খেলাধুলা

ছবি: সংগৃহীত
কেইনের পেনাল্টি মিস, ঘুরে দাঁড়িয়ে বায়ার্নকে রুখে দিল ডর্টমুন্ড

ব্যালন দ’র জয়ের পর প্রথম মাঠে নামলেন হ্যারি কেইন। ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরে মাঠে প্রবেশ করলেন তিনি, সমর্থকরা জানাল অভিনন্দন। কিন্তু ম্যাচে কোনো কিছুই তার পক্ষে গেল না। মিস করলেন পেনাল্টি। এর আগে-পরে দুইবার এগিয়ে গিয়েও জিততে পারল না বায়ার্ন মিউনিখ। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে, শেষ সময়ে সমতা টেনে মূল্যবান পয়েন্ট আদায় করে নিল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড।   আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শনিবার বুন্ডেসলিগার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। ম্যাচের তিনটি গোল হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে।   কনরাড লাইমারের লক্ষ্যভেদে প্রথমার্ধে বায়ার্ন এগিয়ে যাওয়ার পর, সমতা টানেন গিহাসি। খানিক পর দাইয়ু উপামেকানোর গোলে আবার এগিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই গোলে জয়ের পথেই ছিল তারা; কিন্তু তাদের আশা গুঁড়িয়ে দেন ফাবিও সিলভা।   আট ম্যাচে সমান পাঁচটি করে জয় ও ড্রয়ে ১৮ পয়েন্ট এই দুই দলের। গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে আছে বায়ার্ন।   বুন্ডেসলিগায় গত মৌসুমে দুই লেগেই জয়ী দল বায়ার্ন। এরপর, গত অগাস্টের সুপার কাপেও ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ভেসোঁ কম্পানির দল।   আক্রমণে চাপ ধরে রেখে ৩৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। সতীর্থের পাস ধরে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে শট নেন লাইমার, ঝাঁপিয়ে সেটা আটকে দিলেও বল হাতে রাখতে পারেননি গোলরক্ষক। ফিরতি বল ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে শটে জালে পাঠান অস্ট্রিয়ার এই রাইট-ব্যাক।   ৫৫তম মিনিটে ডর্টমুন্ডের ডি-বক্সে তাদের মিডফিল্ডার ফিলিক্স মেচার হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। কিন্তু স্পট কিক ক্রসবারে মেরে বসেন কেইন।   বায়ার্নের হয়ে এর আগের ২৬ পেনাল্টির ২৫টিই জালে পাঠিয়েছিলেন এই ইংলিশ তারকা। সেই তিনিই বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রথম খেলতে নেমেই মিস করলেন।   ৬০তম মিনিটে সমতা টেনে ঘুরে দাঁড়ায় ডর্টমুন্ড। ডি-বক্সে সতীর্থের পাস পেয়ে প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়ের মাঝ থেকে জোরাল শটে গোলটি করেন গিনির স্ট্রাইকার গিহাসি।   তাদের সেই স্বস্তি অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনি। ছয় মিনিট পরই কেইনের হেড পাস গোলমুখে পেয়ে টোকায় বায়ার্নকে ফের এগিয়ে দেন উপামেকানো।   নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে ফের সমতায় ফেরে ডর্টমুন্ড। ডি-বক্সে সুযোগ পেয়েও বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় বায়ার্ন, আর ফাঁকায় বল পেয়ে কোনাকুনি শটে লিগে দলের অজেয় যাত্রা অব্যাহত রাখেন কিছুক্ষণ আগে বদলি নামা সিলভা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ম্যান সিটির মাঠে ব্রাইটনের দুর্দান্ত জয়

দুই দলের সবশেষ লড়াইয়ের স্মৃতি এখনও তাজা! গত বুধবার লিগ কাপে জয় পাওয়া ম‍্যানচেস্টার সিটি এবার হেরে গেল। প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা প্রত‍্যাশীদের বিপক্ষে দারুণ এক জয় পেল ব্রাইটন অ‍্যান্ড হোভ অ‍্যালবিয়ন।   ঘরের মাঠে শনিবার অনেক সুযোগ হারানো সিটির হার ১-০ গোলে। প্রিমিয়ার লিগে টানা সাত জয়ের পর টানা দুই ম‍্যাচে হারল এন্টসো মারেস্কার দল।   লিগ কাপে পিছিয়ে পড়েও ২-২ সমতায় মূল ম‍্যাচ শেষ করে সিটি। পরে গোলরক্ষকের বীরত্বে টাইব্রেকারে জেতে ৪-৩ গোলে। তারকা খেলোয়াড়দের অনেকেই সেই ম‍্যাচে ছিলেন বিশ্রামে। তারা ফিরেও দলকে প্রিমিয়ার লিগে জয়ে ফেরাতে পারলেন না।   ৬২ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন‍্য ২১টি শট নেয় সিটি। এর ছয়টি লক্ষ‍্যে থাকে। অন‍্যদিকে, গোলের জন‍্য সাত শট নিয়ে তিনটি লক্ষ‍্যে রাখে ব্রাইটন।   প্রতিপক্ষের মাঠে একাদশ মিনিটে এগিয়ে যায় ব্রাইটন। লুইস ডাঙ্কের ফ্রি কিক থেকে ডি-বক্সে বল পান মাক্সিম ডে কাইপার। তিনি খুঁজে নেন অরক্ষিত ইয়াসিন আয়ারিকে। বাকিটা অনায়াসে সারেন সুইডেনের এই তরুণ মিডফিল্ডার।   কাইপারের শট ঠেকানোর সুযোগ ছিল মাতেউস নুনেসের সামনে। কিন্তু বল পেরিয়ে যায় তার দুই পায়ের ফাঁক গলে।   ২২তম মিনিটে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন ইলিমান এনজাই। এলিয়ট অ‍্যান্ডারসনের চমৎকার ক্রসে দূরের পোস্টে হেড লক্ষ‍্যে রাখতে পারেননি সেনেগালের এই ফরোয়ার্ড।   চার মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত কারিকুরি আর গতিতে ডি বক্সে ঢুকে যান এনজাই। কিন্তু শেষটা ভালো করতে পারেননি তিনি। শট নেন গোলরক্ষক বরাবর।   ৩১তম মিনিটে সুযোগ আসে আর্লিং হলান্ডের সামনে। ডি বক্সে বিপজ্জনক জায়গা থেকে শটই নিতে পারেননি তিনি। হাতছাড়া হয় সমতা ফেরানোর আরেকটি সুযোগ।   প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাইটনের ডি বক্সে হ‍্যান্ডবলের দাবি জানায় সিটি। তবে সে সব আমলে নেননি রেফারি। ডাগআউটে বেশ ক্ষুব্ধ দেখায় সিটি কোচ এন্টসো মারেস্কাকে।   দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব‍্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পান ডে কাইপার। ৪৮তম মিনিটে আয়ারির ক্রসে দূরের পোস্টে অরক্ষিত বেলজিয়ান ডিফেন্ডার তাড়াহুড়ায় নেন লক্ষ‍্যভ্রষ্ট শট।   পাঁচ মিনিট পর খুব কাছ থেকে এনজাইয়ের গতিময় শট ব্রাইটন গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেনের হাতে লেগে পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়।   ৬২তম মিনিটে ডাবল সেভে ব‍্যবধান ধরে রাখেন ফেরব্রুগেন। খুব কাছ থেকে দারুণ রিফ্লেক্সে নুনেসের শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। কয়েক সেকেন্ড পর কর্নার থেকে হলান্ডের হেডও ব‍্যর্থ করে দেন ব্রাইটন গোলরক্ষক।   ৮৮তম মিনিটে ম‍্যাচের ফল নিয়ে সব অনিশ্চয়তা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পান জ‍্যাক হিনশেলউড। কিন্তু খুব কাছ থেকেও শট লক্ষ‍্যে রাখতে পারেননি তিনি।   পরের মিনিটে গোল হজম করতে বসেছিল ব্রাইটন। আব্দুখোদি কুজানভের গতিময় শট কোনোমতে ফেরান গোলরক্ষক। ফিরতি বলে নিকো ও'রাইলির হেড বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে।   যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সুযোগ পান জেরেমি ডোকু। খুব কাছ থেকে তার শট ফেরব্রুগেনের বুকে লেগে পোস্টের বাইরে চলে যায়। একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিটি।   ৯ ম‍্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে এখনও শীর্ষে আছে সিটি। ৮ ম‍্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে থাকা আর্সেনালের সামনে সুযোগ আছে তাদের পেছনে ফেলার।   ৯ ম‍্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে উঠে এসেছে ব্রাইটন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ফাইনালে শ্রীলংকার স্বপ্নভঙ্গ, ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা পাকিস্তানের

