মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে গেছে দর্শনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে হাসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধার করা ১১ জনকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এছাড়া ৫ জনকে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় নিহত একজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার নাম রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত ১৬ জন হলেন—হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) ও বোরহান উদ্দিন (৫৫)। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ডামুরহুদা ও কাপাসডাঙ্গায়। এছাড়া মেহেরপুরের মুজিবনগর, ঝিনাইদহের মহেশপুর, ঢাকার আফতাবনগর এবং মাগুরা সদরের বাসিন্দাও রয়েছেন।
বিসিবির সাবেক পরিচালক ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর মগবাজারে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, এই হামলা আসিফ আকবর অক্ষত রয়েছেন। সেই সঙ্গে এই হামলার ঘটনায় দুর্বৃত্তদের পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে এই হামলার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কিংবা পেশাগত কোনো বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংগীতাঙ্গনের পাশাপাশি ক্রিকেট অঙ্গনেও পরিচিত মুখ আসিফ আকবর। বিসিবির সাবেক পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকার মাদক স্পটে এবার পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি জানায়, দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো– শামসুল হক, মো. ইকবাল হোসেন জিহাদ, আরাফাত হোসেন শামীম, মো. আব্দুল্লাহ রাহুল, মোহাম্মদ হোসেন, সাইমুর, ইমন, অভি, মো. রাফিন, জুনায়েদ হোসেন, মো. সাইদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মো. ইমরান আরাফাত, মো. মারুফ হোসেন, সাহিদুর, মো. উজ্জল, মো. রবিন, মো. মাসুদ, মো. দুলু, ফরিদ বেপারী, মো. জনি, কবির, ইউসুফ, মো. আল রাব্বি, মো. শুভ, মো. শাওন, মো. সেন্টু মিয়া ও একজন শিশু। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে একাধিক অভিযানের পরও স্পটটিতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছিল। পরে শুক্রবার বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে সেখান থেকে ২৮ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে এই স্পটেই গত শনিবার অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত রোববার ইশরাক হোসেনকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেন পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর স্পটটিতে দুই দফায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, বারান্দা, ছাদ, শৌচাগার ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখাসহ কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় এসব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় বিষয়টিকে অতীব জরুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুর বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, সার্বিক শৃঙ্খলা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হক স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে
তিন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একের পর এক সিদ্ধান্ত দেশটির নির্বাচনী রাজনীতিতে ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এবারের নির্বাচনী চক্রে আদালতের ভূমিকা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। বিষয়টি নিয়ে এ সপ্তাহে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এলেনা কাগান। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় রিপাবলিকানরা সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় বেশি সুবিধা পেয়েছেন। কংগ্রেসের নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং নির্বাচনী প্রচারে অর্থব্যয়ের বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে আদালতের রায়গুলো এর মধ্যে রয়েছে। তবে এসব আইনি সাফল্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলকে কতটা সাহায্য করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করতে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিটি কক্ষে নিট চারটি করে আসন বাড়াতে হবে। দুই কক্ষের যে কোনো একটির নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে কংগ্রেসীয় তদন্তের পথও খুলে যেতে পারে। গত বছর ও চলতি বছরে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকটি রায় জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনী আসনের মানচিত্র রিপাবলিকানদের জন্য তুলনামূলক অনুকূল করতে সহায়তা করেছে। তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরাও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে ৬-৩ অনুপাতে। রক্ষণশীল বিচারপতিদের সমর্থনে দেওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায় রিপাবলিকানদের সুবিধা দিয়েছে। এপ্রিলে আদালত ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান কার্যত দুর্বল করে দেন। জাতিগত বৈষম্য থেকে ভোটারদের সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। এরপর জুনে আদালত দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা নির্বাচনী প্রচারে অর্থব্যয়ের সীমাবদ্ধতা বাতিল করেন। তবে গত মাসে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার ট্রাম্প-সমর্থিত একটি উদ্যোগ নাকচ করে দেয় আদালত। ডেমোক্র্যাট ভোটাররা তুলনামূলক বেশি ডাকযোগে ভোট দিয়ে থাকেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানিয়েছিলেন আদালতের সবচেয়ে রক্ষণশীল দুই বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটো। ভার্জিনিয়ার জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক ইলিয়া সোমিনের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী মামলাগুলোর রায়ে রিপাবলিকানরা সামগ্রিকভাবে সুবিধা পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল বিচারিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটেছে। এবারের নির্বাচনী চক্রে মামলার সংখ্যা নিয়েও মন্তব্য করেছেন সোমিন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বলে তাঁর মনে হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে প্রতিযোগিতা জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ তুলে নির্বাচনী আসনের সীমানা চ্যালেঞ্জ করা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দ্রুত প্রতিনিধি পরিষদের এমন আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণে উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা সাধারণত ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করে থাকেন। সুপ্রিম কোর্টের অন্য কয়েকটি রায়ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থে কাজ করছে। মূলত নির্বাচনী আসনের সীমানা নির্ধারণের পথ খুলে দিয়েছে। এর ফলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে নজিরবিহীন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গত বছর ট্রাম্প রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যগুলোকে বিদ্যমান কংগ্রেসীয় আসনের সীমানা নতুন করে নির্ধারণের আহ্বান জানান। তাঁর লক্ষ্য ছিল, এমনভাবে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে আরও বেশি আসন পেতে পারে। টেক্সাস প্রথমে এই উদ্যোগ নেয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট নতুন নির্বাচনী মানচিত্র কার্যকর রাখার অনুমতি দেন। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দশকের শুরুতে জনসংখ্যার পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভা নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে মার্কিন আদমশুমারির তথ্য ব্যবহার করা হয়। তবে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য দশক শেষ হওয়ার আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সুপ্রিম কোর্টের তিন উদারপন্থি বিচারপতির একজন এলেনা কাগান ২০১৯ সালের একটি রায় নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন।
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে। লিগ আঁয় পিএসজি ও অলিম্পিক লিওঁর ম্যাচটি রোববার থেকে সরিয়ে সোমবার রাতে নির্ধারণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সপ্তাহান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপের আশঙ্কায় স্থানীয় পুলিশ এই পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। পিএসজির গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচের পর থেকে পুলিশকে বিভিন্ন ধরনের অস্থিরতা সামলাতে হচ্ছে। লিগ কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ম্যাচটির তারিখ পরিবর্তনের জন্য পুলিশের করা অনুরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে। সাত ম্যাচে সমান ১৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে লিওঁ শীর্ষে ও পিএসজি দুই নম্বরে আছে। পিএসজির মাঠে আসন্ন ম্যাচটি সোমবার সরিয়ে নেওয়ায় তা লন্ডনে অনুষ্ঠেয় ব্যালন দ’র অনুষ্ঠানের সঙ্গে একই সময়ে পড়ে গেছে। ফলে পিএসজির মনোনীত খেলোয়াড়দের পক্ষে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষার মান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন ফ্রান্সের নাগরিকরা। একটি হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে প্রায় আট লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল। ইউনিয়ন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সমর্থনে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং কিছু সহিংসতা, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায়ও ঘটে। এই সপ্তাহান্তে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানীর রমনায় পুলিশের জোনাল কার্যালয়ের পাশেই একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে পুরোনো রমনা থানা এলাকায় রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের পাশে এসব বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। কীভাবে এবং কারা এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংযোগ ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ওয়েবসাইটের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট এখনো চালু করা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংযোগ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালুর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। শুক্রবার রাত ৮টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি ব্যবহারকারীদের জন্য অপ্রবেশযোগ্য ছিল। ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত একটি বার্তা দেখা যায়। এতে বলা হয়, সেবাটি বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় রয়েছে এবং শিগগিরই আবার চালু করা হবে। বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি-তে শনাক্ত হওয়া গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এসেছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ত্রুটি শনাক্ত করে। এ পরিস্থিতিতে সরকারও বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অতীতেও বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। ২০১৬ সালে হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সরিয়ে নেয়। ওই ঘটনার পর তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন। এর আগে ২০২৩ সালে সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবেলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ওয়েবভিত্তিক সেবা ৩৬ ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল।
জর্ডানে একটি গির্জায় অন্তষ্ট্যিক্রিয়া চলার সময় বন্দুকধারীদের গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন। শুক্রবার কারাক গভর্নরেটের হামুদ গ্রামের গির্জায় এ হামলায় আরও ২৮ জন আহত হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারীরা একটি গাড়িতে করে এসে গির্জায় প্রবেশ করে এবং পালিয়ে যাওয়ার আগে গুলি চালায়। সরকারের মুখপাত্র আল-মোমানি মোহাম্মদ একে জঘন্য হামলা বলে বর্ণনা করেছেন। জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, কর্তৃপক্ষ কারাককে নিশানা করে চালানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেবে। ডজন ডজন লোক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য গির্জার ভেতরে ছিল। তখন গোলাগুলি শুরু হয়। জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-মামলাকা কে এমনটাই জানিয়েছেন শোকাহতদের একজন খালেদ বুরকান। তিনি বলেন, রাইফেল এবং পিস্তল নিয়ে দুই হামলাকারী বেশ কয়েক মিনিট ধরে শোকার্তদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিবিসি-র যাচাই করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিন বন্দুকধারী রাস্তা থেকে গির্জার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হামলাকারীদের মধ্যে দুই জনকে গির্জার প্রাঙ্গণে একটি গাড়ির প্রবেশদ্বারের দিকে যেতে দেখা যায়, এরপর তারা অল্প সময়ের জন্য পিছিয়ে গিয়ে তৃতীয় একজনকে নিয়ে ফিরে আসে। তিনজনের সবার হাতেই হাতবন্দুক ছিল বলে মনে হয়েছে। হামলার পরের আলাদা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে যে, চরম গোলমালের মধ্যে মাটিতে কিছু মৃত আর আহত মানুষ পড়ে আছে। হামলার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই ঘটনার বিষয়ে শিগগিরই একটি সংবাদ ব্রিফিং দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং সরকারের মুখপাত্র আল-মোমানি জানিয়েছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন, সেখানে সব মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। এক্স - এ এক পোস্টে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লিখেছেন, কাপুরুষোচিত বা আকস্মিক কোনও হামলা জর্ডানের মানুষের ঐক্য ও মেলবন্ধনকে ভাঙতে পারবে না। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এ ধরনের যে কোনও অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জর্ডানের কারাক-এ একটি বড় খ্রিস্টান সম্প্রদায় রয়েছে। এ ধরনের হামলার ঘটনা জর্ডানে বিরল। তবে অতীতে এই দেশে প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ঘটনার প্রতিবাদে আবারও রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। ফলে পাহাড়ের পর্যটন, জনজীবন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ আজ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংর্শ্লিষ্টরা। গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর দাবি, এতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালানো হয়। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীই একতরফা গুলি চালিয়েছে। অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ হিসাবে বিভিন্ন মহল থেকে উলেখ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা গুলি চালিয়েছে এবং সহিংসতা কীভাবে শুরু হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। জনশূন্য গঙ্গারাম, শুক্রবারও চলে অবরোধ বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর সাজেক গঙ্গারাম এলাকায় জনশূন্যতা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে বাড়িঘর, দোকানপাট ছেড়ে সাধারণ মানুষজন প্রায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন বলে জানান সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা। তবে শুক্রবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সাজেক সড়কে অবরোধের ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যৌথবাহিনীর (পুলিশ ও সেনাবাহিনী) অভিযান চলছে। বন্ধ সাজেক, বড় ক্ষতিতে ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এতে পর্যটননির্ভর রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুধু পর্যটন নয়, সড়ক অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ এবং জুমের ফসল বাজারজাতকরণও ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, এখন পর্যটনের ভরা মৌসুম। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সব বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল করত, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো বন্ধ। এছাড়া খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয় সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন বন্ধ থাকায় কটেজ মালিকদের পাশাপাশি পরিবহণ খাত, স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকাও চরম সংকটে পড়েছে। একই কথা জানান সাজেক পর্যটন ভ্যালির কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা। সাজেক খুলে দিতে আলটিমেটাম পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। শক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সরকারি কলেজ গেটের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে এসে শেষ হয়। যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পর্যটন বন্ধ হলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। দ্রুত সাজেক খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, ‘আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে পর্যটকরা আতঙ্কের মধ্যে আছে। দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে আমরা বড় আন্দোলনে যাব।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অর্জন ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলোতে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাবেন। সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে প্রায় আটটি দলিল চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনা শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কতটি দলিল সই হবে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সফরকালে এসব সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলোই সই হবে।’ প্রত্যাশিত যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল এবং বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে জাপানের শিল্প-অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সংযোগ ঘটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর জাপানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে নতুন গতি সঞ্চারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলো উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত খাতগুলোতে সহযোগিতার আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে।’ অধ্যাপক চৌধুরী বলেন, কৃষি ও মৎস্য খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং গুণগত মান ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়োগদাতাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, কর্মীদের জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা।’ জাপানি বিনিয়োগ উদ্যোগে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এতে দেশীয় সরবরাহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সুফল পাবে। তিনি বলেন, ‘বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি জাপানের মাঝারি আকারের কোম্পানি ও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অংশীদারত্ব উৎসাহিত করা উচিত। এ ধরনের সহযোগিতা আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদন পদ্ধতি, মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।’ সাবেক উপাচার্য সফর শেষে একটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দেন। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, সময়সীমা এবং অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা নির্ধারণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক সই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এর দীর্ঘমেয়াদি মূল্য নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কতটা বাড়ে, তার ওপর।’ ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন। তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এ ছাড়া তিনি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিনিয়োগের সুযোগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রতিনিধি এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। প্রস্তাবিত সফরসূচিতে চিবা অঞ্চলের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার একটি টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্য সফর করবেন। প্রতিনিধিদল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জাপান যাবে। সমঝোতা স্মারক সইয়ের বাইরেও এ সফরে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, আলোচনায় চুক্তি বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়নের শর্তও আলোচনায় আসবে। ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাপানি ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সিয়াম বলেন, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অবকাঠামো সহযোগিতার এসব বিষয় অবশ্যই আলোচনায় আসবে।’ তিনি জানান, আলোচনা শুধু মেট্রোরেল প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সিয়াম বলেন, ‘আমরা সব দেশ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চাই।’ তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থায়নব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনার ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। জাপান বাংলাদেশে মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে সহায়তা করছে। ২০১৪ সালে চালু হওয়া ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ অবকাঠামো, শিল্প ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। অধ্যাপক চৌধুরী বলেন, মাতারবাড়ী ও আড়াইহাজারে অবকাঠামো বিনিয়োগের সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, স্থানীয় সরবরাহকারী এবং কর্মসংস্থানের সংযোগ ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুত জমি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পরিবহন যোগাযোগ এবং অনুমোদন পাওয়ার পূর্বানুমেয় প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে কার্যকর ব্যবসায় রূপ দিতে সহায়তা করবে।’ পররাষ্ট্র সচিব জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নও আলোচনায় স্থান পাবে। দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি দুই দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করবে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতা কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়াই এ সফরের লক্ষ্য। সূত্র: বাসস
১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় গতির লড়াইয়ে পুরুষ-নারী দুই বিভাগেই সেরা হয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেটরা। পুরুষদের ১০০ মিটারে ইমরানুর রহমান এবং নারীদের ১০০ মিটারে শিরিন আক্তার আবার জিতেছেন স্বর্ণপদক। ইংল্যান্ডপ্রবাসী ইমরানুর ১০.৫৩ সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেন। ১০.৬৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন নৌবাহিনীরই মোহাম্মদ ইসমাইল। ১০.৭৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তৃতীয় হয়েছেন সেনাবাহিনীর তারেক রহমান। নারীদের ১০০ মিটারে ১২.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন শিরিন আক্তার। যদিও ফটোফিনিশিংয়ে শিরিনের সময় দেখানো হয়েছে ১০.৭৫ সেকেন্ড। এ নিয়ে রেকর্ড ১৮ বার দেশের দ্রুততম মানবী হলেন শিরিন। গত মে মাসে নাজমুন নাহার বিউটির ১৭ বারের দ্রুততম মানবী হওয়ার রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। বিউটিকে ছাপিয়ে আজ রেকর্ডটা এককভাবে নিজের করে নিলেন। মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্বিতীয় হয়েছেন সেনাবাহিনীর শরীফা খাতুন, সময় নিয়েছেন ১২.২৩ সেকেন্ড। ১২.৩৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তৃতীয় হয়েছেন নৌবাহিনীর সুমাইয়া দেওয়ান।
চলতি মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় রাশিয়ার ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের দিকে যাচ্ছে। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডিজেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির এই চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনের কিছু বিধান স্থগিত করেছেন তিনি। পাশাপাশি ডিজেলের দাম কমাতে ইউরোপীয় দেশগুলো জরুরি মজুদ থেকে আরো জ্বালানি ছাড় না করলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকিও দিয়েছেন। এলএসইজি শিপিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ গত ২২ অক্টোবর রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় বন্দর প্রিমোরস্ক থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি কম সালফারযুক্ত ডিজেল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। আগামী ৭ নভেম্বর জাহাজটির যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যতালিকায় ভাতের উপস্থিতি প্রায় প্রতিদিনই। সকাল, দুপুর কিংবা রাত—অনেকেই তিন বেলাই ভাত খেতে অভ্যস্ত। তবে নিয়মিত তিন বেলা ভাত খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য কতটা ভালো, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে তিনবার ভাত খেলেই শরীরের ক্ষতি হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং ভাতের পরিমাণ, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে। বেশি ভাত খেলে বাড়তে পারে ওজন ভাত মূলত শর্করাজাতীয় খাবার, যা শরীরকে