স্বাস্থ্য

ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘদিন ভালো রাখতে কুরবানির গোশত সংরক্ষণের সঠিক উপায়

কাল বাদে পরশু পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দের এবং ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপনের দিন। আর্থিকভাবে সাবলম্বীদের জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। গুরুত্বপূর্ণ এই ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ নৈকট্য লাভ করা যায়।    কুরবানির গোশত তিন ভাগ করা সুন্নত। এক ভাগ নিজের ও পরিবারের জন্য। আরেক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের জন্য। আর তৃতীয় ভাগ হলো গরিব-অসহায় ও দুস্থদের জন্য। কুরবানি সময় অনেক গোশত দেখে অনেকে বিচলিত হয়ে পড়েন। সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে এটা  কোনো সমস্যাই না। ফ্রিজে সংরক্ষণের নিয়ম জানা থাকলে গোশতের স্বাদ, পুষ্টিগুণ নষ্ট হবে না। এজন্য ফ্রিজ পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা এবং কুরবানির গোশত দীর্ঘদিন ভালো রাখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও শরিয়তসম্মত নিয়ম জেনে নেই।   কিছু জরুরি ধাপ অনুসরণ করতে হবে পানি ঝরানো: গোশত সংগ্রহের পর ধুয়ে সম্পূর্ণ পানি ঝরিয়ে তারপর রাখতে হবে। খোলা অবস্থায় না রাখা: ভেজা বা রক্তসহ গোশথ খোলা অবস্থায় ফ্রিজে রাখা একেবারেই নিরাপদ নয়। গোশত রাখার জন্য ফুড-গ্রেড পলিথিন বা ঢাকনাযুক্ত কন্টেইনার ব্যবহার করতে হবে। ছোট ছোট অংশে বা ‘ফ্যামিলি প্যাক’ তৈরি  অনেকে বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে এক গাদা গোশত একসঙ্গে ফ্রিজে রেখে দেন, যা অত্যন্ত ভুল পদ্ধতি। একবারের অংশ আলাদা করা: গোশত সবসময় ছোট ছোট ভাগে বা ‘ফ্যামিলি প্যাক’আকারে সংরক্ষণ করা সবচেয়ে কার্যকর। পুনরায় ফ্রিজিং না করা: ফ্রিজ থেকে একবার গোশত বের করে বরফ গলানোর পর, তা রান্না না করে পুনরায় আবার ফ্রিজে রেখে দিলে গোশতের মান ও পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।    অন্য খাবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ফ্রিজের নরমাল বা ডিপ উভয় অংশে কুরবানির কাঁচা গোশথ রাখার সময় সেটিকে আগে থেকে রান্না করা খাবার, ফলমূল বা মিষ্টি জাতীয় জিনিস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখুন।   ডিপ ফ্রিজে গোশত কতদিন ভালো থাকে সঠিক উপায়ে ডিপ ফ্রিজের মাইনাস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হলে কুরবানির গরুর গোশত সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভালো ও খাওয়ার উপযোগী থাকে। 

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৬, ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত
দেশে ইরেকটাইল ডিসফাংশন থাকা ৮০ ভাগ পুরুষের উচ্চ রক্তচাপ: জরিপ

বাংলাদেশে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা উত্থানজনিত সমস্যায় ভোগা বয়স্ক পুরুষদের প্রায় ৮০ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপের রোগী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষদের এই সমস্যাটিকে কেবল যৌন স্বাস্থ্যের সমস্যা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং একে ভবিষ্যতের হৃদ্‌রোগের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। গত শনিবার এক সেমিনারে ঢাকার একটি উপজেলার ওপর পরিচালিত গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। আজ ‘বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ওই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারটিতে চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ ঢাকার দোহার উপজেলার ছয়টি গ্রামের ওপর পরিচালিত ওই গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন। বিবাহিত ৩৮৪ জন বয়স্ক পুরুষের ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা যায়, তাদের ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যেই কোনো না কোনো মাত্রায় ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (উত্থানজনিত সমস্যা) রয়েছে। এই সমস্যায় ভোগা পুরুষদের ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। অধ্যাপক আজাদ বলেন, ‘যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি প্রায় চার গুণ বেশি। আর উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি।’ এই সমস্যার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পুরুষের পেনাইল ধমনি (রক্তনালি) মাত্র ১-২ মিলিমিটার চওড়া হয়। অন্যদিকে হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি ৩-৪ মিলিমিটার চওড়া। এর অর্থ হলো, রক্তনালিতে কোনো ব্লক বা জটিলতা থাকলে হৃদ্‌রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই উত্থানের সমস্যার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইরেক্টাইল ডিসফাংশন আগেভাগে চিহ্নিত করে চিকিৎসা দিতে পারলে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।’ উচ্চ রক্তচাপ এখন ‘নীরব ঘাতক’ বিশ্বব্যাপী এখন মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে বিএমইউর প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুল হক উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি সরাসরি হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এবং কিডনির জটিলতার সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও ইনফরমেটিকস বিভাগের চিকিৎসক ফারজানা ইসলাম ও শহীদুল হক জানান, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তাদের অনেকেই নিজেদের এই রোগ সম্পর্কে জানেন না। বিশেষজ্ঞরা জানান, নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, কায়িক পরিশ্রম, ধূমপান পরিহার এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাবেক লাইন ডিরেক্টর ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন জানান, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় এক কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপের কারণে মারা যায়। সেমিনারে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ বা ২ কোটি ২৮ লাখ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই হয় অসংক্রামক ব্যাধির কারণে। এ ছাড়া এই রোগের কারণে অকালমৃত্যুর হার ৫১ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের (৪১ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘অসংক্রামক ব্যাধির এত বড় বোঝা থাকা সত্ত্বেও দেশের মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৫ শতাংশ এই রোগ নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ দেওয়া হয়।’ জাকির হোসেন জানান, বর্তমানে সারা দেশে ৪৪৬টি এনসিডি কর্নার রয়েছে। ডিজিটালি ৯ লাখ ১৮ হাজারের বেশি উচ্চ রক্তচাপের রোগী এবং ৭ লাখ ৩১ হাজার ডায়াবেটিস রোগীকে নিবন্ধিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ছয় বছরে দেশে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের হার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশকে একটি ‘সাফল্যের গল্প’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।’ রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ কোম্পানি এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক রিয়াদ আরেফিন জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তারা দেশের সব এনসিডি কর্নারে ওষুধ সরবরাহ করছেন। ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনি আগে থেকে চাহিদার পূর্বাভাস দেওয়ার অনুরোধ জানান।