শ্রীলংকাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ক্রিকেট দল। শিরোপা জয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন ওপেনার ফখর জামান (১২৭) ও দুই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান সাদ বেগ (৭৪) এবং আরাফাত মিনহাজ (৬১)।   শনিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে কামিন্দু মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ উইকেটে ৩২৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে শ্রীলংকা। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৯ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটের দাপুটে জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিক পাকিস্তান।   এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে শ্রীলংকা। উদ্বোধনী জুটিতে ৮৭ রান করে ফেরেন আভিস্কা ফার্নান্দো। তিনি ৪৯ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় ৩৮ রান করে ফেরেন। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ২২ রানের জুটি গড়ে ফেরেন কুশাল মেন্ডিস।   তবে তৃতীয় উইকেটে পবন রত্নায়েককে সঙ্গে নিয়ে ১১৯ বলে ১৪৬ রানের জুটি গড়েন ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিস। এই জুটিতেই ক্যারিয়ারের ৩৭তম ওয়ানডেতে মেইডেন সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। ইনিংস ওপেন করতে নেমে ৪১.১ ওভারে দলীয় ২৫৫ রানে ফেরেন কামিন্দু। সাজঘরে ফেরার আগে ১২৮ বলে ১২টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ১৩১ রান করে ফেরেন।   এরপর আসা-যাওয়ার মিছিলে অংশ নেন লংকান ব্যাটসম্যান। পবন রত্নায়েকের ৬৫ বলে ৮ ছক্কায় গড়া ৭৭ রানের ইনিংসের সুবাদে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান করে শ্রীলংকা।   পাকিস্তানের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন তিন পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও নাসিম শাহ। অফ স্পিনার আগা সালমান নেন ২ উইকেট। 

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চেলসির কাছে হেরে ৩৮ বছরের দুঃস্মৃতি ফেরাল ম্যানইউ

দ্বিতীয়ার্ধের চরম বিপর্যয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল। টানা তৃতীয় হারের তিক্ত স্বাদ পেয়ে চেলসির কাছে ২-০ গোলে হেরেছে রেড ডেভিলরা। এই হারে ইউনাইটেড কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাপ এখন চরমে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচে জয়হীন রইল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ১৯৮৮ সালের অক্টোবর-নভেম্বরের পর যা তাদের দীর্ঘতম জয়হীন থাকার রেকর্ড। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে এটি ম্যানইউর চতুর্থ পরাজয়। এই হারে টেবিলের ১৬ নম্বরে নেমে গেছে তারা, রেলিগেশন জোন থেকে অবস্থান মাত্র ১ পয়েন্ট ওপরে। বাজে শুরুর পরও পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন ক্যারিক, কিন্তু এই হারের পর তার কোচিং ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। প্রথম অর্ধে কিছুটা আশা দেখালেও বিরতির পরপরই খেই হারিয়ে ফেলে ইউনাইটেড। বিরতির ঠিক পাঁচ মিনিট পর ইউনাইটেড রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চেলসিকে এগিয়ে নেন মরগান রজার্স। অত্যন্ত ছান্দিকভাবে ইউনাইটেড ডিফেন্স চিরে বল জালে পাঠান এই চেলসি তারকা। এর ১৪ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে চেলসির ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কোল পামার। ডি-বক্সের ভেতর বলের দিকে না তাকিয়ে ওয়েসলি ফোফানার মুখে কনুই দিয়ে আঘাত করার অপরাধে ভিএআরের পর্যালোচনায় পেনাল্টি বাঁশি বাজান রেফারি। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে। লাল কার্ডের পর পামার পেনাল্টি থেকে গোল করতেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। জাবি আলোনসোর অধীনে মৌসুমে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া চেলসি উইঙ্গার এস্তেভাও বল জালে পাঠালেও অল্পের জন্য তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। প্রথম অর্ধে ইউনাইটেডও অবশ্য ইতিবাচক ফুটবল খেলেছিল। মাথিউস কুনহা খুব কাছ থেকে হেডে গোল করলেও অফসাইডের কারণে ভিএআর তা বাতিল করে। একাদশে ফেরা ব্রুনো ফের্নান্দেস একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন এবং আমাদ দিয়ালো দুই-দুটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও চেলসি গোলরক্ষক মাইক পেনডার্সকে পরাস্ত করতে পারেননি। তবে বিরতির পর সেই ধার ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় রেড ডেভিলরা। প্রথম অর্ধে চেলসি সমর্থকদের কাছ থেকে কিছুটা দুয়ো দিতে দেখা গেলেও দ্বিতীয় অর্ধে চেলসির দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন সেই অসন্তোষ মিটিয়ে দেয়। রজার্সের গোল চেলসিকে কাঙ্ক্ষিত গতি এনে দেয়, আর তিন মিনিটের ব্যবধানে মার্তিনেসের দুই হলুদ কার্ড ও পামারের গোল ম্যাচ পুরো চেলসির নিয়ন্ত্রণে এনে দেয়। চেলসি বিকল্প খেলোয়াড় ভালেনতিন বারকো শেষের দিকে আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। ইনজুরি টাইমে ইউনাইটেডের ব্রায়ান এমবেউমোর একটি জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এই হারের ফলে রেলিগেশন জোনে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে গেছে ক্যারিকের দল। অন্যদিকে এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চারে উঠে এসেছে চেলসি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩১, ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে শান্ত
হারের পর বোলারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন শান্ত

