বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন শুধু একটি ভোটের আয়োজন নয়; এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে দেশে জবাবদিহিতামূলক সরকার গড়ে উঠবে কি না। তাই নির্বাচন নিয়ে সবাইকে অত্যন্ত সিরিয়াস থাকতে হবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন আমাদের বলে দেবে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে। দেশকে সঠিক পথে নিতে হলে এ নির্বাচনের গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১২টায় বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি আমাদের দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই কারণেই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে শুধু বগুড়া নয়, প্রকৃত অর্থে পুরো বাংলাদেশই বঞ্চিত ছিল। আগামী দিনে আল্লাহ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে আমরা শুধু বগুড়ার কথা নয়, সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করব। বগুড়াকে যেমন এগিয়ে নেওয়া হবে, ঠিক তেমনি সমানভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে পুরো বাংলাদেশকে। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, প্রিয় বগুড়াবাসী—আজ এই মুহূর্তে আপনাদের দেওয়ার মতো আমার কিছু নেই। আজ আপনাদের কাছে শুধু চাইবার আছে। আপনারা যদি বগুড়ার মানুষ আমাদের পাশে থাকেন, যদি মানসিকভাবে সমর্থন দেন, তাহলে ইনশাল্লাহ আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর ও ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব। এ জন্য তিনি বগুড়াবাসীর কাছে সমর্থন, সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। বক্তব্য রাখেন বগুড়া-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী মোরশেদ মিলটন। এছাড়াও বক্তব্য দেন একেএম মাহবুবুর রহমান, ভিপি সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম টুকু এবং পিপি আবদুস বাছেদ। পরে তারেক রহমান বগুড়ার ছয়টি আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। উত্তরাঞ্চল সফরের প্রথম দিনে বিএনপির চেয়ারম্যান রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা সফর শেষে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন। এ সময় তার সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে উঠেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি আতাউল্লাহ নিজামি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবেই তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে ঢাকার একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তিনি হজরত শাহ মখদুম (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন এবং রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নওগাঁয় জনসভায় ভাষণ দেন। রাত ৮টার দিকে নওগাঁ থেকে সড়ক পথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। পথে প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কের দুপাশে অগণিত নারী-পুরুষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানান। জনস্রোতের কারণে তারেক রহমানের বহনকারী গাড়িবহরকে ধীরগতিতে এগোতে হয়, ফলে বগুড়া পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। রাত গভীর হলেও হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক বিকেল থেকেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অপেক্ষা করতে থাকেন প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য। জনসভাকে ঘিরে আলোঝলমল হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। কানায় কানায় পূর্ণ মাঠ ও আশপাশের এলাকা স্লোগান ও মিছিলে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেকেই মাইক ও ডিজিটাল পর্দার সামনে এবং আশপাশের বাড়ির ছাদে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য শোনেন। শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা আবদুল বারিক বলেন, অনেক কষ্ট করে এসেছি, মাঠে জায়গা পাইনি। তাই সাতমাথায় দাঁড়িয়ে মাইকের সামনে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনছি। নিশ্চিন্তপুর এলাকার হযরত আলী বলেন, সকাল থেকেই বসে আছি। সামনাসামনি তারেক রহমানকে দেখব বলেই জায়গা ছাড়িনি। আগামী কর্মসূচি অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় এবং ৩১ জানুয়ারি বেলা ২টায় বিসিক শিল্প পার্কে ও বিকেল ৪টায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য সাতটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও কারিগরি ও আইনগত জটিলতার কারণে সেসব আসনেও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে। শেষ সময়ে ব্যালট পেপার থেকে দলটির নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করা হলেও কমিশন তা নাকচ করে দিয়েছে। ফলে জোটের শরিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে একই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদেরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এক চিঠির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম মিয়া পরওয়ারকে কমিশনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। চিঠিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি প্রথমে নরসিংদী-২ আসনে আমজাদ হোসাইনকে এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে মো. আবু নাসেরকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে নরসিংদী-২ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী গোলাম সরোয়ারকে এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপির মনোনীত প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই দুই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারায় ব্যালট পেপার থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। অন্য এক চিঠিতে জামায়াত জানায়, দলটির পক্ষ থেকে ভোলা-২ আসনে মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে, নরসিংদী-৩ আসনে মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে তোফায়েল আহমদকে এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোহাম্মদ ফরিদুল আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার ভিত্তিতে ভোলা-২ আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মনোনীত প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরীকে, নরসিংদী-৩ আসনটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) মনোনীত প্রার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি বিকেএম মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহানকে, সুনামগঞ্জ-১ আসনটি নেজামে ইসলাম পার্টির মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোজাম্মেল হক তালুকদারকে এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনটি এলডিপি মনোনীত প্রার্থী এম ইয়াকুব আলীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এসব আসনের জামায়াত মনোনীত পাঁচজন প্রার্থীও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। এ কারণে ওই পাঁচটি আসনের ব্যালট পেপার থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। জামায়াতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’-এর অনুচ্ছেদ ১৬(২) উল্লেখ করে জানায়, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির লিখিত নোটিশের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করতে হয়। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে প্রার্থিতা বা প্রতীক প্রত্যাহারের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। এ অবস্থায় ব্যালট পেপার থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ দেওয়ার সুযোগ না থাকার বিষয়টি দলটিকে অবহিত করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ১০ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া সাতটি আসনেও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী নারী নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরে ঘোষিত মহিলা সমাবেশ স্থগিত করেছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে দলটির মহিলা শাখার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত নির্ধারিত মহিলা সমাবেশটি স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। জানা যায়, সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের নেতাকর্মীরা ‘বিএনপির হামলা, হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের’ শিকার হচ্ছেন—এমন অভিযোগের প্রতিবাদেই এই সমাবেশের আয়োজন করার কথা ছিল। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে এই প্রথম নারী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাধ্য হয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করতে যাচ্ছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে হামলা ও হেনস্তার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠ থেকে নারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংসতা এবং জামায়াতের এক নেতাকে হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (পীর সাহেব চরমোনাই) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই ধরনের নৃশংসতা জাতিকে হতাশ করেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্কভাবে আচরণ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হতে হবে এবং সহিংসতা তৈরি ও সহিংসতার সঙ্গে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা বা শিথিলতা থাকলে তাও তদন্ত করা উচিত এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পীর সাহেব চরমোনাই শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবির প্রভাষক মাওলানা রেজাউল করীমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।
রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের জনসভার মঞ্চে উঠেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা করতালি দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানান; তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। সারাদেশে নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান দুপুরে আকাশপথে রাজশাহী বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর তিনি সুফি সাধক শাহ মখদুম (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা সাড়ের ১২টার মধ্যে মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। আশপাশের মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই সমাবেশে আসেন মিছিল নিয়ে। এর বাইরে নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বাসে করে দলীয় নেতা-কর্মীরা এসেছেন। মঞ্চের দুই দিকে বড় পর্দা এবং মাঠের কোণায় আরও দুটি বড় পর্দা টানানো হয়েছে, যাতে মঞ্চের চিত্র দেখা যায়। এ জনসভায় অংশ নিচ্ছেন রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা। তারা হলেন— শরীফ উদ্দীন (রাজশাহী-১), মিজানুর রহমান মিনু (রাজশাহী-২), মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন (রাজশাহী-৩), ডি এম ডি জিয়াউর রহমান (রাজশাহী-৪), নজরুল ইসলাম, আবু সাইদ চাঁদ (রাজশাহী-৫); শাহ্জাহান মিঞা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১), আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), হারুনুর রশীদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩); ফারজানা শারমীন (নাটোর-১), এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (নাটোর-২), আনোয়ারুল ইসলাম (নাটোর-৩) ও আব্দুল আজিজ (নাটোর-৪)। মাদ্রাসা মাঠের সমাবেশ শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে যাবেন নওগাঁতে। বিকাল সাড়ে ৫টায় শহরের এটিম মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাত সাড়ে ৭টায় বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। বিএনপি চেয়ারম্যান উত্তরাঞ্চলের তিন দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন শুক্রবার যাবেন রংপুর। পীরগঞ্জে আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর সেদিন বিকালে রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এরপর শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্প পার্কে এবং বিকালে টাঙ্গাইলের চরজানা বাইপাস এলাকায় তার নির্বাচনি জনসভা রয়েছে। এ সফর কালে বিএনপি চেয়ারম্যান দুইদিন বগুড়ায় হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করবেন।
কলা একটি সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং শক্তির প্রাকৃতিক উৎস। বছরের বেশিরভাগ সময় অন্যান্য ফলের দাম উর্ধ্বগতি দেখালেও কলা তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং সহজে পাওয়া যায়। দ্রুত শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি হজম উন্নত করতে চাইলে এটি সেরা ফলের মধ্যে একটি। কলা একটি পুষ্টিকর এবং শক্তি বৃদ্ধি করে এমন ফল। এটি আমাদের শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং জটিল স্টার্চ সরবরাহ করে, যা দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। হজমের জন্যও কলা উপকারী, কারণ এতে থাকা ফাইবার, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি৬ অন্ত্রের গতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য খনিজও থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়ক, তবে প্রাকৃতিকভাবে এতে চর্বি এবং সোডিয়ামের পরিমাণ খুব কম। প্রতিদিন কতগুলো কলা খাওয়া উচিত? সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে দুইটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ এবং উপকারী। শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিরা দিনে দুই কলা খেতে পারেন যাতে শক্তি পুনরায় ভরাট হয়। তবে ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডাক্তার পরামর্শ অনুযায়ী কলার পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত। কারণ এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং উচ্চ পটাসিয়াম কিডনির কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা কলায় থাকা ফাইবার এবং পেকটিন অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং পেট ফাঁপা কমায়। এই ফল শারীরিক পরিশ্রমের সময় প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। কলায় থাকা পটাসিয়াম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এছাড়া ভিটামিন বি৬ শরীরে সেরোটোনিন এবং ডোপামিন উৎপাদন উদ্দীপিত করে, যা মনের ভালো লাগার অনুভূতি বাড়ায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে দুটি আসনে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা না রাখার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে পাঠানো হয়। আবেদনপত্রে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের ২০০ নম্বর (নরসিংদী-২) আসনে মো. আমজাদ হোসাইন এবং ২৮৫ নম্বর (চট্টগ্রাম-৮) আসনে মো. আবু নাসেরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের ২০০ নম্বর আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী গোলাম সরোয়ারকে এবং ২৮৫ নম্বর আসনটি এনসিপির মনোনীত প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দুই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা যথাসময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারায় ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক থেকে যাচ্ছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দুই আসনের ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে তিন দিনের নির্বাচনী সফরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন। আজ দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেবেন। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি রাজশাহীতে শাহ মাখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর রাজশাহী মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। আজ বিকেলে নওগাঁর এটিম মাঠ, কাজীর মোড়ে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বগুড়ার আলফুন্নেছা খেলার মাঠে আরও একটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন। প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষে তিনি বগুড়া নাজ গার্ডেনে রাত্রি যাপন করবেন। রাজশাহী মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশের বিষয়ে রাজশাহী সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। ২২ বছর পর রাজশাহীতে তাঁর আগমনের জন্য পুরো মহানগরী জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।” বগুড়ায় প্রস্তুতি এবং জনসাধারণের উত্সাহ বগুড়ায় দীর্ঘ ১৯ বছর পর নির্বাচনী সফরে আসছেন তারেক রহমান। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মোশারফ হোসেন জানান, দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও দেশের সংরক্ষণের জন্য বিএনপিকে সমর্থন জানাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ী হওয়া দলের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এবার তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিজয়ী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পৌরসভা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দিন-রাত প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন। বগুড়ায় পৌঁছে তিনি শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ, দত্তবাড়ী শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল ও জেলা বিএনপির কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। পরদিন সকালে বগুড়া শহরের চারমাথা, বারপুর, সাবগ্রামসহ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করবেন এবং পথসভায় বক্তব্য রাখবেন। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে একাধিক পথসভা শেষে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বাবার জন্মস্থানে যাবেন। কর্মসূচি শেষে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন। শনিবার সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্পপার্কে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন এবং বিকেল ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাসে নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত থাকবেন। রাত ৮টায় গুলশানের বাসভবনে সফর শেষ হবে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিসি চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে ডাকসু নেতারা অভিযোগ করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় বিএনপি দেশব্যাপী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। তারা নারীদের ওপর হামলা ও হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সমাবেশ থেকে রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বিএনপিকে সন্ত্রাস, হত্যা ও চাঁদাবাজিমুক্ত করতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শেরপুরের ঘটনা নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানান, শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। পোস্টে আরও বলা হয়, ওই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ৫০ জনের বেশি সমর্থক আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টা ২০ মিনিটে রেজাউল করিম মারা যান।
আজকাল বাজারে পা দিলেই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রথম চিন্তা একটাই, পুষ্টি আর খরচ—দুটো একসঙ্গে সামলানো যাবে তো? অনেকের ধারণা, ভালো ও স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই বেশি টাকা খরচ। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টা মোটেও এমন নয়। একটু বুদ্ধি করে পরিকল্পনা করলে, দৈনন্দিন খরচের মধ্যেই পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিকর খাবার মানেই দামি ফল, বিদেশি শাক-সবজি বা বিশেষ খাদ্যসামগ্রী নয়। বরং আমাদের চারপাশে সহজলভ্য বহু খাবারই আছে, যেগুলো নিয়ম মেনে খেলে শরীর সুস্থ থাকে, আবার পকেটেও টান পড়ে না। খরচ বাঁচাবেন কিভাবে প্রথমেই সারা দিন কী খাবেন, সেটা ঠিক করে নিতে হবে। প্রতিদিন কী রান্না হবে, সেটা ঠিক না করে বাজারে গেলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়ে যায়। সপ্তাহের শুরুতেই যদি মোটামুটি একটা খাবারের তালিকা বানিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে বাড়তি খরচ অনেকটাই কমে। এতে খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। পুষ্টির দিক থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো, মৌসুমি ও স্থানীয় ফল ও সবজি। মৌসুমি শাক-সবজি বা ফলের দাম কম হয় এবং পুষ্টিগুণও ভালো থাকে। কলাই শাক, পুঁই শাক, লাউ, কুমড়া, পেঁপে বা কলা। এগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পায়, আবার খরচও বাড়ে না। প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরতাও বেশ বড় সমস্যার। বাইরে থেকে কেনা খাবার কিছু সময় সস্তা মনে হলেও সেগুলোতে পুষ্টি কম এবং খরচ বেশি পড়ে। তার পরিবর্তে বাড়িতে রান্না করা ভাত, ডাল, সবজি, ডিম বা দই খেলে খরচও কমবে শরীরও ভালো থাকবে। অনেকেই ভাবেন, প্রোটিন মানেই দামি মাছ বা মাংস। ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, ডিম বা বাদামের দামও কম আবার প্রোটিনেও পরিপূর্ণ। এগুলো তুলনামূলক কম দামে সহজেই পাওয়া যায় এবং নিয়মিত খেলে শরীর সুস্থ থাকে। খরচ বাঁচানোর আরেকটি উপায় হলো একসঙ্গে বেশি পরিমাণে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনা। চাল, ডাল বা আটা যদি একবারে বেশি নেওয়া যায়, তাহলে দাম তুলনামূলক কম পড়ে। এতে বারবার বাজারে যাওয়ার ঝামেলাও কমে। অনেক বাড়িতেই রান্না করা খাবার ফেলে দেওয়া হয়। অথচ আগের দিনের ভাত বা সবজি সামান্য পরিবর্তন করে নতুন খাবার বানানো যায়। এতে একদিকে খাবার নষ্ট হয় না, অন্যদিকে নতুন করে রান্নার খরচও বাঁচে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সচেতনতা। দাম দেখে নয়, পুষ্টিগুণ বুঝে খাবার বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক পরিকল্পনা আর কিছু ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করলেই, অল্প খরচে সুস্থ ও পুষ্টিকর জীবনযাপন করা সম্ভব।
শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ পথচলার ইতি টেনে নতুন জীবনের পথে পা রাখলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির হাজারো শিক্ষার্থী। আনন্দ, আবেগ আর স্মৃতির মিশেলে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৩তম সমাবর্তন। ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়ায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রতিনিধি হিসেবে সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএম ফয়েজ। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমআর কবির। অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএম ফয়েজ বলেন, শিক্ষার্থীরা এমন এক বাস্তবতায় প্রবেশ করছে, যেখানে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ একসঙ্গে ধারণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু ডিগ্রি নয়, বিবেকবান মানুষ হওয়াটাই শিক্ষার আসল সাফল্য। সমাবর্তন বক্তা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নের এই সময়ে তরুণদের কেবল চাকরিপ্রার্থী হলে চলবে না। তিনি বলেন, মধ্য-আয়ের ফাঁদ এড়াতে হলে উদ্ভাবনী চিন্তা, জ্ঞানভিত্তিক কাজ ও নৈতিক শক্তিকে সামনে আনতে হবে। এই দায়িত্ব এখন তরুণ প্রজন্মের। ড্যাফোডিলের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান বলেন, আজকের সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের জীবনে একটি দায়িত্বশীল অধ্যায়ের সূচনা। তিনি বলেন, আজ থেকে গ্র্যাজুয়েটরা আর কেবল শিক্ষার্থী নয়, তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রূপকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমআর কবির বলেন, ড্যাফোডিলে অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত করেছে। সমাবর্তনের আনন্দের মাঝেই ছিল বিদায়ের আবেশ। গ্র্যাজুয়েট মিশকাতুর রহমান মুমু বলেন, এই ক্যাম্পাস, বন্ধু আর হোস্টেলের দিনগুলো খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেল। আরও কিছুদিন থাকলে হয়তো বিদায়টা এত কঠিন লাগত না। এবারের সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের মোট ৪ হাজার ২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাঁচজন কৃতী শিক্ষার্থী পেয়েছেন চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল, চারজন চেয়ারম্যান গোল্ড মেডেল এবং তিনজন ভাইস চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল। মোট গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৯১ জন স্নাতক এবং ৬২৯ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
দেশের উত্তরাঞ্চলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে দুপুরে তিনি রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেবেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাজশাহীতে ৩ দিনের প্রচারাভিযান চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠ নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। এরপর বিকাল সাড়ে ৫টায় নওগাঁর এটিম মাঠে এবং রাত সাড়ে ৭টায় আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। বিএনপি চেয়ারম্যানের তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে আছে- ৩০ জানুয়ারি ৩টা ৪৫ মিনিটে রংপুরের পীরগঞ্জের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত, সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে, ৩১ জানুয়ারি বেলা ২টায় বিসিক শিল্প পার্কে, ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভা। এই সফরকালে দুদিন বগুড়ায় হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ও ২৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহে যান তিনি। এ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারম্যান ১৬টা নির্বাচনী জনসভা করেছেন। এসব জনসভায় ব্যাপক মানুষের উপস্থিতির কারণে তারেক রহমান প্রতিটি সমাবেশে আসতে ৩/৫ ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত মানুষজন বসে ছিল বিএনপি চেয়ারম্যানের অপেক্ষায়।
শীত এলেই অনেকের মাথার ত্বকে খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে পড়ে। এই শুষ্কতার সুযোগ নিয়ে ফাঙ্গাস দ্রুত বাড়তে থাকে, আর তখনই দেখা দেয় খুশকি, চুলকানি ও চুল পড়ার মতো সমস্যা। ভালো খবর হলো, এই সমস্যার সমাধান পেতে সব সময় দামি প্রোডাক্টের দরকার নেই। ঘরেই থাকা কিছু সাধারণ উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করলে শীতের খুশকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ভারতীয় লাইফস্টাইল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম বোল্ড স্কাই জানিয়েছে এমনই কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপায়ের কথা। টি ট্রি অয়েল টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টিসেপটিক গুণ রয়েছে, যা খুশকি কমাতে সাহায্য করে। নারকেল, অলিভ বা জোজোবা তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। হালকা ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। ক্যাস্টর অয়েল ক্যাস্টর অয়েল স্ক্যাল্পের শুষ্কতা ও চুলকানি কমায়। অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে এই তেল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করুন। অ্যালোভেরা অ্যালোভেরা স্ক্যাল্পকে ঠান্ডা রাখে এবং ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে। শ্যাম্পু করার আগে সরাসরি অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। আপেল সাইডার ভিনেগার পানির সঙ্গে আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। পাঁচ মিনিট পর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এটি স্ক্যাল্পের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখতে সহায়তা করে। নারকেল তেল নারকেল তেল শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য খুবই উপকারী। নিয়মিত মাথার ত্বকে তেল ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু করুন। এতে খুশকি কমে এবং চুল নরম থাকে। কলা, মধু ও অ্যাভোকাডো মাস্ক পাকা কলা ও অ্যাভোকাডো পেস্ট করে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। সপ্তাহে একবার এই মাস্ক স্ক্যাল্পে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করুন। স্ক্যাল্প ময়েশ্চারাইজড থাকবে। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু ও টক দই দুই চামচ করে নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু ও টক দই মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। শীতের খুশকি একদিনে যাবে না, তবে নিয়মিত যত্ন নিলে সমস্যা অনেকটাই কমে আসে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা ও অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে মাথা না ধোয়ার অভ্যাসও জরুরি। একটু যত্নেই শীতেও রাখতে পারেন সুস্থ স্ক্যাল্প ও সুন্দর চুল।
