অন্যান্য

ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।   এর আগে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দফতরের অন্য শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।   এ ঘটনায় দেওয়া স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির লেখেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত একজন ডিআইজির মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। একই সঙ্গে বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্য (মাদক) উদ্ধার করা হয়েছে। এখান থেকেই বোঝা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে।’   তিনি লেখেন, ‘দেশের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলাবিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চাঁদাবাজির মহোৎসব, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্বয়ং পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’   তার ভাষ্য, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যাও তো রয়েছেই। এসব জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার এখন বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত। হায় সেলুকাস! আমাদের এই বাংলাদেশ! তরুণদের আরেকবার জাগতে হবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পূজার জন্য এক মাস ধরে শাড়ি জমিয়েছি: রুমিন ফারহানা

শারদীয় দুর্গোৎসবকে সর্বজনীন আনন্দের উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, গত এক মাস ধরে একটা একটা করে শাড়ি জমিয়েছি। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে এবং দশমীতে পরার জন্য। ঈদে দায়িত্ব বেশি থাকে, পূজায় ঘোরাঘুরি আর আনন্দ বেশি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।   সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।   রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গত একমাস ধরে একটা একটা করে শাড়ি জমিয়েছি। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে এবং দশমীতে পরার জন্য। সুতরাং এই আনন্দও কিন্তু কম না। ঈদে দায়িত্ব বেশি থাকে, পূজায় ঘোরাঘুরি আর আনন্দ বেশি হয়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এটা আমাদের প্রাণের উৎসব।’   তিনি বলেন, ‘আমি এসেছি আপনাদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। আমাদের আবহমান কালের সংস্কৃতি। আমরা ঈদের আনন্দ যেমন একসাথে উপভোগ করি, পূজার আনন্দও কিন্তু কম না।’   তিনি আরও বলেন, ‘সকলের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে। উৎসবের রংটা যেন উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বল হয়। এই উৎসবের রঙের মধ্যে যেন কোনো রকম কষ্টের ছাপ না পড়ে। এটা দেখবার দায়িত্ব আমাদের সকলের।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠন স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন স্থগিত রাখার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের জারি করা বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ সোমবার (১৯ অক্টোবর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের কমিটি গঠন নীতিমালা এখনো বহাল আছে। ওই নীতিমালা বহাল থাকা অবস্থায় কমিটি গঠন স্থগিতের নির্দেশ শিক্ষাবোর্ড দিতে পারে না। এর প্রেক্ষিতে রিট করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এই রিটা ফাইল করা হয়েছে।    গত ১৫ অক্টোবর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।   কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৬ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়।  

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২০, ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান | ছবি: সংগৃহীত
লুটপাট ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেওয়া হয়নি: জামায়াত আমির

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানুষ লুটপাট, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।      মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।     ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি। জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেয়ার জবাবদিহি করতে হবে।       বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘অতীতের বিভিন্ন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সাবেক একজন বিচারপতি পালিয়ে সীমান্ত থেকে কলাপাতার ওপর থাকা অবস্থায় আটক হওয়ার মতো ঘটনাও আমাদের শিক্ষা দেয়। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক নষ্ট করার পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যায় করে কেউ পার পাবে না; প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে।’     গত ১৭ বছরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন দলটির আমির। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে আমাদের ওপর ভিন্ন মাত্রার জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে শতাব্দীর নিকৃষ্ট অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তারা এক আল্লাহর ওপর অবিচল ঈমান রেখেছিলেন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বুকে ধারণ করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী মানুষের আমানত রক্ষা করবে। এই বিশ্বাস এক দিনে তৈরি হয়নি। ফ্যাসিবাদী আমলে অসংখ্য নারী-পুরুষকে জীবন দিতে হয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।’     সম্মেলনে প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘হালাল পথে জীবিকা অনুসন্ধান করতে হবে এবং সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে হবে। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন কিছু বক্তব্য দেয়া হচ্ছে, যেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর। এসব কথার জবাব দেয়ার ন্যূনতম সময় আমাদের নেই। কথার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে আদর্শ, নৈতিকতা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। এই দেশে ইসলাম কায়েম হবে, ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।’       অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইসলামী আন্দোলনের উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত লাভ বা দুনিয়াবি স্বার্থ অর্জন নয়; বরং আদর্শিক বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।       জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ তাঁদের আদর্শিক অঙ্গীকারের প্রকাশ। তার মতে, এই আয়োজন কেবল পুনর্মিলনের অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের প্রয়োজনে ও সংকটের সময়ে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২০, ২০২৬
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারের পাশের একটি ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ আবুল কালাম আজাদ মিন্টু এবং আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন।   পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিন নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থান করে দলীয় কার্যক্রম জোরদারের বিষয়েও তারা তৎপর ছিলেন বলে জানা গেছে।   এদিকে তিন নেতার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।   মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মো. আব্দুল হালিম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ঈশ্বরদী থানায় হস্তান্তর করা হবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি পাসপোর্টে আগাম ভিসা ছাড়াই যাওয়া যাবে ৩৫ গন্তব্যে

বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা? আগাম ভিসা সংগ্রহের ঝামেলা ছাড়াই বিশ্বের ৩৫টি গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশি নাগরিকদের। তবে এসব গন্তব্যে প্রবেশের নিয়ম এক নয়। কোথাও সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা রয়েছে, আবার কোথাও পৌঁছানোর পর ভিসা নিতে হয় কিংবা ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক অনুমোদন সংগ্রহ করতে হয়।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী পাসপোর্ট সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব পাসপোর্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই কতটি গন্তব্যে যেতে পারেন, তার ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করা হয়।   যেসব গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশ, অন-অ্যারাইভাল ভিসা অথবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদনের সুবিধা থাকা ৩৫টি গন্তব্য হলো— ১. ভুটান ২. ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ৩. বুরুন্ডি ৪. কম্বোডিয়া ৫. কোমোরোস ৬. কুক আইল্যান্ডস ৭. জিবুতি ৮. ডোমিনিকা ৯. ফিজি ১০. গ্রেনাডা ১১. গিনি-বিসাউ ১২. হাইতি ১৩. জামাইকা ১৪. কেনিয়া ১৫. কিরিবাতি ১৬. মাদাগাস্কার ১৭. মালদ্বীপ ১৮. মাইক্রোনেশিয়া ১৯. মন্টসেরাট ২০. নেপাল ২১. নিউয়ে ২২. বারবাডোস ২৩. রুয়ান্ডা ২৪. সামোয়া ২৫. সেশেলস ২৬. সিয়েরা লিওন ২৭. শ্রীলঙ্কা ২৮. সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস ২৯. সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিন্স ৩০. বাহামাস ৩১. গাম্বিয়া ৩২. তিমুর-লেস্তে ৩৩. ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ৩৪. টুভালু ৩৫. ভানুয়াতু   পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানে ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২৫ সালে দেশটির অবস্থান ছিল ১০০তম। এর আগে ২০২৪ সালে ৯৭তম, ২০২৩ সালে ১০১তম, ২০২২ সালে ১০৩তম এবং ২০২১ সালে ১০৮তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে অবস্থান ছিল ৯৮তম। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী সূচকে সিঙ্গাপুর শীর্ষস্থান দখল করেছে। দেশটির পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের সর্বাধিকসংখ্যক গন্তব্যে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা পান।   ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ থাকলেও সব দেশে প্রবেশের শর্ত একই নয়। কোনো কোনো গন্তব্যে পৌঁছে ভিসা নিতে হয়, আবার কোথাও অনলাইনে নিবন্ধন বা ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। তাই বিদেশযাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইট বা দূতাবাস থেকে সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি পাসপোর্টের পর্যাপ্ত মেয়াদ, ফিরতি টিকিট, আবাসনের তথ্য, ভ্রমণ ব্যয়ের সামর্থ্যের প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি। মনে রাখতে হবে, আগাম ভিসা না লাগা মানেই শর্তহীন প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। ভ্রমণের তারিখ ও গন্তব্য অনুযায়ী প্রবেশের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্যর্থতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, ফাঁদে পড়লেন ইশরাক : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, মাদক বন্ধের উদ্যোগ নিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতায় ফাঁদে পড়েছেন ইশরাক।   সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ইশরাক ভাই নতুনভাবে রাজনীতিতে নেমেছেন। উনার মতলব ভালো ছিল, মাদকের বিষয়টি যাতে বন্ধ হয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতায় ফাঁদে পড়লেন তিনি।’   তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। গুলি কেন খেলেন ইশরাক ভাই? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষ করেন, আরেকজন সেই পাপে ভোগেন। এটা আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা। মাঝখান দিয়ে ইশরাক ভাই ফাঁদে পড়ে গেলেন।’   দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বললেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভালো নেই। গত তিন-চার মাসের তথ্যেও বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   তিনি বলেন, ‘আজকে আমাকে “শাহবাগী হিন্দুদের নতুন ভার্সন” এ ধরনের ট্যাগ দিয়ে দিয়েন না। তারা বিষয়টা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বলেছেন। তারাও আপনাদের ভালোবাসেন, আর আপনারাও তাদের ভালোবাসেন।’   ভুল-বোঝাবুঝি দূর করতে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে বসতে হবে। তারাও আলোচনায় বসতে আগ্রহী। এভাবে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইশরাকের পদত্যাগের নির্দেশ নিয়ে গুঞ্জন, এর মধ্যেই হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট

প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের হোসেনের পদত্যাগের গুঞ্জন এবং এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ইশরাকের পদত্যাগে গুঞ্জনের মধ্যে দলের ভেতরে থাকা যেসব সঙ্গী খুশি হয়েছেন ও উল্লাস করেছেন, তাদের চেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।   পোস্টে হাসনাত লেখেন, বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টরা পড়েছেন বিপদে। গতকাল প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের কাজকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো, আবার আজকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো। লিখতে না লিখতেই জানা গেলো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ভূয়া।   হাসনাত আরও লেখেন, এখন আবার লিখতে হবে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে না বলা কেনো ভালো হয়েছে সেটি।   প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, মাঝখান দিয়ে ইশরাক চিনে গেলেন নিজের দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা সেই সঙ্গীদের, যারা তার পদত্যাগে খুশি হয়েছেন, উল্লাস করেছেন।   পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, এখন প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের উচিত পূর্ণমন্ত্রী পার্থের পদত্যাগ দাবি করা। পাশাপাশি, এই ‘মিডিয়া ক্যু’র পেছনে তার হাত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করল কনফিডেন্স পাওয়ার

প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। উত্তরবঙ্গের বগুড়া, রংপুর ও চিরিরবন্দরে অবস্থিত চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে এ সক্ষমতা তৈরি করেছে কোম্পানিটি। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জার্মান ইঞ্জিন এবং কো-জেনারেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ ইসলাম।   রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এ কোম্পানিটির রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিনিয়োগকারী, সাংবাদিক এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সামনে কোম্পানির বিস্তারিত তুলে ধরার সময় তিনি এসব কথা বলেন।   তিনি বলেন, কোম্পানিটি যাত্রা শুরুর দুই বছরের মধ্যেই চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্রের নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনা নিশ্চিত করতে নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তির আওতায় কেন্দ্রগুলো পরিচালিত হচ্ছে, যা কোম্পানিটির আয় ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।   কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জার্মান প্রযুক্তির ইঞ্জিন ও টার্বোচার্জিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি কো-জেনারেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইঞ্জিন থেকে উৎপন্ন তাপ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক দক্ষতা প্রায় ৪৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।   তিনি আরও জনান, কো-জেনারেশন ব্যবস্থায় ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপ ব্যবহার করে স্টিম টারবাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এ প্রযুক্তির ফলে কোম্পানিটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২৪ থেকে সাড়ে ২৪ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ছাড়াই উৎপাদন বাড়ানো এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে।   ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বগুড়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বড় ইঞ্জিন পরিবহন ও স্থাপন ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি ইঞ্জিনের ওজন প্রায় ৩৮০ টন হয়ায় নদীপথের সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও সেগুলো নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর জন্য বিশেষ লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হয়। এ জন্য ইঞ্জিনগুলোকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে পরিবহন করা হয়। এ কাজে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যবস্থার সমন্বয়ের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সেতু নির্মাণেরও প্রয়োজন হয়েছিল।   তিনি বলেন, ফ্রান্স থেকে প্রতিটি ইঞ্জিনের প্রায় ১০ হাজার যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে এনে সেগুলো সংযোজন ও চালু করা ছিল অত্যন্ত জটিল কাজ। পুরো প্রক্রিয়ায় সময়মতো যন্ত্রাংশ সরবরাহ, পরিবহন ও সংযোজন নিশ্চিত করতে হয়েছে।কনফিডেন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সহায়তায় এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।   খালেদ ইসলাম বলেন, ইঞ্জিনগুলো শুরু থেকে সংযোজন করার অভিজ্ঞতা কোম্পানির প্রকৌশল দলকে প্রতিটি যন্ত্রাংশের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করেছে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে নিজস্ব দক্ষতা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের প্রকল্প বাস্তবায়নেও কাজে লাগবে।   উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কোম্পানিটি নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বলে জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাঁর ভাষ্য অনযায়ী, শুধু প্রচলিত পরিবহনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহ, চট্টগ্রামে পরিবহন, সেখান থেকে ট্যাংকারের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া এবং পরে সড়কপথে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।   তিনি বলেন, এ সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৪০ টন ধারণক্ষমতার জ্বালানিবাহী লরি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগ কোম্পানিটির জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করছে।   খালেদ ইসলাম আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তি, প্রকৌশল, জ্বালানি পরিবহন ও কেন্দ্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জনই কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির অন্যতম শক্তি। এসব সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতে কোম্পানিটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।   কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসির চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে কোম্পানিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ, এলএনজি অবকাঠামো, কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্যাটারিভিত্তিক জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে গ্রুপটি।   তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল প্রায় ৩২ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল প্রায় ১৯৩ টাকা। কোম্পানির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ইপিএস প্রায় ৬৩ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ৪১৩ টাকায় উন্নীত হতে পারে। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।   এ সময় কনফিডেন্স পাওয়ারের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অবদান রাখার নতুন সুযোগ পাই। আজ আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে রয়েছে সামুদ্রিক জ্বালানি খাতের কার্যক্রম, যা এখন কনফিডেন্স গ্রুপের অন্যতম প্রধান ব্যবসায়ে পরিণত হয়েছে।   তিনি আরো বলেন, আমাদের দীর্ঘ পথচলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেয়েছি। এবিবি, সিমেন্স, রোলস-রয়েস, ম্যান এবং জিই পাওয়ারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি হলো সুশাসন, স্বচ্ছতা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা। আজ কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএসির আইপিও কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা আমাদের নিরবচ্ছিন্ন শিল্পযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছি।   কোম্পানিটির পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে বড় প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সময়মতো বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এ ক্ষেত্রে কনফিডেন্স গ্রুপের উল্লেখযোগ্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে গ্রুপটির চারটি ভিন্ন স্থানে চারটি প্ল্যান্ট পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে ডিজেলভিত্তিক প্ল্যান্ট পরিচালনা ও দূরবর্তী স্থানে জ্বালানি পরিবহন বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় গ্রুপটি এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করেছে।   তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা পেলে দক্ষ ব্যবস্থাপনা দল ও নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। জ্বালানি খাতকে ভবিষ্যতের অন্যতম মৌলিক ও সম্ভাবনাময় খাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   কোম্পানিটির আরেক পরিচালক সালমান করিম বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের সবচেয়ে লাভজনক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে কনফিডেন্স গ্রুপ। এ লক্ষ্য অর্জনে কোম্পানির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৭০ শতাংশ আসবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎস থেকে। বর্তমানে দেশের চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে কোম্পানিটির প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কক্সবাজারের লংলা এলাকায় ১০০ মেগাওয়াট এবং পঞ্চগড়ে ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুযোগ নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি।   