নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে। সংঘর্ষটি শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের দরবেশ বাজার এলাকায় ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীতীরবর্তী করিম বাজার–দরবেশ বাজার এলাকার একটি পিচঢালাই রাস্তা নিয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে এনসিপির এক নেতা ফেসবুকে পোস্ট দেন। ওই পোস্টের কারণে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সন্ধ্যার পর এনসিপির ওই নেতা ও তার সহযোগীরা দরবেশ বাজারে লিফলেট বিতরণ করতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে এনসিপির ৭ জন এবং বিএনপির ২ জন আহত হন। এনসিপির আহতরা হলেন: চানন্দী ইউনিয়ন এনসিপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন, হাতিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেন, ছাত্রশক্তির রবিন, এনসিপি নেতা জাফের, দুলাল ও শাহাদাত। বিএনপির আহতরা হলেন: সারওয়ার ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম সারু। এনসিপি পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বিএনপির নেতা ও ছাত্রদলের কয়েকজন করিম বাজারের পিচঢালাই রাস্তা কেটে ইট, বালু ও পাথর বিক্রি করছিলেন। প্রতিবাদ জানিয়ে বাসায় ফেরার পথে বিএনপির সশস্ত্র লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষের সময় এনসিপির অন্তত ৮টি মোটরসাইকেল লুট করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দরবেশ বাজার এলাকায় বালু পরিবহন করতে গিয়ে রাস্তার ক্ষতিপূরণ করা হচ্ছিল। এনসিপি সমর্থিত লোকজন ভিডিও ধারণ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাটি বিক্রি করছে এমন মিথ্যা প্রচারণা চালায়। প্রতিবাদ করলে এনসিপির লোকজন স্থানীয় মুরুব্বিদের ওপর মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে। পরে বিএনপির নেতৃত্বে পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এনসিপির নেতা নূর আলম রিপনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের আহত করা হয়। হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। এতদিন তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের ফলে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান নিজেই। ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপির চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এর ধারাবাহিকতায় দলীয় নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হলো। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই পদে বহাল থাকবেন। দীর্ঘ সতেরো বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। বিএনপি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এই নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো নিজে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় মায়ের নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে তার সক্রিয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নিযুক্ত হন, যা বিএনপির রাজনীতিতে তার বড় উত্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক সমীকরণ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এই সমীকরণের মূলেই রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে গড়ে ওঠা নির্বাচনী সমঝোতা। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই জোট শুধু নির্বাচনের আগ মুহূর্তেই নয়, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনীতির সম্ভাব্য গতিপথ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। এনসিপি নেতাদের মতে, এবারের নির্বাচন দলটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই জামায়াতের সঙ্গে এই সমঝোতায় যাওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এনসিপির ভেতরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ ও বিভাজন। জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্তত ১৫ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের অভিযোগ, এই জোটের মাধ্যমে দলটি তার ঘোষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তাদের মতে, নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আপস করা হয়েছে। অন্যদিকে, জোটপন্থি নেতারা বলছেন, এটি কোনো আদর্শিক ঐক্য নয়। বরং নির্বাচন সামনে রেখে একটি সীমিত ও কৌশলগত সমঝোতা। ভোটের মাঠে পারস্পরিক শক্তি ও সংগঠনকে কাজে লাগানোই এই বোঝাপড়ার মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, আদর্শিক মিল না থাকলেও নির্বাচনী জোট বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা বলেন, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল হিসেবেই সাধারণত এ ধরনের জোট গড়ে ওঠে, বিশেষ করে ছোট দলগুলো এই সুবিধা নেয়। একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলে জোট রাজনীতি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। আদর্শিক মিল না থাকলেও নির্বাচনী জোট হতে পারে। উচ্চকক্ষের সুযোগ থাকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের জোট আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি মনে করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপিকে তাদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী মোর্চায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন। পরদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি সম্পূর্ণ নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ৩০টি আসন নিয়ে এই সমঝোতা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি আসনে এনসিপি প্রার্থীদের জন্য জামায়াত নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে। এনসিপির নেতারা বলছেন, নানা পক্ষ মাঠে নেমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিএনপির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছিল বলে তারা জানান। জামায়াতের সঙ্গে মূলত বিচার, সংস্কার ও মৌলিক