অর্থনীতি

ছবি: সংগৃহীত
বাজেটে কমছে কৃষিখাতের বরাদ্দ, বিনিয়োগ ও ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে কৃষিখাতের গুরুত্ব বাড়লেও জাতীয় বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে পরিণত করতে আসন্ন বাজেটে বিনিয়োগ, ভর্তুকি ও প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তা বাড়ানো জরুরি।   তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অর্থবছর ধরে মোট বাজেটের ১০ শতাংশের নিচে বরাদ্দ পাচ্ছে কৃষিখাত। ২০১১-১২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা কমতে থাকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষিখাতে বরাদ্দ ছিল ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরে নেমে এসেছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে।   অর্থনীতিতে কৃষির অবদান এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান প্রায় ১১ শতাংশ। এছাড়া মোট কর্মশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং গ্রামীণ নারীদের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃষি ভর্তুকি ও প্রণোদনা কমানো হলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তাই সার, বীজ উৎপাদন ও বিতরণে গুরুত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।   তাদের মতে, কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সহায়তা বাড়ানো গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কৃষক লাভবান হবেন এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দামও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

আক্তারুজ্জামান মে ২৪, ২০২৬
ফাইল ছবি
কোস্টগার্ডের জন্য কেনা হচ্ছে ৫ জাহাজ, ব্যয় ১ হাজার ২১২ কোটি টাকা

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে পাঁচটি রিভারাইন প্যাট্রল ভেসেল (আরপিভি) জাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২১২ কোটি টাকা। একই সঙ্গে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণেও নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রতিস্থাপক জাহাজ সংগ্রহ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় কোস্ট গার্ডের জন্য পাঁচটি রিভারাইন প্যাট্রল ভেসেল নির্মাণ ও ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। রিভারাইন প্যাট্রল ভেসেল হচ্ছে নদী ও অভ্যন্তরীণ জলপথে টহল, নজরদারি এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের মাঝারি আকারের জাহাজ। এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে আহ্বান করা দরপত্রে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যৌথভাবে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এবং কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, কোস্ট গার্ডের রিভারাইন প্যাট্রল স্কোয়াড্রনের বর্তমানে ব্যবহৃত পাঁচটি জাহাজ ১৯৭০ সালে নির্মিত। ফলে এসব জাহাজের বয়স এখন ৫৪ বছরের বেশি। অথচ এ ধরনের জাহাজের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ২০ থেকে ২৫ বছর। নতুন জাহাজ সংগ্রহের মাধ্যমে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় টহল এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এনটিএমসির ‘কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং সিস্টেম সম্প্রসারণ (প্রথম ধাপ)’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ১৩৭ টাকার ক্রয়প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অতিসংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্থার জন্য সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে নয়টি প্রতিষ্ঠানের কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব জমা দেয় এবং দুটি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসিকে কার্যাদেশ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি পরবর্তী প্রজন্মের ফায়ারওয়াল যন্ত্র, দুটি বহুমুখী হাইব্রিড প্যাকেট নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, তিনটি সুইচ ব্যবস্থাপনা কার্ড এবং ছয়টি তথ্যকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনা হবে।

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো
কার্ড থেকে বিকাশ-নগদ-রকেটে টাকা আনতে নতুন নির্দেশনা

যেকোনো ব্যাংকের কার্ড থেকে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে টাকা আনার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার কোনো ব্যাংক কার্ড বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো এমএফএস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করতে হলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি ‘টোকেন লেনদেন’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রতারণার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে একাধিক এমএফএস অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব অনিয়ম ও জালিয়াতি ঠেকাতেই নতুন এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে লেনদেনে কোনো বাধা থাকবে না বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রথমবার কোনো কার্ড এমএফএস ব্যক্তিগত হিসাবের সঙ্গে সংযুক্ত করার সময় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি লেনদেন করতে হবে। ওই লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর সংশ্লিষ্ট কার্ডটি পুরোপুরি সক্রিয় হবে এবং এরপর গ্রাহক স্বাভাবিকভাবে যেকোনো পরিমাণ অর্থ ‘অ্যাড মানি’ করতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্ডধারী ও এমএফএস হিসাবধারীর নাম একই হলে টোকেন লেনদেন ছাড়াই সরাসরি কার্ড সংযুক্ত করে নিয়মিত লেনদেন করা যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরো নির্দেশ দিয়েছে, কার্ড থেকে এমএফএস হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ লেনদেনকে আর মার্চেন্ট পেমেন্ট হিসেবে দেখানো যাবে না। এটিকে ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে লেনদেনের সময় বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বর যেন কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছে দৃশ্যমান থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কার্যকর করতে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে ১ আগস্ট থেকে কার্ডের মাধ্যমে এমএফএস অ্যাকাউন্টে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
একটি সিদ্ধান্তেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে দেশের ব্যাংকিং খাত

