আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমান পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র, হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের?

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ধীরে ধীরে ইরানের কাছাকাছি তাদের বিমান ও নৌ শক্তি বাড়াচ্ছে, এমন সময়ে যখন তেহরান কর্মকর্তারা দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর খবর অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০টির বেশি মার্কিন যোদ্ধা বিমান, যার মধ্যে F-35, F-22 এবং F-16 অন্তর্ভুক্ত, পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছেছে। এটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন যে, জেনেভায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পারমাণবিক আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরান অগ্রগতি করেছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এখনো অনেক বিস্তারিত বিষয় আলোচনা করা বাকি; যা নির্দেশ করে যে এখনো অবিলম্বে সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, মঙ্গলবারের আলোচনা মাসকাটে এই মাসের প্রথম রাউন্ডের চেয়ে বেশি গঠনমূলক ছিল এবং দাবি করেছেন যে দুই পক্ষই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির নেতৃত্বমূলক নীতিমালাতে একমত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলাকালীন ট্রাম্প প্রশাসন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছে সম্ভাব্য অভিযান চালানোর জন্য ভারী সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে, ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা এবং জানুয়ারির প্রতিবাদের সময়ের সহিংস দমনমূলক কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতা ইতোমধ্যেই জানুয়ারির শেষে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী আরব সাগরে পাঠিয়েছেন। পরে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে, বিবিসি রিপোর্ট করেছে যে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেসে ১২টি F-15 যোদ্ধা বিমান, একটি MQ-9 Reaper ড্রোন, এবং বেশ কিছু A-10C Thunderbolt II গ্রাউন্ড অ্যাটাক বিমান পৌঁছেছে। স্যাটেলাইট চিত্র দেখিয়েছে যে USS Delbert D Black গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মেদিটেরানিয়ান থেকে রেড সাগরে যাওয়ার জন্য সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে চলেছে, এবং গালফ অঞ্চলে একটি MQ-4C Triton নজরদারি ড্রোন কাজ করছে। এছাড়াও অঞ্চলটিতে E-11A কমিউনিকেশনস বিমান, P-8 Poseidon, E-3G Sentry নজরদারি এবং কিছু গোয়েন্দা বিমান উপস্থিত ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরীও অঞ্চলটিতে পাঠিয়েছে। ইরানও জানিয়েছে যে তারা সামরিক মহড়ার কারণে Strait of Hormuz-এর একটি অংশ কয়েক ঘন্টার জন্য বন্ধ করবে। পূর্বেও তেহরান হুমকি দিয়েছিল পুরো স্ট্রেইট বন্ধ করার, কিন্তু তা কখনো কার্যকর করেনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান প্রতিটি পারমাণবিক চুক্তির জন্য খসড়া প্রণয়ন ও বিনিময় করতে একমত হয়েছে, তারপর তৃতীয় রাউন্ডের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে পরবর্তী ধাপ আরও কঠিন ও বিস্তারিত হবে। আলোচনায় সফলতা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির পথ খুলতে পারে, যা ইরানের তেলের শিল্প এবং বিস্তৃত অর্থনীতিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচির বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করবে। সূত্র: এনডিটিভি

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
আল-আকসা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত
আল- আকসায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে জুমার নামাজ আদায়ের অনুমতি দেবে ইসরাইল

পবিত্র রমজান মাসে পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে সাপ্তাহিক জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ১০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজান শুরু হওয়ার পর এ ঘোষণা দিয়েছে দখলদার ইসরাইল। খবর আরব নিউজের। তবে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কেবল ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সি পুরুষ, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি নারী এবং সর্বোচ্চ ১২ বছর বয়সি শিশুরা (প্রথম শ্রেণির আত্মীয়ের সঙ্গে) প্রবেশ করতে পারবে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেসামরিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরাইলি  প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা 'সিওজিএটি' এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রমজান মাসজুড়ে জুমার নামাজের জন্য প্রতিদিন আলাদা অনুমতিপত্র সংগ্রহের শর্তে ১০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে টেম্পল মাউন্টে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫৫ বছর থেকে, নারীদের ক্ষেত্রে ৫০ বছর থেকে এবং ১২ বছর পর্যন্ত শিশুদের প্রথম শ্রেণির আত্মীয়ের সঙ্গে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
নিহত ফিলিস্তিনিদের লাশ দাফন করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। ছবি : সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ভয়াবহ চিত্র, নিহত ছাড়িয়েছে ৭৫ হাজার

