যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে পাইলট অল্প আঘাত পেয়েছেন। মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার লাস ভেগাসের উত্তরে নেলিস এয়ার ফোর্স বেসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এটি ইন্ডিয়ান স্প্রিংস এলাকার কাছে নেভাদা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেনিং রেঞ্জের ভেতরে পড়ে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করেন। পরে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেনি, তারা যেন নিজেদের জ্বালানির ব্যবস্থা নিজেরাই করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প পরামর্শ দেন, জ্বালানি সংকটে পড়া দেশগুলো চাইলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে পারে। পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রয়োজনে এসব দেশকে হরমুজ প্রণালিতে গিয়ে নিজেরাই তেল সংগ্রহ করতে হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় অন্য দেশগুলোর পাশে দাঁড়াবে না। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দেশগুলোকে নিজ দায়িত্বে এগোতে হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সামনে আসছে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ছে এবং ইরানের সক্ষমতা কমছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে বাড়ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকর্তা। সূত্র : শাফাক নিউজ
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে ট্রাম্প বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট। অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ভাষণটি দেবেন তিনি। মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে লেভেট লিখেছেন, কাল রাতে ইস্টার্ন টাইম, ইরান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে আগামীকাল রাত ৯টায় (ইস্টার্ন টাইম) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে তাদের হামলা শেষ হবে। তিনি ওই সময় জানান, ইরানিদের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য চুক্তি হতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এরপর ইরানও পালটা হামলা শুরু করে। ট্রাম্প প্রথমে জানিয়েছিলেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করবেন। তবে এক মাস পেরিয়ে গেলেও; এখনো যুদ্ধ শেষ হয়নি। উলটো পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যা এখনো বন্ধই আছে। দেশটি শুধু তাদের মিত্র ও বন্ধু দেশকে সেখান দিয়ে জাহাজ পার করতে দিচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ঠিক করেছে হরমুজ খোলাকে। যা যুদ্ধের আগে খোলাই ছিল। সূত্র: সিএনএন
বিশ্বজুড়ে আকাশপথের যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নেমে এসেছে এক অভূতপূর্ব দুর্যোগ। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও বিমান চলাচলের জ্বালানি বা ‘জেট ফুয়েলে’র দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক এভিয়েশন শিল্প এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলো। একই সঙ্গে আকাশচুম্বী বিমান ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক ফি বৃদ্ধির ফলে সাধারণ যাত্রীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে আকাশপথের ভ্রমণ। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে এভিয়েশন খাতের জন্য একটি ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ বা চরম সংকটকাল হিসেবে অভিহিত করছেন। জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম ও সরবরাহ সংকট দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে জেট ফুয়েলের দাম ৭৪২ ডলার থেকে বেড়ে ১,৭১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেল ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু পথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও এভিয়েশন অ্যানালিস্ট অ্যালেক্স ম্যাকিরাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সতর্ক করে বলেছেন, প্রধান ইউরোপীয় বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে জেট ফুয়েলের মারাত্মক সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অনেক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিমান সংস্থাগুলোকে ‘জ্বালানি নেই’ (No Fuel Available) এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে। এই সংকট কেবল ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই; এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোও এখন বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক দীর্ঘ পাল্লার ফ্লাইটকে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে অন্য কোনো দেশে যাত্রাবিরতি বা ‘ফুয়েল স্টপ’ নিতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ— উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক ও পরিসংখ্যান এভিয়েশন অ্যানালিটিক্স কোম্পানি ‘সিরিয়াম’-এর তথ্যমতে, গত সোমবার নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে প্রতি ২০টির একটি বাতিল করা হয়েছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বাতিলের এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। গত সোমবার বিশ্বজুড়ে নির্ধারিত ১ লাখ ৪ হাজার ৬১৮টি ফ্লাইটের মধ্যে ৭ শতাংশ বা ৭,০৪৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত বছর একই দিনে বাতিলের হার ছিল ৪.৭ শতাংশ। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে উত্তর আমেরিকায়। সেখানে গত সোমবার ১৪.