রাজধানীর মিরপুরে আফরা ইভনাথ ইকরার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেতা যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তার পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার বনানী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন। আবেদনে বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিনের আবেদন করেন নাসরিন সুলতানা। হাইকোর্ট ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। হাইকোর্টের আদেশক্রমে আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি বয়স্ক। জামিন দিলে পালিয়ে যাবেন না৷ পরে আদালত আগামী ২৪ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির ধার্য দিন পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর ডিওএইচএসেরর বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। ইকরার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ওইদিন রাতেই মামলা করেন তার বাবা কবির হায়াত খান। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করা হয়। মামলায় ইকরার বাবা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’। উল্লেখ্য, আফরা ইভনাথ ইকরা আলভীর স্ত্রী।
পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে দেশে কঠোর আইনগত কাঠামো রয়েছে। পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী, কোনো সন্তান বা আইনগতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি তার পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, সন্তানের দায়িত্ব হলো নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পিতা-মাতার খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ও মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করা। এ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আইনে বলা হয়েছে, ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে আদালতের নির্দেশে নিয়মিত ভরণপোষণ প্রদানের আদেশও দেওয়া হয়। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ আইনটি শুধু শাস্তির জন্য নয়, বরং পারিবারিক বন্ধন ও মানবিক দায়িত্ববোধ জোরদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে আদালতের হস্তক্ষেপে সন্তানদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হয়, যা প্রবীণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল সামাজিক কাঠামোতে অনেক সময় প্রবীণ বাবা-মা অবহেলার শিকার হন। তাই এ ধরনের আইন পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো গেলে প্রবীণদের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী হবে।
মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ সেন্টমার্টিনে ৯ পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। বুধবার (০৩ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনের উত্তর-পূর্ব সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় আজ রাত ২টায় সমুদ্রে টহলরত কোস্ট গার্ড জাহাজ মনসুর আলী কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক ১ টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ৬৫০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ ৯ জন পাচারকারিকে আটক করা হয়। জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন রামিসার মা পারভিনা আক্তার। সাক্ষ্যতে শিশু রামিসাকে কিভাবে খুঁজে পান, ওইসময় কি কি করেছিলেন ও কি কি দেখেছিলেন তা জানান শিশুটির মা। সাক্ষ্যগ্রহণে তিনি আদালতে বলেন, 'আমি বার বার স্বপ্নাকে কেঁদে বলি। বইন দরজাটা খুল, দরজাটা খুল। কিন্তু খুলে নাই। পরে দরজা ভাঙতে হয়। ভিতরে গিয়ে মেয়ের খন্ডিত মরদেহ দেখে অজ্ঞান হয়ে যাই। আজ মঙ্গলবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ সাক্ষ্য দেন তিনি। এদিন প্রথমে রামিসার বাবা সাক্ষ্য দেন। তার সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হলে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে রামিসার মা পারভীনা আক্তার সাক্ষ্য দেন। সকাল ১১ টা ৩ মিনিটের দিকে পারভীনার সাক্ষ্য শুরু হয়। এসময় আসামব সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণে পারভীনা আক্তার আদালতে বলেন, আমি গৃহিনী। গত ১৯ মে সকালে এ ঘটনা ঘটে। আমি তখন রান্না করছিলাম। রান্না প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। আমার দুই মেয়ে। বড় মেয়ের নাম রাইসা আক্তার। রাইসাকে ঘটনার দিন আনুমানিক সকাল ১০ টার দিকে বললাম, তার চাচা গোলাম মোস্তফার বাসায় যেতে। তখন ছোট মেয়ে রামিসা বললো , আম্মু আমিও আপুর সাথে যাবো। আমি তাকে যেতে না করি। এরপর আমি আবার রান্নাতে ব্যস্থ হয়ে যায়। পরে বড় মেয়ে চাচার বাসায় যায়। ছোট মেয়েকে নেয়নি। রাইসাকে বলে তুমি রুমে থাকো। এটা আমি রান্না ঘর থেকে শুনতে পাই। পরে রাইসা তাকে নিয়ে চাচার বাসায় যাই কিনা জানতাম নাম। তিনি আরো বলেন, 'একটুর পর আমি রান্না ঘর থেকে একটা বাচ্চার চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। পাশের ফ্ল্যাটের আসামি সোহেলদের বাসায় বাচ্চা নেই জানতাম। তবে একটু পর রুমের বাইরে বের হলাম। কাউকে পেলাম না বাইরে। এর ৩-৪ মিনিট পর রাইসা একা তার চাচার বাসা থেকে আসে। আমি রাইসাকে বললাম, তুমি একা কেন। রামিসা কোথায়? রাইসা বলে, সে তো আমার সাথে যায় নাই। নিচে গেছে মনে হয়। নিচে গিয়ে দেখি রামিসা নাই। আশেপাশে সবার কাছে শুনতে থাকি, রামিসাকে দেখছেন। সবাই বলে, না দেখি নাই। পারভীন আক্তার আরো বলেন, ' বিল্ডিয়ের নিচে অফিস রুম ভাড়া একটা। সেটার দরজা খুলে দেখলাম, মেয়ে আছে কিনা। কিন্তু পায়নি। দুই তালায় ব্যাচেলর ভাড়া দিছে। সেখানেও খুঁজলাম। কিন্তু পেলাম না। পরে তিনতালায় সোহেলদের রুমে ধাক্কা দিলাম। খুললো না। পরে তাদের দরজার সামনে দেখলাম মেয়ের একটা জুতা পড়ে আছে। তখা মনে হলো আগে একটা বাচ্চার চিৎকার শুনছিলাম, ওই বাচ্চার চিৎকার কি আমার মেয়ের? তাহলে কি আমার রামিসাকে এখানে আটকে রেখেছে? রামিসা মা বলেন, এরপর আমি দরজা খোলার জন্য বার বার দরজা ধাক্কাতে থাকি। কিন্তু কেউ খুলে না। পরে পাঁচ তলার মনির ও আসমা নামে একটা মহিলা আসলো। এরপর একে একে অনেক লোকজন আসলো। সবাই দরজা খোলার কথা বলে। কিন্তু আসামিদের কেউ খুলে না। পরে মনিরকে বললাম, নিচে যান। আরো মানুষ ডেকে আনেন। তিনি নিচে গিয়ে ১০-১২ জন ডেকে আনে। তখন আমি আমার স্বামীকে বারবার ফোন দিতে থাকি। উনাকে বলি, আসাদের রামিসাকে পাচ্ছি না। স্বামী তখন অফিস থেকে আসে। ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে চলে আসে। পারভীনা আক্তার সাক্ষ্যতে বলেন, 'তখন সবাই দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে দরজার গোল বোল্ড লক ভাঙা হয়। ভাঙা লকের ছিত্র দিয়ে দেখি বাথরুম খোলা। ভিতরে কি রক্ত। রাজু নামে একটা ছেলে সেটার ভিডিও করে। আমি চিৎকার করে কাঁদতে থাকি। তখন আমি আসামি স্বপ্নাকে ভিতরে হাঁটতে দেখি। আমি বাইরে থেকে স্বপ্নাকে বার বার বলতে থাকি, বোইন দরজাটা খুল। দরজাটা খুল। আমি তোকে কিছু বলবো না। কাঁদতে থাকেন মা পারভিনা। পারভীনা আরো বলেন, 'এরপর দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখি আমার মেয়ের মাথা একজায়গায় আর দেহ আরেক জায়গায়। মাথা বাথরুমে বালতিতে। আর দেহ আসামিদের রুমের খাটের নিচে লুকিয়ে রেখেছে। পরে পুলিশ এসে। মেয়ের মরদেহ, জামা কাপড় সব নিয়ে যায়।' এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু রামিসার মায়ের কাছে জানতে চান, তখন স্বপ্নার কাছে কোনো কিছু জানতে চাইলেন কিনা? পারভীনা বলেন, তখন অনেক মানুষজন ঢুকে পড়ে। আমি তার কাছে কিছু জানতে পারি নাই। তারা স্বপ্নার কাছে জিঙ্গাসা করছিল। পিপি আরো বলেন, 'দেখেন তো এখানে স্বপ্না আছেন কিনা। তখন পারভীনা কাঠগড়ার দিকে হাত দিয়ে বলেন, হ্যাঁ, ওই যে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। আমি কতো বলেছি, বইন দরজাটা খুল, দরজাটা খুল। কিন্তু খুলে নাই সে।' এটা বলে কাঁদতে থাকেন রামিসার মা। বেলা ১১ টা ২২ মিনিটে তার সাক্ষ্য শেষ হয়। এরপর রামিসার মাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ। এরপর বেলা ১১ টা ২৬ মিনিটের জেরা শেষ হয়। এর আগে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সোহেল। তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদকে আসক্ত থাকতেন সোহেল। ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে বাথরুমে টেনে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। রামিসা চিৎকার করে কান্নাকাটি করায় ও পরিবারকে জানানোর কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে মাথা ও হাত কেটে হত্যা করে সোহেল। এ ছাড়া লাশ গুম করতে ও পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী স্বপ্না।
