সর্বশেষ

ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিশ্বকাপ ক্যাম্পের কাছে গাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার

মেক্সিকোতে ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল দলের অনুশীলন ভেন্যুর কাছ থেকে একটি গাড়ির ট্রাঙ্কে পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির সীমান্ত শহর তিহুয়ানার কালিয়েন্তে স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশে একটি সুপারমার্কেটের গাড়ির ভেতর থেকে এ লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।   ঘটনাস্থলে থাকা বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। এএফপির বরাতে ইয়াহু নিউজের খবরে বলা হয়, কালিয়েন্তে স্টেডিয়ামের (যেখানে ইরানের জাতীয় দল অনুশীলন করছে) ঠিক উল্টো দিকে একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং লটে ক্যালিফোর্নিয়ার নম্বরপ্লেট–সংবলিত একটি ধূসর রঙের টয়োটা এসইউভি গাড়ি রাখা ছিল।   পুলিশ গিয়ে সেটির পেছনের ডালা (ট্রাংক) খুললে লাশটি বেরিয়ে আসে। সাদা সুরক্ষামূলক পোশাক পরা অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞরা লাশটি সরিয়ে নেওয়ার আগে গাড়িটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তিহুয়ানার প্রসিকিউটর দপ্তর জানিয়েছে, একটি টহল ইউনিট গাড়িটির ভেতরে মরদেহটি খুঁজে পায়।   প্রসিকিউটর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘গাড়িটি তল্লাশি করে ট্রাঙ্কের ভেতরে কালো ব্যাগে মোড়ানো এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহে সহিংসতার চিহ্ন ছিল।’ তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি বুধবার থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিহুয়ানায় তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র রোদ ছিল।   মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী মাদক চক্রের সহিংসতায় ভুগছে এবং দেশটিতে হত্যার হার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ। যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর সেখানে ১ হাজার ২০০টির বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শুরুতে দলটির অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় করার পরিকল্পনা ছিল। তবে চলমান বৈরিতার কারণে সেটি পরিবর্তন করে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করা হয়।   মেক্সিকোতে পৌঁছানোর পর থেকেই ইরান দলকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে। সশস্ত্র সেনাদের পাহারায় দলটিকে হোটেল ও স্টেডিয়ামের মধ্যে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। শুক্রবার উদ্ধার হওয়া মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট পরই ইরান দল স্টেডিয়াম ত্যাগ করে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৩, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আজ কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প

এক দিনের সফরে আজ কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।   আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার বিমানযোগে কক্সবাজার যাবেন। কক্সবাজার নেমে সড়কপথে চকরিয়ায় পিএমখালীতে পাতলী খাল পুনঃখনন, মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রাতের ফ্লাইটেই তিনি ঢাকায় ফিরবেন।’   সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ জুন সকালে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছবেন। তিনি সকাল ১০টায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলি খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন ও পথসভায় বক্তব্য রাখবেন। দুপুর ১২টায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন। সোয়া ১২টায় মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।   সোয়া ১টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কক্সবাজারের প্রথম শহীদ, পেকুয়ার সন্তান শহীদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর বেলা দেড়টায় প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে দুপুর ২টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করবেন। পরে তারেক রহমান পেকুয়ায় সাঈদ মঞ্জিলে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।   বিকেল ৪টায় তিনি চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। চকরিয়া জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে কক্সবাজার গিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে সাগর সৈকত ঘুরে দেখবেন। রাত ৮টায় হোটেল লং বিচ অডিটরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। সর্বশেষ রাত ১০টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমানযোগে কক্সবাজার ছেড়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজারের সদর, চকরিয়া, পেকুয়ায় আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। ওই দিন বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে অনুষ্ঠিতব্য জনসভাকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার সফর সরাসরি তদারকি করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দুইদিনের সফরে শুক্রবার (১২ জুন) কক্সবাজার রয়েছেন।   এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার পৌঁছেছেন সরকারের ৬ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তারা কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান দলীয় নেতাকর্মীরা।   প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কক্সবাজারে অবস্থান করা ৬ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলি বসতি এলাকার জমি বিক্রির অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি ১০০ ব্রিটিশ আইনপ্রণেতার

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবস্থিত দখলদার ইসরাইল বসতিগুলোর জমি বিক্রির প্রচারণা চালানো হতে পারে—এমন অভিযোগ তুলে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য একটি রিয়েল এস্টেট প্রদর্শনী বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের শতাধিক আইনপ্রণেতা।   ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ১০০ জনের বেশি সদস্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘গ্রেট ইসরাইলি রিয়েল এস্টেট ইভেন্ট’ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।   পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী ইভেট কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে লেবার পার্টির ৬৫ জন এমপি, বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতা এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্যরা সতর্ক করে বলেন,প্রদর্শনীতে এমন সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে,যেগুলো ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের পর নির্মাণ করা হয়েছে।এর মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সম্পত্তিও রয়েছে।   চিঠিতে আইনপ্রণেতারা দাবি করেন, এ ধরনের সম্পত্তি বিক্রির আয়োজন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে এবং তা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণকে উৎসাহিত করবে।   চিঠির উদ্যোক্তা লেবার পার্টির এমপি অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালনের এবং ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ এখন ব্রিটিশ সরকারের সামনে রয়েছে।   তিনি বলেন, পশ্চিম তীর ও গাজাজুড়ে সংঘটিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং গণহত্যার মতো অভিযোগের বিষয়গুলোও এ উদ্যোগের আওতায় বিবেচনায় নেওয়া উচিত।   বিতর্কিত এই প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠনগুলোও অনুষ্ঠানটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে।   সূত্র: আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় অভিযানে ৭৯ জন অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের সাবাক বারনাম এলাকায় অভিবাসন বিভাগের বিশেষ অভিযানে ৭৯ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক নদীতে ঝাঁপ দেন। এমনকি কেউ কেউ দীর্ঘ সময় নদীর পানিতে অবস্থান করেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেন।   শুক্রবার (১২ জুন) ভোরে সাবাক বারনামের বাগান নাখোদা ওমর জেলেপল্লীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৯ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।   সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।   অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সেলাঙ্গর রাজ্য অভিবাসন বিভাগের (নিয়ন্ত্রণ শাখা) উপপরিচালক মোহাম্মদ খুসাইরি বিন কামারুদ্দিন এবং (ব্যবস্থাপনা শাখা) উপপরিচালক রেডম্যান বিন সাফার। তাদের সঙ্গে সেলাঙ্গর রাজ্য অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট শাখার কর্মকর্তারাও অংশ নেন।   সেলাঙ্গর রাজ্য জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এমকেএন) সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে আরও অংশ নেয় মালয়েশিয়া পুলিশ বাহিনী (পিডিআরএম), সেলাঙ্গর অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম), মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (এপিএমএম) এবং সেলাঙ্গর অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন)।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ, রিমান্ড ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেমেনিয়হ অভিবাসন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইতালিতে কঠোর হচ্ছে আশ্রয় ও ডাবলিন প্রক্রিয়া

ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতায় এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ইতালি সরকার। ১২ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন রি-ইমিগ্রেশন ডিক্রি নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।   বিশেষ করে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশকারী, আশ্রয়প্রার্থী, ডাবলিন প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত ব্যক্তি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের ওপর এই আইনের বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   ইতালি সরকারের দাবি, নতুন এই ডিক্রির মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসন কমানো, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, অতিরিক্ত কঠোরতা মানবাধিকার সংকট তৈরি করতে পারে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইতালিতে প্রবেশকারী অথবা যাদের কোনো বৈধ লিগ্যাল স্ট্যাটাস নেই তাদের বিশেষ ডিটেনশন সেন্টার বা বর্ডার ক্যাম্পে রাখা হতে পারে। কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত আটক রাখতে পারবে এসব ব্যক্তিকে।   এই সময়ের মধ্যে পরিচয় যাচাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ, আশ্রয় আবেদন মূল্যায়ন এবং আবেদন বাতিল হলে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালিতে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ হতে পারে।   ছোট শিশু নিয়ে ইতালিতে প্রবেশকারী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী শিশুদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পরিবারগুলোকে আলাদা পরিবারভিত্তিক কেন্দ্রে রাখা হতে পারে। অন্যদিকে, একা প্রবেশকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও কিশোরদের জন্য আলাদা সুরক্ষা ব্যবস্থা বহাল থাকতে পারে।   তবে বয়স যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডাবলিন রেগুলেশন অনুযায়ী, ইউরোপে যে দেশে প্রথম প্রবেশ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেয়া হয়, সাধারণত সেই দেশই আশ্রয় আবেদন পরিচালনা করে। নতুন ডিক্রির আওতায় ইতালি এখন ডাবলিন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পথে হাঁটছে।   অর্থাৎ, কেউ যদি অন্য ইউরোপীয় দেশ থেকে ইতালিতে আসে কিন্তু তার প্রথম রেজিস্ট্রেশন অন্য দেশে হয়ে থাকে, তাহলে তাকে দ্রুত সেই দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।   নতুন নিয়মে ‘তৃতীয় নিরাপদ দেশ’ নীতির গুরুত্বও বাড়তে পারে। যদি কোনো আশ্রয়প্রার্থী এমন একটি দেশ হয়ে ইতালিতে প্রবেশ করে যাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে ইতালি তার আশ্রয় আবেদন গ্রহণ না করে সেই দেশেই ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে।   এ বিষয়ে উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ও আলবেনিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে ইতালি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আটক রাখা, দ্রুত ডিপোর্টেশন এবং সীমান্তে কঠোর নীতি আশ্রয়প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে নতুন এই প্রক্রিয়া।   তাদের মতে, যুদ্ধ, নির্যাতন বা রাজনৈতিক সংকট থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য যথাযথ আইনি সহায়তা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, ইতালির এই নতুন অভিবাসন ডিক্রি শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতিতেই নয়, বরং পুরো ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থায়ও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপ যে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে এই নতুন আইন যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
শিষ্যদের সঙ্গে অনুশীলনে আনচেলত্তি। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের আগে মাঠের বাইরে ঝড় তুলছেন ব্রাজিলের কোচ

