তদন্ত কমিটির কাজ শেষ হয়েছে। এবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দায়িত্ব, জমা হওয়া প্রতিবেদন খতিয়ে দেখে বিসিবি বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আইসিসিও অবগত থাকবে। এমনটি জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আমিনুল হকের অনুমোদনেই গত মাসে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিসিবির শেষ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজি খতিয়ে দেখার জন্য। সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে কমিটি তাদের প্রতিবেদন রোববার জমা দেয়। প্রতিবেদনটি বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। বিকেএসপি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমিনুল হক জানান, প্রতিবেদন আইসিসিকে জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকালবেলা তদন্ত কমিটি এসে প্রতিবেদন দিয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছি এবং আলোচনার পর আইসিসি অবগত করা হবে। এরপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে কমিটির গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, লোভ ও ভয় দেখিয়ে বিসিবি পরিচালকদের পদত্যাগ করানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ৭ জন পরিচালক এখনও পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন। শনিবার বোর্ড সভার একদিনের মধ্যে ৪ পরিচালক পদত্যাগ করেন। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সরাসরি কিছু বলেননি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ফেসবুকে সত্য ও মিথ্যা কথার মিল আছে। যাচাই আপনি করেই দেখবেন। তদন্ত কমিটি আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়াকেও আলোচনার জন্য ডেকেছিল, তবে নির্বাচনের সময় তিনি কমিটির সামনে উপস্থিত হননি। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি উপস্থিত হননি, তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত এবং আমরা যাচাই করেছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে।
আগের দিন নিজেদের ম্যাচ জিতে শিরোপার হাতছোঁয়া দূরত্বে চলে আসে পিএসভি আইন্দহোভেন। পরদিন ফেইনুর্ড জিততে ব্যর্থ হওয়ায়, পাঁচ রাউন্ড বাকি থাকতেই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল আইন্দহোভেন। ডাচ লিগে রোববার টেবিলের নিচের দিকের দল ভোলেনডামের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে ফেইনুর্ড। তাতেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় আগের দিন ইউট্রেখটের বিপক্ষে ৪-৩ গোলে জয়ী আইন্দহোভেনের। ২৯ ম্যাচে ২৩ জয় ও দুই ড্রয়ে চ্যাম্পিয়ন আইন্দহোভেনের পয়েন্ট ৭১। তাদের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে ফেইনুর্ড। ডাচ লিগে এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতল আইন্দহোভেন, মোট জিতল ২৭ বার। তালিকায় তাদের ওপরে আছে কেবল আয়াক্স আমস্টারডাম, ৩৬টি ট্রফি নিয়ে।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) হ্যাটট্রিক হারের লজ্জা পেয়েছে বাংলাদেশের রিশাদ হোসেনের দল রাওয়ালপিন্ডিজ। গতরাতে লিগ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের কাছে ৭ উইকেটে হারে রাওয়ালপিন্ডিজ। এ ম্যাচে ৩ রানের সাথে ১ উইকেট শিকার করেন রিশাদ। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৫ রানে ২ উইকেট হারায় রাওয়ালপিন্ডিজ। অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইয়াসির খান ২ রান করে করেন। এরপর কামরান গুলামের হাফ-সেঞ্চুরির সাথে ডিয়ান ফরেস্টারের ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় রাওয়ালপিন্ডিজ। তিন নম্বরে নামা কামরান ৩৯ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫০ এবং ফরেস্টার ২ চার ও ৪ ছক্কায় ১৯ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করেন। আট নম্বরে নেমে ৬ বলে ৩ রান করেন রিশাদ। ইসলামাবাদের তিন বোলার ২টি করে উইকেট শিকার করেন। জবাবে ওপেনার সামির মিনহাসের মারমুখী ব্যাটিংয়ে ৫ ওভারে ৫৮ রান সংগ্রহ করে ইসলামাবাদ। ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৩৬ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন মিনহাস। মিডল অর্ডারে হায়দার আলি ১৬ বলে ২৬ ও মার্ক চাপম্যান ৭ বলে ২৪ রান করলে ৪ বল বাকী থাকতে জয়ের স্বাদ পায় ইসলামাবাদ। ৩ ওভার বল করে ৩৬ রানে ১ উইকেট নেন রিশাদ। ইসলামাবাদের ইনিংসের সপ্তম ওভারে প্রথম বল করতে এসে মাত্র ৫ রান দেন তিনি। তবে পরের ওভারে দেন ১২ রান। তৃতীয় ওভারে মোহাম্মদ ফাইককে শিকার করে ১৯ রান খরচ করেন তিনি। এরপর আর রিশাদকে বোলিংয়ে আনেননি রাওয়ালপিন্ডিজের দলনেতা রিজওয়ান। রাওয়ালপিন্ডিজের হয়ে নিজের প্রথম ম্যাচে পেশোয়ার জালমির বিপক্ষে ৪ ওভার বল করে ৩৫ রানে ১ উইকেট শিকার করেছিলেন রিশাদ। এরপর করাচির কিংসের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন তিনি। ৩ ম্যাচের সবগুলোতে হেরে এখনও পয়েন্টের দেখা পায়নি রাওয়ালপিন্ডিজ। ৪ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে ইসলামাবাদ।