মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত পৌনে ৮টায় উপজেলার শরীফপুর সীমান্তের দত্তগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান। নিহত মো. মুজিব আলী (২০) দত্তগ্রাম এলাকার মো. অজিব আলীর ছেলে। বিজিবি জানায়, বাংলাদেশি ছয়-সাতজনের একটি চোরাকারবারি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় সীমান্ত পিলার ১৮৫২/৫-এস হতে আনুমানিক ৫০০ গজ ভিতরে ভারতের লখাইরচরে প্রবেশ করে। তখন ১৯৯ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ লাঠিয়াপুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চোরাকারবারিদের বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা বিএসএফ সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে চোরাকারবারিদের উপর দু-তিনটি গুলি করে। এতে মুজিব আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যরা পালিয়ে এসে আত্মগোপন করে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বলছে, নিহত ব্যক্তি এর আগে চোরাচালানের মালামাল পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। তবে তাদের নাম জানতে পারেননি। কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সন্ধ্যার পর বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় তাদের টহলদলের সদস্যরা কয়েকটি গুলির শব্দ শুনেছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনার কথা জানায়। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে।
ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতায় এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ইতালি সরকার। ১২ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন রি-ইমিগ্রেশন ডিক্রি নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশকারী, আশ্রয়প্রার্থী, ডাবলিন প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত ব্যক্তি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের ওপর এই আইনের বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইতালি সরকারের দাবি, নতুন এই ডিক্রির মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসন কমানো, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, অতিরিক্ত কঠোরতা মানবাধিকার সংকট তৈরি করতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইতালিতে প্রবেশকারী অথবা যাদের কোনো বৈধ লিগ্যাল স্ট্যাটাস নেই তাদের বিশেষ ডিটেনশন সেন্টার বা বর্ডার ক্যাম্পে রাখা হতে পারে। কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত আটক রাখতে পারবে এসব ব্যক্তিকে। এই সময়ের মধ্যে পরিচয় যাচাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ, আশ্রয় আবেদন মূল্যায়ন এবং আবেদন বাতিল হলে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালিতে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ হতে পারে। ছোট শিশু নিয়ে ইতালিতে প্রবেশকারী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী শিশুদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পরিবারগুলোকে আলাদা পরিবারভিত্তিক কেন্দ্রে রাখা হতে পারে। অন্যদিকে, একা প্রবেশকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও কিশোরদের জন্য আলাদা সুরক্ষা ব্যবস্থা বহাল থাকতে পারে। তবে বয়স যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডাবলিন রেগুলেশন অনুযায়ী, ইউরোপে যে দেশে প্রথম প্রবেশ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেয়া হয়, সাধারণত সেই দেশই আশ্রয় আবেদন পরিচালনা করে। নতুন ডিক্রির আওতায় ইতালি এখন ডাবলিন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পথে হাঁটছে। অর্থাৎ, কেউ যদি অন্য ইউরোপীয় দেশ থেকে ইতালিতে আসে কিন্তু তার প্রথম রেজিস্ট্রেশন অন্য দেশে হয়ে থাকে, তাহলে তাকে দ্রুত সেই দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। নতুন নিয়মে ‘তৃতীয় নিরাপদ দেশ’ নীতির গুরুত্বও বাড়তে পারে। যদি কোনো আশ্রয়প্রার্থী এমন একটি দেশ হয়ে ইতালিতে প্রবেশ করে যাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে ইতালি তার আশ্রয় আবেদন গ্রহণ না করে সেই দেশেই ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ও আলবেনিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে ইতালি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আটক রাখা, দ্রুত ডিপোর্টেশন এবং সীমান্তে কঠোর নীতি আশ্রয়প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে নতুন এই প্রক্রিয়া। তাদের মতে, যুদ্ধ, নির্যাতন বা রাজনৈতিক সংকট থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য যথাযথ আইনি সহায়তা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, ইতালির এই নতুন অভিবাসন ডিক্রি শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতিতেই নয়, বরং পুরো ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থায়ও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপ যে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে এই নতুন আইন যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে।
দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও কোম্পানির অন্তত ৭০০ কোটি টাকা মেরে দিয়ে কাতার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন এক ব্যবসায়ী। ইকবাল তামজু মিয়া ওরফে নাজিম মোল্লা নামের ওই ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন ষোলশহর এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশের উদ্দেশে কাতার ত্যাগ করেন। এরপর থেকে ওই দেশের ব্যবসায়ী ও পাওনাদাররা ইকবালের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সেখানকার সবকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ঝুলছে তালা। চট্টগ্রাম নগরীর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় তার বাসভবনে গিয়েও কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। যোগাযোগ করতে না পেরে পাওনাদাররা ধরনা দিচ্ছেন কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কাতারেও ফৌজদারি মামলা করেছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী। এদিকে ইকবালের এমন প্রতারণায় কাতারে বাংলাদেশি প্রবাসীরা বিপাকে পড়েছেন। সেখানে দেশের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হয়েছে, তেমনই ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ভিসা নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা যায়, ইকবাল কাতারে ৩০-৩৫ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। সানোয়ারা ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি বাংলাদেশ থেকে নানা ধরনের সবজি পণ্য নিয়ে সুপারশপে সরবরাহ করতেন। বাংলাদেশি, পাকিস্তানিসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীর লেনদেনে তার কাছে অন্তত ৭০০ কোটি টাকা আটকে যায়। এ অবস্থায় ২৮ ডিসেম্বর তিনি গোপনে কাতার ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন এবং পাওনাদারদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, যুগান্তরের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, স্যুভেনিয়র ট্রেডিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ইকবালের কাছে পাওনা রয়েছে ৪২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪ টাকা)। আবু জাহের ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রুটস ট্রেডিং নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের পাওনা ১ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। বেস্ট কোয়ালিটি ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল ট্রেডিং পাবে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৪ টাকা। ১০ মার্চ স্যুভেনিয়র ট্রেডিং-এর পক্ষে সাঈদ ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠিতে ২ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৮০০ রিয়াল পাওনার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কাতারের আদালতে ইকবালের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইকবালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদরদপ্তরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কোনো নির্দেশনা এখনো চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) আসেনি। ইকবাল কোথায় আছেন, সেই খোঁজও নেই পুলিশের কাছে। চট্টগ্রামের স্নেহা এন্টারপ্রাইজ ও আলফালাহ ট্রেডিং নামে দুটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পাকিস্তানি কোম্পানি স্যুভেনিয়র ট্রেডিং-এর মাধ্যমে ইকবালের প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৪৬৮ টাকার পণ্য (সবজি) পাঠায়। এ টাকাও আটকে গেছে। স্নেহা এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহ আলম যুগান্তরকে বলেন, আমি আড়াই কোটি টাকার পণ্য পাঠিয়েছি ইকবালের প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু এক কানাকড়িও না দিয়ে ওই ব্যবসায়ী কাতার থেকে পালিয়ে এসেছেন। ইকবালের এক ভাই বলেছেন, তিনি বাসায় থাকেন না। কোথায় আছেন, তাও বলতে পারবেন না।
১০০ কোটি টাকারও বেশি লটারি জিতে আমিরাতে এক প্রবাসী তরুণের রাতারাতি ভাগ্যবদল হয়েছে। আবুধাবির রুইয়াস শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ওই প্রবাসীর নাম তৈয়ব খান। তিনি ‘ইউএই লটারি’–এর লাকি ডে ড্রতে তিন কোটি দিরহামের বিশাল জ্যাকপট জিতেছেন। তবে ভাগ্যবদলের এই আনন্দ কেবল তাঁর একার নয়; লটারির টিকিট কেনার অংশীদার আরও চার বন্ধুর সঙ্গে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ সমানভাগে ভাগ করে নিচ্ছেন তিনি। ফলে পাঁচ বন্ধুর প্রত্যেকেই পাচ্ছেন ৬০ লাখ দিরহাম করে। চার বছর আগে নেপাল থেকে আমিরাতে এসেছিলেন তৈয়ব। কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ফেসবুকে ইউএই লটারির খবর দেখে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে যৌথভাবে টিকিট কেনার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতি সপ্তাহে চাঁদা তুলে টিকিট কিনতেন তাঁরা এবং পালাক্রমে নম্বর বাছাই করতেন। কখনো পরিচিত নম্বর মিলিয়ে, আবার কখনো এলোমেলোভাবে নম্বর বাছাই করতেন তাঁরা। এর আগে ছোটখাটো কিছু পুরস্কার জিতলেও, বড় কিছু পাওয়ার আশা তাঁরা কখনোই ছাড়েননি। ড্রয়ের দিন ইমেইলে ফলাফল দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তৈয়ব। তিনি জানান, ইমেইলে তিন কোটি দিরহাম লেখা দেখে তাঁর হাত-পা কাঁপতে শুরু করেছিল। এটি সত্যি কি না, তা নিশ্চিত হতে তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করেন এবং সেখানে সোনালি অক্ষরে লেখা বিজয়ের অঙ্ক দেখে হতবাক হয়ে যান। বিজয়ের এই আনন্দ সংবাদ তৈয়ব প্রথমেই তাঁর নেপালে থাকা চাচাকে জানান, যিনি তাঁর আমিরাতে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় সহায় ছিলেন। লটারির এই অর্থ দিয়ে তৈয়বের প্রথম লক্ষ্য হলো নেপালে পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি নির্মাণ করা। এছাড়া এখন তিনি দুবাইয়ের আবাসন খাতে বিনিয়োগ এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখছেন।
কুয়েতে কর্মরত অবস্থায় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় শাহজালাল মিয়া (৩৬) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৭টার দিকে নিয়মিত কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজালাল মিয়ার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তাঁর বাবার নাম মঙ্গল মিয়া। প্রায় চার বছর আগে তিনি জীবিকার সন্ধানে কুয়েতে যান এবং সেখানে একটি পরিচ্ছন্নতা কোম্পানির অধীনে পৌরসভার ডাম্পিং এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, কাজের সময় ডাস্টবিন বর্জ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ভারী যান (স্থানীয়ভাবে “কাব্বাসা” নামে পরিচিত) দুর্ঘটনাবশত তাঁর ওপর উঠে গেলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর কুয়েতের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এদিকে এ খবর দেশে পৌঁছালে নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটির নেতারা পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগে অগ্রগতি হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। মস্কোয় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে রাশিয়ার বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এজন্য দুই দেশ শিগগিরই প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবে। বৈঠকে শুধু শ্রমবাজার নয়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধ রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে রাশিয়া একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে পাঠাতে সম্মত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচন করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে বাংলাদেশ–রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
মালয়েশিয়ায় এক বাংলাদেশি মুদি দোকান কর্মচারীকে মারধর ও দোকানে ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় দুই যুবককে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দেশটির পুলিশ। কুয়ালা তেরেঙ্গানু ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২১ ও ২৩ বছর বয়সী ওই দুই সন্দেহভাজনকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদের আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কামপুং মাক কেমাস এলাকার একটি মুদি দোকানে ওই বাংলাদেশি কর্মী দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় তিনজন স্থানীয় যুবক দোকানে এসে তার পরিচয় ও পাসপোর্ট দেখতে চান। ভুক্তভোগী কর্মী পাসপোর্ট দেখাতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক পর্যায়ে এক যুবক তাকে চড় মারেন এবং পরে রাবারের পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এরপর অন্যরা যোগ দিয়ে তাকে মারধর করেন এবং দোকানের ভেতরে ভাঙচুর চালান। হামলায় ওই বাংলাদেশি কর্মী মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত পান। তার কপালে ফোলা জখম এবং ডান হাতে কালশিটে দাগ দেখা গেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৪ ও ৪২৭ ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মান নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিকেল পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা জালিয়াতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে সর্বোচ্চ এক লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার নির্ভুলতা ও মান বজায় রাখার লক্ষ্যে দেশজুড়ে নিয়মিত পরিদর্শন অভিযান চালানো হবে। অনুমোদিত স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে কর্তৃপক্ষ। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতির সঠিক কার্যকারিতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি কর্মরত টেকনিক্যাল স্টাফদের দক্ষতা যাচাই এবং যেকোনো অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়ম লঙ্ঘনের মাত্রা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করারও ক্ষমতা থাকবে কর্তৃপক্ষের হাতে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে মেডিকেল সেক্টরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সেবা ও কল্যাণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। প্রবাসীদের নানা সমস্যা দ্রুত তুলে ধরা এবং সমাধানে সহযোগিতা বাড়াতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মিশন কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় একটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ হাইকমিশনের দূতালয় প্রধান প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা, প্রবাসীদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সামনে আনা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক সাংবাদিকতার মাধ্যমে হাইকমিশন ও গণমাধ্যমের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও প্রবাসীদের ভোগান্তি, সেবা প্রাপ্তির জটিলতা এবং সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়গুলো নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ প্রবাসীদের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন। সংশ্লিষ্টদের মতে, হাইকমিশন ও গণমাধ্যমের মধ্যে ইতিবাচক যোগাযোগ এবং তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি পেলে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। এদিকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল ইসলাম খানও প্রবাসীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি একটি আধুনিক ও জনবান্ধব হাইকমিশন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রবাসী কমিউনিটির নেতারা মনে করছেন, কূটনৈতিক মিশন ও গণমাধ্যমের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অধিকার সুরক্ষা, সেবা সহজীকরণ এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মালদ্বীপে গুরুতর অসুস্থ এক বাংলাদেশি প্রবাসীর চিকিৎসা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার রাজধানী মালের এডিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রবাসী মো. ইউসুফ মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাছেম বিল্লাহ এবং কল্যাণ সহকারী মো. জসিম উদ্দিন। এ সময় তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে রোগীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। দূতাবাস কর্মকর্তারা ইউসুফ মাহমুদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও সমর্থনের বার্তা পৌঁছে দেন। জানা গেছে, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কুসুমপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ মাহমুদ প্রায় সাত বছর আগে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে যান। সম্প্রতি কর্মস্থলে একটি দুর্ঘটনায় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন এবং বর্তমানে তিনি নিবিড় চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে দূতাবাসের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। তারা মনে করছেন, বিদেশে কর্মরত নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে এমন মানবিক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইউসুফ মাহমুদের পরিবার ও স্বজনরা তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। একই সঙ্গে মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও তার সুস্থতা কামনা করেছেন।
লিবিয়ায় অপহৃত হওয়ার আড়াই মাস পর নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেনকে হত্যা করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত আলমগীর হোসেন (৩৫) উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাইক্রোবাসে করে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিহত আলমগীরের ভাই লিবিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমান বলেন, আলমগীরকে অপহরণের পর তাকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানায় আলমগীরসহ আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ওই আস্তানা থেকে কয়েকজন বাংলাদেশি মুক্তিপণ দিয়ে সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আলমগীরের কাছেও ২৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। সোমবার দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মোবাইলে থাকা ছবি দেখে আলমগীরের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো ওনার সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কোনো সন্ত্রাসী আমাদের কাছে মুক্তিপণও চায়নি। হঠাৎ ওনার মৃত্যুর খবর পাই। স্বামীর মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্ত্রী শাহিনা আক্তার ও শোকসন্তপ্ত পরিবার।
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকরের দাবিতে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (৯ জুন) পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। সমাবেশে দেশে সাম্প্রতিক ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়। সংগঠনের সভাপতি আশিকুল ইসলাম আশিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলু লস্কর, ড. আজিজুল আম্বিয়া ও জাকির হোসেন সেলিমের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শামীম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য সমাজ গঠনের জন্য মানবাধিকার, আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের সহিংস ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সমাবেশে বক্তারা রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বক্তারা আরও বলেন, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ঐক্যবদ্ধ জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
