সময়ের আবর্তন মানবসভ্যতার এক অনিবার্য বাস্তবতা, কিন্তু সেই সময়কে মানুষ কীভাবে ব্যাখ্যা করে সেখানেই গড়ে ওঠে তার বিশ্বাস, তার সংস্কৃতি এবং তার পরিচয়। পহেলা বৈশাখ আজ বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক বিস্তৃত উপস্থিতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এর গভীরে প্রবেশ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এটি কেবল একটি দিন নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বিশ্বাসের সংযোগস্থল, যেখানে একজন মুসলমানের অবস্থান নির্ধারণ সহজ নয়, কিন্তু অস্পষ্টও নয়। বাংলা সনের সূচনা হয়েছিল কোনো ধর্মীয় অনুষঙ্গ থেকে নয়, বরং প্রশাসনিক প্রয়োজন থেকে। মুঘল সম্রাট আকবর তার সাম্রাজ্যের করব্যবস্থাকে কৃষি মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে একটি নতুন পঞ্জিকার প্রবর্তন করেন। হিজরি সনের সঙ্গে সৌরবর্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ফসলি সন ধীরে ধীরে বাংলা সনে রূপান্তরিত হয়। এর জন্ম ছিল অর্থনৈতিক বাস্তবতায়, কিন্তু এর পরিণতি হয়েছে সাংস্কৃতিক বিস্তারে। কালের প্রবাহে এই দিনটি শুধু হিসাবের খাতা খোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রূপ নিয়েছে এক সামষ্টিক উৎসবে। মেলা, শোভাযাত্রা, সংগীত, এবং নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে এটি আজ এমন এক পরিচয়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংস্কৃতি ও উৎসব একাকার হয়ে গেছে। কিন্তু এখানেই একজন মুসলমানের জন্য প্রশ্নটি গভীর হয়ে ওঠে সংস্কৃতি কি বিশ্বাসের সীমারেখা অতিক্রম করতে পারে? ইসলাম এই প্রশ্নের উত্তর দেয় সুস্পষ্ট নীতির মাধ্যমে। সময়কে ইসলাম মর্যাদা দিয়েছে, কিন্তু তাকে উৎসবের রূপ দেয়নি। পবিত্র কুরআন সময়কে জবাবদিহিতার মানদণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করে, আনন্দোৎসবের নয়। ইসলামে নির্ধারিত উৎসব কেবল দুটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা যেগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, মানুষের উদ্ভাবিত নয়। এই নীতিকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ সা., যিনি মদিনায় এসে স্থানীয় উৎসবগুলোকে বাতিল করে মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত দুই ঈদের দিকনির্দেশনা দেন। তার বাণীতে উচ্চারিত হয়েছে এক মৌলিক সত্য যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত। এই হাদিস কেবল বাহ্যিক অনুকরণের বিরুদ্ধে সতর্কতা নয়, এটি পরিচয় ও বিশ্বাসের সুরক্ষার এক মৌলিক নীতিও। ইসলামী ফিকহের ধারাবাহিকতায় ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল সকলেই দ্বীনের মধ্যে নতুন উৎসব সংযোজন এবং অমুসলিমদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অনুসরণ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। পরবর্তীতে ইবনে তাইমিয়্যাহ তার বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, উৎসব কেবল আনন্দের বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি একটি জাতির বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিচয়ের প্রতিফলন। তাই অন্যের উৎসব গ্রহণ করা মানে ধীরে ধীরে সেই পরিচয়ের প্রভাবকে নিজের ভেতরে প্রবেশ করানো। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা নববর্ষের প্রশ্নটি আর কেবল সাংস্কৃতিক থাকে না, এটি আকিদার পরিসরে প্রবেশ করে। কারণ কোনো উৎসব যখন নিয়মিত আচার, প্রতীক, এবং সামষ্টিক উদযাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা নিছক সময়চিহ্ন থাকে না, এটি এক ধরনের পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়। ইসলামের অবস্থান এখানে দ্ব্যর্থহীন বিধর্মীদের ধর্মীয় উৎসব ও অনুকরণ মুসলমানের জন্য অনুমোদিত নয়। কারণ ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র জীবনব্যবস্থা নির্ধারণ করেছে, যেখানে বিশ্বাস, আচরণ ও উৎসব সবকিছুই আল্লাহর নির্দেশনার আলোকে পরিচালিত হয়। এই স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা শুধু একটি বিধান নয়, এটি ঈমানেরই অংশ। তবু বাস্তবতার একটি স্তর রয়েছে, যেখানে মানুষ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে অনেক কিছুতে যুক্ত থাকে। এই বাস্তবতার মাঝেও একজন সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব হলো নিজেকে প্রশ্ন করা সে কি কেবল একটি ঐতিহাসিক ক্যালেন্ডারের পরিবর্তনকে স্বীকার করছে, নাকি এমন এক উৎসবের অংশ হয়ে যাচ্ছে, যার ভেতরে অন্য বিশ্বাসের ছাপ ও ইসলামের সীমালঙ্ঘন নিহিত? ইসলামের দৃষ্টিতে যেসব উৎসব-আয়োজন ও খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষের জীবন-সম্ভ্রমের নিরাপত্তাঝুঁকি, নামাজ-ইবাদতের জন্য প্রতিবন্ধক, বিধর্মীদের অনুসরণ, সময় ও অর্থের অপচয়, জুয়া-লটারি, রং খেলা, উদ্দামনৃত্য-গীত, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, উল্কি আঁকা, অবৈধপণ্যের বিপণন ইত্যাদির বাহুল্য থাকে, তা একজন ঈমানদারের জন্য অশোভন। কেননা শরীর ও মনের বিকাশে যেসব কাজকর্মের ফলে ফরজ লঙ্ঘন অথবা হারামের অনুষঙ্গ তৈরি হয়, সে সব কিছুই ইসলামের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ। একটি কবিরা গুনাহ জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে যথেষ্ট। কবিরা গুনাহ তাওবা ছাড়া মাফ হয় না। বাংলা নববর্ষ তাই কেবল একটি দিন নয়, এটি একটি আয়না, যেখানে একজন মুসলমান তার অবস্থান, তার পরিচয় এবং তার দায়বদ্ধতাকে দেখতে পারে। এটি আনন্দের নয়, বরং সচেতনতার আহ্বান যেখানে সংস্কৃতিকে বুঝে গ্রহণ করতে হয়, কিন্তু বিশ্বাসকে কখনো আপস করা যায় না। পরিশেষে ইসলাম মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, সময় কোনো উৎসব নয়, এটি একটি আমানত। আর এই আমানতের প্রতি দায়িত্বশীল থাকাই একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয়। লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর
বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের সংস্কৃতি সেলের উদ্যোগে "নাগরিক বর্ষবরণ ১৪৩৩" আয়োজনে থাকবে বর্ণাঢ্য বৈশাখী র্যালি, বাউল গান, নৃত্য, আবৃত্তি, লোকজ পরিবেশনা এবং দেশীয় ঐতিহ্যের নানান ছোঁয়া। এনসিপির সংস্কৃতি সেল সম্পাদক লুৎফর রহমান জানান, পহেলা বৈশাখের দিন মঙ্গলবার দুপুরের পরই মূল আয়োজন শুরু হবে। বেলা ৩টায় বর্ণিল এক শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। রাজধানীর বাংলামোটর থেকে শুরু করে শাহবাগ হয়ে এ শোভাযাত্রা বাংলামোটরে ফিরে এসে শেষ হবে। একই সময়ে বাংলামোটরের নেভি গলিতে বসবে বৈশাখী মেলা। এ আয়োজনে থাকবে গান, নৃত্য ও বায়োস্কোপসহ বাঙালিয়ানার নানা অনুষঙ্গ। মুড়ি-মুড়কি ও জিলাপির আয়োজনও থাকছে। এনসিপির সংস্কৃতি সেল সম্পাদক ঢাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, নতুন বছরের নতুন দিনে আমাদের সঙ্গে মিলিত হোন ঐতিহ্য আর উৎসবের রঙে রঙিন হতে। আপনার উপস্থিতি আমাদের আনন্দকে আরও পূর্ণ করবে। নেভি গলির আয়োজনস্থলে সোমবার রাত ৮টার পর থেকেই শুরু হয় আল্পনা আঁকা। মঙ্গলবারের মেলায় বাহারি খাবার ও মাটির তৈজসপত্রের দোকানও বসবে বলে জানা গেছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পূর্বেই মেলার কার্যক্রম শেষ হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির সংস্কৃতি সেল সম্পাদক লুৎফর রহমান।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনে ব্যর্থ ঢাকা ও সিলেট অঞ্চলের ৩৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সতর্কবার্তা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সোমবার (১৩ এপ্রিল) অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা ও সিলেট অঞ্চলের উল্লিখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ আয়োজন করতে না পারায় তাদের প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, পরবর্তীতে বার্ষিক ক্রীড়া আয়োজনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে এবং বছরে অন্তত একবার করে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম দেওয়া হবে। সোমবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে BRAC-এর শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার: কৌশলগত পথনির্দেশনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষায় সমতা আনতে এবং অভিভাবকদের আর্থিক চাপ কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউনিফর্ম বিতরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে কিছু বিদ্যালয়ে মিডডে মিল চালু হয়েছে এবং আগামী বছরের মধ্যে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে “থ্রি সি”—কারিকুলাম, ক্লাসরুম ও কনসিসটেন্সি—এই তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান কারিকুলামে কিছু ঘাটতি রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য পাঠ্যবইয়ের ভাষা ও বিষয়বস্তু জটিল হয়ে যাচ্ছে। তাই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলাম পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা প্রয়োজন।” যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক স্তরে খেলাধুলাভিত্তিক (প্লে-বেইজড) এবং গল্পভিত্তিক (স্টোরিটেলিং) শিক্ষা চালু করা হবে। তবে তা ধাপে ধাপে—পাইলটিং, প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিটি বিদ্যালয়ে একাধিক খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি নাচ, গান ও অভিনয়ের সুযোগ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পিটিআই থেকে ১০ মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তাই প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করা হবে।” সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী। এছাড়া আসিফ সালেহ-সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনের শুরুতে লেনদেনে প্রবেশ করতেই মূল্যবান এ ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে (ইস্টার্ন টাইম) এবং গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের মূল্য ০.