আন্তর্জাতিক

ছবি: সংগৃহীত
শান্তিতে নোবেল নিয়ে অনিশ্চয়তা, ট্রাম্পকে ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক আলোচনা

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরস্কারপ্রাপ্তির সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং গত বছরের পুরস্কারকে ঘিরে বিতর্কের কারণে এবার নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত আরও সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   আগামী ৯ অক্টোবর এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে।   গত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার পাওয়ার জন্য ট্রাম্পের ধারাবাহিক আগ্রহ প্রকাশের মধ্যেই মাচাদোকে এই স্বীকৃতি দেয় নোবেল কমিটি। পরে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়ার আশায় নিজের নোবেল পদক তাঁর হাতে তুলে দেন মাচাদো। ঘটনাটি পুরস্কারকে ঘিরে নতুন আলোচনা তৈরি করে।   অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন জেরলোর মতে, গত বছরের ঘটনাগুলো এবারের নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর ধারণা, কমিটি এমন প্রার্থী বেছে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে, যিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে পারবেন।   জেরলো মনে করেন, কোনো ব্যক্তিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিলে তিনি রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়বেন কি না, কিংবা পুরস্কারটি তাঁর জন্য ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করবে, সেটিও কমিটির বিবেচনায় আসতে পারে।   আলোচনায় পোপ লিউ ও ফ্রাঞ্চেস্কা আলবানিজ বিশ্লেষকদের আলোচনায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে পোপ লিউ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রাঞ্চেস্কা আলবানিজের নাম। তবে তাঁদের কেউই পুরস্কার পাবেন—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প পোপ লিউকে ‘দুর্বল’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পোপ যুদ্ধের বিরোধিতা এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজের অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান, অভিবাসীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বার্তা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন কিছু বিশ্লেষক। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক করিম হাগাগ রয়টার্সকে বলেন, পোপ কেবল ধর্মীয় নেতা হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী একজন গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। অন্যদিকে, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম তীরে দখলদারত্বের সমালোচনার কারণে ফ্রাঞ্চেস্কা আলবানিজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনার মুখে রয়েছেন।   বিতর্ক এড়াতে বিকল্প প্রার্থী বেছে নিতে পারে কমিটি গত বছরের ঘটনাগুলোর প্রতিক্রিয়ায় নোবেল কমিটি এবার তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে বেছে নিতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিরোধ এড়ানোর বিষয়টি এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সুদানের গৃহযুদ্ধের মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ করা স্থানীয় সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের শিশুদের সহায়তায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর নাম আলোচনায় এসেছে।   নোবেল পুরস্কারবিষয়ক ইতিহাসবিদ ওয়াইভিন্দ স্টেনারসেন মনে করেন, আন্তর্জাতিক বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে বর্তমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের দিকে বিশ্ববাসীর বিশেষ নজর থাকবে। তাঁর মতে, উদারনৈতিক গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করার পক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রত্যাশা রয়েছে।   আইসিসি বা আইসিজেকে পুরস্কারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অথবা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে (আইসিজে) নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হলে তা আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইসিসির বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে আদালতটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে পারে। অন্যদিকে, আইসিজেকে পুরস্কৃত করা হলে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।   এ বছর কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পের নাম নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হাকন জেরলোর মতে, ট্রাম্পের পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম। নোবেল কমিটির ওপর ট্রাম্পের ধারাবাহিক চাপের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ফিলিপিনো-আমেরিকান সাংবাদিক মারিয়া রেসা। গত বছরের ঘটনাগুলো তাঁকে উদ্বিগ্ন করেছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।   গত সেপ্টেম্বরে অসলো সফরের সময় রয়টার্সকে রেসা বলেন, শক্তি প্রয়োগ করে বিশ্ব পরিচালনা করা যায় না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষমতা বা প্রভাব থাকলেই কোনো ব্যক্তি সঠিক অবস্থানে রয়েছেন, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।   সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে সম্ভাব্য প্রার্থী, আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং রাজনৈতিক চাপ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক জবাব যুক্তরাষ্ট্রের

সাত মাস ধরে চলমান ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর এপির।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই জবাবে কী বলা হয়েছে অথবা সেটি কোনো প্রত্যাখ্যানমূলক বার্তা কি না, সে বিষয়ে ইরানের ওই কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের জবাবটি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে উপস্থাপন করেন।   পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেব। চুক্তিটি এখন অবশ্যই উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক কৌশলের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।’   জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফর করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। সেখানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানি কর্মকর্তারা। আরাগচি নিউইয়র্ক থেকে ফেরার পরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকটি হলো।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরাগচি ও তার প্রতিনিধিদলকে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর গত মঙ্গলবার ভোরে তারা নিউইয়র্ক ছাড়েন।   আরাগচি তার নিউইয়র্ক সফর ও সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তাবলিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানানো হয়েছে বলে জানান মোহাজেরানি।   গত সপ্তাহে আরাগচি বলেন, তিনি প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই প্রস্তাবের শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া, আটকে রাখা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।   তবে ট্রাম্প দ্রুতই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চাইছে কারণ তারা ‘খুব বাজেভাবে হেরে যাচ্ছে’, কিন্তু তাদের এই প্রস্তাব ‘গ্রহণযোগ্য হবে না’। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা বা চুক্তি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।   এরইমধ্যে, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় বিশ্বজুড়ে এমন কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যাদের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রক্রিয়ায় আর্থিক সহায়তা বা সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   ইরান, হংকং ও পাকিস্তানে অবস্থিত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এখন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান সাত মাসব্যাপী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অস্ত্র ও অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ফাইল ছবি
পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ২২ জনের প্রাণহানি

আফগানিস্তানের হেলমান্দ ও কুনার প্রদেশে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে পৃথক দুটি স্থানে চালানো ওই হামলায় ২২ সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।   বৃহস্পতিবার সকালে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। এর আগে বুধবার রাতে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানায়, দেশটির হেলমান্দ ও কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।   তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, বুধবার গভীর রাতে হামলাগুলো চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হেলমান্দ ও কুনারে পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিনটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন।   গত তিন মাসে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা দেখা না গেলেও গত দুই সপ্তাহে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ সময়ে একটি মসজিদসহ একাধিক স্থানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর এসব ঘটনার জন্য তালেবান সরকারকে দায়ী করতে শুরু করে পাকিস্তান।   ইসলামাবাদের অভিযোগ, তালেবানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   মসজিদে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এরই মধ্যে পাকিস্তান অন্তত দুই দফায় আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হামলায় হতাহতের বিষয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের দেওয়া পরস্পরবিরোধী তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিকসহ ৮ জন নিহত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলি হামলায় এক সাংবাদিকসহ অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর ধরে চলমান ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।   গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) হামলায় নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জারও ছিলেন। খবর আল জাজিরার।   তবে হামলার স্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২৬৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করল ইসরাইল।   পৃথক ঘটনায় বুধবার গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমের তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।   অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা পরিচালনাকারী মানবিক সংস্থা ‘ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা ১৩ জন আহত ব্যক্তিকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।   চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আহতরা ‘গুরুতর’ আঘাত পেয়েছেন।   গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, ‘চিকিৎসকরা বলছেন আহতদের জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ বছরের পর বছর ধরে চলা ইসরাইলি হামলা ও অবরোধের ফলে সেখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’   এর আগে, ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি হামলায় অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন।   এছাড়া, ওয়াফার উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ চারজন ফিলিস্তিনি আহত হন।   মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় আরও দুজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস এলাকায় ইসরাইলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯ জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আটজন নিহত হয়েছেন এবং আগের আঘাতের কারণে এক নারী মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে গত অক্টোবর মাসে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে অন্তত ৫ হাজার ২৬ জন আহত হয়েছেন, যাদরে মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ৩১ জন।   গাজার বাসিন্দাদের জন্য পরিস্থিতি কতটা ‘ভয়াবহ’ তা তুলে ধরে সাংবাদিক হিন্দ খুদারি বলেন, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও ইসরাইলি বাহিনীর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন ফিলিস্তিনিরা নিহত ও আহত হচ্ছেন এবং মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘অবরুদ্ধ এই এলাকার ভেতরে সুপারমার্কেটে যাওয়া, সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন করা—সব কিছুতেই মানুষ আতঙ্কিত ‘   স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের বর্বর হামলায় অন্তত ৭৪ হাজার ৩২ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন।   জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের আগস্ট মাসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজাজুড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার সংখ্যা ৯ শতাংশ বেড়েছে।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাপানে স্থায়ী বসবাসের সুযোগে নতুন বাধা

জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি (পিআর) পেতে বিদেশিদের এখন আগের তুলনায় ২০ গুণ বেশি ফি দিতে হবে। নতুন নিয়মে আবেদন ফি বাড়িয়ে ২ লাখ ইয়েন (প্রায় ১,২৭০ ডলার) করা হয়েছে।   তবে শুধু ফি বাড়ানোই নয়,পিআর পেতে এখন বিদেশিদের আয়, পেনশন পরিশোধ এবং জাপানি ভাষাজ্ঞান নিয়েও নতুন শর্ত পূরণ করতে হবে।   এদিকে, ফি বাড়ানোর আগে আবেদন করতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে জাপানের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অফিসে ভিড় দেখা যায়। রাজধানী টোকিওর প্রধান ইমিগ্রেশন ব্যুরোর বাইরে অপেক্ষার সময় ৭ ঘণ্টারও বেশি ছিল বলে জানা গেছে।   বেড়েছে  ভিসা ফি’ও বিদেশিদের জন্য জাপানের অভিবাসন নীতিতে এটি একমাত্র পরিবর্তন নয়। গত জুলাইয়ে দেশটি সব বিদেশির ভিসা ফি পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে। ৫০ বছরের মধ্যে এটিই ছিল জাপানের প্রথম বড় ভিসা ফি বৃদ্ধি।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের ওঠানামার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ভিসা ফি বাড়ানো হয়েছে।   বিদেশি কর্মীর ওপর বাড়ছে নির্ভরতা জাপানে অভিবাসন এখনো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও তুলনামূলকভাবে কঠোর বিষয়। তবে দেশটির বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।   ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি এবং দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।   তবে বিদেশি জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ায় দেশটিতে অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।   দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত বছরের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে তার সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতায় উদ্বেগ, নিন্দা সুইজারল্যান্ডের

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জালুদ গ্রামে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার মাত্রা ‘নজিরবিহীন’ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রায় ১০০ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী জালুদ গ্রামে হামলা চালায়। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও চলাচলের ওপর বিধিনিষেধও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছে তারা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলকে অবশ্যই ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।   মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার এমন মাত্রা গ্রহণযোগ্য নয় এবং পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।   সূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
মোদি-ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা, সামনে এলো যেসব তথ্য

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মোদি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। দুই নেতা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পর্যালোচনা করেন।   মোদি বলেন, দুই দেশ তাদের বিস্তৃত বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তারা মতবিনিময় করেন।   এদিকে, এই ফোনালাপের কয়েকদিন আগেই রাশিয়ার তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে নতুন আইন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আইনটি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রয়েছে।   এর মধ্যেই ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ মেটাতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করবেন।   গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিল। এর আগে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়।   ২০২৫ সালে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আর্কটিক অভিযান শেষে শাংহাইয়ে ফিরল চীনের দুই গবেষণা জাহাজ

প্রায় তিন মাসের আর্কটিক মহাসাগর অভিযান শেষে চীনের দুই গবেষণা জাহাজ ‘সুয়েলং’ ও ‘সুয়েলং-২’ বুধবার শাংহাই বন্দরে ফিরেছে। ‘স্নো ড্রাগন’ ও ‘স্নো ড্রাগন-২’ নামে পরিচিত জাহাজ দুটি চীনের ১৬তম আর্কটিক মহাসাগর অভিযানে অংশ নেয়।   অভিযানটিতে জলবায়ু ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের অভিযানের গবেষণার পরিধি ও সম্পন্ন হওয়া কার্যক্রমের সংখ্যার দিক থেকে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।   অভিযান চলাকালে বেশ কিছু নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য ও আবিষ্কার সামনে এসেছে। পাশাপাশি তাত্ত্বিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামের ব্যবহারেও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।   গবেষকদের মতে, এসব গবেষণার ফলাফল বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আর্কটিক অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিয়েও গবেষণার সুযোগ বাড়বে।   চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এবারের অভিযানে মোট চারটি গবেষণা জাহাজ অংশ নেয়। এগুলো হলো—‘সুয়েলং’, ‘সুয়েলং-২’, ‘চিতি’ ও ‘থানসো-৩’।   এর মধ্যে ‘চিতি’ ও ‘থানসো-৩’ এখনো আর্কটিক অঞ্চলে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জাহাজ দুটি অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে চীনে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।   চীন নিয়মিত আর্কটিক অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক পরিবেশ ও মেরু অঞ্চলের পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাও জোরদার করা হচ্ছে।   সূত্র: সিএমজি

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচজন প্রাণ হারান। তবে নিহত ব্যক্তিরা সবাই গাড়ির ভেতরে ছিলেন, নাকি হামলার সময় গাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   হামলায় আহত ব্যক্তিদের অবস্থা এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আরও তথ্য পাওয়া যায়নি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরাক থেকে সর্বশেষ সেনাসদস্যও প্রত্যাহার করল ইতালি

ইরাক থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে ইতালি। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ইতালির ১২ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান হলো। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   এর আগে গত মার্চে ইরাক থেকে বেশিরভাগ সেনা ও সামরিক সদস্য প্রত্যাহার করে নেয় রোম। কুর্দিস্তান অঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে রাতভর বিমান হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   ইতালীয় সেনারা ইসলামিক স্টেট বা দায়েশবিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’-এ অংশ নিয়েছিল। পাশাপাশি তারা ন্যাটোর মিশন ইরাকের অধীনেও কাজ করেছে। ন্যাটোর এই মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ পরিচালনা নয়, বরং ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে পরামর্শ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।   ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতালি ও ন্যাটোর সেনারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।   ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকের নিজস্ব নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি ইরাকি কর্তৃপক্ষের হাতে যাওয়ার একটি নতুন পর্যায় শুরু হলো।   তবে ইরাকে ইতালির উপস্থিতি পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইইউএএম ইরাক’ মিশনের অধীনে ইতালির দুই কারাবিনিয়েরি কর্মকর্তা দেশটিতে থাকবেন। ইরাকি সরকারের অনুমোদনেই এই মিশন পরিচালিত হচ্ছে।   সূত্র : আরব নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি

মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে মনোনীত করেছেন দেশটির বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ। এর মাধ্যমে তিউনিশিয়ার নাজলা বুদেনের পর তিনি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী হিসেবে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন।   সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে ফাতিমার মধ্যপন্থী দল ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পাম) সর্বাধিক ৯৭টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। জয়ের পর দলটির শীর্ষ নেতা ফৌজি লেকজাকে পেছনে ফেলে ৫০ বছর বয়সী মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন বাদশাহ।   বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেশায় আইনজীবী মানসুরি মরক্কোর মোহাম্মদ ভি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে করপোরেট আইনে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। ২০০৯ সালে তিনি মারাকেশের প্রথম নারী মেয়র হন এবং পরবর্তীতে বিদায়ি জোটে নগর পরিকল্পনা ও আবাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।   প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার আগে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বাদশাহকে ‘নারীদের সবচেয়ে বড় সমর্থক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া তার জন্য একটি বিরাট সম্মান। তবে রাজনীতিতে নারীদের অধিকার বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়ে তিনি সব সময়ই দেখেশুনে কথা বলেছেন। নিজেকে ‘লৌহ নারী’ ভাবতেও নারাজ তিনি।   মরক্কোর সংবিধানে জয়ী দল থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের নিয়ম থাকলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৯৮টি আসনের প্রয়োজন হয়।   ফলে পাম দলকে এখন সরকার গঠনের জন্য অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট তৈরি করতে হবে। বিদায়ি ক্ষমতাসীন দল আরএনআইর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া এবং ইসলামপন্থী পিজেডি পার্টি বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দেওয়ায় নতুন জোট গঠন নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে কৌতূহল।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সেনারা, বিজয় উদযাপন

