দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনা শহর রোজারিওর একটি হাসপাতালে মারা যান লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বাবার মৃত্যুতে শোকে আচ্ছন্ন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া নিয়ে একটা শঙ্কা কাজ করছিল। তবে প্রত্যাশার চেয়েও বেশ আগে ক্লাবে ফিরেছেন তিনি। কোচ গুইলেরমো হোয়োস জানালেন তার মনের বর্তমান অবস্থা। ১২ আগস্ট ক্লাবে ফেরেন মেসি। লিগস কাপে লিওনের বিপক্ষেও খেলেছেন তিনি দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে। নু স্টেডিয়ামের সেই ম্যাচে নামার সময় তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান দর্শকরা। হোয়োস তার গোপনীয়তা রক্ষায় দর্শক-সমর্থকদের বিশেষ অনুরোধ জানান, যেন তাকে একা থাকতে দেওয়া হয়। মেসি বাবা হারানোর শোক এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন বললেন মায়ামি প্রধান কোচ, ‘তাকে দেখতে ভালো লাগছে, মাঠে সে নিজেকে মেলে ধরছে, এমন একটি জায়গা যা তার ভালোভাবে চেনা, এবং সে শান্তিতে আছে।’ এর আগে মেসির ফেরা নিয়ে দলের ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরো বলেছিলেন, ‘সে দারুণ দৃষ্টান্ত তৈরি করে। সর্বোপরি, সে নিশ্চিতভাবে খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে শুধু খেলোয়াড়দের প্রতিই নয়, ক্লাবের প্রতি যে দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে, তা অসাধারণ। আমি আমার জীবনে এমন কিছু দেখিনি। তাকে আমাদের ধন্যবাদ দিতে হবে। এখানে আসার জন্য, আমাদের ও ক্লাবকে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ।’ গত শনিবার জিওডিস পার্কে ন্যাশভিলে এসসির বিপক্ষে ৪-১ গোলে হারের ম্যাচে মায়ামির শুরুর একাদশে ছিলেন মেসি। বুধবার রাতে ফিলাডেলফিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে তারা। এই ম্যাচেও ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে দেখা যেতে পারে।
ব্রাজিল কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোলডটকম তাদের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। তুর্কি গণমাধ্যমের বরাত সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রিয়াল মাদ্রিদ, ব্রাজিল জাতীয় দল ও তুর্কি ক্লাব ফেনারবাচে মাতানো ফুটবল কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। 'খাবেরলার'সহ তুরস্কের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ৫৩ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান সাবেক তারকা মাসখানেক আগে ব্রাজিলের প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব শেখ জিহাদ হামাদার সান্নিধ্যে শাহাদাহ পাঠের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেন। প্রচলিত তথ্যানুযায়ী, রবার্তো কার্লোস বেশকিছু দিন ধরে শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। এর সূত্র ধরেই চার সপ্তাহ আগে ব্রাজিলে তার সঙ্গে দেখা করতে যান কার্লোস। দাবি করা হচ্ছে, সেই বৈঠকেই রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই রাইট-ব্যাক কালেমা পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে এখন পর্যন্ত রবার্তো কার্লোস নিজে থেকে এই বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ বক্তব্য বা নিশ্চিত বার্তা দেননি। ফলে খবরটি আপাতত জোরালো গুঞ্জন হিসেবেই থেকে যাচ্ছে, যা সত্য বলে প্রমাণিত হতে খোদ কার্লোসেরই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন। তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (এ কে পার্টি) আইনপ্রণেতা আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিষয়টি নতুন করে তুঙ্গে ওঠে। তিনি ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের একাধিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নিজের বৈঠকের কিছু তথ্য শেয়ার করেন। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে এমপি আলী শাহিন জানান, সাঁও পাওলোর 'ব্রাজিলিয়ান চ্যারিটেবল ইউনিয়ন অব মুসলিম ইয়ুথ' সফরকালে তিনি শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শেখ হামাদ বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের একজন। আলী শাহিনের দাবি, শেখ হামাদ নিজেই তাকে জানান, সাবেক ফেনারবাচে তারকা ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মহানায়ক রবার্তো কার্লোস দীর্ঘ দিন ধরে তার সাথে যোগাযোগে ছিলেন। এবং চার সপ্তাহ আগে তিনি শেখের দ্বারে এসে শাহাদাহ পাঠের মাধ্যমে ইসলামকে ধর্ম হিসেবে বেছে নেন। এই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর এমপি আলী শাহিন কার্লোসকে অভিনন্দন জানিয়ে তার ও পরিবারের জন্য শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও বরকতময় জীবন কামনা করেন। কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের এই গুঞ্জনটি জোরালো হওয়ার পেছনে আরও একটি কারণ ছিল- সম্প্রতি মরোক্কান বংশোদ্ভূত সুহাইলা এল তাহিরির সঙ্গে তার আকদ বা বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেই জানা যায়, কার্লোস মরোক্কান বংশোদ্ভূত এক স্প্যানিশ তরুণীকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। ফিফা স্বীকৃত ফুটবলারদের এজেন্ট সুহাইলা ফুটবলভিত্তিক বিভিন্ন পেশাদার প্রজেক্ট পরিচালনা করেন। চলতি বছরের সোমবার (১৭ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যমে তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার ছবিগুলো নতুন করে ভাইরাল হলেও, বিয়েটি কিন্তু সম্প্রতি ঘটেনি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই তাঁদের বিয়ের খবর চাউর হয় এবং পরবর্তীতে গত ২৫ জুলাই পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে একটি ঘরোয়া আয়োজনের মাধ্যমে এই যুগল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের সম্পর্কের সূচনা