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩৭

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। এ সময়ের মধ্যে কারো মৃত্যু হয়নি। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) পাঁচজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০ জন ও খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) তিনজন রয়েছেন।   এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ যাবত মোট দুই হাজার ৬৩৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।   ১২ মে পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৫৩ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক পাঁচ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ নারী রয়েছেন।   চলতি বছরে ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হামে মৃত্যু ছাড়াল ৪০০

দেশে হামের ভয়াবহতা আরও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর সাতজন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার (১০ মে) পর্যন্ত ৫৫ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৪৪ জনের। একই সময়ে নতুন করে ২৮২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় সরকার দেশজুড়ে টিকাদান ক্যাম্পেইন চালু করলেও এখনো বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে রয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে এখনো ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১৫ শতাংশ শিশু টিকা পায়নি। টিকাদান পরিস্থিতি দ্রুত যাচাই পদ্ধতি বা আরসিএমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে ১ হাজার ৫০৩ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ২৭৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২০৫ জন হাম আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ পর্যন্ত সেখানে মারা গেছে ১৩৮ জন। রাজশাহী বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৭৮ জনের। এছাড়া বরিশালে ২৯, চট্টগ্রামে ২৭, ময়মনসিংহে ২৬, সিলেটে ২৪, খুলনায় ১৪ এবং রংপুর বিভাগে চারজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। এর আগে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৯১। এদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৯ হাজার ১৫৯ জনে। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮১৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হাম, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গুর টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করবে ইডিসিএল

 দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)।  সরকারের এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের টিকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানির সুযোগও তৈরি হবে।  এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আঃ সামাদ মৃধা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে এমন তথ্য জানিয়েছেন।  তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে কোম্পানিটি জরুরি ভিত্তিতে এ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। দেশের জনস্বাস্থ্যের বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, সাপের কামড় ও হাম বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব রোগ প্রতিরোধে দেশে টিকা উৎপাদন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশের বাজারে এসব টিকার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এক বছরের মধ্যে এই চারটি টিকার উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি আগামী বছরের জুনের মধ্যে উৎপাদন শুরু করে সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির যে অবকাঠামো রয়েছে, তা ব্যবহার করেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে এক কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। সামাদ মৃধা বাসস’কে বলেন, বর্তমানে দেশে এই চার ধরনের টিকার মোট বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকার যে দামে এসব টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করে, তার প্রায় অর্ধেক মূল্যে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে টিকা রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে এ বছর হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ৯ মে পর্যন্ত  দেশে হামে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার ৬৫৬ জন শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা না পাওয়ায় এ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনম এবং জলাতঙ্ক নিরোধী টিকার কিছুটা সংকট রয়েছে। প্রতি বছর অ্যান্টিভেনমের অভাবে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জনের বেশি মারা যায়।  এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসস’কে আরও বলেন, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ভ্যাকসিন ও রিসার্চ কমপ্লেক্স স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই কমপ্লেক্সে সব ধরনের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা, নতুন বায়োটেকনোলজি পণ্য উন্নয়ন এবং জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করা হবে।  এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে সেখানে প্রায় ১০ একর জমির ওপর এই সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ২০৩২ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এছাড়াও সংস্থাটির হাতে অ্যান্টিভেনম, জলাতঙ্ক-প্রতিরোধী, জেনেরিক ওষুধ এবং গবেষণা ও ডায়াগনস্টিকসহ মোট চারটি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সরকারের ওষুধ ও টিকার চাহিদা পূরণে বড় ধরনের সক্ষমতা অর্জন করবে এসেনশিয়াল ড্রাগস।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ১৯ দিনের শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ

মাত্র ১৯ দিনের শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জের বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে ভর্তি ওই শিশুর শরীরে জ্বর, সারা শরীরে লালচে দাগ (র‌্যাশ) এবং নিউমোনিয়া শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটিকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   চিকিৎসকদের ধারণা, শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়েছে। রোগটি নিশ্চিত হতে ইতোমধ্যে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।   শনিবার (৯ মে) হাসপাতালের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. মো. মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   তিনি বলেন, গত ৫ দিন ধরে শিশুটির তীব্র জ্বর ছিল। ৩ দিন আগে সারা শরীরে র‌্যাশ দেখা দেয় এবং সে খেতে পারছিল না। এক্স-রেতে নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। শিশুটির মা হামের টিকা নিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তিনি আরও বলেন, “এত অল্প বয়সী শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়া আমাদের জন্য নতুন করে ভাবনার বিষয়। কারণ সাধারণত ছয় মাসের আগে শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া যায় না। শিশুটির সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬
ডামুড্যায় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেশন সভা

হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় কোনো শিশু যেন বাদ না যায়, সেই লক্ষ্যে শরীয়তপুরের ডামুড্যায় কো-অর্ডিনেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ আলম ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদা আক্তার, ডা. জাহিদ হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রধান হিসাব রক্ষক মো. বাবুল আক্তার, এমটিইপিআই মো. মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা। সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহ আলম ছিদ্দিকী জানান, শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কর্মসূচি শতভাগ সফল করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলেও তারা উল্লেখ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ১৫ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে দেড় মাসে সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৩১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৫২ শিশুর এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৫৯ শিশু।   একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৭ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪১ হাজার ৭৯৩ শিশু।   আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে ১৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ৭০৫ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হওয়া ১৭ মৃত্যুর মধ্যে ১২টিই ঢাকা বিভাগে ঘটেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬
রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ’ বলে খাবার গ্রহণ করো | ছবি : সংগৃহীত
কখন সেহরি খাওয়া ভালো? যা বলা হয়েছে হাদিসে

সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম : ১০৯৫)   অন্য হাসিছে এসেছে, ‘তোমরা সেহরি পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করো। কারণ যারা সেহরি খায় আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩/১২, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৯০১০, সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩৪৭৬) কোন সময়ে সেহরি খাওয়া ভালো? হাদিসে বলা হয়েছে, সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরুহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সকল নবীকে সময় হওয়ার পরপরই ইফতার তাড়াতাড়ি করতে এবং সেহরি শেষ সময়ে খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আলমুজামুল আওসাত-তবারানী : ১৮৮৪, মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৩/৩৬৮) আমর ইবনে মায়মুন আলআওদি (রাহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দ্রুত ইফতার করতেন আর শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭৫৯১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৯০২৫) সেহরি খাওয়ার দোয়া সেহরির শুরুতে পড়ার মতো কোনো দোয়া কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়নি। সেজন্য সেহরি খেতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়ার দরকার নেই। অবশ্য যেকোনো খাবারের শুরুতে পড়ার জন্য রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত একটি দোয়া রয়েছে, সেহরির শুরুতে তা পাঠ করা যেতে পারে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ’ বলে খাবার গ্রহণ করো।’ {মুসতাদরাকে হাকেম : ৫/১৪৬, হাকেম ও হাফেজ জাহাবি (রাহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।} অবশ্য ‘আলা’ শব্দ যুক্ত করে ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ এভাবেও পড়া যায়। দোয়াটি ইবনুল জাযারি (রাহ.) তার আলহিসনুল হাসিন গ্রন্থে (পৃ. ২৫৫) উল্লেখ করেছেন। তিনি আলমুসতাদরাক-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।  

