ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে রাতভর একের পর এক বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সময় বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টায় এই হামলা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় একাধিক প্রদেশ ও দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে প্রেস টিভি জানিয়েছে। ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত বুশেহর প্রদেশে, যেখানে বিমান হামলার পর শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে আইআরআইবি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম নিশ্চিত করেছে। তবে এতে পারমাণবিক কেন্দ্রের কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা বা হতাহতের সংখ্যা কত তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আইআরআইবি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে খোজেনিস্তান প্রদেশের সহকারী নিরাপত্তা মন্ত্রীর বরাতে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী আবদানের কিছু নির্দিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের বন্দরনগরী বান্দর আব্বাস এবং প্রখ্যাত কেশব, কিশ ও আবু মুসা দ্বীপে ভারি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। তবে হরমুজগানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিজিক শহরে কোনো আক্রমণ ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির ফার্স প্রদেশের কাজরুন শহরের উপকণ্ঠে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে কেশম দ্বীপের লোকালয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং সেখানে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটেছে, তবে এতে কোনো হতাহত হয়েছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। অন্যদিক কিশ দ্বীপে দুটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের কথা তাসনিম জানালেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে দ্বীপের বিমানবন্দর ও ফেরি চলাচল পরিষেবা এখনো স্বাভাবিক এবং কার্যকর রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, কেশমে একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলার পর দুজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। হরমোজগান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নরের বরাত দিয়ে আইআরআইবি বলেছে, কেশম শহরের চাহ-তাঙ্গো এলাকার ভবনটি শত্রুপক্ষের নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য সমস্ত উপলব্ধ সম্পদ দিয়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিম খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে এবং শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। শহরের অন্তত সাতটি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়াও খুজেস্তান প্রদেশের শাদেগান, আরভান্দকেনার এবং আবাদান শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বুধবার মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার পর তারা ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর দফা হামলা সম্পন্ন করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, তাদের সরঞ্জাম দিয়ে ইরানে আইআরজিসির কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা। সেন্টকম বলেছে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল মার্কিন বাহিনী, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি ইরান ও তার প্রক্সিদের সৃষ্ট হুমকি আরও হ্রাস করা। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় একটি ইরানি কার্গো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কয়েক দিন পর এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। খবর আইআরএনএর। বুধবার (২৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি জানান, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানি জাহাজে হামলাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং ইউক্রেন কোনো ধরনের উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। আরাগচি বলেন, ইরানও উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের নাগরিক বা স্বার্থের ওপর যেকোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, হামলার ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সূত্র : আইআরএনএ
মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মাস রমজান ও আনন্দ উৎসব ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে প্রাক্কলন প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জর্ডান নিউজ। জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাব ও সৌদি আরবের হিজরি ক্যালেন্ডার সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র রমজানের প্রথম রোজা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী, ১৪৪৮ হিজরি সনের শাবান মাসের ২৯ তারিখ অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হতে পারে এবং সেই হিসেবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সিয়াম সাধনা শুরু হবে। একই প্রতিবেদনে ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখও উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনা বলছে, ১৪৪৮ হিজরির রমজান মাস এবার ২৯ দিনের হতে পারে। সেই গাণিতিক হিসেবে ৮ মার্চ (সোমবার) রমজান মাস শেষ হবে এবং ৯ মার্চ (মঙ্গলবার) মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, হিজরি ১৪৪৮ সনের শুরু নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে একদিনের পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। কিছু দেশে ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে নতুন বছর শুরু হলেও অন্য দেশগুলোতে ১৭ জুন থেকে মহরম মাস গণনা শুরু হয়। সময়ের এই পার্থক্যের কারণে চাঁদ দেখার ক্ষেত্রেও স্থানীয়ভাবে ভিন্নতা আসতে পারে। তবে ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, রমজান শুরু ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ প্রতি বছরের মতো স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই হিসাব মূলত সাধারণ প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ জানার লক্ষ্যে করা হয়ে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৯ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানকে এর মূল্য চোকাতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র শক্তভাবে পাল্টা আঘাত হানবে। ট্রাম্পের এ মন্তব্যের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে প্রতিহত করা হয়েছে। হামলাকে হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত বলে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর সেনাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় পাওয়া গিয়েছিল। বাস্তব সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে সেগুলো একে একে শনাক্ত ও ভূপাতিত করা হয়। ফলে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরানের ভূখণ্ড থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এটিকে মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলার চেষ্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে লক্ষ্যবস্তুর নাম না বলা হলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে ছোড়া হয়েছিল। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সম্প্রতি ইরাক ও সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এসব অভিযান ইরাকি সরকারের সমন্বয়েই হয়েছে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ‘বিশ্বের জন্য ক্যানসার’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিতও দেন তিনি। কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ট্রাম্প জানান, সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধ হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা তেহরানের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাবেন এবং সংকট নিরসনের কূটনৈতিক পথ খোলা থাকবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রণালিটির যৌথ তদারকির বিষয়ে ওমানের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান নিজেদের একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, ওমানের প্রস্তাবে তেহরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও নিয়ন্ত্রণের দাবি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তাই ইরান এমন একটি কাঠামো চায়, যেখানে এই কৌশলগত জলপথে তাদের ভূমিকা হবে প্রধান। যদিও ওমান ও ইরান—কোনো পক্ষই তাদের প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতপার্থক্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথ নিয়ে যেকোনো বিরোধ বা উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ইরানের নতুন অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বুধবার প্রধান দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর এএফপির। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক বিরতির পর আবার উত্তেজনা বাড়তে শুরু করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন হওয়ায় এই নৌপথে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। মঙ্গলবার ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলার দাবি করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকমের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে সেন্টকম দাবি করে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তবে সেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। এদিকে বুধবার ইরান জানায়, তারা হরমুজ প্রণালীতে তিনটি তেলবাহী জাহাজ থামিয়েছে। এতে ওই নৌপথে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর এখনও ‘সম্ভাবনা’ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনো বেশ অনিশ্চিত।
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসকে ‘অকর্মণ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তরুণ আন্দোলনকারীদের নিয়ে তার মন্তব্যের জবাবে সৌরভ দাসের সমালোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। নিজের বিভিন্ন অর্জনের কথা উল্লেখ করে কঙ্গনা বলেন, সৌরভ দাসের বর্তমান বয়স ২৮ বছর, আর ওই বয়সে তিনি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। লোকসভার এই সদস্য বলেন, আমি গত দুই বছর ধরে রাজনীতিতে আছি। তবে গত ২০ বছর ধরে জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত। তার বর্তমান বয়সে আমার দুটি জাতীয় পুরস্কার ছিল। নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে অনেক কাজের চাপে ছিলাম। কারণ আমি একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও উদ্যোক্তা। কিন্তু তার মতো সম্পূর্ণ অকর্মণ্য ও বেকার কেউ কখনও বুঝবে না, সব সময় মানুষের চাহিদার কেন্দ্রে থাকার অর্থ কী। বর্তমানে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক। তরুণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঙ্গনার মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়েই তার সমালোচনা করেছিলেন সৌরভ দাস। তিনি বলেন, তার নিজের দলের সদস্যরাও কঙ্গনা রনৌতকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। তাই আমরা কেন দেবো? জেন-জি, জেন-আলফা বা তরুণ প্রজন্মের কেউই তাকে গুরুত্ব দেয় বা তার কথা শোনে বলে আমি মনে করি না। তিনি এখন একজন রাজনীতিক। হিমাচল প্রদেশে নিজের নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে তিনি বলেছিলেন, সংসদ সদস্যের কাজ খুব কম হবে ভেবেছিলেন, পরে বুঝেছেন এতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এ থেকেই তার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এর জবাবে কঙ্গনা সৌরভ দাসকে ‘কোনও একটি দক্ষতা শেখা’ দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, প্রিয় সৌরভ, তোমার সমস্যাগুলো ব্যক্তিগত। তুমি ছাত্র নও। তুমি শুধু অকর্মণ্য। কোনও একটি দক্ষতা শেখা দিয়ে শুরু করো। শুরু করার জন্য এটি ভালো জায়গা। এর আগে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সমালোচনা করে কঙ্গনা বলেছিলেন, বিক্ষোভে ‘অশালীন ভাষা’ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ সমাজের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজে তিনি আন্দোলনের ভিডিওগুলোকে ‘বমি উদ্রেককারী’ বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ভাষা ও আচরণের সমালোচনা করেন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছিল সিজেপির নেতৃত্বাধীন শিক্ষার্থীরা। গত সপ্তাহান্তে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। সূত্র: এনডিটিভি
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার চিন্তাভাবনা ও লক্ষ্য সম্পূর্ণ এক বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকের কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে বলেন, বৈঠকটি চমৎকার ছিল। এটি তাদের মধ্যে হওয়া ‘অন্যতম সেরা বৈঠক’ বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের জোট ও সম্পর্ককে একটি ‘গ্রানাইটের দেয়াল’ হিসেবে বর্ণনা করে নেতানিয়াহু বলেন, এর কারণ হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমাদের একটি যৌথ প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চাই না তেহরানের এই উগ্রপন্থি শাসকগোষ্ঠীর হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক, যা প্রতিটি আমেরিকানকে হুমকি দেবে, বিশ্বের শান্তিকে বিঘ্নিত করবে এবং ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। হোয়াইট হাউসের বৈঠকের মূল বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এক এবং এটি অর্জিত হবেই- তা কূটনৈতিক পন্থাতেই হোক কিংবা অন্য কোনও উপায়ে। তবে আমরা উভয়েই এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। এরপর ইরানও পাল্টা হামলা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন অবকাঠামো ও ঘাঁটিতে হামলা চালায়। তবে তারা মূলত ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়েই হামলাগুলো চালিয়েছিল। কারণ ইরানের কাছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান নেই। এরমধ্যেই প্রায় ৩৫ বছরের পুরোনো দুটি সুখোই-২৪ বিমান নিয়ে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি আল-উদেইদে হামলা চালাতে গিয়েছিলেন ইরানের দুঃসাহসী পাইলটরা। তবে বিমানগুলো আকাশে থাকা অবস্থায় ভূপাতিত করে কাতার। সেই একটি বিমানের পাইলট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমির মরদেহ কাতার থেকে নিজ দেশ ইরানে ফেরত যাচ্ছে। আজ বুধবারই (২৯ জুলাই) তার নিথর দেহ ইরানে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। এরআগে দেশটির কর্মকর্তারা ব্রিগেডিয়ার মাজিদ কাজেমির মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছিলেন। ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের সেই দুটি সুখোই-২৪ বিমান আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল। পুরোনো বিমান নিয়ে ইরানি পাইলটদের কাতারে হামলা চালাতে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারণ কাতারে যেহেতু অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে তাই তারা জানতেন তাদের বিমান যে কোনো সময় ভূপাতিত করা হতে পারে। সেই ঝুঁকি নিয়েও দুঃসাহসিক অভিযানে গিয়েছিলেন তারা। যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের মিসাইলের আঘাতে আল-উদেইদ ঘাঁটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই সময় নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে থাকা সেনা ও বিমান সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলতি মাসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত ১৭ জুলাই চংকিং পৌরসভার পেংশুই কাউন্টিতে এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসে পাহাড়ের পাদদেশ ও নদীতীরবর্তী কয়েকটি আবাসিক ভবন মাটিচাপা পড়ে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ পাথর ও মাটি ধসে একটি আবাসিক এলাকা ও সড়ক পুরোপুরি ঢেকে গেছে। শত শত উদ্ধারকর্মী কয়েক দিন ধরে সেখানে উদ্ধার অভিযান চালান। উদ্ধারকারীরা আগেই জানিয়েছিলেন, ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ প্রায় ৫০ জনের জীবিত থাকার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। গত শুক্রবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ১১। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহ ও দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা এবং পরিচয় শনাক্তের পর আরও ৩০ জনকে মৃত্যু হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে পৌঁছেছে। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশেও আরেকটি ভূমিধসে অন্তত ২১ জন মৃত্যু হয়েছিলেন। সেখানে ৩৩ জন মাটিচাপা পড়েছিলেন।
