বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করল সুইজারল্যান্ড

ইরান ও ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করেছে সুইজারল্যান্ড। নিজেদের ‘নিরপেক্ষতা’ বজায় রাখতেই দেশটি এ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে সুইজারল্যান্ড সরকার বলেছে, ‘ইরানের সঙ্গে সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত দেশগুলোর কাছে বর্তমানে কোনো যুদ্ধ সরঞ্জাম রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও যুদ্ধ সরঞ্জামের রপ্তানি বর্তমানে অনুমোদন করা যাচ্ছে না।’ মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতেই সুইজারল্যান্ড এ পদক্ষেপ নিল। তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মিসাইল ও ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুক্রবার ভোরে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে। দুই দেশের কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই সময়ে সৌদি আরব বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। দুবাই থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশ বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ইরানি আগ্রাসনের’ ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি। এর আগে মন্ত্রণালয়টি জানায়, হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। কুয়েত সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুপক্ষীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকির’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।  অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ‘ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির’ কথা জানিয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের বাহিনী দেশের পূর্বাঞ্চলে ছয়টি এবং উত্তরাঞ্চলে একটি ড্রোন ‘আটকে দিয়ে ধ্বংস’ করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ড্রোন হামলায় লোহিত সাগরের উপকূলে সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া কুয়েতের দুটি শোধনাগারেও আগুনের ঘটনা ঘটে। ইরান বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। গত বুধবার কাতারস্থ বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসকেন্দ্র ‘রাস লাফান’-এ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর এসব হামলা শুরু হয়। মূলত ইসরাইল ইরানের ‘সাউথ পার্স’ গ্যাস ক্ষেত্রে হামলা চালালে তার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরানে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা থেকে সরে দাঁড়ালেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। পাঠালে অবশ্যই তা জানানো হতো না, কিন্তু এখন এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। ইরান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও যুক্তরাষ্ট্র স্থল সেনা মোতায়েন থেকে আপাতত সরে দাঁড়িয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। এদিকে ইরানের অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প আগেই দাবি করেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কিছু সরঞ্জাম রয়ে গেছে, যা উদ্ধারের বিষয়টি বিবেচনায় আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযান চালাতে হলে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধ ও আতঙ্কের ছায়ায় ম্লান মধ্যপ্রাচ্যের ঈদ আনন্দ