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বীজযুক্ত ফল শিশুকে খাওয়ানোর আগে যা জানতেই হবে

শিশুদের খাওয়ার প্রতি এমনিতেই অনীহা লক্ষ্য করা যায়। তার ওপর যদি হয় ফল তাহলে আর কোনো কথা নেই। তবে বাড়ন্ত শিশুদের পুষ্টির জন্য প্রয়োজন ফল। শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে নতুন স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হয়। ফলমূল থেকে সে পায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান। সাধারণত ছয় মাস বয়সের পর থেকেই অল্প পরিমাণে সম্পূরক খাবার শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সব খাবার শিশুর জন্য সমান নিরাপদ নয়। বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সব ফল যে শিশুর জন্য নয় তা অনেকেই জানেন না। বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল দেওয়ার আগে মানতে হবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা। চলুন কেন সতর্কতা প্রয়োজন জেনে নেওয়া যাক— ফলের বীজ ছোট হলেও ঝুঁকি বড় হতে পারে—বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে। বরই, লিচু বা জামের মতো বড় বীজযুক্ত ফল তো আছেই, আপেল, আঙুর, কমলা কিংবা ডালিমের মতো তুলনামূলক ছোট বীজযুক্ত ফল খাওয়ার সময়ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অসাবধানতায় বীজ শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে। এমনকি কিছু কলাতেও সূক্ষ্ম বীজ থাকে, যা শিশুর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সতর্ক না থাকলে কী ঘটতে পারে— খাবার গিলতে মুখ ও গলার একাধিক পেশি সমন্বিতভাবে কাজ করে। তখনই আমরা বুঝে খেতে পারি— কোন অংশটি মুখে যাবে, আর কোনটি ফেলে দিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের এই নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি বিকশিত হয় না। ফলে শক্ত বা ছোট কোনো বস্তু তাদের গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে বীজের মতো শক্ত উপাদান শ্বাসনালিতে আটকে গেলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে। ফল খাওয়ার সময় এমন দুর্ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। কারণ ফল সাধারণত পিচ্ছিল ধরনের। তাই অসাবধানতায় বীজ সহজেই গলার দিকে সরে যেতে পারে। এমনকি শক্ত ফলের ছোট টুকরোও শিশুর গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যে বয়সে যেভাবে ফলমূল দেবেন শিশুকে ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। ছয় মাস বয়স পার হলে সম্পূরক খাবারের অংশ হিসেবে ফল দেওয়া শুরু করা যায়। তবে শুরুতে শুধু ফলের নরম অংশ দিতে হবে। বীজ ও খোসা সম্পূর্ণ ফেলে দিয়ে নরম অংশ ভালোভাবে কচলে বা মিহি করে খাওয়াতে হবে। আপেলের মতো শক্ত ফল আগে সেদ্ধ করে নরম করে নিয়ে তারপর মিহি করে দেওয়া উচিত। শিশু যখন ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতে শিখবে, তখন নরম ফল ছোট ছোট টুকরো করে দেওয়া যেতে পারে। এ সময়ও বীজ ও খোসা এড়িয়ে চলতে হবে। দুই বছর বয়স পূর্ণ হলে টুকরো না করেও ফল হাতে দেওয়া যায়, তবে তখনও অবশ্যই সব ধরনের বীজ ফেলে দিতে হবে। সাধারণত পাঁচ বছর বয়স পূর্ণ হলে সুস্থ শিশুকে বীজসহ কিছু ফল খেতে দেওয়া যেতে পারে। তবু লিচু, জাম বা বরইয়ের মতো বড় বীজযুক্ত ফল পুরোটা একসঙ্গে মুখে দিতে না দেওয়াই ভালো। বরং বীজ বাইরে রেখে চারপাশের অংশ খাওয়ার অভ্যাস শেখানো নিরাপদ। এখন জেনে নেই জীবন বাঁচানোর কৌশল শিশু যখন খাবার খায়, তখন তার পাশে অন্তত একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতি থাকা জরুরি। শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং সেই মুহূর্তে কীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়— এসব বিষয়ে আগে থেকেই ধারণা রাখা প্রয়োজন। জীবনরক্ষাকারী সিপিআর প্রশিক্ষণ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সঠিক পদক্ষেপই একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শিশুর গলায় খাবার আটকে যাওয়াকে বলা হয় ‘চোকিং’ | ছবি : সংগৃহীত
শিশুর গলায় খাবার আটকে গেলে কী করবেন? সঠিক পদ্ধতি জানুন

