কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীও রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে ভেতরে থাকা পর্যটকেরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কয়েকজন দরজা-জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রথম দফায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারও অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। একই পরিবারের ছয়জন নিহত অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা রয়েছেন। নিহত হয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভীও। নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন- ইসরাত জাহান মালিহা, নাফিসতা মীম, ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান আহমেদসহ অন্যরা। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাফিজ তেহামী, নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির ছিলেন নাফিজের বড় বোন এবং শিশু ফাইজান তার ভাগ্নে। তাদের পরিবারের ৯ সদস্য বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই রিসোর্টে। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আশিকুল ইসলামের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগুন লাগার পর আশিকুল ইসলাম রিসোর্টের দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। তবে তার স্ত্রী, স্ত্রীর বোনসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছেন। ওই স্বজন কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য জানান। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক ও তার স্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় পাঁচ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য একজন পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে একাধিক বাহিনী অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ঘটনার খবর পেয়ে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করেন। রিসোর্টটির ইনচার্জ মো. সুমন ইসলাম বলেন, আগুন লাগার পরপরই তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে বলে তারা ধারণা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, ঘুম থেকে উঠে তিনি রিসোর্টটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভবনটি আগুনে পুড়ে যায়। একই এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন লাগার পর কয়েকজন পর্যটককে জীবন বাঁচাতে লাফ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। ইউনুস নামের এক স্থানীয় যুবক অভিযোগ করেন, রিসোর্টটিতে আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক মিয়া বলেন, পর্যটন এলাকায় প্রায়ই ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে উখিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। তদন্ত কমিটি গঠন জেলা প্রশাসন গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ এবং রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করা হবে। কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে প্রায় ২৯ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে এর অবস্থান। আগুনে রিসোর্টটির পুরো স্থাপনা পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে পূর্ব লন্ডনে সংগঠনটির কার্যালয়ে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু। জুলাই আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বক্তব্য অনুষ্ঠানের শুরুতে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “আমরা জুলাই যুদ্ধ থেকে সরে আসি নাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধ থেকে সরে আসি নাই।” তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে জুলাই যুদ্ধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অর্থ দেশকে অস্বীকার করা। জুলাই সনদ ও চাঁদাবাজি নিয়ে মন্তব্য জুলাই সনদ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, বিএনপি যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। দেশে চাঁদাবাজির বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে বক্তব্যে তিনি জানান, আগে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে কেউ মামলা করতেন না। এখন সরকার বাদী হয়ে মামলা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ আইন প্রণয়ন করবে বলেও জানান তিনি। নেতাকর্মী ও কমিউনিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় যুক্তরাজ্য বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এবং লন্ডনে বসবাসরত কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ছুটি কাটিয়ে রোববার দুপুরে ফেরার কথা ছিল কুমিল্লার অধিবাসী সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের। বিমানের টিকিট কাটেন আগেই। রোববার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সময়মতো হাজির হন। এসেই শোনেন ফ্লাইট বাতিল। জানতে পারছেন না কবে ছাড়বে ফ্লাইট। দুপুরে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা হয় রফিকুলের সঙ্গে। চোখেমুখে তার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছাপ। বলেন, ‘হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। আমাকে যে কোনো মূল্যে সৌদি আরব যেতে হবে। সময়মতো যেতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। পরবর্তী ফ্লাইটের সিদ্ধান্ত জানানো হলে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমত।’ হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকায় ফেরার অপেক্ষায় সেখানে প্রায় চার হাজার যাত্রী। কখন চালু হবে বিমানবন্দর, কখন চালু হবে ফ্লাইট সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় কাটছে তাদের সময়। রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ বিপুল হতাহতের পর কুমিল্লার রফিকুলের মতো হাজারো প্রবাসীর যাত্রা আটকে গেছে। শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা। অনেকেই বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করেও কিনারা করতে পারছেন না। ভারত হয়ে বিকল্প রুটের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ইয়েমেন লড়াইরত হুথি বিদ্রোহীরা বিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ যুগান্তরকে বলেন, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের এ বিষয়ে অবহিত করছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে বিমানবন্দরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। রিয়াদগামী বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার এবং শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ১০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিন হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে রিয়াদেও আটকা প্রায় চার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রী। ফলে দুদিকেই প্রবাসীদের যাতায়াত কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কিং খালিদ বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর ভোর ৩টা পর্যন্ত সব ফ্লাইট পরিচালনা ও বিমান চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইটও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে টিকিট ও পাসপোর্ট হাতে নিয়ে রিয়াদগামী