প্রবাসী

ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসী আয়ে বাড়ছে রিজার্ভ, স্বস্তিতে অর্থনীতি

ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ মেটাতে বেশি করে টাকা পাঠানোর ফলে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এ রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে, অর্থাৎ গত বছরের মার্চে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ২০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। তবে মোট রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়। যদিও এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ হিসাবে বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণত একটি দেশের জন্য অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকা নিরাপদ ধরা হয়। অতীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে পড়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। সে সময় বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার ঠেকাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদারে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়। এর ফলে চাপের মুখে থাকা রিজার্ভ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। তবে আগের দায় পরিশোধের চাপ থাকায় বর্তমানে রিজার্ভ ৩৩ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। রিজার্ভ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ভালো অবস্থানে আছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ডলারের দর অতিরিক্ত কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একসময় ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল ২০২১ সালের আগস্টে, যখন তা ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে পরবর্তী সময়ে ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম, অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভে চাপ তৈরি হয় এবং তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতিতে তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়, ডলারের দাম বেড়ে ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়, যা আগের তুলনায় প্রায় ৩৬ টাকা বেশি। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডলারের বিনিময় হার ধীরে ধীরে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমদানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও ধাপে ধাপে শিথিল করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তুলনামূলক উদার নীতি গ্রহণ করা হয়। এর ফলে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে। চলতি মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে ২২০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। গত কয়েক মাস ধরেই রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং তার আগের মাস ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার। প্রবাসী আয় বাড়ায় বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এতদিন বড় ধরনের নতুন বিনিয়োগ না থাকায় আমদানির চাপ তুলনামূলক কম ছিল, যা রিজার্ভ বাড়তে সহায়তা করেছে। তবে সামনে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এতে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বাড়বে, ফলে ডলারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবং নতুন বিনিয়োগ থেকে রপ্তানি আয় বাড়লে ভবিষ্যতে ডলার সংকট বড় আকার ধারণ করবে না।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সংকট পেরিয়ে ইরান থেকে ফিরলেন ২৮২ বাংলাদেশি

ইরানে থাকা ২৮২ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাত ৭টা ২৫ মিনিটে তাদের বহনকারী চার্টার্ড ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।   বাহরাইন থেকে দাম্মাম হয়ে দেশে ফিরেছেন তারা। এদিকে, রাত ১টা ২৭ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৩০২ ফ্লাইটে আজারবাইজানের বাকু থেকে ফিরবেন আরও ২৮০ বাংলাদেশি। এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বোয়িংয়ের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের বিমানটি বাকু হায়দার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের আজারবাইজানের রাজধানী বাকু নেওয়া হয়। গত বছর জুন মাসে ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সেদেশে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাকিস্তান হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সাইরেন, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার ঈদ বাহরাইন প্রবাসীদের

