মাঠে খেলা চলছিল স্বাভাবিক ছন্দেই। কিন্তু এক মুহূর্তে সেটি ছাপিয়ে যায় গ্যালারির কণ্ঠ। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে কর্নার নিতে গিয়ে বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালকে লক্ষ্য করে অপমানজনক মন্তব্য ছোড়া হয়। গ্যালারির একাংশ থেকে তাকে উদ্দেশ করে বলা হয়, ‘মরক্কোতে চলে যাও।’ সঙ্গে ছিল আরও কিছু কটূক্তি, যা পরিস্থিতিকে অস্বস্তিকর করে তোলে। উল্লেখ্য, ইয়ামালের পারিবারিক শিকড় মরক্কোর সঙ্গে যুক্ত। সে কারণেই এই মন্তব্যকে অনেকেই সরাসরি বিদ্বেষমূলক বলেই দেখছেন। ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে। কয়েক দিন আগেই জাতীয় দলের ম্যাচে মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন ইয়ামাল। সে ঘটনার পর আবারও তাকে ঘিরে এমন মন্তব্য সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে মাঠের বাইরের পরিবেশ নিয়ে। ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে কারা এই মন্তব্য করেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে আবারও পরিবর্তনের খবর। পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ফায়াজুর রহমান মিতু। শনিবার বোর্ড সভা শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। নিজের সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত বিষয়কেই সামনে এনেছেন ফায়াজুর। বিষয়টি তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ফায়াজুর মিতু বোর্ডের পাশাপাশি সিসিডিএমের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। শনিবারের বোর্ড সভায়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবিতে একাধিক পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেট অঙ্গনে। এর আগে পরিচালক ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সালও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। তিনিও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েই পদত্যাগ করেছিলেন। ইয়াসির বোর্ডের লজিস্টিকস ও প্রটোকল কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে বিসিবিতে যুক্ত ছিলেন। একাধিক পরিচালকের সরে দাঁড়ানোয় বিসিবির ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা আসেনি।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্বে থাকা স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে। ৩০ এপ্রিল তার সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং তা আর বাফুফে নবায়ন করবে না বলেই জানিয়েছে দেশের গণমাধ্যম। গত ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ। সফর শেষে দল দেশে ফিরলেও তিনি ইতোমধ্যে স্পেনে ফিরে গেছেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি ছুটিতেই থাকবেন। এখন নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করছে বাফুফে। বিভিন্ন আবেদন থেকে বাছাই করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে ১ মে থেকে নতুন কোচ দায়িত্ব নেবেন। প্রয়োজনে কাবরেরাকেও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে এবং সেখানে বর্তমান কোচও আবেদন করতে পারবেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর কাবরেরার শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। ২০২৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে সেমিফাইনালে তুলে তিনি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু এরপর ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যায়নি। পারফরম্যান্সে ওঠানামা এবং দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে থাকে। তার সময়ে বাংলাদেশ মোট ৩৯টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ১০টিতে, ড্র ১০টি, আর পরাজয় ১৯ ম্যাচে। সাম্প্রতিক সময়ে দলে হামজা চৌধুরী, সমিত সোমদের মতো নতুন মুখ যুক্ত হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। বিশেষ করে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ব্যর্থতা কাবরেরার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। সমর্থকদের একাংশ তখন থেকেই কোচ পরিবর্তনের দাবি তুলতে শুরু করেন। নতুন কোচকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাফুফের। সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, তার প্রস্তুতি হিসেবেই এই পরিবর্তন। পাশাপাশি জুন উইন্ডোতে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মতো দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চিন্তাও রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই নতুন কোচ নিয়োগের কাজ শেষ করতে চায় ফেডারেশন। কারণ, সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দ্রুত স্থিরতা ফেরানো জরুরি। কাবরেরার অধ্যায় শেষ হচ্ছে, তবে তার রেখে যাওয়া প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে।