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো গণহত্যামূলক হামলায় প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি আগের সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত একাধিক স্বাধীন গবেষণায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত ৭৫ হাজারের বেশি প্রাণহানির প্রমাণ মিলেছে।   বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।   একাধিক গবেষণা নিবন্ধের ধারাবাহিক প্রকাশনায় উঠে এসেছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নথি আসলে মৃত্যুর সংখ্যাকে বাড়িয়ে দেখায়নি। বরং সেটি ছিল একটি সংযত নিম্নসীমা। গবেষণাগুলো ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানির পরিসর বোঝার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।   দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত গাজা মর্টালিটি সার্ভের (জিএমএস) এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭৫ হাজার ২০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এটি যুদ্ধের আগে থাকা গাজার ২২ লাখ মানুষের প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যে ৪৯ হাজার ৯০টি সহিংস মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল, তার তুলনায় এই সংখ্যা ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৭১ হাজার ৬৬২ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ৪৮৮ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল বরাবরই এই সংখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তবে জানুয়ারিতে দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধের সময় গাজায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।   গবেষকেরা বলেন, নিহত ব্যক্তিদের ৫৬ দশমিক ২ শতাংশই নারী, শিশু ও বয়স্ক। জিএমএস জরিপে ২ হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে ৯ হাজার ৭২৯ জনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারণে একটি কঠোর ও প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি দিয়েছে।   গবেষণার প্রধান লেখক রয়্যাল হলোওয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মিশেল স্প্যাগাট বলেন, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন নির্ভরযোগ্য। তবে মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করার যে অবকাঠামো দরকার, যুদ্ধের কারণে তা ভেঙে পড়ায় সংখ্যাটি স্বভাবতই কমে গেছে।   উল্লেখ্য, এই গবেষণা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত আগের এক গবেষণার চেয়ে উন্নত। ওই গবেষণায় পরিসংখ্যানভিত্তিক ‘ক্যাপচার-রিক্যাপচার’ মডেল ব্যবহার করে যুদ্ধের প্রথম ৯ মাসে ৬৪ হাজার ২৬০ জনের মৃত্যুর হিসাব দেওয়া হয়েছিল।   আগের গবেষণাটি সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে কম গণনার বিষয়টি দেখিয়েছিল। নতুন এই গবেষণা গাণিতিক অনুমান থেকে সরে এসে সরাসরি পরিবারের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বাস্তব যাচাই করেছে। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়েছে। ৭৫ হাজারের বেশি সহিংস মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   ২০২৫ সালের শেষ দিকে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা জোরপূর্বক খালি করতে বাধ্য করা হয়। উত্তর গাজা ও রাফাহ প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ওই বছরের আগস্টে উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়, যা আহত মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে আরও কমিয়ে দেয়।   গবেষকেরা বলছেন, এই গবেষণাগুলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সুরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও গাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামো বারবার হামলার শিকার হচ্ছে-এই অবস্থা চলতে থাকলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি হলে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়া থেকে অবশিষ্ট সেনাদের প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।   ওই কর্মকর্তা বলেন, সিরিয়ার সরকার নিজেদের সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছে। তাই সেখানে ব্যাপক পরিমাণে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই।   ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস) প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে আমেরিকান সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।   সাবেক প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের আমলে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালে আইএস দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে তথাকথিত খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।   আইএসকে দমন করতে ২০১৪ সালে সিরিয়ায় প্রায় ২ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, আইএস এখনো বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। গোষ্ঠীটিকে নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের যে কোনো হুমকির জবাব দিতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।   তিনি আরও জানান, আইএসের উত্থানের সময় সিরীয় সরকারকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠিয়েছিল। তবে বর্তমানে সিরিয়ায় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আইএসের হুমকিও আগের মতো শক্তিশালী নয়। সেই বিবেচনায় সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি সেনাদল ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঘাঁটি সিরিয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে দেখা করতে যান আল-শারা, যা দেশটির ইতিহাসে কোনো সিরিয়ান নেতার প্রথম এ ধরণের সফর ছিল।   বাশার আল আসাদের পতদের পর সিরিয়ার সরকারি সেনাবাহিনী মাঝে মাঝেই স্থানীয় সামরিক গোষ্ঠীগুলির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে, কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছায় যা কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসকে সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পরকীয়ার সন্দেহে শিক্ষক স্বামীকে প্রকাশ্যে পেটালেন স্ত্রী

