দীর্ঘ দেড় যুগের প্রবাস জীবন কাটিয়ে, হঠাৎ করেই ঘরে ফেরা। সব মিলিয়ে যেন বাস্তবের মঞ্চে এক পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সিনেমা। প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমাবেশে উপস্থিতি, কৌশলগত বার্তা, পরিকল্পনার ঝাঁপি—সব মিলিয়ে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে তাকে তুলে ধরা হয়েছে ‘বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তিত সন্তান’ হিসেবে—যা রাজনীতির অন্দর-বাহিরে নতুন করে তৈরি করেছে তর্ক, উত্তাপ আর কৌতূহল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত পছন্দ, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক উঠে এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, লন্ডনে অবস্থানকালে তার প্রিয় সময় কাটানোর জায়গা ছিল রিচমন্ড পার্ক—যেখানে তিনি হাঁটতেন, চিন্তায় ডুবে থাকতেন কিংবা ইতিহাসের বই পড়তেন। নিজের প্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন হলিউড সিনেমা এয়ার ফোর্স ওয়ান–এর নাম। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমি সম্ভবত আটবার এটি দেখেছি! প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনেমার সংলাপ ও প্রতীকী বার্তা থেকেও তিনি অনুপ্রেরণা নেন। টাইম ম্যাগাজিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানকে একজন তথ্যনির্ভর নীতিনির্ধারক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি বিভিন্ন খাতে পরিসংখ্যান ও পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেন। তার ভাবনায় রয়েছে জলস্তর পুনরুদ্ধারে ১২ হাজার মাইল খাল খনন, ভূমির অবক্ষয় ঠেকাতে বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানো এবং দূষণে বিপর্যস্ত রাজধানীর জন্য ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা গড়ে তোলা। এছাড়া আবর্জনা পোড়ানো বিদ্যুৎ জেনারেটর স্থাপন, অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি কলেজ পুনর্গঠন এবং চাপে থাকা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সহায়তা দিতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারত্বের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনের একপর্যায়ে তারেক রহমান নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে ব্যবহার করেন একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্রের উক্তি—তবে সেটি এয়ার ফোর্স ওয়ান নয়, স্পাইডার-ম্যান থেকে নেওয়া। তিনি বলেন, মহান শক্তির সাথে মহান দায়িত্ব আসে—আমি এটা খুব বিশ্বাস করি। সব মিলিয়ে, তার প্রত্যাবর্তন কেবল রাজনৈতিক পদচারণা নয়—বরং পরিকল্পনা, প্রতীক আর বার্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত—এমনটাই তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক এই সাময়িকী।
ফের বলিউডে ঝড় তুলেছে এক সিদ্ধান্ত—আর সেই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। কাজের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আর পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবি, এই দুই শর্তেই নাকি হাতছাড়া হয়েছে একাধিক বড় বাজেটের সিনেমা। ‘স্পিরিট’ থেকে বাদ পড়ার পর এবার প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সিকুয়েলেও আর দেখা যাবে না দীপিকাকে? ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার সূত্রে জানা যায়, আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করার শর্তে একাধিক ছবি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন—এমন খবরেই এখন সরগরম বি-টাউন। এই শর্তের জের ধরেই প্রথমে তিনি বাদ পড়েন সন্দীপ রেড্ডী ভাঙ্গা পরিচালিত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘স্পিরিট’ থেকে। এদিকে দীপিকার পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবিতেও নির্মাতাদের সঙ্গে মতবিরোধ বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওই ছবিতে দীপিকার পরিবর্তে নেওয়া হয় তৃপ্তি দিমরীকে। এবার একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নাগ অশ্বিন পরিচালিত ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ ছবির সিকুয়েল ঘিরেও। প্রথম পর্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দীপিকা, যাকে ছাড়া সিকুয়েলের কাহিনি কল্পনা করাই কঠিন—এমন মত ছিল অনেক দর্শকের। তবে নতুন গুঞ্জন বলছে, সিকুয়েলে তার জায়গায় দেখা যেতে পারে দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবীকে। প্রযোজনা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, কাজের ক্ষেত্রে ‘দায়বদ্ধতার অভাব’ এবং শুটিং সময়সূচি নিয়ে জটিলতার কারণেই দীপিকাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ছবিটির জন্য তিনি প্রায় ২০ দিনের শুটিংও সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু কাজ শুরুর পরই মতবিরোধ চরমে পৌঁছায়। সূত্র আরও জানায়, দীপিকা দিনে সর্বোচ্চ ৭-৮ ঘণ্টা কাজ করার শর্ত দেওয়ার পাশাপাশি তার পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানান। এরপরই নির্মাতারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, সিকুয়েলে দীপিকার চরিত্রটিকে মৃত দেখানো হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, সাই পল্লবী সম্পূর্ণ নতুন চরিত্রে গল্পে যুক্ত হবেন। যদিও এখনো এ বিষয়ে নির্মাতা বা সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। শুরুতে এই চরিত্রে আলিয়া ভট্টের নামও শোনা গেলেও, বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাই পল্লবী। শেষ পর্যন্ত বড় পর্দায় কার দেখা মিলবে—সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন দর্শক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাবরই স্পষ্টবক্তা অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। সমসাময়িক ইস্যু থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা—সবই অকপটে শেয়ার করেন ভক্তদের সঙ্গে। এবার নির্বাচনী প্রচারণার উত্তাপের মাঝে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ধৈর্য দেখে নিজের প্রয়াত বাবার কথা মনে পড়ে গেল এই অভিনেত্রীর। ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে বাবার শান্ত স্বভাব এবং নিজের পরিবারের নারীদের ‘শাসন’ নিয়ে মজার এক স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে লড়ছেন মির্জা আব্বাস। সম্প্রতি তার নির্বাচনী প্রচারণার বেশ কিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওগুলো দেখেই ফারিয়ার উপলব্ধি—তার বাবার মতোই অসীম ধৈর্য এই রাজনীতিবিদের। ফারিয়া লিখেছেন, “গত কিছুদিন নির্বাচনী প্রচারের বিভিন্ন ভিডিওতে মির্জা আব্বাস সাহেবের ধৈর্য দেখে বাবার কথা মনে পড়ছে।” কেন মির্জা আব্বাসের ধৈর্য তাকে বাবার কথা মনে করিয়ে দিল, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ফারিয়া বেশ রসিকতার ছলে। তিনি জানান, তার বাবা ছিলেন ভীষণ ঠান্ডা স্বভাবের মানুষ, কিন্তু মা ছিলেন ঠিক তার উল্টো। দাদির কড়া শাসনে বড় হওয়া বাবার জীবন কেটেছে মা, স্ত্রী ও তিন কন্যার শাসনে। ফারিয়া কৌতুক করে লেখেন, “আমি প্রায়ই হাসতে হাসতে বলি আমার বাবার তো জান্নাত অনেকটাই কনফার্মই। আমার বাবা এই দুনিয়ায় ৪১ বছর আমার মাকে, ৬২ বছর তার মাকে এবং পরবর্তীতে তার তিন কন্যাকে—এই ভয়ংকর ৫ মহিলাকে হাসিমুখে সহ্য করে গেছেন। তার শাস্তি তো দুনিয়াতেই শেষ, আর কী শাস্তি পাবে!” ফারিয়ার স্ট্যাটাসটি যে নিছকই মজা করে দেওয়া এবং এর সঙ্গে রাজনীতি বা ধর্মের কোনো গভীর যোগসূত্র নেই, তা মনে করিয়ে দিতেও ভোলেননি অভিনেত্রী। পোস্টের শেষলগ্নে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তার বিশেষ অনুরোধ, “আল্লাহ ওয়াস্তে এইটা নিয়ে নিউজ করবেন না। প্লিজ। আর দয়া করে ধর্মীয় কিছু রিলেট করবেন না, এইটা কোনো সিরিয়াস স্টেটমেন্ট না।” যদিও ফারিয়ার এই ‘নিউজ না করার’ অনুরোধই শেষ পর্যন্ত ভাইরাল নিউজে রূপ নিয়েছে। ভক্তরা তার রসবোধ এবং বাবাকে নিয়ে এমন মিষ্টি স্মৃতিচারণের প্রশংসা করছেন মন্তব্যের ঘরে।
পতৌদি পরিবারের নবাব বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান ও অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের দাম্পত্যজীবন প্রায় ১৪ বছর দীর্ঘ। স্বামী সাইফের প্রেমে তিনি সবসময় মুগ্ধ ছিলেন এবং সেই অনুভূতিই এতদিন প্রকাশ করেছেন। তবে প্রথম সন্তান তৈমুরের জন্মের পর কারিনা অনুভব করেছেন, কাছাকাছি পাওয়া যায়নি তিনি। এক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা রণবীর কাপুর। সেই সময় কারিনা, রণবীরকে স্বামী সাইফের আচরণ নিয়ে অনুযোগ জানান। রণবীর জানিয়েছেন, তার সন্তান রাহার জন্মের সময় আলিয়া ভাটের পাশে তিনি এক সপ্তাহ ছিলেন। এই কাহিনি শুনে কারিনা আক্ষেপ করে বলেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় একদিনও হাসপাতালে সাইফ ছিলেন না। কিন্তু তিনি আরও উল্লেখ করেন, মা হিসেবে যতটা তৎপর তিনি, বাবা হিসেবে সাইফ ততটাই ঠান্ডা মাথার। তবুও, তার সন্তানদের জন্য সাইফই শ্রেষ্ঠ বাবা। শুধু তৈমুর ও জেহর নয়, তার আগের দুই সন্তান ইব্রাহিম ও সারা আলি খানকেও সমান দায়িত্ব ও যত্ন দেন তিনি। তবে তার স্বভাব ও মেজাজ যে সত্যিই নবাবের মতো, সেটি বুঝিয়েছেন কারিনা কাপুর।
নতুন করে ফের বিয়ের গুঞ্জন শুরু হয়েছে ভারতীয় অভিনেত্রী জেনিফার উইঙ্গেটকে ঘিরে। এর আগে ২০১২ সালে ভালোবেসে অভিনেতা করণ সিং গ্রোভারকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু মাত্র দু’বছর পরই সেই সংসার ভেঙে যায়। পরবর্তীতে করণ বিপাশা বসুর সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পরলেও এখনো একাকীই জীবন কাটাচ্ছেন জেনিফার। এবার এ অভিনেত্রীকে নিয়ে গুঞ্জন, অবশেষে আবারও বিয়ে করতে যাচ্ছেন জেনিফার। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দিল মিল গায়ে’-এর সহ-অভিনেতা করণ ওয়াহির সঙ্গে নাকি গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছেন তিনি। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও একসঙ্গে কাজ করার সূত্র ধরেই এই জল্পনা আরো জোরদার হয়েছে। তবে এই গুঞ্জনে জল ঢেলে দিলেন করণ ওয়াহি নিজেই। ইনস্টাগ্রামে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘সস্তা প্রচার করে আমাদের আরও জনপ্রিয় করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। এরপর যার সঙ্গে বিয়ের জল্পনা ছিল সেই জেনিফারের সঙ্গেও একটি রিল শেয়ার করেছেন এ অভিনেতা, যার ক্যাপশনে নিজেদের সম্পর্কের বন্ধনকে প্রেমের থেকেও বেশি গভীর বলে উল্লেখ করেন করণ ওয়াহি। বিয়ের জল্পনা শুরু হতে না হতেই দুজনের তরফ থেকে এমন জবাবের পর এবার সেই গুঞ্জনকে আপাতত গুজব বলেই মনে করছেন নেটিজেনরা।
