ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, কিছু বিক্ষোভকারী দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে বিদেশি শক্তিকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে নিজেদেরই রাস্তা, অবকাঠামো ও জনসম্পদ ধ্বংস করছে। তিনি মন্তব্য করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই ন্যায্য প্রতিবাদ হতে পারে না; বরং এটি একটি রাষ্ট্রকে দুর্বল করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। খামেনির মতে, যারা অন্য দেশের প্রেসিডেন্ট বা বিদেশি নীতিনির্ধারকদের খুশি করতে দেশের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তারা আসলে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ ও আইনসম্মত দাবির অধিকার জনগণের আছে, কিন্তু সেই অধিকারকে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ বা সরকারি-বেসরকারি সম্পদ নষ্ট করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। খামেনি আরও বলেন, বিদেশি শক্তি বরাবরই ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে চায়, আর কিছু গোষ্ঠী সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হয়ে উঠছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দাবি করেন, দেশের বিরুদ্ধে আরোপিত চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্বশীল ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনসাধারণের জানমাল রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। বক্তব্যের শেষে তিনি জনগণকে গুজব ও উসকানিতে কান না দিয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ট্রাম্পকে নিজের দেশের সমস্যার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্পের সরাসরি সমালোচনা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। বিক্ষোভ শুরুর পর এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। খামেনি বলেন, কিছু উসকানিদাতা সরকারি সম্পদ ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করার চেষ্টা করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, 'কিছু উসকানিদাতা রয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে সরকারি সম্পদ ধ্বংস করছে। ঐক্যবদ্ধ ইরানি জনগণ সব শত্রুকে পরাজিত করবে। ট্রাম্পের উচিত নিজের দেশের সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়া।' খামেনি আরও বলেন, শত শত মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা এই রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের কাছে কখনো মাথানত করা হবে না ইরান বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। পাল্টাপাল্টি এসব বক্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কে। এদিকে, বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ব নেতারা। উল্লেখ্য, হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ইরানে সহিংসতায় অন্তত ৪২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২৭০ জনের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ২০২২ সালের পর দেশটিতে সবচেয়ে বড় আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওই বছর পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক ও প্রাণঘাতী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানায়। সেই আন্দোলনে ইসলামী প্রজাতন্ত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে শুরু করে নিষেধাজ্ঞাজনিত ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জনরোষ প্রকাশ পায়। তবে, এবারের বিক্ষোভের বিশেষ দিক হলো, এর সূচনা করেছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। বর্তমান বিক্ষোভ এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন ইরান ক্রমবর্ধমান পশ্চিমা হুমকির মুখে রয়েছে। মাত্র ছয় মাস আগেই প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের কয়েকদিন পরই এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
স্টর্ম গোরেট্টির প্রভাবে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ভারী তুষারপাতের সময় ব্রিটেনের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলের আকাশে দেখা যায় ঝলমলে গোলাপি রঙ। বিশেষ করে বার্মিংহাম শহর এবং স্ট্যাফোর্ডশায়ারের হেডনেসফোর্ড এলাকায় এই বিরল দৃশ্য নজর কাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, তুষারপাতের মধ্যে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে উজ্জ্বল গোলাপি আভা। দেশটির সংবাদমাধ্যম বিবিসি'র আবহাওয়া উপস্থাপক সাইমন কিং জানান, মেঘের ঘনত্ব ও পড়তে থাকা তুষারের কারণে এমনটি হয়েছে। তিনি বলেন, বার্মিংহাম সিটির ফুটবল মাঠ সেন্ট অ্যান্ড্রুজের আলো এই রঙিন আভা তৈরির একটি উৎস হতে পারে। এদিকে, হেডনেসফোর্ড টাউন ফুটবল ক্লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, সপ্তাহের শুরুতে দেখা যাওয়া একই ধরনের আলো।
