ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস বর্তমানে নেপালে অবস্থান করছেন। সেখানে তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’এর শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে এই অভিনেত্রীর। শুটিংয়ের ফাঁকে নেপালের পোখারা অন্নপূর্ণার রোমাঞ্চকর ক্যাবল কারে চড়ে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ফেসবুক লাইভে এসে ভক্তদের সাথে ক্যাবল কারে চড়ার রোমাঞ্চ ও ভয়ের অনুভূতি শেয়ার করেন অপু বিশ্বাস। লাইভে তিনি জানান, এই ক্যাবল কারটি অত্যন্ত উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় তা মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতার চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর ও চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে তার কাছে। লাইভের ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘ভীষণ ভয় লাগছে।’ রোমাঞ্চকর এই ভ্রমণে কিছুটা আতঙ্কিত হলেও তিনি ভক্তদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, যাদের উচ্চতাভীতি (হাইফোবিয়া) বা হার্টের দুর্বলতা রয়েছে, তাদের এই ক্যাবল কারে ওঠা উচিত নয়। এছাড়া শুটিং ও ভ্রমণের এই বিশেষ মুহূর্তে তিনি তার সন্তানকে ভীষণভাবে মিস করছেন বলেও জানান।
রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ মানুষের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বেশি। মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো অত্যন্ত ছোট প্লাস্টিক কণা, যা বর্তমানে পরিবেশের প্রায় সর্বত্র পাওয়া যায়। এর আগের বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতেও এসব কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে এসব কণা থাকে কি না এবং ধূমপান ও বায়ুদূষণের মতো পরিবেশগত কারণ এর মাত্রাকে প্রভাবিত করে কি না, তা নিয়ে এতদিন খুব কম তথ্য ছিল। ইতালির রোমের সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত'আন্দ্রেয়া হাসপাতালের গবেষক পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষকরা হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি থেকে ৬১ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে কেউ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ছিলেন, কেউ হার্ট অ্যাটাক ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্রোগে ভুগছিলেন এবং কিছু রোগীর রক্তনালি ছিল সুস্থ। গবেষণায় দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আরও ছোট ন্যানোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। হার্ট অ্যাটাক হয়নি, তবে হৃদ্রোগ রয়েছে, এমন রোগীদের মধ্যে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ। আর সুস্থ রক্তনালির রোগীদের ক্ষেত্রে এসব কণা ৩২ শতাংশের রক্তে পাওয়া গেছে। গবেষকরা আরও দেখেছেন, ধূমপান ও বায়ুদূষণের সঙ্গে রক্তে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্পর্ক রয়েছে। ধূমপান করেন এমন ব্যক্তিদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা ছিল প্রায় ছয় গুণ বেশি। একই ধরনের সম্পর্ক দেখা গেছে যারা নিয়মিত বেশি মাত্রার বায়ুদূষণের মধ্যে থাকেন তাদের ক্ষেত্রেও। গবেষণায় ধূমপান ও বায়ুদূষণ দুই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। বিপরীতে, এই দুই ঝুঁকির কোনোটির সংস্পর্শে না থাকা ব্যক্তিদের মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। গবেষণার প্রধান লেখক পাসকুয়ালে পাওলিসো বলেন, ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করা সহজ হতে পারে। বায়ুদূষণও একই ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতো বলেন, এই গবেষণা মাইক্রোপ্লাস্টিক যে সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায়, তা প্রমাণ করে না। তবে পরিবেশগত দূষণ, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদ্রোগের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ১৫ জুলাই ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। একই জার্নালে প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয়তে জার্মানির জোহানেস গুটেনবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষক আন্দ্রেয়াস ডাইবারসহ বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক এখন সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে সামনে আসছে। প্লাস্টিক দূষণকে হৃদ্রোগের একটি অবমূল্যায়িত ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা গবেষণাটির সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন। মাত্র ৬১ জনের ওপর গবেষণাটি করা হয়েছে। তাই মাইক্রোপ্লাস্টিক ও হৃদ্রোগের মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন। সূত্র: ইউএস নিউজ
হলিউডের জনপ্রিয় তারকা টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়ার বিয়ে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। নিজেদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন এই তারকা জুটি। এবার তাদের বিয়েকে ঘিরে সামনে এসেছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের সারে এলাকায় তিন দিনব্যাপী জমকালো বিয়ের আয়োজন করেছিলেন টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়া। এই আয়োজনে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি টাকা। এই বিয়ের আয়োজনে প্রায় ২৫০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অতিথিদের তালিকায় হলিউডের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় তারকার নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে ছিলেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, টিমোথি শ্যালামে ও কাইলি জেনার। সারের বিলাসবহুল প্রাসাদে আয়োজন টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়ার বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে ইংল্যান্ডের সারে এলাকার বিলাসবহুল একটি প্রাসাদ ও আবাসিক স্থাপনায়। জায়গাটি বর্তমানে পাঁচতারকা হোটেল ও গ্রামীণ অবকাশকেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। টম হল্যান্ডের বেড়ে ওঠার জায়গা কিংস্টন আপন টেমসের কাছাকাছি হওয়ায় অনুষ্ঠানস্থলটির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগসূত্রও রয়েছে। তিন দিনের আয়োজন শুরু হয় বিয়ের আগের নৈশভোজ দিয়ে। পরদিন সন্ধ্যায় মূল বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সূর্যাস্তের সময় গাছপালায় ঘেরা একটি মনোরম পরিবেশে টম ও জেন্ডায়া একে অপরকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল। এর মধ্যে ছিল ক্রোকেট খেলা ও সুইমিংপুলে আয়োজন। অতিথিদের জাপানি খাবারও পরিবেশন করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অতিথিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বিয়ের পুরো আয়োজন গোপন রাখতে টম ও জেন্ডায়া কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের পাশাপাশি সেখানে কর্মরত কর্মীদেরও মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে বিয়ের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, টম ও জেন্ডায়া কোনো তথ্য বা ছবি যাতে বাইরে চলে না যায়, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। এ কারণেই এত বড় আয়োজন হলেও অনুষ্ঠান থেকে এখন পর্যন্ত খুব বেশি ছবি বা ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি। সাজসজ্জায় ছিল স্পাইডার-ম্যানের ছোঁয়া টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়ার প্রেমের গল্পের সঙ্গে স্পাইডার-ম্যান চরিত্রের সম্পর্ক বেশ গভীর। