অর্থনীতি

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ইস্তাম্বুলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন
চামড়াশিল্পে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

নগর ও শিল্পবর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং চামড়া শিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তি, পরিচালন পদ্ধতি ও শিল্প অবকাঠামো সম্পর্কে ধারণা নিতে ইস্তাম্বুলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।   গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার শিল্পমন্ত্রীর এ পরিদর্শনে কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা উঠে এসেছে।   শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।   গত ৪ নভেম্বর ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির বর্জ্য দহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গৃহস্থালি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন। উপস্থাপনা ও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে কেন্দ্রটির প্রযুক্তি ও পরিচালন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন তিনি।   ইস্তাচ পরিচালিত কেন্দ্রটির দৈনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা ৩ হাজার টন। এর স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫ মেগাওয়াট। বাংলাদেশের নগরগুলোয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও ভাগাড়ের ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা গ্রহণের আগে স্থানীয় বাস্তবতা, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ও পরিবেশগত শর্ত মূল্যায়ন প্রয়োজন।   একই দিন তুজলায় অবস্থিত ইস্তাম্বুল লেদার অর্গানাইজড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (আইডিওএসবি) পরিদর্শন করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। জোনটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জেলাল কোপুজ, জোনের প্রতিনিধি এবং তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা এর কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক অবদান সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।   এ সময় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, অভিন্ন অবকাঠামোর ব্যবহার এবং চামড়া উৎপাদনে কেন্দ্রীয় বর্জ্যপানি শোধন ব্যবস্থার ভূমিকা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের চামড়া শিল্পনগরীগুলোর আধুনিকায়ন, পরিবেশগত মান পরিপালন ও উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।   পরে জেভাহির লেদার ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ট্রেড কোম্পানি লিমিটেডের কারখানা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। সেখানে কাঁচা চামড়া থেকে প্রস্তুত চামড়া তৈরির বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, ট্যানিং ও ফিনিশিং প্রযুক্তির পাশাপাশি জুতা এবং অন্যান্য পণ্যে ব্যবহারের উপযোগী চামড়া উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও ধারণা নেন।   ৫ নভেম্বর শিলেতে অবস্থিত এনারগ্রম থার্মাল ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি পরিদর্শন করেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। কেন্দ্রটিতে বিপজ্জনক শিল্পবর্জ্য তাপীয় প্রক্রিয়ায় শোধন এবং তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ইস্তাচের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় নির্মাণ, পরিচালনা ও হস্তান্তর বা বিওটি পদ্ধতিতে স্থাপনাটি পরিচালনা করছে এনারগ্রম। কেন্দ্রটির বার্ষিক শিল্পবর্জ্য শোধন সক্ষমতা ৩৩ হাজার টন এবং স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫ দশমিক ৬ মেগাওয়াট।   এসব পরিদর্শনে বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও শিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র সামনে এসেছে। উপযুক্ত বর্জ্য শোধন ও জ্বালানি পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি গ্রহণ করা গেলে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতির পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে সম্পূরক ভূমিকা রাখা সম্ভব।   অন্যদিকে, চামড়াশিল্পে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, উৎপাদন পদ্ধতির উন্নয়ন এবং মূল্য সংযোজন বাড়াতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা সহায়ক হতে পারে। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিনিয়োগ সহযোগিতার মাধ্যমে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, রফতানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও শীর্ষ ব্যবসায়ীসহ ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।   বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এ বিষয়ে দেশের সব ব্যাংকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।   এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালিকায় কয়েকটি শীর্ষ শিল্পগ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক কর্মীদের নাম রয়েছে। তবে ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এ তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদীর নামও রয়েছে।   এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।   বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে।   এর আগে গত ২১ অক্টোবর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।   মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব ওয়ালীউল দামান। এর ফলে ৭ নভেম্বর দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের সাধারণ ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটি পালন করা হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দিবসটি প্রতিবছর সরকারি ছুটির আওতায় পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ-চীনের আলোচনা

রাজনৈতিক ও দলীয় পর্যায়ে আদান-প্রদান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আজ আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও চীন|    এ সময় রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বেইজিংয়ের অব্যাহত সমর্থন চেয়েছে ঢাকা|    রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সম্মানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আয়োজিত প্রাতরাশ ˆবঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়|     বৈঠকে ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ কাঠামোর আওতায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে|    এ সময় প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য চীনের অব্যাহত কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন|   এছাড়া রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণ, দলীয় পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে|   বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে উভয় পক্ষই চলতি বছরের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে|   লিউ চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন| একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে তার বিভাগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন|   অব্যাহত রাজনৈতিক সংলাপ, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চীনের আগ্রহের কথা জানান তিনি|   আলোচনাকালে লিউ হাইশিং তার পিতা লিউ শুচিংয়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন|    তিনি বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন|   লিউ জানান, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে লিউ শুচিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন|   রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা গভীর করা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চীনের মন্ত্রী তিন দিনের সফরে গত ৩ নভে¤^র ঢাকায় আসেন|

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঋণের বাইরে কোরিয়ার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ, সম্ভাব্য তহবিল ২ বিলিয়ন ডলার

