সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎকারের স্মৃতিসহ দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, বহু আগে থেকেই তিনি বেগম খালেদা জিয়ার একজন ভক্ত। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। আসিফ নজরুল লেখেন, সাংবাদিক জীবনের শুরুর দিকেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৮–৮৯ সালের দিকে ধানমন্ডিতে বিএনপির কার্যালয়ে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নেন। সে সময় দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন ফজলুর রহমান পটল এবং মহাসচিব ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার। আসিফ নজরুল লেখেন, লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর খালেদা জিয়া তাকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে একটি তীক্ষ্ণ প্রশ্ন করলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নেতা আপত্তি জানান। তবে খালেদা জিয়া হস্তক্ষেপ করে হাসিমুখে সেই প্রশ্নের জবাব দেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকবার তার একান্ত সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ পান বলেও জানান তিনি। দেশে ফিরে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর কলাম লেখা ও টকশোতে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা লেখেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি ও নির্যাতন শুরু হলেও তিনি দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে সেসব মোকাবিলা করেছেন। এ সময়েই তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আরও গভীর হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলা থেকে বিরত থাকেননি। তার ভাষায়, সে সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া খুব কম নেতাকেই তিনি প্রকাশ্যে খালেদা জিয়ার পক্ষে কথা বলতে দেখেছেন। পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের দিনে তিনি তার পরিবার–পরিজনের পাশে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়া এবং জাতীয় পতাকায় মোড়ানো নেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোকে তিনি নিজের জীবনের একটি বড় সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের জাতীয় পতাকা সমুন্নত রাখতে খালেদা জিয়াকে আজীবন ত্যাগ ও কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। সেই পতাকা তার সন্তানের হাতে তুলে দেওয়ার অংশীদার হতে পারাকে তিনি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের ভোট স্থগিত হয়েছে এমন সংবাদ সঠিক নয়। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস নোটের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কমিশন গণমাধ্যমকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছে। শুক্রবার সকালে কিছু গণমাধ্যমে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, “নির্বাচন স্থগিত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শুধু এ দুটি আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকবে। পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন সংক্রান্ত এই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হাইকোর্টের রায়ের পর। হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গত ২৪ ডিসেম্বর এই দুই আসনের আগের সীমানা পুনর্বহাল করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কিন্তু ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সেই অংশ স্থগিত করে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এক প্রার্থীর করা আবেদনের শুনানির পর এ আদেশ দেন। এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচন কমিশন গত ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যাস চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। এতে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো এলাকা পাবনা-১ আসনে এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা মিলিয়ে পাবনা-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিশন ভোটার ও প্রার্থীদের বিভ্রান্তি এড়াতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নির্বাচন স্থগিত হয়নি, শুধুমাত্র আপিল বিভাগের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গণভোট সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়, যাতে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা উল্লেখ রয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের দৃশ্যমান স্থানে অন্তত একটি গণভোট সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। ব্যানারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাবসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, যাতে ভোটাররা সহজেই বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পান। এতে আরও জানানো হয়, গণভোট সংক্রান্ত ব্যানারের একটি নির্দিষ্ট নমুনা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নমুনা অনুযায়ী ব্যানারগুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে মুদ্রণ করা হবে। ব্যানার প্রস্তুত ও সরবরাহের দায়িত্ব থাকবে সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসারদের ওপর। তারা স্থানীয়ভাবে ব্যানার মুদ্রণ করে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে সরবরাহ করবেন। প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটকেন্দ্রের উপযুক্ত ও সহজে দৃশ্যমান স্থানে ব্যানার প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এসব ব্যানার মুদ্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসারদের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এদিকে ভোটগ্রহণ শেষে ভোটগণনার বিবরণী প্রেরণ সংক্রান্ত নির্দেশনাও পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৩৬-এর দফা ১৫ অনুযায়ী, প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটকেন্দ্র থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগণনার বিবরণীর একটি কপি সরাসরি ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। এ উদ্দেশ্যে প্রতিটি ভোটকেন্দরের জন্য দুটি করে বিশেষ খাম সরবরাহ করা হবে। পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক মুদ্রিত বিশেষ খাম নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি এসব বিশেষ খাম যাতে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য ভোটগ্রহণ ও ভোটগণনার সময় পোস্ট অফিসগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়ে ডাক বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব নির্দেশনার লক্ষ্য হলো গণভোট সংক্রান্ত তথ্য ভোটারদের কাছে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা এবং ভোটগণনার ফলাফল দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে কমিশনের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে শুক্রবার দুপুরে তিনি নিজেই এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন। দলীয় সূত্র জানায়, এটি কোনো নিয়মিত বা পূর্বনির্ধারিত বৈঠক নয়। সে কারণে বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো লিখিত এজেন্ডাও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এখান থেকে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামনে জাতীয় নির্বাচন এবং দলীয় নেতৃত্বের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। নতুন বছর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে তারেক রহমানই এই মুহূর্তে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হতে পারে। তার ওই বক্তব্যের পর থেকেই দলটির ভেতরে এ বিষয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দল পরিচালনা করে আসছেন। সব মিলিয়ে, এই জরুরি বৈঠক বিএনপির নেতৃত্ব নির্ধারণ, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোটের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে এই দুই আসনের ভোট গ্রহণের সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোটের জন্য প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু কিছু অপ্রত্যাশিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে ভোট গ্রহণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটের নতুন সময়সূচি পরবর্তী পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোট গ্রহণের পরিবেশ সুরক্ষিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করছে। স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটের কার্যক্রম স্থগিত থাকা অবস্থায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া ভোটের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হলে ভোটারদের তা সময়মতো জানিয়ে দেওয়া হবে। এদিকে, স্থানীয় জনগণকে ভোটার হিসেবে সচেতন ও নিরাপদভাবে ভোট কেন্দ্রে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন আগের মতো সাধারণ বা বাধাগ্রস্ত নির্বাচন নয়। তার ভাষায়, এটি শুধুমাত্র আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, বরং দেশের আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় গোরে শহীদ ঈদগাহ ময়দানে ভোটের গাড়ি প্রচারণা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ফাওজুল কবির খান বলেন, এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি ভোটারদের বলেন, যদি আপনি সংস্কার চান, সংসদীয় গণতন্ত্র বজায় রাখতে চান, ক্ষমতা যেন এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত না হয় এবং মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়, তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। অন্যদিকে, যদি মনে করেন সংস্কারের প্রয়োজন নেই, তাহলে ‘না’ ভোট দেবেন। তবে ভোটের ক্ষেত্রে কেউ কাউকে বাধ্য করতে পারবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সংস্কারের জন্যই ১ হাজার ৪০০ মানুষ জীবন দিয়েছে এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। ফাওজুল কবির খান জানান, তিনি নিজেও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। উপদেষ্টা জানান, জুলাই মাসে অভ্যুত্থান ঘটেছিল মূলত ভোট প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে। তখন মানুষ ভোট দিতে পারেনি বা নির্বাচনের সঠিক হিসাব হয়নি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আশ্বাস দেন, যে কোনো প্রার্থী—যে দলের হোক, যে ধর্মের হোক, যে বর্ণ বা গোত্রের হোক—ভোটাররা যাকে চান, তাকেই বিজয়ী হিসেবে দেখতে চায়। ফাওজুল কবির খান বলেন, এই জেলায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটার রয়েছেন। তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা ভোটারদের দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই। দলীয় সূত্র জানায়, এটি কোনো পূর্বনির্ধারিত