নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘দেশি ব্লিং’ সিরিজটি নিয়ে এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় তুমুল শোরগোল চলছে। দুবাইয়ে বসবাসরত ভারতীয় ধনী ব্যক্তিদের বিলাসবহুল জীবন নিয়ে তৈরি এই সিরিজটি দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করেছে তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, এর নাটকীয়তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। বিশেষ করে সিরিজের অন্যতম চরিত্র তাবিন্দা সানপাল ও তার স্বামী আনেক্স হোল্ডিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সতীশ সানপালের অবিশ্বাস্য লাইফস্টাইল সবাইকে চমকে দিয়েছে। সিরিজে দুবাইয়ের এই অভিজাত চক্রে প্রবেশ করা করণ কুন্দ্রা ও তেজস্বী প্রকাশের সঙ্গে এক আড্ডায় সতীশ জানান, তাদের ১০ম বিবাহবার্ষিকীতে তিনি তার স্ত্রী তাবিন্দাকে (বিন্দা) স্বর্ণ দিয়ে ওজন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সতীশ গর্ব করে বলেন, ‘বিন্দা কখনোই টাকার জন্য আমাকে বিয়ে করেনি। ও সব ভালো গুণের অধিকারী।’ সতীশের কথার সূত্র ধরে তাবিন্দা জানান, প্রতি বছর ‘ধনতেরাস’ উৎসবে সতীশ তাকে প্রায় ৩ কেজি স্বর্ণ উপহার দেন। তাবিন্দা বলেন, ‘আমার কাছে ইতোমধ্যে ৪০ কেজি স্বর্ণ আছে। সতীশ স্বর্ণ কিনতে ভালোবাসে।’ স্ত্রীর এই কথায় সতীশও বেশ গর্বের সঙ্গে তাকে ‘গোল্ড কুইন’ বলে আখ্যা দেন। অবশ্য এই কথোপকথন মনে করে করণ কুন্দ্রা অকপটে বলেন, ‘বিষয়টি বেশ অদ্ভুত লেগেছিল। কারণ আমরা এমন এক সংস্কৃতি থেকে এসেছি যেখানে মানুষ এভাবে খোলামেলা টাকা-পয়সার কথা বলে না। আমরা এভাবে কথা বলা শুরু করলে তো আয়কর বিভাগ আমাদের বাড়িতেই হানা দেবে!’ তবে তিনি স্বীকার করেন, সানপাল দম্পতি দুবাইয়ের অভিজাত ক্লাবের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের ক্ষমতা, প্রভাব ও অর্থ সবই আছে। শো চলাকালীন সতীশ তার শুরুর দিনগুলোর কথা স্মৃতিচারণ করে জানান, তিনি ভারতের জবলপুর থেকে এসেছিলেন এবং তার কোনও পারিবারিক সম্পদ ছিল না। মাত্র ১০ লাখ দিরহাম নিয়ে দুবাইয়ে এসে প্রথমে স্বর্ণের ব্যবসা শুরু করেন এবং আজ তিনি একজন বিলিয়নেয়ার। তাদের ৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে ‘বেলা’ নামের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তাবিন্দা জানান, বেলার জন্মের আগেই তার বাবা তার জন্য স্বর্ণের চামচ, স্বর্ণের থালা ও স্বর্ণের গ্লাস বানিয়ে রেখেছিলেন। তার দাবি, বেলা দুবাইয়ের সবচেয়ে ধনী শিশু। বেলার প্রথম জন্মদিনে সে একটি স্বর্ণের পোশাক ও ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণের জ্যাকেট পরেছিল এবং তার কেকটি ছাদ থেকে নিচে নামানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বেলার জন্মদিনের উপহার হিসেবে সতীশ একটি কাস্টমাইজড গোলাপি রঙের রোলস-রয়েস গাড়ির অর্ডার দিয়েছেন। নিজের বিপুল প্রতিপত্তির কথা জানিয়ে সতীশ বলেন, ‘আমরা বলিউডের কাছে যাই না, বলিউডকে আমাদের কাছে নিয়ে আসি। টাকা থাকলে তা কথা বলেই।’ সতীশের পোশাকের প্রতিও রয়েছে চরম বিলাসিতা, তিনি কোনও ডিজাইন দ্বিতীয়বার পরেন না। সূত্র: এনডিটিভি
বলিউডে এখন নতুন গুঞ্জন শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘কিং’ এ বিশেষ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে রণবীর সিংকে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে শাহরুখ খানের জায়গায় রণবীর সিংকে নেওয়ার ঘোষণার পর থেকেই দুই তারকাকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই নতুন করে শোনা যাচ্ছে ‘কিং’ ছবিতে ক্যামিও বা বিশেষ চরিত্রে থাকতে পারেন রণবীর। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ফ্যান পেজের দাবি আন্তর্জাতিক শুটিং সূচিতে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একটি বিশেষ দৃশ্যের শুটিং করেছেন রণবীর। এমনকি তাকে সিনেমার সেটেও দেখা গেছে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোন ও মেয়ে দুয়াকে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবেই সেটে গিয়েছিলেন রণবীর। তবে পরে তার ক্রু সদস্যদের সঙ্গে ছবি ভাইরাল হলে জল্পনা আরো বাড়ে। কিছু ফ্যান থিওরি বলছে রণবীরের চরিত্রটি শুধু ছোট ক্যামিও নয় গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশও হতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে তিনি এমন এক রহস্যময় চরিত্রে অভিনয় করবেন যেটি বিপদের মধ্যে পথ দেখাবেন সুহানা খানের চরিত্রকে। খবরটি সত্যি হলে এটি হবে শাহরুখ খানের সন্তানদের সঙ্গে রণবীরের দ্বিতীয় কাজ। এর আগে আরিয়ান খানের ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’ এও তাকে দেখা গেছে। অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘কিং’ এ শাহরুখ খান দীপিকা পাড়ুকোন সুহানা খান অভিষেক বচ্চন ও রানি মুখার্জিকে দেখা যাবে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে। সিনেমাটি শাহরুখের পরবর্তী বড় প্রজেক্ট হিসেবেও ধরা হচ্ছে।
ওয়েব সিরিজ ‘আশ্রম’ এ অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসা অভিনেত্রী ত্রিধা চৌধুরী এবার বড় পর্দায় নিজের স্বপ্নের চরিত্র নিয়ে মুখ খুলেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, লেখক অমীশ ত্রিপাঠীর জনপ্রিয় ‘শিবা ট্রিলজি’ অবলম্বনে যদি সিনেমা নির্মিত হয়, তাহলে সেই প্রজেক্টের অংশ হতে চান তিনি। বিশেষ করে অভিনেতা রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন ত্রিধা। সাক্ষাৎকারে ত্রিধা বলেন,‘‘আমি ভগবান শিবের খুব বড় ভক্ত। আর রণবীর সিংও আমার অত্যন্ত পছন্দের অভিনেতা। তাই যদি কখনও ‘শিবা ট্রিলজি’ নিয়ে ছবি তৈরি হয় এবং সেখানে রণবীর অভিনয় করেন, তাহলে আমি সেই প্রোজেক্টের অংশ হতে চাইব।’’ ত্রিধার মতে, অমীশ ত্রিপাঠীর বইগুলোর মধ্যে একধরনের আধ্যাত্মিকতা ও মহাকাব্যিক আবহ রয়েছে, যা বড় পর্দায় দারুণভাবে ফুটে উঠতে পারে। তিনি জানান, বই পড়ার প্রতি তার আলাদা আগ্রহ রয়েছে এবং ‘শিবা ট্রিলজি’ তার অন্যতম প্রিয় সিরিজ। অভিনেত্রী আরও জানান, পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক ঘরানার চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা তার দীর্ঘদিনের। এ ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শুধু অভিনয় দক্ষতা নয়, মানসিক প্রস্তুতি ও চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার ক্ষমতাও প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। ত্রিধার ভাষায়, ‘আমি এমন চরিত্র করতে চাই, যা শুধু গ্ল্যামার নির্ভর নয়, দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।’
