ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কয়েকটি ছোট নৌযানও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের রাতেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি আরব দেশে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এদিকে হামলার আগে ইরানের দুটি সংবাদ সংস্থা জানায়, বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস এবং হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে কেশম দ্বীপের গভর্নর হোসেইন আমির জানান, শত্রুপক্ষের ছোড়া ১০ থেকে ১১টি সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র দ্বীপে আঘাত হেনেছে। তার দাবি, হামলাগুলো কেবল সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সাম্প্রতিক এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কর্ণাটকের পরিবহনমন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে বাসে ভ্রমণ করতে গিয়ে নিজেই গণপরিবহনের নিত্যদিনের ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছেন। ভাড়ার জন্য ১০০ রুপির নোট দেওয়ায় এবং কন্ডাক্টরের কাছে ভাঙতি না থাকায় তাকে বাস থেকে নেমে যেতে বলা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শনিবার রাতে বেঙ্গালুরুর হেব্বাল থেকে নাগাশেট্টিহাল্লি রুটের একটি বিএমটিসি (Bangalore Metropolitan Transport Corporation) বাসে মাস্ক পরে সাধারণ যাত্রীর মতো ওঠেন মন্ত্রী। তিনি দুটি টিকিট চাইলে ভাড়া হিসেবে ১০০ রুপির একটি নোট দেন। কন্ডাক্টর সঠিক ভাঙতি চাইলে মন্ত্রী জানান, তার কাছে খুচরা টাকা নেই। কন্ডাক্টরও নিজের টাকার ব্যাগ দেখিয়ে জানান, তার কাছেও পর্যাপ্ত ভাঙতি নেই। তাই সঠিক ভাড়া দিতে না পারলে বাস থেকে নেমে যেতে হবে। মুখে মাস্ক থাকায় কন্ডাক্টর বুঝতেই পারেননি যে তিনি রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী। কোনো ধরনের পরিচয় না দিয়ে বা তর্কে না জড়িয়ে মন্ত্রী শান্তভাবে বাস থেকে নেমে যান। প্রায় দুই ঘণ্টার এই আকস্মিক পরিদর্শনে বাইরাথি সুরেশ বেঙ্গালুরুর জয়মহল, টিভি টাওয়ার, আরটি নগর, সিবিআই রোড, হেব্বাল, মান্যতা টেক পার্ক, নাগাওয়ারা, হেন্নুর, হেন্নুর বান্দে, বাইরাথি বান্দে ও গেদ্দালাহল্লিসহ বিভিন্ন রুটে বাসে ভ্রমণ করেন। এছাড়া নাগাশেট্টিহাল্লি এলাকায় কিছু দূর অটোরিকশায়ও যাতায়াত করে যাত্রীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণ করেন।
যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করে ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে কিনা, এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় ৫ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান অস্ত্রের ভান্ডারে টান পড়েছে। বর্তমান হারে ইরানে হামলা চলতে থাকলে অস্ত্রের মজুত সঙ্কট আরও তীব্র হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ৩ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি এলে তা মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’র (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে যেভাবে যুদ্ধ চলছে, তা যদি এই হারেই চলতে থাকে, তবে এটি অস্ত্রের মজুত এতটাই কমিয়ে দেবে যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঝুঁকির একটি নতুন ও উচ্চতর স্তর তৈরি হবে।’ ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন থিংক ট্যাংকের পররাষ্ট্রনীতি গবেষণা প্রধান মাইকেল ও'হানলন বলেছেন, ‘অস্ত্রের মজুত যে আমাদের পছন্দের চেয়ে কম রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার হামলা এবং শত্রুর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিন্তু সে তুলনায় নতুন অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়নি। সিএসআইএস’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ যখন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়; ততদিনে পেন্টাগন তাদের থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পুনরায় মজুতকরণের হার খুবই ধীর। চলতি অর্থবছরের সরবরাহ সূচি অনুযায়ী, পেন্টাগন প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। ২০২৬ সালে কোনো থাড সরবরাহের পূর্বাভাস নেই। সিএসআইএস-এর ধারণা, মার্কিন অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের স্তরে ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তার বেশি সময় লাগবে। পেন্টাগনের সাবেক ডেপুটি এবং অ্যাক্টিং কমপ্ট্রোলার, বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এলেন ম্যাককাস্কার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রের পুনরায় মজুত করার সময়কাল বছর দিয়ে হিসাব করতে হবে, অধিকাংশের জন্য দুই থেকে পাঁচ বছর। সঙ্কট শুধু মজুতে নয়, নতুন করে অস্ত্র তৈরিতে অর্থ পেতেও সমস্যায় পড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবসরপ্রাপ্ত দুই তারকা জেনারেল জন ফেরারি, যিনি বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্ত, তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য কংগ্রেস একটি ডলারও বাড়তি বরাদ্দ দেয়নি। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি দ্রুত সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে ট্রাম্প জুনে ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করেন এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের জন্য নির্মাতাদের সাথে চুক্তি করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার মধ্যে জার্মানি এবং ইউক্রেনের মতো অন্যান্য দেশগুলোকে অভ্যন্তরীণভাবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চুক্তি দেওয়া হলে তা মার্কিন উৎপাদন লাইনের ওপর চাপ কমাতে পারে। তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাকে কথা বলার সময় ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের জন্য এই লাইসেন্সের ঘোষণা দেন। মোদ্দা কথা, অস্ত্রের মজুত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্ভাব্য সব উৎস ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা হলো যত চুক্তিই হোক বা অনুমতি দেওয়া হোক, রাতারাতি অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সময় লাগে। জাপানে প্যাট্রিয়ট কারখানা তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। ২০২২ সালে উৎপাদন লাইনের কাজ শুরু করার পরও জার্মানি এখনো একটিও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারেনি। যুদ্ধবিরতি মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধের তীব্রতা অস্ত্রের মজুতের বিষয়টি আবার আলোচনায় এনেছে। অস্ত্রের মজুদের যে অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী হুমকির সাথে তাল মিলিয়ে কতদিন বর্তমান তীব্রতায় হামলায় অব্যাহত রাখতে পারেবে, তা নিয়েই শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
