অন্যান্য

ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি মামলায় পি কে হালদারসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার পলাতক ১২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণের আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, পলাতক ১২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ১৮ আসামির মধ্যে ছয়জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ‘মুন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ভুয়া নথি তৈরি করেন। পরে ওই নথি ব্যবহার করে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ঋণ অনুমোদন করিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মসাৎ করা অর্থ পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়। এ ঘটনায় ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া পি কে হালদারসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পি কে হালদার এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তিনি ২০২২ সালের ১৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দেশটির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি ভারতে কারাবন্দী রয়েছেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের ‘অগ্রগতি’ দেখতে চান জামায়াত আমির

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার যে অঙ্গীকার করেছে, তার দৃশ্যমান অগ্রগতি ‘জনগণ দেখতে চায়’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান।   বন্যা পরিস্থিতি দেখতে ও বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে শুক্রবার চট্টগ্রামে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তিনি সাংবাদকিদের এ কথা বলেন।   সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেন, “দেশের চারটা বিভাগে মূলত এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগে। আর বাকি বিভাগগুলো অতটা ভালনারেবল না। কিন্তু এই চারটা বিভাগের অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে রংপুর বিভাগ বেশি হুমকিতে পড়বে যদি তিস্তার ওইদিক থেকে বাঁধ সব খুলে দেওয়া হয়।   তাহলে যেটা প্রত্যেক বৎসরই হয়, এটা দুঃখ হয়ে আছে। সেই ঝামেলাটা দেখা দেবে। এজন্য আপনারা জানেন যে, ইতোমধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।”   জামায়াত আমীর বলেন, “আমরা এখন সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি। আমরা জানি প্রজেক্টটা অনেক বড়। সময় লাগবে। কিন্তু আন্তরিকভাবে কাজটা শুরু হোক, দৃশ্যমানভাবে, জনগণ এটা দেখতে চায়।”   চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “যারা কষ্টে আছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং সরেজমিনে দেখে গিয়ে আমাদের করণীয়, সরকারে করণীয় সম্পর্কে আমাদের পক্ষ থেকে দাবি উত্থাপনের জন্য মূলত আমরা এখানে এসেছি। আমি সর্বপ্রথম সেই সমস্ত মানুষদের প্রতি সহানুভূতি জ্ঞাপন করছি এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, সম্প্রতি বন্যায় যারা নিহত হয়েছেন, পাহাড় ধসের কারণে বা বিভিন্ন কারণে।   বিশেষভাবে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন, চট্টগ্রাম মহানগরী হচ্ছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। কিন্তু একটু বর্ষা নেমে এলেই পুরা চট্টগ্রাম মহানগরীতে দুর্ভোগ দেখা দেয়। নালা নর্দমা উপচে পড়ে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার কারণে দুয়েকটা মৃত্যুর ঘটনাও গতবার ঘটেছে।”   শফিকুর রহমান বলেন, “সরকারের দায়িত্ব মূলত এগুলো সমাধান করা। কিন্তু বিরোধী দল হিসেবেও আমাদের দায়িত্ব আছে বিষয়গুলো সরকারকে ধরে দেওয়া। এবং জনগণের হয়ে দাবি আদায় করা, কাজ করা। আমাদের আজকের আসাটাও অনেকটা সেরকমের।   “আমরা ইনশাল্লাহ এখান থেকে বাঁশখালী যাচ্ছি। বাঁশখালী থেকে ফেরার পথে আমরা লোহাগাড়া এবং সাতকানিয়া যেতে চেষ্টা করব। এরপরে শহরেরও কিছু জায়গায় আমরা যাব, দেখব। আপনাদের অবস্থা দেখে আপনাদের পক্ষ থেকে, আপনাদের হয়ে আমরা যাতে কাজ করতে পারি সেই চেষ্টা করব।”   তিনি বলেন, “তাছাড়াও আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের সীমিত সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা এই বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াব। বিশেষ করে নিহত পরিবারগুলোর পাশে কিভাবে দাঁড়াতে পারি সেটা আমরা চিন্তা করছি। এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়ও যতটুকু পারি আমাদের পক্ষ থেকে দলীয় অবস্থান থেকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে আমাদের সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনকে আমরা নির্দেশ দিয়েছি। এবং কেন্দ্র থেকে আমরা এটা সমন্বয় করছি।   এরপর তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরিতে এবং সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের বকশিরখিলসহ বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা দেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।   রয়টার্স লিখেছে, বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।   ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথমবারের মত কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দিলেন ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমের লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিলেও সাক্ষাৎকার দেননি।   এর আগে ইমেইলে এনডিটিভিকে দেওয়ার সাক্ষাৎকারে এ বছরই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে এবারই তিনি সুনির্দিষ্ট সময়ের আভাস দিলেন।   বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ, দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও ফাঁসির আসামি। এক প্রশ্নের জবাবে রয়টার্সকে তিনি বলেন, "দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে।"   তার ভাষ্য, "আমার দলের নেতা-কর্মীরা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। যদি মৃত্যু আসে, আমি চাই তা আমার নিজের দেশের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।"   ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়।   জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।   ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।   এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, "তারা আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়, আমাকে ফেরত পাঠানোর জন্য তারা বারবার ভারতকে চিঠি দিচ্ছে। তবে আমি নিজেই যাব।"   রয়টার্স লিখেছে, শেখ হাসিনার এই প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিভক্তি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন বর্তমান বিএনপি সরকার দুই বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আবার শেখ হাসিনা ফিরলে তা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বরফ গলাতেও সাহায্য করতে পারে।   প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছে, শেখ হাসিনার এই মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।   “আমি সবাইকে বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরব। তোমাদেরও একদিন ফিরতে হবে। সবাই মিলে আমরা আদালতে আত্মসমর্পণ করব।”   তবে কবে দেশে ফিরবেন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ সাক্ষাৎকারে বলেননি শেখ হাসিনা।   তিনি বলেন, "আমি ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেই মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক—আর আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই।"   সাক্ষাৎকারে হাসিনা দাবি করেন, দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকা বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি কোনো আলোচনা করেননি।   "গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার কোনো গোপন আলোচনার বিষয় নয়।"   কারাগারে যেতে হলে তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই দাবি করে ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগেও তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে ফেরার পর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে এবং ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।   টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর কেন দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন, সে বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট তার বাসভবনের দিকে যখন জনতা এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন জীবন শঙ্কা থেকেই তিনি দেশ ছাড়েন।   তিনি বলেন, "যখন কোনো সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে, তখন ভুল হতেই পারে, কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দ বা ঠিক-বেঠিক বিচার করার অধিকার জনগণের। আমি সেই বিচারের ভার জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।"   দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।   নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, "তারা হয়ত আমাকে সাজা দিয়েছে এবং আমি হয়ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, তবে জনগণকে সেটা সিদ্ধান্ত নিতে দিন।   শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। তবে তার বা দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