এক মুহূর্ত আগেও শিশুটি হাসছিল, খেলছিল। হঠাৎ খাওয়ার সময় মুখ লাল হয়ে গেল, শব্দ বন্ধ, মনে হচ্ছে গলায় কিছু আটকে গেছে! মুহূর্তেই ঘরের ভেতর শুরু হয় আতঙ্ক। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি অনেক পরিবারই হন। আর এই কয়েক সেকেন্ডের ভুল সিদ্ধান্ত কখনও কখনও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপদ এড়ানো সম্ভব।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শিশুর গলায় খাবার আটকে যাওয়াকে বলা হয় ‘চোকিং’। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ, এ সময় দাঁত পুরোপুরি ওঠে না, গিলতে শেখার প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয় না। ভারতীয় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠনগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, শক্ত, গোল কিংবা পিচ্ছিল খাবার (যেমন আঙুর, বাদাম, শক্ত বিস্কুট) এই বয়সে খুব সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে। কীভাবে বুঝবেন? প্রথমেই লক্ষ্য করুন, শিশু কাশতে পারছে কি না। যদি কাশে, কাঁদতে পারে বা শব্দ বের হয়; তবে বুঝতে হবে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে শিশুর মুখে আঙুল ঢোকাবেন না। এতে খাবার আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। বরং তাকে কাশতে দিন। অনেক সময় কাশিই সমস্যার সমাধান করে দেয়। কিন্তু যদি শিশুর মুখ নীলচে হয়ে যায়, কোনো শব্দ না বের হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়; তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে শিশুকে উপুড় করে আপনার কাঁধ বা উরুর ওপর রাখুন, মাথা শরীরের চেয়ে একটু নিচের দিকে থাকবে। এরপর পিঠের মাঝামাঝি অংশে হাতের তালু দিয়ে পাঁচবার দৃঢ়ভাবে চাপড় দিন। কাজ না করলে শিশুকে চিত করে বুকে দুই আঙুল দিয়ে পাঁচবার চাপ দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণে এই পদ্ধতি শেখানো হয়। এক বছরের বেশি বয়স হলে এ ক্ষেত্রে ‘হাইমলিক পদ্ধতি’ প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এটি সঠিকভাবে না শিখে প্রয়োগ করা উচিত নয়। ভুলভাবে করলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের আশঙ্কা থাকে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞই অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেন। যেসব ভুল করবেন না সবচেয়ে বড় ভুল হলো, চোখে না দেখে আঙুল বা চামচ দিয়ে খাবার বের করতে চেষ্টা করা। এতে খাবার আরও ভেতরে সরে গিয়ে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে কখনও একা ছেড়ে দেবেন না। খাওয়ানোর সময় শিশুকে বসিয়ে রাখুন। দৌড়াতে দৌড়াতে বা খেলতে খেলতে খাবার দেবেন না। খাবার সব সময় ছোট ছোট টুকরো করে দিন, যাতে গিলতে সুবিধা হয়। শিশুর নিরাপত্তা সচেতনতার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই আতঙ্ক নয়, আগে জানুন তারপরই পদক্ষেপ নিন। সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপই হতে পারে একটি প্রাণ বাঁচানোর চাবিকাঠি। সূত্র : টিভি নাইন বাংলা

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬
জিলাপি। ছবি: সংগৃহীত
জিলাপি বেশি খেলে শরীরে কী ঘটে?

রমজানে ইফতারের টেবিলে গরম গরম জিলাপি দেখলে অনেকেরই মন লোভে ভরে ওঠে। সোনালি রঙের জিলাপি, চিনির সিরায় ভেজানো—এক কামড় দিলেই মুখে ছড়িয়ে পড়ে মিষ্টতার স্বাদ। সারাদিন রোজা রাখার পর এই আকর্ষণ সামলানো সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই দু-এক টুকরায় থামতে পারেন না; কখনো কখনো পুরো প্লেট ভর্তি জিলাপি খেয়ে ফেলাও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু খালি পেটে অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভাজাপোড়া খাবার শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। জিলাপির মতো উচ্চ চিনি ও তেলযুক্ত খাবার বেশি খেলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা রোজার পরবর্তী দিনগুলোকে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। রক্তের শর্করার হঠাৎ ওঠানামা জিলাপিতে থাকে পরিশোধিত ময়দা এবং প্রচুর পরিমাণ চিনি। খালি পেটে এগুলো খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে যায়। এর ফলে শরীরে হঠাৎ ইনসুলিন নিঃসরণ বেড়ে যায় এবং কিছু সময় পর রক্তে শর্করা দ্রুত কমে যায়। এই ওঠানামার কারণে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, হাত-পা কাঁপা কিংবা অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য এই অবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। রক্তে শর্করার অস্থিরতা রোজার বাকি সময় ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা জিলাপি ডুবো তেলে ভাজা এবং চিনির সিরায় ভেজানো একটি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার। একটি মাঝারি আকারের জিলাপিতে সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ ক্যালরি পর্যন্ত থাকতে পারে। ফলে লোভে পড়ে চার-পাঁচটি জিলাপি খেলে সহজেই ৮০০ থেকে ১০০০ ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করে। রোজার দিনে সারাদিন কম ক্যালরি গ্রহণের পর ইফতারে হঠাৎ এত ক্যালরি শরীরে ঢুকলে তা অতিরিক্ত চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে স্থূলতা, পেটের মেদ বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। রমজানে অনেকে ওজন কমানোর আশা করেন, কিন্তু অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাওয়ার কারণে অনেক সময় উল্টো ওজন বেড়ে যায়। হজমের সমস্যা ও অ্যাসিডিটি সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ বেশি তেল ও চিনি জাতীয় খাবার খেলে পেটে গ্যাস, অম্বল, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। জিলাপির মতো খাবারে থাকা পরিশোধিত চিনি ও ট্রান্স ফ্যাট হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে। এর ফলে রোজার পরবর্তী দিনগুলোতে পেটের অস্বস্তি, বুকজ্বালা বা বদহজমের কারণে রোজা রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে। হৃদস্বাস্থ্যের ঝুঁকি অতিরিক্ত চিনি ও ট্রান্স ফ্যাট দীর্ঘমেয়াদে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। বিভিন্ন পুষ্টি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। রমজানজুড়ে যদি প্রতিদিনই বেশি পরিমাণ জিলাপি বা অন্যান্য মিষ্টি খাওয়া হয়, তাহলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বেড়ে যেতে পারে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সমাধানও আছে ইফতারে জিলাপি পুরোপুরি বাদ দিতে না চাইলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। একটি ছোট টুকরা জিলাপি খেলেই মিষ্টির স্বাদ নেওয়া যায়। ইফতার শুরু করা যেতে পারে ফল, খেজুর বা পানি দিয়ে। এতে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কিছুটা কম হয়। বাড়িতে কম তেলে তৈরি জিলাপি বা স্বাস্থ্যকর বিকল্প মিষ্টি বেছে নেওয়াও ভালো অভ্যাস হতে পারে। বাদাম, খেজুর বা ফল দিয়ে তৈরি মিষ্টি খেলে মিষ্টির চাহিদা পূরণ হয় এবং ক্যালরিও নিয়ন্ত্রণে থাকে—এমন পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। জিলাপি আনন্দ ও উৎসবের খাবার, প্রতিদিনের নয়। রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে মিষ্টি ও ভাজাপোড়ার প্রতি সংযম দেখানোই সবচেয়ে বড় কৌশল। পরিমিত খাওয়ার অভ্যাসই আপনাকে সুস্থ রেখে রোজার মাসটিকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
সন্তান নেওয়ার আগে যেসব পরীক্ষা নারী-পুরুষের জরুরি

