বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেছেন, ‘অবৈধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন রয়েছে। সেই অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শুক্রবার (৫ জুন) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকরা যদি অবৈধভাবে এখানে থাকেন, বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তিরাও এর অন্তর্ভুক্ত, তাহলে তাদের মোকাবিলায় আমাদের আইন রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয়তা যাচাইয়ের জন্য বেশ কিছু তালিকা বাংলাদেশের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেগুলো যাচাই হয়ে গেলে ভারত সরকার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করবে। এসব ব্যক্তির প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে একটি দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। আমরা এসব বিষয় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাই, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারে। যাচাই সম্পন্ন হলে আমরা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের কাছে এমন বেশকিছু আবেদন পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করি, সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করা হবে। যাতে ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসন সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়।’
মধ্যপ্রাচ্যের শ্রম বাজারে জনশক্তি রপ্তানিতে এক সময় চট্টগ্রাম জেলার ‘আধিক্য’ থাকলেও এখন তা পিছিয়েছে। বিগত কয়েক বছরে জনশক্তি রপ্তানিতে এগিয়ে কুমিল্লা জেলা। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর। জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর কর্মকর্তারা বলছেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের প্রতি ঝোঁক, সব ধরনের পেশায় সম্পৃক্ত না হওয়া এবং নিজ জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় বিদেশ গমনে আগ্রহ কমছে চট্টগ্রামের মানুষের। জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ সালের আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানিতে এগিয়ে ছিল চট্টগ্রাম। এরপরে চট্টগ্রামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। ২০১৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম থেকে জনশক্তি রপ্তানি নিম্নগামী। জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্লাটফর্মের (ওইপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে চাকরির জন্য বিদেশ গেছে ৮৭ হাজার ৫২৪ জন। একই সময়ে কুমিল্লা থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৮ জন এবং চাঁদপুর থেকে বিদেশ গেছে ৮৪ হাজার ৯২৪ জন। তবে ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত জনশক্তি রপ্তানির হিসাব ধরলে চট্টগ্রামের চেয়ে এগিয়ে আছে চাঁদপুর। ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশ গেছে ৭ হাজার ৪০৮ জন, কুমিল্লা থেকে ১৫ হাজার ১৩৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১৪ হাজার ৬৫৩ জন ও চাঁদপুর থেকে ১ হাজার ৪৪ জন। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম থেকে ৩৮ হাজার ১৬২ জন, কুমিল্লা থেকে ৭৩ হাজার ৭৩৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৫৯ হাজার ৯২৭ জন এবং চাঁদপুর থেকে ৪০ হাজার ৭৫৪ জন বিদেশ গেছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম থেকে ৪১ হাজার ৮৩৩ জন, কুমিল্লা থেকে ৭৬ হাজার ৫০১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৬৭ হাজার ২১৭ জন ও চাঁদপুর থেকে ৪২ হাজার ৯৮২ জন বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে গেছেন ১২১ জন, কুমিল্লা থেকে ২৬১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৫৪১ ও চাঁদপুর থেকে ১৪৪ জন গেছেন। জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্তদের ভাষ্য, চট্টগ্রামের লোকজন মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই ও ওমানে যেতে বেশি আগ্রহী। সেখানে চট্টগ্রামের লোকজন বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। যারা নতুন করে বিদেশে যেতে চায়, তারাও সেখানে গিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার প্রতি আগ্রহী। এই দুই দেশে ভিসা বন্ধ ও ধীরগতির কারণে বিদেশযাত্রা অনেকটা কমে এসেছে। তবে ইদানীং সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারে যাচ্ছেন অল্প কিছু বিদেশগামী। এছাড়াও চট্টগ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় চট্টগ্রামের অনেক লোক এখন বিদেশে চাকরির খোঁজে যেতে চান না। জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্বে ছিলেন জহিরুল আলম মজুমদার। বর্তমানে তিনি সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে কর্মী যায়। তবে চট্টগ্রামের লোক যায় মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট কিছু দেশে, যেগুলোর মধ্যে অন্যতম