আন্তর্জাতিক

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি : নিউইয়র্ক টাইমস

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বলে দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বরং দেশটি এখনো উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের শুরুতে প্রস্তুত করা গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই আবার কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।   এতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলার পরও ইরান যুদ্ধের আগের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও মোবাইল লঞ্চার এখনো ধরে রেখেছে। এছাড়া দেশজুড়ে থাকা ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ আংশিক বা পুরোপুরি সচল রয়েছে।   তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এই মূল্যায়নকে খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান এখনো আগের সামরিক সক্ষমতা ফিরে পায়নি। তার মতে, যারা মনে করে ইরান তার সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করেছে, তারা হয় বিভ্রান্ত, নয়তো আইআরজিসির পক্ষ নিচ্ছে।   গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চলা সংঘাতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছিলেন, হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।   তবে সংঘাত চলাকালে ইরানও পাল্টা অন্তত ১০০ দফা হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা।   এর আগে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশটির উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো ব্যবহারই করা হয়নি।   এদিকে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি সম্প্রতি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান যে হারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লঞ্চার পুনরায় প্রস্তুত করেছে, তা যুদ্ধের আগের সময়ের চেয়েও বেশি।   তিনি আরও বলেন, ইরানের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো এখন পারস্য উপসাগর অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজকে লক্ষ্য করে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মে ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে গোপন হামলা চালায় সৌদি আরব, দাবি রয়টার্সের

রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব গোপনে ইরান-এর ভেতরে একাধিক হামলা চালিয়েছে।   প্রতিবেদনে পশ্চিমা দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, গত মার্চে সৌদি আরব ইরানের বিভিন্ন স্থানে গোপন হামলা চালায়। এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।   প্রথমবারের মতো সৌদি আরব ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালিয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন। তবে কোন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   আরেক পশ্চিমা কর্মকর্তা জানান, মার্চের শেষ দিকে সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। পরবর্তীতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও চাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা কমতে শুরু করে।   তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান মে ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে ভাবি না, আমার অগ্রাধিকার ইরানের পারমাণবিক ইস্যু: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বা মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি “একটুও ভাবেন না”। তার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা সূত্রে জানা যায়, ইরান পরিস্থিতি ও যুদ্ধজনিত উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।   চীনে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, অর্থনৈতিক চাপ বা দাম বাড়া তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে না।   তিনি বলেন, “ইরান বিষয়ে আমার একমাত্র লক্ষ্য হলো তারা যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী না হয়।”   অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে “একটুও না” বলেন।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে, যা রাজনৈতিকভাবে নতুন বিতর্ক তৈরি করছে।

আক্তারুজ্জামান মে ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজের পাশে ৩০ মিসাইল সাইট পুনরুদ্ধার করেছে ইরান

ইরান হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা নিজেদের ৩৩টি মিসাইল সাইটের মধ্যে ৩০টি পুনরুদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। এতে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান এসব সাইটে মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে দ্রুত বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা সম্ভব। এছাড়া কিছু সাইটে স্থায়ী লঞ্চ প্যাডও রয়েছে, যেখান থেকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে মিসাইল নিক্ষেপ করা যায়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩টি সাইটের মধ্যে মাত্র তিনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা।   অন্যদিকে রয়টার্স এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার সময় সৌদি আরব গোপনে ইরানের ভেতরে হামলা চালিয়েছে।   রয়টার্সকে দেওয়া পশ্চিমা দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে সৌদি আরব ইরানের কয়েকটি স্থাপনায় গোপন হামলা চালায়। তাদের দাবি, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই সৌদি এই পদক্ষেপ নেয়।   তবে সৌদি আরব ঠিক কোন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান মে ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ভেতরে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এ চিন্তা সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।   মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের একটি অংশ কঠোর অবস্থানের পক্ষে। তারা মনে করছেন, সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানের অবস্থান দুর্বল করে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরতে চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে।   অন্যদিকে প্রশাসনের আরেকটি অংশ এখনো কূটনৈতিক সমাধানের জন্য শেষবারের মতো সুযোগ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   কিছু মার্কিন কর্মকর্তা পাকিস্তানের ভূমিকাও নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের ধারণা, ইসলামাবাদ হয়তো তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তোষ পুরোপুরি তুলে ধরেনি। বরং ইরানের অবস্থান সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে তুলনামূলক আশাবাদী বার্তা দিয়েছে।   এর আগে সোমবার ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে ইরানের দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি এটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।   জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া তাদের প্রস্তাব অতিরঞ্জিত নয়। একই সঙ্গে তারা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক দাবি তোলার অভিযোগ আনে।

