রাতে মোবাইল হাতে শুরু হয়েছিল ‘মজা করে’ একটি খেলা। প্রথমে জিতলেন কয়েকশ টাকা। বিকাশে টাকা ঢুকতেই বাড়লো আত্মবিশ্বাস। এরপর আরও বড় বাজি, আরও বড় স্বপ্ন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে গেলো সঞ্চয়, ঋণ হলো, ভাঙলো পরিবার। এমন গল্প এখন শুধু শহরের নয়, গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, রিকশার গ্যারেজ থেকে অভিজাত ড্রয়িংরুম— সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার অদৃশ্য জাল। ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়ানো আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন আর সহজ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ জুয়া ও বাজি ধরার আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ গ্যাং বা নেটওয়ার্ক (বেটিং চক্র) বাংলাদেশে তৈরি করেছে হাজার কোটি টাকার এক ভয়ংকর অর্থনীতি। এই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণরা, বাড়ছে ঋণ, প্রতারণা, খুন, আত্মহত্যা ও অর্থপাচারের ঘটনা। পরিস্থিতিকে ‘সমাজ ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি’ হিসেবে দেখছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই ১৮৬৭ সালের পুরানো আইন বাতিল করে অনলাইন জুয়া দমনে আনতে যাচ্ছে কঠোর ও আধুনিক নতুন আইন। ফুটপাত থেকে ড্রয়িংরুম: সর্বত্র অনলাইন জুয়ার থাবা একসময় জুয়া নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা পৌঁছে গেছে হাতের মুঠোয়। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন অনলাইন বেটিংয়ে। ফুটপাতের চা-দোকানি, সেলুন কর্মী, হকার, সিকিউরিটি গার্ড, বিক্রয়কর্মী, গৃহপরিচারিকা, রিকশাচালক ও দিনমজুরের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বাস-ট্রাকের চালক-হেলপার, সিএনজিচালক, এমনকি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দিনের বড় একটি সময় কাটাচ্ছেন অনলাইনে বাজি ধরে। শুরুতে 'ফ্রি বোনাস', 'গ্যারান্টি জয়' কিংবা ‘প্রথম ডিপোজিটে দ্বিগুণ টাকা’র মতো অফারে আকৃষ্ট করা হয় ব্যবহারকারীদের। প্রথম দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু টাকা জিতিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এতে দ্রুতই তৈরি হয় আসক্তি। পরে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন অনেকেই। অর্থ পাচার প্রতিরোধে অ্যাকশনে সিআইডি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত জুয়াড়ি ও স্থানীয় এজেন্ট গ্রেফতার হলেও আন্তর্জাতিক চক্রগুলোর মূলহোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে সক্রিয় রয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি সূত্র জানায়, তাদের সাইবার ইউনিট ইতোমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করে বন্ধের জন্য বিটিআরসিতে তালিকা পাঠিয়েছে। এছাড়া অবৈধ লেনদেনে জড়িত ৮৭৯টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট এবং ৪৩টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েক স্তরে পরিচালিত এই চক্রগুলো প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন করছে। সিআইডির তথ্যমতে, একটি চক্রই গত কয়েক মাসে দৈনিক গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করেছে, যার বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনাকারী একটি চক্রের মূলহোতাসহ আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। পরে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বেটিং পরিচালনা করছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। জুয়ার নেশায় বাড়ছে খুন, আত্মহত্যা ও অপরাধ অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা এখন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ নেই; বাড়ছে খুন, আত্মহত্যা ও সহিংস অপরাধও। গত ২৫ এপ্রিল ঢাকার ধামরাইয়ে জুয়ার ঋণ শোধ করতে গিয়ে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হত্যা করে তার স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এর আগে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে এক যুবক নিজের বাবা-মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন বলে অভিযোগ উঠে। রাজধানীর কলাবাগানে জুয়ার টাকার জন্য পরিবারের সঙ্গে বিরোধের জেরে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও আলোড়ন তোলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে প্রতারণা, সাইবার অপরাধ, চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক সহিংসতার মতো অপরাধের সম্পর্ক ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পুলিশের বক্তব্য ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডিসি এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, পুলিশের সাইবার টিমগুলো সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং জুয়ার সাইটগুলো বন্ধে কাজ করছে। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ গোপনে আসক্ত হয়ে পড়লে পুলিশের পক্ষে তা জানা কঠিন হয়ে পড়ে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, অনলাইন জুয়া বন্ধে আমাদের সাইবার মনিটরিং ও বিশেষ অভিযান চলছে। নিয়মিত জুয়ার সাইট শনাক্ত করে বিটিআরসিতে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বিষয়টিকে সমাজ ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে বলেন, অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া, প্রচারণা চালানো বা এজেন্ট হওয়া— তিনটিই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে কেউ যেন একে ডিজিটাল আসক্তিতে রূপ দিতে না পারে, সেজন্য পুলিশের সাইবার মনিটরিং টিম সক্রিয় রয়েছে। আসছে কঠোর ও আধুনিক আইন ১৮৬৭ সালের পুরোনো আমলের পুরনো জুয়া আইন দিয়ে বর্তমানের আধুনিক ডিজিটাল অপরাধ দমন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সম্পূর্ণ নতুন ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৮৬৭ সালের জুয়া আইন বাতিল করে জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন, আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই আইনটি পাসের জন্য বিল আকারে উত্থাপন করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই আইন কার্যকর হলে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামক মহিষ নিয়ে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, এটাকে সাধুবাদ জানাই। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দূরদর্শী ও রণকৌশলী পদক্ষেপ। এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর প্রাণীর প্রতি অসীম ভালোবাসা ও সাহসিকতার দৃষ্টান্ত। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, সরকার এর মাধ্যমে জানান দিল যে, এই সরকারের হায়ার করা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. খলিল সাহেব আমেরিকার সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছেন, তার ধারাবাহিকতায় এই মহিষ ডিপ্লোম্যাসি। তিনি লেখেন, চুক্তি অনুযায়ী এই সরকারকে আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, তারই নিদর্শন হিসেবে চিড়িয়াখানায় নিয়ে গিয়ে দেশবাসীকে দেখার এবং প্রতিনিয়ত স্মরণ করার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, আমরা যারা পশুপ্রেমী, তাদের মন জয় করেছেন। বাংলাদেশের চিড়িয়াখানাকে সমৃদ্ধশালী করেছেন। আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তিকে টেকসই করেছেন। অন্যদিকে ভারতীয় গো-রক্ষা আন্দোলনকেও প্রভাবিত করে মি. মোদির পক্ষ থেকেও ধন্যবাদ আদায় করেছেন। এবং এই ডিপ্লোম্যাটিক পিআর উদ্যোগের মাধ্যমে কিছু অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাও অর্জন করা হয়েছে। সবশেষে তিনি লেখেন, এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের প্রাণী মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সরকারি অর্থায়নে প্রতিটি ইউনিটে আনন্দ শোভাযাত্রা ও অভিনন্দন মিছিল আয়োজনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
অবস্থাটি ভীতিকর, তার চেয়েও বেশি শঙ্কার। বিষয়টিকে কখনো বলা হচ্ছে ‘অদৃশ্য মহামারি’, কখনো তুলে ধরা হচ্ছে একটি ‘প্রচ্ছন্ন অসুখ বলে’। যারা এই ব্যাধির শিকার, তারা চিহ্নিত হচ্ছে ‘যন্ত্র-পর্দা আসক্ত’ বা ‘যন্ত্রে বন্দী প্রজন্ম’ হিসেবে। মা–বাবা, অভিভাবক, শিক্ষক, বয়োজ্যেষ্ঠসহ গোটা সমাজই চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন। ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে একটি সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে বিভিন্ন যন্ত্র-পর্দা শিশু-কিশোর-কিশোরীদের গ্রাস করেছে—সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে যন্ত্রগুলো। এমনটাই আন্দাজ করা গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইসিডিডিআরবি) ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল সময়কালে ঢাকার তিনটি বাংলা মাধ্যম এবং তিনটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ৬ থেকে ১৪ বছরের ৪২০ জন ছেলেমেয়ের ওপর এই সমীক্ষা চালিয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ঢাকা শহরের ৬ থেকে ১৪ বছরের শিশু-কিশোর-কিশোরীরা প্রতিদিন প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় কাটায় যন্ত্র-পর্দা দেখে। প্রায় ৮৩ শতাংশ শিশু-কিশোর-কিশোরীরা নির্দেশিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় চোখ আটকে রাখে পর্দায়। অন্য কথায়, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনই সময়সীমা লঙ্ঘন করে। এর প্রতিক্রিয়াও সহজেই অনুমেয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রতি ৩ জন শিশু-কিশোর-কিশোরীর ১ জন চোখের সমস্যায় ভুগছে; প্রতি ৫ জনের ৪ জনেরই নিয়মিত মাথাব্যথা হচ্ছে; ওজন বেড়ে যাচ্ছে ১৪ শতাংশ শিশু-কিশোর-কিশোরীর, প্রায় ২০ শতাংশের মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে দেখা যাচ্ছে ছেলেমেয়েদের দেরিতে ঘুমানো, বারবার