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে সপ্তম খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিন ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলেছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটার সামির রিজভি। এমন কীর্তিতে সবার আগে নাম তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। ২০১০ সালের আইপিএলে টানা তিন ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এরপর সেই তালিকায় ক্যালিসের সঙ্গী হন বিরেন্দার শেওয়াগ, অ্যারন ফিঞ্চ, বিরাট কোহলি, জশ বাটলার ও ঋুতুরাজ গায়কোয়াড়। গতকাল এই তালিকায় নতুন ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা করে নেন রিজভি। ২০২৫ সালের আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে দিল্লির শেষ ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন রিজভি। এবার আইপিএলে দিল্লির প্রথম দুই ম্যাচে লাক্ষ্মৌ সুপার জায়ান্টস ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষেও ম্যাচ সেরা হন এই ডান-হাতি ব্যাটার।
৫ উইকেট শিকার করে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন দুই-এর মৌসুম শুরু করলেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার জেমস এন্ডারসন। কাউন্টি মৌসুমের প্রথম রাউন্ডে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ৬৪ রানে ৫ উইকেট নেন ল্যাঙ্কারশায়ারের হয়ে খেলতে নামা বর্ষীয়ান পেসার এন্ডারসন। গত ৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দিন ৭ উইকেটে ৩৪৬ রান করে ল্যাঙ্কারশায়ার। দ্বিতীয় দিন বাকী ৩ উইকেটে ৩৮ রান যোগ করে ৩৮৪ রানে অলআউট হয় ল্যাঙ্কারশায়ার। দলের হয়ে লুক ওয়েলস ৮৭ ও মাইকেল জোন্স ৭১ রান করেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে এসে ১১ বল খেলে শূন্য হাতে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক এন্ডারসন। বোলিংয়ে নর্দাম্পটনশায়ারের বেন স্যানডারসন ৭৯ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। এরপর ব্যাট হাতে নেমে এন্ডারসনের তোপের মুখে পড়ে নর্দাম্পটনশায়ার। দ্বিতীয় দিন শেষে ৯ উইকেটে ২১৫ রান করে তারা। ১৩ ওভার বল করে ৬৪ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন ৪৩ বছর বয়সী এন্ডারসন। প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে ৫৬তমবারের মত ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট শিকার করলেন এন্ডারসন। পেশাদার ক্যারিয়ারে ২৬তম মৌসুম খেলতে নামা এন্ডারসনের ৩০৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে সর্বমোট ১,১৪৮টি উইকেট শিকার করেছেন। ২০২৪ সালে টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে থেকে বিদায় জানান এন্ডারসন। ১৮৮ টেস্ট খেলে ৭০৪ উইকেট নেন তিনি। টেস্ট ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের বিশ্ব রেকর্ড এন্ডারসনের। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারে তৃতীয় স্থানে আছেন এই ডান-হাতি পেসার। ১৩৩ ম্যাচে ৮০০ উইকেট নিয়ে বিশ্ব রেকর্ডের মালিক শ্রীলংকার স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন। ১৪৫ ম্যাচে ৭০৮ উইকেট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি প্রয়াত স্পিনার শেন ওয়ার্ন।
মিয়ামির নতুন স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করে মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন লিওনেল মেসি। তবে ইন্টার মিয়ামি অস্টিন এফসির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে। ২৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার নতুন ন্যু স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের অন্যতম মালিক ডেভিড বেকহ্যামসহ অনেক তারকা। বহু বছরের চেষ্টার পর মিয়ামিতে স্থায়ী ঘর পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আবেগাপ্লুত হন বেকহ্যাম। তিনি বলেন, “এই স্টেডিয়ামকে জীবন্ত হতে দেখা খুবই বিশেষ মুহূর্ত। এটা আমাদের জন্য স্বপ্নপূরণ।” উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলেও ম্যাচে চমক দেখায় অস্টিন। মাত্র ছয় মিনিটে গুইহার্মে বিরো কর্নার থেকে হেড করে অস্টিনকে এগিয়ে দেন, অ্যাসিস্ট করেন ফাকুন্ডো টরেস। পিছিয়ে পড়া মিয়ামির হয়ে দ্রুতই জবাব দেন মেসি। ইয়ান ফ্রে’র ক্রস থেকে হেড করে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান মেসি। এরপর বল দখলে আধিপত্য বিস্তার করলেও গোলের দেখা পায়নি মিয়ামি। বরং ৫৩তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে আবারও এগিয়ে যায় অস্টিন। জোসেফ রোসালেস বাড়ানো পাসে জেইডেন নেলসন গোল করে অস্টিনকে আবারও লিড উপহার দেন। পিছিয়ে পড়ার পর কোচ জেভিয়ার মাশ্চেরানো ৭৩তম মিনিটে মাঠে নামান অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজকে। ৮১তম মিনিটে সুয়ারেজের কল্যাণে সমতায় ফেরে মিয়ামি। মেসির কর্নার থেকে বল পেয়ে পোস্টের কাছ থেকে জালে পাঠান তিনি। শেষদিকে সুয়ারেজ আরেকটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
