শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেছিলেন মাফতুহা জান্নাত। এরপর মাঝখানে পড়াশোনার জন্য বিরতি। শেষে আবার নতুন করে শুরু দর্শকদের কাছে জিম নামে পরিচিতি পাওয়া এ অভিনেত্রীর। শাবানা ও শাবনূরের ভক্ত ছিলেন তিনি। ছোটবেলায় তাদের সিনেমা দেখে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখতেন মাফতুহা জান্নাত। যদিও শুরুটা হয়েছিল নাচ দিয়ে। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘দেবী’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান মাফতুহা জান্নাত। সিনেমাটিতে রানুর (জয়া আহসান) ছোটবেলার স্মৃতিচারণার অংশে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। তবে শৈশবের সেই অভিনয় নিয়মিত হয়নি। পড়াশোনার জন্য দীর্ঘদিনের বিরতি। ২০২৩ সালে আবার নতুন করে ফেরা। বাবু সিদ্দিকীর পরিচালনায় ‘সিক্রেট গার্লফ্রেন্ড’ ছিল মাফতুহা জান্নাতের প্রথম নাটক। কীভাবে সুযোগ মিলল? সে প্রসঙ্গে জিম বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে বাবু সিদ্দিকী ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। আমার অভিনয়ের আগ্রহের কথা জেনে তিনি সুযোগ দিয়েছিলেন। এভাবেই শুরু।’ এরপর মাবরুর রশিদ বান্নাহর ‘যত্ন’। এ প্রসঙ্গে মাফতুহা জান্নাত বলেন, ‘যত্ন’ নাটকটি আমার টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এ নাটকের ইরা চরিত্র দর্শকেরা বেশ পছন্দ করেছিলেন। এখনো দর্শক দূর থেকে ইরা নাম ধরে ডাকেন। আরশ খান ভাইয়ের সঙ্গে আমাকে দর্শক খুব পছন্দ করেন। এই কাজ দর্শক পছন্দ করায় সকাল আহমেদ ভাই নির্মাণ করেন ‘দোষটা কার?’ এ নাটকেও দর্শক আমাদের জুটি পছন্দ করেন। এ নাটকে চেনা ছকের বাইরে গিয়ে আমাকে চরিত্রের জটিল মনস্তত্ত্ব ফুটিয়ে তুলতে হয়েছিল, যা অভিনেত্রী হিসেবে আমাকে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে উসকে দিয়েছিল। কাজটি প্রকাশের পর সাধারণ দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলাম। এটা আমার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। সম্প্রতি জিমের আলোচনায় থাকার বড় কারণ হচ্ছে—‘বিষপাখি’, ‘পেট্রোল’ ও ‘আহা একি মায়া’। এ তিন নাটকের গল্প ও চরিত্রে ভিন্নতা রয়েছে। তাঁর কাছেও প্রতিটি কাজের অভিজ্ঞতা আলাদা মনে হয়েছে। জিম বলেন, ‘দর্শক এখন একঘেয়ে গল্প দেখতে চান না। তিনটি নাটকের গল্প একটির চেয়ে অন্যটি সম্পূর্ণ আলাদা। রোমান্স, ড্রামা থেকে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার—বিভিন্ন ধরনের গল্পে দর্শক নতুনত্ব পেয়েছেন। প্রতিটি চরিত্রে চেষ্টা করেছি, সাধারণ মানুষ যেন নিজের জীবনের সঙ্গে চরিত্রগুলো মেলাতে পারেন। চরিত্রের চেনা রূপ ও বাস্তবতাই দর্শকদের মন ছুঁয়েছে বলে মনে করি।’ জিম বলেন, অনেক নির্মাতা ও প্রযোজক নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। ফলে শুরুতে একই ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব বেশি আসে। অভিনয়দক্ষতা প্রমাণের জন্য বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী চরিত্র পাওয়া নতুনদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমাকেও এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নতুনদেরও প্রতিভা আছে। তাদের সুযোগ দেওয়া দরকার।’ অভিনয়ে শরীরী ভাষার গুরুত্বও এই পড়াশোনার মাধ্যমে বুঝতে শিখেছেন। অভিনেত্রী বলেন, ‘অভিনয়ে শুধু সংলাপ বললেই হয় না। চোখের ইশারা কিংবা শরীরের ছোট্ট কোনো অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। কীভাবে অতিরঞ্জন না করে একটি চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হয়, নাট্যকলার পড়াশোনা আমাকে তা শিখিয়েছে। স্ক্রিপ্ট পড়ার পর এর ভেতরের মূল ভাবনা বুঝতেও সুবিধা হয়। পরিচালকের চাওয়া অনুযায়ী অভিনয় করতে এটি অনেক সাহায্য করে।’ ভবিষ্যতে কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চান মাফতুহা জান্নাত? নির্দিষ্ট কোনো নির্মাতার নাম বলতে চাননি তিনি। বরং সব নির্মাতার সঙ্গেই তাঁর কাজ করার আগ্রহ রয়েছে। তবে চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিতে চান। বিশেষ করে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা রয়েছে, এমন চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা তাঁর। সাদা-কালো বিভাজনের বাইরে পর্দায় তুলে ধরতে চান মানুষের মনের নানা রূপ। পাশাপাশি বাস্তব জীবনের শক্তিশালী নারীদের গল্পও অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে আনতে চান।
বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের আসন্ন সিনেমা ‘কিং’-এর প্রথম গান ‘তু মিল যায়ে’ প্রকাশের পর নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গানটির একটি দৃশ্যে অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের গেরুয়া রঙের পোশাক নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য রবীন্দ্র সিং নেগি। একই সঙ্গে দৃশ্যটি পরিবর্তন না করলে দেশজুড়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি প্রেস জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীপিকার পোশাকের রংকে কেন্দ্র করে আপত্তি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা নেগি। তার দাবি, গেরুয়া রঙের পোশাক ব্যবহার করে সনাতন ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শাহরুখ খানকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্যও করেন তিনি। সিনেমার দৃশ্যটি বাদ না দিলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের হুঁশিয়ারি দেন এই বিজেপি নেতা। নেগি আরও দাবি করেন, তিন বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘পাঠান’ সিনেমায় দীপিকার গেরুয়া রঙের পোশাক নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। সে সময় বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার বক্তব্য, সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে কোনো কিছুই মেনে নেওয়া হবে না। তাই ‘কিং’ সিনেমার বিতর্কিত দৃশ্য পরিবর্তন করতে হবে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিনেমাটির পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ, শাহরুখ খান কিংবা দীপিকা পাড়ুকোনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখ খানের সঙ্গে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন ও শাহরুখকন্যা সুহানা খান। এ ছাড়া সিনেমাটিতে আরও রয়েছেন অভিষেক বচ্চন, রানি মুখার্জি, কারিনা কাপুর, অনিল কাপুর, জ্যাকি শ্রফ, আরশাদ ওয়ার্সি, জয়দীপ আহলাওয়াত, রাঘব জুয়াল, সৌরভ শুক্লা ও ববি দেওলসহ একাধিক তারকা। সিনেমাটি আগামী ২৪ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
