রাজনীতি

ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহীতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ

রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের নবঘোষিত কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি ঘোষিত ছাত্রদলের আংশিক কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় সড়কের পাশে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা। পরে নবগঠিত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ঘটনাস্থলে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।   বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ঘোষিত আংশিক কমিটিতে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। তাদের দাবি, কমিটিতে টিকটকার, চাঁদাবাজ ও মাদকসেবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা এ কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলেন, নবগঠিত কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।   খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করে।   উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারকে জামায়াত নেতার সতর্কবার্তা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবলমাত্র একটি গতানুগতিক ধারার ব্যাংক নয়; বরং ইসলামী ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে এদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংক যেই অবদান রেখেছে সেই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। পতিত এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ইসলামী ব্যাংকের ভেতরে থাকা এস আলমের দোসরদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী শ্যামপুর জোনের বাছাইকৃত সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মাসুদ আরো বলেন, জনগণের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সৎ ও যোগ্য আদর্শিক লোকদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকার দল ও বিরোধীদলকে সমান ভূমিকা রাখতে হয়। জামায়াতে ইসলামী সেই ভূমিকা রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী দেশ ও জাতির যেকোনো প্রয়োজনে সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্যামপুর জোন পরিচালক সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে এবং সহকারী জোন পরিচালক ও কদমতলী মধ্য থানা আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরের বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির। আরো বক্তব্য রাখেন মহানগরীর ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন, কদমতলী জোনের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহিম জীবন, যাত্রাবাড়ী থানা আমির মাওলানা সাদিক বিল্লাহ প্রমুখ।

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
দলীয়করণের মাধ্যমে একদলীয় শাসনের চেষ্টা করছে সরকার: জামায়াত আমির

সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে অনুগত ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে এবং এভাবে দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করা হচ্ছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ৪৭, ৫২, ৭১ এবং ২৪-এ যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে বিভিন্ন সময় আমাদেরকে স্বাধীনতা, মুক্তি এবং শান্তির সুবাতাস দিয়েছেন। বিশেষ করে ২৪-এ যারা লড়াই করে শহীদ হয়েছেন, আমি সেই শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহর দরবারে তাদের শহীদ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আরজি করছি। ২০২৪-এর আন্দোলন ও নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এখন আমরা যারা সরকারে আছি এবং বিরোধী দলে যারা আছি, আমাদের মনে রাখতে হবে ২৪ হয়েছিল বলেই ২৬ সালে বাংলাদেশে একটা নির্বাচন হয়েছে। ২৪ যদি না হতো, ২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তাদের রক্ত এবং ত্যাগের কারণে আজকের এই সংসদ, সরকার, বিরোধী দল। তারা যদি এই সমস্ত শহীদ পরিবার ও আহত পঙ্গু ভাই-বোনদের প্রতি অবজ্ঞা বা উপহাস করেন, তবে এটি নিজের সাথেই গাদ্দারি করার শামিল হবে। ‘এই নারায়ণগঞ্জবাসীকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বিগত নির্বাচনে হাজার জালিয়াতি, সন্ত্রাস, কালো টাকার ছড়াছড়ি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হাজার জাতের মেকানিজম-ইঞ্জিনিয়ারিং, সবকিছুকে উপেক্ষা করে আপনারা ১১ দলীয় ঐক্যকে অন্তত একটি আসন উপহার দিতে পেরেছেন, এজন্য আপনাদের অভিনন্দন।’ তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন যেভাবে হয়েছিল, ভোট গণনা এবং ফলাফলও যদি সেভাবে সুষ্ঠু হতো, তবে অন্য আসনগুলোতেও অবশ্যই আমাদের বিজয় হতো। সেই বিজয় মূলত ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। অনেকে আমাদের ওপর অভিমান করে বলেন যে, কেন আমরা এই রায় মেনে নিলাম? আমরা তাদের বলেছি, সাড়ে ১৫ বছর দেশ স্বৈরশাসনের কবলে ছিল, এরপরে একটি নির্বাচন হয়েছে যেখানে জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে সারাদেশে একই আওয়াজ উঠেছিল ‘দাঁড়িপাল্লা, দাঁড়িপাল্লা’। একদিনে দুটো ভোট হয়েছে- একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট, আরেকটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে গণভোট। আমাদের অবস্থান সুদৃঢ় ছিল, আমাদের মার্কা এবং গণভোটে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে। ‘বর্তমান সরকার প্রথমে চুপ ছিল। নীরবে নীরবে তারা না এর পক্ষে ছিল। এরপর জনরোষের মুখে পড়ে তাদের নেতাও শহীদ আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, ১২ তারিখ দুটি ভোট- একটি গণভোট আর অন্যটি জাতীয় সংসদের ভোট, আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। আল্লাহর কসম, একবারই তিনি বলেছেন।’ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেই গণভোটে যে ৬৬.৮ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিল তাদের ভোটের মূল্যটা তিনি কী দিলেন? বর্তমান সরকার সেই জনরায়কে এখন অস্বীকার করছে। কিন্তু নির্বাচনের পর বর্তমান সরকার এবং তাদের তথাকথিত ‘সর্বমন্ত্রী’ সংসদে দাঁড়িয়ে বলছেন যে, নির্বাচন যাতে হয়ে যায় সেজন্য তারা ওসব কথা বলেছিলে। যা জনগণের সাথে সরাসরি প্রতারণা। একটা সংগঠনের শীর্ষ জায়গা থেকে যদি জনগণকে এভাবে ধোকা দেওয়া হয় তাহলে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে কেন? তিনি বলেন, আমরা সংসদে নোটিশ দিয়েও আলোচনা করেছিলাম যাতে গণভোটকে সম্মান দেখানো হয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা কখনো গণতন্ত্রকামী হতে পারে না। গণতন্ত্রের দাবিই হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়কে সম্মান করা। যেহেতু দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাই সরকারকে সেই সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা ভোটের আগে বলেছিলেন, যেই সরকার গঠন করুক আমরা জনগণের রায় মেনে নেব। আমি এখনো সরকারকে আহ্বান জানাই, সময় আছে ফিরে আসুন। মেনে নিন এবং মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। জোর করে যদি শাসন ব্যবস্থা চালাতে চান, জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় দাঁড় করিয়ে দেবে। ‘ইতোমধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দিকে কালো হাত বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদেরকে সরিয়ে দিয়ে দলের একান্ত অনুগত কর্মীদেরকে ভিসি হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ অন্য জায়গায় নিজেদের দলীয় ক্যাডার এবং নেতাদেরকে প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে একদলীয় শাসন বাংলাদেশে কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিহাস ভুলে গেলে হবে না, শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবও একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলেন, কিন্তু তিনিও সাড়ে তিন বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। সুতরাং একদলীয় শাসন এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। সংসদে দাঁড়িয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার সংস্কৃতি চালু করেছিল আওয়ামী লীগ। সব চেয়ে বেশি গালি দিত বিএনপিকে, সাথে আমাদেরও ছাড়ত না। জনগণ  এসব আর খায় না।’ তিনি আরও বলেন, একটা বড় বাজেট দেওয়া হয়েছে, অসুবিধা নাই। বাজেট দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও সরকারের। শুধু এতটুকু, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে এই বাজেট থেকে যেভাবে আওয়ামী লীগ আর তার দোসররা ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, সেই পথ কি আপনারা আটকাবেন না? আমরা কীভাবে আস্থা রাখব? কারণ, সরকার গঠন করার আগে এবং পরে আপনারা তো চাঁদাবাজদের হাত আটকাইতে পারেন নাই। একটা চাঁদাবাজকেও আপনারা শাস্তির আওতায় আনেন নাই, দুর্নীতি বন্ধ করেন নাই। বরং দুর্নীতির মিটার আগের থেকে আরও বেড়ে গেছে। যদি এই অবস্থা জারি থাকে, তাহলে জনগণ জনগণের জায়গায় থাকবে, তাদের ভাগ্যে কিছুই জুটবে না। শুধু কিছু দলকানা মানুষ এবং কিছু গোষ্ঠীর হয়তো ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, বাংলাদেশে আমরা আর এটা দেখতে চাই না। নারায়ণগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ, এক সময় এটাকে প্রাচ্যের ডান্ডি বলা হতো। এটা ছিল শিল্পের রাজধানী। ঢাকা ছিল প্রশাসনিক রাজধানী, নারায়ণগঞ্জ ছিল শিল্পের রাজধানী, চট্টগ্রাম ছিল রাজধানী। নারায়ণগঞ্জ তার গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। বরঞ্চ মাঝখানে এটা সন্ত্রাসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত হয়েছে। ত্বকী আপনাদেরই ছেলে, তার হত্যার বিচার কি এই নারায়ণগঞ্জের মানুষ আজ পর্যন্ত পেয়েছে? না পাননি। শুধু কি ত্বকী? এরকম দফায় দফায় দফায় রক্ত আর লাশ এই নারায়ণগঞ্জে উপহার দেওয়া হয়েছে। সরকারি দলের বিভিন্ন সময়ের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, আপনারা কেউ কি জান্নাতের কোনো টিকেট বিক্রি করেছেন? আপনাদের কাছে কি কেউ কোন জান্নাতের টিকেট বিক্রি করেছে? না। আপনারাও বিক্রি করেন নাই আপনাদের কাছেও বিক্রি করে নাই। জান্নাতের টিকেট কারা বিক্রি করেছে? যারা ইলেকশন করতে গিয়ে বলেছে, এই মার্কায় ভোট দিলে আপনারা জান্নাত পাবেন। সেই ভিডিওগুলো কি হারিয়ে গেছে? না। কারা বিক্রি করেছে বলেছে অমুক নেতার নাম ডেইলি ১০০ বার নিলে আপনি জান্নাতে যাবেন। কারা বলেছে আমাদের অমুক নেতার নাম নেওয়ার আগে ওযু করা লাগে। ঠিক। এই কথাগুলো কি আমাদের নেতারা কেউ বলেছেন?  কর্মীরা কেউ বলেছেন? আপনারা কেউ বলেছেন? কেউ বলেনি। তাইলে বিষয়টা কি? বিষয় হলো চোরের মার বড় হওয়া। তিনি আরও বলেন, জনগণ সময় মতো জবাব দেবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই না আমাদের প্রিয় নারায়ণগঞ্জ এ অশান্তি এবং চাঁদাবাজদের কবলে পড়ে থাকুক। আমরা এই নারায়ণগঞ্জকে একটা স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন, একটি মর্যাদাশীল নগরী হিসেবে দেখতে চাই। আপনারা চান কিনা? ড্রেনের পানি দিয়ে ওজু হবে? ভালো মানুষ ছাড়া এই নগরী গড়া যাবে না। এমন মানুষের প্রয়োজন হবে যে আল্লাহকে ভয় করে, যে মানুষের হকের দিকে তাকায়ও না হাতও দেয় না। বরঞ্চ যার হক চৌকিদারি করে তার হক তার হাতে পৌঁছে দেবে। শত বাধা উপেক্ষা করে আমরা অসৎ নেতৃত্ব পরিবর্তন করব। ইনশাআল্লাহ, সৎ নেতৃত্ব কায়েম করব। নেতাদের কপাল বড় করার জন্য নয় ঘর গড়ার জন্য নয় বরঞ্চ জনগণকে তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা দাবি করি অনতিবিলম্বে অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দিয়ে এখানে নির্বাচন দেওয়া হবে। মাওলানা আব্দুল জব্বারকে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জামায়াত ইসলাম বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব নেবে। আমরা আজকে আপনাদের কাছে সেরকম একটা মানুষ উপহার দিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির, কিশোর জীবন থেকে তিলে তিলে যিনি সৎ চরিত্র ধারণ করেছেন। যার চোখে স্বপ্ন মানুষের কল্যাণ, আমরা সেই  প্রিয় জননেতা মাওলানা আব্দুল জব্বারকে এখানে আমাদের পক্ষ থেকে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করছি। তিনি আরও বলেন, অনেক দল প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আরো অনেকে করবে, আমরা সবাইকে সাধুবাদ জানাই। রাজনীতির সুস্থ ময়দানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে এই নির্বাচন যেন হয়। আগামীতে যেন কোনো চুরি ডাকাতি না হয়, ভোট জালিয়াতি না হয়, হুমকি-ধমকি দেওয়া না হয় কালো টাকার ছড়াছড়ি না হয় নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং না হয়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা বিশ্বাস করি নারায়ণগঞ্জবাসী একজন সৎ, দক্ষ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক মানুষকে ইনশাল্লাহ তাদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করবে। সেই সঙ্গে আমরা ঘোষণা দিচ্ছি ২৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ইনশাআল্লাহ আমরা জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করব। মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিরোধীদলীয় নেতার সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল।   বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-২-এর সহকারী পরিচালক মুহা. শফিউল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বৈঠক ইমরান হায়দার জানান, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চান। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে এবং পাকিস্তানের শিক্ষা কাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।   বৈঠকে গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষামেলার সাফল্য সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতাকে হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে অবহিত করা হয়।   হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদান করবে। ইতোমধ্যে ৭৪ জন পাকিস্তানে গমন করেছেন। আগামীতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও বেশি মেধা বিনিময়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্প সামনের দিনগুলোতে আরও সংহত করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।   এ ছাড়াও একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠন এবং সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানান হাইকমিশনার।   আলোচনার একপর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পাদনে ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।   বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পর ৩৬টি পুশ ইন চেষ্টা ঠেকিয়েছে বিজিবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৩৬টি পুশ ইন (ঠেলে পাঠানো) চেষ্টাকে প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।   আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশ ইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১১ জনকে হস্তান্তর করা হয়েছে বিএসএফের কাছে। আর ১৮৩ জনকে পুশ ব্যাক করা (ফেরত পাঠানো) হয়েছে।   সীমান্ত হত্যা, পুশ ইন বন্ধসহ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে বিজিবির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুশ ইন ও চোরাকারবারিদের রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে মামলাসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।     ‘মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ দেশি নাগরিক হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনগুলোতে বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বা চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব সময়ই সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে মারত্মক বা প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল ওয়েপন্স) ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে এবং এর ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির বিষয়ে পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ‘ফ্লাগ মিটিংয়ের’ (পতাকা বৈঠক) মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।   পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, আন্তসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভারত সীমান্তে স্পর্শকাতর স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন রয়েছে।   বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার প্রায় ১১ হাজার কিশোরগঞ্জ–৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ মে থেকে দেশব্যাপী মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানে ৮ জুন পর্যন্ত মাদকসংক্রান্ত অপরাধে ৭ হাজার ৬৮৮টি মামলায় ১০ হাজার ৮৬৫ জনকে গ্রেপ্তারসহ বিপুল পরিমাণ মাকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া এই অভিযানে ১২৫টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং অস্ত্র উদ্ধারসংক্রান্ত ২৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   জামালপুর-২ আসনের এ ই সুলতান মাহমুদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় করতে এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি (ঢাকা মহানগর পুলিশ) বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেদের গ্যাংয়ের নামে যেসব ফেসবুক পেজ, গোপন গ্রুপ এবং টিকটক আইডি অ্যাকাউন্ট চালায়, সেগুলোকে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটর করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, র‍্যাব-২ এর আওতাধীন মোহাম্মদপুর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১১৯টি ছিনতাইবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ২৫২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।   সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে (জুন ২০২৫ হতে মে ২০২৬) ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এই সময়ে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৯টি অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৬টি ইয়াবা, ৫৫ হাজার ৯০৮ বোতল ফেনসিডিল, ১৮ হাজার ৪৬৩ কেজি গাঁজা এবং ১ লাখ ৬ হাজার ৭০৯ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া অত্যন্ত মারাত্মক ও মরণঘাতী ১৫ দশমিক ৫৭৭ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ২ দশমিক শূন্য ৮ কেজি কোকেন এবং ৬২ বোতল এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড) জব্দ করা হয়েছে। এ সময়ে ২ হাজার ১৮৯ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।   কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৩ হাজার ১০৭ এবং নারী ২ হাজার ২৯ জন। বিপরীতে আটক আছেন ৭৭ হাজার ৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬ জন এবং নারী ২ হাজার ৭৭ জন।   সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়া/বেটিং সাইট বন্ধ এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশের জনগণকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থা–প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে অনলাইন জুয়া, বেটিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের বিস্তার রোধ এবং এসব অবৈধ প্ল্যাটফর্ম বন্ধ ও সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে যুবসমাজকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য সরকার ‘বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ রহিতক্রমে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
আ. লীগ নেতা আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি (ডানে) ও তার মুক্তির দাবিতে মিছিল (বামে)। ছবি : সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি। তবে তার মুক্তির দাবিতে ইউনিয়ন বিএনপির একাংশ বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিয়ন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা অংশ নেন বলে জানা গেছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিয়ে মিছিল করছেন বিএনপির কিছু নেতাকর্মী। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জোরালো বিতর্ক শুরু হয়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সিকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মিছিল এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।   পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে সোমবার (১৫ জুন) আটক করা হয়। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় গুপ্ত মিছিল ও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার আওতায় রয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির একাংশের মিছিল করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির। তিনি বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একজন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মিছিল করা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ একটি ঘটনা।   তিনি আরও বলেন, যদি আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তখন তারা রাজনীতি করতে পারবে। অন্যথায় এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।   তবে এ মিছিলকে বিএনপির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে অস্বীকার করেছেন বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাদবর। তিনি দাবি করেন, এটি ইউনিয়ন বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ব্যক্তি দলকে বিতর্কিত করতে এ মিছিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।   ঘটনাটি ঘিরে শরীয়তপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে স্থানীয় রাজনীতির অস্বাভাবিক ও ব্যতিক্রমী চিত্র হিসেবে উল্লেখ করছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাবা ‘যুদ্ধে শহীদ’ বলা জামায়াত এমপির জন্মসাল ১৯৮১

নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের’ সন্তান বলে সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্যের পর তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে জানা গেল তার জন্ম ১৯৮১ সালে।   নীলফামারী ৪ আসনের এ সংসদ সদস্য রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলাকালে সম্পূরক বাজেটের আলোচনাকালে ‍মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরিবারের অবদান ছিল দাবি করে বলেন, তার বাবা একজন ‘যুদ্ধে শহীদ’।   ৪৫ বছর বয়সি এই সংসদ সদস্যের নিজের বাবাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘শহীদ’ দাবি করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাস্যরসও ছড়িয়েছে।   তিনি বলেন, আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা সাত ভাই- চারজন মুক্তিযোদ্ধা; আমার দাদারা ১৯ জনের ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা।   “আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকদের একজন কিন্তু আমি আজকে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই কেউ অনেক কিছু বলে ফেলে।   তার বক্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তখন প্রশ্ন ওঠে ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া এ সংসদ সদস্যের বাবা ‘যুদ্ধশহীদ’ হন কীভাবে।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আব্দুল মুনতাকিমের দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। সে হিসাবে তার বয়স ৪৫ বছরের কিছু বেশি। তার বাবার নাম মো. আব্দুল কাদের সৈয়দী।   এ নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুনতাকিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার বাবা এখনও আছেন। আমার দাদা যুদ্ধ শহীদ। তিনি আমার বাবার চাচা।   আমি বোঝাতে চেয়েছি আমার বাবা-দাদাদের মধ্যে যুদ্ধে শহীদ আছেন। আমি আক্ষরিকভাবে আমার বাবা যুদ্ধে শহীদ তা বোঝাইনি। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো ধরনের মিথ্যাচার কাম্য নয়। তারওপরে একজন আইন প্রণেতার জাতীয় সংসদে এ ধরনের বিকৃত তথ্য উপস্থাপন কোনভাবেই কাম্য নয়। এরমাধ্যমে তারা আবার প্রমাণ করলেন, তারা কী রাজনীতি করেন।   লেখক আখতারুজ্জামান আজাদ মঙ্গলবার তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আব্দুল মুনতাকিমের দাবি অনুযায়ী তার দাদাও ‘যুদ্ধে শহীদ’, বাবাও ‘যুদ্ধে শহীদ’। মুনতাকিমের দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হতেই পারেন, এটি অসম্ভব নয়। এমনও হতে পারে–আলোচ্য দাদা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত হওয়া দাদাদের নাতিরাও নিজ-নিজ দাদাকে ‘যুদ্ধে শহীদ’ দাবি করতেই পারেন। যেসব দাদা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করে মুক্তিযুদ্ধের হাতে ধরা পড়ে নিহত হয়েছেন, নিজ-নিজ দাদাকে ‘যুদ্ধে শহীদ’ দাবি করা থেকে তাদের নাতিদেরকে নিবৃত্ত করার আইনি সুযোগ নেই।   চট্টগ্রামের সূর্য কুমার সেন উপমহাদেশের জনসাধারণের কাছে মাস্টারদা এবং শহীদ, কিন্তু ইংরেজদের কাছে সন্ত্রাসী। পাকিস্তান থেকে বিমান ছিনিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে এসে যুদ্ধ করতে চাওয়া মতিউর রহমান বাংলাদেশের কাছে বীরশ্রেষ্ঠ, কিন্তু পাকিস্তান ও জামায়াতে ইসলামীর কাছে গাদ্দার; বিমান ছিনতাইয়ে মতিউর রহমানকে বাধা দিয়ে নিহত হওয়া রশিদ মিনহাজ বাংলাদেশের কাছে পাকসেনা, কিন্তু পাকিস্তান ও জামায়াতে ইসলামির কাছে বীর শহীদ। ফলে, মুন্তাকিমের দাদা যদি একাত্তরে নিহত হয়ে থাকেন, তা হলে তিনি যাদের হাতেই নিহত হন না কেন; কোনো-না-কোনো মাপকাঠিতে তিনি নিশ্চয়ই ‘শহীদ’।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত
সংবিধান সংস্কারে বিশেষ কমিটি চায় বিরোধী দল

