ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২০ দিন ধরে আমরণ অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করেছে দিল্লি পুলিশ। বিতর্কিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তিনি অনশন করছিলেন। শনিবার ভোরে চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে তাকে দিল্লির সাফদারজং হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোরে সাদা পোশাক পরা পুলিশের একটি দল যন্তর মন্তরের অনশনস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। এরপর ওয়াংচুককে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় তার সমর্থকেরা স্লোগান দিলে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সচেতন আছেন। দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দীর্ঘ অনশনের কারণে তার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাই আদালতের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের সুপারিশ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তর এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দীর্ঘ অনশনের ফলে ওয়াংচুকের ওজন ইতোমধ্যে আট কেজির বেশি কমে গেছে বলে জানা গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার আগের দিন ওয়াংচুক সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে তারা সংসদ ভবনের দিকে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করবেন। তিনি তখন বলেন, বাইরে থেকে দুর্বল দেখালেও ভেতর থেকে তিনি দৃঢ় আছেন এবং সেই কর্মসূচি পর্যন্ত টিকে থাকতে চান। সূত্র: এনডিটিভি
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চংকিং প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩৪ জন। দুর্ঘটনায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১৮ জনকে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে পেংশুই জেলার একটি পাহাড়ি এলাকায় এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে স্থানীয় দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৮০০ উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড় ধসে একটি সড়কের বড় অংশ মাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে গেছে। ভূমিধসের পর পুরো এলাকা ধুলার ঘন মেঘে ঢেকে যায় এবং আতঙ্কিত মানুষ ছোটাছুটি করতে থাকেন। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, দুর্ঘটনাস্থলটি আগে থেকেই খাড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখনও সেখানে আরও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। দুর্গতদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তার জন্য চীনের কেন্দ্রীয় সরকার ৫ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দিয়েছে। উল্লেখ্য, এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আরেকটি ভূমিধসে ২১ জন নিহত হয়েছিলেন এবং ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প তেল রপ্তানি পথ গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ইরাক। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জ্বালানি, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একাধিক প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশটি। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক ব্যবসায়িক সম্মেলনে এসব চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো বহু বছর ধরে অচল থাকা ইরাক-সিরিয়া অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করা, যাতে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করা সম্ভব হয়। প্রস্তাবিত পাইপলাইনটি ইরাকের তেলসমৃদ্ধ কিরকুক অঞ্চল থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন অংশ নেবে বলে জানিয়েছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পাইপলাইনটি পুনরায় চালু হলে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে ইরাকের তেল রপ্তানির জন্য নতুন করিডোর তৈরি হবে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেন, নতুন চুক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। শেভরনের কর্পোরেট ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রেসিডেন্ট জেক স্পিয়ারিং জানান, সিরিয়া হয়ে পাইপলাইন পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ইরাকে তেল উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেও আরও দুটি চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে, ইরাক সরকার ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের সঙ্গে দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর জন্যও একটি চুক্তি করেছে। সম্মেলনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার উন্মুক্ত নীতি অনুসরণ করছে এবং যেকোনো সম্ভাবনাময় প্রকল্পকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
কানাডার শত শত দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ঘন ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে গেছে। ফলে দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দেশটিকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ দূষণ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের যে বিপুল ব্যয় হচ্ছে, তা কানাডার পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের (ট্যারিফ) সঙ্গে যুক্ত করা হবে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কানাডা তাদের বনভূমির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে দূষিত, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা বাতাসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি ইচ্ছাকৃত অবহেলা। প্রতিবছর এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এই দূষণের হিসাব কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কের সঙ্গে যোগ করা উচিত। কানাডার শত শত দাবানলের