স্বাস্থ্য

ছবি : সংগৃহীত
ধূমপানের ক্ষতি পুষিয়ে তুলতে সাহায্য করে যে ৫ খাবার

বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতেই ধূমপান এক ভয়ংকর আসক্তি। প্রতিদিন লাখো মানুষ ধূমপান করেন। এই ধূমপানের ধোঁয়া সরাসরি ফুসফুসে আঘাত করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা দুর্বল করে। এতে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা কিংবা ক্যানসারের মতো ভয়াবহ রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করে বলছেন, ধূমপান হলো ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু আশার কথা হলো, ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীর ধীরে ধীরে আবার সুস্থ হওয়ার সুযোগ পায়। বিশেষ করে ফুসফুসের ক্ষতি সবসময় স্থায়ী হয় না। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার পরিবর্তন শরীরকে নিজস্ব শক্তি ফিরে পেতে সহায়তা করে। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, কোনো খাবারই বছরের পর বছর ধূমপানের ক্ষতি পুরোপুরি মুছে দিতে পারে না। বরং কিছু নির্দিষ্ট খাবার প্রদাহ কমিয়ে, ফুসফুসকে পরিশুদ্ধ করে এবং শরীরের প্রাকৃতিক আরোগ্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। সম্প্রতি ভারতীয় পালমোনোলজিস্ট ডা. সোনিয়া গোয়েল এক ভিডিও বার্তায় ধূমপান-পরবর্তী ফুসফুসের যত্নে ৫টি বিশেষ খাবারের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধূমপান ছাড়াই প্রথম ধাপ, কিন্তু এরপর খাদ্যতালিকায় সঠিক খাবার যুক্ত করলে সুস্থ হওয়ার গতি বহুগুণে বেড়ে যায়। চলুন, জেনে নিই সেই ৫ খাবারের নাম ও তাদের কার্যকারিতা— ক্রুসিফেরাস সবজি ব্রোকলি, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো ক্রুসিফেরাস সবজিতে আছে সালফোরাফেন নামক যৌগ। এটি ফুসফুসের ডিটক্স এনজাইম সক্রিয় করে, যা সিগারেটের ধোঁয়ার মাধ্যমে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সাহায্য করে। বিট ও ডালিম বিট ও ডালিমে প্রচুর নাইট্রেট থাকে। এটি ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়। ধূমপায়ীদের শরীরে যে অক্সিজেন ঘাটতি তৈরি হয়, এই দুটি ফল তা কাটাতে সহায়তা করে। গ্রিন টি গ্রিন টিতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যাটেচিন। এটি ফুসফুসের প্রদাহ কমায়, পাশাপাশি সিওপিডি ও ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে। শুধু ফুসফুস নয়, গ্রিন টি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক সতেজতাতেও কার্যকর। আপেল ও সাইট্রাস ফল আপেলের কোয়েরসেটিন ও সাইট্রাস ফলে থাকা ভিটামিন সি ফুসফুসের কোষ মেরামতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এসব ফল নিয়মিত খেলে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের শ্বাসনালীর কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। হলুদ হলুদে থাকা কারকিউমিন হলো শক্তিশালী প্রদাহনাশক ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই সোনালি মসলা শ্বাসনালির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু দ্রুত মেরামতে সহায়তা করে। শেষকথা ডা. সোনিয়া গোয়েল মনে করিয়ে দেন, ফুসফুস সুস্থ রাখার প্রথম শর্ত হলো ধূমপান ত্যাগ করা। এরপর সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম ফুসফুসকে নতুন শক্তি দেয়। তাই সিগারেট ছেড়ে প্রকৃতির দান এই খাবারগুলোকে প্লেটে রাখুন, শরীরে ধীরে ধীরে ফিরবে নতুন শক্তি। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পেয়ারা খোসা সহ খেলে উপকার দ্বিগুণ! জানুন কেমন

মিষ্টি-টক স্বাদের জন্য পেয়ারার জনপ্রিয়তা সবার কাছেই। কাঁচা খাওয়া থেকে শুরু করে জুস, জ্যাম কিংবা স্মুদি—নানাভাবে পেয়ারার ব্যবহার রয়েছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ও হজমে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। তবে পেয়ারার ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে, খোসাসহ খাওয়া ভালো নাকি খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত? অনেকের মধ্যেই এ নিয়ে দ্বিধা রয়েছে—পেয়ারার খোসা কি বাড়তি উপকার দেয়, নাকি এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে? সম্প্রতি এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন ভারতীয় পুষ্টিবিদ দীপসিখা জৈন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পেয়ারার খোসাসহ খাওয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দীপসিখা জৈনের মতে, পেয়ারা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি ফল হলেও কীভাবে তা খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, খোসাসহ পেয়ারা খেলে পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও ভিটামিন সি-এর মতো অতিরিক্ত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়, যা ত্বকের গঠন উন্নত করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য পেয়ারার খোসা এড়িয়ে চলাই ভালো। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, খোসাসহ পেয়ারা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ও লিপিড প্রোফাইলের অবনতি হতে পারে। সে কারণে উচ্চ রক্তে শর্করা বা কোলেস্টেরল সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য খোসা ছাড়ানো পেয়ারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। কেন পেয়ারা ‘সুপারফ্রুট’? রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় পেয়ারা ভিটামিন সি-এর অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস, যা কমলার চেয়েও বেশি। এই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সহায়তা করে। একটি পেয়ারা থেকেই দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ হতে পারে। হজমে সহায়ক ও আঁশসমৃদ্ধ পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ, যা হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। আঁশ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে খোসা ছাড়িয়ে খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেয়ারা একটি ভালো খাদ্য হতে পারে। ত্বকের যত্নে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লাইকোপিন ও ভিটামিন এ-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ পেয়ারা ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমায় এবং বয়সের ছাপ পড়া ধীর করে। নিয়মিত পেয়ারা খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা ও গঠন উন্নত হতে পারে। হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী পেয়ারায় থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখে। ‘জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্তচাপ কমে এবং লিপিড প্রোফাইলের উন্নতি ঘটে, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক। খাদ্যতালিকায় পেয়ারা রাখার উপায় মাঝসকালের নাশতা হিসেবে টাটকা পেয়ারা খেতে পারেন ফলের সালাদে কুচি করা পেয়ারা যোগ করতে পারেন স্মুদিতে ব্লেন্ড করে পান করতে পারেন লবণ ও মরিচগুঁড়া ছিটিয়ে খেতে পারেন ডেজার্ট বা জ্যামে পেয়ারার পিউরি ব্যবহার করতে পারেন খোসাসহ হোক বা খোসা ছাড়িয়, যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন পেয়ারা একটি পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই সুপারফ্রুট রাখলে সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। সূত্র : এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কলা খাওয়ার সঠিক সময় কখন? জেনে নিন

