অন্যান্য

বাল্যবিয়ের করাল গ্রাসে থেমে যাচ্ছে লাখো ছাত্রীর স্বপ্ন

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের তাসলিম লিরা (ছদ্মনাম)। প্রবাসী বাবা মেয়েকে বিয়ে দিলেন ঢাকার এক স্বনামধন্য ব্যবসায়ীর সাথে। এইচএসসি পরীক্ষার ঠিক আগে আগে বিয়ে হওয়ায় রেজিস্ট্রেশন করেও বিয়ের হইহুল্লোড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে আর যাওয়া হয়নি লিরার। কিন্তু ঢাকা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া তারই ননদের মেয়ের পরীক্ষার তদারকির সব ভার তাঁর কাঁধে।

 

ভাগনী সকালে পড়তে উঠলে নিয়ম করে উঠতে হয় লিরাকে। কী খাবে, পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবার আগে কলম, এডমিড কার্ড সব ঠিকঠাক আছে কি না চেক করে দেওয়ার দায়িত্ব নববধূর। এই করতে গিয়েই যে নববধূর মনটা ভেঙে যায় তা দেখার কেউ নেই। বিবাহিত লিরার মন চলে যায় নিজের বান্ধবী সহপাঠীদের কাছে। তারওতো এই রকম করেই সবার সাথে সিরিয়াস মুডে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবার কথা ছিল। ছিল মাকে জড়িয়ে ধরে, বাবার আশীর্বাদ নিয়ে পরীক্ষার আসনে বসার। দীর্ঘশ্বাস ফেলে লিরা বলেন, এটা ভাগ্য! বিয়ে করলে সবদিক থেকে নিশ্চিত মা-বাবা তাই তাদের কথা মানতে হলো।

আসলে কি তাই। লিরা, সানজিদা, দোলাদের মতো আরও কত লাখ লাখ নাম না জানা কিশোরী আজ বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত। বিয়ের পর লেখাপড়া চালানোর আশ্বাস থাকলেও আসলে কত জনের কপালে সেই সুযোগ হয়, বলতে গেলে জ্যোতিষশাস্ত্র জানতে হয় না। কিশোরীর গায়ে নববধূর ঘ্রাণ যাওয়ার আগেই নতুন মা হওয়ার আনন্দে বিভোর হয়ে যান তিনি। পড়ালেখার পাট তখন একেবারেই চুকে যায়। ঘর কন্যায় ব্যস্ততায় তখন দিন কাটে।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দেশজুড়ে শুরু হওয়া উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা, অন্যদিকে পরীক্ষাকেন্দ্রের বেঞ্চগুলো জানান দিচ্ছে এক নীরব ও বেদনাদায়ক হারিয়ে যাওয়ার গল্প। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। দুই বছর আগে একাদশ শ্রেণিতে সাড়ম্বরে নিবন্ধ করা প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থীই ঝরে পড়েছেন।

 

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই অস্বাভাবিক অনুপস্থিতির নেপথ্য কারণ খুঁজতে গিয়ে যে সত্যের মুখোমুখি হয়েছেন, তা একাধারে শিউরে ওঠার মতো চরম উদ্বেগের। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনুপস্থিত বা ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে যে তাদের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশের পরীক্ষার আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। অর্থাৎ, বাল্যবিবাহই আজ উচ্চশিক্ষার পথে সবচেয়ে বড় সামাজিক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

শিক্ষা জীবনের সোনালী স্বপ্ন যখন ডানা মেলার কথা ঠিক তখনই এক বিপুলসংখ্যক কিশোরীকে বসতে হচ্ছে বিয়ের পিঁড়িতে। নোয়াখালী মহিলা কলেজের ছাত্রী ফাতিমা মাহি, পরীক্ষার বেঞ্চে বসার চেয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসাই তার কাছে সহজ মনে হয়েছে। প্রস্তুতির ঘাটতি এবং ফেসবুক টিকটকে ভাইরাল হওয়াটাই তার কাছে বেশি মজার। তার মতে আয় করা এখন অনেক সহজ। বিনোদন যখন আয়ের মাধ্যম হয় তখন কেন কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হবে। যেখানে নিজের অফিস নিজের সময় মতো করব। কারো কোনো বকা নেই জবাবদিহিতা নেই, সার্টিফিকেট নিয়ে প্যারা নাই। ঠিক তার মতো ভাবনা পরীক্ষা না দেওয়া আরেক ছাত্রী নাবাহা বলেন, পড়তে ভালো লাগে না তাই আম্মুকে বলেছি এবার পরীক্ষা দেব না, মাও বললেন ঠিক আছে বিশ্রাম নাও।