মাঠের সাফল্যের জন্য ফুটবল বিশ্বে বেশ পরিচিত কার্লো আনচেলত্তি। তবে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখন বিজ্ঞাপন জগতেও বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছেন। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বেশ কয়েকটি শীর্ষ ব্র্যান্ড তাকে নিয়ে প্রচারণা চালাতে আগ্রহ দেখালেও এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ইতালিয়ান এই কোচ।   সম্প্রতি ব্রাজিলের একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিডিওটির শেষাংশে দেখা যায়, সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যানচেলত্তির পায়ের কাছে এসে পড়ে সংবাদপত্র দিয়ে তৈরি একটি বল। সেটি তুলে নিয়ে তিনি একটি শিরোনাম পড়েন, ‘ষষ্ঠ শিরোপায় বিশ্বাস করে ব্রাজিল।’ মাত্র ১২ সেকেন্ডের এই দৃশ্যই দর্শকদের নজর কাড়ে। কেবল ইউটিউবেই ভিডিওটি ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।   ব্রাজিলে আসার পর থেকেই একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পেয়েছেন আনচেলত্তি। তবে তিনি বেছে নিয়েছেন অল্প কয়েকটি ব্র্যান্ডকে। এখন পর্যন্ত ব্রাহমা, ভক্সওয়াগেন এবং অ্যামাজনের বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই তিন প্রতিষ্ঠানই ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) স্পন্সর।   বিজ্ঞাপন জগতে আনচেলত্তির উপস্থিতি কতটা মূল্যবান, সেটি তুলে ধরেছেন বিজ্ঞাপন নির্বাহী ও অ্যালব স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বার্নার্দো পন্তেস। তিনি বলেন, ‘অ্যানচেলত্তির মতো ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কাজ করার খরচ যে সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি হবে সেটা স্পষ্ট। এমন একজন নামের সঙ্গে কাজ করতে হলে বিনিয়োগ সক্ষমতার দিক থেকে আপনাকে বাজারের একেবারে শীর্ষ স্তরে থাকতে হবে।’   বিভিন্ন প্রচারণা মিলিয়ে আনচেলত্তিকে নিয়ে তৈরি ভিডিওগুলো ইতোমধ্যে ৮ কোটির বেশি ভিউ পেয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ এবং রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই কোচের জন্য এটাও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।   আনচেলত্তির পারিশ্রমিকও তার তারকাখ্যাতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্রাজিলের সাবেক কোচ তিতে যেখানে প্রায় ২০ লাখ রিয়াল মূল্যের বিজ্ঞাপনী চুক্তি করেছিলেন, সেখানে আনচেলত্তির চুক্তির পরিমাণ অনেক বেশি। বিভিন্ন প্রচারণার জন্য তিনি প্রায় ১ কোটি রিয়াল মূল্যের চুক্তি করেছেন বলে জানা গেছে।   ভক্সওয়াগেনের নতুন মডেলের উদ্বোধনী প্রচারণার মুখ হওয়ার পর থেকে প্রায় নিয়মিতই প্রতিষ্ঠানটির গাড়িতে চলাচল করছেন আনচেলত্তি। অন্যদিকে ব্রাহমার প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি সাও পাওলো, সালভাদর ও রিও ডি জেনেইরোতে কার্নিভাল সফরেও অংশ নিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে মাঠের বাইরে এভাবেই ব্রাজিলে নিজের জনপ্রিয়তার নতুন অধ্যায় লিখছেন অভিজ্ঞ এই কোচ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
জিসান আহম্মেদ প্রধান। ছবি : সংগৃহীত
নিখোঁজ ছাত্রশিবির নেতার সন্ধান মিলল, অচেতন অবস্থায় উদ্ধার

নিখোঁজের একদিন পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহম্মেদ প্রধানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে ‍পুলিশ। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে তাকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।   জিসান আহম্মেদ প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।   জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পাননি।   এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বড় ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ রাফি।   শুক্রবার রাত পৌনে ১০টায় লাকসাম জংশন ক্লাব মাঠের পাশে একটি দোকানের পাশে জিসানকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পৌরসভা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. নুরে আলম ও জামায়াত কর্মী আবুবকর জাহিদ তাকে উদ্ধার করে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে জিসানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   তবে কীভাবে তিনি সেখানে পৌঁছেছেন, নিখোঁজ থাকার সময়ে তার সঙ্গে কী ঘটেছে কিংবা কোনো অপরাধমূলক ঘটনার শিকার হয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।   লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন্নাহার লাকী বলেন, খবর পেয়ে আমরা ক্লিনিকে ছুটে যাই। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জিসানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। তিনি এখনো সচেতন অবস্থায় আছেন। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে রোনালদো। ছবি : সংগৃহীত
চাপ বাড়লে আসল চ্যাম্পিয়নদের দেখা যাবে’: রোনালদো

পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে নামার আগে নিজের ফিটনেস নিয়ে সব ধরনের সংশয় উড়িয়ে দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল অধিনায়ক জানিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি ফিট, আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে মুখিয়ে আছেন।   চিলি ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে শুরু থেকেই খেলেছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। যদিও গোল পাননি, তবুও নিজের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন দেখছেন না তিনি।   শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, “শারীরিকভাবে? আমি পুরোপুরি ভালো আছি। আপনারা কি আমার ম্যাচগুলো দেখেননি?   রোনালদো জানান, তিনি তার দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘এটি ভালো ছিল তবে ক্লান্তিকর, কারণ আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমাদের ম্যাচগুলোতে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম।   তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যখন ১৭ তারিখে প্রথম ম্যাচে বল গড়াবে এবং যখন চাপ সত্যিই বাড়তে শুরু করবে — তখনই আমরা আসল চ্যাম্পিয়নদের দেখতে পাব,’ যোগ করেন ফুটবলের এ সুপারস্টার।   জাতীয় দলের হয়ে ২২৭ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের রেকর্ডধারী রোনালদো। এখন তিনি তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অধরা বড় ট্রফিটি নিজের করে নিতে মুখিয়ে আছেন।   পর্তুগাল বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার কি না জানতে চাইলে রোনালদো বলেন, ‘আমরা কেবল শেষেই তা জানতে পারব। আমরা সত্যিই এটির জন্য উন্মুখ হয়ে আছি; আমরা জানি বিশ্বকাপ সবসময়ই একটি বিশেষ টুর্নামেন্ট, ঠিক ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো, তাই আমরা পূর্ণ আশা নিয়ে সেখানে যাচ্ছি।’   পর্তুগাল কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি এবং তারা এর সবচেয়ে কাছাকাছি এসেছিল ১৯৬৬ সালে, যখন তৃতীয় স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল। তবে এবারের টুর্নামেন্টে তাদেরকে অন্যতম শক্তিশালী দল মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। ব্রুনো ফার্নান্দেজ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে একটি দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন। তিনি এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের (২১টি) রেকর্ড ভেঙেছেন এবং প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন।   এ বিষয়ে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী রোনালদো বলেন, ‘আমাদের একটি খুব ভালো প্রজন্ম রয়েছে, তবে এমন কিছু বিষয় আছে যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, যেমন ম্যাচগুলো — জয় বা পরাজয়ই এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়।’   ‘আমি বিশ্বাস করি এটি এমন একটি প্রজন্ম যা পর্তুগালবাসীকে অনেক আনন্দ দেবে,’ যোগ করেন তিনি।   আশা প্রকাশ করে পর্তুগিজ এ ফরোয়ার্ড বলেন, ‘মূল লক্ষ্য হলো ভালোভাবে শুরু করা, গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করা। তারপর প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে, ধাপে ধাপে, শান্তভাবে এগিয়ে যাওয়া, আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং আমাদের ছন্দ খুঁজে নেওয়া। এটি অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে, তবে আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে সবকিছু ভালোভাবেই কাটবে।’   উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে আগামী ১৭ জুন কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগাল তাদের মিশন শুরু করবে, এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সরকার বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে চায়: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে চায়।   তিনি বলেন, ‘নতুন গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌমত্ব, সমতা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে আগ্রহী।’   মন্ত্রী আরও বলেন, উভয় দেশের জনগণ যাতে বাস্তব ও প্রত্যক্ষ উপকার লাভ করতে পারে, সে রকম টেকসই সম্পর্ক সৃষ্টিতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তারই প্রতিফলন এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ।   তিনি বলেন, আজ আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন, কারণ আমরা আতিথেয়তাপূর্ণ ও উষ্ণ শহর কুনমিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন করছি। চীনের মাটিতে এমন উদযাপন করতে পারা আমাদের দুই দেশের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার এক উজ্জ্বল প্রতীক, যা বছরের পর বছর ধরে লালিত ও বিকশিত হয়েছে। আমরা গর্বের সঙ্গে আমাদের দেশকে সম্ভাবনার এক অনন্য ভূমি হিসেবে অভিহিত করি। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়; বরং একটি উন্মুক্ত আমন্ত্রণ।   অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, ইউনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর লিউ ইয়াং, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং চীনের কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট লিউ কী লিন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
মঞ্চ মাতাচ্ছেন নোরা ফাতেহি ও ডিজে সঞ্জয়। ছবি: সংগৃহীত
