উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় (Ceuta) প্রাণঘাতী অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেন। মরক্কো সীমান্তবর্তী উপকূলে ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান বাধা (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপনের কাজ শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। স্পেন সরকার জানিয়েছে, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর পর রাতভর সিউটায় অবৈধভাবে অভিবাসীদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা সীমান্তে নজিরবিহীন ঘটনা। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে প্রায় জনশূন্য তারাজাল (Tarajal) সৈকতে টহল দিচ্ছেন স্পেনের সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। তারাজাল উপকূলে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তারাজাল ব্রেকওয়াটারে ভাসমান বাধা স্থাপনের কাজ শুরু করে সিভিল গার্ড পুলিশ। এটি সিউটায় প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। বাধাটি পানির ওপর ৩০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকবে এবং পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর পাশাপাশি নোঙর করা ভাসমান বয়া (বুই) বসানো হচ্ছে। দুটি বাধার মাঝখানে একটি চ্যানেল রাখা হবে, যাতে সিভিল গার্ডের টহল নৌযান চলাচল করতে পারে। জরুরি বৈঠক ডাকল ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইইউর ২২টি সদস্য দেশ যৌথভাবে একটি চিঠি দিয়ে বহিঃসীমান্ত সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমান ইইউ প্রেসিডেন্সির দায়িত্বে থাকা আয়ারল্যান্ড মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক আহ্বান করেছে। এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতালির এক মাসের জন্য স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির আওতায় পাসপোর্টমুক্ত যাতায়াত স্থগিত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে এ ধরনের স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।’ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ স্পেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তের স্প্যানিশ অংশ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কেউ সমুদ্রে ডুবে এবং কেউ ব্রেকওয়াটার ও সীমান্তবেষ্টনী টপকানোর সময় পদদলিত হয়ে মারা যান। কর্তৃপক্ষের মতে, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য অনেক মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় উদ্বুদ্ধ করেছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা মানবপাচারকারী চক্রকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, এসব চক্র দুর্বল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে। সিউটা সফরকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে সংকট পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মরক্কো সিউটা বা স্পেনের জন্য কোনো হুমকি নয়। তারা আমাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। গণহারে প্রবেশের বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্যও ছিল না। আরও পুলিশ চায় সিভিল গার্ড স্পেনের সিভিল গার্ডের ইউনিয়ন (AUGC) জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তত আরও ২০০ অতিরিক্ত সদস্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, নতুন ভাসমান বাধা ঘুরে সাঁতরে প্রবেশ ঠেকাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। স্পেন সরকার জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে সিউটায় প্রবেশ করেছেন, তারা মূল ভূখণ্ড স্পেন বা শেনজেন অঞ্চলের অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন না। সিউটা থেকে সমুদ্র বা আকাশপথে বের হওয়ার সময় প্রত্যেক যাত্রীকে পুলিশি পরিচয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় অভিবাসন নীতিতে তুলনামূলক উদার অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটি পাঁচ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার কর্মসূচি চালু করেছে। তবে সরকারের দাবি, এই কর্মসূচির কারণেই সিউটায় অভিবাসীদের ঢল নেমেছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। কারণ বৈধতার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীদের ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে থেকেই স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং আবেদনকালে টানা পাঁচ মাস সেখানে অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে হবে।
প্রায় ছয় বছর বন্ধ থাকার পর কোভিড মহামারি ও সীমান্ত উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ব সিকিমের ঐতিহাসিক নাথুলা পাস দিয়ে ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুই দেশের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়ায় ইন্দো-চীন নাথুলা বর্ডার ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অনিল গুপ্তা সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের বকেয়া বা ওপারে আটকে থাকা পণ্য উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকা ব্যবসায়ীদের মাঝে এর ফলে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। তবে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া ও ভেড়ার পাশাপাশি বর্তমান যুগের বাণিজ্যিক চাহিদা মেটাতে অনুমতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ করে শিল্পপণ্য অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জন ব্যবসায়ী পাস পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই করছে। এই বাণিজ্যিক পুনরুজ্জীবন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যে ইয়েমেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-বাইদা প্রদেশে স্থল অভিযান চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরে নৌ-অভিযানের প্রস্তুতিও চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীর কিছু ইউনিট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের অবরোধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের চেষ্টা করছে রিয়াদ। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি আরও চাপে পড়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই বাধা তৈরি হওয়ায় সৌদি তেলবাহী জাহাজের জন্য সুয়েজ খালই এখন প্রধান বিকল্প। তবে এটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ। হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজের পাশাপাশি সৌদি আরবের ভেতরেও একাধিক হামলা চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে সৌদি আরব ইরাকে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালায়। এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরেও সৌদি হামলার খবর পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিমান হামলা ও নৌ অবরোধের জবাবে হুতিরা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় সেই স্থিতাবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ভুয়া ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কায় নতুন আর্থ এআই ফিচার সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে গুগল। ফিচারটি চালুর দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, এই টুল ব্যবহার করে বাস্তব স্যাটেলাইট ছবির ওপর কৃত্রিমভাবে ভুয়া দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব, যা সহজেই ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে। নতুন ফিচারটিতে ব্যবহারকারীরা লিখিত নির্দেশনা (টেক্সট প্রম্পট) দিয়ে বাস্তব স্যাটেলাইট ছবির ওপর বিভিন্ন কাল্পনিক ঘটনা যুক্ত করতে পারতেন। পরে সেই ছবিগুলো ডাউনলোড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ারও করা যেত। বিবিসির পরীক্ষায় টুলটি আইফেল টাওয়ার ধসে পড়া, মিসরের গিজার মহাপিরামিডের পাশে বিশাল গর্ত এবং ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ ট্যাংক অবস্থানের মতো সম্পূর্ণ ভুয়া ছবি তৈরি করতে সক্ষম হয়। সমালোচনার মুখে গুগল জানায়, কিছু ব্যবহারকারী এমন ছবি তৈরি ও শেয়ার করেছেন, যা তাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারে। তাই আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফিচারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। গুগলের দাবি, তাদের এআই দিয়ে তৈরি সব ছবিতে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক থাকে এবং জেমিনি বা গুগল লেন্স দিয়ে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব। তবে বিবিসির ভেরিফাইয়ে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এসব শনাক্তকরণ পদ্ধতিও ভুল করেছে। যুদ্ধ বা সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে এ ধরনের ভুয়া স্যাটেলাইট ছবি দ্রুত বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। গুগল জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই ফিচারটি আবার চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সৌদি আরবে বিএমডব্লিউর কিছু গাড়িতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় ৬ হাজারের বেশি গাড়ি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ কার্যক্রম শুরু করেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, চালকের আসনের ওয়্যারিং হারনেসে ত্রুটি থাকার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ত্রুটির ফলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতে পারে, যা ধোঁয়া নির্গমন বা গাড়িতে আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ মডেল বছরের মোট ৬ হাজার ৫৭৪টি বিএমডব্লিউ গাড়ি এই রিকলের আওতায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ ও ৭ সিরিজের বিভিন্ন মডেল অন্তর্ভুক্ত। সৌদি কর্তৃপক্ষ গাড়ির মালিকদের রিকলস ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের গাড়ির ভিআইএন (Vehicle Identification Number) যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে গাড়িটি রিকলের আওতায় রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য গ্রাহকদের সৌদিতে বিএমডব্লিউর অনুমোদিত পরিবেশক মোহাম্মদ ইউসুফ নাগি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মেরামত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক গাড়িতে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার জটিলতা বাড়ার কারণে এ ধরনের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো যাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সূত্র: গালফ নিউজ
মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় স্থল ও সমুদ্রপথে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। খবর আলজাজিরার। স্পেন সরকার শুক্রবার নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। এর আগে সেউতার আঞ্চলিক প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাস ৩৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, স্পেনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এই অনুপ্রবেশ ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করছে এবং নতুন আসা অভিবাসীদের দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হচ্ছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবারই প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে সেউতা থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের অনেকে সাঁতরে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ডুবে মারা গেছেন। আবার কেউ কেউ তারাজাল সৈকতের সীমান্তবেষ্টনী পার হওয়ার সময় পদদলিত হয়ে নিহত হয়েছেন। মরক্কো সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। সংঘর্ষে কয়েকটি যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েন ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, নিয়ম না মেনে কাউকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মানবপাচারকারী চক্রগুলোকে ভেঙে দিতে হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে হবে। জার্মানি ও ফ্রান্সও স্পেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। প্রয়োজন হলে ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ফ্রান্স। অন্যদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ স্পেন সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন।
ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার কথা জানালেন রাশিয়ার গবেষকরা। তাদের দাবি, দেশটির তৈরি একটি পরীক্ষামূলক ক্যানসার টিকা প্রথমবারের মতো মানবদেহে প্রয়োগের পর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। টিকা গ্রহণকারী রোগীর শরীরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কার্যকর রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। রাশিয়ার গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এই টিকাটি মূলত মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের উন্নত পর্যায়ের রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান আলেকজান্ডার গিনজবার্গ রুশ সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রথম রোগীর শারীরিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। গবেষকদের মতে, টিকাটি রোগীর শরীরে এমন প্রতিরোধী উপাদান তৈরি করতে সহায়তা করছে, যা টিউমারের বৃদ্ধি ও ক্যানসার কোষের বিস্তার (মেটাস্টেসিস) নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্যানসার চিকিৎসার দুটি নতুন পদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে একটি হলো উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক টিকা ‘নিওঅনকোভ্যাক’, অন্যটি কোলন ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য তৈরি ‘অনকোপেপ্ট’ নামের পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো ‘নিওঅনকোভ্যাক’ টিকাটি ৬০ বছর বয়সী এক মেলানোমা রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়। ওই রোগী ক্যানসারের তৃতীয় পর্যায়ে ছিলেন এবং বর্তমানে মস্কোর একটি বিশেষায়িত ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, রোগীকে আরও কয়েকটি ডোজ দেওয়া হবে এবং চিকিৎসার পুরো সময়জুড়ে তার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন ক্যানসার রোগীর জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক টিকা প্রস্তুতের কাজও চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও টিকাটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহৎ পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।
এল নিনোর তীব্র প্রভাব নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান দাবানল ও অস্বাভাবিক আবহাওয়ার পরিস্থিতি আগামী মাসগুলোতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী কয়েক মাস বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডব্লিউএমওর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনো তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় এর প্রভাব বেশি অনুভূত হতে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “এল নিনো এখন আর দূরের কোনো হুমকি নয়; এটি ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে আরও তীব্র করছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের বিদ্যমান সংকটকে আরও গভীর করতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। গুতেরেস জলবায়ু কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়ে নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণ বর্তমান জলবায়ু সংকটকে আরও তীব্র করছে। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেছেন, আগাম সতর্কবার্তা কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করতে না পারলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, “পূর্বাভাস নিজে থেকে দুর্যোগ ঠেকাতে পারে না; কার্যকর সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতিই পারে ক্ষতি কমাতে।” বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে। তবে কম্পিউটারভিত্তিক পূর্বাভাসে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তির খসড়াকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কালাস বলেন, এই চুক্তি সফল করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এর প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেখাতে হবে। তিনি বলেন, ‘হামাস চুক্তি মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে শেষ পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।’ কালাসের মতে, প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা এবং চুক্তির শর্ত মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর আলজেরিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস গভীর খাদে পড়ে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ সেদ্দিক আইত মেসাউদেনে এ তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেতিফ শহর থেকে রাজধানী আলজিয়ার্সের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসটি গন্তব্য থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এল কারমা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এননাহার টিভির খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সিফি ঘরিয়েব বুমেরদেস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন আহত ব্যক্তির খোঁজখবর নিয়েছেন। এদিকে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তেব্বুন বলেন, এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ীরা ‘সড়কের অপরাধী ও সন্ত্রাসী’। তিনি জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আলজেরিয়ার সিভিল প্রোটেকশন সংস্থা জানিয়েছে, কী কারণে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দেশটির সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতিসহ বিভিন্ন মানবিক ভুলই আলজেরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। গত বছর দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৮৩৮ জন নিহত এবং ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সিভিল প্রোটেকশন সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলজেরিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এর আগে, গত বছরের আগস্টে আলজিয়ার্সের কাছে একটি বাস খাদে পড়ে ১৮ জন নিহত ও ২১ জন আহত হন। আর ডিসেম্বরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বেচার অঞ্চলে একটি বাস উলটে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সূত্র: আলজাজিরা