আক্তারুজ্জামান মে ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কুর্দিস্তানে গাড়ি থেকে ময়লা ফেললে ৩০ ডলার জরিমানা

চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় বা খোলা স্থানে ময়লা ফেললে ৪০ হাজার দিনার (প্রায় ৩০ মার্কিন ডলার) জরিমানার ঘোষণা দিয়েছে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার (কেআরজি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমানে ৩০ মার্কিন ডলার সমান প্রায় ৩ হাজার ৬৮৮ টাকা।   মঙ্গলবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে কুর্দিস্তান অঞ্চলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   শাফাক নিউজ জানায়, নতুন এই নিয়ম চালক ও যাত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।   মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ব্যুরোর মহাপরিচালক হেমান মিরানি বলেন, গাড়ি থেকে ময়লা ফেলা আর স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে না।   তিনি জানান, জনপরিসর পরিষ্কার রাখা ও পরিবেশ দূষণ কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইরানের রাজধানী

ইরানের রাজধানী তেহরানের অদূরে পারদিস শহরের কাছে মঙ্গলবার রাতে ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইরানের সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি তেহরান থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার এবং কারাজ থেকে ৭৭ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা সম্পদহানির খবর পাওয়া যায়নি।   ইরানের সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১৬ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ২০১৬) ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার (৬.২১ মাইল) গভীরে এর উৎপত্তি।   ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল তেহরান ও মাজান্দারান প্রদেশের সীমানাবর্তী এলাকায় ছিল বলে জানা গেছে। কম্পনটি তেহরান প্রদেশের পূর্বাঞ্চল এবং মাজান্দারান প্রদেশের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি শহরেও অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।   তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরানি সামরিক বিমানকে পার্কিংয়ের অনুমতি দিয়েছিল পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের হামলা থেকে বাঁচাতে ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের ঘাঁটিতে জায়গা দেয় পাকিস্তান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে নিজেদের সামরিক বিমান পার্কিংয়ের জন্য নিয়ে আসে ইরান। এছাড়া আরেক প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানেও নিজেদের কিছু বেসামরিক বিমান নিয়ে যায় ইরান। তবে আফগানিস্তানে সামরিক বিমান নেওয়া হয়েছিল কি না সেটি স্পষ্ট নয়।   সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তেহরান তাদের বেশকিছু মূল্যবান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রাওয়ালপিন্ডির খানিকটা বাইরে অবস্থিত পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নূর খান ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়। এতে করে এগুলো ইসরায়েলি ও মার্কিনি হামলা থেকে রক্ষা পায় । পাকিস্তান যখন ইরানকে তাদের সামরিক বিমান রাখার সুযোগ দিয়েছে ঠিক একই সময় মধ্যস্থতাও চালিয়েছে। ইরান পাকিস্তানে যেসব বিমান পাঠিয়েছে তারমধ্যে দেশটির বিমানবাহিনীর আরসি-১৩০ নজরদারি বিমান এবং লকহিডের তৈরি সি-১৩০ বিমান ছিল। এটি কৌশলগত পরিবহন বিমান সি- ১৩০ হারকিউলিসের একটি সংস্করণ যা নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয় ।   বিষয়টির সম্বন্ধে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এপ্রিলের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর ইরান ওই আরসি-১৩০ বিমানসহ একাধিক বিমান পাকিস্তানের নূর খান ঘাঁটিতে পাঠায়। সে সময় ইরানের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে উত্তেজনা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিলেও সম্ভাব্য মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা থেকে বাকি সামরিক ও বিমান বাহিনীর সম্পদকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবেই তেহরান আফগানিস্তানে বেসামরিক ও পাকিস্তানে সামরিক সম্পদ পাঠিয়েছিল বলে ধারণা ঐ কর্মকর্তাদের। তবে পাকিস্তান অবশ্য পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির এক কর্মকর্তা জানান, নূর খান বিমানঘাঁটি অত্যন্ত জনবহুল এলাকায় অবস্থিত। যদি সেখানে অনেক বেশি বিমান পার্ক করা থাকত তাহলে এগুলো সবার নজরে আসত ।   তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তান ইরানি যুদ্ধবিমানকে পার্কিংয়ের অনুমতি দিয়েছিল, এ খবর ওয়াশিংটনে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি করেছে। অনেক মার্কিন আইনপ্রণেতাই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেওয়া ইসলামাবাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। রিপাবলিকান সেনেটর 'যুদ্ধবাজ' খ্যাত লিন্ডসে গ্রাহাম ইরান সঙ্কটে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করারও দাবি জানিয়েছেন। তবে পাকিস্তানে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ খবরকে ‘ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।   তিনি বলেছেন, নূর খান ঘাঁটি জনবহুল এক এলাকায় অবস্থিত। সেখানে ইরানি বিমান নামলে তা লুকিয়ে রাখার সুযোগ নেই। নূর খান ঘাঁটিটি শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত, যদি অনেকগুলো বিমানের একটি বহর সেখানে পার্ক করা থাকতো, তাকে কোনোভাবেই লোকচক্ষুর আড়ালে রাখা যেত না, বলে জানান তিনি। তবে আফগানিস্তান বলছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ চলার সময় ইরানের মাহান এয়ারের একটি বেসরকারি বিমান কিছু সময় কাবুল বিমানবন্দরে পার্ক করা ছিল। আফগান বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের কিছুক্ষণ আগে ইরানি ওই বেসামরিক বিমানটি কাবুলে অবতরণ করেছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৩, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: সংগৃহীত
৪ মন্ত্রীর পদত্যাগে বড় সংকটে কিয়ার স্টারমার সরকার

