রাজনীতি

ছবি: সংগৃহীত
তেলের দাম নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

সামাজিক মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সরকারবিরোধী স্ট্যাটাস ও মন্তব্য করার অভিযোগে বাগেরহাট পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার কবির রুবেলকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   বাগেরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শাহেদ আলী রবি ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদুল ইসলাম জুয়েল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাস ও মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শাহরিয়ার কবির রুবেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক মনে করেনি দলীয় নেতৃত্ব।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের কোনো কর্মকাণ্ড যথাযথ না হলে কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে তিনি দলকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পরও শাহরিয়ার কবির রুবেল অন্যান্য সরকারবিরোধী পোস্টে সহমত প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়। তার এসব কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে বিষয়টিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   এসব কারণ উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির রুবেলকে বাগেরহাট পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক পদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
উত্তরা রণক্ষেত্র, শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

বকেয়া বেতন পরিশোধ ও সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকে উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কসাইবাড়ি রেলগেট, জামতলা রেলগেট, আজমপুর রেলগেট ও জসিমউদ্দিন এলাকার হলি ল্যাব মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। পরে সকাল ১১টার দিকে তাঁরা উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়ক ও রাজলক্ষ্মী এলাকার আশপাশে সমবেত হয়ে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশ অবরোধের চেষ্টা করেন।   এ সময় পুলিশ বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে শিল্প পুলিশের এক সদস্য আহত হন এবং তাঁর হাত ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। পরে বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।   ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।   বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শনিবারের সংঘর্ষের পর সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং আহত ব্যক্তিদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মোঃ নাহিদ হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘ফরেন ফ্রেন্ডস ক্লাবের’ শাসনে চলছে দেশ: হাসনাত

বাংলাদেশ এখন ‘ফরেন ফ্রেন্ডস ক্লাবের’ অধীনে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।   শুক্রবার রাতে ফেইসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।   রাত ৮টার দিকে এক বাক্যে এ পোস্ট দেন হাসনাত, যেটি ইংরেজিতে লেখা।   পোস্টে কুমিল্লা-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য লিখেছেন, দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ আন্ডার দ্য গভর্ন্যান্স অব দ্য ফরেন ফ্রেন্ডস ক্লাব।   বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এখন ফরেন ফ্রেন্ডস ক্লাবের শাসনে চলছে।   তবে সেই বিদেশি বন্ধু কারা, সে বিষয়ে কিছু লেখেননি জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির এই নেতা। এ বিষয়ে ফোন করা করা হলেও তিনি ধরেননি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ডের অনিয়ম নিয়ে মুখ খুললেন হাসনাত, বললেন যা

দেশে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সংকট এবং বাজারে স্বস্তির অভাবের মধ্যে মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করে তিনি লেখেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের জন্য ৩৪২ কোটি টাকার ট্যাবলেট বা প্যাড কেনার কাজ পেতে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাতিজার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ডকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি কাজটি বাগিয়ে নেয়।’   হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘দেশে কর্মসংস্থান নাই, বাজারে স্বস্তি নাই, ইনভেস্টমেন্ট নাই—আছে শুধু মন্ত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ।’   তিনি বলেন, কোনো মন্ত্রীর ছেলে, কোনো মন্ত্রীর স্ত্রী কিংবা কোনো মন্ত্রীর ভাই—বারবার আলোচনায় আসছে ক্ষমতাবানদের স্বজনদের নাম।   হাসনাত লেখেন, একদিকে প্রধানমন্ত্রী ১৫০ টাকার দুপুরের খাবারের গল্প শুনিয়ে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার উপদেশ দিচ্ছেন, অন্যদিকে মন্ত্রীদের পরিবারকে ঘিরে উঠছে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ।   তিনি আরও লেখেন, ‘জনগণকে সাশ্রয়ের নসিহত, আর ক্ষমতাবানদের স্বজনদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ।’   পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, ‘এটাই কি তাহলে আই হ্যাভ আ প্ল্যান?’