৬ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা গত বছর ছিল মাত্র ৪.৪ শতাংশ। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রথম বড় মার্কিন সংস্থা হিসেবে তাদের মোট সক্ষমতার ৫ শতাংশ ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও একই চিত্র এয়ার নিউজিল্যান্ড মে মাসের শুরু পর্যন্ত ১,১০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এসএএস (স্ক্যান্ডিনেভিয়ান গ্রুপ) এপ্রিলে অন্তত ১,০০০টি ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স জ্বালানির দাম প্রতি ব্যারেল ১৬০-২০০ ডলারে পৌঁছালে মাসে ১০ থেকে ২০ শতাংশ ফ্লাইট কমানোর কথা জানিয়েছে। বিমান ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি জ্বালানির বাড়তি খরচ সমন্বয় করতে গিয়ে এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের পকেট কাটতে শুরু করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স-এর প্রধান নির্বাহী স্কট কার্বি ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, লোকসান এড়াতে বিমান ভাড়া অন্তত ২০ শতাংশ বাড়াতে হবে। অনেক রুটে গড় বিমান ভাড়া ইতোমধ্যে ৪৬৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানি খরচ সামলাতে না পেরে গত সোমবার বিশ্বজুড়ে নির্ধারিত ফ্লাইটের ৭ শতাংশ বা প্রায় ৭,০৪৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উত্তর আমেরিকায় এই বাতিলের হার গত বছরের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। এয়ার নিউজিল্যান্ড ও এসএএস (SAS)-এর মতো বড় সংস্থাগুলো হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে। অনেক ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছাতে মাঝপথে বাড়তি ‘ফুয়েল স্টপ’ নিতে হচ্ছে, যা ভ্রমণের সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে জ্বালানি কর বা ‘ফুয়েল সারচার্জ’ এর পাশাপাশি অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি-ও বাড়ানো হচ্ছে। জেটব্লু (JetBlue) তাদের ব্যাগেজ ফি বা মালামাল বহনের খরচ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। একে তারা ‘পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। থ্রিনফটি ট্রাভেলার (Thrifty Traveler)-এর নির্বাহী সম্পাদক কাইল পটার বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো সাধারণত একসাথে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তাই অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য সংস্থাও ব্যাগেজ ফি বা অন্যান্য অতিরিক্ত সেবার চার্জ বাড়িয়ে দেবে। মজার বিষয় হলো, টিকিটের দামের ওপর সরকারি শুল্ক থাকলেও এসব ফি’র ওপর শুল্ক দিতে হয় না, ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য এটি লাভের পথ প্রশস্ত করে। ‘ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট’ ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ইউরোনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অলিম্পিক এয়ারওয়েজের সাবেক প্রধান রিগাস ডোগানিস মনে করেন, এয়ারলাইন্সগুলো এখন অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে চাহিদা ধরে রাখতে ভাড়া কমানোর চাপ, অন্যদিকে উচ্চ জ্বালানি খরচের কারণে ভাড়া বাড়ানোর বাধ্যবাধকতা— সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী সংস্থা ‘কোরিয়ান এয়ার’ ১ এপ্রিল থেকে ‘জরুরি ব্যবস্থাপনা’ বা ‘এমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট’ কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান উ কি-হং এক অভ্যন্তরীণ নোটিশে জানান, এটি কেবল সাময়িক খরচ কমানোর চেষ্টা নয়, বরং কোম্পানির মূল ভিত্তি মজবুত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার অংশ। ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণাম এখন বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে প্রধান শেয়ার বাজারগুলোর সূচকও প্রায় ১০ শতাংশ পড়ে গেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর তথ্যমতে, যুক্তরাজ্য তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় ব্রিটেনের দিকে আসা কোনো তেলের জাহাজ বর্তমানে সাগরে দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সংকট পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। নিজ ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে তিনি যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ যারা হরমুজ প্রণালীর কারণে জ্বালানি পাচ্ছে না, তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এক, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তেল কিনুন, আমাদের প্রচুর আছে। দুই, একটু সাহস সঞ্চয় করে প্রণালীতে গিয়ে তা দখল (TAKE IT) করুন।’ তার এই বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রমোদতরীতেও বাড়তি চাপের আঁচ জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব কেবল আকাশে সীমাবদ্ধ নেই, তা সমুদ্রেও ছড়িয়েছে। স্টারড্রিম ক্রুজ জানিয়েছে, ২০ মার্চ থেকে যারা নতুন বুকিং দিচ্ছেন, তাদের প্রতি রাতের জন্য জনপ্রতি ১৫ ডলার বাড়তি সারচার্জ দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, জ্বালানির দাম কমলে এই বাড়তি খরচ কমিয়ে আনা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিত্তবানদের ওপর নির্ভরতা ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে টিকিট বিক্রির হার রেকর্ড উচ্চতায় ছিল। এর কারণ হিসেবে কাইল পটার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিত্তবান ভ্রমণপিপাসুদের সংখ্যা এবং সামর্থ্য আগের চেয়ে অনেক বেশি। এয়ারলাইন্সগুলো এখন তাদের ওপরই ভরসা করছে, কারণ উচ্চ ফি বা বাড়তি ভাড়া তাদের ভ্রমণে খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তবে, সাধারণ ও মধ্যবিত্ত যাত্রীদের জন্য আকাশপথের ভ্রমণ এখন বিলাসবহুল স্বপ্নে পরিণত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৭৫ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। যদি এমনটি হয়, তবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরেই থাকতে পারে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম এবং লুফথানসা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও পঙ্গু করে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাত এখন এক গভীর খাদের কিনারায়। একদিকে জ্বালানির তীব্র সংকট ও আকাশচুম্বী দাম, অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়ে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। যতক্ষণ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামছে না এবং তেলের সরবরাহ পথগুলো পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে না, ততক্ষণ বিমান যাত্রীদের এই চড়া মূল্য দিয়ে এবং ফ্লাইটের অনিশ্চয়তা নিয়েই পথ চলতে হবে। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, ইউরোনিউজ, এনবিসি নিউজ, সিরিয়াম, রয়টার্স এবং ব্লুমবার্গ।
দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ইসরায়েলের চার সেনা নিহত হয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার সংঘটিত এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ক্যাপ্টেন নোআম মাদমোনি (২২), স্টাফ সার্জেন্ট বেন কোহেন (২১) এবং স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাকসিম এনটিস (২২)। এছাড়া একই ঘটনায় আরও একজন সেনা নিহত হয়েছেন, তবে তার নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে আইডিএফ। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও দুইজন সেনা। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, অপরজন রিজার্ভ সদস্য এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এক ধারাবাহিক শক্তিশালী ও দ্রুতগতির হামলা চালিয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) পরিচালিত এই অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গোপন মার্কিন কমান্ড সেন্টার এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ডারদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৮৭তম ধাপের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে আইআরজিসি নৌবাহিনী মোট চারটি সফল ও দ্রুতগতির অপারেশন সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। আইআরজিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে তাদের গোয়েন্দা ও অপারেশনাল যোদ্ধারা একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটির বাইরে স্থাপিত মার্কিন সন্ত্রাসী কমান্ডারদের একটি গোপন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার নিখুঁতভাবে ধ্বংস করেছে। হামলার সময় ওই সেন্টারে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন কমান্ডার ও মধ্যম সারির কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন এবং হামলাটি পরিচালনার জন্য অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। অন্য একটি সমন্বিত অভিযানে বাহরাইনের মূল ব্যারাকের বাইরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ডারদের গোপন আস্তানা ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেখানে কমান্ডারদের একটি বৈঠক চলাকালীন এই হামলা চালানো হয় এবং পরবর্তীতে ওই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ্য করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আন্দাজ করা গেছে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে। একই দিনে আইআরজিসি নৌবাহিনী একটি তৃতীয় দেশের পতাকাবাহী এবং ইসরায়েলের মালিকানাধীন ‘এক্সপ্রেস রুম’ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের দাহরান অঞ্চলের উপকূলে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর একটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডারও নিখুঁতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এই রাডারটি মূলত মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হতো। ইরানের দাবি অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই অপারেশনগুলো পরিচালনা করা হয়েছে যা ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোট ইরানের বিরুদ্ধে এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করে। গত এক মাস ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও অসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলার জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে এই পাল্টা হামলাগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে চালানো প্রতিটি হামলার বদলা হিসেবে এই ধরনের প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
