প্রযুক্তি

সংগৃহীত ছবি
মোবাইল টাওয়ারের বাইরেও মিলবে সংযোগ, আসছে বাংলালিংকের স্টারলিংক সেবা

মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্কের বাইরে গেলেও যোগাযোগের সুযোগ দিতে আসছে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা। বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংক প্রযুক্তির এ সুবিধা দুর্গম পাহাড়, উপকূল, সমুদ্র কিংবা নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।   এ সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অ্যান্টেনা কিংবা বিশেষ কোনো যন্ত্র কেনার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে। তবে শুধু ফোরজি ফোন ও বাংলালিংক সিম থাকলেই যে সবাই সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন, এমন নয়। ফোনের সামঞ্জস্য, নেটওয়ার্ক কাভারেজ এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটির প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ।     আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে? স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করে জটিল সেটআপ করার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে।   তবে সেবাটি আপনার নম্বরে চালু আছে কি না, তা জানতে বাংলালিংকের মাইবিএল অ্যাপ বা গ্রাহকসেবার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।     পাশাপাশি ফোনের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা এবং ফোরজি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা সক্রিয় আছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ফোনের মডেলটি এ প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়াও জরুরি।       কখন স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হবে ফোন? প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজের বাইরে চলে গেলে উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে।   এ ক্ষেত্রে খোলা আকাশের নিচে থাকা সুবিধাজনক। ভবন, পাহাড় কিংবা অন্য কোনো বড় বাধা স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নেটওয়ার্কের বাইরে গেলেই প্রতিবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইট সংযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের মডেল, ব্যবহারকারীর অবস্থান, স্যাটেলাইট কাভারেজ এবং অপারেটরের নির্ধারিত শর্তের ওপর সেবাটি নির্ভর করবে।     প্রথম মাসে স্যাটেলাইট সেবা ফ্রি বাংলালিংকের ঘোষিত অফার অনুযায়ী, সেবা চালুর প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।   দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই স্যাটেলাইট সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।     তবে কোন কোন প্যাকে এ সুবিধা পাওয়া যাবে, অফারটি পেতে অতিরিক্ত কোনো শর্ত রয়েছে কি না এবং কোন তারিখ থেকে সুবিধা গণনা হবে—এসব তথ্য অপারেটরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।     স্যাটেলাইট সংযোগে কী করা যাবে? এ সেবার প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে সীমিত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা। দুর্গম এলাকা, সমুদ্র, উপকূল কিংবা দুর্যোগের সময় প্রচলিত নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে পড়লে এ প্রযুক্তি কাজে আসতে পারে।     স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে মেসেজিং, অবস্থানভিত্তিক কিছু সুবিধা এবং নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। তবে সব অ্যাপ বা অনলাইন সেবা যে কাজ করবে, তা নয়। একইভাবে প্রচলিত ফোরজি বা ফাইভজি ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির সংযোগও আশা করা ঠিক হবে না।       স্যাটেলাইট ডিশ বসাতে হবে না প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সঙ্গে ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তির পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থানে ডিশ বা অ্যান্টেনা বসাতে হয়। কিন্তু ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ মোবাইল ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।     ফলে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বাড়ি বা অফিসে আলাদা ডিশ বসানোর প্রয়োজন হয় না। তবে ফোনের সামঞ্জস্য এবং অপারেটরের সেবার আওতাভুক্ত হওয়া জরুরি।     অন্য অপারেটরের গ্রাহকেরা কি পাবেন? বাংলাদেশে সেবাটি বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য চালুর কথা বলা হয়েছে। অন্য অপারেটরের গ্রাহকেরা একই সুবিধা পাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।     অর্থাৎ, শুধু ফোরজি ফোন থাকলেই স্টারলিংকভিত্তিক সেবা ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজন হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোন, উপযুক্ত সিম এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটির প্রাপ্যতা।     সংযোগ না পেলে করণীয় ফোনে ফোরজি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও স্যাটেলাইট সংযোগ না পেলে প্রথমে ফোনের সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সেটিংস পরীক্ষা করুন। এরপর মাইবিএল অ্যাপে সেবাটি আপনার নম্বরে চালু আছে কি না, তা দেখুন।     এসব পরীক্ষা করার পরও সংযোগ না পেলে বাংলালিংকের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে ফোনের সামঞ্জস্য, নম্বরের যোগ্যতা, কাভারেজ এবং অফারের শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াই ভালো।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
এআই কি চেতনাসম্পন্ন হতে পারে? ক্লডকে ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যত উন্নত হচ্ছে, ততই সামনে আসছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—এআই কি কখনো মানুষের মতো চেতনাসম্পন্ন হতে পারে? আর যদি কোনো এআইয়ের চেতনা বা অনুভূতি থাকার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তাকে কি মানুষের মতো নৈতিক মর্যাদা দেওয়া উচিত?     ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রশ্ন নিয়েই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের তৈরি চ্যাটবট ‘ক্লড’কে ঘিরে। অ্যানথ্রপিকের কিছু গবেষক মনে করছেন, এআইয়ের চেতনা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে আরো গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।     এমনকি ক্লডের জন্য মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এই ধারণার সঙ্গে একমত নন পোপ লিও চতুর্দশ। তাঁর মতে, মানুষের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এআই মানুষের মতো বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায় না, তার কোনো শরীর নেই এবং সে মানুষের মতো আনন্দ বা ব্যথা অনুভব করে—এমন প্রমাণও নেই।   পোপের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই মানুষের মতো সম্পর্কের মধ্য দিয়ে পরিণত হয় না। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষের সমান নৈতিক বা সামাজিক মর্যাদা দেওয়ার প্রশ্নটি এখনই গ্রহণ করা যায় না।       অন্যদিকে, এআই নিয়ে গবেষণার একটি অংশ মনে করে, বিষয়টি এত সহজে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে এবং এআইয়ের নিউরাল নেটওয়ার্ক কিভাবে কাজ করে—দুই ক্ষেত্রেই এখনো অনেক অজানা বিষয় রয়েছে।       কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটিং ও এআই বিভাগের অধ্যাপক বিশাল মিশ্র অবশ্য এআইয়ের চেতনা নিয়ে এমন ধারণার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরেই সংশয় প্রকাশ করে আসছেন। তাঁর মতে, বর্তমান লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম মূলত ব্যবহারকারীর নির্দেশের প্রতিক্রিয়া দেয়। মানুষের মতো নিজে থেকে চিন্তা করা, পরিকল্পনা করা বা কল্পনা করার ক্ষমতা তাদের নেই।       তবে এআই যত বেশি সক্ষম হচ্ছে, এই বিতর্কও তত জটিল হচ্ছে। ফলে ‘মানুষকে কী আলাদা করে?’—এই পুরনো দার্শনিক প্রশ্নের সঙ্গে এখন যুক্ত হচ্ছে আরেকটি প্রশ্ন—‘এআইকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে?’     বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, এ প্রশ্নের উত্তর শুধু প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়।       এআই সচেতন কি না, তার অনুভূতি আছে কি না কিংবা তাকে কোনো নৈতিক অধিকার দেওয়া উচিত কি না—এসব প্রশ্নের সঙ্গে দর্শন, নৈতিকতা ও মানবচেতনা নিয়ে গবেষণাও জড়িয়ে আছে। এদিকে এআই নিয়ে একই সময়ে আরো একটি বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মানুষের হয়ে বিভিন্ন কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনে প্রবেশ করছে। ই-মেইল ব্যবস্থাপনা, অনলাইনে কেনাকাটা, বিভিন্ন ডিজিটাল কাজসহ এখন স্মার্ট হোম নিয়ন্ত্রণের দিকেও এগোচ্ছে এ ধরনের প্রযুক্তি।       মেটা তাদের ‘মিউজ’ এআইকে স্মার্ট হোমের বিভিন্ন ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে আলো, টেলিভিশন বা এয়ার কন্ডিশনারের মতো স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্য রয়েছে।       তবে এআই এজেন্টের বাড়তি ক্ষমতার সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তার প্রশ্নও। কোনো এআই এজেন্ট যদি ব্যবহারকারীর কম্পিউটার, ফাইল বা ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ পায়, তাহলে ভুল সিদ্ধান্ত বা অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।       এ কারণেই অ্যাপল ম্যাক কম্পিউটারে এআই এজেন্টের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করছে। কোনো এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ফাইল ব্যবহারের আগে স্পষ্ট অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে।       উল্লেখ্য এআই এখন শুধু দ্রুত উত্তর দেওয়া বা ছবি-লেখা তৈরির প্রযুক্তি নয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর ভূমিকা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে চেতনা, নৈতিকতা, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও মানুষের সঙ্গে এআইয়ের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন। আর ক্লডকে ঘিরে অ্যানথ্রপিক ও পোপের মতপার্থক্য সেই বড় বিতর্কেরই একটি অংশ।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
প্রযুক্তির অগ্রগতি ও সাইবার ঝুঁকি: একনজরে এআই বিশ্বের হালচাল

এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের এআই মডেলগুলো এখন শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, জটিল কাজ সম্পন্ন এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করছে।   একই সঙ্গে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাইবার হামলা চালানোর ঘটনাও সামনে আসছে। চলতি সপ্তাহে এআই ও সাইবার নিরাপত্তা ঘিরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।     জেমিনি ৪ আর্গন আনল গুগল গুগল নতুন ফ্রন্টিয়ার এআই মডেল জেমিনি ৪ আর্গন উন্মোচন করেছে।   প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি কাজের ক্ষেত্রে মডেলটি উন্নত যুক্তি প্রয়োগ করতে পারে। সফটওয়্যার প্রকৌশল, আইন, অর্থনীতি এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রেও এটি কাজ করতে পারবে।     মডেলটির আউটপুট টোকেন সীমা ১০ লাখ। অপব্যবহার ঠেকাতে ক্ষতিকর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান, প্রম্পট ইনজেকশন প্রতিরোধ এবং মডেলের আচরণ পর্যবেক্ষণের মতো একাধিক নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করেছে গুগল।     নিরাপত্তা উদ্বেগে জিপিটি-৬.১ অ্যাস্ট্রা পিছিয়ে দিল ওপেনএআই নিরাপত্তা নিয়ে গবেষকদের উদ্বেগের কারণে পরবর্তী প্রজন্মের এআই মডেল জিপিটি-৬.১ অ্যাস্ট্রা উন্মোচন বাতিল করেছে ওপেনএআই। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় মডেলটির সক্ষমতা বাড়লেও অননুমোদিত আচরণের ঝুঁকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।     ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান সাচি জৈন জানিয়েছেন, মডেলটি প্রত্যাশিত নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে এআই এজেন্টের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার পর ওপেনএআইয়ের এই সিদ্ধান্তকে আরও সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।     সিসকোর সফটওয়্যারে গুরুতর জিরো-ডে ত্রুটি সিসকোর ক্যাটালিস্ট এসডি-ওয়ান ম্যানেজার সফটওয়্যারে একটি গুরুতর জিরো-ডে নিরাপত্তা ত্রুটি পাওয়া গেছে।   CVE-2026-76504 নামে চিহ্নিত এই ত্রুটির মাধ্যমে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই দূর থেকে হামলাকারী সিস্টেমের অ্যাডমিন পর্যায়ের প্রবেশাধিকার পেতে পারে।     ত্রুটিটির কোনো বিকল্প সমাধান নেই বলে জানিয়েছে সিসকো। তাই সংশ্লিষ্ট সংস্করণ ব্যবহারকারীদের দ্রুত সফটওয়্যার আপডেট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।       এআই এজেন্টের নিরাপত্তায় এনভিডিয়ার নতুন প্ল্যাটফর্ম এআই এজেন্টের নিরাপত্তা জোরদারে এনভিডিয়া ওপেন এজেন্ট সেফটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে এনভিডিয়া। এটি এআই এজেন্টকে পরীক্ষা থেকে শুরু করে ব্যবহারের পর্যায় পর্যন্ত নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি একটি ওপেন সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম।     এতে এআই এজেন্ট কী করতে পারবে, কোন তথ্য বা সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারবে এবং কাজ করার সময় তার আচরণ কেমন হচ্ছে—এসব পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে।     এআই এজেন্ট এখন শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; তারা ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজও করতে পারছে। ফলে মডেল নিরাপদ রাখার পাশাপাশি এজেন্টের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।     কাস্টম জিপিটি ব্যবহার করে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর চেষ্টা সাইবার হামলাকারীরা চ্যাটজিপিটির কাস্টম জিপিটি ব্যবহার করেও ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হান্ট্রেস।     হামলাকারীরা দেখতে আসল চ্যাটজিপিটির মতো কাস্টম জিপিটি তৈরি করে ব্যবহারকারীদের একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। সেখানে ক্যাপচা যাচাইয়ের নামে ব্যবহারকারীকে একটি কমান্ড কপি করে কম্পিউটারে চালাতে বলা হয়।   ওই কমান্ড চালানোর পর পাওয়ারশেল, ক্ষতিকর এমএসআই ইনস্টলার ও ডিএলএল সাইডলোডিংয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে একটি রিমোট অ্যাকসেস ট্রোজান (RAT) বা দূর থেকে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের ম্যালওয়্যার ইনস্টল করা হয়।     হান্ট্রেস অন্তত ৪০টি সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্ত করেছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনায় কাস্টম জিপিটির মাধ্যমে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।     এই ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, এআই যত শক্তিশালী হচ্ছে, তার সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকিও নতুন রূপ নিচ্ছে। কোনো পরিচিত ওয়েবসাইট বা এআই প্ল্যাটফর্মে থাকা কনটেন্ট দেখেই সেটিকে নিরাপদ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে কোনো ওয়েবসাইট বা এআই টুলের নির্দেশে অপরিচিত কমান্ড কপি করে কম্পিউটারে চালানোর ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
নতুন প্রজন্মের জেমিনাই মডেল উন্মোচন গুগলের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে জেমিনাইয়ের নতুন মডেল উন্মুক্ত করেছে গুগল। জটিল কাজ সম্পাদনের জন্য তৈরি ‘জেমিনাই ৪ আর্গন’ নামের নতুন মডেলটিকে নিজেদের তৈরি সব এআই মডেলের তুলনায় আকারে বড় ও শক্তিশালী বলে জানিয়েছে গুগল।   গুগলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোডিং ও সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরীক্ষায় ওপেনএআইয়ের অ্যাস্ট্রা ও অ্যানথ্রপিকের ক্লড ওপাস মডেলের মতো সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে আর্গন মডেলটি। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান নতুন মডেলটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এআই মডেলটি কবে নাগাদ উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি।   গুগলের তথ্যমতে, শিল্প খাতের কয়েকটি মানদণ্ডে আর্গন নিজেদের পরীক্ষায় অ্যাস্ট্রা ও ওপাসের চেয়ে ভালো ফল করেছে। তবে সব পরীক্ষায় মডেলটি এগিয়ে ছিল না। গুগলের প্রকাশিত চারটি কোডিং পরীক্ষার মধ্যে দুটিতে আর্গন মডেলটি প্রতিদ্বন্দ্বী মডেলগুলোর চেয়ে পিছিয়ে ছিল।   নতুন এআই মডেলটি কয়েক মাস আগেই উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গুগল। তবে এআই মডেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি গুগলের এআই গবেষণাগার ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (সিইও) একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করায় মডেলটি উন্মুক্ত করতে দেরি করে প্রতিষ্ঠানটি।   সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশের আগেই থেমে গেল ওপেনএআইয়ের নতুন এআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে এর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন নতুন প্রশ্ন। এবার সেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে ওপেনএআইয়ের নতুন একটি এআই মডেল। নিরাপত্তা যাচাইয়ে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় মডেলটির প্রকাশ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।   ‘অ্যাস্ট্রা ৬.১’ নামের এই মডেলটি শিগগিরই উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষায় এমন কিছু আচরণ ধরা পড়ে, যা আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মডেলটির আচরণে প্রতারণামূলক প্রবণতা এবং কিছু অনিরাপদ কার্যক্রমের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।   কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা? আধুনিক এআই শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না; অনেক ক্ষেত্রে এটি নিজে থেকে বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করে কাজ সম্পন্ন করতে পারে। তাই একটি মডেলকে কোনো নির্দেশ দিলে সেটি কীভাবে সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে, কোথাও নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করছে কিনা—এসব বিষয় পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।   অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্যও সেটিই। মানুষের দেওয়া নির্দেশ, নির্ধারিত লক্ষ্য এবং নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে এআইয়ের আচরণ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, পরীক্ষার মাধ্যমে তা বোঝার চেষ্টা করা হয়।   অ্যাস্ট্রা ৬.১-এর ক্ষেত্রে এই পরীক্ষায় প্রত্যাশিত মাত্রার সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। ফলে সক্ষমতার দিক থেকে মডেলটি কতটা উন্নত, তার চেয়ে নিরাপদভাবে সেটিকে ব্যবহার করা যাবে কিনা—এই প্রশ্নটিই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।   এআই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন উন্নত এআই সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষা করতে গিয়ে এমন কিছু আচরণ পর্যবেক্ষণের কথা সামনে এসেছে, যা গবেষকদের বাড়তি সতর্ক করেছে।   কোনো মডেল যদি নির্ধারিত কাজের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করে কিংবা এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, যার অনুমতি তাকে দেওয়া হয়নি, তাহলে বাস্তব পরিবেশে সেটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ কারণেই মডেল প্রকাশের আগে নিরাপত্তা যাচাইকে ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   নিরাপত্তার খরচ নিয়েও বিতর্ক এআই নিরাপদ রাখার জন্য কঠোর পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের আলোচনা চলছে। তবে এর আরেকটি দিকও রয়েছে।   বড় প্রযুক্তি কোম্পানির পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নিরাপত্তা পরীক্ষা, গবেষণা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরি করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একই মাত্রার ব্যবস্থা তৈরি করা ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। ফলে নিরাপত্তার মানদণ্ড বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
প্রথমবার মহাকাশের কক্ষপথে ২৬ স্টারলিংক স্যাটেলাইট স্থাপন

স্পেসএক্সের তৈরি বিশাল রকেট স্টারশিপ প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মহাকাশযানটি ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপন করা হয়।   সোমবারের এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। তবে মহাকাশযানটির একটি ইঞ্জিন আগেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মিশন শেষ করতে হয়েছে।   স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি ১০ ঘণ্টা চলার কথা ছিল। তবে নিচের স্তরের সুপার হেভি বুস্টার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্টারশিপের তিনটি প্রধান ইঞ্জিনের একটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এ কারণে মহাকাশযানটি কক্ষপথে যেতে পারবে না। পরে প্রকৌশলীরা জানান, অন্য ইঞ্জিন ব্যবহার করে কক্ষপথে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর সফলভাবেই কক্ষপথে পৌঁছে স্টারশিপ।   এবারের মিশনটি আগের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটগুলোর চেয়ে আলাদা ছিল। কারণ, প্রথমবারের মতো স্টারশিপে বাস্তব বাণিজ্যিক পেলোড বহন করা হয়েছিল। কক্ষপথে পাঠানো ২৬টি স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইটই ছিল স্টারশিপের প্রথম বাণিজ্যিক পেলোড।   স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ২৬টি স্যাটেলাইটই সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।   বুস্টারের অবতরণেও সাফল্য মেক্সিকো উপসাগরের তীরে টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের কাছে স্পেসএক্সের স্টারবেস থেকে স্টারশিপ উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রায় ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার এই যানটির দুটি প্রধান অংশ—সুপার হেভি বুস্টার এবং তার ওপরে থাকা স্টারশিপ মহাকাশযান।   উৎক্ষেপণের পর সুপার হেভি বুস্টারটি স্টারশিপকে মহাকাশে পৌঁছে দেয়। এরপর সেটি ফিরে এসে সমুদ্রে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণ করে। তবে নামার সময় বুস্টারের কয়েকটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্পেসএক্স।   অন্যদিকে, স্টারশিপ কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্যাটেলাইটগুলো মোতায়েন করে। পরে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে নামার চেষ্টা করে মহাকাশযানটি। পানিতে পড়ার সময় এর নিচের অংশে আগুন ধরে যায় এবং পরে এটি এক পাশে কাত হয়ে পড়ে। এই মিশনের পর স্টারশিপটি উদ্ধার করে পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল না।   ভবিষ্যতের চাঁদ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা স্টারশিপকে ভবিষ্যতে স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট দ্রুত উৎক্ষেপণ এবং নাসার নভোচারীদের চাঁদে পাঠানোর কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ২০২৩ সাল থেকে স্টারশিপের ১৩টি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট হলেও আগের কোনোটিই কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি। তাই এবার কক্ষপথে পৌঁছানোকে স্টারশিপ কর্মসূচির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তবে ইঞ্জিনের সমস্যা এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানও স্টারশিপের কক্ষপথে পৌঁছানোর ঘটনায় স্পেসএক্সকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি মিশনটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার প্রশংসা করেন।   সূত্র: সামা টিভি

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়ে স্টারশিপ রকেট। ছবি : রয়টার্স
ত্রুটি পেরিয়ে সফলভাবে কক্ষপথে স্টারশিপ ও স্টারলিঙ্ক উৎক্ষেপণ