ধোঁয়ায় গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। পরিস্থিতির কারণে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ট্রাম্প জানান, তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন এবং এ ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইবেন। তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বনভূমি আরও শুষ্ক হয়ে পড়ছে এবং দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইক ফ্ল্যানিগান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গরম, শুষ্ক ও ঝোড়ো আবহাওয়া বাড়ছে, ফলে দাবানলও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে কানাডার অন্টারিও প্রদেশে চলতি বছর প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওর কলিন্স ফার্স্ট নেশন সম্প্রদায়ের পুরো বসতি আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। অন্যদিকে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড দাবানল মোকাবিলায় ১১টি নতুন বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রেও গড়ের চেয়ে বেশি দাবানল হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩৭ লাখ একর ভূমি পুড়ে গেছে, যা গত ১০ বছরের গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। সূত্র: রয়টার্স
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় দখলদার ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন । হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা এবং আল-আওদা হাসপাতালের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে একটি জানাজার শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই মধ্যে একটি ইসরাইলি ড্রোন সেখানে হামলা চালায়। নিহত ব্যক্তিরা এর আগে একই এলাকায় পৃথক এক হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজায় অংশ নিতে জড়ো হয়েছিলেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তবে হামলায় নিরীহ মানুষ হতাহত হওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা। এদিকে হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষকে হত্যা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছে। এদিন গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া শহরে একটি স্কুলের কাছে ইসরাইলি ড্রোন থেকে ফেলা বোমায় ৫২ বছর বয়সি এক নারী নিহত হন। এছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকায় আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে হামলায় একজন নিহত হন। অন্যদিকে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে, আহত হয়েছেন। খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারীরও মৃত্যু হয়েছে। যদিও গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা চলছে। গবেষণা সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা জানিয়েছে, মে মাসের পর থেকে হামলার সংখ্যা বেড়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ৪০টির বেশি হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সর্বোচ্চ। এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেটজ দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে গাজায় ২৭৪ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন একজন শিশুর প্রাণহানি ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও গাজায় সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। সূত্র: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর হামলায় ইরানের বিভিন্ন প্রদেশের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো অভিযানে অন্তত আটজন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ইরানের কয়েকটি অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়। তবে কোন কোন স্থাপনায় হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় শুরু করা হামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। কেরমানপুরের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী এবং ১৮ বছরের কম বয়সি একজন কিশোর রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২২ জন নারী ও নয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। বর্তমানে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফার সামরিক অভিযান সম্পন্ন করেছে। টানা ষষ্ঠ রাতের মতো পরিচালিত এ অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল। ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। সূত্র: আনাদলু এজেন্সি
বাংলাদেশ সরকারের তরফে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়টি আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে বিবেচনা করার কথা বলেছে ভারত। শুক্রবার নয়া দিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। তার ওই ঘোষণা নিয়ে ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের মনোভাব জানতে চান সে দেশের রিপাবলিক টিভির এক সাংবাদিক। ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে বাংলাদেশ আবারও ভারতকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করতে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের ফিরিয়ে দিতে বলেছে। শেখ হাসিনা নিজেই ঘোষণা করেছেন যে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কি কোনো যোগাযোগ হয়েছে?” জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের একটি অনুরোধ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা আগেও বলেছিলাম। অনুরোধটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যে কোনো দেশের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল এবং তা সম্পূর্ণ আইনি ও বিচারিক কাঠামোর আলোকে বিবেচনা করে ভারত। এই অনুরোধের ক্ষেত্রেও প্রচলিত আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বাধ্যবাধকতা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার আইনজীবীরা। ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে। গেল ৯ জুলাই রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, কেবল তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী প্রশ্ন করে বলেন, বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যর্পণের আরেকটি অনুরোধ এসেছে। তিনি বলেছেন, তারা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্ত নথি পাঠিয়েছেন। একজন ব্যক্তির প্রত্যর্পণের বিষয়ে যিনি বর্তমানে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছেন এবং নির্বাচনের ঠিক আগে তাকে একজন রাজনীতিবিদের হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান অবস্থা কী।” জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ভারত এই অনুরোধ পেয়েছে কি না, তা তিনি জানাতে পারছেন না। “তবে আমি আপনাদের জানাতে পারি যে আইনি দিক এবং বিচারিক প্রক্রিয়াগুলো বিবেচনা করেই যেকোনো প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হবে।” ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি গণসংযোগে গিয়ে গুলিতে আহত হন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অব্স্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রায় আড়াই মাস পর গেল মার্চে ভারতে হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস রাজ্যের উপকূলের কাছে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভূমিকম্পে প্রতিবেশী গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরও কেঁপে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শুক্রবারের এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার গভীরে। প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৭ দশমিক ৪ এবং গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়। খবর রয়টার্সের। ভূমিকম্পের পর যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা জানায়, কেন্দ্র থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় বিপজ্জনক সুনামির ঢেউ আঘাত হানতে পারে। মেক্সিকো ও গুয়াতেমালার কিছু উপকূলে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে ৩০ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে মেক্সিকোর নৌবাহিনীর সচিব রাইমুন্দো মোরালেস বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আধা মিটারের বেশি বাড়ার আশঙ্কা নেই। তারপরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মানুষকে আপাতত সৈকত থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোনো বড় ধরনের সামুদ্রিক ঝুঁকি নেই। তবে ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট সুনামির প্রভাবে কিছু সৈকতে সর্বোচ্চ আধা মিটার পর্যন্ত পানির উচ্চতা বাড়তে পারে।’ ভূমিকম্পের পর মেক্সিকো, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরে ৫ থেকে ৬ মাত্রার বেশ কয়েকটি আফটারশকও অনুভূত হয়েছে।
ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুদানকুলামের বিভিন্ন অবকাঠামোর নকশা এবং সরবরাহকারী সংক্রান্ত বিশাল পরিমাণ স্পর্শকাতর তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের একটি পরিচিত র্যানসামওয়্যার গ্রুপ ইন্টারনেটের গোপন এই জগতে ফাইলগুলো প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্যতম ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিল আম্বানির ‘রিলায়েন্স গ্রুপ’ এই আংশিক ডেটা ফাঁসের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে যে তারা বিষয়টি ইতোমধ্যেই সরকারকে অবহিত করেছে। তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ভারতের পারমাণবিক শক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধির মহাপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাকেশ কৃষ্ণান রয়টার্সকে জানান, গত ১১ জুন থেকে ডার্ক ওয়েবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সংক্ষিপ্ত রূপ ‘কেকেএনপি’ সংবলিত প্রায় ১৯,০০০টি ফাইল (যার আকার প্রায় ১৪.৩ গিগাবাইট) উন্মুক্ত রয়েছে। এই ডেটাগুলো ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের। রয়টার্স নথিগুলো পর্যালোচনা করলেও এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। রিলায়েন্সের প্রায় সাড়ে আট লাখ ফাঁসের নথির মধ্যে এই পারমাণবিক কেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্যগুলোই সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল। রিলায়েন্স গ্রুপ জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইওটা’-র সার্ভারে সংরক্ষিত তাদের কিছু ডেটা আংশিক হ্যাক হয়েছে। অন্যদিকে ইওটা জানিয়েছে, মে মাসের শেষের দিকে তারা সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যক্রম টের পেয়ে তা বন্ধ করে দেয়। তবে জুন মাসের শেষের দিকে রিলায়েন্স তাদের জানায় যে বহিরাগত হ্যাকাররা ডেটা ফাঁসের দাবি করছে। ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘সার্ট-ইন’ এবং ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন এই ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। অবশ্য নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন এক বিবৃতিতে আশ্বস্ত করেছে যে ডার্ক ওয়েবে আসা তথ্যগুলো কেবল সাধারণ সেবা কেন্দ্রের সাথে সম্পর্কিত। এর সাথে পারমাণবিক নিরাপত্তা বা মূল পারমাণবিক ব্যবস্থার কোনো সংযোগ নেই। ফাঁস হওয়া নথিতে পারমাণবিক চুল্লির মূল সিস্টেমের (যা রাশিয়ার রোসাটম সরবরাহ করেছে) কোনো তথ্য নেই। তবে এতে নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের ভেন্টিলেশন, কুলিং সিস্টেমের নকশা, কন্ট্রোল রুমের ফ্লোর লেআউট, যন্ত্রপাতির ছবি, অনুমোদিত সরবরাহকারীদের তালিকা এবং একটি ১১২ মিলিয়ন ডলারের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত বীমা পলিসির তথ্য রয়েছে। নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস রথ সতর্ক করে বলেছেন, এই ডেটা ফাঁসের ফলে কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ক্ষতিকর কোনো পক্ষ এই নথির সূত্র ধরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতে পারে। এটি ভারতের কর্পোরেট খাতের দুর্বল সাইবার নিরাপত্তাকেই স্পষ্ট করে তোলে। এর আগে ২০১৯ সালেও কুদানকুলাম বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের ম্যালওয়্যার পাওয়া গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সার্ফশার্কের মতে, সাইবার হামলার শিকার হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান তৃতীয়। সূত্র: রয়টার্স।