ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৭১ রানের জবাবে তাওহীদ হৃদয়রা থেমেছে ১৭২ রানে; তাও আবার ৩৩.৪ ওভারেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস। নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী ২১ অক্টোবর তাদের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। ফাইনালে যেতে সে ম্যাচ জেতার বিকল্প নেই বাংলাদেশের জন্য। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স বলছে, কাজটা বেশ কঠিনই হবে। আবুধাবির এই উইকেটে লক্ষ্যটা হাতের নাগালে না থাকলেও অসম্ভব কিছু ছিল না। বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল দারুণ। উদ্বোধনী জুটিতে ৬.৩ ওভারে ৪৭ রান এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। সৌম্য ৯ রান করে ফেরার পরই ছন্দপতন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত, হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান—কেউই দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারেননি। বাংলাদেশও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ ১২৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়। বাংলাদেশের হয়ে এক তামিম ছাড়া আর কেউ বলার মতো ইনিংস খেলতে পারেননি। নিউম্যান নিয়াম্বুরির বলে রায়ান বার্লের হাতে ধরা পড়ার আগে ৪৬ রান করেন এই ওপেনার। সাইফের ২৬ রান বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শেষ দিকে রিশাদ ২৩ রান করলেও সেটা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। বাংলাদেশকে অলআউট করার পথে সবচেয়ে বড় অবদান ব্রাড ইভান্সের। ৪৫ রানে ৪ উইকেট নেন এই পেসার। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের চিত্রটা অবশ্য ভিন্ন ছিল। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় বাংলাদেশের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় তারা। দুজনের ব্যাট থেকে আসে ১৭৪ রান। চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রান যোগ করেন টেলর ও আরভিন। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে ৪০তম ওভার শেষে তাঁদের স্কোরবোর্ডে ওঠে ২০১ রান। অর্থাৎ মাঝের ৩০ ওভারে ১৭১ রান তোলে তারা। ভয়ংকর হয়ে ওঠা টেলর-আরভিন জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন সাইফ। ৩৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসেই টেলরকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যাচ বানান। ১০১ বলে ১০ বাউন্ডারিতে টেলর ফিরলে ভাঙে ১৫০ রানের জুটি। টেলর ফিরলেও সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছিলেন আরভিন। কিন্তু নড়বড়ে নব্বইয়ের ঘরে কাটা পড়েন তিনি। শরীফুল ইসলামের বলে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ধরা পড়ার আগে ৯৩ রান করেন আরভিন। ১০৬ বলে ৯ চারে সাজানোর তাঁর ইনিংস। মাঝে ওয়েসলে মাধেভেরে (১৭) ও সিকান্দার রাজাকে (৪) হারায় জিম্বাবুয়ে। শেষদিকে বাংলাদেশের ওপর ছোট ঝড় বইয়ে দেন নিউমান নায়ুম্বুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। তাঁদের জুটিতে আসে ৩৭ রান। দুজনেই ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে জিম্বাবুয়ে। ৪৪ রানে ৩ উইকেট নেন তাসকিন।
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামটি আরও একবার স্বর্ণাক্ষরে লিখলেন ব্রেন্ডন টেলর। শনিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে ব্যক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়ার পাশাপাশি ওয়ানডেতে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার কীর্তি গড়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। পেছনে ফেলেছেন জিম্বাবুয়ের আরেক কিংবদন্তি অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ক্যারিয়ারের ৪০তম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন টেলর। এটি বাংলাদেশের বিপক্ষে তার দশম অর্ধশতক। অভিজ্ঞতার সঙ্গে ব্যাটিংয়ের ধারও যে কমেনি, এই ইনিংসে সেটিই যেন আরেকবার প্রমাণ করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি এত দিন ছিল অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের দখলে। ১৯৯২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দাপট দেখানো এই উইকেটকিপার-ব্যাটার ২১৩ ওয়ানডেতে করেছিলেন ৬ হাজার ৭৮৬ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে রেকর্ডটি ভাঙতে টেলরের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩০ রান। নিজের ২১১তম ওয়ানডে খেলতে নেমে সেই লক্ষ্য পূরণ করেন তিনি। শতকের হিসাবেও জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন টেলর। দেশটির হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ১১টি সেঞ্চুরি রয়েছে তার। তবে টেলরের ক্যারিয়ারে উত্থানের পাশাপাশি কঠিন সময়ও এসেছে। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী আইন ভঙ্গের দায়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাড়ে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা পান তিনি। নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। সাজা শেষ করে গত বছরের ২৫ জুলাই সর্বোচ্চ স্তরের ক্রিকেটে ফেরেন এই জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটার। ফেরার পর ৪০ বছর বয়সেও ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার। ১০১ বল খেলে টেলর শেষ পর্যন্ত আউট হন ৮১ রানে। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করার সুবাধে জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৭১।
ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। এখন পর্যন্ত ছয়টি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিয়ে মাত্র একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টাইগাররা। এই পরিসংখ্যানের পেছনে বড় কোনো কারণ দেখছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। তাঁর মতে, নিয়মিত ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার সুযোগ কম পাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতিযোগিতায় বাড়তি চাপও কাজ করে। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে শুরু হচ্ছে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। আবুধাবিতে উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্য ও ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অধিনায়ক। লিটন জানান, বাংলাদেশ নিয়মিত এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় ফাইনালে ওঠার চাপ এবং রান রেটের হিসাব দলগুলোর জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ফাইনালে ওঠার চাপই বড় চ্যালেঞ্জ লিটন বলেন, তিনটি দলই ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে। ফলে প্রতিটি ম্যাচের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে একটি ম্যাচ হারলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে, কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজে হারলে পয়েন্ট ও রান রেটের সমীকরণ জটিল হয়ে যেতে পারে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান দল নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক। তাঁর বিশ্বাস, সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে দলের পারফরম্যান্স এবং ক্রিকেটারদের পরিপক্বতা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আবুধাবিতেও ভালো ক্রিকেট উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন লিটন বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব উপভোগ করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন জানান, শুরু থেকেই তিনি এই দায়িত্ব উপভোগ করে আসছেন। এদিকে, বড় সংগ্রহ গড়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। লিটনের মতে, আগে ব্যাটিং করা হোক কিংবা পরে, দলের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলতে ব্যাটারদেরই সামনে থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। ব্যাটিংয়ে উন্নতি চান অধিনায়ক সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাটিং প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিশেষ করে বড় লক্ষ্য তাড়া করা এবং ইনিংসের শেষ দিকে রান বাড়ানোর ক্ষেত্রে আরও উন্নতির প্রয়োজন বলে মনে করেন লিটন। তিনি বলেন, আগে ব্যাটিং করলে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য থাকে না। কিন্তু পরে ব্যাটিংয়ের সময় ৩০০ বা তার বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে ব্যাটারদের কিছুটা আগ্রাসী হতে হয়। বাংলাদেশ সাধারণত ছয়জন স্বীকৃত ব্যাটার নিয়ে মাঠে নামে। ফলে নিচের দিকের ব্যাটাররা প্রত্যাশিত অবদান রাখতে না পারলে বড় সংগ্রহ গড়া কিংবা লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ঘাটতিগুলো কাটিয়ে উঠতে দল কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন অধিনায়ক। সব মিলিয়ে, ত্রিদেশীয় সিরিজে অতীতের সীমিত সাফল্য পেছনে ফেলে নতুনভাবে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জন করাই এখন লিটনদের প্রধান লক্ষ্য।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে কিছুটা দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ দল। জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন টাইগার অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে উদ্বোধনী ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে ম্যাচের আগেই মিরাজ সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবিতে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজ। উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ম্যাচটি। মিরাজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ম্যাচপূর্ব আলোচনায় লিটন দাস জানান, অলরাউন্ডার মিরাজ বর্তমানে জ্বরে ভুগছেন। তবে তিনি আশা করছেন, ম্যাচ শুরুর আগেই সুস্থ হয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন মিরাজ। অন্যদিকে, মিরাজ শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারলে বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় থাকতে পারেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। লিটনের মতে, ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করার সামর্থ্য থাকায় মোসাদ্দেক দলের জন্য কার্যকর বিকল্প হতে পারেন। দলের সামর্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী লিটন বাংলাদেশের বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক। তার বিশ্বাস, দলে তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ভালো ফলাফল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লিটন মনে করেন, অতীতে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ যেভাবে সফল ক্রিকেট খেলেছে, সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আসন্ন সিরিজেও ভালো কিছু করা সম্ভব। এজন্য দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে হবে। আবুধাবির উইকেট নিয়ে কী ভাবছেন অধিনায়ক? আবুধাবির কন্ডিশন ও উইকেট নিয়েও কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সম্প্রতি একই ভেন্যুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় এখানকার পরিবেশ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা রয়েছে টাইগারদের। লিটনের প্রত্যাশা, এবারের ম্যাচগুলোতে ব্যাটার ও বোলার উভয়ের জন্যই সমান সুযোগ থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট উপহার দেওয়ার মতো উইকেট পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদী তিনি। আফগানিস্তানের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরেছে আফগানিস্তান। বিশেষ করে তাদের স্পিন বোলিং আক্রমণ প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তবে আফগানদের মোকাবিলায় প্রস্তুত বাংলাদেশও। লিটন জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারের। প্রতিপক্ষের শক্তি ও নিজেদের দুর্বলতার জায়গাগুলো বিবেচনায় রেখেই প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। তার মতে, আফগানিস্তান শুধু স্পিন নয়, পেস বোলিংয়েও যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই তাদের বিপক্ষে সফল হতে হলে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই পরিকল্পনামাফিক পারফর্ম করতে হবে। এদিকে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে মিরাজের সুস্থতা এখন বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি একাদশে জায়গা পান কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা। তবে প্রয়োজন হলে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে বিকল্প পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ থাকছে টিম ম্যানেজমেন্টের।
ভারতের সবশেষ টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও দলে জায়গা ধরে রাখতে পারলেন না মানাভ সুতার। নিউ জিল্যান্ড সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দলে রাখা হয়নি এই বাঁহাতি স্পিনারকে। দলে আছেন ভারতের পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র জাসপ্রিত বুমরাহ। ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে তিনি টেস্ট খেলেননি। গত অগাস্টে শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট দলে ফিরলেও, পরে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয় ঝুঁকি এড়াতে। ৩২ বছর বয়সি এই পেসারকে নিউ জিল্যান্ড সফরের ওয়ানডে দলে রাখা হয়নি। টেস্ট দলে জায়গা পাওয়া আরেক পেসার প্রাসিধ কৃষ্ণার ওয়ানডে সিরিজে খেলা নির্ভর করছে ফিটনেস সাপেক্ষে। কিপার-ব্যাটসম্যান রিশাভ পান্তকেও টেস্ট দলে রাখা হয়েছে, তিনিও ফিটনেস সাপেক্ষে খেলতে পারবেন। সম্প্রতি লাল বলের ম্যাচ ইরানি কাপে ‘রেস্ট অব ইন্ডিয়া’ দলের অধিনায়কত্ব করা পান্ত সুইপ শট খেলতে গিয়ে সাইড স্ট্রেইন চোটে পড়েন। ফলে নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম দুটি আনঅফিসিয়াল টেস্ট থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, স্ক্যানে প্রাসিধের বাম হ্যামস্ট্রিংয়ে স্ট্রেইন ধরা পড়েছে, তবে কোনো পেশি ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি অনুশীলনের পাশাপাশি সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন। ইরানি কাপ ও সম্প্রতি রাঞ্জি ট্রফির প্রথম রাউন্ডে বাংলার হয়ে ভালো পারফর্ম করে টেস্ট দলে ফিরেছেন পেসার আকাশ দিপ। গত বছরের জুলাইয়ে ম্যানচেস্টারে টেস্ট অভিষেকের পর দলে ফিরেছেন আনশুল কাম্বোজও। মোহাম্মাদ সিরাজ ও পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিতিশ কুমার রেড্ডি দলের বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবেন। সুতারের বাদ পড়াটাই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। গত অগাস্টে শ্রীলঙ্কা সফরে দুই টেস্টের সিরিজে সর্বোচ্চ ১৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। ভারতের সবশেষ তিন টেস্টেই খেলে তার উইকেট মোট ২৩টি। গত জুনে অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩৩ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন সুতার। ৪৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে গড়েছিলেন ভারতের হয়ে অভিষেকে বাঁহাতি স্পিনে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরে প্রথম টেস্ট ও ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে নেন ১০ উইকেট, পরের টেস্টে ৬টি। পরের সিরিজে বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে। নিউ জিল্যান্ডের পেস সহায়ক কন্ডিশনের কারণেই হয়তো ২৪ বছর বয়সি স্পিনারকে দলে রাখা হয়নি। স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে রাভিন্দ্রা জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দারকে দলে নেওয়া হয়েছে, তাদের সঙ্গে আছেন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদিপ ইয়াদাভ। পায়ের আঙুলের চোটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাইরে থাকা সাই সুদার্শান দলে ফিরেছেন। সম্ভবত ব্যাক-আপ ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে রাখা হয়েছে। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য দুটি দল দিয়েছে ভারত। প্রথম তিন ওয়ানডে খেলবে তারা শুবমান গিলের নেতৃত্বে। শেষ দুই ওয়ানডেতে দলকে নেতৃত্ব দেবেন শ্রেয়াস আইয়ার। তখন টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নেবেন গিল। ওয়ানডে দলে নতুন মুখ কুমার কুশাগ্রা। শেষ দুই ওয়ানডের দলে রাখা হয়েছে ২১ বছর বয়সি এই কিপার-ব্যাটসম্যানকে। এখন পর্যন্ত ৪০টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও ১০ ফিফটিতে এক হাজার ৩৮৭ রান করেছেন তিনি। ভারতের নিউ জিল্যান্ড সফর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি দিয়ে, ২২ অক্টোবর ক্রাইস্টচার্চে। পাঁচ ম্যাচের ওই সিরিজের দল দেওয়া হয়েছে আগেই। ৪ নভেম্বর প্রথম ওয়ানডে হবে অকল্যান্ডে। এই সিরিজ শেষ হবে ১৫ নভেম্বর। এরপর ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্ট শুরু ১৯ নভেম্বর, ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্ট ২৭ নভেম্বর থেকে। ভারতের টেস্ট দল: শুবমান গিল (অধিনায়ক), লোকেশ রাহুল (সহ-অধিনায়ক), ইয়াশাসভি জয়সওয়াল, দেবদুত পাডিক্কাল, রিশাভ পান্ত (ফিটনেস সাপেক্ষে), ধ্রুব জুরেল, রাভিন্দ্রা জাদেজা, আনশুল কাম্বোজ, জাসপ্রিত বুমরাহ, প্রাসিধ কৃষ্ণা, আকাশ দিপ, সাই সুদার্শান, নিতিশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দার, কুলদিপ ইয়াদাভ, মোহাম্মাদ সিরাজ। প্রথম তিন ওয়ানডের ভারত দল: শুবমান গিল (অধিনায়ক), রোহিত শার্মা, ভিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, লোকেশ রাহুল, নিতিশ কুমার রেড্ডি, আকসার প্যাটেল, নামান ধীর, আনশুল কাম্বোজ, গুরনুর ব্রার, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, আর্শদিপ সিং, ইশান কিষান, মোহাম্মাদ সিরাজ, প্রাসিধ কৃষ্ণা (ফিটনেস সাপেক্ষে), কুলদিপ ইয়াদাভ। শেষ দুই ওয়ানডের ভারত দল: শ্রেয়াস আইয়ার (অধিনায়ক), রোহিত শার্মা, ভিরাট কোহলি, তিলাক ভার্মা, ইশান কিষান, নিতিশ কুমার রেড্ডি, আকসার প্যাটেল, নামান ধীর, আকিব নাবি, গুরনুর ব্রার, রুতুরাজ গায়কোয়াড়, আর্শদিপ সিং, কুমার কুশাগ্রা, মোহাম্মাদ সিরাজ, ইয়াশ ঠাকুর, কুলদিপ ইয়াদাভ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাভার্ডভ্যান থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটার এসএম মেহরব হাসানের তিন লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার চার আসামির একজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী নগরীর কাজলা মৃধাপাড়ায় তার ভাড়া বাসার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টায় রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চুরির ঘটনায় গ্রেফতার চারজনের মধ্যে মোজাম্মেল হক পুলিশকে জানান, চুরি হওয়া লাগেজ থেকে নেওয়া তিন লাখ টাকা তার ভাড়া বাসায় রয়েছে। পরে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে টাকাগুলো উদ্ধার করে। জাতীয় ক্রিকেট লিগ শেষে বুধবার ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরে বিভাগীয় ক্রিকেট দল। দলের ৫৪টি লাগেজ কাভার্ডভ্যানে পাঠানো হয়েছিল। সকালে কাভার্ডভ্যান থেকে মালামাল নামানোর সময় আটটি লাগেজ কম পাওয়া যায়। এ নিয়ে ক্রিকেটার মেহরব হাসান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, তারা রাজশাহীর পুঠিয়া এলাকায় মোটরসাইকেলে করে চলন্ত কাভার্ডভ্যানে উঠে দরজার তালা ভেঙে আটটি লাগেজ নামিয়ে নিয়েছিলেন। পুলিশ ওই লাগেজগুলোও উদ্ধার করে। তবে লাগেজের মধ্যে অন্যান্য মালামাল পাওয়া গেলেও তিন লাখ টাকা পাওয়া যায়নি। পরে মোজাম্মেল হকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে বৃহস্পতিবারই আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতে রুবেল আহমেদ (৩৮) নামের এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাভার্ডভ্যান থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটার এসএম মেহরব হাসানের তিন লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টায় রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চুরির ঘটনায় গ্রেফতার চার জনের মধ্যে মোজাম্মেল হক জানান- চুরি হওয়া লাগেজ থেকে নেওয়া তিন লাখ টাকা তার ভাড়া বাসায় আছে। পরে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল রাজশাহী নগরীর কাজলা মৃধাপাড়ায় তার ভাড়া বাসার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করে। জাতীয় ক্রিকেট লীগ শেষে বুধবার ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরে বিভাগীয় ক্রিকেট টিম। তাদের ৫৪টি লাগেজ কাভার্ডভ্যানে পাঠানো হয়েছিল। সকালে কাভার্ডভ্যান থেকে মালামাল নামানোর সময় আটটি লাগেজ কম পাওয়া যায়। এ নিয়ে মেহরব হাসান থানায় একটি জিডি করেন। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা রাজশাহীর পুঠিয়া এলাকায় মোটরসাইকেলের মাধ্যমে চলন্ত কাভার্ডভ্যানে উঠে দরজার তালা ভেঙে আটটি লাগেজ নামিয়ে নিয়েছিলেন। পুলিশ ওই লাগেজগুলোও উদ্ধার করে। এতে অন্যান্য মালামাল পাওয়া গেলেও টাকাগুলো পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে একটি মামলা হলে বৃহস্পতিবারই আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতে রুবেল আহমেদ (৩৮) নামের এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন।
ব্যাট হাতে ঝড় তোলাই ছিল তাঁর পরিচয়। বলের পর বল সীমানাছাড়া করে প্রতিপক্ষের বোলারদের বুকে কাঁপন ধরানো সেই ব্যাটার ছিলেন বীরেন্দর শেবাগ। আগ্রাসন ব্যাটিংই যেন বিনোদন। এবার যেন সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দেখা মিলল ভারতের সাবেক ওপেনারের ছেলে আর্যবীর শেবাগের কাছ থেকে। রক্ত বলে কথা! ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে টুর্নামেন্ট ভিনু মানকড় ট্রফিতে ১৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন আর্যবীর। বাবার মতোই ওপেনিংয়ে নেমে চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে ১৪৩ বলের ইনিংসটি খেলেন ১৮ বছর বয়সী ব্যাটার। দিল্লির হয়ে বিধ্বংসী ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৯ চার ও ৮টি ছক্কায়। দিল্লির মোট রানের ৫৯.৮৬ শতাংশ তার ব্যাট থেকেই এসেছে। নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেটে ২৮৯ রান করে দিল্লি। ছেলের ব্যাটিং নিয়ে আগেই নিজের দর্শন জানিয়েছিলেন শেবাগ। তার পরামর্শ ছিল, বড় রানের চিন্তা নয়, নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে। শেবাগ বলেছিলেন, ‘আর্যবীরকে বলেছি, চাপ থাকবেই। কিন্তু মাঠে গিয়ে স্বাধীনভাবে খেলবে। নিজের সামর্থ্য প্রকাশ করবে। বড় রান করার চিন্তা করো না। নিজের খেলাটা খেললে বড় রান এমনিতেই আসবে।’ সেটারই প্রতিফলন যেন দেখালেন আর্যবীর। সম্প্রতি ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অভিষেক হয় তার। সেখানে তিন ম্যাচে করেন ১০৯ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৪৭ রানের।
