অর্থনীতি

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু। ছবি : সংগৃহীত
‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ চলতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নতুন অর্থমন্ত্রীর

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘অতিরিক্ত বিধিবিধানের বেড়াজাল’ থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করার পাশাপাশি ‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ আর চলতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি আমরা চলতে দিতে পারি না। বাংলাদেশের অর্থনীতি সকল মানুষের জন্য হতে হবে। বুধবার প্রথমবার সচিবালয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আমির খসরু। কীভাবে এ দায়িত্ব সামলাতে চান, সে কথাও তিনি বলেন। আমির খসরু বলেন, প্রাথমিকভাবে যেটা সমস্যা আমাদের, একচুয়ালি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একেবারে খুব খারাপ অবস্থা। আমাদেরকে প্রথমে এড্রেস করতে হবে যে ইনস্টিটিউশনগুলোকে রিকভার করতে হবে। তিনি বলেন, ইনস্টিটিউশনগুলোর মধ্যে প্রফেশনালিজম আনতে হবে, স্বচ্ছতা আনতে হবে, এফিশিয়েন্সি আনতে হবে। এটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এগুলার অনুপস্থিতিতে আমরা যত বড় প্রোগ্রামই নিই, এগুলো কাজ করবে না। এটা হচ্ছে এক নম্বর। তার দ্বিতীয়ত, ‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতির ‘গণতন্ত্রীকরণের’ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সকল মানুষের জন্য হতে হবে। লেভেল প্লেইং ফিল্ড থাকতে হবে এবং বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের যাতে সুযোগ থাকে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার জন্য এবং অর্থনীতির সুফল যাতে তাদের কাছে যায়। তিনি বলেন, তৃতীয় কথা হচ্ছে, এটা সফলভাবে করতে হলে আমাদের সিরিয়াস ডিরেগুলেশন করতে হবে। বাংলাদেশ একটি ওভার রেগুলেটেড কান্ট্রি হয়ে গেছে। এটা হয়েছে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি করতে করতে। তিনি আরও বলেন, আমাকে সিরিয়াস ডিরেগুলেশন করতে হবে। লিবারলাইজেশন করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হবে। যাতে সকলের সমান অধিকার থাকে। অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার জন্য এবং অর্থনীতির সুফল যাতে সকলের কাছে যায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবার বিএনপির নতুন সরকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে অর্থের সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছাতে উদ্যোগ নেবে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ পেছাতে নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।’ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার এলডিসি থেকে উত্তরণ ডেফার করতে চায় এবং সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার ভাষায়, বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করা হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হবে।   ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী অন্তত তিন বছরের জন্য এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক চিঠি দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে আজ থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। রপ্তানির সাম্প্রতিক নিম্নগতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্য থেকে আসে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন পণ্য যুক্ত করে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার হবে বলে তিনি জানান।   বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভুল করার সুযোগ খুবই সীমিত। নীতিগত ভুল বা দীর্ঘস্থায়ী বৈদেশিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা দেশের নেই। তাই গত কয়েক মাসে যে মন্থর পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি। রমজানের বাজার নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, রমজান মাস ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রমজানে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তব্য দিতে চান না; বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার ব্যাখ্যায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটি মূলত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মানুষ সাধারণত পুরো মাসের জন্য একসঙ্গে বাজার করে, ফলে হঠাৎ করে ভোগ বৃদ্ধি পায় এবং এর সাময়িক প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগের প্রধান শর্ত হলো স্থিতিশীল পরিবেশ। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত হতে হয় যে তাঁদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে যুক্তিসংগত মুনাফা পাওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির থাকায় অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। রমজান সামাল দেওয়াই নতুন সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা কিনা—এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমজান মাসে বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সফল হতেই হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়; বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। এ কাজে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। ভুল হলে তা ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
দাম কমল সোনার, ভরি কত?

দেশের বাজারে কমেছে সোনার দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।  নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।   এর আগে, সবশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।   এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০ টা থেকেই।   এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ১৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১১ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।  সোনার দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।   চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১০ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৭ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।   

