লেবানন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর ইসরায়েলের কয়েকটি এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার পর বিমানবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পরে লেবানন থেকে ছোড়া দুটি প্রজেক্টাইল ইসরায়েলি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের শহর ও নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো বন্ধ না করে, তাহলে লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। হিজবুল্লাহর হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েল বৈরুতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানও পরিকল্পনা অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। এদিকে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ঝাড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি দীর্ঘদিনের মিত্র নেতানিয়াহুকে ‘বদ্ধ উন্মাদ ও অকৃতজ্ঞ’ বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়। এর ঠিক আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটেই দুই নেতার মধ্যে কথোপকথন হয়। অ্যাক্সিওসের দাবি, ফোনালাপের একপর্যায়ে ট্রাম্প এতটাই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন যে নেতানিয়াহুকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, তুমি আসলে কী করছ? মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার জবাবে ইসরায়েল যে ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর বলে মনে করছেন ট্রাম্প। জানা গেছে, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সবচেয়ে উত্তপ্ত ফোনালাপগুলোর মধ্যে একটি ছিল এটি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে অকৃতজ্ঞ বলেও অভিযুক্ত করেন। তার দাবি, অতীতে বিভিন্ন সংকটে তিনি নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছেন। আমেরিকার সমর্থন না থাকলে নেতানিয়াহুকে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতো বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেন, বৈরুতে বড় ধরনের হামলা চালালে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ফোনালাপ শেষে নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানান, ইসরায়েলের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর পরপরই ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তার অনুরোধের পর ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতে বড় অভিযান থেকে সরে এসেছে। ট্রাম্প নেতানিয়াহুর এই পাল্টাপালটি অবস্থানের পর কূটনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন- এবার বন্ধুত্বে চিড় ধরেছে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর। এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দিতে পারে এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।
লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতেও হরমুজ প্রণালির মতো নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্স প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি। খবর প্রেসটিভির। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল যদি লেবানন ও গাজায় হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ তাদের সমর্থন আরও বাড়াবে এবং নতুন নতুন ফ্রন্ট সক্রিয় করবে। এর ফলে বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের পরিস্থিতিও হরমুজ প্রণালির মতো হয়ে যেতে পারে। ইসমাইল কানি বলেন, লেবানন ও গাজায় একযোগে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল নিজেই হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের আরও শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়বে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবানন ও গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এতে হাজারো বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরান বরাবরই বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে গাজা ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। উল্লেখ্য, ইয়েমেন ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের মাঝখানে অবস্থিত বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। আন্তর্জাতিক তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ‘পারিবারিক কলহের জেরে’ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে সন্দেহভাজনসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ‘ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো’ মাস্কাটিন শহরের দুটি বাড়ি ও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর এনডিটিভির। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা কিছুক্ষণ পরই একটি পথচারী সেতুর কাছে আত্মঘাতী গুলির আঘাতে আহত ম্যাকফারল্যান্ডকে খুঁজে পান। পুলিশ কর্মকর্তা ও প্যারামেডিক কর্মীরা তাকে চিকিৎসাসেবা দেন, কিন্তু ঘটনাস্থলে তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়। তদন্ত এগোনোর মধ্যেই কর্মকর্তারা পরবর্তীতে মিল স্ট্রিটের অন্য একটি বাড়ির ভেতর থেকে আরেক ব্যক্তিকে খুঁজে পান, যিনি দৃশ্যত গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন। আরও তল্লাশির পর কর্মকর্তারা গ্র্যান্ডভিউ অ্যাভিনিউয়ের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছান, যেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরেক ব্যক্তিকে মৃত পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে এই গুলির ঘটনা একটি পারিবারিক বিবাদের জের ধরে ঘটেছে, কারণ ভুক্তভোগী সকলেই সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হতে পারে, যার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং হরমুজ প্রণালি আবারও স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। এবিসি নিউজের প্রধান ওয়াশিংটন সংবাদদাতা জনাথন কার্লকে টেলিফোনে এ কথা বলেন। কার্লকে ট্রাম্প বলেন, ‘পরিস্থিতি ভালো দেখাচ্ছে, খুবই ভালো দেখাচ্ছে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আজ একটু সমস্যা হয়েছিল, তবে আমি খুব দ্রুত সেটি সমাধান করে ফেলেছি। আপনারাও হয়তো সেটা লক্ষ্য করেছেন।’ প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, সমস্যার কারণ ছিল ইসরাইল লেবাননে হামলা নিয়ে ইরানের অসন্তোষ। তিনি বলেন, ‘আমি হিজবুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছি এবং বলেছি, আর হামলা চালানো যাবে না। এরপর আমি বিবির (ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাকেও বলেছি, হামলা চালানো বন্ধ করতে। তারপর উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করে দেয়।’ এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ইরান স্থগিত করতে যাচ্ছে। লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইল অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবাদে তেহরান এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাসনিম লিখেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যে বার্তা আদান-প্রদান চলছিল, তা ইরানের আলোচকরা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। কারণ শান্তি আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানের একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালানোর কথা বলেছে ইরানও। এরমধ্যে এবার তেহরানের কাছ থেকে আলোচনা বন্ধ রাখার ঘোষণা এলো।
