বিশ্ব

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন বাহিনীর চাপে গতিপথ বদলাতে বাধ্য ৮৪ জাহাজ

ইরানের ওপর চলমান নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ৮৪টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।   মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, অবরোধ কার্যকরের সময় ৩টি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপকে ‘নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করার’ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।   রোববার সেন্টকমের হিসাবে ৮৩টি বাণিজ্যিক জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা, তিনটি জাহাজ অচল করা এবং দুটি জাহাজে ওঠার তথ্য ছিল। অর্থাৎ গত ৪৮ ঘণ্টায় আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে মার্কিন বাহিনী।   এদিকে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩১ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর আঘা হানবে।   তিনি বলেন, আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব। এর জবাব দেওয়া হবে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের ছোড়া বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনায় আঘাত হানবে না’ বলে শনাক্ত করা হয়েছিল এবং সেটিকে আকাশসীমা দিয়ে যেতে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।   এর আগে সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, জর্ডানের কিং হুসেইন ও আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।   আইআরজিসির দাবি, রোববার হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলার জবাব হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই হামলার লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহনপথে সমুদ্র মাইন স্থাপনের চেষ্টা ঠেকানো। সূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে কমল রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুগুলোর দামে পতন দেখা গেছে। মঙ্গলবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমেছে।   একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৬৬ দশমিক ৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমেছে।   প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৬৯.২৪ ডলারে নেমে এসেছে। এটি ১৯ আগস্টের পর স্বর্ণের সর্বনিম্ন দাম।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে জোড়া সামরিক অভিযান, প্রাণ গেল ২৭ জনের

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে পৃথক দুটি সামরিক অভিযানে ২১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এসব অভিযানে ছয়জন নিরাপত্তাকর্মী ও কাস্টমস বিভাগের এক সরকারি কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।   মঙ্গলবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার একটি প্রধান মহাসড়কে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে অবৈধ চেকপোস্ট বসিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া ১১ জন সন্ত্রাসীকে প্রথম অভিযানে হত্যা করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   একই রাতে পৃথক আরেক অভিযানে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ১০ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী। তাদের একটি কাস্টমস কমপ্লেক্সে হামলা চালানোর চেষ্টা ঠেকাতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।   সেনাবাহিনীর দাবি, বন্দুকযুদ্ধের সময় দুই সেনা কর্মকর্তা ও আরও চার নিরাপত্তাকর্মী এবং কাস্টমস বিভাগের এক সরকারি কর্মকর্তাও নিহত হন।   এলাকায় আরও কোনো সন্ত্রাসী অবস্থান করছে কি না তা খুঁজে দেখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। এসব হামলার জন্য ইসলামাবাদ প্রতিবেশী ভারত ও আফগানিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসীদের দায়ী করে আসছে। তবে নয়াদিল্লি ও কাবুল উভয়েই পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শর্ত পূরণ করলেই মক্কা জোটে যোগ দিতে পারবে নতুন দেশ

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ বা মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে ভবিষ্যতে অন্য দেশকেও যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। তবে নতুন কোনো দেশকে সরাসরি সদস্য করা হবে না। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত, নিয়ম ও মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।   সোমবার (৩১ আগস্ট) ইস্তাম্বুলে মক্কা চুক্তির আওতায় গঠিত স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির প্রথম বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।   তিনি বলেন, জোট অন্য যে কোনো দেশের অংশীদারত্ব ও অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। তবে সম্ভাব্য সদস্যদের জন্য কিছু শর্ত, নিয়ম ও মানদণ্ড থাকবে।   নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো দেশের নাম ঘোষণা করা হয়নি। বরং ফিদানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আগে তিন দেশের জোটকে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   তিনি বলেন, কোনো মিত্র দেশ জোটে যোগ দিতে চাইলে তার আগে জোটটির কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার মতো কাঠামো তৈরি করতে হবে। তবে ভবিষ্যতে জোটটি সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।   ইস্তাম্বুলের বৈঠকেই জোটটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’।   জোটের কাজ পরিচালনার জন্য সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম তিন বছরের জন্য এই সচিবালয়ের মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধি।   বৈঠকে তিন দেশ যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা এবং যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের বিষয়েও কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   অন্য জোটের সঙ্গে সম্পর্কও থাকবে মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্সে নতুন দেশ যুক্ত হলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অন্য আন্তর্জাতিক চুক্তি বা জোটের প্রতি দায়িত্ব বাতিল হবে না।   হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন, নতুন জোটে অংশগ্রহণের কারণে সদস্য দেশগুলোর বিদ্যমান অন্য চুক্তি বা জোটের দায়িত্ব শেষ হবে না।   এ ছাড়া ফিদান বলেছেন, মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত নয়।   অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে জোটটি কাজ করবে। সূত্র: ডন

