লাইফস্টাইল

সংগৃহীত ছবি
বয়সের চেয়ে দ্রুত কমছে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা: নেপথ্যে ৭ কারণ

জন্মদিনের হিসাবেই আমাদের বয়স বাড়ে। কিন্তু শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যে একই গতিতে বয়সের ছাপ নেয়, এমনটা নয়।   আপনার বয়স হয়তো ৩০ বা ৪০, অথচ আপনার ফুসফুস কাজ করতে পারে আরো বেশি বয়সী একজন মানুষের মতো। ফুসফুসের এই কার্যক্ষমতার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয় ‘লাং এজ’ বা ফুসফুসের বয়স। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বয়স কম বলেই ফুসফুস সুস্থ আছে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হিন্দুস্তান টাইমসে পালমোনোলজিস্ট ডা. সৌপর্ণ সাহা জানিয়েছেন, কিছু ৩০ ও ৪০ বছর বয়সী মানুষের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা অনেক বেশি বয়সী ব্যক্তির মতো হতে পারে।       আবার কেউ কেউ অনেক বেশি বয়স পর্যন্ত ভালো ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারতে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি মানুষ ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি-তে আক্রান্ত। এই রোগটি ফুসফুসের অকাল বার্ধক্য ও ক্ষতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।     লাং এজ কী  ‘লাং এজ’ বলতে বোঝায় আপনার ফুসফুস কতটা ভালোভাবে কাজ করছে, সেটি আপনার একই বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক গঠনের একজন সুস্থ মানুষের ফুসফুসের সঙ্গে তুলনা করে বোঝার একটি ধারণা।   ডা. সৌপর্ণ সাহার ভাষায়, এটি হলো আপনার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা আপনার বয়স, লিঙ্গ ও উচ্চতার সঙ্গে প্রত্যাশিত কার্যক্ষমতার তুলনায় কেমন তার একটি পরিমাপ। ফুসফুসের বয়স নির্ধারণে সাধারণত স্পাইরোমেট্রি পরীক্ষা করা হয়। এটি একটি সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের পরীক্ষা, যেখানে কতটা বাতাস ফুসফুস থেকে বের করতে পারছেন এবং কত দ্রুত বের করতে পারছেন, তা পরিমাপ করা হয়। তবে ‘লাং এজ’ মানেই আয়ু কতদিন এমন কোনো পূর্বাভাস নয়। বরং প্রকৃত বয়সের তুলনায় ফুসফুসের বয়সে বড় পার্থক্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।     যে ৭ কারণে ফুসফুস দ্রুত বুড়িয়ে যেতে পারে ১. ধূমপান ফুসফুসের অকাল বার্ধক্যের সবচেয়ে পরিচিত কারণগুলোর একটি হলো ধূমপান। তামাকের ধোঁয়া ফুসফুসে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসনালির আবরণ এবং ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুথলিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অথচ শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব বায়ুথলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।     ২. পরোক্ষ ধূমপান আপনি নিজে ধূমপান না করলেও আশপাশের মানুষের ধোঁয়া আপনার ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ধীরে ধীরে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমতে পারে। সমস্যা হলো, এই ক্ষতি দীর্ঘ সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই চলতে পারে। ফলে শুরুতেই বিষয়টি বুঝে ওঠা কঠিন হয়।     ৩. বাইরের বায়ুদূষণ যানবাহন, শিল্পকারখানা ও জ্বালানি পোড়ানোর ফলে তৈরি সূক্ষ্ম কণা ও বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস শ্বাসনালিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে থাকার ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতায় স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।     ৪. ঘরের ভেতরের দূষণ শুধু বাইরের বাতাসই নয়, ঘরের বাতাসও ফুসফুসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচলযুক্ত রান্নাঘরের ধোঁয়া, কঠিন জ্বালানি এবং তামাকের ধোঁয়া ঘরের ভেতরে জমে যেতে পারে। বাইরের বায়ুদূষণের সঙ্গে এসব দূষণের প্রভাব যোগ হয়ে ফুসফুসের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।     ৫. কর্মক্ষেত্রের ধুলা-রাসায়নিক নির্মাণকাজ, খনি, স্বাস্থ্যসেবা, টেক্সটাইল ও কারখানায় কাজ করা ব্যক্তিদের নিয়মিত ধুলা, রাসায়নিক বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসতে হয়। যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে দীর্ঘদিন এসব উপাদানের সংস্পর্শে থাকা ফুসফুসে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করতে পারে।     ৬. বারবার শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বারবার বা গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও ফুসফুসের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শৈশবে এমন সংক্রমণ হলে ফুসফুসের টিস্যুতে ক্ষত তৈরি হতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।     ৭. বংশগত কারণ সব মানুষের ফুসফুস ক্ষতির ঝুঁকি এক রকম নয়। কারও কারও জেনেটিক বা বংশগত কারণেই ফুসফুস ক্ষতির প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন।       ফুসফুসের ক্ষতি শুরু হলে কী বোঝা যায় ফুসফুসের ক্ষতি সবসময় শুরুতেই স্পষ্ট হয় না। অনেক সময় শ্বাসতন্ত্রের ছোট ছোট অংশে পরিবর্তন শুরু হয়ে যায়, কিন্তু তখন বড় কোনো উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতে, ফুসফুসের ক্ষতির প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট শ্বাসনালি আক্রান্ত হতে পারে। এটি পরবর্তী সময়ে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি-এর মতো দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।     ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমলে শরীরে যা ঘটে    ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে তার প্রভাব দৈনন্দিন জীবনেও ধীরে ধীরে দেখা দিতে পারে। যেখানে আগে সহজে সিঁড়ি দিয়ে উঠতেন, এখন লিফট খুঁজছেন। আগে যে দূরত্ব হেঁটে যেতেন, এখন হাঁটলেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন। পছন্দের শারীরিক কাজগুলোও ধীরে ধীরে এড়িয়ে চলছেন, কারণ শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।      ডা. সৌপর্ণ সাহার মতে, ফুসফুসের অবনতির প্রথম দিকের লক্ষণগুলো অনেক সময় চোখে পড়ে না বা মানুষ সেগুলোকে গুরুত্ব দেন না। ধীরে ধীরে শারীরিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দেয়া, সিঁড়ির বদলে লিফট ব্যবহার করা, আগের পছন্দের কাজ এড়িয়ে চলা কিংবা অল্পতেই ক্লান্ত ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করা এসবকে শুধু বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন ধরে নেয়া উচিত নয়।     কারণ, এসব উপসর্গের পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। তাই নিয়মিত কাজকর্মে আগের তুলনায় বেশি ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট হলে বিষয়টি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাই ভালো।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
দিনে সর্বোচ্চ কতটুকু ক্যাফেইন নিরাপদ, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

সতেজ থাকা, ঘুম কাটানো কিংবা কাজে মনোযোগ বাড়াতে অনেকেই নিয়মিত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করেন। তবে প্রতিদিন কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করা নিরাপদ—এ প্রশ্নও অনেকের মনে থাকে।     বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণ সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। এই পরিমাণ প্রায় চার কাপ সাধারণ কফি, ১০ ক্যান কোলা বা দুটি এনার্জি শটের সমান। তবে পানীয়ভেদে ক্যাফেইনের মাত্রায় বড় ধরনের পার্থক্য থাকতে পারে।     মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) জানিয়েছে, গুঁড়া বা তরল ক্যাফেইন ব্যবহারে অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের ঝুঁকি রয়েছে। মাত্র এক চা-চামচ গুঁড়া ক্যাফেইনে প্রায় ২৮ কাপ কফির সমপরিমাণ ক্যাফেইন থাকতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।     গর্ভবতী নারী, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন নারী এবং যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাদের ক্যাফেইন গ্রহণের নিরাপদ মাত্রা সম্পর্কে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।       অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের শরীর ক্যাফেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল বা যারা নির্দিষ্ট ধরনের ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।     দিনে চার কাপের বেশি ক্যাফেইনযুক্ত কফি পান করার পাশাপাশি মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ, ঘন ঘন প্রস্রাব বা প্রস্রাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমানোর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।       কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ ক্যাফেইনও দ্রুত হৃদস্পন্দন, পেশিতে কাঁপুনি, পেটের অস্বস্তি বা শরীর কাঁপার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে কফি বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পুরোপুরি বন্ধ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।       অধিকাংশ ওষুধের সঙ্গে পরিমিত ক্যাফেইন গ্রহণ সাধারণত নিরাপদ হলেও এফেড্রিনযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ক্যাফেইনের সঙ্গে এ ধরনের ওষুধ গ্রহণ করলে কিছু মানুষের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতা, স্ট্রোক কিংবা খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে।       এদিকে, দীর্ঘদিন নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণের পর হঠাৎ তা বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মাথাব্যথা, ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং মনোযোগের ঘাটতি এর মধ্যে অন্যতম। তবে সাধারণত এসব উপসর্গ তীব্র হয় না এবং কয়েক দিনের মধ্যেই কমে যায়।       তাই ক্যাফেইন কমাতে চাইলে হঠাৎ বন্ধ না করে ধীরে ধীরে পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন প্রতিদিন একটি ক্যান কম সোডা পান করা, বড় কাপের পরিবর্তে ছোট কাপে কফি খাওয়া অথবা দিনের শেষভাগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা যেতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে ক্যাফেইনের মাত্রা কমালে শরীরও নতুন মাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায় এবং প্রত্যাহারের উপসর্গ তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
৫০ বছর বয়সের পর সুস্থ থাকতে পরিহার করুন ৬ খাবার