কলা আমাদের খুব চেনা এক ফল। গ্রামে-গঞ্জে কিংবা শহরের বাজারে, বছরের সব ঋতুতেই সহজলভ্য। দামও হাতের নাগালে, খেতেও ঝামেলাহীন। তাই নাশতা, দুপুর বা বিকেল—যে কোনো সময়েই অনেকের প্লেটে জায়গা করে নেয় কলা। কিন্তু জানেন কী, এই সাধারণ ফলের ভেতরে লুকিয়ে আছে শক্তি জোগানোর ক্ষমতা, হজম ভালো রাখার গুণ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের সহায়তা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলা কখন খাচ্ছেন তার ওপরই নির্ভর করে এর উপকারিতা। ব্যায়ামের আগে, খাবারের সঙ্গে কিংবা স্ন্যাকস হিসেবে—সময় বুঝে কলা খেলে তা শরীরের জন্য হতে পারে বাড়তি আশীর্বাদ। কখন খেলে বেশি শক্তি পাওয়া যায় ব্যায়ামের আগে : ব্যায়াম করার ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে একটি কলা খেলে শরীরে দ্রুত শক্তি আসে, পেশি কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়। নাশতার সঙ্গে : দই, ওটস বা পাউরুটির সঙ্গে কলা খেলে দিনের শুরুটা হয় চাঙা, ক্লান্তি আসতে দেরি হয়। দুপুর বা বিকেলে : দুপুরের খাবারের পর বা বিকেলের ক্ষুধায় একটি কলা খেলে শক্তি ফিরে পাওয়া যায়, মনও ভালো থাকে। হজমশক্তি ভালো রাখার উপায় খাবারের সঙ্গে : নাশতা বা দুপুরের খাবারের সঙ্গে কলা খেলে ফাইবার হজমপ্রক্রিয়া সহজ করে তোলে। অপক্ব কলা : আধাপাকা বা কাঁচা কলায় থাকে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা পেটে ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায় ও হজমে সাহায্য করে। রাতে খাওয়া নিয়ে দ্বিধা : অনেকে মনে করেন রাতে কলা খেলে হজম ধীর হয়। তবে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তেমন নেই। যাদের সমস্যা হয়, তারা রাত এড়িয়ে চলতে পারেন। ওজন নিয়ন্ত্রণে কলার ভূমিকা খাবারের আগে : ভাত বা রুটি খাওয়ার আধঘণ্টা আগে একটি কলা খেলে দ্রুত পেট ভরে যায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। স্ন্যাকস হিসেবে : দুপুর ও রাতের খাবারের মাঝের সময়ে একটি কলা ক্ষুধা মেটায়, ক্যালরিও বাড়ায় না বেশি। ব্যায়ামের আগে : ব্যায়ামের আগে কলা খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি মেলে, যা পরে ক্যালরি পোড়াতে কাজে দেয়। অপক্ব কলা : এতে ফাইবার বেশি, চিনি কম। তাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও ওজন কমাতে উপকারী। পুষ্টিগুণ একটি মাঝারি আকারের কলায় থাকে প্রায় ১০৫ ক্যালরি, পাশাপাশি পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন সি ও বি৬। পাকা কলায় চিনি কিছুটা বেশি হলেও অপক্ব কলায় ফাইবার ও স্টার্চ বেশি থাকে। নাশতার সঙ্গে কিংবা ওটমিলের সঙ্গে খেলে কলার পুষ্টিগুণ আরও ভালোভাবে কাজে লাগে। সতর্কতা দিনে একটি কলাই যথেষ্ট। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে নিয়মিত কলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এ ছাড়া সীমিত পরিমাণে ও সঠিক সময়ে খেলে কলা উপকার দেবে বেশি। সূত্র : ওয়েব এমডি ও ভেরি ওয়েল হেলথ

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বারবার ঘুম ভেঙে বাথরুমে যেতে হচ্ছে? হতে পারে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত

রাতে একবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে ওঠা অনেক সময় স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু যদি এটা প্রায় প্রতিদিনই ঘটে, তাহলে বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়ার নয়। বারবার মাঝরাতে প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা একটি সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় নক্টুরিয়া। এটি শুধু ঘুম নষ্ট করে না, বরং শরীরের ভেতরে চলা কিছু সমস্যার আভাসও দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নক্টুরিয়া হতে পারে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস, বয়সজনিত পরিবর্তন বা কোনো লুকিয়ে থাকা রোগের লক্ষণ। তাই নিয়মিত রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে হলে এর সম্ভাব্য কারণগুলো জানা জরুরি। রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সম্ভাব্য কারণ সন্ধ্যার পর বেশি পানি বা পানীয় পান করা ঘুমানোর আগে বেশি পানি, চা, কফি বা অ্যালকোহল পান করলে রাতে মূত্রাশয়ে চাপ বাড়ে। বিশেষ করে চা, কফি ও অ্যালকোহল প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায় এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে মূত্রাশয়ের পরিবর্তন বয়স বাড়লে মূত্রাশয়ের ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। পাশাপাশি হরমোনের পরিবর্তনের কারণে রাতে শরীর কম পানি ধরে রাখতে পারে। ফলে অল্প প্রস্রাবের চাপেও ঘুম ভেঙে যায়। এই সমস্যা বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ডায়াবেটিস ও মূত্রনালির সমস্যা রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করতে বেশি প্রস্রাব তৈরি করে। এ ছাড়া মূত্রনালির সংক্রমণ, মূত্রাশয়ের প্রদাহ বা পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট বড় হয়ে গেলে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ তৈরি হয়। পা ফুলে যাওয়া বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা দিনের বেলায় পায়ে জমে থাকা অতিরিক্ত তরল রাতে শোয়ার সময় রক্তে ফিরে আসে। তখন কিডনি সেই তরল প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়, ফলে রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হয়। ঘুমের ব্যাধি বা স্লিপ অ্যাপনিয়া ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে। এতে কিডনির কাজের ধরন বদলে যায় এবং রাতে বেশি প্রস্রাব হতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা শরীরের ফোলা কমানোর ওষুধ (ডায়ুরেটিক) প্রস্রাব বাড়াতে পারে। এসব ওষুধ সন্ধ্যার পর খেলে রাতের সমস্যাটা আরও বাড়ে। কখন সতর্ক হবেন - যদি প্রতি রাতে একাধিকবার প্রস্রাবের জন্য উঠতে হয় - যদি এর সঙ্গে জ্বালা, ব্যথা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা ক্লান্তি থাকে - যদি ঘুমের অভাবে দিনের বেলা স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয় কী করতে পারেন - সন্ধ্যার পর পানি ও ক্যাফেইন কম পান করুন - ঘুমানোর আগে বাথরুম ব্যবহার করুন - নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করা সব সময় ভয়ংকর কিছু নয়। কিন্তু এটি যদি নিয়মিত হয়, তাহলে শরীর হয়তো আপনাকে আগেই সতর্ক করছে। সময়মতো কারণ খুঁজে ব্যবস্থা নিলে বড় সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
উচ্চ রক্তচাপ কোনো রোগ নয়, এটি একটি সতর্ক সংকেত

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার একটি সাধারণ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা। যখন রক্তনালির দেয়ালের ওপর রক্তের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন এই সমস্যা দেখা দেয়। এতে হৃদ্‌যন্ত্রকে শরীরজুড়ে রক্ত পাম্প করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহৃত হয়। তবে এসব ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন সেবন করতে হয়। এ বিষয়ে সম্প্রতি এক মার্কিন হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত দিয়ে বলেন, রক্তচাপ কমানোর ওষুধ অনেক সময় মূল সমস্যার সমাধান করে না। কেন শুধু ওষুধে সমস্যার সমাধান হয় না? বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তচাপের ওষুধ অনেক ক্ষেত্রে শুধু সংখ্যাকে কমায়, কিন্তু কেন রক্তচাপ বেড়েছে—সে মূল কারণটি দূর করে না। ফলে রক্তচাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা মৃত্যুঝুঁকি পুরোপুরি কমে না। সহজভাবে বোঝাতে বলা যায়, যদি কোনো কারণে শরীরে ব্যথা হয়, তাহলে শুধু ব্যথানাশক খেলে ব্যথা সাময়িক কমতে পারে, কিন্তু ব্যথার কারণ দূর না করলে সমস্যা থেকেই যায়। তেমনি, রক্তচাপ বাড়ার পেছনের কারণ বন্ধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চ রক্তচাপ আসলে একটি সতর্কবার্তা। শরীর আমাদের জানিয়ে দেয় যে কোথাও সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে থাকতে পারে : - অতিরিক্ত মানসিক চাপ - শরীরে প্রদাহ - রক্তনালির কার্যকারিতা কমে যাওয়া - প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি - ক্ষতিকর টক্সিনের প্রভাব - শরীরের ভেতরের সংকেত ব্যবস্থার ভারসাম্যহীনতা শুধু ওষুধ দিয়ে রক্তচাপের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করলে, এই মূল কারণগুলো অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়। রক্তচাপের সংখ্যার মানে কী? রক্তচাপ মাপা হয় মিলিমিটার পারদ (mm Hg) এককে এবং এতে দুটি সংখ্যা থাকে সিস্টোলিক চাপ (উপরের সংখ্যা): হৃদ্‌যন্ত্র সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময় ধমনিতে যে চাপ পড়ে ডায়াস্টোলিক চাপ (নিচের সংখ্যা): হৃদ্‌যন্ত্র শিথিল অবস্থায় থাকাকালীন চাপ চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানদণ্ড অনুযায়ী ১২০/৮০ mm Hg-এর নিচে: স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০–১২৯ / ৮০-এর নিচে: সামান্য বাড়তি রক্তচাপ ১৩০–১৩৯ / ৮০–৮৯: উচ্চ রক্তচাপের প্রথম ধাপ (স্টেজ ১) ১৪০/৯০ বা তার বেশি: উচ্চ রক্তচাপের দ্বিতীয় ধাপ (স্টেজ ২) ১৮০/১২০-এর বেশি: জরুরি অবস্থা, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন উচ্চ রক্তচাপকে শুধু একটি সংখ্যা বা আলাদা রোগ হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত, যা জানায়—জীবনযাপন বা স্বাস্থ্যের কোথাও সমস্যা হচ্ছে। ওষুধ অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হলেও, পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সচেতন হলে এবং কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের পর কেন ডিটক্স পানীয় জরুরি? জানুন কারণগুলো

  বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে টানা কয়েক দিন ভারি মেকআপ নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তেলযুক্ত ও মসলাদার খাবার খাওয়া হয়। যাদের মুখে সাধারণত ব্রণ দেখা যায় না, তাদের অনেকের ত্বকেও বিয়ের পর ব্রণের আগাগোনা চোখে পড়ে।  এ ছাড়া বিয়ের পর টানা বেশ কিছুদিন দাওয়াতও খেতে হয়। সে কারণে মেকআপ ও তেল-মসলাদার খাবার খাওয়া হয় অতিরিক্ত পরিমাণে। এতে মুখভর্তি হয় ব্রণ। তাই এসবের পালা চুকে গেলে ত্বক ডিটক্সিফিকেশনের কাজ শুরু করা হয়। কীভাবে করবেন, তাই ভাবছেন?  শুরুতেই বিয়ের পর টানা বেশ কয়েক দিন ভাজাভুজি এড়িয়ে চলতে হবে। আর বাড়িতে তৈরি স্যুপ, হালকা মসলায় রান্না করা মাংস ও সবজি খেতে হবে। এ ছাড়া সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। এ ক্ষেত্রে দিনে একটা ডাব খেতে পারেন। তবে সবচেয়ে কার্যকরী হচ্ছে ইনফিউজড ওয়াটার, যা ত্বক ও শরীর খুব সুন্দরভাবে ডিটক্স করে থাকে। এক লিটারের একটি কাচের বোতলে পানির ভেতর শসা, মেথি, পুদিনা, পাতিলেবু, আদা ফেলে সারারাত রেখে দিন। পর দিন পুরো সময় এ পানি অল্প অল্প করে পান করুন।  এ ছাড়া মৌসুমি ফল দিয়েও ফ্রুট ইনফিউজড ওয়াটার তৈরি করা যায়। ফল গোল করে কেটে পানিতে ভিজিয়ে রেখে একটু পরপর ছোট কাপে করে পান করুন। আবার ত্বক ভালো ও উজ্জ্বল রাখার জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ভিটামিন এ, বি, ডি এবং জিংকযুক্ত খাবাার রাখতে পারেন। এতে আপনার ত্বকই উজ্জ্বল থাকবে না, আপনার শরীরও সুস্থ থাকবে।  

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চেহারায় বয়সের ছাপ ঢাকতে চান? ভরসা রাখুন এই ৪ খাবারে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের কোষগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যায়।  অনেকেই অল্প বয়সে ত্বকে বলিরেখা, দাগছোপ ও শুষ্কতা  নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন।  এর পেছনে দায়ী অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, দূষণ, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব এবং ত্বকের অযত্ন।  এসব কারণ মিলিয়ে শরীরে বাড়ে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, যা ত্বকের কোষকে দ্রুত ক্ষয় করে বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করে। বয়স বাড়লে ত্বকে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক।  কিন্তু বয়সের আগেই যদি সেই লক্ষণ স্পষ্ট হয়, তাহলে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।  সুখবর হলো, এর জন্য দামী স্কিন কেয়ার বা কসমেটিক ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন নেই।  বরং প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কিছু উপকারী উপাদান যোগ করলেই বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে ধীর করা সম্ভব। আমলকি উপমহাদেশে ডায়েটে যুগ যুগ ধরে আমলকির ব্যবহার রয়েছে।  ভিটামিন সি-তে পরিপূর্ণ এই ফল ভিটামিন সি ত্বকে কোলাজেন গঠনে সাহায্য করে।  এ ছাড়া আমলকিতে পলিফেনল রয়েছে, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং প্রদাহ প্রতিরোধ করে।  ত্বকের সমস্যার পাশাপাশি আমলকি অন্ত্র, লিভার, জয়েন্ট সহ একাধিক অঙ্গের সমস্যা কমিয়ে দেয়। বেরিজাতীয় ফল আমলকির পাশাপাশি ব্লুবেরি, র্যাশবেরি, ব্ল্যাকবেরির মতো ফলও খেতে হবে। বেরিজাতীয় ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হয়।  এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং ত্বকও ভালো থাকে।  এ ছাড়া ব্রেন ও হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করে মেটাবলিক ডিসঅর্ডার থেকে বলিরেখা, যাবতীয় সমস্যা কমিয়ে দেয় বেরিজাতীয় ফল। আখরোট শরীরে ক্রনিক প্রদাহ তৈরি হলে ত্বকেও তার প্রভাব পড়ে, ত্বকের সমস্যা বাড়তেই থাকে।  প্রদাহ কমানোর জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর আখরোট খেতে পারেন।  আখরোট হার্ট ও ব্রেনের পাশাপাশি মেটাবলিক স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখে।  এটি কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে।  হলুদ ত্বকের সমস্যা কমাতে শুধু হলুদ মাখলে চলবে না, নিয়ম করে খেতেও হবে।  হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন যৌগ, শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের কাজ করে।  রোজ হলুদ খেলে ক্রনিক অসুখের ঝুকি সহজেই এড়ানো যায়।  যে কোনও খাবারের সঙ্গে হলুদ ও গোলমরিচ খেতে পারেন।  এটি জয়েন্টের ব্যথা-যন্ত্রণা কমিয়ে লিভারের কার্যকারিতা সচল রাখে, বিপাক হার বাড়ায় এবং ত্বকের যত্ন নেয়।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কীভাবে শরীর নিজে থেকেই ডিটক্স হয় জেনে নিন

আমাদের শরীর নিজে থেকেই ক্ষতিকর পদার্থ বা বর্জ্য পরিষ্কার করার শক্তিশালী ব্যবস্থা রাখে। কিন্তু উৎসবের সময় অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া, কম ঘুম বা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে অনেকেই মনে করেন শরীর ডিটক্স করা দরকার। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ডিটক্স ডায়েট, জুস ফাস্ট বা বিশেষ পানীয় জনপ্রিয় হলেও গবেষণায় দেখা গেছে—এসব পদ্ধতির বেশিরভাগেরই শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করার কার্যকর প্রমাণ নেই। বরং শরীরের লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও মস্তিষ্ক প্রতিদিনই স্বাভাবিকভাবে এই কাজ করে থাকে। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলোকে আরও ভালোভাবে সহায়তা করা যায়। বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খান বেশিরভাগ মানুষই প্রয়োজনের তুলনায় কম আঁশ (ফাইবার) খান। অথচ আঁশ শরীর পরিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আঁশ মূলত পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, অন্ত্রে ক্ষতিকর পদার্থ জমে থাকার সময় কমায়, কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, আঁশ কিছু ভারী ধাতু ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ শরীর থেকে বের হতে সাহায্য করতে পারে। কী খাবেন: শাকসবজি, ডাল, ছোলা, মসুর, মটরশুঁটি, পালং শাক, ফল (আপেল, পেয়ারা), ওটস, লাল চাল, আটা রুটি, বাদাম ও বীজ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডাল-ভাতের সঙ্গে শাকসবজি যোগ করলেই আঁশের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়। পর্যাপ্ত পানি পান করুন পানি শরীরের বর্জ্য বের করার অন্যতম প্রধান উপাদান। কিডনি ও লিভার ঠিকভাবে কাজ করতে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। পানি কম পান করলে: শরীরে বর্জ্য জমতে পারে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সাধারণভাবে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লিটার পানি বেশিরভাগ মানুষের জন্য যথেষ্ট। চা, কফি, ডাল, ফল ও শাকসবজি থেকেও শরীর পানি পায়। ফুসফুসকে সুস্থ রাখুন কিছু পণ্য দাবি করে কয়েক দিনে ফুসফুস পরিষ্কার করে দেবে—বিশেষজ্ঞরা এসব দাবি থেকে সতর্ক থাকতে বলেন। ফুসফুস ভালো রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো— ধূমপান ও ভ্যাপিং বন্ধ করা ধোঁয়া ও দূষণ এড়িয়ে চলা ঘরের ভেতরে অতিরিক্ত সুগন্ধি স্প্রে বা কেমিক্যাল ব্যবহার না করা নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন ঘুমের সময় মস্তিষ্ক নিজেকে পরিষ্কার করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর সময় বিশেষ তরল মস্তিষ্কের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ক্ষতিকর প্রোটিন ও বর্জ্য দূর করে। ঘুম কম হলে—মনোযোগ কমে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয় ও দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তির ক্ষতি হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন, যদিও এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম করুন নেকে মনে করেন ঘাম দিয়ে বিষ বের হয়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে—ঘাম মূলত শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য, বিষ বের করার জন্য নয়। ব্যায়াম আসলে - লিভার ও কিডনিতে রক্ত চলাচল বাড়ায় - শরীরের চর্বি কমাতে সাহায্য করে - বর্জ্য পরিশোধনের ক্ষমতা বাড়ায় - হাঁটা, সাঁতার, সাইকেল চালানো, হালকা দৌড়, এমনকি গৃহস্থালি কাজও উপকারী। নিয়মিত নড়াচড়া করাই মূল কথা। শরীরকে ডিটক্স করার জন্য ব্যয়বহুল ডায়েট বা চমকপ্রদ পণ্যের প্রয়োজন নেই। আমাদের শরীর নিজেই অত্যন্ত দক্ষভাবে এই কাজ করে থাকে। আঁশযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত পানি, পরিষ্কার বাতাস, ভালো ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম—এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই শরীরকে সুস্থ ও পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। স্বল্পমেয়াদি পরিবর্তনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই প্রকৃত সুস্থতার চাবিকাঠি। আজ থেকে ছোট ছোট ভালো অভ্যাস গড়ে তুললেই তার সুফল পাওয়া যাবে অনেক দিন ধরে। সূত্র : BBC