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর আস্থা হারানোর অভিযোগ তুলে মন্ত্রিসভা থেকে আরও এক জুনিয়র মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত চারজন জুনিয়র মন্ত্রী পদত্যাগ করে স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।   মঙ্গলবার (১২ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সর্বশেষ পদত্যাগকারী মন্ত্রী জুবাইর আহমেদ ব্রিটিশ সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পদত্যাগপত্রে জুবাইর আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লেখেন, “সাম্প্রতিক ঘটনাবলি থেকে স্পষ্ট যে যুক্তরাজ্যের জনগণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার প্রতি আস্থা হারিয়েছে।   এর আগে আরও তিনজন জুনিয়র মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। জুবাইরের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির যেসব এমপি কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ বা দায়িত্ব ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন, তাদের সংখ্যা বেড়ে ৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে।   গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। দলটির একাংশের এমপিরা প্রকাশ্যে বিদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন এবং স্টারমারের কাছে নেতৃত্ব হস্তান্তরের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।   এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি মন্ত্রীদের জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর গত ৪৮ ঘণ্টায় তার পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে যে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা সত্ত্বেও তিনি সরকার পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাবেন।   ক্যাবিনেট বৈঠকে স্টারমার বলেন, তিনি লেবার পার্টির সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের দায় স্বীকার করছেন। তবে দলের ভেতরে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। বৈঠকে তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীও প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।   ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নানা কেলেঙ্কারি ও নীতিগত ইউটার্নের কারণে চাপে রয়েছে। এর ফলে দলের নেতৃত্ব ও বিদ্রোহী এমপিদের মধ্যে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দলীয় অভ্যন্তরেও তার প্রতি সমর্থন কমতে শুরু করেছে।   লেবার পার্টির পরিচিত এমপি ও নারী অধিকারকর্মী জেস ফিলিপস মঙ্গলবার পদত্যাগকারী চারজন জুনিয়র মন্ত্রীর একজন। এ ছাড়া ৮০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে স্টারমারকে পদ ছাড়ার সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।   রয়টার্স জানিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যে সরকারের ঋণগ্রহণ ব্যয় প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টা সরকারের জন্য অস্থিতিশীল ছিল এবং এর প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য দেশ ও সাধারণ পরিবারগুলোকে দিতে হচ্ছে।   ডাউনিং স্ট্রিটের বরাত দিয়ে জানানো হয়, স্টারমার ক্যাবিনেটকে বলেন, লেবার পার্টিতে নেতাকে চ্যালেঞ্জ করার একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেটি এখনো শুরু হয়নি। দেশ আশা করে আমরা সরকার পরিচালনায় মনোযোগ দেব। আমি সেটাই করছি এবং আমাদের পুরো ক্যাবিনেটকেও সেটাই করতে হবে।   বৈঠক শেষে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী স্টারমারের প্রতি সমর্থন জানান। পেনশনমন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাবিনেট বৈঠকে কেউই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেননি।   পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কেউই দলের নিয়ম অনুযায়ী নেতৃত্বের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসেননি। যারা স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন, কে ভালো বিকল্প হতে পারেন তাও তাদের বলা উচিত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৩, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সংগৃহীত ছবি
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে না চীন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফরের আগে ইরান ইস্যুতে চীনের ভূমিকা নিয়ে যখন আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন, ঠিক তখনই ভিন্ন এক পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান মনে করেন, চীন কখনোই ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে না।   মঙ্গলবার (১২ মে) আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক আহমাদিয়ান বলেন, এই যুদ্ধ কে শুরু করেছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কোথায়, সে সম্পর্কে চীনের খুব পরিষ্কার ধারণা আছে। ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যখন কোণঠাসা, তখন চীন তাদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে মোটেও ইচ্ছুক নয়।   আহমাদিয়ানের মতে, এটি একটি বড় বৈশ্বিক রাজনীতির অংশ। তিনি বলেন, চীন ইরানের বড় সমর্থক। তারা কোনোভাবেই চায় না ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হোক। এটি চীনের জন্য একটি কৌশলগত খেলা, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
১৬ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরব আমিরাতের নিষেধাজ্ঞা