সামাজিক বাস্তবতা ও হাসির ঘটনা নিয়ে বানানো হয়েছে হয়েছে নাটক ‘টিকটক বউ’। কোরবানির ঈদের বিশেষ নাটক হিসবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচার হবে নাটকটি। বিজ্ঞপ্তিতে স্টেশনটি জানিয়েছে, ঈদের দিন রাত ৯টায় প্রচার হবে নাটক ‘টিকটক বউ’; রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু এবং প্রযোজনা করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এতে অভিনয় করেছেন অভিনয় করেছেন সালমান আরাফাত, নওশীন নাহার, জুলফিকার চঞ্চল, শ্যামল হাসান, কবির টুটুল, আরজুমান আরা বকুল, হুমায়ুন ফরিদ, সাবিহা জামান, বিমল ব্যানার্জি, সাবরিনা শফী নিসা ও আনোয়ার শাহী। এই নাটকে উঠে এসেছে বর্তমান প্রজন্মের সোশাল মিডিয়া নির্ভর সম্পর্ক ও পারিবারিক জীবনের নানা দিক। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, মনির তার মা ও মামাকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে যায়। মেয়ের নাম রায়না। টিকটকে রায়নাকে প্রথম দেখে মনির। দেখেই ভালো লেগে যায় তার। প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করা মনিরের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করবে। এ কারণে বহু মেয়ে দেখেও তার মনে ধরেনি। মেয়ে দেখতে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নাটকে তৈরি হয় একের পর এক হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতি। তাদের বিয়ে ঘিরেই এগিয়ে যাবে নাটকটি। নাটকটি নির্মল বিনোদনের পাশাপাশিবর্তমান সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতার একটি সূক্ষ্ম চিত্র তুলে ধরবে বলে জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কলকাতার নায়িকাদের উপস্থিতি আগে থেকেই ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটা বেড়েছে। গত কয়েক বছরে ইধিকা পাল, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, সুস্মিতা, কৌশানীকে আমরা দেখেছি ঢালিউড সিনেমায়। এবার প্রথম ঢাকার কাজে যুক্ত হলেন কলকাতার আরেক অভিনেত্রী সৃজা দত্ত। তিনি অভিনয় করেছেন ‘তাজমহল’ নামে একটি সিনেমায়। এতে তাকে নায়িকার ভূমিকায় দেখা যাবে। ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ নির্মাণ করেছে। কাঁটাতার, দেশভাগ ভালোবাসাকে আটকাতে পারে না এমনই এক গল্প নিয়ে এ সিনেমা। এটি পরিচালনা করেছেন ওয়াহিদ অনম। প্রেমের গল্পের সিনেমা ‘তাজমহল’ মুক্তি পাবে ঈদের দিন। ঢাকায় সৃজার প্রথম কাজ হলেও, কলকাতায় তিনি বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। নায়ক দেবের সঙ্গে ‘বাঘা যতীন’ সিনেমা দিয়ে তার বড় পর্দায় অভিষেক হয়। এরপর ‘টেক্কা’ সিনেমাতেও অভিনয় করেন। এ অভিনেত্রীকে সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে ‘রঘু ডাকাত’ সিনেমায়। সিনেমার বাইরে হইচইয়ের ‘নিশির ডাক’ সিরিজেও অভিনয় করেছেন সৃজা। এদিকে ঢাকার কাজের সুযোগ পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত এ অভিনেত্রী। সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি, তাই লুফে নিয়েছেন। ঢাকা থেকে কীভাবে ডাক পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যোগাযোগ হচ্ছিল। ডাকও পাচ্ছিলাম। শেষে ‘প্রেসার কুকার’ সিনেমার নায়ক ফইজুল ইয়ামিনের বিপরীতে সুযোগ এলো।” ঢাকায় কেমন কাটল জানতে চাইলে সৃজা বলেন, ‘বাংলাদেশ শান্ত। তারা ভারতীয়দের খুব ভালোবাসেন। কোথায় বসাবেন, কী খাওয়াবেন, বুঝে উঠতে পারেন না! কী যে আন্তরিক সবাই।’ অভিনেত্রী জানান, কলকাতায় ফেরার সময় ভুল পথে গিয়ে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছাতে দেরি করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে কলকাতায় ফিরতেই হবে, কারণ পরের দিন তার পরীক্ষা। তিনি বলেন, ‘সেদিন বিমানবন্দরের সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আমার জন্য বিমান দেরিতে উড়েছে। এ আন্তরিকতা ভুলব কী করে?’ ভালো অভিজ্ঞতা পাশাপাশি সৃজা একটি আক্ষেপের কথাও বলেন। তিনি জানান, তাড়াহুড়োয় তার ইলিশ খাওয়া হয়নি। তার বদলে কাচ্চি বিরিয়ানি খেয়েছেন। সৃজার সঙ্গে ঢাকায় তার মা-ও এসেছিলেন। তিনি নিজের আর মেয়ের জন্য ঢাকাই জামদানি কিনেছেন। সিনেমার দৃশ্য ধারণের কাজ হয়েছে সিলেট অঞ্চলে। সেখানকার ভাষা শিখতে হয়েছে সৃজাকে। তিনি আরও বলেন, “বিনোদন দুনিয়ায় বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে আসছে। এক মাসের কম সময়ে শুট শেষ হয়ে মুক্তি পাচ্ছে তাজমহল’।”
