বিশ্ব

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ইউক্রেনীয় সেনারা। ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেনের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ন্যাটোর ৪ দেশ

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ঘোষণা দিয়েছে ন্যাটোর চার সদস্য দেশ।   কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি ও নরওয়ে যৌথভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি নরওয়ে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত ৩০ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।   নরওয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে যেসব দেশের কাছে ইতোমধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেখান থেকেও তা সংগ্রহ করে ইউক্রেনকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইউনাস গার স্তোরে বলেন, ইউক্রেন অধিকাংশ ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। এটিই এখন ইউক্রেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন।   আঙ্কারায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর স্তোরে বলেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে নরওয়ে অতিরিক্ত অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   সূত্র : সিএনএন

মারিয়া রহমান জুলাই ০৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইরাকে শোকযাত্রা শেষে খামেনির মরদেহ ইরানে, দাফন আগামীকাল

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত শোকযাত্রায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে।   শোকযাত্রা শেষে খামেনির মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।   ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তেহরানে তার কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৮, ২০২৬
ফাইল ছবি
গাজায় ঘুমন্ত শিশুদের ওপর ইঁদুরের হামলা

কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হওয়ার পর কেটে গেছে দীর্ঘ আটটি মাস। কিন্তু গাজা উপত্যকার শান্তির বিন্দুমাত্র আভাস নেই। উলটো সেখানে ইসরাইলি হামলা ও চরম অমানবিক বাস্তুচ্যুতির সংকট দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।    অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার মরদেহ নিখোঁজ অবস্থায় পড়ে আছে। আর লাখ লাখ মানুষের আশ্রয়শিবিরগুলোতে এখন বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর। যেগুলো রাতে ঘুমন্ত শিশুদের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করছে।    মঙ্গলবারও ইসরাইলের হামলায় গাজায় একজন নিহত ও ৫ জন আহত হয়। খবর সিএনএনের।    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে বাস্তুচ্যুত। দীর্ঘ আট মাস ধরে তারা অপরিসর, বাতাস চলাচলের অযোগ্য অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় এবং বর্জ্য অপসারণের যন্ত্রপাতি না থাকায় চারপাশ ময়লা ও পয়ঃবর্জ্যরে পানিতে ভেসে যাচ্ছে।    গাজা সিটি একাই এখন ২৫ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনার স্তূপ পরিণত হয়েছে। এই চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ আশ্রয়শিবিরে চর্মরোগ ও মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সেখানে মশা, মাছি, নেকড়ে ও ইঁদুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে।    ‘মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইনিয়ানস’ (গঅচ)-এর জরুরি বিভাগের প্রধান স্যালি সালেহ জানিয়েছেন, বড় বড় ইঁদুর এখন সরাসরি মানুষের ওপর, বিশেষ করে রাতে ঘুমন্ত শিশু, নবজাতক এবং প্রতিবন্ধী মানুষদের ওপর আক্রমণ করছে। অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের ইঁদুরের কামড়ে আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।    শুধু তা-ই নয়, এই ইঁদুরগুলো ত্রাণের চাল-ডালের বস্তা কেটে খাবার নষ্ট করছে। দীর্ঘ দুই বছরের বোমা হামলা ও অবরোধের পর, গত বছরের ১১ অক্টোবর মার্কিন ও ইরানি মধ্যস্থতায় ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে দুই পর্বের একটি চুক্তি সই হয়েছিল।    শর্ত অনুযায়ী গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রিকরণ এবং একটি নতুন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি বা আন্তর্জাতিক বাহিনীর হাতে গাজার শাসনভার হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও এর কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি।  তথাকথিত এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় মৃত্যুর মিছিল থামেনি।    ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় অন্তত ১,০৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩,৪২৯ জনেরও বেশি।   পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চুক্তি সই হওয়ার পর থেকে গাজায় গড়ে প্রতিদিন একটি করে শিশু প্রাণ হারাচ্ছে।    জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গত জুন মাসে তাদের প্রতিবেদনে উলে­খ করেছে, ইসরাইল গাজায় শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে মূলত ‘গণহত্যা’ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইসরাইল এই প্রতিবেদনকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। 

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে নতুন করে তীব্র তাপপ্রবাহের উচ্চ সতর্কতা ডব্লিউএইচও’র

