খেলাধুলা

মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত
হ্যাটট্রিক করে বিপিএলে মৃত্যুঞ্জয়ের অনন্য কীর্তি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে হ্যাটট্রিকের তালিকায় যোগ হলো আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক স্পেলে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন রংপুর রাইডার্সের পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী । এর মাধ্যমে বিপিএলের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে দুইবার হ্যাটট্রিক করার অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি।   দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ১৯.৫ ওভারে ১৪৮ রানে অলআউট হয়। ইনিংসের একেবারে শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মৃত্যুঞ্জয়। শেষ তিন বলে একে একে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জহির খান ও বিলাল সামিকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক। এই স্পেলেই নোয়াখালীর ইনিংসের ইতি ঘটে।   এই হ্যাটট্রিক ছিল বিপিএলের ইতিহাসে মোট ১০ম হ্যাটট্রিক এবং মৃত্যুঞ্জয় হলেন নবম বোলার, যিনি এই কীর্তিতে নাম লেখালেন। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। এবার রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে একই কীর্তি গড়ে নিজের নামটি আলাদা করে তুললেন ডানহাতি এই পেসার।   বাংলাদেশি বোলারদের স্বীকৃত টি–টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিকের হিসাবেও মৃত্যুঞ্জয়ের নামটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি বোলারদের মোট আটটি হ্যাটট্রিকের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় দু’বার এই কীর্তি গড়েছেন। একমাত্র অন্য বোলার হিসেবে দুইবার হ্যাটট্রিকের নজির আছে আল-আমিন হোসেনের।   চলতি বিপিএলে এর আগে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পেসার মেহেদী হাসান রানাও একটি হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ফলে একই আসরে দুইটি হ্যাটট্রিকের সাক্ষী হলো এবারের বিপিএল।   সব মিলিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঠাণ্ডা মাথার বোলিং আর টানা তিন বলে তিন উইকেট—মৃত্যুঞ্জয়ের এই হ্যাটট্রিক শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং বিপিএল ইতিহাসে তাকে স্থায়ীভাবে আলাদা করে রাখার মতো এক কীর্তি।   ক্র.  বোলারের নাম  দল  প্রতিপক্ষ বছর ১ মোহাম্মদ সামি  দুরন্ত রাজশাহী ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ২০১২ ২  আল-আমিন হোসেন  বরিশাল বুলস  সিলেট সুপারস্টারস  ২০১৫ ৩  আলিস আল ইসলাম  ঢাকা ডায়নামাইটস  রংপুর রাইডার্স  ২০১৯ ৪ ওয়াহাব রিয়াজ  কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস  খুলনা টাইটানস  ২০১৯ ৫ আন্দ্রে রাসেল ঢাকা ডায়নামাইটস চিটাগং ভাইকিংস  ২০১৯ ৬ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স সিলেট সানরাইজার্স ২০২২ ৭ শরিফুল ইসলাম  দুর্দান্ত ঢাকা  কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স  ২০২৪ ৮ মঈন আলী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স  চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স  ২০২৪ ৯ মেহেদী হাসান রানা  নোয়াখালী এক্সপ্রেস সিলেট টাইটান্স ২০২৫–২৬ ১০ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী রংপুর রাইডার্স  নোয়াখালী এক্সপ্রেস ২০২৫–২৬

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
অবশেষে জয়ের স্বাদ পেল নোয়াখালী

টানা ছয় ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে অবশেষে জয়ের মুখ দেখল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ১৪৮ রান তুলেছিল নবাগত দলটি। লক্ষ্যটা বড় না হলেও শেষ ওভারের নাটকে গিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় নোয়াখালী—নির্ণায়ক ওভারে তিন উইকেট নিয়ে নায়ক হন হাসান মাহমুদ।   রংপুরের জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। উইকেটে ছিলেন শেষ স্বীকৃত ব্যাটার খুশদিল শাহ। কিন্তু প্রথম বলেই তাকে ফিরিয়ে দেন হাসান। পরের বলে এক রান নেন সুফিয়ান মুকিম। তৃতীয় বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন রংপুরের হ্যাটট্রিক–নায়ক মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। শেষ বলে মুস্তাফিজুর রহমানকে বোল্ড করে রংপুরের ইনিংস থামিয়ে দেন হাসান। ফলে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর এবং ৯ রানের জয় পায় নোয়াখালী। হাসান শেষ করেন ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে—ম্যাচের সেরা বোলার হিসেবে।   এর আগে নোয়াখালীর ইনিংস শেষ দিকে বড় ধাক্কা খায়। রংপুরের হয়ে মৃত্যুঞ্জয় শেষের আগুনে স্পেলে একে একে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জহির খান ও বিলাল সামিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। তাতেই ১৯.৫ ওভারে ১৪৮ রানে অলআউট হয় নোয়াখালী। এর আগে মুস্তাফিজুর রহমানও হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন—তিনি জাকের আলী ও মেহেদী হাসান রানাকে আউট করেন।   ব্যাটিংয়ে নোয়াখালীর শুরু ছিল উড়ন্ত। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৬৬ রান তুলে নেয় তারা। ওপেনিং জুটি ভাঙে ২৫ রানে—শাহাদাত হোসেন দিপু ৮ বলে ১৪ রান করে মুস্তাফিজের বলে বোল্ড হন। এরপর সৌম্য সরকার ও হাবিবুর রহমান সোহান ঝড়ো জুটি গড়ে তোলেন। পাওয়ার প্লে শেষে সোহান ১৬ বলে ৩০ রান করে আউট হন (সুফিয়ান মুকিম)। এরপর সৌম্য (৩১), মোহাম্মদ নবি (০) ও হায়দার আলী (১) দ্রুত ফিরলে চাপ বাড়ে। এক সময় স্কোর দাঁড়ায় ৮৪/৪।   মাঝে জাকের আলী সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন। ষষ্ঠ উইকেটে জাকের–অঙ্কন জুটি ৪০ বলে ৪৯ রান যোগ করে ইনিংসকে টানেন। তবে শেষদিকে ধসে বড় স্কোর গড়া হয়নি। রংপুরের বোলিংয়ে মুস্তাফিজ ১৮ রানে ৩ উইকেট, মৃত্যুঞ্জয় ৪৩ রানে ৩ উইকেট নেন; খুশদিল শাহ নেন দুটি, আর সুফিয়ান মুকিম ও নাহিদ রানার ঝুলিতে যায় একটি করে উইকেট।   সব মিলিয়ে, শেষ ওভারের তিন আঘাতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল নোয়াখালী—সপ্তম ম্যাচে এসে এল কাঙ্ক্ষিত জয়।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
‘মুস্তাফিজের জায়গায় লিটন বা সৌম্য হলে কি একই সিদ্ধান্ত নিত বিসিসিআই?’

আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্রিকেট অঙ্গনে বিতর্ক থামছেই না। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক মনে করেন, মুস্তাফিজের বদলে যদি লিটন দাস কিংবা সৌম্য সরকার হতেন, তাহলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড একই সিদ্ধান্ত নিত না।   আশরাফুলের বক্তব্য, উপমহাদেশের ক্রিকেট এখন রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। বাংলাদেশ, ভারত কিংবা পাকিস্তান—সব দেশেই ক্রিকেট বোর্ডে এমন অনেক সিদ্ধান্তগ্রহণকারী আছেন, যাদের পেশাদার ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা নেই। তার মতে, এই বাস্তবতায় মুস্তাফিজ ‘নোংরা রাজনীতির’ শিকার হয়েছেন।   টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশরাফুল বলেন, “মুস্তাফিজের বদলে যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হতেন, তাহলে কি বিসিসিআই একই কাজ করত? আমার মনে হয় না। এখানে সস্তা ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানো হচ্ছে, যা রাজনীতিবিদরা খেলছেন।” তিনি আরও বলেন, আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারতে যাবে কি না—তা নিয়েও তার সংশয় আছে।   “ভারতে না গেলে বিসিবি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কিন্তু জাতীয় মর্যাদা অর্থের চেয়েও বড়,” যোগ করেন তিনি।   আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিসিসিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা জয় শাহকে লক্ষ্য করে কড়া সমালোচনাও করেন আশরাফুল। তার যুক্তি, অতীতে বিসিসিআইর মতো ব্যক্তিরা দায়িত্বে থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না। “তারা পরিণত মানুষ ছিলেন, ক্রিকেট ও এর প্রভাব বুঝতেন। কিন্তু এখন এমন লোকজন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যারা কখনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি,” বলেন তিনি।   এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন আশরাফুল। তার মতে, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট—আইপিএলের সঙ্গে এক কাতারে ফেলা যায় না।   “এ ধরনের আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাড়াহুড়ো করে বক্তব্য দেওয়া ঠিক নয়,” বলেন তিনি।   সব মিলিয়ে, মুস্তাফিজ ইস্যুতে আশরাফুলের বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ক্রিকেটের সিদ্ধান্তে রাজনীতির প্রভাব কতটা, আর সেটার খেসারত কি শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দেরই দিতে হচ্ছে?

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
কে লালরেমরুয়াতা। ছবি : সংগৃহীত
মাঠেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন ক্রিকেটার

ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ঘটে গেল মর্মান্তিক এক ঘটনা। রঞ্জি ট্রফিতে মিজোরামের হয়ে খেলা প্রাক্তন ক্রিকেটার কে লালরেমরুয়াতা স্থানীয় একটি ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে মিজোরামসহ দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।   বুধবার খালেদ মেমোরিয়াল দ্বিতীয় ডিভিশন স্ক্রিনিং টুর্নামেন্টে ভেঙ্গনুয়াই রাইডার্স সিসি ও চানপুই আইএলএমওভি সিসির ম্যাচ চলছিল। ভেঙ্গনুয়াই রাইডার্সের হয়ে খেলছিলেন লালরেমরুয়াতা। ম্যাচের মাঝেই তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং মাঠে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে রক্ষা করতে পারেননি।   রঞ্জি ট্রফিতে মিজোরামের প্রতিনিধিত্ব করা এই ক্রিকেটার অবসর নেওয়ার পরও খেলাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি রাজ্যের সিনিয়র টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য ছিলেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেট উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছিলেন। সতীর্থ ও ক্রিকেট প্রশাসকদের মতে, মাঠের বাইরে থেকেও তিনি রাজ্যের ক্রিকেট এগিয়ে নিতে নীরবে কাজ করে গেছেন।   এই দুর্ঘটনার পর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব মিজোরাম শোকের নিদর্শন হিসেবে বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত সব ক্রিকেট ম্যাচ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডিভিশন স্ক্রিনিং টুর্নামেন্টের ম্যাচ, পাশাপাশি বিভিন্ন ভেন্যুতে আয়োজিত ছেলে ও মেয়েদের আন্তঃস্কুল ক্রিকেটের খেলাও। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থগিত ম্যাচগুলোর নতুন সূচি পরে জানানো হবে।   এক বিবৃতিতে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব মিজোরাম লালরেমরুয়াতার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে রাজ্যের ক্রিকেটে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে সংস্থাটি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তামিমকে ভারতীয় দালাল বলে বিতর্কে বিসিবি পরিচালক

সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক ও দেশের অন্যতম সফল ওপেনার তামিম ইকবালকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বিসিবির সিদ্ধান্ত নিয়ে তামিমের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ফেসবুকে কড়া ভাষায় পোস্ট দেন। বর্তমানে বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা নাজমুল ইসলাম বৃহস্পতিবার তামিমের বক্তব্যসংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে ফেসবুকে লেখেন, ‘এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালালের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।’ পোস্টটি কিছু সময় তার টাইমলাইনে থাকলেও তীব্র সমালোচনার মুখে গভীর রাতে তা সরিয়ে ফেলা হয়। এর আগে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তামিম ইকবাল ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে হঠাৎ মন্তব্য না করে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তামিম বলেন, ‘আমি বোর্ডে থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতাম। অনেক বিষয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা যায়।’ তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে ওঠা আলোচনার জবাবেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তামিম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা উচিত। সরকার বড় অংশীদার হলেও বোর্ডের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আজকের সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী ১০ বছর পর কী হবে—সেটাও বিবেচনায় রাখা জরুরি, বিশেষ করে যখন বোর্ডের বড় একটি আয়ের উৎস আইসিসি। তামিমের এই বক্তব্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক নির্বাচিত হন নাজমুল ইসলাম। ওই নির্বাচন ঘিরেও অনিয়ম ও সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তামিম ইকবালসহ একাধিক প্রার্থী তখন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
তামিম ইকবাল। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগে ভাবতে বললেন তামিম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান আলোচনা-অনিশ্চয়তার মাঝে সংযত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে কথা বললেন তামিম ইকবাল। সাবেক এই অধিনায়কের মতে, তাৎক্ষণিক চাপ বা আবেগের বশে নয়—বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ মাথায় রেখেই যে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। রাজধানীর সিটি ক্লাব মাঠে জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের উদ্যোগে আয়োজিত জিয়া ইন্টার ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তামিম বলেন, ‘যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থই হতে হবে সর্বাগ্রে। এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যা কয়েক বছর পর গিয়ে ক্রিকেটকে সমস্যায় ফেলবে।’ প্রকাশ্যে ধারাবাহিক মন্তব্যের বিষয়ে সতর্কতা জানিয়ে তিনি বলেন, ভেতরে আলোচনা না সেরে বারবার ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিলে অপ্রয়োজনীয় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ‘আজ এক কথা, কাল আরেক কথা—এভাবে চললে বিভ্রান্তি বাড়ে। আমার মনে হয়, ভেতরে সব আলোচনা শেষ করে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই সবার সামনে আনা উচিত,’ যোগ করেন তিনি। নিজে বোর্ডের দায়িত্বে থাকলে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন—এমন প্রশ্নে তামিম বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মর্যাদা এবং আগামী এক দশকে সম্ভাব্য প্রভাব—সবকিছু বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। তার ভাষায়, ‘আমরা বোর্ডকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেখি। সরকারের সঙ্গে আলোচনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বোর্ডের নিজস্ব অবস্থান ও সাহসী সিদ্ধান্ত থাকা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, আজ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার প্রভাব পাঁচ বা দশ বছর পর কী হতে পারে—সেই হিসাব না কষলে ভবিষ্যতে তার মাশুল দিতে হতে পারে। ‘আজকের সিদ্ধান্তে আগামী প্রজন্মের ক্রিকেট কীভাবে প্রভাবিত হবে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,’ মন্তব্য করেন তামিম। সবশেষে সাবেক এই ওপেনারের প্রত্যাশা একটাই—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যেন আসে সুপরিকল্পিত ভাবনা থেকে। ‘আমি শুধু এটুকুই চাই, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যেন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। চিন্তা করে, ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি,’ বলেন তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
হ্যান্সি ফ্লিক। ছবি : সংগৃহীত
ফাইনালের রাজা হ্যান্সি ফ্লিক

ফাইনাল মানেই জয়—এই সমীকরণটা যেন হ্যান্সি ফ্লিকের জন্য লিখেই রাখা। ক্লাব ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত যে সাতটি ফাইনালে কোচ হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রতিটিতেই জয়ের হাসি হেসেছেন এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড। হ্যান্সি ফ্লিক এবার দাঁড়িয়ে আছেন নিজের অষ্টম ফাইনালের দোরগোড়ায়—আর পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে তার পক্ষেই কথা বলছে।   ২০১৯ সালের নভেম্বরে বায়ার্ন মিউনিখের কোচ হিসেবে পেশাদার ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু করেন ফ্লিক। ফাইনালের সঙ্গে তার ‘প্রেমকাহিনি’ শুরু হয় ২০২০ সালের ৪ জুলাই, কোভিড–বিধ্বস্ত ফুটবল ক্যালেন্ডারের মাঝেই। সেবার জার্মান কাপের ফাইনালে বায়ার্ন ৪–২ গোলে জিতে তুলে নেয় শিরোপা। মাত্র এক মাস পরই আসে ইউরোপের সবচেয়ে বড় মুকুট—চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।   ২০২০ সালের সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ম্যাচে লিসবনে কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সাকে ৮–২ গোলে বিধ্বস্ত করে বায়ার্ন। পরে ফাইনালে পিএসজিকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে ট্রফি জেতেন ফ্লিক। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সেভিয়াকে হারিয়ে জেতেন ইউয়েফা সুপার কাপ, এক সপ্তাহ পর বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে জার্মান সুপার কাপ—২০২০ শেষ হওয়ার আগেই চারটি ফাইনাল, চারটি শিরোপা।   ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে বায়ার্ন অধ্যায় শেষ করেন ফ্লিক। এরপর সময় বদলেছে, দল বদলেছে—কিন্তু ফাইনালের ফল বদলায়নি।   ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে বার্সার দায়িত্ব নেওয়ার পরও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি। বার্সেলোনার কোচ হিসেবে তাঁর প্রথম ফাইনালই ছিল স্প্যানিশ সুপার কাপ—প্রতিপক্ষ আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ম্যাচে ৫–২ গোলের দুর্দান্ত জয়ে ট্রফি ঘরে তোলে কাতালানরা।   এরপর ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল কোপা দেল রে ফাইনাল—আবারও প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ, আবারও নাটকীয় জয়। অতিরিক্ত সময়ে ৩–২ ব্যবধানে জিতে ফ্লিক নিজের সপ্তম ফাইনালেও অপরাজিত থাকেন।   এবার অবশ্য একটি নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। প্রথমবারের মতো একই প্রতিযোগিতার ফাইনালে দ্বিতীয়বার কোচিং করাতে যাচ্ছেন ফ্লিক। রোববার সৌদি আরবে সুপার কাপের ফাইনালে আবার মুখোমুখি রিয়াল–বার্সা। প্রশ্ন একটাই—ফাইনালের রাজা কি নিজের অষ্টম মুকুটও মাথায় তুলবেন?   পরিসংখ্যান, ইতিহাস আর মানসিক দৃঢ়তা—সবই বলছে, ফ্লিকের বিপক্ষে ফাইনালে দাঁড়ানো মানে পাহাড় ডিঙানোর চেষ্টা করা।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
শেষ ওভারের নাটকীয়তায় চট্টগ্রামের জয়

লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না। ওভারপ্রতি প্রয়োজন ছিল সাত রানেরও কম। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম ওভারে মাত্র ছয় বলের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে হঠাৎ করেই চাপে পড়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। ২৮ রানে চার উইকেট হারানোর পর ম্যাচ যেন রাজশাহীর দিকেই হেলে পড়েছিল।   সেই বিপর্যয় সামাল দেন মেহেদী হাসান ও হাসান নেওয়াজ। দুজনের পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪০ রান। পরে নেওয়াজের সঙ্গে আসিফ আলী যোগ করলে চাপ কিছুটা কমে, ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ হয় আরো ৩৫ রান।   তবে শেষদিকে রিপন মণ্ডল ও তানজিম হাসান সাকিবের আঁটসাঁট বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।   শেষ ওভারে চট্টগ্রামের দরকার ছিল ১০ রান। অফ স্পিনার এসএম মেহরবের প্রথম তিন বলে ৮ রান এলেও পরের দুই বলে ডট দিয়ে নাটক বাড়ান নেওয়াজ। কিন্তু শেষ বল লং অফে ঠেলে দেওয়া শটে নওয়াজ ও শরীফুল ইসলাম তুলে নেন প্রয়োজনীয় দুই রান। উল্লাসে মাতে চট্টগ্রাম শিবির। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব ও ফিল্ডিংয়ের ভুল রাজশাহীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে চাপের মুখে ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে নাটকীয় জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস।   এর আগে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। শুরুটা ভালো হলেও চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ ওয়াসিম আউট হতেই ভেঙে পড়ে রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপ। নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিমরা সুবিধা করতে পারেননি।   দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম ও এসএম মেহরব। আকবর আলী ১৬ বলে ১৭ রান করেন, আর শেষদিকে তানজিম হাসান সাকিব ১৪ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৮ রান।   চট্টগ্রামের পক্ষে আমের জামাল ২৩ রান খরচ করে নেন তিন উইকেট। দুটি করে উইকেট শিকার করেন শরীফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলাম।   জবাব দিতে নেমে শুরুতেই খেই হারায় চট্টগ্রাম। নাঈম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম দ্রুত বিদায় নেন। অধিনায়ক শেখ মেহেদী ২৫ বলে ২৮ রান করে আউট হলে দায়িত্ব পড়ে হাসান নেওয়াজ ও আসিফ আলীর ওপর।   আসিফ আলী ২৫ বলে ২৭ রান করে বিদায় নিলেও নওয়াজ একপ্রান্ত আগলে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে শেষ বলেই নিশ্চিত করেন দলের জয়।   এই জয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ৭ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান আরো দৃঢ় করল চট্টগ্রাম রয়্যালস।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নির্ধারিত ভেন্যুতে আপত্তি জানিয়ে আইসিসিকে ফের চিঠি বিসিবির

 আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নির্ধারিত ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ডের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে ভেন্যু সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাস্তব ও কৌশলগত উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিসিবি মনে করছে, বর্তমান ভেন্যুতে খেলা আয়োজন করলে দলীয় প্রস্তুতি, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে, যা প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগেও একই বিষয়ে বিসিবি আইসিসিকে অবহিত করেছিল, তবে তখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। নতুন করে পাঠানো চিঠিতে বিসিবি সংশ্লিষ্ট ভেন্যুর সার্বিক পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি বিকল্প ভেন্যু বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভেন্যু পরিবর্তনের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিসিবির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে সব অংশগ্রহণকারী দলের জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা আইসিসির দায়িত্ব। সে কারণে ভেন্যু সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি ও অংশগ্রহণকারী বোর্ডগুলোর মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইসিসির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিসিবির চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পরবর্তী সময়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভেন্যু নিয়ে এই অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দল ঘোষণা বাংলাদেশের

নারী বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের সূচি গতকাল প্রকাশ করেছে আইসিসি। নেপালে শুরু হতে যাওয়া বাছাই পর্বের জন্য আজ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।   টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ১৫ সদস্যের দলে যথারীতি নেতৃত্ব দেবেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার ডেপুটি হিসেবে থাকছেন নাহিদা আক্তার।   এ ছাড়া নিয়মিত তারকারই থাকছেন বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দলে। অন্যদিকে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ৫ জনকে রেখেছে বিসিবি। টুর্নামেন্টটিতে খেলতে আগামী ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাড়বেন জ্যোতি-মারুফা আক্তাররা। আগামী ১৮ জানুয়ারি নেপালের দুই স্টেডিয়াম কীর্তিপুর ও মুলপানিতে বাছাই পর্ব শুরু হবে।   উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশও মাঠে নামবে। প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। ১০ দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে। গ্রুপের অপর তিন সঙ্গী হলো—পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া ও আয়ারল্যান্ড।   ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাপুয়া নিউগিনি। অন্যদিকে ২২ জানুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলার পর গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ২৪ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মারুফা আক্তার-ফারজানা হক পিংকিরা। আগামী জুন-জুলাইয়ে নারী বিশ্বকাপের ১০ম আসর হবে ইংল্যান্ডে। ইতিমধ্যে ৮ দল বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। বাকি ৪ টিকিটের জন্য বাছাই পর্বে লড়বে ১০ দল।   ৫ দল করে দুটি গ্রুপে ভাগ হওয়া শীর্ষ তিন দল সুপার সিক্সে জায়গা পাবে। সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে এক গ্রুপের দল অন্য গ্রুপের দলগুলোকে পাবে। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে যে চার দল থাকবে তারা অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গী হবে। বাছাই পর্বের ম্যাচ হবে দুটি ভেন্যুতে—কীর্তিপুরের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও মুলপানি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। মূলপর্বে নামার আগে নেদারল্যান্ডস ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।   বাংলাদেশের স্কোয়াড— নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), সোবহানা মোস্তারি, ফারজানা হক পিংকি, শারমিন আক্তার সুপ্তা, দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, স্বর্ণা আক্তার, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা ও সুলতানা খাতুন।   স্ট্যান্ডবাই— শারমিন সুলতানা, ফারজানা ইয়াসমিন, শরিফা খাতুন, ফাতেমা জাহান সোনিয়া ও হাবিবা ইসলাম পিংকি।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে মঈন আলী।
মঈনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সিলেটের চতুর্থ জয়

জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে ৩১ রান প্রয়োজন ছিল ঢাকা ক্যাপিটালসের। সমীকরণটা যে কঠিন তা ম্যাচ শেষে বোঝাই গেল। রুয়েল মিয়ার করা ওভারটিতে ১০ রান নিতে পেরেছেন সাব্বির রহমান।   তাতে ২০ রানে বিপিএলে চতুর্থ জয় পেয়েছে সিলেট টাইটানস।   সিলেটে ১৮১ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো পেয়েছিল ঢাকা। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৬ রান তোলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ব্যক্তিগত ২৪ রানে মামুন আউট হতেই ম্যাচের মোড় যায় ঘুরে। মুহূর্তের মধ্যেই যে ঢাকার স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৬৭ রান।   সেখান থেকে সাইফ হাসানের সঙ্গে ৩৭ রানের জুটি গড়ে ধাক্কাটা সামলান গুরবাজ। তবে এবারের বিপিএলে প্রথম ফিফটি পেয়ে ৫১ রানে নিজে আউট হলে ভেঙে যায় তাদের জুটি। শুধু তাদের জুটি নয়, ম্যাচই শেষ হয়। কেননা গুরবাজের উইকেটসহ এ সময় ৯ রানে ৩ উইকেট হারায় ঢাকা।   শেষ দিকে ২৫ রানের ইনিংস খেলে শুধু ব্যবধান কমান সাব্বির হোসেন। সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন সালমান ইরশাদ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২টি নেন মঈন আলী। বল হাতে ২ উইকেট নেওয়ার আগে ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলেন মঈন। তার ৩৫০.০০ স্ট্রাইকরেটে ২৮ রানের ইনিংসে পরে ৬ উইকেটে ১৮০ রানের সংগ্রহ পায় সিলেট।   ৩ ছক্কা ও ২ চারের ইনিংসটি না খেললে ১৬০ রান হতো কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্যই পরে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার। এর আগে পারভেজ হোসেন ইমন (৩২) ও তাওফিক খান (৩২) উদ্বোধনী জুটিতে ৪৮ করলেও মাঝে রান খরায় ভুগছিল সিলেট। চতুর্থ উইকেটে ৬২ রানের জুটি গড়ে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও আরিফুল ইসলাম বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। ওমরজাইয়ের ৩৩ রানের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন আরিফুল। ঢাকার হয়ে ৩ উইকেট নেন জিয়াউর রহমান।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
পিএসএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি দল শিয়ালকোট

পাকিস্তান সুপার লিগের ইতিহাসে রচিত হলো নতুন অধ্যায়। রেকর্ড গড়া দামে বিক্রি হয়ে পিএসএলের সবচেয়ে দামি দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল শিয়ালকোট। নিলামে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক রিয়েল এস্টেট কনসোর্টিয়াম ওজ ডেভেলপার্স ১৮৫ কোটি পাকিস্তানি রুপির প্রস্তাবে দলটি কিনে নেয়, যা পিএসএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি ইতিহাসে সর্বোচ্চ।   ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয় নিলাম। এই নিলামে বিক্রি হয় দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয় এই দল দুটি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাভিয়েশন ও হেলথকেয়ার কনগ্লোমারেট এফকেএস কিনেছে হায়দরাবাদ দলটি। তাদের বিড ছিল ১৭৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি। যা প্রায় ৬.২ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক রিয়েল এস্টেট কনসোর্টিয়াম ওজ ডেভেলপার্স শিয়ালকোটের জন্য হাঁকিয়েছে ১৮৫ কোটি রুপি। যা প্রায় ৬.৫৫ মিলিয়ন ডলার।   প্রথম দলের নিলামের ভিত্তিমূল্য ছিল ১১০ কোটি রুপি। কিন্তু এফকেএস ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দরযুদ্ধে দাম দ্রুত বাড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৭৫ কোটির প্রস্তাবে হায়দরাবাদ নিশ্চিত করে এফকেএস।   নিলামের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে দ্বিতীয় দলের ভিত্তিমূল্য ধরা হয় ১৭০ কোটি রুপি। শেষ পর্যন্ত ১৮৫ কোটির প্রস্তাবে শিয়ালকোট নিশ্চিত করে ওজ গ্রুপ। ফলে শিয়ালকোট হয়ে ওঠে পিএসএলের সবচেয়ে দামী দল।   এফকেএসের সিইও ফাওয়াদ সরওয়ার বলেন, “পিএসএল দলের মালিক হওয়া আমার শৈশবের স্বপ্ন। আমরা সবাই রাস্তায় ক্রিকেট খেলেই বড় হয়েছি। আজ এখানে পৌঁছাতে পেরে গর্বিত।’’   এদিকে ওজ গ্রুপের সিইও হামজা মজিদ বলেন, “প্রবাসী পাকিস্তানি হিসেবে দেশের জন্য কিছু করতে পারা আমাদের স্বপ্ন। ক্রিকেট আমাদের রক্তে। শিয়ালকোটের ক্রীড়া শিল্প এই দলের মাধ্যমে আরও এগিয়ে যাবে।’’   পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি নতুন দুই মালিককে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তারা শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজির নয়, পাকিস্তান ক্রিকেটেরও অভিভাবক।   আগামী মৌসুমে পিসিবি নিজেই মুলতান সুলতানস পরিচালনা করবে। পরে সেটিও বিক্রির জন্য তোলা হবে। পিএসএলের ১১তম আসর চলবে ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
মুস্তাফিজুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
মুস্তাফিজকে আইপিএলে ফেরানোর ‘টোপে’ও নড়েনি বিসিবি

মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কঠোর অবস্থান ভারতীয় ক্রিকেট মহলে স্পষ্ট অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। আইপিএল থেকে হঠাৎ করে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর বিসিবি যে দৃঢ় অবস্থানে অনড় থাকে, তাতেই পুরো পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়।   ঘটনার পরপরই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব আসে—বাংলাদেশ যদি ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে সম্মত হয়, তাহলে মুস্তাফিজকে পুনরায় আইপিএলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে দেশের একটি জাতীয় দৈনিকের দাবি অনুযায়ী, বিসিবি সেই প্রস্তাব স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে। বোর্ডের অবস্থান ছিল পরিষ্কার—কোনো শর্তেই বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না। উল্লেখ্য, আইপিএলের সর্বশেষ মিনি নিলামে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে ভেড়ায়। কিন্তু বিসিসিআইয়ের নির্দেশনার পর ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়। শুধু তাই নয়, কলকাতার অফিসিয়াল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেও মুস্তাফিজের সব ছবি ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়। এই ঘটনা বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এর পরই বিসিবি নেয় কঠোর অবস্থান। বোর্ডের বক্তব্য ছিল—যে দেশে একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না, সেখানে পুরো দল পাঠিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সে কারণেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবিতে তারা অনড় থাকে। বিসিবির এই দৃঢ়তায় চাপের মুখে পড়ে ভারতীয় পক্ষ পরে মুস্তাফিজকে আবার আইপিএলে ফেরানোর প্রস্তাব দেয়। তবে বিসিবির এক পরিচালক একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, “এই প্রস্তাব মানে হতো ইনিংস ঘোষণা করার পর আবার সেই ইনিংসেই ব্যাটিং শুরু করা। তাই বিষয়টি গ্রহণ করার কোনো সুযোগ ছিল না।” বিসিবি আগেই নিজেদের অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানিয়ে দেয়। তবুও বিসিসিআই বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি বলেই মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর তাকে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে মুস্তাফিজের আইপিএলে না থাকা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ আইপিএলে মুস্তাফিজ মানেই বাংলাদেশের বিপুল দর্শকসমর্থন এবং সম্প্রচারস্বত্বে বাড়তি বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। বিশ্লেষকদের মতে, তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে একদিকে সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে বিশ্বকাপের ভেন্যু হিসেবে ভারতের গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
মঈনের ঝড়ে বড় সংগ্রহ সিলেটের

