ক্রিকেট

ছবি: সংগৃহীত
প্রথম ম্যাচে হার, যে মন্ত্রে ঘুরে দাঁড়াল টাইগাররা

অবশেষে জিম্বাবুয়ে সফরে এসে একটি সিরিজ জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো টাইগাররা।    ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে তুলেছিল ১৪৩ রানের পুঁজি। বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের ফিফটিতে জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ দল। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৫ রান। সেখান থেকে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। তবে শেখ মেহেদী হাসানের দারুণ এক চারে জয় নিশ্চিত হয় টাইগারদের। ম্যাচের সাথে জিতেছে সিরিজও।   প্রথম ম্যাচ হারার পর টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতলো টাইগাররা। ঘুরে দাঁড়ানোর রহস্যটা ম্যাচ শেষে খোলাসা করেছেন দলের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হৃদয় বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। ব্যাটিং বোলিং দুই ইউনিটেই আমরা দাপট দেখিয়েছি এবং শেষ দুই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। প্রথম ম্যাচ হারার পর আমরা মিটিং করেছি। এই কন্ডিশনে আমাদেরকে কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে। সেই আলোচনা করার পর সবাই ছন্দে ফিরেছে।’   এছাড়া স্পিনার রিশাদ হোসেন এবং তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাপারে হৃদয় জানিয়েছেন, ‘রিশাদ সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। যখনই সুযোগ পাবে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে দলের হয়ে পারফর্ম করার জন্য। সে (তানজিদ) ক্লাস ব্যাটার। আমরা জানি তার সামর্থ্য কতটা। সে সুযোগ পেলেই খেলা শেষ করে আসে। আশা করি সামনেও দলের হয়ে এমনটা করে যাবে।’   ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারলেও একই ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ দল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সহজ সমীকরণ কঠিন করে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ তখন সহজ জয়ের পথে। পাঁচ বলে প্রয়োজন চার রান। কিন্তু ব্র্যাড ইভান্সের ফুল টসে বোল্ড হয়ে গেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের খায়েশ হলো ছক্কায় ম্যাচ শেষ করার। প্রথম বলেই উড়িয়ে মেরে তিনিও আউট। ধারাভাষ্যকক্ষে এড রাইন্সফোর্ডেরে চিৎকার, “ইজ দেয়ার আ টুইস্ট ইন দা টেইল?” হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতে ফুল টস বল সোজা গিয়ে লাগল শেখ মেহেদি হাসানের প্যাডে। নিশ্চিত এলবিডব্লিউ!   কিন্তু আম্পায়ার সঙ্কেত দিলের ডেড বলের। কারণ কোনো এক ফিল্ডার মুভ করছিলেন! বড় বাঁচা বেঁচে গেল বাংলাদেশ। পরের বলটিও ফুল টস পেয়ে এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে গর্জন করলেন মেহেদি। পরে তো বোলার ইভান্সের সঙ্গে বেশ এক চোট উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়ে গেল তার! যে ম্যাচ ছিল একদমই নিস্তরঙ্গ, বাংলাদেশ ছিল অনায়াস জয়ের পথে, শেষ সময়ে সেটিতে নাভিশ্বাস উঠে গেল বাংলাদেশের। মেহেদির ওই গর্জনে মিশে ছিল মূলত বড় এক পাথর নেমে যাওয়ার স্বস্তি।   তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষটিতে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিততে পারল ৪ উইকেটে। পিছিয়ে পড়েও সিরিজ জিতে নিল তারা ২-১ ব্যবধানে।   আগের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বে প্রথম সিরিজ জয় এটি।   বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়া হয়ে যায় ম্যাচের প্রথম ভাগে। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ১৬০-১৭০ রান করবে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু শেষ দিকে দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে তাদেরকে ১৪৩ রানেই আটকে রাখে বাংলাদেশ।   ওপেনিংয়ে ব্রায়ান ব্রেনেট করেন ৪৭, তিনে নেমে ডিওন মায়ার্স ৭৩। দলের বাকি সাত ব্যাটসম্যান আর অতিরিক্ত মিলিয়ে রান আসে ২৩!   রান তাড়ায় বাংলাদেশ ঝড়ের গতিতে ছুটতে পারেনি। তবে শেষ ওভারের আগ পর্যন্ত পুরোটই ছিল নিয়ন্ত্রণে। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান তানজিদ হাসান। শেষে ওই নাটক জমিয়ে জয় আসে দুই বল বাকি রেখে।   চার ছক্কায় ৫৮ বলে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা তানজিদ। টানা দুটি ফিফটি করে সিরিজের সেরাও এই ওপেনার।   বাংলাদেশের ম্যাচ শুরুর ইঙ্গিত ছিল অশুভ। ম্যাচের প্রথম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে বেনেটের সহজ ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ হাসান। পরের ওভারেই টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন শেখ মেহেদি হাসান।   মেহেদির পরের ওভারে বেনেটের তিন বাউন্ডারিসহ ১৫ রান এলেও, পাওয়ার প্লেতে জিম্বাবুয়ে তোলে ৪০ রান।   পরের উইকেটের জন্য অবশ্য অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। জুটি গড়ে তোলেন বেনেট ও মায়ার্স। তবে রানের গতি খুব আদর্শ ছিল না।   ৫৫ বলে ৯১ রানের জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। লো ফুল টস ডেলিভারি স্টাম্পে টেনে আনেন বেনেট (৩৮ বলে ৪৭)।   ১২ ওভার শেষ মায়ার্সের রান ছিল ২৬ বলে ২৬। এরপর কিছু শট তিনি খেলেন। তবে আরেকপ্রান্তে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া চলতে থকে।   হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ৩১৩ ম্যাচ ছাড়িয়ে জিম্বাবুয়ের হয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডের দিনে সিকান্দার রাজা ফেরেন ৩ রানে।   আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বল আকাশে তুলে বিদায় নেন রায়ান বার্ল। আগের ম্যাচগুলোয় বাংলাদেশকে ভোগানো ব্র্যাড ইভান্স রান আউট হন ১ রানে। ওই ওভারেই কিপারের কাছে ধরা পড়েন ক্লাইভ মাডান্ডে।   ৫৩ বলে ৭৩ করে শেষ ওভারে রান আউট হন মায়ার্স।   শেষ ৫ ওভারে মাত্র ৩৪ রান তুলতে পারে জিম্বাবুয়ে।   বাংলাদেশের রান তাড়ার প্রথম পাঁচ বলেই অনেক কিছু দেখিয়ে দেন সাইফ। ইনিংসের প্রথম বলেই তেড়েফুঁড়ে মেরে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। পরের বলে লেগ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল পেয়ে মারেন বাউন্ডারি।   ওভারের চতুর্থ বলে স্কুপ করার চেষ্টায় বল লাগে তার হেলমেটে। মাঠে তাকে পরীক্ষা করে দেখেন ফিজিও। পরের বলেই বাজে শটে বিলিয়ে দেন উইকেট।   ওই উইকেটের পর বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যানকে চেপে ধরেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। তানজিদ ও পারভেজ একটি করে ছক্কা মারলেও, পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মাত্র ৩০।   পাওয়ার প্লের পর একটু হাত খোলেন দুজন। সিকান্দার রাজাকে মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন পারভেজ। টিনোটেন্ডা মাপোসাকে ছক্কায় স্বাগত জানান তানজিদ। ওই ওভারেই দুটি চার আসে তার সঙ্গীর ব্যাট থেকে।   ৫৫ রানের জুটি থামে রাজার বলে পারভেজের (২২ বলে ২৫) বিদায়ে।   বাংলাদেশকে তাতে বিপাকে পড়তে হয়নি। বরং পরের জুটিতে আরও গতিময় হয় ইনিংস। তানজিদ ও হৃদয় যোগ করেন ৪৪ বলে ৬৩ রান। দুজনের যেমন ভালো কিছু শট খেলেন, তেমনি আলগা ফিল্ডিংয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় জিম্বাবুয়েও।   হৃদয় ফেরেন ১৯ বলে ২৪ রান করে। জয়ের কাছে গিয়ে আউট হয়ে যান আগের দুই ম্যাচে দারুণ খেলা ইয়াসির আলি।   সাড়ে তিন বছর পর দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেনের সামনে সুযোগ ছিল দলের জয় নিয়ে ফেরার। কিন্তু সেই সুযোগ হেলায় হারান তিনি।   সাড়ে তিন বছর পর দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেনের সামনে সুযোগ ছিল দলের জয় নিয়ে ফেরার। কিন্তু সেই সুযোগ হেলায় হারান তিনি।   শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ছয় রানের। মন্থর ওভার রেটের কারণে একজন ফিল্ডার বৃত্তের ভেতরে বাড়তি রাখতে হয় জিম্বাবুয়েকে। প্রথম বলে সিঙ্গল নেন তানজিদ। পরের বলে লো ফুল টসে জায়গা বানিয়ে খেলার চেষ্টায় লাইন মিস করে বোল্ড মোসাদ্দেক।   নতুন ব্যাটসম্যান সাইফ উদ্দিন আগেই শাফল করে বড় শট খেলার পজিশনে চলে যান। বোলার সেটা বুঝেই বল করেন। সাইফ তবু ব্যাট চালিয়ে দেন। ধরা পড়েন মিড উইকেটে।   পরের বলে ইভান্সের হ্যাটট্রিক হয়েই যেত। তবে তিনি বল ডেলিভারি করার সামান্য আগেই ডেড বলের সঙ্কেত দিতে শুরু করেন আম্পায়ার। সেটি নিয়ে বেশ সংশয়ের তৈরি হয়। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা প্রতিবাদ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাদেরকে বোঝাতে পারেন আম্পায়ার।   পরের বলটি আবার ফুল টস করেন ইভান্স। এবার টাইমিং ঠিকঠাক করতে পারেন মেহেদি। শেষ ওভারের ঘটনাপ্রবাহ আরেকপ্রান্ত থেকে দেখা ছাড়া উপায় ছিল না তানজিদের। শেষ পর্যন্ত বিফলে যায়নি তার ইনিংস।   এই সফরে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারার পর, ওয়ানডে সিরিজও হেরেছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে শেষটা অন্তত স্বস্তিতে হলো।   সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৪৩/৭ (বেনেট ৪৭, মারুমানি ৪, মায়ার্স ৭৩, রাজা ৩, বার্ল ৭, ইভান্স ১, মাডান্ডে ০, শুমা ৪*, মাপোসা ০*; তাসকিন ৪-০-১৬-০, মেহেদি ৪-০-৩১-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩৫-২, রিশাদ ৪-০-২৮-১, সাকলাইন ৪-০-৩১-১)   বাংলাদেশ: ১৯.৪ ওভারে ১৪৪/৬ (সাইফ হাসান ৪, তানজিদ ৬৬*, পারভেজ ২২, হৃদয় ২৪, ইয়াসির ১০, মোসাদ্দেক ১, সাইফ উদ্দিন ০, শেখ মেহেদি ৪*; এনগারাভা ৪-০-২০-২, মুজারাবানি ৪-০-১৭-০, ইভান্স ৩.৪-০-২৬-২, রাজা ৪-০-৩৮-২, মাপোসা ২-০-২১-০, বার্ল ১-০-৮-০, বেনেট ১-০-১১-০)।   ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী। সিরিজ: তিন ম্যাচ বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিদ হাসান। ম্যান অব দা সিরিজ: তানজিদ হাসান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সামনে ১৪৪ রানের লক্ষ্য

জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামিয়ে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জয়ের জন্য টাইগারদের ১২০ বলে করতে হবে ১৪৪ রান।    রোববার জিম্বাবুয়ের বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান করে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন ডিওন মায়ার্স। এছাড়া ৪৭ রান করেন ব্রায়ান বেনেট।   সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে দ্বিতীয় ওভারে উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। এরপর দলের হাল ধরেন ব্রায়ান বেনেট। দ্বিতীয় উইকেটে ডিওন মায়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে ৭১ রানের জুটি গড়েন বেনেট। দলীয় ৭৭ রানে ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে আউট হন বেনেট। তিনি ৩৮ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৭ রান করে ফেরেন।   চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৩ রানে ফেরেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ১০৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।   দলীয় ৬ রানে ওপেনার মারুমানি আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮ বলে ৫টি চার আর একটি ছক্কার সাহায্যে ফিফটি পূর্ণ করেন ডিওন মায়ার্স। তিনি দ্বিতীয় ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংস শেষ হওয়ার মাত্র ২ বল আগে সাজঘরে ফেরেন। তার আগে ৫৩ বলে ৭টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৭৩ রান করেন। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা

বাঘের বেশে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ১৮৬ রানের বড় পুঁজি দাঁড় করায় টাইগাররা। জবাবে জিম্বাবুয়ে ১৫২ রানের বেশি করতে পারেনি।   বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে এদিন টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান এবং তানজিদ হাসান তামিম শুরু থেকে এগিয়েছেন সাবলীল ব্যাটিংয়ে। উইকেটের চারপাশে শট খেলেছেন। দলের বোর্ডে রানও তুলেছেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৪ রান তোলে বাংলাদেশ।   পাওয়ারপ্লে শেষেও চলেছে সাইফ-তানজিদের উইলোবাজি। দুজনের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের ইনিংস। সাইফ কিছুটা খোলসবন্দী থাকলেও তানজিদ ছিলেন আগ্রাসী। শতরান পার করেছে ওপেনিং জুটি। দুই ওপেনারই ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি।   তবে ফিফটির পর বেশি দূর আগাতে পারেননি দুজন। ওপেনিং জুটি ভাঙে ১২০ রানের মাথাতে। ৪৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান সাইফ হাসান। পরের ওভারেই ফিরেছেন তানজিদ। ৪৪ বলে ৫৮ রান করে বিদায় নেন তিনি।   দুই ওপেনারের বিদায়ে যেন ধস নামে টাইগার ইনিংসে। ১২০ রান থেকে ১৪১ রান পর্যন্ত যেতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ দল। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ৫ বলে ৬ রান করেছেন। পারভেজ হোসেন ইমন খেলেন ২ বলে ১ রানের ইনিংস। নুরুল হাসান সোহান প্রথম বলে চার মেরে পরের বলেই হয়েছেন আউট।   শেষ দিকে কিছুটা লড়াই চালিয়ে গেছেন ফর্মে থাকা ইয়াসির আলি চৌধুরী। সাতে নেমে যোগ দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও। শেষ ওভারে চার ছক্কায় ২৮ রান তোলেন সাইফউদ্দিন। ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ দল। ১০ বলে ৩১ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন সাইফউদ্দিন। ১২ বলে ২২ রান করে অপরাজিত ছিলেন ইয়াসির।   জিম্বাবুয়ের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন রিচার্ড এনগারাভা এবং ব্র্যাড ইভান্স। ১ উইকেট শিকার করেছেন সিকান্দার রাজা।   জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারেই ১৫ রান তোলেন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি এবং ব্রায়ান বেনেট। তবে ওভারের শেষ বলে মারুমানিকে ফিরিয়ে দেন শেখ মেহেদী হাসান। পরের ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে বিদায় করেন নাহিদ রানা। ৫ বলে ১১ রান করে ফিরেছেন বেনেট।   পাওয়ারপ্লের মধ্যে আরও এক উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ৭ বলে ৪ রান করা ডিয়ন মেয়ার্সকে ফেরান শেখ মেহেদী। এরপর মিল্টন শুম্বা এবং অধিনায়ক সিকান্দার রাজা মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মিল্টন ধীরেসুস্থে এগোলেও রাজা ছিলেন আগ্রাসী। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৬ রান তোলে জিম্বাবুয়ে।   পাওয়ারপ্লে শেষেই থেমেছেন রাজা। ১২ বলে ২৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। মিল্টন ধুঁকতে ধুঁকতে ২০ বলে ১৯ রান করেছেন। এরপর চেষ্টা করেছেন রায়ান বার্লও। ১৯ বলে ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলা বার্লকে ফেরান রিশাদ হোসেন। তাতে জিম্বাবুয়ের জেতার প্রায় সব আশাই শেষ হয়ে যায়। তবুও শেষ দিকে লড়ে গেছেন ব্র্যাড ইভান্স এবং রিচার্ড এনগারাভা। শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ৪০ রান। শেষের আগের ওভারে ইভান্সকে ফেরান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সেই ওভারে রান দিয়েছেন মাত্র ২। শেষ ওভারে জিম্বাবুয়ের দরকার ৩৮ রান। শেষ ওভারে ৪ বলের বেশি টেকেনি জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ১৫২ রানে অলআউট হয়েছে তারা। কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেছেন রিশাদ হোসেন।   বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার রিশাদ। এছাড়া ৩ উইকেট শিকার করেছেন শেখ মেহেদী হাসান। ১টি করে উইকেট নেন নাহিদ রানা, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং সাইফ হাসান।   তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা। ১৯ জুলাইয়ের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি এখন সিরিজ নির্ধারণী।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আইসিসির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্রেফ একটি বাক্যই আছে বাংলাদেশকে নিয়ে। তামিম ইকবাল ও তার নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের জন্য সেই একটি লাইনই বড় স্বস্তির। আইসিসির বোর্ড সদস্য হিসেবে তামিমকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি। যেটির মানে, এই পরিচালনা পর্ষদকেও বৈধতা দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটি।   সম্প্রতি স্কটল্যান্ডে আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা শেষ হওয়ার পর বুধবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানায় আইসিসি। তামিম নিজেও এই সভায় অংশ নেন। বিসিবি সভাপতি হিসেবে এটিই ছিল আইসিসি সভায় তার প্রথম যোগদান।   আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে "আইসিসি সদস্যপদ সংক্রান্ত বিষয়" অংশে বিসিবিকে নিয়ে বলা হয়, "বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নবনির্বাচিত সভাপতিকে সদস্যদের পূর্ণ সদস্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগকে স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি বোর্ড।"   গত ৭ জুন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন তামিম, পরে সেদিনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সভাপতি। আইসিসির স্বীকৃতি নিয়ে জটিলতার কারণে আইসিসি বোর্ডে তখনও পর্যন্ত বিসিবির সভাপতি ছিলেন প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি।   গত এপ্রিলে বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পরই আইসিসি ও এসিসিতে বিসিবির প্রতিনিধি হিসেবে তামিমকে মনোনয়ন দেন বোর্ড সদস্যরা। কিন্তু তখন বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আইসিসির পরামর্শক্রমে আইসিসিতে প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান নির্বাহীকেও রাখা হয়েছে। নির্বাচনে জিতে বিসিবি সভাপতি হওয়ার পরও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না আসায় আইসিসি বোর্ডে জায়গা পাচ্ছিলেন না তামিম।   তার আইসিসির স্বীকৃতির ব্যাপারটি ঝুলে ছিল মূলত সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে। গত অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনে জিতে সভাপতি হয়েছিলেন আমিনুল। তবে সেই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে গত ৭ এপ্রিল সেই পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এরপরই আইসিসি অভিযোগ জানান আমিনুল।   সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে আইসিসি। আইসিসি বোর্ড পরিচালক ড. মোহাম্মদ এ. এস. মুসাজি (ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং জনাব তাভেঙ্গুয়া মুকুলানিকে (জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট) নিয়ে গঠিত কমিটি বাংলাদেশে এসে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন দেন আইসিসিতে।   এখন বলা যেতে পারে, সেই প্রতিদেনের প্রেক্ষিতেই তামিমকে স্বীকৃতি দিল আইসিসি।   এই প্রক্রিয়া চলার সময় অবশ্য ভেঙে দেওয়া বোর্ডের পরিচালকদের একটি অংশ বেশ কয়েকবার আদালতে রিট করেছে জুনের বিসিবি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে। প্রতিটি রিটই খারিজ হয়ে যায়। এছাড়াও আইসিসিতে দফায় দফায় চিঠি দিয়েছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল। সেরকম একটি চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেছিলেন বর্তমান বোর্ড দায়িত্বে থাকলে যেন বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত করা হয়, আইসিসির তহবিল বন্ধ করা হয় ও আইসিসি টুর্নামেন্টগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়।   তবে আইসিসি সেসবে সাড়া দেয়নি।   আইসিসি বোর্ডে জায়গা পেয়েই স্কটল্যান্ডে সাধারণ সভায় অংশ নেন তামিম। স্রেফ ঘোষণাটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হলো।   বিসিবি ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশের বোর্ড বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিসিবি।   শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিষয়ে একটি হালনাগাদ তথ্য পেয়েছে আইসিসি বোর্ড এবং একটি সংশোধিত গঠনতন্ত্রের দিকে অগ্রগতির বিষয়টি লক্ষ্য করেছে। সেখানে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দিয়েছে বোর্ড এবং এই মর্মে সম্মত হয়েছে যে, আপাতত আইসিসি বোর্ডের সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট।   ক্রিকেট কানাডার জন্য পুনর্বহালের শর্তাবলী অনুমোদন করেছে আইসিসি বোর্ড, যেখানে আইসিসি সদস্যপদ থেকে তাদের স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার আগে অবশ্যই পূরণ করতে হবে এমন শর্তগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এই শর্তগুলো সম্পূর্ণরূপে পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ স্থগিত থাকবে।   এছাড়াও আইসিসি সদস্যপদের মানদণ্ড লঙ্ঘনের জন্য ফ্রান্স ক্রিকেটকে সতর্ক করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে আইসিসি।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ফেরার সিরিজে নজরকাড়া মোসাদ্দেক, আইসিসির সেরা হওয়ার লড়াইয়ে

