রাজধানীর পল্লবী আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আগামী রোববার (৭ জুন) দেয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ মামলায় যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য ওইদিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী যাবজ্জীবন সাজার আবেদন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এইমামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্ততর্কের শুনানি হয় । এদিনবেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চায় ঘাতক সোহেল রানা। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন নিজেকে বাঁচাতে নির্দোষ দাবি করেন। এর আগে মঙ্গলবার টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তারসহ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ঘটনার লোমহর্ষক তথ্য উঠে আসে। এ মামলায় গত ১ জুন ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এসময় তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গুম করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর আগে গত ২৪ মে রানা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। ওইদিনই অভিযোগপত্র আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে সোহেল রানা দম্পতি কৌশলে আট বছরের শিশু রামিসাকে তাদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। এরপর রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যা করে সোহেল। পরে লাশ গুম করার জন্য গলা কেটে মস্তক আলাদা করে সে। এ ঘটনায় মামলা করেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
ভারতের রাজধানী দিল্লির মালভিয়া নগরের একটি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন। তবে আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশনের ভেরিফায়েড অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, আহতদের মাঝে তিন জন সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ও বাকি দুইজন সফদারজাং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে হাইকমিশন আরও জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) সকালে দিল্লির মালভিয়া নগরের লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ আগুন লাগে। এ ঘটনায় ২১ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসন চারজনের মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সতীশ উপাধ্যায় বলেছেন, নিহতের সংখ্যা ২১ জন এবং আহত ৪৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা
বাংলাদেশের সুস্বাদু ও জনপ্রিয় আমের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সরকারি সমন্বয়ের ফলে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি তাজা আম রপ্তানির পথ এখন অনেকটাই সুগম হয়েছে। আগামী জুন মাসে মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে আম উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রপ্তানি ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর ২০২৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি তাজা আম রপ্তানির সুযোগ তৈরিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে আসছে। এ লক্ষ্যে হাইকমিশন বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি কীটপতঙ্গ ঝুঁকি বিশ্লেষণ (পেস্ট রিস্ক অ্যানালাইসিস-পিআরএ) প্রতিবেদনও প্রেরণ করা হয়েছে। হাইকমিশন মালয়েশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি বিভাগ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক চেম্বার, সম্ভাব্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সুপারশপগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। মালয়েশিয়ায় আমের ব্যাপক চাহিদা এবং দেশটিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর কারণে এই বাজারকে ঘিরে রপ্তানিকারকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকার ও হাইকমিশনের সক্রিয় উদ্যোগের ফলস্বরূপ মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের আম বাগান এবং তাজা ফল প্যাকিং সুবিধাগুলোতে ‘ভেরিফিকেশন অব কমপ্লায়েন্স’ (ভিওসি) পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। মালয়েশিয়ার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাজা আম আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় কীটপতঙ্গ ঝুঁকি বিশ্লেষণ (পিআরএ) সম্পন্নের পূর্বশর্ত হিসেবে এ ধরনের পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়ার এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগের দুই সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামী ৭ থেকে ১৩ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন আম উৎপাদন এলাকা, প্যাকিং ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সুবিধা এবং রপ্তানি প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবে। জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প পুরো পরিদর্শন কার্যক্রমের সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরিদর্শনে প্রয়োজনীয় মান ও নিরাপত্তা শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত হলে চলতি আম মৌসুমেই মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি তাজা আম রপ্তানি শুরু করা সম্ভব হবে। আর মালয়েশিয়ার বাজার উন্মুক্ত হলে তা শুধু বাংলাদেশের আম রপ্তানির নতুন দিগন্তই উন্মোচন করবে না, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশের আম প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করবে। রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের আমের সফল প্রবেশ দেশের কৃষি রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সৌদি আরবে উটের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১ জুন) দুপুরে তাদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর আগে রোববার রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত হারুনুর রশিদ হারুন ও রাসেল হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন হারুনুর রশিদ ও রাসেল হোসেন। রোববার রাতে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় রিয়াদের একটি সড়কে উটের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তারা দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হারুন ও রাসেল ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। সোমবার