সর্বশেষ

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিপক্ষে রাফিনিয়াকে পাচ্ছে না ব্রাজিল

ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে রাফিনিয়াকে পাচ্ছে না ব্রাজিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ডান উরুতে চোট পাওয়া এই ফরোয়ার্ডকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)।   বুধবার রাফিনিয়ার ইমেজিং পরীক্ষা করা হয়। সিবিএফ জানিয়েছে, পরীক্ষায় তার ডান উরুর পেছনের অংশে সামান্য মাসল এডিমা বা পেশিতে ফোলা ধরা পড়েছে। তবে গুরুতর কোনো পেশির ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে প্রথমার্ধে মাঠে ছিলেন রাফিনিয়া। পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলটিও করেন তিনি। তবে ডান উরুতে অস্বস্তি অনুভব করায় বিরতির পর আর মাঠে ফেরেননি বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড।   রাফিনিয়ার একই জায়গায় আগে জাতীয় দলের দুটি ক্যাম্পেও সমস্যা হয়েছিল। এবার চোটের খবর প্রকাশের পর উদ্বেগ জানিয়েছিলেন বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। তবে পরীক্ষায় বড় ধরনের চোট না পাওয়ায় স্বস্তি পেয়েছে ক্লাবটি।   এক বিবৃতিতে সিবিএফ জানায়, সতর্কতা এবং দ্রুত সুস্থতার কথা বিবেচনা করেই রাফিনিয়াকে জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য তার বিকল্প হিসেবে নতুন কাউকে দলে ডাকা হবে না।   ফলে শনিবার কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না রাফিনিয়া। জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে তিনি বার্সেলোনায় ফিরবেন। সেখানে ক্লাবটির মেডিকেল বিভাগ তার পুনর্বাসন ও শারীরিক অবস্থার দেখভাল করবে।   সূত্র: গোল ডটকম

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নুসরাত হত্যা মামলায় খালাস চেয়ে আপিল করলেন সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ৪ আসামি

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন।   যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তাদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির এ তথ্য জানিয়েছেন।   গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং ১০ জনকে খালাস দেন।   মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চারজন হলেন—নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।   খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন—কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং তৎকালীন কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর। খালাস পাওয়া ১০ জন ইতোমধ্যে কারামুক্ত হয়েছেন।   ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরীন আখতার। ওই মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   অভিযোগ রয়েছে, সিরাজের অনুসারীরা তাকে কারাগার থেকে বের করে আনার জন্য জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ৩ এপ্রিল কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শের পর ৪ এপ্রিল নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাকে পরিকল্পিতভাবে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।   ঘটনাস্থল থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।   এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা করেন। ২৮ মে মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন অভিযোগ গঠন করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর রায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।   মামলাটিতে মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়। একই বছরের ২৪ অক্টোবর রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের হাত ধরে চীনের নতুন সাফল্য

এশিয়ান গেমসে চীনের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের পেছনে শুধু সরকারি বিনিয়োগ নয়, পরিবার, স্কুল ও ক্রীড়া ফেডারেশনের সমন্বিত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এবারের আসরে ১২ বছর বয়সী স্কেটবোর্ডার ছাও শিকির সাফল্য সেই ব্যবস্থারই উদাহরণ।   প্রথমবার এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েই উইমেন’স পার্ক ইভেন্টের ফাইনালে ওঠেন শিকি। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হলেও মাত্র ১২ বছর বয়সে বড় মঞ্চে তার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। এবারের আসরে চীনের ৮১৫ জন অ্যাথলেটের মধ্যে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ।   শিকির পাশাপাশি ১৩ বছর বয়সী ইউ জিডি তিনটি সোনা জিতেছেন। ১৫ বছর বয়সী ঝু ইউয়ানলিং স্কেটবোর্ডিংয়ের উইমেন’স স্ট্রিট ইভেন্টে সোনা পেয়েছেন। কিশোর বয়সী আরও কয়েকজন অ্যাথলেটও চীনের হয়ে সাফল্য এনে দিচ্ছেন।   এশিয়ান গেমসে ১৯৭৪ সালে প্রথম অংশ নেওয়ার পর ধীরে ধীরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে চীন। ১৯৮২ সালে প্রথমবার পদক তালিকার শীর্ষে ওঠার পর টানা ১১ আসরে দলগতভাবে সেরা হয়েছে তারা। ২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে এক আসরে ৪১৫টি পদক জয়ের রেকর্ডও গড়ে দেশটি।   এবারও পদক তালিকায় অনেক এগিয়ে চীন। ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৪৩টি সোনা, ৬২টি রুপা ও ৪৯টি ব্রোঞ্জসহ তাদের মোট পদক ২৫৪টি।   শিনহুয়ার সাংবাদিক গাও পেংয়ের মতে, চীনের ক্রীড়া সাফল্যের পেছনে অবকাঠামোয় সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিবার, স্কুল ও ফেডারেশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক তরুণ এখন পরিবারের সহায়তায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, আবার প্রতিভাবানদের পরবর্তী সময়ে ফেডারেশন পেশাদার প্রশিক্ষণ, কোচিং ও চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছে।   মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্কেটবোর্ড হাতে নেওয়া শিকিও পরিবার ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসে এবার এশিয়ান গেমসের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন। তার মতো নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেটরাই চীনের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
উল্টো পথে এসে সার্জেন্টের সঙ্গে লেডি বাইকারের চোটপাট, ৭ দিনের কারাদণ্ড

রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে (পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে) উল্টো পথে আসা মোটরসাইকেল থামাতে গিয়ে দুই আরোহীর অসদাচরণের শিকার হয়েছেন কর্তব্যরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। ওই দুই মোটরসাইকেল আরোহী হলেন- মোসা. স্বপ্না (২৭), যিনি সামাজিক যোগামাধ্যমে লেডি বাইকার নামে পরিচিত। সাজাপ্রাপ্ত অপরজন তার স্বামী মাহফুজুর রহমান।   ট্রাফিক বাড্ডা জোন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ৪টার দিকে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের একটি পয়েন্ট দিয়ে ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন ওই দুই আরোহী। এ সময় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তাদের মোটরসাইকেল থামানোর সংকেত দেন। মোটরসাইকেলটি থামানোর পর সার্জেন্ট উল্টো পথে চলাচলের কারণ জানতে চান এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন।   এ সময় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী কর্তব্যরত সার্জেন্টের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাদের সার্জেন্টের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের নারী আরোহী সার্জেন্টের সঙ্গে উত্তেজিতভাবে কথা বলেন এবং তাকে লক্ষ্য করে তেড়ে যাওয়ার মতো আচরণ করেন। এতে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্টকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।   সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে প্রকাশ্য সড়কে অসদাচরণ ও তাকে হেনস্তা করার অভিযোগে পরবর্তী সময়ে ওই দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   ঘটনাটি নিশ্চিত করে পুলিশ সদরদপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে শালীন আচরণ নিশ্চিত করতে ডিএমপি নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান কিংবা দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে অসদাচরণের মতো ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি : রয়টার্স
রুশ বিমান হামলায় ইউক্রেনে শিশুসহ নিহত ৩, আহত ৭

রাশিয়ার বিমান হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় বুধবার ভোরে শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো সাতজন। কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।   রয়টার্স জানায়, কিয়েভ নগর সামরিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে হামলায় দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো বলেছেন, হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যক্তিগত বাড়ি, একটি দোকান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।     রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে লিখেছেন, এলাকাটিতে রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একটি শিশু নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় অবকাঠামো, বাড়িঘর, গুদাম ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য রোমানিয়া ও পোল্যান্ড রাশিয়ার ইউক্রেন হামলার মধ্যে নিজেদের আকাশসীমা রক্ষায় সামরিক যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে।         প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে ব্যক্তিগত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অঞ্চলটি তেল উৎপাদন ও পরিশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এটি মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বে সড়কপথে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে-তে এ তথ্য জানিয়েছেন।     রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরাক থেকে সর্বশেষ সেনাসদস্যও প্রত্যাহার করল ইতালি

ইরাক থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে ইতালি। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ইতালির ১২ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান হলো। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   এর আগে গত মার্চে ইরাক থেকে বেশিরভাগ সেনা ও সামরিক সদস্য প্রত্যাহার করে নেয় রোম। কুর্দিস্তান অঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে রাতভর বিমান হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   ইতালীয় সেনারা ইসলামিক স্টেট বা দায়েশবিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’-এ অংশ নিয়েছিল। পাশাপাশি তারা ন্যাটোর মিশন ইরাকের অধীনেও কাজ করেছে। ন্যাটোর এই মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ পরিচালনা নয়, বরং ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে পরামর্শ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।   ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতালি ও ন্যাটোর সেনারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।   ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকের নিজস্ব নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি ইরাকি কর্তৃপক্ষের হাতে যাওয়ার একটি নতুন পর্যায় শুরু হলো।   তবে ইরাকে ইতালির উপস্থিতি পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইইউএএম ইরাক’ মিশনের অধীনে ইতালির দুই কারাবিনিয়েরি কর্মকর্তা দেশটিতে থাকবেন। ইরাকি সরকারের অনুমোদনেই এই মিশন পরিচালিত হচ্ছে।   সূত্র : আরব নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’র প্রদর্শনী বন্ধ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দীর্ঘদিন ধরে প্রদর্শিত হয়ে আসছিল দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের দুই কালজয়ী সিনেমা ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’। তবে এবার সেই প্রদর্শনী বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।     সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।     জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ও প্রশংসিত এই দুই সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও দর্শকদের একাংশ।       বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন চলচ্চিত্র দুটির পরিচালক ও প্রযোজক, বিশিষ্ট নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলও।     নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ নিয়ে একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি।     বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’র। দুটি সিনেমাই দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিভিন্ন বিভাগে স্বীকৃতি পেয়েছে।     তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘লালসালু’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ২০০১ সালে।     সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটিতে উঠে এসেছে ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কার ও গ্রামীণ সমাজের নানা বাস্তবতা। এতে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদ, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, রওশন জামিল ও মুনিরা ইউসুফ মেমীসহ দেশের একঝাঁক গুণী অভিনয়শিল্পী।       অন্যদিকে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘চিত্রা নদীর পারে’ মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। দেশভাগের অভিঘাত ও মানুষের জীবনের নানা টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটিও বাংলা চলচ্চিত্রের উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।     সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাট্যজন মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকীর আহমেদ, রওশন জামিল ও সুমিতা দেবীসহ অনেকে।   দীর্ঘদিন ধরে বিমানের যাত্রীদের জন্য প্রদর্শিত হয়ে আসা এমন দুটি প্রশংসিত সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে কী কারণে সিনেমা দুটি আর বিমানের ফ্লাইটে দেখানো হবে না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স। ফাইল ছবি
গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে বাংলাদেশ

গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স ২০২৬ এ দক্ষিণ এশিয়ার ছয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। ১৩৯টি অর্থনীতির তালিকায় ২১ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম। গতবারের তুলনায় নেপাল এক ধাপ এগিয়ে ১০৪তম অবস্থানে থাকায় আঞ্চলিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও নিচে নেমেছে।     জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘পাওয়ারিং এন্টারপ্রেনারস অ্যাট দ্য ফ্রন্টিয়ার অব সায়েন্স’ শিরোনামে গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সের ১৯তম সংস্করণ প্রকাশ করেছে।       দক্ষিণ এশিয়ায় ৪০ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে ৩৮তম অবস্থানে রয়েছে ভারত। এরপর ভুটান ৭৪তম, শ্রীলঙ্কা ৯৪তম, পাকিস্তান ৯৫তম এবং নেপাল ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে।       গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স এর সূচক অনুযায়ী, ইনোভেশন ইনপুটের তুলনায় আউটপুটে বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা ভালো। ইনোভেশন আউটপুটে বাংলাদেশের অবস্থান ৯২তম হলেও ইনপুটে ১১৫তম।     ইনপুটের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অবকাঠামোয় বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম এবং বাজার সক্ষমতায় ৯৮তম। তবে মানবসম্পদ ও গবেষণায় ১২৭তম, ব্যবসায়িক সক্ষমতায় ১২৫তম এবং প্রতিষ্ঠানে ১১৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।     আউটপুটের দুটি স্তম্ভের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি উৎপাদনে বাংলাদেশ ৯৫তম এবং সৃজনশীল উৎপাদনে ৮৭তম অবস্থানে রয়েছে।     জ্ঞান হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, উদ্ভাবনে এগোতে হলে বাংলাদেশকে আগে জ্ঞান, মানবসম্পদ, অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রতিষ্ঠান ও প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করতে হবে। তার মতে, শুরুতেই নতুন উদ্ভাবন তৈরির বদলে অন্য দেশের উদ্ভাবন স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়ার দিকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।       গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স ২০২৬ এ ৬৬ দশমিক ৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এরপর রয়েছে সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর। ৫৭ স্কোর নিয়ে দশম অবস্থানে রয়েছে চীন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রণালির মুখ থেকে সরে গেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ: দাবি আইআরজিসির

হরমুজ প্রণালিতে এতদিন যেসব মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দিয়ে বেড়াত, সেগুলো দূরে সরে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রণালির মুখ থেকে কমপক্ষে ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো।     বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনালে হোসেনইন মোহেব্বি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।       বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর পুরো হরমুজ প্রণালি এবং প্রণালির আশপাশে নিয়মিত ৩০ থেকে ৪০টি যুদ্ধজাহাজ টহল দিয়ে বেড়াত। কিন্তু সম্প্রতি এই কৌশলগত বাণিজ্যিক জলপথে কিংবা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে একটিও মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলো প্রণালির মুখ থেকে কমপক্ষে ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।     ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান হুমকিগুলো আসলে একটি দৃশ্যমান পরাজয়কে বিজয় হিসেবে তুলে ধরারই অপচেষ্টা মাত্র দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও সাংগঠনিক কাঠামো মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেই।       হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ওয়াশিংটন পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে যখন ইরান বার বার চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছে, ঠিক সে সময়েই এ বিবৃতি দিলেন আইআরজিসির মুখপাত্র।     উল্লেখ্য, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালির একপাশে ইরান এবং অপর পাশে ওমান অবস্থিত।     গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তকরাষ্ট্র ইরানে অভিযান শুরুর পর হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ জারি করে তেহরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রও।     তারপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভিত্তিতে গত ১৭ জুন ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ থেকে অবরোধ তুলে নেয় ইরান। ইরানের বন্দরগুলো থেকেও প্রহরা তুলে নেয় মার্কিন নৌবাহিনী।     কিন্তু ১৩ জুলাই ইসলামাবাদ চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় ইরান এবং হরমুজ প্রণালিতে ফের অবরোধ জারি করে।   সূত্র : এএফপি

