প্রবাসী

পলাতক আলাউদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
ইতালিতে কিশোরী ধর্ষণ, পলাতক বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ

ইতালির পালেরমো শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি আলাউদ্দিন (৩৮)-এর বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।   আদালত তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ ইউরো জরিমানার আদেশ দিলেও বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার সন্ধানে বিভিন্ন প্রত্র প্রত্রিকা সংবাদ প্রকাশ করেছে ইতালির পুলিশ।   অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ জুন পালেরমোর ভিয়া রিফেরদিকো ১০৪ নম্বর এলাকায় একটি দোকানে মরক্কান বংশোদ্ভূত, ইতালিতে জন্মগ্রহণকারী ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়।   ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার পরিবারকে বিষয়টি জানালে পরিবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।   দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি আদালত আলাউদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ ইউরো জরিমানার রায় প্রদান করেন। তবে রায় ঘোষণার আগেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।   অভিযুক্তের দোকানের সাবেক কর্মচারী সুমন মিয়া এবং ব্যাংক বরাতে জানা যায়, বিচার চলাকালীন আলাউদ্দিন বিভিন্ন ব্যক্তি ও একটি ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইউরো সংগ্রহ করে তার বড় ভাইয়ের সহায়তায় ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশে পালিয়ে যান।   এদিকে, অভিযুক্ত আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর দোকানের সাবেক কর্মচারী সুমন মিয়ার পরিবারের ওপর বাংলাদেশে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ করেন সুমন ।   এই ঘটনা যখন জানাজানি হয় তখন থেকে সুমনের দাবি, তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হামলার মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি তার বাবাকে মিথ্যা অভিযোগে দুই দিন আটক রাখার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।   ঘটনাটি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, এ ধরনের অপরাধ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।   তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপে দালাল চক্রের প্রতারণা, বিপাকে শত শত বাংলাদেশি কর্মী

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়ে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শত শত বাংলাদেশি কর্মী। কেউ পৈতৃক জমি বিক্রি করে, আবার কেউ চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে এই দ্বীপরাষ্ট্রে এলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পেয়ে এখন চরম সংকটে রয়েছেন। পর্যাপ্ত খাবার, আবাসন ও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা দিশাহারা অবস্থায় রয়েছেন।   অভিযোগ উঠেছে, উচ্চ বেতন, বার্ষিক বোনাস ও উন্নত আবাসনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বেকার যুবকদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা বা তারও বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে সক্রিয় একটি দালাল চক্র। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব কর্মীরা মালদ্বীপে পৌঁছে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন দেখতে পাচ্ছেন। কোনো কাজ না পেয়ে অনেকেই দিনে তিনবেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে চরম মানবিক সংকটে পড়া ভুক্তভোগীরা সহায়তার আশায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের শরণাপন্ন হচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই রিক্ত হস্তে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।   এমন পরিস্থিতিতে মালদ্বীপগামী কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে হাইকমিশন। হাইকমিশনের কাউন্সিলর ও হেড অব চ্যান্সারি সৈয়দ আমজাদ আলী জানান, মালদ্বীপে আসার আগে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট যাচাই করতে হবে এবং তা অবশ্যই হাইকমিশন থেকে সত্যায়িত করে নিতে হবে। তিনি দালালদের খপ্পরে না পড়ে সরকার নির্ধারিত সাশ্রয়ী ব্যয়ে (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা) বৈধ পথে মালদ্বীপে আসার জন্য কর্মীদের অনুরোধ জানান।   বর্তমানে মালদ্বীপ সরকার অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বৈধ ভিসা না থাকা বা নিয়মিত ফি পরিশোধে ব্যর্থ হলে অভিবাসীদের আটক করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ফ্রি-ভিসা’ নিয়ে এসে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করাও এখন বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যার ফলে গ্রেপ্তার ও আজীবন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি রয়েছে।   মালদ্বীপের শ্রমবাজারে ‘ফ্রি ভিসা’র নামে সক্রিয় এই প্রতারক চক্র রুখতে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, বাংলাদেশ-মালদ্বীপ যৌথ নজরদারি এবং প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
৫০ বাংলাদেশি শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানের

