প্রচলিত বাজারের বাইরে রপ্তানি সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ আমেরিকার ১১টি দেশে ১৯ কোটি ৫১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ অঞ্চলে ব্রাজিল, চিলি ও পেরু বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ব্রাজিলে ৭ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। চিলিতে রপ্তানি হয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য। আর পেরুতে রপ্তানির পরিমাণ ২ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এছাড়া কলম্বিয়ায় ১ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার, উরুগুয়েতে ১ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার এবং আর্জেন্টিনায় ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রচলিত বাজারের বাইরে দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। তৈরি পোশাক এখনো এ অঞ্চলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস হলেও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, গৃহসজ্জার সামগ্রী, হস্তশিল্প ও জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গত ১১ থেকে ১৩ আগস্ট ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’ প্রদর্শনীতে অংশ নেয় বাংলাদেশ। ইপিবির আর্থিক সহায়তায় এবং ব্রাসিলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— জিহান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মাদার ট্যানারি, রেইনবো জুট ও ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস। প্রদর্শনীতে পাঁচটি বুথে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য তুলে ধরে। প্রদর্শনীতে পাটজাত পণ্য, ব্যাগ, চামড়াজাত সামগ্রী, প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি ঝুড়ি, গৃহসজ্জার উপকরণ, বাঁশের পণ্য, টেরাকোটা, মাটির তৈরি সামগ্রী ও নকশিকাঁথা প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্য ও সম্ভাবনাময় খাত সম্পর্কে বিদেশি ক্রেতাদের জানাতে ইপিবি ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকেও একটি প্রচারমূলক বুথ স্থাপন করা হয়। প্রদর্শনী চলাকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। সম্ভাব্য ক্রেতারা বাংলাদেশের স্টল পরিদর্শন করে প্রদর্শিত পণ্যের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের গৃহসজ্জা ও জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি নিয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের ব্যবসায়ী সংগঠন ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং উদীয়মান আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ইপিবি কাজ করছে। এজন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আরও পরিকল্পিত ও পেশাদারভাবে অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং অল্প কয়েকটি রপ্তানি বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়কে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এ কারণে নতুন পণ্য ও নতুন বাজার খুঁজে বের করা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মোহাম্মদ হাসান আরিফ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বাজারের চাহিদা, ভোক্তার পছন্দ, পণ্যের দাম, প্রতিযোগিতা ও ব্যবসায়িক রীতিনীতি সম্পর্কে আগাম গবেষণা করা প্রয়োজন। এতে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের সুফল বাড়বে। একই সঙ্গে জাতীয় প্যাভিলিয়নের ব্র্যান্ডিং জোরদার, রপ্তানিকারকদের প্রস্তুতি উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এর মাধ্যমে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সুযোগে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। ইপিবির পণ্যভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার ১১টি দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তৈরি পোশাকনির্ভর। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ওভেন কাপড়ের পোশাক ও পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার। একই সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ ডলারের। এ দুই শ্রেণির পণ্য মিলিয়ে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা ওই ১১টি দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ। এ সময়ে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। জুতা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে প্রায় ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। এছাড়া অন্যান্য বস্ত্রপণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী ও ভ্রমণসামগ্রীও রপ্তানি তালিকায় রয়েছে। এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ রয়েছে। রপ্তানির হিসাবে ব্রাজিল ও চিলি একত্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ জোগান দিয়েছে। দেশ দু’টিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ফলে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় ব্রাজিল ও চিলি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি পেরু ও কলম্বিয়ায় ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়িয়েও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
পুঁজিবাজারে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সাতটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঘাটতি দূর করতে এবং সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান পরিপালন নিশ্চিত করতে আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানে থাকা চারটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১ হাজার ৩৫তম জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকা নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীন ১২টি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, নিট সম্পদ ও আইনগত শর্ত পর্যালোচনা করে কমিশন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। চার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত বিএসইসির পর্যালোচনায় পর্যাপ্ত নিট সম্পদ ও অন্যান্য মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানে থাকায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি স্টক ব্রোকার হলো প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড ও অ্যাভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। অন্য দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠান হলো পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। আর্থিক ও আইনগত ঘাটতি পূরণে সময় পেল সাত প্রতিষ্ঠান অন্যদিকে, নিট সম্পদের ঘাটতিসহ বিভিন্ন আর্থিক ও আইনগত শর্ত পূরণে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে আগামী বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান হলো— ১. প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড। ২. ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড। ৩. ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড। ৪. পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড। এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকার হিসেবে আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হিসেবে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে একই সময়সীমার আওতায় আনা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি সিকিউরিটিজ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের প্রয়োজনীয় শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এফএএস ক্যাপিটালের জন্য আগের সময়সীমা বহাল এদিকে, এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের আর্থিক ঘাটতি নিরসন ও বিধিবিধান পরিপালনের জন্য আগে থেকেই আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা রয়েছে। বিএসইসির সর্বশেষ সিদ্ধান্তেও প্রতিষ্ঠানটির জন্য নির্ধারিত আগের সময়সীমার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারিতে আর্থিক সক্ষমতা পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিশনের এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন সময়সীমার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মনীতি পরিপালনের সুযোগ পাচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারলে কমিশন পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত সিদ্ধান্তে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি আয় ১৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ইউরো থেকে কমে ১১ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, আট মাসে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ইউরো। রপ্তানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য কমে যাওয়াকে এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আগস্ট মাসের পরিসংখ্যানে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) সংকলিত পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ইউরোপের সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোট ৬০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৬২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ইউরো। সেই হিসাবে আমদানি মূল্য কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ সময়ে আমদানি করা পোশাকের মোট ওজন কমেছে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। পাশাপাশি প্রতি কেজি পোশাকের গড় আমদানি মূল্য ১৯ দশমিক ৯১ ইউরো থেকে কমে ১৯ দশমিক ৬৫ ইউরো হয়েছে, যা ১ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরোতে নেমেছে। অর্থাৎ, রপ্তানির পরিমাণ হ্রাসের পাশাপাশি পোশাকের একক মূল্য কমে যাওয়াও বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগস্টে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত প্রথম আট মাসের সামগ্রিক চিত্র নেতিবাচক হলেও আগস্ট মাসের পরিসংখ্যানে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানি মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। এ সময়ে আমদানির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ কমলেও প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। ফলে আমদানির পরিমাণ কমার পরও মোট আমদানি মূল্যে সামান্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চীন ও ভিয়েতনামের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান পোশাক সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভিয়েতনাম রপ্তানি মূল্যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানি মূল্য ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। একই সময়ে দেশটির রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তবে প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য কমেছে ১ দশমিক ০৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি মূল্য ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৩ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ কমলেও প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ১০ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে। ফলে রপ্তানির পরিমাণ কমার পরও মোট রপ্তানি মূল্যে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে দেশটি। অন্যান্য প্রধান সরবরাহকারী দেশের রপ্তানিও কমেছে চীন ও ভিয়েতনামের বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ প্রধান পোশাক সরবরাহকারী দেশের রপ্তানি মূল্য কমেছে। প্রথম আট মাসে তুরস্কের রপ্তানি মূল্য ১১ দশমিক ০২ শতাংশ কমে ৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। ভারতের রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১১ দশমিক ১২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ১১ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ ছাড়া মরক্কোর পোশাক রপ্তানি মূল্য কমেছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার কমেছে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। দেশভেদে রপ্তানির পরিমাণ ও একক মূল্যের পরিবর্তনেও ভিন্নতা দেখা গেছে। পাকিস্তানের রপ্তানির পরিমাণ ওজনে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বাড়লেও প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য কমেছে ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার রপ্তানির পরিমাণ ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমলেও প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। বাংলাদেশের পোশাক খাতে মূল্যচাপের প্রভাব সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পোশাক আমদানি মূল্য কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় রপ্তানি আয়ে বেশি পতন দেখা গেছে। অন্যদিকে, আগস্ট মাসে ইউরোপীয় বাজারের আমদানি মূল্যে সামান্য প্রবৃদ্ধি কিছুটা আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত দিয়েছে।