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াবে ভারত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হামলার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।   সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকিয়ানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি জানান, ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব জোরদারে তিনি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্য আরও প্রসারিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৭০৩ কোটি ডলারের বাণিজ্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমে মাত্র ১৬৩ কোটি ডলারে নেমে আসে। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চালু করে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।   ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জানান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে যে বাণিজ্য চলছে তা মূলত বেসরকারি খাতে পরিচালিত এবং এর প্রভাব নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।   চাবাহার বন্দর সম্পর্কে পররাষ্ট্র সচিব জানান, কৌশলগত এই সমুদ্রবন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং যৌথভাবে টেকসই উপায় খুঁজে বের করতে আলোচনা চলছে।   আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোদি বলেন, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এছাড়া সংঘাতময় পরিস্থিতিতে অন্তত ১৩ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান মার্কিন যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য কূটনীতিই একমাত্র পথ। আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে পেজেসকিয়ানকে ভারতে আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি।   সূত্র: দ্য ওয়ার

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ভারতের সাহায্য চাইলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ভারতের আরও জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনও যুদ্ধকে স্বাগত জানায়নি এবং চলমান সংঘাত ইরান, এই অঞ্চল কিংবা মানবতার কারও স্বার্থেই কাজ করছে না।   কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) এবং ‘সাংহাই প্লাস’ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। খবর তাসনিম নিউজ’র।   সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের যুদ্ধে ইরানের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তিনি নয়াদিল্লিকে ধন্যবাদ জানান এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার প্রশাসনের শুরু থেকেই ইরানের নীতি ছিল শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করা। তবে তিনি বলেন, কূটনৈতিক পদ্ধতির পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধ, নিরাপত্তাহীনতা এবং শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার পথ’ বেছে নিয়েছে।   পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান ‘কখনও যুদ্ধকে স্বাগত জানায় না।’ তিনি বলেন, ইরানি জনগণকে বিপদ ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে রক্ষা করা এবং শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব।   তিনি আরও বলেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের জন্য সম্পাদিত চুক্তিগুলোর আওতায় ইরান তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার দায়বদ্ধতা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তা সত্ত্বেও তেহরান এখনো একটি চুক্তি ও পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।   পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের স্বার্থে নয়, এই অঞ্চলের স্বার্থেও নয় এবং মানবতার স্বার্থের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তি ও বাস্তববোধ নির্দেশ করে যে আমাদের যুদ্ধ ও যুদ্ধংদেহী মনোভাব এড়িয়ে চলা উচিত। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কিছু গোষ্ঠী সংঘাত অব্যাহত রাখার মধ্যেই নিজেদের স্বার্থ দেখতে পায়। তিনি শান্তির পক্ষে প্রচেষ্টা জোরদার এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।   পেজেশকিয়ান ভারতের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অবস্থান এবং ইরানের সঙ্গে দেশটির গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি মোদিকে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের ‘যুদ্ধ ও রক্তপাত’ থেকে সরে এসে সংলাপ ও সমঝোতার দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, অঞ্চল ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুক্তিবাদী শক্তিগুলোর আকাঙ্ক্ষা হলো শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বস্তি এবং যুদ্ধ এড়িয়ে চলা। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হলো সংলাপ ও সহযোগিতা।   পেজেশকিয়ান সব ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে ইরানের প্রস্তুতির কথাও জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের ব্যাপক সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।   তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা তেহরান ও নয়াদিল্লির সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ইরানের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করার চেষ্টা করলেও তেহরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জোর দিয়ে জানান।   অন্যদিকে, মোদি পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে ভারত ইরানের সঙ্গে তার সহযোগিতা ও যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।   শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে পেজেশকিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মোদি তাকে একজন শান্তিপ্রিয় নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পেজেশকিয়ানের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।   ভারতের প্রধানমন্ত্রী পেজেশকিয়ানের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, কিছু গোষ্ঠী যুদ্ধ অব্যাহত রাখার মধ্যেই নিজেদের স্বার্থ দেখতে পায়। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, শেষ পর্যন্ত শান্তি ও নিরাপত্তাই প্রতিষ্ঠিত হবে।   দুই নেতা পরিবহন ও সামুদ্রিক সহযোগিতা, হরমুজ প্রণালী-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং চাবাহার বন্দরে সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।   তারা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং ইরান ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করতে বিদ্যমান সক্ষমতাগুলো কাজে লাগানোর গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির ভবিষ্যৎ কী