লেবানন ও গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা বা বার্তা বিনিময় করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তাসনিম নিউজের বরাতে জানা যায়, লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ বার্তা বিনিময় প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরানের প্রতিনিধি দল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান এবং তাদের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ (আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীসমূহ) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন উপকূলে অবস্থিত বাব আল-মান্দাব প্রণালিসহ অন্যান্য ফ্রন্টগুলোকে সক্রিয় করার বিষয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। উল্লেখ্য, ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হুতিরা ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে তাদের হাত রয়েছে এবং ইরানের বিবৃতিতে মূলত এই হুতিদের মতো মিত্র বাহিনীগুলোকেই ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ১৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটিকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (১ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, হিজবুল্লাহর ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর পূর্ণমাত্রায় সংঘাত বন্ধ হয়নি, তবুও বৈরুতকে সরাসরি হামলার বাইরে রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নেতানিয়াহুর ঘোষণার পরপরই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের ব্যাপকভাবে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়। প্রধান সড়কগুলো যানবাহনে ভরে যায়। গত কয়েক মাসে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হওয়া স্থানীয়দের জন্য এটি নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় নিয়মিত বিমান হামলার পাশাপাশি বহু শহর ও গ্রামে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগে রোববার দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ দখলের ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে গভীর স্থল অগ্রগতি বলে দাবি করা হচ্ছে। দুর্গ দখলের পর নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আমাদের উপস্থিতি আরও গভীর ও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা আগের চেয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং শক্তিশালী। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা বিউফোর্ট দুর্গের আশপাশে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেছে। সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ লেবাননি আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ পরিস্থিতির জন্য লেবানন সরকারকে দায়ী করে বলেন, সরাসরি আলোচনার পথ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। ইসরায়েলের নতুন সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক উত্তেজনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মাত্রার সামরিক বিস্তারের কোনো যৌক্তিকতা নেই। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও জার্মানিও ইসরায়েলের নতুন অভিযানের সমালোচনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলতে পারে। তেহরান ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ না হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি বা নতুন কোনো চুক্তি সম্ভব নয়। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলছাড়া কোনো চুক্তি গ্রহণ করা হবে না। রোববার (৩১ মে) ইরানের পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুনর্নির্বাচিত স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গালিবাফ বলেন, কোনো আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতির ওপর ইরান ভরসা করবে না। তিনি বলেন, ‘শত্রুর কথা ও প্রতিশ্রুতির ওপর কোনো আস্থা নেই।’ তার মতে, ইরানের একমাত্র মানদণ্ড হলো—নিজেদের কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আগে চুক্তি থেকে বাস্তব, যাচাইযোগ্য এবং কার্যকর ফল পাওয়া নিশ্চিত করা। এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইরানের দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও অনাস্থারই প্রতিফলন। দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরে নানা বিষয়ে উত্তেজনা ও মতবিরোধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে ‘আস্থা নেই’ গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণভাবে ফলাফলনির্ভর। তিনি বলেন, ‘আমরা পালটা কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণের আগে বাস্তব ফলাফল অর্জন করাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখি।’ তিনি আরও জানান, ইরানের ঘোষিত শর্তগুলো পূরণ হয়েছে—এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান কোনো চুক্তির পথে এগোবে না। এতে বোঝা যায়, আলোচনার ক্ষেত্রে দেশটি এখন আরও সতর্ক ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ইরানের আলোচক দল তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতেও ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের এই অবস্থান দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং প্রয়োজন হলে জনগণের জন্য ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতিও তাদের রয়েছে। এমন সময়ে এই বক্তব্য এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরোক্ষ। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শান রাজ্যের একটি গ্রামে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় সময় রোববার (৩১ মে) দুপুর ১২টার দিকে চীন সীমান্তের পাশে নামখাম টাউনশিপের কাউং তাত গ্রামে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ নারী এবং ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন। তবে অন্যান্য প্রতিবেদনে এই সংখ্যা কিছুটা কমবেশি উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই গ্রামটির ওপর দিয়ে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। এলাকাটির নিয়ন্ত্রণকারী এবং জান্তাবিরোধী লড়াইয়ে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ট্যআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিএনএলএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক থেকে এই ‘আকস্মিক বিস্ফোরণ’ ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় এক বাসিন্দা লিখেছেন, প্রথম দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলের এটি কোনো বিমান হামলা হবে। টেলিগ্রাম পোস্টে বলেছে, এই বিস্ফোরণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট/টিএনএলএ গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। এতে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ঘটা এই বিস্ফোরণের তদন্ত চলছে এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব ত্রাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির আশপাশে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে এবং ইট-পাথরের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাছপালা থেকে তখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে। সূত্র: নিক্কেই এশিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না— এমন গ্যারান্টি তেহরানের কাছ থেকে পেয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় শনিবার (৩০ মে) তিনি এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন তার পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প। লারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তৃতীয় সন্তান এরিক ট্রাম্পের স্ত্রী। গতকাল লারা’র পডকাস্ট শো’তে এসেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যশ ফক্স নিউজ সেই পডকাস্ট শো সম্প্রচার করেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না— এমন একটি গ্যারান্টি আমি চাইছিলাম। চমৎকার ব্যাপার হলো, তারা এ ব্যাপারে রাজি হয়েছে। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে ট্রাম্পের এমন দাবির প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, দেশটির যে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ওয়াশিংটন ফ্রিজ করে রেখেছে, সেই অর্থ অবমুক্ত করলে তবেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে তেহরান। আরও বলা হয়েছে— ইরানের ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করা হবে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প— সেটিও ভিত্তিহীন। উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ ধরে টানাপোড়েন চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। ওয়াশিংটনের দাবি, শান্তিপূর্ন পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। তবে ইরান এই দাবি সবসময় প্রত্যাখ্যান করে আসছে
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুজব নাকচ করে দিয়েছে। রোববার (৩১ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তাসনিমের বরাতে একটি সূত্র জানায়, ‘পেজেশকিয়ান কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তিনি আজও স্বাভাবিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।’ সূত্রটি আরও দাবি করে, ‘এসব গুজব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভেদ সৃষ্টি এবং ইরানের সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।’ একই সূত্রের মতে, ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ নেটওয়ার্ক যেসব তথাকথিত সূত্রের কথা উল্লেখ করেছে সেগুলো সাধারণত ওই নেটওয়ার্কের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কল্পনা ও ভ্রান্ত ধারণার ফল।’ এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
নেপালের এখনকার প্রধানমন্ত্রী একজন র্যাপার, এটা বাংলাদেশীদের জানা। তাঁর সবচেয়ে হিট গান ‘ম নেপালও হাসেকো হের্ন চাহাচ্ছু’। বাংলায়, ‘আমি দেখতে চাই নেপাল হেসে উঠুক’। মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ এ গানের, যা একসময় কাঠমান্ডুতে মেয়র হওয়ার দৌড়ে বালেনকে বেশ সাহায্য করে। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী। নেপালে জেন-জিরা গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাঁকে সামনে রেখে নির্বাচনে জিতে সরকার গড়েছে। সেই সরকার দুই মাস পার করল। কিন্তু নেপালে র্যাপার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সর্বমহলে প্রত্যাশায় টান পড়েছে। চায়ের আড্ডায় কটু কথার বাইরেও পত্র-পত্রিকাগুলো তাঁকে সমালোচনা করে সম্পাদকীয় লিখতে শুরু করেছে। তাঁর সরকারের ডিক্রিগুলো বিধিবিধান সম্মত নয় বলে উচ্চ আদালত একের পর স্থগিত করে দিচ্ছেন। খোদ দলের মধ্যেও বালেন শাহর আচার-আচরণ ও নানা পদক্ষেপে বাড়ছে অস্বস্তি। অসন্তোষের বিষয়গুলোও বিচিত্র। পার্লামেন্টে আগ্রহ কম প্রধানমন্ত্রীর নেপালের গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের প্রায় এক বছর পর হলেও উভয় দেশে নির্বাচিত সরকারের যাত্রা কাছাকাছি সময়ে। কোনো নতুন প্রধানমন্ত্রীকে মূল্যায়নের জন্য এত অল্প সময় যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের মিডিয়ায় চিত্রটা তাই ‘হানিমুন পিরিয়ড’–এর মতো। কিন্তু নেপালের প্রধান প্রধান প্রচারমাধ্যমে বালেন শাহ ৫০-৬০ দিনের মধ্যেই জবাবদিহির মুখে পড়েছেন। দেশের প্রধান দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্ট–এ গত সাত-আট সপ্তাহে তাঁকে নিয়ে বেশ কড়া ভাষায় অন্তত পাঁচটি সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয় বের হলো এবং সেসব অকারণে নয়। শুরু থেকে দেখা যাচ্ছে, ৩৬ বছর বয়সী র্যাপার প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে আসেন কম, কথা বলেন আরও কম। অথচ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও পার্লামেন্ট পাশাপাশি। নেপালের ইতিহাসে এই প্রথম এ রকম ঘটল, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয়-সাত সপ্তাহেও প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে কোনো বক্তব্য দেননি। দেশের নির্বাহী প্রধানের এই চুপচাপ থাকা নিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট–এর ১৪ মে সম্পাদকীয়তে লেখে, ‘বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কথা শোনার অধিকার রয়েছে জনগণের’। আগের দিন একই কাগজে প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি গণতন্ত্রের প্রথা এবং জবাবদিহির সঙ্গে মানানসই নয়’। পার্লামেন্টে উপস্থিত হলেও নানা কাণ্ড ঘটান বালেন। ২ এপ্রিল দেশটির পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্রের ভাষণের সময় মাঝপথে প্রধানমন্ত্রী উঠে চলে যান, যা জাতীয়ভাবে বিস্ময় তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কোনো বক্তৃতা দেননি। প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নিতে রাজি নন। তাঁর কাছে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরের ভার দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে। জেন-জি সরকার দেশকে অনেকটা রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতিতে ঠেলে দিচ্ছে। গত প্রায় দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে বিতর্ক হয়েছে। এর মধ্যে নিজের কর্তৃত্ব বাড়াতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বদলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সংযুক্ত করেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন করেছিল কিছুদিন আগে। এ মুহূর্তে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে কাঠমান্ডুসহ প্রধান শহরগুলোতে ভাসমান মানুষদের বস্তিসদৃশ আবাসগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া নিয়ে। চরম বৈষম্যে ভরা সামাজিক বাস্তবতায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বেশ অমানবিক বলা হচ্ছে। এই বছরই এক গবেষণা শেষে অক্সফাম নামের সংস্থা জানিয়েছিল, নেপালের ওপর দিকের ১ শতাংশ মানুষের হাতে যেখানে জাতীয় সম্পদের প্রায় ২৫ শতাংশ রয়েছে, সেখানে নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে আছে জাতীয় সম্পদের ৫ শতাংশের কম। সরকারের পদক্ষেপে নিচুতলার ভূমিহীনরা এখন বসতিহীনও হচ্ছে। উচ্ছেদের মুখে দরিদ্রদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো শহরে শহরে বিক্ষোভ করছে প্রতিদিন। সরকার বলছে, তারা এ রকম শহুরেদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেবে। তবে পুনর্বাসনের আগেই উচ্ছেদ স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে রাগিয়েছে। উচ্চ আদালতের সঙ্গে ঠোকাঠুকি নেপালের জেন-জি সরকার এখন সবচেয়ে বেশি বিতর্কের মুখে আছে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে। জ্যেষ্ঠ তিনজনকে ডিঙিয়ে বালেন শাহ প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন মনোজ কুমার শর্মাকে। এতে ঐতিহ্যের লঙ্ঘন ঘটেছে বলে বলা হচ্ছে। সরকার বলছে, সংবিধান পরিষদ এই নিয়োগের সুপারিশ করেছে এবং তাতে পার্লামেন্টের অনুমোদন আছে। তবে সংবিধান পরিষদের প্রধান খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং পার্লামেন্টে রয়েছে তাঁর সরকারের প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ। ইতিমধ্যে এই নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট হয়েছে। আবার মনোজ কুমার শর্মা দায়িত্ব নিয়েও ফেলেছেন। তবে বিতর্ক থেমে নেই তাতে। বিচার বিভাগের স্বাভাবিক কাজকর্মেও বিতর্কের ছাপ পড়ছে। আইনজীবীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, নতুন প্রধান বিচারপতির নিয়োগ উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের মধ্যেও নীতিগত বিভেদরেখা তৈরি করেছে। অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে, নেপালের উচ্চ আদালতে এখন প্রধান বিচারপতির চেয়েও সিনিয়র তিনজন বিচারপতি রয়েছেন। সিনিয়র এই তিন বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হলে এ বিষয়ে চলমান বিতর্ক উত্তেজক রূপ নিতে পারে। প্রধান বিচারপতি, প্রধান সেনাপতি ইত্যাদি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা ও রাজনৈতিক সরকারের বিবেচনার মধ্যে কোনটা গুরুত্ব পাওয়া উচিত, এ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বহুকাল যে বিতর্ক চলছে, তাতে নেপালের ঘটনা সর্বশেষ সংযোজন। এর মধ্যেই অফিস-আদালতে কর্মচারীদের ইউনিয়ন গঠন এবং শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সংগঠন করার অধিকার বন্ধ করে বালেনের সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেসব উচ্চ আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল বালেন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন। বাংলাদেশেও এই ঘোষণা ব্যাপকভাবে প্রচার পায়। বিচারবিভাগীয় বেঞ্চ জানিয়েছে, কর্মচারীদের ইউনিয়ন গঠনের অধিকার দেশটির ১৯৯২ সালের সিভিল সার্ভিস অ্যাক্টের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা আইএলওর সনদের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। শ্রমিক অধিকার নিয়ে সক্রিয় অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও বালেন সরকারের ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। সরকার বলছে, দলীয় পরিচয়ের সংগঠন বিদ্যাপীঠ এবং সরকারি দপ্তরে দক্ষতার ক্ষতি করছে। এসব বিষয়ে বিতর্ক চলার মধ্যেই নতুন প্রসঙ্গ আসে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। সীমান্তপথে আসা নিত্যদিনের কোনো সামগ্রীর দাম ১০০ রুপির বেশি হলে তাতে ৫ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার, সেটাও আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। সরকারের নতুন সীমান্তনীতি মধেস এলাকায় জীবনযাত্রায় বেশ ছন্দপতন ঘটিয়েছিল। ভারত-নেপাল সীমান্তের ঐতিহাসিক যে ধরন, তাতে উভয় দিকে মানুষ ও সাধারণ জিনিসপত্রের চলাচল অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা। নেপালের বহু মানুষ নিত্যদিনের কেনাকাটা করতে পাশের ভারতীয় বাজার–হাটে যান। হলুদ-মরিচ থেকে চা-বিস্কুট, ওষুধ-পথ্যসহ অনেক সামগ্রী কেনাকাটা, আনা-নেওয়া হয় এভাবে। দীর্ঘ সীমান্তের উভয় দিকে মানুষের জীবনধারা এভাবেই চলছে বহুকাল। শাসক দলের এই অঞ্চলের নেতা-কর্মীরাও মনে করছেন, বালেন সরকারের সিদ্ধান্ত সীমান্তবর্তী মানুষকে ক্ষুব্ধ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলের দূরত্ব প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব ধাঁচের শাসনপদ্ধতি এবং চালচলন নিয়ে তাঁর দলেও গুঞ্জন চলছে। ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সাত দফা চুক্তির ভিত্তিতে তাঁকে দলভুক্ত করে ৫ মার্চের নির্বাচনের কিছুদিন আগে। গণ–অভ্যুত্থানকারী জেন-জি সংগঠনগুলো একসঙ্গে বসে তাঁকে আরএসপিতে আনে। এটা খুব বেশি আগের দল নয়। ২০২২ সালে বিভিন্ন পেশাজীবী তরুণ-তরুণীরাই গড়ে তোলেন। এবারের ভোটে তাদের জয় মূলত জেন-জি অভ্যুত্থানের জোয়ারে এবং বালেন শাহর জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ওপর সমাজের বিরক্তিতে দলটিতে উদ্বেগ আছে। যেহেতু জোয়ারধর্মী ভোটে নির্বাচনী বিজয়, এ কারণে ভাটার লক্ষণে আরএসপির অনেকে শঙ্কা বোধ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আরএসপির কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই। পার্টির বৈঠকেও সচরাচর আসেন না তিনি। দলের খুব কম নেতাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। অস্বস্তিতে দুই প্রতিবেশী-শক্তিও নির্বাচনের আগে বালেনের দল চীন-ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিল, তারা আর ‘বাফার রাষ্ট্র’ হয়ে থাকতে চায় না, ‘সংযোগকারী রাষ্ট্র’ হতে আগ্রহী। নেপালকে এই তিন দেশের সম্পর্কের ভরকেন্দ্র বানাতে চায় আরএসপি। তবে গত ২৭ মার্চ সরকার গঠন থেকে চীন-ভারত নয়, গুরুত্ব যতটুকু পেয়েছে—সেটা যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকা থেকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর ঢাকার পাশাপাশি ইতিমধ্যে নেপালও ঘুরে গেছেন। কৌতূহল উদ্দীপক বিষয় দেখা গেল, নেপালে ওয়াশিংটনের এখনকার আগ্রহ তিব্বতি শরণার্থীদের নিয়ে। বোধগম্য কারণেই চীন এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। নেপালে তিব্বতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা পাক, সেটা চীন দেখতে চায় না। জেন-জি আন্দোলনকালে অনেক বিক্ষোভকারীকে ‘টিওবি’ লেখা টি-শার্ট পরে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। টিওবি বলতে তারা বোঝাচ্ছে ‘দ্য অরজিন্যাল ব্লাড’। এই গোষ্ঠী তিব্বত মুক্ত করতে সক্রিয় ভিক্ষুদের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হয়। বেইজিং মনে করছে, বর্তমান সরকারে এমন একটা উপদল আছে, যারা নেপালে চীনবিরোধী জনমত উসকে দিতে তৎপর। চীনের মতো ভারতও নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে গভীর নজরদারিতে রেখেছে। এর মধ্যেই সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির কাঠমান্ডু সফর বাতিল হলো। মিডিয়াগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ এখনই এ রকম বৈঠকে আগ্রহী নন বলেই এই সফর হলো না। এমনও খবর ছড়িয়েছে, বালেন ঠিক করেছেন, পদমর্যাদায় তাঁর চেয়ে নিচের কোনো বিদেশির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন না! বিক্রম মিশ্রির সফর বাতিলের ঘটনা নয়া দিল্লিকে বিব্রত করেছে। একই সঙ্গে এটা নেপালের নাগরিক সমাজেও বিস্ময় বাড়িয়েছে। স্থলবেষ্টিত নেপালের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীকেই নানা প্রয়োজনে দরকার। উভয়ের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই দেশটির স্বার্থের জন্য অনুকূল। আধুনিক নেপালের প্রতিষ্ঠাতা পৃথ্বী নারায়ণ শাহ বলতেন, নেপালের অবস্থা হলো দুই বিশাল পাথরখণ্ডের মাঝখানে একটা আলুর মতো। ফলে চীন-ভারতের নানা স্তরে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ থাকাটা জরুরি। এটা সত্য যে চীন-ভারত উভয়ের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বালেন শাহ ও তাঁর অনুসারী সমাজে কঠোর জাতীয়তাবাদী মনোভাব আছে। লিপুলেখ নামের যে এলাকা নিয়ে চীন-ভারতের সঙ্গে নেপালের বিরোধ চলছে, সেই পথে শেষোক্ত দুই দেশই ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে চাইছে এই জুন থেকে—যা কাঠমান্ডুর মধ্যে উপেক্ষার একটা বোধ তৈরি করেছে। তিন দেশের সীমান্ত-সংযোগের এই জায়গা নিয়ে নেপালের দাবি, নয়া দিল্লি-বেইজিং উভয়ে একজোট হয়ে অবজ্ঞা করছে। এ রকম অবস্থায় উভয় প্রতিবেশীকে দূরে রেখে বালেন শাহ কতটা সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, বাস্তববাদী কূটনীতিবিদেরা তাতে সন্দিহান। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বালেন শাহ প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে যাবেন এবং তখন সীমানা নিয়ে একটা সুরাহা হবে। বালেনের শাসননীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তনের আভাস দেশীয় ও আন্তদেশীয় নানা বিষয়ের পাশাপাশি বালেন শাহ বিতর্কে আছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পোশাক-আশাকের ধরন নিয়েও। প্রথাগত নেপালি পোশাকের বদলে তাঁর জমকালো ড্রেস, স্পোর্টস শু পরে পার্লামেন্টে হাজির হওয়া ছবি নিয়মিতই ভাইরাল হচ্ছে। কালো জামা-কাপড় ও কালো সানগ্লাসের প্রতি বালেনের আসক্তি আগেও ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেসব কতটা মানানসই, এই বিতর্কের মধ্যে ১৬ মে তিনি সাদা পোশাক পরে ফেসবুকে ছবি ছাড়ার পর সেটাও তাৎক্ষণিকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। তাঁর এই রং–বদলের কারণ খুঁজে গবেষকভক্তরা বলছেন, বালেন প্রাথমিক কঠোরতার পর নমনীয় শাসননীতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন! মুখ বন্ধ রেখে ড্রেস পাল্টে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার এই ব্যাখ্যা সত্য হলে এ–ও মানতে হবে, এ রকম স্টাইল দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক-সংস্কৃতির একটা মোড়বদলের ইঙ্গিত। বালেন শাহ কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রজন্মের প্রতিনিধি। যে প্রজন্মের ‘নেতা’রা এভাবেই নতুন নাগরিক সমাজকে মাতিয়ে রাখতে চাইছেন এবং এ রকম কৌশলের বিশ্বাসযোগ্য সফলতাও অস্বীকার করা যায় না। দেশ চালাতে ‘রাজনীতিবিদ’ হওয়া হয়তো জরুরি নয় আর, ‘জনপ্রিয়’ হলেই চলছে। নেপালের অভিজ্ঞতা আপাতত এটাই বলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তির কাঠামো মূলত আগের মতোই থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ভূরাজনীতি বিশ্লেষক মার্কো ভিনচেনজিনো। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দেশের আলোচনায় এখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, যাচাই পদ্ধতি ও সময়সীমার মতো পুরোনো ইস্যুগুলোই কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে রয়েছে। তার মতে, কোনো সমঝোতা হলেও তাতে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকা অবশ্যম্ভাবী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখাতে হবে যে তিনি ইরানকে ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির চেয়ে কঠোর শর্তে রাজি করিয়েছেন। বিপরীতে, ইরানও দাবি করবে যে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে এবং আত্মসমর্পণ করেনি। তিনি বলেন, কার্যত এমন একটি অবস্থাই তৈরি হবে যেখানে উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিল থেকে ‘বিজয়’ দাবি করে সরে যেতে পারবে—এটাই চুক্তি হওয়ার প্রধান শর্ত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মুডিজ অ্যানালিটিক্সের তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানি–সংশ্লিষ্ট ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারকে গড়ে অতিরিক্ত ৪৪৭.১৯ ডলার খরচ করতে হয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও বিমান ভাড়া বাড়ার ফলে গত তিন মাসে মার্কিন ভোক্তাদের মোট অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এই আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। মুডিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির মতে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে ভোক্তারা ব্যয় কমাতে বাধ্য হবেন, যা দুর্বল অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান জ্বালানি মূল্য বজায় থাকলে যুদ্ধের এক বছরের মধ্যে পরিবারপ্রতি অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ২ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই দাবি করে। আইআরজিসির দাবি, ভূপাতিত ড্রোনটি ছিল একটি এমকিউ-১ মডেলের মানববিহীন আকাশযান। ড্রোনটি ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করে একটি ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ পরিচালনার চেষ্টা করছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোনটি ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেটিকে শনাক্ত করা হয় এবং আইআরজিসির আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ভূপাতিত করা হয়। আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, “ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনও আগ্রাসনের জবাব দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে দেওয়া হবে।” তবে ড্রোনটি ঠিক কোথায় ভূপাতিত হয়েছে, ঘটনাটি কখন ঘটেছে কিংবা এর ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে কি না- এসব বিষয়ে আইআরজিসির বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এছাড়া এ ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালীর আশপাশে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আকাশ ও সমুদ্রপথে নজরদারি কার্যক্রমও বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান একাধিকবার বিদেশি ড্রোন নিজেদের আকাশসীমা বা জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভূপাতিত করার দাবি করেছে। তেহরান বরাবরই বলে আসছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা কোনও ধরনের অনুপ্রবেশ বরদাশত করবে না। সূত্র: আল-জাজিরা
