সর্বশেষ

ছবি : সংগৃহীত
ওমানে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ, বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেয়ার সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে ওমান। এর মধ্যে ৫ হাজার কৃষি শ্রমিক এবং ৫ হাজার মৎস্যকর্মী নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।   বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যেদ মোহাম্মদ সেলিম আলী আল সাইদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে শ্রমবাজার নিয়ে এসব তথ্য জানান তিনি। ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার চুক্তি শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ওমানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে। এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে ৫ হাজার কৃষক এবং ৫ হাজার মৎস্যকর্মী নেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। তবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিমন্ত্রী জানান, ওমানের একটি প্রতিনিধিদল আগামী মাসে বাংলাদেশে আসবে। তারা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার পর কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়ার পরবর্তী বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে। ওমানের ভিসা চালুর চেষ্টা বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়েও কূটনৈতিকভাবে কাজ করছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কারণে ওমানের ভিসা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশিরা যাতে নিয়মিতভাবে ওমানে যেতে পারেন, সে বিষয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষ অভিবাসনের ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীরা যাতে ওমানের বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ পান, সে বিষয়ে ওমান সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ওমানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যেদ মোহাম্মদ সেলিম আলী আল সাইদ ওমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দক্ষ কর্মীদের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুধু নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী পাঠানো নয়, বরং দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজারে আরও সুযোগ তৈরি করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য। কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন একটি সুযোগ তৈরি হবে। তবে কর্মী পাঠানোর আগে নিয়োগ প্রক্রিয়া, ভিসা, প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে হবে। আগামী মাসে ওমানের প্রতিনিধিদলের সফরের পর এসব বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসতে পারে। অনুষ্ঠানে ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড: কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান
ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বড় পরিকল্পনা সরকারের : প্রধানমন্ত্রী

ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে শিল্পখাত যাতে গ্যাসের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।    প্রধানমন্ত্রী বলেন, গভীর সমুদ্রে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংকটকালীন সময়ে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইপিজেড ও বিসিকের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।   সংসদ নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সামনে এসব উদ্যোগের আরও সুফল দেখা যাবে। একই সঙ্গে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।   ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিশেষ সুবিধার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব গ্রাহক নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা মূল্য পাবেন।   এদিকে সরকারি প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রবণতায় নানা দুর্বলতা ধরা পড়ার পর সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সমীক্ষা, বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নিবিড় তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   আওয়ামী লীগ আমলে নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলোর অতিরঞ্জিত ব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। কয়েকটি প্রকল্পের তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে কম খরচে জনগণ যাতে সর্বোচ্চ সুবিধা পায়, সরকার সে বিষয়টি নিশ্চিত করছে।   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল, সেটিকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২ হাজার ২৬৮ মামলা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২২৬৮টি মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মামলা করে।   ডিএমপির তথ্যমতে, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৬টি বাস, ৮টি কাভার্ডভ্যান, ১৫টি সিএনজি ও ৩৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৩৪টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৫টি বাস, ১২টি ট্রাক, ১টি কাভার্ডভ্যান, ১৬টি সিএনজি ও ১১০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৮০টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ১২টি বাস, ১টি ট্রাক, ২২টি কাভার্ডভ্যান, ২৪টি সিএনজিসহ মোট ৩৪২টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩০টি বাস, ২৬টি ট্রাক, ২৭টি কাভার্ডভ্যান, ৩০টি সিএনজিসহ ও ১২৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৪০টি মামলা হয়েছে।   