দেশের ব্যাংকিং খাত এখন এমন এক সংকটময় অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে খেলাপি ঋণ, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ পুরো ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে তুলেছে। বাইরে থেকে প্রবৃদ্ধি ও ডিজিটাল অগ্রগতি দেখা গেলেও ভেতরে জমেছে আস্থাহীনতা ও অনিশ্চয়তা।   অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের বড় অংশ মনে করছেন, এখনই একটি কঠোর ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাদের মতে, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে পুরো খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সংকট এখন অর্থের নয়, আস্থার।   গত এক দশকে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বড় অঙ্কের ঋণ অনাদায়ী থাকা, পুনঃতফসিল সুবিধা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অনেক ব্যাংকে তারল্য সংকটও দেখা দিয়েছে, ফলে আমানতকারীরা টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।   অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি পুরো অর্থনীতির রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থা। তাই ব্যাংক দুর্বল হলে শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।   বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের পরিস্থিতি, যেখানে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব ব্যাংকের বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতিও সংকটকে আরও গভীর করেছে।   এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের কিছু ধারা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, কিছু বিধান অতীতের অনিয়মে জড়িতদের আবার ব্যাংক মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা সংস্কার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।   আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকও এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে তাদের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে, যেখানে আস্থা ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার সমাধান কেবল ব্যাংক একীভূত করলেই হবে না। প্রয়োজন— ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ শক্তিশালী অডিট ও জবাবদিহি ব্যবস্থা   সেমিনার ও আলোচনায় অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, সুশাসন ছাড়া ব্যাংকিং খাতকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।   সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন প্রয়োজন একটি সাহসী ও কঠোর সিদ্ধান্ত, যা আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে নিতে পারে।

আক্তারুজ্জামান মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে স্বর্ণ উৎপাদনে শীর্ষ ১০ দেশ, কত তাদের বার্ষিক উৎপাদন?

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ শুধু অলংকার বা বিনিয়োগের মাধ্যম নয়, মূল্যবান এই ধাতু এখন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ বাড়ানো ও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই ধাতুর গুরুত্ব দিনকে দিন বাড়ছে।   বিশ্বের স্বর্ণ উৎপাদন এখনো মূলত কয়েকটি শক্তিধর দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত। ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন। এরপরেই রয়েছে রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আফ্রিকার দেশগুলোও বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ঘানা, মালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো এখন বিশ্বের মোট স্বর্ণ উৎপাদনে বড় অবদান রাখছে।   চীন শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ উৎপাদকই নয়, একই সঙ্গে অন্যতম বড় ভোক্তা দেশও। ফলে খনি, পরিশোধন, গয়নার চাহিদা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে দেশটির প্রভাব ব্যাপক ও গভীর। দেখে নেওয়া যাক, বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ কোনগুলো:   বিশ্ববাজারে স্বর্ণের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ বাড়ানো এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে উৎপাদনকারী দেশগুলোর ভূমিকাও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি।   ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যভিত্তিক ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশের তালিকা। তালিকায় শীর্ষে আছে চীন। এরপর রয়েছে রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আফ্রিকার কয়েকটি দেশও দ্রুত বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ২০২৪ সালের উৎপাদনের ভিত্তিতে এ তালিকা করা হয়েছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত
মার্চে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো কোন জেলায়, কোন দেশ থেকে কত

চলতি বছরের মার্চে দেশে আসা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেকই এসেছে ঢাকা বিভাগে। এ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।এর মধ্যে, ঢাকা বিভাগে এসেছে ১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা মার্চে মোট প্রবাসী আয়ের ৪৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর ঢাকায় ৪৫৬ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার বা ১৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ রেমিট্যান্স বেশি এসেছে বলে প্রতিবেদনে দেখা গেছে। প্রবাসী আয় প্রবাহের মাসিক প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগে এসেছে ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ৩১ দশমিক ০৩ শতাংশ। ৩০১ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার আসায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সাধারণত বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সময়, অর্থবছরের শেষ জুনে এবং ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। কোন জেলায় কত জেলার হিসাবে ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এরপরে ৪১৩ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার নিয়ে চট্টগ্রাম। ২৪৩ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার নিয়ে কুমিল্লা তৃতীয় ও ১৬১ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ সিলেট জেলা। ফেনীতে এসেছে ১১ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন, নোয়াখালীতে ১১১ দশমিক ৫১ মিলিয়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসেছে ১০৩ দশমিক ০১ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। কোন দেশ থেকে কত দেশের হিসাবে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীরা। তারা পাঠিয়েছেন ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া, মালয়েশিয়া থেকে ২ দশমিক ৭০ বিলিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন, ইতালি থেকে ১ দশমিক ৫৩২ ও ওমান থেকে এসেছে ১ দশমিক ৫৩১ বিলিয়ন ডলার।     ব্যাংকগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠান হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক একাই পেয়েছে ৫৮৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চাপের মধ্যেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, 'মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিময় হারের ওঠানামা এবং ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয়ের মধ্যেই রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে।'

