ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ
দেশলাইয়ের কাঠি বাঁচানোর শহরে এবার এলএনজির অপেক্ষা

মোহাম্মদপুরের আঁখিরা ইসলামের এখনও দুই দশক আগের কথা মনে পড়ে, যখন দেশলাইয়ের কাঠি বাঁচাতে কিংবা কাপড় শুকাতে ঢাকার অনেক বাসায় দিনের পর দিন গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা হতো।   স্বামীর সরকারি চাকরির কারণে দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকতে হয়েছে আঁখিরাকে। পরে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় স্থায়ী হওয়ার সময় তিনি ভেবেছিলেন, রান্নার ঝক্কি বুঝি এবার অনেকটাই কমবে। পাইপলাইনে গ্যাস থাকবে; চুলা জ্বালালেই রান্না করা যাবে।   রান্নাঘরের সেই নিশ্চয়তা এখন তার কাছে অনেকটাই অতীত। গ্যাসের চাপ কখন বাড়বে, কখন চুলা জ্বলবে, তার ঠিক নেই। ফলে চুলা জ্বললেই রান্নার কাজ যতটা সম্ভব সেরে ফেলার চেষ্টা করেন আঁখিরা।   এর মধ্যে আরেকটি বিষয়ও তাকে ভাবায়। তার চুলায় যে গ্যাস জ্বলে, তার একটি অংশ কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জাহাজে করে আনা হয়। একসময় এত সহজে পাওয়া গ্যাসের জন্য এখন বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, বিষয়টি এখনও তার কাছে বিস্ময়ের। “আমাদের দেশের এত গ্যাস গেল কোথায়,” প্রশ্ন করেন আঁখিরা।   তার বাসা থেকে হাঁটা পথের দূরত্বে মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেডে থাকেন সুরাইয়া জান্নাত। তার অভিজ্ঞতা কিছুটা আলাদা। তবে বদলে যাওয়া জ্বালানি পরিস্থিতি তার রান্নাঘরও পাল্টে দিয়েছে।   উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে হোস্টেলে থাকতেন সুরাইয়া। মাঝেমধ্যে নিজেরাই রান্না করতেন। সেই সময় তিনিও অনেককে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে কাপড় শুকাতে দেখেছেন।   সংসার শুরুর পর ধীরে ধীরে গ্যাসের সেই প্রাচুর্য হারিয়ে যেতে দেখেন তিনি। নানা সংকটের মধ্যেও কয়েক বছর পাইপলাইনের গ্যাসে রান্না করেছেন।   ছয় মাস আগে বাসা বদলের পর বদলে গেছে রান্নার জ্বালানিও। নতুন বাসায় পাইপলাইনের গ্যাস নেই। এখন এলপিজি সিলিন্ডারই তার ভরসা। কিন্তু সেখানেও নিশ্চয়তা নেই।   সুরাইয়ার অভিযোগ, সরকার যে দাম ঠিক করে দেয়, সেই দামে তিনি সিলিন্ডার কিনতে পারেন না। বাজারে বাড়তি টাকা দিতে হয়। আবার দাম বাড়ার খবর ছড়ালে কখনও সিলিন্ডার পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে।   একসময় যে গ্যাসের আগুনে মানুষ কাপড় শুকাত, সেই গ্যাসই এখন তার সংসারের বড় খরচগুলোর একটি, বলছিলেন সুরাইয়া।   আঁখিরা অপেক্ষা করেন পাইপলাইনে চাপ বাড়ার; আর সুরাইয়া অপেক্ষা, সহনীয় দামে সিলিন্ডার পাওয়া।   ঢাকার এই দুই রান্নাঘরকে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার বদলে যাওয়া চেহারার প্রতিচ্ছবি বলা যায়।   একসময় দেশীয় গ্যাস ছিল সহজলভ্য জ্বালানি। এখন সেই সরবরাহে বড় জায়গা করে নিয়েছে আমদানি করা এলএনজি ও এলপিজি।   এমন বাস্তবতায় ৯ অগাস্ট পালিত হচ্ছে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস।   ১৯৭৫ সালের এই দিনে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকা তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, রশিদপুর ও কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।   যুক্তরাজ্যের শেল অয়েলের হাতে থাকা পরিচালনাকারী কোম্পানির ৭৫ শতাংশ শেয়ার প্রায় ৪৫ লাখ পাউন্ড স্টার্লিংয়ে কিনে নেয় সরকার। তখনকার হিসাবে এর মূল্য ছিল প্রায় ১৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।   এর মধ্য দিয়ে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র, কূপ ও উৎপাদন স্থাপনার পরিচালনা রাষ্ট্রের হাতে আসে। পরে কোম্পানিটির নাম হয় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড।   গ্যাসকূপের মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে পাওয়ার সেই সিদ্ধান্ত স্মরণে ২০১০ সাল থেকে ৯ অগাস্ট জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস পালিত হচ্ছে।   পাঁচ দশকের বেশি সময় পরও সেই পাঁচ ক্ষেত্র দেশীয় গ্যাসের বড় উৎস হয়ে আছে এখনও। কিন্তু এর মধ্যে বদলে গেছে দেশের জ্বালানি ব্যবহারের মানচিত্র। জ্বালানি চাহিদার স্থানীয় উৎপাদনের ঘাটতি পূরণে যুক্ত হয়েছে আমদানি করা এলএনজি।   ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হলেও সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে তোলার ব্যবস্থা এখনও মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল।   জাহাজে এলএনজি এলেও এফএসআরইউ সচল না থাকলে সেটি গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনে দেওয়া যায় না। ফলে এই দুটি টার্মিনালের কোনো একটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খারাপ আবহাওয়া বা কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলেই তার প্রভাব সরাসরি জাতীয় সরবরাহে পড়ে।   গত কয়েক বছরেই এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রেমালের সময় একটি ভাসমান পন্টুন সামিটের এফএসআরইউতে আঘাত করলে টার্মিনালের ব্যালাস্ট ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে কমে যায়।   স্বাভাবিক সময়ে দুই টার্মিনাল থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি পাওয়া গেলেও সেই সময় সরবরাহ ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমেছিল। টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করতে লেগে যায় তিন মাসের বেশি।   চলতি বছরের ২১ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে মাত্র ছয় ঘণ্টার কারিগরি ত্রুটিতেই জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়। তাতে গ্যাসের চাপ কমে যায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে।   এরপর ৭ জুলাই বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনালে একটি এলএনজি জাহাজ ভিড়তে না পারায় সরবরাহ আবার দৈনিক প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়।   এর দুই সপ্তাহ পর ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে আগুন ও কারিগরি ত্রুটির পর দৈনিক আরও প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনালটি সাধারণত দৈনিক ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেয়।   অর্থাৎ জুলাইয়ের সংকট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরের ঘটনা প্রবাহে উঠে এসেছে, আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও সেই গ্যাস গ্রহণের অবকাঠামোতে এখনো যথেষ্ট বিকল্প তৈরি হয়নি।   মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটিতে সমস্যা হলেই কয়েকশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। আগে থেকেই ঘাটতিতে থাকা জাতীয় গ্রিডে তখন তার ধাক্কা লাগে, যার রেশ দ্রুতই পৌঁছে যায় রান্নাঘর, সিএনজি স্টেশন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায়।   গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ার আগে দুই টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল।   ২০ জুলাই সকাল থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় সরবরাহ ছিল ৯৯৩ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট। পরের দিন তা নেমে আসে ৬২১ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ঘনফুটে। কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ২৬ জুলাই সকাল থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে ৫০০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ টার্মিনাল বিকলের আগের তুলনায় আমদানি করা গ্যাসের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ কমে যায়।   কুমিল্লার হেলালউদ্দিন ঢাকায় সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। গত মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে মহাখালীর রয়েল ফিলিং স্টেশনের সামনে তার সঙ্গে যখন কথা হয়, ততক্ষণে সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে ছিলেন তিনি। সামনে তখনও গাড়ির সারি। কখন গ্যাস পাবেন, সেটি কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছিল না।   কোথায় কী হয়েছে, কেন হঠাৎ গ্যাস মিলছে না, সেই হিসাবও হেলালউদ্দিনের জানা নেই। তার হিসাব আরও সহজ। গাড়ি যতক্ষণ লাইনে, ততক্ষণ আয় নেই। গ্যাস পেলেও আগের মতো নিশ্চিন্ত হওয়া যাচ্ছে না। চাপ কম থাকায় অনেক সময় পুরো ট্যাংক ভরছে না। অল্প গ্যাস নিয়ে কয়েকটি ট্রিপ দেওয়ার পর আবার ফিরতে হচ্ছে কোনো ফিলিং স্টেশনের লাইনে।   মগবাজারে সিএনজি নিতে আসা চালক সেলিম মিয়ার অভিজ্ঞতাও একই।   তার ভাষ্য, আগে একবারে প্রায় ৩০০ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত। এখন অনেক সময় ১০০ থেকে ১২০ টাকার বেশি পাওয়া যায় না। সেই গ্যাসে দু-একবার যাত্রী বহন করলেই আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়। দিনে দুই দফায় তিন ঘণ্টা করে অপেক্ষা হলে ছয় ঘণ্টা চলে যায় শুধু জ্বালানির পেছনে।   টার্মিনাল বিকল হওয়ায় ৪ অগাস্ট সকাল থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় দেশীয় ক্ষেত্র ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ১৪০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট।   