টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দিদি নং ১’-এর নতুন সিজনে সঞ্চালক হিসেবে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের অভিষেক নিয়ে শুরুতে দর্শকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন থাকলেও, তাঁর সঞ্চালনায় এখন প্রশংসায় পঞ্চমুখ অনেকেই। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা বোস। সম্প্রতি ‘দিদি নং ১’-এর নতুন সিজনে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা। অনুষ্ঠানে স্বস্তিকার সঙ্গে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে স্বস্তিকার ব্যক্তিত্ব ও ব্যবহারের প্রশংসা করেন এই অভিনেত্রী। ঐন্দ্রিলা লিখেছেন, ‘আমার সহ-প্রতিযোগীদের সঙ্গে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আমার প্রিয় অভিনেত্রী ও একজন অসাধারণ মানুষ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দারুণ সময় কেটেছে।’ স্বস্তিকার সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা উল্লেখ করে ঐন্দ্রিলা আরও বলেন, ‘আপনি সত্যিই আমার মন জয় করে নিয়েছেন। একজন ‘সিনিয়র’ হিসেবে নিজেকে এতটা মার্জিত, আন্তরিক, বিনয়ী ও উদারভাবে উপস্থাপন করা যদি আদর্শ হয়, তবে ঠিক এমন একজন মানুষই তো হওয়া উচিত।’ স্বস্তিকার উপস্থিতি ও আচরণেও মুগ্ধ ঐন্দ্রিলা। তিনি লেখেন, ‘আপনার উপস্থিতি, আপনার ভালো ব্যবহার এবং মানুষকে যেভাবে আপনি গুরুত্ব দিয়েছেন, তা সত্যিই অসাধারণ। আপনার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতা ছাড়া আর কিছুই নেই।’ এদিকে শুধু সঞ্চালক পরিবর্তন নয়, নতুন সিজনে ‘দিদি নং ১’-এর ফর্ম্যাটেও এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। আগে একসঙ্গে কমসংখ্যক প্রতিযোগী অংশ নিলেও এখন একই পর্বে ১০ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে খেলা হচ্ছে। পাশাপাশি বদলেছে অনুষ্ঠানটির সম্প্রচারের সময়ও। আগে বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হলেও এখন রাত ১০টা ১৫ মিনিটে সম্প্রচার করা হচ্ছে। চলতি বছর টেলিভিশনের একাধিক জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের ফর্ম্যাটে পরিবর্তন এসেছে। ‘দাদাগিরি’-তে দেবের সঞ্চালকের ভূমিকায় আসার পর এবার ‘দিদি নং ১’-এ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের নতুন দায়িত্বও দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করেছে। অন্যদিকে ওটিটি থেকে টেলিভিশন, বিভিন্ন ঘরানায় অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন ঐন্দ্রিলা বোস। ‘আলো ছায়া’, ‘মন ফাগুন’ ও ‘পুবের ময়না’র মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। এবার ‘দিদি নং ১’-এর মঞ্চে স্বস্তিকার সঞ্চালনায় অংশ নিয়ে তাঁর প্রশংসা করলেন এই অভিনেত্রী।
এক সিনেমার সাফল্যের পর আবারও বড় পর্দায় জুটি হিসেবে ফিরছেন শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূর। গত ঈদে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিলেন এই দুই তারকা। এবার সময়, স্মৃতি, সম্পর্ক ও রহস্যের মিশেলে তৈরি ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে নতুন সিনেমায় হাজির হতে যাচ্ছেন তারা। নতুন সিনেমাটির নাম ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’। তানিম নূরের প্রযোজনায় নির্মিত হতে যাওয়া ছবিটি পরিচালনা করবেন তরুণ নির্মাতা আয়মান আসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকার। এই সিনেমার মাধ্যমেই পরিচালক হিসেবে অভিষেক হচ্ছে তাদের। ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ নির্মিত হবে টাইম-ট্রাভেল, রোমান্স ও মিস্ট্রির সমন্বয়ে। সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রে দেখা যাবে শরিফুল রাজ ও সাবিলা নূরকে। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গল্পে সময়ের বিভিন্ন বাঁক, সম্পর্কের জটিলতা, স্মৃতির প্রভাব এবং রহস্য—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রচলিত গল্প বলার ধরন থেকে বেরিয়ে দর্শকদের নতুন ধরনের সিনেমার অভিজ্ঞতা দেওয়াই নির্মাতাদের লক্ষ্য। সময় ও সম্পর্কের পাশাপাশি স্মৃতি এবং রহস্যের নানা স্তর পেরিয়ে এগিয়ে যাবে গল্পটি। ফলে পরিচিত গল্পের কাঠামোর বাইরে গিয়ে দর্শকদের ভিন্ন স্বাদের একটি চলচ্চিত্র উপহার দিতে চান তারা। সিনেমাটির গল্পের অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে লেখক মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর ২০২৪ সালে প্রকাশিত একই নামের উপন্যাস থেকে। উপন্যাসের মূল ভাবনা ও গল্পকে বড় পর্দার উপযোগী করে সাজানোর কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। এরপর একই বছরের ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিচালক হিসেবে নতুন হলেও সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত আয়মান আসিব স্বাধীন ও সুস্ময় সরকারের রয়েছে নির্মাণের অভিজ্ঞতা। এর আগে আয়মান আসিব স্বাধীন, তানিম নূর পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘কাইজার’ এবং ‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে সুস্ময় সরকার একই তিনটি প্রযোজনায় গল্পকার ও প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন তারা। ‘উৎসব’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর সাফল্য এবং দর্শকদের ভালোবাসাকে সামনে রেখে নতুন সিনেমার মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা টকিজ। ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ হতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় চলচ্চিত্র। নতুন দুই নির্মাতার অভিষেক, রাজ-সাবিলার জনপ্রিয় জুটি এবং সময় ভ্রমণকে কেন্দ্র করে নির্মিত গল্প—সব মিলিয়ে সিনেমাটি নিয়ে এরই মধ্যে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
২০১২ সালে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়ে বিনোদন জগতে পা রাখেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ। একসময় টানা অভিনয় করলেও হঠাৎ নিজেকে মিডিয়া থেকে গুটিয়ে নেন তিনি। তার এই অসময়ে আড়ালে চলে যাওয়ায় প্রসূনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। সামাজিক মাধ্যমে প্রসূনকে নিয়ে শেয়ার করা পোস্টে ক্যারিয়ারের মাঝপথে তার এই আড়ালে চলে যাওয়াকে বড় ক্ষতি উল্লেখ করে আফসোস প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে প্রসূনের অভিনয় দক্ষতার প্রশংসা করে প্রভা লিখেছেন— ‘প্রসূন আজাদের অভিনয়টা আমার সবসময়ই খুব ভালো লাগত। মেয়েটার মধ্যে অসম্ভব সম্ভাবনা ছিল। খুব সুন্দর সুন্দর কাজ করত, আর নির্মাতারাও ওকে ভালো ভালো চরিত্রে কাস্ট করতে চাইতেন। অথচ খুব বেশি দিন কাজ করতে পারল না।’ প্রসূন আজাদের অনন্য বৈশিষ্ট্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উল্লেখ অভিনেত্রী বলেন, ‘অন্য একজন নারীকে সম্মান করা, তার হয়ে কথা বলা, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করা— এই নারীসত্তাটা প্রসূনের মধ্যে খুব সুন্দরভাবে ছিল।’ তিনি বলেন, ওর কোনো ফিমেল কো-আর্টিস্টকে নিয়ে কেউ অসম্মানজনক বা ডিসরেসপেক্টফুল কোনো কথা বললে, প্রসূন সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করত। ‘এতে আমার কী’— এমনভাবে পাশ কাটিয়ে যেত না। অন্য একজন নারীর সম্মান নিয়ে কথা বলার সময় নিজের জায়গা থেকে দাঁড়াতে পারত। এ জিনিসটা অনেক নারীর মধ্যেই নেই। প্রভা বলেন, এমনই বললাম— হঠাৎ আজ মনে হলো, প্রসূন আসলেই খুব সুন্দর অভিনয় করত। মেয়েটার মধ্যে অনেক কিছু করার সম্ভাবনা ছিল। খুব আফসোস হয় এত সম্ভাবনাময় একটা মেয়ে আরও অনেক দূর যেতে পারত বলেও মনে করেন এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, তাকে আরেকটু সহমর্মিতার সঙ্গে সামলানো যেত। হয়ত স্বভাবের দিক থেকে কিছুটা বাচ্চামি ছিল, হয়ত ছোটখাটো কিছু ভুলও করত। কিন্তু আমার মনে হয়, ওকে একটু আদর করে বুঝিয়ে, পাশে থেকে সেই ভুলগুলো শুধরে দেওয়া যেত।
জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় দেবরাকোন্ডা। প্রেমে পড়া, হৃদয় ভাঙা থেকে শুরু করে বিয়ের অভিজ্ঞতা—জীবনের নানা বাঁকের কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে পড়েন এই অভিনেতা। সম্প্রতি সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ভাই প্রণয় রেড্ডি ভাঙ্গার প্রযোজনায় নির্মিত ‘রোমাঞ্চকম’ সিনেমার প্রচার অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিজয় দেবরাকোন্ডা। সেখানে সঞ্চালক ও ভক্তদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। অনুষ্ঠানে চলতি বছরের সবচেয়ে স্মরণীয় বা রোমাঞ্চকর মুহূর্ত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সদ্য বিবাহিত স্ত্রী রাশমিকা মান্দানাকে ঘিরেই কোনো ঘটনা শোনাবেন বিজয়। তবে ভক্তদের চমকে দিয়ে তিনি নিজের জীবনের দীর্ঘ পথচলার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তেলুগু ভাষায় বিজয় বলেন, ১৯৮৯ সালে জন্মের পর থেকে তার জীবনের প্রতিটি বছরই নানা রোমাঞ্চে কেটেছে। জীবনে কখনো অর্থ ছিল, কখনো ছিল না—তবুও নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সময় কেটেছে বলে জানান তিনি। অভিনেতা আরও জানান, জীবনে প্রেম এসেছে, হৃদয়ও ভেঙেছে। পরবর্তী সময়ে বিয়ের মাধ্যমে জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে জীবনের পথচলাকে দারুণ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন বিজয়। নিজের বর্তমান পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। স্ত্রী রাশমিকা মান্দানা ভালো আছেন জানিয়ে বিজয় বলেন, কয়েক দিন আগে শুটিং সেটে সামান্য চোট পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রামে আছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। নিজের জীবনযাপন নিয়েও একটি তথ্য জানান বিজয়। একসময় অ্যালকোহল পান করলেও বর্তমানে তা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে জানান এই অভিনেতা।
সহিংসতা, প্রেমের দৃশ্য এবং নারী চরিত্রের উপস্থাপনা নিয়ে তুমুল ট্রোল ও নেতিবাচক সমালোচনার মুখে পড়লেও বক্স অফিসে দাপট দেখিয়ে চলেছে কন্নড় সুপারস্টার ইয়াশ অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: অ্যা ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। মুক্তির চতুর্থ দিনেই বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় ২৫৪ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির চার দিনে ভারতের বাজারে ‘টক্সিক’-এর নিট আয় দাঁড়িয়েছে ১৯০.৪৫ কোটি রুপি। দেশটিতে ছবিটির মোট আয় বা গ্রস সংগ্রহ ২২৭.৫০ কোটি রুপি। চতুর্থ দিন অর্থাৎ শনিবার ভারতে ১৭ হাজার ৬১২টি প্রদর্শনী থেকে সিনেমাটি প্রায় ২৪.৫০ কোটি রুপি নিট আয় করেছে। আগের দিন শুক্রবার ছবিটির আয় ছিল ২৭.২০ কোটি রুপি। ফলে চতুর্থ দিনে আগের দিনের তুলনায় আয় কমেছে প্রায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে শনিবার আরও ৪ কোটি রুপি আয় করেছে ‘টক্সিক’। ফলে বিদেশের বাজারে চার দিনে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৭.২৫ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির গ্রস সংগ্রহ এখন ২৫৪.৭৫ কোটি রুপি। চার দিনে ‘টক্সিক’-এর আয় প্রথম দিন: নিট ১০১.১০ কোটি রুপি, ভারতে গ্রস ১২০.৭৫ কোটি এবং বিশ্বব্যাপী গ্রস ১৪০.৭৫ কোটি রুপি। দ্বিতীয় দিন: নিট ৩৭.৬৫ কোটি রুপি, ভারতে গ্রস ৪৫.১০ কোটি এবং বিশ্বব্যাপী গ্রস ৪৯.৩৫ কোটি রুপি। তৃতীয় দিন: নিট ২৭.২০ কোটি রুপি, ভারতে গ্রস ৩২.২৫ কোটি এবং বিশ্বব্যাপী গ্রস ৩১.২৫ কোটি রুপি। চতুর্থ দিন: নিট ২৪.৫০ কোটি রুপি, ভারতে গ্রস ২৯.৪০ কোটি এবং বিশ্বব্যাপী গ্রস ৩৩.৪০ কোটি রুপি। চার দিনে ভারতের বাজারে সিনেমাটির নিট আয় ১৯০.৪৫ কোটি এবং গ্রস আয় ২২৭.৫০ কোটি রুপি। গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’-এ ইয়াশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। গত ২৬ আগস্ট কন্নড়, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মালায়ালম ও ইংরেজি ভাষায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। মুক্তির আগে থেকেই আলোচনায় থাকা সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসার পর নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়ে। কোনও দৃশ্য কর্তন না করেই কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডের কাছ থেকে কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ‘এ’ সার্টিফিকেট পেয়েছে ছবিটি। মুক্তির পর থেকেই অন-স্ক্রিন ঘনিষ্ঠ দৃশ্য এবং নারীদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ট্রোল ও সমালোচনার শিকার হচ্ছে ‘টক্সিক’। বিশেষ করে কিয়ারা আদভানি ও ইয়াশের রোমান্টিক গান ‘তাবাহি’-তে তাদের রসায়ন ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে দর্শকদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ ছাড়া সিনেমার একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ইঙ্গিতের কারণে অভিনেত্রী রুক্মিণী বসন্তও ট্রোলের মুখে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে নেটিজেন ও ভক্তদের মতামতও বিভক্ত হয়ে গেছে। তবে বিতর্ক-সমালোচনার মধ্যেও বক্স অফিসে সিনেমাটির দাপুটে আয় অব্যাহত রয়েছে।
বয়স পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছানোর পর খাদ্যাভ্যাসে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়, তা বয়সের সাথে সাথে দেখা দেওয়া সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বা নিয়ন্ত্রণে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। অতিরিক্ত চিনি, লবণ, সম্পৃক্ত ও ট্রান্স ফ্যাট এবং পরিষ্কৃত শর্করা এড়িয়ে চলা উচ্চ রক্তচাপ ও প্রদাহের মতো বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি সরাসরি কমাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্সিল অন এজিংয়ের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পঞ্চাশোর্ধ অবস্থায় সুস্থ থাকতে নিচের খাবারগুলোর গ্রহণ সীমিত করা উচিত। ১. অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার দীর্ঘদিন ধরে নোনতা খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও বয়স ৫০ পার হওয়ার পর তা কমিয়ে ফেলা উচিত। সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বাড়ায়, যা বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। সোডিয়াম গ্রহণের মাত্রা দিনে ১ চা চামচে সীমাবদ্ধ রাখলে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত: চিপস ও অন্যান্য নোনতা স্ন্যাক্স পিৎজা (ফ্রোজেন পিৎজা সহ) ক্যানজাত স্যুপ পাস্তা ও ক্যানজাত পাস্তা সস ফ্রোজেন বা হিমায়িত খাবার ২. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এড়িয়ে চলা আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকা সম্পৃক্ত ফ্যাট বয়স্কদের মৃত্যুর ঝুঁকি, বিশেষ করে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। সম্পৃক্ত চর্বির উৎস কমাতে যে খাবারগুলো সীমিত করা উচিত: রেড মিট বা লাল মাংস (যেমন: স্টেক) প্রক্রিয়াজাত মাংস (সসেজ, বেকন ও লাঞ্চ মিট) শূকরের মাংস (পর্ক) চামড়াসহ পোলট্রি বা মুরগির মাংস মাখন ও আইসক্রিম ভাজাপোড়া খাবার নারকেল, পাম তেল ও পাম কার্নেল তেল ৩. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার যে কোনো বয়সেই চিনি খাওয়া সীমিত করা ভালো (নারীদের জন্য দিনে ২৫ গ্রামের বেশি এবং পুরুষদের জন্য ৩৬ গ্রামের বেশি নয়)। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অতিরিক্ত চিনি খাওয়া ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠাকে কঠিন করে তোলে। এমনকি এটি স্মৃতিশক্তি হ্রাসেও ভূমিকা রাখতে পারে। এড়িয়ে চলার মতো খাবারগুলো হলো: বেক করা খাবার বা পেস্ট্রিজাতীয় খাবার মিষ্টি করা বা ফ্লেভারড দই সকালের নাশতায় খাওয়া সিরিয়াল স্ন্যাক বার (যেমন: গ্র্যানোলা বার) মিষ্টি পানীয় (সোডা, কফি ও চা) ৪. অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো বর্তমান খাদ্যভাণ্ডারে অত্যন্ত পরিচিত হলেও এগুলোতে অতিরিক্ত লবণ, ফ্যাট ও চিনি মেশানো থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে তোলে এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সি যেসব মানুষ কম অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়েছেন, তাদের প্রদাহ কম ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নত ছিল। যে খাবারগুলো ডায়েট থেকে বাদ দেওয়া উচিত: ইনস্ট্যান্ট ওটমিল বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত রুটি হট ডগ রামেন নুডলস বাণিজ্যিকভাবে তৈরি পিনাট বাটার বা চিনাবাদামের মাখন ৫. অ্যালকোহল অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান দ্রুত স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সঙ্গে জড়িত এবং এটি বয়স দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। বিপাকক্রিয়া ও শারীরিক গঠনের পরিবর্তনের কারণে বয়স বাড়ার সাথে সাথে অ্যালকোহলের প্রভাব আরও দ্রুত পড়তে পারে, যার ফলে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া এটি বয়সজনিত বিভিন্ন ওষুধের সঙ্গেও বিরূপ বিক্রিয়া ঘটাতে পারে। ৬. পুষ্টিহীন বা খালি ক্যালোরির খাবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীর যে পরিমাণ ক্যালোরি পোড়ায় (বেসাল মেটাবলিক রেট), তা প্রায় ৪৬.৫ বছর বয়স থেকে কমতে শুরু করে। শরীর যত ক্যালোরি প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি ও জটিলতা দেখা দিতে পারে। পুষ্টিগুণহীন অথচ উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত ‘খালি ক্যালোরি’র খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত: ক্যান্ডি বা লজেন্স কুকিজ ও পেস্ট্রি বয়স বাড়ার সাথে সাথে যেসব স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খাওয়া উচিত জীবনের দ্বিতীয় অর্ধে এসে পূর্ণাঙ্গ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের ওপর জোর দিন। পেশি ক্ষয় রোধ করতে পর্যাপ্ত প্রোটিন খান এবং অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই খাবারের স্বাদ বাড়াতে ভেষজ উপাদান ও মসলা ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে আপনার খাবারের তালিকা যে খাবারগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করতে পারেন: ফলমূল ও শাকসবজি দুগ্ধজাত খাবার গোটা শস্যদানা চর্বিহীন মাংস এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস।
শুটিং থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত পৌনে ১টার দিকে নিজের ফেসবুক থেকে লাইভে এসে দুর্ঘটনার খবর দেন অভিনেত্রী নিজেই। তিনি জানান, শ্রীমঙ্গল থেকে নাটকের শুটিং শেষ করে ঢাকায় ফিরছিলেন। ভৈরবে টোল প্লাজার কাছে একটি পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তার গাড়ির। লাইভে তিশা বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল থেকে শুটিং শেষ করে আমরা ঢাকা ফিরছিলাম। ভৈরব ব্রিজ ক্রস করার পর টোল প্লাজার কাছে একটি পিকআপ আমাদের গাড়িকে মেরে দিয়ে চলে যায়।’ তিশা জানান, পরে বাইকে করে পিছু নিয়ে পিকআপটি আটকানো হয়। অভিনেত্রী বলেন, ‘খুবই বাজে ধরনের অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। অল্পের জন্য আমরা বেঁচে গেছি। এরইমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পৌঁছেছে।’ এ বিষয়ে অভিনেত্রী তিশার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চিত্রনায়ক সোহেল রানা ও চিত্রনায়ক রুবেল দুই ভাই। বড় ভাইয়ের প্রতি রুবেলের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা অনেকবারই প্রকাশ্যে এসেছে। এবার প্রায় ৪০ বছর আগের একটি ইচ্ছের কথা মনে রেখে সোহেল রানাকে দামি একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছেন রুবেল। সেই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে গেছেন সোহেল রানা। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রায় চার দশক আগের সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন সোহেল রানা। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য একসময় তাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি, শহীদুল ইসলাম খোকন ও ছোট ভাই রুবেল। সোহেল রানা লেখেন, “প্রায় ৪০ বছর আগের কথা। চিকিৎসার জন্য আমাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সমস্ত কিছু পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক বললেন, “তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ।” মনের আনন্দে হাসপাতাল ছেড়ে হোটেলে উঠলাম। বিকেলে বেরিয়ে গেলাম। অভিনেতা জানান, দামি ঘড়ি কেনার প্রতি তার বরাবরই আগ্রহ ছিল। তখন তার হাতে রাডোর একটি ঘড়ি ছিল। সেটি অত্যন্ত টেকসই হওয়া সত্ত্বেও নতুন একটি দামি ঘড়ি কেনার ইচ্ছা হয়েছিল তার। সোহেল রানা বলেন, ‘দামি ঘড়ি কেনার আমার একটা শখ ছিল। রাডো হাতে ছিল, যার ওপর দিয়ে ট্রাক গেলেও ঘড়ির কিছুই হতো না। তারপরও মনে হলো আরও একটা দামি ঘড়ি কিনব। দোকানে গেলাম। সঙ্গে রুবেল এবং খোকন।’ দোকানের বিশাল শোরুমে সবচেয়ে দামি একটি ঘড়ি তার সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু দাম শুনে চমকে যান সোহেল রানা। তার কাছে তখন সেই ঘড়ি কেনার মতো অর্থ ছিল না। শেষ পর্যন্ত ঘড়িটি না কিনেই ফিরতে হয় তাঁকে। তবে ঘড়িটির প্রতি তাঁর মুগ্ধতা রুবেলের চোখ এড়ায়নি। প্রায় ৪০ বছর পর সেই পুরোনো স্মৃতিই আবার ফিরিয়ে আনলেন রুবেল। সেই একই ঘড়ি না হলেও রুবেল যে ঘড়িটি উপহার দিয়েছেন, সেটিও অত্যন্ত দামি। সোহেল রানা লেখেছেন, “গতকাল আমার বাসায় এসে আমার হাতটা টেনে নিয়ে একটা ঘড়ি পরিয়ে দিল বলল, ‘যে ঘড়িটার দিকে তুমি তাকিয়েছিলে তার দাম এখন আমার নাগালের বাইরে এক কোটি থেকে দেড় কোটি। কিন্তু তারপরেও যে ঘড়িটা আমাকে দিল, দাম বলবো না।” তিনি লেখেন, ‘দাম দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, হৃদয় থাকতে হয়, ভালোবাসা থাকতে হয়। আমার সেই ইচ্ছেটা মনে রেখে চল্লিশ বছর পরে বড় ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক দামি একটা ঘড়ি নিয়ে এলো। রুবেল ঘড়িটি পরিয়ে দিয়ে তাকে সব সময় সেটি পরে থাকার কথাও বলেন। ছোট ভাইয়ের এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘আমি শুধু তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, কথাটা না বললেও চলত। আমৃত্যু এই ঘড়ি আমার হাতেই থাকবে।’ প্রায় চার দশক আগের একটি ছোট্ট ইচ্ছেকে মনে রেখে ছোট ভাইয়ের এমন উপহার যে সোহেল রানার কাছে শুধু দামি ঘড়ি নয়, বরং ভালোবাসার স্মারক—তাঁর আবেগঘন লেখাতেই সেটি স্পষ্ট।
