ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া এবং মাটির গুণাগুণের কারণে দেশের সর্বপ্রথম বাজারে উঠতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার আম। জেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে আজ ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপাল ভোগ, গোলাপ খাস, বোম্বাই, বৈশাখীসহ পরিপক্ক আম গাছ থেকে ছাড়ানোর মাধ্যমে বাজারজাতকরণ শুরু হচ্ছে । কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে এবছর সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর ঝড় ঝাপটার মধ্যে না পড়লে এবছর সাতক্ষীরায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। যা প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বাজারজাত হবে হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সাতক্ষীরার উৎপাদিত আম। জেলা প্রশাসন ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ মে সকাল থেকে গাছ থেকে আম ছাড়ানো শুরু হবে। একই সাথে সাতক্ষীরার বড় আমের হাট সুলতানপুরের বড়বাজারের আড়ত গুলোতে পাওয়া যাবে গোবিন্দভোগ, গোলাপ খাস, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের দেশীয় আম। আর ১৫ মে হিমসাগর, ২৭মে ল্যাংড়া এবং আম্রপালি জাতের আম বাজারজাত করা যাবে ৫ জুন থেকে। আর মূলত এ কারণেই জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্বাদে অন্যন্য হওয়ায় সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা শীর্ষে। এ বছরও আমের রাজ্য সাতক্ষীরা থেকে গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া এবং আমরুপালিসহ ১০০ মেট্রিক টন আম ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি হবে।যা থেকে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার খামারবাড়ির তথ্য মতে, জেলায় আম বাগানের সংখ্যা ৩২০টি, চাষি ও ব্যবসায়ী রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন, বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ টন আম। পারকুকরালী এলাকার আম চাষি মোহাম্মদ আলী জানান, তার ২৫ লাখ টাকার আম বাগান বিক্রি হয়েছে। বাগানে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪০ লক্ষাধিক টাকার আম বেচাবিক্রি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে আম ব্যবসাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবাসায়ীরা অবস্থান নিয়েছেন সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায়। তারা বাজার ও বাগান ঘুরে দেখছেন। সাতক্ষীরা বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধরাণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, 'ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘুরছেন। এখনই দাম বলা যাবে না। তবে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পরিপক্ষ পাকা প্রতি মন গোবিন্দভোগ আম বিক্রি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তবে ৫ মে সকাল থেকে প্রশাসন ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম বাজারে আসার পর জাত ও শ্রেণিভেদে কোন আম প্রতি মণ কত দামে বিক্রি হবে তখন বলা যাবে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, এ বছর সাতক্ষীরা আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝর ঝাপটার কবলে না পড়লে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। এবং সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা এবার সাতক্ষীরার আম বেচাকেনা হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কোন অসাধু ব্যবসায়ী যেন বাজারে অপরিপক্ক কেমিক্যাল মিস্ত্রিত আম বিক্রি করতে না পারে সেজন্য'মাসজুড়ে আম ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা মাঠে থাকবে। ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কোনো প্রকার কেমিক্যাল-মিশ্রিত আম বাজারজাত করা যাবে না। ধরা পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে ৩০ মেট্রিক টন কেমিক্যাল মিশ্রিত অপরিপক্ক আম ধ্বংস করা হয়েছে। নির্দেশনা একটাই: পরিপক্ব নিরাপদ বিষমুক্ত আম বাজারজাত করতে হবে।
রাঙামাটিতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের কাঁঠালতলী এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. নাহিদুল আলম, মো. ইউনুছ মানিক ও মো. নূরুল ইসলাম জিন্নাত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিকেল ৪টার দিকে নাশকতার আশঙ্কায় রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন। মাইকিং করে জানানো হয়, বনরূপা, কাঁঠালতলী, পৌরসভাসহ আশপাশের এলাকায় ৪০০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ বা গণজমায়েত করা যাবে না। