রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে ছোলার উপস্থিতি প্রায় অবধারিত। সারাদিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেকেই ভরসা রাখেন এই সহজলভ্য ডালজাতীয় খাদ্যের ওপর। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ভিজিয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো, নাকি সেদ্ধ করে? কোনটিতে পুষ্টিগুণ বেশি? পুষ্টিবিদরা বলছেন, দুইভাবেই ছোলা খাওয়া উপকারী, তবে শরীরের অবস্থা ও হজমক্ষমতার কথা ভেবে পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্প্রতি ইমিউনস সাইন্সের এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ডালজাতীয় খাদ্য। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এসব উপাদান শরীরের শক্তি জোগায়, পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ছোলার উচ্চ ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে এবং হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা একটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া ছোলা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ছোলা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। চলুন জেনে নেওয়া যাক কাঁচা (ভিজানো) ছোলা কীভাবে খাবেন পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা ছোলা সরাসরি খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের সমস্যা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ছোলা খাওয়ার আগে তা অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, অথবা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করাও সহজ হয়। ভিজিয়ে রাখা ছোলা নরম হলে চাইলে এর খোসা ছাড়ানো যায়। এরপর এতে লবণ, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে সহজেই একটি পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এভাবে খেলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি। আপনি কী জানেন কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী? ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিনের মাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। তবে সবার ক্ষেত্রে ভিজানো ছোলা সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য পরিমাণ বুঝে খাওয়াই ভালো। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেদ্ধ ছোলা কীভাবে খাবেন- ছোলা খাওয়ার আরেকটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নেওয়া। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করতেও সুবিধা হয়। সেদ্ধ করার সময় অল্প লবণ ও সামান্য হলুদ ব্যবহার করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি হজমেও সহায়ক হয়। সেদ্ধ ছোলা দিয়ে সহজেই পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এতে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে নিলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টিমানও বৃদ্ধি পায়। এভাবে খেলে এটি ইফতারের টেবিলে স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক একটি পদ হয়ে উঠতে পারে। আপনি কী জানেন সেদ্ধ ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী? সেদ্ধ ছোলা হজমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। ভিজিয়ে সিদ্ধ করার ফলে ছোলার দানাগুলো নরম হয়ে যায়, যা পেটের জন্য সহজপাচ্য হয়। এতে গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার ঝুঁকিও কম থাকে। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে বা কাঁচা ভিজানো ছোলা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য সেদ্ধ ছোলা নিরাপদ ও উপযোগী একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা খেলে পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার হজমের সমস্যার আশঙ্কাও কম থাকে। সবশেষে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিজানো ও সেদ্ধ—দুভাবেই ছোলা খাওয়া যায় এবং দুটিই পুষ্টিকর। যারা বেশি শক্তি ও ফাইবার পেতে চান, তাদের জন্য ভিজানো ছোলা ভালো বিকল্প। আর যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা সেদ্ধ ছোলা বেছে নিতে পারেন। তবে যেভাবেই খাওয়া হোক, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ছোলা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
টালিউড অভিনেতা ও তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেতা শাহিদ (শুভম)। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে মামলাটি করেন তিনি। এছাড়া মঙ্গলবার চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন শাহিদ। শাহিদ জানান, ২০২১ সালে বন্ধুত্বের সুবাদে ‘পাকা দেখা’ সিনেমার জন্য সোহমকে ৬৮ লাখ রুপি ধার দিয়েছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে এসএসসি দুর্নীতি মামলায় শাহিদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর টাকা ফেরত চাইতে পারেননি। জামিনে মুক্তির পর টাকা চাইলে সোহম দুই দফায় ২৫ লাখ রুপি ফেরত দেন। কিন্তু বাকি ৪৩ লাখ রুপি ফেরত চাইলে সোহম টালবাহানা শুরু করেন এবং উল্টো হুমকি দেন বলে অভিযোগ শাহিদের। ঋণ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সোহম। তিনি জানান, “৬৮ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলাম। ২৫ লাখ ফেরত দিয়েছি। বাকি ৪৩ লাখ রুপি মিটিয়ে দেব বলে বারবার জানিয়েছি।” তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, “আমার কয়েকটি সিনেমা আটকে আছে। বাংলা সিনেমার ব্যবসার অবস্থাও খারাপ। হাতে অর্থ না এলে কী করে ঋণ পরিশোধ করব? শাহিদ আমার অবস্থাটাই বুঝলেন না!” সামনে রাজ্যসভা