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি গানের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সরব থাকেন। নানা ইস্যুতে তাকে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতে দেখা যায়। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পুরোনো একটি ছবি নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করে ভক্তদের স্মৃতির রোমন্থনে ভাসালেন তিনি। প্রায় ১৬ বছর আগের একটি ছবি পোস্ট করে তার ক্যাপশনে এ গায়িকা লেখেন, ‘২০১১ সালের একটি ছবি ফেসবুকের কল্যাণে পেলাম!’ ছবিতে দেখা যায়, ন্যান্সির ডান পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন আরেক জনপ্রিয় গায়িকা দিলশাদ নাহার কনা এবং বাম পাশে হাবিব ওয়াহিদ। সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ভক্ত-অনুরাগীরা নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। সংগীত জগতের এ তারকাদের নিয়ে নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন ভক্তরা। অনেকেই হাবিব-ন্যান্সিকে আবারও জুটি বেঁধে গান করার আবদার রাখছেন। ন্যান্সির জন্য হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। এর মধ্যেই কেউ কেউ কনা ও ন্যান্সির একসঙ্গে ছবি দেখে তাদের মধ্যকার স্নায়ু যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেছেন। এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, আপনার চিরশত্রু কনা (দিলশাদ নাহার কনা) আপনার পাশে? ভক্তের মন্তব্যের জবাবে তিনি লিখেছেন, আমি জানি না অথচ আপনি জেনে বসে আছেন। তার উত্তরে ভক্ত লিখেছেন, আপনি এবং কনা দুজনই আমার প্রিয় শিল্পী আর আপনাদের হাড়ির খোঁজ আমি জানব না তাই কি হয়। এরপরের জবাবে ন্যান্সি বলেন, তিনি (দিলশাদ নাহার কনা) আমাকে শত্রু মনে করেন জানা ছিল না। ওই মন্তব্যের সবশেষে ন্যান্সি লেখেন- ইন্ডাস্ট্রিতে এবং বয়সে, উভয় ক্ষেত্রেই বেশ সিনিয়র আমার একজন নারী সহকর্মীকে নিয়ে আপনার এহেন মন্তব্য দুঃখজনক। তবে ভক্তদের অধিকাংশই মন্তব্যের ঘরে প্রিয় শিল্পীদের ভালোবাসার চাঁদরে সিক্ত করেছেন।
ঈদের জন্য নির্মিত বিশেষ নাটক ‘হেট ইউ বউ’। রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার এই নাটকে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভী এবং আদ্রিজা আফরিন সিনথিয়া। নতুন এই জুটিকে একসঙ্গে পর্দায় দেখার আগ্রহ ইতোমধ্যেই দর্শকমহলে তৈরি হয়েছে। নাটকটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন অনামিকা মন্ডল। পরিচালনায় রয়েছেন নাজমুল রনি। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে আছেন শরীফ রানা। ঈদের বিশেষ বিনোদন হিসেবেই নাটকটি নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে হাসি, ভালোবাসা আর সম্পর্কের টানাপোড়েন উঠে আসবে হালকা ও উপভোগ্য ভঙ্গিতে। নাটকটিতে সিনথিয়া অভিনয় করেছেন জাহের আলভীর গার্লফ্রেন্ডের চরিত্রে। কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি জানান, জাহের আলভীর সঙ্গে কাজ করে তার দারুণ লেগেছে। তিনি খুব সহযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিভাবান একজন অভিনেতা। ঈদে দর্শক এই নাটক দেখে আনন্দ পাবেন বলেই তার বিশ্বাস। অভিনয় ও মডেলিং নিয়ে নিজের ভাবনার কথাও জানান সিনথিয়া। তিনি বলেন, এই পেশাটাকে তিনি অনেক শ্রদ্ধা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করতে চান। সেই সঙ্গে সবার দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেন তিনি। সব মিলিয়ে, নতুন জুটি, হালকা গল্প আর ঈদের আমেজে নাটক ‘হেট ইউ বউ’ দর্শকদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন নাটকটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
অনেকদিনের গুঞ্জনকে সত্যি করে কিছুদিন আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন শোবিজের আলোচিত জুটি কণ্ঠশিল্পী জেফার রহমান ও উপস্থাপক রাফসান সাবাব। গত ১৪ জানুয়ারি তারা একসঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখেন। তখন থেকেই নতুন করে নেটিজেনদের আলোচনায় উঠে আসেন তারা। বিয়ের পর কেমন যাচ্ছে চর্চিত এই যুগলের নতুন জীবন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্ত্রী জেফারকে প্রশংসায় ভাসাতে দেখা যায় রাফসানকে। সেখানে একসঙ্গে নতুন জীবন যে বেশে উপভোগ করছেন দুজন, সেটাই রাফসানের কথায় ফুটে ওঠে। স্ত্রীকে নিয়ে এ উপস্থাপক বলেন, ‘সে যদি আমাকে এক গ্লাস পানিও ঢেলে খাওয়ায়, সেটাও আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক সিগনিফিকেন্ট। তার যখন ইচ্ছে হয়, সে তখন অনেকভাবেই তার ভালোবাসাটা প্রকাশ করে এবং সেটা আমি অনেকভাবেই বুঝতে পারি।’\ এদিকে, শোবিজে রাফসানের অনেক আগেই ক্যারিয়ার শুরু করেন জেফার। স্ত্রীর প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল উল্লেখ করে বলেন, ‘উনি একজন সংগীতশিল্পী এবং উনি যখন কাজ শুরু করেছেন, তারও অনেক পরে আমি আসলে কাজ করতে এসেছি। সো আমার জন্য তার প্রেজেন্সটা, আমার লাইফে তার এক্সিস্টেন্স।’ পাশাপাশি স্ত্রীকে নিজের অনুপ্রেরণার উৎস বলেও দাবি করেন রাফসান। বিয়ের পর থেকে জেফার তার ব্যক্তিগত জীবন থেকে পেশাগত জীবনে কীভাবে প্রভাব রাখছে সে সম্পর্কে বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। আমার এখন ইন্সপিরেশনের একটা সোর্স আছে আলাদা এবং আমি আমার ওয়াইফের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি, তার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পাই। সো এখন আরও দ্বিগুণ উদ্যমে কাজ করছি।’
