ক্রিকেট

ছবি : সংগৃহীত
কোহলিকে আরও চার বছর দলে রাখতে চায় বেঙ্গালুরু

বছরের শেষ দিকে ৩৮তম জন্মদিন পালন করবেন ভিরাট কোহলি। কিন্তু ২২ গজে তিনি যেন এখনও তরুণ। বয়সের ছাপ তার মাঠের পারফরম্যান্সে একটুও পড়ছে না। সবশেষ আইপিএলেও আলো ছড়ানো ভারতীয় গ্রেটকে অন্তত আরও চার বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলতে দেখতে চান ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রধান নির্বাহী রাজেশ মেনন।   আইপিএলের শুরু থেকে বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলছেন কোহলি। দলটিকে দীর্ঘ দিন নেতৃত্বও দেন তিনি। ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান করে ২০২৫ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম শিরোপা জেতে দলটি। আর চলতি বছর সেটি ধরেও রাখার কীর্তি গড়ে তারা। দুটি আসরেই ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখেন কোহলি।   গত চারটি আইপিএল আসরে রানের স্রোত বইয়ে দেন কোহলি। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিটি মৌসুমেই ছয়শর বেশি রান করেন তিনি। গত দুই আসরে তার রান ছিল ৬৫৭ ও ৬৭৫। সবশেষটিতে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জেতেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।   বেঙ্গালুরুর মালিকানা বদলের ঘোষণা এসেছে গত মাসেই। তবে এতে কোহলির সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সম্পর্কের কোনো বদল আসবে বলে মনে করেন না রাজেশ। সিএনবিসি টিভি১৮ এর সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি বলেন, আরও চার বছর খেলার মতো প্রাণশক্তি আছে কোহলির।   আরসিবি ও ভিরাট একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। শুরু থেকেই তিনি এই দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পাট চুকিয়ে ফেলার পরও তিনি আরসিবির অংশ থাকবেন না—এমনটা আমরা ভাবতেই পারি না। বিষয়টি আমাদের ভেবে দেখতে হবে।   তবে এটুকু বলতে পারি, আগামী তিন থেকে চার বছর তিনি নিশ্চিতভাবেই খেলা চালিয়ে যাবেন… অন্তত চার বছর তো বটেই। তিনি পুরোপুরি ফিট এবং তার ক্ষুধা শেষ হওয়ার নয়। এবারের আইপিএল মৌসুমেও তার অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি, রান আর আগ্রাসী মনোভাব দেখা গেছে… সবকিছুই একদম ঠিকঠাক ছিল। তাই আগামী তিন-চার বছর খেলা চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হবে না।   ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইপিএলের মেগা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। চলমান মেগা নিলাম চক্রের আর মাত্র এক বছর বাকি। ২০২৮ সালের আসরের আগে আবার দলগুলোর স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন আসবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: বিসিবি
লড়াইয়ের পরও ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজ হাতছাড়া বাংলাদেশের

১৯৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মরণপণ লড়াই করল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান আর পারভেজ হোসেন ইমনদের ব্যাটে জয়ের সুবাসও পাচ্ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের স্নায়ুচাপ আর ব্যাটিং ব্যর্থতায় তীরে এসে তরী ডুবল টাইগারদের। দ্বিতীয় টি২০তে বাংলাদেশকে ৭ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া। চট্টগ্রামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ম্যাট রেনশর বিধ্বংসী ৮৯ এবং টিম ডেভিডের ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের পাহাড় গড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ১৯৭ রানের বিশাল রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ যেভাবে শুরু করেছিল, তা ছিল অবিশ্বাস্য। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান মাত্র ২ ওভারেই স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলেন ৩৩ রান। তবে এই বিধ্বংসী জুটি বেশি দূর এগোতে পারেনি। ৪র্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে ১৫ বলে ৩০ রান করা তানজিদকে নিজের ফিরতি ক্যাচে পরিণত করে ব্রেক-থ্রু এনে দেন ম্যাট রেনশ। এরপর উইকেটে এসে সৌম্য সরকারও (৯ বলে ১৫) দ্রুত সাজঘরে ফিরলে ৭৭ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে নিয়ে আসেন। ১২ ওভারেই বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২২ রান। কিন্তু থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি দুই ব্যাটারই। প্রথমে অ্যারন হার্ডির বলে কাভারে মিচেল মার্শের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩৬ রান করা পারভেজ। এর কিছুক্ষণ পর বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিসের শিকার হন ৪২ রান করা সাইফ। দ্রুত এই দুই উইকেট পতনের পর কঠিন হয়ে পড়ে সমীকরণ। শেষ ৪ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪৪ রান। বাঁচা-মরার ম্যাচে শেষ দিকে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধীরগতির হয়ে যায়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। ক্রিজে থাকা হৃদয় শেষ বল পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৩৫ রানে ক্যাচ আউট হন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। আগামী ২১ জুন একই ভেন্যুতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৪১ বছরেও অপ্রতিরোধ্য ডু প্লেসিস, ৪৫ বলে সেঞ্চুরিতে টেক্সাসের রেকর্ড রান তাড়া

ডালাসে মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) উদ্বোধনী ম্যাচে বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা আবারও প্রমাণ করলেন ফাফ ডু প্লেসিস। ৪১ বছর বয়সে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে টেক্সাস সুপার কিংসকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক।   সিয়াটল অর্কাসের দেওয়া ২২১ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টেক্সাস সুপার কিংস ১৮.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে। দলের জয়ের নায়ক ডু প্লেসিস ৫২ বলে অপরাজিত ১১৩ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৬টি ছক্কা। মাত্র ৪৫ বলে শতক পূর্ণ করে তিনি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরি করার নতুন রেকর্ড গড়েন। ম্যাচের দিন তার বয়স ছিল ৪১ বছর ৩৪১ দিন।   ডু প্লেসিসের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন রাইলি রুশো। তিনি ২১ বলে ৪৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। দুজন মিলে মাত্র ৩৭ বলে ৯৫ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। শেষদিকে উইয়ান মুল্ডার ১৫ বলে অপরাজিত ৩১ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।   এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সিয়াটল অর্কাস বিশাল সংগ্রহ গড়ে। ওপেনার টিম সিফার্ট ৬৬ বলে ১০৪ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন। অন্য ওপেনার শায়ান জাহাঙ্গির করেন ৪৭ বলে ৭৮ রান। দুজনের ১৯১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভর করে সিয়াটল ২০ ওভারে ২২০ রান তোলে।   তবে ব্যাটারদের উৎসবের ম্যাচে শেষ হাসি হাসে টেক্সাস সুপার কিংস। ডু প্লেসিসের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে এমএলসির নতুন মৌসুম শুরু করল তারা স্মরণীয় এক জয় দিয়ে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় ৭৫ বছর পর ইংল্যান্ডের এমন টেস্ট একাদশ

