আন্তর্জাতিক

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে দুই মার্কিন সামুদ্রিক ড্রোনে হামলার দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি বাহিনীর দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল চালকবিহীন মার্কিন সামুদ্রিক ড্রোন।   আইআরজিসি বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে ওমানের উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় দুটি মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে। নৌযান দুটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সামুদ্রিক ড্রোন বলে ধারণা করছে ইরানি বাহিনী।   এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌযানে অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আঘাত হানে। এতে একটি নৌযানে আগুন ধরে যায়। অন্য নৌযানটির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনাস্থল ওমানের মুসান্দাম প্রদেশের রাজধানী আল খাসাবের উপকূল থেকে প্রায় ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরে।   হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব: পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের চালান, পরিবহন করা হয়।   সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের বিধিনিষেধ এবং পাল্টা মার্কিন পদক্ষেপের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল আইআরজিসি। পরে ৯ সেপ্টেম্বর আরও দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করা হয়।   সর্বশেষ বৃহস্পতিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   তবে ইরানের হামলার দাবি এবং নৌযানগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ইয়েমেনে সৌদির ৬৪ বিমান হামলার দাবি হুতিদের

ইয়েমেনের চার প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি যুদ্ধবিমান ৬৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির হুতি-নিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হুতিদের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়।   হুতিদের সামরিক মুখপাত্র জানান, তাইজ, হোদেইদা, মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে এসব হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি আরবের কিং ফাহাদ ও কিং খালিদ বিমানঘাঁটি থেকে এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলাগুলো চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। তাইজের আকাশে একদল সৌদি যুদ্ধবিমানকে স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রতিহত করার দাবিও করেছে হুতিরা।   তবে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত হুতিদের দেওয়া হামলার সংখ্যা বা এসব দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী একটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব।   এদিকে স্থলযুদ্ধেও অগ্রগতির দাবি করেছে হুতিরা। পশ্চিম উপকূলে হায়েস-আল-খোখা এলাকায় আবারও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং আল-জাররাহি এলাকা থেকে সেখানে অগ্রসর হওয়ার দাবি করেছে তারা। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেন সরকারের বাহিনীও একই এলাকা পুনর্দখল এবং আল-জাররাহির দিকে অগ্রসর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।   হুতিদের সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের প্রধান মাহদি আল-মাশাত বলেছেন, তাদের লড়াই মূলত আত্মরক্ষামূলক। তিনি এ সংঘাতকে লোহিত সাগরে হুতিদের সামরিক তৎপরতার সঙ্গেও যুক্ত করেছেন। তার দাবি, জাহাজ চলাচলের জন্য একমাত্র হুমকি হচ্ছে ‘বেপরোয়া সৌদি কর্মকাণ্ড’। সৌদি অবরোধ তুলে নিয়ে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে রিয়াদের ওপর চাপ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   হুতিদের জাতীয় বন্দিবিষয়ক কমিটির প্রধান আবদুল কাদের আল-মুরতাদার দাবি, পশ্চিম উপকূলে সৌদি পরিচালিত আটককেন্দ্রে থাকা তাদের সব বন্দিকে মুক্ত করা হয়েছে।   ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটি বলে জানিয়েছে ত্রাণ সংস্থাগুলো। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহের লড়াইয়ে তাইজ, পশ্চিম উপকূল, আল-জাওফ, মারিব ও ধালে এলাকায় অন্তত ১৯৪ জন নিহত এবং ৮৮০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।   এদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নেতৃত্বদানকারী প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের বাহিনী হোদেইদা, তাইজ ও আল-জাওফে অগ্রগতির দাবি করেছে। শেষ পর্যন্ত হুতিদের নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে তারা অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।   সূত্র: শাফাক নিউজ এজেন্সি

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
লিন্ডি ক্যামেরনের হাত ধরে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরে নতুন ইতিহাস

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ফরেইন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসে’ প্রথম নারী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লিন্ডি ক্যামেরন।   তাকে স্থায়ী আন্ডার-সেক্রেটারি এবং কূটনৈতিক সার্ভিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে লিন্ডি এই দপ্তরের প্রথম নারী স্থায়ী প্রধান হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।   এই পদে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভারতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।   আর এখন স্থায়ী আন্ডার-সেক্রেটারি বা প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া লিন্ডি স্থলাভিষিক্ত হলেন ওলি রবিন্স-এর, যাকে পিটার ম্যান্ডেলসন কেলেঙ্কারির জেরে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এই কেলেঙ্কারি জর্জরিত বিভাগটিকে এখন ঠিক পথে আনতে হবে লিন্ডিকে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কারেন পিয়ার্স এবং ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার বারবারা উডওয়ার্ডের পরিবর্তে লিন্ডি ক্যামেরনকে বেছে নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।   মিলিব্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, লিন্ডির কূটনীতি, দেশের উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে প্রচুর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্মস্থলে তার দারুণ ও কর্মচঞ্চল নেতৃত্বের জন্য সুনামও রয়েছে।   ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লিন্ডি যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার’ -এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে তার দুই দশকেরও বেশি দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপের পরই ফের পাল্টাপাল্টি হামলায় রাশিয়া-ইউক্রেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।   রাশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় শহর নোভোরোসিস্কে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রেতিয়েভ। শহরের মেয়র আন্দ্রে ক্রাভচেঙ্কো জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একটি আবাসিক ভবনের কাছে এসে পড়ে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা রাতভর ইউক্রেনের ৫৯৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।   ইউক্রেনেও রাশিয়ার হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ কিপার জানান, মলদোভা সীমান্তের স্টারোকোজাচে আন্তর্জাতিক সড়ক চেকপয়েন্টে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং তিনজন আহত হন। এই হামলার পর ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী চেকপয়েন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।   যুদ্ধের অবসানে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ইউরোপের প্রতি রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা নেই বলে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন পুতিন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানান, ওয়াশিংটন এখন ভূমির বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার করে নিচ্ছে এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিরোধিতা করছে। লাভরভের মতে, ট্রাম্প ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়া অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন।   এদিকে শীত মৌসুমের আগে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নরওয়ে সফর করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।   সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
এলিজা আজাদ রহমান। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলেন আরেক বাংলাদেশি এলিজা আজাদ রহমান। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম কোনো বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হলেন।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে আয়োজিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।   এলিজা আজাদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বাড়ল।   অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এলিজা আজাদের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলামের মেয়ে।   দুই দশকের বেশি সময় আগে এলিজা আজাদ শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।   এই যাত্রায় স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানালেন এলিজা আজাদ। তিনি বলেন, তা ছাড়া বাংলাদেশি ও স্থানীয় বহু সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন তিনি পেয়েছেন। তারা তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।   এর আগে, বাংলাদেশি সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল ও মাসুদ খলিল ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। আরেক বাংলাদেশি মাসুদ চৌধুরী বর্তমানে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   এলিজা আজাদ ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটি। সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, এলিজা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারে তার এই অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে, সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন।   এলিজা আজাদ বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। তিনি চান, নারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও এগিয়ে আসুক।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল ‘জাতিগত নিধন চালাচ্ছে’ বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তেল আবিবের দখলদারিত্বকে ‘অবৈধ’ঘোষণা করে ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এসব ঘোষণা দেন।   তিনি বলেন, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করছে, স্থায়ীভাবে সার্বভৌমত্ব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ করছে। এসব কারণেই ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টিতে ইসরাইলের দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।   এর মাধ্যমে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতকে যুক্তরাজ্য স্বীকৃতি দিল। ওই মতামতে আদালত ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছিল এবং তা প্রতিরোধে অন্য দেশগুলোর দায়িত্বের কথাও জানিয়েছিল।   মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনের ঘটনা ঘটছে। তার অভিযোগ, এসব ঘটনায় ইসরাইলি সরকার অনেক সময় চোখ বন্ধ করে থেকেছে; বরং সরকারের কিছু সদস্য ফিলিস্তিনিদের জোর করে উচ্ছেদের পক্ষে বক্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়েছেন।   তিনি বলেন, ব্রিটিশ জনগণ চায় না তাদের দেশের দোকান ও সুপারমার্কেটে অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্য বিক্রি হোক। তাই অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।   এ ছাড়া বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। বসতি নির্মাণ, অবকাঠামোয় অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেটের মতো কাজে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে।   মিলিব্যান্ড সতর্ক করে বলেন, যারা অবৈধ বসতিতে অর্থায়ন বা অন্যভাবে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সর্বোচ্চ মাত্রার নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করবে।   আরও ১১ দেশের সমর্থন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আরও ১১টি দেশ মঙ্গলবার একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ ইসরাইলি  বসতিগুলোর সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বা তা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   দেশগুলো হলো—কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন।   ফ্রান্স ও কানাডা আজ থেকেই ইসরাইলি বসতিগুলোর পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা জানিয়েছে।   তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রুশ হামলায় গুদাম ছাই, কিয়েভে বাড়ছে খাদ্যসংকট

