অর্থনীতি

ছবি : সংগৃহীত
তিন লাখের দ্বারপ্রান্তে স্বর্ণের ভরি

গত তিন দিনে স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে ২৮ হাজার ৮১০ টাকা। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনেই বেড়েছে রেকর্ড ১৬ হাজার টাকা। এতে ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারেও স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের দাবি। তবে বিশ্ববাজারের দামে স্বর্ণ কিনতে হয়এই যুক্তিতে দেশে স্বর্ণের দাম বরাবরই তুলনামূলক বেশি থাকে, যা বর্তমানে আরও বেড়েছে। এক ভরি স্বর্ণের অলংকার কিনতে মূল দামের সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ১১ শতাংশ অর্থ দিতে হয়। এতে মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন জুয়েলারি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই অলংকারের বেচাবিক্রি কম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় বড় দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা বেড়েছে। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যেও অনেকে স্বর্ণের অলংকার কিনছেন। দামের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক দোকানদার নতুন করে অলংকার তৈরির অর্ডার নিচ্ছেন না আগে থেকে তৈরি থাকা অলংকারই বিক্রি করছেন। কয়েকজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, স্বর্ণের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। দাম আরও বাড়লে অনেক দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণের দাম বাড়ায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের রেকর্ড মূল্য, গড়ল নতুন ইতিহাস

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রুপার দামও রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্স–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পট মার্কেটে বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১১ দশমিক ৭৯ ডলারে। দিনের এক পর্যায়ে দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯১ দশমিক ৬১ ডলার ছুঁয়ে, যা সর্বকালের রেকর্ড। আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম প্রায় ৫ হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে রুপার দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে প্রতি আউন্সে প্রায় ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ওসিবিসি ব্যাংকের বিশ্লেষকরা রয়টার্সকে বলেন, সরকারি ঋণের চাপ বৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়নে বাধ্য করছে। এখন সোনা শুধু সংকট বা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নয়; বরং এটি একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের সোমবার প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার অতিক্রম করে। পুরো সপ্তাহে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি। এর পেছনে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জোরালো ক্রয় এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতা বড় ভূমিকা রেখেছে। আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, দামের এই দ্রুত ঊর্ধ্বগতি স্বল্পমেয়াদে কিছুটা সংশোধনের ইঙ্গিত দিলেও ২০২৬ সালজুড়ে স্বর্ণের মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী থাকবে। ফলে যেকোনো দরপতন বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানান, ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। এর আগে ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম প্রায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছিল। অন্যদিকে স্পট মার্কেটে রুপার দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৮ দশমিক ০৬ ডলারে। দিনের শুরুতে রুপার দাম ১১৯ দশমিক ৩৪ ডলার ছুঁয়ে রেকর্ড গড়ে। চলতি বছরে রুপার দাম ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া স্পট প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ২ হাজার ৭১০ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও সোমবার এটি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯১৮ দশমিক ৮০ ডলার ছুঁয়েছিল। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৮ দশমিক ১৪ ডলারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় ব্যাংকগুলো

