ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
সিজেপির সমাবেশ ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা, মোতায়েন ২৫ হাজার পুলিশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে রাজধানীজুড়ে ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে ৩০০টির বেশি নজরদারি ক্যামেরা এবং প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২টি অস্থায়ী বন্দিশিবির।   শনিবার (১০ অক্টোবর) সিজেপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে দিল্লির যন্তরমন্তর ও আশপাশের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার কথা।   ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি যন্তরমন্তরে ‘মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে আন্দোলনকারীদের সমাবেশে যোগদান নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দিল্লির ৪৫টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ এবং ২৫০টি ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১০, ২০২৬
মানবপাচারের উচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোতে পাড়ি ৪১ হাজার বাংলাদেশির

বাংলাদেশ সরকার মানবপাচার দূরীকরণের ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি, তবে তা অর্জনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ট্রাফিকিং ইন পারসন্স (টিআইপি) রিপোর্ট’- এ তথ্য উঠে এসেছে।   রিপোর্টে বলা হয়, মানবপাচার দূরীকরণ নিয়ে বিগত মূল্যায়নের সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ সরকার সার্বিকভাবে তাদের প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। তারপরও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকার ‘টিয়ার ২’ বা দ্বিতীয় স্তরেই রয়ে গেছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মানবপাচারের সর্বোচ্চ ঝুঁকি থাকা ‘টিয়ার ৩’ বা তৃতীয় ধাপে অবস্থান করা ১০ দেশে গত ২১ মাসে ৪১ হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। ‘টিয়ার ৩’ ভুক্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ওই দশ দেশ হল- কম্বোডিয়া, রাশিয়া, লাওস, কঙ্গো, বেলারুশ, সুদান, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, লিবিয়া ও ইয়েমেন।   জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই দশ দেশে মোট ৪১ হাজার ২৩১ জন বাংলাদেশি কর্মী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন।   আন্তর্জাতিকভাবে মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অগ্রগতি মূল্যায়নে টিআইপি রিপোর্টকে অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মূল্যায়নে ‘টিয়ার ৩’ ক্যাটাগরি বলতে বোঝায়- সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার মানবপাচার নির্মূলে ন্যূনতম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করছে না এবং সে বিষয়ে পর্যাপ্ত পদক্ষেপও নিচ্ছে না।   এমন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমবাজারে এত বিপুল সংখ্যক কর্মী পাঠানোর খবরে তাদের নিরাপত্তা, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সরকারের ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।   তালিকার শীর্ষে কম্বোডিয়া ও রাশিয়া   বিএমইটির তথ্যানুযায়ী, গত ২১ মাসে বাংলাদেশ থেকে টিআইপি রিপোর্ট অনুযায়ী ‘টিয়ার ৩’ এ থাকা দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছে কম্বোডিয়ায় ১৫ হাজার ৯৬৩ জন। এছাড়া রাশিয়ায় ৭ হাজার ৭৫২ জন এবং লাওসে ৭ হাজার ৫৩২ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে।   অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে কঙ্গোয় ৫ হাজার ৪৩৮ জন, বেলারুশে ৩ হাজার ৪৮৪ জন, সুদানে ৪২১ জন, সোমালিয়ায় ৩৪৩ জন, লিবিয়ায় ১৭২ জন, দক্ষিণ সুদানে ৬৯ জন এবং ইয়েমেনে ৫৭ জন বাংলাদেশি গেছেন।   কী আছে প্রতিবেদনে   টিআইপি প্রতিবেদন অনুযায়ী ‘টিয়ার-২’-তে থাকা বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, মানবপাচার দূরীকরণ নিয়ে বিগত মূল্যায়নের সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ সরকার সার্বিকভাবে তাদের প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। গৃহীত এসব প্রচেষ্টার মধ্যে রয়েছে মানবপাচার রোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৬’ জারি করা, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বাড়ানো, মানবপাচার অপরাধ ও ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ নির্দেশিকা হালনাগাদ করা এবং সুরক্ষা সেবাগুলোতে স্থানান্তরের সমন্বয় ও গতি আনতে ডিজিটাল এনআরএম পাইলটিং করা।   এছাড়া সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের পাচারের ঝুঁকি কমাতে তাদের সুরক্ষাও জোরদার করেছে। তবে বেশ কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্রে সরকার ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার আগের তুলনায় কম সংখ্যক পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং অভ্যন্তরীণ পাচার অপরাধ দমনে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি, যা ব্যাপক আকারেই রয়ে গেছে।   আবার সরকার পাচারের শিকার কম সংখ্যক ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করতে পেরেছে। অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন প্রচেষ্টাও; বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। এ ছাড়া সরকার শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়োগ ফি নেওয়ার অনুমতি বজায় রেখেছে, যা অনেক অভিবাসী শ্রমিককে ঋণগ্রস্ত করে পাচারের চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।   প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গন্তব্য দেশগুলোতে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ায় প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং দূতাবাসের কূটনৈতিক সুরক্ষার পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।   পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনে পর্যাপ্ত সুরক্ষার অভাব চিহ্নিত করা হয়েছে।   সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারকে অবৈধ নিয়োগ ফি বাতিল করা, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর কঠোর তদারকি চালানো, ভুক্তভোগীদের পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করে পর্যাপ্ত আইনি ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া এবং মানবপাচার ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন   সাম্প্রতিক সময়ে কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডগুলোতে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আটকে রেখে সাইবার অপরাধে বাধ্য করা, নির্যাতন ও মানবপাচারের একাধিক ঘটনা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।   অন্যদিকে রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে কর্মী নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মত ঘটনাও ঘটেছে।   এর পরও কেন আন্তর্জাতিক সতর্কতা উপেক্ষা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়াই এসব দেশে কর্মী পাঠানো অব্যাহত রাখা হল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যক্তিপর্যায়ে শিক্ষার্থী বা পর্যটক ভিসায় গমনে সরকারের সরাসরি নজরদারি কঠিন হলেও, বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দায় পুরোপুরি সরকারের। গুণগত সুরক্ষার চেয়ে কেবল সংখ্যা বাড়ানোর প্রবণতার কারণেই এমন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।   “কম্বোডিয়া বা রাশিয়ার মত দেশে ভুক্তভোগী কর্মীরা প্রতারিত হলে বা অঙ্গহানির মত ঘটনার শিকার হলেও কর্তৃপক্ষ দায় রিক্রুটিং এজেন্সির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অথচ বিতর্কিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া ও তাদের কার্যক্রম নজরদারির মূল দায়িত্ব বিএমইটির।”   তথ্য যাচাইয়ে গাফেলতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, “যেসব দেশে বাংলাদেশ মিশন বা দূতাবাস নেই, সেসব দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি অনলাইন বা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাধ্যমে যাচাই না করে ঢালাওভাবে কর্মী ছাড়পত্র দেওয়া স্পষ্টত সরকারি গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়।”   এ বিষয়ে জানতে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও বিএমইটি মহাপরিচালক জামিল আহমেদকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।   ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্রেফ কর্মী পাঠানোর পরিসংখ্যান বৃদ্ধিই রাষ্ট্রের সাফল্য হতে পারে না। একই সঙ্গে তাদের কর্ম পরিবেশ, চুক্তি অনুযায়ী বেতন নিশ্চিত হওয়া এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার হিসাব রাখাও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব।”   ঝুঁকিপূর্ণ এসব দেশে কর্মী পাঠানোর পর তাদের বর্তমান অবস্থা তদারকি করতে রাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে মূলত ৫টি প্রধান বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছেন তিনি। এগুলো হল-   পূর্ববর্তী ঝুঁকি মূল্যায়ন: এসব দেশে কর্মী পাঠানোর আগে মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, প্রতারণা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট দেশভিত্তিক সমীক্ষা করা হয়েছিল কি না?   নিয়োগকর্তার সত্যতা: ভুয়া চাকরির প্রস্তাব ও প্রতারণা বন্ধে গন্তব্য দেশগুলোর নিয়োগকর্তা ও কর্মপরিবেশ যাচাইয়ের কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?   কর্মীদের হালনাগাদ তথ্য: পাঠানো ৪১ হাজার ২৩১ জনের মধ্যে কতজন চুক্তিমত কাজ পাচ্ছেন, কতজন শোষণ বা পাচারের শিকার হয়েছেন এবং কতজনের সঠিক তথ্য বর্তমানে সরকারের কাছে আছে?   জরুরি সুরক্ষা ও উদ্ধার: বিপদে পড়া কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কী ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে?   নীতিগত পরিবর্তন: কম্বোডিয়া ও রাশিয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহি এবং তদারকি ব্যবস্থায় কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না?