প্রায় চার বছর পর ফিরেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যান অব দা সিরিজ হয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। চমকপ্রদ সেই পারফরম্যান্সে বড় একটি স্বীকৃতি আদায় করে নিলেন তিনি। আইসিসির ‘প্লেয়ার অব দা মান্থ’ নির্বাচিত হওয়ার বিবেচনায় আছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।   জুনের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে মোসাদ্দেকের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের শুবমান গিল ও নিউ জিল্যান্ডের ন্যাথান স্মিথ। মেয়েদের ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন স্কটল্যান্ডের ক্যাথরিন ব্রাইস, ভারতের শ্রী চারানি ও ইংল্যান্ডের ড্যানি ওয়াট-হজ।   অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে তিন ম্যাচে মোসাদ্দেক রান করেছিলেন ১৫৭। মাত্র এক ম্যাচে আউট হওয়ায় তার গড়ও ছিল ১৫৭, স্ট্রাইক রেট ১১৬.২৯।   ২০০২ সালের অগাস্টের পর প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমে গত ৯ জুন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক। পরে বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ হন।   পরের ম্যাচে তিনি আউট হয়ে যান ১৪ বলে ১৫ রান করে। শেষ ম্যাচে অপরাজিত থাকেন ৫১ বলে ৫৬ রান করে।   গিল সেরার বিবেচনায় উঠে এসেছে টেস্ট ও ওয়ানডের যৌথ পারফরম্যান্সে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে তিনি ১২৬ রানের ইনিংস উপহার দেন। এরপর ওয়ানডে সিরিজে তিন ম্যাচের দুটি ব্যাট করে ১৩৫.২২ স্ট্রাইক রেটে রান করেন ২৩৮ (অপরাজিত ৮৪ ও ১৫৪)। দলের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে তিনিই ছিলেন ম্যান অব দা সিরিজ।   ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ম্যান অব দা সিরিজ হয়ে এই তালিকায় এসেছেন স্মিথও। পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউ জিল্যান্ডের স্মরণীয় সিরিজ জয়ে এই পেসার শিকার করে ১৬ উইকেট। এর মধ্যে ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে এক ইনিংসে ৬ উইকেটসহ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।   মেয়েদের ক্রিকেটে স্কটিশ অলরাউন্ডার ব্রাইস দারুণ ফর্মে ছিলেন বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। সব মিলিয়ে এই সময়ে সাত ম্যাচে ১৭৮ রান করেন তিনি ১৪০.১৫ স্ট্রাইক রেটে, উইকেট শিকার করেন ১১টি।   টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত বোলিং করে সেরার লড়াইয়ে এসেছে শ্রী চারানি। পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন এই বাঁহাতি স্পিনার, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চারটি। এই সময়ে ছয় টি-টোয়েন্টিতে ১৪ উইকেট নেন তিনি ওভারপ্রতি মাত্র ৬.৬৯ রান দিয়ে।   টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার পথে বড় অবদান ছিল ওয়াট-হজের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি উপহার দেন তিনি, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন ৮৯ রানের ইনিংস।   সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে মাস-সেরা নির্বাচন করা হয়ে থাকে আইসিসির স্বাধীন ভোটিং একাডেমি ও ক্রিকেট অনুসারীদের ভোটে। ভোটিং একাডেমির ভোট বিবেচনায় নেওয়া হয় ৯০ শতাংশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তানজিদ ৯৪, স্বস্তির জয় বাংলাদেশের

ম্যাচের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যায় অনেক আগেই। তানজিদ হাসান সেঞ্চুরি করতে পারেন কি না, সেটি নিয়েই সবার আগ্রহ তখন বেশি। জয়ের জন্য প্রয়োজন তিন রান, সেঞ্চুরি ছুঁতে তার চাই ছয়। আর্নেস্ট মাসুকুর গুড লেংথে পিচ করা ডেলিভারি উড়িয়ে মারলেন বাঁহাতি ওপেনার, কিন্তু টাইমিং হলো না ঠিকমতো। লং-অনে জায়গায় দাঁড়িয়ে সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমালেন ব্র্যাড ইভান্স। হতাশায় মাঠ ছাড়লেন তানজিদ।   জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ দলের হতাশার আঁধার অবশ্য একটু কাটল। তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।   হারারেতে শনিবার বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে শরিফুল ইসলাম। আগের ম্যাচে ৫০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা পেসার এবার ৪৪ রানে শিকার করেন ৪ উইকেট। জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে যায় ১৯৯ রানে।   প্রথম দুই ম্যাচে বাজে ব্যাটিংয়ে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ এবার লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৩৬ ওভারেই।   ১৫১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে কাজটা সহজ করে দেন তানজিদ ও সৌম্য সরকার। ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৮২ বলে ৬৯ রান করেন সৌম্য।   আট চার ও তিন ছক্কায় ১০১ বলে ৯৪ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ তানজিদ। ইনিংসটির পথে তিনবার অবশ্য জীবন পান তিনি।   এবারের জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের প্রথম জয় এটি। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর, প্রথম দুই ওয়ানডেতেও তেতো অভিজ্ঞতা হয় সফরকারীদের। বিশেষ করে, প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ১৪১ রানের জবাবে দল গুটিয়ে যায় স্রেফ ১১৬ রানে। পরের ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৫ উইকেটে ২০৭ রানের শক্ত অবস্থানে ২৩৪ রানে অলআউট হয় তারা।   শেষ ম্যাচে তিন পেসার রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিয়ামুরি ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে বিশ্রাম দেয় জিম্বাবুয়ে। রান তাড়ায় দুই রকম ব্যাটিংয়ের পথ বেছে নেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। আগের দুই ম্যাচে দুই অঙ্কে যেতে ব্যর্থ সৌম্য এগোন সাবধানী ব্যাটিংয়ে। আক্রমণ শুরু করেন তানজিদ। দ্বিতীয় ওভারে মাসুকুর তিন বলের মধ্যে একটি করে ছক্কা ও চার মারেন তিনি।   ২৭ ও ৩৭ রানে জীবন পেয়ে ৪৯ বলে সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করেন তানজিদ।   সৌম্যর রান ছিল একপর্যায়ে ৫৫ বলে ৩৩। পরের ৯ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে তিনি পঞ্চাশে পা রাখেন ৬৪ বলে। ওয়ানডেতে ছয় ইনিংস পর পঞ্চাশ ছুঁতে পারলেন তিনি।   তানজিদ আরেক দফায় বেঁচে যান ৬০ রানে। সৌম্যকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম দেড়শ ছোঁয়া জুটি ভাঙেন তানাকা শিভাঙ্গা।   তিন নম্বরে নেমে শিভাঙ্গার পরের ওভারে তিনটি চার মারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়েলসলি মাধেভেরেকে পরপর চার ও ছক্কার পর, ওয়েলিংটন মাসাকাদজার তিন বলের মধ্যে চার ও ছক্কায় নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে যান তানজিদ।   কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পাওয়া হলো না তার অল্পের জন্য। একই ওভারে শূন্য রানে ফেরেন তাওহিদ হৃদয়। নইলে জয়ের ব্যবধান হতে পারত আরও বড়।   ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে এ দিন টস জিতে বোলিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ। নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেনের জায়গায় একাদশে সুযোগ পান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও তানভির ইসলাম।   নতুন বলে দারুণ বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল। বেশ কয়েকবার অল্পের জন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যাটের কানা ছোঁয়নি বল। ষষ্ঠ ওভারে মেলে সাফল্য। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বেন কারানকে বোল্ড করে দেন শরিফুল।   পরের ওভারে ব্রায়ান বেনেটকে বিদায় করেন তাসকিন। ক্রেইগ আরভিনকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় শিকার ধরেন শরিফুল।   ত্রয়োদশ ওভারে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও মাধেভেরে। ৫১ রানের জুটি গড়েন দুজন।   দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে ফিরেই কাইয়াকে (৬৭ বলে ২৫) ফিরিয়ে ইনিংসের একমাত্র পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি ভাঙেন তাসকিন। সিকান্দার রাজাকে বিদায় করেন তানভির। জিম্বাবুয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ১১ রান করতে খেলেন ২৫ বল।   শরিফুল পরের ওভারে ক্লাইভ মাডান্ডেকে ফেরালে ১০৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে তাদের দুইশর কাছে যেতে পারার কৃতিত্ব মাধেভেরে ও ইভান্সের।   পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৭৪ বলে ৭৫ রান করেন মাধেভেরে। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেওয়া ইভান্স ৪৩ বলে করেন ৫০ রান। জিম্বাবুয়ের বাকি ৯ ব্যাটসম্যান মিলে ১৭২ বলে করতে পারেন ৬১ রান।   পাঁচ বছর পর বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে খেলতে নেমে আঁটসাঁট বোলিংয়ে একটি উইকেট নেন সাইফ উদ্দিন।   এখন বুলাওয়ায়োতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। আগামী বুধবার হবে প্রথম ম্যাচ।   সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে: ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ (বেনেট ৬, কারান ২, কাইয়া ২৫, আরভিন ৫, মাধেভেরে ৭৫, রাজা ১১, মাডান্ডে ১, ইভান্স ৫০, মাসুকু ২, শিভাঙ্গা ২*; তাসকিন ১০-৪-৩২-২, শরিফুল ১০-১-৪৪-৪, সাইফ ৯.১-১-৩১-১, তানভির ১০-০-৩৭-২, মিরাজ ৭-০-৪২-০, সৌম‍্য ২-১-৯-০) বাংলাদেশ: ৩৬ ওভারে ২০০/৩ (তানজিদ ৯৪, সৌম‍্য ৬৯, শান্ত ১৮*, হৃদয় ০, সোহান ০*; ইভান্স ৭-২-৩৬-০, মাসুকু ৬-১-৩৩-২, শিভাঙ্গা ৭-০-৩৪-১, রাজা ৬-০-২৮-০, বেনেট ৩-০-২২-০, মাসাকাদজা ৪-০-২৮-০, মাধেভেরে ৩-০-১৭-০) ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী জিম্বাবুয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিদ হাসান ম্যান অব দা সিরিজ: ব্র্যাড ইভান্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নাটকীয় জয়ে স্বস্তি এমআই নিউইয়র্কের, ব্যাটে-বলে ছাপ রাখতে পারেননি সাকিব

মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাট ও বল হাতে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে তাঁর দল এমআই নিউইয়র্ক শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে সিয়াটল ওর্কাসকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে।   ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সাকিব ১৪ বলে ১৫ রান করেন। ইনিংসের শুরুতে টানা দুই বাউন্ডারি মারলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। পরে বোলিংয়ে চার ওভার হাত ঘুরিয়ে ৪৪ রান খরচ করলেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি।   এমআই নিউইয়র্ক শুরুতেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। তবে কাইরন পোলার্ড ও তাজিন্দার সিংয়ের ঝড়ো জুটিতে দলটি ১৭৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়। পোলার্ড ৫৪ এবং তাজিন্দার অপরাজিত ৬৬ রান করে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন।   জবাবে ব্যাট করতে নেমে একসময় সিয়াটল ওর্কাস জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়। দ্বিতীয় উইকেটে বড় জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। কিন্তু শেষ দিকে নিউইয়র্কের বোলারদের দারুণ প্রত্যাবর্তনে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য স্পর্শ করতে পারেনি সিয়াটল।   এই জয়ে এমআই নিউইয়র্ক স্বস্তির জয় পেলেও ব্যক্তিগতভাবে সাকিবের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশার। মেজর লিগ ক্রিকেটে নিজের ছন্দ ফিরে পেতে এখনও অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ভারতীয় ব্যাটিংকে ‘জঘন্য’ বলায় শ্রেয়াসকে একহাত নিলেন কার্তিক

জঘন্য। খুবই বাজে। এভাবেই ভারতের ব্যাটিংয়ের সমালোচনা করে শ্রেয়াস আইয়ার বলেছিলেন, “এর চেয়ে ভালো কোনো শব্দ আমি ব্যবহার করতে পারব না।” তার এমন মন্তব্যে অবাক দিনেশ কার্তিক। ভারতের সাবেক এই কিপার-ব্যাটার মনে করিয়ে দিলেন, শ্রেয়াসের নিজের পারফর্ম করাও জরুরি।   ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের ব্যাটিং মুখ থুবড়ে পড়ার পর ওই কথাগুলি বলেছিলেন শ্রেয়াস। ২০২ রান তাড়ায় সেদিন ৭৬ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত, টি-টোয়েন্টিতে যা তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। ১১.৪ ওভারেই শেষ হয় তাদের ইনিংস, এত কম ওভারে অলআউট আগে হয়নি তারা।   ম্যাচের পর ভারতের ব্যাটিংয়ের কঠোর সমালোচনা করেন অধিনায়ক। যে ভাষায় তিনি সমালোচনা করেছেন, সেটা চোখে লেগেছে কার্তিকের। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজে এই ধারাভাষ্যকার বললেন, শ্রেয়াসের নিজের রান করাও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।.   হ্যাঁ, ভারত ব্যাটিং ভালো করেনি। সম্ভবত অনেক দিনের মধ্যে বাজে ব্যাটিং পারফরম্যান্সগুলোর একটি। কিন্তু ব্যাটিং ইউনিটের ওপর অধিনায়কের এতটা কঠোর হওয়াটা কৌতূহল জাগানিয়া, এমনকি অদ্ভুতও বলা যেতে পারে। তাদের ব্যাটিং বর্ণনা করতে সে ‘জঘন্য’ শব্দটি ব্যবহার করেছ, ‘বাজে’ শব্দটিও ব্যবহার করেছে।   সে কতটা অসন্তুষ্ট, তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল। কিছুটা বিচলিতও ছিল এবং স্বাভাবিকভাবেই রেগেও গেছে। কিন্তু শ্রেয়াস আইয়ারকে যেমন চিনি, সে ঘুরে দাঁড়াবে, কারণ সে ওই ব্যাটিং ইউনিটের এতটাই গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য যে, সে রান করলে দলটাকে অন্যরকম দেখায়, যেমনটা আমরা পাঞ্জাব কিংসের ক্ষেত্রে দেখেছি। এই ব্যাটিং অর্ডারের জন্যও সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।”   দীর্ঘদিন ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের বাইরে থাকার পর শ্রেয়াস ফিরেছেন অধিনায়ক হিসেবে। তবে তার এই নতুন শুরু সুখকর হয়নি মোটেও। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলেও এখনও জয়শূন্য তিনি। আর কোনো ভারতীয় অধিনায়কের শুরুটা এত বাজে হয়নি। ব্যাট হাতে তিনি পাঁচ ইনিংসে ফিফটি করেছেন একটি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সিরিজ হারার পর উন্নতির জায়গা চিহ্নিত করলেন মিরাজ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১৩ রানের হার দিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।   ম্যাচের শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান, হাতে ছিল মাত্র একটি উইকেট। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন মিরাজ। তার বিদায়ের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়।   হারের পর সংবাদমাধ্যমে মিরাজ বলেন, ফ্লাডলাইটের নিচে ব্যাটিং কিছুটা কঠিন ছিল। এরপরও দলের বিশ্বাস ছিল লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলা সম্ভব। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারায় জয় আসেনি।   তিনি আরও বলেন, দলের বোলিং বিভাগে উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষকে বড় জুটি গড়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তার মতে, জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কার্যকর জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়, যা বাংলাদেশ ঠেকাতে পারেনি।   অন্যদিকে সিরিজ নিশ্চিত করার পর জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা দলের আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই তাদের ইতিবাচক যাত্রা শুরু হয়েছে এবং সেই আত্মবিশ্বাস এখন দলকে কঠিন ম্যাচ জিততে সহায়তা করছে। এক বছর আগে এমন পরিস্থিতিতে হয়তো তারা হেরে যেত, কিন্তু এখন দল হিসেবে অনেক বেশি পরিণত।   নিজের ইনিংস নিয়েও কথা বলেন রাজা। তিনি জানান, প্রথম ২৫ থেকে ৩০ ওভার উইকেটে ব্যাটিং সহজ ছিল না। পরে পরিস্থিতি অনুকূলে আসে এবং তারা বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। নিজের আরও ভালো করার সুযোগ ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি এবং ভবিষ্যতে সেই ঘাটতি পূরণের আশা প্রকাশ করেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
টেস্টের পর জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজও হারল বাংলাদেশ