পিঠের ইনজুরির কারণে চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) এখনও সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে একটিও ম্যাচ খেলতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স। পিঠের সর্বশেষ অবস্থা জানতে স্ক্যান করানোর জন্য ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়া উড়ে গেছেন তিনি। কারণ কামিন্সের পিঠের স্ক্যান করার তারিখ পূর্ব নির্ধারিত করে রেখেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। গত বছরের জুলাইয়ে পিঠের ইনজুরিতে পড়েন কামিন্স। এরপর ডিসেম্বরে অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ইনজুরিতে পড়ার পর মাত্র একটি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন কামিন্স। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে না পারলেও, আইপিএল খেলতে হায়দারাবাদ শিবিরে ঠিকই যোগ দেন অধিনায়ক কামিন্স। তবে কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। তার জায়গায় হায়দারাবাদকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইশান কিশান। পিঠের ইনজুরির অবস্থা জানতে শেষবারের মত স্ক্যান করাতে অস্ট্রেলিয়া উড়ে গেছেন কামিন্স। ইএসপিএনক্রিকইনফো প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুর্ব-নির্ধারিত ছিল কামিন্সের পিঠের স্ক্যান করানোর বিষয়টি। যা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অধীনেই হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং সিএ’র অনুমতি পেলে আগামী ১৭ এপ্রিল আবারও হায়দারাবাদ দলে যোগ দেবেন কামিন্স। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে কামিন্স বলেছিলেন, ‘পিঠের চোট থেকে সুস্থ হচ্ছি। এখন শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভাল। নেটে বলও করেছি। আইপিএল শুরু হচ্ছে। প্রথম দিকে হয়তো খেলতে পারব না। তবে খুব তাড়াতাড়ি মাঠে ফেরার চেষ্টা করব। বল করা শুরু করেছি। প্রতিযোগিতার মাঝামাঝি সুস্থ হয়ে উঠার পরিকল্পনা সাজিয়েছি। সব ঠিকঠাক থাকলে আইপিএলের দ্বিতীয়ার্ধে এবং ফাইনালেও খেলতে পারব।’ এবারের আইপিএলে এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচ খেলে একটি করে জয় ও হারের স্বাদ পেয়েছে হায়দরাবাদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বাংলা বিভাগের মো. আরিফুল ইসলাম চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মো. আরাফাত ইসলাম আবীর এবং সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মো. রিসাদ সরকার যৌথভাবে রানার্স-আপ হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমান আজ রোববার সকালে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। খেলা শেষে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এস এম আরিফ মাহমুদ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এস এম জাকারিয়াসহ বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, আবাসিক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে আছে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ। আইপিএলে আছে দুটি ম্যাচ। পিএসএলে মুলতান খেলবে কোয়েটার বিপক্ষে। এছাড়াও সিরি আতে মুখোমুখি ইন্টার মিলান ও রোমা। অ-২০ নারী এশিয়ান কাপ ভারত-অস্ট্রেলিয়া বেলা ৩টা, টি স্পোর্টস তাইপে-জাপান সন্ধ্যা ৭টা, টি স্পোর্টস আইপিএল হায়দরাবাদ-লক্ষ্ণৌ বিকেল ৪টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২ বেঙ্গালুরু-চেন্নাই রাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস ১, ২ পিএসএল মুলতান-কোয়েটা রাত ৮টা, টি স্পোর্টস এফএ কাপ ওয়েস্ট হাম-লিডস রাত ৯-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ২ সিরি ‘আ’ ইন্টার মিলান-রোমা রাত ১২-৪৫ মি., ডিএজেডএন
রিয়াল যেখানে ছিল শিরোপা জেতার স্বপ্নে। অন্য দল মায়ার্কো লীগে টিকে থাকার লড়াইয়ে। সেই দলটিই শেষদিকে ফের জাল কাঁপিয়ে লস ব্লাঙ্কোদের স্তব্ধ করে দিল। তুলে নিল স্মরণীয় এক জয়। লা লিগায় শনিবার মায়োর্কার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষের মাঠে ৪১ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর শেষদিকে একটি গোল শোধ করে আলভারো আরবেলোয়ার দল। অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফেরার আশা দেখতে না দেখতেই যোগ করা সময়ে আবার গোল খেয়ে শেষ পর্যন্ত রিক্ত হস্তেই মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের। এই হারে লিগ জেতার দৌড়ে বড় ধাক্কা খেল রিয়াল মাদ্রিদ। ৩০ ম্যাচে ২২ জয়, ৩ ড্র ও ৫ হারে কিলিয়ান এমবাপে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের সংগ্রহ ৬৯ পয়েন্ট। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা এক ম্যাচ কম খেলে ৪ পয়েন্ট এগিয়ে আছে। আজ আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে জয় পেলেই ব্যবধান হবে ৭। আর লিগে চলতি মৌসুমে অষ্টম জয় পাওয়া মায়োর্কা ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে আছে। রেলিগেশন জোন থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট এগিয়ে আছে তারা। প্রতিপক্ষের মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বেঞ্চে রেখে কিলিয়ান এমবাপে ও ব্রাহিম দিয়াজকে দিয়ে আক্রমনভাগ সাজান রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আরবেলোয়া। প্রথমার্ধে দারুণ কিছু সুযোগও পায় রিয়াল। এমবাপের দুটি শট মায়ার্কোর গোলকিপার লিও রোমান। তবে রিয়াল সুযোগ হাতছাড়া করলেও ব্যবধান বাড়াতে ভুল করেনি স্বাগতিকরা। ৪১ মিনিটে ডানদিক থেকে পাবলো মাফেও আক্রমণে ওঠেন। এরপর রিয়ালের বক্সে মানু মরলান্সকে বল বাড়ালে নিচের ডান কোনে বল পাঠিয়ে দেন মায়োর্কার মিডফিল্ডার। দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের পারফরম্যান্স ছিল আরও হতাশাজনক। সমতায় ফেরার কয়েকটি কিছু সুযোগ পেলেও মায়োর্কার গোলকিপারের কাছে হার মানতে হয় তাদের। ২৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ এই গোলকিপার মোট পাঁচটি দুর্দন্ত সেভ দেন। ৫৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ভিনিসিয়ুস। তবে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারও। ৮৮ মিনিটে কাঙ্খিত গোল পেয়ে যায় রিয়াল। স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এদের মিলিতাও। আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের নেওয়া কর্নার থেকে হেডে বল জড়ান নিচের কোনায়। যোগ করা সময়ে রিয়ালের জালে আবার বল পাঠালে, নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। পাঁচ মিনিটের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মায়োর্কার জয়সূচক গোলটি করেন কসোভোর ফরোয়ার্ড ভেদাত মুরকি। শেষ পর্যন্ত হতাশার এক হার সঙ্গী করেই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
আরও একবার নিজের জাত চেনালেন আর্লিং হালান্ড। আজ লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচে করলেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক। মূলত, ম্যানসিটির হয়ে তার ১২তম হ্যাটট্রিকের সৌজন্যেই লিভারপুল ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হলো। সেইসঙ্গে এফএ কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ২০২৪ সালের আগস্টের পর প্রথমবার ক্লাবের জার্সিতে হ্যাটট্রিক করলেন হালান্ড। দারুণ পারফরম্যান্স করে নিজের সমালোচনা করলেন তিনি, ‘খুবই উত্থান-পতন হয়েছে, এটা যথেষ্ট ভালো নয়। আমাদের সামনে লম্বা একটা সপ্তাহ আছে। কারণ আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নেই। এটা কিন্তু মোটেও ভালো কথা নয়। আরেকটি ম্যাচে আমাদের চেলসির মুখোমুখি হতে হবে। লম্বা সময় পর হ্যাটট্রিক করে উচ্ছ্বসিত তিনি, ‘হ্যাটট্রিক? এটা চমৎকার। সিটির সঙ্গে লম্বা সময় পর এটা করলাম। আবারো করতে চাই, এটা বিশেষ। আমি সত্যিই আনন্দিত। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তার কথা, ‘প্রথমার্ধে আমরা সমস্যায় ছিলাম। কিন্তু ৩০ মিনিটের পর থেকে আমরা চাপ দিয়ে খেলেছি। আবারো ওয়েম্বলিতে খেলতে হবে, এটা গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্লাবকে অবশ্যই শীর্ষ পর্যায়ে আরও ট্রফি জিততে হবে। এই মৌসুমের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স করলাম আমরা ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে।’
আলাদা সংস্করণে আলাদা অধিনায়কের নীতি অনুসরণ করে বিসিবি জাতীয় ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাসকে। প্রথম দফায় এক বছরের জন্য দায়িত্ব পাওয়া মিরাজের ওয়ানডে অধিনায়কত্বের মেয়াদ ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর লিটনের নেতৃত্বের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আজ বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুজনের নেতৃত্বের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম। এই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল লিটন দাসকে। তবে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজের বাদ পড়া এবং উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। তবু এই সংস্করণে লিটনের প্রতি আস্থা রেখে তার নেতৃত্বের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এই সময় পর্যন্ত লিটনের ডেপুটি হিসেবে কাজ করবেন সাইফ হাসান। ২০২৭ পর্যন্ত ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন মিরাজ। আর টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে লিটনের মেয়াদ বেড়েছে ২০২৮ পর্যন্ত। গত মাসে মিরাজের নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ওয়ানডে দলের দায়িত্বে থাকবেন মিরাজ।
