আন্তর্জাতিক

ইরানের নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মাঝে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা (এইওআই) এক বিবৃতিতে পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার এই তথ্য জানিয়েছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অত্যন্ত বর্বর ও আগ্রাসী এক পদক্ষেপের মাধ্যমে রোববার নির্মাণাধীন দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন বাহিনী।

 

দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা বলেছে, খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত নির্মাণাধীন দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই বিষয়ে জানতে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে।

 

সংস্থাটি বলছে, স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৩টা ৩৯ মিনিটের দিকে ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এইওআই। ইরানে ২০২২ সালে ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল।

 

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির সামরিক-বেসামরিক স্থাপনার লক্ষ্য করে গত এক সপ্তাহ ধরে টানা হামলা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন হামলার জবাবে কয়েকটি আঞ্চলিক দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহার করা সব স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীও।

 

যুদ্ধের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মাঝে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে তেহরানের বাধা দেওয়ার অভিযোগে দেশটিতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

 

সূূত্র: এএফপি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরাকে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত

ইরানের হামলায় উত্তর ইরাকে এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।    গত শনিবার (১৮ জুলাই) এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। খবর বিবিসির।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার (নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ) সময় ওই সেনা নিহত হন বলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে। একই ঘটনায় আহত হন আরেক মার্কিন সেনাসদস্য।   সেন্টকম আরও জানিয়েছে, গত শুক্রবার জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে যে স্থানে ইরান হামলা চালিয়েছিল, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ‘অজ্ঞাত ব্যক্তির মানবদেহের অবশিষ্টাংশ’ পাওয়া গেছে। তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলেও জানানো হয়েছে।   মূলত সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ করেছে। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবারও অবরোধ আরোপ করেছে।   অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় এক মাস আগে কার্যকর হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হত সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।   এমন অবস্থায় টানা নবম রাতের মতো ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানিয়েছে, সোমবার (২০ জুলাই) ইরানের স্থানীয় সময় রাত আড়াইটা থেকে নতুন দফার এ হামলা শুরু হয়।   তাদের দাবি, তাদের সর্বশেষ হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌপরিবহনে ইরানের হুমকি দেয়ার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে হামলার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যদের দ্রুত শাস্তি দেয়া।   বিবিসি বলছে, জর্ডানের ওই সামরিক স্থাপনা থেকে পাওয়া যাচাইকৃত ভিডিওতে অন্তত দুটি আঘাত এবং একটি বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত নিহত মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করার পর এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ জনে।   অন্যদিকে গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২০, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় যা বললেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহীত

সৌদির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে অনুমতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মতো আচরণ করছে: ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, যে দেশ একসময় নিজেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরেছিল, তাদের সর্বশেষ অর্জন এখন বেসামরিক সেতু ও অবকাঠামো ধ্বংসের দৃশ্য প্রকাশ করা। যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মতো আচরণ করছে। খবর ইরনার।   রোববার (১৯ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘায়ি দাবি করেন, গত ১৬ জুলাই চাবাহার বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও নৌচলাচল তদারকির একটি বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্র।   তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গর্বের সঙ্গে ওই টাওয়ার ধ্বংসের ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সুযোগ পেলে মিনাবের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লামের্দে বেসামরিক মানুষ হত্যার দৃশ্যও একইভাবে প্রচার করা হতো।   বাঘায়ি আরও বলেন, সর্বশেষ হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জাস্কের বুনজি গ্রামের বিদ্যুৎ স্থাপনা ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ পাম্প লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানির সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।   তার মতে, যে রাষ্ট্র একসময় আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা, উদার মূল্যবোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্বের দাবি করত, তাদের এখনকার গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ছবি প্রকাশ করা।   বাঘায়ি বলেন, প্রতিটি সেতু, টাওয়ার ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের সঙ্গে শুধু কংক্রিট বা ইস্পাতই ভেঙে পড়ছে না; বিশ্বের সামনে ভেঙে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার এবং পশ্চিমা বিশ্বের সভ্যতার দাবিও।   তিনি প্রশ্ন তোলেন, চাবাহার, মিনাব, লামের্দ ও জাস্কে যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছে, তার সঙ্গে সেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রকৃত পার্থক্য কোথায়, যেগুলোকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝেই ভূমিকম্পে কাঁপল ইরান

কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে টানা অষ্টম রাতেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

সংগৃহীত ছবি
জর্ডানে ইরানের হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত, নিখোঁজ ১

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জর্ডানে ইরানের আকস্মিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ২ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, হামলায় আহত আরও ৪ মার্কিন সেনাকে উদ্ধার করে জর্ডানের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।    মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের এই ভয়াবহ আঘাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে শনিবার রাতে ইরানের ওপর টানা অষ্টম দিনের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নতুন সংঘাতের ফলে চলমান যুদ্ধে মার্কিন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।   মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা নিহতদের পরিচয় বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ না করলেও সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি নস্যাৎ করতে এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার দ্রুত জবাব দিতেই এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।    মাত্র এক মাস আগে শুরু হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বৈরিতা চরম রূপ নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ইতিমধ্যেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবারও কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে, যার জবাবে ইরানও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।   এদিকে, এই হামলার পর শনিবার রাতে এক লিখিত বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন। যুদ্ধে তার বাবা নিহত হওয়ার পর এই প্রথম দেওয়া এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, ওয়াশিংটনের বারবার চুক্তি লঙ্ঘন প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা গ্রহণযোগ্যতা নেই। তিনি মার্কিন প্রশাসনকে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের কাছে এমন শিক্ষা রয়েছে যা তারা কখনো ভুলবে না। অন্যদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমায় অন্তত ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।   সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে ইরান যদি আলোচনায় ফিরে না আসে, তবে আগামী সপ্তাহে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে বোমাবর্ষণ করা হবে।    মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন ইরানি নাগরিক নিহত এবং ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে এই সংঘাত একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: বিবিসি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

প্রেমিকের অন্যত্র বিয়ে, এরপর যা করলেন তরুণী

ছবি : সংগৃহীত

জর্ডানে ইরানি মিসাইল হামলায় নিহত ২ মার্কিন সেনা

ছবি : সংগৃহীত

নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বললেন মামদানি

0 Comments