খেলা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ঘিরে স্কুল ছুটি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত বাতিল করল মেক্সিকো

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্কুলের শিক্ষাবর্ষ সংক্ষিপ্ত করার যে পরিকল্পনা নিয়েছিল মেক্সিকো সরকার, শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় প্রশাসনের তীব্র বিরোধিতার মুখে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে দেশটির শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।   আকস্মিক সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক শিক্ষা সচিব মারিও দেলগাদো গত শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছিলেন যে চলমান তাপপ্রবাহ ও বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে এবারের শিক্ষাবর্ষ ৫ জুনেই শেষ করা হবে। অর্থাৎ প্রায় ৪০ দিন আগেই স্কুল ছুটি শুরু হতো। কিন্তু ঘোষণার পরপরই দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।   প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপ ও জরুরি বৈঠক বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অভিভাবকদের মতামত যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন। সোমবারের সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়—আগের সূচি অনুযায়ীই শিক্ষাবর্ষ চলবে।   নতুন সময়সূচি বহাল নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী: স্কুল ছুটি শুরু হবে ১৫ জুলাই পুনরায় ক্লাস শুরু হবে ৩১ আগস্ট প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম জানান, “সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষা।”   শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাবের শঙ্কা মেক্সিকোর গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেক্সিকো এভালুয়া বলেছে, শিক্ষাবর্ষ ৪০ দিন কমানো হলে প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত, যা তাদের শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত।   বিশ্বকাপ ঘিরে প্রস্তুতি চলছে আগামী ১১ জুন শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যৌথভাবে এই আসর আয়োজন করছে। উদ্বোধনী ম্যাচ হবে মেক্সিকো সিটিতে, যেখানে স্বাগতিক দল মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। সরকার জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ সময়মতো শেষ করা হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ রক্ষার মিশনে কি থাকছেন লিওনেল মেসি?

লিওনেল মেসি-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে আসন্ন বিশ্বকাপকে ঘিরে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল-এর পরিকল্পনায় তিনি থাকবেন কি না—এ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে চলছে জোর আলোচনা।   ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মেসির অংশগ্রহণ নির্ভর করবে তার শারীরিক ফিটনেস, ক্লাব ক্যারিয়ারের চাপ এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনার ওপর। যদিও বয়স বাড়লেও তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় প্রভাব রাখতে সক্ষম—তা আগের পারফরম্যান্সেই প্রমাণিত।   আর্জেন্টিনা কোচিং স্টাফের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, দল গঠনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দেরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে মেসির মতো একজন কিংবদন্তির উপস্থিতি মাঠের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমেও বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।   বিশ্লেষকদের মতে, যদি তিনি পুরোপুরি ফিট থাকেন, তাহলে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশনে তার ভূমিকা আবারও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—হোক সেটা শুরু একাদশে বা বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে।   তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে মেসি থাকবেন কি থাকবেন না—এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সময় ও তার সিদ্ধান্তের ওপরই।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
টানা দ্বিতীয়বার লিগ ওয়ানের বর্ষসেরা খেলোয়াড় দেম্বেলে

ফরাসি ফুটবলের শীর্ষ প্রতিযোগিতা লিগ ওয়ান-এ টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ফরাসি তারকা উসমান দেম্বেলে। তার এই অর্জন ইউরোপিয়ান ফুটবলে চলতি মৌসুমে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   দুর্দান্ত গতি, অসাধারণ ড্রিবলিং দক্ষতা এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল ও অ্যাসিস্ট করে দেম্বেলে পুরো মৌসুমজুড়েই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে বারবার ছিন্নভিন্ন করে দলকে এনে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ জয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে এসে যেভাবে তিনি ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই নয়, দলের আক্রমণভাগে তার প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি।   পুরস্কার ঘোষণার পর দেম্বেলে বলেন, এই অর্জন তার জন্য গর্বের হলেও তিনি এটিকে পুরো দলের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখেন। কোচিং স্টাফ, সতীর্থ এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।   এই টানা দ্বিতীয় সাফল্যের মাধ্যমে লিগ ওয়ানের ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন দেম্বেলে। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান ফুটবলে তিনি নিজেকে আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা উইঙ্গার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, ঘরের মাঠে প্রথমবার হারল পাকিস্তান

ঐতিহাসিক এক জয়ে নতুন অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল-কে হারিয়ে ক্রিকেটে স্মরণীয় সাফল্য তুলে নিয়েছে টাইগাররা।   দুর্দান্ত ব্যাটিং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ইনিংসের পর বোলারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্সে চাপে পড়ে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের দাপুটে পারফরম্যান্সের সামনে টিকতে পারেনি সফরকারীরা।   এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটল বাংলাদেশের। এর আগে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বেশ কয়েকবার লড়াই করেও জয় পায়নি টাইগাররা। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস গড়ল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।   ম্যাচ শেষে ক্রিকেটপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকরাও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন।   অধিনায়ক বলেন, দলের সবাই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন এবং এই জয় পুরো দেশের জন্য বিশেষ কিছু। অন্যদিকে পাকিস্তান অধিনায়ক স্বীকার করেন, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাদের দল চাপ সামলাতে পারেনি।   এই ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাস যোগাবে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর্সেনালের ইতিহাস বদলে দিতে পারে: আর্তেতা

