সর্বশেষ

ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে আবাসিক হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৯ মৃত্যু, বন্ধ করা হলো ১৫ হোটেল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার ভোরে মন্দির-সংলগ্ন পাঁচতলা ‘বিদেশিনী’ হোটেলে এ আগুন লাগে। ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এদিকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মঙ্গলবার তারাপীঠের ১৫টি আবাসিক হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।   পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মেঘালয়ের বাসিন্দা। অপর চারজনের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায়। আগুনের ঘটনায় ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।   অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ‘বিদেশিনী’ হোটেলের মালিকের ছেলেকে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। মঙ্গলবার হোটেলটির মালিক প্রবীর কুমার পালককেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রাবণ মাস উপলক্ষে শিবপূজা ও তারাপীঠের মা তারা মন্দিরে পূজা দিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী সেখানে জড়ো হন। তাঁদের অনেকেই স্থানীয় আবাসিক হোটেলগুলোতে অবস্থান করছিলেন।   সোমবার ভোর ৪টার দিকে ‘বিদেশিনী’ হোটেলে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধোঁয়া ও আগুনে পাঁচতলা ভবনটি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।   হোটেলের সামনের অংশে থাকা রেস্তোরাঁয় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সেদিক দিয়ে বের হওয়ার সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে, ভবনের পেছনের জরুরি বহির্গমন দরজাটিও তালাবদ্ধ ছিল বলে জানা গেছে। ফলে অনেকেই ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান।   অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে কয়েকজন হোটেলের ব্যালকনি থেকে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ ঘটনায় মঙ্গলবার পুকুরটিতেও তল্লাশি চালান সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।   জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া ১৫টি আবাসিক হোটেলকে এর আগেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করে। পরে পরিদর্শনে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ায় হোটেলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।   এদিকে ‘বিদেশিনী’ হোটেলে আগুন লাগার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দমকল ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের কারণের পাশাপাশি হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: দ্য হিন্দু

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তা চুক্তি হয়নি, দাবি সিরিয়ার

ইসরায়েলের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সিরিয়ার কোনো চুক্তি হয়নি বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ ধরনের চুক্তির যে দাবি করা হয়েছে, তা ‘মিথ্যা’ বলেও মন্তব্য করেছে দামেস্ক।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কূটনৈতিক সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, ইসরায়েল আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। অথচ হামলার আগে ইসরায়েলকে জানানো হয়েছিল, ওই ঘাঁটিতে কোনো বিদেশি বাহিনী উপস্থিত নেই। তবে এই তথ্য ইসরায়েলকে কখন বা কোন মাধ্যমে জানানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট করেনি সূত্রটি।   সিরীয় সূত্রটি আরও বলেছে, ‘বেসামরিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে’ এমন কোনো চুক্তিতে সিরিয়া যেতে পারে না। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সিরিয়ার ভূমিকা সীমিত করে, এমন কোনো চুক্তিও দামেস্ক মেনে নেবে না।   এর আগে ইদলিব বিমানবন্দরে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়েছিল সিরিয়া। চিঠিতে সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়।   ইসরায়েল হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির দাবি, তুরস্ক ওই সামরিক ঘাঁটিতে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে এমন ধারণা থেকেই বিমানঘাঁটিটিতে হামলা চালানো হয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন উদ্যোগ

পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নিতে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। দুই দেশের পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করা, ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরির জোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপমন্ত্রী ওয়াইবি তুয়ান চিউ চুন মানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে করেছেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদউজ্জামান মিল্লাত। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।   বৈঠকে উভয় দেশের পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও সমৃদ্ধ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরির উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এটি দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।   আলোচনায় দুই দেশের পর্যটন খাতের সেরা চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, পর্যটন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভিসা সুবিধা সহজ করা এবং প্রি-ভেরিফিকেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া মালয়েশিয়ার পর্যটন সেবা খাতে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে আতিথেয়তা শিল্পে যৌথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই মনে করে, এই ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা কেবল পর্যটন খাতের প্রসারেই ভূমিকা রাখবে না, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের সুযোগ বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।   বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকা ও প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার ঘোষ। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার পক্ষে দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাপরিচালক চুয়া চুন হুয়া, ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক প্রচার (এশিয়া ও আফ্রিকা) বিভাগের পরিচালক মাদাম নুওয়াল ফাদিলাহ কু আজমিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মেসির মনের খবর জানালেন কোচ

