প্রবাসী

ছবি : সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্যারিসে শোক বই উন্মুক্ত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস ৬ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত শোক বই উন্মুক্ত করে।    এ উপলক্ষ্যে প্যারিসে অবস্থিত বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের রাষ্ট্রদূত, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা দূতাবাস প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে শোক বার্তা প্রদান করেন। এছাড়াও, ই-মেইলের মাধ্যমেও বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন থেকে শোক বার্তা প্রেরণ করা হয়।   শোক প্রকাশে অংশ নেন ফ্রান্স, মোনাকো ও আইভোরি কোস্টে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। তারা ডিজিটাল শোক বইয়ের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান।   প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাস, শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে এবং বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প

কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দূতাবাস প্রাঙ্গণে একটি দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।    গত ৯ জানুয়ারি কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং স্থানীয় প্রবাসী পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় এই বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।   কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন উক্ত মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্ভোধন করেন। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পেশাজীবী বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।    এই ক্যাম্পে কুয়েতে কর্মরত অভিজ্ঞ বাংলাদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে প্রবাসীদের রক্তচাপ ও সুগার পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ এবং জরুরি ওষুধও বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।   রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ ক্যাম্প আয়োজনে দূতাবাসের এই মহতী উদ্যোগ পূর্বের ন্যায় সার্থক করার লক্ষ্যে এগিয়ে আসা বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।    তিনি আরও উল্লেখ করেন, কুয়েতের প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এই ধরনের বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি কুয়েতে বসবাসরত সব প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।   স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিশেষ ক্যাম্পে ৭৩৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের সেবা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে কুয়েতের ওয়াফ্রা এলাকাতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে ১৩২ জনকে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদান করা হয়। তাদের দূতাবাসে যাতায়াতের জন্য পরিবহন সুবিধা প্রদানেরও ব্যবস্থা করা হয়।   এছাড়াও কুয়েতের অন্যান্য এলাকায় বসবাসরত ৬০৬ জন বাংলাদেশি কর্মীদের ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে উক্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেবা গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিশেষ এই ক্যাম্প সফলভাবে সমাপ্ত হয়।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ক্যাডেট বিনিময় কর্মসূচি : মালদ্বীপ সফরে বিএনসিসি প্রতিনিধিদল

আন্তর্জাতিক ক্যাডেট বিনিময় কর্মসূচি ২০২৬-এ অংশ নিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বর্তমানে মালদ্বীপ সফর করছে। বিএনসিসি-এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ আল মাসুদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি গত ৩০ ডিসেম্বর মালদ্বীপে পৌঁছায়।   সফরের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রতিনিধিদলটি মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, ক্যাডেট ও যুব পর্যায়ে বিনিময় কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হাইকমিশনার এই কর্মসূচিকে সামরিক 'সফট পাওয়ার' ও জনকূটনীতির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন।   এবারের কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও স্বাগতিক মালদ্বীপের ক্যাডেটরা অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আস্থাবর্ধক সম্পর্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সফরকালে বিএনসিসি প্রতিনিধিদল মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী, চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স, পুলিশ কমিশনার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।   এই সফর ক্যাডেট ও যুব পর্যায়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল সামরিক ক্ষেত্রে নয়, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককেও সুদৃঢ় করবে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসে খালেদা জিয়ার শোকবইয়ে কূটনৈতিকদের শ্রদ্ধা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসে তিন দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবই খোলা হয়েছে।    পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মাহফুজুল হকের উদ্যোগে গত ৫ জানুয়ারি লিসবনের বাংলাদেশ দূতাবাসে শোকবই খোলা হয়। প্রথম দিন শোকবইটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এতে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তী দুদিনে পর্তুগালে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে মরহুমার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।   শোকবইয়ে স্বাক্ষরকালে রাষ্ট্রদূত ড. মাহফুজুল হক, কাউন্সেলর লায়লা মুনতাজেরী দীনা এবং থার্ড সেক্রেটারি ও হেড অব চ্যান্সারি এস এম গোলাম সারওয়ার বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদান, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা এবং দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড স্মরণ করেন।    এ সময় পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি অব স্টেটসহ (প্রটোকল) পূর্ব তিমুর, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, পাকিস্তান, ভারত, কুয়েত, নেপাল, কোরিয়া, ইরান, অ্যাঙ্গোলা, নাইজার, পানামা, পোল্যান্ড, কসোভো, লিবিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন, নরওয়ে, চীন, স্পেন, সৌদি আরব, মাল্টা, তুরস্ক, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ইসলামিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও শ্রদ্ধা জানান।   এ ছাড়া পর্তুগাল বিএনপির নেতাকর্মীরাও শোকবইয়ে স্বাক্ষর করে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
খালেদা জিয়ার স্মরণে আমিরাতে প্রবাসী বিএনপির দোয়া মাহফিল

সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।   সম্প্রতি দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল সিটির নাহিদ আল মদিনায় ‘আনোয়ারা-কর্ণফুলী জাতীয়তাবাদী দল’-এর উদ্যোগে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় খতমে কোরআন ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।   বিএনপি নেতা মোহাম্মদ কায়সারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ সরওয়ার জামাল নিজাম। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমিরাত শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউএই বিএনপি নেতা এস এম এরশাদুল আলম।   আলোচনা সভায় বক্তারা খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবিস্মরণীয় অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তারা বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীনতা, দেশপ্রেম ও সাহসিকতার প্রতীক। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ হবার নয়।’   অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– মোহাম্মদ শওকত হায়াত খান, মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ বাবুল উদ্দিন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন রানা, মোহাম্মদ ইলিয়াস কাঞ্চন, মোহাম্মদ কামাল, আবু তাহের, কপিল, মোহাম্মদ ফারুক ও আসিফ। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মোহাম্মদ শরীফ আজাদ।   স্মরণ সভায় বক্তারা প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে ভোটকেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং তাদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে গ্রেটার শাহারপাড়া যুবসংঘের ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন

লন্ডনের পূর্ব অংশে মাইক্রো বিজনেস সেন্টারে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) লন্ডন ভিত্তিক গ্রেটার শাহারপাড়া যুবসংঘের ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি আবুল বশর কামালী, এবং সাধারণ সম্পাদক শাহআলম কামালী পরিচালনা করেন। সভার শুরুতে সাবেক সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল কামালী সেজু পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন।   সভায় সংগঠনের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন ও আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এছাড়া শাহারপাড়া শাহকামাল রহ. ইসলামিয়া মাদরাসার বার্ষিক জলসার প্রাক্কালে তহবিল সংগ্রহসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।   সভায় অংশগ্রহণ করেন আব্দুর রহিম কামালী, আব্দুর রহমান, আখতার মিয়া কামালী, সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, সিদ্দেক কামালী, চুনু মিয়া কামালী, রায়হান কামালী, জাইদুর কামালী, শিবলু মিয়া, হাবীব কামালী, শ‍্যামল কামালী প্রমুখ।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যালট পেপার হাতে উচ্ছ্বসিত

মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালট পেপার হাতে পেয়েছেন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর এ সুযোগ পাওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে।   বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ না হওয়া পর্যন্ত পূরণকৃত ব্যালট খাম দেশে ফেরত পাঠাবেন না।   অনলাইনে পোস্টাল ভোট নিবন্ধনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১২৪টি দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে মালদ্বীপে মোট ৯ হাজার ১৭৩ জন ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। ইতোমধ্যেই যারা আগে নিবন্ধন করেছিলেন, তাদের অনেকেই ব্যালট পেপার হাতে পেয়েছেন।   স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর প্রথমবার প্রবাসীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পূরণে তারা দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রবাসীরা আগামী ২১ থেকে ২৬ জানুয়ারির মধ্যে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে প্রবাস বান্ধব সরকার গঠনে অংশ নেবেন।   মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসীরা এই সুযোগকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখছেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় ‘ওয়ার্ডপ্রেস ক্যাম্পাস কানেক্ট’, বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ

মালয়েশিয়ায় প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স শিক্ষা উদ্যোগ ‘ওয়ার্ডপ্রেস ক্যাম্পাস কানেক্ট’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়া (ইউটিএম)-এর জোহর বাহরু ক্যাম্পাসে এই বিশেষ ইভেন্টটি আয়োজিত হয়।   বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ‘ওয়ার্ডপ্রেস’-কে একাডেমিক অঙ্গনে জনপ্রিয় করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন।   এই আন্তর্জাতিক ইভেন্টের মূল নেতৃত্বে ছিলেন একঝাঁক মেধাবী বাংলাদেশি তরুণ। ইভেন্টের লিড অর্গানাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইব্রাহীম এবং কো-লিড অর্গানাইজার হিসেবে ছিলেন ওয়েব ডেভেলপার নাসিম মিয়া। তাদের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের আরও পাঁচজন অভিজ্ঞ সংগঠক যুক্ত ছিলেন।   অনুষ্ঠানে মোট চারজন স্পিকার বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ থেকে স্পিকার হিসেবে উপস্থিত নাসিম মিয়া তার বক্তব্যে ওয়ার্ডপ্রেস স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ওপেন সোর্স কন্ট্রিবিউশন এবং ডিজিটাল ক্যারিয়ার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দেখান কীভাবে ওয়ার্ডপ্রেস শিখে বৈশ্বিক কমিউনিটির অংশ হওয়া যায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়।    ইভেন্টটির সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশি ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তারা দক্ষতার পরিচয় দেন। মোট ৫টি দেশের শিক্ষার্থীরা এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।   ইভেন্টের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ইন্টারঅ্যাকটিভ কুইজ সেশন। সেখানে মেধাতালিকায় শীর্ষ পাঁচজনের মধ্যে দুইজনই ছিলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। এছাড়া লাকি ড্র-তেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আকর্ষণীয় পুরস্কার জিতে নেন।    ইউটিএম-এর কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মুরসালিন বিন করিম বলেন, এই ইভেন্ট আমাদের জন্য শুধু শেখার সুযোগ নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম ছিল।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় ব্যালট পেতে চরম ভোগান্তিতে প্রবাসীরা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করলেও বিদেশে তা সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশিরা। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তিতে এমন ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন প্রযুক্তি পেশাজীবী ও ইয়ুথ হাব মালয়েশিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল সারওয়ার। বুধবার তিনি জানান, প্রবাস থেকে দেশের যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা ছিল অত্যন্ত আনন্দের; কিন্তু মালয়েশিয়ার পোস্টাল সার্ভিস পোস লাজু-এর ট্র্যাকিং জটিলতায় সেই আনন্দ মুহূর্তেই হতাশায় রূপ নেয়। অ্যাপের ট্র্যাকিংয়ে তার ব্যালট পেপারটি ‘ডেলিভার্ড’ দেখালেও বাস্তবে তিনি তা পাননি। এমনকি তাকে কোনো ফোন কল বা নোটিশও দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তিনি কুয়ালালামপুরে পোস লাজু-এর প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি বলে পার্সেলটি ‘রিটার্ন’ করা হয়েছে। তবে পাভেল সারওয়ারের দাবি, তাকে কোনো কলই করা হয়নি। সেখানে গিয়ে তিনি আরও লক্ষ্য করেন, একই অভিযোগ নিয়ে আরও চার থেকে পাঁচজন বাংলাদেশি প্রবাসী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমার অধিকার; কিন্তু পোস্টাল সার্ভিসের এমন গাফিলতি দেখে আমি হতাশ। আমি নিজে অফিসে গিয়ে ব্যালট সংগ্রহ না করলে আমার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকত না। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে একই সমস্যায় পড়তে দেখেছি। আমরা চাই না, এমন অসতর্কতায় কারো নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হোক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো—ট্র্যাকিং নম্বর জানা থাকলে অন্য যে কেউ খুব সহজেই ব্যালট সংগ্রহ করে নিতে পারে। পোস লাজু অফিসে কোনো আইডি যাচাই ছাড়াই শুধু নাম ও পাসপোর্ট নম্বর লিখে সাইন করলেই পার্সেল দেওয়া হচ্ছে। এতে পার্সেল কে নিচ্ছে, তা কিভাবে যাচাই করা হচ্ছে? মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন, শুধুমাত্র অ্যাপের ট্র্যাকিংয়ের ওপর নির্ভর না করে পোস লাজু-এর ওয়েবসাইটে নিয়মিত ট্র্যাকিং নম্বর যাচাই করতে। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে কলের অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে ব্যালটটি বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করা যায়। এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও সফল করতে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তারা প্রবাসীদের নিয়মিত তথ্য প্রদান, দিকনির্দেশনা ও সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা কুয়েত প্রবাসীদের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত কুয়েত প্রবাসীরা। নিজের পছন্দের ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের এই সুযোগকে তারা ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন। ইতোমধ্যে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছাতে শুরু করেছে। ধাপে ধাপে এসব ব্যালট বিভিন্ন ঠিকানায় বিতরণ করা হচ্ছে।   নতুন বছরে নির্বাচিত হয়ে আসা সরকারের কাছে প্রবাসীরা নানা প্রত্যাশা ও দাবি তুলে ধরেছেন। কুয়েত প্রবাসী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ভোট একটি আমানত। প্রবাস থেকে প্রথমবার ভোট দেবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন, যিনি প্রবাসীদের জানমাল ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার প্রথমবার ভোট প্রদানের মাধ্যমে সরকার গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারছেন তারা। কুয়েত প্রবাসী সায়রুল আমিন বলেন, কুয়েতে ভিসা সিন্ডিকেটের কারণে ৮ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ভিসা কিনে আসতে হয়। ভিসা হাতে পাওয়ার পর বিভিন্ন মেডিকেল সেন্টারেও হয়রানির শিকার হতে হয়। নতুন সরকার এলে এসব অনিয়ম বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তার মতে, এতে স্বল্প খরচে বিদেশে শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হবে এবং রেমিট্যান্সও বাড়বে। আরেক প্রবাসী আব্দুস সাত্তার বলেন, প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচি থাকলেও বাস্তবে তা সহজ নয়। ভিসা কপি, জমির দলিল, পরিবারের একাধিক সদস্যের কাগজপত্র দেওয়ার পরও ব্যবসায়ী বা সরকারি চাকরিজীবী জামিনদার প্রয়োজন হয়। এসব জটিল শর্তের কারণে অনেক প্রবাসী ঋণ থেকে বঞ্চিত হন। তিনি ঋণের শর্ত সহজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আসা-যাওয়ার বিমানের অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণেরও দাবি জানান।   প্রবাসীদের ভোটাধিকার গণতন্ত্রের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা বলে মনে করছেন কুয়েত প্রবাসীরা। নতুন সরকার যেন দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সত্যিকার অর্থে প্রবাসীবান্ধব নীতি গ্রহণ করে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েত থেকে ৪০ হাজার প্রবাসীকে বিতাড়িত করা হয়েছে

গত এক বছরে কুয়েত থেকে মোট ৩৯ হাজার ৪৮৭ জন প্রবাসীকে বিতাড়িত করা হয়েছে। কুয়েতের নিরাপত্তা সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।   সূত্র অনুযায়ী, বিতাড়িতদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে কুয়েতের আইন লঙ্ঘন, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই তাদের বিরুদ্ধে দেশ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়েতে বসবাসরত সব প্রবাসীর জন্য আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। যারা দেশটির নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যেসব প্রবাসী পরিবারসহ কুয়েতে বসবাস করছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে মূল স্পন্সরকে বিতাড়িত করা হলে পরিবারের সদস্যদেরও দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। কারণ, তাদের রেসিডেন্সি মূল স্পন্সরের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, দেশটির আইন ও বিধি মেনে চললে প্রবাসীদের জন্য কোনো সমস্যা নেই। তবে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ভবিষ্যতেও নিরাপত্তা অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপো থেকে বাংলাদেশের ১১ জনসহ বিভিন্ন দেশের মোট ২৭ জন আটক অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহজুড়ে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।   প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ভারতের ৭ জন, পাকিস্তানের ৫ জন এবং নেপালের ৪ জন নাগরিক রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেএলআইএ–১ ও কেএলআইএ–২ দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পাঠানো হয়। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রত্যাবাসিত সব আটক ব্যক্তির বৈধ পাসপোর্ট ছিল। তবে যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ বা অন্যান্য জটিলতা ছিল, তাদের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের সহায়তায় অস্থায়ী ভ্রমণ নথি বা এমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় বিমান টিকিটের ব্যয় মূলত আটক ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সঞ্চয় বা পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তায় বহন করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস টিকিটের খরচ বহন করেছে। ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্যমতে, প্রত্যাবাসিত সব অভিবাসীকে কেন্দ্রীয় সিস্টেমে ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে। নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুযায়ী, তারা ভবিষ্যতে কোনো উদ্দেশ্যেই মালয়েশিয়ায় পুনঃপ্রবেশ করতে পারবেন না। আটক অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন–সংক্রান্ত সব কার্যক্রম, যেমন ভ্রমণ নথি প্রস্তুত, বিমান টিকিট ক্রয় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা, পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপোর নির্ধারিত সেবা কাউন্টার থেকেই সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব সেবার জন্য কোনো অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।   মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের অংশ হিসেবে নিয়মিত এ ধরনের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য অবৈধ অভিবাসন রোধ করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0
২০২৫ সালে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য সৌদি আরব

২০২৫ সালে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। এ সময় সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক দেশটিতে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১৫ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য সৌদি আরবে গেছেন। ২০২৫ সালে কাতারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭ হাজার ৪৭২ জন কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া সিঙ্গাপুর ও কুয়েতে যথাক্রমে ৭০ হাজার ৫৬জন এবং ৭২ হাজার ৭১৭ জন বাংলাদেশিকে পাঠানো হয়েছে।  বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথম চুক্তি।  মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বহুবিধ ভিসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিএমইটি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে পুরুষ ও নারী মিলে প্রায় ১১ লাখ ১৭ হাজার শ্রমিক বিদেশে পাঠিয়েছে। তিনি জানান, ২০২৩ সালে মোট ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪৫৩ জন শ্রমিক বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গিয়েছিলেন। আর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১১ হাজার ৯৬৯ জন। আশরাফ হোসেন বলেন, নিরাপদ, দক্ষ এবং নিয়মিত অভিবাসন এখন জরুরি এবং সরকার তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সে কারণেই এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। বাংলাদেশ গত বছরের ডিসেম্বর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রত্যক্ষ করেছে। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। যেমন- সরকারি ও অনানুষ্ঠানিক বিনিময় হারের মধ্যে ব্যবধান কমানো এবং অর্থপাচার রোধ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশে প্রায় ৩২,৮১৬.৮৭ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট ৩৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। পূর্ববর্তী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে আরো দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৬ হাজার ৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৬৫৮ মিলিয়ন ডলার। তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রথমবারের মতো ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই অর্থবছরে পূর্বের রেকর্ড ভেঙে ৬.৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল, যার পরিমাণ ছিল ২৪.৮ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সরকার দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির জন্য আরো নতুন গন্তব্য অনুসন্ধান করছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, ব্রুনাই দারুসসালাম ও পূর্ব ইউরোপ। এছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকার নার্স, চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। রেক্রুটিং এজেন্টরা জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার মতো কিছু ঐতিহ্যবাহী গন্তব্যে বিদেশে কর্মসংস্থান কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে নতুন গন্তব্য চিহ্নিতকরণ এবং কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