প্রচলিত উন্নয়ন ঋণের পাশাপাশি সরাসরি বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য সার্বভৌম তহবিল গঠনের বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।   অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দক্ষিণ কোরিয়া সফরের দ্বিতীয় কর্মদিবসে দেশটির সরকারি কর্মকর্তা, আর্থিক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিউলে অনুষ্ঠিত এসব আলোচনার তথ্য জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।   মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক বিভিন্ন খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আনার সম্ভাবনা নিয়ে কেআইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে বিনিয়োগের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   এ ছাড়া কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (কেএক্সিম) অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোরীয় ফান্ড ম্যানেজারদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।   এর আগে কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোয়াং কিয়েওনের সঙ্গে বৈঠকে ২০২৩ থেকে ২০২৭ মেয়াদের ৩ বিলিয়ন ডলারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) কাঠামো পর্যালোচনা করা হয়। এ কাঠামোর আওতায় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের বিষয়টি আলোচনায় আসে।   অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ইডিসিএফের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো এখনো পর্যালোচনাধীন। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্প প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে কেএক্সিম। বাংলাদেশ অবশিষ্ট ইডিসিএফ অর্থ ব্যবহারে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি এআই, ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর মতো নতুন খাতে সহযোগিতার বিষয়ও তুলে ধরেছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুহের সঙ্গে বৈঠকেও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নত উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।   এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তাপুষ্ট ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগের মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে কোরিয়ার চলমান কারিগরি সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে উদ্যোগটির অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে কোরিয়ার আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কোরীয় পক্ষ।   এআই খাতেও দুই দেশের সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এআই ও ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষাও তুলে ধরে প্রতিনিধিদল।   অন্যদিকে, ফিউরিওসাএআইয়ের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের উচ্চমূল্য সংযোজনকারী এআই ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এআই-সংযুক্ত অবকাঠামো প্রকল্পের সম্ভাবনা অনুসন্ধানেও আগ্রহ দেখিয়েছে কেএক্সিম।   কোরীয় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নগর উন্নয়ন, পর্যটন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।   এ সময় ছাদভিত্তিক ও বড় পরিসরের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং নির্বাচিত নগর উন্নয়ন উদ্যোগের বিষয়ও উঠে আসে। শুধু প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) ঠিকাদারি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়ে কারিগরি আলোচনা চালিয়ে যেতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।   এ ছাড়া ইয়ংওয়ানের আয়োজনে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ খাতে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোরিয়ার সরবরাহমূল্য শৃঙ্খলে বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।   অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই দেশের আলোচনায় প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুযোগের ভিত্তিতে বৃহত্তর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। এসব আলোচনা বাস্তব প্রকল্প ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বে রূপ দিতে পরামর্শ অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মানি চেঞ্জারদের কাস্টডিয়াল হিসাব খোলার সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নগদ বৈদেশিক মুদ্রা নিরাপদে সংরক্ষণ ও পরিবহনের ঝুঁকি কমাতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের বৈদেশিক মুদ্রা জমার হিসাব খোলার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।      এ জন্য অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোতে বিশেষ ধরনের কাস্টডিয়াল হিসাব খোলার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।     বুধবার (৪ নভেম্বর) এ বিষয় একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   সার্কুলার অনুযায়ী, এসব হিসাব শুধু বৈদেশিক মুদ্রার নোট জমা, উত্তোলন ও নিরাপদে সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এসব হিসাবে জমা অর্থের বিপরীতে কোনো সুদ দেওয়া হবে না। পাশাপাশি নির্ধারিত সীমার বাইরে মুদ্রা জমার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লেনদেনের পরিমাণ ও ধরন যথাযথভাবে নথিভুক্ত রাখতে হবে।     বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মানি চেঞ্জারদের নগদ বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহনের ক্ষেত্রে বৈধ ক্যাশ-ইন-ট্রানজিট (সিআইটি) বিমা থাকতে হবে। এ ছাড়া এডি ব্যাংক নির্ধারিত সীমার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত, সিআইটি সেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান অথবা নিরাপত্তা প্রহরীসহ নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে।     দিনের শেষভাগে বৈদেশিক মুদ্রা জমা দেওয়ার সুবিধার্থে এডি ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ কাউন্টার ও অস্থায়ী ভল্টের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।     সার্কুলারে বলা হয়, মানি চেঞ্জাররা তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে চেক বা উত্তোলন স্লিপ ব্যবহার করে এসব হিসাব থেকে অর্থ তুলতে পারবেন।     তবে উত্তোলনের পরিমাণ কোনোভাবেই হিসাবের জমা স্থিতির বেশি হতে পারবে না। এসব হিসাবে ওভারড্রাফট বা ঋণসুবিধা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মানি চেঞ্জারদের জন্য নতুন সুবিধা, বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে ব্যাংকে

নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ ও পরিবহনের ঝুঁকি কমাতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের জন্য বিশেষ ব্যাংক হিসাব খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোতে কাস্টডিয়াল হিসাব খুলে বৈদেশিক মুদ্রার নোট জমা ও সংরক্ষণ করতে পারবেন তাঁরা।   বুধবার (৪ নভেম্বর) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   সার্কুলারে বলা হয়েছে, কাস্টডিয়াল হিসাব কেবল বৈদেশিক মুদ্রার নোট জমা, উত্তোলন এবং নিরাপদে সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এসব হিসাবে জমা অর্থের বিপরীতে কোনো ধরনের সুদ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে মুদ্রা জমা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেনের পরিমাণ ও ধরন যথাযথভাবে নথিভুক্ত রাখতে হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহনের ক্ষেত্রে মানি চেঞ্জারদের বৈধ ক্যাশ-ইন-ট্রানজিট (সিআইটি) বিমা থাকতে হবে। এ ছাড়া অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ পরিবহনের সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত সিআইটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অথবা নিরাপত্তা প্রহরীসহ উপযুক্ত নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে।   দিনের শেষ সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা জমা দেওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে এডি ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ কাউন্টার ও অস্থায়ী ভল্টের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   নির্দেশনা অনুযায়ী, মানি চেঞ্জাররা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে চেক অথবা উত্তোলন স্লিপ ব্যবহার করে এসব হিসাব থেকে অর্থ তুলতে পারবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই জমা স্থিতির চেয়ে বেশি অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। এসব হিসাবে ওভারড্রাফট বা ঋণসুবিধাও দেওয়া যাবে না।   এ ছাড়া কাস্টডিয়াল হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর, রেমিট্যান্স পাঠানো কিংবা তৃতীয় পক্ষের অনুকূলে কোনো ধরনের লেনদেন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হিসাবের সব কার্যক্রম বৈদেশিক মুদ্রার নোটের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের হাতে থাকা নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকে নিরাপদে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ বহন ও সংরক্ষণের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা প্রতিপালন আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
নভেম্বরের প্রথম তিন দিনেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫৮ শতাংশ

চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম তিন দিনে দেশে ৫২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের একই সময়ে রেমিটেন্স এসেছিল ৩৩০ মিলিয়ন ডলার।   এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর একদিনেই দেশে এসেছে ১৬১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স।   এর আগে গত অক্টোবর মাসে দেশে এসেছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।     গত সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। আর গত আগস্ট ও জুলাই মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার ও ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।   এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১১ হাজার ৯৮৬ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১০ হাজার ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার।   ফলে অর্থবছরের প্রথম চার মাসের বেশি সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দাম, প্রতি আউন্স ৪০-শ শতে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ডলারের দরপতন হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে।   বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক লাফে ৩ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স   বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও রাজস্ব পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে দেশটির কর্মসংস্থানসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।     বুধবার (৪ নভেম্বর) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৬ দশমিক ৯১ ডলারে উঠেছে।   একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৭ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় স্বর্ণের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশটির রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। এই উদ্বেগ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বাড়িয়ে দিচ্ছে।   তবে স্বর্ণের দাম আরো বাড়ার ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। হামাদ হুসেইনের মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখতে পারে। এতে স্বর্ণের দামে আরো বড় উত্থানের সুযোগ সীমিত হবে। কারণ, সুদের হার বাড়লে মুনাফাবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়।     সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন লেনদেনকারীরা।   তাদের হিসাবে, এ সম্ভাবনা ৮৩ শতাংশ।   স্বর্ণের পাশাপাশি বুধবার বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫১ দশমিক ৯৯ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৬১ দশমিক ৫৮ ডলার হয়েছে। আর প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৮৫ দশমিক ৬৪ ডলার।     এদিক দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বেচাকিনা হচ্ছে।   এ ছাড়া ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ২১৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