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিএসইসি পাবলিক অফার রুলস ২০২৫-এর উপর সিএসই’র কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) পিএলসি’র আয়োজনে আজ চট্টগ্রামস্থ সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ‘বিএসইসি (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫ : এর প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, সম্ভাবনাময় এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।  কর্মশালায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের(বিএসইসি) অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. মো. ইকবাল হোসেইন, ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এ মামুন এবং সিনিয়র ম্যানেজার মো. খালেদ হাসান, সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মাহাদি হাসান এবং সিএসই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, বিএসইসির পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলসে সাম্প্রতিক বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, যেগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা এবং উপযুক্ত প্রয়োগ করার জন্য এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠান এবং যেসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারের সাথে ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জানা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই যদিও ঢাকা কেন্দ্রিক, তবুও আপনাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার ব্যাপারে আরও উদ্যোগী হবেন।  তিনি আরও বলেন, এই আইনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নতুন আইন অনুযায়ী সব ধরনের রিকোয়ারমেন্টস পূর্ণ করলে দ্রুততম সময়ে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির উৎস হচ্ছে পুঁজিবাজার। তাই প্রতিষ্ঠানসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করানোর জন্য আরও আন্তরিক চেষ্টা করতে হবে, তা না হলে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো যে সংকটের মধ্যে রয়েছে তার আরও অবনতি হবে। আমরা আশা করবো, সবার সমন্বিত প্রয়াসে নতুন পাবলিক ইস্যু রুলসের মাধ্যমে আমরা ভালো ফান্ডামেন্টাল কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে আনতে পারবো। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. মো. ইকবাল হোসেইন। উপস্থাপনায় তিনি নতুন আইনের প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো সকলের সামনে সহজভাবে তুলে ধরেন এবং পূর্বোক্ত আইনের সাথে নতুন আইনের মূল পার্থক্য ও সুবিধাদি তুলে ধরেন। কর্মশালায় ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এ মামুন ও সিনিয়র ম্যানেজার মো. খালেদ হাসান যৌথভাবে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তারা তাদের উপস্থাপনায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ফলে কোম্পানিগুলো যে সুবিধাদি অর্জন করবে, সে বিষয়ে এবং তালিকাভুক্তির ব্যাপারে ইস্যু ম্যানেজারদের সার্বিক সহযোগিতার ভূমিকা উল্লেখ করেন। চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মাহাদি হাসান বলেন, আজকের কর্মশালাটি সকলের জন্য এজন্য প্রয়োজন যে, কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, সেটি কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়, সেটা জানা থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে মূল্যায়ন করা সহজ হয় ও একই সাথে বিনিয়োগ নিরাপদ হয়। তিনি আরও বলেন, তালিকাভুক্তির পদ্ধতি সম্পর্কে সম্প্রতি যে পরিবর্তন এসেছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের একটি হলো কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির অনুমোদন স্টক এক্সচেঞ্জসমূহ দিতে পারবে। সিএসইর তালিকাভুক্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত দক্ষ টিম আপনাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে। সংশ্লিষ্ট সকলের মতে, পুঁজিবাজারে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার সঠিক প্রক্রিয়া জানা না থাকলে প্রতিষ্ঠান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, এমনকি তালিকাভুক্তির আবেদনও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সঠিকভাবে প্রক্রিয়াগুলো জেনে তারপর যদি তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানি নির্বাচন করা যায়, তাহলে প্রক্রিয়াটি যেমন সহজ ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে, একই সাথে পুঁজিবাজার ও সংশ্লিষ্ট সকলে এর সুফল পাবেন।  সকলের উপস্থাপনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬ 0
এলপি গ্যাস। ছবি : সংগৃহীত
ফেব্রুয়ারিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়বে না কমবে, জানা যাবে সোমবার

চলতি ফেব্রুয়ারিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ছে নাকি কমছে, তা জানা যাবে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)। এদিন এক মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা করা হবে। সোমবার এলপিজির পাশাপাশি ঘোষণা করা হবে অটোগ্যাসের দামও। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই দিন সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় নিহত ছাড়াল ৭১ হাজার ৪০০

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪১৯ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার ৩১৮ জন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবরের পর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪৪২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৪০ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, গাজার বাইরে চিকিৎসার জন্য ১৮ হাজারের বেশি রোগীকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ৩৯ হাজারের বেশি শিশু এক বা উভয় অভিভাবককে হারিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার শিশু সম্পূর্ণ এতিম। এটিকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এতিম সংকট বলা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। প্রথম ধাপে জিম্মি মুক্তি, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও ত্রাণ প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে গাজা থেকে পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের কথা রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
ড. এজাজুল ইসলাম
বিআইবিএমের নতুন মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলাম

এজাজুল ইসলাম মুদ্রানীতি কাঠামো আধুনিকীকরণে নেতৃত্ব দেন। এ সময় ইন্টারেস্ট রেট করিডর চালুর পাশাপাশি তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং মানি মার্কেট অপারেশনের উপকরণ ও কার্যক্রম সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।   বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক হিসেবে ড. মো. এজাজুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি তিনি এ পদে যোগ দিয়েছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সংস্থাটি ।   নতুন দায়িত্বগ্রহণের আগে ড. এজাজুল ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে মুদ্রানীতি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি মুদ্রানীতি কমিটি, বৈদেশিক মুদ্রা নিলাম কমিটি ও মানি মার্কেট অপারেশন কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তিন দশকের বেশি ধরে কর্মরত থাকা অবস্থায় এজাজুল ইসলাম মুদ্রা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর মধ্যে মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতি, বিনিময় হার নীতি এবং সুদের হার নীতিসহ বিভিন্ন নীতিক্ষেত্রে তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।   এজাজুল ইসলাম মুদ্রানীতি কাঠামো আধুনিকীকরণে নেতৃত্ব দেন। এ সময় ইন্টারেস্ট রেট করিডর চালুর পাশাপাশি তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং মানি মার্কেট অপারেশনের উপকরণ ও কার্যক্রম সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।   অর্থ, ঋণ, বিনিময় হার, ব্যাংকিং, সুদের হার এবং বৃহত্তর আর্থিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিষয়ে দেশী-বিদেশী রেফার্ড জার্নালে ড. এজাজুল ইসলামের প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা ৩৫টিরও বেশি। তিনি মুদ্রা অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক গোল্ড মেডেল ‘এমপ্লয়িজ রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
নিউ ইয়র্কে টেক্সওয়ার্ল্ড প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ১৫ প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম টেক্সটাইল সোর্সিং ইভেন্ট ‘টেক্সওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক ২০২৬’-এ ১৫টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। আগামী ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কের জাভিটস কনভেনশন সেন্টারে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।   ইভেন্টটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে টেকসই কাপড়, ক্যাসুয়াল কটন, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, নিটওয়্যার ও লেইসের মতো পণ্য প্রদর্শন করা হবে। মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও টেক্সওয়ার্ল্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বিশ্বের শত শত ফেব্রিক ও অ্যাপারেল সরবরাহকারী অংশ নিচ্ছেন।   বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সহায়তায় দেশের ১৪টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তাদের সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গোল্ডেন টেক্স, ব্লু অ্যাপারেল, হেরা সোয়েটার্স, পিএম সোর্সিং, এক্সকম ফ্যাশন, এবি অ্যাপারেলস ও ডিজাইন সোর্সিং ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন। এছাড়া প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে অংশগ্রহণ করছে।   বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসাবে স্বীকৃত।   টেক্সওয়ার্ল্ডের মতো প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি নির্মাতারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, বাজার সম্প্রসারণ এবং টেকসই সোর্সিং ট্রেন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চমানের কাপড়, পরিবেশবান্ধব উপকরণ এবং আধুনিক ডিজাইনের পোশাক প্রদর্শনের পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে তাদের অবদান তুলে ধরবে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
টানা বৃদ্ধির পর কমলো স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বর্ণের দাম একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছে। বছরের শুরুতেও কয়েক দফায় দাম বাড়ে। অবশেষে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা মন্দাভাব দেখানোয় দাম কমলো।   লেনদেনের মাঝামাঝিতে স্পট গোল্ড (বর্তমান দাম) ১% কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৫২.৯৭ ডলারে নেমেছে। সেশনের শুরুতে এটি এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করেছিল। গত ২৬ ডিসেম্বর সোনা রেকর্ড উচ্চতায় ৪,৫৪৯.৭১ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছেছিল।   ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির ইউএস গোল্ড ফিউচার্স ০.৭% কমে ৪,৪৬২.৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। দাম কিছুটা কমায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর এই ধরনের প্রফিট বুকিং খুবই স্বাভাবিক। তবে অনেকে এখনো মনে করছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সম্ভাব্য ফেড রেট কাট এবং অন্যান্য নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদার কারণে স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে।   বর্তমানে স্বর্ণের এই সংশোধনমূলক পতনকে বাজারে অনেকেই ‘স্বস্তির শ্বাস’ হিসেবে দেখছেন। তেমনি অনেকের জন্য নতুন করে স্বর্ণ কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
১৭৮ কোটি টাকার সয়াবিন তেল কিনছে সরকার

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে থাইল্যান্ড থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ড থেকে মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠান থাইল্যার্ডের প্রাইম ক্রপ ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেড সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। সভায় শুধু সয়াবিন তেলই নয়, দেশের জরুরি চাহিদা মেটাতে মসুর ডাল, সার এবং জ্বালানি তেল আমদানির পৃথক প্রস্তাবগুলোতেও সম্মতি দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। বাণিজ্য ও কৃষি খাতের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে এসব পণ্য দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং দ্রুততাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগ ভোজ্যতেলের বর্তমান বাজার পরিস্থিতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং রমজান বা আসন্ন মাসগুলোতে কোনো ধরণের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমাল সরকার, কার্যকর আজ থেকে