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১৭০ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে বাংলাদেশ দল। এমন উইকেটে লড়াইয়ের পুঁজি হলেও বাংলাদেশ হেরেছে বড় ব্যবধানে। প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিলেও নিজেদের বোলিং নিয়ে সন্তুষ্ট নন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।      চতুর্থ ইনিংসে লড়াই করতে না পারার জন্য বোলারদের দায় দিয়েছেন শান্ত। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘১৭০ হওয়ার পর আমাদের বিশ্বাস ছিল, এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। উইকেটের যে অবস্থা ছিল, তাতে সেটা সম্ভব মনে হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে হয়নি। অবশ্যই ওদের কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে আমি বলব, এই উইকেটে আমরা আরেকটু ভালো বোলিং করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।’     খুব সহজেই প্রতিপক্ষ রান তোলার সুযোগ পেয়েছে মনে করেন শান্ত, ‘আমার কাছে মনে হয়, লেংথটা আমরা খুব ভালোভাবে ধরতে পারিনি। একটু এলোমেলো ছিল। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে ওদের ব্যাটিং দেখেন, আমরা মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছি। এই জায়গায় ম্যাচ হারলেও অন্তত সাত-আটটি উইকেট নিতে পারলে হয়তো বুঝতাম, আমরা রানটা অনেক কম করেছি। কিন্তু এই জায়গাটায় আমার মনে হচ্ছে একটু এলোমেলো ছিল।’   এই ম্যাচে পাঁচটি রিভিউ আম্পায়ারস কল হয়েছে আর সবগুলোই বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে। অধিনায়ক বলেন, ‘আপনি যখন ১৭০ রানের লক্ষ্য দেবেন, তখন পাঁচটি আম্পায়ার্স কলের মধ্যে তিনটি আপনার পক্ষে দরকার হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ সেটা হয়নি। এটা ক্রিকেটের অংশ। আম্পায়ারকে দোষও দিতে পারবেন না। ধরে নিতে হবে, আমাদের ভাগ্যে ছিল না। তবে শুরুতেই যে আউটটা আমরা পাইনি, সেটা পেলে হয়তো অন্য রকম মোমেন্টাম পেতাম। কিন্তু এটাকে অজুহাত দিতে চাই না।’

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুব এশিয়া কাপের দল ঘোষণা, নেতৃত্বে ফরিদ ফয়সাল

ওমানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পুরুষ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিসিবির ঘোষিত এই দলে অধিনায়ক করা হয়েছে ফরিদ হাসান ফয়সালকে এবং তার ডেপুটি (সহ-অধিনায়ক) আহসান আল মুমিন। আগামী ৫ নভেম্বর শুরু হবে এশিয়া সেরা এই টুর্নামেন্ট। উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবেন ফরিদ-মুমিনরা। আসরে বাংলাদেশের যুবাদের পরের দুটি ম্যাচ ৭ ও ৯ নভেম্বর। প্রথমটিতে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা এবং পরেরটিতে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ দল ফরিদ হাসান ফয়সাল (অধিনায়ক), আহসান আল মুমিন (সহ-অধিনায়ক), আবদুল্লাহ আল মুহি, ফারহান সাদিক, কাউসার আহমেদ, তাফিউল আলম তামিম, শাকিল খান, রকিবুল হাসান, শেখ জারিফ সিয়াম, আল আমিন হোসেন রনি, আল রফি, রবিউল হাসান অনিক, শেখ আতিকুর রহমান আকাশ, আল আমিন হোসেন ও রুবায় ইসলাম রিজন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্যালন ডি’অর ভোটে মেসির প্রথম পছন্দ আলজেরিয়ার তরুণ

