স্বাস্থ্য

ছবি: সংগৃহীত
গরুর দুধ মানুষের শরীরের জন্য কতটা উপকারী?

গরুর দুধ বহু শতাব্দী ধরে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে থাকি, দুধ পান করলে হাড় মজবুত হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে। বাস্তবিক অর্থেও দুধে এমন বহু পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরের সঠিক বিকাশ ও কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সবার জন্য দুধ সমানভাবে উপযোগী নয়; কারও কারও ক্ষেত্রে এটি শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই দুধের সুফল ও সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা দুই দিকই জানা প্রয়োজন।   পুষ্টিমান ও দেহগঠন গরুর দুধ উচ্চমানের প্রোটিনের একটি ভালো উৎস, যা পেশি তৈরি ও কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে। শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। দুধে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় ও দাঁত শক্ত রাখে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড়ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, ফসফরাস ও পটাশিয়াম স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় রাখা, রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করা এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।   হজমজনিত সমস্যা ও ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা অনেক মানুষের ক্ষেত্রে দুধ সহজে হজম হয় না। এর প্রধান কারণ দুধে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ‘ল্যাকটোজ’। যাদের শরীরে ‘ল্যাকটেজ’ এনজাইমের ঘাটতি রয়েছে, তারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সে ভুগতে পারেন। ফলে দুধ পান করার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় ল্যাকটোজমুক্ত দুধ বা বিকল্প হিসেবে দই ও পনিরের মতো গাঁজনজাত দুগ্ধজাত খাবার বেছে নেওয়া ভালো, কারণ এগুলো তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য।   হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও ওজন ব্যবস্থাপনা একসময় ধারণা ছিল, পূর্ণচর্বিযুক্ত দুধ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে দুধ অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। যাদের কোলেস্টেরল বেশি বা ওজনাধিক্যের সমস্যা আছে, তাদের জন্য স্কিমড বা লো-ফ্যাট দুধ ভালো বিকল্প হতে পারে।   ওজন নিয়ন্ত্রণেও দুধ সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম স্বাদযুক্ত ফ্লেভার্ড মিল্ক এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়।   বয়সভিত্তিক গ্রহণযোগ্যতা এক বছর বয়সের পর থেকে ধীরে ধীরে শিশুর খাদ্যতালিকায় গরুর দুধ যুক্ত করা যেতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য মায়ের দুধই সবচেয়ে উপযুক্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্লাস দুধ যথেষ্ট, যদি কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা না থাকে।   ত্বক ও চুলের যত্নে ভূমিকা ত্বক ও চুলের সুস্থতায় দুধের উপকারিতা নিয়ে নানা মত রয়েছে। দুধে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ ত্বককে পুষ্টি জোগায়। যদিও সরাসরি দুধ পান করলেই ত্বক উজ্জ্বল হয়—এমন নির্দিষ্ট প্রমাণ সীমিত, তবুও সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক।   সব মিলিয়ে, গরুর দুধকে একপাক্ষিকভাবে ভালো বা খারাপ বলা যায় না। ব্যক্তিভেদে দুধের সহনশীলতা ও প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা অ্যালার্জি নেই, তাদের জন্য পরিমিত দুধ পুষ্টিকর খাদ্য হতে পারে। তবে কোনো সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভুল পজিশনে ঘুমাচ্ছেন না তো? জেনে নিন পিঠের ব্যথা এড়ানোর সঠিক উপায়

সুস্থ শরীরের জন্য সুষম খাদ্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও আরামদায়ক ঘুম অত্যন্ত জরুরি।    পর্যাপ্ত ঘুম কেবল মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং এটি আবেগীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং শরীরের হারানো শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।  চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ভালো ঘুম হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।     তবে শোয়ার ভুল অভ্যাসের কারণে অনেক সময় শরীরে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যার মধ্যে পিঠে বা কোমরে ব্যথা অন্যতম।   বিশেষজ্ঞদের মতে, উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর অনাবশ্যক চাপ সৃষ্টি করে, যা পেশিতে খিঁচুনি বা ব্যথার কারণ হতে পারে।  পিঠের ব্যথা প্রতিরোধে চিকিৎসকরা সাধারণত চিৎ হয়ে বা কাত হয়ে শোয়ার পরামর্শ দেন।  চিৎ হয়ে শুলে শরীরের ওজন সমানভাবে বিন্যস্ত থাকে, ফলে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমে।   এক্ষেত্রে হাঁটুর নিচে একটি পাতলা বালিশ রাখলে কোমরের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় থাকে।  অন্যদিকে, যারা কাত হয়ে শুতে পছন্দ করেন, তারা দুই হাঁটুর মাঝখানে একটি বালিশ ব্যবহার করলে কোমর ও হিপের হাড়ের ওপর চাপ কম পড়ে এবং মেরুদণ্ড সঠিক অবস্থানে থাকে।   সঠিক পজিশনের পাশাপাশি সঠিক তোশক ও বালিশ নির্বাচনও ঘুমের মানের ওপর প্রভাব ফেলে।  মেরুদণ্ডের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় খুব নরম বা খুব শক্ত তোশকের বদলে মাঝারি শক্ত তোশক ব্যবহার করা শ্রেয়।  একইসাথে বালিশের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত যা ঘাড়কে অস্বাভাবিক অবস্থানে ঠেলে দেবে না।  যারা চিৎ হয়ে শোন তাদের জন্য পাতলা বালিশ এবং যারা কাত হয়ে শোন তাদের জন্য তুলনামূলক মোটা বালিশ আরামদায়ক হতে পারে।   ঘুমের গুণগত মান বাড়াতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা এবং শোয়ার ঘরটি অন্ধকার ও শীতল রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো পরিহার করা এবং হালকা স্ট্রেচিং বা বই পড়ার মতো অভ্যাসগুলো গভীর ঘুমে সহায়তা করে। দিনের বেলা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং রাতে হালকা খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে পিঠের ব্যথা মুক্ত এক প্রশান্তিদায়ক ঘুম নিশ্চিত করা সম্ভব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
স্বাদে পরিচিত রুই মাছ পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ | ছবি : সংগৃহীত
রুই মাছ খেলে কি সত্যিই হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে? যা বলছে বিজ্ঞান

বাংলাদেশের রান্নাঘরে রুই মাছের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। শহর থেকে গ্রাম, প্রায় সব ঘরেই সপ্তাহে অন্তত একদিন রুই মাছ রান্না হয়। স্বাদে পরিচিত এই মাছ পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ, এমনটাই বলছেন পুষ্টিবিদ ও গবেষকেরা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও পুষ্টিবিষয়ক নিবন্ধে উঠে এসেছে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে, এমনকি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে। বিষয়টি নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞান, চলুন বিস্তারিত জানা যাক। পুষ্টিগুণে ভরপুর রুই মাছ রুই মাছ শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও বেশ সমৃদ্ধ। এই মাছের ক্যালোরি তুলনামূলক কম হওয়ায় যাদের অতিরিক্ত ওজন বা মেদ রয়েছে, তারা খাদ্যতালিকায় এটি রাখতে পারেন। পুষ্টিবিদদের মতে, রুই মাছে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ও, ই,ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং আয়রনসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এ ছাড়া রুই মাছে কোলিন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাওয়া যায়, যা স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা, শরীরের ফ্যাটের বিপাকক্রিয়া এবং পুষ্টি পরিবহণে সহায়তা করে। উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সহায়ক আমেরিকার স্কুল অব নিউট্রিশনের জার্নাল-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রুই মাছ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এমনকি যাদের ইতোমধ্যে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি সত্যিই কমে? বিশেষজ্ঞদের মতে, রুই মাছের তেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই উপাদান রক্তের অণুচক্রিকাকে সহজে জমাট বাঁধতে দেয় না, ফলে রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমে। এ ছাড়া ওমেগা-৩ রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল এলডিএল ও ভিএলডিএল কমাতে সাহায্য করে এবং উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএলের পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক। এর ফলে হৃদ্‌যন্ত্রে চর্বি জমার আশঙ্কা কমে। বিশেষজ্ঞরা তাই মনে করেন, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। কতটা রুই মাছ খাওয়া উচিত? পুষ্টিবিদরা সব ক্ষেত্রেই পরিমিত খাবারের ওপর জোর দেন। তাদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক একটি বড় টুকরা রুই মাছই যথেষ্ট। এর বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। শেষকথা খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতনতা দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে। নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল, মাছ ও সুষম খাবারের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও তা উপকারী হতে পারে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দূষণ ও জলবায়ু ঝুঁকিতে ক্যানসার রোগী বেড়েছে

ইরাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণের চাপ ও সবুজ এলাকার ঘাটতি এ রোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, কুর্দিস্তান অঞ্চলে ১০ হাজার ৫০০, ধি কার প্রদেশে ১০ হাজার এবং আনবারে প্রায় ৬ হাজার ক্যানসার রোগী শনাক্ত হয়েছে।  ২০২৪ সালে দেশজুড়ে মোট ৪৬ হাজার ৩২০টি ক্যানসারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে নিনেভেহ প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ২৩৪টি রোগী পাওয়া গেছে। ক্যানসারে মৃত্যুর দিক থেকে রাজধানী বাগদাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০২৪ সালে সেখানে ক্যানসারে মারা গেছেন ৩ হাজার ৭৬৩ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ, যানজট ও সবুজ জায়গার অভাব এ পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্র ও প্রোস্টেট ক্যানসার বেশি দেখা যাচ্ছে। নারীদের মধ্যে স্তন ও থাইরয়েড ক্যানসার সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত পরিবেশ সংস্কার, সবুজ এলাকা বৃদ্ধি এবং ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তথ্যসূত্র : ইরাকি নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যেসব স্বাস্থ্যকর নাস্তা খেতে পারেন

সাধারণত নাস্তা বলতে আমরা ঝাল, ভাজাপোড়া কিংবা অতিরিক্ত লবণ ও চিনি দেওয়া খাবারকেই বুঝে থাকি। কিন্তু এসব মুখরোচক খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। তাই বলে নাস্তা বাদ দেওয়া সমাধান নয়। বরং অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে বেছে নিতে হবে পুষ্টিকর ও উপকারী বিকল্প। চলুন জেনে নেওয়া যাক নাস্তায় কোন খাবারের জায়গায় কোন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যেতে পারে— বিস্কুটের বদলে বাদাম ও বীজ চায়ের সঙ্গে বিস্কুটের পরিবর্তে কাঠবাদাম, আখরোট, কুমড়ার বীজ বা সূর্যমুখী বীজ খাওয়া যেতে পারে। এগুলোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ, যা দীর্ঘসময় শক্তি জোগায় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। চিপসের পরিবর্তে ভাজা ছোলা অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর তেলে ভাজা চিপসের বদলে ভাজা ছোলা হতে পারে ভালো বিকল্প। এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই পেট ভরিয়ে রাখে। চিনিযুক্ত দইয়ের বদলে টক দই ফ্লেভারযুক্ত দইয়ে অতিরিক্ত চিনি থাকে। তার পরিবর্তে টক দইয়ের সঙ্গে পেঁপে বা বিভিন্ন বেরি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এতে প্রাকৃতিক মিষ্টতা পাওয়া যায় এবং প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। চকোলেটের বদলে ফল ও পিনাট বাটার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে প্রসেসড চকোলেট বা ক্যান্ডির বদলে আপেল বা কলার সঙ্গে সামান্য পিনাট বাটার খেতে পারেন। এতে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সুন্দর সমন্বয় পাওয়া যায়, যা হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়। ইনস্ট্যান্ট নুডলসের পরিবর্তে সেদ্ধ ডিম বা পনির ইনস্ট্যান্ট নুডলস দ্রুত প্রস্তুত হলেও এতে পুষ্টিগুণ খুবই কম। এর পরিবর্তে সেদ্ধ ডিম বা পনির খাওয়া ভালো, যা প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং দীর্ঘসময় মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬ 0
মাথাব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা | ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিন মাথাব্যথা করে, এটা কি ব্রেন টিউমার লক্ষণ?

মাথাব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। কাজের চাপ, ঘুম কম হওয়া, মানসিক দুশ্চিন্তা, চোখের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিক—বিভিন্ন কারণেই মাথাব্যথা হতে পারে। তাই প্রতিদিন মাথাব্যথা মানেই গুরুতর কিছু, এমনটা নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা চলতে থাকলে বা ব্যথার ধরন অস্বাভাবিক হলে তা বড় কোনো রোগের লক্ষণও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্কে টিউমার থাকলেও মাথাব্যথা হতে পারে, যদিও সব মাথাব্যথা ব্রেন টিউমারের কারণে হয় না। এ বিষয়ে কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান, চলুন জেনে নেওয়া যাক। মাথাব্যথা কি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ? আমেরিকান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকা মাথাব্যথা মস্তিষ্কের টিউমারের একটি সাধারণ লক্ষণ হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, বেশিভাগ মাথাব্যথার কারণই অন্য কিছু, যা সাধারণত গুরুতর নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং মস্তিষ্কের কোন অংশে চাপ পড়ছে—এসবের ওপর নির্ভর করে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। টিউমার বড় হয়ে মস্তিষ্কের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। ব্রেন টিউমারের মাথাব্যথা কেমন হতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, মস্তিষ্কের টিউমারের কারণে হওয়া মাথাব্যথা অনেক সময় মাইগ্রেন বা টেনশনের মাথাব্যথা থেকে আলাদা হয়ে থাকে। কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো ১. এমন মাথাব্যথা, যা রাতে ঘুম ভেঙে দেয় ২. শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথার ধরন বদলে যায় ৩. সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে কাজ না করা ৪. কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে স্থায়ী মাথাব্যথা ৫. ঘন ঘন মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, সকালের মাথাব্যথার পেছনে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো অন্য কারণও থাকতে পারে। কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি? চিকিৎসকদের মতে, নতুন ধরনের বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথা হলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং সাধারণ চিকিৎসায় কমে না, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত— ১. শরীরে আগে থেকেই ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং নতুন করে মাথাব্যথা শুরু হয়েছে ২. মাথাব্যথা ক্রমাগত বাড়ছে এবং দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করছে ৩. মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো ৪. মাথার পেছনে চাপ অনুভব হওয়া ৫. বমি বমি ভাব বা বমির সঙ্গে মাথাব্যথা ৬. খিঁচুনি হওয়া বা কথা বলতে অসুবিধা ৭. ঝাপসা বা দ্বিগুণ দেখা, এমনকি দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া ৮. ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, অকারণে বিভ্রান্ত হওয়া বা মানসিকভাবে গুটিয়ে যাওয়া ৯. শরীরের একপাশ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়া বা অনুভূতি কমে যাওয়া সব মাথাব্যথাই কি ভয়ঙ্কর? বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিভাগ মাথাব্যথা গুরুতর নয় এবং সাধারণ কারণেই হয়ে থাকে। তবে যে কোনো মাথাব্যথা যদি ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং সাধারণ ব্যবস্থায় কমে না, তাহলে তা পরীক্ষা করানো জরুরি। যদি মাথাব্যথার সঙ্গে অস্বাভাবিক উপসর্গ যোগ হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। সূত্র : যশোদা হাসপাতাল

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সকালে ডিম সেদ্ধ না ভাজা, কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