ইরাকে দুই দশক অবস্থানের পর দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি দেশটিতে তাদের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটল। দীর্ঘ এই সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি উপলক্ষে ইরাকজুড়ে বিশেষ উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।   মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি ছেড়েছেন সেখানে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সরকার। যদিও সেনা প্রত্যাহার–পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ইরাকি।   মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরাকিদের মধ্যে আনন্দ–উদ্বেগ উভয়ই আছে। এটি প্রতিবেশী দেশ ইরানের জন্য বড় সুযোগের দরজা খুলে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। কারণ, ইরাকে ইরানপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এই গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সুবিধা পেতে পারে তেহরান।   ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল আজ। এর এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়েছে বলে আলজাজিরাকে জানিয়েছেন ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম ইরাকি বাহিনী।   ইরাক থেকে সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে ২০২৪ সালে একটি সমঝোতা করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তখন দেশটিতে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিলেন। গত বছরই তাদের বেশির ভাগকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুধু আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি এলাকাগুলোয় কিছু সেনা ছিলেন। যদিও তাদের সংখ্যা কত, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি মার্কিন বাহিনী।   যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালায় ২০০৩ সালে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে তারা। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দামের ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এই সেনাদের একটি অংশ ২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে। পরে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের জন্য ইরাকে আরও সেনা পাঠানো হয়।   ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাগদাদের জন্য নতুন একটি যুগ শুরু হলো। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হলো। দেশটি বিদেশি সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে। একই সঙ্গে ইরাকের পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে।   ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইয়াসিরি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান হবে। ইরাকে দখলদারদের ব্যর্থতা উদ্‌যাপন করবে দেশটির মানুষ।   তবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফালুজা অঞ্চলের একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য ইরাক প্রস্তুত নয়। ইরাকের জনগণ পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চায়। কিন্তু আমার মনে হয়, মার্কিন বাহিনী এভাবে চলে গিয়ে যে শূন্যতা তৈরি করছে, সেটি সব ইরাকির জন্য সবচেয়ে বড় শঙ্কা।’   তেহরানের সুযোগ ইরাকে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের মতো তেহরান–সমর্থিত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। চলমান ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালাতে ভূমিকা রাখছে এই গোষ্ঠীগুলো। চলতি মাসেই ইরাক থেকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধের সময় যে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাতজন ইরাকে ছিলেন।   ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইরাক থেকে চলে যাওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরানেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কারণ, এর ফলে ইরাক থেকে এমন একটি সামরিক উপস্থিতি সরে যাচ্ছে, যারা বহু বছর ধরে দেশটিতে তেহরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছে।   সূত্র: আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় পারমাণবিক সক্ষম বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৬ জনের

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে একটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।    মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স এ তথ্য জানিয়েছে।    প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ইউক্রেনকা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি ক্রাসনোইয়ারোভো শহরের কাছে বিধ্বস্ত হয়। মাটিতে আছড়ে পড়ার পর বিমানের জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।   চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের একটি জনবসতিহীন এলাকায় প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় ‘টিইউ-৯৫’ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তবে বিমানটিতে কোনো গোলাবারুদ ছিল না।   রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য ‘অ্যারোস্পেস ফোর্সেস’-এর একটি কমিশনকে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে মস্কো। দুর্ঘটনা-পরবর্তী পরিস্থিতি বলে দাবি করা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্বলন্ত বিমানটি থেকে প্রচুর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে।   ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ হলো সোভিয়েত আমলের একটি বিশাল আকৃতির বোমারু বিমান, যা পারমাণবিক অস্ত্র বহন ও নিক্ষেপ করতে সক্ষম। ১৯৫২ সালে এটি প্রথম আকাশে ওড়ে এবং ১৯৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষেবায় যুক্ত হয়। বিমানটি এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে, বিশেষ করে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের নিয়মিত মহড়ায় এটি ব্যবহার করে থাকে।   রাশিয়ার রাজধানী থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত বছরের জুলাই মাসে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে তিনদা শহরে যাওয়ার পথে একটি ‘আন্তোনভ এএন-২৪’ বিমান বিধ্বস্ত হয়, যাতে বিমানে থাকা ৪৮ জনের সবাই প্রাণ হারান।   এছাড়া ২০২১ সালের আগস্টে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ১৬ আরোহী নিয়ে একটি ‘মিল মি-৮’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়; ওই আরোহীদের অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক।   বিমানটির এক ক্রু সদস্য দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বেঁচে গেছেন। মাঝারি ধরনের আঘাত নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   দুর্ঘটনার পর জরুরি উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   সূত্র: আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি পেল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মুসলমানদের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই আইনে স্বাক্ষর করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। খবর আনাদোলু এজেন্সির।   রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭-এর মাধ্যমে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির আনুষ্ঠানিক তালিকায় যুক্ত হয়েছে।   ইসলামি পঞ্জিকার রমজান মাসের রোজা শেষ হওয়ার পর উদযাপিত হয় ঈদুল ফিতর। আর প্রতি বছর পবিত্র হজ পালনের সময় উদযাপিত হয় ঈদুল আজহা।   নতুন আইনের আওতায় স্থানীয় পর্যায়ের বিদ্যমান নিয়ম অনুসরণ করে সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো এই দুই ঈদের দিন বন্ধ রাখতে পারবে। এছাড়া অঙ্গরাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এসব ছুটির জন্য ছুটির ক্রেডিটও পেতে পারেন।   আইনে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মূলত ক্যালেন্ডারভিত্তিক একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে এই দুই উৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।   সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তান-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব কেন ক্রমেই জটিল হচ্ছে