লর্ডস টেস্টের একাদশ থেকে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে ওভালে নামছে ইংল্যান্ড, অভিষেক হচ্ছে তিন জনের।   নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগের দিন কন্যা সন্তানের বাবা হওয়ার সুখবর পেয়েছেন জেমি স্মিথ। এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। তার‍ জায়গায় টেস্ট ক্যাপ পাচ্ছেন তরুণ কিপার-ব্যাটসম্যান জেমস রু। তাতে সাড়ে সাত দশক আগের একটি স্মৃতি ফিরছে ইংলিশ ক্রিকেটে।   ওভালে বুধবার শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। স্মিথকে রেখেই সোমবার ঘোষণা করা হয় ইংল্যান্ডের একাদশ। তখনই অবশ্য জানানো হয়েছিল, স্মিথ ছুটিতে গেলে তার জায়গায় খেলবেন রু।   মঙ্গলবার ভোরে স্মিথের সঙ্গী কেট দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্মিথকে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি তার সঙ্গী ও পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেন।   লর্ডসে জেতা প্রথম টেস্টের একাদশ থেকে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে ওভালে নামছে ইংল্যান্ড, অভিষেক হচ্ছে তিন জনের।   গত সপ্তাহে লন্ডনের একটি নাইটক্লাবের ঘটনায় অধিনায়ক বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াডেই রাখা হয়নি। হাঁটুর চোটে দল থেকে বাদ পড়েন অলি রবিনসন। লর্ডসে পেস সহায়ক উইকেটে শোয়েব বাশিরের অফ স্পিনের প্রয়োজন না হওয়ায় তাকেও বাইরে চলে যেতে হয়েছে। এবার ছুটিতে গেলেন স্মিথ।   রুর মতো টেস্ট ক্যাপ পাচ্ছেন ব্যাটসম্যান জর্ডান কক্স ও পেসার সনি বেকার। ফিরেছেন দুই পেসার জফ্রা আর্চার ও ম্যাথু ফিশার।   ২০১৭ সালের জুলাইয়ের পর এই প্রথম একাদশে তিন জন অভিষিক্ত ক্রিকেটারকে নিয়ে টেস্ট খেলতে নামছে ইংল্যান্ড। আর ১৯৫১ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম ইংল্যান্ড এমন পাঁচ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে টেস্ট খেলবে, যাদের কেউ এর আগে একটির বেশি টেস্ট খেলেননি।   তিন জন তো খেলবেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট। এছাড়া এমিলিও গে ও ফিশারের একটি করে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। লর্ডসে অভিষেক হয় ওপেনার গের। ২০২২ সালের মার্চে অভিষিক্ত ফিশার দ্বিতীয় টেস্ট খেলবেন চার বছর পর।   ২২ বছর বয়সী রু প্রথমবার ইংল্যান্ড টেস্ট দলে ডাক পান গত বছর। কয়েক বছর ধরে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিকভাবে রান করে আসছেন তিনি। ২০২৩ মৌসুমের শুরু থেকে প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতাটিতে ১১টি সেঞ্চুরি করেছেন দারুণ প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার।   এখন পর্যন্ত ৬৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৫৫.১৩ গড়ে তার রান তিন হাজার ৯২১। সেঞ্চুরি ১২টি, ফিফটি ১৭টি।   দ্বিতীয় টেস্টের ইংল্যান্ড একাদশ: এমিলিও গে, বেন ডাকেট, জ্যাকব বেথেল, জো রুট (অধিনায়ক), হ্যারি ব্রুক, জেমস রু (উইকেটকিপার), জর্ডান কক্স, জফ্রা আর্চার, জশ টং, ম্যাথু ফিশার, সনি বেকার।

মারিয়া রহমান জুন ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ইতিহাসে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে ফুরফুরে মেজাজে থেকে টি-টোয়েন্টিতে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আজ পরস্পরের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। চট্টগ্রামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়।   ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন টি-টোয়েন্টির নিয়মিত অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। তার টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। অবশেষে সেই শঙ্কায় সত্যি হলো। প্রথম ম্যাচের একাদশে নেই এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।   এদিকে আজ অভিষেক হতে যাচ্ছে ডানহাতি পেসার আবদুল গাফফার সাকলাইনের। আর ১৩তম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হচ্ছে তাওহীদ হৃদয়ের।   ২০০৫ সালে প্রথমবার অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে দুই দশকের বেশি সময়। এবার শুধু জয় নয়, সদ্য শেষ হওয়ার ওয়ানডে সিরিজটাই নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা। টানা দুই ম্যাচ জিতে আগে-ভাগেই সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে সান্তনার জয় পায় সফরকারীরা।

মারিয়া রহমান জুন ১৭, ২০২৬
অনুশীলনে বাংলাদেশ শিবির। ছবি : সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের একাদশ কেমন?