ডিম একটি পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় খাবার, বিশেষ করে সকালের নাশতায়। ডিমে রয়েছে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৫ গ্রাম স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং মোট ৭২ ক্যালরি। ভিটামিন ডি, বি১২, রিবোফ্লাবিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ডিম শক্তি জোগায় এবং চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।   আমরা সবাই কম বেশি ডিম খেয়ে থাকি। কেউ ডিম সেদ্ধ কেউবা আবার ডিম ভাজি পছন্দ করেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, স্বাস্থ্যের জন্য ডিম সেদ্ধ নাকি ভাজি করে খাওয়া উচিত? টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদরা এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। পুষ্টি পেতে কীভাবে ডিম খাবেন সকালে অনেকেই সেদ্ধ ডিম খেয়ে থাকেন। পুষ্টিবিদরা এটিকে স্বাস্থ্যকর বলছেন। পুষ্টিবিদদের মতে, সেদ্ধ ডিমে অতিরিক্ত চর্বি বা উপাদান যোগ না হওয়ায় এর প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। এতে ক্যালরি কম, তবু প্রয়োজনীয় পুষ্টি বজায় থাকে। সেদ্ধ ডিম শরীরে শক্তি জোগায় এবং এর কোলিন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এটি কোলেস্টেরল কমাতেও সহায়ক। অন্যদিকে, ডিম ভাজার সময় স্বাদ বাড়াতে পেঁয়াজ, মরিচ, ধনেপাতা, টমেটো, মাখনের মতো উপকরণ যোগ করা হয়। এই উপকরণগুলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের জন্য। ভাজা ডিমে ফসফরাস বেশি থাকে, যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। তবে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ সেদ্ধ ও ভাজা ডিমে প্রায় একই রকম। ডিম প্রায়ই সয়াবিন তেলে ভাজা হয়। যাতে থাকা ট্রান্সফ্যাট হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং হৃদ্‌রোগ ঝুঁকি বাড়ায়। তবে শাকসবজি ও পনির মিশিয়ে ভাজলে ডিমের পুষ্টিগুণ বাড়ে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের (ভিটামিন ও খনিজ) দিক থেকে সেদ্ধ ও ভাজা ডিমের পুষ্টিমান প্রায় একই।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সকালে ভাত খাওয়া উচিত কি না, যা বলছেন পুষ্টিবিদ

মাছে বাঙালি প্রবাদটা শুধু বাঙালির জন্যই। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে নানান পদ থাকলেও ভাত তার মধ্যে অনন্য। কেউ দিনের শুরুতে ভাত খেয়ে প্রশান্তি পান, আবার কেউ দিন শেষে ক্ষুধা মেটাতে ভাত খান। অনেকের ধারণা, সকালে পেটভরে খেলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যায়। তবে, স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালির কাছে একটি প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যায়। সকালে ভাত খাওয়া কী আদৌ স্বাস্থ্যকর, নাকি ক্ষতিকর? এই প্রশ্ন ঘিরে ভিন্নমত আছে পুষ্টিবিদদের মধ্যেই। বিশেষ করে ভাতভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত মানুষরা সকালে ভাত খাওয়াকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নেন। তবে এটি শরীরের জন্য কতটা উপকারী, তা নির্ভর করে বয়স, কাজের ধরন ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর। এদিকে, ডায়েটিশিয়ান নেহা পাঠানিয়া জানান, সকালে ভাত খাওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ নয়, তবে পরিমাণ ও সঙ্গে থাকা খাবার গুরুত্বপূর্ণ। বেশি ভাত রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়াতে পারে। আবার সঠিক প্রোটিন ও সবজি যুক্ত হলে এটি শক্তির ভালো উৎসও হতে পারে। তাই অভ্যাস নয়, প্রয়োজন বুঝেই সবার খাদ্য তালিকা ঠিক করা উচিত। সম্প্রতি হেলথ শটের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য। অনেক মানুষের সকালের খাবারে ভাত একটি স্বাভাবিক অংশ। বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি জাপানেও সকালের পাতে ভাত দেখা যায় নিয়মিত। পুষ্টিবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভাত হজমে সহজ এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে শরীর শক্তি পায় ধীরে ধীরে। প্রতিদিন ভাত খাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর ভাবার কারণ নেই। ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। সঙ্গে যদি বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি যোগ করা যায়, তাহলে ভাত আরও সুষম ও উপকারী খাবারে পরিণত হয়। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কী পুষ্টিগুণ বিদ্যমান চাল সাদা হোক কিংবা লাল— ভাতের পুষ্টিমান নিয়ে সন্দেহের সুযোগ কম। প্রতিটি ধরনের ভাতে থাকে শরীরের জন্য দরকারি নানা উপাদান। এতে পাওয়া যায় ফলেটসহ গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ এবং পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদনে সহায়ক উপাদান। এসব কারণে ভাতকে একটি পরিপূর্ণ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার হিসেবে ধরা হয়। তবে ভাত খাওয়ার উপকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে কখন এবং কতটা পরিমাণে তা খাওয়া হচ্ছে তার ওপর। সঠিক সময় ও সুষম খাদ্যতালিকার সঙ্গে ভাত গ্রহণ করলে শরীর তার সর্বোচ্চ উপকার পেতে পারে। পুষ্টিবিদদের মত অনুযায়ী, দিনের শুরুতে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করলে শরীর সহজেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি পায়। সকালবেলা শরীর তুলনামূলক বেশি সচল থাকে, ফলে তখন শক্তির চাহিদাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। ওজন কমাতে আগ্রহী বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চাইলে সকালে সীমিত পরিমাণ ভাত রাখতে পারেন, এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ ওঠানামার আশঙ্কা কম থাকে। বিপরীতে, রাতের বেলায় ভাত খাওয়া কমানোই শ্রেয়। কারণ ঘুমের আগে ভারী খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে এবং শরীরকে আরাম করতে বাধা দেয়। এখন চলুন ভাত দিয়ে তৈরি কয়েকটি নাস্তার নাম জেনে নেওয়া যাক ১ . রসুন-ডিম মেশানো ভাত অল্প সময়েই রান্না করা যায়, আবার ক্ষুধাও মেটায় ভালোভাবে। রসুনে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে। ডিম সরবরাহ করে মানসম্মত প্রোটিন ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ফ্যাট। ক্যালরি তুলনামূলক কম হলেও পুষ্টির ঘাটতি থাকে না। ২. জাফরান পোলাও বাসমতী চালের সঙ্গে জাফরান, দুধ ও বাদাম মিশিয়ে তৈরি এই খাবারটি স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিতেও সমৃদ্ধ। এতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ৩. চালের পায়েস যারা মিষ্টি খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য সকালের নাস্তায় পায়েস হতে পারে ভিন্নধর্মী একটি নির্বাচন। চাল থেকে পাওয়া স্টার্চ অন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি প্রদাহ কমাতে সহায়ক এবং গরমের দিনে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। দিনের শুরুতে ভাত খাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর বলে উড়িয়ে দেওয়ার কারণ নেই। বরং পরিমিত মাত্রায় এবং সঠিক খাদ্যসংযোজনে ভাত সকালের খাবারকে করতে পারে আরও কার্যকর। শাকসবজি, ডিম কিংবা অন্য কোনো প্রোটিনের সঙ্গে ভাত রাখলে খাবারটি হয়ে ওঠে ভারসাম্যপূর্ণ। এতে শরীর সহজেই প্রয়োজনীয় শক্তি পায় এবং কর্মক্ষমতাও থাকে স্থিতিশীল।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
মানসিক অবসাদের লক্ষণগুলো কী, কখন সতর্ক হওয়া জরুরি

ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ কোনো সাধারণ মনখারাপ নয়, এটি একটি বাস্তব মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুখ। যেমন শরীর অসুস্থ হতে পারে, তেমনই মনও অসুস্থ হতে পারে—আর সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া খুবই প্রয়োজন। আমাদের সমাজে এখনো মানসিক অবসাদকে অনেক সময় হালকাভাবে দেখা হয়। ‘সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে’ ভেবে অবহেলা করা হয়। কিন্তু শুরুতেই লক্ষণগুলো বুঝে ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠতে পারে। মানসিক অবসাদের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন, দীর্ঘদিনের চাপ, সম্পর্কের সমস্যা, ব্যর্থতা, একাকিত্ব বা হরমোনজনিত পরিবর্তনও এর জন্য দায়ী হতে পারে। অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন আচরণেই এর ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকে।   সব সময় মন খারাপ লাগা ডিপ্রেশনের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা। আগে যেসব কাজ বা বিষয় ভালো লাগতো, সেগুলোতেও আর আগ্রহ থাকে না। সারাক্ষণ এক ধরনের শূন্যতা বা দুঃখবোধ কাজ করে। অল্পতেই রাগ বা বিরক্তি মানসিক অবসাদে ভুগলে মানুষ অনেক সময় অকারণে রেগে যান। সামান্য বিষয়েও মেজাজ হারিয়ে ফেলা, চিৎকার করা বা অস্বাভাবিক বিরক্তি প্রকাশ করা এর লক্ষণ হতে পারে। অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া খুব ছোট ঘটনায় অতিরিক্ত কষ্ট পাওয়া, হতাশ হয়ে পড়া বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাও ডিপ্রেশনের ইঙ্গিত হতে পারে। নিজেকে খুব অসহায় বা অমূল্য মনে হওয়াও এর অংশ।   সব সময় ক্লান্ত লাগা কোনো কাজ না করেও সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা, শরীর ভারী মনে হওয়া বা কাজ করার শক্তি না পাওয়া মানসিক অবসাদের বড় লক্ষণ। এটি শুধু শারীরিক ক্লান্তি নয়, মানসিক অবসাদ থেকেও এমন হতে পারে। কাজে অনীহা ও আগ্রহ হারানো দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা, অফিস বা ঘরের দায়িত্ব—কিছুই করতে ইচ্ছে না করা, বারবার কাজ ফেলে রাখা বা সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন হঠাৎ করে খাওয়ার ইচ্ছে একেবারে কমে যাওয়া বা উল্টোভাবে অস্বাভাবিক বেশি খাওয়া—দুই-ই মানসিক অবসাদের সঙ্গে জড়িত হতে পারে। কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন যদি এই লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে এবং আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে দেরি না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।   মানসিক অবসাদ লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়। সঠিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং প্রয়োজন হলে ওষুধের মাধ্যমে ডিপ্রেশন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সূত্র : এবিপি লাইভ

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ 0
একদিনে কতটা আলু খেতে পারবেন, জেনে নিন | ছবি : সংগৃহীত
এক দিনে কতটা আলু খাওয়া নিরাপদ? পুষ্টিবিদের পরামর্শ

ভাত আর আলু—এই দুই ছাড়া বাঙালির রান্নাঘর যেন অসম্পূর্ণ। সকালে আলুভাজা, দুপুরে ঝোল বা তরকারি, সন্ধ্যায় সিঙ্গারা কিংবা চপ—দিনের কোনো না কোনো বেলায় আলু থাকেই। সহজলভ্য, সস্তা আর রান্নায় বহুমুখী হওয়ার কারণে আলু বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আধুনিক জীবনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার কথা মাথায় রাখলে প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে, রোজ আলু খাওয়া কি আদৌ শরীরের জন্য ভালো? আর হলে দিনে ঠিক কতটা আলু খেলে ঝুঁকি থাকে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পুষ্টিবিদদের মতামত তুলে ধরা হলো। পুষ্টিবিদরা বলছেন, আলু পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক পরিমাণে এবং সঠিকভাবে রান্না করে খেলে আলু শরীরের জন্য উপকারীই হতে পারে। দিনে কতটা আলু খাওয়া নিরাপদ? পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সাধারণত দিনে মাঝারি আকারের এক থেকে দুইটি আলু খেতে পারেন। ওজনের হিসাবে তা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আলু যেন ভাজা বা অতিরিক্ত তেল-মশলায় রান্না করা না হয়। আলু কেন উপকারী? আলুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। তাই যারা পরিশ্রমী কাজ করেন বা শারীরিক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য আলু ভালো শক্তির উৎস হতে পারে। পাশাপাশি আলুতে থাকা খাদ্য আঁশ হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে আলু খেলে অনেক ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। আলুর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো এতে থাকা পটাশিয়াম। এই খনিজ উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এছাড়াও আলুতে রয়েছে ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি৬, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। যাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি সব উপকারিতার মাঝেও আলু খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মানা ভীষণ জরুরি। আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আলু খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলে প্রতিদিন আলু না খাওয়াই ভালো। খেলে অল্প পরিমাণে এবং অন্যান্য শাকসবজির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া উচিত। একইভাবে যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদেরও আলু নিয়ে সাবধান থাকা দরকার। সেদ্ধ বা অল্প তেলে রান্না করা আলু পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। তবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস কিংবা বেশি তেলে ভাজা আলু নিয়মিত খেলে ওজন কমার বদলে আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের শেষ কথা সব মিলিয়ে পুষ্টিবিদদের মত, আলু খারাপ নয়। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন তা অতিরিক্ত পরিমাণে বা ভুল পদ্ধতিতে রান্না করে খাওয়া হয়। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পরিমিত ও ভারসাম্য রেখে আলু রাখলে তা শরীরের ক্ষতি না করে বরং উপকারই করে। সূত্র : টিভি নাইন বাংলা

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
দৈনন্দিনের ৭ অভ্যাস বারোটা বাজাচ্ছে ঘুমের, কেন সতর্ক হবেন

শুধু আরামের জন্য নয়, ভালো ঘুম শরীর ও মনের সুস্থতার ভিত্তি। অথচ আমরা অনেকেই না বুঝেই এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলি, যা ধীরে ধীরে ঘুমের মান নষ্ট করে দেয়। দৈনন্দিন জীবনের এসব ভুল একদিনে সমস্যা তৈরি না করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনিদ্রা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিনের কোন অভ্যাস আপনার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছে, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে। নির্দিষ্ট সময়ে না ঘুমানো কখনো রাত ১০টায়, কখনো রাত ১টায়—এই অনিয়ম শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান রিদমকে বিগড়ে দেয়। ফলে শরীর বুঝে উঠতে পারে না, কখন বিশ্রাম নেওয়ার সময়। এর ফল হয় দেরিতে ঘুম আসা, ঘুম ভালো না হওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়। ফলে সকালে উঠে ক্লান্ত লাগে, সারা দিন ঝিমুনি হয়। কাজেও অমনোযোগী হয়ে পড়েন।   ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোনই আমাদের ঘুম পেতে সাহায্য করে। ঘুমের আগে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। ঘুমের মান খারাপ হয়। বিছানায় কাজ করা বিছানায় শুয়ে কাজ করা, ফোন ঘাঁটা বা সিরিজ দেখার অভ্যাস থাকলে মস্তিষ্ক বিছানাকে আর ঘুমের সংকেত হিসেবে নেয় না। ধীরে ধীরে বিছানায় শুলেই ঘুম আসার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়। রাতে ভারী খাবার খাওয়া রাতে দেরি করে খাওয়া, তেল-মসলাদার বা ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে বুক জ্বালা, অস্বস্তি ও বার বার ঘুম ভাঙার প্রবণতা বাড়ে। ভালো ঘুমের জন্য রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা। তা সেরে ফেলতে হবে ঘুমের অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে।   অতিরিক্ত চা-কফি বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ করলে তার প্রভাব রাত পর্যন্ত থাকে। অনেকেই ভাবেন এক কাপ কফিতে কিছু হবে না, কিন্তু নিয়মিত এই অভ্যাস ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়। ছুটির দিনে দেরি করে ওঠা ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে নেওয়াকে অনেকেই ঘুম পুষিয়ে নেওয়া ভাবেন। আসলে এতে সপ্তাহের বাকি দিনের ঘুমের ছন্দ আরো এলোমেলো হয়ে যায়, যাকে বলা হয় সোশ্যাল জেট ল্যাগ। তাই ছুটি পেলেই বেলা অবধি ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন। মানসিক চাপ চিন্তা, দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস নিয়ে সরাসরি বিছানায় গেলে মন শান্ত হয় না। মন শান্ত না হলে সেই ভাবনা অবচেতন মনে চলতে থাকে, যা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায় অনেক সময়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ধ্যান, হালকা বই পড়ার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।   সঠিক ঘুমের জন্য দরকার নিয়মিত রুটিন, সচেতন অভ্যাস এবং নিজের শরীরের সংকেত বোঝা। ছোট ছোট এই ভুলগুলো ঠিক করতে পারলেই ধীরে ধীরে আপনার ঘুমের মান উন্নত হবে, যা আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর। সূত্র : এই সময়