সংবাদভিত্তিক বেসরকারি চ্যানেল সময় টেলিভিশনের পরিচালক ও সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান, সাবেক হেড অব মার্কেটিং আহসানুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকাসহ পাঁচজনের নামে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম‍্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইশরাত জাহানের কোর্ট এই পরোয়ানা জারি করেন।   মামলাকে ভিন্নখাত নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন সময় টিভির সিইও জোবায়ের বাবু। তিনি সকাল থেকেই দলবল নিয়ে আদালতে অবস্থান নেন এবং নানা ধরনের হুমকি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।   মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সময় টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের বিল বাবদ আয় করা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন মার্কেটিং বিভাগের সাবেক প্রধান আহসানুল ইসলাম ও সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকা। আর কাজে তাদের সহায়তা করেছেন সময় টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক মো. হাসান। সময় টেলিভিশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক শম্পা রহমান। সাবেক চেয়ারম্যান মোরশেদুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের আপন ভাই।    অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামলার এক নম্বর আসামি আহসানুল ইসলামের কাছে ২০২৪ –২৫ অর্থ বছরের বিজ্ঞাপনের বিলের হিসাব চাইলে নানা টালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। অবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। কিন্তু হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে যাননি। আরেক আসামি মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকাও জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু কোনো হিসাব বুঝিয়ে দেননি। প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগ অনুসন্ধান করে জানতে পারে ২০২৪ সালে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৩ টাকা আদায় যোগ্য ছিল। এই টাকা মার্কেটিং বিভাগের দুই অভিযুক্ত মওকুফ করে দিয়েছেন। তাদের এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা জানায়, মো. হাসান, শম্পা রহমান ও মোরশেদুল ইসলামের সিদ্ধান্তে এই টাকা মওকুফ করা হয়েছে। একটি বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে বিল মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হলেও মো. হাসান, শম্পা রহমান এবং মোরশেদুল ইসলাম – কেউই উক্ত বোর্ড মিটিংয়ের কোনো নথি দেখাতে পারেননি।   মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা সবাই কোম্পানিতে নিজেদের উচ্চ পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন।    এই প্রেক্ষাপটে সব আসামি আদালতে হাজির হতে ৭ জুলাই মঙ্গলবার সমন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু আসামিরা কেউ হাজির না হয়ে তাদের পক্ষে জোবায়ের বাবুকে কোর্টে পাঠান। জোবায়ের বাবু জানান অভিযুক্ত ব‍্যক্তিরা তাকে কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন।    এর আগে ৬ জুলাই সোমবার জোবায়ের বাবু আদালতে গোপনে মামলার বাদী পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। বিষয়টি বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানতে পেরে বিচারকের নজরে আনলে জোবায়ের বাবুর সেই চেষ্টা সফল হয়নি।   মঙ্গলবার আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে মো. হাসানসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
একই দিনে ভালো কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা, চালু হচ্ছে ডে নেটিং

শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ারে শিগগিরই ডে নেটিং সুবিধা চালু করা হবে। এই সুবিধা চালু হলে ভালো কোম্পানির শেয়ার একই দিনে কেনাবেচার সুযোগ পাবেন এসব শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা।   আজ বৃহস্পতিবার সকালে শেয়ারবাজারবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম বা সিএমজেএফ টকে অংশ নিয়ে এই পরিকল্পনার কথা জানান পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।   বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, সম্প্রতি ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ডে নেটিং সুবিধা চালুর প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সব শেয়ারে এ ধরনের সুবিধা চালুর বাস্তবতা নেই। তাই আমরা আপাতত ভালো মানের কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছি। শুরুতে সেটি হতে পারে ভালো মানের ৩০ কোম্পানির ক্ষেত্রে।   বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, সার্বিকভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে দুদিনের মধ্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে কাজ চলছে। এই সুবিধা চালু হলে বিনিয়োগকারীরা যেদিন শেয়ার কিনবেন, তার পরদিন বিক্রির সুযোগ পাবেন। শেয়ারবাজারে ভালো ও নতুন কোম্পানি আনতে খুব দ্রুত সরাসরি তালিকাভুক্তির সুবিধা চালু করা হবে। এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। আগ্রহী কোম্পানিগুলো এই সুবিধার আওতায় তালিকাভুক্তির আবেদন করতে পারবে। সেখান থেকে ভালো মানের কোম্পানিগুলোকে এই ব্যবস্থায় দ্রুত তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হবে। শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে এই উদ্যোগের কথা ভাবছে বর্তমান কমিশন।   শেয়ারবাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতির শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দেশের উচ্চ আদালতে আলাদা বেঞ্চ করার বিষয়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ‘বর্তমানে আমরা কারসাজির ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে তার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। তাই শেয়ারবাজার–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চ আদালতে বেঞ্চ করার উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে।’   শেয়ারবাজারের কারসাজি রোধে এক বছরের মধ্যে এআইনির্ভর সার্ভেইল্যান্স বা তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানান বিএসইসির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে এরই মধ্যে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারসাজির ঘটনায় দেওয়ানি মামলার পরিবর্তে ফৌজদারি মামলা করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বিএসইসি।   সিএমজেএফ টকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মনির হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিএমজেএফ সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
মাছের ঝোলে নারীর ছবিযুক্ত স্টিকার। ছবি : সংগৃহীত
চবির দুপুরের খাবারে মিলল নারীর ছবিযুক্ত স্টিকার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাহজালাল হলের ডাইনিংয়ে পরিবেশিত দুপুরের খাবারে নারীর ছবিযুক্ত একটি স্টিকার পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্টিকারটিতে এক নারীর ছবি এবং নিচে ‘মেথির পুষ্টি সমৃদ্ধ’ লেখা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ডাবর আমলা ব্র্যান্ডের চুলের তেলের প্যাকেটের একটি অংশ।   বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় মিয়া মাছের ঝোলে স্টিকারটি দেখতে পান।   ভুক্তভোগী হৃদয় মিয়া বলেন, ‘দুপুরে রুম থেকে বেরিয়ে হলের ডাইনিংয়ে খাবার খেতে যাই। এসময় মাছের বাটি প্লেটে ঢালতে গিয়ে স্টিকারসদৃশ ডিজাইন করা এক নারী ছবি দেখতে পাই। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ডাইনিংয়ের ম্যানেজারকে জানালে তিনি বলেন, রান্নার জন্য আনা ম্যাজিক মসলায় এটি ছিল।’   চবির শাহজালাল হল সংসদের ভিপি আলাউদ্দিন সন্দীপী বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখেছি। রাতে হল সংসদ ও চাকসুর কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদকের সমন্বয়ে বিষয়টি নিয়ে বসব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। আর তা ছাড়া খাবারের মানের উন্নতি না হওয়ায় পুরোনো ম্যানেজারকে বাদ দিয়ে নতুন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরকম যে কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে সেই ব্যবস্থাও গ্রহণ করব আমরা।’   নতুন প্রভোস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খালিদ আফজাল বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি, তবে কোনো অফিসিয়াল অভিযোগ আসেনি। যারা রান্না করেছে তাদের দাবি, এটি মসলার সঙ্গে সংযুক্ত একটি কাগজ। আমি তাদেরকে সচেতন থেকে ভবিষ্যতে কাজ করার জন্য বলেছি।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্ক্রিনশট সংস্কৃতি: এক ক্লিকে চারটি পাপ

