বর্তমান সময়ে পথ চিনে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য গুগল ম্যাপস আমাদের নিত্যসঙ্গী। তবে অনেক সময় দেখা যায় ম্যাপে আমাদের অবস্থান একদম নিখুঁতভাবে দেখাচ্ছে না। তাই গুগল ম্যাপস আপনার সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছে কি না এবং অবস্থান নির্ভুল করার উপায় নিয়ে এই ফিচার। মূলত গুগল ম্যাপস আপনার বর্তমান অবস্থান বোঝানোর জন্য একটি নীল বিন্দু (Blue Dot) ব্যবহার করে। লক্ষ্য করলে দেখবেন, এই বিন্দুর চারপাশে একটি হালকা নীল রঙের বৃত্ত থাকে। এই বৃত্তটিই মূলত আপনার অবস্থানের নির্ভুলতা নির্দেশ করে। ছোট বৃত্ত: যদি নীল বিন্দুর চারপাশের বৃত্তটি আকারে ছোট হয়, তবে বুঝতে হবে অ্যাপটি আপনার অবস্থান খুব নির্ভুলভাবে শনাক্ত করেছে। বড় বৃত্ত: বৃত্তটি বড় হওয়ার অর্থ হলো গুগল আপনার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। এটি নির্দেশ করে যে, আপনি ওই পুরো নীল এলাকার ভেতরে যেকোনো জায়গায় থাকতে পারেন। এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়; বরং ফোনের পাওয়া সিগন্যালের ওপর ভিত্তি করে গুগল ম্যাপস আপনার অবস্থান সম্পর্কে কতটা আত্মবিশ্বাসী, এটি তারই একটি নির্দেশক। কেন নির্ভুলতা কমে যায়? গুগল ম্যাপস আপনার অবস্থান শনাক্ত করতে জিপিএস (GPS) স্যাটেলাইট, ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল টাওয়ারের সিগন্যাল ব্যবহার করে। সিগন্যাল শক্তিশালী হলে অবস্থান নিখুঁত হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে নির্ভুলতা কমে যেতে পারে: বিল্ডিংয়ের ভেতরে থাকলে অথবা মাটির নিচে বা আন্ডারগ্রাউন্ডে যাতায়াত করলে। চারপাশে অনেক উঁচু দালান থাকলে, যা জিপিএস সিগন্যালকে বাধাগ্রস্ত করে। অবস্থান নির্ভুল করার উপায় যদি দেখেন ম্যাপে নীল বৃত্তটি অনেক বড় দেখাচ্ছে, তবে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে নির্ভুলতা বাড়ানো সম্ভব: ওয়াই-ফাই চালু রাখা: কোনো নির্দিষ্ট ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত না থাকলেও ফোনের ওয়াই-ফাই অপশনটি চালু রাখুন। গুগল ম্যাপস আশেপাশের ওয়াই-ফাই রাউটার থেকে সংকেত নিয়ে আপনার অবস্থান আরও নির্ভুল করতে পারে। কম্পাস ক্যালিব্রেট করা: ফোনের সেন্সরগুলোকে ঠিক করতে আপনার ফোনটি হাতে নিয়ে বাতাসে ইংরেজিতে আট অক্ষরের ভঙ্গিতে কয়েকবার ঘোরান। এটি ফোনের কম্পাসকে পুনরায় বিন্যস্ত করতে সাহায্য করে। খোলা স্থানে আসা: সম্ভব হলে উঁচু দালান বা ছাদযুক্ত এলাকা থেকে সরে এসে খোলা জায়গায় দাঁড়ান, যাতে আপনার ফোন জিপিএস স্যাটেলাইটের সাথে পরিষ্কার সংযোগ পায়। আপনার ফোনের কম্পাস সঠিকভাবে ক্যালিব্রেট হলে এবং শক্তিশালী সিগন্যাল পেলে বড় নীল বৃত্তটি ছোট হয়ে আসবে, যার মানে হলো গুগল ম্যাপস এখন আপনার সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিভ্রাট শেষে আবারও সচল হয়েছে ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সন। এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর থেকে বিভ্রাটের কারণে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের একাংশ ভোগান্তিতে পড়েছেন। ডাউন ডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর দেড়টা থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারে সমস্যা নিয়ে অভিযোগ আসতে থাকে। মাত্র কয়েক মিনিটেই অভিযোগকারীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ডেস্কটপে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা লগইন, নিউজফিড দেখা ও বিভিন্ন ফিচার ব্যবহারে সমস্যার অভিযোগ করেন। তবে মোবাইল অ্যাপে এমন সমস্যা তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছিল। অবশেষে দুই ঘণ্টা পর ডেস্কটপ ভার্সনের বিভ্রাটের অবসান হয়েছে। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, বিভ্রাটের ফলে ফেসবুকে লগ-ইন করতে পারছিলেন না তারা। অনেকে অ্যাপ বা ওয়েবসাইট লোড হতে দেরি হওয়া এবং ফিড আপডেট না হওয়ার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন তারা।
মহাকাশে মানুষের তৈরি স্পেস স্টেশনে বসবাসের গল্প আমরা সবাই জানি। কিন্তু এবার পৃথিবীর বুকেই এক নতুন রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সূচনা হলো। সমুদ্রের গভীর অন্ধকূপ ও রহস্যময় তলদেশে অবশেষে চালু হলো মানুষের তৈরি প্রথম সম্পূর্ণ কার্যকর সাবসি হ্যাবিট্যাট বা পানির নিচের কৃত্রিম বাসস্থান। আপনি কি সমুদ্রকে এতটাই ভালোবাসেন যে ল্যাবরেটরি, ডরমিটরি ও ডাইভিং ভেসেলের সংমিশ্রণে তৈরি একটি কাঠামোর ভেতরে সমুদ্রের তলদেশে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিতে রাজি আছেন? খুব শিগগির অ্যাকুয়ানটস বা জলচারীদের একটি বিশেষ দল ঠিক এই কাজটিই করতে যাচ্ছে। সমুদ্র প্রকৌশল সংস্থা ডিপের তৈরি স্বল্পমেয়াদি পানির নিচের বাসস্থান ভ্যানগার্ডে তাঁরা বসবাস শুরু করবেন। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির হাত ধরেই প্রথমবারের মতো মানুষ সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘ সময় কাটানোর এক অভূতপূর্ব সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ভ্যানগার্ড কেবল শুরু। ২০২৭ সালের মধ্যে তারা সেন্টিনেল নামের আরও একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে সমুদ্রের যেকোনো মহীসোপানে স্বল্পমেয়াদি বা স্থায়ীভাবে মানববসতি স্থাপন করা সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা কিজ ন্যাশনাল মেরিন স্যাঙ্কচুয়ারির টেনেসি রিফের পানির ১৭ মিটার গভীরে একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্মের ওপর এই ভ্যানগার্ড স্থাপন করা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে চারজন ক্রু মেম্বার থাকতে পারবেন। ভ্যানগার্ডের অন্যতম প্রথম ক্রু মেম্বার এবং নাসার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অ্যাকুয়ানট ডন কার্নাগিস জানান, বিজ্ঞানীদের জন্য পানির নিচে একটানা সময় কাটানো গবেষণার ক্ষেত্রে এক বিশাল আশীর্বাদ। সাধারণত সমুদ্রের গভীর থেকে কোনো নমুনা বা স্পেসিমেন যখন ওপরে আনা হয়, তখন চাপের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে তার আণবিক বা কোষীয় গঠনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ফলে বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের গভীরে উপাদানটি আসলে কেমন অবস্থায় ছিল, তা নিখুঁতভাবে বুঝতে পারেন না। কিন্তু ভ্যানগার্ডের ভেতরে বসেই বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের তলদেশের চাপ অপরিবর্তিত রেখে একদম রিয়েল-টাইমে সেসব নমুনা পরীক্ষা করতে পারবেন। ভ্যানগার্ড মূলত একটি বড় ডিকম্প্রেশন চেম্বারের মতো কাজ করে, যা এর ভেতরের বাতাস এবং বায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ভেতরের বাসিন্দারা মূলত স্যাচুরেশন ডাইভার হিসেবে থাকবেন। এর ফলে তারা প্রথাগত স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো মাত্র ৬০ মিনিটের সীমাবদ্ধতা ভেঙে কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে সমুদ্রের তলদেশে কাটাতে পারবেন। তাঁরা একটি আম্বিলিক্যাল কর্ড বা বিশেষ পাইপের মাধ্যমে ভ্যানগার্ড থেকে সরাসরি বাতাস নিয়ে বাইরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত পানির নিচে কাজ করতে পারবেন। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো ভ্যানগার্ডের মুন পুল, যা মূলত নিচের দিকে থাকা একটি খোলা দরজা। যেহেতু ভেতরের ও বাইরের বায়ুচাপ সমান রাখা হয়, তাই এই দরজাটি সরাসরি সমুদ্রের তলদেশের দিকে খোলা থাকলেও ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে না। ডাইভাররা সরাসরি হ্যাবিট্যাটের মেঝে থেকেই সাগরে ঝাঁপ দিতে পারেন। পানির নিচের এই স্টেশনটির সঙ্গে ভূপৃষ্ঠের সংযোগকারী একটি আম্বিলিক্যাল কেব্লের মাধ্যমে যুক্ত থাকে একটি ভাসমান বয়া। এই বয়াটি ক্রুদের জন্য বাতাস, বিদ্যুৎ এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের ব্যবস্থা করে। ফলে অনশোর বা মূল ঘাঁটির সঙ্গে ক্রুরা ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রাখতে পারেন। এখানে ব্যবহারের জন্য স্বাদুপানির ট্যাংক রয়েছে এবং বর্জ্য বা পয়ঃনিষ্কাশনের পানি ভেতরে রিসার্কুলেট না করে সরাসরি নিষ্কাশন করে নিরাপদে অপসারণ করা হয়। যদিও বর্তমানে ভ্যানগার্ডকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে এর পেছনে আরও অনেক বাণিজ্যিক এবং প্রতিরক্ষা–সংক্রান্ত স্বার্থও জড়িয়ে রয়েছে। ডিপের অংশীদারদের তালিকায় রয়েছে এমন সব কোম্পানি যারা মহাকাশ প্রযুক্তি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞানী ডন কার্নাগিস আরও বলেন, ‘আমরা সাবসি হ্যাবিট্যাট বা সমুদ্রের নিচের বাসস্থানকে সাধারণ মানুষের কাছেও নিয়ে যেতে চাই। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী ছাড়াও শিল্পী, ইতিহাসবিদ, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ এমনকি রাজনীতিবিদদেরও এখানে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশ ও জীবন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ‘আসক্তি তৈরির ছক’ (অ্যাডিকটিভ ডিজাইন) পরিবর্তনের জন্য মেটাকে নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তা না হলে প্রতিষ্ঠানটিকে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে বলে শুক্রবার সতর্ক করা হয়েছে। ব্রাসেলস থেকে এএফপি জানায়, ইইউর অভিযোগ, মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা বিশেষ করে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্ম দুটির ঝুঁকি কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখার জন্য তৈরি। এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে অবিরাম স্ক্রল (ইনফিনিট স্ক্রল), অত্যন্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিউজ ফিড এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু (অটোপ্লে) হওয়ার ব্যবস্থা। ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনা ভিরক্কুনেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইউরোপের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’ অনলাইনে ব্যবহারকারী, বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা জোরদারে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিগ টেক কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। শুক্রবার প্রকাশিত প্রাথমিক মূল্যায়নে ইউরোপীয় কমিশন জানায়, ইইউর ডিজিটাল কনটেন্টবিষয়ক বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় মেটাকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ডিজাইনে পরিবর্তন আনতে হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল প্রকৌশলীর হাতে গড়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম টিপসই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের ১১টি দেশে। বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও এনজিওতে ব্যবহৃত হচ্ছে দেশে তৈরি এই প্রযুক্তি। ইনোভেস টেকনোলজিসের এই প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি সক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও ২ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা দিচ্ছে। সফটওয়্যার, বায়োমেট্রিক ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৫ সালে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় তিন গুণ। বিশ্ববাজারে এই সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি নিজেদের ব্র্যান্ড পরিচিতিতেও পরিবর্তন এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে তৈরি সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সমাধান সাধারণত স্থানীয় বাজার পার হয়ে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নজির তুলনামূলক কম। টিপসইয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে একযোগে ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এখন ইউরোপ ও এশিয়ার আরও কিছু দেশে উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই সম্প্রসারণে বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত আছে অ্যাক্সিলারেটিং এশিয়া ও অরবিট ভেঞ্চারস। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগ আসার এই ধরনের ঘটনা দেশের স্টার্টআপ খাতের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। টিপসইয়ের বিপণন বিভাগের প্রধান অর্ণব সিকদার বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তি এগিয়েছে, প্ল্যাটফর্মও বড় হয়েছে। নতুন বাজারে যাওয়া এবং বাংলাদেশে তৈরি এই প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করানোই এখন আমাদের লক্ষ্য।’ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টিপসইয়ের সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, যন্ত্র, ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনজুড়ে ধাপে ধাপে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি চালু করা হবে।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মানুষের সাহায্য বা তদারকি ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। নিরাপত্তা গবেষকদের উন্মোচন করা এ ঘটনা প্রযুক্তি বিশ্বে বড় মাইলফলক হলেও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট। এ ঘটনায় মানুষের সাহায্য ছাড়াই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ এক সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে একটি এআই এজেন্ট। এআই প্রযুক্তি সাইবার অপরাধীদের কাজকে আরও সহজ করে দিচ্ছে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এ সাইবার আক্রমণে এক র্যানসমওয়্যার আক্রমণ চালিয়েছে এআই। র্যানসমওয়্যার সাইবার আক্রমণে ভুক্তভোগীরা সাধারণত নিজেদের ডেটা বা তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য অপরাধীদের মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয়। মার্কিন ক্লাউড নিরাপত্তা কোম্পানি ‘সিসডিগ’-এর একটি গবেষক দল বলেছে, এ এআই আক্রমণকারীটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জেডপাফার’, যা প্রথমে দুর্বল ও অরক্ষিত সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে সার্ভার থেকে প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ড এবং লগইন তথ্য খুঁজে বের করে। সবশেষে মূল প্রোডাকশন ডেটাবেইসটি লক বা এনক্রিপ্ট করে ডেটাবেইসটি আনলকের বিনিময়ে বিটকয়েনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করে জেডপাফার। এ পুরো বিষয়টি নিয়ে এক ব্লগ পোস্টে সিসডিগ-এর থ্রেট রিসার্চ ডিরেক্টর মাইকেল ক্লার্ক লিখেছেন, “র্যানসমওয়্যার যখন থেকে একটি হুমকি হিসেবে তৈরি হয়েছে, তখন থেকেই এর পেছনে কোনো না কোনো মানুষ সরাসরি জড়িয়ে ছিল বা একজন মানুষ এর স্ক্রিপ্ট বা কোড লিখে দিয়েছিল। “তবে সিসডিগ থ্রেট রিসার্চ টিম এমন ঘটনা লিপিভুক্ত করেছে, যা আমাদের মতে প্রথম ‘এজেন্টিক র্যানসমওয়্যার’-এর প্রমাণ। এ এমন এক চাঁদাবাজির ঘটনা, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। এআই অ্যাপ্লিকেশন তৈরির ওপেন-সোর্স টুল ‘ল্যাংফ্লো’-এ প্রবেশাধিকার পাওয়ার পরপরই এআই মডেলটি আলিবাবা, টেনসেন্ট ও হুয়াওয়ের মতো ‘চীনা ক্লাউড সেবাদাতাদের লক্ষ্য করে’ লগইন তথ্য ও পাসওয়ার্ড খুঁজতে শুরু করে। এ স্বয়ংক্রিয় অভিযানটি বাস্তব সময়ে বা রিয়াল-টাইমে নিজস্ব কৌশল পরিবর্তন ও খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছিল, যার কাজের গতি ছিল দক্ষ যে কোনো মানব অপারেটরের চেয়েও দ্রুত। আক্রমণটি সম্পর্কে সিসডিগ-এর গবেষক মাইকেল ক্লার্ক বলেছেন, “সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই এলএলএম-এর আচরণ। এ অভিযানটি রিয়াল-টাইমে পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছিল এবং কোনো ধাপে ব্যর্থ হলে সংশোধিত প্যারামিটার ব্যবহার করে পুনরায় চেষ্টা করছিল। “এক পর্যায়ে দেখা যায়, লগইন ব্যর্থ হওয়ার পর কেবল ৩১ সেকেন্ডের মধ্যে মডেলটি সমস্যার সমাধান করে সফলভাবে লগইন করে ফেলেছে।” সিসডিগ-এর গবেষকেরা আরও উদ্বেগজনক বিষয় লক্ষ্য করেছেন, যেখানে ভুক্তভোগী ব্যক্তি বা কোম্পানি যদি মুক্তিপণ পরিশোধও করত তবুও তারা নিজেদের হারিয়ে যাওয়া ডেটা আর ফেরত পেতেন না। কারণ এ এআই এজেন্টটি কোনো ব্যাকআপ না রেখেই মূল ডেটা বা তথ্য আগেই সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছিল। গবেষণার এসব ফলাফল এখনও পিয়ার রিভিউড না হলেও এতে ক্রমাগত সাইবার ঝুঁকির স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এর থেকে প্রমাণ মেলে, মানুষের কোনো রকম তদারকি ছাড়াই জটিল সব সাইবার আক্রমণ চালাতে বিভিন্ন এআই সিস্টেম দিন দিন আরও সক্ষম হয়ে উঠছে। গেল মাসে বিরল এক যৌথ সতর্কবার্তায় পাঁচ দেশের নিরাপত্তা জোট ‘ফাইভ আইস’ বলেছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারগুলোর ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি করা থেকে এআই এখন কেবল ‘কয়েক মাস দূরে’ রয়েছে। সেই সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, “সামনের দিকের বিভিন্ন এআই মডেল বর্তমান শিল্প খাতের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাবে, যা সাইবার জগতের আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা উভয় সক্ষমতাকেই মৌলিকভাবে বদলে দেবে। ফলে পরিস্থিতি ঠেকাতে পুরো কোম্পানি ও সার্বিকভাবে গোটা সমাজকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও মায়ের সঙ্গে শৈশবের প্রিয় কার্টুন নিয়ে ক্ষুদেবার্তা আদান-প্রদান করছিলেন ২৪ বছর বয়সী অ্যালিস ক্যারিয়ার। মা ক্রিস্টি ক্যারিয়ারের কাছে মেয়ে ছিলেন তার গল্পসঙ্গী। তবে দীর্ঘদিন ধরে নিজের মানসিক সংকট ও একাকীত্বের কথা ভাগ করে নেওয়ার জন্য অ্যালিস বেছে নিয়েছিলেন চ্যাটজিপিটিকে। মেয়ের মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ক্রিস্টি ক্যারিয়ার। তার অভিযোগ, ব্যবহারকারীর আত্মঘাতী মানসিক অবস্থা শনাক্ত করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কিংবা পরিবারকেও সতর্ক করা হয়নি। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, কানাডার মন্ট্রিয়ালে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত অ্যালিস ২০২৩ সালে প্রথমে কম্পিউটার ও গেমিং কনসোল-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান খুঁজতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করেন। পরে সেই ব্যবহার প্রযুক্তিগত প্রশ্নোত্তরের গণ্ডি ছাড়িয়ে তার ব্যক্তিগত ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনার ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। একাকীত্ব, মানসিক চাপ এবং আত্মমূল্যায়নসংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে তিনি নিয়মিত চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলতেন। অ্যালিস ক্যারিয়ার ২০২৫ সালের ২ জুলাই মন্ট্রিয়ালে নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন। এরপর মেয়ের ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে চ্যাটজিপিটি অ্যাপে দীর্ঘ কথোপকথনের রেকর্ড খুঁজে পান তার মা। মামলায় দাবি করা হয়েছে, আত্মঘাতী চিন্তা ও মানসিক অবস্থার অবনতিসংক্রান্ত বিষয়ে অ্যালিস অন্তত ৪০ বারের বেশি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। ক্রিস্টি ক্যারিয়ার জানিয়েছেন, অ্যালিস মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন এবং নিয়মিত থেরাপিও নিতেন। একইসঙ্গে অ্যালিস নিজের না-বলা কষ্টগুলো ক্রমশ চ্যাটবটের কাছে প্রকাশ করতে শুরু করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জিপিটি-৪ও মডেল ব্যবহারকারীর প্রতি সহানুভূতিশীল প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে অ্যালিসকে এর ওপর মানসিকভাবে নির্ভরশীল করে তোলে। অথচ এসব কথোপকথন ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা দলের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়নি এবং কোনও জরুরি হস্তক্ষেপও করা হয়নি। ওপেনএআই ঘটনাটিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আলোচিত কথোপকথনগুলো চ্যাটজিপিটির একটি পুরোনো মডেলের সঙ্গে হয়েছিল, যা বর্তমানে আর ব্যবহৃত হয় না। ওপেনএআই জানিয়েছে, এরপর থেকে তারা ১৭০ জনের বেশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করেছে এবং ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ক্রিস্টি ক্যারিয়ারের ভাষ্য, তার মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা শুধু তাদের পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; অজান্তেই আরও অসংখ্য তরুণ-তরুণী একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে। তাই ভবিষ্যতে অন্য কোনও পরিবার যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের সঙ্গে অতিরিক্ত মানসিক নির্ভরশীলতা এবং তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমানে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক ব্যবহারকারী সংখ্যা শত কোটির পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে তরুণদের একটি বড় অংশ মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শের জন্য এআই চ্যাটবটের শরণাপন্ন হচ্ছেন। ফলে শুধু এআই মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, বরং কোটি কোটি ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় দায়িত্ব হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইভিত্তিক সেবার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকেও আরও শক্তিশালী করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে আরও কার্যকর ডিজিটাল সহকারী হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন ‘শিডিউল’ সুবিধা চালু করেছে ওপেনএআই। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সময় বা নিয়মিত বিরতিতে চ্যাটজিপিটিকে বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার নির্দেশ দিতে পারবেন। চ্যাটজিপিটির নতুন শিডিউল পেজের মাধ্যমে নির্ধারিত কাজ সম্পাদনা, স্থগিত বা বাতিলও করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে চ্যাটজিপিটি শুধু ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রিমাইন্ডার পাঠানো, নিয়মিত তথ্যের সারসংক্ষেপ তৈরি এবং নির্দিষ্ট কোনো বিষয় পর্যবেক্ষণ করে গুরুত্বপূর্ণ হালনাগাদ তথ্য জানাতেও সক্ষম হবে চ্যাটজিপিটি। ওপেনএআই জানিয়েছে, এখন থেকে নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন কাজ করার পাশাপাশি কোনো বিষয় বা ঘটনার ওপরও নজর রাখবে চ্যাটজিপিটি। এর ফলে নতুন কোনো পণ্য উন্মোচন, চলমান কোনো আয়োজনের অগ্রগতি বা ব্যবহারকারীদের আগ্রহ রয়েছে, এমন বিষয়ে নতুন তথ্য পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানাবে এআই চ্যাটবট। ফলে ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা করণীয় কাজ মনে রাখার চাপ অনেকটাই কমবে। নতুন সুবিধার অংশ হিসেবে চ্যাটজিপিটির ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপের সাইডবারে যুক্ত করা হয়েছে ‘শিডিউল’ পেজ। এটি ব্যবহারকারীদের সব নির্ধারিত কাজ পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। পেজটি থেকে নতুন টাস্ক তৈরি, সক্রিয় টাস্ক পর্যবেক্ষণ, সময়সূচি পরিবর্তন, সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা বা প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের নির্দেশনা মুছে ফেলা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই নিজেদের নির্ধারিত কাজগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনতে পারবেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটিতে টাস্ক তৈরির প্রক্রিয়াও বেশ সহজ করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা সরাসরি শিডিউল পেজে প্রবেশ করে নতুন টাস্ক যোগ করতে পারবেন। আবার চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনের সময়ও নির্দিষ্ট কোনো কাজের নির্দেশ দেওয়া যাবে। ওপেনএআই জানিয়েছে, নির্ধারিত টাস্ক ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশে নোটিফিকেশন সুবিধার ওপর নির্ভর করবে। এ কারণে ব্যবহারকারীদের ব্রাউজার ও মোবাইল ডিভাইসে নোটিফিকেশন চালু রাখতে হবে। নোটিফিকেশন চালু থাকলে নির্ধারিত সময়েই চ্যাটজিপিটি প্রয়োজনীয় তথ্য, রিমাইন্ডার বা হালনাগাদ পাঠাবে। ফলে তথ্য জানার জন্য ব্যবহারকারীকে বারবার অ্যাপ খুলতে হবে না। প্রয়োজনীয় তথ্য নিজ থেকেই ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যাবে। ফলে চ্যাটজিপিটিকে আরও সক্রিয় ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। নতুন শিডিউল সুবিধাটি প্রাথমিকভাবে অর্থের বিনিময়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: টেকলুসিভ
শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। দেশের ৬৪ জেলার ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও যুব নারীরা এ প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের কমপক্ষে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আইসিটি ও কম্পিউটারের মৌলিক জ্ঞান এবং ইংরেজিতে দক্ষ প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। প্রশিক্ষণের মেয়াদ ৩ মাস, মোট ৬০০ ঘণ্টা। আগামী ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। আগ্রহীরা আগামী ১৫ জুন ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনপত্রের কপি সংরক্ষণ করতে হবে। যোগ্য আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০ জুন এবং মৌখিক পরীক্ষা ২১ জুন। পরীক্ষার সময় ও স্থান মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের তালিকা ২৪ জুন প্রকাশ করা হবে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না। প্রশিক্ষণার্থীরা প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা পাবেন। পাশাপাশি সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাশতার ব্যবস্থাও থাকবে। কোর্স সফলভাবে সম্পন্নকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্রিল্যান্সিং খাতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি এখন শুধু লেখা তৈরি বা ছবি আঁকায় সীমাবদ্ধ নেই, জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধানেও সক্ষমতা দেখাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ওপেনএআই দাবি করেছিল, তাদের একটি এআই মডেল কিংবদন্তি গণিতবিদ পল এরদোসের ১৯৪৬ সালে উত্থাপিত বিখ্যাত ‘প্ল্যানার ইউনিট ডিস্ট্যান্স প্রবলেম’–এর সমাধান করেছে। সেই আলোচনার মধ্যেই আরও বড় দাবি নিয়ে সামনে এসেছে গুগল ডিপমাইন্ড। গুগলের গবেষকদের দাবি, ডিপমাইন্ডের ‘আলফাপ্রুফ নেক্সাস’ নামের একটি এআই ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পল এরদোসের ৯টি উন্মুক্ত গণিত সমস্যার সমাধান করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি সমস্যা ৫৬ বছর ধরেও অমীমাংসিত ছিল। গবেষকদের মতে, প্রতিটি সমস্যার সমাধানে ব্যয় হয়েছে মাত্র কয়েক শ ডলার। গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, আলফাপ্রুফ নেক্সাস ‘ওপেন এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইন্টিজার সিকোয়েন্সেসের’ (ওইআইএস) ৪৪টি উন্মুক্ত অনুমানও প্রমাণ করেছে। পাশাপাশি বীজগাণিতিক জ্যামিতির ১৫ বছর পুরোনো একটি প্রশ্নের সমাধান ও অপটিমাইজেশন তত্ত্বে নতুন একটি অ্যালগরিদমিক প্যারামিটারও খুঁজে পেয়েছে, যা আগে মানুষের জানা ছিল না। গবেষণাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পুরো কাজটি এআই নিজেই সম্পন্ন করেছে। অর্থাৎ এটি নিজে গাণিতিক প্রমাণ তৈরি করেছে এবং কম্পিউটারনির্ভর যাচাইয়ের ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করেছে। ফলে মানুষের সহায়তা ছাড়াই প্রমাণ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ওপেনএআই যখন তাদের এআই দিয়ে এরদোসের প্ল্যানার ইউনিট ডিস্ট্যান্স প্রবলেম সমস্যা সমাধানের দাবি করেছিল, তখন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, সমস্যা সমাধানের প্রমাণ মানুষের সহায়তায় যাচাই করা হয়েছে। গুগল সরাসরি ওপেনএআইয়ের নাম উল্লেখ না করলেও প্রতিষ্ঠানটির এআই মডেলের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে ‘হ্যালুসিনেশন’ কথা তুলে ধরেছে । অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির এআই এমন তথ্য বা যুক্তি তৈরি করতে পারে, যা প্রথম