মার্কিনীদের মদ্যপান বন্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলো কড়া নির্দেশনা। আগামী ৫ বছরের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সুস্থ থাকতে হলে কমাতে হবে অ্যালকোহল পান। বিশেষ করে সকালের নাশতায় কোনোভাবেই চলবে না মদ্যপান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার জনগণের জন্য প্রকাশ করেছে আগামী ৫ বছরের জন্য আনুষ্ঠানিক খাদ্য ও পুষ্টি নির্দেশনা- ইউএস ডায়েটারি গাইডলাইনস ফর আমেরিকানস। যেখানে আগের অ্যালকোহল-সংক্রান্ত নির্দেশনা বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে সাধারণ পরামর্শ- ভালো স্বাস্থ্যের জন্য কমাতে হবে মদ্যপান। পূর্বের নির্দেশিকায় নির্ধারিত ছিল নারীদের জন্য দিনে এক গ্লাস ও পুরুষদের জন্য দুই গ্লাসের সীমা। এবারের গাইডলাইনে কোনো সীমা বেধে না দিয়ে ডায়েট চার্ট থেকে অ্যালকোহল রীতিমতো বাদ দেয়ার আহবান জানানো হয়েছে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেসের পরিচালক মেহমেত ওজ বলেন, নির্দেশিকায় অ্যালকোহল আছে, কিন্তু ইঙ্গিতটা পরিষ্কার- সকালের নাশতায় মদ্যপান করবেন না। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষকে মদ্যপানের ঝুঁকি বোঝাতেই নির্দেশিকায় আনা হয়েছে এমন পরিবর্তন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, মদ্যপান আসক্তি থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তি এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে যারা পান করেন- তাদেরকে দেয়া হয়েছে পুরোদমে অ্যালকোহল পরিহারের পরামর্শ। মার্কিন স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের 'মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন' ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবেই ডায়েট-সংক্রান্ত গাইডলাইনে যুক্ত হয়েছে মদ্যপান নিয়ে এমন নির্দেশনা।
১৯৭৯ সালে যেভাবে ইরানে রাজতন্ত্রের পতন হয়েছিল, একইভাবে ‘অহংকারী’ ট্রাম্পও ‘পতনের মুখে পড়বেন’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য জানায়। ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এসব কড়া বার্তা দিয়েছেন খামেনি। ট্রাম্পকে নিজের দেশের সমস্যার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান তিনি বলেন, ট্রাম্পের উচিত নিজের দেশের সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়া।' শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্পের সরাসরি সমালোচনা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। বিক্ষোভ শুরুর পর এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। খামেনি বলেন, কিছু উসকানিদাতা সরকারি সম্পদ ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করার চেষ্টা করছে। খামেনি আরও বলেন, শত শত মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা এই রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের কাছে কখনো মাথানত করা হবে না ইরান বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। পাল্টাপাল্টি এসব বক্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন বা বহুপক্ষীয় নিয়মাবলী মেনে চলার কোনো প্রয়োজন নেই, তার নিজস্ব নীতিমালা যথেষ্ট। তিনি বলেন, দেশের পরিচালনায় সর্বদা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং তার নীতিমালার ওপর নির্ভর করা হবে। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই যথেষ্ট। আন্তর্জাতিক আইন বা আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ আমাদের কাজের ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সর্বপ্রথম।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং প্রতিরক্ষা নীতি নির্ধারণে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মকাণ্ড তার নিজস্ব নীতি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বা পরামর্শ তাকে কোনোভাবে বাধ্য করতে পারবে না। তিনি মনে করেন, এমন কৌশলই দেশকে শক্তিশালী রাখবে এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক ধরনের একতরফা শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বা নীতিমালা তাকে কোনো ক্ষেত্রে বাধ্য করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি, সামরিক ক্ষমতা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার নীতি চূড়ান্ত। কোনো বহুপক্ষীয় সংস্থা বা আন্তর্জাতিক আইন এ ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারবে না। এ ধরনের নীতি প্রয়োগকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার কৌশল হিসেবে দেখছেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন বিশ্বকে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের সমষ্টি হিসেবে নয়, বরং নিজেদের সাম্রাজ্যের অধীন অঞ্চল হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সম্মানের নীতি উপেক্ষা করে বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এক সাক্ষাৎকারে পেত্রো বলেন, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন কলম্বিয়াকেও সামরিক লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দেন, তখন থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কলম্বিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পেত্রো জানান, সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ ফোনালাপ হলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। আলোচনায় মাদক পাচার, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এলেও ট্রাম্পের কথাবার্তায় তিনি সহযোগিতার মনোভাবের চেয়ে হুমকির সুরই বেশি দেখেছেন। বিশেষ করে ‘নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সাবধানে চলার’ ধরনের বক্তব্যকে তিনি অপমানজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দেন। মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইস-এর কার্যক্রম নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আইস-এর কিছু এজেন্টের আচরণ এতটাই কঠোর ও অমানবিক যে তা ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের সঙ্গে তুলনীয়। তার অভিযোগ, এসব অভিযান লাতিন আমেরিকান অভিবাসীদের রাস্তায় হয়রানির শিকার করছে, এমনকি মার্কিন নাগরিকরাও এর ফলে নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ছেন। পেত্রোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে লাতিন আমেরিকাকে নিজেদের