হতাশার ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে সিরিজে হারল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজের এক ম্যাচ হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।   ওয়ানডে সিরিজের আগে জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ।   ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের ১৪১ রানে গুঁড়িয়ে দিয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ৩০০ বলে ১৪২ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ৫০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।   আজ সিরিজ বাঁচাতে নেমে টস জিতে প্রথমে বোলিং করে বাংলাদেশ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে বেন কারানের সেঞ্চুরিতে ভর করে ২৪৭ রান করে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১১১ রান করেন বেন কারান। ৩৮ বলে দুই চার আর ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৫৮ রান করেন ব্রাড ইভান্স। বাংলাদেশ দলের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ।    টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৩ উইকেটে ১৬৯ রান করা বাংলাদেশ; এরপর ৬৫ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৩৪ রানে অলআউট হয়। দলের হয়ে ৯০ বলে ৫টি চারের সাহায্যে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন তাওহীদ হৃদয়। ৭০ বলে ৫টি চার আর এক ছক্কায় ৫৭ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম। ৪১ বলে ৩৮ রান করেন নুরুল হাসান সোহান। 

মারিয়া রহমান জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নতুন মুখ নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড ঘোষণা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া জিম্বাবুয়ে চার মাস পর, এই সংস্করণে আবার মাঠে নামতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজটির জন্য প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার নিউম্যান নিয়ামুরি। আর আড়াই বছর জাতীয় দলে ফিরেছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মিল্টন শুম্বা। বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা হারিয়ে চমক জাগায় জিম্বাবুয়ে, জায়গা করে নেয় সুপার এইটে। সেই দল থেকে এবার তিনটি পরিবর্তন এনেছে দেশটির নির্বাচকরা। বরাবরের মতো এই সংস্করণে দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন সিকান্দার রাজা। ব্রেন্ডান টেইলরের চোটে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া বেন কারান জায়গা ধরে রেখেছেন। যদিও ওই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হয়নি তার। এবার নিয়ামুরির সঙ্গে কারানেরও টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হতে পারে। বাম হাতের চোটে ছিটকে গেছেন গ্রায়েম ক্রিমার। টেইলর ও ক্রিমারের পাশাপাশি বিশ্বকাপ দল থেকে নেই টনি মুনিয়োঙ্গা। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় নিয়ামুরির। সম্প্রতি শেষ হওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংস ব্যবধানে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ২০ বছর বয়সী পেসার। পরে প্রথম ওয়ানডেতে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দলকে জিততে সাহায্য করেন; ব্যাটিং ধসের মুখে ৫১ বলে ৩৩ রান করার পর, বোলিংয়ে ২২ রান খরচায় দুটি উইকেট নেন তিনি। ২০২২ সালের পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন শুম্বা। জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে এবার আট ম্যাচে ২২৩ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের পর বুলাওয়ায়োতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে জিম্বাবুয়ে। কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ম্যাচগুলো হবে ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই। জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, বেন কারান, ব্র্যাড ইভান্স, ক্লাইভ মাডান্ডে, টিনোটেন্ডা মাপোসা, টাডিওয়ানাশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, তাশিঙ্গা মুসেকিয়া, ব্লেসিং মুজারাবানি, ডিওন মেয়ার্স, রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিয়ামুরি, মিল্টন শুম্বা।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নটিংহামে ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ে বিস্মিত সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক খারাপ ফর্মে বিস্ময় প্রকাশ করে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। তিনি এটিকে একটি সাময়িক ফর্ম অবনতি হিসেবেও অভিহিত করেছেন।   নটিংহামে ৭৬ রানে অলআউট হওয়ার পর সিরিজে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা দলের ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি। বুধবার নিজের ৫৪তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন তিনি। গাঙ্গুলী বলেন, ‘ভারতের পারফরম্যান্সে আমি কিছুটা অবাক হয়েছি। সাদা বলের ক্রিকেটে তারা বরাবরই একটি শক্তিশালী দল এবং এটিকে তাদের সাময়িক ফর্মহীনতা বলেই মনে হচ্ছে।   তবে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। বিশ্বকাপজয়ী তারকা সঞ্জু স্যামসন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একাদশ থেকে বিস্ময়করভাবে বাদ পড়া বিষয়ে জানতে চাইলে সতর্কতার সঙ্গে উত্তর দেন এই সাবেক ভারতীয় ক্রিকেট তারকা।   তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি টিম ম্যানেজমেন্ট নেবে। এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।   গত রাতে ফিফা বিশ্বকাপে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। ফুটবল অনুরাগী হিসেবে গাঙ্গুলী আরো জানান, বিশ্বকাপের খেলার ওপর কড়া নজর রাখছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য ৩-২ গোলের মনোমুগ্ধকর জয়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।   এর আগে গাঙ্গুলী তাঁর বাড়িতে মধ্যরাতে কেক কেটে ৫৪তম জন্মদিন উদযাপন করেন।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এশিয়া কাপের জন্য তিন ভেন্যু বিবেচনায় বিসিবি, শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আগামী বছরের ওয়ানডে এশিয়া কাপ বাংলাদেশে আয়োজনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এ উপলক্ষে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে মিরপুর, সিলেট ও চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামকে বিবেচনায় রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিসিবির নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ জানান, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) সম্ভাব্য ভেন্যুগুলোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। বিসিবি সেই তথ্য প্রস্তুত করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।   তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোই আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের এশিয়া কাপ সফলভাবে আয়োজনের জন্য বিসিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে।   প্রায় ১১ বছর পর বাংলাদেশে এশিয়া কাপ ফেরার সম্ভাবনায় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দর্শক ও ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি মানসম্মত টুর্নামেন্ট উপহার দিতে বিসিবি প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মালিঙ্গার রেকর্ডে শানাকা, শেষ ওভারের ডাবল হ্যাটট্রিকে সিয়াটলের জয়

শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রানের, প্রথম বলে বাউন্ডারি হজমের পর দারুণ বোলিংয়ে দলকে জেতালেন দাসুন শানাকা।   “আপনার প্রথম হ্যাটট্রিক এটি?” কৌতূহলী সঞ্চালকের জিজ্ঞাসা। ম্যাচ-সেরা পুরস্কার নিতে আসা দাসুন শানাকা চওড়া হাসিতে বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। জীবনের প্রথম হ্যাটট্রিক!” সঞ্চালকের আরেকটি জিজ্ঞাসা, “একজন শ্রীলঙ্কানও চার বলে চার উইকেট নিয়েছিলেন, মনে আছে?” শানাকার ঝটপট উত্তর, “অবশ্যই, ওয়ান অ্যান্ড ওনলি গ্রেট লাসিথ মালিঙ্গা, আমার অধিনায়ক….!”   শানাকার কীর্তিটা বোঝাই যাচ্ছে। বোলার হিসেবে তিনি মালিঙ্গার ধারেকাছে নন। তবে একটি জায়গায় দুজনের নাম এখন পাশাপাশিই। মেজর লিগ ক্রিকেটের রোমাঞ্চকর ম্যাচে টানা চার বলে উইকেট নিয়েছেন শানাকা। ক্রিকেটের পরিভাষায় এটিকে বলা হয় ‘ডাবল হ্যাটট্রিক।’   টেক্সাস সুপার কিংসের বিপক্ষে শেষ ওভারে শানাকার দারুণ ওই কীর্তিতেই ৯ রানে ম্যাচ জিতে নেয় সিয়াটল ওর্কাজ।   ক্যালিফোর্নিয়ার পোনোমায় জয়ের জন্য শেষ ওভারে টেক্সাসের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। শানাকার ওভারের প্রথম বলে পয়েন্টের ওপর দিয়ে চার মারেন শুভাম রাঞ্জানে। পরের বলে লো ফুল টসে লং অনে পাঠিয়ে নেন একটি রান।   টেক্সাসের তাতে খুশিই হওয়ার কথা। স্ট্রাইকে তখন ডোনোভান ফেরেইরার মতো আগ্রাসী ব্যাটসম্যান। খেলছিলেন তিনি ১৫ বলে ২২ রানে। কিন্তু শানার স্লোয়ারে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ফেরেইরা। পরের বলটি ছিল স্লোয়ার ও লেংথ ডেলিভারি। নতুন ব্যাটসম্যান কেলভিন স্যাভেজ সোজা ক্যাচ তুলে দেন লং অনে শিমরন হেটমায়ারের হাতে।   ২ বলে লাগে তখন ১০ রান। হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতেও নতুন ব্যাটসম্যানকে শট খেলতেই হতো। অফ স্টাম্পের বাইরে আবার স্লোয়ার করেন শানাকা। গায়ের জোরে হাঁকানোর চেষ্টা করেন অ্যাডাম মিল্ন। তার ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় কিপারের গ্লাভসে।   হ্যাটট্রিকের আনন্দে মেতে ওঠেন শানাকা।   তার উচ্ছ্বাসের বাকি ছিল আরও। ওভারের শেষ ডেলিভারিও শানাকা করেন স্লোয়ার। শেষ ব্যাটসম্যান আমশি ডি সিলভা স্লগ করতে গিয়ে বল তুলে দেন ওপরে। লং অন থেকে অনেকটা সামনে ছুটে ডাইভ দিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন হেটমায়ার।   চার বলে চার উইকেট!   ১২১ রানের পুঁজি নিয়েও ৯ রানে জিতে যায় সিয়াটল। আরেকপ্রান্ত থেকে সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখে রাঞ্জানে অপরাজিত থাকেন ৪০ রানে।   টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ডাবল হ্যাটট্রিক বা টানা চার বলে উইকেটের ষোড়শ নজির এটি। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কান আছে আর কেবল মালিঙ্গা। ২০১৯ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন তিনি।   একমাত্র বোলার হিসেবে দুই দফায় টানা চার বলে উইকেট শিকার করেছেন কার্টিস ক্যাম্ফার। আইরিশ অলরাউন্ডার এর মধ্যে একটিতে টানা পাঁচ বলে নিয়েছেন উইকেট, যে কীর্তি নেই আর কারও।   টানা চার বলে উইকেট শিকারে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি আল আমিন হোসেন। ২০১৩ সালে বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টি কাপে ইউসিবি-বিসিবি একাদশের হয়ে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে টানা চার বলে আউট করেছিলেন নাজমুল হোসেন মিলন, সোহরাওয়ার্দী শুভ, নাঈম ইসলাম জুনিয়র ও নাবিল সামাদকে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
লর্ডসে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা অস্ট্রেলিয়ার

শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচটা হলো অনেকটা ম্যাড়ম্যাড়ে। লর্ডসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে একক আধিপত্য দেখালো অস্ট্রেলিয়া নারী দল। ইংলিশদের ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫০ রান তোলে ইংল্যান্ড। জবাবে ১৭ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় অজিদের। নারী ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল অস্ট্রেলিয়া। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০টি আসরের মধ্যে আটটির ফাইনালই খেলেছে তারা। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাতবার। এদিকে একবার করে শিরোপা জেতার কীর্তি রয়েছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের।   ১৫১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৯ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন জর্জিয়া ভোল। তবে তাতে কোনো সমস্যা হয়নি। দ্বিতীয় উইকেটে ওপেনার বেথ মুনি ও ফোবে লিচফিল্ডের ১০০ রানের জুটিতে জয়ের ভিত পেয়ে যায় অজিরা। ৪৮ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন লিচফিল্ড।   এদিকে ফিফটি পূরণ করতে পারলেও জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি ওপেনার বেথ মুনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৬৪ রান। এদিকে এলিস পেরি ও অ্যাশলে গার্ডনার মিলে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। ১৩ রানে পেরি ও ৩ রানে গার্ডনার অপরাজিত থাকেন। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। ৬ রানে অ্যামি জোনস ও ৮ রানে ড্যনি ওয়াট সাজঘরের পথ ধরেন।   এরপর তৃতীয় উইকেটে চাপ সামলে নেন ন্যাট স্কিভার ব্রান্ট ও অ্যালিস ক্যাপসি। ২৩ রানে থামেন ক্যাপসি। আর ২ রান করেন হেথার নাইট। এদিকে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলেন স্কিভার ব্রান্ট ও ফ্রেইয়া ক্যাম্প। ফিফটি পূরণের পর ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন ব্রান্ট। আর ৪৪ রানের অপ্রতিরোধ্য ইনিংসটি খেলেন ক্যাম্প।   অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটি করে উইকেট নিয়েছেন চারজন বোলার।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
হৃদয়ের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, নেই লিটন-তাসকিন

চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টও খেলতে পারেননি লিটন দাস। দলের অন্যতম সেরা তারকাকে পাওয়া যাবে না প্রথম ওয়ানডেতেও। যদিও দ্বিতীয় ওয়ানডে থেকে লিটনের খেলার কথা রয়েছে। তবে ওয়ানডে সিরিজের পর হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে আবার থাকছেন না তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। ঘোষিত স্কোয়াডে নেই লিটন। অবশ্য এলপিএলের জন্য তাকে জাতীয় দল থেকে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি শোনা গিয়েছিল আগেই। তাই অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতো এই সিরিজেও দলকে নেতৃত্ব দিতে হবে সহ-অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়কে, যিনি অধিনায়ক হিসেবে এখনও নিজের প্রথম জয়ের খোঁজে রয়েছেন। লিটনের মতো বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাসকিন আহমেদকেও। জাতীয় দলে 'বিশ্রাম' পাওয়া তাসকিনও অবশ্য এলপিএলে খেলবেন। দলে নেই শামীম হোসেন পাটোয়ারি। তবে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। জায়গা ধরে রেখেছেন আরেক অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ওয়ানডে দলের পর টি-টোয়েন্টি দলেও প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার সাথে ফিরেছেন ইয়াসির আলী চৌধুরীও। প্রসঙ্গত, বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে আগামী ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই হবে তিনটি টি-টোয়েন্টি। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায়। একনজরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড তাওহীদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলী চৌধুরী, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, সাইফউদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

মারিয়া রহমান জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জিম্বাবুয়ের কাছে লজ্জার হারে টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পতন

পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের সুবাদে আইসিসির টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো সপ্তম স্থানে উঠে এসেছিল টাইগাররা। তবে সেই অবস্থান এক মাসও ধরে রাখতে পারল না নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর আবারও এক ধাপ পিছিয়ে অষ্টম স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তান।   হারারেতে একমাত্র টেস্টে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দ হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় জিম্বাবুয়ের হাতে। এরপর স্বাগতিকরা ৪১০ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করে। ২৭০ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার—কেউই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮৫ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। ফলে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় শান্তদের।  বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ইনিংস ব্যবধানে হার নতুন নয়। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন পরাজয় এসেছে মাত্র দ্বিতীয়বার। সবশেষ ২০০১ সালে দুই দলের প্রথম টেস্ট সাক্ষাতে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। প্রায় ২৫ বছর পর আবারও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হলো।  এই হারের প্রভাব পড়েছে আইসিসির সর্বশেষ টেস্ট র‍্যাংকিংয়েও। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৮। কিন্তু জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়ের ফলে ৫ রেটিং পয়েন্ট হারিয়ে এখন তাদের সংগ্রহ ৭৩। ফলে অষ্টম স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ।  অন্যদিকে ৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তান। ফলে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে টেস্ট র‍্যাংকিংয়ে নিজেদের অর্জিত অবস্থান হারাতে হলো বাংলাদেশকে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সূর্যবংশী নাকি গিল? বিসিসিআইকে বড় পরামর্শ মাঞ্জরেকারের

