অর্থনীতি

নিউ ইয়র্কে টেক্সওয়ার্ল্ড প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ১৫ প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম টেক্সটাইল সোর্সিং ইভেন্ট ‘টেক্সওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক ২০২৬’-এ ১৫টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। আগামী ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কের জাভিটস কনভেনশন সেন্টারে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।   ইভেন্টটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে টেকসই কাপড়, ক্যাসুয়াল কটন, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, নিটওয়্যার ও লেইসের মতো পণ্য প্রদর্শন করা হবে। মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও টেক্সওয়ার্ল্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বিশ্বের শত শত ফেব্রিক ও অ্যাপারেল সরবরাহকারী অংশ নিচ্ছেন।   বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সহায়তায় দেশের ১৪টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তাদের সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গোল্ডেন টেক্স, ব্লু অ্যাপারেল, হেরা সোয়েটার্স, পিএম সোর্সিং, এক্সকম ফ্যাশন, এবি অ্যাপারেলস ও ডিজাইন সোর্সিং ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন। এছাড়া প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে অংশগ্রহণ করছে।   বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসাবে স্বীকৃত।   টেক্সওয়ার্ল্ডের মতো প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি নির্মাতারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, বাজার সম্প্রসারণ এবং টেকসই সোর্সিং ট্রেন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চমানের কাপড়, পরিবেশবান্ধব উপকরণ এবং আধুনিক ডিজাইনের পোশাক প্রদর্শনের পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে তাদের অবদান তুলে ধরবে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
টানা বৃদ্ধির পর কমলো স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বর্ণের দাম একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছে। বছরের শুরুতেও কয়েক দফায় দাম বাড়ে। অবশেষে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা মন্দাভাব দেখানোয় দাম কমলো।   লেনদেনের মাঝামাঝিতে স্পট গোল্ড (বর্তমান দাম) ১% কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৫২.৯৭ ডলারে নেমেছে। সেশনের শুরুতে এটি এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করেছিল। গত ২৬ ডিসেম্বর সোনা রেকর্ড উচ্চতায় ৪,৫৪৯.৭১ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছেছিল।   ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির ইউএস গোল্ড ফিউচার্স ০.৭% কমে ৪,৪৬২.৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। দাম কিছুটা কমায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর এই ধরনের প্রফিট বুকিং খুবই স্বাভাবিক। তবে অনেকে এখনো মনে করছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সম্ভাব্য ফেড রেট কাট এবং অন্যান্য নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদার কারণে স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে।   বর্তমানে স্বর্ণের এই সংশোধনমূলক পতনকে বাজারে অনেকেই ‘স্বস্তির শ্বাস’ হিসেবে দেখছেন। তেমনি অনেকের জন্য নতুন করে স্বর্ণ কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
১৭৮ কোটি টাকার সয়াবিন তেল কিনছে সরকার

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে থাইল্যান্ড থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ড থেকে মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠান থাইল্যার্ডের প্রাইম ক্রপ ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেড সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। সভায় শুধু সয়াবিন তেলই নয়, দেশের জরুরি চাহিদা মেটাতে মসুর ডাল, সার এবং জ্বালানি তেল আমদানির পৃথক প্রস্তাবগুলোতেও সম্মতি দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। বাণিজ্য ও কৃষি খাতের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে এসব পণ্য দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং দ্রুততাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগ ভোজ্যতেলের বর্তমান বাজার পরিস্থিতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং রমজান বা আসন্ন মাসগুলোতে কোনো ধরণের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমাল সরকার, কার্যকর আজ থেকে