ইউরোপজুড়ে নতুন করে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এতে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে উচ্চ সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিক টাইমস বলছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্তুগাল ও দক্ষিণ স্পেনে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এ অবস্থায় সংস্থাটি জানায়, আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর নতুন একটি শক্তিশালী তাপপ্রবাহ তৈরি হচ্ছে, যা শিগগিরই ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।   এর আগে গতকাল সোমবার ডব্লিউএইচওর ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক হান্স ক্লুগে ৪১টি দেশের প্রতিনিধি, ইউরোপীয় কমিশন এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ থেকে শিক্ষা এবং আসন্ন তাপপ্রবাহ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।   বৈঠকে ক্লুগে বলেন, যেসব দেশে ‘হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ রয়েছে, তারা জুনের তাপপ্রবাহে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পেরেছে এবং জনগণকে তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে।   এদিকে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক হিসাব এবং মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ থেকে ২৮ জুনের তাপপ্রবাহ ছিল ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র।   এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল। হান্স ক্লুগে বলেন, ইউরোপজুড়ে এখনো বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা, গৃহহীন মানুষ এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন বয়স্কদের কাছে পর্যাপ্ত সুরক্ষা পৌঁছানো যাচ্ছে না। এখন আমাদের সামনে দুটি বড় কাজ—সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে যে দুর্বলতাগুলো দেখা গেছে, পরবর্তী তাপপ্রবাহের আগেই সেগুলো দূর করা এবং এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা। যা শুধু চরম গরমে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না, বরং আগে থেকেই প্রস্তুত থাকবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে পুলিশ পোস্টে জঙ্গি হামলা: ৯ পুলিশ ও ১৫ সন্ত্রাসী নিহত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের জিয়ারত জেলায় একটি পুলিশ পোস্টে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় দুই স্টেশন হাউস অফিসারসহ অন্তত নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশটির সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।    হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো এক যৌথ ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র ১৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে, যাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।   স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকার একটি পুলিশ পোস্টে অতর্কিত হামলা চালায়। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সাথে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হলেও একপর্যায়ে হামলাকারীরা ফাঁড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।    জিয়ারতের ডেপুটি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস আচাকজাই নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হামলায় মাঙ্গি ও কাওয়াস থানার এসএইচও এবং অ্যান্টি-টেররিস্ট ফোর্সের ইনচার্জ হেড কনস্টেবল সাইফুল্লাহ শাহাদাত বরণ করেছেন। ঘটনার পর থেকে এখনো পাঁচজন পুলিশ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধারে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে অভিযান চালানো হচ্ছে।   বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা শাহিদ রিন্দ এক বিবৃতিতে জানান, এই কাপুরুষোচিত হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ অভিযান শুরু করে। অভিযানে ১৫ জন খারিজি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।    তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বেলুচিস্তানের শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য সন্ত্রাসীদের ভারী মূল্য দিতে হয়েছে। এই প্রদেশে সন্ত্রাসীদের কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং প্রতিটি হামলার উপযুক্ত ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।   এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কোয়েটা-জিয়ারত মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এর ফলে কোয়েটা-ঝব প্রধান মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং যাত্রী ও পণ্যবাহী শত শত যানবাহন রাস্তার দুপাশে আটকা পড়েছে।   এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।    প্রেসিডেন্ট জারদারি শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বেলুচিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে এবং শান্তির শত্রুদের সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এই হামলাকে ভারতের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তা রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেন, ফিতনা আল-খাওয়ারিজের সন্ত্রাসীরা দেশ ও জনগণের শত্রু এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জকারীদের কেবল মৃত্যুই নিয়তি।   উল্লেখ্য, বেলুচিস্তানে সম্প্রতি পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসেও কিলা আব্দুল্লাহ, পিশিন ও ডুকি জেলায় পুলিশ স্থাপনায় হামলায় একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছিলেন। তবে ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ’, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা প্রায় ৩১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল, যার পরেই আবার এই বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটল।   সূত্র: দ্য ডন।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলায় ইউরোপকে স্বাবলম্বী হওয়ার তাগিদ জেলেনস্কির

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি যত দ্রুত সম্ভব একটি নিজস্ব অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত একটি প্রতিরক্ষা ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি এই তাগিদ দেন।   ইউরোপের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ইউরোপের জন্য এই মুহূর্তে একটি সাশ্রয়ী এবং ব্যাপকভাবে উৎপাদনক্ষম অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রকৃতপক্ষে, এটি আজই দরকার। রাশিয়ার অব্যাহত আকাশপথের হামলা ও হুমকির মুখে ইউরোপের নিজেদের সুরক্ষায় স্বাবলম্বী হওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।   একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন যে চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে ইউক্রেনের জন্য আরও বেশি বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এই সহায়তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে তিনি বুধবার (৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বৈঠকে মিলিত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলেও জানান।   সূত্র: আল-জাজিরা।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ট্রাম্পকে স্বাগত জানান এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত
আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন: ট্রাম্পকে স্বাগত জানালেন এরদোয়ান

