ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কেনা পুনরায় শুরু করার অনুমোদন পেতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন করছে বলে শুক্রবার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুইটি সূত্র জানিয়েছে। রাশিয়ার তেল কেনা কমাতে ভারতের ওপর পশ্চিমা চাপ বাড়ার মধ্যে বেসরকারি এই পরিশোধন সংস্থাটি বিকল্প তেলের জোগান নিশ্চিত করতে চাইছে। সূত্রগুলো জানায়, অনুমোদন পেতে রিলায়েন্সের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন নিয়ে যে আলোচনা এগোচ্ছে, তার প্রেক্ষাপটেই এই উদ্যোগ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলা থেকে তাদের বিশ্বের বৃহত্তম পরিশোধন কমপ্লেক্সে অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে লাইসেন্স পেয়েছিল ভারতীয় এই শিল্পগোষ্ঠী। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কম্পানি পিডিভিএসএর অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ওই অনুমোদনের আওতায় ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসে রিলায়েন্সকে চারটি কার্গো সরবরাহ করা হয়, যা দৈনিক প্রায় ৬৩ হাজার ব্যারেলের সমান। তবে মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ওয়াশিংটন পিডিভিএসএর ব্যবসায়িক অংশীদারদের অধিকাংশ লাইসেন্স স্থগিত করে এবং মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে ভেনেজুয়েলার তেল ক্রেতাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়। রিলায়েন্সের সর্বশেষ ভেনেজুয়েলান তেলের কার্গো ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতে পৌঁছয়। রিলায়েন্স বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিধিমালার আওতায় যদি যুক্তরাষ্ট্র-বহির্ভূত ক্রেতাদের কাছে বিক্রি অনুমোদিত হয়, তবে তারা ভেনেজুয়েলার তেল কেনা পুনরায় শুরুর বিষয়টি বিবেচনা করবে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এর একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের ক্রেতাদের কাছে যাবে। ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীনকে তেল থেকে বঞ্চিত করা হবে না। সূত্রের একজন জানান, যদি আকর্ষণীয় দামে তেল পাওয়া যায়, তবে ভেনেজুয়েলায় খননের অধিকার থাকা মার্কিন কম্পানি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে আগ্রহী রিলায়েন্স। ভেনেজুয়েলার তেলের সরবরাহ ভারতকে রাশিয়া থেকে আসা কিছু তেলের বিকল্প জোগাতে পারে। রিলায়েন্স ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় রুশ তেল ক্রেতা, তবে ট্রাম্পের চাপে ভারত রুশ তেল আমদানি বন্ধ করতে চাপের মুখে থাকায় কম্পানিটি জানিয়েছে, চলতি মাসে তারা রুশ অপরিশোধিত তেলের কোনো কার্গো নেবে না।
তীব্র বাতাস নিয়ে ‘গোরেত্তি ঝড়’ উত্তর ইউরোপের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় শুক্রবার সকালে ফ্রান্সে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ বিহীন হয়ে পড়েছে। ফ্রান্সের রেনেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা এনেদিস এক বিবৃতিতে জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বেশির ভাগই নরম্যান্ডির উত্তরাঞ্চলের। এ ছাড়া ব্রিটানি, পিকার্দি ও ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝড় গোরেত্তি আঘাত হানার আগেই ফ্রান্স ও ব্রিটেনের আবহাওয়া সংস্থাগুলো মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়ে সতর্কতা জারি করে। কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতে ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানশ এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১৩ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে।
আবারও বড় ধরনের গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছে ইরান সরকার। বিক্ষোভকারীদের সরাসরি দাবি—দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিলেও প্রাণহানি এড়ানো যায়নি। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে তেহরানের জন্য। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—ইরান সরকার কি এই আন্দোলন দমন করতে পারবে, নাকি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের দিকে নিয়ে যাবে? বিষয়টি এখন বিশ্ব রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ নতুন নয়। বহু বছর ধরে জমে থাকা ক্ষোভই ধীরে ধীরে বিস্ফোরণের দিকে এগোচ্ছিল। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রার বড় ধরনের পতন এবং নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে চলমান আন্দোলনের সূচনা হয়। তবে অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি এর পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো— ১. বাধ্যতামূলক হিজাবসহ ধর্মীয় শাসনের কড়াকড়ি, যা নারীরা ক্রমেই প্রকাশ্যে অমান্য করছেন। ২. যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা। ৩. লেবানন, গাজা, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়। ৪. পানি ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের ফলে বাড়তে থাকা খরা ও পরিবেশগত সংকট। প্রথমদিকে এই আন্দোলনে অংশ নেন বাজারভিত্তিক ব্যবসায়ী ও দোকানিরা। গত এক সপ্তাহে এতে যুক্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের কর্মীরা। ২০২২ সালে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর এই আন্দোলন দেশজুড়ে ব্যাপক আকার নেয়। তখন কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হলেও প্রতিবাদ পুরোপুরি থামেনি। ট্রাম্প ও ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি ইরানের জন্য চাপ কেবল অভ্যন্তরীণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র “যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত”। একই সঙ্গে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়েছেন—ইরান যদি আবার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত না করে, তাহলে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছেন। গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ায়। ট্রাম্প তখন দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করা হয়েছে। তবে এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বহু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ। তাদের