ওই দিন গ্যাসের চাহিদা ছিল ৩ হাজার ৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ ওই দিন চাহিদার প্রায় ৫৬ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল। এলএনজি থেকে এসেছিল ৪৯০ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট।   এই ঘাটতির প্রভাব শুধু সিএনজি স্টেশনে ছিল না। অনেক বাসায় দিনের বেলায় চুলা জ্বলেনি। কোথাও ইন্ডাকশন চুলায় রান্না হয়েছে, কোথাও রান্নার সময় সরিয়ে নিতে হয়েছে গভীর রাতে। শিল্পকারখানাতেও গ্যাসের চাপ কমেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ধুঁকেছে জ্বালানির সংকটে, বেড়েছে লোডশেডিং।   দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ অগাস্ট ভোরে বিকল টার্মিনালের একটি অংশ আবার চালু হয়। শুরুতে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছিল।   বাড়ছে না দেশীয় উৎস জুলাইয়ের সংকটের মধ্যেই আরেকটি হিসাবও সামনে আসে। পাঁচ দশকের বেশি সময় আগে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র এখনও দেশীয় উৎপাদনের বড় উৎস।   গত ৪ থেকে ৫ অগাস্টের পেট্রোবাংলার হিসাবে, তিতাস থেকে দৈনিক ৩৩৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এসেছে। হবিগঞ্জ থেকে ১০২ দশমিক ৩ মিলিয়ন, বাখরাবাদ থেকে ১৮ দশমিক ২ মিলিয়ন এবং রশিদপুর থেকে ৭০ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট।   কৈলাসটিলার দুটি স্থাপনা থেকে পাওয়া গেছে আরও ৪৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট। সব মিলিয়ে ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পাঁচটি ক্ষেত্র থেকে ওই দিন এসেছে ৫৬৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।   দেশীয় ক্ষেত্রগুলোর মোট উৎপাদন ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ পাঁচটি ক্ষেত্র এখনও দেশীয় গ্যাসের প্রায় সাড়ে ৩৪ শতাংশ দিচ্ছে।   এই হিসাব পঞ্চাশ বছর আগের ওই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব পরিস্কার করে। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলে, এত বছরেও নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার ও উৎপাদন বাড়িয়ে পুরোনো ক্ষেত্রগুলোর ওপর নির্ভরতা কেন কমানো গেল না।   আবার ঝুঁকিটা শুধু পুরোনো পাঁচ ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরতায় নয়। গত ৪ থেকে ৫ অগাস্ট বিবিয়ানা ক্ষেত্র একাই ৭৪৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়েছে। অর্থাৎ দেশীয় উৎপাদনের প্রায় ৪৫ শতাংশ এসেছে একটি ক্ষেত্র থেকে। তিতাস যোগ করলে এই দুই ক্ষেত্র থেকেই এসেছে দেশীয় গ্যাসের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ, দেশীয় উৎপাদন অল্প কয়েকটি বড় ক্ষেত্রের ওপর কেন্দ্রীভূত।   অন্যদিকে আমদানি করা এলএনজি গ্রহণের দুটি ভাসমান টার্মিনালও মহেশখালীর একই এলাকায়। অর্থাৎ, আমদানির অবকাঠামোও একই এলাকায় কেন্দ্রীভূত। ফলে এসব সরবরাহ ব্যবস্থার যেকোনো ত্রুটিতে তার চাপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায়।   দেশীয় উৎসে জোর, ফল পেতে সময় এই নির্ভরতা কমাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছে পেট্রোবাংলা।   পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন খনন রিগ কেনা হচ্ছে। একটির ক্ষমতা ২ হাজার অশ্বশক্তি, অন্যটির দেড় হাজার অশ্বশক্তি।   তবে নতুন কূপ থেকে গ্যাস পেতে সময় লাগে বলে মনে করিয়ে দেন তিনি।   পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, ভূতাত্ত্বিক জরিপ, সম্ভাব্যতা যাচাই, সরকারি সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক দরপত্র ও খননসহ পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় এক বছর লেগে যেতে পারে।   “সরকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।”   পুরনো ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমবে এবং নতুন কূপ থেকে গ্যাস পেতে যে সময় লাগবে, তা আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু নতুন উৎস থেকে যে গ্যাস যোগ হয়েছে, তা পুরনো ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমার ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তার আলোচনায় এখন শুধু কতটি কূপ খনন হবে, সেই লক্ষ্য নয়, কবে সেখান থেকে কত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে, সেই হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   গ্যাসের সংকট রপ্তানি কারখানাতেও রান্নাঘর ও সিএনজি স্টেশনের বাইরে গ্যাসের সংকটের ছাপ পড়েছে শিল্পাঞ্চলে।   ইভেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরীর হিসাবে, নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়া ও গাজীপুরের অনেক কারখানায় উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর সমস্যাটা শুধু উৎপাদন কমে যাওয়ায় থেমে নেই। গ্যাসের অভাবে সময়মতো পণ্য তৈরি ও পাঠানো যাচ্ছে না। এতে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।   সময়মতো পণ্য দিতে না পারলে ক্রেতারা মূল্যছাড় চাইছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উড়োজাহাজে পণ্য পাঠানোর বাড়তি খরচও কারখানার ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। সংকট দীর্ঘ হলে ভবিষ্যতের ক্রয়াদেশেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।   আনোয়ার-উল আলম বলেন, “কাস্টমাররা যখন দেখে যে এই গ্যাসের জন্য ডেলিভারি মানে এনার্জির জন্য ডেলিভারি ডিলে হচ্ছে এবং এটা একটা আনসার্টেন তখন তাদের মধ্যে একটা পেনিক কাজ করে।”   তার মতে, তাৎক্ষণিক সংকটে কোন খাতে কত গ্যাস দেওয়া হবে, সেই ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে হবে।   শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও অন্য জ্বালানি বেশি ব্যবহারের কথা বলেন তিনি। সার কারখানায় গ্যাসের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে প্রয়োজনীয় সার আমদানি এবং সিএনজি খাতে গ্যাস সরবরাহ ধীরে কমানোর পরামর্শও দেন।   পাশাপাশি পাইপলাইন ও ব্যবহারে অপচয় কমানোর ওপর জোর দেন তিনি। মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে নতুন এলএনজি টার্মিনাল, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং কূপ খনন বাড়ানোর কথাও বলেন এই ব্যবসায়ী নেতা।   নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়লে কমবে আমদানি ঝুঁকি দেশীয় গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশকে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। সুলভে আমদানির সুযোগ পাওয়া গেলে তা অনেক সময় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়, যার ধকলে টান পড়ে দেশের রিজার্ভে। আবার টার্মিনালে সমস্যা হলে সরবরাহ কমে যায়।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ঝুঁকি কমানোর একটি পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো।   সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে সেই লক্ষ্য থেকে এখনও অনেক দূরে বাংলাদেশ।   ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ছিল মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে বিশ্বে এই হার ছিল প্রায় ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ৭ মেগাওয়াট। ২০৩০ সালের লক্ষ্য পূরণে সক্ষমতা প্রায় ৫ হাজার ৮৫১ মেগাওয়াটে নিতে হবে বলে হিসাব করেছে আইইইএফএ। এজন্য ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ৭৬০ মেগাওয়াট নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা যোগ করতে হবে।   আইইইএফএর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম মনে করেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়লে দিনের বেলায় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। সেই গ্যাস শিল্পসহ অন্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যবহার করা যেতে পারে।   তবে শুধু সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে না বলে মনে করেন তিনি। রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতার জন্য গ্যাসের প্রয়োজন থাকবে। তাই নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনও বাড়াতে হবে।   তার মতে, দেশীয় গ্যাস, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ব্যাটারি স্টোরেজকে একই পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে। কোন সময়ে কোন উৎসের বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে, সেটিও আগেই ঠিক করতে হবে।   আইইইএফএর আরেক হিসাব বলছে, এক মেগাওয়াটের একটি রুফটপ সোলার প্রকল্প বছরে প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকার জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করতে পারে। ফলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়ানো শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, আমদানি করা জ্বালানির দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা কমানোরও একটি উপায় হতে পারে বাংলাদেশের জন্য।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, সংখ্যাগরিষ্ঠই বাংলাদেশি

গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট দ্বীপে অভিবাসীদের আসা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার কয়েকটি নৌযানে করে অন্তত ২০২ জন অভিবাসী দ্বীপটিতে পৌঁছেছেন।     তাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। এছাড়া কয়েকজন মিসরের নাগরিকও রয়েছেন। গ্রিসের স্থানীয় সংবাদপত্র দিমোক্রাতিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে লিবিয়ার উপকূল থেকে যাত্রা করা কয়েকটি নৌযানে করে এসব অভিবাসী ক্রিটে পৌঁছান। এতে দ্বীপটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং অভিবাসীদের রাখার কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।       বৃহস্পতিবার সকালে নতুন একটি নৌযানে করে আরো ৪০ জন অভিবাসী ক্রিটের ইয়েরাপেত্রা এলাকার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পৌঁছান। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থার (ফ্রন্টেক্স) একটি উড়োজাহাজ নৌযানটি শনাক্ত করার পর বিষয়টি গ্রিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে গ্রিক উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি টহলদল একটি মাছ ধরার নৌকার সহায়তায় অভিবাসীদের ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়।       এর কয়েক ঘণ্টা আগেও দুটি নৌযানে করে ১১২ জন অভিবাসী ইয়েরাপেত্রায় পৌঁছান। প্রথম নৌযানে ছিলেন ৫৬ জন। তাদের মধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশি এবং ৩১ জন সুদানের নাগরিক। দ্বিতীয় নৌযানেও ছিলেন ৫৬ জন। তাদের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিসরের নাগরিক।     পরে এই ১১২ জনসহ নতুন করে আসা অভিবাসীদের হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্রে নেওয়া হয়। ক্রিটে অভিবাসীদের আসার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটি তাদের অস্থায়ীভাবে রাখার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।     এদিকে দক্ষিণ সুদানের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিসের কর্তৃপক্ষ। এর আগে ইয়েরাপেত্রা থেকে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি অভিযানে ৫০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে কিশোরটিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিবাসীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই কিশোর লিবিয়ার তবরুক শহর থেকে গ্রিসের দিকে যাওয়ার সময় নৌযানটি চালাচ্ছিল।       জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার জন্য প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মার্কিন ডলার নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।      লিবিয়ার উপকূল থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে অভিবাসীদের আসার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। এতে দ্বীপটির কর্তৃপক্ষের ওপর উদ্ধার, নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই এবং অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার চাপও বাড়ছে।

২০ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে ফলপ্রসূ আলোচনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং এবং দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), ইসলামী অর্থায়ন, অর্থপাচার প্রতিরোধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালাল শিল্পে অর্থায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।   শুক্রবার (৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুরে মালয়েশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং-এর মধ্যে এ ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে আর্থিক ও অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে বেশি গুরুত্ব পায় প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা, ইসলামী অর্থায়ন, অর্থপাচার প্রতিরোধ ও পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার।   এছাড়া প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসী হিসেবে দেশে ফিরে যাওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ার ব্যাংকে রক্ষিত আমানত উত্তোলন সহজীকরণ, হালাল শিল্পে অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় ফান্ড খাজানাহর সঙ্গে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ফান্ডে মালয়েশিয়ার কৌশলগত বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়।   উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।   উপ-অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং আলোচ্য ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।   বৈঠকে মালয়েশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, রয়্যাল মালয়েশিয়ান কাস্টমস বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে উপ-হাইকমিশনার, প্রথম সচিব (বাণিজ্য) এবং তৃতীয় সচিব (রাজনৈতিক) অংশ নেন।

১ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরল প্রবাসীর মরদেহ, শোকে স্বজনরা

দক্ষিণ আফ্রিকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মুন্সীর (৪০) মরদেহ দেশে এনে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর শুক্রবার সকালে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।   শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর রাকুদিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন।   আসাদুজ্জামান মুন্সী উত্তর রাকুদিয়া গ্রামের মরহুম আবুবকর মুন্সীর ছেলে। গত ৩০ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ইডেনভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   মৃত্যুর পর দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশে অবস্থানরত তার সহকর্মী, বন্ধু এবং একই এলাকার প্রবাসীরা মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করে মাত্র সাত দিনের মধ্যে মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।   মরহুমের মেজ ভাই কামরুজ্জামান মুন্সী বলেন, আমার বড় ভাই ২০১৪ সালে চাকরির সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। পরে সেখানে চাকরির পাশাপাশি ব্যবসাও শুরু করেন। প্রবাসে দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন। তার মরদেহ দ্রুত দেশে এনে আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় আমরা তার সহকর্মী ও বন্ধুদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

১ দিন আগে
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে লন্ডনে ‘বিপ্লব সমাবেশ’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ‘৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকে’-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে এক বৃহৎ বিপ্লব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।   বুধবার (৫ আগস্ট) লন্ডনের ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।   সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ৩৬ জুলাই অ্যালায়েন্স, ইউকের কনভেনর আব্দুল লতিফ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গ্লোবাল ভয়েস অব জাস্টিসের সভাপতি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের প্রধান মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা।   এছাড়া বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ, ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, ব্যারিস্টার নুরুল গাফফার, ড. শামসুল আলম গোলাপ, মুফতি সালেহ আহমদ ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নুর বক্স। স্বাগত বক্তব্য দেন সিরাজুল ইসলাম শাহীন।   অ্যালায়েন্সের যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার এবং সদস্য সচিব শাহরিয়ার আলম শিপারের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা।   প্রধান অতিথি ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই বলেন,   ‘জাতির কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেব জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা বাস্তবায়ন না হলে তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন।’   প্রধান বক্তা ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন,   ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং এর দায় বিএনপিকেই নিতে হবে।’   সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার আলোকে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তারা গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইনের শাসন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ রুদ্ধ করার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানের শুরুতে মাওলানা মিজানুর রহমান পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে মেসেজ কালচারাল গ্রুপ ও ওয়াননেস কালচারাল গ্রুপ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।   লন্ডন প্রবাসী বিভিন্ন বয়স ও পেশার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক উপস্থিতি আলতাব আলী পার্কে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনে এক বিশেষ আবহ তৈরি করে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিসবন।   বুধবার (৫ আগস্ট) দূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিস সামিয়া ইসরাত রনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দূতালয় প্রধান এসএম গোলাম সরোয়ার।   অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত এবং জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।   এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।   আলোচনা সভায় অংশ নেন পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনে প্রবাস থেকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা এবং পর্তুগালের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।   সভায় বক্তারা ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বর্তমান সরকার ও দূতাবাসের কাছে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ঢাকা-লিসবন সরাসরি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু এবং ঢাকায় পর্তুগাল দূতাবাস স্থাপনের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়।   চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সামিয়া ইসরাত রনি তার বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।   তিনি আরও বলেন, দেশ গঠনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠান শেষে দূতাবাসের পক্ষ থেকে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী কর্মীর প্রেমে সৌদি যুবক, বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে পৌঁছালেন প্রেমিকার বাড়িতে