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে তাদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাই বিয়ের আয়োজনেও স্পাইডার-ম্যানের স্মৃতি রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন জায়গায় লাল ও নীল আলোর ব্যবহার করা হয়। স্পাইডার-ম্যানের সঙ্গে পরিচিত এই দুটি রংয়ের মাধ্যমে তাদের প্রথম একসঙ্গে কাজ করা সিনেমাটির প্রতি বিশেষ ইঙ্গিত রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছিলেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, টিমোথি শ্যালামেসহ অনেকে প্রায় ২৫০ অতিথির এই আয়োজনে হলিউডের বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকা উপস্থিত ছিলেন বলে খবর। টম হল্যান্ডের ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ ও ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমার সহ-অভিনেতা রবার্ট ডাউনি জুনিয়রও অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া টিমোথি শ্যালামে ও কাইলি জেনারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। টমের ছোট ভাই স্যাম হল্যান্ড তার বেস্ট ম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানা গেছে। আবেগঘন ছিল টম-জেন্ডায়ার বক্তব্য বিয়ের অনুষ্ঠানে টম ও জেন্ডায়া দুজনেই বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্য একই সঙ্গে হাস্যরসপূর্ণ ও আবেগঘন ছিল বলে জানিয়েছেন একটি সূত্র। সূত্রটির দাবি, তাদের বক্তব্যের সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। টম ও জেন্ডায়াকে অত্যন্ত পরিশ্রমী ও চমৎকার মানুষ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। তিন দিনের এই আয়োজন তাদের জন্য একটি বিশেষ বছরকে আরো স্মরণীয় করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন ওই সূত্র। লন্ডনে বিয়ের আংটি পরে দেখা গেল দুজনকে বিয়ের আয়োজন শেষ হওয়ার পর টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়াকে লন্ডনে দেখা যায়। তাদের দুজনের হাতেই ছিল বিয়ের আংটি। এর আগে জেন্ডায়াকে আংটি পরা অবস্থায় দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে টমকেও বিয়ের আংটি পরে দেখা যাওয়ায় ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে দুজন একসঙ্গে নাশতা করেন বলেও জানা গেছে। পরে তারা নিজেদের পোষা কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এর আগেই গোপনে বিয়ে করেছিলেন তারা তবে সারে এলাকায় অনুষ্ঠিত এই তিন দিনের আয়োজনই টম ও জেন্ডায়ার প্রথম বিয়ে নয় বলে জানা গেছে। এর আগে তারা খুবই ব্যক্তিগত পরিসরে বিয়ে করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে টম হল্যান্ডও এক সাক্ষাৎকারে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এমনকি ‘দ্য ওডিসি’ সিনেমার প্রচারের সময় তিনি প্রকাশ্যে জেন্ডায়াকে তার স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সারে এলাকার এই তিন দিনের অনুষ্ঠানটি মূলত তাদের বিয়েকে ঘিরে বন্ধু, পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে বড় পরিসরের উদ্যাপন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ থেকে সম্পর্কের শুরু ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ সিনেমার সেটে টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়ার প্রথম পরিচয়। সিনেমায় টম অভিনয় করেন পিটার পার্কার বা স্পাইডার-ম্যান চরিত্রে। অন্যদিকে জেন্ডায়া অভিনয় করেন মিশেল জোন্স-ওয়াটসন চরিত্রে, যিনি এমজে নামে পরিচিত। সিনেমায় তাদের রসায়ন দর্শকদের নজর কাড়ে। পরে বাস্তব জীবনেও তাদের সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা। ২০২১ সালে দুজনের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তাদের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। এরপর তারা ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ এবং ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেন। এখনো প্রকাশ্যে আসেনি বিয়ের ছবি এত বড় আয়োজন হলেও টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়া এখনো তাদের বিয়ের কোনো ছবি প্রকাশ করেননি। পুরো আয়োজনটি ব্যক্তিগত রাখার ব্যাপারে তারা শুরু থেকেই সতর্ক ছিলেন বলে জানা গেছে। অতিথি ও কর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনুষ্ঠানটির ছবি বা ভিডিও খুব বেশি ছড়িয়ে পড়েনি। তবে টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়া নিজেরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য বা ছবি প্রকাশ না করা পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন নিয়ে প্রকাশিত অনেক তথ্যই সংবাদমাধ্যমের সূত্রনির্ভর প্রতিবেদন হিসেবে থাকছে।
অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিও প্রকাশ করেছে আলোচিত রিয়েলিটি শো ‘দ্য ট্রেইটরস’-এর দ্বিতীয় সিজনের ট্রেলার। প্রথম মৌসুমের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও সঞ্চালকের ভূমিকায় ফিরেছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক করণ জোহর। নতুন ট্রেলারে রহস্য, ছদ্মবেশ, সন্দেহ এবং প্রতিযোগীদের পারস্পরিক অবিশ্বাসের আবহকে আরও তীব্রভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিযোগীদের মানসিক টানাপোড়েন, কৌশল এবং প্রতারণার দিকগুলো বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন করণ জোহর। এবারের সিজনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন টেলিভিশন তারকা শ্বেতা তিওয়ারি। তার পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন মুনাওয়ার ফারুকী, মল্লিকা শেরাওয়াত এবং রিয়া চক্রবর্তী। ট্রেলারে তাদের তীক্ষ্ণ মন্তব্য, সন্দেহপ্রবণ আচরণ এবং মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দর্শকদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। একটি বিলাসবহুল প্রাসাদকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই শোতে প্রতিযোগীদের মূল লক্ষ্য একে অপরকে বিভ্রান্ত করা, গোপন পরিচয় লুকিয়ে রাখা এবং কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে টিকে থাকা। বিশ্বাস ও ছলনার এই খেলাই শোটির মূল আকর্ষণ। প্রথম সিজনের জনপ্রিয়তার পর দ্বিতীয় মৌসুমে চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাইম ভিডিওতে খুব শিগগিরই ‘দ্য ট্রেইটরস ২’-এর সম্প্রচার শুরু হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের কয়েকটি সিনেমা আশানুরূপ সাফল্য না পেলেও জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়েনি তার। বরং ব্র্যান্ড ভ্যালুর নিরিখে তিনি এখন দেশের সবচেয়ে দামি অভিনেত্রী। সম্প্রতি প্রকাশিত ক্রোল সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট ২০২৫-এ এমনই তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আলিয়ার ব্র্যান্ড ভ্যালু প্রায় ৯৩.