সরকারি সেবা পেতে সেবাপ্রার্থীদের ঘুষ দিতে হয় এবং হয়রানির শিকার হতে হয়। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা বা সেবাপ্রার্থী বলেছেন, টাকা না দিলে কোনো কাজ হয় না। পিপিআরসি আরও বলেছে, সব ধরনের সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। মানুষ এমনিতেই দারিদ্র্য, ঋণ ও মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে, তার ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই হয়রানি। পিপিআরসির গবেষণা প্রতিবেদনটি আজ শনিবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ওই গবেষণায় ২০২৫ সালের ৮–৩১ মে দেশের আটটি বিভাগের ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়। ‘বাংলাদেশের প্রকৃত অর্থনীতির অবস্থা: দারিদ্র্যের পুনরাবির্ভাব ও টিকে থাকার সক্ষমতার গতিশীলতা’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান ও সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী নামিরা শামীম। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা বা সেবাপ্রার্থী বলেছেন, টাকা না দিলে কোনো কাজ হয় না। গবেষণায় হয়রানিকে শুধু ঘুষ বা অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায় হিসেবে দেখা হয়নি; বরং সেবা পেতে বাধা, নিয়মকানুন নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দৈনন্দিন লেনদেনে ভোগান্তির চিত্রও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও হয়রানির কাঠামো বদলায়নি। কারণ, হয়রানির কাঠামো অক্ষুণ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, সব জায়গায় বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে হয়রানিকে রাষ্ট্রীয় ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। তিনি বলেন, অন্য দেশের মানুষ দুর্নীতি বোঝে, হয়রানি বুঝে না। হয়রানির এই চিত্র এমন এক সময়ে উঠে এসেছে, যখন অনেক পরিবারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান প্রায় শূন্য। এই তথ্য দিয়ে গবেষণায় বলা হয়েছে, পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা এবং ব্যয় ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা। মাস শেষে গড়ে উদ্বৃত্ত থাকে মাত্র ৭০ টাকা। পরিবারের মোট ব্যয়ের ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ চলে যায় খাবারের পেছনে। গ্রামীণ পরিবারে এ হার ৫৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন আয়ের ১০ শতাংশ পরিবারের গড় মাসিক আয় ৮ হাজার ৪৭৭ টাকা হলেও ব্যয় ১২ হাজার ২৯৪ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে সেবা পেতে অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ (ঘুষ) দিতে হলে পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। গবেষণায় হয়রানিকে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে একধরনের ‘অনানুষ্ঠানিক কর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি মানুষের আর্থিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাও ক্ষয় করে। গবেষণার পর্যবেক্ষণ হলো, মানুষের দুর্দশা শুধু দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকা অনেক পরিবারও অসুস্থতা, ঋণ, অপ্রতুল কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি ও হয়রানির চাপে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব চাপ একসঙ্গে জমতে থাকলে ওই পরিবারের পক্ষে সংকট সামাল দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। নির্ধারিত আলোচক বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রপ্তানিকারক অনেকে রপ্তানি করাই ছেড়ে দেন ওই হয়রানির কারণে। আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারের সংস্থাগুলো নিজেরাও হয়রানির শিকার হচ্ছে। যে বৈষম্য দূর করার জন্য জুলাইয়ে আন্দোলন হয়েছিল, নীতিনির্ধারকেরা তা অর্থবহ করতে পারছে না। নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক কথাই বলা হয়েছে, কিন্তু এনবিআরের সংস্কার কেন হচ্ছে না, এটা আমার প্রশ্ন।’ একশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ‘দুর্নীতি ও হয়রানির স্বাভাবিকীকরণ দিয়ে কী পরিবর্তন আসবে, আমার সন্দেহ হয়। বাজারে বসলে আরেক পক্ষ উঠিয়ে দিয়ে বলছে, টাকা দাও।’
আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিশ্বের শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন প্রায় ১২০ কোটি তরুণ। কিন্তু এই সময়ে তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে মাত্র ৪০ কোটি। ফলে সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের চাহিদা ও সুযোগের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াতে পারে ৮০ কোটি। বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করাকে আগামী প্রজন্মের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার মূল অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান। অজয় বাঙ্গা বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এই দুটি চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট বলেন, ২০২৩ সালের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিভিন্ন দেশের অংশীদার, বেসরকারি খাতের নেতা, দাতব্য সংস্থা ও অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় তিনটি বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছিল। চ্যালেঞ্জ বড়, সম্পদ সীমিত এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক গ্রুপকে আরো প্রস্তুত হতে হবে। তিন বছর পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেন অজয় বাঙ্গা। তার ভাষ্য, বিশ্বজুড়ে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে, ঋণের বোঝা ভারী হচ্ছে। জ্বালানি ও সারের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্বের জনসংখ্যার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন ঘটছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জকে আরো জটিল করে তুলছে। বাঙ্গা বলেন, আগামী প্রজন্মই পরবর্তী শতাব্দীর গতিপথ নির্ধারণ করবে। আজ আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, সেগুলোই অনেকাংশে নির্ধারণ করবে সেই ভবিষ্যৎ কেমন হবে। কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য ঘাটতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, এই সংখ্যার পেছনে রয়েছেন এমন এক তরুণী, যাঁর ডিগ্রি আছে, কিন্তু চাকরি দেওয়ার মতো কোনো নিয়োগকর্তা নেই। রয়েছেন এমন এক তরুণ, যাঁর পেশাগত দক্ষতা আছে, কিন্তু কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নেই। এভাবে একটি প্রজন্ম প্রশ্ন করতে পারে—তাদের জন্য কি আদৌ কোনো সুযোগ রয়েছে? তিনি বলেন, চাকরি কোনো পরিসংখ্যান নয়; চাকরি হলো মর্যাদা। এটি একজন তরুণের নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতের অপেক্ষায় পড়ে থাকার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো না গেলে এর পরিণতি কোনো একটি দেশের সীমানায় আটকে থাকবে না। অন্যদিকে তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি করা গেলে তার সুফলও বিভিন্ন দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। এ কারণেই উন্নয়নকে বিশ্বের সম্মিলিত ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। বাঙ্গার মতে, কর্মসংস্থানের ঘাটতি একটি পূর্বাভাস, অনিবার্য ভবিষ্যৎ নয়। যথাযথ নীতি, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কাঠামোর মাধ্যমে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তিনটি অগ্রাধিকার কর্মসংস্থান বাড়ানোর কৌশল তুলে ধরে বাঙ্গা বলেন, বিশ্বব্যাংকের চাকরিবিষয়ক পরিষদ বিভিন্ন দেশ ও খাতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে এমন নীতি ও কর্মসূচি চিহ্নিত করেছে, যেগুলো আরো বেশি এবং উন্নত মানের চাকরি তৈরি করতে পারে। এই কৌশলের ভিত্তি তিনটি স্তম্ভ। প্রথমত, ভৌত অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়ন। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন ও ডিজিটাল যোগাযোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানুষের প্রয়োজন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দক্ষতা। গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এ ধরনের ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪ হাজার কোটি ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের মোট অর্থায়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। দ্বিতীয়ত, নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর নিশ্চয়তা। ছোট-বড় সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সুশাসন এবং স্পষ্ট নিয়মকানুন গুরুত্বপূর্ণ। সহজ অনুমোদনপ্রক্রিয়া থেকে শুরু করে জমিসংক্রান্ত পূর্বানুমানযোগ্য আইন—এসব বিষয় বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করে। গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের সরকারি খাতের অর্থায়নের ৩০ শতাংশ নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে ব্যবহৃত হয়েছে। তৃতীয়ত, বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানো। অবকাঠামো ও নীতিগত পরিবেশ উন্নত হলেও মুদ্রার বিনিময় হারজনিত ঝুঁকি এবং অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা অনেক সময় বিনিয়োগ আটকে দেয়। এসব বাধা দূর করতে গ্যারান্টি, ইকুইটি এবং স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়নের মতো উপকরণ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। তিন বছরে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ বেড়েছে তিন গুণ বেসরকারি খাত থেকে অর্থ সংগ্রহে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে বাঙ্গা বলেন, ২০২২ অর্থবছরে সংস্থাটির বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ করা হয়েছিল। গত অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে। অর্থাৎ তিন বছরে এ পরিমাণ তিন গুণের বেশি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নের সঙ্গে এই অর্থ যুক্ত করে গত অর্থবছরে সংস্থাটির মোট অর্থায়নের পরিমাণ ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। বাঙ্গা জানান, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ প্রায় তিন গুণ হয়েছে। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে তা চার গুণ হয়েছে এবং আফ্রিকাজুড়ে বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। তবে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে বাণিজ্যিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এখনো কঠিন। এসব দেশে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি ডলারে স্থির রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলোর (এমএসএমই) জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করছে বিশ্বব্যাংক। কারণ, বড় প্রতিষ্ঠান যেখানে এখনও গড়ে ওঠেনি, সেখানে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। গত অর্থবছরে ১১০টি দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে পুঁজি সংগ্রহ করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারত এগিয়ে থাকলেও রোমানিয়া, চিলি, পোল্যান্ড ও ব্রাজিলের বিনিয়োগকারীরাও অংশ নিয়েছেন। উন্নয়ন অর্থায়নে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ বাঙ্গা বলেন, উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, দাতব্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তিকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর ওপর। তবে প্রতিটি দেশের প্রয়োজন, সক্ষমতা ও ঝুঁকি অনুযায়ী অর্থায়নের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। যেসব দেশে প্রয়োজন বেশি এবং ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা কম, সেখানে সরকারি ও স্বল্পসুদের উন্নয়ন অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। দেশগুলোর অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ ও বাজারভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে হবে। তিনি জানান, গত তিন বছরে বিশ্বব্যাংক প্রকল্প প্রস্তুতির সময় ১৯ মাস থেকে কমিয়ে নয় মাসে এনেছে। ফলাফলভিত্তিক অর্থায়নের পরিমাণ মোট অর্থায়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে বাড়িয়ে অর্ধেকে উন্নীত করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের লক্ষ্য হলো এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে দেশগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়িয়ে ধীরে ধীরে উন্নয়ন সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। বিদ্যুৎ, পানি ও কৃষিতে বড় লক্ষ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিদ্যুৎ ও অন্যান্য মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন বাঙ্গা। আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ‘মিশন ৩০০’ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে আফ্রিকার ৩০ কোটি মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বাঙ্গা জানান, ইতিমধ্যে ৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছেন। ২০২৪ অর্থবছরে ১ কোটি ২০ লাখ, ২০২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৮০ লাখ এবং সর্বশেষ অর্থবছরে ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে অংশীদারদের সঙ্গে এক শ কোটি মানুষের পানি নিরাপত্তা উন্নয়নের লক্ষ্য রয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের। এর মধ্যে সংস্থাটির নিজস্ব লক্ষ্য ৪০ কোটি মানুষ। কৃষি খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষককে জীবিকানির্ভর উৎপাদন থেকে উদ্বৃত্ত উৎপাদনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের লক্ষ্য ২০ কোটি কৃষককে সহায়তা করা। স্বাস্থ্য খাতে ‘হেলথওয়ার্কস’ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ কোটি মানুষের কাছে মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাঙ্গার ভাষ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রায় ৬০ কোটি মানুষ এ উদ্যোগের আওতায় এসেছে। ছয় উন্নয়ন ব্যাংকের উদ্যোগে বিনিয়োগের নতুন পথ উন্নয়ন অর্থায়নের পরিধি বাড়াতে ছয়টি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক যৌথভাবে বিনিয়োগ মূল্যায়ন, নথিভুক্তকরণ, প্রকল্প প্রস্তুত এবং বিনিয়োগ এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তরের অভিন্ন পদ্ধতি তৈরির কাজ করছে। বাঙ্গা বলেন, একটি প্রকল্পে উন্নয়ন ব্যাংক অর্থায়ন করার পর সেটি অন্য বিনিয়োগকারীর কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হলে প্রথম প্রতিষ্ঠানটির মূলধন নতুন প্রকল্পে ব্যবহার করা যাবে। এতে একই মূলধন দিয়ে আরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে। পেনশন তহবিল, বিমা প্রতিষ্ঠান ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের মতো বড় বিনিয়োগকারীদের হাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য বিপুল অর্থ রয়েছে। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে এসব অর্থ উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত করার সুযোগ বাড়বে। বাঙ্গার মতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাজারে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে উদীয়মান বাজারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ঘিরে নতুন একটি বিনিয়োগযোগ্য সম্পদশ্রেণি গড়ে উঠতে পারে। এতে উন্নয়ন অর্থায়নের পরিমাণ শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন উন্নয়ন মডেল ভাষণের শেষাংশে অজয় বাঙ্গা বলেন, ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ৪৪টি দেশের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারে একত্র হয়েছিলেন। সে সময় তারা শুধু নিজ নিজ দেশের দিকে মনোযোগ না দিয়ে একটি দেশের পুনর্গঠন অন্য দেশগুলোকেও শক্তিশালী করতে পারে—এমন ধারণায় আস্থা রেখেছিলেন। সেই চিন্তা থেকেই বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। বর্তমান প্রজন্মের চ্যালেঞ্জও একইভাবে সম্মিলিত উদ্যোগের দাবি রাখে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, উন্নয়ন কাঠামোর লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু দাতব্য সহায়তা দেওয়া নয়, বরং এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা দেশগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। বাঙ্গা বলেন, যেখানে বাজার পৌঁছাতে পারেনি, সেখানে সরকারি অর্থায়ন প্রয়োজন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়াতে বেসরকারি পুঁজি কাজে লাগাতে হবে। নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনের প্রাথমিক ঝুঁকি নিতে পারে দাতব্য অর্থায়ন। আর প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি ডলারের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, গত প্রজন্মের উন্নয়ন মডেল হুবহু অনুসরণ না করে আগামী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কর্মসংস্থানের ঘাটতি নিয়ে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সেটিই ভবিষ্যতের অনিবার্য বাস্তবতা নয়। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ইতিমধ্যে নতুন অর্থায়ন মডেলের সম্ভাবনা দেখাতে শুরু করেছে। এখন প্রয়োজন সেই উদ্যোগকে আরো বড় পরিসরে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামালের দাম সম্প্রতি ৯ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে এর বিপরীতে উৎপাদিত খাদ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ। ফলে বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না অনেক ফিড উৎপাদক। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সংকুচিত হচ্ছে এ খাতের মুনাফা। এতে দেশের পোলট্রি ফিড শিল্প গভীর চাপের মুখে পড়েছে। তবে ফিডের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, মুনাফা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই খাদ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে খামারিদের ওপর। এর ফলে মুরগি ও ডিমের দামও বাড়ছে বলে দাবি তাদের। অন্যদিকে ফিড উৎপাদকদের বক্তব্য, কাঁচামালের দাম যে হারে বেড়েছে, সেই তুলনায় উৎপাদিত খাদ্যের দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ খাতে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র হওয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠান এককভাবে দাম বাড়াতে দ্বিধায় থাকে। কারণ, দাম বাড়ালে বাজারের অংশীদারি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত মুনাফায় ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে ফিড উৎপাদকদের। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি ভুট্টার দাম ৩১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। একই সময়ে সয়াবিন মিলের দাম প্রতি কেজি ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা হয়েছে, যা প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। পোলট্রি খাদ্য তৈরির প্রধান উপাদান ভুট্টা ও সয়াবিন মিল। কিন্তু এ সময়ে প্রতি কেজি পোলট্রি ফিডের দাম ৬৮ টাকা থেকে বেড়ে ৭২ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ খাদ্যের দাম বেড়েছে মাত্র ৭ শতাংশের মতো। অন্যান্য কাঁচামালের দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি ডি-অয়েলড রাইস ব্রানের দাম ২৬ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ টাকা, রাইস ব্রানের দাম ৩৩ টাকা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা এবং সরিষার খৈলের দাম ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে। কাঁচামালের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পোলট্রি খাদ্যের উৎপাদন ব্যয়ে। আর খাদ্যের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই মুরগি ও ডিম উৎপাদনের খরচও বেড়ে যায়। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে মুরগি ও ডিমের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পোলট্রি শিল্পের অংশীজনরা সরকারের কাছে কাঁচামালের আমদানি কর কমানোর দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি ও আন্তা ফিড মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, গত আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন মিলের দাম ১০০ ডলার বা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ৫৩০ ডলারে পৌঁছেছিল। তিনি বলেন, ‘আগস্টের শেষ দিকে প্রতি কেজি ফিডের দাম ২ টাকা এবং সেপ্টেম্বরে আরো ২ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এর পরও ফিড মিল মালিকরা লোকসান করছেন।’ তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিও এ সংকটের অন্যতম কারণ। ব্রাজিলে ভুট্টার দাম বাড়ার পর বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে বেড়েছে জাহাজভাড়া। প্যারাগন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ‘বিশ্বের অন্য কোথাও কাঁচামালের দাম বাড়লে কিংবা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের বাজারে পড়ে।’ কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহতেশাম বি শাহজাহান বলেন, ‘পোলট্রি খাদ্য উৎপাদনে প্রায় ৮০ ধরনের উপাদান প্রয়োজন হয়। এসব উপাদানের দাম সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।’ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে পোলট্রি শিল্পে আয়কর ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট লাভ অনেক কমে গেছে। আকিজ ফিড মিলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা এ টি এম হাবিবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন ভুট্টার দাম ২৩৫ ডলার থেকে বেড়ে ২৯০ ডলারে উঠেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সব উপকরণের দাম বাড়লে আমরা কিভাবে আগের দামে পোলট্রি ফিড বিক্রি করব?’ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও পদ্মা ফিড মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ারুল হক বলেন, দেশের পোলট্রি ফিড শিল্পের কাঁচামালের প্রায় ৬৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি কিংবা সরবরাহব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে এ খাত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, ‘কাঁচামালের দাম যে হারে বেড়েছে, তার তুলনায় ফিডের দাম সামান্যই বাড়ানো হয়েছে। এখন আমাদের টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কাঠামো পর্যালোচনা করে ব্রয়লার গ্রোয়ার ফিডের উৎপাদন ব্যয় প্রতি কেজি ৬১ টাকা ৭৭ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৬৯ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ হিসাব কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। তাই পুরো শিল্পের বর্তমান মুনাফার চিত্র বুঝতে আরও বিস্তৃত তথ্য প্রয়োজন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে প্রাণিখাদ্যের চাহিদা বেড়ে এক কোটি টনে পৌঁছতে পারে। ওই সময় মোট প্রাণিখাদ্যের ৬৫ শতাংশ চাহিদা আসবে পোলট্রি খাত থেকে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদল বৈঠক করে চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবে। মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে কোনো সমস্যা না থাকলেও, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো কীভাবে চূড়ান্ত রূপ পাবে, তা যৌথ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দিনের শুরুতে সিরিকিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যাংক অব আমেরিকা, গুগল, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও মুডিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, ঋণসংক্রান্ত বিষয়, আর্থিক খাতের সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কাঠামো চুক্তি তৈরি করা হচ্ছে। সকালে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বই সবচেয়ে বড় শক্তি। সরকার হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে সব উন্নয়ন সহযোগীর আন্তরিক সমর্থন ও যৌথ প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংস্থা দুটির প্রধানরা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী চাপে থাকলেও সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার পাশাপাশি নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আজ ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এর আগে সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ড. তিতুমীর বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার এসব চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ যতটা সম্ভব সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অতীতের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করছে। ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় দুর্বলতা ছিল উপকারভোগী বাছাইয়ে ত্রুটি। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তাদের অনেকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। অন্যদিকে, যাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা নয়, তারাও তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ডিজিটাল জনপরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো যায়। তিনি বলেন, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে। সরকারের এসব কর্মসূচি কোনো কল্পনাপ্রসূত পরিকল্পনা নয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কারও জরুরি। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং কর ফাঁকি, কর জালিয়াতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা। এ লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা কাজের ফলাফলের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে। আইএমএফের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন পূর্বাভাসের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শর্ত ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাসকে সেই প্রেক্ষাপটেও দেখতে হবে। অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সংস্কারের মাধ্যমে তা দূর করতে চায়। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারছেন। আমানত উত্তোলনের পাশাপাশি অনেকেই অর্থ জমা রাখছেন, যা আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাও আর্থিক খাতে পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক লক্ষণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সারের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সংকটের কারণে সৃষ্ট বাড়তি ব্যয়ের হিসাব করলেই অর্থনীতির ওপর এর পূর্ণ প্রভাব বোঝা যাবে না। কৃষকদের ওপর চাপ কমাতে ডিজেলের দাম না বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। সংকট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের ভূমিকা না থাকলেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরকার এর প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করছে। তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করা। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুইন সিরিকিত জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, উন্নয়ন অর্থায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও আর্থিক খাতের সংস্কার সভার আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ সভা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন ও নিজস্ব অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ ৯.৯৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে পাওয়া ৮.৮৫৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১২.৯ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশে ১.৪০৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সে এসেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১.২৭০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১০.৬ শতাংশ বেশি। শুধু ১৩ অক্টোবর প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১১৫ মিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় শক্তিশালী করতে এবং চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে বৈদেশিক খাতকে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ প্রস্তাবিত তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন সেবার জন্য একটি চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বর্তমানে পরিশোধিত ব্যয়ের চেয়ে ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি ফি দিতে যাচ্ছে। মহেশখালীর কুতুবজোমে ৬০০ থেকে ৭৫০ এমএমসিএফডি ক্ষমতার অফশোর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিএনইই) বিল্ড-ওন-অপারেট (বিওও) মডেলের অধীনে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে দৈনিক ৩ লাখ ৪২ হাজার ডলার ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। বিওও কাঠামোর কারণে টার্মিনালের মালিকানা অনির্দিষ্টকালের জন্য এই চীনা প্রতিষ্ঠানের হাতেই থেকে যাবে, যেখানে পূর্ববর্তী প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো মূলত বিল্ড-ওন-অপারেট-ট্রান্সফার (বিওওটি) মডেলে করা হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে পেট্রোবাংলাকে বিনামূল্যে টার্মিনালের মালিকানা হস্তান্তরের শর্ত যুক্ত ছিল। বর্তমান বাজার ব্যবস্থার সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, সিএনইই-র দাবি করা ফি এক্সিলারেট এনার্জির দৈনিক ২ লাখ ৫৪ হাজার ডলার এবং সামিট এলএনজি টার্মিনালের ২ লাখ ৪৯ হাজার ১১৫ ডলার ফির তুলনায় বহুগুণ বেশি। এই প্রস্তাবিত ফি এক্সিলারেটের তুলনায় প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সামিটের তুলনায় প্রায় ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এমনকি ২০২৪ সালের মার্চে সামিটের বাতিল হওয়া দ্বিতীয় এফএসআরইউর জন্য বিওওটি মডেলে পেট্রোবাংলা যে দৈনিক ৩ লাখ ডলারের ফি নির্ধারণ করেছিল, নতুন এই বিওও চুক্তির প্রস্তাবিত চার্জ তার চেয়েও অনেক বেশি। এছাড়া রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) ২০২৫ সালের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় সুপারিশকৃত দৈনিক ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৩ ডলারের বেঞ্চমার্ক হারের চেয়েও চীনা কোম্পানিটির প্রস্তাবিত ফি অনেক উপরে। সামিটের বাতিল হওয়া দ্বিতীয় এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্পটি বিওওটি মডেলে বাস্তবায়নের কথা ছিল। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামিট চুক্তিটি পুনর্বহালের অনুরোধ জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের প্রস্তাবিত প্রকল্প চালু হলে ১৫ বছর পর ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ), মুরিং ব্যবস্থা এবং সাবসি পাইপলাইনের মালিকানা বিনা মূল্যে পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা যেত। পেট্রোবাংলায় পাঠানো সাম্প্রতিক চিঠিতে দৈনিক ফির পার্থক্য তুলে ধরে সামিট জানিয়েছে, শুধু এ খাতেই ১৫ বছরে ২৩ কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয় সম্ভব। এদিকে, দরকষাকষির বিভিন্ন ধাপে সিএনইই তাদের প্রাথমিক চাওয়া ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১৭৪ ডলার থেকে কিছুটা কমিয়ে আনে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নানের নেতৃত্বাধীন ৭ সদস্যের দরকষাকষি কমিটি সরকারের কাছে বিওও মডেলে ১৫ বছর মেয়াদে দৈনিক ৩ লাখ ৪২ হাজার ডলার অথবা ২০ বছর মেয়াদে ৩ লাখ ২৯ হাজার ডলার ফি গ্রহণের সুপারিশ তুলে ধরেছে, যার মোট বাধ্যবাধকতার আর্থিক মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ ও জাহাজ নির্মাণ সামগ্রীর চড়া দামের অজুহাত দেখিয়ে সিএনইই বিওও মডেলে এই বাড়তি দাম চাইলেও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা ছাড়া এমন বিওও বা বিওওটি সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়া সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিওও ভিত্তিতে এই বিশাল চুক্তি সম্পন্ন করা এবং অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত পুনরায় ভেবে দেখার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে কাতার এনার্জি ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহ অর্ধেক কমিয়ে দেওয়ায় দেশে জ্বালানি সংকট চরমে পৌঁছেছে, যার ফলে বাংলাদেশকে চড়া দামে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে এবং চলতি অর্থবছরে এলএনজি ভর্তুকি বেড়ে ৪০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করা হচ্ছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ঘোষিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন না করায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রযোজ্য সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপনের আগে ঘোষিত ডিভিডেন্ডের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা এবং ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ ও সভায় উপস্থাপন বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে বিদ্যমান নির্দেশনা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১ হাজার ৩৩তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় ডিভিডেন্ড বিতরণসংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপালনের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ডিভিডেন্ড বিতরণে নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কমিশনের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি বার্ষিক বা চূড়ান্ত ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলে সেই ডিভিডেন্ডের সম্পূর্ণ অর্থ বিতরণের উদ্দেশ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের অন্তত এক দিন আগে একটি পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হয়। এ অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করাও বাধ্যতামূলক। নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকের ওই প্রত্যয়নপত্র কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিবের মাধ্যমে সত্যায়িত করতে হবে। পরে প্রত্যয়নপত্রটি বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে জমা দিতে হয়। তবে সম্প্রতি কিছু ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে কমিশনের নজরে এসেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১০৩৩তম কমিশন সভায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রযোজ্য সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লভ্যাংশসংক্রান্ত প্রস্তাব বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ জন্য বিদ্যমান নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ঘোষিত ডিভিডেন্ডের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ এবং তা বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপন করার বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে কোনো কোম্পানি সভায় ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারবে না। অর্থাৎ, ডিভিডেন্ডের অর্থ সংরক্ষণ ও ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপনের শর্ত পূরণ না হলে এজিএমে ডিভিডেন্ডের প্রস্তাব উপস্থাপনের সুযোগ থাকবে না। স্বতন্ত্র পরিচালক পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ হচ্ছে এদিকে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড, ২০১৮ এবং পরবর্তী সময়ে এ কোডে আনা সংশোধনীগুলোর আওতায় কোনো স্বতন্ত্র পরিচালককে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হালনাগাদ ক্লিন ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদন পাওয়ার শর্তে কমিশনের সম্মতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র পরিচালকদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসংক্রান্ত শর্তে পূর্বে দেওয়া অব্যাহতির প্রয়োগ নিয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড, ২০১৮-এর শর্ত ১(৩)(ঘ) অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালককে কোডের শর্ত ১(৩)(খ) ও ১(৩)(গ)-তে উল্লেখিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসংক্রান্ত কোনো বিধান থেকে আগে অব্যাহতি বা শিথিলতা দেওয়া হয়ে থাকলে, সেই অব্যাহতি পরবর্তী নিয়োগের ক্ষেত্রেও কার্যকর থাকবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো স্বতন্ত্র পরিচালককে অন্য কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে নতুন করে নিয়োগ অথবা একই কোম্পানিতে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে দেওয়া অব্যাহতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে। ফলে একই বিষয়ে নতুন করে অব্যাহতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। বিএসইসির মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কমিশনের ১০৩৩তম সভায় গৃহীত এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে লভ্যাংশ বিতরণসংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপালন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বা নতুন বাজারের মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে রপ্তানির প্রায় ৫৭ শতাংশ। দেশগুলো হলো—জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই পাঁচ দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১০২ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৯.৬২ শতাংশ। পর্যালোচনাধীন সময়ে সব অপ্রচলিত বাজার মিলিয়ে মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮১ কোটি ডলারের। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এটি মোট অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির ১৮.৯৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ২.৬১ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় তিন মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২০ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.০২ শতাংশ বেশি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তবে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে একমাত্র ভারতেই রপ্তানি কমেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৫.৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তুরস্কে। দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১২৩.১৪ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ায় পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৮.৮১ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। প্রথম তিন মাসের সামগ্রিক চিত্রের পাশাপাশি একক মাস হিসেবেও সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মাসটিতে শীর্ষ পাঁচ দেশে পোশাক রপ্তানি ১৬.৭৭ শতাংশ বেড়ে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সেপ্টেম্বরেও প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল তুরস্ক। দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২২৪.৯৩ শতাংশ, যার পরিমাণ ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৭.৮৮ শতাংশ এবং জাপানে ৫.১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে এ সময়ে ভারতে রপ্তানি কমেছে ০.৮৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ০.১৪ শতাংশ। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও ভয়েস অব অ্যাপারেলের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির অংশ ও প্রবৃদ্ধি বাড়া অত্যন্ত ইতিবাচক। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রচলিত বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে নতুন বাজার সম্প্রসারণ জরুরি। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ অপ্রচলিত বাজারগুলোতে যাচ্ছে। এই অংশ বাড়াতে পারলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। দেশটিতে আরও বেশি পোশাক রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। একইভাবে ভারতের বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও তা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রয়ক্ষমতা ভালো হওয়ায় সেখানেও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে পণ্যের গুণগত মানের পাশাপাশি এফওবি মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব বাজারে শুধু পণ্যের পরিমাণ নয়, বৈচিত্র্য, মান ও মূল্যের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই মূল্য সংযোজিত ও উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজারগুলোতে আরও মনোযোগ দিতে হবে।
আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক এ অর্থ ঋণ হিসেবে দেবে, আর ঋণের গ্যারান্টি দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কয়েক ধাপে এ অর্থ ছাড় করা হবে। এর বড় অংশ দিয়ে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।ৎ সোমবার (১২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ন্যাশনাল ব্যাংক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চেয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি অর্থ না দিয়ে ঋণের জামিনদার হিসেবে থাকবে। সূত্রগুলোর ভাষ্য, অতীতের অনিয়ম ও আর্থিক দুরবস্থায় সংকটে পড়া ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে ১৫ অক্টোবর থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের প্রস্তুতি শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। গত রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে টাকা উত্তোলনের আবেদন নেওয়া হচ্ছে, যা চলবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে আমানতকারীরা টাকা তুলতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম চালু করা হবে। সব শাখায় আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের চাহিদা নেওয়া হচ্ছে। ২০ অক্টোবর থেকে আবেদন না করলেও সব গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন বলে জানান তিনি। মেলিতা মেহজাবীন আরও বলেন, অনেক আমানতকারী আপাতত টাকা তুলতে চাইছেন না। ফলে উত্তোলনের আবেদনও তুলনামূলক কম এসেছে। ব্যাংকটি স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জানান, নিজস্ব তহবিল থেকে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। আবেদন অনুযায়ী নগদ অর্থের ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গ্রামীণ ঋণগ্রহীতাদের বেশিরভাগের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যাচ্ছে ঋণের কিস্তি পরিশোধে। কিস্তি পরিশোধে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করেন এমন ঋণগ্রহীতার হার এক বছরে ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশ হয়েছে। সবচেয়ে দরিদ্র এক-পঞ্চমাংশ ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে এ হার ৭৯ শতাংশ। কিস্তি পরিশোধ ও জরুরি খরচ মেটাতে অনেক পরিবারকে আবার মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে গ্রামীণ পরিবারগুলোর ঋণনির্ভরতা বাড়লেও কৃষিতে অর্থায়নের অংশ কমছে। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়ন : প্রমাণ ও নীতিসংলাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণায় এসব তথ্য উঠে আসে। এতে বক্তব্য দেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. একে এনামুল হক, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান প্রমুখ। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ঋণ নেওয়া গ্রামীণ পরিবারের হার ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে। অথচ মোট গ্রামীণ ঋণে কৃষির অংশ ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ গ্রামীণ পরিবারে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও কৃষি খাতে ঋণের অংশ কমছে। গ্রামীণ ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ আসছে এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে। ঋণ পরিশোধের চাপের পাশাপাশি এক ঋণ শোধ করতে আরেক ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে একই সঙ্গে মহাজনের কাছ থেকেও ঋণ নেওয়ার হার ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯ শতাংশ হয়েছে। এতে ঋণ পরিশোধের দায় মেটাতে গিয়ে পরিবারগুলো আরও ব্যয়বহুল ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়নকে শুধু ঋণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। কৃষি উপকরণ সরবরাহ, উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ- পুরো ব্যবস্থায় অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের আয় ও উৎপাদন মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণের কিস্তি নির্ধারণ করা জরুরি। পিকেএসএফের এমডি ফজলুল কাদের বলেন, খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়নের ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন পর্যায়ে ঋণ দিলেই হবে না; সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপেও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কৃষিতে উৎপাদন খরচ কমাতে এবং মূল্য সংযোজন বাড়াতে পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি ও কার্যকর অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ। বিআইডিএসের মহাপরিচালক এনামুল হক বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা জরুরি। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা না গেলে কৃষকের ঋণের বোঝা বাড়তে পারে এবং অনেকে কৃষি ছেড়ে দিতে পারেন। এমআরএ’র নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্ষুদ্রঋণ খাতের অর্থায়ন ও সেবামূল্যের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তার উপস্থাপনায় বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ খাতের সঞ্চিত উদ্বৃত্ত ২০০৬ সালের ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ সেবামূল্য ২৪ শতাংশ। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বেশি সঞ্চয় সংগ্রহ করতে পারলে অর্থায়নের খরচ ও সেবামূল্য কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়েও গবেষণা প্রয়োজন। কৃষি সচিব সেলিম খান কৃষির যান্ত্রিকীকরণে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দুই শতাংশেরও কম কৃষক পরিবারের নিজস্ব ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার রয়েছে। কৃষিযন্ত্র কেনার অর্থের মাত্র ২ থেকে ৭ শতাংশ ব্যাংক থেকে আসে। ফলে অনেক উদ্যোক্তাকে যন্ত্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিস্তিতে যন্ত্র কিনতে হয়। কৃষিযন্ত্রের আয়ও মৌসুমনির্ভর। বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে এপ্রিল ও মে মাসে আয়ের বড় অংশ আসে। কিন্তু মাসিক কিস্তি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় বছরের অন্য সময়ে অর্থসংকট তৈরি হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, গবাদিপশু খাতেও অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। দেশের কৃষি জিডিপির ৭ দশমিক ৬ শতাংশ আসে এ খাত থেকে এবং ৯০ শতাংশ গবাদিপশুর মালিক ক্ষুদ্র কৃষক। অথচ কৃষিঋণের ৫ শতাংশেরও কম এ খাতে যায়। গবেষণায় গরু মোটাতাজাকরণে ছয় মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মুনাফার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এ খাতে ঝুঁকি ভাগাভাগিভিত্তিক অর্থায়ন কৃষকের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে কি-না, তা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। কর্মশালায় আলোচকরা মনে করেন, কৃষকের আয় ও উৎপাদন মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিস্তি, কৃষিযন্ত্র কেনায় সহজ অর্থায়ন এবং ঝুঁকি ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। ঋণ পরিশোধে আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে হলে পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানো ও উৎপাদনে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হয়। তাই শুধু ঋণের প্রবাহ বাড়ানো নয়, ঋণের শর্ত ও অর্থায়নের কাঠামোও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বাংলাদেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৭৮ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে এফডিআই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৬.৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান উৎস ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়। সোমবার ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫.০৮ শতাংশ বেড়ে ২৬০.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের মতে, এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত যে, বাংলাদেশে ব্যবসা করা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুনাফা করছেন এবং সেই মুনাফা আবার এ দেশেই বিনিয়োগ করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লিখিত প্রান্তিকে নিট ইকুইটি মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭৭.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৭৭ শতাংশ কম। এর কারণ হিসেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ বলেছে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন বিনিয়োগের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫.১৭ শতাংশ কমে ৮.৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ খাতে মোট ৩৩৩.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণপ্রবাহ এলেও বিদ্যমান ঋণের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পরিশোধ হওয়ায় নিট ঋণপ্রবাহ কমেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে সারা দেশে বিনিয়োগ সহায়তা প্রদান এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন। এপ্রিল-জুন ২০২৬ প্রান্তিকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) বাইরের খাতে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ৪.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৩৩ শতাংশ কম। তবে আগের প্রান্তিকের ০.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় এ খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে, এটা অবশ্যই ইতিবাচক। বর্তমান বৈশ্বিক পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব রক্ষণশীল থাকায় নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জিং। তবে বাংলাদেশে যারা ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এর ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, আমরা বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করছি, যাতে বাংলাদেশে আরও বেশি ও উচ্চমানের বিদেশি বিনিয়োগ আসে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি আমাদের ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগের দিকে এগিয়ে নিতে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের জন্য আরও প্রস্তুত করা সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে রচি আরও বলেন, ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পটি এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। এখন এর উন্নয়নকাজ এগোচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে এবং এই অঞ্চলকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে। আমাদের ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে কী কী কাজ হয়েছে, আর কোথায় আরও কাজ করা প্রয়োজন, তা আমরা জানিয়েছি। সামনে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও নিয়মিত জানাব। আমরা চাই, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন কারখানা ও কর্মসংস্থানে রূপ নিক।’
বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে কাজ এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার কার্যক্রম শুরুর সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এই চাপ মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতেও সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা কেবল বিদ্যমান তহবিলের ব্যবহারে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতের সংকট থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায়ও পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুই পক্ষের অংশীদারত্বের মাধ্যমে কীভাবে সহযোগিতার পরিধি ও কার্যকারিতা বাড়ানো যায়, তা নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নেওয়া উদ্যোগগুলোর সামঞ্জস্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। আলোচনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন এবং এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে বিশ্বব্যাংকের সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ, অর্থায়নের ধরন কিংবা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৪৯৮ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এ ঋণের পরিমাণ আগের প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত জুনের শেষে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৫১০ কোটি ডলারে। আগের প্রান্তিকের শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তিন মাসে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৪১৯ কোটি ডলার। তবে একই সময়ে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ কমেছে। মার্চের শেষে এ খাতের ঋণের পরিমাণ ছিল ২০ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। জুনের শেষে তা কমে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিন মাসে বেসরকারি খাতের ঋণ কমেছে ১৪ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনের শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের ৮৭ দশমিক ৫২ শতাংশই ছিল দীর্ঘমেয়াদি। এর পরিমাণ ১০০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। ঋণদাতার ধরন অনুযায়ী, গত জুনের শেষে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৮ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ঋণ ছিল ১০ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ, ক্রেতাঋণ (বায়ার্স ক্রেডিট) ও বাণিজ্যঋণ কমে যাওয়ায় এ খাতের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। বিপরীতে, আলোচ্য প্রান্তিকে সরকারি খাতের ঋণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।
পুঁজিবাজারে সম্ভাব্য ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ারের দর কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল), ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন তদন্তের আওতায় এসেছে। গত ৭ অক্টোবর জারি করা সংশোধিত নির্দেশনায় বিএসইসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট লেনদেনে ইউনাইটেড গ্রুপের চিফ অ্যাডভাইজার হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের (ইউইসিএল) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন যুগ্ম পরিচালক জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক আলী আহসান। কমিটিকে সংশোধিত আদেশ জারির দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিশনের মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের পরিদর্শন ও তদন্ত শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযোগগুলো বিস্তারিত অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। জানা গেছে, এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহর দাখিল করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অন্য ব্যক্তির নামে খোলা বেনামি বিও ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করা হয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে বেআইনি ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ারের দর প্রভাবিত করার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অনুসন্ধান করবে কমিশন। তদন্তের অংশ হিসেবে ইউনাইটেড পাওয়ার, সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠান, মালিকানা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাসঙ্গিক ব্যাংক হিসাব, বিও ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগী ও নিকটাত্মীয়দের হিসাবও প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে। এসব হিসাবের প্রকৃত মালিক, নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি এবং লেনদেন থেকে সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেবে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া শেয়ার কেনার অর্থের উৎস, ব্যাংকিং লেনদেনের গতিপথ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো সন্দেহজনক অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। শেয়ার লেনদেন থেকে পাওয়া নগদ লভ্যাংশ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার চূড়ান্ত প্রাপক কারা, সেটিও অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্দেহভাজন বিও অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা এবং এসব হিসাব পরিচালনার ক্ষমতা কার হাতে ছিল, তা যাচাই করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জটিল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীর পরিচয় গোপন করেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কেপিসিএল ও ইউনাইটেড পাওয়ারসহ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে বাড়ানো, প্রতারণামূলক লেনদেন বা সংঘবদ্ধ বাজার কারসাজির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট তথ্য কার কাছে ছিল এবং কীভাবে তা বিনিময় হয়েছে, সেসব বিষয়ও পর্যালোচনা করবে কমিটি। তদন্তের আওতায় হাসান মাহমুদ রাজা ও মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের পাশাপাশি অভিযোগকারী এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আইনবহির্ভূত সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু ব্যক্তি বা কোম্পানি নয়, সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং অন্যান্য আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও তদন্তে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে হিসাব খোলা, শেয়ার কেনাবেচার নির্দেশ বাস্তবায়ন, লভ্যাংশ প্রদান ও অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম, অবহেলা কিংবা সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত দল। সিকিউরিটিজ আইন, ইনসাইডার ট্রেডিং নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীর মালিকানা গোপনসংক্রান্ত বিধিবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করাই তদন্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিএসইসির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত তদন্তের বিষয়গুলোর বাইরে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনা যাবে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে।