দীর্ঘদিন ধরে চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ গতিতারকা নাহিদ রানা। ইনজুরির কারণে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন এই ডানহাতি পেসার। এবার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার লক্ষ্যে উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন নাহিদ। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। সোমবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন নাহিদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসক ডা. পিটার দি আলেসান্দ্রোর সঙ্গে আবারও দেখা করার কথা রয়েছে নাহিদের। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেখানে প্রায় ১০ দিন পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাবেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় পুনর্বাসন শেষে দেশে ফিরে আরও তিন থেকে চার সপ্তাহ নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও বোলিংয়ের ওয়ার্কলোড বাড়ানোর কাজ করবেন এই তরুণ পেসার। পুরোনো চোটের সঙ্গে নতুন করে ব্যথা গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে ইনজুরির সমস্যায় ভুগছেন নাহিদ। মাঠে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুশীলন করছিলেন তিনি। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আবারও কোমরের নিচের অংশে চোট পান এই পেসার। পরবর্তী সময়ে স্ক্যান করানো হলেও তাতে গুরুতর কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। এরপরও ব্যথা পুরোপুরি না কমায় স্বাভাবিকভাবে বোলিং করতে পারছিলেন না তিনি। এ কারণেই তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও থাকছেন না নাহিদ চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে আরও সময় প্রয়োজন হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজেও নাহিদ রানাকে পাওয়া যাচ্ছে না। দলের অন্যতম গতিময় এই পেসারের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের জন্য একটি ধাক্কা হতে পারে। তবে তাকে দ্রুত মাঠে ফেরানোর পরিবর্তে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলার বিষয়টিই গুরুত্ব পাচ্ছে। ডিসেম্বরে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরেই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারেন নাহিদ রানা। পুনর্বাসন ও ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা সফলভাবে শেষ হলে থ্রি ডি টুর্নামেন্টের টি-টোয়েন্টি সংস্করণের মাধ্যমে মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে তার। তবে শেষ পর্যন্ত কবে মাঠে নামতে পারবেন, তা নির্ভর করবে চিকিৎসকের মূল্যায়ন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের আয় বণ্টন নিয়ে বড় ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস ডেরিং। তার দাবি, ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত একটি সিরিজ থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড দুই থেকে তিন কোটি মার্কিন ডলার আয় করতে পারলেও সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের প্রাপ্তি থাকে শূন্য। বিশ্ব ক্রিকেটের বর্তমান আর্থিক কাঠামোকেই ক্যারিবীয় ক্রিকেটের দুরবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। সম্প্রতি ‘দ্য স্কুপ’ অনুষ্ঠানে অঞ্জলি দোশিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ডেরিং। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সম্প্রচারস্বত্ব থেকে অর্জিত আয়ের পুরো অংশ স্বাগতিক দেশের কাছে চলে যাওয়ায় তুলনামূলক ছোট ক্রিকেট বোর্ডগুলো ক্রমেই আর্থিক সংকটে পড়ছে। ১৯৯৭ সালের সিদ্ধান্তেই বদলে যায় ক্রিকেটের অর্থনীতি ডেরিং জানান, ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদস্যদেশগুলো দ্বিপাক্ষিক সিরিজের রাজস্ব বণ্টনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। এর আগে সফরকারী দলকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা ট্যুর ফি দেওয়ার প্রচলন ছিল। তবে নতুন নিয়মে সম্প্রচারস্বত্ব থেকে পাওয়া সম্পূর্ণ আয় নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ পায় স্বাগতিক দেশ। ওই সিদ্ধান্তের সময় আইসিসির ১০টি সদস্যদেশের মধ্যে ৯টি দেশ নতুন ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেয়। একমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিরোধিতা করেছিল বলে জানান ডেরিং। তার মতে, সেই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব এখনো বহন করছে ক্যারিবীয় ক্রিকেট। ভারতের বিশাল বাজারের বিপরীতে ক্যারিবীয়দের সীমিত আয় ক্রিস ডেরিং বলেন, ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে ক্রিকেটের বাণিজ্যিক বাজার অত্যন্ত বড়। ফলে সেখানে আন্তর্জাতিক সিরিজ আয়োজন করে সম্প্রচারস্বত্বসহ বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অর্জন করা সম্ভব। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট আয়োজন করতে হয় ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্রে। অ্যান্টিগা কিংবা সেন্ট কিটসের মতো তুলনামূলক কম জনসংখ্যার অঞ্চলে ভারতের সমপরিমাণ বাণিজ্যিক আয় করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি জানান, অতীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। বিভিন্ন দেশ তাদের সফরে নিতে আগ্রহী থাকত এবং সেই সফর থেকে পাওয়া অর্থ অনেক সময় নিজেদের দেশে সিরিজ আয়োজনের আয়ের চেয়েও বেশি হতো। কিন্তু রাজস্ব বণ্টনের নিয়ম পরিবর্তনের ফলে সেই গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হারিয়েছে ক্যারিবীয় ক্রিকেট। আর্থিক সংকটে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকেও কাটছাঁট দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপের প্রভাব পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট পরিচালনা ও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকেও। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের চুক্তির মেয়াদ এক বছর থেকে কমিয়ে সাত মাস করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক ক্রিকেটার জাতীয় দলের হয়ে খেলার পরিবর্তে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সিরিজেও অনেক সময় তারকা খেলোয়াড়দের ছাড়াই মাঠে নামতে হচ্ছে ক্যারিবীয় দলকে। রাজস্ব বণ্টনব্যবস্থাকে অন্যায্য বলছেন ডেরিং ক্যারিবীয় বোর্ডের প্রধান নির্বাহীর মতে, ক্রিকেটের অর্থনৈতিক কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ও ছোট বোর্ডগুলোর বাস্তবতা সমানভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ১৯৯৭ সালের ভোটাভুটিতে ৯-১ ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, ওই সময়ই সিদ্ধান্তটির সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তার আপত্তি গ্রহণ করা হয়নি। ডেরিংয়ের দাবি, নতুন নিয়ম চালুর মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর পরিণতিতে ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে ক্যারিবীয় ক্রিকেট। মাঠের লড়াইয়ে ভারতের সঙ্গে সমানে সমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও ভারতের বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে চার ম্যাচ শেষে দুই দলই দুটি করে জয় পেয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ। ওই ম্যাচের ফলেই নির্ধারিত হবে সিরিজের চূড়ান্ত বিজয়ী। মাঠের পারফরম্যান্সে লড়াই চালিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আর্থিক কাঠামোয় পরিবর্তন না এলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো ছোট বাজারের ক্রিকেট বোর্ডগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডেরিং।