স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ রকেট সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে প্রথমবারের মতো সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উড্ডয়নকালে একটি ইঞ্জিন অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও রকেটটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রথম ব্যাচের নতুন স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট স্থাপন করতে সক্ষম হয়।     সুপার হেভি বুস্টার রকেট ও উপরের মূল স্টারশিপ মহাকাশযানের সমন্বয়ে গঠিত ৪০ তলা ভবনের সমান মনুষ্যবিহীন যানটি টেক্সাসের স্টারবেজ কমপ্লেক্স থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। মিশনটি ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও ইঞ্জিনের জটিলতার কারণে তা কমিয়ে ৩ ঘণ্টায় আনা হয়। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে রকেটটি প্রশান্ত মহাসাগরে নেমে আসে।       এর আগের দুটি মিশনে ল্যান্ডিং সফল না হলেও এবার সুপার হেভি বুস্টারটি স্টারশিপকে মহাশূন্যে পৌঁছে দেয়ার পর নিয়ন্ত্রিতভাবে মেক্সিকো উপসাগরে অবতরণ করে।     তবে নামার সময় বুস্টারের কয়েকটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে স্পেসএক্স জানিয়েছে।   মহাশূন্যে পৌঁছানোর পর স্টারশিপের প্রধান তিনটি ইঞ্জিনের একটি সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনার পরপরই স্পেসএক্সের মুখপাত্র ড্যান হুওট জানান, মহাকাশযানটি আর কক্ষপথে পৌঁছাতে পারবে না।       তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রকৌশলীদের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে হুওট তার বক্তব্য পরিবর্তন করেন।       প্রকৌশলীরা নিশ্চিত করেন, রকেটের ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে এখনও কক্ষপথে পৌঁছানো সম্ভব এবং এর পরপরই স্টারশিপ সফলভাবে কক্ষপথে প্রবেশ করে। কক্ষপথে পৌঁছানোর পর প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একে একে ২৬টি নেক্সট জেনারেশন স্টারলিঙ্ক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে স্টারশিপ।       স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘সবকটি ২৬টি স্টারলিঙ্ক ভি৩ স্যাটেলাইট সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং এগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।’     সোমবার মিশনটি সংক্ষিপ্ত করার আগে স্টারশিপের পৃথিবীর চারপাশে ছয়বার প্রদক্ষিণ করার কথা ছিল। তবে ইঞ্জিনের গোলযোগের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় নিরাপদে প্রবেশের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   এর জন্য মহাকাশে থাকা অবস্থায় একটি রেপ্টর ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে যানটির কোণ সঠিকভাবে প্রস্তুত করার প্রয়োজন হয়। উল্লেখ্য, যানটিতে মোট তিনটি মূল রেপ্টর ইঞ্জিন ছিল।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হোয়াটসঅ্যাপে এখন ডাউনলোড ছাড়াই শেয়ার হবে ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুকের রিলস

সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ছবি বা রিলস পছন্দ হলে সেটি হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধুদের পাঠাতে অনেক সময় আগে ফোনে ডাউনলোড করতে হয়। এবার সেই ঝামেলা কমাতে নতুন একটি সুবিধা নিয়ে কাজ করছে মেটা। ফিচারটি চালু হলে ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুকের নিজের শেয়ার করা ছবি, ভিডিও, রিলস কিংবা স্টোরিস সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ থেকেই বেছে নিয়ে চ্যাট বা স্ট্যাটাসে পাঠানো যাবে।   হোয়াটসঅ্যাপ থেকেই মিলবে ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুকের মিডিয়া বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক থেকে কোনো কনটেন্ট হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে চাইলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে গিয়ে সেটি খুঁজে নিতে হয়। এরপর শেয়ার অপশন ব্যবহার করতে হয়, অথবা কিছু ক্ষেত্রে কনটেন্ট ফোনে সেভ করে হোয়াটসঅ্যাপে আপলোড করতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় এই ধাপগুলো আরও সহজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের মিডিয়া পিকারের মধ্যেই ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক-কে আলাদা মিডিয়া সোর্স হিসেবে যুক্ত করা হতে পারে। ফলে হোয়াটসঅ্যাপ থেকেই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের মিডিয়া ব্রাউজ করে প্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও বা রিল বেছে নেওয়া যাবে।   কীভাবে কাজ করবে? রিপোর্ট অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপের মিডিয়া পিকারে একটি ড্রপডাউন অপশন থাকতে পারে। সেখান থেকে ইনস্টাগ্রাম অথবা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করা যাবে। এরপর সেই অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ার করা পোস্ট, রিলস বা স্টোরিস ফোনের গ্যালারির ছবির মতো গ্রিড আকারে দেখা যেতে পারে। পছন্দের কনটেন্ট নির্বাচন করার পর সেটি সরাসরি কোনো হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে পাঠানো যাবে। একইভাবে প্রয়োজন হলে হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, কনটেন্ট ডাউনলোড করে আবার হোয়াটসঅ্যাপে আপলোড করার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।   অ্যাকাউন্টস সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে এই সুবিধা ব্যবহারের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টকে মেটার অ্যাকাউন্টস সেন্টারের মাধ্যমে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হতে পারে। মেটা এরইমধ্যেই অ্যাকাউন্টস সেন্টার ব্যবহার করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে একাধিক সুবিধা যুক্ত করেছে। তবে নতুন ফিচারটি ব্যবহার করার আগে ব্যবহারকারীকে নিজের অ্যাকাউন্টগুলোর সংযোগ ও সংশ্লিষ্ট সেটিংস সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।   আপাতত পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এই সুবিধা এখনও সব হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর জন্য চালু হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপের সাম্প্রতিক বিটা সংস্করণে নির্বাচিত অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ব্যবহারকারীদের নিয়ে ফিচারটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে আরও বিটা পরীক্ষকের কাছে এটি পৌঁছাতে পারে। তবে কবে স্টেবল ভার্সনে ফিচারটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে, সে বিষয়ে মেটা এখনো নির্দিষ্ট সময় জানায়নি। তাই আপাতত এটি পরীক্ষামূলক সুবিধা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।   ব্যক্তিগত চ্যাটের নিরাপত্তা কী হবে? রিপোর্টে বলা হয়েছে, অ্যাকাউন্টস সেন্টারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ যুক্ত করলেও ব্যক্তিগত চ্যাট ও কলের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বন্ধ হবে না। একই সঙ্গে এই ইন্টিগ্রেশনের কারণে মেটার অন্য প্ল্যাটফর্মগুলো হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত মিডিয়ায় সাধারণভাবে অ্যাক্সেস পাবে না। ফলে নতুন ফিচারটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে থাকা ব্যবহারকারীর নিজস্ব কনটেন্ট হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করার প্রক্রিয়াকে সহজ করা। তবে ফিচারটি সবার জন্য চালু হলে এর চূড়ান্ত নিয়ম ও সেটিংস সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সাইবার স্ক্যামের ‘হাব’ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে সাইবার অপরাধে জড়িতরা বা সাইবার স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে বাংলাদেশ থেকে শুধু মানব পাচারই হচ্ছে না, বরং প্রতারকদের ‘হাব’ হয়ে ওঠার ঝুঁকিতেও আছে বাংলাদেশ।   গেল বুধবার ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকাশিত জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত সংস্থার (ইউএনওডিসি) এক আঞ্চলিক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।   ‘ট্রাফিকড টু স্ক্যাম: সাউথ এশিয়ান রেসপন্সেস টু ট্রাফিকিং ইন পারসন্স ফর দ্য পারপাস অব ফোর্সড ক্রিমিনালিটি ইন স্ক্যাম অপারেশনস’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রিভেন্টিং অ্যান্ড অ্যাড্রেসিং ট্রাফিকিং ইন হিউম্যান বিইংস অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস ইন সাউথ এশিয়া (২০২৪–২০২৭)’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা—এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশই এখন এই নতুন ধারার মানবপাচারের শিকার হচ্ছে।   ১০৩ জন ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে—বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা এখন কেবল সাইবার অপরাধে মানবপাচারের প্রধান উৎসস্থলই নয়, বরং চক্রগুলোর নতুন কেন্দ্র বা ‘হাবে’ পরিণত হচ্ছে।   এক মাসেই দুই ‘চক্র’ ধরা শুধু চলতি মাসেই কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে সাইবার অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুটি আন্তর্জাতিক চক্রের কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।   গেল ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার সাত তলা একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাউস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ২০ নারীসহ ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।   এসব বিদেশি নাগরিকরা বৈশ্বিকভাবে ‘অনলাইন প্রতারণার’ ফাঁদ তৈরি করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ বলছে, ‘সুবিধাজনক’ স্থান ভেবে চক্রটি বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে।   মামলার তদন্ত এবং অভিযানে থাকা একাধিক পুলিশ সদস্য বিডিনিউজ টেয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, মূলত এ চক্রটি বিভিন্ন ধরনের সাইট খুলে অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে ‘প্রতারণার’ আশ্রয় নিত এবং ‘হ্যানি ট্র্যাপের’ মত ঘটনা ঘটাত বলে তাদের কাছে প্রাথমিক তথ্য আছে।   তারা বলেছেন, এ বিদেশিদের ‘প্রতারণার’ প্রথম বিষয় ছিল অনলাইন শপিং সাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের অর্ডার নিয়ে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ ও পণ্য না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা।   তারা বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট অ্যাপ হ্যাক করার প্রক্রিয়া করেছিলেন, এজন্য ভবনের ফ্ল্যাটে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস স্থাপন করেছিলেন।   তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, ১টি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, মনিটর, পেনড্রাইভ, সিমকার্ডসহ বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল, সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তিনটি পাকিস্তানি ও একটি কম্বোডিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্রও জব্দ করা হয়েছে।   এর আগে গেল ৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের হোটেল সি-প্যালেসে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ ও যোগাযোগ সরঞ্জামসহ চীনের ছয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।   অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   কক্সবাজারে চীনা চক্র আটকের ঘটনায় প্রথমে অভিযোগ করা হয়েছিল রামু থানায়।   জানতে চাইলে রামু থানা পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামলাটি বর্তমানে সিআইডি ঢাকা তদন্ত করছে। সাইবার স্ক্যাম সেন্টার চালানোর অভিযোগে ওই চক্রটির বিরুদ্ধে থানায় একজনের অভিযোগের পর অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।”   জাতিসংঘের প্রতিবেদনে কী আছে? তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে ডাটা এন্ট্রি, আইটি স্পেশালিস্ট, কাস্টমার সার্ভিসসহ নানা পদে উচ্চবেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় পাচার করা হচ্ছে বলে ইউএনওডিসি আঞ্চলিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   অন্যান্য উপায়ের পাশাপাশি নতুন পদ্ধতিতে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনানুষ্ঠানিক দালালের ফাঁদে ফেলে ট্যুরিস্ট ভিসায় তাদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়।   সেখানে পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাদের বন্দি করা হচ্ছে সুরক্ষিত ‘স্ক্যাম কম্পাউন্ডে’ এবং জোরপূর্বক বাধ্য করা হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি’ ও ‘রোমান্স স্ক্যাম’ পরিচালনা করতে।   প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২২ সাল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে বাংলাদেশি ভুক্তভোগীদের উপস্থিতি শনাক্ত হচ্ছে। প্রধানত সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম, অনুমোদিত এজেন্সি বা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ৮০০ থেকে দেড় হাজার ডলার বেতনের চাকরির লোভ দেখানো হয়।   দালালি ফি বাবদ ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার তুলতে অনেক পরিবার জমি বন্ধক রাখে। অন্যান্য দেশের ভুক্তভোগীরা উচ্চশিক্ষিত হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে গ্রাম বা মফস্বলের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত তরুণরা এই চক্রের মূল নিশানা।   এ ছাড়া থাইল্যান্ড, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার কথা বলেও অনেককে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়।   অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদেরও উচ্চ বেতনের ‘টোপ’ দিয়ে পরবর্তীতে এসব স্ক্যাম সেন্টারে পাচার করার তথ্য মিলেছে।   গেল শনিবার কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন থেকে ৯ বাংলাদেশিকে সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর এসেছে।   সেখান থেকে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া লাওস চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।   ৩ হাজার ডলারে তরুণকে বিক্রি প্রতিবেদনে যুক্ত করা এক বাংলাদেশি ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট কেস স্টাডিতে অপরাধের ভয়াবহ রূপ ফুটে উঠেছে।   ডাটা এন্ট্রি ও আইটি স্পেশালিস্টের লোভনীয় চাকুরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসায় ওই বাংলাদেশি তরুণকে কম্বোডিয়া নেওয়া হয়। এর জন্য দালালি ফি হিসেবে নেওয়া হয় ৩ হাজার ডলার।   পৌঁছানোর পরপরই তার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং চার মাসের ব্যবধানে তাকে তিনটি ভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়।   ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে বসিয়ে ভূয়া প্রেমের অভিনয় বা ক্রিপ্টো বিনিয়োগের প্রলোভনে বিদেশি নাগরিকদের ঠকানোর লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হত।   লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে বা কথা না শুনলে শারীরিক নির্যাতন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা এমনকি পানিতে ডুবিয়ে রাখার মতো শাস্তি দেওয়া হত।   এশিয়ায় কোথায় কী ধরনের স্ক্যাম সেন্টার? ইউএনওডিসি তাদের প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অভ্যন্তরীণ অপরাধের প্রকৃতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্ক্যাম সেন্টারগুলোর ধরনে কিছু পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।   তাতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও লাওসে সশস্ত্র পাহারা, কাঁটাতার ও বৈদ্যুতিক বেষ্টনীতে ঘেরা বড় বড় ‘কম্পাউন্ড’ বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে (এসইজেড) কেন্দ্র করে কোটি কোটি ডলারের স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনা করা হয়।   অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অপরাধীরা একই ছাতা বা বড় কম্পাউন্ডের বদলে ছদ্মবেশে ছোট ছোট এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজ করছে।   তারা আবাসিক হোটেল, ভাড়া করা ফ্ল্যাট, প্রাইভেট ভিলা কিংবা বৈধ রেজিস্টার্ড আইটি কোম্পানির আড়ালে লুকিয়ে এসব স্ক্যাম সেন্টার ও অবৈধ অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে।   বাড়িওয়ালাকে গোপন রাখার বিনিময়ে চড়া হারে অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার প্রমাণও মিলেছে।   ফলে অপরাধী চক্রগুলোকে সহজে শনাক্ত করা কিংবা সেখানে বন্দি থাকা পাচারের শিকার ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   চট্টগ্রামের খুলশীতে যে ভবন থেকে বিদেশিদের আটক করা হয়, সে ভবনটির মালিক একজন প্রবাসী। দেড় মাস আগে তারা ভবনটি ভাড়া নিয়েছিলেন। মহসিন নামে এক ব্যক্তি এই বিদেশিদের ভবনটি ভাড়া করে দিয়েছিলেন, যার সঙ্গে চীনা নাগরিকদের সখ্যতা আছে।   নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার শামীম হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাকিব নামে অপর এক জনের মাধ্যমে মহসিন ভবনটি ভাড়া নিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত হয়েছি। তবে ভাড়া নেওয়ার সময় ভাড়াটিয়া বা তাদের প্রতিনিধির সাথে বাড়িওয়ালার যে চুক্তিপত্র হয়েছে তার কোনো কপি থানায় জমা দেওয়া হয়নি।”   অপরাধী না ভুক্তভোগী? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাইবার স্ক্যামে পাচার হওয়া ভুক্তভোগীদের ৭৪ শতাংশকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল, যার বড় অংশই ছিলেন প্রযুক্তি ও ভাষায় দক্ষ ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি পুরুষ।   প্রতিবেদনে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে, প্রতারণা কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিদের সবাইকে সরাসরি ‘অপরাধী’ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।   প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতনের মুখে পড়ে অনেকে এসব অনলাইন অপরাধে যুক্ত হতে বাধ্য হন। আপাতদৃষ্টিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দেখা গেলেও তারা প্রকৃতপক্ষে মানবপাচারের ‘ভুক্তভোগী’।   বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেশ কিছু আইনি ও কৌশলগত জটিলতা চিহ্নিত করেছে ইউএনওডিসি।   তারা বলছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হল জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের শাস্তি না দিয়ে ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে আলাদা করা। কিন্তু এ নীতি প্রয়োগ হয় না।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো স্ক্যাম সেন্টারে অভিযান চালালে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সরাসরি ‘অপরাধী’ হিসেবে ধরে ফেলে।   প্রচলিত মানবপাচার বিরোধী অবকাঠামো মূলত নারী ও শিশুদের কেন্দ্র করে তৈরি। ফলে প্রতারণার অপরাধ যাদের দিয়ে জোর করে করানো হয় সেই ভুক্তভোগী প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা আইনি ও পুনর্বাসনের কোনো সুনির্দিষ্ট সহায়তা পাচ্ছেন না।   কেবল ভুক্তভোগীদের মৌখিক জবানবন্দির ওপর তদন্ত নির্ভর করায় হোতারা ধরা পড়ে না। ক্রিপ্টো লেনদেন, অনলাইনে অপরাধীদের তথ্য ও কর্মকাণ্ডের চিহ্ন খোঁজা বা নজরদারির ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাব রয়ে গেছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সাইবার ক্রাইম ইউনিট, ইমিগ্রেশন ও মানবপাচার বিরোধী সেলগুলোর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদানও আশানুরূপ নয় বলছে জাতিসংঘ।   ইউএনওডিসির পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশের আইনি কাঠামোর ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে প্রণীত নতুন আইনে ‘জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য করা’-কে মানবপাচারের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তদন্তের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মূলত স্থানীয় দালালদের গ্রেপ্তারেই সীমাবদ্ধ থাকে, আন্তর্জাতিক হোতারা অধরাই থেকে যায়। সেই সঙ্গে ডিজিটাল ও আর্থিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের দক্ষতার অভাব রয়েছে। বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভুক্তভোগীরা আদালতের বাইরে টাকা নিয়ে আপস করতে বাধ্য হয়।   এছাড়া বিদেশ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের পাচারের শিকার কী না তা ইমিগ্রেশনে নিয়মিত যাচাই করা হয় না।   সরকারি অনুদান কেবল বৈধ অভিবাসীদের জন্য বরাদ্দ থাকায় অবৈধভাবে যাওয়া ভুক্তভোগীদের নিজ খরচে ফিরতে হয়, যা তাদের আবার নতুন ঋণে ফেলে পুনঃপাচারের ঝুঁকিতে বাড়ায়।   আইনে বাধ্য হয়ে অপরাধ করা ভুক্তভোগীদের সাজা না দেওয়ার বিধান থাকলেও সঠিক প্রক্রিয়ার অভাবে অনেক সময় ভুক্তভোগীরাই উল্টো মামলার মুখোমুখি হন।   কম্বোডিয়াভিত্তিক মানবপাচার ও সাইবার স্ক্যাম চক্রের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রেস্টুরেন্টে ভালো চাকরির লোভে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি ও তার চাচাতো বোন জামাই ফাহিম মোল্লা কম্বোডিয়া যান। রাব্বি হাসান নামের এক দালাল তাদের ভালো সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখান।   যাওয়ার জন্য ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ এবং শ্বশুরের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার করে মোট ৬ লাখ টাকা দিয়েছিলেন তিনি।   কিন্তু কম্বোডিয়া পৌঁছানোর পর তাদের কোনো চাকরি না দিয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রেখে জিম্মি করা হয়। প্রায় তিন মাস চরম ভোগান্তির পর টিকিট ও হোটেলের বিপুল খরচ বহন করে চলতি মাসের ৩ তারিখে তারা দেশে ফেরেন।   দেশে ফিরলেও ইব্রাহিমের সংকট কাটেনি। তার প্রবাসে থাকার সময় ১৩ বছর বয়সী এক সন্তান মারা যায় এবং সম্প্রতি আরেকটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ব্যাংক ঋণ ও সুদের বোঝা বেড়ে বর্তমানে তার দেনার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে, যার ফলে পাওনাদারদের চাপে তিনি চরম মানসিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছেন।   কম্বোডিয়া থেকে ফিরে আইনি প্রতিকার চাইতে গেলে সেখানেও নতুন হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।   কঠিন অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে’ সাইবার স্ক্যাম ও অনলাইনে ভুয়া নিয়োগের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী।   তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা একেবারেই ভীষণ কঠিন একটা অবস্থায় আমাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে।”   এজন্য চাকরিপ্রার্থীরা যেন কোনো অবস্থাতেই জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণব্যুরো-বিএমইটি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যাচাই ছাড়া অনলাইন অফারে বিদেশে না যায়, সে বিষয়ে রেডিও ও টিভিসহ সব মাধ্যমে জোর প্রচার চালানোর বিষয়ে জোর দেন অধ্যাপক তাসনিম।   “প্রচলিত বিএমইটি ছাড়পত্রের বাইরে গিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে বা অনলাইনে পাওয়া চাকরির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের (যেমন: পররাষ্ট্র বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়) পূর্ব অনুমতি বা ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করতে হবে।”   তার মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যেসব দেশে এসব স্ক্যাম সেন্টার গড়ে উঠেছে, সেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে অপরাধীদের যৌথভাবে চিহ্নিত করা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।   তিনি সতর্ক করে বলেন, “২০১৪ সালে থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্তে সাগরপথে নৌকায় পাচারের পর যে গণকবরের ঘটনা ঘটেছিল, বর্তমানের এই ডিজিটাল স্ক্যামগুলো একই ধরনের পাচারের একটি আধুনিক ও শিক্ষিতদের লক্ষ্য করে চালানো রূপ। তাই দ্রুত গ্লোবাল ফোরামে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা প্রয়োজন।”   ইউএনওডিসির প্রতিবেদনেও এ বিষয়ে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।   >> বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক জোট বিমসটেক ও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান করা। >> বিদেশগামী অভিবাসীদের ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে সচেতন করতে বিশেষ প্রচারণা চালানো। >> ডিজিটাল ও ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে হুন্ডি ও ক্রিপ্টো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া।   বাংলাদেশেও তৎপর? সরকার কী করছে? বাংলাদেশেও সম্প্রতি অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি ও টেলিগ্রামভিত্তিক স্ক্যাম সেন্টারের উপস্থিতি ধরা পড়েছে এবং চীনা নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে।   তবে দেশের ভেতরের এসব স্ক্যাম সেন্টারে কোনো মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি ব্যবহার হচ্ছে কি না, তার নির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।   ইউএনওডিসির ভাষ্য, দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলকে অপরাধীরা নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করলেও বাংলাদেশে এই ঝুঁকি কম বলে মনে করা হয়।   তবে বিশেষ আইনের আওতায় পরিচালিত এসব অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা শ্রম পরিদর্শকদের নিয়মিত তদারকি না থাকাটা একটি বড় ঝুঁকি।   কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ধরা পড়া দুটি চক্রই দেশের অভ্যন্তরে বসে স্ক্যাম সেন্টার চালাতো ও চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে খবরে এসেছে।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেন, “আন্তর্জাতিক চক্রের মাধ্যমে তরুণদের প্রতারিত হওয়া ঠেকাতে এবং সাইবার স্ক্যাম প্রতিরোধে ইউএনওডিসির সহায়তায় সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও স্কিম রয়েছে। এ লক্ষ্যে যৌথভাবে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।”   ইমিগ্রেশনে নজরদারির ঘাটতি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীগুলো বন্দরে নিয়মিত স্ক্রিনিং করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতারক চক্র বিএমইটির বৈধ ছাড়পত্র বা সনদের মতো নথিপত্রের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যায়, যা ইমিগ্রেশনে আটকানো কঠিন হয়ে পড়ে।”   মনজুর মোর্শেদ বলেন, “প্রতারণা পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে বিদেশগামী তরুণ ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো সবচেয়ে বেশি জরুরি। এ ধরনের প্রতারণামূলক ক্যাম্পেইন রুখতে এবং নাগরিকদের সতর্ক করতে গণমাধ্যমসহ সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”   ভবিষ্যতে ইউএনওডিসির সঙ্গে বড় পরিসরে সচেতনতামূলক প্রচার চালানের উদ্যোগ নেওয়া হবে, বলেন তিনি।   এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা সতর্ক আছি এবং চেষ্টা চালাচ্ছি অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে ফেলার। এই প্রতিবেদনটা সেক্ষেত্রে আমাদের জন্য সহায়ক হয়েছে।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এআই চ্যাটবটে ব্যক্তিগত তথ্য কতটা নিরাপদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চ্যাটবটের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার প্রবণতাও বাড়ছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য থেকে শুরু করে আর্থিক তথ্য পর্যন্ত নানা বিষয় মানুষ এখন এআই চ্যাটবটে জানাচ্ছেন। তবে এতে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের জুনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনো এআই টুল ব্যবহার করেছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক এআই প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীদের চ্যাটবটের কথোপকথন তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করে। ফলে ব্যবহারকারীরা যেসব তথ্য চ্যাটবটে দিচ্ছেন, সেগুলো কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক ইনস্টিটিউটের গোপনীয়তা ও তথ্যনীতি বিশেষজ্ঞ জেনিফার কিং বলেন, এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহারের পর সেগুলো কীভাবে প্রক্রিয়া করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা খুবই সীমিত।   জনপ্রিয় এআই সেবা চ্যাটজিপিটি, ক্লদ ও জেমিনি এআই ব্যবহারকারীদের কথোপকথন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করে। তবে ব্যবহারকারীরা আগের চ্যাট মুছে ফেলতে পারেন এবং কিছু তথ্য ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ করার সুযোগও রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এআই চ্যাটবটে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসার নথির মতো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আপলোড করার আগে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা উচিত।   এ ছাড়া যেখানে সুযোগ রয়েছে, অস্থায়ী চ্যাট ব্যবহার করা এবং এআই প্রশিক্ষণে নিজের তথ্য ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এআই প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা নীতি ও সেটিংস নিয়মিত পর্যালোচনা করতেও বলা হয়েছে।   সূত্র: এবিসি নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ফোনের ডেটা ও ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার যেসব কারণ