নির্বাচন। তাই সোহমের দাবি, নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে তাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “শাহিদ আইনি পথে হাঁটলে আমিও আইনি পদক্ষেপ নেব। তবে উনি কোন কালে যুবনেতা ছিলেন, তা জানি না।” আইনি নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সোহম জানান, তার আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে দর্শকদের জন্য তারকাদের নিয়ে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন সাজিয়েছে চ্যানেল ২৪। ‘আকিজ অ্যাসেন্সিয়াল ঘরোয়া ইফতার’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রতিদিন বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে তারকারা হাজির হচ্ছেন তাদের পছন্দের ইফতার রেসিপি নিয়ে। ভিন্নধর্মী এই রান্নার অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন শোবিজ ও ক্রীড়াঙ্গনের জনপ্রিয় মুখেরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন চিত্রনায়ক নিরব, চিত্রনায়িকা বর্ষা, ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল, নারী ফুটবলার সানজিদা আক্তার, সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী, আগুন, প্রতীক নবী, তানজীব সারোয়ার, আতিয়া আনিসা এবং উপস্থাপক ও চিকিৎসক শ্রাবণ্য। তারকারা দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করছেন সহজে তৈরি করা যায় এমন সব পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ঘরোয়া ইফতার আইটেম। অনুষ্ঠানটিতে স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করছেন খ্যাতনামা রন্ধনশিল্পী টনি খান, মামুন চৌধুরী এবং আবু সাঈদ। তারা খাবারের পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যবিধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আয়োজকরা জানান, নিছক বিনোদন নয়, বরং রমজানে দর্শকদের স্বাস্থ্যসচেতন ইফতার তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে হার মানলেন চিত্রনায়িকা মৌমিতা মৌয়ের বাবা মো. মোশাররফ হোসেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় মানিকগঞ্জের পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মৌমিতা মৌ জানান, তার বাবা ক্যানসারের শেষ স্টেজে ছিলেন। বাবার চিকিৎসার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে অভিনয় থেকেও বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী। সহকর্মী ও ভক্তরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক হৃদয়স্পর্শী স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন মৌমিতা। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “মাত্র ৩/৪ মাসের মধ্যে একটা রিপোর্ট সবকিছু এলোমেলো করে দিল। এখন বুঝি দায়িত্ব কী জিনিস, ধৈর্য কীভাবে ধরতে হয়। কবে তুমি আবার নাম ধরে ডাকবা? কবে তুমি আবার শাসন করবা?” ২০১৩ সালে ‘তোমারই আছি তোমারই থাকব’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় মৌমিতা মৌর। এরপর ‘তুই শুধু আমার’, ‘মাটির পরী’, ‘অন্তর্জ্বালা’ ও ‘অন্ধকার জগৎ’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
বলিউড অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রার বাবা সুনীল মালহোত্রা মারা গেছেন। কয়েক দিন আগে দিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। খবর পেয়ে স্ত্রী কিয়ারা আদভানিকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বাই থেকে দিল্লি ছুটে যান অভিনেতা। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও সিদ্ধার্থ ও কিয়ারা আরও কয়েক দিন দিল্লিতেই থাকবেন। বাবার মৃত্যুর খবর জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন সিদ্ধার্থ। তিনি লিখেন, “তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, নৈতিকতাসম্পন্ন ও সংস্কৃতিমনা একজন মানুষ। এমন মূল্যবোধ নিয়ে জীবন কাটিয়েছেন, যা কখনো টলেনি। কঠোরতা নয়, ছিল শৃঙ্খলা; অহংকার নয়, ছিল শক্তি। জীবন যতবার কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে, ততবার ইতিবাচক থেকেছেন তিনি।” বাবার পেশাগত জীবন ও সাহসিকতার কথা স্মরণ করে অভিনেতা বলেন, “একজন মার্চেন্ট নেভি ক্যাপ্টেন হিসেবে সমুদ্রকে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে অসুস্থ হওয়া পর্যন্ত—সবকিছুই সাহস আর মর্যাদার সঙ্গে সামলেছেন। স্ট্রোকের পর যখন হুইল চেয়ারে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েন, তখনো তার মনোবল অটুট ও অম্লান ছিল।” বাবার মৃত্যুতে তৈরি হওয়া শূন্যতার কথা উল্লেখ করে সিদ্ধার্থ বলেন, “বাবা, তোমার সততাই আমার উত্তরাধিকার। তুমি ঘুমের মধ্যেই শান্তিতে আমাদের ছেড়ে চলে গেলে। কিন্তু তোমার রেখে যাওয়া শূন্যতা অপরিমেয়।” বাবার প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, চিরকাল বাবার নাম, মূল্যবোধ আর আলো বহন করে এগিয়ে যাবেন।