তিনি বলেন, কনফিডেন্স গ্রুপের প্রকৌশল, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন, স্টিল ফ্যাব্রিকেশন ও বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা সৌরবিদ্যুৎ খাতে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাড়তি সক্ষমতা জোগাবে। গ্রুপটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার পিএলসি সম্প্রতি ইজিসিবির অধীনে সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুকরণের কাজের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সালমান করিম বলেন, ‘ভিশন ২০৩৫’ কেবল একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়; বরং অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান বাড়ানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।   উল্লেখ, বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে তালিকাভুক্ত হতে চায় কনফিডেন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। কনফিডেন্স পায়ার মূলত বিদ্যুৎ ব্যবসায় নিয়োজিত কোম্পানি। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে এই কোম্পানির ব্যবসা। এটি ২০১৭ সালে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করে। আর ২০২৪ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৫০ টাকা, আর ১৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা হচ্ছে এর পরিশোধিত মূলধন (আইপিও-পূর্ববর্তী)। কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি’র ১১৩ মেগায়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এটি ফার্নেস অয়েলে পরিচালিত হয়। কেন্দ্রটি ২০১৯ সালে উৎপাদনে যায়। আগামী ২০৩৪ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনা-বেচার চুক্তি রয়েছে।   কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি একটি হোল্ডিং কোম্পানি। এর অধীনে ৪টি সহযোগী কোম্পানি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেড, জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেড এবং কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেড। প্রথম তিনটি কোম্পানি ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করে। কোম্পানি তিনটির মধ্যে কনফিডেন্স পাওয়ার বগড়া লিমিটেড ও কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেডের উৎপাদনক্ষমতা ১১৩ মেগাওয়াট করে ২২৬ মেগাওয়াট। জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেডের উৎপাদনক্ষমতা হচ্ছে ৫৪.৩৬ মেগাওয়াট।   কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেড হচ্ছে কনফিডেন্স পাওয়ার ও ডোরিন পাওয়ারের যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি। চলতি বছর প্রতিষ্ঠিত এ কোম্পানি ১০০ মেগাওয়াটক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটি নির্মাণাধীন আছে।   সহযোগী কোম্পানিগুলোর মধ্যে কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া লিমিটেড, কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেড ও জোডিয়াক পাওয়ার চিটাগং লিমিটেডের ৯৯.৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। অন্যদিকে কোম্পানিটি কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেডের ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে।   আইপিওর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪শ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। উত্তোলিত তহবিলের একটি অংশ কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কনফিডেন্স ডরিন পাওয়ার লিমিটেডে ইক্যুইটি বিনিয়োগ ও ঋণের একাংশ পরিশোধে ব্যবহার করবে কোম্পানিটি।   বর্তমানে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসির বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩৯৩.১৬ মেগাওয়াট। আইপিওর অর্থ বিনিয়োগে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে এর সঙ্গে ২৬০ মেগাওয়াট সক্ষমতা যোগ হবে। তবে ফার্নেস তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালে শেষ হয়ে যাবে। সরকার চুক্তি নবায়ন করলে সেগুলো বহাল থাকবে, না হলে তা বন্ধ হয়ে যাবে।   আবার ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ পলিসির আওতায় চলতেও পারে। এছাড়া মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসির আওতায় অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করারও সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে কোম্পানিটি আরও কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার আহুত দরপত্রে অংশ নিচ্ছে। বরাদ্দ পেলে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতায় নতুন সংযোজন হবে।   চুক্তি অনুসারে, প্রকল্পভেদে সৌরবিদ্যুত কেন্দ্রগুলো ২০৪৮/৪৯ সাল পর্যন্ত সরকারের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করবে। এরপর এগুলো ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে। এছাড়া মার্চেন্ট পাওয়ারে রূপান্তরের সুযোগও থাকবে। ২০২৫ সালে প্রণীত মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালার আওতায় বেসরকারি খাতে উৎপাদিত সোরবিদ্যুত অন্য কোনো শিল্পকারখানা অথবা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে।   সর্বশেষ বছরে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩১ টাকা ৮৩ পয়সা। আগের দুই অর্থবছরে সমন্বিত ইপিএস ছিল যথাক্রমে ৩২ টাকা ৪৩ পয়সা ও ৩১ টাকা ৩৩ পয়সা। গত ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৯৩ টাকা ২৩ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১৬১ টাকা ৪৯ পয়সা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
গণমাধ্যমে পদত্যাগের খবরে প্রতিবাদ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবরকে ‘অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে তার দপ্তর। এ ধরনের সংবাদে বিভ্রান্ত না হতে গণমাধ্যম ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।   একই সঙ্গে যেসব গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে, তাদের তা প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে এ দাবি করা হয়।   প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ‘পদত্যাগ’ বা ‘তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’ মর্মে যে সংবাদটি প্রচারিত হচ্ছে, তা ‘সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।     প্রকৃত সত্য হিসেবে প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়, প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তার পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।   একটি মহল ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল’ এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ধরনের ‘কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে’ বলেও প্রতিবাদলিপিতে অভিযোগ করা হয়।   শনিবার নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়েও প্রতিবাদলিপিতে বক্তব্য দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইতোপূর্বেই তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।   ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের খবর প্রচারকে বেআইনি ও সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবাদলিপিতে। সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে খবর প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অন্যথায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এর আগে রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশিত হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   উল্লেখ্য, শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী।   তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে বলছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরাও কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। ভিডিওতে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এ ছাড়া একজন দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে নিয়ে কাউকে আটক করতে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না।   এদিকে এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। রোববার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সংরক্ষিত নারী আসন-২৩: প্রার্থী চূড়ান্তে কাল বিএনপির সাক্ষাৎকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে।   এদিন সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনসই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত ৩২৩ মহিলা-২৩ আসনের সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।   এ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী যেসব নারী মনোনয়নপত্র কিনেছেন ও জমা দিয়েছেন, তাদের সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তেলের দাম নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