বয়স পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছানোর পর খাদ্যাভ্যাসে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়, তা বয়সের সাথে সাথে দেখা দেওয়া সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বা নিয়ন্ত্রণে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। অতিরিক্ত চিনি, লবণ, সম্পৃক্ত ও ট্রান্স ফ্যাট এবং পরিষ্কৃত শর্করা এড়িয়ে চলা উচ্চ রক্তচাপ ও প্রদাহের মতো বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি সরাসরি কমাতে পারে।      যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্সিল অন এজিংয়ের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পঞ্চাশোর্ধ অবস্থায় সুস্থ থাকতে নিচের খাবারগুলোর গ্রহণ সীমিত করা উচিত।      ১. অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার  দীর্ঘদিন ধরে নোনতা খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও বয়স ৫০ পার হওয়ার পর তা কমিয়ে ফেলা উচিত। সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বাড়ায়, যা বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা।      সোডিয়াম গ্রহণের মাত্রা দিনে ১ চা চামচে সীমাবদ্ধ রাখলে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত:   চিপস ও অন্যান্য নোনতা স্ন্যাক্স পিৎজা (ফ্রোজেন পিৎজা সহ)  ক্যানজাত স্যুপ পাস্তা ও ক্যানজাত পাস্তা সস ফ্রোজেন বা হিমায়িত খাবার      ২. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার   বয়স বাড়ার সাথে সাথে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এড়িয়ে চলা আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকা সম্পৃক্ত ফ্যাট বয়স্কদের মৃত্যুর ঝুঁকি, বিশেষ করে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। সম্পৃক্ত চর্বির উৎস কমাতে যে খাবারগুলো সীমিত করা উচিত: রেড মিট বা লাল মাংস (যেমন: স্টেক)  প্রক্রিয়াজাত মাংস (সসেজ, বেকন ও লাঞ্চ মিট)  শূকরের মাংস (পর্ক)  চামড়াসহ পোলট্রি বা মুরগির মাংস মাখন ও আইসক্রিম ভাজাপোড়া খাবার নারকেল, পাম তেল ও পাম কার্নেল তেল     ৩. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার   যে কোনো বয়সেই চিনি খাওয়া সীমিত করা ভালো (নারীদের জন্য দিনে ২৫ গ্রামের বেশি এবং পুরুষদের জন্য ৩৬ গ্রামের বেশি নয়)। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অতিরিক্ত চিনি খাওয়া ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠাকে কঠিন করে তোলে। এমনকি এটি স্মৃতিশক্তি হ্রাসেও ভূমিকা রাখতে পারে। এড়িয়ে চলার মতো খাবারগুলো হলো: বেক করা খাবার বা পেস্ট্রিজাতীয় খাবার মিষ্টি করা বা ফ্লেভারড দই সকালের নাশতায় খাওয়া সিরিয়াল স্ন্যাক বার (যেমন: গ্র্যানোলা বার) মিষ্টি পানীয় (সোডা, কফি ও চা)      ৪. অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার    অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো বর্তমান খাদ্যভাণ্ডারে অত্যন্ত পরিচিত হলেও এগুলোতে অতিরিক্ত লবণ, ফ্যাট ও চিনি মেশানো থাকে।      গবেষণায় দেখা গেছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে তোলে এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সি যেসব মানুষ কম অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়েছেন, তাদের প্রদাহ কম ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য উন্নত ছিল। যে খাবারগুলো ডায়েট থেকে বাদ দেওয়া উচিত: ইনস্ট্যান্ট ওটমিল বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত রুটি হট ডগ রামেন নুডলস  বাণিজ্যিকভাবে তৈরি পিনাট বাটার বা চিনাবাদামের মাখন     ৫. অ্যালকোহল    অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান দ্রুত স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সঙ্গে জড়িত এবং এটি বয়স দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। বিপাকক্রিয়া ও শারীরিক গঠনের পরিবর্তনের কারণে বয়স বাড়ার সাথে সাথে অ্যালকোহলের প্রভাব আরও দ্রুত পড়তে পারে, যার ফলে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া এটি বয়সজনিত বিভিন্ন ওষুধের সঙ্গেও বিরূপ বিক্রিয়া ঘটাতে পারে।      ৬. পুষ্টিহীন বা খালি ক্যালোরির খাবার    বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীর যে পরিমাণ ক্যালোরি পোড়ায় (বেসাল মেটাবলিক রেট), তা প্রায় ৪৬.৫ বছর বয়স থেকে কমতে শুরু করে। শরীর যত ক্যালোরি প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি ও জটিলতা দেখা দিতে পারে। পুষ্টিগুণহীন অথচ উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত ‘খালি ক্যালোরি’র খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত: ক্যান্ডি বা লজেন্স কুকিজ ও পেস্ট্রি   বয়স বাড়ার সাথে সাথে যেসব স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খাওয়া উচিত    জীবনের দ্বিতীয় অর্ধে এসে পূর্ণাঙ্গ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের ওপর জোর দিন। পেশি ক্ষয় রোধ করতে পর্যাপ্ত প্রোটিন খান এবং অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই খাবারের স্বাদ বাড়াতে ভেষজ উপাদান ও মসলা ব্যবহার করুন।     এক্ষেত্রে আপনার খাবারের তালিকা যে খাবারগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করতে পারেন: ফলমূল ও শাকসবজি দুগ্ধজাত খাবার গোটা শস্যদানা  চর্বিহীন মাংস এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস। 

মারিয়া রহমান আগস্ট ৩০, ২০২৬
দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকার মারাত্মক ক্ষতি ও প্রতিকারের উপায়

অনেকেই সকালে নাশতা না করে বা দীর্ঘসময় না খেয়ে কাজে বের হন। ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকা শরীর ও কর্মক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার কেউ কেউ সকালে খালি পেটে চা বা কফি খান, এটাও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।     শরীরের যেসব সমস্যা হতে পারে খালি পেটে দীর্ঘসময় থাকলে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে কাজের মনোযোগ ও কর্মক্ষমতার ওপরও।     এ ছাড়া দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকলে অনেকের পেটে অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে। এমনকি পেটের আলসার হতে পারে। তবে খালি পেটে থাকলেই যে আলসার হবে তা বলা ঠিক না। আলসারের পেছনে অন্য অনেক কারণ থাকতে পারে।     অন্যদিকে সকালে না খেয়ে বের হলে খাবারের ঘাটতি ও ক্ষুধার কারণে মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। এতে কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যাসহ ভুল হওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে।     কী করা উচিত বাসা থেকে বের হওয়ার আগে অল্প হলেও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। নাশতার জন্য ফল, দই, ডিম, বাদাম বা অন্য কোনো সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। দীর্ঘসময় বাইরে থাকতে হলে সঙ্গে হালকা স্বাস্থ্যকর নাশতা রাখা যেতে পারে।     পাশাপাশি শরীরের পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। বিশেষ করে গরমের সময় শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করতে হবে। নিয়মিত খাবার খাওয়ার পরও যদি বারবার মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেটে ব্যথা বা তীব্র অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খাওয়ার পর পেটের অস্বস্তি ও ভারী ভাব দূর করবে আদা

