মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস, কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন না করা, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনায় জড়িতদের বিচার, কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর এবং মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করাসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকালে এসব দাবি জানানো হয়। বিকেল সোয়া ৪টায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান। হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের দেওয়া অভিনন্দনপত্রে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। অভিনন্দনপত্রে বলা হয়, ‘‘বিপ্লব, ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক রাহবার ও উলামায়ে কেরামের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম জেলার ঐতিহাসিক জনপদ ফটিকছড়ির বাবুনগর পুণ্যভূমিতে’ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে উলামায়ে কেরাম ও জনগণের পক্ষ থেকে তাকে ‘প্রাণঢালা মহব্বত ও আন্তরিক মোবারকবাদ’’। এতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও সাবেক আমির আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী এবং ‘ইসলাম ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে আত্মত্যাগী সকল শহীদকে’ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। অভিনন্দনপত্রে বলা হয়, ফটিকছড়ি শুধু ভৌগোলিকভাবে গঠিত কোনো এলাকা নয়; এটি দেশের দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামি সংস্কার ও আধ্যাত্মিক সাধনার একটি ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র। বাবুনগর মাদরাসা ও আশপাশের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে আলেম গঠন, বিশুদ্ধ আকিদা চর্চা ও সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এবং বর্তমান আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর মতো প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে এ অঞ্চলটি সমকালীন ইসলামি অন্যতম প্রধান মারকাজ হিসেবে স্বীকৃত বলে উল্লেখ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ‘এই অঞ্চলের ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিক্রমায় এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অভিনন্দনপত্রে আরও বলা হয়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, জুলাই বিপ্লব, ২০১৩ সালের ‘নাস্তিক্যবাদবিরোধী লড়াই’, বাঙালি মুসলিম সমাজের ধর্মীয় চেতনা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে আলেম সমাজের ভূমিকা সুদৃঢ় ও অবিচল ছিল। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, তিনি সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংযোজন করে জাতীয় রাজনৈতিক ধারায় ইসলামি মূল্যবোধকে সম্মানের স্থানে বসিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী (প্রয়াত) বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, তিনি এদেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক সমমর্মিতা প্রদর্শন করেছেন। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার সমর্থন ও সহমর্মিতার কথা আলেম সমাজ গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বলেও উল্লেখ করা হয়। হেফাজতের ৯ দাবি ১. মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা। ২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা। ৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জড়িত, হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার কায়েম করা। ৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করার মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশের সর্বত্র কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করা। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে সরকারি মাদরাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্সের সমমান) ডিগ্রির উল্লেখ করা। ৫. শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। ৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা ও হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা। ৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিগুলোর ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা। ৮. আলেমদের বিরুদ্ধে আওয়ামী সরকারের সময়ের মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে এদেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা। ৯. বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভারতের ‘বিতর্কিত’ মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া। অভিনন্দনপত্রের শেষে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ি সফর ‘কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; এটি দ্বীন ও রাষ্ট্রের মেলবন্ধনের এক অনন্য স্মারক।’ তার এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও আলেম সমাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেশের তৌহিদী জনতাকে একতাবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল, ফলপ্রসূ ও নিরাপদ হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে তাকে নেক হায়াত, সহিহ সালামাত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তৌফিক দেওয়ার পাশাপাশি তার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে ‘একটি স্বাবলম্বী, ন্যায়ভিত্তিক ও নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলার হিম্মত দানের জন্য দোয়া করা হয়।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে একটি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও দক্ষ তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় একই ভবনে থাকা হাসপাতাল, ব্যাংক ও আশপাশের বহু দোকান বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ৬টা ৫ মিনিটে লৌহজং ফায়ার স্টেশনে খবর আসে, উপজেলার মালির অংক বাজারে একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মার্কেটে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে লৌহজং ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার পর ভবনটিতে প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির নিচতলায় মার্কেট, দ্বিতীয় তলায় ইসলামি জেনারেল হাসপাতাল এবং যমুনা ব্যাংকের কার্যক্রম ছিল। তিনি জানান, হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা চারজন মহিলা সিজারিয়ান রোগীসহ আবাসিক অংশে থাকা লোকজনকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন নিচতলার একটি কাপড়ের দোকানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়। এতে একই ভবনে থাকা হাসপাতাল ও ব্যাংকসহ আশপাশের বহু দোকান বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে রক্ষা পায়। অগ্নিকাণ্ডে আমির হোসেন বস্ত্রালয়ের কাপড় ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানটির মালিক আমির হোসেন। ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরুলি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তারা মিয়া (২০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে বিজিবি। নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার মুড়ইছড়া বস্তি এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে। রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ। বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, রবিবার ভোর ৪টার দিকে কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে ভারতের মাগুরুলি এলাকায় একদল চোরাকারবারি যাওয়ার সময় বিএসএফ গুলি চালায়। এতে তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তিনি আরও জানান, নিহত তারা মিয়ার বিরুদ্ধে চোরাকারবারের একটি মামলাও রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।
