প্রবাসী

ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় যাত্রীদের জন্য জারি হলো কঠোর স্বাস্থ্যবিধি

নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিপাহ ভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশ—বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আগত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জুলকেফলি আহমেদ জানান, দেশটির সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। এর অংশ হিসেবে আগত যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেন, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে জ্বর বা উচ্চ তাপমাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ হওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ ও ভারতকে উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন দেশ হিসেবে বিবেচনা করে এই দুই দেশ থেকে আগত যাত্রীদের ওপর বাড়তি সতর্কতা ও পরীক্ষা চালানো হবে। তবে এ জন্য আলাদা কোনো প্রবেশ রুট বা লেন নির্ধারণ করা হয়নি। কোনো যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পাওয়া গেলে তাকে পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।   কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাসসহ যেকোনো সম্ভাব্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।    

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্পেনে সুনামগঞ্জ জেলা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অভিষেক

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের অভিষেক ও পরিচিতি সভা।   গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে স্থানীয় গ্রাম বাংলা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির।   সংগঠনের সভাপতি হাফিজ আবু তাহের মিসবাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদের সঞ্চালনায় এই সভায় নবগঠিত ৫৮ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।   অভিষেক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বায়তুল মোকাররম বাংলাদেশ মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মিয়া, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর, গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি আব্দুল মোজাক্কির এবং কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আব্দুল কাইয়ুম মাসুকসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রবাসীদের যেকোনো সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন– সাঈয়েদ মিয়া, রাসেল দেওয়ান, এইচ এম মাসুদুর রহমান, আহমদ আসাদুর রাহমান সাদ, হাফিজ মিয়া, রুবেল রানা, ক্বারী আব্দুর রউফ ও মাওলানা আব্দুল হামিদ প্রমুখ।   সংগঠনের নেতাদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন– প্রধান উপদেষ্টা আব্দুর রশিদ, উপদেষ্টা সহিদ ওয়াছির, সিনিয়র সহসভাপতি আল আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক সামছুর নুর ও যুগ্ম সম্পাদক সবজল আহমদসহ অন্য নেতারা।   নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা এ সময় সংগঠনটিকে দলমতের ঊর্ধ্বে রেখে একটি গ্রহণযোগ্য ও প্রবাসীবান্ধব ‘মডেল সংগঠন’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় থার্মাল ড্রোন দিয়ে অভিযান, অর্ধশতাশিক বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

মালয়েশিয়ার চেরাসে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে এবার অত্যাধুনিক থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করল দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ সময় অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিসহ ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।   অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে বৃহস্পতিবার রাতে তামান ইমাস এলাকায় এই বিশাল অভিযানে পরিচালনা করে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ।    শুক্রবার মালয়েশিয়ান গণমাধ্যম বার্নামা নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযানে ভবনের ছাদে বা বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকা অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করতে অত্যাধুনিক ‘থার্মাল ড্রোন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এ সময় ভবনের ছাদে কিংবা অন্ধকার জায়গায় লুকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।   ইমিগ্রেশন বিভাগের (অপারেশন) ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে প্রায় ১৫ জন বিদেশি নাগরিককে ধরা সম্ভব হয়েছে, যারা গ্রেপ্তার এড়াতে ভবনের ছাদে লুকিয়ে ছিলেন।   তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে থাকা ১ হাজার ৮৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জনকে ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা হয়েছে।   আটককৃতদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ৫২ জন নারী। এদের মধ্যে মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক রয়েছেন।   আটককৃতদের দেশটির সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। বৈধ নথিপত্র না থাকা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং ভুয়া কার্ড ব্যবহারের মতো অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।   মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ২৭৯ জন ইমিগ্রেশন অফিসার এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের ১০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মালদ্বীপে নিখোঁজের ২ দিন পর মিললো প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ

মালদ্বীপের থিলাফুশি আইল্যান্ডে দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ২৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি প্রবাসী আমিন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে তিনি কর্মরত দ্বীপটির ময়লার স্তূপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য আমিনের মরদেহ রাজধানী মালের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত আমিন মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী ইউনিয়নে।   একই দ্বীপে কর্মরত আবু আহমেদ সেলিম মিয়া জানান, মালদ্বীপের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্পোরেশন লিমিটেড (ওয়েমকো) কোম্পানিতে কাজ করতে ছয় মাস আগে মালদ্বীপে যান আমিন। নিখোঁজ হওয়ার দিনও তিনি কাজে যোগ দেন। তবে কাজের একপর্যায়ে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর কোম্পানির কর্মকর্তারা বিষয়টি মালদ্বীপ পুলিশকে অবহিত করেন।   স্থানীয় গণমাধ্যম সান এমভি’র বরাতে জানা গেছে, দুই দিনের অনুসন্ধানের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ বুধবার রাতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল দ্বীপটির ময়লার স্তূপের ভেতর থেকে আমিনের মরদেহ উদ্ধার করে। সহকর্মীদের ধারণা, কাজের সময় ময়লা স্থানান্তরে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরের সঙ্গে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।   মালদ্বীপ পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে আমিনের মৃত্যু নিখোঁজের দিন, অর্থাৎ গত সোমবার হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।   এ বিষয়ে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কল্যাণ সহকারী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রবাসী আমিন মিয়ার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মালদ্বীপ পুলিশের সঙ্গে হাইকমিশন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এলো বড় সুখবর

প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশে যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এখন থেকে মাত্র ২০ হাজার টাকায় দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন প্রবাসী কর্মীরা। প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াত সহজ ও সাশ্রয়ী করতে নেওয়া এই বিশেষ উদ্যোগের তথ্য শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে জানানো হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, এই ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন প্রবাসী কর্মীরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও বড় ধরনের আর্থিক লাভের সম্ভাবনা দেখছে। বিশেষ করে হজ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে আগে যে একমুখী ফাঁকা ফ্লাইট চালানোর চর্চা ছিল, তা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকারও বেশি আয় হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিশেষ ব্যবস্থায় মদিনা-ঢাকা ও জেদ্দা-ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা। আর মদিনা-ঢাকা-মদিনা এবং জেদ্দা-ঢাকা-জেদ্দা রুটে রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ৪২ হাজার টাকা। বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে এই বিশেষ ভাড়া কার্যকর থাকবে ১৮ এপ্রিল থেকে ২৫ মে পর্যন্ত। আর বাংলাদেশ থেকে ফেরার ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে ৩০ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। এই উদ্যোগকে প্রবাসীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে প্রবাসীদের সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ সঠিক বাস্তবায়ন ও তদারকির অভাবে টেকসই হয়নি। তাই এই উদ্যোগটি যেন শতভাগ কার্যকর থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।    

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইতালিতে নারী পর্যটককে যৌন হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ইতালির রোমে ভ্রমণে আসা এক নারী পর্যটককে যৌন হয়রানির অভিযোগে ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) মেট্রোতে ভ্যাটিকান সিটিতে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, চলন্ত ট্রেনে বাংলাদেশি যুবক ওই কিশোরীকে স্পর্শ করে এবং যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের যাত্রীরা এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে ভিত্তোরিও ইমানুয়েল স্টেশনে আটক করে। তদন্তে দেখা গেছে, যুবকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পুলিশের কাছে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। দুই বছর আগে ২০২৪ সালে একটি বাসে এক নারীকে হেনস্থার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রোম পুলিশ তাকে গুরুতর যৌন সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। ইতালির সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার। তবে এই ঘটনায় ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশ কমিউনিটির ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।    

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ইমিগ্রেশন অভিযানে এবার যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী সেন্সর ব্যবহার করে একের পর এক অভিযানে আটক করা হয়েছে শত শত অবৈধ অভিবাসী। রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান এমাসে পরিচালিত সমন্বিত ‘অপস সাপু’ অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। অভিযানটি বাণিজ্যিক এলাকা ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক স্থানে পরিচালিত হয়। ২ থেকে ৫৩ বছর বয়সী আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, পাস শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান ও স্বীকৃত নয় এমন পরিচয়পত্র বহনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযান চলাকালে কিছু বিদেশি নাগরিক পালানোর চেষ্টা করলেও আধুনিক ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী সেন্সরের মাধ্যমে দ্রুত তাদের অবস্থান শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির আইন অনুযায়ী অবৈধ অবস্থানরত বিদেশিদের শনাক্ত, আটক, বিচার ও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সাধারণ জনগণ ও নিয়োগকর্তাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সহায়তা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের জন্য চলমান ‘মাইগ্রান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এ অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।    

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দুবাইয়ে ‘গালফুড’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের ৩৪টি প্রতিষ্ঠান

