অর্থনীতি

ছবি : সংগৃহীত
রেমিট্যান্স প্রবাহে জোরালো প্রবৃদ্ধি, চলতি অর্থবছরে বেড়েছে ২২.৩ শতাংশ

প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের বেশি সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ১৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া চলতি বছরের ১ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে (১-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) ছিল ১ হাজার ৬৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ হিসেবে চলতি মাসের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্সে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এদিকে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২১ হাজার ৫৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই ২০২৪ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৬২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্সে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ডিএসইতে সূচকের বড় পতন, লেনদেন ৫৫৯ কোটি টাকা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সূচকের বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।  বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ ডিএসইতে মোট ৩৯২টি কোম্পানির ২১ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ৪১২টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। দিন শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ১১৪ টাকা। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫৩ দশমিক ২১ পয়েন্ট কমে ৫,৪৬৫ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ১২ দশমিক ১৭ পয়েন্ট কমে ২,০৯৭ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস শরীয়াহ সূচক ১০ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমে ১,০৯৫ দশমিক ১০ পয়েন্টে অবস্থান করে।  লেনদেনকৃত কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৬টির, কমেছে ৩১৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টি কোম্পানির শেয়ার। টাগরি ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০৬টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৯টির, কমেছে ১৬৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ৭৯টির মধ্যে ৭টির দর বেড়েছে, ৬৩টির কমেছে এবং ৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ১০৭টির মধ্যে দর বেড়েছে ১০টির, কমেছে ৮৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১০টির। ‘এন’ ক্যাটাগরিতে কোনো ইস্যুর লেনদেন হয়নি। মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে লেনদেন হওয়া ৩৪টির মধ্যে ২টির দর বেড়েছে, ২২টির কমেছে এবং ১০টি অপরিবর্তিত রয়েছে। কর্পোরেট বন্ডের ৩টি ইস্যুর মধ্যে ২টির দর বেড়েছে এবং ১টির কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক) খাতে লেনদেন হওয়া ৪টির মধ্যে ১টির দর বেড়েছে এবং ৩টির কমেছে। লেনদেনের ভিত্তিতে ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা ব্যাংক, সায়হাম কটন মিলস, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, রহিমা ফুড, মুন্নু ফেব্রিকস এবং সিটি ব্যাংক। দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- রহিমা ফুড, আইসিবি এমপ্লয়ীজ প্রভিডেন্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, এপেক্স স্পিনিং, বিডি থাই ফুড, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বিডি থাই এবং ব্র্যাক ব্যাংক। অন্যদিকে দর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, এপোলো ইস্পাত, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বিআইএফসি, টুং হাই নিটিং এবং ফনিক্স ফাইন্যান্স।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিল্ডের নতুন চেয়ারপার্সন হলেন আবুল কাসেম খান

বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)-এর চেয়ারপার্সন হিসেবে আবুল কাসেম খানকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে ৩৯তম ট্রাস্টি বোর্ড সভায় ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য এই মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি ২০২০ সাল থেকে বিল্ড-এর ট্রাস্টি বোর্ডের একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিল্ড-এর ‘ডিড অব ট্রাস্ট’-এর সংশ্লিষ্ট বিধি মোতাবেক বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তিনি এ নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) কর্তৃক মনোনীত আবুল কাসেম খান বর্তমানে এ. কে. খান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড-এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং এ. কে. খান টেলিকম লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ২০১০, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ডিসিসিআই-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংস্থাটি পাবলিক-প্রাইভেট ডায়ালগের সাতটি বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্রে কাজ করে, যেখানে বাণিজ্য সহজীকরণ ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নকে কৌশলগতভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বিল্ড দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত, পদ্ধতিগত ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে থাকে। বেসরকারি খাতের সুবিধা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্থাটি তথ্য-প্রমাণভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের কাছে নীতিগত সুপারিশ পেশ করে। জাতীয় পিপিডি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিল্ড সরকার ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপের পথ সুগম করে আসছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
বিশ্ব বাজারে দাম কমার ফলে দেশের বাজারেও কমেছে স্বর্ণের দাম। ফাইল ছবি
১৯ ফেব্রুয়ারি: ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ কত দামে বিক্রি হচ্ছে