মতে, হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে। ট্রাম্পকে খামেনির পাল্টা বার্তা রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে আয়াতুল্লাহ খামেনি ট্রাম্পকে ‘অত্যাচারী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইতিহাসে দেখা গেছে অত্যাচারীরা বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। ফারাও, নমরুদ ও মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ট্রাম্পও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা হারাবেন। বিক্ষোভকারীদের ‘নাশকতাকারী’ আখ্যা দিয়ে খামেনি দাবি করেন, তারা ইরানে হামলার জন্য ট্রাম্পকে উসকানি দিচ্ছে। তিনি বলেন, এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্র লাখো মানুষের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত, কিছু নাশকতার মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ইরানি রিয়ালের অবমূল্যায়ন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন চরমভাবে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট ডাকেন। সেখান থেকেই বর্তমান গণবিক্ষোভের সূত্রপাত। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, দ্য কনভারসেশন
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে—এমনটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ নিলে ন্যাটোর জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে। নতুন বছরের ঐতিহ্যবাহী সংবাদ সম্মেলনে মেলোনি বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি জোরদার করা হলে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো ওই অঞ্চলে প্রভাব বাড়াতে পারে—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে উদ্বেগ রয়েছে, তা মোকাবেলা করা যাবে এবং ওয়াশিংটনের একতরফা পদক্ষেপের চাপ কমবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন মেলোনি বলেন, ‘আমি এখনো মনে করি না যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক অভিযান চালাবে—এমন কোনো সম্ভাবনায় আমি বিশ্বাস করি। এমন একটি বিকল্পকে আমি স্পষ্টভাবেই সমর্থন করব না।’ গত সপ্তাহান্তে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক অভিযানের পর আর্কটিক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এবং ইউরোপের নিরাপত্তা নীতিতে ভূমিকা ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে; সেই প্রেক্ষাপটেই মেলোনির এই মন্তব্য আসে, যা গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ট্রাম্পের অভিপ্রায় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ উসকে দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ নেতা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দুঃসাহসিক সামরিক অভিযানে আটক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেও, মেলোনি বলেন তিনি ওই অভিযানকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা বিষয়ে আমি ট্রাম্পের সঙ্গে একমত। গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে আমি একমত নই।’ তিনি আরো বলেন, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানে থাকা এই বিশাল ভূখণ্ড দখল করা কারো স্বার্থেই হবে না। তিনি যোগ করেন, ‘স্পষ্ট করে বললে, এটি যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থে হবে না।’ হোয়াইট হাউস মঙ্গলবার জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মেলোনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপ ন্যাটোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে—এটা ‘সবার কাছেই স্পষ্ট’; আর এ কারণেই তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত হুমকি বাস্তবায়ন করবে না। তবে তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি জানান, ‘অন্যান্য পক্ষের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ—যারা এমনকি শত্রুভাবাপন্নও হতে পারে—ঠেকানোর প্রয়োজন’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ তিনি বোঝেন। মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং গত বছর ট্রাম্পের অভিষেকে উপস্থিত থাকা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন তিনি। তার সমর্থকেরা আশা করেছিলেন, তিনি ট্রাম্পের কাছে বিশেষ প্রবেশাধিকার পাবেন এবং ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে সেতুবন্ধন হয়ে উঠবেন। তবে এখন পর্যন্ত তার পরামর্শে ট্রাম্প কান দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। মেলোনি শুক্রবার বলেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে অনেক বিষয়ে আমার দ্বিমত আছে। উদাহরণ হিসেবে, আমি মনে করি আন্তর্জাতিক আইনকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা জরুরি। … যখন আমার দ্বিমত হয়, আমি তাকে তা বলি—এতে আমার কোনো অসুবিধা নেই।’
ইরানে চলমান বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের জাহেদান শহরে শুক্রবার সরাসরি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এতে একাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বালুচ মানবাধিকারভিত্তিক ওয়েবসাইট হালভশ। হালভশের তথ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজের পর বালুচ নাগরিকদের বড় বিক্ষোভ শুরু হলে মাক্কি মসজিদের আশপাশে এই গুলির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতেই নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এদিকে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালকে স্টারলিংক কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, শুক্রবার ভাকিলাবাদ বুলেভার্ডে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। তার দাবি, বিক্ষোভের আগে রাতেই ওই সড়কের সব নজরদারি ক্যামেরা অকার্যকর করে দেওয়া হয়। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, উত্তর খোরাসান প্রদেশের এসফারায়েন শহরে সহিংসতায় একজন ইরানি কৌঁসুলি ও কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রদেশটির বিচার বিভাগের প্রধান শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে অস্থিরতার সময় আলী আকবর হোসেইনজাদেহ নামে ওই সরকারি ও বিপ্লবী কৌঁসুলি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মাঠপর্যায়ে তদারকিতে ছিলেন। তখন বিক্ষোভকারীরা তাদের অবস্থানরত ট্রেইলারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং জরুরি উদ্ধারকর্মীদের সেখানে পৌঁছাতে বাধা দেয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং দুজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমন করতে ইরানের বিভিন্ন শহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে সহিংসতা ও প্রাণহানির মধ্যেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ অনেক বিক্ষোভকারী, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