ফেসবুকে ‘না’ ভোটের স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নড়িয়া উপজেলার ভোজশ্বের ইউনিয়নের জেলেপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির রফিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি। সংঘর্ষের কারণে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখীপুর) আসনের ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মকবুল হোসাইন বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির লোকজন অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, ফেসবুকে জামায়াত কর্মীরা আমাদের কর্মীদের ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। সিরাজগঞ্জ: সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ডুমুর ইছা গ্রামে সংঘর্ষ হয়। ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী ধানের শীষের মিছিল করছিলেন। বিপরীত দিক থেকে জামায়াতের মিছিল আসার সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, জামায়াত নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করছে। তারা মিছিলে হামলা চালিয়ে ছাত্রদলের ছয়জনকে আহত করেছে। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপির ছেলেরা অতর্কিত হামলা চালায়। নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে জামায়াতের মিছিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গোপালদী পৌরসভার মোল্লার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি নেতারা বলছেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা গ্রামে ঢুকে নারীদের কাছ থেকে এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছিল। বিএনপি কর্মীরা গিয়ে তাদের এসব না করার জন্য বলেন, কিন্তু শিবির কর্মীরা তর্কে জড়ালে ধাক্কাধাক্কি হয়। আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া বলেন, জামায়াত মিথ্যাবাদী দল। জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াছ মোল্লা বলেন, এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। বগুড়া: বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তিন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার জন্য বিএনপির লোকজনকে দায়ী করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়ন শাখার আমির মোফাজ্জল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন। চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের ব্যানার ও ফেস্টুন টানাতে গিয়ে জামায়াতের হামলায় দুই বিএনপি কর্মী আহত হয়েছেন। সাতকানিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। মোস্তফা আমিন বলেন, হামলা করেছেন জামায়াতের কর্মীরা। সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তারেক হোছাঈন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কর্মী-সমর্থকরা জড়িত নন। নেত্রকোনা: নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার সমর্থকদের মধ্যে পালটাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের জল্লি পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা অভিযোগ করেন, ভোটারদের টাকা দেওয়ার সময় বিএনপির লোকজন প্রথমে হামলা চালায়। ভালুকা (ময়মনসিংহ): ভালুকায় নির্বাচনি সহিংসতায় স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ ১৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে। রোববার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কানার মার্কেট, বাটাজোড় বাজার ও হবিরবাড়িতে মারামারির ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় মোর্শেদ আলমের লোকজন উপজেলা বিএনপি অফিসসহ আশপাশের দোকানপাট ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মোট হিসেবে বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনি উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রতিদিন বাড়ছে, যা ভোটপ্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পার্শ্ববর্তী এলাকা ইসলামনগরের একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন—জাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম রনি, আব্দুস সোবহান রায়, হাসিনুর এবং রাহাত। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাকসুর কার্যকরী পরিষদের এক সদস্য জানান, বাড়িটিতে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে রনি তার সঙ্গী হাসিনুরকে নিয়ে সেখানে যান। একপর্যায়ে ছোট ভাই রায়হান আগে থেকেই আশপাশে ছড়িয়ে রাখা পেট্রোলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত চারজনই দগ্ধ হন। পরে গুরুতর আহত রনি ও হাসিনুরকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। অন্য দুইজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দগ্ধ শিক্ষার্থী রনির পিঠ, হাত এবং একটি চোখ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