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রাতে খাওয়া বন্ধ করলে কি ওজন কমে? যা বলছেন পুষ্টিবিদ

স্বাস্থ্য সচেতনতা এখন সময়ের বড় ট্রেন্ড। শহরের অফিসকর্মী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী—সবাই এখন ফিট থাকতে চান। কেউ জিমে যাচ্ছেন নিয়মিত, কেউ আবার ডায়েট প্ল্যানে মনোযোগী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই ‘রাতে খাবার না খাওয়াই ওজন কমানোর শর্টকাট উপায়’ বলে ধরে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার পুরোপুরি রাতের খাবার বন্ধও করে দিচ্ছেন। কিন্তু এটা কি সত্যিই কার্যকর? না কি উল্টো শরীরের ক্ষতি হচ্ছে অজান্তেই? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন রাজধানীর লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড বিডিএন পল্লবী ডায়াবেটিস সেন্টারের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান ডরিন। তার মতে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়, ফলে ওজন কমার বদলে চর্বি জমে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় না খেলে কী হয়? পুষ্টিবিদ ডরিন বলেন, রাতে খাবার না খাওয়ার মানে দাঁড়ায়, সন্ধ্যার নাশতা থেকে পরদিন সকালের নাশতা পর্যন্ত প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা। এতে শরীরে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়, সকালে ক্লান্তি আসে, মাথাব্যথা বা মনোযোগের অভাব হয়। অনেক সময় কাজের উৎসাহও কমে যায়। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় পেটে কিছু না থাকলে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বেড়ে যায়, এমনকি আলসারের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তাহলে রাতে কী খাওয়া উচিত? পুষ্টিবিদ ডরিন জানান, শরীর একটা ইঞ্জিনের মতো, জ্বালানি ছাড়া চলে না। তার পরামর্শ, রাতে অতিরিক্ত না খেয়ে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ‘রাতের খাবারে ১-২টি রুটি, সঙ্গে সবজি ও সালাদ রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি ডিম, মাছ বা চিকেন ভালো অপশন। আবার চাইলে ফলের সালাদ ও সিদ্ধ ডিমও খাওয়া যেতে পারে। তবে ভাজাভুজি বা বেশি মশলাযুক্ত খাবার একদম নয়। এ ছাড়া তিনি মনে করিয়ে দেন, রাত ৯টার পর খাবার না খাওয়াই ভালো। ওজন কমানোর সঠিক পথ ওজন কমাতে রাতের খাবার বাদ দেওয়া কোনো সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান ডরিন। তার মতে,ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সারাদিনে কী খাচ্ছেন, কতবার খাচ্ছেন এবং কতটা শারীরিক পরিশ্রম করছেন—এসব বিষয়ই মূল। তার পরামর্শ, নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার—এই চারটি অভ্যাসই স্বাস্থ্য ভালো রাখে। বিশেষ পরামর্শ সুস্থ থাকতে চাইলে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শে নিজের উপযোগী ডায়েট প্ল্যান তৈরি করা জরুরি। রাতের খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে হালকা, সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে। সময়মতো খাওয়া, পরিমিত পরিমাণে খাওয়া, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা—এই অভ্যাসগুলো ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শীতে ত্বক কেন চুলকায়

শীত এলেই অনেকের ত্বকে অস্বস্তি শুরু হয়। চুলকানি, শুষ্কতা আর খসখসে ভাব যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। ঠান্ডা আবহাওয়া, বাইরে শুষ্ক হাওয়া আর ঘরের ভেতরে হিটার বা এসির ব্যবহার—সব মিলিয়ে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। এর ফলেই দেখা দেয় শীতজনিত ত্বকের চুলকানি। যদিও এটি গুরুতর কোনো রোগ নয়, তবে অবহেলা করলে দৈনন্দিন জীবনে বেশ বিরক্তির কারণ হতে পারে। শীতকালীন ত্বকের চুলকানি আসলে কোনো সংক্রমণ বা সাধারণ র‍্যাশ নয়। ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বকে যে প্রদাহ তৈরি হয়, সেটাই এই সমস্যার মূল কারণ। শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বকের উপরের স্তর থেকে পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। ফলে ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ, টানটান এবং চুলকানিপ্রবণ। লক্ষণ শীতজনিত ত্বকের চুলকানিতে সাধারণত যে লক্ষণগুলো দেখা যায়। - ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে যাওয়া - হালকা লালচে ভাব - খসখসে বা আঁশের মতো চামড়া ওঠা - চুলকানি - ত্বকে ছোট ছোট ফাটল, কখনো রক্তপাত এই সমস্যা বেশি দেখা যায় পা, হাঁটুর আশপাশ, উরু, গোড়ালি ও পায়ের পাতায়। তুলনামূলকভাবে হাত, মুখ বা মাথার ত্বকে কম হয়। কারা বেশি ঝুঁকিতে? সব বয়সের মানুষেরই এই সমস্যা হতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে। বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বক পাতলা ও শুষ্ক হয়ে যায়। এ ছাড়া যাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক বা যাদের একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের সমস্যা আছে। কেন শীতে সমস্যা বাড়ে? শীতে অনেকেই খুব গরম পানিতে দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করেন। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে যায় এবং শুষ্কতা আরও বেড়ে যায়। এ ছাড়া সুগন্ধিযুক্ত সাবান, কেমিক্যালযুক্ত বডি ওয়াশ বা ডিটারজেন্ট ত্বকের ক্ষতি করে। ঘরের ভেতরে এসি বা হিটারের শুষ্ক বাতাসও ত্বককে আরও রুক্ষ করে তোলে। প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায় শীতজনিত ত্বকের চুলকানি এড়াতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা সবচেয়ে জরুরি। কিছু সহজ অভ্যাসেই এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। - দিনে কয়েকবার ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন - গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগান - খুব গরম পানির বদলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন - গোসল ৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করুন - বাইরে বের হলে হাত-পা ভালোভাবে ঢেকে রাখুন - রাতে ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসে আর্দ্রতা থাকে শীতকালে ত্বকের চুলকানি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা এবং আবহাওয়া বদলালে অনেক সময় নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে যদি প্রতি বছর একই সমস্যায় ভোগেন, তাহলে আগেভাগেই ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং, সঠিক গোসলের অভ্যাস আর একটু সচেতনতা থাকলেই শীতকাল কাটতে পারে অনেক বেশি আরামদায়ক, চুলকানি আর অস্বস্তি ছাড়াই। সূত্র: ভেরি ওয়েল হেলথ

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
প্রস্রাবের রং দেখে কি শরীরের অবস্থা টের পাওয়া যায়? কখন ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে

আমাদের শরীরের একটি প্রাকৃতিক ‘সিগন্যাল ল্যাম্প’ হলো প্রস্রাবের রং। আমরা অনেক সময় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিই না। অথচ প্রস্রাবের রঙের সামান্য পরিবর্তনও শরীরের ভেতরে চলতে থাকা নানা জটিলতা বা স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।   শরীরে পর্যাপ্ত পানি যাচ্ছে কি না, কিডনি বা লিভার ঠিকঠাক কাজ করছে কি না— এর প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলতে পারে শুধু প্রস্রাবের রং দেখেই।   ২০২৬ সালের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় নিজের শরীরের এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংকেতগুলো চিনে রাখা তাই আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। কখন প্রস্রাবের রং স্বাভাবিক, আর কখন তা বিপদের সতর্কবার্তা— জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।   প্রস্রাবের রঙ কোনটি স্বাভাবিক, কোনটি সতর্কতার ১. স্বচ্ছ বা একদম পানির মতো যদি প্রস্রাব একদম পানির মতো স্বচ্ছ হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি পান করছেন। এটি বড় কোনো সমস্যা না হলেও শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পানি পানের পরিমাণ সামান্য কমানো ভালো।   ২. হালকা হলুদ বা খড়ের মতো রং এটাই সুস্থ শরীরের সবচেয়ে ভালো লক্ষণ। এর মানে হলো শরীর পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড এবং কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।   ৩. গাঢ় হলুদ বা অ্যাম্বারের মতো প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হলে সেটি ডিহাইড্রেশনের ইঙ্গিত। শরীর তখন সংকেত দেয়, এখনই পানি দরকার। তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এমন রং হওয়া স্বাভাবিক।   ৪. লালচে বা গোলাপি এই রং অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়। আগের রাতে বিট, ব্লুবেরি বা এ ধরনের খাবার না খেয়ে থাকলে প্রস্রাবের লালচে বা গোলাপি রং রক্তপাতের ইঙ্গিত হতে পারে। এটি মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI), কিডনিতে পাথর কিংবা প্রস্টেটজনিত সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।   ৫. কমলা রং অনেক সময় ভিটামিন সি বা কিছু অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে প্রস্রাব কমলা হতে পারে। তবে ওষুধ ছাড়াও যদি এই রং দেখা যায়, তাহলে তা লিভার বা পিত্তনালির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।   ৬. নীল বা সবুজ এটি খুবই বিরল ঘটনা। সাধারণত খাবারে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং বা কিছু বিশেষ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এমন হতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণেও প্রস্রাব নীলাভ বা সবুজ দেখাতে পারে।   ৭. ফেনার মতো প্রস্রাব রঙের চেয়ে যদি প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা বেশি দেখা যায়, তাহলে সেটি কিডনির গুরুতর সমস্যার সংকেত হতে পারে। এর মানে প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে।   কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন? নিম্নের যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—   ১. প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে   ২. রঙ পরিবর্তনের সঙ্গে তলপেট বা পিঠে তীব্র ব্যথা হলে   ৩. প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তনের সঙ্গে জ্বর বা বমিভাব থাকলে   ৪. প্রস্রাবের রং অস্বাভাবিক গাঢ় বা কালচে বাদামী হয়ে গেলে   প্রস্রাবের রঙের দিকে নজর রাখা মানেই নিজের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা। প্রতিদিন সাধারণভাবে ৩-৪ লিটার পানি পান করা জরুরি। আর রঙে বড় কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।   সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
৩৫ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস, আক্রান্ত হলেই মৃত্যুঝুঁকি

দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তিত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর রেকর্ড হওয়া চারটি নিপাহ কেসের সবকটিতেই ১০০ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো একটি ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’ শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় উপস্থাপিত এক প্রবন্ধে আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এসব তথ্য তুলে ধরেন। প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী এই চার জেলায় চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এর মধ্যে নওগাঁর ৮ বছর বয়সী এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশের প্রথম অ-মৌসুমি নিপাহ কেস, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল কালোজাম, খেজুর ও আম যা নিপাহ সংক্রমণের একটি নতুন ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি। গত বছর শনাক্ত চারজনের সবাই মারা যাওয়ায় মৃত্যুহার ছিল শতভাগ। এদিকে বিশ্বজুড়ে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ। প্রবন্ধে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের কাঁচা রসকে নিপাহ সংক্রমণের প্রধান উৎস হিসেবে ধরা হলেও নওগাঁর সাম্প্রতিক কেস প্রমাণ করেছে, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যেকোনো আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সারা বছর সংক্রমণ ঘটতে পারে। এছাড়া মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঝুঁকিও তুলে ধরা হয়। প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ছড়ায়, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের অ-মৌসুমি নিপাহ কেস ও নতুন সংক্রমণের ধরন একটি বড় সতর্ক সংকেত। নিপাহ এখন শুধু শীতকাল বা খেজুরের রসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি সারা বছরব্যাপী ও বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হয়েছে। নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভায় আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের সবারই মৃত্যু হয়েছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শীতে আপনার সন্তানকে সুস্থ রাখবেন যেভাবে

শীতকাল শিশুদের জন্য কিছু বিশেষ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আসে। ঠান্ডা আবহাওয়া, দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকা এবং মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে এ সময় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সহজে ছড়ায়। তাই শীতে শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন।   বিশেষ করে ছোট শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে না ওঠায় তারা শীতে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘরে হিটার বা গরম বাতাস ব্যবহারের ফলে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়, যা নাক ও গলার ভেতরের অংশকে শুষ্ক করে দেয়। এতে জীবাণু সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি শীতে সূর্যালোক কম পাওয়ায় শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে।   ঠান্ডা কি সরাসরি অসুস্থ করে? অনেক অভিভাবক মনে করেন, ঠান্ডা আবহাওয়া সরাসরি অসুখের কারণ। আসলে ঠান্ডা নিজে থেকে অসুখ সৃষ্টি না করলেও এটি এমন পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে রোগ সহজে ছড়ায়। শীতে সবাই বেশি সময় বন্ধ ঘরে থাকে, জানালা বন্ধ থাকে—ফলে বাতাস চলাচল কম হয় এবং ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। এ ছাড়া ঠান্ডা বাতাস নাক ও গলার প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে, যার ফলে সর্দি, কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।   শীতে শিশুদের সুস্থ রাখতে করণীয় পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব শীতে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সুষম খাবার অত্যন্ত জরুরি। খাবারে রাখতে হবে— ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল: কমলা, মাল্টা, লেবু, পেয়ারা ভিটামিন ডি: ডিম, দুধ, মাছ (বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ) শাকসবজি: পালং শাক, গাজর, মিষ্টি কুমড়া গরম খাবার যেমন সবজি স্যুপ, খিচুড়ি, ওটস, ডাল-ভাত শীতকালে শিশুদের জন্য উপকারী ও আরামদায়ক।   পর্যাপ্ত পানি পান শীতে শিশুরা সাধারণত কম পানি খেতে চায়। কিন্তু পানি শরীরের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি শরীর থেকে জীবাণু বের করতে সাহায্য করে এবং নাক ও গলার ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখে। হালকা গরম পানি, লেবু পানি বা ঘরে বানানো উষ্ণ পানীয় দিতে পারেন। তবে অতিরিক্ত কোমল পানীয় বা চিনি দেওয়া পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।   হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস হাত ধোয়ার অভ্যাস শীতে অসুখ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। শিশুদের শেখান— খাওয়ার আগে টয়লেট ব্যবহারের পর বাইরে থেকে এলে কাশি বা হাঁচির পর কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি।   শীতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ শীতে বাইরে খেলাধুলা কম হলেও শিশুদের সক্রিয় রাখা জরুরি। ঘরের ভেতর নাচ, হালকা ব্যায়াম, দড়ি লাফ, যোগব্যায়াম শিশুর শরীর ও মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। সুযোগ থাকলে রোদে কিছু সময় খেলাধুলা করাও উপকারী।   পর্যাপ্ত ঘুম ভালো ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়— প্রি-স্কুল শিশু: ১০–১৩ ঘণ্টা স্কুলগামী শিশু: ৯–১২ ঘণ্টা কিশোর: ৮–১০ ঘণ্টা মনে রাখবেন, ঘুমের আগে মোবাইল বা টিভি ব্যবহার কমানো ভালো।   শীতে অসুখ প্রতিরোধে অতিরিক্ত সতর্কতা টিকা নেওয়া জরুরি শীতকালে ফ্লু, সর্দি-কাশি ও ভাইরাসজনিত রোগ বেশি দেখা যায়। তাই শিশুদের বয়স অনুযায়ী সব টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় মৌসুমি টিকা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   কাশি-হাঁচির শিষ্টাচার শেখান শিশুকে শেখান কনুই দিয়ে কাশি বা হাঁচি দিতে, টিস্যু ব্যবহার করতে এবং পরে হাত ধুতে।   ঘরের বাতাসের মান ঠিক রাখা শীতে ঘরের বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়। সম্ভব হলে মাঝে মাঝে জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন।   কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন টানা ৩ দিনের বেশি জ্বর শ্বাস নিতে কষ্ট বারবার বমি বা পাতলা পায়খানা শরীরে র‍্যাশ খাবার বা পানি না খাওয়া অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক আচরণ শীতকাল শিশুদের জন্য আনন্দের হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করা যায় না। সঠিক খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত ঘুম ও সচেতন অভিভাবকত্বই পারে শিশুদের শীতকালীন অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে। সামান্য সতর্কতা ও যত্ন আপনার সন্তানের শীতকে করে তুলতে পারে নিরাপদ ও আনন্দময়। সন্দেহ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আলসার রোগীদের জন্য উপকারী কিছু পানীয়