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ হ্রাস ও নগদ আদায় বাড়াতে ঋণ খেলাপিদের জনসম্মুখে লজ্জিত করার পাশাপাশি কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব জমা দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।   গত বছরের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠকের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সংগঠনটি এই বিস্তারিত প্রস্তাবনা জমা দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দেওয়া প্রস্তাবে ঋণখেলাপিদের নাম ও ছবি প্রকাশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঋণখেলাপিরা যেন আদালতের নির্দেশনা ছাড়া বিদেশ যেতে না পারেন এবং তারা যাতে কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন- এমন প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। খেলাপি ঋণ কমাতে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছে। এসব প্রস্তাবের লক্ষ্য খেলাপি ঋণ হ্রাস, নগদ অর্থ আদায় বৃদ্ধি, বন্ধকী সম্পদ বিক্রি সহজ করা এবং মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করা। খেলাপি ঋণ কমাতে তিন প্রস্তাব ১. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খেলাপি ঋণ আংশিক অবলোপনের সুবিধা প্রদান। ২. লিয়েন করা শেয়ার নগদায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা। ৩. মৃত্যু, মরণব্যাধি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ঋণ, গৃহঋণ, ক্রেডিট কার্ড এবং একক মালিকানাধীন কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সুদ মওকুফের মাধ্যমে দ্রুত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে হেড অব আইসিসির মতামত নেওয়ার শর্ত শিথিল করা। নগদ অর্থ আদায়ে প্রস্তাব ১. ব্যাংক বা আদালতের নির্দেশনা ছাড়া খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা। ২. খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবিসহ তালিকা প্রকাশে ব্যাংকগুলোকে অনুমোদন। ৩. খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের যে কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা। বন্ধকী সম্পদ বিক্রি সহজ করতে প্রস্তাব ১. ব্যাংকের নিলামে বিক্রয় বা কেনা সম্পত্তি হস্তান্তরে সব ধরনের আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার। ২. নিলামে সম্পদ কেনায় উৎসাহ দিতে ক্রেতাদের আয়কর রেয়াত বা অন্যান্য প্রণোদনা। ৩. স্থানভেদে নিলামে বিক্রিত সম্পদ কেনায় জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা বাতিল। ৪. নিলামে বিক্রিত সম্পদ হস্তান্তরে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত। ৫. বন্ধকদাতার অনুপস্থিতিতে নিলামের সুবিধার্থে ব্যাংক কর্তৃক জমির খাজনা ও জরিপ সম্পন্নের সুযোগ। ৬. অর্থঋণ আদালত আইনের ৩৩(৭) ধারায় আদালত কর্তৃক ব্যাংকের নামে হস্তান্তরিত জমির নামজারি ও বায়নানামা বিনা খরচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন। মামলার রায় কার্যকরে প্রস্তাব ১. খেলাপি ঋণগ্রহীতা ও জামানতদাতাদের আমানত, সঞ্চয়পত্র, সম্পদ, আয়কর রিটার্ন, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম-মৃত্যু সনদ ও পাসপোর্টসংক্রান্ত তথ্য আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তির ব্যবস্থা। ২. ব্যাংক বা আদালতের যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে গেলে নির্দিষ্ট অঙ্কের ডাউন পেমেন্ট জমার শর্ত। ৩. সিআইবি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের স্টে-অর্ডার পাওয়ার সুযোগ আইনগতভাবে বাতিল। ৪. উচ্চ আদালতের স্টে-অর্ডারে কিস্তিভিত্তিক উল্লেখযোগ্য অঙ্ক পরিশোধের শর্ত এবং শর্ত ভঙ্গ হলে স্টে-অর্ডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল। ৫. স্টে-অর্ডার প্রদানের আগে উভয় পক্ষের শুনানি নিশ্চিত করা। ৬. খেলাপি ঋণগ্রহীতা বেশি এমন জেলাগুলোতে পৃথক অর্থঋণ আদালত স্থাপন। ৭. থানায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের আটকাদেশ জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন। ৮. আদালত থেকে থানায় সাত দিনের মধ্যে আটকাদেশ প্রেরণ নিশ্চিত করা। ৯. অর্থঋণ মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা ছাড়া মামলা পরিচালনার সুযোগ বাতিল। ১০. অর্থঋণ মামলায় দেওয়ানি আটকাদেশের মেয়াদ ছয় মাসের পরিবর্তে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছর করা। ১১. স্বল্পতম সময়ে অর্থঋণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধন প্রণয়ন। খেলাপি ঋণ না বাড়াতে প্রস্তাব ১. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ভূমি জরিপকারী ও মূল্যায়নকারীর তালিকা দ্রুত প্রকাশ। ২. নিবন্ধক বা তহবিল অফিসে বন্ধকী সম্পদের তালিকা সহজে যাচাইয়ের ব্যবস্থা। ৩. সিআইবি ডেটাবেজের মতো ব্যক্তিগত সম্পদের ডেটাবেজ তৈরি ও সহজ যাচাইকরণ সুবিধা। বর্তমানে দেশে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের বড় অংশই খেলাপি। প্রতি মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ সময়ে মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। ব্যাংকারদের মতে, খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে এসব প্রস্তাব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায় ফাঁকফোকর গলে খেলাপিরা আবারও সুযোগ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
প্রদর্শনের জন্য রাখা জুয়েলারি। ছবি : সংগৃহীত
আবারও স্বর্ণের দামে রেকর্ড