রাশিয়া একের পর এক খাদ্য গুদাম ও রসদ সরবরাহ চেইনে হামলা চালানোয় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তৈরি হয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। সুপারমার্কেটগুলোর তাকগুলো এখন ফাঁকা পড়ে আছে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।   স্থানীয় একটি সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা ৬৮ বছর বয়সী পেনশনভোগী ভ্যালেন্টিনা নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, রাশিয়া ইউক্রেনীয়দের জীবনকে অসহনীয় ও অসম্ভব করে তুলতে চায় এবং তারা এতে সফলও হচ্ছে। ৬৮ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা জানান, স্বল্প জমানো টাকায় তাকে চলতে হয়, কিন্তু ইদানীং সসেজসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে।   ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোর চারপাশে রসদ ও খাদ্য গুদামে সাম্প্রতিক সময়ে আক্রমণ জোরদার করেছে মস্কো। কিয়েভের ওপর এই হামলা ছিল সবচেয়ে তীব্র। সাময়িক এক যুদ্ধবিরতি শেষে গত সোমবার রাতে ড্রেন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ফের রাজধানী কিয়েভে তোলপাড় সৃষ্টি করে রুশ বাহিনী, যাতে প্রাণ হারান দুইজন।   নোভুস সুপারমার্কেটে বাজারে আসা ৪০ বছর বয়সী দারিয়া মালিউকোভা খালি তাকের দিকে তাকিয়ে বলেন, পরিস্থিতি ভীতিকর হলেও তিনি শহর ছেড়ে কোথাও যাবেন না। ইউক্রেনের কৃষি নীতি ও খাদ্যমন্ত্রী তারাস ভিসোৎস্কি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অবকাঠামোতে হামলার কারণে খাদ্যপণ্যের দাম ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে ইউক্রেনের বিলাসবহুল ব্র্যান্ড গুডওয়াইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা দ্মিত্রো ক্রিমস্কি মনে করেন, এই দাম বৃদ্ধির পরিমাণ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।   গত ১ সেপ্টেম্বর কিয়েভের কাছে ক্রিমস্কির একটি গুদামে হামলা চালিয়ে প্রায় ৪০ লাখ ইউরোর পণ্য ধ্বংস করে দেওয়া হয়। তিনি জানান, পণ্যের ঘাটতির চেয়ে রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতেই খরচ বেশি হবে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে। গুদাম সুরক্ষিত রাখতে তিনি এখন পোল্যান্ডের মতো প্রতিবেশী দেশে গুদাম স্থানান্তর কিংবা একাধিক ছোট সাইটে মজুদ ভাগ করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি আরও জানান, তাদের কর্মচারীরা বিমান হামলার কারণে দিনে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারছেন।   আগস্টের শেষ দিক থেকে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেবল খাদ্য গুদামই নয়, বরং ই-কমার্স লজিস্টিক হাব এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার মানবিক সাহায্যের ওষুধ গুদামও ধ্বংস হয়েছে। বায়োকন নামে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির তিন মাসের ওষুধের পুরো মজুদ এই হামলায় ছাই হয়ে গেছে এবং তাদের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।   তবে চার বছরের যুদ্ধে অভিজ্ঞ ইউক্রেনীয়দের মাঝে আগের মতো আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। ব্রোভারির একটি এটিবি সুপারমার্কেটে আসা ৫৪ বছর বয়সী ইরিনা মেসিয়ানঝিনোভা বলেন, পচনশীল জিনিসপত্র বেশি কিনে রেখে লাভ নেই, সেগুলো পচে যাবে। তিনি ভবিষ্যতের কথা না ভেবে শুধু আজকের দিনটি পার করার চেষ্টা করছেন।   খাদ্যমন্ত্রী তারাস ভিসোৎস্কি দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, এটিবি, সিলপো ও ফোরা-র মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিটি সুপারমার্কেট চেইনের লজিস্টিক কেন্দ্রগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এটি যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আক্রমণ। ২০২২ সালে তারা যদি কৃষি রফতানি অবকাঠামো এবং পরবর্তী বছরগুলোতে জ্বালানি খাতকে টার্গেট করে থাকে, তবে ২০২৬ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের আক্রমণগুলো সরাসরি সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত।   এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও আশা হারাচ্ছেন না স্থানীয় অধিবাসীরা। কিয়েভের কেন্দ্রীয় কৃষক বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ৩৬ বছর বয়সী ট্রাভেল ম্যানেজার ওলেনা জুক বলেন, যুদ্ধের পর থেকে তারা এ ধরনের অনেক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন, তারা বেঁচে থাকবেন এবং না খেয়ে মরবেন না।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হিমবাহধসের আগে ‘অস্বাভাবিক গরম’, বেরিয়ে এলো নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণ

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত ঘটানো হিমবাহ ধসের আগে ওই এলাকায় বছরের এই সময়ের তুলনায় নজিরবিহীন তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। এক গবেষকের আবহাওয়া-সংক্রান্ত বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।    এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় থাকা পাহাড়ের হিমবাহ এলাকায় ২১ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এটি ওই সময়ের জন্য অত্যন্ত বেশি তাপমাত্রা। গত ৫৫ বছরেরও বেশি সময়ের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে সেখানে তাপমাত্রা কখনোই ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ায়নি। তবে এই অস্বাভাবিক গরমের সঙ্গে হিমবাহধসের সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।   ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্কলি আর্থের প্রধান বিজ্ঞানী রবার্ট রোডে এই তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী,হিমবাহধসের স্থানে ২১ থেকে ২৬ আগস্টের গড় তাপমাত্রা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।   রোডের হিসাব বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত উষ্ণতা না থাকলে এমন তাপমাত্রার পরিস্থিতি কয়েক হাজার বছরে একবার ঘটার মতো বিরল হতে পারত।   ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ সংস্থার ১৯৭০ সাল থেকে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হিমবাহধসের  সময় লাংটাং অঞ্চলে ওই বছরের গ্রীষ্ম ছিল রেকর্ডের মধ্যে চতুর্থ উষ্ণতম।   অতিরিক্ত গরম কি হিমবাহধসের কারণ? ফরাসি জলবায়ুবিদ ভ্যালেরি ম্যাসোঁ-দেলমোত বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে পাহাড়ের জমাট মাটি বা ‘পারমাফ্রস্ট’ গলে যেতে পারে, যার ফলে পাহাড়ের ঢাল ও হিমবাহ একসঙ্গে ধসে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।   পারমাফ্রস্ট অনেকটা বরফের সিমেন্টের মতো কাজ করে, যা পাহাড়ের পাথর ও ঢালকে শক্ত করে ধরে রাখে। এটি গলে গেলে পাহাড় আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।   