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির মুনাফার হার কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। স্কিমের ধরন অনুযায়ী নতুন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে এই নতুন হার কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করে সরকার। সর্বশেষ গত জুলাই মাসেও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। পরিবার সঞ্চয়পত্র জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় সবচেয়ে জনপ্রিয় সঞ্চয় স্কিম হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী— সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়নের ক্ষেত্রে— প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৮.৮৩%, দ্বিতীয় বছরে ৯.২৩%, তৃতীয় বছরে ৯.৬৪%, চতুর্থ বছরে ১০.০৮% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৫৪% হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৮.৭৪%, দ্বিতীয় বছরে ৯.১২%, তৃতীয় বছরে ৯.৫৩%, চতুর্থ বছরে ৯.৯৬% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৪১% হারে মুনাফা পাবেন। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ নগদায়নের ক্ষেত্রে— প্রথম ধাপে প্রথম বছরে ৯.৫৪%, দ্বিতীয় বছরে ১০% এবং তৃতীয় বছরে ১০.৪৮% দ্বিতীয় ধাপে প্রথম বছরে ৯.৫০%, দ্বিতীয় বছরে ৯.৯৫% এবং তৃতীয় বছরে ১০.৪৩% পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ নগদায়নের ক্ষেত্রে— প্রথম ধাপে প্রথম বছরে ৮.৭৬%, দ্বিতীয় বছরে ৯.১৫%, তৃতীয় বছরে ৯.৫৫%, চতুর্থ বছরে ৯.৯৮% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৪৪% দ্বিতীয় ধাপে প্রথম বছরে ৮.৭৪%, দ্বিতীয় বছরে ৯.১২%, তৃতীয় বছরে ৯.৫৩%, চতুর্থ বছরে ৯.৯৬% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৪১% পেনশনার সঞ্চয়পত্র সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ নগদায়নের ক্ষেত্রে— প্রথম ধাপে প্রথম বছরে ৮.৮৭%, দ্বিতীয় বছরে ৯.২৬%, তৃতীয় বছরে ৯.৬৮%, চতুর্থ বছরে ১০.১২% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৫৯% দ্বিতীয় ধাপে প্রথম বছরে ৮.৭৪%, দ্বিতীয় বছরে ৯.১২%, তৃতীয় বছরে ৯.৫৩%, চতুর্থ বছরে ৯.৯৬% এবং পঞ্চম বছরে ১০.৪১% পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট তিন বছর মেয়াদি পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটে— সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ নগদায়নের ক্ষেত্রে— প্রথম ধাপে প্রথম বছরে ৯.৫৪%, দ্বিতীয় বছরে ১০% এবং তৃতীয় বছরে ১০.৪৮% দ্বিতীয় ধাপে প্রথম বছরে ৫.৫০%, দ্বিতীয় বছরে ৯.৯৫% এবং তৃতীয় বছরে ১০.৪৩% কার্যকারিতা ও প্রযোজ্যতা চলতি বছরের জানুয়ারি–জুন মেয়াদে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই নতুন মুনাফার হার কার্যকর থাকবে। ছয় মাস পর পুনরায় মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হবে। তবে বিনিয়োগকারীরা ইস্যুকালীন সময়ে যে মুনাফার হার কার্যকর ছিল, পুরো বিনিয়োগ মেয়াদজুড়েই সেই হারেই মুনাফা পাবেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে ইস্যু করা সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে ইস্যুকালীন মুনাফার হারই প্রযোজ্য থাকবে। পুনঃবিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুনঃবিনিয়োগের তারিখের মুনাফার হার কার্যকর হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নতুন বছরে জ্বালানি তেলের দাম কমলো

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা করে কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের এই নতুন দাম ঘোষণা করেছে সরকার। ২ টাকা করে কমে এখন থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১০২ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১২২ টাকা ও পেট্রোল ১১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা গেজেট অনুযায়ী, নতুন এই দাম ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রিজার্ভ বেড়ে ৩২.৪৮ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ইতিবাচক গতি ফিরেছে। সর্বশেষ হিসাবে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।   বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ছিল ২৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ নভেম্বর আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তিব্যবস্থা এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধের পর দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে। তখন বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মে-জুন মেয়াদের আমদানি ব্যয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ জুলাই মাসে আকুকে ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে, যা সে সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ অঙ্কের বিল ছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালজুড়ে দ্বিমাসিক আকুর বিল কমে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। তবে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে আবারও বিলের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। চলতি বছরের মে-জুন মেয়াদে আকুর বিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করলো এফবিআই