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে প্রবাসী আয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। প্রবাসী আয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক; আর কৃষি ব্যাংক গত কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এই দুটি ব্যাংক গত অর্থবছর শেষেও প্রবাসী আয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও সেই শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে ব্যাংক দুটি। প্রবাসী আয়–সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের তথ্যের ভিত্তিতে দেশে প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা তৈরি করেছে প্রথম আলো। তাতে দেখা যায়, তালিকায় ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পরের অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ট্রাস্ট ব্যাংক। এ ছাড়া ষষ্ঠ থেকে দশম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে ডাচ্–বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক।] বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয় আহরণকারী দেশের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মধ্যে ২টি সরকারি মালিকানাধীন আর বাকি ৮টি বেসরকারি খাতের ব্যাংক। এই ১০ ব্যাংক মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে প্রবাসী আয় এনেছে প্রায় ৫৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৮৫৯ কোটি ডলার। সেই হিসাবে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে যে প্রবাসী আয় এসেছে, তার দুই–তৃতীয়াংশের বেশি বা ৬৮ শতাংশই এসেছে ১০ ব্যাংকের মাধ্যমে। এবার জেনে নিন চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের কারা কত প্রবাসী আয় দেশে আনল। সেই সঙ্গে কার অবস্থান কোথায়। তালিকায় নতুন যেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নতুন দুটি ব্যাংক জায়গা করে নিয়েছে শীর্ষ দশের তালিকায়। নতুন যুক্ত হওয়া ব্যাংক দুটি হলো ঢাকা ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এই দুটি ব্যাংক নতুন করে তালিকায় জায়গা করে নেওয়ায় গত অর্থবছর শেষের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে দুটি। বাদ পড়া ব্যাংক দুটি হলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। গত অর্থবছর শেষে যে ১০টি ব্যাংক সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় দেশে এনেছিল, সেই তালিকায়ও শীর্ষে ছিল ইসলামী ব্যাংক। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল কৃষি ব্যাংক, তৃতীয় অবস্থানে ব্র্যাক ব্যাংক, চতুর্থ অবস্থানে ট্রাস্ট ব্যাংক, পঞ্চম অগ্রণী ব্যাংক; আর ষষ্ঠ থেকে দশম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে জনতা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্–বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। সেই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এসে শীর্ষ দশের তালিকায় কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থানের বদল হয়েছে। গত অর্থবছর শেষে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ট্রাস্ট ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটি পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে ট্রাস্ট ব্যাংকের এই অবস্থান বদল হয়েছে। গত অর্থবছর শেষে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা জনতা ব্যাংক এবারের তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে; আর তাতে গত অর্থবছরের অষ্টম অবস্থান থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে এসেছে ডাচ্–বাংলা ব্যাংক। সিটি ব্যাংকের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি, রয়েছে সপ্তম অবস্থানে। আর গত বছর শেষের নবম অবস্থান থেকে এবার দশম অবস্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক। এবার জেনে নিন গত অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় আহরণে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় কারা ছিল। সেই সঙ্গে কার অবস্থান কোথায়। গত অর্থবছর শেষে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছিল ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার। যার মধ্যে উল্লিখিত ১০ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছিল মোট প্রবাসী আয়ের দুই–তৃতীয়াংশের বেশি বা ৭১ শতাংশ।
ব্যাংক খাতকে ব্যাপক ‘আর্থিক লুটপাট ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি’ থেকে পুনরুদ্ধারে পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক পিএলসি আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আর্থিক খাতের অর্থপাচার ও অনিয়মের ব্যাপকতা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, তিনি যখন গভর্নরের দায়িত্ব নেন, তখন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের এক-তৃতীয়াংশই লুট হয়ে গিয়েছিল। আর্থিক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগব্যয় তুলে ধরে গভর্নর বলেন, এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে সরকার দুই কোটি পরিবারকে সহায়তা দিতে পারত অথবা পদ্মা সেতুর মতো দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ করতে পারত। ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য সংকটের জন্য দায়ীদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে প্রচলিত শব্দ যথেষ্ট নয়। মোস্তাকুর রহমান বলেন, লুটেরা গোষ্ঠী জনগণের অর্থ লুট করেছে। এটি সাধারণ চুরি নয়; এটি ছিল লুটপাট। গভর্নর আশ্বস্ত করে বলেন, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং লুট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সূত্র: ইউএনবি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যুৎ বিভাগের অনুকূলে ৪১টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে, যেখানে প্রকল্প সাহায্য (বৈদেশিক উৎস) ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এছাড়া সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৩৮১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। জাতীয় সংসদ ভবনে আজ শনিবার জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে আরো জানানো হয় বর্তমানে দেশে গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট। আর প্রকৃত উৎপাদন ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট। প্রকৃত উৎপাদন ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। তরল জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট আর প্রকৃত উৎপাদন আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস,এম, জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও মো. আবুল হাসনাত অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং কমিটির সভাপতি ও সদস্যবৃন্দের সাথে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও বাজেট বরাদ্দ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয় বৈঠকে। বৈঠকে জানানো হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌর ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত গ্রিডে দেওয়া উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে ১০ দশমিক ৫০ টাকা পাবেন। এছাড়া কমিটি রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে কতটুকু বিদ্যুৎ ন্যাশনাল গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে তা আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করে। কমিটি কর্তৃক কিছু প্রশ্ন সম্বলিত লিখিত পেপার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয় যা আগামী বৈঠকে উত্তরসহ উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের বরফ গলানোর বৈঠকে ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়ে জোর দিয়েছে ঢাকা। পাশাপাশি বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পিইটি ফিল্মের ওপর থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও দেশটিতে বিদ্যমান শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে। ভারতের নয়া দিল্লিতে বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকের শুক্রবার দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া দুই দিনের এ সভার আলোচনার বিষয় ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা নিরসন, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকেও আমদানি-রপ্তানিতে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশীয় রপ্তানিকারকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনার জন্য তুলে ধরা হয়েছে। ভারতীয় বাজারে পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসনের পাশাপাশি অন্যান্য বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা চলছে। এলডিসি উত্তরণের পর ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের শুল্কসুবিধা কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়, সেটিও আলোচনার একটি 'গুরুত্বপূর্ণ বিষয়' ছিল বলে তুলে ধরা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। সাফটা চুক্তির আওতায় বর্তমানে পাওয়া সুবিধা উত্তরণের পরও বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পণ্যের মান নির্ধারণে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারণও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে ছিল। ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছিল। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার বিষয়ও তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। বৈঠকে স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম ও শেডের পাশাপাশি পণ্য পরীক্ষা এবং কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া গতিশীল করাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে ভারতের আলোচ্যসূচিতে ছিল তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা নিরসন, আঞ্চলিক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক রুটগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগের উন্নয়ন ও সীমান্ত হাটসংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেয়েছে। ভৌগোলিক নৈকট্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে দুই দেশের। তবে এ সুযোগের সুফল পেতে বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করার পাশাপাশি সীমান্তে পণ্য পরিবহন ও খালাসের সীমাবদ্ধতা নিরসন প্রয়োজন। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে অগ্রগতি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ বৈঠকে অংশ নেয়। জেডব্লিউজিটি সাধারণত বছরে একবার বসে। সর্বশেষ ১৫তম বৈঠক হয় ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর; ঢাকায়। এর আগে ১৪তম বৈঠক হয় ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ; নয়া দিল্লিতে। ২০২৪ সালের অগাস্টে গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা আসে এবং এ নিয়মিত বৈঠক আর হয়নি। এর মধ্যেই ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে। তবে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ খোলা রাখা হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই বছরের জুনে পাট ও কিছু বস্ত্রজাত পণ্যেও নিষেধাজ্ঞা আসে। আগের বৈঠকগুলোতে স্থলবন্দর ও ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট চালু, রেলপথে পণ্য পরিবহন, আঞ্চলিক সংযোগ এবং পণ্যের মান সমন্বয় ও পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (সিইপিএ) প্রস্তুতি ও যৌথ সমীক্ষা, বাংলাদেশে নিত্যপণ্য সরবরাহ এবং পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে ছিল।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল থেকে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৮১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪০ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯৪ টাকা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে স্বর্ণের নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত সোমবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। তখন ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১২১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৬২ দফা কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে বছর ৬৪ দফা দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ দফা কমানো হয়েছিল।
একটি ফ্ল্যাটের নির্মাণ বা বিক্রি হলো না—ক্ষতি কি শুধু একজন আবাসন ব্যবসায়ীর? মোটেও নয়। একটি ফ্ল্যাটের নির্মাণ থেমে যাওয়া মানে থেমে যেতে পারে রডের অর্ডার, সিমেন্টের উৎপাদন, টাইলসের বিক্রি, কাচের সরবরাহ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবসা। কাজ হারাতে পারেন নির্মাণশ্রমিক। কমতে পারে ট্রাকের ভাড়া। কমতে পারে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ। অর্থাৎ আবাসন খাতের দেয়ালে যখন ফাটল ধরে, তার কম্পন পৌঁছে যায় অর্থনীতির বহু প্রান্তে। তাহলে প্রশ্ন—আবাসন খাত বাঁচলে আসলে কত শিল্প বাঁচবে? বাংলাদেশের আবাসন বাজারে এখন এক ধরনের নিঃশব্দ স্থবিরতা বিরাজ করছে। চাহিদা আছে, কিন্তু ক্রয়ক্ষমতা চাপে। প্রকল্প আছে, কিন্তু বিনিয়োগে সতর্কতা। ফ্ল্যাট আছে, কিন্তু অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা অপেক্ষায়। উচ্চ সুদের হার, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, কর ও নিবন্ধন ব্যয় এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে আবাসন ব্যবসার সমীকরণ কঠিন হয়ে উঠেছে। খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার আবাসিক ফ্ল্যাট বিক্রির গতি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আর এখানেই তৈরি হচ্ছে একটি বড় অর্থনৈতিক প্রশ্ন—মানুষ কি ফ্ল্যাট কিনতে চাইছে না, নাকি কিনতে পারছে না? একটি ভবনকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়—ইট, বালি, সিমেন্ট আর রডের সমষ্টি। কিন্তু অর্থনীতির চোখে একটি ভবন আসলে একটি বিশাল সাপ্লাই চেইন। রড আসে স্টিল কারখানা থেকে। সিমেন্ট আসে কারখানা থেকে। বালি-পাথর আসে সরবরাহকারীর কাছ থেকে। এরপর টাইলস, স্যানিটারি পণ্য, কাচ, অ্যালুমিনিয়াম, রং, বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, লিফট—একটির পর একটি শিল্প যুক্ত হয়। আর এসব পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেয় পরিবহন খাত। অর্থাৎ একটি আবাসিক প্রকল্প মানেই একসঙ্গে বহু খাতে অর্থের প্রবাহ। আবাসন খাতের মন্দার প্রথম বড় অভিঘাত পড়ে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে। নতুন ভবন কম হলে রডের চাহিদা কমে। কমে সিমেন্টের চাহিদা। কমে ইট, বালি, পাথর ও অন্যান্য উপকরণের বিক্রি। আর যখন চাহিদা কমে যায়, তখন উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও কারখানা অনেক সময় পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারে না। এর ফলে শুধু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়—ছোট সরবরাহকারী থেকে পরিবহন ব্যবসায়ী পর্যন্ত সবাই চাপের মুখে পড়ে। অর্থাৎ আবাসনের মন্দা শুরু হয় একটি ভবন থেকে, কিন্তু তার অভিঘাত ছড়িয়ে পড়ে একটি শিল্পশৃঙ্খলে। এবার আসা যাক সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গায়—মানুষের জীবনে। একটি ভবন নির্মাণে শুধু প্রকৌশলী বা স্থপতিই কাজ করেন না। সেখানে কাজ করেন রাজমিস্ত্রি, রডমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, টাইলস মিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি এবং অসংখ্য শ্রমিক। নির্মাণকাজ কমলে তাদের আয়ও কমে যায়। আর আয় কমলে কমে বাজারে মানুষের খরচ। এখানেই আবাসন খাতের সংকট একটি বড় মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্টে রূপ নেয়। একজন শ্রমিক কম আয় করলে শুধু তার পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না—যে দোকান থেকে তিনি বাজার করেন, যে পরিবহনে যাতায়াত করেন, যে সেবা নেন—সেখানেও চাহিদা কমে। আবাসন খাতের সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হলো—ব্যাংক। মধ্যবিত্তের বড় একটি অংশ গৃহঋণের ওপর নির্ভর করে ফ্ল্যাট কেনেন। কিন্তু ঋণের সুদ যত বাড়ে, মাসিক কিস্তিও তত ভারি হয়। ফলে সম্ভাব্য ক্রেতা হিসাব করেন— আজ ফ্ল্যাট কিনব, নাকি অপেক্ষা করব? আর এই অপেক্ষাই বাজারের জন্য বড় সংকেত। কারণ একজন ক্রেতা ঋণ নিলে সেই অর্থ যায় ডেভেলপারের কাছে। ডেভেলপার সেই অর্থ ব্যয় করেন নির্মাণে। নির্মাণ কোম্পানি অর্থ দেয় শ্রমিক ও সরবরাহকারীদের। আর সরবরাহকারীরা আবার সেই অর্থ ব্যয় করেন নিজেদের ব্যবসায়। অর্থাৎ গৃহঋণের অর্থ অর্থনীতির ভেতরে ঘুরে বহুবার কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করে। গল্প এখানেই শেষ নয়। একটি পরিবার যখন নতুন ফ্ল্যাটে ওঠে, তখন শুরু হয় আরেক অর্থনৈতিক চক্র। প্রয়োজন হয় খাট, সোফা, ডাইনিং টেবিল, পর্দা, ফ্রিজ, টেলিভিশন, এসি, লাইটিং, ইন্টারনেট। অর্থাৎ আবাসন খাত সচল হলে শুধু নির্মাণ শিল্প নয়—ফার্নিচার, ইলেকট্রনিকস, হোম ডেকর, ইন্টারনেটসহ ভোক্তাপণ্য খাতও লাভবান হয়। তাই আবাসন খাতকে অনেকটা অর্থনীতির স্পন্দনশীল হৃৎপিণ্ডের মতো দেখা যায়—এখানে অর্থের প্রবাহ বাড়লে তার ঢেউ অন্য বাজারেও পৌঁছায়। তাহলে প্রশ্ন—সমস্যার মূল কোথায়? একক কোনো জায়গায় নয়। একদিকে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ। গৃহঋণের খরচ বেশি। ডলারের অস্থিরতা আমদানিনির্ভর কাঁচামালের খরচ বাড়ায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নীতিগত ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা। ফলে বাজারে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক কয়েকটি বিষয়—ক্রেতা অপেক্ষা করছেন। ডেভেলপার অপেক্ষা করছেন। বিনিয়োগকারী অপেক্ষা করছেন। আর অর্থনীতিতে এই অপেক্ষা যত দীর্ঘ হয়, অর্থের প্রবাহ তত ধীর হয়ে যায়। তাহলে সবচেয়ে বড় সংকট কী? আবাসন খাতকে বাঁচাতে শুধু ফ্ল্যাটের দাম কমানোর কথা বললেই হবে না। প্রয়োজন একটি সমন্বিত নীতি। প্রথমত—সাশ্রয়ী গৃহঋণ। দ্বিতীয়ত—মধ্যবিত্তের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং ফাইন্যান্স। তৃতীয়ত—রেজিস্ট্রেশন ও করব্যবস্থায় যৌক্তিকতা। চতুর্থত—নির্মাণসামগ্রীর সরবরাহ ও খরচ কমানোর উদ্যোগ। পঞ্চমত—জমি ও প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—নীতির ধারাবাহিকতা। কারণ আবাসনে আজ বিনিয়োগ করে আগামীকাল লাভ পাওয়া যায় না। এটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা। তাই বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু করছাড় নয়—ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চয়তা। আবাসন খাতকে চাঙা করতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবিও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের যুক্তি—অর্থ যদি দেশের বাইরে চলে যাওয়ার বদলে দেশে বিনিয়োগ হয়, তাহলে আবাসনসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পে অর্থের প্রবাহ বাড়তে পারে। একটি অর্থনীতির শক্তি শুধু তার জিডিপির সংখ্যায় মাপা যায় না। মাপা যায়—কত মানুষ কাজ করছে, কত কারখানা চলছে, কত উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করছেন এবং কত পরিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। আবাসন খাত তাই শুধু ইট-পাথরের গল্প নয়। এটি রড-সিমেন্টের গল্প। এটি শ্রমিকের মজুরির গল্প। এটি ব্যাংকের ঋণের গল্প। এটি ফার্নিচার, সিরামিক, কাচ, ইলেকট্রিক্যাল ও পরিবহন শিল্পের গল্প। সর্বোপরি—এটি অর্থনীতিতে আস্থার গল্প। আবাসন খাতের চাকা থেমে গেলে তার অভিঘাত ছড়িয়ে পড়ে বহু শিল্পে। আর সেই চাকা আবার ঘুরতে শুরু করলে তার সঙ্গে ঘুরতে পারে অর্থনীতির আরো বহু চাকা। কারণ একটি ভবনের ভিত শক্ত হলে শুধু ভবন দাঁড়ায় না—তার সঙ্গে দাঁড়ায় একটি অর্থনীতির বহু স্তম্ভ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।