কোনো অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই গণমাধ্যমের সামনে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বক্তব্য প্রদান ও তা প্রচারের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি দায়ের করা হয়। রিট আবেদনে তদন্ত কিংবা অনুসন্ধানাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটির পক্ষ থেকে অতীতে প্রচারিত এ ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আরজি জানানো হয়েছে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় দায়ের করা এই রিট পিটিশনে (নম্বর: ১৩৮৮৫/২০২৬) দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা এ আবেদনটি দাখিল করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক জানান যে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, কোনো অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণ হতে পারে অনুসন্ধান সমাপ্তির পর; অনুসন্ধান শুরুর আগেই এমন মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার কমিশনের কর্মকর্তাদের নেই। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই বক্তব্যের পর ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টিকে অসাবধানতাবশত বলা বা ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বলে মন্তব্য করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বার্তা আদান-প্রদানের গ্রুপে এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে গণমাধ্যমে এর কোনো আনুষ্ঠানিক ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও তা আমলে না নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি ব্রিফিং করেন। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র ও বিদেশে অর্থপাচারসহ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক নতুন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। দুদকের এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের আলোকেই প্রশাসনিক আদেশে নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া যে ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির কথা বলা হচ্ছে, তা আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রায় পাঁচ মাস পর (১১ মে ২০২৬) কার্যকর হয়। ফলে এই প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ত থাকার কোনো আইনগত বা বাস্তবিক সুযোগ নেই। রিটে অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসিফ মাহমুদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এই ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হচ্ছে। কমিশনের কর্মকর্তাদের এমন আচরণ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার এবং সংস্থাটির ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে ন্যাম ভবনের বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে। রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার আদালতকে এ তথ্য জানান তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এদিন দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় নজরুলকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য দিয়েছেন। দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে এদিন নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আবেদনে বলা হয়, “গাজী নজরুল ইসলামকে রিমান্ডে বলেছেন যে, মামলার বাদী (মরিয়মের বাবা) তার আত্মীয় এবং সম্পর্কে ভাগ্নে। মরিয়ম সম্পর্কে আসামির নাতনি। নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলেই বাদীর বাসায় রাত্রিযাপন করতেন এবং তার সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। সেই সুবাদে মরিয়মের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে এবং নজরুল ইসলাম মরিয়মকে বিয়ে করেন।” জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ বলেছে, গত ১৭ জুন নজরুল ইসলাম মরিয়মকে ধর্মীয় নিয়মে বিয়ে করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজ এলাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি করেন। আবেদনে পুলিশ বলেছে, মরিয়ম ও আরেক আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে ন্যাম ভবনে বসবাস করতেন নজরুল ইসলাম। “মরিয়ম মাঝে মাঝে নজরুল শয়নকক্ষের পাশে বেলকনিতে ঘুমাতেন।” জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে ‘আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ আদালতকে বলেছে। নজরুল ইসলামের পক্ষে তার আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, "আসামিকে প্রথমে রিমান্ডে নেয় থানা পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো সম্পৃক্ততা, এমনকি প্ররোচনার বিষয়ে কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। এরপর ডিবি পুলিশও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারাও কোনো অগ্রগগতিমূলক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। কাজেই আসামি জামিন পাওয়ার যোগ্য।” গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এক দিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় নজরুল ইসলামকে আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত। সেই রিমান্ড শেষে সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হলো। সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলোচনায় আসেন গত ২০ জুলাই। সেদিন রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।
রাজধানীর মিরপুরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন। ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা সহায়তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। এটা দিয়ে শুরু, এটা শেষ নয়।’ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজন হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও যদি কিছু করতে হয়, তাহলে আমরা করব ইনশাআল্লাহ।’ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘নিশ্চয়ই সরকারী দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।’ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আর কোনো দুর্বৃত্ত যেন দেশের কোথাও কোনো অসামাজিক, অপকর্ম করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই দেশজুড়ে মব সন্ত্রাস চলছে।’ পাশাপাশি রাড্ডার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন, শাহ আলম তুহিন, ডা. মঈনুদ্দিন, জি এম হাফিজুর রহমান ও মনিরুল ইসলাম মৃধাসহ অনেকে।