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের বাক্‌স্বাধীনতার অবারিত সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু এই একই সুযোগ জন্ম দিয়েছে এক ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতির, যাকে বলা যায় ‘স্ক্রিনশট সংস্কৃতি’।   কারও ব্যক্তিগত চ্যাটের কথোপকথন, বহু বছর আগের কোনো ভুল মন্তব্য, বা অসতর্ক মুহূর্তের কোনো বার্তার ছবি তুলে অনলাইনে ভাইরাল করে দেওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা।   মজার বিষয় হলো, একটা স্ক্রিনশট শেয়ার করার এই একটামাত্র ক্লিকে আসলে একসঙ্গে চারটি আলাদা পাপ ঘটে যায়। কোরআন-হাদিসে প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। ৪টি স্তর ভেঙে ভেঙে দেখানো হলো।   ১. গোপনীয়তা লঙ্ঘন: অপরাধের শুরু স্ক্রিনশট সংস্কৃতি শুরু হয় আসলে স্ক্রিনশট নেওয়ার অনেক আগে থেকে। পুরোনো চ্যাট ঘেঁটে দেখা, কারও অতীতের ভুল খুঁজে বের করার চেষ্টা থেকে। এই ‘গোয়েন্দাগিরি’ নিয়ে কোরআনের নির্দেশ স্পষ্ট, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা একে অপরের গোপন অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২)   লক্ষণীয়, এই আয়াতে গোপন অনুসন্ধান আর গিবত দুটিকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে। কারণ, একটা ছাড়া আরেকটা ঘটে না। কেউ আগে খুঁজে বের করে, তারপর প্রচার করে। স্ক্রিনশট সংস্কৃতিতে এই দুটি ধাপই আছে, শুধু মাধ্যম বদলেছে—চোখ-কান দিয়ে গোয়েন্দাগিরির জায়গায় এসেছে স্ক্রল করে পুরোনো মেসেজ খোঁজা।   ২. বিশ্বাসের খেয়ানত দুজন মানুষ যখন পারস্পরিক আস্থায় কোনো কথা বলে, সেই কথোপকথন একটি আমানত। রাসুল (সা.) এই নীতি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে অতঃপর এদিক-ওদিক তাকায় (অর্থাৎ গোপন রাখার ইঙ্গিত দেয়), তবে সেই কথা একটি আমানত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৬৮)   লক্ষণীয়, এই হাদিসে শর্ত হিসেবে সুস্পষ্ট মৌখিক প্রতিশ্রুতিও চাওয়া হয়নি, বরং বলা হয়ছে যে শুধু ইঙ্গিতই যথেষ্ট। কারণ, ব্যক্তিগত পরিসরে কথা বলার মধ্যেই আস্থার ইঙ্গিত নিহিত থাকে। আর আমানতের খেয়ানত মোনাফেকির অন্যতম প্রধান চিহ্ন। মহানবী (সা.) বলেছেন, মোনাফেকের বৈশিষ্ট্য হলো, কথা বললে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, আমানতের খেয়ানত করে, আর বিবাদে অশালীন আচরণ করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪)   কারও সঙ্গে সামান্য দ্বিমত হলেই তার পুরোনো গোপন মেসেজ ফাঁস করে দেওয়ার প্রবণতা—এই মোনাফেকি বৈশিষ্ট্যেরই হুবহু ডিজিটাল রূপ।   ৩. দোষ প্রচার: পুরস্কারের বদলে শাস্তি মানুষমাত্রই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। ইসলাম এখানে দুটো বিপরীতমুখী পথ দেখিয়ে দিয়েছে—একদিকে বিশাল পুরস্কার, অন্যদিকে ভয়াবহ শাস্তি। পুরস্কারের ঘোষণা হলো, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ–তাআলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)   আর শাস্তির সতর্কবার্তা হলো, ‘হে সেই সকল লোক, যারা মুখে ইমান এনেছ, কিন্তু অন্তরে ইমান প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলিমদের গিবত করো না এবং তাদের গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করো না। কেননা যে ব্যক্তি তাদের গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করবে, আল্লাহ তার গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করবেন। আর আল্লাহ যার গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করবেন, তাকে তার ঘরের অভ্যন্তরে হলেও লাঞ্ছিত করবেন।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮০) অর্থাৎ একই কাজের দুটি সম্ভাব্য ফলাফল—গোপন রাখলে আল্লাহর সুরক্ষা, প্রচার করলে আল্লাহর কাছ থেকে একই আচরণ ফিরে আসা। স্ক্রিনশট শেয়ার করা মানে সরাসরি দ্বিতীয় পথটা বেছে নেওয়া।   ৪. যাচাই ছাড়া শেয়ার: অপবাদের অংশীদারত্ব আজকাল একটি স্ক্রিনশট আসামাত্র মানুষ সত্যতা যাচাই না করেই লাইক-কমেন্ট-শেয়ারে ভাসিয়ে দেয়। এডিটিং বা ফেক চ্যাট জেনারেটরের যুগে এই স্ক্রিনশট আসল নাকি বানানো, তা যাচাই না করেই ছড়িয়ে দেওয়া সরাসরি অপবাদ বা ‘ইফক’-এর শামিল। কোরআন বলে, ‘নিশ্চয়ই যারা চায় যে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ও কুৎসা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।’ (সুরা নুর, আয়াত: ১৯)   এখানে একটা সাধারণ ভুল ধারণা ভাঙা দরকার। অনেকে ভাবেন, ‘আমি তো শুধু শেয়ার করেছি, মূল অপরাধ তো অন্য কেউ করেছে।’ কিন্তু নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শোনে (বা দেখে), তা-ই যাচাই না করে বর্ণনা করে বেড়ায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫) অর্থাৎ যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়ার মুহূর্তেই আপনি মিথ্যাবাদীর কাতারে চলে যান, স্রষ্টার বানানো হোক বা না হোক।   চারটি কাজ একসঙ্গে রাখলে দেখা যায়, একটা স্ক্রিনশট শেয়ার করার সিদ্ধান্তে আসলে চারটে পৃথক নৈতিক ব্যর্থতা ঘটে যায়—গোপনীয়তা ভাঙা, আস্থার আমানত নষ্ট করা, দোষ গোপন করার বদলে প্রচার করা, আর যাচাই ছাড়া তা ছড়িয়ে দেওয়া। এর প্রতিটির জন্য পরকালীন হিসাব আলাদা, কিন্তু ঘটনা ঘটে একই মুহূর্তে, একটাই ক্লিকে। ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী হাততালি বা ট্রলিংয়ের আনন্দের বিনিময়ে আমরা যেন নিজের আমলনামা এভাবে নষ্ট করে না ফেলি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থী সংকটে আল হেরা কলেজের এমপিও স্থগিতের প্রস্তাব