রেকর্ড দামে পৌঁছেছে স্বর্ণ। বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার ৩০০ ডলার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ওপর আস্থাহীনতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায় দামের রেকর্ড হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার গ্রিনিচ সময় ১২টা ২৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের প্রতি আউন্সের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২৬৬ দশমিক ২২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে লেনদেন চলাকালে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩১১ দশমিক ৩১ ডলার স্পর্শ করে, যা সর্বকালের রেকর্ড। আগের সেশনেই স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২৬০ দশমিক ৪০ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছেছে। এক্সএস ডটকমের সিনিয়র মার্কেট বিশ্লেষক লিন ট্রান বলেন, স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু বাজারের উদ্বেগের কারণে নয়, বরং বৈশ্বিক মুদ্রা ও রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর আস্থার পরিবর্তনের প্রতিফলন। বুধবার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি ছিল মার্কিন ডলার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডলারের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দেওয়ায় ডলারভিত্তিক স্বর্ণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করবেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সুদের হার কমবে। উইজডমট্রির পণ্য কৌশলবিদ নিতেশ শাহ বলেন, সম্ভাব্য যে কোনো প্রার্থীই জেরোম পাওয়েলের তুলনায় ট্রাম্পের চাপে কম প্রতিরোধী হবেন। এটি স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক। চলতি বছরের শুরু থেকেই স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা গত বছরের রেকর্ড বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগ চাহিদা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছাতে পারে। এদিকে স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১১২ দশমিক ৫৯ ডলার প্রতি আউন্সে দাঁড়ালেও চলতি বছরে ধাতুটির দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। সোমবার রুপার দাম সর্বোচ্চ ১১৭ দশমিক ৬৯ ডলার ছুঁয়েছিল। এছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৬৫১ দশমিক ৯০ ডলার প্রতি আউন্সে দাঁড়িয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৭০ দশমিক ৭৫ ডলার হয়েছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আপাতত তিনটি প্রতিষ্ঠান—জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)—অবসায়ন করা হচ্ছে না। আর্থিক সূচকে উন্নতি দেখাতে এসব প্রতিষ্ঠানকে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পথে এগোচ্ছে। অবসায়নের সিদ্ধান্তে থাকা ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো—ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অবসায়ন প্রক্রিয়ার আগে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি নেওয়া হয়, যা রোববার শেষ হয়। শুনানিতে উপস্থাপিত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, যা বোর্ড অনুমোদন করেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের পথে থাকা ৯টি রুগ্ন এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে, রমজানের আগেই, তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা কেবল তাদের মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
একক ভ্যাট হারের সুপারিশ জাতীয় টাস্কফোর্সের

জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত টাস্কফোর্স সম্প্রতি তার প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে হস্তান্তর করেছে। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (PRI)-এর চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার নেতৃত্বে গঠিত এই টাস্কফোর্স কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদি করনীতির সুপারিশ দিতে কাজ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা বর্তমানে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল, অদক্ষ এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। সামান্য সংস্কার বা খণ্ডিত পরিবর্তনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কর ব্যবস্থার মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।   টাস্কফোর্স মোট ৫৫টি নীতিগত বিষয় চিহ্নিত করেছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। বিশেষভাবে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় বহু হারের পরিবর্তে একক হার প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, সহজ কর কাঠামো, প্রণোদনা পুনর্গঠন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট এবং দেশে করের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীলতার দিকটি উভয়ভাবে শক্তিশালী করার সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া কাঠামোগত পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অনুপাত বর্তমান ৩০:৭০ থেকে ৫০:৫০ করার এবং শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেজের প্রয়োজন না রেখে বন্দরের পরিবর্তে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট প্রবর্তনের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী কর-জিডিপি অনুপাত ২০৩০ সালের মধ্যে ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আদায়ের খাত ও পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হবে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থায় একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব আব্দুর রহমান খান। ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, গত এক দশকে আমাদের রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল হয়ে গেছে। এসব পদ্ধতির সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আদায়ের পরিসর বাড়ানো কঠিন। দ্রুত সংস্কার করা গেলে অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রতিবেদন একটি গাইডলাইন হিসাবে কাজ করবে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্বর্ণের দাম সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায়

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আগের সেশনে স্বর্ণ প্রথমবারের মতো ৫,১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫,৬০.৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে সোমবার লেনদেনে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫,১১০.৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫,৫৬.৯০ ডলারে এসেছে।   বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। একই কারণে রুপার দামও প্রায় সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। বাংলাদেশে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) স্বর্ণের ভরির দাম ২,৬২,৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের ভরিতে ৫,২৪৯ টাকা বৃদ্ধি করেছিল। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ২,৬২,৪৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২,৫০,৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২,১৪,৭৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১,৭৬,৫৯৩ টাকায় বিক্রি হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিতর্কিত কোম্পানি থেকে এলএনজি: সরকার চুক্তির পথে

