বিশ্ব

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ অবরোধে তেলের দাম ৪ শতাংশ বাড়ল

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নতুন করে উত্থান দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী জাহাজে অবরোধ শুরু করার পর সোমবার তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং ইরানের পাল্টা হুমকির কারণে এই মূল্য বেড়েছে। কারণ বিশ্বে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।   বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৪.১৬ ডলার বেড়ে ৯৯.৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২.৫১ ডলার বেড়ে ৯৯.০৮ ডলারে পৌঁছেছে।   তবে দিনের শুরুতে দাম আরও বেশি বেড়েছিল। পরে কিছুটা কমে আসে, যা বাজারে চলমান অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত বক্তব্যও বাজারে দোলাচল তৈরি করছে।   এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ চাপের মুখে পড়েছে।   এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউরোপেও জ্বালানি ব্যয় বেড়ে গেছে, ফলে সরকারগুলো জরুরি সহায়তা পরিকল্পনা নিচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে।   সূত্র : শাফাক নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সিদ্ধান্তেই নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ: জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী সংলাপের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি তেহরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তার ভাষায়, “বল এখন ইরানের কোর্টে।”   ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে স্পষ্ট ও চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি চায়—তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এই শর্তে সম্মত হলে দুই দেশের মধ্যে একটি ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ চুক্তি সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। 🤝 ইসলামাবাদ বৈঠক নিয়ে যা বললেন   সম্প্রতি ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ভ্যান্স বলেন, সে সময় ইরানি প্রতিনিধিরা চুক্তি স্বাক্ষরের অবস্থানে ছিলেন না। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য তেহরানের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। তবে কোনো সমঝোতা না হলেও আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি। এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। ⚖️ কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটবে?   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে এই ধরনের সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন তেহরানের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আলোচনার পরবর্তী গতি। সূত্র: সিএনএন

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইরানি বন্দর অবরোধে বাজার অস্থিতিশীল হতে পারে : রাশিয়া

