ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর এবার টি-টোয়েন্টিতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ। তাঁর অপরাজিত শতরানের ওপর ভর করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়া করে ভারতকে হারিয়েছে ক্যারিবীয়রা। রাঁচিতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটের জয়ে সমতায় ফিরেছে সফরকারীরা। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৫ উইকেটে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১৮.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হাতে ৬ উইকেট রেখে ৯ বল আগেই লক্ষ্য অতিক্রম করে তারা। এটি টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবীয়দের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর আগে সর্বোচ্চ ২৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের নজির গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ম্যাচে দুই দল মিলে করেছিল ৫১৭ রান। এবার ভারতের বিপক্ষে ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ল ক্যারিবীয়রা। দুই দলের সম্মিলিত সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫০১ রান। ম্যাচটির আগে ভারতের বিপক্ষে ২২৩ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল না কোনো দলের। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা শুরুটা আক্রমণাত্মক করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ১২ বলে ২০ রান করে বিদায় নেন তিনি। অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসন খেলেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। ৪১ বলে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮২ রান করেন এই ব্যাটার। মাত্র ২১ বলেই পূর্ণ করেন অর্ধশতক। ইশান কিষাণের সঙ্গে স্যামসনের জুটিতে আসে ৪৩ বলে ৯৭ রান। ইশান ২২ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় করেন ৪৩ রান। পরে রোস্টন চেজের বলে ইশান ও শিভাম দুবে আউট হলে ভারতের রানের গতি কিছুটা কমে। দুবে করেন ৭ রান। পরের ওভারে স্যামসনও ফিরে যান। তবে শেষ দিকে ভারতকে বড় সংগ্রহ এনে দেন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা। পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৩৩ বলে তাঁদের ৮৩ রানের জুটি ভারতকে আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যায়। আইয়ার ১৮ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ রান করেন। একই সংখ্যক বল খেলে তিলক করেন ৪৪ রান, তাঁর ইনিংসেও ছিল ৩টি করে চার ও ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রোস্টন চেজ ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ওভারেই দুটি উইকেট হারানোর পর পাওয়ার প্লের মধ্যে আরও একটি উইকেট হারায় দলটি। তবে এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন হোপ ও রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৫৪ বলে ১২০ রানের ঝোড়ো জুটি গড়েন তাঁরা। ৩৭ বলে ৭টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৮৪ রান করে রাদারফোর্ড আউট হলে ভাঙে এই জুটি। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের মোড় ঘুরে গেছে। এরপর রোমারিও শেফার্ডকে নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন হোপ। তাঁদের জুটিতে মাত্র ২৬ বলে আসে ৭৪ রান। হোপ ৪৫ বলে ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায় অপরাজিত ১০২ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। দুর্দান্ত এই ইনিংসের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি। অন্য প্রান্তে শেফার্ড মাত্র ১৩ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন ৩৪ রান। ভারতের হয়ে মায়াঙ্ক যাদব নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ওমান যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ যুব ক্রিকেট দলের। তবে কয়েকজন খেলোয়াড়ের ভিসা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে দেশ ছাড়তে পারছে না দলটি। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারের পরিবর্তে রোববার ওমানের উদ্দেশে রওনা হতে পারে তারা। শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ যুব দলের দেশ ছাড়ার কথা ছিল। তবে দলের কয়েকজন সদস্যের ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেওয়ায় যাত্রা এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সিরিজের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ওমান ক্রিকেট একাডেমি মাঠে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ অক্টোবর প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ১৫, ১৮, ২০ ও ২৩ অক্টোবর। ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ যুব দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ফরিদ হাসান ফয়সাল। সিরিজকে সামনে রেখে সম্প্রতি দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্কোয়াড ফরিদ হাসান ফয়সাল (অধিনায়ক), আব্দুল্লাহ আল মুহি, আহসান আল মুমিন, আল আমীন হোসেন রনি, আল রফি, ফারহান সাদিক, কাওসার আহমেদ, আল আমীন হোসেন, শাকিল খান, মেহেরাব হাসান সিজান, রকিবুল হাসান, রবিউল হাসান অনিক, রুবাই ইসলাম রিজন, শেখ আতিকুর রহমান আকাশ ও শেখ জারিফ সিয়াম। ভিসা জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সিরিজে অংশ নিতে ওমান পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ যুব দল।
জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে দরকার ছিল ১০ রান। সেঞ্চুরি থেকে শাই হোপও ছিলেন ১০ রান দূরে। অক্ষর প্যাটেলের ওভারে পরপর দুই ছক্কায় দুই লক্ষ্যই পূরণ করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করে দলকে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় এনে দিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়ায় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়ার বিশ্ব রেকর্ডের ম্যাচেও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়ানের সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে রেকর্ড গড়তে দেখে ক্যারিবীয়রা। ২৫৯ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে জিতে গিয়েছিল স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। আজ রান তাড়ার শুরুতে মনে হয়নি এমন কিছুর সাক্ষী হবেন রাঁচির দর্শক। ভারতের ফাস্ট বোলার মায়াঙ্ক যাদব প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরটাকে ৫/২ বানিয়ে দেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৭ বলে ৫৩ রান যোগ করেন হোপ। পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেওয়ার পর শেরফান রাদারফোর্ডকে নিয়ে ৯ ওভারে ১২০ রানের জুটি হোপের। ৩৭ বলে ৭ ছক্কায় ৮৪ রান করে রাদারফোর্ড যখন ফেরেন ৩৫ বলে ৭২ রান দরকার ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সে