অন্তর্বর্তী সরকার বিতর্কিত বহুজাতিক কোম্পানি সকার ট্রেডিং এসএ থেকে এলএনজি আনার জন্য জিটুজি (সরকার-সরকার) চুক্তি করতে যাচ্ছে। যদিও বিগত সরকারের আমলে দরপত্র ছাড়া এ ধরনের চুক্তি সমালোচিত হয়েছিল, এবারও ঠিক একইভাবে দরপত্র ছাড়া কোম্পানিটি বেছে নেওয়া হয়েছে। ফলে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য ঝুঁকি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উন্নয়ন-২ শাখা থেকে উপসচিব আহমেদ জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ১৯ জানুয়ারি পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সকার ট্রেডিং এসএ থেকে স্বল্পমেয়াদে এলএনজি আমদানির প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষত কোম্পানিটির অতীত কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক মহলে উত্থাপিত অভিযোগ এবং বাংলাদেশে বাপেক্সের সঙ্গে চলমান বিরোধের কারণে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সকার ট্রেডিং একটি বাণিজ্যিক কোম্পানি, যা জিটুজি চুক্তির জন্য উপযুক্ত নয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় সুইজারল্যান্ডে হলেও এটি মূলত আজারবাইজানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি সকারের মালিকানাধীন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, আজারবাইজানের মালিকানাধীন কোম্পানিকে কেন সুইজারল্যান্ডের মাধ্যমে নির্বাচন করা হচ্ছে। সকার ট্রেডিং-এর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও বাপেক্সের সঙ্গে গ্যাস কূপ খনন-সংক্রান্ত একটি মামলা আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারাধীন। ২০১৭ সালে বাপেক্সের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তিনটি কূপ খনন করার কথা থাকলেও কেবল একটি কূপ কার্যকরভাবে খনন হয়েছে। বাকি দুটি কূপ নিয়ে চুক্তির বাইরে অগ্রিম অর্থ দাবি করে কোম্পানিটি, পরে চুক্তি বাতিল ঘোষণা করেছে। এছাড়া ২০২০ সালে তারা সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে বাপেক্সের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৮৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। মাল্টায় একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। পাবলিক আই নামের সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি এনজিও জানিয়েছে, ২০১৭ সালে দুবাইভিত্তিক ‘১৭ ব্ল্যাক’ কোম্পানিকে কয়েক মিলিয়ন ডলার ‘সন্দেহজনক’ভাবে প্রদান করা হয়েছিল, যেখানে সকারের ৩৩ শতাংশ অংশীদারিত্ব ছিল। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের একটি আদালতে বাপেক্স ও সকার একিউএস ট্রেডিংয়ের মামলা চলমান। এ চুক্তির আওতায় আরও দুটি কূপ খননের কথা থাকলেও তা বাস্তবে হয়নি। বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ এলএনজি আমদানি করা হয়। ওমান ও কাতারের পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও গ্যাস কেনা হয়। তবে আগের সরকারের আমলে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা নিয়ে কমিশন ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল, যা এখনো তদন্তাধীন।   এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—এত বিতর্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও কেন সকার ট্রেডিংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তির পথে হাঁটছে সরকার। স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এটি খাত সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিতে বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথমবার স্বর্ণের আউন্স ৫ হাজার ডলার ছাড়াল

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ৫ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। গত বছরই স্বর্ণের দাম ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। চলতি বছরেও সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নেটো ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকি বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।এ অবস্থায় শুধু স্বর্ণ নয়, রূপার দামও প্রথমবার আউন্সপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। গত বছর রূপার দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাপক স্বর্ণ কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমার সম্ভাবনা স্বর্ণ ও রূপার দাম বাড়ছে।ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতিসহ নানা ভূরাজনৈতিক সংকটও মূল্যবান ধাতুর বাজারে প্রভাব ফেলছে।বিশ্ব স্বর্ণ পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উত্তোলিত স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার টন। ভবিষ্যতে নতুন স্বর্ণের সরবরাহ খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই, যা দাম বাড়ার আরেকটি কারণ।বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং সরকারি বন্ডে কম মুনাফার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই স্বর্ণ ও রূপার দিকে ঝুঁকছেন।একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ডলার নির্ভরতা কমিয়ে স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। গত বছর তারা শত শত টন স্বর্ণ কিনেছে।বিনিয়োগ ছাড়াও উৎসব ও সামাজিক কারণে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে। ভারত ও চীনে উৎসব মৌসুমে স্বর্ণের কেনাকাটা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম আরও নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
মুদি দোকান। ছবি : সংগৃহীত
রমজানের পণ্য নিয়ে সুখবর দিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা

আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার নিত্যপণ্যের আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে রমজানে দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থাকবে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “ব্যবসায়ীরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আসন্ন রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। দাম বাড়বে না, বরং কিছু কিছু পণ্যের দাম আরও কমতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দর, পদ্মা সেতুর মতো কিছু অযাচিত প্রকল্পের কারণে সরকারের বড় অঙ্কের দায় তৈরি হয়েছে। টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে এবং আইএমএফের কাছ থেকে বড় ঋণ নিতে হয়েছে। এসব বিষয়ের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে পড়ছে।” এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, “ডলারের হিসাবে প্রকল্প ব্যয় খুব বেশি বাড়েনি। তবে টাকার অঙ্কে হিসাব করলে ব্যয় বৃদ্ধি অনেক বেশি মনে হচ্ছে।” সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলেও করোনা মহামারি ও পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পুরো অর্থই আসবে প্রকল্প ঋণ থেকে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া মোট ২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩২ হাজার ৯৮ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
সরকারি ব্যয় ও ঋণ নিয়ন্ত্রণে নতুন ‘বাজেট পরিকল্পনা’র উদ্যোগ