বাজারে গিয়ে মাছ-মাংসের দাম শুনে ফিরে আসতে হচ্ছে অনেককে। সন্তানের পছন্দের খাবার কেনার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্যে কুলাচ্ছে না। কোনো পরিবারের খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে মাছ-মাংস, আবার কারও সংসারে চাল, ডাল আর আলুই হয়ে উঠেছে প্রধান ভরসা। এমনকি কোনো কোনো পরিবারে সন্তানের জন্য দুধ কেনার টাকাও জুটছে না। সংসারের খরচ সামলাতে কেউ কমিয়েছেন খাবারের পরিমাণ, কেউ বাদ দিয়েছেন প্রয়োজনীয় পণ্য। তবু মাস শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না স্বল্প আয়ের মানুষ।   নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি চাপে পড়েছেন মধ্যবিত্তরাও। সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযুদ্ধে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন সংকট। একদিকে বাজারের বাড়তি খরচ, অন্যদিকে যাতায়াত, রান্না ও অন্যান্য ব্যয়। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি আয়। বরং কারও কারও কাজ ও উপার্জন কমেছে। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে বিলাসিতা তো দূরের কথা, মৌলিক প্রয়োজনেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে। কমছে খাবারের বৈচিত্র্য, সঞ্চয়ে পড়ছে টান, অপূর্ণ থাকছে সন্তানের আবদার।   রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা, বিক্রেতা ও নানা পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এমন চিত্র। তাদের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট, দ্রব্যমূল্যের চাপ এখন আর শুধু বাজারের হিসাব নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, খাদ্যাভ্যাস ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সংকট।   ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রিফাতের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে তার ব্যবসায়ও। আগে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আয় হলেও এখন তা নেমে এসেছে প্রায় তিন হাজার টাকায়। আয় কমে যাওয়ায় সংসার ও ব্যবসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।   রিফাত বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। আগে যে আয় হতো, এখন তা হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় জিনিসও কিছুটা ত্যাগ করতে হচ্ছে। কোনোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে আছি, আর কি।’   রাস্তার পাশের আরেক দোকানি মিজানের অবস্থা আরও করুণ। আগে সপ্তাহে এক-দুবার মাছ-মাংস খেতে পারলেও এখন সবজি কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। দৈনিক আয় ছয় থেকে সাতশ টাকা হলেও খরচ হচ্ছে সাত থেকে আটশ টাকা। ঘাটতি মেটাতে খাবারের খরচ কমানো ছাড়া উপায় নেই তার।   মিজান বলেন, ‘আমরা নিম্নমধ্যবিত্তরা বেশি কষ্টে আছি। অতি নিম্নবিত্তরা কারও কাছে হাত পাততে পারে, কিন্তু আমরা তো পারি না। সন্তানের আবদার পূরণ করা তো দূরের কথা, প্রয়োজনও ঠিকমতো মেটাতে পারছি না।’   বাজারের বাড়তি খরচে দিশাহারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মধ্যবিত্তরাও। এক দম্পতি জানান, বাজারে ঢুকলেই অন্তত দুই হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। কয়েক ধরনের সবজি কিনতেই চলে যায় পাঁচশ টাকা। মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেতন হলে বাজারের খরচেই ব্যয় হয় অর্ধেকের বেশি। এরপর যাতায়াত ও অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় তো রয়েছেই।   একটি পোশাক কারখানায় মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কাজ করেন সাইফ। তার মতে, পণ্যের দাম বাড়ারও একটি সহনীয় সীমা রয়েছে। সেই সীমা পেরিয়ে গেলে মানুষের পক্ষে আগের জীবনযাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।   সাইফ বলেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার। আবেগের জায়গা থেকে সব সময় যেটা খেতে অভ্যস্ত, সেটাই খেতে চাই। কিন্তু সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত নিজেদের চাহিদার সঙ্গেও আপস করতে হচ্ছে। একেবারে খাওয়া বন্ধ করার সুযোগ নেই, তাই কমিয়ে-বাড়িয়ে খেতে হচ্ছে।’   আগে কম টাকায় বেশি পণ্য কেনা গেলেও এখন কেনাকাটায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। বাজারে এসে বেশি দাম দেখে অনেক সময় প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনেই ফিরতে হয়। আবার একান্ত প্রয়োজনের কারণে কোনো কোনো পণ্য বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।   খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, ক্রেতারা আগের মতো কেনাকাটা করছেন না। অনেকে প্রয়োজনের তালিকা ছোট করেছেন, কমিয়েছেন পণ্যের পরিমাণ। আহাদ আলী নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘ক্রেতা খুবই কম। সবাই হিসাব করে কেনাকাটা করছেন। আমরা পাইকারিতে আগে যে দামে পণ্য কিনতাম, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।’   তিনি বলেন, গত এক বছরে পাম তেল ও পোলাওয়ের চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে পাইকারিতে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে পাম তেল কিনতেন। এখন সেই দামে আর কিনতে পারছেন না। ফলে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দরে। বিক্রির দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৮৫ থেকে ১৮৬ টাকায়।   মাছ বিক্রেতা শাকিলের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি বলেন, ‘তিন-চার বছর আগে ১৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে মোটামুটি ভালো পরিমাণে বাজার করা যেত। এখন শুধু সবজি কিনতেই পাঁচশ টাকা খরচ হয়ে যায়। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য হচ্ছে না।’   দিনমজুর আমীন আলীর জীবনেও সংকটের শেষ নেই। আগে একটি কাজ করে পাঁচ থেকে আটশ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এখন কাজই পান কম, পেলেও অনেক সময় আয় হয় মাত্র চার-পাঁচশ টাকা। সেই টাকায় সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটানো এবং রান্নার জ্বালানির ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।   আমীন আলী বলেন, ‘আমাদের জীবন অনেক কষ্টে আছে। কাজ পাই না। যা আয় হয়, তাতে অনেক কষ্টেই চলছি।’ গরুর মাংসের কথা উঠতেই আক্ষেপ ঝরে তার কণ্ঠে। বলেন, ‘গরুর মাংস আমাদের জন্য না, এটা বড় লোকদের খাবার। আমার আয় যদি ছয়-সাতশ টাকা হয় আর গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা, তাহলে এক কেজি গরুর মাংস কিনলে চাল-তেল কিনব কিভাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে মাসে দুইবার মাছ-মাংস খেতে পারলেও এখন একবারও পারি না। আমাদের মতো মানুষের এখন দুই-বেলা চাল, ডাল কেনাই কঠিন।’ তার ভাষ্য, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য চাল, ডাল, তেল, আলু—এই চারটি জিনিসের দাম কমলেই আমরা খুশি। আমাদের আর কিছু লাগবে না।’   সংসারের টানাপোড়েনের সবচেয়ে নির্মম চিত্র উঠে আসে এক মধ্যবয়স্ক বাবার কথায়। পাঁচ বছর আগেও সীমিত আয়ে সংসার চালানো তুলনামূলক সহজ ছিল। এখন রান্নার জ্বালানি জোগাড় করতেও বাড়তি খরচ হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় কখনো কাঠের চুলা, কখনো কেরোসিন ব্যবহার করতে হয়।   তিনি বলেন, ‘আগে সীমিত আয়েও চলতে পারতাম। এখন মরা ছাড়া বাঁচার পথ নাই।’ সন্তানের খাবারের প্রসঙ্গ তুলতেই অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘সন্তানের দুধ কেনার টাকা নেই। সাবু জ্বাল দিয়ে খাওয়াতে হয়। বাচ্চা খেতে চায় না। সন্তানদের কিছুই দিতে পারিনি।’   সংসারের ব্যয় সামলাতে স্ত্রীকেও কাজে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন সেলাইয়ের কাজ করা মিলন। তিনি জানান, ‘বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে পারি না। সবকিছুর দাম অনেক বেড়েছে। বাধ্য হয়ে বউকেও বাইরে কাজে পাঠিয়েছি। কী করব, তিনটা সন্তান আছে, সংসার তো চালাতে হবে।’   সাধারণ মানুষের এমন দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাড়তি দ্রব্যমূল্যের চাপ সামাল দেওয়ার সামর্থ্য সচ্ছল মানুষের থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষের সেই সুযোগ নেই। ফলে তাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে।   গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক গ্রাহক নিয়মিত গ্যাস না পেলেও বিল দিচ্ছেন। টাকা দিয়েও সেবা না পাওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।   এদিকে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, উৎপাদন পর্যায় থেকে পণ্য ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে কয়েক দফা হাতবদল ও পরিবহন খরচের কারণে দাম বাড়ে। চালের দাম জাত ও মানভেদে ভিন্ন। ডিমের দামও বর্তমানে ক্রেতাদের নাগালে রয়েছে। অন্যদিকে ভোজ্যতেলের দাম সরকার নির্ধারণ করছে। বাজারে চাল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও অধিদপ্তর নজর রাখছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে ডিএসইএক্স, শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত

দেশের পুঁজিবাজারে দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের দাম কমেছে। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে সূচক কমলেও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।   মঙ্গলবার লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স ২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে। এর আগে চলতি বছরের ২৩ মে সূচকটি ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টের ঘরে ছিল। অর্থাৎ নতুন করে দরপতনের ফলে সূচকটি প্রায় পাঁচ মাস আগের অবস্থানে ফিরে গেছে।   এদিন ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩০ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।   বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কয়েক দিন ধরে চলা শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব পুঁজিবাজারেও পড়েছে। এসব ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন, যা বাজারে দরপতনের চাপ বাড়িয়েছে।   তাদের ভাষ্য, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতে অস্থিরতা দেখা দিলে তার প্রভাব দ্রুত শেয়ারবাজারে পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।   মঙ্গলবার ডিএসইতে ৩৮৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮টির দাম বেড়েছে, ২৬৭টির কমেছে এবং ৫১টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে। তবে দরপতনের দিনেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। এদিন মোট ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।   অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭৪ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ২১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসইতে ১৮১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১১২টির কমেছে এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। সিএসইতে মোট ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।   মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানি এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।   দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মতিন স্পিনিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৭১ লাখ ৭৭ হাজার টাকার। আর ১৫ কোটি ৮৬ লাখ ৬১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি।   লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরও রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, শাহজীবাজার পাওয়ার, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, মালেক স্পিনিং মিলস পিএলসি এবং সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।   এদিন ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে ছিল সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড। আগের কার্যদিবসের তুলনায় ফান্ডটির ইউনিটের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। দিনটিতে ৭৩৬ বার লেনদেনে ২১ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৬টি ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যার বাজারমূল্য ছিল ৩ কোটি টাকা।   দরপতনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম কমেছে ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। কোম্পানিটির ২ হাজার ৮৮ বার লেনদেনে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৮০৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।   তৃতীয় অবস্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম কমেছে ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কোম্পানিটির ১ হাজার ৬৯২ বার লেনদেনে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা।   দরপতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে তুংহাই নিটিংয়ের শেয়ারের দাম ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ দর কমেছে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জি-পে গ্রাহকদের জন্য এমটিবি ও সমাধানের নতুন ‘টাকা-পে’ প্রিপেইড কার্ড চালু

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) ও সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রথম জি-পে কো-ব্র্যান্ডেড ‘টাকা-পে’ প্রিপেইড কার্ড চালু হয়েছে। নতুন এই কার্ডের মাধ্যমে দেশজুড়ে জি-পে গ্রাহকরা আরও সহজে ও দ্রুত আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।   ‘এমটিবি জি-পে কো-ব্র্যান্ডেড টাকা-পে প্রিপেইড কার্ডের’ মাধ্যমে গ্রাহকরা যেকোনো সময় নিজেদের জি-পে ওয়ালেটে থাকা অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন। লেনদেন আরও সহজ ও দ্রুত করতে কার্ডটিতে যুক্ত করা হয়েছে কন্টাক্টলেস প্রযুক্তি বা নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা।   গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে কার্ডটির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকের কোনো শাখায় না গিয়েই জি-পে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে।   সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।   কার্ডটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, জি-পের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আহমেদ আরমান সিদ্দিকী এবং সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান।   এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ডিসেম্বরের আগেই রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে 'বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬' উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।   ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এখন সি-স্টেজে রয়েছে। এ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়ে এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যেতে হচ্ছে। আজ পর্যন্ত কেন্দ্রটি ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতা অর্জন করেছে।    এই সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছালে উৎপাদিত বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘোরানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনের মাধ্যমে জেনারেটর চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে আরও বেশ কিছু পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।    তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি খুলে আবার পরীক্ষা ও মেরামত করা হবে। একবার নয়, প্রয়োজনে দুই, তিন বা চারবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে না।   মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে চান না তিনি। কারণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে অনেক সূক্ষ্ম কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সময়ের প্রয়োজন হয়।   মন্ত্রী বলেন, একটি ভিভিআর ভালভ নিয়ে প্রায় দুই মাস কাজ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমস্যাটির সমাধান হয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।   বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিজ্ঞানী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালকসহ মাঠপর্যায়ে কর্মরত বাংলাদেশি ও রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে প্রায় ৪৯ জন রাশিয়ান বিজ্ঞানী এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।   বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি হতে পারে বলে আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি উদ্যোগ’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৬ জেলার তরুণদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে।   রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ৫৬ জেলার সব উপজেলার উদ্যোক্তারা এ আবেদন করতে পারবেন। এর আগে প্রাথমিক পর্যায়ে আট জেলার আবেদন নেওয়া হয়।       এই কর্মসূচির আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেয়া হবে। অর্থাৎ, ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন। ঋণ ও অনুদানের অর্থ এককালীন একসঙ্গে দেওয়া হবে।     অনুদান আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে। এদিকে দেশের উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুসন্ধান, প্রকৃত উদ্যোক্তা নির্বাচন ও অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ‘উদ্যোগ’ : উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র প্রাথমিক পর্যায়ে আট জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে।     কর্মসূচির সক্রিয়করণ পর্যায়ে আট বিভাগের আটটি জেলা- মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনার সব উপজেলায় আবেদন গ্রহণ করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের শাখায় তরুণ উদ্যোক্তারা আবেদন জমা দেন।       প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক আবেদনের সংখ্যা হলো- মানিকগঞ্জে ১,৩৪৩টি, ফেনীতে ১,২৬১টি, নওগাঁয় ২,৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২,১৯১টি, ভোলায় ১,৫৪৫টি, হবিগঞ্জে ১,৫৫২টি, রংপুরে ২,৭৪৫টি এবং নেত্রকোনায় ৫,৩৫১টি।     এর ধারাবাহিকতায় উল্লিখিত আট জেলা ছাড়া অবশিষ্ট ৫৬ জেলার সব উপজেলার আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তারা ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে পারবেন। আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে।      কর্মসূচির নীতিমালা গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০৫-এর মাধ্যমে জারি করা হয়েছে। নীতিমালাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd) এবং এসএমই পোর্টালে (www.bb.org.bd/smespd_portal) পাওয়া যাবে।     দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসারে তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।     ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছিলেন, যে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে উদ্যোক্তারা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে একটি কমিটি থাকবে। সেই কমিটিতে ব্যাংকার ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই থেকে নভেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১১.৬৯ বিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ১১ হাজার ৬৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা গত অর্থবছরের একই সময়ে আসা ১০ হাজার ১৯২ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।   ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর দেশে ২২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে যা ২০২৫ সালের একই দিনে আসা ৪৩ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের এ প্রবৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁদের অব্যাহত অবদানের প্রতিফলন। একই সঙ্গে রেমিট্যান্সের এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বহিঃখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।   রেমিট্যান্স প্রবাহের এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অব্যাহত অবদানকে প্রতিফলিত করে এবং এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলা কিউআরে শুরু হলো ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে লেনদেন

বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে বাংলা কিউআর ভিত্তিক ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বা পিটুপি লেনদেন সেবা।   এর ফলে এখন থেকে একজন গ্রাহক অন্য কোনো ব্যক্তির কিউআর কোড স্ক্যান করেই অত্যন্ত সহজে, দ্রুত ও নিরাপদে টাকা লেনদেন করতে পারবেন।   রোববার (১ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   নতুন এই সেবার ফলে টাকা পাঠানোর সময় প্রাপকের মোবাইল নম্বর কিংবা ব্যাংক বা এমএফএস হিসাব নম্বর আলাদাভাবে টাইপ করার ঝক্কি থাকবে না। কেবল প্রাপকের কিউআর কোড স্ক্যান করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার মাধ্যমেই তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।   এতে দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়া আরও সহজ, নির্ভুল ও সুবিধাজনক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   উল্লেখ্য, শুরুর দিকে বাংলা কিউআর কেবল মার্চেন্ট পেমেন্ট বা ব্যবসায়িক লেনদেনের (যেমন: দোকান বা শোরুমে কেনাকাটার বিল পরিশোধ) জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল।   দীর্ঘদিন এটি কেবল মার্চেন্ট কিউআর কোড হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে এসেছে এবং পরবর্তীতে ১ জুলাই থেকে তা সব ব্যাংক ও এমএফএসের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়।   দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রোববার থেকে এতে যুক্ত হলো কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বা পিটুপি লেনদেন সেবা, যার মাধ্যমে এখন সাধারণ গ্রাহকরাও নিজেদের মধ্যে কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি টাকা লেনদেন করতে পারছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

আর্থিক খাতের সুরক্ষাবলয় শক্তিশালী করতে এবং ব্যাংকিং খাতের তদারকি ও সংস্কারে বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে।   গতকাল শুক্রবার ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট টু’-এর আওতায় এই চুক্তি সই হয়।   অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   এতে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সংস্থাটির বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিন পেসম চুক্তিতে সই করেন।   প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে চলবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক এটি বাস্তবায়ন করবে।   এই ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এ ছাড়া অব্যবহৃত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ‘কমিটমেন্ট ফি’ প্রযোজ্য হতে পারে।   তবে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরসহ বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের জন্য এই কমিটমেন্ট ফি মওকুফ করে আসছে। ঋণ পরিশোধের সময়কাল ২৫ বছর, যার মধ্যে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ-তুরস্কের বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায় বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।   বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় তুরস্কের ১০৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   মন্ত্রী বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক সংহতি এবং ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব হিসেবে অভিহিত করেন।   ঢাকার একটি হোটেলে তুরস্কের দূতাবাস এ সংবর্ধনার আয়োজন করে। ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর প্রজাতন্ত্র ঘোষণার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথি ও কূটনীতিকরা অংশ নেন।   আসাদুজ্জামান বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।   তিনি বলেন, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়িক পর্যায়ে অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলার ও এর বেশি পর্যায়ে উন্নীত করতে প্রস্তুত।   তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করবে।   মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক সহযোগিতা এখন রাজনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর ও বহুমুখী করার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।   দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের মানবিক সহায়তা ও অবিচল সংহতির জন্য বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তুরস্কের সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।   দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কামাল পাশা’ কবিতার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কবিতাটি তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের শ্রদ্ধা ও অনুরাগের প্রকাশ।   বাংলাদেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন আইনমন্ত্রী।   অনুষ্ঠানে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের আরও সুযোগ অনুসন্ধানে তুরস্ক তার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করছে। দেশটিতে ইতিমধ্যে তুর্কি কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে।   তিনি বলেন, ঢাকা-ইস্তাম্বুলের মধ্যে সরাসরি যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান চলাচল দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। রাষ্ট্রদূত জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনের বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। রাষ্ট্রদূত এ বছরের ৫ ও ৬ জুন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফর এবং আন্তর্জাতিক বিচার সম্মেলন ২০২৬-এ অংশ নিতে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সাম্প্রতিক তুরস্ক সফরের কথা স্মরণ করেন।   তিনি জানান, যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের পরবর্তী বৈঠক আগামী ২১ জানুয়ারি, ২০২৭ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সামগ্রিক পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করবে। অনুষ্ঠানে তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা গাজী মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩০, ২০২৬
এআই খাতে বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ফের বড় দরপতন