নিয়মিত বৈঠক নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডাও ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এই বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করার বিষয়টি আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার ইন্তেকালের পর দেশ ও দলের মধ্যে শোকের আবহ কিছুটা কাটতে শুরু করেছে। নতুন বছর এবং সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের নেতৃত্ব কাঠামো পূর্ণাঙ্গ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্র আরও জানায়, জাতীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও জানিয়েছেন, দুই-এক দিনের মধ্যে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। সেই থেকে তিনি বিদেশে অবস্থান করেও দলের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। আজকের জরুরি বৈঠক থেকে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শেষ দিনের কার্যক্রম আজ নির্বাচন কমিশনে চলমান রয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে সকাল থেকেই প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে আপিল গ্রহণ কেন্দ্র। কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল ৫টা পর্যন্ত এসব আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন ভবনের ভেতরে অঞ্চলভিত্তিক মোট ১০টি বুথ স্থাপন করে আপিল আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার বুথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল জমা দিচ্ছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকিতে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ আপিল গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আগামীকাল শনিবার থেকে আপিল শুনানি শুরু হবে। এসব শুনানি শেষে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে, যা নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে দেশের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র যাচাই করেন। যাচাই শেষে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং বিভিন্ন কারণে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত চার দিনে মোট ৪৬৯টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ১৭৪টি আপিল দায়ের করা হয়। ওই দিন মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ১৬৪টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশের বিরুদ্ধে ১০টি আপিল করা হয়। এর আগের দিনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে আপিল জমা পড়েছে। বুধবার ১৩১টি, মঙ্গলবার ১২২টি এবং প্রথম দিন সোমবার ৪২টি আপিল আবেদন গ্রহণ করা হয়। সোমবার জমা পড়া আপিলগুলোর মধ্যে ৪১টি ছিল মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে এবং একটি ছিল মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের বেজমেন্টে অবস্থিত অডিটোরিয়ামে এসব শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০টি করে আপিল শুনানির পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়। আপিল শুনানি শেষে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে, যা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট করবে।
দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সার্বিকভাবে দেশের পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আজ শুক্রবার এক কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশজুড়ে খুন, হামলা, সহিংসতা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিতভাবে হামলা ও মামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। নির্বাচনকালীন পরিবেশ তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার নিরাপদ সুযোগ পাবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরিবেশ অনুপস্থিত বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন না করলে দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি অবিলম্বে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন, জনগণের জানমাল ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে এর দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রাম সফরে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ এই নেতার চট্টগ্রাম আগমনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই সফরকে ঘিরে বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং চট্টগ্রাম মহানগরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের এই সফর শুধুমাত্র সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা থাকবে তার বক্তব্যে। দীর্ঘদিন পর সরাসরি মাঠে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে বলে মনে করছেন তারা। চট্টগ্রাম বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, ২০ বছর পর তারেক রহমানের আগমন দলীয় রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে। অতীতে চট্টগ্রাম ছিল বিএনপির শক্ত ঘাঁটি, আর এই সফরের মাধ্যমে সেই সাংগঠনিক শক্তি পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হবে। তারা আরও বলেন, এই সফরকে ঘিরে সমাবেশ, সভা এবং দলীয় বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে, যেখানে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ও রাজনৈতিকভাবে কৌশলগত এলাকা। সেখানে তারেক রহমানের দীর্ঘদিন পর উপস্থিতি শুধু বিএনপির জন্য নয়, বরং সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সম্ভাব্য নির্বাচনী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন তারা। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিতে পারে। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, প্রায় ২০ বছর পর চট্টগ্রামে তারেক রহমানের আগমন বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সফরের মাধ্যমে তিনি কী বার্তা দেন এবং তা দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে—সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।
আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার জনগণের হাতে, এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং জনগণের সম্মিলিত মত ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। এই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এখন এমন একটি সময় এসেছে, যখন জনগণ নিজেরাই ঠিক করবে—দেশ কোন পথে চলবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কাদের হাতে তুলে দেবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো জনগণের মতামত, আর সেই মতামতকে সম্মান না করলে কোনো রাষ্ট্র কাঠামোই টেকসই হতে পারে না। আলী রীয়াজ আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশ শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, সামাজিক সমতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলোও। জনগণের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি স্পষ্ট—তারা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়, যেখানে আইনের শাসন কার্যকর হবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থাকবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। তিনি উল্লেখ করেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয়। সে কারণে নির্বাচনী পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। আলী রীয়াজের ভাষায়, জনগণকে যদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তারাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার সঠিক পথ বেছে নেবে। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, জনগণই হতে হবে রাষ্ট্রের মূল শক্তি—এই দর্শন বাস্তবায়িত হলেই একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে।
মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাতকে পুনরুদ্ধার করার চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে আজ একাধিক নিলামের মাধ্যমে ১৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ক্রয় করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মোট ৬১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কেনা হয়েছে মোট ৩ হাজার ৭৫২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আজ ৮ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার। ইতিহাসের পাতা উল্টে তাকালে দেখা যায়, বছরের পর বছর ধরে ঠিক এই দিনটিতেই ঘটেছে নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা; জন্ম ও মৃত্যুবরণ করেছেন বহু আলোচিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তি। ইতিহাসের দিনপঞ্জি তাই মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। চলুন, আজকের এই দিনে ফিরে দেখি—বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু ও দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখা উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো। ঘটনাবলি ১৬৫৪ - ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়। ১৬৭৯ - ফরাসি নাবিক ও পর্যটক সিয়্যর দ্য লা সাল নায়াগ্রা জলপ্রপাতে পৌঁছান। ১৭৮০ - ইরানের তেবরিজ শহরে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প। প্রায় ৮০ হাজার মানুষের প্রাণহানি। ১৮০৬ - ব্রিটেন উত্তমাশা অন্তরিপ দখল করে নেয়। ১৮৬৭ - আফ্রিকান আমেরিকানরা ভোটাধিকার লাভ করে। ১৯১৬ - প্রধানত ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের সমন্বয়ে গঠিত মিত্রবাহিনী তুরস্কের বিরুদ্ধে তাদের গ্যালিওপোলি অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। ১৯১৮ - মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন মার্কিন কংগ্রেসে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষণে উল্লিখিত চৌদ্দ দফার ওপর ভিত্তি করে জার্মানি অস্ত্রসংবরণে সম্মত হয়। ১৯২৬ - বাদশা হোসেন বহিষ্কার। ইবনে সাউদ হেজাজের নতুন বাদশা। দেশের (হেজাজ) নাম পরিবর্তন করে সৌদি আরব করা হয়। ১৯৪০ - ব্রিটেনে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চিনি মাখন ইত্যাদির রেশন শুরু। ১৯৫৯ - জেনারেল চার্লস দ্য গল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৬৩ - প্রথমবারের মতো লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির বিখ্যাত পেইন্টিং মোনালিসা আমেরিকার ন্যাশনাল গ্যালারি অব আর্টে প্রদর্শন। ১৯৭২ - পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডনে পৌঁছান। নতুন দেশের স্বীকৃতির জন্য বিশ্বের কাছে আবেদন জানান। ১৯৭৩ - সোভিয়াতের মহাশূন্য অভিযানের জন্য মহাশূন্যযান লুনি-২১ উৎক্ষেপিত। ১৯৭৭ - আর্মেনিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠি রাশিয়াতে একসঙ্গে ৩৭ মিনিটের মাধ্যে তিন স্থানে বোমা হামলা চালায়। এতে ৭ জন নিহত হন। ১৯৭৮ - ইরানের পবিত্র নগরী কোমে ইরানের তৎকালীন শাসক রেজা