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জেলা শাখার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফারুক আহম্মেদ সাব্বির বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী নবগঠিত কমিটির আনন্দ মিছিল চলাকালে বিদ্রোহী গ্রুপ হামলা চালায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের মধ্যাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিনে আরও কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে হাওর অঞ্চলে আগে থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং নতুন কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার (৪ মে) নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে জানানো হয়, সুনামগঞ্জের নালজুর নদীর জগন্নাথপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নেত্রকোনার বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার, ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে ৫০ সেন্টিমিটার, মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টে ৭৯ সেন্টিমিটার ও আটপাড়া পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে হবিগঞ্জ জেলার কালনি-কুশিয়ারা নদী আজমেরিগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার এবং সুতাং নদী সুতাং রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ভুগাই-কংস নদীর পানি কিছুটা কমেছে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিনে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। দ্বিতীয় দিনে কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এ দুই জেলার হাওরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নেত্রকোনার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে এসব অববাহিকার হাওর এলাকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। একইভাবে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সংশ্লিষ্ট নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও তৃতীয় দিনে বাড়তে পারে। জুড়ি নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে। সুতাং নদীর পানি আগামী একদিন বাড়ার পর পরবর্তী দুই দিনে কমতে পারে, তবে বর্তমানে বিপৎসীমার ওপরে থাকায় হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। আজ দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে হাতিয়ায় ১২৪ মিলিমিটার। এছাড়া নেত্রকোনায় ৭১, মাইজদীকোর্টে ৪৮, রাঙ্গামাটিতে ৪৬, সিলেটে ৪৩, চট্টগ্রামে ৪১, ভোলায় ৩৬, শ্রীমঙ্গল ও তেঁতুলিয়ায় ৩৪ এবং নিকলিতে ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। এরফলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার (৪ মে) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ। পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা জেলার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটারি; হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটারি ও চাঁদপুর-বাগানে ৬১ মিলিমিটারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় উত্তর পূর্বাঞ্চলের হাওর বেসিনের তিনটি জেলার সাতটি নদীর ৮টি স্টেশন প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদী ১১ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ সেমি ওপরে (জগন্নাথপুর), নেত্রকোনা জেলার ধনু-বাউলাই নদী ৯ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৮ সেন্টিমিটার ওপরে (জারিয়াজঞ্জাইল), সোমেশ্বরী নদী ১৪ সেমি হ্রাস পেয়ে ৫০ সেন্টিমিটার উপরে (কলমাকান্দা), ভুগাই-কংশ নদী ২২ সেমি হ্রাস পেয়ে ৬৭ সেন্টিমিটার উপরে (জারিয়াজঞ্জাইল), মগরা নদী ৫ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপরে (নেত্রকোনা), মগরা নদী ০ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে (আটপারা) প্রবাহিত। এদিকে হবিগঞ্জ জেলার কালনি নদী ১৫ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ১০ সেন্টিমিটার ওপরে (আজমিরিগঞ্জ), সুতাং নদী ২৩ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ সেন্টিমিটার ওপরে (সুতাং রেলব্রিজ), সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নদীগুলোর পানির সমতল ঘণ্টায় ০ থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ছে। এদিকে ভারতের বিশেষ বুলেটিন থেকে জানা গেছে, মেঘালয় ও আসামে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে টাকার জন্য নিজ সন্তানকে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলাকা থেকে শিশুকে অপহরণ করা হয়। ভুক্তভোগী ওই শিশুটির মা আকলিমা আক্তার দেবিদ্বার পৌর এলাকার বিনাইপাড় গ্রামের অটোচালক মো. কামাল হোসেনের স্ত্রী। শিশু অপহরণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে দত্তক নেওয়া ব্যক্তি আবু সাঈদের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে আমি বিব্রত। কারণ ওই নারী স্বেচ্ছায় তার বাচ্চা দত্তক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেবীদ্বার সদরে অবস্থিত আল মদীনা হাসপাতালে এসে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ফিরোজ আহমেদ ও নার্স রহিমার সাথে কথা বলে শিশুটিকে হস্তান্তর করে দিয়ে যান। পরে বাচ্চাটি নার্স রহিমা আক্তার আমার ঢাকার বাসায় পাঠিয়ে দেয়। তিনি জানান, আমি বিয়ের ১৭ বছরেও সন্তানের বাবা হতে পারিনি। তাই বিভিন্ন জায়গায় দত্তক দেওয়া বাচ্চার সন্ধানে অনেককে বলে রেখেছিলাম। আমার এক নিকট আত্মীয় রহিমা আক্তারের মাধ্যমে বাচ্চার সন্ধান পেয়ে জানান। বাচ্চার মায়ের ডিমান্ড ছিল এক লক্ষ টাকা, আমি বলেছিলাম ৫০ হাজার টাকা। টাকা যাই হোক কন্টাক ফর্মে স্বাক্ষর করে টাকা নেওয়ার কথা ছিল। বাচ্চাটি পেয়ে আমাদের পরিবার খুবই আনন্দিত হয় এবং এ বাচ্চার জন্য গতকাল শুক্রবার বিকেলেই প্রায় ১৫ হাজার টাকার বস্ত্র ও মালামাল ক্রয় করে নিয়ে আসি। আর এদিকে ওই নারী অপহরণ নাটক সাজিয়ে গোটা দেশে তোলপাড় তৈরি করে দিয়েছে। এ ব্যাপারে আল মদীনা হাসপাতালের নার্স রহিমা আক্তার জানান, বাচ্চার মা আকলিমা আক্তার আমার কাছে আসেন এবং তার বাচ্চাটি দত্তক দেওয়ার অনুরোধ করেন। তার স্বামী নেশাগ্রস্ত, আগের এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তাদের ভরণপোষণ যোগাতে পারে না। এ বাচ্চাটি দত্তক দিয়ে দেব। আমার পরিচিত কয়েকজনকে বিষয়টি জানাই ওরা বাচ্চা পেয়ে গেছে, তাই তাদের প্রয়োজন নেই। পরে আবু সাঈদের কথা মনে পড়ে। আমি আবু সাঈদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রাজি হয়ে যান। বাচ্চাটি নিয়ে আসলে তার স্বামীর খোঁজ নেই। তিনি বলেন, আগামী কাল স্বামীসহ এসে কন্টাক ফর্মে স্বাক্ষর করে টাকা নিয়ে যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শিশুটির মা আকলিমা বিকেল ৩টায় বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি এলাকায় সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় সেবা ‘৯৯৯’ নম্বর ফোনে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার থানা পুলিশের উপস্থিতিতে স্বামী ও ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু সাথে থাকা তার ২৭ দিন বয়সী শিশু কন্যার কোন সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি। ওই ঘটনায় আকলিমার স্বামী কামাল হোসেন দেবীদ্বার থানায় অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে অভিযোগ করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। আল মদীনা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফিরুজ আহমেদ বলেন, ওই মহিলা ৩ দিন এসেছে আমার কাছে, বাচ্চাটি দত্তক দিতে। কেন দত্তক দিতে চায় জানতে চাইলে সে জানায় তার স্বামী নেশাখোর, ভরণপোষন দিতে পারে না। আরো দুইটি বাচ্চা আছে। তাই এ বাচ্চাটি দত্তক দেবে। গতকাল দুপুরে আমি ডিউটি সেরে নিচে যাওয়ার পথে ওই মহিলা আমাকে ডেকে এনে বলেন, বাচ্চা দিয়ে দিছি। বললাম এমনে হবে না আপনার স্বামীকে নিয়ে এসে কন্টাক ফর্মে স্বাক্ষর করে দিতে হবে। আগামীকাল আসবে বলে চলে যান। এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অজ্ঞান পার্টি নাকি অপহরণকারীদের হাতে অপহৃত হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগী নারীকে গতকাল বিকেলে উদ্ধার করে তার স্বামী ও ভাইকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শিশু কন্যাকে পাওয়া যায়নি। অপহরণের সময় ওই নারীর কাছে টাকা ও মোবাইল ফোনটি ছিল। বাচ্চাটির সন্ধান পেয়েছি। বাচ্চা উদ্ধারের পর তদন্তের পূর্বে সঠিক কিছু বলা যাবে না।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে ৫টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার পশ্চিম উচনা সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি টহলদল স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করে। গ্রেফতার স্বর্ণ পাচারকারী উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের উচনা গ্রামের মো. সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মো. মতিয়ার রহমান মিন্টু (৩৫)। জয়পুরহাটের হাটখোলা সীমান্তে মিন্টু সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় তার গতিবিধি সন্দেহ হয় বিজিবির। এ সময় পশ্চিম উচনা সীমান্তে মিন্টুর শরীর তল্লাশি করে ৫টি স্বর্ণের বার ও বাইসাইকেলসহ তাকে গ্রেফতার করে বিজিবি। হাটখোলা বিওপির সুবেদার মো. এনামুল হক বলেন, উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বার ও পাচারকারীকে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের জন্য জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক ফরায়েজী আন্দোলনের অগ্রদূত হাজী শরীয়তউল্লাহর উত্তরসূরী পীরজাদা হানজালা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মাদারীপুরের শিবচরে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখন কেবল একজন জনপ্রতিনিধি নন, বরং ন্যায় ও ইনসাফের জীবন্ত প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এলাকাবাসীর মতে, পীরজাদা হানজালার প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হচ্ছে তার মহান পূর্বপুরুষ হাজী শরীয়তউল্লাহর আদর্শ। শত শত বছর আগে যেভাবে হাজী শরীয়তউল্লাহ শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছিলেন, আজ ঠিক সেভাবেই শিবচরের মাটিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়েছেন তার এই বংশধর। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই পীরজাদা হানজালা মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি সরাসরি মাঠে নেমে পড়েছেন এসব সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে। তার কঠোর অবস্থানের কারণে শিবচরের সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে দুর্নীতির আখড়াগুলোতে তিনি যে অভিযান শুরু করেছেন, তা সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। শিবচরের প্রবীণ নাগরিকরা বলছেন, রক্ত কথা বলে। হানজালার ধমনীতে বইছে হাজী শরীয়তউল্লাহর রক্ত। তাই অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করা তার স্বভাবে নেই। তিনি যেভাবে চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমরা হারানো সেই ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছি। হাজী শরীয়তউল্লাহ যেমন সাধারণ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে এনেছিলেন, ঠিক তেমনি পীরজাদা হানজালার হাত ধরে শিবচর একটি আদর্শ, দুর্নীতিমুক্ত ও শান্তিময় জনপদ হিসেবে গড়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের। মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা হানজালা জানিয়েছেন, ক্ষমতার মোহে নয় বরং সেবার ব্রত নিয়ে তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি বলেন, আমার পূর্বপুরুষরা এই জনপদের মানুষের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি কেবল তাদের সেই আদর্শের মশালটি বহন করছি। যতক্ষণ শরীরে রক্ত আছে, শিবচরের মাটিতে কোনো জুলুম ও দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।
ভূমি-সংক্রান্ত নানা সমস্যা ও অনিয়ম দূর করতে উন্নত দেশের মতো ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। গতকাল শুক্রবার রাজশাহী নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধাপে ধাপে ঘুরতে গিয়ে মানুষ যে ভোগান্তির শিকার হন, তা নিরসনে সমন্বিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সারাদেশের মানুষকে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা থেকে মুক্ত করতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু হলে একজন সেবাপ্রার্থীকে একাধিক দপ্তরে ছোটাছুটি করতে হবে না। যার জমি, যার সমস্যা– তিনি সরাসরি কেন্দ্রে এসে অভিযোগ বা আবেদন জানাতে পারবেন এবং সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এতে পাঁচ-ছয়টি ধাপ অতিক্রম করার প্রয়োজন পড়বে না এবং হয়রানির সুযোগও কমে আসবে। ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সেই আইনের আলোকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তবে সময়োপযোগী করতে কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন প্রয়োজন। এর আগে সকাল থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান।
নিজের ব্যবহৃত পিস্তলের গুলিতে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দেওয়ান মামুন নামে নাটোর পুলিশ লাইন্সে কর্মরত এক এসআই। ঘটনার পর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পুলিশ লাইন্সের ভেতরে নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব জানান, বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তার ডিউটি শেষে সন্ধ্যায় নিজ বাসায় ফেরেন এসআই দেওয়ান মামুন। পরে নিজের ব্যবহৃত পিস্তলটি বিছানার ওপর রেখে তিনি ওয়াশরুমে যান। এ সময় তার শিশু সন্তান পিস্তলটি নিয়ে খেলার সময় হঠাৎ ‘মিস ফায়ার’ হলে এসআই দেওয়ান মামুন বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে দেখতে যান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাবশত এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।
নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, নূর মোহাম্মদ নূরাকে মাওনা থেকে এবং হযরত আলী নামের আরও এক আসামিকে গৌরিপুর উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে জেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের একটি সরিষা খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার জানায়, ১৫ দিন আগে বাসায় ফেরার পথে মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। বিচারের আশায় তারা স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে গেলেও কোনো প্রতিকার পাননি; বরং এলাকা ছেড়ে যেতে বলা হয়। পরে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কিশোরীকে নিরাপদে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাওয়ার পথে বিলপাড় এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। পরদিন সকালে একই এলাকার সরিষা খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে, গ্রেপ্তার আহম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ইউনিয়ন সহসভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করেছে সদর উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মুন্সীরহাট বাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা জৈনপুরী