ওমান ও দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত)। এসব দেশে ভিসা বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম থেকে জনসংখ্যা রপ্তানি কমেছে।” ওমানে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে ৬০ শতাংশই চট্টগ্রাম অঞ্চলের জানিয়ে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের লোকজন আঞ্চলিকতাকে প্রাধান্য দেয়। অন্য জেলার লোকজন কাজের সুবাদে যেকোনো দেশে যেতে আগ্রহী। “তবে সেক্ষেত্রে চট্টগ্রামের লোকজন একটু ব্যতিক্রম। তারা নিজ এলাকার লোকজন যে দেশে বেশি, সেখানেই মূলত যেতে চান।” জহিরুল আলম মজুমদারের পর্যবেক্ষণ, চট্টগ্রামের লোকজন সচরাচর সব ধরনের কাজ করতে চান না। তারা মূলত ব্যবসা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে আগ্রহী। দুবাই, ওমানে চট্টগ্রামের লোকজন বেশি থাকায় সেদিকে যাবার প্রবণতাও বেশি। এদিকে নিজ জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশগামী কর্মী কমার বিষয়টিও বলছেন জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর এ কর্মকর্তা। জহিরুল বলেন, “চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরনের কারখানা গড়ে উঠেছে। সেগুলোতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে কাজের ক্ষেত্রও বেড়েছে। “কেউ এক পেশায় থাকলে, সে অন্য পেশায় সহজেই যেতে পারছে। যেটা অন্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে উঠে না।” জহিরুল আলম বলেন, “চট্টগ্রাম অঞ্চলের লোকজন তুলনামূলক কম পরিশ্রমী। বিদেশে গিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রমের চেয়ে, নিজ দেশে থেকে আয় রোজগারের বিষয়টিও এখন তাদের ভাবনায় যুক্ত হয়েছে।” এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত পোষণ করে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (অ্যাটাব) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবু জাফর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চট্টগ্রামের লোকজন মূলত যেতে চান ওমান, দুবাই কুয়েত ও সৌদি আরব। এসব দেশগুলোতে ভিসা বন্ধ থাকায় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের লোকজনের সংখ্যা কমেছে। “চট্টগ্রামের লোকজন সব ধরনের পেশায় কাজ করতে চান না। আর চাকরির উদ্দেশ্যে কম যান। তারা যেতে চান ব্যবসা করতে। আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে তারা গিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে যান।” আবু জাফর বলেন, “চট্টগ্রামে কাজের বিভিন্ন সোর্স আছে, যেটা অন্য জেলার লোকজনের নেই। অনেক দেশ আছে দৈনিক ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরিতে কাজ করতে হয়। “এসব দেশে চট্টগ্রামের লোকজন যায় না, কারণ দেশে তার আয় রোজগার আরও বেশি হয়।”
বহু কাঙ্ক্ষিত প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেছেন আলেক্সান্ডার স্ফেরেফ। ইয়াকুব মেনসিককে হারিয়ে ফরাসি ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন জার্মান তারকা। প্যারিসে শুক্রবার পুরুষ এককের প্রথম সেমি-ফাইনালে ৭-৫, ৬-২, ৩-৬, ৬-৩ গেমে জিতেছেন ২৯ বছর বয়সী স্ফেরেফ। আরেক সেমি-ফাইনালে দুই ইতালিয়ান ফ্লাভিও কবোল্লি ও মাত্তেও আর্নালদির মধ্যে জয়ীর বিপক্ষে আগামী রোববার শিরোপা লড়াইয়ে নামবেন তিনি। দুই বছর আগের ফরাসি ওপেনসহ মোট তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল হেরেছেন স্ফেরেফ। চতুর্থবারের চেষ্টায় তিনি ট্রফিতে চুমু আঁকতে পারেন কি-না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
ভারতে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। আইপিএল ফাইনালে ধারাভাষ্য শেষ করে বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়ার পথে তার বহনকারী গাড়িটি একটি সেমি-ট্রেলারের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ঘটনাটি ঘটে বিমানবন্দরের পথে যাওয়ার সময়। দুর্ঘটনায় ক্লার্কের শরীরে আঘাত লাগে এবং তার গাড়ির চালকের পায়ে গুরুতর চোট, এমনকি হাড় ভাঙার আশঙ্কাও রয়েছে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ক্লার্ক জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ধাক্কায় তার ঘুম ভেঙে যায় এবং তিনি দেখেন গাড়ির সামনের অংশ একটি ট্রাকের নিচে ঢুকে গেছে। তার ভাষায়, ট্রাকটি একটি বড় সেমি-ট্রেলার ছিল এবং গাড়িটি সেটির নিচে প্রায় ঢুকে যায়। ক্লার্ক আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে ট্রাকের ব্রেক লাইট ঠিকভাবে কাজ না করা, যার ফলে চালক সময়মতো বুঝতে পারেননি। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় মানুষ দ্রুত সহায়তায় এগিয়ে আসেন বলে জানান তিনি। তাদের সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হয় এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়া থেকে রক্ষা পায়। এই সহায়তার জন্য তিনি ভারতের সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি ভারতের ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। ক্লার্ক বলেন, তারা নিয়মিতভাবে তার ও চালকের খোঁজখবর নিয়েছেন। দুর্ঘটনায় গাড়িটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমানে ক্লার্ক নিরাপদে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (৫ জুন) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এস বি পরিবহনের একটি বাস সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাসটি ফেরিতে প্রবেশের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে বিপরীত পাশের র্যাম্প ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে কোনো যাত্রীর প্রাণহানি বা গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বাসের চালক ও সহকারীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ফেরিঘাট এলাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ফেরিতে ওঠার আগে যানবাহনের যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রাজধানীর গুলশান এলাকায় স্পা সেন্টারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গুলশান-২ এলাকার দুটি পৃথক স্পা সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে গুলশান থানা পুলিশ। অভিযানে প্রতিষ্ঠান দুটিতে কর্মরত ও সংশ্লিষ্ট মোট ২৮ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্পা সেন্টারের আড়ালে বিভিন্ন অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য-উপাত্ত যাচাই শেষে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্পা ও ওয়েলনেস সেন্টারের নামে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশের দাবি, নগরীতে বৈধ ব্যবসার আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ রোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আশ্বাস দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আল-হামুদী এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। তিনি ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, স্বয়ংক্রিয় সাব-স্টেশন স্থাপন এবং জ্বালানি খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, বিশেষ করে গ্রিন হাইড্রোজেন ও গ্রিন অ্যামোনিয়া উৎপাদনে সহযোগিতার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ সরকার শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানানো হয়। রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আল-হামুদী বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অগ্রগতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বৈঠকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুর চামড়ার বাজার বৃহস্পতিবার থেকে বসেছে কিশোরগঞ্জ শহরের পৌর মার্কেট এলাকার মোরগ মহালে। বিশেষ সিন্ডিকেটের কারসাজিতে এখানে দাম মিলছে না পশুর চামড়ার। সরকার নির্ধারিত গরুর চামড়ার মূল্য প্রকারভেদে প্রতি ফুট ৬২-৬৭ এবং ঢাকার বাইরে ৫৭-৬২ টাকা ঘোষণা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০-৩০ টাকা দরে। এছাড়া খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ এবং বকরির ২২ থেকে ২৫ টাকা সরকার নির্ধারিত মূল্য হলেও বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে। ট্যানারিশিল্পসংশ্লিষ্ট শক্তিশালী সিন্ডিকেট চামড়ার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করায় তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বাজার। এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা কিশোরগঞ্জের পশু চামড়া বাজারের মৌসুমি ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীরা। চোখের জল ফেলে তারা বলছেন, এতে বিনিয়োগ করা পুঁজি ওঠা দূরের কথা, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিবহণ খরচ মিলিয়ে যে ব্যয় হয়েছে, তাও পাচ্ছেন না তারা। বিশাল পশু চামড়ার হাটটি ঘুরে দেখা যায়, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নরসিংদী, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখ লাখ পশুর চামড়া নিয়ে এ হাটে এসেছেন মৌসুমি ব্যাপারীরা। কিন্তু ট্যানারি মালিকসংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট সরকার নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকেরও কম দাম বলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন এ চামড়ার হাট পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবহণ খরচ ও লবণ দিয়ে নতুন করে প্রক্রিয়াজাতকরণের যে ব্যয়, তার ভয়ে পানির দরে ট্যানারি মালিকদের হাতে চামড়া তুলে দিয়ে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে ফিরছেন বাড়ি। হবিগঞ্জ জেলা থেকে ১২০০ পশুর চামড়া নিয়ে আসা আজিজ মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ভোর থেকে এসব চামড়া নিয়ে বসে আছেন তিনি। কিন্তু দুপুর নাগাদ কোনো ট্যানারি কারখানার মালিক কিংবা প্রতিনিধি কেউ কোনো দাম বলেনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৮শ চামড়া নিয়ে আসা আবদুল কদ্দুস জানান, সিন্ডিকেটের কারণে বাধ্য হয়ে তার