বিশ্ব

ছবিসূত্র : জিও নিউজ।
পাকিস্তানে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধস, নিহত অন্তত ১২

পাকিস্তানে একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। করাচির সোলজার বাজার নং ৩ -এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার উদ্ধার কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার রাতে ভবনের প্রথম তলায় বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অনুসন্ধান কার্যক্রমে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটেছে, সম্ভবত  গ্যাস সাকশন মেশিন থেকে। নিহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী নাজিয়া এবং ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ রিয়াজ রয়েছেন। এ ছাড়া এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরো এক ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার অভিযানে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে আহত অবস্থায় বের করে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে, যাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের আশপাশের সরু রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে পুলিশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে এখনো দু্ই জন ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। সূত্র : জিও নিউজ।  

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
একটি গবেষণা রকেট যেভাবে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধাতে গিয়েছিল

নরওয়েতে ১৯৯৫ সালের ২৫ জানুয়ারি নর্দার্ন লাইটস নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে একটি রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। কিন্তু রাশিয়া ভুল করে সেটিকে মস্কোর দিকে সরাসরি ধেয়ে আসা একটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধরে নিয়েছিল, যার মাধ্যমে একটি পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়।   বিবিসির খবরে বলা হয়, দিনটি ছিল অন্যান্য দিনের মতোই খুব সাধারণ। দুপুর গড়িয়ে তখন বিকেল। রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন রাডার স্টেশনের দায়িত্বে থাকা সামরিক প্রযুক্তিবিদরা তাদের স্ক্রিনে এক অশুভ সংকেত দেখতে পান।   নরওয়ের উপকূলের কাছাকাছি কোথাও থেকে একটি রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং সেটি দ্রুত ওপরের দিকে উঠছে। প্রশ্ন ওঠে, এই রকেট কোথায় যাচ্ছে, আর এটি কি কোনো হুমকি?   তখন অনেকেরই ধারণা ছিল, বার্লিন প্রাচীর ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারমাণবিক উত্তেজনার দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আকাশ পর্যবেক্ষণকারীদের কাছে পরিস্থিতির ইঙ্গিত ছিল ভয়াবহ।   তারা জানতেন, ওই জলসীমা থেকে যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সাবমেরিন একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, তবে সেটি মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই মস্কোতে আটটি পারমাণবিক ওয়ারহেডে আঘাত হানতে সক্ষম। এই আশঙ্কার খবর দ্রুত ঊর্ধ্বতন মহলে পাঠানো হয় এবং তা পৌঁছে যায় সে সময়কার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের কাছে।   তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্রনেতা যিনি একটি ‘নিউক্লিয়ার ব্রিফকেস’ সক্রিয় করেন। এটি এমন একটি ব্রিফকেস, যাতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের নির্দেশনা ও প্রযুক্তি সংরক্ষিত থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলো ‘ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধের নীতিতে চলে এসেছে।   যার মূল ধারণা হলো, কোনো পক্ষ বড় আকারের পারমাণবিক হামলা চালালে উভয় পক্ষই নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে, যাকে বলা হয় ‘মিউচুয়ালি অ্যাশিউর্ড ডেস্ট্রাকশন’; সহজ বাংলায় যার অর্থ ‘দু’পক্ষের নিশ্চিত ধ্বংস’।   সেই উত্তপ্ত মুহূর্তে ইয়েলৎসিন ও তার উপদেষ্টাদের খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, রাশিয়া কি পাল্টা হামলা চালাবে? শেষ পর্যন্ত, এই ভয়াবহ ঘটনার পরিণতি কোনো বিপর্যয়ে গড়ায়নি। চরম উত্তেজনার পরও ঘটনাটি সেদিন সন্ধ্যার সংবাদ বুলেটিনের শেষ দিকে একপ্রকার হালকা খবর হিসেবেই প্রচারিত হয়।   ‘সঙ্গে সঙ্গে তারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফোন করেন। এক পরে এক মুখপাত্র কিছুটা উত্তেজিত হলেও অটল দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমি নিশ্চিত, ব্রিটিশরা রাশিয়ার দিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেনি।’   তবে বিশ্বের মুদ্রাবাজার তখন টালমাটাল হয়ে ওঠে। আর রাজনীতিক, সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা তথ্য জোগাড়ের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চরম ব্যস্ততা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটান।   অবশেষে গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ২টা ৫২ মিনিটে, যারা সম্ভাব্য এই সংকট সম্পর্কে জানতেন, তারা অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।   ইন্টারফ্যাক্স তাদের প্রতিবেদন সংশোধন করে জানায়, রাশিয়ার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সংকেত পেলেও, রকেটটি নরওয়ের ভূখণ্ডেই আছড়ে পড়েছে।   পরে নরওয়ের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, এই উৎক্ষেপণটি ছিল পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। এটি ছিল একটি বেসামরিক রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে পরিচালিত নিয়মিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মসূচির অংশ।   যার উদ্দেশ্য ছিল নর্দার্ন লাইটস বা অরোরা বোরিয়ালিসের মতো এক অনন্য প্রাকৃতিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেটটি আর্কটিক অঞ্চলের দুর্গম দ্বীপ স্পিটজবার্গেনের কাছে সাগরে পড়ে, যা রাশিয়ার আকাশসীমা থেকে অনেক দূরে।   সূত্র : বিবিসি বাংলা