ভারত সফরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে আরও একটি বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরির সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছেন দুই স্বদেশি তারকা ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসকে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫০ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলেন হোপ। চারটি চার ও নয়টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৪। ইনিংসের শেষ দুই বলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি। গেইল-লুইসকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি হোপের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এই সংস্করণে সর্বাধিক শতকের মালিক হয়েছেন তিনি। এর আগে ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসের দুটি করে টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি ছিল। এবার তাঁদের পেছনে ফেলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। চলমান ভারত সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এটি হোপের চতুর্থ শতক। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও মাত্র ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেছিলেন তিনি। এর আগে ওয়ানডে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। দুই হাজার রানের মাইলফলক রেকর্ড গড়া ইনিংসে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন হোপ। ৭৪ ম্যাচের ৭২ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ২ হাজার ৪ রান। ব্যাটিং গড় ৩৩ দশমিক ৪০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪১ দশমিক ৮২। এই সংস্করণে তিনটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তাঁর রয়েছে ১৩টি অর্ধশতক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে দুই হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন রোভম্যান পাওয়েল (২,৪০০), নিকোলাস পুরান (২,২৭৫) ও ব্র্যান্ডন কিং (২,০২৮)। এক সিরিজে একাধিক কীর্তি দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি করা পঞ্চম ব্যাটার হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছেন হোপ। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন ফিল সল্ট, সাঞ্জু স্যামসন, তিলক ভার্মা ও মোহাম্মদ ইহসান। এ ছাড়া টেস্ট খেলুড়ে দুটি দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার কীর্তিতেও নাম লিখিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। এই তালিকায় আগে থেকেই রয়েছেন বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব ও সাহিবজাদা ফারহান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বাধিক ১৬টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার রেকর্ডেও ক্রিস গেইলের পাশে বসেছেন ৩২ বছর বয়সী হোপ। হোপের ব্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের পাহাড় অধিনায়কের দুর্দান্ত শতকে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ইনিংসে কোনো দলের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পাশাপাশি যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটি। ভারত সফরে একের পর এক সেঞ্চুরি ও রেকর্ড গড়ে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন শাই হোপ।
পারফরম্যান্স আর পরিসংখ্যানও বলে টেস্টে অবিশ্বাস্য লিটন দাস। সীমিতর চেয়ে রাজকীয় সংস্করণে তার ব্যাট হাসে বেশি। নিজেও স্বীকার করলেন তিনি। টেস্ট খেলতে ভীষণ পছন্দ করেন বলে জানান লিটন। কেন পছন্দ করেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। আবুধাবি টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান বলেছেন, ‘তিন সংস্করণই আমার ভালো লাগে, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের মজাটা একটু ওপরে। কারণ, ম্যাচটাতে অনেক কিছু হয়। প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে এবং উপভোগ করার মতো অনেক পরিস্থিতি থাকে। তাই টেস্ট ক্রিকেট পছন্দ করি।’ ক্যারিয়ারের ৭ম সেঞ্চুরির দিনে উইকেটরক্ষকের গ্লাভস হাতে রেকর্ড গড়েছেন লিটন। খালেদ মাসুদ পাইলটকে (৭ ডিসমিশাল) পেছনে ফেলে বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ৮ ডিসমিশালের কীর্তি গড়েছেন তিনি। এই ভূমিকা তার ব্যাটিংয়ে অবদান রাখে বলে জানান লিটন। তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই সহায়তা করে। কারণ, উইকেটের পেছন থেকে অনেক কিছু বুঝতে পারি। উইকেট সম্বন্ধে একটা ধারণা চলে আসে। সেটা আমার ব্যাটিংয়ে অনেকটা সহায়তা করে।’ একমাত্র টেস্ট জিততে শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট। বিপরীতে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। কিংবা ড্র করতে পঞ্চম দিন মাটি কামড়ে থাকা। তবে লিটনের বিশ্বাস শেষ দিনে পিচ থেকে স্পিনাররা একটু সহায়তা পেলে জয়ের কাজটা সহজ হবে। পিচ নিয়ে লিটন বলেছেন, ‘উইকেটটা খুব একটা স্পিন ফ্রেন্ডলি না। তবে পঞ্চম দিনে অনেক সময় রাফ প্যাচ থেকে অনেক বল বাঁক নেওয়া শুরু করে। আশা করি, আমাদের স্পিনাররা ভালো জায়গায় বল করবে। এরই মধ্যে ভালো জায়গায় করছে, আরও ভালো জায়গায় করে চাপ দিবে এবং উইকেট থেকে যদি একটু সহায়তা পায়, তাহলে তাদের জন্য কাজটা সহজ হবে।’
টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরাট কোহলির অবসর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের সাবেক ওপেনার ওয়াসিম জাফরের দাবি, আনন্দের সঙ্গে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানাননি কোহলি। বরং, তাঁর অবসরের পেছনে তিক্ততা কাজ করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় ভারতের তৎকালীন নির্বাচকপ্রধান অজিত আগারকারের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন জাফর। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কোহলির অবসর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জাফর বলেন, তাঁর ধারণা, কোহলি সন্তুষ্টচিত্তে টেস্ট ক্রিকেট ছাড়েননি। সাবেক এই ওপেনারের মতে, বিষয়টি আরও বিচক্ষণতার সঙ্গে সামলানো সম্ভব ছিল। কোহলির জনপ্রিয়তা ও টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর গুরুত্ব তুলে ধরে জাফর বলেন, এই তারকার খেলা দেখতে দর্শকরা মাঠে আসেন। তাঁর মতো ক্রিকেটারকে আরও কয়েক বছর টেস্টে খেলতে দেখা যেতে পারত। তবে অবসরের প্রকৃত কারণ জানতে হলে কোহলির নিজের বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। ২০২৫ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন কোহলি। সেই সিদ্ধান্তের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জাফর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কোহলি দিল্লির হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছিলেন। কিন্তু পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। জাফরের দাবি, ভারতীয় দলের ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তরুণ ক্রিকেটারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি কোহলিকে জানিয়েছিল। এরপরই টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এই ব্যাটার বলে ধারণা সাবেক ওপেনারের। ইংল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি নেওয়ার