রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বগুড়ার আদমদীঘিতে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার গভীর শোক, দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সদরঘাটের দুর্ঘটনায় নিহত মো. সোহেল (২২)-এর মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং এমন মর্মান্তিক দৃশ্য সত্যিই সহ্য করা কঠিন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একইসঙ্গে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত সকল যাত্রীর আশু আরোগ্য কামনা করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দেশের পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দুর্বল তদারকির প্রতিফলন। দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অথচ নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি মৌলিক দায়িত্ব। পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বানুমেয় ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, এই সময়ে পরিবহন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সতর্কতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সড়কে চাঁদাবাজি এবং যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি- এসব সমস্যার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ঈদযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একইসঙ্গে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদযাত্রার বাকি দিনগুলো এবং ঈদের পর ফেরার সময়কে সামনে রেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে। পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে নিহতদের মাগফিরাত কামনা করেন, তাদের পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক প্রার্থনা করেন এবং আহতদের দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।
ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, গত কয়েকদিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কিছু আন্তরিক আলোচনা করার সুযোগ হয়েছিল। সবার কাছ থেকেই তিনি একই ধরনের পরামর্শ পেয়েছেন—ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া। তিনি জানান, এসব পরামর্শ তিনি বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছেন এবং সামনে আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করবেন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের কোনো বক্তব্য বা কাজে কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এই নেতা। পাশাপাশি সবার দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শকে নিজের পথচলার শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে এই আত্মিক যাত্রার একটি নীরব সূচনা করেছেন। মহান আল্লাহ যেন সবাইকে ক্ষমা করেন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করেন—এ কামনাও করেন তিনি।
চীন কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১১টায় মিরপুর-১০ নম্বরে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মধ্যে ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন। জামায়াত আমির বলেন, চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়েই চলেছে। তিনি আরও বলেন, অনেকে বাংলাদেশকে কিছু না দিয়েই, বাংলাদেশ থেকে সব কিছু নিয়েই যখন তখন হস্তক্ষেপ করেন। কিন্তু চীন তা করে না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আশা করি, অতীতের চেয়েও আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রিয় বন্ধুরাষ্ট্র চীন আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে চীন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। তিনি আরও বলেন, চীনের অংশীদারত্বে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা গণভোট নিয়ে অর্ধেক বুঝেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এনসিপির নেতারা গণভোট নিয়ে যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, তা তারা না বুঝেই দিচ্ছেন। তারা অর্ধেক বুঝেছেন। আমরা তাদের এ বক্তব্যের জবাব জাতীয় সংসদে দেব। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা-হাসিমপুর খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি জুলাই সনদকে শ্রদ্ধা করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা জুলাই সনদের আলোকেই পথ হেঁটে যেতে চাই। ইমোশন ও আইনকে একসঙ্গে নিয়েই আমরা চলতে চাই। তারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা সঠিক নয়। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী মামলাজট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সবার মতামতের ভিত্তিতে এসব মামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। এর আগে খাল খনন উদ্বোধন করে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করবে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু, কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য আফজাল হুসাইনসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা।
দেশে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন জামায়াত আমির। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একসময় কার্যত নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। নদীগুলো সচল ছিল। নদীপথে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং কৃষিক্ষেত্রে নদী ছিল বিশাল নিয়ামক শক্তি। তার পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ, জমির উর্বরা সংরক্ষণ এবং বর্ষাকালে পানিপ্রবাহ সঠিক থাকার কারণে ঘন ঘন বন্যা এবং এই জনিত দুর্ভোগের প্রাদুর্ভাব কমই হতো। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে একদিকে ফারাক্কা বাঁধের অভিশাপ, অন্যদিকে প্রধান প্রধান নদীগুলোসহ সব গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদী, খাল এবং বিল ভরাট হওয়ার ফলে একসময়ের স্রোতস্বিনী নদীগুলো এখন ভরা মৌসুমে পানি ধারণ করতে পারে না। ফলে অকাল বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, শুকনা মৌসুমে মরুভূমির রূপ ধারণ করে। বর্ষায় পানির প্রবাহ বিঘ্নিত হয়ে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি প্রধান প্রধান শহর ও নগরগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। আবার শুকনা মৌসুমে যেখানে নৌ চলাচল ও কৃষির জন্য পানির প্রয়োজন হয় সেখানে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করার মতো পানি থাকে না।’ অতএব দেশ বাঁচাতে হলে প্রধান প্রধান নদীগুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেজিং সম্পন্ন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উচিত হবে দেশ বাঁচানোর স্বার্থে নদ-নদী গুলোর জীবন ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। মনে রাখতে হবে অতীতে ড্রেজিংয়ের নামে, নদীশাসনের নামে, নদী সংস্কারের নামে বাজেট বরাদ্দ হলেও তার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। কারণ লুটপাটতন্ত্র ছিল তখন শাসকদের মূলনীতি। সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই।দেশবাসীর আমানত সর্বোত্তম পন্থায় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজে লাগানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার মূলত দেশবাসীর পক্ষে সব কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থাপকের ভূমিকা পালন করবে।এমনকি খাল খননের সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন নদীগুলো প্রাণ ফিরে পাবে, নাব্যতা ফিরে পাবে। অন্যথায় খাল খনন থেকেও জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে না।