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর মধ্যে ১৬ জন লেবানিজ নাগরিক এবং ৫টি লেবানন-ভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (ডব্লিউএএম) জানিয়েছে, সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো ধরনের আর্থিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করা হয়।   নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকাভুক্তদের সকল সম্পদ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জব্দ করতে হবে। তাদের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ধরনের লেনদেন বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম আইন অনুযায়ী বন্ধ করতে হবে।   আরব আমিরাত সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ দমনে তাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরই একটি অংশ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অর্থায়ন বন্ধ করতে তারা কঠোর অবস্থানে থাকবে।   উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর দেশগুলোর সঙ্গে একাত্ম হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত হিজবুল্লাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তাদের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভাঙতে এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   সূত্র: আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৩, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি
শান্তিপূর্ণ হোক বা অন্য পথে, জয় আমাদেরই হবে : ট্রাম্প

ইরান সংকট নিরসনে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা বা সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন। চলতি সপ্তাহে চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সেখানে ইরান ইস্যুতে চীনের কোনো সহায়তা তিনি চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, না, ইরান ইস্যুতে আমাদের কারো সাহায্যের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমরা এই লড়াইয়ে জিতবই, তা সেটা শান্তিপূর্ণভাবেই হোক কিংবা অন্য কোনো উপায়ে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে তলানিতে—এমন দাবি করে ট্রাম্প বলেন, তাদের নৌবাহিনী শেষ, তাদের বিমান বাহিনীও ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের যুদ্ধযন্ত্রের প্রতিটি অংশ এখন অকেজো।  

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ থামলেই কমবে মূল্যস্ফীতি, তেলের দামও নামবে: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে এক আশাবাণী শুনিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে এবং যুদ্ধ থামার পরপরই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খবর আলজাজিরার।   সম্প্রতি রিপোর্টারদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, খুব শীঘ্রই এই যুদ্ধ শেষ হতে যাচ্ছে। আর এটি হওয়া মাত্রই আপনারা দেখবেন তেলের দাম হু হু করে কমছে এবং শেয়ার বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে প্রচুর পরিমাণ তেলবাহী জাহাজ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে কিন্তু যুদ্ধের কারণে সেগুলো বন্দরে আটকে আছে। তিনি বলেন, শত শত তেলবাহী জাহাজ বর্তমানে বোঝাই অবস্থায় বের হওয়ার অপেক্ষায় আছে। এই জাহাজগুলো খালাস শুরু হলেই বাজারে তেলের জোয়ার বইবে। ফলে তেলের দাম যেমন কমবে, তেমনি মুদ্রাস্ফীতিও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে। উল্লেখ্য , ইরানে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে শুধু বিশ্ব অর্থনীতি নয়, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। সমালোচকদের মতে, এই যুদ্ধের কারণেই বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। তবে ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।  

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৩, ২০২৬ 0
স্থানীয় নির্বাচনে বিপর্যয়: পদত্যাগের চাপে স্টারমার