“আমরা শান্তিতে ছিলাম। এখন মনে হচ্ছে যে কোনো সময় বড় বিপদ হতে পারে। ঈদের দিনেও সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যেন যুদ্ধ থেমে যায়।” কথাগুলো বলছিলেন বাহরাইন প্রবাসী নুরুল আমিন; সাইরেনের শব্দ, হামলার আতঙ্ক আর সোশাল মিডিয়ার গুজবের মধ্যে চাঁদরাতেও ঘুম হয়নি তার। নুরুল আমিনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে ক্লিনিং সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন। তার মত বাহরাইন প্রবাসী দেড় লাখ বাংলাদেশির সবাই কমবেশি আতঙ্কে আছেন। শুক্রবার ঈদের দিনও তাদের কাটছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায়। সিলেটের আব্দুল মালেক বাহরাইনে গাড়ি চালকের চাকরি করেন। অন্য সবার মত শুক্রবার সকালে তিনিও বৃষ্টির মধ্যে ঈদের নামজ পড়তে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও আতঙ্ক পিছু ছাড়েনি। মালেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগেও উত্তেজনা দেখেছি, কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্যরকম। চাঁদরাত ছিল আতঙ্কের, ঈদের দিনও সবাই দ্রুত বাসায় চলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে বড় কিছু হতে পারে, ভয় কাজ করছে।” ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ গড়িয়েছে ২১তম দিনে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতির থাকায় আমিরাতের মত উপসাগরীয় দেশগুলোকেও এ যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে ইরান। বাহরাইন সরাসরি যুদ্ধের ময়দান না হলেও চারপাশের অস্থিরতা, আকাশপথের অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে শান্তি নেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনে। অনেকের কর্মস্থল সাময়িকভাবে বন্ধ, কারো কাজ কমে গেছে। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ঈদের দিনেও উৎসবের সেই আমেজ নেই তাদের জীবনে। স্বজনদের থেকে দূরে, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই তাদের দিন কাটছে। শুক্রবার সকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে বাহরাইনে। তার মধ্যেই মানুষ মসজিদে গেছে ঈদের নামাজ পড়তে। ঈদের প্রধান জামাত ছিল স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে সেই জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। বাহরাইনের নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করা মো. জাহিদুল ইসলামের বাড়ি কুমিল্লায়। ঈদের দিন নিজের দুশ্চিন্তার কথা তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছিলেন। “আমরা তো যুদ্ধ চাই না, কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকদিন ধরে। হাতে টাকা কমে যাচ্ছে, দেশে পরিবার নিয়ে চিন্তায় আছি। ঈদের দিনেও কোনো আনন্দ নেই।” নরসিংদীর মো. রাকিব হোসেন প্রবাসী জীবনে একটি সুপারশপে সেলসম্যানের কাজ করেন। তিনিও বললেন অনিশ্চয়তার কথা। “রাত হলেই ভয় লাগে। পরিবার ফোন করে কাঁদে, বলে দেশে ফিরে যেতে। কিন্তু এখন ফ্লাইটও ঠিকমতো নেই। ঈদের দিনেও মনে হচ্ছে আমরা বন্দি হয়ে আছি।” চট্টগ্রামের শাহীন আলম কাজ করেন মানামার একটি রেস্তোরাঁয়। সেখানেও পড়েছে যুদ্ধের ছায়া। “আমাদের রেস্তোরাঁয় কাস্টমার কমে গেছে। রমজান আর ঈদের দিনেও ব্যবসা নেই। মালিকও দুশ্চিন্তায়—কীভাবে বিল, ভাড়া দেবে, কেউ জানে না।” মাদারীপুরের মো. সোহেল রানা পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান। যুদ্ধের কারণে দোটানার মধ্যে পড়ে গেছেন তিনি। “প্রতিদিন খবর দেখি, ভয় পাই। পরিবার বলছে ফিরে আসতে, কিন্তু এত বছর পর সব ছেড়ে যাওয়া কঠিন। ঈদের দিনও নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই।” মাজহারুল ইসলাম বাবু বাহরাইনে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রবাসে আছেন ১৭ বছর ধরে। তিনি বললেন, “আসলে কী হতে যাচ্ছে বা কী হবে তা নিয়ে কারও সঠিক ধারণা নেই। আমাদের সকলের দিন কাটছে এক ধরনের ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। “তবে বাহরাইন সরকারকে ধন্যবাদ, তারা স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও সমানভাবে সাপোর্ট দিচ্ছে। পর্যাপ্ত শেল্টারের ব্যবস্থা আছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।”

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন

দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। শুক্রবার সকাল থেকে দেশটির বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।   ঈদের নামাজ শেষে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, কোলাকুলি এবং খাওয়া-দাওয়ার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন। ভিন্ন দেশে থাকলেও নিজেদের মতো করে আনন্দ ভাগাভাগি করার চেষ্টা করছেন তারা।   বাংলাদেশের মতো পূর্ণাঙ্গ উৎসবের আমেজ না থাকলেও প্রবাসীদের মধ্যে রয়েছে ভিন্ন এক আবেগ। অনেকে দিনভর পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করছেন, আবার কেউ কেউ ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।   এছাড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রবাসীরা।   এবার দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী খোলা মাঠ বা ঈদগাহে জামাত আয়োজন করা হয়নি। মসজিদের ভেতরেই সীমিত পরিসরে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়েছে মুসল্লিদের।   সব মিলিয়ে প্রবাস জীবনের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আনন্দ, আবেগ আর স্মৃতির মিশেলে ভিন্ন এক পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছেন আমিরাত প্রবাসীরা।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সীমিত আয়োজনে কুয়েতে ঈদ, নেই বড় জামাত ও অনুষ্ঠান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে কঠোর বিধিনিষেধ মেনে কুয়েত-এ উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৮ মিনিটে দেশটির বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।   নিরাপত্তাজনিত কারণে এবার বড় কেন্দ্রীয় মসজিদ, ঈদগাহ বা খোলা মাঠে জামাত আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে বিভিন্ন এলাকার জুমার মসজিদগুলোতেই ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।   কুয়েত সিটি, ফরওয়ানিয়া ও হাসাবিয়াসহ বাংলাদেশি অধ্যুষিত অন্তত ২৫টি এলাকায় মসজিদগুলোতে বাংলাদেশি খতিবরা বাংলায় খুতবা প্রদান করেন। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে অংশ নিয়ে ভিন্ন এক আবেগঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেন।   নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া করা হয়।   তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ঈদকে ঘিরে সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পার্টি ও বড় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের উদ্যোগে আয়োজিত প্রবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানও এবার স্থগিত করা হয়েছে।   ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রবাসীরা মুঠোফোনে দেশের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। তবে অনেককেই জীবিকার প্রয়োজনে দ্রুত কর্মস্থলে ফিরতে দেখা গেছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আজ থেকে টানা ৫ দিনের ঈদ ছুটিতে যাচ্ছে ওমান

