একই পথে ছুটেছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, অপেশাদার দৌড়বিদ, হুইলচেয়ার অ্যাথলেট এবং কেমোথেরাপি নেওয়া এক ক্যান্সার রোগী। লক্ষ্য সবার এক ছিল না। কেউ নেমেছিলেন শিরোপা জিততে, কেউ নিজের সীমা অতিক্রম করতে, আবার কেউ প্রমাণ করতে চেয়েছেন কঠিন অসুস্থতাও মানুষের এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাকে থামাতে পারে না। গতি, রেকর্ড ও জীবনজয়ের এমন সব গল্প নিয়েই রোববার সিডনিতে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ম্যারাথন। রোববার সিডনি সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে নর্থ সিডনির স্টার্ট লাইন থেকে মূল হাই-পারফরম্যান্স দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে হারবার ব্রিজসহ শহরের পরিচিত বিভিন্ন পথ পেরিয়ে ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরের সিডনি অপেরা হাউসে গিয়ে শেষ হয় প্রতিযোগিতা। পরবর্তী সময়ে আলাদা আলাদা দলে সাধারণ প্রতিযোগীরাও দৌড় শুরু করেন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সিডনির সড়ক পরিণত হয় মানুষের দীর্ঘ এক চলমান মিছিলে। আয়োজকদের হিসাবে, ১৪০টির বেশি দেশের ৪০ হাজারের বেশি দৌড়বিদ এবারের আসরে অংশ নেন। তাদের মধ্যে যেমন বিশ্বের প্রথম সারির অ্যাথলেট ছিলেন, তেমনি ছিলেন জীবনের প্রথম ম্যারাথন শেষ করার স্বপ্ন নিয়ে আসা হাজারো সাধারণ মানুষ। তবে দিনের সবচেয়ে বড় চমকটি জমা ছিল পুরুষদের দৌড়ের শেষ কয়েক কিলোমিটারের জন্য। তখনো পাঁচজনের অগ্রবর্তী দল কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। কে প্রথম অপেরা হাউসে পৌঁছাবেন, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ ছিল না। ঠিক সেই মুহূর্তে গতি বাড়ান ইথিওপিয়ার ২১ বছর বয়সী আদ্দিসু গোবনা। অন্যদের পেছনে ফেলে ২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন তিনি। এতে শিরোপার পাশাপাশি সিডনি ম্যারাথনের নতুন কোর্স রেকর্ডও নিজের করে নেন গোবনা। গত বছর ইথিওপিয়ার হাইলেমারিয়াম কিরোসের করা ২ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৬ সেকেন্ডের রেকর্ড তিনি ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ড কমিয়ে দেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো পুরুষ অ্যাথলেটের এটিই দ্রুততম ম্যারাথন। এই জয় গোবনার জন্য ফিরে আসারও গল্প। গত বছরের সিডনি ম্যারাথনে দ্বিতীয় হয়ে তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। সেই দৌড়ের ভুলগুলো চিহ্নিত করে দেশে ফিরে নতুনভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। এক বছর পর একই শহরে ফিরে এবার শুধু শিরোপাই জেতেননি, নিজের নামও তুলে দিয়েছেন রেকর্ডের পাতায়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোবনাকে চাপে রেখেছিলেন তারই স্বদেশি চিমদেসা দেবেলে গুদেতা। মাত্র চার সেকেন্ড পরে, ২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তিনি দ্বিতীয় হন। লেসোথোর তেবেলো রামাকোঙ্গোয়ানা ২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। পুরুষ বিভাগের প্রথম তিনজনই আগের কোর্স রেকর্ডের চেয়ে কম সময়ে দৌড় শেষ করেছেন। নারীদের বিভাগে অবশ্য শেষ মুহূর্তের কোনো অনিশ্চয়তা রাখেননি কেনিয়ার পেরেস জেপচিরচির। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও সাবেক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন জেপচিরচির প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকটা পেছনে ফেলে ২ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে শিরোপা নিশ্চিত করেন। দ্বিতীয় হওয়া কেনিয়ার ইরিন চেপতাই সময় নেন ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ১১ সেকেন্ড। অর্থাৎ তার চেয়ে ৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে দৌড় শেষ করেন জেপচিরচির। ইথিওপিয়ার শুর ডিমাইজ ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে তৃতীয় হন। জেপচিরচির আধিপত্য দেখিয়ে জিতলেও অল্পের জন্য নারীদের কোর্স রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। গত বছর সিফান হাসানের করা ২ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ২২ সেকেন্ডের রেকর্ড থেকে তিনি মাত্র ৯ সেকেন্ড পিছিয়ে ছিলেন। সিডনির এই সাফল্য জেপচিরচিরের ক্যারিয়ারে চতুর্থ ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজরস শিরোপা।মূল দৌড়বিদদের আগেই অপেরা হাউসের ফিনিশিং লাইনে পৌঁছে রেকর্ডের আরেক অধ্যায় লেখেন হুইলচেয়ার অ্যাথলেটরা। পুরুষ বিভাগে যুক্তরাষ্ট্রের ড্যানিয়েল রোমানচুক ১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি গত বছর মার্সেল হাগের করা ১ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের কোর্স রেকর্ড ভেঙে দেন। নারীদের হুইলচেয়ার বিভাগে সুইজারল্যান্ডের প্যারালিম্পিয়ান ম্যানুয়েলা শার সময় নেন ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট ৪ সেকেন্ড। সুজান্না স্কারোনির আগের রেকর্ড থেকে ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড কমিয়ে দেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজরসের আটটি কোর্সেই জয় পাওয়া প্রথম অ্যাথলেট হওয়ার কীর্তিও গড়েছেন শার। বিদেশি তারকাদের রেকর্ডের ভিড়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য সাফল্য এনে দেন অ্যান্ডি বুকানন ও এলি প্যাশলি। অস্ট্রেলিয়ান পুরুষদের মধ্যে সবার আগে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন বুকানন। নারীদের মধ্যে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছান প্যাশলি। তার সময় ছিল ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ২৮ সেকেন্ড। তবে সিডনির এই সকালকে শুধু সময়ের হিসাবে ব্যাখ্যা করলে একটি বিশেষ গল্প অজানা থেকে যাবে। সেটি ফাইভ ডকের টবি ফুলারের গল্প। ২৩ বছর বয়সে মাল্টিপল মায়েলোমা নামের রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তিনি। কেমোথেরাপির ধকল সামলেই এবারের ম্যারাথনের স্টার্ট লাইনে দাড়ান ফুলার। তার সামনে কোনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে হারানোর লক্ষ্য ছিল না। লড়াইটি ছিল নিজের শরীর ও অসুস্থতার বিরুদ্ধে। সেই লড়াই শেষ করেন ৩ ঘণ্টা ১৮ মিনিটে। কেমোথেরাপি নেওয়া অবস্থায় কোনো রোগীর দ্রুততম ম্যারাথন সম্পন্ন করার কীর্তি হিসেবে তার অর্জন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছে। দৌড়ের প্রতিটি কিলোমিটার কঠিন ছিল বলে পরে জানান ফুলার। প্রত্যাশিত সময়ে শেষ করতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে পারায় তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দীর্ঘ ও কঠিন পথ পেরিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে কারি খেয়ে অর্জনটি উদ্যাপন করার পরিকল্পনাও জানিয়েছিলেন তিনি। অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজরসের মর্যাদায় টানা দ্বিতীয়বার আয়োজিত এবারের সিডনি ম্যারাথন মাঠের বাইরেও বড় ভূমিকা রেখেছে। আয়োজকদের হিসাবে, এই ম্যারাথনকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে দাতব্য কাজের জন্য সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ৩৮ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ছাড়িয়েছে। রবিবার অপেরা হাউসের সামনে তাই শুধু বিজয়ীদের নাম কিংবা সময় ঘোষণা করা হয়নি। সেখানে একদিকে ২১ বছরের এক তরুণ গত বছরের ভুল শুধরে রেকর্ড গড়েছেন, অন্যদিকে হুইলচেয়ার অ্যাথলেটরা ভেঙেছেন নিজেদের সীমা। আর ক্যান্সারের চিকিৎসা চলা একজন তরুণ দেখিয়েছেন কোনো কোনো জয় পদক দিয়ে নয়, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার সাহস দিয়ে মাপতে হয়।