ঢাকা: বিদ্যমান সংবিধানে আংশিক সংশোধনের পরিবর্তে সামগ্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার সংবিধান সংস্কার কমিটির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করলে তবেই বিরোধী দল এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।   মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদ বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিরোধী দলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই সনদ’ সংসদে বাস্তবায়ন না হলে তা রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জনগণ একটি দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক বিরোধী দলের ভূমিকা দেখতে পাবে।   তিনি জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংকট, প্রবাসীদের সমস্যা এবং সীমান্তে পুশ-ইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দল সংসদে নোটিশ দিয়েছে। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মার্চে উপস্থাপনের কথা থাকলেও জুনে সম্পূরক বাজেট পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা অর্থবছরের শেষ দিকে অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তিনি অর্থবছর জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে ডিসেম্বর-জানুয়ারি করার প্রস্তাবও দেন।   সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স-এর পুশ-ইন ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল হলেও এ বিষয়ে সংসদে দেওয়া নোটিশ নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। এমনকি একপর্যায়ে নোটিশটি সংসদের কার্যসূচি থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপ্রয়োজনীয় প্রশংসার মাধ্যমে সংসদের সময় নষ্ট করা উচিত নয়। জনগণের স্বার্থ রক্ষাই সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, অতীতে সরকারঘেঁষা বিরোধী দল এবং সংসদ বর্জনকারী সংঘাতমুখী বিরোধী দলের যে সংস্কৃতি দেখা গেছে, তার কোনোটি অনুসরণ করবে না জামায়াতে ইসলামী।   তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থে যৌক্তিক বিষয়ে সরকারকে সমর্থন দেওয়া হবে, আবার প্রয়োজন হলে গঠনমূলক সমালোচনাও করা হবে। প্রয়োজনে ওয়াকআউট করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংসদ বর্জনের পথে না যাওয়ার কথাও জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১৬, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত
রাজধানীর জলাবদ্ধতা কমাতে ৩ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ঢাকা: রাজধানীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সরকার স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।   মন্ত্রী জানান, স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের আওতায় রাজধানীর নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খাল থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের সময় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে পানি সরানো হচ্ছে এবং বিদ্যমান পাম্প স্টেশনগুলো ব্যবহার করে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   এ ছাড়া পর্যাপ্ত ক্যাচপিট ও লোহার গ্রেটিংস স্থাপন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ওয়ার্ডভিত্তিক জরুরি সাড়া প্রদানকারী দল গঠন এবং পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা ব্লকেজ অপসারণের কাজও চলমান রয়েছে।   মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চারটি বড় খালের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি জিয়া সরণী খাল ও শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য নতুন আউটলেট নির্মাণ, নতুন নর্দমা নির্মাণ এবং বিদ্যমান ড্রেনেজ অবকাঠামোর সংস্কার ও মেরামতের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় জিয়া সরণী খাল, কাজলা খাল, মৃধাবাড়ি খালসহ প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নবসংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, নতুন আউটলেট ও পাম্প স্টেশন স্থাপন এবং বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   মন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেট সেবার জন্য ইউটিলিটি ডাক্ট নির্মাণ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, টেকসই ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।   সরকারের আশা, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং নগরবাসী আরও কার্যকর ও টেকসই ড্রেনেজ সুবিধা পাবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১৬, ২০২৬
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
জুলাই সনদ ইস্যুতে সংসদে সমাধান না হলে আন্দোলন রাজপথে: ডা. শফিকুর