দুর্যোগের কয়েক দিন আগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরফ গলার প্রমাণও পেয়েছে স্যাটেলাইট। ফ্রান্সের সিএনআরএসের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ এতিয়েন বের্তিয়ের বলেন, গলা বরফের পানি পাহাড়ের ফাটলে ঢুকে ভূমিধসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।   তবে বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত করে বলছেন না যে তাপপ্রবাহই পাহাড়ধসের সরাসরি কারণ।   গ্রেনোবল আল্পস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-রূপ বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টেন কুক বলেন, শুধু তাপমাত্রা বেড়ে গেলেই পাহাড়ধস হয়—বিষয়টি এত সরল নয়। তার মতে, তাপমাত্রা যদি ধসের ট্রিগার হয়ে থাকে, তাহলে পাহাড়টি আগে থেকেই ধসের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল।   গবেষকেরা এখন পাহাড়ধসের আগের বছরগুলোতে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নড়াচড়া এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখছেন।   রবার্ট রোডের মতে, গলা বরফের পানি বা পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার কারণে পাহাড়ের ফাটলের আশপাশের পাথর উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে সেটিই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরানি ট্যাংকারে মার্কিন হামলার দাবি, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের পাঁচটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো অকার্যকর করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, ওমান উপসাগর ও ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।   সেন্টকমের দাবি, রোববার ও সোমবার হরমুজ প্রণালিতে টহলরত মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে আইআরজিসি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পাঁচটি ট্যাংকারকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।   মার্কিন বাহিনীর প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার পাঁচটি জাহাজ হলো—এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া। এর মধ্যে প্রথম চারটি ওমান উপসাগরে এবং অপর জাহাজটি খার্গ দ্বীপের কাছে অবস্থান করছিল।   সেন্টকম জানিয়েছে, হামলায় ট্যাংকারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে কোনো ক্রু নিহত বা আহত হননি। মার্কিন বাহিনী হামলার আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবিও ট্যাংকারে মার্কিন হামলার খবর নিশ্চিত করেছে।   জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি: ট্যাংকারে হামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, আল আজরাক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে দেশটির এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর পর তার জবাব হিসেবে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ পরিচালনা করা হয়েছে।   দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্তের দাবি: হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগও স্বীকার করেছে আইআরজিসি। সংগঠনটির দাবি, ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার—ইউএস নেভি ডিডিজি-১১৯ এবং ইউএস নেভি ডিডিজি-৫৩—গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরগুলোতে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে সংগঠনটি ওই দুই দেশের বন্দরে অবস্থানরত তেলবাহী জাহাজের ক্রুদের দ্রুত জাহাজ ত্যাগ করার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে এসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকির ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   সূত্র: আলজাজিরা

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দুই মার্কিন জাহাজ ও ৮ তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।    বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এর জবাবে তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ওই জাহাজগুলোতে পালটা হামলা চালায়।   এ ছাড়া আরও ১০টি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজ’কে লক্ষ্য করারও দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের অভিযোগ, এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির একটি ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ এলাকায়’ প্রবেশের চেষ্টা করছিল।   আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের ‘শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার’ আওতায় রয়েছে।   তবে হামলার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অত্যাধুনিক’ সাবমেরিন আটক করেছে ইরান

হরমুজ প্রণালিতে অত্যাধুনিক একটি মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে হরমুজের প্রবেশমুখে গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক, মানুষবিহীন ও স্মার্ট একটি সাবমেরিন আটক করেছে তাদের নৌবাহিনী।   আইআরজিসির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এই স্মার্ট সাবমেরিন পানির নিচের ক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছিল।   শিগগির আটক করা সাবমেরিনটির ছবি প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।   ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনুষ্যবিহীন এই ডুবোজাহাজের প্রধান সক্ষমতাগুলোর মধ্যে রয়েছে পানির নিচে অনুসন্ধান ও নজরদারি, সমুদ্রের তলদেশের ম্যাপিং, মাইন শনাক্তকরণ এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শন।   তবে ইরানের এই দাবির পরপরই আলজাজিরার কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।   তার ভাষ্য, একদিনেরও বেশি সময় আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন বিকল হয়ে পড়েছিল।   ওই কর্মকর্তার দাবি, ড্রোনটি চলমান অভিযানের সহায়তায় আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালাচ্ছিল। এটি একটি পুরোনো মডেলের ড্রোন ছিল। এটি কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করত না এবং এতে কোনো গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।   ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সমুদ্র পরিবহণে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখেছে তেহরান। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।   ইরানের এই পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ইরানের বন্দরগুলোতে পালটা অবরোধ আরোপ করা হয়েছে।   সূত্র: আল-জাজিরার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিমান খাতের ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের বিমান খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার আরোপ করা এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের বিমান সংস্থা এবং তেহরানের বিমান খাতকে সহায়তা করা বিদেশি কোম্পানি ও মধ্যস্থতাকারীরাও রয়েছে।   মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির নিষেধাজ্ঞা ও সন্ত্রাসবিরোধী দপ্তর ইরানের সক্রিয় বিমান সংস্থাগুলোর পাশাপাশি মাহান এয়ারকে সহায়তা করা বিদেশি কোম্পানি ও মধ্যস্থতাকারীদের লক্ষ্য করেছে।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উড়োজাহাজ, যন্ত্রাংশ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহে ব্যবহৃত বিভিন্ন ফ্রন্ট কোম্পানি, বিদেশি মধ্যস্থতাকারী এবং পণ্য পরিবহনের পথও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।   তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান ও মালয়েশিয়ার কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও ইরানের বিমান চলাচল নেটওয়ার্ককে উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, সংগ্রহে সহায়তা ও সরবরাহসেবা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন।   মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অপরাধবিষয়ক সংস্থাও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সতর্কতা জারি করেছে। এতে ইরানের বিমান খাতের জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তাকারী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।   অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট এই অভিযান শুরু করে ওয়াশিংটন। এর লক্ষ্য ইরান সরকারের অর্থনৈতিক সম্পদ ও আর্থিক সহায়তার উৎসগুলো বিচ্ছিন্ন করা।   মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি রয়েছে।   মাহান এয়ারের ওপর এর আগেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০১১ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সকে আর্থিক, বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে সংস্থাটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে যুক্তরাষ্ট্র।   সূত্র: শাফাক নিউজ এজেন্সি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
এআই মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি : জাতিসংঘ

মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান তাঁর। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কার পাশাপাশি মার্কিন অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন তুর্ক।   জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে অক্টোবরে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেবেন ভলকার তুর্ক। এর আগে সোমবার জেনিভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে সমসাময়িক নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি।   উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির জন্য অস্তিত্ব সংকট তৈরি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তুর্ক।   জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, ‘খুব দেরি হওয়ার আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হোক। আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাগুলোকে চিঠিতে এখনই ঝুঁকি কমাতে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাব।’   মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি এআইয়ের ওপর সীমাহীন ক্ষমতা ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ ভলকার তুর্কের। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে মেটা, অ্যানথ্রোপিক, ওপেনএআই ও গুগল।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান।   ভলকার তুর্ক বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ৬০টির বেশি যুদ্ধ চলছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সর্বোচ্চ। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এভাবে সংঘাত বাড়া আমাদের বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় আমি শঙ্কিত, যা সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলকে প্রভাবিত করছে।’   মার্কিন অভিবাসন নীতিরও সমালোচনা করেছেন তুর্ক। ওয়াশিংটনকে হাইতিসহ এমন সব দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যেখানে তারা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি এড়িয়ে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার সরিয়েছে ইরান

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৯০০ কোটি ডলার মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলে এক তদন্তে উঠে এসেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি ব্যাংকের মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে এই বিপুল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর হওয়া প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল শনাক্ত করেছে। এই অর্থ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেল কোম্পানি ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়।   এমন সময়ে এই তথ্য সামনে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে সংশ্লিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রাখা হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থপ্রবাহ সচল রাখতে ইরান বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। দেশটির অর্থনীতির প্রধান আয়ের উৎস এখনও তেল খাত। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তেল রপ্তানি সীমিত হলেও ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এখনও ট্যাংকারে মজুত রয়েছে। এর বড় অংশ এশিয়ার জলসীমায়, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার আশপাশে সংরক্ষিত আছে। চীন বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি গ্রহণ করে। জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে চীন প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেলের বেশি ইরানি তেল আমদানি করেছে।   ইরান তেলের উৎস গোপন করতেও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। সমুদ্রে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকারের তেল অন্য উৎসের বলে দেখানো হয়। পরে চীনে পৌঁছালে সেই তেল ভিন্ন দেশের তেল হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে।   জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ার জলসীমায় ভাসমান সংরক্ষণাগারে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। যার বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে ইরান ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। চীনা ক্রেতাদের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের লেনদেন এখন অনেক ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে। এই ইউয়ান ব্যবহার করে ইরান চীনা পণ্য ও সেবা কিনছে। কিছু ক্ষেত্রে অবকাঠামো প্রকল্পের বিনিময়েও তেল দেওয়া হচ্ছে।   