ঘটেছিল কেবল পেশাগত খাতিরে। পরবর্তীতে তা ব্যক্তিগত প্রণয়ে রূপ নেয়। বর্তমানে ব্রাজিল ও ইউরোপের ফুটবলে তারকা খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ও ব্যবসা পরিচালনার কাজ যৌথভাবেই সামলাচ্ছেন এই দম্পতি। প্রসঙ্গত, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের তালিকায় একদম সামনের সারিতেই থাকবে রবার্তো কার্লোসের নাম। রিয়াল মাদ্রিদ ও সেলেসাওদের হয়ে সোনালী ইতিহাস গড়ার পর ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে তিনি তুরস্কের ফেনারবাচেতেও খেলেছেন। ফলে বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে তার স্থান চিরস্থায়ী। তবে আপাতত তার ইসলাম গ্রহণের খবরটি কেবল গুঞ্জন হিসেবেই ভেসে বেড়াচ্ছে। রবার্তো কার্লোস নিজে মুখ না খোলা পর্যন্ত এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করার কোনো উপায় নেই।
ম্যানচেস্টার সিটি থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডে মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বার্সেলোনা। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী এ স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করেছে কাতালান ক্লাবটি। ২০১৯ সালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ছাড়ার পর প্রথমবারের মতো স্প্যানিশ ফুটবলে ফিরলেন রদ্রি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে, সোমবার (১৭ আগস্ট) লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রদ্রি বার্সেলোনায় পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে এবারের গ্রীষ্মের অন্যতম আলোচিত দলবদল কাহিনির পরিসমাপ্তি হলো। গত দুই মৌসুমে চোটের কারণে বেশ ভুগেছেন রদ্রি। তবে গত মাসে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের পথে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটিতে ৭টি শিরোপায় সমৃদ্ধ সময় কাটানোর পর সাবেক অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও ভিয়ারিয়ালের এ খেলোয়াড়ের রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিনি রিয়ালের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকেই বেছে নিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে প্রথম চার দিনের ম্যাচের জন্য বাংলাদেশ 'এ' দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ 'এ' দলের অধিনায়ক করা হয়েছে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে। আগামী ২৩-২৬ আগষ্ট প্রিটোরিয়াতে হবে প্রথম চারদিনের ম্যাচে। পচেস্ট্রুমে দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচ হবে ৩০ আগষ্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর। দুটি ম্যাচই শুরু হবে স্থানীয় সময় সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে। সাদা পোশাকের লড়াই শেষে ৫০ ওভারের তিনটি ম্যাচ খেলবে দুই দল। ৬, ৯ ও ১২ সেপ্টেম্বর হবে ম্যাচগুলো। প্রথম ম্যাচ ব্লুমফন্টেইনে, দ্বিতীয় ম্যাচ কিম্বার্লিতে ও শেষ ম্যাচটি হবে পচেস্ট্রুমে। বাংলাদেশ এ দল: নাইম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয়, শাহাদাত হোসেন দীপু, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (অধিনায়ক), জাকির হাসান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, পারভেজ হোসেন ইমন, হাসান মুরাদ, নাঈম হাসান, এনামুল হক, আল ফাহাদ, ইকবাল হোসেন ইমন, কালাম সিদ্দিকী অলিন।
টেস্ট ক্রিকেটে ছক্কার সেঞ্চুরি করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটার ঋষভ পান্ত। সবচেয়ে কম বলে ১০০ টেস্ট ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে লাহিরু কুমারার বলে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের ১০০তম টেস্ট ছক্কা পূর্ণ করেন পান্ত। একই শটে ৫৩ বলে ক্যারিয়ারের ২০তম টেস্ট ফিফটিও পূর্ণ করেন তিনি। ১০০ ছক্কায় পৌঁছাতে পান্ত খেলেছেন মাত্র ৪ হাজার ৯১৮ বল। এর আগে এই রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটার অ্যাডাম গিলক্রিস্টের দখলে। ১০০ ছক্কা পূর্ণ করতে গিলক্রিস্ট খেলেছিলেন ৬ হাজার ৫৭৮ বল। নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ৯ হাজার ৭৫৬ এবং ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস খেলেছিলেন ৯ হাজার ৪২ বল। টেস্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৩৮টি ছক্কা মেরেছেন স্টোকস। তবে ছক্কা মারার গতিতে পান্তই সবার ওপরে। গড়ে প্রতি ৪৯.২ বলে একটি করে ছক্কা মেরেছেন তিনি। এই তালিকায় দ্বিতীয় গিলক্রিস্ট, প্রতি ৬৭.৯২ বলে একটি ছক্কা তাঁর। ম্যাককালাম ও স্টোকসের ক্ষেত্রে হার যথাক্রমে ৯৩.৩৯ ও ৯০.০৫ বল। ভারতের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিকও এখন পান্ত। ১০০ ছক্কা নিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন বীরেন্দর শেবাগ (৯০), রোহিত শর্মা (৮৮) ও রবীন্দ্র জাদেজাকে (৮২)। তবে রেকর্ড গড়ার পর ইনিংসটি আর বেশি দূর এগিয়ে নিতে পারেননি পান্ত। ৬৯ বলে ৬৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। যদিও তাঁর বিদায়ের পরও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ভারত। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনেই তাদের লিড সাড়ে তিনশো রান ছাড়িয়ে গেছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ ও বিশ্বকাপ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনার প্রকাশ্যে বিরোধিতা ও কড়া সমালোচনা করায় সংস্থাটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) কেভিন লামোরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে লামোরের সঙ্গে ফিফার পেশাগত সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফিফার এক কর্মকর্তার বরাতে সোমবার এমনটাই জানিয়েছে দ্যা গার্ডিয়ান। ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ইউয়েফায় যোগ দেয়া লামোর পরবর্তীতে সংস্থাটির উপ-মহাসচিব হন এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফিফায় সিওও পদে যোগ দেন। ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পরই এর তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। লামোর অভিযোগ করেছিলেন যে, ফিফা প্রশাসনকে এই পরিকল্পনা নিয়ে প্রতারিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ইনফান্তিনো মনে করেন “তিনি নিজেই ফিফার প্রতিচ্ছবি, অথচ তার কাজ ফিফার সেবায় নিয়োজিত থাকা।” বিতর্কের মুখে গত ৩১ জুলাই পরিকল্পনাটি স্থগিত হওয়ার আগেই লামোর স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, সত্য বলার জন্য চাকরি হারাতেও তার কোনো দ্বিধা নেই। ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম ই-মেইলের মাধ্যমে লামোরের বিদায়ের কথা জানান। এক বিবৃতিতে ফিফার মুখপাত্র জানান, কেভিন লামোরের দুই বছরের সেবার জন্য তাকে ধন্যবাদ এবং তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করা হচ্ছে। তবে বরখাস্তের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সংস্থাটি। বিদায়ের আগে ল্যামুর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ফিফার সাধারণ কর্মীরা অবহেলা ও হুমকিস্বরূপ আচরণের চেয়ে ভালো কিছু পাওয়ার দাবিদার। ইনফান্তিনোর ঠিক দুই স্তর নিচের পদমর্যাদায় থাকা সত্ত্বেও চলতি মাসের শুরুতে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত শীর্ষ নির্বাহীদের বৈঠক থেকে লামোরকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এর আগে একই পরিকল্পনার প্রতিবাদে ইনফান্তিনোর সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করেন, যা দীর্ঘদিনের সহকর্মী ইনফান্তিনোর ওপর পদত্যাগের নতুন চাপ তৈরি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের রেশ এখনও কাটেনি। এই জয়ের মাহাত্ম্য কতটা, তার প্রমাণ মিলছে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের অভিনন্দন বার্তায়। দলের ম্যানেজার নাফীস ইকবাল বলেন, ‘প্রথম টেস্ট জয়ের পর আমি অন্যান্য বোর্ডের কর্মকর্তাদের থেকেও অভিনন্দন বার্তা পেয়েছি। এটাই বলে দেয়, এই জয়টা কত বড়।’ নাফীস বলেন, ‘শ্রীলংকা থেকে, পাকিস্তান থেকে পেয়েছি। এ রকম অনেক দেশ, যেখানে যেখানে আমরা গিয়েছি, যেখানে আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে, আফগানিস্তানসহ অনেক জায়গা থেকেই আমরা অভিনন্দন পেয়েছি। এদিকে ডারউইন অপেক্ষাকৃত ছোট শহর। সিডনি-ব্রিসবেন বা অন্য বড় শহরের চেয়ে বাঙালিও অনেক কম সেখানে। অথচ ছাত্র থেকে শুরু করে সেখানকার বাঙালি কমিউনিটি বাংলাদেশের খেলা উপলক্ষ্যে ছুটি নিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে নাফীস বলেন, ‘এখানে অনেক ছাত্র আছেন বা এখানকার কমিউনিটি যারা, অসাধারণ সমর্থন পেয়েছি। তারা এখানে কাজ করছেন বা ছুটি নিয়ে দলকে সমর্থন করতে এসেছিলেন। তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।’ অস্ট্রেলিয়াতেও বাংলাদেশের এই জয়কে বেশ সম্মানের চোখে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাফীস। টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি অস্ট্রেলিয়ানদের আলাদা গুরুত্বই সেটি আরও স্পষ্ট করেছে। নাফীস বলেন, ‘যখনই আমরা সকালে নাশতা করতে যাই বা যাদের সঙ্গেই দেখা হয়, তারা সব সময় সম্মান করছে যে, আমরা এখানে টেস্ট ম্যাচ খেলতে এসেছি। তারা টেস্ট ম্যাচকে খুব গুরুত্ব দেয়। সেই সম্মানটা এখন বেড়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, চাপের সময় অসিদের আসল চরিত্র বের হয়। আমাদের জন্য চ্যালিঞ্জং হবে। একই সঙ্গে আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হবে যে, এটা কীভাবে মোকাবিলা করব। আমরা যদি আমাদের প্রক্রিয়া ধরে রাখতে পারি তাহলে ভালো কিছুই হবে আশা করি।’ ডারউইনের জয় এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ। সেই ইতিহাসকে আরও বড় করার সুযোগ সামনে।
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর সংস্থা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বে অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রকাশ্য সমালোচনা করার কয়েক সপ্তাহ পরই তার বিদায়ের খবর এলো। এ বিষয়ে খবর জানিয়েছে রয়টার্স। ফিফা সোমবার (১৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জানায়, লামুরের সঙ্গে সংস্থাটির কর্মসম্পর্ক ওই দিনই শেষ হয়েছে। বিবৃতিতে তার প্রায় দুই বছরের সেবার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানানো হলেও তার বিদায়ের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। লামুর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে যোগ দেন। এর আগে ২০১৬ সালে ইনফান্তিনোকে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত করার প্রচারণায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। তবে গত মাসে বিশ্বকাপ ও অন্যান্য টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বে অংশীদারত্ব বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানান লামুর। তিনি অভিযোগ করেন, এই পরিকল্পনার বিষয়ে ফিফার কর্মীদের ‘বিভ্রান্ত করা হয়েছে’ এবং এটিকে ‘একজন ব্যক্তির প্রকল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেন। লামুর আরও বলেন, ফিফার লক্ষ্য হওয়া উচিত ফুটবনের সেবা করা, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থের সেবা করা নয়। তার মন্তব্যকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে ফিফার অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। ফিফার মুখপাত্র অবশ্য লামুরের বিদায়ের বিষয়ে এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে তার প্রকাশ্য সমালোচনার সঙ্গে পদত্যাগ বা চাকরির অবসানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। সূত্র: রয়টার্স
অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আরও ৪ দিন বাকি। তার আগেই বড় খবর এসেছে। এই ম্যাচের প্রথম দিনের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দিনের টিকিটও প্রায় শেষের পথে। ম্যাকেই শহরে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ হতে যাচ্ছে। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় ২২ থেকে ২৬ আগস্ট এই ম্যাচ হবে। এর আগে ডারউইনে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। বাংলাদেশ এই ম্যাচ ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতে নেয়। এই জয়ের পর ম্যাকেই টেস্টের টিকিটের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। ম্যাকেই অস্ট্রেলিয়ার ১২তম শহর যেখানে পুরুষদের টেস্ট ম্যাচ হচ্ছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, শনিবারের প্রথম দিনের সব সাধারণ টিকিট এবং করপোরেট প্যাকেজ শেষ হয়ে গেছে। তবে পরের দিনগুলোর টিকিট এখনও পাওয়া যাচ্ছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘নর্দান অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের প্রতি মানুষের এই উৎসাহ দেখে আমরা আনন্দিত। ম্যাকেই টেস্টের প্রথম দিনের টিকিট প্রথম বল হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাওয়াটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডারউইনে ২২ বছর পর টেস্ট ম্যাচ ফিরেছে, আর ম্যাকেইতে প্রথমবারের মতো টেস্ট হচ্ছে। নর্দার্ন টেরিটরি ও কুইন্সল্যান্ডের মানুষ এবং সারা অস্ট্রেলিয়া ও বিদেশের দর্শকদের মধ্যে এই সিরিজ নিয়ে দারুণ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।’ ম্যাকেই টেস্ট প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হবে। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনা আগে সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করলেও এই প্রথম এখানে পুরুষদের টেস্ট ম্যাচ হচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের এই সিরিজ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২৭ মৌসুম শুরু হচ্ছে। এরপর অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট খেলবে এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলবে। মার্চে এমসিজিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫০তম বার্ষিকী টেস্ট ম্যাচও হবে।
আবারও বার্সেলোনায় ফিরলেন সার্জিও বুসকেটস। তবে এবার আর ফুটবলার হিসেবে নয়, বার্সেলোনার রিজার্ভ দল বার্সা অ্যাটলেতিকের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করবেন তিনি। ৩৮ বছর বয়সী সাবেক এই বার্সেলোনা মিডফিল্ডার প্রধান কোচ জুলিয়ানো বেলেত্তির কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে বুসকেটস তার কোচিং কোর্সের ব্যাজ সম্পন্ন করছেন। কোর্সের অংশ হিসেবে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও কৌশল শেখাবেন তিনি। ২০২৩ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার পর বুসকেটস দেড় মৌসুমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে খেলেছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অবসর গ্রহণের পর থেকেই তার বার্সেলোনায় ফেরার কানাঘুষা চলছিল। শেষ পর্যন্ত অ্যাটলেতিকের সহকারী কোচ হিসেবে ঘরের ট্র্যাকে ফিরে এলেন এই স্প্যানিশ তারকা।
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে অজিদের বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয়ের পর বিশ্বের বিভিন্ন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পাচ্ছে নাজমুল হোসেনের দল। দলের ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার নাফিস ইকবাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ডারউইনে জয়ের পর বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ড ফোন করে ও মুঠোফোন বার্তায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। তিনি বলেন, যখনই আমরা সকালে নাশতা করতে যাই বা যাদের সঙ্গেই দেখা হয়, তারা সব সময় সম্মান করছে যে আমরা এখানে টেস্ট ম্যাচ খেলতে এসেছি। তারা টেস্ট ম্যাচকে খুব গুরুত্ব দেয়। সেই সম্মানটা এখন বেড়ে গিয়েছে। নাফিস বলেন, এই ম্যাচের পর আমি নানান জায়গা থেকে, অন্যান্য বোর্ডের কর্মকর্তাদের থেকেও অভিনন্দনবার্তা পেয়েছি। এটাই বলে দেয়, এই জয়টা কত বড়। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা থেকে পেয়েছি (অভিনন্দন), পাকিস্তান থেকে পেয়েছি। এ রকম অনেক দেশ, যেখানে যেখানে আমরা গিয়েছি, যেখানে আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে, আফগানিস্তানসহ অনেক জায়গা থেকেই আমরা পেয়েছি। সব জায়গা থেকে অভিনন্দন জানিয়ে মেসেজ আসছে। অস্ট্রেলিয়ায় এখানকার মানুষদের কাছ থেকেও দারুণ সম্মান আর অভিনন্দন পাচ্ছে জানিয়ে নাফিস বলেন, যখনই আমরা সকালে নাশতা করতে যাই বা যাদের সঙ্গেই দেখা হয়, তারা সব সময় সম্মান করছে যে আমরা এখানে টেস্ট ম্যাচ খেলতে এসেছি। তারা টেস্ট ম্যাচকে খুব গুরুত্ব দেয়। সেই সম্মানটা এখন বেড়ে গিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধন্যবাদ জানিয়ে নাফিস বলেন, এখানে অনেক ছাত্র আছেন বা এখানকার কমিউনিটি যারা, অসাধারণ সমর্থন পেয়েছি। তারা এখানে কাজ করছেন বা ছুটি নিয়ে পুরো টিমকে সাপোর্ট করতে এসেছিলেন। তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাদের ধন্যবাদ দিয়েছি। সবার সঙ্গে যদি দেখা না হয়ে থাকে, আপনাদের মাধ্যমে ধন্যবাদ দিতে চাই।
