রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাংবিধানিক এখতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আজকের স্থায়ী কমিটির মিটিংটি ছিল একটি রুটিন মিটিং। সেখানে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে মাননীয় স্পিকার অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন যখনই তফসিল ঘোষণা করবে, তখনই দলীয় প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রার্থী চূড়ান্ত করার সার্বিক দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানকে অর্পণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই হবে। একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন পড়বে না; তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে স্পিকারের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করবে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের শেষ দিকে কিংবা আগামী বছরের শুরুর দিকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দল সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রাখছে। এর আগে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে আলোচনা ছাড়াও দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও দলের বিভিন্ন বিষয় এবং আগামী দিনের কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাকে ফোন করে ‘সব ফাঁস করে দেব’ বলে হুমকি দিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, গতকাল বিকালে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী হঠাৎ আমাকে কল করে বলল, আমি যাতে তার বিরুদ্ধে আর না বলি, সেও আমার বিরুদ্ধে বলবে না। আমি তাকে বললাম, তুমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী, কন্যা ও মন্ত্রীদের নিয়ে বাজে কথা বলা বন্ধ করলে, আমি বিষয়টি ভেবে দেখব। সে উত্তরে বলল, সে আজকে এ বিষয়ে মিডিয়ায় বলেছে, আর এসব করবে না। তিনি আরও লিখেন, এরপর রাতে আবার কল করে বলল, আপনি তো আমার বিরুদ্ধে বলেছেন, আমি কিন্তু সব বলে দিবো, আমাদের ( নাহিদ-আসিফ) কাছে এসে আপনি ৫ লাখ করে টাকা নিয়ে যেতেন! আমি সব ফাঁস করে দিবো। আমি বললাম, যা আছে সব ফাঁস করে দাও! এরপর বলল, আপনি ফ্ল্যাট কিনেছেন, সব ডকুমেন্টস আছে। এসব থেকে বাঁচার জন্য বিএনপিতে গিয়েছেন! উত্তরে আমি বললাম, আমার কোন ফ্ল্যাট নেই, আর কোনোদিন নাহিদ-আসিফ থেকে ১ টাকা নিইনি! তোমার কাছে আমার সম্পর্কে যা তথ্য আছে, সব ফাঁস করে দাও! রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, যাইহোক, গতকাল তার কল পেয়ে আমি ভেবেছিলাম, ছেলেটি হয়তো তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু আজকেই দেখলাম, সে আমাকে দেওয়া কথা ভুলে গেছে। আবারও আবোলতাবোল বকা শুরু করেছে.....
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘এ সরকার মাত্র পাঁচ মাসে দফায় দফায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করেছে। গ্যাস না থাকলেও প্রতি মাসে বিল দিতে হচ্ছে।’ শুক্রবার (৩১ জুলাই) আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে হবিগঞ্জে সংঘর্ষে চোখ হারানো আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বরে মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর-১২ এর মেট্রোরেলের পিলার নং-১৪০ এর পূর্ব পাশে মিছিল করার সময় তাদের গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররাদের মধ্যে মো. সুজন হোসেন (২৬), মো. নাসির (২৫), রবিউল ইসলাম (২০), মো. আরিফুল ইসলাম আকাশ (২১), মো. আলমগীর ইসলাম (২০), মো. বিল্লাল হোসেন (২২), মো. মনিরুজ্জামান শাওন (১৯), মো. তারেক (২০), মো. নাঈম (২০), সৈয়দ লিমন (১৯) ও মো. ইব্রাহিম (৩৫) রয়েছেন। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকালে পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১২ এলাকায় মেট্রোরেলের ১৪০ নম্বর পিলারের পূর্ব পাশে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে একটি ব্যানার, একটি ভাড়াকৃত মাইক্রোবাস এবং দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে জোর আলোচনা চলছে। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা এবং দলের বাইরের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম আলোচনায় থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তাড়াহুড়া করতে চাইছে না বিএনপি। বরং দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি দক্ষতা, বিচক্ষণতা, সাহসিকতা এবং সর্বজনগ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে দলটি। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলটি মূলত তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রথমত, দেশ ও দলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। দ্বিতীয়ত, দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা। তৃতীয়ত, জাতীয় সংকটে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার মতো সাহসিকতা। দলটির নেতারা মনে করেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় শুধু দলীয় আনুগত্য যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা সীমিত হলেও রাজনৈতিক সংকটের সময়ে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ক্ষেত্রে দলীয় প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে কয়েকটি সিদ্ধান্ত ও অবস্থানের কারণে বিএনপির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। পরে তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তী সময়ে তার রাজনৈতিক অবস্থানও বিএনপিবিরোধী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য থাকলেও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও নেতৃত্বের অভাব ছিল বলে বিএনপির ভেতরে মূল্যায়ন রয়েছে। অনেকের