এ ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সিও ব্যবহার করছে তেহরান। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য পরিচালনা এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহে ইরান বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) চীনা ক্রেতাদের কাছ থেকে তেলের মূল্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে আমদানি ব্যয়, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তার জন্য ইরানের এখনও মার্কিন ডলার ও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে হংকং ও দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে শেল কোম্পানি ও মানি এক্সচেঞ্জ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে তেহরান।   এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল রপ্তানি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়কে ডলার, ইউরো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামে রূপান্তর করা হয়। একই সঙ্গে অর্থের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতাও আড়াল করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নানা নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে এই অর্থপ্রবাহ লাগাম টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা কোম্পানির ওপর ব্যবস্থা নিয়ে পুরো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞার হুমকি ইসরাইলের

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরাইলি বসতির ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। এর জবাবে যুক্তরাজ্যের ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি তুলেছেন ইসরাইলের দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী।   ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ইসরাইলে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বের করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে দাবি জানান, ব্রিটেন যেভাবে আর্জেন্টিনার ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ দখল করে তেল চুরি করছে, তার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের ওপর ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ইসরাইলি অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ফকল্যান্ড ইস্যুটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সাবমার্সিবল আটকের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন মানববিহীন সাবমার্সিবল বা পানির নিচে চলাচলকারী স্বয়ংক্রিয় যান আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অভিযান চালিয়ে ওই মার্কিন সাবমার্সিবলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।   ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, আটক করা যানটি একটি আধুনিক প্রযুক্তির মানববিহীন সাবমার্সিবল, যাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যানটির মডেল, আকার, পরিচালন পদ্ধতি কিংবা এটি কী ধরনের নজরদারি বা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।   আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, আটক করা যানটির ছবি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে নিজেদের দাবির পক্ষে দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানি বাহিনী।   তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান যে মার্কিন মানববিহীন সাবমার্সিবল আটক করেছে বলে দাবি করেছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রফতানির একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনও সামরিক তৎপরতা বা উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।   এই জলপথের প্রবেশমুখে মার্কিন কোনও মানববিহীন সামুদ্রিক যান আটক করার ইরানি দাবি সত্য হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।   মানববিহীন সাবমার্সিবল সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সামরিক বা প্রযুক্তিগত মিশনে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ইরান যে যানটি আটক করার দাবি করেছে, সেটির নির্দিষ্ট সক্ষমতা বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনও তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।   ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর বক্তব্য প্রচারিত হলেও ঘটনাটির বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বাধীন কোনও সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে আটক করা যানটির ছবি বা অন্যান্য প্রমাণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দাবিটির বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব নয়।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না আসায় ঘটনাটি নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।   ইরানের এমন দাবি এর আগেও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নজরদারি কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামনে এসেছে। ফলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে তা দুই দেশের সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের চেয়ে ৩ গুণেরও বেশি বেতন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের বেতনসহ দেশটির মন্ত্রী ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ওংয়ের আয় আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।   বর্তমানে লরেন্স ওং বছরে প্রায় ২২ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার পান। নতুন কাঠামো অনুযায়ী তার বার্ষিক বেতন প্যাকেজ বেড়ে প্রায় ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলারে দাঁড়াবে। অর্থাৎ তার পারিশ্রমিক ৬০ শতাংশের বেশি বাড়ছে।   তবে বর্ধিত বেতনের পুরো অর্থ নিজের জন্য রাখবেন না ওং। আগামী পাঁচ বছর বাড়তি অর্থ দাতব্য কাজে দান করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   কেন বাড়ছে মন্ত্রীদের বেতন? মঙ্গলবার বেতন বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ওং বলেন, দক্ষ ও মেধাবী ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে মন্ত্রীদের পারিশ্রমিক বাড়ানো প্রয়োজন। তার মতে, বেসরকারি খাতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যে আয়, তার সঙ্গে সরকারি বেতন প্রতিযোগিতা করতে পারে না। ফলে আর্থিক কারণে যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আসার পথ কঠিন করা উচিত নয়।   