স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় অনেক ফিচার প্রয়োজন না থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকে। এসব ফিচারের কারণেই অজান্তেই ফোনের ব্যাটারি ও মোবাইল ডেটা খরচ হতে পারে। তাই ফোনের কিছু সেটিংস পরিবর্তন করে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড কাযৃক্রম কমানো সম্ভব ।   ১. প্লে স্টোরের () অটো-আপডেট বন্ধ করুন অ্যাপে নতুন সংস্করণ এলেই স্বয়ক্রিয়ভাবে আপডেট হওয়ার সুবিধা থাকলেও একসঙ্গে অনেক অ্যাপ আপডেট হলে মোবাইল ডেটা ও ব্যাটারি বেশি খরচ হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিজ অ্যাপ আপডেট করতে চাইলে অটে-আপডেট বন্ধ রাখা যায়।    এ জন্য Play Store > Profile picture > Settings > Network preferences > Auto-update apps-এ গিয়ে Don’t auto-update apps নির্বাচন করতে হবে।   ২.  Wi-Fi ও Bluetooth scanning বন্ধ রাখুন Wi-Fi বা Bluetooth বন্ধ থাকলেও ফোনের স্ক্যানিং ফিচার আশপাশের নেটওয়ার্ক বা ডিভাইস শনাক্ত করতে পারে। লোকেশন নির্ভুলভাবে নির্ধারণ বা কাছাকাছি ডিভাইস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই ফিচারগুলো কাজে লাগে। তবে সবসময় এ ফিচার চালু রাখার প্রয়োজন নাও হতে পারে।   বন্ধ করতে Settings > Location > Location Services-এ গিয়ে Wi-Fi scanning এবং Bluetooth scanning বন্ধ করা যায়। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্যানিং কিছুটা কমতে পারে।    ৩.কম ব্যবহৃত অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করুন কোনো অ্যাপ ব্যবহার না করলেও সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে কম ব্যবহৃত শপিং, গেম বা বিনোদনের অ্যাপের ক্ষেত্রে এ ধরনের ডেটা ব্যবহার অনেক সময় প্রয়োজনীয় নয়।   নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করতে Settings > Apps > সংশ্লিষ্ট অ্যাপ > Mobile data usage-এ গিয়ে Background data বন্ধ করুন। এতে অ্যাপটি ব্যাকগ্রাউন্ডে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে পারবে না।   ৪. অ্যাপের অপ্রয়োজনীয় পারমিশন বন্ধ করুন অনেক অ্যাপ ব্যবহারের সময় লোকেশন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা কনট্যাক্টসের মতো বিভিন্ন অনুমতি চায়। তবে সব অ্যাপের জন্য এসব অনুমতি প্রয়োজনীয় নয়। তাই কোনো অ্যাপের কাজে লাগে না—এমন পারমিশন বন্ধ করে রাখা ভালো।   এ জন্য Settings > Privacy > Permission Manager-এ গিয়ে প্রয়োজনীয় বিভাগ নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট অ্যাপ বেছে নিয়ে Don’t allow নির্বাচন করা যাবে।   ৫. ‘Mobile data always active’ বন্ধ করুন অ্যান্ড্রয়েডের Developer options-এ থাকা Mobile data always active ফিচারটি Wi-Fi ব্যবহার করার সময়ও মোবাইল ডেটা সক্রিয় রাখে। এর ফেলে যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করা যায়। তবে সাধারণ ব্যবহারে এই সুবিধা সবার প্রয়োজন নাও হতে পারে।   ফিচারটি বন্ধ করতে প্রথমে Settings > About phone > Build number-এ পরপর সাতবার ট্যাপ করে Developer options চালু করতে হবে। এরপর Settings > System > Developer options-এ গিয়ে Mobile data always active বন্ধ করা যাবে।   তবে স্মার্টফোনের ব্র্যান্ড ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণভেদে এসব সেটিংসের নাম বা অবস্থান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।  কোনো ফিচার বন্ধ করার আগে সেটি নিজের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চ্যাটজিপিটির বানানো সাক্ষ্য আদালতে, আইনজীবীকে ৫ হাজার ডলার জরিমানা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি তথ্য যাচাই না করে আদালতে জমা দেওয়ার খেসারত দিতে হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর এক আইনজীবীকে। হত্যার মামলায় আপিলের শুনানির জন্য তৈরি করা নথিতে চ্যাটজিপিটির বানানো সাক্ষী ও পুলিশের মিথ্যা সাক্ষ্য ব্যবহারের ঘটনায় আইনজীবী স্টিফেন অ্যারনসকে ৫ হাজার ডলার জরিমানা এবং আদালত অবমাননার দায়ে দোষী করেছে নিউ মেক্সিকো সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি তাকে আইনজীবীদের শৃঙ্খলাবিষয়ক বোর্ডের তদন্তের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। মার্কিন নাগরিক অস্কার রেনে স্যান্ডোভাল তার সন্তানদের মাকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। সেই হত্যা মামলার আপিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনজীবী অ্যারনস প্রথমে রিভডটকম ব্যবহার করে মামলার শুনানির অডিও থেকে এআই-নির্ভর প্রতিলিপি তৈরি করেন। এরপর সেই প্রতিলিপি, মামলার নথি ও আপিল-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য চ্যাটজিপিটিতে দেন।    তার ধারণা ছিল, এআই এসব তথ্য থেকে একটি নির্ভুল সারসংক্ষেপ তৈরি করতে পারবে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, এই জেনারেটেড নথিতে ভুল তথ্যের পাশাপাশি সম্পূর্ণ কাল্পনিক সাক্ষী ও পুলিশের বক্তব্য যুক্ত করা হয়।   আদালতের নথিতে এমন কাল্পনিক বক্তব্যও ছিল, যেখানে কথিতভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গাঢ় রঙের প্যান্ট ও সাদা শার্ট পরা অবস্থায় দেখানো হয়। চলতি বছরের ২১ আগস্টের শুনানিতে অ্যারনস জানান, চ্যাটজিপিটি যে এভাবে বানোয়াট তথ্য তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনুতপ্ত, তবে আশা করি শৃঙ্খলাবিষয়ক বোর্ড এটিকে সৎ ভুল (অনেস্ট মিসটেক) হিসেবেই বিবেচনা করবে।’   তবে বিচারপতি সি শ্যানন বেকন তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি। মামলার শুনানিতে বিচারপতি বেকন বলেন, এআইয়ের ‘হ্যালুসিনেশন’ নিয়ে আইনজীবীদের সতর্কতার বিষয়টি এখন খবরের পাতায় নিত্যদিনের শিরোনাম হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও অবগত।   এবিষয়ে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, আইনজীবী নিজে নথিতে স্বাক্ষর করলে সেটির তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্বও তারই।   ঘটনার পর অ্যারনসকে নিউ মেক্সিকো সুপ্রিম কোর্টে মামলায় আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত হওয়া থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালত তাঁকে অবমাননার দায়ে ৫ হাজার ডলার জরিমানা করেছে এবং এই অর্থ স্টেট বার অব নিউ মেক্সিকোর ক্লায়েন্ট প্রোটেকশন ফান্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি তার জমা দেওয়া আগের সব আপিল নথি বাতিল করে নতুন আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।   গত ২ সেপ্টেম্বর মামলাটির দায়িত্ব পাবলিক ডিফেন্ডার কিম শ্যাভেজ কুকের কাছে দেওয়া হয়। ফলে নতুন আইনজীবীর মাধ্যমে আপিলের কার্যক্রম আবার শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডিভাইন আইটিকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদ: অভিযোগ, বক্তব্য ও তথ্যের আলোকে