মালয়েশিয়ার জোহর বাহরুভিত্তিক একটি প্রকৌশল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এসস্টার ভিশন এসডিএন বিএইচডি প্রায় ৫০ জন শ্রমিকের বকেয়া বেতন পরিশোধে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এরই মধ্যে আংশিক পরিশোধ শুরু হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।   প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র ল’ ইউক হুই বলেন, কোম্পানিটি ‌‘দায়িত্বশীলভাবে এবং মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী’ সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।   তবে অভিযোগকারী শ্রমিকদের দাবি, এখনো তাদের বকেয়া বেতন পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি। প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের পক্ষ থেকে ‘এমডি রুবেল’ নামে পরিচিত এক শ্রমিক জানান, তাদের তিন থেকে আট মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।   রুবেল বলেন, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তারা দেশে থাকা পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতে পারছেন না, এমনকি মালয়েশিয়ায় আসার জন্য নেওয়া ঋণও পরিশোধ করতে পারছেন না।   তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার একদল শ্রমিক রাজ্য শ্রম দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে পুনরায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে কয়েক মাস আগেও তারা অভিযোগ করেছিলেন।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, একাধিকবার বাংলাদেশ হাইকমিশনকে বিষয়টি জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। গত মার্চে তাদের দুর্দশার খবর প্রকাশের পর মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান কোম্পানিটিকে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেন।   রুবেলের ভাষ্য, কিছু শ্রমিকের সমস্যা সমাধান হলেও অধিকাংশই এখনো মাসের পর মাস বেতন পাননি। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও শ্রম দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান, যেন শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পান।   এদিকে বকেয়া বেতন সংকট সমাধানের পথে অগ্রগতি জানালো হাইকমিশন। হাইকমিশন বলছে, জোহর বাহরুর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এসস্টার ভিশন এসডিএন বিএইচডি-এর অধীনে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের বকেয়া বেতন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   শনিবার বাংলাদেশ হাইকমিশন শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে মিনিস্টার লেবার শ্রমিকদের জানান, সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই একটি ইতিবাচক ফলাফল আশা করা যাচ্ছে।   এদিকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ডেপুটি হাইকমিশনার মনিকার সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে বিষয়টি তার অধীনস্থ এক কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তা নিষ্পত্তির জন্য কাজ চলমান।   শ্রমিকদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন সমস্যা দ্রুতই সমাধান হবে এবং তারা তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পাবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
স্পেনে বৈধতা পেলেও ইউরোপের অন্য দেশে কাজের সুযোগ কতটা?

স্পেনে বসবাসরত অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের সুসংবাদ নিয়ে আসছে ২০২৬ সালের নিয়মিতকরণ প্রকল্প। এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় যোগ্য অভিবাসীরা দেশটিতে আইনিভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পেতে যাচ্ছেন।   তবে স্পেনে বৈধতা পাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি ইউরোপের অন্যান্য দেশে বসবাসের ক্ষেত্রে কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।   স্পেনের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশটিতে থাকা অনিয়মিত জনশক্তিকে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করা। এর অধীনে যোগ্য অভিবাসীরা যেসব সুবিধা পাবেন।   কাজের অনুমতি: যে কোনো খাতে আইনগতভাবে কাজ করার সুযোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিবন্ধনের সুবিধা।   স্বাস্থ্যসেবা: স্পেনের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা বা ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেমে প্রবেশাধিকার, যা একজন নিয়মিত নাগরিকের মতোই কার্যকর হবে।   ভ্রমণ সুবিধা: বৈধতা পাওয়ার পর শেঙেন এলাকার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত পাসপোর্টবিহীন ভ্রমণের সুযোগ।   স্পেনের এই বিশেষ অনুমতি অভিবাসীদের কিছু আইনি সীমানার মধ্যেও রাখবে। এটি মূলত একটি ‘ন্যাশনাল পারমিট’, যা নিচের ক্ষেত্রগুলোতে কার্যকর হবে না।   ১. অন্য দেশে কাজ: স্পেনের এই অনুমতি দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস বা কাজ করা যাবে না। ২. অন্য দেশে স্বাস্থ্যসেবা: স্পেনের বাইরে অন্য দেশে চিকিৎসা নিলে তার খরচ স্পেন বহন করবে না এবং সেই দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবাও বিনামূল্যে পাওয়া যাবে না। ৩. দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান: অন্য কোনো ইইউ রাষ্ট্রে থাকতে হলে সেই দেশের নিজস্ব অভিবাসন আইন মেনে আলাদা আবেদন করতে হবে।   স্পেনের এই ঢালাও নিয়মিতকরণ কর্মসূচি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলো এই নীতির সমালোচনা করেছে।   তাদের মতে, এক দেশে বৈধতা পেয়ে অভিবাসীরা ‘গৌণ গতিশীলতা’ অন্য দেশে চলে যেতে পারেন, যা পুরো শেনজেন অঞ্চলের সীমান্ত ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।   তবে স্পেন সরকার বলছে, দেশটির কৃষি, পর্যটন এবং সেবা খাতের শ্রম ঘাটতি মেটাতে এবং বার্ধক্যজনিত জনতাত্ত্বিক সংকট সামাল দিতে এই কর্মশক্তিকে বৈধতা দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার অভিবাসীরা যারা দীর্ঘদিন ধরে স্পেনে শ্রম দিচ্ছেন, তারাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।   শুধু স্পেন নয়, জার্মানি এবং ইতালিতেও একই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৫ লাখ অ-ইউরোপীয় নাগরিককে কাজের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে জার্মানিও দক্ষ কর্মী ও কেয়ারগিভার নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে নিউ ইয়র্কে র‍্যালি