আপনার যদি পেটের আলসার (স্টমাক আলসার বা পেপটিক আলসার) থাকে, তাহলে এমন পানীয় বেছে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা আলসার ভালো হতে সাহায্য করবে এবং পেটের ক্ষতি বাড়াবে না। কিছু পানীয় আছে যা ব্যথা কমায়, প্রদাহ হ্রাস করে এবং ক্ষত সারাতে সহায়তা করে। যেমন—বাঁধাকপির রস, ভেষজ চা ও প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ পানীয়। যারা আলসারে ভুগছেন, তারা জানেন কিছু খাবার ও পানীয় খেলেই সমস্যা বেড়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনগুলো উপকার করে? নিচে আলসার রোগীদের জন্য উপকারী কিছু পানীয় নিয়ে সহজভাবে আলোচনা করা হলো। বাঁধাকপির রস (Cabbage Juice) বাঁধাকপি একটি পুষ্টিকর সবজি, যাতে আছে ভিটামিন A, ভিটামিন C, ফলেট ও ভিটামিন B6। বাঁধাকপির রস পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে। এতে আলসারের জ্বালা ও ব্যথা কিছুটা কমে এবং ক্ষত সারানোর সময় পায়। বাংলাদেশে সহজলভ্য হওয়ায় সকালে খালি পেটে অল্প পরিমাণ তাজা বাঁধাকপির রস অনেকেই উপকার পেয়ে থাকেন। মধুসহ ভেষজ চা (Herbal Tea with Honey) ভেষজ চায়ে সাধারণত ক্যাফেইন থাকে না, তাই এটি আলসারের জন্য নিরাপদ। উপকারী কয়েকটি ভেষজ চা হলো— ক্যামোমাইল চা: পেটের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে আদা চা: বমি ভাব, গ্যাস ও প্রদাহ কমায় মানুকা মধু: ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দমনে সহায়ক ক্যালেন্ডুলা চা: ক্ষত সারাতে সাহায্য করে মনে রাখবেন, মধু ব্যবহার করলে খাঁটি মধু নেওয়াই ভালো। দই বা দইয়ের পানীয় (Yogurt Drinks) দইয়ে থাকে ভালো ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক, যা পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এটি পেটের প্রদাহ কমায় ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে। টক দই বা ঘোল আলসার রোগীদের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। আদা দিয়ে তৈরি পানীয় (Ginger Drinks) আদা বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদায় থাকা জিনজেরল উপাদান ব্যথা কমায় ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত আদা খেলে কিছু মানুষের বুকজ্বালা, ডায়রিয়া, পেটের অস্বস্তি হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা জরুরি। কেফির (Kefir) কেফির হলো এক ধরনের ফারমেন্টেড দুধের পানীয়, দেখতে পাতলা দইয়ের মতো। এতে আছে প্রদাহ কমানোর উপাদান ও প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, কেফির কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। আলসারের কারণে পেটের ভেতরের ক্ষতিগ্রস্ত স্তরের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। হলুদ চা (Turmeric Tea) হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন, যা প্রদাহ কমায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে হালকা হলুদ চা পেটের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই ভালো। আঁশযুক্ত পানীয় (High Fiber Drinks) আঁশ বা ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং পেট ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও ফাঁপা ভাব কমাতে সহায়ক। আঁশযুক্ত কিছু পানীয় হলো— - সবুজ স্মুদি - তাজা বেরির রস - চিয়া বীজের পানীয় কোন পানীয়গুলো আলসারে ক্ষতিকর? আলসার থাকলে সাধারণত যেসব পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো : - অ্যালকোহল - ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (কফি, গ্রিন টি, এনার্জি ড্রিংক) - অতিরিক্ত চিনি দেওয়া সফট ড্রিংক - টমেটোর রস - কমলা বা অন্যান্য সাইট্রাস ফলের রস - চকলেট দুধ পেটের আলসার হলে শুধু ওষুধ নয়, সঠিক খাবার ও পানীয়ও সুস্থতার বড় অংশ। বাঁধাকপির রস, পর্যাপ্ত পানি, হালকা স্মুদি, আদা বা ভেষজ চা—এসব পানীয় আলসারের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে আলসার দীর্ঘদিন থাকলে বা ব্যথা বাড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সূত্র : Health Line

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
১ কেজি ফ্যাট ঝরাতে কতক্ষণ হাঁটতে হবে, জানালেন বিশেষজ্ঞ

প্রতিদিন হাঁটছেন, তবুও ওজন বা ফ্যাট কমার স্পষ্ট ফল পাচ্ছেন না, এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা হাঁটার অভাবে নয়, বরং সঠিক পরিমাণ হাঁটা না হওয়াতেই মূলত ফল মিলছে না। ফ্যাট কমানোর ক্ষেত্রে হাঁটা যে একটি কার্যকর ও টেকসই উপায়, তা আবারও তুলে ধরেছেন ফ্যাট লস বিশেষজ্ঞ আঞ্জলি সচান।   সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, হাঁটার মাধ্যমে ১ কেজি ফ্যাট ঝরাতে আসলে কতটা সময় ও পরিশ্রম প্রয়োজন। হাঁটা ও ফ্যাট ঝরানোর বিজ্ঞান আঞ্জলি সচানের মতে, শরীরের ১ কেজি ফ্যাটের সমান প্রায় ৭ হাজার ৭০০ ক্যালোরি। এই ক্যালোরিগুলো কোনো পানি বা সাময়িক ওজন নয়, বরং শরীরে জমে থাকা প্রকৃত ফ্যাট। তাই ফ্যাট ঝরাতে সময় লাগে। তবে একবার এই ফ্যাট কমলে তা স্থায়ীভাবেই কমে যায় বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, গড়ে প্রতি এক হাজার ধাপে হাঁটলে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ ক্যালোরি খরচ হয়। কারণ হাঁটার সময় শরীরের পেশি কাজ করে, ভারসাম্য বজায় থাকে এবং হৃদস্পন্দন সক্রিয় থাকে। এই হিসাবে কেবল হাঁটার মাধ্যমেই ১ কেজি ফ্যাট ঝরাতে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ধাপ হাঁটতে হয়। প্রতিদিন কত হাঁটলে ফল মিলবে শুনতে অনেক মনে হলেও বিষয়টি বাস্তবে সহজ করা যায়। আঞ্জলি সচানের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ যদি প্রতিদিন ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ধাপ হাঁটেন, তাহলে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই ১ কেজি ফ্যাট ঝরানো সম্ভব। তিনি জানান, এই হিসাবের মধ্যে ডায়েট, ব্যায়াম কিংবা শরীরের স্বাভাবিক ক্যালোরি খরচ ধরা হয়নি। তার মতে, ফ্যাট কমানো কোনো একদিনের ম্যাজিক নয়। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুললেই ধীরে ধীরে স্থায়ী ফ্যাট লস সম্ভব। কেন হাঁটাই সবচেয়ে কার্যকর ফিটনেস বিশেষজ্ঞ আঞ্জলি সচান হাঁটার বেশ কয়েকটি উপকারিতার কথা তুলে ধরেন। হাঁটা ক্যালোরি খরচ করে, ধীরে ধীরে ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে এবং ভারী ব্যায়ামের মতো অতিরিক্ত ক্ষুধা তৈরি করে না। পাশাপাশি এটি হরমোন বা মাসিক চক্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তও করে না। বরং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও হাঁটার ভূমিকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ আঞ্জলি সচানের মতে, ফ্যাট কমে ছোট ছোট দৈনিক অভ্যাসের মাধ্যমে। প্রতিদিন হাঁটাকে যদি নিয়মিত ক্যালোরি খরচের অংশ হিসেবে দেখা যায়, তাহলে ধীরে হলেও ফল নিশ্চিত। সবশেষে তিনি বলেন, ফ্যাট কমানো কোনো জাদুর খেলা নয়। নিয়মিত হাঁটা অভ্যাসে পরিণত করলেই সুস্থ ও কার্যকর ফ্যাট লস সম্ভব। সূত্র : এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শীতে মোজা পরে ঘুম উপকারী নাকি ক্ষতিকর?