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান আজ বৃহস্পতিবার থেকে টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটিতে যাচ্ছে।   সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ২৯ রমজান থেকে শুরু হওয়া এ ছুটি চলবে আগামী ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত। ছুটির আওতায় সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানও থাকবে।   ছুটি শেষে আগামী ২৪ মার্চ মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে অফিস-আদালত ও সব ধরনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।   তবে জরুরি পরিস্থিতিতে নিয়োগকর্তারা চাইলে ছুটির দিনেও কর্মীদের কাজ করাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ওমানের শ্রম আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাতা বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান বাধ্যতামূলক থাকবে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছুরিকাঘাতে প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত, রিয়াদে শোকের ছায়া

রিয়াদ-এ কর্মস্থলে ছুরিকাঘাতে মনির হোসেন (৩৮) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।   নিহত মনির হোসেন কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া পৌরসভার শ্রীরামদী এলাকার বাসিন্দা রমজান আলীর ছেলে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে কর্মস্থলে মিসরীয় কয়েকজন দুর্বৃত্তের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাত্র ৭–৮ মাস আগে জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।   নিহতের প্রতিবেশী স্থানীয় সাংবাদিক এনামুল হক হৃদয় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।   পরিবার বর্তমানে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ঈদুল ফিতর নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জরুরি নির্দেশনা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত খোলা মাঠ বা উন্মুক্ত ঈদগাহের পরিবর্তে শুধুমাত্র মসজিদের ভেতরে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিষয়াবলি, ওয়াক্ফ ও জাকাত বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ।   সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ-এর বরাতে জানা গেছে, এ সিদ্ধান্ত পুরো দেশজুড়ে সমভাবে কার্যকর হবে।   সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, প্রচলিতভাবে প্রতিবছর খোলা মাঠ বা ঈদগাহে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হলেও এবার কোনোভাবেই উন্মুক্ত স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে না।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের নামাজের সুষ্ঠু আয়োজন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বড় জনসমাগম এড়াতে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।   নতুন নির্দেশনার পর মুসল্লিদের নিজ নিজ এলাকার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় মসজিদ কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধের প্রভাবে কুয়েতে ঈদ ম্লান, চরম অনিশ্চয়তায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে প্রতিকূল সময় পার করছে পশ্চিম এশিয়ার দেশ কুয়েত। ১৭ হাজার ৮২০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের উত্তাপ এখন জনজীবনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   ধোঁয়া, সাইরেনের শব্দ আর বারুদের ঘ্রাণে জনপদ ভারী হয়ে উঠছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রবাসীদের যাপিত জীবনে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে উৎসবের প্রস্তুতি থাকলেও সেখানে অবস্থানরত প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ, আয়-রোজগারের সংকট এবং স্বজনদের কাছে ফিরতে না পারার কষ্ট।   যুদ্ধাবস্থার কারণে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় হাজারো প্রবাসী শ্রমিকের দেশে ফেরার পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কিশোরগঞ্জের কামাল আহমেদ, যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে ‘ওয়াল আল নসিব’ নামে একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে কাজ করছেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েও যেতে পারছেন না। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যাত্রা স্থগিত হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।   একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ শাহিন আহমেদ জানান, যুদ্ধের কারণে অতিরিক্ত আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবার তিনি পরিবারের জন্য ঈদের খরচ পাঠাতে পারেননি। এতে তিনি গভীর মানসিক চাপে রয়েছেন।   নারায়ণগঞ্জের সত্তরোর্ধ্ব প্রবাসী মো. সাজ্জাদুল ইসলাম ১৮ বছর ধরে কুয়েতে অবস্থান করছেন। কাজের সংকটে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। বয়সের ভারে ক্লান্ত এই প্রবাসীর ঈদে দেশে ফেরার ইচ্ছাও পূরণ হচ্ছে না।   মুন্সিগঞ্জের মো. শাহাবুদ্দিন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কুয়েতে অবস্থান করছেন। আইনি জটিলতার কারণে তিনি বাবা-মায়ের মৃত্যুর সময়ও দেশে ফিরতে পারেননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং এবার পরিবারের কাছে কোনো অর্থ পাঠাতে পারেননি।   সিলেটের কানাইঘাটের রইস উদ্দিনের জন্য পরিস্থিতি আরও হৃদয়বিদারক। মাত্র ১৫ দিন আগে তার ছয় বছর বয়সি কন্যাসন্তান পানিতে ডুবে মারা যায়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে ফিরতে না পারায় তিনি শেষবারের মতো মেয়ের মুখও দেখতে পারেননি।   কুয়েতের ব্যবসায়িক খাতেও যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রবাসী ব্যবসায়ী আবুল কাশেম জানান, কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ায় অনেকেই চাকরি হারাচ্ছেন। এতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন প্রবাসীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ হাউসে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তবে দূতাবাস আটকে পড়া যাত্রীদের বিকল্প পথে দেশে ফেরাতে কাজ করছে।   তিনি প্রবাসীদের গুজবে কান না দিয়ে দূতাবাসের ভেরিফায়েড তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ফ্রাঙ্কফুর্টের মাবিন মসজিদে মাসজুড়ে ইফতার ও কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা

রহমত, মাগফিরাত ও নাযাতের মহিমান্বিত মাস মাহে রমজান এখন বিদায়লগ্নে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিষ্ঠান মাবিন মসজিদে মাসব্যাপী প্রতিদিন ইফতারের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে প্রতিদিন অংশ নিয়েছেন অসংখ্য ধর্মপ্রাণ রোজাদার। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাসজুড়ে এই ইফতার কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ইফতার আয়োজনের পাশাপাশি মাবিন বাংলা সেন্টারের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা। এতে বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ (সার্টিফিকেট) বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন– মাবিন বাংলা সেন্টারের পরিচালক ড. আবুল আমানুল্লাহ, সেভেন ডেজের স্বত্বাধিকারী কামাল ভূঁইয়া, সাংবাদিক হাবিবুল্লাহ আল বাহার, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব খালেদ মাহমুদ, হাদি খন্দকার, খতিব সাইফুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানসহ অনেকে। কুরআন নাজিলের মাসে মাবিন বাংলা সেন্টারের এমন মহতী উদ্যোগকে আগত অতিথি এবং অভিভাবকেরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে ভিনদেশি পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরেরা ইসলামী সংস্কৃতির প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হবে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জার্মানিতে শুক্রবার ঈদ, কখন কোথায় ঈদ জামাত

