বিশ্ব

সমুদ্রের নিচে অবস্থিত নিজেদের মিসাইল সুড়ঙ্গের ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
ইরান প্রকাশ করল সমুদ্রের নিচে থাকা মিসাইল সুড়ঙ্গ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সমুদ্রের নিচে নির্মিত নিজেদের মিসাইল সুড়ঙ্গের ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরান। ধারণা করা হচ্ছে, এসব সুড়ঙ্গে কয়েকশ ক্রুজ মিসাইল মজুত রয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—তাদের ওপর কোনো হামলা হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর ‘নিরাপদ’ থাকবে না।   বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পানির নিচে নির্মিত মিসাইল সুড়ঙ্গের একটি ভিডিও সম্প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখার কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরিকে সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থান করতে দেখা যায়। সেখানে পানির নিচে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা একাধিক মিসাইল প্রদর্শন করা হয়। নৌ কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরি জানান, সমুদ্রের নিচে ইরানের মিসাইলের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব মিসাইল উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌজাহাজ লক্ষ্য করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার দাবি, এসব সুড়ঙ্গে কয়েকশ মিসাইল মজুত রয়েছে, যা এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তিনি আরও জানান, ইরানের তৈরি ‘কাদের-৩৮০ এল’ মিসাইলে অত্যাধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আঘাত হানার আগ পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ট্র্যাক করতে পারে। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও বড় হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান যদি হামলা এড়াতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই চুক্তিতে আসতে হবে এবং কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বিশাল একটি যুদ্ধজাহাজ বহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও বিপুল শক্তি নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া এই বহর যেকোনো সময় অভিযানে যেতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় পাঠানো বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর বহরের চেয়েও এটি বড়। প্রয়োজন হলে এই বহর আরও দ্রুত ও ভয়াবহ হামলা চালাতে পিছপা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত চলছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
গাজার শাসনভার হস্তান্তরে প্রস্তুত হামাস
গাজার শাসনভার হস্তান্তরে প্রস্তুত হামাস

গাজার শাসনভার একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত বলে বুধবার জানিয়েছে হামাস। তবে একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তারা। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এএফপিকে বলেন, ‘প্রোটোকল প্রস্তুত, নথিপত্র সম্পূর্ণ, এবং গাজা উপত্যকার সব খাতে শাসনভার টেকনোক্র্যাটিক কমিটির কাছে সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তরের তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে।’ ১৫ সদস্যের ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গঠিত একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের দল। গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া ওই চুক্তির আওতায় যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে এই কমিটি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলি শাথের নেতৃত্বাধীন এনসিএজির সদস্যরা গাজায় প্রবেশ করবেন মিসরের সঙ্গে সীমান্তবর্তী রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু হলে। কাসেম বলেন, রাফাহ ক্রসিং ‘উভয় দিকেই খুলে দিতে হবে এবং গাজা উপত্যকায় প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ধরনের ইসরায়েলি বাধা ছাড়া। ’ রাফাহ হলো গাজার একমাত্র বহির্বিশ্বের সংযোগপথ যা ইসরায়েলের দিকে যায় না এবং এটি মানুষ ও পণ্য প্রবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে রাফাহ ক্রসিংটি বন্ধ রয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে সীমিতভাবে এটি খোলা হয়েছিল, তবে পুনরায় চালুর অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। এনসিএজির প্রধান আলি শাথ গত সপ্তাহে ঘোষণা দেন, পরবর্তী সপ্তাহে রাফাহ ক্রসিং উভয় দিকেই খুলে দেওয়া হবে। কাসেম বলেন, ‘স্বাধীন জাতীয় কমিটির রাফাহ ক্রসিং খোলার ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি যোগ করেন, ‘এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—এই কমিটি নাগরিকদের যাতায়াত পূর্ণ স্বাধীনতায় পরিচালনা করছে কি না, চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি শর্ত অনুযায়ী নয়—সেটি পর্যবেক্ষণ করা।’ ইসরায়েল জানিয়েছে, শেষ জিম্মি রান গিভিলির মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের তথাকথিত ‘সীমিত পুনরায় খোলা’র আওতায় কেবল পথচারীদের চলাচলের অনুমতি দেবে। ইসরায়েলি বাহিনী সোমবার গিভিলির মরদেহ উদ্ধার করে এবং বুধবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মেইতারে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। কাসেম বলেন, ‘এতে স্পষ্ট যে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির প্রতি হামাস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘প্রথম ধাপে যা যা করার প্রয়োজন ছিল, হামাস সবই করেছে এবং দ্বিতীয় ধাপের সব পথে প্রবেশ করতে প্রস্তুত।’ টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গঠন এবং গাজায় থাকা শেষ জিম্মির মরদেহ ইসরায়েলে ফেরত দেওয়ার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলের গাজা থেকে প্রত্যাহার। যদিও গিভিলির মরদেহ ফেরত দেওয়াকে হামাস চুক্তির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে, তবুও তারা এখনো অস্ত্র সমর্পণ করেনি। হামাস বারবার বলেছে, নিরস্ত্রীকরণ তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। তবে একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, কোনো ফিলিস্তিনি শাসন কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে তারা আলোচনায় বসতে পারে। তবে ইসরায়েল বা হামাস—কেউই এখনো প্রত্যাহার বা নিরস্ত্রীকরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি কিংবা কৌশল স্পষ্ট করেনি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
ভিসানীতিতে পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের জন্য বড় ধাক্কা

