ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে এখন সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসেই হবে বলে আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপি জোটের ভাগে ৩৭টি আসন পড়তে পারে। এসব আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরা এই তালিকায় আলোচনায় আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি তানজিন চৌধুরী লিলি। তানজিন চৌধুরীর লিলির বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায়। ছাত্রজীবনেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাসে পর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২০০৪ সালে অনার্স ও ২০০৫ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন নাহার হল শাখার আহ্বায়ক ও পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১/১১ ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে আন্দোলন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন মামলায় অভিযুক্ত আসামি ছিলেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মামলা, হামলাসহ শিকার হয়েছেন। তানজিন চৌধুরী লিলি ২০০৯ সালে গৌরীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এরপর থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় দলের আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। তানজিন চৌধুরী লিলি নারী অধিকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করেছন। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা এই সভাপতির পাশাপাশি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য সচিব শামসুন্নাহার হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলার আসনগুলোতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণায় নেমে নারীদের সাথে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। স্থানীয়রা জানান তানজিন চৌধুরী লিলি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়ে সংসদে গেলে ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ দেশের নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারী ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য তাজ উদ্দিন বলেন, লিলি আপা দলের আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় সামনে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। উনি ময়মনসিংহের নারী নেতৃত্বের আইডল। সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে উনি মনোনয়ন পেতে পারেন এই আলোচনা মানুষের মুখে মুখে। রাজপথের এই নেত্রীকে সংসদে দেখতে চাই। তানজিন চৌধুরী লিলি বলেন, ‘দলের জন্য কাজ করেছি। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। দলের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলাম। কাজের মূল্যায়ন দল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
গ্রেফতারের দেড় বছর পর জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা দবিরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে একই দিন তার জামিন মঞ্জুর করেন ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আদালত। দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার গণমাধ্যমকে সাবেক এই সংসদ সদস্যের কারামুক্তির খবর নিশ্চিত করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলায় দবিরুল গ্রেফতার হন। একই মামলায় তার ছেলে এবং ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজনও গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি এখনো দিনাজপুর কারাগারেই আছেন। দবিরুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কারাগারে চিকিৎসার অভাবে দবিরুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার হাঁটাচলা করার শক্তিটুকুও নেই। এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি এই কারাগারেই অসুস্থ হয়ে মারা যান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।
.অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে রাজধানীর হেয়ার রোডের যে সরকারি বাসাতে থেকেছেন আসিফ নজরুল, নতুন সরকার দায়িত্বগ্রহণ করায় সেটি ছাড়ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে বাসা ছাড়ার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, বাসাটির প্রতি তারা মায়া জন্মে গেছে। আসিফ নজরুল লেখেন, আমরা যখন হেয়ার রোডের এই বাসায় উঠি সবার মন খারাপ হয়ে যায়। বেশি বড় জায়গা, বেশি বড় বাড়ি, এত বড় যে আপন ভাবা যায় না ঠিক। সরকারি বাসায় ওঠার কারণে সন্তানদের মন খারাপ হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ফুলার রোডের বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল তারা। তবে এখন হেয়ার রোডের বাসা ছাড়ার সময় এই জায়গার প্রতি মায়া তৈরি হয়েছে বলে লিখেছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে বলেন, দু-একদিনের মধ্যে আমরা চলে যাবে এই বাসা থেকে। আমার মায়া রোগ আছে। এখন দেখি এই বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে। বিশেষ করে ঝোপঝাড়, রোদ ছায়া, চিলের ডানা আর বিশাল আকাশটার জন্য। সবশেষে তিনি লেখেন, বিদায় হেয়ার রোড। অন্তর্বর্তী সরকারে আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা এবং পরে ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন আসিফ নজরুল। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার প্রেক্ষিতে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক এনসিপি নেতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেন, মন্ত্রী যাকে সমঝোতা বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরিবহনমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব বলেন জারা। স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে টাকা দিতে হয়। একেই যদি সমঝোতা বলা হয়, তাহলে একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয় সেটা নিয়ে হয়ত বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করে।’ এদিকে জারা তার স্ট্যাটাসে লিখেন, সড়কের চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। ওনার এই বক্তব্য নিয়ে আমার কিছু মন্তব্য ও প্রশ্ন রয়েছে। মন্ত্রী যেটিকে ‘সমঝোতা’ বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পদ্ধতি। কোনো চালক যখন নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে যান, তখন তাকে নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতেই হয়। একে সমঝোতার মোড়ক দেওয়া মানে হলো একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া। এই অবৈধ লেনদেনের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে। বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সড়কের এই অলিখিত চাঁদা। পণ্যবাহী ট্রাক থেকে এভাবে টাকা আদায়ের ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই অর্থ পরিশোধ করেন সাধারণ যাত্রী ও ভোক্তাই। সাবেক এই এনসিপি নেত্রী আরও বলেন, মন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ‘যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে।’ তাহলে কি আমরা ধরে নেব, এই অর্থ আদায় প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ক্যাডারদের পৃষ্ঠপোষকতার একটি মাধ্যম? যদি তা না হয়, তাহলে এর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তিনি স্ট্যাটাসে বলেন, রাস্তায় টাকা তোলা বন্ধ করুন। যদি মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলে অর্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে আদায় করা হোক। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি-র সাথে যুক্ত করে এই অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে। জারা স্ট্যাটাসে লিখেন, সড়কে যে কোটি কোটি টাকা তোলা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করুন। প্রকাশ করুন এই অর্থ আসলে কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে? সাধারণ চালক-শ্রমিকের জন্য, নাকি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির পকেটে? এই অর্থ শেষ পর্যন্ত আসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। এটি চালক বা মালিকের ব্যক্তিগত অর্থ নয়। এটি যাত্রী ও ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যায়। সরকারের দায়িত্ব সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। আপনারা অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আমাদের হতাশ করবেন না।
নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ের চাঁদাবাজিসহ যেকোনো অপরাধের তথ্য জানতে ওয়েবসাইট চালু করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি মির্জা ফখরুল ওই ওয়েবসাইটে সরাসরি তাকে সমস্যার কথা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ঠাকুরগাঁও-১ এর যেকোনো এলাকায় যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অন্যায়/অপরাধ বা যেকোনো সমস্যার কথা সরাসরি আমাকে আমার ওয়েবসাইট-এর মাধ্যমে জানান। পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ৭ জানুয়ারি ওয়েবসাইট উদ্বোধন হবার পর থেকে আমরা ইতোমধ্যে অনেক মেসেজ পেয়েছি। আমার টিম মেসেজ কম্পাইল করছে। শিগগিরই রেস্পন্ড করব।
ফ্যাসিবাদের ১৭ বছরের কথা স্মরণ করিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা আর সেই অন্ধকার সময়ে ফিরে যেতে চাই না।’ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। জামায়াত আমির বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই জুলাই। ফ্যাসিবাদের ১৭ বছরে বর্তমান সরকারি দল ও আমরা—উভয় পক্ষই স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছি। আমরা সেই অন্ধকার সময়ে আর ফিরতে চাই না। নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত। ভিন্নমত দমন নয়—স্বাগত জানানোই হোক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এদিকে, রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। বলেন, বিশ্বের সব দেশের মুসলমান ভাই ও বোনদের রমজানুল মোবারক। এ রমজান সবার জীবনে মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত নিয়ে আসুক। সঙ্গে একটি বরকতময় ঈদ—ঈদুল ফিতর। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।পাশাপাশি কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধীদলীয় উপ-নেতা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান হুইপের দায়িত্ব পালন করবেন।
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ অনুষ্ঠান হয়। ববি হাজ্জাজ একজন উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা ও যুব উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। দলীয় সূত্র বলছে, শিক্ষা খাতে তার অভিজ্ঞতা, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা এবং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ববি হাজ্জাজ রাজনৈতিক দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং সম্পদশালী পরিবারে তার জন্ম। বাবা মুসা বিন শমসের (যিনি প্রিন্স মুসা নামে সমধিক পরিচিত), বাংলাদেশের ব্যবসা জগতের এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। কিন্তু ববি হাজ্জাজ নিজেকে কেবল বাবার পরিচয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। বিদেশে দীর্ঘ সময় কাটালেও দেশের প্রতি তার টান ছিল প্রবল। সেই টান থেকেই তিনি দেশে ফিরে আসেন। তখন তার সামনে কর্পোরেট জগতে বা বাবার ব্যবসায় যোগ দেয়ার বিশাল সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি বেছে নিলেন শিক্ষকতা এবং রাজনীতির পিচ্ছিল পথ। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ববি হাজ্জাজের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় জাতীয় পার্টির হাত ধরে। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। সুদর্শন, সুবক্তা এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ববি হাজ্জাজ দ্রুতই মিডিয়ার নজরে চলে আসেন। অনেকে মনে করেছিলেন, তিনি হবেন জাতীয় পার্টির আধুনিক মুখ। তবে রাজনীতি সবসময় সরল রেখায় চলে না। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে সরে আসেন। নিজের রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব দল- জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৮৮,৩৮৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬,০৬৭ ভোট। অল্প ব্যবধানের এ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন ববি হাজ্জাজ।