জার্মানিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামীকাল (শুক্রবার)। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তম এই উৎসবকে ঘিরে দেশটির প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।   রাজধানী বার্লিনসহ জার্মানির প্রায় সব বড় শহরেই প্রবাসীদের উদ্যোগে বড় বড় ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।   ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের তিনটি স্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মাবিন মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে– সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জার্মান খুতবা ও বাংলা খুতবাসহ প্রথম জামাত এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় জামাত যথাক্রমে সকাল সাড়ে ৮টা এবং সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।   এই শহরের প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে সেন্ট্রাল ট্রেন স্টেশন সংলগ্ন মুনশেনার স্রাসেতে একটি স্থায়ী মসজিদ ক্রয়ের চেষ্টা চলমান রয়েছে; সেখানে সকাল ৭টায় জার্মান এবং সাড়ে ৮টায় বাংলা খুতবাসহ দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রবাসীদের উদ্যোগে সালবাও বরনহাইম অডিটোরিয়ামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়।   পার্শ্ববর্তী ওফেনবাখ শহরের ‘আইনহাইট ডেস ইসলামে’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। মাইঞ্জ শহরের তাকওয়া মসজিদে ঈদের জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টা এবং সকাল সাড়ে ৮টায়।   রাজধানী বার্লিনসহ জার্মানির সব বড় শহরেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে ঈদুল ফিতরের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঈদকে ঘিরে প্যারিসে বাংলাদেশি কমিউনিটির বড় আয়োজন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলিম সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। সম্ভাব্য ২০ মার্চ ঈদকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জামাত ও উৎসবমুখর আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র স্তাঁ’র বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত। আয়োজকদের মতে, এখানে মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম জামাত শুরু হয়ে প্রতি ৪৫ মিনিট অন্তর শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ১০টায়। নারী মুসল্লিদের জন্যও আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসের ব্যস্ত জীবনেও ধর্মীয় অনুশাসন ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হয়।   এছাড়া লা কুরনেভ এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উদ্যোগে খোলা মাঠ ও ভাড়া করা হলরুমে জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। একইভাবে সাঁ-দেনি এলাকাতেও ছোট পরিসরে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন ও মসজিদ কমিটি যৌথভাবে এসব আয়োজন পরিচালনা করছে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি বৃহত্তর মুসলিম সমাজের জন্য প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে সাধারণত সকাল ৮টা ও ৮টা ৪৫ মিনিটে দুই দফা জামাত হয়, যেখানে বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।   এদিকে ওবেরভিলিয়ে এলাকার বাংলাদেশি জামে মসজিদেও ঈদের জামাত আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে প্রথম জামাত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।   ঈদের নামাজ শেষে শুরু হবে উৎসবের আমেজ। প্রবাসী সংগঠন বিসিএফ-এর উদ্যোগে পার্ক দ্য লা ভিলেতে আয়োজন করা হয়েছে ‘ঈদ ফেস্টিভ্যাল প্যারিস ২০২৬’। এতে থাকবে দেশীয় খাবারের স্টল, পোশাকের দোকান, শিশুদের বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।   একই দিনে প্লাস দ্য ফেত এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে ঈদ আনন্দ মেলা। এছাড়া বাস্তিল চত্বরে বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর উদ্যোগে ঈদ বাজার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ওবেরভিলিয়ে এলাকাজুড়েও থাকবে বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক আয়োজন।   ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ২০ মার্চ শুরু হওয়া ‘ঈদ ফেস্টিভ্যাল প্যারিস ২০২৬’ এবং ২২ মার্চ লে ফেনিক্সে অনুষ্ঠিতব্য ‘ফেত ঈদ ২০২৬’, যেখানে লাইভ সংগীত, হেনা আর্ট, খাবার ও নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রম থাকবে।   আয়োজকদের মতে, প্রবাসে থেকেও নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধরে রাখতে এই ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এসব উদ্যোগ কার্যকর।   সব মিলিয়ে, প্যারিসে বাংলাদেশিদের ঈদ উদযাপন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি প্রবাসে এক আনন্দমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে দেশ থেকে দূরে থেকেও খুঁজে পাওয়া যায় আপন আবহ।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মালদ্বীপে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল প্রবাসী বাংলাদেশির

মালদ্বীপে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল আলীম (২৯) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনার পর নতুন করে এই মৃত্যুতে প্রবাসী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বাংলাদেশ হাইকমিশনের কল্যাণ সহকারী আল মামুন পাঠান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। হাইকমিশন সূত্রে জানা যায়, মালের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে গত এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন আব্দুল আলীম। সোমবার (১৬ মার্চ) সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুল আলীম টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ২০১৮ সালে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপে যান এবং সেখানে একটি রেস্টুরেন্টে শেফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হাইকমিশন জানায়, মৃতের মরদেহ কোম্পানি ও তাদের সহযোগিতায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দেশে পাঠানো হচ্ছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে তা গ্রহণ করবেন তার ভগ্নীপতি মো. আলমগীর হোসেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বেশ কিছুদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন আলীম। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে তার পরিবার। এ অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

নাগরিকত্ব লাভের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বুধবার (১৮ মার্চ) ঢাকায় অবস্থিত দেশটির দূতাবাস ভিসাসংক্রান্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।   বার্তায় বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় মা‌র্কিন যুক্তরা‌ষ্ট্রে গি‌য়ে যেসব কার্যক্রম অনুমোদিত নয়, তা জা‌নানো হয়েছে। ভিসা সংক্রান্ত ওই বার্তায় জা‌নি‌য়ে‌ছে, বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় বার্থ ট্যুরিজম (শিশুর জন্য আমেরিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া) অনুমোদিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক পাওয়া যায়, এমন কাজ করা অনুমোদিত নয়। ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিটের জন্য পড়াশোনা করা অনুমোদিত নয়। এ ছাড়া, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করাও অনুমোদিত নয়।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে প্রাণ গেল প্রবাসীর