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারত সফর শেষে মন্তব্য করেছিলেন, ‘নয়াদিল্লি আগামী পাঁচ বছরে জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষির ওপর জোর দিয়ে ৫০ হাজার কোটি ডলার’ মূল্যের আমেরিকান পণ্য কিনতে ‘প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে। রুবিওর এই মন্তব্য কেবল নয়াদিল্লির রাজনৈতিক মহলেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম এবং বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, ভারত কেন এমন একটি একতরফা চুক্তিতে রাজি হলো এবং এর বিনিময়ে ভারতের আসলে কতটা লাভ হবে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই মুহূর্তে ভারত কেন এমন একটি প্রতিশ্রুতি দেবে, তা বেশ রহস্যজনক।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ যখন এই চুক্তিতে পৌঁছেছিল, তার পর থেকে পরিস্থিতির মূল ভিত্তিগুলো অনেকটাই বদলে গেছে। এমন একটি চুক্তিতে সই করা ভারতের জন্য ‘বোকামি’ হবে, যা দেওয়ার চেয়ে কেড়ে নেয় অনেক বেশি। কী পরিবর্তন এসেছে এই ৫০ হাজার কোটি ডলারের অঙ্কটি প্রথম সামনে আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তি ঘোষণা করেছিল। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেন, যা ভারতে বেশ স্বস্তি এনে দিয়েছিল। তবে হোয়াইট হাউস সে সময় জানিয়েছিল, শুল্ক কমানোর বিনিময়ে নয়াদিল্লি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, কয়লা এবং অন্যান্য পণ্যের বার্ষিক আমদানি দ্বিগুণের বেশি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের চুক্তির বিজ্ঞপ্তিতে এই পয়েন্টকে শেষের আগের পয়েন্ট হিসেবে প্রায় লুকিয়ে রেখেছিল। যুক্তরাষ্ট্র কেনার তালিকায় উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ যুক্ত করেছিল। যখন এই ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, তখন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছিলেন, ভারতীয় অর্থনীতির দ্রুত বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করলে এই সংখ্যা খুবই সাধারণ বা রক্ষণশীল। গোয়েল বলেন, আগামী পাঁচ বছরে কেবল বিমান খাতের চাহিদাই ১০ কোটি হাজার ডলারের বাণিজ্যের কারণ হবে। এর থেকে বোঝা যায়, কম শুল্কের বিনিময়ে এটি যৌক্তিক এক চুক্তি ছিল। তবে সেই মাসের শেষের দিকে পরিস্থিতি বদলে যায়। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, ট্রাম্পের ঢালাও পারস্পরিক এবং ফেন্টানিল-সম্পর্কিত শুল্ক আরোপ অবৈধ। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা ব্যবহার করে তাদের সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ঢালাওভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এটি বেশ অদ্ভুত, ভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলারের আমেরিকান পণ্য কেনার পরিকল্পনা কেবল চালিয়েই যাচ্ছে না, বরং রুবিওর এই দাবিকে চ্যালেঞ্জও করছে না। তাদের চুপ থাকার ফলে এটি এখন একটি ‘প্রতিশ্রুতিতে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে পীযূষ গোয়েলের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলা হয়, ভারতীয় অর্থনীতি উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের মতো বড় বড় জিনিস কেনার ক্ষমতা রাখুক বা না রাখুক, কেন দেশটি সেরা চুক্তি পেতে অন্যান্য সরবরাহকারীর পথ খোলা রাখবে না? যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং ভারতীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ার ফলে ভারত তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এসব উদ্বেগ আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদেরা প্রশ্ন তুলেছেন, কোম্পানিগুলোকে মার্কিন সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতি ছাড়া বছরে ১০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা আদৌ সম্ভব কি না। এমকে গ্লোবালের অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই হিসাব মিলছে না।’ তিনি এই লক্ষ্যমাত্রাকে ‘বাস্তবধর্মী হওয়ার চেয়ে অবাস্তব আকাঙ্ক্ষা’ বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র হলো ভারতের শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্য, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নয়াদিল্লির মোট রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সে দেশে পাঠানো হয়েছিল। রপ্তানি শুল্ক আরোপের আগের স্তরের কাছাকাছি থাকলে এবং আমদানি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের যে বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত (লাভ) রয়েছে, তা কমে যেতে পারে। এতে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের মোট পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৮ হাজার ৩০৫ কোটি ডলার। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ ধর এর আগে রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি ডলার আমদানি করতে হলে এটি ভারতের বাণিজ্যের ভারসাম্যকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান শর্তগুলো মূলত ভারতের প্রধান বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখছে মাত্র, রপ্তানি বৃদ্ধিতে কোনো সাহায্য করছে না। ভারতের এই পদক্ষেপের পেছনে কারণ কী ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অত্যন্ত সংবেদনশীল এক সময়ে রুবিওর এই ভারত সফর হলো। এখন অনেক ভারতীয় চীন ও পাকিস্তানের প্রতি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো নিয়ে চিন্তিত। তা ছাড়া ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে ভারত বেশ রক্ষণশীল অবস্থানে রয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, নয়াদিল্লিই প্রথম এই সুবিধা পাবে। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের পণ্যের ওপরই সবচেয়ে বেশি শুল্ক চাপানো হয়। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট যারাই ক্ষমতায় ছিল, তারা ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদও রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং গত বছর ভারত-পাকিস্তান শান্তিচুক্তিতে নিজের কৃতিত্ব দাবির পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে অস্বীকৃতি জানানোর পরেই ট্রাম্প ভারতের ওপর এই শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেন। তবে নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের গতি একটুও কমেনি... এই সম্পর্ক আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে। ভারতের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রুবিও ভারতকে এটি ব্যক্তিগতভাবে না নেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের এক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে এবং এর সমাধান করা দরকার। এটি ভারতকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।’ রুবিওর পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের অর্থমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (তৎকালীন দায়িত্ব অনুযায়ী) বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পররাষ্ট্রনীতি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (আমেরিকা প্রথম) হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্টভাষী। জয়শঙ্কর আরও যোগ করেন, ‘আমাদেরও একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে, আর তা হলো “ইন্ডিয়া ফার্স্ট” (আগে ভারত)।