নারী এশিয়া কাপে দারুণ জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নাহিদা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা আক্রমণাত্মক করেছিল ইন্দোনেশিয়া। ওপেনার মারিয়া ও প্যাঙ্গেসতুতির ব্যাটিং কিছুটা শঙ্কাও জাগিয়েছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে। তবে মারুফা আক্তারের জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর মেঘলা, নাহিদা ও ফাহিমাদের দারুণ বোলিংয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইন্দোনেশিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২ রান করেন ওপেনার মারিয়া। বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং করেছেন নাহিদা আক্তার। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৫ ওভারে ৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়ার ইনিংস। এর আগে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইন্দোনেশিয়া। দলীয় ১৬ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ফিরে গেলে জুটি গড়েন দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। দুজনের ৪০ রানের জুটি ভাঙে ২৭ রান করা দিলারা ফিরলে। এরপর সোবহানা মোস্তারি দলীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান করে ফেরেন। ৪২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় এই রান করেন তিনি। শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ১০০ রান পেরোয় বাংলাদেশের স্কোর। ১৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রানের ক্যামিও খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
এমনিতে নাহিদ রানা মাঠে যা-ই করেন, তাকে ঘিরে কৌতূহল সবসময়ই থাকে। গত দুই বছরে গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার তারকা খ্যাতি। আকর্ষণের কেন্দ্রে তো তিনি থাকবেনই। সেই আগ্রহের মাত্রা সোমবার দুপুরে দেখা গেল একটু বেশিই। সংবাদকর্মীদের সবার চোখ তার দিকে, সবার ক্যামেরা তাক করা তার দিকে। যেন বিশেষ কোনো উপলক্ষ! এমনিতে মিরপুরে নাহিদের আনাগোনা নিয়মিতই ছিল। তবে গত কিছু দিনে মূলত শারীরিক কসরতই করতে দেখা গেছে তাকে। এবার শুরু হলো সত্যিকারের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পথে বোলিং শুরু করলেন বাংলাদেশের এই ফাস্ট বোলার। যদিও এই বোলিং একদমই প্রাথমিক পর্যায়ের। স্রেফ কয়েক পা আলতো করে দৌড়ে গিয়ে বল ছুড়েছেন। পুরোদমে বোলিং শুরু করতে এখনও সময় লাগবে বেশ। সময়ের সঙ্গে আস্তে আস্তে বাড়ানো হবে ‘ইনটেনসিটি।’ সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে সময়ের সঙ্গে বড় হবে রান আপ, বাড়বে গতি আর তীব্রতা। বোলিং শুরুর তিনে তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান ও পেস বোলিং কোচ তালহা জোবায়ের। তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন নাহিদের দিকে। মাঝেমধ্যে তাদেরকে দেখা যায়ে তার সঙ্গে কথা বলতে। তার এই বোলিংয়ে ফেরা এমনিতে এটি সাধারণ প্রক্রিয়াই। পুনর্বাসনের আরেকটি ধাপ। তবে নামটি নাহিদ বলেই সাধারণ ঘটনাও হয়ে উঠছে বিশেষ কিছু। গত দুই বছরে তিনি শুধু দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত নামই নন, বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরেই যেমন, চোটের কারণে তিনি খেলতে না পারায় বাংলাদেশ ক্রিকেটে যত আক্ষেপ ছিল, অস্ট্রেলিয়া ও বৈশ্বিক ক্রিকেট মহলেও তুমুল আলোচনা ছিল তার অনুপস্থিতি নিয়ে। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে চোটে পড়েন নাহিদ। ওই সফরে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলার পর সাইড স্ট্রেইন তাকে ছিটকে দেয় মাঠের বাইরে। দেশে ফেরার পর স্ক্যান করানো হলে গ্রেড টু সাইড স্ট্রেইন ধরা পড়ে। শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ায় তার টেস্ট খেলার সম্ভাবনা। ওই মাসের শেষ দিকে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন তিনি, তবে তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য। সেখানে সাইড স্ট্রেইনের পাশাপাশি তার শিনবোনের পুরোনো চোটের অবস্থাও পরীক্ষা করানো হয়। এরপর বিশ্রাম নিয়ে শুরু হয় পুনবার্সন পর্ব। হালকা বোলিং শুরুর পর এখ পরবর্তী প্রশ্ন, কবে নাগাদ তিনি শতভাগ দিয়ে বোলিং করতে পারবেন। তাকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না বিসিবির সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। আপাতত জাতীয় দলের কোনো খেলাও নয়। সময় নিয়েই তার সব প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। আপাতত লক্ষ্য অক্টোবরের শুরুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তাকে ফেরানো। সিরিজের বিস্তারিত এখনও চূড়ান্ত না হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানদের সঙ্গে একটি টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেখানে ওয়ানডে সিরিজের একটি-দুটি ম্যাচে তাকে দেখা যেতে পারে। অক্টোবরেই অপেক্ষায় আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। সেখানকার গতিময় ও বাউন্সি উইকেটে নাহিদকে প্রবলভাবেই পেতে চাইবে দল। সেপ্টেম্বরে অবশ্য এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে খেলবে বাংলাদেশ। সেটির দল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। সেখানে যদি জাতীয় দলকেও পাঠানো হয়, তবু নাহিদ থাকবেন না নিশ্চিতভাবেই।
বয়স মাত্র ১৫ বছর। আর এ বয়সেই একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী। চলমান দুলীপ ট্রফিতে ইশান কিষাণের চোটের কারণে রোববার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। একই ম্যাচে ব্যাট হাতে আরও একটি রেকর্ড নিজের নামে তুলে নেন। দুলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের হয়ে খেলছেন সূর্যবংশী। ইন্ডিয়া টুডে’র প্রতিবেদন। সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরিয়ান হলেন তিনি। ব্যাট হাতে বিস্ফোরক ছিলেন সূর্যবংশী। সবচেয়ে কম বয়সে দুলীপ ট্রফির সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার খুব কাছেও ছিলেন। কিন্তু মাত্র ৮ রানের আক্ষেপ নিয়ে আউট হন তিনি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সূর্যবংশী ৪২ বলে টুর্নামেন্টের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি করেন। এজন্য ৩টি ছয় ও ৪টি চার মেরেছেন তিনি। তাতেই ভেঙে ফেলেন লক্ষ্মণ সিংয়ের ৫৭ বছরের পুরোনো রেকর্ড। ১৯৬৯ সালে ১৬ বছর ২৩ দিনে হাফ সেঞ্চুরি করে এই রেকর্ড অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে নিজের দখলে রেখেছিলেন লক্ষ্মণ। ওই সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর ২৩ দিন। ১৫ বছর ও ১৫৭ দিন বয়সে ফিফটি করে তাকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন সূর্যবংশী।
বয়স মাত্র ১৫। এর মধ্যেই ক্রিকেটে একের পর এক ইতিহাস গড়ছেন ভারতের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। দুলীপ ট্রফির সেমিফাইনালে নতুন কীর্তি গড়ে ভেঙে দিয়েছেন ৫৭ বছর ধরে অক্ষত থাকা একটি রেকর্ড। চলমান দুলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের হয়ে খেলছেন সূর্যবংশী। সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে মাত্র ১৫ বছর ১৫৭ দিন বয়সে অর্ধশতক তুলে নিয়ে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী হাফ সেঞ্চুরিয়ান হয়েছেন তিনি। সোমবার ব্যাট হাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন এই ওপেনার। মাত্র ৪২ বলেই অর্ধশতকের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ইনিংসে ছিল তিনটি ছক্কা ও চারটি চার। এই অর্ধশতকের মাধ্যমে ১৯৬৯ সাল থেকে টিকে থাকা লক্ষ্মণ সিংয়ের রেকর্ড নিজের করে নেন সূর্যবংশী। ১৬ বছর ২৩ দিন বয়সে দুলীপ ট্রফিতে হাফ সেঞ্চুরি করে এতদিন সবচেয়ে কম বয়সী ব্যাটার হিসেবে রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন লক্ষ্মণ। সূর্যবংশী তার চেয়ে প্রায় পাঁচ মাস কম বয়সে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। তবে অর্ধশতকের পরও থামেননি তিনি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন তরুণ এই ব্যাটার। কিন্তু মাত্র আট রানের জন্য শতক থেকে বঞ্চিত হন। ৯২ রানে থেমে যায় তার ইনিংস। এর আগে ইশান কিষাণের চোটের কারণে একই ম্যাচে আরও একটি ইতিহাস গড়েন সূর্যবংশী। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সী অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই নেতৃত্ব ও ব্যাটিং—দুই ক্ষেত্রেই নজর কেড়ে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের সম্ভাবনার জানান দিচ্ছেন এই তরুণ।