ওয়ানডে সিরিজ শেষ। এবার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হচ্ছে টি-টোয়েন্টিতে। একপাশে ফর্মে থাকা বাংলাদেশ, আরেক পাশে কিছুটা টালমাটাল অস্ট্রেলিয়া। তবে অস্ট্রেলিয়া তো অস্ট্রেলিয়াই। বরাবরের মতই শক্তিশালী দল অজিরা।   টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশও কম যাচ্ছে না। ঘরের মাঠে এই ফরম্যাটে বেশ ভালো ফর্মে আছে টাইগাররা। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সিরিজ করেছে ১-১ ড্র। তবে এর আগে নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর ইতিহাস আছে বাংলাদেশের। এশিয়া কাপেও প্রায় ফাইনালে চলেই গিয়েছিল। যদিও পাকিস্তানের কাছে হেরে তা করা হয়নি।   বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা বরাবরের মতই পেস বোলিং ইউনিট। কিউই সিরিজে তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং নাহিদ রানা না থাকলেও এবার ফিরছেন সবাই। সাথে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা আবদুল গাফফার সাকলাইন হতে পারেন ট্রাম্পকার্ড। ফর্মে আছেন শরিফুল ইসলামও। এই পাঁচজনের মধ্যে কোন ৩ জনকে খেলানো হবে তা বড় এক চিন্তার ব্যাপার টাইগার টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য। যদিও এই চিন্তা ভালো চিন্তাই। আপাতদৃষ্টিতে তাসকিন, মুস্তাফিজের সাথে তৃতীয় পেসার হিসেবে শরিফুল ইসলাম কিছুটা এগিয়ে। তবে নাহিদ রানাকেও ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই।   লিটন দাস কিছুটা চোটে ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে গেছেন খেলার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। ভাইরাল জ্বরে ভুগছেন পারভেজ হোসেন ইমনও। লিটন খেলতে না পারলে অধিনায়কের দায়িত্বে দেখা যাবে তাওহিদ হৃদয়কে। স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে সৌম্য সরকারকেও। তবে লিটন ইমন দুজনই খেললে ৩ এবং ৪ নম্বরে থাকবেন দুজন। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের সাথে সাইফ হাসান খেলছেন প্রায় নিশ্চিত।   পাঁচে হৃদয়ের সাথে ছয়ে থাকবেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ৩ পেসারের সাথে ২ স্পিনার হতে দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন শেখ মেহেদী হাসান এবং রিশাদ হোসেন। বেঞ্চে থাকতে হতে পারে নাসুম আহমেদ। টাইগার পেস ইউনিটের সাথে স্পিন ইউনিটও দারুণ ছন্দে আছে। রিশাদ, মেহেদীরা ঘরের মাঠে দারুণ ধারাবাহিক। মেহেদী পাওয়ারপ্লের সাথে কার্যকরী ডেথেও। রিশাদের লেগ স্পিন সামলানোও কঠিন হবে।   অজি শিবিরে স্বস্তির বাতাস মিচেল মার্শের ফেরা, সাথে দলে আছেন টিম ডেভিডও। বিগ ব্যাশে রিশাদের সাথে হোবার্ট হারিকেন্সে খেলা নিখিল চৌধুরী আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়। বিগ ব্যাশে হোবার্টের জার্সিতে দারুণ উজ্জ্বল ছিলেন নিখিল। অভিষেকটা হয়ে যেতেই পারে। পেস ইউনিটে জাভিয়ের বার্টলেট, নাথান এলিস, স্পেনসার জনসনরা কার্যকরী হতে পারেন চট্টলায়। লেগি অ্যাডাম জাম্পা তো থাকছেনই।   চট্টগ্রামের উইকেট বরাবরই রানপ্রসবা। এবারও সেরকম উইকেটই থাকার কথা। সেক্ষেত্রে আগে ব্যাট করলে বড় রান তোলা এবং পরে ব্যাট করলে বড় পুঁজি তাড়া করা – দুই কাজেই নিজেদের পারদর্শী করতে হবে বাংলাদেশকে। সর্বশেষ বেশ কিছু সিরিজে ব্যাটাররা ভালোই ঝলক দেখিয়েছেন। সেই ধারা অজি সিরিজেও ধরে রাখার পালা এবার।   চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ দুপুর ২টায় মাঠে গড়াচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ।   একনজরে দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ   বাংলাদেশ : সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক এবং অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা/শরিফুল ইসলাম।   অস্ট্রেলিয়া : মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জশ ইংলিস (অধিনায়ক), কুপার কনোলি, ম্যাট রেনশ, নিখিল চৌধুরী/জোয়েল ডেভিস, টিম ডেভিড, অ্যারন হার্ডি, জাভিয়ের বার্টলেট, নাথান এলিস, স্পেনসার জনসন, অ্যাডাম জাম্পা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৭৫ বছর পর ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে বড় পরিবর্তন

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগের দিন কন্যা সন্তানের বাবা হওয়ার সুখবর পেয়েছেন জেমি স্মিথ। এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। তার‍ জায়গায় টেস্ট ক্যাপ পাচ্ছেন তরুণ কিপার-ব্যাটসম্যান জেমস রু। তাতে সাড়ে সাত দশক আগের একটি স্মৃতি ফিরছে ইংলিশ ক্রিকেটে।   ওভালে বুধবার শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। স্মিথকে রেখেই সোমবার ঘোষণা করা হয় ইংল্যান্ডের একাদশ। তখনই অবশ্য জানানো হয়েছিল, স্মিথ ছুটিতে গেলে তার জায়গায় খেলবেন রু।   মঙ্গলবার ভোরে স্মিথের সঙ্গী কেট দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্মিথকে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি তার সঙ্গী ও পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেন।   লর্ডসে জেতা প্রথম টেস্টের একাদশ থেকে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে ওভালে নামছে ইংল্যান্ড, অভিষেক হচ্ছে তিন জনের।   গত সপ্তাহে লন্ডনের একটি নাইটক্লাবের ঘটনায় অধিনায়ক বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াডেই রাখা হয়নি। হাঁটুর চোটে দল থেকে বাদ পড়েন অলি রবিনসন। লর্ডসে পেস সহায়ক উইকেটে শোয়েব বাশিরের অফ স্পিনের প্রয়োজন না হওয়ায় তাকেও বাইরে চলে যেতে হয়েছে। এবার ছুটিতে গেলেন স্মিথ।   রুর মতো টেস্ট ক্যাপ পাচ্ছেন ব্যাটসম্যান জর্ডান কক্স ও পেসার সনি বেকার। ফিরেছেন দুই পেসার জফ্রা আর্চার ও ম্যাথু ফিশার।   ২০১৭ সালের জুলাইয়ের পর এই প্রথম একাদশে তিন জন অভিষিক্ত ক্রিকেটারকে নিয়ে টেস্ট খেলতে নামছে ইংল্যান্ড। আর ১৯৫১ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম ইংল্যান্ড এমন পাঁচ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে টেস্ট খেলবে, যাদের কেউ এর আগে একটির বেশি টেস্ট খেলেননি।   তিন জন তো খেলবেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট। এছাড়া এমিলিও গে ও ফিশারের একটি করে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। লর্ডসে অভিষেক হয় ওপেনার গের। ২০২২ সালের মার্চে অভিষিক্ত ফিশার দ্বিতীয় টেস্ট খেলবেন চার বছর পর।   ২২ বছর বয়সী রু প্রথমবার ইংল্যান্ড টেস্ট দলে ডাক পান গত বছর। কয়েক বছর ধরে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিকভাবে রান করে আসছেন তিনি। ২০২৩ মৌসুমের শুরু থেকে প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতাটিতে ১১টি সেঞ্চুরি করেছেন দারুণ প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার।   এখন পর্যন্ত ৬৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৫৫.১৩ গড়ে তার রান তিন হাজার ৯২১। সেঞ্চুরি ১২টি, ফিফটি ১৭টি।   দ্বিতীয় টেস্টের ইংল্যান্ড একাদশ: এমিলিও গে, বেন ডাকেট, জ্যাকব বেথেল, জো রুট (অধিনায়ক), হ্যারি ব্রুক, জেমস রু (উইকেটকিপার), জর্ডান কক্স, জফ্রা আর্চার, জশ টং, ম্যাথু ফিশার, সনি বেকার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
একাদশে স্পিন না পেস, সিদ্ধান্ত ম্যাচের দিনই: লিটন