অন্যদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ২০টি ট্রাক ও ৯৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৯০টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৩৫টি বাস, ২২টি ট্রাক, ৩৭টি কাভার্ডভ্যান, ৪৯টি সিএনজি ও ১৬৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪০৩টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৩৮টি বাস, ৯টি ট্রাক, ১১টি কাভার্ডভ্যান, ৪২টি সিএনজি ও ১৮৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৩২টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৩১টি বাস, ৩টি ট্রাক, ১৭টি কাভার্ডভ্যান, ২১টি সিএনজি ও ৭৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৪৭টি মামলা হয়েছে। এছাড়াও অভিযানকালে মোট ৪৮৬টি গাড়ি ডাম্পিং ও ১২২টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।   ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপের পরই ফের পাল্টাপাল্টি হামলায় রাশিয়া-ইউক্রেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।   রাশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় শহর নোভোরোসিস্কে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রেতিয়েভ। শহরের মেয়র আন্দ্রে ক্রাভচেঙ্কো জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একটি আবাসিক ভবনের কাছে এসে পড়ে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা রাতভর ইউক্রেনের ৫৯৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।   ইউক্রেনেও রাশিয়ার হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ কিপার জানান, মলদোভা সীমান্তের স্টারোকোজাচে আন্তর্জাতিক সড়ক চেকপয়েন্টে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং তিনজন আহত হন। এই হামলার পর ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী চেকপয়েন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।   যুদ্ধের অবসানে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ইউরোপের প্রতি রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা নেই বলে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন পুতিন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানান, ওয়াশিংটন এখন ভূমির বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার করে নিচ্ছে এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিরোধিতা করছে। লাভরভের মতে, ট্রাম্প ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়া অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন।   এদিকে শীত মৌসুমের আগে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নরওয়ে সফর করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।   সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নকশাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।   বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।   সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন-ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না এবং থাকলে তা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে। জবাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর নিয়ে সরকারের তিন স্তরের মহাপরিকল্পনার কথা সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।   ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর নকশা চূড়ান্ত, প্রয়োজন অর্থায়ন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই করিডোরে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন (নকশা) প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।   কবে নাগাদ এটি চালু হবে-এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে এই রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে, ফলে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে আসবে।   দূরত্ব কমাবে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন রেলপথের দূরত্ব কমানোর বিষয়ে সংসদ নেতা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব কমাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি ‘কর্ডলাইন’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই কর্ডলাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই শহরের দূরত্ব কমার পাশাপাশি ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। ফলে অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।   পুরো রুট হচ্ছে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইনের কাজ শেষ হয়েছে।   তিনি আরও জানান, এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া টঙ্গী-আখাউড়া অংশের প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নও শেষ পর্যায়ে। আশা করা যাচ্ছে, এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
