আয়ারল্যান্ডকে ৯২ রানে হারিয়ে নবম দল হিসেবে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল আফগানিস্তান। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে আর একটি দল। সেই স্থানের জন্য লড়বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ। এজন্য তাদের হাতে সময় আর দেড় মাসের একটু বেশি। আয়োজক হওয়ার কারণে আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে দশটি দল। আয়োজক দুই দল বাদে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের কাটঅফ টাইমের মধ্যে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটে থাকা দল বিশ্বমঞ্চে খেলবে। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে জিম্বাবুয়ে সেরা দশের বাইরে থেকেও অংশ নিচ্ছে। আর দক্ষিণ আফ্রিকা সেরা আটের মধ্যে থাকায় নবম স্থানে থাকা একটি দল সুযোগ পাবে, সেই স্থানের জন্য লড়তে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশকে। বর্তমানে বাংলাদেশ যোগ্য দল হিসেবে ৯ নম্বরেই আছে। তবে সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে সিরিজ থাকায় তাদের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে। কাটঅফ সময়ে বাংলাদেশের ভারত সিরিজ খেলার কথা ছিল। কিন্তু দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে ভারতের বাংলাদেশ সফরটি অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপের মধ্যে রয়েছে। তবে এই সমীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতের ভূমিকা। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা হবে ভারত সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট হারানো। ভারত যদি সিরিজটি জিতে নেয়, তাহলে বাংলাদেশ বর্তমান অবস্থান ধরে রেখে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারে। ভারত সিরিজ শেষ পর্যন্ত না হলে বাংলাদেশের নজর থাকবে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পেলে র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি হবে। অর্থাৎ নিজেদের ম্যাচের পাশাপাশি অন্য দলের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করার দৌড়ে তাই বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথ ভারতের বিপক্ষে সম্ভাব্য সিরিজে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা অথবা ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ক্যারিবীয়দের পয়েন্ট হারানোর অপেক্ষায় থাকা।
ডারউইনের প্রস্তুতি ম্যাচের হারকে ‘ডিজাস্টার’ বললে কী খুব বেশি হবে নাকি কম? প্রশ্নের উত্তরটা পাঠকদের জন্যই তোলা থাকল। তবে ম্যাচের স্কোরকার্ড খুবই ভয়াবহ। তিন দিনের ম্যাচ খেলতে নেমে সোয়া দুই দিনে ধরাশায়ী। ইনিংস ও ৩৮ রানে প্রস্তুতি ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। সেটিও জাতীয় দল নয়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার একাদশের বিপক্ষে এমন পরাজয় বাংলাদেশের। ম্যাচের শুরুটা ভালো হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ‘তাসের ঘর’ বাংলাদেশের ব্যাটিং। ফল যা হওয়ার তাই হলো। দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোরকার্ড মোবাইল ডিজিটের মতো। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম শুধু দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পেরেছেন, ২২ রান। বাকি সবাই আসা-যাওয়ার মিছিলে এক অংকের ঘরেই শেষ। ২ উইকেটে ১৯ রান নিয়ে আজ শেষ দিন খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আজ ৩৫ রান যোগ করতেই বাকি ৮ উইকেট নেই বাংলাদেশের। এক সতীর্থ আরেক সতীর্থর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে করতেই ৫৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ। তাতে ইনিংস ও ৩৮ রানের ‘বিব্রতকর’ পরাজয়। বাংলাদেশকে একাই ধসিয়ে দিলেন ইনিংসে ৮ উইকেট নেওয়া ক্যাম্পবেল থম্পসন। শুরুর ৫ উইকেট নেওয়ার পর বিরতি দেন বাঁহাতি পেসার। শেষ দিকে ৭, ৯ ও ১০ নম্বর উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে চুপ করে দিলেন ২২ বছর বয়সী পেসার। বাকি ২ টি অফস্পিনার কোরি রোকিচ্চলির ঝুলিতে। প্রথম ইনিংসে এই অফস্পিনার আবার ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের ১০৯ রানের অপরাজিত ইনিংসের সৌজন্যে ২৬৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। বিপরীতে টিগু উইলির ১৩০ রানের সৌজন্যে ৩৫৫ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া একাদশ। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ। সেই রান দুই ইনিংসেও শোধ করতে পারল না বাংলাদেশ। এমন হারকে সঙ্গী করেই আগামী ১৩ আগস্ট এই ডারউইনে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সব রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও মাইলফলক ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইল থেকে দেওয়া পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। যেখানে তিনি একজন ‘দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে’ প্রকাশ্যে পূজা করা ব্যক্তির ক্রিকেট ইতিহাসে থাকার কোনো অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম ও পিটার পোলক, মাইক প্রোক্টর এবং এডি বার্লো সাকিবের চেয়ে অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন। তাদের হাতে রক্ত লেগে ছিল না। তারা সাকিবের মতো এত দুর্নীতিগ্রস্তও ছিলেন না। তাদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল এমন একটি বর্ণবাদী শাসনের অংশ হওয়া, যা তাদের বর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার কাজে ব্যবহার করেছিল- যার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাদের বাদ পড়তে হয়েছিল, যদিও ব্যারি রিচার্ডস সম্ভবত তার সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। তিনি আরও লেখেন, হয়তো কোনো একদিন বিসিবি সভাপতি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সাকিব একজন হিটলারকে পূজা করেন এবং দেশে ফিরে একটি খুনি শাসনব্যবস্থাকে পুনর্বাসিত করার স্বপ্ন দেখেন। তার ‘ক্যাপ্টেন’ (শেখ হাসিনা)—যাদের সংঘটিত গণহত্যার অপরাধগুলো জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধান মিশন নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত করেছে। তার সেসব অপরাধের জন্য সাকিবের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। আমাদের ক্রিকেটে গণহত্যাকারীর পূজারীদের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তাকারী এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের চাটুকারদের ক্রীড়া বীর হিসেবে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। পোস্টের শেষাংশে তিনি জানান, ২০০৯ সালে বিডিআর সদর দপ্তরে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল, কুস্তি এবং অ্যাথলেটিক্সের জাতীয় চ্যাম্পিয়নসহ বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের জন্য কেউ অশ্রুপাত করেনি। কেউ তাদের ক্ষমার জন্য আবেদন জানায়নি। সাকিবের জানা উচিত যে, গণহত্যাকারীকে পূজা করে কেউ রেহাই পেতে পারে না।
