বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার আবহে দর্শকদের জন্য বিশেষ আয়োজন নিয়ে এসেছে চ্যানেল আই। সম্প্রচার শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’, যেখানে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে দেখা যাচ্ছে অভিনয়ে। যদিও এর আগে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন জামাল ভূঁইয়া, তবে কোনো নাটক বা ফিকশনধর্মী প্রযোজনায় এটিই তার প্রথম অভিনয়। শুরুতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও পরে পরিচালক তারিক মুহাম্মদ হাসানের অনুরোধে রাজি হন তিনি। জামাল নিজেও জানিয়েছেন, বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও নাটকে অভিনয় তার জন্য একেবারেই নতুন এবং চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। নাটকে জামাল ভূঁইয়ার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাসনুভা তিশা। নাটকটির গল্প, কাহিনি ও পরিচালনায় রয়েছেন তারিক মুহাম্মদ হাসান। ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’-এর কাহিনি আবর্তিত হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থকদের আবেগ, মান-অভিমান, ঝগড়া, হাস্যরস ও নানা নাটকীয় ঘটনাকে ঘিরে। ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বিনোদনমূলক আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে ধারাবাহিকটিতে। এতে আরও অভিনয় করেছেন ইশতিয়াক আহমেদ রুমেল, শহিদ উন নবী, আনোয়ার, জাবেদ গাজী, অপু, আশিক, তানভীরসহ আরও অনেকে। ধারাবাহিক নাটক ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’ প্রতি শনি ও রোববার রাত ১০টা ১০ মিনিটে চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হচ্ছে।
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সুরকার ইবরার টিপুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া উদ্বেগের অবসান ঘটিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও সংগীতশিল্পী বিন্দু কণা। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন কিডনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর বর্তমানে ইবরার টিপু ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। সম্প্রতি ইবরার টিপুর একটি ফেসবুক ভিডিও প্রকাশের পর তাঁর শারীরিক পরিবর্তন দেখে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হলে রোববার (১২ জুলাই) তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে বিন্দু কণা বিস্তারিত জানান। লাইভে তিনি বলেন, ইবরার টিপুর একটি বড় অস্ত্রোপচার হয়েছে। এ কারণে এখনো তাঁর কথা বলতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। তবে তিনি আগের তুলনায় অনেক ভালো আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। বিন্দু কণা আরও জানান, গত প্রায় দুই বছর ধরে ইবরার টিপু কিডনি ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। বর্তমানে সেই কঠিন চিকিৎসা-পর্ব শেষ হয়েছে এবং তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন। তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। কারণ, চিকিৎসা কতটা দীর্ঘ ও জটিল হবে, তা শুরুতে ধারণা করা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশের পর ভক্তদের উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি জানানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইবরার টিপুর পক্ষে এখন সবার ফোন ধরা সম্ভব হচ্ছে না। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি নিজেই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। পাশাপাশি তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন বিন্দু কণা। উল্লেখ্য, ইবরার টিপুর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
প্রবাদ আছে—কারো ফেলে দেওয়া আবর্জনা অন্য কারো কাছে মহামূল্যবান সম্পদ। পপ তারকা টেইলর সুইফটের ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হলো। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মার্কিন ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন টেইলর সুইফট। আর সেই বিয়ের রেশ ধরে ভেন্যুর চারপাশের রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নেওয়া সাধারণ আবর্জনা এখন বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে, যা লুফে নিচ্ছেন অন্ধ ভক্তরা। নিউইয়র্কের কুইন্সের বাসিন্দা ও শিল্পী জাস্টিন গিগনাক গত ৩ জুলাই বিয়ের ভেন্যুর আশেপাশের রাস্তা থেকে বিভিন্ন বর্জ্য ও ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। এরপর অত্যন্ত চমত্কারভাবে সেই আবর্জনার টুকরোগুলোকে ছোট ছোট স্বচ্ছ অ্যাক্রিলিক কিউবের ভেতর বন্দি করে ‘পকেট গার্বেজ’ নাম দিয়ে বিক্রির ঘোষণা দেন। প্রতিটি ছোট কিউবের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৫ ডলার। অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সবগুলো কিউব স্টক আউট হয়ে যায়। শিল্পী জাস্টিন তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন, অনুষ্ঠানের পর মেঝেতে বা রাস্তায় ময়লা পড়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে, টেলর ও ট্রাভিসের এই রূপকথার মতো বিয়ের একদম কাছ থেকেই এই আবর্জনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে—যা আমন্ত্রণপত্র ছাড়া তাদের বিয়ের ঠিক কতখানি কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব ছিল, তারই এক অনন্য স্মারক। এই প্লাস্টিক কিউবগুলোর ভেতরে কী আছে তা জানলে যে কেউ চমকে উঠবেন। সাধারণ মানুষের ফেলে দেওয়া সিগারেটের ফিল্টার, চুইংগামের প্যাকেট, জুসের স্ট্র, একটি মাত্র এয়ারপড কিংবা ব্যবহৃত ওভুলেশন টেস্ট কিটের মতো জিনিসও স্থান পেয়েছে এই সংকলনে। গিগনাক জানিয়েছেন, তিনি ২৫ ডলার মূল্যের ৫০টি ছোট কিউব তৈরির পাশাপাশি কিছু বড় আকারের কিউবও তৈরি করেছিলেন, যেগুলোর প্রতিটির মূল্য রাখা হয়েছিল ১০০ ডলার। অবশ্য শিল্পী নিজেই স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে এই আবর্জনাগুলোর কোনোটিই সরাসরি টেলর সুইফট, ট্রাভিস কেলসি কিংবা তাদের আমন্ত্রিত অতিথিদের স্পর্শ করা বা তাদের ব্যবহৃত—এমন কোনো প্রমাণ নেই। এগুলো মূলত বিয়ের দিন ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর চারপাশ থেকে কুড়ানো হয়েছে। গিগনাক রসিকতা করে বলেন, দুর্ভাগ্যবশত তিনি বিয়ের মূল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন না, তাই ভেতরের ‘আসল ও খাঁটি’ আবর্জনাগুলো সংগ্রহ করার সুযোগ তার হয়নি। তবে ঠিক কোন স্থান এবং কোন ঐতিহাসিক সময়ে এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে, সেই আবেগটুকুই মূলত ভক্তদের আকর্ষণ করছে। টেইলর সুইফটের ভক্তরা, যারা বিশ্বজুড়ে ‘সুইফটিজ’ নামে পরিচিত, প্রিয় তারকার সামান্যতম স্মৃতিচিহ্ন পেতে সবসময়ই বিপুল অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত। এর আগে সুইফটের রেকর্ড সৃষ্টিকারী ‘ইরাস ট্যুর’-এর ২ বিলিয়ন ডলারের টিকিট বিক্রিই তার প্রমাণ। বিয়ের আবর্জনা কেনার ক্ষেত্রেও সেই একই উন্মাদনা দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সুইফটের ভক্তরা তার জন্য যেকোনো পর্যায় পর্যন্ত যেতে পারেন এবং কেবল ঘরে সাজিয়ে রাখার জন্যই অনেকে এই কিউবগুলো কিনছেন। অনেকে আবার এই শিল্পীর এমন অভিনব আইডিয়া ও উপার্জনকে খাঁটি নিউইয়র্ক ঘরানার ‘ব্যবসায়িক বুদ্ধি’ বলে প্রশংসা করেছেন। শিল্পী জাস্টিন গিগনাকের জন্য অবশ্য এটি নতুন কিছু নয়। গত ২৫ বছর ধরে তিনি এই অদ্ভুত ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০০৯ সালের অভিষেক অনুষ্ঠান এবং ২০১২ সালের নিউইয়র্ক জায়ান্টসের সুপার বোল প্যারেডের পর রাস্তা থেকে কুড়ানো আবর্জনা কিউব বন্দি করে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসপ্রেমী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেছিলেন তিনি। এবার টেলর সুইফটের বিয়ের আবর্জনাকে পুঁজি করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুললেন এই দূরদর্শী শিল্পী। সূত্র: বিবিসি।