শেখ হাসিনা আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, সিদ্ধান্ত হবে আইন অনুযায়ী: আইনমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।   বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে নাকি তিনি আপিলের সুযোগ পাবেন- এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও ব্যাখ্যা হচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশে ফিরে এলে এবং আপিল করতে চাইলে আইন অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারিত হবে।   মন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির আপিলের অধিকার আছে কি না, সেটি ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করার বিষয় নয়; প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা নির্ধারণ করা হবে।   এ সময় বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করার ফলে শুধু বাল্যবিয়ে প্রতিরোধই নয়, বহুবিবাহ এবং বিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতিও রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থার তথ্য সহজে যাচাই করা যাবে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত অভ্যন্তরীণ সার্ভার

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সার্ভার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় গত দুই দিন ধরে  বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।   এ ছাড়া আগুনে বেশ কিছু সরকারি নথিপত্রও পুড়ে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব নথির ডিজিটাল ব্যাকআপ থাকায় এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।   বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত সোমবার ভোর ৪টার দিকে প্রকল্পের ২ নম্বর গেটের কাছাকাছি অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) পুরনো কার্যালয়ে আগুন লাগে।   রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. আবুল হাশেম বলেন, ‘আগুন লাগার পরপরই আমাদের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত, এই ঘটনায়  বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সার্ভারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’   অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্টেশন অফিসার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অফিসের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে (এসি) বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কারণ অনুসন্ধানে রূপপুর কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।’   ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাইট অফিসের ইনচার্জ মো. রুহুল কুদ্দুস জানান, কিছু নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এটি গুরুতর কোনো সমস্যা নয়, কারণ প্রতিটি ফাইলেরই ব্যাকআপ কপি সংরক্ষিত আছে। তিনি বলেন, সার্ভার স্টেশনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কারণে গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।   আজ সকালে দ্য ডেইলি স্টারকে রুহুল জানান, ‘ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক করার জন্য কাজ চলছে।’   এর আগে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বেশ কয়েকবার এখানকার অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।   বিভিন্ন সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মানদণ্ড অনুযায়ী রূপপুরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি ফায়ার স্টেশন থাকা বাঞ্ছনীয়, যেখানে অন্তত ২০০ জনের বেশি দক্ষ জনবল থাকবে। অথচ বর্তমানে মাত্র ৪৯ জন কর্মী নিয়ে একটি সাধারণ মানের ফায়ার স্টেশন দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।   স্টেশন অফিসার হাশেম বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্নি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ নিজস্ব প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ দেবে। যেহেতু বিশেষায়িত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি, তাই বর্তমানে সাধারণ কর্মীরাই দায়িত্ব পালন করছেন।’   তিনি আরও বলেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম রয়েছে এবং প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী স্টেশনগুলোর সহায়তা নেওয়ার সুযোগও আছে। তবে রূপপুর কর্তৃপক্ষ যখন নিজস্ব ফায়ার স্টেশনের পূর্ণ দায়িত্ব নেবে, তখন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি এককভাবে মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা তাদের তৈরি হয়ে যাবে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট

ইতালিতে গতকাল অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িতদের মধ্যে পাঁচ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।   বাংলাফ্যাক্ট জানায়, ইতালিতে গতকাল অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িতদের মধ্যে পাঁচ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।   হামলার বিভিন্ন ভিডিও থেকে তাদেরকে শনাক্ত করা হয়। শনাক্তকৃত সকলেই ইতালিতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় বলে শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম।      বাংলাদেশে চব্বিশের জুলাইয়ে দুনিয়া কাঁপানো আন্দোলন নির্মূলে আওয়ামী সরকারের পরিচালিত হত্যা গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং শিক্ষার্থীদের দাবি পক্ষে সোচ্চার ছিলেন খ্যাতিমান অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।    একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন আজমেরী হক বাঁধন। সেখানে তার ভাইয়ের সাথে রাস্তায় বের হলে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ কর্মীদের হেনস্তার শিকার হন তিনি। এ ঘটনা ছড়িয়ে পরার পর দেশ বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দাবি উঠেছে।   ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।    ‘বাংলাফ্যাক্ট’ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি’র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।   ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।   