ভারি বৃষ্টিতে টার্মিনাল পর্যন্ত যেতেই বিপর্যস্ত যাত্রীরা। কষ্ট করে পৌঁছানোর পর বাসের দেখা নেই। মিলছে না পর্যাপ্ত গণপরিবহণ। আবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর যেসব বাস পাওয়া গেছে, সেখানে বাড়তি ভাড়ার চাপ। জনপ্রতি ৫০ থেকে পাঁচশ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বেশির ভাগ বাসে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমজীবীসহ সাধারণ যাত্রীদের অনেকে। এসব নিয়ে পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডাও হচ্ছে। আবার যারা আগাম টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন, তাদের অনেকেই পড়ছেন শিডিউল বিপর্যয়ের অস্বস্তিতে। অন্যদিকে অনেক বাস ও ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। ওইসব বাস ও ট্রেনের যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে টিকিট থাকার পরও ট্রেনে উঠতে পারেননি অনেক যাত্রী। এছাড়া সড়ক-মহাসড়কে ছিল থেমে থেমে যানজট। পথে পথে এমন ভোগান্তির পরও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উৎসব করতে বাড়ি গেছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ঈদের আগে ভোগান্তি সত্ত্বেও যাদের কাছে বাড়ি যেতে পারাই হচ্ছে বড় এক আনন্দযাত্রা। সরেজমিন বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে সোমবার এমনই চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং ঢাকা নদীবন্দরে (সদরঘাট) ছিল উপচে পড়া ভিড়। সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় এদিন কর্মজীবী মানুষ আগেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য সড়ক-মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ছিল। যাত্রীর চাপ থাকার সুযোগ নিয়ে অনেক আনফিট বাসও সড়কে নামানো হয়। আবার বেপরোয়া চালানোর কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দূর্ঘটনায় অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনায় পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের দায়ী করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবে না-এমন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন বাস মালিকরা। স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ বিকল্প পদ্ধতিতে গন্তব্যে যেতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। এ অবস্থায় বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী বৃহস্পতিবার। ঈদ সামনে রেখে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছে লাখ লাখ মানুষ। সে কারণে অনেকটাই ফাঁকা হতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাস, লঞ্চ ও ট্রেন স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপরতা দেখা গেছে চোখে পড়ার মতো। বাড়তি ভাড়া আদায়ের কারণে বেশ কয়েকটি বাস কোম্পানিকে জরিমানা করা হয়েছে। তবুও ভোগান্তি পিছু ছাড়েনি। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরবসহ বিভিন্ন স্থানে যানজটে আটকা পড়েন যাত্রীরা। নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন বেসরকারি চাকরিজীবী বুলবুল হোসেন। ভোগান্তির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সকাল থেকে পদ্মা পরিবহণের কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বাস পাননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কাউন্টারে বসে আছি, এখনো গাড়ি আসেনি। সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ২৫০ টাকা, এখন সেটাই ৪৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে।’ ঈদের সময় মানুষ পরিবারের কাছে যেতে চায়, সেই সুযোগে কিছু পরিবহণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে জানান তিনি। বুলবুল হোসেন বলেন, এত কষ্টের পরও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করব এটাই বড় পাওয়া। তাই এটাই আমার কাছে আনন্দযাত্রা। গোল্ডেন লাইন পরিবহণের বাসে ফরিদপুর যাওয়ার জন্য সায়েদাবাদে কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, দুপুর ২টায় বাস ছাড়ার কথা। সেই বাস ১ ঘণ্টা পরে এসেছে। যাত্রীদের এত চাপ যে, কাউন্টারে বসার মতো জায়গাও পাইনি। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ করতে যাচ্ছি, সেটাই এখন বড় কথা। বলতে পারেন আনন্দ-ভোগান্তি নিয়েই বাড়ি যাচ্ছি। বরিশালের কয়েকজন যাত্রী জানান, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বাসে ৭০০-৮০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। অথচ আগে ভাড়া নেওয়া হতো ৫০০-৫৫০ টাকা। রাজধানীর উত্তরায় আব্দুল্লাহপুরে গিয়ে দেখা যায়, বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন শত শত যাত্রী। ঈদযাত্রায় সঙ্গে রয়েছে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও। অধিকাংশ যাত্রীর অভিযোগ, কাউন্টারে টিকিট না পাওয়ায় বাসের আশায় উড়াল সেতুতে দাঁড়িয়েছেন তারা। তাদের অনেকেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন। শেরপুরের নালিতাবাড়ী যাওয়ার জন্য বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা ষাটোর্ধ্ব রফিকুল ইসলাম জানান, ‘শেরপুরের ভাড়া হইলো ৩৫০-৪০০ টাকা। এখন ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা ভাড়া দাবি করছে। এই জায়গায় কয়েক ঘণ্টা ধইরা দাঁড়াইয়া আছি বাসের লাইগ্যা। এগুলো কি দ্যাহার কেউ নাই?’ মাদ্রাসা ছুটি হওয়ায় বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী তাওহিদুল ইসলাম জানান, ‘আমি সিরাজগঞ্জে যাব। আমার বন্ধুদের কেউ নাটোর, কেউ ময়মনসিংহে যাবে।’ তিনি বলেন, বাসে এক হাজার টাকা ভাড়া দাবি করছে। অনেকক্ষণ এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে ছিলাম বাসের জন্য। সেখানে না পেয়ে আব্দুল্লাহপুর এলাম। এখানে বেশি ভাড়া আদায় করছে। উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে ভাঙাচোরা সড়কে চরম দুর্ভোগের চিত্রও দেখা গেছে। এতে যানবাহনের ধীরগতি ও যানজটে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। আব্দুল্লাহপুর উড়াল সড়কের নিচের মহাসড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়কটিই ভাঙাচোরা ও কাদাপানিতে একাকার। পরিবহণ চালকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই রাস্তার এমন অবস্থা। রাস্তা ভাঙা হওয়ায় গাড়ি আস্তে আস্তে চালাতে হয়। ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর এমন যানজটের কারণে ভোগান্তির কথা জানিয়েছে যাত্রীরাও। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে উত্তরা আব্দুল্লাহপুর ট্রাফিক বক্সের পরিদর্শক (টিআই) আরাফাত আহমেদ বলেন, ঈদের কারণে রাস্তায় চাপ রয়েছে। রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে কিছুটা ভোগান্তি তো হচ্ছেই। তবে সড়কে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমরা তৎপর রয়েছি। এদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে বাসচালকদের এমন বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, ঈদযাত্রায় কোনো প্রকার বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। যদি কোনো বাস কর্তৃপক্ষ বাড়তি ভাড়া আদায় করে তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব। টিকিট কেটেও ট্রেনে উঠতে পারেননি অনেক যাত্রী : সোমবার সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে ছাড়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হলেও ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দে অনেকেই পরিস্থিতি মেনে নেন। রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে সময়সূচিতে কিছুটা গড়বড় হচ্ছে। সোমবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ধূমকেতু এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস এবং রংপুর এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ে সকাল সাড়ে ৬টায়। নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার সূচি ছিল, কিন্তু ওই ট্রেনটি ছেড়েছে ৮টা ১০ মিনিটে। এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও ট্রেনটির সম্ভাব্য ছাড়ার সময় দেওয়া হয় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট। এদিকে ভিড়ে ঠাসা যাত্রীবাহী ট্রেনের এক একটি বগিতে নির্ধারিত যাত্রীর চেয়ে চারগুণ বেশি যাত্রী। এ রকম ভিড়ের কারণে ট্রেনে কেউ দরজা ধরে ঝুলছেন, কেউ আবার ছাদে। এছাড়া বগির সংযোগস্থল, ইঞ্জিনের দুপাশেও ঝুলে ছুটছেন সাধারণ যাত্রীরা। রেলওয়ের সাফ বক্তব্য, ট্রেনগুলো ঝুঁকি কী নিয়েই চালাতে হচ্ছে। উনিশ থেকে বিশ হলেই সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে। ঈদ উপলক্ষ্যে কোনো সময়ই যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বছরের পর বছর এমন ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন চালাতে হচ্ছে-চড়ছেন যাত্রীরাও। নিত্যযাত্রীরা সেই ভিড়ের মধ্যেই কোনোরকমে মাথা গুঁজে ঠাঁই করে নিচ্ছে। ঈদযাত্রায় ট্রেনের যে দৃশ্য উঠে আসছে, তা বিরল। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, মানুষের ভিড়ের কারণে আগাম টিকিট থাকার পরও তারা নির্দিস্ট ট্রেনে উঠতে পারেননি। রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) প্রকৌশলী ফকির মো. মহিউদ্দিন বলেন, ঈদ ছাড়াও যাত্রীদের প্রচুর চাহিদা রেলপথে ভ্রমণের। ঈদে যে পরিমাণ চাহিদা। চাহিদার কয়েক শতাংশও পূরণ করা সম্ভব হয় না। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রায় ১ কোটি হিট (টিকিট কাটার জন্য অনলাইনে প্রবেশ) পড়ে। ঈদযাত্রায় সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। লঞ্চযাত্রায় অনেকটা স্বস্তি : বাস ও ট্রেনের তুলনায় লঞ্চে যাত্রী তুলনামূলক কম ছিল। বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে নৌপথের যাত্রী চলাচলে। সোমবার বিকাল পর্যন্ত যাত্রী উপস্থিতি কম ছিল। তবে সন্ধ্যার পর যাত্রী উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। কেরানীগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী মোস্তফা ইব্রাহিম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় রওয়ানা হন। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফিরছেন। বাসের চেয়ে লঞ্চযাত্রা আমার জন্য সুবিধাজনক। বাসে গেলে আগে বরিশাল যেতে হয়, এরপর আবার নৌপথে ভোলায় যেতে হয়। কিন্তু লঞ্চে একবার উঠলেই সরাসরি যাওয়া যায়। এজন্যই লঞ্চে যাওয়া। সদরঘাট এসেই লঞ্চ পেয়েছি। আশা করি স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারব। পটুয়াখালীর বাউফলে যাবেন কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের তেমন চাপ নেই। তবে বৃষ্টির কারণে বাসা থেকে সদরঘাট আসতে কষ্ট হয়েছে। আশা করি, ভালোভাবে বাসায় পৌঁছে মা-বাবা-আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদ করব। ঢাকা-কালীগঞ্জ-ইলিশা রুটের সম্পদ লঞ্চের সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে যাত্রী আরও বেশি হতো। তারপরও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যাত্রী বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। পটুয়াখালীর বাউফলে যাবেন কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের তেমন চাপ নেই। তবে বৃষ্টির কারণে বাসা থেকে সদরঘাট আসতে কষ্ট হয়েছে। আশা করি, ভালোভাবে বাসায় পৌঁছে মা-বাবা-আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদ করব। ঢাকা-কালীগঞ্জ-ইলিশা রুটের সম্পদ লঞ্চের সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে যাত্রী আরও বেশি হতো। তারপরও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যাত্রী বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই।
পবিত্র ঈদুল আজহা এখন মুসলমানদের দরজায়। ঢাকার কুরবানির পশুর হাটগুলোয় বিক্রি জমে উঠেছে। দামাদামি করে সাধ্যের মধ্যে পশু কিনতে পারছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারাও খুশি। এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে রাজধানীর পশুর হাটগুলোয়। সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন হাটে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর হাঁকডাক, দরদাম আর মানুষের ভিড়ে মুখর হাটগুলো। দুই সিটির আওতায় এবার ২৭টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাট পরিচালিত হচ্ছে। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলী রয়েছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। ডিএসসিসির আওতাধীন অস্থায়ী হাটগুলো বসেছে পোস্তগোলা, শাহজাহানপুর, রহমতগঞ্জ, আমুলিয়া, শ্যামপুর, আফতাবনগর, কাজলা-মাতুয়াইল, দয়াগঞ্জ-জুরাইন, বনশ্রী, গোলাপবাগসহ বিভিন্ন এলাকায়। অন্যদিকে ডিএনসিসির অধীনে মিরপুর, কালশী, বছিলা, উত্তরা দিয়াবাড়ি, ভাটারা, বাড্ডা, মহাখালী ও বসুন্ধরাসংলগ্ন এলাকাগুলোয় বসেছে অস্থায়ী পশুর হাট। সোমবার ভোর থেকেই রাজধানীর পশুর হাটগুলোয় ঘুরে দেখা গেছে ব্যাপক কোলাহল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, ছাগল ও মহিষ আসছে হাটে। ভালো দামের আশায় কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, কুমিল্লা, নওগাঁ, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার খামারিরা তাদের পশু নিয়ে রাজধানীর বাজারে এসেছেন। দেশি মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি : মধ্যবিত্ত ও নিুমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বড় একটি অংশ সাধ্যের মধ্যে ভালো পশু খুঁজছে। অনেকেই পরিবার নিয়ে হাটে এসে পশু দেখছেন, দরদাম করছেন এবং পছন্দের পশু কিনে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ শুধু হাটের পরিবেশ উপভোগ করতেও আসছেন। ক্রেতার কাছে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তারা বলছেন, কয়েক দফা দরদামের পর তুলনামূলক সহনীয় দামে পশু পাওয়া গেলেও বড় আকারের গরুর দাম এখনো বেশ চড়া। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর খামারিদের আনা পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাজারে নানা দামের পশু পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঈদের আগের শেষ দুই দিনেই সবচেয়ে বেশি বিক্রির আশা করছেন তারা। গাবতলী হাটে কথা হয় যশোরের মনিরামপুরের ব্যবসায়ী মনিরুল হকের সঙ্গে। তিনি জানান, খাদ্য ও পরিবহণ খরচ বেড়েছে। তাই কিছুটা বেশি দাম চাইতেই হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের সাধ্যের কথাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পশুখাদ্যের কারণে একেবারে কমে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে যে দামে ক্রেতারা গরু পাচ্ছেন, তা স্বাভাবিক সময়ের পশুর দামের চেয়ে খুব বেশি না। যুগান্তরের ডেমরা প্রতিনিধি জানান, সোমবার সকাল থেকে ডেমরা হাটে ক্রেতাদের বিপুল পদচারণা লক্ষ করা গেছে। তবে কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এখনো নদীপথ ও সড়কপথে প্রতিনিয়ত কুরবানির পশু আসছে ডেমরার ঐতিহ্যবাহী সারুলিয়া ও আমুলিয়া মডেল টাউন পশুর হাটে। তবে রোববার বিকাল থেকেই হাটগুলোয় ক্রেতারা নেমেছেন তাদের পছন্দের কুরবানির পশু কিনতে। ধীরে ধীরে বেচাকেনাও জমে উঠছে। সারুলিয়া ও আমুলিয়া পশুর হাটে সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিদিনই গরু আনছেন ব্যাপারী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারিরা। হাট দুটিতে সোমবার সকাল থেকেই উৎসুক জনতাসহ ক্রেতাদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। সারুলিয়া হাটে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গরু রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাট পরিচালক মো. আহাদুল্লাহ। আমুলিয়া মডেল টাউন হাটে এরই মধ্যে বিক্রির পরও ১০ হাজারের বেশি গরু তোলা হয়েছে। নানা জাতের পছন্দসই ছোট-বড় অনেক গরু উঠেছে ডেমরায়। আমুলিয়া মডেল টাউন গরুর হাটের ইজারাদার জয়নাল আবেদীন রতন বলেন, আমাদের হাটে অনেক জায়গা। ফলে ক্রেতাদের সুবিধার্থে ফাঁকা-ফাঁকা করে পাইকারদের গরু রাখার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। সারুলিয়া হাটে পাবনা থেকে আসা বড় পাইকার সিদ্দিক মেম্বার বলেন, বৃহস্পতিবার ১১০টি গরু এবং সঙ্গে বেশ কয়েকজন সহযোগী নিয়ে সারুলিয়া হাটে এসেছি। ইতোমধ্যে কয়েকটি গরু বিক্রি করতে পারলেও মঙ্গল ও বুধবারের মধ্যে আশা করছি সব বিক্রি হয়ে যাবে। এ বছর গরুর খাদ্যের দাম অনেক। তাই দামও আগের তুলনায় বেশি। এদিকে হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জাল টাকার ব্যবহার ঠেকাতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর প্রতিটি বড় হাটে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক স্থাপন করেছে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ ও টাকা গণনার মেশিন। অনেক ব্যাংক মাত্র পাঁচ মিনিটে হিসাব খোলার সুবিধাও দিচ্ছে পশু ব্যবসায়ীদের। রাজধানীর কুরবানির পশুর বাজার পরিদর্শন করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশে এবার কুরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কুরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগানো অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে রাজসিক সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায় জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের ‘রাবেয়া এগ্রো ফার্ম’ কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় মহিষটির ক্রেতা খামারে এলে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে পশুটিকে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর আগে দুপুর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিদায় জানানোর রাজকীয় প্রস্তুতি শুরু করেন খামারিরা। বিশালাকার এই মহিষটিকে বিশেষভাবে গোসল করানোর পর পরানো হয় রাজকীয় পোশাক। এরপর রঙিন স্মোক (রঙিন ধোঁয়া) উড়িয়ে ও লাল গালিচায় হাঁটিয়ে বিদায় দেওয়া হয় তাকে। দীর্ঘদিন পরম যত্নে লালন-পালন করা প্রিয় পশুটিকে বিদায় দেওয়ার সময় খামারের মালিক ও কর্মচারীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, এই মহিষটির গায়ের রঙ, চুল ও চোখের গঠন দেখতে অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। এই মিল থাকার কারণেই খামারের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই শখ করে এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ব্যতিক্রমী চেহারার ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি কোরবানির হাটে তোলার আগেই লাইভ ওয়েটে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় কিনে নেন রাজধানীর জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা সামির। নাম ও চেহারার কারণে মহিষটি খামারে থাকা অবস্থাতেই দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নজর কাড়ে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এটি দেখতে খামারে ভিড় জমাতেন। রাবেয়া এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘদিনের মায়ায় জড়ানো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে বিদায় দিতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কোরবানির ত্যাগের মহিমায় তাকে হাসিমুখে বিদায় দিতেই হবে। এই রাজকীয় মহিষটির স্মৃতি আমরা আজীবন মনে রাখব। মহিষটির ক্রেতা সামির বলেন, অনেক আগেই আমি মহিষটি পছন্দ করে কিনে রেখেছিলাম। পরে হঠাৎ করেই এটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। এখন আমার এলাকার মানুষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সিলেট বিভাগে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সিলেট আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল সোমবার (২৫ মে) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় সিলেটে ১৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা) জেলায় ৩৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, পিয়াইন ও লোভা নদীর সবকটি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টেই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সব নদীর পানিই এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বৃষ্টির এই প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ কালবেলাকে বলেন, সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ ভারতের মেঘালয় অঞ্চলের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল। মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝরনা বেয়ে নেমে আসা পানিই মূলত সিলেটের নদীগুলো দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয় বৃষ্টিপাতেরও কিছুটা প্রভাব রয়েছে, তবে সাধারণত দেশের অভ্যন্তরীণ বৃষ্টির কারণে এখানে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় না। সিলেটের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছরই এখানে গড়ে চার থেকে পাঁচবার আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, তবে প্রতিবারই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে না। বন্যা পরিস্থিতির পূর্বাভাস নিয়ে তিনি আরও বলেন, সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অনেকাংশেই মেঘালয়ের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। অনেক সময় দেশে বৃষ্টি না থাকলেও উজানে ভারী বর্ষণের কারণে এখানে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। আবার মেঘালয়ে বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতিও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। এই মুহূর্তে বন্যার সম্ভাবনা ৫০-৫০ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি পুরোপুরি উজানের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করছে। তাই আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত ফসলের কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সিলেটবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে যে পানি আসছে, তা দ্রুতই নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে যাচ্ছে। উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে সাধারণ আশঙ্কা থাকলেও আপাতত বড় ধরনের বা দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কোনো সম্ভাবনা নেই।