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জেলা হাসপাতালে ১০ ও মেডিকেলে ৫০ ডায়ালিসিস মেশিন বসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দেশের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে ডায়ালিসিস মেশিন বসাবে সরকার।’     বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।       স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আবার যেসব মেশিন আনা হয়েছিল, তা ব্যবহার অযোগ্য। শুধুই টাকা ব্যয় করা হয়েছে।     তিনি জানান, এবারই প্রথম স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে সরকার।     দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কিছুটা কমবে।         এদিকে সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেশির ভাগ সময় মানুষ বুকের ব্যথাকে গ্যাসের ব্যথা ভেবে অবহেলা করে। তবে যেকোনো ধরনের বুকের ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।     হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান, তামাক, অতিরিক্ত লবণ ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন টুর্নামেন্ট ‘ডি থ্রি ট্রফি’র ৬ দলের প্রধান কোচ চূড়ান্ত হয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন টুর্নামেন্ট ডি থ্রি ট্রফির কোচ চূড়ান্ত

ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন টুর্নামেন্ট ‘ডি থ্রি ট্রফি’র ৬ দলের প্রধান কোচ চূড়ান্ত হয়েছে। দেশের সেরা কোচরাই থাকছেন ৬ ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোর কোচিংয়ে। গত রোববার নতুন এই টুর্নামেন্টের জন্য ৬ ফ্র্যাঞ্চাইজির আইকন ক্রিকেটারদের ড্রাফট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হয়েছে ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট।      টুর্নামেন্টের ওয়ালটন গ্রুপ প্রধান কোচ হিসেবে দলে ভিড়িয়েছে সাবেক ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাককে। পরে তাকে দলে নেওয়ার বিষয়ে দলটির কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম মিল্টন বলেন, ‘রাজ্জাক ভাই অবশ্যই একজন উঁচু মানের খেলোয়াড় থেকে কোচিং পেশায় এসেছেন, তুষার ইমরান ভাইও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। আমাদের কোচিং প্যানেল যথেষ্ট ব্যালেন্সড এবং শক্তিশালী।’          পরে আইকন ক্রিকেটার মিরাজকে দলে নেওয়ার কারণ জানিয়ে মিল্টন বললেন, ‘মিরাজকে নিয়ে প্ল্যান ছিল মিজান ভাইয়ের এবং আমাদের। আমরা দুইজনই মিরাজকে বলে রেখেছিলাম যে, আমরা যদি আগে ডাক পাই তোমাকে নেব। মিরাজ বলছে, ভাই, যেটা ভালো হয় আপনারা কইরেন।     এই স্পিন অলরাউন্ডারকে পেয়ে বেশ খুশি ওয়ালটন গ্রুপ, ‘এখানে হারিয়ে দেওয়ার কিছু না, বরং মিরাজ আমাদের প্ল্যানিংয়ে ছিল, মিরাজকে পেয়েছি। সেটা আমাদেরকে উজ্জীবিত এবং খুশি করেছে।’

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
১২ পদের ৯টিই শূন্য, ৫ শতাধিক ছাত্রীর পড়াশোনা ব্যাহত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র তিনজন নিয়মিত শিক্ষক দিয়ে। এর মধ্যে একজন শিক্ষক বিএড প্রশিক্ষণে রয়েছেন। অনুমোদিত ১২টি শিক্ষক পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৯টি। পরিস্থিতি সামাল দিতে চারজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনো রকমে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।     বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের দক্ষিণ শিবপুর মহল্লায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৭ সালের শেষ দিকে জাতীয়করণ করা হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ছিল ১১টি। পরে আইসিটি বিষয়ের আরও একটি শিক্ষক পদ যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে শিক্ষক পদ দাঁড়ায় ১২টি।       বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও শরীরচর্চা ও ক্রীড়া শিক্ষকসহ নিয়মিত শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। ইংরেজি বিষয়ের একজন শিক্ষক বিএড প্রশিক্ষণে থাকায় কার্যত নিয়মিত পাঠদানে শিক্ষকসংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি, বাংলা ও ধর্ম বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বাধ্য হয়ে চারজন খণ্ডকালীন অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে।       শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি কর্মচারীর সংকটও রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির অনুমোদিত চারটি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন নৈশপ্রহরী। ২০১৫ সাল থেকে অফিস সহকারী এবং ২০২১ সাল থেকে দপ্তরি পদ শূন্য রয়েছে। নেই কোনো আয়া বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী।       বিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে নির্মিত ছয়তলা ভবনটিতে বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে। অন্যান্য ভবনগুলো বোর্ড পরীক্ষার সময় ব্যবহার করা হলেও বাকি সময় পরিত্যক্ত থাকে। কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় ভবন ও এর আশপাশের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি শৌচাগারের অবস্থাও নাজুক বলে জানায় তারা।         একসময় নারী শিক্ষায় সুনাম থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকসংকট ও পাঠদানের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে ৫ শতাধিক ছাত্রী পড়াশোনা করছে।     নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী অনিকা সরকার জানায়, শিক্ষক না থাকায় উচ্চতর গণিতের ক্লাশ নিয়মিত হয় না। বিজ্ঞানাগার থাকলেও শিক্ষকসংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবহারিক কার্যক্রম হচ্ছে না।     ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম মৃধা জানায়, শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাশ ব্যাহত হয়। ঘাটতি পূরণে বাইরে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে।     ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতির অভিভাবক আব্দুল গফফার মোল্যা বলেন, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংকট দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। শিক্ষকসংকটের কারণে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না।     খণ্ডকালীন শিক্ষক বিউটি পারভীন বলেন, সারা মাস পাঠদান শেষে বিদ্যালয় থেকে সামান্য সম্মানী দেওয়া হয়। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে এই সম্মানী অত্যন্ত কম।     বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা ও ক্রীড়া শিক্ষক মাসুদুল ইসলাম বলেন, ১২ জন শিক্ষকের কাজ সামলাতে খণ্ডকালীন চারজন শিক্ষক, তিনি ও প্রধান শিক্ষকসহ মোট ছয়জনকে প্রতিদিন একাধিক পিরিয়ড নিতে হচ্ছে। একটি ক্লাশ শেষ করেই আরেকটি ক্লাশে যেতে হয়। ফলে পাঠদানের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যায় না। এতে কাঙ্ক্ষিত মানের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।       বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকান্ত চন্দ্র মণ্ডল বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এখানে যোগদানের পরই শিক্ষক-কর্মচারীর সংকটের বিষয়টি লিখিতভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালককে জানিয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ইউএনওকেও জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।     তিনি বলেন, সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয়ভাবে তহবিল সংগ্রহ করে অতিথি খণ্ডকালীন শিক্ষকদের সামান্য সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানান তিনি।     বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে জানিয়েছি। শিক্ষকসংকট নিরসনে আমার পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই শূন্য পদে শিক্ষক দেওয়া হবে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ভারতের স্পিনার শ্রী চারানি।
আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে টি-টোয়েন্টি বোলিংয়ে বিশ্বরেকর্ড চারানির