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হুমকি প্রতিরোধ এবং মিত্রদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় এসব ঘাঁটি ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির পর ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে আলোচনা থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে কমসংখ্যক সেনা মোতায়েন কিংবা কিছু সামরিক সক্ষমতা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আরও পশ্চিমে সরিয়ে নেওয়ার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।   ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ঘাঁটি বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল ও এর আশপাশে অন্তত ২০টি সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর মধ্যে কাতারের আল-উদেইদ, বাহরাইনের নৌসদর দপ্তর, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও ক্যাম্প বুহরিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের হামলায় অন্তত ১৫টি মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটির রাডার ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, বাহরাইনের নৌসদর দপ্তর, গুদাম ও যোগাযোগ অবকাঠামো এবং কুয়েতের বিমান ও লজিস্টিকস-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এর মধ্যে রয়েছে। এতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর প্রচলিত প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এসব ঘাঁটি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে দেশগুলোকে ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকির মধ্যেও ফেলেছে। তবে মার্কিন সহায়তায় গড়ে ওঠা সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিবর্তনের আভাস সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক রাবদান সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টিয়ান আলেকজান্ডারের মতে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রচলিত প্রতিরোধ কৌশলের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সুরক্ষিত অবকাঠামো, বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরক্ষা এবং বিকল্প সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। তার মতে, স্বাগতিক দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে রক্ষা করবে—এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট রাজনৈতিক সমঝোতাও প্রয়োজন। এদিকে, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির দুর্বল সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে নিজেদের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে দেখে এসেছে। এসব ঘাঁটির সংখ্যা কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের কৌশল নতুন করে বিবেচনা করতে পারে।   বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জিসিসির সমন্বিত সামরিক কমান্ড, যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও সামরিক মহড়ার পাশাপাশি তুরস্ক, ইউরোপ, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সাম্প্রতিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মতো নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে মার্কিন সামরিক ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সক্ষমতা ও অবকাঠামোর বিকল্প তৈরি করা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য কঠিন হবে।   কমতে পারে মার্কিন ঘাঁটির ওপর নির্ভরতা চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো আহমেদ আবুদুহ মনে করেন, সংঘাত শেষ হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে নিউ লাইনস ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসির বিশ্লেষক ডানিয়া আরায়েসির মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিনিয়োগ কমতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অঞ্চল থেকে সরে যাবে। তার মতে, ভবিষ্যতে সরাসরি বড় সংখ্যক সেনা মোতায়েনের পরিবর্তে সামরিক প্রশিক্ষণ, অংশীদারত্ব, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। এক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক জোট শক্তিশালী করার পাশাপাশি অস্ত্রের উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে।   চীনেরও বাড়তে পারে ভূমিকা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিবর্তন এলে চীনের ভূমিকাও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতার উদাহরণ সামনে এনে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তেহরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপেও বেইজিং ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পাকিস্তান, ওমান, ইরাক কিংবা কাতারের মতো দেশও সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প এখনো নেই তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে—এমনটা মনে করছেন না অনেক বিশেষজ্ঞ। ক্রিস্টিয়ান আলেকজান্ডারের মতে, গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিকস, নৌ ও বিমান শক্তি, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্বব্যাপী সামরিক শক্তি দ্রুত প্রয়োগের যে সমন্বিত সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিকল্প বর্তমানে কোনো দেশের হাতে নেই। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সামরিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম।   সম্ভাব্য ‘বিকেন্দ্রীভূত প্রবেশাধিকার’ মডেল বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে বিশাল ও স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পরিবর্তে ভবিষ্যতে ‘বিকেন্দ্রীভূত প্রবেশাধিকার’ মডেল চালু হতে পারে। এতে স্থায়ীভাবে বিপুলসংখ্যক সেনা রাখার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমিক সেনা মোতায়েন, বিভিন্ন দেশে সামরিক সরঞ্জাম আগে থেকেই মজুত রাখা, যৌথ সামরিক সুবিধা ব্যবহার, নৌ ও বিমান শক্তির দ্রুত প্রয়োগ এবং বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকতে পারে। এর পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজস্ব বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। এমন ব্যবস্থা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন তার সামরিক প্রবেশাধিকার ও প্রতিরোধ সক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোও নিজেদের নিরাপত্তায় আরও বেশি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অর্জন করতে পারবে। সব মিলিয়ে, ইরানের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে, তা শুধু ঘাঁটি সরানো বা সেনা কমানোর প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উপসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব, ইরানের আঞ্চলিক ভূমিকা এবং চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর সম্ভাব্য উত্থান। ফলে এই পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ভারতীয়দের বিদেশে বিয়ে-ভ্রমণ ও স্বর্ণ কেনা বন্ধের আহ্বান নরেন্দ্র মোদির