প্রচলিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে ঋণগ্রহীতাবান্ধব অর্থায়নের নতুন উদ্যোগ নিয়েছে আগ্রহ সোসাইটি। প্রতিষ্ঠানটি মানিকগঞ্জে চালু করেছে ‘সফট মাইক্রোফাইন্যান্স’ কার্যক্রম। এ ব্যবস্থায় ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকের আর্থিক সামর্থ্য, বাস্তব পরিস্থিতি ও মানবিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। নতুন এই অর্থায়ন পদ্ধতির কার্যক্রম, সুবিধা ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে সফট মাইক্রোফাইন্যান্সের ঋণগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় অংশগ্রহণকারীরা উদ্যোগটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং মডেলটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। ঋণের পাশাপাশি আর্থিক স্বাবলম্বিতায় গুরুত্ব আগ্রহ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম রিদওয়ানুল হক জানান, সফট মাইক্রোফাইন্যান্সের উদ্দেশ্য কেবল ঋণ দেওয়া নয়, বরং মানুষকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা। তিনি এই ব্যবস্থার মূল দর্শনকে ‘ক্যাশ প্লাস কেয়ার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। অর্থাৎ অর্থায়নের পাশাপাশি ঋণগ্রহীতার সামর্থ্য, বাস্তব অবস্থা ও প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া হবে। সার্ভিস চার্জ ও ঋণ পরিশোধের শর্ত প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সফট মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যবস্থায় চক্রবৃদ্ধি সুদ নেই। ঋণের বিপরীতে এককালীন সার্ভিস চার্জ সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ এবং বকেয়া অর্থের ওপর বিলম্ব ফি বছরে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাধ্যতামূলক সঞ্চয় কিংবা জোর করে কোনো পণ্য কেনার শর্ত রাখা হয়নি বলে জানিয়েছে আগ্রহ সোসাইটি। প্রকৃত আর্থিক সংকটে পড়া ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এটিএম রিদওয়ানুল হকের ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য নিম্ন আয়ের মানুষের কাছ থেকে মুনাফা অর্জন নয়; বরং তাঁদের আর্থিক সংকট কাটিয়ে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা। ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা ক্ষুদ্র ব্যবসার সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে এই অর্থায়ন মডেলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। আগ্রহ সোসাইটির প্রত্যাশা, মানুষের প্রয়োজন ও সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে সফট মাইক্রোফাইন্যান্স আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং দায়িত্বশীল ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ঋণ নেওয়ার আগে গ্রাহকদের সার্ভিস চার্জ, পরিশোধের সময়সীমা, বিলম্ব ফি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।
প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বর্ণ সঞ্চয়ের সুযোগ সহজ করার উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ এ দুটি সম্মাননা পেয়েছে গোল্ড কিনেন টেকনোলজিস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ‘ফিনটেক ইনোভেশন অব দ্য ইয়ার টেক’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফিনটেক ইনোভেশন অব দ্য ইয়ার ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন’ বিভাগে পেয়েছে সম্মানজনক স্বীকৃতি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কালবেলা। প্রযুক্তিনির্ভর স্বর্ণ সঞ্চয় উদ্যোগে স্বীকৃতি চতুর্থ বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘Democratising Gold Saving: Technology Enabled Financial Inclusion for Bangladesh’ শীর্ষক উদ্ভাবনের জন্য টেক বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, ‘Making Gold Accessible: A New Path to Financial Inclusion’ উদ্যোগের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগে সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছে তারা। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির তিন সহপ্রতিষ্ঠাতা কামরান সাঞ্জয় রহমান, রাফাতুল বারী লাবিব ও আতেফ হাসান ঈসা পুরস্কার গ্রহণ করেন। তাঁরা যথাক্রমে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। টানা দ্বিতীয় বছর স্বীকৃতি বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো স্বীকৃতি পেল গোল্ড কিনেন। এর আগে ২০২৫ সালের তৃতীয় বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘ফিনটেক স্টার্টআপ অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশের আরও বেশি মানুষের কাছে স্বর্ণ সঞ্চয়ের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া। এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্বল্প অঙ্কের অর্থ দিয়েও ধীরে ধীরে সঞ্চয় গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মাত্র ৫০০ টাকা থেকে স্বর্ণ সঞ্চয়ের সুযোগ গোল্ড কিনেনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকেরা ৫০০ টাকা থেকে দৈনন্দিন নির্ধারিত বাজারদরে ২২ ক্যারেট হলমার্কযুক্ত ও সনদপ্রাপ্ত স্বর্ণ কিনে সঞ্চয় করতে পারেন। জমা করা স্বর্ণ পরে ০.৫ গ্রাম থেকে ১০ গ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের স্বর্ণবার ও কয়েন হিসেবে উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে একবারে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের বাধা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে গ্রাহকেরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে স্বর্ণ সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করতে পারেন। এদিকে অভিনেতা মোশাররফ করিমকে নিয়ে দেশব্যাপী স্বর্ণ সঞ্চয়বিষয়ক প্রচারণাও চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বর্ণ সঞ্চয় সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়ানো এ প্রচারণার অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা খাতে এ ধরনের উদ্যোগের বিস্তার দেশের সঞ্চয় ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে গ্রাহকদের জন্য স্বর্ণের বাজারদর, ক্রয় ও বিক্রির শর্ত, প্রযোজ্য ফি এবং উত্তোলনের নিয়ম জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় দরপতনের মুখে পড়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার। রোববারের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে। দিন শেষে ডিএসইএক্স ৯৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শতাংশের হিসাবে সূচকটির পতন হয়েছে প্রায় পৌনে দুই শতাংশ। গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে এটিই সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে ২ জুন ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে নেমেছিল। শেয়ারবাজারে ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে সূচকটি এ সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তদন্ত নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউস এবং শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তদন্তের এই পরিস্থিতিতে অনেক বড় ও মাঝারি বিনিয়োগকারী নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কেউ কেউ হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ ধরে রাখছেন। এতে ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ারেও বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। রোববার ডিএসইতে মোট ৩৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬টির দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠানের এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। তবে সূচকের বড় পতনের দিনেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৫৭১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৭ কোটি টাকা বেশি। বাজারসংশ্লিষ্টরা লেনদেন বৃদ্ধিকে আপাতত ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনে বেশ কিছু শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ নিয়েছেন। ফলে বাজারে বিক্রির চাপের পাশাপাশি কিছুটা ক্রয়চাহিদাও তৈরি হয়েছে।
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ ফেরত নেওয়ার জন্য ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের দাবির পরিমাণ ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের জন্য রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের সোমবার থেকে টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন শুরু হয়। আলোচ্য পাঁচ ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় জামানত ছাড়াই ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়। এতে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের অর্থও ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক এ পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে। গত ২৫ আগস্ট সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না এমন ঘোষণা দেন গভর্নর। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন বলেও জানানো হয়। এরপর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ১ সেপ্টেম্বর থেকে রবিবার পর্যন্ত গ্রাহকদের আবেদন নেন। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমানত ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হয়েছে। আবেদন যাচাইয়ের করেই তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হবে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল পাওয়া গেছে। মূল টাকা তোলা যাবে, মুনাফা নয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ও মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কাছে ওই গ্রাহকের কোনো ঋণ বা দায় থাকলে টাকা ফেরতের আগে তা আমানতের অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে। যেসব গ্রাহক এখনই আমানত তুলবেন না, তারা হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙলে মূল টাকা পাওয়া গেলেও ওই অর্থের ওপর মুনাফা পাওয়া যাবে না। আংশিক টাকা তুললে অবশিষ্ট অর্থের ওপর প্রযোজ্য নিয়মে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংক শাখাগুলোতে যেন অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমানতকারীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে যাদের তাৎক্ষণিকভাবে অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের প্রথম দিনেই ব্যাংকে না এসে পরবর্তী দিনগুলোতে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, সবাই যদি একই সময়ে টাকা তুলতে ব্যাংক শাখায় উপস্থিত হন, তাহলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে পর্যায়ক্রমে টাকা উত্তোলনের জন্য আমানতকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে বিপুল অর্থ ঢেলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় ১৮ মাসের দায়িত্বকালে পুরোনো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিল পরিশোধ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় মেটাতে সরকারকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। শুধু ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সরকারের কাছ থেকে নগদ ভর্তুকি পেয়েছিল ৫৪ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। এর পরও ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সরবরাহকারীর কাছে মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘জ্বালানিসংকটের মূল কারণ দীর্ঘদিনের ভুল নীতি ও আমদানিনির্ভরতা। আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই একই পথে হেঁটেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সংকট সামাল দিতে আমাদেরও বেগ পেতে হচ্ছে।’ অর্থ বিভাগ বলছে, ৫৪ হাজার কোটি টাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নগদ ভর্তুকি, আর ৫২ হাজার কোটি টাকা ২০২৬ সালের এপ্রিলের বকেয়া রয়েছে। আগের সরকারের ১৬ বছরের জেরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসের জের। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইউনূস সরকারের সময় গেছে পুরোনো বিল পরিশোধ ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার কাজে। কিন্তু আগের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে চলতি বিল পরিশোধ না করায় তা বকেয়া পড়েছে। যার চাপ এসে পড়েছে এখন বিএনপি সরকারের ঘাড়ে। ভর্তুকি কমলেও ঘাটতি কমেনি : ২০২৪ সালের শেষ দিকে ভারতের আদানি পাওয়ারের পাওনা প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেয়। তখন সরকারকে বেশি দামে তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ আদানির পাওনার বড় অংশ পরিশোধ করে। ২০২৫ সালের জুনে প্রায় ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের মাধ্যমে স্বীকৃত পুরোনো বকেয়ার বড় একটি অংশ নিষ্পত্তি করা হয়। এভাবে পুরোনো বকেয়া পরিশোধ হয়, কিন্তু নতুন বকেয়া তৈরির কাঠামো বদলায়নি। ফলে ভর্তুকি কমলেও ঘাটতি কমেনি। সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৩০০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাস বিল, দেশীয় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র এবং ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের বিল রয়েছে। বাড়ানো হয়নি উৎপাদন : অর্থ বিভাগ বলছে, সবচেয়ে বড় অস্বাভাবিকতা হলো উৎপাদন সক্ষমতা ও বাস্তব উৎপাদনের