সৌদি আরবে কর্মরত এক ফিলিপাইনি প্রবাসী নারীর প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে তার নিজ দেশে গিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন এক সৌদি যুবক। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   জানা গেছে, ওই নারী সৌদি আরবে একটি পরিবারের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সূত্রে পরিবারের এক তরুণ সদস্যের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।   বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ওই নারী অনুরোধ করেন, প্রস্তাবটি যেন তার পরিবারের উপস্থিতিতে দেওয়া হয়। প্রেমিকার এই ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে সৌদি যুবক ফিলিপাইনে যান এবং পরিবারের সদস্যদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেন।   ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি উপহারসামগ্রী ও ফুল নিয়ে কনের বাড়িতে প্রবেশ করছেন। স্থানীয় রীতিনীতি মেনে তাকে স্বাগত জানায় কনের পরিবার। পরে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রস্তাব গ্রহণের দৃশ্যও দেখা যায়।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই একে আন্তরিক ভালোবাসা ও পারিবারিক সম্মানের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এক সপ্তাহে মালদ্বীপে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু, উদ্বেগে প্রবাসী কমিউনিটি

মালদ্বীপে গত এক সপ্তাহে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের অধিকাংশের বয়স ২১ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে।   হাইকমিশন সূত্র জানায়, কয়েকজন প্রবাসী কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২৩ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম রওশন কর্মস্থলে মিক্সার মেশিন দুর্ঘটনায় নিহত হন। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ২১ বছর বয়সী সোলাইমান মাতব্বর ভুলবশত রাসায়নিক পদার্থ পান করার পর মারা যান বলে জানা গেছে।   ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ৩৭ বছর বয়সী বদিউর রহমান নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত করছে।   এ ছাড়া স্ট্রোক ও হৃদরোগে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—   হুমায়ুন কবির (৪৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সায়েদ মোল্লা (৪৪), শরীয়তপুর মকবুল মিয়া (৪৭), কুমিল্লা মো. শেখ ফরিদ (৪৫), ফেনী দেলোয়ারা নবী (৭০), বরিশাল   হাইকমিশন জানিয়েছে, হুমায়ুন কবির ও সায়েদ মোল্লার মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের মরদেহও দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।   প্রবাসী সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে অনেক প্রবাসী শারীরিক ও মানসিকভাবে ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন। বিশেষ করে হৃদরোগ ও স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দ্রুত দেশে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারের জরুরি সহায়তা কামনা করেছেন।   বাংলাদেশ হাইকমিশন বলেছে, তারা সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটক ৯৬ বাংলাদেশির সঙ্গে দূতাবাসের সাক্ষাৎ

মালয়েশিয়ার কেদাহ অঙ্গরাজ্যের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপো পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শনের সময় ক্যাম্পে আটক থাকা ৯৬ জন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।   সোমবার (৩ আগস্ট) হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ডিপোটি পরিদর্শন করেন।   পরিদর্শনের সময় আটক বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়। একই দিনে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই শেষে ২৬টি ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন। অবশিষ্ট ট্রাভেল পারমিটও শিগগিরই হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়।   দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে শাস্তি ছাড়াই দেশে ফেরার সুযোগ চালু থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানে আটক হয়ে কারাভোগ শেষে অনেক বাংলাদেশি বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে অবস্থান করছেন।   হাইকমিশন জানিয়েছে, আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে নিয়মিত ক্যাম্প পরিদর্শন এবং ট্রাভেল পাস ইস্যুর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া থেকে কারাভোগ শেষে দেশে ফেরা অনেক বাংলাদেশি অতীতে অভিযোগ করেছিলেন যে, অন্যান্য দেশের হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জেল ও ক্যাম্প পরিদর্শন করলেও বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি খুব কম দেখা যায়। তবে বর্তমান লেবার মিনিস্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মিত ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক ও ক্যাম্প পরিদর্শনের কারণে সেই অভিযোগ অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন মালয়েশিয়ায় বসবাসরত সচেতন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে ৩ বাংলাদেশি নিহত, আটক ১

মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান অঙ্গরাজ্যের লিঙ্গি এলাকায় সহকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।   নেগেরি সেম্বিলানের পুলিশ প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমদ জানান, সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে তামান লিঙ্গির একটি বাড়িতে কয়েকজন বাংলাদেশির মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং অপরজনকে গুরুতর অবস্থায় রেম্বাউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী লাডাং সুয়া মাঙ্গিস এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।   প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ও অভিযুক্তরা একই বাড়িতে বসবাস করতেন এবং একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। কী কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   পুলিশ এখনো নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি। আটক ব্যক্তিকে পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ডের আবেদনসহ হাজির করা হয়েছে।   মামলাটি মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ান ইয়ুথ এসডিজি সামিটে অংশ নিল ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়ান ইয়ুথ এসডিজি সামিট ২০২৬-এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ।   সামিটটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল “দ্য ফিউচার অব দ্য সোশ্যাল ইকোনমি”। এটি মালয়েশিয়ার ১৩তম জাতীয় পরিকল্পনা (আরএমকে-১৩) এবং সিক্স হেলিক্স ইনোভেশন মডেল-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজিত একটি জাতীয় নীতি পরামর্শমূলক সম্মেলন।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী মোরদি আনাক বিমল, এপিপিজিএম-এসডিজির সচিবালয় প্রধান দাতুক ড. ডেনিসন জয়সুরিয়া এবং জাতিসংঘের মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ব্রুনাইয়ের আবাসিক সমন্বয়কারী নিকোলাস মিন্ট উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিনেটর ড. হাজি জুফিতরি জোহা।   আন্তর্জাতিক এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারী ১৩টি প্রদর্শনী বুথের মধ্যে ইয়ুথ হাবের বুথটি অন্যতম আকর্ষণ ছিল বলে আয়োজক সূত্র জানিয়েছে।   সংস্থাটির বুথে ইকো-প্রিন্ট, ক্লে জুয়েলারি, গার্মেন্টস বর্জ্য থেকে তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং (এমএল), নারী ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগ উপস্থাপন করা হয়।   ইয়ুথ হাবের ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড কালচারাল বিভাগের প্রধান নিয়ান সাহা-র নেতৃত্বে সম্মেলনে অংশ নেন এসডিজি এজেন্ট রফিকুল ইসলাম, জারিফ হামিম ইরাম এবং কাজী নাফিয়া ইসলাম। তারা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের কাছে সংস্থাটির কার্যক্রম তুলে ধরেন।   সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের যুব নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ, প্রযুক্তি শিক্ষা, সামাজিক উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।   ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি যুব নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা, যা এসডিজি-৩, ৪, ৫, ৮, ৯, ১৩ ও ১৭ বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সামাজিক উদ্ভাবন এবং যুব ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের যুব সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ প্রতিনিধি শেখ তামরিন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার উই ওয়ান্ট মডেল ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স’-এ অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ প্রতিনিধি শেখ সিদরাতুল মুনতাহা সিদ্দিকী তামরিন।   সম্মেলন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তার ডেলিগেট নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।   সম্মেলন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরও কয়েকজন তরুণ অংশ নিলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী প্রতিনিধি হিসেবে তামরিন অংশগ্রহণ করছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।   চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্ব শান্তি, কূটনীতি, তরুণ নেতৃত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।   চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা শেখ তামরিন সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী সাংবাদিক শেখ ফয়সল সিদ্দিকী ববি’র জ্যেষ্ঠ কন্যা। প্রবাসে বেড়ে উঠলেও বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে তার গভীর সংযোগ রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।   তার পিতা শেখ ফয়সল সিদ্দিকী ববি বলেন, “এটি একজন বাংলাদেশি ও প্রবাসী বাবা হিসেবে আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। আমি দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করছি।”   আন্তর্জাতিক এ মঞ্চে বাংলাদেশের তরুণদের অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে আয়োজিত সভায় তিনি প্রবাসে থাকা নেতাকর্মীদের দলীয় আদর্শ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।   সভায় আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সাংগঠনিক সমন্বয় জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   অনুষ্ঠানে প্রবাসী নেতাকর্মীদের অনলাইনের মাধ্যমে সদস্যপদ ফরম পূরণ করে দলের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়।   অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা প্রবাসে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   মালদ্বীপ বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রবাসে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধিতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৩, ২০২৬
সৌদি আরবে ব্যাপক ধরপাকড়, ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত

  আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬০০-এর বেশি প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। সবশেষ অভিযানে ১৪ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২৩ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ তল্লাশি অভিযানের পর মোট ১২ হাজার ৬১৩ জনকে সৌদি আরব থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   একই সময়ে মোট ১৪ হাজার ১৫৪ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৭ হাজার ১০৩ জন আবাসন আইন, ৩ হাজার ৩৯৭ জন শ্রম আইন এবং ৩ হাজার ৬৫৪ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হন।   এছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৪১৮ জনকে আটক করা হয়। একইভাবে, অবৈধভাবে দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কর্মসংস্থানের অভিযোগে আরও ১৭ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে ৩০ হাজার ৬৭৯ জনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৯০৩ জনকে ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং ৫ হাজার ৪২৪ জন বহিষ্কারের আগে ভ্রমণসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন।   মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে কাউকে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করা, পরিবহন করা, আশ্রয় দেয়া বা লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তি জব্দ এবং অপরাধীর নাম প্রকাশ করার মতো সাজা হতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন বিনিয়োগে প্রতারণার অভিযোগ, কুয়েতে বিপাকে বহু প্রবাসী

কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি, ভারতীয়, নেপালি ও ফিলিপিনো প্রবাসীদের একটি অংশ অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ কার্যক্রমে অর্থ বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ‘ইয়েপবিট’ নামের একটি অ্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট ‘বনচ্যাট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে সেই অর্থ উত্তোলন করা যাচ্ছে না।   ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যেকে প্রায় ১,৫০০ মার্কিন ডলার বা তার বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। বিনিয়োগের পর প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পিন কোড দেওয়া হতো এবং সেটি অ্যাপে ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্টে ডলার যোগ হওয়ার তথ্য দেখানো হতো।   ভুক্তভোগীরা আরও জানান, নতুন সদস্য যুক্ত করলে অতিরিক্ত কমিশনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে অনেকেই আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনদের এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেন, যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে তাদের দাবি।   তবে গত ১০ জুলাই থেকে অনেক ব্যবহারকারী অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেও টাকা পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, শুরুতে কয়েকবার টাকা তোলা সম্ভব হলেও পরে উত্তোলন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় অথবা দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকে।   এক ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান বলেন, প্রথম থেকেই তার সন্দেহ ছিল। পরিচিত কয়েকজনকে টাকা তুলতে দেখে এবং বন্ধুর অনুরোধে তিনি ১,৫০০ ডলার বিনিয়োগ করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০০ ডলার দেখালেও পরে আর টাকা তুলতে পারেননি।   আরেক ভুক্তভোগী সুমন শেট দাবি করেন, তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ হাজার ডলার জমা ছিল। তিনি বলেন, শুরুতে একাধিকবার টাকা উত্তোলন করতে পেরেছিলেন। বেশি মুনাফার আশায় টাকা না তোলায় এখন পুরো অর্থ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করছেন। এ ঘটনায় পরিচিত অনেকের সঙ্গে তার সম্পর্কও নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।   কুয়েত বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার বলেন, অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা, লাইসেন্স, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও অর্থ উত্তোলনের নীতিমালা যাচাই করা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি ও নতুন সদস্য আনলে বেশি কমিশন দেওয়ার প্রলোভন থাকলে সেটি প্রতারণামূলক স্কিম হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।   প্রবাসীদের প্রতি তিনি যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ না করার আহ্বান জানান।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধভাবে ভিয়েতনামে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার আহ্বান দূতাবাসের

ভিয়েতনামে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নির্ধারিত সরকারি জরিমানা পরিশোধ করে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে হ্যানয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।   শুক্রবার (৩১ জুলাই) দূতাবাসের জারি করা এক বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিয়েতনাম ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় জরিমানার পরিমাণ উল্লেখ করে একটি সরকারি চিঠি প্রদান করে। ওই চিঠিতে উল্লেখিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দেওয়ার পর ইমিগ্রেশন থেকে এক্সিট পাস সংগ্রহ করে নিজ পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে ফেরা যাবে।   দূতাবাস ভুক্তভোগীদের সরাসরি নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন বা ইমিগ্রেশন অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। কোনো বাংলাদেশি বা ভিয়েতনামের তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ বা অর্থ লেনদেন না করার জন্যও বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে দেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করছে। দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, পাসপোর্ট না থাকলে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা ছাড়া এ ধরনের আর্থিক লেনদেন বা দেশে পাঠানোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।   ট্রাভেল পারমিটের সরকারি ফি ১০ মার্কিন ডলার, তবে আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে তা মওকুফ করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।   দূতাবাস আরও জানিয়েছে, জরিমানার অর্থ সরাসরি ভিয়েতনাম সরকারের নির্ধারিত কোষাগারে জমা দিতে হবে।   যে কোনো প্রতারণার তথ্য বা অভিযোগ উপযুক্ত প্রমাণসহ দূতাবাসের ই-মেইল mission.hanoi@mofa.gov.bd ঠিকানায় পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০১, ২০২৬
২০২৫ সালে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আবেদন জমা পড়ে।
ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় মিলছে না অধিকাংশ বাংলাদেশি আবেদনকারীর

ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না অধিকাংশ বাংলাদেশি আবেদনকারী। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার মাত্র ৭.৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন আবেদনকারীর মধ্যে গড়ে মাত্র সাতজন শরণার্থী মর্যাদা বা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পাচ্ছেন।   ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক দপ্তর (অফপ্রা)-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৮১৬ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ।   প্রথম আবেদন, পুনর্বিবেচনা এবং পুনরায় খোলা আবেদন মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৫৩৪টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন শরণার্থী মর্যাদা অথবা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পেয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৯০৭টি আবেদনের বিষয়ে প্রত্যাখ্যানমূলক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।   অফপ্রা এবং ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালত (সিএনডিএ)-এর সম্মিলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ৭.৪ শতাংশ। ফ্রান্সে আশ্রয় আবেদনকারীদের নিজ দেশে নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, যুদ্ধ কিংবা গুরুতর ঝুঁকির বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক।   অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক আশ্রয় ইউরোপে প্রবেশ বা বসবাসের সহজ কোনো পথ নয়। প্রতিটি আবেদন কঠোর আইনি যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব, দুর্বল দাবি কিংবা অসঙ্গত তথ্যের কারণে অনেক আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।   সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশকে নিরাপদ উৎস দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের নতুন আশ্রয়ের আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ঝুঁকির প্রমাণ ছাড়া আবেদন সফল হওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় সীমিত হয়েছে।   ২০২৫ সালে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আবেদন জমা পড়ে। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৫.৫ শতাংশ। এ সময় দেশটিতে ৭৮ হাজার ৭৮৩ জন আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন এবং সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার দাঁড়িয়েছে ৪১.২ শতাংশ।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক আশ্রয় একটি গুরুতর আইনি বিষয়। এখানে বাস্তব ঘটনা, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে আবেদন করলে শুধু আবেদনকারীর নিজের ক্ষতি হয় না, দেশের মানুষের সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।   তিনি আরও বলেন, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ পথ বেছে নেওয়া জরুরি। মানবপাচারকারী বা দালালদের প্রলোভনে পড়ে ভুল তথ্য দিয়ে আশ্রয়ের চেষ্টা করলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তি, পরিবার এবং দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০১, ২০২৬
ফাইল ছবি
১,৩০৬ কর্মীর ভিসা বাতিলের ঘোষণা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের

মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থার (মাইআইএমএমএস) হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অনুমোদিত ১ হাজার ৩০৬টি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। একই সঙ্গে এসব পাসধারী বিদেশি কর্মীকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান শুক্রবার (৩১ জুলাই) মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (এসপিআরএম) সদর দপ্তরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।   তিনি বলেন, মাইআইএমএমএস সিস্টেমে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যেসব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অবৈধভাবে অনুমোদন করা হয়েছে, সেগুলো থেকে সরকারের কোনো রাজস্ব আসেনি। তাই এসব কর্মী পাস অবিলম্বে বাতিল করা হবে।   জাকারিয়া শাবান বলেন, আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে অনিয়মের মাধ্যমে অনুমোদিত সব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিল করা। এরপর সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকরা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা শনাক্ত করা হবে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের অবস্থান এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না, কারণ এতে তারা পালিয়ে যেতে পারেন।   তিনি আরও জানান, এসব বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   তিনি বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইমিগ্রেশন বিভাগের ভেতরের কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব নয়। কারণ, অভিযুক্তরা বিভাগের কম্পিউটারে বিশেষ ধরনের ‘ডংল’ (ইউএসবি ডিভাইস) ও নির্দিষ্ট সফটওয়্যার স্থাপন করে প্রশাসনিক (অ্যাডমিন) আইডি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্মী পাস অনুমোদন দেন।   তার ভাষায়, যারা সিস্টেম সম্পর্কে জানতেন এবং অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার ছিল, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ ঘটনা ঘটতে পারে না।   তিনি জানান, সাইবার সিকিউরিটি মালয়েশিয়া-এর সঙ্গে যৌথ ফরেনসিক তদন্তে দেখা গেছে, ইমিগ্রেশন সিস্টেমটি বাইরে থেকে হ্যাক করা সম্ভব হয়নি। বরং অভ্যন্তরীণ অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার ব্যবহার করেই সিস্টেমের অপব্যবহার করা হয়েছে।   এর আগে মালয়েশিয়ার হারিয়ান মেট্রো জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইমিগ্রেশন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিশেষ ধরনের ডংল ব্যবহার করে মাইআইএমএমএস সিস্টেমে প্রবেশ করে অবৈধভাবে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অনুমোদন দেয়। সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা পরীক্ষা, নেটওয়ার্ক বাইপাস বা যোগাযোগ সংকেত অনুকরণের মতো কাজে ব্যবহৃত বিশেষ হার্ডওয়্যার হিসেবেও এ ধরনের ডংল পরিচিত।   জাকারিয়া শাবান জানান, গত মে মাস থেকেই ইমিগ্রেশন বিভাগ এ চক্রের তৎপরতা শনাক্ত করেছিল। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ‘অপস ক্র্যাক’ পরিচালনা করে চক্রটিকে ভেঙে দেওয়া হয়।   মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার দাতুক সেরি আব্দ হালিম আমান জানান, অভিযানে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, তিনজন বিদেশি নাগরিক, ইমিগ্রেশন বিভাগের চার কর্মকর্তা, বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার দুই কর্মকর্তা এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা।   তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি এসব সন্দেহভাজনকে বৃহস্পতিবার বিকাল ২টা থেকে ৫টার মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দপ্তর এবং পেনাং ইমিগ্রেশন দপ্তর থেকে আটক করা হয়।   প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০১১ সালের কর্মী কোটার অপব্যবহার করে কোনো ধরনের লেভি পরিশোধ ছাড়াই ১ হাজার ৩০৬টি ভুয়া অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস ইস্যু করেছে। এতে মালয়েশিয়া সরকারের প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জরিমানা পরিশোধ করে দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন ভিয়েতনামে অবৈধ বাংলাদেশিরা

ভিয়েতনামে বিধি-বহির্ভূতভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জরিমানা পরিশোধ করে বৈধ প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।   শুক্রবার (৩১ জুলাই) দূতাবাসের এক বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে ফিরতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিজ উদ্যোগে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন বা ইমিগ্রেশন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে রিপোর্ট করতে হবে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিপোর্ট করার পর ভিয়েতনামের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত জরিমানার পরিমাণ উল্লেখ করে একটি সরকারি পত্র প্রদান করবে। ওই পত্রে উল্লেখিত ব্যাংক হিসাবে জরিমানার অর্থ জমা দিয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা এক্সিট পাস সংগ্রহের পর নিজ পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে ফেরা যাবে।   দূতাবাস আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বাংলাদেশি বা ভিয়েতনামের কোনো ব্যক্তি কিংবা দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ বা অর্থ লেনদেন করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি বাংলাদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে, এমনকি দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   দূতাবাস স্পষ্ট করেছে, পাসপোর্ট না থাকলে কেবল প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করাই তাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকারি ফি ১০ মার্কিন ডলার হলেও আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় অনেক সময় তা মওকুফ করা হয়। এছাড়া জরিমানার অর্থ সরাসরি ভিয়েতনাম সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হয়।   কোনো ধরনের প্রতারণার তথ্য বা অভিযোগ থাকলে উপযুক্ত প্রমাণসহ দূতাবাসের ই-মেইল mission.hanoi@mofa.gov.bd-এ পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে শামীম আহমেদ কোরেশীকে ঘিরে প্রীতি সম্মিলনী ও মতবিনিময় সভা

জনতা ব্যাংকের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার ও শিক্ষাবিদ শামীম আহমেদ কোরেশীর যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে লন্ডনে এক প্রীতি সম্মিলনী, মতবিনিময় সভা ও ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছে।   সম্প্রতি পূর্ব লন্ডনের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর গ্রামের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।   অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট সরকারি এমসি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে শিক্ষাজীবনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন।   সভায় সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ মুজাককির হোসেন আবদুল হক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মল্লিক শাকুর ওয়াদুদ। মুহাম্মদ তারিফ আহমদ ও কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাওলানা সৈয়দ ফারুক আহমেদ চৌধুরী।   শামীম আহমেদ কোরেশীর আগমনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই মিলনমেলায় উপস্থিত অতিথিরা সৈয়দপুর গ্রামের শিক্ষাবান্ধব ঐতিহ্য, প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।   অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সৈয়দ নাহাস পাশা, সৈয়দ শাহীন, কামাল কোরেশী, সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, সৈয়দ মুহাদ্দিস আহমেদ, সৈয়দ আবুল কাশেম, মল্লিক শাকুর ওয়াদুদ, মুজাককির হোসেন আব্দুল হক, মাশূক ইবনে আনিস, মুহাম্মদ তারিফ আহমদ, দিলু নাসের, সৈয়দা রেখা ফারুক, সৈয়দ ফারুক হোসেন চৌধুরী, শাহ আলম কোরেশী, এমদাদ আলী, সৈয়দ সুমন, সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও রফিকুল হাসান হিরণ প্রমুখ।   এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা ফরিদা ইয়াসমিন শিপা, উবায়দা সুলতানা শাহীন, নাজমুন নাহার ওয়াদুদ নাজু ও সৈয়দা শোভা কাশেম।   সংবর্ধিত অতিথি শামীম আহমেদ কোরেশী তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের এই আয়োজন আমার জীবনের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। লন্ডনের মতো ব্যস্ত নগরীতে আত্মীয়স্বজন ও সিনিয়র-জুনিয়রদের আন্তরিকতায় আমি অভিভূত।”   প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আপনারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আপনাদের মাধ্যমে আমাদের সমাজ শিক্ষাদীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে।”   অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে সিলেট এমসি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মরহুম সালেহ আহমেদ রানু, সমাজচিন্তক ফয়জুল হক মনিসহ প্রয়াত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মানবপাচার প্রতিরোধে মালয়েশিয়ার এটিপসমের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈঠক

মালয়েশিয়ায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদার করতে দেশটির মানবপাচার দমন সংক্রান্ত দপ্তর এটিপসম (ATIPSOM)-এর সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল।   গত ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকা। মালয়েশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন এটিপসম-এর পরিচালক আসানী বিন লাদজানি।   বৈঠকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে দুই দেশের সব স্তরে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়। বিশেষ করে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের, বিশেষত নারী ভিকটিমদের উদ্ধার, আশ্রয়, পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   উভয় পক্ষ আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মতো অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।   এ ছাড়া মানবপাচার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং যৌথ কর্মসূচি আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।   বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন— শ্রম কাউন্সিলর সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, কাউন্সিলর (কনস্যুলার) ফিরোজ রাব্বানী, ফার্স্ট সেক্রেটারি ফাল্গুনী বাগচী।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রবাসীদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করা এবং কর্মরত দেশের আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলতে উৎসাহিত করতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় আইন অনুসরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বেশকিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে করণীয়গুলো হলো- ১) কর্মরত দেশের আইন, বিধি-বিধান, কর্মস্থলের নীতিমালা, স্থানীয় সাইবার আইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ মেনে চলা। ২) পরিবার, বন্ধু ও ইতিবাচক যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা। ৩) চাকরি, নিয়োগকর্তা বা কর্মস্থল-সংক্রান্ত কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ারের আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করা। ৪) অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক, ফাইল বা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং প্রতারণা (Scam) ও ফিশিং (Phishing) থেকে সাবধান থাকা। ৫) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা। পাশাপাশি তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ারের আগে সত্যতা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক অনলাইন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা। এ ছাড়াও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বর্জনীয় কিছু বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো- ১) সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠন-সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা বার্তা শেয়ার, লাইক, মন্তব্য বা প্রচার না করা এবং গুজব, ভুয়া তথ্য বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার না করা। ২) ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ইরান-ইসরায়েল বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করতে পারে এমন উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার বা প্রচার না করা। ৩) কর্মরত দেশে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক বা অনলাইন প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করা। ৪) যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা অনলাইন তহবিলে অনুদান (Donation) না দেওয়া। ৫) কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর, সরকারি স্থাপনা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ বা প্রকাশ না করা। ৬) নিজের বা অন্যের পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা আইডি, ব্যাংক তথ্য বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করা। ৭) ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে এমন পোস্ট, মন্তব্য বা বিতর্কে অংশ না নেওয়া। ৮) ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত আয়ের প্রলোভন বা সন্দেহজনক বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত না হওয়া। ৯) কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা অবৈধ কার্যক্রমকে সমর্থন বা প্রশংসা করে পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেওয়া।