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে গেছে। একসময় আফগানিস্তানে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে তালেবানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা পাকিস্তান এখন সেই গোষ্ঠীর সঙ্গেই সীমান্ত নিরাপত্তা, টিটিপি ও শরণার্থী ইস্যুতে বিরোধে জড়িয়েছে।   দিল্লি পলিসি গ্রুপের ন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রোগ্রামের গবেষণা সহযোগী শ্রেয়াস দেশমুখের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক এখন সহিংসতা, অবিশ্বাস ও পাল্টাপাল্টি চাপের একটি চক্রে আটকে আছে। তাঁর মতে, তালেবানবিরোধী পাকিস্তানি নীতি কিছু ক্ষেত্রে উল্টো তালেবানের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অভ্যন্তরীণ অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।   টিটিপি নিয়ে পুরোনো বিরোধ পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে আশ্রয় ও সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তবে দেশমুখের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অভিযোগের পক্ষে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। অন্যদিকে তালেবান বলে আসছে, টিটিপি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়।   টিটিপি পাকিস্তানের পশতুন অধ্যুষিত উপজাতীয় এলাকাগুলোতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি জোট। গত দুই দশকে পাকিস্তানের জন্য এটি অন্যতম বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক অভিযান ও পরে ২০১৪ সালের পেশোয়ার স্কুল হামলার পর টিটিপির বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়।   ২০১৪ সালে পাকিস্তান ‘অপারেশন জারব-ই-আজব’ শুরু করলে টিটিপির অনেক যোদ্ধা আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় চলে যায়। সংগঠনটির কয়েকটি অংশ পরে আফগান তালেবানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে। আবার কিছু সদস্য ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে আইএস খোরাসান বা আইএসকেপি গঠন করে।   দেশমুখের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আফগান ভূখণ্ডে টিটিপির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান তালেবান সরকারের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। লেখকের মতে, টিটিপি ইস্যুটি পাকিস্তানের জন্য তালেবানের ওপর চাপ বজায় রাখার একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে।   জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আফগানিস্তানে একাধিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তানভিত্তিক কোনো সংগঠনের সীমান্তপারের বড় ধরনের হামলার প্রমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত, আইএসকেপির কর্মকাণ্ড এর ব্যতিক্রম।   আইএসকেপি রাশিয়ার মস্কোর ক্রোকাস সিটি হল হামলার দায় স্বীকার করেছিল। মধ্য এশিয়াতেও সংগঠনটির তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে রাশিয়া, মধ্য এশিয়ার দেশগুলো ও চীন তালেবান সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।   পাকিস্তানের পুরোনো কৌশলই কি এখন সমস্যার কারণ আফগান তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক সবসময় সরল ছিল না। দেশমুখের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী জোটকে সহযোগিতা করেছে, অন্যদিকে আফগান তালেবানের সঙ্গেও যোগাযোগ ও সমর্থনের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। উদ্দেশ্য ছিল আফগানিস্তানে নিজেদের কৌশলগত প্রভাব ধরে রাখা।   তবে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর সেই সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়। তালেবান এখন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডুরান্ড লাইন নিয়ে বিরোধ। তালেবান আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের ডুরান্ড লাইনকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। পশতুন অধ্যুষিত পাকিস্তানি অঞ্চলগুলোর অবস্থান নিয়েও তালেবানের ঐতিহাসিক অবস্থান পাকিস্তানের জন্য উদ্বেগের কারণ।   দোহা চুক্তিতে তালেবান আফগান ভূখণ্ডকে অন্য কোনো সশস্ত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু টিটিপিকে ঘিরে পাকিস্তানের অভিযোগ ও তালেবানের অবস্থানের মধ্যে এ নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।   আফগান শরণার্থীদের অবস্থান বদলেছে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে লাখ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে এসেছে। তবে ২০০১ সালের পর দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আফগানদের বহিষ্কারের মাত্রাও বেড়েছে।   বিশ্লেষণে ২০১৬ সালের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ওই বছর টিটিপির তৎপরতা এবং পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কের অবনতির মধ্যে প্রায় ছয় লাখ আফগানকে পাকিস্তান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।   বর্তমান বহিষ্কার নীতির পেছনে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন দেশমুখ। তাঁর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই ক্ষমতায় আসার পর আফগান শরণার্থীদের বিষয়ে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।   ইমরান খান পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া আফগান শরণার্থীদের পরিচয়পত্র দেওয়ার এবং তাদের ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান কাবুল দখলের পর তিনি মন্তব্য করেছিলেন, তালেবান ‘দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙেছে’।   একই বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক কাবুল সফর করেন। তখন তিনি আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগ না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ডিসেম্বরে ইমরান খানের সরকার তালেবানকে সমর্থন দিতে ইসলামি দেশগুলোর একটি বৈঠকও আয়োজন করে।   দেশমুখের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইমরান খানের এই নীতি পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও সিন্ধুভিত্তিক রাজনৈতিক পরিবারগুলোর মধ্যে পশতুন রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। ২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার পর পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার আফগানদের বহিষ্কারের নীতি জোরদার করার সুযোগ পায় বলে লেখক মনে করেন।   কেন আফগানদের ফেরত পাঠাচ্ছে পাকিস্তান বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আফগান শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর পেছনে পাকিস্তান সরকারের একাধিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত হিসাব থাকতে পারে।   এর একটি হলো ইমরান খানের রাজনৈতিক সমর্থনভিত্তিকে দুর্বল করা। অন্যদিকে সরকার এটিকে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করছে। পাকিস্তানের দাবি, বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং তাদের কেউ কেউ টিটিপির জন্য সমর্থনভিত্তি তৈরি করছে।   দেশমুখের মতে, শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে পাকিস্তান তালেবান সরকারের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারছে। কারণ আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের পুনর্বাসন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত তালেবান সরকারের ওপরই পড়ছে।   বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, অতীতে পাকিস্তান আফগান শরণার্থীদের আন্তর্জাতিক সহায়তা ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছে। আফগান তালেবানের অনেক নেতা ও সদস্য পাকিস্তানের শরণার্থী শিবিরে বেড়ে উঠেছেন এবং দেশটির দেওবন্দি মাদ্রাসায় শিক্ষা নিয়েছেন।   কিন্তু এখন যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশ দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের আফগান। তাঁদের অনেকেই জীবনে কখনো আফগানিস্তানে যাননি। ফলে লেখকের বিশ্লেষণে প্রশ্ন উঠেছে, অতীতে পাকিস্তানের কাছে যে ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল, বর্তমান প্রজন্মের শরণার্থীদের ক্ষেত্রে সেই গুরুত্ব কতটা অবশিষ্ট আছে।   আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থানও বদলেছে আফগানিস্তানকে ঘিরে পাকিস্তানের নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পরিবর্তিত অবস্থান। রাশিয়া, চীন ও মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশ তালেবান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে।   এর পেছনে নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও মানবিক স্বার্থও রয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে আইএসকেপির হুমকি মোকাবিলায় তালেবান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগকে প্রয়োজনীয় মনে করছে কিছু দেশ।   এদিকে বিশ্বজুড়ে শরণার্থী সহায়তার অর্থায়নও চাপের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব বাড়ায় শরণার্থী নীতিতেও পরিবর্তন আসছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের আফগান শরণার্থী প্রত্যাবাসন আরও জটিল আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।   সামনে পাকিস্তানের জন্য কী পথ দেশমুখের বিশ্লেষণে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি পুনরাবৃত্ত চক্র হিসেবে দেখা হয়েছে। একদিকে টিটিপির হামলা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ, অন্যদিকে আফগান শরণার্থী প্রত্যাবাসন এবং আফগানিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের অভিযোগ, সব মিলিয়ে দুই দেশের অবিশ্বাস আরও বাড়ছে।   বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ এবং শরণার্থী প্রত্যাবাসনের মতো পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত টিটিপির জন্য রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে। একই সময়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে টিটিপির হামলা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।   দেশমুখের মতে, পাকিস্তানের তালেবানবিরোধী অবস্থান উল্টো আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীনদের নিজেদের দেশের মানুষের মধ্যে সমর্থন বাড়াতে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি লেখকের বিশ্লেষণ, কোনো পক্ষের স্বীকৃত অবস্থান নয়।   পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও নীতিটি নিয়ে চাপ রয়েছে। পশতুন জাতীয়তাবাদী দল ও ধর্মীয় নেতাদের একটি অংশ তুলনামূলক নমনীয় নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় টিটিপির বিভিন্ন অংশকে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে পাকিস্তানে মতভেদ রয়েছে।   বর্তমানে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় পিটিআইয়ের রাজনৈতিক প্রভাবও এই সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে পশতুন জাতীয়তাবাদ, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রাদেশিক বিরোধ এবং নিরাপত্তা সংকট একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।   শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সামনে দুটি কঠিন পথ রয়েছে বলে মনে করেন লেখক। একটি হলো আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করা, যা নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী তালেবান বিদ্রোহের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যটি হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রক্সি বা সশস্ত্র গোষ্ঠী ব্যবহারের পুরোনো কৌশল থেকে সরে আসা।   দুই পথের কোনোটিই সহজ নয়। তবে দেশমুখের বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য হলো, আফগানিস্তানকে ঘিরে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও কৌশলগত নীতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পুরোনো কৌশলগুলোই নতুন সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। লেখক: শ্রেয়াস দেশমুখ, গবেষণা সহযোগী, ন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রোগ্রাম, দিল্লি পলিসি গ্রুপ (ডিপিজি)   সূত্র: ন্যাশনাল সিকিউরিটি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চাপে পড়লেই ট্রাম্পের মিথ্যাচার বাড়ে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে গত এক দশকে তাঁর মিথ্যাচারের ধরন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং তা জনসাধারণ ও গণমাধ্যম কীভাবে গ্রহণ করে, সে বিষয়ে ১৫টি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন সিএনএনের তথ্য যাচাই (ফ্যাক্টচেক) বিষয়ক প্রতিবেদক ড্যানিয়েল ডেল।   ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে ডেল জানান, ১০ বছর আগে টরন্টো স্টারের ওয়াশিংটন সংবাদদাতা থাকার সময় ট্রাম্পের বক্তব্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করেন তিনি। তখন মনে করেছিলেন, এটি সাময়িক কাজ হবে এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প হেরে যাবেন। পরে তাঁর সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।   ২০২০ সালের নির্বাচনের দুই মাস আগে ট্রাম্পের প্রতিটি বক্তব্য যাচাইয়ের কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন ডেল। তাঁর ভাষ্য, ট্রাম্প এত বেশি নির্বাচনী মিথ্যা বলছিলেন যে সব বক্তব্য যাচাই করা শারীরিকভাবেই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ততদিনে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাম্পের আট হাজার ৫০০টিরও বেশি মিথ্যা দাবি নথিবদ্ধ করেছিলেন তিনি।   ডেলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজনৈতিক সংকটের সময় ট্রাম্পের মিথ্যাচার বেড়ে যায়। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন, ২০১৯ সালের ইউক্রেন কেলেঙ্কারি, ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারি এবং একই বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে তিনি এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   ডেল আরও বলেন, ট্রাম্প শুধু বড় রাজনৈতিক বিষয়েই নয়, তুচ্ছ বিষয় নিয়েও মিথ্যা দাবি করেন। একই মিথ্যা বারবার বলায় সেগুলো যাচাই করাও পরবর্তী সময়ে সহজ হয়ে যায় বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ।   ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছু নির্দিষ্ট ধরনও লক্ষ্য করেছেন ডেল। যেমন, অজ্ঞাতপরিচয় কেউ তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেছেন, এমন গল্প প্রায়ই কাল্পনিক হয় বলে তিনি মনে করেন। একইভাবে ট্রাম্পের ব্যবহৃত বিভিন্ন পরিসংখ্যান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।   ডেলের মতে, ট্রাম্প শুধু মিথ্যা তথ্য তৈরি করেন না, অন্যদের ছড়ানো ষড়যন্ত্রতত্ত্বও প্রচার করেন। তথ্য যাচাই সম্পর্কে অবগত থাকার পরও তিনি অনেক ক্ষেত্রে সংশোধিত দাবি আবার করেন বলেও উল্লেখ করেন ডেল।   তাঁর মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁকে সমর্থন করতে প্রস্তুত এমন লোকজনও প্রশাসনে রয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের মিথ্যাচার মোকাবিলায় গণমাধ্যমও যথেষ্ট সফল নয়। বিপুল পরিমাণ ভুল তথ্য সংবাদমাধ্যমের ওপর এমন চাপ তৈরি করে যে অনেক মিথ্যাই পর্যাপ্তভাবে যাচাই না করেই জনপরিসরে ছড়িয়ে পড়ে।   ডেল বলেন, ট্রাম্পের মিথ্যাচার নিয়ে অনেক মানুষই আগ্রহী। তবে তাঁর সমর্থকদের একটি অংশ মিথ্যাচারকে নেতিবাচকভাবে না দেখে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে গ্রহণ করেন বলেও তিনি ২০১৭ সালের প্রতিবেদনের অভিজ্ঞতা থেকে উল্লেখ করেন।   ডেলের আরও পর্যবেক্ষণ, রাখঢাকহীনভাবে কথা বলার ধরন কোনো রাজনীতিককে অনেকের কাছে সত্যবাদী হিসেবে তুলে ধরতে পারে, যদিও তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ সত্য না হয়।   দ্রব্যমূল্য নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ডেল। তাঁর মতে, বাজারদর সম্পর্কে মানুষের সরাসরি অভিজ্ঞতার সঙ্গে কোনো দাবি না মিললে তা সহজেই মানুষের চোখে পড়ে।   সবশেষে ডেল বলেন, ট্রাম্পের মিথ্যাগুলোর কিছু তুচ্ছ বা হাস্যকর হলেও সামগ্রিকভাবে এগুলোর বাস্তব ক্ষতি হয়েছে। তাঁর মতে, ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা দাবির পর ক্যাপিটল দাঙ্গা, কোভিড-১৯ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য এবং সাংবাদিক, বিচারক ও নির্বাচনকর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির ঘটনাগুলো এর উদাহরণ।   সূত্রঃ সিএনএন 