ন্যাটোর ২০২৬ সালের দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তাকে স্বাগত জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। খবর আনাদোলু এজেন্সির।   আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে অভ্যর্থনা জানান এরদোয়ান। পরে প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা করবেন।   বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের সমাধিসৌধ আনিতকাবির পরিদর্শন করেন। মার্কিন প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং নীরবতা পালন করেন তিনি।   এবারের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে জোটভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলোর নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে গত বছরের হেগ সম্মেলনে গৃহীত প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডলারের দর শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

মার্কিন ডলারের দর শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে ধীরগতির ইঙ্গিত পাওয়ায় বড় ধরনের পতন হয়নি। এতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে।   সোমবার স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৩ দশমিক ১২ ডলারে নেমে আসে। এর আগে দিনের শুরুতে ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল মূল্যবান ধাতুটি।   অন্যদিকে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়।   আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ বলেন, মার্কিন ডলার সূচক কিছুটা শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ডলারের মূল্য বাড়লে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।   গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুনে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি আগের দুই মাসের কর্মসংস্থানের তথ্যও নিচের দিকে সংশোধন করা হয়েছে। এতে ফেডের আসন্ন বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কমেছে।   বাজার এখন বুধবার প্রকাশিত হতে যাওয়া ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে নজর রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত মিলতে পারে।   সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাজারে প্রায় ৫৭ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।   এদিকে জেপি মরগান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরে প্রত্যাশার তুলনায় স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা দুর্বল থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৪ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।   অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৬৩ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।   সূত্র: রয়টার্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইসলামাবাদের অবরোধের মুখে ভারতের কাছে মানবিক সহায়তা চাইলেন কাশ্মীরি নেতা

কাশ্মীরে প্রতিবাদীদের দমন করতে ইসলামাবাদ রেশন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করেছে জানিয়ে সেখানকার স্থানীয় নেতা আমান খান নয়াদিল্লিকে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।   পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনাভিযান ও অর্থনৈতিক অবরোধের অভিযোগ তুলে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’র (জেএএসি) নেতা সর্দার আমান খান।   কাশ্মীরে প্রতিবাদীদের দমন করতে ইসলামাবাদ রেশন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করেছে জানিয়ে তিনি নয়াদিল্লিকে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।   একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাধারণ মানুষের যেন ভারতে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আমান খানকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। এখানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে, আমাদের আপনাদের সাহায্য দরকার।”   তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন তীব্র হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, যা সেখানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।   রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল সমাবেশে আমান খান উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত কি না। জবাবে সমবেত জনতা বারবার চিৎকার করে বলে, “সামনে এগিয়ে চলুন।”   আমান খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি জনগণের ন্যায্য দাবির জবাব বুলেট দিয়ে দেয়, তবে “আমাদের সামনেও অন্য পথ খোলা আছে।”   একইসঙ্গে তিনি পুঞ্চ ও দোদা সেক্টরে এলওসি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে ৩০ জুনের ওই সমাবেশের ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।   গত মাস থেকে পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে, যাতে ইতিমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।   গত সপ্তাহে ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সমবেত জনতা “পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়” এবং “আমরা স্বাধীনতা চাই” বলে স্লোগান দেয়।   স্থানীয় কিছু সংস্কারের দাবি নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার বা স্বাধীনতার দাবিতে রূপ নিয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রাজনৈতিক সংকট স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ইসলামাবাদের অনুগত ও ‘ক্ষমতাহীন’ আঞ্চলিক প্রশাসনের গভীর দূরত্বকে স্পষ্ট করে তুলেছে। গত ৫ জুন পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তৃণমূল স্তরের এই জেএএসি সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করার পর এই অসন্তোষ আরও তীব্র হয়।   ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাদের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে এই অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকার খর্ব করেছে।   এমনকি ইসলামাবাদে যে দল ক্ষমতায় থাকে, পিওকে ও গিলগিট-বালতিস্তানের নির্বাচনে বরাবরই সেই দল জয়ী হয়, যা কোনো সাধারণ কাকতালীয় বিষয় নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তীব্র তাপপ্রবাহের পর দক্ষিণ ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল

রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের পর ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে দক্ষিণ ফ্রান্স। আগুনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে অন্তত ৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে শত শত দমকলকর্মী ও বিশেষ পানি বর্ষণকারী বিমান।   ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলের সাঁ-মারি-লা-মের এলাকায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাসের কারণে তা দ্রুত পাশের কানেত-অঁ-রুসিওঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।   পাইরেনিস-অরিয়েন্টালস অঞ্চলের প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ৩ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি স্থানীয় তিনটি ক্যাম্পসাইটে অবস্থান করা পর্যটক। আগুন নেভানোর সময় দুই দমকলকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন।   বর্তমানে প্রায় ২০০ দমকলকর্মী, চারটি পানি বর্ষণকারী বিমান এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানিয়েছেন, বুধবার থেকে দেশের বিভিন্ন দাবানল মোকাবিলায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।   বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত জুনে ফ্রান্সে টানা ১১ দিন তাপপ্রবাহ চলেছে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এতে বনাঞ্চল শুকিয়ে গিয়ে দাবানলের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে।   এদিকে দাবানল ও তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবও উত্থাপন করেছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গাজার ২০ শিশুসহ ১০০ ফিলিস্তিনিকে আশ্রয় দিলো স্পেন

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা থেকে গুরুতর অসুস্থ ও আহত ২০ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে চিকিৎসার জন্য স্পেনে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদেরসহ মোট ১০০ জন ফিলিস্তিনি বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন। এটি স্পেনের ষষ্ঠ মেডিকেল ইভাকুয়েশন কর্মসূচির অংশ।   স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে আসা এসব শিশু এখন স্পেনের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবে। তিনি বলেন, তারা ভয় নিয়ে এসেছে, তবে তাদের সঙ্গে নতুন আশাও আছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, কোনো শিশুরই গাজার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হওয়া উচিত নয়। তিনি জানান, চিকিৎসা শেষে এসব শিশুর নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।   গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই স্পেন ইসরায়েলের সমালোচনামূলক অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে, তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে স্পেন ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভারী বৃষ্টির মধ্যে মুম্বাইয়ে ভবন ধসে শিশুসহ নিহত ৬

ভারতের মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে একটি তিনতলা ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই শিশু। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জনতা নগর এলাকায় ভবনটির দুই থেকে তিনটি বসতঘর হঠাৎ ধসে পড়ে। খবর পেয়ে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল, পুলিশ ও পৌরসভার উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা আহতদের রাজাওয়াড়ি ও শতাব্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। শতাব্দী হাসপাতাল জানায়, সেখানে নেওয়া পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩২ বছর বয়সী এক নারী এবং ২ থেকে ১৪ বছর বয়সী চার শিশু রয়েছে।   অন্যদিকে রাজাওয়াড়ি হাসপাতাল জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত বছর বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টানা ভারী বর্ষণের কারণেই ভবনটি ধসে পড়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযানও রাতভর অব্যাহত ছিল।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির শেষবিদায়ে মানুষের ঢল, তেহরান মেট্রোতে রেকর্ড ৭০ লাখ যাত্রীর যাতায়াত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী তেহরানের মেট্রোতে রেকর্ডসংখ্যক যাত্রীর যাতায়াত হয়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে রোববারের মধ্যে মেট্রো নেটওয়ার্কে ৭০ লাখের বেশি যাত্রা নিবন্ধিত হয়েছে।   রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আয়োজিত শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মেট্রো ব্যবহার করেন। এ কারণে দুই দিনের ব্যবধানে যাত্রীসংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন বলে ইরান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।   নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও চলমান সংঘাতের কারণে তার দাফন ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠান কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ০৬, ২০২৬
ফিলিস্তিনি শিশু। ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ২০ শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিল স্পেন