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ছবি : সংগৃহীত
ইরানে ‘বিস্ফোরণ’

ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছে পারান্দ এলাকায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লেও ইরানি কর্তৃপক্ষ একে নিছক ‘নলখাগড়ার আগুন’ বলে দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি পারান্দ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, পারান্দ নদীর তীরের বিস্তীর্ণ ঝোপঝাড় ও নলখাগড়ার বনে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট বর্তমানে ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর কাজ করছে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে এক বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে সেটি ভেনেজুয়েলায় চালানো সুনির্দিষ্ট বা সীমিত হামলার মতো হবে না। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরী, শত শত যুদ্ধবিমান এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
নরেন্দ্র মোদি। পুরোনো ছবি
রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

দেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা শুরু। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। রমজান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান। স্ট্যাটাসে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘রমজান মোবারক! এই পবিত্র মাস আমাদের সমাজে ঐক্যকে আরও প্রসারিত করুক। সর্বত্র শান্তি ও সমৃদ্ধি আসুক।'  

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
উইলিয়াম বিল মাইলাম। ছবি : সংগৃহীত
মারা গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত বিল মাইলাম

মারা গেছেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বিল মাইলাম। ৮৯ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামান্টো শহরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্ট্যাটাসে মুশফিকুল আনসারী বলেন, ‘ঢাকায় থাকা অবস্থায় আচমকা এক দুঃসংবাদ আমার ভেতরটা উলোটপালট করে দিল। চলে গেলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বিল মাইলাম। তার মেয়ে, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এরিকা মাইলামের ইমেইলে খবরটি জানলাম এবং পরক্ষণে পেলাম বন্ধু ও সহকর্মী Jon Danilowicz এর হোয়াটসঅ‍্যাপ ম্যাসেজ। শোকে স্তব্ধ ও গভীর বেদনাহত। ‘বিল মাইলামের কাছে আমার ব্যক্তিগত ঋণ অসীম। ওয়াশিংটনে আমার স্থিতু হওয়া থেকে শুরু করে মানবাধিকার সংগঠন রাইট টু ফ্রিডম গড়ে তোলা, সাউথ এশিয়া পার্সপেক্টিভস (এসএপি) ম্যাগাজিনের দায়িত্ব গ্রহণ, উইলসন সেন্টারের সাথে যুক্ত হওয়া —প্রতিটি পদক্ষেপে তার স্নেহময় দিকনির্দেশনা ও অকুণ্ঠ সহযোগিতা পেয়েছি।’ ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি ছিলেন আমাদের নির্ভরযোগ্য সারথি। ১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগদানকারী এই পেশাদার কূটনীতিক ১৯৯০–১৯৯৩ সময়কালে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের শাসনের অবসান ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় তিনি সেসময়েও ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের পাশে।’ ‘অবসরের আগে তিনি পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে (১৯৯৮–২০০১) দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে লাইবেরিয়ায় (১৯৯৫–১৯৯৮) তার নেতৃত্বে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে, অনুষ্ঠিত হয় অবাধ নির্বাচন, প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। নাইন ইলেভেনের পর তাকে আবারও দায়িত্বে ডাকা হয়। আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে তিনি কাজ করেন এবং লিবিয়ার ত্রিপোলিতে অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।’ ‘স্টেট ডিপার্টমেন্টের জেমস ক্লিমেন্ট ডান অ্যাওয়ার্ড, সুপিরিয়র অনার অ্যাওয়ার্ড এবং প্রেসিডেন্সিয়াল মেরিটোরিয়াস সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেন—যা তার সততা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি।’ স্ট্যাটাসের শেষে তিনি বলেন, ‘বিল মাইলামের প্রয়াণ এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশ হারালো এক অকৃত্রিম বন্ধুকে, আর আমি হারালাম একজন প্রজ্ঞাবান মেন্টর, স্নেহশীল অভিভাবক। তার স্মৃতি আমার পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’  

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
ওমান সাগরে ইরানের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে রুশ রণতরী

রাশিয়াকে নিয়ে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে তেহরান ও মস্কো। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের ওমান সাগরে এ মহড়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।   সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবুও ইরান ঘিরে মার্কিন সামরিক শক্তি কমানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য সব প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই মহড়ার আয়োজন করছে ইরান। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে গত সোমবার মহড়া চালায় ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড কোর। ওই মহড়া ছিল এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ। এরপর আজ বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল হাসান মাকসৌদলু বলেন, ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে বৃহস্পতিবার যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে এ যৌথ মহড়ার লক্ষ্য হলো সমুদ্রে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা। তবে কত দিন ধরে এ মহড়া চলবে, তা স্পষ্ট করেননি হাসান মাকসৌদলু। মহড়া চলার সময় নিরাপত্তা স্বার্থে কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তেহরান। এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেসব ডুবিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন রণতরিগুলো ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে’ দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, তারা বারবার বলছে যে ইরানের দিকে রণতরি পাঠানো হয়েছে। বেশ তো, রণতরি অবশ্যই একটি বিপজ্জনক যন্ত্র, কিন্তু রণতরির চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা একে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে। খামেনি আরও বলেন, আলোচনা চলাকালে আগেই এর ফলাফল নির্ধারণ করে ফেলা ‘ভুল ও বোকামি’।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ। ছবি: সংগৃহীত
রমজান উপলক্ষে ১৪৪০ বন্দি মুক্তির নির্দেশ আমিরাতের প্রেসিডেন্টের