দফায় দফায় সফরেও খুলল না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বন্ধ থাকায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। দুই দেশের সরকারপ্রধান পর্যায় থেকে শুরু করে উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাধিক বৈঠক, সফর ও আলোচনা হলেও শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্টরা এ অবস্থার জন্য সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা এবং ঢালাও মামলার নেতিবাচক প্রভাবকে দায়ী করছেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়ায় গেছেন। তবে গত বছরের ৩১ মে থেকে বাংলাদেশসহ ১৫টি সোর্স কান্ট্রি থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রাখে মালয়েশিয়া। পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ইন্দোনেশিয়া, নেপালসহ কয়েকটি দেশ থেকে আবারও শ্রমিক নিতে শুরু করে মালয়েশিয়া। ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও নেপাল থেকে ৪১ হাজার ৩৭৩ জন শ্রমিক নেওয়া হয়েছে এবং আগামী জানুয়ারিতে আরও ৫০ হাজার শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অথচ একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ২৯০ জন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে পেরেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপাল পাঠিয়েছে ২১ হাজার ১৮৩ জন এবং ইন্দোনেশিয়া ২৯ হাজার ৯০০ জন শ্রমিক। শুধু গত নভেম্বর মাসেই ইন্দোনেশিয়া পাঠিয়েছে ২ হাজার ৫৬১ জন ও নেপাল ৫ হাজার ৭৭৩ জন শ্রমিক, যেখানে বাংলাদেশ থেকে গেছেন মাত্র ৯০ জন। এছাড়া বাংলাদেশ বাদে অপর ১৪টি সোর্স কান্ট্রি ২০২৫ সালে মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ২২২ জন শ্রমিক পাঠানোর জন্য নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে নেপাল ৬০ হাজার, ইন্দোনেশিয়া ২২ হাজার ৬৮৫, ভারত ১২ হাজার ২৭, পাকিস্তান ৭ হাজার ৪২৮ এবং ফিলিপাইন ৬ হাজার ২০৪ জন শ্রমিক পাঠানোর নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরে নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮৫৩ জন। ২০২৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কলিং ভিসা, নিয়োগানুমতি ও বিএমইটির ছাড়পত্রসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়া যেতে পারেননি। গত বছরের ৪ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বাংলাদেশ সফরের সময় বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব শ্রমিক নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল দুই দফা মালয়েশিয়া সফরসহ একাধিক যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির সভা করলেও বাস্তব কোনো সুফল আসেনি। আটকে পড়া শ্রমিকদের মালয়েশিয়া পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সংস্থা বোয়েসেলকে। তবে গত জুলাই থেকে প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ৭ হাজার ৮৬৯ জনের মধ্যে মাত্র ১৫০ জন শ্রমিক পাঠাতে পেরেছে সংস্থাটি। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত জিটুজি প্লাস চুক্তির আওতায় শ্রমিক পাঠানোর সময় অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে সিআইডি ও দুদকের একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার সঠিক নিষ্পত্তি না হওয়ায় মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, ‘অপ্রমাণিত’ অভিযোগ প্রত্যাহার না করা হলে তারা বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে না। বায়রার সিনিয়র সদস্য মোবারক উল্লাহ শিমুল বলেন, এসব মামলার কারণে মালয়েশিয়ার মানব পাচার সূচক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শুধু বাংলাদেশ থেকেই শ্রমিক নিলে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অতীতে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে হুন্ডিতে অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকায় নতুন করে কম অভিযোগযুক্ত এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব পূত্রামালয়েশিয়ার গবেষক সৈয়দ কামরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকার সুযোগে নেপাল ও ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশ বাজার দখল করে নিচ্ছে, আর বাংলাদেশ ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0
ঐক্য-মানবিকতার বার্তা নিয়ে আমিরাতে এয়াছিন নগর প্রবাসী পরিষদের মিলনমেলা

দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে মরুভূমির কর্মব্যস্ত জীবনেও নাড়ির টান ভোলেননি তারা। নিজ গ্রামের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার এয়াছিন নগর গ্রামের প্রবাসীরা।   এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও আবাসনসহ নানামুখী মানবিক সহায়তার অঙ্গীকার নিয়ে সম্প্রতি আমিরাতের আজমানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘এয়াছিন নগর প্রবাসী পরিষদ ইউএই’-র বার্ষিক মিলনমেলা।   বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আজমানের ওয়াসিস হাউস ময়দানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমিরাতের সাতটি প্রদেশ থেকে কয়েক’শ প্রবাসী সপরিবার অংশ নেন। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম ও কর্মব্যস্ত প্রবাসীদের মাঝে নিজ সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাতে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন করে সংগঠনটি।   