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাজেট ২০২৬-২৭: হার্টের রিং ও কিডনি যন্ত্রাংশে ভ্যাট ছাড়, ধূমপায়ী-মদ্যপদের চাপ

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনস্বার্থে বেশ কিছু পণ্যে শুল্ক-কর ছাড়ের পাশাপাশি বিলাসী ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্যে বাড়তি কর আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিশেষ করে হৃদরোগ ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বড় ধরনের ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।   এনবিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, হার্টের রিং বা স্টেন্ট সরবরাহের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ জোগানদার ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হতে পারে। একই সঙ্গে কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত টিউব ও অন্যান্য যন্ত্রাংশেও ভ্যাট অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।   বর্তমানে দেশে হার্টের রিংয়ের দাম ব্র্যান্ড ও উৎপত্তিভেদে ১৪ হাজার টাকা থেকে প্রায় এক লাখ ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর ও ভ্যাটের কারণে রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়। প্রস্তাবিত ছাড় কার্যকর হলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে।   অন্যদিকে, ব্যাংক গ্রাহকদের জন্যও স্বস্তির খবর রয়েছে। বর্তমানে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতে আবগারি শুল্ক না থাকলেও নতুন বাজেটে এই সীমা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক আমানত ও নির্দিষ্ট সীমার লেনদেন শুল্কমুক্ত হতে পারে।   ঢাকার জনপ্রিয় গণপরিবহন ঢাকা মেট্রোরেল–এর সেবার ওপর বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি আগামী অর্থবছরেও বহাল থাকতে পারে। যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় কমাতে সরকার এই সুবিধা অব্যাহত রাখার চিন্তা করছে।   তবে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড–এর উৎপাদিত দেশীয় মদের ওপর লিটারপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ‘স্পেসিফিক ভ্যাট’ আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে।   একই সঙ্গে তামাকপণ্য থেকেও বাড়তি রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সিগারেটের ওপর সরাসরি শুল্ক-কর না বাড়িয়ে প্যাকেটপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া অবৈধ ও নকল সিগারেট নিয়ন্ত্রণে প্যাকেটে কিউআর কোড চালুর কথাও ভাবছে এনবিআর।   বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বা বিআইএন প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিআইএন নিতে হলেও ভবিষ্যতে ই-টিআইএনের মতো ঘরে বসেই অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে। তবে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বিআইএন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তাবিত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ও ব্যাংকিং ব্যয়ে স্বস্তি আসবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতেও ভূমিকা রাখবে।

আক্তারুজ্জামান মে ১৮, ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত
করজালে মোটরসাইকেল-অটোরিকশা: ক্ষোভের মুখে হার কমিয়ে নতুন সমীকরণ!