ব্যবধান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে দেশের স্থাপিত গ্রিড বিদ্যুৎ সক্ষমতা ছিল ২৭ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট, অথচ সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৬ হাজার ৬০৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা সর্বোচ্চ উৎপাদনের বিষয়টি কাজে লাগানো হয়নি। দুশ্চিন্তা জ্বালানি নিরাপত্তায় : দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো গ্যাস, কয়লা, এলএনজি ও তরল জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অথচ দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমছে এবং আমদানি নির্ভরতা বাড়ছে। সিপিডির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশের গ্যাস উৎপাদন কমেছে, ফলে উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধানও বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৬ হাজার ৪০৭ গিগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ১৬ শতাংশ এসেছে বিদেশ থেকে। অর্থাৎ দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা থেকে গেছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, চলতি মাসের আর কিছুদিন পরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করব বলে আশা করছি। আমাদের দুটো এফএসআরইউ, তার মধ্যে একটি গত ২১ জুলাই নষ্ট হয়ে যায়। সেটি ১৫ আগস্ট ঠিক হয়ে যাওয়ার পরও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে পারিনি। কারণ আমাদের যে কার্গোগুলো আমদানি করতে হয়, সেগুলো রিসিডিউল করতে হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৮৮ শতাংশ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারলেও বাকি ১২ শতাংশ এখনো পারিনি। আশা করছি দ্রুত এটা করে ফেলব। বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে এবং রামপালের একটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। কারণ তাদের যে কয়লা আসার কথা ছিল, সে লাইটারেজ বঙ্গোপসাগরে আছে। কিন্তু লাইটারেজ করে কয়লা মোংলাতে আনতে হয়। বঙ্গোপসাগর এ মুহূর্তে কিছুটা অশান্ত, সে কারণে কয়লা আনা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আবহাওয়া কিছুদিনের মধ্যে ভালো হবে। সে ক্ষেত্রে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় যদি আসে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা যদি স্বাভাবিক করতে সক্ষম হই তাহলে এর সুবিধা বিদ্যুৎ বিভাগ পাবে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খাতে একটা উন্নতি দেখব। শিল্প খাতে যারা এ মুহূর্তে কিছুটা হলেও ভোগান্তির শিকার এবং এমনকি গৃহস্থালি গ্রাহকরাও যে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তাদের ভোগান্তিও কমবে বলে আশা করছি। আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তাদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে করে তারা পূর্ণ সক্ষমতা অর্থাৎ আমাদের যে পরিমাণ বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা, সে পরিমাণ বিদ্যুৎ যেন আমরা পাই। দিনের বেলা আদানি এখন পর্যন্ত ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেয়। সন্ধ্যার পর থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট দেয়। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ে গড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমরা আদানির কাছে পেতাম। কয়লা সরবরাহের ক্ষেত্রে আদানি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ দেখিয়েছে। সে সংক্রান্ত ছবি এবং ডকুমেন্টও আমাদেরকে সরবরাহ করেছে। তাদের এ বক্তব্যগুলো যৌক্তিক মনে হয়েছে। গ্যাসসংকট প্রসঙ্গে প্র্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের ক্ষেত্রে ৮৮ শতাংশ সরবরাহ ব্যবস্থা রিকভার (পুনরুদ্ধার) করতে সক্ষম হয়েছি, মাত্র ১২ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। ১২ শতাংশ ঘাটতি আমরা মোকাবিলা করে ফেলব। সরকার বাধ্য হয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে বলে জানিয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি চুক্তি যাদের সঙ্গে ছিল, তারা সবাই ফোর্স মেজার ডিক্লেয়ার করেছে। ফলে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। স্পট মার্কেটে দাম বরাবরই বেশি হয়। কিন্তু মানুষের কষ্ট হচ্ছে, শিল্পকারখানা ভুগছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে উচ্চমূল্য দিয়ে হলেও সরকার এলএনজি সংগ্রহ করছে।
বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত লেনদেনের নিয়ম সহজ করতে সমন্বিত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আলাদাভাবে জারি করা নির্দেশনাগুলো একত্র করে নতুন সার্কুলারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। নতুন নির্দেশনাটি এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আগে জারি করা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলারে বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টির বিধানগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে সাজানো হয়েছে। প্রথম অংশে বাণিজ্যিক ঋণ, বিদেশি গ্যারান্টি বা জামানতের বিপরীতে বেসরকারি খাতে অর্থায়ন এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গ্যারান্টি দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিধিবিধান তুলে ধরা হয়েছে। তৃতীয় অংশে বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়া এবং ওই ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে গ্যারান্টি দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে বিদেশি মালিকানাধীন বা বিদেশি নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে চলতি বছরের ১৫ জুলাই বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। নতুন সার্কুলারে বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টি কিংবা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিটের (এসবিএলসি) বিপরীতে দেশীয় উৎস থেকে অর্থায়ন নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ব্যবহার করে দেশে অর্থায়ন নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পাবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশি কোনো কোম্পানিকে দেওয়া চুক্তি বা কার্যাদেশের বিপরীতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা এসবিএলসি দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একই ধরনের নির্দেশনা এক বছরের জন্য জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার আগের নির্দেশনাগুলোকে একত্র করে নতুন করে এক বছরের জন্য সমন্বিত বিধিমালা জারি