নীতিমালা অনুযায়ী কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ও বোর্ড পরীক্ষার্থী না থাকায় রাজধানীর একটি কলেজের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) স্থগিতের সুপারিশ করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। কলেজটি খোদ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। তবুও কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নাম আল হেরা কলেজ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনের পর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এমপিও স্থগিতের সুপারিশ তুলে ধরেছেন ডিআইএ কর্মকর্তারা।   ডিআইএ‘র একজন করে শিক্ষা পরিদর্শক, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক এবং অডিটর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করেন। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে সামগ্রিকভাবে এবং মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের বিগত ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী নেই। এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ধারা ১৮ এর অনুচ্ছেদ 'ক' অনুযায়ী ৫নং ধারার ৫.৬ নং উপধারার কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর আবশ্যকীয় শর্ত পূরণ না করায় প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত, বাতিল করার সুপারিশ করা হলো।   অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি খুবই অপ্রতুল। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপে ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের বোর্ড পরীক্ষায় কাম্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী নেই। নীতিমালা-২০২৫ এর ধারা ১৮ এর অনুচ্ছেদ 'ক' অনুযায়ী ৫নং ধারার ৫ দশমিক ৭ নং উপধারার কাম্য সংখ্যক পরীক্ষার্থীর আবশ্যকীয় শর্ত পূরণ না করায় প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত, বাতিল করার সুপারিশ করা হলো। পাঠাগারে মোট পুস্তক সংখ্যা ৫২০ খানা। কাম্য পুস্তক নেই। পুস্তক সংখ্যা ৫ হাজারে উন্নীত করতে হবে বলে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়।   ডিআইএ কর্মকর্তারা প্রতিবেদনের সঙ্গে নিরীক্ষা আপত্তি তুলে ধরেছেন। নিরীক্ষা আপত্তিগুলো হলো: প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী থেকে সব প্রকার ফি, বেতন, নিজস্ব সম্পদ খাতে আয়, দান, অনুদান ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় করা হয় না। পরিচালনা, গভর্নিং বডি মনোনীত একজন সদস্যের নেতৃত্বে দু'জন সিনিয়র শিক্ষকের সমন্বয়ে অর্থ ও ক্রয় উপ-কমিটি গঠন করে যাবতীয় মালামাল ক্রয় উপকমিটির মাধ্যমে ক্রয় করতে হবে।   ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের ভ্যাট বাবদ ১১ হাজার ৮৭ টাকা, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের ভ্যাট বাবদ ১৮ হাজার ২৬৭ টাকা এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের ভ্যাট বাবদ ৯ হাজার ৩৫১ টাকাসহ সর্বমোট ৩৮ হাজার ৭০৬ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি খাতে জমা করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের নামে ভবিষ্য তহবিল চালু নেই। অবিলম্বে স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর নিজ নিজ নামে ভবিষ্য তহবিলের ব্যাংক হিসাব চালু করে নিয়মিতভাবে টাকা জমা রাখতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
চলছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ইরানে কী অবস্থায় আছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

স্থায়ী চুক্তি আলোচনা এবং ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে চলমান কর্মসূচির মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে খামেনিকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) এনসিপি, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেশটিতে যায়। তবে জানা গেছে, প্রতিনিধি দলের মধ্যে শুধু এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইরানে এখনও অবস্থান করছেন।   বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে মুঠোফোনে চ্যানেল 24-কে তিনি তার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ছয়জন প্রতিনিধি ছিলাম, এরমধ্যে পাঁচজন চলে গেছে। আমার ফ্লাইট একটু পরে ছিল, তাই আমি এখনও আছি।’   শুক্রবার সকাল সাতটায় দেশে ফিরবেন তিনি। পাটওয়ারী জানান, ইমাম খোমেনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে তিনি দেশে এসে পোঁছাবেন।  কী অবস্থায় আছেন এবং ইরানে এখন পরিস্থিতি কেমন এ বিষয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা এখানে নিরাপদে আছি। এখনও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অনেকেই এখানে আছেন। হামলা মূলত হচ্ছে ইরানের উত্তরাঞ্চলে, আমরা আছি দক্ষিণের দিকে। মাশহাদে হামলা হয়েছে, বন্দর আব্বাসে হয়েছে। তবে, আমাদের এদিকে এখনও হয়নি। আমরা সেফ আছি।’   এর আগে ফেব্রুয়ারি-মার্চে শুরু হওয়া হামলার ধ্বংসাবশেষ নিজ চোখে দেখেছেন বলেও জানান পাটওয়ারী। বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি-মার্চে চালানো হামলায় অনেক ভবন ধসে পড়েছে, সেগুলো দেখেছি। তবে বর্তমানে এখানে মানুষের জীবনযাত্রা, সবকিছুই স্বাভাবিক আছে। অস্বাভাবিক কিছু এখনও চোখে পড়েনি। যেভাবে মিডিয়ায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাস্তবে এ ধরনের কোনো কিছু দেখছি না।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
বৃষ্টির দিন মানেই কি খিচুড়ি, বিরিয়ানি কেন নয়!

