বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রাখার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি বাতিল ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের ম্যানহাটান জেলা আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস। শুক্রবার এ সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারক বলেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনগত ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না। একই সঙ্গে এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিধিবদ্ধ ক্ষমতার সীমাও অতিক্রম করেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ের লিখিত অনুলিপিতে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ চালু বা স্থগিত রাখার নীতি মার্কিন ভিসা নীতি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত আইনগত এখতিয়ারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, কলম্বিয়া, মিসর, সিরিয়াসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করা হয়েছে। একই নীতির আওতায় গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের আবেদন পর্যালোচনা এবং গ্রিনকার্ড প্রস্তুতের প্রক্রিয়াতেও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। ২১ জানুয়ারি থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে—এমন যুক্তি দেখানো হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ম্যানহাটান জেলা আদালতে মামলা করে অভিবাসী অধিকার সংগঠন Catholic Legal Immigration Network এবং African Communities Together। মামলাটির শুনানি শেষে শুক্রবার সিদ্ধান্ত জানান বিচারক জ্যানেট ভার্গাস। এর আগে গত ৩ আগস্ট কলাম্বিয়া জেলা আদালতের বিচারক অমিত মেহতা বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ড আবেদন পর্যালোচনা স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। সাম্প্রতিক এসব আদালতের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও ভিসা-সংক্রান্ত নীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি ভারত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এ মুহূর্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানোর নেই। ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হতে পারে—এমন আলোচনার বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী। জবাবে রণধীর জয়সোয়াল এ মন্তব্য করেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে তার অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এই মুহূর্তে জানানোর মতো কোনো তথ্য নেই। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ব্রিফিংয়ে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। তিনি জানান, দুই দেশের নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কাঠামোর মধ্যে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় গঠিত যৌথ কমিটির বৈঠকও কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে তার আসন্ন দিল্লি সফর নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ই১ বসতি প্রকল্পের জন্য ইসরায়েলের দেওয়া নির্মাণ দরপত্র বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও নরওয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, ই১ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এতে ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাত দেশ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রকল্পের দরপত্রে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রকল্পে অংশ নিলে আইনি ও সুনামগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। মিশর ও জর্ডানও ই১ প্রকল্পের নিন্দা জানিয়েছে। মিশর বলেছে, এই প্রকল্প পূর্ব জেরুজালেমের ওপর প্রভাব ফেলবে। জর্ডানের অভিযোগ, ইসরায়েল এই প্রকল্পের মাধ্যমে দখলদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। আরব লীগের মহাসচিব নাবিল ফাহমি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। ওই প্রস্তাবে ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতিকে ‘আইনি বৈধতাহীন’ বলা হয়েছে। ফিলিস্তিনের জাতীয় পরিষদের সভাপতি রুহি ফাত্তুহ বলেন, ই১ প্রকল্পের দরপত্র প্রকাশের ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আরও কাছে চলে গেছে। এতে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভিত্তি হুমকির মুখে পড়বে। মঙ্গলবার ই১ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের আগস্টে ওই এলাকায় মোট ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ই১ এলাকা পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝামাঝি অবস্থিত। সেখানে নির্মাণকাজ হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। বর্তমানে এসব এলাকায় প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই এসব ইসরায়েলি বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে। ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের বিরোধী সংগঠন পিস নাও বলেছে, সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বসতি সম্প্রসারণ ও পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। সংগঠনটি আরও সতর্ক করেছে, ই১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খান আল-আহমারসহ কয়েকটি বেদুইন সম্প্রদায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এবং অনেক বাসিন্দাকে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদের ঝুঁকি তৈরি হবে। সূত্র: শাফাক নিউজ
