বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি বহুল আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় একের পর এক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সামরিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও রাষ্ট্রীয় অস্থিরতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই উত্তাল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্য দিয়েই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি হয়ে ওঠেন এই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান ও কেন্দ্রীয় চরিত্র। সেদিনের ঘটনাপ্রবাহকে আধিপত্যবাদ, ষড়যন্ত্র ও সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই পটপরিবর্তনের পর খাদের কিনারায় থাকা দেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। ১৯৭৫ সালটি বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীর সংকটের প্রতীক। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ, দুর্ভিক্ষ, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় তৈরি হয়েছিল নানা সংকট। এর চূড়ান্ত ও মর্মান্তিক পরিণতি দেখা যায় ১৫ আগস্ট। এদিন শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই কলঙ্কজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তবে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে তৈরি হয় চেইন অব কমান্ডের চরম সংকট, মতবিরোধ ও ক্ষমতার তীব্র দ্বন্দ্ব। অস্থিরতার ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ঘটে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান। এ সময় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়। সেনাসদস্যদের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সেনানিবাসের ভেতরে নতুন করে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর-এই চার দিনের রুদ্ধশ্বাস ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ভোরে ঢাকা সেনানিবাসে শুরু হয় সিপাহিদের বিদ্রোহ। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের মধ্যে পুঞ্জীভূত অসন্তোষ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এই বিদ্রোহের পটভূমি তৈরি করেছিল। বিদ্রোহী সৈনিকরা গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করেন জিয়াউর রহমানকে। মুহূর্তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যদের পাশাপাশি রাজপথে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ঘটনাটি রূপ নেয় ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে’। ঢাকার রাজপথে বেরিয়ে আসে সৈনিকদের ট্যাঙ্ক ও ট্রাকের বহর। সাধারণ মানুষের উল্লাস ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানী। কেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে জিয়াউর রহমান? ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহে জিয়াউর রহমান হয়ে ওঠেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় চরিত্র। তিনি তখন দেশের সেনাপ্রধান। ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর তাকে গৃহবন্দি করে রাখার বিষয়টি সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন জনপ্রিয় ও দৃঢ়চেতা সামরিক কর্মকর্তা। তার মুক্তির মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণে পরিবর্তন আসে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার নতুন পথ তৈরি হয়। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান। বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে রাষ্ট্রনায়কের আসনে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান আকস্মিক কোনো ঘটনা ছিল না। এর শিকড় প্রোথিত ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইটের পর তিনি বিদ্রোহ করেন এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে আলোচনায় আসেন। মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকে। তবে তিনি সেদিনই সরাসরি রাষ্ট্রপতি হননি। তৎকালীন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানসহ তিন বাহিনীর প্রধানকে উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। ১৯৭৬ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি সায়েম পদত্যাগ করলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠা ও নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা রাষ্ট্রক্ষমতা সুসংহত করার পর জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’কে রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে সামনে রেখে তিনি নতুন একটি রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলেন। তার শাসনামলে দেশের অর্থনীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। মুক্তবাজার অর্থনীতি, বেসরকারি খাতের বিকাশ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি এবং বৈদেশিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলমগীর হোসেন সম্রাট বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। তবে তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি আজও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে আছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কেবল একটি দিন নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল। বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহই জিয়াউর রহমানের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। গৃহবন্দি এক সেনাপ্রধান থেকে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন রাষ্ট্রক্ষমতার সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ও জিয়াউর রহমান তাই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই থাকবেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশকে গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংকট থেকে উত্তরণের একটি নতুন পথ তৈরি হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান শুধু একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সেনানায়ক। স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে তার সাহসী ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তার নেতৃত্বকে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।’ তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। এই দিনটি আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের চেতনার সঙ্গে জড়িত। শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক দিয়ে মুছে ফেলা যাবে না। শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আজকের প্রজন্মকে জানতে হবে, কী প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল এবং কীভাবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ইতিহাসের যথাযথ মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই আমরা তার অবদান স্মরণ করতে চাই।
ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন, আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে আইএলআর পাওয়ার যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে উচ্চ আয়ের কর্মী, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষকসহ নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য পাঁচ বছরের পথ বহাল থাকছে। বিশেষ অবদান রাখা উচ্চ আয়ের কর্মী ও নির্দিষ্ট দক্ষতা কর্মসূচিতে আসা অভিবাসীদের তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্যও পাঁচ বছরের পথ বজায় রাখার ঘোষণা এসেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। ব্রিটিশ সরকারের নতুন নীতিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি আর শুধু নির্দিষ্ট সময় দেশটিতে অবস্থানের ভিত্তিতে দেওয়া হবে না। বরং অভিবাসীর আর্থিক ও সামাজিক অবদান, কর্মসংস্থান, চরিত্র এবং আইন মেনে চলার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। সরকারের ভাষায়, স্থায়ী বসবাসের অধিকার অর্জন করতে হবে অবদানের মাধ্যমে। নতুন নীতির আওতায় যারা অভিবাসন আইন ভঙ্গ করেছেন, তাদের স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনে অন্তত ২০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। যারা পাবেন তিন ও পাঁচ বছরের সুযোগ : ব্রিটিশ সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারী সর্বোচ্চ করদাতাদের তিন বছরে আইএলআর আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। একই সুযোগ থাকবে সরকারের সর্বোচ্চ দক্ষতাভিত্তিক ট্যালেন্ট কর্মসূচিতে আসা অভিবাসীদের জন্য। বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারী এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষকসহ নির্দিষ্ট পেশাজীবীরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। অন্যদের জন্য সাধারণ যোগ্যতার সময়সীমা হবে ১০ বছর। কেয়ার ওয়ার্কারদের জন্য বিশেষ ছাড় : নতুন নীতিতে সামাজিক পরিচর্যা খাতের কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে আসা বা সংশ্লিষ্ট ভিসায় পরিবর্তন করা কেয়ার ওয়ার্কারদের মধ্যে যারা ভিসার শর্ত পূরণ করেছেন এবং সামাজিক পরিচর্যা খাতে বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেছেন, তারা পাঁচ বছর পর আইএলআর আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে, এই