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
লবণ মেশানো হালকা গরম পানির স্বাস্থ্য উপকারিতা কী কী?

হালকা গরম পানিতে এক চিমটে লবণ মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এটি শরীরের সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে শরীর সহজে ডিহাইড্রেটেড হয় না। যারা নিয়মিত জিম করেন বা প্রচুর ঘামেন, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। লবণ মেশানো পানি শরীরের ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং পেশী ও স্নায়ু সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে খাওয়ার ফলে বদহজম, অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের সমস্যা কমে। এটি স্ট্রেস কমানো, শরীরের ডিটক্সিফিকেশন এবং পেশীতে টানের সমস্যা দূর করতেও সহায়ক। সংক্ষেপে, দিনে মাঝে মাঝে এক চিমটে লবণ মেশানো গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ, শক্তিশালী ও সজীব রাখে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী দেশে দেশে ছড়াতে পারে

এটি এমন এক পরজীবী, যা ত্বকের ভেতর দিয়ে শরীরে ঢুকে রক্তে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে। নীরবেই এটি ডিম পাড়ে, আর এসব ডিম জমা হয় মানবদেহের লিভার, ফুসফুস ও যৌনাঙ্গে।   অনেক সময় বছরের পর বছর ধরে মানুষের শরীরে এই পরজীবীর উপস্থিতি থাকলেও তা ধরা না-ও পড়তে পারে। এই পরজীবীর সংক্রমণ স্নেইল ফিভার নামে পরিচিত।   স্নেইল বা শামুক এই পরজীবী বহন করার কারণেই এই নামকরণ। এই রোগের বিষয়ে মানুষের জানাশোনা অনেক কম। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো এই পরজীবী সংক্রমিত রোগ ক্রমেই বদলাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী হচ্ছে।   বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, অলক্ষ্যে থাকা এই পরজীবীর সংক্রমণ এমনভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, ভবিষ্যতে এটি নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   প্রতিবছর এই রোগের জন্য চিকিৎসা নেন বিশ্বের প্রায় ২৫ কোটি মানুষ। যাদের বেশির ভাগই আফ্রিকা মহাদেশে বাস করে। কারণ যেসব শামুক এই পরজীবী বহন করে, সেগুলো মূলত আফ্রিকায়ই পাওয়া যায়। তবে বিশ্বজুড়ে ৭৮টি দেশে এই রোগের সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চীন, ভেনেজুয়েলা ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বিষয়টি এখন একটি বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।   সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে এমন সব পরিবর্তন এসেছে, এটি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।   এই সতর্কবার্তাটি এসেছে এমন এক সময়, যখন ৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।   এই দিবসের লক্ষ্য হলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া, যেগুলো মূলত দরিদ্র অঞ্চলে বসবাসকারী ১০০ কোটির বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। এই পরজীবী বহন করে বিশেষ ধরনের শামুক। এই শামুক যে পানিতে থাকে, সেখানে এই পরজীবীর লার্ভা পানিতে ছড়িয়ে পড়ে।   এখন কোনো মানুষ বা প্রাণী যদি কোনোভাবে সেই পানির সংস্পর্শে আসে বা গোসল করতে নামে, তখন তার স্নেইল ফিভার হতে পারে। এই লার্ভাগুলোতে চামড়া গলিয়ে ফেলার মতো এনজাইম ছাড়ে এবং ত্বকের ভেতর দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়ে। এরপর এগুলো ধীরে ধীরে মানুষের শরীরের ভেতরে বড় হয়ে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বসবাস শুরু করে। স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে।   এই ডিমগুলোর কিছু মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তবে অনেক ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে যায়।   শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সেগুলো ধ্বংস করতে গিয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।   কিছু ডিম তলপেট ও যৌনাঙ্গের আশপাশে আটকে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস। এই রোগে পেটব্যথা থেকে শুরু করে ক্যান্সার এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।   স্নেইল ফিভার সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে সেরে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ, যেমন ছোট শিশু, কৃষি শ্রমিক ও জেলেদের কয়েক বছর ধরে পরামর্শ দিয়ে আসছেন তাঁরা যেন প্রতিবছর এই ওষুধ খায়।   তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়াসহ অন্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরজীবীর নতুন কিছু ধরন পাওয়া গেছে, যেগুলো প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ধরা না-ও পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরে থাকা পরজীবী আর প্রাণীর শরীরে থাকা পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে নতুন ‘হাইব্রিড (মিশ্র)’ ধরন তৈরি করছে।   এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষ ও প্রাণী উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে। ফলে রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা আরো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।   বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন যে, মানুষ ও প্রাণীর শরীরের পরজীবীগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রজনন করছে। কিন্তু তারা নিশ্চিত ছিলেন না, এই হাইব্রিড ডিমগুলো শরীরের বাইরে টিকে থাকতে ও বেঁচে থাকতে পারছে কি না।   এটা প্রমাণ করতে গবেষকরা মালাউইর কিছু নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ ও প্রাণীর কাছ থেকে নমুনা নেন। তাঁরা দেখেন, এসব পরজীবীর ৭ শতাংশই ছিল পরিবর্তিত হাইব্রিড, যা তাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। এর মানে হলো এই নতুন পরজীবীগুলো সফলভাবে বংশবিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতে আরো ছড়িয়ে পড়বে। বিবিসিকে অধ্যাপক মুসায়া বলেন, ‘প্রকৃতিতে যদি এভাবে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা অনেক বড় হয়ে যাবে।’   তিনি সতর্ক করেছেন, যেহেতু গবেষণা শুধু কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় করা হয়েছে, তাই এটা হয়তো ‘হিমশৈলের চূড়া মাত্র, আসল সমস্যা আরো বড় হতে পারে। বিশেষ করে, অনেক সময় পরীক্ষায় এই সংক্রমণ ধরাই পড়ছে না।   ভবিষ্যতে এই হাইব্রিড পরজীবীগুলো পুরনো পরজীবীদেরও হারিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন তিনি। তখন এটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত নন, এই হাইব্রিড পরজীবী বহন করা রোগীদের কিভাবে চিকিৎসা করতে হবে।   অধ্যাপক মুসায়া বলেন, ‘নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের একটা বার্তা—জেগে উঠুন। বড় সমস্যা হওয়ার আগেই কি আমরা দ্রুত কিছু করতে পারি না?’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিন কয়টা কলা খাওয়া উচিত?