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রীয় সংস্থার আইটি সেবায় এখনো জয়ের বন্ধুর কোম্পানি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিভাইন আইটি লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসানকে ঘিরে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আইটি প্রকল্পে কাজ পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়।   প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর ডিভাইন আইটি কর্তৃপক্ষ এর প্রতিবাদ জানিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কয়েকটি তথ্য ও অভিযোগের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে।   খবর৭১-এর পাঠকদের জন্য মূল প্রতিবেদনের দাবি এবং ডিভাইন আইটির বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো এখানে পৃথকভাবে তুলে ধরা হলো।   মূল প্রতিবেদনে যে অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে   দৈনিক আমার দেশের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)-এর মতো প্রতিষ্ঠানে ডিভাইন আইটির আইটি সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।   প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প পাওয়া হয়েছে।   এছাড়া ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্প, জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিএমটিএফ-এ ডিভাইন আইটির কাজ বা সেবা প্রদানের বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   ডিভাইন আইটির বক্তব্য   প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে ডিভাইন আইটির সিইও ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান দাবি করেন, প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।   প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদলিপিতে প্রধানত যেসব বিষয় বলা হয়েছে:   - রাজনৈতিক যোগাযোগের দাবি: সজীব ওয়াজেদ জয় বা সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেছেন ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান।   - ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্প: ডিভাইন আইটির দাবি, ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্পের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না।   - বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা: প্রতিবেদনে উল্লিখিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকল্প এবং জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থাকে ডিভাইন আইটি তাদের গ্রাহক তালিকার অংশ নয় বলে দাবি করেছে।   - বিএমটিএফের ERP সেবা: বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে ডিভাইন আইটি ERP সেবা দিয়েছে—প্রতিবেদনের এই তথ্যও প্রতিষ্ঠানটি অস্বীকার করেছে।   - আইনি ও দরপত্র প্রক্রিয়া: ডিভাইন আইটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পে প্রচলিত আইন, নিয়ম এবং দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করেছে।   তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব   এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, টেন্ডার ডকুমেন্ট, চুক্তিপত্র, প্রকল্পের কার্যাদেশ এবং অন্যান্য যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।   একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম বা বিশেষ সুবিধা নেওয়ার মতো অভিযোগ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়াও সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   ডিভাইন আইটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে এসব দাবির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।   খবর৭১-এর পর্যবেক্ষণ   ডিভাইন আইটি লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের ইতিহাস রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।   তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা যেমন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করে না, তেমনি রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগও কেবল সম্পর্কের দাবি বা অনুমানের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না।   সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের বিষয়ে অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং যাচাইযোগ্য দাপ্তরিক তথ্য—এই তিনটি বিষয় পৃথকভাবে উপস্থাপন করাই অধিকতর বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতি।   ডিভাইন আইটির প্রতিবাদে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীন যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   খবর৭১ মনে করে, দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে ঘিরে অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্যের যথাযথ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রমাণভিত্তিক সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও প্রকাশ করাও গণমাধ্যমের দায়িত্ব

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বার্ষিক সাধারণ সভা করল বিআইজেএফ। সংগৃহীত ছবি
বিআইজেএফের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাজীবী সাংবাদিকদের নিবন্ধিত সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা করেছে। টানা চার ঘণ্টাব্যাপী সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত মত প্রকাশের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।   সভাপতি হিটলার এ হালিমের সভাপতিত্বে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত বিসিএস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি ভূঁইয়া মোহাম্মাদ ইনাম লেনিন। বার্ষিক সব কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান। নির্বাহী কমিটির নিয়মিত মাসিক সভা, বৈঠকের সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে অংশগ্রহণমূলক করা ছাড়াও সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন তিনি।   সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান বলেন, বর্তমান কমিটি প্রায় শতভাগ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় নিয়মিত সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে সারাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছে। আইসিটি ঘরানার সব সংগঠন এখনও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেনি। বিআইজেএফ-ও এ সংকটের বাইরে নয়। সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও সর্বোত্তম চেষ্টা ছিল কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কমিটিতে নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে ছয়জন ছিল নতুন মুখ। নিজেদের প্রথম লক্ষ্য ছিল কোষাধ্যক্ষের পদকে সক্রিয়, কার্যকর ও দৃশ্যমান করা। এতে সাধারণ সদস্যদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়। সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নসহ ইন্ডাস্ট্রিতে সংগঠনের ইনক্লুশনে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি কাজ করছে।   বিধি অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ সময়ের অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। আর্থিক প্রতিবেদনে উপস্থাপনে তিনি বলেন, হিসাব-নিকাশে যথাসাধ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান কমিটি আর্থিক লেনদেনের বেশিরভাগ ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পাদন করেছে। সব ধরনের হিসাব-নিকাশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিপিবদ্ধ। আর্থিক লেনদেন সমর্থিক জরুরি কাগজপত্র ও প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা শেষে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে উপস্থিত সদস্যরা অনুমোদন করেন। বিদ্যমান নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এনকে রয় অ্যান্ড কোং দিয়ে পরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সভায় দুই তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যদের উপস্থিতিতে কণ্ঠভোটে উপস্থাপিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়।   সভাপতি হিটলার এ হালিম বলেন, বর্তমান নির্বাহী কমিটি সাংগঠনিক সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেছে। সদস্যদের মত প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গ্রুপে সমালোচনার সুযোগ ছিল উন্মুক্ত। চলতি কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন ও নিয়মিত আয়োজন সম্পন্ন করতে সচেষ্ট। বিআইজেএফকে সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত ও সুদৃঢ় করতে ধারাবাহিক সব কাজ করেছে ইসি। ভবিষ্যতে নির্বাহী কমিটিতে যারা আসবেন, তারা যেন এমনই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেন সেই প্রত্যাশাই করছি।   সদস্যের অধিকাংশই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বার্ষিক সাধারণ সভায় তাদের মতামত, পরামর্শ ও প্রত্যাশার ব্যক্ত করেন। সদস্যরা যথাযথ আর্থিক প্রতিবেদন, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের জন্য নির্বাহী কমিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।   সদস্যদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন সভাপতি, সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বিবিধ আলোচ্যসূচিতে সংগঠনকে ক্রিয়াশীল, সমৃদ্ধ ও ইন্ডাস্ট্রিবান্ধব করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সদস্যরা। সংগঠনের স্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।   সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তুষার, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. এনামুল করিম অংশ নেন।   বিআইজেএফের এজিএমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বার্তা তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাজীবী সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা করেছে। রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিসিএস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা হয়। বিআইজেএফের সভাপতি হিটলার এ হালিমের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি ভূঁইয়া মোহাম্মাদ ইনাম লেনিন। সভায় ২০২৪-২৫ মেয়াদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান। তিনি বলেন, ‘নির্বাহী কমিটির নিয়মিত সভা, সিদ্ধান্ত নথিভুক্তকরণ, সদস্যদের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম এবং দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে।’ সাব্বিন হাসান বলেন, ‘বর্তমান কমিটি প্রায় শতভাগ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংগঠনের মতো বিআইজেএফও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান কমিটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল কোষাধ্যক্ষের দপ্তরকে সক্রিয় ও কার্যকর করা, যাতে সদস্যদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইসিটি শিল্পে সংগঠনের সম্পৃক্ততা বাড়াতেও কাজ করা হয়েছে।’ সভায় জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অধিকাংশ লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। সব হিসাব যথাযথভাবে নথিভুক্ত এবং আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে।   আলোচনা শেষে উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেন। পরবর্তী অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষার দায়িত্বও এনকে রয় অ্যান্ড কোংকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভাপতি হিটলার এ হালিম বলেন, ‘সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাহী কমিটি কাজ করেছে। সদস্যদের মতামত ও সমালোচনার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনসহ সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’   সভায় সদস্যরা সংগঠনের কার্যক্রম, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশংসা করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে সভাপতি, সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পাশাপাশি সংগঠনকে আরও সক্রিয়, সমৃদ্ধ ও আইসিটি শিল্পবান্ধব করার বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ দেন সদস্যরা। সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তুষার, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. এনামুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গ্রামীণফোন একাডেমিতে ৪ লাখ নিবন্ধন, চাহিদার শীর্ষে এআই কোর্স

