আন্তর্জাতিক

ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের এডেনে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিমানবন্দরের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন শহরটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।   আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এডেনে অবস্থানরত সংবাদমাধ্যমটির সাংবাদিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। স্থানীয় পুলিশও হামলার পর বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশ থেকে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। তবে হামলায় হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   উল্লেখ্য, ইয়েমেনের রাজধানী সানা দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এডেনকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করছে। এর আগে গত সপ্তাহেও এডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল হুথিরা।   এদিকে আলজাজিরার সাংবাদিক মহা আলী জানিয়েছেন, এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।   অন্যদিকে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন, তাদের বাহিনী এডেনের বদর সামরিক ক্যাম্পে অবস্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সামরিক অভিযান পরিচালনাকেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।   হুথি মুখপাত্রের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হেনেছে এবং অভিযানটি সফল হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।   সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের সরকারনিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: আলজাজিরা

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন, হত্যাকাণ্ড বা গুপ্তহত্যার জবাব দিতে সর্বাত্মক, বহুমাত্রিক ও সমন্বিত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। দেশটির এক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।   সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিষয়ে ইরান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা বা সংযম দেখানো হবে না।   তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। আগ্রাসী শক্তি ও এ অঞ্চলে তাদের সহযোগীদের স্বার্থ এবং নাগালের মধ্যে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে পূর্ণ শক্তিতে আঘাত হানা হবে।   ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাবে এমন পদক্ষেপ নেয়া হবে, যা পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ এবং তাদের সহযোগীদের লক্ষ্যবস্তুকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।   ইরানের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ছাড়া কোনো আক্রমণ চালাবে না, আবার ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ করবে না। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দু’পক্ষের যেকোনো একটির এককভাবে অংশ নেয়ার ধারণাকে তিনি ‘তিক্ত কৌতুক’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমের পারস্পরিক গভীর সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।   ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য হুমকি দেশটিকে প্রয়োজনীয় আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেয়ার আইনি ও নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক ইস্যু কেবল একটি অজুহাত; যুক্তরাষ্ট্রের মূল বিরোধিতা ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও প্রতিরোধ শক্তিকে ঘিরে।   ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডাররা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন চালানো হলে তা পুরো অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থকে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলবে।   ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার বলেছেন, ওয়াশিংটন আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।   নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ি বলেন, এ প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে ইরানের সব শর্ত পুরোপুরি পূরণ করতে হবে।   ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা নির্ভর করছে তেহরানের সাতটি শর্ত পূরণের ওপর।   মঙ্গলবার তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ বলেন, ভুল হিসাব-নিকাশ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করায় যুক্তরাষ্ট্র গভীর সংকটে পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ওয়াশিংটনকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।   জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরিত ১৪ দফা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ অনুযায়ী, তেহরান পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটনকে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর দিকে মার্চ মাসে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগরীয় জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ ইসরাইলে কেন হেগসেথ, নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর কারণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের মধ্যে ইসরাইল সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকা একটি বিমানঘাঁটিতে তাদের দীর্ঘ বৈঠক হয়।   গত সোমবার দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে এ বৈঠক হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সফর সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ওই ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন রয়েছে। বৈঠকে ইরান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিন ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে বৈঠকের বিস্তারিত কিংবা কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সরকার। ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের মাত্র আট দিন আগে এ সফর হয়। এর এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবারও শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনে নেতানিয়াহু বলেন, দুই মিত্রের এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘ডোনাল্ড, আমাদের একটি কাজ শেষ করতে হবে। আপনি এ কথা বলেছেন, আর আমরা একসঙ্গে তা শেষ করব।’ অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ায় ওয়াশিংটন ও ইসরাইল নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি বিবেচনা করেছে। তবে নতুন হামলার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে আসার অবস্থানে রয়েছে। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে তিনি আরেকটি বড় ধরনের হামলা চালাতে চান না। ট্রাম্পও বলেছেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না। দুই নেতার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়েছে। ওয়াশিংটন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপের পথে এগোবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়। কেন বিমানঘাঁটিতে বৈঠক? ওভদা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন থাকায় বৈঠকের স্থানটি বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে। দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে যুদ্ধবিমান দীর্ঘ সময় উড়তে এবং দূরের লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালাতে পারে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারের পরিবর্তে একটি ব্যক্তিগত বিমানে ওভদা বিমানঘাঁটিতে যান। সংবাদমাধ্যমটি বৈঠকটিকে ব্যতিক্রমী দীর্ঘ বলেও উল্লেখ করেছে। তবে বিমানঘাঁটিতে বৈঠক হওয়া কিংবা সেখানে যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকাই নতুন হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ নয়। হেগসেথের এই আকস্মিক ইসরাইল সফর এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে বৈঠকের উদ্দেশ্য ও ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না আসা পর্যন্ত ইরানে নতুন হামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আন্দোলনের সঙ্গে নেপাল ও বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের তুলনা চলে না: অভিজিৎ দিপকে