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবরোধ বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে ক্রেমলিন।   রুশ প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এতে ইরান-সংযুক্ত জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বা এমনকি হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৃহত্তর অবরোধের সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়া আরও জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম গ্রহণের তাদের প্রস্তাব এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পায়নি মস্কো। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়াতে পারে—এমন পদক্ষেপ থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগামী জাহাজ চলাচলে অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের বন্দর লক্ষ্য করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনতে চায় যুক্তরাজ্য-জার্মানি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। তারা সতর্ক করেছে, লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত বাড়লে তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।   যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার বলেন, চলমান হামলা বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। তিনি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানান এবং ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে বলেন।   এদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করে শান্তি আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।   এ সময় লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় বিনত জবেইল শহরে টানা পঞ্চম দিনের মতো সংঘর্ষ চলছে।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘যিশু সদৃশ’ ছবি পোস্ট করে বিতর্কিত ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি এআই-তৈরি ‘যিশু সদৃশ’ ছবি পোস্ট করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিতর্কের পর তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।   ছবিটিতে ট্রাম্পকে এক ধরনের ঐশ্বরিক চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়, যা তার সমর্থকদের একাংশসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে আখ্যা দেন।   সমালোচনার মুখে ট্রাম্প বলেন, ছবিটি তিনি একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষকে সাহায্য করছেন—এমন অর্থে পোস্ট করেছিলেন। তবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন।   এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টিকে মজা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, অনেকেই এটি সঠিকভাবে বোঝেননি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেছে ইরান, দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।   ট্রাম্প বলেন, তেহরান বর্তমানে খুব মরিয়া হয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, দুই পক্ষ অনেক বিষয়ে একমত হলেও মূল বাধা হয়ে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।   তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। এই ইস্যুতেই এখনো দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।   এর আগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।   এদিকে আলোচনায় অচলাবস্থার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব বন্দর অবরোধের পদক্ষেপ নিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ইরানের নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র এব্রাহিম রেজায়ই। ছবি : সংগৃহীত
এবার নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘায়েল করবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হলে ইরান উপযুক্ত জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র এব্রাহিম রেজায়ই। এসময় ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণাকে ‘ফাঁকা বুলি’ বলে দাবি করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়াবে। তিনি বলেন, ইরান এবার এমন কিছু কৌশল প্রয়োগ করবে, যা আগে কখনও ব্যবহার করা হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে ইরানের বন্দরগুলো থেকে প্রবেশ ও বহির্গামী সব জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করা হবে। মার্কিন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ নৌ-অবরোধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে এই অবরোধ চালু থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির দিকে কোনো যুদ্ধজাহাজ এগোলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের এ উদ্যোগে খুব বেশি আন্তর্জাতিক সমর্থন পাচ্ছে না বলে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য এ ধরনের অবরোধকে সমর্থন করে না। একই সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আরেক মিত্র ফ্রান্সও ইরানের বিরুদ্ধে এ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তা এখন ঝুঁকির মুখে। ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগ করুক এবং ভবিষ্যতে সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করুক।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
অবরোধ ভাঙলে ইরানি ‘ফাস্ট অ্যাটাক শিপ’ ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সময় অনুযায়ী ইরানের সব বন্দর ঘিরে নৌ-অবরোধ কার্যক্রম শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। একই সঙ্গে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে ইরানের ‘ফাস্ট অ্যাটাক শিপ’ বা দ্রুতগামী আক্রমণকারী জাহাজগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সোমবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৮টা) অবরোধ শুরুর কিছুক্ষণ পরেই নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই কঠোর বার্তা দেন। ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্ট দিয়ে তিনি বলেন, “ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে। তাদের ১৫৮টি জাহাজ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। স্বল্পসংখ্যক তথাকথিত ‘ফাস্ট অ্যাটাক শিপ’-এর ওপর আমরা এতদিন আঘাত করিনি, কারণ সেগুলোকে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।” ট্রাম্প আরো লেখেন, “সতর্কবার্তা : এই জাহাজগুলোর কোনোটি যদি আমাদের অবরোধের আওতাধীন এলাকায় কাছাকাছি আসে, তবে সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হবে। সমুদ্রপথে মাদক চোরাচালানকারীদের নৌকা ধ্বংসে আমরা যে পদ্ধতি ব্যবহার করি, এখানেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।” এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন ইরান আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, পরোয়া করেন না তিনি। পাকিস্তানের আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর এমন মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডা থেকে ফেরার পর মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) ফিরুক বা না ফিরুক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তারা যদি না ফেরে, তাতেও আমার কোনো সমস্যা নেই।’ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।  ইসলামাবাদে শনিবার থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত চলা এই আলোচনা ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দরে অবরোধ শুরু করবে। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইরানি প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, ইসলামাবাদে আলোচনা চলাকালে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তি থেকে মাত্র ‘কয়েক ইঞ্চি দূরে’ ছিল।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারে কাজ চলছে: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম রোববার বলেন, ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ বন্ধ করা এবং লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করছেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর নাওয়াফ সালাম এ কথা বলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যুদ্ধ বন্ধ করা, আমাদের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার নিশ্চিত করা, সব বন্দীর মুক্তি, ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রাম ও শহর পুনর্গঠন এবং বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদে ফিরে আসা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’ লেবাননের ১৯৭৫-১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধ শুরুর বার্ষিকীর প্রাক্কালে দেওয়া এই ভাষণে তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধে আমরা আলোচনার মাধ্যমে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’ মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্ধারিত বৈঠকের আগে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রথম দফার ভোটে ‘বামপন্থী শত্রুর’ বিরুদ্ধে জয়ের দাবি ফুজিমোরির

পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরি সোমবার প্রথম দফার ভোটকে বামপন্থী শত্রুর বিরুদ্ধে জয় বলে দাবি করেছেন।  তিনি দ্বিতীয় দফার রানঅফে যাওয়ার পথে এগিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লিমা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। এক্সিট পোল ও আংশিক গণনায় দেখা গেছে, সাবেক বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে ৫০ বছর বয়সী এই প্রার্থী অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন।  তবে সরাসরি জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট থেকে তিনি অনেকটাই পিছিয়ে আছেন। দ্বিতীয় স্থানের জন্য এবং দুই প্রার্থীর রানঅফে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে পরিসংখ্যানগতভাবে সমতা দেখা গেছে। এ অবস্থায় কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী রাফায়েল ‘পর্কি’ লোপেজ আলিয়াগাও (রাফায়েল বার্নার্ডো লোপেজ আলিয়াগা কাজরলা) শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বুলগেরিয়ার আগাম নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাদেভ

 দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠার প্রত্যাশায় আগামী সপ্তাহে সাধারণ নির্বাচনে যাচ্ছে বুলগেরিয়া। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি দেশটির অষ্টম নির্বাচন। এই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভের নতুন জোট— জনমত জরিপে এমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সোফিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান রাদেভ চলতি বছরের শুরুতে নয় বছর দায়িত্ব পালন শেষে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন।  গত বছরের শেষ দিকে দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে রক্ষণশীল সরকার পদত্যাগ করলে এই আগাম নির্বাচনের পথ তৈরি হয়। ৬৫ লাখ মানুষ বসবাসকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী বয়কো বোরিসভ দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক আন্দোলনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে বুলগেরিয়া অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এরপর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে দরিদ্র সদস্য রাষ্ট্রটিতে কোনো সরকারই এক বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি। ইইউ’র কিছু নীতির কড়া সমালোচক রাদেভ মধ্যপন্থী বাম প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া জোটের নেতা হিসেবে নির্বাচনে লড়তে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়েন। জনমত জরিপ অনুযায়ী, তার পক্ষে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। দেশকে ‘অলিগার্কি শাসনব্যবস্থা’ থেকে মুক্ত করতে ২০২৫ সালের শেষের দিকে তিনি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন দেন। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আহ্বানও জানিয়েছেন রাদেভ। যদিও ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া।  ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো নিয়ে আগের নীতিরও কড়া সমালোচক রাদেভ। তিনি ফেব্রুয়ারি থেকে দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কিয়েভের স্বাক্ষরিত ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তিরও সমালোচনা করেছেন। এতে তার বিরোধীরা তাকে রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সহনশীল হওয়ার  অভিযোগ তুলেন।  গত বছর ইউরোজোনে বুলগেরিয়ার যোগদানের বিষয়ে গণভোটের আহ্বান জানান রাদেভ। তার দাবি ছিল, দেশটি ইউরোপীয় একক মুদ্রায় যোগদানের জন্য প্রস্তুত নয়। ইইউর গ্রিন ডিল নীতিকেও তিনি ‘নিয়মহীন বিশ্বের জন্য সরল চিন্তা’ বলে সমালোচনা করেছেন। আলফা রিসার্চ নামে জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠানের বোরিয়ানা দিমিত্রোভা এএফপিকে বলেন, প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া ইউরোপ-বিরোধী ও রাশিয়াপন্থী ভোটারদের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামে বসবাসরত তরুণদের আকর্ষণ করছে। প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলো রক্ষণশীল জিইআরবি, যা জনমত জরিপে মাত্র ২০ শতাংশের কিছু বেশি সমর্থন পাচ্ছে। ব্রাসেলস-সমর্থিত জিইআরবি প্রকাশ্যে ইউক্রেনকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগে বুলগেরিয়ার অংশগ্রহণের পক্ষে। এদিকে বুলগেরিয়ার পুলিশ ভোট কেনাবেচার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। তারা জানায়, অভিযানে ৫ লাখ ইউরোর বেশি (৫ লাখ ৮৩ হাজার ডলার) নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে ও দুই শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভোট কেনার কৌশলের মধ্যে ছিল ‘মুদির দোকান ও সেলুনের বকেয়া পরিশোধ করে দেওয়া’ অথবা দলীয় কার্যালয়ে নগদ অর্থ বিতরণ। বিশ্লেষক দিমিত্রোভা বলেন, আগের নির্বাচনে কম ভোটার উপস্থিতির পর এবার বেশি ভোট পড়লে রাদেভ লাভবান হতে পারেন। ২৪০ আসনের পার্লামেন্টে তিনি যদি শতাধিক আসন পান, তাহলে ‘স্বল্পসংখ্যক আসন নিয়েও সরকার গঠন’ বা কম সমঝোতায় জোট সরকার গঠন সম্ভব হবে। এতে কিছু সময়ের জন্য স্থিতিশীল সরকার গড়া যেতে পারে বলে মনে করেন দিমিত্রোভা। নতুন পার্লামেন্টকে দুর্বল বিচার ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সংকটের কারণে প্রধান প্রসিকিউটরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে এখনো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে বুলগেরিয়ার অবস্থান ৮৪তম। ইউরোপীয় ইউনিয়নে এটি সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশ। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ‘আন্তরিক’: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনা ব্যর্থ হলেও, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই যুদ্ধবিরতি অর্জনে ‘আন্তরিক’ রয়েছে বলে মনে করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।  ইস্তাম্বুল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। রোববার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার ব্যর্থতার জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগে অনীহাকেই দায়ী করেন। সরকারি আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, ‘উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তরিক।’  এ সময় তিনি আরও জানান, আলোচনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে পারমাণবিক ইস্যু যদি ‘সব না হয় কিছুই নয়’ অবস্থায় গিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি, কিছু মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় আমরা এই বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করব।’ ইসরাইলের কড়া সমালোচক হলেও তুরস্ক এই সংঘাতে যুদ্ধবিরতি আনতে মিশর ও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে শত্রুদের 'প্রাণঘাতী ঘূর্ণিতে' আটকে ফেলার হুমকি আইআরজিসির

