বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জেলা কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক বাছাই শেষে ৩৯ জন প্রার্থী পরবর্তী ধাপে জায়গা করে নিয়েছেন। দেশজুড়ে ক্রিকেটের তৃণমূল উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিসিবি। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলা কোচ পদে মোট ২১৮টি আবেদন জমা পড়ে। গত বুধবার অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় প্রায় ১৭০ জন অংশ নেন। সেখান থেকে ৩৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। পরদিন অনুষ্ঠিত প্র্যাকটিক্যাল ও ভাইভা পরীক্ষায় বিসিবির অভিজ্ঞ কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সোহেল ইসলাম এবং মিজানুর রহমান বাবুল পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মৌখিক পরীক্ষার সম্পূর্ণ কার্যক্রম রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত ফলাফল কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে শূন্য পদের সংখ্যা অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা থেকে কিছু প্রার্থী বাদ পড়তে পারেন। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হবে। টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও সুনামগঞ্জ ছাড়া দেশের ৫৯টি জেলা এবং ঢাকা মহানগরের দুটি ইউনিটে চুক্তিভিত্তিক জেলা কোচ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির। প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে, যা উভয় পক্ষের সম্মতিতে নবায়নযোগ্য। জেলা কোচ পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের বিসিবি স্বীকৃত লেভেল-১ কোচিং সনদ অথবা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি যে জেলার জন্য আবেদন করবেন, সেই জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়াও বাধ্যতামূলক।
আগামী আগস্টে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সিরিজকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চললেও ইনজুরির কারণে বড় দুঃসংবাদ পেয়েছে টাইগার শিবির। তরুণ পেসার নাহিদ রানা চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন। বাংলাদেশ দলের স্কোয়াড এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও, নাহিদের না থাকা প্রায় নিশ্চিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হওয়ার পর তার করা স্ক্যানে গ্রেড-টু ইনজুরি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। অস্ট্রেলিয়া সফরের আগেই নাহিদ রানা দেশটির গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন। তার ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতির বোলিং, অতিরিক্ত বাউন্স এবং নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থকে বাংলাদেশের বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাসের চোট নিয়ে শুরুতে শঙ্কা থাকলেও সর্বশেষ স্ক্যান রিপোর্টে গুরুতর কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। ফলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তার খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে টাইগাররা।
আর্জেন্টিনার রক্ষণদুর্গের এক অবিচ্ছেদ্য নাম নিকোলাস ওতামেন্দি। অসংখ্য লড়াই, ট্রফি আর স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে অবশেষে ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন বিশ্বকাপজয়ী এই ডিফেন্ডার। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বিদায়ের আগে জিতেছেন ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা। ৩৮ বছর বয়সী এই সেন্টার-ব্যাক জাতীয় দলের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচ খেলেছেন। চলতি বছরের যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে ছিলেন। তবে ফাইনালে শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েছে। বিদায়ের বার্তায় ইনস্টাগ্রামে ওতামেন্দি লিখেছেন, ‘আজ আমাকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন কথাগুলো লিখতে হচ্ছে। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, আমার শেষ ম্যাচটিই ছিল একটি বিশ্বকাপের ফাইনাল। ফলাফল আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি, কিন্তু আমি মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছি। কারণ আমি জানি, এই দল শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে লড়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘ধন্যবাদ, আর্জেন্টিনা। আমাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।’ সম্প্রতি ইউরোপে ১৬ বছরের সফল অধ্যায় শেষ করে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেটে যোগ দিয়েছেন ওতামেন্দি। ইউরোপে খেলেছেন পোর্তো, ভ্যালেন্সিয়া, ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেনফিকার মতো শীর্ষ ক্লাবগুলোর হয়ে। নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ওতামেন্দি চারটি ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা দুই সিরিজে হতাশার পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল ভারত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে শ্রেয়াস আইয়ারের দল। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হারারেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৫ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন ওয়েসলে মাধেভেরে। এছাড়া টিনাশে মারুমানি ২৭, রায়ান বার্ল ২৬ এবং বেন কারেন ১০ রান করেন। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে জিম্বাবুয়ের অন্য ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই অভিষেক শর্মাকে হারায় ভারত। তিনি ৮ বলে মাত্র ১ রান করে বিদায় নেন। এরপর বৈভব সূর্যবংশী ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে তিনি দ্রুততম ফিফটির নতুন রেকর্ড গড়েন এবং টি-টোয়েন্টিতে সর্বকনিষ্ঠ দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নাম লেখান। তিনি ১৯ বলে ৫০ রান করে আউট হন। ইশান কিষাণ ২৪ বলে ৩৫ রান করেন। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ২৪ বলে অপরাজিত ২৮ এবং তিলক ভার্মা ৫ বলে অপরাজিত ৬ রান করে দলকে ৭ উইকেটের জয় এনে দেন। ভারত মাত্র ৭ উইকেট হারিয়ে নয়, ৭ উইকেট হাতে রেখে এবং ৪০ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে (একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত, বাকি চারটিতে পরাজয়) সিরিজ হারায় ভারত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই জয় সেই ব্যর্থতার ধারায় ইতি টানল।
