ফুটবল শুধু প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়, এটি বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষের মিলনেরও একটি বড় ক্ষেত্র। কিন্তু কখনো কখনো এই আবেগের জায়গাতেই উঠে আসে বর্ণবাদ, বিদ্বেষ ও ধর্মীয় বিদ্রূপের মতো নেতিবাচক বিষয়। এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন স্পেনের তরুণ ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল। প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া একটি ধর্মীয় বিদ্রূপাত্মক স্লোগানের পর তিনি নিজের পরিচয় আড়াল না করে গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেন— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।’ ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ মার্চ ২০২৬ বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন ও মিশরের মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। দুই দলের পারফরম্যান্স ছিল বেশ কাছাকাছি। তবে ম্যাচকে ঘিরে স্পেনের কিছু সমর্থকের আচরণ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। ম্যাচ দেখতে আসা কয়েকজন স্প্যানিশ সমর্থক মিশরীয় খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে একটি স্লোগান দিতে থাকে— “El que no bote es un musulmán” যার অর্থ— ‘যে লাফাবে না বা ভালো খেলতে পারবে না, সে মুসলিম।’ স্প্যানিশ ফুটবল সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে ‘যে লাফাবে না, সে…’ ধরনের ছড়া বা স্লোগান দেওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। তবে ওই ঘটনায় সমালোচনার কারণ ছিল— মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বিদ্রূপ করতে তাদের মুসলিম পরিচয়কে ব্যবহার করা। সমর্থকেরা হয়তো এটিকে শুধুই প্রতিপক্ষকে খোঁচা দেওয়ার একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল, যে দলের সমর্থনে তারা এই স্লোগান দিচ্ছে, সেই স্পেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় লামিনে ইয়ামাল নিজেই একজন গর্বিত মুসলিম। তাই ‘মুসলিম’ শব্দটিকে বিদ্রূপ হিসেবে ব্যবহার করা শুধু মিশরীয় খেলোয়াড়দের নয়, ইয়ামালের নিজের পরিচয়ের প্রতিও অসম্মান হিসেবে ধরা পড়ে। ইয়ামালের জবাব— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’। ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিল ২০২৬, ইয়ামাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি নিজের মুসলিম পরিচয় গর্বের সঙ্গে তুলে ধরে লেখেন— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল স্টেডিয়ামে আমরা শুনেছি স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল— ‘যে লাফাবে না সে মুসলিম’। আমি জানি, এটি প্রতিপক্ষ দলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য করে নয়। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আমার কাছে এটি অত্যন্ত অসম্মানজনক। এমন আচরণ আমরা মেনে নিতে পারি না।’ ইয়ামাল আরও লেখেন, ‘আমি বুঝি, সব সমর্থক এমন নন। তবে যারা এই ধরনের স্লোগান দিয়েছেন, তাদের বলব— ফুটবল স্টেডিয়ামে মানুষকে উপহাস করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা আপনাদের অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী মানসিকতার পরিচয় দেয়।’ তিনি ফুটবলের প্রকৃত চেতনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ফুটবল উপভোগ ও ভালোবাসার জায়গা। কার পরিচয় কী বা কে কোন বিশ্বাস ধারণ করে, তা নিয়ে অপমান করার জায়গা নয়।’ ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একটি বার্তা লামিনে ইয়ামালের এই প্রতিক্রিয়া শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতিবাদ ছিল না; বরং বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাড়তে থাকা ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান হিসেবে দেখা হয়। তিনি দেখিয়েছেন, নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেও একজন ক্রীড়াবিদ বিশ্বমঞ্চে সফল হতে পারেন। ইয়ামাল কখনোই তার মুসলিম পরিচয় গোপন করেননি। পেশাদার ফুটবলের কঠোর অনুশীলন, ব্যস্ত সূচি ও শারীরিক চাপের মধ্যেও তিনি রমজান মাসে রোজা পালনের বিষয়টি আগেও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। ধর্মীয় পরিচয় ও খেলাধুলার সম্মান মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে দেওয়া ওই স্লোগান মূলত একটি নির্দিষ্ট দলকে লক্ষ্য করে হলেও এর মধ্যে থাকা ধর্মীয় বিদ্রূপ অনেকের কাছেই আপত্তিকর হয়ে ওঠে। ইয়ামাল সেই জায়গাতেই মনে করিয়ে দিয়েছেন— খেলাধুলার মাঠে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু ঘৃণা, বিদ্বেষ বা কোনো মানুষের বিশ্বাসকে অপমান করার স্থান সেখানে হওয়া উচিত নয়। লামিনে ইয়ামালের ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম’— এই বক্তব্য শুধু তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ নয়; এটি সম্মান, সহনশীলতা ও বৈচিত্র্যের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা। ফুটবল বিশ্বের কোটি মানুষের আবেগের জায়গা। এই আবেগ যেন কখনো বিদ্বেষে পরিণত না হয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করে— ইয়ামালের প্রতিবাদ সেই প্রত্যাশাকেই সামনে তুলে ধরেছে। সূত্র: রিলিজিয়ন আনপ্ল্যাগড ডটকম