কলা একটি সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং শক্তির প্রাকৃতিক উৎস। বছরের বেশিরভাগ সময় অন্যান্য ফলের দাম উর্ধ্বগতি দেখালেও কলা তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং সহজে পাওয়া যায়। দ্রুত শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি হজম উন্নত করতে চাইলে এটি সেরা ফলের মধ্যে একটি। কলা একটি পুষ্টিকর এবং শক্তি বৃদ্ধি করে এমন ফল। এটি আমাদের শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং জটিল স্টার্চ সরবরাহ করে, যা দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। হজমের জন্যও কলা উপকারী, কারণ এতে থাকা ফাইবার, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি৬ অন্ত্রের গতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য খনিজও থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়ক, তবে প্রাকৃতিকভাবে এতে চর্বি এবং সোডিয়ামের পরিমাণ খুব কম। প্রতিদিন কতগুলো কলা খাওয়া উচিত? সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে দুইটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ এবং উপকারী। শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিরা দিনে দুই কলা খেতে পারেন যাতে শক্তি পুনরায় ভরাট হয়। তবে ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী কলার পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত। কারণ এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং উচ্চ পটাসিয়াম কিডনির কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।   প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা কলায় থাকা ফাইবার এবং পেকটিন অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং পেট ফাঁপা কমায়। এই ফল শারীরিক পরিশ্রমের সময় প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। কলায় থাকা পটাসিয়াম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এছাড়া ভিটামিন বি৬ শরীরে সেরোটোনিন এবং ডোপামিন উৎপাদন উদ্দীপিত করে, যা মনের ভালো লাগার অনুভূতি বাড়ায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
পুষ্টিকর খাবার খেতে গিয়ে পকেট ফাঁকা? কিভাবে প্ল্যানিং করবেন

আজকাল বাজারে পা দিলেই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রথম চিন্তা একটাই, পুষ্টি আর খরচ—দুটো একসঙ্গে সামলানো যাবে তো? অনেকের ধারণা, ভালো ও স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই বেশি টাকা খরচ। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টা মোটেও এমন নয়। একটু বুদ্ধি করে পরিকল্পনা করলে, দৈনন্দিন খরচের মধ্যেই পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিকর খাবার মানেই দামি ফল, বিদেশি শাক-সবজি বা বিশেষ খাদ্যসামগ্রী নয়। বরং আমাদের চারপাশে সহজলভ্য বহু খাবারই আছে, যেগুলো নিয়ম মেনে খেলে শরীর সুস্থ থাকে, আবার পকেটেও টান পড়ে না। খরচ বাঁচাবেন কিভাবে প্রথমেই সারা দিন কী খাবেন, সেটা ঠিক করে নিতে হবে। প্রতিদিন কী রান্না হবে, সেটা ঠিক না করে বাজারে গেলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়ে যায়। সপ্তাহের শুরুতেই যদি মোটামুটি একটা খাবারের তালিকা বানিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে বাড়তি খরচ অনেকটাই কমে। এতে খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।   পুষ্টির দিক থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো, মৌসুমি ও স্থানীয় ফল ও সবজি। মৌসুমি শাক-সবজি বা ফলের দাম কম হয় এবং পুষ্টিগুণও ভালো থাকে। কলাই শাক, পুঁই শাক, লাউ, কুমড়া, পেঁপে বা কলা। এগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পায়, আবার খরচও বাড়ে না। প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরতাও বেশ বড় সমস্যার। বাইরে থেকে কেনা খাবার কিছু সময় সস্তা মনে হলেও সেগুলোতে পুষ্টি কম এবং খরচ বেশি পড়ে। তার পরিবর্তে বাড়িতে রান্না করা ভাত, ডাল, সবজি, ডিম বা দই খেলে খরচও কমবে শরীরও ভালো থাকবে। অনেকেই ভাবেন, প্রোটিন মানেই দামি মাছ বা মাংস। ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, ডিম বা বাদামের দামও কম আবার প্রোটিনেও পরিপূর্ণ। এগুলো তুলনামূলক কম দামে সহজেই পাওয়া যায় এবং নিয়মিত খেলে শরীর সুস্থ থাকে।   খরচ বাঁচানোর আরেকটি উপায় হলো একসঙ্গে বেশি পরিমাণে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনা। চাল, ডাল বা আটা যদি একবারে বেশি নেওয়া যায়, তাহলে দাম তুলনামূলক কম পড়ে। এতে বারবার বাজারে যাওয়ার ঝামেলাও কমে। অনেক বাড়িতেই রান্না করা খাবার ফেলে দেওয়া হয়। অথচ আগের দিনের ভাত বা সবজি সামান্য পরিবর্তন করে নতুন খাবার বানানো যায়। এতে একদিকে খাবার নষ্ট হয় না, অন্যদিকে নতুন করে রান্নার খরচও বাঁচে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সচেতনতা। দাম দেখে নয়, পুষ্টিগুণ বুঝে খাবার বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক পরিকল্পনা আর কিছু ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করলেই, অল্প খরচে সুস্থ ও পুষ্টিকর জীবনযাপন করা সম্ভব।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
খুশকি দূর করুন সহজ

শীত এলেই অনেকের মাথার ত্বকে খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে পড়ে। এই শুষ্কতার সুযোগ নিয়ে ফাঙ্গাস দ্রুত বাড়তে থাকে, আর তখনই দেখা দেয় খুশকি, চুলকানি ও চুল পড়ার মতো সমস্যা।   ভালো খবর হলো, এই সমস্যার সমাধান পেতে সব সময় দামি প্রোডাক্টের দরকার নেই। ঘরেই থাকা কিছু সাধারণ উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করলে শীতের খুশকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ভারতীয় লাইফস্টাইল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম বোল্ড স্কাই জানিয়েছে এমনই কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপায়ের কথা।   টি ট্রি অয়েল টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টিসেপটিক গুণ রয়েছে, যা খুশকি কমাতে সাহায্য করে। নারকেল, অলিভ বা জোজোবা তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। হালকা ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।   ক্যাস্টর অয়েল ক্যাস্টর অয়েল স্ক্যাল্পের শুষ্কতা ও চুলকানি কমায়। অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে এই তেল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন।   অ্যালোভেরা অ্যালোভেরা স্ক্যাল্পকে ঠান্ডা রাখে এবং ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে। শ্যাম্পু করার আগে সরাসরি অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন।   আপেল সাইডার ভিনেগার পানির সঙ্গে আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। পাঁচ মিনিট পর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এটি স্ক্যাল্পের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখতে সহায়তা করে।   নারকেল তেল নারকেল তেল শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য খুবই উপকারী। নিয়মিত মাথার ত্বকে তেল ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু করুন। এতে খুশকি কমে এবং চুল নরম থাকে।   কলা, মধু ও অ্যাভোকাডো মাস্ক পাকা কলা ও অ্যাভোকাডো পেস্ট করে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। সপ্তাহে একবার এই মাস্ক স্ক্যাল্পে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করুন। স্ক্যাল্প ময়েশ্চারাইজড থাকবে।   নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু ও টক দই দুই চামচ করে নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু ও টক দই মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।   শীতের খুশকি একদিনে যাবে না, তবে নিয়মিত যত্ন নিলে সমস্যা অনেকটাই কমে আসে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা ও অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে মাথা না ধোয়ার অভ্যাসও জরুরি। একটু যত্নেই শীতেও রাখতে পারেন সুস্থ স্ক্যাল্প ও সুন্দর চুল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
ঘুম থেকে ওঠে পানি পান করা কি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস?