রাজধানীর উত্তরায় একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেন, উত্তরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য একটি সরকারি হাসপাতাল অত্যন্ত জরুরি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হলে এই দাবির বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে উত্তরাবাসীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যা ভবিষ্যৎ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি উত্তরায় গ্যাস সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও মানুষ পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। এটি শুধু উত্তরার নয়, সারা দেশের সমস্যা। বিগত সময়ে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই সংকট সমাধানে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান এবং শিল্পকারখানা স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়াও তিনি পানির সংকট, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং যানজট কমাতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সকালে চোখ খোলার পর শরীরের প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি চাহিদা হলো পানি। সারা রাত ঘুমের সময় শরীর খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করলেও শ্বাসপ্রশ্বাস, ঘাম, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য পদার্থ বের হওয়ার মতো প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এর ফলে শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। সকালে উঠেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে শরীরের তরলের ভারসাম্য ঠিক হয়। এতে ব্রেন ফগ কমে, ঝিমুনি কাটে এবং মনোযোগ বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে যাওয়ার আগে পানি খেলে মনোসংযোগ বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে। ঘুমের সময় শরীরে কোনো খাবার বা পানীয় না ঢুকলেও দেহের ভেতরের কাজ থেমে থাকে না। শ্বাস নেওয়া, রক্তসঞ্চালন, শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বিষাক্ত পদার্থ বের করার জন্য শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই সকালে পানি না খেলে ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা বা অলস ভাব দেখা দিতে পারে। সকালে পানি খাওয়ার একাধিক উপকারিতা রয়েছে। রাতে যে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণ করে শরীরকে আবার কর্মক্ষম করে তোলে। পানি খেলে অন্ত্রে স্বাভাবিক নড়াচড়া শুরু হয়, ফলে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী এক ঘণ্টার জন্য বিপাকীয় হার প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি শরীরের ভেতরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয়ে যায়, কিডনি ও লিভারের ওপর চাপ কমে। সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়। ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে। সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়। ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে। পরিমাণের দিক থেকে ঘুম থেকে উঠে ১ থেকে ২ গ্লাস পানিই যথেষ্ট। খুব ঠাণ্ডা বা খুব গরম পানি নয়—স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা সামান্য উষ্ণ পানি শরীর সবচেয়ে সহজে গ্রহণ করতে পারে। প্রতিদিন এই ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে সরকার। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ করা হবে। এতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ পুরোপুরি মেধাভিত্তিক ও কেন্দ্রীয় পরীক্ষার আওতায় এলো। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র প্রকাশ করা হয়। পরিপত্র অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্যপদে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের জন্য শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পরীক্ষার কাঠামো ও নম্বর বণ্টন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের তিন ধাপে পরীক্ষা দিতে হবে। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এরমধ্যে লিখিত পরীক্ষা হবে ৮০, শিক্ষাগত সনদ ১২ নম্বর ও মৌখিক পরীক্ষা হবে ৮ নম্বরে। পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৪০। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে শূন্যপদের সর্বোচ্চ তিন গুণ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হবেন। সব ধাপের মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী ১:১ অনুপাতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দিতে পারবেন। প্রয়োজনে ‘Other Option’-এ সম্মতি দিয়ে পছন্দের বাইরে নিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে। এনটিআরসিএ নিয়োগ সুপারিশ প্রদান করবে ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে বাধ্য থাকবে। তবে, ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত অথবা বিভাগীয় মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা এই নিয়োগে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। পরিপত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব বিধিমালা জরুরি ভিত্তিতে সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এই পরিপত্র বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে অনিয়ম কমবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশ ও জনগণের কল্যাণের স্বার্থে বিএনপির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট। একইসঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে সর্বাত্মক নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সমন্বয় ও মাঠে-ময়দানে কাজ করার জন্য দেশব্যাপী সংগঠনের নেতা ও সংগঠকদের সমন্বয়ে ৩৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কল্যাণ ফ্রন্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।