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনের ২০ শিশুকে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চিকিৎসার জন্য আশ্রয় দিয়েছে স্পেন। দেশটির চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর কর্মসূচির আওতায় তাদের স্পেনে নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় শিশুদের বিভিন্ন স্প্যানিশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে।   স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, এসব শিশু নৃশংসতাকে পেছনে ফেলে আমাদের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে এসেছে।   তিনি বলেন, তারা ভয় নিয়ে এসেছে, তবে সঙ্গে আশা নিয়েও এসেছে এবং তাদের আগমনকে জাতীয় গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।   স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, কোনো মানুষ, বিশেষ করে কোনো শিশুরই গাজায় চলমান বিভীষিকার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়।   তিনি জানান, বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ২০ শিশুসহ মোট ১০০ জন ফিলিস্তিনিকে আশ্রয় দিয়েছে স্পেন। তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাকে তিনি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।   মূলত গাজায় চলমান যুদ্ধের বিরোধিতার অংশ হিসেবেই স্পেনের এই উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিতের আহ্বান, তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।   ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই মাদ্রিদ ও তেল আবিবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপর উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধ আরও গভীর হয়।   সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর

মারিয়া রহমান জুলাই ০৬, ২০২৬
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আলোচিত প্রার্থীরা
২০২৭ সালের ফরাসি নির্বাচন: আলোচনার কেন্দ্রে অভিবাসন নীতি

ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ফ্রান্সে এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নয় বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতি, অর্থনৈতিক দিক নির্দেশনা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টানা দুই মেয়াদ পূর্ণ করায় সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে ক্ষমতার শীর্ষ পদে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার জন্য ফ্রান্স এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান, কৌশল এবং নীতিগত অগ্রাধিকার পুনর্গঠন করছে।   ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সাধারণত দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফা ভোট হয়। সেই ভোটেই চূড়ান্তভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এই কাঠামো ফ্রান্সের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল এবং বহুমাত্রিক করে তোলে।   বর্তমান সাংবিধানিক সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম দফা ভোট ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ভোট ২ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা এবং জরিপভিত্তিক বিশ্লেষণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।   নির্বাচনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অভিবাসন ইস্যু। ফ্রান্সে দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়।    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ জুড়ে অভিবাসন প্রবাহ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এই ইস্যুকে আরও জোরালো করেছে।   সরকারি পর্যায়ে ইতোমধ্যেই অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা দেখা গেছে। ভিসা প্রক্রিয়া আরও যাচাইভিত্তিক করা, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি এবং অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে।    ইউরোপীয় বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় বরং রাজনৈতিক চাপ এবং জনমতের প্রতিফলনও।   এই প্রেক্ষাপটে ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তি ন্যাশনাল র‍্যালি অভিবাসন ইস্যুকে তাদের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ডা হিসেবে সামনে এনেছে। দলটি নতুন অভিবাসন কমানো, পরিবার পুনর্মিলনের শর্ত কঠোর করা, নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া আরও জটিল করা এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।    তাদের যুক্তি অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সামাজিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ন্ত্রণে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন।   অন্যদিকে মধ্যপন্থি রাজনৈতিক শিবির তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার কথা বলছে। তারা দক্ষ কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বৈধ অভিবাসীদের জন্য ফ্রান্সের শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার পক্ষে, তবে একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করছে। বামপন্থি দলগুলো আবার অভিবাসনকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রম অধিকারের ওপর জোর দিচ্ছে।   রাজনৈতিক অঙ্গনে ডানপন্থি শিবিরের নেতৃত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মেরিন ল্য পেন বর্তমানে একটি আইনি আপিল প্রক্রিয়ার রায়ের অপেক্ষায় আছেন। ওই রায়ের ওপর নির্ভর করছে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না। যদি আদালত তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে, তাহলে দলটির সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে জর্দান বারদেলার নাম সামনে আসছে।   এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ফ্রান্সের নির্বাচনি সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রার্থী নির্ধারণ এবং দলীয় কৌশল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট হবে না।   ফ্রান্সে বসবাসরত অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও এই নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ ও আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে রেসিডেন্স পারমিট, নাগরিকত্ব, পরিবার পুনর্মিলন এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে।    তবে প্রশাসনিক সূত্রগুলো স্পষ্ট করে বলছে, বর্তমানে কার্যকর অভিবাসন নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো পরিবর্তন হলে তা আইন প্রণয়ন, সংসদীয় অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।   বিশ্লেষকদের মতে ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয় বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি কাঠামো নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীন ও রাশিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া