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ পারবেন আগ্রহী নারী প্রার্থীরা।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর তা যথাযথভাবে পূরণ করে আগামী শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।   উলে­খ্য, ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গত ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তার আসন শূন্য হওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলো হাসানুল হক ইনুকে

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তত্ত্বাবধানে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সার্বিক সহযোগিতায় তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।   সিআইডির পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে হাসানুল হক ইনুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলনের তোপের মুখে পড়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরই বিপদে পড়ে যান আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি-মন্ত্রীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। সেই বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা বিচারাধীন। হাসানুল হক ইনু

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হাসিনার দুপুরের খাবারে সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমানের ১৫০ টাকা: চিফ হুইপ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে প্রতিদিন দুপুরের খাবারে সাড়ে ১০ লাখ টাকা এবং বছরে ৩৫ কোটি টাকা খরচ করতেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাত্র ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার সারেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি।   তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিছুদিন আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশের একটি পয়সাও নষ্ট হতে দেবেন না।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে আট দিনের সফরে বরগুনায় এসে সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, কেয়ামতের ময়দানে মহান আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক রূপ—কে মোটা, শুকনা, কালো, ফর্সা, লম্বা নাকি খাটো ছিলেন, তা দেখে বিচার করবেন না; দেখবেন অন্তরের অবস্থা ও ইমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন। গত পরশু দুপুরেও তার সঙ্গে ঢ্যাঁড়শ ভাজি, মিষ্টি কুমড়া ভর্তা আর ডাল দিয়ে খাবার খেয়ে এসেছি।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের বড় প্রাপ্তি যে তারেক রহমানের মতো একজন মানুষ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন সুযোগ হেলায় নষ্ট করা ঠিক হবে না।   সংসদীয় দলের সভার প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্লামেন্টের বিশেষ একটি সভায় সংসদ সদস্যদের স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন—আপনারা এমপি হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন; কিন্তু আপনারা যদি কর্মীবান্ধব না হন, কর্মীদের মূল্যায়ন না করেন, তবে দল চলবে কিভাবে? তৃণমূলের কর্মীরা ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করে আমাদের আজকের এই অবস্থানে এনেছেন। এখন তাদের দেখভালের দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।   তিনি আরও জানান, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, দল থেকে মিষ্টির বহিষ্কার হওয়াই শেষ কথা নয়; পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সমাজের জনপ্রিয় ব্যক্তিরাই অংশ নেবেন। সেখানে দলীয় প্রতীকের লড়াই থাকবে না; ধানের শীষ, নৌকা কিংবা অন্য কোনো প্রতীক ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মূলত দলীয় প্রতীকের কারণে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হয়। তাই উৎসবমুখর পরিবেশে সর্বস্তরের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং সামাজিক সম্পর্ক অটুট রাখতেই প্রতীক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে কোনো ব্যক্তি বিএনপি না করেও যদি জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নির্বাচিত হতে চান, তবে কোনো বাধা থাকবে না। এটিই একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা।   চিফ হুইপ আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন দেশে দুর্ভিক্ষের মর্মান্তিক চিত্র আমরা দেখেছি। সেই পরিস্থিতি থেকে মাত্র তিন বছরের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে সেনেগালেও খাদ্য ও চাল রপ্তানি করার নজির তৈরি করেছিলেন তিনি। আর বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকেই দায়িত্ব নিয়ে দেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাইমা রহমানের জাতিসংঘে যোগদান ব্যক্তিগত অর্জন: মুশফিক