তিনি বলেন, বাড়ির ছাদ থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা যেখানেই সুযোগ আছে, সেখানেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে।    আজ দুপুরে জেলায় বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেডে (বাকেশি) স্থাপিত এক মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন রুফটপ সোলার প্লান্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফকির মাহবুব আনাম এসব কথা বলেন।   তিনি আরও বলেন, জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তাও দিয়েছে সরকার।   ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ফার্নেস অয়েল সংকটের মধ্যে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় বাকেশির সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রায় এক মাস আগেই এটি উৎপাদনে গেছে।    মন্ত্রী বলেন, কারখানার নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত প্রকল্পটির বিনিয়োগ তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উঠে আসবে।   তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রাকৃতিক শক্তির উৎস। বর্তমান জ্বালানি সংকটের বাস্তবতায় এর ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ জন্য সাধারণ মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহিত করছে সরকার। ১ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাসিক কিস্তিতে সেই ঋণ পরিশোধ করা যাবে। সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতেও কর ও শুল্ক সুবিধা রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, বাকেশির ১ মেগাওয়াটের প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কারখানার প্রায় ৯০০ কিলোওয়াট চাহিদা মেটাচ্ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্লান্টটির সক্ষমতা ২ মেগাওয়াটে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে।   মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩০ হাজার একর জমি সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও চলছে। বিটিসিএল, টেলিটক, হাইটেক পার্কসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জায়গার সুযোগ অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হবে।   ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব এবং বাকেশি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান রিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও বাকেশি পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক আবদুল্লাহ হারুন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক  (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল।   এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বাকেশির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম।   এর আগে মন্ত্রী বাকেশি চত্বরে বৃক্ষরোপণ এবং পুকুরে মৎস্য অবমুক্ত করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয়: হাইকোর্টের রায়

ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র চেয়ে করা রিটের রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।   বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এই রায় দেন।   আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মণ্ডল আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।    আজকের এই রায়ের ফলে কেউ ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র করতে পারবে না বলে জানান নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী।   ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র করতে চেয়ে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রিট করেন রাজধানীর শাহজাহানপুর শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা।    পরবর্তীতে সে রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।    আজ রিটটি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ফাইল ছবি
দাপ্তরিক নথিতে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।   বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।   মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এর অধীন দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ পাঠানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।   বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে এই আদেশ অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে বলা হয়েছে।   পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব জ্যেষ্ঠ সচিব অথবা সচিব, সব বিভাগের কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সব কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির যে মূল্য চলছে, তার চেয়ে বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সম্প্রতি তিনটি এলএনজি কার্গো কিনতে পেট্রোবাংলার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মূল্যসূচকের তুলনায় এসব কার্গোর জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বেশি দিতে হয়েছে।   