অর্থনীতি

ছবি : সংগৃহীত
পোশাক রপ্তানিতে টানা পঞ্চমবার বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নানা প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫’ অনুযায়ী, টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।   ডব্লিউটিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশ ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বাজারে দ্বিতীয় অবস্থান নিশ্চিত করেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে—প্রথমে চীন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ, তৃতীয় ভিয়েতনাম, চতুর্থ ভারত এবং পঞ্চম তুরস্ক।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ফলে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান আরও সুসংহত হয়েছে।   তবে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বছর ব্যবধানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১ শতাংশ, বিপরীতে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১১ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান অবস্থান ধরে রাখলেও ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।   খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাজারে দ্বিতীয় অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অটোমেশন (স্বয়ংক্রিয়করণ), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে আরও জোর দিতে হবে।   এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে পারলে বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।   বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। তাই বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই বর্তমান সাফল্যে আত্মতুষ্ট না হয়ে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতেও বিশ্ববাজারে দেশের শক্ত অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ব্যাংকে চলতি হিসাবের অর্থ লিয়েন রাখার সুবিধা বাতিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংকগুলোর জন্য টিটি (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) ডিসকাউন্টিং সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থ লিয়েন (অবরুদ্ধ) রাখার দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।   সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।     সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালের বিভিন্ন নির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সিকিউরিটি বন্ধক রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়া হতো। কোনো ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থে লিয়েন রেখে এ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ ছিল।     পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের জন্য অনুমোদিত টিটি ডিসকাউন্টিং সীমার ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবে লিয়েন রাখতে হতো।   এ অর্থ ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবের অংশ হিসেবে গণ্য হতো না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কল মানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস সহজলভ্য রয়েছে। ফলে চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা আর নেই।     এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে এ সুবিধা ব্যবহারকারী ব্যাংকের সংখ্যাও খুবই কম।     অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলো টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা ব্যবহার না করলেও অনুমোদিত সীমার ২০ শতাংশ অর্থ লিয়েন অবস্থায় থাকত। ফলে ওই অর্থ সিআরআর হিসাবে গণনা না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক অনুপাত বজায় রাখতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছিল। এসব বিষয় বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে চিংফেং ঝাংকে নিয়োগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে এডিবির ঢাকা অফিস।   এডিবি জানায়, বাংলাদেশে সংস্থাটির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন চিংফেং ঝাং। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্ব আরও জোরদার করবেন, উন্নয়ন অংশীজনদের সঙ্গে কৌশলগত নীতিসংলাপে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশের জন্য এডিবির পরবর্তী উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।   দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বার্তায় চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্যোগ ও অন্যান্য প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে এডিবি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।   দীর্ঘ উন্নয়ন অভিজ্ঞতা: টেকসই উন্নয়ন খাতে চিংফেং ঝাংয়ের ৩০ বছরের বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ বছরেরও বেশি সময় তিনি এডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা, পানি সম্পদ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে বিভিন্ন রূপান্তরমূলক কর্মসূচি ও কৌশলগত উদ্যোগে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।   বর্তমান নিয়োগের আগে তিনি এডিবির অ্যাগ্রিকালচার, ফুড, নেচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই পদে তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এডিবির কৌশলগত কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।   শিক্ষা ও পেশাগত পটভূমি: চীনের নাগরিক চিংফেং ঝাং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ প্রকৌশলে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর এবং হাইড্রোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।   বাংলাদেশে এডিবির কার্যক্রম: বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্যপদ লাভ করে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে এডিবির চলমান সরকারি ও বেসরকারি খাতের অনুদান ও প্রকল্প-অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১২.৫ বিলিয়ন ডলার। সংস্থাটি এ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান অনুমোদন করেছে।   আগামী কয়েক বছরে টেকসই প্রবৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে এডিবি প্রতিবছর প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদনের পরিকল্পনা করছে।   ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি বর্তমানে ৬৯টি সদস্যদেশ নিয়ে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩০, ২০২৬
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৩ বছরের এলএনজি আমদানিতে নীতিগত অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুনভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে ১৩ বছর মেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।   মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।   বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কাতার, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট সাতটি জিটুজি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করছে। তবে বিদ্যমান গ্যাসের ঘাটতি ও ভবিষ্যতের বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতেও অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।   এর অংশ হিসেবে গুনভর ইউএসএ এলএলসি ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয়টি এলএনজি কার্গো সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব জিটুজি কাঠামোর আওতায় চূড়ান্ত চুক্তির জন্য প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে এবং চুক্তি কার্যকর করবে পেট্রোবাংলা।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতেও এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৯, ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ফের কর্মসূচি ঘোষণা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একইসঙ্গে ব্যাংক থেকে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।   সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ফোরামের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহসহ বিপুলসংখ্যক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।   লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থার প্রতীক। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তিনি বলেন, গত ২৪ মে থেকে গ্রাহকরা ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। একইসঙ্গে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে অপসারণ করেছে এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনো আইনে পরিণত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও দাবি করেন তারা।   গ্রাহক ফোরাম তাদের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সৎ, যোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটপাটের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিল এবং ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার।   ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।   দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ জুলাই জেলা শহরের বিভিন্ন শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৮ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গ্রাহক মহাসমাবেশ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কঠোর মুদ্রানীতিতে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে পারে: ডিসিসিআই