থিয়াগো মেন্দেসের সঙ্গে নেইমারের ‘শত্রুতা’টা বেশ পুরোনো। অনেক বছর হয়ে গেলেও সে শত্রুতা যেন মনে পুষে রেখেছেন দুজনে। সেটাই আবার বেরিয়ে এলো নেইমারের সান্তোসের সবশেষ ম্যাচে। নেইমারের সান্তোস আর মেন্দেসের ভাস্কো দা গামা মুখোমুখি হয়েছিল সবশেষ ম্যাচে। ম্যাচ শুরুর আগে করমর্দনের সময় থিয়াগো মেন্দেস ইচ্ছা করেই এড়িয়ে যান নেইমারকে। এই ঘটনার পরই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দুই ব্রাজিলিয়ান তারকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব। সাও জানুয়ারিওতে ভাস্কো দা গামা ও সান্তোসের ম্যাচের আগে এই ঠান্ডা লড়াই নজর কাড়ে সবার। এই মুহূর্তের ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নেইমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোতা আমানসিও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহোর একটি বিখ্যাত মন্তব্যের কথা টেনে আনেন তিনি। জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ও রোনালদিনহোর মধ্যকার এক গল্পের কথা উল্লেখ করেন তিনি, যেখানে রোনালদিনহো বলেছিলেন, প্রকৃত তারকারা সাধারণত সহজ-সরল স্বভাবের হয়, আর দুর্বল খেলোয়াড়দের মধ্যেই বেশি অহংকার দেখা যায়। দুই খেলোয়াড়ের এই বিরোধ নতুন কিছু নয়। ২০২০ সালে লিগ ওয়ানে পিএসজি ও লিওঁর ম্যাচে এক সহিংস ঘটনা থেকে এর শুরু। সেই ম্যাচে বিপজ্জনক ট্যাকলের জন্য লাল কার্ড দেখেন মেন্দেস। এতে গোড়ালিতে গুরুতর চোট পান নেইমার। পরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও সেই ঘটনার রেশ থেকে যায় দীর্ঘদিন। এ বছরের শুরুতে দুজনেই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ফিরলে আবার জমে ওঠে এই বিরোধ। সম্প্রতি এক ম্যাচের প্রথমার্ধে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডায় জড়ান তারা। মেন্দেসের মুখে হাত লাগার পর মাটিতে পড়ে যান নেইমার। দুজনেই এই ঘটনায় হলুদ কার্ড দেখেন। বিরতির সময় টানেলেও চলতে থাকে তাদের বাগবিতণ্ডা। সেই ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে মেন্দেসের চরিত্র নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেন নেইমার। স্পোর্তভিকে তিনি বলেন, ‘ও সবসময় ঝামেলা শুরু করতে চায়, সবসময় কঠিন লোক সাজতে চায়, এটাই তার স্বভাব। সব শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, ও একটা বোকা।’
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হারের পর এবার নতুন শঙ্কায় পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওভার শেষ করতে না পারায় স্লো ওভার রেটের অভিযোগ উঠেছে প্যাট কামিন্সের দলের বিরুদ্ধে। শনিবার তৃতীয় দিনের খেলায় অস্ট্রেলিয়া ৮৬ ওভার বল করে। নিয়ম অনুযায়ী, ছয় ঘণ্টার খেলায় একটি দলকে ন্যূনতম ৯০ ওভার সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকে। ফলে অস্ট্রেলিয়া চার ওভার পিছিয়ে ছিল। স্লো ওভার রেটের জন্য আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট কাটা যেতে পারে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ওপরও জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার একেকজন খেলোয়াড় টেস্টে ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ম্যাচ ফি পান। প্রতি ওভারের জন্য ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা হলে চার ওভারের ঘাটতিতে একজন খেলোয়াড়ের জরিমানা দাঁড়াতে পারে ৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ১১ খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে মোট জরিমানার পরিমাণ হতে পারে ৪৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ডব্লিউটিসি পয়েন্ট থেকে চার পয়েন্ট কেটে নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বর্তমানে ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট কমে ৮০-তে নেমে যেতে পারে। তবে শাস্তির সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। ম্যাচের পরিস্থিতি, গরম আবহাওয়া, উইকেট পতনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে ম্যাচ রেফারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল যদি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৮০ ওভার ব্যাট করার সুযোগ না পায় কিংবা দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৬০ ওভারের আগেই দুইবার অলআউট হয়ে যায়, তাহলে স্লো ওভার রেটের শাস্তি থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাট করায় এবার সেই ছাড় প্রযোজ্য হবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়। এর আগে ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টেও স্লো ওভার রেটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার চার ডব্লিউটিসি পয়েন্ট কাটা হয়েছিল। সেই পয়েন্ট হারানোর প্রভাব পড়েছিল ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়েও। বাংলাদেশের কাছে হারের ধাক্কার পর তাই মাঠের বাইরেও বড় শাস্তির শঙ্কায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
টানা দুই চ্যাম্পিয়নস লিগ ও উয়েফা সুপার কাপের শিরোপা জেতা পিএসজিকে মাটিতে নামিয়ে আনলো লেনস । ফ্রেঞ্চ কাপের ফাইনালে পিএসজিকে ১-০ গোলে হারিয়ে মৌসুমের শুরুতেই বড় অঘটনের জন্ম দিল তারা। স্তাদে বোলার্ট-দেলেলিসের ফাইনালে দুই দলই দেখেছে লাল কার্ড। ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল পিএসজির। তবে ৩২ মিনিটে স্রোতের বিপরীতে লেনসকে লিড এনে দেন অধিনায়ক ফ্লোরিয়ান থাউভিন। হাফটাইমের ৬ মিনিট আগে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কিলিয়ান আন্তোনিও। ১-০ গোলের লিড ও একজন কম ফুটবলার নিয়েই বিরতিতে যায় লেনস। পিএসজি শেষ দিকে ফ্যাবিয়ান রুইজের গোলে সমতার দেখা পেয়েছিল। কিন্তু গোলদাতা অফসাইডে থাকায় গোল বাতিল হয়। ম্যাচের চার মিনিট আগে মাইকেল স্কোরাসকে আঘাত করার জন্য লাল কার্ড দেখেন নুনো মেন্দেস। শেষ পর্যন্ত আর গোল শোধ করতে পারেনি পিএসজি। আর এতেই অবিশ্বাস্য এক শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতে লেনস।