১২ ঘন্টা আগে
প্রবাসীর স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ অটোরিকশাচালকের বিরুদ্ধে

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রী সাথী আক্তার ও তার শিশুকন্যাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অটোরিকশাচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাথীর দেবর মো. গোলাম রসুল মানিক (৪৫) হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।   বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থানায় দেওয়া অভিযোগে মো. জিসান (২৬) নামের এক যুবককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সাথী আক্তার তার স্বামী তায়েব আলীর অনুপস্থিতিতে ওই যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জিসান তাকে ও তার শিশুকন্যাকে নিয়ে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি।   সাথী আক্তার চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সোনাইমুড়ি গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মৃত আব্দুল কাদের পাটওয়ারীর বড় মেয়ে। তার স্বামী তায়েব আলী সৌদি আরবে প্রবাসী।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাথী আক্তার তার স্বামীর বাড়ি উপজেলার বড়কূল দক্ষিণপাড়া মিয়াজী বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি সোনাইমুড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে রওনা হন। এরপর থেকে তার ও শিশুকন্যার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ব্যবহৃত মোবাইলও বন্ধ রয়েছে।   এদিকে, তায়েব আলী নিজের ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, অটোরিকশাচালক জিসান তার স্ত্রীকে নিয়ে গেছেন। পরিবারের সদস্যরাও মা ও মেয়ের সন্ধান পেতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করছেন।   এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ওসি কাউছার আলম ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

১৩ ঘন্টা আগে
২০২৭ সালের জুন থেকে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ২,০০০ রিঙ্গিত

মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ও বিদেশি শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন মজুরির হার ২০২৭ সালের জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সংসদে ২০২৭ সালের বাজেট উপস্থাপনের সময় এ ঘোষণা দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। নতুন মজুরি কাঠামোর ফলে ৪০ লাখের বেশি কর্মী উপকৃত হতে পারেন বলে আশা করছে সরকার।   দেশটির ন্যূনতম মজুরি আইন বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরাও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি পাওয়ার অধিকারী হবেন।   মালয়েশিয়ায় ২০১৩ সালে ন্যূনতম মজুরি নীতি চালু হয়। সে সময় মাসিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯০০ রিঙ্গিত। পরে ২০১৬ সালে তা বেড়ে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতে উন্নীত হয়। প্রস্তাবিত নতুন হার কার্যকর হলে ন্যূনতম মজুরি প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে।   তবে নতুন মজুরি কাঠামোর আওতা থেকে কিছু ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৫ কোটি রিঙ্গিতের কম, তারা এই ছাড়ের আওতায় থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমানো জরুরি। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক মজুরি কাঠামো উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।   এ ছাড়া আধা-দক্ষ কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম বেতন ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নির্ধারণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   আনোয়ার ইব্রাহিমের মতে, ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের আয়ের একটি সর্বনিম্ন সীমা নিশ্চিত করলেও দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে করবিধি আরও কঠোর করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে মজুরি ব্যয়ের ওপর করছাড় পেতে কর্মসংস্থান আইনে অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন পরিশোধ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।   মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন। নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হলে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের আয় বাড়তে পারে। তবে নতুন হার কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময় এবং কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছাড় থাকায় সব শ্রমিক একই সময়ে এর সুবিধা পাবেন না।

১৬ ঘন্টা আগে
সংগৃহীত ছবি
মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবকের

মালয়েশিয়ার জোহর বারু এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সালমান সাদিক সাইফ (২৪) নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর রাতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   সাইফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ছয়বাড়িয়া গ্রামের মো. সাজন মিয়ার ছোট ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোক নেমে এসেছে।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সাইফ ছিলেন সবার ছোট। পরিবারের হাল ধরতে তিনি মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে পণ্য ডেলিভারির কাজ করতেন।   সাইফের একমাত্র বোন লিজা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় কাভার্ড ভ্যানে করে পণ্য ডেলিভারি দিতে যাচ্ছিলেন তার ভাই। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে তাদের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে চালক অক্ষত থাকলেও সাইফ গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   লিজা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ছোট ভাইটা এভাবে চলে যাবে ভাবতেও পারছি না। গত কোরবানির ঈদে ছুটিতে দেশে এসে ধুমধাম করে বিয়ে করেছিল সাইফ। বিয়ের এক মাস না যেতেই আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যায়। ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান লিজা।   স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ সাইফের স্ত্রী। ছোট সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বাবা-মা। সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে চান তারা।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ সিলেটে পৌঁছেছে