না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক, কোচ এবং দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার কেভিন কিগান। সোমবার (২০ জুলাই) পরিবার ও সাবেক ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিগান। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তার অসুস্থতার কথা প্রথমে জানা যায়। পরবর্তীতে জুনে চিকিৎসকরা জানান, তিনি ক্যান্সারের চতুর্থ স্টেজে ছিলেন। কেভিন কিগান তার প্রজন্মে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী ফরোয়ার্ড ছিলেন। ছোটখাটো গড়ন কিন্তু দুর্দান্ত গতি ও লড়াইয়ের মানসিকতার জন্য ভক্তরা তাকে ভালোবেসে ডাকতেন মাইটি মাউস। লিভারপুলের জার্সিতে তিনি ৩টি ফার্স্ট ডিভিশন (বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ) শিরোপা, ১টি এফএ কাপ, ২টি ইউয়েফা কাপ এবং ১৯৭৭ সালে তাদের প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জয় করেন। জার্মান লিগে খেলতে গিয়ে ১৯৭৯ সালে বুন্দেসলিগা জেতেন। সেখানে তিনি পরপর দুই বছর (১৯৭৮ ও ১৯৭৯) ইউরোপের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন ডি’অর অর্জন করেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের হয়ে তিনি ৬৩ ম্যাচে ২১টি গোল করেন এবং ৩১টি ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দেন। খেলোয়াড়ি জীবনের পর কিগান নাম লেখান কোচিংয়ে। ১৯৯২ সালে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবটিকে প্রিমিয়ার লিগে তুলে আনেন এবং দর্শকনন্দিত ফুটবল উপহার দিয়ে বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়ান। পরবর্তীতে তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দল (১৯৯৯–২০০০), ফুলহাম ও ম্যানচেস্টার সিটির কোচের দায়িত্বও পালন করেন।
বিশ্বকাপে আজ রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, মুখোমুখি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।এছাড়া ভাইটালিটি ব্ল্যাস্ট টি–টুয়েন্টির সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আজ। বিশ্বকাপ ফুটবল: ৩য় স্থান ফ্রান্স–ইংল্যান্ড রাত ৩টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় বিশ্বকাপ–পুনঃপ্রচার আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড সকাল ১০টা, টি স্পোর্টস ফ্রান্স–স্পেন বেলা ১টা, টি স্পোর্টস ভাইটালিটি ব্ল্যাস্ট টি–টুয়েন্টি নর্দাম্পটনশায়ার–সমারসেট বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ১ হ্যাম্পশায়ার–নটিংহামশায়ার সন্ধ্যা ৭–৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১ ফাইনাল রাত ১১–৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ১
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে ভিএআরের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের করা দ্বিতীয় গোলটি ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করে দেন ম্যাচ রেফারি। তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মতভেদ। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই স্কট ম্যাককেনার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। এরপর ২২তম মিনিটে জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশে দ্বিতীয়বার বল জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু গোল উদযাপনের মাঝেই ভিএআরের হস্তক্ষেপে বদলে যায় দৃশ্যপট। রিপ্লে পর্যালোচনা করে রেফারি সিজার রামোস সিদ্ধান্ত দেন, বল দখলের আগে হেন্ড্রির পায়ে আঘাত করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। ফলে ফাউলের অভিযোগে গোলটি বাতিল করা হয়। রেফারির এই সিদ্ধান্তে হতাশ প্রতিক্রিয়া জানান ভিনিসিয়ুস। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই হেড থেকে আবারও গোল করে ব্রাজিলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা যায়। বিবিসির নিয়ম বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান মনে করেন, স্কটল্যান্ড কিছুটা ভাগ্যবান ছিল। তার ভাষায়, “সামান্য সংস্পর্শ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমার কাছে এটি ফাউল মনে হয়নি। ডিফেন্ডার নিজেই এসে ওই সংস্পর্শে জড়িয়েছে। গোলটি বাতিল হওয়ায় স্কটল্যান্ড সুবিধা পেয়েছে।” অন্যদিকে সাবেক স্কটিশ ফুটবলার জেমস ম্যাকফ্যাডেন রেফারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, “ভিনিসিয়ুস বলে যাওয়ার আগে হেন্ড্রির পায়ে আঘাত করেছে। ওই সংস্পর্শই ডিফেন্ডারকে বল ক্লিয়ার করতে বাধা দিয়েছে। তাই এটি ফাউল এবং গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক।” তবে বিবিসির স্টুডিও বিশ্লেষক ও সাবেক ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার লুকাস লেইভার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তার মতে, “এটি কোনো ফাউল ছিল না। ভিনিসিয়ুস দুর্দান্ত প্রেসিংয়ের মাধ্যমে বল দখল করেছিল। আমার কাছে গোলটি বৈধ বলেই মনে হয়েছে।” ভিএআরের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চললেও শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ব্রাজিল। তবে তার বাতিল হওয়া গোলটি ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
রোববার রাতে রোলাঁ গারোঁ ফাইনালে ইতালির ফ্লাবিও কবোল্লিকে ৬-১, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৭ (৫-৭), ৬-১ গেমে হারান ২৯ বছর বয়সী জার্মান খেলোয়াড়। টানা তিন ফাইনালে হারের পর অবশেষে প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জিতলেন আলেক্সান্ডা জেভেরেভ। রোববার রাতে রোলাঁ গারোঁ ফাইনালে ইতালির ফ্লাবিও কবোল্লিকে ৬-১, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৭ (৫-৭), ৬-১ গেমে হারান ২৯ বছর বয়সী জার্মান খেলোয়াড়। আগে তিনটি ফাইনালে হারের পর স্বভাবতই চাপে ছিলেন জেভেরেভ। তার ওপর দুর্দান্ত লড়াই করে তাকে আরো চাপে রাখেন কবোল্লি। যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে শিরোপা বঞ্চিত করতে পারেননি ইতালির খেলোয়াড়।