কারাগারের ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে এবং আসক্ত বন্দিদের পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়াতে নতুন আইন পাস করেছে ইতালি। নতুন আইনের আওতায় প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ জন মাদক ও অ্যালকোহলাসক্ত বন্দি কারাগারের পরিবর্তে বাড়িতে থেকেই সাজা ভোগের সুযোগ পাবেন। বুধবার ইতালির পার্লামেন্টে আইনটি ১৫৩ ভোটে পাস হয়। এর বিপক্ষে ভোট দেন ৪২ জন আইনপ্রণেতা, আর ভোটদানে বিরত থাকেন ৮২ জন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে 'একাধিক ফ্রন্টে বিজয়' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এতে একদিকে কারাগারের অতিরিক্ত চাপ কমবে, অন্যদিকে আসক্ত বন্দিদের পুনর্বাসনের সুযোগও বাড়বে। ইতালির বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশটির কারাগারগুলোতে প্রায় ৬৫ হাজার বন্দি রয়েছেন। নতুন আইনের ফলে ১০ হাজারের বেশি মাদকাসক্ত এবং প্রায় ৩ হাজার ৭০০ অ্যালকোহলাসক্ত বন্দি এর আওতায় আসতে পারেন। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত মেলোনি সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। তাঁর জোটের বাইরে থাকা ডানপন্থী দলগুলো অভিযোগ করেছে, সরকার অপরাধ দমনে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। অন্যদিকে বামপন্থী দলগুলো নীতিগতভাবে আইনের প্রতি সমর্থন জানালেও পুনর্বাসন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ তহবিলকে অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছে। এদিকে বন্দি অধিকারবিষয়ক সংস্থা 'অ্যান্টিগোন' সরকারের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটির দাবি, আইনে থাকা বিভিন্ন শর্ত এবং সীমিত অর্থায়নের কারণে ঘোষিত সংখ্যক বন্দি বাস্তবে এই সুবিধা নাও পেতে পারেন। তবে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক লিগ দলের এমপি সিমোনেত্তা মাতোনে বলেন, এই আইনের লক্ষ্য কারাগার খালি করা নয়। বরং আসক্তির চিকিৎসার মাধ্যমে অপরাধে পুনরায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানোই এর মূল উদ্দেশ্য। সোর্সঃ রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো এই যুদ্ধে ‘জয়লাভ’ করা এবং কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। শুক্রবার (৩১ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু জিততে চাই। আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি। এমন পরিস্থিতিতেও আমরা যতটা সম্ভব সংযত থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু ইরান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ট্রাম্প আরও বলেন, বিষয়টি খুবই সহজ। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা ইরানের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালিয়ে যাব। একসময় তারা বলবে, আর সহ্য করতে পারছি না। ইরান এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে—এমন দাবি নাকচ করে ট্রাম্প বলেন, ইরান খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। তারা অত্যন্ত অসৎ এবং তাদের সঙ্গে সমঝোতা করা কঠিন। তিনি ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত যুদ্ধের সঙ্গে বর্তমান সংঘাতের তুলনা করে বলেন, মাত্র পাঁচ মাসের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তাদের ওপর আমার আস্থা কমে যাচ্ছে, কারণ তারা মিথ্যা বলে। তার ভাষ্য, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ফোনের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাকে জানান, ইরান জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। এর পালটা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করলেও সাম্প্রতিক হামলা-পালটা হামলায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ওমানের উপকূলের কাছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনে তেলের বিস্তার আরও বেড়েছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের। শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটির নাম ক্যারোলিন বেজেঙ্গি। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এটি রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্ক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে সর্বশেষ যাত্রা শুরু করে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৮ জুন ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের মুকাল্লা বন্দরের কাছে জাহাজটি প্রথম সমস্যার কথা জানায়। প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ২৮ জুলাইয়ের স্যাটেলাইট ছবিতে জাহাজটির চারপাশে পানির ওপর গাঢ় রঙের তেলের স্তর এবং ওমান উপকূলসংলগ্ন সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চল আল-কিবলিয়াহ দ্বীপের উত্তরে তেলের দাগ দেখা গেছে। ডাচ শান্তি সংস্থা প্যাক্সের রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ উইম জুইনেনবার্গ স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বলেন, গাঢ় তেলের স্তর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটির অন্তত একটি তেল সংরক্ষণ অংশে ফাটল তৈরি হয়েছে এবং সেখান থেকেই অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই ও আগস্টে এ অঞ্চলে চলা মৌসুমি বায়ুর কারণে সাগরের বৈরী আবহাওয়া দ্রুত তেল ছড়িয়ে দিতে পারে, যা পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলবে। সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ভূখণ্ড সেউটায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। স্পেনের শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক একটি রায়ের পর এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে, যেখানে বলা হয়েছিল যে সেউটা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সাগরে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গোটা ঘটনাটিকে একটি ‘আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বেআইনিভাবে প্রবেশ করা সমস্ত অভিবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোয় ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্পেন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সেউটা ও মেলিলা অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই অভিবাসী স্রোত সেউটার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান, যা শহরটির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। তবে এর মধ্যেই ২৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় বা কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন এবং বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫০ জন হারে মানুষ সেউটা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এই গণ-অভিবাসন সংকট ইউরোপজুড়ে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অপরাধ চক্রগুলো আদালতের রায়কে ভুলভাবে অপব্যবহার করে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছে মাদ্রিদ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা এই পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। ইতালির পক্ষ থেকে স্পেনের সাথে শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা বলা হলেও মাদ্রিদ এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। বর্তমানে মরক্কো কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে স্পেন। সূত্র: বিবিসি।