এসব চামড়া ৫৭ থেকে ৬২ টাকা ফুটের স্থলে মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকা ফুট দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে তার অন্তত তিন লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৩ হাজার পিস পশুর চামড়া নিয়ে আসা কবীর উদ্দিন বলেন, এখানে কোনো ট্যানারি কারখানার মালিক চামড়া কিনতে প্রকাশ্যে আসছেন না। তারা বাইরে থেকে কিছু দালাল ও সিন্ডিকেটের লোকজন পাঠিয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের হাতেই এখন জিম্মি ঐতিহ্যবাহী এই বিশাল চামড়ার হাট। যে চামড়া কিনতে সব মিলিয়ে তার ৪৫ টাকা ফুট খরচ পড়েছে, সেই চামড়া এখন মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টাকা ফুট দরে বিক্রি করছেন। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিনও বরাবরের মতো এবারও ২ হাজার ৫শ চামড়া নিয়ে এ হাটে এসেছেন। এখন পর্যন্ত তার চামড়া বিক্রি হয়নি। তিনি বলেন, ‘সরকার পশুর চামড়ার ভালো দাম বেঁধে দিয়েছে। এমনকি ট্যানারি কারখানাগুলোকে চামড়া কিনতে ঋণ দিয়েছে। কিন্তু তারা দালালচক্র ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পানির দরে নামমাত্র কিছু চামড়া কিনে বাকি বিপুল পরিমাণ টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করে মুনাফা লুটছে। আর আমরা চামড়া নিয়ে এখন পথে বসেছি।’ জানা যায়, আগামী বৃহস্পতিবারও এখানে পশুর চামড়ার হাট বসবে। তাই অনেকেই শেষ হাটে ভালো দাম পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এক খোলা চিঠিতে তিনি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমেই সম্ভব। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের অপেক্ষায় না থেকে এখনই শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আলোচনার সময় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকরেরও প্রস্তাব দেন। তবে এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পুতিন ও জেলেনস্কি যদি সরাসরি বৈঠকে বসেন, তবে তা যুদ্ধের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, জেলেনস্কির পাঠানো খোলা চিঠি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অবহিত করা হবে। দীর্ঘ ওই চিঠিতে জেলেনস্কি যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের মানবিক বিপর্যয়, প্রাণহানি এবং রাশিয়ার সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উভয় দেশের জনগণের স্বার্থে যুদ্ধের একটি রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে যে সম্ভাব্য বৈঠকটি সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো নিরপেক্ষ দেশে আয়োজন করা যেতে পারে। অন্যদিকে পুতিন জানিয়েছেন, তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে এর জন্য উভয় পক্ষকেই কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। ইউক্রেন অবশ্য নিজেদের কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থায় থাকা শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনতে দুই নেতার সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: বিবিসি।
ড. মোহাম্মদ রইসউদ্দিন আহমেদ
মোস্তফা কামাল আকন্দ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন বৈঠকের কোনো প্রয়োজন দেখছি না। শুক্রবার (৫ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন জেলেনস্কির সাম্প্রতিক খোলা চিঠির প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন। চিঠিতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পুতিন বলেন, তিনি বহুবার যোগাযোগের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন, তবে এখন এমন বৈঠকের বিশেষ কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না। তার মতে, প্রকাশ্যে চিঠি লেখার এই পদ্ধতি আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। রুশ প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দেন, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে কার্যকর সমঝোতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ফলপ্রসূ হবে না। তিনি বলেন, টেকসই চুক্তির ভিত্তি আগে প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি পুতিনকে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি যুদ্ধ বন্ধে একটি নির্দিষ্ট তারিখে বৈঠকের প্রস্তাব দেন এবং আলোচনা চলাকালে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির কথাও উল্লেখ করেন। চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন আমাদের দুজনের সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান চায়। একইসঙ্গে তিনি যুদ্ধবন্দি বিনিময় ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের মতো বিষয়েও আলোচনা করার প্রস্তাব দেন। তবে পুতিন তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি কেবল তখনই জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যখন একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি প্রস্তুত হবে এবং সেটি স্বাক্ষরের পর্যায়ে পৌঁছাবে। একই অনুষ্ঠানে পুতিন দাবি করেন, রুশ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি ধরে রেখেছে এবং সামনের সারির প্রায় পুরো অংশজুড়েই তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। সূত্র : আল জাজিরা