অনূর্ধ্ব-২১ বছর বয়সীদের জন্য নির্ধারিত সম্মানজনক ‘কোপা ট্রফি’ জয়ে এক বুন্দেসলিগা উদীয়মান তারকার নাম দিয়ে চমকে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। ভোটের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেছে আয়োজক সংস্থা ফ্রান্স ফুটবল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আলজেরিয়া ও বায়ার লেভারকুসেনের তরুণ তুর্কি ইব্রাহিম মাজাকে সেরা তিনে জায়গা দেওয়া একমাত্র জুরি সদস্য আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি মহাতারকা মেসি। প্রতিবছর অনূর্ধ্ব-২১ সেরা ফুটবলারের হাতে ওঠে কোপা ট্রফি। মর্যাদাপূর্ণ এই পুরষ্কারের ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নেন কেবল সাবেক ব্যালন্ড’অর জয়ীরা। সেই তালিকায় মেসির পাশাপাশি আছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, উসমান দেম্বেলে কিংবা জার্মানির লোথার মাতাউস, ম্যাথিয়াস সামার ও কার্ল-হাইন্ৎস রুমেনিগের মতো হেভিওয়েট নামগুলো। অধিকাংশ জুরি সদস্যই বার্সেলোনার দুই বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবার্সির পাশাপাশি পিএসজির তরুণ মিডফিল্ডার ওয়ারেন জাইর-এমারিকে বেছে নিয়েছিলেন সেরা তিনে। মেসিও নিজের তালিকায় ইয়ামাল ও কুবার্সিকেই রেখেছিলেন, তবে বাকি খালি জায়গাটি তুলে দেন ইব্রাহিম মাজার হাতে। মেসির এমন সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ে ইন্টার মায়ামি তারকার নজর কাড়েন ২০ বছর বয়সী লেভারকুসেন উইঙ্গার মাজা। বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-র উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মেসির আর্জেন্টিনা ও মাজার আলজেরিয়া। ম্যাচে আশি মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়েন মেসি, অন্যদিকে ৮২ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন মাজা। সেই ম্যাচে আলজেরিয়া ৩-০ গোলে হেরে গেলেও পরবর্তীতে জর্ডানকে হারিয়ে এবং অস্ট্রিয়ার সাথে ড্র করে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়। তবে নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলের হারে বিদায় নিতে হয় তাদের। চারটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে থাকলেও কোনো গোল বা অ্যাসিস্টের দেখা পাননি মাজা। তবে ক্লাবের জার্সিতে গল্পটা একবারে ভিন্ন। নতুন কোচ কার্লেস মার্তিনেজের অধীনে বায়ার লেভারকুসেনে গ্রীষ্মের পর থেকেই বেশ ধারাবাহিক এই ২০ বছর বয়সী তরুণ। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে মাঠে নেমে ইতোমধ্যেই ৩টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে ওয়ার্কসএল (লেভারকুসেন)-এ যোগ দেওয়া এই তরুণ ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্লাবটির সাথে চুক্তিবদ্ধ।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মিরপুরে টেস্টে বড় ব্যবধানে হারল টাইগাররা

নিজেদের ‘হোম অব ক্রিকেট খ্যাত’ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হেরে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে হেরে ১-০তে পিছিয়ে গেল টাইগাররা।   ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণেই মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারে স্বাগতিকরা।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে এমবাপেকে পেছনে ফেললেন কেইন, ব্যালন ডি’অরে কে কত পেলেন

ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে এবার হ্যারি কেইন ও কিলিয়ান এমবাপের মধ্যে হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ফরাসি তারকাকে পেছনে ফেলে পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার কেইন। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, কেইন পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫৫ পয়েন্ট এবং এমবাপের ঝুলিতে জমা হয়েছে ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট।   ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন কেইন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩ গোল করে ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবিদার হয়ে ওঠেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ড। ইউরোপের সেরা গোলদাতাদের তালিকায়ও ছিলেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে ছয় গোল করে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন কেইন।   অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪২ গোল করার পাশাপাশি বিশ্বকাপে ১০ গোল করেন এমবাপে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২ গোলের রেকর্ডও এখন ফরাসি তারকার দখলে। তবে ব্যক্তিগত এসব সাফল্য সত্ত্বেও ব্যালন ডি’অরের ভোটে অল্প ব্যবধানে পিছিয়ে থাকতে হয়েছে তাকে।   ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লে’কিপ’ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, তৃতীয় স্থানে থাকা বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল পেয়েছেন ৮৮১ পয়েন্ট। এমবাপের চেয়ে তার পয়েন্ট কম ১৪৬। ইয়ামাল প্রথম পছন্দের ভোট পেয়েছেন ১৩টি। বার্সেলোনার হয়ে সাফল্যের পাশাপাশি স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুবাদে আলোচনায় ছিলেন এই তরুণ ফুটবলার।   চতুর্থ স্থানে থাকা স্পেনের রদ্রি পেয়েছেন ৭২৬ পয়েন্ট এবং প্রথম পছন্দের ভোট পেয়েছেন ১০টি। তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, তার পয়েন্ট ৬১২।   ব্যালন ডি’অরের ভোটে অংশ নেন ১০০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটে প্রথম স্থান পাওয়া খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থান পান ১২ এবং তৃতীয় স্থান পান ১০ পয়েন্ট। এরপর ক্রমানুসারে পরবর্তী স্থানগুলোর জন্য ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট দেওয়া হয়।   পুরুষদের ব্যালন ডি’অরে শীর্ষ ১০-এর পয়েন্ট ১. হ্যারি কেইন — ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ: ১,০৫৫ পয়েন্ট ২. কিলিয়ান এমবাপে — ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদ: ১,০২৭ পয়েন্ট ৩. লামিনে ইয়ামাল — স্পেন ও বার্সেলোনা: ৮৮১ পয়েন্ট ৪. রদ্রি — স্পেন: ৭২৬ পয়েন্ট ৫. লিওনেল মেসি — আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামি: ৬১২ পয়েন্ট ৬. খিচা কাভারৎস্খেলিয়া — জর্জিয়া ও পিএসজি: ৫৪১ পয়েন্ট ৭. উসমান দেম্বেলে — ফ্রান্স ও পিএসজি: ৪১৮ পয়েন্ট ৮. আর্লিং হালান্ড — নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটি: ৩৭৮ পয়েন্ট ৯. মাইকেল ওলিসে — ফ্রান্স ও বায়ার্ন মিউনিখ: ২৯৬ পয়েন্ট ১০. ফ্যাবিয়ান রুইজ — স্পেন ও পিএসজি: ২০১ পয়েন্ট   ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে অল্প ব্যবধানে জয় অবশ্য নতুন নয়। ১৯৬৬ সালে ববি চার্লটন মাত্র এক পয়েন্টে এউসেবিওকে হারিয়ে পুরস্কার জিতেছিলেন। ১৯৯৬ সালেও ম্যাথিয়াস সামার এক পয়েন্টের ব্যবধানে রোনালদো নাজারিওকে পেছনে ফেলেছিলেন। ২০১৯ সালে লিওনেল মেসি ভার্জিল ফন ডাইককে হারিয়েছিলেন মাত্র সাত পয়েন্টে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হাকিমির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে লে হাভরেকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করল পিএসজি