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। স্কিমের ধরন অনুযায়ী নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে এই নতুন হার কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করে সরকার। সর্বশেষ গত জুলাই মাসেও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। পরিবার সঞ্চয়পত্র জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় সবচেয়ে জনপ্রিয় সঞ্চয় স্কিম হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী— সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে— প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৮.৮৩%, দ্বিতীয় বছরে ৯.২৩%, তৃতীয় বছরে ৯.৬৪%, চতুর্থ বছরে ১০.০৮% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৫৪% হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৮.৭৪%, দ্বিতীয় বছরে ৯.১২%, তৃতীয় বছরে ৯.৫৩%, চতুর্থ বছরে ৯.৯৬% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৪১% হারে মুনাফা পাবেন। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ নগদায়নের ক্ষেত্রে— প্রথম ধাপে প্রথম বছরে ৯.৫৪%, দ্বিতীয় বছরে ১০% এবং তৃতীয় বছরে ১০.৪৮% দ্বিতীয় ধাপে প্রথম বছরে ৯.৫০%, দ্বিতীয় বছরে ৯.৯৫% এবং তৃতীয় বছরে ১০.৪৩% পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ নগদায়নের ক্ষেত্রে— প্রথম ধাপে প্রথম বছরে ৮.৭৬%, দ্বিতীয় বছরে ৯.১৫%, তৃতীয় বছরে ৯.৫৫%, চতুর্থ বছরে ৯.৯৮% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৪৪% দ্বিতীয় ধাপে প্রথম বছরে ৮.৭৪%, দ্বিতীয় বছরে ৯.১২%, তৃতীয় বছরে ৯.৫৩%, চতুর্থ বছরে ৯.৯৬% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৪১% পেনশনার সঞ্চয়পত্র সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ নগদায়নের ক্ষেত্রে— প্রথম ধাপে প্রথম বছরে ৮.৮৭%, দ্বিতীয় বছরে ৯.২৬%, তৃতীয় বছরে ৯.৬৮%, চতুর্থ বছরে ১০.১২% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৫৯% দ্বিতীয় ধাপে প্রথম বছরে ৮.৭৪%, দ্বিতীয় বছরে ৯.১২%, তৃতীয় বছরে ৯.৫৩%, চতুর্থ বছরে ৯.৯৬% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৪১% পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট তিন বছর মেয়াদি পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটে— সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ নগদায়নের ক্ষেত্রে— প্রথম ধাপে প্রথম বছরে ৯.৫৪%, দ্বিতীয় বছরে ১০% এবং তৃতীয় বছরে ১০.৪৮% দ্বিতীয় ধাপে প্রথম বছরে ৫.৫০%, দ্বিতীয় বছরে ৯.৯৫% এবং তৃতীয় বছরে ১০.৪৩% কার্যকারিতা ও প্রযোজ্যতা চলতি বছরের জানুয়ারি–জুন মেয়াদে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই নতুন মুনাফার হার কার্যকর থাকবে। ছয় মাস পর পুনরায় মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হবে। তবে বিনিয়োগকারীরা ইস্যুকালীন সময়ে যে মুনাফার হার কার্যকর ছিল, পুরো বিনিয়োগ মেয়াদজুড়েই সেই হারেই মুনাফা পাবেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে ইস্যু করা সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে ইস্যুকালীন মুনাফার হারই প্রযোজ্য থাকবে। পুনঃবিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুনঃবিনিয়োগের তারিখের মুনাফার হার কার্যকর হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নতুন বছরে জ্বালানি তেলের দাম কমলো

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা করে কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের এই নতুন দাম ঘোষণা করেছে সরকার। ২ টাকা করে কমে এখন থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১০২ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১২২ টাকা ও পেট্রোল ১১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা গেজেট অনুযায়ী, নতুন এই দাম ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রিজার্ভ বেড়ে ৩২.৪৮ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ইতিবাচক গতি ফিরেছে। সর্বশেষ হিসাবে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।   বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ছিল ২৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ নভেম্বর আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তিব্যবস্থা এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধের পর দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে। তখন বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মে-জুন মেয়াদের আমদানি ব্যয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ জুলাই মাসে আকুকে ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে, যা সে সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ অঙ্কের বিল ছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালজুড়ে দ্বিমাসিক আকুর বিল কমে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে আবারও বিলের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। চলতি বছরের মে-জুন মেয়াদে আকুর বিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করলো এফবিআই

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের অন্তত ৫টি স্থানে সিরিজ বোমা হামলার পরিকল্পনা ছিল 'টারটেল আইল্যান্ড লিবারেশন ফ্রন্ট' নামের গোষ্ঠীটির। গোপনে বিস্ফোরক ডিভাইসের পরীক্ষা চালাতে গত সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেসের পূর্বে মোজাভে মরুভূমি এলাকায় যায় দলের চার সদস্য। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।    মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে ধরা পড়ে তাদের কর্মকাণ্ড। হাতেনাতে আটক করা হয় গ্রুপের চার সদস্য অড্রে ইলিন ক্যারোল, জাখারি অ্যারোন পেজ, দান্তে গ্যাফিল্ড এবং টিনা লাইকে। ২৪ থেকে ৪১ বছরের মধ্যে তাদের বয়স।     সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এফবিআই ও ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বছরের আয়োজন চলাকালে 'অপারেশন মিডনাইট সান' নামে অভিযানের পরিকল্পনা ছিল গোষ্ঠীটির। টার্গেট ছিল দু'টি লজিস্টিকস সেন্টার, অভিবাসী বিষয়ক সংস্থা আইসের এজেন্ট এবং যানবাহন। আট পৃষ্ঠার হাতে লেখা একটি পরিকল্পনার ছকও উদ্ধার করা হয়েছে এক অভিযুক্তের বাড়ি থেকে।    যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সহকারী অ্যাটর্নি বিল এসেইলি বলেন, অভিযুক্তরা সবাই সরকার বিরোধী কট্টর গ্রুপের সদস্য। অভিযানে ক্যারোলের বাড়িতে বেশ কিছু পোস্টার পাওয়া গেছে যেখানে ডেথ টু আমেরিকা, লং লিভ টার্টেল আইল্যান্ড এন্ড প্যালেস্টাইন, ডেথ টু আইস এ ধরণের কথা রয়েছে। পেইজের বাড়িতে বোমা হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনার কপি মিলেছে।   নাশকতার ষড়যন্ত্র ও নিবন্ধনহীন বিধ্বংসী ডিভাইস ব্যবহারের দায়ে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে আটককৃতদের বিরুদ্ধে। ষড়যন্ত্রে আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কীনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেইজে নিজেদের ফিলিস্তিনপন্থি এবং সরকার বিরোধী হিসেবে দাবি করে টারটেল আইল্যান্ড লিবারেশন ফ্রন্ট। ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তি ও আদিবাসীদের সার্বভৌমত্বের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের কথা বলা হয়েছে সেখানে।    মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম সিগন্যালে তাদের 'অর্ডার অব দ্য ব্ল্যাক লোটাস' নামে একটি গ্রুপ রয়েছে। সেখানে অনেক কট্টরবাদী কথাবার্তার প্রমাণ পেয়েছে এফবিআই।