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনা শহর রোজারিওর একটি হাসপাতালে মারা যান লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বাবার মৃত্যুতে শোকে আচ্ছন্ন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া নিয়ে একটা শঙ্কা কাজ করছিল। তবে প্রত্যাশার চেয়েও বেশ আগে ক্লাবে ফিরেছেন তিনি। কোচ গুইলেরমো হোয়োস জানালেন তার মনের বর্তমান অবস্থা।   ১২ আগস্ট ক্লাবে ফেরেন মেসি। লিগস কাপে লিওনের বিপক্ষেও খেলেছেন তিনি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে। নু স্টেডিয়ামের সেই ম্যাচে নামার সময় তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান দর্শকরা। হোয়োস তার গোপনীয়তা রক্ষায় দর্শক-সমর্থকদের বিশেষ অনুরোধ জানান, যেন তাকে একা থাকতে দেওয়া হয়।   মেসি বাবা হারানোর শোক এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন বললেন মায়ামি প্রধান কোচ, ‘তাকে দেখতে ভালো লাগছে, মাঠে সে নিজেকে মেলে ধরছে, এমন একটি জায়গা যা তার ভালোভাবে চেনা, এবং সে শান্তিতে আছে।’   এর আগে মেসির ফেরা নিয়ে দলের ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরো বলেছিলেন, ‘সে দারুণ দৃষ্টান্ত তৈরি করে। সর্বোপরি, সে নিশ্চিতভাবে খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে শুধু খেলোয়াড়দের প্রতিই নয়, ক্লাবের প্রতি যে দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে, তা অসাধারণ। আমি আমার জীবনে এমন কিছু দেখিনি। তাকে আমাদের ধন্যবাদ দিতে হবে। এখানে আসার জন্য, আমাদের ও ক্লাবকে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ।’   গত শনিবার জিওডিস পার্কে  ন্যাশভিলে এসসির বিপক্ষে ৪-১ গোলে হারের ম্যাচে মায়ামির শুরুর একাদশে ছিলেন মেসি। বুধবার রাতে ফিলাডেলফিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে তারা। এই ম্যাচেও ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে দেখা যেতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতে ফের ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি দেশটির জলসীমায় পড়েছে বলে জানিয়েছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় । অন্যটি পড়েছে জলসীমার বাইরে।   মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে আরব আমিরাতে। খবর এনডিটিভির।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার আগে কয়েক মাস পর প্রথমবারের মতো সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনসিইএমএ)।    এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের লক্ষ্য করে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি শনাক্ত করেছে। এ সময় সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার এবং সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে দেওয়া সতর্কতা ও হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।   একই সময়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায়। এতে বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির কারণে সবাইকে কাছের নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিতে বলা হয়।   এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছিল, শুক্রবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানকে উসকানিবিহীন হামলা বন্ধ করতে, শত্রুতা শেষ করতে এবং হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে পুনরায় খুলে দিতে আহ্বান জানায়।   দেশটিতে সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি হয়েছিল মে মাসে। এরপর জুনে জাতীয় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে ভুল করে বাসিন্দাদের কাছে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের হামলার বড় অংশের লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির দিকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়, যা ওই অঞ্চলের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা, হতে পারে ভারী বর্ষণ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।   আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এসব বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।   এছাড়া দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।   এদিকে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় টানা চতুর্থ দিন বাড়ল তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   বুধবার (১৯ আগস্ট) এশিয়ার প্রাথমিক বাণিজ্যে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ২৬ সেন্ট বা ০.২৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১.২৮ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৭ সেন্ট বেড়ে ৮৫.৩১ ডলারে ওঠে।   এর আগে মঙ্গলবারও ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ই ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ দামে লেনদেন শেষ করে। বাজারে মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দাম বাড়াচ্ছে।   বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালিটি খোলা রয়েছে বলে দাবি করলেও ইরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ওই জলপথে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে কমে গেছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রিমিয়াম হিসেবে তেলের দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।   সূত্র: আল-জাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশ জামুকার

২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করার সুপারিশ করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।   মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।   বৈঠকে জানানো হয়, ২০১০ সালে জামুকা গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪১৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭৬৮ জন শহীদ, ১৯৮ জন যুদ্ধাহত, ৫২৯ জন বীরাঙ্গনা এবং ১৬ হাজার ৯২২ জন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা।   জামুকার কার্যক্রম সম্পর্কে বৈঠকে আরো জানানো হয়, বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২২টি আবেদন বর্তমানে অপেক্ষমাণ রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে গঠিত উপকমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুপারিশ পাওয়া ১০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তিও অপেক্ষমাণ।   এ ছাড়া ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে করা ২০২টি আবেদন শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।   সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জামুকা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।   কমিটির সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ফজলুর রহমান, আব্দুল হান্নান, আমীর এজাজ খান ও রোকেয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।   এদিকে জামায়াতের অনুরোধে কমিটির সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।   তাঁকে সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রটি বলছে। আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ডাক পেলেন না গাজী নজরুল

বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে ডাকা হয়নি। তিনি ১০ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির একজন সদস্য।   মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের প্রধানরা তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।   বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, মো. আবদুল হান্নান, আমীর এজাজ খান ও রোকেয়া বেগম অংশগ্রহণ করেন।   এসময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রধান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরদিন তারা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) জানায়। চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিল কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের গুঞ্জন