সাপকে বিশ্বাস করা গেলেও জামায়াতকে বিশ্বাস করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির বলেছিলেন বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবেন, অথচ সারা পৃথিবী বলে জামায়াতের মতো মুনাফেক দল পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নি। রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নাশকতা, নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাসের প্রতিবাদে নানারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ফজলুর রহমান বলেন, বিএনপিকে এবং তারেক জিয়াকে ক্ষমতায় রাখতে চাইলে নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও ক্ষমতার দাপট দেখানো বন্ধ করতে হবে, কারণ বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সচেতন। বিগত দুই বছরে কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা থেকে তওবা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমান কখনো মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারেন না; তাই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে তার পাশে দাঁড়াতে হবে।
পুরুষের শার্টে সাধারণত বোতাম থাকে ডান পাশে, আর নারীদের পোশাকে দেখা যায় বাম পাশে। পোশাকের এই পার্থক্য বহুদিনের হলেও এর সঠিক কারণ নিয়ে এখনো একক কোনো ব্যাখ্যা নেই। ইতিহাসবিদ ও পোশাক বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন। পুরুষের পোশাকে ডান পাশে বোতাম কেন? ফ্যাশন ইতিহাসবিদদের একটি মত হলো, পুরুষের পোশাকে ডান দিকে বোতাম থাকার সঙ্গে সামরিক পোশাক ও অস্ত্র ব্যবহারের ঐতিহ্যের সম্পর্ক রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই নকশার উৎপত্তি সামরিক পোশাকের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। শার্ট বা জ্যাকেটের ডান পাশে বোতাম থাকলে ডান হাত দিয়ে পোশাকের ভেতরে দ্রুত হাত ঢোকানো তুলনামূলক সহজ হতো বলে ধারণা করা হয়। তরবারি ব্যবহারের সঙ্গেও এর একটি যোগসূত্রের কথা বলা হয়। A Gentleman’s Wardrobe-এর পল কিয়ার্স দ্য গার্ডিয়ান-কে জানান, ঐতিহাসিকভাবে অনেক পুরুষ বাম পাশে তরবারি বহন করতেন, যাতে ডান হাত দিয়ে সেটি সহজে বের করা যায়। পোশাকের বোতামের বিন্যাসও এ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে মত রয়েছে। নারীদের পোশাকে বোতাম বাম দিকে কেন? নারীদের পোশাকে বিপরীত দিকে বোতাম রাখার পেছনেও রয়েছে একাধিক প্রচলিত ব্যাখ্যা। শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ অ্যান্ড ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ত্রয়োদশ শতকে বোতামের প্রচলন শুরু হওয়ার পর ধনী নারীদের পোশাক ছিল বেশ ভারী ও জটিল। ফলে তারা নিজেরা পোশাক পরার পরিবর্তে সাধারণত দাসী বা সহকারীর সাহায্য নিতেন। এ কারণে পোশাকের বোতাম এমনভাবে রাখা হয়েছিল, যাতে অন্য কেউ সামনে দাঁড়িয়ে সহজে সেগুলো লাগাতে পারেন। সময়ের সঙ্গে এই বিন্যাসই নারীদের পোশাকে প্রচলিত হয়ে থাকতে পারে। আরেকটি প্রচলিত তত্ত্ব অনুযায়ী, নারীরা ঐতিহাসিকভাবে বাম হাতে শিশু ধরে রাখতেন। ফলে পোশাকের বোতাম বাম পাশে থাকলে প্রয়োজনের সময় পোশাক খোলা বা বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হতে পারে—এমন ধারণাও রয়েছে। এখন কি এই নিয়ম মেনে চলা হয়? বর্তমানে পোশাক তৈরিতে ঐতিহাসিক এসব প্রচলন সবসময় অনুসরণ করা হয় না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিজাইনার নারীদের পোশাকেও ডান পাশে বোতাম ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ, নারী ও পুরুষের শার্টে বোতামের অবস্থান নিয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যাগুলোর বেশিরভাগই ঐতিহাসিক তত্ত্বনির্ভর। এর পেছনে একটি মাত্র নিশ্চিত কারণ রয়েছে—এমন প্রমাণ নেই। সূত্র: ইনসাইডার, টাইম ও দ্য গার্ডিয়ান
মিরপুরের রাড্ডায় স্বাস্থ্যসেব কেন্দ্রে হামলা নিয়ে সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেন, এই এলাকার যে গর্ভবতী মা প্রাইভেট ক্লিনিকে টাকা দিয়ে আলট্রাসাউন্ড করাতে পারেন না, তিনি এখন কোথায় যাবেন? শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন। পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, মিরপুরে যে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে সরকারের কাছে কিছু প্রশ্ন। এই প্রতিষ্ঠানটা পঞ্চাশ বছর ধরে মিরপুরের গরীব মা আর শিশুদের সেবা দিয়ে আসছে। নামমাত্র খরচে ওনারা এটা করেন। গত কয়েক বছর তার কাজের বড় অংশ মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে গেছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা লেখেন, সেখান থেকে কয়েকটা জিনিশ বারবার মাথায় আসছে। টিকা ঠিক তাপমাত্রায় না রাখলে নষ্ট হয়ে যায়। যে টিকাগুলো ফ্রিজ থেকে বের করা হয়েছে বা মেঝেতে পড়ে আছে, সেগুলো আর কোনো শিশুকে দেওয়া যাবে না। টিকার রেজিস্টার লুট হয়েছে। এই রেজিস্টার খাতায় লেখা থাকে কোন শিশু কোন টিকা পেয়েছে, কোনটা বাকি। খাতা না থাকলে অনেক শিশুর পরের ডোজ মিস হবে, কেউ খোঁজও পাবে না। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন দুটো নেই। এই এলাকার যে গর্ভবতী মা প্রাইভেট ক্লিনিকে টাকা দিয়ে আলট্রাসাউন্ড করাতে পারেন না, তিনি এখন কোথায় যাবেন? এই সপ্তাহেই সেখানে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল জানিয়ে তাসনিম জারা লেখেন, এ বছর হাম নিয়ে এত উদ্বেগের মধ্য আছি আমরা। অথচ টিকা শুরুর আগের রাতে টিকাদান কেন্দ্রটাই গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। সরকারের কাছে আমার কয়েকটা প্রশ্ন- ১. থানা থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে দুইশো মানুষ ভারী মেশিন নিয়ে একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র মাটিতে মিশিয়ে দিলো। ডিএমপি কমিশনার নিজেই বলেছেন, এটা আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার কাজ না, সময় নিয়ে করা হয়েছে। কেন্দ্রের লোকজন পুলিশকে খবরও দিয়েছিলেন। তাহলে পুলিশ তখন কী করছিল? মানুষ আপনাদের ভরসায় কীভাবে থাকবেন? ২. আগেও এই জায়গা দখলের চেষ্টা হয়েছিল, তখন পারেনি। একটি দৈনিক পত্রিকা বলছে, ২০২৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবার দখলের চেষ্টা শুরু হয়। আপনারা ক্ষমতায় এলে দখলদাররা