রেফারির কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর্সেনালের ম্যাচের ফলাফল ও ক্লাবের চলমান মৌসুমের গতিপথই বদলে দিতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন দলটির প্রধান কোচ মিকেল আর্তেতা।   ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্তেতা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত তার দলের বিপক্ষে গেছে, যা সরাসরি খেলার নিয়ন্ত্রণ ও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তার মতে, এসব সিদ্ধান্ত যদি ভিন্ন হতো, তাহলে আর্সেনালের ইতিহাস ও শিরোপা লড়াইয়ের দৃশ্যপটও ভিন্ন হতে পারত।   আর্তেতা আরও ইঙ্গিত দেন যে, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ছোট ছোট সিদ্ধান্তও বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। বিশেষ করে শীর্ষ ক্লাবগুলোর ম্যাচে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   তবে তিনি সরাসরি রেফারিকে দোষারোপ না করে বলেন, দলকে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে, যেখানে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এলেও ম্যাচ থেকে সাফল্য ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, আর্তেতার এই মন্তব্য শুধু একটি ম্যাচের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং চলতি মৌসুমে আর্সেনালের শিরোপা প্রতিযোগিতার চাপ ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর সিদ্ধান্ত নিয়ে চলমান আলোচনারই অংশ।   আর্সেনাল বর্তমানে শিরোপা লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে থাকলেও এমন বিতর্কিত মুহূর্তগুলো ভবিষ্যতে পয়েন্ট টেবিল ও শিরোপা নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শিরোপা উৎসবে বার্সেলোনা

লা লিগায় শিরোপা দৌড় শেষ মুহূর্তে জমে উঠবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও এল ক্লাসিকোতে সেই উত্তেজনার ছাপই দেখা গেল না। ঘরের মাঠে দাপুটে পারফরম্যান্সে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা।   রোববার রাতে ক্যাম্প ন্যুয়ে অনুষ্ঠিত মৌসুমের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকোয় শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় হান্সি ফ্লিকের দল। প্রথমার্ধেই মার্কাস র‌্যাশফোর্ড ও ফেররান তরেসের গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা।   এই জয়ের মাধ্যমে লা লিগায় ২৯তম শিরোপা ঘরে তুলল কাতালান ক্লাবটি, যা তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে রিয়ালকে হারিয়ে লিগ শিরোপা উদযাপন করার অনন্য রেকর্ডও গড়েছে বার্সা।   ৩৫ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার সংগ্রহ ৩০ জয় ও এক ড্রয়ে ৯১ পয়েন্ট। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের ২৪ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে পয়েন্ট ৭৭। ফলে তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায়।   ম্যাচের শুরুতেই দানি ওলমোর ফ্রি-কিক থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করেন র‌্যাশফোর্ড। এরপর দ্রুতই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেররান তরেস, যিনি দানি ওলমোর কাটব্যাক থেকে সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন।   দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা কাজে আসেনি। জুড বেলিংহ্যামের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত আর কোনো পরিবর্তন না আসায় জয় নিয়েই শিরোপা উদযাপন শুরু করে বার্সেলোনা।   ব্যক্তিগত শোক নিয়েও ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন কোচ হান্সি ফ্লিক, যিনি বাবাকে হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডাগআউটে দাঁড়িয়ে দলকে নেতৃত্ব দেন। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মৌসুমেই লিগ শিরোপা জেতার পর এবারও তিনি সাফল্যের ধারা বজায় রাখলেন।   বার্সেলোনা এখন নজর দিচ্ছে মৌসুম শেষ করার দিকে—শেষ তিন ম্যাচে আলাভেস, রিয়াল বেতিস ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ১০০ পয়েন্টের মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে কাতালানরা।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
লা লিগার ৯৭ বছরের ইতিহাসে এমন উপলক্ষ কখনো আসেনি

১৯০২ সালের ১৩ মে। কোপা দেল রে-এর পূর্ব সংস্করণ কোপা দেল লা করোনাসিওন-এ মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা ও মাদ্রিদ এফসি। স্প্যানিশ রাজধানীতে মাদ্রিদ এফসির বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। পরে এই মাদ্রিদ এফসি পরিবর্তিত হয়ে রিয়াল মাদ্রিদ নামধারণ করে। ফুটবলে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস ১২৪ বছরের পুরোনো। এখন এই দুই দলের লড়াই মানেই তুমুল উত্তেজনা, যার আরেক নাম ‘এল ক্লাসিকো’।   এই দীর্ঘ সময়ে রিয়াল ও বার্সেলোনার মধ্যে খেলা হয়েছে ২৬১ ম্যাচ। রিয়াল জিতেছে ১০৬ ম্যাচ, বার্সা ১০৫টি। লা লিগার দীর্ঘ ৯৭ বছরের ইতিহাসে  দুই দল খেলেছে ১৯১ ম্যাচ। রিয়াল ও বার্সার জয় যথাক্রমে ৮০ ও ৭৬। চলতি লিগ মৌসুমে প্রথম দেখায় রিয়াল ২-১ গোলে জিতেছিল। আর সবশেষ ক্লাসিকোতে জেতে বার্সা, স্প্যানিশ কাপ ফাইনালে তারা রিয়ালকে হারায় ৩-২ গোলে।   ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাদ্রিদ ক্লাবের মুখোমুখি হবে বার্সা। তবে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটতে পারে এদিন। এর আগে কখনো এমন হয়নি যে,  এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যকার কোনো ম্যাচ চলাকালে সরাসরি লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গেছে।   আগে অনেকবার ক্লাসিকো ম্যাচের ফলের ওপর শিরোপার ভাগ্য নির্ভর করলেও মাঠেই এই দুই দলের খেলা চলাকালে গাণিতিকভাবে শিরোপা জয় নিশ্চিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম হতে যাচ্ছে।   বর্তমানে বার্সেলোনা পয়েন্ট টেবিলে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। এই ম্যাচে বার্সেলোনা যদি ড্র করতে পারে, তবে হাতে থাকা বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফল যাই হোক না কেন, রিয়াল আর তাদের টপকাতে পারবে না। অর্থাৎ, মাঠেই বার্সা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষিত হবে। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে নিজেদের মাঠে খেলে শিরোপা জেতা তাদের জন্য নিঃসন্দেহে গৌরবের ব্যাপার হবে। বার্সার ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং বললেন সেই কথা, ‘এবারের এল ক্লাসিকো বিশেষ। কারণ আমরা লা লিগা ট্রফি জিততে পারি।’   এফএইচএম