স্বামী পরকীয়া করছেন, এমন সন্দেহে তাকে প্রকাশ্যে মারধর করেছেন এক নারী। ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের সীতাপুরে ব্যস্ত এক মোড়ে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মুহূর্তেই ভিড় জমে যায় এবং উপস্থিত লোকজনের কেউ কেউ সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বোরকা পরা ওই নারী প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ স্বামীকে অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর তার কাছে গিয়ে একের পর এক চড় মারতে থাকেন এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন। প্রকাশ্য রাস্তায় এমন ঘটনা দেখে আশপাশের মানুষ বিস্মিত হয়ে যান।   ভুক্তভোগী ওই নারীর সন্দেহ ছিল, পেশায় শিক্ষক তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। বিষয়টি নিজে দেখার পর তিনি সরাসরি স্বামীর মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার স্বামীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছেন বলেও জানা গেছে।   ঘটনার সময় আশপাশের লোক জড়ো হয়ে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এতে সেখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিড় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।   অভিযুক্ত ওই স্বামীর নাম অজয় নাগর। তিনি উত্তর প্রদেশের ফিরোজাবাদ জেলার টোপা কালানের বাসিন্দা। সীতাপুরের তামবাউর এলাকার দাতুনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মরত রয়েছেন।   তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্কুল শেষে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন অজয় নাগর। সুমলি স্কুলের কাছে গাড়ি থামতেই বোরকা পরা এক নারী তার ওপর হামলা চালান এবং গাড়ির কাচ ভেঙে দেন বলে জানা যায়। পরে তিনি বোরকা খুললে উপস্থিত লোকজন বুঝতে পারেন, তিনি ওই শিক্ষকের স্ত্রী।   এই ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যরাও জড়িয়ে পড়েন। সেখানে উপস্থিত অজয় নাগরের মা ও মেয়ে ওই নারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ান, ফলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে অজয় নাগর থানায় একটি আবেদন জমা দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাটির কারণ ছিল পারিবারিক বিরোধ। আবেদনে বলা হয়েছে, দাম্পত্য কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আবেদনে উত্থাপিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।   তবে ভাইরাল এই ভিডিওটি স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এমন অবস্থায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি তদন্তে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
হোসে জেরি। ছবি: সংগৃহীত
চীনা ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোপন বৈঠক করে ক্ষমতাচ্যুত হলেন পেরুর প্রেসিডেন্ট

পেরুর রাজনীতিতে অস্থিরতার নতুন নজির স্থাপন করে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় অপসারিত হলেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি।  চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অফিশিয়াল শিডিউলের বাইরে গোপন বৈঠকের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির কংগ্রেস তাকে অভিশংসিত করে। গত বছর অক্টোবরে দিনা বোলুয়ার্তের অভিশংসনের পর জেরি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তবে তিনিও শেষ পর্যন্ত দুর্নীতির কলঙ্ক এড়াতে পারলেন না।  ২০১৬ সালের পর থেকে তিনি দেশটির সপ্তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা পেরুর ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই বহিঃপ্রকাশ। এই রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিটি স্থানীয়ভাবে 'চিফা-গেট' নামে পরিচিতি পেয়েছে, যা মূলত চীনা ও পেরুভীয় ফিউশন খাবারের রেস্টুরেন্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট জেরি গভীর রাতে হুডি পরে ব্যবসায়ী ঝিহুয়া ইয়াংয়ের রেস্টুরেন্টে গোপন বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। ইয়াং এমন একজন ব্যবসায়ী যিনি সরকারি নজরদারিতে ছিলেন এবং একটি বড় জ্বালানি প্রকল্পের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করছিলেন।  আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ওই বৈঠকগুলোতে এমন এক চীনা নাগরিক উপস্থিত ছিলেন যিনি অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তখন গৃহবন্দী ছিলেন। পেরুর আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের প্রতিটি অফিশিয়াল কার্যক্রম নথিবদ্ধ করার কথা থাকলেও জেরি এই বৈঠকগুলোর কোনো তথ্যই প্রকাশ করেননি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন লেনদেনের পাশাপাশি জেরির বিরুদ্ধে আরও গুরুতর নৈতিক অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গভীর রাতে প্রেসিডেন্টের সরকারি প্রাসাদে কয়েকজন নারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের নামে বিভিন্ন সরকারি চুক্তি বরাদ্দ করা হয়েছিল। এসব ঘটনার জেরে অ্যাটর্নি জেনারেল তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করলে চারদিক থেকে চাপের মুখে পড়েন তিনি।  যদিও জেরি এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭৫-২৪ ভোটে কংগ্রেস তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। আইনপ্রণেতা রুথ লুক বলেন, নাগরিকরা হুডি পরা নেতা কিংবা গোপন স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতি আর দেখতে চায় না। আগামী এপ্রিলে পেরুর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে একটি স্থায়ী সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে দেশটির মানুষ। হোসে জেরি ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় দেশটিতে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে একজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।  বর্তমানে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য কংগ্রেসে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তবে বারবার নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি পেরুর গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
প্রকাশ্যে মাছ-মাংস বিক্রি করা যাবে না ভারতের বিহারে

ভারতের বিহার রাজ্যে প্রকাশ্যে মাছ ও মাংস বিক্রি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন সরকার। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয়কুমার সিন্‌হা জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম চালু হলে খোলা জায়গায় মাছ বা মাংস বিক্রি করা যাবে না। শুধু লাইসেন্সধারী দোকানেই এসব বিক্রি করা যাবে। তিনি বলেন, সবাইকে নতুন নিয়ম মানতে হবে। কেউ নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কবে থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে বা শাস্তি কী হবে, তা এখনো জানানো হয়নি। এর আগে ২০২৫ সালে উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় স্থানের ৫০০ মিটারের মধ্যে মাংস বিক্রি বন্ধ করেছিল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ। তিনি বলেছেন, জেলা প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লেখ্য, বিহারে আগে থেকেই মদ বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে। এবার প্রকাশ্যে মাছ ও মাংস বিক্রিতেও নতুন নিষেধাজ্ঞা আসছে। তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তার ছেলে বিলাল এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে ঢাকায় আসছেন