মিরপুরে শুরু হয়েছে বিসিবির চতুর্থ বোর্ড সভা। এর আগে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি বিসিবির তৃতীয় বোর্ড সভার দিনে জানা যায়, পদত্যাগ করেছেন বিসিবির অন্যতম প্রভাবশালী পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক। আজকের বোর্ড সভাতেও কি ঘটবে এমন কোনো অঘটন। ইশতিয়াক সাদেকের পর মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা আমজাদ হোসেনও পদত্যাগ করেন। আর চতুর্থ বোর্ড সভার দুদিন আগে বিসিবির লজিস্টিকস ও প্রোটোকল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করা ইয়াসির ফয়সাল পদত্যাগ করেছেন। সব মিলিয়ে টালমাটাল বিসিবিকে গতিশীল করতেই বিসিবির এই চতুর্থ বোর্ড সভা। পদত্যাগ করা পরিচালকদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন ছাড়াও বিসিবি মিটিং থেকে আসতে পারে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। যার মধ্যে অন্যতম নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রোডাকশন আর নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। এ ছাড়া প্রধান অর্থ কর্মকর্তা, হেড অব আইটিসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়োগ হতে পারে চূড়ান্ত। বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া মিটিং শেষ হতে পারে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাতটা নাগাদ। যদিও অতীতে আরও দীর্ঘ সময় ধরে মিটিং করার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। মিটিং যত দীর্ঘ হোক কিংবা ছোটই হোক না কেন! বোর্ড কর্তাদের আজ নিতে হবে বেশকিছু কঠিন সিদ্ধান্ত।
দুটি ম্যাচ, দুটি জয়, আর মাঝখানে দীর্ঘ নীরবতা। মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলেও, মাঠের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন একজনই; তাদের অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। এই দুই ম্যাচের পর সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে নীরবতা ভাঙলেন নিজের মতো করেই—সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে। ইনস্টাগ্রামে একটি ছোট বার্তা দেন ফুটবল জাদুকর, কিন্তু সেটাই যেন বড় ইঙ্গিত। “Argentina siempre”—বাংলায় যার অর্থ, ‘আর্জেন্টিনা সবসময়’। সঙ্গে ছিল দেশের পতাকার ইমোজি। দুটি ম্যাচ, দুটি জয়, আর মাঝখানে দীর্ঘ নীরবতা। মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলেও, মাঠের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন একজনই; তাদের অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। এই দুই ম্যাচের পর সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে নীরবতা ভাঙলেন নিজের মতো করেই—সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে। ইনস্টাগ্রামে একটি ছোট বার্তা দেন ফুটবল জাদুকর, কিন্তু সেটাই যেন বড় ইঙ্গিত। “Argentina siempre”—বাংলায় যার অর্থ, ‘আর্জেন্টিনা সবসময়’। সঙ্গে ছিল দেশের পতাকার ইমোজি। তার বদলে এই এক লাইনের বার্তাই এখন ভক্তদের কাছে সবচেয়ে বড় ক্লু। ৩৮ বছর বয়সি মেসি আগামী জুনে ৩৯-এ পা দেবেন। সামনে বিশ্বকাপ—যেখানে খেললে সেটি হবে তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ইতোমধ্যে তিনি খেলেছেন ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ আসরে। এই মুহূর্তে তার ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে, আর লক্ষ্য আরও বড়—নিজেকে ফিট রাখা এবং সম্ভব হলে আরেকটি বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়া। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও বিষয়টি নিয়ে খুব সাবধানে কথা বলেছেন। তার ভাষায়, মেসি খেলবেন কি না, সেটি পুরোপুরি তার নিজের সিদ্ধান্ত। ‘সে যদি সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের হবে। আমরা সবাই তাকে দেখতে চাই। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারই,’ বলেছেন স্কালোনি। এই কথাগুলোই পরিস্থিতিটাকে আরও স্পষ্ট করে—সবকিছু এখন মেসির হাতে।
বিশ্ব ফুটবলের দুই বড় নাম লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো—আবারও একসঙ্গে। তবে এবার মাঠে নয়, লেগোর দুনিয়ায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন এক বিজ্ঞাপনে এই দুই তারকার সঙ্গে দেখা গেছে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকেও। চারজনই হাজির হয়েছেন লেগো চরিত্র হিসেবে। বিজ্ঞাপনটিতে চার তারকাকে দেখা যায় টেবিলে বসে লেগো দিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি বানাতে। এক ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা চলছে তাদের মধ্যে। শেষে ছোট্ট এক ছেলে এসে ট্রফিটা সম্পূর্ণ করে। দৃশ্যটা সহজ, কিন্তু বার্তাটা স্পষ্ট—ফুটবলের ভবিষ্যৎ নতুন প্রজন্মের হাতে। এই বিজ্ঞাপনের সঙ্গে লেগো এনেছে বিশেষ কিছু সেটও, যেখানে এই চার তারকার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। মেসি-রোনালদোকে একসঙ্গে দেখাটা নতুন কিছু নয়। এর আগে একটি বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের প্রচারণাতেও তাদের দেখা গিয়েছিল একই ফ্রেমে। তবে বিশ্বকাপের আগে এমন একটি বিজ্ঞাপন ফুটবল ভক্তদের জন্য আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তার আগেই এই বিজ্ঞাপন মনে করিয়ে দিল—ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি এক ধরনের সংস্কৃতি, যা মাঠের বাইরেও ছড়িয়ে থাকে।
অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ ৫২ বছরের। নাম বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু স্বপ্নটা থেকে গিয়েছিল একই। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করল কঙ্গো। প্লে-অফ ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় জয়ে জ্যামাইকাকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে আফ্রিকার এই দল। ১৯৭৪ সালে ‘জাইর’ নামে একবার বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। এরপর দীর্ঘ বিরতি। এবার নতুন পরিচয়ে, নতুন দল নিয়ে ইতিহাসে ফেরার দরজা খুলে গেল তাদের সামনে। বুধবার (০১ এপ্রিল) ভোর ৩টায় শুরু হওয়া প্লে-অফ ফাইনালটা ছিল শুরু থেকেই জমজমাট। ম্যাচের মাত্র চার মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত কঙ্গো, কিন্তু বাকাম্বুর হেড অফসাইডে বাতিল হয়। এরপরও আক্রমণ থামায়নি তারা। একের পর এক ক্রস আর লং বল দিয়ে চাপ তৈরি করে গেছে জ্যামাইকার রক্ষণে। জ্যামাইকাও পিছিয়ে ছিল না। মাঝামাঝি সময়ে কেসি পামারের শট প্রতিহত করতে হয় কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের। আর গোলরক্ষক ব্লেক বারবার বাঁচিয়েছেন দলকে, বিশেষ করে এলিয়ার একাধিক আক্রমণে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও সুযোগের কমতি ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। কঙ্গো বল দখলে রেখে আক্রমণ চালিয়ে গেছে, তবে শেষ মুহূর্তে ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছিল না শটগুলো। জ্যামাইকা পাল্টা আক্রমণে ভয় দেখালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে কঙ্গোর দিকেই ঝুঁকে যায়। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি কেউ। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ১০১ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেড করে জালে পাঠান তুয়ানজেবে। গোলটি নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় নেয় ভিএআরের সিদ্ধান্তে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে জ্যামাইকা। শেষ দিকে কয়েকটি আক্রমণ তুললেও কঙ্গোর রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলা যায়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় উদ্যাপন। কঙ্গোর ফুটবলে নতুন অধ্যায়, বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসার আনন্দ। এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, এটি এক দীর্ঘ ইতিহাসের পরিসমাপ্তি। ৫২ বছর আগে যে গল্প শুরু হয়েছিল, সেটিই আবার নতুন করে লিখতে প্রস্তুত কঙ্গো—এবার ভিন্ন নামে, ভিন্ন পরিচয়ে, কিন্তু একই স্বপ্ন নিয়ে।
লিওনেল মেসির সম্মানে বিশেষ উদ্যোগ নিল তার ক্লাব ইন্টার মায়ামি। মেজর সকার লিগের ক্লাবটি তাদের নতুন স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করছে লিওনেল মেসির নামে। মূলত, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকাকে সম্মান জানাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে ক্লাবটি। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইন্টার মায়ামি জানিয়েছে, নু স্টেডিয়ামের একটি অংশ ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’ হিসেবে উন্মোচন করা হবে। ২৬ হাজার ৭০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে মায়ামি তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আগামী ৪ এপ্রিল। মেজর লিগ সকারের নিয়মিত মৌসুমের সেই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অস্টিন এফসি। সাধারণত দেখা যায়, অবসরে যাওয়া কিংবদন্তিদের সম্মান জানাতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু মায়ামি তাদের ৩৮ বছর বয়সী অধিনায়কের নামেই স্ট্যান্ড করে সেই ঐতিহ্য ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখতে যাচ্ছে। লিওনেল মেসি স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার পর ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে খেলেছেন। কিন্তু এরপর গোটা ফুটবল দুনিয়াকে চমকে দিয়েই নতুন করে ঠিকানা গড়েন ইন্টার মায়ামিতে। এরপরই বদলে যেতে থাকে মায়ামির ইতিহাস। ২০২৩ সালে দলে যোগ দেওয়ার পরই লিগস কাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মেসি, যা ক্লাবটির প্রথম বড় কোন শিরোপা জয়ের নজির। এরপর ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ড ও ২০২৫ সালে এমএলএস কাপ জিতিয়েছেন মেসি। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই মৌসুমে ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (এমভিপি)’ স্বীকৃতি পেয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। মায়ামির হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে ৯৪ ম্যাচে ৮২ গোল ও ৫৩ অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। দুটিই ক্লাব রেকর্ড। সম্প্রতি ক্যারিয়ারে ৯০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন কাতার বিশ্বকাপের মহানায়ক।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি জানিয়েছেন সহমর্মিতা ও সমবেদনা। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর শোক জানিয়েছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসান সোহানসহ অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামিম ইকবাল লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ক্ষতিগ্রস্ত সবার জন্য দোয়া করছি—আল্লাহ যেন তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।’ মুশফিকুর রহিম বলেন, ‘দুর্ঘটনার ভিডিও দেখে নিজেকে অসহায় মনে হয়েছে। বুকভরা কষ্ট নিয়ে সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদে রাখুন—এটাই প্রার্থনা।’ সাকিব আল হাসান তার বার্তায় জানান, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করছি।’ নুরুল হাসান সোহান লিখেছেন, ‘ফেরিঘাটের এই দুর্ঘটনা ভাষায় প্রকাশের বাইরে। আমি নিজেও এই পথে চলাচল করি—আজ হয়তো আমিও সেখানে থাকতে পারতাম। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন এবং শোকাহত পরিবারগুলোকে ধৈর্য দান করুন।’