ব্রাজিল কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোলডটকম তাদের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে।   তুর্কি গণমাধ্যমের বরাত সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রিয়াল মাদ্রিদ, ব্রাজিল জাতীয় দল ও তুর্কি ক্লাব ফেনারবাচে মাতানো ফুটবল কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।   'খাবেরলার'সহ তুরস্কের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৫৩ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান সাবেক তারকা মাসখানেক আগে ব্রাজিলের প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব শেখ জিহাদ হামাদার সান্নিধ্যে শাহাদাহ পাঠের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেন।   প্রচলিত তথ্যানুযায়ী, রবার্তো কার্লোস বেশকিছু দিন ধরে শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। এর সূত্র ধরেই চার সপ্তাহ আগে ব্রাজিলে তার সঙ্গে দেখা করতে যান কার্লোস।   দাবি করা হচ্ছে, সেই বৈঠকেই রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই রাইট-ব্যাক কালেমা পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।   তবে এখন পর্যন্ত রবার্তো কার্লোস নিজে থেকে এই বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ বক্তব্য বা নিশ্চিত বার্তা দেননি। ফলে খবরটি আপাতত জোরালো গুঞ্জন হিসেবেই থেকে যাচ্ছে, যা সত্য বলে প্রমাণিত হতে খোদ কার্লোসেরই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।   তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (এ কে পার্টি) আইনপ্রণেতা আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিষয়টি নতুন করে তুঙ্গে ওঠে। তিনি ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের একাধিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নিজের বৈঠকের কিছু তথ্য শেয়ার করেন।   এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে এমপি আলী শাহিন জানান, সাঁও পাওলোর 'ব্রাজিলিয়ান চ্যারিটেবল ইউনিয়ন অব মুসলিম ইয়ুথ' সফরকালে তিনি শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শেখ হামাদ বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের একজন।   আলী শাহিনের দাবি, শেখ হামাদ নিজেই তাকে জানান, সাবেক ফেনারবাচে তারকা ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মহানায়ক রবার্তো কার্লোস দীর্ঘ দিন ধরে তার সাথে যোগাযোগে ছিলেন। এবং চার সপ্তাহ আগে তিনি শেখের দ্বারে এসে শাহাদাহ পাঠের মাধ্যমে ইসলামকে ধর্ম হিসেবে বেছে নেন।   এই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর এমপি আলী শাহিন কার্লোসকে অভিনন্দন জানিয়ে তার ও পরিবারের জন্য শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও বরকতময় জীবন কামনা করেন।   কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের এই গুঞ্জনটি জোরালো হওয়ার পেছনে আরও একটি কারণ ছিল- সম্প্রতি মরোক্কান বংশোদ্ভূত সুহাইলা এল তাহিরির সঙ্গে তার আকদ বা বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।   এর আগেই জানা যায়, কার্লোস মরোক্কান বংশোদ্ভূত এক স্প্যানিশ তরুণীকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। ফিফা স্বীকৃত ফুটবলারদের এজেন্ট সুহাইলা ফুটবলভিত্তিক বিভিন্ন পেশাদার প্রজেক্ট পরিচালনা করেন।   চলতি বছরের সোমবার (১৭ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যমে তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার ছবিগুলো নতুন করে ভাইরাল হলেও, বিয়েটি কিন্তু সম্প্রতি ঘটেনি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই তাঁদের বিয়ের খবর চাউর হয় এবং পরবর্তীতে গত ২৫ জুলাই পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে একটি ঘরোয়া আয়োজনের মাধ্যমে এই যুগল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের সম্পর্কের সূচনা ঘটেছিল কেবল পেশাগত খাতিরে। পরবর্তীতে তা ব্যক্তিগত প্রণয়ে রূপ নেয়। বর্তমানে ব্রাজিল ও ইউরোপের ফুটবলে তারকা খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ও ব্যবসা পরিচালনার কাজ যৌথভাবেই সামলাচ্ছেন এই দম্পতি।   প্রসঙ্গত, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের তালিকায় একদম সামনের সারিতেই থাকবে রবার্তো কার্লোসের নাম। রিয়াল মাদ্রিদ ও সেলেসাওদের হয়ে সোনালী ইতিহাস গড়ার পর ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে তিনি তুরস্কের ফেনারবাচেতেও খেলেছেন। ফলে বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে তার স্থান চিরস্থায়ী।   তবে আপাতত তার ইসলাম গ্রহণের খবরটি কেবল গুঞ্জন হিসেবেই ভেসে বেড়াচ্ছে। রবার্তো কার্লোস নিজে মুখ না খোলা পর্যন্ত এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করার কোনো উপায় নেই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
স্ত্রীর সঙ্গে জাপান প্রবাসী জুনায়েদ মিয়া। ছবি : সংগৃহীত
খাসি-কাণ্ডে ভাইরাল সেই জাপানপ্রবাসীর শেষ পর্যন্ত বিয়ে

খাবারে খাসি না পেয়ে চলে যাওয়া সেই ভাইরাল প্রবাসীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১টার দিকে প্রবাসী জুনায়েদ মিয়া নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’   এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে (বড় থালায় বিশেষ আয়োজন) খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে গেছেন জাপান প্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া। উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।   বর জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে বর জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।   একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার দেওয়া হয়। এ সময় খদরে খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।   এ সময় কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই একা কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান জুনায়েদ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
‘জাতীয় মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন, ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বিলম্বিত হওয়ায় আইন পাসের সুফল অনিশ্চিত: আখতার

গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাশ না করায় সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।      তিনি বলেছেন, আগের অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগে গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশ পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।       মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জাতীয় মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন, ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।      আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস।        আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে গুম নিয়ে ভয়াবহ ধরনের ট্রমা রয়েছে। অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন এবং অনেকে ফিরে এসে কীভাবে তাদের বন্দি করে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আবার অনেকেই গুম হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। কিন্তু গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার এখনো যথাযথ বিচার পাননি।     গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনের খসড়া নিয়েও আপত্তি জানান আখতার হোসেন। তিনি বলেন, যেসব বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠতে পারে, তাদেরই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। এতে গুমের ঘটনা তদন্তের নামে আড়াল করা হতে পারে।        আখতার হোসেন বলেন, সরকার আরও ভালো আইন করার কথা বলে উলটো পথে হাঁটছে। খসড়া গুম প্রতিরোধ আইন ও মানবাধিকার কমিশন আইন বর্তমান অবস্থায় পাশ হলে দেশ পিছিয়ে যাবে এবং মানুষের ন্যায়বিচারের লড়াই আরও দীর্ঘ হবে।       গুমের অভিযোগের তদন্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে।      গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত খসড়া আইন নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা।        গোলটেবিলে তারা বলেন, গুম প্রতিরোধ করতে হলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ বন্ধ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গুমের অভিযোগের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবর্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার দাবি জানান তারা।      রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র আমাদের স্থিতিশীল হতে দেয়নি। দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পায় না, গ্যাস পায় না, বাসায় চুলা জ্বলে না; অথচ সংসদে কে রাজাকার আর কে নয় তা নিয়ে বিতর্ক হয়।       আলোকচিত্রী, লেখক ও মানবাধিকার কর্মী শহীদুল আলম বলেন, হাসিনা চলে যাওয়ার পর আমরা ভিন্ন একটা বাংলাদেশ পাব এই আশা করেছিলাম। আমি এখনো আশা করি।        অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহবায়ক ফাহিম মাশরুর, এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার প্রমুখ। গোলটেবিল সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন। 