মারিয়া রহমান জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসে জন্ম নেওয়া শিশুরা যেভাবে হয়ে উঠছে দুই সংস্কৃতির সেতুবন্ধন

গ্লাসগোর আকাশে শীতের মেঘ ভেসে বেড়ায়। তখন ছোট্ট অদ্রি হোসাইনের পৃথিবীটা দুই রঙে আঁকা থাকে। একদিকে তার স্কুল, খেলার মাঠ, ইংরেজি ভাষায় বন্ধুত্ব আর স্কটিশ জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।     অন্যদিকে ঘরের দরজা পেরোলেই বদলে যায় সেই পৃথিবী। সেখানে মায়ের মুখে বাংলা গল্প, বাবার কণ্ঠে বাংলাদেশের স্মৃতি, পরিবারের সঙ্গে বাংলা ভাষায় কথা বলা আর শিকড়ের সঙ্গে এক অদৃশ্য সম্পর্ক।     অদ্রির বয়স এখন সাড়ে ছয় বছর। তার ছোট ভাই আরশাদ হোসাইনের বয়স মাত্র দেড় বছর। দুজনের জন্ম গ্লাসগোতে। এই শহরই তাদের প্রথম পরিচয়, প্রথম হাসি, প্রথম হাঁটা, প্রথম পৃথিবী দেখা। তাদের গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশ।     অদ্রিকে কেউ জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কোথাকার?’ সে বলে, ‘আমি গ্লাসগোর।’ এটাই তার বেড়ে ওঠার শহর। পরিবারের গল্পে, মায়ের ভাষায়, বাবার স্মৃতিতে বাংলাদেশও তার নিজের হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে।     এই গল্পে আরও একটি ছোট্ট মুখ আছে। তার নাম শেহনাজ রুবা হোসেন। বয়স আড়াই বছর। বাবা মো. শাহিনুর হোসেন রুবেল, মা সুইটি আক্তার। জন্ম তারও গ্লাসগোতেই। এখনও পৃথিবীকে চিনছে ছোট ছোট পায়ে হাঁটতে হাঁটতে। বাংলা আর ইংরেজি একসঙ্গে শুনেই বড় হচ্ছে সে। মা যখন বাংলায় আদর করে ডাকেন, আর বাইরে বেরোলেই চারপাশ ভরে যায় ইংরেজি কথোপকথনে, তখন অজান্তেই তার ভেতরেও জন্ম নিচ্ছে দুই সংস্কৃতির এক নতুন পরিচয়।     প্রবাসে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের শিশুদের জীবন আসলে দুই সংস্কৃতির এক সুন্দর মেলবন্ধন। স্কুলে তারা ব্রিটিশ সমাজের অংশ। ইংরেজিতে পড়ে, ইংরেজিতে স্বপ্ন দেখে, স্কটিশ বন্ধুদের সঙ্গে বড় হয়। বাড়িতে তারা বহন করে বাবা-মায়ের ফেলে আসা দেশের ভাষা, সংস্কৃতি আর আবেগ।     অদ্রি ও আরশাদের বাবা সাগর মনে করেন, সন্তানদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের শিকড়ের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ‘একটা সন্তান শুধু যে দেশে জন্মায়, তার পরিচয় শুধু সেই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবারের ইতিহাস, ভাষা আর সংস্কৃতিও তার পরিচয়ের অংশ।’     প্রবাসী পরিবারগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখানেই। সন্তানকে নতুন দেশের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া, আবার নিজের সংস্কৃতির সঙ্গেও সম্পর্ক তৈরি করা।       গ্লাসগোর অনেক বাংলাদেশি পরিবারেই এখন এমন চেষ্টা দেখা যায়। সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় শিশুরা ব্রিটিশ স্কুলে যায়। ইংরেজিতে পড়াশোনা করে। ছুটির দিনে কেউ বাংলা শেখে, কেউ বাংলা গান শোনে, কেউ পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের গল্প শুনে বড় হয়।     বাংলাদেশের সঙ্গে অদ্রির পরিচয় মায়ের রান্নার গন্ধে, পরিবারের গল্পে, উৎসবের আনন্দে। পহেলা বৈশাখের রঙিন পোশাক, ঈদের সকালে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তার সঙ্গে তার নিজের অনুভূতির অংশ হয়ে উঠছে।     আরশাদ এখনও খুব ছোট। কথা বলতে শেখার বয়স। তার চারপাশেও তৈরি হচ্ছে সেই দুই সংস্কৃতির পরিবেশ। একদিন সেও হয়তো জানবে, তার জন্ম গ্লাসগোয় হলেও তার পরিবারের আবেগ আরও দূরের একটি দেশে।       শেহনাজ রুবা হোসেন  এখনও বাংলাদেশকে চেনে না। তার ছোট্ট হাত ধরে যখন বাবা-মা বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে যান, কিংবা ঈদের সকালে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, তখন সেই পরিবেশই তার অজান্তে পরিচয়ের ভিত গড়ে দেয়। বড় হয়ে হয়তো সেও প্রশ্ন করবে, ‘বাংলাদেশ কোথায়?’ তখন উত্তরটি শুধু মানচিত্রে পাওয়া যাবে না, পাওয়া যাবে পরিবারের স্মৃতিতে, ভালোবাসায় আর ভাষার টানে।     প্রবাসী শিশুদের জন্য দেশ অনেক সময় মানচিত্রের কোনো জায়গা নয়। দেশ হয়ে ওঠে স্মৃতির গল্প। দাদু-দাদির মুখে শোনা কাহিনি, বাবা-মায়ের শৈশবের কথা, ঘরের খাবারের স্বাদ আর মাতৃভাষার মায়া।     তারা বাংলাদেশের গ্রামের মাটিতে বড় হয়নি। বর্ষার বৃষ্টিতে ভেজেনি, পাড়ার মাঠে খেলেনি, গ্রামের পথ ধরে স্কুলে যায়নি। বাবা-মায়ের স্মৃতির মধ্য দিয়ে তারা সেই দেশের সঙ্গে এক ধরনের সম্পর্ক তৈরি করে।     গ্লাসগোর কোনো এক শীতের সন্ধ্যায় অদ্রি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখবে কুয়াশায় ঢাকা শহর। বাইরে স্কটল্যান্ডের প্রকৃতি, ঘরের ভেতরে বাংলা ভাষার উষ্ণতা। একইভাবে কোনো এক বিকেলে শেহনাজ রুবাও হয়তো জানালার কাঁচে হাত রেখে বৃষ্টিভেজা আকাশ দেখবে, আর ঘরের ভেতর ভেসে আসবে রবীন্দ্রসংগীত কিংবা মায়ের কণ্ঠে শোনা কোনো বাংলা ছড়া। এই ছোট ছোট মুহূর্তই একদিন তাদের শিকড়ের গল্প হয়ে থাকবে।     এই দুইয়ের মাঝেই তৈরি হবে তাদের নিজস্ব পরিচয়। তারা শুধু গ্লাসগোর সন্তান নয়, শুধু বাংলাদেশের উত্তরাধিকারীও নয়। তারা দুই সংস্কৃতির সেতুবন্ধন।     অদ্রি, আরশাদ, শেহনাজ রুবাদের মতো প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুরাই আগামী দিনের বিশ্বনাগরিক। তারা কেউ বিজ্ঞানী হবে, কেউ শিল্পী, কেউ চিকিৎসক, কেউ উদ্যোক্তা। পৃথিবীর যেখানেই থাকুক, তাদের ভেতরে কোথাও বেঁচে থাকবে একটি ছোট্ট শব্দ বাংলা। গ্লাসগোর আকাশে তাদের স্বপ্ন উড়বে। আর সেই স্বপ্নের গভীরে, নীরবে, অমলিন হয়ে লুকিয়ে থাকবে এক টুকরো বাংলাদেশ।

