নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো লঙ্কান ভূমিতে সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছিল। আইসিসি সেটা তো মানেই-নি, উলটো বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে ডাকা হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশে এই বিরোধের পুরো সময়জুড়ে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা নীরব অবস্থান বজায় রেখেছে। অবশেষে দীর্ঘ সময় পর মুখ খুললেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সেক্রেটারি বান্দুলা দিসানায়েকে। এ প্রসঙ্গে এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক বিরোধে জড়িয়ে পড়তে চায় না কলম্বো। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে যে বিরোধ চলছে, সে বিষয়ে আমরা নিরপেক্ষ থাকছি। এই তিন দেশই আমাদের বন্ধুপ্রতিম। তবে অনুরোধ জানানো হলে ভবিষ্যতে যেকোনো দেশের জন্যই শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রস্তুত।’ বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে দাবি করে তারা না অংশ না নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আগামীকাল (শুক্রবার) কিংবা সোমবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভির। সবমিলিয়ে সালমান-বাবরদের খেলা দোলাচালে। তবে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চিয়তার মধ্যেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কড়া নিরাপত্তার আয়োজন করছে অন্যতম আয়োজক শ্রীলঙ্কা। এ প্রসঙ্গে লঙ্কান ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা বলছেন, ‘টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে আয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এলিট কমান্ডো ইউনিটগুলোই সব অংশগ্রহণকারী দলের নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে।’ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হবে। পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নিলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে মুখোমুখি হওয়ার কথা। সেই ম্যাচের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ অনিশ্চয়তার মাঝে একটি মজার প্রস্তাব সামাজিকভাবে আলোচিত হচ্ছে। পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তাদের জায়গায় খেলতে প্রস্তুত আইসল্যান্ড। এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। পাকিস্তান অংশ নেবে কি না, সে সিদ্ধান্ত আসতে পারে শুক্রবার অথবা সোমবার। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের পর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই আইসল্যান্ড ক্রিকেট রসিকতার সুরে জানিয়েছে, পাকিস্তান যদি ২ ফেব্রুয়ারি আগে সরে দাঁড়ায়, তারা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য রওনা দিতে প্রস্তুত। তবে ৭ ফেব্রুয়ারির আগে কলম্বো পৌঁছানো কঠিন হবে, তাদের ওপেনার আবার ঘুমাতে পারবে না। তারা এমনকি কেফলাভিক থেকে কলম্বো পর্যন্ত ভ্রমণ পরিকল্পনার স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছে, যা শেষ মুহূর্তের ঝামেলার উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর আগে আইসিসি নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। বাংলাদেশ ভারতে খেলতে রাজি না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে ২০ দলের এই বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে যে দল খেলেছে, প্রায় একই দল রাখা হয়েছে বিশ্বকাপের জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান খেলবে কি না, তা এখন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট দলে বড় ধাক্কা এলো। অভিজ্ঞ ব্যাটার অ্যারন জোন্সকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দুর্নীতিবিরোধী বিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ ওঠায় তাকে আপাতত মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে। আইসিসি জানিয়েছে, জোন্সের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় বিধিভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের জবাব দিতে তাকে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পে ছিলেন। ওই ক্যাম্পে থাকা ১৮ জন ক্রিকেটারের মধ্য থেকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত ১৫ সদস্যের দল গঠনের কথা ছিল। সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ফলে আপাতত সেই দলে জোন্সের থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না। আইসিসির তথ্যমতে, জোন্সের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বড় অংশই ২০২৩–২৪ মৌসুমে বার্বাডোজে অনুষ্ঠিত বিম-১০ (Bim10) টুর্নামেন্টকে ঘিরে, যা ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাশাপাশি দুটি অভিযোগ আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংশ্লিষ্ট, যা আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোডের আওতায় পড়েছে। আইসিসি জানিয়েছে, এই মামলা একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হতে পারে। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর অ্যারন জোন্স যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলেছেন ৫২টি ওয়ানডে ও ৪৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও নিয়মিত ছিলেন তিনি—ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), বিপিএল ও যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) খেলেছেন জোন্স। বিশ্বকাপের ঠিক আগে এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র দলের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ওপরই এখন নির্ভর করছে জোন্সের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেজন্য ইতোমধ্যেই পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বৈঠক করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী নেবে সেটা জানা যায়নি। তবে আগামী শুক্রবার অথবা সোমবারের মধ্যেই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রিকেটে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। বিশেষ করে পিসিবির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। বোর্ডকে তারা নাকি কড়া বার্তা দিচ্ছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টিকে ভালোভাবে ভাবারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে জানা যায়, পাকিস্তানের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ় জানান, পাকিস্তানকে বিশ্বকাপের জন্য দল পাঠাতে। পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ ও সচিব আরিফ আলি আব্বাসি জানান, তারা বিশ্বকাপে দল না পাঠানো নিয়ে কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না। আব্বাসি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন করছে। কিন্তু কীসের ভিত্তিতে ওরা বিশ্বকাপে দল পাঠাবে না বলছে? এটা করলে আইসিসি’র সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে।’ আরিফ আলি আব্বাসি অতীতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অংশ ছিলেন। তিনি বিশ্বকাপে দল পাঠানোর পক্ষে। কারণ পাকিস্তান বিশ্বকাপে দল না পাঠালে শ্রীলঙ্কা আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাকিস্তানের সাবেক মাহমুদের পরামর্শ, বাংলাদেশকে একমাত্র পাকিস্তান সমর্থন করেছে। এছাড়া, অন্য কোনও বোর্ড বাংলাদেশকে সমর্থন করেনি। একই সুর পাকিস্তানের সাবেক নির্বাচক ও টেস্ট ক্রিকেটার মহসিন খানের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ভারতের সমস্যা রয়েছে তাই আমরা আমাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলছি। তা হলে কেন পিসিবি দল পাঠাচ্ছে না? এটা ক্রিকেটের জন্য খারাপ।’ সাবেক অধিনায়ক ইনজ়ামাম উল হক এবং মোহাম্মদ ইউসুফও পিসিবিকে পরামর্শ দেন দলকে বিশ্বকাপে পাঠানোর জন্য। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই নজর এখন গোটা ক্রিকেট দুনিয়ার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশের বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি। এরই মাঝে বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদেরও বিশ্বকাপের সংবাদ কাভারের জন্য অ্যাক্রেডিটেশন দেয়নি বিশ্ব ক্রিকেটের এই সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যা নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে ক্রিকেটাঙ্গনে। তবে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে নিজেদের অবস্থানে যেন সুর নরম করতে যাচ্ছে আইসিসি। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বাংলাদেশি সংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশনের অনুরোধ বাতিল হয়েছে দাবি করার পর আবেদন প্রক্রিয়া বদলাচ্ছে আইসিসি। সংস্থাটির সূত্র বলছে, ‘আবেদনের সংখ্যা ও সূচিতে পরিবর্তন আনার পর থেকে পুনরায় (অ্যাক্রেডিটেশন) প্রক্রিয়া চলছে। যথাক্রমে অ্যাক্রেডিটেশন তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।’ জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে ৮০-৯০ জন সাংবাদিক মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য আবেদন করেছে। যদি তাদের দল আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণও করে, তবুও সবার অনুমতি মিলবে না। সূত্রের বরাতে পিটিআই বলছে, ‘প্রতিটি দেশের জন্য একটা নির্দিষ্ট কোটা থাকে। ৪০ জনের বেশি সাংবাদিককে কার্ড দেওয়া যায় না। বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশি সাংবাদিক আবেদন করেছেন। প্রত্যেককে দেওয়া যাবে না। কাদের কার্ড দেওয়া হবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারপর তাদের অনুমতি দেওয়া হবে।’ এদিকে, সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভারেজের সুযোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে আইসিসির কাছে মেইল করেছে বিসিবি। এ প্রসঙ্গে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) সিদ্ধান্তটা এসেছে। এরপর আমরা জানতে চেয়েছি, ব্যাখ্যা চেয়েছি। ওটা ভেতরের গোপনীয় বিষয়, কিন্তু আমরা জানতে চেয়েছি। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে (তার দেশ) অংশ্রগ্রহণ করতেই হবে। (২০১৩) চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি তারপরও আমাদের সাংবাদিকরা সেখানে গিয়েছিলেন কাভার করতে। এ ছাড়া ফিফা বিশ্বকাপে আমাদের দল কখনো অংশ নেয়নি কিন্তু সাংবাদিকরা নিয়মিত যান কাভার করতে।’ এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত আইসিসি কেমন সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আইসিসি বাংলাদেশের বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। আর এমন সিদ্ধান্তে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া রীতিমতো তোলপাড়। এ ব্যাপারে পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি সরব পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। ওয়াসিম আকরাম-শহীদ আফ্রিদিসহ আরও অনেকেই এ নিয়ে কথা বলেছেন। এবার তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দেশটির সাবেক অফ স্পিনার সাকলায়েন মুশতাক। খেলাধুলায় রাজনীতি মেশানো ঠিক নয়—পুরোনো কথাটিই নতুন করে বললেন সাকলায়েন মুশতাক। বাংলাদেশের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে যখন ক্রিকেট বিশ্ব তোলপাড়, সেই সময়ে প্রসঙ্গটা তুললেন পাকিস্তানের সাবেক অফ স্পিনার। তবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে নয়, ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়েই রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করলেন বাংলাদেশের সাবেক স্পিন বোলিং কোচ। সাকলায়েনের মতে, রাজনীতি শুধু ক্রিকেটের জন্যই নয়, মানবতার জন্যও ক্ষতিকর। তিনি বলেছেন ক্রিকেটের কাজ দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়া, বিভাজন তৈরি করা নয়। ভারত ও পাকিস্তান সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে ২০১২–১৩ মৌসুমে। সে সময় ভারত সফরে গিয়েছিল পাকিস্তান। তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল দুই দল। টি-টুয়েন্টি সিরিজটি ১–১ সমতায় শেষ হলেও ওয়ানডে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছিল পাকিস্তান। এর পর থেকে মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ছাড়া আর ক্রিকেট মাঠে দেখা হয়নি দুই দলের। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাকলায়েন বলেন, ‘আমি মনে করি রাজনীতি নির্মূল হওয়া উচিত, কারণ এটি মানবতার জন্য ক্ষতিকর। রাজনীতি আমাদের শত্রু। এটি শুধু ক্রিকেট নয়, পুরো মানবসমাজকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্রিকেটের উদ্দেশ্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য তৈরি করা, দূরত্ব বাড়ানো নয়।’ সাকলায়েনের মতে, রাজনীতি কিংবা সংঘাত নয়, ক্রিকেট শুধু বিনোদনের মাধ্যমই হওয়া উচিত। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না থাকা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি সাকলায়েন, ‘ক্রিকেট মানে বিনোদন। এটি কোনো যুদ্ধ বা যুদ্ধক্ষেত্র নয়। বাংলাদেশের ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। আমি তো আগেই স্পষ্ট করে বলেছি আমি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’