সময়ের মধ্যে আসা বা ভিসা পরিবর্তন করা প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মী ভিসার শর্ত পূরণ করতে পারেননি। তাদের জন্য আরো পাঁচ বছরের নতুন কেয়ার ভিসার সুযোগ রাখা হচ্ছে। নতুন ভিসায় তারা আগের নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না। পাঁচ বছরের নতুন ভিসার মেয়াদ শেষে তারা আবার স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। একই ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের নির্দিষ্ট কিছু কর্মীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। আইএলআরের জন্য কঠোর শর্ত : স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য চারটি বাধ্যতামূলক শর্ত নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমুক্ত রেকর্ড, উচ্চমানের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, ব্রিটিশ সরকারের কাছে কোনো অনাদায়ী ঋণ না থাকা এবং অন্তত তিন বছরের ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স (এনআই) কন্ট্রিবিউশনের রেকর্ড। যাঁরা সরকারি সুবিধা বা বেনিফিট গ্রহণ করেছেন, তাদের আবেদন করার আগে টানা পাঁচ বছর রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না থাকার শর্তও পূরণ করতে হবে। শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন : সরকার অনুমোদিত নিরাপদ ও বৈধ পথে আসা শরণার্থীদের পাঁচ বছরে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্য শরণার্থীদের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২০ বছর হতে পারে। তবে কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত হলে নির্দিষ্ট শর্তে তা ১০ বছর পর্যন্ত কমতে পারে। ছোট নৌকা বা গোপন অবৈধ পথে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ বছর অপেক্ষা যুক্ত হওয়ায় সময়সীমা ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে ব্রিটেনে ইতিমধ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকার বাতিল করা হবে না। ব্রিটিশ নাগরিকদের পরিবারের সদস্য, হংকংয়ের ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) ভিসাধারী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং উইন্ডরাশসহ কিছু পুরোনো রুটের অভিবাসীদের জন্য বর্তমান পথ বহাল থাকবে। ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা : গত সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬-এ ঘোষিত সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পরিবর্তনগুলো ডিসেম্বর থেকে ইমিগ্রেশন রুলসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ২০২৭ সালে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা অনেক অভিবাসীর ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, আইএলআরের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় নয়, বরং আবেদন নিষ্পত্তির সময় কার্যকর নিয়ম বিবেচনা করা হবে। প্রসঙ্গত, ২ নভেম্বরের ঘোষণা হাউস অব কমন্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীতিগত বিবৃতি, এটি নতুন আইন হিসেবে সংসদে চূড়ান্ত ভোটে পাস হয়নি। পরিবর্তনগুলো ইমিগ্রেশন রুলসের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সুদূর তাইওয়ানে পাড়ি জমিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের মো. আনিসুর রহমান (৫২); কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন তিনি। নিউ তাইপে সিটির একটি হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে রয়েছে তার নিথর দেহ। আর দেশে বাবার লাশ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তার দুই সন্তান। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আনিসুরের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যয়ভার বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় স্বামীর লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন তার শোকাহত স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা। মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের আবুল বাসার মুন্সী ও ফিরোজা বেগম দম্পতির ছেলে মো. আনিসুর রহমান চলতি বছরের ২২ জুন জীবিকার সন্ধানে ‘ট্যুরিস্ট ভিসায়’ তাইওয়ান যান। গত ৩১ অক্টোবর সকালে তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিউ তাইপে সিটির ‘ফু জেন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে’ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বর্তমানে তার লাশ ওই হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। আনিসুরের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছার পর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। মৃত আনিসুরের স্ত্রী শিলা আক্তার জানান, তাদের সংসারে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া মেয়ে জুম্মী রহমান এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছেলে জারিফ রয়েছে। বাবার মৃত্যুর খবরে তারা ভেঙে পড়েছে। সন্তানদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজনরা। তারা শুধু অপেক্ষা করছে- কখন দেশে ফিরবে বাবার লাশ, শেষবারের মতো তাকে দেখতে পাবে। স্বামীর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন শিলা আক্তার। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তাইওয়ানে অবস্থানরত আনিসুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইয়াং জিয়ান-কাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মৃত্যু ও লাশ সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া যাবে। সরকারি উদ্যোগে লাশ দেশে আনা হলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তা গ্রহণের প্রস্তুতিও রয়েছে পরিবারের। এদিকে আনিসুরের ভাই নাজমুল হক, আজিজুর রহমান ও আফজাল বলেন, বিদেশের মাটিতে ভাইয়ের লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিজস্ব অর্থায়নে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারের শীর্ষপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া ভাইকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দ্রুত মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন আনিসুরের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের যোগাযোগ জোরদার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। রাজধানীর শেরাটন হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা, পেশাজীবী ও বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনআরবি ওয়ার্ল্ডের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান শরিফ, প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনাম, পরিচালক আশিসুল কবির ইয়াসির, পরিচালক রেহান রেজা এবং আঞ্চলিক পরিচালক সুমাইয়া জামান। এ সময় আসন্ন সম্মেলনের লক্ষ্য, পরিকল্পনা, কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা আরও জানান, এনআরবি ওয়ার্ল্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলন প্রবাসী বাংলাদেশিদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, মেধা ও বিনিয়োগকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।
গ্রিসের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন ইমন মিয়া। নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পেয়েছিলেন ওয়ার্কপারমিটও। প্রস্তুতি শেষে বাকি ছিল শুধু ভিসা নিয়ে গ্রিসে যাত্রা। কিন্তু সেই পথেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভারতীয় ভিসা। গ্রিসের ভিসার জন্য সাক্ষাৎকার দিতে দিল্লি যাওয়ার প্রয়োজন হলেও ভারতীয় ভিসা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি তাঁর। শুধু ইমন নন, এমন ভিসা জটিলতায় আটকে যাচ্ছে গ্রিসে কাজ করতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশির স্বপ্ন। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিসের শ্রমবাজারে রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। বিপরীতে ফিলিপাইন, ভারত ও নেপাল থেকে ক্রমেই বাড়ছে কর্মী নিয়োগ। ফলে সম্ভাবনাময় এই শ্রমবাজারে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। গ্রিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফিলিপাইন থেকে কর্মী পুনর্নিয়োগের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৬৪৩। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬৭৯-এ। একই সময়ে ভারত থেকে কর্মী পুনর্নিয়োগ ৭ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৯৪৭। নেপাল থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী নিচ্ছে গ্রিস। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও গ্রিসের শ্রমচুক্তির আওতায় গত দুই বছরে ৮ হাজার কর্মী পাঠানোর সুযোগ থাকলেও দেশটিতে বৈধ পথে গেছেন ৫০০ জনেরও কম। জানা গেছে, বাংলাদেশে গ্রিসের পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস না থাকায় ভিসার জন্য আবেদনকারীদের দিল্লির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ভারতীয় ভিসা পাওয়া, যাতায়াত এবং নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার জটিলতায় অনেকেরই চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। নিয়োগকর্তার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় তাঁরা অন্য দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিসে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষি খামার থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টের মালিকরা নিয়মিত বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশিরা কাজেও দক্ষ। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে সেই চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রদূত জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতি মাসেই গ্রিসের পররাষ্ট্র ও অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি। বাংলাদেশে নিয়মিত কনস্যুলার টিম পাঠানো কিংবা অন্য কোনো দেশের গ্রিক দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদনের সুযোগ তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন। নাহিদা রহমান সুমনা বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা আইনসম্মতভাবে গ্রিসে আসতে চাইলেও ভারতীয় ভিসার জটিলতায় অনেকেই দিল্লিতে যেতে পারছেন না। অথচ গ্রিক নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মী চান। সময়মতো কর্মী না পেলে তাঁরা অন্য দেশ থেকে লোক নিয়োগ করেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রতি বছর সর্বোচ্চ চার হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু চুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা হারাচ্ছেন বাংলাদেশিরা, অন্যদিকে গ্রিসের নিয়োগকর্তারাও বিকল্প শ্রমবাজারের দিকে ঝুঁকছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে নিয়মিত গ্রিক কনস্যুলার কার্যক্রম চালু, বিকল্প দেশে ভিসা আবেদন ও সাক্ষাৎকারের সুযোগ এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গ্রিসের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই কর্মী পাঠানোর সুযোগ ধরে রাখতে দ্রুত বাস্তবসম্মত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের মরদেহ আজ শনিবার দেশে আনা হচ্ছে। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত ৯ আগস্ট ভয়াবহ আগুনে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে প্রথম দফায় গত ২৭ আগস্ট ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়। মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় বাকি সাতজনের মরদেহ তাত্ক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। দূতাবাস জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় মরদেহগুলো প্রথমে সড়কপথে জেদ্দায় নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। শনাক্ত হওয়া নিহত সাতজন হলেন নওগাঁ সদরের মো. শাহিন, আত্রাইয়ের মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব, মো. সাগর আলী, নাটোরের নলডাঙ্গার মোহাম্মদ শামীম ও মো. সাব্বির হোসেন।
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের মরদেহ আগামীকাল শনিবার দেশে আসছে। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৬) মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে আজ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে প্রথম দফায় গত ২৭ আগস্ট ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়। তবে আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় বাকি সাতজনের মরদেহ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। দূতাবাস জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় মরদেহগুলো প্রথমে সড়কপথে জেদ্দায় নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। শনাক্ত হওয়া নিহত সাতজন হলেন—নওগাঁ সদরের মো. শাহিন, আত্রাইয়ের মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব ও মো. সাগর আলী এবং নাটোরের নলডাঙ্গার মোহাম্মদ শামীম ও মো. সাব্বির হোসেন। মরদেহগুলো ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের স্বজন ও প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবাসনে ইচ্ছুক ১৭২ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়ার মিসরাতা হতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়। আইওএমের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের লক্ষ্য করে দূতাবাসের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। টিকা দেওয়ার সিরিয়াল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। এ ধরনের প্রতারণা থেকে নিজেদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রবাসীদের বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মো. বাবুর ইসলাম চৌধুরী নাম ব্যবহার করে এক ব্যক্তি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফোন করছেন। নিজেকে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি ভ্যাকসিনের সিরিয়াল দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে আসা ওটিপি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মো. বাবুর ইসলাম চৌধুরী নামে কোনো ব্যক্তি প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত নেই। ফলে ওই পরিচয়ে যোগাযোগ করা ব্যক্তির সঙ্গে দূতাবাসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। দূতাবাস আরও জানিয়েছে, বর্তমানে তারা কোনো ধরনের টিকা বা ভ্যাকসিন প্রদানসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। তাই দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে ভ্যাকসিনের নিবন্ধন, সিরিয়াল কিংবা এ ধরনের সেবা দেওয়ার প্রস্তাব পেলে তা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফোনকলের পাশাপাশি ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও দূতাবাসের পরিচয়ে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দূতাবাস জানিয়েছে, অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি ফোন করলে তার কাছে পাসপোর্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর কিংবা মোবাইলে আসা কোনো ওটিপি প্রকাশ করা যাবে না। বিশেষ করে দূতাবাসের কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য সরবরাহ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সন্দেহজনক নম্বর থেকে ফোন এলে প্রয়োজনে সেটি ব্লক করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা চক্র বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করলে কিংবা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এ জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের mission.paris@mofa.gov.bd ইমেইল ঠিকানায় অভিযোগ বা সংশ্লিষ্ট তথ্য পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাস। প্রবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দূতাবাসের পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে অনেকে দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ফেরত আসা এসব বাংলাদেশির অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এসব বাংলাদেশিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে। মঙ্গলবার সকালে দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা। দেশে ফিরে আসা এসব নাগরিকের লিবিয়ায় অবস্থানকালীন অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে বিদেশযাত্রা এবং সেখানে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অনেকেই সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় মানবপাচারকারীদের সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবর্তে তাদের অনেকে সেখানে নানা ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়েন। কারও কারও ক্ষেত্রে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। তাদের এই অভিজ্ঞতা অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি এবং মানবপাচারকারীদের প্রতারণা সম্পর্কে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি, মানবপাচারকারীদের প্রলোভন এবং বিদেশে গিয়ে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তাদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে দেশে ফেরত আসা প্রত্যেক বাংলাদেশির প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাদের যাতায়াতের খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে দেশে ফেরার পর তারা জরুরি সহায়তা পেতে পারেন। লিবিয়ায় এখনো বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে কাজ করছে।