ভারতে তরুণদের আন্দোলনকে নেপাল ও বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না বলে দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।   কারাবন্দী সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পক্ষে কথা বলেছেন দিপকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁদের শান্ত ও শান্তিপূর্ণ আচরণ কোনো সহিংস প্রতিবাদ নয়; বরং এটি ছিল গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের মতো। তিনি বাইরের দেশের ঘটনাগুলোর দিকে না তাকিয়ে ভারতের বিক্ষোভকারীদের অহিংস মনোভাবের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।   দিপকে বলেন, যাঁরা ক্রমাগত আঙুল তুলে বলছেন, ফ্রান্সে কী ঘটছে তা দেখুন; তাঁদের একটু লজ্জিত হওয়া উচিত এবং ভারতের দিকে তাকানো উচিত। ভারতে সৌরভ দাস ও আশুতোষ মুখে হাসি নিয়ে জেলে গেছেন। অন্যান্য জায়গায় যা ঘটছে, তাঁরা তেমন কিছুই করেননি। এমনকি তাঁরা যখন জেনেছেন যে তাঁদের বেআইনিভাবে কারাবন্দী করা হচ্ছে, তখনও তাঁরা শান্তি ও সম্প্রীতির পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁরা মনে রাগ বা ঘৃণা না পুষে বরং হাসিমুখে কারাগারে প্রবেশ করেছেন।   দেশের ভেতরের বিক্ষোভকে বিদেশে সহিংস আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে মেলানোর তীব্র প্রতিবাদ জানান দিপকে। তিনি কারাবন্দী কর্মীদের আচরণের পার্থক্যটিও তুলে ধরেন।   অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘মানুষ নেপাল বা বাংলাদেশের কথা বলে; কিন্তু আমাদের সহযোদ্ধাদের দিকে তাকান। তাঁরা কারও উসকানিতে পা না দিয়ে হাসিমুখে জেলে গেছেন। তাঁরা গান্ধীর আদর্শ বুকে ধারণ করে চলেছেন—তাঁরা জেলে যাওয়ার পথেও হেসেছেন, আবার আদালতকক্ষের ভেতরেও হেসেছেন। আপনারা তাঁদের মধ্যে ঘৃণা ঢোকাতে পারবেন না; ঘৃণা আসলে আপনাদের ভেতরেই আছে। আর সবাই পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে, আপনাদের এই ঘৃণা আজ দেশটিকে কোন জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে।’   দিপকে বলেন, এই আন্দোলনকারীদের কারাবরণ কোনো বিশৃঙ্খল অভ্যুত্থানের চেষ্টা নয়। বরং এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একধরনের নৈতিক জাগরণ। তিনি বলেন, ‘সরাসরি কোনো তুলনা না টেনেই বলা যায়, মহাত্মা গান্ধী যা করেছিলেন এটি তারই প্রতিফলন। যখন তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছিল, তিনি নীরবে চলে গিয়েছিলেন। কারণ, ওটা ছিল তাঁর সত্যাগ্রহ। আশুতোষ ও সৌরভ ঠিক একই সত্যাগ্রহ পালন করছেন। কারাগারের ভেতরে সেই কষ্ট সহ্য করে তাঁরা এই দেশের বিবেককে জাগিয়ে তুলছেন। তাঁদের মুক্তির জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না।’   ভারতে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো আন্দোলন করছে। এই বিক্ষোভকে ফ্রান্স এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশের সহিংস নাগরিক অস্থিরতার সঙ্গে মেলানোর চেষ্টাকে তীব্রভাবে নাকচ করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটি এই আন্দোলনকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, সাংবিধানিক এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পরিচালিত বলে বর্ণনা করেছে।   ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একটি অভিযোগের পরই কংগ্রেস এই কড়া জবাব দেয়। বিজেপির অভিযোগ ছিল, ‘ভারতবিরোধী একটি চক্র’ বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মতোই ভারতে ‘সরকার পরিবর্তনের’ জন্য পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ড. ইউনূস থেকে ইলন মাস্ক রাবণের পোস্টারে যাঁদের ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে দশেরা উৎসবকে কেন্দ্র করে ‘সনাতন ভারতের বিরোধী রাবণ’ নামে একটি পোস্টার ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পোস্টারটিতে রাবণের দশটি মাথায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কসহ বিভিন্ন দেশের পরিচিত ব্যক্তি ও রাজনীতিকদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।   সনাতন রক্ষা সংগঠন’ নামের একটি সংগঠন পোস্টারটি প্রচার করেছে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাবেক জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের ছবি প্রতীকীভাবে রাবণের দশ মাথায় বসানো হয়।   পোস্টারে যাঁদের ছবি দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের সাবেক বিধায়ক আতিক আহমেদ ও মুক্তার আনসারি, রাজনীতিক আজম খান, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক, বাংলাদেশের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ভারতীয় আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, জর্জ সরোস ও ইলহান ওমর।   মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উত্তর প্রদেশে দশেরা বা ‘রাবণ দহন’ উৎসব উদযাপনের কথা রয়েছে। প্রচলিত এই উৎসবে রাবণের প্রতিকৃতি পোড়ানোর মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীকী বার্তা তুলে ধরা হয়। তবে এবার উৎসবকে সামনে রেখে প্রচারিত পোস্টারটি রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, লক্ষ্ণৌয়ের একটি স্থান থেকে সমাজবাদী পার্টির কর্মীরা ওই ধরনের একটি পোস্টার সরিয়ে ফেলছেন।   পোস্টারে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও আপত্তি উঠেছে। দলটির এক সংসদ সদস্যের দাবি, আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে অখিলেশ যাদবের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে বিজেপি উদ্বিগ্ন। এ কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে এমন প্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   তবে পোস্টারটি তৈরির পেছনে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা কিংবা বিজেপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের ছবি একই পোস্টারে ব্যবহারের ঘটনায় দশেরা উৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহের পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক বিতর্কও আলোচনায় এসেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বার্তা: কাবার ভাইরাল ভিডিওটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশিদের নয়

পবিত্র মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সিঁথি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। গত ১৪ অক্টোবর এ দণ্ড কার্যকরের পর সামাজিকমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।   এতে দেখা যাচ্ছে পবিত্র কাবার হাজরে আসওয়াত বা কালো পাথরের কাছে এক ব্যক্তি এক নারীকে মাথায় ধাক্কা দিচ্ছেন। সামাজিকমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এ দুজন হলেন সেই বাংলাদেশি যাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   তবে এই তথ্য বিভ্রান্তিকর জানিয়ে সৌদির দুই পবিত্র মসজিদ কর্তৃপক্ষের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) একটি পোস্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “ভিডিওটি যে তথ্য দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে এটি মিথ্যা এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো প্রমাণও নয় এটি।”   গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, নজরুল ইসলাম ও সিঁথি আক্তার নামে দুজনের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে মসজিদের ভেতর ‘অনৈতিক’ কাজ করার জন্য। তবে এর বেশি কোনো তথ্য আর তারা জানায়নি।   এমনকি কবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তারা কোন জায়গায় অপরাধ সংঘটিত করেছিলেন সেটিও জানানো হয়নি। যদিও এখন ওই দুই বাংলাদেশি সম্পর্কে তথ্য আসা শুরু হয়েছে।   জানা গেছে, নজরুল ইসলাম তিন বছরের বেশি সময় ধরে জেলে বন্দি ছিলেন। এ সময় সপ্তাহে একদিন তিনি ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে পরিবারকে কোনো তথ্য না জানিয়ে গত ১৪ অক্টোবর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।   সূত্র: খালিজ টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি (এআই দিয়ে নির্মিত)
ফ্রান্সের পর এবার বড় শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র, নেপথ্যে দুই কারণ

প্যারিসের রাজপথে এখন চরম অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে। আয়ের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং লাগামহীন ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া ফ্রান্সের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক দশা ইউরোপজুড়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—ইউরোপের এই সংকটের ধাক্কা কি তবে এবার পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রেও লাগবে? পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঋণের চিত্রও ফ্রান্সের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতি এই মুহূর্তে ফ্রান্সের মতো সরাসরি ধসের মুখে না থাকলেও দুটি বড় কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।   আকাশচুম্বী বাজেট ঘাটতি ও ঋণের পাহাড় ফ্রান্সের মতোই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশাল অংকের ঋণ ও বাজেট ঘাটতির সমস্যায় জর্জরিত। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ এখন ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির বার্ষিক মোট উৎপাদনের প্রায় সমান। এর পাশাপাশি তাদের বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ছাড়িয়ে গেছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট উৎপাদনের ৬ শতাংশের বেশি।    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিশাল ঋণের শুধু সুদ পরিশোধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতি বছর ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করতে হচ্ছে, যা তাদের মোট ফেডারেল বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ, সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে প্রতি সাত ডলার কর আদায় করছে, তার এক ডলারই চলে যাচ্ছে কেবল সুদের পেছনে।    ইউরোপের দেশগুলো এই সংকট মোকাবেলায় কর বৃদ্ধি বা সরকারি ব্যয় কমার মতো কঠোর ও অপ্রিয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু করলেও, মার্কিন রাজনীতিতে এই বিষয়ে তেমন কোনো গুরুতর উদ্যোগ বা সতর্কতা দেখা যাচ্ছে না।   যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও ঋণ সীমার ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থার পেছনে মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য এবং এআই খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বড় ভূমিকা পালন করছে। তবে এই সুরক্ষা কবচ সত্ত্বেও আগামী বছর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে লুকিয়ে আছে এক বিপজ্জনক এক্স ফ্যাক্টর। আগামী বছরই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আইনগত ঋণ সীমা বা ডেট সিলিং আবার পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এই সীমা বাড়াতে হলে নতুন কংগ্রেস এবং হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্টকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক দরকষাকষিতে যদি আইনপ্রণেতারা ঋণ বাড়াতে সম্মত না হন, তবে যুক্তরাষ্ট্র এক কৃত্রিম ও মারাত্মক অর্থনৈতিক খেলাপির মুখে পড়তে পারে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো ও ডলারের জোরে ফ্রান্সের মতো তাৎক্ষণিক বিপর্যয় এড়িয়ে চললেও, লাগামহীন ঋণ এবং আগামী বছরের রাজনৈতিক সংঘাতের এই দুই প্রধান কারণ দেশটির অর্থনীতিকে অদূর ভবিষ্যতে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।   সূত্র: সিএনএন