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে নজর বাংলাদেশের। চট্টগ্রামের সাগরিকা স্টেডিয়ামে বুধবার শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে দলীয় একাদশ নিয়ে রহস্য বজায় রেখেছেন অধিনায়ক লিটন দাস।   মঙ্গলবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে লিটন জানান, প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা, উইকেটের আচরণ এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত একাদশ নির্ধারণ করা হবে।   তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা, কোন উইকেটে খেলছি এবং উইকেটের আচরণ কেমন হবে—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই একাদশ সাজানো হবে। তিন স্পিনার একসঙ্গে খেলার সম্ভাবনা কম হলেও সেটি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ম্যাচের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।” স্কোয়াডে রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদের পাশাপাশি আরও একজন স্পিনার থাকায় স্পিন আক্রমণের গঠন নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে অধিনায়কের বক্তব্যে স্পষ্ট, উইকেটের অবস্থা দেখে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্যকে দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বড় কারণ হিসেবে দেখছেন লিটন। তিনি বলেন, “শুধু সিরিজ জয় নয়, তিন ম্যাচেই আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। এটি দলের জন্য ইতিবাচক দিক। যদিও টি-টোয়েন্টি সম্পূর্ণ ভিন্ন ফরম্যাট, তারপরও অনেক ক্রিকেটার আগের সিরিজে খেলেছে বলে আত্মবিশ্বাস রয়েছে।”   এদিকে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের ফেরায় বাংলাদেশের পেস আক্রমণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিষয়টিকে দলের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক।   লিটনের ভাষ্য, “তাসকিন ও মুস্তাফিজের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ফিরে পাওয়া দলের জন্য বড় শক্তি। বেঞ্চও এখন অনেক সমৃদ্ধ। যেকোনো খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়ার মতো অবস্থায় আমরা আছি।”   তবে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং বিভাগেও আরও উন্নতির সুযোগ দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বিশেষ করে লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রত্যাশা তার।   তিনি বলেন, “ভালো দলকে হারাতে হলে নির্দিষ্ট দিনে সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটারদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। তারা সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দলের ফল আরও ভালো হবে।”

আক্তারুজ্জামান জুন ১৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে ফিরলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার: সৌম্য সরকার

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগমুহূর্তে বাংলাদেশ দলে যুক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার সৌম্য সরকার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।   চট্টগ্রামে বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজকে সামনে রেখে ৩৩ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৭ ম্যাচ খেলেছেন সৌম্য। তার সংগ্রহে রয়েছে ১,৪৬২ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ দলে অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন লিটন কুমার দাস। সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন তাওহিদ হৃদয়। লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, শামীম হোসেন, তাওহীদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক), কাজী নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, আব্দুল গফ্ফার সাকলাইন এবং সৌম্য সরকার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপকে সামনে রেখে পরিকল্পনায় বাংলাদেশ

মেহেদি হাসান মিরাজের বয়স তখনও আট হয়নি। তবে টিভি পর্দায় ঐতিহাসিক জয়টি দেখার স্মৃতি তার মনে পড়ে। সেই যে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ! সেই জয়ের ২১ বছর পর এবার মিরাজের নেতৃত্বেই ধরা দিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়। এবার শুধু একটি ম্যাচ নয়, সিরিজ জয়। বাংলাদেশের টানা চতুর্থ সিরিজ জয়। তবে এসব সিরিজ কেবলই ওপরে ওঠার সিড়ি। অধিনায়ক বললেন, বড় আসরে বড় কিছু করার জন্যই পরিকল্পনার পথ ধরে ছুটছেন তারা। আট মাস আগেও ওয়ানডে সংস্করণে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ছিল আঁধার। আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল অনিশ্চয়তার দোলাচলে। কিন্তু টানা চারটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ে শঙ্কা দূর হয়েছে অনেকটাই। আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি এখনও। তবে অতি নাটকীয় কিছু না হলে, ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য বাছাই খেলতে হবে না মিরাজদের। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে অবশ্য র‌্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ডকে টপকে আটে উঠে আসতে পারত বাংলাদেশ। সাতে ওঠার হাতছানিও ছিল সামনেই। আপাতত সেসব হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ও তাদেরকে কাছ থেকে সমীহ আদায় করতে পেরে খুশি মিরাজ। “সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট। অধিনায়ক হিসেবে অবশ্যই আমার কাছে ভালো লাগার জিনিস এগুলো। পাশাপাশি, যারা ক্রিকেট খেলা দেখছে এবং আপনারা যারা আছেন, সবাই ভালো অনুভব করছে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মত দলের বিপক্ষে যদি আমরা ভালো খেলতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য একটা বিরাট সুযোগ থাকে।” “তারা কিন্তু আমাদেরকে নিয়ে কথা বলছে, প্রশংসা করছে বোলারদেরকে নিয়ে, ব্যাটসম্যানদেরকে নিয়ে এবং তাদেরকে যে আমরা কঠিন সময়টা দিচ্ছি, সেটা নিয়ে তারা আমাদেরকে সেই সম্মানটা দিচ্ছে। এটা অবশ্যই উন্নতির একটা লক্ষণ এবং আশা করি, এভাবে যদি চালিয়ে করতে পারি, আরও ভালো একটি দল হবে।” গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করার পর এই বছর পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়েছিল মিরাজের দল। সেই পথ ধরে এবার সিরিজ জয় ধরা দিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে। এবারের জয়ের আনন্দ একটি অন্যরকমও। ওয়ানডে ইতিহাসের সফলতম দেশ, বরারই দারুণ পেশাদার দল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এমন জয় মিরাজের কাছে বিশেষ কিছু। “এটা অবশ্যই অনেক স্পেশাল। কারণ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আগে আমরা কখনোই সিরিজ জিতিনি। একটা ম্যাচ আমরা হয়তো জিতেছিলাম, সেই ২০০৫ সালে। আমি অনেক ছোট ছিলাম, আমি দেখেছিলাম ম্যাচটা। আমার এখনও মনে আছে। এবার যেহেতু আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ জিতেছি, এটা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বিরাট একটা অর্জন।” “আরও সবচেয়ে বড় অর্জন এটাই মনে করি যে, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা আমাদেরকে নিয়ে প্রশংসা করছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে এবং বাংলাদেশের কন্ডিশন নিয়ে, উইকেট নিয়ে, ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে। এটা আমাদের একটা বিরাট অর্জন।” এসব অর্জনেই অবশ্য তৃপ্ত থাকতে চান না মিরাজ। এশিয়ান ও বিশ্ আসরে বড় কিছু করতে না পারার যে আজন্ম আক্ষেপ বাংলাদেশ ক্রিকেটে, সেই অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দিতেই এই দল ছুটছে বলে জানালেন অধিনায়ক। “আমাদের কিন্তু দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। গত এক বছরে আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। এটা আসলে একদিনে সম্ভব নয়। এর আগেও বলেছি, একটা দল যখন আমরা (গঠন) করি, তখন অবশ্যই আমাদের একটা পরিকল্পনা থাকে যে, আমরা কীভাবে দলটাকে বানাব এবং কী কম্বিনেশনে আমরা খেলব।” “গত এক বছর আমরা ওভাবেই পরিকল্পনা করেছি, সামনে আমাদের বিশ্বকাপ আছে, কোন পজিশনে কাকে সেট করব এবং কোন পজিশনে একটা ক্রিকেটারকে অনেক বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ দেব। এটা আমরা করেছি এবং বিভিন্ন সময় আপনারাও দেখেছেন যে, বিভিন্ন পজিশনেও খেলতে হয়েছে অনেক ক্রিকেটারকে। এটা শুধু আমাদের (দ্পিাক্ষিক) সিরিজ না, সামনে যে বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপ আছে, সেটাকে লক্ষ্য করেই আমরা এগোতে চাচ্ছি এবং সেই পরিকল্পনাগুলো সাজাচ্ছি এবং আশা করি যে, আমরা ভালো একটা দলে পরিণত হয়েছি এখন।” বাংলাদেশের পরের ওয়ানডে সিরিজ আগামী মাসে জিম্বাবুয়েতে।