শীতের দাপট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতের ঘুমেও প্রভাব পড়ছে। কম্বলের ভেতর ঢুকেও অনেকের পা ঠান্ডা হয়ে থাকে, ঘুম আসতে চায় না। তখন বাধ্য হয়েই কেউ কেউ মোজা পরে ঘুমান। আবার কারও কাছে বিষয়টি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে— মোজা না পরলে নাকি ঘুমই আসে না। অথচ ছোটবেলা থেকেই অনেকেই মা-বাবার মুখে শুনে এসেছেন, “মোজা পরে ঘুমাস না।” তখন এর কারণ বোঝার সুযোগ হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আসলেই কি মোজা পরে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, নাকি উপকারী?   বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মোজা পরে ঘুমানো উপকারী হতে পারে। তবে নিয়মিত কিংবা ভুলভাবে এই অভ্যাস চালু থাকলে তা শরীরের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানোর আগে এর ভালো-মন্দ দিক জানা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন অনেক ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়— ১. রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে অনেকের ধারণা, মোজা পরে ঘুমালে পায়ে রক্ত চলাচল ভালো হয়। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এমন নয়। বিশেষ করে যদি মোজাটি খুব টাইট হয়, তাহলে উল্টো পায়ের রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘ সময় টাইট মোজা পরে থাকলে শিরা-উপশিরায় চাপ পড়ে, যা অস্বস্তি বা ব্যথার কারণ হতে পারে। তাই পা ঠান্ডা হলে দিনের বেলায় ব্যবহৃত টাইট মোজার বদলে ঢিলেঢালা ‘বেড সক্স’ ব্যবহার করাই ভালো। ২. ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় নাইলন বা সিনথেটিক কাপড়ের মোজা ত্বকের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। এসব মোজা বাতাস চলাচলে বাধা দেয়, ফলে পায়ে ঘাম জমে যায়। এতে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফল হিসেবে চুলকানি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন কিংবা দুর্গন্ধের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ঘুমানোর সময় মোজা পরতেই হলে তুলা দিয়ে তৈরি, বাতাস চলাচলযোগ্য মোজা বেছে নেওয়াই নিরাপদ। ৩. শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনে, যা ভালো ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু মোজা পরে ঘুমালে বিশেষ করে যদি মোজাটি মোটা বা বাতাস চলাচলহীন হয়, তাহলে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এতে ঘুম ব্যাহত হয় এবং শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে পারে না। ৪. আরামদায়ক ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে টাইট বা অস্বস্তিকর মোজা পরে ঘুমালে অনেক সময় অজান্তেই ঘুম ভেঙে যায়। পায়ে চাপ লাগা, ঘাম জমা বা অস্বস্তির কারণে গভীর ঘুম ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন হলে অনিদ্রার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ৫. স্বাস্থ্যবিধির অবনতি ঘটে দিনভর ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার মোজা পরে ঘুমানো একেবারেই অস্বাস্থ্যকর। এতে পায়ের জীবাণু বিছানায় ছড়িয়ে পড়ে, যা দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ঘুমানোর সময় মোজা পরতে হলে অবশ্যই পরিষ্কার মোজা ব্যবহার করা জরুরি। চিকিৎসা গবেষণায় এমন তথ্যও পাওয়া গেছে, যেখানে বলা হয়েছে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমানো উপকারী হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে শর্ত হলো, মোজাটি যেন খুব টাইট না হয়, বাতাস চলাচল করতে পারে এমন কাপড়ের হয় এবং অবশ্যই পরিষ্কার থাকতে হবে। শীতের রাতে ঠান্ডা পা নিয়ে বিছানায় যাওয়া নিঃসন্দেহে বিরক্তিকর। তবে আরামের খোঁজে ভুল অভ্যাস গড়ে তুললে ভবিষ্যতে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই মোজা পরে ঘুমানোর আগে নিশ্চিত করুন, মোজাটি আরামদায়ক, ঢিলেঢালা ও পরিষ্কার কি না। সচেতন থাকলেই শীতের রাত কাটবে আরামদায়ক ও নিরাপদ। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কনকনে ঠান্ডায় শিশু রোগীতে চাপ বাড়ছে হাসপাতালে

বিগত বছরের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশে তীব্র শীতের প্রকোপ জেঁকে বসেছে। নতুন বছরের প্রথম চার দিনেও একই রকম শীতের তীব্রতা বিরাজ করছে। এতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে শত শত নবজাতক ও শিশু রোগী চিকিৎসার জন্য আসছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই সর্দি, জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় ভুগছেন। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জানুয়ারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে বিভিন্ন অসুখে ৯৬৩ শিশুর চিকিৎসা হয়েছে। এর মধ্যে জরুরি বিভাগে ২৪২, মেডিসিনে ৬১৩ ও সার্জারিতে ১০৮ শিশুর চিকিৎসা হয়েছে। একই দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১৫ নবজাতক। নিউমোনিয়ায় ৩৩ শিশু, কমন কোল্ডে ১৬৮ শিশু, অ্যাজমায় ২৮ শিশু, ত্বকের সমস্যা নিয়ে ২০৩ শিশু এবং স্ক্রাবিসে ১৬৯ শিশু চিকিৎসা পেয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের এই সময়ে হাসপাতালে বেশি শিশুরা জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস ও শীতকালীন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। শয্যাসংকটের কারণে অনেক শিশুকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। তাই অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাচ্চাদের শীত থেকে রক্ষা করতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—শিশুকে শীতের উপযুক্ত কাপড় পরাতে হবে, মাথা ঢেকে রাখতে হবে, বাইরে অহেতুক ঘোরানোর পরামর্শ নেই। ঠান্ডা লাগলে, কাশি হলে ডাক্তার দেখানো জরুরি; অ্যান্টিবায়োটিক ডাক্তার পরামর্শ ছাড়া দেবেন না। ঘরের বাতাস সঞ্চলিত রাখতে দরজা-জানালা খোলা রাখা, শীতের কাপড় পরিষ্কার ও রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করা প্রয়োজন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট যক্ষ্মা হাসপাতালের উপপরিচালক বলেন, শীতের কারণে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা ও সিওপিডি রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তীব্র ঠান্ডা শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিপজ্জনক, তাই সতর্ক থাকতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0
শীতে রোজ ৩টি খেজুর খেলে মিলবে যে উপকার

  শীতের ঠাণ্ডা হাওয়ায় শরীরকে সুস্থ রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময়ে ক্লান্তি, সর্দি-কাশি ও ত্বকের রুক্ষতা এড়াতে চিকিৎসকরা ডায়েটে পুষ্টিকর খাবার রাখার প্রতি জোর দেন। আর এই তালিকায় সবার ওপরে থাকে খেজুর। আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ফাইবার সমৃদ্ধ এই ফলটি শীতকালে শরীরকে ভেতর থেকে চাঙ্গা রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। শীতে প্রতিদিন অন্তত ৩টি করে খেজুর খেলে কী কী উপকার পাবেন, তা জেনে নিন আজকের প্রতিবেদনে। শীতে প্রতিদিন ৩টি খেজুর খাওয়ার ৫টি দারুণ উপকারিতা শরীরকে দ্রুত উষ্ণ রাখে খেজুরে উচ্চমাত্রায় ক্যালরি ও প্রাকৃতিক শর্করা (গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ) থাকে, যা শরীরের বিপাক হার বাড়িয়ে তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। শীতের সকালে ৩টি খেজুর খেলে শরীর দীর্ঘক্ষণ ভেতর থেকে উষ্ণ থাকবে এবং কাজে বাড়তি শক্তি পাওয়া যাবে। রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করে শীতকালে অনেকেরই হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা রক্তে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। যারা সারা দিন দুর্বলতা বা ক্লান্তিতে ভোগেন, তাদের জন্য খেজুর একটি প্রাকৃতিক পাওয়ার হাউজ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় শীত মানেই ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর। খেজুরে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। এটি শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ও সাইনাসের সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি শীতে পানি কম খাওয়ার কারণে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রকে সচল রাখে। রাতে ৩টি খেজুর পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানিসহ খেজুর খেলে হজমের সমস্যা দ্রুত মেটে।   হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় শীতের সময় রক্তনালী কিছুটা সংকুচিত হয়ে যায় বলে রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি থাকে। খেজুরে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখে। খেজুর খাওয়ার সঠিক সময় ও নিয়ম সকালে খালি পেটে : সারা দিন প্রাণবন্ত থাকতে সকালের নাশতার আগে খেজুর খাওয়া সবচেয়ে ভালো। দুধের সাথে : রাতে শোওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে ৩টি খেজুর ফুটিয়ে খেলে গভীর ঘুম হয় এবং হাড় মজবুত থাকে। শীতকালীন সুপারফুড হিসেবে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। তবে মনে রাখবেন, খেজুরে প্রচুর চিনি থাকে। তাই ডায়াবেটিক রোগীরা প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। সুস্থ থাকতে আজই আপনার শীতের খাদ্যতালিকায় যোগ করুন এই সস্তা অথচ মহামূল্যবান ফলটি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শীতকালে শরীরের জন্য পানি কেন গুরুত্বপূর্ণ