সরকারের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের চাপ কমানো এবং বাজেট বাস্তবায়নে গতি আনতে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (বিআইপি) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ বিভাগ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাজেট বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমন্বয়, পরিকল্পনা ও মনিটরিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উদ্যোগটি সফল হলে জুন মাসে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারি অর্থ ব্যবহারে দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। স্ট্রেংথেনিং পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনেবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের একটি হোটেলে ১৮টি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় আলোচকরা জানান, সরকারকে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধ করতে হয়। অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আহরণ কম থাকায় সরকারকে প্রায়ই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়।  এতে আর্থিক চাপ আরও বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে অর্থবছরের শুরু থেকেই বাজেট বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সময়মতো, কার্যকর ও ফলভিত্তিক বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে। অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতি) মো. হাসানুল মতিন কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌস রওশন আরা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) ও এসপিএফএমএস-এর জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন। স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হাসানুল মতিন বলেন, জুন মাসে সরকারের অস্বাভাবিক ব্যয় কমানোর সঙ্গে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।  তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও গুণগত খাতে বরাদ্দ করা বাজেট যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। অর্থবছরের শেষে অতিরিক্ত ব্যয় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ায় বলেও জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউল আবেদীন বলেন, কার্যকর বাজেট বাস্তবায়নের জন্য পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।  তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকই বিআইপি প্রণয়নে চলে যায়। এতে পরিকল্পনার কার্যকারিতা কমে যায়। বাজেট অনুমোদনের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগেভাগেই বিআইপি প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। ফেরদৌস রওশন আরা বলেন, জাতীয় বাজেটের আকার বাড়লেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা একই হারে বাড়েনি।  তিনি বিআইপি’কে বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা জোরদারের একটি কৌশলগত কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেন। মোস্তফা কামাল বলেন, টেকসই ও মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং সরকারি ব্যয়ে যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অপরিহার্য। কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে ‘কার্যকর বাজেট বাস্তবায়নে বিআইপির গুরুত্ব’ বিষয়ে আলোচনা হয়।  অধিবেশনটি মডারেট করেন মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান। উপস্থাপনা দেন অর্থ বিভাগের উপ-সচিব মো. জাকির হোসেন। আলোচনায় বলা হয়, বিআইপি বার্ষিক বাজেট বরাদ্দকে সময়ভিত্তিক ও কার্যক্রমভিত্তিক বাস্তবায়ন রোডম্যাপে রূপ দেয়। ক্রয় পরিকল্পনা, নগদ প্রবাহ ও ত্রৈমাসিক ব্যয় লক্ষ্যের সঙ্গে বাজেট সংযুক্ত থাকায় বছরের শুরুতে বিলম্ব এবং শেষ মুহূর্তের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে। আরেকটি গ্রুপ সেশনে ‘বিআইপি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সেশনে মডারেটর ছিলেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. নজরুল ইসলাম। সেশনে চারটি দলে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণকারীরা সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং সমাধান প্রস্তাব দেন। আলোচনায় বিআইপি জারি বিলম্ব, বিভিন্ন সিস্টেমের সমন্বয়হীনতা, সক্ষমতার ঘাটতি, প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং আইবাস++, ই-জিপি ও বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার সঙ্গে দুর্বল সংযোগের বিষয়গুলো উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা সময়মতো বিআইপি জারি, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন জোরদার, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং অর্থ বিভাগের নেতৃত্বে সমন্বয় বাড়ানোর সুপারিশ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কাঁচামরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা

রাজধানীর খুচরা বাজারে হঠাৎ করেই সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম চড়া হচ্ছে। কাঁচামরিচের কেজি ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৪০ টাকার এই মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও শীতকালীন মৌসুমে সবজির দাম ক্রমশ বাড়ছে। কেজিপ্রতি অনেক সবজির দাম ১০-১৫ টাকা বেড়েছে, এবং একাধিক সবজি এখন ৮০ টাকার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।   বাজারের ক্রেতারা বলছেন, সংকট না থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়ছে। সব ধরনের মুরগির দামও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। শুক্রবার কাওরান বাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ১০ টাকা কম ছিল। প্রতি কেজি শালগম ৬০ টাকায়, গোল বেগুন ৮০ টাকায় (গত সপ্তাহে ৭০ টাকা), পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ১৫-২০ টাকায়, মুলা ৪০ টাকা (আগে ৫০ টাকা), শসা ৮০-৮৫ টাকা, গাজর ৬০-৭০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, শিম ৪০-৮০ টাকা, আলু ৩০ টাকা। পাশাপাশি ফুলকপি ৪০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০-৬০ টাকা এবং ছোট ব্রকলি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাওরান বাজারে সবজি কিনতে আসা মো. সালাউদ্দিন বলেন, “শীতের মাঝেও সবজির দাম বাড়ছে, কিন্তু বাজারে কোনো সংকট নেই। প্রতিটি দোকানে সবজি ভরপুর, দাম বৃদ্ধি বিক্রেতাদের ইচ্ছানুযায়ী।” বিক্রেতা হাবিবুল্লাহ জানান, সাপ্লাই পর্যাপ্ত, কিন্তু পাইকারি পর্যায়ে দাম বেশি। তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। ছুটির দিনে ক্রেতা বেশি আসায় চাপ বেড়ে যাওয়ায় দাম সামান্য বাড়ে। মুরগির বাজারেও একই চিত্র। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়, এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। সোনালি ও অন্যান্য জাতের মুরগির দামও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ২৭০-২৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০-৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১১০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নয়াবাজারের মুরগি বিক্রেতা মুনতাসির আহমেদ বলেন, বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত হলেও শীতকালীন উৎপাদন ব্যয়ের কারণে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারেও আমরা তাই বেশি দাম দিয়ে এনে বিক্রি করছি।   মাছের বাজারে সরবরাহ ভালো থাকলেও দাম কমেনি। সরপুঁটি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৫০ টাকা, শিং ৪০০-৫০০ টাকা, কোরাল মাছ ৭০০-৯০০ টাকা, আইড় ৬০০-৭৫০ টাকা, টেংরা ৬০০-৭০০ টাকা, রুই ও কাতলা ৩৫০-৪৫০ টাকা। চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প ২০০-২৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা, চিংড়ি ৭৫০-১২০০ টাকা। ইলিশের কেজি দাম এক কেজির জন্য ২২০০-২৫০০ টাকা, দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২৬০০-৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে রুপার দামে নতুন ইতিহাস, ছুঁলো ১০০ ডলারের মাইলফলক