পরও কেন কোহলি অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন, সেই প্রশ্ন তুলে জাফর বলেন, তাঁর মতো অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় ক্রিকেটারের বিদায়ের বিষয়টি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা যেত। তাঁর মতে, দলের ব্যবস্থাপনা এ ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে থাকতে পারে। তবে কোহলির অবসরের পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি জাফর। তাঁর মতে, এ বিষয়ে কোহলি নিজে কথা বললেই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ভারতকে হারিয়ে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। শারজাহতে উত্তেজনায় ঠাসা এই ম্যাচে শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটারদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন বাংলাদেশের বোলাররা। পাওয়ার প্লেতেই তুলে নেন প্রতিপক্ষের টপ অর্ডার। শেষ দিকে ম্যাচটিতে কিছুটা নাটকীয়তার সৃষ্টি হলেও স্নায়ুচাপ ধরে রেখে অল্প পুঁজি নিয়েই জয় ছিনিয়ে নেয় টাইগাররা। বল হাতে জয়ের নায়ক এনামুল হক জুনিয়র নেন ৪টি উইকেট। অন্য প্রান্তে বাউন্ডারিহীন এক দুর্দান্ত স্পেল উপহার দেন পেসার আবু জায়েদ রাহি। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক যুবরাজ সিং। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ, প্রথম দুই ওভারেই তুলে নেয় ৩০ রান। তবে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ৬ বলে ১০ রান করা ইমরুল কায়েস আউট হলে ছন্দপতন ঘটে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। একপ্রান্ত আগলে রেখে ২৫ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রনি তালুকদার। তবে ফজলে মাহমুদ রাব্বি, জহুরুল ইসলাম ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। রনির বিদায়ের পর রান তোলার গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ে। সেই জায়গা থেকে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন অনেক দিন পর লাল-সবুজ জার্সিতে আলো ছড়ানো নাসির হোসেন ও আরাফাত সানি। একসময় জাতীয় দলে যে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় নাসির দিতেন, সেটিরই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন চাপ সামলে। দুটি চারের সাহায্যে ২১ বলে ২৪ রানের একটি হিসেবি ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন তিনি। পীয়ূষ চাওলার বলে নাসির আউট হলেও লড়াকু পুঁজি গড়ার কাজটা ততক্ষণে হয়ে গিয়েছিল। শেষ দিকে আরাফাত সানি মূল্যবান ৩৭ রান (৩৮ বলে) যোগ করলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪১ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ভারতের হয়ে পীয়ূষ চাওলা ৩টি এবং পবন নেগি ও ঋষি ধাওয়ান ২টি করে উইকেট শিকার করেন। ১৪২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে সূচনাতেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। দলীয় চার রানেই সাজঘরে ফেরেন অম্বতি রায়ডু। এরপর স্টুয়ার্ট বিনি ও অধিনায়ক যুবরাজ সিং দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে ভারতীয়রা। দলীয় রান ৫৫ ছোঁয়ার আগেই বিদায় নেন রবিন উথাপ্পা ও ইউসুফ পাঠান। ম্যাচ তখন পুরোপুরি বাংলাদেশের গ্রিপে, রূপকথার এক জয়ের সুবাস পাচ্ছিল টাইগাররা। তবে ১৮ বলে ২৪ রান করে মাঝে কিছুটা ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন ঋষি ধাওয়ান। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আঘাত হেনে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান এনামুল হক জুনিয়র। অন্য প্রান্তে ইরফান পাঠানের ৪১ বলে ২৪ রানের ইনিংসটি ভারতের ওপর তৈরি হওয়া চাপ বিন্দুমাত্র কমাতে পারেনি। তবুও শেষ দিকে পবন নেগি ও পীয়ূষ চাওলার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচটা জমে উঠেছিল, জয় পেতে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয় বাংলাদেশকে। ম্যাচ যখন হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায়, ঠিক তখনই ডেথ ওভারে নিজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেন আবু জায়েদ রাহি। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ভারত। আর তাতেই কাঙ্ক্ষিত জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও রুবেল হোসেনদের দল।
লিটন দাস ক্যাচ ধরার পরপরই করলেন আবেদন। হাসান মাহমুদ ঘুরে তাকাতেই আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকের আঙুল তুলে দিলেন। আফগানিস্তানের টেলএন্ডার ব্যাটার ইয়ামিন আহমাদজাই রিভিউ নিয়ে শুধু হাসানের অপেক্ষাই বাড়ালেন। আল্ট্রা এজে স্পাইক ধরা পড়তেই হাসান আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের পিচে সিজদা দিয়েছেন। আহমাদজাইকে ফিরিয়ে টেস্টে ৫০তম উইকেট পেয়ে গেলেন হাসান। ‘ফিফটি’ পূর্ণ করতে হাসানের লেগেছে ১৭ ম্যাচ। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। তাতে পেছনে পড়ে গেলেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের টেস্টে ৫০তম উইকেট পেতে খেলতে হয়েছে ১৮ ম্যাচ। তিনে থাকা মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে ১৯ ম্যাচে উইকেটের ফিফটি পূর্ণ করেছেন। উইকেটের ফিফটি পূর্ণ করার পাশাপাশি টেস্টে এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন হাসান। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাইফারের কীর্তি এখন শাহাদাত হোসেন এবং হাসানের। দুজনই ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে চারবার করে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। দুই নম্বর স্থানটিও যৌথভাবে রবিউল ইসলাম, নাহিদ রানার। রানা, রবিউল দুজনেই টেস্টে দুইবার করে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ৫০তম উইকেট নেওয়ার পথে হাসান বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন। ইসমাত আলম, কায়েস আহমেদ, জিয়া-উর-রহমান আকবরকে ফিরিয়ে তুলে নেন হাসান তাঁর প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিক। ৮৩তম ওভারের তৃতীয় থেকে পঞ্চম বলে এই কীর্তি গড়েন হাসান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। এর আগে অলক কাপালি ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ঠিক তার ১০ বছর পর হ্যাটট্রিক করেন সোহাগ গাজী। চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন তিনি।
২৫০ রান তাড়া করে আগের ম্যাচে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ২২৪ রানের লক্ষ্যও প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল ক্যারিবীয়রা। তবে শেষ পর্যন্ত ১৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ভারত। ইন্দোরে এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকেরা। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষানের ১০৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দুর্দান্ত সূচনা পায় ভারত। মাত্র ১৮ বলে ফিফটি ছোঁয়া অভিষেক শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬৯ রান করেন। ঈশান ৩৭, তিলক বর্মা ২৮ ও নিতীশ কুমার রেড্ডি ২১ রান যোগ করেন। শেষদিকে অক্ষর প্যাটেলের ২০ ও প্রিন্স যাদবের অপরাজিত ১৩ রানে ভর করে অলআউট হওয়ার আগে ২২৩ রানে অলআউট হয় ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই হারায় আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান অধিনায়ক শাই হোপকে (৫)। তবে কামিল পুরানের ৪২ ও শিমরন হেটমায়ারের ৪৩ রানের ইনিংস লড়াইয়ে থাকে দলটি। শেষদিকে শেরফান রাদারফোর্ড ২০ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আশা জাগিয়েছিলেন। তবে ১৮তম ওভারে রাদারফোর্ডকে বোল্ড করে ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত করেন অর্শদীপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ ওভারটা শুরু করে ৩৭ রানের প্রয়োজন নিয়ে। অক্ষরের করা ওভারটায় ২২ রান তুলে ব্যবধান কমান শামার স্প্রিঙ্গার। আগামী বুধবার হায়দরাবাদে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অদ্ভুত ভাবে রান আউট হলেন ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার তিলক বর্মা। তিনি হেঁটে হেঁটে ক্রিজে ফিরতে গিয়েছিলেন। তখন উইকেটকিপারের থেকে বল পেয়ে বোলার উইকেট ভেঙে দেন। ভারতের ইনিংসের ১৭তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গুদাকেশ মোতি বল করছিলেন। লেগ সাইডে ফুল টস বল করেছিলেন মোতি। অক্ষর প্যাটেল জোরে সেই বল ফ্লিক করেন। তারা একটি সিঙ্গেল রান নিলেও পর ক্ষণেই মাঝ পিচে ফিরে এসে কথা বলতে থাকেন। দুই রান নেওয়ার চেষ্টা করেননি। ভেবেছিলেন বলটি চার হয়ে গিয়েছে। একে অপরের সঙ্গে হাতও মেলান। পরে অক্ষর নিজের ক্রিজের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। কিন্তু বল চার হয়নি। বাউন্ডারির কাছে ঝাঁপিয়ে বলটি থামান কেমো পল। বল বাউন্ডারির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় উঠে দাঁড়িয়ে বলটি আবার ধরে ফেলেন পল। সেই বল ছুড়ে উইকেটকিপার শাই হোপের কাছে। ঘটনাটি কী হচ্ছে দেখতে পেয়ে দ্রুত ক্রিজে ব্যাট ঠেকানোয় রান আউট হননি অক্ষর প্যাটেল। তিলক তখন পিছন ফিরে হাঁটছিলেন। তিনি কিছুই দেখতে পাননি। হোপ সেই বল ফেরত পাঠান বোলিং প্রান্তে থাকা মোতির কাছে। তিলক তখনও নিজের ক্রিজের থেকে অনেক দূরে ছিলেন। তিনি হেঁটে হেঁটে ক্রিজে ফিরছিলেন। এমন সময় মোতি বল ধরে উইকেট ভেঙে দিয়ে আউটের আবেদন করেন। মাঠের আম্পায়ার বিষয়টি বুঝতে না পেরে তৃতীয় আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন। তৃতীয় আম্পায়ার প্রথমে দেখেন যে বাউন্ডারিতে ঠিক করে পুরান বল আটকেছিলেন কি না। তা নিয়ে নিশ্চিত হতেই রান আউটের ঘটনাটি দেখেন। রিপ্লে দেখে তিলককে রান আউট দেন। ক্রিজে জমে গিয়েও এভাবে আউট হওয়ায় হতাশায় মাথা নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে আসেন তিলক। ডাগআউটে থাকা কোচ গৌতম গম্ভীরও একেবারেই খুশি হতে পারেননি। এর আগে ২০১১ সালে ট্রেন্টব্রিজে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্টেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। ইংল্যান্ডের ইয়ান বেল এমন ভাবেই রান আউট হয়েছিলেন। ভেবেছিলেন ইয়ন মর্গানের শট চার হয়ে গিয়েছে। ক্রিজ ছেড়ে মর্গানের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। বল বাউন্ডারির দড়ি ছোঁয়ার আগেই ভারতের এক ফিল্ডার বল ছোড়েন। মহেন্দ্র সিংহ ধোনি রান আউট করে দেন। পরে অবশ্য তিনি রান আউটের দাবি প্রত্যাহার করে দেন। ইয়ান বেলও খেলা চালিয়ে যান। আজ ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০ ওভারে ২২৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে ভারত।
ডেভিড বেডিংহ্যামের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল যাচ্ছিল প্রথম স্লিপের দিকে। দ্বিতীয় স্লিপ থেকে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে সতীর্থের সামনে থেকে ছোঁ মেরে বল মুঠোয় জমালেন স্টিভেন স্মিথ। চোখধাঁধানো সেই ক্যাচে একটি রেকর্ডও গড়লেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা। ইংল্যান্ডের জো রুটকে পেছনে ফেলে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়া ফিল্ডার (কিপার ব্যতিত) এখন আবারও স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবান টেস্টে রোববার এই কীর্তি গড়েন তিনি। নামের পাশে ২১৯ ক্যাচ নিয়ে ম্যাচটি শুরু করেন স্মিথ। তৃতীয় দিন ২৮তম ওভারে টেম্বা বাভুমার ক্যাচটি নিয়ে রুটের (২২০) পাশে বসেন তিনি। ওই ক্যাচটি ছিল তার বিচক্ষণতার প্রমাণ। স্পিনার ন্যাথান লায়নের বলে বাভুমা রিভার্স সুইপ করবেন বুঝে আগেই ডান দিকে সরে যান স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের শটে ঠিক স্মিথ বরাবর আসে বল। মুঠোয় জমাতে ভুল করেননি দুর্দান্ত ফিল্ডার স্মিথ। ৩ রানে বিদায় নেন বাভুমা। দুই ওভার পর প্যাট কামিন্সের ওভারে চমৎকার ক্যাচে বেডিংহ্যামকে ফেরান তিনি। ৯ চারে ৪৯ রান করেন বেডিংহ্যাম। টেস্টে ফিল্ডারদের মধ্যে দুইশ ক্যাচ আছে আরও তিন জনের। ভারতের রাহুল দ্রাবিড়ের ক্যাচ সংখ্যা ২১০টি। শ্রীলঙ্কার মাহেলা জায়াওয়ার্দেনে ক্যাচ নিয়েছেন ২০৫টি। আর দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিসের ক্যাচ ঠিক ২০০ টি। আর উইকেটকিপারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ক্যাচের রেকর্ডটি দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচারের, ৫৩২টি। চারশ ক্যাচও নিতে পারেননি আর কেউ।
আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনের শুরুতেই আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়েছে বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদ হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়েন তিনি। তাঁর সঙ্গে এবাদত হোসেনের দাপটে অল্প সময়ের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে আফগানিস্তান। আগের দিন ৪ উইকেটে ২১৭ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল আফগানিস্তান। তৃতীয় দিনের শুরুতে এবাদত হোসেনের বোলিংয়ে ইকরাম আলিখিলের উইকেট হারায় তারা। ইনসুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে ইকরাম করেন ৩২ রান। এরপর বল হাতে ঝড় তোলেন হাসান মাহমুদ। ইসমত আলমকে বোল্ড করে উইকেট নেওয়া শুরু করেন তিনি। পরের বলে কায়েস আহমেদকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জিয়া-উর-রেহমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে। পরপর তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের তালিকায় নাম লেখান হাসান। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন স্পিনার অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী। যথাক্রমে ২০০৩ ও ২০১৩ সালে এই কীর্তি গড়েন তাঁরা। হাসানের হ্যাটট্রিক বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। এদিকে আফগানিস্তানের অধিনায়ক রহমত শাহ এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আগের দিনের ৮৬ রানের সঙ্গে তিনি দলের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে একের পর এক উইকেট হারানোয় চাপে পড়ে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের বোলিংয়ে আফগান ব্যাটিং লাইনআপ বড় ধাক্কা খায়। হাসান হ্যাটট্রিকসহ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন, এবাদতও কার্যকর ভূমিকা রাখেন। মেহেদী হাসান মিরাজ পান একটি উইকেট। আবুধাবির এই টেস্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে বড় লিড নেওয়া।