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
প্রতি বছরই উজ্জ্বল হচ্ছে রাতের আকাশ, হারাচ্ছে অন্ধকার

প্রতি রাতে ঘরের আলো নিভিয়ে দিলেও জানালার পর্দা গলে ঘরের ভেতরে এসে পড়ে বাইরের গলিপথ বা পার্কিং লটের কৃত্রিম আলোর তীব্র ঝলকানি। যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড শহরের মতো আধুনিক নগরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ আজ ভুলেই গেছেন সত্যি সত্যি অন্ধকারে ঘুমানোর অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে। রাস্তার বাতি, বারান্দার আলো কিংবা পার্কিং লটের তীব্র আলো প্রতিনিয়ত চারপাশকে এমনভাবে আলোকিত করে রাখছে যে, অন্ধকার রাতের স্বাভাবিক অনুভূতিটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।    সম্প্রতি আমেরিকার সাউথ-ইস্ট ওরেগনের ইন্টারন্যাশনাল ডার্ক স্কাই প্লেস নেটওয়ার্কের অন্তর্ভূক্ত একটি আবাসন অঞ্চলে যাওয়া এক লেখকের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই চরম বাস্তবতার ছবি। প্রায় আড়াই মিলিয়ন একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত দূষণমুক্ত এই অন্ধকার চত্বরে গিয়ে যেন কয়েক দশক পর মানুষ আবার সত্যিকারের রাতের আকাশের দেখা পাচ্ছে।   সেখানে সূর্যাস্তের মাত্র আধা ঘণ্টা পর শুকনো হ্রদের অববাহিকায় খোলা আকাশের নিচে লাল আলো জালিয়ে মানুষ যখন রাতের সৌন্দর্য দেখতে সমবেত হয়, তখন একে একে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে শুক্র গ্রহ, ভেগা নক্ষত্র থেকে শুরু করে মহাকাশে ঘুরতে থাকা একের পর এক কৃত্রিম উপগ্রহ। রাতের আঁধার যত গভীর হয়, আকাশে একে একে ফুটে ওঠে আর্সা মেজর, আর্সা মাইনর, সিগনাস ও ক্যাসিওপিয়ার মতো নক্ষত্রমণ্ডল। আর যখন ছায়াপথের বা মিল্কিওয়ের উজ্জ্বল আলোর রেখা ভেসে ওঠে, তখন পরম নীরবতায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে মানুষ তার নিজের অস্তিত্বের ক্ষুদ্রতা উপলব্ধি করে। কিন্তু এই অপরূপ দৃশ্য আজ ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর বিশ্বের রাতের আকাশ প্রায় ১০ শতাংশ হারে বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই এখন আলো-দূষিত আকাশের নিচে বসবাস করছেন। জাতিসংঘ যদিও পরিচ্ছন্ন বাতাস ও নিরাপদ পানিকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে সুস্থ জীবনের জন্য মানুষের অন্ধকার পাওয়ার অধিকার (রাইট টু ডার্কনেস) রক্ষা করাও এখন সমান জরুরি হয়ে পড়েছে।   অন্ধকার রক্ষা করার এই আহ্বানের অর্থ এই নয় যে শহরের সব রাস্তার আলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিটি গ্যারেজের সামনে এত তীব্র সাদা ফ্ল্যাডলাইটের কি সত্যিই কোনো প্রয়োজন আছে? নিরাপত্তার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু আলো ব্যবহার করা গেলে আর শুধুমাত্র রাতের আকাশ দেখার জন্য শত শত মাইল গাড়ি চালিয়ে নির্জন প্রান্তরে যেতে হতো না। অন্ধকারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন আলোর উত্তাপ, দিক এবং পরিমাণের সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনি প্রয়োগ। অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক আলো ব্যবহারের জায়গায় পরিমিত আলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মানুষ আবার অন্ধকারের গুরুত্ব অনুধাবন করতে শিখবে। কিছু শহর ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফ্ল্যাগস্টাফ শহর ১৯৫৮ সালেই সর্বপ্রথম বহিরঙ্গণ আলোকসজ্জার ওপর নিয়ম আরোপ করেছিল এবং ২০০১ সালে এটি বিশ্বের প্রথম স্বীকৃত 'ডার্ক স্কাই সিটি' হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সেখানে আলোর পরিমাণ, ধরন এবং তা কোন দিকে প্রতিফলিত হবে তা নির্দিষ্ট নিয়মে সুনিয়ন্ত্রিত।   ফ্ল্যাগস্টাফের ধারাবাহিকতায় এখন বিশ্বের বহু শহর ও অঞ্চল নতুন করে ভাবছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য বর্তমানে ডার্ক স্কাইস প্রটেকশন অ্যাক্ট প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা কার্যকর হলে কখনো না ঘুমানো বিখ্যাত নিউ ইয়র্ক শহরের বহিরঙ্গণ আলোকসজ্জাতেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ যুক্ত হবে। আলো দূষণ কমানোর জন্য কেবল স্থানভিত্তিক নতুন জোন আইন প্রণয়ন কিংবা গাড়ির হেডলাইটের উজ্জ্বলতা নির্ধারণের মতো সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মই যথেষ্ট হতে পারে। রাতের অন্ধকারের গুরুত্ব কেবল নক্ষত্র দেখার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; অন্ধকার নিজেই প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাসস্থান। কৃত্রিম আলোর অতিপ্রয়োগের ফলে চাঁদের আলো দেখে পথ চলা প্রাণী ও পতঙ্গ চরম বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। ডিম ফুটে বের হওয়া ক্ষুদ্র সামুদ্রিক কচ্ছপ সাগরের দিকে না গিয়ে পার্কিং লটের আলোর দিকে ছুটছে, কিংবা আলোর চারপাশে অনবরত ঘুরতে ঘুরতে প্রদীপপোকার জীবন শেষ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, জোনাকি ও ব্যাঙের মতো প্রাণীর প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্ধকারের প্রয়োজন হলেও তারা সেই পরিবেশ পাচ্ছে না, আবার বড় বড় শহরের তীব্র আলোর কারণে পথ হারিয়ে ফেলছে পরিযায়ী পাখির দল।   দিনের আলো ফোটার পরও আলো দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব প্রকৃতির মাঝে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম আলো উদ্ভিদ ও পরাগায়নকারীদের মধ্যকার স্বাভাবিক সম্পর্ক ভেঙে দিচ্ছে, গাছের অসময়ে ফুল ফোটার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং পৃথিবীর সকল জীবকুলের দৈনন্দিন অভ্যন্তরীণ শারীরিক ঘড়ি বা সার্কেডিয়ান রিদম মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। মানুষের ক্ষেত্রেও এই প্রভাব বেশ প্রকট। ঘরের ভেতরের আলো হোক কিংবা জানালার বাইরে থেকে আসা কৃত্রিম আলো, গবেষণায় দেখা গেছে যে সুস্থ থাকা, শারীরিক নিরাময় এবং পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামের জন্য মানুষের পর্যাপ্ত অন্ধকার পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজন। সাধারণত রাস্তার বাতি, বাণিজ্যিক ভবন, পার্কিং লট এবং রাতভর জ্বালিয়ে রাখা খেলার মাঠ থেকে অধিকাংশ আলো দূষণ ছড়ায়। কিন্তু ইদানীং শুধু মাটি থেকেই নয়, আলো দূষণের বড় এক হুমকি তৈরি হচ্ছে সরাসরি মহাকাশ বা আকাশ থেকেও।   এমনকি সংরক্ষিত ডার্ক স্কাই অঞ্চলে দাঁড়িয়ে যখন খোলা চোখে ছায়াপথ দেখা যায়, তখনও কৃত্রিম উপগ্রহের অবিরাম যাতায়াত রাতের আকাশের প্রাকৃতির রূপ নষ্ট করে দেয়। লক্ষ্যভিত্তিক বা সুরক্ষিত আলোর ব্যবহার মাটির আলো দূষণ কিছুটা কমাতে পারলেও মহাকাশে ঘুরতে থাকা স্পেসএক্সের ১১ হাজারের বেশি স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইটের উজ্জ্বলতা কমাতে কোনো কাজে আসছে না। তদুপরি, কিছু প্রতিষ্ঠান মহাকাশে স্যাটেলাইটের সাহায্যে কৃত্রিম সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীর প্রায় তিন মাইল এলাকা আলোকিত করার মতো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, মহাকাশে পাঠানো এসব বস্তু বা কৃত্রিম উপগ্রহের কারণে পৃথিবীতে জীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়লেও সেগুলোর কোনো পরিবেশগত প্রভাব পর্যালোচনা করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।   ইতিহাসের শুরু থেকেই নক্ষত্রভরা আকাশ মানুষের ইতিহাস ও সভ্যতার ধারক হয়ে আছে। তারার আলো মানুষকে পথ দেখিয়েছে, মানচিত্র, ক্যালেন্ডার এবং দিকনির্ণয়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। অথচ আধুনিক নগরায়নের যুগে রাতের আকাশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, আর রাতের অন্ধকার দেখার সুযোগটি একটি বিশেষ বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে।    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ জয়ী হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের যোগাযোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।   সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন।   ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জিততে যাচ্ছি। আমার যতদূর মনে হয়, এটা যে কোনোভাবেই ঘটবে। এটা বেশ দ্রুতই হয়ে যাবে।’   যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে জ্বালানির দামও দ্রুত কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   রয়টার্স জানিয়েছে, সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে সোমবার মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আলোচনার বিষয়ে জানেন এমন এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার সংশোধিত একটি সংস্করণকে কেন্দ্র করে পরবর্তী আলোচনা হতে পারে।   চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। সাত মাসের এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সময়ে তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।   এর আগে এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দফা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে দুই চুক্তিই দ্রুত ভেস্তে যায়।   এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এখনো নিউইয়র্কে রয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, তিনি আশা করছেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে দেওয়া শর্তগুলোর জবাব দেবে।   আরাকচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে ইরান সেই সমাধানের প্রস্তাব ইতোমধ্যে দিয়েছে।   ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন। তবে এসব আলোচনায় কী বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।   সূত্র : রয়টার্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকায় গণবিক্ষোভ, ‘মেনস মার্চের’ ডাক

দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশব্যাপী গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’।  অনিবন্ধিত বিদেশি নাগরিকদের ইস্যুর পাশাপাশি সাম্প্রতিক নারী হত্যা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও অপরাধের প্রতিবাদে আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘মেনস মার্চ’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।   এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরকে অনিবন্ধিত বিদেশিদের দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়ার ‘ডেডলাইন’ ঘোষণা করেছিল মার্চ অ্যান্ড মার্চ। তবে এই ডেডলাইনের কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই। বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার বা অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা জেনোফোবিয়া, অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার মাধ্যমে পরিচিত হতে পারে না। তিনি দেশবাসীকে বর্ণবৈষম্যহীনতা, সমতা, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার সাংবিধানিক মূল্যবোধ মেনে চলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারীর ওপর সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেন তিনি। অন্যদিকে মার্চ অ্যান্ড মার্চ জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে পুরুষদের বিশেষভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, নারীদের হত্যা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে পুরুষদের নীরব না থেকে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। গৌতেং ও কোয়াজুলু-নাটালসহ কয়েকটি এলাকায় মিছিলের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে তারা। ডারবানসহ কয়েকটি এলাকায় বিদেশি নাগরিক ও শরণার্থীদের মধ্যে কর্মসূচিকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর ডারবান রিফিউজি রিসেপশন সেন্টারের সামনে বিদেশি শরণার্থী ও মার্চ অ্যান্ড মার্চের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরও স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং বিক্ষোভকারীদের অবশ্যই আইনের মধ্যে থেকে কর্মসূচি পালন করতে হবে। মার্চ অ্যান্ড মার্চও কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখার কথা জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের সম্ভাব্য বিক্ষোভস্থল ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলা, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাখাইনে মিয়ানমারের বিমান হামলায় নিহত ৪৯ জন