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল আর্থিক ফল প্রকাশের পর শুক্রবার বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে আবারও বড় দরপতন হয়েছে।    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগে থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ ছিল, নতুন আর্থিক প্রতিবেদন তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   এদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের সাইবার হামলার খবরের পর বিটকয়েনের দরও ব্যাপকভাবে কমেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এটি এ ধরনের হামলার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বড় ঘটনা হতে পারে।   এআই-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। অ্যামাজনের সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে মুনাফা ও আয়—দুটিই বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। অন্যদিকে ব্যক্তিগত কম্পিউটারের প্রসেসরের চাহিদা কমে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে ইন্টেলের সম্ভাব্য আয়ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।   এর একদিন আগে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট বিজ্ঞাপন ও সার্চ ব্যবসায় প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল আয় বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি এআইসহ বিভিন্ন খাতে মূলধনি ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানায়।   এর পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন-পরবর্তী সময়ে অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে যায়। অ্যামাজনের শেয়ার কমে ৭ শতাংশের বেশি। এর আগে নিয়মিত লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছিল। ইন্টেলের শেয়ারের দরপতন হয় প্রায় ২৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে নাসডাক সূচক ১ শতাংশের বেশি কমে লেনদেন শেষ করে।   এশিয়ার বাজারেও শুক্রবার এই দরপতনের প্রভাব অব্যাহত ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংয়ের শেয়ার কমেছে ৬ শতাংশের বেশি।   জাপানের সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান কিওক্সিয়া ও অ্যাডভানটেস্টের শেয়ারের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। সফটব্যাংকের শেয়ার কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। তাইওয়ানের টিএসএমসির শেয়ারের দাম কমেছে ১ শতাংশের বেশি।   ফ্লাডলাইনস রিসার্চের বিশ্লেষক আনা উ বলেন, ‘এবারের আর্থিক ফল প্রকাশের মৌসুম এআই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এআই খাতে বুদ্বুদের আশঙ্কা এবং মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকেই শেয়ারবাজারে বড় দরপতনের মুখে পড়তে হচ্ছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় এই নয় যে এআইয়ের চাহিদা ইতোমধ্যে কমে গেছে, বরং ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণঝুঁকির কারণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ পর্যন্ত এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের গতি কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে।’   এই বিক্রির চাপ এশিয়ার অন্যান্য শেয়ারবাজারেও ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল বাজারের সূচক ৫ শতাংশের বেশি, জাপানের টোকিও বাজার ২ শতাংশের বেশি এবং তাইওয়ানের তাইপে বাজার ৩ শতাংশের বেশি কমেছে।   এছাড়া সাংহাই, সিঙ্গাপুর ও ম্যানিলার শেয়ারবাজারেও দরপতন হয়েছে। তবে হংকং, সিডনি ও ওয়েলিংটনের বাজারে সূচক বেড়েছে।   সপ্তাহের শুরুতে বাজারে যে আশাবাদ দেখা গিয়েছিল, শুক্রবারের এই দরপতন ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে এসকে হাইনিক্স জানিয়েছিল, তাদের পরিচালন মুনাফা ৬৩২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও আবেদনে জানিয়েছিল, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তাদের আয় প্রায় ১ হাজার ৩০০ শতাংশ বেড়েছে।   এআই খাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে কবে পর্যাপ্ত মুনাফা আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটেনি। পাশাপাশি ঋণ গ্রহণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে।   এখন বিনিয়োগকারীদের নজর আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। এ নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।   কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের পর ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে।   এমসিএইচ মার্কেট ইনসাইটসের বিশ্লেষক মাইকেল হিউসন বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে—এমন আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্প যদি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারান, তাহলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এ ধরনের সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিত নয়।’   তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের ফল শেয়ারবাজারের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। বাজারের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের চেয়েও বড় ঝুঁকি।’   ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের পর। এতে বলা হয়, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার তাঁকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন।   এর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।   ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে—এমন খবর প্রকাশের পর বিটকয়েনের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। প্রতি বিটকয়েনের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৭৬ হাজার ৪০০ ডলার।   বাইন্যান্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য বড় ধরনের অর্থ চুরি ঠেকাতে ২৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ আটকে রাখা হয়েছে।   দৈনিক লেনদেনের পরিমাণের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্মটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক বার্তা প্রকাশ করেছে। এসব বার্তার কোনো কোনো বক্তব্যে অসংগতি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ব্যবহারকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। একই সঙ্গে চুরি বা ক্ষতির ঘটনায় সব ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।   হামলার প্রকৃত ব্যাপ্তি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের ধারণা, এ ঘটনায় প্রায় ৫৯১ কোটি ২০ লাখ ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি হয়েছে। গত বছর বাইবিট থেকে রেকর্ড ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির ঘটনার তুলনায় এই চুরির পরিমাণ প্রায় চার গুণ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ৩০, ২০২৬
১৩ বছর পর মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে: জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় পর জাপানে মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুক্রবার ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) এ ঘোষণা দেয়।    তবে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায় আপাতত সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রয়েছে ব্যাংকটি।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যপতনের প্রবণতা বা মুদ্রাসংকট কাটিয়ে অর্থনীতিকে চাঙা করতে কয়েক দশক ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে জাপানের বিভিন্ন সরকার। মূল্যপতন বলতে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য ও সেবার দাম কমে যাওয়াকে বোঝায়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর।   এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ব্যাপকভাবে মুদ্রানীতি শিথিল করার উদ্যোগ নেয় ব্যাংক অব জাপান।   ২০২০-এর দশকের শুরুর দিকে কয়েক দফায় মূল ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও শুক্রবার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির প্রবণতা এখন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভিত্তিগত ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) মূল্যস্ফীতি এখন ২ শতাংশ মূল্যস্থিতিশীলতার লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ হার কাছাকাছি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’   তবে মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী হলেও প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যপতনের যুগের অবসান ঘোষণা করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   গত সপ্তাহে দেশটির অর্থনীতিমন্ত্রী মিনোরু কিউচি বলেন, ‘আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।’   ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রণোদনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তাকাইচির সরকার।    এতে সুদের হার কম রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সরকারের চাপ রয়েছে—এমন ধারণা তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।   এদিকে ব্যাংক অব জাপান এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আট-এক ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা মূল সুদের হার ১ দশমিক ২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। এর আগে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   তবে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে থাকায় আগামী ডিসেম্বর মাসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ২০২২ সালের বসন্তকাল থেকে জাপানে ধারাবাহিকভাবে ভোক্তামূল্য বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১০ বছর ধরে চলা অত্যন্ত শিথিল মুদ্রানীতি থেকে সরে এসে ২০২৪ সালের মার্চে সুদের হার বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে ব্যাংক অব জাপান।   সরকারের গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে জাপানের মূল মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগস্টে এ হার ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ।   শুক্রবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, তাজা খাদ্যপণ্য বাদ দিয়ে হিসাব করা ভোক্তা মূল্যসূচকের বার্ষিক বৃদ্ধির হার ২ শতাংশের উল্লেখযোগ্য ওপরে উঠতে পারে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি অন্যতম। এতে বিশেষ করে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সেমিকন্ডাক্টরের দামও বাড়ছে।   এ ছাড়া জাপানি মুদ্রা ইয়েনের অবমূল্যায়নও মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ মার্সেল থিলিয়ান্ট বলেন, ‘সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই বেশি। আমাদের ধারণা, আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে নীতিনির্ধারণী সুদের হার ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।’   তিনি আরও বলেন, ‘এর পরও সুদের হার বাড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ৩০, ২০২৬
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশ আরও তিন বছর সময় পেল