শাহের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। ১৯৯৩ - সার্বীয় বন্দুকধারীদের গুলিতে বসনিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী নিহত। ১৯৯৬ - জায়ারে পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক হাজার মানুষ নিহত হয়। জন্ম ১৯০৯ - আশাপূর্ণা দেবী, ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার ও শিশুসাহিত্যিক ১৯৩৫ - সুপ্রিয়া দেবী, প্রবাদপ্রতিম ভারতীয় বাঙালি অভিনেত্রী। এলভিস প্রেসলি, কিংবদন্তিতুল্য মার্কিন রক সংগীতশিল্পী। ১৯৪২ - স্টিফেন হকিং, ইংরেজ পদার্থবিদ। ১৯৪২ - জুনিচিরো কোইযুমি, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৫ - টেলিসামাদ, বাংলাদেশি কৌতুক অভিনেতা ১৯৮৭ - সিনথিয়া আরিভো, ব্রিটিশ অভিনেত্রী, গায়িকা ও গীতিকার। মৃত্যু ১৩২৪ - মার্কো পোলো, ভেনিসিয় পর্যটক ও বনিক। ১৮৫৮ - রসিককৃষ্ণ মল্লিক, ভারতীয় সামবাদিক, সম্পাদক ও সংস্কারক। ১৮৮৪ - কেশবচন্দ্র সেন ভারতের বাঙ্গালি ব্রাহ্মনেতা, বক্তা ও বাঙালি হিন্দু সমাজের অন্যতম ধর্মসংস্কারক। ১৯৩৪ - আন্দ্রে বেলি, রুশ দেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক। ১৯৪১ - ভারত সেবশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ। ১৯৫০ - জোসেফ শুম্পটার, প্রভাবশালী অস্ট্রীয় অর্থনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। ১৯৬৬ - বিমল রায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক। ১৯৭২ - কৃষ্ণদয়াল বসু, বাংলার প্রখ্যাত শিশু-সাহিত্যিক। ১৯৮৩ - স্বাধীনতা সংগ্রামী ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সহযোগী সত্যরঞ্জন বকসি। ১৯৯২ - জাফর ইকবাল, বাংলাদেশি অভিনেতা। ২০১৩ - নির্মল সেন, বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি, জিএস ও এজিএস প্রার্থীরা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে জবি অডিটোরিয়ামে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার সময় বিজয় উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিও জোরালোভাবে ওঠে আসে। ফল ঘোষণার এক পর্যায়ে অডিটোরিয়ামজুড়ে শিক্ষার্থীরা ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘গোলামি না আজাদী, আজাদি আজাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন। একই সঙ্গে শহীদ সাজিদের স্মরণেও স্লোগান শোনা যায়। এ সময় স্লোগানে নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব এবং নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য শান্তা আক্তার। পুরো মিলনায়তন তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে হাদি হত্যার বিচার দাবি তোলে। স্লোগানের ভিড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।
যশোরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমকে আটক করার প্রতিবাদে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে শতাধিক শিক্ষক দুদক কার্যালয়ে অবস্থান নেন এবং ওই কর্মকর্তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, আশরাফুল আলমকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাদের দাবি, দুদকের অভিযানের কিছু সময় আগে আশরাফুল আলম বাথরুমে গেলে সেই সুযোগে একটি পক্ষ তার টেবিলে টাকা রেখে দেয় এবং পরবর্তীতে ‘হাতেনাতে আটক’ দেখিয়ে ঘটনাটি নাটক আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছেন, আশরাফুল আলমকে মুক্তি না দিলে আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে নতুন কর্মসূচি শুরু করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমের মুক্তির পক্ষ নিয়ে শিক্ষকরা দুদকের পক্ষের ঘটনার উপস্থাপনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করেছেন। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানাচ্ছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। আশরাফুল আলম একজন সৎ অফিসার, তিনি কোনো ঘুষ লেনদেন করেন না। বরং অফিসের অন্য স্টাফদের অনিয়ম না করতে সতর্ক করেন। অন্যদিকে, যিনি তাকে ফাঁস করেছেন, তার বিরুদ্ধে পূর্বেও নানা অভিযোগ রয়েছে এবং তার একজন আত্মীয় জেলা দুদকের স্টাফ, যেটি দিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যশোর সদরের দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল জব্বার জানান, আশরাফুল আলমকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি অবিলম্বে মুক্তি না পেলে ৮ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে, দুদক জানায়, যশোরের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে ফাঁদ পাতা হয়েছিল। অভিযোগকারী বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী জানিয়েছেন, তার প্রয়াত স্ত্রী শিরিনা আক্তারের পেনশন সংক্রান্ত ফাইল ছাড় করানোর নামে আশরাফুল আলম দীর্ঘ তিন মাস ধরে নানা অজুহাতে ঘোরাতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম দফায় ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার পর আবারও ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পেনশনের অর্থছাড় হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি খুলনা বিভাগীয় এক কর্মকর্তার যোগসাজসে বেতন কাঠামো (বেসিক) কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বুধবার বিকেলে ফাইল ছাড় করানোর কথা বলে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার সময় দুদক অভিযান চালিয়ে আশরাফুল আলমকে তার কক্ষ থেকে হাতেনাতে আটক করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা রাত ১০টা পর্যন্ত দুদক কার্যালয় ঘিরে রাখেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। একই সঙ্গে সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে জারি করা এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে। এর আগে বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এলপিজি ব্যবসায়ীরা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। সেখানে তারা ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করা হবে। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য সমন্বয় করেছে। এতে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবেশকদের বিরুদ্ধে অভিযান, হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়। তাদের অভিযোগ, এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট নিরসনে আমদানি সমস্যা দূর করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে কার্যকর করা জরুরি ছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ না নিয়ে দাম বাড়ানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে এবং ভোক্তা অধিকার অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক পরিবেশক ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির দাবি অনুযায়ী, পরিবেশকদের কমিশন বর্তমান ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমান কমিশনে পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক মজুরি ও অন্যান্য খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তারা দাবি করেন। সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিইআরসির সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়া হলে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি পুনরায় শুরু হতে পারে, অন্যথায় বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি বহাল থাকবে। উল্লেখ্য, বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করে থাকে। সর্বশেষ ৪ জানুয়ারি নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়। এই মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী প্রশাসনিক তৎপরতা ঘিরেই এলপিজি ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিক্রি বন্ধের ঘোষণায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে এলপিজি সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করতে সমর্থকদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচার, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং মাঠপর্যায়ে কর্মীদের সক্রিয় রাখতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় প্রয়োজন হয়, যা এককভাবে বহন করা কঠিন। সে কারণে স্বচ্ছ ও আইনসম্মত উপায়ে সমর্থকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন তিনি। হান্নান মাসউদ জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ মানেই কেবল ভোটের লড়াই নয়, বরং জনগণের কাছে নিজের অবস্থান, পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দেওয়ার একটি বড় আয়োজন। পোস্টার, লিফলেট, সভা-সমাবেশ, পরিবহনসহ নানা খাতে ব্যয় হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, যে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার মধ্যে থেকেই গ্রহণ ও ব্যয় করা হবে। প্রাপ্ত অর্থের হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে তা প্রকাশের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের ছোট ছোট সহযোগিতাই একটি শক্তিশালী ও ইতিবাচক নির্বাচনী প্রচারণা গড়ে তুলতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনী ব্যয়ের চাপ এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ধরে রাখতে অনেক প্রার্থীই সমর্থকদের আর্থিক সহায়তার দিকে ঝুঁকছেন। হান্নান মাসউদের এই আহ্বান নির্বাচনী পরিবেশে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং তার প্রচারণাকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদ—ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস)—এ প্যানেলটির প্রার্থীরা স্পষ্ট ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় সংসদের মোট ৩৮টি কেন্দ্রের ফলাফল একযোগে ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ভিপি পদে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান’ প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। এ দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৮৮০। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের আব্দুল আলিম আরিফ ৫ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। একই পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২০৩ ভোট। এই পদে বিজয়ী প্রার্থী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৩ হাজার ২৬৭ ভোট বেশি অর্জন করেন, যা নির্বাচনে বড় ধরনের ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী মাসুদ রানা জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ০০২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী বিএম আতিকুর তানজিল পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৮ ভোট। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে শিবির সমর্থিত প্যানেল ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে থেকে ভোটারদের স্পষ্ট সমর্থন অর্জন করেছে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও ভোটের ব্যবধান নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় ক্যাম্পাস রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই–পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ার তৃতীয় দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আরও ১৩১টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের মাধ্যমে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। ইসি সূত্র জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আপিল দাখিল করেন। এর মধ্যে রয়েছে দলীয় প্রার্থী ছাড়াও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদন। অনেক ক্ষেত্রে কাগজপত্রের ঘাটতি, তথ্যগত অসংগতি কিংবা আইনগত ব্যাখ্যার ভিন্নতার কারণে মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় প্রার্থীরা আপিলের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আপিলগুলো গ্রহণের পর ধারাবাহিকভাবে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হচ্ছে। শুনানিতে প্রার্থীদের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বক্তব্যও শোনা হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈধ প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার চিত্র আরও স্পষ্ট করবে। ইসি আরও জানায়, আপিল প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আপিল নিষ্পত্তি করে প্রতীক বরাদ্দসহ পরবর্তী ধাপগুলো সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে কমিশনের। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় দিনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আপিল জমা পড়ে। তৃতীয় দিনের নতুন আবেদনের ফলে মোট আপিলের সংখ্যা আরও বেড়েছে, যা নির্বাচনী মাঠে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের সক্রিয়তা ও প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। মোট ৩৯টি কেন্দ্রের ফল বিশ্লেষণে শীর্ষ তিন পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল জয় লাভ করেছে। বিস্তারিত আসছে...
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা সংকটের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। মায়ানমারের রাখাইনে জাতিগত সহিংসতার কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও এখন এ সংকট দেশের জন্য এক জটিল নিরাপত্তা ও সামাজিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও বাস্তব পদক্ষেপের অভাব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে। গত বছর আগস্টে আন্তর্জাতিক সংলাপ আয়োজন করা হয়, যেখানে মায়ানমার ও আঞ্চলিক শান্তি, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়। পশ্চিমা বিশ্বের ১১ দেশও রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর পথে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছিল। ২০২৫ সালে তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়—কক্সবাজারে ‘অংশীজন সংলাপ’, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন এবং দোহায় কাতার আন্তর্জাতিক সম্মেলন। তবে সব মিলিয়ে আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির বাইরে কোনো বাস্তব ফলাফল অর্জিত হয়নি। রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক ইস্যুই নয়; এটি দেশের সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। শরণার্থী শিবিরে মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। রোহিঙ্গা যুবকদের দরিদ্রতা, কর্মসংস্থানের অভাব ও অনিশ্চয়তা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে। বিশেষ করে কক্সবাজার ও টেকনাফ এলাকায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো মাদক ও চোরাচালানের জন্য ‘সফট স্পট’ হিসেবে রূপ নিয়েছে। মিয়ানমারে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাত দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা সংকট আরও প্রকট করেছে। বান্দরবান ও কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা—নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম, থানচি, রুমা ও উখিয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। নাফ নদ বাংলাদেশের এবং মায়ানমারের প্রাকৃতিক সীমান্ত হিসেবে পরিচিত। সীমান্তের অস্পষ্ট রেখা, নদীপথে নিরাপত্তার অভাব এবং জনবহুল শরণার্থী শিবির চোরাচালানের সুযোগ বাড়াচ্ছে। এছাড়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর আগ্রাসনে জেলেরা জীবনের ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি চলমান সংঘাত ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। অপরাধ, মাদক, সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট একে অপরের সঙ্গে জটিলভাবে যুক্ত হয়ে দেশের জন্য বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দেশের অভ্যন্তরীণ সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচিত সরকার কিভাবে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট সমাধান করবে, তা দেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবায়ন ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সমস্যা আজও অমীমাংসিত। মানবিক দায়বদ্ধতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দেশীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা সংকট দেশের জন্য বহুমাত্রিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।