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার পরও কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকলে নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের প্রবৃদ্ধিমুখী উদ্যোগগুলো প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, গত চার বছর ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নামেনি। বরং চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।   তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর ও শুল্ক সুবিধা রাখা হয়েছে। কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেই প্রবৃদ্ধিবান্ধব অবস্থানের প্রতিফলন নেই। ফলে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। উচ্চ নীতি সুদহারের কারণে ঋণের ব্যয়ও কমছে না, যা নতুন বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।   ডিসিসিআই বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে এ তহবিলের স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে সংগঠনটি বলেছে, ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তা, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং উৎপাদন খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহজ শর্তে অর্থায়নের আওতায় আনতে হবে।   একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সংকটে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে বিশেষ সহায়তার আহ্বান জানিয়ে ডিসিসিআই বলেছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়া জরুরি।   সংগঠনটি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সরকারি খাতে ঋণগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্যের বড় অংশ সরকার ব্যবহার করছে। এতে বেসরকারি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।   ডিসিসিআইর মতে, বাজেটে ঘোষিত কর ও রাজস্ব সুবিধাগুলোর পূর্ণ সুফল পেতে হলে উদ্যোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী সুদে অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন।

আক্তারুজ্জামান জুন ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে জুতা কারখানা গড়বে ইতালি-আয়ারল্যান্ডের যৌথ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) পরিচালিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ যুক্ত হয়েছে। ইতালি ও আয়ারল্যান্ডের যৌথ মালিকানাধীন ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেড চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে অত্যাধুনিক জুতা উৎপাদন কারখানা স্থাপনের জন্য বেপজার সঙ্গে ভূমি ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করেছে।   মঙ্গলবার ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ ইকবাল উমরানি চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।   প্রকল্পটির জন্য প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই কারখানায় ইনজেক্টেড, সিমেন্টেড, ক্যাজুয়াল, ফরমাল, লেডিস ও সেফটি জুতাসহ বিভিন্ন ধরনের পাদুকা উৎপাদন করা হবে। বছরে প্রায় ৩০ লাখ জোড়া জুতা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।   কারখানাটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে প্রায় ৪৬৮ জন বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদিত জুতা ইতালি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের অন্যান্য দেশ, যুক্তরাষ্ট্র এবং কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হবে।   চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য আধুনিক, সহজ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেপজা ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়নে কাজ করছে। নতুন এ বিনিয়োগ দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ ইকবাল উমরানি জানান, বাংলাদেশে এটি তাদের তৃতীয় বিনিয়োগ এবং তিনটিই বেপজার আওতাধীন এলাকায়। ভারত ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ বিবেচনায় থাকলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ সেবা ও নির্ভরযোগ্য অবকাঠামোর কারণে তারা আবারও বাংলাদেশকেই বেছে নিয়েছেন।   তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে কুমিল্লা ইপিজেডে প্রথম বিনিয়োগের পর থেকে বেপজার সঙ্গে ইতিবাচক অভিজ্ঞতাই তাদের নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছে।   অনুষ্ঠানে বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ডেল্টাপোর্ট ফুটওয়্যার লিমিটেডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গুলশান থেকে আটক সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করে।   ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদকে আটক করা হয়। পরে জামালপুরে দায়ের হওয়া বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   পুলিশ জানায়, নূর মোহাম্মদ জামালপুর জেলার একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া গত ১৮ জুন রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তিনি সন্দেহভাজন হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছেন।   ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আনা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে জামালপুরের বকশীগঞ্জে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে এবং অন্য কোনো মামলায় সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।   পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   নূর মোহাম্মদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।   এদিকে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। একই অভিযোগে নূর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম এবং ভাতিজা সাইফুল ইসলামের বিদেশযাত্রার ওপরও আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধি নিয়ে ফেসবুকে গুজব, যা বলছে অর্থ মন্ত্রণালয়

নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির সভা শেষ হয়েছে গতকাল বুধবার। সভায় জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে-স্কেলের বিষয়টি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেই সচিব কমিটির সভার সূত্র দিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পে-স্কেল সংক্রান্ত একাধিক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পে-স্কেলের পর্যন্ত আংশিক বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। আর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শতভাগ মূল বেতন কার্যকরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিক বৃদ্ধি নিয়ে তিন ধরনের পরিকল্পনা সচিব কমিটির রয়েছে। এই তিন পরিকল্পনার মধ্যে একটি বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কোনটি বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সচিব কমিটি।   নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস থেকে নয়; সরকার চাইলে ১ জুলাই থেকেই শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে জুলাই থেকে শতভাগ বেসিক কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফেসবুকে কেন এবং কারা এ ধরনের তথ্য ছড়াচ্ছে সেটি তারাই ভালো বলতে পারবে।’   বেসিক বৃদ্ধি পেতে পারে যেভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিকের কত শতাংশ আগামী অর্থবছর থেকে বৃদ্ধি পাবে সেটি জানা না গেলেও তিনটি বিকল্প ধরে কাজ করছে সরকার বলে জানা গেছে। সচিব কমিটির প্রথম প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম-২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে। আরেকটি বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধির চিন্তাভাবনাও রয়েছে।   নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বেসিক নিয়ে একাধিক বিকল্প রয়েছে। কোনটি কার্যকর হবে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসবে। এ বিষয়ে আমাদের পক্ষে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কেননা সরকার চাইলে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক বহাল রাখল ভারত

বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পাটপণ্যে আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আপাতত প্রত্যাহারের পক্ষে নয় ভারত। দেশটি এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলেছে, এই শুল্ক বহাল রাখা বা প্রয়োজন হলে সংশোধন করা হবে।   সম্প্রতি বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পাটপণ্যের ওপর আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কের মধ্যবর্তী পর্যালোচনা করেছে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর)। ১৭ জুন প্রকাশিত ৮৮ পৃষ্ঠার ডিসক্লোজার স্টেটমেন্টে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া না হলেও তদন্তকারী সংস্থা তাদের প্রাথমিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে পাটপণ্য রপ্তানিতে এখনো ডাম্পিং অব্যাহত আছে। স্বাভাবিক মূল্যের তুলনায় কম দামে এসব পণ্য ভারতে বিক্রি হচ্ছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ শিল্পে চাপ তৈরি হচ্ছে।   মধ্যবর্তী পর্যালোচনায় ভারতীয় পাটশিল্পের ক্ষতির কয়েকটি দিক তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়, ভারতীয় উৎপাদকদের বাজার অংশীদারত্ব কমেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানির অংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে মুনাফা ও নগদ মুনাফা কমেছে, বেড়েছে মজুত। এতে উন্মুক্ত বাজারে ভারতীয় উৎপাদকেরা আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছেন। বাংলাদেশের অতিরিক্ত উৎপাদনসক্ষমতা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে ভারত।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের পাটকলগুলোর বার্ষিক উৎপাদনসক্ষমতা প্রায় ৬ লাখ ৩৬ হাজার টন হলেও প্রকৃত উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার টন। অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার টন সক্ষমতা অব্যবহৃত আছে।   ভারতের আশঙ্কা, এই অতিরিক্ত সক্ষমতার কারণে ভবিষ্যতে ভারতে বাংলাদেশি পাটপণ্য রপ্তানির চাপ আরও বাড়তে পারে। ডিজিটিআরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক তুলে দিলে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে কম দামে আরও বেশি পাটপণ্য ভারতে প্রবেশ করতে পারে। এতে ভারতীয় উৎপাদকেরা দাম কমাতে বাধ্য হবেন। অর্থাৎ তাঁরা আরও বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।   বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আজ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আমি এখনো অবহিত নই। তবে আমরা আশা করি না যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন কোনো পদক্ষেপ ভারত সরকার নেবে। ভারত যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকে আমরা তাদের অনুরোধ করব, তারা যেন সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে’।   বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত যদি এই নীতিতে অটল থাকে, তাহলে আরও দেশ আছে; আমাদের ব্যবসায়ীরা সেই সব দেশের বাজারে পণ্য বিক্রির সম্ভবনা খতিয়ে দেখতে পারেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সরকারি ভর্তুকির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, পাট খাতে দেওয়া নগদ সহায়তা বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতায় তাদের এগিয়ে রেখেছে।   এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) সভাপতি তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। ৯ বছর ধরে ভারত বাংলাদেশের পাট পণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। এটা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম মেনে করা হচ্ছে কি না বা এত দিন ধরে তা করা যায় কি না, তা আমরা জানি না। সরকারের উচিত, বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ফোরামে বিষয়টি উত্থাপন করা।   ভারতের অভিযোগ অমূলক আখ্যা দিয়ে তাপস প্রামাণিক আরও বলেন, দেশের পাট পণ্য রপ্তানিতে ভর্তুকি অনেকটা কমে গেছে। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাংলাদেশের ঘাটতি অনেক বেশি। এই অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক না থাকলে ব্যবসা আরও বাড়ত, কিন্তু এই বাস্তবতায় তা সম্ভব হচ্ছে না।   তবে ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকেরা ২৪ জুন পর্যন্ত মতামত দিতে পারবেন। সেই মতামত বিবেচনায় নিয়েই ভারত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। তবে বর্তমান ডিসক্লোজার স্টেটমেন্ট বলছে, আপাতত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক বহাল রাখার সম্ভাবনাই বেশি।   ২০১৭ সাল থেকে চলছে  উৎপাদন মূল্যের তুলনায় কম দামে বাংলাদেশের পাটকলমালিকেরা ভারতে পাটপণ্য রপ্তানি করছেন—ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ভারত সরকার প্রথম অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে। ওই সময় প্রতি টন পাটপণ্য রপ্তানিতে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়।   এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ থেকে পাটপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কারোপের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধি করে ভারত। নতুন ঘোষণায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া পাটপণ্যে ভিন্ন ভিন্ন হারে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়। সেবার প্রতি টনে ৬ ডলার থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টিং ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়। ২০২৭ সালের আগে এবার মধ্যবর্তী পর্যালোচনা করল তারা।   রপ্তানির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া পাটপণ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ যায় ভারতে। ২০১৭ সাল থেকে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের পর থেকে রপ্তানি কমতে শুরু করে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শেয়ারবাজারে ৬২ কোম্পানিতে ‘রেড এলার্ট’