মাথাব্যথা কিংবা চোখের অস্বস্তি, খিটখিটে মেজাজ, নিজেকে গুটিয়ে ফেলা, পড়ায় কম মনোযোগ, খেলাধুলার প্রতি অনীহা ইত্যাদি। নানান সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবহির্ভূত যেসব প্রতিক্রিয়া আছে, যা বর্তমান সমীক্ষায় আসেনি। প্রথমত, যন্ত্রের সঙ্গে বেশির ভাগ সময় কাটালে তা মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক এবং অন্তর্মুখী করে ফেলে, যা সামাজিক প্রক্রিয়ায় মানুষকে সীমিত করে ফেলে। সর্বদা পর্দায় দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখলে কথা বলার স্বাভাবিক প্রবণতা এবং সেই সঙ্গে আলাপচারিতার দক্ষতাও বিঘ্নিত হয়। সামাজিক মেলামেশা, অন্যদের সঙ্গে গল্প করা, সামাজিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণও তখন বোঝা বলে মনে হয়। সামাজিক মিথস্ক্রিয়া সেখানে বিঘ্নিত হয়। শিশু-কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ মানসিক বিকাশে তা কাম্য হতে পারে না। দ্বিতীয়ত, যন্ত্র-পর্দায় চোখ রাখা বেশির ভাগ শিশু-কিশোর-কিশোরীরা খেলাধুলা কিংবা বইপড়ায় খুব একটা আগ্রহী হয় না। মানি, খেলার মাঠের অপ্রতুলতা আছে। কিন্তু তার পরে যেটুকু আছে, তার তো ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে যন্ত্র-পর্দায় আসক্ত ছেলেমেয়েরা মানসিকতার দিক থেকেই শারীরিক খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হয় না। একই রকম অনীহা তাদের গড় ওঠে বই পড়াতেও। ফলে বইয়ের আনন্দময় জগৎ থেকেও তারা বঞ্চিত হয়। তৃতীয়ত, যন্ত্র-পর্দায় বিশাল সময়ে কাটালে ছেলেমেয়েদের শুধু যে সে পর্দায় আসক্তি কিংবা নির্ভরতা বাড়ে তা–ই নয়, অনেক সময় সে নির্ভরতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পর্দার যন্ত্রটি ছেলেমেয়েদের প্রাণভোমরা হয়ে দাঁড়ায় এবং সেটা থেকে কোনো রকমের বিযুক্তি তারা সহ্য করতে পারে না। নানান সময়ে দেখা গেছে যে এমন অবস্থা থেকে বহু মানসিক সমস্যার জন্ম হয়, যার ফলে অনেক অপঘাত ঘটে গেছে। ব্যক্তির জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য এটা অনভিপ্রেত। কেন ছেলেমেয়েরা ডিভাইসের প্রতি চরমভাবে আসক্ত? তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব তো সেখানে আছেই, যা অপ্রতিরোধ্য হলেও নিয়ন্ত্রিত করা যায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। অল্প বয়সীরা বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমেও যন্ত্র-পর্দায় উদ্বুদ্ধ হয়। অন্যান্যভাবে ব্যস্ত রাখার বিকল্প পন্থার অনুপস্থিতির ফলেও যন্ত্র-পর্দার দিকে তারা ঝোঁকে। মা–বাবার ব্যস্ততা এবং সময়ের অভাবও এখানে প্রভাব ফেলে। একান্নবর্তী পরিবারের ভাঙন এবং পাড়া কিংবা মহল্লার মতো সামাজিক কাঠামোর বিলুপ্তি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শিশুদের খাওয়ানোর সমস্যা মোকাবিলায় যন্ত্র-পর্দার ব্যবহার আজ ঘরে ঘরে। প্রশ্ন হচ্ছে, কী করা যেতে পারে? অনেকেই বলেছেন যে ছেলেমেয়েদের যন্ত্র-পর্দা সময় দিনে দুই ঘণ্টার মধ্যেই বেঁধে দিতে। গবেষকেরা ছেলেমেয়েদের চোখের যত্নে ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট যন্ত্র-পর্দা ব্যবহারের পরে ২০ ফুট কোনো একটি বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে। সেই সঙ্গে যন্ত্র-পর্দানির্ভর শিক্ষার কার্যকারিতার ব্যাপারেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে যন্ত্র-পর্দানির্ভর শিক্ষা সামনাসামনি শিক্ষার মতো কার্যকর নয়। মায়াবী নীল আলোর ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে বাচ্চাদের গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ছেলেমেয়েদের দলবদ্ধভাবে পড়াশোনা করা, পাঠাগারে যাওয়া, বাগান করাও যন্ত্র-পর্দা সময় কমিয়ে আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। ছেলেমেয়েদের যন্ত্র-পর্দা বেঁধে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কিছু নির্দেশিকা আছে। তাদের মতে, স্কুলগামী ছেলেমেয়েদের জন্য বিনোদনমূলক যন্ত্র-পর্দা সময় দুই ঘণ্টার মধ্যে থাকাই উচিত। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো যন্ত্র-পর্দা সময় না রাখা এবং ৪ বছরের কম শিশুর জন্য যন্ত্র-পর্দা সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা। নানান দেশ, যেমন অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এ নির্দেশিকাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট। যুক্তরাজ্য সরকার এ বছরের মার্চ মাসে একটি যন্ত্র-পর্দা সময় নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে যে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা যন্ত্র-পর্দা সময় থাকা বাঞ্ছনীয়। তা ছাড়া শিশুদের একা যন্ত্র-পর্দা দেখার চেয়ে পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে দেখা ভালো বলে বলা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় সরকার দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো যন্ত্র-পর্দা সময় না রাখার সুপারিশ করেছে। সেই সঙ্গে তারা বলেছে যে ৫ থেকে ১৭ বছরের ছেলেমেয়েদের জন্য বিনোদনমূলক যন্ত্র-পর্দা সময় দুই ঘণ্টার মধ্যে থাকাই উচিত। শিশু-কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্দেশিকা নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনটা থাকা দরকার এ বিষয়ে পারিবারিক কিংবা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। সবচেয়ে বড় কথা, প্রযুক্তির বিস্তার বন্ধ করা যাবে না। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি সুষম ভারসাম্য সম্ভব।
নদী, বন, ঐতিহ্য, ইতিহাস আর আধুনিক বিনোদনের মিশেলে গড়ে ওঠা এই শহরে ঈদের ছুটিতে তৈরি হয় ভিন্ন এক উৎসবমুখর আবহ। কোথাও নদীর ঘাটে মানুষের ভিড়, কোথাও পার্কে শিশুদের উচ্ছ্বাস, আবার কোথাও সুন্দরবনের পথে পর্যটকদের ব্যস্ততা, সব মিলিয়ে খুলনা যেন হয়ে ওঠে জীবন্ত এক আনন্দ নগরী। কম খরচে কাছাকাছি দূরত্বে একাধিক দর্শনীয় স্থান থাকায় পরিবার, বন্ধু কিংবা শিশুদের নিয়ে ঘুরতে খুলনাকে বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা আর ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় ঈদের ছুটিতে খুলনার প্রতিটি গন্তব্যই এনে দেয় আলাদা অভিজ্ঞতা। করমজল: একদিনেই সুন্দরবনের স্বাদ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রবেশদ্বার করমজল ঈদের সময় পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে ওঠে। নদীপথে বন ভ্রমণের সময় দুই পাশের সবুজ বন, পাখির ডাক আর নদীর শান্ত সৌন্দর্য ভ্রমণকে করে তোলে অন্যরকম। করমজলে রয়েছে কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হরিণের অবাধ বিচরণ আর প্রাকৃতিক পরিবেশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ। শিশুদের জন্য এটি যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি শিক্ষামূলকও। খুলনা শহর থেকে করমজলের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। খুলনা থেকে মংলা হয়ে অথবা সরাসরি ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সেখানে যাওয়া যায়। যাতায়াত খরচ সাধারণত ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। প্রবেশ ফি প্রায় ২০ থেকে ৪০ টাকা। ষাট গম্বুজ মসজিদ: ইতিহাসের সাক্ষী ঐতিহাসিক ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ঈদের ছুটিতে অন্যতম আকর্ষণ। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের এই স্থাপনাটি মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন। বিশাল গম্বুজ, প্রাচীন ইটের নির্মাণশৈলী আর চারপাশের শান্ত পরিবেশ ভ্রমণকারীদের ফিরিয়ে নেয় কয়েকশ বছর আগের ইতিহাসে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা এখানে ইতিহাসের সঙ্গে কাটান অন্যরকম সময়। লনা শহর থেকে বাগেরহাটের দূরত্ব প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার। বাস বা মাইক্রোবাসে যেতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। যাতায়াত খরচ সাধারণত ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। প্রবেশ ফি বাংলাদেশিদের জন্য ৩০ টাকা। শহীদ হাদীস পার্ক: নগরের ভেতরে সবুজের স্বস্তি শহরের ভেতরে যারা থাকতে চান, তাদের জন্য রয়েছে শহীদ হাদিস পার্ক কিংবা স্থানীয় শিশু পার্কগুলো। খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ হাদীস পার্ক ঈদের সময় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের ভিড়ে জমে ওঠে। সবুজ গাছপালা, খোলা মাঠ আর জলাধার মিলিয়ে এটি নগরের ভেতরে এক স্বস্তির জায়গা। শিশুরা খেলাধুলায় মেতে ওঠে, আর বড়রা খোলা পরিবেশে কাটান নির্ভার কিছু সময়। বিকেলের দিকে পুরো পার্কজুড়ে তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ। শহরের যেকোনো স্থান থেকে রিকশা বা সিএনজিতে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। যাতায়াত খরচ পড়ে প্রায় ২০ থেকে ৬০ টাকা। প্রবেশ ফি নেই। রূপসা নদী ও খান জাহান আলী সেতু: সূর্যাস্তের রঙিন বিকেল নদীমাতৃক খুলনার সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে রূপসা নদীর তীরে। বিশেষ করে বিকেলের সূর্যাস্তের সময় নদীর পানিতে লাল-কমলা আভা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে মনোমুগ্ধকর। খান জাহান আলী সেতু ঘিরে তরুণদের আড্ডা, ফটোগ্রাফি আর হাঁটাহাঁটিতে ঈদের সন্ধ্যাগুলো হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। অনেকে শুধু সূর্যাস্ত দেখতেই ভিড় করেন নদীর ধারে। খুলনা শহর থেকেই রিকশা বা সিএনজিতে সহজে যাওয়া যায় এই এলাকায়। যাতায়াত খরচ সাধারণত ২০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। শিশুদের আনন্দে জমজমাট বিনোদন পার্কগুলো ঈদের ছুটিতে শিশুদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে খুলনার বিভিন্ন বিনোদন পার্ক। মুজগুন্নির উৎসব পার্ক, খালিশপুরের ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক ও জাহানাবাদ সেনানিবাস এলাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এ সময় উপচে পড়ে ভিড়। বিভিন্ন রাইড, খেলাধুলা আর খাবারের দোকান ঘিরে জমে ওঠে উৎসবের আমেজ। পরিবার নিয়ে নিরাপদ ও আনন্দময় সময় কাটানোর জন্য এসব পার্ক বেশ জনপ্রিয়। রিকশা বা সিএনজিতে যেতে খরচ পড়ে সাধারণত ৩০ থেকে ১০০ টাকা। রাইড ও অন্যান্য বিনোদনের জন্য আলাদা খরচ হতে পারে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক আলহাজ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল রেকর্ড রয়েছে এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের। তিনি ১৯৮৬ সালের তৃতীয় এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এরমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় আনা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার জীবনাবসান ঘটে।