ইরান ও তার লেবানিজ মিত্র হিজবুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন অভিযোগ করেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের নিজস্ব আলোচনায় লেবাননকে দাবার ঘুঁটি বা দরকষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেহরান এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এটিই প্রেসিডেন্ট আউনের এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর সমালোচনা, যা লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, ইরানের নিজস্ব স্বার্থের কারণে লেবাননের জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার এই অন্তহীন যুদ্ধে লেবাননের মানুষ এখন পুরোপুরি ক্লান্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনায় লেবাননকে এভাবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যখন মার্কিন ও ইসরাইলি আক্রমণের মুখে পড়ে, তখন তেহরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লাহ তিন মাসেরও বেশি সময় আগে এই সংঘাতের সূত্রপাত করেছিল। ১৯৮২ সালে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দ্বারা গঠিত শিয়া মুসলিম সংগঠন হিজবুল্লাহর এই যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে শুরু থেকেই ভালোভাবে নেয়নি লেবাননের অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষগুলো। লেবাননের সাম্প্রদায়িক ক্ষমতার বণ্টন নীতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট আউন একজন ম্যারোনাইট খ্রিস্টান এবং দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার আগে তিনি লেবানন সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছর দেশটির পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি হিজবুল্লাহকে শান্তিপূর্ণভাবে নিরস্ত্র করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি যুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা হিজবুল্লাহর ঘোষিত নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। চলমান এই আঞ্চলিক সংকটে ইরান শর্ত জুড়ে দিয়েছে যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। এদিকে, ওয়াশিংটনে মার্কিন মধ্যস্থতায় লেবানিজ ও ইসরাইলি সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা চুক্তি হলেও বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হিজবুল্লাহ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই চুক্তির মূল শর্ত ছিল হিজবুল্লাহকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে হবে এবং তাদের যোদ্ধাদের দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটনের ওই চুক্তিটি লেবাননের জনগণের একটি বড় অংশ প্রত্যাখ্যান করেছে। কাসেমের এই দাবির জবাবে প্রেসিডেন্ট আউন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, লেবাননের সাধারণ মানুষ আপনার নিজস্ব জনগণ নয়। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেই সাথে ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের একটি বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স।
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধের আবহে আশার আলো দেখাচ্ছে বিহার (Bihar Rare Minerals)। সেই বিহার, যে রাজ্যটাকে পছন্দ করেন না অনেকেই! তবে নানান কারণে বারবার আলোচনায় উঠে আসে বিজেপি শাসিত এই রাজ্য। এবার সেখানেই প্রথমবারের মতো মিলল বিরল খনিজ সম্পদ। জানা যাচ্ছে, বিহারের মাটির নিচে থাকা বিপুল পরিমাণ খনিজ পদার্থ উত্তোলনের জন্য খুব শীঘ্রই শুরু হবে খনন কাজ। মূলত কেন্দ্র এবং রাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টায় বিহারের গয়া, রোহতাস এবং ঔরঙ্গবাদ অর্থাৎ তিনটি প্রধান জেলায় বিপুল পরিমাণ খনিজ পদার্থ পাওয়া গিয়েছে। সেই সবটাই এবার তোলা হবে। শীঘ্রই মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হবে নিউজ 18 এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিহারের খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ জায়গাগুলিতে খুব শীঘ্রই খনন কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যেই ভূতাত্বিক সমীক্ষা ও খনি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রথাস জেলার অধীনে কাইমুর পাহাড়ে উচ্চমানের গ্লুকোনাইটের বিশাল মজুদ পাওয়া গিয়েছে। একই সাথে গয়া এবং ওরঙ্গবাদের সীমান্ত এলাকাগুলিতে ভ্যানাডিয়াম সহ ম্যাগনেটাইট এমলেনাইটের বিরল উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। আন্তর্জাতিকভারতপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিখেলাবিনোদনটেকচাকরিজ্যোতিষটাকা পয়সাঅফবিটধর্মব্যবসারাশিফলসেরা দশ বাংলা ক্যালেন্ডার