দীর্ঘ চার বছর পর প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। চলতি মাসের শেষের দিকে লন্ডনের কুইন্স ক্লাবে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউটিএ-৫০০ টুর্নামেন্টের নারী ডাবলসে অংশ নেবেন ৪৪ বছর বয়সী আমেরিকান তারকা। টুর্নামেন্টটির মূল পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৮ জুন, যেখানে খেলার জন্য সেরেনাকে একটি ওয়াইল্ডকার্ড দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা হলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেরেনা জুটি বাঁধতে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান উদীয়মান তারকা ভিক্টোরিয়া মবোকোর সাথে। ২২ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৩টি গ্র্যান্ড স্লাম সিঙ্গেলস শিরোপাজয়ী সেরেনা ২০২২ সালের ইউএস ওপেনের পর টেনিস থেকে দূরে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৯৬ সপ্তাহ পর এই ঘাসের কোর্টের টুর্নামেন্ট দিয়েই তার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে সেরেনা জানান, ‘এই নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য কুইন্স ক্লাবকে আমার একদম নিখুঁত জায়গা বলে মনে হচ্ছে। ঘাসের কোর্ট আমার ক্যারিয়ারে অনেক অর্থবহ মুহূর্ত উপহার দিয়েছে এবং টেনিসের অন্যতম আইকনিক এই মঞ্চে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারার জন্য আমি রোমাঞ্চিত।’ সেরেনার এই প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন মূলত শুরু হয়েছিল গত বছর, যখন ড্রাগ-টেস্টিং পুলের খেলোয়াড়দের তালিকায় তার নাম দেখা যায়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সির পুনর্বহাল তালিকায় তার নাম আসার পর সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। অবশেষে সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টেনিস কোর্টে প্রবেশের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে সেরেনা নিজেই এই ফেরার ইঙ্গিত দেন। আধুনিক টেনিসের ইতিহাসে নারীদের মধ্যে সর্বাধিক ২৩টি গ্র্যান্ড স্লাম সিঙ্গেলস শিরোপার মালিক সেরেনা। এছাড়া বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামসের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি ১৪টি গ্র্যান্ড স্লাম ডাবলস শিরোপা জিতেছেন। অলিম্পিক গেমসেও ৩টি ডাবলস এবং ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে একটি একক গোল্ড মেডেলসহ ক্যারিয়ার গোল্ডেন স্লাম পূর্ণ করার অনন্য কীর্তি রয়েছে তার।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার আগেই বড়সড় চমক এসেছে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায়। আজ সোমবার নির্বাচন কমিশন কর্তৃক চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় কোনো প্রকার ভোটযুদ্ধ ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এবং মঈন উদ্দিন। জেলা ও বিভাগীয় কোটা (ক্যাটাগরি-১) থেকে ফেনী জেলার প্রার্থী শরিফুল ইসলাম অপু শেষ মুহূর্তে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চট্টগ্রাম বিভাগের এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। এছাড়া ক্লাব কোটা (ক্যাটাগরি-২) থেকেও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের লুৎফর রহমান বাদল ও ওল্ড ঢাকা ক্রিকেটার্সের মাহমুদুর রহমান সরে দাঁড়িয়েছেন। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে ১ জন করে পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এই ৩ বিভাগ থেকে মনোনয়ন দাখিলই করেছেন ১ জন করে। ঢাকা বিভাগ থেকে ২ জনের বিপরীতে ৩ জন মনোনয়ন দাখিল করলেও যাচাইবাছাইয়ে বাদ পড়েন একজন। ফলে ঢাকা বিভাগের দুই পরিচালকও নির্ধারিত হয়ে গেছে। এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন- সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরি, বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, ঠাঁকুরগাও জেলা ক্রীড়া সংস্থার মির্জা ফয়সাল আমিন। ঢাকা বিভাগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন- সাইদ বিন জামান এবং এস এম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ। খুলনা বিভাগ থেকে নির্বাচনে লড়বেন শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম এবং আব্দুস সালাম। এই বিভাগ থেকে নির্বাচিত হবেন ২ জন। বরিশাল থেকে নির্বাচনে লড়বেন ২ জন- মিজানুর রহমান, মুনতাসির আলম চৌধুরি, নির্বাচিত হবেন ১ জন। ক্যাটাগরি-৩ থেকে একাই মনোনয়ন দাখিল এবং বৈধতা নিয়ে রিচালক নির্বাচিত হয়েছেন সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর। ক্লাব ক্যাটাগরিতে ১২ পদের বিপরীতে লড়বেন ১৬ জন কাউন্সিলর। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- তামিম ইকবাল, ফাহিম সিনহা, সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ, ইশরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম বাবু, মির্জা ইয়াসির আব্বাস এবং মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনরা।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্কুলের শিক্ষাবর্ষ সংক্ষিপ্ত করার যে পরিকল্পনা নিয়েছিল মেক্সিকো সরকার, শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় প্রশাসনের তীব্র বিরোধিতার মুখে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে দেশটির শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। আকস্মিক সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক শিক্ষা সচিব মারিও দেলগাদো গত শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছিলেন যে চলমান তাপপ্রবাহ ও বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে এবারের শিক্ষাবর্ষ ৫ জুনেই শেষ করা হবে। অর্থাৎ প্রায় ৪০ দিন আগেই স্কুল ছুটি শুরু হতো। কিন্তু ঘোষণার পরপরই দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপ ও জরুরি বৈঠক বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অভিভাবকদের মতামত যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন। সোমবারের সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়—আগের সূচি অনুযায়ীই শিক্ষাবর্ষ চলবে। নতুন সময়সূচি বহাল নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী: স্কুল ছুটি শুরু হবে ১৫ জুলাই পুনরায় ক্লাস শুরু হবে ৩১ আগস্ট প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম জানান, “সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষা।” শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাবের শঙ্কা মেক্সিকোর গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেক্সিকো এভালুয়া বলেছে, শিক্ষাবর্ষ ৪০ দিন কমানো হলে প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত, যা তাদের শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। বিশ্বকাপ ঘিরে প্রস্তুতি চলছে আগামী ১১ জুন শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যৌথভাবে এই আসর আয়োজন করছে। উদ্বোধনী ম্যাচ হবে মেক্সিকো সিটিতে, যেখানে স্বাগতিক দল মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। সরকার জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ সময়মতো শেষ করা হবে।
লিওনেল মেসি-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে আসন্ন বিশ্বকাপকে ঘিরে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল-এর পরিকল্পনায় তিনি থাকবেন কি না—এ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে চলছে জোর আলোচনা। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মেসির অংশগ্রহণ নির্ভর করবে তার শারীরিক ফিটনেস, ক্লাব ক্যারিয়ারের চাপ এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনার ওপর। যদিও বয়স বাড়লেও তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় প্রভাব রাখতে সক্ষম—তা আগের পারফরম্যান্সেই প্রমাণিত। আর্জেন্টিনা কোচিং স্টাফের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, দল গঠনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দেরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে মেসির মতো একজন কিংবদন্তির উপস্থিতি মাঠের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমেও বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি তিনি পুরোপুরি ফিট থাকেন, তাহলে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশনে তার ভূমিকা আবারও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—হোক সেটা শুরু একাদশে বা বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে মেসি থাকবেন কি থাকবেন না—এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সময় ও তার সিদ্ধান্তের ওপরই।
ফরাসি ফুটবলের শীর্ষ প্রতিযোগিতা লিগ ওয়ান-এ টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে। তার এই অর্জন ইউরোপিয়ান ফুটবলে চলতি মৌসুমে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুর্দান্ত গতি, অসাধারণ ড্রিবলিং দক্ষতা এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল ও অ্যাসিস্ট করে দেম্বেলে পুরো মৌসুমজুড়েই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে বারবার ছিন্নভিন্ন করে দলকে এনে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ জয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে এসে যেভাবে তিনি ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই নয়, দলের আক্রমণভাগে তার প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। পুরস্কার ঘোষণার পর দেম্বেলে বলেন, এই অর্জন তার জন্য গর্বের হলেও তিনি এটিকে পুরো দলের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখেন। কোচিং স্টাফ, সতীর্থ এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। এই টানা দ্বিতীয় সাফল্যের মাধ্যমে লিগ ওয়ানের ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন দেম্বেলে। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান ফুটবলে তিনি নিজেকে আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা উইঙ্গার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন।
ঐতিহাসিক এক জয়ে নতুন অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল-কে হারিয়ে ক্রিকেটে স্মরণীয় সাফল্য তুলে নিয়েছে টাইগাররা। দুর্দান্ত ব্যাটিং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ইনিংসের পর বোলারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্সে চাপে পড়ে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের দাপুটে পারফরম্যান্সের সামনে টিকতে পারেনি সফরকারীরা। এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটল বাংলাদেশের। এর আগে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বেশ কয়েকবার লড়াই করেও জয় পায়নি টাইগাররা। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস গড়ল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচ শেষে ক্রিকেটপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকরাও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। অধিনায়ক বলেন, দলের সবাই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন এবং এই জয় পুরো দেশের জন্য বিশেষ কিছু। অন্যদিকে পাকিস্তান অধিনায়ক স্বীকার করেন, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাদের দল চাপ সামলাতে পারেনি। এই ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাস যোগাবে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