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শিরোপার নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া, স্বীকার করলেন পেপ গার্দিওলা

এভারটনের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্রয়ের পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা দৌড়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আর হাতে নেই বলে স্বীকার করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা।   ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এখন আর এটা আমাদের হাতে নেই; আগে ছিল, এখন নেই। সামনে চারটি ম্যাচ বাকি, প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হবে। দেখি কী হয়।”   এভারটন ও ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জিততে পারলে পয়েন্ট টেবিলে আর্সেনালের সমতায় যাওয়ার সুযোগ ছিল সিটির সামনে। কিন্তু ড্রয়ের কারণে তারা এখন পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে, যদিও একটি ম্যাচ কম খেলেছে। ফলে শিরোপা জিততে এখন আর্সেনালের পয়েন্ট হারানোর অপেক্ষায় থাকতে হবে গার্দিওলার দলকে।   লিভারপুলের গুডিসন পার্কে ম্যাচ শেষে তিন পয়েন্ট না পেলেও এক পয়েন্টকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন গার্দিওলা। তিনি বলেন, “হারার চেয়ে এটা ভালো। আমরা জিততেই খেলি, সেটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। আজ আমরা দেখিয়েছি আমরা কেমন দল। খেলোয়াড়রা আক্রমণাত্মক ছিল এবং সবকিছু চেষ্টা করেছে।”   ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ৯৭তম মিনিটে জেরেমি ডোকুর গোলে সমতা ফেরায় সিটি। এই উইঙ্গারও হতাশা প্রকাশ করলেও শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে যাননি। তিনি বলেন, “এখন কষ্ট লাগছে, কিন্তু এখনও অনেক ম্যাচ বাকি। যেকোনো কিছুই হতে পারে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”   ৮৩তম মিনিটে গোল করা আর্লিং হলান্ডও ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে করমর্দনের সময় বলেন, “আমরা এখনও লড়াইয়ে আছি।”   সিটির সামনে এখন ব্রেন্টফোর্ড, ক্রিস্টাল প্যালেস, বোর্নমাউথ ও অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে চারটি ম্যাচ বাকি। অন্যদিকে তুলনামূলক সহজ সূচি পেয়েছে আর্সেনাল, যারা খেলবে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড, ইতোমধ্যে অবনমিত বার্নলি এবং প্যালেসের বিপক্ষে।   শিরোপা দৌড়ে ধাক্কা খেলেও ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের সুযোগ এখনো রয়েছে সিটির সামনে। ইতোমধ্যে তারা লিগ কাপ জিতেছে এবং আগামী ১৬ মে এফএ কাপ ফাইনালে চেলসির মুখোমুখি হবে গার্দিওলার দল।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ক্রীড়াজগতের প্রথম প্রচ্ছদকন্যা জিমন্যাস্ট খুশি আর নেই

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসের অন্যতম দলিল পাক্ষিক ক্রীড়াজগত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে ১৯৭৭ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসা এই পত্রিকার প্রথম সংখ্যার (২০ জুলাই ১৯৭৭) প্রচ্ছদকন্যা ছিলেন বিশিষ্ট জিমন্যাস্ট খুরশিদা আক্তার খুশি। সাবেক এই কৃতি অ্যাথলেট আজ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সত্তর ও আশির দশকে নারীদের জন্য খেলাধুলায় আসা আজকের মতো সহজ ছিল না। সেই সময়ে একজন নারী হিসেবে জিমন্যাস্টিকসের মতো চ্যালেঞ্জিং খেলায় অংশগ্রহণ ছিল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। খেলার মাঠ ছাড়িয়ে দেশের প্রথম ক্রীড়া পত্রিকার প্রচ্ছদে স্থান পাওয়া জিমন্যাস্ট খুশির অবস্থানকে ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। খুশির মূল পরিচয় জিমন্যাস্ট হলেও তিনি একজন জাতীয় জুডো চ্যাম্পিয়নও ছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে জুডো ও জিমন্যাস্টিকস উভয় মাধ্যমেই পারদর্শিতা দেখালেও পরবর্তীতে জিমন্যাস্টিকসকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। ক্রীড়াক্ষেত্র থেকে অবসর নেওয়ার পর কোচ হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে কর্মরত ছিলেন। ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন। দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ক্রীড়াঙ্গন থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। আজ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আগামীকাল বাদ জোহর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

মারিয়া রহমান মে ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মিরপুরে লর্ডসের আদলে হবে ব্যালকনি, থাকছে বিশেষ লাউঞ্জ