জিডি ট্রফিতে অনূর্ধ্ব-২৩ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলা চলছিল মিরপুরে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের এই লড়াইয়ের সময় শের-ই-বাংলায় দেখা গেল দেশের ক্রিকেটের বড় তারকাদের। উত্তরসূরীদের লড়াইয়ে তারা চোখ রাখলেন বটে, তবে হোম অব ক্রিকেটে এ দিন তাদের আনাগোনার মূল উদ্দেশ্য নিজের খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা। সামনের বিপিএল নিয়ে বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল ক্রিকেটারদের সংগঠন। বিপিএল নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার ক্রিকেটারদের সঙ্গেও বসলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। আলোচনার ফলাফলে সন্তুষ্টির কথাই জানাল ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। প্রয়োজনীয় সংস্কার করে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বোর্ডকে সময় দিতে রাজি ক্রিকেটাররা। তবে অন্য কোনো টুর্নামেন্ট বা আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কোনো পথ বের করার অনুরোধও জানিয়ে এসেছেন তারা। তামিম ছাড়াও বিসিবির হয়ে বৈঠকে ছিলেন বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা, ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু, নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজন পরিচালক। কোয়াবের হয়ে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন পেশাদার ক্রিকেটারদের সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইফ হাসান, নাসির হোসেন, মার্শাল আইয়ুব, এনামুল হক, ইয়াসির আলি চৌধুরি, ফজলে মাহমুদ রাব্বিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার। বৈঠক শেষে সংগঠনটির প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন নাসির হোসেন। তার পাশে ছিলেন ইয়াসির, ফজলে রাব্বি, মার্শালসহ কয়েকজন ক্রিকেটার। সেখানে তিনি জানান বিসিবির সঙ্গে ক্রিকেটারদের কী ধরনের আলোচনা হয়েছে। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরই তামিম বলেছিলেন, খুব ভালোভাবে করতে না পারলে এবার তারা বিপিএল আয়োজন করবেন না। সেই ধারাবাহিকতায় কদিন আগে তিনি একরকম নিশ্চিত করে দেন, এই মৌসুমে টুর্নামেন্টটি হচ্ছে না। গত দুই আসরে বিপুল আর্থিক ক্ষতির কথা খোলাসা করেন বিসিবি প্রধান, পাশাপাশি বিপিএল নিয়ে বরাবরের দুর্নাম-বিতর্ক তো ছিলই। উপযুক্ত কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া এই টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতি নন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক। এই সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে তিন ফ্রাঞ্চাইজির কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছে বোর্ড। বিপিএলের স্বার্থে এক বছর অপেক্ষা করতে রাজি তারা। বোর্ডের যুক্তিতে ক্রিকেটারদেরও সন্তুষ্টির কথা জানাল কোয়াব। তবে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার আলোচনার কথা জানালেন নাসির। “ক্রিকেট বোর্ড সবসময় খেলোয়াড়দের পাশে ছিল এবং এখনও আছে। আমরা মূলত বিপিএল নিয়ে কথা বলেছি, কেন এবার বিপিএল হচ্ছে না। বোর্ড সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। বিপিএল না হলে খেলোয়াড়রা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই বিপিএলের জায়গায় কী করলে খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হয় এবং ক্রিকেট বোর্ড কী করতে পারে, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।” “বোর্ড আমাদের সঙ্গে যেভাবে কথা বলেছে, তাতে এটা মোটামুটি নিশ্চিত এবার বিপিএল হচ্ছে না। তবে, খেলোয়াড়রা কীভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, তা নিয়েই আলোচনা চলছে।” সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিপিএল আয়োজনের সময় বরাদ্দ রাখা হয়। ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট আয়োজিত না হলে এই সময়ে অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে বলে আশা রাখছে কোয়াব। “আমরা তো বিভিন্ন সংস্করণের খেলায় ব্যস্ত থাকবই (ওই সময়টায়)। তবে বিপিএলের জন্য নির্ধারিত দেড় মাসে যদি অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যায়, তবে খুব ভালো হয়। এমন টুর্নামেন্ট হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী সভায় বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।” এই টুর্নামেন্টের দাবি শুধু ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নয়। বরং এখান থেকে ক্রিকেটাররা যেন আর্থিকভাবে লাভবান হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখার আহবান ছিল ক্রিকেটারদের সংগঠনটির পক্ষ থেকে। এ জন্য বিসিবি ও কোয়াব দুই পক্ষই পরস্পরকে নিজেদের প্রস্তাব দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়, তা জানা যেতে পারে দুই পক্ষের পরবর্তী সভায়। “তারা (বিসিবি) কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, আবার আমাদের পক্ষ থেকেও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। আমরা পরবর্তীতে আবারও বসব এবং আলোচনা করব।” “আমরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি। হয়তো আরও দু-একবার বসতে হবে। তবে যতটুকু আলোচনা হয়েছে, খেলোয়াড়রা তাতে মোটামুটি সন্তুষ্ট। খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছে। আশা করি পরবর্তী সভায় সুন্দর সমাধান আসবে।” বিপিএল ছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বিসিবি। এর মধ্যে একটি ছিল সুনির্দিষ্ট বর্ষপঞ্জি। কোয়াবের প্রতিনিধি হয়ে নাসির জানান, এমন উদ্যোগের অপেক্ষায় আছেন তারাও। “একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকলে ক্রিকেটারদের জন্য অনেক সুবিধা হয়। কোন মাসে কী খেলা বা টুর্নামেন্ট থাকবে, তা আগে থেকেই জানা যাবে। এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে সব খেলোয়াড়ই স্বাগত জানাবে।” “ক্রিকেট বোর্ড কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। যতটুকু বুঝলাম, খেলোয়াড়দের ভবিষ্যত এবং আগামী ৫–১০ বছর পর খেলোয়াড়রা কোথায় থাকবে, বোর্ড সেদিকেই বেশি জোর দিচ্ছে। আমাদের কাছে যে প্রস্তাব এসেছে, তা খারাপ মনে হয়নি।”
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা। একই চোটের কারণে আগামী ৯ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও তার অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। প্রায় ১০ দিন আগে শীতকালীন অনুশীলনের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান রাবাদা। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) জানিয়েছে, চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে তার অন্তত চার থেকে সাড়ে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। বর্তমানে বোর্ডের মেডিকেল দলের তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৪ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাবাদার ফিট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা না থাকায় তাকে এই সিরিজে পাওয়া যাবে না। তবে টেস্ট সিরিজের দরজা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। রিহ্যাবিলিটেশন প্রক্রিয়ায় তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিএসএ। দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে রাবাদার চোটকে গ্রেড-থ্রি টিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে টেস্ট সিরিজেও তার না খেলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো তাকে টেস্ট সিরিজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেয়নি। রাবাদা খেলতে না পারলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হতে পারে লুঙ্গি এনগিডি, মার্কো ইয়ানসেন ও করবিন বোশকে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফেরার সুযোগ পেতে পারেন এনরিখ নরকিয়া। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য আসন্ন সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ। সেই অভিযানে রাবাদার অভিজ্ঞতা ও বোলিং শক্তি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই তাকে ফিট করে তুলতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড।
গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফির (জিডি ট্রফি) দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। রোববার (৩০ আগস্ট) মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ৪ রানে হারিয়েছে যুবারা। শেষ ওভারে নাটকীয়ভাবে ম্যাচের জয় নিশ্চিত করে অনূর্ধ্ব-১৯ দল। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ওপেনিংয়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুহি ও জারিফ সিয়াম মিলে দলকে এগিয়ে নেন। ২৩ বলে ১৯ রান করে জারিফ ফিরলে একই ওভারে আউট হন আদ্রিতোও। এক প্রান্ত আগলে রাখা মুহি ৪৬ বলে ৪০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর আহসান আল মুমিন ৫৬ বলে ৩৭ রান করেন। দলের ইনিংসকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নেন রবিউল হাসান অনিক। তার সঙ্গে ফারহান সাদিক ও আল রাফিও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ফারহান করেন ২৬ বলে ২৯ রান, আর আল রাফির ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ১২ রান। শেষ পর্যন্ত অনিকের অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংসে ভর করে ২২৬ রানে অলআউট হয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ৮২ বলের ইনিংসে তিনি নিজের ব্যাটিং দৃঢ়তার পরিচয় দেন। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বোলারদের মধ্যে শেখ পারভেজ জীবন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। আজিজুল হাকিম ও আহরার আমিন পিয়ান শিকার করেন দুটি করে উইকেট। একটি উইকেট পান মাহফুজুর রাব্বি। ২২৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে ভালো অবস্থানেই ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল। খালিদ হাসান ২৮ বলে ৩৪ রান করে ফেরেন। জাওয়াদ আবরার করেন ৩০ বলে ২৬ রান। তবে তিন নম্বরে নামা আজিজুল হাকিম তামিম বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৪৫ বলে ২৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপর কালাম সিদ্দিকী অলিন ৪৫ বলে ৩২ এবং রিজান হোসাইন ৭৫ বলে ৪৪ রান করে দলকে জয়ের পথে রাখার চেষ্টা করেন। আহরার আমিন পিয়ান ২৪ বলে ২৫ রান করেন। শেষ দিকে মাহফুজুর রহমান রাব্বি লড়াই চালিয়ে গেলেও দলকে জয়ের বন্দরে নিতে পারেননি। ২৬ বলে ১৬ রান করেন তিনি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ রান, হাতে ছিল মাত্র একটি উইকেট। প্রথম বল ডট হওয়ার পর দ্বিতীয় বলে আসে এক রান। তৃতীয় বলেই শেষ উইকেট হারায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। ফলে ২২২ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। ৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। জয়ী দলের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আবদুর রহিম। তিনি ৪ উইকেট শিকার করেন। আল রাফি ও তাফিউল আলম তামিম নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া এসকে জারিফ সিয়াম ও রবিউল হাসান অনিক একটি করে উইকেট পান।
ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৪৫ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৮ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ব্রেভিসের। মাত্র ৩২ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন তিনি। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস ও জর্ডান হারম্যানের উদ্বোধনী জুটিতে ৩২ রান আসে। ১৩ বলে চারটি চারে ২২ রান করা প্রিটোরিয়াসকে পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ফিরিয়ে দেন ব্র্যাড ইভান্স। তার বিদায়ের সময় দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ৬১ রান। এর আগে জর্ডান হারম্যান ১৩ বলে ২০ রান করে তৃতীয় ওভারে আউট হন। তার ইনিংসেও ছিল চারটি চার। দ্রুত রান তোলার পর দুই ওপেনার ফিরে গেলেও দক্ষিণ আফ্রিকার রান তোলার গতি একটুও কমেনি। ক্রিজে থাকা ব্রেভিস এরপর ম্যাচকে কার্যত একপেশে করে দেন। টনি ডি জর্জির সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। ডি জর্জি ১৭ বলে ১৫ রান করে ১১তম ওভারের শেষ বলে ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হন। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার রান ১০৭। এরপর আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি ব্রেভিস। রুবিন হারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ১৬ বলে প্রয়োজনীয় আরও ৩৯ রান তুলে ফেলেন তিনি। ব্রেভিসের ব্যাট থেকে আসে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কা। ৩২ বলের ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ছিল অবিশ্বাস্য ২৩৪.৩৮। ব্রেভিসের পাশাপাশি রুবিন হারম্যান ৭ বলে অপরাজিত ১১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার। শেষ পর্যন্ত ১৩.৪ ওভারে ১৪৬ রানে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় তাদের। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে। শুরুতে বেন কারানের দ্রুতগতির ব্যাটিং জিম্বাবুয়েকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়। ১২ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ২৪ রান করেন তিনি। তবে পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ডুয়ান ইয়ানসেনের বলে আউট হয়ে যান কারান। দলীয় ৪৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স মিলে ইনিংস এগিয়ে নেন। মায়ার্স ১৭ বলে ১৭ রান করে ১১তম ওভারের প্রথম বলে বিয়র্ন ফর্টুইনের বলে আউট হন। কিছুক্ষণ পর বেনেটও ৩৫ বলে ৩৪ রান করে প্রেনেলান সুব্রায়েনের শিকার হন। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। ৮০ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি আরও কমে যায়। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ১৭ বলে ১০ রান করে ১৫তম ওভারে এথান বোশের বলে ক্যাচ দেন। রায়ান বার্লও ৭ বলে ৪ রান করে সুব্রায়েনের দ্বিতীয় শিকার হন। ১৫.১ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৯৪ রানে ৫ উইকেট। তবে শেষদিকে তাদিওয়ানাশে মারুমানি এসে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। মাত্র ১৩ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। একটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩০.৭৭। মারুমানির দ্রুত রান জিম্বাবুয়েকে ১৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছে দেয়। ১৮.৬ ওভারে মারুমানি আউট হওয়ার সময় জিম্বাবুয়ের রান ছিল ১৩৭। পরের বলেই ওয়েসলি মাধেভেরেকে ১২ রানে হারায় তারা। শেষ ওভারে আরও একটি উইকেট পড়ে—ব্র্যাড ইভান্স ২ বলে ৪ রান করে ডুয়ান ইয়ানসেনের তৃতীয় শিকার হন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৪৪ রানেই থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ডুয়ান ইয়ানসেন। ৪ ওভারে ৪৫ রান খরচ করলেও তিনটি উইকেট নেন তিনি। প্রেনেলান সুব্রায়েন ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন। এথান বশ ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন এবং ১৪টি ডট বল করেন। ফর্টুইন ও মাফাকা একটি করে উইকেট নেন।
কারাবন্দি পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানাতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না জাভেদ মিয়াঁদাদ। সাবেক সতীর্থকে একজন সৎ মানুষ দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার। ইমরানের স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার মধ্যেই মিয়াঁদাদ এসব মন্তব্য করেন। ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান। দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাকে সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের ২১ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠিও পাঠান। একই দাবিতে গত ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। ‘ন্যারেটিভ’ ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কান্নাভেজা চোখে মিয়াঁদাদ বলেন, ইমরানকে তিনি এত ভালোভাবে চেনেন যে, দেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়কের সততা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই তার। “তিনি একজন সৎ মানুষ। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তা না হলে তিনি অনেক কিছুই করতে পারতেন। তাকে মুক্তি দিলে কী হবে? তিনি কি কাউকে খেয়ে ফেলবেন বা কারও ক্ষতি করবেন? তিনিও কারও সন্তান। আমি সব সময় ভাবি, তিনি সেখানে কী করছেন। পাকিস্তান জাতীয় দল ও কাউন্টি ক্রিকেটে ইমরানের সঙ্গে বছরের পর বছর খেলার অভিজ্ঞতা আছে মিয়াঁদাদের। ইমরানকে খুব কাছ থেকে দেখার কারণেই, এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে তার। সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন ইমরান এখনও কেন কারাগারে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। ইমরানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকার কথা অস্বীকার করেন মিয়াঁদাদ। খেলার সময় ও পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছিল। তবে মিয়াঁদাদ বলেন, দেশের হয়ে খেলার সময় তাদের লক্ষ্য সব সময়ই এক ছিল। ইমরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মিয়াঁদাদ পরিষ্কার করে বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না।” ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত। তার নেতৃত্বে ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান।