এমন অনেকেই আছেন যারা খাওয়ার পরে অস্বস্তি কিংবা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন। প্রতিদিন এমন সমস্যায় ঘরোয়া সমাধান খোঁজেন তারা।     আবার একই সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণে অনেকে ঘরোয়া সমাধান পছন্দ করেন। আর এসব ক্ষেত্রে রান্নাঘরের পরিচিত একটি উপাদান আদা হতে পারে সহজ একটি বিকল্প। আদা দিয়ে তৈরি চা হজমে সহায়তা করার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে এমনটা বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। খবর এনডিটিভি       সহজ হজমে আদা আদা হজমতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি-তে প্রকাশিত একটি ছোট গবেষণায় দেখা যায়, আদা খাবার পাকস্থলী থেকে দ্রুত অন্ত্রে পৌঁছাতে সাহায্য করে। তবে এতে হজমের সব ধরনের উপসর্গ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   পেট ফাঁপার সমস্যা স্বস্তি খাওয়ার পর পেট ফুলে থাকা বা ভারী লাগা অনেকেরই নিয়মিত সমস্যা। ২০১১ সালের একটি গবেষণায় আদা ও আর্টিচোকের সমন্বয়ে তৈরি একটি সাপ্লিমেন্ট হজমের অস্বস্তি, পেট ফাঁপা, বমিভাব ও পেট ভরা ভরা অনুভূতি কমাতে সহায়তা করেছিল। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গবেষণায় সাধারণ আদা চা নয়, আদা ও আর্টিচোকের সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। তাই এক কাপ ঘরোয়া আদা চা একই ফল দেবে এমন নিশ্চয়তা নেই।   ওজন নিয়ন্ত্রণ আদা চা কোনো ‘ফ্যাট বার্নিং’ পানীয় নয়। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে করা গবেষণায় কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের একটি গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা যায়, আদার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের কোমরের পরিধি ও শরীরের চর্বির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।   তবে মোট শরীরের ওজন বা বিএমআই কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, ওজন কমানোর জন্য শুধু আদা চায়ের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এটি একটি সাধারণ পানীয় হিসেবে রাখা যেতে পারে।     আদা চা পানের সময় আদা চা খাওয়ার জন্য সকালই সেরা বা রাতই সেরা এমন শক্ত প্রমাণ নেই। বরং খাওয়ার পর বা যে সময়ে সাধারণত হজমের অস্বস্তি হয়, সে সময়ে পান করা যেতে পারে। রাতে খেলে কালো চা বা অন্য ক্যাফেইনযুক্ত চায়ের বদলে শুধু আদা ভিজিয়ে তৈরি পানীয় বেছে নেওয়া ভালো, বিশেষ করে ক্যাফেইনে ঘুমের সমস্যা হলে।     আদা চা উপকারী হলেও সবকিছু সবার জন্য নাও হতে পারে। তাই সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো। চিকিৎসক আপনাকে সঠিক পরামর্শ দেবেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ওজন কমানো ও হজমে জিরা পানি কতটা কার্যকর?

বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ডিটক্স ড্রিংক বেশ জনপ্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ওজন কমানো থেকে শুরু করে হজমশক্তি ভালো রাখা পর্যন্ত নানা উপকারের কথা বলা হয় এসব পানীয় নিয়ে। তবে সব দাবির পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এর মধ্যে সহজলভ্য একটি পানীয় হলো জিরা পানি।       রান্নার মসলা হিসেবে জিরার ব্যবহার বহু পুরোনো। এতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগের কারণে জিরা স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। জিরা ভিজিয়ে তৈরি পানি নিয়মিত খাওয়ারও কিছু সম্ভাব্য উপকার রয়েছে। তবে এটি কোনো রোগের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প নয়।     যেভাবে তৈরি করবেন জিরা পানি জিরা পানি তৈরি করা বেশ সহজ। রাতে এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ জিরা ভিজিয়ে রাখতে পারেন। সকালে ছেঁকে সেই পানি পান করা যায়। চাইলে জিরা হালকা ভেজে পানিতে ফুটিয়েও খেতে পারেন।     তবে জিরা পানি খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ‘সেরা সময়’ নেই। সকালে খালি পেটে খেতেই হবে, এমনও নয়। শরীরে পানি সরবরাহের জন্য দিনের যে কোনো সময় এটি পান করা যেতে পারে।   জিরা পানির সম্ভাব্য উপকার ১. হজমে সহায়তা করতে পারে জিরায় থাকা কিছু যৌগ হজমপ্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে খাবার হজমে সহায়তা এবং পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি কমাতে এটি কিছু মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে।     ২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে জিরায় বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে। এগুলো শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।     ৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে জিরা পানি নিজে থেকে শরীরের চর্বি গলিয়ে দেয় বা দ্রুত ওজন কমায়, এমন প্রমাণ নেই। তবে চিনি বা অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত পানীয়ের বদলে জিরা পানি পান করলে মোট ক্যালরি গ্রহণ কমাতে সহায়তা করতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।     ৪. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা থাকতে পারে কিছু গবেষণায় জিরার সম্ভাব্য রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধু জিরা পানি যথেষ্ট নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, খাবার ও জীবনযাপন মেনে চলা জরুরি।     ৫. শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে জিরা পানি মূলত পানি। তাই এটি শরীরের প্রয়োজনীয় তরল সরবরাহে ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ৬. আয়রনের উৎস হিসেবে জিরা উপকারী জিরার বীজে আয়রন রয়েছে। আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে শুধু জিরা পানি পান করে রক্তস্বল্পতা দূর করা সম্ভব নয়। রক্তস্বল্পতা থাকলে কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত।     ৭. হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য উপকারী জিরার বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রক্তের কিছু উপাদান ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে জিরা পানিকে কোনো চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।     ৮. ত্বকের জন্যও উপকারী হতে পারে জিরায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে ত্বকের স্বাস্থ্যে পরোক্ষভাবে উপকার মিলতে পারে। তবে জিরা পানি খেলেই ব্রণ বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যা দূর হবে, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।     ৯. মাসিকের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে জিরার কিছু উপাদান হজম ও পেশির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অনিয়মিত মাসিক ঠিক করা বা মাসিকের ব্যথা নিরাময়ের জন্য জিরা পানির কার্যকারিতা নিয়ে পর্যাপ্ত শক্ত প্রমাণ নেই। নিয়মিত মাসিকের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   ‘ডিটক্স’ নিয়ে কতটা সত্য? জিরা পানিকে প্রায়ই ‘ডিটক্স ড্রিংক’ বলা হয়। কিন্তু শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করার জন্য আলাদা কোনো পানীয় প্রয়োজন হয় না। আমাদের লিভার ও কিডনি স্বাভাবিকভাবেই শরীরের বর্জ্য ও বিভিন্ন পদার্থ প্রক্রিয়াজাত ও অপসারণ করে।     তাই জিরা পানি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে, কিন্তু এটিকে শরীর পরিষ্কার করার জাদুকরী পানীয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।     শুধু জিরা পানি খেলেই ওজন কমবে? এমন ধারণাও ঠিক নয়। জিরা পানি পান করলেই পেটের চর্বি কমে যাবে বা দ্রুত ওজন কমবে, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ওজন নিয়ন্ত্রণে ক্যালরি গ্রহণ, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ।   জিরা পানি চাইলে চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত পানীয়ের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।     কখন ও কতটা খাবেন? জিরা পানি খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক সময় নেই। সকালে খেতে ভালো লাগলে খেতে পারেন। আবার দিনের অন্য সময়ও পান করা যায়।     তবে অতিরিক্ত জিরা খাওয়া বা ঘন করে জিরা পানি পান করা প্রয়োজন নেই। কারও ক্ষেত্রে এটি পেটের অস্বস্তি, অম্বল বা অন্য ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।     যাদের সতর্ক থাকা উচিত গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী, নিয়মিত ওষুধ সেবনকারী ব্যক্তি, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত জিরা পানি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে জিরা পানির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।     সবশেষে বলা যায়, জিরা পানি একটি সহজ ও কম ক্যালরির পানীয়, যা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে। তবে এর উপকারিতা নিয়ে প্রচলিত অনেক দাবিই অতিরঞ্জিত। তাই জিরা পানিকে ‘জাদুকরী’ বা রোগ সারানোর পানীয় হিসেবে না দেখে সুষম খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হিসেবেই দেখা সবচেয়ে ভালো।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১১, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
সুস্থ মানুষেরও হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের অজানা ৫ ঝুঁকি

হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে প্রায় সবাই আতঙ্কে থাকেন। এ জন্য বুকে কোনো ব্যথা হলে বা হার্ট অ্যাটাকের কোনো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে বাড়তি যত্ন নেয়া ও সচেতন হতে দেখা যায়।     এর মধ্যে যদি সার্বিকভাবে সুস্থ থাকা যায় এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা হয়, তাহলে উল্লেখযোগ্যভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। যদিও তা কখনো সম্পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করে না।      বর্তমান সময় তরুণ ও আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষদেরও হার্ট অ্যাটাক হয়। কিন্তু কেন হয়, তা অনেকেরই অজানা।     হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাকের পাঁচটি গোপন ঝুঁকির কারণ জানিয়েছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাহুল চাওলা। তাহলে সেসব বিষয় জেনে নেওয়া যাক।     জেনেটিক্স জেনেটিক্স হচ্ছে সেসব নীরব কারণ, যা কিছু ব্যক্তিকে অন্যদের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। ডা. রাহুলের মতে, কিছু মানুষ উচ্চ লাইপোপ্রোটিন এ বা পারিবারিক উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো অবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে থাকেন, যা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখার পরও করোনারি ধমনীর মধ্যে প্লাক জমা হওয়াকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা রাখে।   শরীরের অদৃশ্য চর্বি এ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, শরীরের সব মেদ দৃশ্যমান হয় না এবং অনেকের মধ্যে ‘থিন ফ্যাট ফেনোটাইপ’ নামে একটি বৈশিষ্ট্য থাকে। স্বাভাবিক শারীরিক ওজন থাকার পরও অতিরিক্ত ভিসারাল ফ্যাট, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড এবং মেটাবলিক সিনড্রোম থাকতে পারে। এর সবগুলোই অকাল হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় বলে জানিয়েছেন ডা. রাহুল।     চিকিৎসা ছাড়া স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ব্যায়াম শারীরিক সুরক্ষা বলে পরিচিত এবং নিয়মিত শরীরচর্চা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে থাকে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির মধ্যে যদি আগে থেকেই স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে তা হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে না।   ডা. রাহুলের মতে, ব্যায়াম বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ বা বংশগত ঝুঁকির কারণগুলো পরিপূর্ণভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় না। এ পরিস্থিতিগুলোর চিকিৎসা করা না হলে ধমনীর ভেতরে প্লাক জমার সম্ভাবনা থাকে।     শক্তিসমৃদ্ধ করার ওষুধ বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিসমৃদ্ধ বা কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ওষুধ উপকারের থেকে বরং অপকারই বেশি করতে পারে। ডা. রাহুল বলেন, অ্যানাবলিক স্টেরয়েড এবং কিছু বডি বিল্ডিং সাপ্লিমেন্ট এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়াতে, এইচডিএল কোলেস্টেরল কমাতে, হৃৎপেশী বড় করতে এবং বিপজ্জনক হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।     অন্তর্নিহিত হৃদরোগ কিছু মানুষ আছে, যারা অন্তর্নিহিত হৃদরোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি, লং কিউটি সিনড্রোম, ব্রুগাডা সিনড্রোম এবং কিছু জন্মগত করোনারি ধমনীর অস্বাভাবিকতার মতো রোগগুলো অন্তর্নিহিত থাকতে পারে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের সম্পর্ক, যা বলছে গবেষণা

রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ মানুষের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বেশি।     মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো অত্যন্ত ছোট প্লাস্টিক কণা, যা বর্তমানে পরিবেশের প্রায় সর্বত্র পাওয়া যায়। এর আগের বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতেও এসব কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে এসব কণা থাকে কি না এবং ধূমপান ও বায়ুদূষণের মতো পরিবেশগত কারণ এর মাত্রাকে প্রভাবিত করে কি না, তা নিয়ে এতদিন খুব কম তথ্য ছিল।     ইতালির রোমের সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত'আন্দ্রেয়া হাসপাতালের গবেষক পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষকরা হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি থেকে ৬১ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে কেউ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ছিলেন, কেউ হার্ট অ্যাটাক ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন এবং কিছু রোগীর রক্তনালি ছিল সুস্থ।       গবেষণায় দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আরও ছোট ন্যানোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। হার্ট অ্যাটাক হয়নি, তবে হৃদ্‌রোগ রয়েছে, এমন রোগীদের মধ্যে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ। আর সুস্থ রক্তনালির রোগীদের ক্ষেত্রে এসব কণা ৩২ শতাংশের রক্তে পাওয়া গেছে।       গবেষকরা আরও দেখেছেন, ধূমপান ও বায়ুদূষণের সঙ্গে রক্তে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্পর্ক রয়েছে। ধূমপান করেন এমন ব্যক্তিদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা ছিল প্রায় ছয় গুণ বেশি। একই ধরনের সম্পর্ক দেখা গেছে যারা নিয়মিত বেশি মাত্রার বায়ুদূষণের মধ্যে থাকেন তাদের ক্ষেত্রেও।     গবেষণায় ধূমপান ও বায়ুদূষণ দুই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। বিপরীতে, এই দুই ঝুঁকির কোনোটির সংস্পর্শে না থাকা ব্যক্তিদের মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।       গবেষণার প্রধান লেখক পাসকুয়ালে পাওলিসো বলেন, ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করা সহজ হতে পারে। বায়ুদূষণও একই ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।       গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতো বলেন, এই গবেষণা মাইক্রোপ্লাস্টিক যে সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায়, তা প্রমাণ করে না। তবে পরিবেশগত দূষণ, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদ্‌রোগের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।       ১৫ জুলাই ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। একই জার্নালে প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয়তে জার্মানির জোহানেস গুটেনবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষক আন্দ্রেয়াস ডাইবারসহ বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক এখন সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে সামনে আসছে। প্লাস্টিক দূষণকে হৃদ্‌রোগের একটি অবমূল্যায়িত ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।     তবে বিশেষজ্ঞরা গবেষণাটির সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন। মাত্র ৬১ জনের ওপর গবেষণাটি করা হয়েছে। তাই মাইক্রোপ্লাস্টিক ও হৃদ্‌রোগের মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।   সূত্র: ইউএস নিউজ

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্লাটিলেট বৃদ্ধিতে পেঁপে পাতার কার্যকরতা নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞান?

দেশজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই নতুন করে অনেক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, আর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ।     এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার নানা ঘরোয়া উপায় ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি হলো পেঁপে পাতার রস। অনেকের দাবি, এটি দ্রুত প্লাটিলেট বাড়ায়। কিন্তু এ দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কতটা শক্তিশালী? গবেষণা কী বলছে, সেটিই জেনে নেওয়া যাক।   ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর অনেক রোগীর প্লাটিলেটের সংখ্যা দ্রুত কমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া বলা হয়। প্লাটিলেট খুব কমে গেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   পেঁপে পাতা নিয়ে কী বলছে গবেষণা  পুষ্টিবিষয়ক গবেষণাপত্র ‘নিউট্রিয়েন্টস’-এ প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তাজা পেঁপে পাতার রস বা এর নির্যাস কিছু ক্ষেত্রে প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। গবেষকদের মতে, পেঁপে পাতায় এমন কিছু সক্রিয় উপাদান রয়েছে, যা প্লাটিলেট তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত এএলওএক্স–১২ এবং পিটিএএফআর নামের জিনের কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করতে পারে।      এ ছাড়া পেঁপে পাতায় কারপেইন, ফ্ল্যাভোনয়েড, কোয়ারসেটিন, ক্যামফেরল, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, প্যাপেইন ও কাইমোপ্যাপেইনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে পারে। বিএমসি কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিন এবং পিএলওএস ওয়ান-এ প্রকাশিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে পেঁপে পাতার নির্যাস প্লাটিলেট ৫০ হাজারের ওপরে তুলতে সহায়ক হয়েছে। তবে গবেষকেরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এসব গবেষণায় অংশগ্রহণকারী রোগীর সংখ্যা সীমিত ছিল।   তাই এটি কার্যকর কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।   ডেঙ্গুতে কি পেঁপে পাতার রস যথেষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গুর কোনো ওষুধ নয় এবং এটি কখনোই চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না। এটি সর্বোচ্চ সহায়ক একটি উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ডেঙ্গু হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।   পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পেঁপে পাতার রস সবার জন্য নিরাপদ নয়। এটি খাওয়ার ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে— পেটের অস্বস্তি বমি বমি ভাব অ্যালার্জি গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি কিছু ওষুধের সঙ্গে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাওয়া উচিত নয়। পেঁপে পাতার রস প্লাটিলেট বাড়াতে কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে সীমিত গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এটিকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা বা অলৌকিক সমাধান ভাবার সুযোগ নেই। ডেঙ্গু একটি গুরুতর ভাইরাসজনিত রোগ। তাই ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই নিরাপদ।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সকালে ফোন দেখাসহ যেসব অভ্যাসে ধ্বংস হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য

শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ, তবুও আমাদের অজান্তেই অনেক দৈনন্দিন অভ্যাস মানসিক সুস্থতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এসব অভ্যাস প্রায়ই নিরীহ বলে মনে হয়, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এগুলো মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদ এবং আবেগগত ক্লান্তির কারণ হতে পারে।      ‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অনুষ্কা মোদি এমন কিছু অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কথা বলেছেন যা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।সেই সাথে কীভাবে সার্বিকভাবে ভালো থাকা সে কথাও উল্লেখ করেছেন। যেমন-   সকালে স্ক্রল করা ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই ফোন হাতে তুলে নিলে, দিন শুরু হওয়ার আগেই আপনার মস্তিষ্ক অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে উঠতে পারে। অবিরাম নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার আপডেট এবং অপ্রয়োজনীয় খবর মানসিক জঞ্জাল তৈরি করতে পারে।  স্ক্রিন ব্যবহার করার আগে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শরীরচর্চা করুন, ডায়েরি লিখুন অথবা দিনের সূচনা উপভোগ করুন।     নিজের সবচেয়ে বড় সমালোচক হওয়া  যে অভ্যাসগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হলো নিজের সাথে নেতিবাচক কথা বলা। ক্রমাগত নিজের সমালোচনা করলে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে, আত্ম-সন্দেহ বাড়তে পারে এবং আপনাকে মানসিকভাবে আটকে রাখতে পারে। নিজের সাথে কঠোরভাবে কথা বলার পরিবর্তে, ধৈর্য এবং সহানুভূতি দেখান। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে আপনি যেভাবে সমর্থন করতেন, নিজের সাথেও ঠিক সেভাবেই আচরণ করুন।     একসাথে একাধিক কাজ করা  অনেকে মনে করেন, একসাথে একাধিক কাজ করলে তারা বেশি কাজ করতে পারেন, কিন্তু প্রায়ই এর ফল হয় উল্টো। একসাথে একাধিক কাজ করলে আপনার মনোযোগ কমে যেতে, কর্মদক্ষতা হ্রাস পেতে এবং মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে।  একাগ্রতা এবং মানসিক স্বচ্ছতার জন্য একবারে একটি কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন।      বিরতি না নেওয়া  বিরতি না নিয়ে একটানা কাজ করলে তা অবসাদ, উদ্বেগ এবং ক্রমাগত মানসিক ক্লান্তির কারণ হতে পারে। ব্যস্ত থাকলে নিজেকে সক্রিয় মনে হলেও, আপনার মস্তিষ্কেরও বিশ্রাম এবং শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সময়ের প্রয়োজন। সারাদিন ধরে ছোট ছোট বিরতি নিলে তা শক্তি পুনরুদ্ধার করতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।     বাইরে না যাওয়া  সারাদিন ঘরের ভেতরে কাটালে উদ্বিগ্ন, অলস এবং বিচ্ছিন্ন বোধ করতে পারেন। কয়েক মিনিটের জন্য বাইরে গেলেও মন ভালো লাগবে। যখনই সম্ভব বাইরের আলো-বাতাস গায়ে লাগান। এতে আপনার মেজাজ ভালো থাকবে। মানসিক চাপও কমবে।       অভিযোগ করা  ক্রমাগত অভিযোগ করা নেতিবাচক চিন্তাগুলিতে আরও শক্তিশালী করে । সেই সঙ্গে প্রতিবন্ধকতা থেকে এগিয়ে যাওয়াকে আরও কঠিন করে তোলে। আপনার আবেগ চেপে রাখার বা বারবার সমস্যা নিয়ে ভাবার পরিবর্তে, মনের কথা প্রকাশ করুন। এক্ষেত্রে ডায়েরি লেখা, বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুর সাথে কথা বলা বা একজন থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়া স্বাস্থ্যকর উপায় হতে পারে।     সব কিছুতে হ্যাঁ বলা সবকিছুতে হ্যাঁ বলা সহায়ক বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এই অভ্যাস মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত এবং ভারাক্রান্ত করে তোলে। অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি অপ্রয়োজনীয় চাপ এবং বিরক্তি তৈরি করতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে না বলতে শিখুন।

মারিয়া রহমান জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পিঠে ব্যথা ও প্রস্রাবে জ্বালা? কিডনিতে পাথরের সতর্কবার্তা নয়তো!

এখন বড়দের মতো অনেক তরুণও কিডনির পাথরের সমস্যায় ভোগেন। আবার অনেকে ভোগেন মূত্রথলির পাথরের সমস্যায়। এ ধরনের সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কিডনিতে পাথরের লক্ষণ শুরুতেই বুঝতে পারলে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে অনেকটা ঠিক হয়ে যায়। সমস্যা হলো অনেকেই লক্ষণগুলো অবহেলা করেন। পরে তা জীবনকে নিয়ে যায় হুমকির মুখে।      কিডনি পাথরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের কথা বলা হয়েছে ভারতের গণমাধ্যম 'নিউজ১৮'-এর একটি প্রতিবেদনে। পরামর্শ দিয়েছেন   দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট অনিল কুমার বার্ষ্ণেয়।   পিঠের ব্যথা যাদের কিডনিতে পাথর হয়, তাদের প্রায়শই পিঠের নিচের অংশে বা মেরুদণ্ডের দুই পাশে তীব্র ব্যথা হয়। ব্যথা শ্রোণী অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এই ব্যথা পেট ও শ্রোণীতে ছড়িয়ে যায়, যার ফলে দাঁড়ানো বা হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ে। এই লক্ষণগুলো দ্রুত বুঝতে পারলে চিকিৎসা নিন।      প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালা যখন কিডনি ও মূত্রাশয়ের সংযোগকারী নালীর মাঝে পাথর আটকে যায়, তখন প্রস্রাবের সময় আপনি ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এই অস্বস্তি বেশ বিরক্তিকর হতে পারে। চিকিৎসকরা একে ডিসইউরিয়া বলে থাকেন। সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য এই লক্ষণগুলো আগেই  শনাক্ত করা জরুরি।   প্রস্রাবে রক্ত কিডনিতে পাথর হলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ, যা হেমাটুরিয়া নামে পরিচিত। এই রক্ত​লাল, গোলাপি বা বাদামী রঙের হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, রক্তকণিকাগুলো এতটাই ছোট হয় যে মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না।      বমি বমি ভাব ও বমি কিডনিতে পাথর হলে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া সাধারণ লক্ষণ। এই উপসর্গগুলো কিডনি এবং পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে থাকা আন্তঃসংযুক্ত স্নায়ু থেকে উদ্ভূত হয়। কিডনিতে পাথর থাকলে তা পরিপাকতন্ত্রের এই স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে পারে, যার ফলে পেটে অস্বস্তি হয়। এছাড়াও, তীব্র ব্যথার প্রতিক্রিয়ায় বমি বমি ভাব হতে পারে। এমনকি বমি হতে পারে।     জ্বর ও কাঁপুনি জ্বর ও কাঁপুনি কিডনি বা মূত্রনালীর সংক্রমণের আরো একটি লক্ষণ। কিডনিতে পাথর হলেও এমনটা হতে পারে। এ লক্ষণগুলো অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যারও ইঙ্গিত দিতে পারে। জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এই লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। 

মারিয়া রহমান জুলাই ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকতে কেন জরুরি ভিটামিন বি-৩?

সুস্থ, কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত জীবনযাপনের জন্য সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। আর সেই সুষম খাদ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিন (Niacin)। শরীরে শক্তি উৎপাদন থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং ত্বকের সুস্থতা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজেই এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেহেতু এটি একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, তাই শরীর অতিরিক্ত ভিটামিন বি-৩ জমিয়ে রাখতে পারে না। ফলে প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমে এর চাহিদা পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।   ভিটামিন বি-৩ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ? ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিন একটি পানিতে দ্রবণীয় (Water-soluble) ভিটামিন। এর অতিরিক্ত অংশ শরীরে সঞ্চিত না থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। তাই শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি-৩ গ্রহণ করা প্রয়োজন।   ভিটামিন বি-৩-এর প্রধান উপকারিতা   ১. শরীরে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তা থেকে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ভিটামিন বি-৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি খাদ্যকে ভেঙে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করে, ফলে দৈনন্দিন কাজ করার জন্য শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায়।   ২. হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ভিটামিন বি-৩ রক্তে ভালো কোলেস্টেরল (HDL)-এর মাত্রা বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   ৩. মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে সুস্থ স্নায়ুতন্ত্র বজায় রাখতে নিয়াসিন অপরিহার্য। এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং মানসিক অবসাদ কমিয়ে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।   ৪. ত্বকের স্বাস্থ্য ও ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখে ভিটামিন বি-৩ ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মির প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে এবং ত্বকের কোষের ডিএনএ মেরামতে সহায়তা করে। শরীরে দীর্ঘদিন এ ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে ‘পেলাগ্রা’ (Pellagra) নামক গুরুতর রোগ দেখা দিতে পারে, যার প্রধান লক্ষণ হলো ত্বকের সমস্যা, ডায়রিয়া এবং মানসিক বিভ্রান্তি।   ভিটামিন বি-৩ সমৃদ্ধ খাবার   ভিটামিন বি-৩-এর উৎস প্রধানত দুই ধরনের—প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ। প্রাণিজ উৎস মুরগির মাংস কলিজা রুই, কাতলা, ইলিশ, মাগুর ও ভেটকি মাছ ডিম   উদ্ভিজ্জ উৎস চিনাবাদাম সূর্যমুখীর বীজ মাশরুম সবুজ মটরশুঁটি লাল চাল নারকেল   কারা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে থাকেন? যাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাবার থাকে, তাদের শরীরে সাধারণত ভিটামিন বি-৩-এর ঘাটতি কম দেখা যায়। কারণ প্রোটিনে থাকা ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan) নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে যকৃৎ সহজেই ভিটামিন বি-৩-এ রূপান্তর করতে পারে। ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই নিয়াসিনের একটি অংশ তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়।   ভিটামিন বি-৩ শরীরের শক্তি উৎপাদন, হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা এবং ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেহেতু শরীর এই ভিটামিন সঞ্চয় করে রাখতে পারে না, তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিয়াসিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি। সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে অধিকাংশ মানুষ সহজেই দৈনিক ভিটামিন বি-৩-এর চাহিদা পূরণ করতে পারেন। তাই সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপনের জন্য আজ থেকেই প্রতিদিনের খাবারের মেন্যুতে ভিটামিন বি-৩ সমৃদ্ধ খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৮, ২০২৬
নষ্ট ডিম চেনার চার সহজ উপায়। ছবি: সংগৃহীত
রান্নার আগে ডিম ভালো নাকি নষ্ট বুঝবেন যে ৪ উপায়ে