গত সপ্তাহে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য একটি এলএনজি কার্গোর দর প্রতি ইউনিট ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার প্রস্তাব করে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর। একই সময়ে জাপান কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম মূল্য ছিল ২৪ দশমিক ০৯ ডলার। অন্য একটি কার্গোর জন্য বিপি সিঙ্গাপুরের দর ছিল প্রতি ইউনিট ২৮ দশমিক ০৩ ডলার। ওই সময়ে জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। আবার ৫ ও ৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য বিটল ইশয়া লিমিটেডের প্রস্তাবিত দর ছিল ২৬ দশমিক ৬৬৮৮ ডলার, যেখানে জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। আন্তর্জাতিক সূচকের তুলনায় কেন বেশি দাম আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে স্পট মার্কেটে প্ল্যাটস ও জেকেএম সূচকের মূল্য ছিল ২২ দশমিক ৮২ থেকে ২৪ দশমিক ৬১ ডলারের মধ্যে। ফলে বাংলাদেশকে প্রতিটি কার্গোর জন্য আন্তর্জাতিক সূচকভিত্তিক মূল্যের তুলনায় বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। এ নিয়ে জ্বালানি বিভাগকে দেওয়া ব্যাখ্যায় আরপিজিসিএল ও পেট্রোবাংলা কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্পট মার্কেটের দামেও। গ্যাসের মান নিয়েও রয়েছে সীমাবদ্ধতা পেট্রোবাংলার নির্ধারিত গ্যাসের মান ও হিটিং ভ্যালুর শর্তও এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই নির্দিষ্ট মানদণ্ডের কারণে অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী টেন্ডারে অংশ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। সরবরাহকারীর সংখ্যা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগিতাও কমে যায়। আর প্রতিযোগিতা কম থাকলে দর বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। স্বল্প সময়ে সরবরাহের টেন্ডারেও বাড়ছে দাম পেট্রোবাংলার ব্যাখ্যায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। স্পট মার্কেট থেকে অল্প সময়ের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে টেন্ডার আহ্বান করা হলে অনেক সরবরাহকারী এতে অংশ নিতে পারেন না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু কোম্পানি এলএনজি সরবরাহে আগ্রহী থাকলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্গো প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। জ্বালানি ব্যয়ে বাড়তি চাপ আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি দামে এলএনজি কেনার ফলে দেশের জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, এলএনজির নির্দিষ্ট মানের প্রয়োজনীয়তা এবং দ্রুত সরবরাহের শর্ত মিলিয়ে বর্তমান সময়ে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কেনার ব্যয় বেড়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
উত্তরায় সেন্টার পয়েন্ট শপিং মলের রেস্টুরেন্টে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

রাজধানীর উত্তরায় বিমানবন্দরের পাশে সেন্টার পয়েন্ট শপিং মলের ফুডকোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলায় থাকা একটি রেস্টুরেন্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।   ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের কর্মকর্তা আনারুল ইসলাম দোলন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুপুরে আগুনের সূত্রপাত ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সেন্টার পয়েন্ট শপিং মলের রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে উত্তরা ও বিমানবন্দর ফায়ার স্টেশনের ছয়টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ৩৫ মিনিটের প্রচেষ্টার পর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি অগ্নিকাণ্ডের পর ফুডকোর্ট এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া আগুন লাগার কারণ এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটিও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তদন্ত ও পরবর্তী পর্যালোচনার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।
বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য অপরাধ: রিজভী

অভিনেত্রী ও মডেল আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি একটি ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।    তিনি বলেন, যারা নারীদের ওপর আক্রমণ চালায় তারা কাপুরুষ।   বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।    রুহুল কবির রিজভী বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।   গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানে এই দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা।   হামলার ঘটনা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পার্কে হাঁটার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা কাপুরুষোচিত হামলা চালান।   প্রতিমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, অভিনেত্রী বাঁধন পুলিশের কাছে ও দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন। বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরবে।   বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকার এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি।
জীবনের পরের ঢেউ যেদিকেই ভাসিয়ে নিক, শান্তিতে থাকতে প্রস্তুত: পূজা চেরী

