অর্থনীতি

বেস্টওয়ের এমডিসহ ১৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্লট বরাদ্দের নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে পরবর্তীতে প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং গ্রহণকৃত অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ম্যানেজিং ডিরেক্টর) মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী ও পরিচালক মো. মোমেনসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।  

 

বুধবার (২২ জুলাই) সিআইডি মিডিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।  

 

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এবং উক্ত অর্থ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্য পাওয়ায় বনানী থানায় মামলা করা হয়।  

 

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান (৬১), তানিয়া সুলতানা তানভী (৪৯) একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মোমেন (৬৫)। একই সঙ্গে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড, বেস্টওয়ে ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, গ্রেট ওয়াল ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড, বেস্টওয়ে পাওয়ারটেক লিমিটেড, বেস্টওয়ে ফাউন্ডেশন লিমিটেড, বেস্টওয়ে কো-অপারেটিভ কমার্শিয়াল ক্রেডিট লিমিটেড, নভেলটা বেস্টওয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বেস্টওয়ে মোটরস লিমিটেড, বেস্টওয়ে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনকিউবেশন লিমিটেড, বেস্টওয়ে ন্যাশনওয়াইড হাউজিং লিমিটেড, এনআরবি টাউন লিমিটেড, বেস্টওয়ে অ্যাগ্রো লিমিটেড, বেস্টওয়ে টাইমস সিটি লিমিটেড, বেস্টওয়ে জেমি ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড, গ্লোবাল কানেক্ট বিডি লিমিটেড, হেরিটেজ হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এবং বেস্টওয়ে মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন লিমিটেড।  

 

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্তরা ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের নামে রূপগঞ্জ থানাধীন ভোলাব, তরাইল, বিরাব, মোচারতালুকসহ বিভিন্ন মৌজায় জমি প্লট আকারে কিস্তিতে বিক্রির কথা বলে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্লট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা হয়।  

 

প্লট পাওয়ার আশায় অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর কিস্তি ও বিভিন্ন নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, অর্থ গ্রহণের পরও অধিকাংশ গ্রাহককে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও প্লট না পাওয়া এবং জমা দেওয়া অর্থ ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্লট বরাদ্দের নিশ্চয়তা হিসেবে গ্রাহকদের দেওয়া অর্থের বিপরীতে তাদের শুধুমাত্র জিম্মা, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি হিসেবে সাব-কবলা দলিল প্রদান করা হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রতিশ্রুত প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।  

 

পরবর্তী সময়ে প্লট না পাওয়া এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজন গ্রাহক সিআইডিতে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা মোতাবেক দীর্ঘ অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের মাধ্যমে প্লট বরাদ্দের নামে অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে সর্বমোট ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা গ্রহণ করা হলেও তাদের প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং গ্রহণকৃত অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। 

 

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে গ্রহণ করা অর্থের একটি বড় অংশ অভিযুক্তদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জমা, উত্তোলন, স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত মোট ৮২টি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন পর্যালোচনা করে ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উক্ত সময়কালে এসব ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা ৭২ পয়সা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা ৭৯ পয়সা উত্তোলনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। 

 

এছাড়া অনুসন্ধানে ২০১০ সালে ১ হাজার ১৮৮টি, ২০১১ সালে ৯৫৩টি, ২০১২ সালে ২৭৪টি, ২০১৩ সালে ১৯৬টি এবং ২০১৪ সালে ১০২টিসহ সর্বমোট ২ হাজার ৭১৩টি জিম্মা, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি হিসেবে প্রদত্ত সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তরের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। 

 

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এবং উক্ত অর্থ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্য পাওয়ায় ঘটনাটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট ০৩ ব্যক্তি এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

 

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের প্রকৃতি এবং এই ঘটনায় আরও কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার অন্যান্য গ্রাহকদের শনাক্তকরণ এবং তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা অর্থের পরিমাণ নিরূপণেও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  

 