ফরাসি লিগ ওয়ানে দুর্দান্ত এক জয়ে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। মরক্কোর তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির অসাধারণ হ্যাটট্রিক ও দুটি অ্যাসিস্টে লে হাভরেকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে লুইস এনরিকের দল। ম্যাচের পাঁচটি গোলেই সরাসরি অবদান রেখে জয়ের মূল নায়ক হয়ে ওঠেন এই আক্রমণাত্মক ফুলব্যাক।   তবে ম্যাচের শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না পিএসজির জন্য। ১৮তম মিনিটে জশ মাজার গোলে এগিয়ে যায় লে হাভরে। পিছিয়ে পড়লেও দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।   ২৬তম মিনিটে হাকিমির বাড়ানো বল থেকে গোল করে পিএসজিকে সমতায় ফেরান মিকা গডটস। এর মাত্র দুই মিনিট পর নিজেই গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মরক্কোর এই ফুটবলার।   বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে পিএসজি। ৫৫তম মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দৃষ্টিনন্দন ফ্রি-কিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হাকিমি।   ৬২তম মিনিটে তার তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের চতুর্থ গোলটি করেন সনি মায়ুলু। এরপর ৬৯তম মিনিটে আবারও বল জালে পাঠিয়ে ক্যারিয়ারের স্মরণীয় এক হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাকিমি।   চলতি মৌসুমে এই ম্যাচের আগে গোলের দেখা না পাওয়া মরক্কোর ডিফেন্ডার এক ম্যাচেই তিন গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করে নিজের আক্রমণাত্মক সামর্থ্যের অনন্য প্রদর্শনী উপহার দেন।   এই জয়ের মাধ্যমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নবম জয় তুলে নিয়েছে লুইস এনরিকের দল। ফরাসি লিগ ওয়ানে এটি তাদের টানা ষষ্ঠ জয়।   মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট সংগ্রহ করলেও পরবর্তী সময়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্যারিসের ক্লাবটি। ৯ ম্যাচ শেষে ২০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ ওয়ানের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে পিএসজি। তাদের চেয়ে দুই পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে অলিম্পিকে লিলে।   চোটের কারণে এই ম্যাচেও মাঠের বাইরে ছিলেন পিএসজির গুরুত্বপূর্ণ দুই ফুটবলার উসমান দেম্বেলে ও খিচা কাভারৎস্খেলিয়া। আগের লিওঁ ম্যাচের একাদশ থেকে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ লুইস এনরিকে।   নিয়মিত কয়েকজন ফুটবলারের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও লে হাভরের বিপক্ষে পিএসজির আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত। বিশেষ করে হাকিমির অসাধারণ পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে, রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও তিনি কতটা কার্যকর।   বড় এই জয়ে লিগ শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল পিএসজি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ২০০ উইকেটের মালিক রশিদ খান

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানের দুর্দান্ত জয়ের ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন তিনি।   আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের ১২০তম ম্যাচে ২০০ উইকেট পূর্ণ করেন রশিদ। এই তালিকায় তার পরেই রয়েছেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ। ১৫৩ ম্যাচে তার শিকার ১৭১ উইকেট।   রশিদের এই অর্জনের দিনে ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত লড়াই করেছে আফগানিস্তান। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। নবম ওভারে আরও একটি উইকেট হারায় তারা।   এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও ইজাজ আহমদজাইয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। ষষ্ঠ উইকেটে ১৪২ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ছয় বা তার নিচে উইকেটের জুটিতে এটিই সর্বোচ্চ রান।   ওমরজাই শেষ পর্যন্ত নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি তুলে নেন। আফগানিস্তানের হয়ে এই সংস্করণে শতরান করা চতুর্থ ব্যাটার তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি ছক্কা ও পাঁচটি চার।   নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২১ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম চার উইকেট ২০ রানের কমে হারানোর পর ২০০ বা তার বেশি রান সংগ্রহের প্রথম ঘটনা এটি। এই সংস্করণে এটি আফগানিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহও।   বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের অর্ধেক শেষে ৮৫ রানে ৫ উইকেট হারালেও শেষ ১০ ওভারে লড়াই চালিয়ে যায় দলটি।   জিম্বাবুয়ের হয়ে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও নয়টি ছক্কা।   তবে শেষ পর্যন্ত জয় পায় আফগানিস্তান। তিন ম্যাচের সিরিজে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে তারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সাফে অংশ নিতে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে ঢাকায় আসছে ভারত

অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন শুক্রবার আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তাদের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। এই টুর্নামেন্টটি আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে।   টুর্নামেন্টে ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ পুরুষ দলের প্রধান কোচ নৌসাদ মুসা নেতৃত্ব দেবেন। এছাড়া সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করবেন বিবিয়ানো ফার্নান্দেজ। সম্প্রতি আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ ভারত অনূর্ধ্ব-১৫ পুরুষ দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন।   এই টুর্নামেন্টে ভারত ‘বি’ গ্রুপে মালদ্বীপ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর ভারতীয় সময় দুপুর ৩টায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্লু টাইগার্সরা তাদের অভিযান শুরু করবে। এরপর ১১ নভেম্বর ঠিক একই সময়ে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে তারা।   দলে অভিজ্ঞ সিনিয়র খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক দলের তরুণ খেলোয়াড়দেরও রাখা হয়েছে। কারণ মূল সিনিয়র দলটি এই সময়ে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড এবং ক্রাইস্টচার্চে ভ্রমণ করবে।   ভারত দল গোলরক্ষক: আরশ আনওয়ার শেখ, মোহনরাজ কে., প্রিয়াংশ দুবে। ডিফেন্ডার: আব্দুল রাবিহ, বিজয় ভার্গেস, চিংলেনসানা সিং কোনশাম, হমিংথানমাউইয়া রালতে, খাইমিনথাং লুংদিম, মোহাম্মদ উভাইস, নাথান রড্রিগেস, রনি খারবুডন, সন্দীপ মান্দি।   মিডফিল্ডার: অভিষেক সূর্যবংশী, অ্যাডিসন সিং থোকচম, ব্রিসন ফার্নান্দেজ, এবিন্দাস ইয়েসুদাসান, ফারুক চৌধুরী, ম্যাকার্টন নিকসন, ম্যাংলেনথাং কিপজেন, নিখিল প্রভু, নৌফল পিএন, রিকি জন শাবুং, সুরেশ সিং ওয়াংজাম।   ফরোয়ার্ড: ইরফান ইয়াদওয়াদ, লিস্টন কোলাকো, মোহাম্মদ সুহাইল, বিষ্ণু পিভি, সুহাইল আহমেদ ভাট।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কমনওয়েলথ কাবাডিতে ভারতের কাছে হেরে বিদায় বাংলাদেশের