বড় এক জোড়াসহ তিনটি গরু নিয়ে জামালপুর থেকে রাজধানীর দিয়াবাড়ি হাটে এসেছেন খামারি মো. মামুন। তিন দিন হয়ে গেল, একটি গরুও বিক্রি হয়নি। বড় জোড়ার দাম ৮ লাখ এবং অন্যটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৩ লাখ টাকা। তবে গ্রাহকরা এর আশপাশেও দাম বলছেন না। মামুন বলেন, ‘‘গরুর দাম চাইতেছি ৪ লাখ, কিন্তু ক্রেতারা বলে আড়াই লাখ। এই দামে গরু বিক্রি করা সম্ভব নয়। একটা গরু পালতেই ৩ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে।’’ মামুন একা নন, হাটের বেশির ভাগ ব্যাপারির অবস্থা এরকম। খামারি ও ব্যাপারিরার বলছেন, এবার হাটে ‘অনেক বেশি’ গরু এসেছে। সেই তুলনায় দাম নেই। এরমধ্যে বৃষ্টির কারণে অনেক গ্রহক হাটে আসতে পারছে না। যারা আসছেন, তারা ‘ন্যায্য দামও’ বলছেন না বলে বিক্রেতাদের ভাষ্য। ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, এখনো হাটের দুদিন আছে, তাই ব্যাপারিরা দাম ছাড়ছে না। তারা সর্বোচ্চ দাম ধরে রেখে বেশি লাভের আশায় গরু ছাড়ছেন না। সোমবার উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত মাঠের বাইরেও ১৬ নম্বর সেক্টরে যাওয়ার রাস্তার দুই পাশে গরু বাঁধা। এছাড়া মেট্রো স্টেশনের নিচে এবং মেট্রো লাইনের দুই পাশে গরু নিয়ে দাঁড়িয়েছেন ব্যাপারিরা। মূল হাটে মাঠের ভেতরে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ক্রেতারা রাস্তার মধ্যেই গরু দেখছেন বেশি। বড় গরু ‘দর্শনীয়’, চাহিদা বেশি ছোট ও মাঝারির হাটেরর ইজারাদাররা বলছেন, হাটে গত কয়েক দিনে প্রায় এক লাখ গরু-ছাগল এসেছে; আরো আসছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় গরুর ক্রেতা কম। বিক্রি যা হচ্ছে, তার মধ্যে ছোট ও মাঝারি গরুই বেশি। তবে বৃষ্টির কারণে অনেক ক্রেতা আসতে পারছে না বলে ব্যাপারিদের ধারণা। বগুড়া থেকে সাতটি গরু নিয়ে দিয়াবাড়ির হাটে এসেছেন সিদ্দিক মিয়া। তিনি বললেন, “দুদিন হল এসেছি। এখনো সেভাবে গ্রাহক নেই। আজ থেকে হাট জমে উঠবে মনে করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টিতে সেটাও হয়ে উঠছে না।” সিদ্দিকের সাতটি গরুর মধ্যে সবচেয়ে ছোটটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাকি ছয়টি গরুর দামই দুই লাখের বেশি চাইছেন। কিন্তু ক্রেতারা দাম শুনে আর কথা বাড়াচ্ছেন না। কুষ্টিয়া থেকে আটটি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারি মো. হাসেম। তিনি বলেন, ‘‘গতকাল আইচি, এখনো বিক্রি হয়নি। পানি পানি মানুষ আইতে পারতেছে না। যারা আহে তারাও ভালো দাম কয় না। খুব কষ্টে আছি গরু লিয়া।’’ জামাল হোসেন নামের একজন ব্যাপারি বললেন, তিনি এসেছেন পাঁচ গরু নিয়ে। এখনো বিক্রির খাতা খুলতে পারেননি। “আমার গরুর ওজন ৬ থেকে ৭ মণ হবে। তাই দাম চাচ্ছি ২ লাখের বেশি, কিন্তু ক্রেতায় বলে দেড় লাখ টাকা। এভাবে দাম বললে গরু বিক্রি করা সম্ভব না। সোমবার এই হাটে গরু কিনতে এসেছিলেন বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা গাজী ফোরকান। তার পর্যবেক্ষণ হল, বাজারে প্রচুর গরু আছে, কিন্তু বিক্রেতারা কেউ দাম ছাড়ছে না। “এখনো দুদিন হাট আছে। আজ হাট ঘুরে দেখলাম চাম বেশ চড়া। তারপরও পছন্দ হলে একটা কিনে নিয়ে যাব। রাস্তা জুড়ে গরুর হাট, সরালো ডিএনসিসি উত্তরা সেন্টার মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে দুই পাশের দীর্ঘ রাস্তা জুড়ে পশু নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্যাপারিরা। তাতে যান চলাচলা বিঘ্নিত হচ্ছিল, সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। মেট্রো রেলের যাত্রী আসফাকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেট্রো চলাচল বন্ধ করে দিয়ে হাট বসিয়ে দেক এলাকা জুড়ে। এখানে পুলিশ, র্যাব সবাই আছে কিন্তু কেউ কিছু বলছে না।” শেষ পর্যন্ত বিকাল ৩টার পর অভিযান চালিয়ে এসব পশু সরিয়ে দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। খামারিরা বলছেন, সকাল থেকে আকাশ খারাপ থাকায় এবং বৃষ্টির কারণে অনেকে মেট্রো স্টেশনের নিচে গরু নিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন। হাটের কিছু স্বেচ্ছাসেবকও তাদের নিচে দাঁড়ানোর জন্য বলেছিলেন। পাবনার খামারি রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি হাটের মোড়ে আসার পরই দেখি আকাশ খারাপ। শুনলাম হাটের ভেতরে অনেক পানি, তাই ভেতরে না গিয়ে স্টেশনের নিচে অনেকের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলাম।” তবে হাটের ইজারাদারের সহকারী চান মিয়া বললেন, তারা কখনোই মেট্রো স্টেশনের পাশে কাউকে দাঁড়াতে বলেননি। “বরং মাইক দিয়ে বার বার আমরা সেখান থেকে গরু সরিয়ে হাটের ভেতরে নিয়ে আসার কথা বলেছি। কিন্তু অনেকে কথা শুনছেন না।” উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিয়াবাড়ি পশুর হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে মূল সড়কে বিক্রির জন্য কোরবানির পশু রাখা হয়েছে দেখতে পেয়ে প্রশাসক দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিয়ে সেখান থেকে সব ধরনের কোরবানির পশু সরিয়ে দেন এবং রাস্তা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেন। পশুর হাটের ইজারাদারকে তাৎক্ষণিক ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন প্রশাসক। পরে ইজারাদারকে সড়কে হাট না বসানোর নির্দেশ দেন তিনি। নির্দেশনা অমান্য করা হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করারও নির্দেশ দেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। হাট জুড়ে পানি, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এবার রাজধানীতে সর্বোচ্চ দামে ইজারা হওয়া হাট হল দিয়াবাড়ি পশুর হাট। পাঁচ দিনের জন্য ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকায় উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউ বাজার এলাকার এই হাট ইজারা পেয়েছেন এস এফ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেন। তবে আলোচিত এই হাট জুড়ে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি সুপেয় পানি, লাইট এবং খাবারের সংকটের কথা বলছেন ব্যাপারি ও খামারিরা। জামালপুরের আবু হোসেন ১৩টি গরু নিয়ে হাটে এসছেন। তিনি বলেন, “আমি তিন দিন হল হাটে আছি। আসার পর থেকে গরুকে খাওয়ানোর পানি আর নিজেদের খাবার নিয়ে ঝামেলায় আছি। খুবই অল্প দোকান, দামও বেশি।” হোসেন বলেন, “গত দুদিন গরুর জন্য খাবার পানির চরম সংকট ছিল। এখন আবার আকাশের পানিতে (বৃষ্টি) গরু নিয়ে আমিও খুব কষ্টে আছি। এভাবে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পানির মধ্যে থাকা যায় নাকি?” খোরশেদ ইসলাম নামের আরেকজন ব্যাপারি বলেন, “বৃষ্টি নামার পর থেকে সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। অনেক কিছু চাইলে দেরিতে পাচ্ছি। এভাবে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছে না।” বিক্রেতাদের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে ইজারাদারের সহকারী চান মিয়া বলেন, “আমরা প্রায় ২ হাজার ভলেন্টিয়ার নিয়েছি। সবাই মাঠে কাজ করছে। কিন্তু বৃষ্টি হলে আমরা কী করতে পারি? তবে যাদের যা প্রয়োজন, আমরা সেটা যথাসাধ্য মেটানোর চেষ্টা করছি।” রাস্তা ও স্টেশনের নিচে গরু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা মাইক নিয়ে বার বার বলতেছি মেট্রো স্টেশনের নিচে থেকে গরু সরিয়ে ফেলতে, কিন্তু কথা শুনছে না তারা।” আর উত্তরার ১৬ নম্বরে সেক্টরে যাওয়ার রাস্তায় গরু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই রাস্তায় আমরা গরু রাখি। এভাবেই হাট ইজারা নেওয়া হয়েছে। গরুর মালা বিক্রি দিনে ৩ হাজার টাকার কোরবানির গরুর মালার চাহিদা আগের চেয়ে বেড়েছে। সোমবার হাটের প্রবেশ পথে এবং হাসিল ঘরের পাশে মালা বিক্রেতাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। হাঁটের মধ্যেও অনেকে ঘুরে ঘরে মালা বিক্রি করছিলেন। আনার হোসেন নামের একজন মালা বিক্রেতা জানালেন, তিনি এসেছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে। “আমি গত দু বছর ধরে মালা বিক্রি করি। এখন দিনে প্রায় ২ হাজার টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে। তবে ঈদের দুদিন আগে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।” নাইম ইসলাম নামের আরেকজন মালা বিক্রেতা বললেন, “আজ বৃষ্টি, তাই সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না। তবে গত দিন ভালো বিক্রি হয়েছে। আশা করি ঈদের আগের দুদিন ভালো বিক্রি হবে।”
