ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে Welthungerhilfe (WHH) আজ ঢাকার হোটেল লেকশোর গ্র্যান্ডে আয়োজিত একটি জাতীয় পর্যায়ের কর্মশালার মাধ্যমে "Empowering Civil Society for Climate Justice and Environment Protection" প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ের নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলো (Civil Society Organizations - CSOs)-কে শক্তিশালী করে জলবায়ু ন্যায়বিচার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
Welthungerhilfe-এর নেতৃত্বে এবং Educo, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও উত্তরণ-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল সংগঠনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, অ্যাডভোকেসি দক্ষতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতামূলক নেটওয়ার্ক জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্বাধীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় কাজ করা হবে।
উদ্বোধনী কর্মশালায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, তরুণ নেতৃত্ব, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন Welthungerhilfe Bangladesh-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর Jonas Wiahl এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। পরে Welthungerhilfe Bangladesh-এর Head of Project আফসারী বেগম প্রকল্পের সার্বিক পরিচিতি তুলে ধরেন। এছাড়া Educo Bangladesh-এর Head of Programme তাজিন হোসেন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত "Insights from Communities" পর্বে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের Edwin Koekkoek, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মোহাম্মদ জাকারিয়া, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের রেজওয়ানুর রহমান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মো. মনিরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন,
"আমাদের আরও বেশি ফলাফলের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য আমি তাদের প্রশংসা করি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফলাফলমুখী একজন নেতা, যিনি জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। দেশের মানুষ ও দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে—এমন যেকোনো উদ্যোগে আমরা সহযোগিতা করব।"
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধির বক্তব্য
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের Edwin Koekkoek বলেন,
"জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবাধিকার উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজ এই প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি যে, জলবায়ু কার্যক্রম যেন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করে—সেই লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।"
Welthungerhilfe Bangladesh-এর কান্ট্রি ডিরেক্টরের বক্তব্য
Jonas Wiahl বলেন,
"একসঙ্গে কাজ করে, একে অপরের কাছ থেকে শিখে এবং সম্মিলিত শক্তি গড়ে তুলে আমরা দীর্ঘস্থায়ী ও রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে পারব—এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। প্রকল্পের সাফল্য শুধু কার্যক্রমের মাধ্যমে নয়, বরং অংশীদারিত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং আমরা একসঙ্গে যে ইতিবাচক পরিবর্তন অর্জন করব, তার মাধ্যমেও পরিমাপ করা হবে।"
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের বক্তব্য
শাহীন আনাম বলেন,
"এই প্রকল্পের লক্ষ্য কোনো একক দাতা, অংশীদার বা অন্য কোনো পক্ষের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়। এর জন্য নাগরিক সমাজ, স্থানীয় সরকার এবং নাগরিকদের সংগঠনগুলোর মধ্যে উচ্চমাত্রার সহযোগিতা প্রয়োজন।"
শাহীন আনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের একটি প্যানেল আলোচনায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, পরিবেশগত সুশাসন জোরদার, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচকরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই জলবায়ু সমাধান নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রকল্পের আওতায় Financial Support to Third Parties (FSTP)-এর মাধ্যমে সরাসরি ১৮টি তৃণমূল নাগরিক সমাজ সংগঠনকে সহায়তা প্রদান করা হবে। নির্বাচিত সংগঠনগুলোর মধ্যে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংগঠন, দলিত সংগঠন এবং যুব সংগঠন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং দক্ষতা, প্রমাণভিত্তিক তথ্য উৎপাদন এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত মানবাধিকার বিষয়ক পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে তারা নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া ও পরিবেশগত সুশাসনে আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
অনুষ্ঠানের বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু একটি পরিবেশগত সংকট নয়; এটি ন্যায়বিচার, সমতা এবং মানবাধিকারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তারা উল্লেখ করেন, স্থানীয় সংগঠন ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন করা জরুরি, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাবভোগী মানুষ তাদের জীবনে প্রভাব ফেলে এমন নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।