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে, দেশটির প্রভাবশালী ব্যক্তি বিলাল এরদোয়ান ঢাকায় আসছেন। এই সফরে তিনি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমুখী করবে বলে সূত্র জানিয়েছে।   বিলাল এরদোয়ান আগামীকাল সকাল ৯টায় ব্যক্তিগত বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। তার সঙ্গে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার সভাপতি আব্দুল্লাহ এরেনও আসছেন। পাসপোর্ট ও কাস্টমস প্রক্রিয়া শেষে, তারা সকাল সাড়ে ১০টায় হোটেলে প্রবেশ করবেন। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার ঢাকা প্রকল্প পরিদর্শন এবং তুরস্ক দূতাবাস পরিদর্শন। এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তুর্কি সহযোগিতায় একটি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন।   সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ, যেখানে দুই দেশের সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ যৌথ প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সন্ধ্যায় তুরস্ক দূতাবাসে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিলাল এরদোয়ান উপস্থিত থাকবেন।   তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য প্রকল্প পরিচালনা করছে। সফরের দ্বিতীয় দিন, বিলাল এরদোয়ান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রকল্প পরিদর্শন করবেন।   বিলাল এরদোয়ান তুরস্কের জ্ঞান প্রচার ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মানবিক কাজ ও যুব উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তার এই সফর তুরস্কের অব্যাহত মানবিক সহায়তা এবং রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, পাশাপাশি নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক মসৃণ করবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভ্যালেন্টাইনস ডে-তেই ধসে পড়ল বিখ্যাত ‘প্রেমের সেতু’

ভ্যালেন্টাইনস ডের দিনই ইতালির বিখ্যাত প্রাকৃতিক শিলাস্তম্ভ ‘লাভার্স আর্চ’ বা প্রেমের সেতুটি ধসে পড়েছে সাগরে। কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টি ও শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি জানিয়েছে, আড্রিয়াটিক উপকূলবর্তী মেলেন্দুনিও শহরের সান্ত’আন্দ্রেয়া এলাকায় অবস্থিত প্রাকৃতিক পাথরের অর্ধবৃত্তাকার ওই স্থাপত্য কাঠামোটি দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে, প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল। এটি দক্ষিণ ইতালির উপকূলীয় অঞ্চলের একটি পরিচিত প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো।   মেলেন্দুনিওর মেয়র মাউরিজিও সিস্টার্নিনো স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভ্যালেন্টাইনস উপহার।’    তিনি একে নিজ অঞ্চল ও পর্যটন খাতের জন্য ‘খুবই বড় আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘প্রকৃতি যেমন এই খিলানটি তৈরি করেছিল, তেমনি আবার তা ফিরিয়েও নিল।’   রোববার সকালে পথচারীরাই প্রথম লক্ষ্য করেন, প্রাকৃতিক এই নিদর্শনটি আর নেই। কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক ঝড় ‘ওরিয়ানা’ দক্ষিণ ইতালিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এই ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়া শিলাস্তম্ভটির ক্ষয় ত্বরান্বিত করে এবং এর ফলে এটি ধসে পড়ে।   পুগলিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টনিয় ডেকারো সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের অঞ্চলের একটি পরিচায়ক বৈশিষ্ট্য, একটি প্রতীকী সম্পদ হারিয়েছি।   ডেকারো মনে করেন, উপকূলীয় ক্ষয় রোধ এবং সমুদ্রতীর সংরক্ষণে এখন আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়ার ঘটনা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে উপকূল ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।   যে অঞ্চলটিতে এই শিলা স্থাপনাটি ছিল, সেটি ইতালির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্বচ্ছ সমুদ্রের জন্য বিখ্যাত এই অঞ্চল প্রতিবছর হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটককে আকৃষ্ট করে। ‘লাভার্স আর্চ’-এর পতন তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক কাঠামোর বিলুপ্তিই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের আবেগ ও পর্যটন অর্থনীতির জন্যও এক বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
জব্দকৃত ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ৩টি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল ভারত

ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির প্রেক্ষাপটে আরব সাগরে বড় ধরনের এক অভিযানে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।  মুম্বাই উপকূল থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন থেকে ‘স্টেলার রুবি’, ‘অ্যাসফল্ট স্টার’ এবং ‘আল জাফজিয়া’ নামের এই তিনটি জাহাজ আটক করা হয়। ভারতীয় কোস্টগার্ড বাহিনীর প্রায় ৫৫টি জাহাজ এবং ১০-১২টি বিমান বর্তমানে সাগরে এই ধরনের অবৈধ লেনদেন রোধে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এই জাহাজগুলো বারবার নিজেদের পরিচয় ও নাম পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক আইন ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই ট্যাংকারগুলো মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) মাধ্যমে তেলের উৎস গোপন করে আসছিল।  জব্দকৃত জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ এবং ‘আল জাফজিয়া’ ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং ‘অ্যাসফল্ট স্টার’ মূলত চীনের পথে চলাচল করছিল বলে জানা গেছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি এই জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এই অভিযানের নেপথ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উষ্ণ হতে থাকা কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বড় ভূমিকা রয়েছে। চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে তারা ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নিয়ে আসবে। এর বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক ছাড় এবং বাণিজ্য চুক্তির পর ভারতও তাদের জলসীমায় অবৈধ ইরানি তেল পাচার রোধে কড়াকড়ি বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে জব্দকৃত ৩টি ট্যাংকারকে আরও গভীর তদন্তের জন্য মুম্বাই বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চাবাহার বন্দরে বাজেট বরাদ্দ বন্ধ করা এবং এই ধরনের জাহাজ জব্দ করার ঘটনাগুলো স্পষ্ট করছে যে ভারত বর্তমানে মার্কিন নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাইছে।  এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল চোরাচালান রোধে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক সমীকরণকেও সামনে নিয়ে এসেছে। সূত্র: এনডিটিভি।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান, রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক, আলাপ কি নিয়ে?

ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরান, রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতরা তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আরও এক দফা ত্রিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন। রাশিয়ান প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিভিন্ন ইস্যুতে তিন দেশ নিয়মিত পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে।  এর আগেও এই তিন দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে যৌথ বৈঠক করেছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত অর্থনৈতিক চাপ ও নানাবিধ অভিযোগের মুখে থাকা ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, তাদের এই পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এটি নিয়মিতভাবে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার পর্যবেক্ষণে রয়েছে।  ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির পর ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় এবং ইউরোপীয় দেশগুলোও তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ইরানও ধাপে ধাপে তাদের অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে শুরু করে। ২০২১ সালে এই চুক্তি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালানো হলেও পশ্চিমাদের অতিরিক্ত দাবি ও গড়িমসির কারণে তা সফল হয়নি। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কারাবন্দি ইমরানের সুচিকিৎসা দেওয়ার আকুতি জানালেন ওয়াসিম আকরাম

সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম তার সাবেক অধিনায়ক ও পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি জানা গেছে, ইমরান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন এবং তার ডান চোখের দৃষ্টি প্রায় ৮৫% হারিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আকরাম সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আকরাম লিখেছেন, আমাদের অধিনায়ক স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন শুনে মন ভেঙে গেছে। আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং তার জন্য সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।   আইনজীবী সালমান সফদারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমরানের ডান চোখে মাত্র ১৫% দৃষ্টি অবশিষ্ট আছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে তিনি ঝাপসা দেখার সমস্যায় ভুগছিলেন, কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। পরে জানা গেছে, তার চোখের রেটিনায় রক্ত জমাট বাঁধায় স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে। ইমরানকে ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয়। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার পূর্ণ চক্ষু পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে।   আকরাম ছাড়াও ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার, শাহীদ আফ্রিদি, রমিজ রাজা ও মোহাম্মদ হাফিজ প্রমুখ সাবেক ক্রিকেটাররা ইমরানের জন্য মানবিক আচরণের দাবি জানিয়েছেন। ওয়াকার ইউনুস বলেছেন, রাজনীতিকে একপাশে রেখে আমাদের জাতীয় বীরকে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।   ইমরান শওকত খানম ক্যানসার হাসপাতালে তার মায়ের স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন। শোয়েব আখতার জানিয়েছেন, তার চোখের দৃষ্টি হারানো খবর শুনে তিনি মর্মাহত এবং আশা করছেন ইমরান সুচিকিৎসা পাবেন। ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান অজয় জাদেজাও পাকিস্তান ক্রিকেটারদের ইমরানের প্রতি সমর্থন জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইমরান খানের চিকিৎসার দাবিতে ইসলামাবাদে বিরোধী দলগুলোর অবস্থান কর্মসূচি