এবার আর অভিনয় বা পর্দার গল্প নিয়ে নয়, বরং নিজের ফুটবলপ্রীতি আর পছন্দের দল নিয়ে খোলামেলা আড্ডায় মেতেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। চমৎকার অভিনয়শৈলী আর মিষ্টি হাসিতে কোটি দর্শকের মন জয় করা এই তারকা নাটক ও ওটিটি— দুই মাধ্যমেই দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ফুটবল ভালোবাসা এবং ব্রাজিলকে সমর্থন করা নিয়ে এক মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে নিজের ফুটবলপ্রেমের কথা জানাতে গিয়ে হিমি অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি মূলত খেলা অতটা না বুঝেই ব্রাজিল দল সাপোর্ট করেন। ছোটবেলা থেকেই তার বাবা ও ভাইকে ব্রাজিলের কট্টর সমর্থক হিসেবে দেখে আসছেন, আর সেই পারিবারিক আবহ থেকেই তারও ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হওয়া। তবে এই দলটিকে সমর্থন করতে গিয়ে তাকে প্রায়ই বন্ধুমহলে কিংবা পরিচিতদের কাছে বেশ ট্রল বা ‘পচানি’ খেতে হয় বলে হেসে ফেলেন এই তারকা। ব্রাজিল দলের তারকা খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হিমি জানান, নেইমারের কারণেও তাকে বেশ পচানি খেতে হয়। তবে শৈশবের এক স্মৃতির কথা রোমন্থন করে তিনি বলেন, ছোটবেলায় যখন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার কাকা খেলতেন, তখন তার ওপর একপ্রকার ‘ক্রাশ’ খেয়েছিলেন তিনি। কাকার চমৎকার রূপ আর খেলার স্টাইল তাকে মুগ্ধ করেছিল। বর্তমান সময়ে কাজের প্রচণ্ড ব্যস্ততার কারণে আগের মতো নিয়মিত খেলা দেখার সুযোগ না হলেও, হৃদয়ে ব্রাজিলের প্রতি সেই টানটা বরাবরই রয়ে গেছে বলে জানান হিমি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ‘রঙ-আরটিভি টুয়েন্টি টুয়েন্টি কালারস মডেল সার্চ’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে শোবিজে পথচলা শুরু করেন জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। এরপর থেকেই নিয়মিত নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন এই সুহাসিনী অভিনেত্রী।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর কান চলচ্চিত্র উৎসবে বরাবরের মতোই আলো ছড়িয়েছেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তবে এবারের আসরে উৎসবের শেষ লগ্নে হাজির হয়ে ভক্তদের দ্বিগুণ চমক দিয়েছেন এই বলিউড কুইন। এবার আর একা নন, কানের লালগালিচায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটল তার কিশোরী কন্যা আরাধ্যা বচ্চনের। লরিয়াল প্যারিসের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে মায়ের পাশে এসে যখন আরাধ্যা দাঁড়াল, তখন উপস্থিত আলোকচিত্রীদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ যেন থমকে গিয়েছিল। লালগালিচায় মা ও মেয়ের এমন রাজকীয় উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। কান ২০২৬ উৎসবে নিজের প্রথম দিনের উপস্থিতিতে দুটি ভিন্ন ও চোখধাঁধানো লুকে ধরা দেন ঐশ্বরিয়া রাই। এর মধ্যে লরিয়াল প্যারিসের অনুষ্ঠানে তিনি সেজেছিলেন হালকা গোলাপি বা বেবি পিঙ্ক রঙের চমৎকার একটি পোশাকে। মায়ের ঠিক পাশেই গাঢ় লাল বা রুবি-রেড রঙের সাটিন গাউন পরে দাঁড়িয়েছিল আরাধ্যা বচ্চন। আরাধ্যার গাউনের সঙ্গে ম্যাচিং করা ঝিলমিলে কেপ ফ্যাশনে যুক্ত করেছিল এক অনন্য মাত্রা। ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার মনোরম নীল জলরাশিকে ব্যাকড্রপ বা পটভূমি বানিয়ে মা-মেয়ের এই চমৎকার পোজের একাধিক ছবি ও ভিডিও এখন অন্তর্জালে প্রশংসায় ভাসছে। চুলে হালকা কার্ল আর গ্লসি মেকআপের চিরাচরিত স্টাইলে ঐশ্বরিয়াকে যেমন মোহময়ী লাগছিল, তেমনই মায়ের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আরাধ্যাও তার নিজস্ব আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলেছে। উৎসবে নিজের প্রথম লুকটির জন্য ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছিলেন ভারতীয় বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার অমিত আগারওয়ালের ডিজাইন করা একটি ড্রামাটিক রয়্যাল ব্লু বডি কন গাউন। ‘লুমিনারা’ নামের এই বিশেষ গাউনটি মূলত গতিশীল আলোর থিম বা ‘লাইট ইন মোশন’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ডিজাইনারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পোশাকটিতে আলোকে কেবল দীপ্তি হিসেবে নয়, বরং শক্তি ও রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। গাউনটির মূল আকর্ষণ ছিল অমিত আগারওয়ালের সিগনেচার ‘ক্রিস্টাল ভেইন’ এমব্রয়ডারি টেকনিক, যা তৈরিতে কারিগরদের প্রায় ১৫০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিখুঁত হাতের কাজ করতে হয়েছে। হাজার হাজার ক্রিস্টালের রৈখিক অলংকরণ দিয়ে তৈরি এই গাউনটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা আলোর প্রতিফলনে বারবার নিজের রূপ পরিবর্তন করে। ফলে পরিধানকারী যখনই হাঁটেন বা নড়াচড়া করেন, পোশাকটির মধ্যে একধরনের গতিশীলতা বা কাইনেটিক আবহ তৈরি হয়। এর কাঁধের অংশ থেকে বের হওয়া ডানার মতো নিখুঁত স্ট্রাকচার পুরো পোশাকে একটি আধুনিক ও আর্কিটেকচারাল ধারালো ভাব এনে দিয়েছে। অন্যদিকে, এর গভীর নীল বা অ্যাবিস ব্লু রংটি মহাজাগতিক গভীরতা ও মহাশূন্যে আলোর অন্তহীন যাত্রাকে নির্দেশ করে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কানের লালগালিচায় রাজত্ব করা ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে এই পোশাকটি তার ফ্যাশন বিবর্তনের এক নতুন অধ্যায় বলে মনে করছেন ফ্যাশনবোদ্ধারা। সূত্র: মিড-ডে
আসন্ন ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘মালিক’-এর ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ২ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের ট্রেলারটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। ট্রেলারে দেখা গেছে ক্ষমতা, আধিপত্য ও প্রতিশোধের এক উত্তেজনাপূর্ণ গল্প। বিশেষ করে ‘মালিক’ চরিত্রে আরিফিন শুভর ভয়ংকর গ্যাংস্টার লুক এবং সংলাপ এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ট্রেলারে তাকে বলতে শোনা যায়, “দেশি-বিদেশি জাহাজ মাল ঘাটে ঢুকবো, বাইর হইবো, সবকিছুর ওপরে কন্ট্রোল আমার।” এছাড়াও “কী ভাবছিলি, মইরা গেছি? মরি নাই!” এবং “আই অ্যাম নট ব্যাড বয়, আই অ্যাম সাইকো” সংলাপগুলো দর্শকদের আলাদাভাবে আকৃষ্ট করেছে। দীর্ঘদিন পর শুভকে এমন ডার্ক ও রাফ অ্যাকশন চরিত্রে দেখে উচ্ছ্বসিত তার ভক্তরা। একই সঙ্গে খলচরিত্রে মিশা সওদাগরও ট্রেলারে নিজের পরিচিত দুর্ধর্ষ উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। অন্যদিকে বিদ্যা সিনহা মিমকেও দেখা গেছে ভিন্নধর্মী অ্যাকশন অবতারে। মারকুটে ও শক্তিশালী এক চরিত্রে তার উপস্থিতি সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে। সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’ সিনেমার গল্পে উঠে এসেছে এক জেদি মানুষের জীবনসংগ্রাম, যে মায়ের সম্মান ও অধিকার আদায়ের লড়াই করতে গিয়ে ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে ওঠে। নির্মাতার ভাষ্য, অ্যাকশনের পাশাপাশি সিনেমাটিতে আবেগ, সম্পর্ক ও শক্তিশালী গল্পও দর্শককে ছুঁয়ে যাবে।