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬
নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে ফের হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র, কতটা সত্যি?

ইসরায়েলে অঘোষিত সফরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে এই বৈঠকের খবর এসেছে। তবে ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল কেউই বৈঠকটি নিয়ে বিবৃতি দেয়নি।   আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন দেওয়ার পর বৈঠকটি হয়। জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে বলে আভাস মিলছে। বিরোধীদেরও সরকার গঠনে সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ট্রাম্পের সমর্থন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন নেতানিয়াহু।   তবে আল-জাজিরাকে গবেষক সানাম ভাকিল বলেছেন, নির্বাচনে এর প্রভাব অতিরঞ্জিত করা উচিত নয়। নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও ইরান যুদ্ধের ফল নিয়ে ইসরায়েলিরা বিভক্ত। এই সমর্থন তার বিদ্যমান সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, কিন্তু অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন মেটাবে না।   কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগও মনে করেন, ট্রাম্পের সমর্থন ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এক-দুটি আসনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর প্রয়োজনীয় জোটগত সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করে দিতে পারবে না।   বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, ট্রাম্পের সমর্থনে ইরান যুদ্ধ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের শুরুতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই হামলা পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিতে পারে পেন্টাগন।   গবেষক সানাম ভাকিলের মতে, দুই দেশের নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়া ভবিষ্যতে যৌথ সামরিক অভিযানের পথ খুলতে পারে। তবে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার অর্থ নতুন অভিযানে দুই নেতা একমত হয়েছেন—এমন নয়।   এদিকে, সোমবার টু-ওয়ে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে নেওয়ার জন্য আগে নেতানিয়াহুকে দায়ী করা ভ্যান্স বলেছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে তিনি জড়াচ্ছেন না; তার মনোযোগ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটের সামরিক সমাধান সম্ভব নয়: কাতার

সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ, সফর এবং বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম বিন সুলতান আল হাশমি এ কথা জানান।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের একটি টেকসই ও তাৎক্ষণিক সমাধান কেবল সংলাপের মাধ্যমেই সম্ভব, যা এর নিষ্পত্তির একমাত্র পথ। সাপ্তাহিক গণমাধ্যম ব্রিফিং চলাকালে মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক এমন একটি সমাধানে পৌঁছানোর জরুরি প্রয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে চলমান উত্তেজনার ব্যয়ভার থেকে অঞ্চল, বিশ্ব, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহকে রক্ষা করার বিষয়ট আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান হতে পারে না।   তিনি আরও বলেন, প্রচেষ্টা থেমে যায়নি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারকে অবশ্যই আশাবাদী থাকতে হবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ চলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে। হরমুজ প্রণালিতে ইন্টারনেট কেবল লক্ষ্য করে হামলার হুমকির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই পরিচালক জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ইরানের জনগণসহ এই অঞ্চলের জনগণই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, কৌশলগত এই প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণ ঘটলে, জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়লে বা ইন্টারনেট কেবল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কার হয়।   তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সমুদ্রপথ থেকে বিশাল দূরত্বে অবস্থিত এবং উপসাগরের জলরাশি থেকে ইসরায়েল কোনো সুবিধা পায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক এই জলসীমার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং একে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন। তিনি নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। এছাড়াও তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং সেখানে হামলা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সূত্র: গাল্ফ নিউজ।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় নির্বাচনে মুসলিমদের ভোট দেওয়ার আহ্বান প্রেসিডেন্টের

দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ নভেম্বরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মুসলিম ভোটারদের সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা। ভোটের মাধ্যমে এলাকার নেতৃত্ব নির্বাচন, উন্নয়ন ও জনসেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।   দ্য সিটিজেন-এর ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর কেপটাউনের রাইল্যান্ডস এলাকায় ইন্টারন্যাশনাল পিস কলেজ সাউথ আফ্রিকা আয়োজিত ‘মুসলিম ভোটার ও ব্যালট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রামাপোসা। মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ আহ্বান জানান।   রামাপোসা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার সমাজ ও গণতন্ত্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ভোটাধিকার প্রয়োগ নাগরিক অধিকার ও দায়িত্বের অংশ; এর মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজেদের এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশ নিতে পারেন।   তিনি বেকারত্ব, অপরাধ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় জনসেবার মতো বিষয় বিবেচনা করে যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মুসলিম নেতাদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।   ৪ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটাররা পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার পরিচালনার জন্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬
বারবার কেন ছড়ায় কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব নতুন নয়। সম্প্রতি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখা গেছে। এরপরও প্রশ্ন উঠেছে, কেন বারবার এমন গুজব ছড়ায় এবং তা এতটা আলোচনার জন্ম দেয়?   উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রডং সিনমুন প্রকাশিত ছবিতে ৪২ বছর বয়সী কিমকে তার মেয়ে কিম জু আয়ে ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি পোশাক ও জুতা প্রদর্শনী পরিদর্শন করতে দেখা যায়। তবে ছবিগুলো ঠিক কখন তোলা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেন, কিম কোমায় আক্রান্ত হয়ে বেইজিংয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং পরে মারা গেছেন। তার দাবি, উত্তর কোরিয়ার চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা না থাকায় কিমকে চীনে নেওয়া হয়েছিল। পরে তার মরদেহ গোপনে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি।   দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দেশটির সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপকে জানিয়েছেন, কিমের মৃত্যুর গুজবের সমর্থনে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।   উত্তরসূরি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্লেষকদের মতে, কিমের মৃত্যুর গুজব বারবার ফিরে আসার অন্যতম কারণ উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা। দেশটি তিন প্রজন্ম ধরে কিম পরিবারের শাসনে থাকলেও কিম জং উনের পর কে ক্ষমতায় আসবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।   দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, কিম তার মেয়েকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও সামরিক প্রদর্শনীতে মেয়ের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে তার বয়স আনুমানিক ১৩ বছর এবং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে কোনও নারী রাষ্ট্রপ্রধানও হননি।   কিমের বাবা কিম জং ইল ২০০৮ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর কিম জং উনকে দ্রুত ক্ষমতার উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আনা হয়। ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় এলেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে তাকে কয়েক বছর ব্যয় করতে হয়।   গুজবের পেছনে স্বাস্থ্যঝুঁকিও কিমের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তিনি অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী এবং ধূমপায়ী। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা একাধিকবার জানিয়েছে, তার জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিম পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে।   কিমের আকস্মিক মৃত্যু হলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চীনের সীমান্তে শরণার্থী সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকায় বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।   ২০২০ সালেও কিমের হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। সে সময় এক উত্তর কোরীয় পলাতক দাবি করেছিলেন, কিমের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি ‘৯৯ শতাংশ নিশ্চিত’। পরে কিম জনসমক্ষে হাজির হলে সেই দাবি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।   বিশ্বের সবচেয়ে গোপনীয় রাষ্ট্রগুলোর একটি উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। দেশটির নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও সীমিত। ফলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষেও অনেক খবর যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই তথ্যের ঘাটতিই গুজব ছড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।   কিমের মৃত্যুর সাম্প্রতিক দাবিও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রমাণিত নয়। উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা, তার স্বাস্থ্য এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব- সব মিলিয়ে এ ধরনের গুজব বারবার আলোচনায় ফিরে আসে।   সূত্র: বিবিসি