আগের ম্যাচে ইনিংসের দুই বল বাকি থাকতে ব্যাটিং পেয়ে করার ছিল সামান্যই। এবার অবশ্য বেশ আগেই ব্যাটিং পেলেন রিশাদ হোসেন; কিন্তু তেমন কিছু করতে পারলেন না তিনি। পরে বল হাতে প্রথম ওভারে আঁটসাঁট বোলিং করলেও, পরের দুই ওভারে ভালো করতে পারলেন না এই লেগ স্পিনার। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ব্যাট-বলে রিশাদের বিবর্ণ দিনে হেরেছে তার দল রাওয়ালপিন্ডিজও। লাহোরে তাদের ১৫৬ রান পেরিয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ৭ উইকেটে জিতেছে ৩৪ বল হাতে রেখে। আসরে প্রথম তিন ম্যাচের সবকটিতে হারল নবাগত দুই দলের একটি রাওয়ালপিন্ডিজ। তিন ওভারে ৩৬ রান দিয়ে একটি উইকেট পান রিশাদ। এর আগে সপ্তদশ ওভারের চার বল বাকি থাকতে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ বলে ৩ রান করেন বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার। কামরান গুলামের ফিফটি (৩৯ বলে ৫০) ও শেষ দিকে ডায়ান ফরেস্টারের ক্যামিওতে (১৯ বলে ৪৪*) কোনোমতে দেড়শ ছাড়াতে পারে রাওয়ালপিন্ডিজ। রান তাড়ায় ৩৬ বলে ৭০ রানের ইনিংসে ইউনাইটেডের জয়ের ভিত গড়ে দেন ওপেনার সামির মিনহাস। পাওয়ার প্লেতে ডেভন কনওয়ের উইকেট হারিয়ে ৬২ রান করে ইউনাইটেড। এরপর বোলিংয়ে আনা হয় রিশাদকে। দারুণ বোলিংয়ে স্রেফ পাঁচ রান দেন তিনি, হজম করেননি কোনো বাউন্ডারি। নবম ওভারেও প্রথম চার বল ভালোই করেন রিশাদ, দুটি ওয়াইডসহ দেন পাঁচ রান। পঞ্চম বলে তাকে ছক্কা মারেন মিনহাস। শেষ বলে আসে একটি রান। এই ওভারে খরচ ১২ রান। দ্বাদশ ওভারে বোলিংয়ে ফেরানো হয় রিশাদকে। তৃতীয় বলে উইকেটের দেখা পান তিনি, স্লগ সুইপের চেষ্টায় ক্যাচ তুলে দেন মোহাম্মাদ ফাইক। পরের দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন মার্ক চ্যাপম্যান। একটি ওয়াইড দিয়ে শেষ বলে আরেকটি চার হজম করেন রিশাদ। এই ওভারে আসে ১৯ রান। আর বোলিংয়ে আনা হয়নি রিশাদকে। আগের দুই ম্যাচে তিনি উইকেট নিতে পারেন একটি।
পদত্যাগের হিড়িক লেগে গেছে বিসিবিতে। ৯ ঘণ্টার বোর্ড সভার পর পদত্যাগ করেছেন ৩ জন পরিচালক। সভা শেষেই পদত্যাগ করেন ফাইয়াজুর রহমান। পরে পদত্যাগ করেন শানিয়ান তানিম ও মেহরাব আলম চৌধুরি। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বয়স ছয় মাস হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন এই নিয়ে ছয়জন পরিচালক। ফাইয়াজুর ছিলেন বোর্ডের ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এই পরিচালক। ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন শানিয়ান। সিকিউরিটি কমিটির প্রধান ছিলেন মেহরাব। এই তিনজনই শনিবার বিসিবির ম্যারাথন সভায় ছিলেন। সেখানে অনেক সিদ্ধান্তও হয়। কিন্তু এরপরই বোর্ড থেকে সরে গেলেন তারা। পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে শানিয়ান বলেন, “সবাই তো ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করেছে, আমি বলেছি ‘আননোন’ কারণের কথা। আপাতত আর কিছু বলতে চাই না।” গত ২৪ জানুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ইশতিয়াক সাদেক। গত ২৩ মার্চ বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর পরিচালক পদ থেকেই সরে দাঁড়ান আমজাদ হোসেন। এরপর থেকেই গুঞ্জন ছিল, আরও কয়েকজন পরিচালক পদত্যাগ করার কথা ভাবছেন। সেসবই সত্যি হলো সময়ের সঙ্গে। গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত পরিচালক ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক। তিনি ছিলেন লজিস্টিকস ও প্রটোকল কমিটির চেয়ারম্যান। সেই তিনজনের পর এবার একদিনে ইস্তফা দিলেন আরও তিনজন। গত অক্টোবরে নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নেয় বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। তবে তখনকার সরকারের হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের বিস্তর অভিযোগে সেই নির্বাচন ছিল প্রবল প্রশ্নবিদ্ধ। সেই নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ তদন্তে গত মাসে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। দু-একদিনের মধ্যেই সেই কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। এই পরিচালনা পর্ষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে ক্রিকেটাঙ্গনে। এই বোর্ড টিকবে না বলেও জোর গুঞ্জন চলছে কিছুদিন ধরেই। একের পর এক পরিচালকের পদত্যাগ সেসব গুঞ্জনের পালে আরও জোর হাওয়া দিচ্ছে।
লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানে বার্সেলোনার ওপর চাপ ধরে রাখতে জিততেই হতো রেয়াল মাদ্রিদের। কিন্তু অবনমনের শঙ্কায় থাকা মায়োর্কার বিপক্ষে উল্টো হেরে গেল আলভারো আরবেলোয়ার দল। প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার লা লিগার ম্যাচে ২-১ গোলে হেরেছে প্রতিযোগিতার সফলতম ক্লাবটি। মানু মর্লানেসের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, শেষ দিকে সমতা ফেরান চোট কাটিয়ে ফেরা এদের মিলিতাও। কিন্তু তিন মিনিটের মধ্যে আবার গোল হজম করে হেরে বসে রেয়াল। পজেশন রাখায় অনেকটা পিছিয়ে খেকে গোলের জন্য ছয় শটের মাত্র দুটি লক্ষ্যে রেখেই বাজিমাত করল মায়োর্কা। অবশ্য তাদের দুই গোলের পেছনেই দায় আছে রেয়ালের রক্ষণের। তাদের আক্রমণভাগও ছিল বর্ণহীন; প্রতিপক্ষকে খুব বেশি ভাবাতেই পারেনি তারা। দলটির ১৫ শটের ছয়টি লক্ষ্যে ছিল। টানা পাঁচ জয়ের পর হারের স্বাদ পেল রেয়াল