রেফারির কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর্সেনালের ম্যাচের ফলাফল ও ক্লাবের চলমান মৌসুমের গতিপথই বদলে দিতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন দলটির প্রধান কোচ মিকেল আর্তেতা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্তেতা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত তার দলের বিপক্ষে গেছে, যা সরাসরি খেলার নিয়ন্ত্রণ ও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তার মতে, এসব সিদ্ধান্ত যদি ভিন্ন হতো, তাহলে আর্সেনালের ইতিহাস ও শিরোপা লড়াইয়ের দৃশ্যপটও ভিন্ন হতে পারত। আর্তেতা আরও ইঙ্গিত দেন যে, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ছোট ছোট সিদ্ধান্তও বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। বিশেষ করে শীর্ষ ক্লাবগুলোর ম্যাচে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে তিনি সরাসরি রেফারিকে দোষারোপ না করে বলেন, দলকে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে, যেখানে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এলেও ম্যাচ থেকে সাফল্য ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আর্তেতার এই মন্তব্য শুধু একটি ম্যাচের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং চলতি মৌসুমে আর্সেনালের শিরোপা প্রতিযোগিতার চাপ ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর সিদ্ধান্ত নিয়ে চলমান আলোচনারই অংশ। আর্সেনাল বর্তমানে শিরোপা লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে থাকলেও এমন বিতর্কিত মুহূর্তগুলো ভবিষ্যতে পয়েন্ট টেবিল ও শিরোপা নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
লা লিগায় শিরোপা দৌড় শেষ মুহূর্তে জমে উঠবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও এল ক্লাসিকোতে সেই উত্তেজনার ছাপই দেখা গেল না। ঘরের মাঠে দাপুটে পারফরম্যান্সে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা। রোববার রাতে ক্যাম্প ন্যুয়ে অনুষ্ঠিত মৌসুমের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকোয় শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় হান্সি ফ্লিকের দল। প্রথমার্ধেই মার্কাস র্যাশফোর্ড ও ফেররান তরেসের গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। এই জয়ের মাধ্যমে লা লিগায় ২৯তম শিরোপা ঘরে তুলল কাতালান ক্লাবটি, যা তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে রিয়ালকে হারিয়ে লিগ শিরোপা উদযাপন করার অনন্য রেকর্ডও গড়েছে বার্সা। ৩৫ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার সংগ্রহ ৩০ জয় ও এক ড্রয়ে ৯১ পয়েন্ট। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের ২৪ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে পয়েন্ট ৭৭। ফলে তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচের শুরুতেই দানি ওলমোর ফ্রি-কিক থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করেন র্যাশফোর্ড। এরপর দ্রুতই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেররান তরেস, যিনি দানি ওলমোর কাটব্যাক থেকে সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা কাজে আসেনি। জুড বেলিংহ্যামের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত আর কোনো পরিবর্তন না আসায় জয় নিয়েই শিরোপা উদযাপন শুরু করে বার্সেলোনা। ব্যক্তিগত শোক নিয়েও ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন কোচ হান্সি ফ্লিক, যিনি বাবাকে হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডাগআউটে দাঁড়িয়ে দলকে নেতৃত্ব দেন। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মৌসুমেই লিগ শিরোপা জেতার পর এবারও তিনি সাফল্যের ধারা বজায় রাখলেন। বার্সেলোনা এখন নজর দিচ্ছে মৌসুম শেষ করার দিকে—শেষ তিন ম্যাচে আলাভেস, রিয়াল বেতিস ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ১০০ পয়েন্টের মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে কাতালানরা।
১৯০২ সালের ১৩ মে। কোপা দেল রে-এর পূর্ব সংস্করণ কোপা দেল লা করোনাসিওন-এ মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা ও মাদ্রিদ এফসি। স্প্যানিশ রাজধানীতে মাদ্রিদ এফসির বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। পরে এই মাদ্রিদ এফসি পরিবর্তিত হয়ে রিয়াল মাদ্রিদ নামধারণ করে। ফুটবলে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস ১২৪ বছরের পুরোনো। এখন এই দুই দলের লড়াই মানেই তুমুল উত্তেজনা, যার আরেক নাম ‘এল ক্লাসিকো’। এই দীর্ঘ সময়ে রিয়াল ও বার্সেলোনার মধ্যে খেলা হয়েছে ২৬১ ম্যাচ। রিয়াল জিতেছে ১০৬ ম্যাচ, বার্সা ১০৫টি। লা লিগার দীর্ঘ ৯৭ বছরের ইতিহাসে দুই দল খেলেছে ১৯১ ম্যাচ। রিয়াল ও বার্সার জয় যথাক্রমে ৮০ ও ৭৬। চলতি লিগ মৌসুমে প্রথম দেখায় রিয়াল ২-১ গোলে জিতেছিল। আর সবশেষ ক্লাসিকোতে জেতে বার্সা, স্প্যানিশ কাপ ফাইনালে তারা রিয়ালকে হারায় ৩-২ গোলে। ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাদ্রিদ ক্লাবের মুখোমুখি হবে বার্সা। তবে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটতে পারে এদিন। এর আগে কখনো এমন হয়নি যে, এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যকার কোনো ম্যাচ চলাকালে সরাসরি লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গেছে। আগে অনেকবার ক্লাসিকো ম্যাচের ফলের ওপর শিরোপার ভাগ্য নির্ভর করলেও মাঠেই এই দুই দলের খেলা চলাকালে গাণিতিকভাবে শিরোপা জয় নিশ্চিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম হতে যাচ্ছে। বর্তমানে বার্সেলোনা পয়েন্ট টেবিলে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। এই ম্যাচে বার্সেলোনা যদি ড্র করতে পারে, তবে হাতে থাকা বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফল যাই হোক না কেন, রিয়াল আর তাদের টপকাতে পারবে না। অর্থাৎ, মাঠেই বার্সা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষিত হবে। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে নিজেদের মাঠে খেলে শিরোপা জেতা তাদের জন্য নিঃসন্দেহে গৌরবের ব্যাপার হবে। বার্সার ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং বললেন সেই কথা, ‘এবারের এল ক্লাসিকো বিশেষ। কারণ আমরা লা লিগা ট্রফি জিততে পারি।’ এফএইচএম
এভারটনের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্রয়ের পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা দৌড়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আর হাতে নেই বলে স্বীকার করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এখন আর এটা আমাদের হাতে নেই; আগে ছিল, এখন নেই। সামনে চারটি ম্যাচ বাকি, প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হবে। দেখি কী হয়।” এভারটন ও ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জিততে পারলে পয়েন্ট টেবিলে আর্সেনালের সমতায় যাওয়ার সুযোগ ছিল সিটির সামনে। কিন্তু ড্রয়ের কারণে তারা এখন পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে, যদিও একটি ম্যাচ কম খেলেছে। ফলে শিরোপা জিততে এখন আর্সেনালের পয়েন্ট হারানোর অপেক্ষায় থাকতে হবে গার্দিওলার দলকে। লিভারপুলের গুডিসন পার্কে ম্যাচ শেষে তিন পয়েন্ট না পেলেও এক পয়েন্টকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন গার্দিওলা। তিনি বলেন, “হারার চেয়ে এটা ভালো। আমরা জিততেই খেলি, সেটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। আজ আমরা দেখিয়েছি আমরা কেমন দল। খেলোয়াড়রা আক্রমণাত্মক ছিল এবং সবকিছু চেষ্টা করেছে।” ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ৯৭তম মিনিটে জেরেমি ডোকুর গোলে সমতা ফেরায় সিটি। এই উইঙ্গারও হতাশা প্রকাশ করলেও শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে যাননি। তিনি বলেন, “এখন কষ্ট লাগছে, কিন্তু এখনও অনেক ম্যাচ বাকি। যেকোনো কিছুই হতে পারে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।” ৮৩তম মিনিটে গোল করা আর্লিং হলান্ডও ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে করমর্দনের সময় বলেন, “আমরা এখনও লড়াইয়ে আছি।” সিটির সামনে এখন ব্রেন্টফোর্ড, ক্রিস্টাল প্যালেস, বোর্নমাউথ ও অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে চারটি ম্যাচ বাকি। অন্যদিকে তুলনামূলক সহজ সূচি পেয়েছে আর্সেনাল, যারা খেলবে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড, ইতোমধ্যে অবনমিত বার্নলি এবং প্যালেসের বিপক্ষে। শিরোপা দৌড়ে ধাক্কা খেলেও ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের সুযোগ এখনো রয়েছে সিটির সামনে। ইতোমধ্যে তারা লিগ কাপ জিতেছে এবং আগামী ১৬ মে এফএ কাপ ফাইনালে চেলসির মুখোমুখি হবে গার্দিওলার দল।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসের অন্যতম দলিল পাক্ষিক ক্রীড়াজগত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে ১৯৭৭ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসা এই পত্রিকার প্রথম সংখ্যার (২০ জুলাই ১৯৭৭) প্রচ্ছদকন্যা ছিলেন বিশিষ্ট জিমন্যাস্ট খুরশিদা আক্তার খুশি। সাবেক এই কৃতি অ্যাথলেট আজ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সত্তর ও আশির দশকে নারীদের জন্য খেলাধুলায় আসা আজকের মতো সহজ ছিল না। সেই সময়ে একজন নারী হিসেবে জিমন্যাস্টিকসের মতো চ্যালেঞ্জিং খেলায় অংশগ্রহণ ছিল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। খেলার মাঠ ছাড়িয়ে দেশের প্রথম ক্রীড়া পত্রিকার প্রচ্ছদে স্থান পাওয়া জিমন্যাস্ট খুশির অবস্থানকে ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। খুশির মূল পরিচয় জিমন্যাস্ট হলেও তিনি একজন জাতীয় জুডো চ্যাম্পিয়নও ছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে জুডো ও জিমন্যাস্টিকস উভয় মাধ্যমেই পারদর্শিতা দেখালেও পরবর্তীতে জিমন্যাস্টিকসকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। ক্রীড়াক্ষেত্র থেকে অবসর নেওয়ার পর কোচ হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে কর্মরত ছিলেন। ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন। দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ক্রীড়াঙ্গন থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। আজ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আগামীকাল বাদ জোহর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট র্বোডের (বিসিবি) দায়িত্ব নিয়েই সাবেক অধিনায়কদের হাতে ক্যাপ্টেনস কার্ড তুলে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। শুধু সাবেক অধিনায়কদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ায় তামিমের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন তাপস বৈশ্য। তবে তামিম এবার জানালেন, অধিনায়কদের মতো জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটারদেরও বিশেষ সুবিধা দেবে