৮৯ রানে অলআউট হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতেই বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো এরপর থেকেই। টানা দুই ওয়ানডে জিতেছে দাপটের সঙ্গে। আজ শাহাদাত হোসেন দীপুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জিতেছে ৭ উইকেটে। সে সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। এর মধ্য দিয়ে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট পেয়েছে যুব টাইগাররা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল। প্রিটোরিয়ায় গত ৩ আগস্ট ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট দক্ষিণ আফ্রিকার (ইউএসএসএ) বিপক্ষে বাংলাদেশ ইমার্জিং জিতেছিল ডাকওয়ার্থ লুইস ও স্টার্ন মেথডে ২৬ রানে। আজ একই প্রতিপক্ষকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে দীপুর দল। ১৬৯ বল হাতে রেখে বাংলাদেশ পেয়েছে ৭ উইকেটের বিধ্বংসী জয়। প্রিটোরিয়ায় আজ ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ ইমার্জিং। ইনিংসের ষষ্ঠ বলে ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট দক্ষিণ আফ্রিকার (ইউএসএসএ) পেসার এসোসা আইহেভবাকে তুলে মারতে গিয়ে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন হাবিবুর রহমান সোহান। ১ রানে উইকেট পড়ার পর তিন নম্বরে নেমেছেন ইমার্জিং দলের অধিনায়ক শাহাদাত হোসেন দীপু। তবে তার সঙ্গে ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিনের জুটি বড় হয়নি। এক ওভার বিরতিতে এসে রবিনকে (৮) ফিরিয়েছেন আইহেভবা। ইফতিখার হোসেন ইফতি ও দীপু এরপর বিপদে দলের হাল ধরেন। তৃতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তারা (ইফতি-দীপু)। ১১তম ওভারের শেষ বলে ইফতিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ইউএসএসএর বাঁহাতি স্পিনার লেতন ত্রস্কি। দীপু বিস্ফোরক ব্যাটিং করলেও ইফতি খেলেছেন ধীরেসুস্থে। ২৪ বলে ১৬ রান করা ইফতির বিদায়ে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের স্কোর হয়ে যায় ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৮। তারপর আর বাংলাদেশকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দুজনে স্বাগতিক দলের বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন। চতুর্থ উইকেটে ৭২ বলে ৮৯ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন ইরফান শুক্কুর ও দীপু। ২১.৫ ওভারে বাংলাদেশ ইমার্জিং করে ৩ উইকেটে ১৬৭ রান। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭৩ রান আসে দীপুর ব্যাটে। ৫৬ বলের ইনিংসে ১২ চার ও ১ ছক্কা। শুক্কুরও ফিফটি ছুঁয়েছেন। ৩৯ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৫৮ রান। টস জিতে আজ ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক দীপু। একটা পর্যায়ে ইউএসএসএর স্কোর ছিল ১৯ ওভারে ১ উইকেটে ১২৬ রান। এখান থেকেই ধসের শুরু। ৪০ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকেরা ৩৩.৫ ওভারে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায়। ইনিংস সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন ডেভিড টিগার। ৫৭ বলের ইনিংসে ৮ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন তিনি। বাংলাদেশের চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৬.৫ ওভারে ২৮ রানে পেয়েছেন ৪ উইকেট।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়া সাকিব আল হাসানের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সাবেক এই ফুটবলার বলেছেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে সাকিবের ব্যাপারে নমনীয় ছিলেন তারা, এখন আর সেই সুযোগ নেই। দেশে আসতে হলে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ককে আইনগতভাবেই ফিরতে হবে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকার পতনের সময় পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন সাকিব। দেশে ফিরতে না পারায় সেখানেই পরিবার নিয়ে থিতু হয়েছেন এই অলরাউন্ডার, যিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে থেকে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন সাকিব। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সেখান থেকেই বিদেশের মাটিতে দেশের জার্সিতে খেলেছেন। অন্যান্য ফ্রাঞ্চাইজি লিগেও তাকে দেখা গেছে। এখন খেলছেন শ্রীলঙ্কায় লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে। এখনও খেলতে থাকা এই ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে ও দেশে ফেরাতে দুই বছরে নিয়মিত নানান ধরনের আলোচনা শোনা গেছে। বিসিবির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল উদ্যোগ নেওয়ার কথা। শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই আলোর মুখ দেখেনি। গত বুধবার নয়া দিল্লিতে হওয়া শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নেন সাকিব। এরপরেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। “আমরা অনেক নমনীয়, অনেক সহনশীলভাবে জিনিসটাকে দেখছিলাম। এরপরে আর মনে হয় না যে, ওইভাবে চিন্তা করার সুযোগ আছে। যে স্বৈরাচারের স্টেজে উঠেছে, তার তো আর আসার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেটা আমরা চিন্তা করছিলাম, আমরা নমনীয় ছিলাম। এখন আর কোনো সুযোগ নেই। যে যদি আসে, তাহলে আইনগতভাবে আসবে।