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যেটা সংসদে সমাধান হয়, হবে। সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে। আমরা জনগণের দাবি ছেড়ে দেবো না, ছেড়ে দেওয়ার কোন অধিকার আমাদের নাই। উই আর কমিটেড। আমরা আমাদের কমিটমেন্ট ভায়োলেট করতে পারি না। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। আমরা কনফিডেন্ট, এই দাবি আজ হোক, কাল হোক আদায় হবে।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।   সংবিধান সংশোধনে সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধী দল প্রতিনিধি দেবে না জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার। এইজন্যেই রেফারেন্ডাম (গণভোট) হয়েছে। আমরা বলেছি, ৭০ ভাগ (৭২ শতাংশ হবে)মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, আমরা সংসদের ভিতরে এসে এটা বদলাতে চাই না। আমরা জনগণের পক্ষে, জনগণের রায়ের পক্ষে। অতএব সংশোধন নয়, সংস্কারের জন্য কমিটি করলে আমরা দেখবো বিবেচনা করবো।   তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার বলে দিয়েছি, এটা নতুন করে আর বলার কিছু নাই যে সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটির দরকার নাই। এইটা তো একটা রুটিন ওয়ার্ক। এটা বিল আকারে আসবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে, আমরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করবো। পাস হলে পাস হবে, রিজেক্ট হলে রিজেক্ট হবে, এইটার জন্য কোনো কমিটি লাগে না। কমিটির প্রয়োজন সংবিধান সংস্কারের জন্য। সংস্কারের জন্য যদি তারা কোনো প্রস্তাব দেন, তখন আমরা বিবেচনা করবো।   সংসদে বিরোধী দলের কার্যক্রম তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে আমরা কিছু নোটিশ দিয়েছি। আমাদের প্রথম নোটিশ ছিল গণভোট নিয়ে অধিবেশন আহ্বান করার জন্য। সেইটা নিয়ে সংসদের ভেতরে আমরা আমাদের যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছি।   তিনি বলেন, ব্যাংক ইস্যুতে আমরা কথা বলেছি। এটাও জনস্বার্থে বলেছি। আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির দুই অঙ্গই বিধ্বস্ত। স্টক মার্কেট মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ব্যাংকের যা হাড্ডি ছিল, এইটাও এখন গুঁড়া হওয়ার উপক্রম। এ নিয়ে আমরা সংসদের ভেতরে জনগণের পক্ষে কথা বলেছি। প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ো নোটিশ দিয়েছি। সেটা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল সবাই খুব গঠনমূলক আলোচনা করেছে। কিন্তু এইটা যদি আলোচনায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, যদি এক্সিকিউশনে না যায় তাহলে এ দিয়ে প্রবাসীদের কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছি। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে তার কোনো প্রতিক্রিয়া বা সিদ্ধান্ত আমরা জানতে পারিনি।   তিনি বলেন, আরেকটা নোটিশ দিয়েছিলাম, সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে। আমার নোটিশদাতাকে ডেকে নিয়ে বলা হয়েছে যে, এটা সেনসিটিভ ইস্যু, আপনি একটু উইথড্র করেন। ওই এমপি বলছেন, আমি উইথড্র করবো না। সেনসিটিভ ইস্যু বলেই তো আমি আলোচনা করতে চাচ্ছি। দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থে। একবার নোটিশ দেওয়া হলো ১৪ তারিখ, এটা আলোচনায় আসবে। নোটিশ আমরা পেয়ে গেলাম, তারপরে আবার এটা বাদ দিয়ে আবার ওই দিনের কার্যসূচি ঠিক করা হয়।   অতীতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে জনগণের স্বার্থে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের ডিসিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা বগলদাবা বিরোধী দল হবো না এবং আমরা সংসদের ভেতরে এমন কোনো আচরণ করবো না, যাতে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়। জনগণ আমাদেরকে এইখানে (সংসদে) পাঠিয়েছে জনগণের কথা বলার জন্য।   তিনি বলেন, কোনো ইস্যুতে আমাদের যদি যৌক্তিক বিষয়টাকে বিবেচনায় না নিয়ে নাকচ করে দেওয়া হয় বা সুযোগ না পাই তখন আমরা ওয়াক আউট করব। কিন্তু সেটা লং টার্মের জন্য না। আমি আবারও বলছি, আমাদেরকে খুব গরম বিরোধী দল ভাববেন না এবং আমাদেরকে একটা যৌক্তিক বিরোধী দল হিসেবে দেশের স্বার্থে কাজ করার জন্য আপনারা সহযোগিতা করবেন।   সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটের জন্য এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা খরচ হয় জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা স্পিকারকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, ব্যক্তিগত চরিত্রহনন, দলের চরিত্রহনন এবং কারো মনোরঞ্জন বা প্রশংসা করা- এগুলো যেন বাদ দেওয়া হয়। এখানে কারও প্রশংসা করতে আমরা আসি নাই। আমরা এসেছি জনগণের পক্ষে কথা বলতে।   মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধী দলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমান মুজিববাদের পথ ধরে মোদির কাছে নজরানা দিচ্ছেন: পাটওয়ারী

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবৈধ পুশইন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি ও সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। সোমবার (১৫ জুন) ১১ দলীয় ঐক্যের ডাকা এই কর্মসূচিতে তিনি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির দাবি জানান।   সমাবেশে বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় দেশের ওপর ‘মুজিববাদী বয়ান’ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের রক্তের মধ্য দিয়ে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, ইসলাম ও সার্বভৌমত্বের স্বপ্ন দেখা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। যার বাপ বলেছিলেন ‘উই রিভল্ট’, তারই সন্তান তারেক রহমান মুজিববাদের পথ ধরে মোদির কাছে আবার নজরানা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে বলেন, ‘আপনি যদি মুজিববাদের পথে যেতে চান, মনে রাখবেন আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় মুজিববাদী হতে পারবেন না।’ তিনি দাবি করেন, জনগণ এ ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যদি সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে না পারেন, তাহলে আপনারা নাকে খত দিয়ে পদত্যাগ করুন। আর যদি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ না করেন, তাহলে এ দেশের জনগণ টেনে-হিঁচড়ে পদত্যাগ করাতে বাধ্য হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সভাপতি হয়েছেন, কিন্তু তিনি আমাদের সীমান্তের হত্যাকাণ্ড, পুশইন দেখেন না। আপনার চোখে শুধু ভিন্ন দেশের করায়ত্তের মধ্য থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব জলাঞ্জলি দেওয়া যায় সেই পথে আপনি তারেক রহমানের পথ ধরে হাঁটছেন। প্রিয় খলিল ভাই, এই খলিল ভাই আপনি ছিলেন না। যদি আপনিও মুজিববাদের পথ ধরে হাঁটার চেষ্টা করেন, তাহলে আপনাকেও শায়েস্তা করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। তখন আপনি কোন খলিল ভাই, আমরা তা চিনব না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের অভিযোগ, এমপি পদ নিয়ে চাপে হান্নান মাসউদ

সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। এ ঘটনায় তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়া উচিত কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।   সোমবার (১৫ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এই অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংসদ সদস্য জানিয়েছেন আইনজীবীর পরামর্শে ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আয়কর সংক্রান্ত সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে হলফনামায় কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছিল।   রাশেদ খান আরও বলেন, ওই সংসদ সদস্য তার স্থাবর সম্পদ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, এটি হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।   এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ–এর পূর্ববর্তী এক বক্তব্যও উদ্ধৃত করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন ভোটের পরেও তদন্ত করতে পারে এবং সত্যতা মিললে প্রার্থিতা বা সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিধান রয়েছে।   নিজের পোস্টের শেষ অংশে রাশেদ খান আরও কয়েকটি ব্যক্তিগত আর্থিক দাবির প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন—কেন এসব বিষয় হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১৫, ২০২৬
সিলেটে মতবিনিময় সভায় কথা বলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘প্রায় ১৭ বছর পর একটা অর্থবহ নির্বাচন হবে, জাতি আশা করেছিল। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, নির্বাচন খুব সুন্দর হয়েছিল, কিন্তু ফলাফলটা সুন্দর হয়নি। ফলাফলের ক্ষেত্রে অনেক কিছু করা হয়েছে, এটা অনেকে এখন স্বীকার করছেন। তারপরও আপনাদের প্রশ্ন থাকতেই পারে, আমরা কেন ফলাফল মেনে নিয়েছি। আমরা মেনে নিয়েছি দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে সামনে রেখে।’ রবিবার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় জামায়াত আমির এ কথা বলেন। জামায়াতের আমির বলেন, ‌‘দুনিয়ার যে সমস্ত জায়গায় একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেই জায়গা থেকে তারা আর বের হতে পারছে না। আমরা যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করতাম, আমাদের আশঙ্কা ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো। এটা এই জাতিকে কোথায় নিয়ে যেতো, তা আল্লাহ জানেন। এটা আমাদের আশঙ্কা, এটা না-ও হতে পারতো।’

মারিয়া রহমান জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত সেক্রেটারি

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পর এবার ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বাংলাদেশের অখণ্ডতাবিরোধী সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের কাছে সেই বক্তব্যের সুরাহা চাইলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মিয়া গোলাম পরওয়ার।   রবিবার (১৪ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এই সুরাহা চেয়েছেন।   বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে এ দেশের জনগণ অতীতের ন্যায় যেকোনও ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।   তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কূটনৈতিক শিষ্টাচার, আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি এবং রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্মানবোধের পরিপন্থি। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণকে একীভূত জনসংখ্যার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং এমন কিছু মন্তব্য করা, যা বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রসত্তা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণার জন্ম দিতে পারে, তা কোনও দায়িত্বশীল কূটনীতিকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। তার এ মন্তব্যে সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে দেশের জনগণ মনে করে।   তিনি আরও বলেন, দীনেশ ত্রিবেদী ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেওয়া। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। আমাদের সরকারের কাছে বিষয়টির মর্যাদাপূর্ণ সুরাহা চাই।   গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি। কোনও পক্ষের আধিপত্যবাদী বা কর্তৃত্ববাদী মনোভাব এ সম্পর্কের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।   এ সময় আমি ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের অনুরোধ করেন জামায়াত সেক্রেটারি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এমপিদের উন্নয়ন দেখাতে কেন্দ্র, অথচ নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী: প্রতিমন্ত্রী নুর

এলাকার সংসদ সদস্যরা (এমপি) নিজেদের উন্নয়ন জাহির করার জন্য বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার (প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) তৈরি করলেও সেগুলোতে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এর ফলে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তহবিল বা ফান্ড কোনো কাজে আসছে না এবং কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।   শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বিষয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ডায়ালগ’-এ অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভ্যন্তরীণ সেবা খাতের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এমন চারটি ট্রেনিং সেন্টার আছে, যেখানে কোনো শিক্ষকও নেই, ছাত্রও নেই। এগুলো স্রেফ এলাকার এমপিরা তাদের উন্নয়ন দেখাতে তৈরি করেছিলেন। এসব অকার্যকর কর্মসূচির কারণে সরকারি ফান্ডের অপচয় হচ্ছে।’   বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর জোর দিয়ে নুরুল হক বলেন, বাংলাদেশ এখন জাপানসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের জব মার্কেটে (শ্রমবাজার) বড় পরিসরে কাজ করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দেশের পলিসি বা নীতিগত জায়গায় বড় পরিবর্তন দরকার।   প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর বেহাল দশা কাটাতে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় পর্যায়ের ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে ‘মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে অন্যান্য কেন্দ্রের দুরবস্থা কাটানোর চেষ্টা করা হবে। এ সময় দেশের নিজস্ব আইডিয়া বা ভাবনাগুলোকে প্রমোট (প্রচার) না করার মানসিকতা থেকেও সবাইকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সরকারি দফতরের সেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘সেবাগ্রহীতা হিসেবে সাধারণ নাগরিকরা কোনো সরকারি দফতরে গেলে এখনও সম্মানের সঙ্গে সেবা পায় না। এই সংস্কৃতির বদল দরকার।’ তবে দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর একটি চমৎকার ভিশন (লক্ষ্য) রয়েছে উল্লেখ করে সেটি বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত

যশোরের মনিরামপুরে নদী খননের মাটি নিলামের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ, হাট ইজারাসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটনসহ তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে।    শুক্রবার উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সভাশেষে জেলা জামায়াতের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পদস্থগিত হওয়া আরও দুই নেতা হলেন- জেলার শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম ও পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন। পদ স্থগিতের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে তিন নেতার পদ স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতারা স্বীকার করলেও চাঁদাবাজিসহ দলের নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন , 'ওই তিন নেতার পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। এটি দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। চাঁদাবাজি, মাটি বিক্রয়ের টাকা ভাগাভাগি, টেন্ডারবাজি অভিযোগ সত্য নয়।' শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনও কাজ করায় বহিষ্কার করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, বাইরে প্রকাশ করা যাবে না। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল মনিরামপুরে ‘হরিহর নদ’ খনন থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন সন্ধ্যায় মনিরামপুর বাজার এলাকায় সংঘটিত ওই ঘটনায় উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলামসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছিলেন। উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে মনিরামপুর থানায় মামলা করলেও পরে তা আপস করেন দল দুটির নেতারা। ওই ঘটনার পর বিষয়টির কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্তে কমিটি গঠন করে জেলা জামায়াত। যার প্রধান ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলম। সদস্য ছিলেন জেলা সহকারি সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম এবং দলটির সহযোগী সংগঠন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মালেক। তারা সরেজমিনে মনিরামপুরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করেন। তদন্তে আহসান হাবিব লিটনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে আসে। গত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই লিটনের প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, গরুর হাট ইজারার অংশগ্রহণের নামে অর্থ আয়সহ নানা বিতর্কিত কাজের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত কমিটি। এছাড়া ৩০ এপ্রিলের সংঘর্ষের ঘটনায় আহসান হাবিব লিটন, মহিউল ইসলাম এবং পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেনের সংশ্লিষ্টতাও উঠে আসে তদন্তে। যার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা জামায়াত এই তিন নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। গত শুক্রবার উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জরুরি দায়িত্বশীল বৈঠকে’ আহসান হাবিব লিটনকে দুই মাসের জন্য এবং মহিউল ইসলাম তিনমাস ও ফারুক হোসেনকে দুই মাসের জন্য দলীয় পদ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ের আমির ও সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।  সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলা আমির ফজলুল হক ওই সময় ঢাকায় দলীয় বৈঠকে অবস্থান করায় জেলার জামায়াতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি উপজেলা সেক্রেটারি খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। বিষয়টি প্রথমদিকে চাপা থাকলেও এখন তা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এছাড়া সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করা নিয়েও ব্যাপক গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভোজগাতী, ঢাকুরিয়া, নেহালপুর, চালুয়াহাটী ও খেদাপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলটির তৃণমূলে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। যার নেপথ্যে উপজেলা জামায়াতের আমির ও দুই সহকারি সেক্রেটারি লিটন ও শামীম বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।  সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন পদ স্থগিতের কথা স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। তিনি দাবি করেন, কখনও এ ধরনের কাজ আমি বা আমার সংগঠন সর্মথন করে না।  জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান আরশাদুল আলম বলেন, মনিরামপুরের তিন নেতাকে দুই মাসের জন্য পদ স্থগিত করা হয়েছে। কী কারণে স্থগিত করা হয়েছে, তা তিনি বলতে রাজি হননি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে ১১ দলীয় সমাবেশে সরকারের সমালোচনা শফিকুর রহমানের

জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, অল্পতেই ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন?  তিনি বলেন, সরকার ৫১ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকার দাবি করলেও দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মতামতকে উপেক্ষা করছে। যে সরকার জনগণ মানে না, সেই সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না। শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সমাবেশ আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সরাসরি ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপানজাত পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর প্রতিবাদে মিছিল করেছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া। বিরোধী দলের কেউ এমন কর্মসূচি পালন করেনি। প্রধানমন্ত্রী একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তার মুখ থেকে বারবার ভুল তথ্য বের হওয়া দেশের জন্য ক্ষতিকর। যারা তাকে ভুল তথ্য দিচ্ছেন এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে- এমন আশা মানুষ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই সরকার অস্বস্তিবোধ করে। দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা বা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। জামায়াত আমির সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করলে অতীতের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। যারা দেশের জন্য ফাঁসিকেও তুচ্ছ মনে করে, তারা সব সময় প্রস্তুত। তালা যেমন পরিবর্তন হয়, চাবিও পরিবর্তন হয়, এটা মাথায় রাখতে হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জনগণের জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সরকার বাজেটে সাধারণ মানুষের আশা- আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ বাজেটে এসব সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই।  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, যদি বাংলাদেশে স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়, তাহলে গোটা উপমহাদেশে মুসলিম গণজাগরণ হবে। ভারত ভেঙে খানখান হবে। জনগণের আকাক্সক্ষা ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।  লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং জননিরাপত্তার সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর নেতৃত্ব দিতে হবে। এছাড়া তিনি আন্দরকিলা শাহী জামে মসজিদ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এছাড়াও সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
চবি ছাত্রদল নেতা নোমানকে ডেকে খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার সফরকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমানকে দূর থেকে দেখে কাছে ডেকে নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত শেষে ফেরার সময় নোমানকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। শহীদ ওয়াসিম আকরাম ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমানের কর্মী। জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত ওয়াসিম নোমানের সঙ্গে আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন। সাক্ষাৎ শেষে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করে ফেরার সময় দূর থেকে আমাকে দেখে কাছে ডেকে নেন। এ সময় আমার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি চবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে জানতে চান। নোমান আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা সংক্ষেপে তুলে ধরেছি। শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান বাহন শাটল ট্রেনের নানা সংকট, অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও আবাসন সমস্যা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি গুরুত্ব সহকারে কথাগুলো শুনেছেন, একান্ত সচিবকে দিয়ে নোটিং করিয়েছেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে মাঠে ছাত্রদল, বিক্ষোভ মিছিল

