টানা দুই দফা মূল্য বৃদ্ধির পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা কমানো হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানায়। নতুন এ মূল্যহার শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকায়। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকা। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে। সেদিন ভরিতে এক লাফে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। সব মিলিয়ে নতুন বছরে এখন পর্যন্ত তিন দফা দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে এক দফায় দাম বাড়ানো হলেও দুই দফায় কমানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়, আর ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের আকুর বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৩৫ দশমিক ১৯ মিলিয়ন বা ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। এতে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৪৩৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন বা ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৮৪৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন বা ২৭.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৩৭৮৫ দশমিক ০২ মিলিয়ন বা ৩৩.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ২৯১৮৮ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন বা ২৯.১৮ বিলিয়ন ডলার।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ৪২৯ কোটি ১১ লাখ টাকার বেশি। এদিন মোট ৩৯১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়। ডিএসই সূত্র জানায়, আজ বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮২টির শেয়ারের দর। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৯১৪ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০ দশমিক ৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বাজারে ১ লাখ ২৭ হাজার ৯২১ টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯১টি কোম্পানির মোট ১৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৪টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪২৯ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৩ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮৩টির শেয়ারের দর। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ছিল সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, ওরিয়ন ইনফিউশন, তৌফিকা ফুড, উত্তরা ব্যাংক, ফাইন ফুডস, যমুনা ব্যাংক, রবি এক্সিয়াটা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ও ডমিনোজ স্টিল। দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ফাইন ফুডস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওয়াটা কেমিক্যাল, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, জিকেডব্লিউ ইলেক্ট্রোড, মুন্নু ফেব্রিক্স, আইএসএমজিএল, এক্সিম ব্যাংক প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও আইবিএল প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড। অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে ছিল পিপলস লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস্ট ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, ফ্যামিলি টেক্সটাইল, বিআইএফসি ও জিএসপি ফাইন্যান্স।
দেশ দ্রুত ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। লেনদেন সংখ্যায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হচ্ছে। তবে প্রতারক চক্র আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ নয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক সেমিনারে এমন তথ্য তুলে ধরেন গবেষক ও অর্থনীতিবিদরা। এতে জানানো হয়, খুচরা পর্যায়ে ডিজিটাল লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস। ২০২৪ সালেই মোবাইল প্ল্যাটফর্মে ১৭ লাখ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে; যেখানে সক্রিয় ব্যবহারকারী ৮ কোটিরও বেশি। পাশাপাশি মোবাইল ওয়ালেট এখন মানুষে মানুষে টাকা পাঠানো, দোকানে পেমেন্ট, রেমিট্যান্স গ্রহণ এবং সরকারিভাবে ভাতা ও সহায়তা বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ছোট ব্যবসায়ীরাও ডিজিটাল বাণিজ্যের আওতায় আসছেন। তবে এত অগ্রগতি সত্ত্বেও চীন ও ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের তুলনায় ক্যাশলেস অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও ততটা শক্তিশালী নয় যার অন্যতম কারণ প্রতারক চক্র ও নিরাপত্তাহীনতা।
বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য চলছে ৫ বছর ধরে। জটিলতার শুরু কোভিড সংক্রমণ নিয়ে। এরপর ডলার বাজারের ধাক্কা আর রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে চিড়ে চ্যাপ্টা হয় দেশের অর্থনীতি। এর সুবাদে কমে গেছে মানুষের প্রকৃত আয়। ৩০ শতাংশ ছুঁইছুই দারিদ্র্যের হার। এসব সংকটের বোঝা আসে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়েও। আগের চেয়ে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল আর অর্থ পাচার কমলেও বিনিয়োগে গতি বাড়েনি। তবে, হতাশ হতে রাজি নয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সবশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৬০ শতাংশ। বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ মিলিয়ে প্রস্তাব এসেছে ১৬১টি। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে পোশাক, বিদ্যুৎ ও ব্যাংক। সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে রাসায়নিক খাতে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই ফ্লোতে সবচেয়ে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও চীন। যদিও বার্ষিক প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে, পুরোনো সমস্যায় আটকে আছে বিদেশি বিনিয়োগ। কাস্টমস, আদালত, লাইসেন্সিং ও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা তদারকিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও দুর্বল। সমন্বয়ের অভাব আছে সরকারি দফতরের কাজেও। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, পুরনো বিদেশী বিনিয়োগকারী যারা আছেন, তাদের আত্মবিশ্বাসের একটি চিত্র পাওয়া যায় নিসন্দেহে। কিন্তু নতুন করে বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে নাই। বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান আহমেদ রোচি বলেন, এই অর্থবছরে গত বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অস্থিতিশীল ছিল। স্থিতিশীলতা না থাকার পরেও যে পুরো বছরে আমরা ইতিবাচক পর্যায়ে আছি, সেটা আমাদের জন্য একটি ভালো দিক। গ্লোবালি যেখানে এফডিআইয়ের পরিমাণ বা ইকুইটি ইনভেস্টমেন্টের পরিমাণ কমছে সেটার একটি ইমপ্যাক্ট বাংলাদেশের ওপর আছে। বিডার যুক্তি, বিনিয়োগে মন্দার মূল কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। তাতে সায় দিচ্ছেন ব্যবসায়ী নেতারাও। বলছেন, মার্কিন শুল্কনীতি বাংলাদেশের রফতানি ও বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অবকাঠামো, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আর নীতির ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন আছে তাদের। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, নির্বাচিত সরকার না থাকলে বিদেশিরা ডিসকমফোর্ট ফিল করে। দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধান না করে বিদেশিদের ডাকলে তো এটার কোনো সমাধান হবে না। এদিকে, বিনিয়োগ টানতে শুরু থেকেই মরিয়া ছিলো অন্তর্বর্তী সরকার। সবশেষ বিনিয়োগ সামিটে অংশ নেয় দেশ-বিদেশের সাড়ে ৩ হাজার প্রতিনিধি। গঠন হয় সাড়ে ৭ কোটি ডলারের ফান্ড। সাথে ৭১ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি আর ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সেবার সমস্যার কথা বলছে বিডা। কিন্তু এসব উদ্যোগ কি যথেষ্ট? নাহিয়ান আহমেদ রোচি বলেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিসে আমি একটি ব্যর্থতা বলবো যে কার্যক্রমের সুফলটা কোনোভাবে পাইনি। কারণ ওয়ান স্টপ সার্ভিসের পরও বিডা তাদের নিজেদের অনলাইন সেবাটা চালু রেখেছে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, পাট ও আইটি খাতে বাড়তি গুরুত্ব দেয়ার পক্ষে বিডা।
দেশের বাজারে ফের বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভরিতে ২,৯১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৭,৮৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিক্রি শুরু হবে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী: ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ২৭,৮৫৬ টাকা ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১৭,৫৩৪ টাকা ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮৬,৪৪৯ টাকা সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫৫,৪২৩ টাকা বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার-নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং ন্যূনতম মজুরি ৬% যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদ অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতে পারে। স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম বেড়ে ৫,৯২৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫,৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪,৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ৩,৬৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারতীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করবে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর একটি অংশ বহন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং বাকি অর্থ আসবে ব্যাংকঋণ থেকে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে ভারত থেকে এই ডিজেল আমদানি করা হবে। এর আগে গত ২২ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ২০২৬ সালের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার এনআরএল থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দর-কষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত এই আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ১১ কোটি ৯১ লাখ ৩৩ হাজার ২১৬ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের প্রিমিয়াম ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫০ ডলার এবং ভিত্তিমূল্য ৮৩ দশমিক ২২ ডলার, যা আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তনশীল। বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, এনআরএলের সঙ্গে ডিজেল আমদানি ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় হচ্ছে, যা আগের সরকারের সময়ে করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই চুক্তির ধারাবাহিকতায় আমদানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারিতেও এনআরএল থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তখনও প্রিমিয়াম ছিল একই। এনআরএলের পরিশোধনাগার ভারতের আসাম রাজ্যে অবস্থিত। সেখান থেকে ডিজেল পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে আসে। পরিবহন ব্যয় কমাতে দুই দেশের মধ্যে নির্মিত ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বর্তমানে ডিজেল পরিবহন করা হচ্ছে। পাইপলাইনটির কাজ শেষ হয় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ঢাকায় এনআরএলের একটি লিয়াজোঁ অফিস কার্যক্রম শুরু করেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে এনআরএলের টার্নওভার ছিল ২৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরিবেশদূষণের অভিযোগ রয়েছে। ধনশিরি নদীতে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলার অভিযোগে চলতি বছরে ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