সামাজিক মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সরকারবিরোধী স্ট্যাটাস ও মন্তব্য করার অভিযোগে বাগেরহাট পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার কবির রুবেলকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   বাগেরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শাহেদ আলী রবি ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদুল ইসলাম জুয়েল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাস ও মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শাহরিয়ার কবির রুবেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক মনে করেনি দলীয় নেতৃত্ব।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের কোনো কর্মকাণ্ড যথাযথ না হলে কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে তিনি দলকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পরও শাহরিয়ার কবির রুবেল অন্যান্য সরকারবিরোধী পোস্টে সহমত প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়। তার এসব কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে বিষয়টিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   এসব কারণ উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির রুবেলকে বাগেরহাট পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক পদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
শৈক্যসিং মারমা। ছবি: সংগৃহীত
বান্দরবানে ধর্ষণ মামলায় এনসিপি নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

বান্দরবানে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যসিং মারমাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে এক মারমা নারী বান্দরবান সদর থানায় শৈক্যসিং মারমা বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্ত শৈক্যচিং মার্মা বান্দরবান সদর উপজেলার মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা মংশৈপ্রু মারমা ছেলে।   মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই নারীর পাঁচ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি শহরে বসবাস করছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার দূর সম্পর্কের দুলাভাই। স্বামীর সাথে ডিভোর্স হওয়ার পর অভিযুক্ত এনসিপি নেতা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার পরিচালিত বান্দরবান শিশু পার্কের পাশের সাইনি রিসোর্টে নিয়ে গত পাঁচ মাসে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।   এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন ওই নারীকে রিসোর্টে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর একসাথে দুপুরের খাবার খান। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিয়ের বিষয়ে কথা বলার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন।   শারিরীকভাবেও নির্যাতন করা হয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন রিসোর্টে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।   জেলা এনসিপি আহবায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী বলেন, 'জেলা দলের যুগ্ম আহবায়ককে গতকালের ঘটনায় জেলা এনসিপি অত্যন্ত বিভ্রান্ত। দলের গঠন তন্ত্র এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'   বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, 'ভুক্তভোগী নারী অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বান্দরবান সদর মধ্যম পাড়া নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।'

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথমবার সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