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থার চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি, ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দুর্দান্ত অর্থনৈতিক অর্জনে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘স্বদেশী’ পণ্য ব্যবহারের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। খবর এনডিটিভি।    কিরগিজস্তান সফরকালে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় এড়াতে বিদেশে ঘুরতে যাওয়া, বিদেশে বিয়ে আয়োজন এবং অপ্রয়োজনে স্বর্ণ কেনা বন্ধ করার আহ্বান জানান।   ‘বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, তবুও দ্রুত এগোচ্ছে ভারত’    সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, “বিশ্ব আজ যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে। চারদিকে কেবল যুদ্ধের খবর ও সংকট। ২০২০ সালের কোভিড পরবর্তী সময় থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে কোনও স্থায়িত্ব নেই। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের এই দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়া ১৪০ কোটি মানুষের কঠোর পরিশ্রম ও যৌথ শক্তির প্রতিফলন।”    ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ ও স্বদেশী পণ্যের তাগিদ    জিডিপি-র শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে মোদি বলেন, “পর্যটনের জন্য বিদেশে যাবেন না। বিদেশে গিয়ে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং আয়োজন করা বন্ধ করুন। আমাদের ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ (ভারতেই বিয়ে) মন্ত্র মেনে চলতে হবে। এছাড়া প্রয়োজন না থাকলে স্বর্ণ কেনা এড়িয়ে চলুন।”    তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “সাধারণ মানুষ যত বেশি স্থানীয় (লোকাল) পণ্য ও সেবা গ্রহণ করবে, ভারত তত দ্রুত উন্নত দেশের অভিমুখে ধাবিত হবে। বিশ্ব সংকটের মুখে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘ভোকেল ফর লোকাল’ নীতি মেনে চলার তাগিদ দেন। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপনের সময় আজকের যুবসমাজকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘উন্নত ভারত’ উপহার দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
প্রধান শিক্ষকের সিদ্ধান্তে বেঁচে গেলো ১৬৪৩ নেপালি শিশুর প্রাণ