দাপুটে এক জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার ইরেনে কাউন্ট্রি ক্লাব মাঠে ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস সাউথ আফ্রিকা (ইউএসএসএ) দলকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে চার ম্যাচে দুই জয় থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিল ইউএসএসএ। ডেভিড টীগারের ৫৭ বলে ৭২ এবং লুডউইচ স্কুল্ডের ৫৭ বলে ৫১ রানের ইনিংসে একসময় দলটির সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১২৬ রান। তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ ৯ উইকেট মাত্র ৪০ রানের মধ্যে হারিয়ে ১৬৬ রানে অলআউট হয় ইউএসএসএ। বাংলাদেশের হয়ে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪টি উইকেট নেন। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও রহনতদৌলা বর্ষণ দুটি করে এবং ইকবাল হোসেন ইমন ও সামিউন বশির রাতুল একটি করে উইকেট শিকার করেন। ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন (৮) ও হাবিবুর রহমান সোহান (০) দ্রুত ফিরলেও এরপর ইনিংস সামাল দেন শাহাদাত হোসেন দিপু ও ইফতিখার হোসেন ইফতি। ইফতি ১৭ রান করে বিদায় নেওয়ার পর ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি গড়েন দিপু। শুক্কুর ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৮ এবং দিপু ৫৬ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস খেললে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে চারটি ম্যাচের সবকটিতে হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছে ইউএসএসএ। দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দল ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে এবং বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠেছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স দিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল হামজা নজরের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া দুই টেস্টের সিরিজের পাকিস্তান দলেও সুযোগ পেয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার। কিন্তু জাতীয় দলের সঙ্গে সফরে যাওয়ার আগেই ভিসা আবেদনে দেওয়া তথ্য নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। শেষ পর্যন্ত সেই ঘটনাতেই দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হলেন তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে বিমানে চড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যেতে ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন হামজা। কিন্তু আবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ভিসা জটিলতায় জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হামজাকে দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করেছে পিসিবি। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ২৭ বছর বয়সী এই অফস্পিনারকে ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানাও দিতে হবে। তবে ভিসা আবেদনে ঠিক কী ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা প্রকাশ করেনি পিসিবি। বোর্ড জানিয়েছে, হামজা আবেদনে সম্পূর্ণ ও সঠিক তথ্য দেননি এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় গোপন করেছিলেন। এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বলেছে, ভুল তথ্য প্রদান, কিছু বিষয় গোপন করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য জমা দেওয়ার বিষয়গুলোকে পিসিবি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া হামজার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় সফর থেকে বাদ পড়ার পর তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়ে এবার দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারত। অধিনায়ক শুবমান গিল ডান হাতের অনামিকায় চোট পাওয়ায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে মাঠে নামতে পারেননি। ফলে আগামী ১৫ আগস্ট গলে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে তার খেলা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বৃহস্পতিবার ভারতের অনুশীলন সেশনে ডান হাতের অনামিকায় আঘাত পান গিল। চোটটি কতটা গুরুতর, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, গিলের শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখছে দলের মেডিকেল টিম। প্রথম টেস্ট শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি থাকায় তার ফিট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অবস্থায় থাকবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুশীলনের সময় গিল ডান হাতের অনামিকায় আঘাত পেয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাকে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গিলের অনুপস্থিতিতে প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহ-অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। ফলে প্রথম টেস্টে গিলকে পাওয়া না গেলে নেতৃত্বের দায়িত্বও রাহুলের কাঁধে পড়তে পারে। শুধু গিলের চোটই নয়, শ্রীলঙ্কা সফরে ভারত আগে থেকেই বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে হারিয়েছে। হাঁটুর চোটের কারণে দলের অন্যতম প্রধান পেসার জাসপ্রীত বুমরাহ এই সফরে নেই। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে হার্শিত রানা এবং ওয়াশিংটন সুন্দরও দলের বাইরে। এছাড়া কোয়াডের চোটের কারণে নিতিশ কুমার রেড্ডিকেও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গিলের চোট ভারতীয় শিবিরের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তিনি শুধু দলের অধিনায়কই নন, ব্যাটিং লাইনআপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও। টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ব্যাটিং পরিকল্পনায় তার ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। দুই ম্যাচের এই সিরিজ ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে ভারত পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম এবং শ্রীলঙ্কা ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। আগামী বছর দ্য ওভালে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে গিলের ফিটনেসের দিকে এখন বাড়তি নজর থাকবে ভারতীয় দলের। আগামী ১৫ আগস্ট গলে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। এরপর ২৩ আগস্ট কলম্বোয় শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম টেস্টের আগে গিল ফিট হয়ে উঠতে পারলে ভারত স্বস্তি পাবে। কিন্তু চোটের কারণে তাকে শেষ পর্যন্ত বাইরে থাকতে হলে অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ব্যাটিং কম্বিনেশনেও পরিবর্তন আনতে হবে ভারতকে। তাই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই গিলের চোট ভারতীয় দলের জন্য বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নারী এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানকে রাখা হয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। দুদলের মধ্যকার হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও গ্রুপ বিন্যাস প্রকাশ করেছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। আগামী ২৮ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পর্দা উঠবে আট দলের এই টুর্নামেন্টের, আর আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এশিয়ান ক্রিকেটের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া আটটি দলকে দুটি পৃথক গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে রাখা হয়েছে থাইল্যান্ড ও হংকংকে। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে টাইগ্রেসদের সঙ্গী বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া। গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে উভয় গ্রুপের সেরা দুই দল টিকিট পাবে সেমিফাইনালের। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম সেমিফাইনালে ‘এ’ গ্রুপের সেরা দল লড়বে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপের বিরুদ্ধে। পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে 'বি' গ্রুপের সেরা দলের মুখোমুখি হবে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি মিশন শুরু হবে ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা এবং ৮ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে।
ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার জস বাটলার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডকে টপকে এই ফরম্যাটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি। দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের হয়ে ওয়েলশ ফায়ারের বিপক্ষে খেলতে নেমে এই কীর্তি গড়েন বাটলার। ম্যাচটিতে মাত্র ২০ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৬টি ছক্কা। এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ম্যাচের আগে বাটলারের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে রান ছিল ১৪ হাজার ৭৮২। পোলার্ডের ১৪ হাজার ৮০৩ রানকে ছাড়িয়ে যেতে তার দরকার ছিল মাত্র ২২ রান। সেই লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে যান তিনি এবং ইনিংস শেষে তার মোট রান দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৮৩৩। বাটলারের এই অর্জন আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে তার কম ইনিংসে রেকর্ড গড়ার কারণে। পোলার্ড যেখানে ৬৬৩ ইনিংসে ১৪ হাজার ৮০৩ রান করেছিলেন, সেখানে বাটলার মাত্র ৪৯২ ইনিংসেই ১৪ হাজার ৮৩৩ রানে পৌঁছে গেছেন। অর্থাৎ, ১৭১টি ইনিংস কম খেলেই তিনি এই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মুকুট এর আগে কয়েকবার হাতবদল হয়েছে। দীর্ঘদিন এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ক্রিস গেইল। পরে সেই অবস্থান দখল করেন কাইরন পোলার্ড। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন বাটলার। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে বাটলারের পরিসংখ্যানও তার সাফল্যের প্রমাণ দেয়। এখন পর্যন্ত এই সংস্করণে তিনি করেছেন ৯টি সেঞ্চুরি ও ১০৬টি হাফ সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত পারফরম্যান্সের কারণেই তিনি এই অনন্য অবস্থানে পৌঁছেছেন। ৩৫ বছর বয়সি এই ব্যাটার ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সংগ্রহ করেছেন ৪ হাজার ২১২ রান। পাশাপাশি আইপিএল, এসএ২০ ও দ্য হান্ড্রেডসহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সফল ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রকৃতির বৈরিতায় ব্রেডিতে মাঠে একটি বলও গড়াল না। কিন্তু এই পরিত্যক্ত ম্যাচের জের ধরে ভীষণ বড় ধাক্কা খেল আইরিশ ক্রিকেট। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হলো আয়ারল্যান্ডের। ফলে মূল পর্বের টিকিট পেতে এখন তাদের দীর্ঘ ও কঠিন বাছাইপর্বের পথ পাড়ি দিতে হবে। বুধবার ব্রেডিতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টানা বৃষ্টির কারণে টস করাই সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত আম্পায়াররা ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ১২ নম্বরে অবস্থান করছে আয়ারল্যান্ড। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ‘কাট-অফ’ তারিখের আগে সরাসরি মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার একটি কঠিন সমীকরণ দাঁড়িয়ে ছিল তাদের সামনে। সে জন্য আফগানিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার পাশাপাশি ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অন্তত দুটি ম্যাচে হারতে হতো। তবে প্রথম ম্যাচটি ভেসে যাওয়ায় আয়ারল্যান্ডের সেই সমীকরণ মেলানোর পথ বন্ধ হয়ে গেল। এখন ২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পল স্টার্লিংয়ের দলকে নামতে হবে ১০ দলের কঠিন বাছাইপর্বে। এই বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে বাছাইপর্বে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে শেষ করা দলগুলো খেলবে ‘সুপার সিরিজ’ নামের প্রথম রাউন্ডে। চার দলের সেই লড়াই থেকে দুটি দল বিদায় নেবে এবং সেরা দল নিশ্চিত করবে মূল গ্রুপ পর্বের টিকিট। ২০২৭ সালের মূল বিশ্বকাপে মোট ১২টি দল দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অংশ নেবে। উল্লেখ্য, ২০২৭ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে র্যাঙ্কিং নির্বিশেষে সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। তাদের পাশাপাশি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অন্য আটটি দল সরাসরি টিকিট পাবে। তবে যৌথ আয়োজকদের মধ্যে নামিবিয়া আইসিসির পূর্ণ সদস্য না হওয়ায়, আয়োজক দেশ হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিশ্বকাপের মূল পর্বে আসতে বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে।