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাজারে আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। এবার প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার টাকায়। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণের নতুন দাম নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকা, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৭ হাজার ২১১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হবে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি আবশ্যিকভাবে যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। সবশেষ গত ১১ ডিসেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা। সেই মূল্য কার্যকর হয় ১২ ডিসেম্বর থেকে। সেই সঙ্গে তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। সেদিন ভরিতে ৩২৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে ২২ ক্যারেট এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকায়, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৭৯৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম ১০ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ বার দাম বেড়েছে, আর ৩ বার কমেছে। আর গত বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মাত্র ৩ বার।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
চিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী কট্টর ডানপন্থী হোসে অ্যান্টোনিও

দক্ষিণ আমেরিকান দেশ চিলির ৩৮তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটে কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী হোসে অ্যান্টোনিও কাস্ত জয়ী হয়েছেন। তিনি বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা মধ্য বামপন্থী সরকারকে পরাজিত করেছেন।   রোববার (১৪ ডিসেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, রোববার প্রায় সব ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, কাস্ত ৫৮ শতাংশের মতো ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি সাবেক শ্রমমন্ত্রী জ্যানেট জারাকে পরাজিত করেছেন। জারা কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতিক এবং ক্ষমতাসীন মধ্য বাম জোটের প্রার্থী ছিলেন।   ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জারা ও তার জোট ‘ইউনিটি ফর চিলি’ পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জারা লিখেছেন, ‘যারা আমাদের সমর্থন করেছেন এবং আমাদের প্রার্থিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা আমাদের দেশের মানুষের জন্য আরও ভালো জীবন গড়তে কাজ চালিয়ে যাব। আমরা সব সময় যেমন ছিলাম, তেমনই একসঙ্গে ও দৃঢ়ভাবে পাশে থাকব।’   এই ফল লাতিন আমেরিকায় কট্টর ডানপন্থীদের সাম্প্রতিক বিজয়ের ধারাবাহিকতাকেই তুলে ধরছে। বিগত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডরের মতো দেশে একসময় রাজনৈতিক বহিরাগত হিসেবে বিবেচিত ডানপন্থী নেতারা ক্ষমতায় গেছেন।   পাশাপাশি হোসে অ্যান্তোনিও কাস্তের ব্যক্তিগত রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এই ভোটের ফলাফল। ৫৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান পার্টির এই নেতা ২০২৫ সালের নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই প্রথমবার তিনি জয় পেলেন।  

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
ডিসেম্বরের ৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ৬ দিনে দেশে এসেছে ৬৩ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৫৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৩ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এ ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৬ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। এর আগে গত নভেম্বরে এসেছে চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। আর গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
কৃষকের ঘাম আর ভোক্তার পকেট- দু’দিক থেকেই লুটছে বাজারের সিন্ডিকেট