সিঙ্গাপুর সরকার দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ বেতন কাঠামোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, মন্ত্রীদের পর্যাপ্ত বেতন দিলে ঘুষ ও দুর্নীতির প্রলোভন কমে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি দায়িত্বে আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়।   তবে নতুন করে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চাকরির নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের মধ্যে মন্ত্রীদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।   বিশ্বনেতাদের মধ্যে ওংয়ের অবস্থান: বেতন বৃদ্ধির আগেই লরেন্স ওং বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতা। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার আয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে।   বর্তমানে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বছরে প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার মার্কিন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ডলার বেতন পান।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্ষিক বেতন ৪ লাখ ডলার এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের বেতন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার।   মন্ত্রীদের বেতনও বাড়ছে: সিঙ্গাপুরের মন্ত্রীদের বর্তমান মূল বেতন প্যাকেজ প্রায় ১১ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে প্রায় ১২ লাখ ডলার হবে। লরেন্স ওং আশা করছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অধিকাংশ মন্ত্রীর বার্ষিক বেতন প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলারে পৌঁছাবে। দায়িত্ব ও দক্ষতার ভিত্তিতে তাদের পারিশ্রমিক সমন্বয় করা হবে। মন্ত্রীদের বেতন নির্ধারণে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে বেকারত্বের হার, আয় বৃদ্ধি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির মতো সূচক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   দীর্ঘদিনের বিতর্ক: সিঙ্গাপুরে মন্ত্রীদের উচ্চ বেতন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে ক্ষমতায় থাকা পিপলস অ্যাকশন পার্টির (পিএপি) জন্য বিষয়টি সমালোচনার অন্যতম কারণ। ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছিল পিএপি। বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রীদের বেতন ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ ওই ফলাফলে ভূমিকা রেখেছিল। এর পরের বছর সরকার মন্ত্রীদের বেতন কমিয়েছিল। লরেন্স ওংয়ের পূর্বসূরি লি সিয়েন লুংও ২০০৭ সালে কয়েক বছরের জন্য নিজের বর্ধিত বেতন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সরকার অবশ্য দাবি করে আসছে, উচ্চ বেতনভিত্তিক কাঠামো সিঙ্গাপুরের দীর্ঘদিনের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকেও সিঙ্গাপুর নিয়মিতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় ওপরের দিকে অবস্থান করছে।   সূত্র: বিবিসি

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিম তীরে বড় ধরনের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে সেখানে ‘পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ’ শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনী ইসরায়েলি সেনা বা ইহুদি বসতিতে ৭ অক্টোবরের মতো হামলা চালালে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাৎজ এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, এমন হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলেও পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হবে।   ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।   হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, পশ্চিম তীরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেছে আইডিএফ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। কাৎজের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানের মধ্যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, বেসামরিক জনগণকে বাস্তুচ্যুত করা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর স্থাপনা ধ্বংস এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। তিনি এই কৌশলের সঙ্গে গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের তৈরি করা নিরাপত্তা অঞ্চল এবং জেনিন ও পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে অতীতের সামরিক অভিযানগুলোর তুলনা করেছেন। কাৎজ বলেন, ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘস্থায়ী ইন্তিফাদার মতো পরিস্থিতিতে ইসরায়েল আর ফিরে যেতে চায় না।   ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর হুঁশিয়ারি পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে নাবলুসের কাছে সাম্প্রতিক একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর কাৎজের এই বক্তব্য সামনে এলো। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, উসারিন এলাকায় ছুরি হাতে এক ব্যক্তি একজন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিককে আঘাত করে পালিয়ে যায়। হামলার পর ওই এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয় এবং সন্দেহভাজন হামলাকারীর সন্ধানে অভিযান শুরু করে আইডিএফ।   এ সময় আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।   সূত্র: আরব নিউজ

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ কয়েক দেশে ইসরায়েলিদের ভ্রমণে সতর্কতা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ ও অবস্থানের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি।   গত রোববার প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, সামনে ইহুদিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।   ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল সম্প্রতি ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলিদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   সতর্কবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার তিন বছর পূর্তি ঘিরে বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে। এসব কর্মসূচির কিছু অংশ ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাটির দাবি, ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলার জন্য হামাসের তৎপরতা রয়েছে। একইভাবে আফ্রিকা মহাদেশে ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতিরা।   