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের অন্তত ৫টি স্থানে সিরিজ বোমা হামলার পরিকল্পনা ছিল 'টারটেল আইল্যান্ড লিবারেশন ফ্রন্ট' নামের গোষ্ঠীটির। গোপনে বিস্ফোরক ডিভাইসের পরীক্ষা চালাতে গত সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেসের পূর্বে মোজাভে মরুভূমি এলাকায় যায় দলের চার সদস্য। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।    মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে ধরা পড়ে তাদের কর্মকাণ্ড। হাতেনাতে আটক করা হয় গ্রুপের চার সদস্য অড্রে ইলিন ক্যারোল, জাখারি অ্যারোন পেজ, দান্তে গ্যাফিল্ড এবং টিনা লাইকে। ২৪ থেকে ৪১ বছরের মধ্যে তাদের বয়স।     সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এফবিআই ও ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বছরের আয়োজন চলাকালে 'অপারেশন মিডনাইট সান' নামে অভিযানের পরিকল্পনা ছিল গোষ্ঠীটির। টার্গেট ছিল দু'টি লজিস্টিকস সেন্টার, অভিবাসী বিষয়ক সংস্থা আইসের এজেন্ট এবং যানবাহন। আট পৃষ্ঠার হাতে লেখা একটি পরিকল্পনার ছকও উদ্ধার করা হয়েছে এক অভিযুক্তের বাড়ি থেকে।    যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সহকারী অ্যাটর্নি বিল এসেইলি বলেন, অভিযুক্তরা সবাই সরকার বিরোধী কট্টর গ্রুপের সদস্য। অভিযানে ক্যারোলের বাড়িতে বেশ কিছু পোস্টার পাওয়া গেছে যেখানে ডেথ টু আমেরিকা, লং লিভ টার্টেল আইল্যান্ড এন্ড প্যালেস্টাইন, ডেথ টু আইস এ ধরণের কথা রয়েছে। পেইজের বাড়িতে বোমা হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনার কপি মিলেছে।   নাশকতার ষড়যন্ত্র ও নিবন্ধনহীন বিধ্বংসী ডিভাইস ব্যবহারের দায়ে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে আটককৃতদের বিরুদ্ধে। ষড়যন্ত্রে আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কীনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেইজে নিজেদের ফিলিস্তিনপন্থি এবং সরকার বিরোধী হিসেবে দাবি করে টারটেল আইল্যান্ড লিবারেশন ফ্রন্ট। ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তি ও আদিবাসীদের সার্বভৌমত্বের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের কথা বলা হয়েছে সেখানে।    মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম সিগন্যালে তাদের 'অর্ডার অব দ্য ব্ল্যাক লোটাস' নামে একটি গ্রুপ রয়েছে। সেখানে অনেক কট্টরবাদী কথাবার্তার প্রমাণ পেয়েছে এফবিআই।

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাজারে আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। এবার প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার টাকায়। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণের নতুন দাম নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকা, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৭ হাজার ২১১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হবে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি আবশ্যিকভাবে যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। সবশেষ গত ১১ ডিসেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা। সেই মূল্য কার্যকর হয় ১২ ডিসেম্বর থেকে। সেই সঙ্গে তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। সেদিন ভরিতে ৩২৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে ২২ ক্যারেট এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকায়, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৭৯৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম ১০ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ বার দাম বেড়েছে, আর ৩ বার কমেছে। আর গত বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মাত্র ৩ বার।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
চিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী কট্টর ডানপন্থী হোসে অ্যান্টোনিও

দক্ষিণ আমেরিকান দেশ চিলির ৩৮তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটে কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী হোসে অ্যান্টোনিও কাস্ত জয়ী হয়েছেন। তিনি বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা মধ্য বামপন্থী সরকারকে পরাজিত করেছেন।   রোববার (১৪ ডিসেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, রোববার প্রায় সব ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, কাস্ত ৫৮ শতাংশের মতো ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি সাবেক শ্রমমন্ত্রী জ্যানেট জারাকে পরাজিত করেছেন। জারা কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতিক এবং ক্ষমতাসীন মধ্য বাম জোটের প্রার্থী ছিলেন।   ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জারা ও তার জোট ‘ইউনিটি ফর চিলি’ পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জারা লিখেছেন, ‘যারা আমাদের সমর্থন করেছেন এবং আমাদের প্রার্থিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা আমাদের দেশের মানুষের জন্য আরও ভালো জীবন গড়তে কাজ চালিয়ে যাব। আমরা সব সময় যেমন ছিলাম, তেমনই একসঙ্গে ও দৃঢ়ভাবে পাশে থাকব।’   এই ফল লাতিন আমেরিকায় কট্টর ডানপন্থীদের সাম্প্রতিক বিজয়ের ধারাবাহিকতাকেই তুলে ধরছে। বিগত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডরের মতো দেশে একসময় রাজনৈতিক বহিরাগত হিসেবে বিবেচিত ডানপন্থী নেতারা ক্ষমতায় গেছেন।   পাশাপাশি হোসে অ্যান্তোনিও কাস্তের ব্যক্তিগত রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এই ভোটের ফলাফল। ৫৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান পার্টির এই নেতা ২০২৫ সালের নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই প্রথমবার তিনি জয় পেলেন।  