বিশ্বের দুই চিরবৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক প্রতিযোগিতা কমার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যার ইঙ্গিত মিলেছে চীনের জিনজিয়াংয়ের প্রত্যন্ত মরুভূমির রুওকিয়াং পরীক্ষা কেন্দ্রে মার্কিন ‘আর্লেই বার্ক’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারের একটি পূর্ণাঙ্গ ও অবিকল রেপ্লিকা তৈরিতে। নতুন উপগ্রহ চিত্রে এই দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপগ্রহ চিত্রে ৬ মিটার চওড়া একটি রেল ট্রাক দেখা গেছে; যার ওপর একটি যুদ্ধজাহাজের আকারের লক্ষ্যবস্তু স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা নির্ভুল করতে একটি চলন্ত সামুদ্রিক জাহাজের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এটি। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ইনস্টিটিউট বলছে, এই জটিল পরীক্ষা কেন্দ্রটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করে আসছে বেইজিং। সামরিক খাতের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিষ্ঠান আলসোর্স অ্যানালাইসিস বলছে, কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সম্ভাব্য এই রেপ্লিকা এবং রেললাইনের ওপর বসানো চলন্ত অন্যান্য কাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও তা অর্জনের সক্ষমতা পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সব যুদ্ধজাহাজের ওপর ও চারপাশে একাধিক সেন্সর বসানোসহ রেপ্লিকাগুলোর অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত বিবরণ দেখে ওই অঞ্চলটি দীর্ঘ সময় ধরে বহুমুখী উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুলিপিটি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা অনুশীলন এবং সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য কোনও সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা জোরদার করার যে ব্যাপক প্রচেষ্টা বেইজিং চালাচ্ছে, এটি তারই অংশ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক বলছে, আর্লেই বার্ক-শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এটি বিমানবাহী রণতরীগুলোর নিরাপত্তায় এসকর্ট, বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার এবং দূরপাল্লার হামলা পরিচালনা করে থাকে। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময়ও এসব রণতরীর এই ধরনের ব্যবহার দেখা গেছে। জাপানে নিয়োজিত মার্কিন সপ্তম নৌবহরের অধীনে থাকা ‘ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রন ১৫’র বহরে এ ধরনের ১০টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে; যা এই শ্রেণির বৃহত্তম ইউনিট। এই স্কোয়াড্রনের সব জাহাজ প্রশান্ত মহাসাগরে অভিযান পরিচালনার সময় নিয়মিতই চীনা নৌবাহিনীর মুখোমুখি হয়। মরুভূমিতে এই রেপ্লিকা তৈরির ঘটনাটিকে বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, বেইজিং অদূর ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যুদ্ধ বা সংঘাতের আশঙ্কাকে বেশ জোরালোভাবে বিবেচনা করছে। চীন যদি এই ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মোতায়েন করা সামরিক বাহিনীতে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সফলভাবে যুক্ত করতে পারে, তাহলে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।
ইরানবিরোধী ক্রমবর্ধমান বক্তব্য এবং ইরানে হামলার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি কি কেবল ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে একটি কূটনৈতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ? ট্রাম্পের এই উপস্থিতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে একটি নতুন সমন্বয় বা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বহন করে। এই পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তি হলো এমন ধারণা যে প্রত্যক্ষ সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ ইরানের ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দিলেও দেশটির আচরণ, ক্ষমতার কাঠামো বা কৌশলগত অভিমুখে পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন ধীরে ধীরে সরাসরি চাপ প্রয়োগের নীতি থেকে সরে এসে একটি ‘হাইব্রিড’ ও বহুস্তরবিশিষ্ট কৌশল গ্রহণ করছে। এই কৌশলে অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টি, ইরানের চারপাশের ভূরাজনৈতিক পরিবেশকে পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সীমানার বাইরের জোট গঠন এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুকে পুনর্বিন্যাস—সবকিছুকে একটি সমন্বিত কৌশলগত কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের মূল যুক্তি হলো, ইরানকে একটি বড় ও চূড়ান্ত আঘাতের মাধ্যমে নয়; বরং একাধিক স্তরে একই সঙ্গে ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণু চাপ সৃষ্টি করে দুর্বল করতে হবে। লক্ষ্য শুধু ইরানের ওপর বাহ্যিক ব্যয় বাড়ানো নয়; বরং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই সময়ে অভ্যন্তরীণ, সীমান্তবর্তী ও আঞ্চলিক নানা ধরনের চাপ মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতার বড় অংশ ব্যয় করতে হয়। অন্যভাবে বললে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল হলো—ইরানের ভেতরে, তার ভূরাজনৈতিক প্রান্তসীমায় এবং আঞ্চলিক মিত্রদের নেটওয়ার্কজুড়ে একই সময়ে চাপ সৃষ্টি করা। দেশীয় পর্যায়ে এই কৌশল হলো সামাজিক চাপ বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে জনগণের সহনশীলতা ক্ষয় করার ওপর নির্ভরশীল। এর উদ্দেশ্য শুধু সময়–সময় জন–অসন্তোষ বা তীব্র সংকট সৃষ্টি করা নয়; বরং জ্বালানি, পানি, পরিবহন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে শাসন পরিচালনার ব্যয় বাড়িয়ে তোলা। নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে এই চাপ যুক্ত হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার একটি অংশ বৃহত্তর কৌশলগত অগ্রাধিকার থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ সংকট সামাল দিতেই ব্যয় হবে। তবে এই কৌশলের অংশটি ইরানের চারপাশের পরিবেশে পরিবর্তন না আনলে পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমনভাবে আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে পুনর্বিন্যাস করতে চায়, যাতে তেহরানকে একই সঙ্গে একাধিক প্রান্তিক ফ্রন্টে ব্যস্ত থাকতে হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের গুরুত্ব একটি সাধারণ বৈঠকের চেয়ে অনেক দূর ছাড়িয়ে যায়। এটি শুধু ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার মঞ্চ নয়; বরং ইরান ইস্যুকে পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্ল্যাটফর্ম। যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সংক্রান্ত বিষয়টিকে একটি দ্বিপক্ষীয় বিরোধের সীমা ছাড়িয়ে সমগ্র পশ্চিমা জোটের যৌথ উদ্বেগে পরিণত করতে চায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যাটো শুধু একটি সামরিক জোট নয়; বরং ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা মিত্রদের রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও বয়ানের সমন্বয় সাধনের একটি মাধ্যম। এই শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের উপস্থিতিকে চারটি পরস্পর-সম্পর্কিত উদ্দেশ্যের আলোকে বোঝা যায়। প্রথম উদ্দেশ্য হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে জোটকে আরও সুসংহত করা। ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথের স্থিতিশীলতার মতো ইস্যুগুলোকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে ইরান প্রশ্নে আরও ঘনিষ্ঠ অবস্থানে আনতে চায়। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীলতার ফলে ইউরোপের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব—এই বিষয়গুলো সামনে এনে ওয়াশিংটন ইউরোপের উদ্বেগকে নিজের ইরানবিরোধী অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতের পদক্ষেপকে বৈধতা প্রদান করা। তৃতীয় উদ্দেশ্য হলো তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং দেশটির পারিপার্শ্বিক সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। আঙ্কারাকে দেওয়া যেকোনো ছাড়কে যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রচেষ্টার কাঠামোর মধ্যে বুঝতে হবে, যার লক্ষ্য তুরস্ককে তার আঞ্চলিক পরিকল্পনার আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা। বিশেষ করে ইরানের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে ঘিরে থাকা সীমান্ত, জাতিগত ও নিরাপত্তাগত গতিশীলতা এ ধরনের কৌশলে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালনার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না; বরং এটি ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চাপ সৃষ্টির উৎসগুলোকে সক্রিয় করার একটি প্রচেষ্টার অংশ। চতুর্থ উদ্দেশ্য হলো সিরিয়ার সক্ষমতাকে ব্যবহার করে লেবাননের ওপর প্রভাব বিস্তার করা এবং হিজবুল্লাহর ওপর চাপ আরও বাড়ানো। যদি ধরে নেওয়া হয় যে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া, লেবানন ও তুরস্ক-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে যুক্ত করছে, তাহলে এই চার উদ্দেশ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যাবে না। এগুলো একই শৃঙ্খলের অংশ, যার উদ্দেশ্য ইরান এবং ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ ওপর রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও মাঠপর্যায়ের চাপ আরও বাড়িয়ে তোলা। সবকিছু একত্রে বিবেচনা করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র একটিমাত্র উপায়ের ওপর নির্ভর না করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে পরস্পর সংযুক্ত নানা ধরনের চাপের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করছে। অভ্যন্তরীণ চাপ, ইরানের সীমান্তজুড়ে চাপ, আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ এবং আন্তর্জাতিক জোট গঠনের মাধ্যমে সৃষ্ট চাপ—সবই এই অভিন্ন কৌশলের অংশ। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো পশ্চিম এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের অনুকূলে পুনর্নির্ধারণ করা এবং ইরানকে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া, যাতে দেশটি একযোগে একাধিক ফ্রন্টের সংকট মোকাবিলাতেই তার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে বাধ্য হয়। তবে এই কৌশল নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হতে বাধ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলো দেখিয়েছে, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব, রাজনৈতিক সমর্থন এবং জটিল নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনের বহু পরিকল্পনা বাস্তব পরিস্থিতি, স্থানীয় বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিরোধ শক্তিগুলোর গভীরভাবে প্রোথিত দৃঢ়তার মুখে ক্ষয়, বিঘ্ন ও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। তদুপরি, শীর্ষ নেতার জানাজায় ইরান ও ইরাকে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ আবারও দেখিয়েছে যে পশ্চিম এশিয়ায় একটি প্রকৃত ও টেকসই ব্যবস্থা মার্কিন পরিকল্পনা মাধ্যমে গড়ে ওঠে না; বরং তা গড়ে ওঠে জনগণের সামাজিক ইচ্ছাশক্তি, প্রতিরোধের ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া বন্ধনের ভিত্তিতে।
সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের পর তার ছেলে ও বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি প্রতিশোধের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা খামেনি ও যুদ্ধে অন্যান্য ইরানিদের হত্যায় জড়িত তাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এমনকি যদি তিনি নাও থাকেন তাও শিগগিরই এ প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তার এমন বক্তব্যের পর ইরানি সংবাদমাধ্যম হামশাহরি ১৩ জন নেতার একটি হিট লিস্ট প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, প্রতিশোধ হিসেবে এসব নেতার ওপর হামলা চালানো হবে। এই তালিকায় আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেদিখ মার্জ। এতে আরও আছেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াহির জামির, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। সংবাদমাধ্যমটির অনলাইন ভার্সনে এই হিট লিস্ট প্রকাশ করা হলেও আজকে তাদের যে ছাপা পত্রিকা বেরিয়েছে সেখানে এটি নেই বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। ইরান সবকিছু লঙ্ঘন করেছে, কড়া বার্তা সৌদির যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় টার্গেট করা হয়েছে মার্কিনিদের সামরিক অবকাঠামো। রোববার রাতের এ হামলা ও পাল্টা হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে কড়া বিবৃতি দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন থেকে শুরু করে ইসলামিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সনদসহ সবকিছু লঙ্ঘন করেছে ইরান। যা মোটেও কাম্য নয়। এ ব্যাপারে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালিয়েছে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, ইসলামিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সনদ এবং সুপ্রতিবেশীর নীতি নৈতিকতা লঙ্ঘন করেছে। তাদের এসব হামলার কারণে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল হুমকিতে পড়েছে। সর্বশেষ হামলায় সৌদি আরবকে টার্গেট করা হয়নি। তবে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের হামলায় সৌদির একটি তেলের ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়। সূত্র: এএফপি
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। রোববার সামাজিক মাধ্যমে কাতারের বর্তমান আমিরের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর কথা জানানো হয়। খলিফা আল থানি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। কাতারকে আধুনিক রাষ্ট্রের পরিণত করার অন্যতম স্থপতি তিনি, জানিয়েছে আল আরাবিয়া নিউজ। তার সময়ে জ্বালানি সমৃদ্ধ কাতারের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়। দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের রপ্তানীকারক হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আমির থাকাকালে ১৯৯৬ সালে বিশ্বজুড়ে পরিচিত নিউজ চ্যানেল আল জাজিরার কার্যক্রম শুরু হয়। আল জাজিরা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যম। তার সময়েই কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান ঘোষণা করা হয়। দেশটিতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার নির্বাচনও তার সময়েই শুরু হয়। এই নির্বাচনে নারীদের ভোট দেওয়ার ও তাদের প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে পরবর্তী আমির হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। কাতার অন্যতম ছোট আরব রাষ্ট্র। এর জনসংখ্যা মাত্র ৩০ লাখের মতো। ১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত কাতার ৫৫ বছর ধরে ব্রিটেনের একটি আশ্রিত রাজ্য ছিল। খলিফা আল থানির মৃত্যুতে কাতার সোমবার থেকে চার দিনের শোক ঘোষণা করেছে। এ সময় দেশটির সরকারি, বেসরকারি সব সংস্থায় কাজ বন্ধ থাকবে আর জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ বেশ কয়েকটি দেশের নেতা শোক জানিয়েছেন।