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক নগরী দুবাইয়ে জমকালো আয়োজনে শুরু হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য ও পানীয় খাতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘গালফুড ২০২৬’। পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলার ৩১তম আসরটি দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং এক্সপো সিটির দুবাই এক্সিবিশন সেন্টার একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   সোমবার (২৬ জানুয়ারি) গালফ ফুডের উদ্বোধনী দিনে এক্সপো সিটির দুবাই এক্সিবিশন সেন্টারে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’ এর আলাদাভাবে উদ্বোধন করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ। আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই বিশাল আয়োজন।   এবারের মেলায় বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় সাড়ে আট হাজারেরও বেশি শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৩৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।   বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, হিমায়িত খাবার, স্ন্যাকস, মসলা, চাল, জুস ও পানীয় এবং কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।   বাংলাদেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করতে এই খাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। গালফুড মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে (বিটুবি) নেটওয়ার্কিং করার সুযোগ পাচ্ছেন। এটি কেবল রপ্তানি আদেশ বৃদ্ধিই করবে না, বরং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হালাল পণ্য ও কৃষি পণ্যের শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং তৈরিতে সহায়ক হবে।   ​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক মান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ বিশ্ব খাদ্য বাজারে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করবে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পোস্ট অফিসে ব্যালট জমা দিচ্ছেন কুয়েত প্রবাসীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রথমবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সালমিয়া, হাওয়াল্লি, কাইফান পোস্ট অফিসে হলুদ খামে ব্যালট জমা দিতে আসেন কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।   এদিকে, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, শুধু আল মিসাইল পোস্ট অফিসে হলুদ খামে ব্যালট জমা দিলে কোনো ফি ছাড়াই জমা দিতে পারবে। আগামী ২ জানুয়ারির মধ্যে হলুদ খামে ব্যালট জমা দিতে প্রবাসীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। যারা নিবন্ধন করেছেন কিন্তু ব্যালট পাননি, তাদের ব্যালট সংগ্রহ করে দ্রুত জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।   কুয়েতে ৩৫ হাজার ৩৮৬ প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে নারী ৫২৪ জন।     খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যারা আগে অ্যাপে কিউআর কোড স্ক্যান করে ফেস ভেরিফাই সম্পন্ন করেছেন তারা হলুদ খামে ব্যালট পেপার জমা দিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছেন।   জামাল মিয়া নামের এক প্রবাসী বলেন, প্রবাসে আমার ২৫ বছর শেষ, বিদেশে থাকার কারণে কখনো ভোট দেওয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি। এবার ভোট দিতে পেরে আমি অনেক খুশি। যে সরকারই আসে, তারা যাতে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য কাজ করে।   নতুন পদ্ধতিতে প্রথমবার পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেক প্রবাসী ব্যালট নিয়ে এসেছেন অন্য প্রবাসীর সহযোগিতা নিতে। তারা অন্যের সহযোগিতায় অ্যাপের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। পরে তারা যার যার নির্বাচনী এলাকা অনুযায়ী পছন্দের প্রার্থীর মার্কায় ও গণভোট হলুদ খাম পোস্ট অফিসে জমা দিচ্ছেন।   প্রত্যেক এলাকায় পোস্ট অফিস থাকলেও প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে অনেক পোস্ট অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যে কারণে একাধিক এলাকা নিয়ে একটি পোস্ট অফিসের কার্যক্রম সচল রেখেছে কুয়েত।   ব্যালট জমা দিতে আসা ওয়াসিম জানান, আমার এক বন্ধু নিবন্ধন করতে সহযোগিতা করেছে। কিউআর কোড স্ক্যানিং করে গোপন পিন নম্বর দিয়ে অ্যাপ চালু হলে আমার ফেস ভেরিফাই এবং সেলফি তুলে অ্যাপের কার্যক্রম শেষ করি। নিয়ম মেনে সংসদ নির্বাচনের ভোট ও গণভোট দিয়ে জমা দিতে এসেছি। এ পদ্ধতিতে একজন অন্যজনকে সহযোগিতা করতে পারবে। কিন্তু একজনের ভোট অন্যজন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।   আবার অনেক প্রবাসী চাকরি ও দূরত্বের কারণে পোস্ট অফিসে যেতে পারছেন না। তারা বন্ধুবান্ধবদের সহায়তায় ব্যালট জমা দিচ্ছেন।   নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে, যারা ব্যালট সংগ্রহ করেছেন তারা যেন দ্রুত হলুদ খামে ব্যালট পোস্ট অফিসে জমা দেন। ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে পৌঁছালেই কেবল ওই ব্যালট গণনা হবে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছাতক এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের ৩ ট্রাস্টিকে পিএইচডি অর্জনে সংবর্ধনা