যাত্রীদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। সবশেষ তথ্য জানতে যাচ্ছেন এয়ারলাইন্সগুলোর কাউন্টারে। অনেককে ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে সবার চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছাপ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস-মাইক্রোবাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে চেপে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ছুটে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় টিকিটের তারিখ পরিবর্তন, অর্থ ফেরত কিংবা বিকল্প ফ্লাইট পাওয়া এবং এসবের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণা নিয়ে অনেককেই ছোটাছুটি করতে দেখা গেল। বিকল্প পথেও অনিশ্চয়তা: চাঁদপুরের রিয়াদ হোসেন ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটেছিলেন। ভারতের মুম্বাই হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই যাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারতের মুম্বাই হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখন শুনছি, মুম্বাইয়ে যাদের ট্রানজিট, তাদের বোর্ডিং দেওয়া হচ্ছে না। মুম্বাই থেকে নাকি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’ কথা হয় সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য বিমাবন্দরে আসা আরও কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে। তারা বলছিলেন, ভিসার মেয়াদ, নিয়োগকর্তার নির্ধারিত যোগদানের বেঁধে দেওয়া সময় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক শর্তের বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে অনেক প্রবাসী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা না করে বিকল্প রুটে টিকিট কাটছেন। অনেকেই ঢাকা-মদিনা ও ঢাকা-জেদ্দা রুটসহ বিভিন্ন বিকল্প রুটের টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সেগুলোর দামও হু হু করে বাড়ছে। আর ওই সব রুট নিয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে টিকিট সংগ্রহের পরও উদ্বেগ কাটছে না। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেকের মধ্যে ঢাকায় থাকা-খাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দূরবর্তী জেলা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন করে বাড়ি ফেরা কিংবা ঢাকায় অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের চাকরি থাকবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তার সঙ্গে এটি তাদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মো. নাসরুল্লাহ বদর (৩৫) নামের এক মাদরাসাশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশটির রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলা চালায় ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে নিহত নাসরুল্লাহ বদর কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। তিনি রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদরাসার সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টায় নিহত মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদরের ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসিরুদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাওলানা নাসিরুদ্দিন বলেন, নাসরুল্লাহ বদর শনিবার ওমরাহ পালনের উদ্দেশে রওনা হন। তিনিসহ মোট ৪৫ জনের একটি কাফেলা শনিবার সকালে রিয়াদের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। রিয়াদে দুই ঘণ্টার একটি ট্রানজিট ছিল। ট্রানজিট শেষ হয়ে মক্কার উদ্দেশে বিমানটি যখন রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সে সময় হামলায় নিহত হন নাসরুল্লাহ বদর। এ সময় মোট ১২ জন প্রাণ হারান ঘটনাস্থলেই। ওই কাফেলায় থাকা ৪৫ জনের মধ্যে ৩২ জন সুস্থ আছেন। বাকি ১৩ জন গুরুতর আহত অবস্থায় সৌদির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি আরো জানান, নাসরুল্লাহ বদর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। মাওলানা নাসিরুদ্দিন বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নাসরুল্লাহ বদর নিহত হওয়ার পর গোটা পরিবার শোকে স্তব্ধ। ছোট ছোট তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকে আমরা নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহের অপেক্ষা করছি। সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। সরকারের কাছে আকুল আবেদন নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়। এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একাধিক কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য, ওষুধশিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাবাহ রাজ্যের রাজ্য সচিব, মুখ্যমন্ত্রীর সহকারী মন্ত্রী, কৃষি-মৎস্য ও খাদ্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপস্থায়ী সচিব এবং সাবাহ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রধানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উচ্চফলনশীল ধানের জাত, কৃষি প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, মৎস্যচাষ, অ্যাকুয়াকালচার, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ এবং ব্লু ইকোনমি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি ধান উৎপাদনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সাবাহতে কাজে লাগানো, যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সাবাহতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন অংশগ্রহণকারীরা। দুই অঞ্চলের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া ওষুধ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। শিক্ষা, একাডেমিক বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল সাবাহ এসএমই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এতে দুই অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের এসএমই সংগঠন ও সাবাহ এসএমই অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ স্থাপন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা ও উত্তম চর্চা বিনিময়, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে। উল্লেখ্য, গত আগস্টে সাবাহ রাজ্যের গভর্নর ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক এসব আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মালদ্বীপে মো. সজিব (২৭) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) মালদ্বীপ সময় দুপুরে নিজ ঘরের কক্ষ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার পুরাতন মকিমের বাড়ির আবদুল খালেকের ছেলে। তার এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে মালদ্বীপে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি সজিবের পরিবারকে মুঠোফোনে মৃত্যুর খবর জানান। তারা সজিব ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন। নিহতের চাচাতো ভাই সোহেল জানান, শনিবার তারা খবর পান সজিবের কক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে দেশটির পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। তবে ঘটনার পর থেকে সজিবের একই কক্ষে বসবাসরত দুজন বাংলাদেশিসহ তিনজন প্রবাসী পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় সজিবের মৃত্যু নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। নিহতের বাবা আবদুল খালেক জানান, তিন বছর আগে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় মালদ্বীপে যান সজিব। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। পারিবারিক কোনো বড় ধরনের বিরোধও ছিল না। তার এমন মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এদিকে সজিবের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. সোহেল বলেন, তার এমন মৃত্যুর খবর পরিবারের জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