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৬২টি কোম্পানি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানি বন্ধ এবং ৩০টি আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়াতে আলাদা দুটি তালিকা সম্প্রতি ডিএসইর তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।   ডিএসই-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আর্থিকভাবে দুর্বল ও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করে যাতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এসব কোম্পানির বিষয়ে ‘রেড এলার্ট’ বা ‘সতর্কসংকেত’ জারি করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের এই কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করাই এর উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ ও দুর্বল মানের কিছু কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এ রকম দুটি কোম্পানির লেনদেন এরই মধ্যে তাৎক্ষণিক নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছে। কোম্পানি দুটি হলো শ্যামপুর সুগার ও সোনারগাঁও টেক্সটাইলস। এখন দ্বিতীয় ধাপে এসে দুর্বল ও আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সতর্কসংকেত জারি করা হলো। জানতে চাইলে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিকে আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। বিনিয়োগকারীরা যাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির হালনাগাদ সব তথ্য একসঙ্গে জানতে পারেন, সেই চেষ্টাও করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে বন্ধ ও আর্থিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা কোম্পানিগুলোর আলাদা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বাজারে কারসাজি বন্ধে আমরা আরও বেশি সক্রিয় ও জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই। তারই অংশ হিসেবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগে বিচ্ছিন্নভাবে নানা কাজ করা হলেও এখন আমরা গুছিয়ে করার চেষ্টা করছি।’ বন্ধ কোম্পানি ৩২টি ডিএসইর তালিকা অনুযায়ী বন্ধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাত, আরামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, বিডি ওয়েল্ডিং, দুলামিয়া কটন, এমারেল্ড অয়েল, ফ্যামিলিটেক্স, জিবিবি পাওয়ার, জেনারেশন নেক্সট, হামিদ ফেব্রিকস, খুলনা পাওয়ার, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পিইটি, মেট্রো স্পিনিং, মিথুন নিটিং, নিউলাইন ক্লথিংস, নর্দার্ন জুট, নুরানী ডায়িং, প্যাসিফিক ডেনিমস, প্রাইম টেক্সটাইলস, রহিমা ফুড, আরএসআরএম স্টিল, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, শ্যামপুর সুগার মিলস, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, তুংহাই নিটিং, উসমানিয়া গ্লাস, ইয়াকিন পলিমার ও জাহিন স্পিনিং। তবে সতর্কসংকেত জারির পরও গতকাল এসব বন্ধ কোম্পানির বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। তালিকাভুক্ত ৩২টি বন্ধ কোম্পানির মধ্যে ২২টিরই শেয়ারদর বেড়েছে, ৬টির কমেছে এবং ৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে হামিদ ফেব্রিকস, প্রাইম টেক্সটাইলস ও নিউলাইন ক্লথিংসের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। ৪ জুন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। সরকার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় মাসুদ খানকে। পাশাপাশি আরও তিনজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার দিনই সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ খান ঘোষণা দেন, বাজার কারসাজিকারকদের বিরুদ্ধে কমিশন রিয়েল টাইম বা প্রকৃত সময়ভিত্তিক ব্যবস্থা নেবে। কারসাজি নিয়ন্ত্রণে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর শুরু থেকেই বিশেষ নজরদারি থাকবে। বিএসইসির সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএসইসির নবনিযুক্ত কমিশন ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে নির্দেশনা দেওয়া হয়, দুর্বল মানের যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে এসব শেয়ারের লেনদেন স্থগিত করে মূল্যবৃদ্ধির কারণ দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে। বিএসইসির ওই নির্দেশনার পর দুর্বল মানের যেসব কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, সেগুলোর লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করতে শুরু করেছে ডিএসই। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোম্পানিসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আগে বিচ্ছিন্নভাবে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হলেও এখন তা আরও গুছিয়ে ও নিয়মিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসই।   ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ৩০ কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত ৪২টি কোম্পানিকে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা ‘ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে’ রয়েছে বলে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষকেরা। অর্থাৎ নগদ অর্থসংকটসহ নানা কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনায় ঝুঁকি রয়েছে। নিরীক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে এসব ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির পৃথক তালিকা প্রকাশ করেছে ডিএসই। এই তালিকায় থাকা ১০টি কোম্পানি আবার বন্ধ কোম্পানির তালিকাতেও রয়েছে। এ ছাড়া দুটি কোম্পানির লেনদেন বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্ধ কোম্পানির বাইরে কার্যত ৩০টি কোম্পানি এই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো অলটেক্স, আনলিমা ইয়ার্ন, বিডি সার্ভিসেস, বিডিথাই ফুড, বিআইএফসি, সেন্ট্রাল ফার্মা, ঢাকা ডায়িং, ডরিন পাওয়ার, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস, জিএসপি ফাইন্যান্স, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ইনটেক, জুট স্পিনার্স, খান ব্রাদার্স পিপিওভেন ব্যাগ, মেঘনা সিমেন্ট, এনটিসি, পিপলস লিজিং, প্রিমিয়ার লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, সাফকো স্পিনিং, সোনারগাঁও টেক্সটাইলস, সানলাইফ ইনস্যুরেন্স, তাল্লু স্পিনিং, উসমানিয়া গ্লাস ও ঝিল বাংলা। এর বাইরে লেনদেন বন্ধ থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকও এই তালিকায় রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি: তিন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন তদন্তে বিএসইসি

পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের ধরণকে কেন্দ্র করে তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিগুলো হলো শ্যামপুর সুগার মিলস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিএনআইসিএল) এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইলস।   বিএসইসির সার্ভেইলেন্স বিভাগ থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) পাঠানো পৃথক চিঠিতে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।   নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ও লেনদেনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটেছে। এ কারণে সম্ভাব্য কারসাজি, সমন্বিত বা কৃত্রিম লেনদেন, ইনসাইডার ট্রেডিং এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   তদন্তের আওতায় মার্জিন ঋণ ব্যবহারে বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার ও ডিলারদের ভূমিকা, অনুমোদিত প্রতিনিধিদের কার্যক্রম এবং অন্য কোনো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে কি না তা পর্যালোচনা করা হবে।   বিশেষ করে শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের ভূমিকা গভীরভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে তারা ব্যর্থ হয়েছে কি না কিংবা কোনোভাবে সহায়তা করেছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।   ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, লোকসানী সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ারদর এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক সূচকে কিছু উন্নতি থাকলেও শেয়ারদরের দ্রুত উত্থান নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজর কাড়ে।   বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের বিষয়গুলো কমিশনের নজরে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৭, ২০২৬
চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে ১৮.৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

চলতি অর্থবছরেও বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত ৩৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।   মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৫ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার।   এদিকে ২০২৬ সালের ১৫ জুন একদিনেই প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ৮২ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রবাসী কর্মীদের অব্যাহত অবদানেরই প্রতিফলন।   চলতি জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে মোট রেমিটেন্স প্রবাহের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬২৩ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৬, ২০২৬
সাজিয়ে রাখা স্বর্ণের গহনা। পুরোনো ছবি
বেড়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম, নতুন দর কার্যকর

দেশের বাজারে সবশেষ সমন্বয়ে বেড়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার (১৪ জুন) মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হচ্ছে সবশেষ নির্ধারিত দামেই। গত ১৩ জুন প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড ও পিওর সিলভারের দাম বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণ ও রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে গত ১১ জুন বাজুস স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৭৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ বার দাম বেড়েছে এবং ৩৬ বার কমেছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পেয়েছিল। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ১৩২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ১৪৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নতুন অর্থবিলে ফ্ল্যাটসহ নন-ক্যাশ সুবিধায়ও ১৫% ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সের প্রস্তাব

