বাংলাদেশ ফুটবলে শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়। অভিজ্ঞ জার্মান-মার্কিন কোচ থমাস ডুলি জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করে ঢাকায় পৌঁছেছেন। শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (BFF) আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা দেয়। ৬৫ বছর বয়সী থমাস ডুলির রয়েছে সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ফুটবল অভিজ্ঞতা। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং ১৯৯৪ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেন। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তিনি দলের অধিনায়কত্বও করেন। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলেও তার ছিল সফল ক্যারিয়ার। কোচিংয়ে এসে তিনি কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কিংবদন্তি কোচ ইউর্গেন ক্লিন্সমান–এর সঙ্গে। পরে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফিলিপাইন ও গায়ানা দলের, যেখানে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও অর্জন করেন। বিশেষ করে তার অধীনে ফিলিপাইন প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয়—যা দেশের ফুটবলে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় দলে এখন বড় প্রত্যাশা ঘিরে নতুন যাত্রা শুরু করছেন ডুলি। দলে রয়েছেন ইউরোপে খেলা তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী এবং অধিনায়ক হামজা চৌধুরী। অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গড়াই তার মূল লক্ষ্য। এর আগে বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে ছিলেন স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। তার বিদায়ের পর থেকেই নতুন কোচ খোঁজ চলছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দায়িত্ব নিলেন থমাস ডুলি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এখন আশাবাদী—ডুলির অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় দেশের ফুটবল নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ নতুন কোচের দিকেই—তিনি কি পারবেন বাংলাদেশের ফুটবলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে?
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ফুটবল ইতিহাসে ১০০০ গোলের দেখা পাবেন, এই মাইলফলকটি এখন আর দূরের স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তবের দোরগোড়ায় রয়েছে। এই বিরল কীর্তি গড়ার বেশ কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন মিস্টার সি আর সেভেন। সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স দেখান এই পর্তুগিজ তারকা। দামাকের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে তিনি দুটি গোল করেন, যার মধ্যে একটি ছিল দৃষ্টিনন্দন ফ্রি-কিক। এই গোলের পর তার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৩-এ। ফলে ইতিহাসের ১০০০ গোল পূরণ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ২৭টি গোল। ৪১ বছর বয়সেও রোনালদোর গোল করার ধার অব্যাহত রয়েছে। চলতি মৌসুমে আল নাসরের হয়ে ৩৭ ম্যাচে তিনি ২৯টি গোল করেছেন এবং ৫টি অ্যাসিস্টও রয়েছে তার নামের পাশে। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে এবার আল নাসর সৌদি প্রো লিগের শিরোপাও জয় করেছে। ক্লাব ক্যারিয়ারে স্পোর্টিং সিপি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস ও আল নাসরের হয়ে তিনি অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন। জাতীয় দল পর্তুগালের হয়েও তিনি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে অবস্থান করছেন। এখন ফুটবলপ্রেমী এবং রোনালদো ভক্তদের একটাই অপেক্ষা—রোনালদো কবে ছুঁবেন ঐতিহাসিক ১০০০ গোলের মাইলফলক?
ক্যারিয়ারে ৭টি ফাইনাল খেলে ৭টিতেই চ্যাম্পিয়ন। এমন কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের। আকাশী-নীল জার্সিতে বিশ্বকাপ ও কোপাসহ চারটি ট্রফি জেতা এমি এবার অ্যাস্টন ভিলার হয়ে জিতলেন ইউরোপা লিগ ফাইনালে। যদিও টানা ১০ ফাইনালে শিরোপা জিতে এই রেসে এগিয়ে স্পেন ও বার্সেলোনা তারকা পেদ্রো। আর টানা ৯ ফাইনাল জেতা একমাত্র কোচ সাবেক রিয়াল বস জিনেদিন জিদান। গত বুধবার রাতে ৩০ বছরের অপেক্ষা ঘুচে বড় কোনো শিরোপা ঘরে তুললো অ্যাস্টন ভিলা। ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচ পূর্ব অনুশীলনে হঠাৎই আঙুলে চোট। অনিশ্চয়তায় যখন মার্টিনেজের ফাইনাল খেলা। তখন সব শঙ্কা দূরে ঠেলে ঠিকই গোলপোস্ট আগলে দাঁড়ালেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। ৩-০ গোলের জয়ে গড়লেন দারুণ এক কীর্তি। এর মাধ্যমে ক্যারিয়ারে ৭টি ফাইনাল খেলে সবকটিতেই শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়লেন তিনি। ট্রফি জয়ের শুরুটা আর্সেনালের হয়ে ২০২০ সালে। চেলসিকে হারিয়ে এফএ কাপ জয়। একই মৌসুমে লিভারপুলকে হারিয়ে কমিউনিটি শিল্ড চ্যাম্পিয়ন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের প্রথম ফাইনালেও ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন এমি। ২০২১ কোপা আমেরিকার সেই ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। পরের বছর ফিনালিসিমায় ইতালিকে হারানোর মধ্য দিয়ে মার্টিনেজ ধরে রাখেন শিরোপা যাত্রা। তবে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটি এমিলিয়ানো মার্টিনেজ উঁচিয়ে ধরেন কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে। অতিরিক্ত সময়ে চুয়ামেনির নিশ্চিত গোল ফিরিয়ে দেওয়ার পর টাইব্রেকারেও ছিলেন অতিমানবীয়। বিতর্কিত উদযাপনে খবরের শিরোনাম হলেও ফুটবল বিশ্বকে নিজের জাত চেনান এমি। আর্জেন্টিনার হয়ে চতুর্থ শিরোপা জিতে ২০২৪ কোপা আমেরিকায়। ফাইনালে কলম্বিয়াকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় কোপা ট্রফি জেতেন এই আকাশী-নীল তারকা। সবশেষ বুধবার রাতে অ্যাস্টন ভিলার ৩০ বছরের আক্ষেপ ঘুচানোর সঙ্গে ক্যারিয়ারের ৭ম ট্রফি জিতলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। সেটিও আবার ৭টি ফাইনালে অপরাজিত থেকে। যদিও এই কীর্তি এমির একার নয়। স্পেন ও বার্সেলোনা তারকা পেদ্রো আগেই পেয়েছেন ফাইনাল স্পেশালিস্ট তকমা। বিশ্বকাপ, ইউরো ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ জিতেছেন টানা ১০ ফাইনালে। এই তালিকায় আছে কোচ জিনেদিন জিদানের নাম। রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে থেকে প্রথম ৯ ফাইনালের সবকটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন এই ফরাসি তারকা।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পরবর্তী প্রধান কোচ কে হচ্ছেন— তা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম প্রকাশ না করলেও, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে হামজা চৌধুরী ও সোমিতদের নতুন দায়িত্ব নিতে আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালেই এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও ফুটবল ব্যক্তিত্ব থমাস ঢুলির। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জাতীয় দলের আসন্ন কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরুর আগেই নতুন কোচকে ঢাকায় উড়িয়ে আনা হচ্ছে। বাফুফে সভাপতি ও জাতীয় দল কমিটির প্রধান তাবিথ আউয়াল শুরু থেকেই জোর দিয়ে আসছিলেন যে, ক্যাম্পের প্রথম দিন থেকেই নতুন কোচ দলের সঙ্গে থাকবেন। আগামী ২৩ মে দেশের ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি মৌসুমের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর ঠিক পরদিন থেকেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে জাতীয় ফুটবল দলের নতুন ক্যাম্প। সেই সূচি মাথায় রেখেই লিগ শেষ হওয়ার দুই দিন আগেই নতুন কোচকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। এর আগে বাফুফের জাতীয় দল কমিটির সর্বশেষ সভায় ওয়েলসের কোচ কোলম্যানকে ডেরায় ভেড়ানো সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা কোচদের মধ্য থেকে থমাস ঢুলিকে বেছে নেওয়ার চূড়ান্ত দায়িত্ব সভাপতি তাবিথ আউয়ালের ওপরই ন্যস্ত করেছিল কমিটি। অবশেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাতীয় দল কমিটির অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আজ সকালে নতুন কোচের ঢাকায় আসার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। নতুন কোচের আগমনের আবহ তৈরি হয়েছিল মূলত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই, যখন বাফুফে তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বিদায়ী স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানায়। ক্যাবরেরার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন অধ্যায়ের খোঁজে থাকা বাফুফে ইতোমধ্যেই থমাস ঢুলিকে বরণ করে নিতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে। আজ ঢাকায় এসে পৌঁছানোর পর নতুন এই কোচকে একটি স্থানীয় ক্রীড়া বিষয়ক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বাফুফের। তবে প্রোটোকল অনুযায়ী, সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক কোনো পরিচয় পর্ব বা কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে না। ঢাকায় বাফুফের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হবে। খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে থমাস ঢুলির প্রোফাইল বেশ হেভিওয়েট। তিনি এর আগে ফিলিপাইন জাতীয় দলকে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করিয়েছিলেন। সর্বশেষ গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি এবং সেখান থেকে পদত্যাগ করার পরই মূলত বাংলাদেশের কোচ হওয়ার আলোচনা গতি পায়। খেলোয়াড় হিসেবেও তার ক্যারিয়ার দারুণ বর্ণাঢ্য; জার্মান বুন্দেসলিগার শীর্ষ ক্লাবে খেলার পাশাপাশি আমেরিকার জাতীয় দলের হয়ে ১৯৯৪ এবং ১৯৯৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। যার মধ্যে ১৯৯৮ সালের বিশ্বমঞ্চে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলকে নেতৃত্ব দেন। তবে ঢুলির এই নিয়োগ নিয়ে ফুটবলার ও সমর্থকদের একটি অংশ পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। থমাস ঢুলিকে প্রধান কোচ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গত দুই দিন ধরে বাফুফে ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন একদল সমর্থক এবং আজকেও তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি রয়েছে বলে জানা গেছে।
দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর, আচমকাই পেনাল্টিতে গোল হজম করে আল নাস্র। তবে দারুণ এক ফ্রি কিকে দলকে দুর্ভাবনায় পড়তে দেননি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। দামাককে হারিয়ে ছয় মৌসুম পর লিগ চ্যাম্পিয়ন হলো আল নাস্র। আল-আওয়াল পার্কে বৃহস্পতিবার সৌদি প্রো লিগের শেষ রাউন্ডে ৪-১ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। সাদিও মানের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান কিংসলে কোমান। দামাক ব্যবধান কমানোর পর, দলের পরের দুটি গোল করেন রোনালদো। ইউরোপীয় ফুটবলের পাঠ চুকিয়ে ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর পর, সেখানে এই প্রথম মেজর কোনো শিরোপার স্বাদ পেলেন রোনালদো। ৩৪ ম্যাচে ২৮ জয় ও দুই ড্রয়ে চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্ট ৮৬। আল নাস্রের এটা একাদশ শিরোপা। এর আগে সবশেষ তারা জিতেছিল ২০১৮-১৯ মৌসুমে। আরেক ম্যাচে আল ফায়হাকে ১-০ গোলে হারানো আল হিলাল ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ। আরও ১২টি দলের সঙ্গে একই সঙ্গে মাঠে নামে দুই শিরোপাপ্রত্যাশী। রোনালদোরা যেখানে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতেই ভুগছিল, সেখানে আরেক মাঠে তৃতীয় মিনিটেই সুলতান মানদাশের গোলে এগিয়ে যায় আল হিলাল। তাতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুইয়েও ওলট-পালট হয়। যদিও তা অল্প সময়ের জন্যই। নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে টানা আক্রমণ শুরু করে নাস্র এবং ৩৪তম মিনিটে এগিয়ে যায় তারা; কের্নারে হেডে গোলটি করেন মানে। দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নাস্র। ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান ফরাসি উইঙ্গার কোমান। ছয় মিনিট পর পেনাল্টি পেয়ে সফল স্পট কিকে ব্যবধান কমান মোরলায়ে। যদিও তাদের সেই একটু স্বস্তিও বেশিক্ষণ থাকেনি। ৬৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাঁদিক থেকে সরাসরি ফ্রি কিকে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান রোনালদো। আর ৮১তম মিনিটে প্রতিপক্ষের দুর্বলতায় ছয় গজ বক্সের ডান দিকে বল পেয়েই বুলেট গতির শটে জয়টা একরকম নিশ্চিত করে ফেলেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। এবারের লিগে পর্তুগিজ তারকার গোল হলো ২৮টি। হাজার গোলের পানে ছুটে চলা রোনালদোর ক্যারিয়ার গোল হলো ৯৭৩টি। শেষ দিকে একসঙ্গে রোনালদো ও মানেকে তুলে নেন কোচ। তবে এতে খেলায় কোনো প্রভাব পড়েনি। এক মুহূর্তের জন্যও যেন তাদের মুখে হাসি থামেনি।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য গত ১৫ মে দল ঘোষণা করেছে জাপান। স্কোয়াডে ওয়াতারু এন্দো, তাকেফুসা কুবো, তাকেহিরো তোমিয়াসু কিংবা জিয়ন সুজুকির মতো ইউরোপে পরিচিত তারকাদের উপস্থিতি থাকলেও সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন নাগাতোমো। ইন্টার মিলানে সাত বছর এবং ইউরোপে এক দশকের বেশি সময় কাটানো নাগাতোমো এখনও জাপানের নির্ভরতার প্রতীক। প্রায় ১৫ বছর আগে বিশ্বকাপ মঞ্চে যাত্রা শুরু করা এই ডিফেন্ডার বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনও সমান গতিতে ছুটছেন মাঠজুড়ে। টোকিও এফসির এই মিডফিল্ডার-ডিফেন্ডারের পঞ্চম বিশ্বকাপ যাত্রা এখন জাপান তো বটেই, পুরো এশিয়ান ফুটবলের জন্যই অনুপ্রেরণার গল্প। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু হয়েছিল নাগাতোমোর বিশ্বকাপ যাত্রা। এরপর ব্রাজিল ২০১৪, রাশিয়া ২০১৮ এবং কাতার ২০২২; প্রতিটি আসরেই জাপানের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ছিলেন তিনি। চারটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১৪টি ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজের প্রথম বিশ্বকাপে খেলেছিলেন চার ম্যাচ। এরপর ২০১৪ সালে তিনটি, ২০১৮ সালে চারটি এবং ২০২২ সালে আরও তিনটি ম্যাচে মাঠে নামেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার খেলোয়াড়দের মধ্যেও এমন ধারাবাহিকতা খুব কমই দেখা যায়। তবে নাগাতোমোর কীর্তি শুধুই সংখ্যার গল্প নয়। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে ধরে রাখার পেছনে রয়েছে তার অসাধারণ শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং মানসিক দৃঢ়তা। জাপান দলে তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার অন্যতম বড় প্রতীক। সমর্থকদের কাছে নাগাতোমো নির্ভরতার নাম। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের পাশে দাঁড়ানো এই ডিফেন্ডার সতীর্থদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস। বয়স বাড়লেও তার ফিটনেস, গতি ও আত্মনিবেদন এখনও তরুণদের জন্য উদাহরণ হয়ে আছে। নাগাতোমোর এই পঞ্চম বিশ্বকাপ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এশিয়ান ফুটবলের জন্যও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন, এশিয়ার একজন ফুটবলারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে দীর্ঘ সময় নিজের ছাপ রেখে যেতে পারেন। জাপানের ফুটবল যখন ধারাবাহিকভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে, তখন নাগাতোমো হয়ে উঠেছেন দলটির অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি। তার সম্ভাব্য পঞ্চম বিশ্বকাপ তাই একদিকে যেমন ব্যক্তিগত মহিমার প্রতীক, অন্যদিকে এশিয়ান ফুটবলের অনুপ্রেরণার গল্পও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে লিখিয়েছেন ইউতো নাগাতোমো। ২০২৬ সালে মাঠে নামতে পারলে সেই নাম আরও উজ্জ্বল হয়ে থাকবে এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে।
ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কারণে আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল করেছে কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) ফুটবল দল। দেশটির পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দক্ষিণ কিভু প্রদেশে নতুন একটি সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। খবর বিবিসি দলটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কিনশাসায় প্রস্তুতি ক্যাম্প হওয়ার কথা থাকলেও এটি এখন বেলজিয়ামে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি জেরি কালেমো জানান, ইউরোপে নির্ধারিত প্রস্তুতি ম্যাচগুলো আগের মতোই অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩ জুন ডেনমার্কের বিপক্ষে বেলজিয়ামে এবং ৯ জুন চিলির বিপক্ষে স্পেনে প্রীতি ম্যাচ খেলবে দলটি।
পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ৩৭তম শিরোপা জয় করেছেন। দীর্ঘদিন পর ট্রফি খরা কাটিয়ে আল-নাসরের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ জোড়া গোল (ব্রেস) পূর্ণ করেন। খেলায় ডামাককে ৪-১ গোলে পরাজিত করে আল-নাসর বহুল প্রতিক্ষিত এই শিরোপা জয়ের পর মাঠেই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই কিংবদন্তি। রোনালদো তার ক্যারিয়ারের জেতা ৩৭টি ট্রফির মধ্যে ২৭টিতেই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। বাকি ১০টি শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রেও তিনি তার দলের শীর্ষ ৩ গোলদাতার মধ্যে ছিলেন। রোনালদো তার ক্যারিয়ারের জেতা ৩৭টি ট্রফির মধ্যে ২৭টিতেই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। বাকি ১০টি শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রেও তিনি তার দলের শীর্ষ ৩ গোলদাতার মধ্যে ছিলেন।
আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। দেশ ছাড়ার আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই কমিশন টাইগ্রেসদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ,-এর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী-এর কন্যা। ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ক্রিকেট বাংলাদেশ ও যুক্তরাজয়ের মানুষের মধ্যে একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করেছে। তিনি বাংলাদেশ নারী দলকে শুভকামনা জানিয়ে বলেন, “আমরা খুব আনন্দিত বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে স্বাগত জানাতে পেরে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।” তিনি আরও জানান, এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের গ্রুপে না থাকায় তিন দলকেই সমর্থন জানাতে তার কোনো দ্বিধা নেই। তার এ মন্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা করতালিতে সাড়া দেন। বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের সংগ্রামের গল্প দেশের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা। অনুষ্ঠানে অধিনায়ক ব্রিটিশ হাইকমিশনারের হাতে বাংলাদেশের জার্সি তুলে দেন। বিসিবির পক্ষ থেকে স্মারক প্রদান করেন পরিচালক সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ। পরে নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন সারাহ কুক ও জাইমা রহমান। জ্যোতি জানান, জাইমা রহমান ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং বিশ্বকাপের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যে দেশে খেলতে যাচ্ছি, সেই দেশের দূতাবাস থেকে এমন আয়োজন আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা।” বাংলাদেশ দলের পেসার-কে দলের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। তার মতে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশন পেস বোলিংয়ের জন্য সহায়ক হওয়ায় মারুফা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ পড়তেই দেখা যাচ্ছে ধর্ষণের খবর। নেটিজেনরা পল্লবীতে আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধিক্কার জানাচ্ছেন। অনেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছেন। বাদ যাননি দেশের ক্রিকেটাররাও। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল, টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর পাশাপাশি লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসানরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পল্লবীর ধর্ষণের ঘটনায় বিচার চেয়েছেন। তামিম নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর ছবি পোস্ট করে বিচার চেয়েছেন। টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে হাসতে পারবে, ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বড় হবে। আর কোনো রামিসার জীবন যেন এভাবে থেমে না যায়। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, আর দোষীদের এমন শাস্তি হোক যা সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’ মুশফিক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর ছবি পোস্ট করে বিচার চেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলা এই ব্যাটার লিখেছেন, ‘আজ সকালে খবরটা শুনে আমি পুরোপুরি হতবাক। নিরাপত্তা, ভালোবাসা এবং সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য ছিল। এমন ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা নয়। আমি এই নিষ্পাপ শিশুটির জন্য দ্রুত এবং যথাযথ বিচার দাবি করছি, কোনো পরিবারকেই যেন এই ধরনের যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।’ কন্যা সন্তানের বাবা হওয়ায় লিটনের চাওয়া পল্লবীর মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিখেছেন, ‘কন্যা সন্তানের বাবা হিসেবে খবরটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমাদের সন্তানদের নিরাপদ পৃথিবী প্রাপ্য, যেখানে তারা কোনো ভয় ছাড়াই বড় হতে পারবে। দ্রুত বিচার হওয়া উচিত। আসুন উচ্চকণ্ঠে বলি—এ ধরনের অপরাধে কঠোরতম শাস্তিই প্রাপ্য। আর কখনোই এমন ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্ত চাই না।’ রামিসার হত্যার দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে সাকিব আল হাসান লিখেছেন, ‘একটি শিশুর কান্না শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, এটি পুরো সমাজের ব্যর্থতার প্রতিধ্বনি। যারা নিষ্পাপ শৈশবকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংসতায় ধ্বংস করে, তারা মানবতার শত্রু। ন্যায়বিচার বিলম্বিত মানেই অন্যায়ের সাহস বাড়ানো। রামিসার জন্য দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ উল্লেখ্য, পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে এরই মধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের ঘটনায় যারা পোস্ট দিয়েছেন, তাদের পোস্টে বেশির ভাগ প্রতিক্রিয়াই দুঃখজনক। অনেকে প্রতিবাদের ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির নির্বাচন। এরই মধ্যে পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ১৯ জন প্রার্থী। গত ১৬ মে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে বিসিবি। সেই অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দুই দিনে প্রার্থীদের মধ্যে বেশ উৎসাহ দেখা গেছে। বিসিবিতে মোট ১৮৪টি কাউন্সিলরশিপ জমা পড়েছে। তবে কয়েকটি জেলা ও সংস্থা থেকে কাউন্সিলরশিপ জমা না পড়ায় সংখ্যা আটটি কম রয়েছে। ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অধিনায়ক, ফাহিম সিনহা, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, ইয়াসির আব্বাস, আসিফ রাব্বানি, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল বাবু, বোরহানুল ইসলাম, ইয়াসির আশিক, লুৎফর রহমান বাদল, ফায়জুর রহমান ভূঁইয়া, ফায়াজুর রহমান মিতু, শাহনিয়ান তানিম ও আমজাদ হোসেন। অন্যদিকে জেলা ও বিভাগীয় ক্যাটাগরি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন আরও ১৯ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগ থেকে চারজন, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ থেকে তিনজন করে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েছেন। এছাড়া রংপুর, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগ মিলিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন আরও ১০ জন। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এদিকে ক্যাটাগরি ‘সি’ থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজউদ্দিন আলমগীর। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হিসেবে জোরালোভাবে আলোচনায় থাকা থমাস ঢুলি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকায় পৌঁছাচ্ছেন। শুক্রবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার রাজধানীতে আসার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও ঢুলির আগমনকে কেন্দ্র করে ফুটবলাঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই জাতীয় দলের কোচ নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। বাফুফে সভাপতি একাধিকবার জানিয়েছেন, জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগেই নতুন কোচ দায়িত্ব নেবেন। সেই ধারাবাহিকতায় থমাস ঢুলির আগমনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৩ মে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর থেকেই জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা। নতুন কোচকে ক্যাম্পের আগেই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে চায় বাফুফে। জাতীয় দল কমিটির সাম্প্রতিক সভায় ওয়েলসের কোচ ক্রিস কোলম্যানকে আনার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। এরপর সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা কয়েকজন কোচের মধ্যে থমাস ঢুলির নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। জানা গেছে, কোচ নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব ছিল সভাপতি তাবিথ আউয়ালের ওপর। এরই মধ্যে সাবেক কোচ-র সঙ্গে বাফুফের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাফুফের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তাকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ও জানানো হয়েছে। থমাস ঢুলির কোচ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গত দুই দিন বাফুফে ভবনের সামনে একদল সমর্থক বিক্ষোভ করেছেন এবং শুক্রবারও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে থমাস ঢুলি গায়ানা জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি ফিলিপাইনকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে তুলেছিলেন। কোচিং ক্যারিয়ারে জাতীয় দল ও ক্লাব ফুটবলে তার রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি জার্মান বুন্দেসলিগায় খেলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অংশ নেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়কও ছিলেন।