স্পেনের তারকা মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে বার্সেলোনার তৃতীয় প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ৭ কোটি ৬৫ লাখ ইউরোর বিনিময়ে ৩০ বছর বয়সী এই তারকাকে কাতালান ক্লাবটির কাছে ছেড়ে দেওয়ার চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন। এর আগে রদ্রিকে দলে নিতে দুইবার প্রস্তাব দিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে দুই দফাতেই ম্যানচেস্টার সিটির কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়নি স্প্যানিশ ক্লাবটি। তৃতীয় প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, দুই ক্লাবের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিনিময় এবং চুক্তির আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বার্সেলোনায় যোগ দেবেন রদ্রি। চার বছরের চুক্তিতে তাকে দলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বার্সেলোনা বুধবার স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে আল আহলির বিপক্ষে হোয়ান গাম্পার ট্রফির ম্যাচের আগে রদ্রিকে সমর্থকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে। চলতি গ্রীষ্মের দলবদলে রদ্রিই বার্সেলোনার অন্যতম বড় সংযোজন হতে যাচ্ছেন। ফ্রি এজেন্ট হিসেবে হোয়াও কানসেলোও কাতালান ক্লাবে ফিরছেন। এ ছাড়া আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে এখনও নতুন স্ট্রাইকারের সন্ধানে রয়েছে বার্সা। রবার্ট লেভানডোভস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজের দিকে তাদের নজর রয়েছে। অন্যদিকে রদ্রির বিদায়ের পর তার বিকল্প হিসেবে চেলসির এনজো ফার্নান্দেজকে দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা করছে ম্যানচেস্টার সিটি। ২০১৯ সালে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ থেকে ৬২ দশমিক ৮ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন রদ্রি। ক্লাবটির হয়ে সাত মৌসুমে চারটি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি এফএ কাপ, তিনটি ইএফএল কাপ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ মোট ১২টি বড় শিরোপা জিতেছেন তিনি। হাঁটুর গুরুতর চোটের কারণে গত মৌসুমের বড় একটি অংশ মাঠের বাইরে ছিলেন রদ্রি। তবে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসে স্পেনকে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি। এবার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা যাবে এই ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকাকে।
পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ মহাতারকা জানিয়েছেন, আগামী বছরেই ফুটবলকে বিদায় বলে দিতে পারেন তিনি। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগাল অধিনায়ককে বিবেচনা করা হয় সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে। ২০০২ সালে স্পোর্তিংয়ের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রেয়াল মাদ্রিদ, ইউভেন্তুস ও বর্তমান ক্লাব আল নাস্রের হয়ে অনেক শিরোপা জিতেছেন তিনি। পাঁচবারের ব্যালন দ’র জয়ী রোনালদো তার অর্জনের তালিকায় বিশ্বকাপ শিরোপা যোগ করতে পারেননি। গত জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় তার দল পর্তুগাল। ফলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় পুরস্কারটি তার অধরাই রয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বরে রোনালদো বলেছিলেন, ‘এক বা দুই বছর’ খেলা চালিয়ে যাওয়ার আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে নিশ্চিত করেছিলেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফুটবল থেকে ঠিক কবে অবসর নেবেন, তা যদিও নির্দিষ্ট করে বলতে রাজি হননি তিনি। তবে রেয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি এখন বলছেন, ফুটবল-পরবর্তী জীবনের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন তিনি। লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-এ রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অবসরের ইঙ্গিত দেন রোনালদো। হয়তো এটাই ফুটবলে আমার শেষ বছর (মৌসুম) এবং আমি এক অসাধারণ লেগ্যাসি রেখে যেতে চাই।” এক হাজার ক্যারিয়ার গোলের পথে ছুটছেন রোনালদো। দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে এই ফরোয়ার্ড ক্লাব ও দেশের হয়ে ৯৭৬টি গোল করেছেন। পর্তুগালে গত মঙ্গলবার জর্জিনা রদ্রিগেসের সঙ্গে ১০ বছরের সম্পর্ককে বিয়ের বন্ধনে রূপ দেন রোনালদো। এর একদিন পর, বৃহস্পতিবার আল নাস্রের অনুশীলনে ফেরেন তিনি। শনিবার আল ফাতেহর বিপক্ষে লড়াই দিয়ে সৌদি প্রো লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরুর ম্যাচে যদিও তাকে খেলায়নি দলটি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেকর্ড গোলদাতা রোনালদোর পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ২৫তম মৌসুম এটি। অবসরের পর নানা উপায়ে সময় কাটাতে চান তিনি। “নিজেকে ব্যস্ত রাখার মতো এত কিছু করার আছে যে, আমি শুধু একটি বেছে নিতে পারব না। কারণ, ফুটবল (থেকে অবসর) বিশাল শূন্যতা তৈরি করতে পারে, তাই কেবল একটি দিয়ে নয়, বরং বিভিন্ন বিষয় দিয়ে তা পূরণ করতে হবে। এটা হবে আরও উপভোগ্য, আরও বেশি ভ্রমণ করা, প্যাডেল খেলা ও দেখা, যা আমি সত্যিই উপভোগ করি, আর আমি যা অর্জন করেছি বা আমরা যা অর্জন করেছি, তা উপভোগ করা চালিয়ে যাওয়া। কারণ, সর্বোপরি এই ২৫ বছর খুবই কঠিন ছিল।” আল নাস্র সঙ্গে রোনালদোর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের জুনে। ততদিনে তার বয়স হবে ৪২ বছর। এমন একটা সময়ে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন রোনালদো, যখন তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাবা হোর্হের মৃত্যুর পর গত বুধবার ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা বলেন, আর কতদিন খেলা চালিয়ে যাবেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