নতুন অর্থবিলে জমির মালিকদের ডেভেলপারদের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাটসহ যেকোনো নন-ক্যাশ সুবিধার ওপরও ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।   অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত আয়কর বিধির অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ডেভেলপারদের কাছ থেকে পাওয়া অ্যাপার্টমেন্ট বা অন্যান্য অ-নগদ সুবিধাকে করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচনা করে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সের পরিধি সম্প্রসারণ করা হবে।   বর্তমানে জমির মালিকরা ডেভেলপারদের সঙ্গে চুক্তির সময় যে নগদ অর্থ পান, তা সাইনিং মানি হিসেবে গণ্য হয় এবং এর ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স প্রযোজ্য। তবে চুক্তির অংশ হিসেবে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের ওপর কোনো কর আরোপ করা হয় না।   নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে জমির পরিবর্তে পাওয়া অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য নির্ধারণ করা হবে সরকার নির্ধারিত মৌজামূল্য অনুযায়ী। এরপর ওই সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য বাদ দিয়ে যে পার্থক্য থাকবে, সেটিকে ক্যাপিটাল গেইন হিসেবে গণ্য করে তার ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে।   কীভাবে কাজ করবে প্রক্রিয়াটি:  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘমেয়াদে জমির মূল্য বৃদ্ধির কারণে বড় অঙ্কের করযোগ্য লাভ তৈরি হয়, যা এখন নন-ক্যাশ সুবিধার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, কেউ ২০ বছর আগে ৫০ লাখ টাকায় জমি কিনে পরে ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তি করে ১০টি অ্যাপার্টমেন্ট ও ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি পেলে মোট অর্জন দাঁড়ায় ৫.৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে ৫০ লাখ টাকা বাদ দিলে ৫ কোটি টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ৭৫ লাখ টাকা ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হতে পারে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এলাকার ভিত্তিতে এই করের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে করের চাপ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। বর্তমানে দেশে মৌজামূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে জমি ও অ্যাপার্টমেন্টের মূল্যায়ন করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট কমিটি নিয়মিত হালনাগাদ করে থাকে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরে দেশে ১০ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়, যার বাজারমূল্য ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।   খাত সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ:  রিয়েল এস্টেট খাতের ব্যবসায়ী ও কর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নতুন কর কাঠামো বাস্তবায়ন হলে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য কম দেখানোর প্রবণতা বাড়তে পারে, ফলে করফাঁকির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। রিহ্যাবের সাবেক সহসভাপতি এম এ আউয়াল বলেন, “এই ধরনের কর আরোপ করা হলে অনেকেই প্রকৃত মূল্য গোপন করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।” কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীহ বড়ুয়া বলেন, সম্পত্তির মূল্য গোপনের প্রবণতা ইতোমধ্যেই রয়েছে, নতুন কর চাপ বাড়লে তা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। আবাসন ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, কর বাস্তবায়নের ফলে বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্টের দামে প্রভাব ফেলতে পারে, যার বোঝা ক্রেতাদের ওপর পড়বে।   এনবিআরের অবস্থান: অন্যদিকে এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে। এনবিআরের সাবেক সদস্য সৈয়দ মো. আমিনুল করিম বলেন, সরকারি মূল্যায়নের ভিত্তিতে হলেও এই নীতি বড় ধরনের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তবে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা গেলে আরও বেশি রাজস্ব পাওয়া যেত। তিনি আরও বলেন, এই কর মূলত উচ্চমূল্যের সম্পত্তি লেনদেনের ওপর প্রযোজ্য হওয়ায় সাধারণ বা স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়বে না।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬
পাঁচটি সমস্যাপীড়িত ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে
৫ ইসলামি ব্যাংক একীভূত, আমানত সুরক্ষা দ্বিগুণ: সংসদে অর্থমন্ত্রী

ব্যাংকিং খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এর অংশ হিসেবে পাঁচটি সমস্যাপীড়িত ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে আমানতকারীদের আস্থা বাড়াতে সুরক্ষিত আমানতের সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। লুৎফর রহমান জানতে চান, ব্যাংকিং খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনও বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার একটি সুসংগঠিত ও বহুমাত্রিক রেজল্যুশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এর আইনি ভিত্তি হিসেবে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ কার্যকর করা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় পাঁচটি সমস্যাপীড়িত ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে, যা ব্যাংক খাত সংস্কারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আরও জানান, ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে আমানতকারীদের সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। আগে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর আমানতকারীরা এই সুরক্ষার বাইরে থাকলেও বর্তমানে তাদেরও এর আওতায় আনা হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায় ও ঋণশৃঙ্খলা ফেরাতে পদক্ষেপ অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ আদায় এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে— ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের (উইলফুল ডিফল্টার) শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরপিডি সার্কুলার জারি;   খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ;   একজন ঋণগ্রহীতা ব্যাংকিং খাত থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ;   এক হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ওপর চাপ কমাতে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের নির্দেশনা;   খেলাপিরা যাতে উচ্চ আদালতে রিট করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ;   অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল বা জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা;   বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠনের জন্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগ;   নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের জন্য প্রণোদনা নীতিমালা হালনাগাদ। এছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে আগামী ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেগুলোর জন্য বিশেষ মনিটরিং টিমও গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার নিশ্চয়তা—এই তিনটি বিষয় ব্যাংকিং খাতে আমানতকারী ও অংশীজনদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার থেকেও উঠল ফ্লোর প্রাইস, সম্পূর্ণ মুক্ত শেয়ারবাজার