সিআইডি কোনও আবাসন প্রকল্পে প্লট বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন, ভূমির কাগজপত্র এবং অর্থ লেনদেনের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করে বিনিয়োগের ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। এছাড়া কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ প্রদান না করার জন্যও সকলের প্রতি অনুরোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতারণা, অবৈধ অর্থ লেনদেন বা মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এক বছরেই ১০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এক বছরে জ্বালানি তেল আমদানির খরচ ১০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক পেরিয়েছে।   ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) ১ হাজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ (১০.৬৩ বিলিয়ন) ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে, যা আগের আর্থিক বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।   ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে ৫১৩ কোটি ৭৯ লাখ (৫.১৪ বিলিয়ন) ডলার খরচ হয়েছিল। শতাংশ হিসাবে ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ।   বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা) হিসাবে টাকার অঙ্কে গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।   বাংলাদেশে কখনোই জ্বালানি তেলে এত অর্থ খরচ হয়নি। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮৯৮ কোটি ৫০ লাখ (৮.৯৮ বিলিয়ন) ব্যয় হয়েছিল; যা ছিল এতদিন সবচেয়ে বেশি।   ওই আর্থিক বছরে কোভিড মহামারীর প্রাথমিক ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শিল্পকারখানা সচল হতে শুরু করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানির চাহিদা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়; তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানির পরিমাণ ও মূল্যও বেড়ে যায়।   সে কারণেই ২০২০-২১ আর্থিক বছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে খরচ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল।   ২০২০ সালের মার্চে দেশে দেশে কোভিড প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তখন সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে কমতে একেবারে তলানিতে নেমেছিল। মহামারীর ধাক্কা কাটতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়তে থাকে। ২০২১ সালের শেষের দিকে প্রতি ব্যারেল তেলে দাম প্রায় ৯০ ডলারে উঠেছিল।   কোভিডের ধকল কাটতে না কাটতেই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় রাশিয়া–ইউক্রেইন যুদ্ধ। তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ওই বছরের মার্চে ১৩৯ ডলার অতিক্রম করে।   চাহিদা বৃদ্ধি ও দাম বাড়ার কারণেই ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানি ব্যয় বেড়েছিল বলে জানান জ্বালানি বিশ্লেষকরা।   একই কারণে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বেড়ে সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।   চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে; একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য তা কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তার আগে অবশ্য কমতে কমতে ৬৫ ডলারে নেমেছিল।   সোমবার (১০ অগাস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড (অপরিশোধিত) তেলের দাম ছিল ৮৬ ডলার ৭২ সেন্ট। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ছিল ৮১ ডলার।   বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার পণ্য আমদানির সবশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন) পণ্য আমদানিতে মোট ৭ হাজার ৫২৪ কোটি (৭৫.২৪ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্ট (পিওএল) আমদানিতে ১ হাজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ (১০.৬৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হয়েছে বাংলাদেশের।   এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত অর্থবছরে আমদানি খাতে মোট যত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ খরচ হয়েছে জ্বালানি তেলে।   ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানির ব্যয় ৯২ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে পিওএল বাবদ ব্যয় ১০৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ (৯.৪৪ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে।   ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্ট (পিওএল) আমদানিতে মোট ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। যার মধ্যে ৬২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছিল অপরিশোধিত তেল আমদানিতে। আর ৪ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল পিওএল আমদানি বাবদ।   গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে রেকর্ড ব্যয় কেন হয়েছে—এ প্রশ্নে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মূলত দাম বৃদ্ধি ও চাহিদা বাড়ার কারণে এই ব্যয় বেড়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন আবার বাড়তির দিকে; কমবে বলে মনে হচ্ছে না।   “সেক্ষেত্রে আগামী মাসগুলোতে এ খাতে ব্যয় আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।”   কিছু দিন আগে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছিল, পেট্টোল পাম্পগুলোতে লম্বা লাইন—এমন পরিস্থিতি এড়াতে সরকারের কী করা উচিৎ?   জবাবে ম তামিম বলেন, “আতঙ্কের কারণে ওই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। সবাই ভেবেছিল তেল আর পাওয়া যাবে না, সে কারণেই সবাই লাইনে দাঁড়িয়েছিল। অনেকে প্রয়োজনের বেশি কিনে মজুত করেছিল।”   এমন পরিস্থিতি যাতে আর না হয়, সেজন্য বিশ্ব পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে কমপক্ষে দেড় মাসের মজুত রাখার পরামর্শ দেন এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।   বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতি বছরই তেলের চাহিদা বাড়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে; দাম বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে তেল আমদানিতে অনেক বেশি অর্থ খরচ হয়েছে।”   দেশে এখন ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা; অকটেন ১৪৫, পেট্রোল ১৪০ এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।   গত ১ জুন ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা অপরিবর্তিত রেখে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। পরে জুলাই ও অগাস্টেও সেই দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার।   কেবল দামে নয়, পরিমাণের দিক দিয়েও জ্বালানি তেল আমদানি ব্যয় বেড়েছে। তবে পরিমাণের দিক দিয়ে গত অর্থবছরের পুরো সময়ে মোট কত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।   নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) তথ্য পাওয়া গেছে। তাতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি আমদানি করেছে। ২০২৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৫০ লাখ ৫ হাজার টন।   আমদানিকৃত জ্বালানির তালিকায় রয়েছে ডিজেল, ক্রুড তেল, ফার্নেস তেল, পেট্রোল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও বেস অয়েল।   বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল ৭৪ লাখ টন।   ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৬২ লাখ ১৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল, যার মধ্যে ২৪ শতাংশ ছিল অপরিশোধিত তেল। বাকি ৭৬ শতাংশই ছিল পরিশোধিত তেল, যা সরাসরি ব্যবহারযোগ্য।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ফার্নেস অয়েলে তিক্ত অভিজ্ঞতা, বেসরকারি জ্বালানি তেল আমদানিতে যে ঝুঁকি দেখছে বিপিসি