সম্প্রতি ঢালিউড অভিনেত্রী পূজা চেরীকে নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে বিয়ের জল্পনা-কল্পনা চলছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নাকি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে অভিনেত্রীর। যদিও তিনি এ খবর মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।  অভিনেত্রী বলেছেন, 'তার বিয়ের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।'  ] চলতি বছরের মার্চে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এনগেজড বলে জানিয়েছিলেন। পূজা বলেন, ‘আমি এনগেজড, কিন্তু আমি বিয়ে করিনি। আমার বিয়ের ডেটও ফিক্সড হয়নি। হলে আমি জানাবো।’  তার জীবনসঙ্গী মিডিয়াঙ্গনের কেউ নন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সময় পাত্রের পরিচয় কিংবা বিয়ের দিনক্ষণ প্রকাশ করেননি পূজা চেরী।   তবে এ মুহূর্তে অভিনেত্রী বেশ নজর কাড়ছেন নেটিজেনদের। কারণ অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নান্দনিক ফ্যাশন ও আকর্ষণীয় লুকের কারণেও নিয়মিত আলোচনায় থাকেন। এবারও লাল জবা ফুলে সাজানো মায়াবী রূপে ভক্তদের নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী।   সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছেন পূজা চেরী। সেই ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই শুরু হয়েছে ভক্ত-অনুরাগীসহ নেটিজেনদের মাঝে নানা গুঞ্জন। ভক্তদের অনেকেই তার এ নতুন লুকের প্রশংসায় মেতেছেন।   জবা ফুল দিয়ে মুখের একাংশ আড়াল করা ক্লোজআপ ছবিটি বাড়িয়েছে তার লুকের রহস্যময়তা। সেই সঙ্গে হালকা সবুজ ও গোলাপি শেডের পোশাকের সঙ্গে লাল জবার এই বৈপরীত্য পূজার সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে। প্রকৃতির মাঝে তার এই স্নিগ্ধ উপস্থিতি সহজেই নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। সেই ছবিগুলোর সঙ্গে নিজের অনুভূতিও প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।  ছবির ক্যাপশনে পূজা চেরী লিখেছেন— ‘কখনো এই মুহূর্তের সৌন্দর্যে হারিয়ে যাই, কখনো জীবনের রঙে মুগ্ধ হই। জীবনের পরের ঢেউ আমাকে যেদিকেই ভাসিয়ে নিক, আমি সেখানেই শান্তিতে থাকতে প্রস্তুত।’    পূজা চেরীর এ পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে ভক্ত-অনুরাগীদের ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরে গেছে। কেউ মুগ্ধ হয়েছেন তার সৌন্দর্য প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ তার ফ্যাশন ও নান্দনিক উপস্থাপনার প্রশংসা করেছেন। সব মিলিয়ে লাল জবা ফুলে অভিনেত্রীর এই নতুন রূপ আবারও যৌবনের ডাক আলোচনায় এনেছে।   পোস্ট করা ছবিগুলোতে পূজাকে দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন মেজাজে। একটি ছবিতে কোনো এক মনোরম ক্যাফেতে বসে সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে। আবার সামনে রাখা কফির মগ ও ফলের জুস। সাদা রঙের লেসের কাজ করা টপস, আর চোখে সানগ্লাস।— সব মিলিয়ে তার ক্যাজুয়াল লুকটিও ছিল বেশ আকর্ষণীয়।   আরেক ছবিতে অবশ্য আরও নান্দনিক রূপে ধরা দিয়েছেন পূজা চেরী। সবুজ গাছপালায় ঘেরা শান্ত পরিবেশে পাথুরে পথের পাশে দাঁড়িয়ে পোজ দিয়েছেন অভিনেত্রী। আর হাতে ও মুখের পাশে ছিল উজ্জ্বল লাল জবা ফুল। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
এলিজা আজাদ রহমান। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলেন আরেক বাংলাদেশি এলিজা আজাদ রহমান। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম কোনো বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হলেন।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে আয়োজিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।   এলিজা আজাদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বাড়ল।   অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এলিজা আজাদের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলামের মেয়ে।   দুই দশকের বেশি সময় আগে এলিজা আজাদ শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।   এই যাত্রায় স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানালেন এলিজা আজাদ। তিনি বলেন, তা ছাড়া বাংলাদেশি ও স্থানীয় বহু সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন তিনি পেয়েছেন। তারা তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।   এর আগে, বাংলাদেশি সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল ও মাসুদ খলিল ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। আরেক বাংলাদেশি মাসুদ চৌধুরী বর্তমানে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   এলিজা আজাদ ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটি। সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, এলিজা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারে তার এই অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে, সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন।   এলিজা আজাদ বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। তিনি চান, নারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও এগিয়ে আসুক।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
পাথরকুচি পাতা একটি অত্যন্ত পরিচিত ঔষধি উদ্ভিদ।
পাথরকুচি পাতার ১১ অসাধারণ গুণ