সকালে চোখ খোলার পর শরীরের প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি চাহিদা হলো পানি। সারা রাত ঘুমের সময় শরীর খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করলেও শ্বাসপ্রশ্বাস, ঘাম, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য পদার্থ বের হওয়ার মতো প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এর ফলে শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। সকালে উঠেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে শরীরের তরলের ভারসাম্য ঠিক হয়। এতে ব্রেন ফগ কমে, ঝিমুনি কাটে এবং মনোযোগ বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে যাওয়ার আগে পানি খেলে মনোসংযোগ বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে। ঘুমের সময় শরীরে কোনো খাবার বা পানীয় না ঢুকলেও দেহের ভেতরের কাজ থেমে থাকে না। শ্বাস নেওয়া, রক্তসঞ্চালন, শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বিষাক্ত পদার্থ বের করার জন্য শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই সকালে পানি না খেলে ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা বা অলস ভাব দেখা দিতে পারে।   সকালে পানি খাওয়ার একাধিক উপকারিতা রয়েছে। রাতে যে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণ করে শরীরকে আবার কর্মক্ষম করে তোলে। পানি খেলে অন্ত্রে স্বাভাবিক নড়াচড়া শুরু হয়, ফলে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী এক ঘণ্টার জন্য বিপাকীয় হার প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি শরীরের ভেতরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয়ে যায়, কিডনি ও লিভারের ওপর চাপ কমে। সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়। ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে।   সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়। ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে। পরিমাণের দিক থেকে ঘুম থেকে উঠে ১ থেকে ২ গ্লাস পানিই যথেষ্ট। খুব ঠাণ্ডা বা খুব গরম পানি নয়—স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা সামান্য উষ্ণ পানি শরীর সবচেয়ে সহজে গ্রহণ করতে পারে। প্রতিদিন এই ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পরিবারে কোলেস্টেরলের ইতিহাস আছে? তাহলে কী খাবেন, কী খাবেন না

আজ সুস্থ আছেন বলে যে ভবিষ্যতেও কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তা থাকবে না, তা কিন্তু নয়। সাধারণত অল্প বয়সে কোলেস্টেরলের সমস্যা খুব একটা চোখে পড়ে না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। বিশেষ করে পরিবারে যদি আগে থেকেই উচ্চ কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেই আশঙ্কা আরও বেশি। চিকিৎসকদের মতে, জিনগত কারণে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি থাকলে আগেভাগেই খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। কী খাবেন, কী খাবেন না— এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে হৃদ্‌রোগসহ নানা জটিলতা থেকে আপনাকে দূরে রাখতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন খাবারগুলো আপনার পাতে থাকা জরুরি আর কোনগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। গুড কোলেস্টেরল বাড়ায় যে খাবার যেসব খাবারে গুড কোলেস্টেরল (HDL) এবং ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ বেশি, সেগুলো বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েট বা মেডিটেরানিয়ান ডায়েটে এসব উপাদান পাওয়া যায়। অলিভ অয়েল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরলের সমস্যার আশঙ্কা অনেকটাই কমে। রেড মিট ও ভাজাভুজিতে লাগাম রেড মিট যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলা উচিত। কারণ এটি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার বা ভাজাভুজির পরিমাণও কমাতে হবে। এসব খাবার কোলেস্টেরলের পাশাপাশি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দিনের শুরু হোক ওটস দিয়ে সকালবেলার জলখাবারে ওটস রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ওটস শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও কার্যকর। চাইলে ওটসের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে শরীর পাবে নানা রকম পুষ্টিগুণ। রসুনের ছোট অভ্যাস, বড় উপকার রোজ দুপুরে খাবার শুরু করার আগে এক কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত রসুন খেলে অনেকের ক্ষেত্রেই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি রসুন শরীর সুস্থ রাখতেও নানাভাবে সাহায্য করে। গ্রিন টি রাখুন দৈনন্দিন রুটিনে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পলিফেনল ও ফ্লেভোনলস অত্যন্ত কার্যকর। এই দুই উপাদানই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে গ্রিন টি-তে। প্রতিদিন নিয়ম করে এক কাপ গ্রিন টি পান করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকটাই কমতে পারে। স্ট্রবেরির নিয়মিত ব্যবহার এখন শীতকাল ছাড়াও অন্যান্য সময় স্ট্রবেরি সহজেই পাওয়া যায়। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, কেউ যদি টানা এক মাস প্রতিদিন একটি করে স্ট্রবেরি খান, তাহলে তার কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। কোলেস্টেরল নিয়ে যদি দুশ্চিন্তা থাকে, তাহলে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এই ফলটি রাখতেই পারেন। পরিবারে কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এখন থেকেই সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে নিরাপদ ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
বাড়ির ভেতরে খালি পায়ে হাঁটা কি সত্যিই নিরাপদ? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অনেকেই ঘর পরিষ্কার রাখতে বাড়ির বাইরে জুতা খুলে খালি পায়ে হাঁটতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। এতে ঘর কম নোংরা হয় এবং আরামও লাগে—এমনটাই ধারণা সবার। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় খালি পায়ে শক্ত মেঝেতে হাঁটা পা, জয়েন্ট এমনকি মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ঘরের মেঝে কি সত্যিই জীবাণুমুক্ত? মেঝে দেখতে পরিষ্কার হলেও সেখানে ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও নানা জীবাণু থাকতে পারে। রান্নাঘর ও বাথরুমের আশপাশে আর্দ্রতা বেশি থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। খালি পায়ে হাঁটলে অ্যাথলিটস ফুট, দাদ, চুলকানি, ফাটা গোড়ালি বা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা হতে পারে। যাদের পায়ে আগে থেকেই কাটা বা ফাটল আছে, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ আরো দ্রুত ছড়াতে পারে। পায়ের ওপর বাড়তি চাপ রান্না করা, কাপড় কাচা, ঘর মোছা বা সিঁড়ি ওঠানামা—এসব কাজ সাধারণত শক্ত মেঝেতেই হয়। খালি পায়ে থাকলে পায়ের নিচের ফ্যাট প্যাডকেই পুরো শরীরের চাপ সামলাতে হয়। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে পায়ে ব্যথা, ফোলা ও ক্লান্তি বাড়ে। পরবর্তীতে এটি প্লান্টার ফ্যাসিয়াইটিস বা মেটাটারসালজিয়ার মতো জটিল সমস্যায় রূপ নিতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশি ঝুঁকি ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের পায়ের স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমে যায়। ফলে ছোটখাটো কাটা, ফোসকা বা আঘাত সহজে টের পাওয়া যায় না। মেঝেতে পড়ে থাকা ছোট জিনিস থেকেও গুরুতর ক্ষত বা সংক্রমণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকরা তাদের সব সময় সাপোর্টযুক্ত জুতা পরার পরামর্শ দেন, এমনকি ঘরের ভেতরেও। জয়েন্ট ও পিঠের সমস্যা টাইলস বা মার্বেলের মতো শক্ত মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটলে গোড়ালি, হাঁটু ও কোমরে বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে গোড়ালির ব্যথা, অ্যাকিলিস টেন্ডোনাইটিস, জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া বা কোমর ব্যথা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ভঙ্গিমার সমস্যাও তৈরি হতে পারে।   ঠাণ্ডা মেঝের প্রভাব ঠাণ্ডা মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটলে শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্যেও প্রভাব পড়ে। এতে সর্দি-কাশি, পেশিতে টান বা খিঁচুনির মতো সমস্যা হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরো দ্রুত দেখা যায়। তাহলে কী করবেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাড়ির ভেতরে হালকা, নরম ও সাপোর্টযুক্ত স্লিপার বা ইনডোর জুতা পরার পরামর্শ দেন। ভালো জুতার বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত—কুশনিং ভালো, আর্চ সাপোর্ট থাকা, পিচ্ছিল নয় এমন গ্রিপ থাকা উচিত। বাথরুমের জন্য আলাদা জুতা ব্যবহার করা উচিত। ঘরের বাইরের জুতা আলাদা রাখলে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে। সবশেষে বলা যায়, খালি পায়ে হাঁটা সাময়িকভাবে আরামদায়ক লাগলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি পা, জয়েন্ট ও পিঠের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সামান্য সতর্কতা— যেমন ঘরের ভেতরে সাপোর্টযুক্ত স্লিপার ব্যবহার— বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত তিনটি ভ্রান্ত ধারণা, যা জানা জরুরি