অস্ট্রেলিয়ায় নারী রোগীদের সঙ্গে যৌন অপরাধের ১০টি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক শফিউল মিল্কি (৬২)। ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে এসব অপরাধের ঘটনা ঘটে। গত বছরের জুনে আদালতে দোষ স্বীকার করলেও আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় ঘটনাগুলো সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৪ জুন মেলবোর্নের কাউন্টি কোর্টে হাজির হয়ে ১০টি যৌন অপরাধের দোষ স্বীকার করেন মিল্কি। আদালতে উপস্থাপিত বিবরণ অনুযায়ী, চিকিৎসার সময় রোগীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করতেন মিল্কি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে যৌন আচরণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চিকিৎসকের ওপর আস্থা রেখে চিকিৎসা নিতে আসা নারীরা এসব ঘটনার শিকার হন। ভুক্তভোগীদের একজন ফ্রান মিলিংটন নিজের পরিচয় প্রকাশ করে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে ভিক্টোরিয়ার ওশান গ্রোভের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি যৌন আক্রমণের শিকার হন। আদালতে জানানো হয়, চিকিৎসার সময় মিল্কি তার অন্তর্বাস নামিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এদিকে পৃথক এক নারী রোগীর করা ধর্ষণের অভিযোগ থেকে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) মিল্কিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। পাঁচদিন ধরে চলা বিচার শেষে মেলবোর্নের কাউন্টি কোর্টের জুরিরা তাকে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেননি। জানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে জরায়ুমুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন ওই নারী। তবে মিল্কির আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে বলেন, পরীক্ষায় ব্যবহৃত যন্ত্রের কারণে রোগী যে অনুভূতির কথা বলেছেন, সেটি হয়ে থাকতে পারে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনার পর জুরিরা তাকে খালাস দেন। তবে পৃথক ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও অন্য চার নারী রোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি যৌন অপরাধে তার দোষ স্বীকার বহাল রয়েছে। ওই অপরাধগুলোর তথ্য এতদিন আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। শফিউল মিল্কির বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মামলা চলছে কয়েক বছর ধরে। এর আগে ২০২৩ সালে ছয় নারী রোগীর সঙ্গে যৌন অপরাধের ১৫টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ওই বছরের এপ্রিলে আদালত তাকে সাড়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে অন্তত ১১ বছর কারাভোগের নির্দেশ ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুনে ভিক্টোরিয়ার আপিল আদালত আগের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি পাওয়ায় সেই দণ্ডাদেশ বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাক্ষ্যপ্রমাণ ব্যবহারের বিষয়ে জুরিদের যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের হাজির না করার বিষয়টিও বিচারে প্রভাব ফেলেছিল। পুনর্বিচারের প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই চার নারী রোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি অপরাধে দোষ স্বীকার করেন মিল্কি। অন্যদিকে পৃথক ধর্ষণের অভিযোগে বিচার শেষে তিনি খালাস পান। তথ্য মতে, শফিউল মিল্কি বাংলাদেশে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে নিউজিল্যান্ডে যান। সেখান থেকে ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও তিনি নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। দোষ স্বীকার করা ১০টি অপরাধের সাজা নির্ধারণের বিষয়ে আগামী ২৩ অক্টোবর আদালতে পরবর্তী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে পৃথক ধর্ষণ মামলায় খালাস পেলেও চার নারী রোগীর সঙ্গে যৌন অপরাধের ঘটনায় এখনো তাকে সাজা নির্ধারণের মুখোমুখি হতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিনাজপুরের আব্দুল গাফফার (৪২)। তবে প্রবাসজীবন শুরু করে উপার্জনের সুযোগ পাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর বুকে ব্যথা অনুভব করার পরদিন তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোকের কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আব্দুল গাফফারের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেত্রাহাট এলাকায়। তার বাবার নাম মো. আবু বক্কর মণ্ডল। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন গাফফার। সেখানে পৌঁছে রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বুকে ব্যথা অনুভব করেন গাফফার। তবে কক্ষে থাকা অন্যদের আশ্বস্ত করে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ৭ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে ডাকাডাকি করেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে কক্ষে থাকা ব্যক্তিরা মালিককে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গাফফারের নিকটাত্মীয় মো. আল আমিন জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ধারদেনা করে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কর্মজীবন শুরুর আগেই তার মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এদিকে, স্বজনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার। হাইকমিশন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে আব্দুল গাফফারের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে হাইকমিশন।
বাংলাদেশ সরকার মানবপাচার দূরীকরণের ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি, তবে তা অর্জনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ট্রাফিকিং ইন পারসন্স (টিআইপি) রিপোর্ট’- এ তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়, মানবপাচার দূরীকরণ নিয়ে বিগত মূল্যায়নের সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ সরকার সার্বিকভাবে তাদের প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। তারপরও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকার ‘টিয়ার ২’ বা দ্বিতীয় স্তরেই রয়ে গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মানবপাচারের সর্বোচ্চ ঝুঁকি থাকা ‘টিয়ার ৩’ বা তৃতীয় ধাপে অবস্থান করা ১০ দেশে গত ২১ মাসে ৪১ হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। ‘টিয়ার ৩’ ভুক্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ওই দশ দেশ হল- কম্বোডিয়া, রাশিয়া, লাওস, কঙ্গো, বেলারুশ, সুদান, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, লিবিয়া ও ইয়েমেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই দশ দেশে মোট ৪১ হাজার ২৩১ জন