ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে মস্কো পুরোপুরি প্রস্তুত। যে কোনো ধরনের প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনটি জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় বুশেহর কেন্দ্রকে নিশানা করা হয়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন, সেখানে বর্তমানে শত শত রুশ নাগরিক কাজ করছেন। তবে এবারের হামলা আরও বড় হতে পারে এবং ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সব শহর। এই আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে চাপা উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। লিখাচেভ বলেন, আমরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি। আমাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা যে কোনো সময় প্রয়োজন অনুযায়ী লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি সতর্ক করেছেন, এই স্থাপনায় যে কোনো ধরনের হামলা হলে তা ১৯৮৬ সালের চোরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রের বিপর্যয়ের মতো ভয়াবহ মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইরানের জলসীমার কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল নৌবহর পাঠিয়েছে। প্রতিটি যুদ্ধজাহাজ অস্ত্রে সজ্জিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে আরও একটি বহর যাত্রা করেছেন, যদিও এখনই হামলা হবে কি না সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেননি।
ইতালির রোমে ভ্রমণে আসা এক নারী পর্যটককে যৌন হয়রানির অভিযোগে ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) মেট্রোতে ভ্যাটিকান সিটিতে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, চলন্ত ট্রেনে বাংলাদেশি যুবক ওই কিশোরীকে স্পর্শ করে এবং যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের যাত্রীরা এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে ভিত্তোরিও ইমানুয়েল স্টেশনে আটক করে। তদন্তে দেখা গেছে, যুবকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পুলিশের কাছে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। দুই বছর আগে ২০২৪ সালে একটি বাসে এক নারীকে হেনস্থার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রোম পুলিশ তাকে গুরুতর যৌন সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। ইতালির সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার। তবে এই ঘটনায় ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশ কমিউনিটির ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ইমিগ্রেশন অভিযানে এবার যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী সেন্সর ব্যবহার করে একের পর এক অভিযানে আটক করা হয়েছে শত শত অবৈধ অভিবাসী। রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান এমাসে পরিচালিত সমন্বিত ‘অপস সাপু’ অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। অভিযানটি বাণিজ্যিক এলাকা ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক স্থানে পরিচালিত হয়। ২ থেকে ৫৩ বছর বয়সী আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, পাস শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান ও স্বীকৃত নয় এমন পরিচয়পত্র বহনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযান চলাকালে কিছু বিদেশি নাগরিক পালানোর চেষ্টা করলেও আধুনিক ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী সেন্সরের মাধ্যমে দ্রুত তাদের অবস্থান শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির আইন অনুযায়ী অবৈধ অবস্থানরত বিদেশিদের শনাক্ত, আটক, বিচার ও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সাধারণ জনগণ ও নিয়োগকর্তাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সহায়তা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের জন্য চলমান ‘মাইগ্রান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এ অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই দাবির সঙ্গে একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই ফটোকার্ডের শিরোনাম ছিল, ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ।’ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই সংসদ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন করবে। তবে সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরাতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সে জন্য নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে; বরং তিনি বলেছেন, এই দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই। এছাড়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ পরিষ্কারভাবে বলা আছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের বিপক্ষে নয়, বরং পক্ষে (‘হ্যাঁ’) ভোট বেশি পড়লে, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কারকাজ শেষ করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন। তবে কোথাও বলা নেই যে অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবিধানিক সংস্কারপ্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। সবশেষে সরকার জানায়, প্রচলিত আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত নেই; বরং এতে স্পষ্টভাবে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথাই উল্লেখ রয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাস পর ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই দাবির সঙ্গে একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই ফটোকার্ডের শিরোনাম ছিল, ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ।’ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণপরিষদ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি হবে এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই সংসদ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়ন করবে। তবে সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরাতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সে জন্য নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোথাও বলেননি যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে; বরং তিনি বলেছেন, এই দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই। এছাড়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ পরিষ্কারভাবে বলা আছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ওই আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের বিপক্ষে নয়, বরং পক্ষে (‘হ্যাঁ’) ভোট বেশি পড়লে, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কারকাজ শেষ করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন। তবে কোথাও বলা নেই যে অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবিধানিক সংস্কারপ্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। সবশেষে সরকার জানায়, প্রচলিত আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত নেই; বরং এতে স্পষ্টভাবে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথাই উল্লেখ রয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন শুধু একটি ভোটের আয়োজন নয়; এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে দেশে জবাবদিহিতামূলক সরকার গড়ে উঠবে কি না। তাই নির্বাচন নিয়ে সবাইকে অত্যন্ত সিরিয়াস থাকতে হবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন আমাদের বলে দেবে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে। দেশকে সঠিক পথে নিতে হলে এ নির্বাচনের গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১২টায় বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি আমাদের দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই কারণেই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে শুধু বগুড়া নয়, প্রকৃত অর্থে পুরো বাংলাদেশই বঞ্চিত ছিল। আগামী দিনে আল্লাহ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে আমরা শুধু বগুড়ার কথা নয়, সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করব। বগুড়াকে যেমন এগিয়ে নেওয়া হবে, ঠিক তেমনি সমানভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে পুরো বাংলাদেশকে। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, প্রিয় বগুড়াবাসী—আজ এই মুহূর্তে আপনাদের দেওয়ার মতো আমার কিছু নেই। আজ আপনাদের কাছে শুধু চাইবার আছে। আপনারা যদি বগুড়ার মানুষ আমাদের পাশে থাকেন, যদি মানসিকভাবে সমর্থন দেন, তাহলে ইনশাল্লাহ আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর ও ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব। এ জন্য তিনি বগুড়াবাসীর কাছে সমর্থন, সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। বক্তব্য রাখেন বগুড়া-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী মোরশেদ মিলটন। এছাড়াও বক্তব্য দেন একেএম মাহবুবুর রহমান, ভিপি সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম টুকু এবং পিপি আবদুস বাছেদ। পরে তারেক রহমান বগুড়ার ছয়টি আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। উত্তরাঞ্চল সফরের প্রথম দিনে বিএনপির চেয়ারম্যান রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা সফর শেষে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন। এ সময় তার সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে উঠেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি আতাউল্লাহ নিজামি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবেই তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে ঢাকার একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তিনি হজরত শাহ মখদুম (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন এবং রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নওগাঁয় জনসভায় ভাষণ দেন। রাত ৮টার দিকে নওগাঁ থেকে সড়ক পথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। পথে প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কের দুপাশে অগণিত নারী-পুরুষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানান। জনস্রোতের কারণে তারেক রহমানের বহনকারী গাড়িবহরকে ধীরগতিতে এগোতে হয়, ফলে বগুড়া পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। রাত গভীর হলেও হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক বিকেল থেকেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অপেক্ষা করতে থাকেন প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য। জনসভাকে ঘিরে আলোঝলমল হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। কানায় কানায় পূর্ণ মাঠ ও আশপাশের এলাকা স্লোগান ও মিছিলে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেকেই মাইক ও ডিজিটাল পর্দার সামনে এবং আশপাশের বাড়ির ছাদে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য শোনেন। শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা আবদুল বারিক বলেন, অনেক কষ্ট করে এসেছি, মাঠে জায়গা পাইনি। তাই সাতমাথায় দাঁড়িয়ে মাইকের সামনে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনছি। নিশ্চিন্তপুর এলাকার হযরত আলী বলেন, সকাল থেকেই বসে আছি। সামনাসামনি তারেক রহমানকে দেখব বলেই জায়গা ছাড়িনি। আগামী কর্মসূচি অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় এবং ৩১ জানুয়ারি বেলা ২টায় বিসিক শিল্প পার্কে ও বিকেল ৪টায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ইমিগ্রেশন অভিযানে এবার যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী সেন্সর ব্যবহার করে একের পর এক অভিযানে আটক করা হয়েছে শত শত অবৈধ অভিবাসী। রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান এমাসে পরিচালিত সমন্বিত ‘অপস সাপু’ অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। অভিযানটি বাণিজ্যিক এলাকা ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক স্থানে পরিচালিত হয়। ২ থেকে ৫৩ বছর বয়সী আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, পাস শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান ও স্বীকৃত নয় এমন পরিচয়পত্র বহনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযান চলাকালে কিছু বিদেশি নাগরিক পালানোর চেষ্টা করলেও আধুনিক ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী সেন্সরের মাধ্যমে দ্রুত তাদের অবস্থান শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির আইন অনুযায়ী অবৈধ অবস্থানরত বিদেশিদের শনাক্ত, আটক, বিচার ও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সাধারণ জনগণ ও নিয়োগকর্তাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সহায়তা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের জন্য চলমান ‘মাইগ্রান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এ অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ একযুগ পর ঢাকা–করাচি–ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলো। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা থেকে বিমানের প্রথম ফ্লাইট বিজি-৩৪১ করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এ উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই রুট চালুর মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলো। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ রুট চালু হলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ জোরদার হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পর্ষদ চেয়ারম্যান শেখ বশিরউদ্দীন। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ইমরান হায়দার এবং বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. সাফিকুর রহমান। এছাড়াও মন্ত্রণালয়, বিমান, সিভিল এভিয়েশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানের প্রথম ফ্লাইটটি করাচিতে পৌঁছাবে ২৯ জানুয়ারি স্থানীয় সময় রাত ১১টায়। ফিরতি ফ্লাইট বিজি-৩৪২ করাচি থেকে ৩০ জানুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটে যাত্রা করে ঢাকায় পৌঁছাবে একই দিন স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে। প্রথম ফ্লাইটে মোট ১৫০ জন যাত্রী যাত্রা করেন। শীতকালীন সূচি অনুযায়ী ২৯ জানুয়ারি থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবার ঢাকা থেকে করাচিতে এবং একই দিনে করাচি থেকে ঢাকায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
গত তিন দিনে স্বর্ণের দাম ভরিতে বেড়েছে ২৮ হাজার ৮১০ টাকা। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনেই বেড়েছে রেকর্ড ১৬ হাজার টাকা। এতে ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারেও স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের দাবি। তবে বিশ্ববাজারের দামে স্বর্ণ কিনতে হয়এই যুক্তিতে দেশে স্বর্ণের দাম বরাবরই তুলনামূলক বেশি থাকে, যা বর্তমানে আরও বেড়েছে। এক ভরি স্বর্ণের অলংকার কিনতে মূল দামের সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ১১ শতাংশ অর্থ দিতে হয়। এতে মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন জুয়েলারি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই অলংকারের বেচাবিক্রি কম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় বড় দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা বেড়েছে। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যেও অনেকে স্বর্ণের অলংকার কিনছেন। দামের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক দোকানদার নতুন করে অলংকার তৈরির অর্ডার নিচ্ছেন না আগে থেকে তৈরি থাকা অলংকারই বিক্রি করছেন। কয়েকজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, স্বর্ণের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। দাম আরও বাড়লে অনেক দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণের দাম বাড়ায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা।
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে মস্কো পুরোপুরি প্রস্তুত। যে কোনো ধরনের প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনটি জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় বুশেহর কেন্দ্রকে নিশানা করা হয়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন, সেখানে বর্তমানে শত শত রুশ নাগরিক কাজ করছেন। তবে এবারের হামলা আরও বড় হতে পারে এবং ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সব শহর। এই আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে চাপা উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। লিখাচেভ বলেন, আমরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি। আমাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা যে কোনো সময় প্রয়োজন অনুযায়ী লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি সতর্ক করেছেন, এই স্থাপনায় যে কোনো ধরনের হামলা হলে তা ১৯৮৬ সালের চোরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রের বিপর্যয়ের মতো ভয়াবহ মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইরানের জলসীমার কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল নৌবহর পাঠিয়েছে। প্রতিটি যুদ্ধজাহাজ অস্ত্রে সজ্জিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে আরও একটি বহর যাত্রা করেছেন, যদিও এখনই হামলা হবে কি না সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেননি।
ইতালির রোমে ভ্রমণে আসা এক নারী পর্যটককে যৌন হয়রানির অভিযোগে ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) মেট্রোতে ভ্যাটিকান সিটিতে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, চলন্ত ট্রেনে বাংলাদেশি যুবক ওই কিশোরীকে স্পর্শ করে এবং যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের যাত্রীরা এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে ভিত্তোরিও ইমানুয়েল স্টেশনে আটক করে। তদন্তে দেখা গেছে, যুবকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পুলিশের কাছে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। দুই বছর আগে ২০২৪ সালে একটি বাসে এক নারীকে হেনস্থার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রোম পুলিশ তাকে গুরুতর যৌন সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। ইতালির সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার। তবে এই ঘটনায় ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশ কমিউনিটির ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে মস্কো পুরোপুরি প্রস্তুত। যে কোনো ধরনের প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনটি জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় বুশেহর কেন্দ্রকে নিশানা করা হয়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন, সেখানে বর্তমানে শত শত রুশ নাগরিক কাজ করছেন। তবে এবারের হামলা আরও বড় হতে পারে এবং ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সব শহর। এই আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে চাপা উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। লিখাচেভ বলেন, আমরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি। আমাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা যে কোনো সময় প্রয়োজন অনুযায়ী লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি সতর্ক করেছেন, এই স্থাপনায় যে কোনো ধরনের হামলা হলে তা ১৯৮৬ সালের চোরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রের বিপর্যয়ের মতো ভয়াবহ মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইরানের জলসীমার কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল নৌবহর পাঠিয়েছে। প্রতিটি যুদ্ধজাহাজ অস্ত্রে সজ্জিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে আরও একটি বহর যাত্রা করেছেন, যদিও এখনই হামলা হবে কি না সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেননি।