ডিম আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পুষ্টিকর উপাদান। তবে অনেক সময় একসঙ্গে কেনা ডিম দীর্ঘদিন ফ্রিজে সংরক্ষণ করার কারণে কিছু ডিম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর রান্নার সময় যদি ভালো ডিমের সঙ্গে একটি নষ্ট ডিমও মিশে যায়, তাহলে পুরো খাবারই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুখবর হলো— খুব সহজ কয়েকটি উপায়ে ডিম ভাঙার আগেই বোঝা সম্ভব সেটি খাওয়ার উপযোগী কি না। চলুন জেনে নেওয়া যাক চারটি কার্যকর পরীক্ষা।   ১. ডিমের খোসার রং ও গন্ধ লক্ষ্য করুন ফ্রিজ থেকে বের করার পর প্রথমেই ডিমের বাইরের অংশ ভালোভাবে দেখুন। সাধারণত সাদা ডিমের খোসা উজ্জ্বল ও স্বাভাবিক সাদা থাকে। যদি খোসায় অস্বাভাবিক গোলাপি বা বিবর্ণ আভা দেখা যায়, তবে সতর্ক হোন।   ডিম ভাঙার পর যদি দুর্গন্ধ বা অস্বাভাবিক গন্ধ বের হয়, তাহলে সেটি কোনোভাবেই ব্যবহার করবেন না।   পরামর্শ: এমন ডিম সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন।   ২. পানিতে ভাসিয়ে পরীক্ষা করুন এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগুলোর একটি। যেভাবে করবেন— একটি গভীর বাটিতে ঠান্ডা পানি নিয়ে ডিমটি আস্তে করে ডুবিয়ে দিন।   ফলাফল— একেবারে নিচে ডুবে গেলে — ডিমটি টাটকা। নিচে দাঁড়িয়ে থাকলে বা মাঝামাঝি ভাসলে — ডিমটি কিছুটা পুরোনো, তবে সাধারণত খাওয়ার উপযোগী। সম্পূর্ণ ভেসে উঠলে — ডিমটি অনেক পুরোনো এবং নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটি ব্যবহার না করাই নিরাপদ।   ৩. কানের কাছে নিয়ে ঝাঁকিয়ে দেখুন এটি একটি সহজ ও মজার কৌশল। ডিমটি কানের কাছে ধরে আস্তে আস্তে ঝাঁকান। যদি ভেতর থেকে তরল নড়াচড়ার শব্দ শোনা যায়, তাহলে ডিমটি অনেক পুরোনো বা নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। যদি কোনো শব্দ না হয়, তাহলে ডিমটি সাধারণত ভালো অবস্থায় রয়েছে।   ৪. ভেঙে কুসুম ও সাদা অংশ পরীক্ষা করুন ডিম ভাঙার পরও এর মান সহজেই বোঝা যায়। ভালো ডিমের বৈশিষ্ট্য— কুসুমটি গোল ও উঁচু থাকবে। সাদা অংশ ঘন হবে এবং কুসুমের চারপাশে লেগে থাকবে।   নষ্ট বা অতিরিক্ত পুরোনো ডিমের লক্ষণ— কুসুম চ্যাপ্টা বা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। সাদা অংশ একেবারে পানির মতো পাতলা হয়ে যায়। দুর্গন্ধ থাকলে সেটি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে।   মনে রাখুন— ডিম কেনার পর যত দ্রুত সম্ভব ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ফ্রিজে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। ব্যবহার করার আগে প্রতিটি ডিম আলাদা পাত্রে ভেঙে নিলে পুরো রান্না নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।   একটি নষ্ট ডিম পুরো রান্নার স্বাদ ও মান নষ্ট করে দিতে পারে। কিন্তু সামান্য সচেতনতা এবং এই চারটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই ভালো ও নষ্ট ডিম আলাদা করা সম্ভব। তাই রান্নার আগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে ডিম পরীক্ষা করুন। এতে খাবারের অপচয় যেমন কমবে, তেমনি পরিবারও থাকবে নিরাপদ ও সুস্থ।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোন শাক কেন রাখবেন?

বাঙালির খাবারের পাত থেকে শাক যেন হারিয়ে যাওয়ার নয়। ভাতের সঙ্গে এক মুঠো শাক শুধু স্বাদই বাড়ায় না, শরীরের জন্যও বয়ে আনে নানা উপকার। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির রান্নাঘরে থাকা বিভিন্ন শাক এখনো স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।   লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, কচুশাক কিংবা পালংশাক—প্রতিটি শাকের রয়েছে আলাদা পুষ্টিগুণ। কারও মধ্যে রয়েছে রক্ত বাড়ানোর উপাদান, কেউ আবার হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। জেনে নেওয়া যাক কোন শাকে কী উপকার।   পুঁই শাক: হজমে সহায়ক পুঁই শাকে রয়েছে প্রচুর পানি ও আঁশ। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড ও প্রোটিন রয়েছে। শাকভাজা, চচ্চড়ি বা সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়।   হেলেঞ্চা শাক: শরীর পরিষ্কারে উপকারী   হেলেঞ্চা শাক রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করতে এবং যকৃতের সুস্থতায় সহায়ক বলে পরিচিত। এটি বদহজম, বুকজ্বালা, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা সমস্যায় উপকারী হতে পারে। ভাজি বা বড়া করে খাওয়া যায় এই শাক।   সরিষা শাক: রোগ প্রতিরোধে সহায়ক সরিষা শাকে রয়েছে ভিটামিন এ ও সি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা সালফার শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে এবং যকৃত ভালো রাখতে সহায়তা করে।   কচু শাক: রক্ত ও চোখের জন্য ভালো   কচুশাকে রয়েছে প্রচুর আয়রন, ভিটামিন এ ও ক্যালশিয়াম। এটি রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে উপকারী। নারকেল, ছোলা বা মাছের মাথা দিয়ে রান্না করা যায় এই শাক।   কলমি শাক: সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কলমি শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালশিয়ামসহ নানা পুষ্টি উপাদান। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, হজমে সাহায্য করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।   লাল শাক: আয়রনের ভাণ্ডার   লাল শাকে প্রচুর আয়রন, ফলেট, ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন এ ও সি রয়েছে। রক্তস্বল্পতা দূর করতে এটি উপকারী। ভাজি বা ডালের সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়।   মেথি শাক: ডায়াবেটিসে উপকারী মেথি শাকে রয়েছে আঁশ, আয়রন, ক্যালশিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে অনেকের কাছে জনপ্রিয়। অল্প তেলে রান্না করে খাওয়া ভালো।   পালং শাক: শরীরের শক্তি বাড়ায় পালং শাকে রয়েছে আয়রন, ফলেট, ভিটামিন এ ও সি। বিশেষ করে রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন মানুষের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।   ঢেঁকি শাক: হৃদযন্ত্র ও চোখের যত্নে   ঢেঁকি শাকে রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।   মুলা শাক: রোগ প্রতিরোধে সহায়ক মুলা শাকে রয়েছে ভিটামিন সি, আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।   কুমড়ো শাক: ত্বক ও চোখের জন্য ভালো কুমড়ো শাকে থাকা ভিটামিন এ ও সি চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে এবং ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত শক্ত রাখে।   লাউ শাক: হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক   লাউ শাকে রয়েছে ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে এটি হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী হতে পারে।   পাট শাক: হজমে সাহায্য করে পাট শাকে রয়েছে প্রচুর আঁশ, ভিটামিন সি ও আয়রন। এটি হজমশক্তি বাড়াতে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।   শাক শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, বরং শরীরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। তবে যেকোনো খাবারের মতোই পরিমাণ বুঝে এবং পরিষ্কারভাবে রান্না করে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। নিয়মিত খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাক রাখলে শরীর পেতে পারে নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি।  

মারিয়া রহমান জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করার কিছু টিপস

শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল লিভার। এটি খাদ্য হজমে সহায়তা  এবং শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ করে। লিভার শক্তিশালী হলে খাবার হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। লিভারের সাহায্যে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। অনেক সময় লিভার আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রার সাথে তাল মেলাতে পারে না, যার ফলে আমরা মাঝে মাঝে অলস এবং অসুস্থ বোধ করি। শরীরের ইন্দ্রিয় এবং শক্তির স্তরকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইলে লিভার ডিটক্স করা প্রয়োজন।   প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করতে চাইলে কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-   রসুন খান রান্নাঘরে থাকা রসুন লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারে।  এটি ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর এমন এক উপাদান যা এনজাইম সক্রিয় করতে পারে। এর ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা সহজ হয়। এতে থাকা অ্যালিসিন এবং সেলেনিয়াম লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। শরীর থেকে দ্রুত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য সপ্তাহে অন্তত এক কোয়া রসুন খাওয়ার চেষ্টা করুন অথবা রান্নায় ব্যবহার করুন।   বিষাক্ত খাবার বাদ দিন আজকাল অনেকেই প্রক্রিয়াজাত খাবার খান। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে শরীরের ভেতরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অভ্যাস না করলে লিভারের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।   লেবু যোগ করুন শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে চাইলে খাদ্যতালিকায় লেবুর মতো সাইট্রাস ফল যোগ করুন। এসব ফল ভিটামিন সি-এর অন্যতম সেরা উৎস। আপনার লিভারকে সক্রিয় করতে লেবু মেশানো পানি পান করুন। শরীর শোধনে প্রক্রিয়া এখান থেকেই শুরু হয়, কারণ লেবুর পানি আপনার শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলোকে সংশ্লেষণ করতে পারে, যাতে সেগুলো প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।   পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান আমাদের সকলেরই প্রতিদিন ৪,৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়ামের প্রয়োজন। সমস্যা হলো, আমরা যে ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করি, তাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণটুকু ঠিকমতো পূরণ হয় না। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি লিভারের ঠিকমতো কাজ করতে না পারারও একটি কারণ। এ কারণে আপনার খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ খাবার কলা, মিষ্টি আলু, শিম এবং পালং শাক যোগ করুন।    ক্রুসিফেরাস সবজি গুরুত্বপূর্ণ  লিভার পরিষ্কার করার জন্য আরেকটি পদক্ষেপ হলো খাদ্যতালিকায় আরও বেশি ক্রুসিফেরাস সবজি যোগ করা, কারণ এগুলো লিভারের এনজাইমগুলোকে উদ্দীপিত করে খাবার ভাঙতে এবং এর সাথে শরীরে ঢোকা বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে সাহায্য করে। ব্রকলি এবং ফুলকপি হলো দুটি সেরা ক্রুসিফেরাস সবজি যা লিভারকে পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে।     সূত্র: হেলদি বিল্ডার্স

মারিয়া রহমান জুন ১৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
লিভার সুস্থ রাখার ৫ সহজ উপায়

অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক কসরত না করা, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে। রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা, হজমে সাহায্য করা এবং শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো লিভার প্রতিদিন করে থাকে।   সকালে উঠে মোবাইল নিয়ে সময় নষ্ট না করে মাত্র ৫টি সহজ অভ্যাস রপ্ত করলেই লিভারকে আজীবন সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব। পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, লিভার ভালো রাখতে সকালের শুরুটা হওয়া চাই নিয়মতান্ত্রিক। চলুন, জেনে নিই নিয়মগুলো কী।    দিনের শুরু হোক হালকা গরম পানি দিয়ে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস হালকা গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। দীর্ঘ সময় পর শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি এটি পরিপাকতন্ত্র সচল করে এবং লিভারের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে দেয় না।   লেবু-পানিকে ‘না’ বলুন অনেকে লিভার ডিটক্স করার জন্য খালি পেটে লেবু-পানি বা অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার খান। তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সবার শরীরে এটি সহ্য হয় না। অনেকের ক্ষেত্রে এর ফলে বুক জ্বালা, গ্যাস বা অ্যাসিডের সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু গরম পানি পান করাই যথেষ্ট। সময়মতো সকালের নাস্তা ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সকালে না খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন কিংবা বেলা করে নাস্তা করেন। এই অভ্যাস লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে। ঘুম থেকে ওঠার ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে সকালের নাস্তা সেরে ফেলা উচিত। বেশি সময় খালি পেটে থাকলে রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়ে, যা সামলাতে লিভারকে দ্বিগুণ খাটতে হয়।   খালি পেটে চা-কফি পরিহার সকালে উঠেই খালি পেটে চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এটি হজমপ্রক্রিয়া নষ্ট করে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে লিভারের ক্ষতি করে। তাই সকালে গরম পানি খাওয়ার পর হালকা কিছু মুখে দিয়ে তবেই চা-কফি খাওয়া উচিত। সকালের শুরু হোক শান্ত মনে অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের সরাসরি প্রভাব পড়ে লিভারের ওপর। ঘুম থেকে উঠেই ফোনে অফিসের মেইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘাটলে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। তাই দিনের শুরুতে তাড়াহুড়ো না করে কিছুটা সময় শ্বাসের ব্যায়াম বা যোগাসন করুন, যাতে মন শান্ত থাকে। পরামর্শ চিকিৎসকদের মতে, বড়দের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যেও ছোটবেলা থেকে এই সুস্থ জীবনশৈলীর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। তবেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের লিভারের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। সূত্র : আনন্দবাজার

মারিয়া রহমান জুন ১৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ওজন কমাতে রাতে খেতে পারেন ৩ খাবার

ওজন কমানোর জার্নিতে অনেকেই যে ভুলটি সবচেয়ে বেশি করেন, তা হলো রাতের খাবার বা ডিনার পুরোপুরি বাদ দেওয়া। ভাবেন, না খেয়ে থাকলেই বুঝি দ্রুত মেদ ঝরবে! চিকিৎসাবিজ্ঞান কিন্তু বলছে ভিন্ন কথা। রাতের খাবার একদম বন্ধ করে দিলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যা ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তোলে। আসল রহস্য লুকিয়ে আছে না খেয়ে থাকায় নয়, বরং সঠিক খাবার বেছে নেওয়ায়। রাতে এমন কিছু খাবার খাওয়া উচিত যা একদিকে ক্যালোরিতে কম, অন্যদিকে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রাতের খাবারের তালিকায় কোন তিনটি খাবার রাখলে ক্ষুধার কষ্ট ছাড়াই ওজন কমানো সম্ভব—   দই দই প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং হজমে সহায়ক। বিশেষ করে চিনি ছাড়া টক দই রাতে খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা কমে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে।     সেদ্ধ ডিম ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস। রাতে একটি বা দুটি সেদ্ধ ডিম খেলে সহজেই ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এটি শরীরের পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের প্রবণতা কমায়।   সবজি স্যুপ কম ক্যালোরি ও বেশি পুষ্টিগুণের কারণে সবজি স্যুপ ওজন কমানোর জন্য দারুণ একটি খাবার। গাজর, লাউ, ব্রকলি, টমেটো বা অন্যান্য সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং পেট ভরিয়ে দেয়। পরামর্শ- রাতে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন।