সময়ে ৬৩ রানে ব্যাট করা হোপ ৯ বল হাতে রেখেই জয় এনে দিলেন রোমারিও শেফার্ডকে নিয়ে। দুজনের জুটিতে ৭৪ রান এসেছে মাত্র ২৬ বলেই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পাওয়া হোপের ৪৫ বলের ইনিংসে চার ৬টি, ছক্কা ৯টি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হোপের আগের সেঞ্চুরিটিও ছিল ১০২ রানের। গত বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। এদিন জয়ের পথে তাঁর সঙ্গে ঝোড়ো ব্যাটিং করেছেন রোমারিও শেফার্ড। মাত্র ১৩ বলে ৩৪ রান করেন তিনি। এর আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২৪৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছিল ভারত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলের ইনিংসটি সাজাতে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি। এ ছাড়া তিলক বর্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪, ঈশান কিষান ২২ বলে ৪৩ এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ বলে ৪০ রান করেন। সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে রবিবার, ইন্দোরে।
নুয়ান থুশারার নিচু ফুল টস বল লেগ সাইডে ফ্লিক শট খেললেন সাহিবজাদা ফারহান। ডিপ মিডউইকেটে অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় দুর্দান্ত ক্যাচ নিলেন সাহান আরাচ্চিগে। তার আগেই অবশ্য নিজের কাজটা করে দেন সাহিবজাদা। অধিনায়কের সঙ্গে বিস্ফোরক জুটিতে অবদান রাখলেন মাজ সাদাকাত। শ্রীলঙ্কাকে অনায়াসে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল পাকিস্তান। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের জয় ৪ উইকেটে। রাওয়ালপিন্ডিতে শুক্রবার ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা করে ১৮২ রান। দলের অর্ধেক রান একাই করেন লাহিরু উদারা। ১১ চার ও এক ছক্কায় ৫৫ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। পাকিস্তান লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সাত বল হাতে রেখে। ১০ চার ও চারটি ছক্কায় ৫৩ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা পাকিস্তান অধিনায়ক সাহিবজাদা। সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমসে রূপাজয়ী পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সাহিবজাদা এই সিরিজ দিয়ে পূর্ণ মেয়াদে পান অধিনায়কত্ব। প্রথম ম্যাচেই অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে দলের জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখলেন এই আগ্রাসী ওপেনার। তিন নম্বরে সাদাকাত চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় ২৯ বলে করেন ৫০ রান। সাহিবজাদার সঙ্গে তার দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৯২ রান আসে কেবল ৫২ বলে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের পেসারদের বিপক্ষে ধুঁকেছে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা। অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস আউট হয়ে যান প্রথম ওভারে। এরপর ক্রিজে আসা কামিল মিশারার প্রথম রানের দেখা পেতে লাগে ৯ বল। তবে তিনিও বিদায় নেন দ্রুতই। প্রথম চার ওভারের মধ্যে দুই উইকেট হারানোর পর ৬০ রানের জুটিতে দলকে টানেন উদারা ও কামিন্দু মেন্ডিস। ১৮ বলে ২৩ রান করে বিদায় নেন কামিন্দু। সাহান আরাচ্চিগে টিকতে পারেন দুই বল। দলকে বলতে গেলে একাই টানেন উদারা। তিনি আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ (৫৭) জুটি গড়েন পঞ্চম উইকেটে দাসুন শানাকার সঙ্গে। ৩২ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান ফিফটি করেন ৩২ বলে। সাবেক অধিনায়ক শানাকা ফেরেন ১৫ বলে ১৮ রান করে। দলকে ১৭২ পর্যন্ত টেনে নিয়ে ১৯তম ওভারে শেষ হয় উদারার ৯০ ছোঁয়া ইনিংস। ১৮টি ওয়াইডসহ অতিরিক্ত থেকে মোট ২৯ রান দেয় পাকিস্তান। চার ওভারে ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সফলতম বোলার পেসার নাসিম শাহ। অভিষিক্ত পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মাদ ইমরান ২১ রানে নেন দুটি উইকেট। লক্ষ্য তাড়ায় ৩১ বলে ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন ফাখার জামান ও সাহিবজাদা। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর প্রথমবার জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামা ফাখার ফেরেন ১৩ বলে ২১ রান করে। ফাখারের বিদায়ের পর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন সাহিবজাদা ও সাদাকাত। সাহিবজাদা ফিফটি করেন ৩৩ বলে, সাদাকাতের পঞ্চাশ ছুঁতে লাগে ২৮ বল। দুর্দান্ত জুটি থামে সাদাকাতের বিদায়ে। হাসান নাওয়াজ ও সাইম আইয়ুব বিদায় নেন দ্রুত। থুশারার চার বলের মধ্যে দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে সাহিবজাদা ফেরেন যখন, জয় থেকে তখন কেবল ৪ রান দূরে পাকিস্তান। শাদাব খান বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে এলেও, ছক্কা মেরে ম্যাচের ইতি টানেন খাওয়াজা নাফে। একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচ হবে আগামী রোববার। সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৮২/৮ (উদারা ৯১, কুসাল মেন্ডিস ১, মিশারা ৬, কামিন্দু মেন্ডিস ২৩, আরাচ্চিগে ১, শানাকা ১৮, ওয়েলালাগে ৫, থিকশানা ১, চামিরা ৬*, মালিঙ্গা ১*; নাসিম ৪-০-৩৬-৩, ইমরান ৪-০-২১-২, রাজাউল্লাহ ৩-০-২৯-১, আবরার ৪-০-৩৬-০, শাদাব ৩-০-৩৩-১, সাইম ২-০-১৭-১) পাকিস্তান: ১৮.৫ ওভারে ১৮৭/৫ (সাহিবজাদা ৮৯, ফাখার ২১, সাদাকাত ৫০, নাওয়াজ ১, সাইম ৮, নাফে ১২*, শাদাব ০, ইমরান ০*; থুশারা ৩-০-৩২-১, চামিরা ৩-০-৪০-১, মালিঙ্গা ৩.৫-০-৩৩-২, থিকশানা ৪-০-৩৬-২, শানাকা ২-০-১৬-০, ওয়েলালাগে ৩-০-২৬-০) ফল: পাকিস্তান ৪ উইকেটে জয়ী সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে পাকিস্তান ম্যান অব দা ম্যাচ: সাহিবজাদা ফারহান
এক সংস্করণে সফল তো আরেক সংস্করণে ব্যর্থ; গৌতাম গাম্ভিরের কোচিংয়ে ‘এভাবেই কাটছে’ ভারত দলের সময়। সব সংস্করণে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেন ওয়াটসন। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার খুঁজে পেয়েছেন ভারতের অধারাবাহিকতার কারণ। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারত দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন গাম্ভির। তার কোচিংয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে এশিয়ার দলটি। তবে টেস্টে দলটির পারফরম্যান্সের অবনতি হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হয় তারা। নিজেদের আঙিনায় লাল বলের সিরিজ হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও। এছাড়া চলতি বছর কিউইদের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজেও হেরেছে দলটির। গত ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে দলটি। এ বছরের জুলাইয়ে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হেরেছে ভারত। প্রাইম ভিডিওর ইউটিউব চ্যানেলে আলোচনার সময় ওয়াটসন বলেন, বিভিন্ন সংস্করণে ভারতের ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার পেছনে বড় কারণ একাদশ ও ব্যাটিং অর্ডারে ঘন ঘন পরিবর্তন। “যে বিষয়টি আমরা দেখছি এবং যে কারণে গাম্ভিরের কোচিংয়ে ভারত অধারাবাহিক, সেটা হলো সবসময় ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন করা। খেলোয়াড়রা নিয়মিত দলে আসছে, বাদ পড়ছে। যখন দল অস্থির থাকে- সেটা ব্যাটিং অর্ডারেই হোক কিংবা খেলোয়াড়দের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে, তখন দলের ধারাবাহিক হওয়া কঠিন। আর এ কারণেই ভারত খুবই অধারাবাহিক পারফর্ম করছে।” তবে গাম্ভিরের কোচিংয়ের কিছু দিক ভালোও লেগেছে ওয়াটসনের। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাঞ্জু স্যামসনের ওপর বিশ্বাস রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তিনি। আস্থার প্রতিদান দিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভারতের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন স্যামসন। “ভারতীয় দলে অসাধারণ অনেক কিছু যোগ করেছেন গাম্ভির, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সাঞ্জু স্যামসনের মতো খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানো এবং তাকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করেছেন তিনি। গাম্ভিরের বিশ্বাসের প্রতিদান দিয়েছে স্যামসনও এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষভাগে চমৎকার পারফর্ম করেছে সে। সুতরাং গাম্ভিরের অনেক ইতিবাচক দিকও রয়েছে।” ওয়াটসনের মতে, দলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ভারতকে সব সংস্করণেই হারানো কঠিন হয়ে যাবে। “তবে আমার মনে হয়, গাম্ভিরের কোচিংয়ে দলে অতিরিক্ত রদবদল হচ্ছে। দলে কিছুটা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে তারা যদি সেটি করতে পারে, তবে তাদের হারানো অসম্ভব হয়ে উঠবে।”
‘উইকেটে তেমন কিছুই নেই, বড় ইনিংস খেলা জরুরি’- ধারাভাষ্যে রমিজ রাজা যখন এই কথা বলছেন, ৬৫ রানে অপরাজিত সাদমান ইসলাম। তার ব্যাটেই হয়তো বড় কিছুর সম্ভাবনার কথা বলছিলেন রমিজ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই শর্ট বলের ফাঁদে পা দিয়ে বসেন অভিজ্ঞ ওপেনার। সাদমান একাই নন, একই পথের পথিক তানজিদ হাসান, লিটন কুমার দাস, মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ভালো শুরুর পরও কেউ পারেননি ইনিংস টেনে নিতে। তাই প্রথম দিন শেষে বড় ইনিংস খেলতে না পারার আক্ষেপ রইল বাংলাদেশের। আবু ধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে এমনিতে খুব বেশি খারাপ অবস্থায় নেই বাংলাদেশ। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩১৭ রান। আবু ধাবির মাঠে টেস্টের প্রথম দিনে যা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ২০১০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দিনে ৩ উইকেটে ৩০৭ রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় ১৬ বছর পর সেটি ছাড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। সম্ভাবনাময় সব ইনিংসের অপমৃত্যু ঘটে আলসে ব্যাটিংয়ে। তীব্র গরমে ম্যাচের শেষ দিকে স্পিনের প্রভাব থাকবে বেশি, সেই ভাবনায় হয়তো টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে নেন শান্ত। স্পিনে শক্তি বাড়াতে সফরসঙ্গী রিজার্ভ হিসেবে যাওয়া নাঈম হাসানকে প্রায় ১৬ মাস পর একাদশেই জায়গা করে দেয় বাংলাদেশ। বিপরীতে আফগানিস্তানের বোলিং লাইনআপে অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট। তাদের পাঁচ বিশেষজ্ঞ বোলার মিলে খেলেছেন মোটে ১৮টি টেস্ট। তুলনামূলক আনকোড়া এই বোলিংয়ের বিরুদ্ধে তাণ্ডব চালান তানজিদ। দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ সালিমের বলে গ্লান্স করে মারা বাউন্ডারিতে শুরু। ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে তিনি হাঁকান জোড়া চার। একই বোলারের বল ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে কভারের ওপর দিয়ে ওড়ান ছক্কায়। ছন্দ ধরে রেখে হাশমতউল্লাহ শাহিদির স্পিনে চারের পর তিনি মারেন ছক্কা। দশম ওভারেই পূর্ণ হয়ে যায় বাংলাদেশের পঞ্চাশ রান। ৪১ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পঞ্চাশ করেন তানজিদ। এর ফাঁকেই অবশ্য ব্যক্তিগত পাঁচ রানে জীবন পান সাদমান। এরপর আরও সাবধানী হয়ে এগিয়ে যান ৩১ বছর বয়সী ওপেনার। লাঞ্চ বিরতির আগেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করার বিরল কীর্তির সম্ভাবনা জাগান তানজিদ। কিন্তু হঠাৎ সরে যায় মনোযোগ। ইসমাত আলমের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে দূর থেকে আয়েশি ভঙ্গিতে ড্রাইভের চেষ্টায় কট বিহাইন্ড হন ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৭১ বলে ৮৩ রান করা ওপেনার। ১২৪ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর দলকে এগিয়ে নেন সাদমান-মুমিনুল। দুজন মিলে গড়েন ৯০ বলে ৬০ রানের জুটি। ৮ ইনিংস পর পঞ্চাশ ছুঁয়ে বড় কিছুর আশা জাগিয়ে তোলেন সাদমান। তবে লাঞ্চ বিরতির পর সালিমের শর্ট বলের ফাঁদে আটকা পড়েন অভিজ্ঞ ওপেনার। পুল করার চেষ্টায় শর্ট মিড উইকেটে ধরা পড়েন সাদমান। ক্যারিয়ারের নবম ফিফটিতে ৬৭ রান করেন তিনি। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে থিতু হতে সময় নেননি মুমিনুল ও শান্ত। কাইস আহমাদের বল ছক্কায় উড়িয়ে যাত্রা শুরু করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মনে হচ্ছিল, দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জুটিতে বড় সংগ্রহের দিকে ছুটবে বাংলাদেশ। তবে তাদের নিজেদের ভুলেই সেটি হয়নি। চা বিরতির আগে চার ওভারের এক ঝড়ে শেষ হয় সেই আশা। ইয়ামিনের বলে আলতো ড্রাইভে শর্ট কভারে ক্যাচ দেন ৩৯ রান করা মুমিনুল। এক ওভার পর ইয়র্কার ধরনের ডেলিভারিতে মন্থর রিফ্লেক্সে বোল্ড হন মুশফিকুর রহিম। শুরু থেকেই কাইসকে সাবলীলভাবে খেলতে থাকা শান্ত হঠাৎই এক লেগ স্পিনে বোকা বনে যান। তার ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল স্লিপে ফিল্ডারের হাতে জমা পড়ে। চার রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন লিটন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে আরও একবার পঞ্চাশছোঁয়া জুটি গড়েন তারা দুজন। লিটন-মিরাজের আগের তিনটি পঞ্চাশছোঁয়া জুটিই শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিল শতরানে। এবার আর তা হয়নি। ইসমাতের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলে স্টাম্পে টেনে আনেন মিরাজ। তার বিদায়ে ভাঙে ৬২ রানের জুটি। অন্য প্রান্তে লিটন ছিলেন অবিচল। অস্ট্রেলিয়া সফরে টানা তিনবার শূন্য রানে আউট হওয়া স্টাইলিশ এই ব্যাটার এদিন চমৎকার ব্যাটিংয়ে পান ফিফটির দেখা। তবে তানজিদ, সাদমানের মতো তিনিও ইনিংস টেনে নিতে পারেননি। সালিমের শর্ট বল পুল করে ডিপ ফাইন লেগে ধরা পড়েন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। এতে অবশ্য বোলারের চেয়ে বেশি কৃতিত্ব দাবি করতেই পারেন বাম দিকে ঝাঁপিয়ে চমৎকার ক্যাচ নেওয়া ইয়ামিন। ৪টি চারে ৮৯ বলে ৫৩ রান করেন লিটন। একই ওভারে নিখুঁত ইয়র্কারে হাসান মাহমুদকে বোল্ড করেন সালিম। পরে দিনের বাকি চার ওভারে আর বিপদ ঘটতে দেননি নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১২ রান নিয়ে নতুন দিনের খেলা শুরু করবেন শেষ দিকের এই দুই ব্যাটসম্যান। সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে) বাংলাদেশ: ৮৪ ওভারে ৩১৭/৮ (সাদমান ৬৭, তানজিদ ৮৩, মুমিনুল ৩৯, শান্ত ২৯, মুশফিক ০, লিটন ৫৩, মিরাজ ২৪, নাঈম ১১*, হাসান ২, তাইজুল ৪*; ইয়ামিন ১৬-৩-৬২-২, সালিম ১৯-১-৭০-৩, শাহিদি ৩-০-২৪-০, ইসমাত ১২.৪-৫-২০-২, জিয়া ১৯-১-৭৭-০, কাইস ১৪.২-১-৬০-১)