বৃষ্টির দিনে জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ, ভেজা মাটির গন্ধ, দূরে গাছের পাতায় জমে থাকা পানির ফোঁটা—সব মিলিয়ে মনটা অদ্ভুত এক নরম অনুভূতিতে ভরে ওঠে। আর ঠিক তখনই অনেকের মনে পড়ে এক প্লেট ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ির ছবি। আশ্চর্যের বিষয়, এমন দিনে বিরিয়ানির মতো জনপ্রিয় খাবারও যেন খিচুড়ির কাছে হার মেনে যায়। এটি শুধু খাবারের পছন্দ নয়, বরং স্মৃতি, আবেগ আর সংস্কৃতির এক গভীর সম্পর্ক। একই সঙ্গে রয়েছে খাবারের ধরন, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া স্বাদ এবং মানসিক স্বস্তির বিষয়ও।   খিচুড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শৈশব অনেকের কাছেই বৃষ্টির দিনের প্রথম স্মৃতি হলো মায়ের রান্নাঘর। কড়াইয়ে ভাজা মুগ ডালের ঘ্রাণ, চালের সঙ্গে ফুটতে থাকা খিচুড়ি, পাশে ডিম ভাজা কিংবা ইলিশ মাছের পাশাপাশি গরুর মাংস—এই দৃশ্য অনেক পরিবারেরই পরিচিত। খাবারের স্বাদ শুধু জিভে নয়, মনে গেঁথে থাকে। তাই বড় হওয়ার পরও বৃষ্টি নামলেই মানুষ অজান্তেই সেই পরিচিত স্বাদের কাছেই ফিরে যেতে চায়।   অন্যদিকে বিরিয়ানির স্মৃতি অনেক সময় জড়িয়ে থাকে দাওয়াত, বিয়ে,উৎসব বা বাইরে কোথাও খেতে যাওয়ার সঙ্গে। বিরিয়ানি আনন্দের খাবার, আয়োজনের খাবার; কিন্তু খিচুড়ি যেন অনেক বেশি ঘরোয়া, আপন আর স্মৃতিময়। বৃষ্টির দিনে মানুষ যখন বাইরে নয়, বরং ঘরের ভেতরের উষ্ণতায় ডুবে থাকতে চায়, তখন খিচুড়িই যেন বেশি স্বাভাবিকভাবে মনে আসে।   আবহাওয়ার সঙ্গেও আছে সম্পর্ক বৃষ্টির দিনে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়, পরিবেশ হয় কিছুটা ঠাণ্ডা। এমন সময়ে ধোঁয়া ওঠা গরম খিচুড়ি শরীরকে আরাম দেয়। ডাল, চাল, সবজি ও মসলার মিশ্রণে তৈরি এই খাবার সহজপাচ্যও বটে। তাই অনেকেই বর্ষার দিনে ভারী বা তেল-মসলাযুক্ত খাবারের বদলে খিচুড়িকেই বেশি স্বস্তিদায়ক মনে করেন।   সেই জায়গায় বিরিয়ানি নিঃসন্দেহে সুস্বাদু, কিন্তু এটি তুলনামূলকভাবে একটু ভারী খাবার। মাংস, তেল, ঘি, গরম মসলা—সব মিলিয়ে বিরিয়ানির স্বাদ যেমন গভীর, তেমনি এটি বেশ সমৃদ্ধও। ফলে বর্ষার অলস, নরম আবহে অনেকের কাছে খিচুড়ির হালকা উষ্ণতা বেশি আরামদায়ক মনে হয়, যেখানে বিরিয়ানি অনেকটা বিশেষ আয়োজনের স্বাদ বহন করে।   বিরিয়ানি সুস্বাদু, তবু কেন খিচুড়ি বিরিয়ানি নিঃসন্দেহে উৎসবের খাবার। জন্মদিন, দাওয়াত বা বিশেষ আয়োজন—এসবের সঙ্গে বিরিয়ানির সম্পর্ক গভীর। কিন্তু বৃষ্টির দিনের অনুভূতি একটু অন্যরকম। সে দিন মানুষ অনেক সময় উৎসব নয়, খোঁজে ঘরের উষ্ণতা। আর সেই উষ্ণতার প্রতীক হয়ে ওঠে এক প্লেট খিচুড়ি।   খিচুড়ির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সহজাত আন্তরিকতা। এটি যেন রান্নাঘরের ধোঁয়া, পরিবারের আড্ডা আর বৃষ্টিভেজা দুপুরের সঙ্গে মিশে থাকা এক স্বাদ। অন্যদিকে বিরিয়ানি অনেক বেশি জমকালো, অনেক বেশি উৎসবকেন্দ্রিক। ফলে দুই খাবারই প্রিয় হলেও, অনুভূতির জায়গা থেকে বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি একটু আলাদা হয়ে ওঠে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই ছবি বর্ষা এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় একই দৃশ্য—ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ির ছবি, সঙ্গে বৃষ্টি দেখার মুহূর্ত। অনেকেই মজা করে লেখেন, ‘বৃষ্টি আর খিচুড়ি—এ এক অলিখিত নিয়ম।’ যদিও এটি নিছক রসিকতা, তবু এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের খাদ্যসংস্কৃতি ও পারিবারিক অভ্যাস।   মজার বিষয় হলো, বিরিয়ানি নিয়ে ভালোবাসা বা উচ্ছ্বাস সারা বছরই থাকে, কিন্তু বৃষ্টির দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় খিচুড়িই যেন প্রধান হয়ে ওঠে। কারণ এই খাবারটি কেবল স্বাদের নয়, বরং মৌসুমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনুভূতিরও অংশ।   বৃষ্টির দিনে বিরিয়ানি নাকি খিচুড়ি এমন প্রশ্নের জবাবেগণমাধ্যমকর্মী রিফাত আরা রিতু বলেন, ‘সপ্তাহজুড়ে অফিসের ব্যস্ততা থাকে। কিন্তু ছুটির দিনে বৃষ্টি নামলে মায়ের হাতের খিচুড়ির কথাই খুব মনে পড়ে। এখন নিজেই রান্না করি, তবু সেই স্বাদ যেন শৈশবকেই ফিরিয়ে আনে।’   সফটওয়্যার প্রকৌশলী রাফি আহমেদ বলেন, ‘বিরিয়ানি আমার খুব প্রিয়। কিন্তু বৃষ্টির দিনে বউ যদি জিজ্ঞেস করে কী খাব, আমি বিন্দুমাত্র না ভেবে বলি—খিচুড়ি। কারণ এই খাবারের সঙ্গে একটা শান্তির অনুভূতি জড়িয়ে আছে।’   বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাত মানাল বলেন, ‘হল জীবনে বৃষ্টি হলেই আমরা বন্ধুরা মিলে ভুনা খিচুড়ি রান্না করি। এটা হয়তো খুব সাধারণ রান্না, কিন্তু এই আড্ডা আর একসঙ্গে খাওয়ার আনন্দটাই সবচেয়ে বড়।’   অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল করিম বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলায় বিদ্যুৎ চলে যেত, বাইরে ঝুম বৃষ্টি হতো। কুপির আলোয় পরিবারের সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। এখনও বৃষ্টি নামলে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে।’   বৃষ্টি আর খিচুড়ির সম্পর্কের কোনো বৈজ্ঞানিক সূত্র নেই, আছে হৃদয়ের সূত্র। হয়তো এ কারণেই বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেই অনেকের মনে বিরিয়ানি নয়, ধোঁয়া ওঠা এক প্লেট খিচুড়ির ছবিই ভেসে ওঠে। কারণ কিছু খাবার শুধু ক্ষুধা মেটায় না, স্মৃতি, ভালোবাসা আর পরিবারের উষ্ণতাকেও নতুন করে জাগিয়ে তোলে।   বিরিয়ানি-খিচুড়ি এই দুই খাবারের মধ্যে কে বেশি জনপ্রিয় সেই প্রশ্নের উত্তর একরকম নাও হতে পারে। কিন্তু বৃষ্টির দিনে হৃদয়ের খুব কাছের খাবারের তালিকায় খিচুড়িই যেন এগিয়ে থাকে। আর সেই তালিকায় বাঙালির খিচুড়ি নিঃসন্দেহে প্রথম সারিতেই থাকবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাটারিচালিত রিকশা: সড়ক শৃঙ্খলার বড় বাধা