নেপালের নুওয়াকোট জেলায় প্রলয়ঙ্করী পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার মুখে তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক।   স্থানীয় ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক স্কুলের ৪৭ বছর বয়সী প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি আকস্মিক বন্যা ধেয়ে আসার খবর পাওয়ার পরপরই কালবিলম্ব না করে স্কুলে ছুটির ঘণ্টা বাজান এবং সব শিক্ষার্থীকে ক্লাসরুম থেকে বের করে উঁচু পাহাড়ের দিকে পাঠিয়ে দেন।   তাঁর এই তাৎক্ষণিক ও বিচক্ষণ পদক্ষেপে পাহাড়ি উঁচু স্থানে এক বোধি গাছের নিচে আশ্রয় নিয়ে শত শত শিশু নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেও, কাদা, পাথর ও চূর্ণবিচূর্ণ বরফের তীব্র তোড়ে গুঁড়িয়ে গেছে তিনতলা স্কুল ভবনসহ আশপাশের নানা স্থাপনা ও সেতু।   তবে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত করা সম্ভব হলেও দুর্ভাগ্যবশত স্কুলের সামাজিক ইতিহাসের শিক্ষক সন্তোষ পরিয়ার এবং মূল ফটক বন্ধ করতে যাওয়া দারোয়ান সুলতান লামা পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গ থেকে বিশাল পরিমাণ বরফ ও ধস লহেন্দে খোলা নদীর ওপর আছড়ে পড়লে এই আকস্মিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। ভয়াবহ এই বন্যায় নেপাল ও তিব্বতজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে চলেছে।   নেপালে এখন পর্যন্ত ৭৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী তিব্বত সীমান্তে অন্তত ১৬ জন নিহত ও ৫৪৬ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে চীন কর্তৃপক্ষ।   এই বিপর্যয়ে অঞ্চলের একাধিক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং একটি সুরঙ্গের ভেতর প্রায় একশ জন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে তাঁদের জীবিত উদ্ধারে সেনাসদস্যসহ উদ্ধারকারী দলগুলো উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। আটকা পড়া শ্রমিকদের শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে নেপালি সেনাবাহিনী বিশেষ পাইপের মাধ্যমে ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুরঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ বাতিল করলো কাতারএনার্জি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকায় কাতারএনার্জি ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের জানিয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) কার্গো বাতিলের ঘটনা অব্যাহত থাকবে।   ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   ব্লুমবার্গ শুক্রবার জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে কাতারএনার্জি পাকিস্তানের ক্রেতাদের জানিয়েছে যে এলএনজি কার্গো বাতিলের ঘটনা অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের জন্য এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরের পরও বাড়ানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের আরও কয়েকজন ক্রেতাও একই ধরনের নোটিশ পেয়েছেন।   ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে কাতারএনার্জি তাদের এলএনজি সরবরাহ স্থগিত রাখার সময়সীমা নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়িয়েছে।   এডিসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের জানিয়েছে এপ্রিলের শুরু থেকে কার্যকর থাকা ফোর্স মেজরের মেয়াদ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়বে।   এডিসনের হিসাবে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি কার্গোর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টি। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিজেদের দায়বদ্ধতা পূরণের জন্য তারা বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে।   এদিকে কাতারের এলএনজি রফতানি এখনও মারাত্মকভাবে সীমিত থাকার মধ্যেই কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরানে ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দোহা পরিস্থিতির উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৪ মার্চ কাতারএনার্জি প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ফোর্স মেজর ঘোষণা করে। এরপর মার্চে কাতারএনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানান, রাস লাফানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।   জুলাই মাসে কাতারের এলএনজি ট্যাংকার আল রেকায়্যাত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। কাতার এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। জাহাজটির বাম পাশের অংশে আঘাত লাগে এবং পরে এর ক্রু সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ইরানে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা নেই: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।    সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নাকচ করছেন কি না।   জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সাধারণত এ বিষয়ে এমন কিছু বলি না, তবে উত্তর হলো—হ্যাঁ। এর কোনো কারণ নেই। কী অযৌক্তিক প্রশ্ন!’   ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত। আর এখন আমি তাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব? কী অযৌক্তিক প্রশ্ন!’   ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলো। এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেননি।   সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
প্রতি রাতে ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রতিদিন রাতে প্রায় ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে চীন এখনো নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।   এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে ইরান যাতে আবার রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই সীমিত হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   এদিকে সোমবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি ঘটনার খবর তারা পেয়েছে। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: শাফাক নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা সীমিত করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর সীমিত হামলার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ নিয়ে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।   তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আবারও সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। এসব ব্যবস্থা ধ্বংস করতেই নিয়মিত ছোট পরিসরে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম।   যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যেন তেলবাহী জাহাজ, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ও সামরিক বিমানকে হুমকি দিতে না পারে। এ জন্য ইরানের সামরিক স্থাপনায় মাঝে মাঝে হামলা চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।   যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করছেন বলে জানা গেছে। তবে সর্বশেষ উত্তেজনা তৈরির আগে ট্রাম্প এতে অনুমোদন দেননি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের সামনে সব ধরনের বিকল্পই খোলা রয়েছে।   ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়ার একটি কারণ হলো, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান আবারও ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ব্যবস্থা মেরামত ও পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে একটি ঘটনায় জাহাজ চলাচলকে নিরাপত্তা দিতে থাকা একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে ইরান একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানটির জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রমাণ হিসেবে দেখছে।   হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তুলনামূলক নিরাপদ রাখতে নিয়মিত সীমিত হামলা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে সেন্টকম মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ও হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছে।   এর আগে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক ছিল। তবে রোববার জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ওয়াশিংটনের হিসাব বদলাতে পারে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।   এর আগে লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন বাহিনীর অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের নৌবাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।   ইরানের হামলার জবাবে ট্রাম্পও কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সোমবার তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব।’   সূত্র: শাফাক নিউজ, অ্যাক্সিওস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানি তেলের মজুত মাত্র ৩ কোটি ব্যারেল: যুক্তরাষ্ট্র

সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানের তেলের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বর্তমানে সমুদ্রে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল আটকে আছে।   সোমবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, চীন থেকে ইরান তেলের অর্থ পেলেও সমুদ্রে আটকে থাকা এই তেলের মজুত একসময় শেষ হয়ে যাবে। এর মাধ্যমে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।   যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো এই অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। বেসেন্ট বলেন, চীনের সহযোগিতা না পেলেও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ ধরে রাখার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।   ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনের ইরানি তেল কেনার পরিমাণও কমেছে। রয়টার্সের হিসাবে, আগস্টে চীন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ লাখ ৩৪ হাজার ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। বছরের শুরুর দিকে এই পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল।   ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে গত ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ইরানের আর্থিক ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।   বেসেন্ট বলেন, ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। তাঁর দাবি, অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়ায় ইরান সামরিক হামলার মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।   অর্থাৎ, সামরিক হামলার পাশাপাশি ইরানের তেল বিক্রি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করেও তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে ওয়াশিংটন।   সূত্র: শাফাক নিউজ, সিএনবিসি ও রয়টার্স

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ইরানে আবার হামলা চালানো হবে, হুমকি ট্রাম্পের

  ইরানের লারাক দ্বীপে গত রোববার রাতে আকস্মিকভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সেনাসহ কয়েকজন বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হন। এ হামলার পর জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।   আর এই পাল্টা হামলার জন্য ইরানে আবারও হামলা চালানো হবে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে বলেছেন, “আমরা তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাতে যাচ্ছি। ইরানিদের হামলার জবাব দেওয়া হবে।”   এরআগে সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের ব্যাপক সমালোচনা করে নতুন করে পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে ইরানকে ‘মৃত’ দেশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আর অবশিষ্ট নেই। যদিও তিনি যুদ্ধের শুরু থেকেই এ দাবি করে আসছেন।   ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। এটি মৃত! তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী নেই, তাদের কোনো মুদ্রাও নেই। তারা তাদের সেনা ও পুলিশ সদস্যদের কোনো বেতন দিচ্ছে না। মুদ্রাস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে। ইরানের নেতারা বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম নয়।”   জুলাইয়ের পর গত রোববার রাতে দুই দেশ আবারও হামলা ও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র কয়েকদিন ধরে বলে আসছে অস্ত্রের যুদ্ধের বদলে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালানো হবে। কিন্তু নতুন এ হামলা দেখিয়েছে, কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া যে কোনো সময় লড়াই শুরু হয়ে যেতে পারে।   ট্রাম্প তার পোস্টে আরও দাবি করেছেন, ইরান সরকারবিরোধী এক লাখ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। আর বিক্ষোভ দমন করেই তারা টিকে আছে।   গত জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ইরানের সরকারি তথ্যে মতে ওই সময় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যসহ ৩ হাজার ১১৭ জনের মৃত্যু হয়। তবে ট্রাম্প এক লাখ সংখ্যা কোথা থেকে পেয়েছেন সেটি স্পষ্ট নয়। যদিও এর আগে তার সরকার ৬০ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল।   সূত্র: আলজাজিরা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সোমবার ষষ্ঠ দিনের মতো জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ছবি: রয়টার্স
নেপালে বন্যা ও ভূমিধস: জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে নিখোঁজ কর্মীদের ঘিরে উৎকণ্ঠা

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া কর্মীদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে। কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। আটকা কর্মীদের কাছে পৌঁছাতে কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। দেশটির রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক কর্মী আটকা বা নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৯৩৩ জন কর্মী আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন সুড়ঙ্গে অবস্থান করছিলেন। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি, সার্চলাইট ও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভেতরে যাওয়ার পথ পরিষ্কার করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষে এখনো বেশ কিছু অংশ পুরোপুরি আটকে থাকায় উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪২ জন কর্মী নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে সেনাবাহিনীর প্রকৌশলীরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সুড়ঙ্গের পথ পরিষ্কারের কাজ করছেন। আপার ত্রিশুলি-৩বি প্রকল্পেও ১২২ জন নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপরদিকে, আপার ত্রিশুলি-১ প্রকল্পের আশপাশ থেকে ইতোমধ্যে ২৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই প্রকল্পেও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে আটকা ও নিখোঁজ কর্মীদের স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। উদ্ধারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কাদা ও পাথরের স্তূপ। বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকে পড়ায় সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সুড়ঙ্গে বাতাস পৌঁছানোর জন্য পাইপ বসানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সুড়ঙ্গের পথ খুলে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছানোই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের মধ্যেও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন সেনাসদস্য ও বিশেষজ্ঞ দলগুলো। নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে আটকা কর্মীদের উদ্ধারে নেপালের সঙ্গে চীন ও ভারত থেকেও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এখনও যেসব কর্মীর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি, তাদের স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের ফেরার খবরের জন্য। আর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারীরা চালিয়ে যাচ্ছেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই অভিযান।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী আরও ৬-৭ মুসলিম দেশ: পাকিস্তান