নিজেদের ম্যাটে দাপট দেখাল ভারত। প্রথমার্ধেই তারা এগিয়ে গেল ২০ পয়েন্টে। শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে অনুমিতভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারলেন না নাসির-মিজানুররা। কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরে বাংলাদেশের পথচলা থামল সেমি-ফাইনালে।   ভারতের আহমেদাবাদের ভীর সাভারকার স্পোর্টস কমপ্লেক্সে শুক্রবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৫৬-২৭ পয়েন্টে হারে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে তারা পিছিয়ে ছিল ২৮-৮ পয়েন্টে।   ছয় ম্যাচে চার জয় ও দুই হার দিয়ে আসর শেষ করল বাংলাদেশ।   সবশেষ আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসেও দেখা হয়েছিল দুই দলের। সোনা জয়ের পথে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বাংলাদেশকে ২৩ পয়েন্টে (৪৮-২৫) হারিয়েছিল তারা। এবারের ব্যবধান বাড়ল আরও, ২৯ পয়েন্ট।   কানাডাকে ৬৭-২৮ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে জমজমাট লড়াইয়ের পর কেনিয়ার বিপক্ষে ৩২-৩১ পয়েন্টে হেরে যায়।   তৃতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৬০-২৮ পয়েন্টে হারানোর পর, অস্ট্রেলিয়াকে ৬৯-৩১ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে সেমি-ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা জোরাল করে বাংলাদেশ। তা পূর্ণতা পায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৭০-২০ পয়েন্টের জয়ে। ৮ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে সেমি-ফাইনালে ওঠে দল।   গ্রুপ পর্বে ছয় ম্যাচের সবগুলো জিতে সেমি-ফাইনালে ওঠে আসে ভারত। বাংলাদেশকে হারিয়ে অপরাজিত থেকেই ফাইনালে উঠল তারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্যালন ডি’অর জয়ের যোগ্য কেইন, ইয়ামালের প্রতিক্রিয়ায় খুশি ফ্লিক

এই বছরের ব্যালন দ’র জয়ের আশা পূরণ হয়নি লামিন ইয়ামালের। তবে তরুণ এই তারকাকে নিয়ে খুবই গর্বিত হান্সি ফ্লিক। বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড যেভাবে বিষয়টি গ্রহণ করেছেন, তাতে খুশি বার্সেলোনা কোচ। তার মতে, যোগ্য হিসেবেই বর্ষসেরার পুরস্কারটি জিতেছেন হ্যারি কেইন।   ইয়ামালের ব্যালন দ’র জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল অনেক। গত মৌসুমে বার্সেলোনার তিনটি শিরোপা জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল তার। পরে স্পেনের হয়ে জেতেন বিশ্বকাপ।   তবে শেষ পর্যন্ত ইয়ামাল ও রেয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপেকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি জিতেছেন কেইন। গত সোমবার লন্ডনের অনুষ্ঠানে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকারের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়।   গত বছর ভোটে দ্বিতীয় হওয়া ইয়ামাল এবার হন তৃতীয়। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে ১৯ বছর বয়সি তারকার ব্যালন দ’র জিততে না পারা নিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয় ফ্লিকের কাছে।   “হ্যারি কেইনও জয়ের যোগ্য। লামিন সম্পর্কে আমার মতামত আপনারা জানেন; আমার মনে হয়, এই ট্রফি জেতার মতো সামর্থ্য তার আছে। তাকে এবং পুরো দলকে সে কথাই বলেছি আমি। পাউ কুবার্সিও (কোপা ট্রফি) জয়ের যোগ্য ছিল; সে অসাধারণ এক মৌসুম কাটিয়েছে এবং বিশ্বকাপে দারুণ খেলেছে।   “তবে আমি যা দেখছি এবং অনুভব করছি তা হলো, লামিনকে নিয়ে আমি খুবই গর্বিত। সে খুব ভালোভাবে বিষয়টি গ্রহণ করেছে এবং অনুশীলনের সময় তাকে খুব মনোযোগী দেখেছি। চ্যাম্পিয়নরা এভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখায়; এই মানসিকতা নিয়ে যে পথে সে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমি খুবই খুশি।”   ব্যালন দ’র জিততে না পারলেও টানা তৃতীয়বারের মতো বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার কোপা ট্রফি জেতেন ইয়ামাল। ফ্লিক বললেন, বিষয়টি শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন মৌসুমের দিকে ভালোভাবে মনোযোগ দিতে পারবেন তারা।   “আমরা বিষয়টি মেনে নিয়েছি। ভালো হয়েছে যে, এটি শেষ হয়েছে, এখন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ দিতে পারব আমরা।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ৩০, ২০২৬
শেহজাদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মুহূর্ত। ছবি : বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের ফেসবুক থেকে
শেহজাদ আকবর সোবহানের ঝোড়ো ফিফটিতে বিশাল সংগ্রহ বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। তাতে দেখা মিলল দৃষ্টিনন্দন চার-ছয়।     প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর আজ এমনি চড়াও হন শেহজাদ আকবর সোবহান। আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৭৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তার এই ইনিংসের সৌজন্যেই বড় সংগ্রহের ভিত পায় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। নির্ধারিত ২০ ওভারে স্কোরকার্ডে ৭ উইকেটে ২৩১ রান তুলেছে তারা।     ইনিংসের শুরুতেই ২৭ রানে ওপেনার মেহরাবকে হারায় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। তাতে অবশ্য রানের চাকায় ভাটা পড়েনি। বলা ভালো প্রভাব পড়তে দেননি শেহজাদ। অ্যাঙ্করের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি বলকে মাঠছাড়া করতে ভুল করেননি।     ৫২ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে যখন আউট হন শেহজাদ, দলের সংগ্রহ তখন ১১৬। নিজের ইনিংসটি সাজান ১০ চার ও ৩ ছক্কায়।  শেহজাদের বিদায়ের পর শেষ দিকে ঝোড়ো ইনিংস খেলেন অন্তু ও সুমন আহমেদ। ১৯ বলে ৩ চার ও ৬ ছক্কায় ৫৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন অন্তু। বিপরীতে ১২ বলে ৪ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন সুমন।   ঢাকা প্লেয়ার্স ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন মিঠুন। রান খরচ করেন ৩৪। একটি করে উইকেট নেন রাশেদ আলম, জিশান, ড্যানিশ ও রকি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচের মুহূর্ত। ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার কাছে ৬-১ গোলে হেরে হারের বৃত্তে বাংলাদেশ হকি দল