বাংলাদেশ ক্রিকেট র্বোডের (বিসিবি) দায়িত্ব নিয়েই সাবেক অধিনায়কদের হাতে ক্যাপ্টেনস কার্ড তুলে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। শুধু সাবেক অধিনায়কদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ায় তামিমের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন তাপস বৈশ্য।  তবে তামিম এবার জানালেন, অধিনায়কদের মতো জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটারদেরও বিশেষ সুবিধা দেবে বিসিবি। বাংলাদেশের হয়ে খেলা ক্রিকেটারদের জন্য মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ব্যালকনি ও বিশেষ লাউঞ্জ বানাচ্ছে বোর্ড। অনেকটা ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসের আদলে হতে পারে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ব্যালকনি ও বিশেষ লাউঞ্জ। লর্ডসে স্বল্প সংখ্যক ক্রিকেটার ও ম্যানেজমেন্টের সদস্য বসতে পারলেও মিরপুরে সেটা হবে বড় পরিসরে। সেখানে বসে গল্প, আড্ডার পাশাপাশি খেলা দেখতে পারবেন সাবেক ক্রিকেটাররা।  বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা ক্রিকেটারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দিতে পারায় খুশি তামিম। আজ বোর্ড সভাপতি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আশা করি বাংলাদেশকে যারা প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাদের জন্য নির্দিষ্ট একটা জায়গা হয়ে যাবে। ওনারা আসবেন, দলকে সমর্থন দেবেন, খেলা দেখবেন। মাঝে মাঝে যখন খেলা থাকবে না, তখন এসে এখানে গল্প করবেন, কফি খাবেন, ব্যালকনিতে বসবেন, মাঠের দৃশ্য উপভোগ করবেন। এটা ওনারা পাওয়ার যোগ্য। ’  তামিম মনে করেন, এটি আরো আগে হওয়া উচিত ছিল, ‘আমি মনে করি জিনিসটা হওয়া খুব দরকার এবং এটা অনেক আগে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কোনো কারণে হয়নি। তবে এটা দিয়ে আমরা শুরু করছি।’  তামিম আরো জানিয়েছেন, পুরনো স্থাপনা ভেঙে নতুন নকশায় করা হবে ব্যালকনি ও বিশেষ লাউঞ্জ। কাজ শেষ হতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।

মারিয়া রহমান মে ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
‘গার্লফ্রেন্ড কালচার’ বন্ধ করতে চায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড

ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে স্ত্রী ও প্রেমিকাদের সফর নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এর জেরে কোহলি-রোহিত-বুমরাদের বিদেশ সফরে পরিবারের সদস্যদের জন্য দিন সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এবার আইপিএলে সামনে এল নতুন একটি বিষয়—গার্লফ্রেন্ড কালচার। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্রিকেটারকে তাদের প্রেমিকাদের নিয়ে দলীয় বাসে যাতায়াত ও টিম হোটেলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এই সংস্কৃতি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে বিসিসিআই। ভারতের দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হার্দিক পান্ডিয়া, অর্শদীপ সিং, যশস্বী জয়সোয়াল ও ঈশান কিশানদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রেমিকাদের প্রায়ই দেখা যায়। কেউ কেউ খেলোয়াড়দের টিম বাসে হোটেলেও যান। এসব ব্যাপারে বিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। পরবর্তী বোর্ড সভায় এটি তোলা হবে। খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের হোটেলে থাকার বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে প্রেমিকাদের ব্যাপারে আমাদের আরেকটু সিরিয়াস হতে হবে।’ ভারতের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিবারের থাকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে বিসিসিআই একটি নীতিমালা তৈরি করে। এতে বলা হয়, বিদেশ সফর ৪৫ দিনের বেশি হলে পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সঙ্গে থাকতে পারবেন।  তবে আইপিএলে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। এ ব্যাপারে আইপিএলে নতুন নিয়মের আভাস দেন বোর্ডের সেই কর্মকর্তা, ‘আগে আইপিএলে খেলোয়াড়দের হোটেলে প্রেমিকাদের থাকার অনুমতি ছিল না। কিন্তু এখন এটি একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ শুধু পরিচিত তারকারাই নন, অনেক কম পরিচিত খেলোয়াড়ও প্রেমিকাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন। কেউ সরাসরি টিম হোটেলে থাকছেন, আবার কেউ ম্যাচের শহরে অবস্থান করে সুযোগমতো দেখা করছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, কেউ কেউ আগে জুয়ার ওয়েবসাইটের প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক সফরে দল ব্যবস্থাপনা করে বিসিসিআই। কিন্তু আইপিএলে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের মতো করে চলে। এ কারণে নিয়ন্ত্রণ কম। কিছু ক্ষেত্রে এমন অভিযোগও উঠেছে যে, টিম বাস খেলোয়াড়দের প্রেমিকাদের জন্য অপেক্ষা করে। সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে—এমন শঙ্কায় ক্রিকেটারদের প্রেমিকাদের বিষয়ে জাতীয় দল ও আইপিএল মিলিয়ে অভিন্ন নীতিমালা তৈরি হতে পারে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা।

মারিয়া রহমান মে ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
‘আইসিসির এখন নেতৃত্ব দেখানোর সময়, শুধু বক্তব্য নয়’

আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের বৈঠকের পর সরকারিভাবে এ ঘোষণা আসে। সিদ্ধান্তটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত–পাকিস্তান গ্রুপ ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। তবে বয়কটের ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আফ্রিদি ক্রিকেটকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখার নিজের পুরোনো বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনীতি যেখানে সম্পর্কের দরজা বন্ধ করে দেয়, ক্রিকেট সেখানে সংযোগের নতুন পথ তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতি কড়া বার্তাও দেন। আফ্রিদির ভাষায়, এখন সংস্থাটির উচিত কথার বদলে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায্যতার প্রমাণ দেওয়া। গতকাল রবিবার পাকিস্তান সরকার নিশ্চিত করে, দল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য আইসিসির ওপর আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করা বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে নাকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ অনুসরণের অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, সংস্থাটি ভারতের বোর্ড বিসিসিআই–এর প্রভাবের বাইরে থাকতে পারছে না। পাকিস্তানের এই অবস্থানের পেছনে আরেকটি বিতর্কও রয়েছে। ২০ দলের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার সময় আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অনীহা জানায়। সম্প্রতি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরো সংবেদনশীল করে তোলে। এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশও ভারতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো নিয়ে আপত্তি তোলে। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—এই তিনের জটিল সমীকরণেই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
ইতালির জ্যানিক সিনারের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে জয় এভাবেই উদযাপন করেন সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ। ছবি : রয়টার্স
৫ সেটের লড়াইয়ে সিনারকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে জোকোভিচ