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ১,৪৪০ জন বন্দিকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দেশটির বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকে এসব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। খবর গালফ নিউজের। প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় আরোপিত আর্থিক দায়ও তিনি পরিশোধ করবেন। ফলে মুক্তিপ্রাপ্তদের ওপর থাকা অর্থনৈতিক বোঝা লাঘব হবে। সরকারি সূত্রের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দিদের জীবনে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের কষ্টও কিছুটা কমবে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। রমজান মাস মুসলমানদের কাছে ক্ষমা, দয়া ও সহমর্মিতার সময় হিসেবে বিবেচিত। এই প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত পরিবারগুলোর জন্য স্বস্তি ও আনন্দ বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আরব আমিরাতে প্রতিবছরই রমজান ও জাতীয় দিবসের মতো বিশেষ উপলক্ষে বন্দি মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়ে থাকে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
তারাবির নামাজ ঘিরে মানতে হবে একগুচ্ছ নির্দেশনা

পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজ আদায়ে সংযম ও ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ ইমাম ও খতিবদের উদ্দেশে বলেছে, নামাজ পরিচালনায় ভারসাম্য ও নমনীয়তা দেখাতে হবে এবং মুসল্লিদের পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখতে হবে। আচরণে আদর্শ স্থাপন, শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সমাজের মূল্যবোধ তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করতে দেশটির সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. ওমর হাবতর আল দারেই মুসল্লিদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মসজিদ নির্মিত হয়েছে আল্লাহর স্মরণ, সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও প্রশান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এছাড়া মসজিদে আগতদের পার্কিং বিধি মেনে চলা, প্রবেশপথের সামনে যানজট সৃষ্টি না করা এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রমজান মাসে দেশজুড়ে তারাবির নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতার পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে আবুধাবিতে জোরদার বাজার তদারকি

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজার ও শপিং সেন্টারে তদারকি অভিযান জোরদার করেছে আবুধাবি রেজিস্ট্রেশন অথোরিটি। সংস্থাটি আবুধাবি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের অধীন ব্যবসা খাত নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানের আগে ও চলাকালে বিভিন্ন বাজার, দোকান, শপিং মল, খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং গুদামে পরিদর্শন বাড়ানো হয়েছে। এসব অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ভোক্তা সুরক্ষা আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা। বুধবার গালফ নিউজের প্রতিবেদনে তথ্যটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তদারকিতে বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে—প্রচারমূলক অফারের সঠিকতা, পণ্যের দামের স্পষ্ট প্রদর্শন, পণ্যের মান ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ। এতে ক্রেতারা যেন সচেতনভাবে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেটিই প্রধান উদ্দেশ্য। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, রমজান, সরকারি ছুটি ও উৎসবের মৌসুমে ভোক্তা ব্যয় বেড়ে যায়। এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আইন ও নির্দেশনা মেনে চলছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে উৎসব মৌসুমে বাজারে কেনাকাটার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় নিয়মিত তদারকি কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি : রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে একদিনে ৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মাত্র একদিনের ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান নিয়ে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের ফের আলোচনা শুরু হচ্ছে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এ তথ্য সামনে এসেছে।  মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়োস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ এর মতো বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান।   এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জেনেভায় পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা জানিয়েছেন, ‘এখনো অনেক বিস্তারিত আলোচনা বাকি’, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। মার্কিন-ইরান আলোচনার সময় ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভাব্য অভিযানকে সামনে রেখে ভারী সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। জানুয়ারির শেষদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী আরব সাগরে পাঠানো হয়।   গত জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করে। এরপরই, বিক্ষোভকারীদের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের অজুহাত দেখিয়ে ইরানের চারপাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। 

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগার। ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত, কমলো তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত পাওয়ার প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো থেকে সরবরাহ বিঘ্ন হওয়ার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। খবর রয়টার্সের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ব্যারেলপ্রতি ৩ সেন্ট বা ০.০৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬৭.৩৯ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৫ সেন্ট বা ০.০৮ শতাংশ কমে ৬২.২৮ ডলারে লেনদেন হয়। উভয় তেলের দামই বর্তমানে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। মঙ্গলবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলোচনায় প্রধান কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায় দুপক্ষ। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, এর অর্থ এই নয় যে খুব শিগগিরই কোনো চুক্তি হতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য অগ্রগতি নিয়ে এখনো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন। রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ জানায়, এপ্রিলের শেষ নাগাদ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ হবে বলে তারা মনে করছে। এছাড়া তেলের দামের ওপর আরেকটি চাপ তৈরি করেছে রাশিয়ান গণমাধ্যমের প্রতিবেদন। এতে বলা হয়, জানুয়ারিতে উৎপাদন স্থগিত থাকার পর কাজাখস্তানের তেঙ্গিজ তেলক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই তেলক্ষেত্রটি ফেব্রুয়ারি ২৩-এর মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে বলে রয়টার্সের সূত্র জানিয়েছে। বাজারের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক জ্বালানি প্রতিবেদনগুলোর দিকে। দিনের শেষভাগে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট এবং বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের পরিসংখ্যান শাখা এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। রয়টার্স পরিচালিত এক জরিপে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে, তবে ডিস্টিলেট ও পেট্রোলের মজুত কমেছে। তাদের হিসাবে, ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ২৩ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। একই সময়ে পেট্রোলের মজুত প্রায় ২ লাখ ব্যারেল কমেছে এবং ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এবার বিশ্বের কোন দেশে কত ঘণ্টা রোজা

শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে কোনো দেশে রমজান শুরু হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি আবার কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারি। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় সব দেশে রোজার সময় এক রকম হয় না। এমনকি ঋতু পরিবর্তনের ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের রোজা বেশ আরামদায়ক ও স্বস্তিদায়ক হতে যাচ্ছে।   বিষুবরেখার কাছের দেশগুলোতে অল্প সময় রোজা রাখতে হয়। অপর দিকে উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে ঋতুর ওপর নির্ভর করে রমজানের সময় ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারে। সৌদি আরব, কাতারের মতো দেশগুলোতে এবার প্রতিদিন প্রায় ১৪ ঘণ্টা রোজা পালন করা হবে। গ্রিনল্যান্ড, আলাস্কার মতো যেসব দেশে সূর্য কখনো অস্ত যায় না, সেসব দেশের মুসলমানদের মক্কা ও সৌদি আরবের সময় অনুসরণ করে রোজা রাখার পরামর্শ দেন ইসলামিক স্কলাররা।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মতো উত্তর গোলার্ধে অবস্থান করা দেশগুলোতে শীতের শেষ ও বসন্তের শুরু হওয়ায় রমজানের প্রথম দিকে দিনের দৈর্ঘ্য কিছুটা কম থাকবে। মাস যত এগোবে দিনের দৈর্ঘ্য তত বাড়বে। অর্থাৎ রোজা থাকার সময়ও বাড়বে।   বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দিনের আলোর স্থায়িত্ব ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেহেতু উত্তর গোলার্ধে এখন শীতকাল, তাই সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য রোজার সময় তুলনামূলক কম হবে। প্রথম দিকে রোজা রাখতে হবে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা, যা মাসজুড়ে ধীরে ধীরে বাড়বে।   চিলি, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে তুলনামূলক দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হবে। প্রথম দিন তাদের রোজা হবে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা, তবে মাসজুড়ে এই সময় ধীরে ধীরে কমে আসবে।   বিশ্বের বিভিন্ন শহরের রোজার সময়সূচি বাংলাদেশের ঢাকা শহরে প্রথম রোজায় সেহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ১৩ মিনিট এবং ইফতার সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে। অর্থাৎ প্রথম দিনে মোট ১২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট রোজা রাখতে হবে। রমজানের শেষ দিনে সেহরির শেষ সময় ৪টা ৪৭ মিনিট, ইফতার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে। সে হিসাবে শেষ দিনে রোজা হবে ১৩ ঘণ্টা ২৩ মিনিট।   ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রথম রমজানে সেহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ৩৭ মিনিট এবং ইফতার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। প্রথম দিনে রোজার ব্যাপ্তি ১২ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট। শেষ দিনে সেহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ৭ মিনিট, ইফতার সন্ধ্যা ৬টা ৩৩ মিনিটে। অর্থাৎ ১৩ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।   পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রথম রমজানে সেহরির শেষ সময় ভোর ৫টা ২৬ মিনিট এবং ইফতার সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে। প্রথম দিনে রোজা ১২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট। শেষ দিনে সেহরির শেষ সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিট এবং ইফতার সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিটে। রোজা হবে ১৩ ঘণ্টা ২৯ মিনিট।   মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে প্রথম রমজানে সেহরির শেষ সময় ভোর ৬টা ১৭ মিনিট এবং ইফতার সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে। প্রথম দিনে রোজা ১৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট। শেষ দিনে রোজা হবে ১৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।   শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে প্রথম দিনে রোজা ১৩ ঘণ্টা ৬ মিনিট এবং শেষ দিনে ১৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট।   থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রথম দিনে ১২ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট এবং শেষ দিনে ১৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিট।   সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রথম দিনে ১২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট এবং শেষ দিনে ১৩ ঘণ্টা ২৪ মিনিট।   কাতারের দোহায় প্রথম দিনে ১২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট এবং শেষ দিনে ১৩ ঘণ্টা ২৪ মিনিট।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে প্রথম দিনে ১২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট এবং শেষ দিনে ১৩ ঘণ্টা ২৪ মিনিট।   যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম দিনে ১২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট এবং শেষ দিনে ১৩ ঘণ্টা ১৪ মিনিট।   সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে প্রথম দিনে ১২ ঘণ্টা ১১ মিনিট এবং শেষ দিনে ১৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট।   ইতালির রোমে প্রথম দিনে ১২ ঘণ্টা ১৯ মিনিট এবং শেষ দিনে ১৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট রোজা পালন করতে হবে।   উল্লেখ্য, দেশের ভেতরেও অঞ্চলভেদে রোজার সময়ের তারতম্য হয়। রাশিয়া বা চীনের মতো বড় দেশগুলোর এক প্রান্তের সময়ের ব্যবধান অন্য প্রান্তের তুলনায় অনেক কমবেশি হতে পারে। বাংলাদেশেও জেলায় জেলায় সময়ের সামান্য পার্থক্য দেখা যায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন বাহিনীর আরও ১০০ সদস্য গেল নাইজেরিয়ায়