২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এবার ঘরের মাঠে ব্যাট-বল হাতে দাপট দেখিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে আবারও হোয়াইটওয়াশ করেছে টাইগাররা। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি দেখে মুগ্ধ পাকিস্তানের দুই সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম ও রশিদ লতিফ। মিরপুরে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সিলেটে পরের টেস্ট ৭৮ রানে জিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকরাম লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের টানা দ্বিতীয় হার দেখাটা সত্যিই হতাশাজনক। তবে বিজয়ীদের পুরো কৃতিত্ব দিতেই হবে। কারণ তারা সেরা ক্রিকেট খেলেছে। একসময় বাংলাদেশের উইকেট মানেই ছিল মন্থর, নিচু ও স্পিন-সহায়ক। কিন্তু উদীয়মান পেসারদের সহায়তায় এখন তারা চমৎকার টেস্ট উইকেট বানাচ্ছে, যারা গতিতে পাকিস্তানকে বিপদে ফেলেছে।’ বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানার প্রশংসা করেছেন আকরাম, ‘টেস্ট সংস্করণে সেরা দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করার জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশ। নাহিদ রানা হলো- অসাধারণ এক প্রতিভা। তার বোলিং পারফরমেন্স চোখ জুড়ানো। অভিনন্দন বাংলাদেশ।’ পাকিস্তানের টিভি চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লতিফ বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক উন্নতি হয়েছে। দুই বছর আগে পাকিস্তান সফরে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে সিরিজ জিতল। বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়ে গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রিকেট খেলেছে তারা। দুই টেস্টেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে দলটি। অনেক রানও করেছে। নতুন বল হাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের তৃণমূল ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও ‘এ’ দল, সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের পরিশ্রমও চোখে পড়েছে। বাংলাদেশ সত্যিই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে।’ দুই টেস্টের চার ইনিংসেই পাকিস্তানকে অলআউট করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। কোন ম্যাচেই লিড নিতে পারেনি পাকিস্তান। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা ইনিংসে ৫টি করে উইকেট নেন। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। বাংলাদেশের পেসার ও স্পিনারদের প্রশংসা করে লতিফ বলেন, ‘পেসার ও স্পিনাররা খুব ভালো পারফরমেন্স করেছে। উইকেট খুব বেশি সাহায্য না করলেও স্পিনাররা বড় অবদান রেখেছে। এটা পুরোনো বাংলাদেশ নয়, যারা শুধু টার্নিং ট্র্যাক বানিয়ে জিততে চাইত। এখন বাংলাদেশ পেসার ও স্পিনার দুটো দিয়েই জেতার চেষ্টা করছে।’ হোয়াইটওয়াশ হলেও, পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন লতিফ। পাকিস্তানও ভালো ক্রিকেট খেলেছে বলে জানান তিনি। লতিফ বলেন, ‘পাকিস্তান ভালো লড়াই করেছে। এটা বলা যাবে না, তারা খুব খারাপ ক্রিকেট খেলেছে। প্রথম টেস্টে জয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু পারেনি। দ্বিতীয় টেস্টে ৪৩৭ রান, অনেক বড় লক্ষ্য ছিল। পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে, শেষ পর্যন্ত লড়াইও করেছে।’
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর সাত বছরের শিশুকে হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের ভেরিফায়েড পেইজে পোস্ট করেছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল, বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিসহ আরও অনেকেই। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে ভুক্তভোগী শিশুর গ্রাফিকস ছবি পোস্ট করেছেন তামিম। পোস্টে তামিম লিখেছেন, ‘রামিসা হত্যার বিচার চাই।’ ভুক্তভোগী শিশুর স্কেচ ছবি পোস্ট করে শান্ত লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে হাসতে পারবে, ভয় যেন না পায় এবং স্বপ্ন নিয়ে বড় হবে। আর কোনো রামিসার জীবন যেন এভাবে থেমে না যায়। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করু। আর দোষীদের এমন শাস্তি হোক, যা সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’ রামিসা হত্যাকান্ডের বিচার চেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও। তিনি লিখেছেন, ‘আজ সকালে খবরটা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছি। ছোট্ট রামিসার নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর আশ্রয় পাওয়ার কথা ছিল। এমন ভয়ানক নিষ্ঠুরতা আর নয়। এই নিষ্পাপ শিশুর জন্য দ্রুত ও সঠিক বিচার জোরালোভাবে দাবি করছি। কোনো পরিবার যেন কখনও এমন অসহনীয় কষ্ট ও ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে না যায়।’ সাত বছরের শিশু হত্যার বিচার চেয়েছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসও। এক পোস্টে লিটন লিখেন, ‘কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে খবরটি শোনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মর্মান্তক। এ ধরনের ঘটনা কোন সমাজেই সহ্য করা যায় না। আমাদের সন্তানদের জন্য এমন একটি নিরাপদ পৃথিবী প্রয়োজন, যেখানে তারা ভয় ছাড়া বড় হতে পারে। যেকোনো অন্যায়ের সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন। রামিসার ক্ষেত্রেও দ্রুত বিচার হতে হবে। আমরা যখন রামিসার জন্য সমস্বরে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি, তখন স্পষ্টভাবে বলি, এই ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তি প্রাপ্য। আমরা আর কখনও এমন কোনো ট্র্যাজেডি আর দেখতে চাই না।’ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে জ্যোতি লিখেছেন, ‘ফুল ফুটবে না, ফুল ফুটবে না, ফুল আর ফুটবে না, ফুল আর কখনও ফুটবে ন। রামিসা হত্যার বিচার চাই। জাস্টিস ফর রামিসা।’
অবশেষে এশিয়ার শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতা এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-এ অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের একটি ক্লাব। বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টারস আসন্ন আসরে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। গত ১৯ মে ছিল এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাব নিবন্ধনের শেষ দিন। ওই দিনই রাজশাহী স্টারস আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দেয়। কয়েক দিনের পর্যালোচনার পর এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) আবেদন অনুমোদন করলে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশের জাতীয় দল টানা দুইবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হলেও দেশের কোনো ক্লাব গত দুই আসরে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেয়নি। ফলে জাতীয় দলের ফুটবলারদের বিদেশি ক্লাবের হয়ে খেলতে হয়েছে। নবাগত দল রাজশাহী স্টারস জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও রুপ্না চাকমাসহ একঝাঁক খেলোয়াড় নিয়ে দল গঠন করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রথমদিকে আর্থিক ও সাংগঠনিক কারণে এএফসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখালেও পরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর অনুরোধে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে রাজশাহী স্টারস। ক্লাবটির স্বত্বাধিকারী মোখছেদুল কামাল বাবু বলেন, “আমরা বাংলাদেশেই খেলতে চাই। বাফুফেকে অনুরোধ করেছি যেন আমরা স্বাগতিক হওয়ার সুযোগ পাই।” আগামী আগস্টে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তৃতীয় আসর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন এবার বাস্তবের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের সূত্র অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হচ্ছে। জানুয়ারিতেই তিনি ক্লাব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ফলে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে মেজর লিগ সকারে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, লিগের দ্বিতীয় ট্রান্সফার উইন্ডোতে তিনি লিওনেল মেসির বর্তমান ক্লাবে যোগ দিতে পারেন। এর আগে এই সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে আলোচনা করেছিল দ্য অ্যাথলেটিক। ৩৪ বছর বয়সি সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল অন্য ক্লাবও, যার মধ্যে রয়েছে এলএ গ্যালাক্সি এবং সৌদি আরবের ক্লাব আল-ইত্তিহাদ। তবে খবর অনুযায়ী, ক্যাসেমিরোর প্রথম পছন্দ ছিল ইন্টার মিয়ামি। তবে এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে মিয়ামিকে এমএলএসের কিছু নিয়মগত সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করতে হবে। লিগের নিয়ম অনুযায়ী, একটি ক্লাবে সর্বোচ্চ তিনজন ‘ডেজিগনেটেড প্লেয়ার’ রাখা যায়। বর্তমানে সেই তিনটি জায়গা দখল করে আছেন লিওনেল মেসি, রদ্রিগো দি পল এবং জর্দি আলবা। এছাড়া এলএ গ্যালাক্সির সঙ্গে থাকা ‘ডিসকভারি রাইটস’ সম্পর্কিত জটিলতাও মেটাতে হবে মিয়ামিকে। নিয়ম অনুযায়ী, যেই ক্লাব প্রথমে খেলোয়াড়ের জন্য বিড করে, তারা তার সঙ্গে আলোচনার অগ্রাধিকার পায়। তাই চুক্তি সম্পন্ন করতে হলে গ্যালাক্সির কাছ থেকে সেই অধিকার কিনে নিতে হবে। সব বাধা কাটিয়ে চুক্তি চূড়ান্ত হলে ক্যাসেমিরোকে দেখা যেতে পারে মেসিদের পাশে। তবে আপাতত তার পুরো মনোযোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক দায়িত্বে—আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল দলে জায়গা ধরে রাখা এবং জাতীয় দলের মিশন সফল করা।
একটি স্টাম্প মুশফিকের হাতে তুলে দেন একজন মাঠকর্মী। শেষ উইকেট নেওয়ার পরই বলটি পকেটে রেখে দেন তাইজুল ইসলাম। যে যেভাবে পারলেন সিলেট টেস্ট জয়ের স্মারক নিজের করে নিলেন ব্যক্তিগত শোকেসে রাখার জন্য। যারা কিছুই পেলেন না, তারাও স্মরণীয় মুহূর্তকে ছবির ফ্রেম করে নিলেন। তারা হয়তো এই ছবি ফেসবুকের টাইমলাইনে রেখে দেবেন, যেন প্রতিবছর মেমোরি মনে করিয়ে দেয় পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের কথা। হ্যাঁ, এই টেস্ট সিরিজ জয় বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক। সিলেট টেস্ট ম্যাচটি ৭৮ রানে জিতে দেশের মাটিতে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করেছে পাকিস্তানকে। পুরস্কারও মিলেছে হাতেনাতে। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ২৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম ৭ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট আগেও খেলেছে বাংলাদেশ। পাঁচ দিন মাঠে থাকার গল্প অনেক আছে। ওই ম্যাচগুলোর বেশির ভাগ শেষ হয়েছে পরাজয়ে। কখনও কখনও তৃপ্ত থাকতে হয়েছে ড্র মেনে নিয়ে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা দুটি ম্যাচই ছিল ব্যতিক্রম। এই সিরিজের প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি সেশন, প্রতিদিন জেতার চেষ্টা করেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। মুহূর্তের অসতর্কতায় খানিকটা পিছিয়ে গেলে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ছিল সমন্বিত। এই লড়াই এতটাই তীব্র ছিল, খাদের কিনারা থেকে রানের পাহাড়ে উঠে গেছে দল। প্রথম ইনিংসে লিটন কুমার দাস, দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিম যেখান থেকে যেভাবে সেঞ্চুরি করলেন, তাতে মাখামাখি হয়ে আছে একজন বিজয়ী ক্রিকেট সৈনিকের নিবেদন। প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। ২ রানে অপরাজিত ছিলেন লিটন। সেখান থেকে তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে নিয়ে ১২৬ রান করেন তিনি। এই রান করার পেছনে ছিল একটি একক লড়াই। প্রতিটি ওভার সামাল দিয়েছেন নিজের ডিজাইনে। বাউন্ডারি বা ডাবল ছাড়া রান নেননি। জুটি টিকিয়ে রাখতে ষষ্ঠ বলে গিয়ে করেছেন প্রান্ত বদল। বোলারকে সামলানো, সতীর্থকে সাহস দেওয়া এবং ব্যাটিং প্ল্যান করা একজন পরিণত ব্যাটারের চরিত্রের প্রকাশ। লিটন অমন ব্যাটিং করায় প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের সংগ্রহ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সমন্বিত বোলিং আক্রমণ দিয়ে পাকিস্তানকে অলআউট করেছিল ২৩২ রানে। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে। এবার ১১৫ রানে চার উইকেট হারালে ইনিংস বড় করার দায়িত্ব বর্তায় মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের কাঁধে। আক্রমণাত্মক লিটন ৬৯ রানে আউট হলে নতুন করে লড়াইয়ে নামেন মুশফিক। তাইজুলকে নিয়ে ৭৭ রানের একটি জুটি গড়েন। ১৩৭ রানে আউট হন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান করে বাংলাদেশ। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দেয় পাকিস্তানকে। এই বিশাল রান তাড়া করে জিততে হলে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হতো পাকিস্তানকে। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে যে রেকর্ড নেই। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রেকর্ডটি গড়া। ওই রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিল পাকিস্তান। দুটি ৭১ রান, একটি ৯৪ রানের ইনিংসে লড়াই জমিয়েও দিয়েছিল। তাইজুল ইসলামের বাঁহাতি স্পিন জাদুতে পাকিস্তান থেমে গেছে ৩৫৮ রানে। পাকিস্তান চতুর্থ দিন শেষ করেছিল সাত উইকেটে ৩১৬ রানে। ১২১ রানে পিছিয়ে থেকে শেষ দিন ব্যাটিংয়ে নামেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দুজনে ৫৪ রানের জুটি গড়ে স্বাগতিক ড্রেসিংরুমে আতঙ্ক ছড়ান। একবার জীবন পেয়ে ২৮ রান করেন সাজিদ। ত্রাতা হয়ে দলীয় ৩৫৮ রানে জুটি ভাঙেন তাইজুল। ওই রানেই শরিফুল ইসলামের শিকার রিজওয়ান। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৯৪ রান। খুররম শাহজাদকে আউট করে ম্যাচের সমাপ্তি টানেন তাইজুল। পঞ্চম দিন সকালে এক ঘণ্টা ৫ মিনিটের রোমাঞ্চকর সেশনটি ছিল উত্তাপ ছড়ানো। উঁকি দিয়েছে হারের শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত সব প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে ৭৮ রানের জয়ে আনন্দ লেখা। আশা করা হচ্ছিল, পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে উল্লাস হবে, গ্যাংস্টাররা গ্যাংনাম নৃত্য করবেন, কিন্তু তার কিছুই হলো না। নাজমুর হোসেন শান্তদের সাদামাটা উদযাপন দেখে মনে হবে, নীরবে-নিভৃতে টেস্টের বড় দল হয়ে গেছেন তারা। এখন আর একটি সিরিজ জয়ে খুশিতে আত্মহারা হন না। গতকাল বুধবার সিরিজ জয়ের উদযাপন বলতে উইকেটের কাছে এসে একটি গ্রুপ ছবি তোলা, ট্রফি নিয়ে ফ্রেমবন্দি হওয়া, বিজয় উল্লাস এবং সেই পরিচিত টিম সং গাওয়া। বাংলাদেশ এখন টেস্টের অভিজ্ঞ একটি দল। শক্তিশালী একটি ব্যাটিং লাইনআপ আছে তার। মুমিনুল, শান্ত, মুশফিক ও লিটন ধারাবাহিক রান করছেন। এই টেস্টের দুই ইনিংসে যেমন দুজন ব্যাটার দুটি সেঞ্চুরি করেছেন দুর্দান্তভাবে। এই সিরিজ জিতে অনেকগুলো রেকর্ডের সঙ্গী হলো বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল পাকিস্তানকে। টানা চার টেস্ট জয়ও একটি বাংলাদেশি রেকর্ড। গত বছর নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডকে, এ বছর পাকিস্তানকে দুই টেস্টে হারালেন শান্তরা। ছোটমোটো আরও কত রেকর্ডই তো আছে। এই যেমন দেশের মাটিতে প্রথমবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করাও তো রেকর্ড। রেকর্ড গড়া ঐতিহাসিক এই সিরিজ জয়ে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবার ৭ নম্বরে উন্নীত হলো বাংলাদেশ। আগের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং ছিল ৮ নম্বর। বাংলাদেশ ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কার নিচে আর পাকিস্তানের ওপরে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলেও জাম্প করেছে, ৯ নম্বর থেকে পাঁচে উন্নীত হয়েছে। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে ভারতের ওপরে বাংলাদেশ। সাফল্যে মোড়ানো সিরিজের সেরা হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ২১ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সিরিজ সেরা হলেন তিনি। মুশফিক দুই টেস্টের সিরিজে সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরিসহ ২৫৩ রান করেছেন। সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরিতে ১৯৫ রানে ম্যাচসেরা হয়েছেন লিটন কুমার দাস। ঢাকা টেস্টে সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরি করা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৩২ রান নিয়ে সিরিজের মোস্ট ভ্যালুয়েবল খেলোয়াড়। এই যে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ আর ম্যাচে ৯ উইকেট পাওয়া তাইজুল, তাঁকে দেওয়া হয়েছে সিলেট টেস্টের ভ্যালুয়েবল পুরস্কার। এই সাফল্য দেশের মানুষকে নাজমুল হোসেন শান্তদের ঈদ উপহার।
অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার গ্রানিত জাকাকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে সুইজারল্যান্ড। এর ফলে এই ফুটবলার দেশের হয়ে টানা সপ্তম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। ৩৩ বছর বয়সী এই জাকা জাতীয় দলের অধিনায়ক কোচ মুরাত ইয়াকিনের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে থাকা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ পাঁচজন খেলোয়াড়ের একজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বার্নলির ফরোয়ার্ড জেকি আমদুনি, যিনি স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একমাত্র বিস্ময়কর নাম। হাঁটুর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় তিনি এই মৌসুমে বদলি হিসেবে তিনটি সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিতে মাত্র ৪৫ মিনিট ফুটবল খেলেছেন। ইয়াকিন জানান,তিনি এখনও শতভাগ ফিট নয়। তবে দেশের হয়ে তার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। সুইজারল্যান্ড সবশেষ তিনটি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোতে এবং গত দুটি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছেছে। বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে দেশটি। ১৩ জুন সান ফ্রান্সিসকোতে তারা প্রথম ম্যাচে কাতারের মুখোমুখি হবে। এরপর ১৮ জুন বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এবং ২৪শে জুন কানাডার বিপক্ষে খেলবে। এর আগে ৩১ মে জর্ডান এবং ৬ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। সুইজারল্যান্ড স্কোয়াড: গোলরক্ষক: গ্রেগর কোবেল (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), মারভিন কেলার (ইয়ং বয়েজ), ইভন মভোগো (লরিয়েন্ট) ডিফেন্ডার: রিকার্ডো রদ্রিগেজ (রিয়াল বেটিস), সিলভান উইডমার (মাইনৎস), ম্যানুয়েল আকানজি (ইন্টার মিলান), মিরো মুহেইম (হামবুর্গ), নিকো এলভেডি (বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), অরেলে আমেন্ডা (আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট), লুকা জাকেজ (স্টুটগার্ট), এরে কোমের্ট (ভ্যালেন্সিয়া)। মিডফিল্ডার: ইয়োহান মানজাম্বি (ফ্রাইবুর্গ), গ্রানিট জাকা (সান্ডারল্যান্ড), রেমো ফ্রেউলার(বোলোগনা), ডেনিস জাকারিয়া (মোনাকো), আরডন জাশারি (এসি মিলান), মিশেল এবিশার (পিসা), ডিজিব্রিল সো (সেভিলা), ক্রিশ্চিয়ান ফাসনাখ (ইয়ং বয়েজ), ফ্যাবিয়ান রিডার (অগসবার্গ)। ফরোয়ার্ড: নোয়া ওকাফোর (লিডস), ড্যান এনডয়ে (নটিংহাম ফরেস্ট), জেকি আমদোনি (বার্নলি), ব্রিল এম্বোলো (রেনেস), রুবেন ভার্গাস (সেভিলা), সেড্রিক ইটেন (ফর্তুনা ডুসেলডর্ফ)
রাশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে কিংবদন্তি মোহাম্মদ সালাহকে দলের অধিনায়ক করে ২৭ সদস্যের একটি প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে মিশর। তবে বিশ্বকাপের মূল পর্বের আগে একজন ফুটবলারকে বাদ দেওয়া হবে। আগামী ২৮ মে মিশর স্টেডিয়ামে রাশিয়ার বিপক্ষের প্রীতি ম্যাচ খেলবে মিশর। রাশিয়া ম্যাচের পর মিশরীয় টেকনিক্যাল স্টাফ ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল নির্বাচন করবে। এরপর বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ৩০ মে যুক্তরাষ্ট্রে যাবে এবং মিশর। এরপর ৬ই জুন ওহাইওতে ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি চূড়ান্ত প্রীতি ম্যাচ খেলবে। অন্যদিবে ১৫ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের নামবে মোহাম্মদ সালাহরা। এরপর ২১ নিউজিল্যান্ড এবং ২৬শে ইরানের মুখোমুখি হবে। মিশর জাতীয় দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান বলেছেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে জাতীয় দলে ক্যাম্প শুরু হবে। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো দেশটি ফিফা বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করল। তিনটি ঐতিহাসিক আসরে অংশগ্রহণ করা সত্ত্বেও মিশর ফিফা বিশ্বকাপে কখনও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। ১৯৩৪ সালে অভিষেক আসরে তারা সরাসরি রাউন্ড অফ ১৬-এ প্রবেশ করে, কারণ টুর্নামেন্টটি ১৬-দলের নকআউট পর্ব দিয়ে শুরু হয়েছিল। ১৯৯০ এবং ২০১৮ সালেও তারা গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে। মিশর স্কোয়াড: গোলরক্ষক: মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি (আল-আহলি), মোস্তফা শোবেইর (আল-আহলি), এল মাহদি সোলিমান (আল-জামালেক), মোহাম্মদ আলা (এল গাউনা)। ডিফেন্ডার: মোহাম্মদ হানি (আল-আহলি), তারেক আলা (জেডইডি এফসি), হামদি ফাথি (আল-ওয়াকরাহ), রামি রাবিয়া (আল-আইন), ইয়াসির ইব্রাহিম (আল-আহলি), হোসাম আবদেলমাগুইদ (আল-জামালেক), মোহাম্মদ আবদেলমোনেম (ওজিসি নাইস), আহমেদ এল ফোতুহ (আল-জামাফি), আল-জামালি (পিপি)। মিডফিল্ডার: মারওয়ান আত্তিয়া (আল-আহলি), মোহানাদ লাসিন (পিরামিড), ডোঙ্গা (আল নাজমা), মাহমুদ সাবের (জেডইডি এফসি), জিজো (আল-আহলি), ত্রেজেগুয়েট (আল-আহলি), এমাম আশুর (আল-আহলি), মোস্তফা জিকো (পিরামিড), ইব্রাহিম আদেল (নর্ডসজাইল্যান্ড), হাইসেম হাসান (রিয়েল ওভিডো), মোহাম্মদ সালাহ (লিভারপুল)। ফরোয়ার্ড: ওমর মারমাউস (ম্যানচেস্টার সিটি), আকতায় আবদুল্লাহ (ইএনপিপিআই), হামজা আবদেলকারিম (বার্সেলোনা বি)।
আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে আজ ৪ উইকেটে হারিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এর ফলে প্লে-অফের আশাও বাঁচিয়ে রাখল কেকেআর। কেকেআরের কাছে হার মেনে আরও একবার নিজেদের ব্যর্থতার চিত্রটা প্রকট করল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। অনেক আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হতাশার তালিকায় যোগ হল আরও একটি পরাজয়ের লজ্জা। টস জিতে আজ প্রথমে মুম্বাইকে ব্যাট করতে পাঠান কেকেআর অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে। শুরু থেকেই মুম্বাইয়ের ব্যাটিংয়ে দেখা যায় চরম অনিশ্চয়তা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। অভিজ্ঞ ওপেনার রোহিত শর্মা মাত্র ১৫ রান করে ফিরে যান। অপর ওপেনার রিয়াল রিকেলটন করেন মাত্র ৬ রান। মিডল অর্ডারেও কেউ সেভাবে লড়াই গড়ে তুলতে পারেননি। মুম্বাইয়ের হয়ে একমাত্র কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন করবিন বশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন তিনি। তবে কেকেআরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় মুম্বাই। বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন সৌরভ দুবে, ক্যামেরন গ্রিন এবং কার্তিক ত্যাগী। প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট তুলে নেন। এছাড়াও অভিজ্ঞ স্পিনার সুুনিল নারা্ইন একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি কেকেআরের। ভয়ঙ্কর মেজাজে থাকা ফিন অ্যালেন মাত্র ৮ রান করে ফিরে যান। অধিনায়ক রাহানে করেন ২১ রান। ক্যামেরন গ্রিন ব্যাট হাতেও ব্যর্থ হয়ে ফেরেন মাত্র ৪ রানে। ৫৪ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় নাইট শিবির। সেই সময় দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ মণীষ পাণ্ডে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ব্যাটার রভম্যান পাওয়েল। দু’জনে মিলে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। মণীষ পাণ্ডে ৪৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তবে এই জুটি ভাঙেন মুম্বইয়ের তারকা পেসার জশপ্রীত বুমরাহ। এর কিছুক্ষণ পরেই ম্যাচে দেখা যায় অসাধারণ এক মুহূর্ত। পাওয়েলের দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে রীতিমতো চমকে দেন করবিন বশ। তার সেই ফিল্ডিং মুহূর্ত অনেকেরই মনে করিয়ে দেয় কিংবদন্তি ফিল্ডার জন্টি রোডসকে। আউট হওয়ার আগে পাওয়েল করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪০ রান। ১২৪ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পরে তেজস্বী সিং ডাগ আউটে ফেরেন মাত্র ১১ রান করে। রিঙ্কু ও অনুকূল রায় জয় এনে দেন কেকেআরকে। এই জয়ের ফলে প্লে-অফে ওঠার আশা এখনও জিইয়ে রাখল কলকাতা। তবে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে বাকিদের দিকে।
চমৎকার দুই গোলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিল অ্যাস্টন ভিলা। বিরতির পর তারা ব্যবধান বাড়াল আরও। একপেশে লড়াইয়ে ফ্রেইবুর্ককে হারিয়ে ইউরোপা লিগে চ্যাম্পিয়ন হলো উনাই এমেরির দল। ইস্তানবুলের বেসিকতাস পার্কে বুধবার রাতে ফাইনালে ৩-০ গোলে জিতেছে ভিলা। ইউরি টিয়েলেমান্স দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। তৃতীয় গোলটি করেন মর্গ্যান রজার্স। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি এর আগে সবশেষ শিরোপা জিতেছিল ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে, ইংলিশ লিগ কাপ। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তাদের আগের সাফলের গল্প তো আরও পুরনো; সেই ১৯৮১-৮২ মৌসুমে ওই সময়ের ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল ক্লাবটি। উনাই এমেরির ছোঁয়ায় সব খরা এক দিনেই দূর হলো। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় সেরা এই প্রতিযোগিতায় কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ের রেকর্ড আগে থেকেই এমেরির দখলে। পঞ্চমবার জিতে সেটাই আরও পোক্ত করলেন এই স্প্যানিয়ার্ড; সেভিয়ার হয়ে টানা তিনবার জয়ের পর, সবশেষ ২০২০-২১ আসরে আবার এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন তিনি ভিয়ারিয়ালের হয়ে। প্রতিযোগিতাটি মোট ছয়বার ফাইনালে উঠে পাঁচবারই সফল এমেরি। কেবল একবার জিততে পারেননি আর্সেনালের ডাগআউটে থেকে, ২০১৮-১৯ মৌসুমে। স্বপ্ন পূরণের মিশনে নেমে ৪১তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ভিলা। বাঁ দিক থেকে ডি-বক্সে ফাঁকা জায়গায় দারুণ ক্রস বাড়ান মর্গ্যান রজার্স, ছুটে গিয়ে দুর্দান্ত ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার টিয়েলেমান্স। এগিয়ে যাওয়ার আনন্দের মাঝেই বিরতির আগমুহূর্তে আরেকটি চমৎকার গোল করেন বুয়েন্দিয়া। ডি-বক্সের বাইরে সতীর্থের পাস পেয়ে, একটু আড়াআড়ি এগিয়ে শট নেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার, বল হাওয়ায় একটু বাঁক নিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়। ৫৮তম মিনিটে জয়ের পথে আরও এগিয়ে যায় ভিলা। বাঁ দিকে একজনকে কাটিয়ে গোলমুখে পাস দেন বুয়েন্দিয়া, আর সঙ্গে লেগে থাকা একজনের চ্যালেঞ্জ সামলে ছোট্ট টোকায় বল জালে পাঠান ইংলিশ মিডফিল্ডার রজার্স। ১২ মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো, তবে আমাদু ওনানার হেড পোস্টে বাধা পায়। অবশ্য আরেকটি গোল হজম করা থেকে বেঁচে গেলেও, লড়াইয়ে ফেরার মতো তেমন কিছুই করতে পারেনি ফ্রেইবুর্ক। গত শুক্রবার প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা পাকা করে ভিলা। দাপুটে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরল তারা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।