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাটের দুই প্রবাসী আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদের মরদেহ আজ দেশে পৌঁছেছে।    বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (বিজি-২০৬) তাদের মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দুই সদস্যের কাছে হস্তান্তর করেন। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।   নিহত ২ প্রবাসী হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ।   সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) তাজউদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।    তিনি জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে নিহত দু’জনের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে আরও ৩ লাখ টাকা করে অনুদান দেয়া হবে।    নিহত আব্দুল করিমের ভাতিজা বোরহান উদ্দিন বাসস’কে জানান, কফিনবাহী মরদেহ দু’টি গ্রহণ করে তারা এরই মধ্যে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। এই সময় স্থানীয় দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আজ বাদ আছর গ্রামের মসজিদে ২ জনের জানাজা শেষে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের পরিবার নেওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন

সৌদি আরবে কর্মরত উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় কর্মীর নিজস্ব ওয়ার্ক ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রবেশ ভিসার আবেদন ও প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।   সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে।   নতুন নিয়মের আওতায় উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলে এবং অবিবাহিত মেয়েকে সৌদি আরবে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কর্মীর ওয়ার্ক ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ ভিসা দেওয়া যেতে পারে।   আগের ব্যবস্থায় কর্মীর ওয়ার্ক ভিসা সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজন হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই অপেক্ষার সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।   তবে পরিবারের সদস্যদের ভিসার জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে পৌঁছানোর পর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।   সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই ব্যবস্থা সৌদি আরবে কর্মরত উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে বসবাসের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করতে পারে।   সূত্র: গালফ নিউজ

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
লাওসে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ ও ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন স্থগিত

লাওসে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রম নিয়োগের কোটা অনুমোদন, শ্রমিক নিয়োগ এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।     গত ২৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রম নিয়োগের কোটা অনুমোদন, শ্রমিক নিয়োগ এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।       এ সময়ে লাওসে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ ও প্রেরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ওই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।       এ ছাড়া স্থগিতাদেশ চলাকালে লাওসগামী বাংলাদেশি কর্মীদের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়া এবং এ-সংক্রান্ত কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।     মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৫, ২০২৬
লন্ডনে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে 'গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ-২০২৬' অনুষ্ঠিত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বাস্তবতায় সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে লন্ডনে দিনব্যাপী ‘গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্য ও উৎস যাচাই এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।     এতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।     রবিবার (৪ অক্টোবর) পূর্ব লন্ডনের আল-খায়ের হলে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চারটি পৃথক অধিবেশনে সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।       কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হোসাইন ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আলাউর রহমান খান শাহিন।       আয়োজনে প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিজ্ঞানী ও গ্রুপ লিডার ড. মো. মোস্তফা কামাল সরকার। তিনি এআই নিয়ে তার ১৪ বছরেরও বেশি গবেষণার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।     অধিবেশনে ড. মো. মোস্তফা কামাল সরকার ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা, এর ব্যবহার এবং সাংবাদিকদের সামনে আসতে থাকা নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।     এর আগে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাংবাদিকতা বন্ধু নাকি শত্রু?’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক মাসুদ হাসান খান। সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, তথ্য সংগ্রহ, সম্পাদনা, উপাত্তভিত্তিক সাংবাদিকতা ও দৃশ্যায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি তথ্য ও উৎস যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।       ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকতার শক্তি’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন রানার মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা আ স ম মাসুম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো সংবাদ বা বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য ও উৎস যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।       অন্যদিকে ‘সংবাদকক্ষ থেকে সংবাদপ্রবাহ : ডিজিটাল যুগে প্রতিবেদন’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রশিক্ষণ দেন ডেইলি স্টারের যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশেষ সংবাদদাতা বুলবুল হাসান।     সংবাদ লেখায় শব্দচয়ন, প্রতিবেদনের বিন্যাস, তথ্য উপস্থাপন এবং ডিজিটাল যুগের পাঠকের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার কাউন্সিলর ব্যারিস্টার মোস্তাক আহমেদ এবং লন্ডন একাডেমি অব অ্যাপ্লায়েড টেকনোলজির পরিচালক তরিকুর রশিদ চৌধুরী শওকতসহ প্রেস ক্লাবের নেতারা। বক্তারা লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের এ ধরনের পেশাগত উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।     লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব প্রতিবছর সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। তবে এবারের আয়োজন ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এবারই প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আগামীর সাংবাদিকতা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকদের দক্ষতা ও কর্মপদ্ধতিতে যে পরিবর্তন আসছে, সেই বাস্তবতার সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের পরিচিত করিয়ে দেওয়াই ছিল এবারের প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি যুবক নিহত

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মো. সজিব (২৬) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন।    গত রবিবার সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রবাসে কর্মরত তার বন্ধু আল আমিন স্বজনদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে।   পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে সৌদি আরবে যান সজিব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির জুবাইল শহরে কর্মরত ছিলেন।  সজিব ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। নিহতের চাচা আবুল কাশেম জানান, সজিবের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিকভাবে দাফনের জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান।   স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, সৌদি আরব সময় রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে এলাকার সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি।   ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবার যোগাযোগ করলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এরই মধ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিবারের সব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে প্রবাসীর মরদেহ দেশে পাঠানোর নামে চাঁদা, সতর্ক করল বাংলাদেশ দূতাবাস

কুয়েতে মারা যাওয়া আকামাবিহীন বাংলাদেশি প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।   রোববার (৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের এ ধরনের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে প্রয়োজন হলে সরাসরি দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।   দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুয়েতে আকামাবিহীন কোনো বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচের কথা বলে চাঁদা বা অর্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কুয়েতের শ্রম আইন অনুযায়ী ‘১৮ নম্বর ভিসায়’ কর্মরত কোনো প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের বহন করার কথা।   এ ছাড়া ‘২০ নম্বর ভিসায়’ গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ সংশ্লিষ্ট কফিল বা নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হয়।   দূতাবাস জানিয়েছে, কোনো প্রবাসী কর্মীর কফিল না থাকলে অথবা আকামাবিহীন অবস্থায় কুয়েতে মৃত্যুবরণ করলে বাংলাদেশ দূতাবাস নিজস্ব আর্থিক সহায়তায় মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে থাকে।   এ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মরদেহ দেশে পাঠানোর নামে অর্থ সংগ্রহ বা চাঁদা দেওয়ার কার্যক্রমে যুক্ত না হতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।   কুয়েতে কোনো আকামাবিহীন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হলে তার পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ না করে সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিতভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইতালিতে ১ লাখ ৬৬ হাজার কর্মী নিয়োগের ঘোষণা, আবেদন করবেন যেভাবে

বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিসরে শ্রমবাজার খুলছে ইতালি। দেশটির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়া হবে। এর মধ্যে মৌসুমি, অমৌসুমি ও স্বনিয়োজিত-তিন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে।   ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি চাকরিতে, ৮৯ হাজার জনকে কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজে এবং ৬৫০ জনকে স্বনিয়োজিত কাজের জন্য নেওয়া হবে। পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য অমৌসুমি কোটার মধ্যে ১৪ হাজার স্থান রাখা হয়েছে।   এই কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশও যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ইতালির সরকারি তালিকায় বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল-সংলগ্ন বিভিন্ন শ্রমবাজারের দেশ এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য কোটা রাখা হয়েছে।   আবেদন করবেন যেভাবে ২০২৭ সালের কোটার জন্য আবেদনপত্র প্রাক-পূরণ বা ‘প্রিকম্পাইলেশন’ শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Portale Servizi ALI প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।   তবে সাধারণভাবে বিদেশি কর্মী নিজে সরাসরি এই কোটার আবেদন করেন না। ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য চাকরির অনুমোদন বা nulla osta চেয়ে আবেদন করেন। এরপর অনুমোদন পেলে কর্মী নিজ দেশে ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।   ২০২৭ সালের ‘ক্লিক ডে’ নির্ধারণ করা হয়েছে খাতভেদে আলাদা দিনে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন জমা শুরু হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতে ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কাজের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আবেদন শুরু হবে ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। কোটা অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়া যাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত।   ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮- এই তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।   কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেবল বৈধ নিয়োগকর্তা ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আবেদন এগোয়। তাই চাকরি বা ভিসার নামে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তা এবং nulla osta–র সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চুনারুঘাটের আইটি ইঞ্জিনিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বাসিন্দা আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদি (২৪) নিহত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন।     আমেরিকার স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।       নিহত শাহ মো. আরদি চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে।       পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কাজ শেষ করে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন আরদি।     এ সময় মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়।     তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাটের প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৮ মাসে কানাডা থেকে ৩৪০ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন

কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কানাডা সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক।   কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ভারত—৪ হাজার ২২৭ জন। এরপর মেক্সিকোর ২ হাজার ২৮২ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১ জন, কলম্বিয়ার ৫৮০ জন, হাইতির ৫৩৫ জন এবং রোমানিয়ার ৪৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩৪০ জন, যা জাতীয়তা অনুযায়ী তালিকায় সপ্তম সর্বোচ্চ।   পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বহিষ্কারের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল শরণার্থী আবেদন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানা। এ কারণে আট মাসে ১২ হাজার ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানার কারণে ১ হাজার ৭৯৪ জন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ৮৯৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে ৮৮ জন এবং অন্যান্য কারণে ১১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার আদেশ, ৩ হাজার ৩০৩ জনের ক্ষেত্রে প্রস্থান আদেশ এবং ৩ হাজার ১৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার-নিষেধাজ্ঞা আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।   মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২ হাজার ৬৫৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ২৭০ জন, মার্চে ১ হাজার ৪৩২ জন, এপ্রিলে ১ হাজার ৯১৭ জন, মে মাসে ২ হাজার ৩৬৯ জন, জুনে ১ হাজার ৭৯১ জন, জুলাইয়ে ১ হাজার ৮৩৭ জন এবং আগস্টে ১ হাজার ৬২৩ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলমান ছিল। একই সময়ে পুরো কানাডায় বহিষ্কার প্রক্রিয়াধীন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ জন এবং মেক্সিকোর ৬ হাজার ১০২ জন।   কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, কানাডায় বৈধভাবে প্রবেশ বা অবস্থানের অধিকার নেই—এমন বিদেশি নাগরিকদের আইন অনুযায়ী দেশ থেকে অপসারণ করা তাদের দায়িত্ব।    উল্লেখ্য, যাদের কানাডায় থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বহিষ্কার কার্যকর করা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী চিকিৎসকদের সহায়তায় নতুন পদক্ষেপ এফবিএমএসএর

আগামীতে আরও কত সহজে এবং সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ফেরাডেশান ওব বাংলাদেশ মেডিকেল সোটাইসিজ অব অস্ট্রেলিয়া।     সিডনিতে দুইদিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়ের সমাপনী দিনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।       অস্ট্রেলিয়ার ৬টি রাজ্য ও ২টি টেরেটোরিতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চাহিদা রয়েছে। যদিও এই চাহিদা পূরণ ও বিধিসম্মতভাবে অভিবাসন নিতে প্রয়োজন দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব। এছাড়া চিকিৎসকদের যথাযথ প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়সহ আরও অনেক বিষয় আলোচিত হয়েছে সারাবিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ফেরাডেশান ওব বাংলাদেশ মেডিকেল সোটাইসিস্ অব অস্ট্রেলিয়া (এফবিএমএসএ) এর দুই দিন ব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়াজে।     এছাড়া আগামীতে আরও কত সহজে এবং সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা অভিবাসী চিকিৎসকদের সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের এই সংগঠনটি। সিডনিতে দুইদিনব্যাপী বার্ষিক কনভেনশান ও সাইনটিফিক সিজপোজিয়ের সমাপনী দিনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।        সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা চিকিৎসকদের পেশাগত অগ্রযাত্রায় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আয়োজকেরা নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী ও অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধির কাছে হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল অ্যাটাচমেন্টের সুযোগ এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ বা কোর্সের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনার অনুরোধ জানান।       উল্লেখ করা যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ায় ৬টি রাজ্য ও ২টি টেরেটোরিতে প্রায় এক হাজার ৮০০ চিকিৎসক বসবাস করছেন। যারা অস্ট্রেলিয়াতে অতি গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে গবেষণা ও কারিগরি দিকগুলোর উন্নয়নে নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছেন।      দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক অধিবেশনগুলোর সমন্বয় করেন ডা. আকবর আশরাফী এবং বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের শিক্ষা সম্পাদক ডা. মিহির রায়।     জুনিয়র চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের পেশাগত দিক-নির্দেশনার পাশাপাশি হরমোন ও কিডনি রোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।       এছাড়া হৃদরোগের পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের কাছে রোগী পাঠানো নিয়ে আলোচনা করেন ডা. জামিল আহমেদ ও ডা. ময়েজুর রহমান। ক্যান্সার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য রাখেন ডা. মোহাম্মদ ইসলাম।     আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসায় ডোনানেমাব নিয়ে আলোচনা করেন ডা. মনোয়ার হোসেন এবং রিউমাটোলজির সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন ডা. মুখলেসুর রহমান।     এ ছাড়া আরএসভি টিকাদান, হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্তকরণ, মেনোপজ ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন ডা. লুতফুন্নেসা কুদ্দুস, ডা. শাহনাজ আক্তারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।     এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিউ সাউথ ওয়েলসের মন্ত্রী জিহাদ ডিব এমপি, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম. বুরহানউদ্দিন, অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী এবং অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নিউ সাউথ ওয়েলস শাখার সভাপতি ডা. ফ্রেড বেট্রোস।     বাংলাদেশ থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চিকিৎসাশিক্ষায় তাঁদের অবদান রাখার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।     জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রবাসী চিকিৎসকদের আরও সম্পৃক্ত করার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।     বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের আতিথেয়তায় ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর পেনরিথের ওয়েস্টার্ন সিডনি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত দুই দিনের এই আয়োজন চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞানচর্চা, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারিবারিক মিলনমেলার এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।       উল্লেখ্য শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয়। চিকিৎসক, তাদের পরিবারের সদস্য এবং সন্তানদের অংশগ্রহণে সংগীত ও নানা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা শিল্পী ও কলাকুশলীদের পরিবেশনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নকীব খানের মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা ছিল সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ। ছয় শতাধিক চিকিৎসক ও তাদের পরিবার-পরিজন এই সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করেন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
জীবিত অবস্থায় স্বামী মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজের সঙ্গে স্ত্রী তানজিলা ইসলাম আশা।
ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি শিক্ষকের লাশ আট দিন আটকে রাখার অভিযোগ

ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এক বাংলাদেশি নাগরিকের লাশ আট দিন আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী তানজিলা ইসলাম আশা দাবি করেছেন, চিকিৎসার বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। পরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।     ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।       প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওগাঁর বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজ (৩২) বাংলাদেশে চুক্তিভিত্তিক সরকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিডনির চিকিৎসার জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বেঙ্গালুরু যান। পরদিন পুরনো বিমানবন্দর সড়কের মণিপাল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।     তানজিলা ইসলাম আশার ভাষ্য, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সবুজের শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা বেড়ে গেলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপে হাসপাতালের দাবিমতো তিনি মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি পরিশোধ করেন।       তিনি আরও জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর সবুজের ডান পায়ে সংক্রমণ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা তার পা কেটে ফেলেন। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তিনি মারা যান।     আশার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর লাশ দেশে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা বাবদ ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি বকেয়া দাবি করে। ওই অর্থ পরিশোধ না করলে লাশ হস্তান্তর করা হবে না বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে তার পাসপোর্টও আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।       তার দাবি, আগে পরিশোধ করা ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির কোনো রসিদ হাসপাতাল দেয়নি। এছাড়া চিকিৎসার সম্ভাব্য মোট ব্যয় সম্পর্কেও তাকে আগে থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।     এমন পরিস্থিতির মধ্যে তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তা চান। পরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্বামীর লাশ হস্তান্তর করে।       সবুজের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু মোহাম্মদ মোক্তাদির হোসেন জানান, লাশ ছাড়িয়ে নিতে ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপির বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয়নি। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় আশার পাসপোর্টও ফেরত পাওয়া যায়।       এদিকে মণিপাল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।     পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে সবুজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল এবং আইসিইউতে নেওয়ার পর হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাকে দুইবার পুনরুজ্জীবিত করেন এবং পরে কৃত্রিম হৃদ্‌ফুসফুস সহায়তা ও শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যান।         হাসপাতালের দাবি, পরীক্ষায় ফুসফুসে রক্ত জমাট ও রক্তনালিতে বাধা ধরা পড়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচার করে জমাট রক্ত অপসারণ করা হয়। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ১৮ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।     সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবুজের লাশ ইতোমধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা বকেয়া বিলের পরিমাণ, অর্থ পরিশোধের রসিদ এবং পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি এ ঘটনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও কোনো বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কাতারের লুসাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত

কাতারে লুসাইলে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রবাসী বাবুল আহমেদ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।    লুসাইল থেকে দোহাতে ফেরার পথে গাড়িতে সমস্যা হওয়ায় তিনি রাস্তার পাশে গাড়িটি থামিয়ে চেক করছিলেন। এসময় আরেকটি গাড়ি এসে জোরে তাকে ধাক্কা দেয় এবং ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি একজন মিশরি ড্রাইভার চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।   বাবুল আহমেদের বাড়ি ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায়। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি কাতারে ছিলেন বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতা মাহবুব আলম।   বাবুল আহমেদের মরদেহ বর্তমানে হামাদ হাসাপাতালের মর্গে রাখা আছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি হলে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হবে।   বাবুল আহমেদের দুই ছেলে ও ১ মেয়ে। তার বড় ছেলে বর্তমানে কাতার প্রবাসী। এমন আকস্মিক মৃত্যু সংবাদে কাতারে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহাকে প্রবাসীদের সংবর্ধনা

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ পাওয়ায় খন্দকার এম. তালহাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা।     বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।     এর আগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ও উঠে আসে।     দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের, সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রহিম, শাহ জামাল, অধ্যাপক তসলিম উদ্দিন, রশীদ পাটওয়ারি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ, খেলাফত মজলিসের কাওছার উদ্দিন এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের সভাপতি আলতাফুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।       বক্তারা খন্দকার এম. তালহার পুনর্নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।     নতুন মেয়াদে ফ্রান্সে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরো জোরালোভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো বিস্তৃত ও গভীর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।     জবাবে রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং দায়িত্ব পালনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা ও পরামর্শের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সঙ্গে দূতাবাসের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।     পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে তার ওপর আস্থা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   খন্দকার এম. তালহা বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে দূতাবাসের কার্যক্রম আরো কার্যকর করার চেষ্টা থাকবে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।       রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।   ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন খন্দকার এম. তালহা। বহুপক্ষীয় কূটনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার কথা জানান তিনি।     ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশের ভাবমূর্তি ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। দূতাবাস ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় আরো বাড়িয়ে কার্যক্রমকে গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।       অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি), কাউন্সিলর মাহফুজা সুলতানা, দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেম, প্রথম সচিব শেখ মারেফত তারেকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমস্যা সমাধানে অভিযোগ সেল গঠন

বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করা হয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এ সেলের মাধ্যমে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হবে।   এতে আরও বলা হয়, ই-মেইলে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে আবেদন বা অভিযোগগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সরেজমিনে যাচাই ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে।   প্রবাসীদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে minister.expat@gmail.com ই-মেইল ঠিকানা দেয়া হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য নির্ধারিত ই-মেইলে অভিযোগ পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা থেকে বিপুল মাদক নিয়ে কুয়েত বিমানবন্দরে বাংলাদেশি আটক

বাংলাদেশ থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল মাদক জব্দ করেছে কুয়েতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৫-এ তল্লাশি চালিয়ে ওই বাংলাদেশি প্রবাসীকে আটক করা হয়।   আটক যাত্রীর কাছ থেকে ৪ কেজি ৭৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩১৯.৩ গ্রাম মেথঅ্যামফিটামিন এবং ৬ হাজার ২১১টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।   উদ্ধার মাদকদ্রব্য জব্দ করে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে তাকে স্থানীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ্য, কুয়েত সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। দেশটির বিমানবন্দরসহ সব প্রবেশপথে মাদক চোরাচালান রোধে নিরাপত্তা ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। ইতোপূর্বেও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় এনেছে কুয়েত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বিমানে এত বড় মাদকের চালান কীভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্ক্যানিং পার হলো- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।   কুয়েত প্রবাসী সুমন চৌধুরী বলেন, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও তল্লাশি প্রক্রিয়া পেরিয়ে এত বড় চালানের বাইরে যাওয়া উদ্বেগের। এ ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা বা চক্র জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৯