সিলেট টাইটানসের স্কোরটা ১৬০ রানের মধ্যে থামার কথা ছিল। দুই সেট ব্যাটার আরিফুল ইসলাম ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে ১৮তম ওভারে আউট করে এমন ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।   কিন্তু আফগানিস্তানের পেসার দারুণ বোলিং করার পরেও ১৯তম ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন কিংবা তাসকিন আহমেদকে বোলিংয়ে আনলেন না ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। দুজনই একটু খরুচে হওয়ায় বল তুলে দিলেন অফস্পিনার নাসির হোসেনকে।     সিলেটে সুযোগটা কী দারুণভাবেই না কাজে লাগালেন মঈন আলী। আগের তিন ওভারে এক মেডেনে ৭ রান দেওয়া নাসিরের শেষ ওভারে নিলেন ২৮ রান। তাতে সিলেটের স্কোরটা দাঁড়ায় ১৮০ রানের। শেষ ওভার জিয়াউর করলে তার থেকেও ১৭ রান নেন সিলেটের ব্যাটাররা।   অর্থাৎ, শেষ দুই ওভারে ৪৫ রান নিয়েছে সিলেট। এর আগে উদ্বোধনী জুটিতে ৪৮ রান তোলা সিলেট হঠাৎ করেই পথ হারায়। তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৭২ রান। সেখান থেকে ৬২ রানের জুটি গড়ে দলকে এই সংগ্রহের ভিত এনে দেন আরিফুল-ওমরজাই।   সর্বোচ্চ ৩৮ রান করা আরিফুলের বিপরীতে ৩৩ রান করা ওমরজাই আউট হতেই ম্যাচের দৃশ্যপট যাচ্ছিল পাল্টে। সেখান থেকে মঈনের ঝড়ে বড় লক্ষ্যটা পায় সিলেট। সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন জিয়াউর।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য স্কোয়াডে যারা থাকছেন

বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সম্ভাব্য ২৬ সদস্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস। তাদের ভাষ্য, এই তালিকাটি এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনির বর্তমান ভাবনা ও পরিকল্পনার প্রতিফলন এতে স্পষ্ট।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কোয়াডের বড় অংশ আগের বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়দের নিয়েই গঠিত হতে পারে। অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন কয়েকজন তরুণ ফুটবলার।   রিপোর্টে গোলরক্ষক বিভাগে প্রথম পছন্দ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। জেরোনিমো রুলি থাকতে পারেন দ্বিতীয় গোল রক্ষক হিসেবে।   ডিফেন্ডারদের মধ্যে রয়েছেন নাহুয়েল মোলিনা, গঞ্জালো মন্টিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্ডি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং নিকোলাস টাগলিয়াফিকো।   মিডফিল্ডের সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছে রদ্রিগো ডি পল, লেয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং জিওভানি লো সেলসো।   আক্রমণভাগের নিশ্চয়ই লিওনেল মেসির বিকল্প থাকবে না। তার সঙ্গে থাকতে পারেন লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গঞ্জালেজ এবং থিয়াগো আলমাদা।   এই খেলোয়াড়দের অনেকেই তালিকায় প্রায় নিশ্চিত বলে উল্লেখ করেছে টিওয়াইসি স্পোর্টস।    এদিকে, কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা স্কোয়াডের শেষ কয়েকটি জায়গার জন্য লড়াই করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ওয়াল্টার বেনিতেজ, হুয়ান ফয়থ, লিওনার্দো বালের্দি, ফাকুন্দো মেদিনা, মার্কোস আকুনিয়া, ভালেন্তিন বার্কো ও এক্সেকিয়েল প্যালাসিওস।    এ ছাড়া কয়েকজন তরুণ ফুটবলারকেও নজরে রাখা হচ্ছে।   রিপোর্টে বলা হয়, ইনজুরি, ফর্ম এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি নির্ধারিত সময়েই।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
খাজার শেষ টেস্ট স্মরণীয় করে রাখলো অস্ট্রেলিয়া

অ্যাশেজের শেষ টেস্টে সিডনিতে সফরকারী ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) শেষ হওয়া ম্যাচের মাধ্যমে সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে নিজেদের দখলে রেখে দিল অজিরা।    এই সিরিজে ইংল্যান্ড মাত্র একটি টেস্টে জয়ের মুখ দেখেছেন। মেলবোর্নের সেই ম্যাচে ৪ উইকেটের জয়টাই এ দফায় তাদের জন্য একমাত্র পাওয়া হয়ে রইল।    এই টেস্টে দুই ইনিংসে ১৬৩ ও ২৯ রান করে টেস্টের প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন টেস্টকেও টি-টোয়েন্টি বানিয়ে ফেলা ট্রাভিস হেড। আর পাঁচ টেস্টে ৩১ উইকেট নিয়ে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ হয়েছেন মিচেল স্টার্ক।   ৮ উইকেট ৩০২ রান নিয়ে আগের দিন শেষ করা ইংল্যান্ড পঞ্চম দিনে নতুন বল নেয়ার পর খেলতে পেরেছে আর ৮.২ ওভার। ৮৮.২ ওভারে ৩৪২ রানে অলআউট হয় ইংলিশরা।   আগের দিনে ১৪২ রানে অপরাজিত থাকা বেথেল আজ আর ১২ রান যোগ করতে পেরেছেন। ২৬৫ বলে ১৫ চারে তার ১৫৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস শেষ হয়েছে স্টার্কের বলে ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে।   বিউ ওয়েবস্টার ও মিচেল স্টার্ক ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।   শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে টার্গেট দেওয়া হয় 'মামুলি' ১৬০ রান। বরাবরের মতোই শুরু করেন ট্রাভিস হেড। সঙ্গী জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে নিয়ে হেড যোগ করেন ৬২ রান।   আগের ইনিংসে শতক করা হেড এদিনও অনেকটা নিজের মারকুটে স্টাইলেই খেলেন। তিনি ৩৫ বলে ২৯ রান করে টাংয়ের বলে আউট হন। দলীয় ৭১ রানে ওয়েদারাল্ডও টাংয়ের বলে পটসের হাতে ক্যাচ দেন। ৪০ বলে ৩৪ রান করেন তিনি।   অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন। শেষ ইনিংসে অবশ্য ১২ বলে ১২ রান করে উইল জ্যাকসের বলে কাটা পড়েন। ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেকে এই টেস্টের মাধ্যমে সাইন আউট করা উসমান খাজা থেমেছেন ৬ রানে।    লাবুশেন নেমে স্বভাবসুলভ খেলছিলেন।  রানআউট হয়ে ফেরার আগে তিনি করেন ৪০ বলে ৩৭ রান।   ১২১ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে অ্যালেক্স ক্যারি আর গ্রিনের কাঁধে চড়ে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া পায় ম্যাচ জেতার স্বাদ। ক্যারি ১৬ এবং গ্রিন ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। 