একসঙ্গে নতুন সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় তিন তারকা চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি ও সিয়াম আহমেদ। রায়হান রাফির ‘আন্ধার’ সিনেমার পর এবার শঙ্খ দাশগুপ্তের নতুন চলচ্চিত্র ‘আবার দেখা হলো’তে দেখা যাবে তাদের। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। এতে চঞ্চল চৌধুরী ও নাজিফা তুষির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করবেন সিয়াম আহমেদ। ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা আগামী ১০ নভেম্বর। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন লোকেশনে এর দৃশ্যধারণ করা হবে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফ্রেম পার সেকেন্ড ও চরকি যৌথভাবে সিনেমাটি নির্মাণ করছে। ইতোমধ্যে শুটিংয়ের প্রাথমিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্মাতাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘আবার দেখা হলো’। এদিকে রায়হান রাফি পরিচালিত ‘আন্ধার’ সিনেমাটি আগামী বছরের ২৬ মার্চ মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে পরপর দুটি সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি ও সিয়াম আহমেদকে একসঙ্গে দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকেরা।
ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় ক্রাইম সিরিজ ‘সিআইডি’র নির্মাতা ও বর্ষীয়ান প্রযোজক-পরিচালক ব্রিজেন্দ্র পাল সিং আর নেই। বিপি সিং নামেই পরিচিত এই নির্মাতা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর সকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অশোক পণ্ডিত। ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘সিআইডি’। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া এই অপরাধভিত্তিক ধারাবাহিকে মুম্বাইয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের নানা রহস্যজনক ঘটনার কিনারা করতে দেখা যেত। জটিল অপরাধের তদন্ত, নাটকীয় মোড় এবং চরিত্রগুলোর অভিনয়—সব মিলিয়ে ধারাবাহিকটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। শুধু অপরাধভিত্তিক কাহিনি নয়, ভৌতিক ও রহস্যধর্মী ধারাবাহিক নির্মাণেও বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন বিপি সিং। তার নির্মিত ‘আহট’ একসময় টেলিভিশন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সম্প্রচারিত এই ধারাবাহিক ভৌতিক গল্পের উপস্থাপনায় স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করে। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিপি সিং এমন কিছু টেলিভিশন নির্মাণ করেছেন, যা কয়েক প্রজন্মের দর্শকের স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে ‘সিআইডি’ ও ‘আহট’-এর মতো ধারাবাহিকের মাধ্যমে অপরাধ, ভৌতিক ও রহস্যধর্মী গল্পকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। তার প্রয়াণে ভারতীয় টেলিভিশন জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সামাজিক মাধ্যমে বেশ ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি। তাতে দেখা যায়, দর্শক-শ্রোতাদের সামনে মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করছিলেন এক গায়িকা। এমন সময়ে এক দর্শক মঞ্চে উঠে গায়িকার দিকে ইসরায়েলের পতাকা এগিয়ে দেন। এতে মেজাজ হারান সেই গায়িকা। পতাকাটি হাত থেকে কেড়ে নেন, ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে মাড়াতে থাকেন। এরপর তা লাথি দিয়ে সরান। ভিডিওটিতে সেই গায়িকাকে না চিনলেও তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন নেটিজেনরা। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন ও গাজায় হামলা চালিয়ে আসা দখলদার সেই দেশটির প্রতি গায়িকার ‘ঘৃণা প্রকাশ’ হিসেবেই দেখছেন তারা। ফিলিস্তিনে আগ্রাসনের প্রতিবাদে গায়িকার এই প্রতিক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়ে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন নেটিজেনদের বড় একটা অংশ। অনেকে আলোচিত এই গায়িকার পরিচয় নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন; একইসঙ্গে ঘটনাস্থল নিয়েও জানতে জানতে। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মিডিয়া মারফতে জানা গেল তার পরিচয়। তিনি হলেন কলম্বিয়ান র্যাপার চেলো হপ। জর্ডানের সংবাদ মাধ্যম রয়া নিউজ ও ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ফ্রি প্রেস এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ অক্টোবর কলম্বিয়ার বোগোটার সিমন বলিভার মেট্রোপলিটন পার্কে ‘হিপ হপ আল পারকে’ উৎসবে পারফর্ম করার সময় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে পারফর্ম করছিলেন চেলো, আর পতাকা মাড়ানোর ঘটনা ঘটে। পারফর্মের সময় ‘পালেস্তিনা লিব্রে’ বলে স্লোগান দেন তিনি। স্প্যানিশ ভাষার এই স্লোগানের অর্থ ‘মুক্ত হোক ফিলিস্তিন’। এই গায়িকা রাজনৈতিক গান তথা বিভিন্ন গণআন্দোলনের ধৈর্য ও প্রতিরোধের কথা বলা হয়েছে- এমন গান পরিবেশনের জন্যেও বেশ পরিচিত। সেই মঞ্চেই তিনি ‘অ্যানাতোমিয়া’ নামে একটি গান পরিবেশন করেছিলেন; যেখানে উঠে আসে সেই বিষয়গুলো। ঘটনাটি ২৪ অক্টোবর ঘটলেও সম্প্রতি ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে; এতে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে চেলো হপের প্রতিবাদের এই দৃশ্য আলোচনায় আসে। শোনা যাচ্ছে, এ ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছে কলম্বিয়ায় নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর নানা টানাপোড়েন শেষে শনিবার গভীর রাতে পিরোজপুরে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে তাকে দাফন করা হয়। রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা। সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে মানিক পশারীর দাফন ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাকে কবর দেওয়ায় বাধা সৃষ্টি করল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং হারিকেন জ্বালিয়ে তার আলোতে আলোকিত করে তার কন্যাসন্তান নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বাবার কবর তৈরি করল। আগের কবরটি স্বাধীনতাবিরোধীরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এই অভিনেতা। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আগের কবরটি স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে। স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় শক্তি নাকি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে। কোনো আলামত তো দেখা গেল না। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে সোহেল রানা লেখেন, ‘সরকারের কাছে এর সঠিক জবাব চাই।’ মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। সোহেল রানা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তারা হয়তো ব্যর্থ হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘নইলে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কোনোটাই তো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। পোস্টের শেষ দিকে নিজের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখেন, ‘না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার আগে এমনি ধরনের সংবাদ আমার মতো অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তক্ষরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় শক্তি সবাই জেগে ওঠো। এবার আর ক্ষমা নয়।’ উল্লেখ্য, মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস, ইসলামপ্রেম ও মানবতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। মুসলমান হিসেবে নিজের পরিচয় ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধার কথা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, অন্য সব ধর্মের প্রতি সম্মান রেখেই ইসলামকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন তিনি। রোববার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে কনকচাঁপা নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক পরিচয়, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং মানবসেবা সম্পর্কে বিস্তারিত লেখেন। পোস্টের শুরুতে নিজেকে বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক ও গর্বিত মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেন এই কণ্ঠশিল্পী। পাশাপাশি সংগীতজগতের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং ভক্তদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ইসলাম ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান কনকচাঁপা লেখেন, নিজের ধর্মের মৌলিক বিষয়ে তাঁর গভীর বিশ্বাস রয়েছে। অন্য সব ধর্মকে সম্মান করলেও নিজের ধর্ম ইসলাম, সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা সবচেয়ে বেশি। ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকাশ করতে তাঁর কোনো সংকোচ নেই বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি মৃত্যু, পরকাল, কিয়ামত, হাশরের ময়দান এবং আল্লাহর বিচারের প্রতি নিজের বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন এই শিল্পী। তিনি আরও জানান, পবিত্র কোরআন তাঁর কাছে গভীর বিস্ময় ও জ্ঞানের উৎস। আরবি ভাষায় কোরআন পড়ার পাশাপাশি এর অন্তর্নিহিত অর্থ বোঝার জন্য বাংলাতেও নিয়মিত পড়াশোনা করেন তিনি। মানবতা ও ধর্মীয় অনুশাসন প্রসঙ্গে বক্তব্য মানবতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সম্পর্ক নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেছেন কনকচাঁপা। তাঁর মতে, মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলি থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে ধর্মীয় বিশ্বাস বজায় রেখে মানবসেবায় নিয়োজিত থাকতেও কোনো বাধা নেই। তিনি মনে করেন, মানবতার নামে ধর্মীয় অনুশাসনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে চলা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা পরস্পরবিরোধী নয়। ধর্মীয় অবমাননা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার আহ্বান পোস্টে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বিদ্রূপ এবং ইসলামি রীতিনীতি নিয়ে কটাক্ষের বিষয়েও প্রতিক্রিয়া জানান এই সংগীতশিল্পী। তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থাকার কথা জানিয়ে বলেন, সব ধর্মের মূল শিক্ষার মধ্যে শান্তির বার্তা রয়েছে। তবে নিজের ধর্মীয় অনুশাসন ও জীবনাচরণের ক্ষেত্রেও তিনি ইসলামকেই অনুসরণ করতে চান। কনকচাঁপার মতে, মানবতার জন্য কাজ করতে হলে ধর্মীয় পরিচয় অস্বীকার করা কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিবার ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেন নিজের পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে কনকচাঁপা জানান, তাঁর বাবা আজিজুল হক মোর্শেদ এবং মা মোমেনা জাহানের কাছ থেকে পাওয়া পারিবারিক শিক্ষা তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর স্বামী মইনুল ইসলাম খান একজন সুরকার ও সংগীত পরিচালক। নিজের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে তিনি লেখেন, মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়াই তাঁর বিশ্বাসের একমাত্র কারণ নয়; বরং নিজের অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস ও ভালোবাসা থেকেই ইসলামকে ধারণ করেছেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে নিজের ও পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া চান এই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। একই সঙ্গে সবার মঙ্গল কামনা করেন তিনি।
বলিউড অভিনেতা ইমরান খান এখন খবরের পাতায় প্রায় শিরোনামে আসছেন। ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র দিল্লির বিক্ষোভে অংশগ্রহন করে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এছাড়া সম্প্রতি তাকে ভারত ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এবার আরও একটি নতুন খবরে এলেন তিনি। তার প্রথম স্ত্রী অবন্তিকা বিচ্ছেদের নেপথ্য সত্য সামনে আনলেন। প্রায় ১৮ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক ও ৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান ইমরান খান ও অবন্তিকা মালিক। সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের সঙ্গে এক খোলামেলা আড্ডায় বিচ্ছেদ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। অবন্তিকা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলাদা হওয়ার প্রথম প্রস্তাবটি ইমরান খানের পক্ষ থেকেই এসেছিল। সোহা আলি খান যখন অবন্তিকাকে জিজ্ঞাসা করেন যে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তটি কার ছিল, তখন অবন্তিকা সোজাসাপ্টা ইমরানের নাম নেন। অবন্তিকা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে সিদ্ধান্তটা ওরই ছিল। আমি হয়তো নিজের ক্ষতি করে হলেও কখনও আলাদা হওয়ার কথা ভাবতাম না। এটি সম্পূর্ণ ওর সিদ্ধান্ত ছিল।’ অবন্তিকা আরও জানান, প্রথমে ইমরান কিছুদিন আলাদা থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। টানা ছয় মাস আলাদা থাকার পর তারা যৌথভাবে ডিভোর্সের (Divorce) সিদ্ধান্ত নেন। জন্মদিনে চমক দিলেন পরীমণি, আসছে ‘ফারজানা’জন্মদিনে চমক দিলেন পরীমণি, আসছে ‘ফারজানা’ দীর্ঘ ১৮ বছরের সঙ্গী এবং সংসারের ইতি টানাকে এক পরম বেদনার অভিজ্ঞতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন অবন্তিকা। অবন্তিকা বলেন, ‘এই বিচ্ছেদটা আমার কাছে একটা মৃত্যুর মতো ছিল। নিজের ভবিষ্যৎ জীবনটাকে যেভাবে কল্পনা করেছিলাম, যেভাবে সাজাতে চেয়েছিলাম—সেই সমস্ত স্বপ্নের মৃত্যু। জীবনের সবথেকে ঘনিষ্ঠ একটি সম্পর্কের সমাপ্তি এটি।’ ২০১৯ সালে আলাদা হওয়ার পর ইমরান খান বর্তমানে অভিনেত্রী ও শিল্পী লেখা ওয়াশিংটনের (Lekha Washington) সঙ্গে প্রেমে রয়েছেন। ২০১১ সালে বিয়ে করেছিলেন আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খান ও অবন্তিকা মালিক।
বর্তমান প্রজন্মের আলোচিত অভিনেত্রী নাজনীন নীহা। অল্প সময়ে নিজেকে ব্যস্ত করে তুলেছেন তিনি। বছরজুড়েই দেখা মেলে তার অভিনীত নাটকের। টেলিভিশনের পাশাপাশি ওটিটিতেও রয়েছে তার বিচরণ। সমসাময়িক অনেকেই সিনেমার জন্য দৌড়ঝাঁপ করলেও নিজেকে এখনো বড়পর্দার বাণিজ্যিক সিনেমার জন্য সম্পূর্ণ ফিট মনে করেন না এই অভিনেত্রী। নীহা জানিয়েছেন, এখনই সিনেমার জন্য প্রস্তুত নন তিনি। এ প্রসঙ্গে নাজনীন নিহা বলেন, ‘আমি এখনো আসলে বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমা বলতে যা বোঝায় তাতে কাজ করার জন্য প্রস্তুত নই। অবশ্যই সিনেমায় অভিনয় করব। তবে এখন নয়। আমার মনে হয় এখনো নিজেকে প্রস্তুত করা অনেক বাকি। নাটকে অভিনয় করতেই আমি এখনো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। সিনেমা আসলে অনেক বড় বিষয়। যে কারণে অভিনয়ের জন্য আমি নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেই তারপর সেখানে কাজে নামতে চাই। সেজন্য আমি একটু সময় নিচ্ছি।’ প্রেক্ষাগৃহের জন্য কাজ না করলেও এরইমধ্যে ওটিটির জন্য নির্মিত একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেত্রী। নাম ‘ইনস্টাগ্রাম’। পরিচালনা করছেন মোস্তফা কামাল রাজ। এটি ইউটিউবে মুক্তি পাবে। এদিকে সম্প্রতি অপুর্বর সঙ্গে জুটি বেঁধে একটি নাটকে অভিনয় করেছেন নীহা। নাম ‘ভালো আছ তো’। নির্মাণ করেছেন জাকারিয়া সৌখিন। এটিও এরইমধ্যে প্রকাশ হয়েছে।
বিভিন্ন মাধ্যমে স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে ছড়ানো খবরের ‘ভিত্তি নেই’ বলে দাবি করেছেন নির্মাতা ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। পাশাপাশি তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার তথ্য তুলে ধরে একটি সাইবার অপরাধী গ্রুপ ‘উল্লাস’ করছে বলেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন তিনি। শনিবার সকাল থেকে ফেইসবুক একাউন্ট হ্যাক হয়েছে জানিয়ে ফারুকী বলেন, “আজ সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখলাম এই ঘটনা। অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করে ডিঅ্যাক্টিভেট করে রেখেছে। বাংলাদেশের একটা সাইবার অপরাধী গ্রুপ, তারা এটা করে বিভিন্ন গ্রুপে সেলিব্রেট করছে। আমার কাছে স্ক্রিনশট আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এগুলো নিয়ে তৎপর হওয়া দরকার, এগুলোতো নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়। অনলাইনে ছড়ানো বিচ্ছেদের গুজব ও কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এ বিষয়ক সংবাদে কান দেওয়ার মত সময় তার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পক্ষে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর দেওয়া স্ক্রিনশট। ক্ষোভ প্রকাশ করে এই নির্মাতা বলেন, “ওই নিউজের ওপর কথা বলার কোনো টাইম নাই, হ্যাভ নো ইন্টারেস্ট। এসবের কোনো ভিত্তি নেই। এসব অপদার্থদের কথায় কান দেওয়ার মত সময় আমার নেই।” বিদেশে স্থাবর সম্পত্তি থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনাকে ‘কৌতুকপ্রদ’ আখ্যা দিয়ে ফারুকী বলেন, “সবচেয়ে কৌতুকপ্রদ বিষয় হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ডে একটা লোকের বাড়ি থাকা, এটা তো যে কেউ সার্চ দিলেই বের করে ফেলতে পারে। এসব অপপ্রচার আমাকে নিয়ে আগেও ছিল। বরং এসব অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক এড়িয়ে আমার কাজের খবর নিয়ে নিয়ে লিখুন।” বর্তমানে দুটি বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ করেছেন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “একটা বিজ্ঞাপন হচ্ছে সফটওয়্যার নিয়ে, আর একটা বিজ্ঞাপন হচ্ছে বিল্ডিং মেটেরিয়ালস এর। এই দুইটার শুটিং হয়েছে ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায়।” অচিরেই তৃতীয় আরেকটি বিজ্ঞাপন তৈরি করবেন জানিয়ে ফারুকী বলেন, “আরেকটা বিজ্ঞাপনের শুটিং শুরু হবে সামনে। সেখানে একজন সেলিব্রেটি থাকবেন। সেটা কে হয়তো আগামী একদিনের মধ্যে বলতে পারব।” দুইটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করেছেন তথ্য দিয়ে এই নির্মাতা বলেন, “চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্টের একটা হচ্ছে প্রেমের গল্প, থ্রিলার টাইপের না। প্রেমের সংজ্ঞাও বদলে যাচ্ছে এখন নতুন জেনারেশনের। এই নতুন নতুন সংজ্ঞার প্রেম ধরার চেষ্টা করছি। জেন-জি জেনারেশন আরকি। তাদের প্রেমের ব্যাপারটা কি দাঁড়ায় সেটা দেখার চেষ্টা করছি এই সিনেমাতে। এটার স্ক্রিপ্ট প্রায় লেখা শেষ। এটার আপাতত নাম রেখেছি ‘টু হেল, উইথ লাভ’। “আরেকটা হচ্ছে পলেটিক্যাল ব্যাকড্রপের স্টোরি, সেটাও আমরা শেষ করতেছি। কোনটি আগে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি।” এদিকে ‘বিচ্ছেদ গুঞ্জন’ প্রসঙ্গে জানতে নুসরাত ইমরোজ তিশাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। দীর্ঘদিন ধরে শোবিজে পরিচিত ফারুকী ও তিশা দম্পতি ২০১০ সালের ১৬ জুলাই বিয়ে করেন। ২০২২ সালে জন্ম নেয় তাদের কন্যাসন্তান ইলহাম নুসরাত ফারুকী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিশা টিভি নাটক ছাড়াও ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘টেলিভিশন’, ‘অস্তিত্ব’, ‘ডুব’, ‘হালদা’, ‘মায়াবতী’ ও ‘ফাগুন হাওয়ায়’ সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তৌকির আহমেদের পরিচালনায় ‘হালদা’ ও অনন্য মামুন পরিচালিত ‘অস্তিত্ব’ সিনেমার জন্য দুইবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অন্যদিকে ১৯৯৯ সালে নির্মাণ শুরু করা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ‘ছবিয়াল’ এর ব্যানারে ‘স্পার্টাকাস ৭১’, ‘একান্নবর্তী’, ‘সিক্সটিনাইন’ ও ‘৪২০’- সহ একক ও ধারাবাহিক নাটক তৈরি করেছেন। পরবর্তীতে ‘ব্যাচেলর’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘টেলিভিশন’, ও ‘ডুব’-এর মত আলোচিত চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন। সবশেষ তিনি ‘৮৪০: ডেমোক্রেসি প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সিনেমা তৈরি করেন; যেটি ২০২৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এরপর আর চলচ্চিত্রে পাওয়া যায়নি তাকে।