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কিয়াউকতাও’র একটি মার্কেটে বোমাবর্ষণ করেছে মিয়ানমারের বিমানবাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৯ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন।   গত কাল ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার ঘটেছে এ হামলা। যে এলাকায় অভিযান চালিয়েছে বিমান বাহিনী, সেটি মিয়ানমারের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সেনাবিরোধী রাজনৈতিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা। সোমবার এক বিবৃতিতে আরাকান আর্মি জানিয়েছে, সোমবার বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান কিয়াউকতাও’র সেই মার্কেটের ওপর দু’টি বোমা ফেলে, এতে মোট নিহত হন ৪৯ জন এবং আহত হন আরও ৫৮ জন। আহতদের মধ্যে অন্তত ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আরাকান আর্মির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহত ও আহতদের মধ্যে সবাই বেসামরিক। তাদের কেউ সেই মার্কেটের অস্থায়ী দোকানব্যবসায়ী, কেউ স্থায়ী ব্যবসায়ী এবং কেউ বা সাধারণ পথচারী। রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও নিহত ও আহতের যে সংখ্যা নিজদের আরাকান আর্মি দিয়েছে—তার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, কিয়াউকতাও’র এই মার্কেটটি ছিল একটি পাইকারি মার্কেট এবং সবসময় এই মার্কেটে ভিড় থাকে। রাখাইন রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে সাধারন ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এই মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে হামলার একাধিক ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করা  হয়েছে। সেসব ছবি-ভিডিওতে দেখা গেছে— কিউকতাও শহরের সেই মার্কেট এবং আশপাশের কয়েকটি ভবন, গাড়ি-বাসে আগুন জ্বলছে। বিমান বাহিনীর বোমায় বাজার সংলগ্ন একটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, রাখাইনভিত্তিক আরাকান আর্মি মিয়ানমারের অন্যতম বৃহৎ ও শক্তিশালী সেনাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী। বহু বছর ধরে এই গোষ্ঠীটি রাখাইনের স্বায়ত্তশাসন অর্জনের লক্ষ্যে লড়াই করছে। ২০২১ সালে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে হটিয়ে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল করার পর সাধারণ জনতার সেনাবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে সাংগঠনিক বিস্তার ও শক্তিবৃদ্ধিতে মনোযোগ দেয় আরাকান আর্মি। তারপর ২০২৩ সালে রাখাইনের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ নিতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সর্বাত্মক সংঘাতে নামে, যা এখনও চলছে। রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টিই বর্তমানে আরাকান আর্মির দখলে আছে। কিউকতাও এই ১৪ শহরের মধ্যে একটি।   সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়া-ইরানের গোয়েন্দা সহায়তায় এগিয়ে যাচ্ছিল হুতিরা, এবার সেই ব্যবস্থাই হামলার মুখে