স্পেনের গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের উদ্যোগে এক জরুরি সভার মাধ্যমে নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে সংগঠনের “সুপার ৫” (আংশিক) কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার (৮ জুন) মাদ্রিদের লাভাপিয়েস এলাকার আনারকলি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ সভায় গ্রেটার সিলেটবাসীর উপস্থিতিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আসাদুজ্জামান রাজ্জাক এবং সঞ্চালনা করেন হাফিজ আবু তাহের মিসবাহ। সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্তে কমিটির সভাপতি হিসেবে আব্দুল কাইয়ুম মাসুক, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্বাস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাউছার হোসেন টিপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ ওয়াছিরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান সুন্দর, সদ্য সাবেক সভাপতি আব্দুল মোজাক্কিরসহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। আয়োজকরা জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। সভা শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পরে নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত মরহুম আরাফাত রহমান কোকো টি-১৬ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্পেন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা ফ্রুতাস ক্রিকেট টিম। সোমবার (৮ জুন) মাদ্রিদের উপকণ্ঠ গেতাফে মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় ঢাকা ফ্রুতাস ও তারুণ্য মাদ্রিদ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ম্যাচে তারুণ্য মাদ্রিদকে পরাজিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় ঢাকা ফ্রুতাস। ফাইনাল শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্পেন বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্পেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, খেলাধুলা সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং প্রবাসী তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে ক্রীড়া আয়োজনের বিকল্প নেই। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ঢাকা ফ্রুতাস ১৬ ওভারে ১৮০ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে রিপন ৪২ ও ইয়াছিন ৩৬ রান করেন। তারুণ্য মাদ্রিদের পক্ষে কাফি ৪টি এবং কামিল আহমদ সুবেল ২টি উইকেট নেন। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তারুণ্য মাদ্রিদ ১৪ ওভারে ১১৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। দুই দলের খেলোয়াড়দের দৃষ্টিনন্দন ফিল্ডিং দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। আয়োজকরা জানান, এবারের টুর্নামেন্টে মোট ১২টি দল অংশ নেয়। টুর্নামেন্ট শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।
পবিত্র হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮ উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আগামী ১৫ জুন (সোমবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, হিজরি নববর্ষের ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে দেশজুড়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। সোমবার ছুটি হওয়ায় যেসব কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটি শনিবার ও রোববার, তারা টানা তিন দিনের অবকাশ উপভোগের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, শারজাহে চার দিনের কর্মসপ্তাহ অনুসরণকারী সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা শুক্রবার, শনিবার ও রোববারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সোমবারের সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিনের ছুটি ভোগ করবেন। ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী মহররম মাসের প্রথম দিন থেকে নতুন হিজরি বছরের সূচনা হয়। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ইসলামী নববর্ষ নির্ধারিত হলেও আমিরাত সরকার ইতোমধ্যে ১৫ জুনকে হিজরি নববর্ষের সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে দুবাই সরকারি মানবসম্পদ বিভাগ দেশটির নেতৃত্ব, সরকার ও জনগণের পাশাপাশি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অব্যাহত উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা কামনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, হিজরি বা ইসলামী বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় এর মাস ও বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রতি বছর কিছুটা এগিয়ে আসে। মহররম মাসের প্রথম দিনকে ইসলামী নতুন বছরের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশি দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত নির্মাণ শ্রমিক আব্দুর রউফ। একটি সড়ক দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না। রাজধানী ঢাকা কিংবা দূর পাল্লার বাসে প্রায়ই চোখে পড়ে এমন লেখা। তবে সেই লেখা বাস্তবে মিলে গেছে বগুড়ার আব্দুর রউফ ও তার পরিবারের সঙ্গে। মালয়েশিয়ায় নির্মাণ শ্রমিক আব্দুর রউফ প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এরপর দেশটির মালাকার স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে একাধিক অস্ত্রোপচারসহ আলাদা করা হয় মাথার খুলির একটি অংশ। দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে ধার দেনায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে ২০২৩ সালে কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া পাড়িজমান তিনি। ঋণের বোঝা মাথা নিয়ে সেখানে দিন রাত কাজ করেন। সামান্য আয়ে ধীরে ধীরে অভাব কিছুটা দূর হতে থাকে। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসে জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় এক অন্ধকার। একটি দুর্ঘটনা জীবনকে থমকে দেয়। কয়েকমাস হাসপাতালের কোমায় থাকা রউফ চলাফেরা আর কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেন। ইতোমধ্যে জায়গা জমি বিক্রি করে প্রায় ১৮ লাখ টাকা তার চিকিৎসায় ব্যয় করে পরিবার। পরিবারের একমাত্র ছেলের এমন করুন পরিস্থিতিতে অসহায় বৃদ্ধ বাবা-মা, অর্থের অভাবে থেমে যায় চিকিৎসা। বিষয়টি জানতে পেরে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ মিশনের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী এগিয়ে আসেন। তার দিকনির্দেশনায় দূতাবাসের লেবার মিনিস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং প্রেস সচিব তারিকুল ইসলাম গত শনিবার (৬ জুন) মালাকা গিয়ে আহত রউফের সার্বিক খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেন। ব্যয় বহুল চিকিৎসার অভাবে জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার প্রহর গুনছিল পরিবার, ঠিক এমন সময় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি সোশ্যাল ওয়ার্কার মোহাম্মদ হৃদয় মিয়া বিষয়টি হাইকমিশনের নজরে আনেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে যখন চিকিৎসার ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না তখন দূতাবাসে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করা হয়। তবে বাজেট স্বল্পতা আর নিয়ম নীতির কাছে দূতাবাসের বেশি কিছু করার ছিলো না। কিন্তু মানবিকতার কাছে নিয়মনীতি আর শর্ত আজীবন মূল্যহীন। অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় দূতাবাস। সোমবার (৮ জুন) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরেন আহত রউফ। তাকে দেশে আনতে ফ্লাইটের যাবতীয় কার্যক্রম দ্রুত প্রসেস করে সহযোগিতা করে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটি। একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন করুণ পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকা সহায়তা দেয় প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এছাড়াও দেশে যাওয়ার পরে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার কথা জানায় বাংলাদেশ হাইকমিশন।