আলোচিত শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে আদালতে হাজির হয়েছেন তার বাবা। এ সময় তিনি মেয়ের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে তিনি আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, নিরপরাধ শিশুকন্যাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, আর এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারই এখন তাদের পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা। রামিসার বাবা বলেন, “আমার মেয়েকে আর ফিরে পাব না, কিন্তু যারা এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমবে।” তিনি বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার কার্যক্রম নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলছে। তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। রামিসার পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, আদালতের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পাবেন এবং দোষীরা আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করবে। এদিকে মামলার অগ্রগতি ও বিচার প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে দেশবাসী।
রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জে পাটক্ষেতে নিয়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় মাহিগঞ্জ থানার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাড়ী এলাকার একটি পাটক্ষেতে শিশুটিকে ফুঁলিয়ে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান বদিয়ার জামান ওরফে জামান নামের এক ব্যক্তি। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ওই অভিযুক্ত পলায়ন করেন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মাহিগঞ্জ থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বিত দল তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান নির্ণয় করে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে মিঠাপুকুরের রাধাবল্লভপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ঘটনা শুনে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে আটকের চেষ্টা চালায়। প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ বদিয়ার জামানকে আটক করে। তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আটক বদিয়ার জামান অসাধু চরিত্রের অধিকারী। তাঁর দুই স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন।
যানবাহনের মালিকদের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভুয়া এসএমএস। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য রাজধানীতে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হয়ে সেই তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট চালকের মোবাইল নম্বরে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ নাগরিকদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এআই মামলার নামে একটি এসএমএসের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট নিয়ে এই প্রতারণা চলছে। এসএমএস পাঠিয়ে বলা হচ্ছে গ্রাহকের নামে এআই মামলা হয়েছে, দেওয়া হচ্ছে মামলা নম্বর এবং বিআরটিএর লোগো সংবলিত একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা। সেখানে গিয়ে করতে হবে মামলার জরিমানা পরিশোধ। রোববার (২৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী এই এসএমএসের সত্যতার বিষয়ে জানতে চেয়ে স্ট্যাটাস দেন। এমনকি ট্রাফিক অ্যালার্ট গ্রুপে পরিচয় গোপন করেও একজন নাগরিক পোস্ট করেছেন। সেখানে বেশ কয়েকজন গ্রাহক এমন বার্তা পেয়েছেন বলে কমেন্টও করেছেন। এ ছাড়া অনেকেই নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করেও এই এসএমএসের কথা জানতে চেয়েছেন। তাদের মধ্যেই একজন রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা ইয়াসিন পাটোয়ারী। প্রতারকের পাঠানো এসএমএসের ছবিসহ তিনি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘আমার ফোনে একটি এসএমএস এসেছে। এটা কি সত্যিকারের এআই মামলা, নাকি কোনো স্ক্যাম?’ আর সেই ছবিটি তিনি সংযুক্ত করেছেন সেখানে লেখা আছে “[বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ] জরিমানা পরিশোধ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি। জরিমানা নম্বর: ২০২৬-বিডি-৫৬১২৩০৪৩টি। তারিখ: ২৪ মে, ২০২৬। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (ক্যামেরা নম্বর: টিআর-৭৭২) অনুযায়ী, আপনার যানবাহনটি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করা না হলে, আপনার লঙ্ঘনের রেকর্ড জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং আপনি আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হবেন। অনুগ্রহ করে ২৪ মে মধ্যরাতের পূর্বে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করুন: https://bspbrtcar-govbd.online। এই বার্তাটি পুনরায় খুলতে ‘১’ চাপুন, লঙ্ঘনের রেকর্ড দেখুন এবং ক্যামেরার ছবি ও জিপিএস অবস্থানের তথ্য যাচাই করুন।” এ বিষয়ে ইয়াসিন কালবেলাকে বলেন, ‘সরকার কীভাবে জরিমানা নেবে, পদ্ধতিটা কীভাবে হবে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য গ্রাহককে না জানিয়ে এই প্রকল্প চালু করায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালকরা। আমাদের জানানো উচিত ছিল কীভাবে মামলা হবে, কীভাবে জরিমানা দেওয়া হবে, অথবা মামলাটি আসলেই হলো কি-না। সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া প্রয়োজন ছিল। সরকার এই উদ্যোগ না নেওয়ায় একটি অসাধু চক্র এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে।’ এই এসএমএসের সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তানভীর হাসান জোহা কালবেলাকে বলেন, ‘এই মেসেজে থাকা কিছু বিষয় বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। যার মধ্যে বিদেশি নম্বর (+63) থেকে বার্তা এসেছে, যা বাংলাদেশের সরকারি ট্রাফিক বা জরিমানা ব্যবস্থার স্বাভাবিক যোগাযোগ পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ছাড়া ওয়েবসাইট ‘.gov.bd’-এর পরিবর্তে ‘.online/.icu’ ডোমেইন ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল সেবা সাধারণত gov.bd ডোমেইনের অধীনে পরিচালিত হয়। ‘govbd’ শব্দটি ডোমেইনে থাকলেই সেটি সরকারি হয় না। তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ‘প্রতারকদের পাঠানো ওই মেসেজে, ভয়ভীতি ও জরুরি চাপ (আরজেন্সি ট্যাকটিক) প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন ‘জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত’, ‘আইনানুগ শাস্তি’ ইত্যাদি। এটি ফিশিং ক্যাম্পেইনের একটি পরিচিত কৌশল, যার মাধ্যমে মানুষকে দ্রুত লিংকে ক্লিক ও পেমেন্টে প্রলুব্ধ করা হয়। এ ছাড়া সাধারণ নাগরিক যদি বিশ্বাস করে পেমেন্ট করেন, তাহলে কার্ড তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, ওটিপি বা ব্যক্তিগত ডাটা চুরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নোবেল দে কালবেলাকে বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমি এ বিষয়ে কথা বলেছি। বিআরটিএ থেকে এআই মামলা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে বিআরটিএ এই ধরনের কোনো মামলার পেমেন্টও নিচ্ছে না। কেউ যদি বিআরটিএর নাম ভাঙিয়ে কোনো এসএমএস বা অন্য কোনো পন্থায় এই মামলার কোনো পেমেন্ট নেয়, সেটি স্পষ্টতই প্রতারণা।’ এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘এআই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে কারও মোবাইলে এখনো কোনো মেসেজ পাঠানো হয়নি। ডাকযোগে বাসার ঠিকানায় মামলার ডকুমেন্ট পাঠানো হচ্ছে। যার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হবে, তিনি সরাসরি ট্রাফিক বিভাগের অফিসে গিয়ে জরিমানা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করবেন।’