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে দেশটিতে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ সরকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।   ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রয়্যাল এয়ারফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক আকাশ অভিযান পরিচালনা করবে।   গত দুই মাসে হুথি বিদ্রোহীরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং তেল অবকাঠামোতে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সৌদি আরবকে সহায়তা দিতে যুক্তরাজ্য আগে থেকেই আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা বা এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং সহায়তা দিয়ে আসছে। পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ব্রিটিশ সেনাসদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।   ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সৌদিতে পাঠানো টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কাজে ব্যবহৃত হবে। তবে এসব যুদ্ধবিমান দিয়ে ইয়েমেনে কোনো হামলা চালানো হবে না।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। ওই সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়। হামলার সময় সেখানে ইরান থেকে আসা একটি বিমান অবতরণ করছিল। বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় হুথিরা।   এরপর হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরব-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়। সৌদি আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও জানায় তারা। এর পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।   এদিকে, স্থলভাগে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। হুথিরা ইয়েমেনের আরও ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   সূত্র: সিএনএন

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের হয়ে আলোচনায় জেলেনস্কির বিকল্প চান ট্রাম্প

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পরিবর্তে অন্য কাউকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোমবার (১৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কির এখন অন্য কাউকে আলোচনার জন্য বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। এর আগে গত ১০ অক্টোবরও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে জেলেনস্কির সরে দাঁড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।   যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং ইউক্রেনের পক্ষ থেকেই বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।   ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনা হয়। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয়রা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে।   এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলমান থাকা পর্যন্ত ইউক্রেনীয় নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা পেয়েছিল। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইউক্রেনকে সহায়তার নীতি ও পরিমাণ নিয়ে পরিবর্তন আসে। এ সময় ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কেও একাধিকবার উত্তেজনা দেখা গেছে।   এর আগে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে জেলেনস্কির পোশাক ও আচরণ নিয়ে ট্রাম্প এবং তার সহযোগীদের মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।   ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য ইউক্রেনের নেতৃত্ব ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের ৯ দেশে আন্দোলন, নতুন ‘আরব বসন্তের’ শঙ্কা