এইচ-১বি ভিসায় বড় ধাক্কা খেয়েছেন ভারতীয়রা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে সমর্থন করে টেক্সাস রাজ্য সরকার রাজ্যের অধীনস্থ সব সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এইচ-১বি ভিসা আবেদন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার জারি করা এক সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে, এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির ফলে এমন বহু চাকরি বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে, যেগুলো ‘আমেরিকানদের বিশেষ করে টেক্সানদের দ্বারা পূরণ করা উচিত ছিল। অ্যাবট লেখেন, বিশ্বের সেরা ও মেধাবীদের এনে প্রকৃত বিশেষায়িত ও অপূর্ণ কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণের বদলে এইচ-১বি প্রোগ্রামটি বহু ক্ষেত্রে এমন চাকরি পূরণে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা টেক্সাসের নাগরিকরাই করতে পারতেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির এই গভর্নর জানান, টেক্সাসকে ‘আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি’ হিসেবে ধরে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হিউস্টন ক্রনিকলের উদ্ধৃত ফেডারেল তথ্যে বলা হয়েছে, টেক্সাসে অধিকাংশ এইচ-১বি ভিসাধারী কাজ করেন বেসরকারি সংস্থায়। তবে সরকারি ক্ষেত্রে এই ভিসাধারীদের বড় অংশই কর্মরত রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এই ভিসা স্থগিতাদেশ ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ফলে রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সংস্থা সরাসরি প্রভাবিত হবে। গভর্নর অ্যাবটের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে সব রাজ্য সংস্থাকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেখানে ভিসা নবায়নের আবেদন সংখ্যা, আবেদনকারীদের দেশ, বর্তমান ভিসার মেয়াদসহ নানা তথ্য উল্লেখ করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারতীয়রা। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ভারতীয়ের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজারই টেক্সাসে থাকেন। এছাড়াও নিউ জার্সিতে প্রায় ৪৪০ হাজার, নিউইয়র্কে ৩৯০ হাজার এবং ইলিনয়ে প্রায় ২৭০ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘোষিত ট্রাম্পের ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ি ভারতীয় সম্প্রদায়ের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন পরিসংখ্যন ব্যুরোর ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশই ভারতীয়।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যে নতুন ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে টানা কয়েক দিনের সামরিক মহড়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনীর অংশ নাইন্থ এয়ার ফোর্স (অ্যাফসেন্ট) এই আকাশ মহড়া পরিচালনা করছে। বিবৃতিতে অ্যাফসেন্ট জানায়, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দ্রুত বিমান ও জনবল মোতায়েন এবং যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখার সক্ষমতা যাচাই করা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতিও এর লক্ষ্য। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মহড়ার অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী একাধিক জরুরি ঘাঁটিতে ছোট ও দক্ষ সহায়তাকারী দল মোতায়েন করবে। পাশাপাশি এই মহড়ায় দ্রুত বিমান ওঠানামা এবং লজিস্টিক সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে। সব কার্যক্রমই স্বাগতিক দেশগুলোর অনুমোদন এবং বেসামরিক ও সামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এই মহড়ার এক দিন আগেই মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়। এতে করে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়বে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি : রয়টার্স
ইরানে সরকার পতন হলে ‘বাফার জোন’ চালু করবে তুরস্ক

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে যদি তেহরানে সরকার ভেঙে পড়ে, তাহলে ইরান সীমান্তের ওপারে একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আইন প্রণেতাদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজনের মতে, সেখানে ইরান পরিস্থিতি ঘিরে একাধিক সম্ভাব্য দৃশ্যপটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানায় আংকারা। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত একজন জানান, তুর্কি কর্মকর্তারা ‘বাফার জোন’ শব্দটি ব্যবহার করে বোঝান যে, নতুন করে শরণার্থীর ঢল ঠেকাতে দেশটি সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে চায়। তবে আরেকজন অংশগ্রহণকারী বলেন, কর্মকর্তারা সরাসরি ‘বাফার জোন’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। দ্বিতীয় সূত্রটি বলেন, ‘মূলত তারা বলেছেন, সম্ভাব্য অভিবাসনের ক্ষেত্রে যারা আসতে পারেন, তাদের যেন ইরান সীমান্তের ভেতরেই রাখা যায়—এ জন্য সবকিছু করা উচিত বলে তারা মনে করেন।’ চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের সঙ্গে ৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আংকারা। এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ২০৩টি ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল টাওয়ার, ৪৩টি লিফট সংযুক্ত টাওয়ার, ৩৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মডুলার কংক্রিট দেয়াল এবং ৫৫৩ কিলোমিটার প্রতিরক্ষামূলক খাল। মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ড্রোন ও বিমানসহ নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। একটি তুর্কি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, একই ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা আইন প্রণেতাদের জানান, চলতি মাসে সরকারের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে প্রায় চার হাজার ইরানি নিহত এবং ২০ হাজার জন আহত হয়েছে। দ্রুত মূল্যস্ফীতি ও ইরানের মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের ফলে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বর্ডার পেট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো। ছবি : সংগৃহীত
পিছু হটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, সরিয়ে নিচ্ছেন গ্রেগরি বোভিনোকে

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রধান এবং বর্ডার পেট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো মঙ্গলবার শহরটি ত্যাগ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই অভিযানের নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল করছে। মূলত ফেডারেল কর্মকর্তাদের হাতে দ্বিতীয়বারের মতো একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর সেখানে বাহিনীর উপস্থিতি কমিয়ে আনা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ৫৫ বছর বয়সী বোভিনো মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তার সঙ্গে থাকা একদল এজেন্ট নিয়ে মিনেসোটা ছাড়ছেন। ডেমোক্র্যাট নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই বোভিনোর সমালোচনা করছিলেন। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বোভিনোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি কমান্ডার অ্যাট লার্জ পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন ক্যালিফোর্নিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে তার আগের পুরোনো চাকরিতে (প্রধান পেট্রল এজেন্ট) ফিরে যাবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি তার বর্ডার জার টম হোম্যানকে মিনেসোটায় পাঠাচ্ছেন। সেখানে অপারেশন মেট্রো সার্জ নামের চলমান অভিযানের তদারক করবেন হোম্যান। তিনিই সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে রিপোর্ট করবেন। তবে ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটিকে গুলি করে হত্যার পর হোয়াইট হাউস তাদের কৌশলে এই পরিবর্তন আনল। ট্রাম্প সোমবার মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালৎস এবং মেয়র জ্যাকব ফ্রের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এর আগে ট্রাম্প এই দুই ডেমোক্র্যাট নেতাকেই রাজ্যে বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী করেছিলেন। তবে এখন তিনি কিছুটা নরম সুরে কথা বলছেন। বোভিনোর পদাবনতির খবরটি প্রথম জানায় দ্য আটলান্টিক। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোভিনো হয়তো শিগগিরই অবসরে যাবেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই খবর নাকচ করে বলেছে, বোভিনোকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। তারা তাকে একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে প্রশংসা করেছে। বোভিনোর রাজ্য ছেড়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও বিক্ষোভকারীরা শান্ত হননি। তিনি যে হোটেলে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটার বাইরে মানুষ জড়ো হয়ে থালাবাসন পিটিয়ে এবং বাঁশি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বোভিনো ট্রাম্পের এই বিতর্কিত অভিযানের একজন উগ্র সমর্থক ছিলেন। তিনি সিনেমার মতো করে এই অভিযানের প্রচারমূলক ভিডিও তৈরি করতেন। তাকে প্রায়ই মাস্ক ছাড়া দাপুটে ভঙ্গিতে দেখা যেত, যেখানে তার চারপাশের অন্য সব এজেন্টের মুখ ঢাকা থাকত। তার পোশাক-আশাক এবং আচরণের জন্য অনেকে তাকে নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বোভিনো সব সময় এজেন্টদের পক্ষ নিয়েছেন, যদিও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে তার দাবি মিথ্যা। গত সপ্তাহান্তে নিহত প্রেটির বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, প্রেটি বড় ধরনের কোনো হামলা করতে চেয়েছিলেন। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেটির হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, বরং ছিল একটি মুঠোফোন। এমনকি গত বছরও আদালতকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে একজন ফেডারেল বিচারক বোভিনোকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেছিলেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমর। ছবি : সংগৃহীত
ডেমোক্র্যাটের মুসলিম নারী সদস্যের সম্পদ নিয়ে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট দলীয় মুসলিম নারী সদস্য ইলহান ওমরের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে গুলিতে বিক্ষোভকারী অ্যালেক্স প্রেট্টির প্রাণহানির ঘটনায় মার্কিন প্রশাসন যখন তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে, তখন ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ওই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সীমান্তবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যানকে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে পাঠাচ্ছেন তিনি। দেশটির ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা শনিবার সকালের দিকে ৩৭ বছর বয়সী নার্স প্রেট্টিকে গুলি চালিয়ে হত্যা করার পর থেকে সেখানে বিক্ষোভ চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‌‌টম কঠোর, তবে ন্যায়বান। তিনি সরাসরি আমাকে রিপোর্ট করবেন। পৃথকভাবে, মিনেসোটায় সংঘটিত ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কল্যাণ তহবিল জালিয়াতি নিয়ে একটি বড় তদন্ত চলছে; যা রাস্তায় চলমান সহিংস ও সংগঠিত বিক্ষোভের জন্য আংশিকভাবে দায়ী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, এছাড়া কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে বিচার বিভাগ এবং কংগ্রেস। তিনি সোমালিয়া থেকে শূন্য হাতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, আর এখন নাকি তার সম্পদের পরিমাণ ৪৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সময়ই সব বলবে। গত কয়েক বছরে ইলহান ওমরের সম্পদের পরিমাণ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; যার পেছনে তার নতুন স্বামীর সম্পদের ভূমিকা রয়েছে। এর আগেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে আর্থিক ও রাজনৈতিক অপরাধের তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই তদন্ত এখনই শুরু করা দরকার। সোমালি বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর বর্তমানে ট্রাম্পের অন্যতম নিশানা। তাকে আক্রমণ করতে ট্রাম্প প্রায়ই ইসলামবিদ্বেষী ভাষা ব্যবহার করেন। মুসলিম আমেরিকান এই কংগ্রেস সদস্যের নির্বাচনী এলাকা মিনিয়াপোলিস। তিনি ট্রাম্পের নীতি ও বক্তব্যের কড়া সমালোচক। বিশেষ করে সোমালি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তার আক্রমণাত্মক মন্তব্যের বিষয়ে অতীতে ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন ইলহান ওমর। গত বছর ইলহান ওমরের তীব্র সমালোচনা করে সোমালি সম্প্রদায়কে আবর্জনা বলে অভিহিত করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত
ইরানে হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলায় তাদের ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর গালফ নিউজের। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কার্যক্রমে ইউএই কোনো ধরনের লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সর্বোত্তম পথ বলে উল্লেখ করে দেশটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি মার্কিন নৌবহর উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইরানের পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। যদিও শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এদিকে, ইরানে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইথিওপিয়ায় নগর উন্নয়নে ১১.৫ লাখ কর্মসংস্থান