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭২৮ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। এটি গত ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এদিকে, জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার বাজারে দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৫২ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী সংঘাতের পর স্বর্ণের দামে ১০ শতাংশেরও বেশি পতন ঘটেছে। সাধারণভাবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বা মুদ্রাস্ফীতির সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদের হার এ বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ স্বর্ণ কোনো ধরনের সুদ প্রদান করে না। এছাড়া মার্কিন ডলারের মানও প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব খাতভুক্ত বিভিন্ন মেধা ও সাধারণ বৃত্তি এবং উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এমআইএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি ও সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, রাজস্ব খাতভুক্ত বিভিন্ন শ্রেণির মেধা ও সাধারণ বৃত্তি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, উপজাতীয়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পেশামূলক উপবৃত্তি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে বৃত্তি পেয়ে সাধারণ শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ ইএফটি-এর মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমআইএস সফটওয়্যারে নির্ভুলভাবে তথ্য এন্ট্রি করতে হবে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থীর ব্যাংক সংক্রান্ত ভুলের কারণে (যেমন: ব্যাংকের নাম, শাখা, রাউটিং নম্বর বা হিসাব নম্বর ভুল অথবা অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকা) ইতিপূর্বে বৃত্তির অর্থ 'বাউন্সড' বা ফেরত গেছে, তাদের তথ্য দ্রুত সংশোধন ও নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, শুধু বোর্ড বৃত্তিপ্রাপ্ত যেসব শিক্ষার্থীর তথ্য আগে এন্ট্রি করা হয়নি, তাদের তথ্যও এই সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রকাশিত গেজেটের সঙ্গে মিল রেখে সঠিক তথ্য এন্ট্রি না করলে বৃত্তির অর্থ বিতরণ সম্ভব হবে না। তথ্য এন্ট্রি বা সংশোধনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দায়ী থাকবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে ‘দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার’ মন্তব্য করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকারের এমন মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে ফেসবুক পেজে লাইভে এসে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের যথেষ্ট সময় দেওয়া হয় না। হাসনাত বলেন, সালাহউদ্দিন সাহেব ৪৫ মিনিট কথা বলেন, আর আমাকে দেওয়া হয় দুই মিনিট। একই বিষয়ে আমি যখন কথা বলতে চাই, তখন আমাকে সীমিত সময় দেওয়া হয়। মানবাধিকার কমিশন নিয়ে আমাকে মাত্র দুই মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে, অথচ এই বিষয়ে সালাহউদ্দিন সাহেব ৪০ মিনিট কথা বলেছেন। সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় নিয়েও একইভাবে তাদেরকে দীর্ঘ সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একটা টপিকে একজন ৪০-৪৫ মিনিট কথা বলবেন, আর আমি কথা বলব দুই মিনিট এটা অযৌক্তিক। এই দুই মিনিটের মধ্যে যদি তারা কোনো ভুল বা অযৌক্তিক কথা বলেন, সেটার জবাব দেওয়ার সুযোগও আমাদের দেওয়া হয় না। সময় চাইলে আবার বলা হয়, ‘দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, ইটস পার্লামেন্ট’। এটা খুবই অন্যায্য। আমরা এই বৈষম্যের বিরোধিতা করেছিলাম বলেই আজ এসব কথা বলা হচ্ছে। এর আগে গত শুক্রবার ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল’ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের তর্ক-বিতর্কের সময় নিজের আসন থেকে হাসনাত আবদুল্লাহ দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে স্পিকার ওই মন্তব্য করেন।
আসন্ন বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে কারাগার থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রোববার (১২ এপ্রিল) নির্বাচনের ফরমে তার স্বাক্ষরের অনুমতি চেয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর আবেদন করা হয়েছে। ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ এই আবেদন জমা দেন। আইনজীবী লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে সুমন আগ্রহী। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা ১৬ এপ্রিল শেষ হচ্ছে। প্রার্থী হতে হলে নির্বাচনের ফরমে তার স্বাক্ষর প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। আবেদন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৯ মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৬ এপ্রিল। যেহেতু ব্যারিস্টার সুমন বর্তমানে কারাবন্দি, তাই নির্বাচনী ফরমে তার স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য জেল কোড অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২২ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বর্তমানে সাতটি মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকলেও আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবী এই সংগঠনের নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল ফোনসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর পল্টন মডেল থানা। এর আগে শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. জহুরুল ইসলাম (৩৮)-কে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১১৭টি স্মার্টফোন ও বাটন ফোন এবং ২০টি পুরোনো চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ১২ হাজার ৩০০ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন কম দামে সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন। পুলিশ আরও জানায়, এ ধরনের অপরাধচক্র চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) সুপারস্টার রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির আওতায় জাতীয় গ্রিডে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোলার সিস্টেমের প্রায় ৮০ শতাংশ সোলার প্যানেল চালু করেছে কোম্পানিটি। জানা যায়, ২০২৩ সালের ২২ জুন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অংশ হিসেবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে যবিপ্রবি ও সুপারস্টার রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। জুলাই বিপ্লবের পর এক পর্যায়ে রুফটপ সোলার সিস্টেমের কাজ থেমে গেলেও পরবর্তীতে যবিপ্রবি ও কোম্পানির তৎপরতায় পুনরায় কাজ শুরু হয়। এর ফলে গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে জাতীয় গ্রিডে স্বল্প পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সোলার সিস্টেম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে যবিপ্রবির নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে, পরে অবশিষ্ট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সোলার সিস্টেম থেকে নিজস্ব ব্যবহারের পরও ৫৬ হাজার ৯৬৫ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে যবিপ্রবির প্রায় ২৬.৬ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় ১.৫ লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে স্থাপিত রুফটপ সোলার সিস্টেম থেকে প্রতি বর্গমিটার হিসেবে ২ টাকা হারে ভাড়া পাবে যবিপ্রবি। ফলে ভাড়া বাবদও প্রতিষ্ঠানটি বছরে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অর্জন করছে। আরও জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবন চালু থাকায় যবিপ্রবির বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ২ মেগাওয়াট। পুরো সোলার সিস্টেম চালু হলে জাতীয় গ্রিড থেকে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয়ের প্রায় ২৬ শতাংশ সাশ্রয় সম্ভব হবে, যা বর্তমান জ্বালানি সংকটে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এ বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে যবিপ্রবি একটি চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির মাধ্যমে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৭০–৮০ শতাংশ সোলার সিস্টেম চালু হয়েছে। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে পুরো সিস্টেম চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন যদি আরও বড় হতো, তাহলে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতো। এটি সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর উদ্যোগ।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, দুদকসহ যেসব অধ্যাদেশ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত, ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে প্রয়োজন- সেগুলো বিএনপি সবকিছু গায়ের জোরে ফেলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে বিএনপি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। সেটি হতে দেওয়া হবে না। বুধবার দুপুরে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এ সভায় তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করে বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে ক্রিকেট বোর্ড, জেলা পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয় সব জায়গায় ক্যু শুরু করেছে। সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ করে গত শুক্রবার সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে জামায়াত-এনসিপি জোট। এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, সংসদের ভেতরে যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারব, ততদিন সংসদে থাকব। আগামীতেও চূড়ান্তভাবে পরাজয় হবে ফ্যাসিবাদের, বিজয় হবে জনগণের। শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি গর্ব করে বলে ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪- সবকিছু তাদের। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের জন্মই হয়নি। ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান প্রথমবার নিজের পক্ষ থেকে, পরেরবার আরেকজনের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদী আমলে মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করার চেষ্টায় জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর, দালাল বলা হয়েছিল। জামায়াত ওই রাজনীতি আর চায় না। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বিএনপি তাদের ৩১ দফা সংস্কারে বাস্তবায়ন করবে বলেছিল। এর প্রথম দফাই ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন। এখন তারা এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা শুধু জাতির সঙ্গে নয়, দলীয় সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বশেষ বয়সসীমা নিয়ে সংসদে আলোচনার দিন সেখানে মব সৃষ্টির অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার কিছু লোককে জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে দর্শক গ্যালারিতে বসিয়েছিল। আলোচনার এজেন্ডা যখন আসল, তখন সরকারি দল থেকে তাদের ইশারা দেওয়া হলো। বোঝা গেল, এটা পাতানো। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। জামায়াত ও ১১ দলের নেতরা বক্তৃতা করেন সভায়। জুলাই শহীদদের পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধারা সংস্কারের পক্ষে কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা এমএইচ পাটোয়ারী বাবুকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর ও অপর প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে দণ্ডিত এমএইচ পাটোয়ারী বাবু আদেশের সময় ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। এমএইচ পাটোয়ারী বাবু নামের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া একটি পোস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননাকর অভিযোগ তোলা হয়। এই ফেসবুক পোস্টকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘আদালত অবমাননাকর’ উল্লেখ করে প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এমএইচ পাটোয়ারী বাবুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। সে সঙ্গে ওই ফেসবুক পোস্টে লাইক, শেয়ার ও অবমাননাকর মন্তব্যকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও তাদের ডিভাইস জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি করার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটরিয়ামে আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করার চিন্তা রয়েছে। সেই কমিশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা হলে শিক্ষাব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিল নিয়ে চলমান সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, লটারি কখনোই মেধা বা অমেধা নির্ধারণ করতে পারে না। এটি ধনী-গরিব বৈষম্যও পুরোপুরি দূর করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কী শেখানো হবে সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা যথাযথভাবে পাঠদান না করায় অভিভাবকদের অতিরিক্ত কোচিং বা প্রাইভেট টিউটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে—এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। এর আগে লটারি পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, লটারি নিয়ে নানা মত থাকলেও বাস্তবে এতে স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে তদবির ও প্রভাবের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের সব এলাকায় ভালো স্কুল থাকা সত্ত্বেও কেন অভিভাবকরা সন্তানদের নিজ এলাকার স্কুলে না পাঠিয়ে অন্যত্র ভর্তি করান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির। সভায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর গুলশান এলাকায় ৫০ লাখ টাকার জাল নোটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গুলশান থানা পুলিশের একটি দল তাদের আটক করে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আবু হানিফ পালোয়ান (৫০), রেজাউল শেখ (৪০) ও আব্দুল্লাহ মজুমদার আশিক (২৪)। পুলিশ জানায়, বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে গুলশানের ৩৬ নম্বর সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তিনজনকে আটক করে তাদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকার জাল নোট ও একটি প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়। গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তেই উদ্ধার করা নোটগুলো জাল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে জাল নোটের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সারাদেশে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। দেশের সকল জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বল্পতা এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের বিষয়ে নির্দেশক্রমে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হলো। উপজেলাভিত্তিক উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের দিয়ে একটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক (সকল)-কে অনুরোধ করা হলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও’র পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটি’র অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনের নিরীখে সাময়িকভাবে উক্ত পুল হতে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে এ সংক্রান্ত সম্মানী ব্যয় নির্বাহ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকাকে অনুরোধ করা হলো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বারবার ‘মব কালচার’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মাজারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও পীর হত্যার ঘটনায় সরকারের এই ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলছে, সরকার একদিকে মব কালচার দমনের কথা বললেও অন্যদিকে সরকার-সমর্থিত পক্ষগুলোকে সরাসরি প্রশ্রয় দিচ্ছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে বলা হয়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মাজারে হামলা চালিয়ে প্রধান পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে হত্যা করেছে, যা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। বিবৃতিতে এনসিপি উল্লেখ করে, ধর্ম অবমাননা বা এ ধরনের যেকোনো সংবেদনশীল অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের আইনগত কর্তৃপক্ষ হচ্ছে আদালত। ‘মব-সহিংসতা’র মাধ্যমে যারা হত্যা ও অগ্নিসংযোগ করেছে, তারা আইনের চরম লঙ্ঘন করেছে। অনতিবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই হামলার