পৃথিবীতে নানা ধরনের মিথ্যা কথা অপ্তবাক্য হিসেবে জনপ্রিয়। তবে একটি অপ্তবাক্য এতোটাই মিথ্যা যে তা রীতিমত হাস্যকর। বাক্যটি হচ্ছে খেলাধুলার সাথে রাজনীতি মেশাবেন না। বিরাজনীতিকরণের অদ্ভুত উন্নাসিকতা থেকে উৎসারিত এই বাক্যটি যারা বিশ্বাস করেন, তারা ভুলে যান যে, আন্তর্জাতিক খেলাধুলা মানেই রাজনীতি। শুধু রাজনীতিই নয়, কেউ কেউ মনে করেন, হাজার হাজার বছর ধরে দেশ দখল ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের লক্ষে দেশে দেশে যে যুদ্ধ হতো, তার আধুনিক রূপ হচ্ছে আন্তর্জাতিক খেলাধুলা। অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে নিকেশ করার যে শিকারী প্রবণতা, খেলার মাঠে তা কেবল অবদমন করা হয়। আধুনিক যুগে মরণঘাতী যুদ্ধের অভাব রাষ্ট্রগুলো খেলার ময়দানে পূরণ করে। এই কারণেই জর্জ ওরওয়েল আন্তর্জাতিক খেলাধুলাকে বলেছিলেন, ‘ওয়ার মাইনাস দ্য শুটিং’। এবং সেই নাম ধরে মার্কিন ক্রীড়ালেখক মাইক মারকুইসি ১৯৯৬ সালে উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে খেলাধুলার রাজনীতি, কূটনীতি এবং এর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়াসহ গোটা ক্রিকেট বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। ঠিক ৩০ বছর পর, উপমহাদেশে আরেকটি বিশ্বকাপের প্রাক্কালে ক্রিকেট কূটনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দুই প্রতিবেশী—বাংলাদেশ ও ভারত। এই ঘটনার নানাদিক বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ক্রিকেট কূটনীতি শুধু খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দুই দেশের সম্পর্ক এবং আরও নানা বিষয়কে প্রভাবিত করে। ঘটনার বিস্ফোরণ ঘটে বাংলাদেশের খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। ৯ কোটি রুপির বেশি টাকায় তাকে আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নেওয়া হলেও, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হস্তক্ষেপে তাকে দলে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বোর্ডের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজকে দলে রাখা সম্ভব নয়। এর পেছনের কারণ, ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দলের এক নেতা হুমকি দিয়েছিলেন যে, মুস্তাফিজ আইপিএলে খেললে কেকেআরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দলটির মালিক শাহরুখ খানকেও দালাল বলে আখ্যায়িত করা হয় এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শাহরুখ ভারতের সুপারস্টার হলেও তিনি মুসলমান। মুস্তাফিজও মুসলমান। বিজেপির শাসনে তুচ্ছ ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বাংলাদেশি মুসলমানদের উপর বহু হামলার নজির রয়েছে। ভারতে হিন্দুত্ববাদী শাসনে অহিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য জীবনযাপন অনিরাপদ। চলমান জাতিগত বিদ্বেষ ও হত্যাকাণ্ডের ধারা দেশে ভয়ঙ্কর মাত্রা পেয়েছে। তবে, সেই বিজেপি দাবি করছে যে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসন চলার পর হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে অপতথ্য প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গণহত্যার চিত্র তৈরি করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধাবস্থায় থাকা দেশটিতে বাংলাদেশকেও প্রায় একই ধরনের সম্পর্কের মধ্যে ফেলার চেষ্টা চলছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও ঘৃণার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদের প্রভাব জোরদার হচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গত দেড় বছর ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অক্ষমতার কারণে মাজার ভাঙচুর ও মব আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অমুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছে। তবে, ভারতের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিশানা করে বিপুল মাত্রায় জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো হয়নি। বিরোধী মতের ওপর চাপ দিয়ে, স্বৈরশাসক হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ভারত সরকার পরিস্থিতিকে বিদ্বেষপূর্ণ করতে চায়। হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কঠোর করা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে শিথিলতা সীমিত। মোদির আমলে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শীতল। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ভারত প্রভাব বিস্তার করে, অন্যদের খেয়াল রাখে না। মোদির শাসনে আক্রমণাত্মক কূটনীতি ক্রিকেট বিশ্বের রাজনীতির গতিপথও নির্ধারণ করে। মুস্তাফিজের ঘটনায় ভারত সরকারের আচরণ ছিল আক্রমণাত্মক ও অন্যদের তুচ্ছ করার মনোভাব থেকে উদ্ভূত। তবে তারা ভুলে গেছে, এর প্রতিউত্তর আসতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষে এটি একটি কৌশলগত সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপ আসন্ন এবং নিরাপত্তার অভাবের কারণে দলকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত করা সম্ভব। ভারত হয়তো ধারণা করতে পারেনি যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে। কারণ, আইপিএল বিশ্বকাপের পরে শুরু হবে। তখন মুস্তাফিজের প্রতিহিংসা করলে বাংলাদেশের পক্ষে সীমাবদ্ধতা থাকবে না। মার্চ-এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে বাংলাদেশ বিরোধিতা ভারতের রাজনীতিতে একটি বড় কার্ড। ধর্ম ও ক্রিকেটকে ব্যবহার করে উত্তেজনা তৈরি করা সহজ। প্রশ্ন হলো, মুস্তাফিজ অন্য কোনো অঞ্চলের দলে খেললে কি এমন প্রতিক্রিয়া হতো? রাজনীতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। পোস্ট-ট্রুথ যুগে মানুষকে ঘৃণার মাধ্যমে পরিচালনা করা রাজনীতিবিদদের জন্য ফলপ্রসূ। মোদি বা ট্রাম্পের বিজয় তা প্রমাণ করে। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এসেছেন। বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চায়। তবে এটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পাশ কাটিয়ে পরবর্তী সরকারের সঙ্গে করতে চায়। দুটি প্রতিবেশী দেশের জন্য এই ধরনের শীতল সম্পর্ক স্বাস্থ্যকর নয়। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আছে। ভারত বরাবরই পাপেট সরকার বসাতে চেয়েছে। হাসিনার শাসনামল সেই চেষ্টার উদাহরণ। গণঅভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়া হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন যেকোনো সরকারকে সাবধান থাকতে হবে। লোকরঞ্জনবাদের যুগে রেটোরিক ও উত্তেজনা রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার। বাংলাদেশের মানুষও প্রায়শই এই উত্তেজনায় আবদ্ধ। “দিল্লী না ঢাকা” স্লোগান যেমন প্রচলিত, তেমন বাস্তব নীতি নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতি কীভাবে স্বনির্ভর হবে, ভারতের ওপর নির্ভরতা কমবে—এ নিয়ে কোনো দৃঢ় পরিকল্পনা নেই। অর্থনীতিবিদ মাহা মির্জা বলেছেন, ভারতের সঙ্গে হাসিনার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, সীমান্ত হত্যা, জ্বালানি খাতের চুক্তি—এসব মোকাবিলার জন্য স্বনির্ভর অর্থনীতি ও নীতি প্রয়োজন। মুখে “ঢাকা ঢাকা” বললে জনতুষ্টি হয়, কিন্তু আধিপত্যবাদ ঠেকানো যায় না। ক্রিকেট কূটনীতিতে লক্ষ্য ও কৌশল গুরুত্বপূর্ণ। লুজ বলের মতো সুযোগ মিস করলে খেলার সুবিধা হারায়। ভারত লুজ বল দিয়েছে, বাংলাদেশ সুচিন্তিতভাবে ছক্কার মাধ্যমে তা ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের কৌশল ও প্রতিক্রিয়া বিশ্বকাপে দৃশ্যমান হবে। বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। ভারতকে দেখাতে হবে যে, গুণ্ডামির জবাব দেওয়া যায়। ক্রিকেট বোর্ড নিয়ম মেনে কাজ করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দল পাঠানো হতো না। আয়োজক দেশের জন্য, বিশেষ করে ভারতের মতো শক্তিশালী দেশের জন্য, এটি অস্বস্তিকর। বাংলাদেশ সরকারও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। একদিকে মববাজি, অন্যদিকে ব্যর্থ সরকারের জন্য ভারতবিরোধী কৌশল হলো শক্তিশালী হাতিয়ার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ সময় নিজেদের স্কোর বাড়াতে চায়। ভারতের কূটনৈতিক লক্ষ্য কী? এক্সিট প্ল্যান কী? বাংলাদেশ কি সম্পর্ক বন্ধ করবে, নাকি দরকষাকষি করে সম্মান নিশ্চিত করবে? বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ হলো ভারতের ভুলকে কাজে লাগানো, দরকষাকষি করা, আইসিসিতে প্রভাব খাটানো। ১৯৯৬ সালে অ-এশীয় ব্লক শ্রীলংকা বয়কট করেছিল। আজহারউদ্দিন ও ইমরান খানের নেতৃত্বে দল খেলে, আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শন করে। বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান টেস্ট স্ট্যাটাস পায়। রাজনৈতিক ব্লকের শক্তি না থাকায় কেনিয়া হারায়। আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড বেশি এগোয়নি। বাংলাদেশ ও ভারত উভয়কেই কূটনৈতিক স্বার্থে সতর্ক হতে হবে। বাংলাদেশের বার্তা হবে কেবল ক্রিকেট নয়—তিস্তার পানি বণ্টন, ফারাক্কা, সীমান্ত হত্যা—এসবেও ভারতকে সতর্ক করতে হবে। বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সার্কের মতো সংগঠনের পুনর্জাগরণও প্রয়োজন। কূটনীতি হলো ঠাণ্ডা মাথার রাজনীতি। ছোট দেশের জন্য বড় দেশের সঙ্গে কৌশলী, একতাবদ্ধ ও বাস্তববাদী পদক্ষেপ প্রয়োজন। ওপারের বিজেপি ও ঘৃণাবাদীরা রিয়েল পলিটিকে আগ্রহী নয়। তারা ধর্ম ও উগ্র জাতীয়তাবাদের কার্ড ব্যবহার করে উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে চায়। বাংলাদেশ ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ একপেশে সম্পর্ক, নতজানু অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা জনগণের দাবি। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া মানসিক ও নৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। তবে পরবর্তী চালগুলো কৌশলী হতে হবে। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না, সম্পর্ক বন্ধ করাও চাই না। সমতার কূটনীতি ও সম্মান নিশ্চিতকরণের রাজনীতি প্রয়োজন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে শুধু জাতীয়তাবাদী হাতিয়ার না বানিয়ে সত্যিকারের ধারালো করতে হবে। বিশ কোটি মানুষের দেশের বাজার শক্তি অর্জন করতে হবে। মুস্তাফিজের ঘটনা থেকে প্রাপ্ত শক্তি অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও ব্যবহার করতে হবে। রুডইয়ার্ড কিপলিং বলেছিলেন, হোয়্যাট শ্যুড দে নো অফ ইংল্যান্ড হু অনলি ইংল্যান্ড নো? শুধুমাত্র ইংল্যান্ড জানলেই কি সাম্রাজ্য বোঝা যায়? অনুরূপভাবে, সিএলআর জেমস বলেছেন, হোয়্যাট ডু দে নো অফ ক্রিকেট হু অনলি ক্রিকেট নো? কেবল স্কোর, রান, অ্যাভারেজ মিলে ক্রিকেট বোঝা যায় না; ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ, বর্ণবাদ, শ্রেণি ও রাজনীতি না বোঝা পর্যন্ত ক্রিকেট বোঝা যায় না। ক্রিকেট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হাতিয়ার। বাংলাদেশের অর্জন প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে হলেও, এটি ভবিষ্যতে ন্যায্যতার লড়াই শুরু করতে পারে। ক্রিকেট থেকে প্রাপ্ত শক্তি দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চলমান নাটকে নতুন মোড় এসেছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ এবার ভারতীয় ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হয়নি। ফলে গত শনিবার বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশের জায়গায় এবারের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। তবে এবার নাটকের নতুন মোড়টি আসতে পারে আইসিসির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফেরানোর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান যদি সরে দাঁড়ায়, বাংলাদেশকে ‘এ’ গ্রুপে পাকিস্তানের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে রাখা হবে। সেই ক্ষেত্রে বিসিবির দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশ সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলতে পারবে, যা লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ করবে। এখন বাংলাদেশের অবস্থান পুরোপুরি পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিষয়টি সামনে আসার পর বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পরিস্থিতি আরও সতর্কভাবে পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটে, তাহলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে। আইসিসি জানিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নিলে শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই নয়, এশিয়া কাপ থেকেও পাকিস্তান বাদ পড়তে পারে।
ভারতে অনুষ্ঠেয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার জন্য ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি স্কটল্যান্ড। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) এক সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় স্কটিশরা। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ কারণে ভারতে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আবেদন জানানো হয় আইসিসির কাছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আইসিসি। র্যাংকিং বিবেচনায় সেই শূন্যস্থান পূরণ করে স্কটল্যান্ড। তবে এভাবে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ায় স্বস্তিতে নেই স্কটল্যান্ড ক্রিকেটও। দলটির অস্ট্রেলিয়ান প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাননি তারা। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সত্যি বলতে তারা কখনোই এভাবে বিশ্বকাপে যেতে চাননি। বিশ্বকাপে খেলার একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া রয়েছে এবং কেউই এভাবে সুযোগ বা আমন্ত্রণ পেতে চায় না। স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণ পুরোপুরি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ফল বলেও স্বীকার করেন তিনি। সে কারণেই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য তাদের খারাপ লাগছে বলে জানান লিন্ডব্লেড। এভাবে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্কটল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী বলেন, তিনি ওই ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে চান না। মানুষের নিজস্ব মতামত থাকবে এবং তা প্রকাশের অধিকারও তাদের আছে। তবে এটুকু স্পষ্ট করেন যে আইসিসি তাদের বিশ্বকাপে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, স্কটল্যান্ড আইসিসি টি–টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা একটি শক্তিশালী দল, যারা সারা বছর নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে থাকে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাজে পারফরম্যান্সের পরও দলে জায়গা পেয়েছেন কুয়েন্টিন স্যাম্পসন। তবে সবাইকে চমকে অভিজ্ঞ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান এভিন লুইসকে বিশ্বকাপ দলে রাখেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট বোর্ড। চোট কাটিয়ে আফগানিস্তান সিরিজে ফেরা ফাস্ট বোলার শামার জোসেফও টিকে গেছেন বিশ্বকাপের দলে। পেস বোলিং বিভাগে তার সঙ্গে আছেন হোল্ডার, ম্যাথু ফোর্ড ও জেডেন সিলস। স্পিন বিভাগে আকিল ও চেইসের সঙ্গে থাকছেন গুডাকেশ মোটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ১১ জন আছেন এবারের ১৫ সদস্যের দলে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে দুইবারের সাবেক চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচটি তাদের খেলার কথা ছিল মূলত বাংলাদেশের বিপক্ষে। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ দল ভারতে যেতে রাজি না হওয়ায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দিয়েছে আইসিসি। ‘সি’ গ্রুপের অন্য তিন দল ইংল্যান্ড, নেপাল ও ইতালি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: শেই হোপ (অধিনায়ক), শিমরন হেটমায়ার, জনসন চার্লস, ব্র্যান্ডন কিং, রোস্টন চেইস, জেসন হোল্ডার, রভম্যান পাওয়েল, শেরফেন রাদারফোর্ড, রোমারিও শেফার্ড, কুয়েন্টিন স্যাম্পসন, আকিল হোসেন, গুডাকেশ মোটি, শামার জোসেফ, জেডেন সিলস, ম্যাথু ফোর্ড।
ভারতে গিয়ে খেলতে না চাওয়ায় এরই মধ্যে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। পরিবর্তে আইসিসি অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে স্কটল্যান্ডকে। এবার নতুন খবর হচ্ছে, আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ কাভার করতে বাংলাদেশ থেকে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের জন্য যে সব সাংবাদিক আবেদন করেছিলেন আইসিসিতে, সবার আবেদনই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। অর্থাৎ এবার বাংলাদেশ থেকে কোনো সাংবাদিকই যেতে পারছেন না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য। পূর্বতন সূচি অনুসারে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের ৩টি ম্যাচ ছিল কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ ছিল মুম্বাইয়ে। বাংলাদেশের ম্যাচসহ পুরো বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য আইসিসি নির্ধারিত ফর্ম ও বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা। বাংলাদেশ খেলতে যাক কিংবা না যাক, বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিকের ভারত এবং শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম বিশ্বকাপ খেলার সময় থেকে শুরু প্রতিটি আসরেই (ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি) উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল। শুধু তাই নয়, ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগেও, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উপস্থিতি ছিল না, তখনও অনেকগুলো বিশ্বকাপ আসর কাভার করার অভিজ্ঞতা ছিল বাংলাদেশের সাংবাদিকদের। ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে এদেশের মানুষের তুমুল আগ্রহ বিশ্বকাপ নিয়ে। এ কারণে প্রায় প্রতিটি মিডিয়া হাউসই বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য সাংবাদিক প্রেরণ করে।