আগামী সপ্তাহে চীনের উপকূলীয় শহর চিংদাওয়ের জলসীমা ও আকাশসীমায় যৌথ মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনী। রবিবার (৫ জুলাই) চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   এক বিবৃতিতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘মহড়া শেষ হওয়ার পর উভয় পক্ষের কয়েকটি যৌথ দল সামুদ্রিক টহল পরিচালনা করতে প্রশান্ত মহাসাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হবে। যৌথভাবে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই মহড়ার লক্ষ্য।’   রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, এই মহড়ায় অংশ নিতে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের একটি ক্রুজার, একটি কর্ভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ইতোমধ্যে ছিংদাও উপকূলে পৌঁছেছে।   আগামী ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এই যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে তারা।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৫, ২০২৬
ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে খামেনি হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার থেকে ইরান কখনো পিছু হটবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি।   রোববার (০৫ জুলাই) তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় জানাজার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।   আমির হাতামি বলেন, যারা এই অপরাধ করেছে, তারা জেনে রাখুক ইরানের জনগণ এবং আমরা কখনো ন্যায়বিচারের দাবি ও প্রতিশোধের অনুসন্ধান থেকে সরে আসব না। আমরা তাদের ছেড়ে দেব না। এটি আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং ফল না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এই পথেই থাকব।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজের কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। হামলায় তার মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ, ৪ বছরের নাতনি এবং ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাও নিহত হন।   এর জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পাশাপাশি ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ বারবার বলেছে, খামেনির হত্যার চূড়ান্ত ও নির্ধারক প্রতিশোধ এখনো বাকি রয়েছে।   উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষ তেহরানের মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছেন। তিন দিনের শোকযাত্রা শেষে বৃহস্পতিবার তার জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।   সূত্র : প্রেস টিভি

মারিয়া রহমান জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ধেয়ে আসছে ‘অতি বিপজ্জনক’ টাইফুন বাভি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন বাভি। রোববার থেকেই বাসিন্দারা জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে তাণ্ডব চালাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, সোমবার ভোরে টাইফুনটি ঘণ্টায় প্রায় ২৬০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানতে পারে। দমকা বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৩১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য। সংস্থাটি একে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে সতর্ক করেছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাইফুনের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, উপকূল প্লাবিত হওয়া এবং সর্বোচ্চ ৩৫ ফুট উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হতে পারে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের আগে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সুরক্ষিত করার কাজে ব্যস্ত। অনেকেই জানালায় প্লাইউড লাগাচ্ছেন, আবার অনেকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা হোটেলে চলে যাচ্ছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। গুয়ামে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার এবং নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষদের সরিয়ে নিতে গুয়ামে পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা) আগেই সেখানে জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, জেনারেটর ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী মজুত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং শুরু হওয়া এল নিনো পরিস্থিতির কারণে প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়গুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬
লাখো মানুষের সমাগমে খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়, অনুষ্ঠিত হলো খামেনির প্রথম জানাজা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।   প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের একজন আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি।   এই জানাজায় ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানিও জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।   রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এই বিশাল শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র একটা আঘাতেই ওদের সবাইকে হত্যা করা সম্ভব, ইরান নিয়ে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে এক জায়গায় অবস্থান করলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে না। কারণ, তা করলে ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য কাউকে পাওয়া যাবে না।   শনিবার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওরা সবাই এখন এক জায়গায় হাজির হয়েছে। মাত্র একটা আঘাতেই ওদের সবাইকে হত্যা করা সম্ভব। কিন্তু আমরা তা করছি না। কারণ সেটা করলে আলোচনার টেবিলে বসার মতো আর কাউকে খুঁজে পাব না।   ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ আলোচনায় সাময়িক বিরতি নিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ও শোক দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তিনি ভেবেছিলেন খামেনিকে দেশের মানুষ অপছন্দ করত। তবে পরে যোগ করেন, কে জানে, ওগুলো হয়তো লোকদেখানো কান্না।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির শেষবিদায়ে ওগুলো লোকদেখানো কান্না: ট্রাম্প

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষবিদায়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ ও শোক প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।    তার দাবি, খামেনিকে দেশের মানুষ ঘৃণা করত। তাই শেষকৃত্যে দেখা যাওয়া কান্না-শোক কতটা আন্তরিক, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।   শনিবার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমার ধারণা ছিল, মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করত। কে জানে, ওগুলো হয়তো লোকদেখানো কান্না।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। তার দাবি, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষই আলোচনায় সাময়িক বিরতি নিয়েছে।   এদিকে খামেনির শেষবিদায়ে অংশ নিতে ইরানজুড়ে লাখো মানুষ তেহরানে জড়ো হয়েছেন এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৫, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে নেইমার-ভিনিসিয়াস। ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

পুরো ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত নেইমার, জানালেন আনচেলত্তি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