ইতালির জ্যানিক সিনারের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে জয় এভাবেই উদযাপন করেন সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ। ছবি : রয়টার্স বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে স্বপ্নের পথে ২৪টি গ্র‍্যান্ড স্লামজয়ী কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ। এই জয়ে স্প্যানিশ তারকা কার্লোস আলকারাজের সঙ্গে এক ব্লকবাস্টার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনাল নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে আলকারাজ নিজেও আলেকজান্ডার জ্ভেরেভের সঙ্গে পাঁচ সেটের কঠিন লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে পৌঁছান। ৩৮ বছর বয়সী সার্বিয়ান তারকা বয়সকে জয় করে রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার লক্ষ্যে এগিয়ে থাকার স্বপ্ন জিইয়ে রাখেন। রড লেভার অ্যারেনায় ৪ ঘণ্টা ৯ মিনিটের এক ম্যারাথন ম্যাচে তিনি ইতালিয়ান সিনারকে ৩–৬, ৬–৩, ৪–৬, ৬–৪, ৬–৪ ব্যবধানে পরাজিত করেন। ম্যাচ শেষে কোর্টে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন জকোভিচ। আর যে মাত্র এক ম্যাচ তারপরই ইতিহাস। জয়ের পর জোকোভিচ বলেন, ‘এই মুহূর্তে সত্যি বলতে আমার কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এটা অবাস্তব মনে হচ্ছে।’ জোকোভিচ জানান, সিনারের বিপক্ষে আগের পাঁচটি সাক্ষাতে হারের পর তিনি তাকে ‘গত কয়েক বছরে অন্তত একটি জয় পেতে দেওয়ার জন্য’ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, সে আমাকে শেষ সীমা পর্যন্ত ঠেলে দিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তীব্রতার মাত্রা এবং সম্ভবত টেনিসের মান ছিল অত্যন্ত উঁচু, আর আমি জানতাম—আজ জয়ের সুযোগ পেতে হলে এটাই একমাত্র পথ। ’ এই জয়ে জোকোভিচ তার ক্যারিয়ারের ৩৯তম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে পৌঁছলেন এবং ওপেন যুগে মেলবোর্নে শিরোপা ম্যাচে ওঠা সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ খেলোয়াড় হলেন—যেখানে তিনি এর আগে ১০ বার শিরোপা জিতেছেন। ২০২৪ সালের উইম্বলডনের পর এটিই তার প্রথম ফাইনাল উপস্থিতি। স্টেডিয়ামে উপস্থিত মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে ঐতিহাসিক ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের লক্ষ্যে জোকোভিচ ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সিনার ও আলকারাসের উত্থানের ফলে কাজটি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। তাদের দুজনই এরপর থেকে সব গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ৩১, ২০২৬
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিজিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি : সংগৃহীত
আইসিসির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মিটিং শেষে যা জানাল বিসিবি

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিজিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি : সংগৃহীত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধিদলের বহুল আলোচিত বৈঠক। তবে বিসিবির অনড় অবস্থান পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছে।   শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে- ভারতের মাটিতে খেলতে রাজি নয় তারা। আইসিসির সাথে বৈঠকে বিশ্বকাপ ভেন্যু সমস্যা নিরসনে সম্ভাব্য সমাধানের পথ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।   বাংলাদেশ সফরে আইসিসির প্রতিনিধি হিসেবে হাজির হন সংস্থাটির ইন্ট্রেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। ভিসা দেরিতে পাওয়ায় সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলেও অনলাইনে যোগ দেন ইভেন্ট অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনসের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা।   বিসিবির পক্ষ থেকে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।   বৈঠকে টাইগারদের বিশ্বকাপ ম্যাচ ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের জন্য নিজেদের ভাবনা আইসিসির কাছে পুনর্ব্যক্ত করে বিসিবি। একইসাথে বাংলাদেশ দল, সাংবাদিক, দর্শক ও অন্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মতামতের কথাও অবহিত করা হয়।   বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, আইসিসির প্রতিনিধিরা বিসিবির কথা শুনলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। আইসিসি সভাপতি জয় শাহর সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানিয়েছে তারা।   তবে আলোচনা গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল জানিয়ে বিসিবি উল্লেখ করেছে, লজিস্টিক বিষয়গুলো সহজভাবে যাতে হয়, এজন্য বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তন করে অন্য কোনো গ্রুপে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই শ্রীলঙ্কায়। আইরিশদের সাথে গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েই সম্ভবত আলোচনা হয়েছে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে। শেষপর্যন্ত ভেন্যুর বিষয়ে অবশ্য কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত আছে বলে বিসিবি দাবি করেছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৭, ২০২৬
মিঠুনকে হত্যার হুমকি। ছবি : ঢাকা ক্যাপিটালস
মিঠুনসহ অন্য ক্রিকেটারদের হত্যার হুমকি

মোহাম্মদ মিঠুনকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি। আজ (১৫ জানুয়ারি) বেনামি এক নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।   অডিও বার্তায় সেই অজ্ঞাত ব্যক্তি মিঠুনকে বলেছেন, ‘তোরা বাংলাদেশ ক্রিকেটে যা শুরু করেছিস তোদের কপালে দুঃখ আছে। বিসিবির বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করতেছিস, ভারতীয় দালাল।   স্টেডিয়াম থাকে বের হবি না? স্টেডিয়ামে যাবি না? কোন জায়গায় নিরাপদ থাকবি?’ শুধু মিঠুনকে নয়, অন্য ক্রিকেটারদের পরিবারকে অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে সেই হুমকিদাতা বলেছেন, ‘এই ছবিটা সুন্দর করে আমরা তুলে রাখছি। মোস্তাফিজ আর দু একজন ছাড়া সবগুলোর কপালে খুবই দুঃখ আছে। এটা খুবই ভয়াবহ হবে লিখে রাখ। মানে এটা কত দূর যাবে সেটা কল্পনাও করতে পারবে না।   শুধু লিখে রাখ। তোরা যে তামিমের দালালি করছিস।’ বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যর জের ধরে ক্রিকেটারদের খেলা বয়কটের সিদ্ধান্তের মধ্যেই এই হুমকি আসল।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৫, ২০২৬
বিপিএলের লোগো। ছবি : সংগৃহীত
বিপিএল বন্ধ! কে দেবে ৪০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ?