মারিয়া রহমান জুন ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
কাউন্টিতে শুরুতেই ৯ উইকেট নিয়ে হাসান মাহমুদের রাজসিক অভিষেক

ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেকেই দুর্দান্ত বোলিংয়ে নজর কাড়লেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। কেন্টের হয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করে দলকে জিতিয়েছেন তিনি।   ব্ল্যাকপুলের স্ট্যানলি পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৩২ রানে ৩ উইকেট নেন হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও বিধ্বংসী হয়ে ৬৯ রানে তুলে নেন ৬ উইকেট। ফলে ম্যাচে তার মোট শিকার ১০১ রানে ৯ উইকেট, এটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০০ উইকেট পূর্ণ করেন ৩৫তম ম্যাচেই; বর্তমানে তার মোট উইকেট ১০৪টি।   হাসানের আগুনঝরা বোলিংয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারকে ২৮৩ রানে গুটিয়ে ১৪০ রানের জয় পায় কেন্ট। ম্যাচটি শেষ হয় তিন দিনেই। চতুর্থ ইনিংসে ৪২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করলেও ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপ একাই ধসিয়ে দেন হাসান। তার ধারাবাহিক আঘাতে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি।   এই জয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-তে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে কেন্ট।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অজিদের হোয়াইটওয়াশের মিশনে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের ঘোষণা দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ইতোমধ্যে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নেমেছে টাইগাররা। শেষ ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। কনকাশনের কারণে দলে নেই মেহেদী হাসান মিরাজ।তার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান। এ ছাড়া পেসার নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ফিরেছেন শরিফুল ইসলাম। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব বিভাগেই দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। তাই শেষ ম্যাচেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জয়ের প্রত্যাশা স্বাগতিকদের। অন্যদিকে, ইতোমধ্যে সিরিজ হারানো অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য অন্তত শেষ ম্যাচটি জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো। দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাসকিন আহমেদ, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম।   অস্ট্রেলিয়া একাদশ: কুপার কনোলি, জশ ইংলিশ (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, অলিভার পিক, জাভিয়ের বার্টলেট, বেন ডোয়ারইস, অ্যাডাম জাম্পা ও রাইলি মেরিডিথ।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের নেপথ্যে সোনা চোরাচালানের তথ্য