বলিউড অভিনেতা অক্ষয় খান্না ১৯৯৯ সালে বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল 'তাল' সিনেমা। যে সিনেমায় অভিনেতার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। কিন্তু ঠিক তার আগের বছর ১৯৯৮ সালে অন্য একটি সিনেমার জন্য একসঙ্গে হয়েছিলেন এ তারকা জুটি। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল অক্ষয় খান্না ও দক্ষিণী অভিনেত্রী জ্যোতিকা অভিনীত সিনেমা ‘ডোলি সাজা কে রাখ না’। এ সিনেমায় অক্ষয় ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন অমরেশ পুরি, অরুনা ইরানি, অনুপম খের, পরেশ রাওয়াল, মৌসুমি চট্টোপাধ্যায়সহ আরও অনেকেই। এ সিনেমার প্রিমিয়ারের দিন একসঙ্গে মুখোমুখি হয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অক্ষয় খান্না। প্রিয়দর্শন পরিচালিত এ সিনেমার প্রিমিয়ারের সেই ছোট্ট ভিডিও এ মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। লেহরেন ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সিনেমার কাস্ট এবং অন্য সেলিব্রেটিরা উপস্থিত হয়েছেন সিনেমার প্রিমিয়ারের জন্য। সেই সময় তারকারা সরাসরি সিনেমা হলে এসে টিকিট কেটে ভেন্যুতে প্রবেশ করতেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, জ্যোতিকাকে অব্যর্থনা জানানোর জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অক্ষয় খান্নাও। প্রত্যেক তারকা একে অপরের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠেছিলেন। আজ থেকে ৩৬ বছর আগেকার সেই পুরোনো ভিডিও নিঃসন্দেহে একটি নস্টালজিক মুহূর্ত তৈরি করেছে সবার মনে। উল্লেখ্য, অভিনেতা অক্ষয় খান্নার ২০২৫ সালের সব থেকে বড় ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ মুক্তি পেয়েছে। এ সিনেমায় তাকে একদম অন্যরকমভাবে দেখতে পেয়েছেন দর্শকরা। এ সিনেমার হাত ধরে যেন আরও একবার রাতারাতি সবার মনে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেতা অক্ষয় খান্না। চলতি বছরের মার্চ মাসে মুক্তি পাবে এ সিনেমার দ্বিতীয় পর্ব, যেখানে বেশ কিছু দৃশ্যে আবার অভিনয় করতে দেখা যাবে অক্ষয় খান্নাকে।
বলিউডের খ্যাতনামা কোরিওগ্রাফার ও পরিচালক ফারাহ খান সিনেমা জগতে সৌন্দর্যের ধারণা এবং প্লাস্টিক সার্জারির বাড়তে থাকা প্রবণতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর এক মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রায়কে বলিউডের একমাত্র ‘ন্যাচারাল বিউটি’ বলে উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক এক ইউটিউব ভ্লগে ফারাহ খান ইন্ডাস্ট্রিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বনাম কৃত্রিম সৌন্দর্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। ভ্লগের এক পর্যায়ে, তার রাঁধুনি দিলীপ কুমার ফারাহর উজ্জ্বল ত্বকের প্রশংসা করলে তিনি হাসতে হাসতে সেটিকে নিজের ‘প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা’ এবং ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য’ বলে জানান। এরপর আলাপের এক পর্যায়ে ফারাহ বলিউডে সৌন্দর্যের মানদণ্ড কীভাবে বদলে গেছে, তা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক সুরে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ঐশ্বরিয়া রায় ছাড়া বলিউডে সম্ভবত এমন কোনো অভিনেত্রী নেই, যাকে সত্যিকার অর্থে ‘প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর’ বলা যায়।’ ফারাহর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে- যেখানে অনেকে একে বর্তমানে বলিউড অভিনেত্রীদের সৌন্দর্যের প্রতি যে প্রবণতা বাড়ছে, তার প্রতি একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, ভ্লগে ফারাহ খান তার আসন্ন পরিচালনা প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, এই বছরের শেষের দিকে একটি নতুন ছবির কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
ভারতের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিং সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি আর প্লেব্যাক গান করবেন না। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। গায়কের হঠাৎ প্লেব্যাক ধেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের চোখেমুখে রীতিমতো বিস্ময় কাজ করছে। গানের ক্যারিয়ারে সিনেমায় গেয়েই খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছান অরিজিৎ। অথচ মাত্র ৪০ বছর বয়সেই কিনা সিনেমায় গান করা থেকেই সরে দাঁড়ালেন! এত অল্প বয়সেই কেন এমন সিদ্ধান্ত তার, তা নিয়েই মঙ্গলবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। অবশ্য এই জাদুকরী কণ্ঠের গায়ক তার স্ট্যাটাসে এটাও জানিয়েছেন যে, সংগীতের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট থাকবে এবং নিয়মিত সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে কাজ করে যাবেন। কেবল বড় পর্দার জন্য আর গাইবেন না। তবে এই কণ্ঠশিল্পীর ঘনিষ্ঠজনদের থেকে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেননি অরিজিৎ। এছাড়াও এমন পদক্ষেপের নেপথ্য কারণ কী তা নিয়েও মুখ খুলেছেন তারা। অরিজিৎ তার ক্যারিয়ারে শাহরুখ খানের ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ থেকে শুরু করে অনুরাগ বসুর ‘বারফি’ সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিনেমায় গান গেয়েছেন। গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। গায়কের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পরিচালক অনুরাগ বসু বলেন, ‘সারা বিশ্বের মানুষ হয়তো এই সিদ্ধান্তে অবাক হতে পারে, কিন্তু তার সিদ্ধান্তে আমি মোটেই অবাক নই। আমি বহুদিন ধরেই জানি, অরিজিৎ কতটা প্রতিভাবান এবং গান ছাড়াও জীবনে সে আরও অনেক কিছু করতে চায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি, অরিজিৎ সিং চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে ভীষণ আগ্রহী। এমনকি 'বারফি' সিনেমা বানানোর সময়ও অরিজিৎ আমাকে অনুরোধ করেছিল, সে আমার সহকারী হিসেবে কাজ করতে চায়। সে একটি স্কুল খুলতে চায় এবং শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে চায়। তার আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে, যা আমাদের সামনে তার একেবারে ভিন্ন দিক তুলে ধরবে।’ এছাড়াও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, অরিজিৎ সিং একজন পরিচালক হিসেবে তার প্রথম হিন্দি ছবির কাজ ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন। জঙ্গল অ্যাডভেঞ্চারধর্মী এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে আছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। বর্তমানে শান্তিনিকেতনে ছবিটির শুটিং চলছে। এর চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন অরিজিৎ সিং এবং তার স্ত্রী কোয়েল সিং। অরিজিৎ-এর এমন সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক সুলেমান বলেন, ‘চলচ্চিত্র নির্মাণ অরিজিতের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন, যেটার ওপর সে এখন পুরোপুরি মনোযোগ দিতে চায়। সে ভীষণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ, আর আমি তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।’ কণ্ঠশিল্পীর পারিবারিক বন্ধু ও মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা অনিলাভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এই মুহূর্তে অরিজিৎ একটি হিন্দি ও একটি বাংলা ছবি নিয়ে ব্যস্ত এবং দুটি ছবির শুটিংই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় চলছে।’ জানা যায়, সিনেমার প্রতি অরিজিৎ সিংয়ের এই ব্যাপক আগ্রহের পেছনে অন্যতম বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে সত্যজিৎ রায়ে চলচ্চিত্র।এই সংগীত শিল্পী ক্যারিয়ারে দুই বার জাতীয় পুরস্কার এবং আটবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন।
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা কমল হাসানের মেয়ে অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান। বাবার পরিচয় ছাড়াই বিনোদন জগতে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছেন। বলিউডে সফল সিনেমা না হলেও দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অভিনেত্রী। সেই সঙ্গে রয়েছে তার আরও একটি পরিচয়। তিনি একজন সুগায়িকাও। তার দরাজ কণ্ঠের ভক্ত-অনুরাগীর সংখ্যাও অনেক। সেই শ্রুতি হাসানের আজ (২৮ জানুয়ারি) জন্মদিন। এই ৪০ বছর বয়সেই শ্রুতি হাসান নিজে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছে। তিনি নাকি ৪৫ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। ২০০০ সালে ‘হে রাম’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসাবে অভিনয় করেছিলেন শ্রুতি হাসান। এরপর ২০০৯ সালে ‘লাক’ সিনেমায় নায়িকা হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার। সেই সিনেমায় গানও গেয়েছিলনে শ্রুতি হাসান। এরপর ‘দিল তো বচ্চা হ্যায় জি’, ‘ডি ডে’, ‘গব্বর ইজ ব্যাক’ নামে হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। বহু দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করেছেন শ্রুতি হাসান। জানা গেছে, সিনেমায় অভিনয় করে ৬ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন অভিনেত্রী। অভিনয়ের সঙ্গে ব্র্যান্ডের হয়ে প্রচারও করেন শ্রুতি হাসান। একেকটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে জোট বাঁধতে ৫ লাখ টাকা করে নেন তিনি। হিসাব অনুযায়ী, মাসে ৫০ লাখ টাকা আয় তার। অর্থাৎ বার্ষিক আয় ছয় কোটি টাকা। আর অনুষ্ঠানে গান গেয়ে এক কোটি টাকা নেন তিনি। মুম্বাইয়ে বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে শ্রুতি হাসানের। সেটির অন্দরসজ্জার পেছনে নাকি বহু খরচ করেছেন অভিনেত্রী। এ ছাড়া দেশের একাধিক জায়গায় তার বাসস্থান রয়েছে। গাড়ির সম্ভারও চোখে পড়ার মতো। রেঞ্জ রোভার থেকে শুরু করে অডি ও টয়োটা গাড়ি রয়েছে তার সম্ভারে।
ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (আইএসএল) মুম্বাই সিটি এফসির মালিকানার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুর। এবার ফুটবলের পর ক্রিকেটেও বিনিয়োগের পথে হাঁটতে পারেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)–এর শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন রণবীর। একই সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিতে বিনিয়োগের কথা ভাবছেন অভিনেত্রী আনুশকা শর্মাও। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বেঙ্গালুরুর মালিকানায় ছিল ইউনাইটেড স্পিরিটসের চেয়ারম্যান বিজয় মালিয়া। পরে ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যালকোহল কোম্পানি ডিয়াজিও ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানা নেয়। ডিয়াজিওর অধীনেই গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো আইপিএল শিরোপা জেতে বেঙ্গালুরু। তবে শিরোপা জয়ের পরপরই প্রতিষ্ঠানটি দলটির মালিকানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিএনবিসি টিভি১৮-এর তথ্য অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুর পুরো মালিকানা কিনতে ব্যয় হতে পারে প্রায় ২০০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। গুঞ্জন রয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কেনার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ভারতীয় শিল্পপতি আদর পুনাওয়ালা, যদিও এ বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এর মধ্যেই নতুন আলোচনায় এসেছে আনুশকা শর্মা ও রণবীর কাপুরের নাম। আইপিএলের শুরু থেকেই বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলছেন বিরাট কোহলি। স্বামীকে সমর্থন জানাতে নিয়মিত মাঠে উপস্থিত থেকেছেন আনুশকা। ফলে দলের সঙ্গে তার আবেগী সম্পর্ক তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। সেই জায়গা থেকেই বেঙ্গালুরুর মালিকানায় অংশীদার হতে আগ্রহী তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনুশকা বেঙ্গালুরুর ৩ শতাংশ শেয়ার কিনতে চান, যার জন্য তাকে প্রায় ৪০০ কোটি রুপি বিনিয়োগ করতে হতে পারে।
পাকিস্তানের জনপ্রিয় শোবিজ অভিনেত্রী লাইবা খান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই বিয়ের সুখবরটি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন লাইবা খান। পবিত্র মদিনায় অনুষ্ঠিত হয় তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ছবি প্রকাশের পরপরই ভক্ত ও শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই তাকে অভিনন্দন ও শুভকামনায় ভাসান। বিয়ের ঘোষণা দিয়ে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে লাইবা খান নতুন জীবনের শুরু নিয়ে অনুভূতির কথা জানান। তার পোস্টে ভক্তদের ভালোবাসা ও দোয়ার বার্তায় মন্তব্যের ঘর ভরে ওঠে। প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, অত্যন্ত সাধারণ ও পরিমিত আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠান। চারপাশে ছিল শান্ত, ধর্মীয় ও পবিত্র পরিবেশ, যা তার অনুসারীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। এর কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে লাইবা খান জানিয়েছিলেন, শোবিজ অঙ্গনের অনেক বড় তারকার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তার হয়নি। তবে নিজের অভিনয়জীবন নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানান। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অনেক কিছু অর্জন করেছেন বলে মনে করেন। ভবিষ্যতে অভিনয় থেকে সরে এসে দাম্পত্য জীবনকে বেশি সময় দিতে চান তিনি।
দেশের বরেণ্য অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ ও আলোচিত চিত্রনায়ক জায়েদ খান—দুজনই বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল বরিশালের সন্তান। তানিয়া জন্মেছেন পটুয়াখালীতে, আর জায়েদ পিরোজপুরের ছেলে। সাত সাগর আর তেরো নদী পাড়ি দিয়ে এবার এই দুই তারকা মুখোমুখি হলেন সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। উপলক্ষ—জায়েদ খানের উপস্থাপনায় জনপ্রিয় টক শো। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত জায়েদ খানের ‘সেলিব্রিটি টক শো – ফ্রাইডে নাইট উইথ জায়েদ খান’-এর দ্বিতীয় সিজনের প্রথম পর্বেই অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছেন তানিয়া আহমেদ। প্রথম সিজনের ১২টি পর্বের সাফল্যের পর শুরু হওয়া দ্বিতীয় সিজনের এই বিশেষ পর্বে দর্শকদের জন্য থাকছে নানা চমক। প্রাণবন্ত আড্ডায় উঠে এসেছে তানিয়া আহমেদের তিন দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং পর্দার আড়ালের নানা অজানা গল্প। উপস্থাপক জায়েদ খানের সঙ্গে তানিয়ার জমজমাট কথোপকথন দর্শকদের দারুণ বিনোদন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানা গেছে, পর্বটি আগামী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ঠিকানা ডিজিটালের ফেসবুক ও ইউটিউব পেজে লাইভ সম্প্রচারিত হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও একাধিক মামলার কারণে আর দেশে ফেরেননি জায়েদ খান। মাতৃভূমিতে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন এবং সেখানেই উপস্থাপনার মাধ্যমে ক্যারিয়ারের নতুন এক অধ্যায় শুরু করেছেন।
গ্ল্যামার জগতের আলো ঝলমলে জীবন থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে পুণ্যভূমি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী মারিয়া মিম। পবিত্র ওমরাহ পালন করতে তিনি এখন মক্কায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব পরিহিত স্নিগ্ধ ছবি শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন নিজের আধ্যাত্মিক প্রশান্তির কথা। সম্প্রতি মিম তার ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পবিত্র কাবা শরিফের সামনে তোলা একটি সেলফি প্রকাশ করেছেন। ছবিতে তাকে সাদা রঙের হিজাবে অত্যন্ত স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে। পবিত্র ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিটি মুসলিম যেন এই অনুভূতি লাভ করতে পারে। আমিন!’ অন্য আরেকটি পোস্টে মারিয়া মিম ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান থেকে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে তাকে ক্রিম রঙের বোরকা ও হিজাব এবং চোখে সানগ্লাস পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। জাবাল আল রহমাহ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তোলা সেই ছবিগুলোর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন ‘আরাফাতের ময়দান’। তার এই ধর্মীয় মনোভাব এবং মার্জিত নতুন রূপ ভক্তদের মাঝে বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তার জন্য দোয়া এবং শুভকামনা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘মাইক্লো’ আনুষ্ঠানিকভাবে সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদকে তাদের নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইক্লো বাংলাদেশের নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হাবিব ওয়াহিদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাইক্লো বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক এএইচএম আরিফুল কবির, হেড অব মার্কেটিং ইয়াসির সাবাবসহ, প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাবিব ওয়াহিদ বলেন, 'মাইক্লো যখন আমাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে প্রস্তাব দেয়, তখনই আমার মনে হয়েছে এটি আমার ব্যক্তিত্ব ও স্টাইলের সঙ্গে দারুণভাবে মানানসই। মাইক্লো ক্যাজুয়াল ও আরামদায়ক পোশাকে গুরুত্ব দেয়, যা আমি নিজেও দৈনন্দিন জীবনে পছন্দ করি। আমি আশা করি আমার ভক্তরাও এই অংশীদারত্ব উপভোগ করবেন।' মাইক্লো বাংলাদেশের পরিচালক এএইচএম আরিফুল কবির বলেন, ‘মাইক্লো সবসময় গুণগত মান, আরাম ও আধুনিক ফ্যাশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। হাবিব ওয়াহিদের সৃজনশীলতা, ব্যক্তিত্ব এবং তরুণদের সঙ্গে তার সংযোগ আমাদের ব্র্যান্ড দর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তিনি আরও জানান, মাইক্লো চলতি বছর থেকেই নতুন নতুন ডিজাইন ও ফাংশনাল পণ্য বাজারে আনতে যাচ্ছে। গ্রাহকদের চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, ‘মাইক্লো মানেই গ্রাহকদের জন্য সবসময় কিছু বাড়তি পাওয়ার সম্ভাবনা।’ মাইক্লো বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং ইয়াসির সাবাব বলেন, ‘হাবিব ওয়াহিদ স্বকীয়তা ও সহজ স্টাইলের প্রতীক, যা মাইক্লোর মূল ব্র্যান্ড মূল্যবোধকে তুলে ধরে। এই অংশীদারত্ব মাইক্লোর জন্য একটি নতুন ও রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সূচনা করবে।’
বলিউডের কিংবন্তি চিত্রতারকা প্রয়াত ধর্মেন্দ্র গত বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। চলে যাওয়া এ অভিনেতা মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মান পেলেন। এজন্য আবেগাপ্লুত তার পরিবারের সবাই। অভিনয়, রাজনীতি ও মানবকল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে গেছেন ধর্মেন্দ্র। এবার পদ্মবিভূষণ নিয়ে গর্ববোধ করার কথা জানিয়েছেন তার স্ত্রী, অভিনেত্রী, চিত্রনির্মাতা হেমা মালিনী। অভিনেত্রী হেমা মালিনী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘সিনেমা জগতে ধর্মেন্দ্রর অপরিসীম অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মর্যাদাপূর্ণ পদ্মবিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করেছে সরকার, এজন্য আমি খুবই গর্বিত।’ ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস এ উপলক্ষে ধর্মেন্দ্রকে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত ঘোষণা করা হয়। ধর্মেন্দ্রর মেয়ে এশা দেওল সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘বাবা মর্যাদাপূর্ণ পদ্মবিভূষণ পাওয়ায় আমরা সত্যিই খুশি।’ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে ৩০০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন ধর্মেন্দ্র। এরমধ্যে রয়েছে অনেক ব্যবসাসফল সিনেমা। ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ধর্মেন্দ্রর। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ২০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করে ফেললেও বক্স অফিসে তেমন সাফল্যের মুখ দেখেননি। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায় ‘ফুল অউর পাত্থার’। ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে এতে ছিলেন মীনা কুমারী। এটি বক্স অফিসে ভালো আয় করে। তারপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে ‘সত্যকাম’, ‘শোলে’, ‘আঁখে’, ‘কর্তব্য’র মতো হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান তিনি। নিজের শেষ সিনেমা ‘ইক্কিস’ দেখে যেতে পারেননি বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। গত বছরের ২৪ নভেম্বর মারা যান বলিউডের ‘হি-ম্যান’ধর্মেন্দ্র।
তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে মিডিয়ার এই কৌতূহল কখনো কখনো তারকাদের জন্য চরম বিড়ম্বনা ও মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনই এক তিক্ত ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন নববইয়ের দশকের জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন। অভিনেত্রী জানান, একবার কোনো সত্যতা যাচাই না করেই তার নিজের ভাইকে প্রেমিক হিসেবে প্রচার করেছিল একটি ম্যাগাজিন, যা তার পরিবারকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাভিনা বলেন, ‘হঠাৎ একদিন ম্যাগাজিনে পড়লাম, লেখা হয়েছে এক সুদর্শন ছেলে প্রতিদিন আমাকে শুটিংয়ে পৌঁছে দেয়। একবারের জন্যও সত্যতা যাচাই করেনি কেউ। আমার নিজের ভাইকে প্রেমিক ভেবে নিয়েছিলেন তারা।’ এই মিথ্যা খবরে প্রচণ্ড অপমানিত বোধ করেছিলেন অভিনেত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘মা-বাবা লজ্জায় ও অপমানে খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিলেন। খুব কষ্ট হয়েছিল, রাতের পর রাত ঘুমাতে পারিনি আমি।’ শুধু ভাই সংক্রান্ত এই গুজবই নয়, ক্যারিয়ারজুড়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বহুবার কাটাছেঁড়ার শিকার হতে হয়েছে রাভিনাকে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে একসময় জোর গুঞ্জন ছিল, সহ-অভিনেতা অজয় দেবগনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে কারিশমা কাপুরের কারণে সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং অজয় নাকি রাভিনার সঙ্গে প্রতারণা করেন। যদিও অজয় দেবগন কখনোই প্রকাশ্যে এই সম্পর্ক বা বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খোলেননি, তবু সেই পুরনো গুঞ্জনের ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন রাভিনা।