মাদ্রিদ। চলতি আসরে রেয়ালের এটা পঞ্চম হার। ৩০ ম্যাচে ২২ জয় ও তিন ড্রয়ে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে তারা। শীর্ষে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭৩, একটি ম্যাচ কমও খেলেছে দলটি। আর স্মরণীয় এই জয়ে অবনমন অঞ্চল থেকে আপাতত বেরিয়ে এসেছে মায়োর্কা। ৩০ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে আছে তারা। অবনমন অঞ্চলের দলের বিপক্ষে শুরু থেকে আক্রমণে আধিপত্য করলেও, পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে ভুগছিল রেয়াল। ২৫তম মিনিটে এ পর্যন্ত সেরা সুযোগটি পান কিলিয়ান এমবাপে; কিন্তু এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার থ্রু বল ধরে তার নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক। আট মিনিট পর আরেকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। এবার আর্দা গিলেরের শট আটকে ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন গোলরক্ষক রোমান। ওখান থেকে পাল্টা আক্রমণে উঠে সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায় স্বাগতিকরা; কিন্তু গোলমুখে ফাঁকায় বল পেয়েও হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মর্লানেস। দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট প্রচেষ্টার পর, ৪২তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট নিয়েই এগিয়ে যায় মায়োর্কা। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে, ঠাণ্ডা মাথায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শটে জালে পাঠান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। কাছেই ছিলেন আন্টোনিও রুডিগার, কিন্তু যথেষ্ট তৎপর হতে পারেননি তিনি। বিরতির পর আরও বেশি সময় বল দখলে রেখে আক্রমণ শাণাতে থাকে রেয়াল। কিন্তু পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা। নতুন শক্তি যোগ করতে ৫৯তম মিনিটে একসঙ্গে ভিনিসিউস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম ও এদের মিলিতাওকে নামান রেয়াল কোচ। প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ ধরে রাখলেও, উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারছিলেন না এমবাপে-ভিনিসিউসরা। অবশেষে ৮৮তম মিনিটে কর্নারে দারুণ হেডে দলকে সমতায় ফেরান মিলিতাও। পেশির চোটে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে মাঠের বাইরে ছিলেন এই ব্রাজলিয়ান ডিফেন্ডার। এবারের লিগে ঘরের মাঠে আগে যে ছয়টি ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে গেছে মায়োর্কা, তার কোনোটিতেই হারেনি তারা (পাঁচটি জয় ও একট্রি ড্র)। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেন ভেদাত মুরিকি। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন কসোভোর স্ট্রাইকার। লা লিগায় রেয়ালের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এই নিয়ে সবশেষ ছয় ম্যাচের তিনটিতে জিতল মায়োর্কা।
দারুণ এক জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও পারল না ফ্রেইবুর্ক। শেষের তিন গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে নাটকীয় জয় পেল বায়ার্ন মিউনিখ। শিরোপাধারীরা শেষ দুটি গোল করে যোগ করা সময়ে। বুন্ডেসলিগার ম্যাচে শনিবার ৩-২ গোলে জিতেছে ভেঁসো কম্পানির দল। রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাঁচটি গোলই হয় ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৬তম মিনিটে ইয়োহান মানজাম্বির গোলে এগিয়ে যায় ফ্রেইবুর্ক। ৭১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লুকাস উলার। ৮০তম মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ফ্রেইবুর্ক। ৮১তম মিনিটে ব্যবধান কমান টম বিশফ। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তিনিই দলকে ফেরান সমতায়। নাটকীয়তার বাকি তখনও। নবম মিনিটে বায়ার্নকে এগিয়ে নেন লেননার্ট কার্ল। তার গোলেই ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে কম্পানির দল। ২৮ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বায়ার্ন। এক ম্যাচ কম খেলা বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ৬১ পয়েন্ট নিয়ে আছে দুই নম্বরে। আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে রেয়াল মাদ্রিদের মাঠে খেলবে বায়ার্ন। তার আগে গোলের জন্য সবচেয়ে বড় ভরসা হ্যারি কেইনকে ছাড়াই রোমাঞ্চকর এক জয় পেল তারা।
বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়ে সারা পথ নেচে-গেয়ে, পতাকা উড়িয়ে, অপেক্ষমান সমর্থকদের অভিনন্দনে সাড়া দিয়ে, রাস্তার দুই ধারের কাছের ডালপালা হাত দিয়ে সরিয়ে, বিক্ষিপ্তভাবে বাসের ছাদের উপরে ঝোলা বিভিন্ন তারের বাঁধা নিচুঁ হয়ে এড়িয়ে ৯টা ৪০ মিনিটে এম্ফিথিয়েটারে পৌঁছায় দল। সবার আগে এম্ফিথিয়েটারে প্রবেশ করেন কোচ মার্ক কক্স। ট্রফি উঁচিয়ে ধরে কোচকে অনুসরণ করেন অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী। তার পেছনেই ছিলেন ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে টাইব্রেকারে প্রথম শট রুখে দেওয়া এবং টুর্নামেন্ট সেরা গোলকিপারের ট্রফি জেতা ইসমাইল হোসেন মাহিন। অনুষ্ঠানে আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান। ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে চোট পেয়ে দেশে ফেরা আশিক অনুষ্ঠানে আসেন স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে। সতীর্থরা সবাই তাকে আলিঙ্গনে বাঁধেন। বিমানবন্দরে দলকে বরণ করে নেওয়া যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আরেক দফা খেলোয়াড়দের অভ্যর্থনা জানান। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ সংস্থাটির কর্মকর্তারাও ছিলেন। খেলোয়াড়, কোচ, কোচিং স্টাফদের সবার সাথে হাত মেলান তাবিথ। ঢাউস অক্ষরে ‘চ্যাম্পিয়ন্স’ লেখার পেছনে সাজানো মঞ্চের সামনের দিকের ডেস্কে রাখা হয় সোনালি রঙের ট্রফিটি। একটু পরই বেজে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত-আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। মঞ্চের স্ক্রিনে ফুটে ওঠে মালদ্বীপে বাংলাদেশের প্রতিটি স্মরণীয় মুহূর্ত- রোনানদের গোলের উদযাপন, শিরোপা জয়ের উল্লাস, মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের দর্শকদের উচ্ছ্বাস। ট্রফি সমর্থকদের উৎসর্গ করেন অধিনায়ক মিঠু, এই ট্রফি আপনাদের জন্য। শুধু আপনাদের জন্য। কোচ মার্ক কক্স মঞ্চ জুড়ে হাঁটতে হাঁটতে নিজের অনুভূতি জানান। ‘আমার হৃদয় বাঙালি’, বলে সবাইকে কিছুটা চমকে দেন এই ইংলিশ কোচ। সবাইকে আসসালামু আলাইকুম। আমার হৃদয় বাঙালি, বাংলাদেশ। বাফুফে সভাপতি আপনাকে ধন্যবাদ, সুন্দর এই আয়োজনের জন্য। আমি আমার স্টাফদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, এই লোকগুলো না থাকলে এই সাফল্য আসত না। প্রতিটি ছেলে তাদের সবটুকু দিয়ে বাংলাদেশের জন্য খেলেছে। ১৯৭১ সালের স্পিরিট… যেটা আপনাদের ইতিহাস..সেটা দেখিয়েছে। আমরা এই সাফল্য আবারও নিয়ে আসব। খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসানো তাবিথ আউয়াল মাঠে আসা দর্শকদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান। যুবাদের সামনের পথচলা মৃসণ করতে সরকারি, বেসরকারিভাবে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বাফুফে প্রধান। আমাদের চ্যাম্পিয়ন ভাইয়েরা ও চ্যাম্পিয়ন কোচিং স্টাফ সবাইকে সালাম। শুরুতেই বলতে চাই, আমাদের মাঠে ১১ জন খেলোয়াড়ের সাথে ১২তম খেলোয়াড় ছিলেন আপনারা, দর্শকরা। প্রতিটি মুহূর্তে মালদ্বীপ থেকে আমাদের মনে হয়নি… আমরা দেশেই আছি। থাইল্যান্ডে, অস্ট্রেলিয়ায়, মালদ্বীপে-সব জায়গাতেই আপনারা একটা বার্তা দিয়েছেন, বাংলাদেশ আর থামবে না। বাংলাদেশ আর পিছে নামবে না। ধন্যবাদ সব দর্শকদেরকে। বার্তাটা খুব পরিষ্কার। এটা সবে শুরু। ফাইনাল জিতেছি, ট্রফিটা বাংলাদেশে এসেছে, কিন্তু আরও ট্রফি আসার যে সংস্কৃতি আমরা দেখতে চেয়েছি, যেটার যাত্রা আমরা শুরু করতে যাচ্ছি। অতীতে আমাদের নারী দল বাছাই পেরিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আমরা এশিয়ান কাপে খেলব। আজকে আমরা ইয়ুথ দলকে দেখছি…আমাদের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। আমি বারবার বলে আসছি, আমাদের অনেক ঘাটতি আছে, কিন্তু ওরা যেভাবে খেলছে, যে পর্যায়ে খেলছে এবং দেশকে প্রতিদান দিচ্ছে, সে তুলনায় আমরা কিন্তু তাদের রিসোর্স দেওয়ার ধারে কাছেও নেই। আজও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে। যদি মন্ত্রণালয় এগিয়ে আসে, পৃষ্ঠপোষকরা এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে খেলোয়াড়দের জন্য আমরা ভালো একটা ফ্যাসিলিটিজ তৈরি করতে চাই। তখনই কেবল আমরা ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা করতে পারব। প্রতিক্রিয়ার শেষ দিকে এসে তাবিথ আউয়াল বলেন ‘উই আর দ্যা…’, সমবেত দর্শক-ফুটবলপ্রেমীরা সমস্বরে চিৎকারে আওয়াজ তোলেন ‘চ্যাম্পিয়ন। ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ায় ইসমাইল-রোনানদের এক ঘণ্টা দেরি হয় ঢাকায় পা রাখতে। বিমানবন্দরের ভিআইপি গেইটে গণমাধ্যমকর্মীদের, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা, হাতিরঝিলের সাজানো এম্ফিথিয়েটারে আসা ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষাও বাড়ে। রাত সোয়া আটটায় ভিআইপি গেট দিয়ে যখন বেরিয়ে আসেন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ীরা। উচ্ছ্বাসে-উল্লাসে, শ্লোগানে মুখরিত হয় চারধার। মালদ্বীপের রাজধানী মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ। বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় তাদের এটি দ্বিতীয় শিরোপা।
দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। রাত ৯টার পর দলটি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। অনুষ্ঠানে একে একে খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণা করা হলে তারা মঞ্চে ওঠেন। অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী ট্রফি হাতে মঞ্চে ওঠেন। ইনজুরির কারণে ফাইনাল ভেন্যুতে যেতে না পারা ফুটবলার আশিকুর রহমান স্ক্যাচ নিয়েই উপস্থিত হন, পরে অধিনায়ক তার হাতে ট্রফি তুলে দেন—যা ছিল আবেগঘন এক মুহূর্ত। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন প্রবাসী দুই ফুটবলার রোনান সুলিভান ও ডেকলান সুলিভান। দর্শকদের আহ্বানে তারা সাড়া দেন এবং পুরো আয়োজন উপভোগ করেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দলকে অভিনন্দন জানান। তিনি জানান, চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য বিশেষ আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা হবে জাতীয় ক্রীড়া দিবস (৬ এপ্রিল)-এ। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, খেলোয়াড়দের জন্য ‘ভালো কিছু’ অপেক্ষা করছে। এরই মধ্যে বাফুফে সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী ঘোষণা দেন, দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে ১ লাখ টাকা এবং কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও প্রতিটি খেলোয়াড়কে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা আসে। অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, “এই সাফল্যের পেছনে আমাদের কঠোর পরিশ্রম রয়েছে। দেশবাসীর জন্যই এই ট্রফি উৎসর্গ করছি।” অন্যদিকে রোনান ও ডেকলান সুলিভান ইংরেজিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জানান, তারা বাংলা না জানলেও বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় মুগ্ধ। বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্স এই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এই দলকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। একই আশা ব্যক্ত করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও।
নিউক্যাসল ইউনাইটেডে কিরান ট্রিপিয়ারের সাড়ে চার বছরের অধ্যায়ের ইতি ঘটছে যাচ্ছে। চলতি মৌসুম শেষে ক্লাব ছাড়বেন এই ইংলিশ ডিফেন্ডার। মৌসুম শেষে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ট্রিপিয়ারের। এরপর তার চলে যাওয়ার কথা শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে প্রিমিয়ার লিগের দলটি। সৌদি আরবের একটি কনসোর্টিয়াম ক্লাবটির মালিকানা কিনে নেওয়ার পর, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে নিউক্যাসলে যোগ দেন ট্রিপিয়ার। সেই সময় প্রিমিয়ার লিগে নিউক্যাসল অবনমন অঞ্চলে ছিল। এডি হাওয়ের কোচিংয়ে দলটির পুনরুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ট্রিপিয়ার। গত মৌসুমে নিউক্যসলের লিগ কাপ জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন তিনি, সাত দশকের মধ্যে তাদের প্রথম শিরোপা সেটি। এছাড়া ২০২৩ ও ২০২৫ সালে দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তোলার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখেন ২৫ বছর বয়সী রাইট-ব্যাক। ২০২৪ সালের অগাস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দেওয়া ট্রিপিয়ার নিউক্যাসলের হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১৫৭ ম্যাচ।
দেশের ক্রিকেটের কিংবদন্তি স্পিনার মোহাম্মদ রফিককে দেওয়া হয়েছে নতুন দায়িত্ব। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব পেলেন বাঁহাতি এই স্পিনার। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) বোর্ড সভা শেষে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত ২৬ মার্চ বিশেষ প্রদর্শনী ম্যাচে বাংলাদেশের কোচ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন রফিক। তার চাওয়া, দেশের ক্রিকেট যেন শীর্ষ পর্যায়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমি তো এটার আশায় বসে আসি। বিসিবি যদি মনে করে আমার চেয়ে ভালো কোচ পায়, আমি বলব ভালো। আমি চাচ্ছি বাংলাদেশের ক্রিকেট একটা টপ লেভেলে যাক। আমার চেয়ে যদি ভালো কোচ পায় আমাকে কেন নেবে? কিন্তু যদি আমি ওদের চেয়ে বেটার হই, আমি বিসিবিকে অনুরোধ করব যে আমাকে ডাকুন।’ ৫৫ বছর বয়সী রফিক দেশের ক্রিকেটে প্রথম তারকা স্পিনার। ১৯৯৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। স্পিনারের স্বর্গরাজ্য বাংলাদেশে বল হাতে সফল রফিক ৩৩ টেস্টে নিয়েছেন ১০০ উইকেট। ওয়ানডেতে ১২৫ ম্যাচে ১২৫ শিকার তার নামের পাশে। একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পেয়েছেন এক উইকেট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের জুনান চাকমা চ্যাম্পিয়ন এবং ভাস্কর্য বিভাগের সুপ্রিয় কুমার ঘোষ রানার্স-আপ হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা আজ শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। খেলা শেষে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পালের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এস এম আরিফ মাহমুদ, ডাকসু’র সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এস এম জাকারিয়াসহ বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, আবাসিক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।