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শীতের সবজি এখন ভরপুর শিম, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, টমেটো, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক, লাউ, মুলাসহ নানা ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তবুও দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। কৃষক ন্যায্য দাম পান না, ভোক্তাও ন্যায্য দামে কিনতে পারেন না; লাভের বড় অংশটি হাতিয়ে নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট। এদের নিয়ন্ত্রণে আনার মতো উদ্যোগ কোথাও দেখা যায় না। ফলে কৃষকের ঘাম আর ভোক্তার কষ্ট দুই দিক থেকেই লাভবান হচ্ছে এই চক্রটি। প্রশ্ন থেকে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন, আর কবে স্বস্তি ফিরবে সাধারণ মানুষের জীবনে।   শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, গত অক্টোবরে অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে সারা দেশে শীতকালীন সবজির উৎপাদন বিঘ্নিত হয়েছে। অনেক জায়গায় সবজির ক্ষেতও নষ্ট হয়েছে, ফলে স্থানীয় পর্যায়ে দাম বেড়েছে। এক ক্রেতা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, শীতের সবজি বাজারে এসেছে প্রায় এক মাস হলো, কিন্তু দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। অন্য বছর এ সময়ে সবজির দাম অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যেত। বর্তমানে ভালো মানের বেগুন এক কেজি ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা সাধারণত গরমকালে হয়ে থাকে। মাঝারি ফুলকপি বা বাঁধাকপি ৪০–৬০ টাকা, আর নতুন শিম ৮০–১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের বছর এ সময় এসব সবজি পাওয়া যেত প্রায় অর্ধেক দামে। নতুন আলু সবসময়ই একটু বেশি দামে আসে  এবারও কেজিপ্রতি ১০০–১২০ টাকায় মিলছে। অন্যান্য সবজির মধ্যেও রয়েছে মূল্যবৃদ্ধি। বরবটি ৭০–৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ও পটোল ৬০–৮০ টাকা, আর একটি মিষ্টি কুমড়া ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকের দামও চড়া—এক আঁটি ২০ টাকার নিচে খুব কমই পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সবজি দাম কমেনি, পেঁয়াজের বাজারে সামান্য স্বস্তির দেখা মিলেছে। অনেক জায়গায় দেশি পেঁয়াজ ১১০–১১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ফার্মের ডিমের দাম সহনীয় প্রতি ডজন ১২৫–১৩০ টাকা। তবে মুরগির বাজারে বেড়েছে চাপ। এক সপ্তাহেই ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার ১৯০ টাকা, সোনালি ৩০০–৩৩০ টাকা, দেশি ৫৫০–৬৫০ টাকা এবং লেয়ার ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, ফিডের দাম বৃদ্ধিসহ খামারের অন্যান্য ব্যয় বাড়ায় এ পরিস্থিতি। মাছের বাজারেও বড় পরিবর্তন নেই। ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি; মাঝারি ইলিশ ১৫০০ টাকা এবং বড় ইলিশ ২০০০–৩০০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই, কাতল, মৃগেল ৩০০–৭৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া ১৯০–২৫০ টাকার নিচে নেই। অন্যান্য মাছের মধ্যেও একই প্রবণতা মাগুর ৫০০, কৈ ২০০–২৫০, সিলভার কার্প ২৫০–৩০০, বোয়াল ৫০০–৭০০, কালিবাউশ ৪৫০, আইড় ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের দামও বেশি কাঁচকি ৪৫০, মলা ৩০০, পাবদা ৩০০–৬০০ এবং গলদা চিংড়ি ৬৫০–১০০০ টাকা পর্যন্ত। বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীতে সবজির নিয়মিত সরবরাহ এখনো শুরু হয়নি। আরও ৭–১০ দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে এবং তখন দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে বাজার পরিস্থিতি বছর বছর একই থাকে সরবরাহ থাকে স্বাভাবিক, তবুও দাম কমে না। শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরা থাকলেও দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে। কে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, কারা দাম বাড়িয়ে লাভ লুটছে সে প্রশ্নের উত্তর আজও অস্পষ্ট। কৃষক তার ন্যায্য মূল্য পান না, আর ক্রেতাও স্বস্তি পান না। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৮, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
২৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৪১ মিলিয়ন ডলার

চলতি অর্থবছরের নভেম্বরের প্রথম ২৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ হাজার ৪৪১ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮.৬ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৯৭ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১২ হাজার ৫৯০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাহ ছিল ১০ হাজার ৮৩৫ মিলিয়ন ডলার। সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে স্পষ্ট ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৬, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ফের বাড়ল

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ শিগগিরই সুদের হার কমাতে পারে এমন প্রত্যাশার ভিত্তিতে স্বর্ণের দাম প্রায় এক শতাংশ বৃদ্ধি পায়।   স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম ১.২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪,১১১.৮৬ ডলার এ পৌঁছায়। ডিসেম্বর মাসের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দামও ০.৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪,০৯৪.২ ডলার এ স্থির হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে ধারণা জোরালো হচ্ছে যে ডিসেম্বরে ফেড সুদের হার কমানোর পথে থাকতে পারে। এতে মুদ্রানীতির নরম অবস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের দামের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফেডের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার কমানো সম্ভব, যা মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না এবং কর্মসংস্থানের বাজারও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। এদিকে বাজার পর্যবেক্ষণকারী সূচকে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুদের হার কমার সম্ভাবনা প্রায় ৭৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামনের ডেটাগুলো মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমার ইঙ্গিত দিতে পারে, এবং এতে স্বর্ণের দামে আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে ইউক্রেন পরিস্থিতি স্বর্ণের বাজারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, দাম আপাতত ৪,০০০ থেকে ৪,১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম বেড়েছে ১.৭ শতাংশ, প্রতি আউন্সে দাঁড়িয়েছে ৫০.৮৪ ডলার। প্লাটিনাম বেড়েছে ২.৩ শতাংশ, প্রতি আউন্স ১,৫৪৫.৯১ ডলারে পৌঁছেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৫, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মাতৃদুগ্ধে মিলল ইউরেনিয়াম, বিজ্ঞানীরা বলছেন ঝুঁকি নেই