আজিজা আহমেদ এবার ঈদের কোনো পরিকল্পনাই করেননি। নেই বিশেষ কোনো পারিবারিক খাবারের আয়োজন, নেই সন্তানদের জন্য নতুন উপহার। লেবাননের এই বাসিন্দা বলেন, যুদ্ধ আর আকাশচুম্বী দামের চাপে এবারের ঈদুল ফিতরে ‘উদযাপন করার মতো কিছুই নেই’। বৈরুত থেকে দুবাই, মানামা থেকে জেরুজালেম- মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পবিত্র রমজান শেষ হচ্ছে এক বিষণ্ন আমেজে। চলমান যুদ্ধের প্রভাবে লাখ লাখ মুসলমানের মনে এখন ঈদের আনন্দের চেয়ে উৎকণ্ঠাই বেশি। বৈরুত থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ৪৯ বছর বয়সী আজিজা তার স্বামী ও তিন ছেলেকে নিয়ে একটি জরাজীর্ণ ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন। বর্তমানে সেখানে ১২ জন মানুষ গাদাগাদি করে আশ্রয় নিয়েছেন।  তিনি বলেন, ‘ধনীদের জন্য হয়তো আলাদা, কিন্তু আমাদের এখানে ঈদের আনন্দ নেই। আমাদের টাকা নেই, আর বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো ঘরেও ফিরতে পারছে না।’ যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই লেবাননে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট চলছিল। এখন বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। ঈদের আগের দিন আজিজা তার বাড়ির সামনে ছোট একটি পিঠার দোকান দিয়েছেন। গাড়ি ধোয়ার কাজ করা তার স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চলে না বলেই এই চেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এসবের একটাও আমরা খাব না, সব বিক্রির জন্য।’ আজিজার পাশে বসে পুরো পরিবার আটা মাখা আর পেস্তা গুঁড়ো করায় ব্যস্ত। ১১ বছর বয়সী ইয়াসমিন মাথায় গোলাপি ফিতা বেঁধে কাজ করতে করতে বলে, ‘আমরা এবার খেলতে বাইরেও যাব না। সবাই খুব আতঙ্কে আছে। ইসরাইল হামলা চালাচ্ছে, তাই আমরা ঘরেই থাকব।’ উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলার আতঙ্ক ঈদের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে। বহুবছর ধরে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত এই দেশগুলো এখন তেহরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। কুয়েতে বড় ধরনের জনসমাগম এড়াতে ঈদের সময় নাটক, কনসার্ট ও বিয়ের অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।  কুয়েতে কর্মরত ৪১ বছর বয়সী মিশরীয় নাগরিক আলী ইব্রাহিম জানান, ঈদের আগে নতুন পোশাক কেনার জন্য দোকানে আগের মতো ভিড় নেই। কাতারও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সব ধরনের জনসমাবেশ স্থগিত রেখেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সংযুক্ত আরব আমিরাতে খোলা ময়দানের বদলে মসজিদের ভেতরে ঈদের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে তিন দশক ধরে বসবাসরত ৫৩ বছর বয়সী ভারতীয় সমাজকর্মী জুহি ইয়াসমিন খান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন মোটেও ঠিক মনে হচ্ছে না। মা, বোন ও ছেলেকে নিয়ে আমরা ঘরোয়াভাবেই ঈদ পালন করব।’ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিদের জন্য এবারের রমজান ও ঈদ অপূর্ণ রয়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে ইসরাইল আল-আকসা মসজিদসহ বিভিন্ন পবিত্র স্থান বন্ধ করে দিয়েছে।  ইহাব নামে এক যুবক বলেন, ‘আল-আকসা থেকে আমাদের বঞ্চিত করায় হৃদয়ে অনেক ব্যথা অনুভব করছি।’ এবার জেরুজালেমের রাস্তায় ঈদের ঐতিহ্যবাহী আলোকসজ্জা বা লণ্ঠন দেখা যাচ্ছে না। পুরনো শহরের ব্যস্ত গলিগুলো এখন জনশূন্য। বাহরাইনেও দিনে কয়েকবার সাইরেন বেজে উঠছে, যা মিসাইল বা ড্রোন হামলার আগাম সতর্কবার্তা দিচ্ছে। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও কেউ কেউ স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছেন। মানামার একটি বিউটি পার্লারে পাঁচ বছর বয়সি সারা মেহেদি পরার জন্য অপেক্ষা করছিল। তার মা মারিয়ম আবদুল্লাহ বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের কেনাকাটা বা প্রস্তুতি থামাতে পারবে না। এই মেঘ কেটে যাবেই।’ বাহরাইনি চাকুরিজীবী হেসা আহমেদও বন্ধুদের নিয়ে কেনাকাটা করেছেন এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সংস্কারের চাপ নিয়ে বসছে ডব্লিউটিও সম্মেলন

বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতির অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট সংকটের মধ্যেই সংস্কারের পথ খুঁজতে আগামী সপ্তাহে ক্যামেরুনের ইয়াউনদেতে সম্মেলনে বসছেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)’র সদস্য রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী এই মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন সাধারণত প্রতি দুই বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ক্যামেরুনের রাজধানীতে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনের গুরুত্ব এবার অনেক বেশি। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে খোদ ডব্লিউটিও। সংস্থাটির মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়ালা গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, বর্তমান কঠিন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’। এটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে হলে এর আমূল সংস্কার প্রয়োজন।  দুই বছর আগে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সম্মেলনে মৎস্য ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এবার ইয়াউনদেতে ১৬৬টি সদস্য দেশকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। তাদের প্রধান কাজ হবে ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদ এবং নতুন চুক্তি করতে ব্যর্থ হওয়া এই সংস্থাটিকে পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা তৈরি করা। কলম্বিয়া ল স্কুলের অধ্যাপক পেত্রোস মাভ্রোইদিস সতর্ক করে বলেন, ‘আগের সম্মেলনগুলোর তুলনায় এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি উত্তপ্ত হতে পারে।’ তার মতে, এই সম্মেলন থেকে বড় কোনো সাফল্য পাওয়া আশ্চর্যজনক হবে; বরং এটি হবে মূলত ‘ক্ষতি কমিয়ে আনার’ চেষ্টা। ডব্লিউটিও বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় সংস্থাটির সেকেলে নিয়মগুলো সংস্কারের জন্য ব্যাপক চাপ বাড়ছে। মহাপরিচালক ওকোনজো-ইওয়ালা জোর দিয়ে বলেছেন, ‘বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা কোনো সমাধান নয়। ইয়াউনদে সম্মেলনকে অবশ্যই একটি মোড় পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নও সতর্ক করেছে যে, সংস্থাটি এখন একটি অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে দাঁড়িয়ে আছে। ব্রিটেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সংস্কার না করলে সংস্থাটি গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে।  সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এরউইন বলিঙ্গারও মনে করেন, ডব্লিউটিও গুরুত্ব হারালে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই ডব্লিউটিও’র প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। ট্রাম্প ইতোমধ্যে একতরফা শুল্ক আরোপ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বহুমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানছেন। ডব্লিউটিও’র সাবেক প্রধান (২০০৫-২০১৩) প্যাসকেল ল্যামি বলেন, ‘আমেরিকানরা কার্যত ডব্লিউটিও থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। তারা এখন আর কোনো নিয়ম মানছে না।’ ওয়াশিংটন বর্তমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করছে। ডব্লিউটিও’র কাছে জমা দেওয়া এক নথিতে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বর্তমান ব্যবস্থাটি বিশ্বে স্থায়ী ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে।  সংস্থাটির মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোসেফ বার্লুন জানান, তার দেশ বর্তমান সংস্কার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে ডব্লিউটিও’র ‘মোস্ট-ফেভারড নেশন’ (এমএফএন) নীতির তীব্র বিরোধী। এই নীতি অনুযায়ী, এক দেশের জন্য প্রদত্ত বাণিজ্য সুবিধা অন্য সব সদস্য দেশের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হয়। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে এই নীতি বর্তমান যুগের জন্য অনুপযুক্ত। চীন এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ অবশ্য এই নিয়মটি বহাল রাখার পক্ষে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার অনেক আগে থেকেই ডব্লিউটিও কাঠামোগত বাধার সম্মুখীন। সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় এখানে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এছাড়া ২০১৯ সাল থেকে বিচারক নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার কারণে সংস্থাটির বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও অচল হয়ে আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পশ্চিমা কূটনীতিক এএফপি’কে বলেন, ‘ডব্লিউটিও এখন চরম চাপের মধ্যে আছে। পুরো ব্যবস্থাটি এর আগে কখনও এমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি।’ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার একজন প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হামিদ মামদুহও একই মত প্রকাশ করেছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমেছে ৯৫ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পথে জাহাজ চলাচল কমেছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৫ থেকে ৬টিতে। চলতি মার্চে মোট ৯৯টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে যেসব জাহাজ চলাচল করছে, তার অনেকগুলোই ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কিছু জাহাজ ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছে, যাতে হামলা এড়ানো যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়বে এবং পণ্যের মূল্যও বেড়ে যেতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া মানে যুদ্ধে অংশ নেওয়া, যুক্তরাজ্যকে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার সুযোগ দিলে তা সরাসরি আগ্রাসনে অংশ নেওয়ার শামিল হবে। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এই বার্তা দেন। পরে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরাগচি বলেন, এমন পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। আরাঘচি অভিযোগ করেন, কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধ শুরু করেছে। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, তারা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে বোমা হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। ওই হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ চলছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী খুলতে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের জোরালো তৎপরতা

হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। মার্কিন বাহিনী হামলাকারী বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ইরানের নৌযান ও ড্রোন লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, মার্চের শুরু থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযানের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন বিমান বাহিনীর জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, এ-১০ যুদ্ধবিমান এখন হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু মিত্র দেশ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দিয়ে ড্রোন মোকাবিলা করছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকদিন ধরেই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানের কিছু নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। আরও বিমান মোতায়েন করে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। তাই এই পথ বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়ে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোকে এই সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানায়। ইতোমধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও জাপান যৌথভাবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২০, ২০২৬ 0
'ডোরেমন' নির্মাতা সুতোমু শিবায়ামা আর নেই