দাদা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, দাদি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, নানা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী, বাবা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর আসনে আসীন এবং মা স্বনামধন্য চিকিৎসক।   এমন একটি পরিবারের সদস্য ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে ঘিরে দেশের সাধারণ মানুষ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি তার নিজস্ব শিক্ষা, মেধা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও অর্জনকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।   জাইমা রহমানকে নিয়ে সংবাদ, প্রতিবেদন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশের বিষয়টিকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তার কর্মস্থল, কাজের ধরন, পেশাগত যোগাযোগ ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। জনপরিসরে পরিচিত একজন মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের আগ্রহ অপ্রত্যাশিত নয়। তবে সেই আলোচনায় তার ব্যক্তিগত অর্জনের জায়গাটিও যথাযথভাবে থাকা প্রয়োজন।   সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। সেখানে তিনি পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের নিজস্ব পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত প্রস্তুতি এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে তাঁর আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।   মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব একটি পরিচয় রয়েছে। পড়াশোনা, আইনি প্রশিক্ষণ, ব্যারিস্টার হয়ে ওঠার পথ, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সংগ্রাম তাঁর জীবনের একটি নিজস্ব অধ্যায়।   তিনি উল্লেখ করেন, জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক এবং ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যোগ্যতাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার। তার মতে, এই অর্জনগুলোকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া মোটেও ন্যায্য নয়।   জাতিসংঘে কাজের সুযোগ নিয়ে ব্যাখ্যা জাইমা রহমানের পেশাগত সুযোগ প্রসঙ্গে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, নিজের শিক্ষা, মেধা ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের একটি পদে কাজ করবেন, এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রত্যাশা নয়।   তিনি মনে করেন, পারিবারিক পরিচয়কে যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার চূড়ান্ত সনদ হিসেবে বিবেচনা করলে ব্যক্তির প্রতি সুবিচার করা হয় না।   এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের কর্মী কাঠামোর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দপ্তরের ৪০ জন কর্মীর মধ্যে আটজনের বেতন-ভাতা জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে অর্থায়িত হয়। চারজন জাতিসংঘের অন্য সংস্থা বা বিভাগ থেকে প্রেষণে কর্মরত, ২০ জন সদস্যরাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রেষণে নিয়োজিত এবং বাকি আটজন সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কর্মরত।   মুশফিকুল ফজল আনসারী উল্লেখ করেন, জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে যে পদে যোগ দিয়েছেন, সেটি পি-৩ গ্রেডের এবং জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের অর্থায়নে পরিচালিত। অর্থাৎ, তার ভাষ্য অনুযায়ী, পদটি বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ে প্রেষণে দেওয়া পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়।   জাতিসংঘের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নিজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিজেও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি একসময় একটি অধিভুক্ত সংস্থায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। সে ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়েছেন।   তার ভাষায়, ‘কানেকশন থাকাটা অযোগ্যতা নয় বরং যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবেই ধরা হয়।’   বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গ জাতিসংঘের পেশাগত পদে বেতন-ভাতা নিয়েও নিজের বক্তব্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে। পেশাগত পদের বেতন গ্রেড ও ধাপ জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। মূল বেতনের সঙ্গে কর্মস্থলের জীবনযাত্রার ব্যয়ভিত্তিক সমন্বয়ও যুক্ত হয়।   তার মতে, বেতনের কোনো অঙ্ক নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, কর্মস্থল এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধার নিয়মও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   সাধারণ পরিষদের সভাপতির সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, সভাপতির নিজের বেতন, আবাসন, গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা জাতিসংঘের তহবিল থেকে বহন করা হয় না। এ ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকেই ব্যয় বহন করতে হবে। তবে জাতিসংঘের দায়িত্বসংক্রান্ত সফর ও কার্যক্রমে দপ্তরের বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থায়ন করা হয়।   একপেশে মূল্যায়ন নয়, যোগ্যতার স্বীকৃতি চান ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে জাইমা রহমানকে ঘিরে আগ্রহ, প্রশ্ন ও তার কাজের মূল্যায়নের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, তার কাজের মূল্যায়নে নিজস্ব প্রস্তুতি, পরিশ্রম, মেধা ও পেশাগত পরিচয় যেন যথাযথ স্থান পায়।   তিনি মনে করেন, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য জাইমা রহমানের প্রতি মানুষের আগ্রহের যৌক্তিক কারণ। একই সঙ্গে তার নিজ যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সুযোগ যেন অযৌক্তিক বিতর্ক ও একপেশে মূল্যায়নের শিকার না হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
উত্তরায় জিএম কাদেরের বাসায় হামলা, ভাঙল জানালার কাচ

রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাসা লক্ষ্য করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল লোক মিছিল নিয়ে তাঁর বাসার সামনে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বাসার জানালাসহ বিভিন্ন স্থানের কাচ ভেঙে যায়। তবে হামলাকারীরা বাসার ভেতরে প্রবেশ করেনি।   সারাবাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় জিএম কাদের বাসায় অবস্থান করছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সকালের নাশতা শেষে বাসায় থাকার সময় বাইরে হইচই শুনতে পান। এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ‘ভারতের দালাল’ বলে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি। এরপর তাঁর বাসা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়।   জিএম কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় বাসার জানালাসহ বিভিন্ন স্থানের কাচ ভেঙে যায়। পরে থানায় ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আসার পর হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায়।   এখনো শনাক্ত হয়নি হামলাকারীরা ঘটনার বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। জিএম কাদেরের বাসা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মোঃ নাহিদ হোসেন অক্টোবর ১২, ২০২৬
বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং
‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা এক হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে অচিরেই ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা একসঙ্গে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।      একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য বড় পরীক্ষা উল্লেখ করে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে বলেছেন তিনি। তার নির্দেশনা, স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতে হবে।       রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।     সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে সভা শুরু হয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় চলে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সভা শেষ হয়। এতে বিএনপির ১৯৪ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অন্তত ২৫ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন।     ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতির তাগিদ সভাপতির বক্তব্যে তারেক রহমান গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রেখে ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতি করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিএনপি হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী দলকে ইতিবাচক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতি করে যেতে হবে।     আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সরকারকে অনেক বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো মব সৃষ্টি করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার কথা বলেন তিনি। দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধেও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন।     স্থানীয় সরকার নির্বাচন বড় পরীক্ষা স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। তাই এখন থেকেই নিজ নিজ এলাকায় কাজ শুরু করতে হবে। এই নির্বাচন সরকারের জন্যও বিশেষ পরীক্ষা। স্থানীয় পর্যায়ে যেখানে যিনি জনপ্রিয়, তাকে প্রার্থী করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে তাদের পাশে রাখতে হবে। কোনোভাবেই সংগঠনকে দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না।     স্থানীয় বাস্তবতায় কর্মসূচি প্রণয়নের নির্দেশ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়নের তাগিদ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের রাজনীতি এক রকম, বগুড়ার রাজনীতি আরেক রকম। তাই এলাকার চাহিদা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কর্মসূচি নিতে হবে। আগামী ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পালনের পরামর্শ দেন তিনি।     সভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভামঞ্চে সংসদ নেতা ও বিএনপির চেয়ারম্যানের এক পাশে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম এবং অন্য পাশে আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বসেন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১২, ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক থাকছে না, একক প্রার্থী দেবে বিএনপি

সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। এ ছাড়া এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না।     রবিবার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।       স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সাধারণত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।       তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। প্রকৃত জনসমর্থন রয়েছে, এমন প্রার্থীই যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।       স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে দল। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো কাজে লাগানো হবে।       তিনি বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে না। বিএনপি চায়, নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক এবং স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন।       তৃণমূলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে দল কী ব্যবস্থা নেবে এমন প্রশ্নে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, এ বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখনো এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা, জানালেন জামায়াত আমির

মক্কা চুক্তি নিয়ে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষা ও তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।   রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে তুরস্ক সফর ও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শফিকুর রহমান।   জামায়াত আমির বলেন, তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে তুলে ধরা। সফরকালে তুরস্ক সরকারের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনায় শিক্ষা, তৈরি পোশাক খাত এবং মক্কা চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।   বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, বিশ্ব এখন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের হামলাই বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয়। আলোচনার পথ ধরেই বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনা উচিত।   এর আগে গত ৭ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ অংশ নিতে দেশটিতে যান শফিকুর রহমান।   সম্মেলনে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপিকে নিয়ে সমাবেশে মামুনুল হকের বিস্ফোরক মন্তব্য

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিএনপি ‘বেইমানি’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক।    বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, সরকার গঠনের পর বিএনপি জনগণের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করছে এবং জনগণের অধিকার ‘পদদলিত’ করছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের প্রশ্নে দলটি নিজেদের অবস্থান থেকে ‘সরে এসেছে’।   শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চের কাচারিপাড়া মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।    কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।   মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংশোধনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। যে দল গণভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকারব্যবস্থা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নজির তৈরি করেছিল, সেই দলই এখন গণভোটের রায় নিয়ে ‘ছলচাতুরী’ করছে।   ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটের ভিত্তিতে সরকার গঠন করা হলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় উপেক্ষা করা হচ্ছে। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অসম্মতি জানানোর মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি ‘অবজ্ঞা’ দেখানো হয়েছে।    মামুনুল হক বলেন, আমরা সংবিধান সংশোধন চাই না, আমরা চাই সংবিধান সংস্কার। এমন সংস্কার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা আদালতের সিদ্ধান্তে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সহজে বাতিল হয়ে না যায়।   তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে এমন একটি সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অন্যায়, জুলুম ও বঞ্চনার সুযোগ থাকবে না। দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধানের পদ ও ক্ষমতা পৃথক করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের নিয়োগ ও কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানোর মতো বিষয়গুলোও সংস্কারের অংশ হওয়া প্রয়োজন।   বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খন্দকার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন আকন্দ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী প্রমুখ। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর নেতার প্রতিক্রিয়া, ‘আলহামদুলিল্লাহ’