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে সচিবের বৈঠক

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের গতি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সেতু সচিবের সাথে বৈঠকে করেছেন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি চায়না রেলওয়ে ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের (সিআরসিসি) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।     মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বৈঠকে সিআরসিসি-এর চেয়ারম্যান মি. ইউ ইয়ানকুন (Mr. Wu Yankun) প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন।     বৈঠকে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, বর্তমান সরকারের হাত ধরে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, সুদৃঢ় সংকল্প, দ্বিতীয় আরডিপিপি অনুমোদন ও সার্বক্ষণিক নিবিড় নজরদারির ফলেই ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবতার মুখ দেখছে। একইসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ অবকাঠামো নতুন এক উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে।     সেতু সচিব আরও বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকা-ইপিজেড এলাকার সংযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে ঢাকার নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।     সিআরসিসি-এর চেয়ারম্যান মি. ইউ ইয়ানকুন (Mr. Wu Yankun) বাংলাদেশ সরকার, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি আন্তর্জাতিক মানের প্রকৌশল প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রয়োগ এবং জনবল, যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরবরাহ বৃদ্ধি করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।     বৈঠকে নির্মাণাধীন এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সাইনবোর্ড এবং উন্নত নিরাপত্তাবেষ্টনী নিশ্চিতের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। এ ছাড়া প্রকল্পের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশনা দেন সেতু বিভাগের সচিব।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
জিন্নাহর অসুস্থতা গোপন রাখা ভারতের দুই চিকিৎসককে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মাননা