পুরনো ঝামেলা এড়িয়ে নতুন রূপে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করতে চান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। সেই সংস্কারের স্বার্থে এই বছর টুর্নামেন্টটি মাঠে না গড়ালে তা মেনে নেবে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিসিবি প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই বলেছে তারা। শনিবার বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয় গত আসরে অংশ নেওয়া ছয় দলের তিনটি- ঢাকা ক্যাপিটালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রাইডার্সের কর্মকর্তারা। বাকি তিন দলের একটির মালিকানা ছিল বিসিবির কাছে, বাকি দুই দল সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কোনো কর্মকর্তা এই বৈঠকে ছিলেন না। বিপিএলের দ্বাদশ আসরের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে পাঁচ বছরের জন্য দল বরাদ্দ করেছিল বিসিবি। সেই হিসেবে এক আসর পরেই ছেদ পড়ছে টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতায়। এই ছেদ পড়া মেনে নিয়ে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির চাওয়া বিপিএল ঘিরে বিসিবির লম্বা সময়ের পরিকল্পনা। বিসিবির সঙ্গে আলোচনা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই কথা জানান তারা। রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক বলেন, বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি দুই পক্ষের একসঙ্গে উন্নতি করা দরকার। “বিপিএলের সংস্কার প্রয়োজন। আমরা গত ১০ বছর ধরে আছি, কিন্তু আমাদের কোনো গঠনমূলক ধারণা নেই, টেকসই কোনো মডেল নেই। এই মডেলগুলোকে যদি বিসিবি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো একসঙ্গে উন্নতি করতে পারি, বিপিএলের জন্য লম্বা মেয়াদে অনেক ভালো হবে।” বিসিবিকে সময় দিতে রাজি হওয়া রংপুর রাইডার্স নিজেদের দাবিও তুলে ধরেছে এই সভায়। পরবর্তীতে যেদিনই বিপিএল হবে, আমরা পাঁচ বছরের ক্যালেন্ডার চেয়েছি। কারণ যখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তি করতে যাই, তখন অন্তত ২০টা ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট চলে। এখানে বিপিএলটা সবচেয়ে কম গুরুত্ব পায়।” তার কথায় সুর মিলিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান মোকছেদুল কামাল বাবু বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বিপিএল ভালো জায়গায় থাকবে। “বরাবরই দেখে এসেছি হঠাৎ করেই বিপিএলের তারিখ হয়ে যায় এবং তখন খুবই তড়িঘড়ি করে কাজ করতে হয়। সেটা আমাদের জন্য খুব ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। এজন্য আমরা বলেছি বা বিসিবি চিন্তা করেছে পাঁচ বছর বা একটা লম্বা সময়ের জন্য বিপিএলের রোডম্যাপ তৈরি করার। সেই অনুযায়ী বিপিএল পরিচালিত হবে। সেটা যদি হয় তাহলে অবশ্যই বিপিএল অসাধারণ জায়গায় পৌঁছাবে। “এই বছরে বিপিএলে অনেকগুলো সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে এবং সেই সংস্কারের পরেই বিপিএল শুরু হবে। সেই কাজটি করতে গিয়ে যদি এই বছরে বিপিএল করা সম্ভব না হয় তাহলে পরের বছর হবে। তবে বিপিএল বন্ধ হচ্ছে না, বিপিএলের সংস্কার হচ্ছে।” ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদ বিপিএলের পরের আসর আয়োজনে বিসিবিকে সময় দিতে আগ্রহী। “উনি (তামিম ইকবাল) একটা টেকসই মডেল দাঁড় করাতে চান। হয়তো প্রথম দিকে খুব বড় পরিসরে হবে না। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক, বিসিবি, খেলোয়াড় এবং অন্যান্য যারা আছে প্রত্যেকেই লাভবান হবে। সেই মডেলটা দাঁড় করানোর আগ পর্যন্ত সময় দিতে হবে এবং আমরা একমত আছি।” আগের আসরগুলোর মতো করে এবার বিপিএল আয়োজন করা হলে ঢাকার মালিকানায় থাকা বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজি কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে, তেমনটাও বলেছেন আতিক ফাহাদ। “গত দুই বছর যেভাবে ছিল, ওভাবে করলে থাকব না। আমরা টাকা এবং সময় বিনিয়োগ করি ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য, কিন্তু দিনশেষে মানুষ আমাদের গালি দেয়। একইভাবে বিপিএল হলে আমি আবার অপমানিত হব। তাই এমন মডেল তৈরি করতে হবে, যেটা সবার জন্য লাভজনক হয়। তাহলেই আমরা আবার আসব।” নতুন পরিকল্পনায় বিপিএল এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, দলগুলো নীতিমালা সঠিকভাবে মানেনি। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী সময়মতো ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করলেও চুক্তির ক্ষেত্রে বিসিবির নিয়ম মানেনি। দলটির কর্মকর্তা মোকছেদুলের বিশ্বাস, নীতিমালা মানা সকল দলই আগের চুক্তি অনুযায়ী আগামী আসরে খেলবে। “ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কোনো ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি করেনি। বিসিবির সঙ্গে চুক্তি করেছি এবং পাঁচ বছরের চুক্তি ছিল। ওনারা (বিসিবি) বলেছেন ওনারাও ইতিবাচক। যারা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের নীতিমালাগুলো মেনেছে, সে সকল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো অবশ্যই থাকবে।” ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া আতিকও আশাবাদী, পরের আসরে অংশ নেবেন তারা। গত আসরে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধে গড়িমসি করার অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধেও। “আমাদের যেহেতু ডেকেছে, তার মানে আমরা প্রাথমিক চাহিদা ইতোমধ্যে পূরণ করেছি। আরও কিছু কঠোর নিয়ম যুক্ত করা হবে, যা আমরা এখনও পাইনি। তখন দেখা যাবে ওটাতে পাস করতে পারি কি না, তবে প্রাথমিকটাতে পাস করেছি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে শিরোপা এনে দেওয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার পরও দল থেকে বাদ পড়েন সূর্যকুমার যাদব।নির্বাচক প্যানেল ভিন্ন কোনো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য সফরের জন্য শ্রেয়াস আইয়ারকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিশ্চুপ থাকলেও, অবশেষে মুখে খুলেছেন এই ক্রিকেটার। সূর্যকুমারের বাদ পড়ার পেছনে প্রধান কারণ ছিল তার ব্যাটিং ফর্ম। বিশেষ করে আইপিএলের শেষ মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে তিনি ছন্দে ছিলেন না। এই ডানহাতি ব্যাটার গত বছরে ভারতের হয়ে কোনো অর্ধশতক (ফিফটি) করতে পারেননি এবং বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে তার একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংসটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। তবে অধিনায়ক হিসেবে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। তার নেতৃত্বে ভারত কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হারেনি এবং ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফিও জয় করেছিল। দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ সংযত। তিনি নির্বাচকদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও বিষয়টি বিবেচনা করেছেন এবং সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে কেন তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভাবা হচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। আকাশ চোপড়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সূর্যকুমার যাদব বলেন, দলের তালিকায় নিজের নাম না দেখে আমি হেসেছিলাম। দলে থাকার সময় সবসময়ই একটা চাপ কাজ করত, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সহজ নয়। পরিস্থিতি যখন আমার অনুকূলে ছিল না, তখনও আমি হাসিমুখেই তা গ্রহণ করেছি। আবার এমন সময়ও গেছে যখন আমি দলের জন্য ভালো খেলেছি, তাই আমার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। বিশ্বকাপ জয়ের পর আমি আরও দুই বছর দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। বিশেষ করে অলিম্পিক এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় ছিল। কিন্তু একজনের চিন্তাভাবনা যে অন্যজনের চিন্তার সঙ্গে মিলবেই, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমি মনে করি একে অপরের চিন্তাধারাকে সম্মান জানানো জরুরি। তারা আমাকে ছাড়াই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। এটা তাদের সিদ্ধান্ত ছিল; তারা যদি মনে করে অন্য কারো অধীনে দল ভালো খেলবে, তবে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে সূর্যকুমার স্বীকার করেছেন, দলের ধারাবাহিকতা রক্ষার পরও তাকে বাদ দেওয়ায় তিনি অবাক হয়েছেন। এই ক্রিকেটার বলেন, আমি শ্রেয়াস আইয়ারকে চিনি। সে একজন ভালো খেলোয়াড়, ভালো মানুষ এবং ভালো অধিনায়ক। তাকে দায়িত্ব দেওয়াতে আমার খারাপ লাগেনি। তবে আমি কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম, কারণ গত দুই বছরে আমি কোনো সিরিজ হারিনি। আমি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপও জিতেছিলাম। সবকিছু যখন ভালো চলছে, তখন ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, এমনটাই চাওয়া হয়। এই পরিবর্তনের কারণ বা উদ্দেশ্য কী? বিষয়টি আমাকে বেশ ভাবিয়েছিল এবং আমি দেড় মাস বাড়িতেই ছিলাম। ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, আমি আমার বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম। এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। আইপিএলটা আমার জন্য ভালো যায়নি। আমি বাড়িতে ছিলাম, সবাই বলছিল ঠিক আছে, এসব জীবনেরই অংশ। কিন্তু যখন সবাই চলে গেল, তখন বাড়িতে আমি একা ছিলাম। যাদব জানান, দল ঘোষণার তিন দিন আগে নির্বাচক কমিটি তার সঙ্গে কথা বলেছিল। ওই সময় তাকে ইংল্যান্ড সফরের জন্য তাকে বিবেচনা করা হবে না বলে নিশ্চিত করেছিল। তিনি বলেন, দল ঘোষণার আগেই তারা আমাকে ফোন করেছিল। তারা বলেছিল, এখন নতুন কিছুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি কারণ আমি কোনো ভুল করিনি। বছরের পর বছর ধরে আমি এভাবেই চলেছি। তারা নিশ্চয়ই ভেবেছিল দলের জন্য এটাই ভালো। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে জানিয়েছিল। এতে কোনো সমস্যা নেই। সাক্ষাৎকারে শেষ দিকে যাদব বলেন, আমি খেলার জন্য প্রস্তুত, আপনারা যেকোনো সময় আমাকে ডাকতে পারেন। আমি ক্রিকেট খেলছি এবং খেলা চালিয়ে যাব। যখনই আপনারা মনে করবেন সময়টা সঠিক এবং পরিস্থিতি অনুকূল, আমি ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত।