অনুষ্ঠানে আগতদের আনন্দ দিতে শওকত জাহান কাউছারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী মোরগ লড়াইসহ পাঁচ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এ ছাড়া শিশুদের জন্য ছিল নাত ও কিরাত প্রতিযোগিতা।   অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ মুহূর্ত ছিল সংবর্ধনা পর্ব। আমিরাতের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিশ্ব গণিত প্রতিযোগিতায় সেরা দশে স্থান করে নেওয়ায় এয়াছিন নগরের কৃতি সন্তান দিদারুল আলমের কন্যা মালিহা নুজাহাতকে বিশেষ প্রশংসা সনদ দেওয়া হয়।   প্রতিযোগিতা শেষে মুহাম্মদ মোরশেদ ও মুহাম্মদ জামাল উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ দিদারুল আলম এবং মূল বক্তব্য পেশ করেন উপদেষ্টা এইচ এম মাহাবুব।   বক্তারা বলেন, বিগত পাঁচ বছর ধরে এই সংগঠনটি এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অসুস্থদের চিকিৎসাসেবা এবং দুস্থ মানুষের বাসস্থানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সেবার পরিধি আরও বাড়াতে এবং প্রবাসীদের পারস্পরিক সহযোগিতায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন– সিআইপি হাসান মোরশেদ, সিআইপি নজরুল ইসলাম, সিআইপি ওসমান আলী, উপদেষ্টা এজাহার সুলতান, রাশেদ মিয়া, এম জে আজগর, আমানত খান, শওকত জাহান কাউছার, গিয়াসউদ্দিন তালুকদার, মোহাম্মদ মোরশেদ, এইচ এম ফরহাদ, মোহাম্মদ এরশাদ, দিদারুল আলম, মোরশেদ আলম, মাসুদ করিম, ফোরকান আলী, মোজাম্মেল হোসাইন সুজন, আবদুর রহমান বাবু, মোরশেদুল আলম শেহেরু, মোহাম্মদ লোকমান ও তুষার ইমরান প্রমুখ।   সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।    অনুষ্ঠানের শেষ অংশে হজরত এয়াছিন শাহ (রহ.)-এর ফাতেহা উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী মেজবানি তবরুক বিতরণের মাধ্যমে মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৪ বাংলাদেশির

ওমানের রাজধানী মাস্কাটে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪ বাংলাদেশি। গতকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে ঘোবরা এলাকায় হয় এ দুর্ঘটনা। নিহতদের দুই জনের বাড়ি কুমিল্লা। বাকিরা কক্সবাজারের বাসিন্দা। এরই মধ্যে জানা গেছে দুই জনের পরিচয়। তাদের একজন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার প্রদীপ কুমার, অন্যজন হলেন রামু উপজেলার লোকমান হাকিম।   নিহতদের এক প্রতিবেশীরা জানান, কাজ শেষ করে একটি গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। সেসময় অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে তাদের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। নিহতদের মরদেহ কুলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।   এদিকে, ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বিষয়টি। ওমানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে পাঠানো হবে তাদের মরদেহ।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে ১২ লাখ ছাড়াল নিবন্ধন

পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনের সংখ্যা ১২ লাখ ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রবাসী ও কর্মসূত্রে নিজ এলাকায় উপস্থিত হতে না পারা ভোটারদের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি সহজভাবে ভোটার নিবন্ধন নিশ্চিত করছে। অ্যাপে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করা যায়। যাচাই শেষে যোগ্য ভোটাররা ডাকযোগে ব্যালট পেতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, পোস্টাল ভোট আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতামূলক প্রচারণা ও নিরাপদ ব্যবস্থার কারণে নিবন্ধনের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে। ভবিষ্যতে অ্যাপের ফিচার উন্নয়ন, গ্রাহক সহায়তা ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ওমান প্রবাসী কর্মীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

সব প্রস্তুতি শেষ করে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন এমন হাজারো কর্মীর সামনে হঠাৎ করেই বজ্রপাতের মতো দুঃসংবাদ এসেছে। সুটকেস গোছানো থাকলেও এখন আর শুধু পাসপোর্ট বা ভিসা থাকলেই মিলবে না কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের টিকিট।   মরুভূমির সেই প্রত্যাশিত দেশে পা রাখার আগেই এখন প্রবাসী কর্মীদের দিতে হবে যোগ্যতার পরীক্ষা। নিজের মেধা ও দক্ষতার প্রমাণ ছাড়া ওমানে কাজের সুযোগ মিলবে না। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় শ্রমবাজার ওমানে প্রবাসী কর্মীদের জন্য এমনই কঠোর ও বাধ্যতামূলক নতুন নিয়ম চালু করেছে দেশটির সরকার। ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে দেশটিতে প্রবেশের আগেই প্রবাসী কর্মীদের একাডেমিক ও পেশাগত যোগ্যতা যাচাই করা হবে। বিশেষ করে প্রকৌশল, লজিস্টিকস, হিসাবরক্ষণসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পেশায় কাজ করতে আগ্রহীদের নিজ নিজ দেশের অনুমোদিত স্কিলস ইউনিট থেকে সনদ মূল্যায়ন করাতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রমাণিত হলেই দেওয়া হবে ওয়ার্ক প্র্যাকটিস লাইসেন্স। এই লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রবাসী কর্মীর নামে নতুন করে প্রবেশ অনুমতিপত্র বা এন্ট্রি পারমিট ইস্যু করা হবে না। ভুয়া সনদের ব্যবহার বন্ধ করা এবং শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, জাল সনদ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে জেল-জরিমানার পাশাপাশি সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মতো কঠোর শাস্তিও দেওয়া হতে পারে।   