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ নিচে পড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে আবুধাবির আকাশে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশের চেষ্টা করে।   এ সময় আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। তবে বিস্ফোরণের পর এর ভারী ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিকের ওপর আঘাত হানে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।   সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে হামলা প্রতিহত করলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হয়নি। নিহত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে আবুধাবির মতো নিরাপদ শহরে এ ধরনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রবাসীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ৬০ লাখ প্রবাসী পরিবারের ঈদে নেই আনন্দ, বাড়ছে উৎকণ্ঠা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশের প্রায় ৬০ লাখ প্রবাসী পরিবারের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। প্রিয়জনদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তায় কাটছে তাদের দিন।   কুমিল্লার লালমাই উপজেলার নূরপুর গ্রামের ওমান প্রবাসী জাকির হোসেনের ঈদের সময় দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু চলমান পরিস্থিতিতে তার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি আর ফিরতে পারছেন না। এতে পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার বড় ভাই জানান, ঈদের আনন্দের চেয়ে এখন ভাইয়ের নিরাপত্তাই তাদের কাছে বড় চিন্তার বিষয়।   একই জেলার বরুড়া উপজেলার লগ্নসার গ্রামের কামাল হোসেন সৌদি আরবে অনিশ্চিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তিনি গোপনে কাজ করেন। সম্প্রতি তার অবস্থান এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটায় তিনি বাইরে বের হতে পারছেন না। এতে তার পরিবারও চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।   কাতার, বাহারাইনসহ বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের পরিবারগুলোর অবস্থাও প্রায় একই। অনেকেই জানিয়েছেন, কর্মস্থলের আশপাশে হামলার ঘটনায় তারা কাজ বন্ধ রেখে বাসায় অবস্থান করছেন। ফলে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে টাকা পাঠাতেও পারছেন না অনেকেই।   চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর ঈদের আগে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠিয়ে পরিবারে স্বচ্ছলতা আনতেন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন, অনেক পরিবারই আর্থিক সংকটে পড়েছে।   মুন্সিগঞ্জ ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রবাসীদের স্বজনরা আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক মা-বাবা জানিয়েছেন, ঈদ সামনে থাকলেও তাদের মনে কোনো আনন্দ নেই—বরং প্রতিটি ফোনকলেই তারা আশঙ্কা করেন কোনো খারাপ খবর আসছে কিনা।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে, যা প্রবাসী শ্রমবাজার ও দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় অনিশ্চিত ওমানের ভিসা চালু

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় শ্রমবাজারেও। এর ফলে বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।   চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে ওমান সরকার দুই মাসের মধ্যে নতুন করে ওয়ার্ক ভিসা চালুর আশ্বাস দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী মার্চের মধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।   রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং ওমানের শ্রমমন্ত্রী ড. মাহাদ বিন সাঈদ বিন আলী বাওয়াইনের মধ্যে বৈঠকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ওমান সরকার এখন অভিবাসন নীতিতে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে নতুন করে বিদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে দেশটি আপাতত ধীরগতির নীতি অনুসরণ করতে পারে। ফলে বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের ভিসা চালু হওয়ার বিষয়টি আরও কিছুটা সময় পিছিয়ে যেতে পারে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ১০ দিন পর উদ্ধার বাংলাদেশির মরদেহ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর বগুড়ার সন্তান ইঞ্জিনিয়ার শাহনুর আলম সবুজের (৩৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি নদী থেকে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।   জানা যায়, গত ৭ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সাক্রামেন্টো সিটির আলামেডা কাউন্টি এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। ওইদিন দুপুরে নির্ধারিত ফিশিং স্পটে তার ব্যবহৃত গাড়ি, দুটি মাছ ধরার ছিপ, জুতা ও মাছ রাখার পাত্র পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। একটি ছিপ ও জাল নিখোঁজ ছিল, যা থেকে ধারণা করা হয় বড় মাছ ধরতে গিয়ে তিনি গভীর পানিতে পড়ে যান।   পরিবার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সবুজ সাঁতার জানতেন না। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও নৌবাহিনী কয়েক দফায় তল্লাশি চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।   পরে ১৬ মার্চ একই নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ২০০৮ সালে অভিবাসন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং আলামেডা কাউন্টিতে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ৭ বছর বয়সী এক পুত্র রেখে গেছেন।   এদিকে তার মৃত্যু সংবাদে বগুড়ায় থাকা মা ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সময় ১৮ মার্চ বিকেল ৪টায় আলামেডা কাউন্টির একটি মুসলিম কবরস্থানে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।   ইঞ্জিনিয়ার সবুজের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফয়সল তুহিন এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মূকাভিনেতা কাজী মাশহুরুল হুদাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্পনসর ভিসায় আসা প্রবাসীদের স্টে-পারমিট সংকটের সমাধান চায় বিমাস