আগের ম্যাচে প্রথম বলে আউটের হতাশা ভুলে ঘুরে দাঁড়ালেন আদিল বিন সিদ্দিক। উপহার দিলেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। সঙ্গে জাওয়াদ আবরার ও খালিদ হাসানের ফিফটিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল গড়ল রানের পাহাড়। লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারল না মালয়েশিয়া জাতীয় দল। তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের জয় ২৩৭ রানে। সিরিজ জিতেছে তারা ৩-০ ব্যবধানে। বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে রোববার ৫০ ওভারে বাংলাদেশ করে ৭ উইকেটে ৩৬৯ রান। জবাবে ১০ ওভারের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। সেখান থেকে ১৩২ পর্যন্ত যেতে পারে তারা। বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার পথে ১৪ চার ও চার ছক্কায় ১১১ বলে ১৩৫ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ হন আদিল। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে জাওয়াদ আবরার ও মঈনুল ইসলাম। নবম ওভারের প্রথম বলে দলের রান হয়ে যায় ৮০। এরপরই উড়িয়ে মারার চেষ্টায় লং অফে ধরা পড়েন জাওয়াদ। ৩২ বলে পাঁচটি করে চার ও ছক্কায় ৫৩ রানে থামে তার ইনিংস। একাদশ ওভারে পুল করার চেষ্টায় উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মঈনুল। তার ২৭ বলের ইনিংসে ছয় চারে আসে ৩০ রান। দুই ওপেনারকে ফেরান আরিফ উল্লাহ। ৯৪ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে টানেন আদিল ও খালিদ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ১৭৫ রান। ১৭৬ বল স্থায়ী জুটিতে দুজনই ফিফটি পান একই ওভারে। ৬২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন খালিদ। পঞ্চাশ ছুঁতে আদিলের লাগে ৬৬ বল। এরপর রানের গতি বাড়িয়ে সেঞ্চুরির পথে দ্রুত এগিয়ে যান আদিল। পরের পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেন মাত্র ২৯ বলে। আরও অনেকটা এগিয়ে ৪৪তম ওভারে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। খালিদ থামেন ৭৩ রানে। ৮৬ বলে ছয় চার ও দুই ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি। পরে আর বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। রিজান হোসেন, আহরার আমিন ও পারভেজের ছোট ছোট ইনিংসে ভর করে সাড়ে তিনশ পার করে দল। রান তাড়ায় ধুঁকতে থাকা মালয়েশিয়া কখনোই ছন্দ পায়নি, ১০ ওভারে ৬৫ রান তুলতে হারায় ৬ উইকেট। দশে নামা প্রাশান্ত মাধুকারের ২৪ বলে ১৮ রানে ১৩২ পর্যন্ত যেতে পারে মালয়েশিয়া। ছয়ে নামা অধিনায়ক আজিজ ১৫ বলে করেন ২০ রান। প্রথম দুই ম্যাচে ৫টি করে উইকেট নেওয়া অফ স্পিনার শেখ পারভেজ হোসেনের শিকার এবার ৩টি। আরেক স্পিনার রাফিউজ্জামান রাফিও নেন ৩টি উইকেট। সংক্ষিপ্ত স্কোর বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ২৩ দল: ৫০ ওভারে ৩৬৯/৭ (জাওয়াদ ৫৩, মঈনুল ৩০, আদিল ১৩৫, খালিদ ৭৩, রিজান ১৫, আহরার ২৪, দেবাশিস ০, পারভেজ ২৩*, রাফি ০; আজিজ ১০-০-৭৮-৩, আরিফ ৮-০-৮৬-২, ভিজায় ৮-০-৬৮-০, প্রাশান্ত ৭-১-৫২-০, ভিরানদিপ ৮-০-২৮-০, আকিল ৪-০-২৩-০, আমির ৫-০-২৯-০) মালয়েশিয়া: ৩১.৪ ওভারে ১৩২ (আসলাম ১৫, সাইফ ০, ভিরানদিপ ৪, সাকিব ১৬, আকিল ১৫, আজিজ ২০, আমির ০, ভিজায় ১৬, আজাব ১৪, প্রাশান্ত ১৮*, আরিফ ৮; রাহিন ৭-১-৪২-২, রাফি ৮-১-৪২-৩, পারভেজ ৪.৪-১-১৩-৩, নুহায়েল ৬-২-১৪-১, আহরার ৪-০-১০-১, দেবাশিস ২-০-৮-০) ফল: বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ২৩ দল ২৩৭ রানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: আদিল বিন সিদ্দিক।
দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে পরনির্ভরশীলতা থেকে বের করে এনে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে এক হাজার ২৪৪ কোটি টাকার একটি 'সিড মানি' বা প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতির ব্যাপারে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথাও জানিয়েছেন সাবেক এই ফুটবলার। পাশাপাশি তিনি নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদও দিয়েছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে ১৪টি ফেডারেশনের নবনিযুক্ত এডহক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জানান, সুষমভাবে ফেডারেশনগুলোর মধ্যে সিড মানি বন্টন করা হবে। “অনুমোদিত এই সিড মানি বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর মাঝে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। এই সুবিশাল তহবিল থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ প্রতি বছর সরাসরি ফেডারেশনগুলোকে প্রদান করা হবে, যা দিয়ে তারা ফুটবল, হকি, আর্চারি, শুটিংয়ের মতো নিজ নিজ খেলাধুলার দৈনন্দিন কার্যক্রম ও খেলোয়াড়দের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবে। “লভ্যাংশের বাকি ২৫ শতাংশ মূল তহবিলের সাথে পুনর্বিনিয়োগ হিসেবে যুক্ত হবে, যেন ভবিষ্যতেও ক্রীড়া খাত টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো লাভ করতে পারে।” ক্রীড়াঙ্গনে দূর্নীতির ব্যাপারে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জোর দিয়ে বলেন আমিনুল। “বিগত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন ফেডারেশনে জমে থাকা দুর্নীতি ও অপকর্ম ইতোমধ্যে সরকারের নজরে এসেছে এবং বিভিন্ন সংস্থাও এগুলো তদন্ত করে কাজ করছে। অতীতে ক্রীড়া সংগঠকদের একাংশের মধ্যে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার যে ভুল ধারণা ছিল, তা ভেঙে ফেলতে হবে। আইন সবার জন্য সমান। দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের সাথে জড়িত কেউ প্রমাণসহ ধরা পড়লে কেবল সাংগঠনিক শাস্তিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে না, বরং সরাসরি দেশের প্রচলিত কঠোর আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে। একই সাথে নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।” ভবিষ্যৎ ক্রীড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট ক্রীড়া পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করার জন্য ফেডারেশনগুলোকে নির্দেশ দেন। এখন থেকে প্রতিটি ফেডারেশনকে জাতীয় পর্যায়ে বছরে সর্বনিম্ন চারটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধি পাঠাতে বা দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে অন্তত তিনটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রতি চার মাস পর পর তাদের পারফরম্যান্স কঠোরভাবে পর্যালোচনা বা রিভিউ করা হবে, বলেছেন তিনি। পর্যালোচনায় পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে নির্ধারিত ক্রীড়াবিদদের ভাতার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সম্ভাবনাময় নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