ইথিওপিয়া দ্রুত নগরায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শহরমুখী মানুষের প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের চাহিদাও তীব্র হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নেওয়া একটি নগর উন্নয়ন কর্মসূচি দেশটিতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত ইথিওপিয়া আরবান ইনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউআইআইডিপি)–এর আওতায় দেশের ১১৭টি শহরে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উপকৃত হয়েছেন প্রায় ৬৬ লাখ শহরবাসী। ইথিওপিয়ার শহরাঞ্চলের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০১২ সালে শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় কোটি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৪ কোটি ২০ লাখ ছাড়াবে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউআইআইডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বব্যাংক, ইথিওপিয়া সরকার এবং ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় প্রকল্পটিতে ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল নগর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি। প্রকল্পটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। প্রশিক্ষণ ও আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শহরগুলোর রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো হয়। এর ফলে স্থানীয় সরকারগুলো নিজেরাই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্ষম হচ্ছে। এর সুফল হিসেবে অনেক শহরের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই অর্থ দিয়ে নতুন সড়ক, নাগরিক সেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে শহরগুলোর আর্থিক স্বনির্ভরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো ছিল প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। জনপরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের যুক্ত করা হয়। এতে শহর প্রশাসনে নারী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ছিল কর্মসূচির প্রধান কাজ। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। পাশাপাশি ২ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি পরিকল্পিত নগর জমি উন্নয়ন করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি অস্থায়ী এবং ২ লাখের বেশি স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এসব চাকরির প্রায় অর্ধেকই পেয়েছেন নারীরা। উন্নত সড়ক ও নগর সুবিধার কারণে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা দ্রুত গড়ে উঠছে। শহরগুলো বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করছে। করোনা মহামারি ও বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাতের মধ্যেও প্রকল্পটির কাজ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। নমনীয় পরিকল্পনা ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিওপিয়ার এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন কর্মসংস্থানের বড় উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে এবং সরাসরি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে প্রাণহানি