যুক্তরাষ্ট্রে এক র‍্যালি থেকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার কয়েকজন সাংবাদিকের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।   ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষ্যে রোববার নিউ ইয়র্কে এ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয় ‘নিউ ইয়র্ক জার্নালিস্ট কমিউনিটি’ ব্যানারে।   পিনাকি তালুকদারের সঞ্চালনায় র‍্যালিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।   তিনি বলেন, ভিন্নমতের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের, সিনিয়র সাংবাদিকদের আটক এবং বহু সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে।   তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সাংবাদিক ও সম্পাদকের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে, পাসপোর্ট জব্দ করে বিদেশযাত্রা সীমিত করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে।   ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ বলেন, মিডিয়া প্রতিষ্ঠান দখল, সাংবাদিক ছাঁটাই এবং শতাধিক সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের ঘটনা উদ্বেগজনক।   ওয়াশিংটন ডি.সিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ বলেন, মামলা ও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় দেশের গণমাধ্যমকর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।   র‍্যালিতে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাবলু আনসার, অধ্যাপক হোসনেআরা, শহিদুল ইসলাম, আবু জাফর মাহমুদ, হাকিকুল ইসলাম খোকন, এম ফজলুর রহমান ও মোজাহিদ আনসারী।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
গ্রিসের কারাগারে স্বজনহীন বাংলাদেশির মৃত্যু, সেখানেই দাফন

পরিচয়পত্রহীন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। নেই কোনো বৈধ পাসপোর্ট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র। বিদেশের মাটিতে কারাবন্দি অবস্থায় নিভে গেছে জীবনের প্রদীপ। দেশে ফেরার পথও ছিল অনিশ্চিত।   অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে মানবিক বিবেচনায় দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ গ্রিসের মাটিতেই শেষ ঠিকানা হতে যাচ্ছে প্রবাসী কামরান দেলোয়ার হোসেন খানের।   দেশটির রাজধানী এথেন্সের উপকণ্ঠে করিদালোজ কারাগারে গত ১৪ মার্চ মারা যান কামরান। মৃত্যুর পর তার পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে জটিলতায় পড়ে এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাস।   তার কাছে পাসপোর্ট কিংবা কোনো সরকারি নথিপত্র না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তবে গ্রিক নথিতে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে উল্লেখ থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় তার লাশের দায়িত্ব নেয় তারা।   এসব তথ্য জানিয়ে শনিবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে দূতাবাস। এতে বলা হয়, কামরানের পরিচয় নিশ্চিত করতে অনুসন্ধানে নামেন তারা।   অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্বপুরুষদের বাড়ি বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলায়। তবে সেখানে এখন কোনো আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।   দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ‘অন্য একটি দেশে অবস্থানরত কামরানের এক ভাইয়ের’ খোঁজ মেলে। টেলিফোনে তিনি জানান, বাংলাদেশে তাদের আর কোনো স্বজন অবশিষ্ট নেই। এ কারণে লাশ বাংলাদেশে না পাঠিয়ে গ্রিসেই দাফন করার জন্য তিনি দূতাবাসের কাছে লিখিত অনাপত্তিপত্র দেন।   বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত বাজেট সাধারণত বৈধ নথিপত্রধারী কর্মীদের লাশ দেশে পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। বিদেশে দাফন করার জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ থাকে না। এছাড়া পরিচয় নিশ্চিত না হলে সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো দায়বদ্ধতাও নেই।   কিন্তু কামরানের বিষয়টি ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে গ্রহণ করে দূতাবাস। একজন কর্মীর শেষ বিদায় যেন ধর্মীয় বিধানে হয়, সেই অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব উদ্যোগে দাফনের সব ব্যয়ভার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে তারা।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৃত কামরান একজন ‘আনডকুমেন্টেড’ কর্মী হওয়া সত্ত্বেও মানবিক কারণে সরকার ও দূতাবাস বিষয়টি দেখভাল করছে। এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমুটিনি এলাকায় মুসলিম কবরস্থানে লাশ দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   এই প্রক্রিয়াটি একদিকে যেমন ব্যয়বহুল, অন্যদিকে স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটির অনুমোদনেরও প্রয়োজনীয়তা ছিল। সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসছে ৭ মে লাশ দাফন করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর

দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হাসিবুর রহমান (২৫) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।   নিহত হাসিবুর জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২৩ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় আসেন। কোরিয়ায় অবস্থানরত তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় ফারজাদ সোবহান নাফি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার মধ্যরাতে বন্ধুর বাসা থেকে ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি গাড়ি হাসিবুরকে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ির চালক 'মদ্যপ' ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর তাকে প্রেসবিটেরিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয় এবং জরুরি বিভাগে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তবে মস্তিষ্কে আঘাতের কারণে রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত হাসিবুর রহমান প্রথমে জনবুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কোরিয়ান ভাষা কোর্সে ভর্তি হন। পরে সওইয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছিলেন। ফারজাদ সোবহান নাফি জানান, হাসপাতালের বিল পরিশোধ না হওয়ায় লাশ বর্তমানে হিমাগারে রাখা হয়েছে। দ্রুত লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের বন্ধু আরেক প্রবাসী রিপন হোসাইন বলেন, "এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। সোমবারের পর লাশ দেশে পাঠানো হতে পারে।" হাসিবুর গত বছরের ডিসেম্বরে বিয়ে করেন এবং স্ত্রীসহ দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছিলেন। তার মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১১ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহে ১১ হাজার ৩০০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ১৪ হাজার ৮৫৫ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ৬ হাজার ২৪৪ জন আবাসন বা রেসিডেন্সি আইন ভঙ্গের দায়ে আটক হয়েছেন। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ৫৪৩ জন এবং শ্রম আইন অমান্যের কারণে ১ হাজার ৫১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   এদিকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৩৩০ জনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ প্রবাসীদের আশ্রয় দেওয়া, কাজের সুযোগ তৈরি করা কিংবা যাতায়াতে সহায়তা করার অভিযোগে ১৪ জন দালালকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   বর্তমানে মোট ২৯ হাজার ৯১৩ জন আইন লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৬০১ জনকে ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ৪ হাজার ৩৩৭ জনকে টিকিট নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।   সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে আটক প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আকাশপথ পুরোপুরি উন্মুক্ত, সব ফ্লাইট স্বাভাবিক ঘোষণা আমিরাতের

সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমায় আরোপিত সব ধরনের বিমান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এর ফলে দেশটিতে ফ্লাইট কার্যক্রম এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে।   শনিবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় জানায়, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমিরাত আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে মার্চ মাসে ধাপে ধাপে ফ্লাইট চালু হলেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ তখনও বহাল ছিল।   দুবাই ও আবুধাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলোতে কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও এতদিন পুরোপুরি চালু হয়নি। তবে গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করে।   এই প্রেক্ষাপটে এখন সম্পূর্ণভাবে আকাশসীমা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিরাত, ফলে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় ভারসাম্যহীন প্রবাসী উদ্ধার, দেশে পাঠাল প্রবাসীরা

মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ভবঘুরে অবস্থায় থাকা ফরিদপুরের যুবক আব্দুল রশিদ ব্যাপারী অবশেষে দেশে ফিরেছেন। প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগে উদ্ধার হওয়ার পর শুক্রবার (১ মে) রাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছান।   হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে গ্রহণ করতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। প্রায় ছয় বছর ধরে নিখোঁজ থাকার পর তাকে ফিরে পাওয়ায় স্বজনদের মাঝে স্বস্তি নেমে আসে।   পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদ প্রায় নয় বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে বৈধভাবে মালয়েশিয়া যান। প্রথম কয়েক বছর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও পরে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার হতাশ হয়ে পড়ে।   সম্প্রতি কুয়ালালামপুরের কোতারায়া এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাকে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে প্রবাসী মো. আদনান ও তার সহকর্মীরা রশিদকে উদ্ধার করেন। অসুস্থতার কারণে শুরুতে নিজের পরিচয় জানাতে না পারায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।   পরবর্তীতে প্রবাসীদের সহযোগিতায় দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পাস এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি সংগ্রহ করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।   তবে দেশে ফেরার দিনটিও সহজ ছিল না। বিমানবন্দরে চেকইন করার পর কয়েকবার পথ হারিয়ে নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করেন রশিদ। পরে প্রবাসীরা অতিরিক্ত খরচ করে নতুন টিকিট কিনে একই রাতে তাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।   প্রবাসীদের এই মানবিক উদ্যোগের ফলে দীর্ঘ ছয় বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে এলেন রশিদ, যা স্বজনদের জন্য এক অনন্য স্বস্তির মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ওমানে দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর দেশে ফেরার পরদিন মৃত্যু

