ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে মস্কো পুরোপুরি প্রস্তুত। যে কোনো ধরনের প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনটি জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় বুশেহর কেন্দ্রকে নিশানা করা হয়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন, সেখানে বর্তমানে শত শত রুশ নাগরিক কাজ করছেন। তবে এবারের হামলা আরও বড় হতে পারে এবং ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সব শহর। এই আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে চাপা উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। লিখাচেভ বলেন, আমরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি। আমাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা যে কোনো সময় প্রয়োজন অনুযায়ী লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি সতর্ক করেছেন, এই স্থাপনায় যে কোনো ধরনের হামলা হলে তা ১৯৮৬ সালের চোরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রের বিপর্যয়ের মতো ভয়াবহ মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইরানের জলসীমার কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল নৌবহর পাঠিয়েছে। প্রতিটি যুদ্ধজাহাজ অস্ত্রে সজ্জিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে আরও একটি বহর যাত্রা করেছেন, যদিও এখনই হামলা হবে কি না সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেননি।
ইরানে প্রাণঘাতী দমন–পীড়নের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের উসকে দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন, যাতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস পায়। সাম্প্রতিক দেশব্যাপী দমন–পীড়ন অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পর এই উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে। আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি কিংবা পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় বড় পরিসরের হামলাও রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে এ সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ পৌঁছানোয় অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতা বেড়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলা হলে তা গত জুনে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো হামলার চেয়েও বড় হবে। তিনি নৌবহরটিকে ইরানের দিকে অগ্রসরমান একটি ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইরানের প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক অবস্থান সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে তারা কূটনৈতিক যোগাযোগও খোলা রাখছে বলে জানা গেছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনায় তেহরান প্রস্তুত, তবে উসকানি দেওয়া হলে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তভাবে আত্মরক্ষা করবে। ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এ দাবি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করে। জাতিসংঘে ইরানের মিশনও জানিয়েছে, জোর করে সংঘাতে ঠেলে দিলে নজিরবিহীন প্রতিশোধ নেওয়া হবে। হামলায় সরকার পতনের প্রশ্নে সংশয় ইসরাইলি কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু বিমান হামলা দিয়ে ইরানে সরকার পরিবর্তন সম্ভব কি না—তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সমন্বয়ে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরালেও শাসনব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে পড়বে না; দ্রুতই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক সংকটে সরকার দুর্বল হলেও এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। খামেনির প্রভাব অব্যাহত ৮৬ বছর বয়সি খামেনি দৈনন্দিন শাসন ও জনসমক্ষে উপস্থিতি কমিয়ে দিলেও যুদ্ধ, পারমাণবিক নীতি ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা তার হাতেই রয়েছে। তিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠদের কাছে অনেক দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন, যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানিও রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে ৫ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য। ইরানি সরকারের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭। উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলে ইয়েমেনে ইরানপন্থি গোষ্ঠীর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা হতে পারে। সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও মিশর নাকি ওয়াশিংটনকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং তাদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে। এক আরব কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ট্রিগার টানতে পারে, কিন্তু এর পরিণতি আমাদেরই বয়ে নিতে হবে।’