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের চাবাহার বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একটি সামুদ্রিক নজরদারি (মেরিটাইম ট্রাফিক কন্ট্রোল) টাওয়ার ধ্বংস হয়েছে। ইরান এ ঘটনাকে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, চাবাহার বন্দরের মেরিটাইম ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। তেহরানের দাবি, এটি একটি বেসামরিক স্থাপনা, যা সামুদ্রিক নৌযান চলাচল ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হতো। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা সম্পর্কিত নীতির পরিপন্থী। একই সঙ্গে দেশটি পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বৈত নীতিরও সমালোচনা করেছে। এদিকে মার্কিন হামলার পর দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়। নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে কোন স্থাপনায় হামলার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত দিক থেকে জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে পাকিস্তান। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার পর ইসলামাবাদে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধের প্রভাবের মধ্যে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের ভূমিকা ধরে রাখার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কারণে প্রয়োজন হলে রিয়াদের পাশে দাঁড়ানোর চাপও রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান ভূমিকা রেখেছিল। একই সময়ে দেশটির সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। গত বছর স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বর্তমানে সৌদি আরবে পাকিস্তানের হাজারো সেনাসদস্য এবং যুদ্ধবিমান ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ইরানের হামলার ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ইসলামাবাদ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানকে ঘিরে পাকিস্তানের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, নতুন করে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গত সোমবার হুথিদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুতিরা। এতে দীর্ঘদিনের কার্যকর যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলেও এখন পর্যন্ত সংঘর্ষ সীমিত পর্যায়েই রয়েছে। পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, সৌদি আরবের ওপর হামলাকে তারা পাকিস্তানের নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পৃক্ত হিসেবে বিবেচনা করছে। এটি ইসলামাবাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’। নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুহাম্মদ আমির রানা বলেন, উত্তেজনা এত দ্রুত বাড়বে, তা পাকিস্তান আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন সৌদি অঞ্চলে পাকিস্তানের সেনাসদস্য মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। সংঘাত বাড়লে এসব সেনার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইসলামাবাদের আরেকটি বড় দুশ্চিন্তা হলো লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। এই রুটে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে পাকিস্তানসহ বহু দেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের কৌশলগত স্থাপনায় হামলা হলে প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেনারেল গুলাম মোস্তফা বলেন, বর্তমানে ইসলামাবাদ সব পক্ষকে সংযত রাখার চেষ্টা করছে। তবে হুতিদের হামলা আরও বিস্তৃত হলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পাকিস্তান। দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের অবস্থানের সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মুহাম্মদ আলির মতে, ইরানে নীতিনির্ধারণে সামরিক বাহিনীর প্রভাব আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পাকিস্তানও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ইরানের একটি প্রতিনিধিদলের নির্ধারিত ইসলামাবাদ সফরও পিছিয়ে যায়। পরে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল দুদিন বিলম্বে পাকিস্তান সফর করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসার কথা ছিল। এদিকে বৃহস্পতিবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির বিকল্প নেই। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক কূটনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে চাইলে পাকিস্তানকে একই সঙ্গে একাধিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। কারণ, সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পাকিস্তানের অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভরশীল। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে পাকিস্তান সরকারকে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন জরুরি ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে শুধু কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানো নয়; বরং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাও ইসলামাবাদের অন্যতম লক্ষ্য। একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা বলেন, নানা হতাশা থাকলেও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ, এই উদ্যোগে পাকিস্তান উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক বিনিয়োগ করেছে এবং এটি সফল হওয়াও তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান এমন এক অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রয়োজন হলে তাকে স্পষ্টভাবে কোনো এক পক্ষের পাশে অবস্থান নিতে হতে পারে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, যুদ্ধ বন্ধ হওয়াই সবার জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান। কিন্তু সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চাইলে পাকিস্তান তাদের সমর্থন দেবে, এ বিষয়ে ইসলামাবাদের অবস্থান স্পষ্ট।