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে করজালের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার। তবে, ঢাকায় এগুলোকে গণপরিবহন হিসেবে বিবেচনা করে এবং চালকদের তীব্র দাবির পরিপ্রেক্ষিতে করের হার অর্ধেক কমাতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বাজেট প্রস্তাবের শুরুতে যে করের হার নির্ধারণ করা হয়েছিল, চূড়ান্ত পর্যায়ে সেখান থেকে সরে এসে তা প্রায় অর্ধেক করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ আলোচনার পর করের হার কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটের খসড়ায় ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত রেখে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি হলে দুই হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতার বাইকের ক্ষেত্রে প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আদায়ের প্রস্তাব ছিল। তবে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর এই করের বোঝা কমিয়ে নতুন প্রস্তাব তৈরির নির্দেশনা আসে।’ নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, ১১০ সিসি পর্যন্ত আগের মতোই করমুক্ত থাকবে। তবে, ১১১ থেকে ১২৫ সিসি দুই হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত তিন হাজার টাকা (আগে ছিল পাঁচ হাজার) এবং ১৬৫ সিসির বেশি হলে বছর প্রতি পাঁচ হাজার টাকা (আগে ছিল ১০ হাজার) অগ্রিম আয়কর আদায়ের নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, খসড়া বাজেটে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন ফি বা কর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পাঁচ হাজার টাকা, পৌরসভায় দুই হাজার এবং ইউনিয়নের ক্ষেত্রে প্রতি বছর এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে এই করের হারও ৫০ শতাংশ কমিয়ে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দুই হাজার ৫০০, পৌরসভায় এক হাজার এবং ইউনিয়নে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এনবিআর বলছে, দেশের করজাল বাড়াতেই মূলত এই উদ্যোগ। অনেকেই ভাবছেন এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে, তবে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকেরই কর দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা— উভয় মাধ্যম থেকেই চালকরা আয় করছেন। সেই তুলনায় বছরে ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা আয়কর খুব বেশি নয়। এছাড়া, রাইড শেয়ারিংয়ে মূলত ১৬৫ সিসির নিচের বাইকগুলোই বেশি ব্যবহৃত হয়, ফলে তাদের অগ্রিম আয়কর দুই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যেই থাকবে। অন্যদিকে, অটোরিকশাকে একটি নীতিমালার মধ্যে আনা জরুরি ছিল। এই কর নির্ধারণের ফলে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোর আওতায় অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে। এদিকে, মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রতিবাদে রোববার এনবিআর ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ বাইকাররা। মানববন্ধন শেষে তারা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে বাইকারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল এখন আর কেবল শখের বাহন নয়; বরং এটি লাখো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও জীবিকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অফিসগামী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং রাইড শেয়ারিং চালকরা সময় বাঁচাতে ও যানজট এড়াতে এর ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে অনেক নারীও ব্যক্তিগত স্কুটার বা মোটরসাইকেলের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে চলাচল করছেন। বাইকাররা এমনিতেই রেজিস্ট্রেশন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা এবং জ্বালানির ওপর উচ্চ কর দিয়ে আসছেন। এর ওপর নতুন অগ্রিম আয়কর মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। স্মারকলিপিতে বাইকাররা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো—  ১. ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার বা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা করা।  ২. মোটরসাইকেলকে বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে সাধারণ জনগণের জরুরি পরিবহন মাধ্যম হিসেবে মূল্যায়ন করা।  ৩. পরিবহন খাতকে জনবান্ধব রাখতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করা।  ৪. নারী বাইকারদের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত করের সিদ্ধান্ত বাতিল করা। খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মোটরসাইকেল কিংবা অটোরিকশা চালকদের কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না। তবে, মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ফি ও দুই বছর পরপর রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ৫০ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের সর্বমোট রেজিস্ট্রেশন ফি ৯,২৯১ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি দুই বছর পর ১,১৫০ টাকা করে চার কিস্তিতে ৪,৬০০ টাকা রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ১২৫ সিসির বেশি বাইকের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ফি ১১,৭৬৪ টাকা এবং পরবর্তী দুই বছর পরপর ২,৩০০ টাকা করে চার কিস্তিতে ৯,২০০ টাকা রোড ট্যাক্স দিতে হয়। বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী, গাড়ি নবায়নের সময় যে অগ্রিম আয়কর দেওয়া হয়, তা বার্ষিক রিটার্ন দাখিলের সময় মূল করের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়।  বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখের কাছাকাছি। এর বড় একটি অংশ ১০০ থেকে ১৫০ সিসির মধ্যে, অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা মূলত মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। অন্যদিকে, ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে এত দিন কোনো ধরনের কর বা শুল্ক ছিল না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে, যার মধ্যে কেবল ঢাকাতেই চলে ১০ থেকে ১২ লাখ। এই বিশাল পরিবহন খাতকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে গত বছর ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছিল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যা শিগগিরই চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। উক্ত খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, গতি ও ধরনভেদে বিআরটিএ থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি একক নামে মাঝারি গতির তিনটির বেশি বা পরিবহন কোম্পানির নামে ২৫টির বেশি অটোরিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন না। ধীরগতির রিকশার ক্ষেত্রে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি কিনতে পারবেন। অনুমোদিত ডিলাররা নিবন্ধন সম্পন্ন না করে কোনো ক্রেতার কাছে থ্রি-হুইলার হস্তান্তর করতে পারবেন না। এছাড়া, এই বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারগুলোর ক্ষেত্রে এনবিআর নির্ধারিত শুল্ক-কর এবং চালকদের জন্য নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চামড়া খাত থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব: শিল্পমন্ত্রী

বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ খাত থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।   শনিবার (১৬ মে) সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি বিসিক কার্যালয়ে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।   শিল্পমন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের কার্যক্রম ছিল অপরিকল্পিত ও অবহেলাপূর্ণ। ফলে সম্ভাবনাময় এ শিল্পখাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। তিনি জানান, দেশে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে।   তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে অতিরিক্ত বর্জ্যের চাপ সামাল দিতে বর্তমান সিইটিপির সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৮ হাজার সিপিএম বর্জ্য পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ঈদ মৌসুমে এ চাহিদা বেড়ে প্রায় ৪৫ হাজার সিপিএমে পৌঁছে যায়। এতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।   মন্ত্রী বলেন, “উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সমন্বয় রেখে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”   তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর্থিক ও কারিগরি সক্ষম ট্যানারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হবে। এতে কেন্দ্রীয় সিইটিপির ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।   পরিবেশবান্ধব ট্যানারি শিল্প গড়ে তুলতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সিইটিপির প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   মতবিনিময় সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিসিক কর্তৃপক্ষ ও ট্যানারি শিল্প মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর বাজারে মাছের দামে ঊর্ধ্বগতি, ২০০ টাকার নিচে নেই কোনো মাছ