গল টেস্টের দ্বিতীয় দিনে প্রতিকূল আবহাওয়ার দাপট। বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর। নষ্ট হয়েছে ৫৫ ওভার। তবু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে ভারত। ৯ উইকেটে ৪৬০ রান করেছে শুবমান গিলের দল। প্রথম দিনের ২৮৮ রানের সঙ্গে আজ দ্বিতীয় দিনে আরো ১৭২ রান যোগ করেছে তারা। প্রথম দিনে ১৩১ রানে অপরাজিত থাকা দেবদূত পাডিক্কাল আজও দারুণ ব্যাটিং করেছেন। শেষ পর্যন্ত ১৬৭ রানে থামেন তিনি। পাডিক্কালের সঙ্গে ধ্রুব জুরেলও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান করেন ৫১ রান। তবে শ্রীলঙ্কার অভিষিক্ত অফ স্পিনার কেশারা নুয়ান্থার ৩ উইকেট স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করে দেয়। দিনের খেলা শুরু সময় স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে। শুরুতে ঋষভ পন্ত কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে একটি চার মারেন। কিন্তু দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। এরপর ব্যাটিংয়ে ফেরেন লোকেশ রাহুল। আগের দিন পেশিতে টান ধরায় ৭৭ রানে থাকতে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। আজ তিনি মাত্র ৫ রান যোগ করতে পারেন। রাহুল ফেরার পরও ভারতকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন পাডিক্কাল। উইকেট ছিল মোটামুটি ব্যাটিং উপযোগী। তবে স্পিনাররা বল ঘোরাতে পারছিলেন। ১৬৭ রানে থাকতে প্রভাত জয়াসুরিয়াকে ডাউন দ্য ট্র্যাকে গিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন পাডিক্কাল। কিন্তু বলে ব্যাটের সংযোগ না হওয়ায় স্টাম্পড হন তিনি। তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও একটি ছক্কা। পাডিক্কালের বিদায়ের পর ভারতের ওপর চাপ আরো বাড়ে। রবীন্দ্র জাদেজাও নুয়ান্থার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান। ফলে ৩৭৭ রানে ৬ উইকেট হারায় ভারত। এরপর পরিস্থিতি সামাল দেন ধ্রুব জুরেল ও মানব সুতার। জুরেল শুরুতে ২৯ রানে জীবন পান। স্লিপে তার ক্যাচ ফেলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জুরেল দ্রুত রান তুলতে থাকেন। লাহিরু কুমারার অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে এক ওভারেই তিনটি চার মারেন তিনি। সুতারের সঙ্গে গড়েন ৫৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তাদের ব্যাটেই ভারত ৪০০ রানের ঘর পার করে। অবশেষে নিজের ‘ভুলের প্রায়শ্চিত্ত’ করেন ধনঞ্জয়া। জুরেল ৫১ রান পূর্ণ করার পর স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে তাকে ফেরান। এরপর ভারতের নিচের সারির ব্যাটারা খুব বেশি রান যোগ করতে না পারলেও ৯ উইকেটে ৪৬০ রানের পাহাড় গড়ে। দ্বিতীয় দিন শেষে ভারত শক্ত অবস্থানে থাকলেও ম্যাচের ফল নিয়ে এখনো নিশ্চয়তা নেই। হাতে রয়েছে আর তিন দিন। তবে গলে আবারো বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সংক্ষিপ্ত স্কোর ভারত ১ম ইনিংস : ১১৬ ওভারে ৪৬০/৯ [পাডিক্কাল ১৬৭, রাহুল ৮২, জুরেল ৫১; জয়াসুরিয়া ৪/১০৯, নুয়ান্থা ৩/১৭৫] * ২য় দিন শেষে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১৬ আগস্ট) ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এই সাফল্য অর্জন করলো বাংলাদেশ। টাইগার দল যখন এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকেও দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরের টেস্টেও বাংলাদেশ ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের এই সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেবে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টেস্ট র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের দুর্দান্ত ও ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, কোচ, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, ওয়েল ডান বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম। ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এই লাল-সবুজ বিজয় সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত আনন্দ, গৌরব ও মর্যাদার। খেলোয়াড়দের চ্যালেঞ্জিং মেন্টাল স্ট্রেন্থ, এক্সেলেন্ট টিম স্পিরিট, সহনশীলতা এবং অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই এই অবিস্মরণীয় জয় সম্ভব হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতেও আমাদের ক্রিকেটাররা মাঠে যে ধৈর্য ও লড়াইয়ের মানসিকতা প্রদর্শন করেছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা এবং দেশ-বিদেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমী জনতাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আশা করি, এই ধারা বজায় রেখে ভবিষ্যতে আমাদের ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ও মর্যাদাকে আরও উচ্চে তুলে ধরবেন এবং দেশের জন্য আরও বড় অর্জন বয়ে আনবেন। আমি খেলোয়াড়দের সাফল্য, সুস্বাস্থ্য এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।