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্টে হুতিদের অগ্রযাত্রা শুধু তাদের সংখ্যাগত শক্তির কারণে হয়নি; বরং রাশিয়া ও ইরানের সমন্বিত গোয়েন্দা ও কমান্ড কাঠামো এতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ওই কাঠামোয় রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা তথ্য ও সংকেত গোয়েন্দা সক্ষমতা ইরান-নেতৃত্বাধীন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এর সঙ্গে তারিক সালেহর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের (এনআরএফ) ভেতরে মানব গোয়েন্দা তৎপরতা যুক্ত হয়ে হুতিদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছিল বলে আলজাজিরার এক বিশ্লেষণধর্মী মতামতে বলা হয়েছে।   ‘প্রজেক্ট অরোরাহ’ নামে একটি ভূ-স্থানিক ও সংকেত গোয়েন্দা তথ্য একীভূতকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সময় সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ইরাক, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের ওপর রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা নজরদারির ধরণ শনাক্ত করা হয়।   এই প্রকল্পের আওতায় একটি বিশেষভাবে সীমিত প্রবেশাধিকারযুক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে রাশিয়ার কক্ষপথভিত্তিক গোয়েন্দা তৎপরতাকে একটি সমন্বিত বহুসেন্সর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পুনর্গঠন করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার আগে রুশ গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের তৎপরতার ধারাবাহিকতাও এতে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় রুশ সামরিক ভূ-স্থানিক স্যাটেলাইট সহায়তা নিয়ে সিএনএনের একটি বড় অনুসন্ধানেও তা উঠে আসে।   ইরান যুদ্ধের সময়ই এর মূল কৌশলটি স্পষ্ট হয়। সেখানে কক্ষপথভিত্তিক গোয়েন্দা, নজরদারি ও অনুসন্ধান ব্যবস্থা শুধু সামরিক অভিযানকে সহায়তা করেনি; বরং হামলার আগেই যুদ্ধক্ষেত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখে।   রাশিয়ার ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা সক্ষমতা বিভিন্ন বাহিনীর অবস্থান, চলাচলের পথ, সদর দপ্তর ও রসদ ব্যবস্থার পরিবর্তন শনাক্ত করে। একই সঙ্গে সংকেত গোয়েন্দা ব্যবস্থা ইলেকট্রনিক সংকেতের উৎস, যোগাযোগের ধরন এবং কমান্ড কাঠামোর সম্পর্ক চিহ্নিত করে থাকে।   স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার   এই ব্যবস্থার মূল সুবিধা কোনো একটি স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। বরং বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের তথ্য সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিভিন্ন রিকনেসান্স স্যাটেলাইটের পরিপূরক ভৌগোলিক ও তড়িৎচৌম্বকীয় কাভারেজের মাধ্যমে বাহিনীগুলোর চলাচল ও কার্যক্রমের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।   ইরান যুদ্ধের সময় এই সমন্বিত স্যাটেলাইট গোয়েন্দা ব্যবস্থাই দেখিয়েছিল, রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য কীভাবে ইরানের সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযানকে আরও কার্যকর করতে পারে।   ইয়েমেনে এই গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর সমন্বয় করেছিল ইরান। রাশিয়া থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে হুতিদের যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য এবং গোয়েন্দা তৎপরতা যুক্ত করে তারিক সালেহর কমান্ড কাঠামোর বিস্তারিত চিত্র তৈরি করা হয়েছিল।   এর মাধ্যমে কোন সদর দপ্তর কার্যকর ছিল, কোথায় অবগত অবস্থান বাস্তব অবস্থানের সঙ্গে মিলছিল না, কোন ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় দুর্বল ছিল এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের মধ্যে কোথায় কমান্ড, তথ্য ও যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে; এসব শনাক্ত করা সম্ভব হয়।   পশ্চিম উপকূলে কীভাবে ভেঙে পড়ে প্রতিরোধ   এই পরিস্থিতিতেই ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলীয় ফ্রন্টে প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের সদর দপ্তরের সঙ্গে এনআরএফের কিছু ইউনিটের একটি কমান্ড চ্যানেল ছিল। অন্য একটি চ্যানেলের মাধ্যমে এসব বাহিনী নিজেদের মধ্যে এবং নিজ নিজ ঊর্ধ্বতন কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করত। দুটি ব্যবস্থাই যখন অবিশ্বস্ত হয়ে পড়ে, তখন ভুল তথ্য ওপরের দিকে যেতে থাকে এবং বিভ্রান্তিকর বা নিয়ন্ত্রিত নির্দেশ নিচের দিকে পৌঁছাতে থাকে।   এর প্রভাব ছিল সরাসরি। এনআরএফের এক কমান্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ অবস্থান ধরে রাখার নির্দেশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেও পরে সেখান থেকে সরে যান। আরেকজন জানান, এনআরএফের বাইরের একটি ইয়েমেনি বাহিনী সামরিক বিমানঘাঁটি ছেড়ে গেছে, যদিও সেখানে তখনো ওই বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। ফলে মিত্র বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে কমান্ডারদের কাছে ভুল তথ্য পৌঁছায় এবং বিমান হামলার পর হতাহতের ঘটনা ঘটে।   মোখায় অবস্থানরত সৌদি বিশেষ বাহিনীর একটি টাস্কফোর্সই প্রথম বুঝতে পারে যে মাঠপর্যায়ে বাহিনীগুলোর যে অবস্থান জানানো হচ্ছে, বাস্তবে তার সঙ্গে তা মিলছে না।   সৌদি বাহিনীর বিমান হামলার প্রস্তুতি থাকলেও মিত্র বাহিনীর অবস্থান নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা না গেলে বিমানশক্তি অবাধে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছিল না। এর সঙ্গে আরও সমস্যা তৈরি হয় যখন এনআরএফের কয়েকটি ব্রিগেড সক্রিয় করার সময় দেখতে পায়, নিবন্ধিত সদস্যদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ দায়িত্বে যোগ দেননি।   জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড কয়েক মাস ধরে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন, বেতন পুনর্বহাল ও বাহিনী পুনর্গঠনের মাধ্যমে এসব সদস্যকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি জাবাল আল-নারকে ঘিরে সমন্বয় ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এনআরএফের বিভিন্ন ইউনিট মূল হুতি বাহিনী পৌঁছানোর আগেই অবস্থান ছেড়ে যেতে শুরু করে।   মোখার ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা   এই ব্যর্থতাকে এখন সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যৌথ সৌদি-ইয়েমেনি এবং সৌদি-পাকিস্তানি জয়েন্ট টার্মিনাল অ্যাটাক কন্ট্রোলার বা জেটিএসি দলগুলোকে এখন গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।   এর লক্ষ্য হলো যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা বাহিনী এবং জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের হামলা ব্যবস্থার মধ্যে একটি যাচাইকৃত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি সৌদি অপারেশনাল মেন্টরিং অ্যান্ড লিয়াজোঁ টিমগুলো জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং ইয়েমেনি বাহিনীর জনবল, অবস্থান ও প্রস্তুতির স্বাধীন যাচাই করছে।   একই সঙ্গে নির্দেশের পরিচয় যাচাই, সীমিত পরিসরে তথ্য আদান-প্রদান এবং বিকল্প এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে মোখায় প্রকাশ পাওয়া দুর্বলতাগুলো বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।   সৌদি আরব এর আগেও ভিন্ন এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের সামরিক কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স দক্ষিণ ইয়েমেনে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) অভিযানকে সহায়তা করা আবুধাবির কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শনাক্ত ও দুর্বল করে দিয়েছিল।   তখনও মাঠপর্যায়ের অভিযান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত রাখতে যোগাযোগ ও লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। বাইরের ওই সহায়তা কাঠামো দুর্বল হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের টাস্কফোর্স ও তাদের মিত্র বাহিনীগুলো দ্রুত কার্যকর স্বাধীনতা হারিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানের চাপে পিছু হটে।   হুতিদের কমান্ড কাঠামোতে আঘাত   তবে বর্তমানে হুতিদের সহায়তা করা ব্যবস্থা আরও জটিল। রাশিয়া স্যাটেলাইট ও সংকেত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে এবং ইরান সেই তথ্য হুতিদের কমান্ড ও সামরিক অভিযানের সঙ্গে একীভূত করছে।   কিন্তু এই জটিলতাই ব্যবস্থাটিকে কিছু দুর্বলতার ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। নিরাপদ যোগাযোগ, বিশেষজ্ঞ জনবল, গোয়েন্দা তথ্য একীভূত করার কেন্দ্র, কারিগরি পরামর্শক এবং সানা ও যুদ্ধক্ষেত্রের সদর দপ্তরগুলোর মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ; সবই এই ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন এসব দুর্বলতাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।   ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সানায় ইরান-নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোতে বড় ধরনের আঘাত হানে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী। হুতিদের নিহত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্তত দুই মেজর জেনারেল, সাত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং ৩২ কর্নেল রয়েছেন। তাদের অনেকের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সহকারী, স্টাফ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সদস্যরাও নিহত হন।   মেজর জেনারেলের চেয়েও উচ্চপদমর্যাদার কিছু কর্মকর্তা হুতিদের সর্বোচ্চ কমান্ড কাঠামোয় নিহত হয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মকর্তারাও নিহত হয়েছেন। তবে এসব তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি।   তবে নিহতের সংখ্যা নয়, এর প্রভাবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সামনের সারির কমান্ড কাঠামো যখন ধারাবাহিকভাবে দুর্বল করা হচ্ছে, একই সময়ে সানার উচ্চপর্যায়ের কমান্ড কেন্দ্রগুলো সুনির্দিষ্ট বিমান হামলার মুখে পড়ছে। এতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং হামলা পরিচালনা; পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে।   সদর দপ্তরগুলো বাধ্য হয়ে স্থান পরিবর্তন করলে, বেঁচে থাকা কমান্ডাররা অধীনস্থ ইউনিটগুলোর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে এবং অবশিষ্ট জুনিয়র ইরানি পরামর্শকরা বিকল্প যোগাযোগপথ তৈরির চেষ্টা করলে নতুন নতুন সংকেত তৈরি হয়। এসব সংকেত শনাক্ত, সমন্বয় ও অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব ।   এ কারণেই পশ্চিম উপকূলে হুতিরা যে গতিতে অগ্রসর হয়েছিল, এখন সেই গতি ধরে রাখতে পারছে না বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। হুতিরা যে কমান্ড যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে সুবিধা পেয়েছিল, তা এখন শক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে তাদের নিজস্ব বাহ্যিক সহায়তাপ্রাপ্ত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে অন্ধ ও উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে।   ফলে পশ্চিম উপকূলের ব্যর্থতা এখন সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর জন্য স্থায়ী দুর্বলতা নয়, বরং সেই অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া একটি শিক্ষা হয়ে উঠেছে।   বদলে যাচ্ছে সামরিক সমীকরণ   ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের কমান্ড, যোগাযোগ, গোয়েন্দা ও যুদ্ধ সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবস্থা সিক্সসিআইএসআর ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হচ্ছে। একই সঙ্গে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সক্ষমতা এবং সেন্সর থেকে দ্রুত অস্ত্র ব্যবহারের ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে।   অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলা হুতি উত্তেজনা সৌদি নীতির ওপর থাকা সংযমও অনেকটা ক্ষয় করেছে। ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন বড় ধরনের যে সামরিক অভিযান এখন গড়ে উঠছে, তা এমন এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুরু হতে পারে যার বাহ্যিক কমান্ড সহায়তা ইতোমধ্যে ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে রয়েছে।   এটাই পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া রাশিয়া-ইরান সমর্থিত ব্যবস্থা বড় ধরনের সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান, স্থল ও নৌ অভিযান পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই দুর্বল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মোখায় প্রকাশ পাওয়া কৌশলগত ও কমান্ডগত ব্যর্থতাগুলোও সৌদি নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের ভেতরে সংশোধন করা হচ্ছে।   অর্থাৎ হুতিরা একবার একটি দুর্বল কমান্ড ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিয়েছিল। এখন তাদের এমন এক পরিস্থিতিতে লড়তে হচ্ছে, যেখানে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া বাহ্যিক কমান্ড ও গোয়েন্দা ব্যবস্থাটিকেই পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।   সূত্র : আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

অবশেষে প্রকাশ পেল মেসির শেষ ম্যাচের বিশেষ জার্সির ছবি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