পাথরকুচি পাতা একটি অত্যন্ত পরিচিত ঔষধি উদ্ভিদ, যা ঔষধি গুণাগুণের জন্য গ্রামীণ চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি বিশেষ করে কিডনির পাথর দূর করতে এবং মূত্রনালির নানা সমস্যা নিরাময়ে দারুণ কার্যকর বলে পরিচিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক, পাথরকুচি পাতার প্রধান প্রধান উপকারিতা ও এর ব্যবহার—   ১. মূত্রনালি ও কিডনির সমস্যা দূরীকরণে কিডনির পাথর অপসারণ পাথরকুচি পাতার রস কিডনি ও গলব্লাডারের পাথর গলাতে সাহায্য করে থাকে। সাধারণত সকালে খালি পেটে ২-৩টি পাতা চিবিয়ে বা রস করে খাওয়া হয়। মূলত কিডনির পাথর অপসারণে পাথরকুচি পাতা সাহায্য করে থাকে।    ২. মূত্রনালির সংক্রমণ দূর করে এটি ডায়াবেটিস রোগ নিরাময়ে কাজ করে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়। এ ছাড়া  প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ও ইনফেকশন কমাতে এ পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী।    ৩. পেটের সমস্যা ও হজম প্রক্রিয়া পেট ফাঁপা ও গ্যাস পেট ফুলে যাওয়া বা প্রস্রাব আটকে থাকার মতো সমস্যায় সামান্য চিনির সঙ্গে ১-২ চামচ পাথরকুচির পাতার রস হালকা গরম করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে আরাম পাওয়া যায়।   ৪. ডায়রিয়া ও আমাশয় জন্ডিস বা লিভারের সমস্যাসহ রক্ত আমাশয় ও সাধারণ ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে এ পাতার রস হালকা গরম পানির সঙ্গে খাওয়ার চল রয়েছে।    ৫. ঠাণ্ডা ও ত্বকের যত্ন পুরোনো সর্দি-কাশি পুরোনো সর্দি ও কাশির সমস্যায় পাতার রস হালকা গরম করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুবার খেলে উপকার পাওয়া যায়।   ৬. ক্ষত ও ফোঁড়া ত্বকের কোনো স্থানে ফোঁড়া হলে বা মাংসপেশি থেঁতলে গেলে পাথরকুচি পাতা বেটে সরাসরি প্রলেপ দিলে দ্রুত উপশম হয়।    ৭. ত্বকের যত্নে পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সঙ্গে সঙ্গে এর মধ্যে জ্বালা-পোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে। যারা ত্বক সম্পর্কে অনেক সচেতন, তারা পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগাতে পারেন। ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে।   ৮. পাইলস ও অর্শ রোগ পাথরকুচি পাতার রসের সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।      ৯. জন্ডিস নিরাময়ে পাথরকুচি পাতা জন্ডিসের মহৌষধ। লিভারের যে কোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।   ১০. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ আমরা তো জানি, পাথরকুচি পাতার গুণাগুণ। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মূত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা তুলনা হয় না। চিরতরে মুক্তি দিতে পারে এই পাতা মূত্রথলির সমস্যা থেকে।   ১১. শরীর জ্বালাপোড়া দুই চামচ পাথর কুচি পাতার রস আধাকাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দু’বেলা সেবনে  শরীরের জ্বালাপোড়া দূর হয়।   কিছু জরুরি সতর্কতা প্রতিদিন ৪-৫টির বেশি পাথরকুচি পাতা খাওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া গর্ভবতী নারী, স্তন্যদায়ী মা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাওয়ানো একদম নিষেধ। দীর্ঘমেয়াদি যে কোনো চিকিৎসায় ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হাটহাজারীতে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা, নিহত ২ সেনাসদস্য

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।   বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।   আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে নিয়মিত ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলছিল। এ সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের পর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত হন এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন।   আহত সেনা কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।   দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে দুর্ঘটনার ধরন বা এর বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল ‘জাতিগত নিধন চালাচ্ছে’ বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তেল আবিবের দখলদারিত্বকে ‘অবৈধ’ঘোষণা করে ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এসব ঘোষণা দেন।   তিনি বলেন, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করছে, স্থায়ীভাবে সার্বভৌমত্ব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করছে। এসব কারণেই ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টিতে ইসরাইলের দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।   এর মাধ্যমে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতকে যুক্তরাজ্য স্বীকৃতি দিল। ওই মতামতে আদালত ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছিল এবং তা প্রতিরোধে অন্য দেশগুলোর দায়িত্বের কথাও জানিয়েছিল।   মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনের ঘটনা ঘটছে। তার অভিযোগ, এসব ঘটনায় ইসরাইলি সরকার অনেক সময় চোখ বন্ধ করে থেকেছে; বরং সরকারের কিছু সদস্য ফিলিস্তিনিদের জোর করে উচ্ছেদের পক্ষে বক্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়েছেন।   তিনি বলেন, ব্রিটিশ জনগণ চায় না তাদের দেশের দোকান ও সুপারমার্কেটে অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্য বিক্রি হোক। তাই অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।   এ ছাড়া বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। বসতি নির্মাণ, অবকাঠামোয় অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেটের মতো কাজে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে।   মিলিব্যান্ড সতর্ক করে বলেন, যারা অবৈধ বসতিতে অর্থায়ন বা অন্যভাবে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সর্বোচ্চ মাত্রার নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করবে।   আরও ১১ দেশের সমর্থন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আরও ১১টি দেশ মঙ্গলবার একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ ইসরাইলি  বসতিগুলোর সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বা তা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   দেশগুলো হলো—কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন।   ফ্রান্স ও কানাডা আজ থেকেই ইসরাইলি বসতিগুলোর পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা জানিয়েছে।   তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সেপা ও আরসিইপিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চাইল ঢাকা