দীর্ঘদিনের মানসিক সংকট, কাঠামোগত নানা সমস্যা এবং খাবারের চরম অভাবের মুখে অবশেষে পশ্চিম এশিয়া থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম প্রতীক পারমাণবিকচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা ও নাবিক নিয়ে রণতরীটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ফিরে যাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রায় ৫,০০০ নাবিক ও মেরিন সেনা বহনকারী এই রণতরীটি আরব সাগরে 'ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন' পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার নিজ দেশের উদ্দেশে রওনা দেয়। ওই অঞ্চলে নতুন রণতরীর পরিচালনার ছবি প্রকাশ করে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে রণতরীটিকে টানা প্রায় নয় মাসেরও বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে হয়েছে। এমনকি টানা ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নাবিকরা কোনো বন্দরে নামার বা বিশ্রামের সুযোগ পাননি, যা মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ ও কঠিন একটি মোতায়েন। এই দীর্ঘ অবস্থান ও চরম পরিস্থিতির কারণে রণতরীটির ভেতরে এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপে ভারসাম্য হারিয়ে একাধিক নাবিক সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সেনাদের পরিবারগুলো কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা রণতরীটির ভেতরের শোচনীয় পরিবেশ তুলে ধরে জানান, জাহাজটিতে দীর্ঘ দিন গরম পানি ছিল না, বাথরুম ও শাওয়ারগুলো ভেঙে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, এবং সাবান ও টুথপেস্টের মতো জরুরি পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। সবচেয়ে সংকট তৈরি হয় খাবার নিয়ে—পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল যে সেনাদের প্রতিদিন মাত্র আধা কাপ ভাত আর দুটি পাতলা রুটি খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের প্রতিরক্ষামূলক হামলায় বাহরাইনে থাকা প্রধান মার্কিন লজিস্টিক কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সরবরাহের সংকট তৈরি হয়। ফলে মার্কিন বাহিনীকে প্রায় ২,১০০ মাইল দূরের একটি দ্বীপ থেকে রসদ পাঠাতে হচ্ছিল, যা শেষ পর্যন্ত প্রায় ভেঙে পড়ে। যদিও মার্কিন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতির গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, তবে নাবিকদের চরম মানসিক বিপর্যয় ও সংসদ সদস্যদের আন্দোলনের পর যেভাবে এই রণতরীটিকে সরিয়ে নেওয়া হলো, তা মার্কিন সামরিক অভিযানের বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাকেই সামনে নিয়ে এল।
সম্প্রতি সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি সামরিক চুক্তি করেছে পাকিস্তান। এতে বলা হয়েছে অন্য কোনো দেশ যদি এ তিন দেশের কারও ওপর হামলা চালায় তাহলে এটি সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর ধারার সঙ্গে মিল থাকায় অনেকে তিন দেশের এ জোটকে ‘সুন্নি ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করছে। ভারতের মেজর জেনারেল (অবঃ) গগন দ্বীপ বক্সি বলেছেন, চুক্তি করার আগ থেকেই তুরস্ক পাকিস্তানকে সামরিকভাবে সহায়তা করছে। যা দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুরের সময়। ওই সময় পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যখন যুদ্ধ চলছিল তখন ইসলামাবাদের প্রতি সমর্থন জানাতে করাচি বন্দরে নিজেদের একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠায় তুরস্ক। এছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে এক হাজারের বেশি ড্রোন দিয়ে ও সেগুলো পরিচালনা করে তুরস্ক সহায়তা করেছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। কিন্তু অবস্থান দূর হওয়ার কারণে তুরস্ক তাদের যুদ্ধজাহাজ নিয়ে পাকিস্তানকে সহায়তা করতে আসতে পারবে না বলে জানান তিনি। ভারতের সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, যদি তুরস্ক কখনো পাকিস্তানকে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে সহায়তা করতে আসে তাহলে তাদের নৌসেনারা তার্কিস নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারবে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানকে সহায়তার চেষ্টা করা তুরস্কের সেনাদের ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগর হয়ে আসতে হবে। পাকিস্তানকে সহায়তার চেষ্টা করতে আসা তুরস্কের নৌবহরকে ভারতের নৌবাহিনী ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারবে।” সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