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা গুমের অভিযোগ নিয়ে ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন।   শনিবার (১৩ ‍জুন) রাত ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।   সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা ভুক্তভোগী নারীর নাম উল্লেখ করে প্রেস রিলিজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে। কথায় কথায় তারা ইসলামের কথা বলে, নারীর অধিকারের কথা বলে; কিন্তু তাদের আসল চরিত্র তাদের কর্মকাণ্ডেই প্রকাশ পেয়েছে।’   তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির, নির্বাচিত এমপিবৃন্দ এবং শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতারা একযোগে দেশে আবার গুমের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বলে প্রচার চালিয়েছেন। বিগত দুই বছরে যারা মবকে উসকে দিয়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচার ছড়িয়েছে, তাদের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই।’   তিনি আরও বলেন, ‘গুমের মতো রাষ্ট্রীয় অপরাধকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। অতীতে শত শত নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন, অথচ তাদের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।’   ক্যাম্পাস রাজনীতি প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন, ‘বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গ্রুপ ও পেজ দখল করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের সহনশীল পরিবেশ নষ্ট করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক এই রাজনীতির সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।’   সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘কুমিল্লায় যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তার নাম আমরা ছাত্রশিবিরের প্রকাশিত কোনো কমিটিতে দেখিনি। শিবির তাদের কেন্দ্রীয় কমিটিও প্রকাশ করেনি।’   তিনি দাবি করেন, ‘শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণে অভিযুক্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো বিচার করেনি বলে আমরা মনে করি।’   গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘গুমের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা অতীতের প্রকৃত গুমের ঘটনাগুলোকে অপমান করেছে। কোনো ঘটনা ঘটলেই জামায়াতের আমির তার ভেরিফায়েড আইডি থেকে গুমের অভিযোগ তোলেন। পাঁচ আগস্টের পর দেশে যত প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তার বড় অংশই জামায়াতের আমিরের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।’   সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।   সমাবেশে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল ও শাফি ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান ও মাসুদুর রহমান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদ ইসলাম কাজল, ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। বক্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং গুম ও অন্যান্য ইস্যুতে ‘রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা’ বন্ধের আহ্বান জানান।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
বক্তব্য রাখছেন লুৎফুর রহমান কাজল। ছবি: সংগৃহীত
পুনর্বাসন ছাড়া কোনো ভূমিহীনকেও যেন উচ্ছেদ না করা হয়: কাজল

কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেছেন, এ  এলাকায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ভূমিহীন, এখানে জলবায়ু উদ্বাস্তু বেশি। তাই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় একজন ভূমিহীন মানুষকেও যেন পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ না করা হয়—এ দাবি তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানান।   শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।   তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনায় নিতে হবে। ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   এমপি কাজল বলেন, বাঁকখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে চলমান। এতে দুই তীরের মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফসলি জমি হারাচ্ছে এবং অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। এ অবস্থায় নদীর দুই তীরে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। এ সময় নদীর দুই কূলে টেকসই বাঁধ নির্মাণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।   পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের জমিকে চাষযোগ্য করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করাই সরকারের অগ্রাধিকার।   তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই পাতলী খাল খনন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে, যা হাজারো কৃষকের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।   সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।   এর আগে বেলা ১১টার দিকে বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজের হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।   টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে দেখা যায় উচ্ছ্বাস। তাকে দেখতে খালপাড়ে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ।   উদ্বোধন শেষে পথসভায় বক্তব্য দিয়ে পৌনে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে তার।   এর আগে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেওয়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
মনিরা শারমিন ও নুরুল হক নুর। ছবি : সংগৃহীত
এনসিপি নেত্রী মনিরাকে নিয়ে গণঅধিকার নেতার ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনকে নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। তিনি বলেছেন, ‘কথিত আছে মনিরা শারমিন এক ছাত্রলীগ নেতাকে বিয়ে করে সরকারি চাকরি নিয়েছিলেন।’   শনিবার (১৩ জুন) রাত ৯টা ৮ মিনিটে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি।   আবু হানিফ লিখেছেন, ‘মনিরা শারমিন আমাদের সঙ্গে ২০১৮ সালে কিছুদিন আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন। এরপর ক্যারিয়ার মুখ্য হয়ে উঠে তার কাছে। কথিত আছে, ছাত্রলীগ নেতাকে বিয়ে করে সরকারি চাকরি নিয়েছিলেন মনিরা শারমিন। এরপর আর অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের শেষ দিকে এসে অনেকটা হাজিরা দিয়েই বড় নেত্রী বনে গেছেন। তার চেয়ে নুসরাত তাবাসসুমদের ভূমিকা হাজার গুণ বেশি। হাসিনার পতন না হলে মনিরা শারমিনরা এখনো আরামে সরকারি চাকরি করতেন। ফ্যাসিবাদের আচড়ও তাদের গায়ে লাগত না।’   তিনি লিখেছেন, ‘নুরুল হক নুর ১৯ সালে বলেছিলেন, শেখ হাসিনার চেহারায় মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। অবশ্য এর পরের দিনই মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে হাসিনাকে স্বৈরাচার বলেছিলেন। এমনকি অসংখ্য বার হাসিনার পতন চেয়ে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। যার ফলে বার বার হামলার শিকার হয়েছেন নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের অসংখ্য নেতাকর্মী। সবশেষ জুলাই আন্দোলনের সময়ও নুরুল হক নুর রিমান্ডে ছিলেন। হাসিনার পতন না হলে নুরের কতদিন জেলে থাকা লাগত বা আদৌ মুক্ত হতো কি না তা বলা কঠিন।’   আবু হানিফ আরও লিখেছেন, ‘নুরুল হক নুরের যখন আর কোনো দোষ খুঁজে না পায়, তখনই ওই এক গান বার বার বাজায় এই মনিরা শারমিনরা। অথচ সারা বাংলাদেশের জনগণ জানে, এই গণঅভ্যুত্থানের উদ্যোক্তা সংগঠন গণঅধিকার পরিষদ ও নুরুল হক নুর। ক্রেডিট নেওয়ার অনেক উপায় আছে। কিন্তু নুরুল নুরের অবদানকে অস্বীকার করে নিজেদের মহান করার কোনো সুযোগ নাই।’   এর আগে এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘নুরুল হক নুর, আমার সহযোদ্ধা যতবার বলেন, জুলাই আন্দোলনের ছাত্রদের তারা তৈরি করেছেন, ততবার আমার মনে পড়ে পুরোনো দিনের কথা। যখন নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম। কিন্তু তিনি আম্মা ডাকছিলেন হাসিনারে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

এমবাপে, মেসি ও ইয়ামাল। ছবি : সংগৃহীত
খেলাধুলা

২০২৬ বিশ্বকাপ কে জিতবে? চার এআই চ্যাটবটের একই ভবিষ্যদ্বাণী

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৫, ২০২৬