নিজ জন্মশহর ব্রাইনের লাইব্রেরিতে ষোড়শ শতাব্দীর একটি বিরল ভাইকিং পাণ্ডুলিপি উপহার দিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড। ১৩ লক্ষ নরওয়েজীয় ক্রাউন (এক কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা) দিয়ে কেনা এই ঐতিহাসিক বইটি এখন থেকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নিজ শহরের তরুণ প্রজন্ম এই বইয়ের মাধ্যমে হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানুক, এমনটিই চান নরওয়ের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। গত ডিসেম্বরে হালান্ড এবং তার বাবা ১৩ লক্ষ নরওয়েজীয় ক্রাউন (প্রায় ১ লক্ষ পাউন্ড) দিয়ে এই পাণ্ডুলিপিটি কেনেন। এটি নরওয়ের ইতিহাসে কোনো বই বিক্রির সর্বোচ্চ রেকর্ড। ১৫৯৪ সালে মুদ্রিত এই বইটি মূলত ত্রয়োদশ শতাব্দীর বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্নোরি স্টারলুসনের। এতে মধ্যযুগীয় ভাইকিং রাজা, রানী, কৃষক এবং যোদ্ধাদের বীরত্বগাথা বর্ণিত রয়েছে। হালান্ড এই অমূল্য সম্পদটি নিজের কাছে না রেখে ব্রাইনের পাবলিক লাইব্রেরিতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ এটি দেখতে ও পড়তে পারে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি চাই বইটি সবসময় খোলা থাকুক, যাতে মানুষ আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে জানতে পারে- যারা আমার এই ব্রাইন এবং জায়রেন অঞ্চল থেকে উঠে এসেছিলেন।’ হালান্ড আরও যোগ করেন, ‘আমি ফুটবলের মাধ্যমে আমার স্বপ্ন পূরণ করার সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু সবাই সেই সুযোগ পায় না। বই অনেক মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখার, নতুন সম্ভাবনা খোঁজার এবং নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।’ ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে ২৯ ম্যাচে ২২ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। এছাড়া গত বছর বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ১৬ গোল করে তিনি নরওয়েকে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে তোলেন।
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন মাঠে তার অসাধারণ বোলিং দক্ষতার জন্য যেমন বিখ্যাত ছিলেন, তেমনি মাঠের বাইরেও তার দূরদর্শিতা ছিল অনন্য। ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক হিসেবে যোগ দেওয়ার সময় তিনি এমন এক চুক্তি করেছিলেন, যার আর্থিক সুফল ১৮ বছর পর তার পরিবারের হাতে পৌঁছাতে যাচ্ছে। আইপিএলের উদ্বোধনী মৌসুমে রাজস্থান রয়্যালসের দায়িত্ব নেওয়ার সময় ওয়ার্ন শুধু দলের অধিনায়কই হননি, বরং তাকে দলের ক্রিকেট সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্ণ স্বাধীনতাও দেওয়া হয়। কোচিং থেকে শুরু করে দল পরিচালনা সব কিছুতেই তার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ছিল। এই বিশেষ ভূমিকার পাশাপাশি চুক্তিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা যুক্ত করা হয়েছিল, যা তখন খুব একটা আলোচনায় না এলেও এখন তার মূল্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চুক্তি অনুযায়ী, রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে প্রতি মৌসুম খেলার জন্য ওয়ার্নকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ০.৭৫ শতাংশ করে মালিকানা শেয়ার দেওয়া হতো। তিনি মোট চার মৌসুম আইপিএল খেলেন। ফলে সময়ের সঙ্গে তার মোট মালিকানা দাঁড়ায় ৩ শতাংশে। তার নেতৃত্বেই ২০০৮ সালে প্রথম আসরেই শিরোপা জেতে রাজস্থান, যা আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম চমকপ্রদ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে প্রায় ১.৬৩ বিলিয়ন ডলারে রাজস্থান রয়্যালস বিক্রি হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। এই বিপুল অঙ্কের লেনদেনের পরই সক্রিয় হয় ওয়ার্নের সেই পুরনো চুক্তির ধারা। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, তার ৩ শতাংশ শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৪৬০ কোটি ভারতীয় রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৫৮৯ কোটি টাকার বেশি। জানা গেছে, এ বছর আইপিএল মৌসুম শেষে ওয়ার্নের পরিবার এই শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারবে। তবে এর জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তার পরিবার এই বিপুল অর্থের মালিক হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০০৮ সালে মাত্র ৬৭ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সময়ের ব্যবধানে দলটির মূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়ে এখন হাজার কোটি রুপির ঘরে পৌঁছেছে। এই উত্থানই ওয়ার্নের শেয়ারের বর্তমান বিশাল মূল্য নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। ২০২২ সালের ৪ মার্চ থাইল্যান্ডের কোহ সামুই দ্বীপে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৫২ বছর বয়সে মারা যান শেন ওয়ার্ন। তার মৃত্যু বিশ্ব ক্রিকেটে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছিল। তবে তার জীবদ্দশায় নেওয়া বিচক্ষণ আর্থিক সিদ্ধান্ত আজও তার পরিবারের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠছে।