নতুন অতিথিকে ঘিরে স্বপ্ন বোনা শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। কারও ঘরে ছোট্ট পায়ের শব্দ শোনার অপেক্ষা, কারও মনে নাম ঠিক করার ব্যস্ততা; সন্তান পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলোর একটি। তবে চিকিৎসকদের ভাষায়, এই আনন্দযাত্রা কেবল মানসিক প্রস্তুতির বিষয় নয়, সমান গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রস্তুতিও। আমাদের দেশে এখনো অনেক দম্পতি গর্ভধারণের পর প্রথমবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার আগেই কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নিলে ভবিষ্যতের নানা ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। এতে শরীরে লুকিয়ে থাকা হরমোনজনিত সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা সংক্রমণ আগে থেকেই ধরা পড়ে। প্রয়োজনে চিকিৎসা শুরু করা গেলে গর্ভধারণ হয় নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সন্তান নেওয়ার আগে নারী ও পুরুষ দুজনেরই কোন কোন পরীক্ষা করা জরুরি। নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সন্তান নেওয়ার আগে নারী-পুরুষের যেসব পরীক্ষা জরুরি ১. হরমোন টেস্ট থাইরয়েড, প্রোল্যাক্টিনসহ অন্যান্য প্রজনন হরমোনের মাত্রা জানা খুবই প্রয়োজন। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ওভুলেশন ও ঋতুচক্রে প্রভাব পড়ে। এতে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আগে থেকেই পরীক্ষা করালে সমস্যার সমাধান সহজ হয়। ২. ওভারিয়ান রিজার্ভ টেস্ট অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (এএমএইচ) পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাণুর পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যারা কিছুটা দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই পরীক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ৩. পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ড জরায়ু ও ডিম্বাশয়ে ফাইব্রয়েড, সিস্ট বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) আছে কি না, তা বোঝার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। সমস্যা আগে ধরা পড়লে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ ও কার্যকর হয়। ৪. সংক্রমণ সংক্রান্ত রক্ত পরীক্ষা হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি এবং রুবেলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে কি না, তা জানা জরুরি। কিছু সংক্রমণ গর্ভাবস্থায় মা ও অনাগত শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই আগেভাগে পরীক্ষা করে নেওয়া নিরাপদ সিদ্ধান্ত। ৫. ব্লাড সুগার ও হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা ডায়াবেটিস, রক্তাল্পতা বা পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। সুস্থ গর্ভধারণ ও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষদের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় কেবল নারীর স্বাস্থ্য নয়, পুরুষের স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ—এ বিষয়টি এখন বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলছেন চিকিৎসকেরা। ১. বীর্য পরীক্ষা (সিমেন অ্যানালিসিস) শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি ও গঠন স্বাভাবিক কি না, তা জানার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। স্বাভাবিক গর্ভধারণে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২. হরমোন টেস্ট টেস্টোস্টেরনসহ অন্যান্য হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার। হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে শুক্রাণু উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। ৩. ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ লাইফস্টাইলজনিত রোগ— যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপ প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাও অবহেলা করা উচিত নয়। ৪. যৌন সংক্রমণ পরীক্ষা সেক্সচুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এতে ভবিষ্যতে দম্পতির মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে। সচেতন প্রস্তুতিই নিরাপদ আগামীর চাবিকাঠি সন্তান পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে আনন্দের, তবে দায়িত্বও কম নয়। আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিলে বাড়ে আত্মবিশ্বাস, কমে অযথা উদ্বেগ। সবচেয়ে বড় কথা, সম্ভাব্য জটিলতা অনেকটাই এড়ানো যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ একটাই, ‘সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে একবার প্রি-কনসেপশন চেকআপ করান।’ কারণ, অসুখ বা ঝুঁকি সময়মতো ধরা পড়লে সমাধানও হয় সহজ, আর নতুন জীবনের শুরুটা হয় আরও নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
রমজান মাসে হয়, এমন কিছু কমন শারীরিক সমস্যা ও প্রতিকার জেনে নিন

রমজান মাসে খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের পরিবর্তনের কারণে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। একটু সতর্ক থাকলে তা এড়ানো সম্ভব। গলা-বুক জ্বলা ও অ্যাসিডিটি পেটে গ্যাস, গলা-বুক জ্বলা, ঢেকুর ওঠা ও পেট ফাঁপা রমজানে প্রায় হয়ে থাকে। সারা দিন খালি পেটে থেকে হঠাৎ অনেক ভারী খাবার খাওয়ায় এমনটা হয়। এ সমস্যা কাটাতে ইফতারে অতিরিক্ত ভাজা–পোড়া, তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। একসঙ্গে অনেক বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প করে ভাগ করে খেতে হবে। ইফতারে একসঙ্গে অনেক পানি পান না করে কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে পানি পান করবেন। সাহ্‌রি খেয়ে শুয়ে পড়লে গলা জ্বলার সমস্যা হয়। তাই সাহ্‌রি খেয়ে ফজরের নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে বসে বিশ্রাম নিয়ে তারপর ঘুমাতে পারেন। কোষ্ঠকাঠিন্য রমজানে কোষ্ঠকাঠিন্য আরেকটি পরিচিত সমস্যা। শাকসবজি কম খাওয়ায় এটি হয়। তাই ইফতারে সব ভাজা খাবার না রেখে সবজি সেদ্ধ বা গ্রিল সবজি, প্রচুর ফল রাখুন। সালাদ ও টক দই খেতে পারেন। ফলের রস বা জুসের চেয়ে গোটা ফলে আঁশ বেশি থাকে। সাহ্‌রিতে অনেকে শুধু মাছ–মাংস খেয়ে থাকেন, এটাও ভালো নয়। আঁশযুক্ত সবজি অবশ্যই রাখবেন। আর প্রচুর পানি পান করবেন। বদহজম বদহজম, ডায়রিয়া, আমাশয়জাতীয় সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়। এর মূল কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ। বাইরের খোলা খাবার বা কেনা ইফতারি যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাবেন। ইফতারি স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন উপায়ে প্রস্তুত করতে হবে। যদি বাইরে ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে রাখুন। পাতলা পায়খানা বা বমি হলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি থাকে। তাই ইফতারের পর স্যালাইন খেতে হতে পারে। প্রস্রাবের সমস্যা কারও কারও পানিশূন্যতার কারণে প্রস্রাবে জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে। এ জন্য ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত ধাপে ধাপে দুই-আড়াই লিটার পানি পান করুন। ডিহাইড্রেশন দূর করতে কোমল পানীয় বা অন্যান্য তরলের চেয়ে পানি সবচেয়ে কার্যকর। চাইলে ডাবের পানি, বাড়িতে তৈরি ফলের রস খেতে পারেন। আরেকটি সমস্যা রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বেশি হওয়া। তাই একসঙ্গে বেশি পানি পান করবেন না। ক্লান্তি ও অবসাদ রমজানে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া এই ক্লান্তি অবসাদের মূল কারণ। তাই ইফতার ও তারাবিহর পর একটু আগে ঘুমাতে যাওয়া উচিত, যাতে ঘুমের ঘাটতি না হয়। আবার সাহ্‌রিতে ওঠার পর সকালে খানিকটা ঘুমিয়ে নেওয়া যায়। ঘুমের ছন্দ এলোমেলো হয়ে যাওয়ার কারণে প্রথম দিকে একটু সমস্যা হয়, কিন্তু পরে ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়। পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে ক্লান্তি হবে না। আর দরকার যথেষ্ট পানি পান করা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায় কেন, চিকিৎসা কী