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসিলান প্রদেশে সোমবার ভোরে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ফেরিটিতে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। তারা জম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে জোলো দ্বীপের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। খবর জানিয়েছে আলজাজিরা। কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিটিতে মোট ৩৩২ জন যাত্রী এবং ২৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। এ পর্যন্ত ২১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও ১৪৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত আছে। বাসিলান প্রদেশের মেয়র আরসিনা লাজা কাহিং-নানোহ ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানান, দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে কোস্টগার্ড সদস্যদের উদ্ধার কার্যক্রম এবং মৃতদেহ উদ্ধার করতে দেখা যায়। কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া বলেন, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তিনি জানান, ফেরিটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল না এবং এটি নির্ধারিত রুটেই যাত্রা করছিল। বাসিলান উদ্ধারকারী দলের সদস্য রোনালিন পেরেজ জানান, উদ্ধারকাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। কারণ আহত মানুষের সংখ্যা বেশি, কিন্তু উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা সীমিত। ইতোমধ্যে অন্তত ১৮ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ফিলিপাইনে সামুদ্রিক দুর্ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে প্রায়ই ঝড়, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে নৌদুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে গত শুক্রবারও একটি কার্গো জাহাজ ডুবে দুই নাবিক নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় ১৫ জনকে উদ্ধার করা হলেও চারজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ফিলিপাইনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৮৭ সালে। সে সময় একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি : রয়টার্স
ইউরোপীয় গাড়ি আমদানি শুল্ক ১১০ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশে করবে ভারত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর শুল্ক সর্বোচ্চ ১১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা করছে ভারত বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। দুই পক্ষের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে এগোনোর মধ্যে এটিই হবে ভারতের বিশাল বাজার সবচেয়ে বড় মাত্রায় উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ। চুক্তিটি মঙ্গলবারের মধ্যেই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলোচনার বিষয়ে অবহিত দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা সীমিত সংখ্যক গাড়ির ওপর শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কমাতে সম্মত হয়েছে। এই ছাড় প্রযোজ্য হবে ১৫ হাজার ইউরোর বেশি আমদানি মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে। সূত্রগুলো আরো জানায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শুল্ক আরো কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো হবে। এর ফলে ভলকসওয়াগেন, মারসিডিস-বেঞ্চ এবং বিএমডব্লিউ–এর মতো ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ভারতের বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি রাজধানী তেহরানের একটি বিশেষ ভূগর্ভস্থ নিরাপদ আশ্রয় বা বাঙ্কারে অবস্থান নিয়েছেন। ইরান সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সম্ভাব্য মার্কিন হামলার ঝুঁকি বেড়েছে বলে সর্বোচ্চ নেতাকে সতর্ক করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই খামেনিকে একটি সুরক্ষিত স্থাপনায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আশ্রয়কেন্দ্রটি অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত এবং এটি একাধিক ভূগর্ভস্থ টানেলের মাধ্যমে সংযুক্ত। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থান পরিবর্তন ও যোগাযোগ বজায় রাখার সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই স্থাপনাটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে। এদিকে, খামেনির দপ্তরের দৈনন্দিন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সূত্রের ভাষ্যমতে, সর্বোচ্চ নেতার তৃতীয় পুত্র মাসুদ খামেনি বর্তমানে তার দপ্তরের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কার্যত নির্বাহী শাখাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি সামরিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও শীর্ষ নেতৃত্বের চলাচলে পরিবর্তন; পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, ইরানে হামলার প্রস্তুতির শেষ ধাপে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য এই সামরিক হামলার আশঙ্কায় ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করেছে। এই মোতায়েনের অংশ হিসেবে আনা হয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও ক্রুজার, যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং উন্নত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি : রয়টার্স
সমালোচনার মুখে এবার ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানে যুদ্ধ করা যুক্তরাজ্যের সেনাদের প্রশংসা করেছেন। ন্যাটো মিত্র বাহিনী যুদ্ধের সম্মুখ সারিতে ছিল না— ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের জেরে সাবেক সেনা, তাদের পরিবার এবং রাজনীতিকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর তিনি এই বক্তব্য দেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ন্যাটো বাহিনীর ভূমিকাকে খাটো করে দেখান এবং প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কখনো প্রয়োজন হলে সামরিক জোটটি আদৌ পাশে দাঁড়াবে কি না। তার এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে ‘অপমানজনক ও সত্যিই ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন। স্টারমারের সঙ্গে শনিবার ফোনালাপের পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে যুক্তরাজ্যের সেনাদের ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের অন্যতম’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটো বাহিনী সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের কখনো তাদের প্রয়োজন হয়নি। আমরা আসলে তাদের কাছ থেকে কিছু চাইওনি। তারা বলবে, তারা আফগানিস্তানে কিছু সেনা পাঠিয়েছিল… এবং তারা পাঠিয়েছিল, কিন্তু তারা একটু পেছনে ছিল, সামনের সারি থেকে কিছুটা দূরে।’ এই মন্তব্যের পর আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করা সেনাদের পরিবার, সাবেক যোদ্ধা এবং ওয়েস্টমিনস্টারসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের রাজনীতিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই ট্রাম্পের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। যুক্তরাজ্যের প্রিন্স হ্যারি বলেন, সেনাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারা একবারই প্রয়োগ করা হয়েছিল—২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার সময় পর্যন্ত জোটভুক্ত বাহিনীর সাড়ে তিন হাজারের বেশি সেনা নিহত হন, যাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ছিলেন মার্কিন নাগরিক। প্রাণহানির সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ছিল যুক্তরাজ্য—যুদ্ধে দেশটির ৪৫৭ জন সেনা নিহত হন, আর বহু সেনা গুরুতর আহত হন। ডাউনিং স্ট্রিট শনিবার জানায়, ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর পাশে থেকে আফগানিস্তানে লড়াই করা ব্রিটিশ সেনাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। এক মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সাহসী ও বীর ব্রিটিশ ও মার্কিন সেনাদের কথা স্মরণ করেছেন, যারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলেন—যাদের অনেকেই আর ঘরে ফিরতে পারেননি। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’ এই কথোপকথনের পরপরই ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে নতুন একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি আগের বক্তব্য থেকে কিছুটা সরে এলেও সরাসরি ক্ষমা চাননি। তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাজ্যের মহান ও অত্যন্ত সাহসী সেনারা সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকবে। আফগানিস্তানে ৪৫৭ জন নিহত হয়েছেন, বহুজন গুরুতর আহত হয়েছেন, এবং তারা ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের অন্যতম। এই বন্ধন কখনো ভাঙার নয়। অসাধারণ হৃদয় ও আত্মার অধিকারী যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী সর্বদাই অদ্বিতীয় (যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া)। আমরা আপনাদের ভালোবাসি, সব সময়ই ভালোবাসব।’

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইউনিফিল প্রত্যাহারের পর লেবাননে আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন হবে : প্রধানমন্ত্রী

২০২৭ সালে জাতিসংঘের ইউনিফিল মিশন প্রত্যাহারের পর লেবাননে কোনো না কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন হবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এ তথ্য জানান। শনিবার প্যারিস সফরের সময় তিনি এ কথা বলেন। ১৯৭৮ সালের মার্চ থেকে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যবর্তী বাফার জোনে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ জন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী ইউনাইটেড নেশনস ইনটেরিম ফোর্স ইন লেবানন (ইউনিফিল)-এ দায়িত্ব পালন করে আসছে।  তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপের মুখে গত বছরের আগস্টে গৃহীত এক প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে এক বছরের মধ্যে ইউনিফিল-কে লেবানন ছাড়তে হবে।  প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের পরদিন সালাম বলেন, ‘দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের সব সময়ই একটি আন্তর্জাতিক উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। সম্ভব হলে জাতিসংঘের উপস্থিতিই সবচেয়ে ভালো। কারণ কেবল জাতিসংঘই নিরপেক্ষতা ও নির্লিপ্ততা নিশ্চিত করতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার ইতিহাসের কারণে এই বাহিনীতে পর্যবেক্ষক ও শান্তিরক্ষী— দুয়ের সমন্বয় থাকতে হবে। বর্তমানে লেবাননে দক্ষিণাঞ্চলে লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করছে।  এটি ইসরাইল ও ইরানপন্থী শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির অংশ। চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলের লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও, দেশটি পাঁচটি কৌশলগত এলাকায় এখনও বাহিনী মোতায়েন রেখেছে। এদিকে, ইসরাইল লেবাননে নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ও সদস্যকে  লক্ষ্যবস্তু করে এসব হামলা চালানো হয়।  ইসরাইল অভিযোগ করে বলেছে যে হিজবুল্লাহ আবারও অস্ত্র সংগ্রহ করছে। হিজবুল্লাহর ঘোষিত নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী সালাম বলেন, এই প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ ‘দুই সপ্তাহ আগে’ শুরু হয়েছে। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রথম ধাপ শেষ করেছে। এতে লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে লিতানি ও আওয়ালি নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম চলবে।  উত্তর দিকে অবস্থিত এই এলাকায় হিজবুল্লাহর  উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। সালাম বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবেই দেখতে পাচ্ছি যে দ্বিতীয় ধাপের চাহিদা প্রথম ধাপের চেয়ে ভিন্ন।’  তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর বক্তব্য ছিল বেশ কঠোর।  তিনি বলেন, ‘তবে আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই যে আমরা পিছু হটব না।’ উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউনাইটেড নেশনস ইনটেরিম ফোর্স ইন লেবানন (ইউনিফিল) গঠিত হয়।  ওই সময় দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনি বিদ্রোহী তৎপরতা ও চলমান লেবানন গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ন্যাটো নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক বাড়লেও যুক্তরাজ্যের সেনাদের প্রশংসা ট্রাম্পের