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে গত প্রায় চার বছরে নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন দুই দেশের মোট ১৮ লাখেরও বেশি সেনা। মার্কিন থিঙ্কট্যাংক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)–এর এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর তুলনায় রুশ সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মোট ১৮ লক্ষাধিক হতাহতের মধ্যে প্রায় ১২ লাখই রুশ বাহিনীর সদস্য। এদের মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন, আর বাকিদের অধিকাংশই আহত। এছাড়া কয়েক হাজার রুশ সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রুশ বাহিনীর এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সিএসআইএস জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো বৃহৎ শক্তির সেনাবাহিনী বিশ্বের কোথাও কোনো যুদ্ধে এত বেশি হতাহত ও ক্ষতির মুখে পড়েনি—এটি নজিরবিহীন। তবে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতিও কম নয়। গত চার বছরে যুদ্ধে ইউক্রেনের ছয় লাখেরও বেশি সেনা নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক লাখ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের বসন্তকাল নাগাদ দুই পক্ষের মোট হতাহতের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদে যোগ দেওয়ার তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-এর কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যেসব জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে অর্থ প্রদান করেছে, সেগুলো দ্রুত বিএসএফ-এর কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের একটি বড় অংশ অরক্ষিত থাকায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব করছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ এই আদেশ দেন। শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চান, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র ‘সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের অজুহাতে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক সীমান্তের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় রাজ্য সরকারের এই নির্লিপ্ততাকে উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতিরা। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্র ইতোমধ্যে রাজ্য সরকারকে অর্থ দিয়েছে। যেসব এলাকায় এখনো মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া যায়নি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ সম্ভব কি না—সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্য আরও বেড়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ অতিদরিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে যেসব মানুষ অতিদরিদ্র, তাদের মধ্যে বাংলাদেশি পরিবারের ৫৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানি পরিবারের ৪৯ শতাংশ এই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। ব্রিটেনে ‘অতিদরিদ্র’ বলতে বোঝায় এমন পরিবারকে, যাদের বাড়িভাড়া পরিশোধের পর হাতে থাকা আয় ব্রিটেনের জাতীয় গড় আয়ের তুলনায় অনেক কম। উদাহরণস্বরূপ, দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের সারা বছরের আয় যদি ১৬,৪০০ পাউন্ডের নিচে হয়, তবে তারা এই অতিদরিদ্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, ব্রিটেনে বসবাসরত বেশির ভাগ বাংলাদেশি পরিবারের আয় গড় আয়ের মাত্র ৪০ শতাংশ বা তার কম। জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কমলেও চরম দারিদ্র্য বেড়েছে। ১৯৯৪-৯৫ সালে ব্রিটেনে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে এটি কমে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে অতিদরিদ্র্যের হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন। এছাড়া, শিশু দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে, যা গত তিন বছর ধরে ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দুই সন্তানের বেশি সন্তান নেওয়া পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা বন্ধ থাকবে। তবে এপ্রিলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস এই নিয়ম বাতিল করেন। জেআরএফ এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে, তবে সতর্ক করেছে যে, এটি একা শিশু দারিদ্র্য কমাতে যথেষ্ট নয়। সংস্থার মতে, দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীরা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু সংখ্যালঘু জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্যের হার খুবই বেশি। বিশেষ করে ২০২১-২৪ সালে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারের ৫৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানি পরিবারের ৪৯ শতাংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল। এই পরিবারের শিশুদের জন্য দারিদ্র্যের মাত্রা আরও বেশি—বাংলাদেশি শিশুদের ৬৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানি শিশুদের ৬০ শতাংশ। দারিদ্র্যবিরোধী সংস্থা ‘বিগ ইস্যু’-এর প্রতিষ্ঠাতা জন বার্ড এই প্রতিবেদনকে সমাজের জন্য বড় দুঃসংবাদ বলে মন্তব্য করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদসংস্থা মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে যে কোনো সময় সামরিক হামলা চালাতে পারে। চলতি সপ্তাহেই এমন হামলার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সময় পরিবর্তিত হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধ এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এক মাস ধরে ইরানে চলমান বিক্ষোভ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অভিযোগও হামলার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। এই দমন-পীড়নে অভিযোগ আছে, যে এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। প্রথমদিকে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানালেও পরে তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তেজনা কমানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপেই ট্রাম্প এই অবস্থান নিয়েছেন। যদিও কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এতে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক হস্তক্ষেপ স্থগিত করেছে, তবে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কেবল সাময়িক বিরতি। এর আগে ভেনেজুয়েলাতেও একই ধরনের কৌশল নিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা থেকে এখনো সরে আসেননি মার্কিন প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জানুয়ারির শুরুর তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার জন্য অনেক বেশি সামরিকভাবে প্রস্তুত। ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এই প্রস্তুতি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, যেখানে এফ-৩৫, এফএ-১৮ যুদ্ধবিমান এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে। পাশাপাশি জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেয়নি। এই নিষেধাজ্ঞা এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, আরব দেশগুলোর ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা হলে সেসব দেশও পাল্টা হামলার মুখে পড়বে। সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও তুরস্ক প্রকাশ্যে ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছে। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান হামলার পক্ষে ছিল। যদিও সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কাজে ব্যবহার করবে না। এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালে, ইরান কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। তবে আগে থেকেই সতর্কবার্তা দেওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলায় নতুন কোনো মার্কিন হামলাকে দেশটির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হতে পারে। এতে ইরান আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে; যেমন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা বা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। এর আগে, ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকাশে আধিপত্য বজায় রাখলেও ইরান তেলআবিব ও হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দেয়। সৌদি আরবের কাছে থাড ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার অনুরোধ জানালেও রিয়াদ তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী ও একাধিক সহায়ক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। ফলে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রয়টার্সকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী এবং কয়েকটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাভুক্ত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌবহর এগোচ্ছে, যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না। এদিকে, গত সপ্তাহে ইরানের এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর কোনও হামলা হলে তা তারা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা আঞ্চলিক জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে এসব যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন শুরু হয়। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অতীতেও উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধসরঞ্জাম পাঠিয়েছে, যা বেশিরভাগ সময়ই প্রতিরক্ষামূলক ছিল। তবে গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি জড়ো করেছিল।
তীব্র তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছয়টি দেশ—যার একটি বাংলাদেশ। নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার সাসটেইনেবিলিটি-তে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের সংকট দ্রুত গভীর হচ্ছে, যার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর। গবেষণা অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ্বালানির বর্তমান ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার অনুপাত প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বের প্রায় ৪১ শতাংশ মানুষ—অর্থাৎ প্রায় ৩৭৯ কোটি মানুষ—চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই হার ছিল ২৩ শতাংশ বা প্রায় ১৫৪ কোটি। গবেষণায় উচ্চ রেজুলেশনের জলবায়ু ও জনসংখ্যাভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি নিরূপণ করা হয়েছে ‘কুলিং ডিগ্রি ডেইজ’ (সিডিডি) সূচকের মাধ্যমে। বছরে ৩ হাজারের বেশি সিডিডি থাকা অঞ্চলগুলোকে ‘চরম তাপপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই মানদণ্ড অনুযায়ী, চরম তাপে বসবাসকারী সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ভারত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন। গবেষণার প্রধান লেখক ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. জেসুস লিজানা বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে জাতীয় পর্যায়ের গড় তাপমাত্রা প্রকৃত ঝুঁকিকে আড়াল করতে পারে। বাস্তবে দেশের অধিকাংশ মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করে, যেখানে শীতলীকরণের চাহিদা বছরে ৩ হাজার সিডিডির বেশি। এর অর্থ হলো দীর্ঘস্থায়ী ও বিপজ্জনক তাপের মধ্যে জীবনযাপন, যা মানুষের স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা ও জীবনধারণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু সংকটে বিশ্বে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। এতদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার দিকে নজর বেশি থাকলেও গবেষণাটি দেখাচ্ছে—নীরবে কিন্তু সমান প্রাণঘাতী হুমকি হয়ে উঠছে চরম তাপমাত্রা। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহের কারণে হিটস্ট্রোক, হৃদরোগজনিত চাপ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে—বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে, যাদের শীতলীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সীমিত। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে উষ্ণ ও উপউষ্ণ অঞ্চলের নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে শীতলীকরণের চাহিদা সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে। বিপরীতে, কানাডা, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও নরওয়ের মতো দেশে শীতের তীব্রতা কমায় ঘর গরম রাখার প্রয়োজন কমে আসবে। এদিকে, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, লাওস ও ব্রাজিলে ব্যক্তি প্রতি কুলিং ডিগ্রি ডেইজ সবচেয়ে বেশি বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, চরম তাপপ্রবণ দেশগুলোতে এয়ার কন্ডিশনের অতিরিক্ত ব্যবহার ‘কুলিং ট্র্যাপ’ তৈরি করতে পারে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে জলবায়ু পরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত করবে। বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারলে প্রাণঘাতী তাপে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শীতকালীন ঝড়ে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এ ঝড়ে ভারী তুষারপাত, বরফ জমা ও প্রচণ্ড ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, টেক্সাসে স্লেজিং দুর্ঘটনায় এক কিশোর নিহত হয়েছে এবং অস্টিন এলাকায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে হাইপোথার্মিয়ায়। লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, আর্কানসাস, নর্থ ক্যারোলাইনা, টেনেসি, ম্যাসাচুসেটস ও কানসাসেও ঝড়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিউইয়র্ক সিটিতে খোলা জায়গায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। সোমবার সকাল পর্যন্ত টেক্সাস থেকে মেইন পর্যন্ত ২০ কোটির বেশি মানুষ তীব্র ঠান্ডার সতর্কতার আওতায় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলের বড় অংশে শূন্যের নিচে তাপমাত্রা ও রেকর্ড শীত অব্যাহত থাকতে পারে, যা ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত গড়াতে পারে। ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে। সেখানে বরফে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। তুষারঝড়ে পরিবহন খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। রোববার ১০ হাজার ৫০০–এর বেশি এবং সোমবার প্রায় ৫ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়। নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসির বহু সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়েছে। বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে বা অনলাইনে পাঠদান চলছে। এদিকে আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে আরেকটি বড় শীতকালীন ঝড় আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে নাগরিকদের নিয়মিত আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইসরাইল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় দেশটির তিনটি এয়ারলাইন্স—এল আল, ইসরায়ার ও আরকিয়া—যাত্রীদের ফ্লাইট বাতিলের বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে। এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে যারা নতুন টিকিট কিনবেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ফ্লাইট বাতিল করতে পারবেন। বিকল্প হিসেবে ভবিষ্যৎ ভ্রমণের জন্য ভাউচার নেওয়ার সুযোগও থাকবে। গত বছরের জুন মাসে ইরান-ইসরাইলের ১২ দিনের সংঘাতের সময় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরাইলের আকাশসীমা অধিকাংশ সময় বন্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলে হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই দেশটি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইসরাইলের জাতীয় এয়ারলাইন্স এল আল জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কেনা টিকিটের ক্ষেত্রে ফ্লাইট ছাড়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত বিনা খরচে বাতিল করা যাবে। একই ধরনের সুবিধা দিচ্ছে ইসরায়ার ও আরকিয়া এয়ারলাইন্সও। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সব ফ্লাইট নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই চলবে। তবে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে। আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার কারণে যাত্রীদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। আরকিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওজ বেরলোভিটজ বলেন, নিরাপত্তাজনিত জটিল দুই বছরের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শেখা গেছে। ওই সময়ে বহু বিদেশি এয়ারলাইন্স তেল আবিবে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছিল। আরকিয়া যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে ফ্লাইট সূচি স্বাভাবিক আছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ফ্লাইট যুক্ত করা হবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত, ইসরাইলি এয়ারলাইন্সগুলোই দেশটিতে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রেখেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বের হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করে। প্রায় এক বছর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সংস্থায় অংশগ্রহণ পর্যালোচনা শুরু করেছিলেন। এরপর দেশটি ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ত্যাগ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। সেগুলো ‘মার্কিন স্বার্থের বিপরীতে’ মনে করা হচ্ছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত সংস্থা হলো জাতিসংঘের জলবায়ু ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) ও ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। যুক্তরাষ্ট্র ইউএনএফসিসিসি থেকে পুরোপুরি বের হতে এক বছর সময় নেবে। এরপর দেশটি আলোচনায় পূর্ণ অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে ভবিষ্যতের প্রশাসন চাইলে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে। এ সিদ্ধান্ত শুধু সবুজ শক্তি বা নবায়নযোগ্য শক্তি সংস্থার উপর প্রভাব ফেলে না। আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার ফলে বিশ্বের বাণিজ্য, নিয়ম ও সরবরাহ শৃঙ্খলাতেও প্রভাব পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপ ও চীন বিভিন্ন নিঃসরণ মান ও কার্বন নীতিমালা ঠিক করে, যা মার্কিন ব্যবসাকে প্রভাবিত করতে পারে। অনেক সংস্থা ছাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র কিছু সংস্থায় এখনও আছে। যেমন ইউএন এনভার্নমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি), ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) ও ওয়ার্ল্ড মেটোরোলজিক্যাল অরগানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বেশি। কারণ তারা তথ্য ও বিশেষজ্ঞ সরবরাহ করে। কিছু সংস্থায় থাকায় তারা নিজস্ব শিল্প ও অর্থনৈতিক স্বার্থও রক্ষা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ইউএনইপির গ্লোবাল প্লাস্টিক চুক্তিতে মার্কিন প্রতিনিধি দেশের প্লাস্টিক শিল্প রক্ষা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি হলো, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব রাখতে পারে সেখানে থাকা, আর যেখানে প্রভাব নেই বা দেশের নীতির সঙ্গে বিরোধ আছে সেখানে বের হওয়া। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানি ও জলবায়ু নীতির ক্ষেত্রে এ নীতি লক্ষ্য করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র কিছু সংস্থা ছাড়লেও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তগুলো মার্কিন ব্যবসার উপর প্রভাব ফেলবে। ব্যবসায়ীদের এখন বিদেশি সরকার ও শিল্প সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে। যেখানে দেশ এখনও সক্রিয়, সেই ফোরামে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে আগেভাগে সমন্বয় করতে হবে। তথ্যসূত্র : এনডিটিভি
সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে খনিজ সম্পদভিত্তিক নতুন কৌশলের দিকে জোর দিচ্ছে। রিয়াদের দাবি, দেশটির মরুভূমির গভীরে প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের খনিজ সম্পদ রয়েছে—যেখানে সোনা, তামা ও লিথিয়ামের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ‘রেয়ার আর্থ’সহ বিভিন্ন বিরল উপাদানের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব খনিজ বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন ও উন্নত কম্পিউটিং/এআই চিপ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। এই সম্ভাব্য খনিজ ভাণ্ডার কাজে লাগাতে আগামী এক দশকে প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ—এমন তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে বিরল খনিজের উত্তোলন ও শোধনাগারে চীনের প্রভাব বড় হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে; সৌদির এ উদ্যোগ বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে বিরল খনিজ শোধনাগার (রিফাইনারি) স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়–সমর্থিত উদ্যোগসহ একাধিক যৌথ প্রকল্পের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য হিসেবে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন প্রসেসিং সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে খনি উন্নয়ন ও খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল উদ্যোগ—সম্পূর্ণ অবকাঠামো দাঁড়াতে বহু বছর সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সতর্ক করছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি, পানি-সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেও বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ডিজিটাল ডেটাবেইস ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ জোরদার করে খনিজ খাতকে অর্থনীতির নতুন ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করানোই তাদের লক্ষ্য। পর্যবেক্ষকদের মতে, উদ্যোগটি সফল হলে এটি কেবল সৌদির ‘ভিশন’ভিত্তিক অর্থনৈতিক রূপান্তর নয়—বিশ্বের ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সরবরাহ শৃঙ্খলও নতুনভাবে সাজিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি কানাডা চীনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা সমস্ত কানাডীয় পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে শুল্ক আরোপ করা হবে। শনিবার ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে এই হুমকি জানান। তিনি লিখেছেন, “কানাডা যদি চীনের সঙ্গে চুক্তি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ঘটনাটি ঘটে মার্কিন ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যে। গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সমালোচনা করেন। এর ফলে ট্রাম্প ও কার্নির মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্ক কার্নি সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পরে ঘোষণা করা হয় যে, দুই দেশ একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি সম্পর্কিত বিষয়ও রয়েছে। ট্রাম্প প্রথমে এই চুক্তিকে প্রশংসা করেছিলেন, তবে পরে সম্ভাব্য চুক্তিকে নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে ‘গভর্নর কার্নি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সতর্ক করে লিখেছেন, “যদি তিনি ভাবেন কানাডাকে চীনের জন্য ‘ড্রপ অব পোর্ট’ বানানো হচ্ছে, তবে এটি মারাত্মক ভুল। তবে ট্রাম্প কখন শুল্ক আরোপ করবেন তা স্পষ্টভাবে জানাননি। গত বছরও তিনি কানাডার ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দেন এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম রাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা উন্নতি করলেও, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল এবং ন্যাটো সম্পর্কে মন্তব্য কানাডা ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করেছে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজার ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
ইরানের সঙ্গে জড়িত আরও ৯টি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় ইরান সরকারের বিরুদ্ধে নতুন দফায় নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জাহাজগুলো শ্যাডো ফ্লিটের অংশ হওয়ায় তাদের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস নয়টি জাহাজসহ এর মালিক ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নৌযানগুলো ব্যবহার করে বিদেশে লাখ লাখ ডলারের তেল রফতানি করছে তেহরান যা থেকে আয়ের অর্থ মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে নাগরিকদের দমন-পীড়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তেহরানের অর্থ জোগানোর ক্ষমতা সীমিত করবে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, 'ইরানি শাসকরা বর্তমানে আত্মঘাতী পন্থা অবলম্বন করছে। নিজ দেশের জনগণের চেয়ে সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেওয়ার তেহরানের সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মানকে তলানিতে ঠেলে দিয়েছে। আজকের এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের সেই আয়ের উৎসে আঘাত হানবে, যা তারা নিজ দেশের মানুষকে দমনে ব্যবহার করে।' উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জন্য দায়ী ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ট্রেজারি বিভাগ। এছাড়াও কিছুদিন আগে ইরানের পাশাপাশি ভেনিজুয়েলা থেকে তেল পরিবহনকারী ট্যাঙ্কারগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির তেলের ওপর অবরোধ কার্যকর করতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অন্তত সাতটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে।
আফগানিস্তানে নারীদের জন্য তায়কোয়ান্দো জিম পরিচালনায় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ২২ বছর বয়সী এক নারী ক্রীড়াবিদকে ১৩ দিন কারাভোগের পর মুক্তি দিয়েছে তালেবান। তালেবানের সুপ্রিম কোর্টের এক মুখপাত্র তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিবিসি জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্ত ওই নারীর নাম খাদিজা আহমাদজাদা। তিনি আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতের কাছে বসবাস করতেন এবং মেয়েদের জন্য একটি তায়কোয়ান্দো জিম পরিচালনা করছিলেন। দেশটির মিনিস্ট্রি অফ ভাইস অ্যান্ড ভারচুও'র মুখপাত্র জানান, নারীদের ক্রীড়া সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে খাদিজাকে আটক করা হয়েছিল। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নারীদের জন্য সব ধরনের স্পোর্টস ক্লাব বন্ধ রয়েছে। তখন বলা হয়েছিল, 'নিরাপদ পরিবেশ' তৈরি হলে তা আবার চালু করা হবে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো ক্লাবই পুনরায় চালু হয়নি, এবং নারীরা এখনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না। পশ্চিম আফগানিস্তানের হেরাত শহরের কাছে বসবাসকারী খাদিজাকে আরও কয়েকজনের সঙ্গে আটক করা হয়। অভিযোগ ছিল, সঠিকভাবে হিজাব না পরা, জিমে গান বাজানো এবং নারী-পুরুষ একসঙ্গে থাকার সুযোগ দেওয়া। এই অভিযোগে তাকে ১৩ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তালেবান কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগেও তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। খাদিজার গ্রেফতারের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসে আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেটের। তিনি অনলাইনে পোস্ট দিয়ে খাদিজার দ্রুত মুক্তির আহ্বান জানান। এ সময় তিনি কুন্দুজ শহরে আটক নারী সাংবাদিক নাজিরা রশিদির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তবে তালেবান মুখপাত্ররা দাবি করেছেন, নাজিরা রশিদির আটক সাংবাদিকতার কারণে নয়। তালেবান শাসনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং খেলাধুলার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। খাদিজার মুক্তি মিললেও, নারীদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না আন্তর্জাতিক মহলে।