আপনার রাশিফল Newসোনার দাম রুপোর দাম পেট্রোলের দাম ডিজেলের দাম গ্যাসের দাম ভারত তৈরি হবে যুদ্ধবিমান থেকে অস্ত্রশস্ত্র, বিহারে প্রথমবার মিলল বিপুল বিরল খনিজ সম্পদ বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধের আবহে আশার আলো দেখাচ্ছে বিহার (Bihar Rare Minerals)। সেই বিহার, যে রাজ্যটাকে পছন্দ করেন না অনেকেই! তবে নানান কারণে বারবার আলোচনায় উঠে আসে বিজেপি শাসিত এই রাজ্য। এবার সেখানেই প্রথমবারের মতো মিলল বিরল খনিজ সম্পদ। জানা যাচ্ছে, বিহারের মাটির নিচে থাকা বিপুল পরিমাণ খনিজ পদার্থ উত্তোলনের জন্য খুব শীঘ্রই শুরু হবে খনন কাজ। মূলত কেন্দ্র এবং রাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টায় বিহারের গয়া, রোহতাস এবং ঔরঙ্গবাদ অর্থাৎ তিনটি প্রধান জেলায় বিপুল পরিমাণ খনিজ পদার্থ পাওয়া গিয়েছে। সেই সবটাই এবার তোলা হবে। শীঘ্রই মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হবে নিউজ 18 এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিহারের খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ জায়গাগুলিতে খুব শীঘ্রই খনন কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যেই ভূতাত্বিক সমীক্ষা ও খনি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রথাস জেলার অধীনে কাইমুর পাহাড়ে উচ্চমানের গ্লুকোনাইটের বিশাল মজুদ পাওয়া গিয়েছে। একই সাথে গয়া এবং ওরঙ্গবাদের সীমান্ত এলাকাগুলিতে ভ্যানাডিয়াম সহ ম্যাগনেটাইট এমলেনাইটের বিরল উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। Advertisement মূলত বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল এই আবিষ্কার। না বললেই নয়, একটানা 10 বছর এই অঞ্চলগুলিতে সমীক্ষা চালানোর পর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরেই অবশেষে জায়গাগুলিতে বিরল খনিজ সম্পদের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। আর তারপরেই চারটি প্রধান ব্লকের জন্য দরপত্র বা টেন্ডার ডাকা হয়। যা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহতাসে যে বিপুল পরিমাণ গ্লুকোনাইট পাওয়া গিয়েছে তা পটাশ তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে দেশে কৃষিকাজের জন্য সারের উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে বলেই আশা করা যাচ্ছে। এছাড়াও গয়া এবং ঔরঙ্গবাদে পাওয়া ভ্যাননডিয়াম ও ম্যাগনেটাইট পুনঃবিকরণযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। এ প্রসঙ্গে, বিহারের খনি ও ভূমি উপাদান মন্ত্রী প্রমদ কুমার সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় জানিয়েছেন, বিহারে যে পরিমাণ বিরল খনিজ সম্পদ পাওয়া গিয়েছে তা রাজ্যের গোটা ছবিটাই বদলে দিতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার বিহারের মোট 14টি জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ ব্লক চিহ্নিত করেছে। আগামী দিনেও এর নিলাম অব্যাহত থাকবে। বলা হচ্ছে, বিহারে হদিশ পাওয়া বিরল খনিজ সম্পদগুলি উত্তলোনের জন্য খনন কাজ শুরু হলে 100টিরও বেশি গ্রামের যুবক সরাসরি উপকৃত হবেন। আসলে এই কাজের জন্য প্রচুর সংখ্যক লোক লাগবে। সেই সূত্র ধরেই কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে স্থানীয়দের।
চট্টগ্রামে ভাঙার উদ্দেশ্যে আনা ‘মেমেই’ নামের একটি কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করায় সেটি আর সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে নেওয়া হচ্ছে না। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। জাহাজটি গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে। পরে সীতাকুণ্ডের একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য নেওয়ার কথা ছিল। তবে ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ‘মেমেই’ জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। জানা গেছে, প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজটি আমদানি করেছিল এসএন কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এবং ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘ডিসকো শওকত’ নামে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য না দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাজটির নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। একই মালিকানাধীন ‘ফ্লোরা’ নামের আরেকটি জাহাজের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, পালাউ পতাকাবাহী ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) একটি ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার। ১৯৯৭ সালে নির্মিত জাহাজটির লাইট ডিসপ্লেসমেন্ট টনেজ (এলডিটি) ৯ হাজার ৮৭৭ দশমিক ১ টন, দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২ মিটার। ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের মার্কিন নীতির অংশ হিসেবে নির্বাহী আদেশ ১৩৮৪৬-এর আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।