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
ডিসেম্বরের ৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬৩ কোটি ২০ লাখ ডলার

চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ৬ দিনে দেশে এসেছে ৬৩ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৫৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। রোববার (৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৩ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এ ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৬ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। এর আগে গত নভেম্বরে এসেছে চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। আর গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
কৃষকের ঘাম আর ভোক্তার পকেট- দু’দিক থেকেই লুটছে বাজারের সিন্ডিকেট

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শীতের সবজি এখন ভরপুর শিম, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, টমেটো, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক, লাউ, মুলাসহ নানা ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তবুও দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। কৃষক ন্যায্য দাম পান না, ভোক্তাও ন্যায্য দামে কিনতে পারেন না; লাভের বড় অংশটি হাতিয়ে নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট। এদের নিয়ন্ত্রণে আনার মতো উদ্যোগ কোথাও দেখা যায় না। ফলে কৃষকের ঘাম আর ভোক্তার কষ্ট দুই দিক থেকেই লাভবান হচ্ছে এই চক্রটি। প্রশ্ন থেকে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন, আর কবে স্বস্তি ফিরবে সাধারণ মানুষের জীবনে।   শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, গত অক্টোবরে অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে সারা দেশে শীতকালীন সবজির উৎপাদন বিঘ্নিত হয়েছে। অনেক জায়গায় সবজির ক্ষেতও নষ্ট হয়েছে, ফলে স্থানীয় পর্যায়ে দাম বেড়েছে। এক ক্রেতা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, শীতের সবজি বাজারে এসেছে প্রায় এক মাস হলো, কিন্তু দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। অন্য বছর এ সময়ে সবজির দাম অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যেত। বর্তমানে ভালো মানের বেগুন এক কেজি ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা সাধারণত গরমকালে হয়ে থাকে। মাঝারি ফুলকপি বা বাঁধাকপি ৪০–৬০ টাকা, আর নতুন শিম ৮০–১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের বছর এ সময় এসব সবজি পাওয়া যেত প্রায় অর্ধেক দামে। নতুন আলু সবসময়ই একটু বেশি দামে আসে  এবারও কেজিপ্রতি ১০০–১২০ টাকায় মিলছে। অন্যান্য সবজির মধ্যেও রয়েছে মূল্যবৃদ্ধি। বরবটি ৭০–৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ও পটোল ৬০–৮০ টাকা, আর একটি মিষ্টি কুমড়া ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকের দামও চড়া—এক আঁটি ২০ টাকার নিচে খুব কমই পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সবজি দাম কমেনি, পেঁয়াজের বাজারে সামান্য স্বস্তির দেখা মিলেছে। অনেক জায়গায় দেশি পেঁয়াজ ১১০–১১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ফার্মের ডিমের দাম সহনীয় প্রতি ডজন ১২৫–১৩০ টাকা। তবে মুরগির বাজারে বেড়েছে চাপ। এক সপ্তাহেই ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার ১৯০ টাকা, সোনালি ৩০০–৩৩০ টাকা, দেশি ৫৫০–৬৫০ টাকা এবং লেয়ার ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, ফিডের দাম বৃদ্ধিসহ খামারের অন্যান্য ব্যয় বাড়ায় এ পরিস্থিতি। মাছের বাজারেও বড় পরিবর্তন নেই। ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি; মাঝারি ইলিশ ১৫০০ টাকা এবং বড় ইলিশ ২০০০–৩০০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই, কাতল, মৃগেল ৩০০–৭৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া ১৯০–২৫০ টাকার নিচে নেই। অন্যান্য মাছের মধ্যেও একই প্রবণতা মাগুর ৫০০, কৈ ২০০–২৫০, সিলভার কার্প ২৫০–৩০০, বোয়াল ৫০০–৭০০, কালিবাউশ ৪৫০, আইড় ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের দামও বেশি কাঁচকি ৪৫০, মলা ৩০০, পাবদা ৩০০–৬০০ এবং গলদা চিংড়ি ৬৫০–১০০০ টাকা পর্যন্ত। বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীতে সবজির নিয়মিত সরবরাহ এখনো শুরু হয়নি। আরও ৭–১০ দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে এবং তখন দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে বাজার পরিস্থিতি বছর বছর একই থাকে সরবরাহ থাকে স্বাভাবিক, তবুও দাম কমে না। শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরা থাকলেও দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে। কে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, কারা দাম বাড়িয়ে লাভ লুটছে সে প্রশ্নের উত্তর আজও অস্পষ্ট। কৃষক তার ন্যায্য মূল্য পান না, আর ক্রেতাও স্বস্তি পান না। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৮, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
২৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৪১ মিলিয়ন ডলার