সুইজারল্যান্ডের কিংবদন্তি টেনিস তারকা রজার ফেদেরার আন্তর্জাতিক টেনিস হল অব ফেমে জায়গা পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে ২৯ আগস্ট এই অনুষ্ঠান হয়। ২০টি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা ফেদেরার এই অনুষ্ঠানে আবেগময় বক্তব্য দেন। বক্তব্যের সময় বেশ কয়েকবার তার চোখে জল চলে আসে। চ্যানেল নিউজএশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেদেরারের সঙ্গে এবার হল অব ফেমে জায়গা পেয়েছেন সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার মেরি কারিলো। ফেদেরার বলেন, এই সম্মান তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি। তিনি বলেন, ‘খ্যাতি কখনোই আমার লক্ষ্য ছিল না। আমি চেয়েছিলাম এমন কিছুর জন্য জীবন উৎসর্গ করতে, যা আমি ভালোবাসি। আর সেই ভালোবাসা যাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়, তাদের পাশে থাকতে চেয়েছিলাম।’ ২০২২ সালে ফেদেরার অবসর নেন। ততদিনে তিনি জিতেছেন ১০৩টি এটিপি ট্যুর শিরোপা। উইম্বলডন তিনি জিতেছেন আটবার। পুরুষদের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ছয়বার, ইউএস ওপেন পাঁচবার এবং ফ্রেঞ্চ ওপেন একবার জিতেছেন তিনি। বিশ্ব র্যাংকিংয়ের শীর্ষে তিনি ছিলেন মোট ৩১০ সপ্তাহ। ৪৫ বছর বয়সী এই তারকা তার কোচ, চিকিৎসক ও পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী মিরকা ফেদেরারের কথা বলেন। তিনি জানান, মাঠের বাইরে একজন স্বামী, বাবা ও বন্ধু হিসেবে ফেদেরার কেমন মানুষ। ফেদেরার নিজেও নিজের লম্বা ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়াটা বিশাল সৌভাগ্যের ব্যাপার। এই তালিকায় আছেন আন্দ্রে আগাসি, লেটন হিউইট, অ্যান্ডি রডিক, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচ।’ খেলা ছেড়ে দিলেও ভিন্নভাবে টেনিসের সঙ্গে যোগটা থেকেই যাবে তার। ফেদেরার বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে সময় শেষ হলেও টেনিসের সঙ্গে পরিবার, বন্ধুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার যোগ থেকেই যাবে।’
লর্ডসে তৃতীয় দিনটা যেন ছিল বৃষ্টিরই দখলে। ক্রিকেটের লড়াইয়ের চেয়ে আকাশের মেঘই বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে পুরো দিনে। বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে কোনোভাবে খেলা গড়িয়েছে মাত্র ২৪.৫ ওভার। তবে এত কম সময়ের খেলাতেই নিজেদের আগের দিনের লিডটা আরও বড় করেছে ইংল্যান্ড। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি তাদের হাতে, আর বিশাল চাপে পড়েছে পাকিস্তান। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ইংলিশদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৮১ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। দিনের শুরুতেই বিদায় নেন এমিলিও গে। ৭৪ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান গে। তাকে ফিরিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস। এরপর হ্যারি ব্রুকের সাথে জুটি বেঁধেছেন ড্যান লরেন্স। দেখেশুনে এগিয়েছেন দুজন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। পাকিস্তানের বোলারদের সামলে রান বের করেছেন ব্রুক-লরেন্স। ফিফটির দিকেই ছুটছিলেন ব্রুক। যদিও ফিফটিটা ছুঁতে পারেননি। ৫৬ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলে দলের ১২৮ রানের মাথাতে সাজঘরে ফিরে যান হ্যারি ব্রুক। টিকে ছিলেন লরেন্স। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন তিনি। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে রানও বের করেছেন। বাড়িয়েছেন দলের লিড। আরেক প্রান্তে জেমি স্মিথ এবং গাস অ্যাটকিনসন দুজনই ৭ রান করে আউট হয়েছেন। জেমি খেলেছেন ১৩ বল, অ্যাটকিনসন খেলেন ২১ বল। এরপর লরেন্সের সাথে যোগ দিয়েছেন ওলি রবিনসন। ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন ড্যান লরেন্স। ইংল্যান্ড ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রান তোলার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়, এরপর আর মাঠে গড়ায়নি কোনো বল। দিনের খেলা শেষ হয়েছে এখানেই, ইংলিশদের লিড ৩৫৭ রানের। ৬৬ বলে ৫০ রান করে ক্রিজে টিকে আছেন ড্যান লরেন্স। অন্যদিকে ২ বলে ২ রান করে অপরাজিত আছেন ওলি রবিনসন। পাকিস্তানের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস। এছাড়া ২টি করে উইকেট শিকার করেন খুররাম শাহজাদ এবং মোহাম্মদ আলি।
কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। খেলা চালিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের মধ্যে তিনিই প্রথম, যিনি প্রকাশ্যে ইমরানের পাশে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। ৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। গত ২৪ আগস্ট তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দেন ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। সেই উদ্যোগের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন কামিন্সও। অস্ট্রেলিয়ার ‘দ্য গ্রেড ক্রিকেটার’ অনুষ্ঠানে সম্প্রতি ওই চিঠি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল। তিনি জানান, প্রায় ছয় বছর আগে পাকিস্তানে ইমরানের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। সে সময় ইমরান শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে চ্যাপেল উল্লেখ করেন। তার দাবি, ইমরানের ডান চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের বন্দিজীবন তার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। চ্যাপেল আরও বলেন, দীর্ঘ সময় একাকিত্বের মধ্যে থাকা যে কারও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না এবং দীর্ঘদিনের এমন পরিস্থিতি তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। পরিবারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সাক্ষাতের সুযোগ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চ্যাপেলের বক্তব্যের সেই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করে নিজের অবস্থান জানান প্যাট কামিন্স। তিনি লেখেন, গ্রেগ চ্যাপেলসহ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের উদ্যোগের প্রতি তিনিও সমর্থন জানাচ্ছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান যেন যথাযথ চিকিৎসা নিতে পারেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ অব্যাহত থাকে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। কামিন্স আরও বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে যেন মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হয়। তার মতে, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আচরণ পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক মানুষেরই রয়েছে।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয়ে লিগে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে জয়ের নায়ক ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। দলের হয়ে অপর গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচের শুরুতে অবশ্য বেশ চাপেই ছিল স্বাগতিকরা। ১১তম মিনিটে সোসিয়েদাদের মিকেল ওইয়ারসাবালের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। কিছুক্ষণ পরই সুযোগ আসে রিয়ালের সামনে। এমবাপ্পের বাড়ানো বল পেয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। ৩৫তম মিনিটে সোসিয়েদাদের সার্জিও গোমেজের দুর্দান্ত ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বেঁচে যায় রিয়াল। তবে চার মিনিট পর আর ভুল করেননি এমবাপ্পে। ৪০তম মিনিটে ফেদে ভালভার্দের চমৎকার পাস পেয়ে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে এগিয়ে থাকার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৪৪তম মিনিটে রিয়ালের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে সমতায় ফেরে সোসিয়েদাদ। ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করা বলে সুযোগ পেয়ে যান লুকা সুচিচ। ঠান্ডা মাথায় কোণাকুণি শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ক্রোয়াট মিডফিল্ডার। দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের দাপট বিরতির পর পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে সোসিয়েদাদকে চাপে ফেলে দেয় রিয়াল। ৬০তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। এর মাত্র আট মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান ভিনিসিয়ুস। সোসিয়েদাদের অর্ধে বল হারানোর পর সেটি দখলে নিয়ে আক্রমণ তৈরি করেন বেলিংহ্যাম। তার প্রথম শট প্রতিহত হলেও দ্রুত বলের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়ে বাইলাইন থেকে দারুণ পাস বাড়ান তিনি। সেই বল অনায়াসে জালে পাঠান ভিনিসিয়ুস। ৮০তম মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। এবার গোলের কারিগর ভিনিসিয়ুস। তার বাড়ানো বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এমবাপ্পে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে ব্রাহিম দিয়াজ গোল করলেও ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গোল ব্যবধানে লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে তারা। সমান পয়েন্ট নিয়ে পরের দুই অবস্থানে রয়েছে সেভিয়া ও রিয়াল বেটিস।
চার বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার রিংয়ে ফেরার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সার জেলানি তেতে। কিন্তু সেই কামব্যাকের স্বপ্ন এক নিমেষেই কেড়ে নিল বন্দুকের গুলি। নিজ বাড়ির সামনে সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই দক্ষিণ আফ্রিকান বক্সার। শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্ব কেপ প্রদেশের মডানসানে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, নিজ বাড়ির গেট খোলার অপেক্ষায় গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই দুই মুখোশধারী এসে তেতেকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিতে তার সঙ্গে থাকা ২৭ বছর বয়সী এক নারীও মারাত্মক আহত হন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তেতের আকস্মিক মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়াঙ্গনে। দেশটির ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতিমন্ত্রী গেটন ম্যাকেঞ্জি শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা তার ইতিহাসের অন্যতম সেরা যোদ্ধাকে হারাল।’ তেতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ছিল সাফল্যমণ্ডিত। ২০০৭-০৮ সালে ডাব্লিউবিএফ ফ্লাইওয়েট বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০১৪ সালে জেতেন আইবিএফ সুপার-ফ্লাইওয়েট শিরোপা। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ডাব্লিউবিও ব্যান্টামওয়েট বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব নিজের দখলে রেখেছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে সিবোনিসো গোনিয়াকে মাত্র ১১ সেকেন্ডে নকআউট করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন তেতে, যা বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে দ্রুততম নকআউট হিসেবে এখনো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে লিপিবদ্ধ। পেশাদার ক্যারিয়ারের ৩৪টি লড়াইয়ের মধ্যে ২৯টিতেই জয় পান তেতে, যার ২২টিই ছিল নকআউটে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে লন্ডনে ব্রিটিশ বক্সার জেসন কানিংহ্যামকে হারিয়ে শেষবার রিং ছেড়েছিলেন তিনি। তবে ডোপ টেস্টে অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ধরা পড়ায় তাকে চার বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাজ্যের অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা। গত ২৯ জুলাই তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়। তেতের ম্যানেজার ম্লা তেঙ্গিমফেনে জানান, নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে রিংয়ে ফেরার লক্ষ্যে জোর কদমে অনুশীলন করছিলেন এই বক্সার।
নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে বেঞ্চ থেকে নেমেই গোল করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার দুর্দান্ত গোলে সৌদি প্রো লিগে আল রিয়াদের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আল নাস্র। একই সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ২৫টি পেশাদার মৌসুমে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধে বেঞ্চে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। দ্বিতীয়ার্ধের ৬২তম মিনিটে তাকে মাঠে নামান কোচ। তখনই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আল নাস্র। মাঠে নামার মাত্র ২০ মিনিট পরই নিজের নাম লেখান স্কোরশিটে। ডান প্রান্ত থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল বক্সের ভেতরে ডান পায়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শরীর ঘুরিয়ে প্রতিপক্ষের তিন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জালে পাঠান তিনি। দৃষ্টিনন্দন সেই গোলেই ৪-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আল নাস্র। এই গোলের মাধ্যমে রোনালদোর পেশাদার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৭টি। হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক থেকে এখন তিনি মাত্র ২৩ গোল দূরে। সৌদি প্রো লিগে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে দারুণ ছন্দে রয়েছে আল নাস্র। মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে দলটি।
এশিয়ান গেমসকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের হস্তক্ষেপে নতুন ঘোষিত অ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তাদের এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে গেছে। বৃহস্পতিবার সেনাসদরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আগের কমিটির কর্মকর্তাদের পরিবর্তে নতুন অ্যাডহক কমিটির ২৩ জন কর্মকর্তাকে এশিয়ান গেমসে পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়। ফলে ১১টি ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন বলেন, “যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বিওএ সভাপতি ও সেনাপ্রধান এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর সহযোগিতায় অবশেষে সংকটের সমাধান হয়েছে। আগের কমিটির পরিবর্তে আমাদের নামে অ্যাক্রিডিটেশন হবে বলে সেনাপ্রধান জানিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, সেনাপ্রধান অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) এক কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং সেখান থেকেই নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া গেছে। সেই অনুযায়ী ১১টি ফেডারেশনের ২৩ কর্মকর্তার নাম রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে পাঠানো হচ্ছে। এদিকে, সমাধানের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক। তিনি বলেন, “অবশেষে আমাদের সমস্যার সমাধান হয়েছে। এ নিয়ে আর কোনো জটিলতা নেই। সভাপতি মহোদয় নিজেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলে সমাধান করেছেন। কর্মকর্তাদের পাশাপাশি খেলোয়াড়ও নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।” বিওএ মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, “সভাপতি মহোদয়ের উদ্যোগে সমস্যার সমাধান হচ্ছে। তিনি ওসিএর সম্পাদক পর্যায়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাই আমরা নতুন করে রিপ্লেসমেন্টের জন্য নাম পাঠাচ্ছি। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি।” সেনাসদরে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিওএর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ১১টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই সিদ্ধান্তের ফলে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে।