মরক্কো সীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টায় সৃষ্ট অভিবাসী সংকটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪১ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। গত ২৪ ঘণ্টায় স্থল ও জলপথ ব্যবহার করে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে সমুদ্রপথে সাঁতরে পানির ওপর নির্মিত সীমান্ত প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে স্পেনের এই ভূখণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শুক্রবার সেউতা সফর করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি ঘটনাটিকে স্পেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে প্রবেশকারীদের দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুধু শুক্রবারই প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে সেউতা থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এদিকে সেউতার সিভিল গার্ড কর্মকর্তাদের একটি স্থানীয় সংগঠনের নেতা রাচিত সবিহি বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুতর মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, হাজার হাজার অভিবাসী, বিশেষ করে অভিভাবকহীন শিশুরা খোলা আকাশের নিচে ফুটপাতে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই আবার শহরের বিভিন্ন সড়কে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সবিহি জানান, নিহতদের বড় একটি অংশ সমুদ্রে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া মরক্কো সীমান্তসংলগ্ন তারাজাল সৈকতের ব্রেকওয়াটার অতিক্রমের সময় পদদলিত হয়ে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত এলাকায় মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করেছে। সূত্র : এপি।
লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল চীনা দূতাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে একটি ব্রিটিশ আদালত। একই সঙ্গে এর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছে। শুক্রবার(৩১ জুলাই) লন্ডনের হাইকোর্ট ‘রয়্যাল মিন্ট কোর্ট রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর দায়ের করা আইনি চ্যালেঞ্জটি খারিজ করে দেয়। সংগঠনটি দূতাবাস নির্মাণের বিরোধিতা করে আদালতে রিট দায়ের করেছিল। তাদেরন অভিযোগ, দূতাবাসটি নির্মিত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মানবাধিকারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।দুই বিচারক ভার্চুয়ালি শুনানিতে বাসিন্দাদের দাবিগুলো খারিজ করে দিয়ে জানান, আবাসন মন্ত্রী এবং লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ জানুয়ারি মাসে পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়ে আইনসম্মত কাজই করেছে। ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’-এর কাছে অবস্থিত দুই শতাব্দীর পুরনো ‘রয়্যাল মিন্ট কোর্ট’ এলাকায় দূতাবাসটি নির্মাণের জন্য চীনের পরিকল্পনাটি অনুমোদন করা হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চীন সফরের ঠিক আগে। প্রস্তাবিত স্থানটির কাছাকাছি প্রায় ১০০টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী ওই আবাসিক সংগঠনটি বলেছিল, দূতাবাসের উপস্থিতির ফলে সন্ত্রাসী হামলা ও বিক্ষোভ দমনের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া তারা দাবি করেছিল, এই স্থাপনাটি ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে গুপ্তচরবৃত্তি চালানো এবং চীনের কঠোর বা দমনমূলক আইন কার্যকর করার চেষ্টা করা হতে পারে। সংগঠনটি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক দায়মুক্তির(ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি) কারণে যুক্তরাজ্য সরকার সেখানে ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিধিমালা কার্যকর করতে পারবে না। বাসিন্দা সংগঠনের প্রধান লুক পোলার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, বেইজিং হয়তো ভাবছে এই রায়ই শেষ কথা। কিন্তু তা নয়। আপিল করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তারা যদি আশা করে আমরা মাথা নত করব এবং আমাদের রাজধানীকেই সিসিপি (চীনা কমিউনিস্ট পার্টি)-র ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত হতে দেব, তবে এই বিশাল দূতাবাসের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিরোধিতার শক্তিকে তারা পুরোপুরি ভুল বুঝেছে। বেইজিং ২০১৮ সালে ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’-এর পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রয়্যাল মিন্ট’-এর জায়গাটি প্রায় ৩২৭ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিল। ২০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই স্থানটিতে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম দূতাবাস কমপ্লেক্স গড়ে উঠতে যাচ্ছে। আবাসন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বরো কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় তারা বাসিন্দাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো ‘সতর্কতা ও বিবেচনার সঙ্গে’ আমলে নিয়েছিল।