রাজধানীর মাছের বাজারে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম। বর্তমানে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আর নদীর মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫০০ টাকা বা তারও বেশি।   শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের কাছে জনপ্রিয় পাঙাশ মাছও এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।   এছাড়া বাইন মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। নদীর বেলে মাছের কেজি ৫০০ টাকা এবং দেশি টেংরা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়।   বাজারে ইলিশের দামও চড়া। বিক্রেতারা জানান, ওজনভেদে ইলিশের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজিতে ৩ হাজার টাকারও বেশি।   ব্যবসায়ীদের দাবি, নদীতে মাছ ধরা কমে যাওয়া, বৈরী আবহাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।   একজন ক্রেতা বলেন, “আগে যে মাছ ৩০০ টাকায় কিনতাম, এখন সেটার দাম ৪৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য মাছ কেনা কঠিন হয়ে যাবে।”   মাছ বিক্রেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে আপাতত উচ্চ দামের চাপ অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন তারা।

আক্তারুজ্জামান মে ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
এবার থাই রেস্তোরাঁ ব্যবসায় নামল প্রাণ গ্রুপ

গত বৃহস্পতিবার গুলশান-১ এলাকায় টুকটুক এক্সপ্রেস নামে রেস্তোরাঁর উদ্বোধন করেন প্রাণ গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিমেষ সাহা। এ সময় অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন গত বৃহস্পতিবার গুলশান-১ এলাকায় টুকটুক এক্সপ্রেস নামে রেস্তোরাঁর উদ্বোধন করেন প্রাণ গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিমেষ সাহা। এ সময় অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেনছবি– প্রাণ গ্রুপের সৌজন্যে এবার থাই রেস্তোরাঁ চালু করল দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ গ্রুপ। গত বছর তারা রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরু করে। ‘ডেইলি দাওয়াত’ নামে সেই রেস্তোরাঁয় ভাত, ভর্তা, মাছ ও মাংসের মতো বাংলা খাবার পাওয়া যায়। টুকটুক এক্সপ্রেস নামে গুলশানে থাই রেস্তোরাঁ চালু করেছে প্রাণ গ্রুপ। এখানে পাওয়া যাবে জনপ্রিয় ও অথেনটিক থাই খাবার। এ ছাড়া স্পেশাল লবস্টার চিলি পেস্ট, ক্রিমি বেসিল ফিশ, ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইসসহ নানা সিগনেচার থাই ডিশ। গত বৃহস্পতিবার গুলশান-১ এলাকায় রেস্টুরেন্টটির উদ্বোধন করেন প্রাণ গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিমেষ সাহা। তিনি বলেন, ‘টুকটুক এক্সপ্রেসের মাধ্যমে আমরা ঢাকায় একটি ভিন্নধর্মী থাই খাবারের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে চেয়েছি। শুধু খাবার নয়, থাই সংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও প্রাণবন্ত পরিবেশও এখানে উপভোগ করা যাবে।’ টুকটুক এক্সপ্রেসের ব্যবসা উন্নয়ন প্রধান মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সব ধরনের গ্রাহকের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে অথেনটিক থাই খাবারের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। খাবারের পাশাপাশি এখানে থাকছে কারাওকে ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে সরাসরি সংগীত পরিবেশনার সুযোগ। অভিজ্ঞ থাই রাঁধুনি ও প্রশিক্ষিত সেবাদানকারী দলের মাধ্যমে গ্রাহকদের উন্নত মানের খাবার ও সেবার অভিজ্ঞতা দেওয়া হচ্ছে।’ প্রাণ গ্রুপ জানিয়েছে, উদ্বোধন উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ লয়্যালটি কার্ড চালু করা হয়েছে। প্রথমবার রেস্টুরেন্টে খাবার উপভোগের পর গ্রাহকেরা এই কার্ড পাবেন। পরবর্তী সময়ে কোনো গ্রাহক রেস্টুরেন্টে খাবার উপভোগ করতে এলে লয়্যালটি কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি খাবার সৌজন্য উপহার হিসেবে পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণ গ্রুপের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান আলম, উপমহাব্যবস্থাপক (এইচআর) রঞ্জন কুমার দে, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) শফিক শাহিন প্রমুখ।