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে আরও অন্তত ছয় থেকে সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। বর্তমানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পানিস্তান এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকদের বৈঠক শুরুর আগে এ তথ্য জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে যুক্তরাজ্যে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, আগ্রহী অন্য দেশগুলোর অন্তর্ভুক্তি সহজ করার লক্ষ্যে কর্মকর্তারা একটি খসড়া চুক্তির কাঠামো (এগ্রিমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক) নিয়ে কাজ করছেন। তবে সম্ভাব্য দেশগুলোর নাম সুনির্দিষ্ট করে প্রকাশ করেননি তিনি। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই 'মক্কা চুক্তি'তে যোগদানে আগ্রহ দেখানো সর্বশেষ দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ত্রিপক্ষীয় এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হলে—তা বাকি দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছিলেন, মিসরসহ আঞ্চলিক অন্যান্য রাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করে এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোট আরও প্রসারিত করা হতে পারে। ব্লুমবার্গ জানায়, চুক্তির আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকে অংশ নিতে ইস্তাম্বুলে রয়েছেন ইসহাক দার। সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও এতে অংশ নিচ্ছেন। বৈঠকে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধানদেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।  তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। চুক্তির আওতায় কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি সচিবালয়ের কাঠামোও নির্ধারণ করা হতে পারে।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে নিজেদের প্রতিরক্ষায় সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করেছেন। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর মোদির

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৬তম বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে রাশিয়া ও ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ভারতের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মোদি বলেছেন, বিশ্বকে এখন ‘অনন্ত যুদ্ধ’ থেকে ‘যুদ্ধের অবসানে’র দিকে এগিয়ে যেতে হবে।     ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ভারত সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য অপরিহার্য।’     প্রধানমন্ত্রী মোদি আরো বলেন, ‘যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয়।’ অপরদিকে শান্তির প্রতিটি পদক্ষেপ মানবজাতিকে নতুন আশা ও উৎসাহে উদ্দীপিত করে।      গান্ধী ও বুদ্ধের ভূমির প্রতিনিধি হিসেবে ভারত সব সময়ই শান্তির পথকে সমর্থন করে বলে মোদি জানান, ভারত ইউক্রেন সংকটের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টাকে সর্বদাই সমর্থন দিয়ে যাবে।   বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে আন্তরিক করমর্দন ও কোলাকুলি হয়। চলমান এসসিও সম্মেলন দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে।     ইউক্রেন পরিস্থিতি ছাড়াও ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং সার সরবরাহ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মারিয়া রহমান আগস্ট ৩১, ২০২৬
বিশ্ববাজার তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে গম ও ভুট্টা