প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলায় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম। মামলার বাদী আয়েশাহ আনুম ফারযাহ সানায়া চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আয়েশাহ আনুম ফারযাহ সানায়া বলেন, আমি ২০২৫ সলের ২৭ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে একটি মামলা করি। মামলার পরে বিজ্ঞ আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্দেশের পরে আমি পুলিশকে সাক্ষী, হুমকির অডিও রেকর্ডিংসহ সব প্রমাণাদি হস্তান্তর করি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে পুলিশ কোনো কারণ উল্লেখ না করে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। আমি এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আমি আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করব। আয়েশাহ আনুম ফারযাহ সানায়া আরও বলেন, এর আগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে শাড়ির ঘটনার আরেকটা মামলা করা হয়। সেটা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। উনি তো অভ্যাসগতভাবে সবার সঙ্গে প্রতারণা করছে। কিন্তু আমি সাধারণ মানুষ হওয়ার কারণে সব প্রমাণ থাকার পরেও পিবিআই মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছে। এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। নথি থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে যা আছে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে বলেন, মামলার তদন্তকালে জানা যায়—মামলার বাদী আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী একজন ফ্যাশন ডিজাইনার ও বিবাদী তানজিন নাহার তিশা একজন মডেল ও অভিনেত্রী। বাদী বিভিন্ন মডেলদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করেন এবং দেশের নামী-দামী তারকারাসহ বিবাদীও তার ফ্যাশন হাউজের কাপড় পরিধান করেন। বাদী এবং বিবাদী দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড পোগ্রামে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করায় এবং তারা একসঙ্গে ভ্রমণ করায় তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিবাদী একটি প্রোগ্রামের জন্য বাদীর নিকট থেকে বিবাদীর সাবেক ড্রাইভারের মাধ্যমে একটি শাড়ি নেন। পরবর্তীতে বাদী উক্ত শাড়িটি চেয়ে বিবাদীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠায়। কিন্তু বিবাদী ব্যস্ততার কারণে ঠিকমতো ফেসবুক ব্যবহার না করায় সেই মেসেজগুলো দেখেননি (সিন) মর্মে উভয়ের মেসেঞ্জারের স্ক্রিনশট পর্যালোচনায় দেখা যায়। এ ছাড়া বাদী বিবাদীকে ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছাও পাঠান আবার পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৮ মে তার সঙ্গে অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামে দেখা হলেও সেখানে তাদের কুশল বিনিময় হয়। এর কিছুদিন পরে বাদীর ফ্যাশন হাউজের শোর রুমের ট্রায়াল রুম নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য শোনায় এবং উভয়ের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর বাদী বিবাদীকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার জন্য ম্যাসেজ দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘প্রায় এক বছর হয়ে গেল সাদা শাড়িটা এখনও ফেরত পাঠালে না। আমি লোক পাঠাই পরশুদিন দিয়ে দাও’ মর্মে মেসেজ দেয়। তখন বিবাদী উক্ত মেসেজের ফিরতি বার্তায় উল্লেখ করেন কোনটা? তখন বাদী বিবাদীকে উক্ত ড্রেসের ছবি পাঠান। পরবর্তীতে বিবাদী বাদীকে মেসেঞ্জারে কল করলে বাদী রিসিভ করতে পারেননি। পরে তিনি ফিরতি মেসেজ করেন। বিবাদী তখন সেটার বিষয় মনে করতে পারছেন না এবং খুঁজে দেখে বাদীকে জানাচ্ছেন মর্মে জানান। তখন বাদী বিবাদীকে জানান তোমার এটা পেশাগতভাবেই দেখাশোনা করা উচিত। তুমি শাড়িটা খুঁজে বের করো আর ব্যস্ত থাকলে আমার লোকজন সেটা তোমার কাছ থেকে সংগ্রহ করে নেবে মর্মে জানান। পরবর্তীতে বিবাদী পুনরায় উল্লেখ করেন ড্রাইভার তোমাকে এখনও সেটা ফেরত দেয়নি সেটা খুবই অদ্ভুত লাগছে, আমি ড্রাইভারকে খুঁজে দেখে জানাচ্ছি। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনমালিন্য ও কথা-কাটাকাটি হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদী সানায়া ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর বিবাদী তানজিন তিশাকে মেসেজ পাঠায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার দিন ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর বিবাদী তানজিন তিশা তাকে পাল্টা মেসেজ পাঠান। এরপর অত্র মামলার বাদী গুলশান থানায় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে জিডির বিষয়টি জানতে পেরে বাদীকে শাড়িটি গুলশান থানা পুলিশের মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে গেলেও বাদী সেটা গ্রহণ না করে অত্র মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার ঘটনার বিষয়ে বিবাদী তানজিন তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাদীর সঙ্গে তার খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সে এই শাড়ির পরেও তার নিকট থেকে আরও শাড়ি নিয়ে পড়েছেন এবং ফেরত দিয়েছেন, যার বিনিময়ে তার নিকট হতে কোনো টাকাও নেননি। মাঝে এ বিষয় নিয়ে বাদী বিবাদীর আর কথা হয়নি। তার পরবর্তীতে দীর্ঘদিন হয়ে যাওয়ায় তিনিও ভুলে গিয়েছিলেন এবং তার আগের ড্রাইভার সেটা ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে বাদীকে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার জন্য ঠিকানা জানতে চেয়েও খুঁজে পায়নি। পরবর্তীতে বিবাদী অত্র মামলার বিষয়টি জানতে পেরে আরজি বর্ণিত ঠিকানায় ডাক যোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান। এ ছাড়া বাদীকে নোটিশ করে, সশরীরে তদন্তকালে ও মোবাইল ফোনে বাদী কর্তৃক আরজির সংক্রান্তে দালিলিক সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে বললেও তিনি কোনো দালিলিক সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পক্ষান্তরে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ বিবাদী তার শারিটি ডাক যোগে ফেরত পাঠানোয় বাদীর সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। এ ছাড়া বাদীকে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর রাত ৮টায় পাঠানো মেসেজের শেষ অংশে বাদীর শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চান এবং বাদীর সুন্দর জীবন কামনা করেন বিধায় তাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও প্রমাণিত হয়নি। সার্বিক তদন্ত ও প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে বাদী ও বিবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদে বাদী কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার ঘটনার বিষয়ে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে এজাহার থেকে জানা গেছে, মামলার বাদী একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। গুলশান থানাধীন ১২৭নং রোডে বাদীর নিজস্ব ফ্যাশন হাউজ ও স্টুডিও রয়েছে। দেশের নামী-দামী সব তারকারা বাদীর ফ্যাশন হাউজের কাপড় পরিধান করে থাকেন। আসামি তানজিন তিশা জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী। মামলার আসামি তানজিন নাহার তিশা ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাদীর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি প্রোগ্রামে পরার জন্য নিয়ে যান। শাড়িটি পরা শেষে পরেরদিন ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও আসামি তানজিন তিশা শাড়িটি ফেরত দেয়নি। এজাহার থেকে আরও জানা গেছে, শাড়ির জন্য ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাদী, আসামিকে তার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে মেসেজ করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদী বাদীকে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর শাড়ি ফেরত চাওয়ার কারণে নানা প্রকার অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজসহ জানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনার পরে বাদী ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ ও ১৮ মার্চ অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামে দেখা হলে বিনয়ের সঙ্গে বাদীর শাড়িটি ফেরত চান। কিন্তু বিবাদী বাদীকে শাড়ি ফেরত দেবেন না বলে জানান। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর আসামি ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে বাদীর শাড়িটি ফেরত দেওয়ার জন্য বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেন। কিন্তু ৬ নভেম্বর বাদীর স্টুডিওতে নিয়োগকৃত ফটোগ্রাফার ঝুটন আসামিকে ফোন করলে আসামি ফোনটি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তিনি হোয়াটস অ্যাপে ফটোগ্রাফারকে ফোন দিলে ঝুটন বিবাদীর কাছে বাদীর রেফারেন্সে শাড়িটি ফেরত চাইলে, ঝুটনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাদীর সম্পর্কে নানা রকম খারাপ মন্তব্য করে ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর বাদী আসামি তানজিন নাহার তিশার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ফোন করে মামলার হুমকিসহ বাদীর মান-সম্মানকে নষ্ট করে বাদীকে সমাজে হেয় করে ভাইরাল করার হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় বাদী গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
‘টক্সিক: অ্যা ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ মুক্তির পর থেকেই ইয়াশ ও কিয়ারা আদভানীকে ঘিরে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সিনেমাটিতে দুই তারকার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য এবং ‘তবাহী’ গান প্রকাশের পর কিয়ারাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। এবার সেই বিতর্কে কিয়ারার পাশে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জী। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো অভিনেত্রী বিয়ে করলে বা মা হলেই কেন পর্দায় ঘনিষ্ঠ কিংবা সাহসী চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন না। তার মতে, কোনো সিনেমা মুক্তির আগেই অভিনেতা-অভিনেত্রীকে নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে নারী শিল্পীদের ক্ষেত্রে এমন মানসিকতা বেশি দেখা যায়। স্বস্তিকার যুক্তি, কোনো চরিত্র বা সিনেমার প্রেক্ষাপট না জেনে শুধু একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখেই অভিনেতা-অভিনেত্রীকে বিচার করা উচিত নয়। দর্শক জানেন না, ওই দৃশ্যের প্রেক্ষাপট কী, গল্পে এর গুরুত্ব কতটা কিংবা পরিচালক কীভাবে সেটি পর্দায় উপস্থাপন করেছেন। অথচ একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখেই অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য শুরু করেন। কিয়ারাকে নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গেও সরব হন স্বস্তিকা। তার বক্তব্যের মূল প্রশ্ন- একজন অভিনেত্রী কি দর্শকের কাছে শুধু নির্দিষ্ট ধরনের ‘ভদ্র’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দায়বদ্ধ? রসিকতার সুরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কিয়ারা কি দর্শকদের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করেছিলেন যে তিনি শুধু মাদার টেরেসার মতো চরিত্রেই অভিনয় করবেন? কিয়ারা আদভানী ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কন্যাসন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। এরপর ‘টক্সিক’-এ ইয়াশের সঙ্গে কিয়ারার অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও বেশি আলোচনা শুরু হয়। একজন মা হয়ে কীভাবে তিনি এমন দৃশ্যে অভিনয় করতে পারেন, এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। এই ধারণার বিরোধিতা করেছেন স্বস্তিকা। তার মতে, মাতৃত্ব ও যৌনতাকে পরস্পরের বিপরীত হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকেই এ ধরনের মন্তব্য আসে। স্বস্তিকা মনে করিয়ে দেন, সন্তান পৃথিবীতে আসে বাবা-মায়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমেই। অথচ সমাজ এখনো যৌনতাকে মানুষের জীবনের স্বাভাবিক একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ নয়।
টলিউডের পরিচিত মুখ শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক ছবিতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তবে তার অভিনয়যাত্রার শুরু হয়েছিল আরও অনেক আগে, মাত্র ৮ বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া স্বপন সাহা পরিচালিত ‘মায়ার বাঁধন’ ছিল বড় পর্দায় শ্রাবন্তীর প্রথম সিনেমা। ছবিতে তার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। মায়ের ভূমিকায় ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। আর দাদার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সোহম চক্রবর্তী, তিনি তখন ‘মাস্টার বিট্টু’ নামে পরিচিত ছিলেন। শৈশবের সেই দিনগুলোর স্মৃতি এখনো স্পষ্ট শ্রাবন্তীর কাছে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের প্রথম সিনেমার অভিজ্ঞতার কথা একাধিকবার জানিয়েছেন তিনি। মা-বাবার হাত ধরে ইন্দ্রপুরী ও টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োয় শুটিংয়ে যেতেন ছোট্ট শ্রাবন্তী। তার কাছে তখন সিনেমার সেট ছিল সম্পূর্ণ নতুন এক জগৎ। শুটিংয়ের ফাঁকে স্টুডিয়ো চত্বরে ঘুরে বেড়ানো, খেলাধুলা আর সহশিল্পীদের সঙ্গে আনন্দ করেই কেটে যেত সময়। বর্তমান সময়ের সঙ্গে তখনকার টলিউডের কাজের পরিবেশেও ছিল বেশ পার্থক্য। শ্রাবন্তীর স্মৃতিতে, সেই সময়ে শিল্পীদের জন্য আলাদা মেকআপ ভ্যানের প্রচলন ছিল না। একই মেকআপ রুমে একসঙ্গে বসতেন একাধিক শিল্পী। স্টুডিয়োর ধুলো-মাটির মধ্যেই কেটেছে তার শৈশবের শুটিংয়ের দিনগুলো। কাজের পাশাপাশি খেলাধুলা ও আনন্দও ছিল সেই সময়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান সময়ের শিশুশিল্পীদের সঙ্গে নিজের ছোটবেলারও তুলনা করেছেন শ্রাবন্তী। তার মতে, এখনকার শিশুশিল্পীরা অনেক বেশি পরিণত ও পেশাদার। সে সময়ের শিশুশিল্পীদের মধ্যে এমন পেশাদারিত্ব ছিল না; বরং কাজের ফাঁকে আনন্দ করেই সময় কাটানো ছিল স্বাভাবিক। শ্রাবন্তীর অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের সবচেয়ে স্মরণীয় বিষয়গুলোর একটি তার প্রথম পারিশ্রমিক। মাত্র ৮ বছর বয়সে ‘মায়ার বাঁধন’-এ অভিনয় করে তিনি পেয়েছিলেন ১২ হাজার টাকা। প্রথম উপার্জনের সেই টাকা দিয়ে বাড়িতে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। পাশাপাশি দাদুর জন্য জামাকাপড়ও কিনেছিলেন ছোট্ট শ্রাবন্তী।
নারীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল এবং স্নেহময় অধ্যায় হচ্ছে ‘মাতৃত্ব’। কেবল শারীরিক প্রক্রিয়া নয়, মাতৃত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানসিক, সামাজিক এবং পারিবারিক দায়িত্ব। কাঙ্ক্ষিত সেই সময়ের অপেক্ষায় দিন কাটছে দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর। এবার জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থার এই সময়টি তিনি হৃদয় দিয়ে উপভোগ করছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইনস্টাগ্রামে ‘আস্ক মি এনিথিং’ (এএমএ) পর্বে ভক্তদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সামান্থা। এ সময় নিজের শারীরিক পরিবর্তনের কথা অকপটে স্বীকার করেন এই তারকা। এক ভক্ত তার ওজন বেড়ে যাওয়ার কথা জানালে সহমর্মিতা প্রকাশ করে সামান্থা বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি। ইতোমধ্যে আমার নিজেরও ১১ কেজি ওজন বেড়েছে।’ একই পর্বে মাতৃত্বকালীন স্মৃতিভ্রমের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন আরেক ভক্ত। তিনি জানান, কখনো কখনো একটি বাক্য শুরু করার পর কীভাবে শেষ করবেন, তা ভুলে যান। ভক্তের এমন মন্তব্যের জবাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামান্থা বলেন, ‘অপেক্ষা করতে পারছি না।’ মাতৃত্ব তাকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করছে, এমন প্রশ্নের জবাবে সামান্থা বলেন, ‘পুরো বিষয়টি আমাকে এতটা আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে, তা ভাবিনি। আমি ভেবেছিলাম, বেশির ভাগ সময় হয়তো আমি বিষণ্ন বা অভিভূত হয়ে থাকব।’ ভক্তদের সঙ্গে সামান্থার এমন খোলামেলা ও আন্তরিক কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। উল্লেখ্য, গত জুনে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর দিয়েছিলেন সামান্তা। তার স্বামী চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজ নিদিমোরু। মাতৃত্বের প্রস্তুতিতে সম্প্রতি কাজ থেকেও বিরতি নিয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে অভিনেতা নাগা চৈতন্যকে বিয়ে করেছিলেন সামান্থা। ২০২১ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল সাফা কবিরের জন্মদিন আজ। ১৯৯৪ সালের এই দিনে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। অভিনয় ও মডেলিংয়ে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করা সাফা কবির বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের আলোচিত অভিনেত্রীদের একজন। জন্মদিনে এই অভিনেত্রীকে ঘিরে তাই ভক্ত ও সহকর্মীদের শুভেচ্ছার পাশাপাশি প্রত্যাশাও—আগামী দিনে আরও বৈচিত্র্যময় কাজে দেখা যাবে তাকে। অভিনেত্রী বর্তমানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে তাকে ‘হলিউড ওয়াক অব ফেম’-এ দেখা গেছে। সেখানে গিয়ে নিজের প্রিয় তারকার স্মৃতিতে আবেগাপ্লুত হলেন অভিনেত্রী। সেখানে অনেক তারকার নাম চোখে পড়লেও তার অপেক্ষা ছিল বিশেষ একজনের জন্য। তিনি পপসংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসন। প্রিয় এই শিল্পীর নাম খুঁজতেই যেন পুরো জায়গাটি ঘুরে দেখছিলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দুটি ছবি প্রকাশ করেন সাফা। ছবিতে হলুদ পোশাকে ‘ওয়াক অব ফেম’-এ মাইকেল জ্যাকসনের পাশে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। মুখে ছিল উচ্ছ্বাস আর চোখে-মুখে ধরা পড়েছে বিশেষ মুহূর্তের আনন্দ। আশফাক বিপুলের নির্মিত এয়ারটেলের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শোবিজে পথচলা শুরু করেন সাফা। বিজ্ঞাপন দিয়ে পরিচিতি পেলেও অভিনয়েই ধীরে ধীরে নিজের জায়গা করে নেন তিনি। ‘অল টাইম দৌড়ের উপর’ টেলিফিল্মে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনেত্রী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর নিয়মিত নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন। ওয়েব দুনিয়ায়ও রয়েছে তার সরব উপস্থিতি। ভিকি জাহেদের ওয়েব সিরিজ ‘উষ্ণের আত্মহত্যা’ ও ‘বাঘবন্দি’ এবং অনম বিশ্বাসের ‘গণকেইস’-এ অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেল হিসেবেও নিয়মিত কাজ করছেন সাফা কবির। ইমরানের ‘আমার কাছে তুমি অন্যরকম’ এবং প্রীতম হাসানের ‘খোকা’ গানেও মডেল হিসেবে দেখা গেছে তাকে।
বিবাহিত এবং মা হয়েও প্রথমবারের মতো ‘মিস ইউএসএ’ মুকুট জিতেছেন ৩১ বছর বয়সী জাস্টাস কেলি। তিনি এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী বিজয়ীও। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কেলির মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন ‘মিস ইউএসএ-২০২৫’ বিজয়ী অড্রে অ্যাকার্ট। জানা যায়, কয়েক বছর আগেও কেলির মতো কোনো নারীকে মিস ইউএসএ-তে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো না। তখন বিবাহিত নারী ও সন্তান আছে, এমন প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। পাশাপাশি প্রতিযোগীদের বয়সের সীমা ছিল ১৮-২৮ বছরের মধ্যে। ২০২৩ সালে ‘বিবাহিত নারী ও সন্তান আছে’ এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালে বাতিল করা হয় বয়সসীমাও। ভার্জিনিয়ার এই নারী আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে বিজয়ীকে ২৪ নভেম্বর ‘মিস ইউনিভার্স-২০২৬’-এর মুকুট পরানোর কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, ‘মিস ইউএসএ’ প্রতিযোগিতায় বিবাহিত নারীর অংশগ্রহণের ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। তথ্য গোপন রেখে ১৯৫৭ সালে মেরি লিওনা গেজ নামের এক নারী বিবাহিত এবং দুই সন্তানের মা হয়েও ‘মিস ইউএসএ’ নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও পরে ‘বিবাহিত এবং দুই সন্তানের মা’ এসব তথ্য সামনে আসলে তার ‘মিস ইউএসএ’র খেতাবটি কেড়ে নেওয়া হয়। সূত্র: ডেইলি মেইল
নির্মাতা মৃণাল সেনের জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘পদাতিক’-এ মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রায় দুই বছর পর এবার জায়গা করে নিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ‘জিফাইভ’-এ মুক্তি পেয়েছে ‘পদাতিক’। সিনেমাটির ওটিটি মুক্তির খবরের পাশাপাশি এর আন্তর্জাতিক অর্জনের তথ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন পরিচালক সৃজিত মুখার্জি। নির্মাতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক, ঢাকা, প্যারিস ও মালয়েশিয়ার চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সেরা সিনেমা, চিত্রনাট্য, প্রডাকশন ডিজাইন, কস্টিউম ও মেকআপসহ বিভিন্ন বিভাগে ছয়টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে ‘পদাতিক’। এ ছাড়া ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে সম্পাদনা, চিত্রনাট্য, প্রডাকশন ডিজাইন, অভিনয় ও মেকআপ বিভাগে পাঁচটি পুরস্কার এবং ডব্লিউবিএফজেএ অ্যাওয়ার্ডে পাঁচটি পুরস্কার অর্জন করেছে সিনেমাটি। পাশাপাশি পরিচালনা ও অভিনয়ের জন্য দুটি আনন্দলোক পুরস্কারসহ সব মিলিয়ে ছবিটির ঝুলিতে রয়েছে ১৮টি পুরস্কার। পুরস্কারের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১২টি আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ‘পদাতিক’। এর মধ্যে রয়েছে গোয়া, কেরালা, মুম্বাই, টরন্টো, সিডনি, ঢাকা, লন্ডন, নিউইয়র্ক, শিকাগো, মালয়েশিয়া, প্যারিস ও মেলবোর্নের চলচ্চিত্র উৎসব। সিনেমাটি ‘অল-ইন্ডিয়া ক্রিটিকস চয়েস’-এ দুটি বিভাগে মনোনয়নও পেয়েছিল। পাশাপাশি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিড-ডে’র ২০২৪ সালের সেরা ২০ ভারতীয় চলচ্চিত্রের তালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন করে ‘পদাতিক’। ২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। একই সময়ে বাংলাদেশেও মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও সে সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ‘পদাতিক’-এ মৃণাল সেনের জীবনের বিভিন্ন সময়ের ঘটনা, সংগ্রাম ও সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। তরুণ ও প্রবীণ—দুই বয়সের মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। সিনেমায় মৃণাল সেনের স্ত্রী গীতা সেনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহ ও বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পাওয়ার পর এবার ওটিটি মুক্তির মাধ্যমে ‘পদাতিক’ আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে।