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্টে মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোববার (২৪ মে) ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা যায়। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার দিন রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বিকৃত করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে রোববার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। এদিকে শনিবার (২৩ মে) তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রামিসাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান তিনি। পরে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই কক্ষে ছিলেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, নিহত রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সকালে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে অনেকটা গতি ফিরলেও অভিযানে গিয়ে একের পর এক হামলার শিকার হওয়ায় ঘটছে ছন্দপতন। এমনকি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ১ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানের মধ্যেও থেমে নেই আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। চলতি মাসে এ পর্যন্ত ঢাকাসহ ৯ জেলায় অন্তত ১৩টি স্থানে হামলা হয়েছে। এতে আহত হন পুলিশ ও র্যাবের অন্তত ৩২ সদস্য। এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম চার মাসে আরও ২১৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। পৃথক ঘটনায় সিলেট ও চট্টগ্রামে মারা গেছেন পুলিশ ও র্যাবের দুই সদস্য। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সারাদেশে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পট পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘মব’ ও হামলার শিকার হয় পুলিশ। এতে পুলিশের মনোবল ভেঙে যায়। আবার অনেক পুলিশ সদস্য মামলা, সংযুক্তি, প্রত্যাহার ও চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন– এমন আতঙ্কে রয়েছেন। তাই পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তাই অপরাধীরা মনে করছে, পুলিশ এখনও দুর্বল অবস্থানে আছে; হামলা করলে কিছুই হবে না। এর বিপরীতে তারা নিজেদের শক্তিশালী ভাবছে; তাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে। গতকাল শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, অনেকের মধ্যে আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। পুলিশের কোনো সদস্যদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের কিছুটা ঘাটতি আছে। আইন প্রয়োগ করতে গেলেও এক ধরনের ভয় কাজ করছে। কোথাও আবার এর জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়। আইন প্রয়োগ করা নিয়ে তাদের মধ্যে দোদুল্যমানতা দেখা যায়। কোনো অপরাধী মনে করেন, অপকর্মে জড়ালে শক্ত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে না। তিনি বলেন, কয়েকটি জায়গায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। অভিযানের মধ্যে পুলিশের ওপর হামলার কয়েকটি ঘটনার পর আমরা ফোর্সদের মনোবল শক্ত রাখার বার্তা দিয়েছি। প্রতি জায়গায় শক্ত মামলা নিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের আমরা সাহস দিচ্ছি। যাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সিলেটে এক মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য্য নামের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৯) একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে নগরের কোতোয়ালি মডেল থানার পাশে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ইমন ওই মাদক কারবারিকে জাপটে ধরার চেষ্টা করে। এ সময় র্যাব সদস্যের বুকের বাম পাশে চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়। এদিকে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার পুলিশকে ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিতে চান তারা। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন স্থানীয়রা। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাজধানীর দনিয়ায় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীর আত্মহত্যার জেরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পুলিশের সামনেই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার অবরুদ্ধ চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে পুলিশ বের করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং গণপিটুনি দেয়। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় মার্চ ও ফেব্রুয়ারিতে হামলার ঘটনা বেড়েছে। পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় জানুয়ারিতে ৪২, ফেব্রুয়ারিতে ৪২, মার্চে ৬৩ এবং এপ্রিলে ৬৬টি মামলা হয়। এর আগে ২০২৫ সালে পুলিশের ওপর হামলার ৬০১টি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মার্চে সর্বাধিক ৯৬ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হন। চলতি মাসে ১৩ হামলা এ মাসে বিশেষ অভিযানের মধ্যে অন্তত ১৩টি স্থানে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা। এর মধ্যে চারটিই ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে। সর্বশেষ গতকাল বরিশালের উজিরপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে শ্রমিক দল নেতা ও তার সহযোগীদের হামলার শিকার হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। অভিযানের সময় ডিবি পুলিশের এক কনস্টেবলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল জেলা ডিবির সাত সদস্যের একটি আভিযানিক দল উজিরপুর পৌরসভার খেয়াঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এসআই আরসেলের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মাদক উদ্ধারের সময় উজিরপুর পৌর শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ মোল্লার নেতৃত্বে তার সহযোগী শামীম মোল্লা, মুনসুর মোল্লা ও আলাউদ্দিন পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করেন। পুলিশের দাবি, অভিযানের এক পর্যায়ে ডিবি সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিক দল নেতা আরিফ মোল্লা তার কাছে থাকা মাদকের একটি প্যাকেট পাশের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেয়। পরে ডিবির কনস্টেবল মৃণাল চন্দ্র পুকুর থেকে ওই মাদক উদ্ধারের চেষ্টাকালে আরিফ তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বৃহস্পতিবার কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ভাষানিয়া ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে এবং ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নওগাঁর রাণীনগরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিজয়কান্দি (বড়বড়িয়া) রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছে। রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, বিজয়কান্দি গ্রাম থেকে চারটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চোর ধরতে এবং মাদক কারবারিদের ধরতে বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযানকালে বিজয়কান্দি রেলক্রসিং এলাকায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ দুই কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এর আগে ১৬ মে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পরোয়ানাভুক্ত আসামি জুবায়ের ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তারে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তবে অষ্টগ্রাম থানার ওসি মো. রুকনউজ্জামান দাবি করেন, গ্রেপ্তারের আগেই পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে আসামি পালিয়ে যায়। পুলিশের কেউ আহত হননি। এদিকে ১৪ মে দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে আক্রান্ত হন দুই এএসআই। তখন গ্রেপ্তার আসামিও হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যায়। হাতীবান্ধা থানার ওসি রমজান আলী বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মাদক কারবারি রবিউল ইসলাম পটল ও তার ভাই রাসেল শেখকে গ্রেপ্তারে মধ্য সিঙ্গিমারী গ্রামে অভিযান চালানো হয়। তখন মাদক কারবারিদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। তারা সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল। পরে বাড়তি পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় করা মামলার আসামি রাসেলসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১৩ মে রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাদক ও জুয়াবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলায় চারজন আহত হন। তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অবৈধ জুয়া ও পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা হয়। দুই মামলার অভিন্ন সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাটোরের লালপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হামলায় র্যাবের পাঁচ সদস্য আহত হন। ১২ মে রাত ৯টার দিকে লালপুরের নবীনগর কবরস্থান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, হামলাকারীরা মাদক কারবারি। তবে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলছেন, অভিযানের আগে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য যান র্যাব সদস্যরা। তখন স্থানীয়রা তাদের ‘ভুয়া র্যাব’ ভেবে আক্রমণ করে। এ ঘটনায় তিন আসামির নাম উল্লেখ করে মামলা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজধানীতে ২১ দিনে তিন দফায় আক্রান্ত চলতি মাসে খোদ রাজধানীতেও তিন দফায় আক্রান্ত হয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ গত বুধবার দুপুরে পল্লবীর কালশীর বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় সরকারি জমি থেকে অবৈধ বস্তি উচ্ছেদ অভিযানে হামলার শিকার হয় তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে ওই অভিযানে বস্তির বাসিন্দারা হঠাৎ পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজেদের সুরক্ষায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালাতে বাধ্য হন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, হামলায় পুলিশের অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। গত ১১ মে সকালে মোহাম্মদপুরে অভিযানে গিয়ে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন ধানমন্ডি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। আরও দুজন সামান্য আহত হন। ধানমন্ডি থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, আক্রান্ত হওয়ার পর পুলিশ গুলি ছুড়লে আহত হন শাকিব নামে সন্দেহভাজন এক ছিনতাইকারী। পরে তাকেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ৩ মে রাতে মোহাম্মদপুরের বিজলি মহল্লার চেকপোস্টে পুলিশের ওপর হামলা চালায় মাদক কারবারিরা। চেকপোস্টে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি পিচ্চি রাজাসহ তিনজনকে আটক করার পর তাদের সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটায়। পুলিশের ওপর হামলা হলেও কেউ আহত হননি বলে দাবি করা হয়। তবে পুলিশকে সহায়তা করতে এগিয়ে যাওয়া এক যুবক আহত হন। নারায়ণগঞ্জেই ৪ হামলা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চারটি হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১ মে ভোররাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার চৌধুরীবাড়ি এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনতাই করা হয়। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। ৪ মে রাতে রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কয়েক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে শামীমের স্ত্রীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ মে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের লিচুবাগ এলাকায় র্যাবের গোয়েন্দা দলের তিন সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া ৬ মে নারায়ণগঞ্জ সদরের কাশিপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের ২৭ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অটোরিকশা থেকে ফেলে দেওয়া পুলিশ সদস্যের মৃত্যু চট্টগ্রামে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় গুরুতর আহত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আবদুল কুদ্দুস (৫৫) মারা গেছেন। পাঁচ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পরে বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আবদুল কুদ্দুস চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৫ মে রাতে নগরের পাহাড়তলী থানার রাসমনি ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করেন কুদ্দুস। পরে চালকের সহায়তায় অটোরিকশাটি মনসুরাবাদ ডাম্পিং স্টেশনে নেওয়ার পথে চালক হঠাৎ তাকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। প্রশিক্ষণের পরামর্শ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের ডিন ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মূলত পেশাদার অপরাধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ-র্যাবের ওপর আক্রমণ চালায়। এর মূল কারণ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের ওপর মানুষের আস্থার জায়গা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন করণীয়, বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পুলিশের এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ খুবই কম। তাও যুগোপযোগী নয়। তাই আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশের অন্য ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ভালোভাবে তথ্য সংগ্রহ করে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে অভিযানে যেতে হবে। তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যাবে বলে আশা করা যায়। পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন সমকালকে বলেন, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান চালানোর সময় কিছু ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ অপরাধী, মাদক কারবারি বা স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা করে থাকে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা ও পেশাদারি সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনো আইনজীবী রামিসা হত্যা মামলার আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন না বলে জানা গেছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান। তিনি পোস্টে বলেন, ‘ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বারের কোন বিজ্ঞ আইনজীবী রামিসা হত্যা মামলার আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন না।’ গত মঙ্গলবার সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ঘাতক সোহেল রানা। পুলিশ জানায়, সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর সন্দেহভাজন সোহেল রানা তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় এবং বাথরুমে রাখা একটি বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরো জানায়, স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করলেও সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাসরিন আক্তার ২০১৫ সাল থেকে এইচএসসির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। কিন্তু তাঁর পড়াশোনার গণ্ডি এইচএসসি পর্যন্ত; তাও আবার নিয়মিত নয়। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাস সনদ দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড, এনটিআরসিএর সনদ জালিয়াতিসহ নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চাকরি নেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তাঁর অনার্স পাস করা দূরে থাকুক, অনার্সে ভর্তির সুযোগই নেই। কারণ নাসরিন ২০০৪ সালে এসএসসি ও ২০০৯ সালে প্রাইভেটে এইচএসসি পাস করেছেন। নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তির সুযোগ মেলে না। নাসরিনের মতো একইভাবে নানা প্রতারণা করে চাকরি করছেন খোদ কলেজটির অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হকও। ২০০০ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি নিম্ন মাধ্যমিক থাকাকালে তিনি নিম্ন মাধ্যমিকের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় ওই পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল বিএ, বিএড। অথচ তিনি বিএড পাস করার আগেই ওই পদে যোগদান করেন। এরপর এমপিওভুক্তির সময় স্নাতকোত্তর পাসের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সনদ দিয়েছেন সেটিও জাল। সম্প্রতি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে তদন্তকালে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর পাসের আরেকটি সনদ জমা দেন তিনি। সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কালো তালিকাভুক্ত। দুটি সনদ জালিয়াতি করে চাকরির জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ। একইভাবে প্রভাষক (পালি) হিসেবে চাকরি করছেন শেফালী খাতুন। তিনি বাংলাদেশ সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড থেকে স্নাতক পাসের যে সনদ দিয়েছেন সেটি ভুয়া। এ ছাড়া পালি বৌদ্ধ দর্শন, ইতিহাস ও সংস্কৃতিবিষয়ক একটি বিশেষায়িত বিষয়। সেখানে শেফালী খাতুন মুসলিম হয়েও এ বিষয়ে পাঠদান করছেন। আবার বিষয়টি খোলার অনুমতি না থাকলেও অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে তাঁকে। এমপিওভুক্তি আবেদনের সময় প্রেরিত স্বীকৃতিপত্র, বিষয়ে অনুমতি, শিক্ষক নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত করা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়োগ প্রদান ও এমপিওভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারও দায়ী বলে মনে করছেন তাঁরা। শুধু অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক কিংবা নাসরিন আক্তার নন, কলেজটির ৭৬ জন শিক্ষক-কর্মকর্তার মধ্যে ৭৩ জনই একাডেমিক কিংবা এনটিআরসিএর সনদ জালিয়াতি, নিয়োগ প্রতারণা করে চাকরি করছেন। বিভাগ খোলার অনুমতি না থাকলেও অবৈধভাবে বিভাগ খুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চাকরিকালে নেওয়া বেতন-ভাতার পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ফেরত আনার সুপারিশ করেছে ডিআইএ। এতসব অনিয়ম করে চাকরি করলেও পড়াশোনা করাতে মন নেই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের। কলেজটিতে পড়াশোনার পাশাপাশি অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই নাজুক। রোববার এ প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে এত শিক্ষকের প্রতারণার কথা শুনে হতবাক শিক্ষা বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, এটি কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, যেন দুর্নীতির কারখানা। সনদ জালিয়াতি করা শিক্ষকরা শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ সবার। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে নিম্ন মাধ্যমিক, ২০১৪ সালে মাধ্যমিক এবং ২০১৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়। বর্তমানে কলেজটিতে ৪১৫ শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। এর মধ্যে ৮৫ জন কলেজে, আর বাকি ৩৩০ জন মাধ্যমিক বিভাগে পড়াশোনা করছেন। এত শিক্ষার্থী থাকলেও নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ। আবার বার্ষিক বা নির্বাচনি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ৮০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাতেগোনা। শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো পাঠাগার। বিজ্ঞান বিভাগ থাকলেও নেই ল্যাবরেটরি। নেই পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিও। আয়-ব্যয়ের হিসাব ঠিকমতো না করায় আরও লাখ লাখ টাকার অনিয়ম হয়। প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় ৬২ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি ৬১ জনই এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে দুজন শিক্ষকের তথ্য না পাওয়ায় অধ্যক্ষসহ বাকি ৫৯ জনের নিয়োগে আপত্তি জানিয়ে নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি বেতন ফেরত আনার সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জন প্রভাষক, একজন সহকারী শিক্ষক, পাঁচজন প্রদর্শক, দুজন সহকারী গ্রন্থাগারিক, দুজন হিসাব সহকারী, চারজন ল্যাব সহকারী, একজন কম্পিউটার অপারেটর, বাকিরা অফিস সহকারী ও নিরাপত্তাকর্মী। আর মাধ্যমিক শাখায় ১৬ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ১৫ জনই এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে ডিআইএ। তাঁদের মধ্যে একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক, চারজন সহকারী শিক্ষক, বাকিরা অন্যান্য পদে কর্মরত। আপত্তি আসা বাকি তিনজনও বিভিন্ন পদে কর্মরত। ডিআইএ সূত্র জানায়, অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক সনজয় চন্দ্র মণ্ডল, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মো. নুরুল আফছার ও অডিটর মো. সিরাজুল ইসলাম গত বছরের ১৫ ও ১৬ অক্টোবর বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শনকালে তাঁদের সনদ ও নিয়োগ জালিয়াতি নিয়ে সন্দেহ হয়। এরপর সনদগুলো অধিকতর যাচাইয়ের জন্য সনদ ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠায় ডিআইএ। এরপর সনদ ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান সেগুলো ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। এ ছাড়া নিয়োগের সময় নানা প্রতারণার বিষয়ও উঠে আসে। সার্বিক বিষয়ে জানতে কলেজটির অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হকের সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক এম এ ম সহিদুল ইসলাম বলেন, এক প্রতিষ্ঠানে এত শিক্ষকের অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা মন্ত্রণালয়কে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয় তাঁদের বরখাস্তের পাশাপাশি টাকা ফেরত আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ কালবেলাকে বলেন, চাকরিতে যোগদানের সময় অবহেলা করে কিংবা বাইরে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে সনদগুলো যাচাই না করার কারণে এসব হয়েছে। এটা কাঙ্ক্ষিত নয়। চাকরিতে যোগদানের সময় কেন সনদ যাচাই হয়নি—সে বিষয় খুঁজে বের করে জড়িতদেরসহ সনদ জালিয়াতি করা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