সফরকালে রাষ্ট্রদূত দারনা ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নেন। তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন তিনি। বিশেষ করে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘ড্যানিয়েল’-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন রাষ্ট্রদূত। এ সময় প্রবাসীরা দুর্যোগের সময় দূতাবাসের দেওয়া সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত বলেন, লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার সুরক্ষা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ করে যাচ্ছে। প্রবাসীদের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে সরেজমিনে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি প্রবাসীদের স্থানীয় আইন মেনে চলা, বৈধভাবে কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকা এবং প্রয়োজনের সময় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান। দারনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণা নিয়ে আলোচনা সফরের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রদূত দারনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষক-গবেষক বিনিময়ের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনায় ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েলের পর লিবিয়ার জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের সংহতি ও সহযোগিতাকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। সরাসরি সেবা পেলেন প্রবাসীরা সফরকালে দারনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী সরাসরি দূতাবাসের বিভিন্ন কনস্যুলার ও কল্যাণসেবা গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সফরের মাধ্যমে প্রবাসীদের সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি জানা, তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৯৩৪ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৯০৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে এসব আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫৪ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন, ৩ হাজার ৮৬৫ জনের বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৪৮৬ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ১ হাজার ৮৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনুমোদনহীন সীমান্তপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টায় আটক হয়েছেন আরও ২২ জন। আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয়, কর্মসংস্থান বা অন্য কোনোভাবে সহায়তার অভিযোগে আরও ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন ৩৭ হাজার ৬১৮ জন প্রবাসী। তাদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ১৬৯ জন নারী। বিবৃতিতে বলা হয়, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহের জন্য ২০ হাজার ২৫২ জনকে নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরও ৬ হাজার ৫৫৫ জনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনভুক্ত সময়ে মোট ৭ হাজার ৯৩৪ জনকে সৌদি থেকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা কোন কোন দেশের নাগরিক, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশে সহায়তা করা, দেশের ভেতরে পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এ ধরনের অপরাধে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অপরাধীদের পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন এবং তাদের আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি অপরাধীদের পরিচয় প্রকাশ করার বিধান রয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের অপরাধ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত, যার জন্য গ্রেপ্তার করা যায় এবং যা সম্মান ও বিশ্বাসের পরিপন্থী কাজের অন্তর্ভুক্ত। সন্দেহজনক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা জানাতে বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ৯১১ নম্বরে এবং সৌদি আরবের অন্যান্য এলাকায় ৯৯৯ অথবা ৯৯৬ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। সূত্র : গালফ নিউজ
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের কেলাংয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সমাবেশে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নিয়েছেন। সমাবেশে নতুন সদস্যদের সংগঠনে যোগদান এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাওলানা আব্দুস শহীদকে সভাপতি ও মো. হৃদয় মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে সংগঠনটির কেলাং স্টেট শাখার ২১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাদ মাগরিব কেলাংয়ে এ সমাবেশ ও দায়িত্বশীলদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। সভায় মালয়েশিয়ায় সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. ফয়সাল আহমাদ, মালয়েশিয়া কেন্দ্রীয় শাখার সভাপতি মুফতি তাকি উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান কাউসার। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বশীলদের সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত নতুন কমিটির মাধ্যমে কেলাং অঞ্চলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সাংগঠনিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ২২ অক্টোবর মালয়েশিয়া সফরে যান। সফর শেষে ২৬ অক্টোবর রাতে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
তাহফিজ শিক্ষাব্যবস্থাকে অবমূল্যায়ন বা তাহফিজ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ছোট করে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আহমদ জাহিদ হামিদি। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষায় গভীর জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা সীমিত নয়। যথাযথ সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে তারাও চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও দেশের নেতৃত্বদানকারী পেশাজীবী হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার মেলাকা নগরীতে আয়োজিত হাফেজদের স্নাতক সমাপনী ও উলুল আলবাব শিক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গ্রামীণ ও আঞ্চলিক উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা আহমদ জাহিদ বলেন, তাহফিজ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত কর্মজীবন পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য সুস্পষ্ট পথ তৈরি করা সরকার ও সমাজের দায়িত্ব। তিনি বলেন, তাহফিজ শিক্ষাকে কখনো অবমূল্যায়ন করবেন না। তাহফিজ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ছোট করে দেখবেন না। আমাদের প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের দোয়ায় তারাও পেশাজীবী হয়ে উঠবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তাহফিজ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার পর যেন উপযুক্ত স্বীকৃতির অভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে বাধ্য না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আহমদ জাহিদ বলেন, দেশের তাহফিজ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় তাহফিজ শিক্ষা নীতির ধারাবাহিকতায় ‘মালয়েশিয়া তাহফিজ সনদ ২.০’, ‘মালয়েশিয়া তাহফিজ স্বীকৃতি মানদণ্ড’ এবং জাতীয় তাহফিজ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দেশজুড়ে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী কিন্ডারগার্টেন ও কেমাসের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার শিশু প্রাক-তাহফিজ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি মারার আওতাধীন ৫৮টি উলুল আলবাব মডেলের নিম্ন মাধ্যমিক বিজ্ঞান কলেজের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ার মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (এসপিএম) দেশের সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দেশের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সব তাহফিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পন্ডক বা ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) পদ্ধতির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপপ্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও মনোযোগ তৈরি হয়, তা কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং শিল্পক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। এ জন্য মারার (এমএআরএ), গিয়াটমারা এবং কুয়ালালামপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএনআইকেএল) বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম কাজে লাগানো হবে। আহমদ জাহিদ বলেন, কুরআনে হাফেজ একজন চিকিৎসক যখন দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে রোগীর চিকিৎসা করবেন কিংবা একজন হাফেজ প্রকৌশলী যখন সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাবেন, তখন তা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, জ্ঞান আমাদের দক্ষ করে তোলে, কিন্তু মূল্যবোধ নির্ধারণ করে সেই দক্ষতা কীভাবে ব্যবহার করা হবে। আহমদ জাহিদ জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার পেশাজীবী হাফেজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে ভূমিকা রাখতে সক্ষম এমন দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় জ্ঞান ও আধুনিক পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রজন্ম দেশের উন্নয়ন এবং সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। উপপ্রধানমন্ত্রীর মতে, তাহফিজ শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, স্বীকৃত যোগ্যতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাদাত আরেফিন তাসিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট বার পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে সনদ লাভ করেছেন। নিউ ইয়র্ক স্টেট বোর্ড অফ ল এক্সামিনার্স এক অভিনন্দন বার্তায় জানায়, গত ২৮-২৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নিউ ইয়র্ক স্টেট বার পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন সাদাত আরেফিন তাসিন। এছাড়াও তিনি নিউ ইয়র্ক ল কোর্স, নিউ ইয়র্ক ল এক্সাম এবং মাল্টিস্টেট প্রফেশনাল রেসপন্সিবিলিটি এক্সামও সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। কোর্ট অফ আপিলসের নিয়মাবলী (কোর্ট রুলস ৫২০ দশমিক ৭) অনুসারে বোর্ড তাকে অ্যাটর্নি ও কাউন্সেলর হিসেবে ভর্তির জন্য ‘অ্যাপেলেট ডিভিশন, সেকেন্ড ডিপার্টমেন্ট’-এ প্রত্যয়ন করেছে। এমন খুশির খবর জেনে এক প্রতিক্রিয়ায় আরেফিন তাসিন জানান, এজন্য তিনি খুবই আনন্দিত এবং স্থল কৃতিত্ব তার বাবা ও মায়ের। তবে তিনি বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেনো বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করতে চান। জ্ঞানার্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, ধৈর্য্য ও নিরলস প্রচেষ্টায় নিউ ইয়র্কের মর্যাদাপূর্ণ সেন্ট জনস ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল থেকে সম্প্রতি জুরিস ডক্টর (J.D.) ডিগ্রি অর্জন করেন তাসিন। সাদাত আরেফিন তাসিন ১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসে বরিশাল শহরের কলেজ রোডে মাতুলালয়ে (নানা বাড়ি) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নিউ ইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা। মাত্র ৪ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তাসিন। সেখানে কৃতিত্বের সাথে স্কুল ও কলেজের পাঠ চুকিয়ে তিনি আইন বিষয়ে উচ্চতর এই ডিগ্রি অর্জন করেন। ছেলের এমন গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে পিতা হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাসিনের এই সাফল্যে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে এবং সবাই তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের দাম্মাম বিমান বন্দর এবং আরামকো তেল শোধনাগারে পৃথক হামলায় চার জন নিহত হয়েছে। এছাড়া এসব হামলায় আরো দশজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় পূর্বঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি হামলায় দুই জন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। জিএসিএ আরও জানায়, আহত আটজনের মধ্যে একজন সৌদি নাগরিক, দুজন ভারতীয়, দুজন ইয়েমেনি, দুজন বাংলাদেশি এবং একজন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। কয়েকটি হাসপাতালে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে বৃহস্পতিবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টায় দাম্মাম কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে এক হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হন। বর্তমানে তারা দাম্মামে সৌদি–জার্মান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি হাসপাতালে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, আহত দুই বাংলাদেশি গরম ও ধোঁয়ায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন নেই। বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন এবং দূতাবাস প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছেন। আগামীকাল শুক্রবার তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে পারেন। তাদের একজন হলেন কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার থানার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের অনুকূল চন্দ্র দাসের ছেলে সজল চন্দ্র দাস। আর আরেকজন হলেন নোয়াখালীর সদর উপজেলার দিনমনিরহাটের সিরাজুল হকের ছেলে মোহাম্মদ আবদুর রহিম। ইয়েমেনের হুথি বাহিনী ও সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরবের বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলার ঘটনা বাড়ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের শুরু থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথি হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দুই বাংলাদেশির একজন সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের এবং আরেকজন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক হয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি ছিলেন। ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের গত ১৮ অক্টোবরের এক চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশি পুরুষটি ২০২৩ সালের ১ অগাস্ট গ্রেপ্তার হন। তাকে রাখা হয়েছিল জেদ্দা সংশোধনাগারে। আর ওই বছরের ২ অগাস্ট গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নারীকে রাখা হয়েছিল জেদ্দা মহিলা কারাগারে। দুজনেই সৌদি আরবের আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। একজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, অপরজনের টাঙ্গাইলে। তবে এসব অভিযোগে এর আগে গ্রেপ্তার কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইং বলছে। শ্রম কল্যাণ উইং বলছে, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত’ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি নারী-পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলেও তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে ওই ঘটনার আগে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় নানা অপরাধের অভিযোগে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়েছিল জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই অনুরোধের পর চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা দেওয়া হয়। সেই তালিকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের নাম-পরিচয় থাকলেও শাস্তির কোনো তথ্য ছিল না। শ্রম কল্যাণ উইংয়ের চিঠিতে বলা হয়, তালিকার সাত নম্বর কলামে রায় ঘোষিত বন্দিদের সাজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকার কথা। কিন্তু এই দুজনের নামের পাশে কোনো সাজার কথা ছিল না। শ্রম কল্যাণ উইংয়ের চিঠিতে এ দুজনকে আলাদা অভিযোগে গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও সৌদি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তাদের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত’ হওয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বন্দি তালিকার ওই তথ্যের বরাতে শ্রম কল্যাণ উইংয়ের চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশির আটক থাকলেও এর আগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রমাণ নেই। এক সপ্তাহ আগে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এ সিদ্ধান্তের আগে তা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ‘কিছু না জানানোর’ কথা বলা হয় বাংলাদেশ মিশনের তরফে। সৌদি প্রেস এজেন্সির ওই খবরে বাংলাদেশি এক নারী ও পুরষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা লেখা হয়। এরপর সৌদি কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর চিঠি দিয়ে দুজনের বিষয়ে তথ্য ও বিস্তারিত জানতে চায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। জেদ্দা কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা বলেন, যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা হচ্ছে, তাদের বিচার চলা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে কোনো নোটিফিকেশন, কূটনৈতিক পত্র বা তথ্য দূতাবাসকে কোনো মাধ্যমে দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। ১৭ অক্টোবর সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনও কোনো খবর, সংবাদ পাইনি। আমরা সংবাদটা পাওয়ার জন্য এবং আসলেই কী ঘটেছে, তাদের বিস্তারিত কী, তারা কবে কাজ করতে গিয়েছে, তাদের বাংলাদেশের পরিচয়টা কী, এইসব বিস্তারিত জানার জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি। “পরিচয় বলতে আমরা নামটা জানি। দুজনের নাম জানি। এছাড়া বাইরে ওরা কতদিন ধরে ওখানে কাজ করছে বা তাদের এম্প্লয়ার কে ছিল, কী ব্যাপার— সেই বিস্তারিত জানার জন্যই কিন্তু আমরা চিঠিটা দিয়েছি।” তাদের মৃত্যুদণ্ডকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে অভিহিত করে সৌদি আরবের স্থানীয় আইনের কঠোরতার কথাও সাংবাদিকদের প্রশ্নে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। সবশেষ ১৮ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ার সঙ্গে বৈঠক করে মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার তথ্য চায় সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, “রাষ্ট্রদূতকে বৈঠকে ডেকে এর আগে সৌদি সরকারের কাছে পাঠানো নোট ভার্বালের একটি কপি হস্তান্তর করা হয়েছে।” এর পরিপ্রেক্ষিতে জেদ্দা কনস্যুলেটের চিঠিতে বলা হয়, “রায়ের কপি পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।” ওই চিঠিতে বলা হয়, জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতায় সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারে বিভিন্ন চারিত্রিক মামলায় আটক ৩০৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৪৭ জনের সাজা ঘোষিত হয়েছে। এর মেয়াদ সর্বনিম্ন ১ মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর। সাইবার অপরাধে মক্কায় আরও তিনটি পৃথক মামলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হয়েছে। চিঠিতে বিচার প্রক্রিয়ায় কনস্যুলেটের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, সৌদি ক্রিমিনাল