ইউক্রেনের জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে অপসারণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। খবর বিবিসির। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বেশির ভাগ তরুণ-তরুণীসহ অনেক বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল ‘ফেদোরভকে সরানো চলবে না’, ‘বিজয়ের পথে বাধা দেওয়া বন্ধ করো’ লেখা নানা প্ল্যাকার্ড এবং এসময় তারা ‘লজ্জা! লজ্জা’ বলেও স্লোগান দেন। ভলোদিমির জেলেনস্কির এই সিদ্ধান্তে দেশটির বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও নাগরিক সমাজের একাংশের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফেদোরভকে সরানোর পেছনে তার সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির বিরোধ কাজ করেছে, এমন একটি আলোচনা চলছিল। পরে ফেদোরভ ও জেলেনস্কির বক্তব্যে সেই ধারণাই আরও জোরালো হয়। ফেদোরভ জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি এবং চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ আন্দ্রি হ্নাতভকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। একই দিন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি স্বীকার করেন, জেনারেল স্টাফ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে কাঠামোগত দ্বন্দ্ব ছিল। তার মধ্যস্থতা ছাড়া সিরস্কি ও ফেদোরভ একসঙ্গে কাজ করতে পারতেন না। ফেদোরভ নিজেও সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রেসিডেন্ট যখন জানিয়ে দিলেন যে তিনি সিরস্কিকে বদলাবেন না, তখন আমি বলেছিলাম যে তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব। তবে তিনি অভিযোগ করেন, আমরা যেসব উদ্যোগ নিয়েছিলাম, সেগুলোর সবই আটকে দেওয়া হয়েছিল। এদিকে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইয়েভহেন খমারাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। টেলিগ্রামে দেওয়া এক ঘোষণায় জেলেনস্কি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে খমারার নাম আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে পাঠানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বিমান হামলায় ইরানে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে মার্কিন হামলায় মোট ৩৮ জন প্রাণ হারালেন। বর্তমানে দেশ দুটির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে আছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত ও শুক্রবার ভোরে বিভিন্ন প্রদেশের অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালায়। এতে ৮ জন নিহতের পাশাপাশি আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা শুরুর পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে হামলায় ৩৮ জন নিহত ও ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহেই এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেস্তে যায়। এদিকে, পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালি। এর পাশাপাশি আরেক গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘বাব এল-মান্দেব’ প্রণালিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আমাদের বেসামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে, আমরা এবং আমাদের মিত্ররাও একইভাবে পাল্টা জবাব দেব। ইরান ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, প্রণালি বন্ধের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত হুতিরাই নেবে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পর এখন যদি বাব এল-মান্দেব প্রণালিও বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।
ভারতের রেল পরিবহনে যুক্ত হলো নতুন প্রযুক্তির সংযোজন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশটির প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ মে ট্রেনটিতে যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন দেয় ইন্ডিয়ান রেলওয়ে বোর্ড। ট্রায়াল রান সফল হওয়ার পর এবার এটি নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে যুক্ত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেনচালিত ব্রডগেজ ট্রেনগুলোর একটি। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ট্রেনটি চলবে। এ প্রযুক্তিতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য এবং ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গত হয় না; উপজাত হিসেবে তৈরি হয় মূলত জলীয় বাষ্প। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও চীনের মতো দেশেও হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। ভারতীয় রেলওয়ে তাদের প্রকল্পটির নাম দিয়েছে ‘Hydrogen for Heritage’, যা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। কোন রুটে চলবে? প্রাথমিকভাবে হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত প্রায় ৮৯ কিলোমিটার রুটে ট্রেনটি চলবে। পথে একাধিক স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকবে। এই রুটে সফলভাবে পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে কালকা-শিমলা রুটেও হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রেনের বৈশিষ্ট্য ট্রেনটিতে রয়েছে দুটি হাইড্রোজেনচালিত পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রীবাহী কোচ। একসঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৬০০ যাত্রী বহনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রতিটি