দীর্ঘ ১০ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ফিরে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি নিক ম্যাডিনসন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৩৩ বল মোকাবিলা করেও রানের খাতা খুলতে পারেননি এই অস্ট্রেলীয় ব্যাটার। মার্কো জানসেনের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে অভিষেক হয়েছিল ম্যাডিনসনের। সে সময় তাঁকে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০১০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের এই ক্রিকেটারের সঙ্গে মিচেল মার্শ, জশ হ্যাজলউড, অ্যাডাম জাম্পা ও কেইন রিচার্ডসনের মতো খেলোয়াড়েরাও উঠে এসেছিলেন। তবে টেস্ট ক্রিকেটে ম্যাডিনসনের পথচলা দীর্ঘ হয়নি। অভিষেকের পর মাত্র তিনটি টেস্ট খেলেই দল থেকে ছিটকে যান তিনি। মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে একপর্যায়ে ক্রিকেট থেকে বিরতিও নিতে হয়েছিল তাঁকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান সিরিজে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন প্রায় এক দশক আগে। এমনকি গত ১৮ মাসে কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচও খেলেননি তিনি। তবে গত সপ্তাহে ওয়ানডে কাপে ভালো ইনিংস খেলার সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা করে নেন। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই বিব্রতকর রেকর্ডের মুখে পড়েন ম্যাডিনসন। ৩৩ বল খেলে শূন্য রানে আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে ২০০০ সালের পর টেস্টে সর্বোচ্চ বল মোকাবিলা করে কোনো রান না করার রেকর্ড গড়েন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে শূন্য রানে আউট হওয়ার আগে সবচেয়ে বেশি বল খেলার তালিকায় তাঁর অবস্থান তৃতীয়। এই তালিকায় নিউজিল্যান্ডের ডারিন মুরে ১৯৯৫ সালে ৩৯ বল এবং জিম্বাবুয়ের ট্রেভর গ্রিপার ২০০০ সালে ৩৬ বল মোকাবিলা করে কোনো রান না করেই আউট হয়েছিলেন। মাঠের এই ব্যর্থতার পেছনে ম্যাডিনসনের জীবনে রয়েছে কঠিন লড়াইয়ের ইতিহাস। ২০২৪-২৫ মৌসুমের শেষ দিকে তাঁর টেস্টিকুলার ক্যানসার শনাক্ত হয়। অস্ত্রোপচারের পরও রোগটি শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় তাঁকে কেমোথেরাপি নিতে হয়। কঠিন চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শেষে গত ৩ জানুয়ারি আবারও মাঠে ফেরেন তিনি। দীর্ঘ বিরতি, শারীরিক অসুস্থতা ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে রান না পেলেও ম্যাডিনসনের প্রত্যাবর্তন তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের কথাও সামনে এনেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এসএ টোয়েন্টির নিলামে চমক দেখিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী ক্রিকেটার জেসন রোলস। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও তাকে ২৯ লাখ র্যান্ডে দলে নিয়েছে জোবার্গ সুপার কিংস। এবারের নিলামে এটিই ছিল সর্বোচ্চ দামের চুক্তি। ব্যাটিং অলরাউন্ডার রোলস আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বাঁহাতি স্পিনেও দক্ষ। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের হয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন তিনি। সিএসএ প্রো-টোয়েন্টি কাপে ব্যাট হাতে ৩১ বলে ৪৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে একটি উইকেটও শিকার করেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অবশ্য আগেই নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন এই তরুণ। যুব ওয়ানডেতে ২৪ ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৪২.৭৫ গড়ে করেছেন ৮৫৫ রান। পাশাপাশি তার ঝুলিতে রয়েছে ১৯ উইকেট। সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করেন তিনি। ওই আসরে ৭০ গড়ে এবং ১১২ স্ট্রাইকরেটে ২৮০ রান করেন রোলস। যুব টেস্ট ক্রিকেটে রয়েছে তার ডাবল সেঞ্চুরিও। নিলামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ লাখ র্যান্ডে জোবার্গ সুপার কিংস দলে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিকে। আর ২৬ লাখ র্যান্ডে তৃতীয় সর্বোচ্চ দামে উইয়ান মুল্ডারকে কিনেছে এমআই কেপ টাউন। এদিকে এবারের নিলামে বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা দল পাননি। সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। অন্যদিকে নিলামের আগেই সরাসরি চুক্তিতে রিশাদ হোসেনকে দলে নিয়েছে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ। ফলে এসএ টোয়েন্টিতে খেলার সুযোগ পেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় তৈরি করতে পারেন এই লেগস্পিনার। আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এসএ টোয়েন্টির পঞ্চম আসর।
তিন বছর পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাজধানী আবুধাবিতে ম্যাচ শুরু হবে আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায়। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট। তবে আবুধাবির তপ্ত রোদ লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আগামীকাল ভরদুপুরে যখন খেলা চলবে, তখন আবুধাবির তাপমাত্রা থাকবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। তবে এই তীব্র গরমকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না নাজমুল হোসেন শান্ত। বরং ভালোভাবে সব পরিকল্পনা করেই আফগানদের মুখোমুখি হতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক। আজ ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেছেন, ‘আমার মনে হয় প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। কন্ডিশন তো একটু গরম, এটা থাকবেই। তবে আমি পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এটাকে অজুহাত হিসেবে দেখতে চাই না। আমার মনে হয় খেলোয়াড়রাও এগুলো নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছে না।’ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ ড্র করেছে বাংলাদেশ। তবে শান্তর কাছে সেই সিরিজ এখন অতীত, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমাদের খুব ভালো একটা সিরিজ গেছে। কিন্তুওইটা এখন আমাদের জন্য অতীত হয়ে গেছে। নতুন কন্ডিশন, নতুন প্রতিপক্ষ এবং আমাদেরকে খুব ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। এশিয়ান গেমস খেলতে জাপানে গিয়েছিলেন শান্ত। কিন্তু জ্বরের কারণে খেলতে না পারায় তিনি দেশে ফিরে আসেন। অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা নিয়ে শান্ত বলেছেন, ‘রিকোভারি ভালো হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ এখন সুস্থ আছি। গত দুইদিন অনুশীলন করেছি, ভালো অনুভব করছি।’