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৯২ কোটি টাকা। এই নিয়ে তিনি তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন এবং মহিলা তারকাদের মধ্যে প্রথম। এমনকি ব্র্যান্ড ভ্যালুর নিরিখে তিনি নিজের স্বামী রণবীর কাপুরকেও পিছনে ফেলেছেন। রণবীরের ব্র্যান্ড ভ্যালু প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৬১ কোটি টাকা) এবং তিনি রয়েছেন দশম স্থানে। মহিলা তারকাদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। তার ব্র্যান্ড ভ্যালু প্রায় ৮৯.২ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮৪৯ কোটি টাকা। এরপরেই রয়েছেন রশ্মিকা মন্দানা। তাঁর ব্র্যান্ড ভ্যালু প্রায় ৭৫.২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭১৬ কোটি টাকা)। দক্ষিণী ও হিন্দি—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই ধারাবাহিক সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার ফলে রশ্মিকার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। এছাড়া কারিনা কাপুর খান রয়েছেন ১৫ নম্বরে, কিয়ারা আদভানি ১৭ নম্বরে, কৃতি শ্যানন ১৮ নম্বরে, অনন্যা পাণ্ডে ১৯ নম্বরে এবং জাহ্নবী কাপুর ২৩ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখন আর শুধু সিনেমার সাফল্যের উপর কোনও তারকার ব্র্যান্ড ভ্যালু নির্ভর করে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা, বড় বড় সংস্থার বিজ্ঞাপনে কাজ, আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং নিজস্ব ব্যবসাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আলিয়ার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি একাধিক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ, নিজস্ব উদ্যোগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল জনপ্রিয়তা তার ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়িয়েছে। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা ৮ কোটিরও বেশি।
ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলিকে পেছনে ফেলে আবারও ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান তারকা ব্র্যান্ডের শীর্ষ খেতাব পুনরুদ্ধার করেছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ক্রোল ইন্ডিয়া সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট ২০২৫’-এ এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা শাহরুখ খান বড় পর্দায় সফল প্রত্যাবর্তন এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে টানা চাহিদার মুখে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ (১৭৭.৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্র্যান্ড মূল্য নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন। এবারের তালিকার শীর্ষস্থানে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। বিগত দুই বছরে শাহরুখ খানের ব্র্যান্ড মূল্য বেড়েছে ৫ কোটি ৭২ লাখ ডলার। অন্যদিকে শীর্ষ থাকা তারকা বিরাট কোহলির ব্র্যান্ড মূল্য সবচেয়ে বেশি (৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার) কমে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। শীর্ষে থাকা শাহরুখ খানের বর্তমানে ব্র্যান্ড ভ্যালু ১৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার। এরপরই ১৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে তালিকার দুইয়ে রণবীর সিং। আর তিনে থাকা বিরাট কোহলির বর্তমান ব্র্যান্ড ভ্যালু ১৫৮.৪ মিলিয়ন ডলার। নারী তারকাদের মধ্যে শীর্ষে থাকা বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের ব্র্যান্ড ভ্যালু বর্তমানে ৯৩.৯ মিলিয়ন ডলার। তিনি এই তালিকার ছয় নম্বরে স্থান পেয়েছেন। শীর্ষ দশে থাকা বাকি তারকারা হলেন পর্যায়ক্রমে দীপিকা পাডুকোন (৮৯.২ মিলিয়ন ডলার), হৃতিক রোশন (৮৮.৯ মিলিয়ন ডলার), অমিতাভ বচ্চন (৮০.৮ মিলিয়ন ডলার) ও অক্ষয় কুমার (৮০.০ মিলিয়ন ডলার) শীর্ষ ১০-এর বাইরে থাকা অন্যান্য তারকাদের মধ্যে ১২তম স্থানে রয়েছেন রণবীর কাপুর এবং ১৩তম স্থানে রয়েছেন সুপারস্টার সালমান খান। বলিউডের নতুন প্রজন্মের তরুণ তারকাদের বাণিজ্যিক প্রভাবও এই তালিকায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনন্যা পান্ডে ১৯তম, জাহ্নবী কাপুর ২৩তম এবং শ্রদ্ধা কাপুর ২৪তম স্থান দখল করে নিয়েছেন। মূলত তারকাদের ব্র্যান্ড অ্যান্ডোর্সমেন্ট চুক্তি, স্পন্সরশিপ, গণমাধ্যমে উপস্থিতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করে এই বাণিজ্যিক মূল্যায়ন বা র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। শাহরুখ খানের শীর্ষস্থানে ফেরা প্রমাণ করে ভারতীয় বিনোদন ও বিজ্ঞাপন জগতে তার প্রভাব এখনো অনন্য।
বলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই হলিউড সিনেমা আলোকিত করে চলেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। এবার আবারও এক বড়সড় চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন বলিউডের এই ‘দেশি গার্ল’। অস্কারজয়ী বিখ্যাত অভিনেতা রাসেল ক্রোর সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি অভিনয় করতে যাচ্ছেন নতুন সায়েন্স ফিকশন অ্যাকশন থ্রিলার ‘ব্লু ফ্লাই’-তে। আলোচিত এই সিনেমার পরিচালনায় থাকবেন ‘প্রিডেটরস’ ও ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ খ্যাত নির্মাতা নিমরোড আনতাল। এক সময় বলিউডে ব্যস্ত সময় পার করা প্রিয়াঙ্কা বিয়ের পর বিদেশেই থিতু হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিগ বাজেটের প্রজেক্টে যুক্ত হয়েছেন। কিছুদিন আগেই অরল্যান্ডো ব্লুমের বিপরীতে ‘রিসেট’ নামের একটি সারভাইভাল থ্রিলারে কাজের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। চলতি বছরেই প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া তার ‘দ্য ব্লাফ’ বিশ্বজুড়ে দারুণ সাড়া ফেলে এবং শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী সিনেপ্রেমীদের আগ্রহে পরিণত হয়েছেন। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তার ‘হেডস অব স্টেট’ ৭৮তম প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডসে আউটস্ট্যান্ডিং টেলিভিশন মুভির মনোনয়ন পেয়েছে। অন্যদিকে ‘দ্য ব্লাফ’ সিনেমায় চমৎকার অভিনয়ের জন্য ২০২৬ ক্রিকটিকস চয়েস সুপার অ্যাওয়ার্ডসে সেরা অ্যাকশন অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান তিনি। হলিউডের ব্যস্ততা থাকলেও নিজের মাটির প্রতি টান বিন্দুমাত্র কমেনি ‘দেশি গার্ল’ খ্যাত এই তারকার। ভারতে এস এস রাজামৌলির বিশাল ক্যানভাসের প্যান-প্যাসিফিক সিনেমা ‘বারাণসী’তে দেখা যাবে মহেশ বাবুর সঙ্গে। সিনেমাটি আগামী বছরের এপ্রিলে পর্দায় আসবে। সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা হলিউডের বিগ বাজেটের ‘ব্লু ফ্লাই’ সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে কঙ্গোর পটভূমিতে। দেখা যাবে এক শোকাহত জাতিসংঘ অনুবাদককে, যিনি একটি গোপন মিশনে জড়িয়ে পড়েন। একটি রহস্যময় নিখোঁজ বিমান উদ্ধারের জন্য তিনি স্পেশাল অপারেশন দলের সঙ্গে বিপজ্জনক এলাকায় রওনা হন, যা পরবর্তী সময় চরম উত্তেজনাকর মোড় নেয়। সিনেমাটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হাইল্যান্ড ফিল্ম গ্রুপের সিইও আরিয়ান ফ্রেজার জানান, ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ অভিনেতা রাসেল ক্রো এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো দুর্দান্ত কাস্টিং এই থ্রিলারকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে। অস্কারজয়ী অভিনেতা রাসেল ক্রো এবং ভারতীয় গ্লোবাল আইকন প্রিয়াঙ্কার এই নতুন রসায়ন দেখার জন্য এখন বিশ্বজুড়ে সিনেপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক ও উপস্থাপক কাজী জেসিন। তিনি গ্রেড-১ পদমর্যাদায় এক বছরের চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০১-এর ধারা ১১(১) অনুযায়ী তাঁকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। সরকারি আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পদে দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত পৃথক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে ঘিরে আইনি জটিলতা আরও গভীর হয়েছে। ১৬ বছর পুরোনো একটি চেক বাউন্স মামলায় বর্তমানে তিনি তিহার কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যেই তাঁর ও পরিবারের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ বকেয়া ঋণ আদায়ে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া সম্পত্তি নিলামের উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের বান্ডা এলাকায় অবস্থিত রাজপাল যাদবের একটি সম্পত্তি নিলামে তোলা হবে। সম্পত্তিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ১০ লাখ রুপি। পৈতৃক বাড়িতেও নোটিশ: ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঋণ আদায়ের অংশ হিসেবে কচেহরি রোডে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বাড়িতে নিলামের নোটিশ টাঙানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর মালিকানাধীন আরেকটি প্লটেও একই ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজপালের স্ত্রী রাধা যাদব ও মা গোদাবরী দেবীর নামে ১৬ কোটি ৬১ লাখ রুপি ঋণ বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে ব্যাংক। আগেই জব্দ হয়েছিল সম্পত্তি: জানা গেছে, উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুরে বাবার সম্পত্তি বন্ধক রেখে রাজপাল যাদব ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করায় সুদসহ বকেয়া বেড়ে প্রায় ১১ কোটি রুপিতে পৌঁছে যায়। এরপর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্স শাখার কর্মকর্তারা গিয়ে সম্পত্তিটি জব্দ ও সিলগালা করেন। সে সময় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সম্পত্তিটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ–সংক্রান্ত কোনো লেনদেন করা যাবে না। সমঝোতা হলেও ঋণ শোধ হয়নি: ২০২৪ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজপাল যাদব ঋণ পরিশোধ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন এবং একটি সমঝোতাও হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় মুম্বাই ডেট রিকভারি ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে আবারও ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিলামের তালিকায় শুধু বান্ডার সম্পত্তিই নয়, মুম্বাই ও অন্যান্য স্থানে থাকা কয়েকটি ফ্ল্যাট, পৈতৃক গ্রাম কুন্ডরার জমি এবং সেখানে নির্মিত বাড়িও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেন কারাগারে রাজপাল যাদব? ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আতা পাতা লাপাতা’ চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি চেক বাউন্স মামলায় তিনি বর্তমানে তিহার কারাগারে রয়েছেন। দিল্লি হাইকোর্ট গত ১০ জুলাই মামলার শুনানিতে তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। আদালত তাঁর আচরণকে ‘সন্দেহজনক’ বলেও মন্তব্য করেন। জানা গেছে, ছবিটি নির্মাণের জন্য ২০১০ সালে তিনি ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। একাধিকবার অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তা শোধ করতে পারেননি। তাঁর বিরুদ্ধে চেক বাউন্সের সাতটি পৃথক মামলায় প্রায় ৯ কোটি রুপি বকেয়া রয়েছে। আগের রায় ও বর্তমান অবস্থা: ২০২৪ সালে একটি সেশনস কোর্ট তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। পরে তিনি দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করলে সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। তবে একই মামলায় ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে তিহার কারাগারে আত্মসমর্পণ করতে হয়। বর্তমানে তিনি আবারও ওই মামলায় কারাবন্দী অবস্থায় আছেন।
বলিউড অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেল পঞ্চাশ পেরিয়েও বিয়ে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো দেখাচ্ছেন না। বরং নিজের শর্তে স্বাধীনভাবে বাঁচাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ‘কাহো না... পেয়ার হ্যায়’ খ্যাত এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে সিঙ্গেল জীবনেই ভীষণ খুশি। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে #AskAmy হ্যাশট্যাগে ভক্তদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক ভক্ত জানতে চান, তিনি কবে বিয়ে করছেন। উত্তরে আমিশা স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, ‘কখনোই না। সিঙ্গেল থেকে আমি খুবই সুখী। আমার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ভালোবাসাই আমার জন্য যথেষ্ট। কোনো একজন পুরুষ এসে সেটা বদলে দিক, তা চাই না।’ ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আমিশা আগে এক গভীর সম্পর্কে ছিলেন। ইউটিউবার রণবীর এলাহবাদিয়ার পডকাস্টে তিনি জানান, চলচ্চিত্রে আসার আগে তার এক প্রেমিক ছিলেন, যিনি চাননি তিনি গ্ল্যামার জগতে কাজ করুন। সেই কারণেই তিনি সম্পর্কের চেয়ে ক্যারিয়ারকে বেছে নেন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘যে সত্যিকারের ভালোবাসবে, সে আপনার ক্যারিয়ারকেও সম্মান করবে। আমি ক্যারিয়ারের জন্য অনেক কিছু হারিয়েছি, আবার ভালোবাসার জন্যও অনেক ছাড় দিয়েছি।’ আমিশা আরও জানান, তার সেই সাবেক প্রেমিক দক্ষিণ মুম্বাইয়ের এক প্রভাবশালী শিল্পপতি পরিবারের সদস্য ছিলেন। পারিবারিক ও শিক্ষাগত পটভূমি মিল থাকলেও তিনি অভিনেত্রীকে পাবলিক ফিগার হিসেবে দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। তবে বিয়ের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি এই তারকা। যোগ্য ও মানসিকভাবে পরিপক্ব কাউকে পেলে ভবিষ্যতে বিয়ে করতে আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে আমিশার নাম বিভিন্ন সময় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে জড়ালেও, নির্মাতা বিক্রম ভাটের সঙ্গে তার সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিল।