বিশ্বজুড়ে মানুষের রোগা হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কাঙ্ক্ষিত শারীরিক ওজন পেতে অনেকেই কঠোর পরিশ্রমের বদলে ঝুঁকছেন দ্রুত সমাধানের দিকে। ভুল অস্ত্রোপচার, অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ সেবন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভ্রান্তিকর পরামর্শের ওপর ভরসা করছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের ঘটনাও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।   এই প্রবণতার পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যায়াম ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে অনীহা। দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল ও অতিরঞ্জিত তথ্য। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকান স্থূলতা বিশেষজ্ঞ ডা. স্পেন্সার নাদোলস্কি সম্প্রতি একটি ভিডিওতে ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত তিনটি ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে কথা বলেছেন। ওজন কমানোর লক্ষ্যে যারা অবিচল, তাদের জন্য এসব বাস্তব তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। যদিও সত্য অনেক সময় মেনে নেওয়া কঠিন, তবে এগুলো বুঝতে পারলে স্বাস্থ্যকর ও টেকসই উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।   শারীরিক ওজনের ভুল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ডা. নাদোলস্কির মতে, অনেক মানুষই শারীরিক ওজনের ভুল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। শরীরের গঠন, পেশির পরিমাণ, শক্তি কিংবা সামগ্রিক সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে শুধুমাত্র একটি সংখ্যার পেছনে ছুটে বেড়ান তারা। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য কোনো স্কেলের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।’ একজন মানুষ প্রতিদিন কেমন অনুভব করছেন, তার শক্তি, কর্মক্ষমতা ও ল্যাব রিপোর্ট—এসবই প্রকৃত স্বাস্থ্যের সূচক। তাই শারীরিক ওজনের লক্ষ্যমাত্রা এমন হওয়া উচিত, যা শরীরের ক্ষতি না করে দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা যায়।   মেদ কমানোর কোনো জাদুকরী খাবার নেই ‘এই পানীয় খেলেই চর্বি গলে যাবে’ কিংবা ‘চর্বি গলানো সালাদ’—এ ধরনের শিরোনামে ভাইরাল ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিত্যসঙ্গী। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্যায়াম ও সঠিক জীবনযাপন ছাড়া দ্রুত ওজন কমিয়ে দেওয়ার মতো কোনো জাদুকরী খাবার বা পানীয় নেই। ডা. নাদোলস্কির ভাষায়, ‘একমাত্র কার্যকর খাদ্য হলো সেটিই, যেটা দিয়ে আপনি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারেন।’ আদর্শ ডায়েট এমন হওয়া প্রয়োজন, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। যে খাদ্য নিয়মিত ক্ষুধা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত খিদে তৈরি করে, তা কখনোই স্বাস্থ্যকর ও টেকসই ওজন কমাতে সাহায্য করে না। তিনি সতর্ক করেন, কঠোর ডায়েটের মাধ্যমে একবার ওজন কমিয়ে আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরে গেলে আগের চেয়েও দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।   সাহায্য চাওয়া মানেই দুর্বলতা নয় অনেকের জন্য ওজন কমানো সত্যিই কঠিন। কারো ক্ষেত্রে ওষুধ বা এমনকি অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে ডা. নাদোলস্কি বলেন, ‘GLP-1 ওষুধ নেওয়া কোনো প্রতারণা নয়, আর অস্ত্রোপচার করানো দুর্বলতার লক্ষণ নয়।’ তার মতে, সাহায্য চাওয়া মানে এই নয় যে কেউ যথেষ্ট চেষ্টা করেনি। বরং অনেক সময় শরীরের কিছুটা সহায়তা দরকার হয়। এই ধরনের চিকিৎসা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও দেখে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ সেবন বা মাত্রা বাড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি চিকিৎসারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন পথে হাঁটা একেবারেই অনুচিত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নাক বন্ধ ও সাইনাসের সমস্যা দূর করুন ৬টি সহজ উপায়ে

ঋতু পরিবর্তনের সময় নাক বন্ধ হওয়া ও সাইনাসে শ্লেষ্মা জমে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। এর ফলে মাথাব্যথা, মুখে চাপ, ভারি অনুভূতি ও শ্বাস নিতে অস্বস্তি দেখা দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ হল সাইনাসের ভেতরে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে যাওয়া, যা স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে না।    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জটিল চিকিৎসা বা অস্বস্তিকর পদ্ধতির পরিবর্তে কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ঘরোয়া প্রতিকারেই এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উপশম মিলতে পারে।    কেন নাক বন্ধ হয়?  চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাইনাসের ভেতরে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে গেলে তা বের হতে বাঁধা পায়। এর ফলে সাইনাসে চাপ তৈরি হয়, ভারী ভাব আসে এবং শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।  যদিও নেটি পটের মতো কিছু যন্ত্র এক্ষেত্রে কার্যকর, তবে অনেকেই এগুলো ব্যবহার করতে অস্বস্তি বোধ করেন। তাই বিশেষজ্ঞরা এর প্রতিকার হিসেবে নিরাপদ ও সহজ বিকল্পের ওপর জোর দিচ্ছেন।    বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত ৬টি ঘরোয়া প্রতিকার-  ১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন  বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইড্রেশনই প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বেশি পানি ও তরল গ্রহণ করলে শ্লেষ্মা পাতলা হয়, ফলে সাইনাস স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারে। এতে নাক বন্ধ হওয়া ও অস্বস্তি অনেকটাই কমে।  ২. গরম ভাপ নিন  গরম পানির ভাপ নিলে নাকের পথ আর্দ্র হয় এবং ঘন শ্লেষ্মা আলগা হতে সাহায্য করে। গরম পানিতে গোসল করলেও একই উপকার পাওয়া যায়। এটি সাময়িক হলেও দ্রুত আরাম দেয়।  ৩. উষ্ণ সেঁক দিন নাক, গাল ও কপালে উষ্ণ, স্যাঁতসেঁতে তোয়ালে রাখলে ফোলাভাব ও চাপ কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণতা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং শ্বাস নেওয়া সহজ করে।  ৪. মাথা উঁচু করে ঘুমান ঘুমের সময় অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করে মাথা উঁচু রাখলে শ্লেষ্মা সহজে নিচের দিকে নেমে যায়। এতে সকালে নাক বন্ধ থাকা কমে এবং ঘুমও ভালো হয়।  ৫. ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা বজায় রাখুন  শুষ্ক বাতাস নাকের ভেতরের ঝিল্লি শুষ্ক ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসে আর্দ্রতা বজায় থাকে, যা সাইনাসের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।  ৬. হালকা ফেসিয়াল ম্যাসাজ করুন নাক ও কপালের চারপাশে আলতো ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং চাপ কমে। যদিও এটি সাময়িক, তবে দ্রুত আরাম দিতে কার্যকর।    কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে?  বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি নাক বন্ধ থাকা বা সাইনাসের সমস্যা ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়া জ্বর, তীব্র মুখের ব্যথা, ফোলাভাব বা দৃষ্টিসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Top week

সংগৃহীত ছবি
জাতীয়

জানা গেল বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0