বিপদে পড়া দলকে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পথ দেখালেন ম্যাট রেনশ। উপহার দিলেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। তাকে দারুণ সঙ্গ দিলেন ন্যাথান লায়ন। নবম উইকেটে দুজনের রেকর্ড জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে চারশর কাছাকাছি সংগ্রহ গড়ল অস্ট্রেলিয়া। ডারবান টেস্টে শনিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে থামে ৩৯০ রানে। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ১ উইকেট ২৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এখনও ৩৬৩ রানে পিছিয়ে আছে তারা। ৪ উইকেটে ৮৪ ও ৬ উইকেটে ১২৪ রানের ধ্বংসস্তূপ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহ গড়ার কারিগর রেনশ। একটি ছক্কা ও ২১টি চারে ৩৯৭ বলে ১৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। টেস্টে বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। গত অগাস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্ট দিয়ে তিন বছর পর ফেরেন রেনশ। ওই ম্যাচে একমাত্র ইনিংসে কেবল ৮ রান করতে পারেন তিনি। এবার চমৎকার ব্যাটিংয়ে ছাড়িয়ে গেলেন নিজের আগের সেরা ১৮৪ রান। তার সঙ্গে ১৩৪ রানের জুটিতে ৯২ বলে ২৭ রান করেন লায়ন। নবম উইকেটে দেশের বাইরে টেস্টে এটি অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের রেকর্ড ছিল জেসন গিলস্পি ও স্টিভ ওয়াহর, ২০০১ সালে কলকাতা টেস্টে ১৩৩ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। প্রথম দিনের মতো এ দিনও আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে শেষ হয় খেলা। ৬ উইকেটে ১৮৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ৪৬ রান নিয়ে খেলতে নামা রেনশ দিনের দ্বিতীয় বলে চার মেরে স্পর্শ করেন ফিফটি। দিনের প্রথম ঘণ্টায় অস্ট্রেলিয়া শিবিরে ছোবল দেন ভিয়ান মুল্ডার। আগের দিনের ৩৩ রানের সঙ্গে ১০ রান যোগ করতেই স্লিপে ধরা পড়েন প্যাট কামিন্স। ভাঙে ৮৬ রানের যুগলবন্দি। মিচেল স্টার্ককেও বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মুল্ডার। এরপর শুরু রেনশ-লায়নের জুটি। যেখানে রান বাড়ানোর কাজটি করেন রেনশ। উইকেট ধরে রাখায় মনোযোগ দেন লায়ন। ৯৬ থেকে আনরিখ নরকিয়াকে চার মেরে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন রেনশ, ২০৪ বলে। ওই ওভার দিয়ে শেষ হয় প্রথম সেশনের খেলা। দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝিতে ৩১১ বলে দেড়শ স্পর্শ করেন রেনশ। রেনশ ও লায়নের জুটির রান একশ স্পর্শ করে ২১৩ বলে। দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে ভাঙে তাদের চমৎকার জুটি। মার্কো ইয়ানসেনের বলে এলবিডব্লিউ হন লায়ন। শেষ জুটিতে জশ হেইজেলউডের সঙ্গে ২৬ রান যোগ করে থামেন রেনশ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই রায়ান রিকেলটনকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। হেইজেলউডের বলে তৃতীয় স্লিপে ধরা পড়েন তিনি। দিন শেষে এইডেন মার্করাম ১৫ ও ডেভিড বেডিংহ্যাম ১২ রানে অপরাজিত আছেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৩৭.২ ওভারে ৩৯০ (আগের দিন ১৮৭/৬) (রেনশ ১৯০, কামিন্স ৪৩, স্টার্ক ৬, লায়ন ২৭, হেইজেলউড ৫; ইয়ানসেন ৩১-৯-৬৮-৩, মুল্ডার ২৭-৬-৬৮-৪, নরকিয়া ২৮-৫-৮৮-২, মহারাজ ২০-০-৭৫-০, হার্মার ২৮.২-০-৬৮-১, মার্করাম ৩-০-৩-০) দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৮.৪ ওভারে ২৭/১ (মার্করাম ১৫*, রিকেলটন ০, বেডিংহ্যাম ১২*; স্টার্ক ৪-১-১৬-০, হেইজেলউড ৪-০-৯-১, কামিন্স ০.৪-০-২-০)
তাইজুল ইসলামের করা অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ক্যাচের মতো তুললেন রেহমাত শাহ। কিন্তু শর্ট কাভারে থাকা নাঈম হাসানের নাগালের অল্প একটু সামনে পড়ল বল। বেঁচে গেলেন আফগানিস্তান অধিনায়ক। এর আগে-পরে দিলেন না আর কোনো সুযোগ। আবু ধাবিতে হতাশাময় একটি দিন পার করল বাংলাদেশ। একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২১১ রান। পুরোদস্তুর টেস্ট মেজাজে খেলে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন রেহমাত। তার সামনে সেঞ্চুরির হাতছানি। একটি ছক্কা ও আটটি চারে ৮৪ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। ২৬ রানে খেলছেন ইকরাম আলিখিল। এর আগে নতুন দিনের প্রথম সেশনে ৯ ওভারের মধ্যে ২৯ রান যোগ করে বাকি ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তাতে তাদের প্রথম ইনিংস থামে ৩৪৬ রানে। ১৩৫ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিন শুরু করবে আফগানিস্তান। অনুমেয়ই ছিল, তীব্র গরমে উইকেটে বোলারদের জন্য তেমন কোনো সুবিধা থাকবে না। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন সেটি টের পেয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। নতুন বলে কিছু মুভমেন্ট ছাড়া দিনের বাকি অংশে সুবিধা করতে পারেননি কেউই। এর মাঝেও উপভোগ্য ছিল হাসান মাহমুদ ও রেহমাতের ব্যক্তিগত লড়াই। দিনের খেলা হওয়ার কিছুক্ষণ বাকি থাকতে পুরোনো বলেই লাইন-লেংথের ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ রেখে আফগান অধিনায়ককে কিছুটা বিপাকে ফেলেন ছন্দে থাকা পেসার। ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। শুরুতে লড়াইয়ের আভাস দেন নাঈম হাসান। তবে অন্য প্রান্ত থেকে সমর্থন পাননি। দিনের ষষ্ঠ ওভারে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান তাইজুল ইসলাম। দুই ওভার পর ইবাদত হোসেনও আউট হলে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ৬৭ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম। আফগানিস্তানের হয়ে ৪টি উইকেট নেন মোহাম্মাদ সালিম সাফি। আরেক পেসার ইয়ামিন আহমাদজাই নেন ৩ উইকেট। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারের প্রথম বলেই হাসানকে বাউন্ডারি মারেন সেদিকউল্লাহ আতাল। ওভারের পঞ্চম বলে কট বিহাইন্ডের জোরাল আবেদন করে বাংলাদেশ। রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হয় তারা। রিপ্লেতে দেখা যায়, পেছনের প্যাড ছুঁয়ে যায় বল। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সেদিকউল্লাহ। হাসানের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি দূর থেকে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ধরা পড়েন ১৭ রান করা ওপেনার। ৩০ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর প্রতিরোধের চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার আব্দুল মালিক ও শাহিদউল্লাহ কামাল। তাদের বেশি দূর যেতে দেননি ইবাদত হোসেন। এতে অবশ্য বড় কৃতিত্ব হাসানেরই। ইবাদতের শর্ট বল দূর থেকে পুল করতে গিয়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন কামাল। সামনে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন হাসান। ৬৪ রানের মধ্যে ২ উইকেট নিয়ে আফগানদের চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মালিক ও রেহমাত। চা বিরতি পর্যন্ত আর সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। শেষ সেশনে ফিরে প্রথম ওভারেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আভাস দেওয়া জুটি ভাঙেন ইবাদত। হালকা লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারি কাভার ড্রাইভের লোভে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মালিক। তার ব্যাট থেকে আসে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ১২০ বলে ৬২ রান। পরের ওভারে চমৎকার ডেলিভারিতে হাশমাতউল্লাহ শাহিদিকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রানের খাতা খুলতে পারেননি আফগানদের সাবেক অধিনায়ক। এরপর শুধুই হতাশা। দিনের বাকি ৩২.২ ওভারে কোনো বিপদ ঘটতে দেননি রেহমাত ও ইকরাম আলি খিল। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তাদের সংগ্রহ ৭২ রান। সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩১৭/৮) ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬ (নাঈম ৩৫*, তাইজুল ৯, ইবাদত ০; ইয়ামিন ২০.৩-৩-৭৯-৩, সালিম ২৩-২-৮২-৪, শাহিদি ৩-০-২৪-০, ইসমাত ১২.৪-৫-২০-২, জিয়া ১৯-১-৭৭-০, কাইস ১৪.২-১-৬০-১) আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ৭৯ ওভারে ২১১/৪ (আতাল ১৭, মালিক ৬২, কামাল ২০, রেহমাত ৮৪*, শাহিদি ০, ইকরাম ২৬*; হাসান ১৬-৩-৩৬-১, ইবাদত ১১-২-৫০-২, মিরাজ ২০-৭-৩৭-১, তাইজুল ২১-৪-৪৪-০, নাঈম ১০-০-৩৭-০, মুমিনুল ১-০-৬-০)
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।