হারের বৃত্তে বাংলাদেশ হকি দল। ভারতের জলন্ধরে চলমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে হ্যাটট্রিক হারের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ।     আজ মালয়েশিয়ার কাছে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ।     সুরজিৎ সিং হকি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে মালয়েশিয়া। ম্যাচের ১৪ মিনিটে তার ফলও পায় তারা। ফরোয়ার্ড আবু কামাল আজরাইয়ের ফিল্ড গোলে লিড নিয়ে।     ২২তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলও করেন আজরাই।   বিপরীতে ২৬তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন আমীরুল ইসলাম। তবে মালয়েশিয়া সেই সুযোগ দেয় না। ২৯তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে ব্যবধান ৩-১ করেন আখিমুল্লাহ আনোয়ার।     ৩২ মিনিটে আজিমুদ্দিন কামারুদ্দিন আরেকটি গোল এনে দেন মালয়েশিয়াকে। সেই গোলের রেশ শেষ না হতেই স্কোরলাইন ৫-১ করেন শেলো সিলভেরিয়াস। আর ৫০ মিনিটে বাংলাদেশের জালে শেষ পেরেক মারেন আইমান রোজেমি।       এর আগে স্বাগতিক ভারতের কাছে ১৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ফিরতি ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে লড়াই করে হারে ১-০ ব্যবধানে।     এতে তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে দুবার বল পাঠাতে পারলেও বাংলাদেশ হজম করেছে ২০ গোল। আগামী ১ নভেম্বর একই মাঠে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
দিন শেষে মাঠ ছাড়ছেন জাকের-নাঈম।
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের লক্ষ্য: জাকের-নাঈমের চোখ ২০০ রানে

শেষ স্বীকৃত ব্যাটার বলতে জাকের আলি অনিক। মিরপুর টেস্টে তার ওপরই এখন ভরসা বাংলাদেশের।     অথচ, এই টেস্টে তিনি ছিলেনই না। মুমিনুল হকের কনকাশন বদলি নামা সেই উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের ওপরই এখন আস্থা স্বাগতিকদের। আস্থার প্রতিদান দিতে পারবেন কি না সেটা আগামীকাল জানা যাবে। তবে সতীর্থর ওপর ভরসা রাখছেন নাঈম হাসান।     আগামীকাল জাকেরের সঙ্গে জুটি গড়ে বাংলাদেশকে কমপক্ষে ২০০ রানের লক্ষ্য এনে দিতে চান অফস্পিনার। তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানিয়েছেন তিনি। ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে। ৭৯ রানে নেই ৬ উইকেট।     তাতে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। আগামীকাল সমান ১৮ রানে অপরাজিত দুই ব্যাটার জাকের-নাঈম বাংলাদেশকে পথ দেখাতে মাঠে নামবেন। নিজেরা পথ দেখানোর চেষ্টা করবেন জানিয়ে নাঈম বলেছেন, ‘দেখেন, আসলে আমরা চেষ্টা করব যত বেশি রান করতে পারি। আল্লাহর রহমতে এখন আমি আর জাকের ভাই ব্যাটিং করছি। আমরা যদি লম্বা খেলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ যদি চান, তাহলে যত বেশি রান করতে পারব, ততই আমাদের জন্য ভালো।     ২০০ রান হলে ইনশাআল্লাহ খুবই ভালো হবে। চেষ্টা থাকবে আরো বেশি করার।’       ২০০ রানের লক্ষ্য দিতে পারলে বাংলাদেশ জিততে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নাঈম বলেছেন, ‘আমরা যদি ভালো সংগ্রহ দিতে পারি, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব। আপনারা বিশ্বাস রাখতে পারেন, আমি আর জাকের ভাই যাতে বড় ইনিংস খেলতে পারি।  প্রত্যেকদিন তো সবাই ভালো খেলে না। এবার সুযোগটা আমাদের কাছে আসছে। ইনশাআল্লাহ যদি আমরা ভালো কাজে লাগাতে পারি, তাহলে বড় দলগুলো এই জায়গা থেকে ব্যাক করে। ইনশাআল্লাহ আমি আর জাকের ভাই চেষ্টা করব আমরা ব্যাক করার জন্য।’

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
সেঞ্চুরির পর ফিলিপসের উদযাপন। ছবি : সংগৃহীত
রেকর্ড রান তাড়ায় ব্যর্থ ভারত, সিরিজেই প্রথম জয় নিউজিল্যান্ডের

অবশেষে ভারতের জয়রথ থামাল নিউজিল্যান্ড। টানা ৩ হারে আগেই সিরিজ খুইয়েছে নিউজিল্যান্ড।   ঘরের মাঠে তাই শঙ্কা জাগছিল ধবলধোলাই হওয়ার।   তবে সেটা হতে দেয়নি কিউইরা। ভারতকে হারিয়ে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যবধান করেছে ৩-১। প্রতিপক্ষকে হারানোর জয়টি এসেছে রেকর্ড রানের।       ৮৭ রানের জয়টি ভারতের বিপক্ষে এখন কিউইদের সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ডটি ছিল ৮০ রানের, ২০১৯ সালে ওয়েলিংটনে।     জিততে হলে রেকর্ড ২৬০ রান তাড়া করতে হতো ভারতকে। তবে বড় রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত।     প্রথম ওভারে সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষানকে হারিয়ে। সেই ধাক্কা পরে সামলে উঠতে পারেনি তারা।   উল্টো একের পর এক উইকেট হারিয়ে আরো বড় পরাজয়ের শঙ্কায় ছিল ভারত। কেননা ৮৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছিল তারা। শেষ পর্যন্ত তারা ১৭২ রান করতে পেরেছে তিলক ভার্মা-নামান ধীরের পঁচিশোর্ধ্ব ইনিংসের সৌজন্যে।     নামানের ২৮ রানের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেছেন তিলক। অন্যদিকে ১০ নম্বরে নেমে ১৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ব্যবধান কমাতে সাহায্যে করেন প্রিন্স যাদবও। নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন জ্যাকব ডাফি।     এর আগে গ্লেন ফিলিপসের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে রেকর্ড ২৫৯ রানের সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। যা কিউইদের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২২ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করা ২৫৪ রান ছিল এতদিন তাদের সর্বোচ্চ।     ফিলিপস ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসটি খেলেন ১০৭ রানের। ৪৯ বলের ইনিংসটি সাজান ৬ চার ও ১০ ছক্কায়। তবে বড় সংগ্রহে ৬৫ রানে ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন মাইকেল ব্রেসওয়েলও। ২৬০.০০ স্ট্রাইকরেটের ইনিংস সাজান ৪ চার ও ৬ ছক্কায়।     সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি আগামী ১ নভেম্বর, হ্যামিল্টনে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের স্কোয়াড ঘোষণা, জায়গা হয়নি একাধিক তারকা ফুটবলারের

ব্রাজিলের জাতীয় দল মানেই তারকা ফুটবলারদের উপস্থিতি। তবে আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করে চমক দিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি অ্যালিসন বেকার, এদেরসন, মার্কিনিওস, ক্যাসেমিরো, এদের মিলিতাও ও লুকাস পাকেতার মতো অভিজ্ঞ তারকাদের। তাদের অনুপস্থিতিতে বেশ কয়েকজন তরুণ ও অনভিজ্ঞ ফুটবলারকে সুযোগ দিয়েছেন ইতালিয়ান এই কোচ।   নভেম্বরে জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই ম্যাচ দুটিকে সামনে রেখে ঘোষিত দলে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন পাঁচ ফুটবলার। তারা হলেন আন্দ্রে লুইজ, মারলন গোমেস, জনাথন জেসুস, অ্যালিসন সান্তানা ও অ্যালান।   নতুনদের মধ্যে মারলন গোমেস ও অ্যালিসনের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মারলন ব্রাজিলের অলিম্পিক দলে খেলেছেন, আর অ্যালিসন প্রতিনিধিত্ব করেছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলে। বর্তমানে দুজনই ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেৎস্কের হয়ে খেলছেন। অন্যদিকে আন্দ্রে লুইজ রয়েছেন করিন্থিয়াসে, জনাথন জেসুসের ক্লাব ক্রুজেইরো এবং অ্যালান খেলছেন ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটিতে।   তবে অভিজ্ঞ তারকাদের অনুপস্থিতি থাকলেও ব্রাজিলের স্কোয়াডে পরিচিত মুখের অভাব নেই। দলে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, এস্তেভাও, এন্দ্রিক, গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েস ও ব্রুনো গিমারায়েসের মতো ফুটবলাররা। তারপরও সামগ্রিকভাবে দলটি বেশ তরুণ। জাতীয় দলের হয়ে অধিকাংশ খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতাও তুলনামূলক কম। কয়েকজনের ঝুলিতে রয়েছে মাত্র এক-দুটি ম্যাচ।   আগামী ১৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এরপর ১৭ নভেম্বর একই ভেন্যুতে স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামবে আনচেলত্তির দল। নতুন ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরখ করা এবং দলের বেঞ্চ শক্তি যাচাই করার ক্ষেত্রে এই দুটি ম্যাচকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন ব্রাজিল কোচ।   সূত্র: গোল ডট কম

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাটিং ধসে চাপে বাংলাদেশ, আলোকস্বল্পতায় আপাতত বন্ধ খেলা

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের তোপে দিশেহারা বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে বড় ধরনের ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে স্বাগতিকরা।     আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭৯ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১০৫ রানের লিড পেয়েছে টাইগাররা।   বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই চা বিরতি ঘোষণা করতে হয়। বিরতির পর খেলা শুরু হলে আরও বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিবীয় বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি স্বাগতিক ব্যাটাররা।   ইনিংসের ১৪তম ওভারে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি তিনি। ৪ রান করেই থামে তার ইনিংস। এরপর ক্রিজে আসা মেহেদী হাসান মিরাজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।   ওয়ারিক্যানের গুড লেংথের একটি বল দ্রুত ভেতরে ঢোকার পাশাপাশি অতিরিক্ত বাউন্স পায়। মিরাজের ব্যাটের ফাঁক গলে বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করলে ৯ রানেই বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।   লিটনের বিদায়ের পর মাত্র ২০ বলের ব্যবধানে আরও দুটি উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এর আগে দলীয় ৩৫ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়েছিল স্বাগতিকরা।   এর আগে বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় সেশনের খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে হয়। ব্যাট হাতে বড় লিড গড়তে না পারলেও বল হাতে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ম্যাচে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পরে আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
গ্রিভসের উইকেট তুলে নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশের স্বস্তি

লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। নিজের ১৬তম টেস্ট খেলতে নামা নাঈম হাসানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন সেট হয়ে যাওয়া জাস্টিন গ্রিভস। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান। গ্রিভসের বিদায়ের পরপরই শেষ হয় দিনের প্রথম সেশনের খেলা।    লাঞ্চে যাওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৭৪.৫ ওভারে ২১৩ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ৫৯ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা। হাতে আছে ৪ উইকেট। ৪২ বলে ৩০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন নিজের ৬২তম টেস্ট খেলতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ।   নাঈম হাসানের আগের ওভারেই ফিরতে পারতেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক। কিন্তু শর্ট ফিল্ডার মুমিনুল হক একেবারে সহজ ক্যাচটি হাত থেকে ফেলে দিয়েছেন। এক ওভার পর নাঈম ফিরেই লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেললেন জাস্টিন গ্রিভসকে। এর মধ্য দিয়ে ৫১ রানের জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু পেল বাংলাদেশ।   মিরপুর টেস্ট: ফিফটি করা চন্দরপলকে ফেরালেন শরীফুল

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩০, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

খেলাধুলা

ম্যানইউর দুর্দশা কাটছেই না, বরখাস্তের শঙ্কায় ক্যারিক

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৬, ২০২৬