রাজধানীতে বসবাসকারীদের প্রতিদিনই নানা প্রয়োজনে কোনো না কোনো মার্কেট কিংবা শপিংমলে যেতে হয়। কিন্তু কোথাও গিয়ে দেখলেন, সেখানকার সব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ। তখন কাজ তো হলোই না বরং সময় নষ্ট, সেই সঙ্গে মনও খারাপ হবে। তাই ব্যস্ত এই শহরের মার্কেটে বের হওয়ার আগেই জেনে নিতে পারেন রোববার (৯ আগস্ট) কোন কোন মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট বিসিএস কম্পিউটার সিটি (আইডিবি), পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লি, ইব্রাহীমপুর বাজার, রজনীগন্ধা মার্কেট, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ এবং ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোরান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স, মিতালি অ্যান্ড ফ্রেন্ড সুপার মার্কেট। বন্ধ থাকবে যেসব এলাকার দোকানপাট আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকা, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়া, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টার সিটি বাস টার্মিনাল এরিয়া, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ী একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ, সানারপাড়।
মোহাম্মদপুরের আঁখিরা ইসলামের এখনও দুই দশক আগের কথা মনে পড়ে, যখন দেশলাইয়ের কাঠি বাঁচাতে কিংবা কাপড় শুকাতে ঢাকার অনেক বাসায় দিনের পর দিন গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা হতো। স্বামীর সরকারি চাকরির কারণে দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকতে হয়েছে আঁখিরাকে। পরে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় স্থায়ী হওয়ার সময় তিনি ভেবেছিলেন, রান্নার ঝক্কি বুঝি এবার অনেকটাই কমবে। পাইপলাইনে গ্যাস থাকবে; চুলা জ্বালালেই রান্না করা যাবে। রান্নাঘরের সেই নিশ্চয়তা এখন তার কাছে অনেকটাই অতীত। গ্যাসের চাপ কখন বাড়বে, কখন চুলা জ্বলবে, তার ঠিক নেই। ফলে চুলা জ্বললেই রান্নার কাজ যতটা সম্ভব সেরে ফেলার চেষ্টা করেন আঁখিরা। এর মধ্যে আরেকটি বিষয়ও তাকে ভাবায়। তার চুলায় যে গ্যাস জ্বলে, তার একটি অংশ কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জাহাজে করে আনা হয়। একসময় এত সহজে পাওয়া গ্যাসের জন্য এখন বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, বিষয়টি এখনও তার কাছে বিস্ময়ের। “আমাদের দেশের এত গ্যাস গেল কোথায়,” প্রশ্ন করেন আঁখিরা। তার বাসা থেকে হাঁটা পথের দূরত্বে মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেডে থাকেন সুরাইয়া জান্নাত। তার অভিজ্ঞতা কিছুটা আলাদা। তবে বদলে যাওয়া জ্বালানি পরিস্থিতি তার রান্নাঘরও পাল্টে দিয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে হোস্টেলে থাকতেন সুরাইয়া। মাঝেমধ্যে নিজেরাই রান্না করতেন। সেই সময় তিনিও অনেককে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে কাপড় শুকাতে দেখেছেন। সংসার শুরুর পর ধীরে ধীরে গ্যাসের সেই প্রাচুর্য হারিয়ে যেতে দেখেন তিনি। নানা সংকটের মধ্যেও কয়েক বছর পাইপলাইনের গ্যাসে রান্না করেছেন। ছয় মাস আগে বাসা বদলের পর বদলে গেছে রান্নার জ্বালানিও। নতুন বাসায় পাইপলাইনের গ্যাস নেই। এখন এলপিজি সিলিন্ডারই তার ভরসা। কিন্তু সেখানেও নিশ্চয়তা নেই। সুরাইয়ার অভিযোগ, সরকার যে দাম ঠিক করে দেয়, সেই দামে তিনি সিলিন্ডার কিনতে পারেন না। বাজারে বাড়তি টাকা দিতে হয়। আবার দাম বাড়ার খবর ছড়ালে কখনও সিলিন্ডার পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। একসময় যে গ্যাসের আগুনে মানুষ কাপড় শুকাত, সেই গ্যাসই এখন তার সংসারের বড় খরচগুলোর একটি, বলছিলেন সুরাইয়া। আঁখিরা অপেক্ষা করেন পাইপলাইনে চাপ বাড়ার; আর সুরাইয়া অপেক্ষা, সহনীয় দামে সিলিন্ডার পাওয়া। ঢাকার এই দুই রান্নাঘরকে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার বদলে যাওয়া চেহারার প্রতিচ্ছবি বলা যায়। একসময় দেশীয় গ্যাস ছিল সহজলভ্য জ্বালানি। এখন সেই সরবরাহে বড় জায়গা করে নিয়েছে আমদানি করা এলএনজি ও এলপিজি। এমন বাস্তবতায় ৯ অগাস্ট পালিত হচ্ছে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকা তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, রশিদপুর ও কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। যুক্তরাজ্যের শেল অয়েলের হাতে থাকা পরিচালনাকারী কোম্পানির ৭৫ শতাংশ শেয়ার প্রায় ৪৫ লাখ পাউন্ড স্টার্লিংয়ে কিনে নেয় সরকার। তখনকার হিসাবে এর মূল্য ছিল প্রায় ১৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর মধ্য দিয়ে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র, কূপ ও উৎপাদন স্থাপনার পরিচালনা রাষ্ট্রের হাতে আসে। পরে কোম্পানিটির নাম হয় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড। গ্যাসকূপের মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে পাওয়ার সেই সিদ্ধান্ত স্মরণে ২০১০ সাল থেকে ৯ অগাস্ট জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালিত হচ্ছে। পাঁচ দশকের বেশি সময় পরও সেই পাঁচ ক্ষেত্র দেশীয় গ্যাসের বড় উৎস হয়ে আছে এখনও। কিন্তু এর মধ্যে বদলে গেছে দেশের জ্বালানি ব্যবহারের মানচিত্র। জ্বালানি চাহিদার স্থানীয় উৎপাদনের ঘাটতি পূরণে যুক্ত হয়েছে আমদানি করা এলএনজি। ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হলেও সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে তোলার ব্যবস্থা এখনও মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল। জাহাজে এলএনজি এলেও এফএসআরইউ সচল না থাকলে সেটি গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনে দেওয়া যায় না। ফলে এই দুটি টার্মিনালের কোনো একটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খারাপ আবহাওয়া বা কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলেই তার প্রভাব সরাসরি জাতীয় সরবরাহে পড়ে। গত কয়েক বছরেই এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রেমালের সময় একটি ভাসমান পন্টুন সামিটের এফএসআরইউতে আঘাত করলে টার্মিনালের ব্যালাস্ট ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে কমে যায়। স্বাভাবিক সময়ে দুই টার্মিনাল থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি পাওয়া গেলেও সেই সময় সরবরাহ ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমেছিল। টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করতে লেগে যায় তিন মাসের বেশি। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে মাত্র ছয় ঘণ্টার কারিগরি ত্রুটিতেই জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়। তাতে গ্যাসের চাপ কমে যায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে। এরপর ৭ জুলাই বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনালে একটি এলএনজি জাহাজ ভিড়তে না পারায় সরবরাহ আবার দৈনিক প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়। এর দুই সপ্তাহ পর ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে আগুন ও কারিগরি ত্রুটির পর দৈনিক আরও প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনালটি সাধারণত দৈনিক ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেয়। অর্থাৎ জুলাইয়ের সংকট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরের ঘটনা প্রবাহে উঠে এসেছে, আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও সেই গ্যাস গ্রহণের অবকাঠামোতে এখনো যথেষ্ট বিকল্প তৈরি হয়নি। মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটিতে সমস্যা হলেই কয়েকশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। আগে থেকেই ঘাটতিতে থাকা জাতীয় গ্রিডে তখন তার ধাক্কা লাগে, যার রেশ দ্রুতই পৌঁছে যায় রান্নাঘর, সিএনজি স্টেশন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায়। গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ার আগে দুই টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। ২০ জুলাই সকাল থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় সরবরাহ ছিল ৯৯৩ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট। পরের দিন তা নেমে আসে ৬২১ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ঘনফুটে। কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ২৬ জুলাই সকাল থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে ৫০০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ টার্মিনাল বিকলের আগের তুলনায় আমদানি করা গ্যাসের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ কমে যায়। কুমিল্লার হেলালউদ্দিন ঢাকায় সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। গত মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে মহাখালীর রয়েল ফিলিং স্টেশনের সামনে তার সঙ্গে যখন কথা হয়, ততক্ষণে সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে ছিলেন তিনি। সামনে তখনও গাড়ির সারি। কখন গ্যাস পাবেন, সেটি কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছিল না। কোথায় কী হয়েছে, কেন হঠাৎ গ্যাস মিলছে না, সেই হিসাবও হেলালউদ্দিনের জানা নেই। তার হিসাব আরও সহজ। গাড়ি যতক্ষণ লাইনে, ততক্ষণ আয় নেই। গ্যাস পেলেও আগের মতো নিশ্চিন্ত হওয়া যাচ্ছে না। চাপ কম থাকায় অনেক সময় পুরো ট্যাংক ভরছে না। অল্প গ্যাস নিয়ে কয়েকটি ট্রিপ দেওয়ার পর আবার ফিরতে হচ্ছে কোনো ফিলিং স্টেশনের লাইনে। মগবাজারে সিএনজি নিতে আসা চালক সেলিম মিয়ার অভিজ্ঞতাও একই। তার ভাষ্য, আগে একবারে প্রায় ৩০০ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত। এখন অনেক সময় ১০০ থেকে ১২০ টাকার বেশি পাওয়া যায় না। সেই গ্যাসে দু-একবার যাত্রী বহন করলেই আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়। দিনে দুই দফায় তিন ঘণ্টা করে অপেক্ষা হলে ছয় ঘণ্টা চলে যায় শুধু জ্বালানির পেছনে। টার্মিনাল বিকল হওয়ায় ৪ অগাস্ট সকাল থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় দেশীয় ক্ষেত্র ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ১৪০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট। ওই দিন গ্যাসের চাহিদা ছিল ৩ হাজার ৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ ওই দিন চাহিদার প্রায় ৫৬ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল। এলএনজি থেকে এসেছিল ৪৯০ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতির প্রভাব শুধু সিএনজি স্টেশনে ছিল না। অনেক বাসায় দিনের বেলায় চুলা জ্বলেনি। কোথাও ইন্ডাকশন চুলায় রান্না হয়েছে, কোথাও রান্নার সময় সরিয়ে নিতে হয়েছে গভীর রাতে। শিল্পকারখানাতেও গ্যাসের চাপ কমেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ধুঁকেছে জ্বালানির সংকটে, বেড়েছে লোডশেডিং। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ অগাস্ট ভোরে বিকল টার্মিনালের একটি অংশ আবার চালু হয়। শুরুতে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছিল। বাড়ছে না দেশীয় উৎস জুলাইয়ের সংকটের মধ্যেই আরেকটি হিসাবও সামনে আসে। পাঁচ দশকের বেশি সময় আগে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র এখনও দেশীয় উৎপাদনের বড় উৎস। গত ৪ থেকে ৫ অগাস্টের পেট্রোবাংলার হিসাবে, তিতাস থেকে দৈনিক ৩৩৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এসেছে। হবিগঞ্জ থেকে ১০২ দশমিক ৩ মিলিয়ন, বাখরাবাদ থেকে ১৮ দশমিক ২ মিলিয়ন এবং রশিদপুর থেকে ৭০ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট। কৈলাসটিলার দুটি স্থাপনা থেকে পাওয়া গেছে আরও ৪৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট। সব মিলিয়ে ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পাঁচটি ক্ষেত্র থেকে ওই দিন এসেছে ৫৬৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। দেশীয় ক্ষেত্রগুলোর মোট উৎপাদন ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ পাঁচটি ক্ষেত্র এখনও দেশীয় গ্যাসের প্রায় সাড়ে ৩৪ শতাংশ দিচ্ছে। এই হিসাব পঞ্চাশ বছর আগের ওই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব পরিস্কার করে। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলে, এত বছরেও নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার ও উৎপাদন বাড়িয়ে পুরোনো ক্ষেত্রগুলোর ওপর নির্ভরতা কেন কমানো গেল না। আবার ঝুঁকিটা শুধু পুরোনো পাঁচ ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরতায় নয়। গত ৪ থেকে ৫ অগাস্ট বিবিয়ানা ক্ষেত্র একাই ৭৪৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়েছে। অর্থাৎ দেশীয় উৎপাদনের প্রায় ৪৫ শতাংশ এসেছে একটি ক্ষেত্র থেকে। তিতাস যোগ করলে এই দুই ক্ষেত্র থেকেই এসেছে দেশীয় গ্যাসের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ, দেশীয় উৎপাদন অল্প কয়েকটি বড় ক্ষেত্রের ওপর কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে আমদানি করা এলএনজি গ্রহণের দুটি ভাসমান টার্মিনালও মহেশখালীর একই এলাকায়। অর্থাৎ, আমদানির অবকাঠামোও একই এলাকায় কেন্দ্রীভূত। ফলে এসব সরবরাহ ব্যবস্থার যেকোনো ত্রুটিতে তার চাপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায়। দেশীয় উৎসে জোর, ফল পেতে সময় এই নির্ভরতা কমাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন খনন রিগ কেনা হচ্ছে। একটির ক্ষমতা ২ হাজার অশ্বশক্তি, অন্যটির দেড় হাজার অশ্বশক্তি। তবে নতুন কূপ থেকে গ্যাস পেতে সময় লাগে বলে মনে করিয়ে দেন তিনি। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, ভূতাত্ত্বিক জরিপ, সম্ভাব্যতা যাচাই, সরকারি সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক দরপত্র ও খননসহ পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় এক বছর লেগে যেতে পারে। “সরকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।” পুরনো ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমবে এবং নতুন কূপ থেকে গ্যাস পেতে যে সময় লাগবে, তা আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু নতুন উৎস থেকে যে গ্যাস যোগ হয়েছে, তা পুরনো ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমার ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তার আলোচনায় এখন শুধু কতটি কূপ খনন হবে, সেই লক্ষ্য নয়, কবে সেখান থেকে কত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে, সেই হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্যাসের সংকট রপ্তানি কারখানাতেও রান্নাঘর ও সিএনজি স্টেশনের বাইরে গ্যাসের সংকটের ছাপ পড়েছে শিল্পাঞ্চলে। ইভেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরীর হিসাবে, নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়া ও গাজীপুরের অনেক কারখানায় উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর সমস্যাটা শুধু উৎপাদন কমে যাওয়ায় থেমে নেই। গ্যাসের অভাবে সময়মতো পণ্য তৈরি ও পাঠানো যাচ্ছে না। এতে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। সময়মতো পণ্য দিতে না পারলে ক্রেতারা মূল্যছাড় চাইছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উড়োজাহাজে পণ্য পাঠানোর বাড়তি খরচও কারখানার ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। সংকট দীর্ঘ হলে ভবিষ্যতের ক্রয়াদেশেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। আনোয়ার-উল আলম বলেন, “কাস্টমাররা যখন দেখে যে এই গ্যাসের জন্য ডেলিভারি মানে এনার্জির জন্য ডেলিভারি ডিলে হচ্ছে এবং এটা একটা আনসার্টেন তখন তাদের মধ্যে একটা পেনিক কাজ করে।” তার মতে, তাৎক্ষণিক সংকটে কোন খাতে কত গ্যাস দেওয়া হবে, সেই ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে হবে। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও অন্য জ্বালানি বেশি ব্যবহারের কথা বলেন তিনি। সার কারখানায় গ্যাসের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে প্রয়োজনীয় সার আমদানি এবং সিএনজি খাতে গ্যাস সরবরাহ ধীরে কমানোর পরামর্শও দেন। পাশাপাশি পাইপলাইন ও ব্যবহারে অপচয় কমানোর ওপর জোর দেন তিনি। মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে নতুন এলএনজি টার্মিনাল, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং কূপ খনন বাড়ানোর কথাও বলেন এই ব্যবসায়ী নেতা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়লে কমবে আমদানি ঝুঁকি দেশীয় গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশকে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। সুলভে আমদানির সুযোগ পাওয়া গেলে তা অনেক সময় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়, যার ধকলে টান পড়ে দেশের রিজার্ভে। আবার টার্মিনালে সমস্যা হলে সরবরাহ কমে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঝুঁকি কমানোর একটি পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে সেই লক্ষ্য থেকে এখনও অনেক দূরে বাংলাদেশ। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ছিল মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে বিশ্বে এই হার ছিল প্রায় ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ৭ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের লক্ষ্য পূরণে সক্ষমতা প্রায় ৫ হাজার ৮৫১ মেগাওয়াটে নিতে হবে বলে হিসাব করেছে আইইইএফএ। এজন্য ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ৭৬০ মেগাওয়াট নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা যোগ করতে হবে। আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম মনে করেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়লে দিনের বেলায় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। সেই গ্যাস শিল্পসহ অন্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে না বলে মনে করেন তিনি। রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতার জন্য গ্যাসের প্রয়োজন থাকবে। তাই নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনও বাড়াতে হবে। তার মতে, দেশীয় গ্যাস, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ব্যাটারি স্টোরেজকে একই পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে। কোন সময়ে কোন উৎসের বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে, সেটিও আগেই ঠিক করতে হবে। আইইইএফএর আরেক হিসাব বলছে, এক মেগাওয়াটের একটি রুফটপ সোলার প্রকল্প বছরে প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকার জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করতে পারে। ফলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়ানো শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, আমদানি করা জ্বালানির দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা কমানোরও একটি উপায় হতে পারে বাংলাদেশের জন্য।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে যাকে দেখা গেছে, তার নাম আবু ওবাইদাহ অরিন। ২৫ বছর বয়সী এই তরুণের বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়। তিনি কীভাবে পলাতক হাসিনার সংস্পর্শে এলেন, আর কীভাবেই বা ওই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হলেন, সেটি নিয়ে সাতক্ষীরায় চলছে তুমুল আলোচনা। ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের আয়োজনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। ভারত সরকার এই বক্তব্যের অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এমন একটি বিতর্কিত আয়োজনে উপস্থাপক হিসেবে হাজির হন সাতক্ষীরার ওই তরুণ। তবে তার বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অরিনের নাম-পরিচয় ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার রাত ১২টার দিকে তাঁর বাড়িসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। সাতক্ষীরা সদর থানার পাশের মুনজিতপুর নিচুতলা এলাকায় তার বাড়ি বলে স্থানীয়রা জানান। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক বন্ধ। তার বাবা আবু সোয়েব এবেলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অরিনের প্রতিবেশী ও স্থানীয় মুদি দোকানি শাহজাহান বলেন, ‘অরিন নামের ছেলেটাকে অনেক দিন ধরে দেখি না। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে শেষবার তাকে দেখেছি। এরপর আর দেখিনি। শুনেছি, সে ভারতে পড়াশোনা করে। তার বাবা-মা অবশ্য বাড়িতেই থাকেন।’ পাশের আরেক দোকানিকে নয়াদিল্লির অনুষ্ঠানের একটি ছবি দেখানো হলে ছবিতে থাকা তরুণকে তিনি অরিন হিসেবে শনাক্ত করেন। তার ভাষায়, ‘এ তো অরিন! এত বড় নেতা হয়ে গেছে দেখছি। একেবারে মন্ত্রীদের পাশে বসে আছে।’ অরিনের বাবা আবু সোয়েব এবেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জাহান প্রেসে গিয়েও তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। সেখানে রাতের নিরাপত্তাকর্মী রমেশ চন্দ্র বলেন, এবেল সাহেব সাতক্ষীরাতেই থাকেন এবং মাঝে মাঝে প্রতিষ্ঠানে আসেন। তবে ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকে তাকে আর দেখিনি। স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক পরিচয় অনুযায়ী, আবু ওবাইদাহ অরিন সাতক্ষীরা সদর থানার পাশের মুনজিতপুর নিচুতলা এলাকার বাসিন্দা এবং জাহান প্রেসের মালিক আবু সোয়েব এবেলের বড় ছেলে। লেখাপড়ার জন্য তিনি ভারতে যান। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির ঘনিষ্ঠতার আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির এক নেতার সঙ্গেও পারিবারিকভাবে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে। অরিনের বিষয়ে পুলিশ এখনো অন্ধকারে। তার বিষয়ে পুলিশ কিছু জানে কি না, তা জানতে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করে কালবেলা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারা অবগত নন। বিষয়টি জানতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। পরে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমানের নম্বরে কল দিলে তিনি প্রতিবেদকের কলটি কেটে দেন।
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে ব্যাভিচারের মামলা থেকে খালাস দেওয়ার রায়ে উঠে এসেছে নানা প্রসঙ্গ। বিয়ে করে নাসির ও তামিমা কেন অপরাধ করেননি, কেন তামিমার আগের স্বামীকে তালাক দেওয়ার প্রক্রিয়া সঠিক ছিল, কেন নাসির-তামিমা দম্পতির সন্তান বৈধ— এ ধরনের নানা সিদ্ধান্তের পেছনে বিচারকের যুক্তি উঠে এসেছে পূর্ণাঙ্গ রায়ে। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম গেল ১০ জুন আলোচিত এ মামলার রায় দেন। আইনগতভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে মামলাটি করেছিলেন তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারক বলেছেন, বাদী রাকিব ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মাত্র কয়েকবার দেখা হওয়ার দাবি তুলে ধরেছেন। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তামিমার ভরণপোষন দিয়েছেন কিনা বা স্বামী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কিনা, সেই সাক্ষ্য-প্রমাণ রাকিব তুলে ধরতে পারেননি। রায়ে বিচারক বলেছেন, ২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৮ মার্চ পর্যন্ত তামিমার সঙ্গে রাকিবের শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, এমন কোনো আলামতও তদন্ত কর্মকর্তাকে বাদী দিতে পারেননি। ওই সময়কালের মধ্যে তামিমা অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন, এমন প্রমাণও নেই। রাকিবকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্তও তামিমা আইনিভাবে নিয়েছিলেন বলে রায়ে বলা হয়েছে। বিচারক বলেছেন, "বাদী তামিমাকে কাবিননামায় তালাকে-তফউইজের ক্ষমতা দিয়েছিলেন। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে তামিমা রাকিবকে তালাক দেন। ডাক রশিদ জাল ছিল, সেটাও বাদী প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন।” ব্যাভিচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে রায়ে বলা হয়েছে, “তামিমা সুলতানার সঙ্গে নাসির হোসেন ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে ব্যাভিচারে লিপ্ত ছিল বা তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করেছে, এমন অভিযোগ বাদী করেননি। মামলার ১০ সাক্ষীর কেউই বলেননি যে, তামিমার সঙ্গে নাসিরের বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। সন্তান প্রসঙ্গ নাসির ও তামিমা দম্পতির একটি সন্তান রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে সেই সন্তানের প্রসঙ্গও টেনেছেন বিচারক। রায়ে বলা হয়, তামিমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসির হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে অবৈধ গণ্য হতো। আর বিয়ে অবৈধ হলে তাদের সন্তানও অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। “যেহেতু আদালতের মাধ্যমে একটি শিশুকে অবৈধ ঘোষণার মতো কঠোর আদেশের সম্ভাবনা থেকে যায়, সেজন্য এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়া শুধুমাত্র আইনিভাবেই জরুরি নয়, বরং সামাজিকভাবেও এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।" বিচারক বলেন, "তামিমার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪৯৪ ধারার অপরাধ পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়ে বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারার অপরাধের কোনো সাক্ষী বা আলামত নেই। রায়ের দিন আপিলে যাওয়ার কথা বলেছিলেন বাদী রাকিব হোসেন। তবে এখন আর আপিলে আগ্রহ নেই তার। বরং শুভকামনা জানিয়েছেন নাসির ও তামিমার সন্তানের জন্য। বিডিনিউজ টোয়েন্টেফোর ডটকমকে রাকিব বলেন, "আপিল করব কি না, নিশ্চিত না। আপিল করে কি সারাজীবন টানব। এমনিতেই পাঁচটা বছর গেছে মামলা নিয়ে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে। মামলায় নাসির জিতে গেছে। তাদের বাচ্চাটার ফেভারে গেছে। না হলে তো বাচ্চাটার দিকে মানুষ আঙ্গুল তুলতো। বাচ্চাটার তো আসলে কোনো দোষ নেই। এটা তো একটা ‘ন্যাশনাল ইস্যু’ ছিল। নাসিরের ফেভারে না গেলে ভাবমূর্তি নষ্ট হতো। আমি তো আর অত পরিচিত মানুষ না। হারলেও বাঁচি, জিতলেও বাঁচি। রায় অন্যকিছু হলে বিয়ে-বাচ্চা অবৈধ হয়ে যেত।" তিনি বলেন, "একটা মানুষ বিয়ে করতে পারে। স্বামীকে ভালো নাও লাগতে পারে। অন্যকে বিয়ে করে বাচ্চা-স্বামী-সংসার নিয়ে ভালো থাক। অনেক হয়ছে। নাসিরের বাচ্চার জন্য শুভ কামনা। আমি হেরেও জিতে গেছি।” রাকিবের মেয়েটা দাদা-দাদির সাথে ঝালকাঠীর নলছিটিতে থাকে। সেখানে একটি স্কুলে পড়ছে। রাকিব বলেন, "আমার মা আমার মেয়েটাকে নিজের মেয়ের মতো করে মানুষ করছে। মেয়েটা আমার কাছে থাকুক, মা সেটাও চান না; তাকে এতোটা ভালোবাসে। স্কুল-কোচিংয়ে দিয়ে আসে, নিয়ে আসে। মেয়েটার দুঃখ, সবার মা তাদের স্কুলে দিয়ে আসে, নিয়ে আসে। কিন্তু সে তার মায়ের সঙ্গে যেতে-আসতে পারে না। সবাই মেয়েটার জন্য দোয়া করবেন, যেন ও মানুষের মতো মানুষ হয়। আর নাসির ভাইয়ের বাচ্চার জন্য দোয়া, শুভ কামনা রইল। মামলা বৃত্তান্ত মামলায় বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসির বিয়ে করেন। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তিনি এই মামলা দায়ের করেন। সে বছর ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তার মা সুমি আক্তারকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন তাদের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান। ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুটো আবেদনই আদালতে নাকচ হয়ে যায়। ফলে নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে মামলা চলতে আইনি বাধা কাটে। সে বছর ২০ মার্চ বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। সব মিলিয়ে ১০ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত। এরপর গত ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। শুনানিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। গত ৩০ মার্চ নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের সাবেক বিমানবালা তামিমা। তিনি দাবি করেন, ‘সাংসারিক এবং মানসিক বনিবনা’ না হওয়ায় আগের স্বামী রাকিবকে তালাক দিয়ে বৈধভাবেই তিনি ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেন। ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই ধারায় এবং তামিমার বিরুদ্ধে আলাদা তিন ধারায় অভিযোগ গঠন করে এ মামলার বিচার চলে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছরের এবং তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত। তবে আদালতের বিচারে তারা দুজনেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পকারখানার ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ ও তিন মাসের কিস্তি স্থগিতের দাবি জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনা, এ সময়ে কোনো জরিমানা না করা এবং সংকটকালীন সময়ে কোনো শিল্পকারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার (৮ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পৃথক চিঠি দিয়ে এসব দাবি জানানো হয়। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক চিঠি দুটিতে স্বাক্ষর করেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা অলিখিত ছাঁটাই পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বার জানায়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের প্রায় সব শিল্পকারখানাই উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় রপ্তানি ও বিক্রয়ও মারাত্মকভাবে কমেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সংগঠনটির ভাষ্য, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পণ্যের উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না। এর মধ্যে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিলসহ নিয়মিত ব্যয় বহন করা শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক মাসও এ ক্ষতির ধকল শিল্পোদ্যোক্তাদের বহন করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। চট্টগ্রাম চেম্বার বলেছে, শিল্পোদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ও বিক্রয় কমে যাওয়ার পরও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের বোঝা বহন করতে হলে তা শিল্প খাতের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে এটি দেশে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ অবস্থায় গার্মেন্টস ও সব রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার। অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনা বা মোরাটোরিয়াম দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় শিল্পমালিকরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই ক্ষতির প্রভাব আগামী কয়েক মাসও তাদের বহন করতে হবে। তাই আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে বিদ্যমান বিল পরিশোধের নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করা প্রয়োজন। এ জন্য চট্টগ্রাম চেম্বার তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে। এগুলো হলো- বর্তমানে কোনো শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা; অন্তত আগামী ছয় মাস কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া এবং মাসিক ভিত্তিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করে জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধে ৯০ দিনের বিলম্ব মার্জনা বা মোরাটোরিয়াম দেওয়া। চট্টগ্রাম চেম্বার বলেছে, এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহজনিত আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হবে। এ জন্য শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধে ৯০ দিনের সুযোগ দেওয়া এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।
রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার পর হলের ‘বৈধ সাধারণ শিক্ষার্থী’ ও শিবির নেতারা সম্মিলিতভাবে আবাসিক হলে উঠতে যাওয়ার পথে বকশীবাজার মোড়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এ সময় মাদ্রাসার ভেতরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। সকাল থেকেই আলিয়া মাদ্রাসার হলের পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা ছিল। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ছাত্রশিবিরের হল শাখার নেতাকর্মী ও বৈধ শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে অবস্থান নেওয়ার জন্য বকশীবাজার মোড়ে সামনে উপস্থিত হলে তাদের প্রবেশে বাধা দেয় পুলিশ। এদিকে পুলিশ কিছু পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড যাচাই করে মাদ্রাসায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলেও, যাদের অ্যাডমিট কার্ড হলের কক্ষে ছিল তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির। দুপুর ১২টার দিকে বকশীবাজার মোড়ে ব্যারিকেড দেওয়ায় যানবাহন মাদ্রাসার ভেতরের দিকে প্রবেশ করতে পারেনি। তবে মাদ্রাসার দিক থেকে বকশীবাজারের দিকে যানবাহন বের হচ্ছে। বকশীবাজার মোড়, আলিয়া মাদ্রাসা সড়ক ও মাদ্রাসার গেটের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। চকবাজার থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বকশীবাজার মোড়, আলিয়া মাদ্রাসার সড়ক ও গেটের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। একটি গ্রুপ আজ আলিয়া মাদ্রাসায় প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ায় সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে দ্বন্দ্ব মোকাবিলা ও নিরাপত্তার জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড দেখে মাদ্রাসার দিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা একত্রিত হয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে জানায়, কোনো বিষয়ে কথা থাকলে দুই-একজন প্রতিনিধি প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কিন্তু তারা পুলিশের কথা না শুনে সবাই একত্রিত হয়ে ঢুকার কথা বলে। ভেতরে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো বহিরাগতকেও মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। এদিকে আলিয়া মাদ্রাসার হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলীম বলেন, তারা শনিবার সকালে দুটি উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রথমত, তারা শান্তিপূর্ণভাবে হলে অবস্থান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের বাধা দিয়েছে। তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড সঙ্গে থাকায় তাদের মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু শিক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড হলের কক্ষে ছিল। তাদেরও হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তারা পরীক্ষা দিতে পারতেন। কিন্তু হলের কার্ড থাকা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা প্রশাসন করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। আব্দুল আলীম আরও বলেন, তারা পরীক্ষার আগেই মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন। তাদের ধারণা ছিল- সেখানে অবস্থান করতে পারলে মাদ্রাসা প্রশাসন এসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিয়ে পরীক্ষার হলে নিয়ে যাবে। কিন্তু প্রশাসন নিরাপত্তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে নিয়ে যায়নি। এতে তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি এবং তারা নিজেরাও হলে যেতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের বৈধ হল কার্ডধারী ও বৈধ শিক্ষার্থীরাই হলে প্রবেশ করতে পারেননি। অথচ ছাত্রদলের শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করছেন। আব্দুল আলীম বলেন, আমরা ইসলামী ছাত্রশিবিরের জন্য আসিনি। আমাদের লড়াই হচ্ছে— বৈধ ছাত্র ছাড়া ছাত্রদল বা শিবির পরিচয়ে কেউ হলে থাকবে না। আমরা চাই, হলে শুধু বৈধ শিক্ষার্থীরাই অবস্থান করুক। তিনি আরও বলেন, তাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রেখে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি। এ কারণে আগামীকাল থেকে দেশবাসী ও ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আগামীকাল তাদের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান। পুলিশের ব্যারিকেড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ছাত্রশিবিরের শিক্ষার্থীরা এলাকা ত্যাগ করেন। এর পরও মাদ্রাসার আশপাশে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় ছাত্রশিবিরের প্রবেশ ঠেকাতে সড়কে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড।
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ট্রলারে জালে ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ। নিলামে এসব মাছ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ টাকায়। দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করে গভীর সমুদ্রে ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করেছে। ছেলেদের ভাষ্য মতে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের একটি মাছধরা ট্রলারের জেলেদের জালে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। শুক্রবার দুপুরে ট্রলারটি নিয়ে মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছালে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়। আড়ত সূত্রে জানা গেছে, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ, প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এমন মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি। মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দাম অনেক বেশি থাকায় জেলেরাও ভালো দাম পেয়েছেন। ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছধরার ট্রলারে জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পরেনি। এরই মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জানান। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও বেশি ইলিশ মিলতে পারে।
দেশের চা-শিল্পে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। সম্প্রতি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চা-নিলামে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চা ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড় দামে বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় আয় ও উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন সাফল্যের মুখ দেখছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক চা-নিলামে এনটিসির অধীনস্থ ১২টি চা-বাগানের মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। নিলামে প্রতি কেজি চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ২৮০ টাকা ৫৯ পয়সা, যা এনটিসির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। সরকার নির্ধারিত ২৪৫ টাকার ভিত্তিমূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেশি দামে চা বিক্রি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা। নিলামে অংশ নেওয়া বাগানগুলোর মধ্যে রয়েছে—হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া, চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া, পারকুল এবং মৌলভীবাজারের ও সিলেট জেলার পাত্রখোলা, কুর্মা, চম্পারাই, মদনমোহনপুর, লাক্কাতুরা, মাধবপুর প্রেমনগর ও বিজয়া চা-বাগান। এসব বাগানে উৎপাদিত উন্নত মানের অর্থোডক্স ও সিটিসি চায়ের বেশ কয়েকটি লট নিলামে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন জানান, চায়ের গুণগত মান বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাগান পর্যায়ে নিবিড় তদারকি এবং ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ চয়ননীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করায় কাঁচা পাতার গুণগত মান বহুগুণ বেড়েছে। ফলে উৎপাদিত চায়ের রং, ঘ্রাণ ও স্বাদে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা নিলামের বাজারে প্রতি কেজির দর বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে। এনটিসির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের চা-উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও আমরা সার্বিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারখানায় মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলেই উৎপাদন ও বিক্রয়—উভয় ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি এবং সার্বিক উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের চা শিল্প এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত এনটিসির এই ঘুরে দাঁড়ানোর খবর পুরো চা খাতের জন্যই আশাব্যাঞ্জক বার্তা বহন করছে। প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বাগান শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ আমাদের বাগানগুলো ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের যে বিশেষ কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি, তার সুফল এখন দৃশ্যমান। চলতি আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মৌসুমের বাকি সময়গুলোতে আরো ভালো উৎপাদন ও ভালো বিক্রয়ের প্রত্যাশা করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নে এনটিসি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের চারা রোপণ, কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এনটিসিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরো লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ। নিলামে এসব ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়, যা দীর্ঘদিন পর জেলেদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে। জানা যায়, গত ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের একটি মাছধরা ট্রলারে আলমগীর মাঝির জালে বিপুল ইলিশ ধরা পড়ে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ট্রলারটি মাছ নিয়ে মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছালে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছগুলো বিক্রি করা হয়। আড়ত সূত্রে জানা গেছে, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা (প্রতি কেজি ২,৮৭৫ টাকা) দরে বিক্রি হয়ে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে প্রতি কেজি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা হারে বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছিলাম। একবার জাল ফেলতেই প্রায় দুই হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এমন মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি। মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দাম অনেক বেশি থাকায় জেলেরা ভালো মূল্য পেয়েছেন। সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না। ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশের দেখা পাচ্ছে না। তবে এরই মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর এবং জেলেদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তিনি বলেন, একদিনের এই বেশি আহরণকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও বেশি ইলিশ মিলতে পারে। এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন।
ঠাকুরগাঁও শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের হেফাজত থেকে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ‘ফিল্মি স্টাইলে’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১০টা ১৮ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম মোহাম্মদ সাঈদার (৩২)। তিনি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার সাতখামার এলাকার শামসুল হকের ছেলে। এর আগে গত ৬ আগস্ট বিকালে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে র্যাব-১ একটি ওয়ারেন্ট মামলায় তাকে আটক করেছিল। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীকালে আটোয়ারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে পথিমধ্যে ঠাকুরগাঁও পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের উপস্থিতিতেই আসামি হঠাৎ দৌড়ে পালিয়ে যান। ঘটনাটি অনেকটা চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মতো। এতে উপস্থিত মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ঢাকা থেকে আটোয়ারী থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে ঠাকুরগাঁও শহরের বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় থামলে আসামি পালিয়ে যায়। তিনি আর বলেন, আটোয়ারী থানা পুলিশের সঙ্গে আমরা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেত্রকোণা জেলা শহরের ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র বড়বাজার এলাকায় এক ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। একটি ক্রোকারিজের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে ইলেকট্রনিক ও প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকানসহ অন্তত ৪-৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রাথমিক হিসাবে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বড়বাজারের একটি ক্রোকারিজের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্লাস্টিক ও দাহ্য ইলেকট্রিক সামগ্রী থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের পেছনের দিকে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের নেত্রকোণা সদরসহ কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, পূর্বধলা ও বারহাট্টা উপজেলার ১০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। নেত্রকোণা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। ১০টি ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে পেছনের আবাসিক বাসাবাড়িতে আগুন ছড়াতে পারেনি। উল্লেখ্য, বড়বাজার এলাকাটি নেত্রকোণা শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ঘনবসতিপূর্ণ এই বাজারে পোশাক, কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক্সসহ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানানো হয়েছে।
বাজারে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাঁচা মরিচের দামে ঊর্ধ্বগতি শেষে আমদানির পর কিছুটা স্বস্তি মিলতে শুরু করেছে। কিন্তু এর মধ্যেই আবার বাড়তে শুরু করেছে মাছ, ডিম ও মুরগির দাম। তবে বিভিন্ন সবজির কেজিপ্রতি দর গত সপ্তাহের মতই একশ টাকার আশপাশে স্থির আছে। মাছ, ডিম, মুরগি ও সবজির দামের ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে বৃষ্টিকে দায়ি করছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। তবে ক্রেতারা এই কারণকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন। শুক্রবার রাজধানীর নর্দ্দার কালাচাঁদপুর এলাকার শ্যাওড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিম কিনতে ক্রেতাদের ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। বাজারে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। কিছু কিছু জায়গায় ১৬০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহে একই বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। একই বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। গলির দোকান থেকে কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০৫ থেকে ২১০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। একইদিন মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারে গিয়েও দেখা গেল গত সপ্তাহের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম ও মুরগি। বাজারের মুরগি বিক্রেতা মনসুর আহমেদ বলেন, “বৃষ্টির কারণে মুরগি কম আসে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। তাই দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে।” ডিম বিক্রেতারাও বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম থাকার কথা বলছেন। এদিকে কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজির দাম গত সপ্তাহের মতই আছে। শ্যাওড়া বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচের দাম উঠেছিল ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা। দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির ফলে দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১২০ ও গোল বেগুন ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বরছেন, সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামে খুব একটা ওঠানামা নেই। একটু কম দামে পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে আগের সপ্তাহের মত ৩০ থেকে ৪০ টাকা। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরেও প্রায় একই দাম দেখা গেল বিভিন্ন সবজির। টাউনহল বাজারে গত সপ্তাহের মতই পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তবে আলুর দাম ৫ দাম বেড়ে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। কথা হয় শ্যাওড়া বাজারে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। ৫০০ টাকায় চারটা সবজিও কিনতে পারিনি। মাছ না কিনেই বাসায় ফেরত যাচ্ছি।” লুৎফরের পাশে দাঁড়িয়ে চালকুমড়া কিনছিলেন মোহাম্মদ আজাদ। তিনি বলেন, “ছোট একটা চালকুমড়া কিনতেই ৭০ টাকা শেষ। এমন হলে মানুষ খাবে কি? কিছু একটা হলেই দাম বেড়ে যায়। বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরা। এখন দিচ্ছে বৃষ্টির অজুহাত। কিছুদিন আগে ছিল তেলের অজুহাত।” ডিম মুরগির মত সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে। টাউনহল বাজারে চাষের পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল ২০০ টাকা। তেলাপিয়া মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই মাছের কেজি ২৪০ টাকা ছিল বলেছেন বিক্রেতারা। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, দুই থেকে তিন কেজি ওজনের রুই প্রতিকেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভেটকির কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেলের ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কইয়ের ৩০০ টাকা কেজি কিনছেন ক্রেতারা। ইলিশের মৌসুম চললেও শ্যাওড়া বাজারে ইলিশের দেখা পাওয়া যায়নি। তবে মোহাম্মদপুর টাউন হলে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা। নাতনিকে নিয়ে টাউনহল বাজারে বাজার করতে আসা এক বৃদ্ধা। একটি ছোট রুই মাছ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। মাছের দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, “৪০০ টাকা দিয়ে কিনছি। মাছের দাম অনেক। এই ছোট মাছই যদি এত দাম হয়, বড় মাছ তো কেনার সাধ্যই নাই।”
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাস চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে উল্টে গেছে। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বরিশাল থেকে সিলেটগামী সাগরিকা পরিবহনের বাসটির চালক যাত্রাপথে বারবার মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী তাকে মোবাইল ব্যবহার না করে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর অনুরোধ করেন। তবে চালক যাত্রীদের কথা উপেক্ষা করে মোবাইলে কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর বাসে থাকা অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে গুরুতর আহত সাইফ আলী (৫২), তুষার (৩৪) ও রানী বেগমকে (৫০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত যাত্রী রানী বেগম বলেন, বাস চলার সময় চালক বারবার মোবাইলে কথা বলছিলেন। আমরা কয়েকজন যাত্রী তাকে নিষেধও করেছিলাম। কিন্তু তিনি কারও কথা শোনেননি। কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন বলেন, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেহেরপুরের গাংনী এলাকা সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ধলা সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, ধলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৩৫/৪-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধলা মাঠ এলাকায় বিএসএফের ১১ ব্যাটালিয়নের বুড়িপোতা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাত পরিচয়ের চার পুরুষ ও এক নারীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ধলা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার নিজাম উদ্দীন শিকদার বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধ পুশইন করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হলে তারাও বিজিবির সঙ্গে থেকে তা প্রতিহত করবেন।
সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপনে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও একটি সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ফলে ইউনিক বাসটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের সাত যাত্রী মারা যান এবং আহত এক শিশুকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহত ১৩ জনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর আগে ভোরে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে বাসচাপায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ১৫
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জামালপুর কমিউটার ট্রেনের পাওয়ারকারসহ চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন শিবগঞ্জ রোড রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনটি গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশের আগ মুহূর্তে সামনের অংশের একটি পাওয়ারকারসহ চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়ার সিল্কিবান্ধা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডান পাশের একটি বৈদ্যুতিক পিলারে লাগে। সেখানে কাজের সন্ধানে অনেক শ্রমিক অপেক্ষা করছিলেন। বাসটি শ্রমিকদের চাপা দিলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ আরো জানায়, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল থেকে আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বুধবার রাত তিনটার দিকে টার্মিনালটির বন্ধ থাকা দুটি বয়লারের একটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। প্রথমদিকে ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস পাওয়া গেলেও বিকাল নাগাদ তা বেড়ে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জানা গেছে, সরবরাহ বাড়ায় গ্যাস সংকট কমতে শুরু করেছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) লাইনে গ্যাসের চাপ বাড়ছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বৃহস্পতিবার বিকালে জানান, বন্ধ থাকা এলএনজি টার্মিনাল থেকে বুধবার রাত তিনটার দিকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস ন্যাশনাল গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিমাণ আরও বাড়বে। তিনি জানান, মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি থেকে ২৩০ এবং অন্যটি থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুটসহ মোট ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে সরবরাহ বাড়ায় গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস সংকট পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। চট্টগ্রামের বাসা-বাড়ি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সিনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। একদিন আগেও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে গাড়ির লম্বা লাইন। তবে বৃহস্পতিবার লাইন দেখা যায়নি। বাসা-বাড়িতেও গ্যাসের চাপ বাড়ছে বলে নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছে। কেজিডিসিএল মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) মো. তাজউদ্দিন ঢালী জানান, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে সরবরাহ বেড়ে ২০৪ মিলিয়ন এবং বিকালের দিকে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়। আগের দিন সরবরাহ ছিল ১৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ছে। চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।