দুপুরে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারে তাদের পরিবার। তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নিহতদের পরিবার। বর্তমানে নিহতের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ওমানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওমান শাখা বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মরহুম জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একইসঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন প্রবাসী নেতাকর্মীরা। ওমান বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে এবং ওমান যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওমান বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাজি আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি জানে আলম ও শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। আলোচনা সভায় বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্বগুণ এবং দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় বক্তব্য দেন ওমান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন রিপন, যুবদলের সহসভাপতি কামাল উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান শামীম, যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস ভূঁইয়া এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ইউনুস মিঠন, বেলাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, আনোয়ার হোসেন, সাঈদ খোকন, আল আমিন, জহির হোসেন, মোহাম্মদ দিপুসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্ব শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ওমান বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম। মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি প্রবাসে বিভেদ ভুলে দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় ইউসুফ মিয়া (৩৭) নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) স্থানীয় সময় কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহত ইউসুফ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কাইমপুর ইউনিয়নের মন্দভাগ গ্রামের বাসিন্দা এবং প্রয়াত তিতন মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান ইউসুফ। রিয়াদে কর্মরত অবস্থায় শনিবার একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছালে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। ইউসুফের বাবা আগেই মারা গেছেন। পরিবারে রয়েছেন তার বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী হাজেরা খাতুন। তাদের কোনো সন্তান নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। বর্তমানে ইউসুফ মিয়ার মরদেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন বলেন, “দীর্ঘদিন প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন আমার স্বামী। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় আমরা সবকিছু হারিয়েছি। সরকারের কাছে অনুরোধ, যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।” পরিবার ও স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে দ্রুত মরদেহ দেশে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা যায়।
মালয়েশিয়ার কিলানতান রাজ্যে পুলিশের তল্লাশি এড়াতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার পর ৯ বাংলাদেশিসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক বাংলাদেশিরা দেশটিতে অবস্থানের বৈধ নথি দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িচালক সীমান্ত এলাকা থেকে অভিবাসী পরিবহনের কথা স্বীকার করেছেন। শনিবার (৩০ মে) সকাল ৭টার দিকে কিলানতানের তুমপাত জেলায় এ ঘটনা ঘটে। মালয় মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, টহলরত জেনারেল অপারেশন ফোর্সের (জিওএফ) সদস্যরা একটি সন্দেহজনক হলুদ রঙের গাড়িকে থামানোর চেষ্টা করলে চালক গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যান। জিওএফের দক্ষিণ-পূর্ব ব্রিগেডের কমান্ডার আহমদ রাদজি হুসাইনের ভাষ্য, পালানোর একপর্যায়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে প্রথমে আরেকটি গাড়ি এবং পরে একটি বাড়িতে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে স্থানীয় এক চালক ও ৯ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তাদের সবাইকে জিওএফ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশি নাগরিকরা মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আহমদ রাদজি হুসাইন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চালকের মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে অভিবাসীদের কোটা ভারুতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জনপ্রতি ১০০ রিঙ্গিত করে পারিশ্রমিক পেতেন। ঘটনার পর আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মানবপাচারের অভিযোগে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় লটারি কর্মসূচি ‘বিগ টিকিট’-এর সাপ্তাহিক ই-ড্রতে ভাগ্য খুলেছে বাংলাদেশিসহ চার প্রবাসীর। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহের ড্রয়ে প্রত্যেকে ২৫ হাজার দিরহাম করে পুরস্কার জিতেছেন। বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও ফিলিপাইনের চারজন প্রবাসী। অনলাইনে ২৮৭তম ড্রয়ের টিকিট ক্রয়ের মাধ্যমে তারা এই পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশি বিজয়ী মোহন মিয়া (২৯) গত তিন বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে তিনি ১০ বন্ধুর সঙ্গে মিলে নিয়মিত বিগ টিকিট কিনতেন। অবশেষে সেই প্রচেষ্টার সুফল পেয়েছেন তিনি। পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে মোহন বলেন, এই অর্থ দিয়ে তিনি পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবেন এবং স্বজনদের সহযোগিতা করবেন। ভবিষ্যতেও তিনি এ ধরনের উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, পাকিস্তানি বিজয়ী মুহাম্মদ আনোয়ার উল হক প্রায় ৩০ বছর ধরে শারজাহে বসবাস করছেন। পেশায় তিনি একজন সাইট সুপারভাইজার। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত টিকিট কিনে আসছিলেন তিনি। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এই প্রবাসী। ভারতীয় নাগরিক আরিপুরাথ শানাভাস আবদুলরহিমান ছুটিতে নিজ দেশে অবস্থানকালে পুরস্কার জয়ের খবর পান। এতে তার ছুটির আনন্দ আরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে, চতুর্থ বিজয়ী ফিলিপাইনের নাগরিক জোয়েল বাতাও বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ঈদের আনন্দের মধ্যেই এমন সৌভাগ্য চার প্রবাসীর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ-এ সড়ক দুর্ঘটনায় মাহাদি রাজ শুভ নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা। নিহত মাহাদি রাজ শুভ লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং প্রবাসী মুহাম্মদ দুলালের ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, শুভ সৌদি আরবে একটি খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো মোটরসাইকেল নিয়ে ডেলিভারির কাজে বের হলেও সেদিন আর বাসায় ফেরেননি। পরে সহকর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। রাতের দিকে সৌদি পুলিশ তাদের জানায়, রিয়াদের তোমামা এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি আরও আলোচনায় এসেছে তার একটি পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে। প্রায় দুই মাস আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি হতাশা প্রকাশ করে মৃত্যুকামনাসূচক একটি পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্টের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হওয়ায় পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি আবেগঘন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের ভাষ্য, উন্নত জীবনের আশায় মাত্র ছয় মাস আগে দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শুভ। ভবিষ্যৎ নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল, কিন্তু দুর্ঘটনায় সবকিছু থেমে গেল। বর্তমানে তার মরদেহ রিয়াদের একটি হাসপাতালে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের দাবি জানিয়েছেন।
ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন সাজু (২৬) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। পবিত্র ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে ওমানের কালহাত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাখাওয়াত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি আবদুল হাই ও নূর জাহান দম্পতির ছেলে। দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা তৌহিদ নামে আরেক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটি উপলক্ষে সাখাওয়াত ও তার বন্ধু তৌহিদ ঘুরতে বের হয়েছিলেন। ভ্রমণের একপর্যায়ে ওমানের কালহাত এলাকায় তাদের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাখাওয়াতের মৃত্যু হয়। আহত তৌহিদকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ওমানের সুর অঞ্চলের একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন সাখাওয়াত। পরিবারের তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। গত বছর দেশে এসে বিয়ে করেন এবং কিছুদিন পর আবার কর্মস্থলে ফিরে যান। স্বজনরা জানান, সম্প্রতি তিনি প্রথমবারের মতো বাবা হওয়ার সুখবর পেয়েছিলেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, সন্তানের মুখ দেখার আগেই প্রবাসে তার জীবনাবসান ঘটল। নিহতের বড় ভাই আহসান অভিযোগ করে বলেন, দুর্ঘটনার পর এখনো কোনো সরকারি প্রতিনিধি পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেননি। তিনি দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। এদিকে আমজাদ হোসেন নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদানের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাখাওয়াতের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের অভারভিলার একটি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার প্যারিস ফ্রান্স। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবি সোহেল আহমদ এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নজমুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও নজরুল গবেষক খোরশেদ আলম পাটোয়ারী। তিনি বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনারও কবি। তার সাহিত্য ও দর্শন আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, নজরুলের সাহিত্যকর্ম ও সংগীত বাঙালি সংস্কৃতি ও চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান সমাজে সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তার আদর্শ এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। তারা নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও আদর্শ তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে জাতীয় কবির বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা নজরুলের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান স্মরণ করে তার আদর্শকে সমাজে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
মালয়েশিয়াজুড়ে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোরে কয়েক ঘণ্টা ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী ও সীমান্ত পারাপারকারী কর্মজীবী মানুষ। বিশেষ করে জোহর-সিঙ্গাপুর স্থলসীমান্তে দীর্ঘ সারি, তীব্র যানজট এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার জানায়, ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের কম্পিউটারভিত্তিক সব সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে। ফলে দেশটির বিভিন্ন ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টে কর্মকর্তাদের হাতে-কলমে পাসপোর্ট যাচাই ও যাত্রী ছাড়পত্র দিতে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় জোহরের দুই প্রধান স্থল সীমান্ত চেকপয়েন্টে সুলতান ইস্কান্দার বিল্ডিং (বিএসআই) এবং সুলতান আবু বকর কমপ্লেক্স (কেএসএবি)। এই দুটি সীমান্তপথ প্রতিদিন হাজারো মালয়েশিয়ান নাগরিক সিঙ্গাপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করেন। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভোরের সময়টি ছিল “অত্যন্ত ব্যস্ত সময়”। তখন বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ সিঙ্গাপুরে প্রবেশের জন্য সীমান্তে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের সব কর্মীকে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তিনি বলেন, শুধু অটো-গেটই নয়, মুখাবয়ব শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও কাজ করেনি। বাস টার্মিনাল, মোটরসাইকেল ও যানবাহনের লেনে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করতে হয়েছে। এটি গত এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বড় ধরনের ইমিগ্রেশন সিস্টেম বিভ্রাট। এর আগে গত ২৩ এপ্রিলও একই ধরনের সমস্যায় কয়েক হাজার যাত্রী প্রায় দুই ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রভাব পড়ে মালয়েশিয়ার অধিকাংশ ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টে। দেশটিতে বর্তমানে ১১৪টি ইমিগ্রেশন প্রবেশপথ রয়েছে, যার মধ্যে ৫৬টি সমুদ্রপথ, ৩০টি স্থলপথ এবং ২৮টি বিমানবন্দর। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, সকাল ৫টা থেকে ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ‘মাইআইএমএমএস’ (MyIMMs) ডাটা সেন্টারে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই বিভ্রাট ঘটে। পরে মেরামত কাজ শেষ হলে সিস্টেম আবার সচল হয়। তিনি বলেন, ‘সিস্টেমটি হ্যাক হয়নি। MyIMMs প্রায় ৩০ বছর পুরোনো একটি ব্যবস্থা। তাই মাঝে-মধ্যেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’ সরকার জানিয়েছে, পুরোনো এই সিস্টেমের পরিবর্তে ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন ‘ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম’ (NIISe) চালু করা হবে। আধুনিক এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাসপোর্ট যাচাই, ভিসা পরীক্ষা এবং ভ্রমণকারীদের তথ্য একই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। তবে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত এমন সমস্যা আবারও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাকারিয়া শাবান। এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জোহর সফরকালে জানান, আগামী বছর চালু হতে যাওয়া জোহর বাহরু-সিঙ্গাপুর র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RTS)-এর আগে নতুন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি মোকাবিলা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই বিভ্রাটে সীমান্ত পারাপারকারী বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষমাণ যাত্রী, অতিরিক্ত ভিড় এবং সীমান্ত এলাকায় তীব্র যানজট। সিঙ্গাপুরগামী এক মালয়েশিয়ান কর্মজীবী এম সাথিশ জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৭টায় কেএসএবি চেকপয়েন্টে পৌঁছে ‘চরম বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সাধারণত যেখানে ইমিগ্রেশন পার হতে ১০ মিনিটেরও কম সময় লাগে, সেখানে সেদিন তার প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। ৩৫ বছর বয়সী এই স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে আগেভাগে বের না হলে নিশ্চিতভাবে অফিসে দেরি হয়ে যেত। এই বিভ্রাট যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’ আরেক যাত্রী, সিঙ্গাপুরে কর্মরত হিসাবরক্ষক সো কিয়াও শি জানান, সাধারণত পাঁচ মিনিটে শেষ হওয়া ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় তার সেদিন ৩০ মিনিটের বেশি সময় লেগেছে। তিনি বলেন, ‘কিউআর কোড স্ক্যানার ও অটোমেটিক পাসপোর্ট গেট কোনোটিই কাজ করছিল না। সবাইকে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও ভিড়ের মধ্যে পরিস্থিতি সত্যিই হতাশাজনক ছিল।’ তিনি আরও বলেন, চলতি বছর এ ধরনের সমস্যা একাধিকবার ঘটেছে, যা সীমান্তনির্ভর কর্মজীবী মানুষের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুলাল মিয়া (৫৩) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ঈদুল আজহার উৎসব শুরুর আগেই ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় তার পরিবার ও প্রবাসী কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সোমবার (২৭ মে) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে রাস্তা পার হওয়ার সময় সাইকেলে থাকা অবস্থায় পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধাক্কায় দুলাল মিয়ার সাইকেল দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে সাকর হাসপাতালে (Saqr Hospital) নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালক নিজেই পুলিশকে বিষয়টি জানায় বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। নিহত দুলাল মিয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানুল্লাহপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি ২০০৭ সালে প্রবাসে পাড়ি জমান। দীর্ঘদিনের প্রবাস জীবনের পর ঈদের আগে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রবাসে ঈদের আনন্দ শুরুর আগেই এই দুর্ঘটনা সবাইকে নাড়া দিয়েছে।
দুবাইয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে দুবাইয়ের বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আদায় করেন মুসল্লিরা। ফজরের নামাজের পর থেকেই “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাললাহু...” ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো নগরী। সূর্যোদয়ের আগেই শহরের মসজিদগুলো মুসল্লিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। দুবাইয়ের দেরা বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত কুয়েতি মসজিদেও একই সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল বেশি। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্তে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। দেশে ফেরার আশায় সেখানে জড়ো হয়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি। বাংলাদেশে ফেরার অনুমতি পেতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) চেকপোস্টের সামনে ট্রলি, ব্যাগপত্র, নারী ও শিশুসহ অপেক্ষা করছেন তারা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাকিমপুর সীমান্তে এই ভিড় চোখে পড়ে। সীমান্ত এলাকায় কেউ প্লাস্টিক পেতে বসে আছেন, কেউ আবার লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল সোমবারও। সীমান্তসংলগ্ন একটি ছাউনিতে প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি জড়ো হয়েছিলেন, বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন আরও ৩০ থেকে ৪০ জন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশকারী ও সন্দেহভাজনদের আটকে রাখার জন্য জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর অবৈধভাবে ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই কারণেই অনেকে দ্রুত দেশে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার (২৫ মে) পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালদা ও মুর্শিদাবাদ—এই দুই জেলায় মোট ১২ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মালদার ইংরেজবাজারের চন্দনপার্কে তৈরি শিবিরে রাখা হয়েছে ৯ জনকে, যাদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ৬ জন নাবালক-নাবালিকা। রোববার গাজোল থানার পান্ডুয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের লালগোলার পদ্মাভবনে তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে প্রথমে ৩ জনকে রাখা হয়েছিল। পরে মঙ্গলবার আরও ১১ জন বাংলাদেশিকে আটক করে সেখানে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সীমান্তে অপেক্ষমাণ বাংলাদেশিদের দাবি, অভাবের তাড়নায় তারা কাজের খোঁজে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে নিউটাউন, দমদম, ডানকুনিসহ কলকাতা ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। কিন্তু হোল্ডিং সেন্টারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ইতোমধ্যেই তারা বিএসএফকে নিজেদের অবস্থার কথা জানিয়েছেন। সীমান্ত পারাপারের বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নজর কেড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ নাফি হোসাইন। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত এ ম্যারাথনে তিনি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১০ মিনিট কম সময়ে দৌড় শেষ করেন। পেশাগতভাবে প্রকৌশলী হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাতৃভূমির পরিচয় তুলে ধরার এ প্রচেষ্টা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। টরন্টো ম্যারাথন কানাডার অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ দৌড় প্রতিযোগিতা। ১৯৭৭ সালে ‘টরন্টো মেয়র্স কাপ’ নামে এ আসরের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ম্যারাথন কোর্স হিসেবে স্বীকৃত। প্রতি বছর বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশ থেকে হাজারও দৌড়বিদ এতে অংশ নেন। অন্টারিও ভিত্তিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘রানিং ফার্স্ট লিমিটেড’ আয়োজনটি পরিচালনা করে। ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটারের এ দীর্ঘ পথটি টরন্টো শহরের উত্তর প্রান্তের নর্থ ইয়র্ক সিটি সেন্টার থেকে শুরু হয়ে নান্দনিক ও ঐতিহাসিক এলাকাগুলো পেরিয়ে টরন্টো এক্সিবিশন সেন্টারে গিয়ে শেষ হয়। প্রবাসী আওলাদ হোসাইন ও আজমেরী সুলতানা পান্না দম্পতির সন্তান নাফি হোসাইন ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কয়েক বছর ধরে এ ম্যারাথনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। নাফি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার কথা ভাবতাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌড়ে ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করার সক্ষমতা একদিনে আসেনি। অল্প অল্প করে অনুশীলন করেছি, অনেক কষ্ট করেছি এ লক্ষ্য অর্জনে। অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী কানাডার জার্সি পরলেও আপনি বাংলাদেশের জার্সি বেছে নিলেন কেন? এ প্রশ্নের জবাবে নাফি বলেন, “আমি আমার শেকড়ের সন্ধানে আনন্দ পাই। সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাই। বাংলাদেশকে আমি ভালোবাসি। টরন্টো ম্যারাথন আমাকে সেই ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে। নাফি জানান, ওইদিন প্রতিযোগিতায় তার লক্ষ্য ছিল ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে দৌড় শেষ করা, কিন্তু তিনি মাত্র ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিটে ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফিনিশ লাইন স্পর্শ করেন। টানা দৌড়ানোর কোনো পর্যায়ে কি মনে হয়েছে যে এটি অসম্ভব? এর উত্তরে নাফি বলেন, অবশ্যই মনে হয়েছে। বিশেষ করে শেষের ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দৌড়াতে খুব কষ্ট হয়েছে। তারপরও হাল ছাড়িনি। নিয়মিত অনুশীলন, অধ্যবসায় এবং লক্ষ্যপূরণে অবিচল থাকার কারণেই শেষ পর্যন্ত এত বড় অর্জন সম্ভব হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের (জেটিকেএসএম) সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশি কর্মীদের দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ ও সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল অব লেবারের সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বিশেষ করে নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকদের ভিসা নবায়নে বিলম্ব, বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আদায়ে জটিলতা এবং শ্রমিক-মালিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হয়। সভায় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনেক বাংলাদেশি কর্মী সময়মত ভিসা নবায়ন না হওয়ায় অনিশ্চয়তা ও হয়রানির মুখে পড়ছেন। এ কারণে নিয়োগকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের বৈধ কাগজপত্র নবায়নে যাতে অযথা বিলম্ব না হয়, সে বিষয়ে লেবার ডিপার্টমেন্টের কার্যকর নজরদারি কামনা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বেতন ও ওভারটাইম ভাতা দীর্ঘদিন বকেয়া রাখার অভিযোগও সভায় উত্থাপন করা হয়। হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রবাসী কর্মীরা পরিবারের স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করেন। তাই তাদের ন্যায্য পাওনা সময়মত পরিশোধ নিশ্চিত করা মানবিক ও আইনি দায়িত্ব। সভায় কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা কিংবা মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক বা তাদের পরিবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান না বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এদিকে শ্রমিক-মালিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ছোটখাটো বিরোধ দীর্ঘসূত্রতায় গড়ালে তা শ্রমিকদের জীবন ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত সমাধান ও কার্যকর মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সভায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উত্থাপিত সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মালয়েশিয়ার লেবার ডিপার্টমেন্ট আশ্বাস দেয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভবিষ্যতেও ইতিবাচক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার ব্যাপারে একমত হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং মালয়েশিয়ার লেবার ডিপার্টমেন্টের এ সমন্বিত উদ্যোগকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত বৈঠক ও কার্যকর সমন্বয় অব্যাহত থাকলে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নানা সমস্যা দ্রুত সমাধানের পথ আরও সুগম হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্বপ্ন। বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণার আধুনিক সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশের কারণে প্রতি বছর হাজারো শিক্ষার্থী দেশটিতে পড়াশোনার জন্য আবেদন করছেন। তবে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেই হয় না, স্টুডেন্ট ভিসা পেতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, নির্ভুল কাগজপত্র এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। অস্ট্রেলিয়া সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ভিসা আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জেনে নিলে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে যায়। ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর শিক্ষার্থী প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার পায়। এতে কোর্স, ফি ও শর্তাবলি উল্লেখ থাকে। অফার গ্রহণের পর নির্ধারিত ডিপোজিট পরিশোধ করলে প্রতিষ্ঠান কনফারমেশন অব এনরোলমেন্ট (সিওই) ইস্যু করে, যা ভিসা আবেদনের জন্য বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস, পিটিই বা অনুমোদিত পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হয়। একই সঙ্গে জেনুইন স্টুডেন্ট (জিএস) শর্তের আওতায় আবেদনকারীর শিক্ষাগত উদ্দেশ্য, আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যাচাই করা হয়। স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ২৯ হাজার ৭১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সমপরিমাণ অর্থের প্রমাণ দেখাতে হয়, যা টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহে সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, মেডিকেল পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদও জমা দিতে হতে পারে। সবশেষে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ইমিঅ্যাকাউন্ট’-এর মাধ্যমে ভিসা আবেদন সম্পন্ন করা যায়। আবেদন শেষে ভ্রমণসংক্রান্ত সর্বশেষ নিয়ম ও নির্দেশনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি, কারণ সময়ের সঙ্গে নীতিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে। সঠিক প্রস্তুতি, নির্ভুল ডকুমেন্ট এবং ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারলে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ অনেকটাই সহজ হয়ে উঠতে পারে।
ওমানের সোহার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অ্যালকোহল, সিগারেট ও শুকরের মাংস জব্দ করেছে দেশটির কাস্টমস বিভাগ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন প্রবাসীর বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়। সম্প্রতি ওমান কাস্টমসের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ওমান কাস্টমসের কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট বিভাগ এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৫ হাজার ৮৪০ বোতল মদ, ১৯৬ প্যাকেট সিগারেট এবং ৮৪০ কেজির বেশি শুকরের মাংস জব্দ করা হয়। প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একটি বাসার ভেতরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের কার্টন স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রিজারের ভেতরে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ মাংসও উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওমান সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ চোরাচালান ও নিষিদ্ধ পণ্যের বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। কাঙ্ক্ষিত টিকিট সংগ্রহ করতে প্রতিদিনই কাতারের বিভিন্ন বাংলাদেশি ট্রাভেল ও ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানে ভিড় করছেন প্রবাসীরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকে ঘিরে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় বিমান টিকিটের দামও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবুও দীর্ঘদিন পর পরিবার-স্বজনদের কাছে ফেরার আনন্দে বাড়তি খরচ মেনে নিচ্ছেন প্রবাসীরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেশে ফেরার টিকিট হাতে পেয়ে অনেক প্রবাসীর চোখেমুখে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, গত ঈদে দেশে যেতে না পারলেও এবার প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না। এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিমান সংস্থাগুলো। ইতোমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাতার অফিসের কান্ট্রি ম্যানেজার কামাল উদ্দিন বলেন, “গত রোজার ঈদে অনেক প্রবাসী দেশে যেতে পারেননি। তাই এবার তারা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বেশি আগ্রহ নিয়ে দেশে ফিরছেন। যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
মালদ্বীপে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন এক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে অসুস্থ প্রবাসী কর্মী কামাল হোসেনকে দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিট প্রদান করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিযুক্ত হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম প্রবাসী কামাল হোসেনের হাতে দেশে প্রত্যাবর্তনের বিমানের টিকিট হস্তান্তর করেন। সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাসিন্দা কামাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর হৃদরোগজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায়, উন্নত চিকিৎসা ও পরিবারের সান্নিধ্যে প্রয়োজনীয় সেবাযত্ন নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে তাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড’-এর কল্যাণ তহবিল থেকে তার বিমানের টিকিটের ব্যয় বহন করা হয়েছে। এ সহায়তা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে সরকারের মানবিক উদ্যোগেরই অংশ বলে উল্লেখ করা হয়। টিকিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের যে-কোনো মানবিক, স্বাস্থ্যগত ও কল্যাণমূলক সহযোগিতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সর্বদা পাশে রয়েছে। প্রবাসীদের সুরক্ষা, কল্যাণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এবং মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব মো. মোতাছেম বিল্যাহ এবং তৃতীয় সচিব সৈয়দ আমজাদ আলী উপস্থিত ছিলেন। প্রবাসীদের যে-কোনো সংকট ও মানবিক পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ হাইকমিশন আবারও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকার পরিচয় দিয়েছে।
ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সেখানে একটি কনফেকশনারি দোকানে কর্মচারী ছিলেন। নিহতরা হলেন উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার খলিল মন্ডলের বড় ছেলে মনোহার আলী (৩৫) এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি এলাকার মরহুম আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে বজলু (৪০)। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মনোহার আলী প্রায় চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে ইরাকে পাড়ি জমান। বৈধ পারমিট বা আকামা না থাকায় বিভিন্ন সাপ্লাইয়ের কাজ করে কষ্টে পরিবারের খরচ চালাতেন। বিদেশ যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণ চার বছরেও পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। এরই মধ্যে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংবাদে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একইদিন সকালে ঘূর্ণিঝড়ে তাদের বসতঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছে পরিবারটি। একই দুর্ঘটনায় নিহত বজলুও প্রায় দেড় বছর আগে কর্মসংস্থানের আশায় ইরাকে যান। ঋণ করে বিদেশে গেলেও পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারেননি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি। নিহত মনোহার আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, রোববার বিকালেও আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। সোমবার ভোরে ইরাক থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয়, তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বাঁচবো বুঝতে পারছি না। ঝড়ে ঘরটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের কাছে স্বামীর মরদেহ দেশে আনার অনুরোধ জানাই। বজলুর স্ত্রী আখি আক্তার বলেন, রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে শেষবারের মতো তার সঙ্গে কথা হয়। ছেলে-মেয়েদের খোঁজ নিয়েছেন, দেশে ফেরার কথাও বলেছেন। তার এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। সরকারের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
গাজায় মানবিক সহায়তা মিশনে অংশ নেওয়া মালয়েশিয়ান কর্মীদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর হামলা, আটক ও জাহাজ আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মালয়েশিয়া। রোববার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফেরা কর্মীদের স্বাগত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সেলাঙ্গরের মুখ্যমন্ত্রী ও মিশনের পৃষ্ঠপোষক মন্ত্রী আমিরুদ্দিন শারি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে বিষয়টি আইসিসিতে নেওয়া হবে। আমিরুদ্দিন জানান, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (জিএসএফ) ২.০-এ ২৯ জন মালয়েশিয়ানসহ মোট ৪২৮ জন কর্মী অংশ নেন। ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটকের পর তারা অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সুমুদ নুসান্তারা কমান্ড সেন্টারের মহাপরিচালক ড. সানি আরাবি বলেন, ফ্লোটিলা আটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আইনি প্রমাণ মানবাধিকার সংস্থা সেন্ট্রার কাছে পাঠানো হবে। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনা জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদের অধীনে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। এদিকে, মিশনে অংশ নেওয়া মালয়েশিয়ান কর্মী রাজমান মাত আলি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ইস্তাম্বুলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইসরাইলি বাহিনীর নির্যাতনে তার বাম ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। আমিরুদ্দিন আরও বলেন, গাজাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরিতে দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হবে এবং ভবিষ্যতে তৃতীয় জিএসএফ মিশনের পরিকল্পনাও রয়েছে। রাত ১০টার দিকে বাকি ২৮ জন মালয়েশিয়ান কর্মী নিরাপদে কেএলআইএ-তে পৌঁছালে অপেক্ষমাণ স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং বিমানবন্দরে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ফ্রান্সের অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক রদবদলের আভাস দিয়েছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ। তিনি আইনসিদ্ধ অভিবাসন অস্থায়ীভাবে তিন বছরের জন্য বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এ পরিকল্পনাকে ঘিরে দেশটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ফরাসি সাপ্তাহিক পত্রিকা দু দিমঁশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দারমানাঁ বলেন, ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ সংহতি ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা চাপের মুখে পড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৈধ অভিবাসনে অস্থায়ী বিরতি প্রয়োজন হতে পারে। এরপর ল্য প্যারিজিয়েন ও আরটিএল ফ্রান্সসহ একাধিক ফরাসি গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি আভাস দেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কর্ম ভিসা এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের মতো নিয়মিত অভিবাসন পথও প্রভাবিত হতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পরিবার নিয়ে ফ্রান্সে আসার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীরা। ফ্রান্সে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা ও আবাসন প্রক্রিয়ায় কঠোরতা বেড়েছে। আবাসন নবায়ন, কাগজপত্র যাচাই এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। অন্যদিকে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা ও বহিষ্কার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে আইনসিদ্ধ কাগজধারীদের মধ্যেও উদ্বেগ ও চাপ বেড়েছে। প্যারিসের লা শাপেলে বসবাসকারী বাংলাদেশি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁর স্ত্রীর পারিবারিক পুনর্মিলনের ফাইল দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নতুন এ পরিকল্পনার খবরের পর পরিবারে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে বলে তিনি জানান। সেন-দেনিতে বসবাসকারী আবদুল কাদের বলেন, আগেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ধীরগতির ছিল, এখন নতুন সিদ্ধান্ত এলে অপেক্ষার সময় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। লিয়নে বসবাসকারী নাজমুল ইসলাম বলেন, অনেক বাংলাদেশি পরিবার আনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তবে নতুন পরিস্থিতিতে সবাই অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বর্তমানে এটি কোনো আইন নয়, বরং একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনা মাত্র। বাস্তবায়নের জন্য ফরাসি পার্লামেন্টে আলোচনা, রাজনৈতিক সমর্থন এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসে এ বিষয়ে আলোচনা এগোলেও ২০২৬ সালের আগে বড় কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যু ফ্রান্সের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে পরিকল্পনাটি এখনো কার্যকর না হলেও ফ্রান্সে বসবাসকারী অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান আঞ্চলিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালির দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ কুয়েতের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। কৌশলগত খাদ্য মজুত শক্তিশালী করতে কুয়েতকে প্রতীকীভাবে খাদ্যসামগ্রী হস্তান্তরের মাধ্যমে এই সহায়তা কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। রোববার (২৫ মে) কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সফররত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহর কাছে খাদ্য সহায়তার প্রতীকী চালান হস্তান্তর করেন। সরকার জানিয়েছে, এটি একটি বৃহত্তর মানবিক সহায়তা উদ্যোগের অংশ। এর আওতায় বাংলাদেশ থেকে মোট ২৪০ টন খাদ্যসামগ্রী একাধিক ফ্লাইটে ধাপে ধাপে কুয়েতে পাঠানো হবে। চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে কুয়েতের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই সহায়তা ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবির কুয়েতের আমির শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ বরাবর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছা পত্রও হস্তান্তর করেন। এতে কুয়েতের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি, মানবিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও বেসামরিক বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়। সংকটময় এই সময়ে কুয়েতের প্রতি বাংলাদেশের এই সহায়তা দুই দেশের গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী কঠোর আইনের আওতায় ‘শফিক গ্যাং’-এর দুই সদস্যসহ পাঁচ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন ইন্দোনেশিয়ার এবং দুজন বাংলাদেশি নাগরিক। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, গত ৭ মে সেলাঙ্গর ও নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাগুলো উচ্চ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই বাংলাদেশি ‘শফিক গ্যাং’-এর সমন্বয়কারী ও ট্রানজিট হোমের প্রহরী হিসেবে কাজ করতেন। পেতালিং জায়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চক্রটির কবল থেকে ৯ জন বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, এসব অভিবাসীকে প্রথমে একটি প্রতিবেশী দেশে নেওয়া হয় এবং পরে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করানো হয়। পরবর্তীতে তাদের ক্লাং ভ্যালি ও অন্যান্য এলাকায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসী পরিবহন ও ট্রানজিট হোম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া মানবপাচারে পরিবহন সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসী চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-নাহদা এলাকায় মর্মান্তিক এক ঘটনায় পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশুকে বহুতল ভবন থেকে নিচে ফেলে দিয়ে নিজেও আত্মহত্যা করেছেন এক প্রবাসী নারী। বুধবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ তলাবিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবনের ১৫ তলার বারান্দা থেকে প্রথমে শিশুকন্যাকে নিচে ফেলে দেন ওই নারী। এরপর তিনি নিজেও লাফ দেন। ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। ভবনের এক নিরাপত্তারক্ষী জানান, বিকট শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে তিনি মা ও মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। পরে দ্রুত পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ভবনটি সাময়িকভাবে ঘিরে রাখে এবং তদন্ত শুরু করে। জানা গেছে, নিহত নারীর স্বামী দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার আগের দিন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়েছিল বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও ডাকা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের মক্কায় ভুয়া হজ প্যাকেজের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশিসহ চার প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কার নিরাপত্তা টহল দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের আটক করে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর হজ প্যাকেজের বিজ্ঞাপন প্রচার করে হজযাত্রীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। হজের নামে বিভিন্ন ভুয়া সেবা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাতের বেলা নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি গাড়ি একটি সাদা গাড়িকে ধাওয়া করে। পরে গাড়িটির গতিরোধ করে ভেতরে থাকা সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে জাল হজ কার্ড, ভুয়া নথিপত্র, একাধিক মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব সরঞ্জাম প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী তদন্ত ও বিচারের জন্য তাদের পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।