সংগীতশিল্পী পার্থ প্রতীম রায়। নতুন গান প্রকাশের ধারাবাহিকতায় আরও একটি নতুন গান তিনি প্রকাশ করেছেন। শিরোনাম 'ভালোবাসি বলতে চাই' । ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করেই নতুন এ গানটি মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশ হয়েছে শিল্পীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে (PPR MUSIC)। শিল্পী জানান, আগামী সপ্তাহে গানটি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ (Partha Protim Roy)-এ অবমুক্ত করা হবে।গানটির কথা, সুর ও কণ্ঠ—সবই দিয়েছেন পার্থ প্রতীম রায়। পেশাগত জীবনে একজন আইটি বিশেষজ্ঞ ও গবেষক হওয়া সত্ত্বেও সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে তিনি এই গানটি তৈরি করেছেন। প্রেমের অনুভূতি, অপেক্ষা আর সাহসের গল্প নিয়ে তৈরি এই গানটি বসন্তের প্রেমময় আবহে প্রকাশ পেয়েছে।নিজের নতুন এই সৃষ্টি নিয়ে পার্থ প্রতীম রায় বলেন, 'এটি কেবল একটি গান নয়, বরং আমার হৃদয়ের খুব কাছের এক অনুভূতি। আইটি সেক্টরে কাজের ব্যস্ততার মাঝেও আমি এই গানে সেই সহজ ও গভীর অনুভূতির সুর বেঁধেছি। কথা, সুর ও গায়কিতে চেষ্টা করেছি ভালোবাসার সেই চিরাচরিত মায়া আর কাঠগোলাপের মতো শুভ্রতাকে তুলে ধরতে। আশা করি, যারা ভালোবাসতে জানেন এবং ভালোবাসার স্বপ্ন দেখেন, তাদের প্রত্যেকের মনের এক কোণে গানটি জায়গা করে নেবে।'গানটির সংগীতায়োজন ও মিক্স-মাস্টার করেছেন রূপন চৌধুরী। ভিডিও নির্মাণ করেছেন সি. এফ. জামান। অভিনয়ে আছেন মামুন খান, সুষ্মিতা ও স্বয়ং পার্থ প্রতীম রায়। অভিনয়ের ক্ষেত্রে এটাই তার প্রথম অংশগ্রহণ। ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত এই গান ইতোমধ্যে শ্রোতাদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। পার্থ প্রতীম রায়ের ভাষায়, 'এই বসন্তে প্রতিটি ভালোবাসাই যেন নতুন করে ভাষা খুঁজে পায়।'
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবরকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার প্রেম ও বিয়ের গুঞ্জন নতুন মোড় নিয়েছে। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তাদের কথিত বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র। কার্ড অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৬ তারিখেই সাতপাকে বাঁধা পড়ছেন তারা। ফাঁস হওয়া কার্ডে দেখা যায়, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরের এক ঐতিহাসিক প্রাসাদে বসছে তাদের বিয়ের আসর। পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত ব্যক্তিগত পরিসরে এই আয়োজন সম্পন্ন হবে। তবে কার্ডটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। জানা গেছে, বিয়ের পর আগামী ৪ মার্চ হায়দ্রাবাদের কৃষ্ণা বানজারা হিলস এলাকায় একটি প্রীতিভোজের আয়োজন করা হতে পারে। এদিকে রবিবার রাতে হায়দ্রাবাদ বিমানবন্দরে দুজনকে আলাদাভাবে দেখা যাওয়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে। ভক্তদের ধারণা, গোপন গন্তব্যে বা বিয়ের প্রস্তুতির জন্যই হয়তো তারা রওনা হয়েছেন। ২০১৭ সালে ‘গীত গোবিন্দম’ সিনেমার সেটে পরিচয় এবং পরে ‘ডিয়ার কমরেড’-এ কাজের সুবাদে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। গত বছর তাদের বাগদানের গুঞ্জন শোনা গেলেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেননি। এখন ২৬ ফেব্রুয়ারি সত্যিই সানাই বাজে কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষা।
বাংলা চলচ্চিত্রের পর্দায় তিনি যখন তর্জনী উঁচিয়ে হুঙ্কার দিতেন, মনে হতো এ যেন হাজারো শোষিত মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি প্রেমের ছবিতে যেমন ছিলেন কোমল প্রেমিক, তেমনি অ্যাকশন দৃশ্যে ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একাই একশ। তিনি ঢাকাই সিনেমার ‘মহানায়ক’ মান্না। আসল নাম এস এম আসলাম তালুকদার, কিন্তু কোটি ভক্তের হৃদয়ে তিনি শুধুই ‘মান্না ভাই’। মৃত্যুর দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও তার শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি। আজ আমরা ফিরে দেখব টাঙ্গাইলের সেই চঞ্চল তরুণ আসলাম থেকে কীভাবে তিনি হয়ে উঠলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক ধ্রুবতারা। এলেঙ্গার কিশোর থেকে এফডিসির রাজপুত্র ১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন এস এম আসলাম তালুকদার। বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম তালুকদার ও মা হাসিনা ইসলাম তালুকদারের আদরের এই সন্তানের শৈশব কেটেছে গ্রামীণ আবহে। কিন্তু তার চোখের স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। মাধ্যমিক পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন, ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে। কিন্তু রাজনীতির মিছিল বা আড্ডার চেয়ে তাকে বেশি টানতো এফডিসির রূপালি জগত। রাজ্জাকের অন্ধ ভক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৮৪ সালটি ছিল তার জীবনের মোড় ঘোরানো বছর। এফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমে হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তিনি নির্বাচিত হন। শুরু হয় আসলাম তালুকদার থেকে ‘নায়ক মান্না’ হয়ে ওঠার সংগ্রাম। স্ট্রাগল, সাফল্য এবং ‘মান্না যুগ’ শুরুটা মসৃণ ছিল না। প্রথম দিকে ‘পাগলী’, ‘নিষ্পাপ’-এর মতো ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জাত চেনান। কিন্তু মান্না জানতেন, তাকে রেসের ঘোড়া হতে হবে। সেই সুযোগ আসে ১৯৯১ সালে ‘কাসেম মালার প্রেম’ ছবির মাধ্যমে। একক নায়ক হিসেবে প্রথম ছবিতেই বাজিমাত! এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে যখন সালমান শাহর অকাল মৃত্যুতে ইন্ডাস্ট্রি অভিভাবকহীন, তখন নিজের কাঁধে তুলে নেন পুরো চলচ্চিত্রের ভার। কাজী হায়াতের ‘দাঙ্গা’, ‘ত্রাস’, ‘তেজী’ ছবিগুলো তাকে প্রতিষ্ঠিত করে ‘অ্যাকশন হিরো’ হিসেবে। তার সেই বিশেষ বাচনভঙ্গি, ঘাড় দুলিয়ে হাঁটা আর সংলাপে আগুনের ফুলকি—এসবই হয়ে ওঠে তার ট্রেডমার্ক। রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সবার কাছেই তিনি হয়ে ওঠেন ‘নিজেদের লোক’। ‘আম্মাজান’: এক আবেগের নাম ১৯৯৯ সাল। মুক্তি পায় মালেক আফসারী পরিচালিত ‘আম্মাজান’। এই ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক মাইলফলক। মাতৃভক্ত এক সন্তানের চরিত্রে মান্নার অভিনয় দর্শকদের চোখের জল মুছতে বাধ্য করেছিল। “আম্মাজান, আম্মাজান, চোখের মনি আম্মাজান”—গানটি আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এই