দীর্ঘ চার বছর পর ফ্লোর প্রাইসের বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত হলো বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এর ফলে দেশের শেয়ারবাজারে ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থা পুরোপুরি বিলুপ্ত হলো।   বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সোমবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে মঙ্গলবার থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ সার্কিট ব্রেকার নিয়ম অনুযায়ী এসব শেয়ারের লেনদেন হবে।   বিএসইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হবে।   কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে ২০২০ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে ফ্লোর প্রাইস চালু করা হয়। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হলে তা প্রত্যাহার করা হলেও ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আবারও ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হয়।   পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার থেকে এ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলেও বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ফ্লোর প্রাইসের আওতায় ছিল। সর্বশেষ এ দুই কোম্পানির ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় দেশের পুঁজিবাজার সম্পূর্ণভাবে ফ্লোর প্রাইসমুক্ত হলো।   সোমবারের লেনদেন শেষে বেক্সিমকোর শেয়ারের দাম ছিল ১১০ টাকা ১০ পয়সা এবং ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম ছিল ৩২ টাকা ৬০ পয়সা। এতদিন এই দামই তাদের ফ্লোর প্রাইস হিসেবে কার্যকর ছিল।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ফলে বাজারে শেয়ারদরের স্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে এবং বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত বাজার পরিস্থিতির প্রতিফলন দেখতে পারবেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ হবে দেশের নতুন প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন: অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতিকে ভবিষ্যৎমুখী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতিকে নতুন প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, প্রচলিত শিল্প ও সেবাখাতের পাশাপাশি এখন জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতকে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে সরকার কাজ করছে।   অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু উৎপাদন ও রপ্তানিনির্ভর কাঠামো যথেষ্ট নয়। তাই ডিজিটাল অর্থনীতি, স্টার্টআপ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডিজাইন, অ্যানিমেশন, গেম ডেভেলপমেন্ট, মিডিয়া প্রোডাকশন এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   আরও জানান, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন নীতি সহায়তা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করছে। বিশেষ করে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।   সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন ও ই-গভর্ন্যান্স সম্প্রসারণের মাধ্যমে সৃজনশীল খাতগুলোকে এগিয়ে নেওয়া হবে।   অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বিকশিত হলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। বিশেষ করে তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আঞ্চলিকভাবে একটি উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপ নিতে সক্ষম হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই খাতে সঠিক নীতি ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে আগামী দিনে এটি দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে, যা কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নতুন ঋণ চেয়ে আইএমএফের কাছে সরকারের চিঠি