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় চমক নিয়ে হাজির হলেন আলোচিত চিত্রনায়ক জায়েদ খান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির বর্তমান মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানির সঙ্গে একই পর্দায় দেখা যাবে এই অভিনেতাকে। জন কবির ও সাদ আল আমীন পরিচালিত শর্টফিল্ম ইমিগ্রেন্ট ডায়েরিস এপিসোড ২-এ তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। প্রবাসীদের জীবনসংগ্রাম ও নানা গল্প নিয়ে তৈরি এই শর্টফিল্মটি আগামী ২৭ মে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ঠিকানায় মুক্তি পাবে। এর আগে গত মার্চে এর প্রথম পর্বটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এমন একজন বিশ্ববরেণ্য ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জায়েদ খান বলেন ‘জোহরান মামদানি সরাসরি আমার সাথে এই শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করতে পারা শুধু আমার একার নয় বরং লাল-সবুজের বাংলাদেশের পতাকার জন্যই এক বিশাল গর্বের বিষয়।’ মেয়রকে কীভাবে এই প্রজেক্টে যুক্ত করা হলো তার পেছনের গল্পও শোনান এই নায়ক। তিনি জানান, ঠিকানার রুহিন হোসেন ও তার স্ত্রী আনুভা শাহীন হোসেনের মাধ্যমেই এই অসাধ্য সাধন হয়েছে। তারাই মেয়রের দপ্তরে ইমেইল করে প্রজেক্টের বিস্তারিত জানান। এরপর বেশ কিছুদিন অপেক্ষার পর মেয়রের অফিস থেকে শুটিংয়ের শিডিউল পাওয়া যায়। শুটিং সেটে ক্ষমতাধর এই মেয়রের মাটির মানুষ রূপ দেখেও মুগ্ধ হয়েছেন জায়েদ। নিজের স্বপ্নের মতো এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন ‘তিনি পৃথিবীর একজন সেলিব্রেটি মেয়র এবং অত্যন্ত ক্ষমতাধর। কিন্তু শুটিং সেটে তিনি কোনো অহংকার দেখাননি। বরং একজন সাধারণ অভিনেতার মতোই বারবার পরিচালকের নির্দেশ মেনে নিখুঁত শট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কাজটি করে তিনি নিজেও ভীষণ আনন্দিত।’
ভারতের পাঞ্জাবি সংগীত অঙ্গনের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইন্দর কৌর হত্যাকাণ্ডে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর লুধিয়ানার একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবার বলছে, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তিই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৩ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাজার করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ইন্দর কৌর। এরপর আর ফেরেননি তিনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর থানায় অভিযোগ করেন। নিহত শিল্পীর ভাই জোটিন্দর সিং দাবি করেন, মোগার ভালুর গ্রামের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখার সঙ্গে ইন্দরের সম্পর্ক ছিল। পরে তিনি জানতে পারেন সুখবিন্দর বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে। এ তথ্য জানার পর ইন্দর তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বিয়ের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন। পরিবারের অভিযোগ, এর জের ধরেই ১৩ মে সুখবিন্দর ও তার সহযোগীরা অস্ত্রের মুখে ইন্দর কৌরকে অপহরণ করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অভিযুক্তরা কানাডা থেকে নেপাল হয়ে পাঞ্জাবে আসে এবং হত্যাকাণ্ডের পর একই পথে পালিয়ে যায়। গত ১৫ মে জামালপুর থানায় সুখবিন্দর সিং ও তার সহযোগী করমজিৎ সিংয়ের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়। থানার কর্মকর্তা বলবীর সিং জানিয়েছেন, ইন্দর কৌরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সামরালার সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো পুলিশ ব্যবস্থা নিলে হয়তো জনপ্রিয় এই শিল্পীকে বাঁচানো সম্ভব হতো। ইন্দর কৌর পাঞ্জাবি সংগীত জগতের পরিচিত মুখ ছিলেন। ‘আফগান জট্টি’, ‘সোহনা লাগদা’, ‘লানেদারনি’ ও ‘সোনে দি ওয়াং’-এর মতো জনপ্রিয় গান দিয়ে তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। গানের পাশাপাশি তিনি পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার। জনপ্রিয় এই শিল্পীর মৃত্যুতে পাঞ্জাবি সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও ভক্তরা দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভারতের দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে 'সেরা চলচ্চিত্রের' পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের সিনেমা 'মানুষের বাগান'। উৎসবের সমাপনী দিন এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সিনেমার পরিচালক ও পুরো টিমের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ভারতে বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার প্রীতি রহমান। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্মের পক্ষে প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর এই আন্তর্জাতিক অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সিনেমার পরিচালক নুরুল আলম আতিক বলেন, যে কোনো স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে আনন্দের। বেশ আগে কাজটি করা। সবাই তাঁকে দারুণ সহায়তা করেছিলেন। সিনেমাটি শিগগিরই দেশের দর্শকরা দেখতে পারবেন। একগুচ্ছ অভিনয়শিল্পী নিয়ে আতিক সিনেমাটি নির্মাণ ও সম্পাদনা শেষ করেন ২০১৯ সালের শেষের দিকে। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, মাহমুদ আলম, প্রসূন আজাদ, দিপান্বিতা মার্টিন, ইকবাল আহমেদ, জয়রাজসহ অনেকে। 