১৯৪৭ সালের দেশভাগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মারাত্মক অসুস্থতার খবর গোপন রাখার জন্য ভারতের মুম্বাইয়ের দুজন পার্সি চিকিৎসককে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে।     পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী এবং পুরস্কার কমিটির প্রধান আহসান ইকবাল ঘোষণা করেছেন, জিন্নাহর এই মরণব্যাধির খবরটি যাতে শুধুমাত্র তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করার পেছনে ‘নীরব কিন্তু অসাধারণ অবদানের’ স্বীকৃতিস্বরূপ ইসলামাবাদ চিকিৎসক ডা. জাল রতনজি প্যাটেল এবং রেডিওলজিস্ট ডা. জাল ধায়ভো-কু’কে ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে।       আগামী বছরের মার্চ মাসে এ দুই চিকিৎসককে মরণোত্তর এই পুরস্কারটি দেওয়া হবে।     সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে আহসান ইকবাল উল্লেখ করেন, ড. প্যাটেল এবং ড. ধায়ভো-কু ১৯৪৬ সালে জিন্নাহর এক্স-রে পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে, তাঁর যক্ষ্মা অত্যন্ত উন্নত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং তিনি আর মাত্র এক বা দুই বছর বাঁচবেন। কিন্তু তারা তাঁর অসুস্থতার গুরুত্ব নিয়ে সম্পূর্ণ পেশাগত গোপনীয়তা বজায় রেখেছিলেন; এমন একটি গোপন তথ্য যা অনেক ঐতিহাসিকের মতে প্রকাশ পেলে দেশভাগের সময়কাল এবং পাকিস্তান সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে বদলে দিতে পারত।        ইকবাল লিখেছেন, ‘পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর মরণব্যাধির গোপন তথ্যটি বিশ্বস্ততার সঙ্গে রক্ষা করা বোম্বাইয়ের পার্সি সম্প্রদায়ের দুই অসাধারণ চিকিৎসক; একজন ফিজিশিয়ান ও একজন রেডিওলজিস্টকে ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি।     তিনি আরো যোগ করেন, ‘এমন একটি সংকটময় মুহূর্তে পরম পেশাগত গোপনীয়তা বজায় রেখে এই চিকিৎসকেরা একটি নীরব কিন্তু অসাধারণ সেবা দিয়েছিলেন। তাঁদের পেশাগত শপথের প্রতি এই আনুগত্য অনিচ্ছাকৃতভাবেই এমন এক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল, যা পাকিস্তান সৃষ্টিকে সম্ভবপর করে তোলে।’ জিন্নাহর মৃত্যুর ৭৮ বছর পর ড. প্যাটেল এবং ড. ধায়ভো-কুর প্রতি পাকিস্তানের এই সম্মাননা জানানো হচ্ছে।       পাকিস্তানি মন্ত্রীর মতে, ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন পরবর্তীতে স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি যদি জিন্নাহর অসুস্থতার তীব্রতা সম্পর্কে জানতেন, তবে হয়তো দেশভাগকে আরো পিছিয়ে দিতেন।     এটি সম্ভাব্যভাবে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারত।      ঐতিহাসিক ও শিক্ষাবিদ আকবর আহমেদ তাঁর ‘জিন্নাহ, পাকিস্তান অ্যান্ড ইসলামিক আইডেন্টিটি : দ্য সার্চ ফর সালাদিন’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, জিন্নাহ ১৯৩০-এর দশক থেকেই যক্ষ্মা রোগে ভুগছিলেন; যা কেবল তাঁর বোন ফাতিমা জিন্নাহসহ অল্প কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বিশ্বস্ত মানুষের জানা ছিল। সে সময়ে যক্ষ্মা ছিল অত্যন্ত মারাত্মক একটি ব্যাধি, যার কোনো কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা ছিল না।        জানা যায়, জিন্নাহ তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং নেতৃত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় এই অসুস্থতার ভয়াবহতার কথা জনগণের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় জিন্নাহর স্বাস্থ্য পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে।   দেশভাগের মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময় পর, ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি ফুসফুসের যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।     পাকিস্তানের পুরস্কারের জন্য মনোনীত দুই চিকিৎসক দেশভাগের পরও মুম্বাইয়েই ছিলেন। তারা সেখানেই পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে মারা যান। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত ডা. জাল রতনজি প্যাটেলকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ও জনসেবায় অনন্য অবদানের জন্য ভারত সরকার ১৯৬২ সালে দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’-এ ভূষিত করেছিল।       ১৯৭০-এর দশকে বিখ্যাত ঐতিহাসিক ল্যারি কলিন্স এবং ডমিনিক ল্যাপিয়ের 'ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট' বইটির গবেষণার সময় ডা. প্যাটেলই লেখকদের কাছে জিন্নাহর সেই অতি গোপন চিকিৎসার ফাইলটি প্রকাশ করেছিলেন। তবে এই গবেষণা শুরুর আগেই মারা যান ডা. জাল ধায়ভো-কু। পরবর্তীতে লেখকেরা বোম্বাইয়ের ওয়ার্ডেন রোডের কাছে তার মেয়ে হোমি-র কাছ থেকে জিন্নাহর সেই ঐতিহাসিক এক্স-রে ফাইলের সন্ধান পেয়েছিলেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
মারুফ কামাল খানের ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করার জন্য ও নিজেদের চিন্তা চেতনাকে শাণিত করার জন্য মারুফ কামাল খানের ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটি  প্রত্যেকেরই পড়া উচিত। আমার ধারণা এই বইটি কালোত্তীর্ণ হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাংবাদিক মারুফ কামাল খান রচিত ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’র মোড়ক উন্মোচনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।   মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন।     প্রকাশনা সংস্থা সূচিপত্রের প্রধান নির্বাহী সাঈদ বারীর সভাপতিত্বে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।         বইটি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, প্রকাশনা সংস্থা আবিষ্কারের স্বত্তাধিকারী দেলোয়ার হাসান প্রমুখ।          এ সময় নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই বইটি একবার পড়েছি, আরও একবার পড়বো। এই বইটা না পড়া পর্যন্ত রাজনীতির অন্দরের অনেক কিছুই জানা যাবে না। এ দেশের রাজনীতিতে যারা নন্দিত তাদের জন্য কথা বলার অনেক লোক আছে, কিন্তু যারা নিন্দিত তাদের কথা বলার লোক নেই। মারুফ কামাল খান তার বইতে জীবনের ও রাজনীতির কিছু ভালো দিক তুলে ধরেছেন। তার লেখনীতে মারুফ কামাল খান বুঝিয়েছেন তিনি সাধারণ নয় অসাধারণ।  যাদেরকে ভুলে যাওয়া হয়েছিল বা যাদেরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল মারুফ কামাল খান তার এই বইতে তাদেরকে তুলে ধরেছেন। এই বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় আপনাকে ভাবতে শেখাবে। এই বইটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।       বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটিতে মারুফ কামাল খান তার স্মৃতি ও সত্য ঘটনাগুলো যেভাবে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরেছেন তা থেকে জ্ঞান আহরণ করা নির্ভর করবে পাঠকের শ্রেণীভেদের উপর। ইতিহাসের পন্ডিতরা যেভাবে বুঝবেন ইতিহাসের স্বল্পজ্ঞানীরা বইটি ঠিক তেমনভাবেই বুঝবেন। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রবাহমান ধারা যেভাবে আবর্তিত হয়েছে সেই বিষয়গুলোও এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। মানবজগতের বিচিত্র চরিত্রগুলো সামনে নিয়ে এসেছেন। তা কখনো কখনো সুকুমার বৃত্তি ও কখনো কখনো এর বিপরীত।        সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমরা এখন বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে  ফেলেছি। বই পড়ার অভাবে আমাদের মানসিকতা নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা ভয়ংকর অন্ধকার যুগে ধাবিত হচ্ছি৷ অন্ধকার যুগ থেকে আলোর পথে ধাবিত হওয়ার জন্য বই পড়া জরুরি। মারুফ কামাল খানের এই বইটি আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে নতুনমাত্রা যোগ করবে বলেই আমি মনে করি। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে বইটি সারাদেশের সকল লাইব্রেরিতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এসময় মন্ত্রী মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।       সালেহ শিবলী বলেন, ইতিহাসের চলমান চিত্র ফুটে উঠেছে বইটিতে। এই বই পড়লে আমাদের রাজনৈতিক মনোজগতে বিরাট পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি।      সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, জ্ঞান ও মেধা, মননের চর্চা না হয়, লেখার স্বাধীনতা না থাকে তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না। যে সংবিধান বাহাত্তর সালে রচনা করেছিলাম সেই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার কথা যখন বলা হয় তখন সেটা মানতে খুবই কষ্ট হয়। আমরা এখনো ‘আমিত্ব’ শব্দে আটকে আছি। আমিত্বর সঙ্গে থাকে গর্ব, অহংকার ও দম্ভ। ‘আমিত্ব’ থেকে বের হয়ে যেদিন ‘আমরা’য় ফিরে আসতে পারবো সেদিনই আমাদের সফলতা আসবে।      আফসানা বেগম বলেন, মারুফ কামাল খান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তার রাজনীতির উত্থান পতন দেখেছেন। এই বইটি পড়ে আমরা রাজনীতির অনেক বিষয় জানতে পারবো এবং সমৃদ্ধ হতে পারবো বলে আশা করছি।        দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, মারুফ কামাল খানের অবজারভেশন সাংবাদিকতার অবজারভেশন। দেশনেত্রীর সঙ্গে মারুফ কামাল খানের যেই বিস্তর অভিজ্ঞতা এটা খুব কম মানুষেরই আছে। তিনি দেশনেত্রীকে যতটা কাছ থেকে দেখেছেন এবং তার সম্পর্কে জেনেছেন এরকম সৌভাগ্য খুব মানুষেরই হয়েছে। আর এই বইতে তার রাজনীতির বহুমুখী অভিজ্ঞতা স্থান পেয়েছে। আমরা যতবার সোশ্যাল ইতিহাস ও রাজনীতির কথা বলতে যাব ততবারই মারুফ কামাল খানের এই বইটা আমাদের কাজে লাগবে। মারুফ কামাল খান অসাধারণ লেখনী দিয়ে বইটিকে উপভোগ্য করে তুলেছেন।    কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘লেখা যে এত দারুণভাবে টানে মারুফ কামাল খানের এই বইটি না পড়লে আমি বুঝতাম না। বাংলাদেশের রাজনীতির ভেতরের ও বাইরের নানা আকর্ষণীয় তথ্য এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। সাএবক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি বিবৃতি দিয়েই এই বইটির প্রথম লেখা। শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন একটা কড়া বিবৃতি দিয়ে দাও। তখন এই বিবৃতি দেওয়া হয়। সেদিন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর প্রথম প্রতিবাদ করেছিলো বেগম খালেদা জিয়া। আর সেই বিবৃতিই এই বইতে সবার আগে স্থান পেয়েছে। সভ্যতা শিখতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার কাছে শিখতে হবে, সভ্যতা শিখতে হলে তারেক রহমানের কাছে শিখতে হবে।’       অনুভূতি প্রকাশে লেখক মারুফ কামাল খান বলেন, আপনারা বিচারক আমি পাঠকের কাঠগড়ায়। আমি অভিভূত ও উচ্ছসিত। আপনাদের এই ভালোবাসা অব্যাহত থাকলে আমি ভবিষ্যতে আরো লেখার অনুপ্রেরণা পাব।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
দুর্নীতি দমন ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাই প্রধান অগ্রাধিকার: মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, কলকারখানা বন্ধ থাকলে বক্তৃতা দিয়ে কী হবে? বক্তৃতা দিয়ে বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে না। দেশে উৎপাদন না হলে, মানুষের চাকরি না হলে বড় বড় কর্মসূচির কথা বলে কী লাভ?     মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের ময়মনসিংহ জেলা শাখা আয়োজিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা শাখার আহ্বায়ক নজরুল ইসলামের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।     মান্না বলেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে এখন প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ। দেশের বিপুলসংখ্যক বাড়ি ও ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেসব পরিবারের সৌর প্যানেল কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ারও প্রস্তাব দেন তিনি।       দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের গ্রামের কৃষকরাও সমস্যায় পড়ছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান— কোনোটিই বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই শুধু বক্তৃতা নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।     বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা যাবে না উল্লেখ করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগার কথা বলা হলেও দুই বছর বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে থাকা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। একইভাবে দুই বছর কলকারখানা বন্ধ রেখে দেশের অর্থনীতিও সচল রাখা যাবে না। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের নিজস্ব গ্যাসের অনুসন্ধান এবং অন্যান্য জ্বালানি উৎস ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।       জুলাইয়ের আন্দোলনে প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মানুষের বড় ধরনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। সেই পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য বা সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। মানুষের অভাব-অভিযোগ ও দুর্ভোগ কমাতে হবে। দ্রব্যমূল্যের চাপ, দুর্নীতি ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো বিষয়গুলোর বাস্তব সমাধান করতে হবে।     বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, সরকারের কয়েক মাসের কার্যক্রমে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন কতটা এসেছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুর্নীতি কমানো ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।     তিনি বলেন, তাদের রাজনৈতিক স্লোগান ‘বদলে দাও বাংলাদেশ’। এটি শুধু ভোটের জন্য দেওয়া কোনো স্লোগান নয়। বাস্তব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ পরিবর্তনের চিন্তা থেকেই তারা কাজ করছেন। নাগরিক ঐক্য শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে না। মানুষের কাছে বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিবর্তনের চেষ্টা করাই তাদের লক্ষ্য।       স্মরণসভায় নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ঐক্য ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক আনিসুর রহমান। সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সদস্যসচিব হাতেম রানা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কড়াকড়ি