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের আহ্বান উপেক্ষা করায় প্রতিবাদে চারজন জুনিয়র মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন উচ্চপ্রোফাইল লেবার রাজনীতিবিদ জেস ফিলিপস।   স্থানীয় নির্বাচনে ভারী পরাজয়ের পর ৮০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য তাঁকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে বা পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে আহ্বান জানালেও স্টারমার 'শাসন কাজ চালিয়ে যাওয়ার' প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার দল চরমভাবে পরাজিত হলেও কট্টর ডানপন্থি রিফর্ম ইউকে দল বিপুল সাফল্য পেয়েছে। পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্টারমারের ওপর আরও একটি চাপ রয়েছে—বিলিয়নেয়ার যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের জন্য লেবার দলের যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১২, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধ: মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির আগুনে পেট্রোল ঢালছে

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে এপ্রিলে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে।   যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তেলের ঘাটতিতে আক্রান্ত হবে না, কারণ যুক্তরাষ্ট্র তেল রপ্তানিকারক দেশ। তিনি আরও বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ হলেই এই পরিসংখ্যান কমে যাবে।   তবে এটি স্পষ্টতই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, কারণ এপ্রিলের মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যানে বিপুল বৃদ্ধি দেখা গেছে। সর্বশেষ এত উচ্চ হারে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছিল কোভিড মহামারির পর, যখন অর্থনীতি স্থিতিশীল হচ্ছিল।   বর্তমানে এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি আমরা, যেখানে যুদ্ধের সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এবং এই বিপুল বৃদ্ধির একটি বড় অংশের কারণ জ্বালানির মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, যা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে ট্রাম্প ভুলভাবে দাবি করেছিলেন।   এই পরিসংখ্যান অর্থনীতিবিদ ও সব মার্কিন নাগরিকের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ এগুলো এমন একটি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় যে মূল্য সুদের হারের চেয়ে দ্রুত বাড়তে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতির আগুনে পেট্রোল ঢালার মতো।   তাই এই পরিসংখ্যানগুলো দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক, তবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১২, ২০২৬ 0
ফ্রান্সে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ: প্রশাসনের কঠোর নজরদারি

ফ্রান্সে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ: প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ফ্রান্সে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির স্বাস্থ্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ফেরা একটি ক্রুজ জাহাজের এক যাত্রীর শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি ধরা পড়ার পর তাকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সংক্রমণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জানা গেছে, এমভি হন্ডিয়ুস নামের ওই জাহাজে ভ্রমণের সময় কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। পরে তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে নেওয়া হলে এক ফরাসি নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর তাকে দ্রুত আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থায় রাখা হয়। ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা সান্তে পুবলিক ফ্রঁস জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা যাত্রী, জাহাজকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সংক্রমণের সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে কনট্যাক্ট ট্রেসিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে পরিস্থিতি নিয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা দ্রুততার সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চলছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত প্রাণীর মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দূষিত ধুলাবালি শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তবে সাধারণভাবে এ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সহজে ছড়ায় না।   ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন শ্রমনির্ভর খাতে কর্মরত অনেকেই নিজেদের কর্মস্থল ও বাসস্থানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।   ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ, খাবার সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ এবং ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।   বর্তমানে পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফরাসি প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘ফার্মগেট কেলেঙ্কারি’ কী, এতে কীভাবে ফেঁসে যেতে পারেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট

প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে অভিশংসনের জন্য একটি কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্ট। দেশটিতে আলোচিত ‘ফার্মগেট কেলেঙ্কারিতে’ নাম জড়িয়েছে রামাফোসার। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবে ওই কমিটি। প্রমাণ পেলে প্রেসিডেন্ট রামাফোসা অভিশংসনের মুখোমুখি হতে পারেন।   দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ গতকাল সোমবার জানায়, তদন্তের জন্য স্পিকার একটি কমিটি গঠন করে দেবেন।   গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন। মূলত এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির পার্লামেন্ট তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে।   আলোচিত ‘ফার্মগেট কেলেঙ্কারি’ নিয়ে বছর চারেক আগে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্ট একটি তদন্ত আটকে দেয়। গত শুক্রবার দেশটির সাংবিধানিক আদালত বলেছেন, তদন্ত আটকে দেওয়ার উদ্যোগ দেশের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।   প্রেসিডেন্ট রামাফোসার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না, আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সুপারিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এ তদন্ত কমিটি। তার আগে কমিটির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই–বাছাই করে দেখা হবে।   ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টের এ কমিটি কয়েক মাস ধরে আলোচনা চালিয়ে নিতে পারে।   ‘ফার্মগেট কেলেঙ্কারি’ ঘটে ২০২০ সালে। প্রেসিডেন্ট রামাফোসার মালিকানাধীন ‘ফালা ফালা’ বাগানবাড়ি থেকে ৪০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। জানা যায়, সেখানে সোফার ভেতর বিপুল পরিমাণের এই অর্থ লুকানো ছিল। ২০২২ সাল নাগাদ বিষয়টি নিয়ে তুমুল শোরগোল ওঠে। দেশটিতে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দেয়।   দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট রামাফোসা। কিন্তু তিনি নিজে এত বৈদেশিক মুদ্রা কোথায় পেলেন, এ কথা আগে জানিয়েছিলেন নাকি গোপন রেখেছিলেন, কেন বিপুল এই অর্থ ব্যাংকে না রেখে আসবাবে লুকিয়ে রেখেছিলেন; নানা প্রশ্ন ওঠে।   বিরোধীদের দাবি, ওই অর্থের উৎস পরিষ্কার নয়। কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে প্রেসিডেন্ট রামাফোসা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার করেছেন।   তুমুল আলোচনা–সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট রামাফোসা ‘কোনো অন্যায়ে জড়িত থাকার কথা’ অস্বীকার করেন। কিন্তু এরপরও বিপদ পিছু ছাড়ছে না। এত বছর পর এসে সেই কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু হচ্ছে, যা প্রেসিডেন্টের সামনে অভিশংসনের ঝুঁকি তৈরি করছে।   প্রেসিডেন্ট রামাফোসা গত সপ্তাহে বলেন, অভিশংসন কার্যক্রম চালু করার আদালতের রায়কে তিনি সম্মান করেন।   সংকটময় এ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গতকাল সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট রামাফোসা। সরাসরি জানিয়ে দেন, পদত্যাগ করছেন না তিনি। বরং স্বাধীন প্যানেলের সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। প্রতিবেদনে রামাফোসার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার’ কথা জানানো হয়েছিল।   রাজনৈতিক দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) নেতা সিরিল রামাফোসা। ২০১৮ সাল থেকে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন। এএনসির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেলেঙ্কারির বিষয়টি নতুন করে সামনে আসার পর করণীয় নিয়ে নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে এএনসি। মঙ্গলবার (আজ) এ সভা হওয়ার কথা।   এখন তদন্ত কমিটি যদি রামাফোসার বিরুদ্ধে নেতিবাচক কিছু খুঁজেও পায়, তারপরও পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ভোটে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা কঠিন হতে পারে। কেননা প্রেসিডেন্টকে তাঁর পদ থেকে সরাতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দুই–তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন দরকার হবে।   ২০২৪ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরও এএনসি পার্লামেন্টে এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসন ধরে রেখেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ‘হিন্দুদের অবস্থা’ দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রচারণা চালাচ্ছে আরএসএস

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ সবসময়ই উঠে আসে। তবে এবারের ভোটের অনেক আগে থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস বাংলাদেশের ‘হিন্দুদের অবস্থা’ দেখিয়ে প্রচার চালিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরাও ‘অস্তিত্বের সংকটে’ পড়তে পারেন।   পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বিরাট সাফল্যের পিছনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের অবদান নিয়ে আলোচনা চলছে।   সংঘ দীর্ঘদিন ধরে বলে থাকে যে, তারা নির্বাচনী রাজনীতি থেকে দূরে থাকে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফলাফলের পরে, আরএসএস পর্দার আড়ালে থেকেও কোনো নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।   বিজেপির মতাদর্শগত ভিত্তি হিসাবে পরিচিত আরএসএস এই নির্বাচনে আগের থেকেও বেশি সক্রিয়তা দেখিয়েছে বলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রকাশ্যে মাঠে নামা থেকে বিরত থেকেছিল সংঘ। তবে এবারের নির্বাচনে আরএসএস ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো তৃণমূল স্তরে সমস্ত শক্তি নিয়েই নেমেছিল।   আরএসএসের এক প্রচারক জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে শত শত স্বয়ংসেবক ও কর্মী একটাই বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন যে, এই নির্বাচনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজের ‘অস্তিত্বের’ প্রশ্ন রয়েছে।   সমালোচকরা মনে করেন যে, নির্বাচনের সঙ্গে ‘অস্তিত্বের’ লড়াইয়ের কথা বলে ধর্মীয় মেরূকরণকে তীব্রতর করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১২, ২০২৬ 0
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয়বারের মতো আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