 ইরানের বিপ্লবী গাডর্স রোববার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে শত্রুরা 'প্রাণঘাতী ঘূর্ণিতে' আটকে পড়বে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিটিতে মার্কিন নৌ অবরোধের নির্দেশ দেওয়ার পর ইরানের গাডর্স নৌ কমান্ড  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানায়,  ‘সমস্ত যান চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ ইরানের বিপ্লবী গার্ড আরও বলেছে, ‘শত্রুপক্ষ কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে প্রণালিতেই মারণ ঘূর্ণির ফাঁদে আটকে পড়বে।’ এ সময় একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখানো হয়েছে। একটি পৃথক বিবৃতিতে গার্ডের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, তবে তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। যদিও এসব নিয়মের বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, কোনো সামরিক জাহাজ যে কোনো অজুহাতে প্রণালির কাছে আসার চেষ্টা করলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন যে, তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো প্রণালিটিকে মাইনমুক্ত করা এবং সব ধরনের নৌচলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া। তবে এর মধ্যে ইরানকে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ থেকে ফায়দা লুটতে দেওয়া হবে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত একটি অবরোধ আরোপ করে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। গত সপ্তাহের শেষ দিকে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি হলেও, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় সেই যুদ্ধবিরতি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
দায়িত্বের ১০০ দিনে ‘সমাজতান্ত্রিক’ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন নিউইয়র্কের নতুন মেয়র

দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে রোববার সমাবেশ করে নিজের প্রাথমিক সাফল্য তুলে ধরেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। একই সঙ্গে তিনি তার স্পষ্ট ‘সমাজতান্ত্রিক’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।  নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। কুইন্সে এক জনাকীর্ণ সমাবেশে ৩৪ বছর বয়সী এই মেয়র বলেন, ‘আমি জানি, অনেকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ শব্দটিকে খারাপ বা লজ্জার কিছু হিসেবে ব্যবহার করেন।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, তারা যতই চেষ্টা করুক, আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য সরকারকে ব্যবহার করতে লজ্জা পাব না। মামদানি উল্লেখ করেন যে শহরের সড়কের গর্ত ভরাটের কর্মসূচিতে ১ জানুয়ারি থেকে এক লক্ষাধিক গর্ত মেরামত করা হয়েছে। এটা প্রমাণ করে, তিনি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি ছোট কাজগুলোই করতে না পারে, তাহলে বড় কাজের জন্য মানুষ কীভাবে সরকারকে বিশ্বাস করবে? আমরা যদি আপনাদের রাস্তা ঠিক করতে না পারি, তাহলে শহর বদলের প্রতিশ্রুতি কীভাবে দেব?’ এই সমাবেশে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ৮৪ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা বার্নি স্যান্ডার্সও উপস্থিত ছিলেন। মামদানি তার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— সিটি পরিচালিত মুদি দোকান চালু করা, যার প্রথমটি আগামী বছর খুলবে। এগুলো ছোট শিশুদের জন্য বিনামূল্যে শিশু যত্নসেবা দিবে। এ ছাড়া তিনি সিটি কমিটিগুলো পুনর্গঠন করেছেন, যা আগামী মাসগুলোতে ভাড়া বৃদ্ধির হার স্থগিতের পথ তৈরি করতে পারে। তবে বিনামূল্যে বাসযাত্রা এখনও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন মেয়রের জনপ্রিয়তা নিয়ে এই সপ্তাহে প্রকাশিত দুটি জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কবাসীর মধ্যে তার অনুমোদন হার ৪৮ শতাংশ ও ভোটারদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ। এমারসন কলেজ পোলিং/পিক্স১১ জরিপ অনুযায়ী, ৫৪ শতাংশ ভোটার তার শিশু যত্ন উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন ও ৪৯ শতাংশ আবাসন ব্যয় নিয়ে তার পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তবে একই জরিপে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ হিস্পানিক ও ৫৮ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার মনে করেন, শহরটি ‘ভুল পথে’ এগোচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচক হলেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মামদানির সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।  তিনি ইতোমধ্যেই দু’বার হোয়াইট হাউস সফর করেছেন। ম্যারিস্ট পোল অনুযায়ী, ৫৯ শতাংশ নিউইয়র্কবাসী মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি ‘সঠিক ভারসাম্য’ বজায় রেখেছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হামলা হলে ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না : ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, তাদের বন্দর লক্ষ্য করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।   ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে হুমকি অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে শত্রু দেশের জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ ও সমুদ্র দস্যুতা হিসেবে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরে বন্দর নিরাপত্তা সবার জন্য নিশ্চিত থাকবে, অথবা কারও জন্যই থাকবে না। অর্থাৎ, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।   এর আগে একই দিন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম ঘোষণা দেয়, ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগামী ও সেখান থেকে আসা সব ধরনের জাহাজ চলাচলে অবরোধ কার্যকর করা হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি হুমকি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, বিশ্বে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত

মেজর জেনারেল রোমান গোফম্যানকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পরবর্তী প্রধান হিসেবে মনোনীত করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বর্তমান প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে আগামী ২ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন গোফম্যান। বর্তমানে তিনি সংস্থাটির সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্বরত। তবে এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা বিভাগে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।   রোববার (১২ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গোফম্যানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নেতানিয়াহু। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট।   নেতানিয়াহু বলেন, ‘তিনি (গোফম্যান) একজন অসাধারণ কর্মকর্তা, সাহসী এবং সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী।’   চলমান ইরান যুদ্ধে গোফম্যানের অবদান তুলে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, ‘পুরো যুদ্ধজুড়ে গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে তিনি দূরদর্শিতা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।’ তিনি মোসাদ প্রধান হিসেবে গোফম্যানের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   প্রতিরক্ষা প্রধান আইয়াল জামিরও তাকে যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘তার একটি গৌরবময় সামরিক কর্মজীবন ছিল, তিনি সব দিক থেকে একজন চমৎকার এবং যোগ্য ব্যক্তি।’ গোফম্যান যদি মোসাদের প্রধানের দায়িত্ব না নিতেন, তবে তিনি ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান হিসেবে তার নিজের স্থলাভিষিক্ত হতে পারতেন বলেও জানান তিনি।   ‘গোফম্যানের নিয়োগ হাস্যকর’   বর্তমান মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া সরাসরি এই নিয়োগের বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, গোফম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারদর্শী।   নিয়োগের বিরুদ্ধে সবচাইতে কড়া সমালোচনা এসেছে ওরি এলমাকায়েসের পক্ষ থেকে। এলমাকায়েসের সঙ্গে গোফম্যানের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৭ বছর বয়সে এলমাকায়েস যখন শিন বেতের হাতে আটক হয়েছিলেন, তখন অভিযোগ উঠেছিল, গোফম্যানের নির্দেশেই গোপন তথ্য পাচারের এক অননুমোদিত অভিযানে তাকে জড়ানো হয়েছিল। পরবর্তীতে দায়ভার না নিয়ে গোফম্যান তাকে বিপদের মুখে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন এলমাকায়েস।   গোফম্যানের নিয়োগকে ‘হাস্যকর’ ও ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ আখ্যা দিয়ে এলমাকায়েস বলেন, যিনি একজন কিশোরকে বিপদে ফেলে পালিয়ে যেতে পারেন, তিনি নিশ্চিতভাবেই মোসাদ এজেন্টদেরও মাঝপথে পরিত্যাগ করবেন। এই নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এশীয় শেয়ারবাজারে বড় পতন, ১০০ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম

পাকিস্তানে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় বিশ্বের জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধের নির্দেশের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) লেনদেনের শুরুতে এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে এ দরপতনের দৃশ্য দেখা গেছে।   সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ কমেছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ পতন লক্ষ করা গেছে। তবে তেলের বাজারে অস্থিরতা ছিল সবচেয়ে বেশি।   অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন তেলের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।   বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে রয়েছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।   তবে বাজারের এই অস্থিরতার মধ্যেও একটি আশার আলো দেখছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষকরা। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতি সোমবার বাজারে যে বড় ধরনের ধস নামত তার মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। শুরুতে পতনের হার ১২ থেকে ৯ শতাংশ থাকলেও এখন তা ১ শতাংশের আশপাশে নেমে এসেছে।   এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। সাধারণত সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বাজারকে আতঙ্কিত করলেও সপ্তাহের শেষে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার বা তার অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ফলে বাজার এখন বড় ধরনের ধাক্কাগুলো সামলে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করছে, যার কারণে প্রতি সপ্তাহে দরপতনের হার ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নৌ অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা নিশ্চিত: ইরানি সামরিক উপদেষ্টা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেছেন, যেকোনো ধরনের নৌ অবরোধ আরোপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা অবশ্যম্ভাবী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।   রেজাই বলেন, অতীতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল, তা প্রমাণ করে এই অঞ্চলে ইরানের কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। তার মতে, ভবিষ্যতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র সফল হতে পারবে না।   তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও অপ্রকাশিত সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, যা যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ অবরোধের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।   সাবেক আইআরজিসি প্রধান রেজাই আরও বলেন, ইরানকে কেবল হুমকি বা রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া অবস্থান

পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার বিষয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে এবং ইরানকে চাপে রাখতে দেশটিতে ‘সীমিত পরিসরে’ সামরিক হামলা চালানোর কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরোধের পাশাপাশি এই হামলার বিষয়েও পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রোববার ট্রাম্প যেসব বিকল্প নিয়ে ভাবছিলেন, তার মধ্যে এই সীমিত হামলা অন্যতম।   তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করা এবং দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের প্রতি প্রেসিডেন্টের অনীহা রয়েছে। যার কারণে একটি ‘পূর্ণ মাত্রায় অভিযান’ শুরুর সম্ভাবনা কম।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প একটি সাময়িক অবরোধের পথও বেছে নিতে পারেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অবরোধ অভিযানে যোগ দিতে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন।   দিনের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা প্রস্থান করা জাহাজগুলো আটকানো শুরু করবে।   ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরে প্রবেশকারী এবং প্রস্থানকারী সমস্ত সামুদ্রিক চলাচলের ওপর অবরোধ কার্যকর করা শুরু করবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সব বন্দর অবরোধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, সোমবার থেকে ইরানের সব সমুদ্রবন্দরে অবরোধ কার্যকর করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ব্যর্থ আলোচনার পর এই পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, ১৩ এপ্রিল সকাল থেকে ইরানের সব বন্দরে যাওয়া-আসা করা জাহাজগুলো এই অবরোধের আওতায় পড়বে। অর্থাৎ, যে কোনো দেশের জাহাজ যদি ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে চায়, তা নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়বে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরে যাতায়াত করবে, তাদের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আগের চেয়ে কিছুটা সীমিত আকারে অবরোধ বাস্তবায়নের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সামরিক বাহিনীর বর্তমান অবস্থান কিছুটা ভিন্ন, যা পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিও তৈরি করেছে।   এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারের বেশি হয়। একইভাবে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   অন্যদিকে, ইরান এই পদক্ষেপকে সরাসরি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, কোনো সামরিক জাহাজ ইরানের কাছাকাছি এলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ-এ দীর্ঘ আলোচনার ব্যর্থতার পরই এই অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১৬ বছর পর ক্ষমতা হারালেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী

হাঙ্গেরিতে ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেছেন। রোববার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী নেতা পিটার ম্যাজারের নেতৃত্বাধীন তিসা পার্টি বড় জয় পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা দিচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।   নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, তিসা পার্টি সংসদের ১৯৯টি আসনের মধ্যে ১৩৮টি আসন লাভ করেছে। ফলে তারা ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে অরবানের দল ফিদেজ মাত্র ৫৫টি আসন পেয়েছে।    ফল ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই অরবান পরাজয় স্বীকার করে বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানান এবং বিরোধী দলে থেকে দেশের সেবা করার কথা বলেন।   জয়ের পর রাজধানী বুদাপেস্টে হাজার হাজার মানুষ আনন্দ উদযাপন করে।    পিটার ম্যাজার জনগণের উদ্দেশে বলেন, এই জয় দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তিনি দুর্নীতি দমন, সরকারি সেবার উন্নয়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।   এই নির্বাচনের ফল আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন নেতা এটিকে গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
আবহাওয়া

দেশজুড়ে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ৭ জেলায় সতর্ক সংকেত জারি

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ০৯, ২০২৬ 0