উসকানিদাতা, পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় দলটি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের সহিংসতা স্থানীয় ক্ষমতার ছত্রছায়া ছাড়া সম্ভব নয়। এর আগে রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাতেও রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল থেকেই নিহত পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে দুপুরে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। এমন ঘটনার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন সতর্কতা অবলম্বন ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি। এনসিপির দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার ‘মব কালচার’ শেষ করার ঘোষণা দিলেও ‘প্রকৃত মব’ থামাতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) সরকার-সমর্থিত পক্ষের ‘মব’ করে কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করার উদাহরণ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার একদিকে মব দমনের বুলি আওড়াচ্ছে, অন্যদিকে নিজ সমর্থকদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। এমনকি ‘মব কালচার’ পরিভাষাটিকে সরকারি দল এখন রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। পরিশেষে, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার ভঙ্গ করছে এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এনসিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরকারের সব বিষয়ের মুখপাত্র না হয়ে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহযোগিতায় শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থিত সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় ভাবধারাপন্থী ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে লেখক-প্রকাশকের দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট স্বার্থ সুরক্ষায় কপিরাইট আইন-২০২৩’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচালক ও কপিরাইট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এবং একাডেমিয়া পাবলিশিং হাউস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের কপিরাইট রেজিস্ট্রার এস. এম. আরশাদ ইমাম। বাপুস-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচালক এবং কপিরাইট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিব আবুল বাসার ফিরোজ শেখের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক কপিরাইট রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত সচিব) এবং কপিরাইট বোর্ডের সদস্য মো. মনজুরুর রহমান। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বাপুস-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ গোলাম এলাহী জায়েদ এবং মাহমুদুল হাসান। সেমিনার প্রবন্ধে বলা হয়, মানুষের সমাজ-সভ্যতা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক কাঠামো নির্মাণে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (Intellectual Property বা IP)-এর অবদান অসীম ও অনস্বীকার্য। দৈনন্দিন জীবনে সভ্য ও স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিনিয়ত মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। সচেতন বা অসচেতনভাবে সবাই IP ব্যবহার করে থাকে। বাস্তব সম্পদ যেমন মালিকের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যায় না, তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে তা পাইরেসি, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রধান অতিথি বলেন, কপিরাইটের ব্যাপ্তি বাংলাদেশে খুবই সীমিত। এক্ষেত্রে বৃত্তকে ভাঙতে হবে। সাহিত্য, প্রকাশনা ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি করতে হবে। একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত সমাজ গঠনে সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কপিরাইট সচেতনতা বৃদ্ধি পেতে পারে। একটি সৃজনশীল সমাজ তখনই গড়ে ওঠে, যেখানে জয় হয় সৃজনশীলতার। সভাপতির বক্তব্যে বলা হয়, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাড়াতে হবে। কপিরাইট আইনকে যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে হবে এবং এর প্রয়োগ বাড়াতে হবে। বইয়ের ভবিষ্যৎ ভালো করতে হলে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ভালো আইন থাকলেই হবে না, বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। প্রকাশনা শিল্পকে বাঁচাতে এবং সংশ্লিষ্টদের জীবনমান উন্নয়নে বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশ্ব পোষা প্রাণী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিড়াল প্রেমীদের মিলনমেলা ও বর্ণাঢ্য ‘ক্যাট শো’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে ‘পেট লাভার্স অফ বিএইউ’র উদ্যোগে এ ক্যাট শো আয়োজিত হয়। এতে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’, প্রদর্শনী ও র্যাম্প শোতে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিড়াল প্রেমীরা। প্রাণি অধিকার নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিড়ালের প্রতি মমত্ববোধ ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পরিচালক এবং সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বিড়ালের র্যাম্প শো এবং ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতা। এছাড়াও বিড়ালের সাধারণ রোগব্যাধি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে সেরা বিড়ালকে ‘ক্যাট অফ দ্য শো’ ঘোষণা করা হয় এবং দর্শকদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র। শো’তে অংশগ্রহণকারী বিড়ালদের জন্য ছিল বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। প্রতিটি বিড়ালের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (হেলথ চেকআপ) এবং বিনামূল্যে র্যাবিস ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। এছাড়াও নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের জন্য টি-শার্ট, বিড়ালের নেক বেল্ট ও স্ন্যাকসের ব্যবস্থা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান জানান, ‘বাকৃবিতে এই প্রথম ক্যাট শো আয়োজিত হয়েছে । যেখানে সেগমেন্ট হিসেবে আছে ক্যাট র্যাম্প ওয়াক ও যেমন খুশি তেমন সাজো। আপনারা জানেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একজন বিড়ালপ্রেমী মানুষ। উনি বিড়ালদের জন্য পেট ক্লিনিকের ও পেট অ্যাম্বলেন্সের ব্যবস্থা করেছেন। আমরা চাই বাকৃবি এখানে একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করুক। যেখানে সব পেটদের মানুষের মতো ভালোবাসবো। আমাদের পরিবারের অংশ হিসেবে চিন্তা করবো। আমরা চাই বিশ্বের প্রত্যেকটি প্রাণ ভালোবাসা ও স্নেহ পাক।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বাকৃবি পোষা প্রাণীর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হবে। যারা বিড়ালপ্রেমী আছেন, তারা যেন প্রাণীর সঠিক যত্নে বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন এবং পরামর্শগুলো মেনে চলেন। এতে করে পরিবারে একটি সুন্দর ও বিনোদনময় পরিবেশ বজায় থাকবে এবং মানুষের সঙ্গে প্রাণীর ভালোবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু থেকে আমাদের সন্তানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ মশক নিধন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশককর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন, তবে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এ কার্যক্রম সফল করা সম্ভব নয়। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আদর্শ বিদ্যানিকেতন প্রাঙ্গণে মশক নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিএনসিসির বিশেষ প্রচারাভিযান ‘Operation Clean Homes, Healthy Lives’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক এসব কথা বলেন। সামনে আরও বড় পরিসরে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। রাস্তাঘাট বা জলাবদ্ধতা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে এলাকাবাসী জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিশেষ প্রচারাভিযান আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন ডিএনসিসির ১০ জন এবং ব্র্যাকের ১০ মশককর্মী এই কার্যক্রমে অংশ নেবেন। প্রতি শনিবার মোট ২১টি বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এ বিষয়ে সব নাগরিককে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতাই এ সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে। ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই শুরু করতে হবে নিজ নিজ বাসা থেকে। জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া এ কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী। কর্মসূচি উদ্বোধনের পর প্রশাসক আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিলি করেন এবং স্থানীয় মানুষকে করপোরেশনের কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এর মধ্যে রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একাধিক মেডিকেল কলেজ শাখা রয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গোপালগঞ্জ জেলা, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত করা হয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে শিগগিরই এসব ইউনিটে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলামের সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। শফিকুর রহমান বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম দেশের শুধু একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই নন; তিনি অসহায় ও গরিবের বন্ধু, মানবিক ডাক্তার হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ও প্রশংসিত।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি অশুভ চাঁদাবাজ চক্র রাজনৈতিক খুঁটির জোরে তার কাছে চাঁদা চেয়ে আসছিল। তিনি অবৈধ চাঁদা দিতে বরাবরই অপারগতা প্রকাশ করেছেন। শেষ পর্যন্ত চাঁদাবাজরা এমন একজন জ্যেষ্ঠ, প্রথিতযশা, মানবিক চিকিৎসককেও সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হলো। তার সঙ্গে গর্হিত আচরণ করল।’ জামায়াত আমির বলেন, ‘এ রকম অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামদের সামাজিক সেবা থেকে কারা জনগণকে বঞ্চিত করছে, তা দিবালোকের মতোই পরিষ্কার। এই দুষ্টদের কঠোর হস্তে দমন করা সময়ের দাবি, জনতার দাবি। আমরা এ দাবির দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’ সর্বশেষ তিনি অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের জন্য দোয়া করে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিন এবং দুষ্ট চক্রকে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিন। আমিন।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।