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি চালান আটকের উদ্দেশ্যে বসানো চেকপোস্টে ভুল সন্দেহের শিকার হন এই ক্রিকেটার। পরিচয় দেওয়ার পরও ওসির নির্দেশে তাকে মারধর করে থানায় নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে প্রায়ই সোনা চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতেও সোনার একটি চালান পাচারের তথ্য পেয়ে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে চেকপোস্ট বসানো হয় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের নির্দেশে। ওই অভিযানে খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং সোর্স অংশ নেন।   সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে থাকা সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামান ওই পুলিশ সদস্যরা। ওই অটোরিকশাতেই ছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। পুলিশ সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, নাঈম তার পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন বা ভুয়া পরিচয় দিচ্ছেন। এরইমধ্যে নাঈমকে নিয়ে বাকবিতণ্ডার মধ্যে লোকজন জড়ো হয় ঘটনাস্থলে। তাদের অনেকে নাঈমকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার বলে শনাক্তও করেন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি পুলিশ। বরং সেখানে থাকা পুলিশের সোর্স নাঈমকে পেটানও।   পরে ওসি আরিফুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে নাঈম হাসানাকে থানায় নিয়ে যান এসআই শফিকুল ইসলাম।    থানায় নেওয়ার পরও নাঈম নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন। নিজের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে নাঈমকে হুমকি দিয়ে চোখ নামিয়ে কথা বলতে বলেন ওসি। ঠিক ওই মুহূর্তেই ওসির মোবাইলে একটি কল আসে। ফোনে কারও সাথে কথা বলার পর ওসির সুর পুরোপুরি চেঞ্জ হয়ে যায়। তখন উনি আমাকে বলেন, ‘ভাইয়া আপনি বসেন।’ অথচ প্রথমে ওনার আচরণ ছিল অন্যরকম।    নগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সোনা চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যে অটোরিকশায় নাঈম ছিলেন সেটিতে কোনো চোরাকারবারি ওঠার কথা ছিল অথবা আগে কোনো চোরাকারবারি নেমে যাওয়ার পর সেখানে নাঈম উঠেছিলেন। এ কারণেই তিনি পুলিশের সন্দেহের মধ্যে পড়েন।   ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বিমানবন্দর ফেরত যাত্রীদের লক্ষ্য করে তল্লাশির বিষয়ে আগে থেকেই তথ্য ছিল। সাধারণত এ ধরনের অভিযান ডিবি পুলিশ বেশি পরিচালনা করে থাকে। তবে ওসি আরিফ খুলশী থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রায় সময় অভিযানে নামেন। তার আওতাধীন এলাকায় লালখান বাজার ফ্লাইওভারে চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারীদের থামানো হয়।   খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন বলেন, সোনা বহনের তথ্য পেয়েই ওসি স্যারের নির্দেশে এসআই শফিকুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করেন। তার নির্দেশেই নাঈমকে থানায় নেওয়া হয়।   তবে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানের দাবি উল্টো। তিনি দাবি করছেন এই অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।    ঢাকা পোস্টকে ওসি বলেন, অভিযানের বিষয়ে ওই এসআই আমাকে কিছু জানাননি। রাতে কাজ শেষে আমি থানা থেকে বের হবো এমন সময়ে তাকে ধরে নিয়ে আসে এসআই শফিকসহ তার টিম। এ সময় আমি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং পরিচয় পেয়ে তাকে ছেড়ে দিই। আমার নির্দেশনা না নিয়ে অভিযানে যাওয়ায় ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   তবে ওসির এই বক্তব্যের সঙ্গে নাঈমের হাসানের বাবার বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। নাঈমের বাবা অভিযোগ করে বলেন, থানায় এসে পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আরিফ হোসেন আমার ছেলেকে অপমানজনক কথা বলেছেন।   নাঈম হাসানের বাবা মাহবুব আলম বলেন, রাতে খবর পেয়ে আমি দ্রুত থানায় যাই। পুলিশ আমাকে প্রথমে থানায় ঢুকতেই দেয়নি; দূরে গিয়ে বসতে বলে। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে থানায় প্রবেশের সুযোগ পাই। জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় পাওয়ার পরও আমার ছেলেকে ন্যাক্কারজনকভাবে মারধর করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। থানায় এসে পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আরিফ হোসেন আমার ছেলেকে অপমানজনক কথা বলেছেন।   নাঈমের গলা টিপে পুলিশ বলে ‘তুই গাড়িতে ওঠ’ শুক্রবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় যাচ্ছিলেন নাঈম। রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে তাকে বহনকারী অটোরিকশা থামানো হয়।   এর পরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাঈম হাসান বলেন, আমি পুলিশকে বললাম, আপনি আমার ব্যাগ চেক করেন দরকার হলে। আমাকে গলা টিপে ধরে বললো– ‘তুই গাড়িতে ওঠ’। এই বলে আমাকে গাড়িতে তুলল। আমি “আপনি আমার গলা টিপে ধরছেন কেন” বলে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে গেলাম। এরপর ওরা গলা টিপে ধরেই আমাকে মেরেছে এবং হেনস্তা করেছে। পুলিশ ছিল দুজন, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা মানুষ ছিল। ও কোনো পরিচয় দেয়নি, মারছিল পাইপ দিয়ে। পরে ১০০-২০০ মানুষ ছিল সেখানে, তারা আমার পরিচয় দিয়েছে, তবুও আমাকে মারছিল। বলছিল “তুই আসামি, কথা বলবি না”। আমি আইডি কার্ড দেখিয়েছি, তাও ওরা আমাকে মারছিল।’   নাঈম হাসান বলেন, ‘গাড়িতে থাকতেই ওসির সঙ্গে কথা বলেছে, উনি থানায় নিয়ে আসতে বলেন। এরপর আমাকে ব্যাগসহ এখানে (থানায়) এনে বলা হয় “স্যার (ওসিকে) নিয়ে আসছি।” আজ পর্যন্ত পুলিশ, আর্মি আমাদের ডাকলে দাঁড়ায়, উনারা চেক করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু গায়ে হাত দেবে কেন? সোর্সটা মেরেছে, পুলিশও লাঠি দিয়ে মেরেছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। এটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কিছু নেই। আজকে আমাকে মেরেছে, আরেকদিন অন্য কাউকে মারলে তার জন্য কেউ আসবে?’   এ ঘটনায় শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পর খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।   চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, নাঈম ন্যায়বিচার পাবেন। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশিং প্রক্রিয়ায় কাউকে মারধরের সুযোগ নেই। চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা গিয়েছিলেন কি না, তথ্যের উৎস কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল এবং অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না—সব বিষয় যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন পুলিশের এ আচরণের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আজ (শনিবার) বেলা ১১টার দিকে নাঈম হাসানের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় যান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। সেখানে তিনি স্বীকার করেন, পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন।     কমিশনার বলেন, জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যেই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়ছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।   সিএমপির একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ সালের দিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পরিদর্শক আরিফুর রহমান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এলাকা কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসিও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০২১-২০২২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ওসি ছিলেন আরিফুর। ওইসময় ওই এলাকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন সরকারের কাছ থেকে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হলে পুলিশ সদরদপ্তর তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। পরবর্তীতে সিএমপির বিশেষ শাখাতেও কাজ করেন তিনি।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হলে হঠাৎ নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা বলে পরিচয় দিতে থাকেন তিনি। এই পরিচয়ে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় যোগ দেন তিনি। সেখানেও ভূমি দখল এবং মাদক কারবারিদের সহায়তার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেন ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া নিজের সহকর্মী ও পার্শ্ববর্তী থানা পাঁচলাইশের ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে নিয়ে বিষোদগার করেন তিনি। তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে ওসি আরিফের একটি কথোপকথন ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীকে নিয়ে তার নানা আপত্তিকর মন্তব্যও শোনা যায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় খুলশী থানার ওসি প্রত্যাহার

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর করে থানায় নেওয়া এবং থানায় দুর্ব্যবহার নিয়ে দিনভর আলোচনার মধ্যে খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।   শনিবার রাত ১২টার দিকে সিএমপির সহকারি কমিশনার (পিআর) আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "খুলশী থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলে খুলশী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাকলিয়া থানা ওসিকে।   এছাড়া নগরীর অন্য একটি থানায় আগে ওসি হিসেব দায়িত্ব পালনকারী একজনকে বাকলিয়া থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, এটি নিয়মিত দায়িত্ব বন্টণের অংশ হিসেবে করা হয়েছে।   এর আগে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে ‘অপেশাদার’ আচরণের অভিযোগ পাওয়ার পর শনিবার দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।   এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসান রাতে ঢাকা থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে খুলশী থানাধীন লালখান বাজার এলাকায় খুলশী থানা পুলিশের রাত্রিকালীন মোবাইল-৩৩ টিমের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হন।   ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত খুলশী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।   এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার কথাও জানিয়েছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।   এর আগে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ফেরার পথে নগরীর লালখান বাজার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে চট্টগ্রামে পুলিশ পরিচয়ে মারধর ও থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে।   থানার নেওয়ার পর নিজের পরিচয় দেয়ার পরও খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান 'চোখ নামিয়ে কথা বলার' নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ নাঈমের।   পরে বিসিবির শীর্ষ কর্তাদের টেলিফোন পেয়ে ওসি নাঈম হাসানকে 'আপনি' সম্বোধন করে বসতে বলেন।   এরপর শুক্রবার গভীর রাতে নাঈম হাসানের বাবা, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় যায়। তারপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসেন।   এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা ফেইসবুকে সরব হন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়, টাইগারদের জন্য ২ কোটি টাকার বোনাস