বিশ্ব বাজারে দাম কমার ফলে দেশের বাজারেও কমেছে স্বর্ণের দাম। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।    বাজুস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সমন্বয় করে কার্যকর করা এ দামে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিক্রি হবে স্বর্ণ।                                            বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা (যা মঙ্গলবার ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা)।           এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা (যা মঙ্গলবার ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা), ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা (যা মঙ্গলবার ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা) এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকা (যা মঙ্গলবার ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা)। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে।       বাজুস জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রমজানে কয়টা পর্যন্ত চলবে ব্যাংক লেনদেন

রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনা করে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের ব্যাংক লেনদেন ও অফিস নতুন সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সূচি অনুযায়ী, রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত গ্রাহকরা ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন। এ সময়ের পর গ্রাহক লেনদেন বন্ধ হলেও আনুষঙ্গিক দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংকগুলো বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রমজান মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংকের অফিস সময় হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তিও নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এ ছাড়া রমজান মাসে শেয়ারবাজারের লেনদেন সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন চলবে। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। রমজান শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিস এবং লেনদেন সময়সূচি আবার স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে আসবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে গ্রাহকদের সুবিধা ও ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেন সময়সূচিতে এ ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রমজান শুরুতেই বাজারে আগুন

রাজধানী ঢাকার বাজারে ভালো মানের এক হালি লেবুর দাম এখন ১০০-১২০ টাকা। আর ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের এক ডজন (১২টি) ডিমের দাম ১০৫-১১০ টাকা। অর্থাৎ এক হালি লেবুর দামে এখন এক ডজন ডিম কেনা যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার শুরু হলো পবিত্র রমজান মাস। এর আগেই বাজারে লেবুসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা মরিচ, খেজুর, ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছ। গতকাল বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, রোজার শুরুর দিকে বেশ কিছু পণ্যের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দাম বেড়েছে। অবশ্য এই সুযোগে কেউ কেউ অতিরিক্ত দামও রাখছেন। তবে সপ্তাহখানেক পর অধিকাংশ পণ্যের দাম কমে আসতে পারে বলে জানান তাঁরা। রোজার সময় ইফতারিতে অনেকেই লেবুর শরবত খান। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে লেবুর দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় কেনা যেত। এখন সেই লেবু ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। আর বড় আকারের এক হালি লেবু কিনতে লাগছে ১২০ টাকা—অর্থাৎ একটি লেবুর দাম প্রায় ৩০ টাকা। গত বছর রোজা শুরুর আগে এক হালি লেবুর দাম ছিল ৪০-৫০ টাকা। ইফতারির উপকরণ হিসেবে শসা, টমেটো, গাজর ও বেগুনের চাহিদাও বেড়েছে। বাজারে বেগুন ও শসার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি বেগুন ৮০-১২০ টাকা এবং শসা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। টমেটো ও গাজরের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম ১০-১৫ টাকা বেড়ে কেজিতে ৫৫-৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০ টাকা বেড়ে ১৪০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লারের কেজি ২০০ টাকা ছাড়াল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের প্রধান আমিষের উৎস ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ছিল ১৬০-১৭০ টাকা, এখন তা ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ৩২০-৩৫০ টাকায় উঠেছে। তবে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি ও শীতে খামারে মৃত্যুহার বাড়ার প্রভাব পড়েছে বাজারে। পাশাপাশি রোজা উপলক্ষে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বেড়েছে। মাছের বাজারেও বেড়েছে দাম। চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, কই, শিং, রুই ও কাতলা মাছ কেজিতে ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তেলাপিয়া ২২০-২৫০ টাকা এবং মাঝারি রুই বা কাতলা ৪০০ টাকার নিচে মিলছে না। রাজধানীর পল্লবীর এক বাসিন্দা বলেন, রোজায় যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি, সেগুলোর দামই বেড়েছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট আরও বাড়ছে। ফলের দামও চড়া রোজা শুরুর আগে দেশি-বিদেশি ফলের দামও বেড়েছে। মাল্টা কেজিতে ৩১০-৩৪০ টাকা এবং আপেল ৩৩০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় ৫০-৮০ টাকা বেশি। কলার দাম ডজনে ৩০-৬০ টাকা বেড়েছে। পেঁপে, পেয়ারা ও বরই কেজিতে ১০-৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ছোলা, মসুর ডাল ও চিনির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের কথাও জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে বেজা ও এমইপির মধ্যে চুক্তি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) একটি আধুনিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে আজ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের মধ্যে ভূমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এনএসইজেডে প্রায় ১০ একর জমিতে একটি অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ক্লাস্টার বা শিল্প কারখানা স্থাপন করবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যা সম্পূর্ণ দেশীয় বিনিয়োগ। শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ-সকেট, ফ্যান, এলইডি লাইট, সার্কিট ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিদ্যমান সুনাম ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে। বেজার পক্ষে লিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ এবং এমইপি গ্রুপের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শকিল আলম চাকলাদার। বেজার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এসব তথ্য জানানো হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা করেছে। পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন কার্যক্রম চালু হলে প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ বলেন, এনএসইজেডে এমইপি’র মতো দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ বাংলাদেশে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বেজা বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে। তিনি বিনিয়োগকারীকে দ্রুত শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য আহ্বান জানান। এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, বেজার সহযোগিতায় এনএসইজেডে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশ বান্ধব বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন শিল্প স্থাপন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।  ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এমইপি গ্রুপ বাংলাদেশের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স খাতে অত্যন্ত সুপরিচিত। বর্তমানে সারাদেশে তাদের ২ হাজারের বেশি কর্পোরেট গ্রাহক এবং ১ হাজারের বেশি ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট রয়েছে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মোহম্মদী ইলেকট্রিক ওয়্যার, এমইপি ফ্যান, এমইপি পলিমার এবং চাকলাদার শিপিং লাইনস অন্যতম। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রায় ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন রয়েছে। সাগরতীরের ২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তম এই পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাড়াও নগর ব্যবস্থার সকল সুযোগ সুবিধার সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
রোজার আগেই ফলের বাজারে লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত
রোজার আগেই ফলের বাজারে লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধি

পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে রাজধানীর বাজারে দেশি-বিদেশি প্রায় সব ফলের দাম বেড়ে গেছে। বিদেশি আপেল, মাল্টার মতো ফলের দাম প্রতি কেজি প্রায় ৪০–৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশি ফল যেমন কলা ও বরইয়ের দাম বেড়েছে ২০–৫০ টাকা পর্যন্ত। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি কলা প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, যা আগে ছিল ১২০ টাকা। সাগর কলা এবং সাবরি কলা বিক্রি হচ্ছে ১৫০–১৬০ টাকায়, বাংলা কলা ১০০–১২০ টাকায়। রমজান শুরুর আগে তরমুজের দাম কেজিপ্রতি ৭০–৯০ টাকা, পেয়ারার দাম ১০০–১৫০ টাকা, আনারস ৪০–৬০ টাকা এবং মৌসুমি বরই ১২০–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁপের দাম কেজিপ্রতি ৮০–১০০ টাকা পর্যন্ত। এ দাম বৃদ্ধি মূলত গত ২–৩ দিনের মধ্যে ঘটেছে। বিদেশি ফলের মধ্যে রোজার সময়ে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে খেজুর, মাল্টা ও আপেলের। মাল্টার দাম কেজিপ্রতি বেড়ে ৩২০–৩৬০ টাকা, আপেলের দাম ৩৬০–৪০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার চাহিদা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনের প্রভাব সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। এছাড়া পরিবহন খরচও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ার কারণে তারা চাপের মুখে পড়েছেন। রামপুরার এক ফল বিক্রেতা বলেন, রোজার সময় প্রচুর ক্রেতা আসে, কিন্তু পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। তাই ২০–৫০ টাকা বেশি দিয়ে ফল কিনতে হয়। মহিউদ্দিন চৌধুরী নামে একজন ক্রেতা বলেন, রোজার আগে সব জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়া যেন নিয়ম। এবারও সেই প্রবণতা বজায় আছে। সরকারের নজরদারি জরুরি। ফলে রোজার আগেই ফলের বাজারে লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধি গ্রাহক ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রেমিট্যান্সে বইছে সুবাতাস, বেড়েছে রিজার্ভও