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের দিন সংসদ কক্ষের বৈঠকে (ভোটের সময়) প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে ভোটারদের জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি, যেখানে বলা হয়েছে ভোটদানের সময় করণীয়।     মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা নির্দেশিকাটি জারি করা হয়।       এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সংসদ কক্ষে ঢুকে ব্যালট সংগ্রহ করে ভোট দিতে হবে। এ সময়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।         সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক সরবরাহ করা আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে।       সংসদ কক্ষে নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজ নাম ও বিভক্তি সংখ্যা মুদ্রিত ব্যালট পেপার পাওয়ার পর ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে ভোটারের স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে তা সহায়তাকারী কর্মকর্তাকে ফেরত দিতে হবে।       এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যালটের আউটার ফয়েল বা ব্যালট অংশে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফাঁকা স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট দিতে হবে।     ভোট দেওয়ার পর ব্যালটটি সংসদ কক্ষে সংরক্ষিত ব্যালট বাক্সে রাখতে হবে। কোনো কারণে সরবরাহকৃত ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে ব্যালট বাক্সের অভ্যন্তরে রাখার আগে সেটি নিয়ে নির্বাচনী কর্তার কাছে উপস্থাপন করতে হবে।     নির্বাচনী কর্তা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।    এ ছাড়া, ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠকে নির্বাচনী প্রচার করা বা এ উদ্দেশে কোনো বক্তব্য কিংবা ভাষণ দেওয়া যাবে না। ভোট দেওয়ার সময় কোনো তাৎক্ষণিক সমস্যার উদ্ভব হলে চিফ হুইপ ও বিরোধীদলের চিফ হুইপের শরণাপন্ন হতে হবে। ব্যালট পেপারে যেখানে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে সেখানে পূর্ণ নাম লিখতে হবে।       গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।     বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ ভোটে রয়েছেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ আর নেই

সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।     মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড) তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে দীপু মনির বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপু। তিনি বলেন, “রাত ১০টা ২৭ মিনিটে তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।”       কোথায় কখন দাফন এবং জানাজা হবে, তা বুধবার দুপুরের পর সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান টিপু।       জানা যায়, ২০১৯ সালে স্ট্রোক করেন তৌফিক নেওয়াজ। গত ২৭ মে হুইলচেয়ারে করে কারাবন্দি স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করাতে তাকে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বজনরা। পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন তৌফিক নাওয়াজ।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডে বার্সেলোনায় যোগ দিলেন ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রি

ম্যানচেস্টার সিটি থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডে মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বার্সেলোনা। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী এ স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করেছে কাতালান ক্লাবটি।       ২০১৯ সালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ছাড়ার পর প্রথমবারের মতো স্প্যানিশ ফুটবলে ফিরলেন রদ্রি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে, সোমবার (১৭ আগস্ট) লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রদ্রি বার্সেলোনায় পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে এবারের গ্রীষ্মের অন্যতম আলোচিত দলবদল কাহিনির পরিসমাপ্তি হলো।     গত দুই মৌসুমে চোটের কারণে বেশ ভুগেছেন রদ্রি। তবে গত মাসে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের পথে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি।       ম্যানচেস্টার সিটিতে ৭টি শিরোপায় সমৃদ্ধ সময় কাটানোর পর সাবেক অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও ভিয়ারিয়ালের এ খেলোয়াড়ের রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিনি রিয়ালের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকেই বেছে নিলেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্পর্কে নতুন গতি আনতে দুটি যৌথ ব্যবসায়িক টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)। একটি টাস্কফোর্স দুই দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবে। অন্যটি কাজ করবে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে। একই সঙ্গে বেনাপোলসহ স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, পণ্য খালাসে সময় কমানো ও সীমান্ত বাণিজ্যে জটিলতা দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।       মঙ্গলবার ঢাকায় সিআইআইয়ের ১৮ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দুই দিনের সফরে আসা প্রতিনিধিদলটি সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে মূল আলোচনায় ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বাধা দূর করা, বিনিয়োগ বাড়ানো, স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং দুদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে বেনাপোলসহ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহণে বিদ্যমান জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।       বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহণে কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বেনাপোলে কার্গো হ্যান্ডলিং আরও দক্ষ করা গেলে পণ্য পরিবহণে সময় ও ব্যয় দুটোই কমবে। এতে শুধু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নয়, দুদেশের সামগ্রিক বাণিজ্যই উপকৃত হবে। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে শুধু শুল্ক কমানো বা নতুন চুক্তি করলেই হবে না। এর সঙ্গে যোগাযোগ, বন্দর, সড়ক, রেল, জ্বালানি ও লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।        বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুরোপুরি আলাদা করে দেখা যায় না। তবে দুই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ যত বাড়বে, উভয় দেশই তত বেশি লাভবান হবে।     অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক: সফররত ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। সেখানে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।        অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোয় গুরুত্ব দিচ্ছে। এ অবস্থায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি, লজিস্টিক ও ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিধি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় অর্থায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী অবকাঠামো, পরিবহণ ও সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানির সক্ষমতাও বাড়তে পারে।       এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে বৈঠক: সিআইআই প্রতিনিধিদল পরে এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গেও বৈঠক করে। বৈঠকে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো, যৌথ বিনিয়োগ, সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দুদেশের বেসরকারি খাতের সরাসরি যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।      এ সময় ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতা চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বলেন, কীভাবে দুদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বাড়ানো যায়, সেটি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের বড় সম্ভাবনা রয়েছে, সেই সুযোগকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিনিধিদলের আগমনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- কীভাবে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে বিটুবি যোগাযোগ জোরদার করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা।         এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, সিআইআই প্রতিনিধিদল যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটিকে কাজে লাগিয়ে দুদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা যাবে বলে আমরা মনে করি। এ সময় ব্যবসায়ী নেতা ও বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন, মো. জসিম উদ্দিন, ডিসিসিআইর সভাপতি তাসকিন আহমেদ, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মশিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।       যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে এফবিসিসিআই ও সিআইআইর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করতে উভয়পক্ষের ব্যবসায়ী ও অংশীজন নিয়ে সমস্যার সমাধান খোঁজা জরুরি।  সরকার মূলত নীতিমালা নির্ধারণ করে থাকে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রকৃত সমস্যার কথা ভালো জানেন ব্যবসায়ীরাই। তাই এফবিসিসিআই ও সিআইআইর মতো শীর্ষ সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি, গ্যাসের চাপে চরম মন্দা