ওমানে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর মোহাম্মদ ইদ্রিছ। কিন্তু দেশে ফেরার পরদিনই মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই প্রবাসী।   গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল মাস্কাটের মাবেলা এলাকায় নিজ কর্মস্থলের একটি গ্যারেজে কাজ করার সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন ইদ্রিছ। পরে তাকে সুলতান কাবুস হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, তার নিয়োগকর্তা এ সময় কোনো খোঁজখবর নেননি এবং টানা চার মাসের বেতনও পরিশোধ করেননি।   এ অবস্থায় সহায়তার জন্য তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের শরণাপন্ন হন। দূতাবাসের সহযোগিতায় বুধবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন তিনি। কিন্তু দেশে ফেরার মাত্র একদিন পরই তার জীবনাবসান ঘটে।   এ বিষয়ে ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর রাফিউল ইসলাম জানান, ইদ্রিছের অনুরোধের পর দূতাবাস তার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে দেয়। একইসঙ্গে তার ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে বাসে ডাকাতি, ৩ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

কুয়েত সিটির ফারওয়ানিয়া গভর্নরেটে বাসযাত্রীদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় তিন সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। জেলিব আল-শুয়ুখ পুলিশ স্টেশনের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। একটি গণপরিবহন কোম্পানির টিকিট পরিদর্শকের অভিযোগের পর এ অভিযান শুরু হয়। ওই পরিদর্শক জানান, বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে বারবার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছিল।   অভিযোগ পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী নজরদারি বাড়ায় এবং যাচাই-বাছাই শুরু করে। বাসের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয় এবং পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ৩৩৩ কুয়েতি দিনার উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো ডাকাতির অর্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের জব্দকৃত অর্থসহ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। একই সঙ্গে জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য জরুরি নম্বর ১১২-এ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।   সূত্র : আরব টাইমস

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কম্বোডিয়ায় প্রতারণার অভিযোগে ১২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ১২ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (০১ মে) রাজধানী নম পেনের মিয়ানচে জেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   রোববার (০২ মে) খিমার টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানচে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি যৌথ টাস্কফোর্স অনলাইন প্রতারণার একটি মামলার তদন্তে স্টুং মিয়ানচে ২ কমিউনের একটি বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে ওই বাসা থেকে ১২ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা ভুয়া ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রশাসনিক ফি আদায়ের মাধ্যমে প্রতারণা করছিল। আটক ১২ জনকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বর্ণাঢ্য আয়োজনে লিবারেল পার্টি অফ অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক ইফতার অনুষ্ঠিত

অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতিতে বহুসংস্কৃতির অংশগ্রহণকে আরও দৃঢ় করার উদ্যোগে সফল হয়েছেন মোহাম্মদ জামান। মোহাম্মদ জামান নেতৃত্বে লাকেম্বা শাখা ও ব্যাংকসটাউন এসইসি-এর আয়োজনকৃত ‘৬ষ্ঠ বার্ষিক মুসলিম লিবারেল পার্টি ইফতার’ গত বৃহস্পতিবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।   ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা এই ইফতার মাহফিলটি স্থানীয় উদ্যোগ থেকে ক্রমেই জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। আয়োজনের মাধ্যমে লিবারেল পার্টি ও অস্ট্রেলিয়ার বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।   এবারের আয়োজনে ফেডারেল সিনেটর, সংসদ সদস্য, স্টেট মেম্বার, মেয়র ও কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি নিউ সাউথ ওয়েলস ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে আগত বিশিষ্ট চিকিৎসক, কমিউনিটি লিডার এবং প্রবীণ অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত অতিথিরা জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি ধর্মীয় ইফতার নয়—এটি বহুসংস্কৃতি, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি ও সম্প্রদায়ভিত্তিক নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মোহাম্মদ জামান বলেন, প্রতি বছর এই ইফতার মাহফিল আয়োজন করা আমার জন্য গর্বের বিষয়। আমাদের লক্ষ্য হলো অস্ট্রেলিয়ার মূলধারায় মুসলিম সম্প্রদায়, বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদান তুলে ধরা। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে কমিউনিটির কণ্ঠস্বর সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।   লাকেম্বা ও ব্যাংকসটাউন শাখার এই ধারাবাহিক উদ্যোগ নিউ সাউথ ওয়েলস রাজনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সাংবাদিকদের সম্মানে ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল

ফ্রান্সে কর্মরত বাংলাদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মানার্থে ফ্রান্স-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্যারিসের অবারভিলিয়ে এলাকার শাহজালাল রেস্টুরেন্টে এই ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়।   এতে প্যারিসের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন বাংলাদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।   সংগঠনের সভাপতি ফেরদৌস করিম আখঞ্জীর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সামিরার সঞ্চালনায় শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান।   আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু তাহির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান বাবু, ইউরো বাংলা প্রেসক্লাব ফ্রান্সের সভাপতি মো. তাজ উদ্দিন, প্যারিস বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদ, ফ্রান্স-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মুখপাত্র মোসাদ্দেক হোসেন সাইফুল, ইউরো বাংলা প্রেসক্লাব ফ্রান্সের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক, ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সিনিয়র সাংবাদিক মো. নাজমুল কবির, নয়ন মামুন, কোষাধ্যক্ষ মাজহারুল ইসলাম ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম সি রুমেল।   এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইকবাল মাহমুদ জাফর, বাদল পাল, জুনেদ ফারহান, আবুল কালাম মামুন, সোহেল আহমেদ ও আব্দুল কাইয়ুমসহ আরও অনেকে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় ৪ বাংলাদেশিসহ ২৬ জনের কারাদণ্ড