ঢাকার সড়ক ব্যবস্থা বহুদিন ধরেই যানজট, অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতার এক জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে চলছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হচ্ছে নগর পরিবহনে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। একসময় অলিগলি ও আবাসিক এলাকার পরিবহন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কে দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক, এমনকি বিভিন্ন ভিআইপি সড়কেও এসব যানবাহনের উপস্থিতি এখন নিয়মিত দৃশ্য। কাগজে-কলমে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নতুন কোনো বিতর্কের বিষয় নয়। ২০১৫ সালে সরকারের এক সিদ্ধান্তে ঢাকার প্রধান সড়ক এবং দেশের ২৩টি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টও এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও রাজধানীর সড়ক এবং বিভিন্ন মহাসড়কে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—যে আইন বাস্তবে প্রয়োগই করা যায় না, সেই আইন থাকার অর্থ কী? ব্যাটারিচালিত রিকশা নিঃসন্দেহে নগরবাসীর জন্য একটি সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি লাখো মানুষের জীবিকার উৎস। কিন্তু একটি পরিবহন ব্যবস্থা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা জননিরাপত্তা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা এবং নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। দুঃখজনকভাবে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে সেই সামঞ্জস্য আজ অনুপস্থিত। কিন্তু এই সমস্যার মূল জায়গা হলো নিয়ন্ত্রণহীনতা। বর্তমানে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশার কোনো সুনির্দিষ্ট নিবন্ধন নেই, চালকদের অধিকাংশের নেই প্রশিক্ষণ, আর যানবাহনের নিরাপত্তা মান নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন।  এসব রিকশা সাধারণত স্থানীয়ভাবে তৈরি হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আধুনিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় না। ব্রেকিং সিস্টেম দুর্বল, কাঠামোগত স্থায়িত্ব সীমিত এবং গতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা অনুপস্থিত। অথচ অনেক চালক এসব যানবাহন উচ্চগতিতে চালান, যা যাত্রী ও পথচারী উভয়ের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও আহত হওয়ার সংখ্যা। আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো রাজধানীর যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল।  শুধু অলিগলি নয়, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, বাজার এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সামনেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এসব যানবাহন। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার একটি বড় অংশ কার্যত দখল করে রাখায় সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যায় এবং যান চলাচলের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামার জন্য হঠাৎ থেমে যাওয়া, মোড়ের কাছে যত্রতত্র অবস্থান নেওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে অন্যান্য যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। ফলে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।  প্রতিদিন কোটি মানুষের চলাচলের এ নগরীতে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও অকার্যকর ও বিশৃঙ্খল করে তুলছে। বিষয়টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যুৎ ব্যবহার। বিভিন্ন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার কাজে।  উদ্বেগজনক হলো, এই চার্জিংয়ের বড় একটি অংশ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বিদ্যুৎ চুরি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, বিশেষ করে যখন দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে বাস্তবতা হলো, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। তাই প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত নীতি।  প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করতে হবে এবং নিবন্ধন ও ফিটনেস ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং অবৈধ চার্জিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সেটা হিতে বিপরীত হচ্ছে । সম্প্রতি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দকে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়।  ঘটনাটি শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো উদাহরণ নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বাধার মুখে পড়তে হয়। সম্প্রতি রাজধানী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা অপসারণের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একার পক্ষে কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত ও যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লেক রোডে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা দায়ের ও যানবাহন মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডিএমপি কমিশনার জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে কেবল পুলিশের একক প্রচেষ্টায় এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘাত ও জনদুর্ভোগ এড়ানোর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে এক শ্রেণির ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকের মধ্যে আইন অমান্যের প্রবণতা বাড়ছে এবং তাদের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।  কার্যকর ও ধারাবাহিক আইন প্রয়োগের অভাবে সড়কে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হয়। ঢাকার ক্ষেত্রেও সময় এসেছে বাস্তবসম্মত, কিন্তু দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নগরবাসীর নিরাপত্তা, সড়কের শৃঙ্খলা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। ঢাকার সড়ক কারও একক সম্পত্তি নয়; এটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাই নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে হলে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। ঢাকাকে যদি সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য, নিরাপদ ও গতিশীল নগরীতে পরিণত করতে হয়, তাহলে এখনই সাহসী ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং নগর শৃঙ্খলার স্বার্থে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল বন্ধ করা আজ আর কোনো বিকল্প নয়; এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
মুক্তিপণ নিতে এসে আটক এনসিপির দুই নেতা, ছাড়াতে গিয়ে গ্রেপ্তার আরও ৩

দিনাজপুরে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অপহৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে হাতেনাতে আটক হন দুই নেতা। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে তদবির ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে পাঁচজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন্নবী। গ্রেপ্তাররা হলেন জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, পুলিশের দাবি অনুযায়ী এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য হাসীন ইসরাক মিম, মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলাম।   পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে রবিবার রাতে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে সামাদকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ডেকে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয়।   পুলিশ জানায়, তাদের থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও জাতীয় যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলামকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।   ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানায় অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন্নবী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনাটির পেছনে অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।   তবে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কেউ অপরাধ করে থাকলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রে কুমিল্লা বোর্ডে বহিষ্কার ২০, অনুপস্থিত ২ হাজার ৪২৭

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার চতুর্থ দিনে ইংরেজি (আবশ্যকি) দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় দুই হাজার ৪২৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়াও অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ২০ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সালাহ্উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   তিনি জানান, বোর্ডের অধীন কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোট ৮৫ হাজার ১৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮২ হাজার ৭০৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। অবশিষ্ট ২ হাজার ৪২৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।   এদের মধ্যে কুমিল্লায় ৮৬৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩০৪ জন, চাঁদপুরে ২১৪ জন, ফেনীতে ১৯১ জন, নোয়াখালীতে ৫৭৯ জন এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় ২৭৬ জন। উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সালাহ্উদ্দিন আরও বলেন, অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে কুমিল্লা জেলায় ৫ জন, চাঁদপুরে ১০ জন, নোয়াখালীতে ২ জন এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩ জনসহ মোট ২০ জন পরীক্ষার্থীকে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব ছাড়লেন জাবের-জুমার