বিশ্ববাজারে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো রুপার দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, শুল্কনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমতে পারে-এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। এর প্রভাব পড়েছে রুপা ও স্বর্ণ-দুই বাজারেই। ফলে স্বর্ণের দামও প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের আরেকটি রেকর্ডের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে।   বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১০০ দশমিক ১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম রুপার দাম ১০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করলো। মেটালস ফোকাসের পরিচালক ফিলিপ নিউম্যান বলেন, স্বর্ণের বিনিয়োগ চাহিদাকে যে শক্তিগুলো সমর্থন করছে, তার বড় একটি অংশ থেকেই রুপাও উপকৃত হচ্ছে। চলমান শুল্কসংক্রান্ত উদ্বেগ এবং লন্ডন বাজারে ভৌত রুপার সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকাও দামে বাড়তি সহায়তা দিচ্ছে। এদিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এই ধাতুটির দাম রেকর্ড ৪ হাজার ৯৬৭ দশমিক ০৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। আর ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচারও শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৬১ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অনিশ্চিত সময়ে স্বর্ণ নিরাপদ আশ্রয় ও বৈচিত্র্য আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। কৌশলগত বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর জন্য এটি এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এটি কেবল সাময়িক কোনো পরিস্থিতি নয়, বরং সময়ের মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে টানাপোড়েন, ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং শুল্ক ঘিরে অনিশ্চয়তা নিরাপদ আশ্রয়স্থল সম্পদের চাহিদা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাও স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।   মার্কিন নীতিগত দিক থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ফেডারেল রিজার্ভ ২৭-২৮ জানুয়ারির বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে বাজার এখনো আশা করছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই দফা সুদের হার কমানো হতে পারে। সুদ না দেয়া সম্পদ হওয়ায় কম সুদের পরিবেশে স্বর্ণ সাধারণত বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে স্পট প্লাটিনামের দাম ৪ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৭৪০ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এইচএসবিসি এক নোটে জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের কাছে প্লাটিনাম এখন ‘স্বর্ণের তুলনায় সস্তা বিকল্প’ হিসেবে আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। ব্যাংকটি ধারণা করছে, ২০২৬ সালে প্লাটিনামের উৎপাদন ও ব্যবহারের ঘাটতি ১ দশমিক ২ মাসেরও বেশি হতে পারে। এদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ১২ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শীত শেষের আগেই রাজধানীর বাজারে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী

শীত মৌসুম পুরোপুরি শেষ না হতেই রাজধানীর বাজারে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত দুই থেকে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, শালগম ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শসা ৮০ টাকা এবং গাজর ৬০ টাকায়। পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। এছাড়া কাঁচামরিচের দাম কেজিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ টাকা, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায় এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকায়।একই সঙ্গে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিমের দামও বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, মাত্র কয়েকদিন আগেও তুলনামূলক কম দামে এসব সবজি কেনা গেলেও এখন প্রতিটি পণ্যে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে।মালিবাগ এলাকার ক্রেতা সাবিনা বলেন, ‘কয়েকদিন আগেই ফুলকপি ২০-৩০ টাকায় কিনেছি। আজ সেটি ৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। দরদাম করে ৪০ টাকায় কিনতে হয়েছে।’বিক্রেতারা বলছেন, শীত মৌসুমে সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ বেশি থাকায় দাম তুলনামূলক কম থাকে। তবে শীত শেষের দিকে আসায় পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমতে শুরু করেছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।যদিও তিতাস গ্যাসের মতো কোনো বড় মৌসুমী সরবরাহ সংকট নেই, তবুও শীতের শেষ প্রান্তে এসে সবজির বাজারে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এতে বাড়তি চাপ পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের নিত্যখরচে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১২ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার রেকর্ড, ভরি আড়াই লাখ টাকা ছাড়াল স্বর্ণ