ছাতক এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে তাদের তিনজন ট্রাস্টিকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করায় সংবর্ধনা দিয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) লন্ডনের একটি হলে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।   সংবর্ধনা দেওয়া হয় এডুকেশন সেক্রেটারি ড. শামীম আহমেদ, বর্তমান সেক্রেটারি ড. আনসার আহমেদ উল্লাহ এবং ড. মুফতি মোহাম্মদ একরামুল হক মিয়াকে।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন এবং যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি সাবেক কাউন্সিলর রুহুল আমিন ও সহকারী সেক্রেটারি মোনসুজ্জামান মোহন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা মোহাম্মদ মুজাহিদ উদ্দিন।   বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক স্পিকার কাউন্সিলর আহবাব হোসেন, সাবেক নিউহ্যাম চেয়ার কাউন্সিলর রহিমা রহমান, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলর লিলু আহমেদ তালুকদার, কাউন্সিলর ফারুক আহমেদ, সাবেক টাওয়ার হ্যামলেটস ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মোহাম্মদ শহীদ আলী, চিফ প্যাট্রন এস এম সুজন মিয়া, সুরুজ আলী ও হামিদ মোহাম্মদ।   স্বাগত বক্তব্য দেন চিফ প্যাট্রন এস এম সুজন মিয়া। এরপর বক্তব্য দেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আজম তালুকদার, ভাইস চেয়ার আফজাল রাজা চৌধুরী, ভাইস চেয়ার শরীফ উল্লাহ, ভাইস চেয়ার মাহমুদ আলী, ভাইস চেয়ার আকমল হুসাইন, ট্রেজারার আসকর আলী, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আবুল লেইস, আবু শাহিদ, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি কামরুজ্জামান, হেলথ সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, হুমায়ুন কবির, পাবলিকেশন সেক্রেটারি আলমগীর শাহরিয়ার, মোশাররফ হোসেন, আশিকুল ইসলাম আশিক, আনোয়ার হোসেন পাইলওয়ান, আব্দুল বাসিত, স্কলারশিপ সেক্রেটারি আরশাদ আহমেদ, আনোয়ার হুসাইন প্রমুখ।   বক্তারা ট্রাস্টিদের এ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান এবং উচ্চশিক্ষা ও কমিউনিটি নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সন্ত্রাসবাদের মামলায় দণ্ডিত বাংলাদেশি যুবককে ইতালি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

ইতালিতে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দুই বছর আট মাস কারাদণ্ড ভোগের পর ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবক ফয়সাল রহমানকে দেশটি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, সাজা শেষে মুক্ত হলেও তিনি এখনো সমাজের জন্য “সরাসরি হুমকি” হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ইতালিতে তার অবস্থান জননিরাপত্তার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।   আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, ফয়সালের কর্মকাণ্ডকে শুধু অতীতের অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে দেখা যাচ্ছে না; বরং তার মানসিকতা ও কার্যক্রম ভবিষ্যতে সহিংসতা উসকে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এ কারণেই তাকে ইতালিতে থাকার কোনো সুযোগ না দিয়ে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ফয়সাল রহমান ইতালির জেনোয়ার ফিনকান্তিয়েরি শিপইয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীরা দাবি করেন, তিনি পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালিবান’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।   আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তিনি সহিংস কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে এমন প্রচার চালাতেন। তদন্তে তার কিছু কার্যকলাপকে সম্ভাব্য সহিংস প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরে আদালতে প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়েছে।   রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্রেসিয়া থেকে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক খলিল উল্লাহ (৩৭)-এর মাধ্যমে ফয়সাল উগ্রবাদে প্রভাবিত হন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। আদালত বলেন, এসব কার্যক্রম শুধু আইন লঙ্ঘন নয়—ইতালির জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি; ফলে সাজা শেষ হলেও ফয়সাল রহমানকে ইতালিতে থাকার অনুমতি দেওয়া যায় না এবং স্থায়ী বহিষ্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে তার পুনঃপ্রবেশও কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইতালির ভিসা আবেদন ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ থাকবে ৬ দিন

ঢাকার ইতালি দূতাবাস জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কাজের কারণে আগামী ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী ইতালির ভিসা আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। দূতাবাসের বার্তা অনুযায়ী, এই সময়ে সব ইতালিয়ান ভিসা অফিসে নতুন কোনো আবেদন জমা দেওয়া যাবে না।   দূতাবাস জানায়, ১১, ১২, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি—মোট ছয়দিন বিশ্বব্যাপী ভিসা আবেদন জমা বন্ধ থাকবে। ফলে নির্ধারিত দিনগুলোতে ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া কিংবা পূর্বে জমা দেওয়া আবেদন প্রত্যাহারের (withdraw) অনুরোধও গ্রহণ করা হবে না।   তবে দূতাবাস উল্লেখ করেছে, যেসব আবেদনকারীকে ইতোমধ্যে জমা দেওয়া আবেদনের বিপরীতে অতিরিক্ত কাগজপত্র দিতে বলা হয়েছে, কেবল সেই নির্দিষ্ট নথিপত্রগুলো ওই সময়ে গ্রহণ করা হবে। নতুন আবেদন বা অন্যান্য সেবা কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।   দূতাবাস আরও জানায়, যাদের ১১ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বা এর কাছাকাছি সময়ে জরুরি ভিত্তিতে ইতালি ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকেই ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, একটি ভিসা ইস্যু বা অনুমোদনে ন্যূনতম ১০ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই অতিদরিদ্র

বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ যুক্তরাজ্যে দারিদ্রতা আরও গভীর হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে ৬৮ লাখ মানুষ অতিদরিদ্রতার মধ্যে বসবাস করছেন। যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ) এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, যুক্তরাজ্যে যেসব মানুষ অতিদরিদ্র। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের মধ্যে অতিদরিদ্রতার হার বেশি।   ব্রিটেনে ‘অতিদরিদ্র্য’ বলতে বোঝায় এমন পরিবারকে, যাদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর হাতে থাকা টাকা ব্রিটেনের জাতীয় গড় আয়ের তুলনায় অনেক কম। যেমন— দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের সারা বছরের আয় যদি ১৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডের নিচে হয়, তবে তারা এই অতিদরিদ্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। যার অর্থ ব্রিটেনে বসবাসরত বেশিরভাগ বাংলাদেশি পরিবারের আয় দেশটির গড় আয়ের তুলনায় কম।   জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে দারিদ্রতা কমানোর উদ্দেশ্যে তারা এ গবেষণা চালিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে দেশটিতে সামগ্রিক দারিদ্রতার হার কমেছে। যেখানে ১৯৯৪-৯৫ সালে দারিদ্রতার হার ছিল ২৪ শতাংশ। সেখানে ২০২৩-২৪ সালে এসে এটি ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। কিন্তু অতিদরিদ্রতার হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।   এছাড়া শিশু দারিদ্রতার হারও বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্রতার মধ্যে বড় হচ্ছে। গত তিন বছর টানা দরিদ্র শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিম্নআয়ের যেসব পরিবার দুই সন্তানের বেশি সন্তান নেবে তারা সরকারি সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা পাবে না। তবে গত এপ্রিলে এই নিয়ম বাতিল করেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী রাখায়েল রিভিস।   জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন সরকারের এ উদ্যোগের প্রশংশা করেছে। তবে শুধুমাত্র এটিই শিশু দারিদ্রতা কমাবে না বলে সতর্ক করেছে তারা। সংস্থাটি বলেছে, দারিদ্রতার সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা। এরপর রয়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধীরা। অপরদিকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের মধ্যে দারিদ্রতার হার খুবই বেশি।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আড়াই বছর অপেক্ষার পর খুলছে ওমানের ভিসা!

দীর্ঘ দুই বছর তিন মাস পর ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশে থাকা সব বাধা দূর হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভিসা স্থগিতাদেশের অবসান ঘটিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে পুনরায় ওয়ার্ক ভিসা চালু করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছে ওমান সরকার। সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল লেবার মার্কেট সম্মেলনের সাইডলাইন বৈঠকে ওমানের শ্রমমন্ত্রী ড. মাহাদ বিন সাইদ বিন আলী বাওয়াইন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে এই সুখবর জানান।   ওমান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার সংস্কার এবং অনিয়মিত কর্মীদের বৈধকরণের প্রক্রিয়াকে সুসংহত করতে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ২৭ মাস পর সেই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ায় এখন পুনরায় নতুন কর্মী নিয়োগের পথ প্রশস্ত হয়েছে। বৈঠকে ওমানি মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই এই দীর্ঘ সময় ওয়ার্ক ভিসা স্থগিত ছিল, যা আগামী দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।   এর আগে, ওমান সরকার ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।   এর প্রায় সাত মাস পর, অর্থাৎ ২০২৪-এর জুনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নার্স এবং শিক্ষকের মতো ১২টি বিশেষ ক্যাটাগরিতে ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে সাধারণ কর্মী বা ওয়ার্ক ভিসা গত ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধই ছিল।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আবহাওয়া সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব

বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার গোটা দিন সৌদির বেশ কয়েকটি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়ে সবাইকে সতর্ক করেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর এনসিএম। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বৃষ্টিপাত আসির, আল-বাহা, জাজান এবং মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে শুরু হয়ে পরবর্তীতে কাসিম অঞ্চল, রিয়াদের উত্তর ও পশ্চিম অংশ এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।   পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার বিকেল থেকেই দক্ষিণ অঞ্চল থেকে বৃষ্টির মেঘ উত্তর দিকে অগ্রসর হতে শুরু করবে। প্রাথমিকভাবে জাজানের পশ্চিমাঞ্চল এবং আসিরের আভা অঞ্চলে বৃষ্টির দেখা মিলবে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে বৃষ্টির পরিধি আরও বেড়ে জাজান, পূর্ব আসির, আল-বাহা এবং মক্কার তায়েফসহ উত্তর দিকের এলাকাগুলোতে বৃষ্টিপাত হতে পারে। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বৃষ্টির পাশাপাশি পাঁচটি অঞ্চলে প্রবল ধূলিঝড়েরও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে কাসিম অঞ্চলের ১৭টি এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ও ধুলোর তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে দৃশ্যমানতা ৩ থেকে ৫ কিলোমিটারে নেমে আসবে। হাইল অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘প্রবাসী কার্ড’ চান মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিরা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষার প্রস্তাব দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে দেশের বাইরে অবস্থানকারী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা চান-তাদের জন্য আলাদা করে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হোক।   মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের প্রতিই তারা এই দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএমইটি কার্যক্রম আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার দাবিও তুলেছেন তারা।   প্রবাসীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে পিএলকেএস-এর হিসাব অনুযায়ী বৈধ প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। নির্মাণ, উৎপাদন, সেবাখাত, প্ল্যান্টেশন, কৃষি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত এই প্রবাসীরা বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।   নানা সমস্যা, শোষণ ও হয়রানির মধ্যেও শ্রমঘামের অর্থ দেশে পাঠিয়ে যাচ্ছেন তারা। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া-উভয় দেশেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের দখলে থাকায় প্রবাসী শ্রমিকরা নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হলেও কার্যকর সহায়তা পান না বলে অভিযোগ করেন।   কুয়ালালামপুরের শাহ আলম এলাকায় কর্মরত চাঁদপুর-৩ আসনের ভোটার শাহজালাল মৃধা, মোস্তফা কামাল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুনকা গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় মিয়া বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি করাও সহজ হবে। তবে প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রবাসী কার্ড চালু করা জরুরি।   মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা প্রবাসীরা দেশে গেলে বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হই, বিদেশে আসতে গিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের প্রতারণা সহ্য করি। তারপরও কষ্ট করে রেমিটেন্স পাঠাই। আমাদের জন্য প্রবাসী কার্ড থাকলে দেশে বা বিদেশে বিপদে পড়লে অন্তত পরিচয়ের ভিত্তিতে সহযোগিতা পাওয়া যাবে।   হৃদয় মিয়া বলেন, প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কোনো সরকারই যথেষ্ট সোচ্চার নয়। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ সেবা দিলে আমরা সম্মানিত বোধ করব এবং আরও উৎসাহ নিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাব।   মালয়েশিয়া বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজি সালাহ উদ্দিন বলেন, অনেক প্রবাসী দীর্ঘদিন কাজ করে দেশে ফিরে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত। আমরা বিষয়টি হাইকমিশনে জানিয়েছি। সরকারে গেলে দল এই উদ্যোগ নেবে বলে আশা করেন তিনি।   অন্যদিকে মালয়েশিয়া ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ড. এনামুল হক বলেন, বর্তমানে ইপিএসের আওতায় বিএমইটি একটি সরকার স্বীকৃত প্রবাসী পরিচয়পত্র দেয়, যেখানে নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও কল্যাণ সেবার কথা বলা আছে। কিন্তু বাস্তবে এটি পেতে নানা ধাপে হয়রানির শিকার হতে হয়। এই কার্ডকে সময়োপযোগী ও কার্যকর করা অথবা আলাদা প্রবাসী কার্ড চালু করলেই প্রবাসীরা প্রকৃত সুফল পাবেন।   রেমিট্যান্সে ভর করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও প্রবাসীরা এখনও পরিচয়, সুরক্ষা ও সম্মানজনক সেবার অভাবে ভুগছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী কার্ড এখন শুধু একটি দাবি নয়, বরং সময়ের বাস্তব প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিয়ে করতে দেশে ফেরার কথা, ফিরলেন লাশ হয়ে তন্ময়