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)। একই সময় পেয়েছে নেপালও।    উত্তরণের আগে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও নেপাল সরকার অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল।    নিউইয়র্কে আজ অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের দুই দিনের মাথায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএনসিডিপি) কাছে চিঠি দিয়ে উত্তরণের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানায়।   সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সামনে থাকা গুরুতর চ্যালেঞ্জগুলোর কথা স্বীকার করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, সাম্প্রতিক সংঘাত এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সৃষ্ট বিঘ্নের কারণে অনিশ্চিত মাত্রার ঝুঁকি বেড়েছে।   বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, সাম্প্রতিক অভিঘাতের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং দেশের অভ্যন্তরীণ দীর্ঘদিনের দুর্বলতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছরের প্রস্তুতিকাল দেওয়া হয়েছে।   জাতিসংঘ আরও উল্লেখ করেছে, ইউএনসিডিপির মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিদ্যমান এলডিসি উত্তরণ কাঠামোয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের জটিলতা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিবেচনার দাবি রাখে।   সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় বহিরাগত অভিঘাতের প্রভাব বাড়িয়ে দেয় এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।   জাতিসংঘের প্রস্তাবে বর্ধিত প্রস্তুতিকালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া ও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ কৌশল বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে ইউএনসিডিপির কাছে বার্ষিক প্রতিবেদনে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে বলা হয়েছে।   বাংলাদেশের চিঠি পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউএনসিডিপির ২৮তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এ অনুরোধ মূল্যায়নের জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হয়। পরে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার জন্য সাধারণ পরিষদে সুপারিশ করে।   বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সম্প্রতি জানান, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের সময় বাড়ানোর আবেদন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।   জি-৭৭ভুক্ত দেশগুলো এ আবেদনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) বাংলাদেশের অনুরোধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   তিন বছর সময় বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানিতে গড়ে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আশঙ্কা থেকে আপাতত স্বস্তি মিলবে। উত্তরণের প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রক্রিয়াটি মসৃণ করতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরকারকে সময় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের পণ্য প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।   বর্তমানে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকেরা ৩৮টি দেশ ও বাণিজ্য জোটে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের মোট রপ্তানির ৭৩ শতাংশ এলডিসিভিত্তিক বিশেষ বাণিজ্য সুবিধার আওতায় রয়েছে।   মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক (ইভিআই)—এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করায় চলতি বছর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল। ২০১৮ সালের পর জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশ তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করে। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বাংলাদেশকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য দুই বছর অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।   জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) উত্তরণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩০৭ ডলার। ওই সময় বাংলাদেশের মাথাপিছু জিএনআই ছিল ২ হাজার ৬৮৪ ডলার।   একই পর্যালোচনায় এলডিসি উত্তরণের জন্য মানবসম্পদ সূচকের (এইচএআই) ন্যূনতম মান নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৯ দশমিক ৬। বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৭ দশমিক ৫।   অন্যদিকে, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের (ইভিআই) সীমা ছিল ৪০ দশমিক ৬। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২১ দশমিক ৯।   সব কটি মানদণ্ড পূরণ করলেও উত্তরণ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং অর্জিত উন্নয়ন ধরে রাখাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের বৃহত্তম এলডিসি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে জটিল। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হচ্ছে, যা কয়েক দশকের উন্নয়ন অগ্রগতিকে চাপে ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ২০২১ সালের ২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউএনসিডিপির দ্বিতীয় ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশকে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো দেশটি উত্তরণের তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছিল।   জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের জন্য একটি দেশকে অন্তত দুটি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যে তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে। তবে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের পরও পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় এ অবস্থান ধরে রাখতে হয়।   ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) ছিল ১ হাজার ৮২৭ ডলার, যা জাতিসংঘ নির্ধারিত ১ হাজার ২২২ ডলারের সীমার চেয়ে বেশি। মানবসম্পদ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৫ দশমিক ৩, যেখানে জাতিসংঘের নির্ধারিত সীমা ছিল ৬৬। আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৭ দশমিক ৩, যা উত্তরণের জন্য নির্ধারিত ৩২-এর সীমার নিচে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ৩০, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি

সরকারের কারণে জনগণের রান্নাঘরেও ভোগান্তি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৩, ২০২৬