ইতিহাসের পাতায় আরও একবার নাম লেখালেন ভারতের স্পিনার শ্রী চারানি। দুই সপ্তাহ আগে ভারতের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৮০০ রেটিং পয়েন্টের মাইলফলক ছোঁয়া এই বাঁহাতি স্পিনার এবার গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড। মেয়েদের টি-টোয়েন্টিতে বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্টের মালিক এখন তিনি।       মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নারী ক্রিকেটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সেখানে টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন চারানি। সর্বশেষ হালনাগাদে তার রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে ১৮। ২২ বছর বয়সি এই স্পিনারের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৮১৭।     এর আগে টি-টোয়েন্টি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্টের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার পেসার মেগান শুটের দখলে। তার সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট ছিল ৮০৬। শুটকে ছাড়িয়ে এবার নতুন রেকর্ড গড়লেন চারানি।     চারানি ও শুটের বাইরে মেয়েদের টি-টোয়েন্টিতে আর মাত্র একজন বোলার ৮০০ রেটিং পয়েন্টের মাইলফলক ছুঁতে পেরেছেন। ইংল্যান্ডের বাঁহাতি স্পিনার সোফি এক্লেস্টোনের সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট ছিল ৮০২।     সম্প্রতি এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনা জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন চারানি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে মাত্র ১৩ রান খরচ করে ২ উইকেট নেন তিনি। পুরো আসরে তিন ম্যাচ খেলে তার শিকার ৮ উইকেট।     টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে চারানির পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের দীপ্তি শার্মা। ফাইনালে ৩ উইকেট নেওয়া এই অলরাউন্ডারের রেটিং পয়েন্ট ৭৫৪। ৭২৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন ইংল্যান্ডের সোফি এক্লেস্টোন।     এদিকে টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা পাঁচে উঠে এসেছেন ভারতের স্মৃতি মান্ধানা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে ৭৯ রানের ইনিংস খেলা এই বাঁহাতি ব্যাটার এক ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠেছেন।     ব্যাটারদের তালিকায় আগের মতোই শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি। আর অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস।        ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়েও বড় পরিবর্তন এসেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রেকর্ড ১৮২ রানের ইনিংস খেলে ব্যাটারদের তালিকায় তিন ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠেছেন ম্যাথিউস। ওয়ানডে ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে যথারীতি শীর্ষে রয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা। বোলারদের তালিকায় শীর্ষে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালানা কিং এবং অলরাউন্ডারদের মধ্যে এক নম্বরে আছেন অ্যাশলি গার্ডনার।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন মুদ্রানীতি বাংলাদেশ ব্যাংকের