মহাকাশে প্রথমবারের মতো এমন এক নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যা মানুষের চোখে সবুজ দেখায়। মৃতপ্রায় সূর্যের মতো নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ হোয়াইট ডোয়ার্ফ বা শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এটির সন্ধান পান তারা।   সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণ বিশ্লেষণ করে এ গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব নক্ষত্রের রং শুধু সাদা বা নীল নয়; বরং কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সবুজ কিংবা গোলাপি আভাও দেখা যেতে পারে।   গবেষণাটির প্রধান লেখক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডস বৃহস্পতিবার জানান, সাধারণ নক্ষত্রের রং মূলত তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। এ কারণে সেগুলো সাধারণত কমলা, সাদা বা নীল দেখায়। তবে শ্বেত বামন নক্ষত্রের বাইরের স্তরের ভৌত বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হওয়ায় সেগুলোর বর্ণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যেতে পারে।   কেন সবুজ দেখায় শ্বেত বামন নক্ষত্র? শ্বেত বামন হলো সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে তৈরি হওয়া অত্যন্ত ঘন অবশিষ্টাংশ। নক্ষত্রের জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে বাইরের স্তর ঝরে পড়ে এবং অবশিষ্ট কেন্দ্রটি শ্বেত বামনে পরিণত হতে পারে। গবেষকদের মতে, শ্বেত বামনের বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে অন্যান্য মৌলের মিথস্ক্রিয়ার কারণে এর বর্ণে ভিন্নতা তৈরি হয়। নক্ষত্রের জীবনকালে আশপাশের বিভিন্ন পদার্থ এর সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এই পার্থক্য দেখা দিতে পারে।   গবেষণায় শনাক্ত সবুজাভ নক্ষত্রটিতে প্রধানত ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।   শ্বেত বামনের পৃষ্ঠে লোহা, ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো মৌলও পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণত পাথুরে গ্রহ বা গ্রহাণুতে থাকে। কোনো গ্রহাণু শ্বেত বামনের খুব কাছে চলে এলে তার মহাকর্ষীয় আকর্ষণে সেটি ছিন্নভিন্ন হয়ে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষে পরিণত হতে পারে। পরে এসব পদার্থ নক্ষত্রের বাইরের স্তরে মিশে যায়।   হল্যান্ডসের মতে, এসব পদার্থ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, পাথুরে বস্তুগুলো কী কী মৌল দিয়ে তৈরি ছিল।   গ্রহের গঠন জানতেও সহায়ক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম বার্গাসার বলেন, শ্বেত বামন আশপাশের গ্রহের পদার্থকে ভেঙে নিজের মধ্যে মিশিয়ে নিতে পারে। পরে সেই পদার্থের উপাদান বিশ্লেষণ করে গ্রহটির গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।   তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা আলামত বিশ্লেষণ করে অপরাধের রহস্য উদ্‌ঘাটনের মতোই বিজ্ঞানীরা এসব অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করে গ্রহের অতীত সম্পর্কে তথ্য বের করেন। এর মাধ্যমে গ্রহ কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা বোঝার সূত্র পাওয়া যেতে পারে।   এই গবেষণায় পৃথিবী থেকে ২০ পারসেক বা প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা পরিচিত ১৫১টি শ্বেত বামন নক্ষত্র বিশ্লেষণ করেন হল্যান্ডস।   গবেষকেরা সরাসরি পৃথিবী থেকে এসব নক্ষত্রের রং দেখতে পারেন না। নক্ষত্রের আলোকে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে ভাগ করলে যে বর্ণালির সৃষ্টি হয়, তা বিশ্লেষণ করে নক্ষত্রের সম্ভাব্য রং নির্ণয় করা হয়েছে। আলোর এই বর্ণালিকে নক্ষত্রের এক ধরনের ‘আঙুলের ছাপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   গবেষণায় আরও একটি নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেটিকে প্রায় স্যামন মাছের মাংসের মতো গোলাপি দেখানোর কথা জানিয়েছেন হল্যান্ডস। নক্ষত্রটিতে কার্বন অণুর উচ্চ ঘনত্ব থাকায় এমন বর্ণ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   শ্বেত বামন নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্য বোঝার নতুন পদ্ধতি গবেষণায় সরাসরি নতুন কোনো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের চেয়ে পরিচিত শ্বেত বামন নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্য বোঝার একটি নতুন পদ্ধতি সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।   যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট স্ক্র্যানটনের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ও পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাগনেস কিম বলেন, নক্ষত্রের বর্ণালি থেকে মানুষের চোখে সেটি কেমন দেখাবে, তা নির্ণয় করা পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের একটি আকর্ষণীয় সংযোগ।   তিনি আরও বলেন, কাছ থেকে দেখা সম্ভব হলে কিছু শ্বেত বামনকে সবুজ, আবার কিছু তারাকে গোলাপি দেখাত—এটি বেশ চমকপ্রদ।   হল্যান্ডস জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণালি বিশ্লেষণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। নতুন প্রযুক্তি ও বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক জরিপের মাধ্যমে আরও দূরের নক্ষত্রের তথ্যও পাওয়া যাবে।   তার আশা, নতুন পর্যবেক্ষণের ফলে বর্ণালি-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া শ্বেত বামন নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বাড়তে পারে। এতে সবুজাভ শ্বেত বামন নক্ষত্রের সংখ্যা এক বা দুটি থেকে বেড়ে ১০ থেকে ২০টিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।   গবেষণাটি আরএএস টেকনিকস অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টস (আরএএসটিআই) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
উত্তরা রণক্ষেত্র, শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

