অন্যান্য

ব্যাটারিচালিত রিকশা: সড়ক শৃঙ্খলার বড় বাধা

মারিয়া রহমান জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সড়ক ব্যবস্থা বহুদিন ধরেই যানজট, অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতার এক জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে চলছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হচ্ছে নগর পরিবহনে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা।


একসময় অলিগলি ও আবাসিক এলাকার পরিবহন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কে দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক, এমনকি বিভিন্ন ভিআইপি সড়কেও এসব যানবাহনের উপস্থিতি এখন নিয়মিত দৃশ্য।


কাগজে-কলমে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নতুন কোনো বিতর্কের বিষয় নয়। ২০১৫ সালে সরকারের এক সিদ্ধান্তে ঢাকার প্রধান সড়ক এবং দেশের ২৩টি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টও এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।


আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর সড়ক এবং বিভিন্ন মহাসড়কে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—যে আইন বাস্তবে প্রয়োগই করা যায় না, সেই আইন থাকার অর্থ কী?


ব্যাটারিচালিত রিকশা নিঃসন্দেহে নগরবাসীর জন্য একটি সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি লাখো মানুষের জীবিকার উৎস। কিন্তু একটি পরিবহন ব্যবস্থা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা জননিরাপত্তা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা এবং নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। দুঃখজনকভাবে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে সেই সামঞ্জস্য আজ অনুপস্থিত।


কিন্তু এই সমস্যার মূল জায়গা হলো নিয়ন্ত্রণহীনতা। বর্তমানে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার কোনো সুনির্দিষ্ট নিবন্ধন নেই, চালকদের অধিকাংশের নেই প্রশিক্ষণ, আর যানবাহনের নিরাপত্তা মান নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন। 


এসব রিকশা সাধারণত স্থানীয়ভাবে তৈরি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আধুনিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় না। ব্রেকিং সিস্টেম দুর্বল, কাঠামোগত স্থায়িত্ব সীমিত এবং গতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা অনুপস্থিত।


অথচ অনেক চালক এসব যানবাহন উচ্চগতিতে চালান, যা যাত্রী ও পথচারী উভয়ের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও আহত হওয়ার সংখ্যা।


আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো রাজধানীর যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। 


শুধু অলিগলি নয়, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, বাজার এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সামনেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এসব যানবাহন। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার একটি বড় অংশ কার্যত দখল করে রাখায় সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যায় এবং যান চলাচলের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।


এর পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামার জন্য হঠাৎ থেমে যাওয়া, মোড়ের কাছে যত্রতত্র অবস্থান নেওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে অন্যান্য যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। ফলে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। 


প্রতিদিন কোটি মানুষের চলাচলের এ নগরীতে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অকার্যকর ও বিশৃঙ্খল করে তুলছে।


বিষয়টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যুৎ ব্যবহার। বিভিন্ন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার কাজে। 


উদ্বেগজনক হলো, এই চার্জিংয়ের বড় একটি অংশ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বিদ্যুৎ চুরি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, বিশেষ করে যখন দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।


তবে বাস্তবতা হলো, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। তাই প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত নীতি। 


প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করতে হবে এবং নিবন্ধন ও ফিটনেস ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং অবৈধ চার্জিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


কিন্তু ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সেটা হিতে বিপরীত হচ্ছে । সম্প্রতি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দকে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। 


ঘটনাটি শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো উদাহরণ নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাধার মুখে পড়তে হয়।


সম্প্রতি রাজধানী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা অপসারণের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একার পক্ষে কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত ও যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।


গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লেক রোডে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা দায়ের ও যানবাহন মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।


ডিএমপি কমিশনার জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে কেবল পুলিশের একক প্রচেষ্টায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।


ফলে অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘাত ও জনদুর্ভোগ এড়ানোর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে এক শ্রেণির ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকের মধ্যে আইন অমান্যের প্রবণতা বাড়ছে এবং তাদের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। 


কার্যকর ও ধারাবাহিক আইন প্রয়োগের অভাবে সড়কে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।


বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হয়। ঢাকার ক্ষেত্রেও সময় এসেছে বাস্তবসম্মত, কিন্তু দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নগরবাসীর নিরাপত্তা, সড়কের শৃঙ্খলা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।


ঢাকার সড়ক কারও একক সম্পত্তি নয়; এটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাই নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে হলে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।