মাঠ মাতালেন নোরা ফাতেহি ও বাংলাদেশি ‘ডিজে সঞ্জয়

কানাডার ফুটবল ইতিহাসে শুক্রবারটি ছিল এক বিশেষ দিন। প্রথমবারের মতো নিজেদের মাটিতে ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের সাক্ষী হলো দেশটি। সেই উপলক্ষে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যেখানে সংগীত, নৃত্য, আলো আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে স্টেডিয়ামজুড়ে।   মেক্সিকোতে একদিন আগে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও এবার তিনটি দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করায় কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রও আলাদাভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কানাডার প্রথম ম্যাচের আগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে হাজারো দর্শকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সমর্থকরাও।   উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতেই কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে দেশের প্রথম অধিবাসীদের ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন আদিবাসী বংশোদ্ভূত কানাডীয় গায়ক উইলিয়াম প্রিন্স। তার পরিবেশনার পর লাল পোশাকে সজ্জিত একদল নৃত্যশিল্পী মঞ্চে এসে বিশাল এক সোনালি ফুটবলের আবরণ সরিয়ে দেন। এরপর মঞ্চে আসেন জনপ্রিয় কানাডীয় শিল্পী আলেসিয়া কারা। তিনি ‘ওয়াইল্ড থিংস’ ও ‘ফায়ার’ গান পরিবেশন করে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান।   তবে অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি, ফ্রেঞ্চ হিপ-হপ শিল্পী ভেগেড্রিম এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয়ের যৌথ পরিবেশনা। আকর্ষণীয় ড্রাম বিট, নৃত্য ও আলোকসজ্জার সমন্বয়ে তাদের পরিবেশনা মুহূর্তেই দর্শকদের মন জয় করে নেয়। বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে সঞ্জয়ের উপস্থিতি বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দেয়।   বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘সির সির’ পরিবেশন করেন নোরা ফাতেহি। তার নৃত্য ও মঞ্চ উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়। বিশ্বকাপ ২০২২-এর অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়া নোরা এবারও বৈশ্বিক ক্রীড়া মঞ্চে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ রাখেন।   এরপর মঞ্চে পরিবেশিত হয় জেসি রেয়েজ ও এলিয়ান্নার ‘ইলুমিনেট’ গান, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের অন্যতম গান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কানাডীয় শিল্পী অ্যালানিস মরিসেট, জেসি রেয়েজ এবং মাইকেল বুবলের পরিবেশনাও দর্শকদের মুগ্ধ করে।   বিশ্বকাপের থিম, আধুনিক আলোকসজ্জা ও বিশেষ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে সাজানো অনুষ্ঠানে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং ফুটবলের বৈশ্বিক বন্ধনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।   টরন্টোর বিখ্যাত নেথান ফিলিপস স্কোয়ারেও ছিল বিশ্বকাপের উৎসবমুখর আবহ। টরন্টো সিটি হলের সামনের এলাকা বিশ্বকাপের থিমে সাজানো হয়। সেখানে তৈরি করা হয় ছোট আকারের ফুটবল মাঠ। দিনভর সমর্থকদের ভিড়, ফুটবল খেলা, ছবি তোলা এবং উৎসবের আমেজে মুখর ছিল পুরো এলাকা।   বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডও। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৭৩৬। আয়োজকদের আশা, আগামী কয়েক সপ্তাহে টরন্টো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।   বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশের মর্যাদা পাওয়া কানাডা নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। সেই ম্যাচের আগে জাঁকজমকপূর্ণ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৫ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।   মহাসড়কে অবৈধ ইজিবাইক, মহেন্দ্র, নছিমন, করিমনসহ সব ধরনের থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিসহ তিন দফা দাবিতে এ পরিবহন ধর্মঘট পালিত হবে।   বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠকের পরও তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় রোববার থেকে তারা ধর্মঘট শুরু করবেন। ধর্মঘট শুরু হলে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলায় এই ধর্মঘটের আওতায় থাকবে।   বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে সরকারি ১৮টি বিআরটিসি বাস চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক বেশি চলে। এছাড়া মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি হুইলার অবাধে চলাচল করছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় সভা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, বাস মালিক সমিতির তিন দফা দাবির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। মহাসড়কে পরিবহণ ধর্মঘট যেনো না হয় সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।   বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের ৩ দফা দাবিগুলো হল-   ১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা।   ২. আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার, মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।   ৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী আয়োজনে শুরু নারী টি-২০ বিশ্বকাপ

জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২৬। ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক এজবাস্টন স্টেডিয়ামে শুক্রবার পর্দা ওঠে বিশ্ব নারী ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরের। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে ম্যাচ শুরুর আগে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।   ক্রিকেটের উত্তেজনার আগে এজবাস্টন রূপ নেয় এক সাংস্কৃতিক মঞ্চে। আলো, সঙ্গীত, নৃত্য এবং নাট্যশৈলীর সমন্বয়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দর্শকদের জন্য ছিল বিশেষ আকর্ষণ। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন ব্রিটিশ থিয়েটার জগতের জনপ্রিয় দুই তারকা এমা কিংস্টন ও জিজি স্ট্র্যালেন।   তাদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে নারী ক্রীড়াবিদদের সংগ্রাম, সাফল্য এবং বিশ্ব ক্রিকেটে নারীদের ক্রমবর্ধমান অবস্থানের গল্প। সুর, নৃত্য এবং নাটকীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে তারা নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রাকে উদযাপন করেন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে তাদের পরিবেশনার প্রশংসা করেন।   আইসিসি এবারের বিশ্বকাপকে নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় আসরে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছে। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আয়োজকরা জানান, নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে এবং এই বিশ্বকাপ সেই অগ্রযাত্রাকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও ছিল চোখে পড়ার মতো। আলোকসজ্জা, বিশেষ ভিজ্যুয়াল এফেক্ট এবং সঙ্গীতের সমন্বয়ে পুরো স্টেডিয়াম উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। ক্রিকেটপ্রেমীরা ম্যাচ শুরুর আগেই উপভোগ করেন এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন।   এরপর মাঠের লড়াইয়ে নামে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। তবে ম্যাচের আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানই ছিল দিনের প্রথম বড় আকর্ষণ। এমা কিংস্টন ও জিজি স্ট্র্যালেনের পরিবেশনা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচনাকে আরও বর্ণিল ও স্মরণীয় করে তোলে।   বিশ্বের সেরা দলগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে শিরোপার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ের যাত্রা শুরু হলো এজবাস্টনের ঝলমলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খার্ক দ্বীপ দখল মার্কিন সেনাদের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি ইরানের প্রধান তেল অবকাঠামো কেন্দ্র 'খার্ক দ্বীপ' দখল করতে চান।   তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী দ্রুত দ্বীপটি দখল করে নিতে পারে। কিন্তু এমন পদক্ষেপ মার্কিন সেনাদের মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার বদলে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।   খার্ক দ্বীপ কোথায় এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ? ইরানের উপকূল থেকে ১৬ মাইল (২৬ কিমি) দূরে পারস্য উপসাগরের উত্তর প্রান্তে খার্ক দ্বীপের অবস্থান, যা হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৩০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।   এই দ্বীপের চারপাশের পানি যথেষ্ট গভীর হওয়ায় এখানে এমন বড় বড় তেলবাহী ট্যাংকার নোঙর করতে পারে, যা ইরানের অগভীর উপকূলীয় এলাকায় ভিড়তে পারে না।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হত। এটি যুক্তরাষ্ট্র দখল করলে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং তেহরানের অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়বে।   উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’-এর মধ্যে ইরান তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ।   বর্তমান পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের অবস্থান গত মার্চ ও এপ্রিলে মার্কিন বাহিনী খার্ক দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, সেখানকার সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করা হয়েছে। সে সময় রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।   এরপর দ্বীপে নতুন কোনো হামলা না হলেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখতে এই দ্বীপের কাছাকাছি থাকা তেল ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে যুক্তরাষ্ট্র।   বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "আমার পছন্দ সবসময়ই ছিল খার্ক দ্বীপ দখল করা, আমার পছন্দ সেটাই। তবে আমেরিকার সেই মানসিক প্রস্তুতি বা সাহস আছে কি না আমি জানি না।"   বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের তেল রপ্তানি ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এখন খার্ক দ্বীপ দখল করলেই যে দেশটির অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক বড় কোনও ধস নামবে, তা নয়।   ড্রোন হামলা ও মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন বাহিনী হয়ত অপেক্ষাকৃত দ্রুত খার্ক দ্বীপ দখল করতে পারবে, কিন্তু তা যুদ্ধের দ্রুত কিংবা চূড়ান্ত সমাপ্তি ডেকে আনবে না।   ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস'-এর গবেষক রায়ান ব্রোবস্ট এবং ক্যামেরন ম্যাকমিলান বলেন, খার্ক দ্বীপ দখল ও নিয়ন্ত্রণে নিলে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়া এবং দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দ্বীপ দখলের পদক্ষেপ কোনও চূড়ান্ত বিজয় এনে দেবে- তেমন সম্ভাবনা কম।   তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, সেখানে মার্কিন সেনারা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। বিশেষ করে ইউক্রেইন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ক্যামেরা যুক্ত 'ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি)' ড্রোন হামলার শিকার হতে পারে তারা।   তাছাড়া, ইরান যদি কোনও হামলা চালিয়ে সফল হয়, তাহলে তেহরান সরকার মার্কিন সেনাদের ওপর সেই হামলার ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করতে পারে এবং সেনাদের গ্রাফিক মৃত্যুর ছবি প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে পারে।   রসদ ও বাড়তি সেনার প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক কমান্ডার জোসেফ ভোটেল গত মার্চ মাসে বলেছিলেন, খার্ক দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাত্র ৮০০ থেকে ১,০০০ সেনার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তাদের জন্য বিশাল লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর এই ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখাটাও আরেক বড় চ্যালেঞ্জ।   ভোটেল মনে করেন, খার্কে মার্কিন সেনারা অত্যন্ত অরক্ষিত অবস্থায় থাকবে এবং এই দ্বীপ দখল করে কোনও বিশেষ কৌশলগত সুবিধাও পাওয়া যাবে না। তার মতে, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে 'অদ্ভুত' একটি বিষয়, যদিও প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তা করার ক্ষমতা রাখে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।   শুক্রবার রাত পৌনে ৮টায় উপজেলার শরীফপুর সীমান্তের দত্তগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান।   নিহত মো. মুজিব আলী (২০) দত্তগ্রাম এলাকার মো. অজিব আলীর ছেলে।   বিজিবি জানায়, বাংলাদেশি ছয়-সাতজনের একটি চোরাকারবারি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় সীমান্ত পিলার ১৮৫২/৫-এস হতে আনুমানিক ৫০০ গজ ভিতরে ভারতের লখাইরচরে প্রবেশ করে।   তখন ১৯৯ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ লাঠিয়াপুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চোরাকারবারিদের বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা বিএসএফ সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায়।   বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে চোরাকারবারিদের উপর দু-তিনটি গুলি করে। এতে মুজিব আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যরা পালিয়ে এসে আত্মগোপন করে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বলছে, নিহত ব্যক্তি এর আগে চোরাচালানের মালামাল পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়।   শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। তবে তাদের নাম জানতে পারেননি।   কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।   ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সন্ধ্যার পর বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় তাদের টহলদলের সদস্যরা কয়েকটি গুলির শব্দ শুনেছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনার কথা জানায়। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
পুশইন’ সমস্যা কূটনৈতিকভাবে সমাধানে কাজ চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভারত থেকে অবৈধভাবে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধানের জন্য সরকার কাজ করছে বলে বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।   তিনি বলেছেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘পুশইন’ বিষয়টি কূটনৈতিক মাধ্যমে সমাধানের জন্য কাজ করছে। এক্ষেত্রে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ভারতের পাশ থেকে যে ‘পুশইন’ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, বিজিবি সেগুলো প্রতিহত করছে।   “এরই মধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১২-১৩টি চিঠি দেওয়া হয়েছে দিল্লিতে এই ‘পুশইন’ বন্ধ করার জন্য।   শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ফরিদপুরের সালথা প্রেস ক্লাব উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।   এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দেশের অবৈধ নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমরা আশা করব, ভারত সরকার সে নীতিমালা মেনে কাজ করবে। যদি ভারতের কোনো অবৈধ নাগরিক বাংলাদেশে থাকে সেক্ষেত্রে কূটনৈতিক নিয়ম মেনে বাংলাদেশ তাদেরকে ফেরত পাঠাবে।   রাতের আঁধারে ‘পুশইন’ করা থেকে ভারত সরকার বিরত থাকবে বলে আমরা আশা করি।   উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সালথা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকার, নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহম্মদ আল ফাহাদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, বিএনপি নেতা আসাদ মাতুব্বর।   পরে প্রতিমন্ত্রী সালথা উপজেলা বাজারে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের উদ্বোধন করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কোয়েলের পর গণপদত্যাগ, দেব-রচনা-সায়নীসহ ১৯ তারকা এমপির বিদায়