অমৃতসরি কুলচা, ছোলা কিংবা মশলাদার পাঞ্জাবি থালি; যেকোনও মুখরোচক খাবারের স্বাদ এক চিমটিতে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে বড় এক গ্লাস ঠান্ডা লাচ্ছির জুড়ি নেই। দই দিয়ে তৈরি ও ওপরে ঘন মালাইয়ের আস্তরণ দেওয়া এই পানীয়টি বংশ পরম্পরায় উত্তর ভারতীয় পরিবারগুলোর খাদ্যাভ্যাসের প্রধান অংশ। বর্তমানে পুরো ভারতে বিভিন্ন স্বাদে লাচ্ছি পাওয়া গেলেও একটি নির্দিষ্ট শহর ভারতের ‘লাচ্ছি রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। ঐতিহ্যবাহী খাবারের জন্য বিখ্যাত পাঞ্জাবের অমৃতসরকেই বলা হয় ভারতের লাচ্ছি রাজধানী। অন্যান্য অঞ্চলের পাতলা লাচ্ছির চেয়ে অমৃতসরের লাচ্ছি অনেক বেশি ঘন, সরযুক্ত ও তৃপ্তিদায়ক। ঐতিহ্যবাহী উপায়ে তাজা দই ফেটিয়ে মসৃণ করার পর ওপরে মালাইয়ের ঘন স্তর দিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়। কিছু দোকানে বাদাম কুচি, জাফরান বা এলাচ দেওয়া হলেও এখানকার ক্লাসিক মিষ্টি লাচ্ছিই সবচেয়ে জনপ্রিয়। বড় স্টিলের গ্লাস কিংবা মাটির কুলহাড়ে পরিবেশন করা এই লাচ্ছি শহরের খাদ্য সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অমৃতসরে লাচ্ছি শুধু একটি সাধারণ পানীয় নয়, বরং খাবারের অন্যতম প্রধান সঙ্গী। স্থানীয়রা এটি অমৃতসরি কুলচা, ছোলে, পুর দেওয়া পরোটা, পনিরের পদ কিংবা সমৃদ্ধ পাঞ্জাবি থালির সঙ্গে খেতে ভালোবাসেন। পাঞ্জাবি খাবারের মশলাদার ও ঝাল স্বাদকে দারুণভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করে লাচ্ছির এই ঠান্ডা ও ক্রিমি স্বাদ। অমৃতসরের বেশ কিছু পুরোনো ডেইরি শপ কয়েক দশক ধরে লাচ্ছি বিক্রি করে আসছে। মিষ্টি ক্লাসিক লাচ্ছি ছাড়াও গোলাপের সিরাপ, আম, কেসর ও ড্রাই ফ্রুটস দেওয়া বিভিন্ন স্বাদের লাচ্ছি এখানে পাওয়া যায়। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর ফাঁকে এক গ্লাস ঠান্ডা লাচ্ছি উপভোগ করা অমৃতসরের নিত্যদিনের জীবনের অংশ। এই সমৃদ্ধ ডেইরি ঐতিহ্য ও রেসিপি ধরে রাখার কারণেই অমৃতসরকে ভারতের ‘লাচ্ছি রাজধানী’ বলা হয়। সূত্র: এনডিটিভি
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে ‘চোর’ ও ‘দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী’ বলে কটাক্ষ করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই। তার এই মন্তব্যকে ব্রাজিল সরকার, জনগণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অপমান হিসেবে দেখছে ব্রাসিলিয়া। এ ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্রাজিল, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। শনিবার ব্রাজিলের সাঁও পাওলোতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেন হাভিয়ার মিলেই। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি লুলার নাম উল্লেখ না করলেও তাকে ইঙ্গিত করে ‘চোর’ ও ‘দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী’ বলে মন্তব্য করেন। ২০২২ সালের আগে দুর্নীতির মামলায় লুলার কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনেই তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বক্তব্যে মিলেই ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েসকেও কটাক্ষ করেন। এই বিচারপতিই সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার তদারকি করছেন। সম্প্রতি গৃহবন্দী বলসোনারোর সঙ্গে মিলেইয়ের সাক্ষাতের অনুমতিও তিনি দেননি। এএফপির বরাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্রাজিলীয় কূটনীতিক বলেন, মিলেইয়ের বক্তব্য ব্রাজিল সরকার, জনগণ এবং দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অপমানজনক। রোববার এক অনুষ্ঠানে লুলা সরাসরি মিলেইয়ের নাম উল্লেখ না করে বলেন, অন্য কোনো দেশের নেতা ব্রাজিলে এসে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন-এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ আমেরিকার দুই বৃহৎ অর্থনীতি ও প্রধান বাণিজ্য অংশীদার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এই ঘটনার পর আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, লুলা পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন এবং তিনি সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যার পরিবারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক যোগসূত্র রয়েছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করার কয়েক দিনের মাথায় একটি স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি সামনে এসেছে। ছবিতে সৌদি আরবের জাজান তেল শোধনাগার থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তাঁদের গোষ্ঠী জাজান ও ইয়ানবু—উভয় স্থানেই আরামকোর স্থাপনায় সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলের চলমান সংঘাত যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ফেলছে, এই হামলা তারই সর্বশেষ প্রমাণ। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইআর (IR)-এর একটি মেমো অনুযায়ী, জাজান শোধনাগারটিতে প্রতিদিন চার লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধন করা হয়। হুথিদের হামলায় শোধনাগারটি এতটাই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, গত ২৭ জুলাই এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় আরামকো কর্তৃপক্ষ।