'মানুষের বাগান' সিনেমায় মানুষের সম্পর্কের গভীরতা এবং জীবনের জটিলতার দিক তুলে ধরেছেন নির্মাতা। চিত্রনাট্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পাঁচটি গল্প নিজস্ব দর্শনে তৈরি করেছেন তিনি। সিনেমায় 'মানুষের বাগান' শিরোনামের একটি গান রয়েছে, যা করেছে চিরকুট ব্যান্ড। গানটির গীতিকার নাহিদুর রহমান আনন্দ, যিনি চিরকুটের 'যাদুর শহর' গানটির কথাও লিখেছিলেন। দুই বছর আগে আতিকের 'পেয়ারার সুবাস' সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল, সেটিও নির্মাণের আট বছর পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেন তিনি। এর আগে আতিক নির্মাণ করেছেন 'লাল মোরগের জুটি', 'ডুব সাঁতার', 'কিত্তনখোলা' সহ বেশ কিছু সিনেমা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ধর্ষণের মতো ঘটনার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ প্রবণতা নয় দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দায়ী। এ ছাড়া মাদকাসক্তির বিস্তার বিকৃত অনলাইন কনটেন্টের সহজলভ্যতা পরিবার ও শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি এবং অপরাধ করে পার পাওয়ার প্রবণতা এ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরে শোকাহত পুরো দেশ। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই নৃশংস ঘটনার বিচার দাবি করছেন। শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন ‘রামিসার মর্মান্তিক বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। একজন মা হিসেবে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। এমন নৃশংসতার বিচার চাই আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়। রামিসা তুই শান্তিতে থাক মা।’
তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে তা মানুষের হার্ট, কিডনি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপর মারাত্মক এবং দীর্ঘমেয়াদি ‘নীরব ক্ষতি’ সৃষ্টি করে। এই চরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় থাকলে কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ ছাড়াই শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো বিকল হতে শুরু করে। তীব্র গরমে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অঙ্গ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা নীরব ঘাতকের রূপ ধারণ করে। আগে গ্রীষ্ম অবকাশ বলে টানা এক মাস ছুটি থাকত স্কুল। গরমের দাপট বাড়লে সেই ছুটির মেয়াদ আরও সপ্তাহখানেক চলত। কিন্তু এখন নিয়ম পাল্টে গেছে। গত কয়েক দশক ধরে গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহ নির্দিষ্ট কোনো মাসে আবদ্ধ নেই। দিনের পর দিন গরম যেভাবে তার রেকর্ড গড়ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে মারাত্মক জীবনঝুঁকিতে ফেলবে ফলে হিটস্ট্রোক দেখা দেবে। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, দিনের পর দিন যে পরিমাণ গরম সহ্য করতে করতে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে। শরীর সেই ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাচ্ছে না। একটানা এ পরিমাণ গরমের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের হৃদযন্ত্র, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং পরিপাকতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বয়সভেদে ঝুঁকির ধরন আলাদা। মানবদেহের নিজস্ব কিছু মেকানিজম রয়েছে। গরম বাড়লে সে নিজেকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত ঘাম উৎপন্ন করে এবং রক্ত সঞ্চালনের গতি বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি, ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং চরম অবসাদ তৈরি হয়। সে জন্য প্রবল গরমের মধ্যে শুধু পানি খেলে শরীর পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে না। কারণ ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। তাই ওআরএস, ডাবের পানি, লবণ-চিনির পানি, ঘোল কিংবা বাটারমিল্ক এবং পুদিনাপাতা বা লেবু ইনফিউজড ওয়াটার নিয়মিত খেতে হবে। ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলে শুধু ফ্যান চালিয়ে লাভ হয় না। সে ক্ষেত্রে ঘরের ভেন্টিলেশন কিংবা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয়। শরীর অতিরিক্ত গরম মনে হলে ঘাড়, হাত-পা এবং বুকে ঠান্ডা পানি দিয়ে স্পঞ্জ করা যেতে পারে। আর একটানা রোদে ঘোরাঘুরি বা অতিরিক্ত গরমে কাজ করার ফলে শরীরে বারবার ডিহাইড্রেশন কিংবা পানির ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে রক্তে টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে পেশি নষ্ট হয়ে যায়, লিভারের ওপর চাপ পড়ে এবং রক্তে বিপজ্জনক ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্সও দেখা দেয়। তীব্র গরমের মধ্যে থাকা শ্রমিক ও চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন কিডনিতে পাথর এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। নিজেকে ঠান্ডা রাখতে শরীর রক্তপ্রবাহকে ত্বকের দিকে পাঠাতে চেষ্টা করে। তখন হার্টকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পাম্প করতে হয়। সে কারণে হৃদস্পন্দনের গতি বা হার্ট রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যায়। মাসের পর মাস এ অবস্থা চলতে থাকলে কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম বা সংবহনতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যা পরবর্তীকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। আবার তীব্র গরমের মধ্যেও যদি কোনো ব্যক্তির ঘাম না হয়, তবে বুঝতে হবে— শরীরের নিজস্ব কুলিং সিস্টেম পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে এবং ওই ব্যক্তি হিটস্ট্রোকের শিকার হতে পারেন। মানুষের শরীর রাতের ঘুমের সময় স্বাভাবিক নিয়মেই নিজেকে ঠান্ডা করে এবং ব্রেন ও হরমোন নেটওয়ার্ককে পুনরুজ্জীবিত করে। কিন্তু রাতের তাপমাত্রা বেশি থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এর ফলে মনোযোগের অভাব, ভুলে যাওয়া, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ এবং মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। শিশুদের শরীর বড়দের তুলনায় দ্রুত গরম হয় এবং তারা প্রচণ্ড ঘামে। ফলে দ্রুত ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়। অতিরিক্ত ক্লান্তি, খিটখিটে ভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, খাওয়ার অনিচ্ছা ও অলসতা। নবজাতকদের ক্ষেত্রে চোখ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখ দিয়ে পানি না পড়া বা শরীর অতিরিক্ত গরম কিন্তু ত্বক শুকনো থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যায়। তাই ৪৫ ডিগ্রি গরমে প্রবীণদের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং অ্যারিদমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। ডিমেনশিয়া বা স্নায়ুরোগে আক্রান্ত প্রবীণরা অনেক সময় তৃষ্ণা অনুভব করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। হঠাৎ বিভ্রান্তি, অসংলগ্ন কথাবার্তা, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা হ্যালুসিনেশনও হতে পারে।
শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’ সিনেমায় অভিনয় করে নজর কাড়েন কলকাতার ইধিকা পাল। শাকিবের ‘বরবাদ’ ছবিতেও দেখা গেছে তাকে। সেই নায়িকাকে এবার পাওয়া গেল হিরো আলমের সঙ্গে। তবে বাস্তবে নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ভিডিওতে একসঙ্গে হাজির হয়েছেন তারা। আর সেটিই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন হিরো আলম। সেখানে তাকে দেখা যায় ইধিকা পালের সঙ্গে অ্যাকশন ও ড্রামাধর্মী বিভিন্ন দৃশ্যে। কখনও দুজনকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সংলাপ বলতে, আবার কখনও সিনেমার স্টাইলে রোমান্টিক ও অ্যাকশন মুডে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই ভক্ত-অনুসারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে পরে জানা যায়, পুরো ভিডিওটিই তৈরি করা হয়েছে এআই দিয়ে। বাস্তবে ইধিকা পাল ও হিরো আলম একসঙ্গে কোনো শুটিং করেননি। কাজটি করেছেন হিরো আলমের ছোট ভাই মাহমুদ হাসান। তিনি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করেছেন। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে যেন, দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালেন হিরো আলম। ভিডিওটি নিয়ে হিরো আলম বলেন, ‘এখন এআইয়ের যুগ। নতুন নতুন প্রযুক্তি আসছে। দর্শকদের একটু ভিন্ন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অনেকেই ভিডিওটি দেখে অবাক হয়েছেন। কেউ কেউ ভাবছেন সত্যি সত্যিই আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইধিকা পাল বর্তমানে জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী। বিশেষ করে শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করার পর বাংলাদেশেও তার পরিচিতি অনেক বেড়েছে। দর্শকদের জন্য একটু মজার কিছু করার চিন্তা থেকেই ভিডিওটি বানানো হয়েছে।’ হিরো আলম জানান, তার ছোট ভাই মাহমুদ হাসান প্রযুক্তিনির্ভর কাজের ব্যাপারে আগ্রহী। সেই আগ্রহ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। তাদের চাওয়া ছিল অনুসারীদের নতুন কিছু দেখানো। মানুষ যেন বিনোদনের পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহারটাও বুঝতে পারে। শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পান ইধিকা পাল। তাদের জুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়। সেই জনপ্রিয়তার রেশ ধরেই এবার হিরো আলমের এআই ভিডিওতেও নতুন করে আলোচনায় এলেন এই অভিনেত্রী।
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘটনার ন্যায়বিচার ও দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অনেকে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলের খবরও পাওয়া গেছে। শোবিজ অঙ্গনের একাধিক তারকা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রকাশ্যে কার্যকর করার দাবি জানান। অভিনেত্রী বলেন, অন্তত একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে আইন প্রয়োগের কঠোর বার্তা সমাজে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ঢালিউড অভিনেতা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং সমাজে ভয় ও সচেতনতা তৈরি হয়। নির্মাতা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। উপস্থাপক-ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া নির্মাতা,, অভিনেত্রী, এলিনা শাম্মীসহ আরও অনেকে ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সংগীতশিল্পী সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এদিকে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে শিশু ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এরই মধ্যে গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ তারকারাও। যার ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ধর্ষকের বিচার দাবি করছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের মেগাস্টার শাকিব খান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে করা পোস্টটি শিশু রামিসার আর্তনাদকেই যেন তুলে ধরছে বারবার। একটি শিশুর আর্তনাদ কখনোই শুধু একটি পরিবারের বেদনা হয়ে থাকে না, এই বেদনা আমাদের সবার! শিশু রামিসার সাথে হওয়া এই নৃশংস ঘটনা পুরো সমাজের মানবিকতা, নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়! প্রয়োজন দ্রুত স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; যে শাস্তি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করবে এবং সমাজে স্পষ্ট বার্তা দেবে। এমন জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার বিলম্ব মানে ভুক্তভোগী পরিবারের যন্ত্রণা আরও দীর্ঘ করা। তাই এখন সময় আইনের কঠোর প্রয়োগ, যাতে আর কোনো রামিসাকে এভাবে নির্মমতার শিকার হতে না হয়; যেন আর কোনো সন্তানের পিতাকে বলতে না হয়, “আমরা বিচার চাই না, এদেশে বিচার নাই!”