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের এক গবেষণায় স্তন্যদানকারী মায়েদের দুধে ইউরেনিয়াম পাওয়ার পর দেশটিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই উদ্বেগের বিষয়ে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) এক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলেছেন, গবেষণার ফলাফল জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক কিছু নয়। বিহারে মাতৃদুগ্ধের নমুনায় পাওয়া ইউরেনিয়ামের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে রয়েছে।   রোববার দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির পারমাণবিক বিজ্ঞানী, এনডিএমএর সদস্য ও ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ড. দীনেশ কে অসওয়াল এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গবেষণার ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।   তিনি বলেন, যে মাত্রা শনাক্ত হয়েছে, তা নিরাপদ সীমার মধ্যেই আছে। আসলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পানীয়জলে যে অনুমোদিত সীমা নির্ধারণ করেছে, তা এই গবেষণায় পাওয়া মাত্রার তুলনায় প্রায় ছয় গুণ।   বিহারের পাটনার মহাবীর ক্যানসার সংস্থান অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি, নয়াদিল্লির এআইআইএমএসের কয়েকজন বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে ওই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।   ব্রিটিশ জার্নাল ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে’ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিহারের স্তন্যদুগ্ধে সর্বোচ্চ ৫ পিপিবি (পার্টস পার বিলিয়ন) ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে। গবেষণার সহ-লেখক দিল্লির এআইআইএমএসের বিজ্ঞানী ড. অশোক শর্মা বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, গবেষণায় ৪০ জন স্তন্যদানকারী মায়ের দুধ বিশ্লেষণ করা হয় এবং সব নমুনাতেই ইউরেনিয়াম (ইউ-২৩৮) পাওয়া গেছে।   ‘‘যদিও এই গবেষণায় ৭০ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নন-কার্সিনোজেনিক ঝুঁকি দেখা গেছে। তবে সামগ্রিক ইউরেনিয়ামের মাত্রা অনুমোদিত সীমার নিচে এবং মা ও শিশুর ওপর প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।’’   দীর্ঘমেয়াদে ইউরেনিয়ামের সংস্পর্শ পেলে তা শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ড. শর্মা বলেন, এই গবেষণায় যে ফল পাওয়া গেছে, তাতে প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি কম এবং মায়েরা অবশ্যই শিশুদের দুধপান করানো অব্যাহত রাখবেন।   ড. অসওয়াল বলেন, ‘‘উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। মায়েরা নির্দ্বিধায় শিশুদের বুকের দুধ পান করানো চালিয়ে যাবেন। পানীয়জলে ইউরেনিয়ামের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমা ৩০ পিপিবি; যা বিহারের নমুনায় পাওয়া মাত্রার তুলনায় ছয় গুণ বেশি। অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিমাণের ইউরেনিয়াম পৃথিবীর স্থলভাগে স্বাভাবিকভাবেই মিশে থাকে। এছাড়া স্তন্যদানকারী মায়েদের গ্রহণ করা ইউরেনিয়ামের বেশিরভাগই প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়; একেবারে সামান্য অংশ দুধে যায়।   • গবেষণায় কী মিলছে? মহাবীর ক্যানসার সংস্থান অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তা ড. অরুণ কুমার নেতৃত্বাধীন ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানিতে ইউরেনিয়ামের দূষণ মানুষের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ভারতে ১৮টি রাজ্যের ১৫১টি জেলায় ভূগর্ভস্থ পানিতে ইউরেনিয়াম দূষণ শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়, এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলো স্তন্যদানকারী মায়েদের স্তন্যদুগ্ধে ইউরেনিয়াম দূষণ এবং তাদের দুধপানকারী শিশুদের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করা। শিশুরা মায়ের দুধের মাধ্যমে যে ইউরেনিয়ামের সংস্পর্শে আসে তা পরিমাপের জন্য বিহারের বিভিন্ন জেলা থেকে বিক্ষিপ্তভাবে ৪০ জন স্তন্যদানকারী নারী নির্বাচন করা হয়। তাদের লিখিত সম্মতি নিয়ে দুধ সংগ্রহ এবং ইউ-২৩৮ পরিমাপ করা হয়। ‘‘শিশু এবং মায়েদের কার্সিনোজেনিক ঝুঁকি (সিআর) ও হ্যাজার্ড কোটিয়েন্ট (এইচকিউ) হিসেব করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, শিশুদের মায়ের দুধের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম-সংস্পর্শ ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। গবেষণার জন্য সংগৃহীত সব স্তন্যদুগ্ধের নমুনায় ইউ-২৩৮ পাওয়া গেছে, যা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দেহ থেকে ইউরেনিয়াম বের হওয়ার সময়ভেদে মায়েদের তুলনায় শিশুরা নন-কার্সিনোজেনিক ঝুঁকির জন্য বেশি সংবেদনশীল। গবেষণা বলছে, স্তন্যদুগ্ধে ইউরেনিয়ামের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।’’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় ইউরেনিয়াম-সংস্পর্শের ওপর বৃহত্তর মাত্রায় বায়োমনিটরিং প্রয়োজন।   • গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি স্তন্যদুগ্ধকে শিশুর পুষ্টির ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতে শিশুদের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার জন্য জরুরি পুষ্টি, অ্যান্টিবডি এবং বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ ছয় মাস কেবল মাতৃদুগ্ধ পান এবং দুই বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত দুধপান চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে।   • কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপিত কিংবা প্রসঙ্গ ছাড়া প্রকাশিত হলে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। ড. অসওয়াল বলেছেন, এই বিষয়ে ভুল তথ্যের বিস্তার এবং মায়েদের সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব ঠেকানোই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, দুধপান শুধু পুষ্টির বিষয় নয়; এটি একটি জনস্বাস্থ্যগত অগ্রাধিকার। ভিত্তিহীন আশঙ্কায় দুধপান বন্ধ করা মা ও শিশু উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছে, পরিবেশগত ঝুঁকির তুলনায় দুধপানের উপকারিতা অনেক বেশি। দুধপান করা শিশুদের সংক্রমণ, স্থূলতা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কম থাকে। মায়েদের ক্ষেত্রেও স্তন ও ডিম্বাশয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে।   • বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গবেষণায় পাওয়া ইউরেনিয়ামের মাত্রার তুলনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমা ছয় গুণ বেশি। এই বিশাল ব্যবধান একটি শক্তিশালী সুরক্ষাবিধান দেয়। আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও দেখা যায়, ইউরেনিয়ামের শনাক্ত হওয়া এমন স্তর স্বাভাবিক এবং সাধারণত পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবে থাকা মাত্রার প্রতিফলন। ড. অসওয়াল বলেন, জনস্বাস্থ্য সিদ্ধান্তে বিজ্ঞানকেই পথ দেখাতে হবে, ভয়কে নয়। আমাদের অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে দুধপান সম্পূর্ণ নিরাপদ।   সূত্র: এনডিটিভি।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ২৩, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছে ৯০ ফিলিস্তিনি বন্দি

ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ইসরায়েলের কারাগারে প্রয়োগ করা নির্যাতন, যৌন ও শারীরিক অত্যাচার এবং প্রাণহানির ঘটনা নিয়মিত হয়েছে—এটি কেবল ব্যতিক্রম নয়, বরং একটি নীতি হিসেবে চলেছে। এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস।    সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্তত ৯৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু নিশ্চিতভাবে নির্যাতন, শারীরিক হামলা, চিকিৎসার প্রতি অবহেলা বা অপুষ্টির কারণে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন।   পিএইচআরআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর অনেক ঘটনাই ইসরায়েলের সামরিক ও সিভিলিয়ান কনসেনট্রেশন সুবিধায় ঘটেছে।   প্রতিবেদনের একজন লেখক ওনেগ বেন ডরোর বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, 'এটি শুধু চরম-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নীতি নয়, এটি ইসরায়েলের নীতি, যা ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে।'    প্রতিবেদনটিতে নির্যাতনের কয়েকটি জ্বলন্ত উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, পশ্চিম তীরের ৩৩ বছর বয়সী বাসিন্দা আব্দ আল-রাহমান মারি। তিনি নভেম্বর ২০২৩-এ মেগিডো কারাগারে মারা যাওয়ার পর তার দেহে অসংখ্য চিহ্ন, আঘাত এবং হাড় ভাঙার প্রমাণ পাওয়া যায়।   ওয়ালিদ খালেদ আব্দুল্লাহ আহমাদ, ১৭ বছর বয়সী নাবলুসের বাসিন্দা। সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ আটক হওয়ার ছয় মাস পর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর দেহে প্রায় কোনো পেশী বা চর্বি অবশিষ্ট ছিল না, যদিও তার পরিবার বলেছিল সে একজন ক্রীড়াবিদ ছিলেন।   আরাফাত হামদান, ২৫ বছর বয়সী, বেইত সিরার বাসিন্দা। শুধুমাত্র দুই দিন সামরিক হেফাজতে থাকার পর মারা যায়। 'টাইপ-১' ডায়াবেটিসের রোগী আরাফাতকে বাঁচতে নিয়মিত ইনসুলিন প্রয়োজন ছিল। মৃত্যুর সময় তাকে মারধর করা হয় এবং ওষুধ দেয়া হয়নি।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ২২, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
সোনার দাম কমল, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১,৩৫৩ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন হিসেবে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১,৩৫৩ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকায় নেমে এসেছে। এই নতুন দাম শুক্রবার (২১ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।   বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম কমে যাওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪,১০০ ডলারের নিচে নেমেছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৩১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টাকা।   সোনার দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪,০৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩,৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২,৬০১ টাকা।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২১, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি ১৮ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতের আমানত ৯.৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত ১৮ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আগের মাস আগস্টে এই বৃদ্ধি ছিল ১০.০২ শতাংশ, যা ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের এই ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় স্থবির থাকার পর ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দেয়।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টের আগে টানা ১৩ মাস আমানতের বৃদ্ধি ৯ শতাংশের নিচে ছিল। জুন ২০২৪ এ এটি ৯.২৫ শতাংশে উঠেছিল। ব্যাংকাররা জানান, বর্তমানে ব্যাংকে আমানতের সুদের হার ৮.৫ থেকে ৯.৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৬ শতাংশ হওয়ায় প্রকৃত সুদের হার ইতিবাচক। তাছাড়া সেপ্টেম্বরে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার কমতে শুরু করার কারণে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংকে আমানত রাখছে। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট আমানত ১৯ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের ১৭ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের বাইরে সাধারণ মানুষের কাছে থাকা নগদ অর্থও কমে ২ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকায় এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থ ৮ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা কমেছে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যাংকে আস্থা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতিও উন্নতির দিকে আছে। ব্যাংক আমানতের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং নগদ অর্থের ব্যালান্স কমার বিষয়টি দেশের আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজ–সবজির দাম বেড়েছে