ভারত উপমহাদেশের ক্রিকেটে রাজনীতি আবারও বড় প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের বিরোধ প্রধানত ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত থাকলেও, এবার বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কারণে বাংলাদেশকে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি হঠাৎ হুমকি দিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানও সরকারিক পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্বকাপ থেকে সরে যেতে পারে। প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার হারভজন সিং এটা শুনে বলেন, ‘পাকিস্তান অপ্রয়োজনীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শুধু বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ দল ভারতীয় পিচে ভালো খেলতে পারত এবং বিশ্বকাপে কিছু চমক দেখাতে পারত। হারভজনের মতে, বিসিবির উচিত ছিল আইসিসির সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখা, সরাসরি ‘না’ বলা নয়। অন্যদিকে, মহসিন নকভির হুমকি ভিত্তিহীন ছিল এবং শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান তাদের দল ঘোষণা করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘ বৈরিতা থাকা সত্ত্বেও তারা আইসিসি ইভেন্টে নিরপেক্ষ ভেন্যু নীতি অনুসরণ করে, যা কমপক্ষে প্রতিযোগিতার সততা বজায় রাখে। কিন্তু বাংলাদেশকে এমন কোনো সুরক্ষা নেই। ভারতের সঙ্গে পূর্বে মসৃণ সম্পর্ক থাকার কারণে তাদের প্রস্তুতি বা বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না। ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ক্ষতি অত্যন্ত বড় বিশ্বকাপ থেকে বাদ, রাজস্ব হ্রাস এবং খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে কম সুযোগ।
অবশেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিসিবি প্রধান। যেখানে মহসিন নাকভি নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাদের সবরকম বিকল্প নিয়ে ভাবতে বলেছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার বা সোমবার জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছেন পিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান। শুরু থেকেই বাংলাদেশকে সমর্থন করে এসেছে তারা। শুধু তাই নয়? বাংলাদেশের প্রতি এমন অন্যায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিবাদস্বরূপ বিকল্প পরিকল্পনারও সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সেজন্য পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আজ সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত থেকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নাকি দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেছেন। তবে সোমবার সকালে সেই জল্পনার অবসান ঘটে, যখন তাকে বিসিবি কার্যালয়েই দেখা যায়। দেশত্যাগের এমন খবর ছড়ানোয় স্পষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেট এক অস্থির সময় পার করছে। আগামী মাসের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত, একজন বোর্ড পরিচালক পদত্যাগ করেছেন এবং আরেক পরিচালকের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছে—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ টালমাটাল। ঠিক এমন সময়ে বিসিবি সভাপতির দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে এবং কিছু গণমাধ্যমেও তা প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতভর ও সোমবার সকাল পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলে। এমনকি বিসিবির একাধিক পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে নিজেই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার অবস্থান জানানো আদৌ প্রয়োজনীয় কি না। পাশাপাশি বিসিবিতে দায়িত্ব পালনের পরও কেন তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত আগ্রহ—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। এরপর বিসিবি মিডিয়া ব্লক থেকে মূল কার্যালয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন—তিনি কি দেশের বাইরে আছেন বলে মনে হচ্ছে? উল্লেখ্য, আমিনুল ইসলামের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বসবাস করছে। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একাধিকবার সেখানে গেছেন এবং অনলাইনেও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেছেন। সে কারণে তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়া নতুন কিছু নয়। তবে দেশের ক্রিকেট যখন চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে তিনি দেশ ছেড়েছেন কিংবা জাতীয় নির্বাচনের আগেই ফিরবেন না—এমন গুঞ্জনের কারণেই বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়।
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতের মাটিতে খেলতে যেতে রাজি না হওয়ায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। অন্য ক্রিকেট বোর্ডগুলো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান না নিলেও শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। আইসিসির ভোটাভুটিতে একমাত্র পাকিস্তানই বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি বাংলাদেশের সমর্থনে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টিও বিবেচনায় এনেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে বয়কট করলে আইসিসির বিভিন্ন শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কায় সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। সবমিলিয়ে সরাসরি বয়কটের পরিবর্তে বিকল্প প্রতিবাদী কর্মসূচি নিয়েও ভাবনা চলছে পিসিবির ভেতরে। প্রথম বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা কালো বাহুবন্ধনী (ব্ল্যাক আর্মব্যান্ড) পরে মাঠে নামতে পারেন। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আচরণকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তৃতীয় বিকল্প হিসেবে বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল যে ম্যাচগুলোতে জয় পাবে, সেগুলো বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের উদ্দেশে উৎসর্গ করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের অবস্থান ক্রিকেট বিশ্বে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