বাংলাদেশি কর্মী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অগ্রগতি মূল্যায়নে টিআইপি রিপোর্টকে অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মূল্যায়নে ‘টিয়ার ৩’ ক্যাটাগরি বলতে বোঝায়- সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার মানবপাচার নির্মূলে ন্যূনতম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করছে না এবং সে বিষয়ে পর্যাপ্ত পদক্ষেপও নিচ্ছে না। এমন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমবাজারে এত বিপুল সংখ্যক কর্মী পাঠানোর খবরে তাদের নিরাপত্তা, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সরকারের ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তালিকার শীর্ষে কম্বোডিয়া ও রাশিয়া বিএমইটির তথ্যানুযায়ী, গত ২১ মাসে বাংলাদেশ থেকে টিআইপি রিপোর্ট অনুযায়ী ‘টিয়ার ৩’ এ থাকা দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছে কম্বোডিয়ায় ১৫ হাজার ৯৬৩ জন। এছাড়া রাশিয়ায় ৭ হাজার ৭৫২ জন এবং লাওসে ৭ হাজার ৫৩২ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে কঙ্গোয় ৫ হাজার ৪৩৮ জন, বেলারুশে ৩ হাজার ৪৮৪ জন, সুদানে ৪২১ জন, সোমালিয়ায় ৩৪৩ জন, লিবিয়ায় ১৭২ জন, দক্ষিণ সুদানে ৬৯ জন এবং ইয়েমেনে ৫৭ জন বাংলাদেশি গেছেন। কী আছে প্রতিবেদনে টিআইপি প্রতিবেদন অনুযায়ী ‘টিয়ার-২’-তে থাকা বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, মানবপাচার দূরীকরণ নিয়ে বিগত মূল্যায়নের সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ সরকার সার্বিকভাবে তাদের প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। গৃহীত এসব প্রচেষ্টার মধ্যে রয়েছে মানবপাচার রোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৬’ জারি করা, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বাড়ানো, মানবপাচার অপরাধ ও ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ নির্দেশিকা হালনাগাদ করা এবং সুরক্ষা সেবাগুলোতে স্থানান্তরের সমন্বয় ও গতি আনতে ডিজিটাল এনআরএম পাইলটিং করা। এছাড়া সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের পাচারের ঝুঁকি কমাতে তাদের সুরক্ষাও জোরদার করেছে। তবে বেশ কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্রে সরকার ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার আগের তুলনায় কম সংখ্যক পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং অভ্যন্তরীণ পাচার অপরাধ দমনে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি, যা ব্যাপক আকারেই রয়ে গেছে। আবার সরকার পাচারের শিকার কম সংখ্যক ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করতে পেরেছে। অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন প্রচেষ্টাও; বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। এ ছাড়া সরকার শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়োগ ফি নেওয়ার অনুমতি বজায় রেখেছে, যা অনেক অভিবাসী শ্রমিককে ঋণগ্রস্ত করে পাচারের চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গন্তব্য দেশগুলোতে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ায় প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং দূতাবাসের কূটনৈতিক সুরক্ষার পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনে পর্যাপ্ত সুরক্ষার অভাব চিহ্নিত করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারকে অবৈধ নিয়োগ ফি বাতিল করা, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর কঠোর তদারকি চালানো, ভুক্তভোগীদের পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করে পর্যাপ্ত আইনি ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া এবং মানবপাচার ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন সাম্প্রতিক সময়ে কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডগুলোতে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আটকে রেখে সাইবার অপরাধে বাধ্য করা, নির্যাতন ও মানবপাচারের একাধিক ঘটনা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে কর্মী নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মত ঘটনাও ঘটেছে। এর পরও কেন আন্তর্জাতিক সতর্কতা উপেক্ষা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়াই এসব দেশে কর্মী পাঠানো অব্যাহত রাখা হল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যক্তিপর্যায়ে শিক্ষার্থী বা পর্যটক ভিসায় গমনে সরকারের সরাসরি নজরদারি কঠিন হলেও, বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দায় পুরোপুরি সরকারের। গুণগত সুরক্ষার চেয়ে কেবল সংখ্যা বাড়ানোর প্রবণতার কারণেই এমন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। “কম্বোডিয়া বা রাশিয়ার মত দেশে ভুক্তভোগী কর্মীরা প্রতারিত হলে বা অঙ্গহানির মত ঘটনার শিকার হলেও কর্তৃপক্ষ দায় রিক্রুটিং এজেন্সির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অথচ বিতর্কিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া ও তাদের কার্যক্রম নজরদারির মূল দায়িত্ব বিএমইটির।” তথ্য যাচাইয়ে গাফেলতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, “যেসব দেশে বাংলাদেশ মিশন বা দূতাবাস নেই, সেসব দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি অনলাইন বা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাধ্যমে যাচাই না করে ঢালাওভাবে কর্মী ছাড়পত্র দেওয়া স্পষ্টত সরকারি গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়।” এ বিষয়ে জানতে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও বিএমইটি মহাপরিচালক জামিল আহমেদকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্রেফ কর্মী পাঠানোর পরিসংখ্যান বৃদ্ধিই রাষ্ট্রের সাফল্য হতে পারে না। একই সঙ্গে তাদের কর্ম পরিবেশ, চুক্তি অনুযায়ী বেতন নিশ্চিত হওয়া এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার হিসাব রাখাও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব।” ঝুঁকিপূর্ণ এসব দেশে কর্মী পাঠানোর পর তাদের বর্তমান অবস্থা তদারকি করতে রাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে মূলত ৫টি প্রধান বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছেন তিনি। এগুলো হল- পূর্ববর্তী ঝুঁকি মূল্যায়ন: এসব দেশে কর্মী পাঠানোর আগে মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, প্রতারণা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট দেশভিত্তিক সমীক্ষা করা হয়েছিল কি না? নিয়োগকর্তার সত্যতা: ভুয়া চাকরির প্রস্তাব ও প্রতারণা বন্ধে গন্তব্য দেশগুলোর নিয়োগকর্তা ও কর্মপরিবেশ যাচাইয়ের কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? কর্মীদের হালনাগাদ তথ্য: পাঠানো ৪১ হাজার ২৩১ জনের মধ্যে কতজন চুক্তিমত কাজ পাচ্ছেন, কতজন শোষণ বা পাচারের শিকার হয়েছেন এবং কতজনের সঠিক তথ্য বর্তমানে সরকারের কাছে আছে? জরুরি সুরক্ষা ও উদ্ধার: বিপদে পড়া কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কী ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে? নীতিগত পরিবর্তন: কম্বোডিয়া ও রাশিয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহি এবং তদারকি ব্যবস্থায় কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না?