ইতালির রোমে স্থানীয় নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মানে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১৪ মার্চ) ২৫ রমজান ডমুস রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ ইমিগ্র্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিমাস) এ আয়োজন করে। এতে ইতালির মূলধারার রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং বাংলাদেশি রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা অংশ নেন। প্রথমবারের মতো ধর্মীয় কোনো অনুষ্ঠানে ইতালীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণ প্রবাসী কমিউনিটিতে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনুষ্ঠানে সকল ধর্মাবলম্বীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।   বিমাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মুক্তার হোসেন মার্কের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ডেমোক্রেটিক দলের সাবেক সচিব নিকোলা জিঙ্গারেত্তি, সিনেটর সিসিলিয়া ডি এলিয়া, রোম-১ আসনের সংসদ সদস্য পাওলো সিয়ানি, লাজিও ডেমোক্রেটিক পার্টির আঞ্চলিক কাউন্সিলর মারিও সারলা এবং রোম মিউনিসিপ্যাল-৫-এর সভাপতি মুরো কালিসতে।   এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মিউনিসিপ্যাল-১৫-এর প্রেসিডেন্ট দানিয়েলে তরকুয়াতি, ডেমোক্রেটিক দলের রোম শাখার মহাসচিব এনঝো ফস্কি, রোম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর এরিকা বাত্তালিয়া, বিশেষ দূত এমিলিয়ানো মন্তেভেরদে এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য সংস্থার (FAO) সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নাফিস আহমেদ খান।   অনুষ্ঠানে বক্তারা রোজার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, সিয়াম সাধনার এই মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরির মাস এবং ইতালীয়দের কাছে ইসলামের শান্তির বার্তা তুলে ধরার একটি অনন্য সুযোগ।   রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ইতালিতে বর্তমানে আড়াই লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যা দুই দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বিমাসের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সংগঠনটি অভিবাসীদের নানা সমস্যা সমাধান ও ইতালীয় ভাষা শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও জানান, ইতালির মোট অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম, যার মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান তৃতীয়।   ইফতার মাহফিলে ড. মুক্তার হোসেন ইতালীয় রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্পনসর (ফ্লস্সি) ভিসায় ইতালিতে আসা অনেক বাংলাদেশি এখনো বৈধ স্টে-পারমিট (প্যামেসো ডি সোজুর্নো) পাননি। নুলা সস্তা ও ভিসা সঠিক থাকা সত্ত্বেও এই দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রমজানের পর এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হবে।   অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি পাকিস্তান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।   এদিকে আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ ইতালিতে সংবিধান সংস্কার নিয়ে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় উপস্থিত ইতালীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সংস্কারের বিপক্ষে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় ৮৫ বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন বকেয়া, তদন্তে হাইকমিশন