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শিশুর শৈশবকে রাঙিয়ে দেওয়া জনপ্রিয় কার্টুন ধারাবাহিক 'ডোরেমন'-এর অন্যতম প্রাণপুরুষ সুতোমু শিবায়ামা আর নেই। গত শুক্রবার (৬ মার্চ) ৮৪ বছর বয়সে জাপানের একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। সুতোমু শিবায়ামার মৃত্যুতে জাপানের অ্যানিমেশন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রতিষ্ঠিত অ্যানিমেশন স্টুডিও 'আজিয়াদো' এক বিবৃতিতে এই বর্ষীয়ান পরিচালকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। গত ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'ডোরেমন'-এর দীর্ঘকালীন সফলতায় সুতোমু শিবায়ামার অবদান অপরিসীম।   জাপানি অ্যানিমেশন শিল্পের অন্যতম পথপ্রদর্শক মনে করা হয় শিবায়ামাকে। নোবিতা, শিজুকা, জিয়ান ও সুনির মতো জনপ্রিয় সব চরিত্রকে তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ডোরেমনের বহু চলচ্চিত্র এবং দীর্ঘ ধারাবাহিক পরিচালনার মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। ডোরেমন ছাড়াও 'নিন্তামা রান্তারো'র মতো জনপ্রিয় সিরিজের প্রধান পরিচালক হিসেবে তিনি সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।   কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৬৩ সালে একটি খ্যাতিমান অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন সুতোমু। পরবর্তীতে তিনি নিজেই গড়ে তোলেন অ্যানিমেশন স্টুডিও। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অ্যানিমেশন শিল্পে অভাবনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাকে 'আজীবন সম্মাননা' প্রদান করে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ ঘিরে চাপে পড়েছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধটি আশানুরূপ ফল না দেওয়ায় এখন এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন। ট্রাম্প নিজেই উপলব্ধি করছেন যে যুদ্ধটি বিশেষ ভালো অবস্থায় নেই এবং উত্তেজনার পারদ আরও চড়ানোর মতো বিকল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ সমস্যাসংকুল। কারণ, ইরানের ওপর আঘাত হানার পাল্টা চড়া মাশুল দেশটিকেও দিতে হবে।   ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি এক বিশ্লেষণে এমনটি বলেছেন। তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে তাদের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তারা এমনভাবে হামলা চালানোর সাহস ও সামর্থ্য দেখিয়েছে যা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বিপর্যয় নামিয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সরাসরি প্রভাব মার্কিন অর্থনীতির ওপর পড়বে। এই ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরান ও তার মিত্রদের প্রতি দ্রুত আঞ্চলিক হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা ইরানের বাছবিচারহীন হামলার নিন্দা জানান এবং উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার আহ্বান জানান। তারা বিশেষভাবে জ্বালানি ও পানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার জন্য একটি সাময়িক বিরতির কথাও বলেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আল-আকসায় ঈদের নামাজে আসা মুসল্লিদের ওপর হামলা

ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে মুসল্লিদের বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। নামাজ পড়তে গেলে তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।   ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মসজিদে প্রবেশ করতে না পেরে অনেক মুসল্লি আশপাশের রাস্তায় ঈদের নামাজ আদায় করেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মুসল্লিদের যতটা সম্ভব কাছাকাছি স্থানে জড়ো হয়ে নামাজ পড়ার আহ্বান জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরান শহরের বিভিন্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অনেক জায়গায় মানুষকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে এবং অন্তত একজনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে, আল-আকসা মসজিদ গত প্রায় ২১ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ঈদের দিনও মুসল্লিদের সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। জেরুসালেমের বিভিন্ন চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক ফিলিস্তিনি মসজিদে যেতে পারেননি। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয় এবং অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরজিসির মুখপাত্র নাঈনি নিহত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাঈনি নিহত হয়েছেন।   শুক্রবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। আইআরজিসি পরিচালিত সেপাহ নিউজ জানায়, আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় নাঈনি নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি আইআরজিসির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইরানের অন্যান্য সরকারি গণমাধ্যমও তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলা চালানো হয়। তবে ঠিক কখন নাঈনি নিহত হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ৬৮ বছর বয়সী নাঈনি ছিলেন আইআরজিসির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি টেলিভিশনে বক্তব্য দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধ চললেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তার মৃত্যুকে ঘিরে এখনো কিছু বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সুখী দেশের তালিকায় শীর্ষে ফিনল্যান্ড, বাংলাদেশের কততম?