বিশ্ববাজারে ভুট্টা ও গমের দাম তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তবে দুই পণ্যের দাম বাড়ার কারণ এক নয়। ভুট্টার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা বড় কারণ। আর গমের দাম বাড়ছে মূলত কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায়।   গত শুক্রবার গমের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি বুশেল ৭৮৪ সেন্টে ওঠে। একপর্যায়ে দাম ৭৯০ দশমিক ২৫ সেন্টে পৌঁছায়, যা ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। শুধু এই সপ্তাহেই গমের দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ।   অন্যদিকে ভুট্টার দাম শুক্রবার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি বুশেল ৫৩৬ দশমিক ৫ সেন্টে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে দাম ৫৪১ দশমিক ২৫ সেন্টে ওঠে, যা ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। আগস্টে এখন পর্যন্ত ভুট্টার দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টার উৎপাদন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির কৃষি বিভাগের পূর্বাভাসে এবার ভুট্টার ফলনের হিসাব কমানো হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি, জুলাইয়ের তীব্র গরম এবং কিছু এলাকায় ছত্রাকজনিত রোগের কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যবিষয়ক গবেষক উইলিয়াম ওসনাটো বলেন, আগস্টের শুরুতে বাজারে যে পরিমাণ সরবরাহের আশা করা হয়েছিল, এখন তার চেয়ে কম সরবরাহের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপেও গরম ও খরার কারণে ভুট্টার উৎপাদন কমেছে। ফলে ইউরোপে ভুট্টার ঘাটতি তৈরি হলে পশুখাদ্যে ভুট্টার বদলে গমের ব্যবহার বাড়তে পারে। এতে গমের সরবরাহেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   তবে গমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল। রাশিয়া ও ইউক্রিয়া মিলে বিশ্বের মোট গম রপ্তানির এক-চতুর্থাংশের বেশি সরবরাহ করে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বাড়ায় এই অঞ্চলের গম রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে।   সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়ার শস্য রপ্তানির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষ্ণসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় বন্দর, জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কারণে পণ্য পরিবহনও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি অনেক জাহাজ কোম্পানির জন্য বিমা পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠেছে।   ফলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে, রাশিয়া আগের তুলনায় কয়েক মিলিয়ন টন কম গম রপ্তানি করতে পারবে। এতে বিশ্ববাজারে গমের সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   এর সঙ্গে ইউরোপের তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরাও গম উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ওকলাহোমা ও কানসাসেও খরার কারণে গম উৎপাদন কমেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি গম ও ভুট্টার দাম কয়েক বছরের মধ্যে নতুন উচ্চতায় ওঠায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে। ফলে সরবরাহ সংকট, আবহাওয়া ও বাড়তি চাহিদা—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে গম ও ভুট্টার দাম আরও চাপে রয়েছে।   সূত্র: সিএনবিসি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ৩১, ২০২৬
অনেক প্রতিষ্ঠান কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ব্যবসা ফিরিয়ে আনছে: ট্রাম্প

কানাডার ওপর আরোপিত শুল্ক এড়াতে অনেক ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠান কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কার্যক্রম ফিরিয়ে আনছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্কের সমালোচনা করেন।   ট্রাম্প দাবি করেন, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে।   তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন যুক্তরাষ্ট্র কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে প্রতি বছর ৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি হারাচ্ছে?’   ট্রাম্প আরও বলেন, আগে যেসব ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্য দেশে চলে গিয়েছিল, সেগুলো এখন আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসছে।   তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক আগে নিয়ে যাওয়া ব্যবসাগুলো এখন শুল্ক এড়াতে আমেরিকায় ফিরে আসছে।’   ট্রাম্প দাবি করেন, এসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও ব্যবসাগুলোও একই পথে এগোচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিতে বাণিজ্য ও শুল্ক এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্যে তার এই মন্তব্য এলো।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ৩১, ২০২৬
নেপাল-চীন সীমান্তের বন্যায় মৃত্যু ৯১৯, নিখোঁজ ৪ হাজার ৮০০

নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৫৩ জন বিদেশি নাগরিক।   দুর্যোগের ছয় দিন পর সোমবার কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানিয়েছে।   নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯০৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।   নিখোঁজদের উদ্ধারে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছে। একই সঙ্গে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।   নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ২৫ জন পুলিশ সদস্য, ৪৫ জন সেনাসদস্য, ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য, ১৪ জন শুল্ক দপ্তরের কর্মী এবং তিনজন অভিবাসন দপ্তরের কর্মী রয়েছেন। বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আরও ৯৩৩ কর্মীরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।   এ ছাড়া নিখোঁজদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি যাত্রী রয়েছেন।   অন্যদিকে, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।   চীনে নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।   নেপাল ও চীনের তথ্য মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৯ জনে। নিখোঁজের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৯৩। তাদের মধ্যে ৮৫৩ জন বিদেশি।   উদ্ধারকাজে চীন ২ হাজার ১০০ জনের বেশি কর্মী মোতায়েন করেছে। তাদের সঙ্গে শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার উদ্ধার সরঞ্জামও রয়েছে।   গত ২৬ আগস্ট এই ভয়াবহ দুর্যোগ শুরু হয়। নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ে। এর ফলে বরফ ও পাথরের বিশাল স্রোত তৈরি হয়। পরে তা পানির প্রবল স্রোত ও কাদার সঙ্গে মিশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি করে।   নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে এবং কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের গিরং সীমান্ত এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি রয়টার্স

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ৩১, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
খেলা

এমবাপ্পের জাদুকরী হ্যাটট্রিকে সোসিয়েদাদকে উড়িয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৭, ২০২৬