শিক্ষাসংকট, আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভে নেমেছেন তরুণেরা। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও আলবেনিয়াসহ অন্তত নয়টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদ। কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল ও ধর্মঘটের ঘটনা ঘটছে। এসব আন্দোলনের বিস্তার নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ইউরোপ কি আরেকটি ‘আরব বসন্তের’ দিকে এগোচ্ছে?   বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে ইউরোপেও বাড়ছে জনঅসন্তোষ। প্যারিস, মিলান, মাদ্রিদ ও তিরানার মতো শহরে সরকারের নীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। তবে সব দেশের আন্দোলনের কারণ এক নয়। কোথাও শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগের ঘাটতি ও বাজেট কমানোর প্রতিবাদ, কোথাও আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবার কোথাও বেকারত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ আন্দোলনকে উসকে দিয়েছে।   ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়ায় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসেও শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন।   ইউরোপের অন্তত নয়টি দেশে বিক্ষোভের এই বিস্তার অনেককে মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১০ সালের শেষ দিকে তিউনিসিয়া থেকে শুরু হওয়া ‘আরব বসন্তের’ কথা। সেই আন্দোলন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একাধিক শাসকের পতন ঘটে।   তবে ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি আরব বসন্তের সঙ্গে তুলনা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দুই অঞ্চলের আন্দোলনের মধ্যে কিছু মিল থাকলেও লক্ষ্য ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় পার্থক্য রয়েছে। আরব বসন্তে বহু দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ছিল অন্যতম দাবি। বিপরীতে ইউরোপের বর্তমান বিক্ষোভের বড় অংশের লক্ষ্য প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে ফেলা নয়; বরং সেই ব্যবস্থার মধ্যেই সংস্কার, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।   ফ্রান্সকে ঘিরে প্রতিবাদের বিস্তার ইউরোপের চলমান অস্থিরতার অন্যতম কেন্দ্র ফ্রান্স। গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবরের সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন শহরে কয়েক লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অনেক জায়গায় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিস, মার্সেই ও লিমোজসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া যায়।   ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল আট লাখ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   এই আন্দোলনের সূচনা আরও আগে। গত ২১ সেপ্টেম্বর ক্রেতেই শহরের লিসে সাঁ-একজুপেরি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ ভবন এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপে শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে পাঠ নেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন। পরে তা অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের অসন্তোষ।   ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ঘটনাগুলোকে ‘বেপরোয়া’ বলে অভিহিত করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ফরাসিরা কীভাবে ফ্রান্সের সঙ্গে এমন করতে পারে?’   বিক্ষোভ ঘিরে দেশটিতে অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও জোরালো হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ‘এটি স্কুল নিয়ে নয়, বরং ইসলাম একটি একসময় মহান দেশকে দখল করতে চাইছে।’   ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থি নেত্রী মেরিন লে পেনও কয়েক দশকের অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনকে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন ও নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং প্যারিসের এইচইসি বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক আলবার্তো আলেমান্নো আল জাজিরাকে বলেন, ‘ফ্রান্স এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। এখন এর প্রভাব ফ্রান্সের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।’   তবে তার মতে, বিভিন্ন দেশের বিক্ষোভকে একটিমাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ, দেশভেদে অসন্তোষের কারণ ও দাবিতে পার্থক্য রয়েছে। তারপরও শিক্ষায় অপর্যাপ্ত অর্থায়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলোতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে মিল দেখা যায়।   ইতালি ও বেলজিয়ামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ফ্রান্সের পাশাপাশি ইতালিতেও গত ১৬ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে নামেন। শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, সামরিক ব্যয় এবং সরকারের নীতির প্রতিবাদে তুরিন ও রোমে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল করেন তাঁরা। ফরাসি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কৌশল অনুসরণ করে ইতালির শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয় দখলের পথ বেছে নেন।   ইতালিতে ১৬ অক্টোবরের ‘নো মেলোনি ডে’ বা ‘মেলোনি নয় দিবস’-এর বিক্ষোভে বিদেশি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ভর্তির ওপর প্রস্তাবিত সীমার বিরোধিতা করা হয়। বিক্ষোভকারীদের স্লোগান ছিল, ‘আ স্কুলা নেসুনো এ স্ত্রানিয়েরো’—অর্থাৎ, ‘স্কুলে কেউ বিদেশি নয়’। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিও জানান তারা। ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের নতুন একটি জাতীয় ডিক্রিতে কিছু শ্রেণিকক্ষে অ-ইতালীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশে সীমিত রাখার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করতে একটি ব্যবস্থা চালুর কথাও জানিয়েছেন মেলোনি।   গত ১৭ অক্টোবর মিলানে বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। মুখোশধারী কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে পাথর ও পাথরের চাঁই ছুড়ে মারেন। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।   বেলজিয়ামেও শিক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচন, ফি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। লিয়েজ শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কুইন্টিন কয়েকটি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সেগুলোকে ‘নিছক সহিংসতা’ বলে অভিহিত করেন। ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   আবাসনসংকট: তরুণদের নাগালের বাইরে নিজের ঘর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আন্দোলনে আবাসনসংকট বড় একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য সাশ্রয়ী বাসা খুঁজে পাওয়া কঠিন হচ্ছে। স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসে বাড়িভাড়া, বাসস্থানের অভাব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।   স্পেনে আবাসনসংকট গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ৮৭ বছর বয়সি মারিকারমেন আবাসকালকে তার বাসা থেকে উচ্ছেদের ঘটনার পর সেপ্টেম্বরে প্রতিবাদ জোরালো হয়। প্রকাশিত খবরে বলা হয়, তার বাড়িভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। পরে তার মৃত্যুর ঘটনা উচ্ছেদ ও আবাসনসংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।   মাদ্রিদে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও বিক্ষোভ করেন। একই সময়ে আবাসনের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্দোলনকারীরা আবাসিক সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ তহবিলগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানান।   প্রতিবেশী পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও গত ১৭ অক্টোবর বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। সেখানে বাড়িভাড়া, মজুরি, পেনশন ও অবনতিশীল জনসেবার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা।   এর আগে ১৫ অক্টোবর ভোরে পোর্তোতে আবাসনের দাবিতে গড়ে তোলা একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদী শিবির উচ্ছেদের সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় প্রতিবন্ধী একজন ব্যক্তিসহ ৩৭ জন আহত হন। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।   আবাসনসংকট তরুণদের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ—অর্থাৎ প্রতি চারজনের একজনের বেশি—অতিরিক্ত মানুষের সঙ্গে গাদাগাদি করে বসবাস করতেন।   এই পরিসংখ্যান আবাসনসংকটের পাশাপাশি তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রতিবন্ধকতাও তুলে ধরে। চাকরি পাওয়ার পরও বাড়িভাড়া, দৈনন্দিন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেকের পক্ষে স্বাধীনভাবে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না।   আলবেনিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় আলবেনিয়ায় বিক্ষোভকারীদের রাজনৈতিক দাবি আরও স্পষ্ট। দুর্নীতির অভিযোগ, বেকারত্ব এবং সরকারের প্রতি দীর্ঘদিনের অসন্তোষ সেখানে আন্দোলনের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।   গত ১৭ অক্টোবর রাজধানী তিরানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাইরে হাজারো তরুণ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে এটি ছিল টানা পঞ্চম দিনের ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা পুলিশের দিকে পাথর ছোড়েন। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, স্টান গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে।   কয়েক মাস ধরে জমে থাকা ক্ষোভও এই অস্থিরতার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও বেকারত্বের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিতর্কিত উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।   তবে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এদি রামা। তার অভিযোগ, বিরোধীরা অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।   জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও গ্রিসেও প্রতিবাদ ইউরোপে তরুণদের বিক্ষোভের বিস্তার কেবল সংঘর্ষের খবর পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও গ্রিসেও শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তবে এসব দেশে আন্দোলনের মাত্রা ও তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম।   গত ১৬ অক্টোবর জার্মানির বার্লিনে আন্দ্রেয়াস-গিমনাজিয়ামের প্রবেশপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার প্রস্তুতি এবং শিক্ষা খাতে আরও বিনিয়োগের দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতিও জানান তারা।   অস্ট্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট কমানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত দুরবস্থার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হচ্ছেন।   গ্রিসে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের কেন্দ্রে রয়েছে আবাসন ব্যয়, বাসস্থানের সংকট, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনসংকট ও শিক্ষানীতি নিয়ে আন্দোলনের পাশাপাশি ক্লাস বর্জনের ডাকও দেওয়া হয়েছে।   অধ্যাপক আলবার্তো আলেমান্নো আল জাজিরাকে বলেন, গ্রিসে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছেন, জার্মানিতেও তারা সংগঠিত হচ্ছেন। অস্ট্রিয়ায়ও আন্দোলনের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং পরবর্তী সপ্তাহে আরও সংগঠিত কর্মসূচি হতে পারে।   আরব বসন্তের সঙ্গে কতটা মিল? ইউরোপের বর্তমান অস্থিরতাকে আরব বসন্তের সঙ্গে তুলনা করার পেছনে রয়েছে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষের মতো কয়েকটি বিষয়।   কুয়েতি বংশোদ্ভূত মার্কিন সাংবাদিক আহমেদ এলদিন তার সাবস্ট্যাক প্রবন্ধ ‘ইউরোপস আরব স্প্রিং’-এ ইউরোপের বিক্ষোভের সঙ্গে ২০১১ সালের আরব বসন্তের তুলনা করেছেন। তার মতে, অর্থনৈতিক দুর্দশা, বৈষম্য এবং রাজনৈতিক অভিজাতদের প্রতি তরুণদের ক্ষোভ দুই আন্দোলনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য তৈরি করেছে।   তিনি সতর্ক করে লিখেছেন, ‘ইউরোপের সরকারগুলোর কাছে বিদ্রোহ দমন করার জন্য ট্যাংকের চেয়ে নীরব পদ্ধতি রয়েছে।’   আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী করার প্রসঙ্গে তিনি আরও লিখেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে পুলিশের চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার কৌশল শিখেছে। কিন্তু রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি সময় ধরে টিকে থাকতে হলে তাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে।’   মার্কিন বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা হ্যারি হ্যালপিনও ইউরোপের পরিস্থিতিকে বিশ্বজুড়ে তরুণদের ক্ষোভের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, নেপাল থেকে ইউরোপ পর্যন্ত জেন-জির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেওয়া দুর্নীতিগ্রস্ত অভিজাতদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিক্ষোভ অনিবার্য।   ব্রিটিশ পডকাস্টার পিটার ম্যাককরম্যাকও মন্তব্য করেছেন, ‘ইউরোপ নিজেদের আরব বসন্তের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’ তার মতে, কয়েক দশকের মূল্যস্ফীতি, সম্পদ কুক্ষিগত করা এবং আমলাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।   তবে এসব বক্তব্য পর্যবেক্ষক ও ভাষ্যকারদের নিজস্ব মূল্যায়ন। এগুলো থেকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই যে ইউরোপের সব দেশের আন্দোলন একই লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।   ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন তরুণ প্রজন্ম বর্তমান আন্দোলনের পেছনে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও বড় ভূমিকা রাখছে। শিক্ষা শেষ করে ভালো চাকরি পাওয়া, নিজের সামর্থ্যে বাসা ভাড়া করা কিংবা আগের প্রজন্মের তুলনায় উন্নত জীবন গড়ার প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন অনেকে।   নেদারল্যান্ডসভিত্তিক টিইউআই ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত এক গবেষণায় ইউরোপের সাতটি দেশের ৮ হাজার ২৪ জন তরুণের মতামত নেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৫২ শতাংশ আশঙ্কা করছেন, তাদের প্রজন্মের জীবনযাত্রার মান বাবা-মায়ের প্রজন্মের চেয়ে খারাপ হবে। বিপরীতে, মাত্র ২৫ শতাংশ মনে করেন, তারা বাবা-মায়ের চেয়ে ভালো জীবন পাবেন।   এই ফলাফল তরুণদের মধ্যে জমে থাকা হতাশার একটি চিত্র তুলে ধরে। তাদের অনেকের কাছে ভবিষ্যৎ আর নিশ্চিত উন্নতির প্রতিশ্রুতি নয়; বরং ব্যয়বহুল জীবন, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান ও সীমিত সুযোগের বাস্তবতা।   এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা ও আবাসনের মতো মৌলিক বিষয়ে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। তরুণদের একটি অংশের ধারণা, প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা তাদের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারছে না।   আরব বসন্তের পুনরাবৃত্তি, নাকি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি? ইউরোপের বর্তমান বিক্ষোভের সঙ্গে আরব বসন্তের কিছু সাদৃশ্য রয়েছে। তরুণদের ক্ষোভ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা—দুই ক্ষেত্রেই এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত সংগঠিত হওয়া এবং এক দেশের আন্দোলন থেকে অন্য দেশের তরুণদের অনুপ্রাণিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   তবে পার্থক্যও কম নয়। ২০১১ সালের আরব বসন্তে তিউনিসিয়া, মিসরসহ বিভিন্ন দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। কয়েকটি দেশে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শাসকদের পতন ঘটে। অন্যদিকে ইউরোপের অধিকাংশ দেশে নির্বাচনী রাজনীতি, বিরোধী দল, আদালত ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে।   এ কারণে ইউরোপের বিক্ষোভকারীদের বড় অংশের দাবি পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা নয়; বরং সরকারি নীতির পরিবর্তন, দুর্নীতির জবাবদিহি, শিক্ষা ও আবাসনে বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।   তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান থাকলেই মানুষের অসন্তোষ দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তরুণেরা যদি দেখেন জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, কর্মসংস্থান অনিশ্চিত থাকছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না, তাহলে ক্ষোভ আরও তীব্র হতে পারে।   এ অবস্থায় ইউরোপের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে আন্দোলনের পেছনে থাকা বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান করা। এসব সংকট মোকাবিলায় সরকারগুলো কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে বর্তমান বিক্ষোভের ভবিষ্যৎ গতিপথ।   তথ্যসূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে চীনা নাগরিকের বাড়িতে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৪ পুলিশ সদস্য