এক্সপ্রেসের তিনটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি বাস সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং অপর দুটি বাস আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাবুরহাট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী পার্কিং করা বাসগুলোতে এ আগুন লাগে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে মুন্সীরহাট বাজার এলাকায় বাসগুলো পার্কিং করা ছিল। এ সময় একটি বাসে হঠাৎ আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পাশের দুইটি বাসে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাসগুলোতে কোনো যাত্রী, চালক বা সহকারী না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মেহেদী হাসান তুহিন জানান, একটি জৈনপুরী এক্সপ্রেস বাস সম্পূর্ণ এবং অপর দুটি বাস আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা হওয়ায় ওই এলাকার মানুষ তীব্র কম্পন অনুভব করেছেন। গত কয়েকদশকের মধ্যে এমন ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা বাসিন্দারা। তবে ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাতাক্ষীরার একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুমার দিন হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ মসজিদে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে সবাই দৌড়ে মসজিদ বাইরে চলে যায়। গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন ভূমিকম্প হয়নি বলে জানিয়েছে সাতক্ষীরার প্রবীণ মানুষেরা।ফলে মানুষেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আব্দুল হাকিম বলেন, আমার জীবনে এমন কম্পন অনুভব কখনো হয়নি। একে বুক কাঁপছিলো কিন্তু একটা জিনিস দেখেও অবাক হয়েছি। যারা পাঁচ অক্ত নামাজ পড়ে এবং যারা মানুষ এর ঝামেলার বিচার করে তার আগে বাইরে চলে গেছে। সাতক্ষীরার আব্দুল হামিদ বলেন, আমি মসজিদে ছিলাম। ভূমিকম্পে মসজিদ কেঁপে ওঠে। এসময় আমরা দৌড়ে মসজিদের বাইরে যায়। এমন কম্পন প্রথম অনুভূত হওয়ায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা আমাদের বাড়ির দিকে কোনো ক্ষতি হয়েছি কিনা এখনো জানতে পারিনি। এদিকে যশোরেও তীব্র কম্পন অনুভূতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অ্যাডভোকেট ইদ্রিস আলী জানান, ‘জুম্মার নামাজ চলাকালীন হঠাৎ পুরো শহর কেঁপে ওঠে। মসজিদসহ বহুতল ভবনগুলোতে প্রবল ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। নামাজের কাতারেই অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আমার ৭০ বছরের জীবনে এমন ঝাঁকুনি আগে অনুভব করিনি।’ ইখতেখার মাহমুদ বাবু বলেন, ‘আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে উঠছিলাম। হঠাৎ পায়ের নিচের মাটি কেঁপে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেল থেকে নেমে যাই।’ নূর ইসলাম বলেন, ‘এর আগে কখনো এমন ভয়াবহ ঝাঁকুনি অনুভব করিনি। মনে হচ্ছিল ভবনটি এখনই ধসে পড়বে। কম্পন শুরু হতেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ভবন ছেড়ে খোলা জায়গায় চলে আসেন।’ প্রসঙ্গত, আজ (শুক্রবার) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ৪ বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা। এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায় দেখানো হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতিতে দেশে মানুষ একটি পরিবর্তন চায়। মানুষের ওপর খবরদারির রাজনীতি কেউ চায় না। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মাদারীপুরের মোস্তফাপুরে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গণপ্রতিরোধের মাধ্যমে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। তাই নেতাকর্মীদের স্বভাব-চরিত্র পরিবর্তন হলে স্থানীয় নির্বাচনেও দেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে জবাব দেবে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, দেশের সব নাগরিক মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বাস করবে, আইনের শাসন থাকবে, সবাই সমান সুযোগ লাভ করবে। সরকারের সামাজিক সুরক্ষামূলক কার্যক্রম প্রশাসনকে সহযোগিতা করে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রত্যেকটি উপজেলায় খাল খননের জন্য তালিকা চেয়েছে। খাল খননের মাধ্যমে ফসল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। এর আগে পথসভায় উপস্থিত থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞার সময়সহ চার মাস প্রতি জেলে ভিজিএফের চাল পাবে ১৬০ কেজি। তবে মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন,পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা আইন অমান্য করে নদীতে নামবে, তাদের জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। জেলা মৎস্য অফিস ও জেলে সূত্রে জানায়, এই জেলায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে ৪৩ হাজার জেলে নিবন্ধিত। এসব জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস নদীতে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসময় লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত একশ’ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এসময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এছাড়া বরফকলগুলো বন্ধ থাকবে। জেলেদেরকে সচেতন করার জন্য নদী এবং উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং ও পোষ্টারিংসহ সকল ধরনের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ। এদিকে চর আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত ৩০টি মাছ ঘাট রয়েছে। এর পাশাপাশি নদী এলাকায় যেসব বরফ মিল রয়েছে সেগুলোও বন্ধ থাকবে। এই আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। মজু চৌধুরীর হাটের জেলে কালাম, মিন্টু, শরীফ হোসেন বলেন,জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেটা মেনে জেলেরা নদীতে যাবে না। কিন্তু জেলেদের পুনর্বাসন করার কথা থাকলেও সেটা এখন পর্যন্ত হয়নি। যে পরিমাণ জেলে রযেছে, সে পরিমাণ সরকারি খাদ্য সহায়তা দেয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল লুটপাট না করে সঠিক তালিকা তৈরি করে দ্রুত যেন তা পেতে পারে সেটা নিশ্চিত করার দাবি জানান। বরফ মিল মালিকরা বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে বরফগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ সময়ে বরফ মিল মালিকদের অনেক লোকসানে পড়তে হয়। যদি সরকারি বরফ কল সহযোগিতা করত,তাহলে অনেক ভালো হতো বলে দাবী করেন তারা। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এরপরও যারা আইন অমান্য করে নদীতে যাবে,তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবারও অভিযান সফল হলে অধিক পরিমাণ ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান বলেন, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে টাস্কফোর্সের সমন্বয় কমিটি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ভিজিএফের চাল নিয়ে কোনো অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন হবে, গণতন্ত্রকে তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে। দেশের পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো। ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করা হচ্ছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পরে ঠাকুরগাঁও হাফেজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এসব মন্তব্য করেন তিনি। এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল নিজ এলাকার মানুষের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি ঠাকুরগাঁও মানুষের কাছে সবসময় ঋণী। আপনারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন বলে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি৷ জানা গেছে, সরকার গঠনের পর তিনদিনের সরকারি সফরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় এসেছেন তিনি। এরপর বিকেলে ইএসডিও এর আয়োজনে ইফতার মাহফিল অংশ নেবেন। শনিবার সকালে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও বিকেলে জেলা বিএনপি মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি সংসদের আয়োজনে ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন। পরের দিন সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় মসজিদের তহবিলের হিসাব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর উপজেলার কাওরাকান্দি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের তহবিলের হিসাব-নিকাশ নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজ উদ্দিন ও তাইতুল মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি একই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যেখানে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে একজন বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরলে উত্তেজনা পুনরায় চরমে ওঠে। পরিস্থিতির জেরে সন্ধ্যার পর উভয়পক্ষ টেঁটা, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ দীর্ঘক্ষণ চলায় নারীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহতদের হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বানিয়াচং থানার ওসি শরীফ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে আমাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ঢাকা ও নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত একাধিক শিশু ও কিশোরী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ঢাকায় ৬ বছর বয়সী শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন এবং হাজারিবাগে স্কুল ছাত্রীকে হত্যা; এই ঘটনাগুলো গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। এসব ঘটনায় আমরা নগ্ন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ক্ষেত্র বিশেষে প্রশাসনের চরম শৈথিল্য লক্ষ্য করছি। অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করার বদলে