রেমিট্যান্সে ফের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৬ দিনে দেশে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২১ শতাংশ বেশি। এদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রবাসী আয় হয়েছিল ১৪৯ কোটি ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে যা বেড়ে হয়েছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মধ্যে শুধু ১৬ ফেব্রুয়ারি এসেছে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকে গতকাল মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত বেড়ে হয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। ৭ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার, যা তখন আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। নির্বাচন সামনে রেখে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ২৫ লাখ ডলার করে পাঠান প্রবাসীরা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই মাস ধরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। এর আগে চলতি বছরের প্রথম মাস; অর্থাৎ জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। তার আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। তার আগে পাঁচ মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের কম প্রবাসী আয় এসেছিল। একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত দেশে দুই ঈদের আগে প্রবাসী আয় বেশি আসে। সম্প্রতি মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয় আসা বৃদ্ধি পায়। যেসব দেশে বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি, সেসব জায়গা থেকেই বেশি প্রবাসী আয় আসে। অনেক প্রার্থীর জন্য বিদেশে তহবিল সংগ্রহ করা হয়, যা প্রবাসী আয়ের নামে দেশে আসে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
২২ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা

প্রায় ২২ লাখ কোটি টাকার সরকারি ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে যাত্রা শুরু হলো নতুন সরকারের। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা তিন লাখ কোটি টাকা। গত দেড় বছরে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদের শপথ নেওয়ার পর বিশাল অঙ্কের ঋণের দায়ভার সরকারের ওপর চলে এসেছে। বিপুল অঙ্কের মধ্যে অভ্যন্তরীণ (ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র ও কর্মচারীদের ফান্ড) ঋণ প্রায় ১২ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। তবে ঋণের হিসাবটি খসড়া। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য এ ঋণের অঙ্ক বের করা হয়েছে। প্রকৃত ঋণের অঙ্ক কমবেশি হতে পারে। নতুন সরকার কত ঋণ নিয়ে যাত্রা শুরু করছে তার প্রকৃত হিসাবের কাজ শুরু করেছে অর্থ বিভাগ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, ইআরডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে ঋণ তথ্য চেয়েছে অর্থ বিভাগ থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।   এদিকে ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে বড় অঙ্কের ঋণের অর্থনীতিতে কঠিন চাপ সৃষ্টি করছে। কারণ ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধে বছরে ব্যয় হচ্ছে সোয়া লাখ কোটি টাকার ওপরে।   নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারী নোটে সদ্য বিদায়ি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ঋণ প্রসঙ্গে কিছু কথা লিখে গেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি ঋণের ওপর বেশিমাত্রায় নির্ভর করতে হয়েছে। অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত অভ্যন্তরীণ সম্পদ তৈরি হচ্ছে না। ফলে সুদ ব্যয় মেটাতে জিডিপির ২ শতাংশের বেশি অর্থ চলে যাচ্ছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত দেশে পুঞ্জীভূত ঋণের অঙ্ক ছিল ১৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আর গত জানুয়ারি পর্যন্ত ঋণের অঙ্ক বেড়ে প্রায় ২২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়েছে।   এ পর্যন্ত পুঞ্জীভূত মোট ঋণের মধ্যে ব্যাংক খাতের ঋণের পাহাড় ৮ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বিদেশি ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। গত ছয় মাসে শুধু বিদেশি ঋণ নেওয়া হয় ১০৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, দেশীয় মুদ্রায় ১৩ হাজার ১০৩ কোটি টাকা।   ঋণ প্রসঙ্গে অর্থ বিভাগ সম্প্রতি এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশি ও বিদেশি ঋণ নিয়ে ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা আছে। আগামীতে এর মাত্রা আরও বাড়তে পারে। কারণ এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণের পর বাংলাদেশকে উচ্চসুদে ও স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। পাশাপাশি মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূলায়ন বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ব্যয়কে উসকে দিয়েছে। এতে সামনের দিনগুলোতে মূলধনসহ ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে এমন শঙ্কা ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। এছাড়া কম রাজস্ব আহরণ ও ঋণ পরিশোধে বেশি ব্যয় নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজস্ব আহরণ, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। না হলে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তেই থাকবে এমন পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে সেখানে।   এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে জানান, জিডিপির অনুপাতে এ ঋণের হার বিশ্লেষণ করলে তা এখনো অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ঋণ মোকাবিলায় নতুন সরকারের আয় বাড়ানো বিরাট চ্যালেঞ্জ হবে। কিছু অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে হবে। সরকার ঋণ না নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় না মেটালে অর্থনীতি সম্প্রসারণ হবে না। প্রয়োজনে ঋণ নিতে হবে, তবে তা পরিশোধ করতে নিয়মিত আয় থাকতে হবে। সে আয় হচ্ছে রাজস্ব বৃদ্ধি। এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, নতুন ঋণ গ্রহণে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, সেটি হচ্ছে ঋণটি যেন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কাজে আসে।   এদিকে ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক ঋণ নিয়ে চ্যালেঞ্জে পড়েছে অর্থ বিভাগ। এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে ব্যয় বেড়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূলায়নের প্রভাবে। কারণ একই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করতে এখন আরও বেশি টাকার প্রয়োজন হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টাকার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা এ সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলছে।   ইআরডি’র সূত্রমতে, বর্তমান মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশই নেওয়া হয়েছে মার্কিন ডলারে। অর্থাৎ ঋণের বড় একটি অংশ মার্কিন ডলারে সঞ্চিত আছে। এছাড়া ঋণের ২২ শতাংশ হচ্ছে জাপানিজ মুদ্রা ইয়েনে নেওয়া, চীনের ইউয়ানে আছে ৭ শতাংশ এবং বাকি ৪ শতাংশ অন্যান্য মুদ্রায়।   অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) পর্যন্ত ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ২১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের আসল পরিশোধে ব্যয় হয় ২৬১ কোটি মার্কিন ডলার। তবে ধারণা করা হচ্ছে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এ ব্যয় দাঁড়াবে ৩৩৪ কোটি ডলারে।   বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ঋণনির্ভরশীলতা থেকে অর্থনীতিকে বের করার প্রতিশ্রুতি আছে। প্রথম একশ দিনের মধ্যে বড় কাজ হবে বাজেট প্রণয়ন। ঋণনির্ভরতা কমানোর অর্থ বাজেট ঘাটতি কমানো। ফলে বড় ধরনের ঘাটতি বাজেট এ প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন বাজেটের ব্যয় বাড়বে। নতুন সরকার ইশতেহার অনুযায়ী প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এর ১০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে গেলে ঋণনির্ভরতা বাড়বে। এজন্য আগ থেকে মানুষকে অবহিত করতে হবে ইশতেহার রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি কেন্দ্রীয়ভাবে নয়, মাঠপর্যায়ে লোকজনকে বোঝাতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রমজান উপলক্ষ্যে কাল থেকে সারা দেশে পণ্য বিক্রি শুরু করবে টিসিবি

 পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় (ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর) পণ্য বিক্রি শুরু করবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।  আজ সোমবার টিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি নির্দেশনায় নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় এই বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত মোট ২০ দিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) এই বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। একে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি, অন্যান্য ৭টি বিভাগীয় শহরে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৫টি জেলা শহরে ৫টি করে মোট ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাক থেকে ৪০০ জন সাধারণ ভোক্তা নিত্যপ্রয়োজনীয় (ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর) পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাবেন। এই কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ৩৫ লাখ উপকারভোগীর মাঝে মোট ২৩ হাজার মেট্রিক টন পণ্য সরবরাহ করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একজন ভোক্তা ট্রাক থেকে সর্বোচ্চ ২ লিটার ভোজ্যতেল (প্রতি লিটার ১১৫ টাকা), চিনি ১ কেজি (প্রতি কেজি ৮০ টাকা), মসুর ডাল ২ কেজি (প্রতি কেজি ৭০ টাকা), ছোলা ১ কেজি (প্রতি কেজি ৬০ টাকা), খেজুর আধা কেজি (১৬০ টাকা) করে কিনতে পারবেন। টিসিবি জানায়, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রায় ৬৬ লাখ পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে নিয়মিত পণ্য বিতরণ কার্যক্রমও চলমান থাকবে। রমজান উপলক্ষ্যে এই কার্ডধারীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন এবং মার্চ মাসে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। কার্ডধারী পরিবারগুলো আগের নির্ধারিত মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও ডাল পাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্য হিসেবে ছোলা (৬০ টাকা/কেজি) এবং খেজুর (১৬০ টাকা/কেজি) ক্রয় করতে পারবেন। যেকোনো সাধারণ ভোক্তা নির্ধারিত ট্রাক সেল পয়েন্ট থেকে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন বলে টিসিবি জানিয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
বাজার স্থিতিশীল রাখতে এলপিজিতে ভ্যাট কমিয়েছে সরকার

বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি রাখতে সরকার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর ওপর সামগ্রিক ভ্যাট কমিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, বিদ্যমান ব্যবস্থায় এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রযোজ্য ছিল এবং আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ অগ্রিম কর (এটি) পরিশোধ করতে হত। শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি উভয় ক্ষেত্রেই এলপিজিকে একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে জনস্বার্থে কর কাঠামো যৌক্তিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ভোক্তাদের ওপর চাপ কমে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয়, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করে। নতুন ব্যবস্থায়, যা ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ের ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এলপিজির আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এই পুনর্বিন্যাসের ফলে আমদানির পর স্থানীয় উৎপাদন ও বিতরণ পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের ওপর আর কোনো ভ্যাট প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার ভ্যাট আরোপের পরিবর্তে এখন কেবল আমদানি পর্যায়েই একবার কর আদায় করা হবে। এনবিআর জানায়, এসআরও কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে আগের কাঠামোর তুলনায় ভোক্তাদের ওপর সামগ্রিক ভ্যাটের চাপ প্রায় ২০ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, এ সিদ্ধান্ত এলপিজি বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিশেষ করে রান্না ও দৈনন্দিন কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল মধ্য ও নিম্নআয়ের ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সহায়ক হবে। এ পদক্ষেপ শিল্পখাতের ব্যবহারকারীদেরও সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ এতে উৎপাদন ব্যয়জনিত চাপ কমবে এবং সামগ্রিক বাজার দক্ষতা বাড়বে। এনবিআর পুনর্ব্যক্ত করেছে যে বৃহত্তর জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এটি চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এলপি গ্যাসের ওপর ভ্যাট কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা ও বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে এলপি গ্যাস (এলপিজি)-এর ওপর আরোপিত ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) হ্রাস করে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ আগাম কর পরিশোধ করতে হয়। শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে অপরিহার্য এই পণ্যের বাজার স্থিতিশীল ও জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার জনস্বার্থে ভ্যাট কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)-এর আবেদন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-এর সুপারিশের পর সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি পর্যায়ে সাড়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে আমদানির পর স্থানীয় উৎপাদন ও বিক্রয় পর্যায়ে যে মূল্য সংযোজন হয়, তার ওপর আর আলাদা ভ্যাট কার্যকর থাকবে না। প্রজ্ঞাপন কার্যকরের পর এলপিজি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূর্বের তুলনায় ভোক্তা পর্যায়ে প্রায় ২০ শতাংশ মূসকভার হ্রাস পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর আগে, ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, এলপিজির ওপর করের চাপ কমাতে স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় কেবল আমদানি পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর থাকবে। সরকারের আশা, এই সিদ্ধান্তে দেশীয় বাজারে গ্যাস সরবরাহের বিপণন খরচ কমবে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব ভোক্তা পর্যায়েও পড়বে। শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে ব্যবহৃত এই অপরিহার্য পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতেই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
জানুয়ারির ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল

  জানুয়ারি মাসের ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় আগামী রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআরের ই-ভ্যাট ইউনিট।   এতে বলা হয়, পবিত্র শবে বরাত এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘসময় সরকারি ছুটি ছিল। এছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি ই-চালান সিস্টেমের ওটিপি সার্ভার ডাউন থাকার কারণে জনস্বার্থে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানুয়ারি ২০২৬ মাসের ই-ভ্যাট রিটার্ন অনলাইন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৬৪-এর উপ-ধারা (১ক)-এর ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী করদাতারা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইন রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির বিজয়ে বিজিএমইএ’র অভিনন্দন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। শনিবার বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান স্বাক্ষরিত এক অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, তারেক রহমানের অনন্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের অধিক আসনে যে অভূতপূর্ব ও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। এ বিজয়ের মাধ্যমে দেশের আপামর জনতার গণরায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। বার্তায় আরও বলা হয়, তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্ব বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে একটি সম্মানজনক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এই নেতৃত্ব কার্যকর হবে বলে বিজিএমইএ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে। বিজিএমইএ জানায়, দেশের অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করতে নতুন সরকারের দূরদর্শী নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসা-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অভিনন্দন বার্তায় ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। একইসঙ্গে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্ববাজারে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠার আশাবাদও জানানো হয়। এছাড়া বিজিএমইএ পরিবারের যেসব সদস্য বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, জাতীয় সংসদে তাদের সক্রিয় ভূমিকা পোশাক শিল্পের সংকট নিরসন ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়। বার্তার শেষাংশে তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশ পরিচালনায় তার সকল উদ্যোগের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রোজার আগেই বাড়ল মুরগি-পেঁয়াজের দাম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও পণ্যবাহী পরিবহণের চলাচল অবাধ ছিল, তবে সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বিক্রেতারা বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। রোজার আগেই মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।   শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, এদিন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২০০-২১০ টাকায়, যা নির্বাচনের আগে ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ১৭০-১৮০ টাকা।   একইভাবে, সোনালি মুরগির দামও বেড়ে ৩২০-৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ২০ টাকা কম ছিল। এছাড়া গরু ও খাসির মাংসের দামও অনেকটা বেড়েছে। খুচরা বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।   নয়াবাজারের ক্রেতা সালেহ উদ্দিন বলেন, চার দিন আগেও ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকার নিচে কিনেছি, আজ (শুক্রবার) ২১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এমন কিছু হয়ে যায়নি যে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে যাবে। বিক্রেতারা রোজার আগেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন, অথচ এসব দেখার কেউ নেই।   এদিকে, মুরগি বিক্রেতা ইকবাল হোসেন বলেন, পাইকারি কাপ্তান বাজারে মুরগি পাচ্ছি না। পাইকাররা বলছেন, ভোটের কারণে সরবরাহ নেই। তাই পাইকারি বাজারে কেজিতে ২০ টাকার বেশি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।   পাইকারি মুরগি ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবহণ সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় মুরগি সরবরাহ কমেছে। ট্রাক ও পিক-আপ ভ্যানের সংকট ছিল, যার কারণে মুরগির দাম বেড়েছে।   এদিকে, পেঁয়াজের দামও রোজার আগেই বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্বাচনের আগে ৫০-৫৫ টাকা ছিল। আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।   এছাড়া, চিনির দামও কিছুটা বেড়েছে। খুচরা বাজারে খোলা চিনি কেজি ১০০-১০৫ টাকা, যা নির্বাচনের আগে ৯৫ টাকায় বিক্রি হতো।   সবজি ও মাছ-মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার, শিম ৬০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, আলু ২০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং ধনেপাতা ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছের মধ্যে রুই ৩৬০-৪০০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩২০ টাকা, পাঙাশ ১৭০-১৯০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।   রোজার আগে এই পণ্যের দাম বাড়ানোর ফলে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেছে, তবে সবজি ও মাছ-মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এডিবির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের নতুন মহাপরিচালক সোনা শ্রেষ্ঠা

শীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে সোনা শ্রেষ্ঠাকে নিয়োগ দিয়েছে। এ পদে তিনি বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় এডিবির কৌশল ও কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবেন। শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। এ অঞ্চলের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নে এডিবির সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করতে আমি আগ্রহী।’ শ্রেষ্ঠা একজন অভিজ্ঞ উন্নয়ন নেতা। তার পেশাগত অভিজ্ঞতা ২৭ বছরের বেশি, যার মধ্যে ২৩ বছরই এডিবিতে কর্মরত ছিলেন। বর্তমান নিয়োগের আগে তিনি দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের উপ-মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি এডিবির স্বাধীন মূল্যায়ন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক, সহকারী সচিব, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আর্থিক খাত ও বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক এবং ইন্দোনেশিয়ার উপ-কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।  আজ এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে এডিবিতে বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে তিনি মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। নেপালের নাগরিক শ্রেষ্ঠা যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া ম্যাসাচুসেটসের স্মিথ কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সদস্য দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এডিবি উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংক ১৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে

বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে একাধিক নিলাম পদ্ধতিতে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ১৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, টাকার বিপরীতে ডলারের অবমূল্যায়ন ঠেকানো এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতে ইতিবাচক গতি বজায় রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৪,৮৯৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিলামে ১৭১ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের অবমূল্যায়ন রোধ এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতে গতি সঞ্চার করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে এ ডলার ক্রয় করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে কেনা হয়েছে। এ নিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৯৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৮৯৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিকে স্বাগত জানালো বিজিএমইএ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিকে দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। আজ মঙ্গলবার বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ নয় মাসের নিবিড় আলোচনার ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠন-বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে আমরা এই চুক্তিকে স্বাগত জানাই। এই অর্জনের জন্য মার্কিন সরকারসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিজিএমইএ। এছাড়া চুক্তি প্রক্রিয়া গতিশীল করতে সহযোগিতার জন্য মার্কিন দূতাবাস ও ইউএসটিআর’কেও ধন্যবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বিজিএমইএ জানতে পেরেছে, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে উৎপাদিত পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো পাল্টা শুল্ক গুণতে হবে না।  বিজিএমইএ মনে করে, এর ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের প্রবেশাধিকার আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহারের মূল্যায়ন ও ট্রেসেবিলিটি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বিজিএমইএ’র মতে, মার্কিন তুলা গুণগতভাবে উন্নত ও ব্যয়বহুল হওয়ায় স্থানীয় স্পিনাররা যদি সুতার প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে রপ্তানি বৃদ্ধির বিশাল সুযোগ তৈরি হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : ড. সালেহউদ্দিন

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যদিও কাঠামোগত ও নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘১০০ এর মধ্যে আমি নিজেকে প্রায় ৭০-হয়ত ৭০ বা ৮০ নম্বর দেব। যদি ৮০ হয়, তবে বলতে পারি আমরা অন্তত কাজ শুরু করেছি। আমরা জনগণের স্বার্থে কর্মসূচি নিয়েছি এবং আমাদের কোনো গোপন উদ্দেশ্য ছিল না।’ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আজ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। ড. সালেহউদ্দিন বলেন, অনেক পরিকল্পিত উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি নিজেকে পূর্ণ নম্বর দিতে চান না। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হলেও অনেকগুলো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সম্পন্ন করা যায়নি। তিনি বলেন, প্রত্যাশা ছিল। আমাদের যেসব পরিকল্পনা ছিল, তার কিছু কিছু বাস্তবায়ন করা যায়নি। আর যেগুলো শুরু করেছি সেগুলোকেও পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবতার কারণে তিনি পূর্ণ নম্বর দাবি করতে পারেননি। অর্থ উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, ধারাবাহিক বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রকৃত কাজটি ছিল বিশেষ করে নীতি বিভাগগুলোতে গভীর নীতিগত সংস্কার শুরু করা। কর সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সমন্বিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সংস্কারের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, আমরা একটি করনীতি প্রতিবেদন রেখে যাচ্ছি। এটি ভবিষ্যতে একটি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন মহল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও স্বাধীনতা দেওয়ার দাবি উঠেছে, তবে বিষয়টি জটিল।  আমরা এটি নিয়ে ব্যাপকভাবে চিন্তা করেছি। এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয় এবং এতে আইনি ও পরিচালনাগত দিক জড়িত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশেই প্রতিষ্ঠানটির কাঠামো ও কর্তৃত্ব নির্ধারিত রয়েছে এবং প্রশ্নটি শুধু গভর্নর বা মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা নিয়ে নয়, বরং কাঠামোর মধ্যে কতটা কার্যকর স্বাধীনতা রয়েছে সেটিই মূল বিষয়।  অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের পরিবর্তে জনস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়ে কেউ কেউ কিছু বিষয় এড়িয়ে যেতে পারেন, কিন্তু অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় এসব বিষয় এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অর্থ উপদেষ্টা পুনরায় উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার শুরু করতে পারায় তিনি সন্তুষ্ট হলেও অসম্পূর্ণ কাজ ও পূরণ না হওয়া প্রত্যাশার কারণে ১০০-এর কম নম্বরই যুক্তিসঙ্গত।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Top week

সংগৃহীত ছবি
জাতীয়

জানা গেল বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0