জনপ্রিয় ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি এখন অনেকটাই দূরে সরে গেছেন। বর্তমানে রুপালি পর্দায় তাকে দেখা না গেলেও সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনায় আছেন তিনি। আবারও আলোচনায় এলেন অভিনেত্রী। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ১২টা ২০ মিনিটে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন অভিনেত্রী। চার বছর আগে র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া নিয়ে সেই পোস্টে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন পরীমনি। ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে’ এবং ‘বিশেষ মহলের স্বার্থে’ গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে মনে করেন তিনি। সেই ঘটনায় তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি— তার হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি আর জীবনের মূল্যবোধ আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কিনা। র্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন— সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে তিনি এমন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পেরেছেন— বনানীতে তার বাসায় দীর্ঘ অভিযানের পর তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের একটি অধ্যায় আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে, একজন নারী হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। সেই ঘটনার কারণে আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন— সবকিছুই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ পরীমনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেফতার দেখিয়ে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময় আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়।’ অভিনেত্রী বলেন, গ্রেফতারের পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি ওই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হিসেবেই জীবন কাটাচ্ছেন। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা ও চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।’ রাষ্ট্রকে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?’ প্রতিশোধ নয়, সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকতে চান বলে জানিয়েছেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে ছোট করতে চাই না, কাউকে অপমানও করতে চাই না। আমি শুধু চাই— ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন।’ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।’ উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে অভিনেত্রী পরীমনিকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব-১। পরে র্যাবের কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছিলেন। মাদক মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে— পরীমনির বাসা থেকে বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) এবং একটি এলএসডি ব্লট উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এ মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ১০-এ সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে ২০২১ সালের ৮ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরীমনির আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে একই ঘটনার জেরে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তার অভিযোগ, বোট ক্লাবে অ্যালকোহল বিনামূল্যে দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন এবং গ্লাস ছুড়ে মারেন। সেই মামলাটিও বিচারাধীন।
তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর নতুন মৌসুমে যোগ হলো এক নতুন আন্তর্জাতিক চমক। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘বঙ্গ’-তে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫’-এর ‘চ্যাপ্টার ১৩’-তে যুক্ত হয়েছেন নেপালি মডেল ও অভিনেত্রী রাজেশ্রী থাপা। গত বৃহস্পতিবার একযোগে এই সিরিজের ৯৭ থেকে ১০০ নম্বর পর্যন্ত মোট চারটি নতুন পর্ব অবমুক্ত করা হয়েছে। এরপর থেকেই দর্শক মহলে নতুন এই নারী চরিত্রটিকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রিয় এই ধারাবাহিকের নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি নিশ্চিত করেছেন যে, নাটকে এই নেপালি অভিনেত্রীর চরিত্রের নাম রাখা হয়েছে ‘কিরান’। নির্মাতা অমি তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে রাজশ্রীর একটি আকর্ষণীয় ছবি শেয়ার করে দর্শকদের এই নতুন চমকের কথা জানান। ছবিটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ব্যাচেলর পয়েন্ট-এর নতুন আগুন, কিরান। কিরানকে দেখতে চোখ রাখুন বঙ্গ-তে। পরিচালকের সেই পোস্টে নেপালি এই অভিনেত্রী নিজেও মন্তব্য করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, রাজেশ্রী থাপা তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও একটি বিশেষ ছবি প্রকাশ করে বাংলাদেশের দর্শকদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন, যা দুই দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বেশ সাড়া ফেলেছে। জানা গেছে, এই বিশেষ পর্বগুলোর দৃশ্যধারণের জন্য মারজুক রাসেল, চাষি আলম, জিয়াউল হক পলাশ এবং শামীম হাসান সরকারসহ ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ এর পুরো টিমকে নিয়ে নেপালে গিয়েছিলেন অমি। নেপালের মনোরম লোকেশনে গল্পের নতুন মোড় এবং রাজশ্রীর অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি দর্শকদের জন্য এবার থাকছে আরও একটি বড় আকর্ষণ। এবারের পর্বগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের তুমুল উন্মাদনা। যেখানে ব্যাচেলর পয়েন্টের চিরচেনা ও জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকে চিরাচরিত আমেজে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠ কাঁপাতে ও তর্কে জড়াতে দেখা যাবে। সব মিলিয়ে নতুন এই চ্যাপ্টারটি দর্শকদের বিনোদনের পারদ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান৷ ঢাকার পাশাপাশি কলকাতার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননা আছে তার ঝুলিতে। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতায় মুক্তি পেয়েছিল জয়া আহসান অভিনীত ‘ওসিডি’। তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। এর আগে ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ সিনেমাতেও অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ব্যাপক প্রশংসিত হন। ভারতীয় বাংলা সিনেমায় তার ধারাবাহিক সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যও বয়ে এনেছে গর্ব। সেই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে মুক্তি পেয়েছে জয়া আহসানের নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। এটি পরিচালনা করেছেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’–এর সিকুয়েল এই সিনেমাটি। নতুন সিনেমার মুক্তি উপলক্ষে বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন জয়া আহসান। প্রচার-প্রচারণা, গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার ও বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কলকাতা গণমাধ্যমে জয়া বলেন, ‘খুব ভালো সময় কাটছে নতুন সিনেমা নিয়ে। এতদিন সিনেমাটি ছিল আমাদের, কিন্তু আজ থেকে এটি দর্শকদের। আশা করছি, তারা হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখবেন এবং ভালোবাসায় সিক্ত করবেন।’ মুক্তির প্রথম দিনেই কয়েকটি হলে দর্শকদের ভালো সাড়া পাওয়ার খবরও তাকে আনন্দিত করেছে। জয়া বলেন, ‘শুনছি কয়েকটি হলে হাউজফুল যাচ্ছে। এটা সত্যিই আনন্দের খবর। দর্শক এভাবেই ভালোবাসা দেবেন—এটাই প্রত্যাশা। গল্পটা খুব সুন্দর। কৌশিকদা ভীষণ যত্ন নিয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন। আমরা যারা অভিনয় করেছি, সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’ মুক্তির পর বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সঙ্গে দেখা করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রচারে সময় দিচ্ছি। সব হলে যাওয়া হয়তো সম্ভব হবে না, তবে কয়েকটি হলে অবশ্যই যাব। আর প্রিমিয়ার শোতে তো থাকছিই।’ ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়েছিল সম্পর্কের টানাপড়েন আর মানবিক আবেগের গল্পে। সেই গল্পেরই নতুন অধ্যায় ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। নতুন সিনেমাতেও সম্পর্কের জটিলতা, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ ও জীবনের নানা অনুভূতির গল্প নিয়ে এগিয়েছে। এ নিয়ে জয়া বলেন, ‘অর্ধাঙ্গিনীর জন্য দর্শকদের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছিলাম। বিশ্বাস করি, আজও অর্ধাঙ্গিনী দেখেও দর্শক তাদের ভালো লাগার কথা বলবেন। শুধু এটুকুই বলব, গল্প তাদের মন ছুঁয়ে যাবে।’ নতুন সিনেমায় জয়া আহসানকে দেখা যাবে মেঘনা চরিত্রে। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। কিছুদিন আগে প্রকাশিত ট্রেলারও দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। ফলে সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশাও বেশি।
ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’ খ্যাত অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। তার আগামী সিনেমা ‘মাইসা’-র জন্য পানির নিচে একটি বিশাল মারপিটের (অ্যাকশন) দৃশ্যের শুটিং শেষ করেছেন তিনি। সিনেমার নির্মাতাদের দাবি, এটিই ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে কোনো নারী অভিনেত্রীর প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করা প্রথম ‘আন্ডারওয়াটার’ বা পানির নিচের ফাইট সিকোয়েন্স। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, কোনো ডামি বা বডি ডাবল ছাড়াই রাশমিকা এই বিপজ্জনক স্টান্টগুলো নিজেই সম্পন্ন করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিনেমার নির্মাতারা শুটিংয়ের বেশ কিছু নেপথ্যের (বিটিএস) ছবি ও একটি ঝলক প্রকাশ করেছেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই দিন ধরে প্রায় ২০ ঘণ্টা পানির নিচে কাটিয়ে রাশমিকা এই জটিল দৃশ্যটির শুটিং শেষ করেন। আপডেটটি শেয়ার করে নির্মাতারা লিখেছেন, রাশমিকা মান্দানার হাত ধরে ভারতের প্রথম নারীপ্রধান আন্ডারওয়াটার ফাইট সিকোয়েন্সের কাজ শেষ হলো। উপরিভাগ কখনোই আমাদের সীমানা ছিল না। ভারতীয় সিনেমা আগে কখনো দেখেনি, গভীর পানির নিচে এমন এক যুদ্ধের সাক্ষী হতে প্রস্তুত হোন। পানির নিচের এই কঠিন ও রোমাঞ্চকর শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও ভাগ করে নিয়েছেন রাশমিকা। এটিকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং কাজ আখ্যা দিয়ে তিনি লেখেন, আমি জানি বেশ কিছুদিন ধরে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলাম না, কারণ আমরা এই কাজটি নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। এটি আমার জীবনে করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। আমরা হয়তো একটু পাগলামি করেছি, কিন্তু এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত করেছে। রাবিন্দ্র পুলে পরিচালিত এবং আনফর্মুলা ফিল্মস প্রযোজিত ‘মাইসা’ সিনেমাটিকে একটি উপজাতীয় অঞ্চলের পটভূমিতে নির্মিত আবেগঘন অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এটি রাশমিকা মান্দানার ক্যারিয়ারের প্রথম নারীপ্রধান প্যান-ইন্ডিয়া (সর্বভারতীয়) অ্যাকশন ফিল্ম, যা চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
দেশীয় অন্তর্জাল জগতে সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত সিরিয়াল 'নীহারিকা সেন' এর টিজার প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশের পর এটি নিয়ে দর্শকমহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। টিজারটি দেখার সবাই ব্যাপক প্রশংসা করছেন। আর এটির নাম ভূমিকায় অর্থাৎ নীহারিকা সেন চরিত্রে অসাধারণ প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে দারুন আলোচনায় চলে এসেছেন মডেল - অভিনেত্রী সিফাত নুসরাত। টিজার প্রকাশের পর ব্যাপকভাবে প্রশংসিত এই উঠতি তারকা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নীহারিকা সেন আমার ক্যারিয়ারের একটা টার্নিং পয়েন্ট বলা যেতে পারে। যদিও এটা আমার প্রথম কাজ নয়। তবুও বলা যায়, নীহারিকা সেন নাম চরিত্রে অভিনয় করে আমার ক্যারিয়ার একটা ব্যস্ত অবস্থানে চলে গেছে। আমার পেশাগত পরিচিতি এবং কাজ অনেক বেড়ে গেছে। এখন এমন সব মানসম্মত কাজের অফার আসছে, যেসব কাজের জন্য আমি অপেক্ষা করে থাকতাম। নীহারিকা সেন অনেক বড় কাজ। টিজার রিলিজের পরে যে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছি, তাতে আমি নিজের ক্যারিয়ার অত্যন্ত আশাবাদী। সিফাত নুসরাত জানান, নীহারিকা সেন সিরিয়ালটির বাকি কলাকুশলীদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ডিরেক্টর হিসেবে প্রথম এপিসোডে কাজ করেছেন নাজিরী সাগর। আর এটির নাম ভূমিকায় অভিনয়ের পাশাপাশি এটি রচনাও করেছেন সিফাত নুসরাত নিজেই। চিত্রনাট্য রচনা করেছেন মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন ফাহাদ। নীহারিকা সেন এর এই চ্যাপ্টারে আরও দু'টি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনিরা মিঠু ও মীর রাব্বি। নিজের সৃষ্ট চরিত্র নীহারিকা সেন নিয়ে দর্শক - ভক্তদের সামনে আসাটা তাই লাস্যময়ী মডেল - অভিনেত্রী সিফাত নুসরাতের জন্যে দারুন সৌভাগ্যের। বর্তমানে নীহারিকা সেন এর চ্যাপ্টার টু এর শুটিং করতে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন ট্যালেন্টেড বিউটি খ্যাত সিফাত নুসরাত। 'নীহারিকা সেন' এর নির্মাতা নাজিরী সাগর বলেন, বাংলাদেশে নারী ডিটেকটিভ চরিত্র খুব একটা দেখা যায় না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সিফাত নুসরাতের উপস্থিতি যেনো নতুনত্ব এনে দিয়েছে। তিনি শুধু সৌন্দর্য দিয়ে নয় বরং নিজের ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা এবং অভিনয় দক্ষতা দিয়ে এবার হয়তো অন্যরকমের একটা চরিত্রকে খুব দারুণভাবেই প্রাণবন্ত করে তুলবেন। সিফাত নুসরাত আসলে এমন একজন শিল্পী যিনি মেধা আর উপস্থিতি দুটোকেই সমান শক্তিতে পর্দায় তুলে ধরতে জানেন।
আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিশ্বকাপের বিতর্কিত ম্যাচে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে কটাক্ষ করেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ও মডেল গওহর খান। মেসির বিরুদ্ধে অভিনয়ের অভিযোগ ও তাকে ‘লুজার’ বলে মন্তব্যের পর একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করে আলোচনায় এসেছেন গওহর। গওহর খান নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে এক ব্যক্তিকে মেসির মতো অভিনয় করতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি তৃতীয় একজনকে তুলে ধরছেন, আর তিনি হাত দিয়ে বল জালে পাঠাচ্ছেন। আরেকটি দৃশ্যে ওই ব্যক্তিকে ভুল পাস করার অভিনয় করতে দেখা যায়। পরে তিনি আবার হাত দিয়ে বল তুলে নেন। এমনকি ভিডিওতে দেখানো হয়, খেলোয়াড় গোলপোস্টের বাইরে থেকে বল মারলেও রেফারি সেটিকে গোল হিসেবে ঘোষণা করছেন। ভিডিওটি শেয়ার করে গওহর লেখেন, ‘হাহাহাহাহা! একদম ঠিক জায়গায় আঘাত করেছে।’ এর একদিন আগে মেসির সমালোচনা করে গওহর লিখেছিলেন, ‘কী এক লুজার, মেসি নয় যেন একটা জগাখিচুড়ি। একদম বাজে অভিনেতা।’ উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলেও মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি এখনো আলোচনায় রয়েছে। এর কারণ মেসির পেনাল্টি মিস, বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত। ম্যাচের প্রথমার্ধেই বিতর্কের শুরু হয়। ঐতিহাসিক জয়ের আশায় মাঠে নামা মিশরের বিপক্ষে শুরুতে চাপের মুখে পড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে পেনাল্টি পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। আর্জেন্টিনার কাছে হারের কয়েক ঘণ্টা পর মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তার দলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ম্যাচে নেওয়া রেফারিং সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর ব্যবহারে ব্যর্থতার বিষয়ে তারা নীরব থাকতে পারে না। বিবৃতিতে বলা হয়, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে দেখা রেফারিং সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার না করার বিষয়ে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নীরব থাকতে পারে না।
লিওনেল মেসির অনন্য পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর জয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। সেই উচ্ছ্বাসে শামিল হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাও। আর্জেন্টিনার জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। পোস্টে আর্জেন্টিনা ও মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসা এবং উচ্ছ্বাসের কথা তুলে ধরেন। পূর্ণিমা লেখেন, ‘আর্জেন্টিনার জন্য কী দুর্দান্ত একটি রাত।’ তিনি আরও লেখেন, ‘যখন সারা বিশ্ব ভেবেছিল সব শেষ, মেসি এবং তার যোদ্ধারা দেখিয়ে দিলেন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নদের হৃদস্পন্দন কেমন হয়। সাহস, আবেগ আর বিশ্বাস এক নান্দনিক উপায়ে পুরো খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিল। আলহামদুলিল্লাহ।’ আর্জেন্টিনার এই জয়ের পর অভিনেত্রীর পোস্টে ভক্তরাও শুভেচ্ছা ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
যেকোনো সম্পর্কের দুটি মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও সম্মান। কিন্তু প্রতারণা হলো সেই উইপোকা, যা সম্পর্কের ভিত্তিকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেয় এবং একপর্যায়ে তা ভেঙে পড়ে। বর্তমান যুগে পরকীয়াকে বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হলেও তারকারা যেন বিষয়টিকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তুলছেন। সম্প্রতি বলিউড অভিনেতা রাম কাপুর বলেছেন, সম্পর্কের কঠিন সময়ে একজন মানুষ ‘ভুল করে’ সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করে বসতে পারে। এর আগে ‘টু মাচ’ অনুষ্ঠানে টুইংকেল খান্না ও কাজলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সময় সঞ্চালক বলেছিলেন, ‘রাত গায়ি, বাত গায়ি’ (রাত পোহালেই কথা শেষ)। অনলাইনে এ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। দশকের পর দশক ধরে তারকাদের প্রেমের গুঞ্জন ট্যাবলয়েডগুলোর খোরাক জুগিয়ে আসছে। কিন্তু কেউ খেয়ালই করেনি যে, এ বিষয়গুলো ধীরে ধীরে পরকীয়া বা প্রতারণার প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে। প্রতারণা বা পরকীয়া আসলে কী প্রতারণা বা পরকীয়ার বিষয়টি পুরোপুরি সাদা-কালো (স্পষ্ট) নয়। এর সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে। ভারতের এশিয়ান হাসপাতালের কনসালট্যান্ট-ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. দীপিকা শর্মা বলেন, ‘প্রতারণা বলতে মূলত সম্পর্কের পারস্পরিক নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করাকে বোঝায়, যা বিশ্বাসের অমর্যাদা করে। শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ছাড়াও পরকীয়া বিভিন্ন রূপ নিতে পারে। যেমন—আবেগের সম্পর্ক, গোপনে রোমান্টিক কথোপকথন, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের কথা লুকিয়ে রাখা, অনলাইনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানো বা এমন কোনো মেলামেশা গোপন করা, যা সঙ্গীর জানার কথা।’ ‘অ্যান্ডউইমেট’-এর প্রতিষ্ঠাতা শালিনী সিং জানান, প্রতারণা কেবল শারীরিক ঘনিষ্ঠতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, ‘মূলত প্রতারণা নির্দিষ্ট কোনো কাজের চেয়েও দুজন মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও প্রত্যাশা ভেঙে দেওয়ার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।’ প্রতারণা কি আগের চেয়ে বেশি সাধারণ বা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে? কোনো বিষয় যদি বারবার চোখের সামনে আসে, তবে এর প্রভাব কমতে থাকে এবং মানুষ বিষয়টির প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে। প্রতারণার ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটছে। তারকাদের পরকীয়া নিয়ে মজা করা, উপহাস করা বা এমনকি এর পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে নীরবে প্রভাবিত করছে। গেটওয়ে অব হিলিং-এর প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক ও সাইকোথেরাপিস্ট ডা. চাঁদনি তুগনাইত বলেন, ‘তারকাদের বিভিন্ন মন্তব্য এবং হাই-প্রোফাইল পরকীয়ার খবর সমাজে কী স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য, সে সম্পর্কে মানুষের ধারণাকে প্রভাবিত করে। যখন জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি বলেন যে পরকীয়া কেবল একটি ভুল ছিল, তখন ধীরে ধীরে এটিকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা শুরু হতে পারে।’ এ প্রতিক্রিয়া শুধু প্রতারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি কীভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে তার ওপরও নির্ভর করে। এই সাইকোথেরাপিস্ট আরও বলেন, ‘তারকাদের আপস করে নেওয়া বা ক্ষমা করার বিষয়টির সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সরাসরি কোনো যোগসূত্র নিয়ে আনুষ্ঠানিক গবেষণা নেই। তবে এই প্রবণতা অস্বীকার করার উপায় নেই। যখন একজন নারী তার প্রতারক সঙ্গীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা করে দেন, তখন তার মহানুভবতার প্রশংসা করা হয়। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে একজন পুরুষ যখন ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তখন সেটাকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।’ খ্যাতি কি তারকাদের বাড়তি সুবিধা দেয়? যখন কোনো তারকার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়ায়, তখন মানুষ প্রায়ই পক্ষ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা অনেক সময় পুরো ঘটনা না জেনেই প্রতারণাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেক কট্টর ভক্তের কাছে তারকার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন আলাদা। ডা. শর্মা জানান, ‘নিঃসন্দেহে তারকাদের প্রায়ই সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যখন খ্যাতি, ক্ষমতা, অর্থ বা প্রতিভাধর কোনো ব্যক্তি তার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণার মতো ক্ষতিকর আচরণ করেন, তখন তাদের মর্যাদার কারণে সেই আচরণ অনেক সময় বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে হতে পারে।’ ডা. তুগনাইত মনে করেন, যখন কেউ যথেষ্ট বিখ্যাত হন, তখন তার আচরণ বিশ্লেষণের চেয়ে সাফাই গাওয়া হয় বেশি। তিনি বলেন, পরকীয়া পরিণত হয় সম্পর্কের ‘কঠিন সময়ে’, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হয়ে যায় ‘জটিল পরিস্থিতি’। আর সাধারণ মানুষের জন্য যে নিয়ম প্রযোজ্য, তা নিঃশব্দে তাদের জন্য অকার্যকর হয়ে যায়। আগুনে ঘি ঢালে সংবাদমাধ্যমের খবর। যখন কোনো ঘটনা বিক্রির জন্য রসালো গালগল্প হিসেবে প্রচার করা হয়, তখন এর আসল মানসিক পরিণতিগুলো ঢাকা পড়ে যায়। বিশ্বাসভঙ্গ, শোক ও মানসিক আঘাত প্রায়ই এই কোলাহলে হারিয়ে যায়। শালিনী সিং বলেন, ‘পিআর (জনসংযোগ) ন্যারেটিভ, গণমাধ্যমের খবর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবকিছুই কোনো ঘটনা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তা প্রভাবিত করে। ভক্তদের মনে রাখা উচিত, তারা কেবল ঘটনার একটি সাজানো অংশ দেখছেন। পুরো পরিস্থিতি না জেনে কাউকে সমর্থন বা নিন্দা করতে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়।’ বর্তমান যুগের যুগলেরা প্রতারণাকে কীভাবে দেখেন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়া নতুন কোনো ধারণা নয়। সমাজে এর অস্তিত্ব বরাবরই ছিল। শালিনী সিং বলেন, ‘গত ১০ থেকে ২০ বছরে প্রতারণার বিষয়টি আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং ২৪ ঘণ্টার সংবাদপ্রবাহের কারণে প্রতারণা নিয়ে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে।’ ডা. তুগনাইত মনে করেন, বিশ্বাসভঙ্গের কারণে মানুষ এখনো আগের মতোই গভীর কষ্ট পায়, তবে এর ধরন ও কাঠামো বদলে গেছে। তিনি বলেন, ‘প্রতারণা বলতে আসলে কী বোঝায়, তা নিয়ে এখন অনেক বেশি আলোচনা হয়। আর এ অস্পষ্টতার বড় একটি অংশ মানুষ অনলাইন ও তারকা সংস্কৃতি থেকে সরাসরি গ্রহণ করছে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রতারণা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও সম্পর্ক, তারকা সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে মানুষের এ পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়টিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে।
বলিউড সুপারস্টার সালমান খান আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তার আসন্ন চলচ্চিত্র ‘‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’’-এর নতুন লুক প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লুকটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ভক্তরা ছবিটি নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানাতে শুরু করেন। প্রকাশিত পোস্টারে সালমান খানকে আগের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন রূপে দেখা গেছে। গম্ভীর অভিব্যক্তি, রাগেড স্টাইল এবং অ্যাকশনধর্মী উপস্থিতি অনেকের নজর কেড়েছে। ভক্তদের একাংশের মতে, এটি হতে পারে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সালমানের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী লুক। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘদিন পর নতুন ধরনের একটি চরিত্রে দেখা যেতে পারে এই অভিনেতাকে। কেউ কেউ ইতোমধ্যে ছবিটিকে বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত বলিউড সিনেমা বলেও উল্লেখ করছেন। যদিও ছবির কাহিনি সম্পর্কে নির্মাতারা এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে এটি একটি যুদ্ধ ও দেশপ্রেমভিত্তিক অ্যাকশন-ড্রামা হতে পারে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে ছবির বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করছে, যা দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বলিউড বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন লুক প্রকাশের মাধ্যমে ছবির প্রচারণায় জোরালো সূচনা করেছে নির্মাতা দল। ট্রেলার প্রকাশের আগেই সিনেমাটি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হওয়ায় মুক্তির পর বক্স অফিসেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে সালমান খানের অনুরাগীরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন ছবিটির টিজার ও ট্রেলার প্রকাশের। নতুন এই সিনেমায় তিনি কতটা ভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, সেটিই এখন বলিউডপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আবারও মিসরের ঐতিহাসিক গিজার পিরামিডে গান গাইতে আসছেন কলম্বিয়ান পপ সুপারস্টার শাকিরা। আগামী ২৮ নভেম্বর ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে একটি জমকালো কনসার্টে পারফর্ম করবেন তিনি। ২০০৭ সালে একই ভেন্যুতে পারফর্ম করার পর মিসরে এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম কোনো শো। মধ্যপ্রাচ্যের বিনোদনধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘ভেঞ্চার লাইফস্টাইল’ এই বিশেষ কনসার্টটি আয়োজন করতে যাচ্ছে। ভেঞ্চার লাইফস্টাইল এর আগে জেনিফার লোপেজ, জন লেজেন্ড, কেটি পেরি এবং ডেমি লোভাটোর মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের মধ্যপ্রাচ্যের মঞ্চে নিয়ে এসেছে। শাকিরার এই প্রত্যাবর্তন মূলত তার সাম্প্রতিক ‘লাস মুজেরেস ইয়া নো ইয়োরান’ অ্যালবামের ধারাবাহিকতায় বিশ্ব সফরের অংশ হিসেবে ঘটছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতজগতে রাজত্ব করা শাকিরা বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৯ কোটিরও বেশি রেকর্ড বিক্রি করেছেন। একাধিক গ্র্যামি এবং লাতিন গ্র্যামিজয়ী এই তারকা বিশ্বমঞ্চে লাতিন সংগীতের সবচেয়ে সফল আইকনদের একজন। সম্প্রতি তার নতুন গান ‘দাই দাই’ ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ট্র্যাক তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। মিসরে এই কনসার্টের বিষয়ে এক বিবৃতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শাকিরা বলেন, মিসরের গিজা পিরামিডে পারফর্ম করতে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। একইসঙ্গে ভক্তদের প্রতি নিজের ভালোবাসাও প্রকাশ করেন এই পপতারকা। সূত্র: আরব নিউজ
শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য দায়িত্ব বুঝে নিলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন কমিটি। বুধবার রাত আটটায় বিএফডিসি'র আট নাম্বার ফ্লোরে অনুষ্ঠিত হয় এই শপথ গ্রহণ। এতে নব নির্বাচিত সভাপতি শিবা সানুকে শপথ পাঠ করান বিদায়ী সভাপতি মিশা সওদাগর। পরে কমিটির অন্যদের শপথ পাঠ করান নব নির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু। শপথ গ্রহণ শেষে শিবা সানু গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আমরা আবার সবাই এক। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে শিল্পী সমিতিকে এগিয়ে নিতে। বিজয়ী এবং বিজিত সবাইকে নিয়েই শিল্পী সমিতির মর্যাদা, পেশাদারিত্ব ও উন্নয়ন ঘটাতে চাই। আমাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমাদের যেসব শিল্পীরা নির্বাচিত হতে পারেন নি তাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন উপ কমিটি গঠন করে শিল্পী সমিতির উৎকর্ষ সাধন করতে চাই। শিল্পীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সব ভেদাভেদ ভুলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সভাপতি শিবা সানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রের নবীন ও প্রবীন শিল্পীরা।
অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে পরিণত হয়েছে ‘ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন’। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে হয়ে আসছে এটি। আগামী ১৩ থেকে ২৩ আগস্ট বসবে উৎসবটির ১৭তম আসর। এতে ৩১ ভাষার ৭৫টির বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে বলে জানা গেছে। এই উৎসবে বাংলাদেশের তিনটি ছবি নির্বাচিত হয়েছে—মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের ‘দিলুপি’ এবং মাহদে হাসানের ‘বালুর নগরীতে’। এগুলো লড়বে উৎসবের ‘বেস্ট ফিল্ম ফ্রম দ্য সাবকন্টিনেন্ট’ বিভাগে। এই বিভাগে আরও মনোনয়ন পেয়েছে নেপালের ‘এক মুঠি বাদল’ ও ‘গুডবাই সিস্টারস’, আফগানিস্তানের ‘ইন দ্য রুম’ ও ‘নো গুড মেন’ এবং শ্রীলঙ্কার ‘স্পায়িং স্টারস’। বিভাগে সর্বোচ্চ সংখ্যক ছবি জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশ থেকে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক মনে করছেন দেশের সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। এদিকে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে উৎসবটির বিশেষ অনুষ্ঠান। তাতে বলিউডের কালজয়ী ছবি ‘লগান’-এর ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হবে। এতে অংশ নেবেন ছবির অভিনেতা ও প্রযোজক আমির খান। এরই মধ্যে তিনি মেলবোর্নে হাজির হয়েছেন। সঙ্গে থাকছেন তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী গৌরি স্প্র্যাটও। প্রসঙ্গত, এর আগেও একটি উৎসবে একসঙ্গে বাংলাদেশের তিনটি ছবি অংশ নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ বছরের শুরুতে বিখ্যাত রটারড্যাম উৎসবে ‘রইদ’ ও ‘দেলুপি’র সঙ্গে অংশ নেয় রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘মাস্টার’। এটি উৎসবের বিগ স্ক্রিন বিভাগে সেরা ছবির পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছিল।
সুস্থ, কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত জীবনযাপনের জন্য সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। আর সেই সুষম খাদ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিন (Niacin)। শরীরে শক্তি উৎপাদন থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং ত্বকের সুস্থতা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজেই এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেহেতু এটি একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, তাই শরীর অতিরিক্ত ভিটামিন বি-৩ জমিয়ে রাখতে পারে না। ফলে প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমে এর চাহিদা পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। ভিটামিন বি-৩ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ? ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিন একটি পানিতে দ্রবণীয় (Water-soluble) ভিটামিন। এর অতিরিক্ত অংশ শরীরে সঞ্চিত না থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। তাই শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি-৩ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ভিটামিন বি-৩-এর প্রধান উপকারিতা ১. শরীরে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তা থেকে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ভিটামিন বি-৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি খাদ্যকে ভেঙে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করে, ফলে দৈনন্দিন কাজ করার জন্য শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায়। ২. হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ভিটামিন বি-৩ রক্তে ভালো কোলেস্টেরল (HDL)-এর মাত্রা বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ৩. মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে সুস্থ স্নায়ুতন্ত্র বজায় রাখতে নিয়াসিন অপরিহার্য। এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং মানসিক অবসাদ কমিয়ে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ৪. ত্বকের স্বাস্থ্য ও ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখে ভিটামিন বি-৩ ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মির প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে এবং ত্বকের কোষের ডিএনএ মেরামতে সহায়তা করে। শরীরে দীর্ঘদিন এ ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে ‘পেলাগ্রা’ (Pellagra) নামক গুরুতর রোগ দেখা দিতে পারে, যার প্রধান লক্ষণ হলো ত্বকের সমস্যা, ডায়রিয়া এবং মানসিক বিভ্রান্তি। ভিটামিন বি-৩ সমৃদ্ধ খাবার ভিটামিন বি-৩-এর উৎস প্রধানত দুই ধরনের—প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ। প্রাণিজ উৎস মুরগির মাংস কলিজা রুই, কাতলা, ইলিশ, মাগুর ও ভেটকি মাছ ডিম উদ্ভিজ্জ উৎস চিনাবাদাম সূর্যমুখীর বীজ মাশরুম সবুজ মটরশুঁটি লাল চাল নারকেল কারা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে থাকেন? যাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাবার থাকে, তাদের শরীরে সাধারণত ভিটামিন বি-৩-এর ঘাটতি কম দেখা যায়। কারণ প্রোটিনে থাকা ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan) নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে যকৃৎ সহজেই ভিটামিন বি-৩-এ রূপান্তর করতে পারে। ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই নিয়াসিনের একটি অংশ তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়। ভিটামিন বি-৩ শরীরের শক্তি উৎপাদন, হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা এবং ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেহেতু শরীর এই ভিটামিন সঞ্চয় করে রাখতে পারে না, তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিয়াসিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি। সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে অধিকাংশ মানুষ সহজেই দৈনিক ভিটামিন বি-৩-এর চাহিদা পূরণ করতে পারেন। তাই সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপনের জন্য আজ থেকেই প্রতিদিনের খাবারের মেন্যুতে ভিটামিন বি-৩ সমৃদ্ধ খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় দুই নায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই বারবার আলোচনায় উঠে আসে ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার গৌতম সাহার নাম। এক সাক্ষাতকারে তাদের নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন তিনি। গৌতমের সেই আলোচনায় সিঙ্গাপুরে অপুর বিয়ের গুঞ্জন থেকে শুরু করে শাকিব খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিক অবস্থারও ধারণা পেয়েছে দর্শক। তার ভাষ্যমতে, অপুর বিয়ের বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে দেখেছেন তিনি। গুঞ্জন সত্যি হলে শুভকামনা, তবে মিথ্যা হলেও অবাক হবেন না। অপু বিশ্বাস নিজের শক্তিতেই এগিয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি। গৌতম জানান, অর্থ বা সাফল্যই জীবনের সব সুখ নয়। একজন নারী হিসেবে অপুরও একটি সুন্দর সংসার প্রাপ্য। বাবা-মা নেই, সঙ্গে ছোট্ট ছেলে জয়- সব মিলিয়ে নতুন করে সুখী হওয়ার সুযোগ তার পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। সেই আলোচনায় শাকিব খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অপুর কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন গৌতম সাহা। তিনি জানান, সেই সময় অপুকে মানসিকভাবে শক্ত রাখতে রাতের পর রাত জেগে কথা বলেছেন, সাহস জুগিয়েছেন, নতুন করে ক্যারিয়ারে ফিরতে পাশে থেকেছেন। পরবর্তীতে তৃতীয় ব্যক্তির কারণে তাদের সম্পর্কের মধ্যে তৈরি হয় দূরত্ব। বর্তমানে শবনম বুবলীর সঙ্গে নিয়মিত কাজ করছেন গৌতম সাহা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক প্রতিষ্ঠিত নায়িকার সঙ্গে কাজ করলেও, বুবলীর মতো সহযোগিতাপরায়ণ মানুষ খুব কমই দেখেছেন বলে জানান তিনি। কাজের প্রতি তার আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মনোভাব গৌতমকে মুগ্ধ করেছে।
একসঙ্গে বিয়ে ও মা হতে যাওয়ার খবর জানিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের চমকে দিয়েছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। তবে এই সুখবরের পেছনে লুকিয়ে আছে কঠিন এক সময়ের গল্প। অভিনেত্রীর ভাষ্য, গত দেড় বছর তার জীবনে ঝড় বয়ে গেছে। সেই দুঃসময় পেরিয়েই এখন নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মৌসুমী বলেন, ‘শেষ দেড়টা বছর আমার ওপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে গেছে বলে বোঝাতে পারব না। এক প্রকার ট্রমায় চলে গিয়েছিলাম। তবে আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়িনি। আল্লাহ আমার দিকে নজর রেখেছেন বলেই আব্দুল ওয়াদুদ সজীবের মতো স্বামী পেয়েছি। তার সন্তানের মা হতে যাচ্ছি। এক দরজা বন্ধ হলে হাজার দরজা খুলে যায়—এখন কথাটা আমার কাছে বাস্তব মনে হচ্ছে।’ নিজেদের বিয়ের সময় নিয়ে আপাতত মুখ খুলতে চাননি এই অভিনেত্রী। জানান, আগের সংসার থেকে দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই কঠিন সময়ে ১৫ বছরের বন্ধু আব্দুল ওয়াদুদ সজীবই সবসময় পাশে ছিলেন। পরে দুজনে নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিয়ের তারিখ এখনই প্রকাশ করতে নারাজ মৌসুমী। তার ভাষায়, ‘বিবাহবার্ষিকী এলেই সবাই জানতে পারবেন।’ স্বামী শোবিজের মানুষ না হলেও দীর্ঘদিনের পরিচিত বলে জানান মৌসুমী। তাদের পরিচয় মিডিয়ার বাইরের বন্ধু মহলের মাধ্যমে। তিনি বলেন, মিডিয়ায় জীবনের নানা কষ্টের সময়ে সজীবই তাকে মানসিকভাবে শক্তি জুগিয়েছেন। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী শুধু জীবনসঙ্গীই নন, ব্যবসায়িক অংশীদারও। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর একটি ব্যবসা পরিচালনা করছেন মৌসুমী হামিদ। প্রায় দেড় বছর আগে শুরু হওয়া সেই প্রতিষ্ঠানে শুরুতে আটজন কর্মী থাকলেও বর্তমানে কর্মীর সংখ্যা ২৫ জন। শিগগির তা ১০০ জনে পৌঁছাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সজীব, আর তার পরের দায়িত্বে রয়েছেন মৌসুমী নিজেই। তাই গর্ভাবস্থাতেও নিয়মিত অফিস ও মিটিং করছেন বলে জানান তিনি। মাতৃত্বকালীন ছুটি কিছুদিন পর নিলেও অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেওয়ার ইচ্ছা নেই মৌসুমীর। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো অভিনয়ের জন্য প্রস্তুত। আমার বর্তমান অবস্থার সঙ্গে মানানসই কোনো চরিত্র পেলে অবশ্যই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াব। সন্তান হওয়ার পরও বড় কোনো বিরতি নিতে চাই না। আশা করছি, খুব শিগগির দর্শক আমাকে আবার পর্দায় দেখতে পাবেন।’
ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পুষ্টিকর উপাদান। তবে অনেক সময় একসঙ্গে কেনা ডিম দীর্ঘদিন ফ্রিজে সংরক্ষণ করার কারণে কিছু ডিম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর রান্নার সময় যদি ভালো ডিমের সঙ্গে একটি নষ্ট ডিমও মিশে যায়, তাহলে পুরো খাবারই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুখবর হলো— খুব সহজ কয়েকটি উপায়ে ডিম ভাঙার আগেই বোঝা সম্ভব সেটি খাওয়ার উপযোগী কি না। চলুন জেনে নেওয়া যাক চারটি কার্যকর পরীক্ষা। ১. ডিমের খোসার রং ও গন্ধ লক্ষ্য করুন ফ্রিজ থেকে বের করার পর প্রথমেই ডিমের বাইরের অংশ ভালোভাবে দেখুন। সাধারণত সাদা ডিমের খোসা উজ্জ্বল ও স্বাভাবিক সাদা থাকে। যদি খোসায় অস্বাভাবিক গোলাপি বা বিবর্ণ আভা দেখা যায়, তবে সতর্ক হোন। ডিম ভাঙার পর যদি দুর্গন্ধ বা অস্বাভাবিক গন্ধ বের হয়, তাহলে সেটি কোনোভাবেই ব্যবহার করবেন না। পরামর্শ: এমন ডিম সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন। ২. পানিতে ভাসিয়ে পরীক্ষা করুন এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগুলোর একটি। যেভাবে করবেন— একটি গভীর বাটিতে ঠান্ডা পানি নিয়ে ডিমটি আস্তে করে ডুবিয়ে দিন। ফলাফল— একেবারে নিচে ডুবে গেলে — ডিমটি টাটকা। নিচে দাঁড়িয়ে থাকলে বা মাঝামাঝি ভাসলে — ডিমটি কিছুটা পুরোনো, তবে সাধারণত খাওয়ার উপযোগী। সম্পূর্ণ ভেসে উঠলে — ডিমটি অনেক পুরোনো এবং নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটি ব্যবহার না করাই নিরাপদ। ৩. কানের কাছে নিয়ে ঝাঁকিয়ে দেখুন এটি একটি সহজ ও মজার কৌশল। ডিমটি কানের কাছে ধরে আস্তে আস্তে ঝাঁকান। যদি ভেতর থেকে তরল নড়াচড়ার শব্দ শোনা যায়, তাহলে ডিমটি অনেক পুরোনো বা নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। যদি কোনো শব্দ না হয়, তাহলে ডিমটি সাধারণত ভালো অবস্থায় রয়েছে। ৪. ভেঙে কুসুম ও সাদা অংশ পরীক্ষা করুন ডিম ভাঙার পরও এর মান সহজেই বোঝা যায়। ভালো ডিমের বৈশিষ্ট্য— কুসুমটি গোল ও উঁচু থাকবে। সাদা অংশ ঘন হবে এবং কুসুমের চারপাশে লেগে থাকবে। নষ্ট বা অতিরিক্ত পুরোনো ডিমের লক্ষণ— কুসুম চ্যাপ্টা বা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। সাদা অংশ একেবারে পানির মতো পাতলা হয়ে যায়। দুর্গন্ধ থাকলে সেটি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। মনে রাখুন— ডিম কেনার পর যত দ্রুত সম্ভব ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ফ্রিজে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। ব্যবহার করার আগে প্রতিটি ডিম আলাদা পাত্রে ভেঙে নিলে পুরো রান্না নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। একটি নষ্ট ডিম পুরো রান্নার স্বাদ ও মান নষ্ট করে দিতে পারে। কিন্তু সামান্য সচেতনতা এবং এই চারটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই ভালো ও নষ্ট ডিম আলাদা করা সম্ভব। তাই রান্নার আগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে ডিম পরীক্ষা করুন। এতে খাবারের অপচয় যেমন কমবে, তেমনি পরিবারও থাকবে নিরাপদ ও সুস্থ।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়ে এবার দেশের প্রেক্ষাগৃহে আসছে প্রসূন রহমান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘শেকড় (দ্য রুটস)’। মানুষের শিকড়ের টান, দেশ, পরিবার, পরিচয়, স্মৃতি, বিশ্বাস ও ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি আগামী ৩১ জুলাই সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। নির্মাতা প্রসূন রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “অসংখ্য মানুষের সৃজনশীল সংযোগ, পরিশ্রম, ভালোবাসা, স্বপ্ন আর বিশ্বাস নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘শেকড়’। অবশেষে ৩১ জুলাই ছবিটি দেশের দর্শকদের সামনে আসছে। দীর্ঘ এই যাত্রায় যারা শুরু থেকেই আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।” তিনি জানান, চলচ্চিত্রটি প্রথমবার আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে আসে কানাডার টরন্টোয় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের মাধ্যমে। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের দর্শকদের জন্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। দেশে মুক্তির পর ছবিটির আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীও শুরু হবে। আগামী ৯ আগস্ট কানাডার চারটি শহরে মুক্তি পাবে ‘শেকড়’। এরপর সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশেও স্প্যানিশ ভাষায় ডাবিং সংস্করণ মুক্তি পাবে। এরই মধ্যে স্প্যানিশ ডাবিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ছবিটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে ডিমান্ড ফিল্ম। আর দক্ষিণ আমেরিকায় পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছে মেক্সিকোভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। মানুষ ও মাটির চিরন্তন সম্পর্কের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘শেকড়’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, এফএস নাঈম, আইশা খান, সমু চৌধুরী, সঙ্গীতা চৌধুরী, নাফিস আহমেদ, নাইরুজ সিফাত, রওনক রিপন, মাহবুবুর রহমান, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা এবং শিশু শিল্পী মুনতাহা এমেলিয়া। এছাড়া দুটি বিশেষ চরিত্রে রয়েছেন হামিদুর রহমান ও লুবিংকা স্টোজানোভিক। চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন সাহিল রনি, সম্পাদনায় মাহফুজুল হক আশিক, শিল্প নির্দেশনায় তারেক বাবুল এবং সংগীত পরিচালনায় রোকন ইমন। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন প্রসূন রহমান। প্রযোজনা করেছে ইমেশন ক্রিয়েটর।
টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি দীর্ঘ বিরতির পর অতীতের সব অভিমান ভুলে আবারও সাবেক প্রেমিক দেবের সঙ্গে পেশাদার কাজের মাধ্যমে একফ্রেমে ফিরছেন। অন্যদিকে ‘দেবশু ৭’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন পাগলু অভিনেতা দেব। এবার তার পরিচালনায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন শুভশ্রী গাঙ্গুলি। এর মধ্যেই 'দেবশু৭' সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে। নতুন এ সমীকরণ নিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শুভশ্রীকে নিয়ে দেবের অন্যতম বড় প্রজেক্ট হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। একসময় দেব ও শুভশ্রী টালিউডের অন্যতম সফল অনস্ক্রিন ও অফস্ক্রিন জুটি ছিলেন। ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’ ও ‘খোকাবাবু’র মতো বেশ কয়েকটি ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়েছেন এ তারকা জুটি। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে দীর্ঘ সময় একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন তারা। এবার সব অভিমান ভুলে আবারও একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত শুভশ্রীর। খুব শিগগির 'দেবশু৭' শুটিংয়ে নামছেন অভিনেত্রী। সেই সঙ্গে রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া দেব সঞ্চালিত টেলিভিশন রিয়েলিটি শো ‘দাদাগিরি’র মঞ্চেও অতিথি হিসেবে থাকছেন শুভশ্রী গাঙ্গুলী। এ নিয়েই সংবাদমাধ্যমে নানা কথা বলেছেন অভিনেত্রী। দেবের পরিচালনায় কাজ করার অনুভূতি জানতে চাওয়া প্রসঙ্গে শুভশ্রী গাঙ্গুলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি এক লাইনে কিছু বলতে চান না। বিষয়টি এমন— দেবের জন্য একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেওয়া প্রয়োজন। কারণ তিনি এটি পাওয়ার যোগ্য। এক লাইনে কথা বললে কম হয়ে যাবে। দেবের এ নতুন রূপ ও পরিচালনায় কাজ করাটা তিনি বেশ উপভোগ করছেন এবং একজন সহকর্মী হিসেবে অভিনেতার মেধার প্রশংসাও করেন এ অভিনেত্রী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।