বৃষ্টির কারণে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় বেকায়দায় পড়লো আয়ারল্যান্ড।ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনে দলটিকে বাছাইপর্ব খেলতে হবে। এতে আইসিসি পুরুষ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ১২তম স্থানে থাকা আইরিশদের জন্য সরাসরি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পথটি বেশ কঠিন বলা চলে। র্যাঙ্কিংয়ে জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশকে টপকাতে হলে তাদের আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের প্রয়োজন ছিল। এর পাশাপাশি ৩০ সেপ্টেম্বর সময়সী সীমার আগে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম দুটি ম্যাচ হারার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় তাদের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের আশা শেষ হয়ে যায়। ফলে ইউরোপীয় দলটিকে এখন ১০ দলের বাছাইপর্বে খেলতে হবে; এই বাছাইপর্বের বিজয়ী দল সরাসরি বিশ্বকাপ ২০২৭-এর মূল পর্বে জায়গা করে নেবে। অন্যদিকে বাছাইপর্বে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দলগুলো বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্ব বা ‘সুপার সিরিজ’-এ অংশ নেবে এবং সেখান থেকে সেরা দলটি ১২ দলের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। এই ১০ দলের বাছাইপর্বে অংশ নেবে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ওয়ানডে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী যৌথ আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া সর্বনিম্ন র্যাঙ্কিংধারী দুটি ‘পূর্ণ সদস্য' দেশ এবং ‘সিডব্লিউসি লিগ ২’ ও বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার প্লে-অফ’ থেকে উঠে আসা সেরা চারটি করে দল। উল্লেখ্য, প্লে-অফ পর্বে ‘সিডব্লিউসি লিগ ২’-এর তলানির চারটি দল এবং ‘চ্যালেঞ্জ লিগ’ থেকে সমসংখ্যক দল অংশ নেবে। প্লে-অফের ফরম্যাট বা কাঠামো এখনো চূড়ান্ত না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে এটি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আগেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে ‘চ্যালেঞ্জ লিগ’-এ ১২টি দল দুটি গ্রুপে (প্রতিটিতে ছয়টি করে দল) বিভক্ত হয়ে খেলবে। এই চক্রে প্রতিটি দল তিনটি করে ‘রাউন্ড-রবিন’ টুর্নামেন্ট খেলবে এবং এরপর প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুটি দল ‘বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার প্লে-অফ’-এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। আয়ারল্যান্ড ২০২৩ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল; কারণ গত আসরের বাছাইপর্বের ‘সুপার সিক্স’ পর্যায় থেকেই তারা ছিটকে পড়েছিল।
ত্রিনিদাদে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে আবদুল্লাহ শফিকের দুর্দান্ত ১৬০ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নেয় সফরকারীরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে সাজিদ খান ও আলি উসমানের ঘূর্ণিতে মাত্র ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে জয়ের জন্য ৭৫ রানের সহজ লক্ষ্য পায় পাকিস্তান, যা তারা ২৩.৩ ওভারেই মাত্র দুটি উইকেট হারিয়ে টপকে যায়। ফলে সিরিজ ড্র হলো। ম্যাচের ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রথম ইনিংসেই। টসের পর ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৪৪ রান সংগ্রহ করলেও বড় সংগ্রহের সুযোগ হাতছাড়া করে। জাস্টিন গ্রিভস ৭৩ ও অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৭০ রানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। ব্রেন্ডন কিং ৪৬ রান করেন, শাই হোপ যোগ করেন ২৯ রান। তবে কেউই ইনিংসকে শতকের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অফস্পিনার সাজিদ খান। তিনি ৩২.৪ ওভারে ৮৫ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। সমানভাবে কার্যকর ছিলেন আলি উসমান, ৩৫ ওভারে ৮০ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। মোহাম্মদ আলি ও উবাইদ শাহও দুটি করে উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের বড় সংগ্রহ থেকে আটকে রাখেন। জবাবে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ৩৪ রানেই হারায় ইমাম-উল-হককে। তবে আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ শফিক দ্বিতীয় উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন। আজান ৫৫ রান করে ফিরলেও এরপর বাবর আজমকে নিয়ে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন শফিক। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ১৮৩ রান। বাবর ১৪৭ বলে ৮৮ রানের দারুণ ইনিংস খেললেও শতকের আক্ষেপ নিয়ে রানআউট হন। অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন আবদুল্লাহ শফিক। ৩২৩ বল মোকাবিলা করে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় ১৬০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার। নিচের সারিতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ১৮ ও সাজিদ খানের ৩০ রান পাকিস্তানকে ৩৮৭ রানে পৌঁছে দেয়। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে ৪৩ রানের মূল্যবান লিড নেয় সফরকারীরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান। তিনি ৪৬ ওভারে ১১২ রান দিয়ে একাই ৬ উইকেট শিকার করেন। শামার জোসেফ নেন দুটি এবং জেইডেন সিলস একটি উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৪০ রান ওঠার পর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। কেভেম হজ সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন। রস্টন চেইজ ১৭, শাই হোপ ১৫ ও ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ১৭ রান করলেও আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। ইনজুরির কারণে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রান করা ব্র্যান্ডন কিং দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটই করতে পারেননি। ফলে ৪৬.১ ওভারে মাত্র ১১৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানের হয়ে আবারও জ্বলে ওঠেন সাজিদ খান ও আলি উসমান। দুজনই ৪টি করে উইকেট শিকার করেন। আলি উসমান ১৯.১ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন, আর সাজিদ খান ১২ ওভারে ৩২ রান খরচায় সমানসংখ্যক উইকেট তুলে নেন। মোহাম্মদ আলি নেন বাকি একটি উইকেট। ৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান যদিও শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায়। ইমাম-উল-হক ৯ এবং আজান আওয়াইস ১৮ রান করে ফেরেন। তবে কোনো নাটকীয়তার সুযোগ দেননি আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটিতে দলকে জয় এনে দেন তারা। শফিক ৫১ বলে অপরাজিত ২৪ রান করেন। বাবরও ৩০ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন, যার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। ২৩.