'নিষিদ্ধ ঘোষিত' ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখাসহ চারটি ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। শনিবার রাত পৌনে দশটার দিকে সংগঠনটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন ঘোষিত চার ইউনিটের মধ্যে রয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আওতাধীন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা, সিরাজগঞ্জ পৌর এবং সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। প্রতিটি কমিটি আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদিত। সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার ৮৮ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিতে রবিউল ইসলাম রুবেলকে সভাপতি ও আল-আমিন খানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এতে সহ-সভাপতি পদে ৫৯ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ১১ জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ১৪ জন রয়েছেন। এছাড়া একজন করে প্রচার ও দপ্তর সম্পাদকও মনোনীত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের ছয় সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিতে রেজাউল করিম রাব্বিকে সভাপতি ও রাসেল সেখ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এতে মিজানুর রহমান সম্রাটকে সহ-সভাপতি, রেদুয়ান রাফিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দুজনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের ২৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিতে শিপন আহসান কাব্যকে সভাপতি ও আলামিন সরকার হিমেলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এতে ১০ জনকে সহ-সভাপতি, সাতজনকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ছয়জনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ২২ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিতে জীবন সেখকে সভাপতি ও জিম আহম্মেদ আকাশকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে সহ-সভাপতি পদে আটজন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে ছয়জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছয়জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সেরাজুল ইসলাম সেরাজ জাগো নিউজকে বলেন, ওই সংগঠনটি নিষিদ্ধ এবং তাদের নেতৃত্বও পলাতক। তারা শিক্ষার্থীদের থেকেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এমতাবস্থায় কমিটি ঘোষণা নিছকই হাস্যকর ও বাস্তবতা বিবর্জিত। আমরা তাদের এই কমিটি ঘোষণাকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছি না। তারা মূলত অনলাইন বা ফেসবুকে কমিটি ঘোষণার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এসব কর্মকাণ্ড এদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা টোল প্লাজা এলাকায় বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলারসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর থানার এসআই শাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ওই এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করার সময় তাকে আটক করে। পুলিশ জানায়, একটি অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রী লিখন মিয়াকে (২৩) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় লুকানো বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ ডলারের ১ হাজার ৫৮১টি এবং ৫০ ডলারের ২৪টি নোট রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটক যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোষপাড়া এলাকার মো. নুরনবী সরকারের ছেলে। লালমনিরহাট সদর থানার ওসি স্বাদ ইসলাম বলেন, জব্দ করা ডলার থানায় রাখা হয়েছে এবং এর উৎস ও গন্তব্য নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মুন্সিরহাট বাজার জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলের অভিযোগে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ ৯০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল বাতেন বাবুল এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এমরান হোসেন মাসুম। আইনজীবী জানান, নিয়ম অনুযায়ী দেওয়ানি মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধে আদালতে আবেদন জানানো হবে। আশা করা হচ্ছে, আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেবেন। মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর মার্টিন মৌজার ২.৩৮ একর ভূমির আদি মালিক ছিলেন ছায়েদল হক। ১৯৫৬ সালে ওই জমি ক্রয় করেন মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম মৌলভী ছিদ্দিকউল্যা। পরবর্তীতে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে তিনি বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে ৬৯ শতাংশ জমি মসজিদ ও ঈদগাহের নামে 'ওয়াকফ ফি-সাবিলিল্লাহ' দান করেন। আরএস খতিয়ানেও এই জমি মসজিদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রথমে মসজিদের জমি ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। পরবর্তীতে জরিপে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জরিপ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গোপনে মসজিদের জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেয়। কিছু জমি এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত (সরকারি) হয়ে যায়। বর্তমানে মসজিদের প্রায় ১৯ শতাংশ জমি স্থানীয় আব্বাস উদ্দিন, সোহেল, সোহাগ, শরীফুল ইসলাম ও ছিদ্দিক মেম্বারসহ ৮৭ জন অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ। মসজিদ কমিটির দাবি, গত ১৯ এপ্রিল এক সভায় দখলদারদের জমি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। উল্টো অভিযুক্ত ছিদ্দিক মেম্বার মসজিদের জমিতে একতলা ভবন নির্মাণ শেষে বর্তমানে দ্বিতীয়তলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার নালিশি সম্পত্তির সরকারি মূল্য চার কোটি ৫০ লাখ টাকা ধরা হলেও বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী এর মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। বাদীপক্ষের আইনজীবী এমরান হোসেন মাসুম জানান, ইসলামি আইন ও রাষ্ট্রীয় বিধান অনুযায়ী ওয়াকফকৃত সম্পত্তি কখনো মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। 'একবার ওয়াকফ সর্বদা ওয়াকফ' এই নীতি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। মামলায় নালিশি জমির স্বত্ব ঘোষণা, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং খাস দখল পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল বাতেন বাবুল বলেন, মসজিদের পবিত্র সম্পদ রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তারা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানাচ্ছেন তিনি।
ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় দেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে। এটি সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থি বলেও আদালত উল্লেখ করেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, দেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। শুধু নীতিমালা প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং বাস্তবায়ন, ডিজিটাল মনিটরিং ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। রায়ে আরও বলা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রূণ-সংক্রান্ত ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ গঠন করতে হবে। হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে এই ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন ঘটায়। রায়ে এ নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যাতে ভবিষ্যতেও আদালত এর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ বিষয়ে রিট আবেদন করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজে শুনানি করেন এবং তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।