বকেয়া বেতন পরিশোধ ও সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকে উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কসাইবাড়ি রেলগেট, জামতলা রেলগেট, আজমপুর রেলগেট ও জসিমউদ্দিন এলাকার হলি ল্যাব মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। পরে সকাল ১১টার দিকে তাঁরা উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়ক ও রাজলক্ষ্মী এলাকার আশপাশে সমবেত হয়ে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশ অবরোধের চেষ্টা করেন।   এ সময় পুলিশ বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে শিল্প পুলিশের এক সদস্য আহত হন এবং তাঁর হাত ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। পরে বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।   ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।   বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শনিবারের সংঘর্ষের পর সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং আহত ব্যক্তিদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মোঃ নাহিদ হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘ফরেন ফ্রেন্ডস ক্লাবের’ শাসনে চলছে দেশ: হাসনাত

বাংলাদেশ এখন ‘ফরেন ফ্রেন্ডস ক্লাবের’ অধীনে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।   শুক্রবার রাতে ফেইসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।   রাত ৮টার দিকে এক বাক্যে এ পোস্ট দেন হাসনাত, যেটি ইংরেজিতে লেখা।   পোস্টে কুমিল্লা-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য লিখেছেন, দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ আন্ডার দ্য গভর্ন্যান্স অব দ্য ফরেন ফ্রেন্ডস ক্লাব।   বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এখন ফরেন ফ্রেন্ডস ক্লাবের শাসনে চলছে।   তবে সেই বিদেশি বন্ধু কারা, সে বিষয়ে কিছু লেখেননি জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির এই নেতা। এ বিষয়ে ফোন করা করা হলেও তিনি ধরেননি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ডের অনিয়ম নিয়ে মুখ খুললেন হাসনাত, বললেন যা

দেশে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সংকট এবং বাজারে স্বস্তির অভাবের মধ্যে মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করে তিনি লেখেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের জন্য ৩৪২ কোটি টাকার ট্যাবলেট বা প্যাড কেনার কাজ পেতে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাতিজার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ডকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি কাজটি বাগিয়ে নেয়।’   হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘দেশে কর্মসংস্থান নাই, বাজারে স্বস্তি নাই, ইনভেস্টমেন্ট নাই—আছে শুধু মন্ত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ।’   তিনি বলেন, কোনো মন্ত্রীর ছেলে, কোনো মন্ত্রীর স্ত্রী কিংবা কোনো মন্ত্রীর ভাই—বারবার আলোচনায় আসছে ক্ষমতাবানদের স্বজনদের নাম।   হাসনাত লেখেন, একদিকে প্রধানমন্ত্রী ১৫০ টাকার দুপুরের খাবারের গল্প শুনিয়ে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার উপদেশ দিচ্ছেন, অন্যদিকে মন্ত্রীদের পরিবারকে ঘিরে উঠছে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ।   তিনি আরও লেখেন, ‘জনগণকে সাশ্রয়ের নসিহত, আর ক্ষমতাবানদের স্বজনদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ।’   পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, ‘এটাই কি তাহলে আই হ্যাভ আ প্ল্যান?’