টানা ব্যর্থতায় লা লিগার ক্লাব সেভিয়া থেকে বরখাস্ত হলেন আর্জেন্টাইন কোচ মাতিয়াস আলমেইদা। সোমবার (২৩ মার্চ) লা লিগার ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে আলমেইদার সঙ্গে তাদের চুক্তি শেষের ঘোষণা দেয়। ক্লাব সূত্র জানায়, সর্বশেষ ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে হারের একদিন পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত জুনে সেভিয়ার দায়িত্ব নেওয়া আলমেইদা শুরুতে টানা দুই হারে লিগ অভিযান শুরু করেছিলেন। তবে পরের ছয় ম্যাচে চারটিতে জয় আসায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু এই উত্থানের পরও সেভিয়া ব্যর্থতার চক্রে আটকা পড়ে। কেবল হারের জন্যই নয়, আলমেইদা ম্যাচ অফিসিয়ালের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের জন্যও শাস্তি পেয়েছেন। বর্তমানে সেভিয়া লিগে ১৫তম স্থানে আছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ বলেছে, নতুন কোচ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারার পর পাকিস্তানের নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক ব্যাটার আহমেদ শেহজাদ। তার মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট উদ্বেগজনক পর্যায়ে নেমে গেছে। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে পাকিস্তান ১১ রানে হেরে যায়। এরপর অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি ও প্রধান কোচ মাইক হেসনের সমালোচনা করলেন শেহজাদ। তার অভিযোগ, দলের মধ্যে গুরুতর সমস্যার সমাধান না করে ম্যানেজমেন্ট কেবল অজুহাত দেখিয়ে চলেছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে শেহজাদ বলেন, ‘শোচনীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর কোনো পরিবর্তন হলো না। আনকোরা সব তরুণদের দলে আনা হলো। তারপর সিরিজ হেরে গেলেন এবং মূল একাদশের তরুণদের নিয়ে অজুহাত দিলেন। আপনি যখন ভুল স্বীকার করবেন না, জীবনেও সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন না।’ সিরিজে পাকিস্তান খেলেছে সিনিয়র ব্যাটার বাবর আজম ও ফখর জামানকে ছাড়া। শাহীন ও হেসন জানান, দুজনকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদের দাবি, বিশ্বকাপ চলাকালে ইনজুরিতে পড়েছেন তারা। শেহজাদ পাকিস্তানের ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শাহীনের টস জিতে বোলিং নেওয়ায় হতবাক সাবেক ব্যাটার। তিনি বললেন, ‘আপনি যখন টস জিতলেন, কেন বোলিং নিলেন? এটা ভালো পিচ ছিল। আপনার উচিতি ছিল ব্যাট করা এবং বোর্ডে বড় রান তোলা, তারপর আলোর নিচে বোলিং করতেন। আপনাদের মতো সিনিয়র খেলোয়াড় এমন আচরণ করলে তরুণদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করব?’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে এক ম্যাচ জিতে বাদ পড়েছে পাকিস্তান। আর তারপর বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজেও হারল। পাকিস্তানের ক্রিকেটের অবস্থা দেখে হতাশ শেহজাদ, ‘পাকিস্তান সহযোগী দেশ হয়ে যাচ্ছে। লোকেরা এখন পাকিস্তানকে জিম্বাবুয়ের মতো ভাবছে। আর আপনারা বলছেন রান রেটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে আমরা ছিটকে গিয়েছি। লজ্জা করুন।’
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হবে অলিম্পিক। অথচ সেই অলিম্পিকে চাইলেও যেতে পারবেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন কিছু কি সম্ভব?হ্যাঁ, সম্ভব। বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থার (ওয়াডা) নতুন একটি পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেলে নজিরবিহীন এ ঘটনাই ঘটতে পারে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে। প্রতিযোগিতামূলক খেলাকে মাদক ও কৃত্রিম শক্তিবর্ধক উপাদানমুক্ত রাখার কাজে নিয়োজিত সংস্থাটি নতুন একটি নিয়মের প্রস্তাব করছে, যা কার্যকর হলে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হবে।সম্ভাব্য নিয়মটি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকেও প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ডোপিং বিরোধী সংস্থার এই উদ্যোগের পেছনে আছে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ। ওয়াডার কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্কের জেরে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর ধরে তাদের বার্ষিক চাঁদা দেয়নি। জো বাইডেনের প্রশাসনই এটি শুরু করেছিল, যা ট্রাম্প বহাল রেখেছেন। চীনকে কেন্দ্র করে পুরোনো বিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান দলের সরকারি কর্মকর্তারাই ওয়াডার সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিরোধী।বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার ওয়াডার সভার আলোচ্যসূচিতে যেসব সরকার বকেয়া ফি পরিশোধ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হচ্ছে ক্রীড়া ইভেন্টগুলোতে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মকর্তা ও সরকারি প্রতিনিধিদের নিষিদ্ধ করা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৭৩ লাখ ডলারের (৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা) বেশি পাওয়ার কথা ওয়াডার। ওয়াডা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিবাদের সূত্রপাত ২০২১ সালের এক ঘটনা থেকে। সে বছর নিষিদ্ধ ড্রাগের পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও ২৩ জন চীনা সাঁতারুকে কোনো শাস্তি না দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগ ওঠে ওয়াডার বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনায় ওয়াডার স্বচ্ছতা এবং চীন সরকারের প্রতি তাদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এর জেরে দেশটির সরকার ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ওয়াডার সদস্যপদ ফি আটকে দেয়। সর্বশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি আইনে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে ওয়াডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ প্রদান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানের পর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) এবং ওয়াডা হুমকি দেয়, ২০৩৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিক যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত ইউটা কর্তৃপক্ষ অলিম্পিক ধরে রাখতে একটি বিশেষ ‘বাতিলকরণ শর্তে’ সই করতে বাধ্য হয়। তবে ওয়াডার সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রাহুল গুপ্ত বিষয়টি বাস্তবায়নযোগ্য নয় মনে করছেন। ওয়াডা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের পার্থক্য তুলে ধরে বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো শুনিনি যে পাঁচ কোটি ডলার বাজেটের একটি ফাউন্ডেশন এমন কোনো নিয়ম প্রয়োগ করতে সক্ষম হতে পারে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কোথাও যেতে বাধা দেবে।’
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল ওপেনার Tamim Iqbal। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দীর্ঘ সময় দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তিন সংস্করণেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বাঁহাতি ওপেনার দীর্ঘদিন দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের আগে হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তামিম। যদিও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তবে নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলা হয়নি তার। এরপর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেননি এই তারকা ব্যাটার। এরই মধ্যে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তামিম। ম্যাচ চলাকালে তিনি বড় ধরনের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। পরে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হলেও সেই ঘটনার পর থেকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে দূরেই আছেন তিনি। তবে মাঠের বাইরে থেকেও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তামিম। বিশেষ করে ক্লাব ক্রিকেটে একজন সংগঠক হিসেবে বেশ সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা যাচ্ছে তাকে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন। পডকাস্টে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হতে চান? জবাবে তামিম বলেন, সুযোগ এলে অবশ্যই তিনি সেই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। নিজের যোগ্যতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার কারণে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য তার রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ক্রিকেটাঙ্গনের অনেকেই তার সংগঠক হিসেবে কাজ করার ধারণা সম্পর্কে জানেন। তার মতে, শুধু অভিজ্ঞতা বা বয়সই নয়, একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সৎ উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতা। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বোর্ড পরিচালনা করেছেন, কিন্তু তাতে সবসময় প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। তাই একবার নতুন ও তুলনামূলক অনভিজ্ঞদের ওপরও আস্থা রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে Bangladesh Cricket Board–এও পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে তামিম ইকবালের এই ইচ্ছা বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে ক্রিকেট মহলে।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বেশিরভাগ ফেডারেশনেরই আর্থিক অবস্থা ভালো না। যে কারণে অনেক জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়ও আর্থিক সঙ্কটে ভুগে থাকেন। এবার খেলোয়াড়দের সুখবর দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি। বিশেষ করে নারী অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া নানামুখী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আমিনুল বলেন, 'একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তিনি অ্যাথলেটদের সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুধাবন করেন।' ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করবেন আমিনুল। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'দেশের ৫০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।' জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট-ফুটবল ছাড়াও অন্যান্য ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদদেরও বেতন কাঠামোতে আনতে চান আমিনুল। তিনি বলেন, 'এর মধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়াও আর্চারি, শুটিং, ভলিবল, বক্সিং, ভারোত্তোলন ও টেবিল টেনিসের মতো সব ধরণের খেলার অ্যাথলেটরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।'
আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের বৈঠকের পর সরকারিভাবে এ ঘোষণা আসে। সিদ্ধান্তটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত–পাকিস্তান গ্রুপ ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। তবে বয়কটের ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আফ্রিদি ক্রিকেটকে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখার নিজের পুরোনো বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনীতি যেখানে সম্পর্কের দরজা বন্ধ করে দেয়, ক্রিকেট সেখানে সংযোগের নতুন পথ তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতি কড়া বার্তাও দেন। আফ্রিদির ভাষায়, এখন সংস্থাটির উচিত কথার বদলে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায্যতার প্রমাণ দেওয়া। গতকাল রবিবার পাকিস্তান সরকার নিশ্চিত করে, দল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য আইসিসির ওপর আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করা বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে নাকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ অনুসরণের অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, সংস্থাটি ভারতের বোর্ড বিসিসিআই–এর প্রভাবের বাইরে থাকতে পারছে না। পাকিস্তানের এই অবস্থানের পেছনে আরেকটি বিতর্কও রয়েছে। ২০ দলের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার সময় আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অনীহা জানায়। সম্প্রতি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরো সংবেদনশীল করে তোলে। এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশও ভারতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো নিয়ে আপত্তি তোলে। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—এই তিনের জটিল সমীকরণেই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
ইতালির জ্যানিক সিনারের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে জয় এভাবেই উদযাপন করেন সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচ। ছবি : রয়টার্স বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে স্বপ্নের পথে ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ। এই জয়ে স্প্যানিশ তারকা কার্লোস আলকারাজের সঙ্গে এক ব্লকবাস্টার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনাল নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে আলকারাজ নিজেও আলেকজান্ডার জ্ভেরেভের সঙ্গে পাঁচ সেটের কঠিন লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে পৌঁছান। ৩৮ বছর বয়সী সার্বিয়ান তারকা বয়সকে জয় করে রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার লক্ষ্যে এগিয়ে থাকার স্বপ্ন জিইয়ে রাখেন। রড লেভার অ্যারেনায় ৪ ঘণ্টা ৯ মিনিটের এক ম্যারাথন ম্যাচে তিনি ইতালিয়ান সিনারকে ৩–৬, ৬–৩, ৪–৬, ৬–৪, ৬–৪ ব্যবধানে পরাজিত করেন। ম্যাচ শেষে কোর্টে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন জকোভিচ। আর যে মাত্র এক ম্যাচ তারপরই ইতিহাস। জয়ের পর জোকোভিচ বলেন, ‘এই মুহূর্তে সত্যি বলতে আমার কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এটা অবাস্তব মনে হচ্ছে।’ জোকোভিচ জানান, সিনারের বিপক্ষে আগের পাঁচটি সাক্ষাতে হারের পর তিনি তাকে ‘গত কয়েক বছরে অন্তত একটি জয় পেতে দেওয়ার জন্য’ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, সে আমাকে শেষ সীমা পর্যন্ত ঠেলে দিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তীব্রতার মাত্রা এবং সম্ভবত টেনিসের মান ছিল অত্যন্ত উঁচু, আর আমি জানতাম—আজ জয়ের সুযোগ পেতে হলে এটাই একমাত্র পথ। ’ এই জয়ে জোকোভিচ তার ক্যারিয়ারের ৩৯তম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে পৌঁছলেন এবং ওপেন যুগে মেলবোর্নে শিরোপা ম্যাচে ওঠা সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ খেলোয়াড় হলেন—যেখানে তিনি এর আগে ১০ বার শিরোপা জিতেছেন। ২০২৪ সালের উইম্বলডনের পর এটিই তার প্রথম ফাইনাল উপস্থিতি। স্টেডিয়ামে উপস্থিত মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে ঐতিহাসিক ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের লক্ষ্যে জোকোভিচ ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সিনার ও আলকারাসের উত্থানের ফলে কাজটি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। তাদের দুজনই এরপর থেকে সব গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিজিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ছবি : সংগৃহীত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রতিনিধিদলের