ঢাকার নবাবগঞ্জে হঠাৎ করেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দাম বাড়ার আগেই অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও দাম বৃদ্ধির পর তা বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অতিরিক্ত দাম দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ক্রেতারা। কোথাও কোথাও সিলিন্ডার মিললেও সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোক্তার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দাম দিতে চাইলেও প্রয়োজনীয় পরিমাণে সরবরাহ দিচ্ছেন না ডিলাররা। ফলে দোকানে অল্প কিছু গ্যাস এলেও তা খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাজার ঘুরে জানা যায়, সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়তে পারে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ডিলাররা দাম বাড়িয়ে দেন। গত কয়েকদিন ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় প্রতিটি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে। তবে দাম বাড়ার পরই বাজারে সিলিন্ডারের সংকট দেখা দেয়। বান্দুরার এক গৃহিণী বলেন, হঠাৎ গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার পর চেষ্টা করেও নতুন সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। দুই দিন ধরে শীতের মধ্যে মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। তার অভিযোগ, দাম বাড়ার আগেই সিন্ডিকেট দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এখন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা চলছে। তিনি এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। খুচরা বিক্রেতারাও সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা জানান, ডিলারদের অগ্রিম টাকা দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প যে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, তার দাম অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। এতে বাধ্য হয়ে খুচরা পর্যায়েও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। নবাবগঞ্জের গ্যাস ব্যবসায়ীরা জানান, আগলা বাজারভিত্তিক একটি বড় ডিলারের হাতেই মূলত এলাকার গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের দাবি, ওই ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে নবাবগঞ্জে গ্যাসের সিন্ডিকেট বন্ধ করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। এদিকে সংশ্লিষ্ট ডিলারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, চলতি জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। গত মাসে এই দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারে দাম বেড়েছে ৫৩ টাকা। গত মাসে দাম বেড়েছিল ৩৮ টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষণার পর নবম পে স্কেলের সুপারিশ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জমা দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। এতে নির্বাচনের আগেই নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কমিশন সূত্র জানায়, বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে। নবম পে স্কেল প্রণয়নের শুরু থেকেই গ্রেড সংখ্যা কমানোর দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। তবে দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর বিদ্যমান ১৬টি গ্রেড কাঠামো বহাল রেখে গ্রেডভেদে মূল বেতন প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করতে যাচ্ছে পে কমিশন। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই বেতন বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি সুফল পাবেন। এরই মধ্যে স্থগিত হওয়া পূর্ণ কমিশনের সভার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে কমিশনের সভাকক্ষে দুপুর ১২টায় পূর্ণ কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় গ্রেড সংখ্যা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কমিশনের প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়ার পর তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছুই এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। নতুন পে স্কেল অনুমোদিত হলে কয়েক দশকের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীরা সবচেয়ে বড় বেতন কাঠামোগত পরিবর্তনের সুফল পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের বাজারে আবার বেড়েছে সোনার দাম। এবার ভরিতে দাম বেড়েছে ২ হাজার ৯১৬ টাকা। নতুন দামে ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দাম আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় সোনার দামে এই সমন্বয় করা হয়েছে। সোনার নতুন দাম— ২২ ক্যারেট : প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা ২১ ক্যারেট : প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা ১৮ ক্যারেট : প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা সনাতন পদ্ধতি : প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে। এদিকে রুপার দাম বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি ৫ হাজার ৯২৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর ঘোষণা আসার পর পুঁজিবাজারে টানা দুই কার্যদিবসে বড় উত্থান দেখা যায়। তবে পরে ওই সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় পুঁজিবাজারে ফের দরপতন শুরু হয়। একই সঙ্গে কমে লেনদেনের গতিও। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় ছিল অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। এতে প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে মূল্যসূচক কমলেও সিএসইতে সূচক বেড়েছে। তবে উভয় বাজারেই লেনদেনের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করে। স্কিমভেদে মুনাফার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয় ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ মুনাফার হার এক শতাংশের বেশি কমানো হয়। এই সিদ্ধান্তের পর নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান দেখা যায়। একই সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় পর ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছায়। তবে ৪ জানুয়ারি বিকেলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল হলে বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর প্রভাবেই সোমবার পুঁজিবাজারে ফের দরপতন হয়। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিনের প্রথম ঘণ্টায় সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দরপতনের তালিকা বড় হতে থাকে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমার মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়। ডিএসইতে এদিন ১৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৮৯টির দাম কমেছে এবং ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে, ৮০টির কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৬টির দাম বেড়েছে, ৪৫টির কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০টির শেয়ার দাম বেড়েছে, ৬৪টির কমেছে এবং ২১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে, ৮টির কমেছে এবং ১৫টির অপরিবর্তিত রয়েছে। সব মিলিয়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৮৬ পয়েন্টে নেমে গেছে। ডিএসইর এক সদস্য বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে দুদিন ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে দীর্ঘদিন দরপতনের কারণে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম তলানিতে থাকায় এ প্রভাব সাময়িক হতে পারে। এদিকে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮৫ কোটি ৮১ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৫৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এ হিসাবে একদিনে লেনদেন কমেছে ৫১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল উত্তরা ব্যাংক (১৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা) এবং তৃতীয় স্থানে ছিল মালেক স্পিনিং (১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা)। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হান কটন, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও রহিমা ফুড।
৩৩ বছরের বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের উপ-কমিশনার পদে নন-ক্যাডার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। উপ-কমিশনার পদে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতির মাধ্যমে এই বৈষম্য নিরসনে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাকাএভ)। সোমবার (৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, আজ এক আদেশে সহকারী কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরীকে উপ-কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) থেকে এ দাম কার্যকর হবে। এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, ভরিতে ২ হাজার ৯১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। বাজুস আরও জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। চলতি বছর দেশের বাজারে তৃতীয় বারের মতো সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম দুই দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে এক দফা। এ ছাড়া গত বছর (২০২৫) দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।
ঢাকা, বাংলাদেশ — ইরানের সর্ববৃহৎ বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ার শীঘ্রই বাংলাদেশ থেকে দুবাই, মাস্কাট ও ইসলামাবাদে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের সংযোগ আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মাহান এয়ার তাদের যাত্রী ও কার্গো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান এ্যরো ভার্সেটাইলো কর্পোরেশন-কে আগামী পাচ বছরের জন্য জেনারেল সেলস এজেন্ট (GSA) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB) এ্যরো ভার্সেটাইলো কর্পোরেশনকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে দুবাই এবং মার্চ মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে মাস্কাট, পাশাপাশি ঢাকা থেকে ইসলামাবাদ ও করাচিতে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হবে। দুবাই ও মাস্কাটে অবস্থানরত বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী বিমান ভাড়া, ৫২ কেজি পর্যন্ত ব্যক্তিগত মালামাল বহনের সুবিধা, পাশাপাশি উন্নত ইন-ফ্লাইট ডাইনিং ও বিনোদন সেবা প্রদান করা হবে। প্রতিটি রুটে মাহান এয়ার কমপক্ষে ৩০০ আসন বিশিষ্ট ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ, যেমন বোয়িং ৭৭৭ বা এয়ারবাস এ৩৪০, পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, দুবাই ও মাস্কাট থেকে বাংলাদেশগামী ফ্লাইটের টিকিট বিক্রয় ও বিপণনের ক্ষেত্রে এক্সক্লসিভ সেলস পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে যথাক্রমে দুবাইয়ের এ্যরো ভার্সেটাইলো ট্রাভেলস এবং ওমানের উম্মাহ স্টার সলিউশন। মাহান এয়ারের বাংলাদেশের জি এস এ স্বত্ত্বাধিকারী খন্দকার সেলিনা আক্তার মনে করেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও পাকিস্তানের মধ্যে যাত্রী ও কার্গো পরিবহনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একই সাথে মাহান এয়ার জি এস এ -এ্যরো ভার্সেটাইলো কর্পোরেশন- এর প্রধান নির্বাহী উইং কমান্ডার আলিমুন নাহার দৃঢ়চিত্তে বলেন যে- মাহান এয়ার তার আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিয়ে অচিরেই হবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সেরা পছন্দের এয়ারলাইন্স।
ছয় মাসের ব্যবধানে আবারও জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়েছে সরকার। এর ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে মাসিক মুনাফা ১১০ টাকা কমে যাবে। আগে পরিবার সঞ্চয়পত্রে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে ৯৪৪ টাকা মুনাফা পাওয়া যেত। নতুন হারে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ টাকায়। এতে সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। আগামী ছয় মাসের জন্য সংশোধিত মুনাফার হার ঘোষণা করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। নতুন হার ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগেও গত জুলাই মাসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর এ হার পর্যালোচনা করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কম অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি মুনাফা দেওয়া হচ্ছে, আর বেশি বিনিয়োগে হার কম রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই অঙ্ক পর্যন্ত বিনিয়োগে বেশি মুনাফা মিলবে, এর বেশি হলে হার কমে যাবে। সরকারের আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোর উদ্দেশ্য মূলত ব্যাংক আমানত বাড়ানো এবং ব্যাংক ঋণের সুদ কমিয়ে আনা। এতে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর ফলে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কারণ দেশে তাদের জন্য নিরাপদ বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত। নতুন হারে পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফা ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে। একইভাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও মুনাফার হার কমানো হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে ইস্যু করা সঞ্চয়পত্রে ইস্যুকালীন নির্ধারিত মুনাফার হারই মেয়াদ পূর্তি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তখনকার নতুন হার প্রযোজ্য হবে। ছয় মাস পর আবারও মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হবে। উল্লেখ্য, দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির বড় একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল। সংসারের খরচ চালানো কিংবা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় নতুন বছরের শুরুতেই এসব পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
বছরের প্রথম শুক্রবারে কি স্বস্তিতে মাছ কেনা যাচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তর হবে, আপাতত না। কেননা, দুই সপ্তাহ ধরেই চড়া সব রকম মাছের দর। সে পারদ যেন আরও চড়েছে। চাষের রুই, কাতল কিংবা পাঙ্গাস কিনতে গেলেও নিস্তার নেই। ব্যবসায়ীদের যুক্তি, কুয়াশার কারনে আহরণ কমে গেছে। এদিকে, ছেড়ে কথা বলছে না দেশি মুরগি। তবে, মধ্যবিত্তের নাগালে আছে ব্রয়লার আর ডিম। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন তথ্য। নতুন বছরের প্রথম শুক্রবার বা ছুটির দিনে সর্বসাধারণের চাওয়া থাকে-আর কিছু না হোক বাজার যেন কিছুটা স্বস্তির খবর দেয়। তীব্র শীতের মাঝেও ছুটির দিনে সেই স্বস্তির খোঁজেই নগরবাসী। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হলো কি? মাছের বাজারে গিয়ে কিছুটা নিরাশই হতে হচ্ছে মাছপ্রিয় বাঙালির। ক'দিন আগে কমলেও, নতুন বছরে আবার চড়া দর। রুই-কাতলের কেজি কিনতে গুণতে হচ্ছে ৪৫০ টাকা। নদীর আইড় থেকে শুরু করে সবজাতেরই দাম শুনে পিলে চমকে উঠার জোগার। শীত বাড়ায় মাছ ধরা পড়ছে কম তাই জোগানের অভাবে দাম বাড়তি বলছেন বিক্রেতাদের। দেশি মুরগিও জাত চেনাতে ভুলছে না। কেজি চাওয়া হচ্ছে ৫৮০ টাকা। সোনালি জাত কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৩০০ টাকার মতো। যদিও ব্রয়লার মিলছে ১৭০ টাকাতেই। তবে, দেশি জাতের হাস দিয়ে শীতোৎসব করতে চাইলে পকেট থেকে বেরিয়ে যাবে ৭০০ টাকার মতো। তবে ডিমের বাজারে বেশ স্বস্তি মিলছে। লাল ডিমের ডজন বিকোচ্ছে ১০৫-১১০ টাকায়। দেশি মুরগি-হাঁসের ডিমের ডজন ২শ' টাকা। মধ্যবিত্ত আর সীমিত আয়ের মানুষের বরাবরই প্রত্যাশা থাকে, দাম কিছুটা তাদের নাগালে থাকবে। সামনে রমজান তাই এখন থেকে বাজার তদারকি জোরদারের তাগিদ সকলের। তবে সবজির বাজে দেখা গেছে