বিসিবি। বাংলাদেশের হয়ে খেলা ক্রিকেটারদের জন্য মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ব্যালকনি ও বিশেষ লাউঞ্জ বানাচ্ছে বোর্ড। অনেকটা ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসের আদলে হতে পারে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ব্যালকনি ও বিশেষ লাউঞ্জ। লর্ডসে স্বল্প সংখ্যক ক্রিকেটার ও ম্যানেজমেন্টের সদস্য বসতে পারলেও মিরপুরে সেটা হবে বড় পরিসরে। সেখানে বসে গল্প, আড্ডার পাশাপাশি খেলা দেখতে পারবেন সাবেক ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা ক্রিকেটারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দিতে পারায় খুশি তামিম। আজ বোর্ড সভাপতি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আশা করি বাংলাদেশকে যারা প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাদের জন্য নির্দিষ্ট একটা জায়গা হয়ে যাবে। ওনারা আসবেন, দলকে সমর্থন দেবেন, খেলা দেখবেন। মাঝে মাঝে যখন খেলা থাকবে না, তখন এসে এখানে গল্প করবেন, কফি খাবেন, ব্যালকনিতে বসবেন, মাঠের দৃশ্য উপভোগ করবেন। এটা ওনারা পাওয়ার যোগ্য। ’ তামিম মনে করেন, এটি আরো আগে হওয়া উচিত ছিল, ‘আমি মনে করি জিনিসটা হওয়া খুব দরকার এবং এটা অনেক আগে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কোনো কারণে হয়নি। তবে এটা দিয়ে আমরা শুরু করছি।’ তামিম আরো জানিয়েছেন, পুরনো স্থাপনা ভেঙে নতুন নকশায় করা হবে ব্যালকনি ও বিশেষ লাউঞ্জ। কাজ শেষ হতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।
ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে স্ত্রী ও প্রেমিকাদের সফর নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এর জেরে কোহলি-রোহিত-বুমরাদের বিদেশ সফরে পরিবারের সদস্যদের জন্য দিন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এবার আইপিএলে সামনে এল নতুন একটি বিষয়—গার্লফ্রেন্ড কালচার। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্রিকেটারকে তাদের প্রেমিকাদের নিয়ে দলীয় বাসে যাতায়াত ও টিম হোটেলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এই সংস্কৃতি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে বিসিসিআই। ভারতের দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হার্দিক পান্ডিয়া, অর্শদীপ সিং, যশস্বী জয়সোয়াল ও ঈশান কিশানদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রেমিকাদের প্রায়ই দেখা যায়। কেউ কেউ খেলোয়াড়দের টিম বাসে হোটেলেও যান। এসব ব্যাপারে বিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। পরবর্তী বোর্ড সভায় এটি তোলা হবে। খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের হোটেলে থাকার বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে প্রেমিকাদের ব্যাপারে আমাদের আরেকটু সিরিয়াস হতে হবে।’ ভারতের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিবারের থাকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে বিসিসিআই একটি নীতিমালা তৈরি করে। এতে বলা হয়, বিদেশ সফর ৪৫ দিনের বেশি হলে পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সঙ্গে থাকতে পারবেন। তবে আইপিএলে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। এ ব্যাপারে আইপিএলে নতুন নিয়মের আভাস দেন বোর্ডের সেই কর্মকর্তা, ‘আগে আইপিএলে খেলোয়াড়দের হোটেলে প্রেমিকাদের থাকার অনুমতি ছিল না। কিন্তু এখন এটি একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ শুধু পরিচিত তারকারাই নন, অনেক কম পরিচিত খেলোয়াড়ও প্রেমিকাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন। কেউ সরাসরি টিম হোটেলে থাকছেন, আবার কেউ ম্যাচের শহরে অবস্থান করে সুযোগমতো দেখা করছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, কেউ কেউ আগে জুয়ার ওয়েবসাইটের প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক সফরে দল ব্যবস্থাপনা করে বিসিসিআই। কিন্তু আইপিএলে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের মতো করে চলে। এ কারণে নিয়ন্ত্রণ কম। কিছু ক্ষেত্রে এমন অভিযোগও উঠেছে যে, টিম বাস খেলোয়াড়দের প্রেমিকাদের জন্য অপেক্ষা করে। সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে—এমন শঙ্কায় ক্রিকেটারদের প্রেমিকাদের বিষয়ে জাতীয় দল ও আইপিএল মিলিয়ে অভিন্ন নীতিমালা তৈরি হতে পারে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা।
আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের বৈঠকের পর সরকারিভাবে এ ঘোষণা আসে। সিদ্ধান্তটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত–পাকিস্তান গ্রুপ ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। তবে বয়কটের ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আফ্রিদি ক্রিকেটকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখার নিজের পুরোনো বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনীতি যেখানে সম্পর্কের দরজা বন্ধ করে দেয়, ক্রিকেট সেখানে সংযোগের নতুন পথ তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতি কড়া বার্তাও দেন। আফ্রিদির ভাষায়, এখন সংস্থাটির উচিত কথার বদলে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায্যতার প্রমাণ দেওয়া। গতকাল রবিবার পাকিস্তান সরকার নিশ্চিত করে, দল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য আইসিসির ওপর আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করা বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে নাকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ অনুসরণের অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, সংস্থাটি ভারতের বোর্ড বিসিসিআই–এর প্রভাবের বাইরে থাকতে পারছে না। পাকিস্তানের এই অবস্থানের পেছনে আরেকটি বিতর্কও রয়েছে। ২০ দলের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার সময় আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অনীহা জানায়। সম্প্রতি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরো সংবেদনশীল করে তোলে। এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশও ভারতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো নিয়ে আপত্তি তোলে। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—এই তিনের জটিল সমীকরণেই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