মার্কিন সামরিক বাহিনীর আরও প্রায় ১০০ সদস্য নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছেন। তারা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেবে, তবে সরাসরি জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অংশ নেবে না। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা স্থানীয় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবেন। সম্প্রতি মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে বেশ কয়েকটি বিমান নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর নাইজেরিয়াকে অভিযোগ করেছিলেন, দেশটি উত্তরপূর্বাঞ্চলের খ্রীস্টান অধিবাসীদের ইসলামপন্থি জঙ্গিদের থেকে সুরক্ষা দিতে পারছে না। তবে নাইজেরিয়া জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী মুসলিম ও খ্রীস্টান উভয়ের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ডিসেম্বরে, নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্পর্কিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরপর ছোট একটি মার্কিন দল নাইজেরিয়ায় গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। চলতি মাসে আরও ২০০ জন মার্কিন সেনা আসার কথা রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নাইজেরিয়ার যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মার্কিন সমর্থন প্রয়োজন। নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি, যার অর্ধেক খ্রিস্টান ও অর্ধেক মুসলিম। দক্ষিণাঞ্চল প্রধানত খ্রিস্টান, উত্তরাঞ্চল মুসলিম প্রধান।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘ব্যর্থ জাতি’ কিউবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করা উচিত: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার কিউবাকে ‘একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করে হাভানাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করার আহ্বান জানান। তবে সরকার পরিবর্তনের কোনো অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারি বিমানবাহিনীর বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। এয়ার ফোর্স ওয়ানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিউবা এখন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র।’ যুক্তরাষ্ট্র কি কিউবার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবে এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় সেটির প্রয়োজন হবে না।’   এর আগে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছিল ওয়াশিংটন। এদিকে দ্বীপ রাষ্ট্রটি তীব্র জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে রয়েছে। ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরও জোরদার করছেন। পাশাপাশি অন্য দেশগুলোকেও হাভানায় তেল পাঠানো বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছেন। জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি মানবিক হুমকি।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জেনেভায় নতুন দফা আলোচনা, চুক্তি না হলে পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

জেনেভায় মঙ্গলবার নতুন দফা আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে না এলে, দেশটিকে সম্ভাব্য পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি পুনরায় শুরু হওয়া এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতেই হচ্ছে।  তেহরান বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখন আরও বাস্তব সম্মত হয়েছে— এ নিয়ে তারা সতর্ক ও আশাবাদী। গত মাসে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের ঘটনায় এবং পরে পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। এর আগে জুন মাসে ইরানে আকস্মিক হামলা চালায় ইসরাইল। এতে করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।  এই হামলার মধ্য দিয়ে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়।  পরে যুক্তরাষ্ট্রও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এতে যোগ দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস্মাইল বাকায়ি বলেন, ‘মাসকাটে এখন পর্যন্ত যে আলোচনা হয়েছে, সেখান থেকে অন্তত আমাদের যা জানানো হয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে যে ইরানের পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও বাস্তবসম্মত দিকে এগিয়েছে।’ তেহরানের মতে, সুইজারল্যান্ডে মঙ্গলবারের আলোচনা ওমানের মধ্যস্থতায়ই হবে। সোমবার জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পরমাণু ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ইরানের অবস্থান নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আরকচি ইরানি জনগণের বৈধ স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ফলাফলমুখী কূটনীতি ব্যবহারে তেহরানের গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন। ইরান জোর দিয়ে বলেছে, আলোচনা কেবল পরমাণু ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। যদিও এর আগে ওয়াশিংটন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়ও আলোচনায় আনার চেষ্টা করেছে। —যুদ্ধের মহড়া- ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কোর সোমবার হরমুজ প্রণালীতে ধারাবাহিক যুদ্ধ মহড়া শুরু করেছে।  ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ‘সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও সামরিক হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে এ মহড়া চলছে। কৌশলগত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ এই প্রণালী।  আলোচনা পুনরায় শুরুর আগে উভয় পক্ষ চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে ইরানি রাজনীতিকরা একাধিকবার এটি অবরুদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করছি, একটি চুক্তি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সব সময় আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেন।’ অন্যদিকে, আরাকচি এক্সে লিখেছেন, তিনিও ‘ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি’ অর্জনের বাস্তব ধারণা নিয়ে জেনেভায় এসেছেন।  তবে তিনি এও বলেন, ‘হুমকির মুখে কোনো আত্মসমর্পণ নয়।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জেনেভায় তিনি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে গভীর কৌশলগত আলোচনা করবেন। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরানের এই কর্মসূচি পরমাণু বোমা তৈরির উদ্দেশ্যে। তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে। -সরকার পরিবর্তন?- হোয়াইট হাউস রোববার নিশ্চিত করেছে, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও  ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে সেটিই হবে ‘সবচেয়ে ভালো বিষয়।’  একই সঙ্গে সামরিক চাপ বাড়াতে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠান। এর আগে পাঠানো রণতরী  ইউএএসএস আব্রাহাম লিংকন রোববার পর্যন্ত ইরান উপকূল থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল বলে নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে, তাহলে তেহরান ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ে সমঝোতা বিবেচনা করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা দেখি, আমি নিশ্চিত আমরা একটি চুক্তির পথে এগোতে পারব।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ভারতের এআই কোম্পানিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান

মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের স্টার্টআপ নেইসাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। নতুন এক প্রতিবেদনে টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে, এ বিনিয়োগের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্ল্যাকস্টোন কোম্পানিটির বড় অংশীদারত্ব বা নিয়ন্ত্রণমূলক শেয়ার নেবে। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানও যৌথভাবে এ প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো ভারতে স্থানীয়ভাবে এআই কম্পিউটিং অবকাঠামো তৈরি ও সম্প্রসারণ করা। বর্তমানে ভারতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, ফলে শক্তিশালী ডেটা সেন্টার ও কম্পিউটিং ক্ষমতার চাহিদাও বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে এখন ৬০ হাজারেরও কম জিপিইউ (গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট) চালু আছে, যা এআই প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আগামী কয়েক বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৩০ গুণ বাড়িয়ে ২০ লাখের বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি সংস্থা, বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় এআই ডেভেলপারদের চাহিদা বাড়ার কারণে এ খাতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ছে। বিশেষ করে দেশের ভেতরেই ডেটা সংরক্ষণ এবং দ্রুত সেবা দেওয়ার জন্য স্থানীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বড় বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রযুক্তি সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভারতের এআই খাতকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
ছবিসূত্র : আলজাজিরা।
সুদানের বাজারে ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ২৮, আহত বহু

সুদানের করদোফান অঞ্চলের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত এবং আরো বহু আহত হয়েছেন বলে গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) একটি মানবাধিকার সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে।   নাগরিক হতাহতের ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানায়, রবিবার উত্তর করদোফান প্রদেশের সুদ্রি এলাকায় বাজারের ব্যস্ত সময়ে এ হামলা হয়। এতে মানবিক সংকট আরো তীব্র হয়েছে। সংগঠনটি আশঙ্কা করছে, নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। বিবৃতিতে তারা আরো বলে, ‘বসতিপূর্ণ এলাকায় বারবার ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা বেসামরিক জীবনের প্রতি গুরুতর অবহেলা প্রকাশ করে এবং এটি প্রদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য হুমকিস্বরূপ এক ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি নির্দেশ করে। আমরা উভয় পক্ষকে সব ধরনের ড্রোন হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানাই।’ ইমার্জেন্সি লইয়ার্স দাবি করেছে, সেনাবাহিনীর ড্রোন থেকেই এ হামলা চালানো হয়েছে।  তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সামরিক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, সেনাবাহিনী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না এবং তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে রাহাদ শহরের কাছে আরেকটি ড্রোন হামলায় বাস্তুচ্যুত পরিবার বহনকারী একটি গাড়িতে আঘাত হানে, এতে আটজন শিশুসহ অন্তত ২৪ জন নিহত হন। এর আগের দিন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) একটি ত্রাণবাহী বহরও হামলার শিকার হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সেনাবাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে দেশজুড়ে যুদ্ধে রূপ নেয়।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তবে চলমান লড়াই ও দুর্গম এলাকায় পরিস্থিতির কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে সহায়তা সংস্থাগুলো মনে করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার করদোফান অঞ্চলকে ‘অস্থির এবং সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অক্টোবরের শেষদিকে দারফুর অঞ্চলে আরএসএফের অভিযানের সময় তিন দিনে ৬ হাজার জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন, যেখানে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের আকার ধারণ করতে পারে। সূত্র : আলজাজিরা। 

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
‘তেহরান’ সিরিজের পোস্টার। (সংগৃহীত ছবি)
এথেন্সে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সিরিজ ‘তেহরান’-এর নির্মাতার লাশ উদ্ধার

হিট ইসরায়েলি গুপ্তচর থ্রিলার সিরিজ ‘তেহরান’-এর সহ-নির্মাতা টিভি প্রযোজক ডানা ইডেনকে মধ্য এথেন্সের একটি হোটেলকক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে গ্রিক পুলিশ সোমবার এএফপিকে জানিয়েছে। ৫২ বছর বয়সী ইডেনের মরদেহ রবিবার গভীর রাতে গ্রিক রাজধানীর কেন্দ্রস্থল সিনতাগমা স্কয়ারের কাছে তার হোটেলকক্ষে পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানায়। পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সবকিছু থেকে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’ সিরিজটির চতুর্থ মৌসুমের শুটিংয়ের জন্য ইডেন ৪ ফেব্রুয়ারি এথেন্সে পৌঁছেছিলেন। সিরিজটি আন্তর্জাতিকভাবে অ্যাপল টিভিতে সম্প্রচারিত হয়। ইরানের রাজধানীতে গোপনে কাজ করা মোসাদের এক এজেন্টকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘তেহরান’-এর প্রথম তিনটি মৌসুম এথেন্সে ধারণ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের চালানো হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজায় বোমাবর্ষণের পর চতুর্থ মৌসুমের শুটিং বিলম্বিত হয়। সিরিজটি আন্তর্জাতিকভাবে সর্বাধিক বিক্রীত ইসরায়েলি প্রযোজনাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে এবং ২০২১ সালে সেরা নাটক সিরিজ বিভাগে এমি পুরস্কার অর্জন করেছে। ইডেন প্রযোজক শুলা স্পিগেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন এবং তাদের যৌথ প্রতিষ্ঠান ডোনা অ্যান্ড শুলা প্রোডাকশন্স ‘তেহরান’সহ আরো কয়েকটি সিরিজের মূল চালিকাশক্তি ছিল। ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ইডেনকে ‘ইসরায়েলি টেলিভিশন শিল্পের অন্যতম প্রধান ও প্রভাবশালী প্রযোজক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বমঞ্চে চীনা নববর্ষ : প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও কূটনীতির মহামিলন