টেস্ট ক্রিকেটে আরও একটি কীর্তি গড়লেন ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটসম্যান জো রুট। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে ফিফটি তুলে নিয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট ফিফটির রেকর্ডে ভারতীয় কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকারের পাশে বসেছেন তিনি। সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ১১২ বলে ৬৬ রান করে আউট হন রুট। ১০টি চারে সাজানো এই ইনিংসটি টেস্ট ক্যারিয়ারে তার ৬৮তম ফিফটি। টেস্টে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক টেন্ডুলকারও ২০০ ম্যাচে ৬৮টি ফিফটি করেছিলেন। তবে রুট এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন টেন্ডুলকারের চেয়ে ৩৩টি টেস্ট কম খেলেই। ১৬৭তম টেস্টে এসে কিংবদন্তি ভারতীয় ব্যাটসম্যানের রেকর্ডে ভাগ বসালেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক। টেস্টে সবচেয়ে বেশি ফিফটির তালিকায় রুট ও টেন্ডুলকারের পর রয়েছেন শিবনারাইন চন্দরপল। ১৬৪ ম্যাচে ৬৬টি ফিফটি করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই ব্যাটসম্যান। এরপর অ্যালান বোর্ডার ও রাহুল দ্রাবিড়ের ৬৩টি করে এবং রিকি পন্টিংয়ের রয়েছে ৬২টি ফিফটি। বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় দিনের খেলা ৩৭ রান নিয়ে শুরু করেন রুট। ৯৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। পরে খুররাম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ এই ব্যাটসম্যান। দলের ২ উইকেটে ৪৮ রানের সময় ক্রিজে এসে জর্ডান কক্সের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৫০ রানের জুটি গড়েন রুট। তার বিদায়ের পরও ইনিংসে নিজের অবদান রেখে যান তিনি। এই ইনিংসের পর টেস্টে রুটের মোট রান দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১৮০। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তার ওপরে আছেন শুধু টেন্ডুলকার। ভারতীয় কিংবদন্তির সংগ্রহ ১৫ হাজার ৯২১ রান। ফলে ফিফটির রেকর্ডে টেন্ডুলকারকে ছুঁয়ে ফেলার পর এবার টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায়ও তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে রুটের সামনে।
ভারতীয় ক্রিকেটে নির্বাচক কমিটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। প্রধান নির্বাচক হিসেবে অজিত আগরকরের মেয়াদ বাড়বে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পরই তার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বিসিসিআই কর্তারা। আগরকরকে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে রাখতে চায় বোর্ড। তবে সে ক্ষেত্রে তাকে একটি শর্ত দেওয়া হতে পারে। সেই শর্তে আগরকর রাজি না হলে তার জায়গায় জহির খানকে প্রধান নির্বাচক করার কথা ভাবছে বিসিসিআই। আগরকরের সঙ্গে বোর্ড কর্তাদের সম্পর্ক বেশ কিছু দিন ধরেই ভালো নয়। গত ইংল্যান্ড সফরে রোহিত শর্মার অবসর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ভালো ভাবে নেননি বোর্ডের একাংশ। নির্বাচন কমিটির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে। রোহিতের পাশে বোর্ড কর্তাদের দাঁড়ানোর বিষয়টিও নাকি ভালো ভাবে নেননি আগরকর। সেই থেকেই দুই পক্ষের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা সিরিজের ফলও আগরকরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শুবমান গিলদের দল প্রত্যাশিত ফল না করলে প্রধান নির্বাচকের পদে পরিবর্তন আসতে পারে।
বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর লিওনেল মেসির মনের ক্ষত এখনও সারেনি। তবে সমবেদনা জানিয়ে ও সান্ত্বনা দিয়ে তার পাশে দাঁড়াচ্ছেন সাবেক ও বর্তমান ফুটবলাররা। তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও সমবেদনা জানিয়েছেন ইনস্টাগ্রামে। রোনালদো লিখেছেন, ‘এই কঠিন সময়ে তোমার এবং তোমার পরিবারের জন্য রইল অনেক অনেক ভালোবাসা লিও। শক্ত থেকো।’ মেসি এক আবেগঘন পোস্ট দেওয়ার পর সেখানে এমন কমেন্ট করেন পর্তুগিজ উইঙ্গার। তার এই হৃদয়স্পর্শী কমেন্ট এখন পর্যন্ত ইনস্টাগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাইক পেয়েছে, লাইকের সংখ্যা প্রায় ৬৫ লাখ। মাত্র তিন দিনেই অর্ধ কোটি ছাড়িয়েছে লাইকের সংখ্যা। এই জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপে এটাই সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া রিপ্লাই। কাকতালীয়ভাবে, আগের সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া কমেন্টও ছিল রোনালদো। যখন রিয়াল মাদ্রিদে কিলিয়ান এমবাপের ট্রান্সফার সম্পন্ন হয়েছিল তখন ফরাসি স্ট্রাইকারকে অভিনন্দ জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সেই কমেন্টে লাইক ৬০ লাখ ছাড়ায়। এর আগে বুধবার আর্জেন্টাইন সুপারস্টার তার বাবাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক আবেগঘন পোস্ট দেন, ‘বাবা, তোমার চলে যাওয়াটা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। বাস্তবতাটা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না। আসলে আমি এটা মানতে চাইছি না। তোমাকে আর দেখতে পাব না, আমাদের আর কখনো কথা হবে না, এটা কল্পনা করাও আমার জন্য খুব কঠিন। আমি জানি তুমি কষ্টে ছিলে এবং এটাই তোমার জন্য হয়তো ভালো হয়েছে, কিন্তু তুমি খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের একসঙ্গে আরও কত কিছু উপভোগ করার বাকি ছিল।’ বাবার অনুরোধেই উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন জানিয়ে মেসি লেখেন, ‘তুমি আমাকে শেষ বিশ্বকাপটা খেলার জন্য কত অনুরোধ করেছিলে! আর টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই তোমার শরীর সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়ে গেল। মা আমাকে বলছিলেন যে তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং খেলা দেখতে আসার মতো ভালো হয়ে যাবে। আমিও তোমাকে বলতাম, আমরা ফাইনালে উঠবই যাতে তুমি আসার সুযোগ পাও।’ প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি তোমার বার্তার অপেক্ষায় থাকতাম আর তোমাকে খুব মিস করতাম। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম যে পরিস্থিতি কতটা কঠিন ছিল। তা সত্ত্বেও, আমি শুধু যতটা সম্ভব দূর পর্যন্ত যাওয়ার কথা ভাবতাম, যাতে তোমাকে কিছুটা সময় দেওয়া যায় আর তুমি এসে অন্তত একটা ম্যাচ দেখতে পারো। আমরা ফাইনালে পৌঁছালাম, কিন্তু তুমি আসতে পারলে না। আমি কাপটা জিততে চেয়েছিলাম, যাতে তোমার কাছে নিয়ে গিয়ে নতুন একটা ট্রফি দেখাতে পারি। কিন্তু পারলাম না।’ বিশ্বকাপ শেষ করে বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার পরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লেখেন, ‘আমি যখন ফিরে এলাম, তুমি ভেবেছিলে আমরা পেনাল্টিতে ফাইনাল হেরে গেছি। যা কিছু ঘটেছিল, তা নিয়ে আমরা একটা কথাও বলতে পারলাম না। তুমি কিছুই উপভোগ করতে পারলে না। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি ঠিকই, তবে আমরা প্রতিটি ম্যাচ কতটা উপভোগ করেছি তা তুমি জানতে পারলে না। আবারও তুমিই ঠিক প্রমাণিত হলে—আমার সেখানে যাওয়া এবং খেলাটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’ তিনি আরও লেখেন, ‘তোমাকে ছাড়া আমি কী করব জানি না, কীভাবে সামনে এগোবো বুঝতে পারছি না। আমি তো শুধু ফুটবলটাই খেলতে জানতাম, আর এখন আমার নিজের মনেই বড় সংশয় জাগছে যে আমি আর কতদিন খেলাটা চালিয়ে যেতে পারব। শুরু থেকেই তো তুমি আমার পাশে ছিলে, একদম শেষ মুহূর্তের তো আর অল্প একটু বাকি ছিল। আর কিছুটা সময় কেন ধৈর্য ধরে থাকলে না বাবা? তাহলে তো আমরা একসাথেই শেষটা করতে পারতাম!’ নিজের বাবাকে সেরা বন্ধু জানিয়ে মেসি লেখেন, ‘তুমি একাধারে আমার বাবা, সেরা বন্ধু এবং প্রতিনিধি ছিলে। প্রতিটি মুহূর্তে যেভাবে পাশে থাকা দরকার, তুমি ঠিক সেভাবেই থাকতে—কখনো কোনো ভুল করোনি। টুকটাক অভিমান বা ঝগড়া সত্ত্বেও দিনশেষে সবসময় তুমিই ঠিক প্রমাণিত হতে। সবশেষে তুমি যেভাবে বলতে, ঠিক সেটাই ঘটত।’ ‘তোমাকে অনেক অনেক মিস করব বাবা, তবে তুমি সবসময় আমাদের মাঝে থাকবে। তোমরা আমাকে যেভাবে বড় করেছ, আমিও আমার সন্তানদের সেভাবেই শিক্ষা দিচ্ছি। শান্তিতে ঘুমাও বাবা, আর ওপর থেকে আমাদের সেভাবেই আগলে রেখো, যেমনটা এখানে থাকতে করতে। সবকিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’ ‘তোমাকে অনেক ভালোবাসি, বাবা।’ এই পোস্টের নিচেই রোনালদো কমেন্ট করেন। যা নতুন করে রেকর্ড ভাঙল।