নিজের মতিঝিলের কার্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন তিনি। ওই পোস্টে লেখা রয়েছে, “নিরাপত্তাজনিত কারণে মতিঝিলের হোটেল পারাবাতের গ্যারেজের অস্থায়ী অফিস কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সকল সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এখন থেকে রূপায়ণ টাওয়ারের ১৫ তলায় পরিচালিত হবে। ঢাকা-৮ এর সর্বস্তরের জনগণ এবং বাংলাদেশের সকল ভালোবাসার মানুষকে নতুন অফিসে যোগাযোগ করার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো যাচ্ছে।” সতর্কতার কথা জানিয়ে ওই পোস্টে আরও লেখা রয়েছে, “কেউ যদি পূর্ববর্তী স্থানে গিয়ে কোনও ধরনের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি, হামলা, মামলা বা ক্ষতির সম্মুখীন হন, তার জন্য ব্যক্তি নিজেই সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবেন। সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে, নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “আগে ছিল ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও পুলিশ লীগ। এখন পুলিশ দল হয়েছে। ঝিনাইদহে প্রথমে আমরা ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপিকে দায়ী করেছিলাম। কিন্তু, তাদের সঙ্গে আরেকটি বাহিনী হামলা চালিয়েছে, সেটা পুলিশ দল।” মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “ঝিনাইদহে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আমার ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। একটি ডিম চোখে আঘাত করলে কিছু সময় অন্ধকার দেখেছি। পরে ঘুষি মারা হয় এবং ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু হয়। এ সময় আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, “ঘটনার পর বিচার চাইতে থানায় গেলে প্রথমে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। থানার বিদ্যুৎ ছয় ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা থানা ত্যাগ করেন। রাতের বেলায় বিভিন্ন মহল থেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে বাধ্য হয়ে পুলিশ অভিযোগপত্র নেয়। মামলা নেওয়ার পর রাতেই প্রায় হাজার তিনেক মানুষ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থানায় এসে গেট ভাঙা শুরু করে। তখন আমি একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম যে, প্লিজ সেভ আস। আমি কালেমা পড়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ওই পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পুলিশ হামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছে।” এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন বলেন, “আমি ইতোমধ্যে একটা ভিডিও শেয়ার করেছি যে পুলিশ কীভাবে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। সরকার জঙ্গল সলিমপুরকে যৌথ বাহিনী দিয়ে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি এবং পুলিশ মিলে তারা নব্য একটি আইনের শাসনকে ব্যত্যয় করে জঙ্গি শাসন কায়েম করেছে।” দেশে কোনও আইনের শাসন নেই, জংলি শাসন চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি, সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারের কোনও কন্ট্রোল নেই। পেছনে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই সুযোগ নিয়ে তৃতীয় কোনও পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।” সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমাদের সহযোদ্ধাদের তুলে নিয়ে যাওয়া বন্ধ করুন। মিথ্যা মামলা বন্ধ করুন। আমার একটা ক্যামেরা নিয়ে গেছে, যেখানে আমার ফ্যামিলির ছবি ছিল।দিনের বেলায় মিডিয়ার সামনে অস্ত্র ঠেকিয়ে সেটা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপনি কিছু না পারেন, আমার ক্যামেরাটা একটু দেন। সহযোদ্ধাদের মুক্তি দিন এবং ঈদের আগে তাদের মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিন।”
কাল বাদে পরশু পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দের এবং ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপনের দিন। আর্থিকভাবে সাবলম্বীদের জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। গুরুত্বপূর্ণ এই ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ নৈকট্য লাভ করা যায়। কুরবানির গোশত তিন ভাগ করা সুন্নত। এক ভাগ নিজের ও পরিবারের জন্য। আরেক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের জন্য। আর তৃতীয় ভাগ হলো গরিব-অসহায় ও দুস্থদের জন্য। কুরবানি সময় অনেক গোশত দেখে অনেকে বিচলিত হয়ে পড়েন। সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে এটা কোনো সমস্যাই না। ফ্রিজে সংরক্ষণের নিয়ম জানা থাকলে গোশতের স্বাদ, পুষ্টিগুণ নষ্ট হবে না। এজন্য ফ্রিজ পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা এবং কুরবানির গোশত দীর্ঘদিন ভালো রাখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও শরিয়তসম্মত নিয়ম জেনে নেই। কিছু জরুরি ধাপ অনুসরণ করতে হবে পানি ঝরানো: গোশত সংগ্রহের পর ধুয়ে সম্পূর্ণ পানি ঝরিয়ে তারপর রাখতে হবে। খোলা অবস্থায় না রাখা: ভেজা বা রক্তসহ গোশথ খোলা অবস্থায় ফ্রিজে রাখা একেবারেই নিরাপদ নয়। গোশত রাখার জন্য ফুড-গ্রেড পলিথিন বা ঢাকনাযুক্ত কন্টেইনার ব্যবহার করতে হবে। ছোট ছোট অংশে বা ‘ফ্যামিলি প্যাক’ তৈরি অনেকে বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে এক গাদা গোশত একসঙ্গে ফ্রিজে রেখে দেন, যা অত্যন্ত ভুল পদ্ধতি। একবারের অংশ আলাদা করা: গোশত সবসময় ছোট ছোট ভাগে বা ‘ফ্যামিলি প্যাক’আকারে সংরক্ষণ করা সবচেয়ে কার্যকর। পুনরায় ফ্রিজিং না করা: ফ্রিজ থেকে একবার গোশত বের করে বরফ গলানোর পর, তা রান্না না করে পুনরায় আবার ফ্রিজে রেখে দিলে গোশতের মান ও পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। অন্য খাবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ফ্রিজের নরমাল বা ডিপ উভয় অংশে কুরবানির কাঁচা গোশথ রাখার সময় সেটিকে আগে থেকে রান্না করা খাবার, ফলমূল বা মিষ্টি জাতীয় জিনিস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখুন। ডিপ ফ্রিজে গোশত কতদিন ভালো থাকে সঠিক উপায়ে ডিপ ফ্রিজের মাইনাস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হলে কুরবানির গরুর গোশত সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভালো ও খাওয়ার উপযোগী থাকে।
রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জে পাটক্ষেতে নিয়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় মাহিগঞ্জ থানার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাড়ী এলাকার একটি পাটক্ষেতে শিশুটিকে ফুঁলিয়ে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান বদিয়ার জামান ওরফে জামান নামের এক ব্যক্তি। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ওই অভিযুক্ত পলায়ন করেন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মাহিগঞ্জ থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বিত দল তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান নির্ণয় করে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে মিঠাপুকুরের রাধাবল্লভপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ঘটনা শুনে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে আটকের চেষ্টা চালায়। প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ বদিয়ার জামানকে আটক করে। তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আটক বদিয়ার জামান অসাধু চরিত্রের অধিকারী। তাঁর দুই স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন।
সৎসাহস থাকলে অপরাধ স্বীকার করে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি তার স্বভাবসুলভ বাগাড়ম্বর এবং রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি। তার সৎসাহস থাকলে অপরাধ স্বীকার করে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ঈদযাত্রা নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে এবার দেশের মানুষ অত্যন্ত স্বস্তিতে ও শান্তিতে ঈদ যাপন করতে যাচ্ছে। ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীতে ঈদে বাড়ি ফেরার পথে মানুষের মাঝে যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও শঙ্কা কাজ করত, এবার তা নেই। সড়কে ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি এবং অরাজকতা মোকাবিলায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত তৎপর। ফলে এবার ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষকে তেমন কোনো যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না।’ রিজভী আরও বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমান সরকারের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ১০০ দিনে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার যে আন্তরিকতা ও তৎপরতা দেখিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, আগামী দিনেও জনগণকে দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দল ও সরকার একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