ফেব্রুয়ারি ১৬, বেইজিং সময় রাত ৮টা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের চোখ তখন চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক আয়োজন—চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) আয়োজিত ২০২৬ সালের চীনা বসন্ত উৎসব গালার দিকে। ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি, রুশসহ ৮৫টি ভাষার টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৩,৩০০টির বেশি গণমাধ্যমের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়েছে। এ বছর চীনা চান্দ্র পঞ্জিকা অনুযায়ী ‘অশ্ব বর্ষ’। চীনা সংস্কৃতিতে ঘোড়া আত্মউন্নয়ন, অধ্যবসায় ও অগ্রগতির প্রতীক। সেই দর্শনকে সামনে রেখে এবারের গালার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সুদক্ষ ঘোড়া ছুটে আসছে, তার গতি অপ্রতিরোধ্য’, যা মানুষকে স্বপ্ন পূরণের পথে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার অনুপ্রেরণা দেয়। ১৯৮৩ সাল থেকে সম্প্রচারিত হয়ে আসা এই গালা এখন বিশ্বব্যাপী চীনা পরিবারগুলোর পুনর্মিলনী উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ ও অঞ্চলে বসন্ত উৎসব সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃত, এবং বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ বিভিন্নভাবে এই উৎসব উদযাপন করে। ইয় প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ এবারের গালার অন্যতম বড় আকর্ষণ হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর এআইজিসি প্রযুক্তির ব্যবহার। হাজার হাজার ঘোড়ার সম্মিলিত দৌড়ের দৃশ্য ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মঞ্চে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘রেশম পথ’-প্রেরণায় নির্মিত নৃত্য পরিবেশনায় প্রাচীন দেয়ালচিত্রের ঘোড়াকে যেন বাস্তব জগতে নিয়ে আসা হয়েছে। দড়াবাজি বা অ্যাক্রোব্যাটিক পরিবেশনায়ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভিনব ব্যবহার দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ঐতিহ্যবাহী কসরতের সঙ্গে আধুনিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় দর্শকরা একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রযুক্তিগত সৌন্দর্যের নতুন অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। প্রায় তিন দশক ধরে গালার সমাপনী গান হিসেবে পরিবেশিত হয়ে আসা ‘অবিস্মরণীয় আজকের রাত’ গানটিও এ বছর আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। রোবটের যুগে সাংস্কৃতিক মঞ্চ ২০২৬ সালের গালা শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের প্রদর্শনীও হয়ে উঠেছে। সিএমজি’র স্টুডিওতে চার ধরনের হিউম্যানয়েড রোবট কাজ করছে—কেউ মঞ্চে পারফর্ম করছে, কেউ নেপথ্যে সেবা দিচ্ছে। গ্যালাক্সি জেনারেল, সংইয়ান ডাইনামিক্স, ইউশু টেকনোলজি এবং ম্যাজিক অ্যাটম—এই চার প্রতিষ্ঠানের রোবট একসঙ্গে মঞ্চে অংশ নিচ্ছে। ২০২৫ সালের গালায় প্রথমবার রোবট পারফরম্যান্সের সূচনা হলেও এবারের আয়োজন চীনের হিউম্যানয়েড রোবট প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু প্রযুক্তি প্রদর্শনী নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ের হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নের একটি বাস্তব উদাহরণ। গালার মঞ্চ থেকে শিল্পক্ষেত্রে রোবটের বিস্তৃত প্রয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। বরফের শহর হারবিনে অনন্য শাখা ভেন্যু চীনের উত্তরাঞ্চলের শহর হারবিন এবারের গালার শাখা ভেন্যুগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ। ‘বরফ শহর’ নামে পরিচিত এই শহরের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে বরফ ও তুষার দিয়ে। হারবিন আইস ওয়ার্ল্ডে নির্মিত মঞ্চে বড় প্রযুক্তিগত পর্দা না থাকলেও বরফের স্বচ্ছতা ও আলোছায়ার অনন্য সমন্বয় দর্শকদের এক বিশেষ আবহ উপহার দিয়েছে। স্থানীয় শিল্পী, অভিনেতা ও গায়কদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানগুলো শহরের আন্তরিকতা ও উৎসবমুখর পরিবেশকে তুলে ধরেছে। দুবাইয়ের আকাশে চীনা উৎসবের আলো চীনা বসন্ত উৎসবের বৈশ্বিক প্রভাবের আরেকটি প্রতীক দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বুর্জ খলিফা ভবনে। বসন্ত উৎসবের প্রাক্কালে সেখানে সিএমজি’র বিশেষ আলোক প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়, যা টানা সপ্তম বছর অনুষ্ঠিত হলো। প্রদর্শনীতে গালার মাসকট, প্রাচীন চীনা অক্ষরে ‘ঘোড়া’, এবং দ্রুতগামী ঘোড়ার দৃশ্য ভবনের গায়ে ভেসে ওঠে। আয়োজকদের মতে, এটি নতুন যুগে চীনের সাহসিকতা, সংগ্রাম ও উন্নয়নের প্রতীক। ঘোড়া চীন ও আরব—উভয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতীক হওয়ায় এই আয়োজন দুই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সংযোগও তুলে ধরেছে। অসংখ্য পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ এই প্রদর্শনী উপভোগ করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুভেচ্ছা ও কূটনৈতিক বার্তা চীনা নববর্ষ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা চীনা জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়া-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চীনের আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এ ছাড়া নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও চীনের উন্নয়ন ও জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। বিশ্বায়নের প্রতীক সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের চীনা বসন্ত উৎসব গালা শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক বন্ধনের এক অনন্য সম্মিলন। বেইজিংয়ের মঞ্চ থেকে হারবিনের বরফ নগরী, আবার দুবাইয়ের আকাশচুম্বী ভবন পর্যন্ত—চীনা নববর্ষ এখন সত্যিই বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আয়োজন দেখিয়ে দিয়েছে—ঐতিহ্য যখন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয় এবং সংস্কৃতি যখন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যায়, তখন একটি উৎসব শুধু একটি দেশের নয়, পুরো মানবসমাজের সম্পদ হয়ে ওঠে। সূত্র: সিএমজি