কয়েক দফা মুক্তি পেছানোর পর অবশেষে কোরবানির ঈদে মুক্তি পাচ্ছে জীবনানন্দ দাশের কাল্পনিক চরিত্র বনলতা সেনকে ঘিরে নির্মিত সিনেমা ‘বনলতা সেন’। সিনেমা মুক্তির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। সম্প্রতি ‘বনলতা সেন’র একটি পোস্টার শেয়ার করে ক্যাপশনে অভিনেত্রী লেখেন, “না, এ কোনো যন্তরমন্তর ঘর নয়। যে ঘরের চাবি আছে, তবুও তালা খোলার কোনো পথ নেই! কে থাকে সেই ঘরে? ‘বনলতা সেন’ আসছে এই ঈদে আপনারই নিকটস্থ প্রেক্ষাগৃহে।” এর আগে ২০২৪ সালে সিনেমাটি মুক্তির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পিছিয়ে আসেন। সবশেষ গত বছরের রোজার ঈদে মুক্তি দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি সিনেমাটি। কিন্তু কেন সিনেমাটি মুক্তির ঘোষণা দিয়েও পিছিয়ে গেছে বারবার—এমন প্রশ্নের উত্তরে সিনেমার পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল বলেন, ‘কিছু কারণে আমরা সিনেমাটি মুক্তি দিতে পারিনি। তবে আমাদের সব প্রস্তুত হচ্ছে। আমরা প্রচারণাও শুরু করেছি।‘ জানা গেছে, অন্তরালে অনেক দিন ধরে সিনেমার সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদারের সঙ্গে পরিচালক উজ্জ্বলের দ্বন্দ্ব চলছে। সে দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালত অব্দি। মামলার এখনো সুরাহা হয়নি। তরুণ মজুমদার বলেন, ‘সিনেমার কাজ শুরুর সময় সবকিছু ঠিক ছিল। পরে সিনেমার অগ্রগতি জানতে চাইলে নির্মাতা টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে আমি টাকা ফেরত নিয়ে সরে যেতে চাইলে তিনি তা ফেরত দেননি। এরপর বাধ্য হয়েই আইনি পথে যেতে হয়েছে।’ তরুণ মজুমদারের কথায়, ‘সিনেমার বিষয়ে আমার কাছে সব ডকুমেন্ট আছে। আমি প্রমাণ ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নিইনি। তদন্ত রিপোর্টও আছে। এ ছাড়া উজ্জ্বল বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াচ্ছেন যে আমি সুদে আসলে টাকা ফেরত চেয়েছি—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার।’ এদিকে মুক্তি প্রসঙ্গে নির্মাতা উজ্জ্বল জানান, আদালতের নির্দেশনা মেনেই ‘বনলতা সেন’ মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান পায় ‘বনলতা সেন’। সিনেমা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে গত বছর নির্মাতা জানিয়েছিলেন, সিনেমাটি নির্মাণে চেষ্টার কোনো কমতি রাখেননি তিনি। সময় বেশি লাগলেও যত্ন নিয়ে কাজ শেষ করেছেন। সরকারি অনুদানের এ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। অভিনেত্রীর চরিত্রটি নিয়ে গণমাধ্যমকে উজ্জ্বল বলেছিলেন, ‘নাবিলা যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এই চরিত্রের জন্য কয়েকজন অভিনয়শিল্পীর অডিশন নিয়েছি। নাবিলাও দিয়েছেন। চরিত্রটি যেভাবে আমি ভাবছি, অডিশন শেষে মনে হলো, তা নাবিলাকে দিয়ে করিয়ে নেওয়া সম্ভব।’ ‘বনলতা সেন’ সিনেমায় জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে দেখা যাবে খায়রুল বাসারকে। এতে আরও অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রূপন্তী আকিদ, শরিফ সিরাজ, সুমাইয়া খুশি প্রমুখ।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র শুটিং স্পট থেকে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শতাধিক দর্শকের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর, রামনগর হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের ক্ষেত্রে পাসের ব্যবস্থা ছিল। আয়োজক কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে ওই অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় পাস হাতে থাকা নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শকদের ঠেলাঠেলি করে প্রবেশ করতে হয়েছে। বিশৃঙ্খল এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তির মুঠোফোন চুরি হয়। এ সময় আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিপুলসংখ্যক পু্লিশ সদস্যও এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। জানা গেছে, তিন হাজার অতিথির জন্য আসন বরাদ্দ করা হলেও আরও কয়েক হাজার ব্যক্তি অনুষ্ঠানে অনধিকার প্রবেশ করেন। পুলিশি বাঁধা উপেক্ষা করে, দেয়াল টপকে তারা ভিতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কির সুযোগে একটি চক্র প্রবেশ ফটক থেকেই হাতিয়ে নেয় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, দীপ্ত টিঁভি, ইভিনিং নিউজ, দৈনিক আমার দেশ, ভোরের ডাক, প্রতিদিনের সংবাদের সাংবাদিক সহ অন্ততঃ ৭ সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের প্রায় শতাধিক মুঠোফোন। পরে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে শতশত পাসধারী দর্শকঅতিথি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার সময় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণে হট্টগোল দেখা দেয়। এসময় আমিসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা ভিতরে প্রবেশ করার পর দেখি আমার মোবাইলটি নেই। তাৎক্ষণিক গেইটে অবস্থান রত পুলিশকে চুরির ঘটনা জানানো হয়। জানানোর পর পুলিশের সাথে প্রায় এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় ৬জন সাংবাদিক, ১জন জেলা প্রশাসনের কর্মচারি সহ অন্তত ৪০/৪৫ জন মোবাইল চুরির ঘটনা পুলিশকে অবহিত করে। তবে পুলিশ নীরব ভূমিকায় ছিল। প্রবেশ গেইটে এত হট্টগোল হচ্ছে দেখেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। জানতে চাইলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, ইত্যাদি অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য জেলা, জেলার বাইরে থেকে হাজার হাজার দর্শক এসেছেন, পাশাপাশি হয়তো অনেক চোরও এসেছে। অনুষ্ঠানে বেশকিছু দর্শকের মুঠোফোন মিসিং হয়েছে জেনেছি। থানায় রিপোর্ট করলে তাদের মুঠোফোন উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।