আফগানিস্তানে ন্যাটোভুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশের সেনাদের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্যের জেরে ইউরোপীয় মিত্রদের ক্ষোভ বাড়তে থাকায় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আংশিকভাবে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসছেন বলে মনে হয়েছে। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই দাবি—ন্যাটো ‘কিছু সেনা পাঠিয়েছিল’, কিন্তু তারা ‘সামনের সারি থেকে একটু পেছনে, কিছুটা দূরে ছিল’—শনিবার নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। কোপেনহেগেন  থেকে এএফপি জানায়, সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর তিনি যুক্তরাজ্যের প্রতি সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়ে ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করেন। শনিবার, এক দিন আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দেওয়ার পর, ট্রাম্প অন্তত ব্রিটিশ সেনাদের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বলে মনে হয়। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের মহান ও অত্যন্ত সাহসী সৈন্যরা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে!’ তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে ৪৫৭ জন নিহত হয়েছেন, অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন, আর তারা ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের মধ্যে। এটি এমন এক বন্ধন, যা কখনো ভাঙবে না।’ ট্রাম্প যখন এই বক্তব্য দেন, তখন লন্ডনে ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানান, শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন স্টারমার। ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আফগানিস্তানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা সাহসী ব্রিটিশ ও মার্কিন সৈন্যদের কথা তুলেছেন—যাদের অনেকেই আর ঘরে ফিরতে পারেননি। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’ ট্রাম্পের আগের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কেবল যুক্তরাজ্যই নয়; শনিবার আরও কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা তাদের সেনাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের মন্তব্যে তার সরকারের বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে ন্যাটো অভিযানে ‘আমাদের দেশ যে মূল্য দিয়েছে, তা প্রশ্নাতীত—৫৩ জন ইতালীয় সেনা নিহত হয়েছেন এবং ৭০০’র বেশি আহত হয়েছেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘এই কারণে আফগানিস্তানে ন্যাটো দেশগুলোর অবদানকে খাটো করে দেখানো বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে যখন তা আসে একটি মিত্র রাষ্ট্রের কাছ থেকে।’ পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক স্মরণ করেন, ২০১১ সালে আফগানিস্তানে নিহত পাঁচ পোলিশ সেনার বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা। তিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘তখন আমার সঙ্গে থাকা মার্কিন কর্মকর্তারা আমাকে বলেছিলেন, আমেরিকা কখনোই পোলিশ বীরদের ভুলবে না।’ তিনি যোগ করেন, ‘হয়তো তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই কথাটি মনে করিয়ে দেবেন।’ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দপ্তর শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই অগ্রহণযোগ্য মন্তব্যগুলো জবাব দেওয়ার যোগ্য নয়।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপ্রধান নিহত সেনাদের পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং জাতির কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করতে চান।’ ফরাসি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে প্রায় ৯০ জন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন শনিবার ফেসবুকে লেখেন, ‘ডেনিশ ভেটেরানরা যে বলেছেন- এই কষ্ট কতটা গভীর, তা কোনো শব্দে প্রকাশ করা যায় না- আমি তা পুরোপুরি বুঝি।’ তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে মিত্র বাহিনীর সেনাদের অঙ্গীকার নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশ্ন তোলা অগ্রহণযোগ্য।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জনসংখ্যার তুলনায় ডেনমার্ক ন্যাটোর সেই দেশগুলোর একটি, যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সহ্য করেছে।’ ২০০৩ সালে দেশটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫৪ লাখ। ডেনিশ বার্তা সংস্থা রিৎসাউয়ের তথ্যমতে, বছরের পর বছর ধরে প্রায় ১২ হাজার ডেনিশ সেনা ও বেসামরিক নাগরিক আফগানিস্তানে পাঠানো হয়েছিল। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে ডেনিশ ভেটেরানরা আগামী ৩১ জানুয়ারি কোপেনহেগেনে নীরব পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন। শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য আমি অপমানজনক এবং সত্যিই ভয়াবহ বলে মনে করি। যারা নিহত বা আহত হয়েছেন, তাদের স্বজনদের মধ্যে এসব মন্তব্য যে গভীর কষ্ট সৃষ্টি করেছে, তাতে আমি বিস্মিত নই।’ প্রথমে হোয়াইট হাউস স্টারমারের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছিল। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একেবারেই সঠিক, ন্যাটোর অন্য যেকোনো দেশের সম্মিলিত অবদানের চেয়েও যুক্তরাষ্ট্র বেশি করেছে।’ ৯/১১ হামলার পর ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে এই প্রথমবার ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারা কার্যকর করা হয় এবং ব্রিটেনসহ একাধিক মিত্র দেশ আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেয়। ব্রিটেন ছাড়াও ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ইতালি ও পোল্যান্ডের পাশাপাশি কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির মতো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনারাও সেখানে নিহত হন। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস তার দেশের দেওয়া ‘ভারী মূল্য’-এর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘২০০১ সালে আমাদের মার্কিন মিত্ররা যখন সহায়তা চেয়েছিল, তখন আমাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত ছিল।’ তিনি যোগ করেন, ‘অনেক আহত ব্যক্তি আজও সেই সময়ের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ঘিরে সৃষ্ট ট্রান্সআটলান্টিক সংকট এখন আপাতত প্রশমিত হয়েছে। বুধবার ইউরোপ তার দাবির বিরোধিতা করায় ট্রাম্প ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকেও সরে আসেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর আহ্বান জানালেন প্রেসিডেন্টের ছেলে