করা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিধানগুলো একটি সার্কুলারের আওতায় নিয়ে আসায় সংশ্লিষ্টদের জন্য নিয়মগুলো অনুসরণ করা সহজ হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে স্বচ্ছতাও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত ৩১টি অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় বিএফআইইউ জানায়, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমে সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এসব অননুমোদিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগ তালিকা, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে। পরে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিএফআইইউ জানায়, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। সংস্থাটি আরও বলেছে, এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রমের আড়ালে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও অর্থপাচারের ঝুঁকি রয়েছে। তাই ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকাসহ কোনও সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম টাকা, নিবন্ধন ফি বা প্রক্রিয়াকরণ ফি দাবি করা হলেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএফআইইউ। বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অবৈধ বা অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপ হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও। এ ধরনের অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারণার শিকার হলে কিংবা কোনো অবৈধ ঋণদাতা অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউর কাছে অভিযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএফআইইউ বলেছে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই অননুমোদিত ডিজিটাল ঋণ কার্যক্রম থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আরও ১১ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ডিএসই কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা কার্যকর করা হয়েছে। ডিএসইর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুঝহাত আনোয়ারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের সবার নাম ও পদবি তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগের বিমল চন্দ্র, হ্যাপি, পপি, মনোয়ারা, আসমা, মুনজের, ফরিদ ও মোসতাকের নাম জানা গেছে। চাকরি হারানো কর্মকর্তাদের একজন বিমল চন্দ্র বলেন, “আগে কোনো ধরনের নোটিশ বা আলোচনা হয়নি। আজ হঠাৎ ডেকে চাকরি অবসানের কথা জানানো হয়েছে। শুনেছি আমিসহ মোট ১১ জন এই তালিকায় রয়েছেন।” এর আগে সম্প্রতি আরও ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করে ডিএসই। চাকরিচ্যুতরা মানববন্ধন করে দাবি করেছিলেন, আরও প্রায় ১৪০ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে নিরাপদ, সহজ, স্বল্পব্যয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। শুক্রবার (৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী গণি বেকারি পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ব্যয় কমানো এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গভর্নর ৭ ও ৮ আগস্ট চট্টগ্রাম সফর করছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের বিভিন্ন দাপ্তরিক সভায় অংশ নেবেন এবং নগরীতে বাংলা কিউআর প্রচারণা কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। সফরের প্রথম দিনে গভর্নর গণি বেকারি থেকে ঐতিহ্যবাহী বেলা বিস্কুট কিনে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করেন। তিনি বলেন, গণি বেকারির মতো স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দেশের ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি জনগণের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার ইতিবাচক প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, দেশের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর গ্রহণের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলে ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনের পথ আরও সুগম হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বাংলা কিউআর সারা দেশে একটি আন্তঃপরিচালনযোগ্য (ইন্টারঅপারেবল), নিরাপদ ও ব্যবহারবান্ধব ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকরা একই কিউআর কোড ব্যবহার করে সহজে লেনদেন করতে পারবেন।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নানা প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫’ অনুযায়ী, টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ডব্লিউটিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশ ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বাজারে দ্বিতীয় অবস্থান নিশ্চিত করেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে—প্রথমে চীন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ, তৃতীয় ভিয়েতনাম, চতুর্থ ভারত এবং পঞ্চম তুরস্ক। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ফলে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান আরও সুসংহত হয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বছর ব্যবধানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১ শতাংশ, বিপরীতে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১১ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান অবস্থান ধরে রাখলেও ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাজারে দ্বিতীয় অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অটোমেশন (স্বয়ংক্রিয়করণ), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে আরও জোর দিতে হবে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে পারলে বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। তাই বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই বর্তমান সাফল্যে আত্মতুষ্ট না হয়ে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতেও বিশ্ববাজারে দেশের শক্ত অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব হবে।