মাস ছাড়িয়ে যাওয়া যুদ্ধে বড় এক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধেই মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের এই সেনারা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে নামতে শুরু করেছে। দুই মার্কিনি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এই বিশেষ সেনা ট্রাম্পের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণার পরই সেখানে যাচ্ছে। তবে একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা বিবেচনা করছেন। গত ১৮ মার্চ রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে। এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের ভূখণ্ডের ভেতরে পর্যন্ত সেনা পাঠানোর বিকল্পও খোলা থাকবে। নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্রাগ থেকে পরিচালিত এই প্যারাট্রুপাররা ওই অঞ্চলে ইতোমধ্যে পাঠানো হাজার হাজার নৌসেনা, মেরিন এবং স্পেশাল অপারেশন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হবে। গত সপ্তাহান্তে প্রায় ২,৫০০ মেরিন সদস্য মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় এই সেনাদের মোতায়েন করা হচ্ছে তা জানাননি। তবে এমন পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন। অতিরিক্ত সেনাদের মধ্যে রয়েছে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তরের কিছু অংশ, লজিস্টিকস ও অন্যান্য সহায়তা ইউনিট এবং একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম। এখনও ইরানের ভেতরে সরাসরি সেনা পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই মোতায়েন করা হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানায়। এই সেনারা ইরান যুদ্ধে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে এদের দিয়ে খার্গ আইল্যান্ড দখলের চেষ্টা করা হতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ব্যাপারেও ট্রাম্প তাদের ব্যবহার করতে পারেন। একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনের কাজ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। এরপর হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতি কীভাবে এই ধাক্কা সামলায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে মাইনহান্টার মোতায়েনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেলজিয়াম। দেশটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তারা এ উদ্যোগে যুক্ত হতে পারে। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়, বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো জানিয়েছেন, প্রণালিটি সুরক্ষিত রাখতে একটি বহুজাতিক জোটে অংশ নিতে আগ্রহী তাদের দেশ। তবে স্থিতিশীল পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত মাইনহান্টার মোতায়েন করা হবে না। এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩২ দেশের একটি যৌথ জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। তবে বেলজিয়াম স্পষ্ট করেছে, এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া মানে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমর্থন নয়। তাদের মতে, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে শুরু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন জানান, নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা তাদের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে চলমান উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। চলমান সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব তার ওপর দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-এর পাশাপাশি গালিবাফকেও ইসরায়েলের সম্ভাব্য টার্গেট তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, তাদের অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলের কাছে তথ্য ছিল এবং হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তান, যারা এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানায়—এই নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হলে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে পিছিয়ে যেতে বলে। ৬৪ বছর বয়সী গালিবাফ একদিকে যেমন কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে শত্রুপক্ষকে কঠোর বার্তাও দিচ্ছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের ভূখণ্ড রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে “অবিরাম হামলা” চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এর আগে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিলেও সফল হননি গালিবাফ। বিশেষ করে ইব্রাহিম রাইসি-এর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থীদের একজন ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং “বাস্তববাদী কিন্তু কট্টর” ইমেজ—এই সব মিলিয়ে গালিবাফ এখন ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার পথে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলে নিতে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে বলেছেন, যাতে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে এই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান এই পারমাণবিক উপাদান রাখতে পারবে না। প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগের মাধ্যমেও এটি নেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের ইউরেনিয়াম স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র স্থল সেনা পাঠিয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে। এর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এতে বড় ধরনের যুদ্ধ বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো শক্ত নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। এদিকে প্রশাসনের ভেতরেও এই পরিকল্পনা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু কর্মকর্তা এ ধরনের সামরিক অভিযানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আরব লীগের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে মিশরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল ফাহমি-কে সমর্থন দিয়েছেন সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। রোববার অনুষ্ঠিত জোটের ১৬৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি সর্বসম্মত সমর্থন পান। আগামী আরব সম্মেলনে, যা সৌদি আরব-এ অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মিশরের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন, ফাহমির প্রতি সর্বসম্মত সমর্থন প্রমাণ করে যে আরব দেশগুলো এখনও আঞ্চলিক বিষয়ে মিশরের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখে। মনোনয়ন দেওয়ার জন্য মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফাহমি। একই সঙ্গে আরব লীগের সদস্য দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। ফাহমি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায়, আরব লীগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন জোরদারে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য ইরানে কোনো সেনা পাঠাবে না এবং চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেবে না। তিনি বলেন, এটা আমাদের যুদ্ধ নয়, তাই আমরা এতে জড়াব না। তবে ব্রিটিশ নাগরিক, স্বার্থ ও মিত্রদের সুরক্ষায় দেশটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। স্টারমার আরও জানান, হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে চাইলে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সূত্র: আল জাজিরা
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংগসিরির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরান। আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, তাংগসিরি ‘তাঁর আঘাতের তীব্রতার’ কারণে মারা গেছেন। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছিলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা চালিয়ে ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংগসিরিকে হত্যা করে। তখন এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
তেহরান যদি অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলকূপ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপসহ দেশটির বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘কোনও চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হবে।’’ ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘অনেক অগ্রগতি হয়েছে; কিন্তু যদি কোনও কারণে দ্রুতই কোনও চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়; যা সম্ভবত হবে এবং যদি হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে ‘বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত’ করে দেওয়া না হয়, তাহলে আমরা ইরানের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খারগ দ্বীপ বোমা মেরে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে সেখানে আমাদের এই চমৎকার ‘অবস্থান’ শেষ করব।’’ ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই সম্পন্ন হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপের মাধ্যমে। এই তেলের বড় অংশ চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজারে যায়। আয়তনে মাত্র ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪-৫ কিলোমিটার প্রস্থের এই ক্ষুদ্র দ্বীপটিতে রয়েছে বিশাল সব অবকাঠামো। যার মধ্যে তেলের বিশাল মজুত ট্যাঙ্ক, পাইপলাইন এবং সমুদ্রতীরবর্তী লোডিং টার্মিনাল অন্যতম। গভীর সমুদ্রবন্দরের সুবিধা থাকায় দ্বীপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৩ থেকে ১৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বড় বড় ট্যাঙ্কারে লোড করা সম্ভব হয়। রোববার ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং ইঙ্গিত দেন, মার্কিন সৈন্যরা ইরানের ওই রপ্তানি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ওই হুমকি দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, তার অগ্রাধিকার হবে ইরানের তেল নিয়ে নেওয়া; যার জন্য খারগ দ্বীপ দখল করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা খারগ দ্বীপ দখল করতেও পারি, আবার নাও পারি। আমাদের সামনে অনেক বিকল্প খোলা আছে।’’ একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু রয়েছে; যেখানে মার্কিন সৈন্যরা হামলা চালাতে চায়। তবে তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন, ইরানের সঙ্গে শিগগিরই একটি চুক্তি সম্ভব। রোববার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানের বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আলোচনায় আমরা অত্যন্ত ভালো অবস্থানে আছি। তবে ইরানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যায় না; কারণ আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনাও করি, আবার নিয়মিতভাবে তাদের উড়িয়েও দিতে হয়। সূত্র: ইউরো নিউজ।