ওমান সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অদক্ষ ও সনদহীন কর্মীদের জন্য দেশটিতে কাজের সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে এলো।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫ জন বাংলাদেশিকে অনিয়মিতভাবে থাকার কারণে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানটি অবৈধ অভিবাসন ও কাজকর্মের ওপর কেন্দ্র করে সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশ ও অভিবাসন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় ধরা পড়াদের কাছে কোনো বৈধ অভিবাসন বা কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নথি ছিল না। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধৃত ব্যক্তিরা বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। উল্লেখযোগ্য যে, যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থান ও কর্মসংস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদেশিরা বৈধ নিয়ম মেনে অবস্থান ও কাজকর্ম করেন। অভিযান সংক্রান্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং অভিবাসীদের আইন মেনে চলার জন্য সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় এই ধরনের অভিযান স্থানীয় সমাজে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বৈধ শ্রম বাজারকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ০২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে নতুন মাইলফলক, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড

সদ্যবিদায়ী ডিসেম্বর মাসে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত মার্চ মাসে, সে সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। এ ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ডিসেম্বরের বিভিন্ন সময়ে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের রেমিট্যান্স এসেছে। ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসেছে ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ২১ থেকে ২৭ ডিসেম্বর এসেছে ৫৭ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ১৪ থেকে ২০ ডিসেম্বর এসেছে ৬৬ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর এসেছে ৮৭ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আর মাসের প্রথম ছয় দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৬৩ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর আগে নভেম্বর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর আগস্ট ও জুলাই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরজুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় অভিযান : ৭২ বাংলাদেশিসহ ৪০২ অবৈধ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ায় সিঙ্গাপুর সীমান্তসংলগ্ন রাজ্য জোহর বাহরু ও নেগারি সেম্বিলান রাজ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ৪০২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।   বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে মালয়েশিয়ার একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আটকদের মধ্যে ২৯৯ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ৭২ জন বাংলাদেশি, ২২ জন ভারতীয়, তিনজন ইন্দোনেশীয়, দুজন নেপালি এবং একজন করে পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। বাকিরা অন্য দেশের নাগরিক। জোহর বাহরু ইমিগ্রেশন পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ রুশদি মোহাম্মদ দারুস জানান, গত মঙ্গলবার জোহর বাহরুর একটি কম্পিউটার কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৩৫৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে অভিবাসী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে কারখানাটির দুই মানবসম্পদ কর্মকর্তাকেও আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় অবৈধ অভিবাসীরা পালানোর চেষ্টা করলে যৌথ আইন প্রয়োগকারী বাহিনী দ্রুত কারখানার সব প্রবেশ ও প্রস্থানপথ ঘিরে ফেলে অভিযান পরিচালনা করে। এদিকে নেগারি সেম্বিলান রাজ্যের নিলাই এলাকায় একটি লৌহ কারখানায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে ৪৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। আটক সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। নেগারি সেম্বিলান রাজ্য ইমিগ্রেশন পরিচালক কেনিথ তান আই কিয়াং জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পরিচালিত অভিযানে মোট ১১৭ জনকে যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৪৩ বছর বয়সী ৪৬ জন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে অবস্থানের দায়ে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩ অনুযায়ী তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0