বহুল আলোচিত বৈঠক। তবে বিসিবির অনড় অবস্থান পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে- ভারতের মাটিতে খেলতে রাজি নয় তারা। আইসিসির সাথে বৈঠকে বিশ্বকাপ ভেন্যু সমস্যা নিরসনে সম্ভাব্য সমাধানের পথ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সফরে আইসিসির প্রতিনিধি হিসেবে হাজির হন সংস্থাটির ইন্ট্রেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। ভিসা দেরিতে পাওয়ায় সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলেও অনলাইনে যোগ দেন ইভেন্ট অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনসের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা। বিসিবির পক্ষ থেকে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। বৈঠকে টাইগারদের বিশ্বকাপ ম্যাচ ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের জন্য নিজেদের ভাবনা আইসিসির কাছে পুনর্ব্যক্ত করে বিসিবি। একইসাথে বাংলাদেশ দল, সাংবাদিক, দর্শক ও অন্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মতামতের কথাও অবহিত করা হয়। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, আইসিসির প্রতিনিধিরা বিসিবির কথা শুনলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। আইসিসি সভাপতি জয় শাহর সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানিয়েছে তারা। তবে আলোচনা গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল জানিয়ে বিসিবি উল্লেখ করেছে, লজিস্টিক বিষয়গুলো সহজভাবে যাতে হয়, এজন্য বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তন করে অন্য কোনো গ্রুপে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই শ্রীলঙ্কায়। আইরিশদের সাথে গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েই সম্ভবত আলোচনা হয়েছে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে। শেষপর্যন্ত ভেন্যুর বিষয়ে অবশ্য কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত আছে বলে বিসিবি দাবি করেছে।
মোহাম্মদ মিঠুনকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি। আজ (১৫ জানুয়ারি) বেনামি এক নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অডিও বার্তায় সেই অজ্ঞাত ব্যক্তি মিঠুনকে বলেছেন, ‘তোরা বাংলাদেশ ক্রিকেটে যা শুরু করেছিস তোদের কপালে দুঃখ আছে। বিসিবির বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করতেছিস, ভারতীয় দালাল। স্টেডিয়াম থাকে বের হবি না? স্টেডিয়ামে যাবি না? কোন জায়গায় নিরাপদ থাকবি?’ শুধু মিঠুনকে নয়, অন্য ক্রিকেটারদের পরিবারকে অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে সেই হুমকিদাতা বলেছেন, ‘এই ছবিটা সুন্দর করে আমরা তুলে রাখছি। মোস্তাফিজ আর দু একজন ছাড়া সবগুলোর কপালে খুবই দুঃখ আছে। এটা খুবই ভয়াবহ হবে লিখে রাখ। মানে এটা কত দূর যাবে সেটা কল্পনাও করতে পারবে না। শুধু লিখে রাখ। তোরা যে তামিমের দালালি করছিস।’ বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যর জের ধরে ক্রিকেটারদের খেলা বয়কটের সিদ্ধান্তের মধ্যেই এই হুমকি আসল।
বিপিএল ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সৃষ্ট উত্তাপ রূপ নিয়েছে চরমে। শেষ পর্যন্ত আজ বৃহস্পতিবার টুর্নামেন্টের চলমান আসর বন্ধ রাখার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তার আগে বোর্ড পরিচালক এম নাজমুলকে বিসিবির অর্থ কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এতেও সমাধান মিলছে না। জানা গেছে, তাতে সন্তুষ্ট নয় ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের দায়িত্বশীল এক কর্তার বরাতে জানা গেছে, ক্রিকেটাররা নাকি আরও একটি আলটিমেটাম দিয়েছেন। যদি নাজমুল ইস্যুতে বিপিএল সত্যিই বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে ক্রিকেটার, কোচ, সাপোর্টিং স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সবার পেমেন্ট বিসিবিকে দিতে হবে। যার পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এই দাবি খোদ কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের। জানা যায়, ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তারা ক্রিকেটে ফিরে আসতেন। কিন্তু সে অবস্থা তৈরি হয়নি। বরং পরিস্থিতি এখন ‘হ-য-ব-র-ল’। যে কারণে বিপিএল এই জায়গায় এসে বন্ধ হয়ে গেলে সে দায় বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকেই বহন করতে হবে। সব পেমেন্ট বিসিবিকেই পরিশোধ করতে হবে বলে দাবি কোয়াবের। অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত ঘোষণা করায় অসংখ্য ক্রিকেটারের রুটি-রুজিও হুমকির মুখে পড়েছে। কেননা, দেশ-বিদেশের অনেক ক্রিকেটারেরই আর্থিক ভরসার অন্যতম উৎস টুর্নামেন্ট। যা নিয়ে তৈরি হলো চরম অনিশ্চয়তা। সেইসঙ্গে হতাশ হয়েছেন দর্শক-সমর্থকরাও। সিলেট পর্ব ভালোভাবে সম্পন্ন হলেও ঢাকা পর্বে কোনো ম্যাচ না হয়েই এমন কোনো সিদ্ধান্ত আসবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। আজ ঢাকা পর্বের প্রথম দিন খেলা দেখতে অনেক দর্শকই গিয়েছিলেন হোম অব ক্রিকেটে। কিন্তু খেলা দেখা হয়নি। আবার কবে মাঠে গড়াবে বাংলাদেশের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ? এখন সেটাই তাদের দেখার অপেক্ষা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।