বিপিএল ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সৃষ্ট উত্তাপ রূপ নিয়েছে চরমে। শেষ পর্যন্ত আজ বৃহস্পতিবার টুর্নামেন্টের চলমান আসর বন্ধ রাখার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।   তার আগে বোর্ড পরিচালক এম নাজমুলকে বিসিবির অর্থ কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এতেও সমাধান মিলছে না।   জানা গেছে, তাতে সন্তুষ্ট নয় ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব।   বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের দায়িত্বশীল এক কর্তার বরাতে জানা গেছে, ক্রিকেটাররা নাকি আরও একটি আলটিমেটাম দিয়েছেন। যদি নাজমুল ইস্যুতে বিপিএল সত্যিই বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে ক্রিকেটার, কোচ, সাপোর্টিং স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সবার পেমেন্ট বিসিবিকে দিতে হবে। যার পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা।   এই দাবি খোদ কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের। জানা যায়, ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তারা ক্রিকেটে ফিরে আসতেন। কিন্তু সে অবস্থা তৈরি হয়নি। বরং পরিস্থিতি এখন ‘হ-য-ব-র-ল’। যে কারণে বিপিএল এই জায়গায় এসে বন্ধ হয়ে গেলে সে দায় বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকেই বহন করতে হবে। সব পেমেন্ট বিসিবিকেই পরিশোধ করতে হবে বলে দাবি কোয়াবের।   অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত ঘোষণা করায় অসংখ্য ক্রিকেটারের রুটি-রুজিও হুমকির মুখে পড়েছে। কেননা, দেশ-বিদেশের অনেক ক্রিকেটারেরই আর্থিক ভরসার অন্যতম উৎস টুর্নামেন্ট। যা নিয়ে তৈরি হলো চরম অনিশ্চয়তা। সেইসঙ্গে হতাশ হয়েছেন দর্শক-সমর্থকরাও। সিলেট পর্ব ভালোভাবে সম্পন্ন হলেও ঢাকা পর্বে কোনো ম্যাচ না হয়েই এমন কোনো সিদ্ধান্ত আসবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।   আজ ঢাকা পর্বের প্রথম দিন খেলা দেখতে অনেক দর্শকই গিয়েছিলেন হোম অব ক্রিকেটে। কিন্তু খেলা দেখা হয়নি। আবার কবে মাঠে গড়াবে বাংলাদেশের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ? এখন সেটাই তাদের দেখার অপেক্ষা।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৫, ২০২৬
বিসিবির সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন । ছবি : সংগৃহীত
ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল বিসিবি: ‘এক ইঞ্চিও পিছু হটব না’

আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠেয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। মঙ্গলবার আইসিসি–এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সেও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বিসিবি—বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজন করতে হবে।   বিসিবির পক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন। আলোচনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে বোর্ড জানায়, ভারতে ভ্রমণ নিয়ে তাদের উদ্বেগ আগের মতোই বহাল।   মিটিং শেষে বিসিবির সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। আমরা পজিটিভ থাকলেও অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও নড়ব না। আইসিসি বিকল্প খুঁজছে—আলোচনার দরজা খোলা আছে।”   বিসিবির আগের বিবৃতিতেও জানানো হয়েছিল, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত। একই সঙ্গে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন ভারতের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।   অন্যদিকে, আইসিসির অবস্থান হলো—টুর্নামেন্টের সূচি ইতোমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর উচিত নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোনো। তারা বিসিবিকে অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে সেই আহ্বান গ্রহণের কোনো সম্ভাবনা নেই।   সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের সময় ঘনিয়ে এলেও ভেন্যু–সংক্রান্ত এই অচলাবস্থা এখনও কাটেনি। আলোচনা চলবে বলে উভয় পক্ষই জানালেও, বাংলাদেশের অবস্থান যে কঠোর—তা স্পষ্ট করে দিয়েছে বিসিবি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আসিফ নজরুলের দাবি প্রত্যাখ্যান আইসিসির

বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করল আইসিসি। ভারতে খেলতে এলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে এমন কোনো চিঠি বাংলাদেশি ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) দেওয়া হয়নি বলে এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।   ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে আজ বাফুফে ভবনের সামনে সাংবাদিকদের উদ্বেগের কথা জানান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। নিরাপত্তা ইস্যুতে আইসিসি বাংলাদেশকে তিনটি শঙ্কার কথা উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছে বলে জানান তিনি।   তিনি বলেছেন, ‘প্রথমত, বাংলাদেশ দলে যদি মুস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। আর তৃতীয়ত, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।’ আসিফ নজরুলের এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।   তার মন্তব্যের জেরে আইসিসি জানিয়েছে, নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশকে কোনো চিঠি দেয়নি তারা। এক সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটাই নিশ্চিত করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সেই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ভেন্যু সরানোর অনুরোধের জবাবও দেয়নি আইসিসি।   ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে আইসিসির কাছ থেকে বিসিবিও কোনো চিঠি পায়নি বলে এক বিবৃতি দিয়ে নিশ্চিত করেছে তারা। বিবৃতিতে বিসিবি লিখেছে, ‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আজ যে চিঠি উদ্ধৃত করেছেন, তা আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দলের জন্য হুমকির মূল্যায়ন সম্পর্কিত বিসিবি এবং আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের অভ্যন্তরীণ এক যোগাযোগ। ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ স্থানান্তরের জন্য বিসিবির অনুরোধের প্রতি আইসিসির আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া নয় এটি। এই বিষয়ে আইসিসির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিসিবি।’   ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোও নিশ্চিত করেছে এ রকম কোনো কিছুই নাকি বলা হয়নি।   তারা জানিয়েছে, আসিফ নজরুলের দাবিগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড কন্টিনজেন্সি পরিকল্পনা এবং কাল্পনিক পরিস্থিতির ভুল ব্যাখ্যা হিসাবে দেখছে আইসিসি। মূল্যায়নে এমন কোনো পরামর্শ নেই, আইসিসি খেলোয়াড় নির্বাচনের বিষয়ে শর্ত আরোপ করছে। ভক্তদের টি-শার্ট পরে ঘোরাফেরা না করার নির্দেশ দিচ্ছে, অথবা বাংলাদেশের নির্বাচন স্থগিত করা উচিত। আসিফ নজরুলের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদারও। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ক্রীড়া উপদেষ্টা আইসিসির যোগাযোগের যে কথা বলেছেন, সেটা আসলে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে হুমকি পর্যালোচনায় আইসিসির একটি আন্তঃবিভাগীয় নোট। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে নিয়ে যেতে যে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ, তা আইসিসির পাঠানো কোনো জবাব নয়।’

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬
ব্রায়ান মাদজো
‘নেক্সট দ্রগবা’ খ্যাত বিস্ময় বালককে দলে ভেড়াচ্ছে অ্যাস্টন ভিলা

জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে নিজেদের দ্বিতীয় সাইনিং সম্পন্ন করতে যাচ্ছে অ্যাস্টন ভিলা। ইউরোপিয়ান ফুটবলে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে বিবেচিত এক তরুণ ফুটবলার ভিলা পার্কে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত, এমনটাই জানিয়েছে একাধিক সূত্র।   প্রিমিয়ার লিগে দারুণ ছন্দে রয়েছে ভিলানরা। ২০২৫ সালের শেষভাগে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্সের সুবাদে তারা নতুন বছর শুরু করে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে।   ৩০ ডিসেম্বর আর্সেনালের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হার শিরোপা দৌড়কে কিছুটা কঠিন করে তুললেও, উনাই এমেরির দল এখন চ্যাম্পিয়নস লিগে দারুণ অবস্থানে রয়েছে। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের পর এই প্রথম তারা প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ তিনে শেষ করার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দারুণ লিগ অবস্থান থাকা সত্ত্বেও জানুয়ারিতে দলকে আরো শক্তিশালী করতে চান কোচ উনাই এমেরি। বিশেষ করে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও ইউরোপা লিগে সাফল্য ধরে রাখতে বাড়তি শক্তি যোগ করাই লক্ষ্য।   এরই মধ্যে ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার আলিসনকে গ্রেমিও থেকে দলে ভিড়িয়েছে ভিলা। এবার আসছে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় সাইনিং।   বৃহস্পতিবার ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ প্যাব্রিজিও রোমানো জানান, ফরাসি ক্লাব মেটজ থেকে ১৬ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ব্রায়ান মাদজোকে দলে নিতে ১২ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১০ মিলিয়ন পাউন্ড) ফিতে চুক্তি সম্পন্ন করেছে অ্যাস্টন ভিলা। পাঁচ বছরের চুক্তিতে এই ‘চমকপ্রদ’ সাইনিংয়ের জন্য মেডিকেলও নির্ধারিত রয়েছে।   রোমানো এক্সে লেখেন, ‘এক্সক্লুসিভ: অ্যাস্টন ভিলা ২০০৯ সালে জন্ম নেওয়া প্রতিভাবান ব্রায়ান মাদজোকে দলে নিতে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ১২ মিলিয়ন ইউরোর ডিল। ভেতরে ভেতরে পরিকল্পিত এক চমকপ্রদ ট্রান্সফার। পাঁচ বছরের চুক্তি, মেডিকেল বুকড।’   ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই কিশোর ইতোমধ্যে লুক্সেমবার্গের হয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে সে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়েও খেলেছে, যা জাতীয় দল বাছাই নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ব্রায়ান মাদজো ক্যামেরুনের সাবেক ফুটবলার গাই মাদজোর ছেলে। গাই মাদজো ইংলিশ ফুটবল লিগে দীর্ঘ সময় খেলেছেন। ব্রায়ানের জন্ম লন্ডনের এনফিল্ডে, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে।   ক্যারিয়ার শুরু করেন লুক্সেমবার্গের মারিসকা মার্শ ও রেসিং এফসি ইউনিয়ন লুক্সেমবার্গে। ২০২৩ সালে মেটজে যোগ দেন তিনি। ২০২৫ সালের আগস্টে লিগ ওয়ানে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন।   অসাধারণ সম্ভাবনার কারণে ইতোমধ্যেই তাকে তুলনা করা হচ্ছে সময়ের সেরা কিছু স্ট্রাইকারের সঙ্গে। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান তাকে আখ্যা দিয়েছে ‘পরবর্তী দিদিয়ের দ্রগবা’ হিসেবে। স্পেনের গণমাধ্যমেও তার শক্তি ও খেলার ধরন দেখে ড্রগবার সঙ্গে তুলনা টানা হয়েছে।   দ্রগবা ছাড়াও মাদজোর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে রোমেলো লুকাকোর। এমনকি লুক্সেমবার্গের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মানুয়েল কারদোনি দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে মাদজো লুকাকুর চেয়েও ভালো হতে পারে।   কারদোনি বলেন, ‘তার প্রোফাইল লুকাকুর মতো। তবে ব্রায়ান আরও পরিপূর্ণ। সে ছোট জায়গায় ভালো খেলে, পজিশনিং অসাধারণ, ডিফেন্সের পেছনে দৌড়াতে পারে এবং দুই পায়েই বল খেলতে পারে। তার উন্নতির সুযোগ বিশাল।’   এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসির সঙ্গেও নাম জড়িয়েছিল এই কিশোর স্ট্রাইকারের। সবকিছু ঠিকঠাক হলে উনাই এমেরির প্রকল্পে ভবিষ্যতের এক বড় তারকাকে যুক্ত করতে যাচ্ছে অ্যাস্টন ভিলা, যাকে অনেকেই দেখছেন ক্লাবটির জন্য বড় এক অর্জন হিসেবে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ওমরজাই’য়ের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সিলেটের জয়