দেখায় বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও বাস্তবে তাতে গুরুতর ভুল থাকতে পারে। গবেষকদের মতে, অনেক সময় এআই এমন গাণিতিক প্রমাণ তৈরি করে, যা প্রযুক্তিগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হয়, কিন্তু তাতে যৌক্তিক ত্রুটি থেকে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এআই নিজেই নতুন ‘লেমা’ বা গাণিতিক বিশ্লেষণ তৈরি করে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে। আবার কখনো সমস্যার সবচেয়ে জটিল অংশটি সমাধান না করেই সেটিকে ‘সহায়ক লেমা’ হিসেবে দেখায়। এতে পুরো প্রমাণটি সম্পূর্ণ বলে মনে হলেও মূল সমস্যাটিই অমীমাংসিত থেকে যায়। গবেষকদের মতে, এ ধরনের ভুল সাধারণ পর্যালোচনায় সহজেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, যুক্তিগুলো মানুষের কাছেও যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। এই সমস্যা এড়াতে গুগলের ডিপমাইন্ড লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজভিত্তিক মডেলের বিশ্লেষণ ক্ষমতার সঙ্গে ‘লিন’ নামের একটি আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এ পদ্ধতিতে এআই বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক প্রমাণ তৈরির চেষ্টা করে, আর ‘লিন’ কঠোর গাণিতিক নিয়ম অনুসরণ করে প্রতিটি যৌক্তিক ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করে। ফলে ভিত্তিহীন দাবি, কৃত্রিম লেমা কিংবা অসম্পূর্ণ যুক্তি সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল হয়ে যায়। এতে পুরো প্রমাণ যাচাই করতে মানুষের আলাদা করে সময় ব্যয় করতে হয় না। গুগলের গবেষকদের মতে, এআইভিত্তিক বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের এই সমন্বয় ভবিষ্যতে গণিত গবেষণার ধরন বদলে দিতে পারে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
লাল গ্রহ মঙ্গলকে ঘিরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এই গ্রহের রুক্ষ ও শুষ্ক মরুভূমির বুকে লুকিয়ে আছে কোটি কোটি বছরের প্রাচীন ইতিহাস, যা জানার জন্য প্রতিনিয়ত গবেষণা চলছে। সম্প্রতি নাসার পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গল গ্রহে অদ্ভুত গঠনের পাথরের সন্ধান পেয়েছে, যা দেখতে একটির ওপর আরেকটি খাড়াভাবে স্তূপ করে রাখা পাথরের মতো। এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই মঙ্গলের ভূতত্ত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৩ মে রোভারের উঁচুতে বসানো অত্যাধুনিক মাস্টক্যাম-জেড ক্যামেরার সাহায্যে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, পাথরগুলো এমন সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো রয়েছে, যেন মনে হয় কেউ হাত দিয়ে একটির ওপর আরেকটি স্তূপ করে রেখেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, লাখ লাখ বছর ধরে তীব্র বাতাস এবং পরিবেশগত প্রতিকূলতার কারণে পাথরগুলোর ক্ষয় হয়েছে। এর ফলে পাথর উপরিভাগ অসম বা আঁকাবাঁকা আকার ধারণ করে সেগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। আসলে এগুলো আলাদা কোনো পাথরের স্তূপ নয়, একটিমাত্র বিশাল পাথর যা কোনো কারণে ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। আর মঙ্গলের তীব্র বাতাস লাখ লাখ বছর ধরে এই ভাঙা পাথরগুলোকে এমন অদ্ভুত রূপ দিয়েছে। প্রাচীনকালে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ আজকের মতো ছিল না। সেই সময়ে এই গ্রহে প্রবহমান নদী বা পানির ধারা, পরিবর্তনশীল আবহাওয়া এবং বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সক্রিয় ছিল। এর আগে নাসার কিউরিওসিটি রোভারের করা বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মঙ্গলের বর্তমান ভূপ্রকৃতি গঠনে সেখানকার তীব্র ও চরম বাতাস প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। সেখানে প্রতিনিয়ত বিশাল বিশাল পাথুরে এলাকাকে ক্ষয় করে চলেছে। মঙ্গলের প্রাচীন নদীতে বা নদীর তলদেশগুলোও একসময় এই বড় বড় পাথরের খণ্ডকে ভাঙতে এবং স্থানান্তরিত করতে সাহায্য করেছিল। নাসার মঙ্গল মিশন অতীতেও এমন অনেক ছবি পাঠিয়েছে, যা প্রথম দেখায় মানুষকে চমকে দিয়েছিল। রোভারের পাঠানো ছবিতে মঙ্গলের বুকে অদ্ভুত আকৃতির বস্তু, বিচিত্র নকশা এবং ডোরাকাটা পাথর দেখা গেছে। এসব ছবি ইন্টারনেট–দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে অনেকবার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৭৬ সালে নাসার ভাইকিং মিশনের সময়। ভাইকিং এমন একটি ছবি পাঠিয়েছিল, যা দেখতে হুবহু মানুষের বিশাল মুখের অবয়বের মতো লাগছিল। পরবর্তী সময়ে উন্নত প্রযুক্তির ছবিতে প্রমাণিত হয় যে সেটি আসলে একটি সাধারণ পাথরের স্তূপ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। পারসিভারেন্স রোভারও এর আগে এমন অনেক ছবি পাঠিয়েছে, যা প্রথম দেখায় অদ্ভুত লাগলেও পরে সাধারণ ভূতাত্ত্বিক গঠন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। মঙ্গল গ্রহের একটি বিশাল অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। পারসিভারেন্সের মতো রোভারগুলোই এখন মঙ্গলের মাটিতে আমাদের গবেষণার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। প্রতিটি ছবি এবং স্ক্যান পৃথিবীতে তথ্য পাঠাচ্ছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলের পরিবর্তনের রহস্য বুঝতে সাহায্য করছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক যেকোনো অচেনা কাঠামোর মধ্যে পরিচিত কোনো রূপ খোঁজার চেষ্টা করে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় প্যারেডোলিয়া বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতির নিজস্ব প্রকৌশল যে মানুষের কল্পনার চেয়েও নিখুঁত হতে পারে, এই পাথর তারই প্রমাণ। সূত্র: টেক্লুসিভ নিউজ
ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা আরও বাড়াতে নতুন ইউজারনেম ফিচার আনছে হোয়াটসঅ্যাপ। এই সুবিধা চালু হলে ফোন নম্বর শেয়ার না করেও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপটি এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে প্রত্যেক ব্যবহারকারী নিজের জন্য আলাদা ইউনিক ইউজারনেম তৈরি করতে পারবেন। কেউ সেই ইউজারনেম দিয়ে যোগাযোগ করলে ফোন নম্বরের বদলে শুধু হ্যান্ডেল বা ইউজারনেমই দেখা যাবে। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর বাধ্যতামূলক। তবে নতুন ফিচার চালু হলে অপরিচিত ব্যক্তি, অনলাইন ব্যবসা বা নতুন গ্রুপে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নম্বর গোপন রাখা সহজ হবে। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ফিচারটি পুরোপুরি অপশনাল। চাইলে আগের মতো ফোন নম্বর ব্যবহার করেও অ্যাপ চালানো যাবে। আবার ইউজারনেম ব্যবহার করে পরিচয় গোপন রেখেও যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। ইউজারনেমের দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে হতে হবে এবং এতে অন্তত একটি ইংরেজি বর্ণ থাকতে হবে। শুধু ইংরেজি অক্ষর, সংখ্যা, আন্ডারস্কোর ও ডট ব্যবহার করা যাবে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও থাকবে। ইউজারনেম ‘www’ দিয়ে শুরু করা যাবে না, শুরু বা শেষে ডট রাখা যাবে না এবং টানা দুটি ডট ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া .com বা .org-এর মতো ডোমেইন এক্সটেনশন দিয়েও ইউজারনেম শেষ করা যাবে না। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, টেলিগ্রাম ও ডিসকর্ডের মতো প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘদিন ধরেই ইউজারনেমভিত্তিক যোগাযোগ জনপ্রিয়। হোয়াটসঅ্যাপেও এই সুবিধা চালু হলে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা আরও বাড়বে।