শক্তি জোগায়। তবে প্রতিবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভাত খেলে এবং সেই অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ না হলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রম কম হলে এবং খাবারে শাকসবজি ও প্রোটিনের তুলনায় ভাতের পরিমাণ বেশি থাকলে এ ঝুঁকি বাড়তে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব সাদা চালের ভাতে আঁশ তুলনামূলক কম থাকে। শরীর এটি দ্রুত হজম করে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করতে পারে, ফলে খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। একবারে অনেকটা ভাত খেলে এই প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণে সাদা ভাত খাওয়ার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সম্পর্কও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। তবে শুধু ভাত খাওয়ার অভ্যাস দিয়ে কারও ডায়াবেটিস হবে কি না, তা নির্ধারণ করা যায় না। খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে তিন বেলার খাবারেই যদি ভাতের পরিমাণ বেশি থাকে, তাহলে মাছ, ডিম, ডাল, শাকসবজি ও ফলের মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার জায়গা কমে যেতে পারে। এতে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় আঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু ভাতের পরিমাণ নয়, পুরো খাবারের পুষ্টিগুণের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। তাহলে কি তিন বেলা ভাত খাওয়া বন্ধ করতে হবে? সুস্থ মানুষের জন্য দিনে তিন বেলা ভাত খাওয়া নিজে থেকেই ক্ষতিকর নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং প্রতিবারের খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা। সম্ভব হলে সাদা চালের পাশাপাশি লাল চাল বা বাদামি চালের মতো অপেক্ষাকৃত আঁশসমৃদ্ধ শস্য বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে চালের ধরন অনুযায়ী পুষ্টিগুণ ও রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। সুস্থ থাকতে কী করবেন? খাবারের প্লেটে ভাতের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শাকসবজি, ডাল এবং মাছ, ডিম বা অন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। একবারে অতিরিক্ত ভাত খাওয়া এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন। ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী ভাতের পরিমাণ নির্ধারণ করতে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। অর্থাৎ বলা যায়, দিনে তিন বেলা ভাত খাওয়াই শরীর খারাপ হওয়ার মূল কারণ নয়। বরং অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত খাওয়া, খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাপন স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভাত পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত খাওয়া ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে সুস্থ থাকার কার্যকর উপায়।
তাইওয়ানকে ঘিরে এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে নিজেদের তৎপরতা বাড়াতে চীন সামুদ্রিক মিলিশিয়ার নৌযানের সঙ্গে কোস্টগার্ডের জাহাজ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে তাইওয়ানের কোস্টগার্ড। তাদের দাবি, এভাবে চীন সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার করছে। একই সঙ্গে চীনের এসব তৎপরতায় জাপান ও ফিলিপাইনের ওপরও চাপ বাড়ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের কোস্টগার্ড এ কথা জানিয়েছে। চলতি মাসে রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তাইওয়ানের মহাসাগরমুখী উপকূলের কাছে প্রথমবারের মতো চীনের একটি সামুদ্রিক মিলিশিয়া নৌযান দেখা গেছে বলে জানা যায়। ওই নৌযানটির সঙ্গে চীনের একটি কোস্টগার্ড জাহাজ ও একটি গবেষণা জাহাজও ছিল। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাইওয়ানের কোস্টগার্ড একটি টহল জাহাজ পাঠিয়ে নৌযানটিকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। তাইওয়ানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সন্দেহভাজন চীনা মাছ ধরার নৌযানটির নাম মিনফুদিংইউ ০৭৯০২। গত ১৬ আগস্ট নৌযানটি তাইওয়ানের সীমাবদ্ধ জলসীমার বাইরে প্রায় ২ দশমিক ৭ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত কাছে এসেছিল। বেড়েছে চীনের তৎপরতা তাইওয়ানের কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, গত জুন থেকে তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনের জলসীমা সংশ্লিষ্ট এলাকায় চীনের এ ধরনের তৎপরতা বেড়েছে। এর আগে জাপান ও ফিলিপাইন নিজেদের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার ঘোষণা দিয়েছিল। উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইইজেড) সংশ্লিষ্ট দেশ সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার পায়। তাইওয়ানের কোস্টগার্ড বলেছে, এ ধরনের জটিল ‘গ্রে-জোন’ তৎপরতার কারণে তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনের সামুদ্রিক নজরদারি ও পরিস্থিতি মোকাবেলার চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে এবং বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ব্যবস্থাও প্রভাবিত হতে পারে। এ বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। জাপানের কোস্টগার্ডও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ‘গ্রে-জোন’ কৌশল কী? তাইওয়ানের কোস্টগার্ডের মতে, চীনের এসব তৎপরতা বৃহত্তর ‘গ্রে-জোন’ কৌশলের অংশ। এ কৌশলে সরাসরি সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গবেষণাজাহাজ ও বেসামরিক নৌযান ব্যবহার করে সমুদ্রে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তাইওয়ানের কোস্টগার্ডের অভিযোগ, এসব অভিযান সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতিতেও সহায়তা করছে। তাদের মতে, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগ ও সরবরাহ পথ। সেখানে চীনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে চাপ আরো বাড়তে পারে। তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের ধারণা, সামরিক, আধাসামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন নৌযানকে একসঙ্গে ব্যবহার করে সম্ভাব্য সামুদ্রিক অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রেখেছে বেইজিং। তবে তাইওয়ানের সরকার চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু তাইওয়ানের জনগণের। তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের কাছে নিজেদের তৎপরতাকে চীন বারবার ‘বৈধ ও আইনসম্মত’ বলে দাবি করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, ওই এলাকাগুলো চীনের জলসীমার অন্তর্ভুক্ত। তাইপে এই অবস্থান জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। নজরদারির তালিকায় চীনা নৌযান তাইওয়ানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, মিনফুদিংইউ ০৭৯০২-কে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নজরদারির তালিকায় রাখা হয়েছে। নৌযানটির কার্যক্রমে চীনের সামুদ্রিক মিলিশিয়ার বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে তাদের মূল্যায়ন। নৌযানটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। চীনের সামুদ্রিক মিলিশিয়া ব্যবস্থা ১৯৫০-এর দশক থেকে চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় প্রশিক্ষিত ও রাষ্ট্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত কর্মীদের মাছ ধরার নৌযানে ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলোতে এসব নৌযান প্রায়ই চীনের কোস্টগার্ডের জাহাজের সঙ্গে কাজ করে। বেসামরিক নৌযানের পরিচয় বজায় রেখেই সমুদ্রে চীনের দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়া এ ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা নজরদারিসংক্রান্ত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে তাইওয়ানের অ্যাপেক্স এভিয়েশন। একটি নজরদারি ফ্লাইট থেকে পাওয়া রাডারের ছবি, ইনফ্রারেড চিত্র এবং স্বয়ংক্রিয় জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থার (এআইএস) তথ্য ব্যবহার করে সংস্থাটি ওই এলাকায় একাধিক নৌযানের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য নথিভুক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানির দাম কমাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে হওয়া এক সমঝোতার অংশ হিসেবে এবার যুক্তরাষ্ট্রমুখী হয়েছে রুশ ডিজেলের প্রথম চালান। ২০২২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। সেই নিষেধাজ্ঞার পর এই প্রথম রাশিয়ার কোনো পেট্রোলিয়াম পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, মাল্টার পতাকাবাহী ‘আজিওই ফানেন্দেস’ নামের একটি ট্যাংকার গত ২২ অক্টোবর রাশিয়ার প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে রওনা দেয়। আগামী ৭ নভেম্বর জাহাজটির যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে এর ক্রেতা বা বিক্রেতা কে, তা এখনো জানা যায়নি। চুক্তিটি সফল করতে ট্রাম্প নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কিছু নিয়ম শিথিল করেছেন। এছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের জরুরি রিজার্ভ থেকে জ্বালানি না ছাড়লে তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রথমে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পাঠাবে। এরপর নভেম্বরে ৫ লাখ টন এবং পরবর্তীতে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। ক্রেমলিনও প্রথম জাহাজটি রওনা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার পর এতদিন রাশিয়া মূলত তুরস্ক, ব্রাজিল ও আফ্রিকার দেশগুলোতে ডিজেল বিক্রি করত। তবে মার্কিন এই চুক্তির ফলে রাশিয়া তাদের ডিজেল রপ্তানির ওপর দেওয়া নিজেদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো চুক্তি চূড়ান্ত করার পর যুক্তরাষ্ট্রমুখী চালান আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা। সূর্ত্র: রয়টার্স
মূত্রথলির ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়া কিংবা প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তনকে অনেকে সাধারণ সংক্রমণ ভেবে অবহেলা করেন। অথচ এসব উপসর্গ মূত্রথলির ক্যানসারেরও লক্ষণ হতে পারে। রোগটি পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও নারীরাও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। মূত্রথলি কিডনি থেকে আসা প্রস্রাব জমা রাখে এবং পরে শরীর থেকে বের করে দেয়। মূত্রথলির টিস্যুর কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হতে শুরু করলে ক্যানসার তৈরি হতে পারে। রোগটি আশপাশের টিস্যু ও অঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হয়। মূত্রথলির ক্যানসারের ধরন মূত্রথলির ভেতরের আবরণে থাকা কোষ থেকে সাধারণত এই ক্যানসারের উৎপত্তি হয়। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ট্রানজিশনাল সেল কারসিনোমা বা ইউরোথেলিয়াল কারসিনোমা। এই ক্যানসার মূত্রথলির পাশাপাশি কিডনি ও মূত্রনালির আবরণেও হতে পারে। এ ছাড়া স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা, অ্যাডেনোকারসিনোমা, স্মল সেল কারসিনোমা ও সারকোমার মতো বিরল ধরন রয়েছে। ক্যানসার মূত্রথলির পেশিতে বা আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তার ওপর রোগের জটিলতা ও চিকিৎসা নির্ভর করে। যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন - প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়া। কখনো রক্তের কারণে প্রস্রাবের রং বদলে যেতে পারে, আবার কখনো পরীক্ষায় রক্ত ধরা পড়ে। - স্বাভাবিকের চেয়ে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। - প্রস্রাবের ধারা থেমে থেমে আসা। - প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া। রোগের মাত্রা বৃদ্ধির সময় কোমর বা পিঠে ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, পা ফুলে যাওয়া, হাড়ে ব্যথা এবং প্রস্রাব করতে না পারার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ মূত্রনালির সংক্রমণসহ অন্য রোগেও হতে পারে। তবে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কেন হয়, কারা বেশি ঝুঁকিতে মূত্রথলির ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কোষের জিনগত পরিবর্তন এর বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। ধূমপান এ রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। ধূমপায়ীদের মূত্রথলির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় অন্তত তিন গুণ বেশি। এ ছাড়া বয়স বাড়া, দীর্ঘদিন মূত্রথলিতে প্রদাহ বা সংক্রমণ, নির্দিষ্ট শিল্পকারখানার রাসায়নিকের সংস্পর্শ, আগে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নেওয়া এবং পরিবারে এ রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। ৫৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে রোগটি বেশি দেখা যায়। পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও নারীদের তুলনায় বেশি। যেভাবে শনাক্ত করা হয় রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও চিকিৎসার ইতিহাস জানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান। সিস্টোস্কোপির মাধ্যমে ক্যামেরাযুক্ত সরু নল দিয়ে মূত্রথলির ভেতর দেখা হয়। প্রয়োজনে বায়োপসির জন্য টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া প্রস্রাব পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান এবং অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষার সাহায্যে ক্যানসার শনাক্ত ও কতটা ছড়িয়েছে তা নির্ধারণ করা হয়। প্রস্রাবে ক্যানসার কোষ বা নির্দিষ্ট উপাদান আছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করা হতে পারে। চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ক্যানসারের ধরন, পর্যায়, রোগীর বয়স ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ, প্রয়োজনে মূত্রথলির অংশ বা পুরোটা অপসারণ, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি ব্যবহার করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু রোগীর ক্ষেত্রে বিসিজি থেরাপির মাধ্যমে শরীরের রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে সক্রিয় করা হয়। চিকিৎসার পরও ক্যানসার ফিরে আসতে পারে। তাই নিয়মিত ফলোআপ জরুরি। ধূমপান ত্যাগ, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে সতর্ক থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার প্রায় ৯৫ শতাংশ। তবে ক্যানসার শরীরের দূরবর্তী অঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে এই হার কমে প্রায় ১৫ শতাংশে নেমে আসে। তাই প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে বা প্রস্রাবের অভ্যাসে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে
ব্যালন ডি’অরের জমকালো আয়োজনের আগে আরেকটি ব্যক্তিগত পুরস্কার নিজের করে নিলেন হ্যারি কেইন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার দেওয়া বার্ষিক ফুটবল পুরস্কারে বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে বসতে যাচ্ছে ব্যালন ডি’অরের আসর। ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের দৌড়ে কেইন, ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকারা আলোচনায় রয়েছেন। এর আগে মার্কার পুরস্কার জয় কেইনের অর্জনের তালিকায় যোগ হলো নতুন এক সাফল্য। গত মৌসুমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের সেরা ১০০ ফুটবলারের তালিকা তৈরি করে মার্কা। সেই তালিকার ভিত্তিতেই দেওয়া হয় তাদের বার্ষিক এই পুরস্কার। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, সাবেক ফুটবলার ও কোচদের নিয়ে গঠিত জুরির ভোটে নির্ধারিত হয় বিজয়ী। এবারের আয়োজনে মনোনীত ১০০ খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ২২৬ জন ভোটার তাদের পছন্দের সেরা ১৫ জনকে বেছে নেন। ভোটের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম স্থানের জন্য ৩০ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানের জন্য ২৫ এবং তৃতীয় স্থানের জন্য ২৩ পয়েন্ট বরাদ্দ ছিল। ভোটের ফলাফলে মোট ৩৯৬২ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন কেইন। খুব কাছেই ছিলেন ইয়ামাল। বার্সেলোনা ও স্পেনের এই ফরোয়ার্ড পেয়েছেন ৩৯৩৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ মাত্র ২৫ পয়েন্টের ব্যবধানে তাকে পেছনে ফেলেছেন বায়ার্ন তারকা। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের সংগ্রহ ৩৪৪০ পয়েন্ট। এর মধ্য দিয়ে করিম বেনজেমা, আর্লিং হালান্ড, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও লামিন ইয়ামালের মতো তারকাদের পাশে নিজের নাম যুক্ত করলেন কেইন। ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে মার্কার এই পুরস্কার জয় ইংলিশ স্ট্রাইকারের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বীকৃতি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের খলিল (হেব্রন) শহরে সাম্প্রতিক হামলার পর গোটা পশ্চিম তীরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরাইলি প্রশাসন। এই ঘটনার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার দল লিকুদের সমস্ত নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করে সরাসরি ঘটনাস্থলে যান। নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার পর থেকে পুরো অঞ্চলে থমথমে ও চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার পরপরই ইসরাইলি বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করেছে। হামলার আশপাশের ফিলিস্তিনি বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের টার্গেট করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে চরম বাধা তৈরি করছে। যদিও মূল হামলার ঘটনাটি রামাল্লা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত খলিলে ঘটেছে—তা সত্ত্বেও এর সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে ফিলিস্তিনের প্রশাসনিক কেন্দ্র রামাল্লায়। নেতানিয়াহুর ঘোষিত ‘পূর্ণাঙ্গ লকডাউন’-এর আওতায় ইসরাইলি সেনাসদস্যরা রামাল্লা শহরের প্রায় প্রতিটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। হামলার খবর ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই রামাল্লায় ফিলিস্তিনিদের যাতায়াত ও চলাচলের ওপর এই কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বর্তমানে সাধারণ মানুষদের শহরে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। মূল কেন্দ্র থেকে দূরে হওয়া সত্ত্বেও রামাল্লাকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা। সূত্র: আল-জাজিরা