কুয়েতে গৃহকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করতে নতুন সার্কুলার জারি করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সবশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ১০টি দেশ থেকে গৃহকর্মী নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং আবেদন প্রক্রিয়া গভর্নরেটভিত্তিক সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। অনুমোদিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- দক্ষিণ আফ্রিকা, বেনিন, সেনেগাল (শুধু পুরুষ কর্মী), ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিলিপিন্স, শ্রীলঙ্কা, ভারত, ভিয়েতনাম এবং নেপাল। অন্যদিকে, নতুন তালিকায় ২৭টি দেশ থেকে গৃহকর্মী নিয়োগ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ারের সুপারিশ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র নারী গৃহকর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। কর্তৃপক্ষের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গৃহকর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে নিয়োগকারী ও কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় নতুন নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন। বাংলাদেশ থেকে দীর্ঘদিন থেকে সরকারিভাবে নারী গৃহকর্মী প্রেরণ বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু পুরুষ গৃহকর্মী, দারোয়ান, বাবুর্চী, ড্রাইভারসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা যাচ্ছেন কুয়েতে। বর্তমানে প্রকাশিত অনুমোদিত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকায় কুয়েতে গৃহকর্মী পাঠানোর বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে কুয়েত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতা বা নতুন সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষা করতে হবে বাংলাদেশিদের। আবার অনেকে মনে করছেন, নতুন অনুমোদিত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকার ফলে বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী নিয়োগের বিষয়ে হয়তো পূর্বের অবস্থানেই রয়েছে কুয়েত সরকার। এদিকে সবশেষ প্রতিবেদনে ১০টি অনুমোদিত দেশের কথা উল্লেখ থাকলেও, ২৭টি নিষিদ্ধ দেশের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। কিছু কিছু দেশের ক্ষেত্রে শুধু মহিলা গৃহকর্মীদের আনার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ারের (পিএএম) যৌথ সুপারিশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) মোট ৩০ হাজার ৮০১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২ হাজার ৩২৪ জন বিদেশি তাদের প্রদত্ত পাস বা ভিসার অপব্যবহার করেছেন বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইমিগ্রেশন বিভাগ বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিশেষ করে, পাসের শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদনহীন কর্মসংস্থান এবং বৈধ অনুমতি ছাড়া ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জাকারিয়া শাবান আরও বলেন, ইমিগ্রেশন বিভাগ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। একইসঙ্গে দেশজুড়ে অভিযানও বাড়ানো হবে। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে বিভাগটি ইনস্পেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট গঠন করেছে। এছাড়া, ঝুঁকিপূর্ণ ও বিদেশি অধ্যুষিত এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাপরিচালক বলেন, অভিবাসন আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে জেআইএম বার্ষিক কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই) নির্ধারণ করেছে, যেখানে বিদেশি কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, বিদেশিদের দেওয়া অভিবাসন সুবিধা যেন শুধু অনুমোদিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়। একইসঙ্গে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং সবার জন্য ন্যায্য অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি বিদেশিদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা, ভিসা ও পাসের অপব্যবহার এবং অবৈধ কর্মসংস্থানের অভিযোগ বাড়তে থাকায় মালয়েশিয়া সরকার অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবেই দেশব্যাপী অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
১৯৯৭ সালের এক কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওড়ার অপেক্ষায় একটি বিমান। ভেতরে বসা বছর আঠেরোর এক তরণ। চোখে একরাশ স্বপ্ন, আর পকেটে কেবল কয়েক সপ্তাহের চলার মতো সীমিত কিছু ডলার। মধ্যবিত্ত পরিবারের আর দশটা সাধারণ ছেলের মতোই উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছিলেন তিনি। তখন কে জানত, ঢাকা শহরের ধুলোবালি মেখে বড় হওয়া এই ছেলেই একদিন বিশ্ব প্রযুক্তির মানচিত্র কাঁপিয়ে দেবেন? কে জানত, মাত্র ৪৪ বছরেই অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনকুবেরদের তালিকায় নাম লেখাবেন তিনি? এই রূপকথার চেয়েও রোমাঞ্চকর গল্পের নায়ক আর কেউ নন; তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অজি বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা (Robin Khuda)। নিজের মেধা, সীমাহীন ঝুঁকি নেওয়ার সাহস আর দূরদর্শিতাকে পুঁজি করে যিনি আজ বিশ্বজুড়ে এক স্বনির্মিত বিলিয়নিয়ারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ঢাকায় শৈশব ও এক মধ্যবিত্তের স্বপ্ন রবিনের গল্পের শুরুটা ঢাকার চিরচেনা গলিতে। এখানেই তার বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা করেছেন শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন মিরপুরের এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ থেকে। ঢাকার আর দশটা ছেলের মতো রবিনও ক্রিকেট খেলতেন, আড্ডা দিতেন। তবে পড়াশোনায় ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে সন্তানদের ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বানানোর যে ট্রেন্ড ছিল, রবিন তার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন কিছু করতে চেয়েছিলেন। ব্যবসার হিসাব-নিকাশ তাকে বরাবরই টানত। সেই টানেই ১৯৯৭ সালে পাড়ি জমান ক্যাঙ্গারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ায়। সিডনির রাজপথে এক লড়াকু ছাত্র অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর জীবনটা মোটেও সহজ ছিল না রবিনের