 

গ্লোবাল ভিলেজ, প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের বেড়াজালে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা। সম্প্রতি দৈনিক সমকাল ও রেড অরেঞ্জ লিমিটেডে যৌথ উদ্যোগে ইয়ুখ শেয়ার-নেট প্রকল্প এবং অ্যাপ্লিফাই চেঞ্জের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘স্বপ্ন ও সংকট: বাল্যবিবাহ এবং কিশোরী গর্ভধারণ প্রতিরোধে তারুণ্যের অংশগ্রহণ’ শীর্ষক গোলটেবিলে বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা বাল্যবিবাহকে জরুরি সামাজিক সংকট ঘোষণা দিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকার ও বেসরকারি সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দেন। আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করে ২০১৭ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন (সিএমআরএ) সংশোধন করে ’বিশেষ বিধান’ ধারাটি অপসারণ কিংবা সংশোধনের দাবি জানান।

 

গবেষণায় দেখা যায়, দেশে বাল্যবিবাহের হার এখনও ৫১ শতাংশের বেশি, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ কিশোর-কিশোরী ভবিষ্যৎ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলেও তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

 

বাল্যবিয়ের পাশাপাশি চরম দারিদ্র্য এবং পরীক্ষার পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবম বা দশম শ্রেণিতে বাল্যবিয়ের হার নিয়ে কিছুটা আলোচনা হরেও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এসে যে এত বিশালসংখ্যক ছাত্রী একই কারণে শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ছে, তা আমাদের দেশের জন্য একটি বড় অশনিসংকেত।

 

শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ওপরের শ্রেণিতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য এবং এসএসসি পাসের পর অনেকে শিক্ষার্থীর কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়া এ প্রনভতার উল্লেখযোগ্য কারণ।

 

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার অবশ্য আরেকটি দিকের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার কারণে নির্ধারিত বছরেও পরীক্ষায় অংশ নেয় না; তারা পরবর্তী বছরগুলোতে পরীক্ষায় বসে।

 

তবে সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রস্তুতির অভাবের পেছনেও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে পারিবারিক চাপ ও বিয়েসংক্রান্ত মানসিক অস্থিরতা। একবার পড়াশোনার গতি থেকে ছিটকে পড়লে একটি মেয়েল পক্ষে পুনরায় পড়াশোনায় ফেরা গ্রামীণ সমাজ বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

জাতীয় এই ক্ষতি ও লাখো কিশোরীর স্বপ্নভঙ্গের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, শিক্ষার এই দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন গণ-ঝরে পড়া রোধ করা যায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করবে মন্ত্রণালয়।

 

বাল্যবিয়ে শুধু একটি মেয়ের ব্যক্তিগত অধিকারই ক্ষুণ্ন করে না বরং এটি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের চাকাকে স্তব্ধ করে দেয়। সাড়ে পাঁচ লাখ সম্ভাবনাময় তরুণের এই হারিয়ে যাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এখনই যদি স্থানীয় প্রশাসন, অভিভাবক ও সমাজ সম্মিলিতভাবে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে না তোলে, তবে আগামী দিনের বাংলাদেশ এক বিশাল মেধাবী ও স্বাবলম্বী নারী জনগোষ্ঠী থেকে বঞ্চিত হবে। পরীক্ষার টেবিলগুলো যেন আর শূন্য না থাকে কিশোরীদের খাতা-কলম যেন রান্নাঘরের ব্যস্ততায় হারিয়ে না যায়-এটাই হোক আজকের দিনে আমাদের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।

 

লেখক: সামিনা রোশনি

এসোসিয়েট ম্যানেজার, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ডাক পেলেন না গাজী নজরুল

বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে ডাকা হয়নি। তিনি ১০ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির একজন সদস্য।   মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের প্রধানরা তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।   বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, মো. আবদুল হান্নান, আমীর এজাজ খান ও রোকেয়া বেগম অংশগ্রহণ করেন।   এসময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রধান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরদিন তারা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) জানায়। চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
‘জাতীয় মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন, ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বিলম্বিত হওয়ায় আইন পাসের সুফল অনিশ্চিত: আখতার

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ আর নেই

পিংক বাসকে ধাক্কা, সেই ‘বলাকাকে’ পাঠানো হলো ডাম্পিংয়ে

ছবি: সংগৃহীত
রাশেদের আক্রমণের মুখে তুষার বললেন, ‘আমি কোথায় বিয়ে করেছি?’

নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাধীন সংলাপ’-এর সাম্প্রতিক পর্বে বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে চরম বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোহাম্মদ রাশেদ খান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আলোচনা ব্যক্তিগত আক্রমণে রূপ নিলে, বিয়ে এবং নারী নিপীড়নের প্রসঙ্গ উঠলে সারোয়ার তুষারকে বলতে শোনা যায়, “আমি তো বিয়েই করি নাই।”   সোমবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাতে প্রকাশিত ‘সরকারের ১৮০ দিন: কেমন আছে জনগণ?’ শীর্ষক এই সংলাপে আলোচনার এক পর্যায়ে সরকার ও বিরোধী শিবিরের দুই তরুণ প্রতিনিধি একে অপরের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও ব্যর্থতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলেন। ৪২ মিনিটের আলোচনায় বাগযুদ্ধের সূত্রপাত হয় ৩৬ মিনিটে। যখন উপস্থাপিকা রাশেদকে উদ্ধৃত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কথা বলে একটি প্রসঙ্গে যেতে চান। তখন রাশেদকে উদ্দেশ্য করে তুষার বলেন, ‘উনি (রাশেদ) শতভাগ চ্যালেঞ্জ করে এমন অনেক কথাই বলেন। মিথ্যা কথা বলায় ওনার বিরাট… আছে।’ এরপর থেকে মূলত টকশো আর আগাতেই পারেনি। জুলাই আন্দোলনে কার ভূমিকা কেমন ছিল, কে মামলা খেয়েছে আর কে খায়নি-সেসব নিয়ে তর্কে জড়ান দুই বক্তা। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন রাশেদ খান ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ শুরু করেন। তিনি বলেন, “আপনাদের দলে কোন নারী আপনাদের কাছে নিরাপদ? আপনার সঙ্গে থাকা অবস্থায় নারীকে আপনি নিপীড়ন করেছেন। বউ থাকা অবস্থায় এসব করেছেন। কোন মুখে টকশোতে আসেন। এসব বলতে চাইনি। বাধ্য করছেন।'   এই গুরুতর অভিযোগের মুখে সারোয়ার তুষার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং একে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, “আমি কোথায় বিয়ে করেছি? আপনি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।”   আলোচনা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে উপস্থাপিকা মুনি ইউসুফ দ্রুত অনুষ্ঠানটি শেষ করতে বাধ্য হন। সরকারের ১৮০ দিনের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে শুরু হওয়া এই সংলাপ শেষ পর্যন্ত দুই রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়িতে পর্যবসিত হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাব বিলুপ্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত, গঠন হচ্ছে নতুন ইউনিট এসআরবি

নাহিদ ইসলাম

সরকারের নীতি ও গণতন্ত্রের সংকোচন নিয়ে নাহিদ ইসলামের সমালোচনা

ছবি: সংগৃহীত

খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও পরাজিত হননি, শেখ হাসিনা পালিয়েছেন: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
নতুন দায়িত্ব পেলেন সাবেক দুই ছাত্রদল নেতা

বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ও সরকারি গৌরনদী কলেজের ভিপি কেএম আনোয়ার হোসেন বাদলকে বিএনপির মূল কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পদায়ন দেওয়া হয়েছে।   রোববার (১৬ আগস্ট) বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন জাফর ইকবাল। এরপর ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, ২০০২-২০০৮ পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩-২০০৮ পর্যন্ত বরিশাল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   অপরদিকে কেএম আনোয়ার হোসেন বাদল সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি এবং ২০০৫ সালে ভিপি হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন। রাজনীতির দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রাম পেরিয়ে সাবেক এই দুই নেতা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন। পদ পাওয়া দুই নেতা জানান, ছাত্র রাজনীতি সমাপ্ত করে আমরা এতদিন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলাম। আমাদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে আমাদের দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৭, ২০২৬
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) | ছবি: সংগৃহীত

সরকারের প্রতি চরমোনাই পীরের ৬ পরামর্শ

ছবি: সংগৃহীত

লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জামায়াতের

ছবি: সংগৃহীত

গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের জামিন নামঞ্জুর

0 Comments