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পিটিআই দলের নেতা ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসার দাবিতে বিরোধী দলগুলো ইসলামাবাদের পার্লামেন্ট হাউসে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচিতে পিটিআই এবং টিটিএপি অংশ নিচ্ছে, খবর জানিয়েছে ডন।   বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মাত্র ১৫ শতাংশ কার্যকর, যা সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপন করার পরই তাকে দ্রুত হাসপাতালে, বিশেষ করে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল এ স্থানান্তরের দাবি জোরালো হয়েছে।   বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিটিএপি চেয়ারম্যান মেহমুদ খান আচাকজাই, আর পিটিআই’র নেতা ব্যারিস্টার গহর আলী খানসহ দলের শীর্ষ নেতারাও অংশগ্রহণ করছেন। পিটিআই অভিযোগ করেছে, পার্লামেন্ট হাউস ও কেপি হাউসকে ‘কারাগারের মতো’ পরিণত করা হয়েছে এবং পুলিশ ভিতরে খাবার বা নাশতা প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে আওয়াম পাকিস্তান দলও এই কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা তাদের মূল অগ্রাধিকার।   এদিকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘ইমরান খানের স্বাস্থ্য আমার কাছে রাজনীতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইতালি কঠোর করছে অভিবাসন নীতি, নতুন আইন প্রণয়ন

ইতালির ডানপন্থী সরকার নতুন একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে, যা দেশের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করবে। নতুন আইনের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী জাহাজ আটকানো এবং নির্দিষ্ট শর্তে তাদের জলসীমায় প্রবেশ রোধ করার সুযোগ দেওয়া হবে।   ইতালির মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, এই আইন বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হবে—যেখানে অভিবাসী প্রবাহ দেশটির জন্য ব্যতিক্রমী চাপ সৃষ্টি করে বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়। মধ্য-ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসীদের আগমনজনিত চাপের কারণে ইতালি দেশের সমুদ্রপথে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।   আইনটি সংসদের উভয় কক্ষে অনুমোদিত হলে কার্যকর হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে, অভিবাসীদের ইতালিতে প্রবেশের আগে আলবেনিয়ার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরকারি আশ্রয় প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হতে পারে। একই সঙ্গে, ইতালির জলসীমায় প্রবেশে বাধা দেওয়া অভিবাসী জাহাজগুলিকে অন্য দেশে স্থানান্তরের সুযোগ থাকবে, যদি ইতালির সঙ্গে সেই দেশের চুক্তি থাকে।   নতুন আইনের অধীনে সীমান্তে কঠোর নজরদারি এবং ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। যারা আইন ভঙ্গ করবে তাদের ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা বা নৌকা বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। নৌ-অবরোধ ৩০ দিন পর্যন্ত আরোপ করা যাবে, এবং সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। মূলত দাতব্য সংস্থাগুলোর উদ্ধারকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   সংক্ষেপে, নতুন আইন ইতালির অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করবে, বিশেষ করে যখন এটি দেশীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় মনে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
৩০০ কিমি বেগে চলবে বুলেট ট্রেন

সৌদি আরব ও কাতার তাদের রাজধানী রিয়াদ ও দোহার মধ্যে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালু করতে একটি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছে। সৌদি মন্ত্রিসভা এই উচ্চগতির বৈদ্যুতিক রেল প্রকল্পের চুক্তি অনুমোদন করেছে।   চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। সৌদি পরিবহন মন্ত্রী সালেহ আল-জাসসার ও কাতারের পরিবহন মন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল থানি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।   ৭৮৫ কিমি দীর্ঘ এই রেললাইন রিয়াদ ও দোহাকে সংযুক্ত করবে। পথে আল-হোফুফ ও দাম্মামের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন এবং দুই দেশের প্রধান বিমানবন্দরও যুক্ত থাকবে।   বুলেট ট্রেন ঘণ্টায় ৩০০ কিমি বেগে চলার কারণে যাত্রা সময় দুই ঘণ্টায় কমে যাবে। প্রকল্পটি দুই দেশের জিডিপিতে প্রায় ১১,৫০০ কোটি রিয়াল অর্থ যোগ করবে।   এ রেল প্রকল্প সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। নির্মাণের কাজ শেষ হতে ছয় বছর লাগবে এবং এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ-নেপালের নির্বাচনে দ. এশিয়ায় নতুন সুযোগ, বলছে যুক্তরাষ্ট্র

সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ-নেপালে অনুষ্ঠিত ও আসন্ন নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বুধবার দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে মার্কিন কংগ্রেসের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা ওই মন্তব্য করেছেন।    শুনানিতে তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ নেপাল ও বাংলাদেশ।   ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ আজ প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে নেপালে স্বৈরাচারী সরকার উৎখাত হয় এবং দেশটি আগামী মাসে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলীয় কংগ্রেস সদস্য হুইজেঙ্গা বলেন, ‌‌‘‘ওই দুটি ঘটনাই দক্ষিণ এশিয়ায় সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে এবং এসব দেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে।’’   দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াকে গতিশীল অঞ্চল হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এখানকার ক্রমবর্ধমান তরুণ জনগোষ্ঠী চীনের ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ বিকল্পের তুলনায় পশ্চিমা সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি বেশি আকৃষ্ট।   হুইজেঙ্গা বলেন, এই অঞ্চলে প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের বসবাস, গতিশীল অর্থনীতি এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রয়েছে; যা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সফলভাবে এমন কিছু চুক্তি করেছেন; যা বাজার উন্মুক্ত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নিয়েছে।   ‘‘বর্তমানে আমরা এসব দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বাড়াবো এবং সেই সংশ্লিষ্টতার ধরন আগামী কয়েক দশক ধরে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারণ করবে।’’   চীনের বিষয়ে হুইজেঙ্গা বলেন, বেইজিং নিজের নিরাপত্তা স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ‘‘শোষণমূলক ঋণ’’ দেয় এবং ছোট দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে পড়তে বাধ্য করে। তিনি বলেন, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সীমান্ত জোরদার করেছে চীন। আমাদের উপকূল থেকে অনেক দূরে হলেও, একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত মহাসাগর বজায় রাখা আমাদের জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অগ্রাধিকার।   তিনি বলেন, ভারত মহাসাগর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সামুদ্রিক করিডর, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানির জীবনরেখা প্রবাহিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি।   অংশীদার ও মিত্রদের সঙ্গে নৌ সহযোগিতা জোরদার করে এসব সমুদ্রপথ সুরক্ষিত করা হলে তা চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং এই অঞ্চলে তাদের ‘‘ক্ষতিকর আচরণ’’ সীমিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   হুইজেঙ্গা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো তিনিও ভারত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার গুরুত্ব দেখেন। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখলে ‘‘চীনা চাপ প্রয়োগ’’ প্রতিহত, জলদস্যুতা রোধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হবে।   বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর একটি ভারত। দিয়েগো গার্সিয়ার ঠিক উত্তরে ভারতের অবস্থান। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।   রিপাবলিকান দলীয় এই কংগ্রেস সদস্য বলেন, মাত্র গত সপ্তাহেই ভারতের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; যা দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে রূপ দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গেও একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।   হুইজেঙ্গা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের শুল্কহার ১৮ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত এই শুল্কহার ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন।   এ ছাড়া দিল্লি আরও বেশি করে মার্কিন জ্বালানি কেনার বিষয়ে রাজি হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি অংশীদারত্বের মাধ্যমে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা যৌথ স্বার্থকে এগিয়ে নেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের নতুন সরকারকে যে প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে বিভিন্ন সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বিস্তৃত উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং চীনের সঙ্গে কিছু সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য ঝুঁকি বাংলাদেশের সরকারের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চায়। বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক সরঞ্জাম এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব দিতে পারে, যা চীনা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে ভারতপন্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দিল্লিতে চলে যান। এরপর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয় এবং এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে চীন, যা পশ্চিমা কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রকল্প জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন ও বাংলাদেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা করে আসছে এবং এই সহযোগিতা পারস্পরিকভাবে লাভজনক। তারা বলেছে, এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। হাসিনার দেশত্যাগের পর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি হয়েছে, যার প্রভাব ভিসা সেবা ও ক্রীড়া বিনিময়েও পড়েছে। বাণিজ্যিক বিষয়ে তিনি জানান, অনেক মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে তারা চায় নতুন সরকার স্পষ্ট বার্তা দিক যে দেশটি ব্যবসাবান্ধব। বাণিজ্যিক কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। বর্তমানে জ্বালানি কোম্পানি শেভরন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালালেও অন্যান্য মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি সীমিত। উচ্চ করহার ও মুনাফা দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতা বিনিয়োগে বাধা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশে এখনো স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের কোনো শাখা নেই। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারই নির্বাচিত করুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে। এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সর্ববৃহৎ দাতা দেশ। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বড় অবদান রেখে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে শক্তিশালী কর্মসূচি চালু রয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল কাঠামোতে স্বাক্ষর হয়েছে, যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে মানবিক সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াবে। তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা একা যুক্তরাষ্ট্র বহন করতে পারবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১৭ ফেব্রুয়ারি সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে যেসব এলাকায়

ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখে আকাশে ঘটতে যাচ্ছে একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা—বলয়াকার সূর্যগ্রহণ, যা অনেকেই ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগুনের বলয় বলে ডাকে। তবে দুঃখের বিষয় হলো, এই সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী ভারত থেকেও দেখা যাবে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ঘটে তখন, যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে, কিন্তু চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকায় পুরো সূর্য ঢেকে দিতে পারে না। ফলে সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল একটি বলয় দেখা যায়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, গ্রহণটি আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ১ মিনিটে (ইউটিসি) শুরু হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি দুপুর ১টা ১ মিনিটে শুরু হবে। বলয়াকার অংশটি সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড স্থায়ী হতে পারে, তবে পৃথিবীর খুব সীমিত কিছু এলাকায় এই দৃশ্য দেখা যাবে। মূলত অ্যান্টার্কটিকার কিছু দুর্গম এলাকা, দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে আংশিকভাবে গ্রহণ দেখা যেতে পারে। ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এই গ্রহণের বাইরে থাকবে। তাই এ অঞ্চলের মানুষ সরাসরি এটি উপভোগ করতে পারবেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সূর্যগ্রহণ দেখার সময় চোখের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা গ্রহণ দেখতে পাবেন, তাদের অবশ্যই অনুমোদিত (আইএসও ১২৩১২-২ মানসম্পন্ন) সূর্যগ্রহণ চশমা ব্যবহার করতে হবে। খালি চোখে বা সাধারণ চশমা পরে সূর্যের দিকে তাকানো অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ১০