কিছুটা দাম কমানোর মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে আবার স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা।   স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ২২ জানুয়ারি ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৮ হাজার ৩৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তার আগে যথাক্রমে ২১ জানুয়ারি ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ২০ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা, ১৫ জানুয়ারি ২ হাজার ৬২৫ টাকা, ১৩ জানুয়ারি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং ১১ জানুয়ারি ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ ছয় দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম মোট ২৫ হাজার ৬৬১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে এক ভরি স্বর্ণের দাম রেকর্ড ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায় পৌঁছেছিল। এই রেকর্ড দাম নির্ধারণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার দাম বৃদ্ধির কারণে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এবার দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন

টানা ৬ দফা বাড়ানোর পর অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। এর আগে সবশেষ চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি, যা ছিল দেশের ইতিহাসে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল ২২ জানুয়ারি থেকে। স্বর্ণের দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দাম। ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
জাপানে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের উদ্যোগ

জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে (বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই চুক্তির অন্যান্য উদ্দেশ্য হলো— বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ়করণ ও দীর্ঘমেয়াদি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ। চুক্তির আওতায় পণ্য, সেবা বাণিজ্য, শুল্ক, বিনিয়োগ, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং মেধাস্বত্বসহ (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই প্রথম বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষর করবে। বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গঠিত যৌথ গবেষণা দল তাদের প্রতিবেদন ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে উভয় দেশ একযোগে প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ১৭টি সেক্টর অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে নেগোসিয়েশন পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশন শুরুর লক্ষ্যে উভয় দেশ একযোগে ১২ মার্চ ২০২৪ তারিখে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এই চুক্তির গুরুত্ব বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার নভেম্বর ২০২৪ থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করে এবং এক বছরের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। চুক্তিটি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সাথে সেক্টরভিত্তিক এবং সামগ্রিক চুক্তি নিয়ে একাধিক সভা হয়েছে। সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ (সাত) রাউন্ড নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে উভয় দেশ ইপিএ টেক্সট চূড়ান্ত করে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সরাসরি সম্পৃক্ততা বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশনের দ্রুত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের সক্রিয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে তারা একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং জাপান সফরের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ে কয়েক দফা আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে তারা নিজ নিজ মন্ত্রী পর্যায়ের সমমর্যাদার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সকল সফর এবং উদ্যোগসমূহ নেগোসিয়েশন চূড়ান্তকরণে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারকে জোরালোভাবে তুলে ধরে, যাতে ইপিএ’র কৌশলগত গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পাদিত হলে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। পক্ষান্তরে, জাপান ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।  বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ’র উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো : বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। এছাড়াও, তৈরি পোশাক খাতে সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন সুবিধাও পাবে। সেবা বাণিজ্য (ট্রেড ইন সার্ভিসেস) খাতেও উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ডব্লিউটিও সেক্টরাল ক্লাসিফিকেশন লিস্ট অনুযায়ী ১২টি সেক্টরের আওতায় ৯৭টি সাব-সেক্টর উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি সাব-সেক্টর উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর ত্বরান্বিত হবে। এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর ফলে, বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। জাপান আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে ইচ্ছুক। (বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরের প্রস্তাব আজ উপদেষ্টা পরিষদ সানুগ্রহ অনুমোদন প্রদান করেছে। বিজেইপিএ সম্পন্নকরণের জন্য আজকের উপদেষ্টা পরিষদ-বৈঠকে সকল উপস্থিতিবৃন্দ বাণিজ্য উপদেষ্টা, সচিব ও বিজেইপিএ’র সাথে সম্পৃক্ত সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীরা মুনাফা পাবেন : বাংলাদেশ ব্যাংক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য কেবল ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের আমানতের ওপর ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। বুধবার জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য ব্যক্তি (অ-প্রাতিষ্ঠানিক) মেয়াদি আমানত এবং স্কিমভিত্তিক আমানতের ক্ষেত্রে ব্যাংক রেট অনুযায়ী, অর্থাৎ বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পরিশোধ করতে হবে।’ বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পূর্বের নির্দেশনায় এই সময়ে মুনাফা প্রদান না করার কথা বলা হলেও আমানতকারীদের অসুবিধা দূর করতে এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন স্কিম ২০২৫’ চূড়ান্ত করে, যার আওতায় পাঁচটি সংকটাপন্ন শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠিত হয়। ওই স্কিমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ধাপ ও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : ড. সালেহউদ্দিন