লর্ডস টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় বিপদে পড়েছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হওয়ায় ইংল্যান্ড পেয়েছে ১৮০ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে দিনশেষে ৩ উইকেটে ৮৩ রান সংগ্রহ করেছে ইংলিশরা। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ২৬১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। দলীয় ১৩ রানের মধ্যেই বেন ডাকেট ও জর্ডান কক্সকে সাজঘরে ফেরান পাকিস্তানের পেসার খুররম শেহজাদ। এরপর তৃতীয় উইকেটে জো রুট ও এমিলিও গে মিলে ৪৭ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ২৪ রান করে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে ফিরে যান ইংল্যান্ডের অধিনায়ক রুট। টেস্টে ইংলিশ অধিনায়কের সাম্প্রতিক এলবিডব্লিউ দুর্ভাগ্যও অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ১২ ইনিংসে এ নিয়ে নবমবার লেগ বিফোরের শিকার হলেন তিনি। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়। তখন এমিলিও গে ৩০ এবং হ্যারি ব্রুক ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের হয়ে খুররম শেহজাদ দুটি এবং মোহাম্মদ আলি একটি উইকেট নিয়েছেন। এর আগে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের বোলাররা দুর্দান্ত শুরু করেছিল। ২৪৮ রানের মধ্যেই ইংল্যান্ডের ৯ উইকেট তুলে নেয় তারা। কিন্তু শেষ উইকেট জুটিতে গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাংয়ের ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ইংল্যান্ডকে ২৯০ রানের সংগ্রহ এনে দেয়। অ্যাটকিনসন ৪৫ রানে আউট হলেও টাং ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বল হাতে ভালো করার পর ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। আজান আওয়াইস সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন। এছাড়া সৌদ শাকিল ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। ইংল্যান্ডের হয়ে ওলি রবিনসন চারটি, জোফরা আর্চার তিনটি এবং জশ টাং দুটি উইকেট নেন। তাদের বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। ফলে ম্যাচের তৃতীয় দিন শুরু হওয়ার আগেই পাকিস্তানের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। লর্ডসে ইংল্যান্ডের জয় এখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালেও ক্রিকেটে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কী হয়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
দিন জুড়েই ভুগল পাকিস্তান- প্রথমে বোলিংয়ে, পরে ব্যাটিংয়ে। অলি রবিনসন ও জফ্রা আর্চারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাবর আজমের দল গুটিয়ে গেল একশ পেরিয়েই। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড পেল দুইশর কাছাকাছি লিড। লর্ডস টেস্টের লাগাম মুঠোয় নিয়েছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিন শেষে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে জো রুটের দল এগিয়ে আছে ২৬১ রানে। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ২৯০ রানের জবাবে পাকিস্তান এ দিন অলআউট হয় ১১০ রানে। ১৮০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস নেমে ইংল্যান্ড দিন শেষ করে ৩ উইকেটে ৮১ রানে। উইকেট পড়ে এ দিন মোট ১৩টি, রবিনসন ও আর্চার মিলে নেন সাতটি। নিখুঁত লাইন-লেংথ আর সিম মুভমেন্টে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়েন রবিনসন। ১১ রানে তিনি নেন ৪ উইকেট। তার ১৩ ওভারের মধ্যে ছয়টিই ছিল মেডেন। অন্যদিকে আর্চার বিধ্বংসী গতি আর বাউন্স দিয়ে নাজেহাল করেন প্রতিপক্ষকে। তার বলের নিয়মিত গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার, মাঝে মাঝে তা পৌঁছে যায় ১৫১ কিলোমিটারে। ১১.২ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তার শিকার তিনটি। প্রথম দিন সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল পাকিস্তান। ৯ উইকেটে ২৪৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ড। শেষ উইকেট জুটিতে গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাং প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাটিং করে যোগ করেন মূল্যবান ৪২ রান, তাদের জুটি থামে ৪৭ রানে। ছয়টি চারে ৪৬ বলে ৪৫ রান করে আউট হন অ্যাটকিনসন। টাং অপরাজিত থাকেন ৪৮ বলে ৩০ রান করে। প্রথম দিনে ফিল্ডিং করার সময় পায়ের মাংসপেশিতে টান লাগায় ইমাম-উল-হাক ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। তার জায়গায় ওপেন করতে নামা শান মাসুদ টিকতে পারেন ১১ বল। আর্চারের ১৪৬ কিলোমিটার গতির ফুল লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় লেগে কিপারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস আউট হতে পারতেন ৮ রানে, কিন্তু অ্যাটকিনসনের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ ফেলেন হ্যারি ব্রুক। পরের ওভারেই টাং ফিরিয়ে দেন আবদুল্লাহ শাফিককে। ২ উইকেটে ১৬ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় পাকিস্তান। হাতের চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে না পারা বাবর আজম বিরতির পর ব্যাটিংয়ে নেমে দুটি চার মারলেও দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। টাংয়ের বলে তৃতীয় স্লিপে জর্ডান কক্সের দারুণ ক্যাচে বিদায় নেন পাকিস্তান অধিনায়ক। বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ হওয়ার আগে-পরে সাউদ শাকিল ও মোহাম্মাদ রিজওয়ানকে এলবিডব্লিউ করেন রবিনসন। দুটি উইকেটই রিভিউ নিয়ে পায় ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের ওপর চাপ ধরে রাখার পুরস্কার পান আর্চার। তার বলে প্লেড অন হন আলি উসমান। এক প্রান্তে পাকিস্তানকে টানছিলেন আওয়াইস। ১০২ বলে ৪৬ রান করা ওপেনারকে বাউন্সারে থামান রবিনসন। ৬ রানের মধ্যে শেষ ৪ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ইমাম শেষ পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ওভারেই হারায় বেন ডাকেটকে। মোহাম্মাদ শাহজাদের বলে মিড-অফ ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। মোহাম্মাদ আব্বাসের তিন বলে দুটি চার মারার পর, পরের ওভারে শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হন প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা কক্স। ১৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েন এমিলিও গে ও জো রুট। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন যোগ করেন ৪৭ রান। অধিনায়ক রুট আরেকবার এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ২৪ রান করে। টেস্টে সবশেষ ১২ ইনিংসে এটি রুটের নবম এলবিডব্লিউ! আলোকসল্পতায় আগেভাগে দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় গে ৩০ ও ব্রুক ৭ রানে অপরাজিত থাকেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৬৬.৪ ওভারে ২৯০ (আগের দিন ২৪৮/৯) (অ্যাটকিনসন ৪৫, টাং ২৪*; আব্বাস ২০-৩-৭৩-৪, শাহজাদ ১৫-০-৭৯-১, আলি ২২-২-৮৬-৩, উসমান ৯.৪-১-৩৯-১) পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৭.২ ওভারে ১১০ (মাসুদ ১, আওয়াইস ৪৬, শাফিক ৫, বাবর ৮, শাকিল ১৬, রিজওয়ান ৭, উসমান ১, শাহজাদ ১, আব্বাস ২, আলি ৩*; রবিনসন ১৩-৬-১১-৪, আর্চার ১১.২-১-২৬-৩, অ্যাটকিনসন ৬-২-২৭-২, টাং ৭-১-৩৩-০) ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ২২ ওভারে ৮১/৩ (ডাকেট ১, গে ৩০*, কক্স ১১, রুট ২৪, ব্রুক ৭*; আব্বাস ৮-০-২৭-০, শাহজাদ ৮-১-২৬-২, আলি ৬-১-২৭-১)
ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা দুর্দান্ত হলো নামিবিয়ার। প্রথম ম্যাচেই তারা হারিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। উইন্ডহুকে শুক্রবার নামিবিয়ার জয় ১৮ রানে। নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বাগতিকদের ১৬৩ রানের জবাবে প্রোটিয়ারা যেতে পারে ১৪৫ পর্যন্ত। মূল অধিনায়কসহ নিয়মিত ক্রিকেটারদের অনেককে এই সফরে বিশ্রাম দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তারপরও নামিবিয়ার জয়ের মাহাত্ম্য কমছে না একটুও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলে দুটিই জিতল আইসিসির সহযোগী দেশটি। একই মাঠে গত বছরের অক্টোবরে কুইন্টন ডি কক, রিজা হেনড্রিকসদের নিয়ে গড়া প্রোটিয়া দলের বিপক্ষে শেষ বলে জিতেছিল তারা। ১০ মাস আগের ওই ম্যাচের ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ রুবেন ট্রাম্পেলমান এবারও দলের জয়ে রাখেন উল্লেখযোগ্য অবদান। এক ছক্কায় ৬ বলে ১২ রান করার পর, হাত ঘুরিয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন এই বাঁহাতি পেসার। যদিও ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা হন আরেক বাঁহাতি জেজে স্মিট। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত শুরু পায় নামিবিয়া। লরেন স্টিনক্যাম্প ও ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৫৮ বলে ৮৪ রান। তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ২৯ বলে ৪১ রান করে ফেরেন স্টিনক্যাম্প। ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৩৮ বলে ৬০ রান করে ১৩তম ওভারে বিদায় নেন ফ্রাইলিঙ্ক। এরপর নিয়মিত উইকেট হারানোয় নামিবিয়ার সংগ্রহটা আরও বড় হয়নি। অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাজমাস তিন নম্বরে নেমে দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন ১৭ বলে। ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার অফ স্পিনার প্রেনেলান সুব্রায়েন। মার্কো ইয়ানসেনের যমজ ভাই ডুয়ান ইয়ানসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার ম্যাচে ৩২ রানে নেন ২ উইকেট। ১৭ রানে ২ উইকেট নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিয়ন ফোরটান। রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস, জর্ডান হেরমান, টনি ডি জর্জি দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। তিন নম্বরে নেমে বলতে গেলে দলকে একাই টানেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ১৮তম ওভারে তিনি (চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ৫০ বলে ৭৫) বিদায় নিলে দক্ষিণ আফ্রিকাও ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায়। শেষ ওভারে ২৮ রানের প্রয়োজনে, একটি ছক্কায় প্রথম দুই বলে ৮ রান নেন ইয়ানসেন। এরপর আর কিছু করতে পারেননি তিনি। তাকে (১৭ বলে ২৫) অন্য প্রান্তে রেখে শেষ দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন স্মিট।
জয়টা হাতের মুঠোয় ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ‘পুরনো রোগ’ ঝেঁকে বসে।শেষ দিকে উইকেট হারানোর রোগ। আজ ডারউইনে বাংলাদেশ এইচপির ব্যাটারদের ওপরও ভর করেছিল। তাতে নাটকীয় পরাজয়ই হয় কি না সেই শঙ্কা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। নর্দান টেরিটোরি স্ট্রাইককে ৩ উইকেটে হারিয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। ১০ বল হাতে রেখে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেছেন পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। টানা দ্বিতীয় জয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের শীর্ষস্থান আরো মজবুত করেছে অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরের দল। ৬ ম্যাচ শেষে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়ে ২২ রান করে শুরুর ভিত গড়ে দেন হাবিবুর রহমান সোহান। তিনে নেমে সহজ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু টানা দ্বিতীয় ফিফটি পাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আউট হলে বাংলাদেশ ধাক্কা খায়। কেননা ব্যক্তিগত ৪৭ রানে সাব্বির বিদায় নিতেই দ্রুত আরও ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে শেষ দিকে সমান এক ছক্কা ও চারে ৮ বলে ১৭ রান করে জয়ের কাজ সহজ করে দেন সামিউন বশির।বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয়ের কাজ সারেন ৬ রানে অপরাজিত থাকা সাকলাইন। তবে জয়ের কাজ অনেকটা সেরে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে টুর্নামেন্ট দুর্দান্ত ছন্দে থাকা অফস্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। নর্দান টেরিটোরিকে ১৪৩ রানে আটকানোর পথে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। রান খরচ করেছেন মাত্র ২১। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আছেন বাংলাদেশের ২০ বছর বয়সী স্পিনার। তার ধারে কাছেও নেই কেউ। ১১ উইকেট নিয়ে দুইয়ে আছেন নর্দানের হামিশ মার্টিন। প্রতিপক্ষের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেছেন জর্ডান সিল্ক।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও বাড়ছে চোটের সমস্যা। একের পর এক ক্রিকেটার চোটে পড়ায় খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় দলের পাশাপাশি ‘এ’ দল ও হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দলের কয়েকজন ক্রিকেটারও বর্তমানে চোটের কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন জাতীয় দলের ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী টেস্ট সিরিজ শেষে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তিনি। আপাতত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই বলে জানা গেলেও চোটের ঝুঁকি নিয়েই খেলতে হবে তাকে। ঢাকা পোস্টকে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার মতো শান্তকেও ‘ম্যানেজ’ করে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ ম্যাচ ও অনুশীলনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে তার খেলার সময় ও workload নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। তবে শান্তর পাশাপাশি তরুণ পেসার রোহানতদৌলা বর্ষণকে নিয়েও নতুন করে চিন্তায় পড়েছে বিসিবি। ২১ বছর বয়সী এই পেসার পিঠের নিচের অংশের ব্যথার কারণে প্রায় ১৫ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন। মাঠে ফেরার পর সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দারুণ পারফরম্যান্স করেন তিনি। এরপর এইচপি দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ওয়ানডেতে ১২ উইকেট শিকার করেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে আবারও পুরোনো চোটে আক্রান্ত হয়েছেন বর্ষণ। আজ সেখানে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর একজন মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। শুধু বর্ষণ নন, দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা বাংলাদেশ ‘এ’ দলেও রয়েছে চোটের সমস্যা। বর্ষণের মতো ডানহাতি পেসার ইকবাল হোসেন ইমনও চোটে পড়েছেন। এইচপি দলের হয়ে ত্রিদলীয় টুর্নামেন্টের চার ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার পর ‘এ’ দলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে বোলিংয়ের সময় চোট পাওয়ায় এখন মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন ১৯ বছর বয়সী এই পেসার। বিসিবির মেডিকেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফিরে ইমনের চিকিৎসা শুরু হবে। একই সঙ্গে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকির হাসানও চোট নিয়ে দেশে ফিরছেন। এদিকে ক্রিকেটারদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। কয়েকটি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি কিছু পোর্টেবল চিকিৎসা ও রোগনির্ণয় সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনার মধ্যে আল্ট্রাসাউন্ড, শকওয়েভ থেরাপি ও এক্স-রে-সংক্রান্ত কিছু সুবিধা রয়েছে। এসব সুবিধা চালু হলে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিসিবির কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরাও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে জাতীয় দল থেকে শুরু করে ‘এ’ ও এইচপি দল—বাংলাদেশ ক্রিকেটে চোটের সমস্যা আবারও বড় হয়ে উঠছে। গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ ও টুর্নামেন্ট সামনে রেখে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও চোট ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে বিসিবিকে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খান। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার মাইকেল আথারটনের নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তারা। লর্ডসে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসে সাক্ষাৎকারটির ১৮ মিনিটের একটি অংশ সম্প্রচার করা হয়। এ সাক্ষাৎকার ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল। এমনকি সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হলে পাকিস্তান দল বিরতির পর মাঠে না নামার হুমকিও দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারটি প্রচার এবং ম্যাচও চালু থাকে। ইমরান খান ও ব্রিটিশ চিত্রনির্মাতা ও সাংবাদিক জেমাইমা গোল্ডস্মিথের দুই সন্তান কাসিম ও সুলাইমান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বরের পর থেকে তারা বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারেননি। সর্বশেষ গত মার্চে তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন তারা। সাক্ষাৎকারে বাবার বন্দিজীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, ইমরান এক চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮০ শতাংশ হারিয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ২৩ ঘণ্টা তাকে একটি ছোট কক্ষে একাকী থাকতে হচ্ছে। সেখানে নতুন বইয়ের সুযোগ নেই এবং গরমের সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও যথাযথ নয় বলে অভিযোগ করেন তারা। সুলাইমানের দাবি, দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার কারণে ইমরানের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে এবং তার রক্তচাপও বাড়ছে। ইমরানের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বড় ছেলে কাসিম। তার অভিযোগ, বাবাকে আটকে রাখার পাশাপাশি তার কণ্ঠও স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কাসিমের ভাষায়, পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উদ্বেগজনক। বাবার চিকিৎসা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান তারা। কাসিম বলেন, ইমরানের চোখের সমস্যার জন্য তার চোখে প্যাচ লাগানো হয়েছিল এবং তাকে মানসিকভাবে চাপে থাকা অবস্থায় মনে হয়েছে। অথচ কঠিন পরিস্থিতিতেও ইমরান সাধারণত শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী থাকেন বলে জানান তিনি। সম্প্রতি ইমরানকে কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। নির্দেশ অনুযায়ী তাকে অন্তত ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে রাখার কথা ছিল। তবে তাকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তার ছেলেরা। সুলাইমান বলেন, এ ঘটনায় তারা হতাশ হয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার জন্য ইমরানকে সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলেও পরে তাকে শিফা হাসপাতালে স্থানান্তর না করেই কারাগারে ফেরানো হয়। কাসিমের দাবি, সরকারি চিকিৎসকেরা পরীক্ষা শেষে ইমরানকে সুস্থ বলে জানালেও পরে তাকে স্বাধীনভাবে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি অপেক্ষমাণ চিকিৎসকদের সঙ্গেও তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে বাবার সঙ্গে দেখা করতে একাধিকবার পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করেও ভিসা জটিলতার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন কাসিম ও সুলাইমান। একই সঙ্গে ইমরানের বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তারা। সুলাইমান বলেন, যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল মূলত সহানুভূতি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। পাকিস্তানে গেলে তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা করা হবে না বলেও জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। নতুন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে এবং বাবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মিলবে—এমন আশাও প্রকাশ করেন সুলাইমান। ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক। ১৯৯২ সালে তার নেতৃত্বেই পাকিস্তান প্রথমবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করে। পরে ২০১৮ সালে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্বে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ২০২২ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিভিন্ন মামলায় তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ হলেও এখনও দেশে ফেরেনি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। দেশে ফিরে কিছুদিন বিশ্রাম শেষে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে টাইগাররা। সেখানে আফগানিস্তানের আয়োজনে ওয়ানডে ও টেস্ট খেলার কথা থাকলেও দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের বদলে এখন ত্রিদেশীয় সিরিজ হবে। তৃতীয় দল হিসেবে যুক্ত হচ্ছে জিম্বাবুয়ে। আসছে সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরে আসার কথা থাকলেও আসন্ন সিরিজটি কার্যত অনিশ্চিত। যে কারণে এই সময়ে স্কিল ক্যাম্পের ওপর কাজ করবেন জাতীয় দলের রাডারে থাকা ক্রিকেটাররা। এরপর আগামী অক্টোবরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে বাংলাদেশ। প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা ছিল, আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেখানে একটি টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা ছিল টাইগারদের। অক্টোবরের শুরুতেই বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের এই ত্রিদেশীয় ওয়ানডে লড়াই মাঠে গড়াচ্ছে। বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ দিকে ছিল। যদিও ম্যাচগুলোর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। কারণ আফগানিস্তান বোর্ড জিম্বাবুয়েকে প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিল ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার জন্য। এতদিন চুপ থাকলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাইনেশন সিরিজটি খেলার জন্য রাজি হয়েছে তারা। বিসিবির একটি সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, ওয়ানডে ফরম্যাটের ত্রিদেশীয় সিরিজে যোগ হচ্ছে জিম্বাবুয়ে দল। সেক্ষেত্রে বেড়ে যাবে ম্যাচের সংখ্যা। অক্টোবরের শুরুতেই আয়োজিত হবে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের এই ত্রিদেশীয় ওয়ানডে লড়াই। এরপর হবে আফগানদের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি খেলবে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে আধিপত্য বিস্তারের যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ গিয়েছিল, তার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন পেসার হাসান মাহমুদ। দুই ম্যাচের সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে। ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরে সিরিজ ড্র করে সফরকারীরা। হাসান বলেন, 'ডারউইনে জয় পাওয়া থেকে শুরু করে ম্যাকাইতে তাদের কঠিন সময় দেওয়া এবং বোলিংয়ে আধিপত্য বিস্তার করা—অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে আমাদের স্বপ্ন ছিল, তাদের বিপক্ষে খেলব এবং আধিপত্য দেখাব। আমার মনে হয়, আমরা আমাদের লক্ষ্যের ৮০ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছি।' ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেওয়া হাসান বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ায় অনুশীলন শুরু করার সময় আমাদের চিন্তাভাবনা, অনুশীলনের প্রতি নিবেদন ও মনোযোগ ছিল নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে ঘিরে। আমি বলব, আমরা সেগুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পেরেছি এবং সব খেলোয়াড় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা এখনো আমাদের পরিশ্রমের ফল অনুভব করতে পারছি। আমরা সবাই যে লক্ষ্যের জন্য লড়াই করেছি, সেটি প্রায় অর্জন করতে পেরেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সিরিজটি ড্র হয়েছে, তবে এটি আমাদের জন্য বড় একটি অর্জন।' অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে আরও বেশি খেলার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে বলেও আশাবাদী হাসান। তিনি বলেন, 'আমরা যত বেশি এ ধরনের কন্ডিশনে খেলব, তত বেশি আধিপত্য বিস্তার করতে পারব। বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরও বেশি খেলার সুযোগ পাব। আশা করি, ভবিষ্যতে আরও বেশি ম্যাচ জিতব এবং বিশ্ব ক্রিকেটে আরও বেশি আধিপত্য দেখাতে পারব।' বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিটের সাফল্যের পেছনে নিখুঁত জায়গায় বল করার দক্ষতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন হাসান। তিনি বলেন, 'গত কয়েক বছর ধরে আমরা পেস বোলিং ইউনিট হিসেবে উন্নতির চেষ্টা করছি। অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে কন্ডিশন ও যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, সেগুলো নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। কোচ ও বিশ্লেষকের সঙ্গেও বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি।' হাসান বলেন, 'অস্ট্রেলিয়া অবশ্যই বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তাদের বিপক্ষে আমাদের পরিকল্পনা কী হবে, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর অনুশীলনে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। নতুন বলে সঠিক জায়গায় বল করা, নতুন বল সুইং করানো এবং নির্দিষ্ট লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বোলিং করার বিষয়গুলোতে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।' তিনি আরও বলেন, 'আমাদের পেসাররা যেভাবে কাজ করেছে, তাদের নিবেদন ও মনোযোগ এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী যেভাবে এগিয়েছে, সেটি উন্নতিরই প্রমাণ। সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমার মনে হয়, ম্যাচেও আমরা সবাই নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আমাদের জয়ের পেছনে পেসারদের বড় অবদান ছিল। পেস বোলিং ইউনিট হিসেবে এই সিরিজ নিয়ে আমরা শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।' স্টার্কের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছেন শরিফুল এদিকে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়া শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিরিজের শেষ ম্যাচের পর অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের কাছ থেকে কিছু পরামর্শ নিয়েছেন তিনি। ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্ট শেষে স্টার্কের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল শরিফুলকে। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, 'ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মূলত আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। তার কিছুটা সময় চেয়েছিলাম এবং তিনি রাজি হন। এরপর জানতে চেয়েছি, সিরিজের আগে তিনি কী ধরনের শারীরিক প্রস্তুতি নেন এবং কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন।' স্টার্কের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শের বিষয়ে শরিফুল বলেন, 'তিনি বলেছেন, তার বয়স এখন ৩৬ বছর হওয়ায় তার প্রস্তুতির ধরন আমাদের চেয়ে আলাদা। তবে তার কাছ থেকে বিষয়গুলো জানতে পেরেছি। একটি ম্যাচের পর কীভাবে তিনি নিজেকে ধরে রাখেন, সেটাও জানতে পেরেছি।'
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা কমিয়ে ১২ করায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য শুরুতে ১৪ দল নিয়ে পরিকল্পনা করা হলেও পরে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা কমিয়ে ১২ করা হয়। আইসিসির এই পরিবর্তনকে ক্রিকেটের বৈশ্বিক বিস্তারের পথে বাধা হিসেবে দেখছেন ১৯৯৯ বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পাবে। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েও সরাসরি অংশ নেবে। অর্থাৎ র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০ দলের বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত হবে। বাকি দুটি জায়গা নির্ধারিত হবে বাছাইপর্বের মাধ্যমে। একটি দল বাছাইপর্বের চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপে উঠবে। অন্য দলটি নির্ধারিত হবে বাছাইপর্বে ১২, ১৩ ও ১৪তম অবস্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যকার ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। ‘এটি পেছনের দিকে যাওয়ার প্রক্রিয়া’: ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্টিভ ওয়াহ। তার মতে, বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া ক্রিকেটের বৈশ্বিক সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্টিভ ওয়াহ বলেন, ওয়ানডে বিশ্বকাপ ১৪ থেকে ১২ দলে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তিনি বুঝতে পারছেন না। ফুটবল বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ফিফা যেখানে বিশ্বকাপের দল ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করেছে, ক্রিকেট সেখানে উল্টো পথে হাঁটছে। ক্রিকেটকে সত্যিকার অর্থে বৈশ্বিক খেলায় পরিণত করতে হলে আরও বেশি দেশকে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন সাবেক এই অজি অধিনায়ক। তার মতে, সহযোগী ও উদীয়মান দেশগুলোকে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এসব দেশের খেলোয়াড় ও ক্রিকেট কাঠামোর উন্নতি সম্ভব। সহযোগী দেশগুলোরও ক্ষোভ: ২০২৭ বিশ্বকাপের নতুন কাঠামো নিয়ে এর আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেট বোর্ড। চলতি আগস্টে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড ও রয়্যাল ডাচ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন জানায়, বিশ্বকাপ শুরুর ১৮ মাসেরও কম সময় আগে বাছাই প্রক্রিয়া ও টুর্নামেন্টের কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে তারা গভীরভাবে হতাশ। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মতে, এ ধরনের পরিবর্তন সহযোগী সদস্যদেশগুলোর ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের প্রসারে গত কয়েক বছরে যে অগ্রগতি হয়েছে, সেটিও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, ক্রিকেট যখন নতুন দর্শক তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন উদীয়মান দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপে যাওয়ার অর্থবহ সুযোগ কমিয়ে দেওয়া ইতিবাচক বার্তা দেয় না। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে বেশি সংখ্যক দেশের অংশগ্রহণ ক্রিকেটের প্রসার ও প্রতিযোগিতার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে—স্টিভ ওয়াহর বক্তব্যেও মূলত সেই বিষয়টিই উঠে এসেছে। এখন আইসিসির নতুন কাঠামো আগামী বিশ্বকাপে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই দেখার বিষয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ডিন এলগার চলতি বছরের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুম শেষে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার প্রোটিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের শীর্ষে থেকে ১২ বছর কাটিয়েছেন। ৮৬টি টেস্টে ৩৭.৯২ গড়ে তিনি ৫,৩৪৭ রান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি সেঞ্চুরি এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা ১৯৯ রানের ইনিংসটি তার ক্যারিয়ার-সেরা। এলগার ১৮টি ম্যাচে প্রোটিয়াদের নেতৃত্বও দিয়েছেন। এর মধ্যে ছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কেপ টাউনে ভারতের বিপক্ষে তার শেষ টেস্টটি, যেখানে চোট পাওয়া টেম্বা বাভুমার পরিবর্তে তিনি আবারও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট খেলার সুযোগ ক্রমশ কমে আসায় তিনি এসেক্সের হয়ে খেলার চুক্তি করেন। সেখানে গত তিন মৌসুমে তার দৃঢ়চেতা বাঁ-হাতি ব্যাটিং এবং টেস্ট ক্রিকেটে প্রমাণিত দক্ষতা তাকে অ্যালাস্টেয়ার কুকের আদর্শ উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উল্লেখ্য, কুক ২০২৩ সালের শেষে অবসর নিয়েছিলেন। অবসরের বিষয়ে এলগার বলেন, আমার মনে হয় এটাই এখন সঠিক সময়। বয়স তো আর কমছে না, ৩৯ বছর হয়ে গেছে। দেশে আমার পরিবার, সন্তানরা রয়েছে। তাদের নিয়ে কিছু সামলানোর বিষয় রয়েছে। এখন আমার জন্য সঠিক সময় হলো বাড়িতে থাকা এবং আমার সঙ্গী ও সন্তানদের পাশে থাকা। এখন পর্যন্ত যাত্রাটা দারুণ ছিল। যদিও এটি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, তবে মৌসুম শেষে আমি অবসর নেব। ২১ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে এলগার ৫০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন; এর মধ্যে সারে ও সমারসেটের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০০৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপর ফ্রি স্টেট ও নাইটস দলের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটান। এলগার বলেন, আমি ভাগ্যবান যে বারো বছর ধরে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি এবং এরপর অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছি। এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। আমি কোথা থেকে উঠে এসেছি সেই যাত্রার দিকে তাকালে মনে হয় না খুব বেশি মানুষ আমার এমন ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী ছিল; আর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা তো ভাবাই যায় না। নিজের ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এলগার ২০২২ সালে লর্ডসে বেন স্টোকসের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস ব্যবধানে জয়কে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমার সময়ে অনেক গর্বের মুহূর্ত এসেছে। তবে অধিনায়ক হিসেবে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে হারানো নিঃসন্দেহে তার মধ্যে অন্যতম। এটি আমার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এসেক্সের ক্রিকেট পরিচালক ক্রিস সিলভারউড বলেন, এলগারের ক্যারিয়ার দীর্ঘস্থায়িত্ব, মানসিক দৃঢ়তা এবং ক্রিকেটের প্রতি গভীর নিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ক্যারিয়ারে একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ওপেনিং ব্যাটার হিসেবে তার খ্যাতি এসেক্সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। বিশেষ করে ক্লাবের তরুণ খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি এলগারের অবসর পরবর্তী জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।