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সংগঠনটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।   বুধবার রাতে পৃথক পৃথক ফেসবুক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তারা। তবে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ছাড়লেও ইনকিলাব মঞ্চের দায়িত্বে থাকবেন তারা।   শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং বিদ্যমান দলিল-দস্তাবেজের ভিত্তিতে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিদারদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জাবের এবং জুমা।   পোস্টে জাবের লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে তা শেষ করে যেতে পারেননি।’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি ‘জনতার আমানত’ হিসেবে পরিচালিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ছয় মাস ধরে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   ‘আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’— পোস্টে উল্লেখ করেন জাবের।   অন্যদিকে  ফাতিমা তাসনিম জুমা ফেসবুক পোস্টে লেখেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বাংলাদেশপন্থী সংস্কৃতির স্বার্থে ইনকিলাবে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সংগঠনটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করতে শুরু করলে তিনি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।   জুমা জানান, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর ওয়ারিশ-সংক্রান্ত জটিলতা সামনে আসে। ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা করা হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।    পরবর্তী সময়ে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে নানা আলোচনা, অপপ্রচার ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে মানসিক চাপে পড়েন।   ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা লেখেন, ‘আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’   জুমা আরও জানান, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের আগে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হলেও, এরপর থেকে তার দায়িত্বকালীন সময়ের সেন্টারের সব হিসাব দ্রুত প্রকাশ করা হবে।   ‘ইনকিলাবের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং সংগ্রাম অন্য কোনো মাধ্যমে চলবে’— যোগ করেন ডাকসুর এই নেত্রী।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বন্যার কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিতে বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলায় বুধবার (০৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় এবং দেশের অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ডে ওই দিনের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার ৮ জুলাই বুধবারের এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার সবগুলো স্থগিত করা হয়েছে।   এতে আরও বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে। এদিকে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের সব পরীক্ষা এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।   আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্র সচিব এবং পরীক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   এসময় তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর (বিসিএমইসি), বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়।   বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই পক্ষ বলেন, জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন সহযোগিতা, পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে এ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।   এছাড়াও বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। আলোচনায় তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ এবং প্রস্তাবিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।   চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির দূতাবাসের রাজনৈতিক সেকশনের পরিচালক ঝ্যাং জিং এবং পলিটিক্যাল অ্যাটাশে রু কি উপস্থিত ছিলেন।   অন্যদিকে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কমিটি ঘোষণার মাস না পেরোতেই যুবদলে অস্বস্তি

পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার এক মাসের মাথায় বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলে নেতৃত্বের ভেতরকার অস্বস্তি প্রকাশ্যে এসেছে। সারা দেশে সাংগঠনিক সপ্তাহ পালন শেষে গতকাল রোববার নয়াপল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি পর্যালোচনা সভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এমন কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করছেন না।   সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফিরোজ আবদুল্লাহকে ঘিরেই সভায় বিতর্কের সূত্রপাত। তবে ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়, সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে।   একটি সূত্রের ভাষ্য, ফিরোজ আবদুল্লাহকে যুবদলের ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। রোববারের সভায় তিনি সংগঠনের ঢাকা বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে অযাচিতভাবে মতামত প্রকাশ করলে বিতর্ক শুরু হয়।   অন্য একটি সূত্র জানায়, ফিরোজ আবদুল্লাহর মন্তব্যের পর কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম (নয়ন) তাঁকে সতর্ক করে বলেন, ‘তুমি তো সভাপতির স্বাক্ষরে সহসভাপতি হয়েছ, ঠিকঠাকমতো চলবে।’   নুরুল ইসলামের এমন মন্তব্যে বিব্রত হয়ে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান ফিরোজ। পরে যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম (মুন্না) তিনজন নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা হলেন যুবদলের সহসভাপতি কামরুজ্জামান, শামসুজ্জোহা ও মনিরুল ইসলাম। বিগত সময়ে সংগঠনে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে সভায় প্রশ্ন তোলেন যুবদলের সভাপতি। এই তিনজনকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ মনে করা হয়। এতে সভার পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।   যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয়ে মতানৈক্য হতেই পারে; কিন্তু কেউই শালীনতার বাইরে যাননি। ন্যূনতম লিমিট ক্রস করেননি কেউ।’   সাংগঠনিক সফর নিয়েও সভায় ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে বলে জানা গেছে। যুবদলের তিন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ফেরদৌস, মাহমুদুস সালেহীন ও জিয়াউর রহমান সম্প্রতি কক্সবাজারে সাংগঠনিক সফরে যান। রোববারের সভায় মাহমুদুস সালেহীন ও জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন, সেখানে তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। এ সময় কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তোলেন, কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁদের উল্লেখ করার মতো রাজনৈতিক অবস্থান বা পরিচয় নেই। এই সংখ্যা ৩০–৩৫ জনের মতো। তাঁদের বড় একটি অংশ সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পদ পেয়েছেন বলেও সভায় অভিযোগ ওঠে। নেতাদের মতে, এ কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।   গত ৪ জুন ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটি ঘোষণার এক মাসের মাথায়, ৫ জুলাই (রোববার) অনুষ্ঠিত জরুরি সভাকে ঘিরে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে প্রকাশ্য মতভেদের অভিযোগ সামনে এল।   রোববারের সভার বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা হয়েছে সভায়। অনেকে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। একটি সংগঠনের সভায় এ ধরনের কথাবার্তা হওয়া খুবই স্বাভাবিক; কিন্তু কিছু মিডিয়া যুবদল সম্পর্কে সিন্ডিকেট নিউজ করেছে। আমি অবাক হয়েছি, আমি বা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কোনো কথাই তারা বলল না। অথচ তাদের কাছে কোনো রেকর্ড নেই, ফুটেজ নেই।’   এদিকে আজ সোমবার বিকেল থেকে নয়াপল্টন কার্যালয়ে যুবদলের মুলতবি সভা আবার হয়। সেই সভা থেকে ভিডিও কলে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম। তিনি নিজ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের দেখিয়ে বলেন, তাঁরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সভা করছেন। তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।   ২৩ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত যুবদলের সাংগঠনিক সপ্তাহ পালন করা হয়। এ সময়ে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নেতৃত্বে ১০টি টিম দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগ সফর করে কর্মসূচি পালন করে। সেই কর্মসূচির মূল্যায়ন করতেই রোববার জরুরি পর্যালোচনা সভায় বসেছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মব নৈরাজ্য নিয়ে ফেসবুক পোস্টে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজের হুঁশিয়ারি