প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবে ধরে নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে অন্য দেশগুলোকে যদি সাম্রাজ্যের প্রজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের নীতি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র একসময় বিশ্ব থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তার মতে, কোনো দেশ যদি বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলে এবং শক্তির জোরে আধিপত্য কায়েম করতে চায়, তাহলে সেই সাম্রাজ্য কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এর গুলিতে এক নারী নিহতের ঘটনায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন শহরের মেয়র জ্যাকব ফ্রে। ঘটনার পর এর বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ওই নারীর নাম রেনি নিকোল গুড। তার বয়স ৩৭ বছর। এ ঘটনার পর মেয়র ফ্রে শহর ছাড়ার আহ্বান জানান আইসকে। বলেন, 'এখান থেকে চলে যান।' এসময় উত্তেজনাবশত অশালীন শব্দও ব্যবহার করেন তিনি। নিহত রেনি নিকোল এবং যে গাড়িতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুর্যোগ বা সহিংস ঘটনার পর কড়া বক্তব্য দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে ফ্রের। গত আগস্টে মিনেপোলিসের চার্চ অব দ্য অ্যানানসিয়েশনে গুলিতে দুই শিশু নিহত হয়। তখন তিনি বলেন, শুধু ‘চিন্তা ও প্রার্থনা’যথেষ্ট নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি বন্দুক সহিংসতার বিষয়। শহরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ফ্রে একজন সাবেক কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকার আইনজীবী। ২০১৭ সালে তিনি প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর ব্যাপক বিক্ষোভের সময় তিনি শহরের নেতৃত্ব দেন।
কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার দিকে যাত্রারত একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর জাহাজটি তুরস্কের উপকূলরক্ষী বাহিনীর কাছে সহায়তা চায় এবং পরে নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে গন্তব্যের উদ্দেশে আবার যাত্রা শুরু করে। বৃহস্পতিবার লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের এক নোটিশ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা–সংক্রান্ত পৃথক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানায়, পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এলবাস’ নামের ট্যাংকারটি বুধবার মনুষ্যবিহীন সামুদ্রিক যান ও ড্রোনের আক্রমণের মুখে পড়ে। হামলাটি জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। তবে এতে জাহাজে থাকা ২৫ জন নাবিক কেউ আহত হননি এবং কোনো ধরনের তেল নিঃসরণ বা পরিবেশ দূষণের ঘটনাও ঘটেনি। নিরাপত্তা সূত্রটি জানায়, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক মূল্যায়নে এটি ড্রোন হামলাই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যদিও হামলার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াগামী একটি ট্যাংকারে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলার পর থেকে ওই অঞ্চলে জাহাজ বীমার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ওই ঘটনার পর মস্কো পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দেয় এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তুরস্ক উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানায়। ডিসেম্বরে আরেকটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে দাবি করে রাশিয়া, যদিও ইউক্রেন সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এলবাস ট্যাংকারে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। একইভাবে তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং আঙ্কারায় অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্ববাজারে শস্য, তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহনের জন্য কৃষ্ণ সাগর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। তুরস্ক, রাশিয়া, ইউক্রেন, বুলগেরিয়া, জর্জিয়া ও রোমানিয়ার মধ্যে এই সাগরের জলসীমা বিভক্ত। লয়েডসের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি বুধবার সিঙ্গাপুর থেকে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। মেরিনট্রাফিকের তথ্য বলছে, পূর্ব দিকে কৃষ্ণ সাগরে প্রবেশের আগে পথ পরিবর্তনের পর বৃহস্পতিবার জাহাজটি তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর ইনেবোলুর উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি নিজস্ব সক্ষমতা ব্যবহার করে ইনেবোলুর নোঙর এলাকায় নোঙর করেছে। তবে ইনেবোলু বন্দরের হারবার মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ইরানের সব জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে গত কয়েকদিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে, যা ক্রমেই সহিংস আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনলাইন পর্যবেক্ষক গ্রুপ নেটব্লকস বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জানিয়েছে, ইরানের সব অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট দেখা যাচ্ছে। তারা আরও জানিয়েছে, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নের আগে বিক্ষোভকারীদের নজরদারি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেন্সরশিপ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নেটব্লকসের মতে, যখন দেশ সংকটের মধ্যে রয়েছে, তখন ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের অধিকারকে ব্যাহত করা হচ্ছে। ইরানি রিয়ালের ব্যাপক মূল্যহ্রাস এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি হওয়ায় ডিসেম্বরের শেষের দিকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ চলমান থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতসহ কয়েকটি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপের একটি বিলে সম্মতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিলটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিতে পারবে, যারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল বা ইউরেনিয়াম কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে শক্তিশালী করছে। মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, দ্বিদলীয় ‘রাশিয়া স্যাংশন বিল’-এ ট্রাম্প সম্মতি দিয়েছেন। এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদার, বিশেষ করে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল যৌথভাবে বিলটি উত্থাপন করেন। এতে রাশিয়ার তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য পণ্য কিনছে—এমন দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত অর্থের প্রধান উৎস বন্ধ করা। বিলটি পাস হলে, যারা জেনেবুঝে রাশিয়ার তেল বা ইউরেনিয়াম কিনছে, তাদের দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা। সিনেটর গ্রাহাম জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে। তার মতে, ইউক্রেন যখন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, তখন পুতিনকে দমাতে এই বিলটি সঠিক সময়েই আনা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কিছু পণ্যে ভারত ৫০ শতাংশ শুল্ক দিচ্ছে, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ আগে থেকেই রাশিয়ার তেল কেনার কারণে আরোপিত। নতুন বিলটি পাস হলে এই শুল্কের হার আরও বেড়ে যেতে পারে, যা ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এক পিএইচডি শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ইচ্ছা ছিল আমার সমাবর্তনের সময় মা-বাবা উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু এখন সেটা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম ওঠায় এই হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বি১ (ব্যবসায়িক) ও বি২ (পর্যটন/ভিজিট) ভিসা পেতে পাঁচ থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ছয় থেকে ১৯ লাখ টাকার সমান, যা অনেকের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হতে পারে। ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশের তালিকা সম্প্রতি ৭টি দেশ থেকে বেড়ে ৩৮টি হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই বন্ড কার্যকর হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে। এটি আপাতত ১২ মাসের পরীক্ষামূলক (পাইলট) কর্মসূচি হিসেবে চালু করা হয়েছে। ভিসা বন্ড হলো ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত। যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসা প্রদানের আগে এই জামানত নেওয়া হচ্ছে যাতে নিশ্চিত করা যায়, ভিসাধারীরা নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে দেশ ত্যাগ করবে। নিয়ম অনুযায়ী, যদি কেউ অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকে বা অনুমতি ছাড়াই অন্য ভিসার জন্য আবেদন করে, তাহলে বন্ড লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। ভিসা বন্ডের টাকা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশনাধীন। আবেদনকারীকে সরকারি অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করতে হবে। কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা যাবে না, এবং নির্দেশ ছাড়া জমা দিলে তা ফেরতযোগ্য হবে না। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এই নিয়মের লক্ষ্য হলো ভিসা ব্যবস্থার যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা। বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পর্যটক ও ভিজিট ভিসা প্রার্থীদের জন্য বিদেশ ভ্রমণ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, এই তালিকায় নাম ওঠায় আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসাধারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে জমা দেওয়া বন্ড ফেরত পাবেন। তবে ফেরতের সময়কাল নির্দিষ্ট করা হয়নি। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল ও ভুটান এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রায় ৫৪.৮ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের অভিবাসী পরিবারগুলোর ওয়েলফেয়ার গ্রহণের হার নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেন। তালিকায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর ওয়েলফেয়ার গ্রহণের হার উচ্চ, যা ভুটান (৮১.৪%) ও আফগানিস্তান (৬৮.১%) এর পরে অবস্থান করছে। পাকিস্তানের পরিবার ৪০.২% এবং নেপালের ৩৪.৮% সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। ভারতের নাম তালিকায় নেই, সম্ভবত গড় আয় বেশি এবং সহায়তা গ্রহণের হার তুলনামূলক কম হওয়ার কারণে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিম্ন আয়ের অভিবাসীদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং ঘর ভাড়ার মতো বিভিন্ন খাতে সাহায্য দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে অভিবাসন নীতি কঠোর করা এবং সরকারি ব্যয় কমানোর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রকাশ পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেলের বিক্রি ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। গত বুধবার মার্কিন জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস রাইট এই ঘোষণা দেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতারা ৩–৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে বাজারজাত করতে রাজি হয়েছেন। ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, প্রথমে মজুত থাকা তেল এবং পরে দেশটির উৎপাদিত সব তেল যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজারে বিক্রি করবে। তিনি আরও বলেন, যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম আমদানি করে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পকে ধসে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করা এবং উৎপাদন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। দৈনিক উৎপাদন আগের মতো ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও স্বল্পমেয়াদে মেরামত ও যন্ত্রাংশের মাধ্যমে কিছুটা বৃদ্ধি সম্ভব।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে দেশটিতে চালানো মার্কিন হামলায় কমপক্ষে ১০০ জন নিহত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো। এর আগে কারাকাস নিহতদের সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তবে সেনাবাহিনী ২৩ জন নিহতের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। কাবেলোর মতে, মাদুরোর নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় অংশকে ‘ঠান্ডা মাথায়’ হত্যা করা হয়েছে। কিউবার সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন। হামলার সময় মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস মাথায় আঘাত পেয়েছেন এবং মাদুরো নিজেও পায়ে আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানে কাবেলো নিহত সেনাসদস্যদের ‘সাহসী’ হিসেবে স্মরণ করেন এবং তাদের জন্য এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন।
উত্তর আটলান্টিক সাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েকদিন ধরেই ট্যাংকারটি জব্দের চেষ্টা করছিল যুক্তরাষ্ট্র। অবশেষ বুধবার (৭ জানুয়ারি) এ চেষ্টায় সফল হয়েছে তারা। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ট্যাংকার জব্দ করে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ভঙ্গ করেছে। বিবৃতিতে রুশ পরিবহণ মন্ত্রণালয় বলেছে, "১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, উন্মুক্ত সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। কোনো দেশই অন্য দেশে নিবন্ধিত বা রেজিস্ট্রি করা কোনো জাহাজের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার অধিকার রাখে না।" যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় বেলা-১ নামে ট্যাংকারটি জব্দ করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিবৃতিতে বলেছেন, "নিষেধাজ্ঞা পাওয়া এবং অবৈধ ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর অবরোধ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।" রুশ সংবাদমাধ্যম এরআগে জানিয়েছিল, ট্যাংকার জব্দ করতে হেলিকপ্টার থেকে সেনাদের নামানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর কয়েক ঘণ্টা পরই জব্দের খবর আসল। এরআগে জাহাজটি থামাতে এটির পিছু নিয়েছিল মার্কিন কোস্টগার্ড। কিন্তু তাদের কথা শোনেননি ট্যাংকারের ক্রুরা। এদিকে এই ট্যাংকার জব্দ নিয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভেটকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা। এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন, রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকার জব্দের ঘটনা রাশিয়াকে ক্ষুব্ধ করবে কি না। এ প্রশ্নের কোনো সরাসরি জবাব দেননি তিনি। মার্কিন এ কর্মকর্তা বলেছেন, ট্যাংকারটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভেনেজুয়েলা থেকে চলছিল। এছাড়া এটি ইরান ও রাশিয়ায় তেল আনা নেওয়া করে বলে দাবি করেন তিনি। নিষেধাজ্ঞা না মেনে ভেনেজুয়েলার জলসীমা থেকে বের হওয়ায় ট্যাংকারের ক্রুদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে সেখানে বিচার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পর ন্যাটো সদস্য দেশ ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ছয় শক্তিশালী দেশ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডেনমার্কসহ ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড ও স্পেনের সরকার প্রধানরা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল তাদেরই রয়েছে।” বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ও স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে অন্য কোনো ন্যাটো দেশে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ন্যাটোসহ বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমাপ্ত হবে।” একই দিন ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং আগামী ২০ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এবং ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে আর্কটিকের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শান্তি বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা বলেন, “সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সীমান্তের অলঙ্ঘনীয়তা সর্বজনীন নীতি এবং আমরা সেগুলো রক্ষা করব। আর্কটিক নিরাপত্তা ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।” বিশ্বের সর্ববৃহৎ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ, ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার হলেও জনসংখ্যা মাত্র ৫৬,৫৮৩ জন। ডেনমার্ক এখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে।
সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রমিক শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘কারপেন্টার স্ট্রিট’ এখন থেকে তার নামেই পরিচিত হবে। শহর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। প্রবাসীরা বলেন, এটি শুধু একটি সড়কের নতুন পরিচয় নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের বিশ্ব দরবারে প্রদর্শিত দলিল। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের কোনো নেতার নামে রাস্তার নামকরণ এবারই প্রথম নয়। এর আগে শিকাগো শহরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছিল। এবার মিশিগানেও যুক্ত হলো খালেদা জিয়ার নাম। বর্তমানে হ্যামট্রমিক কাউন্সিলে চারজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর দায়িত্ব পালন করছেন, যাদের সক্রিয় প্রচেষ্টায় এই নামকরণ সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি সিটি কাউন্সিল অনুমোদন দেয় মট্রমিক সিটির জোসেফ ক্যাম্পা ও কোনাল্ট স্ট্রিটের মধ্যবর্তী অংশটি খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাব। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের ইতিহাস ও নেত্রী খালেদা জিয়ার অবদান সম্পর্কে আরও সচেতন হবে।
আর্থিক ও কৌশলগত কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর এখন গ্রিনল্যান্ডের ওপর। পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপাঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ভূতাত্ত্বিক গুরুত্ব এবং তার ভেতরে লুকানো প্রাকৃতিক সম্পদই এই আগ্রহের মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন। গ্রিনল্যান্ডে প্রচুর পরিমাণে খনিজ সম্পদ, মূল্যবান ধাতু ও রত্নভাণ্ডার রয়েছে। বিশেষ করে স্বর্ণ, তামা, নিকেল, লিথিয়াম এবং বিরল মাটির খনিজ এখানে পাওয়া যায়। এই সম্পদগুলো বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি শিল্প, বিশেষ করে স্মার্টফোন, ব্যাটারি এবং বিভিন্ন উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রাংশে অপরিহার্য। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়ায় আগে অপ্রাপ্য এসব খনিজ উন্মুক্ত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে এই দ্বীপাঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরের মহাসাগর এবং আর্কটিক অঞ্চলের জন্য এটি একটি বড় সামরিক ও নৌপথের কৌশলগত অবস্থান তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড শুধু খনিজ সম্পদ নয়, বরং আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিযোগিতামূলক প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের পেছনে রয়েছে পরিবেশগত, অর্থনৈতিক এবং সামরিক বহুমুখী লক্ষ্য। বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী রাষ্ট্র আগ্রহ দেখাচ্ছে, তাই মার্কিন প্রশাসনও এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানকে কেন্দ্র করে নীতি নির্ধারণে সক্রিয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ডের বরফের নিচে থাকা সম্পদ এখন শুধু এক দেশের নয়, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই কারণে ট্রাম্পের মতো রাজনৈতিক নেতাদের নজর পুরোপুরি এই অঞ্চলেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, বি১ (ব্যবসায়িক) এবং বি২ (পর্যটন) ভিসার জন্য আবেদনকারীদের এখন থেকে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত বা বন্ড দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬ থেকে ১৯ লাখ টাকা, যা অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হলো যারা ভিসা পাবেন তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন তা নিশ্চিত করা। এজন্য ১২ মাস মেয়াদী পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার অফিসার আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম 'পে ডট গভ' (Pay.gov) ব্যবহার করতে হবে এবং কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া আগেভাগে কোনো অর্থ প্রদান করা যাবে না। তবে বন্ড জমা দিলেই ভিসা নিশ্চিত হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বন্ড দিতে বলা হলেও এটি আবেদনকারীর জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য নির্ধারিত বিমানবন্দর হলো নিউ ইয়র্কের জেএফকে, বোস্টনের লোগান এবং ওয়াশিংটনের ডুলস। এই তিনটি বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো বন্দরে প্রবেশ বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান করলে, অথবা আশ্রয়ের আবেদন করলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন হবে এবং টাকা ফেরত পাওয়া জটিল হয়ে পড়বে। তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে যান বা ভিসার মেয়াদমতো ভ্রমণ সম্পন্ন করেন, তাহলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ফেরত প্রক্রিয়া কতদিনে সম্পন্ন হবে, তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন বিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে এইচ-ওয়ানবি ভিসার খরচ বৃদ্ধি এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মতো সিদ্ধান্তের পর এই ভিসা বন্ড কার্যকর করা হচ্ছে। ট্রাভেল এজেন্সি ও সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এই নিয়মের কারণে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে, যা ট্রাভেল ও এয়ারলাইন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ভিসা বন্ড তালিকায় নাম থাকা মানেই দেশটি ‘হাই-রিস্ক’ হিসেবে চিহ্নিত। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল ও ভুটানও এই নতুন ভিসা বন্ডের আওতায় পড়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।