দেশজুড়ে বাড়তে থাকা লোডশেডিং ও উচ্চ বিদ্যুৎ বিলের কারণে এখন অনেকেই ঝুঁকছেন সৌরবিদ্যুতের দিকে। বিশেষ করে ‘সোলার হাইব্রিড সিস্টেম’ এখন শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু লাইট-ফ্যান নয়, এসি, ফ্রিজ, টিভি ও ওয়াশিং মেশিনের মতো ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রও চালানো সম্ভব হচ্ছে। রাজধানীর গুলিস্তান ও কাপ্তানবাজারের সোলার মার্কেট ঘুরে জানা গেছে, একটি মাঝারি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় হাইব্রিড সোলার সেটআপ দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। এতে একটি এসি, ফ্রিজ, টিভি, কয়েকটি ফ্যান ও এলইডি লাইট চালানো সম্ভব। ব্যবসায়ীরা জানান, আধুনিক হাইব্রিড সিস্টেমে দিনের বেলা সরাসরি সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা হয়, যা রাতে বা লোডশেডিংয়ের সময় ব্যাকআপ দেয়। ফলে বিদ্যুৎ বিলও অনেক কমে আসে। সোলার ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ৩ থেকে ৫ কিলোওয়াটের সিস্টেমের। ভালো মানের ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি ও উন্নত প্যানেল ব্যবহার করলে এসব সিস্টেম ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। গুলিস্তানের এক সোলার ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক মাসে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে সোলারের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রতি মাসে শত শত হাইব্রিড সিস্টেম বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও বলছেন, একবার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি লাভজনক। কারণ এতে বিদ্যুৎ বিল ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের ঝামেলাও থাকে না। মিরপুরের বাসিন্দা প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, “গরমে এসি চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল অনেক বেড়ে যায়। তাই এখন সোলারই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান মনে হচ্ছে।” অন্যদিকে কুমিল্লার ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রামে নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি দোকান ও বাসার জন্য বড় সোলার সেটআপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের বক্স এল্ডার কাউন্টিতে প্রস্তাবিত "স্ট্রাটোস প্রজেক্ট"-এর একটি এআই ডেটা সেন্টার প্রতিদিন ২৩টি পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের সমান তাপ নির্গত করবে। সংবাদমাধ্যম দ্য সল্ট লেক ট্রিবিউন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। অলাভজনক পরিবেশবাদী সংবাদমাধ্যম গ্রিস্ট-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিশাল এআই ডেটা সেন্টারটি একাই ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে, যা পুরো উটাহ রাজ্যের মোট ব্যবহারের দ্বিগুণেরও বেশি। নিজস্ব গ্যাস জেনারেটরের মাধ্যমে স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের বাইরে ২৪ ঘণ্টা চলতে থাকা এই প্রজেক্টটি আয়তনে ২,০০০ ওয়ালমার্ট স্টোরের সমান হলেও, এর শক্তির ব্যবহার হবে ৪০,০০০ ওয়ালমার্ট সুপারসেন্টারের সমান। উটাহ স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট ডেভিসের হিসাব অনুযায়ী, ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎপন্ন তাপের পাশাপাশি কেন্দ্রটি আরও ৭ থেকে ৮ গিগাওয়াট সমমানের অতিরিক্ত বর্জ্য তাপ উৎপন্ন করবে, ফলে এর মোট “থার্মাল লোড” বা তাপের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ গিগাওয়াটে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তাপ গ্রাহক পর্যায়ে অল্প অল্প করে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তেমন সমস্যার কারণ হয় না। কিন্তু হ্যানসেল উপত্যকার ভৌগোলিক গঠনের কারণে প্রতিদিন ২৩টি অ্যাটম বোমার সমান এই বিপুল পরিমাণ তাপ একই স্থানে আটকা পড়বে। উপত্যকার এই আবদ্ধ পরিবেশের মধ্যে ঘনীভূত তাপ স্থানীয় প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর এক অবিশ্বাস্য ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে। এই তাপমাত্রার প্রভাবে এলাকাটিতে দিনের বেলায় ৫ ডিগ্রি এবং রাতে ১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা স্থানীয় পরিবেশকে সাহারা মরুভূমির মতো রুক্ষ করে তুলবে। বাস্তুবিদ্যা বিশেষজ্ঞ বেন অ্যাবট জানান, এর ফলে গ্রেট সল্ট লেক শুকিয়ে মারাত্মক ধুলোর বিপর্যয় দেখা দেবে।
আকাশপথে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যুদ্ধবিমান, স্টিলথ ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় আধুনিক ও বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ইরান গত কয়েক দশকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও কার্যকর ব্যবস্থাগুলোর একটি হলো "খোরদাদ-৩"। ইসলামি বিপ্লবী গার্ডবাহিনীর অ্যারোস্পেস ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদ আমির আলী হাজিজাদেহর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণে ইরানের হাতে থাকা সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। রা'দ থেকে খোরদাদ-৩ "খোরদাদ-৩" ব্যবস্থার সূচনা হয় "রা'দ" আকাশ প্রতিরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে। ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো রা'দ ব্যবস্থার কথা প্রকাশ্যে আসে। সে সময় এটি ৫০ কিলোমিটার পাল্লা এবং ২৭ কিলোমিটার উচ্চতায় লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার সক্ষমতা দেখিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার সামনে প্রদর্শিত হয় এর আরও উন্নত সংস্করণ "খোরদাদ-৩"। মাঝারি পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রাশিয়ার বুক-এম২ই সিস্টেমের সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও এর নকশা ও প্রযুক্তিগত কাঠামো ছিল সম্পূর্ণ দেশীয় উন্নয়নের ফল। উন্নত প্রযুক্তি ও যুদ্ধক্ষমতা খোরদাদ-৩ ব্যবস্থার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ফেজড অ্যারে রাডার, যাতে প্রায় ১,৭০০টি উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে। এই রাডার একই সঙ্গে চারটি পৃথক লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত ও আটটি ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা করতে সক্ষম। প্রথম দিকের সংস্করণে এর পাল্লা ছিল ৫০ কিলোমিটার। তবে পরবর্তী সংস্করণগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে এবং