হোয়াইট হাউসে এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। হেগসেথ বলেন, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভবিষ্যতে লন্ডন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ২০ মার্চের একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়। সেদিন ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে অবস্থিত ব্রিটিশ-আমেরিকান যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। দ্বীপটি আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মাঝামাঝি অবস্থিত এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র দুটির একটি মাঝপথে ভেঙে পড়ে এবং অন্যটি আকাশেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। ফলে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যুক্তরাজ্য সরকারও নিশ্চিত করেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। আগে ধারণা করা হতো, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে, তারা এর চেয়েও বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরান এই হামলার মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছে যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। দিয়েগো গার্সিয়ার দূরত্ব ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার হওয়ায় এই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) বলছে, এই প্রথম কোনো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এত দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে। এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুত্তে বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অপরদিকে, ইরান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, ইরান ক্রমাগত তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হতে পারে। তবে যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে, দেশটি বর্তমানে সরাসরি কোনো ঝুঁকিতে নেই। দূরত্বের হিসেবে তেহরান থেকে বার্লিন প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার, প্যারিস প্রায় ৪২০০ কিলোমিটার এবং লন্ডন প্রায় ৪৪০০ কিলোমিটার দূরে। এ হিসাবে ইউরোপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় পড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব হলেও বাস্তবে এত দূর পর্যন্ত নির্ভুলভাবে আঘাত হানা কঠিন। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষক জানান, পাল্লা বাড়ালে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা কমে যায়। অন্য গবেষকরাও মনে করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লন্ডন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে—এ সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তবে বাস্তবে ঝুঁকি এখনো কম। এর একটি বড় কারণ হলো, যুক্তরাজ্য ন্যাটোর শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। বর্তমানে ইরানের কাছে স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য নেই। সব মিলিয়ে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ থাকলেও, ইউরোপের জন্য তাৎক্ষণিক বড় ধরনের হুমকির সম্ভাবনা এখনো কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে ন্যাটো ও পশ্চিমা দেশগুলোর পদক্ষেপের ওপর পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে।
ইরানে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন বিমানগুলোর জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে স্পেন। সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোব্লেস এ তথ্য জানিয়েছেন। স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘এল পাইস’ সোমবার সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম এই খবরটি প্রকাশ করে। মাদ্রিদে সাংবাদিকদের মার্গারিতা রোব্লেস বলেন, ‘ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত কোনো অভিযানের জন্য স্পেন তার সামরিক ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না।’ স্প্যানিশ সংবাদপত্র আরো জানায়, আকাশসীমা বন্ধের ফলে সামরিক বিমানগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের লক্ষ্যে যাওয়ার পথে স্পেন এড়িয়ে যেতে হচ্ছে, তবে এটি জরুরি পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। স্পেনের অর্থনীতি মন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো বলেছেন, ‘একতরফাভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণ বা অবদান না রাখার স্পেন সরকারের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আকাশসীমা বন্ধ করা হয়েছে।’ রেডিও কাদেনা সেরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র বিরোধী। তিনি এই হামলাগুলোকে বেপরোয়া ও অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রকে স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদ্রিদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন। সূত্র : রয়টার্স
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গাজায় চলমান সহিংসতা বন্ধ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবিতে শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে একটি বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ বিক্ষোভে মানবাধিকার সংস্থা, শ্রমিক ইউনিয়ন, রাজনৈতিক দল এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। দুপুর প্রায় ২টার দিকে ঐতিহাসিক প্লাস দ্য লা বাস্তিল এলাকা থেকে সমাবেশ শুরু হয়ে পরে র্যালিতে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা “গাজায় গণহত্যা বন্ধ কর” ও “গাজার জন্য ন্যায়বিচার” স্লোগানসম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। বিক্ষোভে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রান্সের স্বেচ্ছাসেবীরা হলুদ জ্যাকেট ও ব্যানার নিয়ে অংশ নেন। এছাড়া ফ্রান্স-প্যালেস্টাইন সংহতি সংগঠন, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, শিক্ষক ও পাবলিক সার্ভিস সংগঠন, বামপন্থী রাজনৈতিক দল, ফ্রেঞ্চ কমিউনিস্ট পার্টি, বয়কট-ডিভেস্টমেন্ট-স্যানকশন (বিডিএস) সমর্থক গোষ্ঠী এবং ফরাসি-ইহুদি শান্তি সমর্থক সংগঠনও এতে অংশ নেয়। সমাবেশে বক্তারা গাজায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, অবরুদ্ধ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার দাবি জানান। আয়োজকরা জানান, ‘প্যালেস্টাইন সংহতি’ কর্মসূচি ও “জমিন দিবস” উপলক্ষে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