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একসঙ্গে একাধিক তারকা সংসদ সদস্যের পদত্যাগের খবর। টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব), অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষসহ মোট ১৯ জন সংসদ সদস্য রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। এমন একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।   ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, একটি চিঠিতে এই ১৯ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় শুধু টলিউড তারকারাই নন, সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।   তবে এই ‘গণপদত্যাগ’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক। চিঠির তারিখ ও জমা দেওয়ার সময় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। একটি পক্ষ দাবি করছে, চিঠিটি স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে আগেই। অন্যদিকে অন্য একটি পক্ষ এর আইনি বৈধতা ও তারিখ নিয়ে আপত্তি তুলেছে।   সূত্র অনুযায়ী, চিঠির তারিখে অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি এখন আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া নথি ও স্বাক্ষর যাচাই নিয়েও চলছে আলোচনা।   এদিকে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা গ্রহণযোগ্য পদত্যাগপত্রের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।   সব মিলিয়ে দেব-রচনা-সায়নীসহ তারকা সাংসদদের ‘গণপদত্যাগ’ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক

নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। এখন থেকে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মানের মতো যেকোনো একটি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।   বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বিশেষ ঘোষণার কথা জানান।   অর্থমন্ত্রী জানান, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাক্রমকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাকে নতুন কারিকুলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশকে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।   নতুন এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভাষা শিখতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে উচ্চশিক্ষায় ঋণ সুবিধা: তৃতীয় ভাষাজ্ঞান সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষায় যেতে চাইলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পাবে। ইউনিফর্ম ও উপকরণ: দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা: প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা হবে।   প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শিক্ষার প্রসারে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই নতুন শিক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও আগ্রহ অনুযায়ী কারিগর, প্রযুক্তিবিদ, কৃষি উদ্যোক্তা বা গবেষক হিসেবে দেশ ও বিদেশে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এছাড়া নারীদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রমও চলমান থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তারকাদের নামে নবজাতকের নাম, পছন্দের শীর্ষে নেইমার-এমবাপ্পে

দক্ষিণ আমেরিকাজুড়ে এখন এক নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—ফুটবল তারকাদের নামে নবজাতকের নাম রাখা। যেসব নাম একসময় কেবল মাঠের নায়ককে চিহ্নিত করত, এখন তা হয়ে উঠছে পরবর্তী প্রজন্মের পরিচয়ের অংশ।   বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয়তার ঢেউয়ে অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের নাম রাখছেন বর্তমান ও সাবেক তারকাদের নামে। ফলে একসময় যেসব নাম কেবল খেলার মাঠে শোনা যেত, এখন সেগুলো জন্মনিবন্ধনেও জায়গা করে নিচ্ছে।   এক বছরের মধ্যেই এই তালিকায় আরও নতুন নাম যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান পারফরম্যান্স বজায় থাকলে ভবিষ্যতে স্পেনের লামিনে ইয়ামাল, ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন বা পর্তুগালের ভিতিনহা—এসব তারকার নামেও শিশুদের নাম রাখা হতে পারে।   লাতিনের দেশ ইকুয়েডরে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। দেশটির সিভিল রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় তারকা যেমন কেন্দ্রি পায়েজ বা পিএসজির ডিফেন্ডার উইলিয়ান পাচোর চেয়ে বিশ্ব তারকাদের নামেই বেশি আগ্রহ দেখা গেছে।   তালিকার শীর্ষে আছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার। তার নামে ইকুয়েডরে ৩,৮৪৭ জন শিশুর নাম রাখা হয়েছে।   দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ফ্রান্সের তরুণ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার নামে ২,৮০০-এর বেশি শিশু নামকরণ করা হয়েছে। তৃতীয় স্থানে আছেন কলম্বিয়ার জেমস রদ্রিগেজ, যার নামে রয়েছে ২,১৩৬ জন।   আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও এ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। ইকুয়েডরে ১,৫৪৯ জনের নাম লিওনেল, ১,০০৬ জন রোনালদো এবং ৩৮ জন মেসি।     কলম্বিয়ায় ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, কিলিয়ান/এমবাপ্পে নামই সবচেয়ে জনপ্রিয়, যেখানে ৮৩৬ শিশু এই নামে পরিচিত। এরপর আছে নেইমার ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সংক্রান্ত নাম।   ব্রাজিলেও একই প্রবণতা দেখা গেছে, সেখানে ২,৪০০-এর বেশি শিশু নেইমারের নামে নামকরণ করা হয়েছে।   আর্জেন্টিনায় ২০২৩ সালে মেসির নামে নাম রাখার প্রবণতা আবারও বেড়েছিল, বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে শিরোপা জয়ের পর।   চিলিতে আবার এক পরিবার আলোচনায় আসে ২০২২ বিশ্বকাপের আগে, যখন তারা তাদের নবজাতকের নাম রাখে ‘গ্রিজম্যান এমবাপ্পে’। ওই পরিবারের অন্য সদস্যদের নামেও রয়েছে ফুটবল কিংবদন্তিদের ছোঁয়া—যেমন ‘জেমস মদ্রিচ’, ‘আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা’, ‘লিওনেল মেসি’ এবং ‘নেইমার রোনালদো’।   সূত্র: ডেইলি সাবাহ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘পুশ ইন’ ইস্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য অস্বীকার করলেন শুভেন্দু অধিকারী

বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সংসদে কোনো বিষয় উত্থাপিত হলে সে বিষয়ে মন্তব্য করার দায়িত্ব তার নয়; এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই বক্তব্য দেবে।   শুক্রবার কলকাতার উপকণ্ঠ নিউটাউনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। এ সময় ‘পুশ ইন’ ইস্যু এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।   ভারতের দৃষ্টিতে যাকে ‘পুশ ব্যাক’ বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে সেটিই ‘পুশ ইন’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত বিজিবি-বিএসএফের ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনায় এলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান সামনে আসেনি। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’-এর প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালন করছে। একই সঙ্গে আগামী ১৪ জুন জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে।   এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'একটি বাইরের দেশের সংসদে কোন বিষয় উত্থাপন করা হবে, সেটা আপনার মুখ থেকে শুনছি। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। যদি এমন কিছু হয়ও, তার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্ত শুধু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নয়, আরও পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গেও রয়েছে। ফলে এ ধরনের বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ হলো ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রয়োজন হলে তারাই মন্তব্য করবে।'   সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য আহমেদ হাসান ইমরানকে নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং বাংলাদেশের নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে ভারতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।   এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।   এ বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'উনি (কাকলি ঘোষ দস্তিদার) চিঠি লিখেছেন কি না, সেটা আমার জানা নেই। তবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চলত—এ কথা আমরা বিরোধী দল হিসেবে বহুবার বলেছি। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া মন্তব্য করা আমার পক্ষে ঠিক হবে না। যেহেতু বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে গেছে, তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোই তা দেখবে। তারা যদি কোনো ধরনের সহায়তা চায়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে বাধ্য থাকবে।'   সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তরের বিষয়েও কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, 'প্রতিদিনই বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গে ‘চিকেন নেক’ করিডরের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব কাজ শেষ করা হবে। কারণ এটি দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বিষয়।'