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে দুই গাড়ির সংঘর্ষে একই পরিবারের সাতজনসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাবা-মা ও তাদের পাঁচ সন্তান রয়েছেন।   রোববার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল-আহসা এলাকায় আল-উকাইর-আল-উয়ুন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সৌদি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।   দুর্ঘটনায় দুটি গাড়িই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথম গাড়িতে থাকা একই পরিবারের সাতজন নিহত হন। তাদের মধ্যে বাবা, মা, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ছিলেন।   অন্য গাড়িতে থাকা দুই তরুণও দুর্ঘটনায় নিহত হন।   পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে হঠাৎ গাড়ির গতিপথ পরিবর্তনকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   খবর পেয়ে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ও সৌদি রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। গাড়ির ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে তারা কাজ করে।   তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
বিনা খরচে দুবাই যাচ্ছেন শরীয়তপুরের ১১ ওয়ার্কার, অপেক্ষায় ১৫৯ জন

দুবাই যাওয়ার আশায় ছয় মাস আগে এক দালালকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নূর হোসাইন।    দালাল টাকা নেওয়ার পর আর যোগাযোগ না করায় প্রতারণার শিকার হন তিনি। সেই ঋণের টাকা শোধ করতে গিয়ে পরিবার নিয়ে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাকে।   তবে সেই হতাশার মধ্যেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ৩৫ বছর বয়সী নূর হোসাইন। কোনো টাকা খরচ না করেই কনস্ট্রাকশন কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে এবার দুবাই যাচ্ছেন তিনি।    নুর হোসেনের মতো শরীয়তপুরে হতদরিদ্র পরিবারের মোট ২১৬ জন যুবক বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে ওয়ার্কার ভিসায় দুবাই যাচ্ছেন বিনা খরচে। আর এই উদ্যোগ নিয়েছে শরীয়তপুর ২নং আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটকো।   নূর হোসাইন নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর এলাকার কৃষক ইয়াজল মোল্লার ছেলে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা নূর সাত ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। তার চার ভাই বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন।   নূর হোসাইন বলেন, দুবাই যাওয়ার জন্য ছয় মাস আগে দালালকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এক লাখ টাকা ফেরত দিলেও আর টাকা ফেরত দেয়নি। প্রতারিত হয়েছি। স্থানীয় নুসা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। সেই টাকা শোধ করতে গিয়ে অনেকটা না খেয়ে থাকতে হয়েছে। টেনে-টুনে ৮০ হাজার টাকার মতো শোধ করেছি।   তিনি বলেন, এখন কনস্ট্রাকশনের কাজ শিখে বিনা খরচে ১১ জন দুবাই ওয়ার্কার ভিসায় যাচ্ছি। এখানে আমার এক টাকাও লাগেনি। প্রায় দেড় মাস স্টিল ফিক্সিংয়ের কাজ শিখেছি। এবার বিদেশে গিয়ে কাজ করে পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবো।   শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটকো এন্টারপ্রাইজে নূর হোসাইন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার বিদেশ যাওয়ার সব খরচ বহন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।   ম্যাটকো এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি ও সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের ব্যক্তিগত সহকারী শাহাদাত হোসেন উজ্জ্বল বলেন, মোট ২১৬ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ওয়ার্কার হিসেবে দুবাই পাঠানো হবে। এর আগে ২২ আগস্ট ৪৬ জনকে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১১ জনের হাতে পাসপোর্ট, ভিসা ও ডকুমেন্টস প্রদান করা হয়েছে।   তিনি বলেন, এখনও আরও ১৫৯ জন দুবাই যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা স্টিল ফিক্সার, মেসন, ক্লিনারসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।   উজ্জ্বল জানান, কর্মীরা মাসে এক হাজার থেকে ১২শ দিরহাম বেতন পাবেন। এর পাশাপাশি ওভারটাইমের সুযোগও থাকবে। একজন কর্মীকে দুবাই পাঠাতে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।   আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ১১ জন দুবাইগামী কর্মীর হাতে পাসপোর্ট, ভিসা ও চেক তুলে দেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম।   এ সময় দুবাইগামী কর্মীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা যারা বিনা খরচে দুবাই যাচ্ছেন, আপনারা আমাদের দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আপনাদের জন্য আমরা গর্বিত। যারা দুবাই যাবেন, তারা দুবাইয়ের আইন মেনে যথাযথভাবে চলার চেষ্টা করবেন। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ এড়িয়ে চলবেন।   তিনি শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তার উদ্যোগ দেখে দেশের অন্যান্য সামর্থ্যবান ও আগ্রহী ব্যক্তিরাও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত হবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট-ডিপেনডেন্ট ভিসা সংকুচিত করছে অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। নতুন এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   কারণ অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে দেওয়া স্টুডেন্ট-ডিপেনডেন্ট ভিসার বড় অংশই যাচ্ছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের নাগরিকদের কাছে।   গত অর্থবছরে নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের মোট ১০ হাজার ৪৪৮টি স্টুডেন্ট-ডিপেনডেন্ট ভিসা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বিদেশ থেকে মঞ্জুর হওয়া এ ধরনের ভিসার ৭০ শতাংশের বেশি পেয়েছেন এই পাঁচ দেশের নাগরিক। আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।       জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বৃহস্পতিবার ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে তাদের স্টুডেন্ট ভিসার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে যুক্ত করতে পারবেন না। তবে পিএইচডিসহ নির্দিষ্ট কোর্স এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আসিয়ানভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে।      বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য না হওয়ায় দেশভিত্তিক ওই ছাড় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।   তবে পিএইচডিসহ যেসব কোর্স ব্যতিক্রমের আওতায় থাকবে, সেসব ক্ষেত্রে যোগ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নতুন নিয়ম প্রয়োগ করে পরিবার বিচ্ছিন্ন করা হবে না। টনি বার্ক জানিয়েছেন, যাদের পরিবারের সদস্য ইতোমধ্যে ভিসায় যুক্ত হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া ভিজিটর ভিসাতেও কড়াকড়ি আসছে। ভবিষ্যতে ভিজিটর ভিসায় সাধারণভাবে ‘নো ফারদার স্টে’ শর্ত যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।     এর ফলে ভিজিটর ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় এসে দেশটির ভেতর থেকে অন্য ভিসার আবেদন করে ব্রিজিং ভিসায় গিয়ে অবস্থান দীর্ঘ করার সুযোগ সীমিত হবে।    তবে দক্ষ কর্মীদের পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ বহাল থাকবে। টনি বার্ক জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ায় আসা চিকিৎসক ও নির্মাণকর্মীদের প্রায় অর্ধেক এবং নার্স ও এজড কেয়ার কর্মীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসেন। প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী আকৃষ্ট করার স্বার্থে তাদের পরিবারের ওপর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মতো বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে না।  সূত্রে জানা গেছে, অভিবাসন কমিয়ে আনার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব পরিবর্তন আনছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। চলতি অর্থবছরে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন ২ লাখ ৪৫ হাজার এবং আগামী অর্থবছরে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।        এদিকে বৃহস্পতিবার ঘোষিত অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতও। ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ফিল হানিউড বলেছেন, তিন থেকে চার বছরের জন্য বিদেশে পড়তে আসা অনেক শিক্ষার্থীর কাছে জীবনসঙ্গীকে সঙ্গে রাখার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। এই সুযোগ সীমিত হলে অস্ট্রেলিয়া মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হারাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।      অস্ট্রেলিয়ায় মাস্টার্সে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, একজন বিবাহিত শিক্ষার্থীর জন্য কয়েক বছর পরিবার থেকে আলাদা থাকা সহজ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও ভবিষ্যৎ কাজের সুযোগের পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে রাখা যাবে কি না, বিদেশে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি অন্য দেশের সুযোগও বিবেচনা করতে পারেন।     জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস ইনক.-এর সভাপতি জায়েদুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে অনেক পরিবার সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে। নতুন নিয়মে কারা প্রভাবিত হবেন এবং কারা ব্যতিক্রমের সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।     দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্টসহ বিভিন্ন অভিবাসন ভিসা নিয়ে কাজ করা সিডনিস্থ স্কিলওয়েব গ্লোবাল এর পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে। অনেক শিক্ষার্থী স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনা করেই অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নেন। সেই সুযোগ সীমিত হলে তাদের কেউ কেউ অন্য দেশ বিবেচনা করতে পারেন। তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করার সুযোগ থাকছে।     শুধু পরিবারের ভিসা নয়, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কোর্স পরিবর্তনের নিয়মেও কড়াকড়ি আনছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন ব্যবস্থায় কোর্স পরিবর্তন করতে হলে নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হবে। একটি কোর্স শেষ করে পরবর্তী কোর্সে গেলে সেটি উচ্চতর যোগ্যতার স্তরের হতে হবে। ব্যাচেলর শেষ করে মাস্টার্সে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক শিক্ষাগত অগ্রগতিতে বাধা থাকবে না। মূলত একই বা নিম্ন পর্যায়ের কোর্সে বারবার ভর্তি হয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় অবস্থান দীর্ঘ করার প্রবণতা বন্ধ করতে চাইছে সরকার।      সচেতনমহলসহ সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নীতিতে বাংলাদেশিদের স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে না। তবে পরিবারসহ উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিজিটর ভিসা ও ‘ভিসা হপিংয়ের’ সুযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে ও বাইরে থাকা নতুন আবেদনকারীদের ওপরও প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে স্টুডেন্ট-ডিপেনডেন্ট ভিসার ৭০ শতাংশের বেশি পাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থাকায় নতুন বিধিনিষেধ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে আরও বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। সৌদি জননিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, নাজরান অঞ্চলে ভিক্ষা করার অভিযোগে ওই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   আটকের পর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এর মাত্র কয়েক দিন আগেই মদিনা অঞ্চলে একই ধরনের অভিযোগে আরেক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করার তথ্য প্রকাশ করেছিল সৌদি জননিরাপত্তা বিভাগ। পরপর এমন ঘটনায় সৌদিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   সৌদি আরবে প্রবাসীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নতুন নয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসাধারণকে এ বিষয়ে সতর্ক করে আসছে।   জননিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে সৌদি নাগরিক ও প্রবাসীদের রাস্তাঘাট বা জনসমাগমস্থলে সরাসরি ভিক্ষুকদের অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে অনুমোদিত সরকারি ও দাতব্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   সৌদি আইনে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কারাদণ্ড ও জরিমানা—দুই ধরনের শাস্তিই হতে পারে।   এ ছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিক এ অপরাধে দণ্ডিত হলে সাজা শেষ করার পর তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মিসাইল আতঙ্কে দ্রুত নামতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদি আরবের জেদ্দায় মিসাইল হামলার আতঙ্কে দ্রুত ছাদ থেকে নিচে নামতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে সৌরভ ইসলাম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত সৌরভ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলামের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তাঁর পায়ে দড়ি পেঁচিয়ে যায়। এতে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরে তাঁর মৃত্যু হয়।   স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর ধরে জেদ্দায় কর্মরত ছিলেন সৌরভ। আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে কাজ করতেন তিনি। এক বছর আগে ছুটি শেষে সৌদি আরবে ফিরে আবারও কর্মস্থলে যোগ দেন।   মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাসভবনের ছাদে ছিলেন সৌরভ। এ সময় ইয়েমেন থেকে জেদ্দার দিকে মিসাইল আসার খবর এবং মোবাইলে সতর্কতামূলক অ্যালার্ম শুনে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করার সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।   পরে তাঁর সহকর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় সৌরভকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। জেদ্দার স্থানীয় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   সৌরভের মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার বিকেলে সহকর্মীদের মাধ্যমে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা আমির ইসলাম ও মা রেনু বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।   রেনু বেগম বলেন, ‘সৌরভ আমার একমাত্র ছেলে। বারবার ফোন করে আমার খোঁজ নিত। আমি শেষবারের মতো আমার ছেলের মুখটা দেখতে চাই, নিজের হাতে তাকে মাটি দিতে চাই।’   পরিবারের পক্ষ থেকে সৌরভের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।   নিহতের স্বজন তৌহিদুল ইসলাম ও কামাল মিয়া জানান, সৌরভ শান্ত স্বভাবের ছিলেন। মিসাইল আতঙ্কের মধ্যে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।   রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, সৌদি আরবে এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনাসহ প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে রুমমেটদের সঙ্গে বিরোধ, বাংলাদেশি যুবক নিহত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রুমমেটদের সঙ্গে বিরোধের জেরে মো. মতিউর রহমান (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে রিয়াদের হারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   নিহত মতিউর রহমান সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের বাঘারপাড় গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে।   পারিবারিক ও স্থানীয় প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, হারা এলাকার একটি বাসায় আরও তিন বাংলাদেশি প্রবাসীর সঙ্গে থাকতেন মতিউর। কয়েক দিন আগে ঘুমানোর জায়গা ও রান্না করা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সোমবার রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর আগের সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়।   পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে এক রুমমেট রান্নাঘরে থাকা ছুরি দিয়ে মতিউরকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর অভিযুক্ত তিন রুমমেট বাসা থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।   নিহতের ফুফাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম খোকন জানান, মতিউর শান্ত স্বভাবের ছিলেন। রুমমেটদের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি তিনি আগেই পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। সোমবার থেকে তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে একই বাসায় থাকা গ্রামের এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পরিবার হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারে।   বর্তমানে মতিউর রহমানের মরদেহ রিয়াদের একটি স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
শ্রমিকদের ভুয়া পাসপোর্ট ও পাশ তৈরির দায়ে মালয়েশিয়ায় ২৭ বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরির একটি চক্রে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২৭ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।     আটকদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও একজন নারীকে ওই প্রতারণা চক্রের মূলহোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।     মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বরাতে মালয় মেইল জানিয়েছে, সোমবার কুয়ালালামপুরের জালান চান সো লিন বাণিজ্যিক এলাকার ১১টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।     অভিযানে আটক হওয়া ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য নথি জাল করার কথিত চক্র পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি ১৬ বাংলাদেশিকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।     এছাড়া অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও তিন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মিয়ানমারের এবং দুজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।     ‘অপস সেরকাপ’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।     কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অভিযানে জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের (ই-পিএলকেএস) কপি এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে।     সাইফুদ্দিন বলেন, প্রতিটি জাল কর্মসংস্থান পাশ ১৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদন ৭০ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হত।     মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারসাজি এবং নথি জাল করার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করছে বলেও জানান তিনি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ঘিরে জাল কাগজপত্র ও ওয়ার্ক পারমিট অনিয়ম

