ইরান ঘোষণা করেছে যে ইরাকি জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে মুক্তভাবে চলাচল করতে পারবে—বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথে তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার সাম্প্রতিকতম ইঙ্গিত এটি। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরাক প্রণালিতে সব ধরনের বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত থাকবে, নিয়ন্ত্রণ কেবল "শত্রু দেশগুলোর" ওপর প্রযোজ্য হবে। সামরিক কমান্ড সেমি-অফিসিয়াল তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রচারিত বিবৃতিতে বলেছে, "আমরা ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল।" "আপনারা এমন একটি জাতি যারা মার্কিন দখলের ক্ষত বহন করেন, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আপনাদের সংগ্রাম প্রশংসা ও প্রশংসার যোগ্য।" ইরানের এই ঘোষণা এলো এমন এক সময়ে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের কাছে চুক্তি করতে বা জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে পুনরায় দাবি জানিয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে দেন যে, অন্যথায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে "সব নরক" নেমে আসবে। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে "অসহায়, স্নায়বিক, অসন্তুলিত ও বোকামি কর্ম" বলে অভিহিত করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত প্রণালিটি অবরোধ করে রেখেছে, যা সাধারণত বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ বহন করে। তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে তেহরানের আরোপিত ডি ফ্যাক্টো টোল বুথ ব্যবস্থার অধীনে সমুদ্র যাতায়াত বেড়েছে, তবে জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ে এটি এখনো স্বাভাবিক মাত্রার ৯০ শতাংশেরও কম। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রণালি দিয়ে ৫৩টি ট্রানজিট হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ—আগের সপ্তাহে ছিল ৩৬টি। শুক্রবার একটি ফরাসি কন্টেইনার জাহাজ এবং একটি জাপানি মালিকানাধীন ট্যাঙ্কার প্রণালি পার হয়—যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো এ দুই দেশের সঙ্গে সংযুক্ত জাহাজ চলাচলের স্পষ্ট ইঙ্গিত। জলপথে শিপিং বিপর্যয় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অনেক দেশে জরুরী জ্বালানি সাশ্রয় ব্যবস্থা চালু করতে বাধ্য করেছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্ছমারক ব্রেন্ট ক্রুড সম্প্রতি প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলারের ওপরে ঘোরাফেরা করছে, বিশ্লেষকরা জলপথ দ্রুত খোলা না হলে দাম আরও বেশি বাড়ার পূর্বাভাস দিচ্ছেন। ইরাকের তেল উৎপাদন, যা বাগদাদের অধিকাংশ রাজস্বের উৎস, যুদ্ধে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত মাসে ইরাকের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে যে, উৎপাদন ৪.৩ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে ১.২ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে—প্রণালি দিয়ে রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রুড সংরক্ষণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায়। ২০২৩ সালে ইরাক বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ ছিল, যা বৈশ্বিক সরবরাহের ৪ শতাংশ, মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী।
রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরাণীগঞ্জের কদমতলীতে একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে এ সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২ জন। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে একই দপ্তরের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন ৫ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, শনিবার দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে কদমতলীর ওই কারখানায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পর্যায়ক্রমে মোট ৭টি ইউনিট কাজ করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন নব্য জেএমবির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এক শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে হেফাজতে নেয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি। সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, হেফাজতে নেওয়া শিশু শেরে বাংলা নগর থানায় দায়েরকৃত সন্ত্রাসবিরোধী মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আহসান জহির খান, দানিয়েল ইসলাম হাসান ও রাসেল ওরফে পলাশ ওরফে আবু বাছের আল ফারুকীর সাথে যোগাযোগ রয়েছে মর্মে জানা যায়। সিটিটিসি সূত্রে আরও জানা যায়, হেফাজতে নেওয়া শিশু অনলাইনে অত্যন্ত সক্রিয়। সে দাওলাতুল ইসলাম (আইএস) এর পক্ষে উগ্রবাদী পোস্ট শেয়ার করে সদস্য নিয়োগ করত। এছাড়া বোমা তৈরির পিডিএফ ফাইল শেয়ার করত এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দিত বলে জানা যায়। বিধি অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়া শিশুকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দেশটির আকাশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই মার্কিন পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভূপাতিত বিমানটি এফ-৫৫ মডেলের—যা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। দুই মার্কিন পাইলট ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনা ঘটেছে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী পাইলটদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে—দুটি ভিন্ন এলাকায় তাদের পড়ার কথা জানা গেছে। ইরানের দাবি, বিমান থেকে প্যারাশুটে নামা পাইলটদের উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী অ্যারোপ অপারেশন চালিয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ইরানি স্থল বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ চলছে, যাতে আক্রমণকারী বাহিনীর হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানি টেলিভিশন আরও ঘোষণা করেছে, যে কেউ মার্কিন পাইলটদের খুঁজে পাবে তাকে ১০ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ৬৪,১০২ ডলার) পুরস্কার দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে মার্কিন পাইলটদের সন্ধানে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ঘটনা এই যুদ্ধের একটি মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। কারণ এবারই প্রথম ইরানি বাহিনীর হাতে মার্কিন যুদ্ধবন্দী পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যদি তারা পাইলটদের আটক করতে সক্ষম হয়। এদিকে ইরানে একটি প্রধান সেতু ধ্বংস করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেসামরিক স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে আরও হামলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যদিও এতে মার্কিন যুদ্ধাপরাধের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ট্রাম্পের হুমকিকে 'ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ করার উদ্দেশ্যের স্বীকারোক্তি' বলে অভিহিত করেছেন। কুয়েত জানিয়েছে, ইরানের হামলায় একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানা ও একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যদিও তেহরান পানি বিশুদ্ধকরণ কারখানায় হামলার কথা অস্বীকার করেছে। ইরান ইসরাইলেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ ট্রাম্পের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে সমঝোতার ভিত্তিতে যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানে অন্তত ২,০৭৬ জন নিহত এবং ২৬,৫০০ জন আহত হয়েছেন।
ইরানে আরও তীব্র আক্রমণ চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষণার পর বিশ্বে জ্বালানি তেলের বাজারে বেড়েছে অস্থিরতা। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, সৌদি আরবের স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৭ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৩৩ ডলার বা ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড তেলের দাম ৫ দশমিক ২৮ ডলার বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৪০ ডলার হয়েছে। এর আগে গত বুধবার বাজার কিছুটা পতনমুখী ছিল। রাতে ট্রাম্পের ভাষণের আগপর্যন্ত উভয় সূচকেই তেলের দাম ১ ডলারের মতো কমে গিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বদলে যায় চিত্র। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি। শিগগির এর সমাপ্তি হবে। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে বলে জানান তিনি। ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, ট্রাম্পের ভাষণে 'যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক' তৎপরতার কোনো স্পষ্ট উল্লেখ না থাকায় বাজারে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে বা নৌপথে ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌপথে চলাচলের ঝুঁকিও বাড়ছে। গতকাল কাতারের জলসীমায় কাতার এনার্জির লিজ নেওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাবের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকায় চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে স্বর্ণের দাম। গতকাল মার্কিন ডলারের দরপতন হওয়ায় গত দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৯ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪৭২৮ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ফিউচার প্রাইস ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪৭৫৫ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে স্পট গোল্ডের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমেছিল। ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যার ফলে শিথিল মুদ্রানীতির প্রত্যাশা থেকে সরে এসেছিল বাজার। এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৭০ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১৯৪২ দশমিক ৮০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১৪৬৪ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ইসরাইলে গোপনে জ্বালানি তেল, কয়লা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে গ্রিক শিপিং কোম্পানিগুলো। 'নো হারবার ফর জেনোসাইড' ক্যাম্পেইনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ৫৭টি গোপন খনিজ তেলবাহী জাহাজ ইসরাইলি বন্দরে নোঙর করেছে। প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী এই জাহাজগুলো তুরস্কের বন্দর ব্যবহার করে ইসরাইলে পৌঁছায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে তুরস্ক ইসরাইলের ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। গ্রিক জাহাজগুলো তুরস্কের বন্দর ত্যাগ করার সময় গন্তব্য হিসেবে মিশরের 'পোর্ট সাইদ' এর নাম লিখলেও বাস্তবে সেগুলো ইসরাইলে যেত। ধরা পড়ার ভয় এড়াতে জাহাজগুলো তাদের 'অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম' বা ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ করে রাখত। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী ৩০০ টনের বেশি ওজনের জাহাজের জন্য এই সিগন্যাল বন্ধ রাখা অবৈধ। জানা যায়, এই গোপন বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে গ্রীক শিপিং জগতের দুই প্রভাবশালী পরিবার। এর একটি আলাফৌজোস পরিবার যারা 'কিকলাডেস মেরিটাইম করপোরেশন'-এর মালিক। এই পরিবারের প্রধান জিয়ানিস আলাফৌজোস গ্রিক ফুটবল ক্লাব পানাথিনাইকোসেরও মালিক। অন্যটি হলো মার্টিনোস পরিবার যারা 'দেনামারিস শিপস ম্যানেজমেন্ট'-এর নিয়ন্ত্রক। তাদের হাতে গ্রিসের বৃহত্তম জাহাজ বহর রয়েছে। কেবল জ্বালানি নয়, ২০২৫ সালে গ্রিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত জাহাজগুলো অন্তত ১৩ বার ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ করেছে। এর মধ্যে মেশিনগানের যন্ত্রাংশ এবং কামানের ব্যারেল, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং ইসরাইলের বৃহত্তম অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'এলবিট সিস্টেমস'-এর জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক কাঁচামালও ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা সরবরাহ ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে প্রায় ৭ লাখ ৫১ হাজার টন কয়লা ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে। এই কয়লা ইসরাইলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এক্ষেত্রেও জাহাজগুলো ট্র্যাকার বন্ধ করে এবং গন্তব্য হিসেবে মিশরের 'দামিয়েত্তা' বন্দরের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। এই গোপন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সোচ্চার হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রিসের পিরেয়াস বন্দরে ডক শ্রমিকরা ইসরাইলগামী ২১ টন গোলাবারুদ আটকে দিয়েছিল এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের ডক শ্রমিকরা ১৮ টন কামানের ব্যারেল লোড করতে বাধা দিয়েছিল।
রাজধানীর বনানী এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে মালামাল সরিয়ে নেন। বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উদ্যোগে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযান শুরুর মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই ফুটপাত ও সড়কের ওপর থাকা দোকানের বর্ধিত অংশ, রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল মেশিন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ সময় ফুটপাতে রাখা কয়েকটি হোটেলের মালামাল জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে। কর্মকর্তারা জানান, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। তাই অভিযান শুরুর আগেই তারা নিজেদের মালামাল সরিয়ে নেন। ট্রাফিক গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “আমরা ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ভবিষ্যতেও এই তদারকি অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও জানান, অভিযানে ডিএমপির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ট্রাফিক গুলশান বিভাগের ডিসি মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে থেকে কার্যক্রম তদারকি করেন। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
দিনদিন তলানিতে গিয়ে ঠেকছে রোহিঙ্গাদের জন্য দাতা দেশগুলোর সহায়তা। ২০১৭ সালের বার্ষিক বাজেট ছিল প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০০ মিলিয়নে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় দাতা দেশগুলোর সহায়তা কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনযাত্রার জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ কমছে। ফলে বাধ্য হয়েই রোহিঙ্গাদের খাদ্যসহায়তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। আজ থেকে এ নীতিমালা চালু হচ্ছে। নতুন নিয়মে রোহিঙ্গাদের তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সহায়তা কার্যক্রম পরিচলনা করা হবে। এর ফলে অবস্থানভেদে কক্সবাজার ও ভাসানচরে বসবাসরত প্রতিটি পরিবারের পাবলিক রেশনেও পরিবর্তন আসবে। এ নতুন ব্যবস্থাকে অবিচার হিসেবে দেখছেন রোহিঙ্গা নেতারা। এদিকে খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্প ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। জানা যায়, আগে জনপ্রতি মাসে ১২ ডলারের সমপরিমাণ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হলেও নতুন ব্যবস্থায় ৭ ডলার, ১০ ডলার ও ১২ ডলার-এ তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সহায়তা দেবে ডব্লিউএফপি। পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা ও সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে প্রতিটি পরিবারের রেশন। তিন ক্যাটাগরির প্রথম অবস্থানে থাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষকে প্রতি মাসে মাথাপিছু ৭ ডলার করে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপের প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ পাবে ১২ ডলার করে; এর মধ্যে শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি, নারী-নেতৃত্বাধীন পরিবার, শিশু-নেতৃত্বাধীন পরিবার বা বয়স্ক সদস্য থাকা পরিবারগুলো অতিরিক্ত ৩ ডলার সহায়তা পাবে। তৃতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ মানুষকে দেওয়া হবে মাথাপিছু ১০ ডলার করে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে বড় রোহিঙ্গা ঢল এলেও এর সূত্রপাত মূলত ২০১২ সালেই। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ২০১৭ সালে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এ ছাড়া ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। বর্তমানে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখের কাছাকাছি। তবে অনিবন্ধিত আরও রোহিঙ্গা রয়েছে, যাদের সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। বড় রোহিঙ্গা ঢলের পর আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা গোষ্ঠীর সহায়তায় রোহিঙ্গাদের জন্য বড় আকারের ত্রাণকার্যক্রম চালু ছিল। জাতিসংঘের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের বার্ষিক বাজেট ছিল প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়া যেত বিভিন্ন দেশ থেকে। কিন্তু কয়েক বছরে এ সহায়তায় ভাটা পড়েছে। ২০২৪ সালের পর থেকে তা আরও কমে গেছে এবং ২০২৫ সালে প্রাপ্ত সহায়তা অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। গত বছরে প্রাপ্ত সহায়তার পরিমাণ ছিল ৪০০ মিলিয়ন ডলার। চলতি বছরে ১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হলেও কত অর্থায়ন পাওয়া যাবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অর্থায়ন না পেলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। খাদ্যসহায়তা কমে গেলে রোহিঙ্গাদের খাদ্যনিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে এবং পুষ্টিহীনতা বাড়বে। এর ফলে অনেকেই জীবিকার সন্ধানে ক্যাম্পের বাইরে চলে যেতে পারে বা সীমান্তবর্তী অপরাধে জড়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। এরই মধ্যে ক্যাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখা দিয়েছে। চুরি, ডাকাতিসহ নানান অপরাধ বেড়েছে। ভাসানচরেও একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া অর্থের অভাবে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।’ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘রোহিঙ্গারাও মানুষ এবং তাদের প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের প্রয়োজন। তবে ডব্লিউএফপি নতুনভাবে ১২, ১০ ও ৭ ডলারের তিনটি ক্যাটাগরিতে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা রোহিঙ্গাদের প্রতি অবিচার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। খাদ্যসহায়তায় ঘাটতি দেখা দিলে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ জীবিকার তাগিদে স্থানীয় গ্রামগুলোতে গিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।’
পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার কেপি ঘোষ স্ট্রিটের একটি ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ৪টা ৫ মিনিটে চারটি ইউনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে ভোর ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালেদ ঢাকা পোস্টকে জানান, রাত পৌনে ৩টায় আগুনের সংবাদ পেয়ে প্রথমে দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পরে আরও দুটি ইউনিট যুক্ত হয়। প্রায় ৫০ মিনিটের চেষ্টায় ৪টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার আগে ভবনটি থেকে দীর্ঘক্ষণ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর হঠাৎ দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং ছোট ছোট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো বংশাল এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। এলাকাবাসীর তথ্যমতে, কেপি ঘোষ স্ট্রিটের যে গলিতে আগুন লেগেছে তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো মূল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ২০-২৫ গজ দূরে গাড়ি রেখে দীর্ঘ পাইপের মাধ্যমে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার কেপি ঘোষ স্ট্রিটের একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই ভবনের নিচে বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত পৌনে ৩টায় এ ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সদরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালেদ। রাশেদ বিন খালেদ জানান, আগুনের ফোন পেয়ে প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে ২ ইউনিট পাঠানো হয়। পরে আরও একটি ইউনিট যুক্ত হয়। আগুনের পাশাপাশি সেখানে প্রচুর ধোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে। এখনো কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘক্ষণ ধোয়া থাকার পর হঠাৎ আগুন লাগে। আগুনের স্থান থেকে ছোট ছোট বিস্ফোরণের শব্দ আসছে। বর্তমানে বংশাল এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। কেপি ঘোষ স্ট্রিটের যেই গলিতে আগুন লেগেছে সেটি অত্যন্ত সরু এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকার সুযোগ নেই। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ২০-২৫ গজ দূরে গাড়ি রেখে আগুন নেভানোর কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে পরিচালিত এ অভিযানে ২৮ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল এবং ৫ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন জব্দ করা হয়। জানা গেছে, কোনাবাড়ী থানাধীন বাইমাইল এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আব্দুল আলী ফিলিং স্টেশনে প্রায় ২৮ হাজার লিটার ডিজেল ও সাড়ে ৫ হাজার লিটার অকটেন মজুত থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ‘তেল নেই’ দাবি করে বিক্রি বন্ধ রাখে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালেহুর রহমান ও মাশিকুর রহমান আবরার। অভিযান চলাকালে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রাখা এবং অবৈধভাবে তেল মজুতের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে ২৮ হাজার ৫২১ লিটার ডিজেল এবং ৫ হাজার ৪১৯ লিটার অকটেন রয়েছে। এসব তেল জব্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে জানতে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. হেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কল কেটে দেন। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসের তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই নাসিমা এবার হার মানলেন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়। জীবিকার তাগিদে ঢাকার পথে যাত্রাই তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ালো। নিহত নাসিমা বেগম দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী। স্বজনরা জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চাকরির সন্ধানে সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাসায় যান নাসিমা। দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও চাকরি না হওয়ায় গত ২৫ মার্চ বিকালে ভাগনির শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুর থেকে বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা। বাসে নাসিমার সঙ্গে ছিলেন তার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ৪ বছরের শিশু সন্তান আব্দুর রহমান এবং আজমিরার স্বামী আব্দুল আজিজ। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে আব্দুল আজিজ ভাগ্যক্রমে প্রাণে বাঁচলেও নিখোঁজ হন বাকি তিনজন। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টায় নাসিমা, তার ভাগনি ও নাতির মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ নিয়ে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন স্বজনরা। কিন্তু নিয়তির খেলা যেন তখনও শেষ হয়নি। রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া পার হওয়ার সময় হঠাৎ চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সের চাকা ফেটে (ব্লাস্ট) গিয়ে ফের দুর্ঘটনার মুখে পড়ে লাশবাহী গাড়িটি। পরে মেরামত শেষে শুক্রবার ভোরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নিহতের চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম সংকটে ছিলেন নাসিমা। রানা প্লাজায় কাজ করার সময় ভবন ধসে পড়লে তিনি তিন দিন আটকে থাকার পর উদ্ধার পেয়েছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তাকে আবার ঢাকার পথেই ধরতে হয়েছিল। এদিকে খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে যান পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিবারটিকে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছে এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে জ্বালানি তেল থাকার পরেও বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় একটি পেট্রোল পাম্পকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকার মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনকে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনে 'পাম্পে তেল নেই' ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই পাম্পে যান এবং তেলের মজুত যাচাই করেন। এ সময় দেখা যায়, সেখানে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন মজুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করার অপরাধে ওই পেট্রোল পাম্পকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এ সময় পার্বতীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহায়তা করেন।
কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামী হোটেলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি প্রাইভেট কার কালাকচুয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা স্টার লাইন পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় গাড়িচালক জামাল হোসেন ও যাত্রী আবরারকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালক জামালকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আবরার বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমেদের বোন ঝর্না বেগম (৪০), তার স্বামী মুফতি আব্দুল মমিন (৫০), মেয়ে লাবিবা (১৮) এবং ছেলে সাইফ (৭)। তারা নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার চাতারপাইয়া এলাকার বাসিন্দা। নিহত অপর ব্যক্তি গাড়িচালক জামাল হোসেন, তার বাড়ি বরিশালে। ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর বাসচালক পালিয়ে গেছে। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ইসরায়েলের আরবি ভাষার মুখপাত্র অভিচায় আদরাই জাহরানি নদীর দক্ষিণে বসবাসকারী লেবাননের সব বাসিন্দার জন্য উচ্ছেদ হুমকি জারি করেছেন। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি মুখপাত্র বাসিন্দাদের "অবিলম্বে জাহরানি নদীর উত্তরের এলাকায় সরে যেতে" নির্দেশ দেন এবং বলেন, ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের কারণে এ নির্দেশ না মানলে তাদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তিনি "দক্ষিণে কোনো চলাচলের" বিরুদ্ধেও সতর্ক করে দেন, যা মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলে উল্লেখ করেন। সম্প্রতি সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল বারবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন অংশের বাসিন্দাদের উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছে, যেখানে তারা হিজবুল্লাহকে আক্রমণ করছে বলে দাবি করে—এতে দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ উদ্বাস্তু হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্য হোটেলসহ বিভিন্ন অস্থায়ী জায়গায় বসে ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে নিচ্ছেন বলে খবর দিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের বরাতে এসব খবরে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় অনেক সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সামরিক লোকবল বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে মার্কিন ঘাঁটি, দূতাবাস ও আঞ্চলিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে তেহরান হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে পেন্টাগনকে হাজার হাজার সেনাকে অস্থায়ী বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, একাধিক দেশে কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি বসবাসের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবাতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। সেখানে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রও ধ্বংস হয়। অন্যান্য সামরিক স্থাপনার মধ্যে আলি আল সালেম, ক্যাম্প বুহরিং, আল উদেইদ ও প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সেনারা কোথায় আছেন, সেই অবস্থান জানাতে ইরানের বেসামরিক লোকজনকে আহ্বান জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর্পস (আইআরজিসি)। তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, "আমেরিকান সন্ত্রাসীদের লুকানোর স্থান জানানোটা আপনার ইসলামি দায়িত্ব। তাদের তথ্য আমাদের টেলিগ্রামে পাঠান।" হোটেলে বসে সামরিক কার্যক্রম চালানোয় নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মাস্টার সার্জেন্ট ওয়েস জে. ব্রায়ান্ট। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "সব সরঞ্জাম তো হোটেলের ছাদে রাখা যায় না। কিছু না কিছু ক্ষতি হবেই।" জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেছেন, ব্যাপক বিমান হামলার শিকার হওয়ার পরও ইরানের এখনো পাল্টা হামলা চালানোর 'কিছু সক্ষমতা' রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে হাজার দেড়েক মানুষের। নিহতের তালিকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও আছেন। এদিকে পাল্টা হামলায় ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় এক ডজন দেশে হামলা চালিয়েছে তারা। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা; অস্থিরতা তৈরি হয়েছে জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে নিমজ্জিত হওয়া ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের সেই বাসচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তার পরিবার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত ওই বাস চালকের নাম আরমান খান (৩১)। তিনি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিমখালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে। দুর্ঘটনার সময় আরমান নিজেই বাসটি চালাচ্ছিলেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার ও বাসের অন্যান্য স্টাফরা। বাসচালক আরমানের ফুপাতো ভাই বলেন, ‘বাসটি আমার ফুপাতো ভাই আরমান চালাচ্ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেকেই গুজব ছড়িয়েছেন যে বাসের চালক পান খাওয়ার জন্য বাস থেকে নেমে গেলে তখন হেলপার চালাচ্ছি। কিন্তু ঘটনাটি সত্য নয়। কারণ বাস থেকে যদি আরমান নেমেই যাবে তাহলে মরদেহ কেন পাওয়া গেল।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৌহার্দ্য পরিবহনের একজন স্টাফ বলেন, ‘গতকাল দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া বাসটির চালক আরমান ছিলেন। সে নিজেই বাসটি ড্রাইভ করছিলেন। তার পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সও রয়েছে।’ তবে এ ব্যাপারে সৌহার্দ্য পরিবহনের মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করে ওপরে নিয়ে আসে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। এ সময় বাসের মধ্যে থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে নদী থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি দুজনের মরদেহ বাস তলিয়ে যাওয়ার সময় উদ্ধার করে স্থানীয়রা। নিহতদের সবার পরিচয় শনাক্ত হয়েছে এবং ২১ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, মরদেহগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাট সূত্র জানায়, সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য পন্টুনে অপেক্ষমাণ ছিল। এ সময় একটি ফেরি এসে পন্টুনে ধাক্কা দিলে পন্টুনটি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সরাসরি গভীর পদ্মায় পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়। প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসটিতে ৪৫ থেকে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। নিখোঁজদের স্বজনরা ফেরি ঘাট এলাকার আহাজারি করছেন। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ফেরিতে উঠতে গিয়ে ‘সোহাদ্য পরিবহন’-এর বাসটি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় ৭ ঘণ্টা চেষ্টার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ গভীর রাতে বাসটিকে নদী থেকে টেনে তোলে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, মো. হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ। এছাড়া আহত ৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে রেফার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সকল মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে প্রশাসন স্বজনদের দ্রুত যোগাযোগের জন্য আহ্বান জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারের অনুরোধ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি নদীতে উল্টে গেলে স্থানীয়দের সহায়তায় কয়েকজন যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার হতে সক্ষম হন। তবে অনেক যাত্রী নদীতে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। টানা ৬ ঘণ্টার চেষ্টার পর বাসটি উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ১০ জন নারী (এর মধ্যে ২ জন হাসপাতালে এবং ৮ জন ঘটনাস্থলে), ৪ জন পুরুষ, ১ জন মেয়ে শিশু ও ১ জন ছেলে শিশুর মরদেহ রয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে কে আহ্বায়ক এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এবং রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালককে সদস্য করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সরেজমিনে ঘটনা তদন্ত করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, পন্টুনে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। এতে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের স্বজনরা পদ্মার তীরে অপেক্ষা করছেন, তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এখন পর্যন্ত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যই এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।