ছবি : সংগৃহীত

সক্ষমতায় ফিরতে আবারও বন্ধ রাখতে হবে এলএনজি টার্মিনাল: প্রতিমন্ত্রী অমিত

ছবি : সংগৃহীত

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

ছবি: সংগৃহীত
পুনর্গঠিত ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদসীমা সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া পরিচালনা পর্ষদের সর্বোচ্চ দুই বছরের মেয়াদসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়োগ করা পরিচালনা পর্ষদ দুই বছরের পরও দায়িত্ব পালন করতে পারবে।     সোমবার (১০ আগস্ট) ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারার ক্ষমতাবলে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।       প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের আদেশের মেয়াদসংক্রান্ত ৪৭(২) ধারার বিধান সাধারণভাবে প্রযোজ্য হবে না।     ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(২) উপধারায় এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বাতিল করা পরিচালনা পর্ষদের আদেশের মেয়াদ সময় সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও বর্ধিত মেয়াদসহ মোট মেয়াদ দুই বছরের বেশি না হওয়ার বিধান ছিল। এখন ব্যাংক-কম্পানির ক্ষেত্রে এই বিধান কার্যকর হবে না।     এর ফলে পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের পর বাংলাদেশ ব্যাংক যে নতুন পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ করবে, তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দুই বছরের সর্বোচ্চ সীমা আর থাকছে না।   জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব পরিচালনা পর্ষদের দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় তাদের মেয়াদ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদসংক্রান্ত এ পরিবর্তন আনা হলো।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা কিউআরে ক্ষুদ্র লেনদেনে খরচ কমাতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দুই বছরের সীমা বাতিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত পাঁচ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ

ছবি: সংগৃহীত
চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান অকার্যকর ঘোষণা, প্রশাসক নিয়োগ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আর্থিক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেজল্যুশনের আওতায় এনে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।   অকার্যকর ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।   রোববার (৯ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পর এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে অকার্যকর ঘোষণা ও রেজল্যুশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণিকৃত ঋণ ও বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা, আয়ক্ষমতার অবনতি এবং আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের দায় পরিশোধে অক্ষমতার মতো বিষয়গুলোকে এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   এদিকে, রেজল্যুশন কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রশাসক এবং সহ-প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তারা এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন।   বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আমানতকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর অগ্রগতি হবে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আইন অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ফারইস্ট ফাইন্যান্সে এ হার ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।    এর আগে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতিকে ভিত্তি ধরে গত বছর ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ‘অপরিচালনযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অকার্যকর ঘোষণা করা চারটি প্রতিষ্ঠানের বাহিরে বাকি পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো :- পিপলস লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্স।    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংকটে থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানত রয়েছে ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের এবং বাকি ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের।    সবচেয়ে বেশি ব্যক্তি আমানত আটকে আছে পিপলস লিজিংয়ে, যার পরিমাণ ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। এছাড়া আভিভা ফাইন্যান্সে ৮০৯ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৬৪৫ কোটি এবং প্রাইম ফাইন্যান্সে ৩২৮ কোটি টাকা আটকে রয়েছে সাধারণ আমানতকারীদের।    বর্তমানে দেশে মোট ৩৫টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২০টিকে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ২৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকাই খেলাপি। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের হার ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিপরীতে এসব ঋণের বন্ধকি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৬ শতাংশ।    অন্যদিকে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে এবং তাদের মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা।    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা খাতটির বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ২১ শতাংশ, বিমান ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা

বিল-রিচার্জে টাকার টান পড়লে মিলবে ডিজিটাল ঋণ, সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা

বেনাপোল হয়ে এলো ৮০ টন কাঁচা মরিচ, দাম নামলো অর্ধেকে

0 Comments