ন্যাটোর সামরিক সহায়তা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন হয়নি—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আফগান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ন্যাটোকে কার্যত অকার্যকর বলার অভিযোগে ক্ষুব্ধ জোটভুক্ত দেশগুলো। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান বিরোধী অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময়ে দেশটির সাথে ছিলো ব্রিটেন। এর পাশাপাশি ওই যুদ্ধে যোগ দেয় সামরিক জোট ন্যাটো। সম্প্রতি ন্যাটো জোটের সমালোচনা করতে গিয়ে আফগান-ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সামরিক জোটটি কিছু সেনা পাঠালেও তা লড়াইয়ের ময়দানে খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কখনো ন্যাটো জোটের সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। বাস্তবে তাদের কাছে কিছু চায়নি মার্কিন প্রশাসন। তারা বড়জোর বলবে যে, আফগানিস্তানে কিছু সেনা পাঠিয়েছিল। হ্যা, এটা সত্য যে তারা এটা করেছে। কিন্তু সম্মুখসারিতে লড়াই করেছে মার্কিন সেনারা। ন্যাটোর সেনারা তা করেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যই আফগান যুদ্ধে সামরিক জোট এবং এর সদস্যরা জড়িয়েছিলো। তাই এখন তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই বলে ক্ষোভ জানান সংশ্লিষ্ঠরা। পোল্যান্ডের সেনাবাহিনীর জেনারেল (অব:) রোমান পলকো বলেছেন, এই জোটের জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি। আমরা সত্যিই নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছি। পোল্যান্ডের সেনারা নিজেদের আত্মসম্মান এবং মর্যাদা নিয়ে লড়াই করেছে। কিন্তু এখন আফগান যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার করছেন তিনি। তার এমন মিথ্যাচার আমরা বহু শুনেছি। ট্রাম্পকে এজন্য ক্ষমা চাইতে হবে। আফগান যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানের কারণে শুধু ক্ষোভই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বিভিন্ন সম্মাননাও প্রত্যাখান করছেন লড়াই করা ন্যাটো সেনারা। ডেনমার্ক সেনাবাহিনীর কর্নেল (অব:) সরেন নডসেন বলেন,'আমি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রোঞ্জ স্টার পেয়েছিলাম। আমি এতে খুব গর্বিত ছিলাম। এটি এমন একটি পদক, যা ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দেয়া হয়। কিন্তু যেদিন জেডি ভ্যান্স আমাদের খারাপ মিত্র আখ্যা দিয়েছে, তখনই আমি এটা খুলে ফেলি।' উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে অভিযান চলাকালে বিভিন্ন সময়ে ন্যাটোর প্রায় ১ লাখ ৩০ সেনা সদস্য অংশ নেয়। আফগান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও চাপে ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রিন্স হ্যারি। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) আফগান যুদ্ধে নিহত ৪৫৭ ব্রিটিশ ন্যাটো সৈন্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি । এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ন্যাটো সেনাদের ত্যাগ 'সত্য ও সম্মানের' সঙ্গে তুলে ধরা। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের কখনো ন্যাটোর সামরিক সহায়তার প্রয়োজন হয়নি এবং আফগানিস্তানে ন্যাটো কিছু সেনা পাঠালেও তারা সম্মুখ সমরে ছিলো না বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার এই বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারা কার্যকর করা হলে যুক্তরাজ্যসহ আরো অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আফগানিস্তানে যুদ্ধে যোগ দেয়। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যে ব্রিটেনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক ভিডিও বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, এই মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং নিহত সেনাদের আত্মত্যাগকে অবমাননা করে। স্টারমার বলেন, যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাদের জন্য গভীর কষ্টের। তিনি যোগ করেন, নিজে এমন ভুল তথ্য দিলে অবশ্যই ক্ষমা চাইতেন। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের অবস্থানের পক্ষে কথা বলেছেন মার্কিন প্রশাসনের মুখপাত্র। বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলেছেন, তা সঠিক। ন্যাটোর অন্য সব দেশ সম্মিলিতভাবে যা করেছে, যুক্তরাষ্ট্র একাই তার চেয়ে বেশি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাবে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। একে উভয় পক্ষই ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’ বলে উল্লেখ করছে। আগামী সোমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা প্রধান অতিথি হিসেবে দিল্লিতে থাকবেন। আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক অচলাবস্থা এবং ট্রাম্পের উচ্চ শুল্কের কারণে ভারত বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। একইভাবে ইউরোপও চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের দিকে ঝুঁকছে। আগামী ২৭ জানুয়ারি দুই পক্ষের শীর্ষ বৈঠকে চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। এটি হলে গত দুই দশকের আলোচনার অবসান ঘটবে। এই চুক্তি কার্যকর হলে এটি হবে চার বছরে ভারতের নবম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। অন্যদিকে ইইউ এর আগেও জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে এমন চুক্তি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অর্থনৈতিক দিকের মতোই বড়। এতে ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব কমবে এবং ইউরোপের জন্য নির্ভরযোগ্য বাজার তৈরি হবে। তবে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যেমন—মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, কার্বন কর ও কৃষিপণ্য। এসব বিষয় ধাপে ধাপে সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ‘নতুন জাতিসংঘ’ বানাতে চাইছেন। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সংস্থার নাম ‘বোর্ড অব পিস’। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) লুলা বলেছেন, ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা জাতিসংঘকে সংস্কার করার বদলে নিজের নিয়ন্ত্রণে নতুন সংস্থা বানানোর চেষ্টা চলছে। খবর অনুযায়ী, এই সংস্থায় স্থায়ী সদস্য হতে হলে ১০০ কোটি ডলার দিতে হবে। এর চেয়ারম্যান থাকবেন ট্রাম্প নিজে। এজন্য অনেক দেশের নেতা, লুলাসহ এ সংস্থায় যোগ দিতে চাননি। গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোস ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। সেখানে ১৯ দেশের নেতা ও প্রতিনিধি প্রথমে সই করেন। লুলা বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের অনেক দেশ শক্তি দেখানোর চেষ্টা করছে, যা বিপজ্জনক। তিনি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও জাতিসংঘের গুরুত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এক দিন আগে লুলা চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ওই ফোনালাপে শি জিনপিং জাতিসংঘের মূল ভূমিকা বজায় রাখার পরামর্শ দেন। লুলা আরও বলেন, এই নতুন সংস্থা প্রাথমিকভাবে গাজা পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেবে। কিন্তু ভবিষ্যতে এর ক্ষমতা ফিলিস্তিনের বাইরেও হতে পারে। এটি জাতিসংঘের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যও এই পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অন্তর্ভুক্ত করায় আপত্তি জানিয়েছে। ফ্রান্স বলেছে, জাতিসংঘের নিয়ম ও আন্তর্জাতিক শর্তের সঙ্গে সংস্থার নিয়ম মেলে না।
ইরান জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করবে। শুক্রবার এই মন্তব্য করেন ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী বহর ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর ঘোষণা আসে। পরিচয় প্রকাশ না করে তিনি রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ানো হয়তো সরাসরি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে নয়, কিন্তু ইরান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছে। এ কারণে দেশটি এখন উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সীমিত বা ছোট পরিসরের হামলাও চালায়, ইরান সেটিকে পুরো যুদ্ধ হিসেবে দেখবে এবং কঠোর জবাব দেবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, একটি বড় মার্কিন রণতরী বহর ইরানের দিকে এগোচ্ছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেটি ব্যবহার করতে হবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা নিয়ে সতর্ক করেন। ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, তাহলে দেশটি অবশ্যই পাল্টা জবাব দেবে। তবে জবাবের ধরন কী হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হুমকির মুখে ইরানের হাতে থাকা সব সামর্থ্য ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এর আগে উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা ছিল প্রতিরক্ষামূলক। তবে গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার আগে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে বৈঠকে বসেছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে রুদ্ধদ্বার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়; তবে বৈঠকের এজেন্ডা বা অগ্রগতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আলোচনায় সবচেয়ে জটিল ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে ভূখণ্ড/ডনবাস প্রশ্ন। ইউক্রেনীয় নেতৃত্ব জানিয়েছেন, সমাধানে উভয় পক্ষকেই সমঝোতার পথে আসতে হবে—শুধু এক পক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। রাশিয়ার অবস্থানও মূলত ভূখণ্ডগত বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও তথ্য এসেছে বিভিন্ন সূত্রে। খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং রাশিয়ার প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ’র প্রধান অ্যাডমিরাল ইগর কোস্তিউকভ। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিনিয়োগ/অর্থনৈতিক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাদা যোগাযোগও আলোচনায় ছিল। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, আলোচনা চললেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। শীতের মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আঘাতে ইউক্রেনে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও মানবিক চাপ বেড়েছে; পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জেনারেটর পাঠানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারও (২৪ জানুয়ারি) তিন দেশের প্রতিনিধিদের আবার বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি কতটা আসে—তা পরবর্তী বৈঠক ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।