পাওয়ার কারে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি এবং বিশেষ হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের তথ্যমতে, ট্রেনটির নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার হলেও পরিচালনাগতভাবে এটি সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চলবে। জিন্দে স্থাপিত বিশেষ হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে এতে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা ট্রেনটিতে হাইড্রোজেন গ্যাস লিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, আগুন শনাক্তকারী সেন্সর, ধোঁয়া ও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। ফলে যেকোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও প্রযুক্তি সংস্থা রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (RDSO)-এর নকশায় তৈরি এই ট্রেনকে দেশটির সবুজ জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল সেন্ট্রাল কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের অবশিষ্ট সমস্ত অবকাঠামো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, “অপরাধী আমেরিকা এই অঞ্চলে তার আইনশৃঙ্খলাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত রেখেছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কোনও অবস্থাতেই ইরান একটি বিদেশি ও বহিঃআঞ্চলিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালীতে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না। এটি ইরানের অলঙ্ঘনীয় রেড লাইন।” তিনি বলেন, “যদি ফাঁপা ও অন্তঃসারশূন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার সাম্প্রতিক হুমকি কার্যকর করা হয়, তাহলে ইরানের সংযমের কারণে যা কিছু অবশিষ্ট আছে- অর্থাৎ এই অঞ্চলের সমস্ত অবকাঠামো- তা ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর ইস্পাতের আঘাতে এমনভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে যে, তার কোনও চিহ্নই অবশিষ্ট থাকবে না। এমনকি মনে হবে, যেন এগুলোর কোনও অস্তিত্বই ছিল না।” জুলফাগারি আরও সতর্ক করে বলেন, “নির্বোধ শত্রুর জেনে রাখা উচিত, আমাদের জন্য এই মহাকাব্যিক মুহূর্তটি এড়িয়ে যাওয়ার মুহূর্ত নয়। ইরানের বিরুদ্ধে কোনও হামলার জবাব সমান মাত্রায় হবে না, বরং আরও শক্তিশালী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক হবে।” সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরান যেকোনো সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে তেহরান। বুধবার (১৫ জুলাই) টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বার্তায় ঘালিবাফ বলেন, ইরান কখনোই যুদ্ধকে সমর্থন করে না এবং বর্তমানেও সংঘাত চায় না। তবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখতে ইরান প্রস্তুত এবং আলোচনার পথ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে বিমান হামলা শুরু করলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সূচনা হয়। প্রায় ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পরবর্তীতে উত্তেজনা কমাতে এবং স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে ১৭ জুন ইসলামাবাদে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দর ও তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ৭ জুলাই ইরানে পাল্টা হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এরপর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা চলছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়েই বুধবার জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। তার ভাষ্য, এই মুহূর্তে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সহিংসতা বন্ধ করে আবারও আলোচনায় ফিরতে দুই দেশকে উৎসাহিত করবে পাকিস্তান। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসাইন আন্দ্রাবি। খবর জিও নিউজের বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও, পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে ওই সমঝোতা অনুযায়ী কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়ে যাবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্দ্রাবি বলেন, পাকিস্তান পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের বিশ্বাস, বিরোধ নিষ্পত্তির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আলোচনা ও কূটনৈতিক সংলাপ। তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত কারও স্বার্থে নয়। তাই সব পক্ষ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মতপার্থক্যের সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে পাকিস্তান আশা করে।
ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট (KKNPP)–সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক র্যানসমওয়্যার গ্রুপ ওয়ার্ল্ড লিকস এই তথ্য প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৯ হাজার নথি, যার মোট আকার ১৪ দশমিক ৩ গিগাবাইট, অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া নথিগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন অবকাঠামোর নকশা, যন্ত্রাংশের কারিগরি তথ্য, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিবরণ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা তথ্য রয়েছে। ভারতে বর্তমানে সাতটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে তামিলনাড়ুর কুদানকুলামে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি সবচেয়ে বড়। কেন্দ্রটির একটি প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্যের কিছু অংশ অননুমোদিতভাবে ফাঁস হয়েছে। ওই সার্ভার পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ভারতীয় ডেটা সেবা প্রতিষ্ঠান ইয়োত্তা। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ইয়োত্তা রিলায়েন্সের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সমস্যাটি তাদের হোস্ট করা হলেও সার্ভারটির মালিক ছিল রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। তাদের দাবি, গত ২৯ মে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং রিলায়েন্সকে অবহিত করা হয়। পরে জুনের শেষ দিকে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার জানায়, একটি বহিরাগত পক্ষ চুরি করা তথ্য প্রকাশের হুমকি দিচ্ছে। রয়টার্সের হাতে আসা নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কুদানকুলাম প্রকল্পের সার্ভারে মোট প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার তথ্য সংরক্ষিত ছিল। ফাঁস হওয়া নথিগুলো ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সংরক্ষিত তথ্যের অংশ। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল রিঅ্যাক্টর বা কোর সিস্টেম–সংক্রান্ত কোনো তথ্য এতে পাওয়া যায়নি। ওই কোর সিস্টেম রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম সরবরাহ করেছিল। মার্কিন অলাভজনক সংস্থা নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ–এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিকোলাস রোথের মতে, এ ধরনের তথ্য ফাঁস পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার ভাষ্য, এসব তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে গেলে স্থাপনাটির স্পর্শকাতর অংশে হামলার পরিকল্পনা করা সহজ হতে পারে। ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCIL) ইতোমধ্যে রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। একই সঙ্গে দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (CERT-In) ঘটনাটি তদন্ত করছে। সূত্র: রয়টার্স
ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বেড়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো তেলের দাম বেড়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জুলাই) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ২৬ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডতেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৩ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৮৫.২৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪২ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০.০২ ডলারে উঠেছে। নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোইউকি কিকুকাওয়া বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ায় বাজারে তেল কেনার প্রবণতা জোরালো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলো এখনো মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণভাবে মনে করা হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা কম। তবে সংঘাত কীভাবে এগোয়, তার ওপর নির্ভর করে ডব্লিউটিআই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৮৭ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।’ তথ্যসূত্র: দ্য ডন
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) প্রধান ও আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের কূটনীতিক রাবাব ফাতিমাকে নিয়োগ দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিন দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এ দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, বুধবার (১৫ জুলাই) জাতিসংঘের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, রাবাব ফাতিমা কিরগিজস্তানের রোজা ওতুনবায়েভার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। রোজা ওতুনবায়েভার নিবেদিত সেবার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন মহাসচিব গুতেরেস। একই সঙ্গে ইউএনএএমএর উপ-প্রধান এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কানাডার জর্জেট গ্যানিয়নের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বর্তমানে রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশাসনে রাবাব ফাতিমার ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার কর্মজীবনে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ, অ্যাডভোকেসি, কর্মসূচি পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমান দায়িত্ব নেয়ার আগে তিনি ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি (রাষ্ট্রদূত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় তিনি ইউনিসেফ ও ইউএন উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ২০২২ সালে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিশনের (পিসবিল্ডিং কমিশন) প্রথম নারী চেয়ার নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আন্দিমেশক শহরের আকাশে শত্রুপক্ষের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে এক বিবৃতিতে এ দাবি করে তারা। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, বাহিনীর মহাকাশ বিভাগের পরিচালিত নতুন মোতায়েন করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি গুলি করে নামানো হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড্রোনটিকে প্রথমে শনাক্ত ও অনুসরণ করা হয়, এরপর আন্দিমেশক শহরের আকাশে সেটি ধ্বংস করা হয়। তবে ড্রোনটির মালিকানা বা ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাত অবসান ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকটি অকার্যকর হয়ে গেছে। এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে এ খবর দেয় আলজাজিরা। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, হামলায় মার্কিন বাহিনীর সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থায়ী রাডার স্থাপনা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা তাদের ‘সায়েকেহ’ অভিযানের নবম ধাপের অংশ। ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ওপর চালানো হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানশাহরের বাম্পুর ব্যারাকে হামলায় সাতজন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।