ধর্ষকের রক্ষক হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়া করতে চাওয়ার মত মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দুঃসাহস ক্ষমতায় মত্ত একটি দলের নেতারা কিভাবে দেখাতে পারে? তিনি আরও লেখেন, শিশু তাহিয়া হত্যার পর কার বা কাদের ইশারায় একে ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলো? কারা এখন সেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে? এরা কারা এবং তাদের উদ্দেশ্য কী— জনগণের কাছে আজ তা স্পষ্ট। জামায়াত আমির লেখেন, দলীয় পদবি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্যাতিতদের দমিয়ে রাখা এবং নিপীড়কদের রক্ষা করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশের সংস্কৃতি হতে পারে না। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আরও লেখেন, আমাদের কথা সুষ্পষ্ট, ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপস চলবে না। অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে স্বচ্ছ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। সবশেষ তিনি লেখেন, আমি মরহুমাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা দেশের সব মজলুমের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শামিল থাকব, ইনশাআল্লাহ।
নরসিংদীতে কিশোরীকে ‘ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায়’ দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম কর্মসূচিটির ঘোষণা দেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি জানান, নরসিংদীসহ সারাদেশে হওয়া ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনাসমূহের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করবে ডাকসু। শুক্রবার বাদ জুমা (দুপুর ১.৩০টা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে রাতেই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, এবাদুল্লাহ (৪০), আহম্মদ আলী মেম্বার (৬৩), মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) ও মো. আইয়ুব (৩০)। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন হত্যার সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, আমি নরসিংদীর জেলা প্রশাসক এবং সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, তারা যেন এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহতের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, আমিনার পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায় তা নিশ্চিত করতে আমার সাধ্যের সবটুকু আমি করব এবং একজন অপরাধীকেও ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাধে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসাও করা হয়। বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে পাঁচজন যুবক মেয়েটিকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসে। এরপর আজ সকালে পুলিশ সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে।
যশোরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলার অভয়নগর উপজেলাধীন বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার পারিবারিক কবরস্থান নিয়ে বিএনপির সমর্থক আশিক ও জামায়াত সমর্থক সাত্তারের মধ্যে মারামারি হয়। এতে জামায়াত সমর্থক সাত্তার আহত হন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি শের আলীর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। আসরের নামাজের পর দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় জামায়াতের মাসুদ কামাল, বুখারী, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আহাদ মোল্লাসহ চারজন এবং বিএনপির ইকবাল, খালিদ শেখ, ইউসুফ হোসেন, ফোরকানসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসাসেবায় জড়িত দুর্নীতিবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুফতি আমির হামজা বলেছেন, ‘সবাই ওপরের জনকে দোষ দেয়। ওপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় কেউ নেই, ওপরওয়ালা এখন আমি। কেউ যদি দুই নম্বর কিছু করতে চায়, তাহলে আমার কথা বলবেন। এত ক্ষমতা নিয়ে কে চলে কুষ্টিয়ায়, আমি তা দেখব।’ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। আমির হামজা বলেন, ‘আমাদের আবেগের জায়গা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালটি চালু করতে চাই। আগের কয়েকটি বিভাগ চালু আছে; পূর্ণাঙ্গভাবে যেন চালু হয়, সে বিষয়ে মিটিং হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির ভেতরে প্রত্যেকটি সরকারি অফিস আদালতগুলো জনবান্ধব করার চেষ্টা করব। বিশেষ করে মানুষ ডিসি, এসপি, ইউএনও অফিস ও থানায় অনেকই যেতে ভয় পান। সিভিল সার্জন, এলজিইডি এসব জায়গায় মানুষ যেতে চান না। আমরা চাচ্ছি, এ জায়গাগুলোতে যেন মানুষের যাতায়াত সহজ হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকটি বিষয় আমি একটু উদ্যোগ নেওয়ার কারণে অনেক সহজ হয়েছে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।