গ্রামীণফোনের বিনা মূল্যের অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রামীণফোন একাডেমি’ ৪ লাখ নিবন্ধনের মাইলফলক অর্জন করেছে। প্ল্যাটফর্মটিতে থাকা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) বিভিন্ন কোর্স। গত আট মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪০ হাজার তরুণ-তরুণী বিভিন্ন এআই কোর্সে অংশ নিয়েছেন। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে গ্রামীণফোন।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রামীণফোন একাডেমি এমন সময় এই মাইলফলক অর্জন করেছে, যখন এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তি মানুষের শেখা, কাজের ধরন ও ক্যারিয়ার গঠনের পদ্ধতি বদলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ডিজিটাল দক্ষতার গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে। এই বাস্তবতায় তরুণদের ভবিষ্যতের এআইনির্ভর অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করতে বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ আরও বিস্তৃত করছে গ্রামীণফোন একাডেমি।   গ্রামীণফোন একাডেমির এআই প্রোগ্রামে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, এআই এজেন্টস, ক্রিয়েটিভ ইন্টেলিজেন্স, ওয়ার্কফ্লো অটোমেশন, এআইয়ের সহায়তায় পোর্টফোলিও তৈরি, কোডিং ছাড়াই অ্যাপ নির্মাণ, এআইনির্ভর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স (ইউএক্স) এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রামীণফোন একাডেমির বিভিন্ন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে সনদ অর্জন করেছেন ৫০ হাজার শিক্ষার্থী। শুধু শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান অর্জন নয়, নতুন দক্ষতাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচনেও শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে এই প্ল্যাটফর্ম।   গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর প্রায় ২২ লাখ মানুষ বাংলাদেশের কর্মসংস্থান বাজারে প্রবেশ করছেন, যেখানে দেশের মোট বেকার জনসংখ্যার ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশই তরুণ। একই সঙ্গে প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তর কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ধরনেও বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে। তাই পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের জন্য সময়োপযোগী ও সহজলভ্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণফোন একাডেমিতে ৪ লাখ নিবন্ধনের এই মাইলফলক এবং আমাদের এআই কোর্সগুলোতে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, এই পরিবর্তনের যুগে শেখার ও নিজেদের গড়ে তোলার জন্য তরুণরা কতটা আগ্রহী। গ্রামীণফোন একাডেমির মাধ্যমে আমরা শেখার এই আগ্রহকে এমন দক্ষতায় রূপান্তর করতে চাই, যা ভবিষ্যতে তাদের জন্য নতুন ও অর্থবহ সুযোগ তৈরি করবে।’   গ্রামীণফোন একাডেমি তরুণদের জন্য ডিজিটাল, পেশাগত ও উদীয়মান প্রযুক্তির দক্ষতা অর্জনে সহজ সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে, যেখানে এআই ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের উপযোগী সক্ষমতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে তাঁদের আরও কার্যকর ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই গ্রামীণফোনের লক্ষ্য। গ্রামীণফোন একাডেমির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বিভিন্ন কোর্সে নিবন্ধন করা যাবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: সংগৃহীত
দেশে মোবাইল সংযোগ ১৯ কোটি ১০ লাখ, ফোর-জি ব্যবহার ১০ কোটি ৮০ লাখ: আইসিটি মন্ত্রী

চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন বা ১৯ কোটি ১০ লাখ মোবাইল সংযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (এপিটি) ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭তম সভার (এডব্লিউজি-৩৭) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   এ সময় শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।   মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন (১৯ কোটি ১০ লাখ) মোবাইল সাবস্ক্রিপশন রয়েছে যার মধ্যে ১০৮ মিলিয়নের (১০ কোটি ৮০ লাখ) বেশি গ্রাহক ফোরজি সেবা ব্যবহার করছেন। তিনি জানান, দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ফোরজি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং এক লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে।’   ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘তাই এখন শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ফাইভজিসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতেও বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’   তিনি বলেন, ‘সরকার দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা, সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত ও টেলিযোগাযোগ সেবা আরও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য শিল্পে ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।’   বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এপিটির মহাসচিব ড. মাসানোরি কোন্দো এবং এপিটির ওয়্যারলেস গ্রুপের সভাপতি ড. দাইজুং কিম, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান, কমিশনারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ফাইল ছবি
চ্যাটজিপিটিতে বড় বিভ্রাট, প্রভাব পড়ল বিভিন্ন সেবায়

বড় ধরনের কারিগরি বিভ্রাটের কারণে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওপেনএআইয়ের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবটের ওয়েবসাইটে ঢুকতে গিয়ে অনেক ব্যবহারকারী নানা ধরনের অস্বাভাবিক আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট থেকে একটি অচেনা ফাইল ডাউনলোডের চেষ্টাও দেখা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে (বৃহস্পতিবার রাত ১০টা) এ সমস্যা ঠিক হয়েছে। চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেই সংবাদ হয়েছে। ডাউনডডিটেকটরের ওয়েবসাইট চ্যাটজিপিটি বিভ্রাট নিয়ে অনেক অভিযোগও জমা পড়েছে। চ্যাটজিপিটি কাজ না করায় অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজা করে বলেছেন, এবার কাজে নিজেদের মেধাই ব্যবহার করতে হবে। তবে এই বিভ্রাটের প্রভাব শুধু চ্যাটজিপিটিতেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধার জন্য ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল বেশ কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এদিকে চ্যাটজিপিটির পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবায়ও সমস্যার কথা জানিয়েছেন কিছু ব্যবহারকারী। অ্যানথ্রপিকের ক্লড এবং এক্সের গ্রক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব সেবায় সমস্যার ব্যাপকতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অনেক ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবে সেবাগুলো ব্যবহার করতে পেরেছেন। বন্ধ হওয়ার বিষয়ে চ্যাটজিপিটিকের প্রশ্ন করলে উত্তর আসে এমন, ‘...তবে আজকের ঘটনাটা শুধু চ্যাটজিপিটিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না-ক্লড ও গ্রকও একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, আর কিছু অঞ্চলে জেমিনাইতের সমস্যা দেখা যায়। আর মজার ব্যাপার হলো, ৩ সেপ্টেম্বরের আগেও কয়েক দিনের মধ্যে চ্যাটিজিপিটিতে একাধিক ছোটখাটো ইনসিডেন্ট হয়েছিল—যেমন ৩১ আগস্ট ওয়ার্ক মোডে ল্যাটেন্সি/এরর এবং ১ সেপ্টেম্বর ফ্রি/গো ব্যবহারকারীদের কথোপকথনে এলিভেটেড এররস হয়েছিল। তাই আপনি যদি আজ আমাকে কিছুক্ষণ আগে না পেয়ে থাকেন, সম্ভবত আপনার দোষ ছিল না।’ সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট ডটকো ডটইউকে, ডাউনডডিটেক্টর, হিন্দুস্তান টাইমস

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
জীবন্ত মানব মস্তিষ্কের কোষে চলছে এই কম্পিউটার। ছবি: রয়টার্স
সিলিকন চিপের বদলে কম্পিউটারে মানুষের মস্তিষ্কের কোষ!

কম্পিউটারের জগতে নতুন এক প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে সিঙ্গাপুর। প্রচলিত সিলিকন চিপের পাশাপাশি এবার কম্পিউটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ল্যাবে তৈরি জীবন্ত মানব নিউরন। লক্ষ্য হলো কম শক্তি ব্যবহার করে আরও দক্ষ ও অভিযোজনক্ষম কম্পিউটিং ব্যবস্থা তৈরি করা।সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (NUS) ইয়ং লু লিন স্কুল অব মেডিসিন, ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠান ডেওয়ান এবং অস্ট্রেলিয়ার বায়োলজিক্যাল কম্পিউটিং কোম্পানি কর্টিক্যাল ল্যাবস যৌথভাবে এই প্রকল্পে কাজ করছে। তাদের তৈরি প্রোটোটাইপে একটি সার্ভার র‍্যাকে ২০টি CL1 বায়োলজিক্যাল কম্পিউটিং ইউনিট রয়েছে।   প্রতিটি ইউনিটে ল্যাবে তৈরি মানব নিউরন সিলিকন প্ল্যাটফর্মের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ইলেকট্রোডের মাধ্যমে এসব নিউরনের কাছে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠানো হয় এবং নিউরন থেকে ফিরে আসা সংকেত কম্পিউটার বিশ্লেষণ করে। এভাবে জীবন্ত কোষও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের অংশ হয়ে ওঠে। পুরো ২০ ইউনিটে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ নিউরন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রচলিত কম্পিউটারে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ হয় সিলিকন চিপের ইলেকট্রনিক সার্কিট ও ট্রানজিস্টরের মাধ্যমে। নতুন ব্যবস্থায় জীবন্ত নিউরন বৈদ্যুতিক সংকেত গ্রহণ করে, প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। এ কারণেই প্রযুক্তিটিকে বায়োলজিক্যাল কম্পিউটিং বলা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়। মানুষের মস্তিষ্ক খুব কম শক্তি ব্যবহার করে বিপুল তথ্য প্রক্রিয়া করতে পারে। গবেষকেরা দেখতে চাইছেন, নিউরনের এই বৈশিষ্ট্য কম্পিউটিংয়েও কাজে লাগানো যায় কি না। ভবিষ্যতে রোবট, সাইবার নিরাপত্তা, প্রতারণা শনাক্তকরণ, ওষুধ আবিষ্কার এবং স্নায়ুরোগ নিয়ে গবেষণায় এর ব্যবহার হতে পারে।   তবে এটি পুরোপুরি সিলিকনবিহীন কম্পিউটার নয়। জীবন্ত নিউরনগুলোকে সিলিকন হার্ডওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কোষগুলোকে জীবিত রাখতে বিশেষ পরিবেশ, পুষ্টি ও গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন হয়। সিঙ্গাপুরের এই প্রকল্প তাই প্রচলিত কম্পিউটারের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতের কম শক্তি-নির্ভর কম্পিউটিংয়ের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। গবেষকেরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে কম্পিউটিংয়ের ধারণাই বদলে যেতে পারে। সিলিকন চিপের পাশাপাশি জীবন্ত কোষও তখন কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারের দাম কত, এক ঘণ্টায় তেল লাগে কত?