৩ ওভারেই ২ উইকেটে ৭৭ রান তুলে ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলো।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার জস বাটলার। ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক ওয়েলশ ফায়ারের বিপক্ষে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। বাটলার মাত্র ২০ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সুপার জায়ান্টসকে ১৫৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। এতে ৩১ বল হাতে রেখে ৯ উইকেট জয় পেয়েছে তার দল। বর্তমানে ৪৯১টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে বাটলারের মোট রান ১৪,৮৩৩; যা পোলার্ডের (১৪,৮০৩ রান) চেয়ে ৩০ রান বেশি। এই তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিস গেইল, যিনি ১৪,৫৬২ রান নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন। নিয়মিত অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ব্যক্তিগত কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক হিসেবে এটিই ছিল বাটলারের প্রথম ম্যাচ। ইংল্যান্ডে চলমান টুর্নামেন্টের মাঝপথেই ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিজ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যাওয়ায় মার্করাম ‘দ্য হান্ড্রেড ২০২৬’-এর বাকি ম্যাচগুলোতে আর খেলতে পারবেন না। বুধবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানিয়েছে, এইডেন মার্করাম ব্যক্তিগত কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে গেছেন। সুপার জায়ান্টস পরিবারের সবাই এই সময়ে এইডেনের জন্য শুভকামনার পাশাপাশি এবারের প্রতিযোগিতায় দলের প্রতি তার অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানায়। আইপিএল, এসএ২০ এবং দ্য হান্ড্রেড সুপার জায়ান্টস ফ্র্যাঞ্চাইজির এই তিনটি দলেরই সদস্য মার্করাম চলমান ১০০-বলের টুর্নামেন্টে পাঁচটি ম্যাচ খেলে মোট ১১৭ রান সংগ্রহ করেছেন। ওভালে এমআই লন্ডনের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে তিনি একটি দুর্দান্ত অর্ধশতক হাঁকিয়েছিলেন। চলমান মৌসুমে বাটলার দারুণ ছন্দে রয়েছেন। এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মাত্র ছয়টি ম্যাচেই ৯২.৩ গড়ে ২৭৭ রান করেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি মার্করামের বদলি হিসেবে মাইকেল ব্রেসওয়েলকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের কচুকাটা করার উৎসবেই যেন মেতেছেন তৌহিদ হৃদয়। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বাংলাদেশি ব্যাটার এবার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) তাণ্ডব চালিয়ে করলেন ফিফটি। জাফনা কিংসের জার্সিদে দেখালেন আরও একটি ‘হৃদয় শো’।লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) প্রথম কোয়ালিফায়ারে আজ গল গ্যালান্টসের বিপক্ষে ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২৪২ রানের পুঁজি গড়েছে জাফনা কিংস। শ্রীলঙ্কার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটিই। আগের সর্বোচ্চও ছিল জাফনা কিংসের, ২০২২ সালে ডাম্বুলা অরার বিপক্ষে ২৪০। ১০ চার ও সাত ছক্কায় ৫৫ বলে অপরাজিত ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার মিশারা। চার নম্বরে পাঁচ ছক্কা ও তিন চারে ২৫৭ স্ট্রাইকরেটে ২১ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। তিন নম্বরে খাওয়াজা নাফে তিন ছক্কা ও চারটি চারে ৩২ বলে করেন ৫৪। মূলত তৌহিদ হৃদয়ের শেষ দিকের ঝড়েই বিশাল পুঁজি পায় জাফনা। ১৫ ওভার শেষে যেখানে তাদের ১ উইকেটে ১৭১। এরপর শেষ পাঁচ ওভারে ৭১ রান তোলে তারা। ১৬তম ওভারে ব্যাটিংয়ে নামেন হৃদয়। ১৭তম ওভারে থারিন্দু রাতনায়েকের প্রথম ডেলিভারিতেই অবশ্য এলবিড্লুউ হতে পারতেন ডানহাতি এই ব্যাটার। তবে আম্পায়ার্স বেঁচে যান তিনি। আর জীবন পেয়েই গল গ্যালান্টসের বোলারদের ছাতুপেটা করেন হৃদয়। ওই ওভারের পঞ্চম বলে প্রথম ছক্কা হাঁকান। ১৮ ওভারে একটি চার মারার পর পরের ওভারে ইশান মালিঙ্গার প্রথম দুই বলই গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন হৃদয়। শেষ ওভারের পুরোটাই খেলেন হৃদয়। সেঞ্চুরি করা মিশারাকে দর্শক বানিয়ে দুই চার ও দুই ছক্কায় ইনিংসের শেষ ওভার থেকে তোলেন ২২ রান। এ নিয়ে এলপিএলে এবারের আসরে তিনটি ম্যাচেই অপরাজিত থাকলেন হৃদয়। ৪ ইনিংসে তার মোট রান দাঁড়াল ১৪১।
তাওহীদ হৃদয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এলপিএলের ফাইনালে উঠেছে জাফনা কিংস। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে লিগ পর্ব শেষ করার পর প্রথম কোয়ালিফায়ারেও দাপট দেখিয়েছে দলটি। গল গ্যালান্টসকে ২৪৩ রানের অসম্ভব লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন সাকিব-হৃদয়রা। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় গল গ্যালান্টস। নুরুল হাসান সোহান গলের একাদশে জায়গা না পেলেও জাফনার একাদশে ছিলেন তাওহীদ হৃদয় ও সাকিব আল হাসান দুজনই। যদিও শুরুতে হৃদয়কে খুব একটা ভাবতেই হয়নি দলের কথা। কারণ কামিল মিশারা ও খাজা নাফে মিলে রীতিমত উড়ছিলেন। অভিষকা ফার্নান্দো ১৪ বলে ১৯ রান করে বিদায় নিলে দুজনে গড়েন ১৩৮ রানের অনবদ্য জুটি। যে জুটি ভাঙে ৩২ বলে ৫৪ রান করে নাফে বিদায় নিলে। তার আগে বিপিএল দিয়ে উঠে আসা পাকিস্তানি এই তরুণ চারটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান। দলীয় ১৭৩ রানে নাফে বিদায় নিলে অধিনায়ক ভানুকা রাজাপক্ষে নিজে ক্রিজে না নেমে ভরসা করেন হৃদয়ের ওপর। আর হৃদয় নেমেই শুরু করেন তাণ্ডব। একের পর এক ছক্কা হাকিয়ে ভেঙে দেন গল গ্যালান্টসের বোলারদের মনোবল। আর দলের রানও তড়তড় করে বাড়তে থাকে। ঈশান মালিঙ্গার করা ১৯তম ওভারে টানা দুই ছক্কা হাঁকান হৃদয়। শেষ ওভার শুরু করেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক দাসুন শানাকাকে ছক্কা হাঁকিয়ে। সেই ওভারে আরও একটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকান। এক ওভার থেকেই নেন ২২ রান। মাত্র ২০ বলে অর্ধশতক পূরণের পর ২১ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। তিনটি চারের সাথে হাঁকান পাঁচটি ছক্কা, যেখানে স্ট্রাইক রেট ছিল ২৫৭.১৪। তার এই দানবীয় ইনিংসের সামনে মলিন হয়ে যায় কামিল মিশারার ৫৫ বলে গড়া ১০৮ রানের অপরাজিত ইনিংসও। হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ফিনিশিংয়ে নিরধারিত ২০ ওভার শেষ ২ উইকেট হারিয়ে ২৪২ রান দাঁড়ায় জাফনার সংগ্রহ। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে গলও। তবে হৃদয়ের ফিনিশিংয়ে যে পাহাড়সম রান জড়ো করেছিল জাফনা, তা পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়নি দলটির। বল হাতে এদিন খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি সাকিব আল হাসান। তবে শেষপর্যন্ত ফাইনাল নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে জাফনা কিংস। কিছুটা খরুচে হলেও সাকিবকে অবশ্য উইকেটশূন্য থাকতে হয়নি। ১৪তম ওভারে তিনি সাজঘরে ফেরান ভয়ংকর হয়ে ওঠা চামিকা করুনারত্নেকে, ২১ বলে তিনটি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে যিনি ৩৯ রান করেন। সাকিবের এনে দেওয়া ব্রেক থ্রুর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি গল। ফাইনালে যাওয়ার জন্য অবশ্য আরেকটি সুযোগ পাবে দলটি। গলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান আসে ওপেনার স্যাম হার্পারের ব্যাট থেকে। জাফনার পক্ষে মোহাম্মদ সিরাজ তিনটি ও লিজাড উইলিয়ামস দুটি উইকেট পান। একটি উইকেট পাওয়া সাকিব ৩ ওভারে খরচ করেছেন ৩৬ রান।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে গেছে অস্ট্রেলিয়ায় গেছে বাংলাদেশ দল। ইনজুরি কাটিয়ে আজ বুধবার (৫ আগস্ট) ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন করেছেন লিটন দাস। ব্যাটিং-উইকেটকিপিং দুটিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন তিনি। আগামীকাল (৬ আগস্ট) সকালে লিটনকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে খেলানো হবে কি না। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের সঙ্গে থাকা বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে শুরুতে লিটনকে দলে রাখা হয়নি। তবে চোট থেকে সেরে ওঠায় পরে তাকে স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়। গত জুনে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাঁ পায়ে চোট পাওয়ার কারণে জিম্বাবুয়ে সফরও মিস করেন তিনি। বুধবার তাকে নিয়ে সুখবর দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক সুমন। দলের অনুশীলন শেষে সুমন বলেন, ‘কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই ওকে (লিটনকে) পুরো অনুশীলন শেষ করতে দেখে আমরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছি। (আগামীকাল) সকালে ওর অবস্থা দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলবে কি না।’ নেটে দীর্ঘ সময় ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিং অনুশীলনও করেছেন লিটন। এ প্রসঙ্গে সুমন বলেন, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজের সময় ওর ব্যাটিং নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। আসল সমস্যা ছিল কাফের (পায়ের পেছনের মাংসপেশি) চোট। দ্রুত দৌড়ানো ও হঠাৎ দিক পরিবর্তনের সময় সেটি সমস্যা করত। এখন আশা করি সবকিছু ভালোই হবে।’ দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ লিটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পেসার হাসান মাহমুদও প্রস্তুতি ম্যাচের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘টেস্ট সিরিজের আগে আমাদের প্রস্তুতির জন্য এই ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার কন্ডিশন ও উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এটি অনেক সাহায্য করবে।’
অস্ট্রেলিয়ার ‘নর্দার্ন টেরিটরি ক্রিকেট’ আজ প্রকাশ করেছে ২০২৬ টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সূচি। ১০ দিনের টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ৯ দল। যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দলও। প্রত্যেকে একে অপরের মুখোমুখি না হলেও কমপক্ষে ছয়টি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকছে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর। ২১ আগস্ট এনটি স্ট্রাইকস-এসিটি কোমেটস ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ২০২৬ টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ এইচপি অভিযান শুরু করবে পরের দিন। ২২ আগস্ট বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে এইচপি-নেপাল ম্যাচ। ২৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা খেলতে হবে এইচপি দলকে। এই তিন ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হোবার্ট হারিকেন্স, ভিক্টোরিয়া ও অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স। এইচপি-হোবার্ট হারিকেন্স ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা দেড়টায়। ভিক্টোরিয়া ও অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে এইচপির এই দুই ম্যাচ মাঠে গড়াবে সকাল ১১টা ও বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে। এক দিন বিরতি দিয়ে এইচপি ২৭ আগস্ট খেলতে নামবে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে। ২৮ আগস্ট এনটি স্ট্রাইকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এইচপির গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচ বাংলাদেশ সময় বেলা দেড়টায় শুরু হবে। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আগে এইচপি দুটি ম্যাচ খেলবে মিরপুরে। ঘরের মাঠে এইচপি সেই দুই ম্যাচ খেলবে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। ৮ ও ১০ আগস্ট হবে এইচপি-মালয়েশিয়া দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এখন পর্যন্ত তিনবার টপ এন্ড টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে এইচপি। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে তারা। অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমি সেবার জিতেছে শিরোপা। এইচপির এটাই সর্বোচ্চ সাফল্য। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ এইচপির সূচি তারিখ প্রতিপক্ষ শুরুর সময় (বাংলাদেশ সময়) ২২ আগস্ট নেপাল বেলা ২টা ৩০ মিনিট ২৩ আগস্ট হোবার্ট হারিকেনস বেলা ১টা ৩০ মিনিট ২৪ আগস্ট ভিক্টোরিয়া সকাল ১১ টা ২৫ আগস্ট অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স বেলা ৩ টা ৩০ মিনিট ২৭ আগস্ট নিউজিল্যান্ড ‘এ’ বেলা ১টা ৩০ মিনিট ২৮ আগস্ট এনটি স্ট্রাইক বেলা ১টা ৩০ মিনিট