‌‘অনাহারে কাটছে ৮৫ মালয়েশিয়া প্রবাসীর রমজান’ শিরোনামে ১৬ মার্চ প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে শ্রমিকদের বেতন বকেয়া ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (কেসুমা) ও মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।   মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জাবাতান তেনাগা কেরজা সেমনাঞ্জুং মালয়েশিয়া (জেটিকেএসএম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসস্টার ভিশন সেন্ডিরিয়ান বেরহাদ নামের একটি নির্মাণ ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে বিলম্ব করেছে। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ পরিচালিত তদন্তে দেখা গেছে, কোম্পানিটিতে মোট ১৬৯ জন কর্মী কাজ করেন। এর মধ্যে ৬৫ জন স্থানীয় এবং ১০৪ জন বাংলাদেশি কর্মী। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেতন দিতে বিলম্ব শুরু হয়। সেপ্টেম্বর মাসের বেতনের একটি অংশ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হয়েছে। জেটিকেএসএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২৯ জন স্থানীয় কর্মীকে নিয়ে মোট ১৪টি শ্রম মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে মোট দাবি ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৬ দশমিক ৭৯ রিঙ্গিত।     অন্যদিকে ২০২৬ সালে নতুন করে ১৪টি শ্রম মামলা খোলা হয়েছে, যেখানে ৮৬ জন বিদেশি কর্মী এবং ৬ জন স্থানীয় কর্মী জড়িত। এসব মামলায় মোট দাবি ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪১৪ দশমিক ৬৫ রিঙ্গিত, যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৭৮ হাজার রিঙ্গিত বিদেশি কর্মীদের পাওনা। এ পর্যন্ত শ্রম আইন অ্যাক্ট ১৫৫-এর ধারা ১৯(১) ও ধারা ৬৯(৪) অনুযায়ী ১৬টি তদন্ত নথি (কেস পেপার) খোলা হয়েছে এবং আরও আটটি তদন্ত প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে বিভাগটি। মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শ্রম আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে মানবসম্পদ মন্ত্রী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যেন প্রযোজ্য আইনের আওতায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেটিকেএসএমের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার দিকে নজর রাখা হবে। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের শ্রম আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে ১৬ মার্চ মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি এসস্টার ভিশন এসডিএন বিএইচডি (ইভিএসবি) কোম্পানির বিরুদ্ধে ৮৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বেতন না পাওয়ার অভিযোগ ই-মেইলের মাধ্যমে হাইকমিশনে জানান। অভিযোগে চার মাসের বেতন বকেয়া থাকা এবং ছয়জন কর্মীর ভিসা বাতিলের বিষয় উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে শ্রমিকরা মালয়েশিয়ার শ্রম দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন এবং প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ২৮ জানুয়ারি। ওই শুনানিতে শ্রমিকদের পক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে হাইকমিশন কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। ১১ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির সিইও, এইচআর ম্যানেজারসহ তিনজন কর্মকর্তা হাইকমিশনে এসে মিনিস্টার (শ্রম)-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কর্মীদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের অনুরোধ জানালে কোম্পানি আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে মূল বেতনের সঙ্গে কিস্তিতে বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে ৮ ও ৯ মার্চ প্রথম সচিব (শ্রম)-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল জোহর বারুতে গিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। এছাড়া ১০ ও ১১ মার্চ মামলার দ্বিতীয় শুনানিতেও হাইকমিশনের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১৬ মার্চ কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন। জোহর রাজ্যের পাসির গুদাং এলাকায় ওই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮৫ জন বাংলাদেশি শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকদের দাবি, প্রায় ছয় মাস ধরে তারা বেতন ও ওভারটাইম ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে খাদ্য সংকট, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে কোম্পানি খাবার সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে স্থানীয় কিছু বাংলাদেশির দেওয়া জাকাত ও সহায়তার খাবারের ওপর নির্ভর করে কোনোভাবে দিন পার করছেন তারা। অনেক সময় শুধু পানি দিয়ে ইফতার করতে হচ্ছে এবং আগের দিনের বাসি খাবার দিয়ে সেহরি সারতে হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির মুখপাত্র ল ইয়িক হুই বলেন, বিদেশি শ্রমিকদের উত্থাপিত উদ্বেগ সম্পর্কে কোম্পানি অবগত রয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে শ্রম বিভাগের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, কোম্পানি বেতন দিতে অস্বীকার করেনি এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের খাবারের ব্যবস্থা এবং কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে শ্রমিকরা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, এখন পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা বা খাবার দেওয়া হয়নি। শ্রমিকরা দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং ‘রিলিজ লেটার’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যেন তারা অন্য জায়গায় কাজের সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঈদের নামাজ নিয়ে কাতার প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদুল ফিতরের নামাজ নিজ নিজ এলাকার নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক বিরাজমান যুদ্ধাবস্থার কারণে কাতারের আওকাফ ও ইসলামিকবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বছরের ঈদুল ফিতরের নামাজ সবাইকে মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কাতার সরকারের এই সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতি বছরের মতো এবার বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ঈদের জামায়াত আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কাতারে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে কাতার সরকারের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে নিজ নিজ এলাকার নিকটস্থ মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব

ইরানের শীর্ষ ব্যক্তিদের তথ্য দিলে পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১৪, ২০২৬ 0