ইরানের প্রেসিডেন্টের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান গতকাল শনিবার ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।  তিনি ইরান সরকারের একজন উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করছেন। পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকা সরকার বিরোধী মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ইরানের প্রেসিডেন্টের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ রাখলে অসন্তোষ তৈরি হবে এবং জনগণ ও সরকারের মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়ে যাবে। ইউসুফ পেজেশকিয়ানের পিতা মাসুদ ২০২৪ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘এর অর্থ, যারা অসন্তুষ্ট ছিলেন না এবং বর্তমানে অসন্তুষ্ট নন, তারা অসন্তুষ্টদের তালিকায় যুক্ত হয়ে যাবেন।’  সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ ইউসুফ পেজেশকিয়ানের বরাত দিয়ে এ তথ্য  প্রকাশ করেছে। গত ৮ জানুয়ারি ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে কর্তৃপক্ষ ব্ল্যাকআউট জারি করার পর থেকে দেশটির ৯ কোটিরও বেশি মানুষ ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের আড়ালে ব্যাপক দমন-পীড়নে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।  নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী জানিয়েছে, এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের ছেলে আন্দোলনের সহিংসতার জন্য বিদেশী হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন।  তবে তিনি এও বলেছেন, ‘নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনী হয়তো কিছু ভুল করেছে, যা আমরা কেউ সমর্থন করি না এবং এর সমাধান করা অবশ্যই প্রয়োজন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের সঙ্গে ‘চুক্তির’ আহ্বান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ গতকাল শনিবার শান্তির জন্য ‘চুক্তিতে’ পৌঁছানোর জন্য বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার তিন সপ্তাহ পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি বিরোধীদের প্রতি এ আহ্বান জানান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। দেশটির উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রদ্রিগেজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় শান্তির বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক বা দলীয় পার্থক্য থাকতে পারে না।’  তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, আমাদের একে অপরকে সম্মান জানিয়ে কথা বলতে হবে। আমাদের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, আমাদের একত্রিত হতে হবে এবং চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের ‌‘বোর্ড অব পিস’ কি জাতিসংঘকে দুর্বল করে তুলবে?