চলতি বছরের মে ও জুন মাসে যুক্তরাজ্যে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সরকারি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA) জানিয়েছে, এই দুই মাসে তাপপ্রবাহজনিত অসুস্থতায় মোট ২ হাজার ৮৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২২ সালে একই ধরনের তাপপ্রবাহে ২ হাজার ৯৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলতি বছর গরমজনিত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ সাধারণত আগস্ট মাস যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে উষ্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। যুক্তরাজ্যে এপ্রিল ও মে মাস সাধারণত বসন্তকাল হলেও এবার মে মাসজুড়ে অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হয়েছে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ওঠায় দেশটির আবহাওয়া দপ্তর গরমজনিত সতর্কতা জারি করে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বয়স্ক ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটে। বিশেষজ্ঞরা এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তারা পর্যাপ্ত পানি পান, ঘরে ঠান্ডা পরিবেশে থাকা এবং দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। সূত্র: ডেইলি মেট্রো ও এনডিটিভি
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ প্রযোজ্য আইন ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লোকসভায় উপস্থাপিত পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ওপর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর প্রকাশ করেছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে কেন্দ্র সরকারকে নিয়মিত অবহিত রাখার সুপারিশও করেছে কমিটি। ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কিত নথিটি বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে দেশটির মানবিক ঐতিহ্য ও সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার নীতির আলোকে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি কাউকেই দেওয়া হয় না এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। কমিটি সরকারকে তার ‘নীতিগত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি’ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি যেন যথাযথ সংবেদনশীলতা ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলা করা হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারত আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে ভারতের সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটি। কমিটির মতে, বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়া এবং নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও ইতিবাচক ধারণার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসংবলিত প্রতিবেদনে এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্পরিক আস্থা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও সুপারিশ করেছে কমিটি। এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ভিসানীতি পর্যালোচনা, আবেদনকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীরা যেন অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে ভিসা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হয় এবং কনস্যুলার কর্মীদেরও প্রত্যাহার করা হয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসা কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই চিকিৎসা-সংক্রান্ত ভিসা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে প্রতিদিন ভিসা ইস্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ভিসা কেন্দ্র চালুর বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত অবস্থানের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মানবিক বিবেচনায় তাকে আশ্রয় দেওয়া হলেও ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার পাঠানো অনুরোধ ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে সংসদীয় কমিটি বলেছে, এ বিষয়ে ভারত সরকার যেন মানবিক নীতি, আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে সংবেদনশীলতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে বহুজাতিক সামরিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। ‘লোহিত সাগর প্রতিরক্ষা জোট’ নামে প্রস্তাবিত এই জোটে ইতোমধ্যে ১৪টি দেশ যোগ দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, রিয়াদ সম্প্রতি প্রায় ৫০টি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে। এর মধ্যে ১৪টি দেশ জোটে অংশগ্রহণে সম্মতি দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে সম্মত দেশগুলোর মধ্যে তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া এবং আরব ও আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ সদস্য তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করিডর। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এই জলপথে হামলা ও অবরোধমূলক তৎপরতা চালিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগরের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সৌদি আরবের জন্য কৌশলগতভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সৌদির অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর ইয়ানাবু বাব এল-মান্দেবের কাছাকাছি অবস্থিত। গত সপ্তাহে ওই বন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে এবং হুথি গোষ্ঠী সেই হামলার দায় স্বীকার করে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ানাবু বন্দরে হামলার পর থেকে লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সূত্র: দ্য হিল
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগস্ট মাসের জন্য প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের নতুন দাম ১০০ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কমিশনের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। নতুন মূল্য আজ রাত থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি। এর আগে জুলাই মাসের জন্য ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০৯ টাকা ১০ পয়সা প্রতি লিটার, যা তার আগের মাসে ছিল ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে জুলাইয়ের তুলনায় প্রতি লিটারে ৮ টাকা ৭১ পয়সা এবং আগের উচ্চমূল্যের তুলনায় ১৩ টাকা ১৫ পয়সা কমলো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের মূল্য কমানোয় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করেই বিইআরসি এ ধরনের মূল্য সমন্বয় করে থাকে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।