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) চলমান অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় হকি দলের আবাসিক ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক। ক্যাম্পে নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত নারী ও পুরুষ দলের খেলোয়াড়দের সুষম পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও ক্লান্তি দূরীকরণের লক্ষ্যে তিনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন রকমের উচ্চমানের পুষ্টিকর খাবার সামগ্রী পাঠিয়েছেন। আসন্ন জুনিয়র এশিয়া কাপের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে বর্তমানে বিকেএসপিতে অনূর্ধ্ব-২০ হকি দলের এই কন্ডিশনিং ও স্কিল আবাসিক ক্যাম্পটি পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি এই ক্যাম্পে থাকা তরুণ খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখতে এবং তাদের অনুশীলনে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাতে সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এই উপহার সামগ্রীগুলো প্রেরণ করেন। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়দের উপযোগী সুষম খাবার। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—কর্নফ্লেক্স, ওটস, প্রিমিয়াম মারিয়াম খেজুর, এনার্জি বুস্টার হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মিক্সড নাট এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি দূর করতে বিভিন্ন পুষ্টিকর চকোলেট বার। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাই আমাদের দেশের হকির ভবিষ্যৎ রূপকার। বিকেএসপির ক্যাম্পে এই তীব্র গরমে তাদের কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতাকে আমি জানাই সাধুবাদ। ফেডারেশনের নিয়মিত সুযোগ-সুবিধার বাইরেও ব্যক্তিগতভাবে তাদের পাশে থাকা এবং মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা আমি আমার দায়িত্ব মনে করি। আশা করি, এই পুষ্টিকর খাবারগুলো তাদের ফিটনেস ধরে রাখতে এবং অনুশীলনে আরো বেশি মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে। এ সময় ক্যাম্পে উপস্থিত খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফরা সাধারণ সম্পাদকের এই আন্তরিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন সরাসরি সমর্থন, ভালোবাসা ও পুষ্টি সহায়তা মাঠের পারফরম্যান্সকে আরো উন্নত করতে এবং আসন্ন টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে তাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
বিশ্বকাপ না জিতলেও পর্তুগিজ ফুটবল সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো উদযাপনের বড় একটি উপলক্ষ্য পেয়েছেন। দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেসকে তিনি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পর্তুগালের ক্যাসকাইসে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। এসময় তাদের পাঁচ সন্তান উপস্থিত ছিল। এই দম্পতি নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি শেয়ার করেছেন। তারা ইনস্টাগ্রামে নিজেদের বিয়ের আংটির একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘সি❤️জি।’এর কিছুক্ষণ পর রোনালদোর একজন প্রতিনিধি বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই প্রতিনিধি বলেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেস আজ (মঙ্গলবার) পর্তুগালের ক্যাসকাইসে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন এবং এখন তারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী ও স্ত্রী। তিনি বিয়েটিকে একটি ‘ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। রোনালদো ও রদ্রিগেসের বাগদানের প্রায় এক বছর পর এই বিয়ে হলো। ২০২৫ সালের আগস্টে রদ্রিগেস একটি ছবিতে বড় একটি হীরার আংটি দেখিয়ে বাগদানের বিষয়টি প্রকাশ করেছিলেন। ধারণা করা হয়, আংটিটির মূল্য ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে। এরপর থেকে বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও গণমাধ্যম অপেক্ষা করছিল, ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের সবচেয়ে বেশি আলোচিত দম্পতিদের একজন কবে তাদের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক রূপ দেবেন তা দেখার জন্য। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ও সফল ফুটবল খেলোয়াড়, আর ৩২ বছর বয়সী রদ্রিগেস একজন ইনফ্লুয়েন্সার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। রদ্রিগেসের সঙ্গে রোনালদোর দুই মেয়ে রয়েছে- মার্টিনা ও বেলা এসমেরালদা। এছাড়া সারোগেট মায়ের মাধ্যমে জন্ম নেয়া রোনালদোর আরও তিন সন্তান রয়েছে। তারা হলেন- ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র এবং যমজ সন্তান মাতেও ও ইভা।
অভিজ্ঞ রাসেল মাহমুদ জিমিকে রেখেই এশিয়ান গেমস হকির প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে)। গত ৩১ জুলাই মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলেন ৩৯ বছর বয়সী জিমি। আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সেই দল থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে ২৪ জনকে। তবে এটাই চূড়ান্ত দল নয়। ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, ১০ আগস্ট এই দল ২০ জনে নামিয়ে আনা হবে। এরপর ১২ আগস্ট জার্মানি যাবে প্রস্তুতি ক্যাম্পের জন্য। সেখানে প্রায় এক মাস ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ। এই সময়ে জার্মানির শীর্ষ ও দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে ১৬টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে পিটার গেরহার্ডের দল। ১৭ মাস আগে বয়সের অজুহাত দেখিয়ে তৎকালীন হকি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি জিমিকে বাংলাদেশ জাতীয় দল থেকে বাদ দিয়েছিল। অথচ মাঠের পারফরম্যান্স বা ফিটনেস—কোনোটিতেই ঘাটতি ছিল না তার। ২০২৪ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার হকি লিগে মোহামেডানের হয়ে দারুণ খেলেছিলেন তিনি। গত বছর এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ায় এশিয়ান হকি ফেডারেশন কাপের দল গড়তে ২০ ফেব্রুয়ারি মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে কুপার টেস্টের জন্য খেলোয়াড়দের ডেকেছিল ফেডারেশন। তখন জিমিকে দলে সুযোগ দেওয়া দূরের কথা, কুপার টেস্টের জন্যই ডাকা হয়নি। গত ১৮ জুলাই গঠিত হকি ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটিতে সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন জিমিও। এরপরই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের ক্যাম্পে ডাক পান তিনি। ২০০৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করা জিমি এ পর্যন্ত খেলেছেন ১৯৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সর্বশেষ বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন ২০২৩ সালের হাংজু এশিয়ান গেমসে ওমানের বিপক্ষে। বাংলাদেশ হকি দলএশিয়ান গেমস হকির দলে ফিরলেন অভিজ্ঞ জিমি, ২৪ সদস্যের দল ঘোষণা রাসেল মাহমুদ জিমি, পুষ্কর খীসা, আমিরুল ইসলাম, বিপ্লব কুজুর, আশরাফুল হক, আশরাফুল ইসলাম, আল নাহিয়ান, হুজাইফা হোসেন, রেজাউল করিম, মেহরাব হাসান, রোমান সরকার, ফজলে হোসেন, আবেদ উদ্দিন, সাহিদুর রহমান, ওবায়দুল হোসেন, দ্বীন ইসলাম, খালেদ মাহমুদ, আমান শরিফ, সোহানুর রহমান, ফরহাদ আহমেদ, নুরুজ্জামান নয়ন, মাহবুব হোসেন, মাইনুল ইসলাম ও রাকিবুল হাসান।