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক চীনা নাগরিকের বাসায় ডাকাতির অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া ২ কোটি পাকিস্তানি রুপি উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১৮ অক্টোবর) কোহসার থানা এলাকার একটি বাসায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্য ইসলামাবাদ পুলিশের বিভিন্ন জোনে কর্মরত ছিলেন।   তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (এসএইচও) তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করে।   মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ওই বাড়িতে দুই চীনা নাগরিক বসবাস করেন। স্থানীয় সময় রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তি বাড়িটিতে প্রবেশ করে গৃহকর্মীদের থাকার জায়গায় যান।   তিনি দিনের বেলার জন্য নিযুক্ত একজন নিরাপত্তা রক্ষীকে ও একজন চালককে ঘুম থেকে জাগিয়ে বাইরে নিয়ে যান। বাইরে পুলিশে একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল আর সেটিতে পুলিশের ঘূর্ণায়মান বাতিও ছিল। গাড়িতে চারজন মানুষ সশস্ত্র অবস্থায় বসে ছিলেন, তাদের মধ্যে তিনজনের গায়ে পুলিশের ইউনিফর্ম ছিল।   এরপর তারা ওই রক্ষী ও চালককে গাড়িতে তুলে গাড়িসহ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর বন্দুকধারীরা একটি জানালা দিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে দুই চীনা নাগরিককে বন্দুকের মুখে আটকে ফেলেন। তারা বিদেশীদের ও তাদের দুই ভৃত্যকে ড্রয়িং রুমে আটকে রাখেন আর ২০ লাখ রুপি লুট করেন।   অপর নিরাপত্তা রক্ষী ডাকাতদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে ও প্রথম ডাকাতকে ভেতরে আসতে গেট খুলে দিয়েছিল বলে সন্দেহ করেন প্রথম নিরাপত্তা রক্ষী।   উদ্ধার করা ২ কোটি রুপি ডাকাতির সময় লুট হওয়া অর্থের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় পুলিশি জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।   এদিকে ইসলামাবাদ পুলিশ রাজধানীতে অপরাধ দমনে বৃহত্তর অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। পুলিশের ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই সপ্তাহের অভিযানে ৭৬৮ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ২১ কোটি ৭৫ লাখ পাকিস্তানি রুপির বেশি মূল্যের চোরাই সম্পদ উদ্ধার করা হয়।   এ ছাড়া ডাকাতি, ছিনতাই, বাসাবাড়িতে চুরি ও যানবাহন চুরির সঙ্গে জড়িত ৩৩টি অপরাধী চক্রের কথিত ৮৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসলামাবাদ পুলিশ। তবে সর্বশেষ ঘটনায় বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই অপরাধের অভিযোগ ওঠায় অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি এবং স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।   সূত্র : ডন

