয়দের অভিযোগ, হেকমত আলী সরকার, আল-আমিন সরকার, নূর মোহাম্মদ সরকার, ওমর আলী সরকার, হারান সরকার ও তোফাজ্জল সরকার মাঠটি চাষ করেছেন। এতে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জায়গাটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।     তবে জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেছেন হেকমত আলী সরকার। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের জিম্মি করে আমাদের জায়গা দখল করে জমিতে মাটি ভরাট করেছিল। এখন আমাদের সময় এসেছে, তাই আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছি।     জমিটির হালনাগাদ খাজনা-খারিজ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাজনা-খারিজ নেই, তবে মামলা চলছে।     স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা মাঠটি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।       সলপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সাবেক চেয়ারম্যান শওকত ওসমান সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট করেছিলেন। এরপর থেকে জমিটি অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণেরা সেখানে খেলাধুলা করে।     তিনি জানান, সরকারি জমি ব্যক্তিগত চাষাবাদে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাবেন।       উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
সব হাসপাতাল-মেডিক্যাল কলেজের লাইব্রেরিতে জিয়া-খালেদা-তারেকের বই রাখার নির্দেশ

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের লাইব্রেরিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা দুটি বই এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা একটি বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশিত বইগুলো কিনে লাইব্রেরিতে রাখতে বলা হয়েছে।   গত ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব খন্দকার রবিউল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দফতর ও অধিদফতরের প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।   চিঠিতে উল্লেখ করা বই তিনটি হলো ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। নির্দেশনায় বইগুলোর এক সেট করে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।     এর আগে গত ২৩ আগস্ট জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশক মো. জহির দীপ্তি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ও সচিবের কাছে বই তিনটি দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের লাইব্রেরিতে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে প্রকাশক উল্লেখ করেন, বই তিনটিতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, কর্ম ও নেতৃত্বের ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বইটিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখা বই হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে বইগুলোকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দলিল হিসেবে বিবেচনা করে চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী, চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী ও সচেতন নাগরিকদের জন্য মূল্যবান বলে দাবি করা হয়। হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের লাইব্রেরিতে বইগুলো সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পাঠপ্রচারের ব্যবস্থা করা হলে বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম রাজনৈতিক আদর্শ ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদফতর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর এবং নিমিউ অ্যান্ড টিসিকেও চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার : ডিএসসিসি প্রশাসক

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের ৮০ শতাংশই জনসচেতনতার ওপর নির্ভর করে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।   ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তিনি নিয়মিত এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেন—এমন নির্দেশনার পর পরিচ্ছন্নতা ও ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যত্রতত্র পলিথিন ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।   এসময় ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানে আদায় করা জরিমানার অর্থ ডেঙ্গুতে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে অনুদান হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান আবদুস সালাম। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।   এ ছাড়া ডেঙ্গুর টিকা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলে তা দ্রুত আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।   গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্মিলিত দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে আবদুস সালাম বলেন, রাষ্ট্র সবার। গণতন্ত্র রক্ষা ও দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার, বিরোধী দল এবং জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
পাহাড়ে ‘ব্ল্যাক রাইস’ চাষে সফলতা তরুণ উদ্যোক্তা এনামুলের

খাগড়াছড়িতে ফসলী জমিতে ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধানের চাষ করে সফল হয়েছেন জেলার পানছড়ি উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা এনামুল। তার হাত ধরেই জেলার পানছড়িতে এটাই প্রথম ব্ল্যাক রাইস চাষের সফলতা।   খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার গোলাক প্রতিমাছড়া এলাকায় এনামুলের নিজস্ব ফসলী জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধানের চাষ করে সফলতা পান তিনি। সফল কৃষি উদ্যোক্তা এনামুলের এই জমিতে সারিবদ্ধভাবে এখন ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধানের শীষের শোভা পাচ্ছে।   সবুজের বিস্তীর্ণ ধানের মাঠ। তারই মাঝে হঠাৎ চোখ আটকে যায় কালচে রঙের ধানের ছড়ায়। বাতাসে দুলতে থাকা কালো ধানের শীষ যেন সবুজের বুকে এক টুকরো ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য।   এ বিষয়ে এনামুল বাসস’কে জানান, বগুড়া থেকে প্রতি কেজি ৫শ’ টাকা দরে কালো জাতের ধানের বীজ সংগ্রহ করি। এরপর নিজস্ব জমিতে বীজতলা তৈরি করে চারা রোপণ করার পর যত্ন সহকারে পরিচর্যার পর বর্তমানে ধানের চারা থেকে বের হতে শুরু করেছে কালচে রঙের ধানের ছড়া। ধানের ছড়া বেশ বড় ও পরিপুষ্ট হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছে এনামুল।   এনামুল জানান, বাজারে ব্ল্যাক রাইসের চাহিদা ও দামও তুলনামূলক ভালো। প্রতি কেজি চাল ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পাশাপাশি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও কালো চালের আলাদা চাহিদা রয়েছে। পরীক্ষামূলক চাষে আশানুরূপ ফলন পেলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে ব্ল্যাক রাইস চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এই তরুণ উদ্যোক্তা।   সবুজের মাঝে এনামুলের কালো ধানের এই ব্যতিক্রমী দোলা শুধু সবার দৃষ্টিই কাড়ছে না, পানছড়িসহ পুরো জেলাতেই কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তাও দিচ্ছে।   এ বিষয়ে পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল কবির বাসস’কে জানান, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা এনামুলের হাত ধরে পানছড়িতে ব্লাক রাইসের চাষের ফলন ভালো হয়েছে। এটি একটি উচ্চমানের পুষ্টি সম্পন্ন। ব্ল্যাক রাইসের চাষ পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকরা অনেক বেশী লাভবান হবে এবং ফসলের ভালো দামও পাবে।     তিনি বলেন, এনামুলকে আমরা এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা করছি।   উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নয়ন্টু চাকমা বাসস’কে জানান, এনামুলের কালো ধান চাষ আমি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরিদর্শন করেছি।    তিনি জানান, আমি এই ব্লকের দায়িত্বে আছি। উদ্যেক্তা এনামুল সমতল জেলা থেকে বীজ এনে ব্লাক রাইচ চাষ করেছেন। কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারলে এটার ব্যাপকতা ছড়িয়ে যাবে। কৃষকরাও লাভবান হবে। এটা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ব্রি কর্তৃক উৎপাদিত একটি নতুন জাতের ধান।   কৃষি উদ্যেক্তা এনামুল হক এনাম বাসস’কে আরো জানান, প্রাথমিকভাবে আমার নিজস্ব ১২ শতক জমিতে আমি ব্লাক রাইস চাষাবাদ করে সফলতা পেয়েছি। এ বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেয়েছি। ব্ল্যাক রাইস চাষাবাদ সামনে আরো বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা করছেন এনামুল।   তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা এনামুলের হাত ধরে পাহাড়ে ব্ল্যাক রাইসের সফলতা তিন পার্বত্য জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারলে ব্ল্যাক রাইস কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা স্থানীয়দের।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভয়াবহ আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ঘরে থাকা টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ নবগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ নবগ্রাম এলাকার মৃত সামছুল মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী সবুজ মিয়ার বসতবাড়িতে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।   অগ্নিকাণ্ডের পর মুহূর্তের মধ্যে তা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ততক্ষণে ঘরে থাকা টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৫, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

জাতীয়

দুর্গাপূজায় সারা দেশে ২ লাখ ১২ হাজার আনসার মোতায়েন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৫, ২০২৬