ছবির ব্যবসায়িক সাফল্য মান্নাকে নিয়ে যায় এক অন্য উচ্চতায়, যেখানে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। শুধু নায়ক নন, শিল্পের কাণ্ডারি মান্না কেবল নিজের ক্যারিয়ার গড়েননি, তিনি ভেবেছেন পুরো ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে। ১৯৯৭ সালে গড়ে তোলেন নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্র’। এখান থেকেই তিনি উপহার দেন ‘লুটতরাজ’, ‘স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ’, ‘আব্বাজান’-এর মতো মেগাহিট সব সিনেমা। তবে তার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল অশ্লীলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। ২০০০-এর পরবর্তী সময়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রে যখন অশ্লীলতার কালো ছায়া নেমে আসে, তখন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মান্না একাই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এফডিসি থেকে অশ্লীলতা তাড়াতে তিনি যে সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তা আজও ইন্ডাস্ট্রির মানুষের কাছে এক দৃষ্টান্ত। তিনি বিশ্বাস করতেন, “পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখা না গেলে এই শিল্প বাঁচবে না।” একটি ট্র্যাজেডি ও বিচারহীনতার দীর্ঘশ্বাস ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। দিনটি বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য এক অভিশপ্ত দিন। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান এই কিংবদন্তি। বুকের ব্যথা নিয়ে তিনি হেঁটে হাসপাতালে ঢুকেছিলেন, কিন্তু আর ফিরে আসেননি। মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না ও পরিবারের অভিযোগ, ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ২০০৮ সালেই মামলা হয়, যা আজ প্রায় ১৮ বছর ধরে আইনি জটিলতায় ঝুলে আছে। কোটি ভক্তের প্রিয় নায়কের মৃত্যুর সঠিক বিচার আজও মেলেনি—এটি আমাদের বিচারব্যবস্থার এক দীর্ঘশ্বাস হয়েই রয়ে গেছে। রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার মান্না চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন তার অমর সব সৃষ্টি। মৃত্যুর পরও তার বেশ কিছু ছবি মুক্তি পায়, যার মধ্যে ‘পিতা মাতার আমানত’ ও ‘জীবন নিয়ে যুদ্ধ’ উল্লেখযোগ্য। আর মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ছবি ‘জীবন যন্ত্রণা’ (লীলা মন্থন), গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল ২০২৬ সালে মুক্তির কথা রয়েছে। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় তার কবরের পাশে দাঁড়ালে আজও শোনা যায় ভক্তদের দীর্ঘশ্বাস। মান্না প্রমাণ করে গেছেন, নায়কের চেহারা সুন্দর হতে হয় না, অভিনয়ের জোর আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলেই ‘মহানায়ক’ হওয়া যায়। তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন—গণমানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়, এক অবিনাশী নক্ষত্র হয়ে।
মাছ বাজারে গেলেই দেখা যায় বড় বড় পাঙ্গাশ মাছ। চোখে পড়ে বরফের ওপর সাজানো কাটা পাঙ্গাশ মাছও। দাম তুলনামূলক কম, কাঁটা কম, রান্নাও ঝামেলাহীন—এই কারণেই মধ্যবিত্ত বাঙালির রান্নাঘরে পাঙ্গাশ মাছ বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে পরিবারের ছোটদের কাছে এই মাছের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। তবে ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঙ্গাশ নিয়ে নানা ভয় ছড়াচ্ছে—কেউ বলছেন এই মাছ বিষে ভরা, আবার কেউ বলছেন এতে কোনো পুষ্টিগুণই নেই। তবে প্রশ্ন হলো, এই দাবিগুলোর ভিত্তি কতটা সত্য? পাঙ্গাশ কি আদৌ অস্বাস্থ্যকর? পাঙ্গাশ মূলত একটি চাষের মাছ। এটি দ্রুত বড় হয়, উৎপাদন বেশি হয়, সেই কারণেই বাজারে এর দাম তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু দাম কম মানেই যে পুষ্টিগুণ কম, এমনটা নয়। পাঙ্গাশ মাছে ভালো মাত্রায় প্রোটিন থাকে, যা পেশি গঠন, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত ডিম বা মাংস খান না, তাদের জন্য পাঙ্গাশ হতে পারে সহজলভ্য প্রোটিনের একটি উৎস। এ ছাড়া এই মাছে কিছু পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। ইলিশ বা সামুদ্রিক মাছের মতো বেশি না হলেও, এটি হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক এবং খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাঙ্গাশে আয়রন ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও রয়েছে, যা রক্ত ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। তাহলে বিতর্কটা কোথায়? সমস্যা মূলত মাছের চাষপদ্ধতি নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে মাছ দ্রুত বড় করতে অ্যান্টিবায়োটিক ও বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যদি এসব উপাদান নিয়ম মেনে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন এই ধরনের দূষিত মাছ খেলে হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি এমনকি শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। কিভাবে নিরাপদে পাঙ্গাশ খাবেন? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চোখ বুজে কোনো খাবারকে ভালো বা খারাপ বলে দাগিয়ে দেবেন না। পাঙ্গাশ কিনতে হলে— বিশ্বস্ত দোকান থেকে মাছ কিনুন খুব তাজা মাছ বেছে নিন রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন সিদ্ধ, ঝোল বা হালকা মসলায় রান্না করাই সবচেয়ে নিরাপদ অতিরিক্ত তেলে ভেজে খাওয়া এড়িয়ে চলুন কারা সতর্ক থাকবেন গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রেও মাঝেমধ্যে ভালোভাবে রান্না করা পাঙ্গাশ খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিদিন একই ধরনের মাছ না খেয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খেলে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে। আর পাঙ্গাশ খাওয়ার পর যদি কোনো অস্বস্তি বা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সব শেষে বলা যায়, পাঙ্গাশ মাছ নিজে থেকে ‘ভয়ের কারণ’ নয়। ভয়ের মূল কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত চাষ ও ভুল রান্নার পদ্ধতি। সচেতনভাবে কেনা, সঠিকভাবে রান্না করা এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে পাঙ্গাশ মাছও হতে পারে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের অংশ। সূত্র : টিভি৯ বাংলা