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রী সাথী আক্তার ও তার শিশুকন্যাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অটোরিকশাচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাথীর দেবর মো. গোলাম রসুল মানিক (৪৫) হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থানায় দেওয়া অভিযোগে মো. জিসান (২৬) নামের এক যুবককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সাথী আক্তার তার স্বামী তায়েব আলীর অনুপস্থিতিতে ওই যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জিসান তাকে ও তার শিশুকন্যাকে নিয়ে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি। সাথী আক্তার চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সোনাইমুড়ি গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মৃত আব্দুল কাদের পাটওয়ারীর বড় মেয়ে। তার স্বামী তায়েব আলী সৌদি আরবে প্রবাসী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাথী আক্তার তার স্বামীর বাড়ি উপজেলার বড়কূল দক্ষিণপাড়া মিয়াজী বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি সোনাইমুড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে রওনা হন। এরপর থেকে তার ও শিশুকন্যার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ব্যবহৃত মোবাইলও বন্ধ রয়েছে। এদিকে, তায়েব আলী নিজের ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, অটোরিকশাচালক জিসান তার স্ত্রীকে নিয়ে গেছেন। পরিবারের সদস্যরাও মা ও মেয়ের সন্ধান পেতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করছেন। এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ওসি কাউছার আলম ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ও বিদেশি শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন মজুরির হার ২০২৭ সালের জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সংসদে ২০২৭ সালের বাজেট উপস্থাপনের সময় এ ঘোষণা দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। নতুন মজুরি কাঠামোর ফলে ৪০ লাখের বেশি কর্মী উপকৃত হতে পারেন বলে আশা করছে সরকার। দেশটির ন্যূনতম মজুরি আইন বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরাও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি পাওয়ার অধিকারী হবেন। মালয়েশিয়ায় ২০১৩ সালে ন্যূনতম মজুরি নীতি চালু হয়। সে সময় মাসিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯০০ রিঙ্গিত। পরে ২০১৬ সালে তা বেড়ে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতে উন্নীত হয়। প্রস্তাবিত নতুন হার কার্যকর হলে ন্যূনতম মজুরি প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে। তবে নতুন মজুরি কাঠামোর আওতা থেকে কিছু ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৫ কোটি রিঙ্গিতের কম, তারা এই ছাড়ের আওতায় থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমানো জরুরি। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক মজুরি কাঠামো উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া আধা-দক্ষ কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম বেতন ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নির্ধারণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। আনোয়ার ইব্রাহিমের মতে, ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের আয়ের একটি সর্বনিম্ন সীমা নিশ্চিত করলেও দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে করবিধি আরও কঠোর করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে মজুরি ব্যয়ের ওপর করছাড় পেতে কর্মসংস্থান আইনে অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন পরিশোধ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন। নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হলে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের আয় বাড়তে পারে। তবে নতুন হার কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময় এবং কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছাড় থাকায় সব শ্রমিক একই সময়ে এর সুবিধা পাবেন না।
মালয়েশিয়ার জোহর বারু এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সালমান সাদিক সাইফ (২৪) নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর রাতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাইফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ছয়বাড়িয়া গ্রামের মো. সাজন মিয়ার ছোট ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোক নেমে এসেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সাইফ ছিলেন সবার ছোট। পরিবারের হাল ধরতে তিনি মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে পণ্য ডেলিভারির কাজ করতেন। সাইফের একমাত্র বোন লিজা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় কাভার্ড ভ্যানে করে পণ্য ডেলিভারি দিতে যাচ্ছিলেন তার ভাই। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে তাদের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে চালক অক্ষত থাকলেও সাইফ গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। লিজা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ছোট ভাইটা এভাবে চলে যাবে ভাবতেও পারছি না। গত কোরবানির ঈদে ছুটিতে দেশে এসে ধুমধাম করে বিয়ে করেছিল সাইফ। বিয়ের এক মাস না যেতেই আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যায়। ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান লিজা। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ সাইফের স্ত্রী। ছোট সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বাবা-মা। সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে চান তারা।
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাটের দুই প্রবাসী আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদের মরদেহ আজ দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (বিজি-২০৬) তাদের মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দুই সদস্যের কাছে হস্তান্তর করেন। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। নিহত ২ প্রবাসী হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) তাজউদ্দিন নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে নিহত দু’জনের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে আরও ৩ লাখ টাকা করে অনুদান দেয়া হবে। নিহত আব্দুল করিমের ভাতিজা বোরহান উদ্দিন বাসস’কে জানান, কফিনবাহী মরদেহ দু’টি গ্রহণ করে তারা এরই মধ্যে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। এই সময় স্থানীয় দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আজ বাদ আছর গ্রামের মসজিদে ২ জনের জানাজা শেষে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।
সৌদি আরবে কর্মরত উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় কর্মীর নিজস্ব ওয়ার্ক ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রবেশ ভিসার আবেদন ও প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। নতুন নিয়মের আওতায় উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলে এবং অবিবাহিত মেয়েকে সৌদি আরবে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কর্মীর ওয়ার্ক ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ ভিসা দেওয়া যেতে পারে। আগের ব্যবস্থায় কর্মীর ওয়ার্ক ভিসা সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজন হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই অপেক্ষার সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যদের ভিসার জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে পৌঁছানোর পর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই ব্যবস্থা সৌদি আরবে কর্মরত উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে বসবাসের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করতে পারে। সূত্র: গালফ নিউজ