সাহস পায় কেন? আপনাদের দলের কারা এদের আস্কারা দেয়? এদের বিচারের আওতায় না আনলে আপনাদের কোনো অর্জনের অর্থ থাকবে না। ৩. এটা কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? কুয়াকাটায় দোকান দখল, লালমনিরহাটে আদালতে বিচারাধীন জমি দখল, নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পুলিশের সহযোগিতায় বাড়ি দখল, একের পর এক অভিযোগ এসেছে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। জয়পুরহাটে দল এক নেতাকে বহিষ্কারও করেছে, সেটা ভালো। কিন্তু বহিষ্কার তো বিচারের বিকল্প না। আপনারা কি এই দখলদারি থামাতে চান, নাকি শুধু বহিষ্কার আর বিবৃতি দিতে চান? লুট হয়েছে সরকারের ইপিআই টিকা, সরকারের টিকার রেজিস্টার। মানে এটা শুধু একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না, এটা সরকারের নিজের টিকাদান কর্মসূচির ওপর হামলা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই এলাকার শিশুদের জন্য এখন কী করছে? কোন শিশুর কোন টিকা বাকি, সেটা খুঁজে বের করার দায়িত্ব কে নেবে?
মিরপুরের রাড্ডায় হাসপাতালে হামলা নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, যদি সত্যিই এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশের যোগসূত্র থেকে থাকে, তাহলে সেটি শুধু একটি জমি দখলের ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইন ও প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের একটি নগ্ন উদাহরণ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ‘মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র: ১০ কাঠা জমি দখলের জন্য পুলিশ, এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের নেক্সাস’ শীর্ষক এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা লেখেন। পোস্টে হাসনাত লেখেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের রাড্ডা হাসপাতালে নৃশংস হামলা ও দখল হয়। তথ্যমতে, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অনুসারী এবং উত্তর মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ প্রায় দুই থেকে আড়াইশো লোক নিয়ে রাড্ডা হাসপাতালে হামলা চালান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আসে সেদিন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। হাসনাত আরও লেখেন, বৃহস্পতিবার হামলার সময় হাসপাতালটির সামনে পুলিশের দুটি গাড়ি উপস্থিত ছিল বলে টেলিভিশনের খবরে দেখা গেছে। হামলা শুরু পর পুলিশ সেখান থেকে সরে যায়। মিরপুরের পুলিশের ডিসি এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করেছিলেন। ওসি তাকে জানান, একটি পক্ষের কাছে মালিকানার কাগজপত্র রয়েছে। ওসি সেই ব্যক্তিকে ডিসির সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। এর মানে হামলা করতে যাওয়া ব্যক্তিদের কেউ একজন থানায় ছিলেন বা ওসির সামনে ছিলেন। পোস্টে হাসনাত উল্লেখ করেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের আগে এই জমিটি ছিল বিহারিদের সম্পত্তি। মুক্তিযুদ্ধের পর জমিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এর মালিক হয়। গৃহায়ন ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। এরপর থেকেই ১৯৭৪ সাল থেকে এই জমিতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি নামে জমিটি গৃহায়নের কাছ থেকে লিজ নেয়। এ নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের হয়, যা এখনও চলমান। এদিকে আওয়ামী লীগের এক নেতা জমিটিকে পারিবারিক দাবি করে মামলা করেন। তারা অবশ্য পলাতক ৫ আগস্টের পর থেকে। কুমিল্লা-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য লেখেন, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি আবার দুই পক্ষ। দুই পক্ষই বিএনপি। দখলদার পক্ষটির সঙ্গে রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমদ মিষ্টি, যিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক বিএনপি কাউন্সিলর প্রয়াত সাঈদুর রহমান নিউটনের স্ত্রী ও বিএনপি নেতা নাসিরুদ্দিন পিন্টুর বোন। প্রশ্ন রেখে হাসনাত লেখেন, রাড্ডার জমির বিষয়টি একটি দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ হয়, যদি জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা ও রিট চলমান থাকে, তাহলে কোনো পক্ষ কীভাবে শত শত লোক নিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দখল বুঝে নিতে পারে? আরও বড় প্রশ্ন, পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে এমন একটি হামলা সংঘটিত হলো এবং পুলিশ কেন ঘটনাস্থল থেকে সরে গেল? আর যারা দখল নিতে এসেছিল, তাদের কাছে কাগজপত্র থাকার দাবি কি তাদের একটি চলমান আইনি বিরোধের মধ্যে নিজেরাই সম্পত্তি দখল নেওয়ার অধিকার দেয়? হাসনাত লেখেন, পুরো ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি হচ্ছে কেবল দখলের দৃশ্যমান একটি ব্যানার। এর আড়ালে প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি এমপি, পুলিশ ও দলের দ্বারা মিরপুর-১ এর ১০ কাঠা জমিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এই ১০ কাঠা জমির বর্তমান বাজারমূল্য কমপক্ষে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা বলে জানা যায়। তবে, প্রশ্ন এখানে শুধু রাড্ডা হাসপাতালের ওপর হামলা বা দখল নেওয়া নয়। প্রশ্ন হলো, ১৯৭৪ সাল থেকে যে জায়গায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে, আদালতে যার মালিকানা ও লিজ নিয়ে মামলা চলমান, সেই জায়গা কি রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তির মাধ্যমে দখল হয়ে যাবে? শেষে তিনি লেখেন, আর যদি সত্যিই এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশের যোগসূত্র থেকে থাকে, তাহলে সেটি শুধু একটি জমি দখলের ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইন ও প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের একটি নগ্ন উদাহরণ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, সবার ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার না হলেও চলবে; কিন্তু মাদকাসক্ত হওয়া যাবে না, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এ প্লাস ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তুমি বিদেশে যেতে চাও, অন্য কোনো ক্যারিয়ার গড়তে চাও—সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু পড়াশোনা দিয়ে যদি নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাও, তাহলে