হতে পারতেন মালিঙ্গা-পাথিরানাদের মতো ক্রিকেটের সফল পেসার। খেলেওছিলেন শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের বিভিন্ন দলে। ঘণ্টায় ১৩৪ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সেই ষোলো বছর বয়সেই। কিন্তু তাঁর কোচ টনি প্রসন্ন ছাত্রের মধ্যে অন্য কিছু খুঁজে পান। তাঁর বল থ্রোর ধরন, গতি, ক্ষিপ্রতা– সব মিলিয়ে কোচ প্রসন্ন তাঁকে পরামর্শ দেন অ্যাথলেটিকসের বর্শা নিক্ষেপ ডিসিপ্লিনে মনোযোগ দেওয়ার। কোচের কথা শুনেই এরপর ক্রিকেটের বল ছেড়ে হাতে তুলে নেন জ্যাভলিন থ্রোর বর্শা। আর মাত্র সাত বছরের মধ্যেই সাফল্যের সব মুকুট ধরা দিতে থাকে রুমেশ থারাঙ্গা পাথিরাগের মাথায়। শুক্রবার গ্লাসগোর স্কটস্টন স্টেডিয়ামে কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের চমকে দিয়ে শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রথম জ্যাভলিন স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নেন পাথিরাগে। ভারতের অলিম্পিকজয়ী নীরজ চোপড়া ও পাকিস্তানের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আরশাদ নাদিমের পর শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাগের এই সাফল্য এ অঞ্চলে জ্যাভলিনের জয়জয়কার আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ক্রিকেটই দক্ষিণ এশিয়ায় ‘বর্শা বিপ্লব’ এনে দিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপিয়ানদের দখলে থাকা জ্যাভলিন থ্রোতে দক্ষিণ এশিয়ার এই ত্রিমুখী আধিপত্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ক্রিকেটীয় সংস্কৃতির কারণে এ অঞ্চলের তরুণদের কাঁধ, কোমর ও কবজির শক্তি প্রাকৃতিকভাবেই শক্তিশালী থাকে, যা জ্যাভলিনে বাড়তি সুবিধা দেয়। রুমেশ নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্রিকেটের বোলিং অ্যাকশন ও জ্যাভলিনের রিলিজ কৌশলের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও বল করার সময় তৈরি হওয়া শারীরিক গতি ও জোর তাঁকে বর্শা নিক্ষেপে দারুণ সহায়তা করেছে। ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডিল সুমারিভিলা মনে করেন, জ্যাভলিন থ্রোতে দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনা দিন দিন আরও বাড়বে। ‘কয়েক দশক ধরে জ্যাভলিন থ্রো মূলত ইউরোপীয় অ্যাথলেটদের দখলেই ছিল। আজ দক্ষিণ এশিয়ার অ্যাথলেটরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন, বিশ্বসেরাদের কাতারে তাঁদেরও স্থান রয়েছে। পাকিস্তান আরশাদ নাদিমের মতো একজন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন তৈরি করেছে, ভারতের রয়েছে নীরজ চোপড়া এবং এখন শ্রীলঙ্কারও এমন একজন অ্যাথলেট আছে, যিনি ৯২ মিটার অতিক্রম করতে সক্ষম। এটি পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বড় বিজয়।’ জুনে রোমে ডায়মন্ড লিগে প্রথম হওয়ার পর পাথিরাগেকে নিয়ে এমনটাই উচ্ছ্বাস দেখিয়েছিলেন সুমারিভিলা। গতকাল শনিবার কুমার সাঙ্গাকারার মতো লঙ্কার সাবেক ক্রিকেটারও পাথিরাগের এই স্বর্ণজয়কে লঙ্কার ‘গর্বের দিন’ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। পাথিরাগের মতো ভারতের নীরজ চোপড়াও একসময় পেস বোলার ছিলেন। পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমও ক্রিকেট খেলতেন। সুমারিভিলার মতে, ক্রিকেটই হয়তো জ্যাভলিন থ্রোর শুরুটা করে দিতে পারে। ‘গতিময় বোলিং হয়তো জ্যাভলিনের শারীরিক সক্ষমতা জোগাতে পারে, কিন্তু জ্যাভলিন থ্রো মূলত কৌশলগত একটি ইভেন্ট। ৯০ মিটারের বেশি দূরত্বে বর্শা নিক্ষেপ করতে বছরের পর বছর বিশেষায়িত কোচিং ও কৌশলগত সূক্ষ্মতা, শারীরিক শক্তির বিকাশ এবং প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।’ পাথিরাগে সেটাই করেছিলেন গত সাত বছরে। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের তীব্র বাতাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ৮৯.৭৫ মিটার দূরত্বে বর্শা নিক্ষেপ করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন। এটি গত ২০ বছরের মধ্যে কমনওয়েলথ গেমসে শ্রীলঙ্কার প্রথম স্বর্ণপদক। ২০২০ টোকিও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ভারতের নীরজ চোপড়া ৮৫.৮৩ মিটার থ্রো করে রৌপ্য পদক পান। ভারতেরই যশ বীর সিং ৮৫.৪১ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ নিজের নামে করেন। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের আরশাদ নাদিম ৭৭.৪১ মিটার থ্রো করে নবম স্থানে থেকেই প্রতিযোগিতা শেষ করেন। রুমেশ জানান, তাঁর এই সাফল্যের পর শ্রীলঙ্কার তরুণ প্রজন্ম এখন শুধু ক্রিকেট নয়, হাত বাড়াচ্ছে জ্যাভলিনসহ অন্যান্য খেলায়।
১২৮ বছর পর আবার অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। এটা অবশ্য পুরোনো খবর। তবে এটাকে শুধু একটা খেলার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে প্রত্যাবর্তন, কিংবা অলিম্পিকের আরও বৈশ্বিক হওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর পেছনে অলিম্পিকের কর্তাব্যক্তিদের বিশাল বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশও জড়িত। বরং সেটাই হয়তো অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে ক্রিকেটকে অলিম্পিকে ফেরানোর সিদ্ধান্তে। এর আগে অলিম্পিকে একবারই ক্রিকেট দেখা গিয়েছিল, ১৯০০ সালে প্যারিসে। সেবার দুই দিনের ম্যাচে ফ্রান্সকে ১৫৮ রানে হারিয়ে সোনা জিতেছিল গ্রেট ব্রিটেন। এক শতাব্দীরও বেশি অপেক্ষা শেষে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে আবার ক্রিকেটকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। সাম্প্রতিক সময়ে অলিম্পিক গেমসে অনেক নতুন খেলাই যুক্ত হয়েছে, কিন্তু কোনোটিই আইওসিকে এমন কিছু উপহার দিতে পারেনি, যা ক্রিকেট দিতে যাচ্ছে। ২০০ কোটিরও বেশি অনুসারী আর ভারতীয় বাজারের বিপুল বাণিজ্যিক শক্তি। সেই হিসাবে অলিম্পিকের জন্য বিগত কয়েক দশকের মধ্যে ক্রিকেটই হয়তো সবচেয়ে মূল্যবান সংযোজন হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইওসির স্পোর্টস ডিরেক্টর পিয়ের দুক্রে বলেছেন, ‘অলিম্পিকে না থাকা বিশ্বের প্রধান খেলাগুলোর অন্যতম ছিল ক্রিকেট। এমন সব বাজারে ক্রিকেট দারুণ শক্তিশালী, যেখানে অলিম্পিক গেমস হয়তো এখনো ততটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।’ তার কথা, ‘ক্রিকেট এমন দর্শক আনবে, যারা নিয়মিত অলিম্পিক দেখে না। এটা দুই পক্ষেরই লাভ। আমরা নতুন সুযোগ দেব, আর তারা আমাদের আকর্ষণ বাড়াবে।’ ক্রিকেট ফেরার আগেই অলিম্পিক ঘিরে এর বাণিজ্যিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ২০২৮ অলিম্পিকের জন্য ভারতীয় উপমহাদেশে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে ইতোমধ্যেই ‘জোরালো আগ্রহ’ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইওসি। আইওসি টেলিভিশন ও মার্কেটিং বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান-সোফি ভুমার্দ ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই স্বত্বের মূল্য ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের চেয়ে ‘বহুগুণ’ বেশি হতে পারে। প্যারিস অলিম্পিকের সম্প্রচার স্বত্বের ভিত্তিমূল্য ছিল প্রায় ৩ কোটি ডলার। আইওসির এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমরা এই অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। বাজারে আগ্রহ স্পষ্ট। এটা একদিকে এলএ ২০২৮ অলিম্পিকের জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে ক্রিকেট যোগ হওয়ার ফল।’ ভারতের মিডিয়া বাজারে অলিম্পিক ও ক্রিকেটের সম্পর্ক আগেই তৈরি। ২০২৪ সালে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও ওয়াল্ট ডিজনির যৌথ উদ্যোগে গঠিত ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ভারতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান জিওস্টার ২০২৪ প্যারিস গেমস এবং ২০২৬ মিলানো কর্তিনা শীতকালীন গেমসের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে রেখেছে। একই সঙ্গে তাদের হাতেই আছে আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্বও। আবার আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানি আইওসির সদস্য এবং ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ে আইওসি সেশনের আয়োজকও ছিলেন। ২০১০ সালে আইওসি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) স্বীকৃতি দেওয়ার পর অলিম্পিকে ক্রিকেটের ফেরা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। তবে ঐতিহ্যবাহী পাঁচ দিনের টেস্ট কিংবা আট ঘণ্টার এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ অলিম্পিকের আঁটসাঁট সূচির জন্য ছিল একেবারে বেমানান। গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে আসলে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট। তিন ঘণ্টার ধুন্ধুমার ক্রিকেট কেবল তরুণ দর্শকই টানছে না, অলিম্পিকের দরজাও খুলে দিয়েছে। ২০১৪ সালে আইওসির নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্বাগতিক শহরগুলো নিজেদের পছন্দের নতুন খেলা অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ পায়। লস অ্যাঞ্জেলেস সেই সুযোগটিই লুফে নিয়ে ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তা গ্রহণ করা হয়। সংক্ষিপ্ত সময়ের বাইরেও টি-টুয়েন্টির প্রবল অনিশ্চয়তা আর বৈশ্বিক বিস্তৃতি একে অলিম্পিকের জন্য যেন তৈরি করেই দিয়েছে বলে মনে করেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত। জিওস্টারের স্পোর্টস অ্যান্ড লাইভ এক্সপেরিয়েন্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ রয়টার্সকে বলেছেন, ‘লাইভ খেলার আসল রোমাঞ্চ হলো তার অনিশ্চয়তা, আর এই সংস্করণে তা সবচেয়ে বেশি। টেস্ট ম্যাচ যেখানে মাত্র ১২টি পূর্ণাঙ্গ সদস্যদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে টি-টুয়েন্টি হলো ক্রিকেটের সত্যিকার বিশ্বজনীন রূপ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসার ঘটিয়েছে, একে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম বানিয়েছে। এটি অলিম্পিকের সব শর্তই পূরণ করে।’ ক্রিকেটের এই বাণিজ্যিক উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে আইপিএল। গত দুই দশকে এই টুর্নামেন্ট গোটা খেলাটাকেই পাল্টে দিয়েছে, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের টেনে এনেছে এবং হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান টুর্নামেন্টগুলোর একটি। ১০ দলের আইপিএলের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার, আর ২০২৬ মৌসুমে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে এই টুর্নামেন্ট দেখেছেন ১২০ কোটি দর্শক। ভৌগোলিক সম্প্রসারণের বাইরেও ক্রিকেট এনে দিচ্ছে এমন এক দর্শকশ্রেণি, যা অলিম্পিকের জন্য অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। সঞ্জোগ গুপ্তর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রিকেটের অনুসারীদের প্রায় ৫০ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে, আর ৩৫ শতাংশের বয়স ২৭ বছরের নিচে, যা ক্রিকেটকে করে তুলেছে ‘ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত’। সঞ্জোগ যা বোঝাতে চেয়েছেন, তা হলো এই বয়সি দর্শক ক্রিকেটের হাত ধরে অলিম্পিকেও আগ্রহী হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের পরও অলিম্পিকে ক্রিকেট থেকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০৩২ অলিম্পিক হবে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে, যেখানে ক্রিকেটের ঐতিহ্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আহমেদাবাদে আয়োজন করতেও চেষ্টা চালাচ্ছে ‘ক্রিকেটের দেশ’ ভারত।
ফুটবল শুধু প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়, এটি বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষের মিলনেরও একটি বড় ক্ষেত্র। কিন্তু কখনো কখনো এই আবেগের জায়গাতেই উঠে আসে বর্ণবাদ, বিদ্বেষ ও ধর্মীয় বিদ্রূপের মতো নেতিবাচক বিষয়। এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন স্পেনের তরুণ ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল। প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া একটি ধর্মীয় বিদ্রূপাত্মক স্লোগানের পর তিনি নিজের পরিচয় আড়াল না করে গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেন— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।’ ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ মার্চ ২০২৬ বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন ও মিশরের মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। দুই দলের পারফরম্যান্স ছিল বেশ কাছাকাছি। তবে ম্যাচকে ঘিরে স্পেনের কিছু সমর্থকের আচরণ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। ম্যাচ দেখতে আসা কয়েকজন স্প্যানিশ সমর্থক মিশরীয় খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে একটি স্লোগান দিতে থাকে— “El que no bote es un musulmán” যার অর্থ— ‘যে লাফাবে না বা ভালো খেলতে পারবে না, সে মুসলিম।’ স্প্যানিশ ফুটবল সংস্কৃতিতে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে ‘যে লাফাবে না, সে…’ ধরনের ছড়া বা স্লোগান দেওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। তবে ওই ঘটনায় সমালোচনার কারণ ছিল— মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বিদ্রূপ করতে তাদের মুসলিম পরিচয়কে ব্যবহার করা। সমর্থকেরা হয়তো এটিকে শুধুই প্রতিপক্ষকে খোঁচা দেওয়ার একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল, যে দলের সমর্থনে তারা এই স্লোগান দিচ্ছে, সেই স্পেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় লামিনে ইয়ামাল নিজেই একজন গর্বিত মুসলিম। তাই ‘মুসলিম’ শব্দটিকে বিদ্রূপ হিসেবে ব্যবহার করা শুধু মিশরীয় খেলোয়াড়দের নয়, ইয়ামালের নিজের পরিচয়ের প্রতিও অসম্মান হিসেবে ধরা পড়ে। ইয়ামালের জবাব— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’। ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিল ২০২৬, ইয়ামাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি নিজের মুসলিম পরিচয় গর্বের সঙ্গে তুলে ধরে লেখেন— ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল স্টেডিয়ামে আমরা শুনেছি স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল— ‘যে লাফাবে না সে মুসলিম’। আমি জানি, এটি প্রতিপক্ষ দলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য করে নয়। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আমার কাছে এটি অত্যন্ত অসম্মানজনক। এমন আচরণ আমরা মেনে নিতে পারি না।’ ইয়ামাল আরও লেখেন, ‘আমি বুঝি, সব সমর্থক এমন নন। তবে যারা এই ধরনের স্লোগান দিয়েছেন, তাদের বলব— ফুটবল স্টেডিয়ামে মানুষকে উপহাস করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা আপনাদের অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী মানসিকতার পরিচয় দেয়।’ তিনি ফুটবলের প্রকৃত চেতনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ফুটবল উপভোগ ও ভালোবাসার জায়গা। কার পরিচয় কী বা কে কোন বিশ্বাস ধারণ করে, তা নিয়ে অপমান করার জায়গা নয়।’ ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একটি বার্তা লামিনে ইয়ামালের এই প্রতিক্রিয়া শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতিবাদ ছিল না; বরং বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাড়তে থাকা ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান হিসেবে দেখা হয়। তিনি দেখিয়েছেন, নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেও একজন ক্রীড়াবিদ বিশ্বমঞ্চে সফল হতে পারেন। ইয়ামাল কখনোই তার মুসলিম পরিচয় গোপন করেননি। পেশাদার ফুটবলের কঠোর অনুশীলন, ব্যস্ত সূচি ও শারীরিক চাপের মধ্যেও তিনি রমজান মাসে রোজা পালনের বিষয়টি আগেও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। ধর্মীয় পরিচয় ও খেলাধুলার সম্মান মিশরের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে দেওয়া ওই স্লোগান মূলত একটি নির্দিষ্ট দলকে লক্ষ্য করে হলেও এর মধ্যে থাকা ধর্মীয় বিদ্রূপ অনেকের কাছেই আপত্তিকর হয়ে ওঠে। ইয়ামাল সেই জায়গাতেই মনে করিয়ে দিয়েছেন— খেলাধুলার মাঠে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু ঘৃণা, বিদ্বেষ বা কোনো মানুষের বিশ্বাসকে অপমান করার স্থান সেখানে হওয়া উচিত নয়। লামিনে ইয়ামালের ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম’— এই বক্তব্য শুধু তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ নয়; এটি সম্মান, সহনশীলতা ও বৈচিত্র্যের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা। ফুটবল বিশ্বের কোটি মানুষের আবেগের জায়গা। এই আবেগ যেন কখনো বিদ্বেষে পরিণত না হয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করে— ইয়ামালের প্রতিবাদ সেই প্রত্যাশাকেই সামনে তুলে ধরেছে। সূত্র: রিলিজিয়ন আনপ্ল্যাগড ডটকম
না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক, কোচ এবং দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার কেভিন কিগান। সোমবার (২০ জুলাই) পরিবার ও সাবেক ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিগান। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তার অসুস্থতার কথা প্রথমে জানা যায়। পরবর্তীতে জুনে চিকিৎসকরা জানান, তিনি ক্যান্সারের চতুর্থ স্টেজে ছিলেন। কেভিন কিগান তার প্রজন্মে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী ফরোয়ার্ড ছিলেন। ছোটখাটো গড়ন কিন্তু দুর্দান্ত গতি ও লড়াইয়ের মানসিকতার জন্য ভক্তরা তাকে ভালোবেসে ডাকতেন মাইটি মাউস। লিভারপুলের জার্সিতে তিনি ৩টি ফার্স্ট ডিভিশন (বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ) শিরোপা, ১টি এফএ কাপ, ২টি ইউয়েফা কাপ এবং ১৯৭৭ সালে তাদের প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জয় করেন। জার্মান লিগে খেলতে গিয়ে ১৯৭৯ সালে বুন্দেসলিগা জেতেন। সেখানে তিনি পরপর দুই বছর (১৯৭৮ ও ১৯৭৯) ইউরোপের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন ডি’অর অর্জন করেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের হয়ে তিনি ৬৩ ম্যাচে ২১টি গোল করেন এবং ৩১টি ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দেন। খেলোয়াড়ি জীবনের পর কিগান নাম লেখান কোচিংয়ে। ১৯৯২ সালে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবটিকে প্রিমিয়ার লিগে তুলে আনেন এবং দর্শকনন্দিত ফুটবল উপহার দিয়ে বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়ান। পরবর্তীতে তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দল (১৯৯৯–২০০০), ফুলহাম ও ম্যানচেস্টার সিটির কোচের দায়িত্বও পালন করেন।
বিশ্বকাপে আজ রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, মুখোমুখি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।এছাড়া ভাইটালিটি ব্ল্যাস্ট টি–টুয়েন্টির সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আজ। বিশ্বকাপ ফুটবল: ৩য় স্থান ফ্রান্স–ইংল্যান্ড রাত ৩টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় বিশ্বকাপ–পুনঃপ্রচার আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড সকাল ১০টা, টি স্পোর্টস ফ্রান্স–স্পেন বেলা ১টা, টি স্পোর্টস ভাইটালিটি ব্ল্যাস্ট টি–টুয়েন্টি নর্দাম্পটনশায়ার–সমারসেট বিকেল ৪টা, সনি স্পোর্টস ১ হ্যাম্পশায়ার–নটিংহামশায়ার সন্ধ্যা ৭–৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১ ফাইনাল রাত ১১–৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ১
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে ভিএআরের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের করা দ্বিতীয় গোলটি ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করে দেন ম্যাচ রেফারি। তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মতভেদ। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই স্কট ম্যাককেনার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। এরপর ২২তম মিনিটে জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশে দ্বিতীয়বার বল জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু গোল উদযাপনের মাঝেই ভিএআরের হস্তক্ষেপে বদলে যায় দৃশ্যপট। রিপ্লে পর্যালোচনা করে রেফারি সিজার রামোস সিদ্ধান্ত দেন, বল দখলের আগে হেন্ড্রির পায়ে আঘাত করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। ফলে ফাউলের অভিযোগে গোলটি বাতিল করা হয়। রেফারির এই সিদ্ধান্তে হতাশ প্রতিক্রিয়া জানান ভিনিসিয়ুস। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই হেড থেকে আবারও গোল করে ব্রাজিলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা যায়। বিবিসির নিয়ম বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান মনে করেন, স্কটল্যান্ড কিছুটা ভাগ্যবান ছিল। তার ভাষায়, “সামান্য সংস্পর্শ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমার কাছে এটি ফাউল মনে হয়নি। ডিফেন্ডার নিজেই এসে ওই সংস্পর্শে জড়িয়েছে। গোলটি বাতিল হওয়ায় স্কটল্যান্ড সুবিধা পেয়েছে।” অন্যদিকে সাবেক স্কটিশ ফুটবলার জেমস ম্যাকফ্যাডেন রেফারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, “ভিনিসিয়ুস বলে যাওয়ার আগে হেন্ড্রির পায়ে আঘাত করেছে। ওই সংস্পর্শই ডিফেন্ডারকে বল ক্লিয়ার করতে বাধা দিয়েছে। তাই এটি ফাউল এবং গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক।” তবে বিবিসির স্টুডিও বিশ্লেষক ও সাবেক ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার লুকাস লেইভার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তার মতে, “এটি কোনো ফাউল ছিল না। ভিনিসিয়ুস দুর্দান্ত প্রেসিংয়ের মাধ্যমে বল দখল করেছিল। আমার কাছে গোলটি বৈধ বলেই মনে হয়েছে।” ভিএআরের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চললেও শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ব্রাজিল। তবে তার বাতিল হওয়া গোলটি ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
রোববার রাতে রোলাঁ গারোঁ ফাইনালে ইতালির ফ্লাবিও কবোল্লিকে ৬-১, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৭ (৫-৭), ৬-১ গেমে হারান ২৯ বছর বয়সী জার্মান খেলোয়াড়। টানা তিন ফাইনালে হারের পর অবশেষে প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জিতলেন আলেক্সান্ডা জেভেরেভ। রোববার রাতে রোলাঁ গারোঁ ফাইনালে ইতালির ফ্লাবিও কবোল্লিকে ৬-১, ৪-৬, ৬-৪, ৬-৭ (৫-৭), ৬-১ গেমে হারান ২৯ বছর বয়সী জার্মান খেলোয়াড়। আগে তিনটি ফাইনালে হারের পর স্বভাবতই চাপে ছিলেন জেভেরেভ। তার ওপর দুর্দান্ত লড়াই করে তাকে আরো চাপে রাখেন কবোল্লি। যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে শিরোপা বঞ্চিত করতে পারেননি ইতালির খেলোয়াড়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।