সর্বশেষ সংস্করণে তা ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়। এই ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শব্দের গতির তিন থেকে চার গুণ বেশি গতিতে চলতে পারে। এর লেজারভিত্তিক প্রক্সিমিটি ফিউজ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুর নিকটে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম, যা আকাশযুদ্ধে এর কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তোলে। "গুলি করে সরে যাও" কৌশল খোরদাদ-৩'র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ গতিশীলতা। পুরো সিস্টেমটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে দ্রুত মোতায়েন, আক্রমণ এবং অবস্থান পরিবর্তন করা যায়। সামরিক ভাষায় একে বলা হয় "Shoot and Scoot" কৌশল বা হামলা করে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করার কৌশল। এই কৌশলে প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে অবস্থান নেয় এবং সুযোগমতো শত্রুর উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুর ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। ফলে শত্রুপক্ষের জন্য সিস্টেমটির অবস্থান শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সমুদ্রপথেও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা খোরদাদ-৩ শুধু স্থলভিত্তিক নয়, নৌযানেও স্থাপনযোগ্য। এর ছোট ও সমন্বিত নকশা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির নৌ ইউনিটকে সমুদ্রপথে আরও কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা সুবিধা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা হলে এই ব্যবস্থা উপকূল থেকে বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করতে সক্ষম। এর ফলে সমুদ্রভিত্তিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা ২০১৯ সালের ২০ জুন হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি "ট্রাইটন" ড্রোন ভূপাতিত করার মাধ্যমে সোম খোরদাদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় আসে। এই ঘটনাকে ইরানের দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির একটি বড় সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয় যে আধুনিক ড্রোন ও নজরদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আজ ১৭ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “ডিজিটাল লাইফলাইন: একটি সংযুক্ত বিশ্বে স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করা”। প্রতিপাদ্যে সংযুক্ত বিশ্বের সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ, সেবার ধারাবাহিকতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। দিবসটির মূল বার্তায় বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হামলা বা অন্য যেকোনো সংকটের মধ্যেও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তি অবকাঠামো সচল রাখতে হবে, যাতে কেউ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে। দিবসটি উপলক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) রাজধানীতে বিটিআরসি ভবনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে সেখানে একটি টেলিযোগাযোগ মেলাও অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন ফকির মাহবুব আনাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং আইসিটি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেবেন এমদাদুল বারী। উল্লেখ্য, ১৮৬৫ সালের ১৭ মে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রতিষ্ঠার স্মরণে প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করা হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের খরচ সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় প্রযুক্তি খাতে নতুন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ওপেনএআইয়ের ধারাবাহিক মূল্য পরিবর্তন সফটওয়্যার নির্মাতা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাজের পদ্ধতি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। গত ২৩ এপ্রিল চালু হওয়া GPT-5.5 মডেলের দাম আগের সংস্করণের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এতে প্রতি ১০ লাখ ইনপুট টোকেনের জন্য ৫ ডলার এবং আউটপুটের জন্য ৩০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও উন্নত GPT-5.5 Pro সংস্করণে এ খরচ বেড়ে গিয়ে ইনপুটে ৩০ ডলার এবং আউটপুটে ১৮০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তবে ব্যবহারকারীদের খরচ ৪৯ থেকে ৯২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে ছোট প্রম্পট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপই ব্যবহারকারীদের বহন করতে হচ্ছে। যদিও এই নতুন মডেল কিছু ক্ষেত্রে কম সংখ্যক আউটপুট তৈরি করছে, তবুও খরচ কমেনি। এদিকে ৭ মে ওপেনএআই তাদের ফাইন-টিউনিং সুবিধা ধীরে ধীরে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৭ সালের ৬ জানুয়ারির মধ্যে নতুন করে প্রশিক্ষণ কাজ শুরু করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে GPT-5-স্তরের ক্ষমতাসম্পন্ন ভয়েস মডেলসহ নতুন সেবা চালু করা হয়েছে, যা ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারণ করে। শুধু ওপেনএআই নয়, পুরো এআই শিল্পেই মূল্য কাঠামো বদলাচ্ছে। গিটহাব তাদের কোপাইলট সেবায় টোকেনভিত্তিক মূল্য চালু করছে, আর ডিপসিকের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান খরচ কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
জ্বালানি সংকটে যখন কৃষকরা সেচ কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন উদ্ভাবক মনিরুল ইসলাম। পোড়া মবিল ব্যবহার করে তিনি ডিজেলের বিকল্প জ্বালানি তৈরির দাবি করেছেন, যা ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে সেচ কাজে ব্যবহারও শুরু হয়েছে। মনিরুল ইসলাম জানান, ২০০৭ সাল থেকে তিনি ডিজেলচালিত ইঞ্জিন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোপুরি গবেষণায় মনোনিবেশ করে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর সম্প্রতি এই পদ্ধতির ব্যবহারিক সফলতা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার উদ্ভাবিত জ্বালানির নাম ‘মেথড অব অলটারনেটিভ ডিজেল’ (ম্যাড)। তিনি বলেন, পোড়া মবিলের সঙ্গে একটি বিশেষ বুস্টার মিশিয়ে এই জ্বালানি তৈরি করা হয়। মাত্র ১০০ মিলিগ্রাম বুস্টার ব্যবহার করেই কার্যকর বিকল্প জ্বালানি তৈরি সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ডিজেলের সংকটে সেচ দিতে না পারায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। মনিরুলের পরামর্শে তারা এই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার শুরু করেন। কৃষক সোলাইমান শেখ বলেন, “পাঁচ লিটার পোড়া মবিলের সঙ্গে অল্প পরিমাণ বুস্টার মিশিয়ে প্রায় সাত লিটার ডিজেলের সমপরিমাণ কাজ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সেচ চালানো সম্ভব হচ্ছে।” আরেক কৃষক জয়নাল আলী জানান, ধান, পাট ও কলা চাষে সেচের জন্য এখন আর ডিজেলের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে না। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে খরচ কমছে এবং কাজও চলছে স্বাভাবিকভাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ইন্সট্রাক্টর জাহিদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে এটি কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই সরকারি যাচাই-বাছাই ছাড়া ব্যাপকভাবে ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তিনি। দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন জানান, মাঠপর্যায়ে এই জ্বালানির ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিষয়টি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ডিজেল সংকটের সময়ে এমন উদ্যোগ সম্ভাবনাময়। তবে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে মনিরুল ইসলামের এই উদ্ভাবন কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বের বৃহত্তম ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব মঙ্গলবার গভীর রাতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের মুখে পড়ে। এতে বিশ্বের লাখ লাখ ব্যবহারকারী সমস্যার অভিযোগ জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইউটিউব কর্তৃপক্ষ সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, তারা সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত এবং দ্রুত সমাধানে কাজ করছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ইউটিউবের বিভিন্ন সেবা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ছিল হোমপেজ, ইউটিউব অ্যাপ, ইউটিউব মিউজিক ও ইউটিউব কিডস। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, হোমপেজ চালু হলেও পুরো সমস্যার সমাধানে কাজ চলছিল। ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর জানায়, তাদের কাছে তিন লাখের বেশি ব্যবহারকারী সমস্যার রিপোর্ট পাঠান। গ্রিনিচ সময় রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। উল্লেখ্য, গুগল-এর মালিকানাধীন ইউটিউবের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা বর্তমানে ২.৫ বিলিয়নের বেশি।
ভ্যালেনটাইনস ডে সামনে এলেই অনলাইন প্রতারকদের তৎপরতা বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই অপরিচিত নম্বর থেকে হঠাৎ করে ফ্লার্টি বা বন্ধুসুলভ টেক্সট মেসেজ পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলোর বেশিরভাগই রোমান্স স্ক্যাম— যার লক্ষ্য হলো আপনাকে কথোপকথনে জড়িয়ে ফিশিং লিংকে ক্লিক করানো বা ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা। কিভাবে শুরু হয় ‘রং নাম্বার’ স্ক্যাম? এই ধরনের প্রতারণা সাধারণত একটি নিরীহ বা বন্ধুসুলভ বার্তা দিয়ে শুরু হয়, যা দেখে মনে হয় ভুল করে অন্য কারও কাছে পাঠানো হয়েছে। বার্তায় থাকতে পারে জরুরি কোনও বিষয়— যেমন চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পুরনো প্রেমের স্মৃতি, কিংবা অফিস সংক্রান্ত সমস্যা। উদ্দেশ্য একটাই: প্রাপক যেন সহানুভূতি বা কৌতূহলবশত উত্তর দেন। আপনি একবার উত্তর দিলেই প্রতারক ক্ষমা চেয়ে কথোপকথন চালিয়ে যায়। ধীরে ধীরে আলাপ গড়ায় ব্যক্তিগত ও রোমান্টিক দিকে। কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পর শুরু হয় আসল ফাঁদ— নগদ অর্থ চাওয়া, ভুয়া ক্রিপ্টো ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব, কিংবা অনুদানের লিংক পাঠানো। এরপর একসময় প্রতারক উধাও হয়ে যায়। ভুক্তভোগীর হাতে থাকে শুধু কিছু টেক্সট মেসেজ, আর হারিয়ে যায় অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য। উত্তর দিলেই ঝুঁকি সব ‘ভুল নম্বর’ মেসেজ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে শেষ না হলেও, উত্তর দিলেই আপনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। কারণ এতে আপনার নম্বরটি সক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং সেটি পরবর্তীতে অন্য প্রতারকদের কাছে বিক্রি করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এখন হাজার হাজার বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হচ্ছে। ডাটা ব্রোকার ওয়েবসাইটে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বার্তাগুলো ব্যক্তিগতকৃতও হতে পারে। সন্দেহজনক মেসেজ পেলে কী করবেন? ১. উত্তর দেওয়ার আগে নম্বর যাচাই করুন গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনে নম্বরটি খুঁজে দেখুন। অনেক সময় স্প্যাম রিপোর্টিং সাইটে নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়। ২. ব্লক, ডিলিট ও রিপোর্ট করুন যদি নিশ্চিত হন এটি প্রতারণা, তাহলে নম্বরটি ব্লক করুন, মেসেজ মুছে ফেলুন এবং মোবাইল অপারেটরকে স্প্যাম হিসেবে রিপোর্ট করুন। এতে ভবিষ্যতে প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা হয়। ৩. অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না অপরিচিত নম্বর থেকে পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। এগুলো ফিশিং সাইট হতে পারে, যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে। ৪. মেসেজ ফিল্টার চালু করুন আইফোন ব্যবহারকারীরা মেসেজ ফিল্টার চালু করতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েডেও অপরিচিত প্রেরকের মেসেজ আলাদা ফোল্ডারে চলে যায়। ৫. ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলুন ডাটা ব্রোকার ওয়েবসাইট থেকে নিজের নাম ও নম্বর সরানোর উদ্যোগ নিন, অথবা ডাটা রিমুভাল সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা বার্তায় উত্তর না দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। প্রতারকদের সঙ্গে বুদ্ধির লড়াইয়ে নামা আকর্ষণীয় মনে হলেও, তারা অনেক বেশি সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই মনে রাখুন— রিপ্লাই নয়, ক্লিক নয়, শেয়ার নয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সুবিধা বাড়াতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামে একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, অ্যাপটি বর্তমানে গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা ঘরে বসেই নিজেদের ভোটকেন্দ্রের নাম, কেন্দ্র নম্বর ও অবস্থান জানতে পারবেন। অ্যাপটিতে ভোটকেন্দ্রের জিও লোকেশন, কেন্দ্রের ছবি, কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্ব এবং ম্যাপসহ বিস্তারিত তথ্য দেখা যাবে। পাশাপাশি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তথ্য, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা, নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এবং নির্বাচনের ফলাফল জানার সুবিধাও এতে রাখা হয়েছে। অ্যাপটি ব্যবহারের জন্য প্রথমে মোবাইলে ইনস্টল করতে হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও জন্মতারিখ প্রদান করলে ভোটারের ভোটার আইডি নম্বর, নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের নাম ও ঠিকানা, ভোট প্রদানের সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রদর্শিত হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।