পোপ লিওর কড়া বার্তা ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করতে হবে’ পোপ লিও শুক্রবার কূটনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের উপায় হিসেবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বার্ষিক পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক এক ভাষণে তিনি অস্বাভাবিকভাবে কড়া সুরে কথা বলেন এবং একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পোপ লিও বলেন, বৈশ্বিক সংঘাতের মুখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দুর্বলতা ‘বিশেষভাবে উদ্বেগজনক’। ভ্যাটিকানে স্বীকৃত প্রায় ১৮৪টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংলাপকে উৎসাহিত করে এবং সব পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলে—এমন কূটনীতির জায়গা দখল করছে শক্তিনির্ভর কূটনীতি। মে মাসে নির্বাচিত হওয়া পোপ লিও বলেন, ‘যুদ্ধ আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, আর যুদ্ধের প্রতি এক ধরনের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ছে।’ গত সপ্তাহান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার প্রসঙ্গ টেনে পোপ বলেন, ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার জনগণের ‘ইচ্ছাকে সম্মান’ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ভেনেজুয়েলাবাসীর ‘মানবিক ও নাগরিক অধিকার’ রক্ষা করা রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব। পোপের এই বক্তব্যকে অনেক সময় তার ‘বিশ্ব পরিস্থিতি’ ভাষণ বলা হয়। প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর নির্বাচিত হওয়ার পর এটি ছিল লিওর প্রথম এমন ভাষণ। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা—উভয় দেশেরই ভ্যাটিকান-স্বীকৃত রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। পোপ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কার্ডিনাল রবার্ট প্রেভোস্ট নামে পরিচিত লিও দীর্ঘদিন পেরুতে মিশনারি হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি এর আগে ট্রাম্পের কিছু নীতির—বিশেষ করে অভিবাসন ইস্যুর—সমালোচনা করলেও শুক্রবারের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি। পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসের তুলনায় পোপ লিও তার প্রথম আট মাসে তুলনামূলকভাবে সংযত ও কূটনৈতিক ভঙ্গি বজায় রেখেছিলেন। তবে শুক্রবারের ৪৩ মিনিটের ভাষণে লিও ছিলেন অনেক বেশি কঠোর। তিনি চলমান বৈশ্বিক সংঘাতের তীব্র নিন্দা জানান এবং একই সঙ্গে গর্ভপাত, ইউথেনেশিয়া ও সারোগেসি প্রথারও সমালোচনা করেন। একজন পোপের জন্য অস্বাভাবিকভাবে দৃঢ় ভাষায় তিনি সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ‘দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে’। তিনি বলেন, ‘এক ধরনের নতুন অরওয়েলীয় ভাষা গড়ে উঠছে, যা নিজেকে ক্রমেই অন্তর্ভুক্তিমূলক দেখাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তাদেরই বাদ দিচ্ছে, যারা এর পেছনের আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। ’ পোপ লিও ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশজুড়ে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে যে ‘সূক্ষ্ম ধরনের ধর্মীয় বৈষম্য’ বিদ্যমান, তারও সমালোচনা করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি নতুন বিল অনুমোদন করেছেন। ‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট অব ২০২৫’ নামের এই বিলটি এমন দেশগুলোর ওপর অন্তত ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে, যারা ‘জ্ঞাতসারে এই বাণিজ্যে জড়িত’। মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম বলেন, দ্বিদলীয় সমর্থনের পথে থাকা এই বিলটির লক্ষ্য হলো ‘সস্তা রুশ তেল কেনা দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়া’, যা ভারতের জ্বালানি আমদানিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক আরো চাপের মুখে ফেলতে পারে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন যে রুশ সরকার বা রাশিয়ার নির্দেশে কাজ করা কেউ ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, তবে ব্যাপক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হবে। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হওয়া শান্তি চুক্তি লঙ্ঘিত হলে, ইউক্রেনে আরেকটি আগ্রাসন শুরু হলে অথবা ইউক্রেন সরকারকে উৎখাত, ভেঙে দেওয়া বা দুর্বল করার চেষ্টা হলে—এই ব্যবস্থাগুলোও পুনরায় কার্যকর হবে। বিলে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে ‘রুশ উৎসের ইউরেনিয়াম ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিনিময়ে জ্ঞাতসারে জড়িত দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব পণ্য ও সেবার ওপর শুল্কহার অন্তত ৫০০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে—সেসব পণ্য ও সেবার মূল্যের তুলনায়’। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গ্রাহাম বলেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠকের পর, তিনি সেই দ্বিদলীয় রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলটিতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন, যেটি নিয়ে আমি সিনেটর ব্লুমেনথালসহ বহুজনের সঙ্গে মাসের পর মাস কাজ করেছি।’ বিলটির সময়োপযোগিতা ব্যাখ্যা করে তিনি আরো বলেন, ‘ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে আর পুতিন কেবল কথার ফুলঝুরি দিচ্ছেন—নিরীহ মানুষ হত্যাই চলছেই। তিনি বলেন, ‘এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সস্তা রুশ তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি জোগানো দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেবে। এটি চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিপুল প্রভাব খাটানোর সুযোগ দেবে, যাতে তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অর্থ জোগানো সস্তা রুশ তেল কেনা বন্ধে প্রণোদিত হয়।’ চলতি সপ্তাহের শুরুতে গ্রাহাম বলেন, একই ইস্যুতে ২০২৫ সালের আগস্টে আরোপিত উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ভারত ওয়াশিংটনের কাছে তদবির করছে। গ্রাহামের দাবি, ভারতের যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা গত মাসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নয়াদিল্লির রুশ তেল কেনা কমানোর বিষয়টি তুলে ধরেন এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কে ছাড় চান। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরেই একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছে, তবে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি; রুশ তেল ও দুগ্ধপণ্য এই আলোচনার প্রধান বিরোধের বিষয়। সর্বশেষ বাণিজ্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১০–১২ ডিসেম্বর, যখন মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতে আসেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের সঙ্গে সাংবাদিকদের গ্রাহাম বলেন, ‘এক মাস আগে আমি ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বাড়িতে ছিলাম, আর তিনি শুধু এই কথাই বলছিলেন যে ভারত কম রুশ তেল কিনছে। তিনি আমাকে প্রেসিডেন্টকে ২৫ শতাংশ শুল্ক শিথিল করার কথা বলতে বলেন।’ আগস্টে এই শুল্ক আরোপ করা হয়; যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি ছিল, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য পরোক্ষভাবে ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সহায়তা করছে। অতিরিক্ত শুল্ক যোগ হওয়ায় কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে পৌঁছয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, এই শুল্কগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্পর্ককে চাপে ফেলেছে। হাউস জিওপি মেম্বার রিট্রিটে তিনি বলেন, বাণিজ্য পদক্ষেপে মোদি অসন্তুষ্ট, তবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর দিকেও তিনি ইঙ্গিত করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমার ওপর খুব খুশি নন, কারণ এখন তারা অনেক শুল্ক দিচ্ছে, কারণ তারা তেল কেনা বন্ধ করছে না—কিন্তু তারা এখন তা খুব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে, যেমনটা আপনি জানেন, রাশিয়া থেকে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার সতর্ক করেছেন, ‘রুশ তেলের ইস্যুতে সহযোগিতা’ না করলে ভারতের ওপর শুল্ক আরো বাড়তে পারে—এভাবে তিনি বাণিজ্য চাপকে সরাসরি রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার দাবি, ছাড়মূল্যের রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে। তবে ভারত দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি রুশ তেল কেনা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন—ট্রাম্পের এমন আগের দাবিকে নয়াদিল্লি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এমন কোনো কথোপকথন হয়নি। ওয়াশিংটন যখন নিষেধাজ্ঞা বিলটি এগিয়ে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে, তখন প্রস্তাবিত আইনটি ভারতের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। একই সময়ে ট্রাম্প নিজেকে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
যুক্তরাজ্যজুড়ে চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। শক্তিশালী ঝড়, প্রচণ্ড বৃষ্টি ও তুষারপাতের আশঙ্কায় আজ বুধবার বিকেল থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এই সতর্কতাকে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের সময় অনেক এলাকায় ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ মাইলেরও বেশি গতিতে বাতাস বয়ে যেতে পারে। তীব্র বাতাসের সঙ্গে ভারি বৃষ্টি ও তুষারপাত পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও উঁচু এলাকায় এক ফুট পর্যন্ত তুষার জমার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ড, ওয়েলস, মিডল্যান্ডস ও উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস ও বড় ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে। প্রচণ্ড বাতাসে গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুতের খুঁটি ও ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। ভারি বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় হঠাৎ বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে তুষার ও বরফে সড়কগুলো অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়বে, যা যান চলাচলকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। রেল, বাস ও বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ঝড়ের সময় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে কিছু এলাকার স্কুলসমূহও বন্ধ ঘোষণা করা হতে পারে এবং তা অভিভাবকদের টেক্সট মেসেজ, ই-মেইল ও স্কুলের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হবে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে স্কুল বন্ধ করা হবে না।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় বাণিজ্যের সুযোগ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য রাখা যেতে পারে, তবে ওয়াশিংটন লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে বেইজিংকে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেবে না। ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাইট আরো বলেন, ভেনেজুয়েলায় শেভরন শিগগিরই তাদের কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ করবে বলে তিনি আশা করছেন, পাশাপাশি কনোকোফিলিপস এবং এক্সন মোবিলও সেখানে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। এফবিএনের ‘মর্নিংস উইথ মারিয়া’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভেনেজুয়েলায় চীনের কিছু দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা আপনি দেখতে পাবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত… সেখানে যুক্তরাষ্ট্রই প্রভাবশালী শক্তি থাকে, আইনের শাসন বজায় থাকে এবং তেলের প্রবাহ যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে—ততক্ষণ সব ঠিক থাকবে। তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে কি কোনো ভারসাম্য রাখা সম্ভব? আমি মনে করি, সম্ভব।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘এই কাঠামোর মধ্যে—যেখানে ভেনেজুয়েলার প্রধান অংশীদার… যুক্তরাষ্ট্র—চীনের সঙ্গে কি বাণিজ্য হতে পারে? নিশ্চয়ই। কিন্তু আমরা কি ভেনেজুয়েলাকে চীনের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেব? একেবারেই না।’ রাইট জানান, তিনি শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তেল কম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং অনেক প্রতিষ্ঠানই শুক্রবার হোয়াইট হাউসে হওয়া শিল্পখাতের বৈঠকে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় হতাশ হয়েছে—যদিও তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি।