প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ এসএ২০-তে ডাক পেয়েছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। প্রতিযোগিতার পঞ্চম আসরকে সামনে রেখে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ করেছে। তিনবারের শিরোপাজয়ী এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বুধবার রিশাদকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্কোয়াডে বিদেশি কোটায় যে দুজন নতুন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের একজন রিশাদ। অন্যজন হলেন অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ; তিনিও এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো মাঠে নামবেন। গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান টি-টোয়েন্টি বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা রিশাদ ইস্টার্ন কেপ স্কোয়াডে আফগানিস্তানের রহস্যময় স্পিনার এএম গাজানফারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। সেই আসরে তিনি ১৪টি উইকেট শিকার করেছিলেন, যা আফগান তারকা রশিদ খানের সাথে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহের রেকর্ড। এরপর থেকেই রিশাদ বাংলাদেশের সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর নজর কেড়েছেন। এ পর্যন্ত এসএ২০-এর চার আসরের মধ্যে তিনটি শিরোপাজয়ী সানরাইজার্স তাদের দলের মূল শক্তিকে ধরে রেখেছে। দলটির অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ট্রিস্টান স্টাবস। স্কোয়াডে আরও রয়েছেন মার্কো ইয়ানসেন, অ্যানরিখ নরকিয়া এবং কুইন্টন ডি ককের মতো তারকা প্রোটিয়া ক্রিকেটাররা। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলার অ্যাডাম মিলনেও রয়েছেন এই দলে। মিচেল মার্শের অন্তর্ভুক্তি এই শক্তিশালী দলটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারও রিশাদের মতোই প্রথমবারের মতো এসএ২০ লিগে খেলতে নামবেন। এসএ২০-এর পঞ্চম মৌসুম আগামী ১৭ জানুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে। ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজির বাকি জায়গাগুলো পূরণের জন্য আগামী ৭ অক্টোবর একটি মিনি-নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষ এই সাইনিংগুলোর পর সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের স্কোয়াডে আর মাত্র দুটি জায়গা খালি রয়েছে। সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ স্কোয়াড: জেমস কোলস, লুইস গ্রেগরি, রিশাদ হোসেন, মিচেল মার্শ, অ্যাডাম মিলনে, ম্যাথু ব্রিটজকে, কুইন্টন ডি কক, জর্ডান হারম্যান, প্যাট্রিক ক্রুগার, সেনুরান মুথুসামি, অ্যানরিখ নরকিয়া, লুথো সিপামলা, ট্রিস্টান স্টাবস, মিচেল ভ্যান বুরেন, সিজে কিং, জেপি কিং ও মার্কো ইয়ানসেন।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার সাব্বির রহমান। আগামী টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে দেশের মাটিতে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ এইচপি দল এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দল। টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণ অলরাউন্ডার মেহেরব হোসেন অহিনকে। জাতীয় দলের বাইরে থাকা সম্ভাবনাময় ঘরোয়া ক্রিকেটারদের নিয়েই দল গঠন করেছে বিসিবি। সূচি: প্রথম টি-টোয়েন্টি: ৮ আগস্ট দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি: ১০ আগস্ট ভেন্যু: শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর শুরুর সময়: বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াড জিসান আলম, জাওয়াদ আবরার, এস এম মেহেরব (অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, আরিফুল ইসলাম, শামীম হোসেন, মোহাম্মদ রুবেল, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, আবু হায়দার রনি, স্বাধীন ইসলাম, রাকিবুল হাসান, প্রিতম কুমার, মাহফুজুর রহমান রাব্বি ও ইকবাল হোসেন।
শেষ এক বছর ধরে ভারত-পাকিস্তানের শীতল সম্পর্কটা চরমে গিয়ে পৌঁছেছে। মূলত কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে হামলার পর থেকে দুই দেশের ক্রিকেটাররাও হাত মেলানোর রীতিতে বাধ সাধেন। সেই ধারা ভেঙে পাকিস্তানের ফাতিমা সানাকে জড়িয়ে ধরলেন জেমাইমা রদ্রিগেজ। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যে দৃশ্য একরকম নিয়মে পরিণত হয়ে গিয়েছিল, তাতে হঠাৎই পরিবর্তন এল। ভারত ও পাকিস্তানের দুই মহিলা ক্রিকেটার শুধু হাত মেলাননি, একে অপরকে জড়িয়েও ধরেছেন। আর এই দৃশ্যই জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের। ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগে। সাদার্ন ব্রেভ দলের হয়ে খেলেন ভারতের জেমাইমা রদ্রিগেজ, আর পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা খেলেন বার্মিংহ্যাম ফিনিক্সের হয়ে। দুই দলের মধ্যকার ম্যাচ শেষে যখন সব খেলোয়াড় একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করছিলেন, তখন প্রশ্ন উঠেছিল—জেমাইমা ও ফাতিমা কি হাত মেলাবেন? এই মুহূর্তের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, ফাতিমার দিকে এগিয়ে যান জেমাইমা, প্রথমে হাত মেলান, এরপর দু’জনে জড়িয়ে ধরেন একে অপরকে। দু’জনের মুখেই ছিল হাসি, কথাও বলেন কিছুক্ষণ। এরপর যে যার সাজঘরের দিকে চলে যান। ২০২৫ সালে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হামলা এবং তার পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে চরম তিক্ততা তৈরি হয়। সেই সময় থেকেই এশিয়া কাপে সূর্যকুমার যাদবদের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানো বন্ধ করে দেয়। এরপর পুরুষ, মহিলা কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯—সব স্তরের ক্রিকেটেই এই প্রবণতা বজায় ছিল, এমনকি অন্যান্য খেলাতেও তার প্রভাব দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবার দেখা গেল একেবারে ভিন্ন চিত্র। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। একদল মনে করছেন, জেমাইমার এই আচরণ ঠিক হয়নি; দেশের অন্য ক্রিকেটারেরা যে অবস্থান বজায় রেখেছেন, তারও তা মেনে চলা উচিত ছিল, এমনকি কেউ কেউ শাস্তিরও দাবি তুলেছেন। আবার অন্য একটি অংশের বক্তব্য, জেমাইমা প্রকৃত ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং খেলার মধ্যে রাজনীতি টেনে আনা উচিত নয়। তাদের মতে, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যা সম্ভব হয়নি, বিদেশের লিগে সেটাই করে দেখিয়েছেন এই ভারতীয় ক্রিকেটার। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।