মতে, ওই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিণতিতে এক-এগারোর জরুরি সরকারের পথ তৈরি হয়। তবে ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের ভূমিকা বিএনপির কাছে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। দলটির মতে, সে সময় তার দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেনাপ্রধান লে. জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়া উচিত সৎ, মর্যাদাসম্পন্ন ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তি। তার ভাষায়, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি। তাই এ পদে এমন একজনকে বসানো প্রয়োজন, যিনি ব্যক্তিগত সততা, গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদার প্রতীক হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরীও মনে করেন, নিছক দলীয় বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সমীচীন নয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা সীমিত হলেও জাতীয় সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত, যিনি কোনো দলের প্রতি অন্ধভাবে অনুগত না হয়ে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, যিনি প্রকৃত অর্থে দেশের অভিভাবক হতে পারবেন, তাকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত। তার মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় স্বার্থ ও গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও বলেন, ‘দেশের রাষ্ট্রপতি হতে হবে একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং পূর্ণাঙ্গ অর্থে দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি। রাষ্ট্রপতি পদটি যেন কোনো দলীয় অন্ধ আনুগত্য বা কানাঘুষার কেন্দ্রবিন্দু না হয়। যিনি রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হবেন; জনগণ, দেশ এবং সংবিধানের প্রতি তার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বিশেষ করে, যে কোনো বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাকে শক্ত ও অনড় অবস্থান নিতে হবে। অতীতে আমরা রাজনীতি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রপতি খুব কমই দেখেছি। কিন্তু দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে, মানুষ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে সক্ষম-এমন একজন নিরপেক্ষ ও যোগ্য রাষ্ট্রপতিই প্রত্যাশা করে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা। বিতর্ক এড়িয়ে যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নিতে চায় বিএনপি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আমি আজ থেকে কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। দেখব উনারা কতটুকু বাড়তে পারে। দেশে আর সহিংস রাজনীতি দেখতে চাই না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছিলেন এই নেতা। সভা শেষে একাডেমিক ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চুপ থাকার কথা জানান নাসীরুদ্দীন। নিজের ‘কথা বলা’ কেন্দ্র করে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ আসার প্রেক্ষাপটে তিনি এমন মন্তব্য করলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটরিয়ামে ‘অগ্নিঝরা জুলাই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এদিন সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে বহন করা গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ভেঙে যায় গাড়ির পেছনের কাচ। বিকালে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে এই ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য ছাত্রদলকে দুষছেন সারজিস। বিষয়টি উল্লেখ করেন নাসীরুদ্দীন। বলছিলেন, ‘সারজিসের গাড়িতে একটু আগে হামলা হয়েছে, ছাত্রদল হামলা করেছে এবং সেখানে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমরা রওনা দিচ্ছি। আমাকেও তো হামলা করা হয়। তারা একটা জাস্টিফিকেশন দিয়েছে। আমি কথা বলি এ জন্য। আমি আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। দেখব উনারা কতটুকু বাড়তে পারে।’ এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা হয়। মারধরে আহত হয় নেতাকর্মীরাও। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এরপরও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিবাদ মিছিল করতে হবিগঞ্জ যেতে চাইলে পুলিশের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। পরে বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দিয়ে চলে আসেন তারা। নাসীরুদ্দীন মন্তব্য করেন, ‘আমরা গতকাল অভিযোগ দিয়েছি। তবে অভিযোগে কিছু সংশোধন আসছে, কারণ একজন ব্যক্তির নাম সেখানে ছিল, যেটা ভিডিওতে ছিল না। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আজ পূর্ণ সংশোধনী চলে আসবে। আমরা আজই এফআইআরের কপি পেয়ে যাব।’ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন। হবিগঞ্জে হামলায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর পরিস্থিতি তুলে ধরেন এই নেতা। ‘ইন্টারপড়ুয়া ছেলে, যে কাউকে কখনো মারতে যায়নি, তার বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী, এখন অপারেশন থিয়েটারে আছে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী কি পারবেন তার চোখটা ফেরত দিতে? আমরা বাংলাদেশে আর কোনো সহিংস রাজনীতি দেখতে চাই না। আমরা বলব প্রিয় তারেক রহমান, আলিফের চোখটা ফেরত দিন। আমরা চুপ হয়ে যাব, আর কিছু বলব না। আপনি আপনার ক্ষমতা চালান, আমরা কিছু চাই না।’ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর নয়াপল্টনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে ঢাকার মিন্টো রোডে বিরোধী দলের নেতার বাসভবনে বৈঠকের পর জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ক্যাম্পেইন চালিয়েছিল। খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করলেও সেটি এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। অর্থাৎ সরকার তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে।’ তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বিভিন্ন দপ্তর বা অধিদপ্তরে নজিরবিহীনভাবে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়েছে। যা জুলাই অভ্যুত্থান চেতনার বিপরীত। একই সঙ্গে সারাদেশে ফের নতুন করে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেছে সরকারের লোকজন। এসবের প্রতিবাদে ৫ আগস্ট বুধবার ঢাকার পল্টনে ১১ দল সমাবেশ করবে। বৈঠকে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে ১১ দলীয় জোট। গত কয়েক মাসে তারা বিভাগীয় সমাবেশ, জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ, গণমিছিল এবং স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। একই সঙ্গে সরকারকে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে জোটটি।
বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা স্বৈরাচারের পরে বিএনপি আরেকটা স্বৈরাচার কায়েম করতে চাইছে। তারা আর কোনো দলকে দাঁড়াতে দেবে না। এটা যদি হয়, তাহলে বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে।’ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম এ মন্তব্য করেন। সিলেটের গোলাপগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সিলেটে ফেরার পথে তাকে বহনকারী গাড়িতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কথা বলেন। এনসিপি নেতাদের ভাষ্য, বেলা পৌনে তিনটার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে সভা শেষে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ি মিলনায়তন এলাকা ত্যাগ করছিল। তখন কয়েকজন ব্যক্তি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তার গাড়ি লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছুড়ে মারেন। এতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। পরে পাঁচমাইল এলাকায়ও দ্বিতীয় দফায় হামলা হয়। তখন গাড়িতে থাকা যুবশক্তির সিলেটের সাবেক দপ্তর সম্পাদক তারেক জামিল চোখে আঘাত পান। দুই দফা হামলার ঘটনায় সারজিস আলমসহ এনসিপির নেতা-কর্মীরা ছাত্রদলকে দায়ী করছেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে সারজিসসহ অন্যরা সিলেট সার্কিট হাউসে আসেন। হামলায় চোখে আঘাত পাওয়া নেতাকে দেখিয়ে সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এরা (বিএনপি) এখন চোখ চায়। শেখ হাসিনা ছিল রক্তপিপাসু। এই তারেক রহমানের ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হচ্ছে চোখপিপাসু। একজনের চোখ হবিগঞ্জে তুলে নিছে, আরেকজনের চোখ নেওয়ার জন্য চোখে বাড়ি (আঘাত) মারছে।’ তিনি বলেন, ‘পাঁচমাইল জায়গায় রড নিয়া আসছে, চাপাতি নিয়া আসছে। আমাদের কাছে ভিডিও পর্যন্ত আছে। বিএনপির ওই সন্ত্রাসীরা রড-চাপাতি দিয়ে আমাদের গাড়িতে মারছে।’ বিএনপির নেতা-কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমাদের গাড়ির গ্লাসগুলোকে কীভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। যেই গ্লাসটা ভাঙল, ওই গ্লাস দিয়ে যদি আরেকটা ইটও আসত, অন্য কিছু না, ওই ইটটা লাগলে ওইখানে একজন মানুষ মারাও যেতে পারত। এভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে যে আক্রমণগুলা করছে, এর মধ্য দিয়ে বিএনপি কিংবা তারেক রহমান আমাদের কী বার্তা দিতে চান? তিনি কি চান, বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ করে দিক, তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিক?’ এ সময় হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তবে সারজিসের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের একজনও থেকে থাকলে তারা দেখাক। তারা নেতা-কর্মীদের নিয়ে কোনো কথা বললেও বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। নিহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন; কিন্তু আহত ব্যক্তিদের কারও সঙ্গে দেখা করেননি, সেখান থেকেই ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছেন। এ সময় এনসিপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কথা বলেন। তারা এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে নির্ধারিত জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তারা কানাইঘাট উপজেলায় পূর্বনির্ধারিত জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িবহর নিয়ে রওনা হন। সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এনসিপির গাড়িবহর জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকা অতিক্রম করছিল। এনসিপির নেতাদের গাড়িতে হামলার বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, গোলাপগঞ্জে এনসিপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করেছে। ফেরার পথে কে বা কারা ঢিল মেরে গাড়ির কাচ ভেঙে দিয়েছে। এটা বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। তবে বিষয়টি তদন্ত করে যে বা যারাই জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপির স্থানীয় নেতারা জানান, কানাইঘাটের পর ওসমানীনগর উপজেলায় জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে এনসিপি নেতাদের যোগ দেওয়ার কথা আছে। এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে দলটি।
নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের অধীনে দায়ের করা চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, আসামিকে কারাগারে পাঠানো নয়—এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ধরনের মামলায় কারাদণ্ড শুধুমাত্র বিশেষ ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে দেওয়া উচিত। ‘মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলায় বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২২ জুলাই এ রায় দেন। রায়ের লিখিত অনুলিপি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বহাল রাখা হলেও আসামির ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বাতিল করা হয়েছে। ‘কারাদণ্ড কঠোর শাস্তি, অর্থ আদায়ই আইনের উদ্দেশ্য’ রায়ে হাইকোর্ট বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলার মূল লক্ষ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পাওনা অর্থ আদায় নিশ্চিত করা। কারাদণ্ড এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য নয় এবং তা কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আদালত ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির উল্লেখ করে বলেন, চেক ডিজঅনার মামলায় কারাদণ্ড একটি অত্যন্ত কঠোর শাস্তি, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনটির উদ্দেশ্য পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে না। আদালত ওই নীতির সঙ্গে পূর্ণ একমত পোষণ করেন। যেভাবে শুরু হয় মামলা মামলার নথি অনুযায়ী, গবাদিপশুর ব্যবসার জন্য মো. আলাউদ্দিন বরিশালের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। পরে ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি রূপালী ব্যাংক, বরিশাল বাজার রোড শাখার একটি চেক দেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা ডিজঅনার হয়। এরপর আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় ২০ ডিসেম্বর ২০২০ এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকেনি ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত মো. আলাউদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। পরবর্তীতে অর্থদণ্ডের অর্ধেক অর্থ জমা দিয়ে তিনি আপিল করেন। তবে আপিল আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের অর্থদণ্ড বহাল রেখে কারাদণ্ডের অংশ বাতিল করেন। একই সঙ্গে রায়ের কপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে অবশিষ্ট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও অর্থদণ্ড পরিশোধের দায় থেকে তিনি মুক্ত হবেন না। প্রয়োজন হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়ায় বকেয়া অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান সময়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনেক বেশি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের তুলনায় বর্তমানে পত্রিকার পাতায় দেশে গুম, খুন ও ব্যাংক লুটের খবর নেই। বুধবার বিকেলে এবং আজ বৃহস্পতিবার ভোলা সদরের ইলিশা ও রাজাপুরের নদী ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, গত সাড়ে চার মাসে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো গুম, খুন, হয়রানি ও রাজনৈতিক মামলা বা রাষ্ট্রীয়ভাবে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ওঠেনি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় মদদে গুম-খুন বা বড় ধরনের দুর্নীতি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ব্যক্তিগতভাবে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। ভোলার শিল্পায়নের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, শুধু গ্যাস থাকলেই শিল্প গড়ে ওঠে না। ভোলা-বরিশাল সেতুসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য ভোলাকে একটি শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা এবং এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে এমপি পার্থ বলেন, সরকার নীতিগতভাবে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। এরপর পিপিপি পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। একইভাবে ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। নদীভাঙন বিষয়ে তিনি বলেন, ভোলার শিবপুর, ইলিশা ও রাজাপুর এলাকার ভাঙন উদ্বেগজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে কাজের গতি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মনে করছি। নদীর গতিপ্রকৃতি ও কারিগরি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া এর আগে ভোলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে পার্থ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ জনবলের সংকট এবং ওষুধের বিষয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সূত্র : বাসস
পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় ওপেনএআইয়ের একটি স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এআই এজেন্ট। পরে জনপ্রিয় এআই উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে এটি। পাশাপাশি আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের উন্মুক্ত অনলাইন সেবায় প্রবেশের চেষ্টাও করেছিল সেই এআই। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করেনি ওপেনএআই। মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রকাশিত এক হালনাগাদ ব্লগ পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তদন্তে দেখা গেছে এআই মডেলটি ইন্টারনেটে উন্মুক্ত অবস্থায় থাকা কিছু লগইন তথ্য খুঁজে পেয়ে সেগুলো ব্যবহার করে বাইরের কয়েকটি সেবার ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছিল। ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশের ঘটনায় এআই মডেলটি চারটি ভিন্ন সেবার চারটি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যাতে এজেন্টের কার্যক্রমের উৎস আড়াল করা যায়। আরেকটি অ্যাকাউন্ট তথ্য সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। বাকি দুটি অ্যাকাউন্টে শুধু তথ্য দেখার অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা হয়েছিল এবং সেগুলো হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশে ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্টগুলোর মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা তাদের অন্য কোনো ব্যবহারকারীর ওপর প্রভাব পড়েছে কিনা, এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। গত সপ্তাহে ওপেনএআই স্বীকার করে, নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় তাদের চোখ এড়িয়ে ইন্টারনেটে সংযুক্ত হয়ে হাগিং ফেসে প্রবেশের উপায় খুঁজে নেয় তাদের দুটি মডেল। ঘটনাটিকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম এআই এজেন্টকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরবর্তী বড় ধাপ হিসেবে দেখা হলেও, এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে কি না, তা নিয়ে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ। এ ঘটনার পর ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। তার ভাষ্য, নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার পরিবেশ বা স্যান্ডবক্স ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার করার কাজ চলছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখার দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ বৈঠকে অংশ নেয়। বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে বেলা ১১টায় বৈঠক শুরু হয়। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন—সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার এবং শিশির মোহাম্মদ মনির। মঙ্গলবার রাতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে ইসির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সামসুল আলমের নিয়োগসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে দলের অবস্থান কমিশনের কাছে তুলে ধরা হবে। প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিলের সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়। একই সভায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখাসহ আরও কয়েকটি সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া হয়।
হবিগঞ্জে পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (২৯ জুলাই) এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এনসিপির দপ্তর সেলের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে বিএনপির সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ২৯ জুলাই (বুধবার) সারা দেশে দলীয় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। সংশ্লিষ্ট সব সাংগঠনিক ইউনিটকে কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হন। পরে তাদের পুলিশ উদ্ধার করে।
নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী কি মির্জা ফখরুলের জুতা টানার যোগ্যতা রাখেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ‘ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয়, ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘একজন বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব নাকি মন্ত্রীত্ব পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। সেখানে নাকি রাষ্ট্রপতি হবেন! সেই নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী কি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের জুতা টানার যোগ্যতা রাখেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘ফালতু কথাবার্তা বলে যে ধরনের সংস্কৃতি তৈরি করা হচ্ছে, এগুলো বন্ধ করতে হবে। ভণ্ডামি, নোংরামি বন্ধ করতে হবে। আমরা ঐক্য চাই। আর সেই ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের আন্তরিক হতে হবে।’ রাশেদ খাঁন বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা আমাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের মন্তব্য, বক্তব্য ও মিথ্যাচার করছেন, যে প্রপাগান্ডার রাজনীতি করছেন, সেগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ আস্থা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী বিনয়, নম্রতা, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে পেরেছে। তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী প্রটোকলের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি রয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সচিবালয়ে খাবারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগও সরকারের জবাবদিহি ও সাশ্রয়ী নীতির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাজধানীর মিরপুরে টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করতে এসে দেয়াল ধসে নাছিমা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। xxxমঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাছিমা বেগম মিরপুর-২ নম্বর জনতা হাউজিং এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই বহু মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ পাশের একটি ইটের দেয়াল ধসে পড়লে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ৭ থেকে ৮ জন আহত হন। তাদের মধ্যে নাছিমা বেগম গুরুতর আহত হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (জোন) মোস্তাক সরকার বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। হতাহতের সঠিক সংখ্যা এবং কী কারণে দেয়ালটি ধসে পড়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দেয়াল ধসের কারণ এবং এতে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বিভাগীয় পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের অবস্থান আগেই জানানো হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। তা সম্ভব না হলে আগামী বছরের প্রথম দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের করার কিছু নাই। এটা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশন করবে। আর আমাদের যেহেতু স্থানীয় সরকারের বিষয় আছে, এ বিষয়টা আমরা মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’ মন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদী বলেন, ‘তাদের হয় জ্ঞানের অভাব রয়েছে, নয়তো তাদের মানসিকতা সেভাবেই গড়ে উঠেছে। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।’ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি যেন গণতন্ত্র সম্পর্কে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করেন। এরপর কী ব্যবস্থা হবে, তা দেখা যাবে। জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক দল কি না, সেটি তাদেরই বিবেচনা করা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের মেয়াদ মাত্র চার মাস অতিরিক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে কৃষির উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষিখাতের জন্য বিভিন্ন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’ বিআরডিবি’র বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে রংপুর পল্লী মেলা পরিদর্শন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য তারেক রহমান ইতোমধ্যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিকে বসানো হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় এনসিপির 'জুলাই পদযাত্রা' কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা খুব ভালো করেই বুঝে গিয়েছি, তারেক রহমানকে দিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি আপনাদের লিখে দিয়ে গেলাম। আজকে এই কথা ছয় মাস পরে আপনারা আমাদেরকে খুঁজবেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, বিএনপির ছত্রছায়ায় অসংখ্য বিভিন্ন ‘খারাপ লোক’ বিভিন্ন সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছে। এমন সব ব্যক্তিদের উপজেলা প্রশাসনের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষরা উপজেলা প্রশাসনে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। ভালুকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রসঙ্গে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার স্থানীয় মানুষের ভবিষ্যৎ ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আপনার সন্তানের ভাগ্য পরিবর্তন আপনাকেই করতে হবে। এ সময় এলাকা থেকে সব ধরনের সামাজিক অনাচার দূর করতে আহ্বান জানিয়ে তিনি ভালুকায় স্থানীয়ভাবে মাদক, জুয়া, চোরাচালান ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার তাগিদ দেন। আওয়ামী লীগের বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিও জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, যদি সংস্কার বাস্তবায়িত না হয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিচার সুসম্পন্ন না হয় এবং জুলাই বিপ্লবে শহীদ ১৪শ আত্মদানকারীর রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হয়—তবে রাজপথে এনসিপি এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করব না তারেক রহমানের সরকারকে পালাইতে।
সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবির বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকার সব কিছু যাচাই-বাছাই করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। এ ভরসাটুকু প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার ওপর রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা একদিকে যেমন জনদাবিকে গুরুত্ব দেব, একইসঙ্গে কেউ অন্যায়ের শিকার হোক- সেটাও চাইব না। রোববার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সকালে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম প্রমুখ। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আরও বলেন, টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ডকুমেন্টেড উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে গেছে। এ অর্থ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক এবং সম্পদে বাংলাদেশি পরিচয়ে বিনিয়োগ করা হয়েছে। দুর্নীতির একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পিরোজপুরের একটি প্রকল্পের শুধু অর্থ পাচারই হয়নি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। এক ইঞ্চি রাস্তা নির্মাণ হয়নি। এক কেজি রড বা একশ টাকার সিমেন্টও ব্যবহার হয়নি। আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিপুল অর্থ পাচার দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। তখন প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।
দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষিতে পড়াশোনা করলেই সবাইকে শুধু সরকারি চাকরিতে যেতে হবে এমন নয়। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা, শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, কৃষিতে যারা পড়ালেখা করেন, তারা মাটির মানুষ এবং দেশপ্রেমিক। তাদের শরীর থেকে মাটির গন্ধ পাওয়া যায়। শুধু চাকরি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে বলেও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে বলেন তিনি। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প, অ্যাগ্রো বিজনেস ও উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, সরকারের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। বিগত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের অর্থনীতির ভিত্তি একেবারেই ভেঙে দিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এসব সংকট থেকে উত্তরণের মধ্য দিয়ে সরকার দেশ মেরামত করে এগিয়ে নেবে। সরকারের মূল পরিকল্পনা এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো পুনর্নির্মাণ করা। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ৪ কোটি শিক্ষিত বেকার যুবক, একটা পদের জন্য ৫ থেকে ৬ লাখ আবেদন আসে। এই সমস্যা রাতারাতি শেষ করা যাবে না। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঠামো সাজাতে হবে। অর্থাৎ কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা যায়, এসব সেক্টরে সরকার এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের, সবকিছু পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। আনএমপ্লয়মেন্ট সমস্যা বাড়ছে। তাই কৃষিতে গুরুত্ব দিয়ে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি হাব তৈরির কাজ চলছে। তিনি আরো বলেন, সরকারের পাঁচ মাস না যেতেই অনেকে অনেক কথা বলছে, কিন্তু দেশে সংকট প্রচুর বড় সংকট গ্যাস নাই, তেল নাই, জ্বালানি নাই। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি সংকট বাড়ছে। দেশেকে গ্রিন অ্যানার্জির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী। আর এসবের সুফল পাবে কৃষক। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি গবেষণায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শেকৃবির উপাচার্য ড. মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে কেনাবেচাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর করতে একাধিক নতুন সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে মেটা। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত বিক্রেতাদের জন্য আলাদা অ্যাপ, সেলফির মাধ্যমে বিনা মূল্যে পরিচয় যাচাই, নতুন ভিডিও ইন্টারফেস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) বিভিন্ন টুল। মেটার তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত পণ্য বিক্রি করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘সেলার’ নামে একটি স্বতন্ত্র অ্যাপ চালু করা হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রেতারা পণ্যের তালিকা পরিচালনা, ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিক্রির অগ্রগতি সহজে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে প্রতি মাসে ৪৩ কোটির বেশি নতুন পণ্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাই নিয়মিত বিক্রেতাদের জন্য কেনাবেচার প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করতেই এই অ্যাপ আনা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ নামে একটি বিনা মূল্যের যাচাইকরণ সুবিধাও চালু করা হবে। এতে ব্যবহারকারীরা সেলফির মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় যাচাই করতে পারবেন। যাচাই সম্পন্ন হলে তাদের প্রোফাইলে সাদা বৃত্তের মধ্যে একটি টিকচিহ্ন দেখা যাবে, যা ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ফেসবুক গ্রুপ এবং ফেসবুক ডেটিংয়েও প্রদর্শিত হবে। মেটার দাবি, এই ব্যবস্থা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রতারণার ঝুঁকি কমাবে এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়াবে। ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতাও উন্নত করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি বাজারে ফুল-স্ক্রিন ভিডিও ইন্টারফেস চালু করা হবে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে আগের ফিডভিত্তিক ভিডিও প্রদর্শন পদ্ধতিতেই ফিরে যেতে পারবেন। এ ছাড়া মার্কেটপ্লেসের সেলার অ্যাপ ও ফেসবুক গ্রুপে এআইনির্ভর নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করা হবে। এসব সুবিধার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পণ্যের বিবরণ তৈরি, গ্রুপে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে পাওয়া এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সহজে জানা যাবে। মেটা জানিয়েছে, নতুন এআইভিত্তিক টুলগুলো ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজ আরও সহজ করবে এবং ফেসবুক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নত করবে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১৮ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য আসতে পারে স্বস্তির খবর। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রস্তুত করে ৩০ জুলাই ফল প্রকাশ করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বারবার পরীক্ষার তারিখ পেছানোয় সেই উদ্বেগ আরও বাড়ছে। তবে আগামী ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুত করে ৩০ জুলাই ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, পরীক্ষার্থীদের এ অপেক্ষা ও অভিভাবকদের উদ্বেগ খুব বেশি দীর্ঘ হবে না। চলতি মাসেই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ঠিক কবে ফল প্রকাশ করা হবে, তার দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুত করতে কাজ করছেন। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ২০ তারিখের (জুলাই) মধ্যে ফল প্রকাশের চেষ্টা করেছিলাম। সেটা সম্ভব হয়নি। এখন ২৭ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে ফল রেডি করে ফেলব। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেদিন বলবে, সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বোর্ড যদি ২৮ তারিখের মধ্যে ফল প্রস্তুত করে তাহলে চলতি মাসেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব। সেটা হতে পারে ৩০ জুলাই। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ২০ মে। নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা ছিল; কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এবার ফল প্রকাশ করতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।