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কারের পর মতিউর রহমান সাগর তার ফেসবুক আইডিতে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।    গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে—মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একের পর এক অপকর্মের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় এবং বারবার দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছে পাঠানো হয়েছে।   বহিষ্কারের পর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মতিউর রহমান সাগর লিখেছেন, ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল আলহামদুলিল্লাহ।’   এর আগে গত কয়েক মাসে নড়িয়ায় মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে। ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে সাগরের বিরুদ্ধে।   এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা এসব ঘটনায় পৃথকভাবে থানায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মতিউর রহমান সাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
পানির ন্যায্য হিস্যায় একবিন্দু ছাড় দেব না: নাহিদ ইসলাম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি শুধু নবায়ন করলেই হবে না, নতুন করে চুক্তি করতে হবে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজসহ বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে সমান অংশীদার করতে হবে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে পলাশী চত্বরে শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন অনেকগুলো নদী রয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুসারেও এই নদীর ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশে পাওয়ার কথা থাকলেও গত ৫০ বছরেও বাংলাদেশ সেই ন্যায্য হিস্যা পায়নি। ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে গঙ্গার পানি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সেটা শুধু পানি নিয়ন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশের জনগণকে শোষণ করার একটি পরিকল্পনা, একটি হাতিয়ার। তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজ নিয়ে আমাদের ১৯৭৭ সালে চুক্তি করার কথা ছিল। মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক লংমার্চ করেছিলেন। অবশেষে ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয়। সেই পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। সেই মেয়াদ শেষ হওয়াকে ঘিরে আমাদের কাছে নতুন প্রশ্ন এসেছে। আবরার ফাহাদ যেটা চেয়েছিলেন, সেটা বাস্তবায়ন করার সময় এখন এসেছে। তিনি আরও বলেন, সরকার, বিরোধী দল এবং ভারত যে ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তারা সম্পর্ক চায়, বাংলাদেশকে তারা প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চায়, সেটা প্রমাণ করতে হবে। ভারত-বাংলাদেশের এই নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি আবার কীভাবে হচ্ছে, সেটা প্রমাণ করতে হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের আজকের সময়ের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, এটা শুধু নবায়ন করলেই হবে না। এই পানি বণ্টন চুক্তি নতুন করে স্বাক্ষরিত করতে হবে। শুধু পানি নয়, বরং নদীর যৌথ হিসাবের প্রশ্নে, নদী ব্যবস্থাপনাতেও বাংলাদেশকে অংশীদারিত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশের নদী এই গঙ্গা, পদ্মা অথচ আমরা জানি না, এই নদীতে কত পরিমাণ, কত কিউসেক পানি আসলে প্রবাহিত হয়। এই তথ্য পর্যন্ত আমাদের সরবরাহ করা হয় না। তিনি বলেন, যে গ্যারান্টি ক্লজের কথা বাংলাদেশ বলছে, ন্যূনতম প্রবাহ সবসময় নাব্যতা বজায় রাখার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। যদি শুষ্ক মৌসুম আসে, যদি কোনো ঘাটতি হয়, সেই ঘাটতি ভারত-বাংলাদেশ সমানভাবে নিতে হবে। এই গ্যারান্টি ক্লজসহ এই চুক্তি নতুন করে করতে হবে। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের চেতনাকে আমরা সমুন্নত করতে চাই, তাহলে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক সমতার ভিত্তিতে, ন্যায্যতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে। ভারত যদি সত্যিকার অর্থেই চায় প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক, তাহলেই শুধু তিস্তাসহ যেসব অভিন্ন নদী রয়েছে, সেসব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সমভাবে এবং ন্যায্যভাবে সম্পাদন করতে হবে। তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের শাহাদাতকালে আমরা ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ তথা যে সার্বভৌমত্ব, সেটি আমরা অক্ষুণ্ন রাখব। বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গকে বুঝতে হবে, পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি-সমৃদ্ধি যতটা দিল্লির ওপর নির্ভরশীল, তার চেয়ে বেশি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটা বাংলাদেশের আশপাশের সব অঞ্চলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবে কম্প্রোমাইজ করব না। আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যায় আমরা একবিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব না। এ বছর যে গঙ্গা চুক্তি হবে, সেখানে ন্যায্য হিস্যা আমাদের আদায় করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তাসহ সব নদীর পানি বণ্টন প্রক্রিয়া, নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যাতে সমান অংশীদারিত্ব পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা গত দুই বছরেও আবরার ফাহাদের হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করতে পারিনি। আমরা ওসমান হাদির বিচারের রায় কার্যকর করতে পারিনি। আমরা জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচারের রায় এখনো কার্যকর করতে পারিনি। আমাদের এই তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এই তালিকা দীর্ঘ হওয়ার আগেই আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের রায় অবিলম্বে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পাদন করে কার্যকর করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা খুনিদের যেই রায় হয়েছে, ফাঁসির দণ্ড, সেই রায় আমরা অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চাই। বাংলাদেশ যদি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে, আমরা মনে করি, তাহলে আবরার ফাহাদের আত্মা শান্তি পাবে। বাংলাদেশের জনগণ যে সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লড়াই করেছিল, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা আট স্তম্ভ এই পলাশীর মোড়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, আমাদের গণতন্ত্র, প্রতিরক্ষা, সার্বভৌমত্ব, আমাদের জাতীয় সম্পদ, সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষার জন্য, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব এখন আমাদের, আপনাদের সবার। সরকারের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারকে বলব, আমরা এখানে আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, যা কেবল ভারতবিরোধিতা নয়, বরং যেকোনো আগ্রাসী শক্তির বিরোধিতা করে বাংলাদেশের জনগণের অধিকার, মর্যাদা এবং স্বার্থ সুরক্ষা করা। তিনি বলেন, শুধু বোয়িং বিমান কিনলেই চলবে না। আমরা দেখতে চাই, সরকার এই পানি, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন বা নতুন চুক্তি কীভাবে সম্পাদন করে, বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা আদায় করতে পারে। আমরা সেটা দেখতে চাই। নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও আমরা দেখছি, বাংলাদেশের স্বার্থ সরকার কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারছে না। সরকার চীন যাচ্ছে, জাতিসংঘে যাচ্ছে, সব জায়গায় গিয়ে শুধু বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলছে, বৈঠকের কথা শুনছি। কিন্তু বাংলাদেশ গত সাত মাসে কী অর্জন করতে পেরেছে, এটা বাংলাদেশের জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়। তিনি বলেন, অবিলম্বে বাংলাদেশের জনগণের সামনে এটা পরিষ্কার করতে হবে। এই গঙ্গা চুক্তিসহ যত আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছে, সেগুলো সংসদে আলোচনা করতে হবে। জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার কথাটি মাথায় রেখেই আমরা সেই চুক্তির পক্ষ বা বিপক্ষ নেব।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এনসিপির দুই নেতাকে বহিষ্কার