ছুটিতে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দেউলা গ্রামের তন্ময় আহমেদের (২৪)। পাত্রীর পরিবারের সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল, কেনাকাটাও করা হয়েছিল। কিন্তু দেশে ফেরা হলো কফিনবন্দি মরদেহ হয়ে। সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ২৯ দিন পর মঙ্গলবার বিকেলে তন্ময়ের মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করে বুধবার ভোরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।   পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা আড়াইটায় নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তন্ময়কে দাফন করা হয়। তন্ময় দেউলা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সৌদি আরবের হায়েল শহরের একটি টাইলস তৈরির কারখানায় ক্রেন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।   নিহতের বাবা জাহিদুল ইসলাম জানান, চার বছর আগে তন্ময় সৌদি আরবে যান এবং ওই কারখানায় গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। কারখানা থেকে টাইলস বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তার দায়িত্ব। সহকর্মীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার দিন কারখানার ভেতরে গাড়িতে টাইলস তোলার অপেক্ষায় ছিলেন তন্ময়। এ সময় ক্রেন থেকে টাইলসের স্তূপ পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়।   তন্ময়ের মা তসলিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মৃত্যুর দুই দিন আগে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তখন তন্ময় জানিয়েছিলেন, বিদেশে আর ভালো লাগছে না—১৫ জানুয়ারি দেশে ফিরবেন; বিয়ের সব আয়োজন ঠিক রাখতে বলেছেন এবং কনের জন্য সোনা কেনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, উপজেলার ধামিন কামনগর গ্রামের পছন্দের পাত্রীর সঙ্গে বিয়ের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত ছিল। কনের বাড়িতে ৩০০ জন বরযাত্রী নিয়ে যাওয়ার কথাও ছিল। নতুন ঘরের জন্য খাট-সোফাসহ আসবাবপত্রও কেনা হয়েছিল, যেখানে দেশে ফিরে তন্ময়ের থাকার কথা ছিল।   বাবা জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, করোনাকালে পড়াশোনা বন্ধ থাকায় পরিবারের সিদ্ধান্তে তন্ময়কে ধারদেনা করে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। তার আয়ে সম্প্রতি গ্রামে পাকা বাড়িও নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ‘সুখের সময়’ আসার আগেই সন্তান হারিয়ে পরিবারটি ভেঙে পড়েছে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবরে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়ে শোকের পরিবেশ আরও ভারী হয়ে ওঠে; স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রামজুড়ে শোক নেমে আসে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আড়াই বছর অপেক্ষার পর খুলছে ওমানের ভিসা!

দীর্ঘ দুই বছর তিন মাস পর ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশে থাকা সব বাধা দূর হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভিসা স্থগিতাদেশের অবসান ঘটিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে পুনরায় ওয়ার্ক ভিসা চালু করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছে ওমান সরকার। সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল লেবার মার্কেট সম্মেলনের সাইডলাইন বৈঠকে ওমানের শ্রমমন্ত্রী ড. মাহাদ বিন সাইদ বিন আলী বাওয়াইন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে এই সুখবর জানান।   ওমান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার সংস্কার এবং অনিয়মিত কর্মীদের বৈধকরণের প্রক্রিয়াকে সুসংহত করতে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ২৭ মাস পর সেই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ায় এখন পুনরায় নতুন কর্মী নিয়োগের পথ প্রশস্ত হয়েছে। বৈঠকে ওমানি মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই এই দীর্ঘ সময় ওয়ার্ক ভিসা স্থগিত ছিল, যা আগামী দুই মাসের মধ্যে অর্থাৎ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।   এর আগে, ওমান সরকার ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।   এর প্রায় সাত মাস পর, অর্থাৎ ২০২৪-এর জুনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নার্স এবং শিক্ষকের মতো ১২টি বিশেষ ক্যাটাগরিতে ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে সাধারণ কর্মী বা ওয়ার্ক ভিসা গত ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধই ছিল।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ প্রবাসীদের দেশ ছাড়ার আল্টিমেটাম সৌদির

সৌদি আরবে বিভিন্ন ধরণের ভিজিট ভিসায় এসে মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা ব্যক্তিদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির পাসপোর্ট অধিদপ্তর। জাওয়াজাত স্পষ্ট জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা দেশটিতে অবস্থান করবেন, তাদের কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। আবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা এবং ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রেখে এই নতুন আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।   কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথমবার ভিসার মেয়াদ পার করে অবস্থান করলে ১৫ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধের জন্য ২৫ হাজার রিয়াল জরিমানার পাশাপাশি তিন মাসের জেল খাটতে হবে। আর অপরাধের মাত্রা তৃতীয় পর্যায়ে পৌঁছালে গুণতে হবে ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা এবং ভোগ করতে হবে ছয় মাসের জেল। এই শাস্তি কেবল ভিজিটরদের ওপরই নয়, বরং যারা ভিসা ইস্যু করেছেন- সেই সৌদি নাগরিক বা প্রবাসী স্পন্সরদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এছাড়া অভিবাসী কর্মীরা এই আইন অমান্য করলে তাদের জেল-জরিমানা শেষে দেশ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার বা ডিপোর্ট করা হবে।   বর্তমানে সৌদিজুড়ে অবৈধ অভিবাসীবিরোধী ব্যাপক অভিযান বা ক্র্যাকডাউন চলছে। চলতি জানুয়ারি মাসেই কয়েক হাজার প্রবাসীকে গ্রেফতার ও বহিষ্কার করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাসপোর্ট অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকলকে ভিসার মেয়াদ যাচাই করে সময়মতো সৌদি আরব ত্যাগের এবং যেকোনো প্রয়োজনে অনলাইনে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইতালিতে কঠোর আইন, প্রবেশ কঠিন হয়ে উঠছে