অনেকেই মনে করে শুধু গরমে পানির প্রয়োজন বেশি, কিন্তু বাস্তবে শীতকালেও পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালে হাইড্রেটেড থাকা মানে আপনার শরীরের শক্তি ধরে রাখা, মানসিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং দেহকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করা। শরীরের প্রায় ৯০% অংশই পানি দিয়ে তৈরি। গরমে আমরা ঘামতে থাকি, তাই স্বাভাবিকভাবেই পানি খাওয়ার প্রয়োজন বুঝতে পারি। কিন্তু শীতে ঘাম কম হয় বলে অনেকেই পানির চাহিদা উপেক্ষা করে। বাস্তবে শীতেও পানি খাওয়ার গুরুত্ব গরমের মতোই বেশি। পরিচিত পুষ্টিবিদরা বলেন, প্রতিদিন ছয় থেকে আট গ্লাস পানি খাওয়া উচিত। গরমে ঘামের মাধ্যমে পানি হারানো স্পষ্টভাবে দেখা যায়, কিন্তু শীতেও আমরা চুপচাপ পানি হারাই। মনোযোগী থাকা এবং কর্মক্ষম থাকতে শীতেও পর্যাপ্ত পানি অপরিহার্য। পানি এবং মানসিক সতর্কতা শীতেও আমরা ঘামতে থাকি, তাই পানি পান না করলে মানসিক জাগ্রততা এবং মনোযোগের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। সামান্য পানিশূন্যতা থাকলেও মনোযোগ কমে যেতে পারে এবং সারাদিন কাজ করতে ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, দুপুর ২–৩টায় হঠাৎ ক্লান্তি বা ঘুম লাগা অনুভূত হলে হয়তো শুধু পানি খেলে কিছুটা সতেজতা ফিরে আসতে পারে। শীতজ্বর বা সাধারণ সর্দি–কাশিতে পানি সর্দি, জ্বর বা অন্যান্য হালকা অসুস্থতায় পানি পান করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হালকা জ্বর থাকলে দেহের পানি চাহিদা বাড়ে। সর্দি বা কাশির সময় শরীরে থাকা মিউকাস পাতলা করতে পানি সাহায্য করে, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ হয়। বেশিরভাগ মানুষ বাড়িতে স্টিমার ব্যবহার করে থাকে। স্টিমার দেহে সরাসরি পানি পৌঁছে না দিলেও নাক এবং ফুসফুসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে, যা আরামদায়ক হতে পারে। দৈনন্দিন পানি চাহিদা আগে ধারণা ছিল যে ফল ও সবজি থেকে পাওয়া পানি গণনায় ধরা হয় না। এখন জানা গেছে, খাদ্য থেকেও মোট পানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পাওয়া সম্ভব। তাই ফল, সবজি, কফি, চা—সবই পানির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সুগারযুক্ত সফট ড্রিংক বা মিষ্টি পানীয়কে পানি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর পানি হল স্বাভাবিক, খাঁটি পানি। যদি স্বাদ প্রয়োজন হয়, লেবু, কমলা বা লাইমের একটি ছোট অংশ মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। শীতকালে পানি পান করা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। যথেষ্ট পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকে, মানসিক শক্তি বজায় থাকে এবং সর্দি-কাশি থেকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। সুতরাং, গরম হোক বা শীত, খাঁটি পানি সবসময় স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সূত্র : Health care, University of Utah

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস

আমরা কীভাবে আমাদের মনকে ‘পরিষ্কার ও সুস্থ’ রাখতে পারি? দাঁতের মতো করে মন ব্রাশ করা যায় না, আবার শরীরের মতো সাবান দিয়ে ধোয়াও যায় না। কিন্তু দাঁত ও শরীরের মতো আমাদের মনও ময়লা বা জটলায় ভরে যেতে পারে। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন না নিলে দুঃখ, কষ্ট, ভয় আর হতাশা আমাদের মনে ভার হয়ে বসে। ইমোশনাল হাইজিন কী? ইমোশনাল হাইজিন মানে হলো নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন থাকা এবং মনে আঘাত লাগলে তার যত্ন নেওয়া। আমরা শরীরে কাটাছেঁড়া হলে কী করতে হয় তা জানি - পরিষ্কার করি, ওষুধ লাগাই, যাতে তা সেরে যায়। কিন্তু মন খারাপ হলে বা ব্যর্থ হলে অনেক সময় আমরা উল্টো নিজের দোষ খুঁজতে থাকি, নিজেকে বারবার দোষ দিই। এতে কষ্ট আরও বেড়ে যায়। যখন মানসিক আঘাতের ঠিকমতো যত্ন নেওয়া হয় না, তখন আত্মসম্মান কমে যায়। একই ধরনের সমস্যায় আমরা বারবার পড়ি। ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে - যেমন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, গভীর দুঃখ বা জীবন নিয়ে হতাশ চিন্তা। মানসিক আঘাত কোথা থেকে আসে? ব্যর্থতা ছাড়াও অনেক কারণে আমাদের মনে আঘাত লাগতে পারে। যেমন— - প্রিয় মানুষকে হারানো - নির্যাতন বা সহিংসতার অভিজ্ঞতা - বড় দুর্ঘটনা - সামাজিক বা কাজের জায়গায় প্রত্যাখ্যান - একা হয়ে যাওয়া বা পরিত্যক্ত বোধ করা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে গিয়েও এসব অনুভূতি আসতে পারে। অনেক মানুষ বহু বছর ধরে এই কষ্ট বয়ে বেড়ান। এর প্রভাব শুধু মনে নয়, শরীরেও পড়ে - মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন একা ও বিচ্ছিন্ন বোধ করলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ে। এই কারণেই ইমোশনাল হাইজিন খুব জরুরি। প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের মানসিক যত্ন নিলে জীবনের মান অনেক ভালো হয়। ইমোশনাল হাইজিন চর্চার কিছু সহজ উপায় নিজের কষ্টটা চিনে নিন মন খারাপ হলে সেটা এড়িয়ে যাবেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বুঝে নিন এবং ব্যবস্থা নিন। - একা লাগলে কারও সঙ্গে কথা বলুন - মন ভেঙে গেলে কারও পরামর্শ নিন - দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকলে চিকিৎসকের সাহায্য নিন যদি নিজে সামলাতে না পারেন, সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়। নিজেকে দোষ দেওয়া বন্ধ করুন সব কিছু নিজের দোষ ভাবলে কোনো উপকার হয় না। নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করা খুব জরুরি। নিজের প্রতি একটু দয়ালু হোন— - একটু বিশ্রাম নিন, গভীর শ্বাস নিন - মনে রাখুন, সব কিছুর দায় একা আপনার নয় - নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না - আজ পরিস্থিতি খারাপ হলেও ভবিষ্যতে ভালো হতে পারে এই অভিজ্ঞতাকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন নিজের প্রতি দয়া মানে নিজের সঙ্গে মিথ্যা বলা নয়। ভুল হলে সেটা মেনে নিন, দায়িত্ব নিন, কিন্তু নিজেকে কষ্ট দিয়ে নয় - শেখার জন্য। বারবার খারাপ ভাবনায় ডুবে থাকবেন না একই খারাপ ঘটনা বারবার মনে করলে মন আরও নেতিবাচক হয়ে যায়। যখন বুঝবেন আপনি বারবার সেই কথাই ভাবছেন, তখন মন অন্যদিকে ফেরান। - হাঁটতে বের হন - হালকা ব্যায়াম করুন - ধাঁধা বা কাজে মন দিন কয়েক মিনিটের মন বদলানোও খারাপ চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। ব্যর্থতাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলান ব্যর্থতা নিয়ে শুধু ভাবতে থাকলে অসহায় লাগবে। বরং ভাবুন— এখান থেকে আমি কী শিখলাম পরের বার কীভাবে ভালো করা যায় শেখা বিষয়গুলো লিখে রাখুন, নতুন লক্ষ্য ঠিক করুন এবং চেষ্টা চালিয়ে যান। ধৈর্য আর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ফল দেয়। ইমোশনাল হাইজিন মানে হলো সুস্থ মানসিক অভ্যাস গড়ে তোলা। এটা সহজ নয়, সময় ও চর্চা লাগে। কিন্তু নিয়মিত চেষ্টা করলে আপনি পাবেন একটি পরিষ্কার, শক্ত ও সুস্থ মন - যা জীবনের কঠিন সময়েও আপনাকে টিকে থাকতে সাহায্য করবে। সূত্র : Live and Learn

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৪, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

জাতীয়

হসপিটালিটি সেক্টরে অবহেলা: ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হোটেল কর্মীরা

বিশেষ প্রতিবেদক জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0