ছোট পর্দার মিষ্টি হাসির অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। অল্প সময়েই জয় করেছেন দর্শকদের মন। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রথম প্রেম ও ব্যক্তিগত দর্শন নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন এই অভিনেত্রী। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় প্রথম প্রেমে জড়িয়েছিলেন সাদিয়া। তবে সেই স্মৃতি মোটেও সুখকর নয়। তিনি বলেন, “প্রথম প্রেমের অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো ছিল না। ভালো থাকলে আজকে আমার তার সঙ্গে থাকার কথা।” অতীত আঁকড়ে ধরে রাখায় বিশ্বাসী নন সাদিয়া। তার সাফ কথা, “যে মানুষ একবার হারিয়ে যায়, তাকে আমি কখনও মনে রাখি না। আমি একটু ইমোশনাল মানুষ কিন্তু শক্ত।” নাটক বা সিনেমার প্রেমের অনুভূতি অন্যরকম হলেও বাস্তব জীবনের হারিয়ে যাওয়া প্রেম নিয়ে তার কোনো নস্টালজিয়া নেই। নতুন বছরে এখন পর্যন্ত তিনটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন, যা ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাবে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নতুন কোনো কাজ না করলেও পুরোনো কাজ প্রচার হতে পারে। তবে বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হওয়াকেই তিনি তার জন্য ‘সবচেয়ে বড় খবর’ বলে মনে করছেন।
আরটিভিতে প্রচার চলতি তুর্কি ধারাবাহিক ‘মোস্তফা’। ২৫০ পর্বের ধারাবাহিকটি এরই মধ্যে ১০০ পর্ব প্রচার হয়েছে গত মঙ্গলবার। সোমবার থেকে বুধবার রাত ৮:১৫ টায় ধারাবাহিকটি প্রচার হচ্ছে। গত পহেলা আগস্ট থেকে ধারাবাহিকটি প্রচারে আসতেই দর্শকমহলে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ১০০ পর্ব প্রচার হলে দর্শকমহলে তুমুল সাড়া ফেলে। আরটিভির পর্দায় তুর্কি এই ধারাবাহিকটি প্রচারে আসতেই গ্রাম ও শহরের দর্শকদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বাংলা ডাবিং করা ধারাবাহিকটি দেখে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ভালো লাগার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মোস্তফা কারায়েল নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা এই নাটকের মূল চরিত্র। নীতিবান একজন পুলিশ কর্মকর্তা তিনি। মোস্তফার পুরো পৃথিবী বলতে তার এক মাত্র ছেলে, বাবা ছেলের সুন্দর একটি গল্প ফুটে উঠেছে এই ধারাবাহিকটিতে। একইসঙ্গে রোমান্টিক থ্রিল এই ধারাবাহিকটিতে একবার চোরাচালানকারীদের একটি চক্র ধরতে গিয়ে ফেঁসে যান মোস্তাফা। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে বরখাস্ত করা হয়। ওই মিথ্যা মামলায় এক বছরের কারাবাস হয় মোস্তফার। তখন তার ছেলের দায়িত্ব নেয় তার শ্বশুর। অন্যদিকে, মোস্তফার সঙ্গে আইসেগুল নামের এক সুন্দরী ডাক্তারের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ঘটান ক্রমে একদিন মোস্তফা জানতে পারে আইসেগুল শহরের সবথেকে বড় গডফাদার বাহরির মেয়ে। বাবা ছেলের গল্প আবার নতুন করে প্রেমে পরা, প্রেম আবার গডফাদারের সাথে দন্ড। এভাবেই এগিয়ে যায় জনপ্রিয় তুর্কি ধারাবাহিক মোস্তফার গল্প। মোস্তফা কারায়েল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইলকের কালেলি। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন বুরসিন তেরজিওগুল, মুসা উজুনলার প্রমুখ। পুরস্কারপ্রাপ্ত সিরিয়ালটি আইএমডিবি রেটিং ৮.২/১০।
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। গত ১২ ডিসেম্বর কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছেন তিনি। সেসময় এক ফেসবুক পোস্টে নবজাতকের হাতের ছবি পোস্ট করে অভিনেতা নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কন্যার নাম রাখেন আনায়া। সেসময় অভিনেতা অপূর্ব লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আনন্দ আর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের কন্যাসন্তানের আগমন ঘটেছে। এই দুনিয়ায় তোমাকে স্বাগতম, প্রিয় আনায়া।’ এবার দীর্ঘ দুই মাস পর কন্যার ছবি প্রকাশ করলেন অভিনেতা অপুর্ব। মেয়ের সঙ্গে তোলা ছবি আজ ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন তিনি। একটি ছবিতে দেখা গেছে, মেয়েকে কোলে নিয়ে আছেন অপূর্ব। আরেক ছবিতে মেয়ের সঙ্গে অপূর্ব ও তার স্ত্রী শাম্মা দেওয়ানকে দেখা গেছে। ছবির ক্যাপশনে অপূর্ব লিখেছেন, ‘এই বছর আমাদের ভ্যালেন্টাইন হলো আমাদের ছোট্ট রাজকন্যা আনায়া। ওর জন্য দোয়া করবেন।’ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এসব ছবিতে হাজার হাজার ‘রিঅ্যাক্ট’ পড়েছে। শতাধিক মন্তব্যও এসেছে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর অদিতিকে বিয়ে করেন অপূর্ব। ২০২০ সালে দুজনের বিচ্ছেদ ঘটেছে। অপূর্ব ও অদিতির সংসারে আয়াশ নামের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। এর আগে অভিনেত্রী প্রভাকে বিয়ে করেন অপূর্ব। সেই বিয়ে বেশি দিন টেকেনি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শাম্মা দেওয়ানকে বিয়ে করেন অপূর্ব। বিয়ের চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের এক হাসপাতালে আনায়ার জন্ম হয়।