ইতালিতে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো কর্মী নিয়োগ করলে মালিককে অতিরিক্ত জরিমানা গুণতে হবে। নতুন জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬৩৭.৮৭ ইউরো, যা মূলত ওই কর্মীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ইতালির পুলিশ প্রধানের নতুন ডিক্রির আওতায়, ২০২৪ সালের তুলনায় জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৭৭০ ইউরো বেড়েছে। গত বছর প্রত্যাবাসন খরচ বাবদ জরিমানা ছিল ২৮৬৪ ইউরো। আইনটি ২০ জানুয়ারি ইতালির অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, অবৈধ কর্মী নিয়োগ শুধুমাত্র আর্থিক অপরাধ নয়, এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও গণ্য হয়। এজন্য মালিকের ৬ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে এবং প্রতি অবৈধ কর্মীর জন্য ৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত মূল জরিমানা ধার্য আছে। নতুন ঘোষিত ৩৬৩৭ ইউরো জরিমানা এই শাস্তির সঙ্গে অতিরিক্ত যুক্ত হবে। অধিকন্তু, যদি কোনো মালিক একাধিক অবৈধ কর্মী নিয়োগ করেন, বিশেষ করে তিনজনের বেশি, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাজে লাগান বা শ্রম শোষণে জড়িত থাকেন, তাহলে শাস্তি আরও কঠোর হবে। ইতালিতে শ্রম শোষণ ব্যবস্থা ‘কাপোরালাতো’ নামে পরিচিত, যা দমন করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, এই বাড়তি জরিমানার অর্থ মূলত অবৈধ কর্মীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিমান ভাড়া ও প্রশাসনিক খরচ মেটানোর জন্য ব্যবহার করা হবে। নতুন আইন অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমবাজারে শোষণ বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
দেশে ফিরতে চান সালাউদ্দিন

নরসিংদী জেলার নবীনগরের প্রবাসী সালাউদ্দিন মালয়েশিয়ায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। দ্রুত দেশে ফিরতে চাইলেও বিপুল চিকিৎসা খরচ ও ফেরত আসার অর্থের অভাবে তিনি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।   বর্তমানে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের তেনংগু আম্পুয়ান রাহিমাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সালাউদ্দিন। তাকে দেশে ফেরাতে হাসপাতাল বিল, স্পেশাল পাস ও বিমান টিকিটসহ ২০ হাজার রিঙ্গিত (প্রায় ৬ লাখ টাকা) প্রয়োজন, যা তার পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। জানা গেছে, ২০২০ সালে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান সালাউদ্দিন। তবে ভিসা জটিলতা, নিয়মিত বেতন না পাওয়া এবং ধারদেনার চাপের মধ্যে পড়েই ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না পেয়ে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি করছে। পরিবার আশঙ্কা করছে, দ্রুত দেশে পাঠানো না গেলে তিনি হয়তো আর জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেন না। সালাউদ্দিনের অসহায় অবস্থায় ফেনীর মেহদী হাসান ও সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী এগিয়ে এসেছেন। মানবিক কারণে মেহদী হাসান তাকে নিজ বাসায় আশ্রয় দিয়েছেন এবং চিকিৎসা ও দেশে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় নিয়মিত চিকিৎসা সেবা পাওয়ায় তিনি নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন। পরিবার ও সহায়তাকারীরা জানিয়েছেন, আর্থিক সহায়তা না পেলে সালাউদ্দিনকে দেশে পাঠানো সম্ভব হবে না। যারা সাহায্য করতে চান, তারা +60182100344 (মোহাম্মদ আলী) অথবা +601161873503 (মেহেদী হাসান) নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

মেট্রোরেলের পর মনোরেল ঢাকার গণপরিবহনে নতুন ভাবনা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0