রাশিয়াগামী একটি তেলবাহী ট্যাংকার কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের একটি নোটিশ এবং পৃথক একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জাহাজটি তুরস্কের কোস্ট গার্ডের সহায়তা চায় এবং নিজ পথ পরিবর্তন করে। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ সংস্থা লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানায়, পালাউয়ের পতাকাবাহী এলবাস জাহাজটি বুধবার ‘মানববিহীন সামুদ্রিক যান ও ড্রোন হামলার’ মুখে পড়ে, যার লক্ষ্য ছিল জাহাজটির ইঞ্জিন রুম। তবে ২৫ জন নাবিকের কেউ আহত হননি এবং কোনো দূষণের ঘটনাও ঘটেনি। নিরাপত্তা সূত্রটি মূল্যায়নের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে এই ঘটনার পেছনে কারা বা কী জড়িত ছিল, তা স্পষ্ট নয়। নভেম্বরের শেষ দিকে ইউক্রেনীয় নৌ ড্রোন কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াগামী দুটি ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর জাহাজ বীমার হার বেড়ে যায়। ওই ঘটনাগুলোর পর মস্কো পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দেয় এবং আঙ্কারা সংযমের আহ্বান জানায়। ডিসেম্বরে শুরুর দিকে রুশ পতাকাবাহী আরেকটি জাহাজও সাগরে হামলার শিকার হওয়ার কথা জানায়, যদিও ওই ঘটনায় কিয়েভ কোনো সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে। শস্য, তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহনের জন্য কৃষ্ণ সাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সাগরের জলসীমা তুরস্ক, রাশিয়া, ইউক্রেন, বুলগেরিয়া, জর্জিয়া ও রোমানিয়ার মধ্যে ভাগ করা। লয়েডসের নোটিস অনুযায়ী, বুধবার জাহাজটি সিঙ্গাপুর থেকে রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করছিল। মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য দেখায়, বৃহস্পতিবার এলবাস জাহাজটি কৃষ্ণ সাগরে পূর্বমুখী আগের পথ পরিবর্তন করে তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর ইনেবোলুর উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান নেয়। লয়েডস জানায়, জাহাজটি নিজ শক্তিতে ইনেবোলু নোঙরস্থলে নোঙর ফেলেছে।
পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। এ লক্ষ্যে দেশটিকে দেওয়া প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ঋণকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিমান চুক্তিতে রূপান্তর করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এই চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার হতে পারে। এর মধ্যে ২০০ কোটি ডলারের ঋণ রূপান্তরের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছে। পাকিস্তানের তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটেই এ আলোচনা সামনে এসেছে। সূত্রগুলোর মতে, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান—যা পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে উন্নয়ন করা একটি হালকা যুদ্ধবিমান এবং পাকিস্তানেই উৎপাদিত। তবে জেএফ-১৭ প্রধান বিকল্প হলেও আলোচনায় আরও কিছু সামরিক সরঞ্জামের বিষয়ও রয়েছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক, অর্থ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব সফর করেন। সফরকালে তিনি তার সৌদি সমকক্ষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল তুর্কি বিন বান্দার বিন আবদুলআজিজের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল ও সামরিক বিশ্লেষক আমির মাসুদ বলেন, পাকিস্তান বর্তমানে ছয়টি দেশের সঙ্গে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান, ইলেকট্রনিক সিস্টেম ও অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করছে বা চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। তার মতে, সৌদি আরবও সেই তালিকায় রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট কোনো চুক্তির বিস্তারিত এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি আরও জানান, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের অভিজ্ঞতার কারণে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের বাজারমূল্য ও গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। পাশাপাশি এটি তুলনামূলকভাবে ব্যয় সাশ্রয়ী। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছিল, যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সামরিক উত্তেজনার একটি ছিল। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত পাকিস্তান–সৌদি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো এক পক্ষের ওপর আগ্রাসন হলে সেটিকে উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা পরামর্শ দিয়ে আসছে। অপরদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটে বারবার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। ২০১৮ সালে রিয়াদ ৬০০ কোটি ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৩০০ কোটি ডলারের আমানত এবং স্থগিত পরিশোধ সুবিধায় ৩০০ কোটি ডলারের তেল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই আমানত একাধিকবার নবায়ন করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান অস্ত্র রপ্তানি বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে। গত মাসে দেশটি লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র চুক্তি করে, যেখানে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ও প্রশিক্ষণ বিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কাছেও জেএফ-১৭ বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, দেশের অস্ত্র শিল্পের সাফল্য পাকিস্তানের অর্থনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে। তার ভাষায়, আমাদের যুদ্ধবিমানগুলো পরীক্ষিত। এত অর্ডার আসছে যে ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের আইএমএফের প্রয়োজনই নাও হতে পারে।
ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের পর্যটক ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে ‘সীমিত’ করা হয়েছে। দেশটির একাধিক শহরে অবস্থিত বাংলাদেশি উপদূতাবাসে এই সেবা সীমিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের উপদূতাবাসগুলো থেকে ভারতীয়দের জন্য পর্যটক ভিসা প্রদান সীমিত করা হয়েছে। এর আগে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার অফিস থেকেও ভিসা প্রদান বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে বর্তমানে কেবল গুয়াহাটিতে অবস্থিত অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার অফিস থেকেই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ উপদূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। তবে উপদূতাবাস সূত্র নিশ্চিত করেছে, বুধবার থেকেই পর্যটক ভিসা প্রদান সীমিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, পর্যটক ভিসা সীমিত থাকলেও বাণিজ্যিক ভিসাসহ অন্যান্য ধরনের ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে অবস্থিত চারটি ভারতীয় ভিসা সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় ঢাকায় একটি ভিসা সেন্টারের সামনে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়। এর পরপরই ভারত সরকার সাময়িকভাবে সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে। বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ভিসা সেন্টারগুলো পুনরায় চালু করা হলেও ভারত সরকার জানায়—মেডিকেল ভিসা এবং কিছু জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্যান্য ভিসা আপাতত ইস্যু করা হবে না। বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় পর্যটক ভিসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আইদারোস আলজুবাইদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার জোটের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকা দখল ও স্বাধীনতার পথে এগোনোর চেষ্টার পর আলজুবাইদি দেশ ছাড়েন। রিয়াদ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, আইদারোস আলজুবাইদি ও তার সহযোগীরা গভীর রাতে পালিয়ে যান।’ জোট জানায়, নৌকা ও বিমানে করে এডেন থেকে তারা আবুধাবিতে পৌঁছান।
তীব্র তাপপ্রবাহে জ্বলছে অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক দাবানলের মোকাবিলা করতে গিয়ে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা ‘ভয়াবহ’ দাবানলের ঝুঁকির বিষয়ে দেশটির অধিবাসীদের সতর্ক করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, আর এতে করে ২০১৯-২০২০ সালের বিধ্বংসী ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলের পর, আগামী দিনগুলোতে সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের কান্ট্রি ফায়ার অথরিটির প্রধান কর্মকর্তা জেসন হেফারনান জানিয়েছেন, এই রাজ্যের কিছু এলাকায় আগুনের ঝুঁকি সূচক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘এর অর্থ সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। এর চেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি আর হতে পারে না। যখন আগুন লাগে, তখন তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’ তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেন, ‘আপনাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত আপনাদের ও আপনাদের পরিবারের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলবে।’ এদিকে দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিশনার টিম উইবুশ বলেন, গরম ও শুষ্ক বাতাস দাবানলকে আরও ভয়ংকর করে তুলবে, আর এটা হবে ‘অনিশ্চিত, নিয়ন্ত্রণহীন ও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে’ তা ছড়িয়ে পড়বে। ভিক্টোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রিমিয়ার বেন ক্যারোল নাগরিকদের আগে থেকেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, আগুনে ঘেরা না হলে বোঝা যায় না, পরিবেশ কতটা ভয়ংকর। ওই সময়ে কত শব্দ, কত ধোঁয়া, কত চাপ। বেন ক্যারোল বলেন, ‘এটি এমন একটি আতঙ্কজনক পরিস্থিতি, যা কারও ভোগ করা উচিত নয়।’ ইতোমধ্যে ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকল কর্মীরা। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দুটি অঙ্গরাজ্য— নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত কোটি মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে সিডনি ও মেলবোর্নের মতো বড় শহরও রয়েছে। ভিক্টোরিয়ার রাজধানী মেলবোর্ন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে লংউড নামের এক গ্রামীণ এলাকায় বেশ কয়েকটি সম্পত্তি (বাড়িঘর, ফসলী জমি বা স্থাপনা) পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি আবহাওয়াবিদ সারা স্কালি জানান, দেশজুড়ে ‘চরম’ তাপপ্রবাহের একটি বলয় বিস্তার লাভ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘ভিক্টোরিয়া ও দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলসে শুষ্ক বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। এ সব ঝড়ে বৃষ্টিপাত খুব কম হলেও, নতুন করে আগুন ধরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।’ এদিকে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় প্রচণ্ড গরমে চলতি সপ্তাহের শুরুতে শত শত বাদুড়ের ছানা মারা গেছে বলে জানিয়েছে একটি স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংগঠন। ২০১৯ সালের শেষ দিক থেকে ২০২০ সালের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলে কয়েক লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে যায়, ধ্বংস হয় হাজারো ঘরবাড়ি এবং দাবানলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বড় বড় শহর। গবেষকদের মতে, ১৯১০ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার গড় তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, আর এর ফলে স্থল ও সমুদ্রে ক্রমেই ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটছে। অস্ট্রেলিয়া এখনও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস ও কয়লা উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ। এই দুটি জীবাশ্ম জ্বালানিকে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বুধবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মাত্র কয়েক দিন আগে পেত্রোকে সামরিক হুমকি দেওয়ার পরেই ট্রাম্প এ আমন্ত্রণ জানান। সোমবার ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে পেত্রোকে অভিযুক্ত করেছিলেন, এমনকি তিনি পেত্রোকে ‘নিজের নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকতেও বলেন। তবে পরে ৭ জানুয়ারি দুই নেতা প্রথমবার ফোনে কথা বলেন। বোগোটা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, পেত্রো তাঁকে মাদকসহ বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি তাঁর ফোন কল এবং ভঙ্গির প্রশংসা করেছি এবং শিগগিরই হোয়াইট হাউসে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছি।’ গত শনিবার ভোরে মার্কিন বাহিনী কারাকাসে হামলা চালায়, সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমা বর্ষণ করে আকস্মিক অভিযানে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ওপর ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। তিনি প্রমাণ ছাড়াই কলম্বিয়ার নেতাকে মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কলম্বিয়ার ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার মতো সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আছে কি না-এমন প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘শুনতে ভালোই লাগছে।’ এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সোমবার বলেছেন, এমন হুমকির মুখে তিনি ‘অস্ত্র হাতে নিতে’ প্রস্তুত রয়েছেন। কলম্বিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিসিও জারামিলো বুধবার এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা পুরো লাতিন আমেরিকার জন্য একটা ‘বিপর্যয়’ ডেকে আনতে পারে। ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদে পেত্রো বুধবার সারা কলম্বিয়ায় বিক্ষোভের ডাক দেন। তিনি সমর্থকদের এক সমাবেশে জানান, তিনি হোয়াইট হাউস বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, যদিও কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তিনি বলেন, তিনি ‘খুব কঠিন’ একটি ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে ট্রাম্পের সঙ্গে এক ঘণ্টার ফোনালাপের পর সুর নরম করেছেন। পেত্রো আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পকে দুই দেশের মধ্যে ‘তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
ভেনেজুয়েলা উপকূল থেকে ধাওয়া করে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবারের এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মস্কো। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ওয়াশিংটনের দাবি, জাহাজটি একটি ‘ছায়া নৌবহরের’ অংশ। এটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও ইরানের তেল পরিবহন করছিল। জাহাজটির পাহারায় রাশিয়ার নৌবাহিনী থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গত মাসে তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার কাছে জাহাজটিকে একবার আটকের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তখন সেটি পালিয়ে যায়। মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে জাহাজটি জব্দ করা হয়। পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ এক বার্তায় বলেন, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর মার্কিন অবরোধ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই কার্যকর থাকবে। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এই ঘটনার সমালোচনা করে বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌচলাচলের স্বাধীনতা সবারই রয়েছে। এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাহাজে থাকা রুশ ক্রুদের দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানালেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিচারের জন্য তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। ‘বেলা-১’ নামের এই জাহাজটি সম্প্রতি নাম পরিবর্তন করে ‘মারিনেরা’ রাখা হয়। জাহাজটিতে রাশিয়ার পতাকাও আঁকা ছিল। তবে হোয়াইট হাউস একে ‘রাষ্ট্রহীন’ জাহাজ হিসেবে অভিহিত করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানায়, ক্যারিবীয় সাগরে দ্বিতীয় আরেকটি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে গত এক মাসে মোট চারটি জাহাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিল ওয়াশিংটন।
বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি ইয়েমেনে নির্ধারিত শান্তি আলোচনায় না গিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পালিয়ে গেছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, পালানোর পথে তিনি সোমালিল্যান্ড ব্যবহার করেছেন। জোটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার গভীর রাতে আল-জুবাইদি এডেন বন্দর থেকে নৌকায় বেরবেরা বন্দরে যান। সেখান থেকে তিনি ইউএই কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিমানে উঠেন। বিমানটি প্রথমে মোগাদিশু যায় এবং ওমান উপসাগরের আকাশপথে উড়ার সময় কিছুক্ষণ ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়। পরে আবুধাবির আল-রিফ সামরিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগে আবার ট্র্যাকিং চালু করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, এভাবে গোপনে দেশ ছাড়ার মাধ্যমে আল-জুবাইদি শান্তি প্রক্রিয়া এড়িয়ে গেছেন। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। খবর জানিয়েছে বিবিসি। বুধবার (৭ জানুয়ারি) কয়েক দফা প্রচেষ্টার পর মার্কিন বাহিনী ট্যাঙ্কারটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। অভিযানের আগে রুশ সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, হেলিকপ্টার থেকে কমান্ডো নামিয়ে জাহাজটি দখলের পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। এর আগে মার্কিন কোস্টগার্ড জাহাজটিকে থামার নির্দেশ দিলেও ক্রুরা তা অমান্য করে যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। রাশিয়া এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী উন্মুক্ত সমুদ্রে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে এবং অন্য দেশের নিবন্ধিত জাহাজে শক্তি প্রয়োগের অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ‘বেলা-১’ নামের এই ট্যাঙ্কারটি ভেনিজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহন করছিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে প্রতিহত করা হবে বলে জানানো হয়। মার্কিন প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভেট সাংবাদিকদের প্রশ্নে সরাসরি মন্তব্য না করলেও দাবি করেন, জাহাজটি ভেনিজুয়েলা, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে অবৈধ তেল বাণিজ্যে জড়িত ছিল। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ট্যাঙ্কারের ক্রুদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক তেলবাজারে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যা মস্কো ও ওয়াশিংটনের চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও গভীর করেছে।
সিলেট থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাঝআকাশে এক যাত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পাইলট তদন্তের মুখে পড়েছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর বিজি ২০১ ফ্লাইটে এ ঘটনাটি ঘটে। পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন আলিয়া মান্নান। উড্ডয়নের পর বিমানটি যখন পাকিস্তানের লাহোরের কাছাকাছি অবস্থান করছিল, তখন একজন যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে পাইলট নিকটবর্তী কোনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ না করে ফ্লাইটটি পুনরায় ঢাকায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন, যা সম্পন্ন করতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। ঢাকায় পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে কেন কাছের বিমানবন্দরে অবতরণ করা হলো না। বিমানের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে 'মেডিকেল ইমার্জেন্সি'র সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও অনেক সময় তা অনুসরণ করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এর আগেও ২০২৩ সালে বিমানের একটি লন্ডন ফ্লাইটে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে যাত্রী অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও পাইলট সরাসরি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিলেন। বিমানের ভেতরের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, অনেক সময় অসুস্থ বা অতি বৃদ্ধ যাত্রীরা বিমানে ওঠার সময় শারীরিক সমস্যার কথা গোপন করেন অথবা গ্রাউন্ড স্টাফদের সহায়তায় ফ্লাইটে উঠে পড়েন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় বায়ুর চাপের পরিবর্তন বা দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল অনেক সময় বয়স্ক বা অসুস্থ রোগীরা সহ্য করতে পারেন না, যা প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গভীর রাতের ফ্লাইটে ঘুমের অভাব এবং জেট ল্যাগের সমস্যা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। বিমান কর্তৃপক্ষ সবসময় যাত্রীদের অসুস্থতার তথ্য না লুকানোর অনুরোধ জানালেও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলি নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। বতর্মানে তাদের নিউইয়র্কের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে। এদিকে মাদুরো ও তার স্ত্রীর মুক্তি চেয়ে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার নারী। এ সময় বিক্ষোভকারী নারীরা হাতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ক্যারোলিনা নামের এক নারী বলেন, আমরা আমাদের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী ফাস্ট লেডি এবং আমাদের প্রথম নারী যোদ্ধা সিলিয়া ফ্লোরেসকে মুক্তির দাবি জানাতে এখানে জড়ো হয়েছি। ১৯৯৪ সালে হুগো চাভেজকে মুক্ত করার পর থেকেই মাদুরো আমাদের পথপ্রদর্শক। আর আমরা তার সঙ্গেই আছি। তিনি আরও বলেন, মাদুরো ফিরে না আসা পর্যন্ত রাস্তা ছাড়ব না। গেল শনিবার ভেনেজুয়েলায় সামারিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে মার্কিন বাহিনী দেশটির সামরিক ঘাঁটি ও যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালায় এবং মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, এই অভিযানে ১৫০টিরও বেশি বিমান অংশ নেয় এবং এতে ভেনেজুয়েলা ও কিউবার সদস্যসহ অন্তত ৮০ জন নিহত হন। এদিকে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মেক্সিকো, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও চিলিসহ একাধিক লাতিন আমেরিকান দেশ এবং ব্রিকস সদস্য রাশিয়া ও চীন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঢাকায় জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধানরা আলোচনা করেছেন। ইসলামাবাদ অস্ত্র সরবরাহের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আরও বিস্তৃত করছে এবং বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদে এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন পাকিস্তান গত বছরের মে মাসে চিরশত্রু ভারতের সাথে সংঘাতে তার বিমান বাহিনীর সাফল্যকে পুঁজি করে দেখার চেষ্টা করছে। পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই ছিল সেটি। পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধান জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান চীনের সাথে যৌথভাবে তৈরি বহুমুখী যুদ্ধ বিমান জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রেস উইং জানিয়েছে। মঙ্গলবারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান বাংলাদেশকে ‘সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমানের দ্রুত সরবরাহ, একটি সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা’ নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের সূত্র জানিয়েছে, জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। তবে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্কের উপর জোর দেয় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি যৌথ সংকল্পকে প্রতিফলিত করে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।