ব্যাংকগুলোর জন্য টিটি (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) ডিসকাউন্টিং সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থ লিয়েন (অবরুদ্ধ) রাখার দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালের বিভিন্ন নির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সিকিউরিটি বন্ধক রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়া হতো। কোনো ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থে লিয়েন রেখে এ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের জন্য অনুমোদিত টিটি ডিসকাউন্টিং সীমার ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবে লিয়েন রাখতে হতো। এ অর্থ ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবের অংশ হিসেবে গণ্য হতো না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কল মানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস সহজলভ্য রয়েছে। ফলে চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা আর নেই। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে এ সুবিধা ব্যবহারকারী ব্যাংকের সংখ্যাও খুবই কম। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলো টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা ব্যবহার না করলেও অনুমোদিত সীমার ২০ শতাংশ অর্থ লিয়েন অবস্থায় থাকত। ফলে ওই অর্থ সিআরআর হিসাবে গণনা না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক অনুপাত বজায় রাখতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছিল। এসব বিষয় বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে চিংফেং ঝাংকে নিয়োগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে এডিবির ঢাকা অফিস। এডিবি জানায়, বাংলাদেশে সংস্থাটির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন চিংফেং ঝাং। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও জোরদার করবেন, উন্নয়ন অংশীজনদের সঙ্গে কৌশলগত নীতিসংলাপে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশের জন্য এডিবির পরবর্তী উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বার্তায় চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্যোগ ও অন্যান্য প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে এডিবি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। দীর্ঘ উন্নয়ন অভিজ্ঞতা: টেকসই উন্নয়ন খাতে চিংফেং ঝাংয়ের ৩০ বছরের বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ বছরেরও বেশি সময় তিনি এডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা, পানি সম্পদ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে বিভিন্ন রূপান্তরমূলক কর্মসূচি ও কৌশলগত উদ্যোগে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমান নিয়োগের আগে তিনি এডিবির অ্যাগ্রিকালচার, ফুড, নেচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই পদে তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এডিবির কৌশলগত কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। শিক্ষা ও পেশাগত পটভূমি: চীনের নাগরিক চিংফেং ঝাং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ প্রকৌশলে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর এবং হাইড্রোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশে এডিবির কার্যক্রম: বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্যপদ লাভ করে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে এডিবির চলমান সরকারি ও বেসরকারি খাতের অনুদান ও প্রকল্প-অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১২.৫ বিলিয়ন ডলার। সংস্থাটি এ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান অনুমোদন করেছে। আগামী কয়েক বছরে টেকসই প্রবৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে এডিবি প্রতিবছর প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদনের পরিকল্পনা করছে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি বর্তমানে ৬৯টি সদস্যদেশ নিয়ে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুনভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে ১৩ বছর মেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কাতার, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট সাতটি জিটুজি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করছে। তবে বিদ্যমান গ্যাসের ঘাটতি ও ভবিষ্যতের বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতেও অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গুনভর ইউএসএ এলএলসি ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয়টি এলএনজি কার্গো সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব জিটুজি কাঠামোর আওতায় চূড়ান্ত চুক্তির জন্য প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে এবং চুক্তি কার্যকর করবে পেট্রোবাংলা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতেও এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একইসঙ্গে ব্যাংক থেকে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ফোরামের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহসহ বিপুলসংখ্যক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থার প্রতীক। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গত ২৪ মে থেকে গ্রাহকরা ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। একইসঙ্গে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে অপসারণ করেছে এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনো আইনে পরিণত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও দাবি করেন তারা। গ্রাহক ফোরাম তাদের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সৎ, যোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটপাটের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিল এবং ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার। ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ জুলাই জেলা শহরের বিভিন্ন শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৮ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গ্রাহক মহাসমাবেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার পরও কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকলে নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের প্রবৃদ্ধিমুখী উদ্যোগগুলো প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, গত চার বছর ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নামেনি। বরং চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর ও শুল্ক সুবিধা রাখা হয়েছে। কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেই প্রবৃদ্ধিবান্ধব অবস্থানের প্রতিফলন নেই। ফলে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। উচ্চ নীতি সুদহারের কারণে ঋণের ব্যয়ও কমছে না, যা নতুন বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ডিসিসিআই বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে এ তহবিলের স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে সংগঠনটি বলেছে, ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তা, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং উৎপাদন খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহজ শর্তে অর্থায়নের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সংকটে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে বিশেষ সহায়তার আহ্বান জানিয়ে ডিসিসিআই বলেছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়া জরুরি। সংগঠনটি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সরকারি খাতে ঋণগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্যের বড় অংশ সরকার ব্যবহার করছে। এতে বেসরকারি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ডিসিসিআইর মতে, বাজেটে ঘোষিত কর ও রাজস্ব সুবিধাগুলোর পূর্ণ সুফল পেতে হলে উদ্যোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী সুদে অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন।
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) পরিচালিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ যুক্ত হয়েছে। ইতালি ও আয়ারল্যান্ডের যৌথ মালিকানাধীন ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেড চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে অত্যাধুনিক জুতা উৎপাদন কারখানা স্থাপনের জন্য বেপজার সঙ্গে ভূমি ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলবার ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ ইকবাল উমরানি চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রকল্পটির জন্য প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই কারখানায় ইনজেক্টেড, সিমেন্টেড, ক্যাজুয়াল, ফরমাল, লেডিস ও সেফটি জুতাসহ বিভিন্ন ধরনের পাদুকা উৎপাদন করা হবে। বছরে প্রায় ৩০ লাখ জোড়া জুতা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কারখানাটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে প্রায় ৪৬৮ জন বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদিত জুতা ইতালি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের অন্যান্য দেশ, যুক্তরাষ্ট্র এবং কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য আধুনিক, সহজ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেপজা ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়নে কাজ করছে। নতুন এ বিনিয়োগ দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ ইকবাল উমরানি জানান, বাংলাদেশে এটি তাদের তৃতীয় বিনিয়োগ এবং তিনটিই বেপজার আওতাধীন এলাকায়। ভারত ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ বিবেচনায় থাকলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ সেবা ও নির্ভরযোগ্য অবকাঠামোর কারণে তারা আবারও বাংলাদেশকেই বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে কুমিল্লা ইপিজেডে প্রথম বিনিয়োগের পর থেকে বেপজার সঙ্গে ইতিবাচক অভিজ্ঞতাই তাদের নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছে। অনুষ্ঠানে বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করে। ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদকে আটক করা হয়। পরে জামালপুরে দায়ের হওয়া বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, নূর মোহাম্মদ জামালপুর জেলার একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া গত ১৮ জুন রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তিনি সন্দেহভাজন হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছেন। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আনা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে জামালপুরের বকশীগঞ্জে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে এবং অন্য কোনো মামলায় সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নূর মোহাম্মদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। এদিকে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। একই অভিযোগে নূর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম এবং ভাতিজা সাইফুল ইসলামের বিদেশযাত্রার ওপরও আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির সভা শেষ হয়েছে গতকাল বুধবার। সভায় জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে-স্কেলের বিষয়টি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেই সচিব কমিটির সভার সূত্র দিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পে-স্কেল সংক্রান্ত একাধিক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পে-স্কেলের পর্যন্ত আংশিক বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। আর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শতভাগ মূল বেতন কার্যকরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিক বৃদ্ধি নিয়ে তিন ধরনের পরিকল্পনা সচিব কমিটির রয়েছে। এই তিন পরিকল্পনার মধ্যে একটি বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কোনটি বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সচিব কমিটি। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস থেকে নয়; সরকার চাইলে ১ জুলাই থেকেই শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে জুলাই থেকে শতভাগ বেসিক কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফেসবুকে কেন এবং কারা এ ধরনের তথ্য ছড়াচ্ছে সেটি তারাই ভালো বলতে পারবে।’ বেসিক বৃদ্ধি পেতে পারে যেভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিকের কত শতাংশ আগামী অর্থবছর থেকে বৃদ্ধি পাবে সেটি জানা না গেলেও তিনটি বিকল্প ধরে কাজ করছে সরকার বলে জানা গেছে। সচিব কমিটির প্রথম প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম-২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে। আরেকটি বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধির চিন্তাভাবনাও রয়েছে। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বেসিক নিয়ে একাধিক বিকল্প রয়েছে। কোনটি কার্যকর হবে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসবে। এ বিষয়ে আমাদের পক্ষে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কেননা সরকার চাইলে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।