এই প্রকল্প বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অব্যাহত প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। বাস্তবায়নকারী অংশীদাররাও প্রকল্পটির মূল নীতিমালা হিসেবে স্থানীয়করণ (Localization), লিঙ্গ সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সারাদেশে এবার পাইলট প্রকল্পের পর ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। চলতি মাসের ১৬ তারিখ কিশোরগঞ্জ থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এর আগে, গত ১০ মার্চ দিনাজপুর থেকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচির আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট (রোববার) বিকেল সাড়ে ৩টায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পুরোনো স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণপর্বে প্রধানমন্ত্রী ১০ জন নারী পরিবারপ্রধানের হাতে কার্ড তুলে দেবেন। এরপর ‘দ্য ডিজিটাল ক্লিক’-এর মাধ্যমে উপকারভোগীদের ফ্যামিলি কার্ডের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবেন তিনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের আসনগ্রহণ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হবে। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে কক্ষে বসে ছবি আঁকাকে কেন্দ্র করে চারুকলা অনুষদের এক শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আহনাফ আহমেদ রাফি হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী ও বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক ছাত্র আমির হামজা রিফাত। রিফাতের দাবি, সন্ধ্যায় নিজের বিছানায় বসে ছবি আঁকার সময় তার রুমমেট আহনাফ আহমেদ রাফি এসে বলেন, কক্ষে ছবি আঁকা যাবে না। কারণ জানতে চাইলে রাফি নিজেকে হল সংসদের সদস্য পরিচয় দিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে একাধিকবার হল ছাড়ার কথা বলা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে ছাত্রত্ব বাতিল ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও উল্লেখ করেন। রিফাত জানান, বিষয়টি তিনি হল প্রশাসন ও প্রভোস্টকে অবহিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট হাউস টিউটরের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছবি আঁকায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অভিযোগের বিষয়ে আহনাফ আহমেদ রাফি বলেন, তিনি এমন কোনো হুমকি দেননি। বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. স. ম. আলী রেজা বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে এবং হাউস টিউটরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং এটি মূলত রুমমেটদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। প্রাধ্যক্ষ আরও বলেন, চারুকলার শিক্ষার্থীদের কাজের ধরন অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে সবসময় স্বাভাবিক নাও লাগতে পারে। প্রয়োজনে কক্ষ পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।
বাংলাদেশের ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপের ডিজিটাল অগ্রগামী দেশ এস্তোনিয়া। সোমবার (১০ আগস্ট) এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-এস্তোনিয়ার দ্বিতীয় দফার ফরেন অফিস কনসালটেশন বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানায় দেশটি। বৈঠকে উভয় দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় (পূর্ব ও পশ্চিম) সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এস্তোনিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিভাগের প্রধান মাতি মুর্দ। বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক সফর আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াতে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় আসে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন উদ্যোগ: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বেসরকারি খাতের যোগাযোগ জোরদার এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের পারস্পরিক সফরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার কাছে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি), পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (এসইজেড) এস্তোনিয়ার বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর এবং এস্তোনিয়ার বেসরকারি খাতের একটি অনুসন্ধানী সফর আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ: বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, স্বাস্থ্যকর্মী ও নির্মাণ শ্রমিকসহ বিভিন্ন দক্ষ পেশাজীবীর এস্তোনিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় আইসিটি, কেয়ারগিভিং, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও পর্যটন, কৃষি এবং কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরির বিষয়ে দুই দেশ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। ডিজিটাল সহযোগিতায় বিশেষ গুরুত্ব: বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সহযোগিতা। এস্তোনিয়া বাংলাদেশকে ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা (ই-আইডি), নিরাপদ তথ্য বিনিময়, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি খাতে অংশীদারিত্ব বাড়াতে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। এস্তোনিয়া আরও জানায়, দেশটির অনেক ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: দুই দেশ শিক্ষা, গবেষণা, ক্রীড়া, শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেছে। এ ছাড়া বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, পর্যটন উন্নয়ন, দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং শিল্প খাতে সহযোগিতাসহ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি হয়েছে। বৈঠকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং দুই দেশের প্রার্থিতার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার বিষয়েও একমত হয় উভয় পক্ষ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছে এস্তোনিয়া। ফরেন অফিস কনসালটেশনের আগে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি কারিন মান্দির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।