জন্য। বিদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইউটিএস) হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। পড়াশোনার খরচ চালানো এবং সিডনির মতো ব্যয়বহুল শহরে টিকে থাকার জন্য তাকে করতে হয়েছে কঠোর পরিশ্রম। দিনে বিশ্ববিদ্যালয় আর রাতে পার্ট-টাইম চাকরি—এটাই ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন। তবে শত কষ্টের মাঝেও পড়াশোনায় ঢিল দেননি। ইউটিএস থেকে স্নাতক শেষ করার পরও তিনি থেমে যাননি। নিজের যোগ্যতাকে আরও একধাপ উঁচুতে নিয়ে যেতে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। সেখানে বিশ্বখ্যাত ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুল থেকে ফাইন্যান্সে এমবিএ (এমবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। এই উচ্চশিক্ষাই পরে তাকে বড় বড় করপোরেট চুক্তি বুঝতে এবং জটিল আর্থিক হিসাব মেলাতে সাহায্য করেছিল। করপোরেট ক্যারিয়ার ও অন্ধকারের মাঝে আলোর খোঁজ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে রবিন যোগ দেন করপোরেট সেক্টরে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় তিনি আইটি এবং টেলিকম খাতের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ২০০৭ সালে জাপানি টেক জায়ান্ট ‘ফুজিৎসু’র টেলিকম ও ক্লাউড কম্পিউটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হন তিনি। এরপর পাইপ নেটওয়ার্কস এবং নেক্সটডিসির মতো বড় বড় কোম্পানিতে প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই চাকরিগুলো করার সময়ই রবিন এক চরম সত্য উপলব্ধি করেন। তিনি দেখতে পান, বিশ্বজুড়ে গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট আর অ্যামাজনের মতো কোম্পানিগুলো দ্রুত বড় হচ্ছে। এদের কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ডেটা বা তথ্য জমা রাখার জন্য বিশাল জায়গার প্রয়োজন। রবিন বুঝতে পেরেছিলেন, আগামী দিনগুলো হবে ক্লাউড কম্পিউটিং আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI)। আর এই পুরো বিশ্বকে সচল রাখতে দরকার হবে বিশাল আকৃতির ‘হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার’। এই সরল আইডিয়াটাই বদলে দেয় তার জীবন। ‘এয়ারট্রাংক’ প্রতিষ্ঠা এবং দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি ২০১৫ সাল। রবিন তার নিরাপদ, বিলাসবহুল করপোরেট চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বন্ধু ও সহকর্মীরা তাকে পাগল ভাবলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। জন্ম নেয় তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারট্রাংক’ (Airtrunk)। উদ্দেশ্য ছিল এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিশ্বমানের হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা। কিন্তু আইডিয়া থাকলেই তো আর ব্যবসা হয় না, প্রয়োজন কোটি কোটি ডলারের তহবিল। নতুন এক অভিবাসীর ওপর ভরসা করে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাংক তাকে ঋণ দিতে রাজি হয়নি। রবিন তখন জীবনের সবচেয়ে বড় জুয়াটি খেললেন। নিজের মাথার ওপরের একমাত্র ছাদ তথা সিডনির বাড়ি বিক্রি করে দিলেন। নিজের সারা জীবনের জমানো পেনশন ও সঞ্চয়ের শেষ সম্বলটুকু পর্যন্ত ঢেলে দিলেন এয়ারট্রাংকের পেছনে। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, রবিন প্রায় দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। এশিয়া জয় ও মেগা সফলতার গল্প কঠিন অন্ধকারের পরই আসে আলোর দেখা। রবিনের দূরদর্শিতা ভুল ছিল না। ২০১৭ সালের মধ্যে তিনি সিডনি ও মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস তৈরি করতে সক্ষম হন। টেক জায়ান্টরা লাইন ধরে এয়ারট্রাংকের ডেটা সেন্টার ভাড়া নিতে শুরু করে। কারণ রবিন এমন এক সাশ্রয়ী ও পরিবেশ-বান্ধব গ্রিন-এনার্জি মডেল তৈরি করেছিলেন, যা বড় বড় কোম্পানির খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমিয়ে দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার পর এয়ারট্রাংক ডানা মেলে আন্তর্জাতিক বাজারেও। একে একে সিঙ্গাপুর, হংকং, জাপান এবং মালয়েশিয়ায় গড়ে ওঠে এয়ারট্রাংকের চোখ ধাঁধানো সব ডেটা সেন্টার। রবিন খুদা হয়ে ওঠেন এশিয়ার ‘ডেটা সেন্টার কিং’। ঐতিহাসিক চুক্তি ও বিলিয়নিয়ার হওয়া ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসটি অস্ট্রেলিয়ার করপোরেট ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন এবং কানাডা পেনশন প্ল্যান রবিনের ‘এয়ারট্রাংক’ কিনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। চুক্তির অংকটা ছিল চোখ কপালে তোলার মতো—২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা)। এটি বিশ্ব ইতিহাসে ডেটা সেন্টার খাতের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক চুক্তি। এই একটি চুক্তির মাধ্যমে রাতারাতি বিশ্ব বিলিয়নিয়ারদের ক্লাবে প্রবেশ করেন রবিন খুদা। কোম্পানিতে নিজের শেয়ারের অংশ থেকেই তার ব্যক্তিগত সম্পদ এক লাফে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ব্ল্যাকস্টোন কোম্পানিটি কিনে নিলেও রবিনের মেধার ওপর ভরসা রেখে তাকেই গ্লোবাল সিইও হিসেবে বহাল রাখে। তার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ সংবাদমাধ্যম অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ তাকে ‘বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার ২০২৪’ স্বীকৃতি দেয়। ২০২৫ সালে তিনি সম্মানজনক ‘সিডনিসাইডার অব দ্য ইয়ার’ খেতাবে ভূষিত হন। বর্তমানে তার কোম্পানি ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। অনুপ্রেরণার অন্য নাম রবিন ঢাকার গলিতে ক্রিকেট খেলে বড় হওয়া রবিন খুদা আজ অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বিলাসবহুল অফিস কক্ষে বসে বিশ্ব প্রযুক্তি খাত নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার এই গল্প কোনো ভাগ্যের জোরে পাওয়া সফলতা নয়। এটি হলো কঠোর পরিশ্রম, নিজের স্বপ্নের ওপর অবিচল বিশ্বাস এবং খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েও চরম ঝুঁকি নেওয়ার সাহসের গল্প। রবিন খুদা প্রমাণ করেছেন, স্বপ্ন যদি আকাশছোঁয়া হয় এবং তা তাড়া করার সৎ সাহস থাকে, তবে পৃথিবীর কোনো বাঁধাই মানুষকে আটকে রাখতে পারে না। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য তিনি এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তথ্যসূত্র: ফোর্বস, ফিন্যান্সিয়াল রিভিউ, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, বিজনেস কিউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া