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তি অবস্থায় রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।   ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং মজুতকৃত পেঁয়াজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়েছে। তাদের মতে, ডিসেম্বরের আগে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার সুযোগ নেই। তবে সরকার আমদানির অনুমতি দিলে দাম কমতে পারে। সবজির বাজারেও হঠাৎ করে দেখা দিয়েছে মূল্যবৃদ্ধি। করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ও ঝিঙে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা ও ধুন্দুল ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি শশা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা এবং টম্যাটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শিমের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ টাকা বেশি। ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।   সবজি বিক্রেতাদের মতে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় কিছুদিন আগে দাম কমে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক ট্রাক রাজধানীতে সবজি নিয়ে আসতে চাইছে না। ফলে সাময়িকভাবে সরবরাহ কমে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের ধারণা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী সপ্তাহেই বাজার স্থিতিশীল হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ১৪, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
উৎপাদন বেশি, তবু পিঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী

দেশের কৃষিপণ্যের বাজারে স্বাভাবিক বাজার সূত্র কিছুটা ব্যর্থ হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হলেও পণ্যের দাম কমার বদলে বেড়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ টন বেশি পিঁয়াজ উৎপাদন হলেও আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি।   ফলে হঠাৎ পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকার এখন বিশেষ টাস্কফোর্স মাঠে নামিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে। শুধু পিঁয়াজ নয়, মসলাজাতীয় আরও দুটি পণ্যের—আদা ও রসুনের—দামও ঊর্ধ্বমুখী। টিসিবি তথ্যানুসারে, ২৯ অক্টোবরের তুলনায় ৫ নভেম্বরের মধ্যে কেজিপ্রতি পিঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩৫ টাকা, আদার ১০ টাকা এবং রসুনের ১৫ টাকা। ২৯ অক্টোবর পিঁয়াজের দাম ছিল ৭৫ টাকা কেজি, যা বেড়ে ১১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আদার দাম ১৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৮৫ টাকা এবং রসুনের দাম ১৬৫ টাকা থেকে ১৮০ টাকা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২,৯৩৪ হেক্টর জমিতে প্রায় ৪৪ লাখ টন পিঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। আগের অর্থবছরে ২,৭৩৫ হেক্টরে ৪০ লাখ টন উৎপাদন হয়েছিল। এর পরও নভেম্বরে পিঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়টি সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতি বছরই নভেম্বরে কিছু কৃষিপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা সাধারণত সাময়িক। তবে এবার বৃষ্টির কারণে দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। শিগগিরই মুড়িকাটা পিঁয়াজ বাজারে উঠলে দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ টাস্কফোর্সের কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে পিঁয়াজের খুচরা মূল্য ৪০-৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও মূল্য বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার সচিবালয়ে পিঁয়াজের উৎপাদন, চাহিদা ও বর্তমান বাজারদর নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, আমদানি বাড়িয়ে সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ট্যারিফ কমিশন ইতিমধ্যেই আমদানির সুপারিশ দিয়েছে।   সাবেক সচিব ও কৃষিপণ্যের বাজার বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, উৎপাদন ও চাহিদার তথ্য নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থ হয়েছে। উৎপাদন বেশি থাকলেও পণ্যটি এখন কৃষকের হাতে নেই এবং ফড়িয়ার দখলে চলে গেছে। তাদের মতে, যথাসময়ে আমদানির অনুমতি না দেওয়া ছিল চরম ভুল।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ১১, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
টানা দরপতনে বিপর্যস্ত শেয়ারবাজার, আস্থাহীনতায় দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা

টানা দরপতনে বিপর্যস্ত দেশের শেয়ারবাজার। সোমবারও (১০ নভেম্বর) মূল্যসূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা সাত কার্যদিবসে সূচক কমেছে ২৬১ পয়েন্ট। অব্যাহত পতনে মূল্যসূচক চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও কমে দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। বাজারের এ দুরবস্থায় দিশেহারা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।   বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য ‘শূন্য’ ঘোষণার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। এই ব্যাংকগুলোতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে। এখন তাদের শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার দায় বিনিয়োগকারীদের নয়, তবু কেন তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে? বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুনর্গঠনের পরও বাজারে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এতটাই গভীর যে ভালো-মন্দ সব ধরনের শেয়ারেরই ঢালাও দরপতন হচ্ছে। ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, সোমবার মোট ৩৮৬টি কোম্পানির মধ্যে ৭০টির দর বেড়েছে, ২৭৫টির দর কমেছে এবং ৪১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, লেনদেনকৃত ৭১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারমূল্য কমেছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির (১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী) ৪৩টি কোম্পানির দর বেড়েছে, ১৪৪টির কমেছে এবং ২৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির (১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ প্রদানকারী) ১৬টির দর বেড়েছে, ৫২টির কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ‘জেড’ গ্রুপের (লভ্যাংশ না দেওয়া) ১১টির দর বেড়েছে, ৭৯টির কমেছে এবং ৬টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৮৬০ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১,০১০ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে ১,৯১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলেন, টানা পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার ‘শূন্য’ ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ। ব্যাংকগুলোর ধসের জন্য দায়ী দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, অডিটর, বানোয়াট রেটিং সংস্থা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতা। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। লেনদেনের পরিমাণও প্রতিদিন কমছে। সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৩৫৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৪৬ কোটি টাকা কম। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনকৃত ১৭৩টি কোম্পানির মধ্যে ৩৭টির দর বেড়েছে, ১২৭টির কমেছে এবং ৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৪০ পয়েন্ট।   বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। পাশাপাশি পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার মূল্য ‘শূন্য’ ঘোষণার নেতিবাচক প্রভাবও বাজারে গভীর প্রভাব ফেলছে। তাদের মতে, এ পরিস্থিতির দায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ কেউই এড়াতে পারে না, কারণ ব্যাংকগুলোর দুরবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই জানা ছিল, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং বিনিয়োগকারীদের আগাম সতর্কও করা হয়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ১১, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
৮ বছর পর ভারত থেকে আপেল আমদানি শুরু

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় আট বছর পর ভারত থেকে আবার আপেল আমদানি শুরু করা হয়েছে।    হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পীর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বাসস।   তিনি বলেন, প্রায় ৮ বছর ধরে ভারত থেকে বৈধপথে আপেল আমদানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। দেশের বাজারে আপেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সম্প্রতি উভয় দেশের আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের সমঝোতা বৈঠকের পর রোববার বিকেল থেকে হিলি দিয়ে ভারত থেকে আপেল আমদানি শুরু করা হয়েছে। কাশ্মির থেকে এসব আপেল আমদানি করেছে চট্টগ্রামের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খাজা আজমির ট্রেডিং।   সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী জানান, রোববার বিকেল ৫টায় ভারত থেকে আপেল বোঝাই ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। প্রথম দিন এক ট্রাকে ৩০ টন আপেল আমদানি করা হয়েছে। কাস্টমস বিভাগের যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যায় পর এসব আপেল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়।   আমদানিকারক আলহাজ্ব এম এ আবছার আলী বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রাইম এন্টারপ্রাইজ সিএন্ডএফের মাধ্যমে ভারতের মালদার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই ট্রের্ডাস কাশ্মির থেকে এসব আপেল রপ্তানি করেছে।    হিলি স্থলবন্দর কাস্টমস বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা এম আর জামান বাঁধন বলেন, দীর্ঘদিন পর এই বন্দর দিয়ে আপেল আমদানি শুরু হয়েছে। প্রতি টন আপেল ৭০০ ডলারে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। আপেল যেহেতু কাঁচাপণ্য, তাই দ্রুত ছাড় করণে আমদানিকারকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।   সূত্র :  বাসস।  

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ১০, ২০২৫ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0