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংকিং খাতের সার্বিক সংস্কার অপরিহার্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ব্যাংকিং খাত সংস্কার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকিং খাত সংক্রান্ত অধিকাংশ বিষয়ই বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত, তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ও অপরিহার্য। তিনি স্বীকার করেন যে, গত দেড় দশকে পুঞ্জীভূত দীর্ঘদিনের কাঠামোগত ও সুশাসন সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এই খাত। তিনি বলেন, ‘এই সমস্যাগুলো হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি এবং ১৪ বা ১৬ মাসের মধ্যে এগুলোর সমাধান সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়, আইনের দুর্বল প্রয়োগ, নিয়মকানুন মানার সংস্কৃতির অবনতি এবং বিবেচনাধীন ক্ষমতার অপব্যবহার খাতটিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই দুর্বলতাগুলো সংশোধনের জন্য হঠাৎ বা বলপ্রয়োগমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং সময়, সুপরিকল্পনা এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দেশের ভেতরে সমালোচনা থাকলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মোটামুটি ইতিবাচক রয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী ও বৈশ্বিক অংশীজনরা সাধারণত বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ব্যবস্থাপনা যোগ্য বলে মনে করেন। যদিও তারা ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত সংস্কারকে কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় কাজ হিসেবে দেখেন। সাম্প্রতিক আইনগত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে আর্থিক খাতের আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি জানান, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট এবং হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন অ্যাক্ট সংশোধন পাস হয়েছে এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন জোরদার ও আর্থিক আদালতের কার্যকারিতা বাড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে। তিনি এই খাতের ভঙ্গুরতার পেছনে দুর্বল প্রুডেনশিয়াল নর্মস, বিধিবিধান অমান্য করা, অকার্যকর তদারকি এবং ব্যাংক মালিকদের অতিরিক্ত প্রভাবকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো গ্রহণযোগ্য করপোরেট সুশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়নি, যার ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অডিট ও তদারকির ভূমিকা তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা অডিট কার্যক্রমে অনিয়মের কথা উল্লেখ করেন এবং নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অধিক দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আর্থিক অনিয়ম রোধ ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় সব প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত কার্যকরী ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা প্রয়োজন। তবে এই স্বাধীনতা রাষ্ট্রের সার্বভৌম কাঠামোর মধ্যে জবাবদিহির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ব্যাংকিং খাতে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা কার্যকর তদারকি ও সঠিক নীতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকিং খাত সংস্কার কোনো বিকল্প নয়, বরং এটি একটি জাতীয় প্রয়োজন। বর্তমান সময়সীমার মধ্যে সব সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব না হলেও সরকার এমন একটি দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে ভবিষ্যৎ সরকারগুলো নির্বিঘ্নে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আমানতকারীদের সুরক্ষা, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহায়তায় এ খাতকে শক্তিশালী করা অত্যাবশ্যক।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দর সংক্রান্ত ‘গোপন চুক্তি’ স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চিঠি

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ার চর ও পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনা ও নির্মাণের লক্ষ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত ‘গোপন’ কনসেশন চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার স্বার্থে এসব চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু জনসম্মুখে প্রকাশ এবং তা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন তারা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সরকারের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে ডাকযোগে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠান দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ শিক্ষার্থী। চিঠিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস-এর সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য এবং একই দিনে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগ এসএ-এর সঙ্গে পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার জন্য অস্বাভাবিক দ্রুততায় গোপন কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর করে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এসব চুক্তির বিষয়বস্তু জনসম্মুখে প্রকাশ না করাকে সংবিধানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ রক্ষার মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে দাবি করেন তারা। চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এসব চুক্তিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কেবল টার্মিনাল অপারেটর হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ৪৮ বছরের (৩+৩০+১৫ বছর) জন্য কনসেশনিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই চুক্তি সম্পাদন, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া এবং ১৬৭ ডলারের পরিবর্তে মাত্র ২১ ডলার মাশুল নির্ধারণ করায় প্রতি কনটেইনারে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। মাত্র ১১ থেকে ১৩ দিনের মধ্যে অস্বাভাবিক দ্রুততায় এই চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও তাদের বিস্মিত করেছে। শিক্ষার্থীরা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনে গণহত্যার অংশীদার হিসেবে অভিযুক্ত এবং ইসরায়েলে অস্ত্র পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন চুক্তি বাংলাদেশের সংবিধান, পররাষ্ট্রনীতি ও নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও তারা মত দেন। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা চিঠিতে তিন দফা দাবি জানান। তারা বলেন, সংশ্লিষ্ট নন-ডিসক্লোজার কনসেশন চুক্তিগুলোর সম্পূর্ণ ও অবিকৃত বিষয়বস্তু অবিলম্বে বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে চুক্তিগুলোর আইনগত বৈধতা, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনার জন্য অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করতে হবে। পর্যালোচনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চুক্তির আওতায় সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবিও জানান তারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আজ থেকে দেশে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি

দেশের বাজারে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) স্বর্ণ ভরিতে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায় বিক্রি হবে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্বর্ণ ভরিতে ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। যা দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা নির্ধারণ করে বাজুস। যা বুধবার কার্যকর হয়। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

গণভোট ২০২৬ : সংস্কারের পথে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0