ভিন্নতা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, মুলা, টমেটো, পালংশাক, লালশাকসহ প্রায় সব ধরনের শীতকালীন সবজি সহজলভ্য। বেশির ভাগ সবজির কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে। কিছু শাকসবজি তো আরও কম দামে মিলছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকরা আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে আমানতের অর্থ ফেরত পাবেন। প্রথম পর্যায়ে মিলবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা। এরই মধ্যে এই পাঁচ ব্যাংকে দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় অর্থ। এই উদ্দেশে গত সোমবার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের রেজুলেশন স্কিম অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে চূড়ান্ত হলো পাঁচ ব্যাংকের দায় সম্পদ নতুন ব্যাংকে স্থানান্তর ও গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়টি। এখন একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের সব হিসাব সংক্রিয়ভাবে স্থানান্তর হবে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এর মাধ্যমেই দুর্বল পাঁচ ব্যাংক নবগঠিত ব্যাংকে বিলীন হবে। যখন কোনো ব্যাংকের কিছুই থাকবে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই এটা অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পুরাতন ব্যাংকগুলো নতুন ব্যাংকে একীভূত হওয়া। রেজুলেশন স্কিম অনুমোদনের ফলে বৃহস্পতিবার থেকে আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারবে বলে আশা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। প্রথম ধাপে চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের আমানতকারীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। বিদ্যমান চেক বই দিয়েই লেনদেন করা যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, গ্রাহকদের দুই লাখ টাকা দেয়ার পর অবশিষ্ট টাকা অ্যাকাউন্টে থাকবে এবং প্রচলিত হারে মুনাফা দেয়া হবে। ব্যাংক সচ্ছল হতে থাকবে, একপর্যায়ে বাকি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেয়া হবে। তবে মেয়াদি ও স্থায়ী আমানত কবে নাগাদ ফেরত দেয়া হবে- সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই পাঁচ ব্যাংকে গ্রাহকদের মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। যার বড় অংশই ব্যক্তি আমানতকারীদের।
অন্তর্বর্তী সরকার মোবাইল ফোন আমদানি এবং বাংলাদেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীদের জন্য যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় শুল্ক ছাড়ের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক, অগ্রিম কর ও ভ্যাটের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩.৪৩ শতাংশে, যা আগে ছিল ৬১.৮০ শতাংশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন সংযোজনের জন্য যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্কেও ছাড় দেওয়া হয়েছে।
দেশের বাজারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। স্বর্ণের দাম কমলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভরিতে ৯৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয় ৬ হাজার ৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৩৩ টাকা।
মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মাঝে বাংলাদেশের সামনে কঠিন বছর। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং জুলাই গণভোট দেশকে নতুন মোড়ে নিতে পারে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে প্রবেশ করছে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি যেমন উত্তাল, তেমনি অর্থনীতিতেও চাপে রয়েছে সাধারণ মানুষ। বিশ্লেষকদের মতে, এই বছরটি হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ‘মেক অর ব্রেক’ বছর। মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি: মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৩৮টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ১০৭টি হেফাজতে মৃত্যু ঘটেছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২১ ও ৬৫। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে, ২৬ জন নিহত ‘বন্দুকযুদ্ধ’, শারীরিক নির্যাতন ও যৌথ বাহিনীর হেফাজতে ১২ জন নিহত বিভিন্ন থানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী ১০৭ জনের মধ্যে ৬৯ জন বিচারাধীন এবং ৩৮ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বনাম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ: অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। রাজনীতির অস্থিরতার কারণে, প্রবৃদ্ধি ধীর দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি উচ্চ ব্যাংকিং খাত সংস্কার এগুলো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঐতিহাসিক নির্বাচন: সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড এই দুই নেত্রী ছাড়াই নির্বাচন হচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বড় পরীক্ষা। ‘মবোক্রেসি’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার রাজনীতি রাজনৈতিক দলগুলোর পুনর্বিন্যাস তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন সব মিলিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জটিল। অর্থনীতি: স্থিতিশীলতার আভাস: অর্থনীতিতে কিছু স্থিতিশীলতার লক্ষণ থাকলেও, প্রবৃদ্ধি মন্থর বৈদেশিক ঋণের চাপ বেশি জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। জুলাই গণভোট: ভবিষ্যতের রূপরেখা: জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।