বয়সের কারণে অনেকেরই প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে থাকে। কারও কারও হাঁচি-কাশি দিলে বা পেটে চাপ পড়লে কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব বেরিয়ে আসে। নারী-পুরুষ যে কারোরই এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। এটি অত্যন্ত বিব্রতকর একটি সমস্যা। বৃদ্ধ বয়সে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া নারীদের সন্তান প্রসবের পর এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়। কারণ কী মূত্রনালি সংকুচিত হওয়ার শুরুতে বা যখন সংকুচিত হওয়া উচিত, তখন না হয়ে অত্যধিক প্রস্রাবে পরিপূর্ণ হয়ে গেলে প্রবল চাপে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মূত্র বেরিয়ে আসে। মূত্রাশয় ও মূত্রনালি ঘিরে থাকা পেশিগুলো ঠিকমতো কাজ না করলেও এই সমস্যা হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়, অত্যধিক ওজন বৃদ্ধি বা অন্য কোনো কারণে পেটের নিচের পেশিগুলো শিথিল হয়ে যেতে পারে। পুরুষের বেলায় প্রোস্টেট গ্রন্থির সার্জারির পরও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের আবার প্রস্রাব করার পর মূত্রনালি সম্পূর্ণ খালি হয় না, একটু একটু করে ঝরতে থাকে বা প্রস্রাব করে আসার পরই আবার বাথরুমে ছুটতে হয়। মূত্রনালির পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে বা অন্য কোনো বাধার কারণে এমন হতে পারে। মূত্রতন্ত্রের কোনো সংক্রমণ, মূত্রনালির ক্যানসার, প্রোস্টেটের সমস্যা, পারকিনসন ডিজিজ, স্ট্রোক ইত্যাদি কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ট্রেসের কারণেও এ সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা কী যে কারণে সমস্যাটি দেখা দিয়েছে, সেই কারণের চিকিৎসা করতে হবে। তবে বয়স হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মূত্রথলি ও মূত্রনালির পেশির শক্তি ফিরে আসে না। সে ক্ষেত্রে জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন ও ফিজিওথেরাপি হতে পারে সমাধান। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম, অভ্যাসের পরিবর্তন ও কিছু ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশনের মাধ্যমে এ থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। ব্যায়াম ১: চেয়ারে বসে মেরুদণ্ড সোজা রেখে একটু সামনের দিকে ঝুঁকুন। এবার প্রস্রাব ধরে রাখার জন্য দরকারি মাংসপেশিগুলো সংকুচিত করুন। এই অবস্থায় ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড থেকে সংকুচিত মাংসপেশি ছেড়ে দিন। পুরো প্রক্রিয়াটি ১০ থেকে ১৫ বার এবং দিনে ৪ বার করুন। এই ব্যায়ামকে বলে পেলভিক ফ্লোর মাসল এক্সারসাইজ; যা মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে। রোজ ১০ থেকে ১৫ বার করুন। ব্যায়াম ২: সোজা চিত হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু ভাঁজ করে নিন। এবার ধীরে ধীরে কোমর ওপরের দিকে ওঠান। ৫ সেকেন্ড এভাবে ধরে রাখুন এবং ছাড়ুন। এই ব্যায়ামও দিনে ৪ বেলা এবং প্রতিবার ১০ বার করে। ব্যায়াম ৩: কেগেল এক্সারসাইজ করার জন্য মাটিতে চিত হয়ে সোজাভাবে শুয়ে পড়ুন। দুটো পা ফাঁক করে রাখুন, হাত দুটি শরীরের দুই পাশে সোজা করে রাখুন। এবার শরীরের নিম্নভাগ (বুকের নিচ থেকে নিতম্ব পর্যন্ত) ওপরের দিকে উঠিয়ে দিন। এভাবে ১৫ পর্যন্ত গুনুন। এ অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। হয়ে গেলে ধীরে ধীরে শরীর নিচের দিকে নামিয়ে দিন। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ বার করুন। কিছু অভ্যাস প্রস্রাবের বেগ শুরু হওয়ার ১০ মিনিট পর প্রস্রাব করার অভ্যাস করা। এই ব্যায়াম প্রস্রাব ধরে রাখতে শেখায়। এটাকে বলে ব্লাডার ট্রেনিং। এ ছাড়া টেনশনমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত চা, কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকলে উপকার পাবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
সেহরিতে যে খাবারগুলো না খাওয়াই ভালো

রোজায় সুস্থ থাকতে সেহরির খাবার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক খাদ্য নির্বাচন করতে না পারলে তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস না হলে সারাদিন ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও হজমের সমস্যায় ভুগতে হতে পারে। তাই সেহরিতে কী খাবেন আর কী খাবেন না—সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক- প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার প্রসেসড বা প্যাকেটজাত খাবারে সাধারণত অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। এসব খাবার দ্রুত ক্ষুধা বাড়ায় এবং হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে রোজার সময় দুর্বলতা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার সেহরিতে খেলে বদহজম, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তির আশঙ্কা থাকে। এসব খাবার শরীর ভারী করে তোলে এবং সারাদিন অস্বস্তি বাড়াতে পারে। চা-কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় সেহরিতে চা বা কফি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে রোজার সময় তৃষ্ণা বেশি লাগে। তাই সেহরিতে এসব পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো। অতিরিক্ত মিষ্টি ও ডেজার্ট চিনি-সমৃদ্ধ মিষ্টি বা ডেজার্ট রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার দ্রুত কমিয়ে দেয়। এতে কিছু সময় পরেই দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। তাই সেহরিতে মিষ্টিজাতীয় খাবার না রাখাই উত্তম। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ অনেকে মনে করেন, বেশি খেলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু অতিরিক্ত খাবার হজমের সমস্যা ও পেটের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণই শ্রেয়।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঘুমের মধ্যে ফুসফুসে ঢুকছে বিষ

প্রতি বছর সর্বোচ্চ বায়ুদূষণ ঘটে জানুয়ারি মাসে। এবার ফেব্রুয়ারিজুড়েও ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে রাজধানী ঢাকা। বাতাস সবচেয়ে বিষাক্ত হয়ে উঠছে মধ্যরাত থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত। ফলে ঘুমের মধ্যে ফুসফুসে ঢুকছে বিষ। এতে নগরবাসীর বড় অংশই প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠছে কাশতে কাশতে। দূষিত বায়ুর কারণে বাড়ছে অ্যালার্জিজনিত হাঁচি, কাশি, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট। বায়ুদূষণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারীকে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে সব বয়স ও শ্রেণির মানুষই দূষিত বায়ুতে নাকাল। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারের তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি মাসে বায়ুমান সূচকে ঢাকার গড় স্কোর ছিল ২৩৫, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর। প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ক্ষতিকর অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম ২.৫) ছিল ১৬০.৩ মাইক্রোগ্রাম, যা সহনশীল মাত্রার চেয়ে ৩২ গুণ বেশি। ফেব্রুয়ারির ২১ দিনের মধ্যে ছয় দিন বাতাস ছিল অস্বাস্থ্যকর, ১৫ দিন অতিমাত্রায় অস্বাস্থ্যকর।   আইকিউ এয়ারের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাতাস সবচেয়ে বেশি দূষিত থাকছে মধ্যরাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত। ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার বাতাস ছিল অতিমাত্রায় অস্বাস্থ্যকর। দুপুর ১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ছিল অস্বাস্থ্যকর। রাত ১১টা থেকে গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত বাতাস আবার অতিমাত্রায় অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। এরপর আবার দূষণ কিছুটা কমছে। তবে গত ছয় মাসে এক দিনও নির্মল বায়ুতে শ্বাস নিতে পারেনি ঢাকাবাসী।   বায়ুমান গবেষকরা বলছেন, রাতে ঢাকার বাইরে থেকে প্রচুর পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করে। এগুলোর বেশির ভাগের ফিটনেস নেই। কালো ধোঁয়া নির্গত করে। আইনে নিষিদ্ধ হলেও উন্মুক্ত ট্রাকে নির্মাণসামগ্রী পরিবহন করা হয়। এতে বাতাসে ধুলাবালি বাড়ে। এ ছাড়া সূর্য ডোবার পর বাতাস ঠান্ডা হতে থাকায় জলীয়বাষ্পের সঙ্গে সারা দিনে ওড়া ধুলাবালি নিচের দিকে নেমে আসে। এজন্য মধ্যরাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত বায়ুমান বেশি খারাপ থাকে। জানালা খুলে ঘুমালে সারা রাত এসব ধুলাবালি নিশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করে। অনেক সময় বুকে কফ জমে যায়। অ্যালার্জিজনিত হাঁচি, কাশি বাড়ে।   বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, বায়ুদূষণে ২০১৯ সালে দেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট দেশজ উৎপাদনের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে। বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। অসুস্থতার কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।   এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই সফলতা দেখাতে পারেনি। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের জনগণ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গরুর দুধ মানুষের শরীরের জন্য কতটা উপকারী?

গরুর দুধ বহু শতাব্দী ধরে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে থাকি, দুধ পান করলে হাড় মজবুত হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে। বাস্তবিক অর্থেও দুধে এমন বহু পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরের সঠিক বিকাশ ও কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সবার জন্য দুধ সমানভাবে উপযোগী নয়; কারও কারও ক্ষেত্রে এটি শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই দুধের সুফল ও সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা দুই দিকই জানা প্রয়োজন।   পুষ্টিমান ও দেহগঠন গরুর দুধ উচ্চমানের প্রোটিনের একটি ভালো উৎস, যা পেশি তৈরি ও কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে। শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। দুধে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় ও দাঁত শক্ত রাখে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড়ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, ফসফরাস ও পটাশিয়াম স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় রাখা, রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করা এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।   হজমজনিত সমস্যা ও ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা অনেক মানুষের ক্ষেত্রে দুধ সহজে হজম হয় না। এর প্রধান কারণ দুধে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ‘ল্যাকটোজ’। যাদের শরীরে ‘ল্যাকটেজ’ এনজাইমের ঘাটতি রয়েছে, তারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সে ভুগতে পারেন। ফলে দুধ পান করার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় ল্যাকটোজমুক্ত দুধ বা বিকল্প হিসেবে দই ও পনিরের মতো গাঁজনজাত দুগ্ধজাত খাবার বেছে নেওয়া ভালো, কারণ এগুলো তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য।   হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও ওজন ব্যবস্থাপনা একসময় ধারণা ছিল, পূর্ণচর্বিযুক্ত দুধ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে দুধ অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। যাদের কোলেস্টেরল বেশি বা ওজনাধিক্যের সমস্যা আছে, তাদের জন্য স্কিমড বা লো-ফ্যাট দুধ ভালো বিকল্প হতে পারে।   ওজন নিয়ন্ত্রণেও দুধ সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম স্বাদযুক্ত ফ্লেভার্ড মিল্ক এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়।   বয়সভিত্তিক গ্রহণযোগ্যতা এক বছর বয়সের পর থেকে ধীরে ধীরে শিশুর খাদ্যতালিকায় গরুর দুধ যুক্ত করা যেতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য মায়ের দুধই সবচেয়ে উপযুক্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্লাস দুধ যথেষ্ট, যদি কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা না থাকে।   ত্বক ও চুলের যত্নে ভূমিকা ত্বক ও চুলের সুস্থতায় দুধের উপকারিতা নিয়ে নানা মত রয়েছে। দুধে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ ত্বককে পুষ্টি জোগায়। যদিও সরাসরি দুধ পান করলেই ত্বক উজ্জ্বল হয়—এমন নির্দিষ্ট প্রমাণ সীমিত, তবুও সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক।   সব মিলিয়ে, গরুর দুধকে একপাক্ষিকভাবে ভালো বা খারাপ বলা যায় না। ব্যক্তিভেদে দুধের সহনশীলতা ও প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা অ্যালার্জি নেই, তাদের জন্য পরিমিত দুধ পুষ্টিকর খাদ্য হতে পারে। তবে কোনো সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভুল পজিশনে ঘুমাচ্ছেন না তো? জেনে নিন পিঠের ব্যথা এড়ানোর সঠিক উপায়