ইরানে প্রাণঘাতী দমন–পীড়নের পর সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের উসকে দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন, যাতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস পায়। সাম্প্রতিক দেশব্যাপী দমন–পীড়ন অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পর এই উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে। আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি কিংবা পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় বড় পরিসরের হামলাও রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে এ সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ পৌঁছানোয় অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতা বেড়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলা হলে তা গত জুনে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো হামলার চেয়েও বড় হবে। তিনি নৌবহরটিকে ইরানের দিকে অগ্রসরমান একটি ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইরানের প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক অবস্থান সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে তারা কূটনৈতিক যোগাযোগও খোলা রাখছে বলে জানা গেছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনায় তেহরান প্রস্তুত, তবে উসকানি দেওয়া হলে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তভাবে আত্মরক্ষা করবে। ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এ দাবি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করে। জাতিসংঘে ইরানের মিশনও জানিয়েছে, জোর করে সংঘাতে ঠেলে দিলে নজিরবিহীন প্রতিশোধ নেওয়া হবে। হামলায় সরকার পতনের প্রশ্নে সংশয় ইসরাইলি কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু বিমান হামলা দিয়ে ইরানে সরকার পরিবর্তন সম্ভব কি না—তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সমন্বয়ে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরালেও শাসনব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে পড়বে না; দ্রুতই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক সংকটে সরকার দুর্বল হলেও এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। খামেনির প্রভাব অব্যাহত ৮৬ বছর বয়সি খামেনি দৈনন্দিন শাসন ও জনসমক্ষে উপস্থিতি কমিয়ে দিলেও যুদ্ধ, পারমাণবিক নীতি ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা তার হাতেই রয়েছে। তিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠদের কাছে অনেক দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন, যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি লারিজানিও রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে ৫ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য। ইরানি সরকারের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭। উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলে ইয়েমেনে ইরানপন্থি গোষ্ঠীর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা হতে পারে। সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও মিশর নাকি ওয়াশিংটনকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং তাদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে। এক আরব কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ট্রিগার টানতে পারে, কিন্তু এর পরিণতি আমাদেরই বয়ে নিতে হবে।’
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে গত প্রায় চার বছরে নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন দুই দেশের মোট ১৮ লাখেরও বেশি সেনা। মার্কিন থিঙ্কট্যাংক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)–এর এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর তুলনায় রুশ সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মোট ১৮ লক্ষাধিক হতাহতের মধ্যে প্রায় ১২ লাখই রুশ বাহিনীর সদস্য। এদের মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন, আর বাকিদের অধিকাংশই আহত। এছাড়া কয়েক হাজার রুশ সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রুশ বাহিনীর এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সিএসআইএস জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো বৃহৎ শক্তির সেনাবাহিনী বিশ্বের কোথাও কোনো যুদ্ধে এত বেশি হতাহত ও ক্ষতির মুখে পড়েনি—এটি নজিরবিহীন। তবে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতিও কম নয়। গত চার বছরে যুদ্ধে ইউক্রেনের ছয় লাখেরও বেশি সেনা নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক লাখ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের বসন্তকাল নাগাদ দুই পক্ষের মোট হতাহতের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদে যোগ দেওয়ার তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-এর কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যেসব জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে অর্থ প্রদান করেছে, সেগুলো দ্রুত বিএসএফ-এর কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের একটি বড় অংশ অরক্ষিত থাকায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব করছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ এই আদেশ দেন। শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চান, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র ‘সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের অজুহাতে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক সীমান্তের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় রাজ্য সরকারের এই নির্লিপ্ততাকে উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতিরা। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্র ইতোমধ্যে রাজ্য সরকারকে অর্থ দিয়েছে। যেসব এলাকায় এখনো মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া যায়নি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ সম্ভব কি না—সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।