ভারতের সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দে বিলম্বের অভিযোগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ সময় তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ কিংবা গোটা ভারত কোনোটিই নিরাপদ থাকবে না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। আগের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে অমিত শাহ জানান, ২০১৪ সাল থেকে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য ১ হাজার ১২৯ একর জমি চেয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু বারবার আবেদন করার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ওই জমি দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে অমিত শাহ বলেন, এখন রাজ্য সরকারের অনুমতি পেতে একটি ফোন কলই যথেষ্ট, পরে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। অমিত শাহ আরো অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসবির কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। সেই জায়গা থেকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকায় তাকে আলাদা করে ধন্যবাদ জানান এবং তার ভূমিকার প্রশংসা করেন অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী এসএসবি বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়; তারা নিরপেক্ষভাবে দেশের নিরাপত্তায় কাজ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পিতৃত্বের আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার পর বেলজিয়ামের রাজপুত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২৬ বছর বয়সী সাবেক গাড়ি বিক্রেতা (কার সেলসম্যান) ক্লেমেন্ট ভ্যান্ডেনকারকহোভ। তিনি দেশটির রাজপুত্র লরেন্ট এবং বেলজিয়ান গায়িকা ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেনের সন্তান। প্রায় ছয় মাস আগে নগর ভবনে এক অনুষ্ঠানে রাজপুত্র লরেন্ট আইনিভাবে তাকে নিজের সন্তান ও উত্তরাধিকারী হিসেবে মেনে নেন। তবে সম্প্রতি ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে। রাজপুত্রের স্বীকৃতি পেলেও তিনি কোনও রাজকীয় ভাতা পাবেন না এবং রাজপরিবারের উত্তরাধিকারের তালিকায়ও তার নাম থাকবে না। ফলে রাজকীয় কোনও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি অংশ নেবেন না। নিজের বাবার পদবি স্যাক্স-কোবার্গ ব্যবহার করবেন কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন ক্লেমেন্ট। ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেনের আসল নাম আইরিস ভ্যান্ডেনকারকহোভ। ২০০৩ সালে প্রিন্সেস ক্লেয়ারকে বিয়ের আগে তার সঙ্গে রাজপুত্র লরেন্টের সম্পর্ক ছিল। ভ্যালেন্টাইন ড্রোন প্রামাণ্যচিত্রে ক্লেমেন্ট জানান, ২০১৩ সালে একটি শপিং সেন্টারে না চিনেও বাবার সঙ্গে তার হঠাৎ দেখা হয়েছিল। ১৬ বছর বয়সে মা তার কাছে বাবার পরিচয় প্রকাশ করেন। এরপর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন তারা। পরীক্ষায় ৯৯.৫ শতাংশ ডিএনএ মিলে গেলে রাজপুত্র লরেন্ট তাকে সন্তান হিসেবে মেনে নেন। লরেন্টের এই ডিএনএ পরীক্ষা তার বাবা সাবেক রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্টের কথা মনে করিয়ে দেয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২০ সালে আলবার্ট তার এক কন্যা সন্তানকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হন। সে সময় শিল্পী ডেলফাইন বোয়েল রাজকীয় অধিকার পান এবং তিনি নিজেকে ডেলফাইন ডি স্যাক্স-কোবার্গ হিসেবে পরিচয় দেন। ২০১৩ সালে বেলজিয়ামের আইন পরিবর্তনের পর থেকে শুধু কয়েকজন নির্দিষ্ট সদস্য রাজকীয় ভাতা পান। সূত্র: বিবিসি
ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) একটি সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি দেখতে যাওয়ার পথে তাদের গাড়ি ঘিরে ধরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে দলটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপির সহপ্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে একটি দল জয়পুরের বাগরুর এলাকার একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনে যাচ্ছিল। পথে একদল লোক তাদের গাড়ি ঘিরে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। তাদের ‘শহুরে নকশাল’, ‘জাতীয়তাবিরোধী’ ও ‘পাকিস্তানি’ বলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। হামলায় সিজেপির কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ সময় গাড়ি ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয় এবং এক নারী কর্মীকেও মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত স্কুলটিতে না গিয়ে ফিরে যান। সিজেপি এ ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ী করেছে। দলটির সহপ্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন, গ্রামের একটি গোয়ালঘরে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর অনুরোধেই তারা স্কুলটির পরিস্থিতি দেখতে সেখানে যাচ্ছিলেন। রাঙ্কার অভিযোগ, সফরের বিষয়টি পুলিশকে আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের পৌঁছানোর আগেই বিজেপির লোকজন সেখানে অবস্থান নেয় এবং সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর হামলা চালায়। তার দাবি, হামলায় একজন সদস্যের হাত ভেঙে গেছে এবং তার নিজের শার্টও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও বিধায়ক স্বামী বালমুখন্দ্রচার্য্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সিজেপির