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ মিন অং হ্লাইং। শনিবার (৩০ মে) তিনি বিহারের বুদ্ধগয়ায় পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই সফরকে স্বাগত জানিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সভ্যতাগত ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রণধীর জয়সওয়াল বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বুদ্ধগয়ায় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আগমনের কথা উল্লেখ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন। এক্সের ওই পোস্টে বলা হয়, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ মিন অং হ্লাইংকে বুদ্ধগয়ায় উষ্ণ স্বাগত। বিমানবন্দরে মাননীয় রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সফর আমাদের দুটি দেশের মধ্যকার দৃঢ় আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক ও জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক এবং চলমান সহযোগিতার গভীরতাকে প্রতিফলিত করে। ভারতে পৌঁছানোর পরপরই প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং বৌদ্ধদের পবিত্র তীর্থস্থান এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ‘মহাবোধি মন্দির’ পরিদর্শন করেন। ৩০ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত স্থায়ী এই সফরটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম ভারত সফর। এই সফরে তার সঙ্গে ক্যাবিনেট মন্ত্রী, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ জুন নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। সেখানে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি তিনি একটি বিশেষ বিজনেস ফোরামে অংশ নেবেন। আগামী ২ জুন ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ভারী শিল্প সংক্রান্ত আলোচনা, ব্যবসায়িক বৈঠক এবং বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি শেষ হবে। সূত্র: উইয়ন নিউজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়বেষ্টিত প্রান্তরে তখন দিনের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। এমন সময় এক বাসিন্দা নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হলেন। তবে তাঁর যাত্রাসঙ্গী কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নয়। বাড়ির পাশে থাকা বিশাল দরজাওয়ালা স্থাপনায় অপেক্ষা করছিল একটি ঝকঝকে ছোট উড়োজাহাজ। দরজাটি ওপরে উঠতেই স্পষ্ট হয়, সেটি সাধারণ গ্যারেজ নয়, বরং একটি ব্যক্তিগত হ্যাঙ্গার। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তিনি ককপিটে বসেন, ইঞ্জিন চালু করেন এবং বিমানটি নিয়ে এগিয়ে যান নিকটবর্তী বিমানবন্দরের দিকে। রানওয়েতে পৌঁছে অল্প সময়ের মধ্যেই উড়োজাহাজটি আকাশে ভেসে ওঠে। অফিসে যাওয়ার জন্য এমন দৃশ্য পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের কাছে কল্পনার মতো মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশেষ আবাসিক এলাকায় এটি একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা। সেই এলাকার নাম ক্যামেরন এয়ারপার্ক এস্টেটস। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বসতিগুলোর কথা উঠলে ক্যামেরন এয়ারপার্কের নাম সহজেই সামনে চলে আসে। কারণ এখানে বাড়ির সামনে ব্যক্তিগত বিমান পার্ক করা থাকে, যা অন্যত্র গাড়ির মতোই সাধারণ বিষয়। অনেক পরিবারের কাছে উড়োজাহাজ দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাড়ি ও বিমানবন্দর যেখানে পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার এল ডোরাডো কাউন্টিতে অবস্থিত ক্যামেরন এয়ারপার্ক এস্টেটসের পুরো নকশা তৈরি হয়েছে একটি বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে। পরিকল্পনাটি এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে বাসিন্দারা সরাসরি নিজেদের বাড়ি থেকে বিমান নিয়ে বিমানবন্দরে যেতে পারেন। এখানকার বহু বাড়ির নকশা প্রথম দেখায় বড় কোনো গুদামঘরের মতো মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ রাখার জন্য নির্মিত হ্যাঙ্গার। সাধারণ মানুষ যেমন গাড়ির জন্য গ্যারেজ তৈরি করেন, এখানকার বাসিন্দারাও তেমনি বিমান রাখার জন্য বিশাল আকারের হ্যাঙ্গার বানিয়েছেন। ফলে বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেদের প্লেনে চড়ে আকাশপথে যাত্রা শুরু করতে পারেন। এ সুবিধাই এলাকাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হয় যাত্রা ক্যামেরন এয়ারপার্কের ধারণার পেছনে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী এক বিশেষ প্রেক্ষাপট। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অসংখ্য সামরিক বিমানঘাঁটি এবং এয়ারফিল্ড ব্যবহারহীন হয়ে পড়ে। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত পাইলট বেসামরিক জীবনে ফিরে আসেন। ১৯৩৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সধারী পাইলটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ হাজার। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছে যায়। ফলে এই বিপুলসংখ্যক বিমানচালকদের জন্য নতুন ধরনের আবাসন ও অবকাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রয়োজন থেকেই জন্ম নেয় ‘ফ্লাই-ইন কমিউনিটি’ ধারণা—এমন আবাসিক এলাকা, যেখানে বসবাস ও বিমানচালনা একই জীবনধারার অংশ। ক্যামেরন এয়ারপার্ক সেই ধারণার অন্যতম সফল বাস্তব রূপ। সড়ক, কিন্তু শুধু গাড়ির জন্য নয় এই এলাকায় প্রবেশ করলে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে এর প্রশস্ত সড়কগুলো। সাধারণ আবাসিক এলাকার তুলনায় এগুলো অনেক বেশি চওড়া। কারণ এসব রাস্তা শুধু গাড়ির জন্য নয়, ছোট উড়োজাহাজ চলাচলের জন্যও ব্যবহৃত হয়। এখানে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়, যেখানে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির পাশে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে একটি ছোট বিমান। অবশ্য এসব বিমান রাস্তা থেকেই উড্ডয়ন করে না। সড়ক ব্যবহার করে তারা বিমানবন্দরের রানওয়েতে পৌঁছে, এরপর আকাশে ওঠে। এই কারণেই ডাকবাক্স, সাইনবোর্ড ও আলোকস্তম্ভের মতো অবকাঠামোও বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। অধিকাংশই তুলনামূলক নিচু, যাতে বিমানের ডানার সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ না ঘটে। রাস্তার নামেও বিমানপ্রেমের ছাপ ক্যামেরন এয়ারপার্কের ভেতরে ঘুরলে বোঝা যায়, বিমানচালনা এখানে কেবল পরিবহনের মাধ্যম নয়, সংস্কৃতিরও অংশ। এলাকার বহু রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিমান-সংশ্লিষ্ট শব্দের নামে। বাড়ির সামনে সারিবদ্ধ ব্যক্তিগত বিমান, মাথার ওপর ছোট উড়োজাহাজের আনাগোনা এবং বিমানভিত্তিক নামের সড়ক—সব মিলিয়ে এলাকাটি যেন একটি জীবন্ত এভিয়েশন জাদুঘর। প্রতিবেশীদের আড্ডার কেন্দ্রেও বিমান বিশ্বের অধিকাংশ পাড়ায় প্রতিবেশীদের আলোচনার বিষয় হয় গাড়ি, বাগান বা খেলাধুলা। কিন্তু ক্যামেরন এয়ারপার্কে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে উড়োজাহাজ। এখানে কে নতুন প্লেন কিনেছেন, কার বিমানের ইঞ্জিনে সমস্যা হয়েছে কিংবা কে কোথায় উড়ে বেড়াতে গেছেন—এসবই নিয়মিত আলোচনার বিষয়। অনেক বাসিন্দাই সাবেক সামরিক পাইলট, বাণিজ্যিক বিমানচালক, প্রকৌশলী বা বিমানপ্রেমী। ফলে পুরো কমিউনিটির সামাজিক জীবন বিমানকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। যানজট এড়িয়ে আকাশপথে যাত্রা এখানকার অনেক বাসিন্দার কাছে ব্যক্তিগত বিমান কেবল শখ নয়, বাস্তব যাতায়াতের মাধ্যমও। একসময় এ এলাকার বাসিন্দা বার্ল স্ক্যাগস নিয়মিত নিজের উড়োজাহাজে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন। যে পথ সড়কে অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগত, আকাশপথে সেটি শেষ হতো এক ঘণ্টারও কম সময়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার দীর্ঘ যানজট বিবেচনায় নিলে বিষয়টি আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে। যখন অন্যরা মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের ভিড়ে আটকে থাকেন, তখন এয়ারপার্কের কিছু বাসিন্দা মেঘের ওপরে উড়ে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে যান। শনিবারের সকাল মানেই বিমানপ্রেমীদের মিলনমেলা ক্যামেরন এয়ারপার্কের সামাজিক সংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ হলো শনিবার সকালের আড্ডা। এ সময় অনেক বাসিন্দা বিমানবন্দরে একত্রিত হন। কেউ নিজেদের উড়োজাহাজ পরিষ্কার করেন, কেউ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যস্ত থাকেন, আবার কেউ নতুন যন্ত্রাংশ নিয়ে আলোচনা করেন। মাঝেমধ্যে ছোট আকারের উড্ডয়ন সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। ফলে এটি কেবল একটি আবাসিক এলাকা নয়, বিমানপ্রেমীদের একটি প্রাণবন্ত সম্প্রদায়। খ্যাতিমান পাইলটদেরও পছন্দের ঠিকানা ক্যামেরন এয়ারপার্কের পরিচিত বাসিন্দাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিখ্যাত অ্যারোবেটিক পাইলট Julie Clark। আকাশে দুঃসাহসিক কসরতের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই বিমানচালক দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করেছেন। তাঁর মতো আরও অনেক অভিজ্ঞ পাইলট একই ধরনের মানুষ ও জীবনধারার আকর্ষণে এই এলাকাকে নিজেদের আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এমন বসতি কি আর কোথাও আছে? ক্যামেরন এয়ারপার্ক অনন্য হলেও একক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক শত ফ্লাই-ইন কমিউনিটির অস্তিত্ব রয়েছে। তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এমন বসতি দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে। ফ্লোরিডা, টেক্সাস, আরিজোনা এবং ওয়াসিংটন-সহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এমন বহু আবাসিক এলাকা রয়েছে, যেখানে বাড়ির সামনেই ব্যক্তিগত বিমান রাখা যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম ও বিমানপ্রেমীদের আলোচনায় ক্যামেরন এয়ারপার্ক সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে। কারণ এখানে দৈনন্দিন জীবন ও বিমানচালনার সমন্বয় সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ভবিষ্যতের শহর মনে হলেও এটি বাস্তব প্রথমবার ক্যামেরন এয়ারপার্কে গেলে অনেকেরই মনে হতে পারে, যেন কোনো বিজ্ঞান কল্পকাহিনির জগতে প্রবেশ করেছেন। কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ শহরে বাড়ির সামনে গাড়ি দেখা যায়, কিন্তু এখানে দেখা যায় বিমান। অন্যান্য স্থানে শিশুরা বড় হয় গাড়ির শব্দ শুনে, আর এখানে তারা বেড়ে ওঠে উড়োজাহাজের গর্জন শুনতে শুনতে। আমরা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে গাড়ির চাবি খুঁজি, আর এখানে অনেকেই খোঁজেন বিমানের চাবি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এটি কোনো চলচ্চিত্রের সেট নয়, কোনো ধনকুবেরের ব্যক্তিগত দ্বীপও নয়। এটি বাস্তবের একটি আবাসিক এলাকা, যেখানে মানুষ সত্যিই নিজেদের বাড়ির হ্যাঙ্গার থেকে বিমান বের করে আকাশপথে কর্মস্থলে যান। আর সেই কারণেই ক্যামেরন এয়ারপার্ক পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী, রোমাঞ্চকর এবং নিঃসন্দেহে সবচেয়ে ‘উড়ন্ত’ আবাসিক এলাকাগুলোর একটি।
লেবানন থেকে উওর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা অঞ্চলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এতে ওই এলাকার ক্ষয়ক্ষতি ও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (৩০ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ভিডিওসহ হামলার ফলে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, লেবানন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে তা প্রতিহত করা হয়। এছাড়া আরেকটি সন্দেহভাজন আকাশযান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলের ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে অন্তত ১০টি রকেট ছোড়া হয়েছে। এ সময় পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কসংকেত সক্রিয় করা হয়। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা পূর্ব লেবাননের জৌতার শহরের উপকণ্ঠে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর একটি মারকাভা ট্যাংক লক্ষ্য করে নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির আরও দাবি, দক্ষিণ লেবাননের দাবেইন শহরের উপকণ্ঠে অগ্রসরমান ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে তারা। এদিকে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়াহর উপকণ্ঠে বর্তমানে অবস্থান করছে ইসরায়েলি বাহিনী। অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে শহরটি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-লেবানন সংঘাতের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলোর প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর (খাতাম আল-আম্বিয়া) এ নির্দেশনা জারি করেছে। শনিবার (৩০ মে) আল জাজিরার লাইভ আপডেটে জানানো হয়, ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সদর দপ্তরটি বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ কর্তৃত্বের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। তাই সব বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য নৌযানকে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে চলাচল করতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যাত্রার আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ইরান জানায়, এসব বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে তার ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি এলাকায় অবস্থানরত বিদেশি সামরিক বাহিনীগুলোকেও সতর্ক করেছে তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সামুদ্রিক চলাচল বা প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের সঙ্গে পরমাণু ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই কঠোর বার্তা দিল ট্রাম্প প্রশাসন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ শনিবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা ডায়ালগে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেছেন হেগসেথ। হেগসেথ বলেন, ‘প্রয়োজন হলে পুনরায় (হামলা) শুরু করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকবিলার জন্য আমাদের যথেষ্ট অস্ত্রের মজুত আছে, সেটা মধ্যপ্রাচ্যে হোক কিংবা বিশ্বজুড়ে। সব মিলিয়ে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছি।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ওপর থেকে তাদের নজর সরিয়ে নেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারি। আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প খাতকে শক্তিশালী করছি, যার ফলে খুব শিগগিরই আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই, তিন বা চার গুণ বেশি গোলাবারুদ তৈরি করব, যাতে বিশ্বজুড়ে আমাদের সমস্ত সামরিক পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।’ পেন্টাগন প্রধান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত নমনীয়। তিনি একটি ভালো চুক্তি করতে চান, যা নিশ্চিত করবে ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।’ এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাবের বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপদ কক্ষে বৈঠকে বসবেন। ওই প্রস্তাবে গত এপ্রিলের শুরুতে নেওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।