ঢালিউডের চিরযৌবনা জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা অভিনীত ‘সুভা’ সিনেমাটি আবার প্রচার করা হচ্ছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে চ্যানেল আইতে আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৩টায় দেখানো হচ্ছে সিনেমাটি। এটি পরিচালনা করেছেন আলোচিত পরিচালক প্রয়াত চাষী নজরুল ইসলাম। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে সেই সিনেমা প্রসঙ্গ ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী পূর্ণিমা। আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে চ্যানেল আই আবার প্রচার করছে ‘সুভা’ সিনেমাটি। দুই দশকের বেশি সময় পর সিনেমাটি ফিরছে পর্দায়। এমন প্রশ্নের উত্তরে পূর্ণিমা বলেন, সেই সূত্রে ২১ বছর! মনে হচ্ছে এই তো সেদিন...। তিনি বলেন, ‘সুভা’ আমার অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য একটি কাজ। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি সাহিত্যনির্ভর কয়েকটি সিনেমায় কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। অভিনেত্রী বলেন, সেই যাত্রার শুরু হয় রাবেয়া খাতুনের গল্পে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘মেঘের পরে মেঘ’ দিয়ে। এরপর ‘শাস্তি’, তারপর ‘সুভা’— তিনটি সিনেমাই পরিচালনা করেছেন চাষী আঙ্কেল। সাহিত্যভিত্তিক গল্পে অভিনয়ের সেই সুযোগটা করে দিয়েছিল চ্যানেল আই। এই কাজগুলো আমাকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ দিয়েছে। নতুন কোনো সিনেমায় না দেখা যাওয়া প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, আমি তো সিনেমায় অভিনয় করতে চাই। আজ আমি যা, সবকিছু এই অঙ্গন থেকে এসেছে। কথা হচ্ছে— নতুন সিনেমার প্রস্তাব আসছে কিন্তু আমি কনভিন্স হওয়ার মতো তেমন কোনো গল্প পাচ্ছি না। গল্প কেমন হলে রাজি হবেন?— এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, আমার কাছে সিনেমার ক্ষেত্রে প্রথম যে বিষয়টি কাজ করে, তা হচ্ছে— পরিচালকের ভাবনাচিন্তা ও সুন্দর একটি গল্প। আর গল্পে আমার চরিত্র কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছি, আমার এখনকার অবস্থান চিন্তা করে গল্প তৈরি হতে হবে। উপমহাদেশীয় সিনেমায় আমাদের আগে যেসব নায়িকা কাজ করেছিলেন, তাদের অনেকে এখনো বেশ দাপটের সঙ্গে অভিনয় করছেন। প্রযোজক–পরিচালকরা তাদের সময়োপযোগী করে উপস্থাপন করছেন। আমাকে নিয়েও পরিচালকদের সময়োপযোগীভাবে ভাবতে হবে। ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, সবাই আমাকে রোমান্টিক লুক ও সুন্দরী নায়িকা, পরিপাটি ইমেজে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এখন আমাকে এর বিপরীতে দেখলে খুব ভালো হয়। তিনি বলেন, আমার খুব ইচ্ছা নেগেটিভ চরিত্র; ভিলেন টাইপের কিছু করতে চাই। সিনেমা দেখে যেন ওই চরিত্রের প্রতি মানুষের ঘৃণা হয়। আমাকে নিয়ে এ ধরনের চরিত্র কেউ চিন্তাও করেনি আজ পর্যন্ত বলে জানান পূর্ণিমা। দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতায় নির্মাতারা কতটা স্বাধীন? উত্তরে পূর্ণিমা বলেন, কাটছাঁট আমাদের সময় ছিল, তারও আগে ছিল। এখনো আছে। কাটাকাটির হাত থেকে যেন রেহাই নেই। তিনি বলেন, অথচ আমরা বাইরের দেশের যেসব সিনেমা দেখে মুগ্ধ হই, সেসবে গল্পের প্রয়োজনে যা আসে, তাই দেখানো হয়। এমন সব দৃশ্য দেখি, যা সত্যিই অবাক করে, কীভাবে সম্ভব! আমাদের এখানে সম্ভব হয়নি আগেও, এখনো। এই ভয়ে সুন্দর গল্প বলাও সম্ভব হয় না। তা ছাড়া বাইরের দেশে সত্য ঘটনা অবলম্বনে অনেক সিনেমা তৈরি হয়, যা শুধু সেই দেশ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সিনেমাপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। আমাদের চারপাশে এত এত সত্য ঘটনা, যেসবে সিনেমা বানালে, দর্শকপ্রিয়, সুপারহিট, বাম্পারহিট হবেই— কিন্তু তা নিয়ে সিনেমা বানানো সম্ভব হচ্ছে না। গল্প বলার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা নেই। তাই পরিচালকরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বানাতে পারেন না, অভিনয়শিল্পীরাও অভিনয়ের সুযোগ পান না বলেন জানান দিলারা হানিফ পূর্ণিমা।
আন্তর্জাতিক ফিনান্সিয়াল ও বিজনেস কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠান ‘ক্রল’-এর ‘সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট ২০২৫’-এ ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান তারকার স্বীকৃতি পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান। রিপোর্ট অনুযায়ী, শাহরুখের বর্তমান ব্র্যান্ড ভ্যালু ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ মার্কিন ডলার। এ তালিকায় শাহরুখ পেছনে ফেলেছেন ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলিকে। প্রতিবেদনে ভারতের শীর্ষ ২৫ তারকার ব্র্যান্ড ভ্যালু প্রকাশ করেছে ‘ক্রল’। তাদের সম্মিলিত ব্র্যান্ড মূল্য প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার (২ বিলিয়ন ডলার)। গত বছরের তালিকায় শাহরুখ ছিলেন তৃতীয় স্থানে। তখন তার ব্র্যান্ড মূল্য ছিল প্রায় ১৪ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ২২ শতাংশ বেড়েছে তার ব্র্যান্ড মূল্য। যার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকেই যেন আরেকবার প্রমাণ করে। গত এক বছরে শাহরুখ তার ব্র্যান্ড অনুমোদনের (এন্ডোর্সমেন্ট) তালিকায় যুক্ত করেছেন বেশ কয়েকটি পরিচিত প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে ক্যাস্ট্রল, জয় পার্সোনাল কেয়ার ও ক্যান্ডেরে। এ ছাড়া হুন্দাই, মিন্ত্রা, এয়ারবিএনবি-র মতও ব্র্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন। গত বছর শীর্ষস্থানে থাকলেও এবার তৃতীয়তে নেমে এসেছেন ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি। তার এবারের ব্র্যান্ড মূল্য ১৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। আর দ্বিতীয়তে উঠে এসেছেন রণবীর সিং (১৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার)। শাহরুখ খান বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন নতুন সিনেমা ‘কিং’ নিয়ে। সিদ্ধার্থ আনন্দের এ ছবিতে তার সঙ্গে থাকছেন কন্যা সুহানা খান, দীপিকা পাড়ুকোন, অভিষেক বচ্চনসহ বলিউডের অনেক তারকা। এ বছরের ডিসেম্বরে ছবিটি মুক্তির কথা রয়েছে।