দেশের বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মারা গেছেন মডেল, অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা তুলনা আল হারুন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তুলনার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার মা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমেনা বেগম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে তুলনা আল হারুনের শরীরে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। গত ২০ অক্টোবর তার অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে ততদিনে ক্যানসার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ায় শারীরিক অবস্থার জটিলতা বেড়ে যায়। অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দুই দিন তুলনার শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেন। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। একপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তিনি। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তুলনা আল হারুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার মা। প্রয়াত তুলনা আল হারুন ছিলেন দেশের প্রখ্যাত নাট্যকার ও নির্মাতা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ভাই আব্দুল্লাহ আল হারুনের মেয়ে। একসময় মডেলিং, অভিনয় ও টেলিভিশন উপস্থাপনায় সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। অকালপ্রয়াণে তার পরিবার, স্বজন ও বিনোদনজগতের সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের অনেকে। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে তুলনা আল হারুনের এমন অকালবিদায় দেশের বিনোদন অঙ্গনের জন্য এক বেদনাদায়ক ঘটনা।
বিনোদন জগতের মডেল-অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা তুলনা আল হারুন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ... রাজিউন)। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টা ৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক ও বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তুলনার ছোটভাই আয়াজ তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। পারিবারিকসূত্রে জানা গেছে, তুলনার ব্রেন টিউমার থেকে ক্যানসার ধরা পড়ে। এর আগে অস্ত্রোপচার করে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবার আরও জানিয়েছে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) মোহাম্মদপুরের মনসুরাবাদ পিসিকালচার হাউজিংয়ের ৩ নম্বর রোডে জানাজা শেষে তাকে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। এদিকে তুলনার মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার সহকর্মী, দেশের নামিদামি ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার, ডিজাইনারসহ ভক্ত-অনুরাগীরা গভীর শোক প্রকাশ করেন। অনেকেই তার চলে যাওয়াকে দেশের মডেলিং ও বিনোদন জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, মডেল-অভিনেত্রী তুলনা আল হারুন তার দীর্ঘ কর্মজীবনে মডেলিং, অভিনয় ও উপস্থাপনায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার ও স্টাইলিস্ট হিসেবেও তিনি ছিলেন সমানভাবে প্রশংসিত। ব্যক্তিগতজীবনের কঠিন লড়াই আড়ালে রেখেও সামাজিক মাধ্যমে সবসময় প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও ইতিবাচক মনোভাব দিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি।
সংগীতশিল্পী ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর মগবাজারে বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় গাড়িতে না থাকায় অক্ষত রয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। এদিকে স্বামীর নিরাপদে থাকার খবরে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন তার স্ত্রী বেগম সালমা আসিফ। ঘটনার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে সালমা আসিফ লেখেন, ‘ভোর ৫টার ঘটনা... আল্লাহ পাক হেফাজতের মালিক, আমিন।’ সংক্ষিপ্ত এই পোস্টের মাধ্যমে স্বামীর নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তি ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুলির ঘটনার সময় আসিফ আকবর গাড়ির ভেতরে ছিলেন না। ফলে তিনি কোনো শারীরিক ক্ষতির শিকার হননি। তবে কে বা কারা তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ আসিফ আকবর ক্রিকেট অঙ্গনেও সুপরিচিত। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় এখন পর্যন্ত আসিফ আকবর কোনো মন্তব করেননি। ঘটনার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