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি গুরুতর অসুস্থ। অভিনেত্রীর মাথায় টিউমার ধরা পড়েছে। আজ রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান নির্মাতা রায়হান খান। এর আগে তানিয়া বৃষ্টির অফিসিয়াল ফেসবুক থেকে (অ্যাডমিন পোস্ট) তার অসুস্থতার বিষয়টি জানিয়ে বলা হয়, ‘আমাদের সবার প্রিয় তানিয়া বৃষ্টি বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। এ মুহূর্তে তার সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও চিকিৎসা প্রয়োজন। অনুরোধ করছি, শুটিং বা কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে আপাতত ফোনকল/ খুদে বার্তা দিয়ে বিরক্ত না করার জন্য। সুস্থ হয়ে উঠলে ইনশাআল্লাহ নিজে থেকেই সবাইকে জানানো হবে।’ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতালের বেডে বসা একটি ছবি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল। ভালোবাসি। কাল আমার মাথায় অস্ত্রোপচার, দোয়া করবেন সবাই। ব্রেন টিউমার। ’ আজ হাসপাতাল থেকে নির্মাতা রায়হান খান বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করছিলেন তানিয়া। কখনো তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করতেন, কখনো বা জ্বর-ঠান্ডা লেগে থাকত তার। পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, তানিয়া ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত।’ তিনি বলেন, ‘আজ রাজাধানীর একটি হাসপাতালে তানিয়া বৃষ্টির ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রাতটা পোস্ট অপারেটিভে রাখা হবে। সোমবার যেকোনো সময় তাঁকে কেবিনে নেওয়া হতে পারে।’
নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। ‘মৎস্যকন্যা’ নামে নিরীক্ষাধর্মী একটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। গ্ল্যামার বা প্রচলিত চরিত্রের বাইরে গিয়ে তিনি ভিন্ন এক চরিত্র নিয়ে এবার হাজির হচ্ছেন। নাটকটির নাম ভূমিকায় দেখা যাবে এ অভিনেত্রীকে। এটি পরিচালনা করেছেন সেরনিয়াবাত শাওন। এরই মধ্যে নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে। নতুন এ নাটক প্রসঙ্গে সাফা বলেন, ‘কাজটি করে মনে হয়েছে, নিরীক্ষাধর্মী একটি নাটক অভিনয়জীবনে যোগ হয়েছে। এর গল্পটা এক মৎস্যকন্যাকে নিয়ে। এটার জন্য মারমেইডের একটা কস্টিউম ব্যবহার করা হয়েছে। মারমেইডের কস্টিউম পরে সাঁতার কাটাও খুব চ্যালেঞ্জিং। এক দিন টানা ছয় ঘণ্টা মারমেইড পোশাক পরে থাকতে হয়েছে। ওই পোশাক পরার পর আমাকে ধরাও যাচ্ছিল না। পোশাকটা এমনভাবে বানানো, যে ধরে তারই অস্বস্তি হচ্ছিল। এ পোশাকের কারণে শরীরের কোথাও চামড়া ছিলে গেছে। নাটক তো আমি অনেকদিন থেকে করছি, দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা সবসময় থাকে। সে চিন্তা থেকে এমন চ্যালেঞ্জ নেওয়া। দর্শক একটা গল্পে নতুনভাবে দেখুক, এমনটাই চেয়েছি।’ অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘এর আগে কখনো এ রকম ইলিউশনধর্মী কাজ বেশি করা হয়নি। মৎস্যকন্যায় মারমেইডের পোশাক পরে ঝাঁপ দিয়ে সাগরে ডুব দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরি ছিলাম। যে করেই হোক দৃশ্যটা করব, এমনই ছিল চাওয়া। পরিচালকসহ ইউনিটের সবাইকে বলেছিলাম, যদি ভেসেও যাই, মরেও যাই, আমি শটটা দিতে চাই। টিমকে বলেছিলাম, যদি ৫ সেকেন্ডের মধ্যে উঠে না আসি, তাহলে তোমরা আমাকে নিয়ে এসো। অভিনয়জীবনে এমন ঝুঁকি এর আগেও কয়েকবার নিয়েছি, যা কখনো বলা হয়নি।’ নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, নাটকটিতে বাস্তবধর্মী উপস্থাপনার পাশাপাশি ভিজ্যুয়াল ইলিউশনের ব্যবহারও রয়েছে। চরিত্রের প্রয়োজনে সাফাকে দীর্ঘ সময় বিশেষ কস্টিউম পরে পানিতে শুটিং করতে হয়েছে। পুরো ইউনিটের সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যগুলো ধারণ করা হয়। নাটকটি শিগগির প্রচারের কথা রয়েছে। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই নাটকে অভিনয় করলেও সাফা কবিরকে এখনো সিনেমায় দেখা যায়নি। তার সমসাময়িক অনেক অভিনয়শিল্পী এরই মধ্যে সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন। এক্ষেত্রে সাফার মধ্যে দেখা ভিন্নতা। বড় পর্দায় কাজ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘বড় পর্দায় কবে আমাকে দেখা যাবে, এ প্রশ্ন অনেক দিন ধরে শুনছি। আমিও নিজেকে সিনেমায় দেখতে চাই। কিন্তু এখন একটু ভয় হয়। সাম্প্রতিক সময়ে নাটকের অনেক ভালো ভালো অভিনেত্রী সিনেমা করছে। তবে তাদের কিছু মানুষ নাটকের নায়িকা বলে কটাক্ষ করছে। এ ধরনের মন্তব্য আমাকে নিরুৎসাহিত করছে। আমি এখন পর্যন্ত বড় পর্দায় আসিনি, কিন্তু এ ধরনের নেগেটিভ মন্তব্যের কারণে ভয় পেয়ে যাচ্ছি।’
বলিউড অভিনেত্রী শানায়া কাপুর সচরাচর নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা কথা বলেন না। তবে এবার একটি পডকাস্টে নিজের অতীত সম্পর্কের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে সবাইকে চমকে দিলেন। বিদেশ ভ্রমণে থাকা অবস্থায় তিনি জানতে পারেন, তার তৎকালীন প্রেমিক একসঙ্গে পাঁচ নারীর সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানে লিপ্ত ছিলেন। ‘রিলেশনশিপ অ্যাডভাইস’ পডকাস্টে শানায়া জানান, ঘটনাটি ঘটে এক বিদেশ সফরের সময়। রাতের খাবারের জন্য বের হওয়ার আগে নিজের ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রেমিকের ফোন দিয়ে ক্যাব বুক করতে যান তিনি। ঠিক তখনই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে প্রেমিকের সাবেক প্রেমিকার মেসেজ। কৌতূহলবশত চ্যাট ওপেন করতেই তিনি দেখেন, প্রেমিক নিজেকে ‘সিঙ্গেল’ দাবি করে একসঙ্গে পাঁচজন নারীর সঙ্গে একই ধরনের কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছেন। ধরা পড়ার পর শানায়া দ্রুত চ্যাটগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডেকে পাঠান। অনন্যা তাৎক্ষণিক পরামর্শ দেন, “ট্রেনে উঠে চলে এসো, আমরা কাছাকাছিই আছি।” তবে বিদেশে একা থাকার অনিশ্চয়তা থেকে শানায়া তখন বের হতে পারেননি। তিনি বলেন, পুরো ডিনারে আমি ভান করছিলাম সব ঠিক আছে। অবশেষে সেই সম্পর্কের ইতি টানেন শানায়া। তার কথায়, শুধু মেসেজই নয়, সেটিই আমার কাছে প্রতারণা ছিল, যা আমার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল।
বক্স অফিসে ঝড় তোলা সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। আদিত্য ধর পরিচালিত এবং রণবীর সিং অভিনীত এই ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১১০০ কোটি টাকার ব্যবসা করে খান-কাপুরদের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তবে ছবির অন্যতম আলোচিত চরিত্র ‘রহমান ডাকাত’—যাতে অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না। গুঞ্জন রটেছিল, এই চরিত্রটির প্রস্তাব প্রথমে গিয়েছিল দক্ষিণী সুপারস্টার নাগার্জুনের কাছে, কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দেন। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন নাগার্জুন। ‘রহমান ডাকাত’ চরিত্রটি ফিরিয়ে দেওয়ার খবরকে ‘ভুল’ দাবি করে এক বিবৃতিতে নাগার্জুন বলেন, “একেবারই ভুল কথা। এমন কোনও অফার আমার কাছে আসেনি। তবে ভাবলে মনে হয় ইস! যদি সত্যিই আসত!” ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “‘ধুরন্ধর’ অসাধারণ ছবি! আদিত্য ধর সত্যিই অনবদ্য কাজ করেছেন। এর আগে ওঁর বানানো ‘উরি’ও আমার দারুণ লেগেছিল। আর অক্ষয় খান্না তো অসাধারণ... ছবির সিক্যুয়েলের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।” নাগার্জুন অস্বীকার করলেও নেটিজেনদের একাংশের ধারণা, রজনীকান্তের ‘কুলি’ সিনেমার ব্যস্ততার কারণেই হয়তো তিনি চরিত্রটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে এখন ছবির বিশাল সাফল্য দেখে হয়তো আক্ষেপ করছেন বা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে নিজের ক্যারিয়ারের ১০০তম ছবি নিয়ে ব্যস্ত নাগার্জুন। তিনি জানান, ‘ধুরন্ধর’ দেখার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন দর্শক এখন আন্তর্জাতিক মানের গল্প চান। তাই তাড়াহুড়ো না করে বিশেষ পরিকল্পনায় এগোচ্ছেন। প্রসঙ্গত, নাগার্জুনকে শেষবার বলিউডে দেখা গিয়েছিল ‘ব্রহ্মাস্ত্র : পার্ট ওয়ান শিবা’ ছবিতে।
দক্ষিণী অভিনেতা ধানুশকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা থেনানডাল। চুক্তিভঙ্গের জেরে এমন নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি অভিনেতার কাছে চাওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের জরিমানাও। দক্ষিণী সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রযোজনা সংস্থা থেনানডালের সঙ্গে ২০১৬ সালে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ধানুশের। ওই সিনেমা পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয় করারও কথা ছিল তার। কিন্তু দশ বছরেও শুরু হয়নি সিনেমার শুটিং। দীর্ঘদিন ধরে তা আটকে থাকার ফলে সুপারস্টারের ওপর বিরক্ত হয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা। শুধু তাই নয়, অভিনেতার কাছে চাওয়া হয়েছে ২০ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণ। শোনা যাচ্ছে, প্রযোজনা সংস্থা সিনেমার চিত্রনাট্যে খানিক পরিবর্তন করতে চাইলে তা থেকে সরে দাঁড়ান ধানুশ। করেননি কোনো সহযোগিতা। যার ফলে আটকে যায় সিনেমার কাজ। ধানুশকে পাঠানো ওই আইনি নোটিশে নির্মাতাদের তরফে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট সিনেমার কাজ আটকে থাকায় প্রভূত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে সিনেমার টিম। আর তাই সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ধানুশকেই। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই ক্ষতিপূরণ না দিলে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে প্রযোজনা সংস্থার তরফে আরও বড়সড়ভাবে ধানুশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। আইনজীবীর মতে, ধানুশ চুক্তি সই করেও সিনেমার যাবতীয় কাজে অসহযোগিতা করেছেন। ফলে মাঝপথেই আটকে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সিনেমার কাজ। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ধানুশের কোনোরকম প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রতি বছর ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ব্যস্ত হয়ে ওঠে সংগীতাঙ্গন। শিল্পীরা প্রকাশ করেন নতুন নতুন গান। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। দিনটি উপলক্ষে প্রকাশ পেয়েছে ‘না যেও না’ শিরোনামের একটি গান। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী মৌমিতা তাশরিন নদী ও নিজাম উদ্দিন। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানটির কথা ও সুর নিজাম উদ্দিনের। ‘না যেও না’ শিরোনামের এ গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন সুমন কল্যাণ। গানটি প্রসঙ্গে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘গানটির কথা সুরে আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এতে সংগীতের দারুণ সমন্বয় ঘটেছে। আমার সঙ্গে গেয়েছেন নদী। উনি সুকণ্ঠী। এখানেও দারুণ গেয়েছেন। আশা করি সবার ভালো লাগবে।’ সুমন কল্যাণ বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসের উপযুক্ত গান এটি। নিজাম উদ্দিন ভাইয়ের কথা-সুরের সঙ্গে তার গায়কীর সুন্দর সম্মিলন ঘটেছে। নদী বরাবরই ভালো গায়। এখানেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। আশা করি শ্রোতাদের সমাদর পাবে।’ মেলোডাইভ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গানটির একটি লিরিক্যাল ভিডিও প্রকাশ পায় আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে।