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম উগ্র ডানপন্থী বা ‌‘ফার-রাইট’ গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।   সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘খেলা শেষ, খোদা হাফেজ!’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মাজার, পত্রিকা অফিস ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ফেসবুকে মাহফুজ আলম লিখেছেন, রাইট উইং এক্টর আর কুশীলবদের ফার-রাইট এলেমেন্টস ইউজ করার ভয়ঙ্কর খেলা এখন কোন পর্যায়ে আছে? মব সন্ত্রাস, মাজার, পত্রিকা অফিস ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলায় ওদের মার্সেনারি হিসেবে ব্যবহারের ভেতর দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার করা শেষ। এখন হাত ধুয়ে ফেলবে জাশি-রাইট উইং বলয়!    তিনি আরও বলেন, গত দুই বছর কীভাবে ফার-রাইট এলেমেন্টস কথিত রাইট-উইং কুশীলবদের দ্বারা সৃষ্ট-পুষ্ট হইল, সেকুলার-মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে জুলাই নিয়ে বীতশ্রদ্ধা তৈরিতে ভূমিকা রাখলো এবং কাদের আশকারায়-‘শরিকানা’য় এসকল ফার-রাইট এলেমেন্টস জুলাইকে একটা ‘ইসলামি’-‘ঐতিহ্যবাদী’-‘পুনর্জাগরণবাদী’ বিপ্লব বানানোর স্বার্থে অনলাইনে-অফলাইনে বেমেসাল মব-নৈরাজ্য চালালো-সেসব আশা করি বিজ্ঞজন বলা শুরু করবেন।   অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আমি গত বছরের শুরু থেকেই এসব ফার-রাইট গুন্ডাতন্ত্র আর ডিজিটাল মবের বিরুদ্ধে বলেছি। সেজন্য কুশীলবদের চক্রান্ত এবং ফুটসোলজারদের দৌরাত্ম্য কম সহ্য করতে হয়নি। সামনের দিনগুলো সবার জন্য Reckoning-এর।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
কারা হেফাজতে ৬১ জনের মৃত্যু, শীর্ষে ঢাকা বিভাগ: আসক

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারা হেফাজতে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটির সংকলিত তথ্যে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে ৩৭ জন বিচারাধীন এবং ২৪ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন বিচারাধীন এবং ১৯ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি।  দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে মোট আট জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সাত জন বিচারাধীন এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি।   রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে পাঁচ জন করে বন্দির মৃত্যু হয়েছে। উভয় বিভাগেই মৃতদের মধ্যে চার জন ছিলেন বিচারাধীন এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি।  বরিশাল বিভাগে দুই জন এবং রংপুর বিভাগে দুই জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। রংপুরে মারা যাওয়া দুজনই ছিলেন বিচারাধীন বন্দি।   সিলেট বিভাগে একজন বিচারাধীন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। আর ময়মনসিংহ বিভাগে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একজন বিচারাধীন এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন।      আসকের তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসে কারা হেফাজতে হওয়া মোট ৬১টি মৃত্যুর মধ্যে ৩৭ জনই ছিলেন বিচারাধীন বন্দি, যা মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশেরও বেশি।  আসক জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য সংকলন করা হয়েছে। 

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ, প্রশাসনকে দায়ী করলেন নাহিদ

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, স্পষ্টভাবে আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে।   কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? স্পষ্টভাবে আমাদেরকে খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত সোয়া ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে বোমা বিস্ফোরণের পর তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে সমাবেশে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।   সমাবেশে ওই সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন।   বিস্ফোরণের পর নেতাকর্মীদের আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এ সময় নাবিলা তাসনিদ মাইকে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সাভার থেকে আমরা আগস্টে কর্মসূচি সমাপ্ত করছিলাম। তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করে এখানে বোমা ফুটিয়েছে।   আমরা মনে করি প্রশাসনের সহায়তায় আজকের এই পদযাত্রাকে বন্ধ করার জন্য এখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এই সরকারকে, এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই- জবাব দিতে হবে। কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেন না, তার জবাব দিতে হবে। এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা হুঁশিয়ার থাকুন। আমরা জুলাইয়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব।   জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করবো, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করব, সীমান্ত সুরক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি সফলভাবে আদায় নিশ্চিত করব। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সভার দায়িত্বে যারা ছিল—পুলিশ প্রশাসন, ডিসি—কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল? কীভাবে এটা ঘটল? এই এলাকার এমপি কী করছে? সে কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে?   তিনি বলেন, আজকে এখান থেকে আমাদের কয়েকজন ভাই গুরুতর আহত হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এখানকার স্থানীয় প্রশাসন এবং এমপিকে আমরা জবাবদিহিতার আওতায় আনব।    ঘটনার বিচার দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিচার চাই। কোনো সন্ত্রাসীর ঠিকানা এই সাভারে হবে না। যারা গণহত্যাকারীদের প্রশ্রয় দেবে, যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনিদের প্রশ্রয় দেবে, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হবে।   এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এনসিপির পদযাত্রা চলমান থাকবে। ভয়ভীতি, বোমাবাজি—সবকিছুকে উপেক্ষা করে আমাদের পদযাত্রা চলমান থাকবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত
চলতি সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঢাকা জেলা ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৃথকভাবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একইসঙ্গে কয়েকটি সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড।   দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকগুলোতে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চান তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা নিজ নিজ ইউনিটের সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দলকে আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান এসব প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।   বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আবু আশফাক এবং সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী অংশ নেন।   ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান সবার খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং নেতারা নিয়মিত পার্টি অফিসে যাচ্ছেন কিনা, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন।   সূত্র জানায়, এদিন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সঙ্গেও এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে উত্তর বিএনপির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।   একই দিনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও একটি পৃথক বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে সংগঠনের সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান। বৈঠকে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে জোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা রাতে যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান বৈঠককালে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা সম্পকে বিস্তারিত জানতে চান। পরে তিনি বর্তমান কমিটির নেতাদের বিদায় দেন। আশা করছি, শিগগিরিই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।   দলীয় সূত্র আরও জানা যায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ছাত্রদলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক করার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে সাংগঠনিক নির্দেশনার পাশাপাশি নতুন কমিটিও আসতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে নেইমার-ভিনিসিয়াস। ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

পুরো ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত নেইমার, জানালেন আনচেলত্তি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