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সেপা) নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চাওয়া হয়েছে।   বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   বৈঠকে সেপা ও আরসিইপিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা করেন তারা।   আলোচনায় জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, কনস্যুলার সহযোগিতা, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে।   বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইন্দোনেশিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ করেন তিনি।   বিশেষ করে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও দুই দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহজ ভিসা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।   ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত ওষুধসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়ে তার দেশের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।   দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা: বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূতও সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানান। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতি বিনিময়ের পাশাপাশি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   বৈঠকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও এগিয়ে নিতে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থনও চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন প্রকল্পে ৬.৩২ কোটি টাকার অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা: দুদক

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে অনুমোদিত কাজকে বিধিবহির্ভূতভাবে একাধিক প্যাকেজে ভাগ করে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।   দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের বুধবারের (৯ সেপ্টেম্বর) অভিযানে বিভাজিত অন্তত চারটি প্যাকেজের কাজের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এরপরও এসব কাজের বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে নথিপত্র পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।   ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এ অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এসব তথ্য পেয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম।   দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্যাকেজ বিভাজনে অনিয়ম, ই-জিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি, বাস্তবে কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়।   দুদকের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা হেড অব প্রোকিউরমেন্টের অনুমোদন না নিয়েই একই ধরনের কাজকে আটটি আলাদা প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে আটটি প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।   প্রকল্পের অনুমোদিত কাজ ছিল একটি প্যাকেজে: দুদক জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২৭৯ কোটি ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট প্রোকিউরমেন্ট কমিটির (সিসিজিপি) অনুমোদিত কাজ ছিল একটি—ডব্লিউ-১ প্যাকেজ। ডিপিপি ও আরডিপিপি অনুযায়ী, ওই প্যাকেজের আওতায় কাজ করার অনুমোদন ছিল। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিইএল) ওই কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশটির মূল্য ছিল ১৫৫ কোটি ৭০ লাখ ৪ হাজার টাকা। তবে দুদকের অভিযোগ, পরবর্তীতে ডিপিপি, আরডিপিপি বা হেড অব প্রোকিউরমেন্টের অনুমোদন ছাড়াই একই খাতের বিভিন্ন কাজ আলাদাভাবে আটটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়। এসব প্যাকেজের জন্য ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করে পৃথক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।   যে কাজগুলো নিয়ে প্রশ্ন: দুদকের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, আটটি পৃথক প্যাকেজের আওতায় যেসব কাজ দেখানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পাশে নতুন বেকারি ও ক্যান্টিন নির্মাণ। এ ছাড়া রেকর্ড ভবনের তিনটি বেসমেন্ট ফ্লোর নির্মাণের জন্য অস্থায়ী ট্রিপল ওয়ার্ক স্থাপন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেন্যু সংস্কার, ব্র্যান্ডিং ও ক্যাটারিংয়ের কাজও এসব প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে গাইড ওয়াল, মাস্টার ড্রেন ও র‌্যাম্প নির্মাণ, হাই-টেনশন কেবল লাইন অপসারণ, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ, অস্থায়ী ড্রেন ও সিআই শিটের বেড়া তৈরি এবং বালু ভরাট। এ ছাড়া বৃষ্টির পানি অপসারণ ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজও বিভাজিত প্যাকেজগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছিল বলে দুদকের নথিপত্রে উঠে এসেছে। দুদক জানিয়েছে, অভিযানে সংগৃহীত নথিপত্র আরও পর্যালোচনা করা হবে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশ

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