মারিয়া রহমান মে ০৯, ২০২৬
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু। ছবি : সংগৃহীত
‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ চলতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নতুন অর্থমন্ত্রীর

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘অতিরিক্ত বিধিবিধানের বেড়াজাল’ থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করার পাশাপাশি ‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ আর চলতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি আমরা চলতে দিতে পারি না। বাংলাদেশের অর্থনীতি সকল মানুষের জন্য হতে হবে। বুধবার প্রথমবার সচিবালয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আমির খসরু। কীভাবে এ দায়িত্ব সামলাতে চান, সে কথাও তিনি বলেন। আমির খসরু বলেন, প্রাথমিকভাবে যেটা সমস্যা আমাদের, একচুয়ালি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একেবারে খুব খারাপ অবস্থা। আমাদেরকে প্রথমে এড্রেস করতে হবে যে ইনস্টিটিউশনগুলোকে রিকভার করতে হবে। তিনি বলেন, ইনস্টিটিউশনগুলোর মধ্যে প্রফেশনালিজম আনতে হবে, স্বচ্ছতা আনতে হবে, এফিশিয়েন্সি আনতে হবে। এটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এগুলার অনুপস্থিতিতে আমরা যত বড় প্রোগ্রামই নিই, এগুলো কাজ করবে না। এটা হচ্ছে এক নম্বর। তার দ্বিতীয়ত, ‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতির ‘গণতন্ত্রীকরণের’ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সকল মানুষের জন্য হতে হবে। লেভেল প্লেইং ফিল্ড থাকতে হবে এবং বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের যাতে সুযোগ থাকে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার জন্য এবং অর্থনীতির সুফল যাতে তাদের কাছে যায়। তিনি বলেন, তৃতীয় কথা হচ্ছে, এটা সফলভাবে করতে হলে আমাদের সিরিয়াস ডিরেগুলেশন করতে হবে। বাংলাদেশ একটি ওভার রেগুলেটেড কান্ট্রি হয়ে গেছে। এটা হয়েছে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি করতে করতে। তিনি আরও বলেন, আমাকে সিরিয়াস ডিরেগুলেশন করতে হবে। লিবারলাইজেশন করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হবে। যাতে সকলের সমান অধিকার থাকে। অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার জন্য এবং অর্থনীতির সুফল যাতে সকলের কাছে যায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবার বিএনপির নতুন সরকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে অর্থের সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছাতে উদ্যোগ নেবে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ পেছাতে নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।’ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার এলডিসি থেকে উত্তরণ ডেফার করতে চায় এবং সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার ভাষায়, বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করা হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হবে।   ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী অন্তত তিন বছরের জন্য এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক চিঠি দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে আজ থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। রপ্তানির সাম্প্রতিক নিম্নগতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্য থেকে আসে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন পণ্য যুক্ত করে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার হবে বলে তিনি জানান।   বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভুল করার সুযোগ খুবই সীমিত। নীতিগত ভুল বা দীর্ঘস্থায়ী বৈদেশিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা দেশের নেই। তাই গত কয়েক মাসে যে মন্থর পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি। রমজানের বাজার নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, রমজান মাস ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রমজানে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তব্য দিতে চান না; বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার ব্যাখ্যায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটি মূলত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মানুষ সাধারণত পুরো মাসের জন্য একসঙ্গে বাজার করে, ফলে হঠাৎ করে ভোগ বৃদ্ধি পায় এবং এর সাময়িক প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগের প্রধান শর্ত হলো স্থিতিশীল পরিবেশ। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত হতে হয় যে তাঁদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে যুক্তিসংগত মুনাফা পাওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির থাকায় অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। রমজান সামাল দেওয়াই নতুন সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা কিনা—এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমজান মাসে বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সফল হতেই হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়; বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। এ কাজে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। ভুল হলে তা ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
দাম কমল সোনার, ভরি কত?

দেশের বাজারে কমেছে সোনার দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।  নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।   এর আগে, সবশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।   এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০ টা থেকেই।   এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ১৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১১ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।  সোনার দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।   চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১০ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৭ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।   