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় আতঙ্কের মধ্যে পড়েছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও তার নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর পুরো শুটিং টিম। পরিস্থিতি বিবেচনায় শুটিং স্থগিত করে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তারা। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু বিশ্বাস। অভিনেত্রী জানান, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। কাকতালীয়ভাবে তাদের ওই পথে যাওয়ার কথা ছিল পরদিন, ২৭ আগস্ট। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পায় সিনেমাটির পুরো দল। অপু বিশ্বাস বলেন, তাদের কাঠমান্ডুতে ফেরার নির্ধারিত পথের কাছাকাছিই দুর্যোগটি ঘটে। তার ভাষ্য, আল্লাহর রহমতে তারা ২৬ আগস্ট ওই পথে যাত্রা করেননি। ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির কারণে সড়কটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে শুটিং চালিয়ে যাওয়াকে অমানবিক মনে হয়েছে বলে জানান অপু। তিনি বলেন, মানুষের দুর্ভোগের এমন সময়ে গানের শুটিং করা ঠিক হবে না। তাই পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসেন। কয়েক দিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং করছিলেন অপু বিশ্বাস ও তার সহশিল্পীরা। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা খরাজ মুখার্জি। নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির খবর প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন ভক্তরা। এর আগে কলকাতায় ফিরে খরাজ মুখার্জিও সবাইকে তাদের নিরাপদ থাকার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরে ঢাকায় ফিরে নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অপু বিশ্বাস।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের কাজের পরিধি বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় এবার কানাডার মাটিতে বাংলাদেশি সিনেমায় জুটি বাঁধছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান ও চিত্রনায়িকা অধরা খান। দেশের চলচ্চিত্রে পরিচিত এই দুই তারকা বর্তমানে উত্তর আমেরিকায় নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। জায়েদ খান যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কাজ ও প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, আর অধরা খান কানাডায় হলিউডসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার পর এবার কানাডায় একটি বাংলাদেশি সিনেমায় একসঙ্গে দেখা যাবে তাদের। নতুন এই জুটি নিয়ে ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। কারণ দেশের চলচ্চিত্রের পরিচিত দুই মুখ এবার দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে একই সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন। কানাডার মাটিতে নির্মিত এই বাংলাদেশি সিনেমাটি তাই শুরু থেকেই পাচ্ছে বাড়তি আলোচনার মাত্রা। দেশের চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ জায়েদ খান সাম্প্রতিক সময়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কাজ ও প্রজেক্টে যুক্ত হচ্ছেন এই অভিনেতা। আমেরিকায় তার কাজের ব্যস্ততা ও নতুন নতুন প্রজেক্টে সম্পৃক্ততা এরই মধ্যে দর্শক-ভক্তদের মধ্যে তৈরি করেছে আগ্রহ। দেশের চলচ্চিত্রে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের এই অধ্যায় তার ক্যারিয়ারে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। অন্যদিকে অধরা খানের কানাডা অধ্যায়টিও খুব বেশি পুরোনো নয়। ২০২৫ সালে কানাডায় যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কাজের সঙ্গে। কানাডায় কয়েক মাস অবস্থানের পর কাজের প্রয়োজনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেছেন এই অভিনেত্রী। এরপর আবারও কানাডায় ফিরে এসে হলিউডের কাজের পাশাপাশি এবার যুক্ত হচ্ছেন বাংলাদেশি সিনেমায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক কাজের পাশাপাশি দেশীয় চলচ্চিত্রে নতুন করে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি তার ক্যারিয়ারে যোগ করছে ভিন্ন মাত্রা। কানাডায় যাওয়ার পর স্টেজ শো, বিজ্ঞাপন ও শোবিজের বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রজেক্টেও যুক্ত হয়েছেন অধরা। হলিউডের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ২০২৬ সালের শুরুতে ‘ফোর্টি এইট আওয়ার্স’ নামের একটি আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার খবরও জানিয়েছিলেন তিনি। কানাডায় স্থায়ীভাবে দীর্ঘদিন অবস্থান না করেও কাজের প্রয়োজনে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াতের মধ্যেই নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এগিয়ে নিচ্ছেন আধরা। দেশের চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন অধরা। ২০১৮ সালে বাপ্পি চৌধুরীর বিপরীতে ‘নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক তার। এরপর সাইমন সাদিকের সঙ্গে ‘মাতাল’ এবং পরে ‘সুলতানপুর’ সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ‘নায়ক’, ‘মাতাল’, ‘পাগলের মতো ভালোবাসি’ ও ‘সুলতানপুর’—এই সিনেমাগুলোতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন অধরা। ‘সুলতানপুর’ পরবর্তীতে হিন্দি ভাষাতেও মুক্তি পায়। দুই তারকার ক্যারিয়ারের এই আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের মধ্যেই এবার কানাডায় একই সিনেমায় তাদের জুটি বাঁধার খবরটি নতুন চমক হিসেবে সামনে এসেছে। একজন আমেরিকায় আন্তর্জাতিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত, অন্যজন কানাডায় হলিউড ও আন্তর্জাতিক প্রজেক্টে কাজ করছেন—আর এবার কানাডার মাটিতে বাংলাদেশি সিনেমার পর্দায় একসঙ্গে হাজির হতে যাচ্ছেন জায়েদ খান ও অধরা খান। এদিকে কানাডায় অবস্থানকালে দেশের চলচ্চিত্রেও অধরার ব্যস্ততা কমেনি। তার অভিনীত ‘দখিন দুয়ার’ ও ‘ঋতুকামিনী’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপে শুটিং হতে যাওয়া নতুন একটি সিনেমাতেও কাজের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের অভিজ্ঞতার পর এবার দেশীয় সিনেমার গল্পে একসঙ্গে ফিরছেন জায়েদ খান ও অধরা খান। দুজনে একসঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে সিনেমাটির অন্যান্য বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে জানান তারা। আপাতত এর বেশি কিছু বলতে চাননি তারা। হলিউড ও আমেরিকার পর কানাডার মাটিতে বাংলাদেশি সিনেমায় এই নতুন জুটির আবির্ভাব দর্শকদের জন্য কতটা চমক নিয়ে আসে এবং পর্দায় তাদের রসায়ন কতটা সাড়া ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
দীর্ঘ বিরতির পর নতুন মৌলিক গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে ফিরেছেন সংগীতশিল্পী নাজু আখন্দ। ‘যত্নের তানপুরা’ শিরোনামের গানটি বুধবার (২৬ আগস্ট) ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছে। গানটির বিশেষত্ব হলো—এর কথা, সুর ও সংগীতের কাজ হয়েছে ঢাকায়। অন্যদিকে শিল্পী নাজু আখন্দ তখন অবস্থান করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখান থেকেই নিজের কণ্ঠ রেকর্ড করে পাঠিয়েছেন তিনি। পরে ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে গানটির বাকি কাজ। ‘যত্নের তানপুরা’ গানটির কথা লিখেছেন রাজু চৌধুরী। এহসান রাহীর সুরে সংগীতের প্রোগ্রামিং করেছেন সবুজ আশীষ। গানটির মিক্স ও মাস্টারিং করেছেন আমজাদ হোসেন বাপ্পী। ভিডিও নির্মাণ করেছেন আল মাসুদ এবং এতে মডেল হিসেবে দেখা গেছে তানহাকে। নতুন গান প্রসঙ্গে নাজু আখন্দ বলেন, গান তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘ সময় পর মৌলিক গান প্রকাশ করতে পেরে তিনি আনন্দিত। গানটি মেলোডি ঘরানার এবং এর কথা ও সুর শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। ঢাকার সাভারে জন্ম নেওয়া নাজু আখন্দের সংগীতজীবনের শুরু স্কুলজীবনেই। ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘কাঁচা হলুদের রং’। পরবর্তী সময়ে ‘স্বপ্নকন্যা’, ‘একটু জায়গা দে’ এবং ‘ফিরিয়ে দাও আমার প্রেম’সহ বেশ কয়েকটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন তিনি। ২০০১ সালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুরে ‘মায়ের সম্মান’ গান দিয়ে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন নাজু। এরপর প্রায় দুই দশকে সিনেমার প্রায় ২৫০টি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালে সেরা গায়িকা বিভাগে সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন এই শিল্পী।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের শামলী জেলায় গুলিতে নিহত হয়েছেন হরিয়ানার সংগীতশিল্পী অঙ্কিত বালিয়ান (৩৫)। বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি জিম থেকে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে শামলীর কোতোয়ালি এলাকার একটি জিম থেকে বের হচ্ছিলেন অঙ্কিত। এ সময় ৩ থেকে ৪ জনের একটি দল তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অঙ্কিতকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন। এদিকে হত্যার দায় স্বীকারের দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ভারতের আলোচিত ‘গোগী গ্যাং’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ভোলু শাহপুরিয়ার নামে প্রচারিত ওই বার্তাটি সত্য কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ। একই সঙ্গে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু হয়েছে। অঙ্কিতের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সর্বশেষ ইনস্টাগ্রাম ভিডিও নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তাকে এমন একটি গান গাইতে দেখা যায়, যার কথায় ‘খুন’ প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ভিডিও প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই অঙ্কিত গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তার গাওয়া গানটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
হলিউড ও মঞ্চের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা টিম কারি আর নেই। ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’-এর ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া এই ব্রিটিশ অভিনেতা ২৫ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের তুলুকা লেকে নিজের বাসভবনে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে টিম কারি থিয়েটার, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ভয়েস অ্যাক্টিং ও ভিডিও গেম—বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর পরিচয় দিয়েছেন। ২০১২ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিকভাবে অনেকটা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়লেও অভিনয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। ‘রকি হরর’ থেকেই বিশ্বজোড়া পরিচিতি: ১৯৭৩ সালে লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট থিয়েটারে রিচার্ড ও’ব্রায়েনের ‘দ্য রকি হরর শো’ নাটকে ড. ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন টিম কারি। দুই বছর পর নাটকটির চলচ্চিত্র সংস্করণ ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’ মুক্তি পেলে চরিত্রটি তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। মুক্তির পর সিনেমাটি ধীরে ধীরে কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা পায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোর অন্যতম হয়ে ওঠে। ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রে কারির অভিনয় আজও দর্শকদের কাছে স্মরণীয়। ভয়ংকর চরিত্রেও ছিল আলাদা ছাপ: শুধু ‘রকি হরর’ নয়, ক্যারিয়ারে অসংখ্য ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছেন টিম কারি। স্টিফেন কিংয়ের ‘ইট’ উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৯০ সালের টেলিভিশন মিনিসিরিজে ভয়ংকর ক্লাউন পেনিওয়াইজ চরিত্রে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। এ ছাড়া ‘মুপেট ট্রেজার আইল্যান্ড’-এ লং জন সিলভার, ‘হোম অ্যালোন ২’-এ হোটেল ক্লার্ক এবং ‘ক্লু’, ‘অ্যানি’ ও ‘দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর’-এর মতো চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। মঞ্চেও সমান সফল ছিলেন এই অভিনেতা। ব্রডওয়ের বিভিন্ন প্রযোজনায় অভিনয়ের জন্য তিনবার টনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ভয়েস ও গেমিংয়েও জনপ্রিয়: ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ডের ওয়ারিংটনে জন্মগ্রহণ করেন টিম কারি। ১৯৬৮ সালের মিউজিক্যাল ‘হেয়ার’-এর মাধ্যমে তার পেশাদার অভিনয়জীবনের শুরু। এরপর থিয়েটার থেকে চলচ্চিত্র—সব ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ভয়েস অ্যাক্টিংয়েও তার উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে। বিভিন্ন অ্যানিমেশন ও ভিডিও গেমে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ২০০৮ সালের ভিডিও গেম ‘কমান্ড অ্যান্ড কনকার: রেড অ্যালার্ট ৩’-এ সোভিয়েত প্রিমিয়ারের চরিত্রে তার কণ্ঠ ও সংলাপ পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেট সংস্কৃতিতেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। স্ট্রোকের পরও থামেননি: ২০১২ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর টিম কারিকে দীর্ঘদিন হুইলচেয়ারে থাকতে হয়েছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি ভয়েস অভিনয়সহ সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যান। গত বছর প্রকাশ করেন নিজের আত্মজীবনী ‘ভ্যাগাবন্ড’। তার মৃত্যুর খবরে সহকর্মী ও ভক্তদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অভিনেত্রী ক্যারল বার্নেট টিম কারির অভিনয় প্রতিভার প্রশংসা করে তাকে স্মরণ করেছেন। সহশিল্পী রব স্নাইডারও তার অভিনয়ের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরে শোক প্রকাশ করেছেন। টিম কারির মৃত্যুতে চলচ্চিত্র, থিয়েটার ও বিনোদনজগৎ হারাল এক বহুমুখী প্রতিভাকে, যার অভিনীত বেশ কিছু চরিত্র প্রজন্মের পর প্রজন্ম দর্শকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে শত শত মানুষ। বুধবারের (২৬ আগস্ট) আকস্মিক এই বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নেপালে এখন অবস্থান করছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। তবে তিনি নিরাপদে আছেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অপু নিজের জন্য চিন্তা না করে দোয়া চেয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি পোখারাতে আছি। যেখানে আছি নিরাপদে আছি। তবে পোখারা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার হাইওয়ে রাস্তায় ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। জানতে পেরেছি, এই রাস্তা ঠিক হতে মাসখানেক সময় লাগবে। আমাদের গাড়ি ঠিক করা হয়েছে। আগামীকাল কাঠমান্ডু যাব। ফ্লাইটে অনেক চাপ চলছে। কাঠমান্ডু থেকে পরশুদিনের (শুক্রবার) ফ্লাইটে ঢাকা ফিরব।’ নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমার জন্য চিন্তা না করবেন না। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন নিরাপদে দেশে আমার সন্তানের কাছে ফিরতে পারি।’ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে নেপাল গিয়েছেন অপু বিশ্বাস। সিনেমাটিতে অপুর বিপরীতে অভিনয় করছেন মুর্তজা পলাশ। এতে আরো অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা রজতাভ দত্ত, শ্যাম ভট্টাচার্য প্রমুখ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।