কমিটিতে বিজন কান্তি সরকারকে আহ্বায়ক ও রমেশ দত্তকে সমন্বয়ক করা হয়েছে। আর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- ম্যা ম্যা চিং, ড. সুকোমল বড়ুয়া, জয়ন্ত কুন্ডু, অমলেন্দু দাস অপ, জন গোমেজ, অপর্ণা রায় দাস, মনীষ দেওয়ান, সুশীল বড়ুয়া, দেবাশীষ রায় মধু, এলবার্ট পি কস্তা, পরিতোষ চক্রবর্তী, নিবাস চন্দ্র মাঝি, তপন কুমার বসু (মিন্টু), গৌরাঙ্গ সমাদ্দার, উত্তর সরকার, জয়দেব জয়, সুভাষ চন্দ্র দাস, মৃণাল কান্তি বৈষ্ণব, সঞ্জিত কুমার দেব জনি, বিশ্বজিৎ ভদ্র প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তিতে কল্যাণ ফ্রন্টের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীগণকে বিএনপি এবং তার জোটের প্রার্থীদের ভোটে জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আজ সুস্থ আছেন বলে যে ভবিষ্যতেও কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তা থাকবে না, তা কিন্তু নয়। সাধারণত অল্প বয়সে কোলেস্টেরলের সমস্যা খুব একটা চোখে পড়ে না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। বিশেষ করে পরিবারে যদি আগে থেকেই উচ্চ কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেই আশঙ্কা আরও বেশি। চিকিৎসকদের মতে, জিনগত কারণে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি থাকলে আগেভাগেই খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। কী খাবেন, কী খাবেন না— এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে হৃদ্রোগসহ নানা জটিলতা থেকে আপনাকে দূরে রাখতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন খাবারগুলো আপনার পাতে থাকা জরুরি আর কোনগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। গুড কোলেস্টেরল বাড়ায় যে খাবার যেসব খাবারে গুড কোলেস্টেরল (HDL) এবং ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ বেশি, সেগুলো বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েট বা মেডিটেরানিয়ান ডায়েটে এসব উপাদান পাওয়া যায়। অলিভ অয়েল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরলের সমস্যার আশঙ্কা অনেকটাই কমে। রেড মিট ও ভাজাভুজিতে লাগাম রেড মিট যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলা উচিত। কারণ এটি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার বা ভাজাভুজির পরিমাণও কমাতে হবে। এসব খাবার কোলেস্টেরলের পাশাপাশি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দিনের শুরু হোক ওটস দিয়ে সকালবেলার জলখাবারে ওটস রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ওটস শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও কার্যকর। চাইলে ওটসের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফল মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে শরীর পাবে নানা রকম পুষ্টিগুণ। রসুনের ছোট অভ্যাস, বড় উপকার রোজ দুপুরে খাবার শুরু করার আগে এক কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত রসুন খেলে অনেকের ক্ষেত্রেই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি রসুন শরীর সুস্থ রাখতেও নানাভাবে সাহায্য করে। গ্রিন টি রাখুন দৈনন্দিন রুটিনে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পলিফেনল ও ফ্লেভোনলস অত্যন্ত কার্যকর। এই দুই উপাদানই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে গ্রিন টি-তে। প্রতিদিন নিয়ম করে এক কাপ গ্রিন টি পান করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকটাই কমতে পারে। স্ট্রবেরির নিয়মিত ব্যবহার এখন শীতকাল ছাড়াও অন্যান্য সময় স্ট্রবেরি সহজেই পাওয়া যায়। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, কেউ যদি টানা এক মাস প্রতিদিন একটি করে স্ট্রবেরি খান, তাহলে তার কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। কোলেস্টেরল নিয়ে যদি দুশ্চিন্তা থাকে, তাহলে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এই ফলটি রাখতেই পারেন। পরিবারে কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এখন থেকেই সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে নিরাপদ ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
ময়মনসিংহ বিভাগের নির্বাচনী সমাবেশ মঞ্চে উঠেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি নির্বাচনী প্রচারের পঞ্চম দিনে ঢাকার বাইরে তার তৃতীয় সমাবেশ। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪টা ৩ মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন। পূর্বে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বেলা ২টা ৩০ মিনিটে তার বক্তব্য শোনা যাবে। মঞ্চে ওঠার আগে তারেক রহমান সমাবেশস্থলের পাশে থাকা জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। তারা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ এবং ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ স্লোগান দেন। ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে তাকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। মঞ্চে ওঠার পর তার কাছে স্থানীয় নেতারা তারাকান্দাকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি জানান। মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লৎফুরজ্জামান বাবর। তারা নিজেদের মধ্যকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান এবং স্লোগান দেন—‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’। লৎফুরজ্জামান বাবর বলেন, আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং আগামী দিনে তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশই মধ্যবয়সী ছিলেন। তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই মাঠেই তারা এর আগে সদ্যপ্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।