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে এসেই ভিসা নিয়ে আশার বার্তা দিলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার

ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকাস্থ হাইকমিশনে যোগদান করতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। ভারতীয় হাইকমিশনার সড়কপথে ঢাকায় আসছেন।   শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও তার সহধর্মিণী মৃনাল ত্রিবেদী বাংলাদেশে আগমন করেন।   বাংলাদেশে প্রবেশ করেই দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি। তার সঙ্গে ২০ কোটি (বাংলাদেশের) অ্যাড করেছি। ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই, তা সব একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে ভাবছি না। দেখছেন না আমি হেঁটে চলে আসছি। একই আকাশ একই বাতাস একই। আমরা মিলেমিশে ভিসার সমাধান করবো। শুধু অভিন্ন সীমান্ত নয়, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’   হাইকমিশনার হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের নয়। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। যারা আমাদের ভাই-বোন ও মা—তাদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’   এ সময় বেনাপোল স্থলবন্দরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসি দাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল অফিসার আরিফ মাহমুদ উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বেনাপোল পোর্ট পরিচালক শামীম হোসেন, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ, ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোর্তজা আলী, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন প্রমুখ।    আগমনের পর ইমিগ্রেশন ও প্রটোকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে তাকে গন্তব্যস্থলের উদ্দেশে রওনা করা হয়। ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসি দাস তাকে বরণ করে নেন।   গত এপ্রিলে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে (৭৫) বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠালেন দিল্লি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা খেলাপির অভিযোগ নিয়ে যা বললেন গভর্নর

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণ খেলাপির অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে বসে চুপ থাকাই ‘ভালো’।   তবে আর্থিক লেনদেনসহ নানা বিষয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানার প্রশংসা করেছেন তিনি।   শুক্রবার বিকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের সূত্র ধরে গভর্নরের খেলাপি হওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গটি ওঠে।   ওই সাংবাদিক ইসলামী ব্যাংকের চলমান অস্থিরতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি ব্যাংকটিতে অর্থ তুলতে গিয়ে অনেক গ্রাহক খালি হাতে ফিরছেন দাবি করে এক নারী গ্রাহকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।   সাংবাদিকের ভাষ্য, ওই নারী বলেছেন, বতর্মান গভর্নরও ঋণ খেলাপি; তিনি কীভাবে ব্যাংক ভালো করবেন!   সাংবাদিকের কথা বলা শেষ হয়ে এ বিষয়ে গভর্নরকে উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   তখন মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘গভর্নর ঋণ খেলাপি— এটা চার মাসে অনেক শুনলাম। আমি কখনো ব্যাখ্যা দিইনি। কারণ, আমার সাংবাদিক বন্ধুদের প্রায়ই বলি যে, রেগুলেটরের কথা না বলাই ভালো।   অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে গর্ভনরের পদে বসায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।   দেশের ইতিহাসে সাবেক আমলা, ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের বাইরে ব্যবসায়ী হিসেবে তিনিই প্রথম গভর্নরের পদ পান, যা অনেককে বিস্মিত করে।   নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার্স গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। নতুন গভর্নর হিসেবে তার নাম আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ঋণ খেলাপি হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসে।   এ বিষয়ে তখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) থেকে নেওয়া ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না করায় খেলাপি হয় তার কোম্পানি হেরা সোয়েটার্স লিমিটেড।   বাংলাদেশ ব্যাংক ও এমটিবির কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময় ৮৬ কোটি টাকার খেলাপি ঋণটি এককালীন ২ শতাংশ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে পুনঃতফশিল করা হয়।   বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে খেলাপির অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা করেন গভর্নর।   তিনি বলেন, ‘‘যেখানে আমি ইনভল্ব, সেটা গ্রিন ফ্যাক্টরি লিড সার্টিফাইট। আজ পর্যন্ত সেই কারখানা এক দিনের জন্যও বন্ধ হয় নাই; এক দিনের জন্যও রপ্তানি বন্ধ হয় নাই। আজ পর্যন্ত সেই কারখানায় এক মাসের জন্য বেতন দিতে পারে নাই, এমন হয় নাই।’   গভর্নরের ভাষ্য, কারখানাটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৪ শতাংশ হারে সুদে ঋণ নেয় ব্যাংকের কাছ থেকে। প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরে ব্যাংক পরবর্তীতে জানায়, সেই তহবিল শেষ হয়ে গেছে। ব্যাংক জানিয়ে দেয়, প্রচলিত বাণিজ্যিক সুদহারে ঋণ নিতে হবে।   গভর্নর বলেন, ‘হঠাৎ ১১ শতাংশ সুদ হয়, তাই স্বাভাবিকভাবে ঋণ পরিশোধ আগের প্রজেকশন অনুসারে হয় নাই।’   কোভিড মহামারীর প্রভাবসহ অন্যান্য সমস্যাও ছিল মন্তব্য করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘‘এইটা নিশ্চিত থাকেন যে, আমরা কখনো এক পয়সা, এক টাকা ঋণ মওকুফ চাইনি। সুদ মওকুফ চাইনি। প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি টাকার উপরে ব্যাংকে পরিশোধ করে দিয়েছে।’’ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।   এ নিয়ে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন ডাকে অর্থ মন্ত্রণালয়। তাতে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের পাশাশি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিও উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ

ভুটানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশ

আক্তারুজ্জামান জুন ০৭, ২০২৬