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   ফার্সের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ড্রোনটি প্রতিহত ও ধ্বংস করে আইআরজিসি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪তম এমকিউ-৯ ড্রোন, যা তারা ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।   মার্কিন এমকিউ-৯ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক এবং ভারী সশস্ত্র ড্রোন। জেনারেল অ্যাটমিকস অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমস কর্তৃক নির্মিত এই ড্রোনটি মূলত নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট স্থানে নিখুঁত হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।   এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো, ড্রোনটি একটানা প্রায় ২৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ৫০,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে পারে। ড্রোনটিতে হেলফায়ার মিসাইল এবং লেজার-গাইডেড বোমার মতো মারাত্মক অস্ত্র বহন করা যায়। একটি এমকিউ-৯ ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ থেকে ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা)।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। একই সময়ে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। পরে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন।   পরবর্তী সময়ে জুনে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।   সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
ফাইল ছবি
হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের ১২ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির ১২টি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   গতকাল সোমবার ইসরায়েল, সৌদি আরব, ইরাক, লেবানন, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে আঞ্চলিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে আকাশপথ বন্ধ হওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং যাতায়াতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত দ্রুত আশপাশের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি রাখতে মার্কিন নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে হামলার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।   এদিকে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল হিসেবে উল্লেখ করেছে। দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটার পাশাপাশি যাতায়াতেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।   অন্যদিকে, গত রোববার কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সরকারি সতর্কবার্তা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভ ও বড় ধরনের জমায়েত এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।   আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। কাতার এয়ারওয়েজ গত সোমবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামে তাদের ফ্লাইট ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া জেদ্দায় প্রতিদিনের ফ্লাইটের সংখ্যা সাতটি থেকে কমিয়ে চারটিতে নামানো হবে। সূত্র : ইউরোনিউজ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
মক্কা চুক্তিতে ইরানের যোগদানের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে রাশিয়া: লাভরভ

ইরান যদি মনে করে যে মক্কা চুক্তিতে যোগদান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে, তাহলে তেহরানের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে মস্কো। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এ কথা বলেন। খবর তাসের।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লাভরভ বলেন, ইরানের নেতৃত্ব যদি কোনো পর্যায়ে মনে করে, এই জোটের সঙ্গে যোগাযোগ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনভাবে উন্নয়নের পথ এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে, তাহলে রাশিয়া তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবে।   লাভরভ বলেন, মক্কা চুক্তি গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল রাশিয়া। এই জোটের ঘোষিত লক্ষ্য হলো স্থিতিশীলতা অর্জন, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সহযোগিতা বাড়ানো; এমন ধারণার ভিত্তিতেই মস্কো বিষয়টি বিবেচনা করে।   তিনি আরও বলেন, আরব রাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশ ও অঞ্চল এই ত্রয়ী জোটের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এর কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   এর আগে তিনি বলেন ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ চুক্তি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসবে না রাশিয়া। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলো কার্যকর করার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন এই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।   তিনি বলেন, ‘বারবার উল্লেখ করা কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ চুক্তি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার কোনো ইচ্ছা রাশিয়ার নেই।’   সূত্র : তাস

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
নির্বাচনের আগে চাপে নেতানিয়াহু, জরিপে এগিয়ে বিরোধী নেতা আইজেনকট

ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর চেয়ে সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী রাজনীতিক গাদি আইজেনকটকে বেশি যোগ্য মনে করছেন দেশটির নাগরিকেরা। একই সঙ্গে নির্বাচনে আইজেনকটের দল ইয়াশার পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে জরিপ।   বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত চ্যানেল টুয়েলভের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটের প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর চেয়ে ১২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।   জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশি উপযুক্ত মনে করেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা। এর আগে প্রকাশিত জরিপে দুই নেতার মধ্যে ব্যবধান ছিল ১০ শতাংশ পয়েন্ট। নতুন জরিপে সেই ব্যবধান বেড়ে ১২ শতাংশ পয়েন্টে পৌঁছেছে।   নির্বাচনের আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি থাকতে প্রকাশিত এই জরিপে পার্লামেন্টের আসন বণ্টন নিয়েও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে আইজেনকটের দল ইয়াশার সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে এতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   জরিপের হিসাব অনুযায়ী, ইয়াশার পেতে পারে ২৪টি আসন। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির আসনসংখ্যা হতে পারে ২১। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল টুগেদার পেতে পারে ১৪টি আসন। এ ছাড়া ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস এবং আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট—উভয় দলই পেতে পারে ৯টি করে আসন।   অন্যদিকে আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের দল শাস এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার পার্টি আটটি করে আসন পেতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জরিপে আরও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর বিরোধী ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৫৫টি আসন পেতে পারে। আগের জরিপের তুলনায় এই সংখ্যা দুই আসন বেশি। বিপরীতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৫১টি।   এছাড়া আরব দল দুটি মিলিয়ে আরও ১৪টি আসন পেতে পারে। সে হিসাবে নেতানিয়াহুর জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর মোট আসন দাঁড়াতে পারে ৬৯টিতে। তবে এসব দলকে নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো সরকার গঠনের জোট তৈরি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে জরিপের আরেকটি প্রশ্নেও নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। উত্তরদাতাদের ৩৯ শতাংশ বেনেটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশি উপযুক্ত মনে করেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ। আর ২২ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, তাদের কেউই প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য উপযুক্ত নন।   নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর ভোটে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও জরিপে জানতে চাওয়া হয়। এতে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না।   অন্যদিকে, ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে লিকুদ পার্টিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা তাদের কমেছে। বিপরীতে ১২ শতাংশ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর দলের প্রতি তাদের সমর্থন আরও বাড়িয়েছে।   এর আগে গত রোববার নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান ট্রাম্প। এ সময় তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
প্যারিস মুসলিমদের শহর হয়ে উঠবে, দাবি ট্রাম্পের

ফ্রান্সে চলমান সহিংসতা ও দাঙ্গার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইউরোপীয় এই নেতা যদি অভিবাসন বিষয়ে তার পরামর্শ শুনতেন, তবে এই বিশৃঙ্খলা এড়ানো যেত।   হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, প্যারিস খুব দ্রুতই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।   তিনি অভিযোগ করেন, অভিবাসীদের লাগামহীন প্রবেশের কারণে ফরাসি রাজধানীর জনমিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।   ম্যাক্রোঁকে নিজের বন্ধু উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, আমি অনেক আগেই তাকে বলেছিলাম, আপনি ফ্রান্সে একটি বড় ভুল করছেন। আপনি বিশ্বের সব স্থান থেকে মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন। পুরো বিশ্বই যেন সেখানে চলে আসছিল। এবং আপনারা যেমনটা দেখছেন, প্যারিস খুব দ্রুতই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা কাম্য ছিল না।   ফ্রান্সে কয়েক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষকসংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবনতিশীল অবকাঠামো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অস্বচ্ছ পদ্ধতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। তাদের দাবির মধ্যে ছিল পণ্যমূল্য কমানো, পেনশন বৃদ্ধি ও মজুরি বাড়ানো।   জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক নানা অসন্তোষের কারণে বিক্ষোভের পরিধি আরও বাড়তে থাকে। শনিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও বিভিন্ন স্থানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে একটি ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে পুড়ে যায় এবং ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে রাতের বেলায় কারফিউ জারি করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে প্যারিসের কিছু এলাকাও রয়েছে।   সূত্র: আল- জাজিরা, ইন্ডিয়া টুডে, সিএনএন  