যে বন্ধুত্বের শিকড় গাঁথা ছিল স্কুল জীবনের নির্ভেজাল স্মৃতিতে, সেই সম্পর্ক ভাঙতে সময় লাগল না এক মুহূর্তও। ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সার ওরহান আত্রামানি ওরফে ওরির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন সাইফ আলি খানের কন্যা, অভিনেত্রী সারা আলি খান। একসময় যাকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে পরিচয় দিতেন সারা, আজ তার নামই মুছে গেল সারার জীবনের অধ্যায় থেকে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, প্রকাশ্যে সারার ক্যারিয়ার ও তারপরিবার নিয়ে ওরির বিতর্কিত ও অপদস্থকর মন্তব্যঘিরেই তৈরি হয়েছে তীব্র সংঘাত, যার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে বলিপাড়ার অলিতে গলিতে। তবে নীরবতা ভেঙে সারার এই কঠোর সিদ্ধান্ত যেন স্পষ্ট বার্তা দিল,ব্যক্তিগত সম্মান ও পারিবারিক মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। আর এদিকে বন্ধুত্বের গল্প যেখানে শেষ, সেখানেই শুরু হলো বলিউডের নতুন বিতর্ক। ঘটনার শুরু ওরির একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি সারা আলি খান, তার মা অমৃতা সিং এবং ভাই ইব্রাহিম আলি খানের চর্চিত প্রেমিকা পলক তিওয়ারিকে উদ্দেশ্য করে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। ওরি জানান, এই ৩টি নাম তার কাছে অত্যন্ত অপছন্দের। এমন প্রকাশ্য অপমানের পর কোনো কথা খরচ না করেই ওরিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আনফলো করে দেন সারা ও ইব্রাহিম। বন্ধুত্বে ফাটল ধরার পর ওরি আরও এক ধাপ এগিয়ে সারাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন; সেটাও ভীষণ ন্যাক্কারজনকভাবে! আরেক রিল ভিডিওয় ওরিকে দেখা যায় কালো নেটের গেঞ্জিতে স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে ভিতরে থাকা সাদা ব্রা এবং তার স্ট্র্যাপ। এই ইনফ্লুয়েন্সারের এমন উদ্ভট সাজপোশাক দেখে একজন প্রশ্ন ছোড়েন, ওই অন্তর্বাসে ঠিক কী ধরে রেখেছেন আপনি? আর সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই অযাচিতভাবে সারা আলি খানের নাম উল্লেখ করে বসেন ওরি। বলেন, আমার এই অন্তর্বাসে সারার ক্যারিয়ারের হিট ছবিগুলো ধরে রেখেছি। ওরির এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে নেটিজেনদের মাঝেও তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এদিকে সারার এতসব অপমানের পরেও সরাসরি কোনো তর্কে জড়াননি নবাবকন্যা। তবে সিনেমা জগতে আসার আগে থেকেই সারা এবং ওরি একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বলিউডের যেকোনো বড় পার্টিতে তাদের একসাথে দেখা যেত।
২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ডিয়ার কমরেড’ সিনেমায় অভিনয়ের দীর্ঘসময় পর আবারও বড় পর্দায় একসঙ্গে ফিরতে চলেছেন দক্ষিণী সিনে-ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় তারকা বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবারও অ্যাকশন ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় ফিরতে চলেছেন। আর সম্প্রতি সেই আসন্ন সিনেমা ‘রানাবালি’র একটি ঝলক প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায় রাশমিকা মান্দানাকে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ‘রানাবালি’র প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ১৮৭৮ সালের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা এক গল্প, যেখানে এক সাহসী যুবক ব্রিটিশদের অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে চায়। তাদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি নিজেকে এক ‘নির্দয় যোদ্ধা’তে পরিণত করেন। ভিডিওতে বিজয়কে দেখা যায়—একটি ঘোড়ার পিঠে চড়ে তিনি এক ব্রিটিশ অফিসারকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওটি শেয়ার করে বিজয় লেখেন, ‘ব্রিটিশরা তাকে ‘বর্বর’ বলত। আমি একমত। সে ছিল ‘আমাদের’ বর্বর! একমাত্র ‘রানাবালি’-কে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। আর আমাদের সেই ইতিহাস সামনে আনছি, যেটা তারা চাপা দিতে চেয়েছিল।’ ‘রানাবালি’ মুক্তি পাবে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এ। ছবিটি তেলেগু, হিন্দি, তামিল, কন্নড় ও মালায়ালাম—একাধিক ভাষায় মুক্তি দেওয়া হবে। ‘শ্যাম সিংহা রায়’ খ্যাত পরিচালক রাহুল সাঙ্কৃত্যায়ন এটি পরিচালনা করেছেন। সংগীত পরিচালনায় রয়েছেন জনপ্রিয় জুটি অজয়-অতুল। প্রসঙ্গত, এটি বিজয়-রাশমিকার তৃতীয় ছবি। এর আগে তারা একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন রোমান্টিক কমেডি ‘গীতা গোবিন্দম’ এবং পরে ‘ডিয়ার কমরেড’-এ। এদিকে বাস্তব জীবনেও তাদের প্রেমের গুঞ্জন বহুদিনের। তবে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাদের বাগদান সম্পন্ন হয় এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে চলেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।