শোবিজ অঙ্গনে সরব গুঞ্জন—ভাঙনের মুখে ফারুকী-তিশার সংসার। বেশ কয়েক দিন ধরে অনলাইন কিংবা অফলাইনে উড়ছে এই খবর। গতকাল দেশ-বিদেশের একাধিক গণমাধ্যমে নতুন করে এসেছে খবরটি। তবে কি সত্যিই ভেঙে যাচ্ছে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সংসার! এ বিষয়ে জানতে সরাসরি কথা হয় সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে। ভাঙনের গুঞ্জনকে উড়ো খবর বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানালেন দুজনের নতুন কাজের খবর। সংসার ভাঙনের খবর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে তো নানা প্রোপাগান্ডা, মিথ্যা নিউজ প্রচার শুরু হয়েছে আরও আগে থেকে। এখন চলছে ব্যক্তিগত আক্রমণ। আসলে মিথ্যা নিউজে তো ঘটনা সত্য হয় না। আর এসব নিয়ে কথা বলা মানে আরও প্রশ্রয় দেওয়া। তাই এ বিষয়ে আমি বা তিশা কেউই কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এর চেয়ে বরং নতুন কাজ করছি, আসুন নতুন কাজ নিয়ে কথা বলি।’ কাজের খবর জানতে চাইলে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানালেন, ১০ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়া গিয়েছিলেন বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আমন্ত্রণে। সেখানে ফিল্ম নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। বুসানে যাওয়ার আগেই শেষ করেছেন একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ। ১৭ অক্টোবর বুসান থেকে দেশে ফিরে শুরু করেছেন নতুন বিজ্ঞাপনের কাজ। সিনেমার কাজে হাত দিয়েছেন আরও আগেই। ইতিমধ্যে একটি সিনেমার গল্প লেখা শেষ করে হাত দিয়েছেন নতুন সিনেমার গল্পে। নতুন বিজ্ঞাপন নির্মাণ প্রসঙ্গে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে ব্যস্ত তিনটা বিজ্ঞাপন নিয়ে। একটা স্বাস্থ্যসেবার; বাকি দুটি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালের। একটার শুটিং শেষ। এটার শুটিং হয়েছে ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায়।’ নতুন সিনেমার কাজ নিয়ে জানতে চাইলে ফারুকী বলেন, ‘ফিল্মের স্ক্রিপ্ট লিখছি। একটা নতুন দিনের প্রেমের গল্প অথবা বলা যায় প্রেম আর বন্ধুত্বের বাইরে যে নো ম্যানস ল্যান্ড থাকে, সেটার গল্প। অথবা সেটাও প্রেমই। প্রেমের বর্ধিত মানচিত্রের গল্প। আপাতত নাম রেখেছি “টু হেল, উইথ লাভ”। আরেকটা স্ক্রিপ্ট লেখা আছে, সেটা আমাদের সময়ের রাজনৈতিক মানচিত্রের গল্প। এটার নাম এখনো ঠিক হয়নি। রাজনীতি বললে পলিটিক্যাল স্যাটায়ার ভাবতে পারে অনেকে, যেহেতু আমি আগেও স্যাটায়ার করেছি। এটা আসলে ভীষণ হার্ট ব্রেকিং একটা স্টোরি।’ ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যেও কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিশা। সম্প্রতি ফুলস্ক্রিন নামের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন তিনি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ফুলস্ক্রিন নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে আরশ খান ও প্রিয়ন্তী উর্বি অভিনীত নাটকটি। কথা বলার জন্য তিশাকে একাধিকবার কল করা হলেও ধরেননি। পুনরায় সরয়ার ফারুকীকে কল করলে তিনি জানান, নতুন একটি আন্তর্জাতিক সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে মিটিংয়ে আছেন তিশা। তাই কল ধরতে পারেননি। সিনেমাটি নিয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে চাননি, সবকিছু চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী। তবে তাঁর আক্ষেপ, নিজের অভিনয়দক্ষতার পুরোটা কাজে লাগানোর সুযোগ পাননি তিনি। শুধু নিজের নয়, একই ধরনের চরিত্রে অভিনেতাদের আটকে রাখার প্রবণতায় বলিউড অনেক প্রতিভাবান শিল্পীর সম্ভাবনাও নষ্ট করেছে বলে মনে করেন এই অভিনেতা। নতুন সিনেমা ‘গজব রাত’-এর প্রচারে অংশ নিয়ে বলিউডের কাজের পরিবেশ ও অভিনেতাদের সুযোগ নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানান মনোজ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অভিনেতাদের বারবার একই ধরনের চরিত্রে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা পুরো ইন্ডাস্ট্রিতেই রয়েছে। চরিত্র নির্বাচন থেকে শুরু করে শুটিং সেটে শিল্পীদের সঙ্গে আচরণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রতিভাবান অভিনেতারা যথাযথ গুরুত্ব পান না। অনেক শিল্পী প্রাপ্য স্বীকৃতি না পেয়েই ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের অভিনয়জীবন নিয়েও একই ধরনের আক্ষেপ রয়েছে মনোজের। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত তাঁর অভিনয়দক্ষতার মাত্র ২৫ শতাংশ কাজে লাগানো হয়েছে। আরও অনেক ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সামর্থ্য রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। তবে নিজের এই আকাঙ্ক্ষাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন অভিনেতা। তাঁর ভাষায়, আরও ভালো কাজ করার ইচ্ছা হয়তো একজন শিল্পীর উচ্চাকাঙ্ক্ষারই অংশ। নিজের ভেতরে অভিনয়ের আগ্রহ ও নতুন কিছু করার তাগিদ এখনো অটুট রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিটি নতুন কাজের জন্য তিনি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন। ওটিটি নিয়ে আশাবাদী মনোজ বলিউডে অভিনেতাদের প্রতিভা তুলে ধরার ক্ষেত্রে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন মনোজ বাজপেয়ী। তাঁর মতে, আগে যেসব অভিনেতা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ বা স্বীকৃতি পাননি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তাঁদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। ওটিটির মাধ্যমে শিল্পীরা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন এবং নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারছেন। এতে অভিনয়জগতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। মনোজ বাজপেয়ীর নতুন সিনেমা ‘গজব রাত’ নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে। সিনেমাটিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন নুশরাত ভারুচা, সাকিব সেলিম, অক্ষয় ওবেরয়, দিব্যা দত্ত, কিকু শারদা ও শ্রদ্ধা দাস।
খুব কম তারকাই সপ্তাহের সাধারণ দিনগুলোতেও বক্স অফিসে বড় সাফল্য এনে দিতে পেরেছেন। তবে শেষ বয়সেও এসে তা করে দেখালেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের সুপারস্টার রজনীকান্ত। মুক্তির আট দিনে তার অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘জেলার ২’-এর দেশীয় আয়ে কিছুটা ভাটা পড়লেও, নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত এই ছবিটি মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এটি বিশ্বজুড়ে থালাপতি বিজয়ের ‘লিও’ সিনেমার মোট আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। ট্রেড ট্র্যাকার ‘স্যাকনিল্ক’-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ছবিটি সব ভাষা মিলিয়ে ১৭ কোটি রুপি (০.১৭ বিলিয়ন) নিট আয় করেছে, যা বুধবারের ২৮ কোটি রুপির (০.২৮ বিলিয়ন) তুলনায় ৩৯.