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় চাম্পির প্রভাবে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঝড়ের প্রভাবে দ্বীপজুড়ে প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্ধ রাখা হয়েছে আর্থিক বাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বাতিল করা হয়েছে প্রায় এক হাজার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। ঝড়ের আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ১৬৩ জন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানা শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি ঘূর্ণিঝড় চাম্পি। একপর্যায়ে এটি সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল। দুর্বল হয়ে এলেও ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ)। সিডব্লিউএর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ঝড়টির অবস্থান ছিল তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এটি শুক্রবার রাতে তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে চীনের উপকূলের দিকে উত্তরমুখী হতে পারে। পরে দক্ষিণ জাপানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে তাইওয়ানে একজনের মৃত্যু এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। এর আগে আহতের সংখ্যা ১৭১ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়। পাহাড়ি এলাকা থেকে ২ হাজার ৬৩৯ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাইপাওয়ার জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে ৭৭ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে বেশির ভাগ এলাকায় ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঝড়ের কারণে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি। তাইওয়ানের আবহাওয়াবিদ লিউ পেই-তেং রয়টার্সকে বলেন, ঝড়টি তাইওয়ানের কাছে এসে থেমে গেলে, ঘুরপাক খেলে কিংবা এদিক-ওদিক দিক পরিবর্তন করলে সরাসরি স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় ঝড়গুলোর মধ্যে চাম্পির বাতাসের বিস্তৃতি অন্যতম। ঝড়টির গতি কমে গেলে তাইওয়ানে দীর্ঘ সময় ধরে প্রবল বাতাসের প্রভাব থাকতে পারে। উপকূলীয় শহরগুলোতে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা বাতাসের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তাইপেইয়ের আশপাশসহ উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইলান কাউন্টিতে বাতাসের গতি ও বৃষ্টিপাত বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষ বালুর বস্তা বিতরণ করেছে। পাশাপাশি উভচর যান ও ফোলানো যায় এমন উদ্ধারকারী নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সুয়াও বন্দর শহরের প্রধান লি মিং-চেন বলেন, প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীকে উদ্ধারকাজে যুক্ত করা হবে। মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় উভচর যান ব্যবহার করা হতে পারে। অন্যদিকে, উত্তরের বন্দরনগরী কিলুংয়ে নৌকার মালিকেরা নিজেদের নৌযান নিরাপদে বাঁধার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক লিউ ইউ-এন বলেন, ঝড় খুব বেশি ভয়াবহ মনে না হলেও বন্যার আশঙ্কা করছেন তিনি। চলতি বছর কিলুংয়ে একাধিকবার বন্যা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাইওয়ানের আবহাওয়াবিদদের হিসাবে, চাম্পির বাতাসের বিস্তৃতি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। ফলে ঝড়টি দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকা প্রভাবিত করতে পারে। আবহাওয়াবিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে। ঝড়ের কারণে শুক্রবার তাইওয়ানের আর্থিক বাজারও বন্ধ রাখা হয়। তবে চীনের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত কিনমেন দ্বীপপুঞ্জে স্কুল ও সরকারি-বেসরকারি অফিস স্বাভাবিকভাবে খোলা ছিল। পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সব ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল হয়েছে ৭১৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে চলাচলকারী উচ্চগতির রেলসেবা স্বাভাবিক ছিল। রাজধানী তাইপেইয়ে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হলেও মেট্রোরেলসহ গণপরিবহন সীমিত পরিসরে চালু ছিল। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় তাইওয়ান সাধারণত ভালো প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। এর ফলে প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব হয়। গ্রীষ্মকালে এ ধরনের ঝড় বেশি দেখা গেলেও শরৎকালেও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি প্রথমে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ ইয়োনাগুনির ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। এরপর ঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি। সূত্র: রয়টার্স
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে অন্য কোনো দেশে পাঠানোর জন্য নিজেই সরাসরি উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোন কোন দেশ গাজাবাসীদের আশ্রয় দিতে পারে, তা নিয়ে সম্ভাব্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি গাজা উপত্যকার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণে রাখার ইচ্ছার কথাও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরাইলি একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, গাজার প্রতিটি ফিলিস্তিনির অন্য কোথাও চলে যাওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। তবে প্রধান সমস্যা হলো—তাদের গ্রহণ করতে চায় এমন দেশ খুঁজে পাওয়া। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি নিজে বেশ জোরেশোরে কাজ করছেন এবং কিছু প্রাথমিক অগ্রগতি হয়েছে, যদিও সেগুলোর বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে কোনো দেশ ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে কিনা কিংবা কোন দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে—তার কোনো পরিষ্কার তথ্য নেতানিয়াহু দেননি। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনি গাজা ছেড়েছেন এবং সুযোগ পেলে অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষই সেখান থেকে চলে যাবে। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দেন, গাজায় দখল করে রাখা ৬০ শতাংশেরও বেশি এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। এসব এলাকার সামরিক নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের হাতেই থাকবে। এর আগেও ইসরাইলের কট্টরপন্থী নেতারা ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু ফিলিস্তিন এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আরব দেশ এর তীব্র বিরোধিতা করে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘদিনের হামলায় গাজার ঘরবাড়ি ও হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গাজাবাসীদের অন্য দেশে পাঠানো হলে তা স্বেচ্ছায় যাওয়া হবে না, বরং ফিলিস্তিনিদের নিজেদের মাতৃভূমি থেকে চিরতরে তাড়িয়ে দেওয়ার শামিল হবে। সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।