যেসব দেশে ঝুঁকি বেশি: জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মূল্যায়নে ইরানের আশপাশের কয়েকটি দেশকে ইসরায়েলিদের জন্য উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড এবং মিসর—সিনাই উপত্যকাসহ—ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করা হয়েছে। এসব দেশে ভ্রমণ না করার পাশাপাশি বর্তমানে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে এসব দেশে ট্রানজিট থাকলে বিমানবন্দর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে ইরাক, কুর্দিস্তান, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া, লেবানন ও সৌদি আরবে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ আইনগতভাবে নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। যৌথ নাগরিকত্বধারীদের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।   এ তালিকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও সোমালিয়াকেও ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশে ভ্রমণ না করার জন্য ইসরায়েলি নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং কিছু সেবার বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেবেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।    মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে মিলিব্যান্ড দেশটির ইসরায়েল নীতিতে একটি ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের কথা তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন আরও সক্রিয়ভাবে তুলে ধরার কথা রয়েছে।   গাজায় ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও আগের ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তুলনায় কঠোর ভাষায় কথা বলতে পারেন মিলিব্যান্ড। তার ঘোষিত পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর সব দাবি পূরণ না করলেও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির সম্প্রসারণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ব্রিটিশ সরকার পশ্চিম তীরের ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা সব ইসরায়েলি বেসামরিক বসতিকেই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে।   নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নয়, অর্থায়ন ও বিজ্ঞাপনের মতো কিছু সেবাও আসতে পারে। এর ফলে এসব বসতিতে বিনিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বেআইনি হয়ে যাবে।   মিলিব্যান্ডের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবেও তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বে সহায়তা না করার বিষয়ে রাষ্ট্রগুলোর প্রতি যে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে নতুন নীতির সামঞ্জস্য রয়েছে বলে ব্রিটিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে।   এর আগে যুক্তরাজ্য বলেছিল, ইসরায়েল থেকে আসা পণ্য ও অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের মধ্যে কার্যকরভাবে পার্থক্য করা কঠিন। তবে এবার বসতি-উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   ২০০৫ সাল থেকেই ইসরায়েলি দখলকৃত ভূখণ্ডে অবস্থিত বসতিতে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পায় না। নতুন পদক্ষেপের ফলে নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত হবে।   ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে পণ্য ও সেবার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ড। নিষেধাজ্ঞার ফলে বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের ওপরও নির্ভর করবে।   গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েলি বাহিনী অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করছে; মিলিব্যান্ড তার এ অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন। ইসরায়েল অবশ্য এ অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।   তবে গাজায় ত্রাণ আটকে দেওয়ার অভিযোগে তাৎক্ষণিক কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সেখানে সংঘটিত ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করার পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যুক্তরাজ্য যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি।   পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাজ্য এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ই১ নামে পরিচিত বসতি প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলি বসতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। কিছু অবৈধভাবে নির্মিত বসতি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে সেগুলো ভেঙে ফেলার কথাও বলেছেন নেতানিয়াহু।   তবে যুক্তরাজ্যের নতুন অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। ইসরায়েল এর আগে মিলিব্যান্ডের গাজায় ত্রাণ আটকে দেওয়ার অভিযোগের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল।   অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ভেতরেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে, যেখানে মাত্র ১৮ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছে।   সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে জাহাজ চলাচলে বড় ধস, এক সপ্তাহে কমেছে ২৮%

ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে গত এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ। গত সপ্তাহে এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করেছে মাত্র ৭৭টি জাহাজ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সর্বশেষ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা পণ্যবোঝাই জাহাজের সংখ্যা ৪৫ থেকে কমে ৩৩টিতে নেমে এসেছে।   কেপলার আরও জানিয়েছে, গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা মোট ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টিই ইরানের নির্ধারণ করে দেওয়া পথ (রুট) ধরে চলাচল করেছে। এসব জাহাজ হরমুজের প্রচলিত নৌপথ এড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) হরমুজ পাড়ি দেওয়া আটটি জাহাজের মধ্যে সাতটিই ইরানের নির্ধারিত পথ ধরে চলেছে বলে জানিয়েছে কেপলার।   প্রতিষ্ঠানটির মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং হরমুজ পাড়ি দিতে জাহাজগুলোর ইরানের ঠিক করে দেওয়া নৌপথ ব্যবহারের ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামগ্রিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে কেপলার বলছে, এখন দেখার বিষয় হলো—হরমুজ প্রণালি ঘিরে গত সপ্তাহের শেষ দিকে দেখা দেওয়া এ প্রবণতা স্থায়ী হয় কিনা।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ সাধারণত এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। এটার প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে। বেড়ে গেছে দাম।   সূত্র: আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