প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য। আর সেখান থেকে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রাজিব আহসান। নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীকে প্রায় ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদে রাজিব আহসান রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথবাক্য পাঠ করেন। জানা গেছে, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ পৌর এলাকার বদরপুরের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান ও ফরিদা বেগম দম্পতির সন্তান রাজিব আহসান। রাজনৈতিক জীবনে গত আট বছরে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ছিল ৮২টি। করতে হয়েছে কারাবরণও। এদিকে মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় মিষ্টি বিতরণ করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদে আসীন হন রাজিব আহসান। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের সভাপতি পদেও ছিলেন। ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মো. রাজিব আহসান ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচিত ছয় সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে তারা শপথ নেন। সংসদ সদস্যের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। এর আগে এনসিপির সূত্র জানায়, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নাও নিতে পারেন। বিএনপির জয়ী সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় এ কথা ভাবছিলেন তারা। একই কারণে জামায়াত সকালে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার কথা জানায়। তবে দুপুরে জাতীয় সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয় জামায়াত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই সনদে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার গঠনের পর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে স্বাক্ষরিত এই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং রাষ্ট্রকে নতুন ধারায় এগিয়ে নিতে সংসদ হবে প্রধান প্ল্যাটফর্ম। প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া এগোবে। তিনি বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো সদস্যের শপথ পাঠ করানোর এখতিয়ার নেই। এ কারণে ওই ধরনের কোনো প্রক্রিয়াও হয়নি। আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই এখানে এসেছি। আগামীতেও রাষ্ট্র পরিচালনা হবে পুরোপুরি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে। এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর শপথ, সরকার গঠন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপরিচালনা—সবকিছুই সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে এবং হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। একইসঙ্গে জানান, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে নেতা নির্বাচিত করে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের চিঠি পাঠানো হয়েছে। শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, গণভোটের রায় ও জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পর তৃতীয় তফশিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার বিষয়টি সংসদ নির্ধারণ করবে। তিনি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক) ধারার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে অপারগ হলে বা অনুপস্থিত থাকলে, তিন দিনের মধ্যে তাদের মনোনীত প্রতিনিধি শপথ পড়াবেন। সেটিও না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে শপথ পাঠ করাবেন। সেই বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পড়িয়েছেন। শপথের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, যারা শপথ নিয়েছেন—উপস্থিত সবাই ওই সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছেন। বিএনপির এই নেতা জানান, সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তারেক রহমান দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দুটি নির্দেশ দিয়েছেন— ১. কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নেবেন না। ২. সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি কোনো প্লট গ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন, আজ থেকে পরিবর্তনের শুরু। সংসদ সদস্য হলেই কেউ বিশেষ সুবিধাভোগী হবে—এ ধারণা বদলাতে হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় ফের আলোচনায় বিএনপি। এবার বিএনপির এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করলেন ডাকসু ভিপি ও শিবির নেতা আবু সাদেক কায়েম। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ সমালোচনা করেন তিনি । পোস্টে সাদেক কায়েম লিখেছেন, জনরায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করছে না। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিএনপি নিজেদের সংস্কারবিরোধী অবস্থান পরিষ্কার করেছে। তিনি আরও লিখেছেন, বিএনপির এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশে বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী কাঠামো অটুট রাখার সুপ্ত বাসনার বহিঃপ্রকাশ। এমন সিদ্ধান্ত থেকে বিএনপি সরে না এলে জুলাই প্রজন্ম রাজপথে নেমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করবে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিরা সকাল ১০টায় সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। আজ বিকাল ৪টায় নতুন সরকারের মন্ত্রিরা শপথ নেবেন। নতুন সরকার গঠনের পর আগামীকাল বুধবার সচিবালয়ে অফিস করবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক এবং সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে তিনি অফিস করবেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভা শেষে সচিবালয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করে বেলা ৩টায় মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ বৈঠক করবেন। বৈঠকের কোনো এজেন্ডা নেই বলে মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে বিকাল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।