দেশের নাট্যাঙ্গনের পরিচিত মুখ, আরণ্য নাট্যদলের সিনিয়র অভিনেতা ও অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্য দিলু মজুমদার মারা গেছেন। বুধবার (২০ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে মঞ্চ ও টেলিভিশনের অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন দিলু মজুমদার। অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা ও সাবলীল উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে নাট্যদল আরণ্যের বিভিন্ন প্রযোজনায় তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নাট্যাঙ্গনের একজন পরিচিত মুখ হিসেবে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহশিল্পী, নির্মাতা ও সংস্কৃতিকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। অভিনয়শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকেও গভীর শোক জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ চার বছরের বিরতি কাটিয়ে রুপালি পর্দায় আবারও দর্শক মাতাতে আসছেন জনপ্রিয় তারকা জুটি আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম। তাদের অভিনীত নতুন অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘মালিক’ আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। সম্প্রতি এফডিসিতে সিনেমাটির একটি বিশেষ আইটেম গান ‘গুলগুলি পিঠা’র দৃশ্যধারণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জমকালো এই গানে শুভর সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক দক্ষ নৃত্যশিল্পী। নতুন এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মিলা ইসলাম ও প্রতীক হাসান। আদিত রহমানের সুর ও সংগীত পরিচালনায় গানটির কথা লিখেছেন লুৎফর হাসান। যদিও গানটির বিস্তারিত চমক নিয়ে নির্মাতা সাইফ চন্দন এখন গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাচ্ছেন, তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এটি দর্শকদের জন্য বড় একটি সারপ্রাইজ হবে। মিম এই সিনেমার জন্য নিজেকে বদলে ফেলেছেন; অভিনয়ের পাশাপাশি মার্শাল আর্ট ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর দেড় মাসব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। সিনেমাটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে নির্মাতা সাইফ চন্দন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখনো সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিইনি। পরিকল্পনা ছিল পুরো কাজ শেষ করে তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসার। এখনো আমরা সেই পথেই আছি। শুটিং ও ডাবিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। তবে এরই মধ্যে সিনেমার কিছু ফুটেজ ও শুটিংয়ের ছবি ফাঁস হয়েছে। সেগুলো দেখেই দর্শকের মধ্যে দারুণ কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ‘সিনেমাটির পোস্টার, গান ও ট্রেলার দেখার পর দর্শক আরও চমকে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা সেন্সরে জমা দেওয়ার আগে সব কাজ গুছিয়ে একসঙ্গে প্রচারণায় নামতে চাই। প্রযোজকেরও একই পরিকল্পনা। প্রচারণা শুরু হলেই ধাপে ধাপে সব প্রকাশ করা হবে।’ মূলত আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক সংঘাতকে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে ‘মালিক’ সিনেমার কাহিনি। শুভ ও মিম জুটির এই পুনরাগমন এবং হাইভোল্টেজ অ্যাকশন সিনেমাটিকে ঘিরে চলচ্চিত্র পাড়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আরিফিন শুভ ও মিম জুটিও দীর্ঘ চার বছর পর একসঙ্গে পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। এরই মধ্যে শুভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমায় তার লুকের কিছু ছবি প্রকাশ করে ফেরার আগাম বার্তা দিয়েছেন। এ ছাড়াও এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন ‘মালিক তো একজনই, আমরা সবাই তারই বান্দা’। নায়কের এমন পোস্ট আরও কৌতূহলের বাড়িয়েছে।
ছোট পর্দার মুগ্ধতা পেরিয়ে এবার বড় পর্দায় নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলছেন মেহজাবীন চৌধুরী। অভিনয়ের প্রতিটি ফ্রেমে তিনি যেমন দর্শকদের আবেগ ছুঁয়ে যান, তেমনি বাস্তব জীবনেও তার স্টাইল, ব্যক্তিত্ব আর আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ অনুরাগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতিটি উপস্থিতিই যেন হয়ে ওঠে নতুন আলোচনার জন্ম। গ্ল্যামার, ফ্যাশন আর অভিনয়ের নিখুঁত মিশেলে এখন তিনি শুধুই একজন অভিনেত্রী নন, বরং সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এক তারকা নাম। সম্প্রতি এবার নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফেসবুকে অবকাশ যাপনের একগুচ্ছ ছবি ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে শেয়ার করেছেন মেহজাবীন নিজেই। শেয়ার করা ছবিতে তার চমৎকার ফ্যাশনেবল লুক আর দারুণ সব লোকেশন মুহূর্তেই লুফে নিয়েছেন নেটিজেনরা। এছাড়া এক ছবিতে তার স্বামী আদনান আল রাজিবকেও দেখা যায়। প্রকাশিত ছবিতে ভ্রমণের সেই মনোমুগ্ধকর ছবিগুলোর সঙ্গে মেহজাবীন ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘তোমার মনে আমার জন্য জায়গা রেখো, বাইরে অনেক শীত।’ প্রিয় অভিনেত্রীর এমন মিষ্টি আবদার আর বৈচিত্র্যময় ক্যাপশন দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। ভক্তরা যেমন তার রূপের প্রশংসা করছেন। প্রসঙ্গত, লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৯’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন মেহজাবীন চৌধুরী। তার অভিনীত প্রথম নাটক ছিল ইফতেখার আহমেদ ফাহমি পরিচালিত ‘তুমি থাকো সিন্ধুপারে’। এ নাটকে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।