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থান ও ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ৩০ বিদেশি নাগরিকের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে দোষ স্বীকার করায় ৪ জন বাংলাদেশি ও ২২ জন ইন্দোনেশিয়ানসহ মোট ২৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।   শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তেলুক ইনতান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নাইদাতুল আথিরাহ আজমান অভিযোগের ভিত্তিতে এ রায় দেন।   অভিযুক্তদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ৮ জনকে ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/১৯৬৩-এর ৬(১)(সি) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত তাদের প্রত্যেককে ৪ মাসের কারাদণ্ড এবং একটি করে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দিয়েছেন। যথাযথ নথিপত্র ছাড়া অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের দায়ে এ দণ্ড দেওয়া হয়।   অন্য ১৮ জন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিককে ইমিগ্রেশন আইনের ১৫(১)(সি) ধারায় ৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের সময় আটক হওয়া বাকি ৪ জন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করায় তাদের বিচার প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ১৫(১)(বি) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আগামী ১ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।   চলতি মাসের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাগান দাতুকের সুঙ্গাই পায়ুং এলাকার একটি পাম অয়েল বাগানে অভিযান চালিয়ে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৩০ জন অভিবাসীকে আটক করে। অভিযুক্তদের বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। বিচার চলাকালে ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর নুর দারউইস আগনিয়া হালিম আজিজি প্রসিকিউশনের দায়িত্ব পালন করেন। অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
নুরুল আমিন শাহ আলম। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শীতে মারা গেলেন ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী’ অন্ধ শাহ আলম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের বাফেলো শহরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অন্ধ ও গুরুতর অসুস্থ নুরুল আমিন শাহ আলমের (৫৬) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের মতে, তিনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তারা তাকে একটি সড়কের মোড়ে রেখে যাওয়ার পাঁচ দিন পর তার মৃত্যু ঘটে।   গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শাহ আলমের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ইনভেস্টিগেটিভ পোস্টে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশের আচরণের একটি পরিচিত চিত্র তুলে ধরা হয়, বিশেষ করে বর্ণগত সংখ্যালঘু প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে। পুলিশের সহিংস গ্রেপ্তার—যেখানে তার লাঠিকে অস্ত্র হিসেবে দেখা হয়েছিল—এবং পরবর্তীতে বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তাদের আচরণ, যেখানে তার অন্ধত্ব, ইংরেজি না জানা ও মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি—এসব ঘটনার ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।   চলাফেরার জন্য একটি লাঠির প্রয়োজন হওয়ায় তিনি কাছের একটি দোকান থেকে পর্দার রড কিনেছিলেন। আইনজীবী বেঞ্জামিন ম্যাকালুসোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রড হাতে নিয়ে তিনি ব্ল্যাক রক এলাকায় হাঁটছিলেন। আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে এলে তিনি বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন, কিন্তু বিভ্রান্ত হয়ে অপরিচিত এক ব্যক্তির বাড়িতে পৌঁছে যান।   ম্যাকালুসো জানান, এক নারী তার কুকুর বাইরে ছেড়ে দেওয়ার সময় শাহ আলমকে তার বারান্দায় দেখতে পান।   ম্যাকালুসো বলেন, তিনি এমন একটি অঞ্চল থেকে এসেছেন যেখানে মানুষ সাধারণত কুকুর পোষে না। কুকুরটি উত্তেজিত হয়ে পড়লে শাহ আলম ভয় পেয়ে যান। তখন ওই নারী পুলিশে ফোন করে জানান, তার ড্রাইভওয়েতে এক অজ্ঞাত কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন।   বাফেলো পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে পর্দার রড ফেলে দিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু শাহ আলম নির্দেশ বুঝতে পারেননি বা স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি। বারবার নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে টেজার দিয়ে আঘাত করেন এবং মাটিতে ফেলে মারধর করেন বলে ম্যাকালুসো জানান।   চলতি মাসের শুরুতে একটি সমঝোতা চুক্তি গ্রহণের পর শাহ আলম মুক্তি পান। তার আইনজীবী ও সদ্য শহরে ফেরা পরিবার শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তাকে খুঁজেছেন। ম্যাকালুসো বলেন, ‘তিনি ফোন ব্যবহার করতে পারেন না, নিজের ঠিকানা বা ফোন নম্বর জানেন না, যোগাযোগ করতে পারেন না, দেখতে পান না—তবুও তাকে এভাবে ফেলে রাখা হয়েছিল।’   রোববার বাফেলো পুলিশ একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে। তবে পরদিন ভুলভাবে ধরে নেওয়া হয় যে তিনি আইসিই হেফাজতে আছেন এবং মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।   নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি টিম কেনেডি শাহ আলমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইভিবি-এর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘মি. আলম আজ জীবিত থেকে পরিবারের সঙ্গে থাকার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার পর তার পরিবার এখন অকল্পনীয় শোকের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত হতে হবে। জনগণ ও তার পরিবার অবিলম্বে উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।   ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে নির্মিত শহিদ মিনারে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। পরে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত, এক মিনিট নীরবতা পালন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী পাঠ, কবিতা আবৃত্তি এবং শিশুদের রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের প্রথম সচিব (ডিপ্লোমেটিক উইং) ও দূতালয় প্রধান রাবেয়া বেগম, তৃতীয় সচিব (ডিপ্লোমেটিক উইং) রায়হান ফেরদৌস, প্রথম সচিব (শ্রম) মার্জিয়া সুলতানাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।   এ উপলক্ষে আলবেনিয়ায় বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শাবান ইব্রাহীম দূতাবাসে অবস্থিত শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।   সমাপনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, বাংলা ভাষার সংরক্ষণ এবং বিশ্বব্যাপী ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান জানান।   দিবসটি উদযাপনের অংশ হিসেবে এর আগে লাটসিও আমেরিকান কলেজে একটি শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল সেখানে শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতি তুলে ধরে। এ সময় বাংলাদেশ বিষয়ক ভিডিও প্রদর্শন, কুইজ ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালা সংবলিত বুকমার্ক বিতরণ করা হয়, যা গ্রীক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সংযোগ আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
প্রবাসী করদাতাদের জন্য এনবিআরের বিশেষ সুবিধা চালু

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের ই-রিটার্ন দাখিল সহজ করতে বিশেষ রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বলা হয়, এ সুবিধার আওতায় মোবাইল ফোনের পরিবর্তে করদাতার নিজস্ব ই-মেইলে ওটিপি পাঠানোর মাধ্যমে পাসওয়ার্ড রিসেট ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এনবিআর জানায়, যেসব করদাতা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছেন কিন্তু বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় মোবাইল ওটিপি ব্যবহার করতে পারছেন না, তাদের জন্য সম্প্রতি ই-মেইল ভেরিফিকেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। আবেদন যেভাবে বিদেশে অবস্থানরত করদাতাকে তার নিজ ই-মেইল থেকে ereturn@etaxnbr.gov.bd ঠিকানায় আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে- পাসপোর্টের কপি জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ভিসা পেজের কপি বিদেশের বর্তমান ঠিকানা বিদেশে ব্যবহৃত মোবাইল/ফোন নম্বর সর্বশেষ বাংলাদেশ ত্যাগের তারিখ এনবিআর আবেদন যাচাই-বাছাই করে ই-মেইল ভেরিফাই করলে করদাতা ভেরিফাইড ই-মেইলে প্রাপ্ত ওটিপি ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড রিসেট, রেজিস্ট্রেশন এবং ই-রিটার্ন দাখিলসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি সহজ হওয়ায় ২০২৫-২৬ করবর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ লাখ আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা পড়েছে। সব ব্যক্তি করদাতাকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পোর্তোতে মাতৃভাষা দিবস ও ইন্টারকালচারালিটি অ্যাওয়ার্ডস-২০২৫ উদযাপন