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট ইউনিয়নের বড় ছত্রগাছা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করায় গাইবান্ধা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতর এমন পদক্ষেপ নেয়। রোববার (২৪ মে) দুপুরে বড় ছত্রগাছা খালেক পাইকারের হলুদ মিলে ভোক্তা অধিকার, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও র্যাব সদস্য-১৩’র সদস্যরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী পারভীন বেগমকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ভেজাল মিশ্রিত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া ধ্বংস করা হয়। জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র জানান, ধাপেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হলুদ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয়। একটি অসাধু চক্র মিল স্থাপন করে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বাজারজাত করছে। খবর পেয়ে ওই মিল থেকে ভেজাল মিশ্রিত প্রায় ৬০ মণ হলুদ ও মরিচের গুঁড়া জব্দের পর তা ধ্বংস করা হয়।
শুরু হয়ে গেছে ঈদের ছুটি। এবার ঈদে আজ সোমবার ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সকালেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা ফাঁকা ছিল। রাজধানীর পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, গুলশান, বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা তুলনামূলক ফাঁকা ছিল আজ। মেট্রোরেলেও ভিড় কম ছিল। বেশির ভাগ মানুষকেই মালপত্র নিয়ে ঢাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। রাস্তায় প্রাইভেট কার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ছিল তুলনামূলক বেশি। ঈদ উপলক্ষে গতকাল রোববার বিকেল থেকেই অনেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ঘরমুখো এসব মানুষকে হাস্যোজ্জ্বল সেলফি পোস্ট করতে দেখা গেছে। আজ সকালেও অনেকে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন। পরিবার–পরিজন নিয়ে কেউ বাসে, ট্রেনে, উড়োজাহাজে বা ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ি যাচ্ছেন। সঙ্গে অনেকে পোষা প্রাণীকেও নিয়ে যাচ্ছেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে খুব অল্প গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে খুব অল্প গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। আজ সোমবার সকালেছবি: ফাতেমা তুজ জোহরা পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকছে। আজ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এসব ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ছুটি পাবেন। তবে আজ ও আগামীকাল দেশের পোশাকশিল্প এলাকার কিছু ব্যাংকের শাখা খোলা থাকবে। দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস আজ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে রবিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আদেশ ১৯৭৩ এর ৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেয়া হল। তিনি যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছর এ পদে নিযুক্ত থাকবেন। জনস্বার্থে এর আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন লাগার ঘটনায় প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রবিবার (২৪ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের ওমপাড়া এলাকায় মাওয়ামুখী লেনে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী রডবোঝাই একটি পিকআপ চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ আগুনে দগ্ধ হতে শুরু করে। এতে দ্রুত সড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন সম্পূর্ণ নেভানো হলে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর সবুজবাগ ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ৬৪ হাজার জালনোট জব্দসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার দুজন হলেন- মো. সুমন মৃধা (৩৩) ও মো. মনোয়ার হোসেন (৪০)। রবিবার (২৪ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য জানান। সবুজবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ১০টা ও রবিবার (২৪ মে) রাত ২টা ৪৫ মিনিটে সবুজবাগ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সবুজবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সবুজবাগ থানাধীন মানিকদিয়া ক্লাব মোড় সংলগ্ন নজরুল টি-স্টোরের সামনে থেকে সুমন মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে ৩১ হাজার টাকার জালনোট জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত রবিবার যাত্রাবাড়ী থানা কোনাপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকে আরও ৩৩ হাজার টাকার জালনোট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালনোটের মধ্যে ১০টি এক হাজার টাকার এবং ১০৮টি ৫০০ টাকার নোট রয়েছে। জব্দকৃত মোট ৬৪ হাজার টাকার জালনোট। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় একটি প্রাইভেট কারের তিন যাত্রী আহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) ভোররাতে দোগাছি ও সমষপুর এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত চালকের নাম মো. হোসেন (৩৫)। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার বেলগাছি মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা। শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, রাত ২টার দিকে দোগাছি সেনা ক্যাম্পের সামনে দুটি মালবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এসময় এক ট্রাকচালক গুরুতর আহত অবস্থায় গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, রাত ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের সমষপুর যাত্রী ছাউনির সামনে মাওয়ামুখী লেনে বাস-প্রাইভেট কার-বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। এতে প্রাইভেট কারের তিন যাত্রী আহত হন। আহতরা হলেন, মোহাম্মদ তৌফিক সিদ্দিক (বগুড়া), সিনতিয়া (ফরিদপুর) ও হামিদা (সিরাজগঞ্জ)। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর এক্সপ্রেসওয়ের উভয় স্থানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে ভোররাত থেকে কয়েক ঘণ্টা যাত্রী ও পরিবহন চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমানে নিহতের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পৃথক ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মধ্যরাতে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সঙ্গে র্যাবের ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়। রোববার (২৫ মে) রাত ২টার কিছু পরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা একযোগে হামলা চালায়। চারদিক থেকে হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে হামলাকারীরা। র্যাব সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালান। রাত ৩টা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় অব্যাহত থাকে। হামলার খবর নিশ্চিত করে র্যাব ৭-এর কমান্ডিং কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পে হামলা চালায়। আমরা নন-লিথাল অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযান শেষে এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি চালাচ্ছে যৌথবাহিনী। এখনো হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র্যাবের আরও তিন সদস্য এবং মনা নামে একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। নিহত মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র্যাবে কর্মরত ছিলেন। র্যাবের দাবি, যাকে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে টিমটি গিয়েছিল, তিনি একাধিক মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি এবং অস্ত্র লেনদেন চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এ ঘটনায় পর সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করে র্যাব।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এলেঙ্গায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এলেঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান ঘটনাস্থল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই করে একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত আসছে...
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর পশুর হাটে গরু কিনতে আসেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মচারী, আনসার সদস্য এবং সরকারি গাড়ির চালককে দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, ইউএনও ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বালিয়াপাড়া পশুর হাট ঘুরে ঘুরে গরু দেখছিলেন এবং দরদাম করছিলেন। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তারা। এ বিষয়ে ইউএনওর সরকারি গাড়ির চালক তরিকুল ইসলাম জানান, ইউএনও গরু কিনতেই হাটে এসেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও আরাফাত আমান আজিজ বলেন, “শহরে এসে হঠাৎ গরুর হাটে ঘুরতে এসেছি।
আলোচিত রামিসা হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতে এবার আসামিপক্ষের জন্যও রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রামিসা হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহকে স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পল্লবী থানার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় দায়ের হওয়া এ মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে চলবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘পুলিশ যদি মাদকের স্পট থেকে টাকা নেয়, থানায় জিডি-মামলা করতে টাকা নেয়—সেই পুলিশের বিরুদ্ধে জনগণকে তথ্য দিতে হবে। তথ্য পেলে সেই পুলিশকে চাকরি থেকে বিদায় করে দেব।’ আজ রোববার সন্ধ্যায় বগুড়ার শাজাহানপুর থানা কমপ্লেক্সে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। দেশে মোট লোকসংখ্যার ১ শতাংশ অপরাধী উল্লেখ করে মতবিনিময় সভায় আইজিপি বলেন, শান্তিপ্রিয় সব মানুষ যদি এই ১ শতাংশ অপরাধীকে বর্জন করে, তারা সমাজে টিকতে পারবে না। জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণের সমর্থন থাকলে সব ভালো কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আগামীর নেতৃত্বদানের জন্য, যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে। কিন্তু সেই প্রজন্মকে নষ্ট করে দিচ্ছে মাদক। থানা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কেউ মাদক ব্যবসা করলে অনেক সময় পুলিশের পক্ষে তা জানা সম্ভব হয় না।’ আইজিপি আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, প্রতিটি জেলায় মাদক কারবারির তালিকা তৈরিসহ মাদক কারবারিরা মানি লন্ডারিং করছে কি না, অন্য কোনো ব্যবসা আছে কি না সেই তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশের অপরাধ দমন ইউনিট (সিআইডি) কাজ করছে। মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী এক নম্বর এজেন্ডা ছিল আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন। সেই আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের জন্য পুলিশ নিরাপদ পরিবেশ তৈরির কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ বাহিনী দীর্ঘ ১৭ বছরে জনগণের সঙ্গে অন্যায়–অবিচারের কারণে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই জনগণের আস্থা ফেরানোর জন্য বগুড়া থেকেই কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। ২০ কোটি মানুষের জন্য পুলিশ আছে ২ লাখ ১৫ হাজার। প্রতি ৯০০ মানুষের সেবার জন্য পুলিশ আছে ১ জন। ১ জন পুলিশের পক্ষে কি ৯০০ মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব? এ জন্য কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে জোরদার করতে হবে। বিগত আমলে কমিউনিটি পুলিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে। মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁরা এমন কমিউনিটি পুলিশ চান না। জনবান্ধব কমিউনিটি পুলিশিং চান।’ ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে পুলিশের ৬০০ গাড়ি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘পুলিশের ওপর জনগণের ক্ষোভ থাকতে পারে, আক্রোশ থাকতে পারে; কিন্তু পুলিশ তো দেশের সম্পদ নষ্ট করেনি। অথচ পুলিশের অনেক সম্পদ নষ্ট করা হয়েছে। পুলিশের সামর্থ্য ২০ শতাংশ কমেছে। পুলিশের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করার জন্য এক হাজার নতুন গাড়ি প্রয়োজন। পর্যায়ক্রমে পুলিশের জন্য নতুন গাড়ি কিনতে হবে।’ এর আগে আইজিপি শাজাহানপুর থানা পরিদর্শন করেন এবং থানা চত্বরে দারুচিনি বৃক্ষ রোপণ করেন। এ সময় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, রাজশাহী আরআরএফের কমান্ড্যান্ট দ্বীন মোহাম্মদ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শহীদ আবু সরোয়ার, বগুড়ার পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের শংকরপাশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি হেলাল উদ্দিন। তাৎক্ষণিক নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুরগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এতে থাকা পাঁচজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নে আসামি ধরতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের ছয় সদস্য। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও ও সাতপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— তাহসি বেগম, খোরশেদ মিয়া, রহিম মিয়া ও সোহাগী। তারা আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও ও সাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী সদর মডেল থানার এসআই রামকৃষ্ণ দাস, কামরুজ্জামান খান, আল নোমান মুন্সি, এএসআই নাজমুল হোসেন, সুমন মিয়া ও কনস্টেবল হাদিস মিয়া একটি মামলার তদন্ত এবং আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে স্পিডবোর্ডযোগে আলোকবালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে যান। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের গ্রামের ভেতরে প্রবেশের কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পরে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব রহমান হাবিবের নেতৃত্বে শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ সদস্যদের আটকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, র্যাব, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রায় ৮০ সদস্যের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় এএসআই মো. নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাবিব রহমান হাবিবকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আহত পাঁচ সদস্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নারী জানান, হঠাৎ হইচই শুনে তারা বাইরে এসে দেখেন কয়েকজনকে ধাওয়া করে মারধর করা হচ্ছে। পরে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করলে তাদেরও লাঞ্ছিত করা হয়। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, হামলার শিকার ব্যক্তিরা পুলিশ সদস্য ছিলেন। নরসিংদী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক গুলসান আরা কবির বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে পাঁচ পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন বলেন, ‘একটি মামলার তদন্ত ও কয়েকটি গরুর হাট পরিদর্শনের জন্য পুলিশ সদস্যরা আলোকবালী এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ তবে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘পুলিশকে মারধর বা লাঞ্ছিত করার বিষয়টি সঠিক নয়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক গোডাউন থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) রাত সোয়া ৯টার দিকে নাসিকের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বউবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকার বেলাল মসজিদের দক্ষিণ পাশে জাকির হোসেনের পরিত্যক্ত প্লাস্টিক গোডাউন থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। পরে স্থানীয়রা গোডাউনের ভেতরে প্রবেশ করে একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, মরদেহটি অনেকটাই ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩০ বছর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই মাসে ১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকালে আয়াত নামে সাত মাস বয়সী এক শিশু মারা যায়। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায়। এর আগে ২০ মে আদনান নামে ৬ মাস এবং ২২ মে আব্দুর রহমান নামে ৫ মাস বয়সী আরও দুটি শিশু একই উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের গত ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত দুই মাসে ৪১৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। ভর্তি হওয়া শিশুদের সংগৃহীত নমুনার ল্যাব রিপোর্টে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত হাসপাতালটির বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৫৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক ডেথ কেস বা মৃত্যু তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মৃত শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স ৫ থেকে ১০ মাসের মধ্যে। চিকিৎসকদের মতে, হামের সরাসরি সংক্রমণের চেয়ে এর পরবর্তী তীব্র শারীরিক জটিলতার কারণেই শিশুদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তালিকায় থাকা ১৫ জন শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে মূলত হামের পাশাপাশি তীব্র ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিসকে দায়ী করা হয়েছে। তালিকায় থাকা শেরপুরের ৮ মাস বয়সী শিশু রাশমিকার ক্ষেত্রে ল্যাব পরীক্ষায় হামের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায় এবং বাকিদের তীব্র উপসর্গ থাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে রাখা হয়েছিল। বগুড়া সিভিল সার্জন খুরশীদ হোসেন জানিয়েছে, বগুড়া হামের উপসর্গ নিয়ে গত দুই মাসে ১৮ শিশু মারা গেছে। এরমধ্যে ৯ শিশু বগুড়ার বাকি ৯ জন অন্য জেলার। ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে বগুড়া শহরের ২টি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে ৫৭৪ শিশু ভর্তি হয়ে হামের চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৭০ শিশু। এরমধ্যে শজিমেক হাসপাতালে ৫৩জন, মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ৯জন, টিএমএসএস হাসপাতালে ৬জন এবং সোনাতলা উপজেলা হাসপাতালে ২ শিশু ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি ও হাসপাতালের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মহসিন বলেন, আমাদের হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। চিকিৎসকেরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অধিকাংশ শিশু অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় বা শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসছে, যখন নিউমোনিয়া বা এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা প্রকট আকার ধারণ করে।
সাগরের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। আগের দরপত্রে বাইরের কোম্পানিগুলোর সাড়া না মেলায় এবার আগ্রহীদের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে এগোনোর কথা বলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। পেট্রোবাংলা বলেছে, এর অংশ হিসেবে তারা নতুন ‘মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্র্যাক্ট’ (এমপিএসসি) প্রস্তুত করেছে। রোববার সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬, বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগের দরপত্রে যারা ডকুমেন্ট কিনেছিল, কিন্তু বিড জমা দেয়নি, তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। “তাদের কাছে আমরা কারণ জানতে চেয়েছিলাম। মূলত তাদের পরামর্শ এবং আমাদের কনসালট্যান্টদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই মডেল পিএসসি ২০২৬ প্রস্তুত করা হয়েছে।” নতুন মডেল পিএসসিতে আন্তর্জাতিক কোম্পানির আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। শোয়েব বলেন, “তাদের কিছু বিষয় এখানে এসেছে। আমরা দেখেছি, আন্তর্জাতিকভাবে এসব বিষয় থাকে। এজন্য মনে করছি, এবার ভালো সাড়া পাব।” পেট্রোবাংলার দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সমুদ্রের ১১টি অগভীর ব্লক এবং ১৫টি গভীর ব্লক তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। অগভীর ব্লকগুলো হলো ‘এসএস ০১’ থেকে ‘এসএস ১১’ পর্যন্ত। গভীর সমুদ্রের ব্লকগুলো হলো ‘ডিএস ০৮’ থেকে ‘ডিএস ২২’। কোম্পানিগুলো এককভাবে অথবা যৌথভাবে এক বা একাধিক ব্লকের জন্য দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। একটি টেন্ডার শিডিউল কিনেই একাধিক ব্লকে অংশ নেওয়া যাবে। তবে প্রতিটি অগভীর ও গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য আলাদা আবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি থাকা দুটি গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য একটি চুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। কী বদলাল নতুন পিএসসিতে পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব বলেছেন, ‘সিগনেচার বোনাস’ না থাকা, রয়্যালটি না থাকা, শতভাগ কস্ট রিকভারি এবং করপোরেট আয়কর পেট্রোবাংলার বহনের মতো সুবিধা আগের পিএসসিতে ছিল। তিনি বলেন, “এগুলো আগেও ছিল। আমরা মূলত এবার পাইপলাইন ট্যারিফটা যোগ করেছি। আর আগে দশ বছর পর ৫০ শতাংশ এলাকা ছেড়ে দেওয়ার বিষয় ছিল, সেটা এখন ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তার মানে ৮০ শতাংশ এলাকায় তারা আরও সিসমিক বা এক্সপ্লোরেশনের জন্য সময় পাবে।” নতুন মডেল পিএসসিতে ঠিকাদার কোম্পানিগুলো অর্জিত মুনাফা পুরোপুরি নিজ দেশে ফেরত নিতে পারবে। কোনো সিগনেচার বোনাস বা রয়্যালটি দিতে হবে না। অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও উৎপাদন পর্যায়ে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিতে শুল্ক অব্যাহতির সুবিধা রাখা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের করপোরেট আয়করও পেট্রোবাংলা বহন করবে। অগভীর ও গভীর সমুদ্র— উভয় ক্ষেত্রেই শতভাগ কস্ট রিকভারি বা ব্যয় পুনরুদ্ধারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বছরে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় তুলে নেওয়া যাবে। গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক ব্রেন্ট ক্রুডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গড় ব্রেন্ট মূল্যের ভিত্তিতে ফ্লোর ও সিলিং নির্ধারণ করা হবে। পাইপলাইন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আলাদা পাইপলাইন ট্যারিফের বিধান রাখা হয়েছে, যা ক্রেতা পরিশোধ করবে। পেট্রোলিয়াম মুনাফা ভাগাভাগি হবে ‘আর-ফ্যাক্টর’ ভিত্তিতে। দরদাতারা নিজেদের প্রস্তাবে এর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা তুলে ধরতে পারবে। তেলের দাম নির্ধারণ হবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাজারের প্রচলিত ন্যায্য মূল্যের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত বড় আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পরও বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “আমরা এই জায়গাটায় এখনও একেবারেই ব্লাইন্ড, বিশেষ করে ডিপ সিতে। অগভীর অংশে একসময় কাজ ছিল, কিন্তু এখন সেখানেও আমাদের কোনো কাজ নেই।” জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্রে অনুসন্ধান ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে টানতে আর্থিক শর্তে ছাড় দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস মিললে তা আমদানিনির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। দরপত্রে অংশ নিতে হলে কোম্পানিকে অন্তত একটি অফশোর ব্লকের অপারেটর হতে হবে। অগভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য দৈনিক অন্তত ৫ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ৭৫ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য দৈনিক অন্তত ১০ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নিজ দেশের বাইরে অন্তত একটি দেশে তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও বাধ্যতামূলক। অপারেটরশিপ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশ, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা অথবা সরকারি সংস্থার সনদ বা প্রমাণপত্র দিতে হবে। বাধ্যতামূলক কাজের অংশ সীমিত রাখা হয়েছে ‘টু-ডি সিসমিক জরিপে। তবে দরদাতাদের বাধ্যতামূলক কাজের বাইরে অতিরিক্ত কাজের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। কোনো কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিদ্যমান ‘টু-ডি মাল্টিক্লায়েন্ট সিসমিক ডেটা কিনলে বাধ্যতামূলক কাজের পরিমাণ আনুপাতিক হারে কমানো যাবে। প্রথম অনুসন্ধান কূপ শুকিয়ে গেলে অথবা বাণিজ্যিকভাবে অকার্যকর হলে দ্বিতীয় বা পরবর্তী কূপের ক্ষেত্রে ঠিকাদারের মুনাফার ভাগ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। পেট্রোবাংলা গ্যাস কিনতে না পারলে ঠিকাদার কোম্পানি দেশের ভেতরে তৃতীয় পক্ষের কাছে নিজেদের অংশের গ্যাস বিক্রি করতে পারবে। তবে পেট্রোবাংলার অধিকার থাকবে সবার আগে। একই শর্তে ঠিকাদার অংশের গ্যাস রপ্তানির সুযোগও রাখা হয়েছে। অগভীর সমুদ্র ব্লকে বাপেক্সের জন্য ১০ শতাংশ ক্যারিড ইন্টারেস্ট রাখা হয়েছে। চুক্তি সইয়ের পর ন্যূনতম অনুসন্ধান কর্মসূচি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা হিসেবে নির্ধারিত ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে। তবে সরকার কোনো সফল দরদাতার হাতে ব্লকের সংখ্যা সীমিত রাখার অধিকার সংরক্ষণ করেছে। নতুন দরপত্র ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানি যোগাযোগ করেছে কি না জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক শোয়েব বলেন, “এখনও সময় হয়নি। তবে গতবার যে কোম্পানিগুলো দরপত্র কিনেছিল, তারা আমাদের ডেটাগুলো নিয়েছে। তারা হয়ত অপেক্ষা করছে। আগের দরপত্রে সাতটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব জমা পড়েনি বলে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। দরপত্র জমা নভেম্বর পর্যন্ত পেট্রোবাংলা বলেছে, ১ জুন থেকে ‘বেসিক ইনফরমেশন’ প্যাকেজ পাওয়া যাবে। এর মূল্য ১০০ ডলার অথবা সমপরিমাণ টাকা। বিডিং ডকুমেন্টসহ প্রমোশনাল প্যাকেজের দাম ৭ হাজার ডলার অথবা সমপরিমাণ টাকা। এই প্যাকেজ কেনা দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলক। আরও বিস্তারিত সিসমিক, গ্র্যাভিটি, ম্যাগনেটিক ও ভূতাত্ত্বিক তথ্যের জন্য আলাদা প্যাকেজ থাকবে। দরপত্র জমার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর দুপুর ১টা। একই দিন দুপুর ২টায় পেট্রোবাংলা কার্যালয়ে দরপত্র খোলা হবে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের সমুদ্রে বড় আকারে বাণিজ্যিক তেল গ্যাস আবিষ্কার হয়নি। ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের বড় সুযোগ তৈরি হয়। তবে আন্তর্জাতিক কোম্পানির আগ্রহ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে নতুন পিএসসি করা হলেও সে সময় দরপত্র ডাকা হয়নি। পরে পিএসসি ২০২৩ এর আলোকে ২০২৪ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই সময় টিজিএস ও শ্ল্যামবার্জারের বঙ্গোপসাগরে টু ডি জরিপের তথ্যও বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। তবু শেষ পর্যন্ত কোনো কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়নি। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলে আসছেন, গ্যাসের দাম, পাইপলাইন ব্যয়, কস্ট রিকভারি, লাভ ভাগাভাগি ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা বিদেশি কোম্পানির অনীহার বড় কারণ ছিল। এর আগে গভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে কাজ শুরু করেছিল কনোকোফিলিপস। দ্বিমাত্রিক জরিপের পর গ্যাসের দাম নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে তারা কাজ ছেড়ে যায়। স্যান্টোস ও পস্কো দাইয়ুও চুক্তির পর শেষ পর্যন্ত কাজ এগিয়ে নেয়নি। অগভীর সমুদ্রের এসএস ০৪ ও এসএস ০৯ ব্লকে ভারতের ওএনজিসি অনুসন্ধান চালালেও পরে তারা ছেড়ে দেয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।