কোর্টসহ অন্য আদালতে শুনানির সময় অনুবাদক নিয়োগ দেওয়া হয় দেশটির ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহিদ’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ফলে আসামির পক্ষে অনুবাদক হিসেবে মিশনের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। সাধারণত মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে গ্রেপ্তার বাংলাদেশির পরিবার দূতাবাস বা কনস্যুলেটে, কিংবা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনি সহায়তার আবেদন করে। কিন্তু এ দুজনের পরিবার তা করেনি, কোনো যোগাযোগও করেনি। সৌদি কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ডের রায় বা তা কার্যকরের বিষয়ে কিছু জানায়নি। মৃত্যুদণ্ডের ধারায় চলা বিচার এবং রায় কার্যকরের বিষয়ে সৌদি সরকার থেকে বাংলাদেশ মিশনকে ‘না জানানো’ হয়ে থাকলে সেটিকে ‘বিস্ময়কর’ বলছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে আসা গোলাম মসীহ বলেন, “আমার কাছে তো খুব অবাক লাগল যে, এত সিরিয়াস একটা কেইস, আর ডিসিশন তো এক দিনেই হয়নি, একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে হয়েছে। “ওভার দ্য পিরিয়ড হলে এইটা তো নলেজে অবশ্যই থাকা উচিত ছিল। নলেজের বাইরে কীভাবে গেল? এইটা সম্ভবপর না। আমার সময়ে সবাই তাই দেখেছে, আমার সময় সেটাই হচ্ছিল।” ‘জানানো হয়নি’ বলে দায় এড়ানোর সুযোগ দেখেন না রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) নির্বাহী পরিচালক তাসনীম সিদ্দিকী। তার কথায়, “জানাটা আমার দায়িত্ব, আমার কাজের অংশ, তাই না। সুতরাং, এইটা আমি এভাবেই বলব যে, এসব বিষয় আরও অনেক বেশি খবর নেওয়ার দরকার, আরও অনেক বেশি সচেতন থাকা দরকার।”
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের জন্য ২০০ ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়। অন্যজন কুমিল্লার বাসিন্দা। আকাশপথের যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এর আগে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর করা হয়েছে। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আজেল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই বাংলাদেশি হলেন- নজরুল ইসলাম আবদুল বসির এবং সিথি আক্তার। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে স্থানান্তর করা হলে বিচারক তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।
সৌদি আরবে দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ে তাকে তলব করে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ সময় রাষ্ট্রদূতকে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর শিরশ্ছেদের ঘটনা ও এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে সরকার। এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ নিয়ে সরকার এখনো কিছু জানতে পারেনি। তবে বাংলাদেশ চিঠি দিয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে। এ সময় সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড ‘আমাদের জন্য’ বড় শিক্ষা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে যে বার্তা এসেছে, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের অভ্যন্তরে ‘ব্যভিচারে’ লিপ্ত ছিলেন দুই বাংলাদেশি, যা সৌদি আইনে একটি গর্হিত কাজ হিসেবে গণ্য। ওই আইন অনুযায়ী আদালত ব্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার কোনো কিছুই পায়নি। বাংলাদেশ তাই দুজনের বিস্তারিত জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে। সৌদি আরব চিঠির জবাব দিলে মৃতদেহগুলো কিভাবে ফেরত আনা যাবে সে বিষয়ে জানতে পারবেন বলে উল্লেখ করেছেন শামা ওবায়েদ। প্রসঙ্গত, সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। এই দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।
কম্বোডিয়ায় বিভিন্ন অনলাইন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকেপড়া এবং মানবপাচার, প্রতারণা ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার ১৮০০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ ফ্লাইটে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সংগঠনটি পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা ও সরকারি ছাড়পত্র নিয়ে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেলেও প্রতিশ্রুত চাকরির পরিবর্তে বিভিন্ন অনলাইন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের অনেকে প্রতারণামূলক নিয়োগ, জবরদস্তি, ভয়ভীতি, চলাচলে বাধা, পাসপোর্ট আটকে রাখা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তির বিনিময়ে অর্থ দাবির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণার বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসন, মানবপাচার প্রতিরোধ, নাগরিক সুরক্ষা এবং নিয়োগব্যবস্থার জবাবদিহির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়, ‘সরকারি ছাড়পত্র ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদেশে যাওয়ার পরও যদি একজন বাংলাদেশি মানবপাচারের শিকার হন, তাহলে নিয়োগ, ঝুঁকি নিরূপণ ও নাগরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি ছিল?’ সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, এই প্রশ্ন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগাম দায়ী করার জন্য নয়; বরং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য। এতে বলা হয়, কম্বোডিয়ায় ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণজনিত জরিমানা মওকুফের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকট, বিমান টিকিটের উচ্চমূল্য, পাসপোর্ট ও ট্রাভেল পাসসংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে অনেক বাংলাদেশি দেশে ফিরতে পারছেন না। অনির্বাণের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জরিমানা মওকুফের আওতায় দেশে ফেরার জন্য আবেদনকারী ১৭৯৭ জনের তালিকা কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে না পারা আরো ৪০০ জনের বেশি বাংলাদেশি একই ধরনের সংকটে রয়েছেন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা সামনে রেখে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আর বিলম্ব করা উচিত নয়। আটকেপড়া বাংলাদেশিদের আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহে সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জরুরি কূটনৈতিক সমন্বয় করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরতে না পারা ব্যক্তিদের জন্যও বিকল্প প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন প্রত্যাবাসিত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, বাধ্যতামূলক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য ধরনের শোষণের শিকার কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, জবরদস্তি বা পাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণের অধীনে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের শুধু অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করলে মানবপাচারের প্রকৃত বাস্তবতা উপেক্ষিত হতে পারে। তাই তাদের ক্ষেত্রে মানবপাচার-সংবেদনশীল তদন্ত, যথাযথ আইনি মূল্যায়ন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অ-শাস্তি নীতি অনুসরণ করতে হবে। এ ছাড়া দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে নিরাপদ অভ্যর্থনা, খাবার, চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, প্রয়োজনীয় যাতায়াত সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশে সক্রিয় সম্ভাব্য মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়োগকারী সংস্থা, মধ্যস্থতাকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি আরো বলেছে, যেসব ব্যক্তি বৈধ সরকারি ছাড়পত্র নিয়ে কম্বোডিয়ায় গিয়ে মানবপাচারের শিকার হয়েছেন, তাদের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে নিয়োগকর্তা যাচাই, কর্মস্থল পরিদর্শন, চাকরির চুক্তি, বেতন, আবাসন এবং গন্তব্য দেশের ঝুঁকি নিরূপণপ্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কম্বোডিয়া ও অন্যান্য উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্যে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরো কঠোর যাচাই-বাছাই, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং নিরাপদ অভিবাসনবিষয়ক জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনটির সভাপতি আল আমিন নয়ন বলেছেন বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য নাগরিকদের বৈধভাবে পাঠানোই যথেষ্ট নয়; তাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। কোনো নাগরিক বিদেশে গিয়ে মানবপাচারের শিকার হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা, সুরক্ষা দেওয়া, পুনর্বাসন করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন ও ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রত্যাশাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামান এবং হাটহাজারী সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নবগঠিত কমিটির নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সাক্ষাৎকালে সমিতির নেতারা প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও গতিশীল করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির নেতারা কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। প্রবাসীদের কল্যাণ, বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেন। সাক্ষাতে সমিতির যাঁরা উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ এস আসাদ নূর, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল হক মনজু, সহসভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মাওলানা মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সাইফুল্লাহ চৌধুরী ও মোহাম্মদ মোরশেদ জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ জবরুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন খোকন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান রুবেল এবং অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হলে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণে ইতিবাচক অগ্রগতি আসবে।