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে আবারও ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ডাক দেয়ার হুমকি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। টানা দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কেন্দ্র সরকারকে এই কড়া হুঁশিয়ারি দিল দলটির নেতৃত্ব। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি পুলিশকে পূর্ববর্তী এফআইআরগুলোর তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। প্রশাসন সেই সুযোগ নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নতুন করে হয়রানি চালাতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া বেশ কিছু আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, শান্তিকামী কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দেন, যেসব শিক্ষার্থীর কোনো পূর্ব অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তবে একই নির্দেশনায় আদালত এ-ও উল্লেখ করে যে, নিবন্ধিত এফআইআরগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে পুলিশ, যদিও কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, কেন্দ্র সরকারের এই অবস্থান শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বরখেলাপ। তিনি জানান, গত ২৫ জুলাই সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর তুলে নেওয়া হবে এবং কোনো আন্দোলনকারীকে নিশানা করা হবে না। সেই সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখেই সিজেপি তাদের দেশব্যাপী বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেছিল। সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, আদালতের শুনানির সময় সরকারি আইনজীবীরা এই চুক্তি বা আশ্বাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি জানাননি, যা অত্যন্ত সন্দেহজনক। সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে যদি শিক্ষার্থীদের হয়রানি অব্যাহত রাখা হয়, তবে রাজপথকেই আবারও আন্দোলনের মূল হাতিয়ার করে নেওয়া হবে। সূত্র: এনডিটিভি
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোস্ট করা একটি সেলফি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলার পর তা পুনরায় বহাল করে ক্ষমা চেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট ‘মেটা’। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে মুছে গিয়েছিল। এই সাময়িক বিভ্রাটের ঘটনাটি অত্যন্ত ‘গম্ভীরভাবে’ নিয়েছে ভারত সরকার। ঠিক কী কারণে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা দিতে মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটা এবং ইনস্টাগ্রামের বৈশ্বিক প্রধানদের কাছে সমন পাঠিয়েছে। এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র বলেন, ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছিল। আন্দোলনের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী মোদী সরাসরি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি সেলফি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন। ওই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষার অনিয়মের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা যখন দেশজুড়ে আন্দোলন তীব্র করে তুলেছিল, ঠিক সেই উত্তাল সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিও বার্তাটি সামনে আসে। তরুণ প্রজন্মের কাছে দ্রুত বার্তা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মাধ্যমের এই সরাসরি সেলফি ফরম্যাটটি নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়।
ইউরোপজুড়ে দাবানলের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে ইউরোপ অঞ্চলে দাবানলের ঘটনা ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে দাবানল আরও ঘন ঘন ও ভয়াবহ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এ গ্রীষ্মে ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, স্পেন ও পর্তুগালে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স ও ইতালিতে আগুন নেভানোর সময় কয়েকজন দমকলকর্মীরও মৃত্যু হয়েছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জুলাই পর্যন্ত ইউরোপে ১ হাজার ২৫৪টি দাবানল শনাক্ত হয়েছে। এসব আগুন থেকে ৮৩ লাখ ১০ হাজার টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়েছে। পর্তুগাল ও স্পেনে চলতি বছর একই সময়ের তুলনায় দাবানলের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ইউরোপীয় বন দাবানল তথ্যব্যবস্থা (ইএফএফআইএস) জানিয়েছে, গত বছর প্রায় ২২ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে যায়। আর চলতি বছরের ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডব্লিউএইচও ইউরোপের আঞ্চলিক পরিচালক হান্স হেনরি পি. ক্লুগে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব আরও উষ্ণ হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ও ভয়াবহ দাবানলের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, দাবানলের ক্ষতি শুধু আগুনে পুড়ে যাওয়া এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আগুনের ধোঁয়া শত শত কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়ে বায়ুদূষণ বাড়ায় এবং হৃদ্রোগ, শ্বাসকষ্ট ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ডব্লিউএইচও সরকারগুলোর প্রতি দ্রুত দাবানল, আবহাওয়া ও বায়ুর মান সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং ধোঁয়ার মধ্যে