চলতি অর্থবছরের নভেম্বরের প্রথম ২৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ হাজার ৪৪১ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮.৬ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৯৭ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১২ হাজার ৫৯০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাহ ছিল ১০ হাজার ৮৩৫ মিলিয়ন ডলার। সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে স্পষ্ট ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৬, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ফের বাড়ল

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ শিগগিরই সুদের হার কমাতে পারে এমন প্রত্যাশার ভিত্তিতে স্বর্ণের দাম প্রায় এক শতাংশ বৃদ্ধি পায়।   স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম ১.২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪,১১১.৮৬ ডলার এ পৌঁছায়। ডিসেম্বর মাসের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দামও ০.৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪,০৯৪.২ ডলার এ স্থির হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে ধারণা জোরালো হচ্ছে যে ডিসেম্বরে ফেড সুদের হার কমানোর পথে থাকতে পারে। এতে মুদ্রানীতির নরম অবস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের দামের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফেডের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার কমানো সম্ভব, যা মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না এবং কর্মসংস্থানের বাজারও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। এদিকে বাজার পর্যবেক্ষণকারী সূচকে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুদের হার কমার সম্ভাবনা প্রায় ৭৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামনের ডেটাগুলো মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমার ইঙ্গিত দিতে পারে, এবং এতে স্বর্ণের দামে আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে ইউক্রেন পরিস্থিতি স্বর্ণের বাজারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, দাম আপাতত ৪,০০০ থেকে ৪,১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম বেড়েছে ১.৭ শতাংশ, প্রতি আউন্সে দাঁড়িয়েছে ৫০.৮৪ ডলার। প্লাটিনাম বেড়েছে ২.৩ শতাংশ, প্রতি আউন্স ১,৫৪৫.৯১ ডলারে পৌঁছেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৫, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মাতৃদুগ্ধে মিলল ইউরেনিয়াম, বিজ্ঞানীরা বলছেন ঝুঁকি নেই