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে পূর্ব লন্ডনে সংগঠনটির কার্যালয়ে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু। জুলাই আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বক্তব্য অনুষ্ঠানের শুরুতে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “আমরা জুলাই যুদ্ধ থেকে সরে আসি নাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধ থেকে সরে আসি নাই।” তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে জুলাই যুদ্ধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অর্থ দেশকে অস্বীকার করা। জুলাই সনদ ও চাঁদাবাজি নিয়ে মন্তব্য জুলাই সনদ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, বিএনপি যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। দেশে চাঁদাবাজির বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে বক্তব্যে তিনি জানান, আগে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে কেউ মামলা করতেন না। এখন সরকার বাদী হয়ে মামলা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ আইন প্রণয়ন করবে বলেও জানান তিনি। নেতাকর্মী ও কমিউনিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় যুক্তরাজ্য বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এবং লন্ডনে বসবাসরত কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ছুটি কাটিয়ে রোববার দুপুরে ফেরার কথা ছিল কুমিল্লার অধিবাসী সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের। বিমানের টিকিট কাটেন আগেই। রোববার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সময়মতো হাজির হন। এসেই শোনেন ফ্লাইট বাতিল। জানতে পারছেন না কবে ছাড়বে ফ্লাইট। দুপুরে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা হয় রফিকুলের সঙ্গে। চোখেমুখে তার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছাপ। বলেন, ‘হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। আমাকে যে কোনো মূল্যে সৌদি আরব যেতে হবে। সময়মতো যেতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। পরবর্তী ফ্লাইটের সিদ্ধান্ত জানানো হলে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমত।’ হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকায় ফেরার অপেক্ষায় সেখানে প্রায় চার হাজার যাত্রী। কখন চালু হবে বিমানবন্দর, কখন চালু হবে ফ্লাইট সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় কাটছে তাদের সময়। রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ বিপুল হতাহতের পর কুমিল্লার রফিকুলের মতো হাজারো প্রবাসীর যাত্রা আটকে গেছে। শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা। অনেকেই বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করেও কিনারা করতে পারছেন না। ভারত হয়ে বিকল্প রুটের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ইয়েমেন লড়াইরত হুথি বিদ্রোহীরা বিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ যুগান্তরকে বলেন, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের এ বিষয়ে অবহিত করছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে বিমানবন্দরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। রিয়াদগামী বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার এবং শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ১০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিন হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে রিয়াদেও আটকা প্রায় চার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রী। ফলে দুদিকেই প্রবাসীদের যাতায়াত কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কিং খালিদ বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর ভোর ৩টা পর্যন্ত সব ফ্লাইট পরিচালনা ও বিমান চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইটও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে টিকিট ও পাসপোর্ট হাতে নিয়ে রিয়াদগামী যাত্রীদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। সবশেষ তথ্য জানতে যাচ্ছেন এয়ারলাইন্সগুলোর কাউন্টারে। অনেককে ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে সবার চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছাপ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস-মাইক্রোবাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে চেপে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ছুটে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় টিকিটের তারিখ পরিবর্তন, অর্থ ফেরত কিংবা বিকল্প ফ্লাইট পাওয়া এবং এসবের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণা নিয়ে অনেককেই ছোটাছুটি করতে দেখা গেল। বিকল্প পথেও অনিশ্চয়তা: চাঁদপুরের রিয়াদ হোসেন ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটেছিলেন। ভারতের মুম্বাই হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই যাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারতের মুম্বাই হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখন শুনছি, মুম্বাইয়ে যাদের ট্রানজিট, তাদের বোর্ডিং দেওয়া হচ্ছে না। মুম্বাই থেকে নাকি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’ কথা হয় সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য বিমাবন্দরে আসা আরও কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে। তারা বলছিলেন, ভিসার মেয়াদ, নিয়োগকর্তার নির্ধারিত যোগদানের বেঁধে দেওয়া সময় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক শর্তের বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে অনেক প্রবাসী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা না করে বিকল্প রুটে টিকিট কাটছেন। অনেকেই ঢাকা-মদিনা ও ঢাকা-জেদ্দা রুটসহ বিভিন্ন বিকল্প রুটের টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সেগুলোর দামও হু হু করে বাড়ছে। আর ওই সব রুট নিয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে টিকিট সংগ্রহের পরও উদ্বেগ কাটছে না। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেকের মধ্যে ঢাকায় থাকা-খাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দূরবর্তী জেলা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন করে বাড়ি ফেরা কিংবা ঢাকায় অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের চাকরি থাকবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তার সঙ্গে এটি তাদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মো. নাসরুল্লাহ বদর (৩৫) নামের এক মাদরাসাশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশটির রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলা চালায় ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে নিহত নাসরুল্লাহ বদর কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। তিনি রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদরাসার সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টায় নিহত মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদরের ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসিরুদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাওলানা নাসিরুদ্দিন বলেন, নাসরুল্লাহ বদর শনিবার ওমরাহ পালনের উদ্দেশে রওনা হন। তিনিসহ মোট ৪৫ জনের একটি কাফেলা শনিবার সকালে রিয়াদের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। রিয়াদে দুই ঘণ্টার একটি ট্রানজিট ছিল। ট্রানজিট শেষ হয়ে মক্কার উদ্দেশে বিমানটি যখন রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সে সময় হামলায় নিহত হন নাসরুল্লাহ বদর। এ সময় মোট ১২ জন প্রাণ হারান ঘটনাস্থলেই। ওই কাফেলায় থাকা ৪৫ জনের মধ্যে ৩২ জন সুস্থ আছেন। বাকি ১৩ জন গুরুতর আহত অবস্থায় সৌদির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি আরো জানান, নাসরুল্লাহ বদর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। মাওলানা নাসিরুদ্দিন বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নাসরুল্লাহ বদর নিহত হওয়ার পর গোটা পরিবার শোকে স্তব্ধ। ছোট ছোট তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকে আমরা নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহের অপেক্ষা করছি। সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। সরকারের কাছে আকুল আবেদন নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়। এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একাধিক কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য, ওষুধশিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাবাহ রাজ্যের রাজ্য সচিব, মুখ্যমন্ত্রীর সহকারী মন্ত্রী, কৃষি-মৎস্য ও খাদ্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপস্থায়ী সচিব এবং সাবাহ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রধানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উচ্চফলনশীল ধানের জাত, কৃষি প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, মৎস্যচাষ, অ্যাকুয়াকালচার, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ এবং ব্লু ইকোনমি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি ধান উৎপাদনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সাবাহতে কাজে লাগানো, যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সাবাহতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন অংশগ্রহণকারীরা। দুই অঞ্চলের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া ওষুধ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। শিক্ষা, একাডেমিক বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল সাবাহ এসএমই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এতে দুই অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের এসএমই সংগঠন ও সাবাহ এসএমই অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ স্থাপন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা ও উত্তম চর্চা বিনিময়, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে। উল্লেখ্য, গত আগস্টে সাবাহ রাজ্যের গভর্নর ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক এসব আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মালদ্বীপে মো. সজিব (২৭) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) মালদ্বীপ সময় দুপুরে নিজ ঘরের কক্ষ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার পুরাতন মকিমের বাড়ির আবদুল খালেকের ছেলে। তার এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে মালদ্বীপে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি সজিবের পরিবারকে মুঠোফোনে মৃত্যুর খবর জানান। তারা সজিব ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন। নিহতের চাচাতো ভাই সোহেল জানান, শনিবার তারা খবর পান সজিবের কক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে দেশটির পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। তবে ঘটনার পর থেকে সজিবের একই কক্ষে বসবাসরত দুজন বাংলাদেশিসহ তিনজন প্রবাসী পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় সজিবের মৃত্যু নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। নিহতের বাবা আবদুল খালেক জানান, তিন বছর আগে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় মালদ্বীপে যান সজিব। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। পারিবারিক কোনো বড় ধরনের বিরোধও ছিল না। তার এমন মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এদিকে সজিবের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. সোহেল বলেন, তার এমন মৃত্যুর খবর পরিবারের জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
অস্ট্রেলিয়ায় নারী রোগীদের সঙ্গে যৌন অপরাধের ১০টি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক শফিউল মিল্কি (৬২)। ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে এসব অপরাধের ঘটনা ঘটে। গত বছরের জুনে আদালতে দোষ স্বীকার করলেও আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় ঘটনাগুলো সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৪ জুন মেলবোর্নের কাউন্টি কোর্টে হাজির হয়ে ১০টি যৌন অপরাধের দোষ স্বীকার করেন মিল্কি। আদালতে উপস্থাপিত বিবরণ অনুযায়ী, চিকিৎসার সময় রোগীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করতেন মিল্কি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে যৌন আচরণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চিকিৎসকের ওপর আস্থা রেখে চিকিৎসা নিতে আসা নারীরা এসব ঘটনার শিকার হন। ভুক্তভোগীদের একজন ফ্রান মিলিংটন নিজের পরিচয় প্রকাশ করে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে ভিক্টোরিয়ার ওশান গ্রোভের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি যৌন আক্রমণের শিকার হন। আদালতে জানানো হয়, চিকিৎসার সময় মিল্কি তার অন্তর্বাস নামিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এদিকে পৃথক এক নারী রোগীর করা ধর্ষণের অভিযোগ থেকে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) মিল্কিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। পাঁচদিন ধরে চলা বিচার শেষে মেলবোর্নের কাউন্টি কোর্টের জুরিরা তাকে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেননি। জানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে জরায়ুমুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন ওই নারী। তবে মিল্কির আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে বলেন, পরীক্ষায় ব্যবহৃত যন্ত্রের কারণে রোগী যে অনুভূতির কথা বলেছেন, সেটি হয়ে থাকতে পারে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনার পর জুরিরা তাকে খালাস দেন। তবে পৃথক ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও অন্য চার নারী রোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি যৌন অপরাধে তার দোষ স্বীকার বহাল রয়েছে। ওই অপরাধগুলোর তথ্য এতদিন আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। শফিউল মিল্কির বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মামলা চলছে কয়েক বছর ধরে। এর আগে ২০২৩ সালে ছয় নারী রোগীর সঙ্গে যৌন অপরাধের ১৫টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ওই বছরের এপ্রিলে আদালত তাকে সাড়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে অন্তত ১১ বছর কারাভোগের নির্দেশ ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুনে ভিক্টোরিয়ার আপিল আদালত আগের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি পাওয়ায় সেই দণ্ডাদেশ বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাক্ষ্যপ্রমাণ ব্যবহারের বিষয়ে জুরিদের যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের হাজির না করার বিষয়টিও বিচারে প্রভাব ফেলেছিল। পুনর্বিচারের প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই চার নারী রোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি অপরাধে দোষ স্বীকার করেন মিল্কি। অন্যদিকে পৃথক ধর্ষণের অভিযোগে বিচার শেষে তিনি খালাস পান। তথ্য মতে, শফিউল মিল্কি বাংলাদেশে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে নিউজিল্যান্ডে যান। সেখান থেকে ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও তিনি নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। দোষ স্বীকার করা ১০টি অপরাধের সাজা নির্ধারণের বিষয়ে আগামী ২৩ অক্টোবর আদালতে পরবর্তী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে পৃথক ধর্ষণ মামলায় খালাস পেলেও চার নারী রোগীর সঙ্গে যৌন অপরাধের ঘটনায় এখনো তাকে সাজা নির্ধারণের মুখোমুখি হতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিনাজপুরের আব্দুল গাফফার (৪২)। তবে প্রবাসজীবন শুরু করে উপার্জনের সুযোগ পাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর বুকে ব্যথা অনুভব করার পরদিন তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোকের কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আব্দুল গাফফারের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেত্রাহাট এলাকায়। তার বাবার নাম মো. আবু বক্কর মণ্ডল। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন গাফফার। সেখানে পৌঁছে রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বুকে ব্যথা অনুভব করেন গাফফার। তবে কক্ষে থাকা অন্যদের আশ্বস্ত করে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ৭ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে ডাকাডাকি করেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে কক্ষে থাকা ব্যক্তিরা মালিককে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গাফফারের নিকটাত্মীয় মো. আল আমিন জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ধারদেনা করে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কর্মজীবন শুরুর আগেই তার মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এদিকে, স্বজনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার। হাইকমিশন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে আব্দুল গাফফারের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে হাইকমিশন।