লাওসে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রম নিয়োগের কোটা অনুমোদন, শ্রমিক নিয়োগ এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রম নিয়োগের কোটা অনুমোদন, শ্রমিক নিয়োগ এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ে লাওসে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ ও প্রেরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ওই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া স্থগিতাদেশ চলাকালে লাওসগামী বাংলাদেশি কর্মীদের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়া এবং এ-সংক্রান্ত কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বাস্তবতায় সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে লন্ডনে দিনব্যাপী ‘গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্য ও উৎস যাচাই এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। রবিবার (৪ অক্টোবর) পূর্ব লন্ডনের আল-খায়ের হলে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চারটি পৃথক অধিবেশনে সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হোসাইন ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আলাউর রহমান খান শাহিন। আয়োজনে প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিজ্ঞানী ও গ্রুপ লিডার ড. মো. মোস্তফা কামাল সরকার। তিনি এআই নিয়ে তার ১৪ বছরেরও বেশি গবেষণার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অধিবেশনে ড. মো. মোস্তফা কামাল সরকার ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা, এর ব্যবহার এবং সাংবাদিকদের সামনে আসতে থাকা নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর আগে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাংবাদিকতা বন্ধু নাকি শত্রু?’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক মাসুদ হাসান খান। সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, তথ্য সংগ্রহ, সম্পাদনা, উপাত্তভিত্তিক সাংবাদিকতা ও দৃশ্যায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি তথ্য ও উৎস যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকতার শক্তি’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন রানার মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা আ স ম মাসুম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো সংবাদ বা বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য ও উৎস যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। অন্যদিকে ‘সংবাদকক্ষ থেকে সংবাদপ্রবাহ : ডিজিটাল যুগে প্রতিবেদন’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রশিক্ষণ দেন ডেইলি স্টারের যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশেষ সংবাদদাতা বুলবুল হাসান। সংবাদ লেখায় শব্দচয়ন, প্রতিবেদনের বিন্যাস, তথ্য উপস্থাপন এবং ডিজিটাল যুগের পাঠকের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার কাউন্সিলর ব্যারিস্টার মোস্তাক আহমেদ এবং লন্ডন একাডেমি অব অ্যাপ্লায়েড টেকনোলজির পরিচালক তরিকুর রশিদ চৌধুরী শওকতসহ প্রেস ক্লাবের নেতারা। বক্তারা লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের এ ধরনের পেশাগত উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব প্রতিবছর সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। তবে এবারের আয়োজন ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এবারই প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আগামীর সাংবাদিকতা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকদের দক্ষতা ও কর্মপদ্ধতিতে যে পরিবর্তন আসছে, সেই বাস্তবতার সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের পরিচিত করিয়ে দেওয়াই ছিল এবারের প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মো. সজিব (২৬) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। গত রবিবার সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রবাসে কর্মরত তার বন্ধু আল আমিন স্বজনদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে সৌদি আরবে যান সজিব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির জুবাইল শহরে কর্মরত ছিলেন। সজিব ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। নিহতের চাচা আবুল কাশেম জানান, সজিবের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিকভাবে দাফনের জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, সৌদি আরব সময় রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে এলাকার সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবার যোগাযোগ করলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এরই মধ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিবারের সব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
কুয়েতে মারা যাওয়া আকামাবিহীন বাংলাদেশি প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। রোববার (৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের এ ধরনের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে প্রয়োজন হলে সরাসরি দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুয়েতে আকামাবিহীন কোনো বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচের কথা বলে চাঁদা বা অর্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কুয়েতের শ্রম আইন অনুযায়ী ‘১৮ নম্বর ভিসায়’ কর্মরত কোনো প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের বহন করার কথা। এ ছাড়া ‘২০ নম্বর ভিসায়’ গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ সংশ্লিষ্ট কফিল বা নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হয়। দূতাবাস জানিয়েছে, কোনো প্রবাসী কর্মীর কফিল না থাকলে অথবা আকামাবিহীন অবস্থায় কুয়েতে মৃত্যুবরণ করলে বাংলাদেশ দূতাবাস নিজস্ব আর্থিক সহায়তায় মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে থাকে। এ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মরদেহ দেশে পাঠানোর নামে অর্থ সংগ্রহ বা চাঁদা দেওয়ার কার্যক্রমে যুক্ত না হতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। কুয়েতে কোনো আকামাবিহীন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হলে তার পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ না করে সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিতভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিসরে শ্রমবাজার খুলছে ইতালি। দেশটির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়া হবে। এর মধ্যে মৌসুমি, অমৌসুমি ও স্বনিয়োজিত-তিন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে। ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি চাকরিতে, ৮৯ হাজার জনকে কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজে এবং ৬৫০ জনকে স্বনিয়োজিত কাজের জন্য নেওয়া হবে। পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য অমৌসুমি কোটার মধ্যে ১৪ হাজার স্থান রাখা হয়েছে। এই কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশও যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ইতালির সরকারি তালিকায় বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল-সংলগ্ন বিভিন্ন শ্রমবাজারের দেশ এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য কোটা রাখা হয়েছে। আবেদন করবেন যেভাবে ২০২৭ সালের কোটার জন্য আবেদনপত্র প্রাক-পূরণ বা ‘প্রিকম্পাইলেশন’ শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Portale Servizi ALI প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। তবে সাধারণভাবে বিদেশি কর্মী নিজে সরাসরি এই কোটার আবেদন করেন না। ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য চাকরির অনুমোদন বা nulla osta চেয়ে আবেদন করেন। এরপর অনুমোদন পেলে কর্মী নিজ দেশে ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ২০২৭ সালের ‘ক্লিক ডে’ নির্ধারণ করা হয়েছে খাতভেদে আলাদা দিনে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন জমা শুরু হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতে ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কাজের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আবেদন শুরু হবে ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। কোটা অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়া যাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত। ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮- এই তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেবল বৈধ নিয়োগকর্তা ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আবেদন এগোয়। তাই চাকরি বা ভিসার নামে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তা এবং nulla osta–র সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বাসিন্দা আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদি (২৪) নিহত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন। আমেরিকার স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ মো. আরদি চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে। পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কাজ শেষ করে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন আরদি। এ সময় মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাটের প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কানাডা সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ভারত—৪ হাজার ২২৭ জন। এরপর মেক্সিকোর ২ হাজার ২৮২ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১ জন, কলম্বিয়ার ৫৮০ জন, হাইতির ৫৩৫ জন এবং রোমানিয়ার ৪৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩৪০ জন, যা জাতীয়তা অনুযায়ী তালিকায় সপ্তম সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বহিষ্কারের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল শরণার্থী আবেদন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানা। এ কারণে আট মাসে ১২ হাজার ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানার কারণে ১ হাজার ৭৯৪ জন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ৮৯৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে ৮৮ জন এবং অন্যান্য কারণে ১১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার আদেশ, ৩ হাজার ৩০৩ জনের ক্ষেত্রে প্রস্থান আদেশ এবং ৩ হাজার ১৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার-নিষেধাজ্ঞা আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২ হাজার ৬৫৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ২৭০ জন, মার্চে ১ হাজার ৪৩২ জন, এপ্রিলে ১ হাজার ৯১৭ জন, মে মাসে ২ হাজার ৩৬৯ জন, জুনে ১ হাজার ৭৯১ জন, জুলাইয়ে ১ হাজার ৮৩৭ জন এবং আগস্টে ১ হাজার ৬২৩ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলমান ছিল। একই সময়ে পুরো কানাডায় বহিষ্কার প্রক্রিয়াধীন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ জন এবং মেক্সিকোর ৬ হাজার ১০২ জন। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, কানাডায় বৈধভাবে প্রবেশ বা অবস্থানের অধিকার নেই—এমন বিদেশি নাগরিকদের আইন অনুযায়ী দেশ থেকে অপসারণ করা তাদের দায়িত্ব। উল্লেখ্য, যাদের কানাডায় থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বহিষ্কার কার্যকর করা হয়।
আগামীতে আরও কত সহজে এবং সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ফেরাডেশান ওব বাংলাদেশ মেডিকেল সোটাইসিজ অব অস্ট্রেলিয়া। সিডনিতে দুইদিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়ের সমাপনী দিনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার ৬টি রাজ্য ও ২টি টেরেটোরিতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চাহিদা রয়েছে। যদিও এই চাহিদা পূরণ ও বিধিসম্মতভাবে অভিবাসন নিতে প্রয়োজন দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব। এছাড়া চিকিৎসকদের যথাযথ প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়সহ আরও অনেক বিষয় আলোচিত হয়েছে সারাবিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ফেরাডেশান ওব বাংলাদেশ মেডিকেল সোটাইসিস্ অব অস্ট্রেলিয়া (এফবিএমএসএ) এর দুই দিন ব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়াজে। এছাড়া আগামীতে আরও কত সহজে এবং সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের এই সংগঠনটি। সিডনিতে দুইদিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়ের সমাপনী দিনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা চিকিৎসকদের পেশাগত অগ্রযাত্রায় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আয়োজকেরা নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী ও অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধির কাছে হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল অ্যাটাচমেন্টের সুযোগ এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ বা কোর্সের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনার অনুরোধ জানান। উল্লেখ করা যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ায় ৬টি রাজ্য ও ২টি টেরেটোরিতে প্রায় এক হাজার ৮০০ চিকিৎসক বসবাস করছেন। যারা অস্ট্রেলিয়াতে অতি গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে গবেষণা ও কারিগরি দিকগুলোর উন্নয়নে নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছেন। দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক অধিবেশনগুলোর সমন্বয় করেন ডা. আকবর আশরাফী এবং বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের শিক্ষা সম্পাদক ডা. মিহির রায়। জুনিয়র চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের পেশাগত দিক-নির্দেশনার পাশাপাশি হরমোন ও কিডনি রোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া হৃদরোগের পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের কাছে রোগী পাঠানো নিয়ে আলোচনা করেন ডা. জামিল আহমেদ ও ডা. ময়েজুর রহমান। ক্যান্সার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য রাখেন ডা. মোহাম্মদ ইসলাম। আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসায় ডোনানেমাব নিয়ে আলোচনা করেন ডা. মনোয়ার হোসেন এবং রিউমাটোলজির সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন ডা. মুখলেসুর রহমান। এ ছাড়া আরএসভি টিকাদান, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্তকরণ, মেনোপজ ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন ডা. লুতফুন্নেসা কুদ্দুস, ডা. শাহনাজ আক্তারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী জিহাদ ডিব এমপি, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম. বুরহানউদ্দিন, অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী এবং অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নিউ সাউথ ওয়েলস শাখার সভাপতি ডা. ফ্রেড বেট্রোস। বাংলাদেশ থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চিকিৎসাশিক্ষায় তাঁদের অবদান রাখার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রবাসী চিকিৎসকদের আরও সম্পৃক্ত করার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে। বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের আতিথেয়তায় ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর পেনরিথের ওয়েস্টার্ন সিডনি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত দুই দিনের এই আয়োজন চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞানচর্চা, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারিবারিক মিলনমেলার এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয়। চিকিৎসক, তাদের পরিবারের সদস্য এবং সন্তানদের অংশগ্রহণে সংগীত ও নানা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা শিল্পী ও কলাকুশলীদের পরিবেশনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নকীব খানের মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা ছিল সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ। ছয় শতাধিক চিকিৎসক ও তাদের পরিবার-পরিজন এই সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করেন।
ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এক বাংলাদেশি নাগরিকের লাশ আট দিন আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী তানজিলা ইসলাম আশা দাবি করেছেন, চিকিৎসার বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। পরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওগাঁর বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজ (৩২) বাংলাদেশে চুক্তিভিত্তিক সরকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিডনির চিকিৎসার জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বেঙ্গালুরু যান। পরদিন পুরনো বিমানবন্দর সড়কের মণিপাল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। তানজিলা ইসলাম আশার ভাষ্য, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সবুজের শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা বেড়ে গেলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপে হাসপাতালের দাবিমতো তিনি মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি পরিশোধ করেন। তিনি আরও জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর সবুজের ডান পায়ে সংক্রমণ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা তার পা কেটে ফেলেন। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তিনি মারা যান। আশার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর লাশ দেশে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা বাবদ ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি বকেয়া দাবি করে। ওই অর্থ পরিশোধ না করলে লাশ হস্তান্তর করা হবে না বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে তার পাসপোর্টও আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, আগে পরিশোধ করা ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির কোনো রসিদ হাসপাতাল দেয়নি। এছাড়া চিকিৎসার সম্ভাব্য মোট ব্যয় সম্পর্কেও তাকে আগে থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতির মধ্যে তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তা চান। পরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্বামীর লাশ হস্তান্তর করে। সবুজের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু মোহাম্মদ মোক্তাদির হোসেন জানান, লাশ ছাড়িয়ে নিতে ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয়নি। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় আশার পাসপোর্টও ফেরত পাওয়া যায়। এদিকে মণিপাল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে সবুজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল এবং আইসিইউতে নেওয়ার পর হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাকে দুইবার পুনরুজ্জীবিত করেন এবং পরে কৃত্রিম হৃদ্ফুসফুস সহায়তা ও শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যান। হাসপাতালের দাবি, পরীক্ষায় ফুসফুসে রক্ত জমাট ও রক্তনালিতে বাধা ধরা পড়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচার করে জমাট রক্ত অপসারণ করা হয়। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ১৮ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবুজের লাশ ইতোমধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা বকেয়া বিলের পরিমাণ, অর্থ পরিশোধের রসিদ এবং পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি এ ঘটনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও কোনো বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাতারে লুসাইলে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রবাসী বাবুল আহমেদ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। লুসাইল থেকে দোহাতে ফেরার পথে গাড়িতে সমস্যা হওয়ায় তিনি রাস্তার পাশে গাড়িটি থামিয়ে চেক করছিলেন। এসময় আরেকটি গাড়ি এসে জোরে তাকে ধাক্কা দেয় এবং ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি একজন মিশরি ড্রাইভার চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। বাবুল আহমেদের বাড়ি ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায়। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি কাতারে ছিলেন বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতা মাহবুব আলম। বাবুল আহমেদের মরদেহ বর্তমানে হামাদ হাসাপাতালের মর্গে রাখা আছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি হলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হবে। বাবুল আহমেদের দুই ছেলে ও ১ মেয়ে। তার বড় ছেলে বর্তমানে কাতার প্রবাসী। এমন আকস্মিক মৃত্যু সংবাদে কাতারে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ পাওয়ায় খন্দকার এম. তালহাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ও উঠে আসে। দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের, সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রহিম, শাহ জামাল, অধ্যাপক তসলিম উদ্দিন, রশীদ পাটওয়ারি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ, খেলাফত মজলিসের কাওছার উদ্দিন এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের সভাপতি আলতাফুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। বক্তারা খন্দকার এম. তালহার পুনর্নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। নতুন মেয়াদে ফ্রান্সে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরো জোরালোভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো বিস্তৃত ও গভীর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বক্তারা। জবাবে রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং দায়িত্ব পালনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা ও পরামর্শের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সঙ্গে দূতাবাসের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে তার ওপর আস্থা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। খন্দকার এম. তালহা বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে দূতাবাসের কার্যক্রম আরো কার্যকর করার চেষ্টা থাকবে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন খন্দকার এম. তালহা। বহুপক্ষীয় কূটনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার কথা জানান তিনি। ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশের ভাবমূর্তি ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। দূতাবাস ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় আরো বাড়িয়ে কার্যক্রমকে গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি), কাউন্সিলর মাহফুজা সুলতানা, দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেম, প্রথম সচিব শেখ মারেফত তারেকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এ সেলের মাধ্যমে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হবে। এতে আরও বলা হয়, ই-মেইলে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে আবেদন বা অভিযোগগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সরেজমিনে যাচাই ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রবাসীদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে minister.expat@gmail.com ই-মেইল ঠিকানা দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য নির্ধারিত ই-মেইলে অভিযোগ পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল মাদক জব্দ করেছে কুয়েতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৫-এ তল্লাশি চালিয়ে ওই বাংলাদেশি প্রবাসীকে আটক করা হয়। আটক যাত্রীর কাছ থেকে ৪ কেজি ৭৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩১৯.৩ গ্রাম মেথঅ্যামফিটামিন এবং ৬ হাজার ২১১টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার মাদকদ্রব্য জব্দ করে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে তাকে স্থানীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ্য, কুয়েত সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। দেশটির বিমানবন্দরসহ সব প্রবেশপথে মাদক চোরাচালান রোধে নিরাপত্তা ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। ইতোপূর্বেও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় এনেছে কুয়েত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বিমানে এত বড় মাদকের চালান কীভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্ক্যানিং পার হলো- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কুয়েত প্রবাসী সুমন চৌধুরী বলেন, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও তল্লাশি প্রক্রিয়া পেরিয়ে এত বড় চালানের বাইরে যাওয়া উদ্বেগের। এ ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা বা চক্র জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে দুই গাড়ির সংঘর্ষে একই পরিবারের সাতজনসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাবা-মা ও তাদের পাঁচ সন্তান রয়েছেন। রোববার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল-আহসা এলাকায় আল-উকাইর-আল-উয়ুন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। দুর্ঘটনায় দুটি গাড়িই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথম গাড়িতে থাকা একই পরিবারের সাতজন নিহত হন। তাদের মধ্যে বাবা, মা, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ছিলেন। অন্য গাড়িতে থাকা দুই তরুণও দুর্ঘটনায় নিহত হন। পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে হঠাৎ গাড়ির গতিপথ পরিবর্তনকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খবর পেয়ে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ও সৌদি রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। গাড়ির ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে তারা কাজ করে। তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