চিরচেনা সেই জার্সি পরেই সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিতে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেই পুরোনো ‘ঐতিহাসিক’ জার্সিতে সংসদে প্রবেশ করতে দেখা যায় হাসনাতকে। গত ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জার্সি গায়ে আন্দোলনে দেখা যায় হাসনাতকে। দীর্ঘদিন ধরে একই জার্সিতে আন্দোলন চালিয়ে যান তিনি। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও একই পোশাক পরেছিলেন তিনি। এরপর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সেই চিরচেনা টি-শার্ট পরেই মঞ্চে উঠেন হাসনাত। এরপর বহু ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন এই আইকনিক জার্সি গায়ে। হাসনাত আব্দুল্লাহদের দল এনসিপির আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানেও ওই জার্সি গায়েই উপস্থিত হন দলটির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা।
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও কোনো শপথ নেওয়া হবে না, এমন তথ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। মঙ্গলবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় কোনো শপথই নেবে না ১১-দলীয় জোট। এর আগে আরেকটি পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, গণভোটের জনরায়কে প্রথম দিনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুরু হলো নতুন সংসদের যাত্রা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে শপথ নেন বিএনপি থেকে জয়ী প্রার্থীরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে জামায়াত আমির ডা. শফিকুল রহমান সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথম ধাপে শপথ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে নতুন আইনপ্রণেতাদের সামনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত জানান। শপথ গ্রহণের পর সংসদ সদস্যরা শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন। সূচি অনুযায়ী, এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হবে। বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। আজ সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১,৩৪৭ জন প্রার্থী তাদের জামানত বাঁচাতে পারেননি। এবার ২৯৯ আসনে মোট ২,০২৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে ৬৬ শতাংশেরও বেশি প্রার্থী তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফল বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯১ আসনে প্রার্থী দেয় সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তবে তাদের কোনো প্রার্থীকেই জামানত হারাতে হয়নি। অন্যদিকে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৯টি আসনে প্রার্থী দেয়। তাদের মধ্যে তিন প্রার্থী নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান। বিগত সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবার ১৯৮ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দলটির প্রার্থীদের মধ্যে কেবলমাত্র পাঁচজন তাদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট না পাওয়ায় বাকি সবাই জামানত হারিয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তাদের মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বাসদ, নাগরিক ঐক্যসহ বাকি দলগুলোর বেশিরভাগ প্রার্থীই তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানান, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের টাকা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়। প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ৮ ভাগের একভাগ পেতে হয়। এ পরিমাণ ভোট না পেলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। অর্থাৎ তিনি জামানতের টাকা ফেরত পান না। প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন হয়নি। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন হয়। আদালতে মামলা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ ফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। বাকি ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয় পেয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী যে সহিংসতা শুরু হয়েছে তা অবিলম্বে বন্ধ না হলে আরেকটি অভ্যুত্থানের সাক্ষী হতে পারে বাংলাদেশ।’ আজ সোমবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে যেসব আসন নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। সমাবেশে নির্বাচন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হক বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষের ব্যালটের অধিকার নিয়ে তামাশা করা হয়েছে। প্রহসনের ফলাফলের পর সারা দেশে ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম করছে সাবেক মজলুম দল। রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের পর আর কোনো ফ্যাসিবাদ এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। জুলাইয়ের চেতনা সমুন্নত না থাকলে আমরা আবার মাঠে নামব।’ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে হাদি হত্যার বিচার ও সংস্কার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপের ওপর জোর দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘ভোট ডাকাতদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে গেছে। ভোট ডাকাতদের কাছ থেকে পাওনা বুঝে নেব। হাদি হত্যার বিচারে পদক্ষেপ নিন। সংস্কারে হ্যাঁ ভোটের ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় দ্বিগুণ শক্তিতে ফিরে আসবে জুলাই শক্তি। সব দাবি কড়ায়-গণ্ডায় আদায় করে ছাড়ব।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন নির্মাতা, সাংবাদিক ও সম্প্রচারক জুবায়ের বাবু। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান যে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, ধৈর্য ও কৌশলগত সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তার ভাষায়, এই বিজয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, জনসম্পৃক্ততা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অদম্য প্রত্যয়ের ফল। জুবায়ের বাবু বলেন, গত দেড় দশকে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল নানা সংকট, বিভাজন ও দমন-পীড়নে চিহ্নিত। বিরোধী রাজনীতির ওপর কঠোর নজরদারি, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ—এসবের মধ্যেও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে টিকে থেকেছে এবং জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অটুট রেখেছে। তিনি বলেন, যে দল ও নেতৃত্ব দীর্ঘ সময় চাপের মুখে থেকেও ভেঙে পড়েনি, বরং নিজেদের পুনর্গঠিত করেছে—তাদের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করলেও তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সংকট, যুবসমাজের প্রত্যাশা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বেগ সম্পর্কে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ, নীতিগত বক্তব্য এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি দলের ভেতরে ও বাইরে এক ধরনের নেতৃত্বের উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, দূরত্ব কখনোই তারেক রহমানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে দুর্বল করতে পারেনি; বরং সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে আরও প্রস্তুত করেছেন। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায় স্পষ্ট—তারা পরিবর্তন চেয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের নেতৃত্বে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করেছে। ভোটাররা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারের অঙ্গীকারের ওপর আস্থা রেখেছে। জুবায়ের উল্লেখ করেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোষহীন নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। তার মতে, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে দর্শন বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে উচ্চারিত হয়ে আসছে, তার আধুনিক রূপায়ণ ঘটানোর সুযোগ এখন তারেক রহমানের সামনে এসেছে। এক-এগারো পরবর্তী সময় এবং পরবর্তী শাসনামলে তারেক রহমানকে জোরপূর্বক নির্বাসনে রাখা হয়েছিল—এমন অভিযোগ তুলে জুবায়ের বাবু বলেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু জনগণের হৃদয় থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। তিনি মনে করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনী রায় প্রমাণ করেছে—জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয় এবং দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার মূল্যায়ন করেই ভোট দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে উদ্যোগী হবে, বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, যুবসমাজের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জুবায়ের বাবু বলেন, ‘ক্ষমতা নয়, জনতা—সবার আগে বাংলাদেশ’—এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে তারেক রহমান দেশ পরিচালনায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবেন—এটাই আজ জনগণের প্রত্যাশা। তিনি বিশ্বাস করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো একক ইস্যুর কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ভারতের উচিত তাকে বাংলাদেশকে হস্তান্তর করা। তবে তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে পাঠানো না হলেও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য সম্পর্ক স্থাপনে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না এবং তারা আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ আসনে জিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফখরুল জানান, বাংলাদেশের স্বার্থে প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জটিলতা থাকলেও সহযোগিতার ক্ষেত্র বন্ধ হওয়া উচিত নয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমেরিকা ও চীনের সম্পর্কেও জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে বিজয় আনতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী। তবুও পরাজয়ের পর যেন এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ছে দলটির প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। এ আসনে অতীতের ইতিহাসে কখনো দলীয় প্রার্থী দেয়নি দলটি। প্রথমবারের মতো প্রার্থী দিয়ে বিশাল ভোট পাওয়ায় উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা। সেই উজ্জীবনা ধরে রাখতে নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশ করেন এ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বড়লেখা পৌর শহরের জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ নির্বাচনে যে ভালোবাসা ও আস্থা দেখিয়েছেন, সেটিই আমাদের বড় শক্তি। এই ভালোবাসা ধরে রাখতে হলে এখনই সংগঠিতভাবে মাঠে কাজের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। মানুষের এই ভালোবাসা ও সমর্থন আগামী দিনের প্রেরণা। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জয় হবেই। তিনি আরও বলেন, মানুষের এই সমর্থন প্রমাণ করে যে জামায়াত আর প্রান্তিক কোনো শক্তি নয়। বরং জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে। ভোটের সমীকরণে এই অপ্রত্যাশিত উত্থান প্রমাণ করেছে। তৃণমূলের দীর্ঘ পরিশ্রম ও সাংগঠনিক উপস্থিতিতে আমরা সফল। জয় না পেলেও সমর্থনের বিস্তার, পরাজয়ের কাগুজে হিসাবের আড়ালে লুকিয়ে আছে মানুষের আস্থার বৃদ্ধি। এই ফলাফল কেবল হার জিতের অঙ্ক নয়, একটি পথচলার মাইলফলক। মাওলানা আমিনুল ইসলাম নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ঘরে বসে থাকার সময় নেই। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। মানুষের খোঁজখবর নিতে হবে। তাদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে।
অবশেষে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনায় যাবে। প্রতিনিধিদলে থাকবেন সারোয়ার তুষার, মনিরা শারমিন, জাবেদ রাসিন ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।