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে আবারও স্বীকৃতি পেয়েছে ফিনল্যান্ড। ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী, টানা ৯ বছর ধরে প্রথম স্থানে ইউরোপীয় দেশটি। ফিনিশ নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ সুবিধার মান নির্ণয়ে এই স্বীকৃতি। একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা ও শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা। বরাবরের মতো এই দুইখাতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে আবারও ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের স্বীকৃতি পেলো উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড। দেশটিতে কম দুর্নীতি এবং সরকারের প্রতি আস্থাকেও গুরত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। বলা হয়, ফিনিশদের জীবনযাত্রার ভারসাম্য এবং প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই তাদের সুখী রাখে। ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট অনুযায়ী, নর্ডিক দেশগুলো আবারও প্রমাণ করেছে তাদের জীবনযাত্রার মান পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে। তালিকায় বরাবরের মতো দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ডেনমার্ক। এরপর আইসল্যান্ড, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস। শীর্ষ দশে ক্রমান্বয়ে আরও আছে নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ইসরাইল ও কোস্টারিকা। তবে, তরুণদের মধ্যে সুখ কমে যাওয়ার প্রবণতা পেয়েছে হ্যাপিনেস রিপোর্ট। এর পেছনে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার বড় ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইউরোস্ট্যাটের সবশেষ রিপোর্টে, ইউরোপের মধ্যে বেকারত্বের হারেও শীর্ষে উঠে আসে ফিনল্যান্ড। হ্যাপিনেস রিপোর্ট বলছে, সুখ কেবল অর্থ বা আয়ের সঙ্গে মাপা যায় না। বিশ্লেষকদের মতে বেকারত্বের প্রভাব পড়েনি হ্যাপিনেস রিপোর্টে। রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুব বলেন, এর পেছনে কোনো জাদুকরী রহস্য নেই। তবে একটি সমাজ যদি স্বাধীনতা, সমতা ও ন্যায়বিচারের দিকে এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে সেটাই বড় ভূমিকা রাখে। সুখী দেশের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো নিচের দিকে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের র‍্যাঙ্ক ১৩০-এর দিকে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকলেও সামাজিক আস্থা, নিরাপত্তা এবং মানসিক সুস্থতার মত বিষয়ে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বাংলাদেশে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলে আবারও ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ল ইরান

দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ফের ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে ইরান। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে ইরান থেকে আরেক দফা মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়।   এর আগে গত এক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত চারবার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে একটি ক্লাস্টার মিসাইল। যেগুলোর একেকটিতে অন্তত ২০টি ছোট বোমা থাকে। আর এসব বোমা যেখানে আঘাত হানে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইসরায়েলে অন্তত ১৭ দফা মিসাইল ছুড়েছে ইরান। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরানকে পরাজিত করতে দীর্ঘ সময় লাগবে: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানকে পরাজিত করতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ইরানে শিগগির কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতি পুরোপুরি দেশের ভেতরের অবস্থার ওপর নির্ভর করে। নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েলি বাহিনী দিনরাত ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান চলতে থাকবে, যতক্ষণ না ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে আনেনি। বরং যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই এই সংঘাত শুরু হয় এবং পরে ইরান বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালায়। সূত্র : শাফাক নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মৃত্যুর গুঞ্জন উড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু

বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে বিরল এক সামনাসামনি সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শুরুতেই তিনি বললেন, ‘আমি বেঁচে আছি — আর তোমরা সবাই সাক্ষী।’   ৮ মার্চ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এই গুজব অনলাইনে ভাইরাল হয়েছিল। গুজব আরও ছড়িয়েছিল কারণ রোববারের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভিডিও কলে যোগ দেন এবং অবস্থান প্রকাশ করেননি। এরপর তিনি এক্স-এ ভিডিও পোস্ট করলে নতুন বিতর্ক জন্ম নেয়। কম মানের ভিডিওতে হাতে ছয়টি আঙুল আছে বলে দাবি করে অনেকে বলেন ভিডিওটি এআই-নির্মিত। মৃত্যুর গুজব থামাতে পরে জেরুজালেমের উপকণ্ঠে একটি ক্যাফেতে কফি খাওয়ার ভিডিও দেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই ভিডিও নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয় — ক্যামেরায় ধরা পড়া কফি বারিস্তার উষ্ণ হাসিই ভাইরাল হয়ে যায়। মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন গত বুধবার একটি সাক্ষাৎকারে প্রশ্নের মুখে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘না, নেতানিয়াহু মারা যাননি।’ তবে বৃহস্পতিবারের এই সংবাদ সম্মেলন শুধু বেঁচে থাকার প্রমাণ দেওয়ার জন্য ছিল না। মার্কিন মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন আন্দোলনের কিছু অংশের সমালোচনার জবাব দেওয়াটাও ছিল উদ্দেশ্য। সেখান থেকে অভিযোগ উঠছে, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে অন্তহীন যুদ্ধে টেনে এনেছে। মার্কিন জনমতও এই যৌথ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ঘুরছে। মঙ্গলবার একজন সিনিয়র মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, ইসরাইলি কর্মকর্তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ট্রাম্পকে যুদ্ধে টেনেছেন। এই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন, ‘কেউ কি সত্যিই মনে করে কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলতে পারে কী করবেন? আসুন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় নিজের সিদ্ধান্ত নেন — যা আমেরিকার জন্য ভালো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ভালো বলে মনে করেন।’

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের গ্যাস ফিল্ডে হামলা করবে না ইসরায়েল : নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের প্রধান গ্যাস ক্ষেত্র সাউথ পার্সে আর হামলা চালাবে না ইসরায়েল।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে ইসরায়েল নিজ সিদ্ধান্তে ওই গ্যাস ফিল্ডে হামলা চালিয়েছিল বলে জানান তিনি। নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বিশ্বকে চাপ দিতে চাইছে। তবে এই চেষ্টা সফল হবে না বলেও তিনি দাবি করেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে আনেনি। বরং ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পারমাণবিক হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে জরুরি সরঞ্জাম বিতরণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য পারমাণবিক বা রাসায়নিক হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার আগেই অঞ্চলে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নির্দেশিকা বিতরণ করা হয়েছে। ডব্লিউএইচওর এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের হামলার আশঙ্কা ছিল, তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘পটাশিয়াম আয়োডাইড’ বিতরণ করা হয়েছে, যা পারমাণবিক বিকিরণ থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এছাড়া চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সম্ভাব্য পারমাণবিক ঘটনার শনাক্তকরণের দায়িত্ব পালন করবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অঞ্চলের অনেক দেশ বর্তমানে সংঘাতে জড়িত থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তবে যথাযথ প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে পাকিস্তান

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, পাকিস্তান এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে।   মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড সিনেটে এক প্রতিবেদনে বলেন, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দ্রুত এগোচ্ছে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি জানান, পাকিস্তান তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়ে এখন দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। এই ধারা চলতে থাকলে দেশটি শিগগিরই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরি করতে পারবে। প্রতিবেদনে রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পাশাপাশি পাকিস্তানকেও সম্ভাব্য হুমকির তালিকায় রাখা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে প্রায় তিন হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১৬ হাজারে পৌঁছাতে পারে।   তবে পাকিস্তান এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা মূলত ভারতকে লক্ষ্য করেই গড়ে তোলা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের হামলায় মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে ক্ষতি

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে।   মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বিমানটি একটি মিশনে থাকার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে অবতরণ করানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, যুদ্ধবিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলটের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের আকাশসীমায় তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এ ছাড়া ইরাকে একটি রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু নিহত হন। সৌদি আরবেও কয়েকটি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে : মার্কিন অর্থমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করতে সাগরে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ খবর জানিয়েছেন।   বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তাদের নিজস্ব তেলের মজুত থেকেও তেল বাজারে ছাড়তে পারে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবগতিতেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি ছাড়তে শুরু করেছে। এটা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করছে। বেসেন্টের মন্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২০, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব

ইরানের শীর্ষ ব্যক্তিদের তথ্য দিলে পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১৪, ২০২৬ 0