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সামগ্রিক ফল প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সুবাদে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। সর্বশেষ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থানে উঠেছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। সেরা দশে জায়গা ধরে রেখেছেন শেখ মেহেদি হাসানও। বুধবার প্রকাশিত নতুন র্যাঙ্কিংয়ে ১০ ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন মেহেদি হাসান। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এর আগে তার সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং ছিল অষ্টম। এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি উইকেট নেওয়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও কার্যকর বোলিং করেন মেহেদি। চার ওভারে ১৯ রান খরচ করে তুলে নেন দুটি উইকেট। অন্যদিকে তিন ধাপ উন্নতি করে র্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে উঠে এসেছেন নাসুম আহমেদ। এটিই টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ারসেরা অবস্থান। এর আগে এই সংস্করণে তার সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং ছিল দশম। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে একটি উইকেট নেওয়া নাসুম শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুই ওভার বোলিং করে মাত্র ৮ রান দেন। বাংলাদেশের আরেক লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন। এশিয়ান গেমসে দুটি ম্যাচ খেলে প্রতিটিতে একটি করে উইকেট নেওয়া রিশাদ দুই ধাপ এগিয়ে ২৬তম অবস্থানে উঠে এসেছেন। ব্যাটারদের মধ্যে বাংলাদেশের হয়ে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে কেবল তাওহিদ হৃদয়ের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪২ রান এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১১ রান করার সুবাদে তিন ধাপ এগিয়ে ৩০ নম্বরে উঠেছেন তিনি। তবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা তানজিদ হাসান চার ধাপ পিছিয়েছেন। নতুন র্যাঙ্কিংয়ে তিনি যৌথভাবে ২১তম স্থানে অবস্থান করছেন।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরই অংশ হিসেবে কোচিং স্টাফ আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি একজন পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করছে বোর্ড। বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর একটি দক্ষিণ আফ্রিকা হওয়ায় সেখানকার পরিবেশ ও কন্ডিশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার ম্যালিবংওয়ে মাকেতাকে জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে দলের কোচিং প্যানেলে যোগ দিয়েছেন। এবার বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে পরামর্শক হিসেবে কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটারের নাম বিবেচনায় রেখেছে বিসিবি। আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা ব্যাটার এবি ডি ভিলিয়ার্সের নাম রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার অ্যালান ডোনাল্ডের নামও আলোচনায় এসেছে। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ রাব্বানী জানিয়েছেন, এখনো পরামর্শক নিয়োগের বিষয়ে কোনো ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত হয়নি। তবে এবি ডি ভিলিয়ার্সসহ কয়েকজনের নাম প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে। তিনি জানান, পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হলেও সেটি দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতে হতে পারে। বিসিবির কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জাতীয় দল নিয়ে বোর্ডের আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে কন্ডিশন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ কাজে লাগাতেই বিসিবি এমন উদ্যোগ বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
হারমানপ্রিত কৌর অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর, নতুন অধিনায়ক বেছে নিতে বেশি সময় নিল না ভারত। অনুমিতভাবে ভারতের নারী দলের নেতৃত্ব পেলেন স্মৃতি মান্ধানা। ৩৭ বছর বয়সি হারমানপ্রিত প্রায় এক দশকের নেতৃত্বের পথচলার ইতি টানার ঘোষণা দেন মঙ্গলবার সকালে। রাতে ৩০ বছর বয়সি মান্ধানাকে সব সংস্করণের অধিনায়ক করার কথা জানায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। হারমানপ্রিতের অধিনায়কত্বের বড় একটা অংশে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন মান্ধানা। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে নানা সময়ে ১৮ টি-টোয়েন্টি ও চারটি ওয়ানডেতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাও আছে স্টাইলিশ এই ব্যাটারের। গত কয়েক মাসে নেতৃত্বের প্রশ্নে তিনি বারবারই বলেছেন, নিজেকে প্রস্তুত মনে করছেন এই দায়িত্বের জন্য। উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগে (নারী আইপিএল) তার নেতৃত্বে টানা দুবার শিরোপা জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। মান্ধানাকে মনে করা হয় এই সময়ে বিশ্বের সেরা ব্যাটার। গত সেপ্টেম্বরে মিতালি রাজকে ছাড়িয়ে নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব সংস্করণ মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন তিনি। নারী ক্রিকেটে তার ১৮টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিও সর্বোচ্চ। এছাড়া তিনিই প্রথম ভারতীয় নারী, যিনি সব সংস্করণেই সেঞ্চুরি করেছেন। অধিনায়ক হিসেবে মান্ধানার প্রথম চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ, যা ১৬ অক্টোবর রায়পুরে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি দিয়ে। এই সিরিজের দল নির্বাচনের জন্য আমিতা শার্মার নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির মঙ্গলবারের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন মান্ধানা। অধিনায়কত্ব পাওয়াকে ‘বিশেষ সম্মান’ হিসেবে দেখছেন মান্ধানা। নিজের নতুন দায়িত্বের শুরুতে পূর্বসূরি হারমানপ্রিতের অবদানের কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। “হারমানপ্রিতের