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস

পৃথিবীতে খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি, বাড়ছে উৎপাদনশীলতা। তারপরও বিশ্বের বহু মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পান না। কারও ঘরে খাবারের অভাব, আবার কোথাও অপচয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ খাদ্য। ক্ষুধা, অপুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তার এই বৈপরীত্যের দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব খাদ্য দিবস।   দিবসটির মূল উদ্দেশ্য শুধু ক্ষুধার সমস্যা তুলে ধরা নয়; বরং সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করা। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বণ্টনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করতে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে উদ্যোগী করাও দিবসটি পালনের অন্যতম লক্ষ্য।   এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজ উদ্ভাবন, আগামীকাল পুষ্টি’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, নতুন প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রচলিত জ্ঞান ও সম্মিলিত উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই এবারের প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা।     যেভাবে শুরু বিশ্ব খাদ্য দিবসের   ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা দূর করা, পুষ্টির মান উন্নয়ন এবং কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য।   ১৯৭৯ সালে হাঙ্গেরির তৎকালীন কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী পল রোমানি বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। ওই বছর এফএওর সম্মেলনে ১৬ অক্টোবর দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮১ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।   এর মধ্য দিয়ে খাদ্যকে কেবল ব্যক্তিগত প্রয়োজন হিসেবে নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনার বার্তা দেওয়া হয়।   কেন পালন করা হয় দিবসটি?   বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের অন্যতম প্রধান কারণ ক্ষুধা ও অপুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা হলেও পৃথিবীর সব মানুষ সমানভাবে খাবার পান না। দারিদ্র্য, সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক মানুষের জন্য নিয়মিত খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে।   এফএওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৬৪৫ মিলিয়ন মানুষ এখনও ক্ষুধার মুখে রয়েছেন এবং ২.৬৯ বিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখেন না। অর্থাৎ, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও সবার জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।   এই পরিস্থিতিতে খাদ্যের সহজলভ্যতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, কৃষি উৎপাদনকে টেকসই করা এবং খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দিবসটি। পাশাপাশি ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   শুধু খাবার নয়, পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ   ক্ষুধা দূর করার অর্থ শুধু মানুষের পেটে খাবার পৌঁছে দেওয়া নয়। সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজসহ নানা পুষ্টি উপাদান। খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব এবং পুষ্টিকর খাবারের উচ্চমূল্য মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। অপুষ্টি শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ক্যালরি ও ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস থেকেও স্থূলতা এবং বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে।   এ কারণে বিশ্ব খাদ্য দিবস স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিরাপদ খাবারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়।   খাদ্য থাকলেই সবার পাতে পৌঁছায় না   খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন নয়; বরং প্রত্যেক মানুষের জন্য সব সময় প্রয়োজনীয় ও পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। কোনও পরিবার বাজারে খাবার পেলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বা মানের খাবার কিনতে না-ও পারে।   আবার সংঘাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোথাও খাদ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হলে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে। খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।   তাই খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে উৎপাদন, সরবরাহ, ক্রয়ক্ষমতা ও পুষ্টির বিষয়গুলো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বিশ্ব খাদ্য দিবস এসব চ্যালেঞ্জ সামনে এনে সবার জন্য খাদ্যের ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।   খাদ্য অপচয় রোধ করাও কেন জরুরি   খাদ্য উৎপাদনের পেছনে জমি, পানি, জ্বালানি, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়। উৎপাদিত খাবার সংরক্ষণ, পরিবহন কিংবা পরিবেশনের বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট হলে এসব সম্পদেরও অপচয় ঘটে। অন্যদিকে, পচে যাওয়া খাবার পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।   এ কারণে খাদ্য অপচয় কমানো বিশ্ব খাদ্য দিবসের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনা, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, নিরাপদ ও উপযুক্ত খাবার ভাগ করে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও পরিবহনে অপচয় কমানোর মতো উদ্যোগ খাদ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পারে।   একইসঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খাদ্য সরবরাহের দুর্বলতা দূর করাও প্রয়োজন।   বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব   বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, বাজারে খাদ্যের দাম, কৃষকের জীবনমান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি সম্পর্কিত। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   তাই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি কমানো, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা, বাজারব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশু ও মায়েদের পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্য এবং খাদ্য অপচয় রোধেও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ পারবেন আগ্রহী নারী প্রার্থীরা।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর তা যথাযথভাবে পূরণ করে আগামী শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।   উলে­খ্য, ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গত ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তার আসন শূন্য হওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলো হাসানুল হক ইনুকে

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।   বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তত্ত্বাবধানে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সার্বিক সহযোগিতায় তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।   সিআইডির পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে হাসানুল হক ইনুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলনের তোপের মুখে পড়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরই বিপদে পড়ে যান আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি-মন্ত্রীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। সেই বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা বিচারাধীন। হাসানুল হক ইনু

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আইসিটি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে সরকারি অনুদান, অনলাইনে আবেদন আহ্বান

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সৃজনশীল উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে বৃত্তি, ফেলোশিপ এবং বিশেষ অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এ সহায়তা পেতে আগ্রহী যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।   সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করতে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে আগ্রহীদের আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে গবেষণার জন্য ফেলোশিপ/বৃত্তি প্রদান এবং উদ্ভাবনীমূলক কাজের জন্য অনুদান প্রদান সম্পর্কিত (সংশোধিত) নীতিমালা-২০১৬’-এর আওতায় এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আইসিটি খাতে নতুন গবেষণা পরিচালনা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বিশেষ অবদানকে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান এ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবে।   যেভাবে আবেদন করতে হবে আগ্রহী আবেদনকারীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টাল ims.ictd.gov.bd থেকে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের অনলাইনে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে। সরাসরি কিংবা ডাকযোগে কোনো আবেদনপত্রের হার্ড কপি গ্রহণ করা হবে না। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় উল্লেখিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ না করলে আবেদন বিবেচনার সুযোগ থাকবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।   মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গুরুত্ব সরকারের এ উদ্যোগে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রচার চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের আওতাধীন সব মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও পরিচালনা কমিটিকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জানাতে এবং যোগ্য ও আগ্রহীদের আবেদন করতে উৎসাহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৪, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

প্রতীকী ছবি
প্রবাসী

কম্বোডিয়া থেকে ১৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইটের আহ্বান

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