সর্বশেষ ২০১০ সালে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড সফর করেছিল বাংলাদেশ। এরপর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেখানে আতিথেয়তা পায়নি টাইগাররা। তবে এবার সেই অপেক্ষা শেষ হচ্ছে। আগামী বছর ইংল্যান্ড সফর করবে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক সূচি প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে। লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২০২৭ সালের ২৮ মে থেকে ১ জুন অনুষ্ঠিত হবে একমাত্র এই টেস্ট। পাশাপাশি একই সময়ে বাংলাদেশ নারী দলও ইংল্যান্ড সফর করবে। নারী দল ইংল্যান্ড সফরে খেলবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সূচি ঘোষণার পর ইসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড গুল্ড বলেন, 'বাংলাদেশ পুরুষ দলকে লর্ডসে একটি টেস্ট ম্যাচের জন্য এবং বাংলাদেশ নারী দলকে সাদা বলের সিরিজে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। ২০১০ সালের পর এই প্রথম নিজেদের মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।' ইংল্যান্ড - বাংলাদেশ ২৮ মে–১ জুন : একমাত্র টেস্ট, লর্ডস, লন্ডন ইংল্যান্ড নারী দল - বাংলাদেশ নারী দল টি-টোয়েন্টি সিরিজ- ৮ সেপ্টেম্বর: প্রথম টি-টোয়েন্টি, নর্থ্যাম্পটন ১০ সেপ্টেম্বর: দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি, টনটন ১২ সেপ্টেম্বর: তৃতীয় টি-টোয়েন্টি, উরচেস্টার ওয়ানডে সিরিজ- ১৭ সেপ্টেম্বর: প্রথম ওয়ানডে, হোভ ২১ সেপ্টেম্বর: দ্বিতীয় ওয়ানডে, ক্যান্টারবুরি ২৪ সেপ্টেম্বর: তৃতীয় ওয়ানডে, চেমসফোর্ড
বিশ্বকাপ চলাকালেই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার বিরুদ্ধে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছিল স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কা। তবে এবার স্বয়ং আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ইনফোবে এবং ক্লারিন বলছে, তাপিয়াসহ এএফএ’র কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও মোবাইল জব্দ করেছে এফবিআই। সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে এএফএ। আর্জেন্টাইন ফুটবল প্রধানকে তলবের বিষয়ে গণমাধ্যম দুটির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এফবিআই সদস্যরা একটি অভিযান চালায়। যার তদন্তের লক্ষ্য ছিল এএফএর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর আর্থিক কাঠামো। সেখানে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা তাপিয়া ও অন্য কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস চেয়েছিলেন। এ ছাড়া এএফএ সভাপতিকে আগামী ৩০ জুলাই ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। তাদের দাবি– যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাপিয়ার কাছে ট্যুরপ্রডএন্টার নামে ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। ব্যবসায়ী হাভিয়ের ফারোনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই প্রতিষ্ঠান স্পন্সরশিপ চুক্তি, প্রীতি ম্যাচ এবং টেলিভিশন স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে এএফএ’র একচ্ছত্র বাণিজ্যিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। ক্লারিন বলছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো– আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্পন্সরদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার মায়ামির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করা হলেও, এএফএ এখন পর্যন্ত সেই অর্থ নিজেদের আর্থিক বিবরণীতে দেখায়নি। এ ছাড়া আরও নানা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। আর্জেন্টাইন দুটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই খবর গত কয়েক ঘণ্টায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে দ্রুততম সময়ে সেই দাবি নাকচ করে বিবৃতি দিয়েছে এএফএ। আর্জেন্টাইন ফেডারেশন জানিয়েছে, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে নথির কথা বলা হচ্ছে, সেটি এএফএর সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া বা প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোর উদ্দেশে জারি করা কোনো সমন নয়।’ তবে একই বিবৃতিতে এএফএ স্বীকার করেছে যে, ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের জারি করা সমনটি একটি ‘তৃতীয় পক্ষের’ উদ্দেশে, যাকে গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হতে এবং প্রয়োজনে এএফএর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঘিরে থাকা নথিপত্র ও যোগাযোগের তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। ফলে তাপিয়া বা পাবলো তোভিগিনোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করেছে এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। একইভাবে তাদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার বিষয়টিও সম্পূর্ণ অসত্য। আর্জেন্টাইন ফেডারেশন আরও বলছে, সংশ্লিষ্ট নথিতে সভাপতি বা কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়নি। তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তাদের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি এবং তাদের কোনো সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ারও উল্লেখ নেই। এএফএ কর্মকর্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল। আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসি তো অনেকটা একাই তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টেনেছেন। অন্যদিকে গোল-অ্যাসিস্ট খুব একটা বেশি না পেলেও আক্রমণভাগে ছাপ রেখেছেন বার্সেলোনার নম্বর ১০ ইয়ামাল। তাতে ফুটবলারদের জন্য সবচেয়ে মর্যাদার পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে দুই প্রজন্মের তারকাকে রাখাই যায়। কিন্তু এবারের ব্যালন ডি’অর জেতার দৌড়ে মেসি-ইয়ামাল কাউকেই দেখছেন না লুইস ফিগো। পর্তুগিজ ফুটবল কিংবদন্তির মতে, দুই জনের একজনও যোগ্য দাবিদার নয়। বরং বছরজুড়ে অসাধারণ পারফর্ম করে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জেতার দৌড়ে সবার চেয়ে তিনি এগিয়ে আছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে। সম্প্রতি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করার পাশাপাশি নিজ পছন্দের ব্যালন ডি’অরের ৪ দাবিদারের নাম প্রকাশ করেছেন ২০০০ সালের বর্ষসেরা ফুটবলার ফিগো। বিশ্বমঞ্চে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও মেসি কিংবা ইয়ামালের হাতে এবারের ব্যালন ডি’অর দেখছেন না পর্তুগিজ কিংবদন্তি। ফিগোর মতে, সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে তালিকার এক নম্বরে রয়েছেন রদ্রি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের ধারাবাহিক ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ব্যালন ডি’অরের রেসে তাঁকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন সাবেক এই উইঙ্গার। মার্কা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিগো বলেন, ‘বিশ্বকাপে রদ্রি অসাধারণ খেলেছে। ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে এটাই হয়তো ওর পাল্লা ভারী করে দেবে।’ রদ্রিকে দলে ভেড়াতে রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহে অবাক হননি ফিগো। বিষয়টি নিয়ে সাবেক এই পর্তুগিজ তারকা বলেন, ‘আমার মনে হয় চুক্তিটি সম্পন্ন করা বেশ কঠিন হবে। কারণ, ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি রয়েছে। তবে সবাই জানে যে, রিয়াল মাদ্রিদ সব সময় বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দেরই নিজেদের দলে নিতে চায়।’ পরিসংখ্যানের বিচারে গোল বা অ্যাসিস্ট কম থাকলেও বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করায় ব্যালন ডি’অরের প্রথম সারির দাবিদারদের তালিকায় ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেকেও রাখছেন ফিগো, ‘গোল কিংবা অ্যাসিস্টের দিক থেকে রদ্রি হয়তো খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেনি, কিন্তু টুর্নামেন্টজুড়ে সে ছিল অসাধারণ। অন্যদিকে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে এমবাপেও এই পুরস্কারের লড়াইয়ে থাকার পুরো যোগ্যতা আছে। ফিগোর সম্ভাব্য সেরা চারের তালিকায় স্থান পেয়েছেন পিএসজির দুই তারকা—পর্তুগালের ভিতিনিয়া এবং ফ্রান্সের দেসিরে দুয়ে। ফিগো আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় ভিতিনিয়া ও দুয়ে চমৎকার একটি মৌসুম কাটিয়েছে। যদিও বিশ্বকাপটি তাদের জন্য (বিশেষ করে পর্তুগালের হয়ে ভিতিনিয়ার) খুব একটা ভালো যায়নি, তবুও সারা বছরের পারফরম্যান্স বিচারে তারা ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকার দাবি রাখে।’
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে টটেনহ্যাম হটস্পার ছাড়ছেন আর্জেন্টাইন তারকা ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। সেই সঙ্গে ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘ ৫ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটছে। বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ও দলবদল বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানোর এক এক্সক্লুসিভ রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ক্লাব এবং খেলোয়াড়—উভয় পক্ষই এই গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আলাদা হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন ২৮ বছর বয়সী এই তারকা। নিয়মিত উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও শিরোপার জন্য লড়াই করা সম্ভব এমন একটি ক্লাবে যেতে চান এই তারকা সেন্টার-ব্যাক। ইতালিয়ান জায়ান্টরা বর্তমানে রোমেরোকে দলে ভেড়াতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে। চুক্তিটি বেশ ব্যয়বহুল হলেও ইন্টারের প্রতিনিধিরা খুব শীঘ্রই তার এজেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনাও রোমেরোকে তাদের রক্ষণভাগের মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে বর্তমান স্কোয়াড থেকে কোনো ডিফেন্ডার দলত্যাগ করলেই কেবল তারা এই রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে নামবে বলে জানা গেছে।
অস্ট্রেলিয়া যা, ইংল্যান্ড যা, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাংলাদেশও তা। বিশেষ করে বাংলাদেশের যে পেস ইউনিট, টাইগারদের আর এখন খাটো করে দেখার কোনো সুযোগই নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার অ্যাইডেন মারক্রাম তাই ‘তিনটি বড় সিরিজ’ এর সামনে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সমান সম্মান দিলেন বাংলাদেশকে। সামনে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর। এরপর টাইগাররা যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে, খেলবে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার সাথে সিরিজ আছে দক্ষিণ আফ্রিকারও। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে লড়তে হবে প্রোটিয়াদের। সব মিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জই দেখছেন মারক্রাম। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বাংলাদেশকে একটু বিশেষভাবেই সমীহ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি আছে টাইগারদের। বাকি দুই ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল ইদানীং দারুণ পারফর্ম করছে, সাম্প্রতিক জিম্বাবুয়ে সফরে হারারে টেস্টের ব্যর্থতা বাদ দিলে; যে ম্যাচে পরীক্ষানিরীক্ষার আশ্রয় নিয়েছিল টাইগাররা। টানা কয়েকটি হোম সিরিজ শুরুর আগে মারক্রাম বলেছেন, ‘আমরা অবশেষে আবারও ঘরের মাঠে সব ফরম্যাটে- সাদা বল ও লাল বলের ক্রিকেটে ফিরছি। ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ঘরের মাঠে পাওয়াটা একটি রোমাঞ্চকর সিরিজ উপহার দেবে। ইংল্যান্ড সবসময়ই এমন এক দল যাদেরকে হারানোর পথ খোঁজাটাই আনন্দের।’ এরপরই প্রোটিয়া তারকা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের কথা। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলামদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশের পেস আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর। এ কারণে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কাতারেই রাখলেন মারক্রাম। তিনি বলেন, ‘আর বাংলাদেশও দেখিয়ে দিয়েছে যে তাদের নতুন পেস আক্রমণ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে। তাই সামনে তিনটি বড় সিরিজ রয়েছে আমাদের।’ এদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা ধরে রাখতে এবারো তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মারক্রাম বলেন, ‘আমরা স্পষ্টতই আবারও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। ঘরের মাঠে এই গ্রীষ্মটা যদি আমরা খুব ভালোভাবে কাটাতে পারি, তবে আমার মনে হয় ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে আমাদের দারুণ সুযোগ থাকবে।’ এ সময় মারক্রামের কাছে জানতে চাওয়া হয়- জ্যাক ক্যালিস ও বেন স্টোকসের মধ্যে কে সেরা অলরাউন্ডার। জবাবে স্বদেশী পূর্বসূরিকে এগিয়ে রেখে তিনি বলেন, ‘জ্যাক ক্যালিস- তিনিই আসল রাজা। আমার মতে, তিনি এযাবৎকালের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার, আর হ্যাঁ, এখানেই সব কথার শেষ।’
ক্রীড়াঙ্গনে অনেকে ‘কুসংস্কারে’ বিশ্বাসী। ক্রিকেটে যেমন শচীন টেন্ডুলকার সব সময় বাঁ পায়ে প্যাড পরতেন। ২০১১ বিশ্বকাপে আজন্ম স্বপ্ন পূরণের ফাইনালেও এক কুসংস্কারে বিশ্বাসী ছিলেন। যা পরে জানান তার ওপেনিং সঙ্গী বীরেন্দর শেবাগ। শেবাগ জানান, ওয়াংখেড়েতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে ২৭৫ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আউট হন তিনি এবং শচীন। পরে ড্রেসিংরুমে ফিরে শচীনের পাশে বসেন তিনি। কিন্তু ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর কখনো নিজের আসন থেকে উঠতে পারেননি ভারতের সাবেক ওপেনার। কারন, শচীনের অন্ধবিশ্বাস। কিংবদন্তি ব্যাটার শেবাগকে বলেন, ‘আমি এখান থেকে এক চুলও নড়ব না, তুমিও নিজের জায়গা থেকে একদম উঠবে না।’ পরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হয় তারা। তেমনি এক অন্ধবিশ্বাসেই কি এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন? মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সাইড লাইনের পাশে মার্ক কুকুরেয়ার কয়েন পুঁতে রাখার দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পরেই সেই প্রশ্ন উঠছে ভক্ত-সমর্থকদের মনে। ফাইনাল শুরুর আগে অনুশীলনের সময় সাইড লাইনের কাছে কয়েন পুঁতে রাখেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। অনেকের নজরে না আসলেও পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন স্পেনের সাবেক ডিফেন্ডার হোয়ান ক্যাপদেভিলা। তিনিই যে উত্তরসূরি কুকুরেয়াকে এমন কাজ করতে বলেছেন। ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনাল নামার আগে একই কাজ করেছিলেন স্পেনের সাবেক ডিফেন্ডার। সেবার নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার জিতেছে স্পেন। কুকুরেয়াকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কয়েন পুঁতে রাখার পরামর্শ ক্যাপদেভিলা। অন্ধবিশ্বাসের রহস্য নিয়ে পরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘একটা গোপন কথা বলি। ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনাল শুরুর আগে ঘাসের মধ্যে একটা কয়েন লুকিয়ে রেখেছিলাম। সে কথা অনেক বারই বলেছি। এ বার ফাইনালের আগে কুকুরেয়াকে সেটা বলেছিলাম। ও সেটাই করেছে। কুকুরেয়া, তোমাকে খুব ভালোবাসি। তুমি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’
অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি শুরুর আগে বাংলাদেশ দল ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে চার ক্রিকেটারের চোট। লিটন দাস চোটে ভুগছেন প্রায় এক মাস ধরে। মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা চোটে পড়েছেন সবশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে। তাদের চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করতে পারছে না বিসিবি। কারণ, চার ক্রিকেটারের মধ্যে লিটন, শরিফুল ও নাহিদ আছেন টেস্ট সিরিজের বিবেচনায়। তাদের চোটের সবশেষ অবস্থা জেনে দল ঘোষণা করবে বিসিবি। আগামী ১ ও ৩ অগাস্ট দুই দফায় অস্ট্রেলিয়ায় যাবে বাংলাদেশ দল। ঘরের মাঠে সবশেষ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে চোটে পড়েন লিটন। মাংসপেশির চোটে পড়া এই ক্রিকেটার পুনর্বাসন শেষে জিম্বাবুয়ে যান। তবে ব্যথা না কমায় ও ফিটনেস সন্তোষজনক না থাকায় সিরিজ না খেলে দেশে ফেরেন। নাহিদ রানা ভুগছেন সাইড স্ট্রেইনে, শরিফুলের সমস্যা হ্যামস্ট্রিংয়ে, মুস্তাফিজ পড়েছেন হাঁটুর চোটে। তাদের চোটের কারণে বছরজুড়ে খেলায় ব্যস্ত থাকা ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে দাবি করেন, ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ঠিকঠাকভাবেই দেখা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচক বলেন, “ওয়ার্কলোড আমরা খুব ভালো ম্যানেজ করি। ওয়ার্কলোডের কারণে জিম্বাবুয়েতে নাহিদ, তাসকিন ও শরিফুলকে টেস্ট ম্যাচে খেলানো হয়নি। চোট আসলে যতই ম্যানেজ করেন না কেন, এটা হবেই। এটা খেলারই অংশ। যতটুকু সম্ভব কমানোর চেষ্টা করতে হবে, কিন্তু খেলতে গেলে ব্যথা লাগবেই। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট ঠিক থাকার পরও কন্ডিশনের কারণে জিম্বাবুয়েতে তিন ক্রিকেটার চোটে পড়তে পারেন বলে মনে করেন তারা। তবে এটাই একমাত্র কারণ নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন দেবাশিস বলেন, একটা চোটের অনেক কারণ থাকতে পারে। ওখানে (জিম্বাবুয়ে) ঠান্ডা অনেক, এটা একটা কারণ হতে পারে। ঘাসের কন্ডিশন হতে পারে। যারা দলের সঙ্গে আছেন, তারা ভালো বলতে পারবে। চোটে থাকা চার ক্রিকেটারের চোটের কী অবস্থা, জানার চেষ্টা করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম। লিটন দাস সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে লিটন দাসের চোট নিয়ে। প্রথমে জানা গিয়েছিল, ৮-১০ দিনের মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও সুস্থ নন। তার চোটের সবশেষ অবস্থা নিয়েও আছে ধোঁয়াশা। তার অবশেষ অবস্থা জানিয়ে দেবাশিস চৌধুরি বলেন, লিটনের আজকে (বুধবার) স্ক্যান করানো হচ্ছে। স্ক্যানটা হলেই আমরা বলতে পারব। প্রধান নির্বাচক বলেন, চোটে থাকা এই কিপার-ব্যাটসম্যানকে মেডিকেল বিভাগ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই জিম্বাবুয়ে পাঠানো হয়েছিল। “এখানকার (বাংলাদেশ) স্ক্যানগুলোতে কিছু ধরা পড়েনি। জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে স্ক্যান করা হয়েছিল, সেখানে একদম ঠিক ছিল। কিন্তু, তার ব্যথাটা আবার ফিরে আসছে। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেছে। আজ বা কাল (বুধবার) তার স্ক্যান হবে। স্ক্যান রিপোর্ট সঠিক আসার কারণেই তাকে (জিম্বাবুয়ে) পাঠানো হয়েছিল। মুস্তাফিজুর রহমান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হাঁটুর চোটে পড়েন এই বাঁহাতি পেসার। পরে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে যান। দেশে ফিরে বিশ্রামের পর সুস্থ হতে রিহ্যাব শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে রিহ্যাব করতে থাকা এই পেসার চলতি মাসের শেষদিকে দিবেন ফিটনেস পরীক্ষা। সেখানে সন্তোষজনক ফলাফল করতে পারলে ইংল্যান্ডের ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে দা হান্ড্রেডে খেলতে যাবেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে সীমিত ওভারের কোনো ম্যাচ না থাকায় তার চোট নিয়ে খুব একটা চিন্তা করছেন না প্রধান নির্বাচক। মুস্তাফিজ তো অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নেই, ও শুধু ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে। আমরা এখন অস্ট্রেলিয়া সফরে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। চোট কাটিয়ে তাকে দা হান্ড্রেডে পাঠানোর ব্যাপার পুরোটাই মেডিকেল বিভাগের উপর ছেড়ে দিয়েছেন নির্বাচকের দায়িত্বে থাকা সাবেক অধিনায়ক। দা হান্ড্রেডে তার যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি মেডিকেল বিভাগ দেখবে। শরিফুল ইসলাম হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে সফরের মাঝপথে ফেরত আসেন এই বাঁহাতি পেসার। এক সপ্তাহ বিশ্রামের পর মঙ্গলবার থেকে শুরু করেছেন পুনর্বাসন। আপাতত তাকে নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় নির্বাচক প্যানেল ও চিকিৎসকরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠবেন এমন আশায় আছেন নির্বাচক প্যানেলের প্রধান। এখন পর্যন্ত যতটুকু রিপোর্ট পেয়েছি, শরিফুল ভালো আছে। আমাদের ফিজিও কাল (বুধবার) আসবে, তখন আরও বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত সে ভালো আছে এবং রিহ্যাব শুরু করেছে। কোনো সমস্যা না থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। নাহিদ রানা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে চোটে পড়েন এই পেসার। তবে এখনও স্ক্যান না করানোয় তার চোট নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে পারেনি বিসিবির চিকিৎসকরা। বুধবার ঢাকায় তার স্ক্যান করানো হবে। এরপরেই জানা তার সবশেষ অবস্থা। তবে নাহিদ রানার এই চোটে খুব বেশি চিন্তিত নন নির্বাচক। জিম্বাবুয়েতে ঠান্ডা অনেক ছিল। তাই গরম কন্ডিশন থেকে ঠান্ডা কন্ডিশনে গেলে ক্র্যাম্পিং একটু বেশি হয়। নাহিদ রানার ক্ষেত্রেও হয়তো এমন কিছু হয়েছে। ও যেভাবে বোলিং করে, তাতে চোট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সব পেস বোলারদেরই চোটের ইতিহাস থাকে। জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করে তবেই খেলানো তাকে খেলানো হয়েছে এই সফরের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ওয়ার্কলোডের কারণে ওয়ানডে সিরিজে খেলেছেন দুই ওয়ানডে। আমরা চেষ্টা করি ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করতে, খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এখনো নতুন চুক্তি নিয়ে কোনো ঘোষণা না আসায় দলটির পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনা চলছে। বিশ্বকাপে নাটকীয়ভাবে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে, মিসর, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছানো দলটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্কালোনি। খবর ইয়াহু স্পোর্টসের। ২০২২ বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপাজয়ী এই কোচের বিদায়ের পর তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন এমন চারজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। হাভিয়ের মাসচেরানো স্কালোনি দায়িত্ব ছাড়লে সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ধরা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাভিয়ের মাসচেরানোকে। ৪২ বছর বয়সী এই কোচ ইন্টার মায়ামিকে ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ জেতানোর পর ব্যক্তিগত কারণে ২০২৬ সালের এপ্রিলে পদত্যাগ করেন। আর্জেন্টিনার হয়ে ১৪৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মাসচেরানো কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন দেশের বয়সভিত্তিক দলে। তিনি অনূর্ধ্ব-২০ এবং পরে ২০২৪ অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের দায়িত্ব পালন করেন। তার অধীনেই হুলিয়ান আলভারেজ, জুলিয়ানো সিমিওনে ও থিয়াগো আলমাদার মতো কয়েকজন ফুটবলার সিনিয়র দলে জায়গা করে নেন। দিয়েগো প্লাসেন্তে আলোচনায় আছেন সাবেক ডিফেন্ডার দিয়েগো প্লাসেন্তেও। আর্জেন্টিনার হয়ে ২২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই ৪৯ বছর বয়সী কোচ অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্বে সফলতা দেখিয়েছেন। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২৩ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে চতুর্থ হয়। এছাড়া ২০২৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ও দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হয় দলটি। মার্সেলো গালিয়ার্দো সাবেক আর্জেন্টাইন মার্সেলো গালিয়ার্দোও অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন তিনি। কোচ হিসেবে গত এক দশকে বিশ্বের অন্যতম সফলদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রিভার প্লেটের দায়িত্বে ১১ মৌসুমে এক ডজনের বেশি শিরোপা জেতান ৫০ বছর বয়সী এই কোচ। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্লাবটির দায়িত্ব ছাড়লেও এখনও কোনো জাতীয় দলের কোচ হননি। আক্রমণাত্মক কৌশল, উচ্চ প্রেসিং এবং দ্রুত পাসভিত্তিক ফুটবলের জন্য পরিচিত গালিয়ার্দো মেসি পরবর্তী যুগে নতুনভাবে দল গঠনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আরিয়েল হোলান ৬৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ কোচ আরিয়েল হোলানও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন। গত এক দশকে তিনি ৯টি ক্লাবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে রোজারিও সেন্ট্রাল ২০২৫ সালে আর্জেন্টাইন প্রিমেরা ডিভিশনের শিরোপা জেতে। যদিও মৌসুম শেষে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নিয়মের কারণে শিরোপাটি কিছুটা বিতর্কের জন্ম দেয়। বর্তমানে প্যারাগুয়ের ক্লাব সেরো পোর্তেনিওর দায়িত্বে থাকা হোলানকে ২০২৮ কোপা আমেরিকাকে সামনে রেখে স্বল্পমেয়াদে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন স্কালোনির ভবিষ্যৎ বা নতুন কোচ নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৩ সদস্যের পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে এই সিরিজ দিয়েই দলে ফিরেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজলউড এবং তারকা অফ-স্পিনার নাথান লায়ন। পিঠের চোটের কারণে কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকা অধিনায়ক প্যাট কামিন্স দলের নেতৃত্ব সামলাবেন। দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে লায়ন ও হ্যাজলউডের ফেরাতে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ এখন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও অভিজ্ঞ। এই তিন বোলারের প্রত্যাবর্তনে ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে চাপে ফেলার ছক সাজাচ্ছে স্বাগতিকরা। তবে মূল স্কোয়াডে জায়গা হয়নি পেসার মাইকেল নেসারের, তিনি থাকছেন স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড় হিসেবে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে মাঠে গড়াবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিতে অস্ট্রেলিয়া মরিয়া। অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার ১৩ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াড: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), ট্রাভিস হেড, স্টিভ স্মিথ, মার্নাস লাবুশেন, জ্যাক ওয়েদারল্ড, ক্যামেরন গ্রিন, বো ওয়েবস্টার, অ্যালেক্স কেয়ারি (উইকেটরক্ষক), জশ ইংলিস (উইকেটরক্ষক), মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, স্কট বোল্যান্ড ও নাথান লায়ন।
২০২৬ বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জেতা নিয়ে চ্যাম্পিয়ন স্পেনের রদ্রির প্রতি এখনও সমালোচনা থামেনি। অনেকের মতে, লিওনেল মেসিই ছিলেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়। তবে বিশ্বকাপ শেষে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, মেসি কি আরও একবার ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন? এমন পরিস্থিতিতে সোমবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বার্ষিক ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন। মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের আয়োজকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই পুরস্কার জিততে ইউরোপের কোনো লিগে খেলার প্রয়োজন নেই। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে স্পেন জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড়কেই বেছে নিতে হবে, এমন ধারণা থেকে সরে এসেছে তারা। নিজেদের এই বক্তব্যের সঙ্গে ছবি হিসেবে ব্যবহার করেছে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের ছবিই। অন্যদিকে, রদ্রি ছাড়াও লামিন ইয়ামাল এবং পাউ কুবারসির মতো তরুণ তারকাদের নিয়েও এবার লড়াইয়ে আছে লা রোহা। এছাড়া উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো অন্য তারকাদের মধ্যে আবেদনের তালিকায় আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং হ্যারি কেনও। আজ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ববি চার্লটন (ইংল্যান্ড, ১৯৬৬), পাওলো রসি (ইতালি, ১৯৮২) এবং লোথার ম্যাথিউসের (জার্মানি, ১৯৯০) প্রসঙ্গও, যারা বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে ব্যালন ডি’অরও জিতেছিলেন। একই কীর্তি গড়েছিলেন জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স, ১৯৯৮), রোনালদো (ব্রাজিল, ২০০২) এবং ফাবিও কানাভারো (ইতালি, ২০০৬), যখন এই পুরস্কার অ-ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের জন্যও উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে এই প্রথা প্রথম ভেঙেছিলেন মেসি, ২০১০ সালে। সেবার বার্সেলোনায় নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের স্প্যানিশ সতীর্থ ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং জাভিকেও পেছনে ফেলেছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে একই কীর্তি গড়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও, জার্মানির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মানুয়েল নয়্যার এবং মেসিকে পেছনে ফেলে। আবার ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে হারলেও, নিজের ফরাসি প্রতিপক্ষ আঁতোয়ান গ্রিজমানকে পেছনে ফেলে একই কাজ করেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ। এরপর শুধু ২০২৩ সালেই দলগত ও ব্যক্তিগত, দুই মুকুট একসঙ্গে পুনরুদ্ধার করেছিলেন মেসি, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর। এবার কি এমন কোনো চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স ছাড়া স্প্যানিশদের বিপক্ষে আবারও এই কীর্তি গড়তে পারবেন তিনি? প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়, ‘হ্যাঁ, বিশ্বকাপ জেতাটা সহায়ক, তবে এটা ব্যালন ডি’অরের নিশ্চয়তা দেয় না। এই পুরস্কার জিততে হলে পুরো মৌসুমে সেরা খেলোয়াড় হতে হয়, শুধু বিশ্বকাপে নয়।’ আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানেই মিলবে এই প্রশ্নের উত্তর।মেসি কি আবারও ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন? মুখ খুলল ফ্রান্স ফুটবল
টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে ফাইনালের মঞ্চে। এই কষ্ট ভুলতে অনেক সময় লাগবে বলে মনে করেন লিওনেল মেসি। তবে ভালো দিকগুলোও মনে রাখতে চান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। নিউ জার্সিতে রোববারের ফাইনালে খুবই বিবর্ণ পারফরম্যান্সে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারে ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের পর, গ্যালারির সামনে গিয়ে মেসির কান্নার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। সোমবার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ফাইনালে হারের হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি বিশ্বকাপে দলের পুরো যাত্রা তুলে ধরেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। কষ্টটা সীমাহীন এবং এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। কিন্তু আমি সব ভালো দিকগুলোও মনে ধারণ করতে চাই... যে ম্যাচগুলোতে আমরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, যা আমাদের স্মৃতিতে চিরকাল রয়ে যাবে; পুরো দেশের সমর্থন, যা এই দলের কাজ ও প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলে আমাদেরকে আরও একবার বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিয়ে এসেছে। আমরা যা করেছি, তার মর্ম পুরোপুরি উপলব্ধি করা এই মুহূর্তে কঠিন। এই দল টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে। সমর্থন ও বার্তার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রেকর্ড আটবারের ব্যালন দ’র জয়ী। শুভেচ্ছা জানানোয় ও বার্তা পাঠানোর জন্য আমার হৃদয়ের গভীর থেকে আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আবারও আমরা একটি দেশ হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং একসঙ্গে থাকতে পেরেছি, আর্জেন্টাইন হওয়ার সীমাহীন গর্ব ভাগ করে নিয়েছি। নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানাতেও ভোলেননি বিশ্বকাপে অনেক রেকর্ড-কীর্তির জন্ম দেওয়া মেসি। শিরোপা জয়ের জন্য স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই আমি। এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। বর্তমানে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১টি গোল তার। এছাড়া একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার গোল্ডেন বলও জিতেছেন তিনি, ২০১৪ ও ২০২২ আসরে। মেসির নেতৃত্বে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা এবং একটি ফিনালিস্সিমা ট্রফিও জয় করে আর্জেন্টিনা। এছাড়া গত চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তিনবারই ফাইনালে খেলল দলটি।
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশে ফিরেছে স্পেন ফুটবল দল। বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি হাতে সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে মাদ্রিদের বারাজাস এয়ারপোর্টে পা রাখে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। বিমান থেকে বের হয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন অধিনায়ক রদ্রি। তার দুই পাশে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুয়ান। এদিকে মাদ্রিদের মেয়র হোসে লুইস মার্তিনেজ-আলমেইদা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপজয়ী দলকে অভ্যর্থনা জানাবেন রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে। এরপর খোলা ছাদের বাসে বিজয় প্যারেডে অংশ নেবেন খেলোয়াড়রা। মনক্লোয়া থেকে শুরু হয়ে প্যারেডটি শেষ হবে মাদ্রিদের কেন্দ্রস্থল সিবেলেস স্কয়ারে। সেখানেই আয়োজন করা হবে বিজয় উদযাপনের বিশেষ অনুষ্ঠান। স্পেনের জাতীয় দল ও সমর্থকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী এই চত্বরে লাখো মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এদিকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে ফেরা দলকে বরণ করে নিতে মাদ্রিদে প্রায় ১০ লাখ সমর্থক জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে। বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মাদ্রিদের মেয়র আলমেইদা। ২ হাজার ৫০ জন পুলিশ সদস্য ও ৪০০ জন সিভিল গার্ড সদস্য প্যারেডের নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবেন বলেও জানান তিনি। মেয়র বলেন, এরই মধ্যে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাদ্রিদের রাস্তায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। রাতভর উদযাপনের পর সোমবার সকালে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দেখা গেছে উৎসবের নানা চিহ্ন। রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে নিশ্চিত হয় স্প্যানিশদের জয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ জয়ের পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা।
বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শেষ হওয়ার পর সোমবার অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর র্যাংকিং (১-৪৮) নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে ফিফা। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে স্পেন আছে সবার ওপরে। দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ স্থানে পর্যায়ক্রমে আছে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। সেমিফাইনালের আগের ধাপ থেকে যেসব দল বিদায় নিয়েছে, তাদের র্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়েছে কয়েকটি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে। যেমন, ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত মোট পয়েন্ট (পেনাল্টি শুটআউটে গড়ানো ম্যাচ ড্র হিসেবে গণ্য), গোল ব্যবধান, সব ম্যাচ মিলিয়ে করা মোট গোলের সংখ্যা। এসব মানদণ্ড প্রয়োগ করার পর সমতায় থাকা দুই বা এর বেশি দল র্যাংকিংয়ে সমান অবস্থান ভাগাভাগি করেছে। যেমন- ইকুয়েডর ও দক্ষিণ আফ্রিকা যথাক্রমে ২৫তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা নরওয়ে র্যাংকিংয়ের পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে। এরপর দশম স্থান পর্যন্ত আছে যথাক্রমে বেলজিয়াম (৬), মরক্কো (৭), সুইজারল্যান্ড (৮), মেক্সিকো (৯) ও কলম্বিয়া (১০)। একাদশ থেকে ২০তম স্থানে আছে টপ ফেভারিট হিসেবে এবারের আসর খেলতে যাওয়া কয়েকটি দল। ব্রাজিলের (১১) পর জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (১২), পর্তুগাল (১৩), কানাডা (১৪), মিসর (১৫), প্যারাগুয়ে (১৬), নেদারল্যান্ডস (১৭), জার্মানি (১৮), আইভরি কোস্ট (১৯) ও ক্রোয়েশিয়া (২০)। র্যাংকিংয়ে বাকি দলগুলোর অবস্থান যথাক্রমে জাপান (২১), অস্ট্রেলিয়া (২২), ডিআর কঙ্গো (২৩), ঘানা (২৪), ইকুয়েডর ও দক্ষিণ আফ্রিকা (২৫), সুইডেন (২৭), অস্ট্রিয়া (২৮), বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা (২৯), আলজেরিয়া (৩০), সেনেগাল (৩১), কেপ ভার্দে (৩২), ইরান (৩৩), কোরিয়া প্রজাতন্ত্র (৩৪), তুরস্ক (৩৫), স্কটল্যান্ড (৩৬), উরুগুয়ে (৩৭), সৌদি আরব (৩৮), চেক প্রজাতন্ত্র (৩৯), নিউজিল্যান্ড (৪০), কাতার (৪১), কুরাসাও (৪২), পানামা (৪৩), জর্ডান (৪৪), হাইতি (৪৫), উজবেকিস্তান (৪৬), তিউনিশিয়া (৪৭) এবং ইরাক (৪৮)।
লিওনেল মেসির সঙ্গে প্রতারণা করেছে আর্জেন্টিনা। দেশটির কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সংবর্ধণা জানায়নি দলটি। যে দলকে তিনি গত বিশ্বকাপে শিরোপা উপহার দিয়েছেন। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে রানার্স আপ করেছেন। যে দলের জন্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকে উজার করে দিয়ে লড়াই করেছেন। সে দল তাকে বিদায় বেলায় বিশেষ সম্মান জানায়নি। গতরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়া আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা যখন মেসির নাম ধরে গান গাইছিল, মেসি তখন গভীর দৃষ্টিতে তাদের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে ছিলেন। হয়তো তখন তার মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে এমন ভালোবাসা পাওয়ার এটাই শেষ মুহূর্ত। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি, মেসির মতো টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের চেষ্টা করছিলেন, টুর্নামেন্টে কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মেসির এটাই শেষ ম্যাচ কী না, সে প্রশ্নে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছিলেন তিনি। স্কালোনি বলেন, তিনি মেসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি। এরপর তিনি নিজেই কাঁদতে শুরু করেন এবং সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে চলে যান। ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনায় অভিষেকের পর থেকে মেসি অন্তত পাঁচবার নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। আজকের আর্জেন্টিনা এবং ইন্টার মায়ামির মেসি সেই দীর্ঘ পরিবর্তনেরই ফসল। ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ খেলতে নেমে তিনি তার পায়ের জাদু দেখিয়ে মুগ্ধ করেছেন বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের। গতরাতে ফাইনালে মেসির অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ যুগের অবসান ঘটে। তার পক্ষে আগামী ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ খেলা অসম্ভব। সেই পর্যন্ত ফিটনেস ধরে রেখে পারফর্ম করে যাওয়া মোটেও সহজ নয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক মনোভাবের মাশুল গুনেছেন মেসি ও তার দল। ফল হিসেবে শিরোপা ছাড়াই বিশ্বমঞ্চে নিজের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচটি খেলেছেন আর্জেন্টাইন মহানায়ক।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন চূর্ণ হয়েছে আর্জেন্টিনার। তবে হতাশার মধ্যেও স্পেনে জন্ম নেওয়া আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার নিকো পাজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আবারও বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে আনতে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেবেন তিনি। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার। বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্তে নিজের অটল অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এভাবে, ‘বিশ্বকাপ আবার আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে আনতে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেবো।’ ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর এই মিডফিল্ডারের জন্ম স্পেনের তেনেরিফেতে। তার বাবা পাবলো পাজও ছিলেন আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপের দলে খেলেছিলেন। ফাইনালে হারের পর যখন আর্জেন্টিনা দলের সদস্যরা কোনও মন্তব্য না করে নীরবে মেটলাইফ স্টেডিয়াম ছেড়ে যান, তখনই ইনস্টাগ্রামে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন নিকো। দলের একটি ছবির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি গর্বিত এই দেশ, এই দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে এবং এমন একদল অসাধারণ মানুষের অংশ হতে পেরে, যারা এই জার্সির জন্য নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দেয়। আমি শুধু ধন্যবাদ বলতে চাই।’ এই বিশ্বকাপে আলজেরিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন এই মিডফিল্ডার। সমর্থকদের উদ্দেশে আশাবাদী বার্তাও দিয়েছেন তিনি, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এই কাপ আবার আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে আনতে নিজের সর্বস্ব দিয়ে লড়বো।’ একই সঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়ে আরও লিখেছেন, ‘স্পেন এবং সব স্প্যানিশকে অভিনন্দন। ভালো কিংবা খারাপ—সব সময় আর্জেন্টিনার সঙ্গেই আছি।’