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে আজ।     বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।        এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, মুখপাত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।      নতুন মুদ্রানীতিতে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে মূল্যস্ফীতি ও বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের দিকে।     কারণ দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ওপরে থাকলেও বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে। ফলে একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, অন্যদিকে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।   হকাররা জানান, সকালে সিটি করপোরেশনের লোকজন ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করতে আসেন। হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের সময় বিদ্যুতের তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে হকাররা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে তারা সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালান।   সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল পৌনে ১১টার দিকে হোপ মার্কেটের দিক থেকে কিছু আনসার সদস্য দৌড়ে মিরপুর-১৩ নম্বরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ২০ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে লাঠি ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন।   হোপ মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে একটি জায়গায় আগুন জ্বলছে। এ সময় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে পুলিশের একটি পিকআপ ঘটনাস্থলের দিকে গেলে সেটি লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। কয়েক মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।   হকাররা জানান, সেখানে বিভিন্ন মালামাল ছিল। এ সময় কয়েকশ হকার সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। সিটি করপোরেশনের দুটি গাড়িতে ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।   ঘটনাস্থলে ছবি ও ভিডিও ধারণের সময়ও বাধার মুখে পড়তে হয়। গণমাধ্যমকর্মীদেরও সেখানে বাধা দেওয়া হয়। আগুনে পোড়া গাড়ির ছবি তুলতে গেলে একজন আলোকচিত্রীকে হকাররা হামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির সঙ্গে আরো একদিন যুক্ত হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।     এর ফলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, মহানবমী উপলক্ষে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) নির্বাহী আদেশে এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে ২১ অক্টোবর (বুধবার) সাধারণ ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।       এর পরের দুদিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এর ফলে ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) থেকে ২৪ অক্টোবর (শনিবার) পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। চলতি বছর মহালয়া হবে ১০ অক্টোবর। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।     সরকারি ছুটির আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও ছুটির প্রভাব পড়বে। তবে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলন

ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর মঙ্গলবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানদের নিয়ে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মার্কিন কূটনীতিকরা অংশ নেন।     ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, সম্মেলনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কার্যক্রম, আঞ্চলিক অগ্রাধিকার এবং নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে কূটনৈতিক সহকর্মীদের স্বাগত জানিয়ে সার্জিও গোর লেখেন, ভারতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সব মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে একসঙ্গে পেয়ে তিনি আনন্দিত। সার্জিও গোরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর অধীনে থাকা ১১টি দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানরা অংশ নেন। দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান,  শ্রীলঙ্কা, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান।     সম্মেলনে অংশ নেওয়া কূটনীতিকরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করেন। বিশেষ করে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সম্মেলনে যুক্ত হন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন।   রুবিও বলেন, ভারতে অনুষ্ঠিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি সম্মেলনের আয়োজনের জন্য সার্জিও গোরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১১ দেশে দায়িত্ব পালন করা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। রুবিও আরো বলেন, এসব মার্কিন কূটনীতিক যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে কাজ করছেন।       এর আগে সোমবার ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসর সফর করেন সার্জিও গোর।     সেখানে তিনি শিখদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান স্বর্ণমন্দির পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া তিনি জালিয়ানওয়ালাবাগ ও দেশভাগ জাদুঘরও ঘুরে দেখেন। সফরের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশ করে গোর বলেন, অমৃতসরে স্বর্ণমন্দির, জালিয়ানওয়ালাবাগ ও দেশভাগ জাদুঘর পরিদর্শনের দিনটি তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকা সফরের অংশ হিসেবে তিনি অমৃতসরে যান। এর আগে গোর ভারতের শ্রীনগর ও লেহও সফর করেছেন। ভারতের রাজস্থান সফরের সময় সার্জিও গোর দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’র দ্বিতীয় পর্বও তিনি দেখেন। রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে গোর জানান, সেখানে ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা একসঙ্গে এই মহড়ায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। দুই দেশের সেনাদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিতে দেখার জন্য তিনি আগ্রহী ছিলেন। পরে মহড়ায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে গোর বলেন, মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে মার্কিন ও ভারতীয় সেনাদের একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে দেখে তিনি সন্তুষ্ট।       তার ভাষ্য, এই মহড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব, পারস্পরিক আস্থা, প্রস্তুতি এবং একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাকে তুলে ধরে। মার্কিন ও ভারতীয় সেনারা যৌথভাবে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক ভারত সফরে কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও সামরিক কার্যক্রম পরিদর্শনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪০১

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ২৬টি মামলা করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২৪ জন, লালবাগে ৩৪, ওয়ারীতে ৫১, মতিঝিলে ৬৮, তেজগাঁওয়ে ৭৪, মিরপুরে ৭১, গুলশানে ৩৬, উত্তরা বিভাগে ৪২ এবং গোয়েন্দা বিভাগে একজন রয়েছেন। অভিযানের সময় ১টি তলোয়ার, ১টি চাপাতি, ১টি রডের মাথায় সংযুক্ত ধারালো গোলাকৃতির চাকতি, ১টি রড, ৯৫ পিস ইয়াবা, ৭০ গ্রাম হেরোইন, ৬৬৮ গ্রাম গাঁজা ও ১টি প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়।   রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আজই শেষ হচ্ছে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে করছাড় পাওয়ার সময়