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, সার্বিক অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকারকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ইতোমধ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা শুরু করেছে।  ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং রাজস্ব আহরণে ক্রমাগত নিন্মমুখিতা অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধার সৃষ্টি করেছে। এ বাধা দূর করতে হলে নতুন এবং আগের ধারাবাহিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বুধবার আইএমএফ-এর বাংলাদেশ আবাসিক মিশন থেকে ইস্যু করা এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এসব তথ্য উলে­খ করা হয়েছে।  বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আইএমএফ-এর কাছে বাংলাদেশ সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণ সহায়তা চেয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে আইএমএফ-এর একটি মিশন বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করছে।  ওই সময়ে মিশনটি বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সংস্কারের নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করবে। একই সঙ্গে তারা দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সংস্কারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলোও মূল্যায়ন করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংস্কার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণ সুবিধা চেয়ে বাংলাদেশ সরকার থেকে আইএমএফ-এর কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্ধিত ঋণ সহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) ও রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)।  এ তিন কর্মসূচির আওতায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল। পরে তা বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়।  বর্তমান সরকার ওই কর্মসূচিকে আর চালিয়ে নিতে চাচ্ছে না। তারা নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণ চাচ্ছে। এ বিষয়ে আইএমএফ নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে। কারণ, সরকার আইএমএফ-এর কাছে সংস্কারের বিষয়ে বেশকিছু অঙ্গীকার করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগের ঋণ কর্মসূচির পর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে উলে­খযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফলে গৃহীত সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা একদিকে যেমন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, অপরদিকে আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।  পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন ঋণ কর্মসূচি চালুর বিষয়ে আইএমএফ-এর সঙ্গে সরকারের নতুন একটি সমঝোতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দুপক্ষই সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাতে আগ্রহী বলে সংস্থাটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি মনে করে, নতুন ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো প্রতিফলিত করবে এবং সরকারের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারকে নতুন ঋণ কর্মসূচির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করবে।  এর মাধ্যমে সরকার দীর্ঘমেয়াদে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক টেকসই স্তিতিশীলতা নিশ্চিত করা, শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের অংশ হিসাবে আইএমএফ-এর প্রতিশ্রুতি থাকবে। আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিদ্যমান ব্যবস্থায় সুফল মিলছে না। নতুন ব্যবস্থা প্রয়োজন। এজন্য সংস্কার অপরিহার্য। সংস্কারকে বাস্তবভিত্তিক ও ব্যবহারযোগ্য করতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় এর প্রয়োগ থাকতে হবে। তবে নতুন ঋণের আকার কত হবে, এ বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি। যেহেতু টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়েছে, এ কারণে ঋণের পরিমাণও বাড়তে পারে। জুলাইয়ে আইএমএফ-এর একটি মিশন আসার কথা রয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাজেটে কমছে কৃষিখাতের বরাদ্দ, বিনিয়োগ ও ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে কৃষিখাতের গুরুত্ব বাড়লেও জাতীয় বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে পরিণত করতে আসন্ন বাজেটে বিনিয়োগ, ভর্তুকি ও প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তা বাড়ানো জরুরি।   তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অর্থবছর ধরে মোট বাজেটের ১০ শতাংশের নিচে বরাদ্দ পাচ্ছে কৃষিখাত। ২০১১-১২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা কমতে থাকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষিখাতে বরাদ্দ ছিল ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরে নেমে এসেছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে।   অর্থনীতিতে কৃষির অবদান এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান প্রায় ১১ শতাংশ। এছাড়া মোট কর্মশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং গ্রামীণ নারীদের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃষি ভর্তুকি ও প্রণোদনা কমানো হলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তাই সার, বীজ উৎপাদন ও বিতরণে গুরুত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।   তাদের মতে, কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সহায়তা বাড়ানো গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কৃষক লাভবান হবেন এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দামও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

আক্তারুজ্জামান মে ২৪, ২০২৬
ফাইল ছবি
কোস্টগার্ডের জন্য কেনা হচ্ছে ৫ জাহাজ, ব্যয় ১ হাজার ২১২ কোটি টাকা

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে পাঁচটি রিভারাইন প্যাট্রল ভেসেল (আরপিভি) জাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২১২ কোটি টাকা। একই সঙ্গে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণেও নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রতিস্থাপক জাহাজ সংগ্রহ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় কোস্ট গার্ডের জন্য পাঁচটি রিভারাইন প্যাট্রল ভেসেল নির্মাণ ও ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। রিভারাইন প্যাট্রল ভেসেল হচ্ছে নদী ও অভ্যন্তরীণ জলপথে টহল, নজরদারি এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের মাঝারি আকারের জাহাজ। এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে আহ্বান করা দরপত্রে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যৌথভাবে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এবং কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, কোস্ট গার্ডের রিভারাইন প্যাট্রল স্কোয়াড্রনের বর্তমানে ব্যবহৃত পাঁচটি জাহাজ ১৯৭০ সালে নির্মিত। ফলে এসব জাহাজের বয়স এখন ৫৪ বছরের বেশি। অথচ এ ধরনের জাহাজের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ২০ থেকে ২৫ বছর। নতুন জাহাজ সংগ্রহের মাধ্যমে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় টহল এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এনটিএমসির ‘কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং সিস্টেম সম্প্রসারণ (প্রথম ধাপ)’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৪ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ১৩৭ টাকার ক্রয়প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অতিসংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্থার জন্য সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে নয়টি প্রতিষ্ঠানের কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব জমা দেয় এবং দুটি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসিকে কার্যাদেশ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি পরবর্তী প্রজন্মের ফায়ারওয়াল যন্ত্র, দুটি বহুমুখী হাইব্রিড প্যাকেট নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, তিনটি সুইচ ব্যবস্থাপনা কার্ড এবং ছয়টি তথ্যকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনা হবে।

মারিয়া রহমান মে ২০, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

পাকিস্তানকে হারিয়ে একাধিক রেকর্ড গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মারিয়া রহমান জুলাই ২৯, ২০২৬