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ঘিরে জাল কাগজপত্র তৈরি, ভুয়া ই-পি এল কে এস (অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ অনুমতিপত্র) এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে চাকরির দুটি পৃথক ঘটনা সামনে এসেছে। দেশটির অভিবাসন বিভাগের ধারাবাহিক অভিযানে দুই ঘটনায় মোট ৩৩৭ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭৪ জনই বাংলাদেশি।   একদিকে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য জাল ই-পি এল কে এস ও জাল পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগে ১১ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে সেপাংয়ে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণ প্রকল্পে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগে ১৭৩ বিদেশি আটক হয়েছেন। দুটি ঘটনাতেই তদন্তের আওতায় এসেছে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা, নিয়োগকর্তা ও নথিপত্রের ব্যবহার।   মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জানান, কুয়ালালামপুরের জালান চানসাউলিনের একটি বাণিজ্যিক এলাকা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন অনুমোদিত পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট সেবা প্রদানকারী আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এক্সপ্যাট সার্ভিসেস কুয়ালালামপুর সেন্টারের আশপাশে ‘অপস সারকাপ’ পরিচালনা করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে একযোগে ১১টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।   অভিযানে ২৩ থেকে ৪৮ বছর বয়সি ১১ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারী। প্রাথমিক তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠানে জাল নথি তৈরির কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ।    তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, প্রতিটি জাল ই-পি এল কে এস তৈরির জন্য প্রায় ১৫০ রিঙ্গিত এবং জাল পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রায় ৭০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। অর্থাৎ সামান্য অর্থের বিনিময়ে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা ও পরিচয়-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি তৈরির ব্যবস্থা করছিল একটি চক্র।   অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের ১০টি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি তৈরি জাল ই-পি এল কে এস ও জাল পুলিশ প্রতিবেদন উদ্ধার করা হয়।   অভিবাসন বিভাগের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব জাল নথি বাংলাদেশি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক পাসপোর্টের আবেদনে ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট কীভাবে ও কার মাধ্যমে চক্রটির হাতে পৌঁছেছে। জাল নথি তৈরির সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।   অভিযানের আশপাশ থেকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ১৯ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন বাংলাদেশি ১৫ পুরুষ ও একজন নারী। এ ছাড়া মিয়ানমারের একজন এবং ইন্দোনেশিয়ার দুই নারী নাগরিক রয়েছেন। দুই ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার আওতায় তদন্ত চলছে।   এদিকে সেপাংয়ে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণ প্রকল্পে চালানো আরেক অভিযানে উঠে এসেছে ভিন্ন ধরনের অনিয়ম। একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত পিএলকেএস ব্যবহার করে অন্য প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।   সোমবার সেপাংয়ের একটি আন্তর্জাতিক মানের মোটরস্পোর্টস কেন্দ্রের কাছে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণস্থল, গুদাম এবং উড়োজাহাজের ইঞ্জিন পরীক্ষার বিভিন্ন স্থাপনায় এ অভিযান চালানো হয়।   জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে এক সপ্তাহ গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর পর পুত্রজায়া অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগকারী শাখা অভিযানটি পরিচালনা করে। এতে অভিবাসন বিভাগের ৮৮ কর্মকর্তা অংশ নেন। তারা মোট ২৬১ জনকে তল্লাশি করেন। এর মধ্যে ২১৭ জন বিদেশি এবং ৪৪ জন মালয়েশীয় নাগরিক।   তল্লাশির পর ২৩ থেকে ৪০ বছর বয়সি ১৭৩ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৭ জন বাংলাদেশি, ১৭ জন ইন্দোনেশীয় এবং ৯ জন পাকিস্তানি নাগরিক।    অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এমন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের পিএলকেএস অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে বিদেশিদের সামাজিক ভ্রমণ অনুমতিপত্রেরও অপব্যবহার করা হচ্ছিল।   আটকদের পরবর্তী তদন্তের জন্য কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তদন্তে সহায়তার জন্য পাঁচ মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার নোটিশও দেওয়া হয়েছে।    জাকারিয়া শাবান বলেন, নির্মাণ, পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচল-সংশ্লিষ্ট সহায়ক স্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে অভিবাসন বিভাগ নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ করছে। বৈধ নিয়মনীতি না মেনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, তাদের আশ্রয় বা সুরক্ষা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মালয়েশিয়ায় একই সময়ে সামনে আসা এ দুটি ঘটনা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও নতুন সতর্কবার্তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, ভিসা, পিএলকেএস বা বৈধতার সমস্যা সমাধানের নামে দালাল কিংবা অজ্ঞাত ব্যক্তির হাতে মূল পাসপোর্ট তুলে দেওয়া এবং জাল নথি ব্যবহার করার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে।   একই সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে কাজ করলেও কর্মী যেমন আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন, তেমনি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা ও উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের আওতায় শাস্তির মুখে পড়তে পারে।   দুটি অভিযানের তথ্য বলছে, বিদেশি কর্মীদের বৈধতা নিয়ে অনিয়ম শুধু কর্মস্থলে নয়; নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট, পাসপোর্ট এবং সরকারি নথিপত্রের পুরো প্রক্রিয়াজুড়েই নজরদারি জোরদার করছে মালয়েশিয়া।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