ঈদ মানেই শহর ছাড়ার তাড়া। ব্যাগ গোছানো, শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা, তারপর দীর্ঘ যাত্রা শেষে গ্রামের বাড়ির উঠোনে পা রাখা। চারদিকে কদমফুলের গন্ধ, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, আত্মীয়স্বজনের ভিড়; সব মিলিয়ে অন্যরকম এক আনন্দ। তবে এই উৎসবের ভেতরেই শিশুদের জন্য লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু নীরব ঝুঁকি। বিশেষ করে বর্ষাকালে গ্রামের পরিবেশ, অনিয়মিত জীবনযাপন আর ভিড়ভাট্টার মধ্যে একটু অসাবধানতাই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই ঈদের আনন্দের পাশাপাশি সন্তানের নিরাপত্তার দিকেও বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। পানির আশপাশে এক মুহূর্তও নজরহীন নয় বর্ষাকালে গ্রামের প্রায় সবখানেই পানি জমে থাকে। কোথাও পুকুর, কোথাও ডোবা, আবার কোথাও বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নালা। শিশুদের কাছে এসব জায়গা খুব আকর্ষণীয়। খেলতে খেলতে কখন যে তারা পানির ধারে চলে যায়, অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না। তাই শিশুকে একা উঠোনে বা বাড়ির বাইরে খেলতে না দেওয়াই ভালো। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ‘দেখছি তো’ ভেবে নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, দুর্ঘটনা ঘটতে সময় লাগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। ঈদের আড্ডা, রান্নাবান্না বা অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের একজন সদস্যকে শিশুদের দিকে নজর রাখার দায়িত্বে রাখা যেতে পারে। ছোট এই সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা ঠেকাতে পারে। আত্মীয়বাড়ির ভিড়ে শিশুর রুটিন যেন হারিয়ে না যায় ঈদে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাওয়া যেন উৎসবেরই অংশ। খালা–ফুপু–দাদুবাড়ি; সবখানেই শিশুকে নিয়ে ঘোরাঘুরি চলে। কিন্তু এই অনিয়মিত যাতায়াত অনেক সময় শিশুদের ক্লান্ত করে ফেলে। অপরিচিত বা দূরের আত্মীয়দের কাছে দীর্ঘ সময় শিশুকে রেখে দিলে তার খাবার, ঘুম বা ওষুধের নিয়ম ভেঙে যেতে পারে। কেউ হয়তো আদর করে এমন খাবার দিচ্ছেন, যা শিশুর জন্য উপযোগী নয়। আবার অতিরিক্ত ভিড় বা শব্দে ছোট শিশুরা বিরক্ত বা অস্থিরও হয়ে উঠতে পারে। তাই উৎসবের আনন্দের মধ্যেও শিশুর দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। সময়মতো খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান ও বিশ্রাম নিশ্চিত করলে ঈদের ক্লান্তিও কম হবে। হাঁচি-কাশির ভিড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিও মাথায় রাখুন ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবেই অনেক মানুষের সঙ্গে মেলামেশা হয়। তবে বর্তমানে কিছু এলাকায় হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের খবর থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার। শিশুর টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা আগে থেকেই নিশ্চিত করুন। কারও জ্বর, কাশি বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ থাকলে শিশুকে খুব কাছাকাছি না নেওয়াই ভালো। ভ্রমণের সময় শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরিষ্কার পানি ও হাত পরিষ্কারের ব্যবস্থা সঙ্গে রাখুন। কারণ, ঈদের আনন্দের মাঝেও অসুস্থতা খুব দ্রুত পুরো পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিতে পারে। ঈদ মানেই বাঁধনহারা আনন্দ, এটাই সবার চাওয়া। আর সেই আনন্দটুকু অটুট রাখতে খুব বড় কিছু নয়, দরকার শুধু একটু সচেতনতা। শিশুরা যেন নিরাপদে খেলতে পারে, সুস্থ থাকে, আর ঈদের স্মৃতিগুলো যেন শুধু আনন্দেরই হয়; সেই চেষ্টাটুকুই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে সংঘটিত ঘটনাকে ‘অশোভন’ আখ্যায়িত করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ কামনীয় নয়। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, ঝিনাইদহে এনসিপির সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটিকে এনসিপি যেমন রাজনৈতিকভাবে দেখছে, বিএনপিও একইভাবে দেখছে। তবে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটি কেউ প্রত্যাশা করে না এবং সেটি মোটেও সমীচীন নয়। তিনি আরও বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে সরকার সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলো ঈদের ছুটির মধ্যেও সক্রিয় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি নিপীড়নের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার উদ্যোগী। আপনারা দেখবেন, আগামী ১ জুন থেকে রামিসা হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ঈদের ছুটির পর আদালত খোলার প্রথম দিনই বিচার শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামির জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে, সেটিও হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে এগিয়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ শরীফুল আলম বিলাস, সাধারণ সম্পাদক এম এ তালহা, কৃষকদলের সভাপতি মোকাররম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তবারক হোসেন, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিমসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা। এরপর চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা ঘর সংলগ্ন মিশনারী মাঠ প্রাঙ্গণে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী জন্মজয়ন্তীর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। সেখানে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান প্রমুখ। সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভ ফুল দিয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বিদ্রোহী আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
পুরোনো অবস্থানেই অনড় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা কিংবা পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থান বদলের লক্ষণ নেই। ‘রিফাইন্ড’ বা ‘পরিশুদ্ধ’ আওয়ামী লীগের ধারণা ঘিরে দলটির ভেতরে আলোচনা আছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকে থাকা ও আবার সক্রিয় হওয়ার সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প পথ হিসেবে এই ধারণাকে সামনে আনছেন কেউ কেউ। তবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে শেখ হাসিনা, এ ধারণার প্রতি একেবারেই অনাগ্রহী। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকের কাছেই দলটির রাজনীতিতে ফেরার পথ কী, তা স্পষ্ট নয়। অনেকের মধ্যে হতাশাও কাজ করছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান সরকার যদি বড় ধরনের ভুল করে বা অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তখন আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ বা সুযোগ তৈরি হবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘রিফাইন্ড’ বা সংস্কারের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম বিতর্কিতদের নেতৃত্বে আনার বিষয়টি বন্ধুপ্রতিম দেশ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছানো হয়েছিল। নির্বাচনের পরও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে নিজের সভাপতি পদ ছাড়তে নারাজ শেখ হাসিনা। বড়জোর সাধারণ সম্পাদকের বিকল্প হিসেবে মুখপাত্র হিসেবে এক বা একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেটাও তাঁর পছন্দের এবং বিদেশে থাকা নেতাদের মধ্য থেকেই করার পক্ষে তিনি, যা শুভাকাঙ্ক্ষীদের কোনোভাবেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে সংস্কারের সব ধারণা আপাতত ‘মৃত’ বলেই মত সবার। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকের কাছেই দলটির রাজনীতিতে ফেরার পথ কী, তা স্পষ্ট নয়। অনেকের মধ্যে হতাশাও কাজ করছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান সরকার যদি বড় ধরনের ভুল করে বা অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তখন আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ বা সুযোগ তৈরি হবে। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা ও অনলাইন আলোচনা থেকে দলটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ওয়াকিবহাল সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পর এখন দলে সবচেয়ে বিতর্কিত ও কট্টরপন্থীরা বেশি সক্রিয়। যাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার কিংবা অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা দেখাতে মোটেও প্রস্তুত নন। বরং দেশের ভেতর ঝটিকা মিছিল ও বিচ্ছিন্ন স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সংগঠিত হওয়ার পক্ষে। এ ছাড়া প্রশাসনের ভেতর সরকারবিরোধী মত প্রবল করাও তাঁদের লক্ষ্য। এই পরিস্থিতিতে রিফাইন্ড বা নতুন করে শুরু করার বিষয়ে যাঁরা আশা দেখছিলেন, তাঁরা অনেকটাই চুপসে গেছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, শেখ হাসিনা নিজেই দলের নীতি নির্ধারণ করছেন। পরিবারের সদস্যরা এতে যুক্ত থাকেন। আর দেশের ভেতর ও আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আর সরকারের ভেতরের বিভিন্ন সংস্থায় থাকা দলঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। তিনি কলকাতায় অবস্থান করছেন। এর বাইরে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, চিঠিপত্র আদান-প্রদানসহ কিছুটা ‘সফট’ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ কিছু নেতা। বাকিরা অনলাইনে দলীয় প্রধান কিংবা অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ যদি গায়ের জোরে ফিরে আসার চিন্তা করে, সে ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি যৌথভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করবে। এ ধরনের চিন্তা আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ভয়াবহ হবে, সংঘাতপূর্ণ অবস্থা ফিরে আসবে। আলতাফ পারভেজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, দলে সংস্কার আনার বিষয়ে অনাগ্রহ বন্ধুপ্রতিম দেশ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা কিছুটা অখুশি। বর্তমানে যে বিশ্বব্যবস্থা তাতে কোনো বিদেশি শক্তি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে—এমনটা মনে করছেন না তাঁরা। অন্তর্বর্তী সরকারের মতো ক্ষমতাসীন বিএনপি হয়তো আওয়ামী লীগের ওপর এতটা কঠোর হবে না। কিন্তু তারা কখনোই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পুরোনো আওয়ামী লীগকে ফিরতে দেবে না। সুতরাং আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে; যা একেবারেই অবাস্তব। আরেকটি পথ হচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপির মধ্যে চরম বিভেদের জন্য অপেক্ষা করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ধারণারও খুব একটা ভিত্তি নেই। ফলে আওয়ামী লীগের এখনকার রাজনীতি অনেকটাই লক্ষ্যহীন। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচনের সময় এলাকায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগের অনেকেই অন্য দলে চলে যেতে পারেন বলে আওয়ামী লীগের কেউ কেউ মনে করেন। নানা মাধ্যমে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের প্রায়ই বলতেন, যাঁরা রাজনীতি করতে চান, তাঁরা দেশে ফিরে যান। অর্থাৎ দেশে গিয়ে কারাবরণ, মামলা মোকাবিলা করুন। এখন পর্যন্ত কেউ এই নির্দেশনায় সাড়া দেননি। আবার, দেশে এসে কারাগারে গেলে জামিন মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সরকার আওয়ামী লীগকে ছাড় দেবে এমন কোনো সমঝোতা কিংবা উদ্যোগও নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশে ব্যবসা আছে এমন সাবেক সংসদ সদস্য, বিদেশে পরিবার থাকে এমন নেতা কিংবা বয়সে জ্যেষ্ঠ অনেকে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার কথাও বলছেন ঘনিষ্ঠদের। দেশে ফিরলে জামিন মিলবে-এমন আশ্বাস পেলে ফেরার কথা ভাবছেন ব্যবসায় যুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য বা নেতারা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে জায়গা দিতে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক কোনো মহল থেকে কোনো চাপ আছে বলেও মনে করেন না দলটির নেতারা। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে থাকা নেতারা দেশে ফেরার চিন্তা করছেন না। বরং কেউ কেউ দেশে ফেরার তাগিদ এড়াতে দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পর অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এর মধ্যে দুজন প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্যের একজন মালয়েশিয়ায়, অন্যজন সাইপ্রাসে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের ধারণা, ভারতের সঙ্গে বিএনপি সরকারের সম্পর্ক ভালো হলে সে দেশটি তাঁদের জন্য নিরাপদ না–ও হতে পারে। টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়েছে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ নেতা-কর্মী বিদেশে আত্মগোপনে। দেশে থাকা নেতা–কর্মীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ কারাগারে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি সরকার সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি। ফলে আওয়ামী লীগ শুধু ক্ষমতাই হারায়নি, হারিয়েছে সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক অবস্থান ও মাঠের নিয়ন্ত্রণ। বিকল্প পথ ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ এমন সংকটময় বাস্তবতায় ‘রিফাইন্ড’ বা পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগের ধারণা সামনে আসে। এটি হচ্ছে মূলত দলটি পুনর্গঠনের একটি প্রস্তাব, যেখানে বিতর্কিত বা অভিযুক্ত নেতৃত্বের বাইরে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য, কম বিতর্কিত ও ‘পরিষ্কার ভাবমূর্তির’ নেতাদের দিয়ে দলকে নতুনভাবে দাঁড় করানো। ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের আলোচনা হলেও দলের কট্টরপন্থী নেতারা মনে করেন, শেখ হাসিনার বিকল্প আওয়ামী লীগে নেই। আর যদি বিকল্প আনতে হয়, তবে তাঁর পরিবার থেকেই হতে হবে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রস্তুত কেউ নেই; তা ছাড়া বর্তমান সময়টাও এই ধরনের উদ্যোগের জন্য অনুকূল নয়। এই ধারণার পেছনে যুক্তি হচ্ছে—বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক দায় তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি রাজনীতিতে ফিরে আসা কঠিন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মহল এবং দেশের একটি বড় অংশের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান বার্তা প্রয়োজন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনার বয়স ৮০ পেরিয়েছে। তিনি চার দশকের বেশি ধরে দলের নেতৃত্বে। তাঁর রাজনীতিতে ফিরে আসা কঠিন মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ফলে ভবিষ্যতের জন্য দলটিকে সংগঠিত করার একটা বিকল্প হচ্ছে নেতৃত্বে পরিবর্তন। রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের ধারণাটি প্রথম সামনে আসে গত বছর মার্চে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। তাতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের; সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ফজলে নূর তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। এরপর কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আবার বিষয়টি সামনে আসে বিএনপি সরকার গঠনের পর। তবে এবার বেশি আলোচনা হয় ভারতভিত্তিক কিছু অনলাইন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর মূল বার্তা হচ্ছে—রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার সায় নেই বা এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হচ্ছে না। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনীতি একধরনের ‘অপেক্ষার রাজনীতিতে’ রূপ নিয়েছে। কিন্তু সেই অপেক্ষার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। দলটির নেতাদের মধ্যে রাজনীতিতে ফেরার আলোচনা আছে। তবে তা কীভাবে সম্ভব, এর কোনো স্পষ্ট পথ জানা নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশে ও বিদেশে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, দলের কট্টরপন্থী নেতারা মনে করেন, শেখ হাসিনার বিকল্প আওয়ামী লীগে নেই। আর যদি বিকল্প আনতে হয়, তবে তাঁর পরিবার থেকেই হতে হবে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রস্তুত কেউ নেই; তা ছাড়া বর্তমান সময়টাও এই ধরনের উদ্যোগের জন্য অনুকূল নয়। কট্টরপন্থীদের মত হচ্ছে—আগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পাক। এরপর দলে সংস্কার আনা হবে। তবে সংস্কার হতে হবে শেখ হাসিনাকে রেখে এবং অন্য বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুনদের আনতে হবে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই হতাশ দেশে থাকা নেতা, কর্মী কিংবা সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রায়ই বিদেশে থাকা নেতাদের ফোনে কথা হয়। কেমন আছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বেশির ভাগ নেতার মুখ থেকে আসে দীর্ঘশ্বাস, ভালো থাকার সুযোগ কোথায়? দিল্লি, কলকাতা, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ব্রাসেলস, দুবাই, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর—যেখানেই থাকুক না কেন কমবেশি সবার জবাব কাছাকাছি। ভারত ও ইউরোপে থাকা দুজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলছিলেন, রাজনীতি থেকে দূরে থাকলে অঢেল টাকা বা আয়েশি জীবন—কোনোটাই সুখের হয় না। পরিস্থিতি এমন যে ঘরের বাইরে যেতেও নানা সংশয়, মন টানে না। আবার বিদেশে থাকা সবাই আর্থিকভাবে খুব ভালো আছেন, তা–ও নয়। বিশেষ করে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে থাকা অনেকে আর্থিকভাবে কষ্টে আছেন বলেও কোনো কোনো নেতা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশে ব্যবসা আছে এমন সাবেক সংসদ সদস্য, বিদেশে পরিবার থাকে এমন নেতা কিংবা বয়সে জ্যেষ্ঠ অনেকে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার কথাও বলছেন ঘনিষ্ঠদের। দেশে ফিরলে জামিন মিলবে—এমন আশ্বাস পেলে ফেরার কথা ভাবছেন ব্যবসায় যুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য বা নেতারা। দেশে-বিদেশে প্রথমে আলোচনা ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দিয়ে ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালু হতে পারে। বিএনপি সরকারের গঠনের পর গত ৭ এপ্রিল সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তিনি পাঁচ দিনের মাথায় ১২ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান। তাঁকে নিয়েও আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের গুঞ্জন ছড়ায়। সব মিলিয়ে নেতাদের কেউ কেউ এতে কিছুটা আশাও দেখছিলেন; এর মাধ্যমে যদি রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ হয়। তবে দলের ভেতরে একটা শক্তিশালী মত হচ্ছে—শেখ হাসিনার অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো সাংগঠনিক কাঠামো টেকসই হবে না। কারণ, মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ এখনো তাঁর নেতৃত্বকেই চূড়ান্ত হিসেবে মানে। শেখ হাসিনার দিক থেকে এ ধরনের উদ্যোগে সায় নেই জানার পর অনেকেই এখন আর আশা দেখছেন না। বিএনপির সরকার গঠন: আশা ও হতাশা বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে—এমনটা আশা করছিলেন অনেকেই। এমনকি গ্রেপ্তারকৃত নেতারা জামিন পাবেন, এরপর আত্মগোপনে থাকা নেতারা দেশে ফিরবেন—এমনও প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিএনপির তিন মাসের মেয়াদে এমন আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা অংশ নেবেন এবং ভালো ফলাফলের মাধ্যমে কর্মীদের মনোবল বাড়াতে চেষ্টা চালাবেন বলেও দলের একটি অংশ আশা করছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন না দলটির অনেক নেতা। ফলে বিএনপি সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারবে বলে দলটির একটা অংশের ভেতর যে আশা ছিল, তা কিছুটা হতাশায় রূপ নিয়েছে। এই মিছিল চট্টগ্রামে গত এপ্রিলে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নানা স্থানে মাঝে–মধ্যে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয় এই মিছিল চট্টগ্রামে গত এপ্রিলে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নানা স্থানে মাঝে–মধ্যে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়ফাইল ছবি আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে ছাড় দেওয়ার মতো রাজনৈতিক ঝুঁকি বিএনপির পক্ষে এখন নেওয়া কঠিন। ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী শক্তি জামায়াত-এনসিপির মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রশ্নে তাদের অবস্থান প্রায় একই। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার বড় ধরনের চাপে পড়ে কি না, সে জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আওয়ামী লীগের জন্য খুব একটা বিকল্প নেই। এর মধ্যে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। ফলে নির্বাচনটি বিএনপি জোট ও জামায়াত জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন আওয়ামী লীগের ভেতরে একটি কৌশলগত ভাবনা কাজ করেছিল—জামায়াতকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এই লক্ষ্য থেকে বিএনপি জোটের প্রতি একধরনের নীরব সমর্থনের কৌশল নেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কেউ কেউ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। জামায়াত ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারত। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনীতি একধরনের ‘অপেক্ষার রাজনীতিতে’ রূপ নিয়েছে। কিন্তু সেই অপেক্ষার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। দলটির নেতাদের মধ্যে রাজনীতিতে ফেরার আলোচনা আছে। তবে তা কীভাবে সম্ভব, এর কোনো স্পষ্ট পথ জানা নেই। গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, রাজনীতিতে ফিরতে হলে আওয়ামী লীগকে তাদের সাড়ে ১৫ বছরের শাসন ও রাজনীতি নিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি ও ভুল স্বীকার করতে হবে। ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানে ফৌজদারি অপরাধের বিষয়টি তাদের মেনে নিয়ে এর মুখোমুখি হতে হবে। কোনো সরকারই ফৌজদারি অপরাধের ক্ষমা করতে পারবে না। কিন্তু মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ এর কোনোটার জন্যই প্রস্তুত নয়। আলতাফ পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ যদি গায়ের জোরে ফিরে আসার চিন্তা করে, সে ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি যৌথভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করবে। এ ধরনের চিন্তা আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ভয়াবহ হবে, সংঘাতপূর্ণ অবস্থা ফিরে আসবে। নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাটা অন্তর্বর্তী সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন না আলতাফ পারভেজ। তাঁর মতে, বিএনপিও একই ভুল করল। বরং আওয়ামী লীগকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারত। যেমন নেপালে গণ–অভ্যুত্থানের পর কোনো দল নিষিদ্ধ করা হয়নি। পূর্বতন ক্ষমতাসীন দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ফলে আওয়ামী লীগ এই প্রচার করতে পারছে যে তারা ভিকটিম বা ক্ষতিগ্রস্ত।
ছাত্র জীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দলটির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্যাগী নেতা হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন পাননি বিএনপির এ নেতা। এবার যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলি তুলে ধরেছেন তিনি। ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া দিনগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার পুরোনো স্মৃতিগুলো অনেক সময় খেয়াল করতে একটু সমস্যা হয়। তবে যতদূর মনে পড়ে আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি, রংপুর কারমাইকেলের স্টুডেন্ট ছিলাম। তখন আমার আব্বা কারমাইকেলেরই গণিতশাস্ত্রের অধ্যাপক ও হেড অব ডিপার্টমেন্ট ছিলেন। তাকে বলা হতো অংকের জাহাজ। শিক্ষক হিসেবে তার সুনাম ছিল। সবাই তাকে খান স্যার বলে চিনতেন। সারা বাংলাদেশেই ওনার অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে। অনেক শক্ত ব্যক্তিত্বের মানুষ ছিলেন। তার (হাবিব উন নবী খান সোহেলের বাবা) প্রেজেন্সে ওখানে আমার রাজনীতি করাটা খুব কঠিন ছিল। হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, বাবা চাইতো না যে আমি ওনার কলেজে রাজনীতি করি, মিছিল মিটিং করি, এটা চিন্তাও করা যেত না। তবে আমি যখন সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, তখন কলেজের ইলেকশন হলো, আমরা সে সময় যারা জেলা স্কুল থেকে কলেজে একসঙ্গে এসেছিলাম; তারা মিলে তখন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষে কাজ করলাম। বিশেষ করে আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি বিশেষভাবে খুব দুর্বল ছিলাম। কারণ তার সততা এবং দেশপ্রেম আমাকে সবসময় উজ্জীবিত করতো, কাছে টানতো। কিন্তু মিছিল মিটিং করতে পারতাম না আব্বার ভয়ে। ইলেকশনে আমি একটু গোপনেই কাজ করলাম। সেই ৪০-৫০ দশকের কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতারা যেভাবে গোপনে কাজ করতেন সেভাবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেলকে আমরা জেতাতে পেরেছিলাম। এরপরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি, রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বেড়েছে, দলের প্রতি ভালোবাসা বেড়েছে। দল যখন যে নির্দেশ দিয়েছে সে নির্দেশই পালন করেছি।
শরিকানা কোরবানির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরিয়তের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এসব বিষয়ে সচেতন না হলে কোরবানি সহিহ হওয়া নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই শরিকানা কোরবানিতে নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা জরুরি। ১. অংশীদার বা শরিকের সংখ্যা শরিকানা কোরবানির ক্ষেত্রে প্রথমেই যে বিষয়টি গুরুত্ব পায়, তা হলো অংশীদারের সংখ্যা নির্ধারণ। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন। সাতজনের বেশি হলে কোরবানি সহিহ হবে না। হজরত জাবের (রা.) বলেন, ‘আমরা হোদাইবিয়ায় নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে গরু এবং উটে সাতজন করে শরিক হয়ে কোরবানি করেছিলাম।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩১৮) ২. একনিষ্ঠ নিয়ত ইবাদতের প্রাণ হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। কোরবানি বাহ্যিকভাবে পশু জবাইয়ের নাম হলেও এর মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর কাছে কোরবানির গোশ্ত ও রক্ত কিছুই পৌঁছে না, পৌঁছে কেবল তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭) বর্তমান সময়ে অনেকেই সামাজিক মর্যাদা, লোক-দেখানো মনোভাব, প্রতিযোগিতা বা পারিবারিক চাপের কারণে কোরবানি করে থাকেন। এসব মানসিকতা ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে দিতে পারে। ৩. হালাল অর্থ নিশ্চিত করা কোরবানি একটি পবিত্র ইবাদত। এর জন্য ব্যবহৃত অর্থও হতে হবে পবিত্র ও হালাল। শরিকানা কোরবানিতে যদি কারও উপার্জনে সুদ, ঘুস, প্রতারণা, আত্মসাৎ বা হারাম লেনদেনের প্রভাব থাকে, তাহলে সবার কোরবানি বিনষ্ট হয়ে যাবে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছুই কবুল করেন না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৫) এজন্য শরিক নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ৪. শরিকদের সঠিক অংশ নির্ধারণ শরিকানা কোরবানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— শরিকদের অংশ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা। কোরবানির পশুতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তির অংশ কমপক্ষে এক সপ্তমাংশ হতে হবে। এক সপ্তমাংশের কম অংশ নিয়ে শরিক হওয়া কিংবা একাধিক ব্যক্তি মিলে এক সপ্তমাংশের ভাগ নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়। এভাবে অংশীদার হলে কারো কোরবানিই সহিহ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭) ৫. অংশীদারদের কেউ মারা গেলে সাতজন মিলে কোনো পশু কেনার পর যদি অংশীদারদের মধ্যে একজন মারা যান, তাহলে তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারীদের) অনুমতি সাপেক্ষে তাঁর পক্ষ থেকে কোরবানি করা বৈধ হবে। তবে ওয়ারিশরা অনুমতি না দিলে মৃত ব্যক্তির অংশে কোরবানি আদায় হবে না। সেক্ষেত্রে ওই পশুর অন্য শরিকদের কোরবানিও সহিহ হবে না। এমতাবস্থায় করণীয় হলো, এক ভাগের সমপরিমাণ টাকা মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের দিয়ে দেওয়া। এক্ষেত্রে চাইলে মৃত ব্যক্তির স্থলে অন্য কাউকে শরিক নেওয়া যাবে। (মাজমাউল আনহুর: ৪/১৭৩, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত) ৬. পশু কেনার পর শরিক নেওয়া যৌথ উদ্যোগে কোরবানি করতে চাইলে পশু কেনার আগেই অংশীদার নির্ধারণ করে নেওয়া উত্তম। পরে নিতে চাইলে তার হুকুম হলো: কোনো সামর্থ্যবান ব্যক্তি (যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব) একা কোরবানি করার নিয়তে পশু কেনার পর কাউকে শরিক নিতে চাইলে তা বৈধ হবে। আর যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তিনি যদি কোরবানির উদ্দেশ্যে পশু কেনেন, তাহলে সেই পশু তাঁর পক্ষ থেকে আল্লাহর জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। তাই পরে ওই পশুতে অন্য কাউকে শরিক করা তাঁর জন্য জায়েজ হবে না। (কাজিখান: ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২১০) ৭. গোশ্ত বণ্টনে সতর্কতা কোরবানির পর সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হলো গোশ্ত