ওমানে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলাম (৪৫) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর পর পরিবারের কাছে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু দেশে ফেরার মাত্র কয়েক দিন আগে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা তাঁর স্বজনদের আনন্দকে শোকে পরিণত করেছে। জানা গেছে, আগামী শুক্রবার দেশে ফেরার জন্য তাঁর বিমানের টিকিট কাটা ছিল। পরিবারের সদস্যদের জন্য উপহার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করছিলেন তিনি। বিশেষ করে তাঁর ছোট ভাগনির জন্য চকলেট কিনতে ওমানের বেরুমি শহরের একটি শপিং সেন্টারে গিয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে সড়কের পাশে অপেক্ষা করার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ির চালককে আটক করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। নিহত শহিদুল ইসলাম চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের জমাদার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওমানে একটি টেইলারিং ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাঁর দেশে ফেরার খবরে পরিবারের সবাই আনন্দে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু আকস্মিক এই দুর্ঘটনার সংবাদ পুরো পরিবারকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের নিকটবর্তী আল-খার্জ এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দা ও প্রবাসীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল-খার্জে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি-কে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সামরিক স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সরকারি ঘোষণা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, আল-খার্জ ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সবাইকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা উচিত। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার মেলাক্কা রাজ্যে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণে ‘চিত্তবিনোদন ও ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় এবং মালয়েশিয়ার সামাজিক সুরক্ষা সংস্থা পারকেসো-এর সহযোগিতায় মেলাক্কা পারকেসো রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রোববার (৭ জুন) আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেলাক্কার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সেবা খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী, নিয়োগকর্তা, পেশাজীবী এবং কমিউনিটির নেতারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পারকেসোর ফরেন ওয়ার্কার্স ডিভিশনের প্রধান মিস্টার হারিরি হারুন এবং ডেপুটি ডিরেক্টর ড. শিভানান্দা রাজাহ সাতগুনাম। এছাড়া পারকেসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ, এনবিএল মানি ট্রান্সফার এবং সিবিএল মানি ট্রান্সফার হাউসের নির্বাহী কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে পারকেসোর পক্ষ থেকে বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিচালিত সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক বিমা স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পারকেসোর প্রতিনিধিরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মালয়েশিয়া সরকারের দেশি-বিদেশি কর্মীদের জন্য চালু করা সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক বিমা স্কিমে বাংলাদেশি কর্মীদের নিবন্ধনের জন্য মালয়েশীয় নিয়োগকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্রবাসী কর্মীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্প ও সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (শ্রম), পারকেসোর প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা, সিবিএল রেমিট্যান্স হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মালয়েশীয় নিয়োগকর্তা এবং বাংলাদেশি কর্মীরা। বক্তারা প্রবাসী কর্মীদের সার্বিক কল্যাণ, শ্রম অধিকার সংরক্ষণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার আইন মেনে চলা, সামাজিক সুরক্ষা বিমা স্কিম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে কর্মীদের উৎসাহিত করেন। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রবাসী শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে অতিথি ও বাংলাদেশি কর্মীদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সচেতনতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) ৩ বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। তারা হলেন- সার্জেন্ট পদে তান্নি চন্দা এবং ডিটেকটিভ পদে সাফায়েত জামিল ও আশফাকুর রহমান। তিনজনই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সদস্য। বৃহস্পতিবার সকালে নিউ ইয়র্কে এনওয়াইপিডি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে এ ঘোষণা আসে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ। তিনি পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা ও সনদ তুলে দেন। এ অর্জনে কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন এ কে এম আলম, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিটেকটিভ স্কোয়াডের সার্জেন্ট এরশাদুর সিদ্দিক এবং সেক্রেটারি ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার এক যৌথ শুভেচ্ছা বার্তা দেন। এতে বলা হয়, এই সাফল্য কেবল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য গর্বের ও অনুপ্রেরণার। বাপার মিডিয়া লিয়াজোঁ সার্জেন্ট জসিম মিয়া বলেন, সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবেই এ পদোন্নতি এসেছে। তাদের এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের এ পেশায় যোগ দিতে উৎসাহিত করবে। নিউ ইয়র্ক পুলিশের ৪০ হাজারেরও বেশি সদস্যের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মরত। তাদের মধ্যে অনেকেই কর্মদক্ষতায় নিয়মিত পদোন্নতি পাচ্ছেন।
ওমানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট সংগ্রহ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে নতুন সেবা চালু করেছে দেশটির সরকারি ডাক বিভাগ ‘ওমান পোস্ট’। মাস্কাটে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া এই সেবার মাধ্যমে এখন থেকে প্রবাসীরা নবায়ন করা পাসপোর্ট সরাসরি দূতাবাসে না গিয়ে নিকটস্থ ওমান পোস্টের শাখা থেকেই সংগ্রহ করতে পারবেন। নতুন এই ‘পাসপোর্ট কালেকশন সার্ভিস’ চালুর ফলে দূতাবাসে দীর্ঘ ভ্রমণ, সময় নষ্ট এবং অতিরিক্ত খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তির খবর। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেবাটি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবাসীরা নির্ধারিত সময়ে সহজেই পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারবেন এবং প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খল হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট না করেই জরুরি এই সেবা পাওয়া যাবে, যা প্রবাসী জীবনকে আরও সহজ করবে।