অবদান এবং অধিনায়ক হিসেবে বছরের পর বছর ধরে তার ভূমিকার কথাও স্বীকার করতে চাই আমি। তিনি খুবই নিষ্ঠার সঙ্গে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আমাদের যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছেন। “এই ভূমিকার সঙ্গে যে দায়িত্ব জড়িয়ে আছে, তা আমি বুঝি। দলের সঙ্গে কাজ করতে, কাজের মাধ্যমে নতুন কিছু শিখতে এবং ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।” হারমানপ্রিতের নেতৃত্বে সম্প্রতি এশিয়া কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধারের পর, এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সোনার পদক ধরে রাখে ভারত। এরপর হারমানপ্রিত, মান্ধানা ও কোচ অমল মজুমদারের সঙ্গে গুয়াহাটিতে সোমবার আলোচনায় বসেন ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া। সেখানে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় উইমেন’স চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকস সামনে রেখে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর খবর, হারমানপ্রিতকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিল নির্বাচক কমিটি। তবে বোর্ড কর্তার সঙ্গে বৈঠকের পরদিন নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন হারমানপ্রিত নিজেই।
শ্রেয়াস আইয়ারের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। আগে ব্যাট করে ১৭১ রানে অলআউট হয় ক্যারিবীয়রা। জবাবে ৩২ বল হাতে রেখে জয় পায় স্বাগতিকরা। ভারতের হয়ে অভিষিক্ত নমান ধীর ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শাই হোপ ৫২ ও শেরফাইন রাদারফোর্ড ৫৬ রান করেন। রান তাড়ায় মাত্র ৪৩ বলে ১০ চার ও ৬ ছক্কায় ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন আইয়ার। ইশান কিশান ২৭ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। দুজনের ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে সহজ জয় পায় ভারত।
আইপিএলের দল দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলী। দীর্ঘদিন ধরে চলা গুঞ্জন অবশেষে সত্যি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে সৌরভের প্রধান কোচ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দিল্লি ক্যাপিটালস। দিল্লির সাথে পুরনো সম্পর্ক সৌরভ গাঙ্গুলীর। ২০১৯ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসের মেন্টরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরে বিসিসিআই সভাপতি হন সৌরভ। ২০২৪ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসের মালিকানার প্রতিষ্ঠান জেএসডব্লিউর ডিরেক্টর অব ক্রিকেটের দায়িত্ব পান সৌরভ গাঙ্গুলী। তিনি দিল্লিতে থাকা অবস্থায় দিল্লির জার্সিতে খেলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমানও। নানা সময়ে মুস্তাফিজকে প্রশংসাতেও ভাসিয়েছেন সৌরভ। এসএ২০-এর ২০২৫ সালের আসরে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের প্রধান কোচের দায়িত্ব পান সৌরভ। কোচ হিসেবে সেখানেই যাত্রা শুরু করেন তিনি। এবার আইপিএলের মঞ্চে দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচের দায়িত্বে দেখা যাবে সৌরভ গাঙ্গুলীকে। এর আগে উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগেও দিল্লি ক্যাপিটালসের সাথে যুক্ত ছিলেন সৌরভ। ব্যাটিং কোচ হিসেবে দিল্লিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন আছে যুবরাজ সিংয়ের, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। আগামী মৌসুমে দিল্লির ডেরায় ফিরছেন ঋষভ পান্ত। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দিল্লিতে খেলেছেন তিনি। সর্বশেষ দুই আসরে লক্ষ্ণৌ সুপারজায়ান্টসে খেললেও সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি। পান্তকে ছাড়া ভালো নেই দিল্লিও। এখনো পর্যন্ত আইপিএলের শিরোপা জিততে না পারা দিল্লি ক্যাপিটালস সর্বশেষ আসরে ৬ষ্ঠ হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে।
ম্যাচ জুড়ে আক্রমণে দাপট দেখাল ফ্রান্স। তবে আচমকা গোল করে এগিয়ে গেল বেলজিয়াম। জাগাল ফরাসিদের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে সাড়ে চার দশকের জয়খরা কাটানোর আশাও। কিন্তু শেষ দিকে পাল্টে গেল চিত্র। ১৪ মিনিটে চার গোল করে দারুণ জয় তুলে নিল জিনেদিন জিদানের দল। ঘরের মাঠে সোমবার রাতে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ৭৬তম মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স, শেষ পর্যন্ত তারা জিতেছে ৪-১ গোলে। জয়ীদের সবকটি গোল করেছেন তিন বদলি খেলোয়াড় মিলে। দদি লুকেবাকিওর গোলে পিছিয়ে পড়া ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান দেজিরে দুয়ে। একটু পরই দলকে এগিয়ে নেন রায়ান শের্কি। আর শেষ সময়ে জোড়া গোল করেন মাইকেল ওলিসে। ম্যাচে প্রায় ৬৬ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২৩ শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখতে পারে ফ্রান্স। বেলজিয়ামের পাঁচ শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল। আসরে প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পর ইতালির সঙ্গে ১-১ ড্র করে ফ্রান্স। এখন জয়ের পথে ফিরেই তারা চলতি আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ করল এবং চার ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম কোনোটিতে একাধিক গোল করতে পারল। চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপের শীর্ষে আছে ফ্রান্স। একই সময়ে গ্রুপের আরেক ম্যাচে তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়ে, ৭ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে ইতালি। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেলজিয়াম। তুর্কিরা হেরেছে চার ম্যাচেই। হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় ফ্রান্সের বিপক্ষে অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্স ও মাঝমাঠের তারকা কেভিন ডে ব্রুইনাকে পায়নি বেলজিয়াম। দশম মিনিটে প্রথম কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারে বেলজিয়াম। রোমেলু লুকাকুর ওই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ফ্রান্স গোলরক্ষক। পাঁচ মিনিট পর প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় ফ্রান্স। মানু কোনের পাস ধরে বাহডলে বাহকোলার চিপ শট ব্যর্থ করে দেন বেলজিয়ামের অভিষিক্ত গোলরক্ষক মার্টেন ভ্যানডাভোর্ট। ৩৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। নিজেদের অর্ধ থেকে চমৎকার থ্রু বল বাড়ান রোমেও লাভিয়া, আর অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন লুকেবাকিও। দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পান উসমান দেম্বেলে। তবে ফ্রান্স অধিনায়ক শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ৫৮তম মিনিটে দারুণ সেভে জাল অক্ষত ভ্যানডাভোর্ট। কাছ থেকে এস্তেবান লাপোলের প্রচেষ্টা আটকে দেন তিনি। দুই মিনিট পর মাহনেস আকিউস ও দেম্বেলেকে তুলে শের্কি ও ওলিসেকে নামান কোচ। ৬৭তম মিনিটে ওলিসে গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন প্রায়। বক্সের বাইরে থেকে তার জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান ভ্যানডাভোর্ট। ৭২তম মিনিটে বাহকোলার জায়গায় দুয়েকে নামান জিদান। মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যে চমৎকার গোলে সমতা ফেরান তিনি। লুকা দা কুইয়ার পাস ধরে জায়গা বানিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন পিএসজি ফরোয়ার্ড। ৮১তম মিনিটে ডান দিক থেকে ওলিসের পাস বক্সে পেয়ে শটে দলকে এগিয়ে নেন শের্কি। গোলরক্ষক বল স্পর্শ করলেও আটকাতে পারেননি। আর ৮৮ ও ৯১তম মিনিটে জোড়া গোল করেন ওলিসে। জাতীয় দলের সবশেষ তিন ম্যাচে মোট চার গোল করলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে দুবাইয়ে বাংলাদেশ। দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচটি খেলতে মাঠে নামার আগে প্রস্তুতি সেরেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। ২ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি ড্র হয়েছে। দুবাইয়ের আইসিসি একাডেমির ওভালে ম্যাচ ড্র মেনে নেন দুই দলের অধিনায়ক। ম্যাচ ড্র হলেও ব্যাট-বলের প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন সাদমান ইসলাম ও সৌম্য সরকার। উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১০৮ রান। সৌম্য ৫৭ রানে রিটায়ার্ড আউট হন। বিপরীতে ৪৬ রান আসে সাদমানের ব্যাট থেকে। অন্যদিকে ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন মমিনুল হক-নাঈম হাসান। তিন নম্বরে নেমে ৩৩ রান করা মুমিনুলের বিপরীতে ৩৬ রান করেন নাঈম। সবমিলিয়ে প্রথম ইনিংসে ৭৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে তুলে অলআউট হয় বাংলাদেশ। আমিরাতের হয়ে ৩ উইকেট নেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। অন্যদিকে নিজেদের ইনিংসে ২২২ রানে অলআউট হয় আমিরাত। ফিফটি পেয়েছেন ওয়াসিম মুহাম্মদ-আফতাব আলম। ওয়াসিমের ৬৯ রানের বিপরীতে আফতাব করেন ৫৬ রান। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন ইকবাল হোসেন ইমন। তাইজুল ইসলাম নেন ৩ উইকেট। ১২ রানের লিড নিয়ে যখন দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১১৪ রান তোলে বাংলাদেশ তখনই ম্যাচ ড্র মেনে নেয় দুই দল। এই ইনিংসে সর্বোচ্চ রান আসে মুশফিকের ব্যাট থেকে, ৪৪ রান। অন্যদিকে সাদমান করেন ৩২। মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে ২৪।
দ্বিতীয় দিন শেষেই জয় দেখছিল খুলনা। আজ সেটাই হয়েছে। তিন দিনেই ইনিংস ব্যবধান ও ১৩৫ রানে বরিশালকে হারিয়েছে তারা। অন্যদিকে তাইবুর রহমান ও সাদিকুর রহমানের মতো সেঞ্চুরির অপেক্ষায় মাহফিজুল ইসলাম। ইনিংস ব্যবধানে বরিশালকে হারাল খুলনা তিন দিনেই ম্যাচ হারল বরিশাল। খুলনার কাছে ইনিংস ও ১৩৫ রানে হেরেছে তারা। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে খুলনার ৪২৬ রানের বিপরীতে ৯৪ রানে অলআউট হয় বরিশাল। ফলো অন পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা উন্নতি হলেও তা হার এড়াতে যথেষ্ট ছিল না। ১৯৭ রানে অলআউট হয় তারা। তাতে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৯১ রান করা হাফিজুর রহমানের ইনিংসটা বৃথা যায়। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে (৪+২) ম্যাচসেরা খুলনার পেসার সফর আলী। সেঞ্চুরি ডাকছে মাহফিজুলকে প্রথম ইনিংসের আক্ষেপ ভোলার সুযোগ পাচ্ছেন ময়মনসিংহের ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেঞ্চুরি ডাকছে তাকে। সিলেটের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ রানে অপরাজিত তিনি। শেষ দিনে সেঞ্চুরির লক্ষ্যে নামবেন তিনি। এর আগে প্রথম ইনিংসে ৭০ রান করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৩১১ রান করে ময়মনসিংহ। বিপরীতে সিলেট থামে ৩২৭ রানে। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ১৪৮ রান স্কোরকার্ডে তুলেছে ময়মনসিংহ। তাতে ১৩২ রানের লিড পেয়েছে তারা। খালিদ হাসানকে সঙ্গী করে দুর্দান্ত শুরুটা এনে দিয়েছেন মাহফিজুল। ওপেনিংয়ে ১৪৮ রানের জুটি গড়েন তারা। দিন শেষ হওয়ার ২ বল আগে ৫৭ রানে আউট হন খালিদ। মিরপুরে তাইবুরের সেঞ্চুরি মিরপুরে ঢাকার বিপক্ষে ৫৬ রানের লিড নিয়েও বিপদে রংপুর। কেননা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়েছে তারা। এর আগে ৬ উইকেটে ১২০ রান নিয়ে আজ তৃতীয় দিন শুরু করেছিল ঢাকা। দলের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন তাইবুর রহমান ও সুমন খান। তবে সুমনের আফসোস রয়ে গেছে। ৬ রানের জন্য পাননি সেঞ্চুরি। তাইবুর অবশ্য পেয়েছেন। তাইবুরের ১০৮ রানের বিপরীতে ৯৪ রানে আউট হন সুমন। সেঞ্চুরির করার পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তাইবুর। বিপরীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়ায় রংপুর। দুই ওপেনার অনিক সরকার-মিম মোসাদ্দেকের মতো রানের খাতা খোলার আগেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন আবদুল্লাহ আল মামুনও। সবমিলিয়ে ৬২ রানে এগিয়ে দিন শেষ করেছে তারা। এর আগে প্রথম ইনিংসে রংপুরের ৩৪০ রানের বিপরীতে ঢাকা করে ২৮৪ রান। সেঞ্চুরি পেয়েছেন সাদিকুরও মাহমুদুল হাসানের পর সেঞ্চুরি পেয়েছেন তার সতীর্থ সাদিকুর রহমানও। জোড়া সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ৩৯৩ রান করেছে চট্টগ্রাম। অন্যদিকে রাজশাহী প্রথম ইনিংস করে ৩৬৪ রান। তৃতীয় দিন শেষ রাজশাহীর লিড দাঁড়িয়েছে ১৭। শেষ দিন ২ উইকেটে ৪৬ রান নিয়ে শুরু করবে তারা। এর আগে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৯০ রানে দিন শুরু করেছিল চট্টগ্রাম। গতকাল তিন অংকের দেখা পাওয়া মাহমুদুল ১০৫ রান আউট হন। বিপরীতে আজ সেঞ্চুরির পর ১১৫ রানে থামেন সাদিকুর।
টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে সুখবর পেল টাইগাররা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টকে সামনে রেখে টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন, খেলছেন প্রস্তুতি ম্যাচ। তবে শান্ত নেই সেখানে। শীঘ্রই অবশ্য দলে যোগ দিচ্ছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে টি-টোয়েন্টি দলে প্রত্যাবর্তন ঘটালেও এশিয়ান গেমসে খেলতে পারেননি শান্ত। দেশে ফিরে আসেন দলকে জাপানে রেখেই। এরপর তাকে রেখেই টেস্ট দল উড়াল দেয় আরব আমিরাতে। যেখানে আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের লাল বলের প্রস্তুতি ম্যাচও খেলছে। সংশয় ছিল, আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে শান্তর খেলা হবে তো? অবশেষে টেস্ট অধিনায়ককে নিয়ে মিলেছে সুখবর। আফগানদের বিপক্ষে তিনিই থাকছেন দলের নেতৃত্বে। আজ সোমবারই উড়াল দিচ্ছেন দলের উদ্দেশে আরব আমিরাতে। বিসিবি জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের (টেস্ট) অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আজ সন্ধ্যায় দলের সঙ্গে যোগ দিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা হবেন।’ শান্তর অনুপস্থিতিতে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচের প্রথম দিনের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে ছিলেন মোট ১৩ জন ক্রিকেটার। দলের ব্যাটিং বিভাগে আছেন সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, জাকের আলী অনিক, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন। উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবেও থাকছেন মুশফিকুর রহিম ও জাকের আলী। বোলিং বিভাগে রয়েছেন নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, ইবাদত হোসেন চৌধুরী ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ। আর দলের অধিনায়ক মিরাজ নিজেও ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসের তৃতীয় আসরে অভিষেক হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। তবে মাহমুদউল্লাহ-আশরাফুল-রুবেলদের সেই অপেক্ষা বেড়েছে। প্রযুক্তিগত কারণে পাকিস্তান বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় আরব আমিরাতের শারজায় ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগমুহূর্তে সেটি স্থগিতের ঘোষণা আসে। নতুন তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে। এবারের ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে সাতটি দল অংশ নিচ্ছে এই আসরে। প্রতিটি দল লিগ পর্বে ছয়টি করে ম্যাচ খেলবে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল উঠবে সেমিফাইনালে। সূচি অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর ইংল্যান্ড, ৭ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া, ৯ অক্টোবর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১১ অক্টোবর ভারত এবং ১৪ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশের।
নতুন কোচ পেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত-লিটন দাসরা। সহকারী কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটার মালিবাংওয়ে মাকেতার নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তার সঙ্গে ২ বছরের চুক্তি হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলে কখনোই খেলার সুযোগ পাননি মাকেতা। ৪৫ বছর বয়সী কোচের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যারিয়ারও সমৃদ্ধ নয়। প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ মিলিয়ে মাত্র ২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তবে কোচ হিসেবে ঘরোয়া, আন্তর্জাতিক এবং হাই-পারফরম্যান্স মিলিয়ে ২ দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের কোচ হতে পেরে দারুণ রোমাঞ্চিত মাকেতা। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ হতে পেরে আমি আনন্দিত। আমার ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। দলের সাফল্যে ইতিবাচক অবদান রাখতে মুখিয়ে আছি।’ প্রধান কোচ ফিল সিমন্সসহ অন্যদের সঙ্গে জুটি বেঁধে ক্রিকেটারদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে চান মাকেতা। ৪ দিন পরই ৪৭তম জন্মদিন পালনের অপেক্ষায় থাকা কোচ বলেছেন, ‘আমাদের দলটি তরুণ এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। হেড কোচ ফিল (সিমন্স) ও কোচিং স্টাফের বাকি সদস্যদের সঙ্গে কাজ করে খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করে আনতে এবং তাদের ধারাবাহিক উন্নতিতে সহায়তা করতে আমি উন্মুখ। সুযোগ দেওয়ায় আবারও ধন্যবাদ। নতুন এই সফর শুরু করতে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জয়ে অবদান রাখতে আমি দারুণ রোমাঞ্চিত।’ ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের সহকারী কোচ ছিলেন মাকেতা। তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের গড়ে তুলতে বিশেষ সুনাম রয়েছে তার। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি দেশটির ন্যাশনাল একাডেমিতে কাজ করার সময় তরুণদের হাই-পারফরম্যান্স স্তরে উন্নীত করার সুনামও রয়েছে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার (সিএসএ) লেভেল-৪ ডিগ্রিধারী কোচের। ফ্র্যাঞ্চাইজি ও প্রাদেশিক ক্রিকেটেও কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ে। বিশ্বকাপের কন্ডিশন মাথায় রেখেই মাকেতাকে দায়িত্ব দেওয়া। এখন দেখার বিষয় আইসিসির টুর্নামেন্টটিতে কেমন করবেন শান্ত-লিটনরা।
রাজনৈতিক টানাপোড়নের কারণে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। বেশ কয়েক বছর ধরে উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কোনো সিরিজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। কেবল আন্তর্জাতিক সূচিতে তাদের দেখা হচ্ছে। তবে কূটনৈতিক উত্তেজনার জেরে চলতি বছরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সৌজন্যতা হিসেবে দুই দেশের ক্রিকেটাররা হ্যান্ডশেক করছেন। সর্বশেষ নারী এশিয়া কাপের শিরোজা জয়ের পর হারমানপ্রীত কৌরের দল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে শিরোপা গ্রহণ করেননি। এমন পরিস্থিতিতে আগামীকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে আবারও দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দেখা হচ্ছে। এর আগে শোনা গিয়েছিল, ফাইনালে এসিসি বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি উপস্থিত থাকবেন। তবে শেষ মুহূর্তে জানা গেছে, পিসিবির এই কর্মকর্তা ফাইনালের ম্যাচে উপস্থিত থাকছেন না। ‘রেভস্পোর্টস’-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ফলে এশিয়া কাপের মতো ম্যাচ-পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হবে না। তবে বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া এই খেলাটি দেখতে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এশিয়ান গেমসের আয়োজক এবং স্বাগতিক দেশ জাপান ভারত ও মহসিন নাকভির মধ্যকার উত্তেজনাকর সম্পর্কের বিষয়টি ভালোভাবেই জানে। গত কয়েক বছরের নানা বিশৃঙ্খলার পর আগামী বছরের এপ্রিলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নাকভির এসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যদিও মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, তবে তার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ বোর্ডের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে তিনি প্রয়োজনীয় সমর্থন বা ভোট নাও পেতে পারেন। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা এএসসির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার ফলে অন্য এসিসি সদস্যদের কাছ থেকেও তিনি কোনো সমর্থন পাবেন না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।