পোর্তোতে মাতৃভাষা দিবস এবং ইন্টারকালচারালিটি অ্যাওয়ার্ডস-২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী বাতাইলহা সিনেমা হল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো এবং ইসপাসো টি অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় রুয়া চাঁ এলাকায় মাতৃভাষার শহীদদের স্মরণে পাবলিক মেমোরিয়ালে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে রাত ১০টা নাগাদ মূল সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার প্রদান পর্ব শুরু হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতেই কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের চেতনা তুলে ধরা হয়।   স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর প্রেসিডেন্টসহ বক্তারা বলেন, মাতৃভাষা শুধু একটি জাতির পরিচয়ের প্রতীক নয়, বরং বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও অন্তর্ভুক্তির শক্ত ভিত্তি। ইসপাসো টি দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগালে তৃতীয় দেশের নাগরিক ও অভিবাসীদের নিয়ে শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ গড়ে তুলছে। এ কাজের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর সঙ্গে গত সাত বছর ধরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করে আসছে তারা। আয়োজকদের ভাষায়, ভিন্নতাই শক্তি আর সেই দর্শন থেকেই পর্তুগালের বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য তাদের। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসপাসো টির সভাপতি, বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের কনস্যুলার, যিনি ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইন্টারকালচারাল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫ প্রদান। মানবাধিকার, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, ক্রীড়া, সমাজসেবা, নগর উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তঃসাংস্কৃতিক মূল্যবোধ প্রচারে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পান পুর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিকে শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার স্বীকৃতিস্বরূপ। ক্রীড়া ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পায় পর্তুগালের অনূর্ধ্ব ১৭ জাতীয় ফুটবল দল, যারা বিশ্ব ও ইউরোপীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় গৌরব বয়ে এনেছে। মানবিক সহায়তা ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ। সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হয় মিডিয়াম আলভেসকে, অভিবাসীদের পরিবার পুনর্মিলনের জটিলতা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য। সমাজসেবা ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পান প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী, যিনি তার শিল্প ও সামাজিক অবস্থানের মাধ্যমে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন। সিটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয় স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটি, অভিবাসীবান্ধব নীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়নের জন্য। পাবলিক পলিসি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পান পর্তুগিজ সংসদ সদস্য, মানবাধিকার ও সমতার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থানের স্বীকৃতিস্বরূপ। মেরিট ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয় প্রোগ্রাম ইসকলহাস, যা ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে পরিবেশিত হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, যা দর্শকদের বাংলাদেশে এক সাংস্কৃতিক ভ্রমণে নিয়ে যায়। মনমুগ্ধ করে আয়োজন শেষ হতে মধ্যরাত গড়িয়ে যায়। আগত পর্তুগিজ অতিথিরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশিদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে পর্তোতে বসবাসকারী বিভিন্ন স্তরের প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রবাসের মাটিতে ভাষা শহীদদের স্মরণ এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এ আয়োজনকে অংশগ্রহণকারীরা অনন্য ও অনুপ্রেরণাদায়ক বলে অভিহিত করেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনাকে ধারণ করে পোর্তোতে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠান প্রমাণ করেছে যে ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মানবিক মর্যাদা, পরিচয় ও সহাবস্থানের শক্ত ভিত্তি।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বেলজিয়ামে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা এবং উৎসাহ উদ্দীপনায় ‘মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে।   দিবস উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রমের সূচনা করেন রাষ্ট্রদূত খন্দকার মাসুদুল আলম। পরে ভাষা শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দূতাবাসের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণীসমূহ পাঠ করা হয়।   এসময় রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে, বিদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষার ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরার আহ্বান জানান। এছাড়াও রাষ্ট্রদূত, দলমত নির্বিশেষে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিরলস কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান। এরপর দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত চিত্রাংকন এবং রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বয়সভিত্তিক গ্রুপে বিজয়ীদের মধ্যে সনদপত্র এবং পুরষ্কার প্রদান করা হয়। শেষে ভাষা শহীদ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির অব্যাহত উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও অতিথিদেরকে ঐতিহ্যবাহী বাঙ্গালী খাবারের মাধ্যমে ইফতার এবং সান্ধ্য ভোজের আপ্যায়ন করা হয়।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি : সংগৃহীত
অর্থনীতি

ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0