ইনকাম ট্যাক্স বা বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিয়ে করছাড় পাওয়ার সময় শেষ হচ্ছে আজ।      বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) আজকের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে যত টাকা কর দিতে হবে, তার ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা করছাড় পাওয়া যাবে।   চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নতুন এই নিয়ম করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।     যেভাবে পাওয়া যাচ্ছে এই সুবিধা যদি কারো গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত করযোগ্য আয় ৭ লাখ টাকা হয়; তবে তার প্রথম চার লাখ টাকার ওপর কোনো কর নেই।     বাকি তিন লাখ টাকার ওপর তার কর হলো ১০ শতাংশ হারে প্রযোজ্য ট্যাক্স দিতে হবে। রিটার্ন জমার সময় তাকে এই কর পরিশোধ করতে হয়।     সে যদি আজকের (বুধবারের) মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়, তাহলে সে ছাড় পাবে তার প্রদেয় করের ৫ শতাংশ। অর্থাৎ সে ১ হাজার ৫০০ টাকা করছাড় পাবে। তখন করছাড় বাদ দিয়ে তার কর পরিশোধ করতে হবে ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা।   কারা ছাড় পাবেন না নতুন নিয়মে শুধু রিটার্ন জমার সময় প্রদেয় করের ওপর করছাড় মিলবে।   কিন্তু সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তোলার সময় যে অগ্রিম কর কেটে রাখা হয়েছে; ব্যাংক থেকে এফডিআরের মুনাফা তোলার সময় যে উৎসে কর কেটে রাখা হয়েছে—এমন করের ওপর করছাড় মিলবে না। এমনকি বেতন-ভাতার ওপর প্রতি মাসে যে অগ্রিম কর দিয়ে এসেছেন, তাতেও করছাড় পাওয়া যাবে না।     সহজ কথায় বলা যায়, কেউ সারা বছরজুড়ে যেসব অগ্রিম বা উৎসে কর দিয়ে এসেছেন, তা রিটার্ন জমার সময় বাদ দিয়ে নিট যে কর দেবেন, কেবল তার ওপরই এই করছাড় পাওয়া যাবে।     তবে যারা নিয়ম মেনে সারা বছর কর দিয়েছেন—তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট করদাতারা।     করছাড়, নির্দিষ্ট সময়ে পর শাস্তি চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা (যা কম) ছাড় পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন দিলে কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।     আর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের অতিরিক্ত ২ শতাংশ বা সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বা সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে। ছবি : সংগৃহীত
আকাশসীমা নিয়ে জটিলতা: রূপপুরের জ্বালানি ফ্লাইট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে আনা পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি কেন দেওয়া হয়নি তার কারণ ব্যাখ্যা করেছে পাকিস্তান। বিষয়টিকে ‘কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত’ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই’র এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আলোচনার সৃষ্টি হলে পাকিস্তানের তরফে এ ব্যাখ্যা এল। খবর এএনআইয়ের।     মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন জানিয়েছে, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের সব অনুমতির আবেদন তারা নির্ধারিত নিয়ম ও বেসামরিক বিমান চলাচল প্রোটোকল অনুযায়ী প্রক্রিয়া করে।       পাকিস্তান হাইকমিশন বলেছে, ‘প্রতিবেদনগুলোতে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তা ফ্লাইট রুট নির্ধারণ ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির সঙ্গে সম্পর্কিত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থাপনার বিষয় বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে, যার ফলে কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়।’       বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে হাইকমিশন আরও বলেছে, পাকিস্তান দুই দেশের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই বিষয়টিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বয়ানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।       এর আগে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে পাঠানো ইউরেনিয়াম জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি পৌঁছায়নি।       বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এএনআইকে বলেন, ‘আমরা শুনেছিলাম, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, তার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।’   তিনি জানান, রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে।       বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও এএনআইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে জ্বালানি গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা তাদের জানান, আকাশসীমা পরিষ্কার নয়। ফলে চালানটি পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং নতুন করে সময় নির্ধারণ করতে হতে পারে।     রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটিতে রোসাটম কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।     প্রকল্পটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।       এর আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে। রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বহনকারী রুশ কার্গো বিমান সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।       পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষ বিকিরণ-নিরাপদ কনটেইনারে করে এসব জ্বালানি সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় ‘গ্রিন করিডোর’ দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি হস্তান্তর শুরু হয়েছিল।   সূত্র : এএনআই

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রকল্পের অর্থ থেকে নিয়ে জ্বালানি আমদানি চালিয়েছে বিপিসি