দেশের ক্রিকেট যখন একের পর এক সংকটে জর্জরিত, ঠিক সেই সময় গভীর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল—এমন তথ্য জানা গেছে। প্রথমবারের মতো টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি, বোর্ড পরিচালকদের পদত্যাগ এবং প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যেই তার এই বিদেশযাত্রা বিসিবির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। রোববার সন্ধ্যা থেকেই ক্রিকেট অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, বিসিবি সভাপতি রাতেই দেশ ছাড়তে পারেন। এ বিষয়ে খবর প্রকাশ হলে শুরুতে তিনি প্রকাশ্যে বিদেশ সফরের কথা অস্বীকার করেন। তখন তিনি জানান, দেশে থেকেই বোর্ডের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন এবং আপাতত বিদেশ যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি বদলে যায়। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার গভীর রাতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেখানে তিনি পারিবারিক সময় কাটাবেন। সংকটময় সময়ে বিসিবি সভাপতির এই বিদেশযাত্রা স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যখন বিশ্বকাপ ইস্যু, নেতৃত্ব সংকট ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তায় দেশের ক্রিকেট অঙ্গন উত্তাল—তখন প্রধান দায়িত্বশীল ব্যক্তির দেশ ছাড়ার বিষয়টি নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সফর বিসিবির ওপর কী প্রভাব ফেলবে এবং সভাপতির অনুপস্থিতিতে বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারত যাচ্ছে না বাংলাদেশ। টাইগারদের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে জায়গা করে দিয়েছে আইসিসি। এ নিয়ে ক্রিকেট-বিশ্বে আলোচনা চলছেই। এই তালিকায় এবার যোগ দিলেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার মদন লাল। বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া; আইসিসির সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুধু তাই নয়? বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্যও করেন তিনি। তার ধারণা, বাংলাদেশ সম্ভবত পাকিস্তানের প্ররোচনায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মদন লাল বলেন, ‘আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো যে পাকিস্তানও তাদের কিছুটা ভুল পথে পরিচালিত করেছে। কারণ দেখুন, পাকিস্তান নিজে তো বিশ্বকাপ খেলছে, কিন্তু বাংলাদেশ খেলছে না।’ বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক বলে মনে করছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার মদন লাল। তিনি বলেন, একটি ভুলের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হলো, তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। মদন লাল মনে করেন, বাংলাদেশের মতো একটি দলের জন্য বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ বর্জন করা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না গিয়ে অনেক বড় ভুল করেছে। আপনি যদি এত বড় একটি ইভেন্ট মিস করেন, তবে আইসিসি কোনো না কোনো অবস্থান তো নেবেই। তারা বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে একদম সঠিক কাজ করেছে।’ কারণটাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। মদন লালের ভাষায়, ‘আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো যে পাকিস্তানও তাদের কিছুটা ভুল পথে পরিচালিত করেছে। কারণ দেখুন, পাকিস্তান নিজে তো বিশ্বকাপ খেলছে, কিন্তু বাংলাদেশ খেলছে না। তার মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল এই বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরে আসরগুলোতেও বাংলাদেশকে বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। কারণ, আইসিসি যদি আগামী বিশ্বকাপেও তাদের খেলতে না দেয়, তবে বাংলাদেশ বোর্ড সম্ভবত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। এটি একটি বিশাল ক্ষতি এবং বর্তমান সময়ে খেলাধুলা মূলত বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই পরিচালিত হয়।’ আইসিসির বোর্ড সভায় ভোটাভুটির প্রসঙ্গ টেনে মদন লাল দাবি করেন, বিসিবির কূটনৈতিক ব্যর্থতা এখানে স্পষ্ট। তার কথা, ‘যদি আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হতো, তবে তা অনেক ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত ছিল। ১৪টি ভোটের বিপরীতে আপনাদের পক্ষে মাত্র দুটি ভোট পড়েছে। মিটিংয়ের আগেই আপনাদের কিছুটা ধারণা নেওয়া উচিত ছিল যে আপনারা কতগুলো ভোট পাবেন। অন্তত ৫-১০টি ভোট পেলেও নাহয় একটি কথা ছিল।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে এবার ভারত যাচ্ছে না বাংলাদেশ। টাইগারদের এমন সিদ্ধান্তের পর থেকেই সমর্থন জানিয়ে এসেছে পাকিস্তান। শুধু সমর্থন বললে অবশ্য কমই বলা হবে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড মহসিন নাকভি তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটেরও হুমকি দিয়েছেন। এর মধ্যেই অবশ্য আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে। দল ঘোষণার পর অনেকেই মনে করছেন, আইসিসির হুমকিতে ভীত হয়েই বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান। কিন্তু না, যারা এমন ধারণা পোষণ করছেন তাদের উদ্দেশ্যে এবার বোমা ফাটালেন খোদ নির্বাচক কমিটির এক সদস্য। এ প্রসঙ্গে পিসিবির হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর ও পুরুষ জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটির সদস্য আকিভ জাভেদ গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করা হলেও তাদের অংশগ্রহণ এখনো শতভাগ নিশ্চিত নয়। দল ঘোষণার পর জাভেদ যা বলেছেন, তাতে বোঝা গেলে এখনো নাটকীয়তার অবসান ঘটেনি। তার এমন মন্তব্যে খেলাটাকে যেন আরও জমিয়ে তুলেছেন বলেও মনে করছেন ক্রিকেটবোদ্ধাদের অনেকে। আকিভ জাভেদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচক, আমাদের কাজ হলো দল নির্বাচন করা। আমরা সময়সীমার (ডেডলাইন) ঠিক আগমুহূর্তে দল ঘোষণা করেছি। আমাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, তাই সেই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারছি না। চেয়ারম্যানও একই কথা বলেছেন, তাই আমরা তাদের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করব।’ যদিওবা বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে খেলার জন্য ভারত যেতে হচ্ছে না। কেননা, পিসিবি, বিসিসিআই ও আইসিসি গত বছর একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করেছিল, যার অধীনে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তানের সমস্ত ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হওয়ার কথা। তাই পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায় এবং সেখানে গিয়েই তাদের বিপক্ষে খেলবে ভারত।
পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি লেগ স্পিনার আবদুল কাদিরের ছেলে সুলামান কাদিরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এক গৃহকর্মীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী গৃহকর্মী তার এজাহারে উল্লেখ করেন যে তিনি সুলামান কাদিরের বাসায় কাজ করতেন। একপর্যায়ে সুলামান কাদির তাকে জোরপূর্বক নিজের একটি ফার্মহাউসে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অভিযোগকারী গৃহকর্মীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। ৪১ বছর বয়সী সুলামান কাদির নিজেও একসময় পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। তিনি ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেন। এ সময়ে তিনি ২৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এবং ৪০টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে খেলেছেন। সুলামান কাদিরের বাবা আবদুল কাদির পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি নাম। তিনি জাতীয় দলের হয়ে ৬৭টি টেস্ট ও ১০৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৮০–এর দশকে লেগ স্পিন বোলিংয়ের শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান এই ক্রিকেট জাদুকর। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে খেললেও ছিটকে গিয়েছিল স্কটল্যান্ড। সে সময়েই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল তাদের। কিন্তু বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে অস্বীকার করায় কপাল খোলে স্কটিশদের। র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকায় স্কটল্যান্ডকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করে আইসিসি। আর বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিকেটারদের ছবি পোস্ট করে স্কটল্যান্ড। সেই পোস্টের ক্যাপশনে লেখে, ‘আমরা সবসময়ই প্রস্তুত।’ এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের কর্তা ট্রুডি লিন্ডব্লেড। তিনি জানান, শনিবার সকাল থেকেই এ বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন তারা। জয় শাহ নিজেই যোগাযোগ করেছিলেন তাদের সঙ্গে। সেটাও জানিয়েছে স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। লিন্ডব্লেড বলেন, ‘আইসিসির পক্ষ থেকে আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিশ্বকাপে খেলব কি না। আমরা সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছি। এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমরা আইসিসির কাছে কৃতজ্ঞ। স্কটল্যান্ডের প্লেয়ারদের কাছে এটা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার দারুণ সুযোগ। তবে এটা মানতেই হবে যে, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির জন্যই এই সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন সিরিজের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল স্কটল্যান্ড ক্রিকেট দল। আইসিসির এই ঘোষণার পর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে স্কটল্যান্ড শিগগিরই ভারতের উদ্দেশে রওনা দেবে। স্কোয়াডে কারা জায়গা পাবেন, সেটাও দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে স্কটল্যান্ড।
আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ক্রিকেটের জন্য একটি দুঃখজনক ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি খেলাটিকে বিভক্ত না করে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর খুব কাছাকাছি সময়ে সূচিতে পরিবর্তন আনা বাস্তবসম্মত নয়। ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মফাট বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো এবং এর ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটিং দেশের অনুপস্থিতি খেলাটির জন্য, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য এবং সমর্থকদের জন্য গভীরভাবে হতাশাজনক।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা বিভাজন বা বর্জনের পথে না গিয়ে খেলাটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই—সংস্থা, লিগ ও খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিসহ সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে ক্রিকেটকে ঐক্যবদ্ধ রাখার উদ্যোগ নিতে।’ ডব্লিউসিএ মনে করছে, এ ঘটনা দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতিফলনও তুলে ধরেছে। অতীতে পাকিস্তান আয়োজক হলে ভারতের ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের জন্য আইসিসিকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায়, আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, দেশটির চূড়ান্ত অংশগ্রহণ এখনো সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে। টম মফাট আরও বলেন, চুক্তি রক্ষা, খেলোয়াড়দের স্বার্থ এবং তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনার অভাব নিয়ে ডব্লিউসিএ ক্রমশ উদ্বিগ্ন। তার মতে, ‘এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বর্তমান শাসনব্যবস্থার কিছু গভীর কাঠামোগত সমস্যাকেও সামনে এনেছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব সমস্যার সমাধান না হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটের প্রতি আস্থা, ঐক্য এবং খেলাটির ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।