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া ও মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বার্তায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।   বার্তায় উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হলো।   অপর বার্তায় মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক স্বার্থ বিবেচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নির্দেশক্রমে দলীয় কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হলে। একই সাথে দলের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।   এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উভয় বার্তায় বলা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দেশকে অস্থির করতে ‘পতিত দোসরদের’ নানা তৎপরতা: রিজভী

একটি নির্বাচিত সরকারকে বিপাকে ফেলতে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ‘পতিত দোসররা’ নানা ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।   তিনি বলেন, এসব ব্যক্তিরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।   আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রিজভী এসব কথা বলেন।   রিজভী বলেন, তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার। প্রধানমন্ত্রী কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা অপরাধকে প্রশ্রয় দেবেন না।   সম্প্রতি পুলিশের ভ্যান থেকে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, পুলিশের ভ্যান থেকে কীভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে পারে? এ ঘটনায় যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।   ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, আগে থেকে সচেতন হওয়া গেলে ডেঙ্গু অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে বাসার আশেপাশে পচা ও জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে করে ডেঙ্গু বাসা না বাঁধতে পারে। আগে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য টাকা নেওয়া হতো, এখন তা বিনামূল্যে করে দেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
আ.লীগের সিগারেট কোম্পানি পরিচালনার অভিযোগ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে : রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের মালিকানাধীন সিগারেট উৎপাদন কোম্পানির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আর নাম পাল্টে নেপথ্যে থেকে সেই কোম্পানি পরিচালনা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন রাশেদ খাঁন।   তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের মালিকানাধীন সিগারেট উৎপাদন কোম্পানি তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকোর নাম বদলে জেনুইন লিফ টোব্যাকো লিমিটেড রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের এই সিগারেট কোম্পানি নেপথ্যে থেকে পরিচালনা করছে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।’   রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তদন্ত করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী ঘনিষ্ঠ এ কে এম জিয়া উদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে এমডি বনে যান। পরবর্তীতে এই ব্যক্তি চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের পাদ পান। তিনি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর শরণাপন্ন হন। নিশ্চয়ই তুষার ভূঁইয়া ও প্রাডো গাড়ি কাণ্ডের কথা কেউ ভুলে যান নি! অর্থাৎ, আওয়ামী সুবিধাভোগীদের শেল্টার দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কি তাহলে এনসিপির নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি?’ তিনি প্রশ্ন করে এরপর বলেন, ‘কেনো কুষ্টিয়ার ঘটনায় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চুপ, এখন বুঝতেছেন?’   প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আওয়ামী প্রতিষ্ঠান শেল্টার দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কুষ্টিয়ার এনসিপির নেতারাও আর দায় নিতে রাজি হয়নি। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারাও বিষয়টি জানার পর চুপ হয়ে যায়! এখন দেখা যাক এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না? নাকি এই সিগারেট কোম্পানি থেকে উপার্জিত অর্থের ভাগ নাহিদ ইসলাম পর্যন্তও যায় বলে এই ঘটনায় চুপ থাকবে এনসিপি?’

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৬, ২০২৬
বাঁ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সারজিস আলম, ডা. মাহমুদা মিতু। ছবি: সংগৃহীত
নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ, সারজিস ও মিতু

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় ৫ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়েছে। আগামী এক বছরের ঘোষিত এ কমিটিতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।   সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।   এতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠন ‘জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্স’র কেন্দ্রীয় কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি হয়েছেন মো. সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মুস্তাইন বিল্লাহ হাবিবী। এনসিপির পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতাকে রেখে জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছে। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম এমপি এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদের রয়েছেন।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধের দাবিতে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ সোমবার

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে এবং জড়িতদের আটকের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর।   সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বাংলামোটর মোড় থেকে ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল অঞ্চলের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।   কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।   আয়োজকদের ভাষ্য, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আটকের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।   রোববার রাতে এক তথ্য বিবরণীতে কর্মসূচির বিষয়টি জানান ঢাকা মহানগরী উত্তরের জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাটওয়ারীর ওপর হামলা নিয়ে ফেসবুকে যা বললেন হাসনাত-সারজিস

কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির দুই নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।   ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা নাইম আবেদিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাজারের মতো একটা পবিত্র জায়গার ভেতরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় এনসিপি ও ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ এসে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে।’   হামলার পর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আবারো হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি সরকারের সময় এটি নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর উপর পঞ্চমবারের মতো হামলা।’   তিনি আরও বলেন,‘বারবার হামলা, ভয়ভীতি বা দমন-পীড়ন চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না,’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। হাসনাত লেখেন, ‘হামলা করে পাটওয়ারীদের কেউ থামাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’   হাসনাত বলেন,‘ন্যায়, অধিকার ও আজাদীর যে লড়াই শুরু হয়েছে, কোনো বাধাই তা থামাতে পারবে না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।’   ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনের পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর এটি পঞ্চমবারের মতো হামলা। একজন নেতাকে কতটা ভয় পেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এতটা উন্মাদ হতে পারে?’   তিনি আরও বলেন, ‘এবার কুষ্টিয়ায় মাজারের ভেতরে প্রবেশ করে পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ভয়ভীতি বা দমন-পীড়ন চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

জাতীয়

দুর্গাপূজায় সারা দেশে ২ লাখ ১২ হাজার আনসার মোতায়েন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৫, ২০২৬