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য ২ কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।   শনিবার সন্ধ্যায় মিরপুরে জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।   এর আগে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা।   বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে হারিয়ে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল দলটি।   এর আগেও বড় সাফল্যের পর জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বিশেষ বোনাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশের পর ক্রিকেটারদের জন্য ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।   এদিকে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে রোববার। সেই ম্যাচে জয় পেলে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি গড়বে বাংলাদেশ।   বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু সিরিজ জয় নয়, বরং ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ। টাইগারদের লক্ষ্য থাকবে শেষ ম্যাচেও জয় তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নাঈম হাসানকে ‘পুলিশি হেনস্তা’: প্রতিবাদে সরব মুশফিক-লিটন-তাসকিন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে রাস্তায় গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।   এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। এবার এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন নাঈমের সতীর্থ মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও তাসকিন আহমেদরাও। শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন নাঈম। সেখান থেকে বাসায় ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে তুলে নিয়ে মারধর করে থানায় নিয়ে যান। এরপর নগরীর খুলশী থানায়ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ নাঈমের। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুশফিক লিখেছেন, ‘নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যা ঘটেছে, তা আমাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। নাঈম, আমরা তোমার পাশে আছি।’ বাংলাদেশ দলের পেসার তাসকিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাইম হাসানের সাথে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ বাংলাদেশ টি–টুয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস সতীর্থকে সাহস জুগিয়ে লিখেছেন, ‘মাথা উঁচু রাখো নাঈম। তুমি একজন চমৎকার মানুষ। নাঈম হাসানের সাথে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাকে এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে দেখাটা হৃদয়বিদারক। একজন সহকর্মী এবং সতীর্থ হিসেবে এই ঘটনায় আমি সত্যিই মর্মাহত।’ লিটন আরও লিখেছেন, ‘এই দেশের কোনো নাগরিকেরই এমন আচরণ প্রাপ্য নয়, বিশেষ করে একজন জাতীয় ক্রিকেটার যিনি গর্বের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই ঘটনায় সুষ্ঠু ও যথাযথ তদন্তের আশা করছি এবং যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়।’ খুলশী পুলিশ জানিয়েছে, এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনকে খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নাঈমের অবস্থা পর্যবেক্ষণে চট্টগ্রামে ছুটছেন বিসিবির ফিজিওরা

ক্রিকেটারদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় বিসিবি বদ্ধপরিকর। একইসাথে নাঈম হাসানের সঙ্গে ঘটা এই ঘটনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। এ নিয়ে কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ আরো কয়েকজন বোর্ড পরিচালক।   এবার নাঈমের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন বিসিবির মেডিকেল টিমের দুই সদস্য, যার মধ্যে একজন ডাক্তার এবং একজন ফিজিও রয়েছেন। সেখানে পৌঁছে  তারা নাঈমের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেবেন এবং পর্যবেক্ষণ করবেন। যেহেতু সামনে টেস্ট সিরিজ রয়েছে। এর আগে আজ শনিবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, 'নাঈম হাসানকে হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বিসিবির। একইসাথে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি বোর্ডের। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের হাতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।' বিসিবি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, 'একজন জাতীয় ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন অগ্রহণযোগ্য ও অনুপযুক্ত আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। বোর্ড বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং মনে করে, এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বোর্ড আশা করছে, ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' ঘটনাটি জানার পর থেকেই বোর্ড নাঈম ও তার পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ও তাদের খোঁজখবর নিচ্ছে। একইসাথে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সঙ্গেও বোর্ড নিবিড়ভাবে কাজ করছে বোর্ড।' বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, 'বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তাদের সব ক্রিকেটারের কল্যাণ, মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর এবং এই ঘটনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।'

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তামিমকে পেছনে ফেলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এনামুল

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এনামুল হক বিজয়। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের ২৫তম সেঞ্চুরি করে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন তামিম ইকবালকে এবং দেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন।   ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন এনামুল। আবাহনীর বিপক্ষে তিনি ১১৫ বলে ১৪১ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন। এই ইনিংসেই আসে তার ক্যারিয়ারের ২৫তম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি।   এর আগে বাংলাদেশের হয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ২৪টি সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল তামিমের। ৩২০ ইনিংসে তিনি এই কীর্তি গড়েছিলেন। অন্যদিকে এনামুল মাত্র ২৩৪ ইনিংসেই ২৫ সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়লেন।   বাংলাদেশিদের মধ্যে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তার সেঞ্চুরি সংখ্যা ১৬। আর ১৫টি সেঞ্চুরি নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।   ২০০৯ সালে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিষেক হয় এনামুলের। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর তিনি জাতীয় দলে জায়গা করে নেন এবং ওয়ানডে অভিষেকের দ্বিতীয় ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকান। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি, তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।   বিশ্ব ক্রিকেটের লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরির তালিকায় অবশ্য এখনও অনেক এগিয়ে আছেন কিংবদন্তিরা। সচিন টেন্ডুলকার ও ভিরাট কোহলি ৬০ ও ৫৯টি সেঞ্চুরি নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনামুল হক বিজয়।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী আয়োজনে শুরু নারী টি-২০ বিশ্বকাপ

জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-২০২৬। ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক এজবাস্টন স্টেডিয়ামে শুক্রবার পর্দা ওঠে বিশ্ব নারী ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরের। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে ম্যাচ শুরুর আগে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।   ক্রিকেটের উত্তেজনার আগে এজবাস্টন রূপ নেয় এক সাংস্কৃতিক মঞ্চে। আলো, সঙ্গীত, নৃত্য এবং নাট্যশৈলীর সমন্বয়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দর্শকদের জন্য ছিল বিশেষ আকর্ষণ। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন ব্রিটিশ থিয়েটার জগতের জনপ্রিয় দুই তারকা এমা কিংস্টন ও জিজি স্ট্র্যালেন।   তাদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে নারী ক্রীড়াবিদদের সংগ্রাম, সাফল্য এবং বিশ্ব ক্রিকেটে নারীদের ক্রমবর্ধমান অবস্থানের গল্প। সুর, নৃত্য এবং নাটকীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে তারা নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রাকে উদযাপন করেন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে তাদের পরিবেশনার প্রশংসা করেন।   আইসিসি এবারের বিশ্বকাপকে নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় আসরে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছে। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আয়োজকরা জানান, নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে এবং এই বিশ্বকাপ সেই অগ্রযাত্রাকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও ছিল চোখে পড়ার মতো। আলোকসজ্জা, বিশেষ ভিজ্যুয়াল এফেক্ট এবং সঙ্গীতের সমন্বয়ে পুরো স্টেডিয়াম উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। ক্রিকেটপ্রেমীরা ম্যাচ শুরুর আগেই উপভোগ করেন এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন।   এরপর মাঠের লড়াইয়ে নামে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। তবে ম্যাচের আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানই ছিল দিনের প্রথম বড় আকর্ষণ। এমা কিংস্টন ও জিজি স্ট্র্যালেনের পরিবেশনা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচনাকে আরও বর্ণিল ও স্মরণীয় করে তোলে।   বিশ্বের সেরা দলগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে শিরোপার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ের যাত্রা শুরু হলো এজবাস্টনের ঝলমলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যে কারণে সিরিজের মাঝপথেই উইলিয়ামসনের বিদায়