টানা দ্বিতীয়বারের মতো আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হিমন্ত বিশ্বশর্মা।  মঙ্গলবার (১২ মে) স্থানীয় সময় সাড়ে ১১টার পর খানাপাড়া এলাকার ভেটেরিনারি মাঠে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।     এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিজেপি আসামে সরকার গঠন করল।   হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে শপথ পাঠ করান গভর্নর লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য।  একইসঙ্গে তিনি আরও চারজন বিধায়ককে দায়িত্ব ও গোপনীয়তার শপথ পাঠ করান।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।  এছাড়াও এনডিএ জোটের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।    অনুষ্ঠানকে ঘিরে খানাপাড়া এলাকাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেখানে ব্যারিকেড স্থাপন, যান চলাচলে পরিবর্তন এবং বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়।   শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, বিজেপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়াই নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হবে।   প্রসঙ্গত, বিজেপি, এজিপি ও বিপিএফ নিয়ে গঠিত এনডিএ জোট আসামের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে। ১২৬ সদস্যের বিধানসভায় তারা রেকর্ড ১০২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বিজেপিই পেয়েছে ৮২টি আসন, যা রাজ্যে দলটির প্রথম একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। অন্যদিকে এজিপি ও বিপিএফ উভয়েই ১০টি করে আসন জিতেছে।   তথ্যসূত্র:  এনডিটিভি

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরে মাস্ক-কুকসহ যেসব সিইও থাকতে পারেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে তার চীন সফরে শীর্ষ মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিবিসি লিখেছে, বেইজিংয়ে ট্রাম্পের এ সরকারি সফরে যারা যোগ দিতে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে অ্যাপলের টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, ব্ল্যাকরক-এর ল্যারি ফিঙ্ক এবং মেটা, ভিসা, জেপি মরগান, বোয়িং, কার্গিলসহ আরও বেশ কিছু কোম্পানি শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।   সফর পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, ট্রাম্পের এই সফরে মোট ১৭ জন মার্কিন নির্বাহী যোগ দেবেন।   দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বৈরিতার মধ্যে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এ সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মাস্ক, কুক, ফিঙ্ক ছাড়াও আরও যেসব নির্বাহী মার্কিন প্রতিনিধি দলে থাকতে পারেন, তারা হলেন-   • ডিনা পাওয়েল ম্যাককর্মিক: প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চেয়ারম্যান, মেটা • কেলি ওর্টবার্গ: প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী, বোয়িং • রায়ান ম্যাকলনার্নি: প্রধান নির্বাহী, ভিসা • স্টিফেন শোয়ার্জম্যান: প্রধান নির্বাহী, ব্ল্যাকস্টোন • ব্রায়ান সাইকস: প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান, কার্গিল • জেন ফ্রেজার: প্রধান নির্বাহী, সিটি • জিম অ্যান্ডারসন: প্রধান নির্বাহী, কোহারেন্ট • হেনরি লরেন্স কাল্প: প্রধান নির্বাহী, জিই অ্যারোস্পেস • ডেভিড সলোমন: প্রধান নির্বাহী, গোল্ডম্যান স্যাকস • জ্যাকব থায়সেন: প্রধান নির্বাহী, ইলুমিনা • মাইকেল মাইব্যাখ: প্রেসিডেন্ট, মাস্টারকার্ড   বিবিসি লিখেছে, এই তালিকায় এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াংয়ের অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তার কোম্পানি কম্পিউটার চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মার্কিন-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে রয়েছে।   এ বিষয়ে এনভিডিয়ার বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিবিসি।   গত সপ্তাহে হুয়াং সিএনবিসিকে বলেছিলেন, যদি তাকে এই সফরে আমন্ত্রণ জানানো হতো, তবে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে চীনে যাওয়াটা তার জন্য একটা ‘সম্মানের বিষয়’ হতো।   সিসকো’র প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান চাক রবিন্সকে এই সফরে যেতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে আয় সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশের কারণে তিনি যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন কোম্পানির মুখপাত্র।   বিবিসি লিখেছে, প্রতিনিধি দলের এ নির্বাহীরা সোশাল মিডিয়া, কনজিউমার হার্ডওয়্যার থেকে শুরু করে কম্পিউটার চিপ এবং ফিনটেকের মত মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করছেন।   ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ইলুমিনার একজন মুখপাত্র বলেন, প্রধান নির্বাহী জ্যাকব থায়সেন “প্রতিনিধি দলের অংশ হতে পেরে সম্মানিতবোধ করছেন। কোম্পানি আশা করে, এই সফর “সম্পর্ক জোরদার করার এবং প্রিসিশন মেডিসিনের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি সুযোগ হবে।   অন্যান্য কোম্পানির প্রতিনিধিরা মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।   বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের চীন সফরকে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর বাণিজ্য চুক্তির একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে দুই দেশ পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছিল, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ ছাড়িয়েছিল।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের শেষ বৈঠকের পর ওই শুল্ক স্থগিত করা হয়েছিল।   এবারের বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বড় প্রভাব ফেলছে, যে কারণে ইতোমধ্যে ট্রাম্প ও শির বৈঠক বিলম্বিত হয়েছে।   বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতায় বেইজিং সহায়তা করে।   ইরান থেকে সস্তা দরে তেল কেনা চীনও সংঘাতের অবসান চায়। তেলের সরবরাহ সীমিত হয়ে যাওয়ায় চীনা পণ্য কিনে থাকে এমন বহু দেশের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   তবে তেলের বিশাল মজুদ এবং বহুমুখী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা থাকার কারণে চীন প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় এই যুদ্ধের প্রভাব এখন পর্যন্ত ভালোভাবে সামলে নিতে পেরেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে মোদিকে আক্রমণ করলেন রাহুল

ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে নতুন করে বিস্ফোরক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে সরাসরি নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা এখন আর স্বচ্ছতার প্রতীক নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে এক ধরনের নিলামের ব্যবস্থায়, যেখানে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ।   সামাজিকমাধ্যমে এক বার্তায় রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত ১০ বছরে ভারতে অন্তত ৮৯ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং ৪৮টি পরীক্ষাকে পুনরায় নিতে হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রতিবারই কেন্দ্রীয় সরকার কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং প্রতিটি বিতর্কের পর প্রশাসনিক নীরবতা আরও গভীর হয়েছে।   রাহুলের বক্তব্য অনুযায়ী, নিট পরীক্ষার প্রায় ৪২ ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ২২ লাখেরও বেশি ছাত্রছাত্রী সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে তাদের ভবিষ্যৎকে বাজারে তোলা হয়েছে। তার মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পড়ুয়ারা, যাদের কাছে এই ধরনের সর্বভারতীয় পরীক্ষাই ভবিষ্যৎ গড়ার একমাত্র ভরসা।   কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না এলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয়েছে।   অন্যদিকে, রাজস্থানে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য প্রশ্নফাঁস চক্রের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাদের হাতে একটি ৪১০টি প্রশ্নের সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র এসেছে, যার মধ্যে কেমিস্ট্রি বিভাগের প্রায় ১২০টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র পরীক্ষার প্রায় এক মাস আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুরছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। এর সঙ্গে কোনো সংগঠিত অপরাধচক্র জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক ব্যক্তি ও কোচিং সংস্থার ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে।   তবে প্রশ্নফাঁস বা কারচুপির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। সংস্থার দাবি, চলতি বছরের নিট পরীক্ষা অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র পরিবহণে জিপিএস প্রযুক্তিসম্পন্ন যান ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিটি প্রশ্নপত্রে বিশেষ ওয়াটারমার্ক রাখা হয়েছিল, যাতে সহজেই শনাক্ত করা যায়।     সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সিসিটিভি নজরদারি চালানো হয়েছে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে। পাশাপাশি বসানো হয়েছিল ফাইভ-জি জ্যামার এবং পরীক্ষার্থীদের বায়োমেট্রিক যাচাইও করা হয়। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির দাবি, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার চার দিন পর প্রথম অনিয়মের তথ্য তাদের কাছে পৌঁছায়। পরে সেই তথ্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়। একসঙ্গে রাজস্থান এসওজি-র তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে তারা।   তবে অভিযোগ ও সরকারি ব্যাখ্যার এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পরীক্ষার্থীরা এবং তাদের পরিবার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতোমধ্যেই অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্বচ্ছ তদন্ত এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১২, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব

গাড়ি থামিয়ে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

মারিয়া রহমান মে ০৭, ২০২৬ 0