বাইরে যেতে হলে সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর বোর্দোর মাত্র ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দূরে পৌঁছে গেছে ভয়াবহ দাবানল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শহরের মেয়র থমাস কাজেনাভ। সম্ভাব্য নতুন সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে বিপুলসংখ্যক মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল। তিনি জানান, তাপমাত্রা ও বাতাসের কারণে পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। এ পর্যন্ত ফ্রান্সে ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু জিরোন্দ অঞ্চলে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে এবং ২৪০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। একই সময়ে প্রতিবেশী স্পেনেও ভয়াবহ দাবানল চলছে। মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে আগুনে ১ লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে এবং আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে দেশে ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে এবং ১৩ হাজার ৫০০টির বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। তার মতে, প্রতি ১০টি দাবানলের মধ্যে ৯টিই মানুষের অসাবধানতা বা ইচ্ছাকৃত আগুন লাগানোর কারণে ঘটছে।
তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ১৭টি এলাকায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে জাপানে চরম গরমের পাশাপাশি ভারি বৃষ্টি, ভূমিধস ও বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসন (কেএমএ) সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় দেগু, দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশের গিমহে, মিরিয়াং, ইয়াংসান, উইরিয়ং, জিনজু ও চ্যাংওয়ানসহ নয়টি এলাকা, উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশের গিয়ংসান, পোহাং ও গিয়ংজুসহ ছয়টি এলাকা এবং দক্ষিণ জেওল্লা প্রদেশের গওয়াংইয়াংয়ে সর্বোচ্চ তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করে। কর্তৃপক্ষ জানায়, অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা দৈনিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে এই সতর্কতা জারি করা হয়, যা মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত। সোমবার দুপুরের মধ্যে ইয়াংসানে অনুভূত তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং গওয়াংইয়াংয়ে ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এদিকে দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশে শনিবার আরও ছয়জন তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে গত ১৫ মে থেকে এ পর্যন্ত সেখানে তাপজনিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১২ জনে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গরমে প্রদেশটিতে ১০ হাজার ৫৯৯টি গবাদিপশু ও পোলট্রি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জনগণকে অপ্রয়োজনে রোদে না বের হওয়া, কঠোর শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে জাপানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলেও দেশের অন্য অংশে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে ২৩টিতে হিটস্ট্রোক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, নদীর পানি বৃদ্ধি, ভূমিধস, বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও টর্নেডোর ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বাংলাদেশে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলেছে, এখনও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে লাখো মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে সোমবার দেওয়া এক বার্তায় ডব্লিউএইচও জানায়, বিশ্বে হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি ভাইরাল হেপাটাইটিস বিশ্বে সংক্রামক রোগে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতি বছর এ রোগে আনুমানিক ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যার বেশিরভাগই লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের কারণে। ডব্লিউএইচও জানায়, ভাইরাল হেপাটাইটিসে মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস বি ও সি। নীরবে ছড়িয়ে পড়া এই দুই ধরনের সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হন এবং প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে আনুমানিক ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। ২০২৪ সালে এই অঞ্চলে হেপাটাইটিস বি ও সি-র আনুমানিক ২ লাখ ৬৬ হাজার নতুন সংক্রমণ এবং ২ লাখ হেপাটাইটিস-সম্পর্কিত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ডব্লিউএইচওর মতে, বাংলাদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সক্রিয় হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের হার আনুমানিক ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ ঝুঁকিপূর্ণ ও সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ রোগের বোঝা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এছাড়া হেপাটাইটিস বি এর উচ্চ সংক্রমণের বোঝাও বহন করছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস বি-জনিত মোট মৃত্যুর ৬৯ শতাংশের জন্য দায়ী ১০টি দেশের একটি ছিল বাংলাদেশ। ডব্লিউএইচওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ বলেন, হেপাটাইটিস প্রতিরোধযোগ্য, চিকিৎসাযোগ্য এবং হেপাটাইটিস সি-র