সুস্থ শরীরের জন্য সুষম খাদ্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও আরামদায়ক ঘুম অত্যন্ত জরুরি।    পর্যাপ্ত ঘুম কেবল মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং এটি আবেগীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং শরীরের হারানো শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।  চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ভালো ঘুম হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।     তবে শোয়ার ভুল অভ্যাসের কারণে অনেক সময় শরীরে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যার মধ্যে পিঠে বা কোমরে ব্যথা অন্যতম।   বিশেষজ্ঞদের মতে, উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর অনাবশ্যক চাপ সৃষ্টি করে, যা পেশিতে খিঁচুনি বা ব্যথার কারণ হতে পারে।  পিঠের ব্যথা প্রতিরোধে চিকিৎসকরা সাধারণত চিৎ হয়ে বা কাত হয়ে শোয়ার পরামর্শ দেন।  চিৎ হয়ে শুলে শরীরের ওজন সমানভাবে বিন্যস্ত থাকে, ফলে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমে।   এক্ষেত্রে হাঁটুর নিচে একটি পাতলা বালিশ রাখলে কোমরের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় থাকে।  অন্যদিকে, যারা কাত হয়ে শুতে পছন্দ করেন, তারা দুই হাঁটুর মাঝখানে একটি বালিশ ব্যবহার করলে কোমর ও হিপের হাড়ের ওপর চাপ কম পড়ে এবং মেরুদণ্ড সঠিক অবস্থানে থাকে।   সঠিক পজিশনের পাশাপাশি সঠিক তোশক ও বালিশ নির্বাচনও ঘুমের মানের ওপর প্রভাব ফেলে।  মেরুদণ্ডের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় খুব নরম বা খুব শক্ত তোশকের বদলে মাঝারি শক্ত তোশক ব্যবহার করা শ্রেয়।  একইসাথে বালিশের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত যা ঘাড়কে অস্বাভাবিক অবস্থানে ঠেলে দেবে না।  যারা চিৎ হয়ে শোন তাদের জন্য পাতলা বালিশ এবং যারা কাত হয়ে শোন তাদের জন্য তুলনামূলক মোটা বালিশ আরামদায়ক হতে পারে।   ঘুমের গুণগত মান বাড়াতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা এবং শোয়ার ঘরটি অন্ধকার ও শীতল রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো পরিহার করা এবং হালকা স্ট্রেচিং বা বই পড়ার মতো অভ্যাসগুলো গভীর ঘুমে সহায়তা করে। দিনের বেলা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং রাতে হালকা খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে পিঠের ব্যথা মুক্ত এক প্রশান্তিদায়ক ঘুম নিশ্চিত করা সম্ভব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬
স্বাদে পরিচিত রুই মাছ পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ | ছবি : সংগৃহীত
রুই মাছ খেলে কি সত্যিই হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে? যা বলছে বিজ্ঞান

বাংলাদেশের রান্নাঘরে রুই মাছের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। শহর থেকে গ্রাম, প্রায় সব ঘরেই সপ্তাহে অন্তত একদিন রুই মাছ রান্না হয়। স্বাদে পরিচিত এই মাছ পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ, এমনটাই বলছেন পুষ্টিবিদ ও গবেষকেরা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও পুষ্টিবিষয়ক নিবন্ধে উঠে এসেছে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে, এমনকি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে। বিষয়টি নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞান, চলুন বিস্তারিত জানা যাক। পুষ্টিগুণে ভরপুর রুই মাছ রুই মাছ শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও বেশ সমৃদ্ধ। এই মাছের ক্যালোরি তুলনামূলক কম হওয়ায় যাদের অতিরিক্ত ওজন বা মেদ রয়েছে, তারা খাদ্যতালিকায় এটি রাখতে পারেন। পুষ্টিবিদদের মতে, রুই মাছে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ও, ই,ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং আয়রনসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এ ছাড়া রুই মাছে কোলিন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাওয়া যায়, যা স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা, শরীরের ফ্যাটের বিপাকক্রিয়া এবং পুষ্টি পরিবহণে সহায়তা করে। উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সহায়ক আমেরিকার স্কুল অব নিউট্রিশনের জার্নাল-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রুই মাছ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এমনকি যাদের ইতোমধ্যে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি সত্যিই কমে? বিশেষজ্ঞদের মতে, রুই মাছের তেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই উপাদান রক্তের অণুচক্রিকাকে সহজে জমাট বাঁধতে দেয় না, ফলে রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমে। এ ছাড়া ওমেগা-৩ রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল এলডিএল ও ভিএলডিএল কমাতে সাহায্য করে এবং উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএলের পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক। এর ফলে হৃদ্‌যন্ত্রে চর্বি জমার আশঙ্কা কমে। বিশেষজ্ঞরা তাই মনে করেন, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। কতটা রুই মাছ খাওয়া উচিত? পুষ্টিবিদরা সব ক্ষেত্রেই পরিমিত খাবারের ওপর জোর দেন। তাদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক একটি বড় টুকরা রুই মাছই যথেষ্ট। এর বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। শেষকথা খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতনতা দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে। নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল, মাছ ও সুষম খাবারের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও তা উপকারী হতে পারে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দূষণ ও জলবায়ু ঝুঁকিতে ক্যানসার রোগী বেড়েছে

ইরাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণের চাপ ও সবুজ এলাকার ঘাটতি এ রোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, কুর্দিস্তান অঞ্চলে ১০ হাজার ৫০০, ধি কার প্রদেশে ১০ হাজার এবং আনবারে প্রায় ৬ হাজার ক্যানসার রোগী শনাক্ত হয়েছে।  ২০২৪ সালে দেশজুড়ে মোট ৪৬ হাজার ৩২০টি ক্যানসারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে নিনেভেহ প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ২৩৪টি রোগী পাওয়া গেছে। ক্যানসারে মৃত্যুর দিক থেকে রাজধানী বাগদাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০২৪ সালে সেখানে ক্যানসারে মারা গেছেন ৩ হাজার ৭৬৩ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ, যানজট ও সবুজ জায়গার অভাব এ পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্র ও প্রোস্টেট ক্যানসার বেশি দেখা যাচ্ছে। নারীদের মধ্যে স্তন ও থাইরয়েড ক্যানসার সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত পরিবেশ সংস্কার, সবুজ এলাকা বৃদ্ধি এবং ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তথ্যসূত্র : ইরাকি নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব

ইরানকে ঘিরে নৌ অবরোধে ১০০ জাহাজ আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৪, ২০২৬