গ্যাস সংকটের কারণে ভোগান্তি যেন কমছেই না। প্রতিদিন বড় একটি সময় ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতেই কেটে যাচ্ছে। কখনো আবার গ্যাস না পেয়ে খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যাত্রী পরিবহণ কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি সংগ্রহেই নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা। ফলে নির্ধারিত জমার টাকা তুলতে পারছেন না অনেক সিএনজি চালক। আয় কমে গিয়ে সংসার চালাতেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এবং চালক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।       মিরপুর ১২ নম্বর ইনট্রাকো ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকার চালক মুন্না বলেন, ১৬০ টাকার গ্যাস ভরেছি। এই গ্যাস দিয়ে কী হবে। বড় জোর ২ ট্রিপ মারা যাবে। গত কয়েক দিন ২-৩ বার পাম্পে আসতে হয়েছে। আজও আসা লাগবে।     সিএনজি চালক রাজু মিয়া বলেন, আধা ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করে ৪০-৫০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে মালিকের জমা ও সংসারের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।     ইনট্রাকো ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ সিএনজিচালক আলমগীর বলেন, ‘গতকাল শুধু ৬০ টাকার গ্যাস পাইছি। ওই গ্যাস দিয়া এক হাজার টাকা ভাড়া মারছি, জমা ১২০০ টাকা। মালিকই খাবে কী, আর আমিই খামু কী।’       মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, গ্যাস না থাকায় অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও পাম্প চালু থাকলেও পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সিএনজি, ট্রাক ও অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে। আব্দুল্লাহপুরের পূর্ব পাশে খন্দকার ফিলিং স্টেশন এবং বিমানবন্দর-খিলক্ষেত এলাকার বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করেও চালকরা গ্যাস পাচ্ছেন না। তবে ডিজেল ও অকটেনচালিত যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। খন্দকার ফিলিং স্টেশনের অপারেটর মনির যুগান্তরকে বলেন, আমাদের কাছেই যদি গ্যাস না থাকে, তাহলে গ্রাহকদের কীভাবে গ্যাস দেব? গত দুই সাপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছি না। গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন সিএনজি চালকরা। আমাদের পাম্প একেবারে বন্ধ রয়েছে।       ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর এলাকার পশ্চিম পাশে অবস্থিত আরএসআর ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে বিক্রয়কর্মী জানে আলম বলেন, পাঁচ-ছয় দিন ধরে এই সমস্যা চলছে। দুপুর ১টার দিকে কিছুক্ষণ গ্যাসের চাপ ছিল, পরে আবার চলে গেছে। এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন জোন-৯-এর ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল আজিম যুগান্তরকে জানান, চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে। ডেমরার রাসেল ফিলিং ও সিএনজি স্টেশনে এবং হাজী সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবারও দিনভর সিএনজিচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। গ্যাস না থাকার কারণে আগের মতোই দেখা গেছে চারটি হোসের মধ্যে ১টি সচল রাখতে পারছে রাসেল ফিলিং স্টেশন। একই সঙ্গে মীরপাড়া এলাকায় অবস্থিত হাজী ফিলিং স্টেশনেও গ্যাস পেতে যানবাহন চালকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অনেকে ফিরে যাচ্ছেন। সেখানেও প্রেশার ফল করায় ১ হোস পাইপ লাইন দিয়ে গ্যাস ফিলিং করতে হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থেকে ডেমরায় গ্যাস নিতে আসা সিএনজিচালক মো. সারোয়ার আরিফ জানান, আমরা কি পরিবারসহ না খেয়ে মরব?     রাজধানীর মহাখালীর আরজতপাড়া, বাসস্ট্যান্ড, নাবিস্কো, তেজগাঁও এলাকার কাওরান বাজার, সাতরাস্তার মোড় ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে দুপুরের পর সিএনজি স্টেশনগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, আরজতপাড়ার ইউরেকা, বাসট্যান্ড এলাকায় এবিএন, রয়েল, ইসা গার্ডেন, ক্লিন ক্লেয়ার, নাবিস্কোর সাউদার্ন, তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে সিটি, অল-ইন-ওয়ান এবং কাওরান বাজারের কানাডা-বাংলা সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় লম্বা লাইন সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের। এখনো বন্ধ রয়েছে রাজধানীর সবচেয়ে সচল এবং সুপরিচিত সাতরাস্তা মোড়ের আকিজ সিনজি স্টেশন। প্রবেশপথে সাইনবোর্ডে লিখা রয়েছে গ্যাস নেই। দায়িত্বে নিয়োজিত গার্ড ও নজেলম্যানদের সাথে কথা বলে জানা যায় ৪/৫ দিন গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে এ সিএনজি ফিলিং স্টেশনটি।       ইউরেকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের প্রাইভকারের লম্বা লাইনের শেষ প্রান্তে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি সিরিয়ালে দাড়িয়েছে প্রাইভেটকার নিয়ে আবুল কালাম, কথা হয় তার সাথে। তিনি হতাশার সুরে জানালেন কয় ঘন্টা লাগবে তা বলা যাচ্ছেনা। আরজতপাড়া ইউরেকা সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে ৩ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সবে মাত্র ৫০ টাকার গ্যাস পেলেন মিরপুর থেকে আসা সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক রানা। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এ রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে এতক্ষণ পরে মাত্র ৫০ টাকার গ্যাস পেলাম।এ অবস্থায় কেমনে কি করব মাথা কাজ করছেনা।       মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকার এবিএন সিএনজি ফিলিং স্টেশন এর ম্যানেজার শহীদুল জানান গ্যাসের চাপ এত কম যে কোনরকম কিছুক্ষণ সরবরাহ করার পর অটো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আবার চালু হচ্ছে এভাবেই চলছে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মালিবাগ, মুগদা বিশ্বরোড, মতিঝিল, মানিকনগর, খিলগাঁও, সবুজবাগ, বনশ্রী, গোড়ানসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গ্যাস সংকটের এমন চিত্র দেখা গেছে। গ্যাস না থাকায় অনেক স্টেশন বন্ধ রয়েছে। যেসব স্টেশন চালু রয়েছে, সেখানেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় ধীরগতিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়িকে।       মালিবাগ হাজীপাড়া সিএনজি ফুয়েলিং স্টেশন, বিশ্বরোডের শান্ত সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন, আরকে মিশন রোডের এন.এস. সিএনজি ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টার এবং মানিকনগরের বেস্ট ইস্টার্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়। কোথাও কোথাও গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে সীমিত পরিসরে সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার কোনো কোনো স্টেশনে সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

জাতীয়

COP31-পূর্ব জলবায়ু ন্যায়বিচারে সমন্বিত ও প্রমাণভিত্তিক নাগরিক উদ্যোগের আহ্বান

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৩, ২০২৬