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। রবিবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি হস্তক্ষেপ বা ‘অবৈধ নৌপথ’ ব্যবহার করে চলাচলের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কয়েকটি জাহাজ নির্ধারিত নৌপথে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ অমান্য করেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ নিজের অবস্থান শনাক্তকারী (ট্র্যাকিং) ব্যবস্থা বন্ধ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছিল। পরে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার পর জাহাজটিকে থামানো হয়। আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি নতুন কোনো হামলা বা নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে শক্ত হাতে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৩৩৩ জনে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর শাফাক নিউজের। তিনি বলেন, এখনো ৩১৫টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৪০ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আগামী সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে প্রথম দফায় ২০০টি নতুন বাড়ি হস্তান্তর করবেন। এটি সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ। সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে বা মারাত্মক কাঠামোগত ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রায় ২৫ হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রয়োজন হবে। এ জন্য ওসমা ও চুসপা শহরে প্রায় ৫ লাখ ৮৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ৪০টি আবাসন প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছেন। বাবার দাফন শেষ হওয়ার পর শনিবার (১১ জুলাই) দেওয়া প্রথম বার্তায় তিনি বলেন, এই প্রতিশোধ শুধু তার পরিবারের সিদ্ধান্ত নয়, পুরো ইরানি জাতির ইচ্ছা ও দাবি। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধের প্রথম দিনে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর এই প্রথম বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এই বিশাল জনসমাগমকে ‘শত্রু-বিধ্বংসী এবং ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। বাবার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তেহরান এই হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেবে না। জাতীয় আকাঙ্ক্ষা অনুসারে এর যথাযথ ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। সূত্র: আল-জাজিরা
ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। এরমধ্যে রাজধানী কিয়েভে মিসাইল হামলায় দুই শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র। কিয়েভ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপির সাংবাদিক জানিয়েছেন, শনিবার (১১ জুলাই) সকালে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান তারা। এরমধ্যে প্রথম বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া নতুন করে রাতভর ১২০টি ড্রোন ও ১২টি মিসাইল ছুড়েছে। যারমধ্যে ছয়টি ব্যালিস্টিক মিসাইল। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ড্রোন ও ছয়টি মিসাইল ভূপাতিত করতে সমর্থ হয়। তবে ছয়টি ব্যালিস্টিক মিসাইল আটকাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন তিনি। জেলেনস্কি বলেছেন, সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার আগেই ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো বেসামরিক অবকাঠামোতে আছড়ে পড়ে। রাজধানী কিয়েভে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, অফিস ও একটি ধর্মীয় স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় সামি শহরের মেয়র জানিয়েছেন, সেখানে আকাশ থেকে ছোড়া বোমা হামলায় এক মেয়ে শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলের ওডেশাতে মিসাইলের আঘাতে প্রাণ গেছে দুজনের। সূত্র: এএফপি
ভাড়া দেওয়া বাড়িতে আগুন বা ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র স্মোক ডিটেক্টর না বসিয়ে উল্টো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি জমা দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এক প্রতারক বাড়িওয়ালা। জালিয়াতিকে ‘কৌতুক’ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি; অবহেলা ও জালিয়াতির দায়ে আদালত ওই প্রবাসীকে মোটা অংকের জরিমানা করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি। যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই অননুমোদিতভাবে একটি বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর সেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কিছু ঘাটতি থাকায় মিনডগাস পালাইমা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে স্থানীয় কাউন্সিল। তদন্তের অংশ হিসেবে কর্মকর্তারা বাড়িটি পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনো স্মোক অ্যালার্মেরই অস্তিত্ব পাননি। ওই সময় কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন, কাউন্সিলকে বোকা বানাতে পালাইমা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ও নকল ছবি জমা দিয়েছিলেন। ব্র্যাডফোর্ড ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানির সময় বলা হয়, ৪৪ বছর বয়সী পালাইমা দুটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ভবনের মূল মালিকদের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই সেগুলোকে বহু লোকের থাকার উপযোগী মেস বা শেয়ার্ড হাউজে রূপান্তর করেছিলেন। লাইসেন্স ছাড়া মেস পরিচালনা করা ও যথাযথ স্থানে স্মোক অ্যালার্ম বসাতে ব্যর্থ হওয়াসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগে পালাইমাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১১ হাজার ২১৮ পাউন্ড জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ লাখ টাকার বেশি। তবে শুক্রবারের এ শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না লিডসের ওর্টলি এলাকার সিলভার রয়ড টেরেসের বাসিন্দা পালাইমা। আদালতের বরাত দিয়ে ‘লোকাল ডেমোক্রেসি রিপোর্টিং সার্ভিস’ বলেছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা সব কটি অপরাধই ২০২৫ সালের কয়েক সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ১৮ ফেয়ারফ্যাক্স অ্যাভিনিউ ও ৯ নরউড স্ট্রিটের দুটি বাড়ির বিষয়ে পালাইমার বিরুদ্ধে মোট ১০টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তিনি নিজে ওই দুটি ভবনের কোনোটিরই মালিক ছিলেন না, বরং একজন ভাড়াটিয়া হয়েও বেআইনিভাবে সেগুলোকে শেয়ার্ড হাউজে রূপান্তর করে ব্যবসা করেছিলেন। এ ছাড়া ‘ইনস্টাইল এভিয়েশন’ নামে এই কোম্পানির আবাসন ব্যবসা পরিচালনার আগে তিনি ব্র্যাডফোর্ড কাউন্সিলের কাছ থেকে কোনো প্রকার লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করেননি। এআই নিয়ে ‘কৌতুক’ অননুমোদিত মেস বা শেয়ার্ড হাউজে আগুন বা ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র ‘স্মোক ডিটেক্টর’ না বসিয়ে, উল্টো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি জমা দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টাকে ‘মজা’ বা ‘কৌতুক’ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। ব্র্যাডফোর্ড কাউন্সিলের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী ইমরান হুসাইন আদালতে বলেছেন, গত বছরের মে মাসে কাউন্সিলের কাছে আসা এক অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৮ ফেয়ারফ্যাক্স অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি অননুমোদিতভাবে পাঁচ শয্যার একটি মেস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। “ভবনের মূল মালিক বাড়িটি আসামিকে (মিনডগাস পালাইমা) এই শর্তে লিজ দিয়েছিলেন যে, তিনি সেখানে তার পরিবার নিয়ে বসবাস করবেন। তবে আসামি মূল মালিককে না জানিয়েই এসব ঘর অন্যান্য ব্যক্তিদের কাছে সাবলেট দিয়েছেন।” ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বলা হয়েছে, ওই বাড়ির বাসিন্দারা কেউ কারও আত্মীয় নন। আইনজীবী ইমরান হুসাইন বলেছেন, “বাড়িটি লাইসেন্সওয়ালা মেসের আওতায় পড়লেও এ বাড়ির নামে কোনো লাইসেন্স নেওয়ার রেকর্ড কাউন্সিলের কাছে নেই।” বাড়ির বাসিন্দারা তাদের ভাড়া পরিশোধ করতেন ‘ইনস্টাইল এভিয়েশন’ নামের এক কোম্পানির কাছে, যার একমাত্র পরিচালক ছিলেন পালাইমা। সরকারি নিবন্ধন খাতা ‘কোম্পানিজ হাউস’ এর তথ্য অনুসারে, কোম্পানিটি টেক-অ্যাওয়ে খাবারের দোকান ও আবাসিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ব্যবসার সঙ্গে যোগ ছিল। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই কাউন্সিল কর্মকর্তারা বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন। সেখানে গিয়ে তারা দেখেছেন, বেশ কিছু রুমে জরুরি মুহূর্তে আগুন থেকে বাঁচার জন্য কোনো জানালা বা ফায়ার এস্কেপ উইন্ডো, ফায়ার ডোর বা আগুন ও ধোঁয়া শনাক্তকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই। আইনজীবী হুসাইন বলেছেন, “এমনটা যে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ চরম ঝুঁকির কারণে তাকে অবিলম্বে স্মোক অ্যালার্ম বসানোর জন্য জরুরি নোটিশ পাঠানো হয়।” আসামি সেদিনই কাজটি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পালাইমা কর্তব্যরত কর্মকর্তাকে উপহাস করে বলেছিলেন, “তিনি চাইলে অফিসারকে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি পাঠিয়ে দিতে পারেন।” তখন কর্মকর্তা পালাইমাকে সতর্ক করে বলেছেন, বিষয়টিকে রসিকতা হিসেবে না নিয়ে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। তবে পালাইমা সেই সতর্কবার্তা গায়ে মাখেননি। পরবর্তীতে তিনি একটি ছবি পাঠান, যেখানে আগে কোনো স্মোক ডিটেক্টর না থাকলেও ছবিতে একটি সিলিংয়ে সেটি দেখা যাচ্ছিল। কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয় যে ছবিটি এআই দিয়ে বানানো। গেল বছরের ২৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টায় তিনি ওই ছবি পাঠান। এর ঠিক পরদিন সকাল সাড়ে ১১টায় কর্মকর্তারা যখন আবার বাড়িটি পরিদর্শনে যান তখন সিলিংয়ে কোনো স্মোক ডিটেক্টরের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। এতে কর্মকর্তাদের সন্দেহই সত্যি হয়, ছবিটি এআই দিয়ে কারসাজি করা হয়েছিল। আগুনের চরম ঝুঁকির কারণে পরবর্তীতে বাড়িটির ওপর জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। কোম্পানি বিলুপ্ত সম্পত্তির মালিকানার বিষয়ে হুসাইন আদালতে বলেছেন, “আগের মালিক এ বিশ্বাসে বাড়িটি আসামিকে দিয়েছিলেন যে, তিনি পরিবার নিয়ে থাকবেন। বর্তমান মালিক এক বছর আগে সম্পত্তিটি কিনেছেন ও তখন থেকেই আসামির সঙ্গে তার নানা ঝামেলা চলছিল। স্মোক অ্যালার্মের এআই ছবি জমা দিয়ে আসামি মানুষের জীবন সুরক্ষার আইনকে চরম অবজ্ঞা করেছেন।” মামলার অন্যান্য অভিযোগ ছিল ৯ নরউড স্ট্রিটের আরেকটি বাড়ির বিষয়ে। সেটিও লাইসেন্স ছাড়াই মেসে রূপান্তর করা হয়েছিল। গেল সেপ্টেম্বরে ওই বাড়িটি পরিদর্শনের সময়ও কোনো স্মোক অ্যালার্ম না থাকাসহ বেশ কিছু নিরাপত্তা ঘাটতি দেখা যায়। এ বাড়িটিও পালাইমা লিজ নিয়ে মালিকের অজান্তেই অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। কয়েক দিন পর সেখানে পুনরায় পরিদর্শনে গিয়ে আরও ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়। আইনজীবী হুসাইন বলেছেন, “ত্রুটি সংশোধনের জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও আসামি তা মেনে চলেছেন এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।” সব কিছু পর্যালোচনার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামির অনুপস্থিতিতেই পালাইমাকে দোষী সাব্যস্ত করে। প্রতিটি বাড়ির জন্য ২ হাজার ৬৪০ পাউন্ড করে জরিমানা, ব্র্যাডফোর্ড কাউন্সিলকে ৩ হাজার ৯৩৮ পাউন্ড মামলার খরচ ও আরও ২ হাজার পাউন্ড কোর্ট সারচার্জ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সব মিলিয়ে তাকে মোট ১১ হাজার ২১৮ পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে। আদালতকে আরও বলা হয়েছে, তার কোম্পানি ‘ইনস্টাইল এভিয়েশন’ গত ২০২৫ সালের জুনেই বিলুপ্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে দক্ষিণ লেবাননে চলমান ‘সংবেদনশীল সামরিক অভিযান’ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ইতালির রাজধানী রোমে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠককে সামনে রেখেই সামরিক তৎপরতা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি পরীক্ষামূলক এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে কোন ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত করা হয়েছে এবং কোন কোন এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। এর মধ্যেই ইসরাইলের এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো। তথ্যসূত্র: সামা টিভি
তুরস্কের বন্দরগুলোতে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার মাত্র কয়েকদিন পরই প্রায় ২০০০ সমকামী পুরুষ যাত্রী বহনকারী একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীকে বন্দরে ভিড়তে দেয়নি মিশর। এলজিবিটিকিউ প্লাস ভ্রমণ সংস্থা ‘অ্যাটলান্টিস ইভেন্টস’ এর ভাড়া করা এবং ভার্জিন ভয়েজেস পরিচালিত ‘স্কারলেট লেডি’ নামের এই জাহাজটিকে আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ দেখায়নি কায়রো। ১০ দিনের এই প্রমোদ ভ্রমণটি গ্রিসের এথেন্স থেকে ইতালির ভেনিস পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল। প্রমোদতরীটির যাত্রীরা বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকালে ঘুম থেকে উঠে তাদের কেবিনের দরজার নিচে একটি জরুরি চিঠি পান। চিঠিতে জানানো হয়, জাহাজটিকে মিশরীয় জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এটি আর আলেকজান্দ্রিয়ায় থামবে না। এই ঘোষণার পর জাহাজের ক্রু সদস্যরা অবিলম্বে একটি বিকল্প বন্দরের সন্ধান শুরু করেছেন। মার্কিন সমকামী অধিকার বিষয়ক সংবাদমাধ্যম 'অ্যাডভোকেট'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে অ্যাটলান্টিস ইভেন্টস-এর সিইও রিচ ক্যাম্পবেল বলেন, মিশরের এই সিদ্ধান্তে কম্পানিটি পুরোপুরি বিস্মিত। কারণ, গত বছরও তারা কোনো সমস্যা ছাড়াই একই ধরণের একটি ক্রুজ ভ্রমণসূচী সফলভাবে পরিচালনা করেছিলেন। এবারের সফরটি সফল করতে অ্যাটলান্টিস ও ভার্জিন ভয়েজেস কঠোর পরিশ্রম করলেও শেষ মুহূর্তে মিশরের এই নিষেধাজ্ঞা তাদের কাছে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও হতাশাজনক ছিল। এর আগে তুর্কি কর্তৃপক্ষ ‘নৈতিক মূল্যবোধ’ ও ‘জনসাধারণের উদ্বেগ’-এর কারণ দেখিয়ে জাহাজটিকে ইস্তাম্বুল ও কুসাদাসি বন্দরে ভিড়তে দেয়নি। যার ফলে প্রমোদতরীটির ভ্রমণসূচী ইতিমধ্যেই একবার পরিবর্তন করতে হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য গার্ডিয়ান' জানিয়েছে, তুর্কি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছিল— এই ক্রুজটি এমন কিছু গোষ্ঠী ভাড়া করেছে যাদের আচরণ দেশটির সমাজের কাঠামো ও নৈতিক মূল্যবোধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কে সমকামিতা আইনিভাবে বৈধ হলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকারের অধীনে এলজিবিটিকিউ প্লাস অধিকারের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন চলছে। গত কয়েক বছর ধরে সেখানে কোনো প্রাইড মার্চের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নিতে চাওয়া অনেককে পুলিশ আটকও করেছে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী, প্রমোদতরীটির বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় থাকার কথা ছিল। তবে এই নিষেধাজ্ঞার পর, নতুন সূচী অনুযায়ী প্রমোদতরীটি শনিবার (১১ জুলাই) গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার হ্রাস এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার নানা আর্থিক প্রণোদনা, ছুটি ও আবাসন সুবিধা চালু করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। এবার ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বৌদ্ধ সম্প্রদায়। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে উৎসাহিত করতে শতাব্দীপ্রাচীন একটি বৌদ্ধ মন্দিরে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ ‘ডেটিং রিট্রিট’। দেশটির পালগংসান পাহাড়ের কোলে অবস্থিত প্রায় এক হাজার ২০০ বছরের পুরোনো ডংহওয়াসা মন্দিরে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তরুণ-তরুণীরা শুধু জীবনসঙ্গীই নয়, নতুন বন্ধু ও আত্মবিশ্বাসও খুঁজে পাচ্ছেন। দেশ বাঁচাতে সঙ্গী খুঁজুন অনুষ্ঠানের শুরুতেই গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত এক বৌদ্ধ ভিক্ষু অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, তারা শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্যও এখানে এসেছেন। তার ভাষায়, “আপনাদের লক্ষ্য শুধু একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া নয়, ভবিষ্যতে পরিবার গঠন করে দেশের জন্মহার বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখা।” ডংহওয়াসা মন্দিরের আয়োজক ইউ চোল-জু বলেন, অতীতে বিদেশি আগ্রাসনের সময় যেমন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনি এখন জন্মহার কমে যাওয়াও একটি জাতীয় সংকট। তাই এ সমস্যার সমাধানে তারাও ভূমিকা রাখতে চান। ভয়াবহভাবে কমছে জন্মহার বিশ্বের সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশগুলোর একটি দক্ষিণ কোরিয়া। ২০২৩ সালে দেশটিতে একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার নেমে আসে ০.৭২-এ, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ২.১ হারের অনেক নিচে। বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, সন্তান পালনের উচ্চ খরচ, নারীদের কর্মজীবনে অগ্রাধিকার এবং বিয়ে নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন- সব মিলিয়েই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে প্রেম ও সামাজিক মেলামেশার প্রবণতাও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কঠিন প্রতিযোগিতা পেরিয়ে সুযোগ ডেটিং রিট্রিটে অংশ নেওয়া সহজ নয়। আবেদনকারীদের প্রশ্নপত্র, ভিডিও সাক্ষাৎকার এবং বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তাদের আন্তরিকতা যাচাই করা হয়। এবারের আয়োজনে অংশ নিতে এক হাজার ৫৮০ জনের বেশি আবেদনকারীকে পেছনে ফেলে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র কয়েক ডজন তরুণ-তরুণী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ব্যস্ত জীবনে সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন ২৮ বছর বয়সী কিম আহ-কিয়ং, যার বৌদ্ধ নাম ‘সুনহিয়েজি’, বলেন, চাকরির কারণে রাজধানী সিউল ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার পর তার নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “অফিস আর বাসা- এই দুই জায়গার মধ্যেই জীবন সীমাবদ্ধ। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগই নেই।” ৩০ বছর বয়সী কোয়ন সেউং-ওহ, যিনি এনিও নামে পরিচিত, জানান, বন্ধুদের উদ্যোগে প্রায় ১০টি ‘ব্লাইন্ড ডেট’-এ অংশ নিলেও কোনও সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। তার কর্মস্থলে প্রায় ৯৭ শতাংশ সহকর্মীই পুরুষ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন নারীসঙ্গী খুঁজে পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনভর পরিচয়, আড্ডা আর নানা আয়োজন ৩০ ঘণ্টার এই রিট্রিটে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল পরিচয়পর্ব, জুটি বেঁধে হাঁটা, মধ্যাহ্নভোজ, দ্রুতগতির ‘স্পিড ডেটিং’, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং দলীয় নানা কার্যক্রম। প্রথম পরিচয়পর্বেই এনিও নিজের হাতে তৈরি ফরাসি পেস্ট্রি সবার মধ্যে বিতরণ করে উপস্থিতদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেন। অন্যদিকে সুনহিয়েজির প্রথম সঙ্গী হন ৩২ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা মিনহো। পরে মধ্যাহ্নভোজের জন্য মিনহো বেছে নেন ২৮ বছর বয়সী ডিজাইনার রুবিকে। দিনজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পেশা, শখ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। সবচেয়ে বিব্রতকর পর্ব দিনের সবচেয়ে অস্বস্তিকর কিন্তু সবচেয়ে প্রাণবন্ত আয়োজন ছিল ট্যালেন্ট শো। কেউ জনপ্রিয় কে-পপ গানের সঙ্গে নাচেন, কেউ গান গেয়ে শোনান, কেউ আবার স্প্যানিশ ভাষায় নিজের পরিচয় দেন। এক নারী অংশগ্রহণকারী বাঁশিতে কে-পপের জনপ্রিয় একটি সুর পরিবেশন করে সবার মন জয় করেন। সরকারও করছে উৎসাহ দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিয়ে ও সন্তান জন্মে উৎসাহ দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি, নবজাতকের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা, নবদম্পতিদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত আবাসনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ২০০৬ সাল থেকে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে সরকার। এছাড়া স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নিয়মিত ‘ম্যাচমেকিং’ আয়োজন করছে। কোথাও কাঠের কাজ শেখানোর কর্মশালা, কোথাও নদীর তীরে সঙ্গীতানুষ্ঠান-সবকিছুর লক্ষ্য একটাই, তরুণদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা। ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দীর্ঘ সময় জন্মহার কমতে থাকলেও ২০২৪ সাল থেকে কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ১.০-এ পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৫ সালের ০.৮ হার থেকে কিছুটা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু সরকারি উদ্যোগের ফল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে অবিবাহিতদের মধ্যে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত কী হলো? রিট্রিট শেষে মোট আটটি নতুন জুটি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে দুটি সম্পর্ক তৈরি হয় অনুষ্ঠানের কর্মী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে। যারা সঙ্গী খুঁজে পাননি, তারাও হতাশ হয়ে ফেরেননি। এনিও জানান, সুযোগ পেলে তিনি আবারও এই আয়োজনে অংশ নেবেন। অন্যদিকে সুনহিয়েজি বলেন, তিনি জীবনসঙ্গী না পেলেও অনেক নতুন বন্ধু পেয়েছেন। রাত তিনটা পর্যন্ত সহঅংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে গল্প করেছেন এবং ইতোমধ্যে একসঙ্গে ব্রাঞ্চ করার পরিকল্পনাও করেছেন। আয়োজকদের মতে, সবাই জীবনসঙ্গী নিয়ে ফেরেন না, কিন্তু প্রায় প্রত্যেকেই নতুন বন্ধুত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন আশাবাদ নিয়ে মন্দির ছাড়েন। সূত্র: বিবিসি
ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ফু কুওকের উপকূলে একটি নৌকা উল্টে অন্তত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ভিএনএক্সপ্রেস। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌকাটিতে ৩৬ জন আরোহী ছিলেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক, তিনজন ক্রু সদস্য ও একজন সহকারী। এদের মধ্যে ২১ জন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ভিয়েতনামের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে আর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে হো চি মিন সিটি ও হ্যানয়ে জরুরি রেসপন্স কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। দূতাবাস ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করে বলেছে, “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। ঘটনার সঠিক বিবরণ যাচাই করা হচ্ছে।” কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ভিএনএক্সপ্রেস জানিয়েছে, নৌকাটি হন মে রুত দ্বীপ থেকে ফু কুওকের আন থয় বন্দরে যাচ্ছিল। সাগর পথে ৪০০ মিটার এগোনোর পর নৌকাটি উল্টে যায়। তখন সাগর উত্তাল ছিল, তখন ওই এলাকায় বিশাল সব ঢেউ বইছিল। ফু কুওক ভিয়েতনামের বৃহত্তম দ্বীপ। এটি দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। কয়েক বছর ধরে বহু ভারতীয় পর্যটক দ্বীপটিতে যাচ্ছেন।
ইরানের কয়েকটি সন্দেহভাজন পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র-সম্পর্কিত স্থাপনায় পুনর্নির্মাণ বা মেরামতের কাজ চলার ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব স্থাপনায় নতুন নির্মাণকাজ ও যানবাহনের চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি-এর সহযোগিতায় বিশ্লেষণ করা চিত্রে তেহরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সের একটি স্থাপনায় মেরামতের আলামত পাওয়া গেছে। সেখানে হামলায় সৃষ্ট গর্ত ঢেকে দেওয়া, লোহার জাল বসানো এবং কংক্রিট মিশ্রণের যানবাহন দেখা গেছে। এ ছাড়া ইসফাহানের কাছে অবস্থিত পিক্যাক্স মাউন্টেন এলাকার একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনার টানেলে ট্রাক চলাচলের চিত্রও ধরা পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কার্যক্রম জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা কার্যক্রমের বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে। সূত্র: সিএনএন
পাকিস্তান সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সুদভিত্তিক (রিবা) ব্যাংকিং ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে একটি নতুন রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। তবে রূপান্তর প্রক্রিয়ায় বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে প্রচলিত ও ইসলামিক—উভয় ধরনের ব্যাংকিং সেবা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে নতুন অর্থায়ন ও ঋণ কার্যক্রম শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। তবে এর আগে সম্পাদিত ঋণ ও আর্থিক চুক্তিগুলো মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগের নিয়মেই বহাল থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে আইনি জটিলতা ও আর্থিক অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হবে। পাকিস্তানের ফেডারেল শরিয়ত কোর্ট ২০২২ সালে সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে সংবিধানের ২৬তম সংশোধনীর মাধ্যমে ২০২৮ সালকে চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। নতুন রোডম্যাপে ইসলামিক অর্থায়ন সম্প্রসারণে নিয়মিত সুকুক (ইসলামিক বন্ড) ইস্যুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে সম্পদভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিদেশি ব্যাংককে দ্বৈত ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়া হলেও দেশীয় ব্যাংকের ক্ষেত্রে একই নীতি না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রতিযোগিতা ও গ্রাহকের পছন্দকে গুরুত্ব দিলে ইসলামিক ও প্রচলিত ব্যাংকিং কিছু সময় পাশাপাশি চলতে দেওয়াই অধিক কার্যকর হতে পারে। সূত্র: ডন ও নিক্কেই এশিয়া।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়াতে রাশিয়ার হামলা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সামনের যুদ্ধরেখা থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শহরটিতে এখন নিয়মিতভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে স্কুল, সরকারি অফিস, গণপরিবহন, জ্বালানি স্টেশন ও আবাসিক ভবন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে এবং প্রতিটি দিন এখন আতঙ্কের মধ্যেই কাটছে। ভোর পাঁচটার দিকে জাপোরিঝঝিয়ার বাসিন্দা আন্না হলোভচেঙ্কোর ঘুম ভাঙে রুশ বাহিনীর গ্লাইড বোমার বিস্ফোরণের শব্দে। শহরের উপকণ্ঠে একের পর এক বোমা আঘাত হানার পর মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে শুরু হয় ড্রোন হামলার নতুন দফা। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার চেষ্টা চালালেও বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর কেঁপে ওঠে। আন্না জানান, এরপর আর ঘুমানোর সুযোগ ছিল না। তিনি কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। কিছুক্ষণ পর একটি ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন তার কর্মস্থলের কাছেই বিস্ফোরিত হয়। আরেকটি ড্রোন বিদ্যুতের তারে আঘাত করলে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার ভাষায়, “জাপোরিঝঝিয়ায় এখন এটাই স্বাভাবিক একটি দিনের চিত্র।” স্কুল, বাস ও সরকারি ভবনেও হামলা গত কয়েক সপ্তাহে শহরের বিভিন্ন স্কুল, সরকারি অফিস, জ্বালানি স্টেশন, গণপরিবহনের বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বহু আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। জাপোরিঝঝিয়ার ভারপ্রাপ্ত মেয়র রেজিনা খারচেঙ্কো জানান, একদিনের তীব্র হামলার সময় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে নিজের বাসার বাথরুমে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, “শত্রুপক্ষ এখন বেসামরিক মানুষ, পৌর পরিবহন, ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস, আবাসিক ভবন, এমনকি শিশুদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।” ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে বৈঠক ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে জাপোরিঝঝিয়া সিটি কাউন্সিলকে সম্প্রতি ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে বৈঠক করতে হয়েছে। সেখানে শহরের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন প্রতিরোধী জাল বসানো এবং স্কুল, হাসপাতাল ও সরকারি ভবনের জানালায় বিস্ফোরণ-প্রতিরোধী বিশেষ সুরক্ষা ফিল্ম লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেয়র খারচেঙ্কো বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবেও খুব ভয় পাই। রাতে অনেক সময় নিজের অ্যাপার্টমেন্টের করিডরের মেঝেতে ঘুমাই। আমি সাধারণ একজন মানুষ, আমার ব্যক্তিগত কোনও বাঙ্কার বা দেহরক্ষী নেই।” যুদ্ধরেখা দূরে সরলেও বেড়েছে হামলা ইউক্রেনীয় বাহিনী কিছু এলাকায় রুশ সেনাদের শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার পিছিয়ে দিতে সক্ষম হলেও হামলা কমেনি; বরং বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো এখন রাশিয়া ছোট আকারের কিন্তু অত্যন্ত প্রাণঘাতী ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোন ব্যবহার করছে, যা আগে এত দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত না। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট-এর সামরিক বিশ্লেষক স্যাম ক্র্যানি-ইভানস জানান, রুশ বাহিনী এখন দীর্ঘপাল্লার ‘মাদারশিপ’ ড্রোন ব্যবহার করছে, যেগুলো বহন করে নিয়ে যায় একাধিক ছোট ড্রোন। পরে সেগুলো আলাদা হয়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া এখন ‘মেশ নেটওয়ার্কিং’ প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে। এতে একটি ড্রোন অন্য ড্রোনের মাধ্যমে রেডিও সংকেত আদান-প্রদান করতে পারে, ফলে ইলেকট্রনিক জ্যামিং এড়ানো সহজ হয় এবং অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানো সম্ভব হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেনের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতার একটি অংশ অন্য ফ্রন্টে সরিয়ে নেওয়াও জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহেই ভূপাতিত ৮৮৪ ড্রোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার ৮৮৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী। যদিও দক্ষিণাঞ্চলে রুশ বাহিনী কিছুটা পিছিয়ে গেছে, তবু ইউক্রেনের অন্য কয়েকটি ফ্রন্টে তারা ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং দখলকৃত অঞ্চলের সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে রুশ সেনাদের অগ্রযাত্রা কিছুটা বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়েছে। শহর ছাড়তে নারাজ অনেকেই প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যেও জাপোরিঝঝিয়ার কয়েক লাখ মানুষ এখনো শহর ছেড়ে যাননি। বাসিন্দা আন্না হলোভচেঙ্কো বলেন, “আমাদের খাবার আছে, জ্বালানি আছে। তাহলে কেন চলে যাব? হয়তো আমি সহজে ভয় পাই না।” তবে তিনি স্বীকার করেন, শহর ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা মাঝে মাঝে মাথায় আসে। তারপরও তিনি চান না, জাপোরিঝঝিয়াও ইউক্রেনের অন্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরগুলোর কাতারে নাম লেখাক। তার কথায়, “আমরা শুধু নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছি। বিজয় না আসা পর্যন্ত টিকে থাকার জন্য যা যা করা দরকার, তাই করছি।” সূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের জন্য ভিসা-সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি জানিয়েছে, নতুন চালু করা সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজের সুবিধা প্রাথমিক পর্যায়ে উন্মুক্ত করা হয়েছে সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য। এর ফলে সৌদি আরবে ভ্রমণ আরও সহজ হবে। শুক্রবার (১০ জুলাই) গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরব প্রাথমিকভাবে সদ্য চালু হওয়া ভিসা প্যাকেজ কর্মসূচির জন্য সাতটি দেশকে নির্বাচিত করেছে। এসব দেশের নাগরিকরা এই কর্মসূচির আওতায় একটি সমন্বিত ভ্রমণ বুকিংয়ের অংশ হিসেবে ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে মিশর, জর্ডান, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং মেক্সিকোর নাগরিকরা এ সুবিধা পাবেন। সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তীতে আরও বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এই কর্মসূচির অধীনে ভ্রমণকারীরা একটি বুকিংয়ের মাধ্যমেই তাদের পুরো ভ্রমণের ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পারবেন। এর মধ্যে রিটার্ন ফ্লাইট, অনুমোদিত পর্যটন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে আলাদাভাবে ভিসার আবেদন জমা দেয়া বা সৌদি দূতাবাসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। জুমার নামাজের পর জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি আটক, আল-আকসায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যাকেজ কেনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে ভিসা ইস্যু করা হবে। ভ্রমণকারীরা অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে বুকিং করার পর ই-মেইলে তাদের ভিসা, ভ্রমণ বীমা এবং ভ্রমণ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। এখন পর্যন্ত রিজারভাল ও আলমোসাফের নামে দুটি ট্রাভেল এজেন্সি এ পরিষেবা প্রদানের অনুমতি পেয়েছে। ভিসাটির মেয়াদ হবে তিন মাস। এ ভিসায় একবার প্রবেশ করা যাবে এবং দুই দিন থেকে ৮৮ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি থাকবে। গালফ নিউজ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রথম দুই দিনের সর্বনিম্ন প্যাকেজ মূল্য ৪ হাজার সৌদি রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর প্রতি অতিরিক্ত দিনের জন্য ১ হাজার সৌদি রিয়াল যোগ হবে। ভিসা প্রদান ও ভ্রমণ বীমাসহ মোট ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০২ দশমিক ২১ সৌদি রিয়াল। ভ্রমণকারীরা তাদের বুকিংয়ের সঙ্গে ইভেন্টের টিকিট এবং বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতার মতো ঐচ্ছিক পরিষেবাও যুক্ত করতে পারবেন। অবশ্য প্যাকেজগুলোতে মক্কা ও মদিনায় উমরাহ-সম্পর্কিত কোনো পরিষেবা বা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে, ভিসাধারীরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মক্কা ও মদিনাসহ দেশটির যেকোনো স্থানে ভ্রমণ করতে পারবেন। অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বা থাকার ব্যবস্থা বাতিল হলে অর্থ ফেরত এবং বুকিং পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদিত ভ্রমণসেবা প্রদানকারীর নীতিমালা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে তাদের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক মেনে চলার এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়া রোধ করতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সাথে এক ফোনালাপে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন এবং সতর্ক করে বলেন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এই জলপথ দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত বজায় রাখা অপরিহার্য। উল্লেখ্য-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত জুন মাসের যুদ্ধবিরতি সমঝোতা ভেঙে নতুন করে তীব্র সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চুক্তি সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইরানশাহর, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, বুশেহর, কোনারাক এবং আক কালা অঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে আইআরজিসির ব্যারাক, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে তাদের নির্ধারিত রুট ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এই উত্তেজনার কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।