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিএসইসি পাবলিক অফার রুলস ২০২৫-এর উপর সিএসই’র কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) পিএলসি’র আয়োজনে আজ চট্টগ্রামস্থ সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ‘বিএসইসি (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫ : এর প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, সম্ভাবনাময় এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।  কর্মশালায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের(বিএসইসি) অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. মো. ইকবাল হোসেইন, ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এ মামুন এবং সিনিয়র ম্যানেজার মো. খালেদ হাসান, সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মাহাদি হাসান এবং সিএসই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, বিএসইসির পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলসে সাম্প্রতিক বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, যেগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা এবং উপযুক্ত প্রয়োগ করার জন্য এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠান এবং যেসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারের সাথে ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জানা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই যদিও ঢাকা কেন্দ্রিক, তবুও আপনাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার ব্যাপারে আরও উদ্যোগী হবেন।  তিনি আরও বলেন, এই আইনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নতুন আইন অনুযায়ী সব ধরনের রিকোয়ারমেন্টস পূর্ণ করলে দ্রুততম সময়ে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির উৎস হচ্ছে পুঁজিবাজার। তাই প্রতিষ্ঠানসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করানোর জন্য আরও আন্তরিক চেষ্টা করতে হবে, তা না হলে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো যে সংকটের মধ্যে রয়েছে তার আরও অবনতি হবে। আমরা আশা করবো, সবার সমন্বিত প্রয়াসে নতুন পাবলিক ইস্যু রুলসের মাধ্যমে আমরা ভালো ফান্ডামেন্টাল কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে আনতে পারবো। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. মো. ইকবাল হোসেইন। উপস্থাপনায় তিনি নতুন আইনের প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো সকলের সামনে সহজভাবে তুলে ধরেন এবং পূর্বোক্ত আইনের সাথে নতুন আইনের মূল পার্থক্য ও সুবিধাদি তুলে ধরেন। কর্মশালায় ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এ মামুন ও সিনিয়র ম্যানেজার মো. খালেদ হাসান যৌথভাবে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তারা তাদের উপস্থাপনায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ফলে কোম্পানিগুলো যে সুবিধাদি অর্জন করবে, সে বিষয়ে এবং তালিকাভুক্তির ব্যাপারে ইস্যু ম্যানেজারদের সার্বিক সহযোগিতার ভূমিকা উল্লেখ করেন। চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মাহাদি হাসান বলেন, আজকের কর্মশালাটি সকলের জন্য এজন্য প্রয়োজন যে, কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, সেটি কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়, সেটা জানা থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে মূল্যায়ন করা সহজ হয় ও একই সাথে বিনিয়োগ নিরাপদ হয়। তিনি আরও বলেন, তালিকাভুক্তির পদ্ধতি সম্পর্কে সম্প্রতি যে পরিবর্তন এসেছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের একটি হলো কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির অনুমোদন স্টক এক্সচেঞ্জসমূহ দিতে পারবে। সিএসইর তালিকাভুক্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত দক্ষ টিম আপনাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে। সংশ্লিষ্ট সকলের মতে, পুঁজিবাজারে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার সঠিক প্রক্রিয়া জানা না থাকলে প্রতিষ্ঠান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, এমনকি তালিকাভুক্তির আবেদনও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সঠিকভাবে প্রক্রিয়াগুলো জেনে তারপর যদি তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানি নির্বাচন করা যায়, তাহলে প্রক্রিয়াটি যেমন সহজ ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে, একই সাথে পুঁজিবাজার ও সংশ্লিষ্ট সকলে এর সুফল পাবেন।  সকলের উপস্থাপনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬
এলপি গ্যাস। ছবি : সংগৃহীত
ফেব্রুয়ারিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়বে না কমবে, জানা যাবে সোমবার

চলতি ফেব্রুয়ারিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ছে নাকি কমছে, তা জানা যাবে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)। এদিন এক মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা করা হবে। সোমবার এলপিজির পাশাপাশি ঘোষণা করা হবে অটোগ্যাসের দামও। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই দিন সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় নিহত ছাড়াল ৭১ হাজার ৪০০

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪১৯ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার ৩১৮ জন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবরের পর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪৪২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৪০ জন আহত হয়েছেন। যুদ্ধে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, গাজার বাইরে চিকিৎসার জন্য ১৮ হাজারের বেশি রোগীকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ৩৯ হাজারের বেশি শিশু এক বা উভয় অভিভাবককে হারিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার শিশু সম্পূর্ণ এতিম। এটিকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এতিম সংকট বলা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। প্রথম ধাপে জিম্মি মুক্তি, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও ত্রাণ প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে গাজা থেকে পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের কথা রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
ড. এজাজুল ইসলাম
বিআইবিএমের নতুন মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলাম

এজাজুল ইসলাম মুদ্রানীতি কাঠামো আধুনিকীকরণে নেতৃত্ব দেন। এ সময় ইন্টারেস্ট রেট করিডর চালুর পাশাপাশি তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং মানি মার্কেট অপারেশনের উপকরণ ও কার্যক্রম সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।   বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক হিসেবে ড. মো. এজাজুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি তিনি এ পদে যোগ দিয়েছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সংস্থাটি ।   নতুন দায়িত্বগ্রহণের আগে ড. এজাজুল ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে মুদ্রানীতি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি মুদ্রানীতি কমিটি, বৈদেশিক মুদ্রা নিলাম কমিটি ও মানি মার্কেট অপারেশন কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তিন দশকের বেশি ধরে কর্মরত থাকা অবস্থায় এজাজুল ইসলাম মুদ্রা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর মধ্যে মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতি, বিনিময় হার নীতি এবং সুদের হার নীতিসহ বিভিন্ন নীতিক্ষেত্রে তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।   এজাজুল ইসলাম মুদ্রানীতি কাঠামো আধুনিকীকরণে নেতৃত্ব দেন। এ সময় ইন্টারেস্ট রেট করিডর চালুর পাশাপাশি তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং মানি মার্কেট অপারেশনের উপকরণ ও কার্যক্রম সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।   অর্থ, ঋণ, বিনিময় হার, ব্যাংকিং, সুদের হার এবং বৃহত্তর আর্থিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিষয়ে দেশী-বিদেশী রেফার্ড জার্নালে ড. এজাজুল ইসলামের প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা ৩৫টিরও বেশি। তিনি মুদ্রা অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক গোল্ড মেডেল ‘এমপ্লয়িজ রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬
নিউ ইয়র্কে টেক্সওয়ার্ল্ড প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ১৫ প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম টেক্সটাইল সোর্সিং ইভেন্ট ‘টেক্সওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক ২০২৬’-এ ১৫টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। আগামী ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কের জাভিটস কনভেনশন সেন্টারে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।   ইভেন্টটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে টেকসই কাপড়, ক্যাসুয়াল কটন, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, নিটওয়্যার ও লেইসের মতো পণ্য প্রদর্শন করা হবে। মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও টেক্সওয়ার্ল্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বিশ্বের শত শত ফেব্রিক ও অ্যাপারেল সরবরাহকারী অংশ নিচ্ছেন।   বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সহায়তায় দেশের ১৪টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তাদের সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গোল্ডেন টেক্স, ব্লু অ্যাপারেল, হেরা সোয়েটার্স, পিএম সোর্সিং, এক্সকম ফ্যাশন, এবি অ্যাপারেলস ও ডিজাইন সোর্সিং ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন। এছাড়া প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে অংশগ্রহণ করছে।   বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসাবে স্বীকৃত।   টেক্সওয়ার্ল্ডের মতো প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি নির্মাতারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, বাজার সম্প্রসারণ এবং টেকসই সোর্সিং ট্রেন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চমানের কাপড়, পরিবেশবান্ধব উপকরণ এবং আধুনিক ডিজাইনের পোশাক প্রদর্শনের পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে তাদের অবদান তুলে ধরবে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬
টানা বৃদ্ধির পর কমলো স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বর্ণের দাম একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছে। বছরের শুরুতেও কয়েক দফায় দাম বাড়ে। অবশেষে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা মন্দাভাব দেখানোয় দাম কমলো।   লেনদেনের মাঝামাঝিতে স্পট গোল্ড (বর্তমান দাম) ১% কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৫২.৯৭ ডলারে নেমেছে। সেশনের শুরুতে এটি এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করেছিল। গত ২৬ ডিসেম্বর সোনা রেকর্ড উচ্চতায় ৪,৫৪৯.৭১ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছেছিল।   ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির ইউএস গোল্ড ফিউচার্স ০.৭% কমে ৪,৪৬২.৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। দাম কিছুটা কমায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর এই ধরনের প্রফিট বুকিং খুবই স্বাভাবিক। তবে অনেকে এখনো মনে করছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সম্ভাব্য ফেড রেট কাট এবং অন্যান্য নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদার কারণে স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে।   বর্তমানে স্বর্ণের এই সংশোধনমূলক পতনকে বাজারে অনেকেই ‘স্বস্তির শ্বাস’ হিসেবে দেখছেন। তেমনি অনেকের জন্য নতুন করে স্বর্ণ কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৭, ২০২৬
১৭৮ কোটি টাকার সয়াবিন তেল কিনছে সরকার

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে থাইল্যান্ড থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ড থেকে মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠান থাইল্যার্ডের প্রাইম ক্রপ ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেড সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। সভায় শুধু সয়াবিন তেলই নয়, দেশের জরুরি চাহিদা মেটাতে মসুর ডাল, সার এবং জ্বালানি তেল আমদানির পৃথক প্রস্তাবগুলোতেও সম্মতি দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। বাণিজ্য ও কৃষি খাতের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে এসব পণ্য দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং দ্রুততাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগ ভোজ্যতেলের বর্তমান বাজার পরিস্থিতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং রমজান বা আসন্ন মাসগুলোতে কোনো ধরণের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৬, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী

প্যারিসে জাতীয় কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালন

আক্তারুজ্জামান মে ৩০, ২০২৬