মারিয়া রহমান জুন ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
তীব্র গরমে শরীরের যে তিন অঙ্গ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে তা মানুষের হার্ট, কিডনি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপর মারাত্মক এবং দীর্ঘমেয়াদি ‘নীরব ক্ষতি’ সৃষ্টি করে। এই চরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় থাকলে কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ ছাড়াই শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো বিকল হতে শুরু করে। তীব্র গরমে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অঙ্গ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা নীরব ঘাতকের রূপ ধারণ করে। আগে গ্রীষ্ম অবকাশ বলে টানা এক মাস ছুটি থাকত স্কুল। গরমের দাপট বাড়লে সেই ছুটির মেয়াদ আরও সপ্তাহখানেক চলত। কিন্তু এখন নিয়ম পাল্টে গেছে। গত কয়েক দশক ধরে গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহ নির্দিষ্ট কোনো মাসে আবদ্ধ নেই। দিনের পর দিন গরম যেভাবে তার রেকর্ড গড়ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে মারাত্মক জীবনঝুঁকিতে ফেলবে ফলে হিটস্ট্রোক দেখা দেবে।  এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, দিনের পর দিন যে পরিমাণ গরম সহ্য করতে করতে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে। শরীর সেই ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাচ্ছে না। একটানা এ পরিমাণ গরমের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের হৃদযন্ত্র, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং পরিপাকতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  তবে বয়সভেদে ঝুঁকির ধরন আলাদা। মানবদেহের নিজস্ব কিছু মেকানিজম রয়েছে। গরম বাড়লে সে নিজেকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত ঘাম উৎপন্ন করে এবং রক্ত সঞ্চালনের গতি বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি, ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং চরম অবসাদ তৈরি হয়।  সে জন্য প্রবল গরমের মধ্যে শুধু পানি খেলে শরীর পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে না। কারণ ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রচুর লবণ ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। তাই ওআরএস, ডাবের পানি, লবণ-চিনির পানি, ঘোল কিংবা বাটারমিল্ক এবং পুদিনাপাতা বা লেবু ইনফিউজড ওয়াটার নিয়মিত খেতে হবে। ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলে শুধু ফ্যান চালিয়ে লাভ হয় না। সে ক্ষেত্রে ঘরের ভেন্টিলেশন কিংবা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয়। শরীর অতিরিক্ত গরম মনে হলে ঘাড়, হাত-পা এবং বুকে ঠান্ডা পানি দিয়ে স্পঞ্জ করা যেতে পারে। আর একটানা রোদে ঘোরাঘুরি বা অতিরিক্ত গরমে কাজ করার ফলে শরীরে বারবার ডিহাইড্রেশন কিংবা পানির ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে রক্তে টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে পেশি নষ্ট হয়ে যায়, লিভারের ওপর চাপ পড়ে এবং রক্তে বিপজ্জনক ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্সও দেখা দেয়। তীব্র গরমের মধ্যে থাকা শ্রমিক ও চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন কিডনিতে পাথর এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। নিজেকে ঠান্ডা রাখতে শরীর রক্তপ্রবাহকে ত্বকের দিকে পাঠাতে চেষ্টা করে। তখন হার্টকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পাম্প করতে হয়। সে কারণে হৃদস্পন্দনের গতি বা হার্ট রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যায়। মাসের পর মাস এ অবস্থা চলতে থাকলে কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম বা সংবহনতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যা পরবর্তীকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। আবার তীব্র গরমের মধ্যেও যদি কোনো ব্যক্তির ঘাম না হয়, তবে বুঝতে হবে— শরীরের নিজস্ব কুলিং সিস্টেম পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে এবং ওই ব্যক্তি হিটস্ট্রোকের শিকার হতে পারেন। মানুষের শরীর রাতের ঘুমের সময় স্বাভাবিক নিয়মেই নিজেকে ঠান্ডা করে এবং ব্রেন ও হরমোন নেটওয়ার্ককে পুনরুজ্জীবিত করে। কিন্তু রাতের তাপমাত্রা বেশি থাকলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এর ফলে মনোযোগের অভাব, ভুলে যাওয়া, উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ এবং মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। শিশুদের শরীর বড়দের তুলনায় দ্রুত গরম হয় এবং তারা প্রচণ্ড ঘামে। ফলে দ্রুত ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়। অতিরিক্ত ক্লান্তি, খিটখিটে ভাব, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, খাওয়ার অনিচ্ছা ও অলসতা। নবজাতকদের ক্ষেত্রে চোখ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখ দিয়ে পানি না পড়া বা শরীর অতিরিক্ত গরম কিন্তু ত্বক শুকনো থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যায়। তাই  ৪৫ ডিগ্রি গরমে প্রবীণদের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং অ্যারিদমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। ডিমেনশিয়া বা স্নায়ুরোগে আক্রান্ত প্রবীণরা অনেক সময় তৃষ্ণা অনুভব করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। হঠাৎ বিভ্রান্তি, অসংলগ্ন কথাবার্তা, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস বা হ্যালুসিনেশনও হতে পারে।

মারিয়া রহমান মে ২২, ২০২৬
খেজুর
খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন উপকারী

সারাদিন রোজা রাখার পর সারা বিশ্বের কোটি রোজদার খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙেন। এটি ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর সময় থেকেই খেজুর দিয়ে ইফতারের প্রচলন রয়েছে। মহানবী (সা.) নিজে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করতেন। ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি খেজুরের পুষ্টিগুণও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী।  বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা ভাঙার পর শরীর তাৎক্ষণিকভাবে গ্লুকোজ তৈরির চেষ্টা করে, কারণ শরীরে জ্বালানি হিসেবে এটির প্রয়োজন হয়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকায় অন্যান্য খাবারের তুলনায় রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক দ্রুত বৃদ্ধি করে। খেজুরে শর্করা এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকায় এই ফলটি শরীরকে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সরবরাহ করে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে কিছু না খেয়ে থাকেন তাদের জন্য এটি আদর্শ।  খেজুর ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রনে সমৃদ্ধ। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে শরীরকে প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি সরবরাহ করতেও সহায়তা করে এই ফল।  পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুর একটি শুকনো ফল হলেও, এটি মানুষের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। সারা দিন পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে যে ঘাটতি থাকে, তা পূরণ করে। প্রাকৃতিকভাবেই এতে ইলেক্ট্রোলাইট পটাসিয়াম থাকে, যা পানির জন্য চুম্বকের মতো কাজ করে, শরীরের কোষগুলোকে পানিতে পরিপূর্ণ করে তোলে। রোজাদারদের অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন। খেজুর ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস, যা শরীরের বর্জ্য পদার্থকে অন্ত্রের মধ্য দিয়ে আরও সহজে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে হজমে সহায়তা করে। 

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে উপকারী যেসব খাবার

আমাদের শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া এবং খাবার হজমে লিভারের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু ভুল জীবনযাপন আর অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে। শুরুর দিকে এর কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না বলে একে নিঃশব্দ ঘাতকও বলা হয়। চলুন, জেনে নিই লিভার সুস্থ রাখতে যেসব খাবার উপকারী। ব্ল্যাক কফি চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি লিভারে চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং প্রদাহ কমায়। এটি লিভারের রোগ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। ব্লুবেরি ব্লুবেরিতে থাকা বিশেষ উপাদান লিভারের কোষের ক্ষতি হওয়া আটকায় এবং ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। আমলকি প্রতিদিন অন্তত দুটি আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।এর ভিটামিন-সি লিভারকে সচল রাখে এবং ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। অ্যাভোকাডো এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষ মেরামত করে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। হলুদ ও গোলমরিচ হলুদের সঙ্গে সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে তা লিভারের জন্য মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এটি লিভারের ভেতরের প্রদাহ দ্রুত কমায়। সুস্থ থাকার বাড়তি টিপস: ব্যায়াম: নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। ঘুম: পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো জরুরি। চিনি বর্জন: খাবারে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দিন। সমস্যা গুরুতর মনে হলে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র : এবিপি

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬
ঈদে নান্দনিক ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এলো ‘ভারগো’ । ছবি : সংগৃহীত
ঈদে নান্দনিক ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এলো ‘ভারগো’

ঈদের আনন্দ, ভালোবাসা ও ঐতিহ্যের গল্পকে আরও রঙিন করে তুলতে দেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘ভারগো’ নিয়ে এসেছে ‘ঈদ কালেকশন ২০২৬’। এবারের আয়োজনে উৎসবের প্রাণের সঙ্গে সমসাময়িক ফ্যাশনের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। আরাম ও স্টাইলের নিখুঁত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে প্রতিটি পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে প্রিমিয়াম মানের ফেব্রিক ও নান্দনিক নকশা। ফ্যাশন কেবল ট্রেন্ড নয়, এটি শেকড়, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্বেরও প্রকাশ। সেই ভাবনা থেকেই মেয়েদের জন্য ভারগো এনেছে জর্জেট ফেব্রিকের ওপর আভিজাত্যপূর্ণ কারচুপি ও এমব্রয়ডারি করা সালোয়ার কামিজ, টু-পিস, কো-অর্ড সেট, কুর্তি, টপস ও টিউনিক। উৎসবের ভিড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার জন্য ডিজিটাল প্রিন্টেড ও ভিসকস ফেব্রিকের কামিজ এবং রিলাক্স প্যান্টেরও দারুণ কালেকশন থাকছে এবার। ছেলেদের ঈদ আয়োজনে প্রাধান্য পেয়েছে কটন ও ব্যাম্বু ফেব্রিকের তৈরি ইউনিক এমব্রয়ডারি করা প্রিমিয়াম ও ক্যাজুয়াল পাঞ্জাবি, কাবলি সেট এবং কটি। পাশাপাশি ভার্সেটাইল স্টাইলিংয়ের জন্য ১০০% সুতির ক্যাজুয়াল, ফরমাল, পোলো ও টি-শার্টের সঙ্গে থাকছে আরামদায়ক ডেনিম, চিনোস ও রিলাক্স প্যান্টের নানা রঙের অপশন। ঈদের আনন্দে শিশুদের জন্য ভারগো সাজিয়েছে স্টাইলিশ ডিজাইনের পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, সালোয়ার কামিজ, টু-পিস, কুর্তি ও ফ্রকের এক সমৃদ্ধ সম্ভার। এই আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হিসেবে এবার অন্যান্য পোশাকের পাশাপাশি ভারগোর স্পেশাল ‘নিউবর্ন’ বা নবজাতক কালেকশনও পাওয়া যাবে। নান্দনিক এসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার উত্তরা, মোহাম্মদপুর, হাসনাবাদ, বসুন্ধরা সিটির (দুটি শাখা) পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম (হালিশহর ও কোহিনূর মিরিডিয়ান সিটি), ফেনী, বগুড়া, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও নওগাঁসহ ভারগোর সকল স্টোরে। এ ছাড়া ঘরে বসেই অনলাইনে তাদের এই ঈদ কালেকশন কেনার সুযোগ রয়েছে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশ

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