বণ্টন। শরিকানা কোরবানিতে গোশ্ত ওজন করে সমানভাবে বণ্টন করা ওয়াজিব। অনুমান করে ভাগ করা জায়েজ নেই, কারণ ভাগে কমবেশি হলে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। গোশ্তের অংশ সুনির্দিষ্ট করার পর প্রত্যেক শরিক নিজের অংশ থেকে গরিব-মিসকিন, আত্মীয়স্বজন এবং নিজের পরিবারের জন্য বিতরণ করতে পারবেন। (আদ্দুররুল মুখতার: ৬/৩১৭, কাজিখান: ৩/৩৫১) ৮. কসাই বা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক অনেকেই ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কোরবানির গোশ্ত, চামড়া বা পশুর কোনো অংশ দিয়ে কসাইয়ের পারিশ্রমিক পরিশোধ করে থাকেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে এমনটি করা বৈধ নয়। কসাই বা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক আলাদা অর্থ দিয়ে পরিশোধ করতে হবে। তবে পারিশ্রমিক দেওয়ার পর অতিরিক্ত উপহার হিসেবে গোশ্ত দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেটি যেন মজুরি হিসেবে না হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩১৭) ৯. আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা শরিকানা কোরবানিতে অনেক সময় বিরোধের মূল কারণ হয় আর্থিক লেনদেনের অস্পষ্টতা। ইসলাম লেনদেনে স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই শরিকানা কোরবানির ক্ষেত্রেও হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। প্রয়োজনে লিখিতভাবে নোট রাখা যেতে পারে, যেন পরে মতবিরোধ সৃষ্টি না হয়।
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ। সেই লক্ষ্যে সারাবিশ্ব থেকে আগত হাজিরা নিজেদের প্রস্তুত করছেন। রোববার (২৪ মে) এশার নামাজের পরই হাজিরা তাবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। মিনায় যাওয়ার আগে মুসল্লিরা ইহরামের কাপড় পরিধান করেন। শরীয়তের বিধান অনুসারে, হাজিরা ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর হতে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাত্রিযাপন শেষে ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। সেখানে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন হাজিরা। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে মিনায় যাবেন হাজিরা এবং শুধু বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কুরবানি দেবেন ও মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোটো করবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা। চলতি বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ থেকে এ বছর সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ হজ পালন করতে সৌদি আরব গেছেন। এদিকে হজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ হজের পবিত্র স্থানগুলোতে নিয়োজিত বাহিনীর কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানান, হাজিদের সেবায় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। কমান্ডার আরও উল্লেখ করেন, এ বছর বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। এর ফলে আল্লাহর মেহমানরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সর্বমোট ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হজ পালন করেছিলেন। এর মধ্যে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন। এ বছর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সেই সংখ্যা পার হয়ে যাওয়ায় এবারের হজ গত বছরের তুলনায় হতে যাচ্ছে আরও বড় পরিসরে।
কর্মস্থল ত্যাগপ্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করার জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ঈদে গ্রামে ফিরতে হলে অবশ্যই বাসা কিংবা অফিস থেকে বের হওয়ার সময়ে নিচের দোয়াটি পাঠ করা খুবই জরুরি। যা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করতেন। দোয়াটি পাঠ করলে সব বিপদ থেকে নিরাপদ ও শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। দোয়াটি হলো- ‘বিসমিল্লাহ, তাওাক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ অর্থাৎ তখন তাকে বলা হয় : তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত, নিরাপদ ও সুরক্ষিত হলে।’ (আবু দাউদ শরিফ) সাধারণত বাস, ট্রেন, লঞ্চের মাধ্যমে আমরা গ্রামে যাই। আমরা যানবাহনে উঠতে খুব তাড়াহুড়া করি। বৃদ্ধ কিংবা মহিলাদের খেয়াল না করেই ধাক্কাধাক্কি করে প্রথমে ওঠার চেষ্টা করি। অনেক সময়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলার সময়ে লাফ দিয়ে উঠে পড়ি। যার ফলে তাড়াহুড়ার কারণে নিজে বা পাশে থাকা ব্যক্তি পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এজন্য থেমে থাকাবস্থায় যানবাহনে উঠাতে হবে। যানবাহনে ওঠার সময়ে প্রথমে বিসমিল্লাহ পড়ে পা রেখে বসার পর আলহামদুলিল্লাহ পাঠ করা উত্তম। অতঃপর আরোহণের দোয়া পাঠ করে তিনবার আলহামদুলিল্লাহ ও তিনবার আল্লাহু আকবর বলে সর্বশেষ নিচের দেওয়া দোয়াটি পড়া যেতে পারে। ‘সুবহানাকা ইন্নি জলামতু নাফসি জুলমান কাছিরান ফাগফিরলি ইন্নাহু লাইয়াগফিরনিজ্জুনুবা ইল্লা আনত।’ (তিরমিজি) রসুল (সা.) যখন বাহনে (উট, ঘোড়া ইত্যাদি) চড়তেন, তখন নিম্নলিখিত দোয়া পাঠ করতেন- যানবাহনে ওঠার সময়ে যে দোয়াটি পাঠ করতে হয় যা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারিতে বসার পর পাঠ করতেন। ‘সুবহানাল্লাহু সাখখারালানা হা জা ওয়ামা কুননা লাহু মুক্করিনীন ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্কালিবুন। অর্থ : মহান পবিত্র তিনি যিনি আমাদের জন্য এটাকে অধীন নিয়ন্ত্রিত বানিয়ে দিয়েছেন নতুবা আমরা তো এটাকে বশ করতে সক্ষম ছিলাম না। একদিন আমাদের প্রভুর কাছে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে। (সুরা যুখরুফ-১৩-১৪) তবে মুসলিম শরিফের বর্ণনায় পাওয়া যায় নিচের দোয়াটিও যানবাহনে ওঠার পর পাঠ করা যেতে পারে। দেয়াটি হলো- ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফরিনা হা-জাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তার দা আল্লাহুম্মা হাউয়িন আলাইনা সাফারনা হাযা, ওয়াতওই আন্না বুদাহু, আল্লাহুম্মা আনতাস্-সাহিবু ফিস্-সাফার, ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি ওয়াল মাল। আল্লাহুম্মা ইন্না নাউজুবিকা মিন ওয়া-ছা-ইস সাফারি ওয়া-কাআবাতিল মানজারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল আহলি ওয়াল মাল। তবে নদীপথে যাওয়ার সময়ে নিচের দোয়াটি পাঠ করা উত্তম। যা হজরত নূহ (আ.)-কে নির্দেশ করা হলো যে বেইমানদের বাদ দিয়ে ইমানদার নিয়ে নৌকার তুলে নিন। হজরত নূহ (আ.) উক্ত দোয়া পাঠ করেন, ‘বিসমিল্লাহি মাজরেহা ওয়ামুসাহা ইন্না রাব্বি লাগাফুরুর রাহিম অর্থ : আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি আমার পানলনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন মেহেরবান। (সুরা হুদ-৪) ঈদে বাড়ি যেতে প্রায় সময়ে মাঝ রাস্তায় বিরতি দিয়ে থাকে। আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক অর্থ : আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমার মাধ্যমে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা চাচ্ছি। (মুসলিম : ২৭০৮) ঈদে বাড়ি যাওয়ার সফরটা আমরা ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাতে পারি। যানবাহনে অপ্রয়োজনীয় কথা ও হাসিতামাশা থেকে বিরত থেকে কোরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ, জিকির, অতিরিক্ত দরুদ শরিফ পাঠ করে বাড়ি যাওয়ার যাত্রার সময়কে আমলে অতিবাহিত করি। পার্শ্ববর্তী যাত্রীদের সাহায্য ও ভালো আচরণ করি। যাত্রাপথে বিপদে পড়লে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করি। তিনজন একসঙ্গে বের হলো একজনকে নেতা নিযুক্ত করি। সফরে মুসাফির থাকাবস্থায় দোয়া করলেও কিন্তু কবুল হয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারা হলেন- নির্যাতিত (মজলুম) ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া। (তিরমিজি শরিফ) ঈদে বাড়ি পৌঁছানোমাত্রই সর্বপ্রথম আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করাসহ রসুল (সা.)-এর প্রতি দরুদ শরিফ পাঠ করা প্রয়োজন। মহান আল্লাহ বিপদমুক্ত করে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনের জন্য বাড়িতে আসার তাওফিক দিয়েছেন। শুকরিয়া হিসেবে দুই রাকাত নামাজ আদায় করাটা খুব উত্তম একটি কাজ। হজরত কা’ব ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত ‘রসুল (সা.) যখন সফর থেকে বাড়ি ফিরতেন তখন সর্বপ্রথম মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন।’ (বুখারি ও মুসলিম) লেখক : প্রধান গবেষক : আল ফুরকান রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা
যানবাহনের মালিকদের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভুয়া এসএমএস। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য রাজধানীতে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হয়ে সেই তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট চালকের মোবাইল নম্বরে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ নাগরিকদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এআই মামলার নামে একটি এসএমএসের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট নিয়ে এই প্রতারণা চলছে। এসএমএস পাঠিয়ে বলা হচ্ছে গ্রাহকের নামে এআই মামলা হয়েছে, দেওয়া হচ্ছে মামলা নম্বর এবং বিআরটিএর লোগো সংবলিত একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা। সেখানে গিয়ে করতে হবে মামলার জরিমানা পরিশোধ। রোববার (২৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী এই এসএমএসের সত্যতার বিষয়ে জানতে চেয়ে স্ট্যাটাস দেন। এমনকি ট্রাফিক অ্যালার্ট গ্রুপে পরিচয় গোপন করেও একজন নাগরিক পোস্ট করেছেন। সেখানে বেশ কয়েকজন গ্রাহক এমন বার্তা পেয়েছেন বলে কমেন্টও করেছেন। এ ছাড়া অনেকেই নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করেও এই এসএমএসের কথা জানতে চেয়েছেন। তাদের মধ্যেই একজন রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা ইয়াসিন পাটোয়ারী। প্রতারকের পাঠানো এসএমএসের ছবিসহ তিনি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘আমার ফোনে একটি এসএমএস এসেছে। এটা কি সত্যিকারের এআই মামলা, নাকি কোনো স্ক্যাম?’ আর সেই ছবিটি তিনি সংযুক্ত করেছেন সেখানে লেখা আছে “[বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ] জরিমানা পরিশোধ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি। জরিমানা নম্বর: ২০২৬-বিডি-৫৬১২৩০৪৩টি। তারিখ: ২৪ মে, ২০২৬। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (ক্যামেরা নম্বর: টিআর-৭৭২) অনুযায়ী, আপনার যানবাহনটি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করা না হলে, আপনার লঙ্ঘনের রেকর্ড জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং আপনি আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হবেন। অনুগ্রহ করে ২৪ মে মধ্যরাতের পূর্বে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করুন: https://bspbrtcar-govbd.online। এই বার্তাটি পুনরায় খুলতে ‘১’ চাপুন, লঙ্ঘনের রেকর্ড দেখুন এবং ক্যামেরার ছবি ও জিপিএস অবস্থানের তথ্য যাচাই করুন।” এ বিষয়ে ইয়াসিন কালবেলাকে বলেন, ‘সরকার কীভাবে জরিমানা নেবে, পদ্ধতিটা কীভাবে হবে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য গ্রাহককে না জানিয়ে এই প্রকল্প চালু করায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালকরা। আমাদের জানানো উচিত ছিল কীভাবে মামলা হবে, কীভাবে জরিমানা দেওয়া হবে, অথবা মামলাটি আসলেই হলো কি-না। সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া প্রয়োজন ছিল। সরকার এই উদ্যোগ না নেওয়ায় একটি অসাধু চক্র এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে।’ এই এসএমএসের সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তানভীর হাসান জোহা কালবেলাকে বলেন, ‘এই মেসেজে থাকা কিছু বিষয় বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। যার মধ্যে বিদেশি নম্বর (+63) থেকে বার্তা এসেছে, যা বাংলাদেশের সরকারি ট্রাফিক বা জরিমানা ব্যবস্থার স্বাভাবিক যোগাযোগ পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ছাড়া ওয়েবসাইট ‘.gov.bd’-এর পরিবর্তে ‘.online/.icu’ ডোমেইন ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল সেবা সাধারণত gov.bd ডোমেইনের অধীনে পরিচালিত হয়। ‘govbd’ শব্দটি ডোমেইনে থাকলেই সেটি সরকারি হয় না। তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ‘প্রতারকদের পাঠানো ওই মেসেজে, ভয়ভীতি ও জরুরি চাপ (আরজেন্সি ট্যাকটিক) প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন ‘জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত’, ‘আইনানুগ শাস্তি’ ইত্যাদি। এটি ফিশিং ক্যাম্পেইনের একটি পরিচিত কৌশল, যার মাধ্যমে মানুষকে দ্রুত লিংকে ক্লিক ও পেমেন্টে প্রলুব্ধ করা হয়। এ ছাড়া সাধারণ নাগরিক যদি বিশ্বাস করে পেমেন্ট করেন, তাহলে কার্ড তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, ওটিপি বা ব্যক্তিগত ডাটা চুরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নোবেল দে কালবেলাকে বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমি এ বিষয়ে কথা বলেছি। বিআরটিএ থেকে এআই মামলা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে বিআরটিএ এই ধরনের কোনো মামলার পেমেন্টও নিচ্ছে না। কেউ যদি বিআরটিএর নাম ভাঙিয়ে কোনো এসএমএস বা অন্য কোনো পন্থায় এই মামলার কোনো পেমেন্ট নেয়, সেটি স্পষ্টতই প্রতারণা।’ এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘এআই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে কারও মোবাইলে এখনো কোনো মেসেজ পাঠানো হয়নি। ডাকযোগে বাসার ঠিকানায় মামলার ডকুমেন্ট পাঠানো হচ্ছে। যার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হবে, তিনি সরাসরি ট্রাফিক বিভাগের অফিসে গিয়ে জরিমানা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করবেন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্যাগী নেতা হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন পাননি বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কোটায়ও জায়গা হয়নি এই নেতার। এমপি-মন্ত্রিত্ব না পাওয়া নিয়ে এবার যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন বিএনপির এ নেতা। তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি বর্তমানে দলের নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এটাই তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান। দল তাকে যেভাবে রাখে, যে কাজ দেয় সেটাই তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে করেন। দল থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি মূলত দলের সৃষ্টি। দল তাকে তৈরি করেছে। তাই দল যখন যেভাবে রাখে, তিনি সেভাবেই কাজ করেন; উইথ হার্ট অ্যান্ড সোল তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি কী পেলেন বা কী পেলেন না—এ নিয়ে তিনি খুব একটা ভাবেন না। দল যে কাজ দেয় সেটিই তিনি খুশি মনে করেন এবং দেশের ও জনগণের জন্য কাজ করতে পারলেই সন্তুষ্ট থাকেন। বেগম খালেদা জিয়া থাকাকালীন সময়ে নির্বাচন হলে অনেক ত্যাগী নেতা এমপি বা মন্ত্রী হতে পারতেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি এভাবে মনে করেন না। দল সবসময় একই দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু দেখে এবং তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যেখানে অন্য কেউ বেশি উপযুক্ত বা জয়ের সম্ভাবনা বেশি, দল তাকেই মনোনয়ন দেয়। তিনি এটাকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন এক জিনিস, ত্যাগ-তিতীক্ষা আরেক জিনিস। দল যাকে সঠিক মনে করে তাকেই বেছে নেয়, আর দলে যারা কাজ করেন তারা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নেন। মন্ত্রিপরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তার নাম শোনা যাচ্ছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই দায়িত্ব দেবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, সমর্থন এবং সেবার সক্ষমতাই আসল মাপকাঠি। তিনি আরও জানান, দলই তাকে তৈরি করেছে এবং দল যেভাবে তাকে কাজে লাগাবে, তিনি সেভাবেই কাজ করবেন। এমপি হওয়া বা না হওয়াকে তিনি চূড়ান্ত বিষয় হিসেবে দেখেন না; তার কাছে রাজনীতি হলো জনগণের জন্য কাজ করার মাধ্যম।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্টে মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোববার (২৪ মে) ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা যায়। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার দিন রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বিকৃত করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে রোববার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। এদিকে শনিবার (২৩ মে) তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রামিসাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান তিনি। পরে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই কক্ষে ছিলেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, নিহত রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সকালে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এক মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন, যদি সৎ সাহস থাকে, তাহলে আগামীকালের মধ্যেই ফাইলটি জনগণের সামনে স্পষ্ট করবেন। শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, শাহে আলম বলেছেন, সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই উপদেষ্টা একটি ফাইল অনুমোদন করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কোন ফাইল? ফাইল প্রক্রিয়ায় সচিবের স্বাক্ষর বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন থাকাই নিয়ম। আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সচিব অনুপস্থিত থাকলে অতিরিক্ত সচিব বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ফাইল অনুমোদন এগিয়ে যায়। তিনি বলেন, মন্ত্রী বা উপদেষ্টার চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা রয়েছে এবং এটি বিধিবহির্ভূত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি আংশিকভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। এভাবে উপস্থাপন করলে মনে হয়, কোনো প্রক্রিয়া না মেনে গোপনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সঠিক নয়। আসিফ মাহমুদ বলেন, যদি কোনো নির্দিষ্ট ফাইল নিয়ে প্রশ্ন থাকে, তবে তা প্রকাশ্যে আনা উচিত। তিনি মীর শাহে আলমকে আহ্বান জানান, সংশ্লিষ্ট ফাইলটি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে। তিনি আরও বলেন, আমি যে কোনো নির্দিষ্ট ফাইল নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত আছি। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সচিবের সই ছাড়াই জোর করে ফাইল অনুমোদন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন অভিযোগ করেন। পিরোজপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তে কমিটি করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটা ফাইল নোটিশে এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একজন উপদেষ্টা (আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া) সচিবের সই ছাড়াই জোর করে ফাইল নিয়েছেন, নিজে সই করে অনুমোদন দিয়েছেন। এটিও এই তদন্তের মধ্যে আসবে যেটি একদম রুলস অব প্রসিডিউর, রুলস অব বিজনেসের পরিপন্থি। কারণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের সই ব্যতিরেকে কখনোই মন্ত্রী একটি ফাইল অনুমোদন দিতে পারেন না। এটি কখনোই আইনে রুলস অব প্রসিডিউরে এবং রুলস অব বিজনেসে নেই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।