ইতালির জ্যানিক সিনারের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে জয় এভাবেই উদযাপন করেন সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ। ছবি : রয়টার্স বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে স্বপ্নের পথে ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ। এই জয়ে স্প্যানিশ তারকা কার্লোস আলকারাজের সঙ্গে এক ব্লকবাস্টার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনাল নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে আলকারাজ নিজেও আলেকজান্ডার জ্ভেরেভের সঙ্গে পাঁচ সেটের কঠিন লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে পৌঁছান। ৩৮ বছর বয়সী সার্বিয়ান তারকা বয়সকে জয় করে রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার লক্ষ্যে এগিয়ে থাকার স্বপ্ন জিইয়ে রাখেন। রড লেভার অ্যারেনায় ৪ ঘণ্টা ৯ মিনিটের এক ম্যারাথন ম্যাচে তিনি ইতালিয়ান সিনারকে ৩–৬, ৬–৩, ৪–৬, ৬–৪, ৬–৪ ব্যবধানে পরাজিত করেন। ম্যাচ শেষে কোর্টে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন জকোভিচ। আর যে মাত্র এক ম্যাচ তারপরই ইতিহাস। জয়ের পর জোকোভিচ বলেন, ‘এই মুহূর্তে সত্যি বলতে আমার কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এটা অবাস্তব মনে হচ্ছে।’ জোকোভিচ জানান, সিনারের বিপক্ষে আগের পাঁচটি সাক্ষাতে হারের পর তিনি তাকে ‘গত কয়েক বছরে অন্তত একটি জয় পেতে দেওয়ার জন্য’ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, সে আমাকে শেষ সীমা পর্যন্ত ঠেলে দিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তীব্রতার মাত্রা এবং সম্ভবত টেনিসের মান ছিল অত্যন্ত উঁচু, আর আমি জানতাম—আজ জয়ের সুযোগ পেতে হলে এটাই একমাত্র পথ। ’ এই জয়ে জোকোভিচ তার ক্যারিয়ারের ৩৯তম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে পৌঁছলেন এবং ওপেন যুগে মেলবোর্নে শিরোপা ম্যাচে ওঠা সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ খেলোয়াড় হলেন—যেখানে তিনি এর আগে ১০ বার শিরোপা জিতেছেন। ২০২৪ সালের উইম্বলডনের পর এটিই তার প্রথম ফাইনাল উপস্থিতি। স্টেডিয়ামে উপস্থিত মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে ঐতিহাসিক ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের লক্ষ্যে জোকোভিচ ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সিনার ও আলকারাসের উত্থানের ফলে কাজটি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। তাদের দুজনই এরপর থেকে সব গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিজিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি : সংগৃহীত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধিদলের বহুল আলোচিত বৈঠক। তবে বিসিবির অনড় অবস্থান পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে- ভারতের মাটিতে খেলতে রাজি নয় তারা। আইসিসির সাথে বৈঠকে বিশ্বকাপ ভেন্যু সমস্যা নিরসনে সম্ভাব্য সমাধানের পথ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সফরে আইসিসির প্রতিনিধি হিসেবে হাজির হন সংস্থাটির ইন্ট্রেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। ভিসা দেরিতে পাওয়ায় সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলেও অনলাইনে যোগ দেন ইভেন্ট অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনসের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা। বিসিবির পক্ষ থেকে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। বৈঠকে টাইগারদের বিশ্বকাপ ম্যাচ ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের জন্য নিজেদের ভাবনা আইসিসির কাছে পুনর্ব্যক্ত করে বিসিবি। একইসাথে বাংলাদেশ দল, সাংবাদিক, দর্শক ও অন্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মতামতের কথাও অবহিত করা হয়। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, আইসিসির প্রতিনিধিরা বিসিবির কথা শুনলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। আইসিসি সভাপতি জয় শাহর সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানিয়েছে তারা। তবে আলোচনা গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল জানিয়ে বিসিবি উল্লেখ করেছে, লজিস্টিক বিষয়গুলো সহজভাবে যাতে হয়, এজন্য বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তন করে অন্য কোনো গ্রুপে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই শ্রীলঙ্কায়। আইরিশদের সাথে গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েই সম্ভবত আলোচনা হয়েছে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে। শেষপর্যন্ত ভেন্যুর বিষয়ে অবশ্য কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত আছে বলে বিসিবি দাবি করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।