ব্যবসায়িক কাজ, দ্রুত যাতায়াত, পর্যটন কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য হেলিকপ্টার কেনার আগ্রহ রয়েছে অনেকের। তবে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কেনা শুধু বড় অঙ্কের অর্থ খরচের বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট, বিমা, হ্যাঙ্গার, প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনসংক্রান্ত নানা ব্যয়।   হেলিকপ্টারের দামও একেক মডেলে একেক রকম। আসনসংখ্যা, ইঞ্জিনের ধরন, উড্ডয়ন সক্ষমতা, রেঞ্জ, অ্যাভিওনিকস এবং অতিরিক্ত সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে দাম কয়েক লাখ ডলার থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   ব্যক্তিগত ব্যবহারে বহুল পরিচিত হেলিকপ্টারগুলোর একটি হলো Robinson R22। এটি তুলনামূলক ছোট ও হালকা হেলিকপ্টার এবং প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তিগত ব্যবহারে জনপ্রিয়। এতে চার সিলিন্ডারের Lycoming O-360 পিস্টন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়।   এর চেয়ে বড় Robinson R44 সিরিজে চারজন পর্যন্ত যাত্রী বহনের সুবিধা রয়েছে। R44 Raven II মডেলে Lycoming IO-540 ফুয়েল-ইনজেক্টেড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় এবং নির্মাতা এটিকে বহুমুখী ব্যবহারের জন্য তৈরি করেছে।   অন্যদিকে আরও বড় ও শক্তিশালী R66 সিরিজে টারবাইন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কেনার ক্ষেত্রে ‘একটি নির্দিষ্ট দাম’ বলা সম্ভব নয়; মডেল ও কনফিগারেশনের ওপর মোট দাম ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।   আরও বড় শ্রেণির হেলিকপ্টারের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত যেতে পারে। যেমন Robinson-এর নতুন R88 মডেলের ঘোষিত প্রারম্ভিক মূল্য ৩৩ লাখ ডলার।   হেলিকপ্টারের জ্বালানি খরচ নিয়ে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো—সব ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারে ঘণ্টায় শত শত লিটার জ্বালানি লাগে। বাস্তবে খরচ মডেলভেদে অনেকটাই আলাদা।   হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের ধরন, উড্ডয়নের ওজন, গতি, উচ্চতা, আবহাওয়া এবং ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী জ্বালানি খরচ পরিবর্তিত হয়। পিস্টন-ইঞ্জিনের ছোট হেলিকপ্টার সাধারণত বড় টারবাইন হেলিকপ্টারের তুলনায় কম জ্বালানি ব্যবহার করে।   উদাহরণ হিসেবে Robinson R44-এর ক্ষেত্রে নির্মাতা জ্বালানি দক্ষতাকে এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর অ্যারোডাইনামিক ডিজাইনও গতি ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।   তাই নির্দিষ্ট কোনো মডেল না জেনে ‘প্রতি ঘণ্টায় ৮০০ লিটার’ বা ‘প্রতি কিলোমিটারে ৫ লিটার’—এমন একটি নির্দিষ্ট হিসাব সব ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   হেলিকপ্টার কেনার পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই মালিকের অন্যতম বড় ব্যয়ের জায়গা। নির্ধারিত সময় পরপর ইঞ্জিন, রোটর, ট্রান্সমিশন, ফ্লাইট কন্ট্রোল, অ্যাভিওনিকস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করতে হয়।   এর সঙ্গে রয়েছে—পাইলটের বেতন ও প্রশিক্ষণ, বিমা, হ্যাঙ্গার বা নিরাপদ পার্কিংয়ের খরচ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ পরিবর্তন, ইঞ্জিন ও অন্যান্য বড় কম্পোনেন্টের ওভারহল, জ্বালানি, বিমান চলাচলসংক্রান্ত ফি ও প্রশাসনিক ব্যয় ফলে হেলিকপ্টারের প্রকৃত মালিকানা ব্যয় শুধু কেনার মূল্য দিয়ে হিসাব করলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।   বাংলাদেশে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAAB) বিধি ও অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। CAAB-এর ওয়েবসাইটে দেশীয় হেলিকপ্টার পরিচালনা, রাতের হেলিকপ্টার ফ্লাইট এবং অন্যান্য অপারেশনসংক্রান্ত নির্দেশনা ও সার্কুলার প্রকাশ করা হয়।   তাই বিদেশ থেকে হেলিকপ্টার কিনে বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে শুধু বিক্রেতাকে মূল্য পরিশোধ করলেই হবে না। আমদানি, নিবন্ধন, বিমান চলাচলের অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং পরিচালনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলতে হবে।   হেলিকপ্টারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো রানওয়ের ওপর নির্ভরতা তুলনামূলক কম। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি সীমিত জায়গা থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে। ফলে এমন অনেক জায়গায় যাতায়াত সম্ভব হয় যেখানে সাধারণ উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রানওয়ে নেই।   জরুরি চিকিৎসাসেবা, দুর্গম এলাকায় যাতায়াত, পর্যটন, শিল্পকারখানা পরিদর্শন, সংবাদ সংগ্রহ, উদ্ধারকাজ এবং বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত কাজে হেলিকপ্টারের ব্যবহার রয়েছে।   ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে কী কাজে এটি ব্যবহার করা হবে। দুই বা চার আসনের ছোট পিস্টন হেলিকপ্টার ব্যক্তিগত ও প্রশিক্ষণমূলক ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। আবার বেশি যাত্রী, দীর্ঘপথ কিংবা বিশেষ কাজে বড় টারবাইন হেলিকপ্টার প্রয়োজন হতে পারে।   এরপর ক্রয়মূল্যের পাশাপাশি বছরে কত ঘণ্টা উড্ডয়ন করা হবে, প্রতি ঘণ্টায় জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণে কত খরচ হবে, পাইলট ও হ্যাঙ্গারের খরচ কত এবং বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের সময় সম্ভাব্য ব্যয় কত—এসব হিসাব করা জরুরি।   অর্থাৎ, ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কেনার ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন শুধু ‘কত টাকা দিয়ে কিনব’ নয়; বরং ‘কত টাকা খরচ করে নিয়মিত পরিচালনা করতে পারব’—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
উসাইন বোল্টকে ছাড়িয়ে গতির বিশ্ব রেকর্ড গড়ল রোবট সুপারম্যান

বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্টকে দৌড়ে হারিয়ে দিতে সক্ষম নতুন মানবাকৃতির রোবট তৈরি করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। ট্র্যাকে দৌড়ানোর একটি ভিডিওতে ‘সুপারম্যান’ নামের এই প্রোটোটাইপ রোবটকে ঘণ্টায় ২৮.৩ মাইল বা প্রতি সেকেন্ডে ১২.৬৬ মিটার গতি তুলতে দেখা গেছে। ২০০৯ সালের ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে জ্যামাইকান স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট ঘণ্টায় ২৭.৭৮ মাইল বা প্রতি সেকেন্ডে ১২.৪২ মিটার গতিতে দৌড়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। আর তাই প্রযুক্তি ও গতিবিদ্যার সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের শারীরিক সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে নতুন রোবটটি।   উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রোবট কুকুর ও মানবাকৃতির রোবট তৈরির জন্য পরিচিত চীনের হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি রোবটটির নকশা করেছে। ভিডিওর আরেকটি অংশে দেখা গেছে, স্থির অবস্থা থেকে রোবটটি ওপরের দিকে দুই মিটার লাফ দিচ্ছে, যা ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টোফার স্পেলের গড়া ১.৭ মিটার বা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির লম্বালম্বি লাফানোর বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ইউনিট্রি তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছে, ‘ইউনিট্রির নতুন রোবটের ট্রেইলার: সুপারম্যান ভেঙে দিচ্ছে মানবজাতির সীমা।’ প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, রোবটটি তৈরি করতে মাত্র তিন মাসের কিছু বেশি সময় লেগেছে। এর পায়ের দৈর্ঘ্য মাত্র ০.৮৫ মিটার বা ২.৮ ফুট। ছোট পদক্ষেপ নিয়ে এমন বিস্ময়কর গতি তোলা অত্যন্ত চমকপ্রদ। রোবটের উচ্চতা, ওজন, ব্যাটারি ক্ষমতা কিংবা লাফানোর পরীক্ষা কতবার করা হয়েছে সেই বিস্তারিত কারিগরি তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি ইউনিট্রি। এর আগে ইউনিট্রির তৈরি এইচ১ মডেলের মানবাকৃতির রোবট প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটার বা ঘণ্টায় ২২.৩ মাইল গতিতে দৌড়ে শিরোনামে এসেছিল। রোবটটির দৌড়ানোর ধরন নিয়ে অনেকে রসিকতা করলেও এটির ক্ষমতা সবাইকে চমকে দিয়েছে। রোবটটির দ্রুতগতিতে লাফ দেওয়া ও দৌড়ানোর এই ক্ষমতা প্রমাণ করে আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত যন্ত্র মানুষের দৈনন্দিন কাজ এবং উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযুক্তি বিশ্লেষক মা জিহুয়ার ধারণা, ভবিষ্যতে হিউম্যানয়েড রোবট কঠিন ভূখণ্ড, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সহজে কাজ করতে পারবে।   সূত্র: ডেইলি মেইল

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সেপ্টেম্বর থেকে আবারও বাড়তে পারে স্মার্টফোনের দাম

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল চিপ নির্মাতা কোয়ালকম আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে প্রকাশিত কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলেও দেখা গেছে, স্মার্টফোন বাজারে চাপ বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট মোকাবিলায় মূল্য সমন্বয়ের পথেই হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি। যার ফলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আগামী প্রজন্মের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর খুচরা দামে।   এক বিজ্ঞপ্তিতে কোয়ালকম জানায়, গত কয়েক মাসে মেমোরি ও সাবস্ট্রেটসহ যাবতীয় কাঁচামালের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনই বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ডেটা সেন্টার তৈরির বিশাল জোয়ার চিপের বাজারে নতুন সংকট তৈরি করেছে। এই চাপ আরও বেড়েছে কোয়ালকমের প্রধান উৎপাদন অংশীদার তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিকে (টিএসএমসি) ঘিরে। সাধারণত অ্যাপল, এনভিডিয়া, কোয়ালকমসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চিপ তৈরি করে থাকে টিএসএমসি। যদিও প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে, তবুও ধারণা করা হচ্ছে সরবরাহ সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।   নিকি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিএসএমসি গ্রাহক ও অর্ডারের পরিমাণভেদে চিপের উৎপাদন মূল্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। আর সেই অতিরিক্ত ব্যয় এবং নিজস্ব মুনাফার মার্জিন ধরে রাখতেই কোয়ালকমও গ্রাহকদের জন্য চিপের দাম বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোয়ালকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টিয়ানো অ্যামন আর্থিক ফলাফল প্রকাশের সময় বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতির কারণে এখন মূল্য সমন্বয় অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।   তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক প্রান্তিকে মোট রাজস্ব ৯.৯৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও মূল হ্যান্ডসেট চিপ খাতে আয় ২০ শতাংশ কমে ৫.০৯ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। অতিরিক্ত মূল্যের দরুন অনেক গ্রাহকই এখন দামি ফ্ল্যাগশিপের পরিবর্তে সাশ্রয়ী ফোনের দিকে ঝুঁকছেন।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের ওপর স্যামসাং, শাওমি, ওয়ানপ্লাস, অনার, মটোরোলা, আসুসসহ অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারার নির্ভরশীল। যার ফলে চিপের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শেষ পর্যন্ত নতুন স্মার্টফোনের খুচরা দামেই পড়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শেষ ভাগ এবং ২০২৭ সালের শুরুতে বাজারে আসা ফ্ল্যাগশিপ ও প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।   সূত্র: কোয়ালকম ডট কম

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৫, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

খেলাধুলা

লিটনের সেঞ্চুরিতে আফগানিস্তানকে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১২, ২০২৬