ঢাকাকে যদি সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য, নিরাপদ ও গতিশীল নগরীতে পরিণত করতে হয়, তাহলে এখনই সাহসী ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং নগর শৃঙ্খলার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল বন্ধ করা আজ আর কোনো বিকল্প নয়; এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও নির্বাচন কমিশনের লোগো। ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ রাখতে ইসির সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখার দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ বৈঠকে অংশ নেয়।   বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে বেলা ১১টায় বৈঠক শুরু হয়।   প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন—সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার এবং শিশির মোহাম্মদ মনির।   মঙ্গলবার রাতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে ইসির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সামসুল আলমের নিয়োগসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে দলের অবস্থান কমিশনের কাছে তুলে ধরা হবে।   প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিলের সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়। একই সভায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখাসহ আরও কয়েকটি সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আজ সারা দেশে এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খাঁন। ফাইল ছবি

নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীকে নিয়ে কড়া মন্তব্য রাশেদ খাঁনের

ছবি : সংগৃহীত

মিরপুরে কলেজে দেয়াল ধসে ১ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে।   সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বিভাগীয় পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   মির্জা ফখরুল বলেন, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের অবস্থান আগেই জানানো হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। তা সম্ভব না হলে আগামী বছরের প্রথম দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের করার কিছু নাই। এটা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশন করবে। আর আমাদের যেহেতু স্থানীয় সরকারের বিষয় আছে, এ বিষয়টা আমরা মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’   মন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদী বলেন, ‘তাদের হয় জ্ঞানের অভাব রয়েছে, নয়তো তাদের মানসিকতা সেভাবেই গড়ে উঠেছে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।’   জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি যেন গণতন্ত্র সম্পর্কে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করেন। এরপর কী ব্যবস্থা হবে, তা দেখা যাবে। জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক দল কি না, সেটি তাদেরই বিবেচনা করা উচিত।’   তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের মেয়াদ মাত্র চার মাস অতিরিক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে কৃষির উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষিখাতের জন্য বিভিন্ন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’   বিআরডিবি’র বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে রংপুর পল্লী মেলা পরিদর্শন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   অনুষ্ঠানে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আগামী নির্বাচন ঘিরে তারেক রহমানের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি : সংগৃহীত

জনদাবি মেনে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: মির্জা ফখরুল

মার্কেটপ্লেসে বিক্রেতাদের জন্য চমক নিয়ে আসছে ফেসবুক

  ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে কেনাবেচাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর করতে একাধিক নতুন সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে মেটা। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত বিক্রেতাদের জন্য আলাদা অ্যাপ, সেলফির মাধ্যমে বিনা মূল্যে পরিচয় যাচাই, নতুন ভিডিও ইন্টারফেস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন টুল।    মেটার তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত পণ্য বিক্রি করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘সেলার’ নামে একটি স্বতন্ত্র অ্যাপ চালু করা হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রেতারা পণ্যের তালিকা পরিচালনা, ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিক্রির অগ্রগতি সহজে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।   প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে প্রতি মাসে ৪৩ কোটির বেশি নতুন পণ্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাই নিয়মিত বিক্রেতাদের জন্য কেনাবেচার প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করতেই এই অ্যাপ আনা হচ্ছে।   ব্যবহারকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামে একটি বিনা মূল্যের যাচাইকরণ সুবিধাও চালু করা হবে। এতে ব্যবহারকারীরা সেলফির মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় যাচাই করতে পারবেন। যাচাই সম্পন্ন হলে তাদের প্রোফাইলে সাদা বৃত্তের মধ্যে একটি টিকচিহ্ন দেখা যাবে, যা ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ফেসবুক গ্রুপ এবং ফেসবুক ডেটিংয়েও প্রদর্শিত হবে।   মেটার দাবি, এই ব্যবস্থা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রতারণার ঝুঁকি কমাবে এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়াবে।   ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতাও উন্নত করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি বাজারে ফুল-স্ক্রিন ভিডিও ইন্টারফেস চালু করা হবে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে আগের ফিডভিত্তিক ভিডিও প্রদর্শন পদ্ধতিতেই ফিরে যেতে পারবেন।   এ ছাড়া মার্কেটপ্লেসের সেলার অ্যাপ ও ফেসবুক গ্রুপে এআইনির্ভর নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করা হবে। এসব সুবিধার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পণ্যের বিবরণ তৈরি, গ্রুপে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে পাওয়া এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সহজে জানা যাবে।   মেটা জানিয়েছে, নতুন এআইভিত্তিক টুলগুলো ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজ আরও সহজ করবে এবং ফেসবুক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নত করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি: সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

মো. সাহাবুদ্দিন: চমক জাগানো উত্থান, করুণ প্রস্থান

0 Comments