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটের মধ্যেও জ্বালানি তেল আমদানি চালিয়ে নিতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট বা ইআরএল-২সহ বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাবে রাখা ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।   জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির প্রথম বৈঠকে মঙ্গলবার উপস্থাপনের জন্য তৈরি বিপিসির কার্যপত্রে জ্বালানি তেল কেনায় এই টাকা ব্যবহারের তথ্য দেওয়া হয়। কার্যপত্রে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ রাখতে মার্চ থেকে অগাস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইআরএল-২ সহ বিভিন্ন প্রকল্প খাত থেকে এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলে গত সাত মাস জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে বিপিসি।   এমন পরিস্থিতিতে যেসব প্রকল্পের হিসাব থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কাজে এর প্রভাব পড়বে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে বিপিসি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলছেন, এই অর্থ বিপিসির নিজস্ব। বিভিন্ন প্রকল্পে কখন কত টাকা প্রয়োজন হবে, সেই হিসাব করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এতে প্রকল্পগুলোর কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বিভিন্ন প্রকল্পের হিসাবে রাখা অর্থ বিপিসিরই। প্রকল্পগুলোতে চলতি ও আগামী অর্থবছরে কখন কত টাকা লাগবে, সেই প্রয়োজন বিবেচনা করে অর্থ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে অর্থ নেওয়া হয়নি।”   লোকসানের মধ্যেও জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখা এখন বিপিসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বর্ণনা করে তিনি দাবি করেন, প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনের সময় অর্থের ব্যবস্থা করা হবে।   ছয় মাসে লোকসান ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই মাসের তেলের মূল্যের সমপরিমাণ ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। তবে ভর্তুকি মূল্যে তেল বিক্রির কারণে বিপিসির চলতি মূলধন কমে গেছে।   সংস্থাটির হিসাবে, মার্চ থেকে অগাস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।   এই লোকসানের বড় অংশ ডিজেল থেকে এসেছে তথ্য দিয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, “দেশে ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ৬৫ শতাংশ ডিজেল। কার্যপত্র তৈরির সময়কার আন্তর্জাতিক বাজারদর ও ডলারের বিনিময় হার ধরে প্রতি লিটার ডিজেলের ব্যয় প্রায় ২০৫ টাকা পড়ছিল। তখন দেশে ডিজেল বিক্রি হচ্ছিল লিটারে ১১৫ টাকায়।”   বিপিসির কার্যপত্র অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৮৬ ডলার। মার্চে তা বেড়ে ১৮৬ দশমিক ৫৯ ডলার হয়। এপ্রিলে ডিজেলের সর্বোচ্চ দাম ব্যারেল প্রতি ২৮৪ দশমিক ৯৫ ডলারে উঠেছিল। সেপ্টেম্বরে কার্যপত্র তৈরির সময় পর্যন্ত গড় দাম ছিল ১৬৫ দশমিক ৮২ ডলার।   সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর ডিজেলের যে দামে খরচ উঠে আসে, সেই পর্যায়ে ব্যারেল প্রতি মূল্য হতে হবে ১১০ ডলার। ফলে বর্তমান মূল্যেও বিপিসির লোকসান হচ্ছে।   পাঁচ মাস দাম বাড়ায়নি সরকার দেশে ২০২৪ সালের মার্চে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু হয়। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম সমন্বয় করা হচ্ছিল। বিপিসির কার্যপত্রে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বাড়লেও জনস্বার্থে প্রায় পাঁচ মাস স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি অনুযায়ী দেশে দাম বাড়ানো হয়নি।   এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। পরে ১ জুন কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা করা হয়। ডিজেল রাখা হয় ১১৫ টাকায়। সবশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। এখন ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।   বিপিসি কার্যপত্রে বলেছে, লোকসান কমানোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমাতে সর্বশেষ দাম বাড়ানো হয়েছে।   তবে পাচারের পরিমাণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে কি না প্রশ্নে রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, বিপিসি সুনির্দিষ্টভাবে পাচারের পরিমাণ চিহ্নিত করতে পারেনি।   দুই দেশের জ্বালানি তেলের দামের ব্যবধানের কারণে পাচারের ঝুঁকি ছিল এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে এ ধরনের তথ্য পাওয়ার কথা জানান তিনি। সেই ঝুঁকিও দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য দেন বিপিসি চেয়ারম্যান।   দাম বাড়তেই সংকট কাটল কীভাবে, জানতে চায় কমিটি এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ নিয়ে মঙ্গলবারের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সংকটের সময় এবং পরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা একই থাকার পরও শুধু দাম বাড়ানোর ফলে কীভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি।   যদিও বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, “এটি কমিটির প্রথম বৈঠক হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। মূলত বিপিসি ও এর কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম, বর্তমান প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”   বৈঠকে দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, সংরক্ষণ সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রস্তুতির বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে দিতে বিপিসিকে সুপারিশ করা হয়। জনগণের জন্য জ্বালানির দাম সহনীয় রাখতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরির সুপারিশও করেছে কমিটি।   মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে নেওয়ার পরিকল্পনা বর্তমানে বিপিসি ও এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর ৬৪টি ডিপো ও স্থাপনায় ১৬ লাখ ২৭৩ টন জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা রয়েছে। বিপিসির হিসাবে, এই সক্ষমতায় পণ্য ভেদে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের জ্বালানি নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব। এই মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও কার্যপত্রে বলা হয়েছে।   এ জন্য কত বিনিয়োগ লাগবে প্রশ্নে রফিকুল ইসলাম বলেন, “মোট বিনিয়োগের অঙ্ক এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। বিপিসি কেন্দ্রীয়ভাবে সব অবকাঠামো নির্মাণ করবে না। আওতাধীন কোম্পানিগুলো নিজেদের বাজেটে মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। সব কোম্পানির পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে কত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা পরে নির্ধারণ করা হবে।”   এ বিষয়ে পরবর্তী পর্যায়ে সংসদীয় কমিটিকেও তথ্য দেওয়া হবে বলে জানান বিপিসি চেয়ারম্যান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

অবশেষে প্রকাশ পেল মেসির শেষ ম্যাচের বিশেষ জার্সির ছবি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