আর মাত্র কয়েকদিন পরই পরিবারের কাছে ফিরতেন তিনি। পাঁচ বছর পর দেশে ফেরার জন্য টিকিট কাটা, স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষা—সব প্রস্তুতিই ছিল সম্পন্ন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, জীবিত অবস্থায় আর বাড়ি ফেরা হলো না প্রবাসী শহীদ উল্ল্যাহর। পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা শেষে সড়ক পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতির একটি প্রাইভেট কারের চাপায় প্রাণ হারান তিনি। এখন তিনি ফিরবেন কফিনবন্দি হয়ে। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জমাদার গ্রামের আস্কর আলী বৈদ্দ্য বাড়ির মরহুম মোহাম্মদ মিস্ত্রীর চতুর্থ ছেলে শহীদ উল্ল্যাহ (৪৮) শনিবার রাত ১১টার দিকে ওমানের লুলু মার্কেটের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। এদিকে শহীদ উল্ল্যাহর মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে পরিবার পাঁচ বছর পর প্রিয় মানুষটিকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল, সেই পরিবারকেই এখন গ্রহণ করতে হবে তার নিথর দেহ। প্রবাস জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে ঘরে ফেরার স্বপ্নটি শেষ পর্যন্ত থেমে গেল ওমানের একটি সড়কের ওপর। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ওমানে একটি প্রতিষ্ঠানে এমব্রয়ডারি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন শহীদ উল্ল্যাহ। এর আগে স্বল্প সময়ের জন্য দেশে এলেও এবার টানা পাঁচ বছর পর বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। আগামী ১১ জুন ওমান থেকে সকাল ১১টায় রওয়ানা হয়ে ১২ জুন সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল তার। শনিবার রাতেই ওমান থেকে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শোকে ভেঙে পড়ে পরিবার। বর্তমানে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে কয়েক দিনের মধ্যে তার মরদেহ দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন স্বজনরা। নিহতের ছোট ভাই এমদাদ হোসেন বলেন, ভাইয়া পাঁচ বছর পর বাড়ি আসার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। টিকিট কাটা হয়েছিল, পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনাও ছিল। শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু কেনাকাটা করে সড়ক পার হওয়ার সময় একটি বেপরোয়া প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারের ওপর উঠে তাকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরো বলেন, পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছিল ভাইয়াকে বরণ করে নেওয়ার জন্য। সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু এখন ভাইয়া ফিরবেন লাশ হয়ে। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রোববার সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ। এতে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৬০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৯০ জনকে ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪ হাজার ৬০ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনে ২ হাজার ৫৭৪ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ১২৬ জন রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থা যৌথ অভিযান চালিয়ে এই প্রবাসীদের গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় এক হাজার ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইথিওপিয়ান ৭০ শতাংশ, ২৮ ইয়েমেনি ও বাকি ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। একই সময়ে অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টা করায় আরও ২৫ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন এবং আশ্রয় দেওয়ায় সৌদিতে বসবাসরত ১৬ ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই সপ্তাহে ৪ হাজার ৬৯০ জন অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর ১৪ হাজার ৪৯৫ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। বহিষ্কারের আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও ৮৫০ জনকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ হাজার ৪৫৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৩১৯ জন নারীসহ মোট ২১ হাজার ৭৭৪ জন প্রবাসী বর্তমানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তার চেষ্টাকারী ব্যক্তির ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করে দিয়ে আসছে। মরু অঞ্চলের দেশ সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক সৌদিতে কর্মরত রয়েছেন। সৌদি আরবের স্থানীয় গণমাধ্যম নিয়মিতভাবে দেশটিতে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন ধরপাকড় অভিযান ও অবৈধ প্রবাসীদের আটকের খবর প্রকাশ করছে। সূত্র : গালফ নিউজ।
কুয়েতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে এক বাংলাদেশি নাগরিককে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে তাঁর কাছ থেকে হেরোইন, হাশিশ, গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের বিশেষ ইউনিট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন নজরদারি ও তদন্তের পর অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে তাঁর বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে প্রায় ১৮২ প্যাকেট হেরোইন, ৬৮ প্যাকেট হাশিশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ২৬৫ প্যাকেট সাইকোট্রপিক ট্যাবলেট ও আরও ১ হাজার ৭৫০টি নিষিদ্ধ বড়ি জব্দ করা হয়েছে। মাদক সংরক্ষণ ও সরবরাহে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজের কাছে মাদক রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তিনি ব্যক্তিগত ব্যবহার ও বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব মাদক সংরক্ষণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং অধিকতর তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত বাংলাদেশির নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।
কুয়েতে নির্দিষ্ট খাতে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য চালু করা বিশেষ লেবার ট্রান্সফার বা কর্মী স্থানান্তর কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৪৪০ জনের বেশি কর্মী উপকৃত হয়েছেন। শ্রমবাজারে ভারসাম্য আনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া গেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত থেকে। গত মে মাসের শুরুতে কার্যকর হওয়া এই কর্মসূচিতে এসএমই খাত থেকে ৮ হাজার ৫৫৩টি আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া কৃষি খাত থেকে ২ হাজার ৭০৫টি, শিল্প খাত থেকে ১ হাজার ৬৪২টি, প্রাণিসম্পদ খাত থেকে ১ হাজার ৩৯৩টি এবং মৎস্য খাত থেকে ১৪৭টি আবেদন পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আগামী জুন মাসের শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে শর্ত পূরণ না করা আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান নিয়োগকর্তার অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থানান্তর আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। কুয়েতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো শ্রমশক্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন খাতে চাহিদা অনুযায়ী জনবল সরবরাহ করা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অস্থায়ী কর্মসূচি দেশটির শ্রমবাজারে নমনীয়তা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।