জনপ্রিয় নাট্য পরিচালক দীপু হাজরা হঠাৎ করে আজ অর্থাৎ ভালোবাসা দিবসের দিন বিয়ের পিড়িতে বসেন। পারিবারিক আয়োজনে ছোট পরিসরে ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। কনে সাথী আক্তার ঢাকা সিটি কলেজের ইংরেজি সম্মান বিভাগের শেষ বর্ষেও ছাত্রী। বিয়েটা দু-পরিবারের সমঝোতায় হলেও তাদের দুজনার সমঝোতা তৈরি হয়েছিল বছর তিনেক আগে ফেসবুকে। সেখানেই আলাপচারিতা, একজন আরেকজনকে ভালোবাসা। অতঃপর দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেন যদি বিয়ে করি সেটা যেন ভালোবাসা দিবসের দিনই হয়। সে মোতাবেকই আজ দুপুরে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। নববধূ সম্পর্কে জানতে চাইলে দীপু হাজরা বলেন, ‘আমাদের বোঝাপড়া ভালো। ও বেশ কেয়ারিং। আর শেষ কথা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যদি ছাড় দেওয়ার মনোভাব না থাকে তাহলে সে সম্পর্ক বেশি দূর এগোয় না। আশা করি আমাদের নতুন ও বাকি দিনগুলো ভালোই কাটবে। তবে একটু মন খারাপ কারন বর্তমান সময় বিবেচনা ও এই দিনটিকে লক্ষ করে বিয়েটা করায় বড় ধরনের অনুষ্ঠান করা সম্ভব হলো না।’ তবে সময় সুযোগে একটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে দীপু হাজরার।
নন্দিত সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। নিয়মিত নতুন গান প্রকাশের পাশাপাশি স্টেজ শো ও টিভি লাইভ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি আবারও নতুন একটি গানে কণ্ঠ দিলেন এ শিল্পী। ‘আজ একি সুরে , থেকেও দূরে , জাগলে এই রাতে ' শিরোনামে গানটির কথা লিখেছেন অধরা জাহান। সংগীতশিল্পী আলম আরা মিনুর সুরে এ গানটি গেয়েছেন আঁখি আলমগীর। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে তৈরি বিটিভির 'ভালোবাসি তাই ভালোবেসে যাই ' শিরোনামের সংগীতানুষ্ঠানে প্রচার হবে এই গান । নতুন এ গান প্রসঙ্গে আঁখি আলমগীর বলেন , 'ভালোবাসা দিবসে শ্রোতারা যে ধরনের গান শুনতে চান , এটি তেমন একটি গান । আশা করছি সবার ভালো লাগবে।' এদিকে বিটিভির জন্য নির্মিত আরও একটি অনুষ্ঠানে গান করেছেন আঁখি আলমগীর। বিটিভি'র জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'বৈঠকখানা'-এর জন্য 'জোড়া শালিক' নামে একটি মৌলিক গান গেয়েছেন তিনি। এ গানের মধ্য দিয়ে ২৭ বছর পর গীতিকার ও সুরকার মিল্টন খন্দকারের লেখা গানে কন্ঠ দিলেন এ শিল্পী। এর আগে নব্বই দশকের সিনেমা 'আসামি বধূ'র জন্য মিল্টন খন্দকারের রচিত 'এত ছোট জনম নিয়া জগতে আসিয়া' শিরোনামের একটি গান গেয়েছিলেন আঁখি। সুর করেছিলেন প্রয়াত সংগীত পরিচালক আলম খান। সেই সময়ে এই গানটি দর্শক ও শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। সম্প্রতি 'বৈঠকখানা' অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আবারও একসঙ্গে গানের কাজ করতে পেরে আঁখি আলমগীর তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, 'মিল্টন খন্দকার ভাইয়ের লেখা ও সুরে বিটিভির অনুষ্ঠানে গান গাইলাম। এটি কোনো মরা গান নয়, বরং ভীষণ তরতাজা একটি গান। গাইতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত।'
নন্দিত অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি। সিনেমা থেকে শুরু করে টিভি ও মঞ্চ নাটকে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। তাকে বলা হতো অভিনয় কারিগর। সবাইকে কাঁদিয়ে ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ঢাকাই সিনেমার এ কিংবদন্তি অভিনেতা। আজ তার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। কিছু মানুষ আছেন যারা তার চলে যাওয়া এখনো মানতে নারাজ। অন্তত তাদের জন্য মনখারাপের দিন আজ। অভিনয়ের প্রতিটা অঙ্গনেই তিনি ছিলেন জনপ্রিয়। বাংলাদেশের নাট্য ও সিনেমা জগতে তিনি অসাধারণ ও অবিসংবাদিত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। হুমায়ুন ফরীদির বাবার নাম এটিএম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। ইউনাইটেড ইসলামিয়া গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন তিনি। মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণের পর চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মূলত এ উৎসবের মাধ্যমে তিনি নাট্যাঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ঢাকা থিয়েটারের সদস্যপদ লাভ করেন। নব্বইয়ের দশকে হুমায়ুন ফরীদি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন হুমায়ুন ফরীদি। মৃত্যুর ছয় বছর পর ২০১৮ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাকে সম্মাননা প্রদান করে। হুমায়ুন ফরিদী অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাস, দহন, লয়াকু, দিনমজুর,বীর পুরুষ, বিশ্ব প্রেমিক, আজকের হিটলার, দুর্জয়,শাসন, আঞ্জুমান, আনন্দ অশ্রু, মায়ের অধিকার, আসামী বধু, একাত্তরের যীশু, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, ভালোবাসি তোমাকে, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, প্রবেশ নিষেধ, ভন্ড, অধিকার চাই, মিথ্যার মৃত্যু, বিদ্রোহী চারিদিকে, মনে পড়ে তোমাকে, মাতৃত্ব, টাকা, ব্যাচেলর, জয়, যাত্রা, শ্যামল ছায়া, দূরত্ব, চেহারা, আহা!, কি যাদু করিলা, মেহেরজান প্রভৃতি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।