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে শোচনীয় সিরিজ হারের পর কাটাছেঁড়া চলছে ভারতীয় দলকে নিয়ে। অনেকেই বলছেন বৈভব সূর্যবংশীকে ভারতের জার্সিতে ওপেন করার সুযোগ দেওয়ার সময় হয়ে গেছে। তবে এর চেয়ে সম্পূৰ্ণ অন্য পথে হেঁটে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে শুভমান গিলকে দলে ফেরানোর প্রস্তাব রাখলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। এর আগে ভারতের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন শুভমান গিল। কিন্তু ব্যাট হাতে এই ফরম্যাটে ভারতের সাথে মনে রাখার মতো কিছু ধারাবাহিকভাবে করে দেখাতে পারেননি তিনি। ফলে তাকে বিশ্বকাপের ঠিক আগে দল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় বিসিসিআই। অজিত আগারকারের নির্বাচন কমিটি তার বদলে সঞ্জু স্যামসনকে দলে ফেরত আনেন এবং ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাতে বড় ভূমিকা পালন করে কেরালার এই ক্রিকেটার। কিন্তু বিশ্বকাপের পরের ছবিটা এখন সম্পূর্ণ অন্যরকম। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে ব্যাট হাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ সঞ্জু স্যামসন। গোটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাশাপাশিয়ার আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজেও ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত অভাবে ভুগছেন অভিষেক শর্মা। এমন পরিস্থিতিতে বৈভব সূর্যবংশীর দলে ঢোকার দাবির পাশাপাশি শুভমান গিলকে দলে ফেরানোর দাবিও তুলে দিলেন মাঞ্জরেকার।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন সঞ্জয়ের মতে সেই সময়ে ভারতীয় দলের হয়ে সফল না হলেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সফল হওয়ার যাবতীয় উপাদান মজুত রয়েছে গিলের মধ্যে। এই প্রসঙ্গে সঞ্জয় আরও বলেন, “শুভমান একজন দুর্দান্ত টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হতে পারে। গত আইপিএলে ও অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। আমি তাকে ভারতীয় দলে অধিনায়ক হিসেবে ফেরানোর কথা বলছি না; তবে এই ধরনের ক্লাসিক ব্যাটারদের ধীরে ধীরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনা উচিত। কারণ, ইংল্যান্ড বা বিদেশের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, বিদেশের পিচের চরিত্রের সাথে তারা বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে এবং তাদের খেলার মধ্যেও অনেক গভীরতা রয়েছে।”ভারতীয় সংস্কৃতি অনেকেই আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় দলের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে আইপিএলকে দোষী করছিলেন। ভারতের ব্যাটিং বান্ধব পরিবেশে দীর্ঘদিন আইপিএল খেলে তারপর আয়ারল্যান্ডে পিচে বোলারদের জন্য সাহায্য থাকতেই ভারতের ব্যাটারদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এক্ষেত্রে শুভমান গেলের মতো কপিবুক, ক্লাসিক ক্রিকেটারের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, এমন ধারণার সাথে একমত অনেকেই।

মারিয়া রহমান জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হারারের বড় হার নিয়ে হতাশ শান্ত, দোষ দিলেন ব্যাটিং ব্যর্থতাকে

হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর দলের পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মতে, প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।   ম্যাচ শেষে শান্ত বলেন, প্রথম ইনিংসে দল প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেনি। বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগেই বাংলাদেশ নিজেদের সেরাটা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলেই এমন বড় পরাজয় এসেছে।   তিনি আরও বলেন, হারারের কন্ডিশন ভিন্ন হলেও সেটির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই ছিল দলের দায়িত্ব। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় দল সুবিধা নিতে পারেনি। শান্তের ভাষায়, প্রতিপক্ষের পেসাররা ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করেছে এবং বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রয়োজনীয় ক্রিকেটীয় শট খেলতে পারেননি।   মূল পেসারদের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গে অধিনায়ক জানান, এটি দলের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা মাঠে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।   দুই ইনিংসেই বাংলাদেশ ২০০ রানের নিচে অলআউট হয়। পুরো ম্যাচে মুমিনুল হকের ৬০ রানই ছিল দলের একমাত্র অর্ধশতক।   তবে টেস্টের হতাশা পেছনে ফেলে আসন্ন সীমিত ওভারের সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শান্ত। তিনি বলেন, সাদা বলের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক কয়েকটি সিরিজে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে এবং জয়ও পেয়েছে। দলের ক্রিকেটাররা আত্মবিশ্বাসী, তাই আগামী সিরিজে ভালো ফলের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান জুন ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তাইজুলের জোড়া আঘাতে ভাঙল জিম্বাবুয়ের জুটি

হারারে টেস্ট একেবারে ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশের। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর টাইগার বোলাররাও সুবিধা করতে পারছে না।   সোমবার ১ উইকেটে ১৩৬ রানে দ্বিতীয় দিন শুরু করে জিম্বাবুয়ে। দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। ইনোসেন্ট কাইয়া তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। অন্য প্রান্তে ব্রায়ান বেনেটও খেলেন আক্রমণাত্মক ইনিংস। দু’জনের ব্যাটে বড় লিডের পথে যাচ্ছিল স্বাগতিকরা।   তবে লাঞ্চ বিরতির পর মাঠে নেমেই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে ১০৭ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৬৭ বলে ৫৯ রানে সাজঘরে ফেরেন বেনেট। ২৫০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।   এর কিছুক্ষণ পর সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া ইনোসেন্ট কাইয়াকেও আউট করেন তাইজুল। তিনি ২২৭ বলে ১৪০ রান করেছেন। পর পর দুই সেটেল ব্যাটসম্যানকে আউট করে জিম্বাবুয়ের গতি কিছুটা থামিয়ে দিয়েছেন তাইজুল।   এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪ উইকেট হারিয়ে ২৭৯ রান করেছে জিম্বাবুয়ে।   এর আগে, রবিবার প্রথম ইনিংসে খেলতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া ও বেন কারান। খেলেছেন ওয়ানডে মেজাজে। ৮৯ রানে প্রথম উইকেট পড়ে যায় জিম্বাবুয়ের। বেন কারান ৫১ বলে ৪২ রানে সাজঘরে ফেরেন। তার আউটের পর দিনের শেষ পর্যন্ত খেলেছেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও ব্রেন্ডন টেইলর। ১ উইকেটে ১৩৬ রানে প্রথম দিন শেষ করে জিম্বাবুয়ে।   এর আগে, রবিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ১৭ বলে ২ রান করে ফিরে যান। ৬ রানের মধ্যেই প্রথম ধাক্কা খায় টাইগাররা।   তবে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দু’জন মিলে ৩০ রানের জুটি গড়লেও দলীয় ৩৬ রানে ২০ রান করে আউট হন সাদমান।   পরে মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৭৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ১১৩ রানে ৮১ বলে ৬০ রান করে নিউম্যান নিয়ামহুরির শিকার হন মুমিনুল।   এরপর ৭৩ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন শান্তও। এক প্রান্তে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে প্রত্যাশা থাকলেও তিনি রিচার্ড এনগারাভার বলে বোল্ড হয়ে দ্রুত ফিরে যান।   তার আউটের পর আর দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের ইনিংস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। জিম্বাবুয়ের হয়ে নিউম্যান নিয়ামহুরি নেন ৪ উইকেট।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৯, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
অন্যান্য

মৃত্যুর পরও সওয়াব পৌঁছায় যে ৬ আমলে

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৬, ২০২৬