ইস্যুতে ঐক্য হয়েছে। এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বলেন, সংস্কার, সুষ্ঠু বিচার এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এক বাক্সে ভোট নিশ্চিত করতেই এই সমঝোতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি আদর্শিক কোনো জোট নয়। যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানও জানান, এটি শুধু নির্বাচনী কৌশল। প্রত্যেক দল নিজ নিজ আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেই নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন এনসিপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তাদের মধ্যে ডা. তাসনিম জারা ও মীর আরশাদুল হক উল্লেখযোগ্য। মীর আরশাদুল হক পদত্যাগের পর বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন—খালেদ সাইফুল্লাহ, তাজনূভা জাবীন, মুশফিক উস সালেহীন, ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, আরিফ সোহেলসহ অনেকে। এছাড়া কয়েকজন নেত্রী প্রকাশ্যে জোটের বিরোধিতা করেছেন, যাদের মধ্যে দুজন মনোনীত প্রার্থী হয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, জামায়াত এনসিপির জন্য নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয়। তার মতে, এনসিপির রাষ্ট্রকল্প, বিচার ও সংস্কারের দর্শনের সঙ্গে জামায়াতের অবস্থান সাংঘর্ষিক। তবে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, এখনো কোনো পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। পদত্যাগকারী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং তারা অনেকেই দলে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতেই জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সদস্য সচিব আখতার হোসেনও জানান, দলীয় ঐক্য বজায় রাখতেই পদত্যাগকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১১ জানুয়ারি জাতীয় নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতসহ উত্তরাঞ্চলে সফর করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে এ সফর স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকে গুলি করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত মেনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবে বলে প্রত্যাশা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে শেরে বাংলা নগরে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর চিত্র প্রদর্শনীর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা জানান। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, সেটা দল দেখছে। আমাদের মতে, এত বড় দলে যোগ্য প্রার্থী প্রচুর। সেখানে অনেকেই দলের সিদ্ধান্ত মনে করছে তাকে যদি মনোনীত করা হতো, তাহলে আরও ভালো হতো। তারা সে জন্য চেষ্টা করছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়নি। আমরা আহ্বান জানিয়েছি তাদের যে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। আমরা আশা করছি, যে তারা প্রত্যাহার করবেন। অনেকেই অলরেডি প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন আমাদের। সে জন্য আমি মনে করি যে প্রত্যাহার করার সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়ে যাবে।’ সতর্ক করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে দল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’ তারেক রহমানকে তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তান জনাব তারেক রহমানকে রেখে গেছেন, যিনি বাংলাদেশের এখন অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের রাজনীতির মস্ত বড় একজন অংশীদার। আমরা মনে করি যে বাংলাদেশের মানুষ তার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চায় এবং সে জন্যই তাকে নিয়ে মানুষের এত আকাঙ্ক্ষা, মানুষের এত আবেগ।’ ‘আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি তার পিতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরোত্তম এবং তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী জনগণের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাবেন। তারেক রহমান সাহেব অলরেডি বলেছেন, যে আমার মা যেখানে কাজ শেষ করেছেন, আমি সেখান থেকে শুরু করব।’ স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমরা মনে করি যে দেশ এবং দেশমাতৃকার জন্য দেশনেত্রী যা করেছেন, সেখান থেকে শুরু করে এটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেই শুধু দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ হবে। আমরা আশা করি যে এই কাজে আমরা আমাদের গণমাধ্যমসহ সবারই সহযোগিতা পাব।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব নেন। এদিন রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ফলে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ পরিস্থিতিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক দলটির স্থায়ী কমিটির বৈটক শুরু হয়। বৈঠকে তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপির চেয়ারপারসনের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হলো। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারায় (৩) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা আছে ‘যে কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’ সতেরো বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর’ মতো একটি ঘটনা, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বিএনপি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো নিজে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় মায়ের নির্বাচনি কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে তার সক্রিয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়, যা দলের ভেতরে তার বড় উত্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৯ সালে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনের নেতারা। এ সময় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াসহ সবার জন্য দোয়া পরিচালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, যা বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি এমন একজন নেত্রী, যিনি এই দেশের জন্য তার স্বামী, সন্তান ও বাড়ি সবকিছুই হারিয়েছেন। তিনি জেলের খাটে শুয়েছেন। সে সময় তিনি চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। তখন ডাক্তাররা বলেছিলেন, তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসা না করালে, তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এরপরও তিনি বাংলাদেশের বাইরে কোথাও যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের বাইরে আমার এক ইঞ্চি জমি নাই, এক ইঞ্চি মাটি নাই। এই দেশের মাটিই আমার জায়গা, এই দেশের মানুষই আমার সন্তান। এমন একজন দেশপ্রেমিক নেত্রীর আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করবেন। আমরা প্রার্থনা করি ও আশা করি তার স্বপ্ন বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশের ডেমোক্রেসি ফিরে আসবে এবং আগামী দিনে বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদের উত্থান হবে না। এ সময় ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়া নিজ হাতে সিগনেচার করে ২০১২ সালে ইউট্যাব অনুমোদন দিয়েছিলেন। তখন থেকেই এই সংগঠনটির যাত্রা শুরু। বড় বড় আন্দোলনে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) নেতৃত্বে ইউট্যাব তার পাশে ছিল। ম্যাডামের যে ত্যাগ, সেই ক্ষতিপূরণ আর কেউ দিতে পারবে না। ম্যাডাম আমাদের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। তার বিনিময়ে আমরা গণতন্ত্র অর্জনের পথে এগিয়ে এসেছি। আসন্ন নির্বাচনে আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিজয়ী হয়ে দেশ সেবার সুযোগ পাক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউট্যাবের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ড. মো. নূরুল ইসলাম, ড. মো. আব্দুর রশীদ, ড. মো. আবদুল করিম, ড. মো. কামরুল আহসান, ড. সোহাগ আওয়াল, ড. মো. নজরুল ইসলাম, ড. শামছুল আলম, ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ড. মো. ইলিয়াস, মো. শফিউল্লাহ, ড. মো. আখতার হোসেন খান, ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, শাহ শামীম আহমেদ, তাহমিনা আখতার টফি, ড. আব্দুস সালাম, ড. মো. জাফরুল আজম, ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ড. মো. খালেদউজ্জামান, ড. মো. আতাউর রহমান, ড. জিএম শফিউর রহমান, ড. মো. কুদরত-ই-জাহান, মো. মিনহাজুল আবেদীন, ড. মো. রবিউল ইসলাম, ড. এস এম হেমায়েত জাহান, ড. মো. মামুন অর রশিদ, ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ড. মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, ড. মেহেদী হাসান সিকদার, ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ, ড. মো. নুরুল আমিন, ড. মো. আব্দুল লতিফ, ড. মোহাম্মদ জামশেদ আলম, ড. এফ এম আমিনুজ্জামান, ড. কাজী আহসান হাবীব, ড. মো. আব্দুল্লাহেল বাকী, ড. মো. রাশেদুল ইসলাম, ড. নূর মহল আখতার বানু, ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ড. মো. মাহবুবুল আলম, ড. রঞ্জন রায়, ড. মো. তোজাম্মেল হোসাইন, ড. মো. ইদ্রিস আলী, ড. মো. আবু জাফর খান, ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ড. মো. খায়রুল ইসলাম, ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম, মো. আনিছুর রহমান, মো. তানভীর আহসান, খাঁন মো. মনোয়ারুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ ইকবাল, ড. সালমা আখতার, ড. মাসুমা হাবিব, নাছির আহমেদ, মো. শওকত আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম, ড. রবিউল ইসলাম, নওশের ওয়ানসহ শতাধিক শিক্ষক।
ঋণখেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম বাদ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। এর ফলে তিনি ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দাবি করেছেন, তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ দাবি করেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, গণমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি সত্য নয়। তার মনোনয়নপত্র নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভিডিও চলাকালে তিনি তার আইনজীবীকে ফোনে যুক্ত করেন। বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে আইনজীবী বলেন, ব্যক্তি হিসেবে মুন্সীর কোনো ঋণখেলাপি নেই। তার কোম্পানির বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। এ কারণে চেম্বার আদালত আগের স্টে অর্ডারটি স্থগিত করেছেন। এ বিষয়ে রোববার (১১ জানুয়ারি) আপিল করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, স্টে অর্ডার স্থগিত হওয়া মানে মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, বিষয়টি আপিলে নিষ্পত্তি হবে। এ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন। এর আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম স্থগিত করে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেম্বার আদালতে আবেদন করে। বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। আদালতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার। চেম্বার আদালতের সর্বশেষ আদেশে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ কার্যকর না থাকায় ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আইনগতভাবে ঋণখেলাপি হিসেবেই বিবেচিত থাকবেন। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য। এদিকে কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হলফনামায় নিজের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো। নির্বাচনী হলফনামায় নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার সত্য উদঘাটনের চেয়ে বরং একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটি রাজনৈতিক প্রয়াস। ১. বাৎসরিক আয় সংক্রান্ত প্রথমত, বাৎসরিক আয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হলফনামায় যে ১৬ লাখ টাকার বাৎসরিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট চাকরি ছাড়ার পর হঠাৎ করে অর্জিত অর্থ নয়; এটি ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত) মোট আয়ের হিসাব। এই অর্থবছরের বড় একটি সময় (সাত মাস) নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেই দায়িত্বের বিপরীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন–ভাতা পেয়েছেন। বাস্তবতা হলো, এই ১৬ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ১১ লাখ টাকাই উপদেষ্টা হিসেবে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা, যা ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত, আয়করযোগ্য এবং সম্পূর্ণভাবে নথিভুক্ত। বাকি অংশ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট (পরামর্শক) হিসেবে বৈধ পেশাগত কাজের সম্মানী থেকে, যারও সুস্পষ্ট কর হিসাব রয়েছে। ২. মোট সম্পদ সংক্রান্ত নাহিদ ইসলামের মোট সম্পদ ৩২ লাখ টাকা। মোট সম্পদ কোনো এক বছরের আয় নয়, এটি একজন মানুষের পুরো জীবনের সঞ্চয়ের সমষ্টি। নাহিদ ইসলামের ক্ষেত্রে এই সম্পদ তার প্রায় ২৭ বছরের জীবনের জমাকৃত সঞ্চয়। এর মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা পদের বিপরীতে প্রাপ্ত বেতন থেকে সেভিংস, পূর্ববর্তী সেভিংস, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহার, স্বর্ণালংকারের মূল্য, ফার্নিচার এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যের সমষ্টি। পাশাপাশি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর আয়কর পরিশোধিত ইনকামও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এখানে মোট সম্পদ যেটা একেবারেই সত্য ও একুরেট সেই তথ্যই দেওয়া হয়েছে। ৩. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘিরে যে অপপ্রচার চলছে, সেটিও তথ্যের অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়। উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় নাহিদ ইসলামের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যে প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিল, সেটি ছিল উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন মোট আয়ের পর অবশিষ্ট নগদ অর্থ—তার মোট সম্পদের প্রতিফলন নয়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ একই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বৃদ্ধি পায়, যা হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মাত্র দুটি—একটি সোনালী ব্যাংকে এবং আরেকটি নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা। এর বাইরে তার আর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। একই সঙ্গে এটিও পরিষ্কার যে উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় যেমন তার কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি ছিল না, পদত্যাগের পরেও তা হয়নি—এই তথ্য হলফনামায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। ৪. পেশা সংক্রান্ত পেশা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হলফনামার কোথাও নাহিদ ইসলামের পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করা হয়নি। তার পূর্ববর্তী পেশা সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমান পেশা হিসেবে কনসালট্যান্সি উল্লেখ আছে, যা একটি স্বীকৃত ও বৈধ পেশা। তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও পলিসি সিদ্ধান্তে পরামর্শ দেন—যে প্রতিষ্ঠানের নাম ইলেকশন কমিশনে দাখিল করা নথিতেই উল্লেখ রয়েছে। উক্ত প্রতিষ্ঠান কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং নাহিদ ইসলামের যুক্ত থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি। তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এই পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন—এতে অস্বাভাবিক বা গোপন কিছু নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনী হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য। তিনি উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন আয়, পদত্যাগের পর পেশাগত আয় এবং জীবনের সামগ্রিক সম্পদ—সবকিছু আলাদা করে, স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করেছেন। অথচ এই স্পষ্ট ও পৃথক ক্যাটাগরিগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে দিয়ে একটি অসৎ রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বাস্তবে, সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণা এই কথাই প্রমাণ করে যে নাহিদ ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন—আর সেটিই এই অপপ্রচারের মূল অস্বস্তির জায়গা। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই দেশে সত্য বলা অনেক সময় অপরাধে পরিণত হয়। যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। অথচ যেসব রাজনীতিবিদ বছরের পর বছর দেশে-বিদেশে বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন, যাদের হলফনামার তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না—তাদের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত। কারণ ক্ষমতার সঙ্গে আপস করা থাকলে প্রশ্ন ওঠে না।
ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদ (৪২) নামে এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মাসুদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মো. জাবেদ গণমাধ্যমকে জানান, মাসুদ তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং তার বাড়ি কেরানীগঞ্জে। তিনি বলেন, বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আজিজুর রহমান মুসাব্বিরসহ কয়েকজন স্টারের গলিতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত হঠাৎ মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে মুসাব্বির ও মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ দুজনকে প্রথমে তেজগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতাল (বিআরবি) নেওয়া হয়। পরে রাতেই আহত মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মাসুদের পেটের বাম পাশে গুলি লেগেছে। বর্তমানে তিনি জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। চার দিনের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলা সফরের অংশ হিসেবে আগামী ১২ জানুয়ারি রংপুর সফরে যাবেন। জানা গেছে, আগামী ১২ জানুয়ারি দুপুর ২টায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর জাফরপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদে কবর জিয়ারত করবেন তিনি। তারেক রহমানের সফর সংক্রান্ত সমন্বয়ক অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন গণিউল আজম এ তথ্য জানান। সফরে তারেক রহমান মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ আবু সাঈদ ও তৈয়বা মজুমদারসহ দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারতের পাশাপাশি দোয়া মাহফিলেও অংশ নেবেন। গণিউল আজম বলেন, চার দিনের কর্মসূচিতে ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ায় রাতযাপন করবেন তারেক রহমান। পরদিন ১২ জানুয়ারি বগুড়া থেকে রংপুরের পীরগঞ্জ হয়ে দিনাজপুর যাবেন। সেখান থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন। ১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট সফর করবেন। সেখান থেকে ফিরে রংপুরে রাতযাপন করবেন। ১৪ জানুয়ারি রংপুর থেকে বগুড়া হয়ে ঢাকায় ফিরবেন তারেক রহমান। সফরকালে তিনি আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে এরই মধ্যে দলের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের এই উত্তরাঞ্চল সফর বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত করার পাশাপাশি জনসংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন দলটির নেতারা।
যাদেরকে নিজের লোক মনে করেছিলেন, তারা এখন জামায়াতের রুকন—এমন মন্তব্য করেছেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর–১ (কচুয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একটি টকশো অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ ঘটনায় নিজের বিস্ময়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, একদিন সকালে দেখি ৯টার দিকে একটি মিছিল আসছে। ভাবলাম, সকাল ৯টায় মিছিল কীভাবে আসে? আমার লোকেরা তো এ সময় মিছিল করে না। সবাইকে পরিচিত মনে হচ্ছিল। কাছে গিয়ে দেখি, সেটি জামায়াতের প্রার্থীর মিছিল। তখন মনে হলো, এরা তো সবাই একসময় আমার লোক ছিল কবে যে অন্যদিকে চলে গেল! তিনি আরও বলেন, দেশে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপিই রাজনীতি করেছে। জামায়াত আমাদের সঙ্গেই ছিল। আমার এলাকায় যাদের এতদিন সহযোগিতা করেছি, যাদের নিজের দলের লোক বা অনুসারী ভাবতাম, তারা এখন জামায়াতের রুকন—এটা কল্পনাও করিনি। এতদিন ভেবেছি পুরো কচুয়া আমার সঙ্গে আছে, এখন দেখি বাস্তবতা ভিন্ন। ড. মিলন বলেন, এ ধরনের রাজনীতি আগে কখনো কোথাও হয়েছে কিনা, তা তার জানা নেই।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করলেও তা বিলুপ্ত করে শেখ হাসিনা প্রায় ১৫–১৬ বছর ধরে দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসন চালু রাখে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। আওয়ামী লীগকে ভারতীয় দল অ্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার একনায়কতন্ত্র শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিল, ছাত্র-জনতা সেই ফ্যাসিস্ট শক্তিকে বিদায় করেছে। এরা ভারতীয় দল, এরা ভারতের সেবাদাস সরকার ছিল। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়ার পহরচাদা ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এসব মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই সরকার এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং আলেম সমাজের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ ছিল আলেমবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী সরকার।’ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হলো-আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? জনগণ ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চায়। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে আইনের শাসন থাকবে, সুবিচার নিশ্চিত হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। পহরচাদা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফরিদ আহমদ আজিজির সভাপতিত্বে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে চকরিয়া বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী, পহরচাদা সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক নাছির উদ্দিন হায়দার, উপদেষ্টা জালাল আহমদ সিকদারসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৫ আগস্টের পর কারা চাঁদাবাজিতে জড়িত, তা দেশবাসী জানে। প্রকৃত চাঁদাবাজিকে আড়াল করতেই জুলাই যোদ্ধাদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। সোমবার দিনগত রাত সোয়া ২টার দিকে কারামুক্ত জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর টঙ্গীর বাসায় গিয়ে সুরভী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি সুরভীর ঘটনায় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে গণমাধ্যম কাজ করছে এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের আগে গণমাধ্যম নিরপেক্ষ না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের প্রতি নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে চাঁদাবাজির মামলায় জামিনে মুক্তি পান জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আদালত তাঁকে চার সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন। এর পর রাত সোয়া ৮টার দিকে তিনি কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্ত হন। এর আগে একই দিন দুপুর ১টার দিকে আদালত সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। রিমান্ড আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ হয়। প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় সুরভী অভিযোগ করে বলেন, কোনো তদন্ত ছাড়াই তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং আদালতে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়নি। ১৭ বছর বয়সী সুরভীর রিমান্ড আদেশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এক পোস্টে জানান, তিনি সুরভীর বিষয়টি খোঁজ নিয়েছেন এবং দ্রুত প্রতিকার দেওয়া হবে। এরপর জামিনে মুক্ত হয়ে সুরভী টঙ্গীর বাসায় ফিরলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সেখানে যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও জোটভুক্ত দলগুলোর দাবি, কিছু বিষয়ে তারা সমঝোতায় পৌঁছেছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের মে মাসে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত আন্দোলন ও নেজামে ইসলাম পার্টিসহ কয়েকটি ইসলামভিত্তিক দল জোট গঠন করে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি যুক্ত হলে জোটটি আট দলীয় রূপ নেয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে যুগপৎ কর্মসূচির মাধ্যমে এসব দলকে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হতে দেখা যায়। এরই মধ্যে অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ আরও দুটি দল জোটে যুক্ত হলে ভোটের রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। ১১ দলীয় জোটের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে একাধিক দফা বৈঠক হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আকাঙ্ক্ষিত সংখ্যক আসন না পাওয়ার আশঙ্কায় জোটের পুরোনো শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জোটের প্রার্থীদের জন্য আসন ছাড় দিতে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীসহ একাধিক দলের নেতারা স্বীকার করেছেন। আসন সমঝোতার পাশাপাশি জোটের নেতৃত্ব নিয়েও টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নেতৃত্ব প্রশ্নে এক ধরনের ঠান্ডা লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই জোটভুক্ত সব দলের প্রার্থীরা বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও দলগুলোর দাবি, তারা কিছু সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরে গত বছরের মে মাসে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মতো ইসলামভিত্তিক দলগুলো জোট হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে এতে জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি যোগ দিলে ৮ দলীয় জোট হিসেবে বিভিন্ন সময় যুগপৎ কর্মসূচিতে এসব দলকে রাজনীতির মাঠে সরব হতে দেখা গেছে। এরই মধ্যে অভ্যুত্থানের পরে তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ আরো দুইটি দলের এই জোটে অংশ নেওয়ার পর ভোটের রাজনীতি নিয়ে আবারও আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়। এই ১১ দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আকাঙ্ক্ষিত সংখ্যায় আসন না পাওয়ায় এই জোটের পুরাতন সঙ্গী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলের অসন্তোষ যেমন রয়েছে, তেমনি জোটের প্রার্থীদের আসন দিতে গিয়ে বিভিন্ন আসনে জামায়াতে ইসলামীর নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের নেতারা। আসন সমঝোতার বাইরে, এই জোটের নেতৃত্ব নিয়ে তরুণদের দল এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ দুই দলের মধ্যে অনেকটা ঠাণ্ডা যুদ্ধও চলছে। এরই মধ্যে সব দলের প্রার্থীরাই বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও কয়েকটি দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা দাবি করেছেন, আলোচনা এখনো চলছে। সমঝোতা সমন্বয় করেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য জোটের সব দল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। কিন্তু দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সমঝোতা সিদ্ধান্তে বিলম্ব এবং আপাতত যেসব আসনে সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো নিয়ে মাঠ পর্যায়ের অসন্তোষ বেশ প্রকট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে কখনো নির্বাচনে সফলতা লাভ করেনি বলে তাদের পরিধি বাড়িয়েছে। যাতে নির্বাচন বা ভোটের মাঠে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রুর সংখ্যা বৃদ্ধি না পায়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশে ৩০০ আসনে তিন হাজার ৪০৬ টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। নিজেদের দাবি অনুযায়ী কমপক্ষে দেড়শ আসন না পাওয়ায় চরমোনাই পীরের রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অসন্তুষ্ট বলে গণমাধ্যমে বেশ কিছু খবর প্রকাশিত হয়। দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জোটের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৫টি আসনে নির্বাচন করতে নাখোশ দলটির নেতাকর্মীরা। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দলটি। যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় দলটি জোটের ভেতরে আসন বণ্টন নিয়ে শক্ত অবস্থান থেকে দর কষাকষি করতে চায় কিংবা এককভাবে নির্বাচন করে নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা আলাদাভাবে প্রমাণ করতে আগ্রহী। কিন্তু কত আসন চেয়েছে এবং কতগুলো পেয়েছে এমন প্রশ্নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের দাবি, আসন নিয়ে কোনো দাবি নেই তাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো দাবি নেই। আলোচনায় যৌক্তিকভাবে আমরা কিছু ক্রাইটেরিয়া ঠিক করছি। সেটার আলোকেই সমঝোতা সমন্বয় হবে। ক্রাইটেরিয়া হলো দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে সবাই ছাড় দেবে এটা একটা বিষয় এবং যেখানে যার অবস্থা ভালো সেখানে তাকে ছাড় দেওয়া যাবে এটা আরেকটা বিষয়, তবে সংখ্যাটা এখনো বলার মতো না, বলা যাবে না এটা। কেবল আসন সমঝোতাই নয়, এনসিপির এই জোটে যোগ দেওয়াকে ভালোভাবে নেয়নি জোটেরই কয়েকটি দল। যদিও এই কারণ একেবারেই নাকচ করে দিয়েছেন গাজী আতাউর রহমান। বরং গণ-অভ্যুত্থানের স্বপক্ষের শক্তিকে সমর্থন জানান তিনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলটির জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন বা সম্ভাবনা প্রকট হয়ে উঠেছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র এ বিষয় অস্বীকার করে বলেন, এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে এবং উভয়পক্ষই স্যাক্রিফাইসের মানসিকতা নিয়েই এগোচ্ছে। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে শুধু এই দলেই অসন্তোষ তা নয়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আরো কয়েকটি দলেও এমন ক্ষোভ রয়েছে। এই দল ৫০ আসন চাইলেও পরে সমঝোতা প্রক্রিয়ায় ১৩ আসন নিশ্চিত করেছে জোটের নেতৃত্ব দেওয়া জামায়াতে ইসলামী। আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করলেও কতটি আসনে সমঝোতা হয়েছে, সেই সংখ্যা গণমাধ্যমে এখনই জানাতে চাননি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমেদ। চূড়ান্ত হওয়ার পরে এ বিষয়ে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের আসন সমঝোতাটা যদি আরো আগে হয়ে যেতো তাহলে অনেক ভালো হতো। প্রার্থীদের মাঠে কাজ করতে সুবিধা হতো। এটা সত্য আমরা অন্যদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছি।’ সমঝোতার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেলে প্রার্থীদের ক্ষোভ দূর হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর মধ্যে খেলাফত মজলিস ২৫টিরও বেশি আসন চেয়েছিলে। কিন্তু পাঁচটি আসন নিয়েই তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদের। আর আসন সমঝোতায় পিছিয়ে নেজামে ইসলাম এবং খেলাফত আন্দোলন মাত্র দুইটি করে আসন নিশ্চিত করতে পেরেছে বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। যা আরো কমেছে বিডিপি এবং জাগপার ক্ষেত্রে। ৩০০ আসনের মধ্যে তাদের জন্য মাত্র একটি করে আসন ছাড় দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে নতুন করে জোটে অংশ নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি অর্ধশতাধিক আসন চাইলেও এখন পর্যন্ত ৩০ আসনে সমঝোতা হয়েছিল। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে ২৬টি আসনের মনোনয়ন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তরুণদের নিয়ে গঠিত নতুন এই দলটিকে। আবার জোটের প্রার্থীদের আসন বণ্টন করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নিজ দলের প্রার্থীদের মধ্যেও অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব? কয়েকটি দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতার দাবি, জোটে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো। যা নিয়ে অন্য দলের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমেদের দাবি, ‘এখানে ১১টি দল আসন সমঝোতা করছে। এখানে কেউ কারো নেতৃত্বে না। অর্থাৎ ইলেকশনে আমরা বিজয়ী হওয়ার জন্য একটি আসনে একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এটাই আমাদের পলিসি।’ এদিকে, এনসিপি জোটে যোগ দেওয়ার পর রাজনৈতিক আলোচনায় এমন বিষয়ও উচ্চারিত হয়েছে যে, জোট নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর শফিকুর রহমান নাকি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম থাকবেন? এমন প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেন, এমন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি নেই। এটা সেরকম কোনো জোট না। আসন সমঝোতার ভিত্তিতে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। এখানে পদ-পদবি নিয়ে, দায়িত্ব নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এখানে সবাই সমান মর্যাদার ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি। সমঝোতার অগ্রগতি কতদূর? নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে গত ২৮ ডিসেম্বর এনসিপি, এলডিপি এই জোটে যোগ দেয়। পরে এবি পার্টিরও যুক্ত হওয়ার খবর শোনা যায়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ৮ দলের পূর্ব প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে জানান, শেষ পর্যায়ে আরো তিনটি দল জোটে যোগ দেওয়ায় আলোচনা যে অবস্থায় ছিলে ওই অবস্থায়ই সবার সম্মতিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত মাসের ৯ তারিখ থেকে আমরা আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করলাম। শেষদিকে এসে আরো তিনটি দল আমাদের সঙ্গে এখানে জয়েন করল। এই অবস্থায় এসে প্রথম দিকের যে আলোচনা ছিল গত মাসের ২৪-২৫ তারিখের, সেটাকে আবার নতুন করে সাজাতে হলো। পরে সবাই একমত হয়ে জোটের সিদ্ধান্তেই ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। দুই-তিন দিনের মধ্যেই আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলে জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এই নেতা। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আজকেও আমরা বসছিলাম। প্রতিদিনই বসা হচ্ছে। স্যাটেল হয়ে যাবে আশা করি দুই-তিন দিনের মধ্যেই। কোন কোন আসনে কোন দল করবেন এই বিষয়ে মোটামুটি একটা আইডিয়া নিয়ে আমাদের যে কমিটি কাজ করছেন সে কমিটি প্রত্যেকটা দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।’ আসন সমঝোতা নিয়ে অন্য দলগুলোর অসন্তোষের কথা স্বীকার করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, ‘কিছু কিছু বিষয়তো স্বাভাবিকভাবেই সবার মনমতো হয় না বা হচ্ছে না। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনো দলের চাওয়া বা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নয় বরং কিছু ব্যতিক্রম বাদে যাকে যেখানে দিলে জয়লাভ করবেন তাকেই দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রের চলমান সংকট, জাতীয় সরকার ও ভবিষ্যতের রাজনীতি প্রসঙ্গ নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লেবার পার্টির প্রতিনিধিরা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দল দুটির নেতারা পৃথকভাবে তার সঙ্গে বৈঠক করেন। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে ভবিষ্যতের রাজনীতি, রাষ্ট্রের চলমান সংকট এবং জাতীয় সরকারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, সংসদে ক্ষমতায় যে-ই থাকুক, বিরোধী দল যে-ই থাকুক, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাই এক থাকতে হবে। অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে ডিবেট হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বৈঠকে রাষ্ট্রকাঠামো, ঢাকা শহরের চাপ কমানো এবং বেকারত্ব কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ কোনো অধীনতামূলক সম্পর্কের মধ্যে যাবে না; ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে মর্যাদার ভিত্তিতে। অন্যদিকে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান সাংবাদিকদের বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপির স্বচ্ছ ভূমিকা দেখতে চাই। তিনি ভবিষ্যতে পার্টির সঙ্গে সমন্বয় ও সম্পর্ক বহাল রাখার প্রত্যয় জানান।
অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নয়নে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নায়েবে আমিরগণ, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনায় নেতারা অভিমত প্রকাশ করেন, দেশে এখনো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। প্রশাসনের মধ্যে কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছেন—এমন অভিযোগ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নেতারা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। দেড় হাজার শহীদ এবং ত্রিশ হাজারের বেশি আহত ও পঙ্গুত্ববরণের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশকে কোনো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র কিংবা কোনো গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না। বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর প্রতি সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, বিশেষ কোনো দলের প্রতি ঝুঁকে না পড়ে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়নে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।
দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। দলটির দাবি, প্রশাসনের ভেতরে কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছেন—এমন অভিযোগ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হত্যার ঘটনা ঘটছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনায় অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, দেশে এখনো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। প্রশাসনের একটি অংশ বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক রয়ে গেছে। বৈঠকে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। দেড় হাজার শহীদ ও ত্রিশ হাজারের বেশি আহত ও পঙ্গুত্ববরণের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশকে কোনো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বা গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না। এসময় নির্বাচন কমিশন, সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে, কোনো বিশেষ দলের প্রতি ঝুঁকে না পড়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়নে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।
বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে মোহামেডান ক্লাব অডিটরিয়ামে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান। ইশরাক বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তারা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি মনে করেন, বিসিবির পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। ইশরাক বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান শুধু একজন খেলোয়াড় নন, তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তার প্রতি যে কোনো ধরনের অসম্মান মানেই বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি অসম্মান। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানান। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের এই আহ্বায়ক বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতি কোনো আগ্রাসী বা অসম্মানজনক আচরণ করা হলে তা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সব রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে ক্রীড়া ও যুব উন্নয়নের ভিত্তি রচিত হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে ক্রীড়া খাতকে আরও শক্তিশালী করা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ স্থাপন করা হবে জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, একই সঙ্গে সাফ গেমসকে পুনরুজ্জীবিত করে আঞ্চলিক ক্রীড়া ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে ব্যবসায়ীরা দেশে ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা-চাঁদাবাজি, ব্যাংকের উচ্চ সুদ, আমলাতান্ত্রিক হয়রানির এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির কথা তুলে ধরেন। তারেক রহমানও তাদের কথা শুনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ব্যবসার প্রতিবন্ধকতাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯টায় এ বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বৈঠকে সব ধরনের ব্যবসায়ীরা উপস্থিতি ছিলেন। তারা বাংলাদেশের ব্যবসার সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলছেন। তিনি (তারেক রহমান) সবার কথা শুনেছেন। জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীরা তাদের সমস্যার সমাধান চাচ্ছেন। তারেক রহমানও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সমস্যা সমাধানের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।