তোমার মূল ফলাফল হচ্ছে কলেজের রেজাল্ট। এই সময়টা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে উচ্চশিক্ষার পথও তোমার জন্য উন্মুক্ত হবে। তিনি বলেন, দুনিয়াতে সবার পড়াশোনা করতে হবে না। সবার ডাক্তার হতে হবে না, সবার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে না। কিন্তু একজনকেও মাদকাসক্ত হওয়া যাবে না। একজনকেও দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ হওয়া যাবে না। একজনকেও খারাপ মানুষ হওয়া যাবে না। নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর পুরোনো বিদ্যালয়ে এসে তিনি দেখছেন, যেসব শিক্ষক তাদের তারুণ্যের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য নিজেদের সময় ও শ্রম দিয়েছেন, তারা এখন বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই শিক্ষকরা যে আজকে বৃদ্ধ হয়েছেন, তাদের চুলে যে পাক ধরেছে—তাদের তারুণ্যটা আমাদের দিয়ে তারা বৃদ্ধ হয়েছেন। আমাদের তাদের প্রতি দায় আছে, ঋণ আছে। আমাদের মা-বাবার প্রতিও ঋণ আছে। এনসিপির এই নেতা বলেন, তোমাদের প্রতি আমাদের দাবি একটাই—তুমি বিপথে যাবে না, খারাপ পথে যাবে না। তুমি বিদেশে যাও, ডাক্তার হও, ইঞ্জিনিয়ার হও, নিজের পছন্দের যেকোনো পেশায় যাও; কিন্তু মাদকের সঙ্গে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না। কিশোর গ্যাংয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গতকালও দেবিদ্বারের কয়েকজন কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রেয়াজ উদ্দিনের ছাত্র, অক্সফোর্ডের ছাত্র ও কুমিল্লা জেলা স্কুলের ছাত্রও রয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। তারা কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার পুলিশ সুপার যখন ফোন করে বলেন, দেবিদ্বারের একটি ছেলে এই কারণে গ্রেফতার হয়েছে—এটা কি ভালো খবর? তখন আমি লজ্জিত হই। কিন্তু যদি ফোন করে বলা হতো, আপনার এলাকার একটি ছেলে ভালো কাজ করছে, তখন সেটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয় হতো। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভালো কাজের সঙ্গে তোমরা আমাকে পাবে। আর খারাপ কাজ করলে তুমি আমার ভাই হও আর যাই হও না কেন, অপরাধ করলে অন্য উপজেলার ছেলেরা যে শাস্তি পাবে, আমার উপজেলার এবং আমার স্কুলের ছেলেরা তার চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি শাস্তি পাবে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাত তুলে মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিপথগামী কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর শপথ করান তিনি। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন- দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান মজুমদার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সবুর এবং সাবেক শিফট ইনচার্জ জামাল মো. কবীর প্রমুখ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল আমিন রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশকে যারা উপনিবেশ বা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দল প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মাওলানা গাজী মো. সেলিম রেজা। রিজভী বলেন, ‘এই দেশে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির কোনো অবস্থান নেই। যারা বাংলাদেশকে উপনিবেশ করতে চায়, যারা বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্র করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে, পথে প্রান্তরে কঠিন বেরিকেড গড়ে তুলবে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দল।’ রুহুল আমিন রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের তিন প্রজন্মের যে ধারাবাহিকতা, সেটার তারেক রহমান প্রতিনিধি তিন নম্বর প্রতিনিধি। তার বাবা ১৯৮০ সালে বক্তৃতা করেছেন, তার মা ১৯৯২ সালে বক্তৃতা করেছেন। আজকে তাদেরই জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে বক্তব্য রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, অস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তিতর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতাকে পরিবর্তনের হাতিয়ার করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমান স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের মানুষ শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ হলে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ে। শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে মানুষ বেকার হয়। যারা আগুন দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল প্রতিবাদ করছে। রিজভী দাবি করেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। জনগণের জন্য ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাস ও সিএনজি অটোরিকশায় সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলার ঘটনাগুলো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি বলেন, যারা আগুন দিচ্ছে ও বোমা ছুড়ছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু। সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে। রাজপথ কারো ইজারা নেওয়া নয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতাকালে রিজভী এ মন্তব্য করেন। পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রদলের সমাবেশে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে। বাস ও সিএনজি অটোরিকশায় সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত অপরাধীরা স্বীকার করেছে যে, তারা প্রতিবেশি দেশ থেকে ফোনকলের মাধ্যমে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো, সেসব ঘটনার ছবি তোলা এবং প্রমাণের জন্য তা ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা ও অর্থ পেয়েছিল। রিজভী বলেন, এই পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদ প্রতিবেশি দেশের একটি ফোন নম্বর থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যা ষড়যন্ত্রের গভীরতা উন্মোচন করে। তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সর্বদা জাতীয় স্বার্থ ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়। সমাবেশে বক্তৃতাকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, গত ১৭ বছরে জনগণ ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসন প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একদিকে যেমন দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে, তেমনি রাজপথে ষড়যন্ত্রকারীদেরও সক্রিয়ভাবে মোকাবিলা করছে। বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সরকার যখন অর্থনীতি পুনর্গঠন ও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, তখন ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি স্বার্থান্বেষী মহল অগ্নিসংযোগ ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ছাত্র সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মী অংশ নেন।
ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটলে গণতন্ত্র তো দূরের কথা, রাষ্ট্রই আর টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি বিরোধী দলসহ সবার প্রতি জাতীয় ঐক্যের ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ আহ্বান জানান। রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে যত কর্মসূচি, বিতর্ক বা তীব্র সমালোচনা থাকুক না কেন, একটি ন্যূনতম জোটসূত্র বা বোঝাপড়ার জায়গায় কাজ করতে হবে। অন্যথায় ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না। কারণ তারা অত্যন্ত ভয়ংকর জায়গা থেকে মদদ পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের ফরেন পলিসি স্বাধীনভাবে করা এবং অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও নিজ পায়ে দাঁড়ানোর যে আস্থার জায়গাটি তৈরি হয়েছে, তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। অতীতে শেখ হাসিনার আমলে বিরোধী দলের লংমার্চ বা কর্মসূচিতে পদে পদে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ বাধা দিত এবং সাধারণ মানুষের বাস আক্রমণ করে রক্তাক্ত করা হতো। অথচ বর্তমান সময়ে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বা লংমার্চে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি, যা শেখ হাসিনার আমলে যা ছিল অবিশ্বাস্য। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা জেলায় জেলায় নির্দেশনা দিয়েছিলাম যেন বিরোধী দলের কর্মসূচিতে কেউ কোনো বাধা না দেয় এবং সেটি আমরা বজায় রেখেছি। গণতন্ত্রে বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি পালন করবে, কথা বলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা বলা নয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ‘তুই করে সম্বোধন করার সংস্কৃতি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সজীব ওয়াজেদ জয়ের কালচার। তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এভাবেই সম্বোধন করতেন। ১৭ বছর ধরে আমরা বিরোধী দলের রাজনীতি করার অধিকার হরণ এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অপপ্রচার দেখেছি। সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রোধে আমরা মার্জিত অথচ কঠিন ও তীব্র ভাষায় সমালোচনা করার চেষ্টা করছি। সভায় রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা যখন কঠিন দুর্দিনে ফ্যাসিবাদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছিলাম, তখন আল্লাহর কাছে একটাই দোয়া করতাম—কমপক্ষে হাসিনার পতন যেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেখে যেতে পারেন। গাজী ভাইও আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু হাসিনার পতন উনি দেখে যেতে পেরেছেন—এটাই বড় সান্ত্বনা। রুহুল আমিন গাজীকে 'সময়ের বিবেকের প্রতিনিধি' ও 'সত্য ভাষণের অনন্য প্রতিকৃতি' হিসেবে উল্লেখ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী আক্রমণ থেকে প্রেস ক্লাবও মুক্ত ছিল না। প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে পুলিশ যেভাবে ৬০-৭০ জন ফোর্স নিয়ে এসে তাকে গ্রেফতার করেছিল, তা এক বিরল ও ফ্যাসিবাদের চরম বহিঃপ্রকাশ। হিটলার বা মুসোলিনির আমলেও যেমন কিছু বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক ফ্যাসিজমকে সমর্থন জুগিয়েছিল, তেমনি আমাদের দেশেও অনেকে তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু রুহুল আমিন গাজী সব নিপীড়ন সহ্য করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি গণতন্ত্র ও ইসলাম পছন্দ করতেন এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেন বলেই শেখ হাসিনার শত্রু পক্ষে পরিণত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে জ্বালানি সংকট ও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, চারপাশের পরিস্থিতি এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে টেলিফোনে বোমা হামলা চালিয়ে তার ছবি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার মতো ভয়ংকর তথ্যও সংবাদে আসছে। সুতরাং, বাংলাদেশকে কোনো দেশের 'পেছনের উঠান' বা পশ্চাৎভূমিতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহি নেওয়াজ খান সাজু, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, বিএফইউজের সহ-সভাপতি একে এম মোহসিন ও খাইরুল বাশার, প্রয়াত রুহুল আমিন গাজীর ছেলে আফ্ফান আবরার আমীন প্রমুখ।
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল। মোনায়েম মুন্না বলেন, যেকোনো আচরণ করে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতে চান। ওই ‘শিশু নেতা’ বলেছেন, ১১ দলের দাবি মেনে নিলে ককটেল মারা বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে এই ককটেল কারা মারছে? সমস্ত ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ককটেল মারার হোতা হিসেবে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করতে হবে। জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের প্রসঙ্গে যুবদল সভাপতি বলেন, তার কুকর্ম ও চরিত্র দেশবাসী দেখেছে। তার কারণে গরিব পরিবারের ১৯ বছরের একটি মেয়ে সারা দেশের ট্রলের শিকার হয়েছেন। মানুষের কুৎসা রটানোর কারণে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। গত পরশু মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে, নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে? তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব ছিল এলাকার ভোটারদের নিরাপদ রাখা। কিন্তু এখানে পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে। গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মেয়েটির ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করতেন। তাকে কি মেরে ফেলা হয়েছে? বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি রিমান্ডে আছেন। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার। মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যুবদল সভাপতি বলেন, গতকাল জামায়াতের আরেক নেতা মাদ্রাসার ছাত্রের সঙ্গে আরও অন্যায় কাজ করেছেন। এই যদি হয় তাদের ধর্মের রাজনীতির নমুনা, তারা কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারলে দেশকে ধ্বংস করে দেবে এবং মানুষের জীবনকে অনিরাপদ করে তুলবে। তিনি আরও বলেন, তাদের আরেকটি মোনাফেকি হচ্ছে, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে। অতীতেও তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছিল। আমার মনে হয়, এখনো তারা গোপনে গোপনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে। মোনায়েম মুন্না বলেন, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের জনগণ চিহ্নিত করেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণকে সজাগ করতে হবে। যুবদল রাজপথে আছে এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের আছে। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনারও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান যুবদল সভাপতি। একই সঙ্গে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালাউদ্দিন আম্মারকে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, নুরুল ইসলাম সোহেল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেকসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের বিষয়ে অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মাহবুবা হাকিমের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে, তখন তারা বিষয়টি দেখবেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘এমএলএম’ ও ‘ব্যারিস্টার এট ল’ লিখেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের ভাগনি মাহবুবা হাকিম। অথচ তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। মাহবুবা হাকিম বলেন, আইন বিষয়ে তার কোনো উচ্চতর ডিগ্রি নেই। আমি বুটেক্স থেকে পাশ করেছি; বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। হলফনামার সঙ্গে ওই সনদই জমা দেওয়া আছে। আমি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী, আইন বিষয়ে আমার কোনো সনদ নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং জমা দেওয়া সনদের গড়মিল বিষয়ে মাহবুবা হাকিম বলেন, আমার মনোনয়নপত্র তোলা, পূরণ থেকে জমা- সবই দল করেছে। আমি শুধু পূরণ করা ফর্মে স্বাক্ষর করেছি। মাহবুবা হাকিমের স্বীকারোক্তি নজরে আনলে ইসি মাছউদ বলেন, কেউ অভিযোগ করলে আইনিভাবে আমরা বিষয়টি দেখব। এর আগে তো কিছু বলা যাবে না। তবে কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখন মাহবুবা হাকিম আদৌ মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন কিনা- তা দেখতে হবে। আর এজন্যই অভিযোগ প্রয়োজন। অভিযোগ পেলে কমিশন শুনানি করবে। মাহবুবা হাকিমের বক্তব্য জানতে চাওয়া হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো মিছিল বা কর্মসূচি পালন করে না—বিএনপির এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে রাজধানীর নেভিগলিতে দাঁড়িয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, সংস্কার ও বিচারের প্রধান তিনটি দাবি সরকার মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না। বিএনপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে এবং গতকালও দুটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তো বলছি আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার। ১১ দলীয় জোট শুরু থেকেই এই অবস্থান নিয়ে কথা বলে আসছে।’ আন্দোলনের মূল ইস্যুগুলো তুলে ধরে এনসিপির এই মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাইয়ের ঘটনার বিচারসহ নির্দিষ্ট তিনটি দাবিতে আমরা রাজপথে আছি। কিন্তু সরকার এই দাবিগুলো মানছে না। সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না।’ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছেন, তাদের তোলা দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হবে। আর দলটি নিষিদ্ধ হলে তাদের নেতাকর্মীরাও ঢাকা শহরে নাশকতা বা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর কোনো সুযোগ পাবে না।
অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে জানিয়ে রিজভী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। সরকার জ্বালানিতে ভর্তুকি দিচ্ছে। মূল্য সমন্বয়ের পরও জ্বালানি খাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতি লিটার ডিজেল ২৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে ৭০ টাকা লোকসান হবে। দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য কৃত্রিমভাবে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে, এর সঙ্গে পতিত স্বৈরাচার যোগসাজশ থাকতে পারে। এ বিষয়ে দেশবাসীসহ সমর্থকরা ওয়াকিবহাল। রিজভী বলেন, সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ ভিন্নখাতে নিতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকট নিরসনে সমাধানের কথা প্রত্যাশা করি বিরোধীদের কাছ থেকে। লংমার্চে বিএনপিসহ সরকারের বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা কাম্য নয়। জনগণের স্বার্থে নেওয়া উদ্যোগকে কেউ কেউ ব্যঙ্গ করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদের যারা দোসর তারা প্রশাসনের মধ্যে থেকে স্যাবোটেজ করার চেষ্টা করছে। গোপন কক্ষে পরাজিত শক্তির সঙ্গে কেউ হাত মিলিয়েছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং তার বন্ধুমহল কেমন, সে বিষয়ে বাবা-মাকে খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ আহ্বান জানান। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ খান বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, তার বন্ধু সার্কেল কেমন, সেটার খোঁজখবর রাখা আমাদের প্রত্যেক বাবা-মায়ের দায়িত্বও বটে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড সেটি আমাদের আরও স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশ যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে, তারা এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের শিকার অপ্রতিমকে ঘাতক তুহিনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা যায়। রাশেদ খান আরও বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, অপ্রতিম একটু সিনিয়র ক্লাসের বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করত। সেই জায়গা থেকে তুহিনদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। আমরাও ছোটবেলায় এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে ওঠাবসা করেছি। কিন্তু এলাকার খারাপ ছেলেদের থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে বাবা-মায়ের শাসন ও নৈতিক নির্দেশনাও বড় একটি ব্যাপার ছিল। তিনি বলেন, দেশের সব এলাকাতেই তুহিনদের মতো কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত রয়েছে। তারা ফেসবুকে চটকদার ছবি ও সিনেমাটিক ভিডিও প্রকাশ করে অল্পবয়সী তরুণদের আকৃষ্ট করে নিজেদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে। রাশেদ খান বলেন, গণমাধ্যমের খবরে এসেছে, আইফোনের লোভ দেখিয়ে ছবি তোলার কথা বলে তারা শিশু অপ্রতিমকেও বিভ্রান্ত করে ঘর থেকে বের করে আনে। বাবা-মায়ের কর্মব্যস্ততার কারণে হয়তো শিশুটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ তৈরি হওয়ার বিষয়টি বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, অপ্রতীমের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কিশোর গ্যাং নির্মূলের বার্তা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। নতুবা আগামীকাল আপনার-আমার সন্তানের পরিণতিও অপ্রতীমের মতো হতে পারে। এরপর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, সব ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করতে পারেন, যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি বর্তমান বিরোধী দলের দেশব্যাপী নিত্যনতুন কর্মসূচির নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত থাকবে, নাকি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রোধে মনোযোগ দেবে, নাকি সামাজিক অপরাধ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে? কোথায় অগ্রাধিকার থাকা দরকার? কারণ জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। আর ১৬ বছরে বাহিনীগুলোকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টার ইতিহাসও কারও অজানা নয়। তিনি বলেন, এ কারণে যেখানে বিরোধী দলের দায়িত্ব ছিল ১৬ বছর ধরে তৈরি হওয়া জঞ্জাল, অপসংস্কৃতি, অপরাধ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দমনে সরকারকে সহযোগিতা করা, সেখানে উলটো অসহযোগিতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক করে ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ বাসে আগুন দিচ্ছে, ককটেল মারছে। আবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল এক দফার হুমকি দিয়ে রাজপথ গরম করছে। রাশেদ খান বলেন,অর্থাৎ বিএনপি সরকারকে একসঙ্গে দুটি বিরোধী দলের অপতৎপরতা সামলিয়ে দেশ চালাতে হচ্ছে। এটা সরকার ও রাষ্ট্রের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে সরকারকে সহযোগিতার বিকল্প নেই।
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। শনিবার রাতে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে শিক্ষার্থীদের কোন কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তা জানানো হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আজ থেকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত কলেজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবে। আর আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) থেকে একাদশ শ্রেণির ১ম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট xiclassadmission.gov.bd-এ প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা চূড়ান্ত ফল দেখতে পারবে। এছাড়া অনলাইন আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানায়, শনিবার রাতে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর আজ থেকে মনোনীত শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর পুনর্নির্ধারণ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। সংশ্লিষ্ট সব উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিষয়টি জানাতেও বলা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক যে, বাংলাদেশের মানুষের জননিরাপত্তা নেই। শিশুদের নিরাপত্তা নেই।’ শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের সমাপনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক যে, বাংলাদেশের মানুষের জননিরাপত্তা নেই। শিশুদের নিরাপত্তা নেই।’ আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই। কেন এই নিরাপত্তা নেই? কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হচ্ছেন? তিনি তার জবাবদিহিতা সংসদে দিচ্ছেন না।’ জবাবদিহি চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন’ এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ‘গুম আইন’ করে গুমের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। বিরোধী দল দমনে পুলিশকে আবারও ব্যবহারের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এই চেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আর কাউকেই স্বৈরাচারী হতে দেবে না।’ কেউ স্বৈরাচারী হওয়ার চেষ্টা করলে রংপুরের মাটি থেকেই ‘প্রথম বিদ্রোহ, প্রথম বিপ্লবের আহ্বান’ আসবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। জুলাই গণহত্যার একটি মামলার রায় ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘রায় তাদের জন্যই আসে, মৃত্যুদণ্ড তাদের জন্যই আসে যারা দেশে নেই। যারা দেশে অবস্থান করছে, তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কেন আসে না? আমরা তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেখতে চাই। রায় কার্যকর দেখতে চাই।’ দেশজুড়ে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘সারা দেশে নজিরবিহীন দলীয়করণ হয়েছে। সকল প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হচ্ছে। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বসহ সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন এলাকা।’ তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে আমরা আট দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। ২০২৪ সালের মতো জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আট দফা দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রংপুরের কৃষিনির্ভর মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এই রংপুর অঞ্চলের মানুষ বেশিরভাগ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। আজকে তারা সার, গ্যাস, বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।’ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জে একজন নেতাকর্মীকে হামলা করে আহত করার খবর পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি সত্য হলে রাজপথে এর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এগারো দলের জোটের নেতাকর্মীদের কারো গায়ে যদি হাত তোলা হয়, পাল্টা আঘাতের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। সরকারকেও প্রস্তুত থাকতে হবে।’ রংপুরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘এই রংপুরবাসীকে এখন শুনতে হচ্ছে যে, বিরোধী দলে ভোট দেওয়ার কারণে রংপুরবাসী কোনো উন্নয়নের বরাদ্দ পাবে না।’ রংপুরের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও অবহেলা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য তাদের আট দফার একটি দাবি বিশেষভাবে রাখা হয়েছে। সেটি হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু কথার কথা নয়, এটা শুধু দাবির দাবি নয়। আমরা সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন দেখতে চাই। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’ সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না? কেন দিল্লির সঙ্গে তারা নেগোশিয়েট করতে পারছে না? কেন ভূ-রাজনীতিতে তারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ আদায় করতে পারছে না?’ তিনি বলেন, এসব ঘটনা থেকেই তারা মনে করেন, সরকার বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নয়, বরং নিজেদের দলীয় স্বার্থ আদায়ের জন্য ক্ষমতায় গেছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করে ১১-দলীয় ঐক্য। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এটিকে জোটের দ্বিতীয় বড় লংমার্চ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে বহরটি রওনা হয়। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে অনানুষ্ঠানিকভাবে পথসভা শেষে সন্ধ্যায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও দলের আমির ডা শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ ছাড়া এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের গত ছয় মাসের ‘সাফল্যের’ তালিকা তুলে ধরে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে ৪টি বিষয় তুলে ধরেন। স্ট্যাটাসটি ইত্তেফাক ডিজিটালের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো। হাসনাত লিখছেন, ‘গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য— ছেলের বিসিবির ডিরেক্টর হওয়া। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার কমিশনের জাপানি কোম্পানির লোকাল এজেন্ট হিসেবে কাজ পাওয়া এবং সচিবদের সঙ্গে মিটিং করার সুযোগ তৈরি করা। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্টের লোকাল এজেন্ট হিসেবে কাজ পাওয়ার চেষ্টায় এগিয়ে থাকা এবং ছেলের শিক্ষক থেকে ব্যবসায়ী হয়ে ওঠা।’ শেষে তিনি লিখেছেন, ‘সব মিলিয়ে, গত ছয় মাসে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার কতটা উন্নতি হয়েছে জানি না, তবে উনার পকেটের উন্নতির গতিটা বেশ লক্ষণীয়।’
উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য রাজশাহীতে ‘ফাউন্ডার্স গেট-টুগেদার অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং সেশন’ আয়োজন করেছে নেক্সট লিডার্স। আজ শনিবার নগরের হোটেল এক্স, ইনডেক্স প্লাজায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের প্রায় ৪০ জন উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক অংশীদার, পরিচালক এবং মার্কেটিং ও ব্যবসা উন্নয়ন খাতের পেশাজীবী অংশ নেন। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ব্যবসা পরিচালনার নানা সমস্যা, ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিক্রয় ও বিপণন, ব্র্যান্ডিং এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বাজার গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যবসা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়েও কথা বলেন অংশগ্রহণকারীরা। আয়োজকেরা জানান, নিজেদের ব্যবসার অভিজ্ঞতা ও সমস্যাগুলো নিয়ে সরাসরি কথা বলাই ছিল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। নতুন পরিচিতি তৈরি এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নেক্সট লিডার্সের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ওমর শরীফ ইবনে হাই। ই-কমার্স, ব্যবসা উন্নয়ন ও বিপণন খাতে তাঁর ২২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। আয়োজনে হোয়াটসঅ্যাপ এ পি আই সলিউসন পার্টনার হিসেবে ছিল ওয়াসেনসি। রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টনার ছিল পাথফাইন্ডার রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টার (পিআরসিসি) এবং অফিসিয়াল লোকাল কমিউনিটি পার্টনার ছিল জেসিআই রাজশাহী। এআই অটোমেশন পার্টনার হিসেবে ছিল সেলোরাএক্স এবং কৌশলগত অংশীদার ছিল নূর গার্মেন্টস। গিফট পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করে হারামাইন স্টোর, জৌদ, গ্রো অর্গানিক, কাজীরহাট গ্যালারি ও বিসকাট। নেক্সট লিডার্স জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও উদ্যোক্তাদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করা হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে তুহিন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোটবাড়ি থানার ইন্সপেক্টর মহিবুল আলম ভুঁইয়া আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ জানায়, নিখোঁজের পর অপ্রতিমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় তল্লাশি চালান। পরে ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের একটি টিলা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কোটবাড়ি পুলিশ ফাড়ির ইন্সপেক্টর মহিবুল আলম ভূঁইয়া জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহজনকভাবে তুহিনকে আটক করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ রয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।