‘‘আমরা একসঙ্গে এমন এক অবস্থানে রয়েছি, যেখানে দশকের পর দশক ধরে চলা দুর্ভোগের অবসান ঘটানো, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জমে থাকা ঘৃণা ও রক্তপাত থামানো এবং ওই অঞ্চলসহ সারা বিশ্বের জন্য একটি সুন্দর, স্থায়ী ও গৌরবময় শান্তি গড়ে তোলা সম্ভব।’’ এই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি; যা তিনি এ সপ্তাহে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ইকোনোমিক ফোরামে নিজের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্বোধনের সময় ঘোষণা করেন। অত্যধিক দুর্ভোগ ও সংঘাতে জর্জরিত এই পৃথিবী তাকে (ট্রাম্প) ভীষণভাবে বিশ্বাস করতে চায়। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীর অনেক পর্যবেক্ষক ও কর্মকর্তার মতে, এটি ট্রাম্পের সেই উদ্যোগের আরও এক প্রমাণ; যার লক্ষ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী আন্তর্জাতিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং তার জায়গায় নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা তার প্রভাবের অধীনে থাকবে। ‘‘আমরা কাউকে আমাদের নিয়ে খেলতে দেব না,’’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষেপে সতর্ক করেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। তবে ইউরোপে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সমর্থক ভিক্টর অরবান তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, ট্রাম্প থাকলে শান্তি। এই বোর্ডটি ঠিক কী করবে, যার নেতৃত্ব আজীবনের জন্য ট্রাম্প নিজেই দেবেন? এটি কি সত্যিই জাতিসংঘের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা? • বোর্ড চেয়ারম্যানের ক্ষমতা গত বছর গাজা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় জন্ম নেওয়া এই ধারণা, যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছিল; এখন আরও বৃহত্তর, মহাকায় এবং বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগোচ্ছে। আর সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাঁস হওয়া খসড়া সনদের তথ্যে দেখা যায়, ট্রাম্প পদ ছাড়ার পরও আজীবনের জন্য বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন। ওই সনদ অনুযায়ী তার ক্ষমতা হবে ব্যাপক; কোনো দেশকে সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে নাকি হবে না, উপ-সংস্থা বা সহায়ক সংস্থা গঠন বা বিলুপ্ত করা, এমনকি তিনি যখন ইচ্ছা পদত্যাগ করলে কিংবা অক্ষম হলে নিজ উত্তরসূরি নিয়োগের ক্ষমতাও থাকবে তার হাতে। অন্য কোনো দেশ যদি স্থায়ী সদস্য হতে চায়, তার মূল্য ধরা হয়েছে চোখ কপালে তোলার মতো; ১০০ কোটি ডলার (৭৪ কোটি পাউন্ড)। এই নতুন বোমা ফাটানো তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন সময়টি ইতোমধ্যে ঘটনাবহুল। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটেছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের কব্জায় নেওয়া, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি ও প্রস্তুতি, আর গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ট্রাম্পের দাবি; যা ইউরোপজুড়ে এবং তার বাইরেও আলোড়ন তুলেছে। দাভোসে বোর্ডের উদ্বোধনে দিগ্বিদিক থেকে ১৯টি দেশ উপস্থিত ছিল; আর্জেন্টিনা থেকে আজারবাইজান, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র থেকে উপসাগরীয় রাজতন্ত্র পর্যন্ত। আরও বহু দেশ যোগ দিতে সম্মত হয়েছে বলেও জানা গেছে। ‘‘এই দলে আমি প্রত্যেককে পছন্দ করি,’’ ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেন, যখন তিনি বোর্ডের সদস্য কিংবা এর অধীনস্থ নির্বাহী স্তরগুলোর তালিকায় থাকা নেতা ও কর্মকর্তাদের দিকে তাকান। সম্ভাব্য আরও অনেক সদস্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি। ‘‘এটি এমন একটি চুক্তির বিষয়; যা আরও বিস্তৃত প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং শান্তি সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতি নিয়ে আমাদেরও উদ্বেগ রয়েছে,’’ ব্যাখ্যা করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। ট্রাম্প বলছেন, রাশিয়া এতে যুক্ত আছে, যদিও মস্কো থেকে বার্তা এসেছে, তারা এখনো অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করছে। বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী সুইডেন যোগ দিচ্ছে না বলে জানিয়েছে। প্রস্তাবটি এমন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যার উত্তর পেতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আরও সংলাপ প্রয়োজন; এভাবেই কূটনৈতিক ভাষায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে নরওয়ে। এমনকি মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের একটি জোট—যার মধ্যে ছয়টি আরব দেশ, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া রয়েছে—স্পষ্ট করেছে যে তারা এতে যুক্ত হচ্ছে গাজায় ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য, যার মধ্যে বিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠনও রয়েছে। তবে বোর্ডের সনদের ফাঁস হওয়া তথ্যে গাজার কোনো উল্লেখ নেই। কিছু সমালোচকের কাছে, যাদের মধ্যে যোগ দিতে অনিচ্ছুক দেশও রয়েছে; এটি এমন এক প্রেসিডেন্টের আত্মগৌরবের প্রকল্প যিনি সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের আকাঙ্ক্ষা লুকান না। এই পুরস্কারটি ২০০৯ সালে হোয়াইট হাউসে প্রথম মেয়াদের শুরুতে পেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিশ্বনেতারা জানেন, এই নতুন ক্লাবে যোগ না দিলে তার মূল্য দিতে হতে পারে। আমি তার ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব, তখন সে যোগ দেবে। তবে তাকে যোগ দিতেই হবে এমন নয়। এভাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প, তার পছন্দের অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়ে। শুধু স্লোভেনিয়া প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানায়। প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলব স্পষ্ট করে বলেন, এটি বিপজ্জনকভাবে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছে। এই উদ্বেগের জবাব ট্রাম্প সরাসরি দেন। তিনি বলেন, এই বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হয়ে গেলে আমরা প্রায় যা ইচ্ছা তাই করতে পারব এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করেই তা করব। ভিড় ঠাসা হলের উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেন। সেখানে উপস্থিত সবাই তার প্রতিটি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। তবে তিনি বিশ্বকে ধাঁধায় রাখতেই পছন্দ করেন। এই মন্তব্যের একদিন আগে ফক্স টিভির এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তার বোর্ড কি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপন করবে। তিনি জবাব দেন, হয়তো করবে। জাতিসংঘ খুব একটা সহায়ক হয়নি। এরপর তিনি যোগ করেন, জাতিসংঘের সম্ভাবনার আমি বড় ভক্ত, কিন্তু সংস্থাটি কখনোই সেই সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহার করতে পারেনি। আমি যে যুদ্ধগুলোর মীমাংসা করেছি, সেগুলো জাতিসংঘেরই মিটিয়ে ফেলা উচিত ছিল। • শান্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারীর নতুন দাবিদার? ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ বহু আগেই কার্যত শান্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা হারিয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের প্রথম মেয়াদের একেবারে প্রথম দিনেই; নিরাপত্তা পরিষদের প্রায় নজিরবিহীন সর্বসম্মত সমর্থন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর—আমি যখন তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তিনি শান্তির জন্য কূটনীতির জোয়ার আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত এক দশকে জাতিসংঘের প্রচেষ্টা বারবার ব্যাহত হয়েছে; অচল নিরাপত্তা পরিষদ, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধে শান্তি ব্যাহতকারী পক্ষ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ার কারণে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিগুলোর তুলনায় সংস্থাটির নিজস্ব অবস্থান ক্রমাগত ক্ষয়ে যাওয়ার কারণেও। যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্পের সক্রিয়তাকে আমাদের সবাইকে স্বাগত জানানো উচিত, বলেন জাতিসংঘের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথস। তিনি মনে করেন, নতুন উদ্যোগটি স্পষ্টতই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং বৃহত্তর জাতিসংঘের ব্যর্থতার প্রতিফলন। তবে মানবিক বিষয়ক ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল সতর্ক করে বলেন, গত ৮০ বছরে অসংখ্য ব্যর্থতা ও জড়তার মধ্য দিয়ে আমরা যা শিখেছি, তা হলো অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব। অর্থাৎ, এটি কেবল ট্রাম্পের বন্ধুদের জন্য নয়, বরং বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষে প্রতিনিধিত্বশীল থাকা সম্পর্কেও প্রযোজ্য। গুতেরেস নিজেও সম্প্রতি আক্ষেপ করে বলেন, এমন মানুষও আছেন যারা মনে করেন আইনের শাসনের জায়গায় শক্তির শাসন আসা উচিত। ট্রাম্প ক্রমাগত দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের ইতি টেনেছেন। এ বিষয়ে বিবিসির টুডে অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেসের কাছে জানতে চাওয়া হলে বাস্তববাদী ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ওগুলো যুদ্ধবিরতি। এর কিছু ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মধ্যে অস্থায়ী শান্তি চুক্তি দ্রুত ভেস্তে যায়, সীমান্তে পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ফের শুরু করে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, আর পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে ট্রাম্পের কেন্দ্রীয় ভূমিকার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। তবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের দৃঢ় মধ্যস্থতাই কার্যকর হয়েছিল। গাজায় বিধ্বংসী সংঘাতের অবসানে গত অক্টোবরে তার (ট্রাম্প) ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে; যা একদিকে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমায়, অন্যদিকে ইসরায়েলি জিম্মিদের যন্ত্রণা লাঘব করে। আরব মিত্রদের অনুরোধ ও শোকাহত ইসরায়েলি পরিবারগুলোর চাপে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে এই বিপর্যয়ের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেন ট্রাম্প। তখন তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও হামাসের মধ্যে সমঝোতার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তবু বোর্ডের প্রথম পরীক্ষা—গাজা যুদ্ধের অবসানে চুক্তির প্রথম ধাপ থেকে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া অত্যন্ত কঠিন। এমনকি এই নতুন বোর্ড যখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে এই সময়টাতেও। কারণ বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নেতানিয়াহু ও আরব নেতারা। নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে অঙ্গীকার করেছেন এবং আরব নেতারা মনে করেন, টেকসই শান্তির একমাত্র পথ হলো ফিলিস্তিনিদের স্বশাসন ও ইসরায়েলি দখলদারির অবসান। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের এজেন্ডায় থাকা আরেক বড় যুদ্ধ হলো ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কো ও মিনস্কের সঙ্গে একই টেবিলে বসতে অনীহা দেখিয়েছেন। এই বোর্ডের অধীনে রয়েছে তিনটি স্তর; যার বেশিরভাগই গাজা-কেন্দ্রিক। সেগুলো হল নির্বাহী বোর্ড, গাজার একটি নির্বাহী বোর্ড ও গাজা প্রশাসনের জন্য জাতীয় কমিটি। এগুলোতে একত্রিত হয়েছেন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ও বিলিওনিয়াররা, পাশাপাশি গাজা সম্পর্কে অভিজ্ঞ সাবেক রাজনীতিক ও সাবেক জাতিসংঘ দূত, আরব মন্ত্রী ও গোয়েন্দা প্রধান এবং ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটরা। কিছু সমালোচকও স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার একটি পুরোনো বিতর্ক আলোচনায় এনেছেন; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ কাঠামোটির সংস্কারের অবিরাম দাবি। বিশেষ করে এমন একটি নিরাপত্তা পরিষদকে নিয়ে যা এখন আর বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলের প্রধান শক্তির রাজনৈতিক মানচিত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি আসলেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী কার্যকর নয়। ‘‘হয়তো ট্রাম্প যা করেছেন, তার একটি অনিচ্ছাকৃত ভালো পরিণতি হলো; এই বিষয়গুলো আবার আন্তর্জাতিক এজেন্ডার শীর্ষে উঠে আসবে,’’ মন্তব্য করেন জাতিসংঘের সাবেক উপ-মহাসচিব মার্ক মালক ব্রাউন। আমরা অত্যন্ত দুর্বল জাতিসংঘ নেতৃত্বের একটি সময়কাল থেকে বেরিয়ে আসছি এবং আমার মনে হয়, এটি হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপের একটি আহ্বান। পরিহাসের বিষয় হলো, বিশ্বকে শান্তির পথে নেতৃত্ব দেওয়ার ট্রাম্পের উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে; যখন অনেক রাজধানীতে গুতেরেসের উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। গুতেরেস এ বছরের শেষে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করবেন। একদিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন বলে একসময় মন্তব্য করেছিলেন যেই প্রেসিডেন্ট, তিনি ক্ষমতার শেষ বছরে এসে শিখেছেন; শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া। তবু আজ তিনি মধ্যপ্রাচ্যকে এমন এক অঞ্চল হিসেবে তুলে ধরেন, যেখানে এখন কেবল ছোটখাট সংঘাত চলছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইউক্রেনে একটি সমঝোতা খুব শিগগিরই আসছে। আর সম্ভাব্য প্রধান শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের নতুন ভূমিকায় ট্রাম্প দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তিনি উচ্চস্বরে ঘোষণা করেন, এটি বিশ্বের জন্য। বিবিসি বাংলা