কঙ্গনা রানাওয়াত তার বক্তব্যের জন্য ফের শিরোনামে উঠেছেন। সম্প্রতি তিনি নিজেকে একজন কট্টর হিন্দু হিসেবে বর্ণনা করে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। একই সঙ্গে, সোনাক্ষী সিনহার নাম উল্লেখ না করে তাকে লক্ষ্য করে বলেন, বলিউডের কিছু অভিনেত্রী প্রথমে ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে একেবারে নিরপেক্ষ থাকলেও পরে একজন মুসলিমকে বিয়ে করার পর হঠাৎ করে বামপন্থী হয়ে যান। কঙ্গনার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তার একটি পুরনো সাক্ষাৎকার সামনে নিয়ে আসেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানি বর চাওয়ার কথা বলেছিলেন। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ওই পুরোনো ভিডিওতে কঙ্গনাকে মজা করে একজন সাংবাদিকের কাছে নিজের জন্য একজন পাকিস্তানি বর খুঁজে দিতে বলতে দেখা যায়। ভিডিওর শুরুতেই সাংবাদিক কঙ্গনাকে বলেন, ‘এটাই তাহলে ঠিক হলো তো! আমি পাকিস্তান থেকে আপনার জন্য পাত্র খুঁজছি। কেমন ছেলে খুঁজব?’ জবাবে হেসে কঙ্গনা বলেন, ‘আমি তো বলেই দিয়েছি, বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হলেই হবে। আর সে যদি আমাকে চিনতেও না পারে, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। আমি আমার সঙ্গীর সঙ্গে খুব সাধারণ জীবন কাটাতে চাই। আমি খুব ভালো চিকেন রান্না করতে পারি। চিকেন কোরমা, চিকেন মাখনিসহ নানা ধরনের পদ বানাতে পারি। ভারতীয় ও মুঘলাই—দুই ধরনের রান্নাই করতে জানি।’ কঙ্গনার এই ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন লিখেছেন, ‘কঙ্গনা আসলে ভুলে গেছেন যেতাঁর পুরোনো সাক্ষাৎকার সব সময় ইন্টারনেটে থেকে যাবে। আজ যে ব্যক্তি অন্যের আন্তঃধর্মীয় বিয়ের দিকে আঙুল তুলছেন, তিনি একসময় একজন পাকিস্তানি মুসলিমকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখছিলেন।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘যে নারী সবাইকে উদারপন্থী ও বামপন্থী শ্রেণিতে ভাগ করে দিয়েছেন, তিনি নাকি বিয়ের জন্য একজন মুসলিম পাকিস্তানি পুরুষকে খুঁজছিলেন!’ সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
সম্প্রতি দর্শকমহলে ব্যাপক আলোচনা ও জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা। বর্তমানে সাফল্যের শিখরে থাকলেও তার ক্যারিয়ারের পেছনের গল্পটা ছিল চরম সংগ্রামের। মহিমা জানান, অভিনয় কখনোই তার নিজের স্বপ্নের পেশা ছিল না। ছোটবেলায় স্কুলের অর্ধেক সময় ক্লাস করে, বাসে চেপে অডিশন দিতে যেতেন। ক্লান্ত হয়ে ফিরলেও মা তাকে উৎসাহ দিতেন। মহিমার ভাষায়, ‘আমার মা সব সময় অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। অভাবের দিনে মা আমাকে বলেছিলেন—এই পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি নিজের একটা বাড়ি চান। মায়ের এই ইচ্ছাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।’ ৯ বছর বয়সে ‘বালিকা বধূ’র সেটে এক পরিচালক তাকে বলেছিলেন, ‘অভিনয়ই যদি না জানো, তবে এখানে কেন এসেছ?’ সেই অপমানকে শক্তিতে রূপান্তর করেন তিনি। ২০১২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাপনে সুহানে লাড়কাপান কে’-তে মূল চরিত্রে সুযোগ পান। শো-টি সুপারহিট হওয়ার পর মাত্র ১৪ বছর বয়সে মায়ের জন্য নিজের প্রথম বাড়ি ও গাড়ি কেনেন মহিমা। টেলিভিশনে তুমুল জনপ্রিয় হলেও চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পাওয়া সহজ ছিল না। বারবার রিজেকশন এবং ‘টিভির অভিনেত্রী’ তকমা কাটিয়ে ২০২১ সালে সালমান খানের ‘অন্তিম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। মহিমা বলেন, ‘অন্তিম মুক্তির পর হঠাৎ করেই মানুষের আচরণ বদলে যায়। সবাই আমার বন্ধু হতে চেয়েছিল। কিন্তু এর পেছনে ছিল আমার এক দশকেরও বেশি সময়ের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি। ১৪ বছর বয়সে প্রথম বাড়ি কেনার ঠিক ১১ বছর পর, গত বছর মুম্বাইয়ে নিজের দ্বিতীয় ও আরো বড় একটি বাড়ি কিনেছেন মহিমা। তেলুগু সিনেমা, ওটিটি সিরিজ ‘শোটাইম’ ও অতিসম্প্রতি নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় হিট ‘মুসাফির ক্যাফে’-তে দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে ২৬ বছর বয়সেই ইন্ডাস্ট্রিতে দুই দশকের সাফল্য উদ্যাপন করছেন তিনি। সাফল্য আর কোটি টাকার সম্পত্তি পেলেও বাবাকে না পাওয়ার কষ্ট আজও তাকে তাড়া করে ফেরে। মহিমা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা থাকলে কেমন লাগে, তা আমি জানি না। বন্ধুদের যখন তাদের বাবার সঙ্গে দেখি, তখন বুকের ভেতরটা খালি লাগে। তবে জীবনের সব কষ্ট জয় করে মাকে দেওয়া কথা রাখতে পেরেছি, এটাই আমার বড় তৃপ্তি।
দেশজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই নতুন করে অনেক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, আর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার নানা ঘরোয়া উপায় ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি হলো পেঁপে পাতার রস। অনেকের দাবি, এটি দ্রুত প্লাটিলেট বাড়ায়। কিন্তু এ দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কতটা শক্তিশালী? গবেষণা কী বলছে, সেটিই জেনে নেওয়া যাক। ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর অনেক রোগীর প্লাটিলেটের সংখ্যা দ্রুত কমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া বলা হয়। প্লাটিলেট খুব কমে গেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেঁপে পাতা নিয়ে কী বলছে গবেষণা পুষ্টিবিষয়ক গবেষণাপত্র ‘নিউট্রিয়েন্টস’-এ প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তাজা পেঁপে পাতার রস বা এর নির্যাস কিছু ক্ষেত্রে প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। গবেষকদের মতে, পেঁপে পাতায় এমন কিছু সক্রিয় উপাদান রয়েছে, যা প্লাটিলেট তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত এএলওএক্স–১২ এবং পিটিএএফআর নামের জিনের কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করতে পারে। এ ছাড়া পেঁপে পাতায় কারপেইন, ফ্ল্যাভোনয়েড, কোয়ারসেটিন, ক্যামফেরল, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, প্যাপেইন ও কাইমোপ্যাপেইনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে। বিএমসি কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিন এবং পিএলওএস ওয়ান-এ প্রকাশিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে পেঁপে পাতার নির্যাস প্লাটিলেট ৫০ হাজারের ওপরে তুলতে সহায়ক হয়েছে। তবে গবেষকেরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এসব গবেষণায় অংশগ্রহণকারী রোগীর সংখ্যা সীমিত ছিল। তাই এটি কার্যকর কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন। ডেঙ্গুতে কি পেঁপে পাতার রস যথেষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গুর কোনো ওষুধ নয় এবং এটি কখনোই চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না। এটি সর্বোচ্চ সহায়ক একটি উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ডেঙ্গু হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পেঁপে পাতার রস সবার জন্য নিরাপদ নয়। এটি খাওয়ার ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে— পেটের অস্বস্তি বমি বমি ভাব অ্যালার্জি গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি কিছু ওষুধের সঙ্গে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাওয়া উচিত নয়। পেঁপে পাতার রস প্লাটিলেট বাড়াতে কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে সীমিত গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এটিকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা বা অলৌকিক সমাধান ভাবার সুযোগ নেই। ডেঙ্গু একটি গুরুতর ভাইরাসজনিত রোগ। তাই ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই নিরাপদ।