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারানোর পর লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩৯ বছর বয়সি এই আর্জেন্টাইন তারকার জন্য এটিই কি শেষ বিশ্বকাপ—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরছে ফুটবল অঙ্গনে। তবে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মেসির ব্যক্তিগত বিষয়। ফাইনাল শেষে দ্য অ্যাথলেটিক-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কালোনি বলেন, ‘মেসির এখন ৩৯ বছর। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। শুরু থেকেই আমার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার ছিল—সে যতদিন খেলতে চাইবে, ততদিনই খেলবে। দলের সবাই, তার সতীর্থরা এবং আশপাশের মানুষ তাকে সমর্থন করবে। আমার বিশ্বাস, সবাই তার অর্জন নিয়ে গর্বিত। কারণ আমার কাছে সে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার।’ বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা আর স্পেন। ১২০ মিনিট শেষে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতল স্পেন। ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আর্জেন্টিনার রক্ষণে ভীতি ছড়াতে থাকে স্পেন। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে টানা দুটি আক্রমণ করে তারা। ডানপ্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে আর্জেন্টিনার বক্সে ভীতি ছড়ায় স্প্যানিশরা। প্রথমবার বক্সের মধ্যে ঢুকে দারুণ একটি শট নিয়েছিলেন ইয়ামাল। সেটি আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে আটকে যায় এমিলিয়ানো মার্টিনেজের শরীরে। পরের আক্রমণ ব্লক হয় আর্জেন্টিনার রক্ষণে। এরপর ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে বিপদে পড়তে যাচ্ছিল স্পেন। বল নিয়ে বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠছিল আর্জেন্টিনা। প্রায় মধ্য মাঠে উঠে এসে সেই আক্রমণ রুখে দেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে আবারও আক্রমণে উঠেছিল স্পেন। নিজেদের অর্ধ থেকে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন লামিন ইয়ামাল। সঙ্গে থাকা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ছয় গজ বক্সে ক্রসও বাড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বল সতীর্থকে খুজে নেওয়ার আগেই গ্লাভসবন্দি করেন মার্টিনেজ। এরপর ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। দুই দলের মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়। তবে আক্রমণ গড়তে পারেনি কোনো দলই। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে আরেকবার আর্জেন্টিনাকে ভয় পাইয়ে দেয় স্পেন। বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে সুইচ করে ডানপ্রান্তে মিকেল ওইয়ারাসাবালের কাছে পাসে দেন। বক্সের বাইরে থেকে দারুণ একটি শট নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই বল আটকাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি মার্টিনেজকে।
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে স্পেন। ফাইনালের ফল প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী। কেউ দাবি করছেন তার কথাই সত্যি হয়েছে, আবার কেউ বলছেন বাস্তবতার সঙ্গে এসব দাবির মিল নেই। যদিও গবেষক ও তথ্য-যাচাইকারীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাবা ভাঙ্গার নামে বিশ্বকাপ নিয়ে প্রচারিত অধিকাংশ পূর্বাভাসের কোনো নির্ভরযোগ্য বা ঐতিহাসিক উৎস নেই। ফলে এগুলোকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রচলিত দাবি হিসেবেই দেখা উচিত। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সকে বিদায় করে স্পেন পৌঁছেছিল শিরোপার লড়াইয়ে। কোটি ফুটবলপ্রেমীর প্রশ্ন ছিল- শেষ হাসি হাসবে কে? সেই আবহেই আবারও আলোচনায় উঠে আসে বাবা ভাঙ্গার কথিত পূর্বাভাস। শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে জয়ী হয়ে বিশ্বকাপ নিজেদের করে নেয় স্পেন। বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রযুক্তি এবং বিশ্বরাজনীতি নিয়ে বাবা ভাঙ্গার নামে নানা ভবিষ্যদ্বাণী প্রচারিত হয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে বিভিন্ন দাবি ঘুরে বেড়ায়। কোথাও বলা হয়, তিনি সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর কথা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আবার কোথাও দাবি করা হয়, বিশ্বকাপে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। তবে এসব দাবির সত্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত অধিকাংশ ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো নির্ভরযোগ্য বা যাচাইযোগ্য উৎস পাওয়া যায় না। ফলে এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, বরং লোকমুখে প্রচলিত গল্প বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি হিসেবেই দেখা উচিত। যেসব দলকে নিয়ে আলোচনা প্রচলিত দাবিতে বলা ছিল- বাবা ভাঙ্গা সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে কয়েকটি শক্তিশালী দলের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আর্জেন্টিনা: বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেভারিট ছিল এবং ফাইনালেও ওঠে। তবে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। স্পেন: তরুণ ও প্রতিভাবান দল নিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থেকে ফাইনালে পৌঁছে শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেয়। ফ্রান্স: শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে টুর্নামেন্টে ভালো খেললেও সেমিফাইনালে বিদায় নিতে হয়। ইংল্যান্ড: ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পরও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়। পর্তুগাল: প্রতিভায় ভরপুর দল হলেও ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। কতটা মিলল সেই কথিত ভবিষ্যদ্বাণী? স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাস নাকি সত্যি হয়েছে। তবে বাস্তবে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রমাণ নেই, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ের কথা বলেছিলেন। একইভাবে আর্জেন্টিনা, স্পেন বা অন্য কোনো দলকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করারও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে বিশ্বকাপের ফল নির্ধারণ হয়েছে মাঠের লড়াইয়ে। রহস্যময় কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়; বরং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, কোচদের কৌশল এবং ম্যাচের বাস্তব ঘটনাই ঠিক করেছে কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপের ট্রফি। বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচারিত এসব পূর্বাভাসের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। তাই এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।