বগুড়ায় দ্বিতীয় বিয়ের পূর্বে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে নবজাতককে গলা কেটে হত্যার পর লাশ পুকুরে বিসর্জন দেওয়ার অভিযোগে মা ও সৎবাবাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রামপুলিশ বাদী হয়ে শনিবার রাতে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। রোববার বিকালে আটক দুজনকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে মা নিপা আক্তার দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামের নূর আলমের পুত্র দুলাল হোসেন (২৫) এবং তার পঞ্চম স্ত্রী গাবতলী উপজেলার উনচুরখি গ্রামের নিপা আক্তার (২৩)। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় এক বছর পূর্বে বগুড়া শহরের নারুলী এলাকার শুকুর আলীর সঙ্গে নিপা আক্তারের বিবাহ হয়। দাম্পত্য কলহের জেরে কয়েক মাস আগে তাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর গত রমজানে দুলাল হোসেন নিপাকে বিবাহ করেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিবাহের আগেই নিপা গর্ভবতী হন, যা পরিবারের সদস্যরা গোপন রাখেন। গত ৮ মে শুক্রবার বিকালে নিপা বাড়ির গোসলখানায় এক পুত্র সন্তান প্রসব করেন। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে নিপা ও দুলাল যৌথভাবে নবজাতকের গলা ছুরি দিয়ে কেটে হত্যা করেন। পরবর্তীতে লাশ পলিথিনে জড়িয়ে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে নিক্ষেপ করেন। শনিবার দুপুরে পুকুরে ভাসমান নবজাতকের লাশ দেখতে পেয়ে গ্রামবাসী পুলিশে সংবাদ দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ সময় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা নিপার আত্মীয়স্বজনদের প্রতি শারীরিক আক্রমণ চালান। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দম্পতি সামাজিক লজ্জার ভয়ে ব্লেড দিয়ে নবজাতকের গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে আদালতে নিপা আক্তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
আরও দুটি মামলায় স্থায়ী জামিন পেয়েছেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তা সত্ত্বেও বাকি মামলাগুলোর জটিলতায় এখনই কারাগার ছাড়তে পারছেন না তিনি। রোববার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন। নূরের আইনজীবী ব্যারিস্টার রেহান হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মামুন ও লিজা আক্তার নামে দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে গত বছরের ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুর ও রমনা মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। জামিনের আবেদনে গত বছর থেকে দুটি আলাদা আবেদন করেছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। আজকের শুনানিতে তাঁর দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতার বিষয়টি আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এর আগে, গত ৪ ও ৫ মে একই বেঞ্চ আরও দুটি মামলায় তাঁকে জামিন দিয়েছিলেন। কিন্তু ৫ মে অন্য একটি মামলায় জামিন আবেদন খারিজ হয়েছিল। আসাদুজ্জামান নূরের অপর আইনজীবী জেড আই খান পান্না জানান, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন নূর। হাইকোর্টের আজকের রায়ের পরেও বাকি কয়েকটি মামলায় জামিন না হওয়ায় মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। এই আইনজীবী আরও জানান, আওয়ামী লীগের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজও একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে ফিরোজের মামলার বিস্তারিত তথ্য তিনি জানাতে পারেননি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ সাজিয়া শারমিন দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করবে রাষ্ট্রপক্ষ।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর কঠোর নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক বার্তার পরও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। নিয়মানুযায়ী কেবল নির্ধারিত পরীক্ষকদের খাতা দেখার কথা থাকলেও অনেক পরীক্ষক সেই খাতা শিক্ষার্থীদের দিয়ে মূল্যায়ন করিয়ে নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া নম্বর গণনা, বৃত্ত ভরাট করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও শিক্ষার্থী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি, কিছু কিশোর-তরুণের এসএসসির খাতা দেখার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, পরীক্ষকের বদলে তাঁর ছাত্র বা পরিচিত তরুণরা উত্তরপত্র নিয়ে গোল হয়ে বসে আছে। কেউ খাতা পড়ছে, কেউ নম্বর দিচ্ছে, আবার কেউ অতি গুরুত্বপূর্ণ ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাটের কাজ করছে। খাতা দেখার এসব ছবি ও ভিডিও অনেকে নিজেদের প্রোফাইলে বিভিন্ন ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, নম্বর গণনা এবং বৃত্ত ভরাটের অন্তত ৮টি ভিডিও-রিলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেসব ভিডিওতে দেখা গেছে বোর্ড থেকে দেওয়া উত্তরপত্রের বান্ডিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে শিক্ষার্থী ও কিশোরদের সামনে। কিছু ভিডিওতে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, যশোর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের খাতা দেখা গেছে। ঢাকা বোর্ডের এবং কুমিল্লাসহ কিছু বোর্ডের ২০২৫ কিংবা তারও আগের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের কিছু ভিডিও নতুন করে পোস্ট করে ট্রেন্ডে আনা হয়েছে। এসব ভিডিওতেও দেওয়া হয়েছে চটকদার ক্যাপশনও। এর মধ্যে টিকটকের বেশকিছু ভিডিওতে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে—'সবার সাথে বসে এসএসসি পরীক্ষার খাতা দেখলাম', '২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী, কে কে আছো কমেন্টে জানাও', 'এখানে কার কার ভবিষ্যৎ আছে কমেন্ট করে জানাও' প্রভৃতি। খাতা দেখায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়, জানেন অনেকে! কেন এবং কীভাবে খাতা দেখার মতো স্পর্শকাতর কাজ শিক্ষার্থীদের হাতে চলে যাচ্ছে, তা নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর বেশ কয়েকজন পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এমন 'অনিয়ম' হয় বলে একরকম স্বীকার করে নিয়েছেন। তারা বলছেন, সময় স্বল্পতা, অবহেলা এবং বাড়তি আয়ের নেশা থেকে কিছু পরীক্ষক এই প্রতারণার আশ্রয় নেন। নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক পরীক্ষক বলেন, অনেক পরীক্ষক একটি 'মডেল উত্তরপত্র' শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেন এবং বলেন সে অনুযায়ী নম্বর দিতে। কিন্তু সৃজনশীল প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের উত্তরের বৈচিত্র্য বোঝার মতো গভীরতা বা অভিজ্ঞতা ওইসব তরুণ শিক্ষার্থীর নেই। ফলে যারা একটু ভিন্নভাবে বা নিজের ভাষায় উত্তর লেখে, তারা এই অপেশাদার মূল্যায়নের শিকার হয়ে নম্বর কম পায়। রাজধানীর একটি স্কুলের একজন সিনিয়র শিক্ষক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বোর্ডের খাতা দেখছেন, তিনি জানান, মূলত সময় বাঁচানোর জন্যই অনেকে এই পথ বেছে নেন। একজন পরীক্ষককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩০০ থেকে ৫০০ খাতা মূল্যায়ন করতে হয়। আবার অনেক শিক্ষক কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট টিউশনিতে ব্যস্ত থাকেন। ফলে তারা খাতাগুলো নিজেরা না পড়ে তাদের বিশ্বস্ত ছাত্র বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া পরিচিতদের দিয়ে দেন। তারা কেবল শেষে নম্বরগুলো একবার যাচাই করে স্বাক্ষর করে দেন। আরেক পরীক্ষক জানান, খাতা দেখার চেয়েও বেশি অনিয়ম হয় নম্বর গণনা ও ওএমআর শিট বৃত্ত ভরাটের ক্ষেত্রে। ময়মনসিংহ বোর্ডের এক পরীক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক পরীক্ষক মনে করেন মূল্যায়নের কাজটা নিজে করলেই হলো, কিন্তু নম্বর যোগ করা বা বৃত্ত ভরাট করা তো যান্ত্রিক কাজ, তাই তারা এই কাজে নিজেদের সন্তান বা স্কুলের শিক্ষার্থীদের বসিয়ে দেন। অথচ এই যোগফল বা বৃত্ত ভরাটে সামান্য ভুল হলেই একজন শিক্ষার্থীর ফলাফল ওলটপালট হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো গোপনীয়তা লঙ্ঘন। একটি খাতা যখন শিক্ষকের ড্রয়িং রুম বা ক্লাসরুমে উন্মুক্তভাবে পড়ে থাকে, তখন সেটি আর নিরাপদ থাকে না। যে শিক্ষার্থীরা আজ টিকটকে ভিডিও দিচ্ছে, তারা আসলে জানেই না তারা কত বড় অপরাধ করছে। আর এই সুযোগটা করে দিচ্ছেন খোদ শিক্ষকরাই। এমন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট বোর্ড এবং প্রধান পরীক্ষকদের তদারকি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। এসএসসির খাতা দেখায় অননুমোদিত ব্যক্তি, কী বলছে আইন? এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পাবলিক পরীক্ষার গোপনীয়তা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে। ভিডিওগুলোতে কোথাও শিক্ষার্থীদের খাতা দেখতে, কোথাও