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
গোল উৎসব করে সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনা

অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের জালে গোল উৎসব করে সুপার কাপের ফাইনালে পা রাখলো বার্সেলোনা। সৌদি আরবের জেদ্দায় বুধবার রাতে সেমিফাইনালে রাফিনিয়ার জোড়া গোলে ৫-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হ্যান্সি ফ্লিকের দল।   বিলবাওয়ের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কাতালানরা। একের পর এক আক্রমণের ফলও পেয়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি। গোল বন্যার শুরু হয় ম্যাচের ২১ মিনিটে তরেসের গোলে। ৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। স্কোরশিটে নাম লেখান লোপেস। এর চার মিনিট পরই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন বার্দগি। বিরতির আগে দুর্দান্ত গোলে স্কোরলাইন ৪-০ করেন রাফিনিয়া।   খেলা যখন ৪-০ গোলে এগিয়ে বার্সা তখন অ্যাথলেটিক দলের একমাত্র হাইলাইট ছিল পোস্টে লেগে যাওয়া একটি শট। দ্বিতীয়ার্ধেও অব্যাহত থাকে বার্সার আধিপত্য। ৫২ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে জোরাল শটে প্রতিপক্ষের জাল কাপান রাফিনিয়া। বাকি সময়ে দুই দলই সুযোগ-সুযোগ তৈরি করলেও জালের দেখা পায় কোন দলই। বড় জয়ে শিরোপার মঞ্চে নাম লেখায় ফ্লিকের দল।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতেই হবে, এমন সংবাদ মিথ্যা : বুলবুল

ক্রিকেট ভিত্তিক গণমাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো গতকাল জানিয়েছিল, নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ খেলার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার কথা বিসিবিকে জানিয়েছে আইসিসি। তারা বিসিবিকে বলেছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশকে ভারতে যেতে হবে অথবা পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হবে।   বিসিবি অবশ্য দাবি করেছে, বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এমন কোনো বার্তা তাদের দেওয়া হয়নি। বুধবার ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ক্রীড়া উপদেষ্টার সাথে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিস্তারিত জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, 'আমরা তো ভেলিড রিজন নিয়ে কথা বলছি। একটা খেলোয়াড়কে যখন নিরাপত্তা দিতে অসুবিধা, এ কারণেই তো তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে একটা দল, বাংলাদেশের একটা জনগোষ্ঠী তো বিরাট ব্যাপার। একটা প্রোপাগান্ডা চলছে, 'আইসিসি জানিয়েছে শ্রীলঙ্কায় খেলা সম্ভব নয়'। আমি এটাকে প্রোপাগান্ডাই বলব, মিথ্যা নিউজ। আইসিসির সাথে যোগাযোগ হয়েছে একটা। তারা জানতে চেয়েছে কী কী ইস্যু, আমরা জানিয়েছি। আমরা এখন লিখে পাঠাব কী কী ইস্যু।'   শুধু ক্রিকেটাররাই নন, সাংবাদিক থেকে দর্শক সবার নিরাপত্তাই প্রাধান্য পাচ্ছে বোর্ডের কাছে, 'আপনারা শুনেছেন, আইসিসিকে বলেছিলাম আমাদের নিরাপত্তা কতটা জরুরী। আমাদের সুযোগ আছে খেলোয়াড়দের দেখার। কিন্তু এর বাইরে বড় জনগোষ্ঠী আছে। সাংবাদিক, স্পন্সর, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক। সব নিরাপত্তা তো বোর্ডের সম্ভব না, এজন্য সরকারের নির্দেশনা দিচ্ছি। যেকোনো বিদেশ সফরে যেতে আমাদের গভর্নমেন্ট অর্ডার লাগে। সেই অর্ডার জানতে এসেছিলাম। সেফটি ও সিকিউরিটি উন্নতি না হলে আমরা এই বিশ্বকাপে আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করে যাব।'   বুলবুলের বিশ্বাস, জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি বিসিবির অবস্থান ও দাবি বুঝতে সমর্থ হবে, 'আমরা যৌক্তিক বিষয় নিয়ে কথা বলছি। এতগুলো বিশ্বকাপ খেলেছি কখনও এ ধরনের কথা বলেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে তাই স্ট্রংলি এটা উত্থাপন করেছি। আইসিসিকে বোঝাবো। আমাদের মন্ত্রী মহোদয় যেমনটা বলে গেলেন। আগেও সিকিউরিটি ইস্যুতে এ ধরনের ইভেন্ট হয়েছে। হাইব্রিড বিশ্বকাপের মূল কারণই নিরাপত্তা। আশা করি আমাদের কারণগুলো স্টাবলিশ করতে পারব।'

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পুরোদস্তুর ব্যাটার বনে গেলেন খালেদ, তবু হারল সিলেট

জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে দরকার ছিল ৪২ রান। হাতে মাত্র একটি উইকেট। ম্যাচের এমন অবস্থায় শেষ উইকেটে ব্যাট হাতে ক্রিজে ঝড় তুললেন সিলেট টাইটানসের খালেদ আহমেদ। দলকে জেতাতে না পারলেও চট্টগ্রাম রয়্যালসের ভক্তদের মনে ভীতি সঞ্চার করেন ঠিকই। খালেদের ৯ বলে ২৫ রানের ইনিংসের পরও ১৪ রানে হেরেছে সিলেট।   ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান করে চট্টগ্রাম। জবাবে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রান করে সিলেট।   সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে চট্টগ্রামকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান সিলেট টাইটানসের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৩৫ রান পায় চট্টগ্রাম। ১৫ বলে ১৮ রান করে আউট হন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ।   দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন ওপেনার অ্যাডাম রসিংটন ও মাহমুদুল হাসান জয়। এসময় দুজন মিলে ৩৮ বলে তোলেন ৬০ রান। তাতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় চট্টগ্রাম। মাত্র ২১ বলে ৪৪ রান করে আউট হন জয়। এদিকে ৩৮ বলে ৪৯ রানে ফেরেন রসিংটন। আর ২০ বলে ২৫ রান করেন হাসান নাওয়াজ। ৮ বলে ১৩ রান আসে আসিফ আলীর ব্যাট থেকে।   শেষদিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন দলনেতা শেখ মেহেদী হাসান। মাত্র ১৩ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর ৫ বলে ৬ রানে অপরাজিত থাকেন আমির জামাল।   সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন রুয়েল মিয়া। একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন মঈন আলী ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই।   রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল সিলেটের। পাওয়ার প্লেতেই আসে ৫০ রান। কিন্তু নিয়মিত উইকেট পতনের ধারা থামাতে পারেনি তারা। তাতেই ম্যাচ থেকে ক্রমান্বয়ে ছিটকে যায় মেহেদী হাসান মিরাজরা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রানের ইনিংসটি খেলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। এছাড়া খালেদ ২৫, তৌফিক ২৩ ও ইথান ব্রুকস ২০ রান করেন। বাকিরা বিশের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি।   চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন আমির জামাল। শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন। এছাড়া একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন আবু হায়দার রনি ও হাসান নাওয়াজ।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফারহানের ফিফটিতে লঙ্কান দুর্গে পাকিস্তানের দাপুটে জয়

ডাম্বুল্লায় সিরিজের শুরুটাই একপ্রকার একতরফা করে রাখল পাকিস্তান। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানের ঝরঝরে হাফসেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।   বুধবার রাঙ্গিরি ডাম্বুল্লা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ১৯.২ ওভারে মাত্র ১২৮ রানে গুটিয়ে দেয় পাকিস্তানের বোলাররা। জবাবে ১২৯ রানের লক্ষ্য পাকিস্তান পেরিয়ে যায় ১৬.৪ ওভারে, হাতে থাকে ২০ বল। লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। সাইম আইয়ুবকে সঙ্গে নিয়ে পাওয়ারপ্লেতেই গড়ে তোলেন ৫৯ রানের জুটি। আইয়ুব ১৮ বলে ২৪ রান করে ফিরলেও ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন ফরহান। ৩৬ বলে ৫১ রানের ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কা। অধিনায়ক সালমান আলী আগা করেন ১১ বলে ১৬ রান। মাঝপথে ফখর জামান দ্রুত ফিরলে খানিকটা চাপ তৈরি হলেও শেষ দিকে উইকেটকিপার উসমান খান ও অলরাউন্ডার শাদাব খান ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করেন। শাদাব অপরাজিত থাকেন ১২ বলে ১৮ রান করে; উসমান খান ১৩ বলে ৭ রান নিয়ে সঙ্গ দেন। এর আগে বল হাতে পাকিস্তানের সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দেন স্পিনার আবরার আহমেদ ও পেসার সালমান মির্জা—দুজনই নেন তিনটি করে উইকেট। শাদাব খান ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র নেন দুটি করে উইকেট। শাদাবের ফিগার ছিল ৪ ওভারে ২৫ রানে ২ উইকেট। শ্রীলঙ্কার ইনিংসে শুরুতেই ধাক্কা লাগে। পাথুম নিশাঙ্কা ও কামিল মিশারা দ্রুত ফিরলে পাওয়ারপ্লেতেই স্কোর দাঁড়ায় ১৫/২। এরপর কুশল মেন্ডিস ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ইনিংস গতি পায়নি। একমাত্র লড়াই করেন জানিথ লিয়ানাগে—৩১ বলে ৪০ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরার হন। শেষ দিকে অধিনায়ক দাসুন শানাকা (১২) ও লোয়ার অর্ডার বড় অবদান রাখতে ব্যর্থ হলে শ্রীলঙ্কা থামে ১২৮ রানেই। এই জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল পাকিস্তান। একই মাঠে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে বাছাই পর্ব খেলবে বাংলাদেশ।
নারী বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশের ম্যাচ কবে

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইয়ের সূচি প্রকাশ করেছে আইসিসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে হলে শীর্ষ চারে থাকতে হবে বাংলাদেশকে।   নেপালে হতে যাওয়া বাছাই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে আগামী ১৮ জানুয়ারি। নিগার সুলতানা জ্যোতিদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র।   ১০ দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশসহ প্রতিটি দল চারটি করে ম্যাচ খেলবে। অন্য তিন ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হচ্ছে ‘এ’ গ্রুপের পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া ও আয়ার‌ল্যান্ড। ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাপুয়া নিউগিনি। অন্যদিকে ২২ জানুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলার পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৪ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মারুফা আক্তার-ফারজানা হক পিংকিরা।   আগামী জুন-জুলাইয়ে নারী বিশ্বকাপের ১০ম আসর হবে ইংল্যান্ডে। ইতিমধ্যে ৮ দল বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। বাকি ৪ টিকিটের জন্য বাছাইপর্বে লড়বে ১০ দল। ৫ দল করে দুটি গ্রুপে ভাগ হওয়া শীর্ষ তিন দল সুপার সিক্সে জায়গা পাবে।   সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে এক গ্রুপের দল অন্য গ্রুপের দলগুলোকে পাবে। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে যে চার দল থাকবে তারা অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গী হবে। বাছাইয়ের পর্বে ম্যাচ হবে দুটি ভেন্যুতে—কীর্তিপুরের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও মুলপানি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। মূলপর্বে নামার আগে নেদারল্যান্ডস ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।   গ্রুপ ‘এ’: বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, পাপুয়া নিউগিনি ও যুক্তরাষ্ট্র।   গ্রুপ ‘বি’: নেপাল, নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে।   তারিখ  ভেন্যু  ভেন্যু ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র  মুলপানি ২০ জানুয়ারি  বাংলাদেশ-পাপুয়া নিউগিনি কীর্তিপুর ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ-নামিবিয়া কীর্তিপুর ২৪ জানুয়ারি  বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড  মুলপানি

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

জাতীয়

হসপিটালিটি সেক্টরে অবহেলা: ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হোটেল কর্মীরা

বিশেষ প্রতিবেদক জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0