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের এক গবেষণায় স্তন্যদানকারী মায়েদের দুধে ইউরেনিয়াম পাওয়ার পর দেশটিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই উদ্বেগের বিষয়ে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) এক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলেছেন, গবেষণার ফলাফল জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক কিছু নয়। বিহারে মাতৃদুগ্ধের নমুনায় পাওয়া ইউরেনিয়ামের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে রয়েছে।   রোববার দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির পারমাণবিক বিজ্ঞানী, এনডিএমএর সদস্য ও ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক ড. দীনেশ কে অসওয়াল এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গবেষণার ফল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।   তিনি বলেন, যে মাত্রা শনাক্ত হয়েছে, তা নিরাপদ সীমার মধ্যেই আছে। আসলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পানীয়জলে যে অনুমোদিত সীমা নির্ধারণ করেছে, তা এই গবেষণায় পাওয়া মাত্রার তুলনায় প্রায় ছয় গুণ।   বিহারের পাটনার মহাবীর ক্যানসার সংস্থান অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি, নয়াদিল্লির এআইআইএমএসের কয়েকজন বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে ওই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।   ব্রিটিশ জার্নাল ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে’ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিহারের স্তন্যদুগ্ধে সর্বোচ্চ ৫ পিপিবি (পার্টস পার বিলিয়ন) ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে। গবেষণার সহ-লেখক দিল্লির এআইআইএমএসের বিজ্ঞানী ড. অশোক শর্মা বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, গবেষণায় ৪০ জন স্তন্যদানকারী মায়ের দুধ বিশ্লেষণ করা হয় এবং সব নমুনাতেই ইউরেনিয়াম (ইউ-২৩৮) পাওয়া গেছে।   ‘‘যদিও এই গবেষণায় ৭০ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নন-কার্সিনোজেনিক ঝুঁকি দেখা গেছে। তবে সামগ্রিক ইউরেনিয়ামের মাত্রা অনুমোদিত সীমার নিচে এবং মা ও শিশুর ওপর প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।’’   দীর্ঘমেয়াদে ইউরেনিয়ামের সংস্পর্শ পেলে তা শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ড. শর্মা বলেন, এই গবেষণায় যে ফল পাওয়া গেছে, তাতে প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি কম এবং মায়েরা অবশ্যই শিশুদের দুধপান করানো অব্যাহত রাখবেন।   ড. অসওয়াল বলেন, ‘‘উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। মায়েরা নির্দ্বিধায় শিশুদের বুকের দুধ পান করানো চালিয়ে যাবেন। পানীয়জলে ইউরেনিয়ামের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমা ৩০ পিপিবি; যা বিহারের নমুনায় পাওয়া মাত্রার তুলনায় ছয় গুণ বেশি। অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিমাণের ইউরেনিয়াম পৃথিবীর স্থলভাগে স্বাভাবিকভাবেই মিশে থাকে। এছাড়া স্তন্যদানকারী মায়েদের গ্রহণ করা ইউরেনিয়ামের বেশিরভাগই প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়; একেবারে সামান্য অংশ দুধে যায়।   • গবেষণায় কী মিলছে? মহাবীর ক্যানসার সংস্থান অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তা ড. অরুণ কুমার নেতৃত্বাধীন ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানিতে ইউরেনিয়ামের দূষণ মানুষের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ভারতে ১৮টি রাজ্যের ১৫১টি জেলায় ভূগর্ভস্থ পানিতে ইউরেনিয়াম দূষণ শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়, এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলো স্তন্যদানকারী মায়েদের স্তন্যদুগ্ধে ইউরেনিয়াম দূষণ এবং তাদের দুধপানকারী শিশুদের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করা। শিশুরা মায়ের দুধের মাধ্যমে যে ইউরেনিয়ামের সংস্পর্শে আসে তা পরিমাপের জন্য বিহারের বিভিন্ন জেলা থেকে বিক্ষিপ্তভাবে ৪০ জন স্তন্যদানকারী নারী নির্বাচন করা হয়। তাদের লিখিত সম্মতি নিয়ে দুধ সংগ্রহ এবং ইউ-২৩৮ পরিমাপ করা হয়। ‘‘শিশু এবং মায়েদের কার্সিনোজেনিক ঝুঁকি (সিআর) ও হ্যাজার্ড কোটিয়েন্ট (এইচকিউ) হিসেব করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, শিশুদের মায়ের দুধের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম-সংস্পর্শ ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। গবেষণার জন্য সংগৃহীত সব স্তন্যদুগ্ধের নমুনায় ইউ-২৩৮ পাওয়া গেছে, যা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দেহ থেকে ইউরেনিয়াম বের হওয়ার সময়ভেদে মায়েদের তুলনায় শিশুরা নন-কার্সিনোজেনিক ঝুঁকির জন্য বেশি সংবেদনশীল। গবেষণা বলছে, স্তন্যদুগ্ধে ইউরেনিয়ামের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।’’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় ইউরেনিয়াম-সংস্পর্শের ওপর বৃহত্তর মাত্রায় বায়োমনিটরিং প্রয়োজন।   • গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি স্তন্যদুগ্ধকে শিশুর পুষ্টির ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতে শিশুদের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার জন্য জরুরি পুষ্টি, অ্যান্টিবডি এবং বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ ছয় মাস কেবল মাতৃদুগ্ধ পান এবং দুই বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত দুধপান চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে।   • কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপিত কিংবা প্রসঙ্গ ছাড়া প্রকাশিত হলে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। ড. অসওয়াল বলেছেন, এই বিষয়ে ভুল তথ্যের বিস্তার এবং মায়েদের সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব ঠেকানোই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, দুধপান শুধু পুষ্টির বিষয় নয়; এটি একটি জনস্বাস্থ্যগত অগ্রাধিকার। ভিত্তিহীন আশঙ্কায় দুধপান বন্ধ করা মা ও শিশু উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছে, পরিবেশগত ঝুঁকির তুলনায় দুধপানের উপকারিতা অনেক বেশি। দুধপান করা শিশুদের সংক্রমণ, স্থূলতা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কম থাকে। মায়েদের ক্ষেত্রেও স্তন ও ডিম্বাশয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে।   • বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গবেষণায় পাওয়া ইউরেনিয়ামের মাত্রার তুলনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমা ছয় গুণ বেশি। এই বিশাল ব্যবধান একটি শক্তিশালী সুরক্ষাবিধান দেয়। আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও দেখা যায়, ইউরেনিয়ামের শনাক্ত হওয়া এমন স্তর স্বাভাবিক এবং সাধারণত পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবে থাকা মাত্রার প্রতিফলন। ড. অসওয়াল বলেন, জনস্বাস্থ্য সিদ্ধান্তে বিজ্ঞানকেই পথ দেখাতে হবে, ভয়কে নয়। আমাদের অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে দুধপান সম্পূর্ণ নিরাপদ।   সূত্র: এনডিটিভি।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ২৩, ২০২৫ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Top week

সংগৃহীত ছবি
জাতীয়

জানা গেল বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0