ক্ষেত্রে নিরাময়যোগ্য। তবু অনেক মানুষ খুব দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া বা সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার কারণে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসে ডব্লিউএইচও জীবনরক্ষাকারী হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। ডব্লিউএইচও জানায়, জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা (২০২০-২০৩০) প্রণয়ন, জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস বি টিকা কার্যক্রম জোরদার, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ এবং নীতিনির্ধারণে প্রমাণভিত্তিক তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলে বাংলাদেশের অঙ্গীকার দৃশ্যমান হয়েছে। তবে ডব্লিউএইচও বলছে, জনসচেতনতার অভাব, দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসার সীমিত সুযোগ, সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্য এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য অসম স্বাস্থ্যসেবা- এসব কারণে এখনও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। চার অগ্রাধিকার ক্ষেত্র এই বাধা দূর করতে চারটি অগ্রাধিকার খাতে সমন্বিত ও ধারাবাহিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছে ডব্লিউএইচও। সময়মতো জন্ম-পরবর্তী হেপাটাইটিস বি টিকাসহ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন ও ইনজেকশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, রক্তসেবা, এইচআইভি ও যক্ষ্মা কর্মসূচির সঙ্গে হেপাটাইটিস পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা যুক্ত করে সবার জন্য সহজলভ্য করা। বিশেষায়িত হাসপাতালের বাইরে সহজতর হেপাটাইটিস সি চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। হেপাটাইটিস পরীক্ষা, নিশ্চিত সংক্রমণ, চিকিৎসার ফলাফল, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসার সম্পর্কিত তথ্য নিয়মিত সংরক্ষণ ও নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। ডা. আহমেদ জামশিদ মোহাম্মদ বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস মোকাবিলায় বাংলাদেশ দৃঢ় অঙ্গীকার দেখিয়েছে এবং নির্মূলের লক্ষ্যে অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত করার উপযুক্ত অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ডব্লিউএইচও সরকারের প্রচেষ্টায় কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবার বিস্তার, স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং কাউকে পেছনে ফেলে না রাখার লক্ষ্যে এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ডব্লিউএইচওর মতে, বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ভাইরাল হেপাটাইটিসকে জনস্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবে নির্মূল করার সুযোগ আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি। প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবার বিস্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রাণহানি কমাতে, লিভারের রোগের বোঝা হ্রাস করতে এবং ২০৩০ সালের নির্মূল লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। সূত্র: ইউএনবি
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে প্রকাশ্যে মতভেদের পর হোয়াইট হাউজে তাদের এই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক হতে যাচ্ছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধই প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। তবে ওয়াশিংটন এখন বলছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ দিতে চায়। এদিকে এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলেও সেই সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ইসরায়েল অংশ নেয়নি।
ইরানের মতো লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিও নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এমন অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হুতিরা ইরানের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের কৌশল অনুসরণ করতে চাইছে। এতে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, হুতিদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুর্বল প্রতিক্রিয়াই তাদের আরও সাহসী করে তুলেছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন এবং ১২-১৫ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হয়। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। রোববার মাত্র ১১টি পণ্যবাহী জাহাজ এ পথ অতিক্রম করেছে। চলতি মাসের শুরুতে হুতিরা সৌদি আরবগামী ও সৌদি আরব থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। পাশাপাশি দেশটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালায়। এর জবাবে সৌদি আরব হুতি-নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হোদেইদায় বিমান হামলা চালায়। আফরাহ আল-জৌবা বলেন, ইয়েমেন সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, সরকার-নিয়ন্ত্রিত ও হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার সীমান্তে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলছে, তবে এখনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়নি। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানায়া দখল করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি হলেও হুতিরা এখনো রাজধানীসহ দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।