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
আইসিইর হাতে আটক শিশু। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর হাতে দুই বছরের শিশু আটক

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা দুই বছর বয়সী এক শিশুকন্যা ও তার বাবাকে আটক করেছেন। তাকে আটকের পর টেক্সাসে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নথি ও পরিবারের আইনজীবীদের বক্তব্যে এমন নৃশংস আচরণের তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মিনিয়াপোলিসে দোকান থেকে বাসায় ফেরার সময় এলভিস জোয়েল টিই নামের ওই ব্যক্তি ও তার শিশুকন্যাকে আটক করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় এক ফেডারেল বিচারক শিশুটিকে রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে অভিবাসন কর্মকর্তারা বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠান। পরিবারের আইনজীবী ইরিনা ভাইনরম্যান জানান, পরে দুজনকেই আবার মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাবা এখনো মিনেসোটায় আটক রয়েছেন। এ ঘটনা কল্পনাতীত। এর নিষ্ঠুরতা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আদালতের নথি ও আইনজীবীদের বিবরণে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাবা ও মেয়ের বাড়িতে পৌঁছানোর সময় কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিবাসন কর্মকর্তারা বাড়ির উঠান ও ড্রাইভওয়েতে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এক কর্মকর্তা শিশুটি গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় বাবার গাড়ির জানালার কাচ ভেঙে ফেলেন। আইনজীবী কিরা কেলি জানান, শিশুটির মা দরজার কাছে ছিলেন এবং কর্মকর্তারা এগিয়ে এলে তিনি ঘরের ভেতরে চলে যান। কিন্তু কর্মকর্তারা বাবাকে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে বা ঘরের ভেতরে অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্যদের কাছে দিতে দেননি। এরপর বাবা ও মেয়েকে একটি অভিবাসন কর্মকর্তার গাড়িতে তোলা হয়। তবে গাড়িতে কোনো শিশুসিট ছিল না। আইনজীবীরা জরুরি আবেদন করলে মিনেসোটার এক ফেডারেল বিচারক রাত ৮টা ১০ মিনিটে সরকারকে তাদের মিনেসোটার বাইরে স্থানান্তর না করার নির্দেশ দেন। পরে আরেকটি আদেশে শিশুটিকে অবিলম্বে তার আইনজীবীর জিম্মায় মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়। বিচারক বলেন, শিশুটির ক্ষেত্রে ‘অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকি’ রয়েছে এবং মামলায় আবেদনকারীর জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। তবে আইনজীবীদের অভিযোগ, এসব আদেশের পরও রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবা ও মেয়েকে টেক্সাসগামী বিমানে তোলা হয়। আইনজীবীরা জানান, ইকুয়েডর থেকে আসা এলভিস জোয়েল টিই-এর আশ্রয় আবেদন এখনো বিচারাধীন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ নেই। শিশুটি যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতক হিসেবে আসার পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে বসবাস করছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শুক্রবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) কোনো জবাব দেয়নি। তবে এক বিবৃতিতে ডিএইচএস দাবি করে, বৃহস্পতিবার একটি ‘টার্গেটেড এনফোর্সমেন্ট অপারেশনের’ সময় তারা ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। বিভাগটি তাকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করে, তিনি বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশ করেছিলেন এবং শিশুকে নিয়ে ‘বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছিলেন’। ডিএইচএস আরও দাবি করে, শিশুটিকে মায়ের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মা তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে আইনজীবীরা এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনে কারচুপি হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসবে : হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম এবং কারচুপি হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও দেশটির বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তার দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো জিততে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াত ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনে কখনো জিততে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। অতীতে তারা কখনোই পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। বাংলাদেশে তাদের সেরকম জনসমর্থন নেই। তিনি আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতি আপনারা দেখেছেন। আমরা বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাই, যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে তেমন পরিস্থিতি আমি দেখিনি। নির্বাচন হবে কি না, সেটিও জানি না। সেখানে নিরাপত্তার উদ্বেগ রয়েছে। আর নির্বাচন হলেও কী পরিস্থিতিতে হবে, সেটিও দেখতে হবে। অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে লোকজন এখানে আসছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এই অনুপ্রবেশকারীরা একটি সমস্যা এবং এই চর্চা বন্ধ করতে হবে। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাক।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি ।
ইরানে হামলার আশঙ্কা, গণহারে ফ্লাইট বাতিল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে শীর্ষ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলো মধ্যপ্রাচ্যগামী এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বহু ফ্লাইট বাতিল করেছে। নেদারল্যান্ডসের কেএলএম, জার্মানির লুফথানসা এবং ফ্রান্সের এয়ার ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি বড় এয়ারলাইন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইট বাতিলের কারণে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোতে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে দুবাইগামী ফ্লাইট স্থগিত রাখবে। অন্যদিকে কেএলএম ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইরান, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী কোনো গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে না। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘নৌবহর’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও তিনি একে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেক জাহাজ ওই দিকে পাঠাচ্ছি—যদি প্রয়োজন হয়। আমাদের একটি বড় বাহিনী ইরানের দিকে যাচ্ছে, তবে হয়তো সেটি ব্যবহার করতেই হবে না।” হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে এর পরও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো শিথিলতার ইঙ্গিত নেই। মার্কিন নৌবহরের অংশ হিসেবে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী এবং একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার শিগগিরই আরব সাগর বা পারস্য উপসাগর অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এয়ার ফ্রান্স ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো তেল আবিবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বাতিল করেছে। লুফথানসা জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলে কেবল দিনের বেলা ফ্লাইট পরিচালনা করবে এবং ইরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলবে। এক বিবৃতিতে এয়ার ফ্রান্স জানায়, “মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আমরা সাময়িকভাবে দুবাইগামী ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” সংস্থাটি জানায়, যাত্রী ও বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেএলএম জানিয়েছে, তারা তেল আবিব, দুবাই, দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। পাশাপাশি ইরান, ইরাক, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করবে না। ডাচ গণমাধ্যম এনওএসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এ বিষয়ে তারা নেদারল্যান্ডস সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইনস এবং কানাডার এয়ার কানাডাও তেল আবিবগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মিসাইল ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় ইরান প্রায় চার ঘণ্টার জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

গণভোট ২০২৬ : সংস্কারের পথে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0