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খলঅভিনেতা এবং ‘গজনি’ সিনেমাখ্যাত অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। অভিনেতার ব্যবস্থাপক সিদ্ধার্থ তিওয়ারি ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন প্রদীপ রাওয়াত। কিছুদিন আগে রোগটি পুনরায় ধরা পড়ে এবং তিনি এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই অভিনেতা। প্রদীপ রাওয়াতের জন্ম ১৯৫২ সালের ২১ জানুয়ারি, ভারতের মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে। অভিনয়জীবনের শুরু হয়েছিল টেলিভিশনের মাধ্যমে। বি আর চোপড়ার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ অশ্বত্থামা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের নজরে আসেন। বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে ১৯৮৫ সালে ‘অ্যাতবার’ সিনেমার মাধ্যমে। পরে ‘অগ্নিপথ’, ‘কয়লা’, ‘সরফরোশ’, ‘মেজর সাব’ ও ‘লগান’-এর মতো আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে শক্তিশালী চরিত্রাভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে তাকে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা এনে দেয় ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমির খান অভিনীত ‘গজনি’ সিনেমা। এতে তিনি নির্মম খলনায়ক গজনি ধর্মাত্মা চরিত্রে অভিনয় করেন। এর আগে ২০০৫ সালের তামিল ‘গজনি’ সিনেমাতেও একই চরিত্রে অভিনয় করে দক্ষিণ ভারতীয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। চার দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে প্রদীপ রাওয়াত হিন্দি, তামিল, তেলেগু, নেপালিসহ বিভিন্ন ভাষার শতাধিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। তার গভীর কণ্ঠস্বর, বলিষ্ঠ উপস্থিতি এবং স্বতন্ত্র খলচরিত্রের অভিনয় তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের স্মরণীয় অভিনেতাদের একজন করে তুলেছে। অভিনেতাকে সর্বশেষ দেখা যায় গত বছরের ‘ছাবা’ সিনেমায়। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৪ সালে সেরা খলঅভিনেতা বিভাগে ফিল্মফেয়ার (তেলুগু) পুরস্কার এবং একই বছর নন্দী পুরস্কার লাভ করেন। প্রদীপ রাওয়াতের মৃত্যুর খবরে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিনোদন জগতের সিনেমার পর্দায় এখন রীতিমতো উড়ছেন কলকাতার লাস্যময়ী অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। সম্প্রতি এমডি ইকবাল পরিচালিত ‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে মধুমিতা সরকারকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এর পরই দেশের শোবিজ অঙ্গনে আলোচনায় উঠে আসেন কলকাতার এই অভিনেত্রী। টালিউড ও ছোটপর্দা মাতিয়ে তিনি এবার দুই বাংলা তো বটেই, এমনকি দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতেও নিজের ডানা মেলছেন। আর তার মধ্যেই এদিন প্রকাশ্যে এলো মধুমিতা সরকারের নতুন তেলেগু ছবির ঝলক। ভারতীয় গণমাধ্যম আজকালের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি ‘গুলশানের চামেলী’ দিয়ে ঢালিউডে পা রেখেছেন মধুমিতা। জীবনের প্রথম বাংলাদেশি এই প্রজেক্টের শুটিংয়ের জন্য তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আর এর মধ্যেই এলো আরও এক দুর্দান্ত খবর—খুব শিগগির তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে অভিষেক হতে যাচ্ছে এই অভিনেত্রীর! প্রকাশ্যে এসেছে মধুমিতার নতুন তেলেগু সিনেমা ‘মায়া লেডি’-র টিজার। ছবিতে তার বিপরীতে রয়েছেন ‘বাহুবলী’ খ্যাত তারকা রাকেশ ভারে। প্রশঙ্কর পরিচালিত এ সিনেমাটি মূলত রোমান্টিক-সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার, যেখানে টানটান উত্তেজনা ও অ্যাকশনের পাশাপাশি থাকছে ভরপুর রোমান্স। জানা গেছে, চলতি বছরের বর্ষাতেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে আলোচিত এই সিনেমা। ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ কিংবা ‘কুসুম দোলা’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে একের পর এক চমক দেখিয়েছেন মধুমিতা। এবার ঢাকাই সিনেমা আর দক্ষিণী অ্যাকশন থ্রিলারে একযোগে বাজিমাত করতে প্রস্তুত তিনি। সব মিলিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের চোখ এখন এই লাস্যময়ী সুন্দরীর নতুন যাত্রার দিকে!
দুই হাজার সালের শুরুর দিকে বলিউড অভিনেত্রী ও ক্রিকেটারদের মধ্যে গোপনে প্রেমের খবর প্রায়ই বিনোদন দুনিয়ায় ভেসে বেড়াত। তেমনই এক বহুল আলোচিত গুঞ্জন ছিল অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার ব্রেট লি এবং বলিউড তারকা প্রীতি জিনতাকে নিয়ে। প্রতিবার আইপিএল মৌসুম শুরু হলেই বলিউড ও ক্রিকেটের এই দুই তারকাকে জড়িয়ে প্রেমের জল্পনা নতুন মাত্রা পেত। অনেক শোরগোল পড়লেও মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন অসি তারকা। এতদিন নীরব থাকলেও অবশেষে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন ব্রেট লি। এক সাক্ষাৎকারে সব গুঞ্জনে পানি ঢেলে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রাক্তন এই তারকা। সম্প্রতি বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেট লি স্পষ্ট জানান, তিনি কখনোই কোনো বলিউড অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রেম করেননি। প্রীতি জিনতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা ওই সময় যেমন ভালো বন্ধু ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন। তৎকালীন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব দলের মালিক প্রীতিকে একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমতি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জানান, তার প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সত্য জানা ছিল বলেই এসব খবরে তিনি কখনো কান দেননি এবং কোনো কিছুকেই নিজের মানসিক শান্তিতে প্রভাব ফেলতে দেননি। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের দিকে ব্রেট লি যখন পাঞ্জাব দলে খেলতেন, তখন প্রীতির সঙ্গে তাকে একাধিকবার দেখা যায়। মুম্বাইয়ের একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গ দেখা যাওয়ার পর তাদের গোপনে প্রেম করার গুঞ্জন তুঙ্গে ওঠে। অবশ্য সে সময় প্রীতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, প্রতি বছর ব্রেট লির সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন এখন বেশ পুরোনো খবর। তারা শুধুই ভালো বন্ধু। ব্রেট লি ব্যক্তিগত জীবনে পরবর্তীকালে লানা অ্যান্ডারসনকে বিয়ে করে দুই সন্তানের জনক হন। অন্যদিকে, প্রীতি জিনতা জিন গুডএনাফকে বিয়ে করে সুখে সংসার করছেন। প্রীতি জিনতাকে দীর্ঘদিন পর্দায় না দেখা গেলেও শিগগির তিনি বড় পর্দায় ফিরছেন। বেশ কিছু বছর বিরতির পর রাজকুমার সন্তোষীর নতুন সিনেমা ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’-এর মাধ্যমে তার সিনেপর্দায় প্রত্যাবর্তন ঘটছে। এই ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন সানি দেওল ও শাবানা আজমি। এ ছাড়া কুণাল খেমুর পরিচালনায় ‘ভাইব’ নামের আরেকটি নতুন চলচ্চিত্রেও প্রীতিকে দেখা যাবে। সব মিলিয়ে প্রেমের পুরোনো অতীত আর ভিত্তিহীন গুঞ্জন পেছনে ফেলে নিজের কাজ ও পরিবার নিয়েই আপাতত ব্যস্ত এই বলিউড অভিনেত্রী।
দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় লন্ডনে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা নেওয়ার পর দেশে ফিরেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার সকালে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। দেশে ফেরার সময় তার সঙ্গে ছিলেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে স্বজন, সহকর্মী ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, শরীরও ভালো আছে। সবার কাছে দোয়া চাই, আর আমার দোয়া সবার জন্য রইল।” ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তিনি। একই বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকি ও জটিলতার কারণে টিউমারের পুরো অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে হয় এবং মোট ৬০টি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেতা ‘বেদের মেয়ে জোছনা’সহ বহু ব্যবসাসফল ও কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবেও তিনি পরিচিত। সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্র তাকে একুশে পদকে ভূষিত করেছে। তার দেশে ফেরা ও শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবরে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।
শ্রাবণের স্নিগ্ধ বর্ষাধারাকে কবিতা, আবৃত্তি ও সংগীতের সম্মিলিত পরিবেশনায় উদযাপন করতে ‘শ্রাবণ বরিষণে: কাব্য সুরে বর্ষা বন্দনা’ শীর্ষক বিশেষ আবৃত্তি প্রযোজনার আয়োজন করে আবৃত্তি সংগঠন কাব্যকুহুক ও পারফরমার্স ক্লাব। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন দর্শকদের জন্য হয়ে ওঠে বর্ষার রূপ, রস ও অনুভূতির এক অনন্য শিল্পভ্রমণ। অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দেন আবৃত্তিশিল্পী ও সংবাদ উপস্থাপক ফারহানা তৃনা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রিয়াংকা গোপ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কাব্য কুহুকের সহপরিচালক মুত্তাকিন হাসান। সমবেত কণ্ঠে কবিতা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর আবৃত্তিশিল্পী ফারহানা তৃণার আবৃত্তি এবং সংগীতশিল্পী বিজন মিস্ত্রির সুরেলা পরিবেশনায় সৃষ্টি হয় গান ও কবিতার এক অনন্য যুগলবন্দি। একক ও সমবেত পরিবেশনায় বর্ষার সৌন্দর্য, আবেগ, বেদনা, কদমফুলের সৌরভ, গ্রামীণ জীবনের মনোরম দৃশ্যপট এবং ঋতুর বৈচিত্র্য কবিতার ছন্দ, আবৃত্তির আবহ ও সংগীতের মূর্ছনায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। দর্শকরা উপভোগ করেন বৃষ্টিভেজা প্রকৃতির অনুভবকে শিল্পিতভাবে মঞ্চে তুলে ধরার এক মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা। অনুষ্ঠানে কাব্যকুহুকের নবীন ও শিশুশিল্পীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় করে তোলে। কবিতা, আবৃত্তি ও সংগীতের সম্মিলিত পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে বর্ষার আবহকে নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ সৃষ্টি করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, “ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে প্রতিটি ঋতুকেই আমরা নিজস্ব আবেগ ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বরণ করি। নির্মল ও সবুজ প্রকৃতির মতোই নতুন প্রজন্ম সুস্থ, সুন্দর ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কাব্যকুহুক সেই দায়িত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে পালন করছে।” বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. প্রিয়াংকা গোপ বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে শিশুরা মন খুলে গান গাইবে, আবৃত্তি করবে এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চায় বেড়ে উঠবে। এই ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” কাব্যকুহুকের পরিচালক ফারহানা তৃনা বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর বাণী ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’কে ধারণ করে কাব্যকুহুক চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সী মানুষের কাছে কবিতা ও আবৃত্তিকে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য নতুন শ্রোতা তৈরি করা এবং কবিতা-আবৃত্তির প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলা।” তিনি আয়োজনে অংশগ্রহণকারী শিল্পী, অতিথি এবং উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শিল্পসম্মত উপস্থাপনা, প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এবং দর্শকদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতিতে ‘শ্রাবণ বরিষণে: কাব্য সুরে বর্ষা বন্দনা’ হয়ে ওঠে বর্ষাকে ঘিরে কবিতা, আবৃত্তি ও সংগীতের এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন।
নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রথম আসরে নির্মাতা আসাদুজ্জামান সবুজ পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নিখোঁজ (Lost)’ অর্জন করেছে **শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (Best Short Film) ও শ্রেষ্ঠ পরিচালক (Best Director) পুরস্কার। বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই উৎসবে বাংলাদেশের ও বাংলা ভাষায় নির্মিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শাখায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। ‘নীলচে দিন’ ছোটগল্প থেকে অনুপ্রাণিত ১৩ মিনিট দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘নিখোঁজ (Lost)’ একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনে ঘটে যাওয়া রহস্যময় ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত। মানবিক সম্পর্ক, নীরবতা, অপরাধবোধ এবং অদৃশ্য সত্যের অনুসন্ধান—এই চারটি বিষয়কে চলচ্চিত্রটি সংবেদনশীল ও নান্দনিক ভাষায় উপস্থাপন করেছে। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন আসাদুজ্জামান সবুজ। প্রযোজনা করেছেন মো. জি. রাব্বানী। এতে অভিনয় করেছেন শাহেদ আলী, ফারিহা শামস সেঁওতি, রিপা রঞ্জনা, অপু আহমেদসহ আরও অনেক শিল্পী। পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে নির্মাতা আসাদুজ্জামান সবুজ বলেন, ‘যেকোনো স্বীকৃতি একজন নির্মাতার জন্য আনন্দের এবং ভালো কাজ করার প্রেরণা। এই সম্মাননার জন্য আমি উৎসবের আয়োজক, সম্মানিত জুরি বোর্ড এবং দর্শকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ প্রযোজক মো. জি. রাব্বানী বলেন, ‘এই অর্জন শুধু ‘নিখোঁজ’ চলচ্চিত্রের নয়; এটি বাংলা ভাষার স্বাধীন মৌলিক গল্পের জন্যও অনুপ্রেরণা। আমাদের আরও সাহিত্যনির্ভর ভালো ছবি নির্মাণ করতে হবে।’ উৎসবের আয়োজকরা জানান, বাংলা সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র—এই তিনটি বিভাগে প্রদর্শনী ও পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। উৎসবটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল আমেরিকান বাংলাদেশী প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (ABPA)।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।