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ও ছুরিকাঘাতে মো. রাকিব (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে নেওয়া মো. ঈশান অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শহীদ মিনারের ওপর ৩–৪ জন যুবক রাকিবকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে তার মাথায় গুলি লাগে এবং পেটের ডান পাশে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, নিহত রাকিব শিববাড়ি স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, শহীদ মিনার এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাহত অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় গুলিবিদ্ধ এবং ডান পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের আঞ্চলিক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেছেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ। আমরা যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছি, তারা মূলত জনগণের সেবক। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর দক্ষিণখান থানার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রশিদ গ্রুপের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয় রয়েছে। সমাজের বিত্তবানদের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রশিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কফিল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে প্রতি বছরই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য সমাজের স্বচ্ছল ব্যক্তিদের আরও বেশি মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য ও রশিদ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেন রতন। এতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএমএ রাজ্জাক, বিএনপির গবেষণা সেলের সদস্য ড. আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শাহরিয়ার কবিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ৩টা ১৯ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন জামায়াতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাহরিয়ার কবির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে যে কয়জন নারী নেত্রী সরব ছিলেন, তিনি তাদের মধ্যে একজন। তখন আমরা আমাদের পাশে কাউকে পাই নাই। তার ব্যাপারে যদি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেটা দল নেবে। শাহরিয়ার কবির শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করেছেন। সামান্তা আপুর অনেক কথার সঙ্গে আমি একমত না। কিন্তু উনাকে আততায়ী বলা, টাকায় বিক্রি হওয়া ও এজেন্ট বলার মতো নোংরা মন্তব্য করার জন্য শাহরিয়ার কবিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তার সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং তাদের বড় সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস সঙ্গে যাবেন। প্রসঙ্গত, মির্জা আব্বাসকে গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এর পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। শনিবার সকালে তার মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যানের ফলাফল ভালো এসেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। এর আগে মির্জা আব্বাস গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইফতারের সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তাকে রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যানের পর ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে শুক্রবার দুই দফায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং এরপর ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় মির্জা আব্বাসকে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন জাতীয় নেতারা এভারকেয়ার হাসপাতালে এসে তার খোঁজ নিয়েছেন।
শহরের ক্রমবর্ধমান মশা নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে শনিবার (১৪ মার্চ) থেকে ‘শনিবারের অঙ্গীকার-বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার ক্যাম্পেইন’ শুরু করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে এবং কীটতত্ত্ববিদ ও ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কীট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এসব ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। ক্যাম্পেইনের আওতায় এডিস মশার সম্ভাব্য জন্মস্থল হিসেবে চিহ্নিত পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত পাত্র অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, র্যালি আয়োজন, লিফলেট বিতরণ, সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার এবং গণযোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘প্রতি শনিবার বিশেষ মশা নিধন অভিযান পরিচালনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী, আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য এ ক্যাম্পেইন শুরু করছি।’ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ড এডিস মশার সূচকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উল্লিখিত ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রতি শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত 'শনিবারের অঙ্গীকার-বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার' শীর্ষক মোট ৫৩টি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। বর্ষা মৌসুম এলেই ঢাকাসহ সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এডিস মশা মূলত বাসাবাড়ি ও আঙিনায় পড়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। বাসাবাড়ি, অফিস, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের আশপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এবং বিভিন্ন পরিত্যক্ত পাত্রে জমা পানি এডিস মশার অন্যতম প্রধান উৎপত্তিস্থল। এবার সময়ের আগেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার এসব উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে আগাম অভিযান শুরু করছে ডিএনসিসি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সবকিছু পর্যালোচনা করে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী, তার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সকালে ওনার (মির্জা আব্বাস) সিটিস্ক্যান করা হয়েছিল। সেই রিপোর্টে অবস্থার অবনতি দেখা দিলে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে এবং সব কিছু পর্যালোচনা করে এই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সম্মতিও নেওয়া হয়েছে।’ মেডিকেল বোর্ডে দেশের প্রখ্যাত নিউরো বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন বলে জানান ডা. রফিক। বোর্ডে অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক রাজিউল হক, অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ, অধ্যাপক কাদের শেখ, অধ্যাপক শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা রয়েছেন। এসময় মির্জা আব্বাসের আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার বলেও উল্লেখ করেন ডা. রফিক।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান ও উপনেতা হিসেবে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত ক্ষেত্রমত দল বা অধিসঙ্গের নেতা শফিকুর রহমানকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২(১)(ট) বিধি ও বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২১ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার। অন্যদিকে একই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২১’ অনুযায়ী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবে স্পিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতাকে স্পিকারের স্বীকৃতি দিতে হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দল জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা ও আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে উপনেতা নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু স্পিকার না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পিকার নির্বাচন করা হয়। এরপরই তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেন।
অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। এ অবস্থায় তার সুস্থতা কামনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাস ভাইয়ের দ্রুত সুস্থতা ও পূর্ণ আরোগ্য কামনা করছি।’ এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় পানি পান করার সমই হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস তার স্বামীর (মির্জা আব্বাস) সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হতে পারে। একই দিন সন্ধ্যায় মির্জা আব্বাসকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। হাসপাতালে অবস্থানকালে ডা. শফিকুর রহমান মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন। এ সময় তিনি মহান রবের কাছে দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করেন। হাসপাতালে পরিদর্শনকালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানা শাখার সভাপতি ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস তার স্বামীর (মির্জা আব্বাস) সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে তিনি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে শুক্রবার (১৩ মার্চ) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। মির্জা আব্বাসের মিডিয়া টিমের একজন কর্মকর্তা বলেন, বুধবার ইফতারে পানি খাওয়ার সময়ই হঠাৎ করে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও দলের স্থায়ী কমিটির এ সদস্যের অসুস্থতার খবর জানানো হয়েছে। এদিকে মির্জা আব্বাসকে দেখতে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হাসপাতালে অবস্থানরত মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর কাছে তার শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি মহান রবের নিকট মির্জা আব্বাসের আশু আরোগ্য কামনা করেন। জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানার সভাপতি ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। এছাড়া মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তারা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস তার স্বামীর (মির্জা আব্বাস) সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia–র স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার–১ আসনের সংসদ সদস্য Salahuddin Ahmed। তিনি বলেন, এই সংসদ গঠিত হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) Jatiya Sangsad–এর অধিবেশনে খালেদা জিয়ার শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে একাধিকবার থেমে যান তিনি এবং কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে তার বারবার মনে পড়ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা। তিনি বলেন, “এই সংসদ গঠনের পর সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই।” সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরেরও বেশি সময় তিনি খালেদা জিয়ার স্নেহের ছায়ায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। সহকর্মী, কর্মী, সংসদ সদস্য, কখনো মন্ত্রী আবার কখনো দলের নেতা হিসেবে তার কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও সংগ্রাম এক অনন্য উদাহরণ। সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তিনি ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন এবং পরে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে তার নেতৃত্বেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়। তার আমলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয় এবং নারী শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। খালেদা জিয়াকে ‘অপরাজিতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন নজির খুবই বিরল। তিনি যে আসন থেকেই নির্বাচন করেছেন, সেখানেই বিজয়ী হয়েছেন। বক্তব্যের শেষদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তিনি আছেন—বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। বাংলাদেশের ইতিহাস যতদিন থাকবে, ততদিন মানুষ তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের ভিত্তিতেই বর্তমান সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই এখন সবার দায়িত্ব।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি সংসদ ভবনে পৌঁছান। আজ থেকেই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। অধিবেশন উপলক্ষে বেলা ১১টায় সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি Mohammad Shahabuddin। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং পরে এ বিষয়ে সংসদ সদস্যরা আলোচনা করবেন। অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবনে আসতে শুরু করেন। সংসদ ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের। প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম সংসদ অধিবেশন। সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দিয়ে থাকেন। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সংসদের এই অধিবেশন আহ্বান করেন। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালি নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকে অধিবেশনের সময়কাল ও কার্যসূচি নির্ধারণ করা হবে। এদিকে অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের প্রধান কাজ হবে সরকার যেসব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের প্রায় ১৮ মাসের মেয়াদে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নতুন সংসদের এই প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। নতুন সংসদের যাত্রা শুরুকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা। এদিকে নতুন সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখেছে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী Hafiz Uddin Ahmed। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন দুই সংসদ সদস্য—নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য Kaiser Kamal এবং বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য ও নবনিযুক্ত চিফ হুইপ Nurul Islam Moni। স্পিকার হতে যাওয়া মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদক ‘বীর বিক্রম’ লাভ করেন। তরুণ বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব হিসেবেও স্বীকৃতি পান। তার পারিবারিক পটভূমিও রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। তার বাবা ডাক্তার আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে যোগ দেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক হিসেবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ভোলা-৩ আসন থেকে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও একই আসন থেকে বিজয়ী হন। সে নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলটির হয়ে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। একই বছর খালেদা জিয়ার সরকারে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি প্রথমে পাটমন্ত্রী এবং পরে পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে দলের ভেতরে বিশেষ গুরুত্ব বহন করেন। ৮১ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এবং এবার সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম–এর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম এ মামলা দায়ের করেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিচারপতি জাকির হোসেন–এর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে এ মামলার শুনানি হতে পারে। এদিকে একই অভিযোগে বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর আরও ছয়জন প্রার্থী হাইকোর্টে পৃথক মামলা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার, বরগুনা-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ এবং পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী শামীম সাঈদী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ, মাদারীপুর-১ আসনের নাদিরা আক্তার এবং নীলফামারী-২ আসনের শাহরিন ইসলাম। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা করেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস–এর আমির মামুনুল হক। একই অভিযোগে বিএনপির আরও চারজন প্রার্থীও পৃথক নির্বাচনী আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দায়ের করেছেন।
দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানো ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয় বা জাতীয় সকল নির্বাচন নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী সময়মাফিক এবং সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়াই গণতান্ত্রিক রীতি ও সৌন্দর্য। বুধবার (১১ মার্চ) এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্যসহ এসব কথা বলেন গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ভোট নিয়ে কারসাজির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল, দেশে কোনো নির্বাচন সময়মতো আইন মোতাবেক সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় প্রস্তুতির অনুপস্থিতির কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজন করতে অনীহা দেখাচ্ছে এবং সর্বত্র দলীয় লোকজনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদও নির্বাচনে নিজের দলকে জয়ী করতে নানা ছলচাতুরি করত। দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় নির্বাচনের সময় পেছানো নিঃসন্দেহে একটি ফ্যাসিবাদী প্রবণতা। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সতর্ক করে বলেন, ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের দীর্ঘ সময়ের সারথি তিনি। কিন্তু এখন তার দলের স্বার্থে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করছেন এবং অনির্বাচিত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের চেষ্টা করছেন। তিনি যোগ করেন, ক্ষমতায় গিয়েই গণতন্ত্র ও মানুষের ক্ষমতায়নের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করবেন না। যথাসময়ে কোনো ছলচাতুরি ছাড়াই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করুন। অন্যথায় আপনাদেরকেও পতিত ফ্যাসিবাদের অংশ হিসেবে মানুষ বিবেচনা করবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজনের দাবি জানিয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই প্রস্তাবের পুরোপুরি বাস্তবায়ন চায় বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদের আংশিক নয়, পুরো প্যাকেজ চাই। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের যেটুকু প্রাপ্য, সেটুকুই নেব।’ আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের নবম তলায় বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভাশেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।এ সময় সরকারি দলকে জুলাইয়ে প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কেমন হবে, তা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাই। সরকার ভুল করলে পরমার্শ দেব, প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ করব।’ আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সরকার দল থেকে ইতিমধ্যে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অবস্থান সময়মতো দেখতে পাবে জাতি।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।