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় হামলাকারীসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানায়, স্কুলের ভেতরেই সন্দেহভাজন হামলাকারীর লাশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন মারা যান। এছাড়া কমিউনিটির একটি আবাসিক ভবন থেকে আরও দুজনের লাশ পাওয়া গেছে।   হামলার পরপরই টাম্বলার রিজ পুলিশ সতর্কতা জারি করে। বর্তমানে দ্বিতীয় কোনো সন্দেহভাজন জড়িত ছিলেন কিনা এবং প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা কত তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার ছোট এই শহরের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবা মোতায়েন করা হয়েছে।   পিস রিভার সাউথ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, ঘটনার পর টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল এবং টাম্বলার রিজ এলিমেন্টারি স্কুলে ‘লকডাউন’ ও ‘সিকিউর অ্যান্ড হোল্ড’ জারি করা হয়।   পিস রিভার সাউথের আইনপ্রণেতা ল্যারি নিউফেল্ড বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তবে চলমান অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।   প্রাদেশিক সরকারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা ও হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।   সূত্র: বিবিসি

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
লাগোসের মাকোকো বস্তি হলেও এটি আফ্রিকার ভেনিস হিসেবে পরিচিত

নাইজেরিয়ার লাগোসে লেকের ওপর গড়ে ওঠা মাকোকো বসতিকে ঘিরে নতুন করে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা সামনে এসেছে। বহু বছর ধরে এটিকে উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই এলাকাকে এবার ‘লাগোস ওয়াটার সিটি’ মডেলের আওতায় উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাকোকোতে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর পরিকল্পনায় সহানুভূতি ও দায়িত্ব দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। দ্রুত বর্ধনশীল লাগোস শহরের জন্য মাকোকো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে নগরায়ণ, পরিবেশ ঝুঁকি ও জলবায়ু সহনশীলতা একসঙ্গে বিবেচনায় আনতে হচ্ছে। মাকোকোকে প্রায়ই ‘আফ্রিকার ভেনিস’ বলা হয়। এখানে বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মাছ ধরা, নৌকা তৈরি ও জলপথ পরিবহনকেন্দ্রিক অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বসতির অনানুষ্ঠানিক চরিত্র মূলত আবাসন সংকট ও পরিকল্পনাহীন নগরায়ণের ফল। ২০১২ সালে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত কারণ দেখিয়ে মাকোকো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তা সমালোচনার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে উচ্ছেদের বদলে উন্নয়নভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নিরাপদ খুঁটির ওপর ঘর, উন্নত স্যানিটেশন ও পরিকল্পিত জলপথ উন্নয়নের প্রস্তাব এলেও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২১ সালের পর থেকে লাগোস সরকার ‘ওয়াটার সিটি’ মডেলের আওতায় জলপথ বসতিগুলোকে পরিকল্পিত ও জলবায়ু সহনশীল নগর এলাকায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়। এ মডেলে নিরাপদ বাসস্থান, উন্নত স্যানিটেশন, জলপথ পরিবহন ও জলভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনাটি সফল হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে, পরিবেশ রক্ষা পাবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানে যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি মাছ ধরা, নৌকা তৈরি ও পর্যটন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাসিন্দাদের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও জীবিকার নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম সফল হবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা নিশ্চিত করা গেলে মাকোকো আফ্রিকায় জলভিত্তিক নগর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কাতারে রমজান উপলক্ষে এক হাজার পণ্যে মূল্যছাড় ঘোষণা

রমজান মাসকে সামনে রেখে কাতারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় কর্মসূচি চালু করেছে। এ তালিকায় এক হাজারের বেশি পণ্য রাখা হয়েছে, যা বড় বড় খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশটির মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজানে সাধারণত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামে এসব পণ্য নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালিকায় আটা, চিনি, পাস্তা, মুরগি, তেল, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রয়েছে। পাশাপাশি টিস্যু, ডিটারজেন্ট, ওয়াশিং পাউডার ও অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ছাড়ের তালিকা দেশের সব বড় সুপারমার্কেটে পাঠানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কোনো দোকান নির্ধারিত দামের বেশি নিলে তা জানাতে ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সূত্র : কাতার নিউজ এজেন্সি

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Top week

সংগৃহীত ছবি
জাতীয়

জানা গেল বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0