শুরুটা মোটেই আশাব্যঞ্জক ছিল না সিলেট টাইটান্সের। ১৪ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে খুব বেশি রান ছিল না, ম্যাচটাও যেন হাত ফসকে যাচ্ছিল। এমন মুহূর্তেই বদলে দিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ২৪ বলে ৫০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে নিয়ে গেলেন প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহে। শুধু ব্যাট হাতে নয়, বল হাতেও রাখলেন ছাপ—৩ উইকেট নিয়ে শেষ পর্যন্ত সিলেট টাইটানসকে এনে দিলেন ৬ রানের রোমাঞ্চ জয়।   সিলেট ২০ ওভারে করে ১৭৩ রান। শেষ ৫ ওভারে আসে ৭৪ রান, যার বড় অংশই ওমরজাইয়ের ব্যাট থেকে। ইনিংসের শেষদিকে তাসকিন আহমেদ ও সালমান মির্জার ওভারে একের পর এক বাউন্ডারি তুলে নিয়ে ম্যাচটাকে একেবারে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেন আফগান অলরাউন্ডার। তার আগে পারভেজ হোসেনের ৩২ বলে ৪৪ এবং আফিফ হোসেনের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ১৩ রান দলকে ভরসা জোগায়। রান তাড়ায় নেমে ঢাকা ক্যাপিটালস শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে। ৪৩ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে প্রায় ছিটকে পড়ে ম্যাচ থেকে। তবে হাল ছাড়েননি শামীম হোসেন। একপ্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই চালিয়ে যান। শেষ দিকে যেন একক নাটকীয়তার জন্ম দেন তিনি। ৯ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ৪৩ বলে তুলে নেন অপরাজিত ৮১ রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৭ রান, তাতেও শামীম লড়াই ধরে রাখেন। ফ্রি-হিটে ছক্কা, বাউন্ডারি—সব মিলিয়ে শেষ বলে এসে দাঁড়ায় ৬ রানের সমীকরণ। কিন্তু সেই শেষটুকু আর রাঙানো হয়নি। ঢাকার ইনিংস ১৬৭ রানে থামলে ৬ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেহেদী হাসান মিরাজের সিলেট টাইটান্স। দারুণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে ওমরজাইয়ের হাতে, আর হতাশা থেকে যায় শামীমের ব্যাট হাতে লেখা দুর্দান্ত অথচ অপূর্ণ ইনিংসটিতে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০১, ২০২৬
দুই দিনে ৩৬ উইকেট পড়েছে মেলবোর্নে। ছবি : সংগৃহীত
অ্যাশেজের দুই দিনের পিচকে যে রেটিং দিল আইসিসি

অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ব্যবহৃত মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (এমসিজি) পিচকে ‘অসন্তোষজনক’ ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এই রায়ের ফলে ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুটি একটি ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছে, যা আগামী পাঁচ বছর কার্যকর থাকবে।   বক্সিং ডে টেস্ট হিসেবে পরিচিত ম্যাচটি শেষ হয়ে যায় মাত্র দুই দিনে। ১৪২ ওভারে পড়েছে মোট ৩৬ উইকেট, অথচ কোনো ব্যাটারই স্পর্শ করতে পারেননি অর্ধশতক। প্রথম দিনেই ২০টি এবং দ্বিতীয় দিনে আরও ১৬টি উইকেট পড়ায় ম্যাচ কার্যত বোলারদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। আইসিসির এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো পিচ মূল্যায়ন করে বলেন, এটি অতিরিক্ত মাত্রায় বোলারবান্ধব ছিল। তার ভাষায়, “এমসিজির পিচ বোলারদের পক্ষেই খুব বেশি সহায়ক ছিল। প্রথম দিনেই ২০ উইকেট, দ্বিতীয় দিনে ১৬ উইকেট পড়েছে, আর কোনো ব্যাটারই ৫০ রান করতে পারেনি। আইসিসির নির্দেশিকা অনুযায়ী এমন পিচকে ‘অসন্তোষজনক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই ভেন্যুটিকে এক ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে।” চলমান অ্যাশেজে এটি দ্বিতীয় টেস্ট, যা দুই দিনের মধ্যেই শেষ হলো। এর আগে পার্থে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টও একইভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছিল। যদিও এমসিজির ম্যাচে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছে, তবে সিরিজের প্রথম তিন টেস্ট জিতে আগেই অ্যাশেজ নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বর্তমানে সিরিজের স্কোরলাইন ৩–১। পাঁচ ম্যাচের সিরিজের শেষ টেস্টটি আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে সিডনিতে অনুষ্ঠিত হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

দিলু মজুমদার। ছবি : সংগৃহীত
বিনোদন

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন অভিনেতা দিলু মজুমদার

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২১, ২০২৬