মারিয়া রহমান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তথ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ইউএইর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ইউএইর সভাপতি মামুনুর রশীদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরীর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।   বুধবার (২৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত এসব সাক্ষাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, সার্বিক কল্যাণ এবং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় প্রবাসে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত পরিবেশ। প্রবাসী সাংবাদিকরা যেন কোনো ধরনের বাধা, ভয় বা চাপ ছাড়াই পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে মুক্ত সাংবাদিকতা চর্চা করতে পারেন, সে বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।   সাক্ষাৎকালে তথ্য প্রতিমন্ত্রী প্রবাসী সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।   সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূলমন্ত্র ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ খচিত একটি বিশেষ সুভেনিয়ার কোট পিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। তারা আগ্রহ ও আন্তরিকতার সঙ্গে উপহারটি গ্রহণ করেন বলে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ইউএইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্যারিসে ‘ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স’-এর অভিষেক অনুষ্ঠিত

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স’ এর অভিষেক অনুষ্ঠান।   রোববার (২৬ জুলাই) একটি অভিজাত হলরুমে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এই অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।   এ উপলক্ষ্যে সংগঠনের ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক সত্তার আলী সুমন শাহ আলম কমিটির নাম ঘোষণা করেন। এতে রানা রহমান সভাপতি এবং কামাল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।   অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। পরে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান টিপু এবং এস. কে. শামিম যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।   স্বাগত বক্তব্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস. কে. শামিম সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, শুভানুধ্যায়ী ও সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা শুভ্রত শুভ, রিয়াদ আহমেদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, জিতু তালুকদার, মিয়া মস্তফা এবং হান্নান হাওলাদারসহ অন্য অতিথিরা।   এ সময় সংগঠনের উপদেষ্টাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। পরে তাদের সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্লাবের পক্ষ থেকে ব্যাজ ও উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করা হয়।     অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে প্যারিসের জনপ্রিয় শিল্পী মৌসুমী চক্রবর্তী ও নিশিতা বড়ুয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পী ইলিয়াস, উপমা ও আরাব খান সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা প্রাণবন্ত এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করেন।   অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।   সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক সত্তার আলী সুমন শাহ আলম বলেন, ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সেতুবন্ধন। আমি আশা করি, এই ক্লাব ভবিষ্যতে প্রবাসীদের কল্যাণে এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকা বাংলাদেশের হৃদপিণ্ড, ঢাকা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। প্রবাসের মাটিতে ঢাকাবাসীকে সেই গুরুত্ব উপলব্ধি করে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে হবে।   সভাপতির বক্তব্যে রানা রহমান বলেন, ঢাকা ক্লাব ফ্রান্স একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। বাংলাদেশের সব অঞ্চলের মানুষের জন্য এ ক্লাবের সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দল, মত ও ভৌগোলিক বিভেদ ভুলে প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য।   কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহ-সভাপতি মাহমুদ রেজা আসাদ, ইয়া নাসির মুন্না, রেজাউর রহমান বিপুল, জয়নুল আবেদীন, বাদশা করিম রুবেল, সঞ্জয় বনিক সাজ্জাদুল বারী সাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন, মাসুদ জিলান, রনি রাজ পলাশ দাশ, শাহাদত হোসেন, লাবু চৌধুরী স্বপন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক, মমিন আলী মোড়ল, হোসেন বেপারী সুজন, আহসান মজুমদার, ইমাম হোসেন, আতাউর রহমান, আজিজুল খান, খান খমিনি, আলম খান জয় কামাল প্রমুখ।   কমিটিতে আরও রয়েছেন— কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, সহ কোষাধক্ষ্য সরদার আনিস, প্রচার সম্পাদক মারুফ ফয়সাল, দপ্তর সম্পাদক সুমন মোল্লা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রনি, ক্রীড়া সম্পাদক ইমরান সিকদার, সহ ক্রীড়া সম্পাদক মো. বাবু, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক আবু শাহেদ রনি, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নাহিদ, প্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান শাওন, শিক্ষা প্রশিক্ষণ সম্পাদক মহসিন তালুকদার, যোগাযোগ সম্পাদক সৈয়দ হেলাল, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক গণেশ সাহা, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক শহীদ রহমান প্রমুখ।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপজুড়ে দারুল ক্বিরাতের গ্রীষ্মকালীন কার্যক্রমে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া

ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের গ্রীষ্মকালীন কোরআন তিলাওয়াত ও তাজবিদ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ট্রাস্টের দায়িত্বশীলদের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের প্রায় ৭০টি কেন্দ্রে এ বছরের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।   এরই অংশ হিসেবে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের শাহজালাল লতিফিয়া বাংলাদেশ মসজিদে শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে গ্রীষ্মকালীন কোরআন শিক্ষা কোর্স।   জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটির তত্ত্বাবধানে ক্লাস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিশু-কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশুদ্ধ কোরআন তিলাওয়াত শেখার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   সাতজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পাঠদান: মাদ্রিদ শাখায় মোট সাতজন শিক্ষক পাঠদান করছেন। প্রধান ক্বারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজ মো. উসমান খান শামীম। শাখা পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন হাফিজ আবুল কাসেম।   এ ছাড়া শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন:   হাফিজ মুজাহিদুল ইসলাম ক্বারী মাওলানা মোফাচ্ছির আহমেদ ক্বারী আতিকুর রহমান ক্বারী মিজানুর রহমান ক্বারীয়া খাদিজাতুল জান্নাত চার সপ্তাহের কোর্স   আয়োজকরা জানান, শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোর্সের মেয়াদ চার সপ্তাহ। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে চূড়ান্ত পরীক্ষা ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেশন শেষ হবে।   দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান: দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট মহাগ্রন্থ আল কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষা প্রদানে সুপরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জৌনপুরী সিলসিলার অন্যতম বুজুর্গ আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল লতীফ চৌধুরী (রহ.)। ১৯৫০ সালে ট্রাস্টটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।   ট্রাস্টের অধীনে প্রতি বছর রমজান মাসে প্রায় দুই হাজারের বেশি শাখা কেন্দ্রের মাধ্যমে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষার সুযোগ পেয়ে থাকে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, গ্রেট ব্রিটেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রেও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।   প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআন তিলাওয়াতের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ প্রবাসীর কঙ্কাল উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে বেগ

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশি প্রবাসীর লাশ আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। ফলে তাদের লাশ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলের দোকান মালিক আলমগির হোসেন জানান, আগুনের তীব্রতায় লাশগুলো এমনভাবে পুড়ে গেছে যে, দেখে কাউকে শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই।   তিনি বলেন, লাশ চেনার মতো কোনো অবস্থা নেই। সবগুলোই কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও জানান, আলেম-ওলামা ও স্থানীয়দের পরামর্শ অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর লাশগুলোর দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।   এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও ফরেনসিক প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   মর্মান্তিক এ ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতদের স্বজনরা দ্রুত পরিচয় শনাক্ত, লাশের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।   এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশন বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফী-এর নেতৃত্বে প্রথম সচিব তৌফিকুল ইসলাম ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা এবং স্বজনদের সহায়তায় কাজ করছেন।   প্রবাসী বাংলাদেশিরা দ্রুত ফরেনসিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, আহত জহিরুল ইসলামের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতে প্রবাসীদের ভিসা বাতিলের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ দূতাবাস

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের রেসিডেন্সি ভিসা হঠাৎ বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি তদন্তে নেমেছে আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস।   সোমবার (২৮ জুলাই) দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ছুটিতে বা অন্য কোনো প্রয়োজনে আমিরাতের বাইরে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীর ভিসা কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।   দূতাবাস জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। এটি কোনো কারিগরি ত্রুটি, প্রশাসনিক জটিলতা নাকি অন্য কোনো বিশেষ কারণ—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আমিরাত সরকারের কাছ থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবাসীদের জানানো হবে।   একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকতে প্রবাসীদের আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। সরকারি লোগো, জাতীয় পতাকা বা দূতাবাসের ই-মেইল আইডি ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য প্রচারের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।   দূতাবাস প্রবাসীদের কেবল সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৯, ২০২৬