১ শতাংশ কম। সারাদেশে ছবিটি ১৩,২৪১টি শো-তে প্রদর্শিত হয়েছে। ফলে ছবিটি ভারতে ৩৩৪ কোটি রুপি এবং মোট আয় (গ্রস) ৩৯২ কোটি রুপি আয় করেছেন। একটি ব্লকবাস্টার শুরুর পর আয়ে এমন পতন স্বাভাবিক। প্রকৃতপক্ষে অষ্টম দিনে ছবিটি যে পরিমাণ আয় করেছে, তা অনেক সিনেমার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী শুরুর সমান। আন্তর্জাতিক দর্শকদের সাড়া ছবিটিকে চূড়ান্ত গতি দিয়েছে। অষ্টম দিনে ‘জেলার ২’ বিদেশে ৫ কোটি রুপি আয় করেছে, যার ফলে বিদেশের বাজারে এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২১৫ কোটি রুপি এবং বিশ্বজুড়ে মোট আয় হয়েছে ৬০৬ কোটি রুপি। ‘স্যাকনিল্ক’-এর চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘লিও’ তার থিয়েটার প্রদর্শনী শেষে বিশ্বজুড়ে মোট ৬০৫.৯০ কোটি রুপি (৬.০৫৯০ বিলিয়ন) আয় করেছিল। ‘জেলার ২’ এখন তাকে ১.৫ মিলিয়ন রুপি (০.০০১৫ বিলিয়ন) ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে। প্রদর্শনী চলতে থাকায় এই ব্যবধান আরও বাড়বে। রজনীকান্ত বনাম বিজয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর নজর রাখা ভক্তদের কাছে এই সংখ্যাটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। পরিচালক নেলসন দিলীপকুমার এক্সে দেওয়া পোস্টে দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা গেছে এবং এর কৃতিত্ব দিয়েছেন ভক্তদের ভাষায় ‘থালাইভার ম্যাজিক’। এছাড়া তিনি রজনীকান্ত, সংগীত পরিচালক অনিরুদ্ধ রবিচন্দর এবং প্রযোজনা সংস্থা ‘সান পিকচার্স’-কেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তেলুগু তারকা আল্লু অর্জুন আরও উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সিনেমাটির প্রশংসা করে এটিকে একটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক বিনোদনমূলক চলচ্চিত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা মূলত রজনীকান্তের নিজস্ব স্টাইল এবং পর্দায় তার শক্তিশালী উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তিনি বিশেষ করে অনিরুদ্ধের সংগীতের প্রশংসা করেছেন এবং রসিকতা করে বলেছেন, একমাত্র রজনীকান্তই পারেন নিজের শার্টে একটি ভাঁজও না ফেলে অনায়াসেই ৫ বিলিয়ন রুপির (৫০০ কোটি রুপি) মাইলফলক স্পর্শ করতে। এই উন্মাদনা ক্রিকেট জগতেও ছড়িয়ে পড়েছে। রজনীকান্তের ২০২৩ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘জেলার’-এর পরবর্তী কিস্তি হলো ‘জেলার ২;। সিনেমাটির বিশাল তারকাখচিত কুশীলবদের মধ্যে রয়েছেন মোহনলাল, শিবরাজকুমার, জ্যাকি শ্রফ, বিদ্যা বালান, রম্যা কৃষ্ণান, যোগী বাবু এবং মিরনা। ‘লিও’-র মতো বড় সিনেমার পর, এখন আসল পরীক্ষা শুরু সিনেমাটি দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে কেমন ব্যবসা করে। শনি ও রবিবার যদি ভালো আয় হয়, তবে এটি আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে। যদি আয়ে বড় ধরনের ধস নামে, তবে বুঝতে হবে যে প্রথম সপ্তাহেই অধিকাংশ দর্শক সিনেমাটি দেখে ফেলেছেন। বর্তমান গতিধারা অনুযায়ী, রজনীকান্তের এই সিনেমাটি যে আরও বড় অঙ্কের আয় যোগ করতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
মডেল ও অভিনেত্রী মেঘনা আলম বলেছেন, তার কারাবাসের ইতিহাস নিয়ে হাসাহাসি করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন জেলে ছিলেন, তখন আমার সঙ্গে সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূতের পরিচয়ই ছিল না। এর অনেক পর উনার সঙ্গে পরিচয় ও বাগদান হয়। কিন্তু জুলাইয়ের পর বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম কূটনৈতিক বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।’ মেঘনা আলম বলেন, সৌদির রাষ্ট্রদূত মনে করতেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হয়তো অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সহায়তায় নতুন সরকার গঠন করবে। তবে তিনি রাষ্ট্রদূতকে বিএনপির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরামর্শ দেন। নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে অন্য রাষ্ট্রদূতদের আগেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার বিষয়েও তিনি তাকে বুঝিয়েছিলেন বলে দাবি করেন মেঘনা আলম। তিনি বলেন, ‘একজন মহান নেত্রী বিনা অপরাধে কারাবরণ করেছিলেন। আমিও বিনাবিচারে কারাবরণের স্বাদ নিয়েছি। সেই ইতিহাস নিয়ে হাসাহাসি ও নোংরামি করবেন না।’ পোস্টে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন মেঘনা আলম। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে অসম্মান করা এবং এ ধরনের নোংরা আচরণের কারণে বিদেশে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। মেঘনা আলম বলেন, ‘আজ এ দেশের দুই নাগরিক এসব নোংরামির কারণেই ভিনদেশে জীবন হারিয়েছেন। আপনাদের এই নোংরামির কারণেই, দেশের মানুষকে অসম্মান করার কারণেই এ দেশের নারী-পুরুষকে বিয়ে করা সৌদিতে নিষিদ্ধ। তারা আপনাদের অকারণে ইদুর, মিসকিন বলে না— নোংরা মনে করে আপনাদের নিজেদের স্বভাবেই! নিজের দেশের মহান নেত্রীর জেলজীবন নিয়ে নোংরামি করতে লজ্জা করে না???’ ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো ব্যক্তিদের সেগুলো মুছে ফেলারও আহ্বান জানান মেঘনা আলম। একই সঙ্গে এমন পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে অন্য দেশগুলো বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামীতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে জমকালো সাংস্কৃতিক উৎসব ‘এশিয়ান ফুড ফেয়ার অ্যান্ড কালচারাল শো’। আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে প্রথমবারের মতো মঞ্চে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন ঢালিউডের আলোচিত অভিনেতা জায়েদ খান। আগামী ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় শিল্পী ও তারকাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন জায়েদ খান। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক জনপ্রিয় গানের সঙ্গে মঞ্চ পরিবেশনায় অংশ নেবেন এই অভিনেতা। তাঁর পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রবাসী দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসাহ মায়ামীতে জায়েদ খানের অংশগ্রহণের খবর প্রকাশের পর সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের পরিচিত এই অভিনেতাকে সরাসরি মঞ্চে দেখার পাশাপাশি তাঁর পরিবেশনা উপভোগ করার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় ভক্ত ও দর্শকেরা। এক মঞ্চে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তারকারা ‘এশিয়ান ফুড ফেয়ার অ্যান্ড কালচারাল শো’তে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা অংশ নেবেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি এই আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জায়েদ খানের অংশগ্রহণ উৎসবটিতে প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনকে ঘিরে এখন থেকেই প্রস্তুতি চলছে। মায়ামীর আন্তর্জাতিক মঞ্চে জায়েদ খানের পরিবেশনা কেমন সাড়া ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বলিউড ও পঞ্জাবি সংগীতপ্রেমীদের জন্য খারাপ খবর! দিলজিৎ দোসাঞ্জের দিল্লির কনসার্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ৩০ অক্টোবর দিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে তার ‘অরা ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর প্রথম অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেই কনসার্টের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। ফলে যারা ইতিমধ্যেই টিকিট কেটে ফেলেছেন কিংবা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এইচটি সিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিকিট বিক্রির সংস্থা বুকমাইশোকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ জেলার ডেপুটি কমিশনার। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা, উৎসবের মরশুমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে নির্ধারিত দিনে দিল্লিতে দিলজিতের অনুষ্ঠান হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রায় দু’বছর পর ভারতে কনসার্ট করতে চলেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। তার ‘অরা ইন্ডিয়া ট্যুর’ শুরু হওয়ার কথা ৩০ অক্টোবর দিল্লি থেকে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ট্যুরের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ১৮ হাজার রুপি। ফলে চড়া দাম দিয়ে টিকিট কেটেও প্রিয় গায়ককে সরাসরি মঞ্চে দেখতে পাবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তায় অনুরাগীরা।
সিনেমায় অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন হলিউড তারকা টম ক্রুজ। আগামী ২৪ এপ্রিল ২০২৭ লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তার হাতে আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউটের (এএফআই) ৫২তম লাইফ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হবে। বুধবার (২১ অক্টোবর) এএফআইয়ের পরিচালনা পর্ষদ এ ঘোষণা দেয়। ‘মিশন: ইমপসিবল’ তারকা টম ক্রুজ সিনেমায় অবদান এবং অভিনেতা ও প্রযোজক হিসেবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা পাচ্ছেন। এএফআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন ক্যাথলিন কেনেডি এক বিবৃতিতে বলেন, টম ক্রুজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত একজন তারকা। অভিনেতা ও প্রযোজক হিসেবে তিনি প্রতিটি কাজের প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠা দেখান। সিনেমার প্রতি তার গভীর বিশ্বাস এবং চলচ্চিত্র যে মানুষকে একত্র করতে পারে, তা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। এই আবেগ তাকে বিশ্বজুড়ে আমেরিকান চলচ্চিত্রের একজন অসাধারণ প্রতিনিধি করে তুলেছে। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয় ও প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত টম ক্রুজ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত চলচ্চিত্র তারকা। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘টপ গান’, ‘রেইন ম্যান’, ‘আ ফিউ গুড মেন’, ‘জেরি ম্যাগুয়ার’, ‘মাইনরিটি রিপোর্ট’, ‘দ্য লাস্ট সামুরাই’ এবং ‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজ। ‘বর্ন অন দ্য ফোর্থ অব জুলাই’ ও ‘জেরি ম্যাগুয়ার’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। ‘ম্যাগনোলিয়া’ সিনেমার জন্য মনোনয়ন পান সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে। ২০২২ সালের অস্কারে ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ সিনেমার প্রযোজক হিসেবেও সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পান। ২০২৫ সালে সিনেমায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একাডেমির গভর্নরস অ্যাওয়ার্ডসে তাকে সম্মানসূচক অস্কার দেওয়া হয়। এর আগে এএফআইয়ের এই সম্মাননা পেয়েছেন এডি মারফি, নিকোল কিডম্যান, জুলি অ্যান্ড্রুজ, ডেনজেল ওয়াশিংটন ও জর্জ ক্লুনির মতো তারকারা। এদিকে সম্প্রতি ‘ডিগার’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন টম ক্রুজ। এতে তাকে গ্রিনল্যান্ডে তেল উত্তোলনসংক্রান্ত বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া ধনকুবের ও খামখেয়ালি তেল ব্যবসায়ী ডিগার রকওয়েলের চরিত্রে দেখা যায়। সিনেমাটিতে করপোরেট লোভ, জলবায়ু পরিবর্তন ও বয়ান নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় উঠে এসেছে। তবে মুক্তির দুই সপ্তাহ পর উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির আয় ১ কোটি ৪৪ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বড় বাজেটের সিনেমাটির সম্ভাব্য লোকসান প্রায় ২৪৫ মিলিয়ন ডলার। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
চলতি মাসের শুরুতে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র একটি পর্বে অমিতাভ বচ্চন জানিয়েছিলেন, আগের দিনের শুটিংয়ের সময় তার হাঁটুতে চোট লেগেছে। এবার কয়েক দিনের বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ পাওয়ার কথা জানালেন বলিউডের এই মেগাস্টার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন অমিতাভ বচ্চন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কয়েক দিন বিশ্রাম নিতে হবে। অমিতাভ লেখেন, ‘আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কয়েক দিন বিশ্রাম নেওয়া এবং সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য আমাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাই আমি কিছু লিখতে পারছি না।’ এদিকে, মে মাসেও অমিতাভ বচ্চনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছিল। পরে ই-টাইমস এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, খবরটি সঠিক নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত মাসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিনি নানাবতী হাসপাতালে গিয়েছিলেন এবং সেদিনই বাড়ি ফিরে আসেন। বর্তমানে কয়েক দিনের বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ পাওয়ার কথা নিজেই জানিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন অনুরাগীরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।