সফরের বিরোধিতা করেছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাই। তাদের মতে, সিজেপির কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে দুই পাইলটসহ মোট আটজন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২১ আগস্ট) এবং স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি জানায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। জানা গেছে, সেসনা ৪৪১ ফ্লাইটটি আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ শহর থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কেপ নিউনহামের দিকে যাচ্ছিল। গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (NTSB) আলাস্কা অঞ্চলের প্রধান ক্লিন্ট জনসন জানান, সিকিউরিটি অ্যাভিয়েশনের পরিচালিত বিমানটিতে দুজন পাইলট ও ছয়জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় তারা বেঁচে আছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, কেপ নিউনহাম বিমানবন্দরের কাছে বিমানটি মাটিতে বিধ্বস্ত হয়। ওই স্থাপনাটি মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এয়ারস্ট্রিপ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সেখান থেকে দূরপাল্লার রাডার সাইটে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেপ নিউনহাম এলাকায় সাধারণ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের পরিবর্তে মূলত সামরিক ও বিশেষ চার্টার্ড বিমান অবতরণের অনুমতি রয়েছে। সূত্র: সিএনএন
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আবারও রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ড তাকে কারাগারে রাখা নিরাপদ বলে মত দেওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। শুক্রবার (২১ আগস্ট) পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশি পাহারায় কারাগারের ১ নম্বর গেট দিয়ে তাকে হাসপাতালে আনা হয়, যেখানে ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার প্রয়োজন নেই এবং তিনি নিরাপদে কারাগারেই থাকতে পারবেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে পুনরায় আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে নিজ সেলে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে ইমরান খানের স্বাস্থ্য, বিশেষ করে তার দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল তার পরিবার ও দল। সেই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল।
ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের তেল রাজস্ব ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের পথ বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতিকে এমন পর্যায়ে নিতে চাইছে ওয়াশিংটন, যাতে ইরান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়। তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে চীনের ওপর। প্রায় ছয় মাসের যুদ্ধের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করেছেন ট্রাম্প। তিনি এটিকে ‘যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুধু ইরান নয়, দেশটির অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করা ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ওয়াশিংটনের নতুন কৌশলের লক্ষ্য হলো ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে যতটা সম্ভব বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। তেহরানের তেল বিক্রির আয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিপিং নেটওয়ার্ক এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বিভিন্ন বাণিজ্যিক পথ বন্ধ করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তেল রপ্তানিতে বড় ধাক্কা ইরানের বৈদেশিক আয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস তেল। তাই দেশটির তেল রফতানি বন্ধ করাই ট্রাম্পের পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের কারণে দেশটির তেলবাহী ট্যাংকারে পণ্য বোঝাই ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে কমে গেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের তুলনায় ইরানের তেল চালান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ, ট্যাংকার, জাহাজ নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে অর্থ লেনদেনে জড়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ বাড়ানো হচ্ছে। নগদ অর্থ স্থানান্তর, বিনিময় কেন্দ্র, ভুয়া বা বেনামি কোম্পানি এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বিভিন্ন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের এই নীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যর্থ নীতির’ ধারাবাহিকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর দাবি, অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হলে তা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্যই নতুন পরাজয় ডেকে আনবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন তিনি। কেন চীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রাম্পের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে চীনকে ঘিরে। ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় অবশিষ্ট ক্রেতা চীন। ফলে তেহরানের তেল বিক্রির পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে চীনা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপরও চাপ দিতে হবে ওয়াশিংটনকে। এখানেই ট্রাম্পের জন্য তৈরি হচ্ছে বড় কূটনৈতিক ঝুঁকি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চীনের বড় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বেইজিংয়ের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত তৈরি হতে পারে। তবে চীনের মতো বড় ক্রেতার মাধ্যমে ইরানের তেল বিক্রি অব্যাহত থাকলে ট্রাম্পের ‘নজিরবিহীন বিচ্ছিন্নতা’ তৈরির পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকবে। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে তেহরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ সংকুচিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটে ইরান দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যেই গভীর সংকটে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আশঙ্কা, চলতি বছর ইরানের অর্থনীতি ৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। এটি প্রায় চার দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকোচন হতে পারে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দরও রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে ক্রমেই বেশি চাপের মুখে পড়ছেন। তেলের ওপর নতুন করে অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। অবরোধের বাইরে ইরানের কাছে এখনও প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে। এর বড় অংশ চীনে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, এই তেল থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার আয় হতে পারে। তবে দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল হারে তেল রপ্তানি হলে এই মজুত থেকে প্রায় চার মাসের রপ্তানি আয় পাওয়া সম্ভব। কেপলারের অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোমায়ুন ফালাকশাহি ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে আকস্মিক পতনের বদলে ‘ধীর মৃত্যুর’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থনৈতিক চাপেই কি ভেঙে পড়বে তেহরান? এখানেই ট্রাম্পের কৌশলের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। দশকের পর দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে টিকে থাকতে ইরান বিকল্প ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিপিং কোম্পানি, মধ্যস্থতাকারী ও বাণিজ্যপথের একটি জটিল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে বড় আঘাত করলেও তেহরান কত দ্রুত নতি স্বীকার করবে, তা নিশ্চিত নয়। ইউরেশিয়া গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু মনে করেন, ইরানের নেতৃত্ব আরও দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক দুর্ভোগ সহ্য করতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, তেহরান বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা এবং মাসের পর মাস যুদ্ধ সহ্য করেছে। ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার গবেষণা বিভাগের ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানিয়েল সিট্রিনোভিচও মনে করেন, কেবল অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান ভেঙে পড়বে— এমন ধারণা ভুল হতে পারে। তাঁর মতে, কঠোর অর্থনৈতিক চাপও তেহরানের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে মৌলিক পরিবর্তন নাও আনতে পারে। এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও ইরানে এমন কোনো ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায়নি, যা সরাসরি দেশটির শাসনব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি তৈরি করেছে। এবার লড়াইটা সহনশীলতার ট্রাম্পের পরিকল্পনা সফল হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করতে পারে কোন পক্ষ বেশি সময় ধরে চাপ সহ্য করতে পারে তার ওপর। ইরানের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু তেহরান হয়তো হিসাব করছে, অর্থনৈতিক দুর্ভোগ, তেলের উচ্চমূল্য, যুদ্ধের রাজনৈতিক ব্যয় এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপ ট্রাম্পের জন্যও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম ইতোমধ্যে প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের বেশি। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে যদি তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তেলের দাম বাড়লে ট্রাম্পকে সামরিক সংঘাত আরও বাড়ানো অথবা দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা— এই দুইয়ের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তাই ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অভিযান কেবল নিষেধাজ্ঞার লড়াই নয়; এটি হয়ে উঠেছে দীর্ঘস্থায়ী সহনশীলতার প্রতিযোগিতা। প্রশ্ন এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কতটা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারবে, তা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে— এই চাপের মধ্যে কোন পক্ষ আগে পিছু হটবে, ওয়াশিংটন নাকি তেহরান?
গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের ত্রাণবাহী গাড়িবহরে হামলায় সাত বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলের তদন্ত বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছে পোল্যান্ড। এ ঘটনায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়ারশতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। শুক্রবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি উদ্ধৃত করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের ত্রাণবাহী গাড়িবহরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাতজনের মধ্যে পোলিশ নাগরিক দামিয়ান সোবলও ছিলেন। ওই হামলার তদন্ত বন্ধের ইসরায়েলি সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে ওয়ারশ। বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করে হামলার কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দাবি করেছে পোল্যান্ড। মন্ত্রণালয় জানায়, সোবলের নিজ শহর প্রজেমিশলের আঞ্চলিক প্রসিকিউটর কার্যালয়ও ঘটনাটি তদন্ত করছে। পোল্যান্ড আশা করছে, দেশটির তদন্তকারীদের চাওয়া সব ধরনের ব্যাখ্যা ও প্রমাণ ইসরায়েল সরবরাহ করবে। পোলিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ত্রাণকর্মীদের নিহত হওয়ার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে হামলার জন্য দায়ীদের আইনি ও নৈতিক জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো প্রচেষ্টা তারা মেনে নেবে না। ২০২৪ সালের ওই হামলায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত কর্মী নিহত হন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। সূত্র: আলজাজিরা
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোতো রাজ্যে একটি নৌকা ডুবে গিয়ে কমপক্ষে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিবিসির বরাতে জানা যায়, ৭০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে যানটি উল্টে যায়, যাদের অধিকাংশই শিশু। পুলিশ মুখপাত্র আহমেদ রুফাই বৃহস্পতিবার জানান, গোরোনি অঞ্চলের গোরাউ এলাকার কাছ থেকে ৪৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। জরুরি পরিষেবা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বলে জানান জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার (নেমা) মুখপাত্র এজেকিয়েল মানজো। রয়টার্সকে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, শিশুরা ধান কাটার কাজের উদ্দেশ্যে খামার মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রা করেছিল। দাফনের পূর্বে স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে পাটি ও ঐতিহ্যবাহী কাপড়ে মোড়ানো ৫০টি লাশ রাখা হতে দেখেন তিনি। নাইজেরিয়ায় দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ও ব্রিজের অভাবে দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে অধিকাংশ গ্রামীণ মানুষ নৌপথের ওপর নির্ভর করে। তবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌকার বাজে রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় দেশটিতে বারবার ভয়াবহ নৌকা দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। সূত্র: বিবিসি
ইরানকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় একদিনেই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৬.৭০ ডলারে পৌঁছেছে। এটি ২৪ জুলাইয়ের পর তেলের সর্বোচ্চ মূল্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে ব্যাপক অর্থনৈতিক পদক্ষেপের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করার পর তেলের দাম বেড়ে যায়। ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডাব্লিউটিআই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ২.৭৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয় ৮৬.৭০ ডলার। এর পাশাপাশি লন্ডনের ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ২.২৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয় ৯৩.৬৮ ডলার। এক সপ্তাহে তেলের দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিধি-নিষেধগুলোর লক্ষ্য হলো ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করা। এর আওতায় ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিপিং রেজিস্ট্রি, অর্থ স্থানান্তর এবং চোরাচালান নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরো জোরদার করতে চাইছে এবং সংঘাত, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনায় বসতে তেহরানকে চাপ দিতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে। তবে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে গেলেও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে এখনো পরিবাহিত হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন করা হচ্ছে। এর এক দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করে। এর আগে অভিযোগ ওঠে যে তেহরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। ১৭ জুন ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ যে বাড়ানো হবে, তা নিয়ে উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সেই মেয়াদ আর বাড়ছে না। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর ইরান জানায়, তারা ‘পূর্ণ আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে চলে যাবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি হয়নি। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের ওপর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান। এসব নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সাধারণ ইরানিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ ইরানের স্বাধীনতা, জাতীয় অখণ্ডতা ও স্বার্থ রক্ষার অবস্থানকে দুর্বল করতে পারবে না বলেও উল্লেখ করা হয়। এদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যাপক ও নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী: ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ও এর সঙ্গে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলের সমুদ্রে অবস্থান করছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থানের কারণে এর নাবিক ও ক্রুদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত মোতায়েনের অংশ হিসেবে জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করেছে। ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি—দুই ঘটনাই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পর্তুগালে জনসমক্ষে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে, যাতে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই বিধান বোরকা ও নিকাব পরা মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়ায় দেশটিতে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, জনসমক্ষে এমন কোনো পোশাক বা উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না, যার কারণে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়। আইন লঙ্ঘন করলে ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই বিধান থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, পেশাগত দায়িত্ব, শিল্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। আইনটির সমর্থকদের মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনের সময় ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার সুযোগ রাখতেই এই বিধান করা হয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তির নিজস্ব পোশাক নির্বাচনের অধিকারে হস্তক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে। স্পেনেও বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ: এদিকে স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জেও বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। দেশটির ডানপন্থী দল ভক্স ও পিপলস পার্টির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা বারবার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা এবং কাউকে জোর করে বোরকা বা নিকাব পরতে বাধ্য করলে সর্বোচ্চ চার বছর কারাদণ্ডের বিধানের কথা বলা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুখঢাকা পোশাক নিয়ে এমন উদ্যোগের ফলে জননিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, দাবানল ও খরার মধ্যে চলতি বছর ফ্রান্সে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ৭ হাজার ৩০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তাসংস্থার এএফপির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে ফ্রান্স২৪। ফ্রান্সে জুনের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫২ দিন তাপপ্রবাহ ছিল। দেশটিতে ১৯৪৭ সালে তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরুর পর এটাই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহের ঘটনা। এ বছর ফ্রান্সে পরপর তিন দফা তীব্র তাপপ্রবাহ হয়েছে। জুনে ১৪ দিন, জুলাইয়ে ১৬ দিন এবং জুলাইয়ের শেষদিকে শুরু হওয়া আরেকটি তাপপ্রবাহ এখন পর্যন্ত ২২ দিন ধরে চলছে। ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ১৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ হাজার ৭৬৪ জন বেশি মারা যান। এরপর ২ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত আরও ১ হাজার ২৪৩ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকের তীব্র গরমে আরও ৩০০ জনের মৃত্যু শনাক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩০৭। অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রায় ৭৫ শতাংশই ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ঘটেছে। তবে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এর প্রভাব দেখা গেছে। তবে এসব মৃত্যু সরাসরি তাপপ্রবাহের কারণে হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ হিসাবটি সব ধরনের মৃত্যুকে অন্তর্ভুক্ত করে করা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য শরতে প্রকাশ করা হবে। তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যার দিক থেকেও ২০২৬ সাল ফ্রান্সে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০২২ সালে মোট ৩৩ দিন তাপপ্রবাহ হয়েছিল। আর ২০০৩ সালের ভয়াবহ গরমে তাপপ্রবাহ ছিল ২২ দিন। ২০০৩ সালের তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে ওই বছরের আগস্টের তাপপ্রবাহকে এখনো তীব্রতা ও স্থায়িত্ব মিলিয়ে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এদিকে ২০২৬ সালের ২৪ ও ২৫ জুন ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এটি দেশটির সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড, যা ২০০৩ সালের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ফ্রান্সের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপও চলতি বছরের গ্রীষ্মের শুরুতে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ সময় পার করেছে। বারবার তাপপ্রবাহের কারণে বিভিন্ন দেশে খরা ও ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে। সূত্র: ফ্রান্স২৪
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার তাদের মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকাভুক্ত করা হয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তারা এমন কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়েকে এসডিএন তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’ শিরোনামে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। সেই আদেশের আওতায়ই আইসিসির এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। এর আগে আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান এবং আট বিচারকসহ আদালটির ১০ কর্মকর্তাকে একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আকানে ও সেয়ের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক বা বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবে না। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর থেকেই আদালটির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চাপ আরও জোরালো হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অভিযোগ, আকানে ও সেয়ে এমন কার্যক্রমের সঙ্গে ‘সরাসরি’ সম্পৃক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে এমন একটি দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যে দেশ আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করেনি। রুবিও বলেন, আইসিসির মাধ্যমে জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য তৈরি হওয়া হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরো সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জবাবদিহিহীন এই আদালতে অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ বন্ধ করতে আরও দেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শামিল হবে বলে ওয়াশিংটন আশা করছে। এর আগে গত মাসে আইসিসির বিরুদ্ধে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আদালটি মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। গত মাসে ক্যাম্প ডেভিডে দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও বলেন, যেসব দেশ আইসিসির সদস্য নয়, তাদের নাগরিকদের ওপরও আদালত এখতিয়ার দাবি করায় প্রতিষ্ঠানটি ‘নিজেকেই অবৈধ’ করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়। এদিকে, ট্রাম্প বলেন, রুবিও ‘বিবি ও আরও কয়েকজনকে রক্ষা করার’ চেষ্টা করছেন। ‘বিবি’ বলতে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বোঝান। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির কর্মকর্তা এরিকা গুয়েভারা রোসাস এই পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ওপর নিন্দনীয় হামলা’ বলে অভিহিত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গুয়েভারা রোসাস বলেন, আইসিসিকে ভয় দেখানো এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্রমবর্ধমান প্রচারণার’ অংশ হিসেবেই এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।
ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি এসব সামগ্রীর চালানবাহী ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে। গোয়েন্দা নথি এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত কাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসন এনবিসিকে এ সম্পর্কে বলেন, “এ তথ্য থেকে আমরা দু’টি ব্যাপার জানতে পেরেছি— (১) মস্কো এবং তেহরান নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছে এবং (২) মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের জেরে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে; অর্থাৎ ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানগুলো সফল হয়েছে।” ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যেসব জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সব রুশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। ২০২৪ সাল থেকে এ কোম্পানি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া ও ইরান। এই চুক্তির অনেক আগে থেকেই অবশ্য রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে ইরান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিয়মিত নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ইরান। রাশিয়া আবার নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাদ্যমে শাহেদ ড্রোনের মান ও বিধ্বংসী ক্ষমতার উন্নয়নও করেছে। ইরানকে অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনে যোগাযোগ করেছিল এনবিসি। তবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তরা এই তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) শীর্ষ দুই কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তরা হলেন, বৈশ্বিক এই আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের আইসিসিকে ‘ভেঙে দেওয়ার’ প্রচেষ্টার সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। যুদ্ধাপরাধসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তের এখতিয়ার থাকা আদালটির সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা ১২০টির বেশি। রুবিও অভিযোগ করেন, আকানে ও সেয়ে এমন কর্মকর্তাদের বিচারের আইসিসির প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন, যাদের সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে বিচারিক এখতিয়ার দেওয়া হয়নি। তিনি আইসিসিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও মারাত্মকভাবে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ একটি আন্তর্জাতিক আদালত হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আদালতের ‘হস্তক্ষেপ’ মেনে নেবে না। তবে আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করে জানিয়েছে, তারা আদালতের কর্মীদের পাশে রয়েছে। আদালতের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আইনের শাসনকে দুর্বল করে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও আইসিসির অন্তত ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন বিচারক এবং প্রধান কৌঁসুলিও রয়েছেন। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্ত এবং গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জেরেই আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো দেওয়া হয়েছিল। নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আইসিসিকে ইহুদিবিদ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত বলে অভিযোগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়। তবে ফিলিস্তিন ২০১৫ সালে আইসিসিতে যোগ দেওয়ায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত কথিত অপরাধ নিয়ে তদন্তের পথ আদালটির জন্য উন্মুক্ত হয়। আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। তার প্রথম মেয়াদেও তিনি আদালতটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আইসিসির ‘কোনো এখতিয়ার, বৈধতা বা কর্তৃত্ব’ নেই। সূত্র: বিবিসি
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমাঞ্চলে একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৩০ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন খনির ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দারা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নান-মামবেরে আব্বা অঞ্চলে একটি খনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক খনি শ্রমিক ফ্লোরিয়ান গাগুয়েন্দে জানান, ধসের পর উদ্ধারকারীরা আটকে পড়া শ্রমিকদের সন্ধানে কাজ করছেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসছে। স্থানীয় উপ-প্রশাসনিক এলাকার ডেপুটি মেয়র সুলেইমান বি জানান, উদ্ধারকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ধসে পড়া খনি থেকে ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ। যারা এখনো খনির গর্তে আটকে আছেন এবং নিজেদের বের করে আনতে পারছেন না, তাদের উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থা ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহায়তা প্রয়োজন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে বিশৃঙ্খল উদ্ধার তৎপরতার চিত্র দেখা গেছে। কাদায় মাখামাখি তরুণ শ্রমিকদের মরদেহ উদ্ধারে কাজ করতে দেখা যায়। খনির বিস্তৃত এলাকায় আরও বহু শ্রমিক ও কর্মী ছড়িয়ে ছিলেন এবং কেউ কেউ সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সরকারি মুখপাত্র এভারিস্তে নগামানা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এ ধরনের স্বল্প প্রযুক্তিনির্ভর খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।