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কিম জং উনের উত্তরসূরি কে?

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে ঘিরে আবারও দৃশ্যমান হয়েছে এক অদৃশ্য কিন্তু তীব্র পারিবারিক স্নায়ুযুদ্ধ। দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন মহল থেকে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) জানিয়েছে, কিম জং উনের ১৩ বছর বয়সী কন্যা কিম জু আয়ে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন। বিষয়টি এখন আর নিছক গুঞ্জন নয়, বরং ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে তা গুরুত্বসহকারে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত দেশটির প্রভাবশালী নেত্রী এবং কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং-এর সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষমতার সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।  চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সম্মেলনে কিম জু আয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনটি হলে উত্তর কোরিয়ার রক্ষণশীল ও পুরুষতান্ত্রিক নেতৃত্বে তা একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। ২০২২ সালের নভেম্বরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে দেখা যায় কিম জু আয়েকে। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত বাবার সঙ্গে সামরিক মহড়া, শিল্পকারখানা পরিদর্শন এবং বিদেশ সফরে অংশ নিচ্ছেন। শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও, সম্প্রতি তাকে চীনের নেতার সঙ্গে বৈঠকে নিয়ে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার পর তাদের মূল্যায়ন বদলেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, কিম জং উন পরিকল্পিতভাবেই তার কিশোরী কন্যাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করছেন। তবে এই প্রক্রিয়ায় বড় প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারেন ৩৮ বছর বয়সী কিম ইয়ো জং, যিনি বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার কঠোর ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম জং উনের আকস্মিক অসুস্থতা বা মৃত্যু ঘটলে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে অভিজ্ঞ কিম ইয়ো জং-এর ক্ষমতায় বসার সম্ভাবনা কিশোরী কন্যার তুলনায় বেশি। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের অভিমত, কিম ইয়ো জং তার ভাইঝির হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে অনাগ্রহী হতে পারেন এবং নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় অবস্থান নেবেন। এতে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরে বড় ধরনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আশঙ্কা জোরদার হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার পারিবারিক রাজনীতির ইতিহাস অতীতে রক্তাক্ত মোড় নিয়েছে। ক্ষমতায় বসার পর কিম জং উন তার চাচা জ্যাং সং থেককে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি তার সৎ ভাই কিম জং নাম মালয়েশিয়ায় রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। বর্তমানে আনুমানিক ৫০ থেকে ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত। এমন প্রেক্ষাপটে দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব কার হাতে যাবে এবং পারিবারিক এই দ্বন্দ্ব কতদূর গড়াবে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
বৈশ্বিক এআই সম্মেলন শুরু ভারতে
বৈশ্বিক এআই সম্মেলন শুরু ভারতে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন শুরু হয়েছে। কর্মসংস্থান, শিশু নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে সোমবার পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়।   ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ উদ্বোধন করে বলেন, এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির প্রতিফলন এবং তরুণদের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি সুযোগ। সম্মেলনের লক্ষ্য হচ্ছে বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে প্রায় আড়াই লাখ দর্শনার্থী, ২০ জন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান এবং ৪৫টি মন্ত্রীপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছেন। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরাও এতে উপস্থিত রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন স্যাম অল্টম্যান এবং সুন্দর পিচাই। তবে এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন। সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকে এআই খাতে বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং আগামী দশকে ভারতের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে এআই কোম্পানিগুলোকে বাস্তবভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। অনেকের মতে, আগের সম্মেলনগুলোতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বড় অংশই ছিল স্বেচ্ছানিয়ন্ত্রণভিত্তিক। সম্মেলনে এআই নিরাপত্তা বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডিপফেকসহ ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেনারেটিভ এআই সহজে ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি করতে পারায় শিশু নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলেছে, উন্নয়নশীল দেশে আয়োজিত এটিই প্রথম বড় বৈশ্বিক এআই সম্মেলন। আয়োজকদের আশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে এমন একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে, যাতে এআই প্রযুক্তি সবার উপকারে আসে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগোতে ভারতের সামনে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Top week

সংগৃহীত ছবি
জাতীয়

জানা গেল বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0