কুয়েতের একটি সেনাক্যাম্পে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এতে সামরিক বাহিনীর ১০ সদস্য আহত হয়েছেন। আজ রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে ‘বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের আকাশসীমায় মোট ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। কাতারেও হামলা অব্যাহত এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন কাতারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ‘সফলভাবে ধেয়ে আসা সমস্ত ড্রোন প্রতিহত এবং নিষ্ক্রিয় করেছে।’ সূত্র: আল জাজিরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের বহুমুখী সংঘাতে এবার আবির্ভাব ঘটেছে নতুন এক শক্তির। এ শক্তি ইয়েমেনের ইরান সমর্থনপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা। গত শনিবার ইসরাইলের ওপর প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে তারা চলমান যুদ্ধে নিজেদের জড়িয়ে নেওয়ার সাড়ম্বর ‘ঘোষণা’ দিয়েছে। দুবাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুথিরা তাদের মিত্রদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছিল। এতদিন তারা এ যুদ্ধে সরাসরি অংশ না নিলেও সতর্ক করে বলেছিল যে, তাদের আঙুল ‘ট্রিগারে’ রয়েছে। অবশেষে শনিবার তারা সেই ট্রিগার চেপেছে। জানিয়েছে, তারা ইসরাইলি সামরিক অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলও ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা নিশ্চিত করেছে এবং তা ঠেকাতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে। চ্যাথাম হাউসের রিসার্চ ফেলো ফারিয়া আল-মুসলিমি বলেন, ‘এই গোষ্ঠীর যুদ্ধে প্রবেশ একটি গুরুতর এবং গভীর উদ্বেগের বিষয়।’ তিনি এএফপি’কে বলেন, হুথিদের এ অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে অস্থির যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: প্রত্যাশিত পদক্ষেপ বিশ্লেষকরা দীর্ঘ দিন ধরেই ধারণা করছিলেন যে, হুথিরা শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে যোগ দেবে। ২০১৪ সাল থেকে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির একটি বিশাল অংশ দখলে রেখেছে। আল-মুসলিমি মনে করেন, হুথিরা সম্ভবত এই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল। কারণ তারা জানত এটি তাদের জন্য কোনোভাবেই ভালো হবে না। কিন্তু দীর্ঘদিনের সমর্থক ইরানের প্রতি শেষ পর্যন্ত তাদের দায়বদ্ধতা পালন করতেই হলো। গাজা যুদ্ধের সময়ের মতোই প্রথম হামলার জন্য তারা আমেরিকান স্বার্থের বদলে ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ঝুঁকি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বাশা রিপোর্ট’ এক্স-এ জানিয়েছে, এটি তাদের দেশের সমর্থক এবং বিদেশের মিত্রদের কাছে একটি পরিষ্কার বার্তা। বার্তাটি হলো, তাদের প্রধান লক্ষ্য এখনো ফিলিস্তিন ইস্যু। একইসঙ্গে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ওপর হামলা করবে না। বাশা রিপোর্টের মতে, হুথিদের পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে এই অঞ্চলের সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা চালানো। তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থাপনায় হামলা না করে এই পথটি বেছে নিতে পারে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি এড়ানো যাবে, আবার তাদের ওপর বড় ধরনের চাপও সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। ঝুঁকিতে দ্বিতীয় প্রণালী লোহিত সাগরের পাশের পাহাড়ি দুর্গ থেকে হুথিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। গাজা যুদ্ধের সময়ও তারা এটি প্রমাণ করেছিল। ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা জাহাজগুলোতে তারা হামলা চালিয়েছিল। এর ফলে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যায়। এই সরু জলপথটি ভারত মহাসাগর থেকে সুয়েজ খালে প্রবেশের প্রধান পথ। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ। আরব উপদ্বীপের অপর প্রান্তে ইরান ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের প্রবাহের জন্য এই পথটি এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পথ বন্ধ হলে বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে ঘুরে যেতে হবে। বাব আল-মান্দেব প্রণালী হুমকির মুখে পড়লে ভঙ্গুর বিশ্ববাজার আরও বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরব সম্ভবত এটি মুখ বুজে সহ্য করবে না। সৌদির অবস্থান কি বদলাবে? হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজগুলো এখন লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে যাতায়াত করছে। কিন্তু এটিই এখন দেশটির তেল রপ্তানির শেষ নিরাপদ পথ। যদি এই পথটিও বন্ধ হয়ে যায়, তবে রিয়াদ হয়তো তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে আসবে। বর্তমানে সৌদি আরব প্রায় প্রতিদিনই ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করলেও কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নিরাপত্তা বিশ্লেষক হিশাম আল-গানাম এএফপি’কে বলেন, ‘যুদ্ধে সৌদির এই সতর্ক নিরপেক্ষতা ভেঙে পড়তে পারে।’ তিনি মনে করেন, রিয়াদ সীমিত আকারে হলেও পাল্টা হামলার কথা চিন্তা করতে পারে। আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার হুথিরা তাদের বিবৃতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছে। আল-মুসলিমি লক্ষ্য করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি অবকাঠামো এবং পশ্চিমা ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোয় হুথিরা ভৌগোলিকভাবে ইরানের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের হামলা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এমনকি হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকিও রয়েছে। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সৌদির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুথিদের দীর্ঘ যুদ্ধ চলেছিল। যদি ইয়েমেন আবারও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আগের যুদ্ধের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়ানো দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য এটি হবে এক চরম মানবিক বিপর্যয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সাড়ে তিন হাজার মেরিন সেনা নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন রাখা হয়েছে। বলা হচ্ছে, নির্দেশ পাওয়া মাত্রই অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত এসব মেরিন সেনা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড শনিবার (২৮ মার্চ) জানিয়েছে, ইউএসএস ত্রিপোলি উভচর আক্রমণকারী যুদ্ধজাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যে এসব সেনা আনা হয়। শুক্রবার তাদের ‘অপারেশন এরিয়াতে’ ইউএসএস ত্রিপোলী পৌঁছেছে। এছাড়া যুদ্ধ জাহাজটিতে করে এসেছে পরিবহন বিমান ও কৌশলগত আক্রমণকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান। এসব বিমান অতি স্বল্প সময়ে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সেনার সমাগম ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে মেরিনসহ দেশটির প্রায় ৫০ হাজার সেনা এ অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র তাদের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের এক হাজার সেনাকেও মধ্যপ্রাচ্যে আনার পরিকল্পনা করেছিল। এদিকে শোনা যাচ্ছে, এবার আকাশ ও নৌপথের পাশাপাশি দেশটিতে স্থল হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো প্রস্তুতি নেওয়া। যেন কমান্ডার ইন চিফ (প্রেসিডেন্ট) সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারেন। পরিকল্পনা করার অর্থ নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে স্থল হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা অনুমোদন করবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট রোববার (২৯ মার্চ) এসব তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক এক মাসের মাথায় সারা যুক্তরাষ্ট্রে রাস্তায় নামলেন বিক্ষোভকারীরা। শনিবারের এই মিছিল ও সমাবেশ ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফা কর্মসূচি। ‘নো কিংস’ ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০-এরও বেশি অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বড় ভিড় হয়েছে। রোম, প্যারিস ও বার্লিনেও সমান্তরাল কর্মসূচি হয়েছে। আয়োজকরা এবার বড় শহরের বাইরে রক্ষণশীল এলাকায়ও মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন। প্রগতিশীল অলাভজনক সংস্থা ইনডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেছেন, ‘এই শনিবারের সংগঠনের মূল গল্প হলো কতজন বিক্ষোভ করছেন তা নয়, বরং কোথায় করছেন তা।’ সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয়েছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায়। গত ডিসেম্বরে এই এলাকায় ট্রাম্পের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এ ৩ হাজারের বেশি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা ঢুকে বলপূর্বক বহিষ্কার অভিযান চালিয়েছিল। জানুয়ারিতে সেই অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনি নিকোল গুড নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং শনিবারের সমাবেশে তাদের স্মরণ করা হয়। মিনেসোটার সমাবেশে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বক্তৃতা দিয়েছেন। রক কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও লোকসংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ সংগীত পরিবেশন করেছেন। অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো পূর্বে ধারণ করা ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘আপনাদের সাহস ও প্রতিশ্রুতি আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। সরকারি গুন্ডাদের সশস্ত্র হামলার মুখেও আপনারা বীরত্ব দেখিয়েছেন।’ ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্টের আশপাশে মিছিলকারীরা সাইনবোর্ড হাতে জমায়েত হয়েছেন। স্যান্ডার্স সমাবেশে বলেছেন, ‘আমরা এই দেশকে কর্তৃত্ববাদ বা ধনকুবেরদের শাসনে ডুবে যেতে দেব না। আমেরিকায় আমরা জনগণই শাসন করব।’ আগের দুটি ‘নো কিংস’ মিছিল হয়েছিল গেল বছর জুন ও অক্টোবরে, যেগুলোতে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এই বিক্ষোভ আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার সুযোগে কংগ্রেসে আসন বাড়ানোর আশায় রয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।