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
ফাইল ছবি
ডেমোক্র্যাটরা জিতলে যুক্তরাষ্ট্রেও ফ্রান্সের মতো সহিংসতা হতে পারে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে জয়ী হলে দেশটিতে ফ্রান্সের মতো সহিংস অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার কানসাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি ট্রাম্প। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের পক্ষে প্রচার চালাতে কানসাসে যান ট্রাম্প। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই আসনে এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সঙ্গে মার্শালের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রক্ষণশীল রাজ্যগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এসব রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীরা চাপে রয়েছেন। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘কানসাস, আমি তোমাদের ভালোবাসি। তবে আমি এখানে রজার মার্শাল নামের একজনের জন্য এসেছি।’ ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবায় অর্থের ঘাটতি নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। পরে এসব বিক্ষোভের কিছু অংশ দাঙ্গা ও লুটপাটে রূপ নেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রেও পণ্য ও পরিষেবার দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। সমাবেশে অভিবাসী ও মুসলমানদের নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে তিনটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারেও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশে এমনটা ঘটতে দেব না। ফ্রান্সে যখন গির্জার চূড়ায় আগুন জ্বলতে এবং চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পাবে, তখন মনে রেখো, কট্টর ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকার সঙ্গে এমনটাই করতে চায়।’   ডেমোক্র্যাটদের বিদ্রূপ করতে ট্রাম্প ‘ডুমোক্র্যাটস’ শব্দটি ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, অভিবাসী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তার বক্তব্যের সমালোচনা করে আসছেন অধিকারকর্মীরা। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ ধরনের মন্তব্য বৈষম্যমূলক মনোভাবকে উৎসাহিত করতে পারে।   ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কানসাসে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। গত ৯৪ বছরে এই রাজ্য থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হননি। তবে এবার রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। তার প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন একটি বড় মেথডিস্ট গির্জার যাজক।   ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরোধিতা করেছেন হ্যামিলটন। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বকে ‘খামখেয়ালি’ বলে সমালোচনা করেছেন। হ্যামিলটনকে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘শ্বেতাঙ্গ হয়ে জন্মানোর জন্য তিনি চান আপনারা অনুতপ্ত হন।’   সমাবেশে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলোও সামনে আনেন সিনেটর মার্শাল। ‘কট্টর ইসলামের’ বিস্তার ঠেকানোর দাবি জানান তিনি। সমকামীদের অধিকার ও গর্বের মিছিলের প্রতি সমর্থন দেওয়ায় হ্যামিলটনকে কানসাসের জন্য ‘অতিরিক্ত উদারপন্থী’ বলেও মন্তব্য করেন মার্শাল। এ সময় সমাবেশে উপস্থিত লোকজন দুয়োধ্বনি দেন।   মার্শাল বলেন, ‘আমাদের এমন একজনকে দরকার, যিনি গরু ও ষাঁড় সামলাতে পারেন।’ এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হ্যামিলটনের নির্বাচনী প্রচারশিবির তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   সোমবার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে হ্যামিলটন ট্রাম্পকে কানসাসে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সমর্থকেরাও তার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারেন। যেসব বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান তিনি। তবে ওয়াশিংটনের নীতির কারণে কৃষক ও গ্রামীণ এলাকার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হলে কানসাসের মানুষের পক্ষে অবস্থান নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন হ্যামিলটন।   আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা রিপাবলিকানদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চাইছে দলটি। এ লক্ষ্যে ট্রাম্প টানা ৩২ দিন ধরে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেসব এলাকায় তিনি বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন, সেসব এলাকায় বারবার যাচ্ছেন তিনি।   ট্রাম্পের নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে অবগত এক রিপাবলিকান নেতার ভাষ্য, গ্রামীণ এলাকায় ট্রাম্পের বাড়তি মনোযোগের পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ জনমত জরিপের ফল রয়েছে। ওই জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ অঞ্চলে ৫৫ বছর বা তার কম বয়সী পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার জয়ে এই ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।   সোমবার প্রকাশিত রয়টার্স ও ইপসোসের জনমত জরিপেও ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। বর্তমান মেয়াদে এটিই তার সর্বনিম্ন সমর্থনের হার।   প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিটি কক্ষে নিট চারটি করে আসন বাড়াতে হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি।   কানসাসের উইচিটা শহরের কাছে পার্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে যোগ দিতে অনেককে আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক ১৩৫ পেরিয়ে এক মাইলেরও বেশি পথ হেঁটে যেতে হয়। সমাবেশস্থলের কাছে একটি জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্রের সাইনবোর্ডে পেট্রল ও ডিজেলের দাম দেখানো হচ্ছিল। সেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ছিল ৩ ডলার ৯৮ সেন্ট এবং ডিজেলের দাম ৫ ডলার ৭৮ সেন্ট।   ভ্রমণবিষয়ক সংস্থা এএএর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় কানসাসে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের মধ্যেও অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।   কানসাসের হাচিনসন এলাকার ৫৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান ভোটার মনিক মুলেন প্রতিবন্ধী ভাতা পান এবং তার বাবার দেখাশোনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিবন্ধী ভাতা পাই। আমার হাতে খুব বেশি টাকা নেই। কিন্তু মনে হচ্ছে, জিনিসপত্রের দাম এখনো বাড়ছে। এসব দাম কমানো দরকার। খাবার জোগাড় করতে এখন মনে হয় যেন খুঁজে খুঁজে শিকার করতে হচ্ছে।’   সমাবেশস্থলের কাছে অল্প কয়েকজন বিক্ষোভকারীও জড়ো হন। তাদের একজন কানসাসের হালস্টেড এলাকার বাসিন্দা জেমস নাইটিঙ্গেল। তিনি নিজেকে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন।   নাইটিঙ্গেলের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন তার এলাকার কৃষি অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কানসাসের একজন কৃষক। ট্রাম্প প্রশাসন আমার এলাকার কৃষি অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তার শুল্কনীতির কারণে শস্য বিক্রির বাজার শুধু ধ্বংসই হয়নি, এখন তিনি দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা গরুর মাংসও নিয়ে আসছেন। “সবার আগে আমেরিকা” নীতির কী হলো?’   কানসাসে দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়েও ভোট দেওয়ার নজির রয়েছে। রাজ্যটির ভোটাররা টানা দুই মেয়াদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী লরা কেলিকে গভর্নর নির্বাচিত করেছেন। টোয়ান্ডা এলাকার ট্রাম্প-সমর্থক জিনা সিম্যান বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এখানে নির্বাচনে জয়ী হওয়া কখনোই সহজ।’   তার মতে, অতীতে রিপাবলিকান প্রার্থীরা অনেক সময় নিজেদের জনপ্রিয়তাকে নিশ্চিত ধরে নিয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

প্রতীকী ছবি
প্রবাসী

কম্বোডিয়া থেকে ১৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইটের আহ্বান

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