লর্ডস টেস্ট শুরুর আগে কেন উইলিয়ামসন বলেছিলেন, এই মাঠে এটিই তার শেষ টেস্ট। কিন্তু তার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট হয়ে যাবে এটি, কে ভাবতে পেরেছিল! উইলিয়ামসন নিজেও আসলে তখনও জানতেন না। পরের কয়েক দিনের বদলে গেছে তার ভাবনা।   গত সপ্তাহে লর্ডসের ব্যালকনিতে বসে উইলিয়ামসন ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে শুরু করেন, ১১০তম টেস্টই হবে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।   পরের কয়েক দিনে মা-বাবা ও সঙ্গিনীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি, তাতে তার ভাবনা আরও পোক্ত হয়। এরপর দলের ঘনিষ্ঠ সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করেন, এর মধ্যে ছিলেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। পরে প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার এবং টিম ম্যানেজার মাইক স্যান্ডলকে জানিয়ে দেন, তার সময় শেষ।   তার ছোট্ট কথা, সরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই সঠিক সময় বলে মনে হচ্ছে।   নিউ জিল্যান্ড দলে তার বেশির ভাগ সতীর্থ খবরটি জানতে পারেন শুক্রবার সকালে, ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের একটু আগে। টিম হোটেলে স্বভাবসুলভ আয়েশি ভঙ্গিতে কোনো কারণ ছাড়াই ‘কফি ও আড্ডার’ জন্য সবাইকে ডাকেন তিনি। সেখানেই জানান যে, দেশের হয়ে শেষ ম্যাচটি তিনি খেলে ফেলেছেন।   তার সিদ্ধান্ত, শেষ করে সিদ্ধান্তের সময়টা চমকে দিয়েছে নিউ জিল্যান্ড দলসহ ক্রিকেট বিশ্বের অনেকেই। ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি মোটে শেষ হয়েছে। সামনের মৌসুমে আছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ। কিন্তু উইলিয়ামসন নিজের ভাবনায় পরিষ্কার, দলে পুরোপুরি নিবেদিত না হয়ে শুধু রেকর্ডে কয়েকটি ম্যাচ যোগ করার কোনো আগ্রহ তার নেই এবং তিনি নিশ্চিত বুঝতে পেরেছেন যে, তার সময় শেষ হয়ে এসেছে।   এখন যখন ড্রেসিংরুমের দিকে তাকাই এবং এখানকার প্রতিভাবান ছেলেদের দেখি, আর এই দল যে পথে এগোতে চাইছে বলে মনে হয়, আমার মনে হয়েছে, সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় এটিই। এটি নিয়ে আমি বেশ ভালো অনুভব করছি। অনেক কিছু নিয়ে ভাবলেই ব্যাপারটা মজার মনে হয়, কিন্তু সব ভালো কিছুরই শেষ আছে, আর এখন তো মৌসুমও বদলাচ্ছে।   দুই বছর আগে বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই নিউ জিল্যান্ডের হয়ে বেছে বেছে খেলছেন তিনি।   এটা আমার মাথায় ছিল না। তবে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে থাকলে প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিতে এবং পুরোপুরিভাবে নিজেকে সঁপে দিতে হয়, কারণ এটাই করে এসেছি সবসময় এবং দলের বাকি সবার কাছ থেকেও এটাই আশা করি, আর তারাও নিঃসন্দেহে খুব ভালোভাবে তা করে থাকে। আর হ্যাঁ, কিছুটা আত্মোপলব্ধিও ছিল।   ম্যাচটি যথেষ্ট আকর্ষণীয় ছিল, কিন্তু ড্রেসিংরুমের ব্যালকনিতে বসে এটা নিয়ে কিছুটা ভাবছিলাম, এবং পরের দিনগুলোতে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় নিচ্ছিলাম… নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দলের সঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য কৃতজ্ঞ থাকার এই অনুভূতিটুকু আমার খুব ভালো লাগে, এবং সেই সঙ্গে দলের মধ্যে যে রোমাঞ্চ ও সম্ভাবনা দেখতে পচ্ছি, সেটাও ভালো লাগে।   সিরিজের মাঝপথে বিদায়ের প্রশ্নটি যৌক্তিক হলেও উইলিয়ামসসের ভাবনাকে সম্মান করছেন কোচ রব ওয়াল্টার।   একাদশে কেন উইলিয়ামসনের নাম না থাকলে দল আরও শক্তিশালী হয় না, কারণ সে একজন কিংবদন্তি। সবাই জিজ্ঞেস করছে, ‘সিরিজের মাঝখানে কেন?’ কিন্তু তার কারণগুলো শুনলে পুরোপুরি বুঝতে পারবেন।’   সে এমনই মানুষ এবং দলের প্রতি তার সম্মানকেই প্রকাশ করে এটি। সে শুধু সিরিজ শেষ করার জন্য খেলা চালিয়ে যাচ্ছে না, বরং এমন একজনকে সুযোগটি দিচ্ছে, যে তার জায়গা নেবে এবং এই দলের জন্য আরও দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা পালন করবে।   ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড ও অর্জন লেখা হয়ে আছে উইলিয়ামসনের নামের পাশে। তবে তিনি স্মরণীয় হতে চান অন্যভাবে।   ওহ গড , আমি এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না (কীভাবে স্মরণীয় থাকতে চান)। এমন একজন হিসেবে, যে দলকে গভীরভাবে ভালোবাসত, সবসময় আরও ভালো কিছু করতে চাইত এবং একজন ক্রিকেটার হিসেবে নিজের কাজের প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত ছিল। আমি এই সবকিছুর জন্য সত্যিই, সত্যিই কৃতজ্ঞ।   তার এই অবসর শুধুই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও খেলা চালিয়ে যানে কি না, নিশ্চিত নন এখনও।   যখন পরিস্থিতি আসবে, তখন সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব। খেলার ব্যাপারে আমার তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে দেখা যাক।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হোল্ডারের আঘাতে শ্রীলঙ্কার হার, টি-টোয়েন্টিতে টানা পাঁচ ম্যাচে পরাজয়

জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে শুভ সূচনা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই পরাজয়ের ফলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে টানা পাঁচ ম্যাচ হারের হতাশাজনক রেকর্ডে পৌঁছেছে লঙ্কানরা।   টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন কামিন্দু মেন্ডিস, আর কুশল মেন্ডিস যোগ করেন ৩৬ রান। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি।   ইনিংসের শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও জেসন হোল্ডারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ছন্দ হারায় সফরকারীরা। এক ওভারেই গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। পরে আলজারি জোসেফের গতির সামনে আরও চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা।   ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাওয়ার প্লেতে ৬৬ রান তুলে সহজ পথ তৈরি করেন ওপেনাররা। ব্র্যান্ডন কিং ৩৭ রান করে ফিরলেও অধিনায়ক শাই হোপ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।   হোপ ৫৪ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষদিকে রভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি জয় নিশ্চিত করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯.১ ওভারে লক্ষ্য স্পর্শ করে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।   বল হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জেসন হোল্ডার ও আলজারি জোসেফ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার হয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, তবে তা দলকে পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেনি।   নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত থাকল। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়ার পর জিম্বাবুয়ে, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল তারা। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও পরাজয়।

আক্তারুজ্জামান জুন ১২, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

সেনা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন সেনাপ্রধান

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