নম্বর তুলতে, আবার কোথাও ওএমআর বৃত্ত ভরাট করতে দেখা গেছে। অথচ আইন অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক ছাড়া অন্য কারও পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সুযোগ নেই। এমন অপরাধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ রয়েছে 'পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০'তে। আইন অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন, নম্বর প্রদান কিংবা ওএমআর শিট পূরণ করতে পারবেন না। আইনের ৪২ এর ১০ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হয়েও কেউ যদি পাবলিক পরীক্ষার হলে পরীক্ষা পরিচালনা করেন অথবা পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আইনে বলা হয়েছে—'যিনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত বা ক্ষমতা প্রদত্ত না হওয়া সত্ত্বেও কোনো পরীক্ষার হলে কোনো পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন অথবা কোনো পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো উত্তরপত্র পরীক্ষা করেন, অথবা যিনি অন্য ব্যক্তির পরিচয়ে কিংবা কল্পিত নামে পরীক্ষার হলে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন, অথবা পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষা করেন, তিনি দুই বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা অর্থদণ্ড অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।' যা বলছেন বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন ঢাকা পোস্টকে জানান, শিক্ষা বোর্ডের খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। অনেক সময় পুরোনো ভিডিও নতুন করে প্রচার করা হয়। তাই যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কঠোর গোপনীয়তার নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। পরীক্ষকদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিজেদের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন বা নম্বর দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারও কাছে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য বা ভিডিও থাকে, তাহলে তা শিক্ষা বোর্ডকে দিতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশ, ডিজিএফআই, এনএসআই কিংবা বোর্ডের নিজস্ব তদন্ত টিমের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল-এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জি. এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, বোর্ডের নজরে এখন পর্যন্ত এসএসসির খাতা মূল্যায়নের কোনো ভিডিও আসেনি। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ ধরনের কোনো ভিডিও আমাদের নজরে আসেনি। বিষয়টি ফেকও হতে পারে, আবার অন্য কোনো ঘটনাও হতে পারে। খাতা মূল্যায়নে গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষকদের শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাতা যেন কোথাও প্রকাশ্যে নেওয়া না হয় এবং সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে বাসায় বসে মূল্যায়ন করা হয়—সে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী বা অন্য কারও সামনে খাতা উন্মুক্ত না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, খাতা বিতরণের দিন থেকেই পরীক্ষকদের বারবার সতর্ক করা হয় যেন তারা নিজেরাই মূল্যায়নের কাজ সম্পন্ন করেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেও কোনো কাজ না করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাইরের কাউকে দিয়ে করানোর তো প্রশ্নই আসে না। খাতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করাও পরীক্ষা নীতিমালার পরিপন্থী। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নসংক্রান্ত কোনো ভিডিও, ছবি কিংবা এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ এখনো বোর্ডের দৃষ্টিগোচর হয়নি। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। মন্তব্য পাওয়া যায়নি ১১ বোর্ডের সমন্বয় কমিটির সভাপতির দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালন করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির। এসব বিষয়ে কথা বলতে তাঁর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তাঁকে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহা. নূর আলী এবং তার মালিকানাধীন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে ১১৫ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার বনানী থানায় মামলাটি করা হয়। সিআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ঢাকার বনানীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে ‘বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং’ প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদনহীন ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে আসামিরা ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা মানি লন্ডারিং করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বনানী এলাকায় ১৪তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অনুমোদন ছাড়াই ২৮তলা ভবন নির্মাণ করে। পরে সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল ‘শেরাটন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ না করে এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ না দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার চুক্তি সংশোধন করানোর অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া ভবন নির্মাণে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র না নেওয়ায় বিমান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে নূর আলীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছিল।
পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ ৫ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার ২ এসআই ও ৪ কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার রাতেই তাঁদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। প্রত্যাহার করা দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন—ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আবুল বাশার ও এএসআই আশিক। তবে কনস্টেবলদের নাম জানা যায়নি। এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে দেওভোগ হাসেমবাগ এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্রসহ রনি নামে এক দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুরে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকার হাশেমবাগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. সোলায়মানের বাড়িতে সন্ত্রাসীরা লুটপাট করার সময় খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে প্রত্যাহারকৃত দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪ কনস্টেবল ছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লুটপাটের সময় ৫ জনকে আটক করে হাতকড়া পরায় এবং লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কিছু আসবাবপত্র উদ্ধার করে। তখন অন্তত ৩০-৩৫ জন দুর্বৃত্ত এসে আটক ৫ জনকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় হাতকড়া উদ্ধার করা হয়। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলম জানান, ফতুল্লার কাশিপুর এলাকার কালু মিয়ার ছেলে রনিকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম-এর আদালতে এ আবেদন করেন নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা। মামলায় আসামি হিসেবে সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানসহ মোট ১৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছে। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়ে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরিফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক মানুষ আহত হন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।