তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে জুন মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি দেশে কনসার্ট, ম্যারাথন ও বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠান বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সারব্রুকেন শহরে শুক্রবার সর্বোচ্চ ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা জুন মাসের নতুন রেকর্ড। একইভাবে বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসেও কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখা গেছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকার গভীর উদ্বেগে রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও সতর্ক করে বলেছে, এই তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও কর্মক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ইউরোপজুড়ে বিস্তৃত উচ্চচাপ বলয়ের কারণে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং দক্ষিণ ইংল্যান্ডে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে। বিজ্ঞানীরা বর্তমান তাপপ্রবাহকে এ অঞ্চলের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শুক্রবার ইউরোপের অন্তত ১৫ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মধ্যে ছিল। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়ে পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে। চরম গরমের কারণে প্যারিসের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিখ্যাত প্যারিস প্রাইড মার্চ এবং সলিডেস মিউজিক ফেস্টিভ্যাল স্থগিত করা হয়েছে। একইভাবে নেদারল্যান্ডসের ডেফকন.১ মিউজিক ফেস্টিভ্যাল এবং জার্মানির হামবুর্গ হাফ ম্যারাথন-সহ বেশ কয়েকটি বড় আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহের মাত্রা ও স্থায়িত্ব ক্রমেই বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
মালদ্বীপে মাত্র চার মাস আগে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা বাংলাদেশি মেজবাহ উদ্দিনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মেজবাহ উদ্দিনের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মাহাদিয়া গ্রামে। তিনি মোজিবুল হকের (সুরুজ মিয়া) ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানী মালের সিট্রন বাই লেমনগ্রাস কোম্পানির স্টাফ কোয়ার্টার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কবির আহমেদ জানান, স্টাফ কোয়ার্টারের একটি কক্ষে চারজন একসঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার সময় দুইজন কর্মস্থলে এবং দুইজন ছুটিতে ছিলেন। রাতের খাবার খেতে বের হওয়ার পর ফিরে এসে এক সহকর্মী মেজবাহ উদ্দিনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করা হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মামা মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন) জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জীবিকার সন্ধানে মেজবাহ উদ্দিন মালদ্বীপে আসেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন বলে পরিবারের ধারণা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন এবং মালদ্বীপ পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বর্তমানে মরদেহ রাজধানী মালের একটি মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। নিহতের পরিবার মালদ্বীপে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে। এ বিষয়ে মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশির এই মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। বিষয়টি সম্পর্কে হাইকমিশন অবগত রয়েছে এবং ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত সব প্রবাসীকে সাদা কাগজে সই কিংবা টিপসই দেওয়া থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বুধবার (২৪ জুন) কনস্যুলেটের কাউন্সেলর মো. মেহবুব জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবে অবস্থানরত সব প্রবাসী বাংলাদেশির অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুরোধে কিংবা নির্দেশনায় সাদা কাগজে কোনও ধরনের সই ও টিপসই দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এমনটা না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। এ ধরনের অসতর্কতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অসাধু ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক প্রতারণা, জাল দলিলপত্র প্রস্তুত, অবৈধ লেনদেন বা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফৌজদারি মামলা, আর্থিক ক্ষতি, জেল-জরিমানা কিংবা অন্যান্য আইনগত শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন। এই অবস্থায় কোনও লিখিত কাগজপত্র বা ডকুমেন্টে সই কিংবা টিপসই দেওয়ার আগে তার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণরূপে বুঝে ও যাচাই করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সব প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।
তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা উত্তপ্ত বায়ুপ্রবাহের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং রাজধানী প্যারিসে তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিম শহরে তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এছাড়া মার্সেইয়ে ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি, লিওঁতে ৪১ ডিগ্রি এবং প্যারিসে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামছে না। অতিরিক্ত গরমের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় কিছু এলাকায় ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পানিতে ডুবে মারা গেছেন। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে জলাশয়ে নামার সময় গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিম শহরে একটি গাড়ির ভেতরে আটকে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং মার্সেই ও লিওঁ শহরে হিটস্ট্রোকে তিন প্রবীণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে নির্মাণশ্রমিক, রেস্তোরাঁ কর্মী এবং ফুড ডেলিভারি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তীব্র রোদ ও উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে কাজ করায় তাদের মধ্যে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার আশঙ্কা বেড়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা প্রবাসীদের পর্যাপ্ত পানি ও স্যালাইন পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শহরে শীতল কেন্দ্র ও পাবলিক পার্ক ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, সপ্তাহের শেষ দিকে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি অঞ্চলে তাপপ্রবাহের প্রভাব আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্পত্তি মালিকানার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভা বিদেশিদের স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা-সংক্রান্ত আইনের নির্বাহী বিধিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) জেদ্দায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান। একই সঙ্গে বিদেশিরা কোন কোন এলাকায় সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই আইন প্রথমে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর করা হয়। সর্বশেষ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে বিধিমালাটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো লাভ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবে বিভিন্ন ধরনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা, কৃষিজমি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সম্পত্তি ক্রয় ও মালিকানা অর্জনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন সাপেক্ষে বিদেশি নাগরিকরা নির্ধারিত এলাকায় সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন। এ ছাড়া বৈধ লাইসেন্সধারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। সৌদি আরবে ব্যবসা পরিচালনাকারী এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রমের প্রয়োজন অনুযায়ী অফিস, কারখানা, গুদামঘর কিংবা অন্যান্য স্থাপনার জন্য জমি বা ভবন কিনতে পারবে এবং সেগুলোর পূর্ণ মালিকানা ভোগ করতে পারবে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই বিধিমালা সৌদির রিয়েল এস্টেট খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সম্পদ গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সম্পত্তি মালিকদের জন্য ভিসা ও আবাসন সুবিধা আরও সহজ করেছে ওমান। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বিদেশি নাগরিকরা কোনো স্থানীয় স্পনসর বা কফিল ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা এবং বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্স পারমিট) পাবেন। সম্প্রতি ওমান পুলিশ আবাসন সংক্রান্ত নির্বাহী বিধিমালায় সংশোধনী এনে এ সুবিধা চালু করেছে। সংশোধিত বিধিমালা ইতোমধ্যে দেশটির সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওমানে জমি বা আবাসিক ইউনিটের মালিক বিদেশি নাগরিকরা সরাসরি রেসিডেন্সি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এমনকি যেসব সম্পত্তির নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত সনদ থাকলে ভিসা ও বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। এই সুবিধা শুধু মূল সম্পত্তি মালিকের জন্যই নয়, তার প্রথম স্তরের পরিবারের সদস্য—যেমন স্ত্রী ও সন্তানদের জন্যও প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকানাধীন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধিরাও এ সুবিধার আওতায় আসবেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিবন্ধিত কিন্তু অনুমোদিত সম্পত্তির ভিত্তিতে ইস্যুকৃত ভিসাগুলোর মেয়াদ সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা নবায়ন করা যাবে। ভিসাধারীরা প্রতিবার ওমানে প্রবেশের পর সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ওনার ভিসা’ বা সম্পত্তি মালিকানা-ভিত্তিক ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এখন বিদেশি সম্পত্তি মালিক ও কোম্পানির অনুমোদিত প্রতিনিধিরা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। তবে নতুন নীতিমালায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে। ভিসা অনুমোদনের পর তিন মাসের মধ্যে আবেদনকারীকে অবশ্যই ওমানে প্রবেশ করতে হবে। ওমান সরকার মনে করছে, এই উদ্যোগ দেশের আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশটিকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করবে।
কুয়েতে অসুস্থতা ও মানবিক সংকটে থাকা তিন বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাজিরা এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছান। দেশে ফেরা তিন প্রবাসী হলেন তছিরন বিবি, সানজিদা আক্তার এবং মো. ইসমাইল। উন্নত জীবনের আশায় কুয়েতে গেলেও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, অর্থাভাবের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি দূতাবাসের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা, ট্রাভেল পাস ইস্যু, আইনি ছাড়পত্র সংগ্রহসহ দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এছাড়া তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের যেকোনো সংকটে সহায়তা দিতে সরকার ও দূতাবাস সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, দেশে ফেরার পর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। প্রবাসীদের প্রতি দূতাবাসের এই মানবিক উদ্যোগ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের যৌথ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গান এলাকার ওয়ান সাউথ প্লাজায় পরিচালিত ‘অপস লিটল মিডল ইস্ট’ নামের বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এতে ইমিগ্রেশন বিভাগের ৫৩ জন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাঁচজন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযানের সময় রেস্তোরাঁ, খাবারের কিয়স্ক ও বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রসহ অন্তত ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ অনুমোদন ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও তাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে মোট ৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ঘানা ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং পাস বা ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানের সময় তদন্তের স্বার্থে এক মালয়েশীয় নাগরিককে সমন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিককে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফাবিরোধী আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক সব বিদেশিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা কর্মসংস্থান প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশ একমত হয়েছে। মঙ্গলবার মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কম খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, আগামী জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অতীতের মতো কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে না। শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে দুই দেশই একমত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ায় প্রথম সরকারি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ ও ২২ জুন অনুষ্ঠিত ওই সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুই দেশের চলমান আলোচনার ইতিবাচক ফলাফল বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের (কেপিডিএন) যৌথভাবে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গানের ওয়ান সাউথ প্লাজা এলাকায় পরিচালিত ‘অপস লিটল মিডল ইস্ট’ নামের এ অভিযানে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। জেআইএম এক বিবৃতিতে জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়া অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের স্পেশাল অ্যাকশন ব্রাঞ্চ ও এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের ৫৩ কর্মকর্তা এবং কেপিডিএনের পাঁচজন কর্মকর্তা অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং এক সপ্তাহব্যাপী গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে রেস্তোরাঁ, খাদ্যের কিয়স্ক, বিক্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ অনুমতি ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে মোট ৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ঘানা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। জেআইএম জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালার বিভিন্ন ধারায় অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং পাস বা ভিসার অপব্যবহার উল্লেখযোগ্য। একই অভিযানে তদন্তে সহযোগিতার জন্য এক মালয়েশীয় নাগরিককে ফরম-২৯ সমন জারি করা হয়েছে। এছাড়া কেপিডিএন পরিদর্শনের সময় শনাক্ত হওয়া একটি অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিককে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফাবিরোধী আইনে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা করেছে। আটক সব বিদেশি নাগরিককে পরবর্তী তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। জেআইএম বলছে, অবৈধভাবে বসবাসকারী, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানকারী কিংবা সরকারের দেওয়া পাস সুবিধার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, সুরক্ষা বা কর্মসংস্থান না দেয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিভাগটি আরও জানিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় ছাড়াই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতালিতে কাজ না পেয়ে এবং চরম আর্থিক সংকটের কারণে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশের তথ্যমতে, গত শুক্রবার ইতালির কাতানিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে জিন্নাত খান খোকন (৪০) নামে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জিন্নাত খান খোকন বাগেরহাট সদর উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। তিনি পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় গত বছর প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দালালের মাধ্যমে ইউরোপে পাড়ি জমান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে তিনি বুলগেরিয়ায় পৌঁছান এবং পরে অবৈধ পথে ইতালিতে প্রবেশ করেন। তবে সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বৈধ কাজ বা স্থায়ী আয় না থাকায় তিনি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েন। পাশাপাশি দেশে থাকা ঋণদাতাদের চাপও তার মানসিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে তোলে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় তারা জমি বিক্রি ও ঋণ নিয়ে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় স্বামী-সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তারা সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন। এদিকে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহত প্রবাসীর বিএমইটি কার্ড থাকায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ব্যয় বহন করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দূতাবাস আরও জানায়, ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য পেশাগত ফিটনেস ও স্বাস্থ্য মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় কর্মীদের শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততা নিয়মিত যাচাই করা হবে। সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমে নতুন কর্মীদের চাকরিতে যোগদানের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। এরপর বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের এবং পরবর্তী পর্যায়ে স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিকসহ সব ধরনের কর্মীদের এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মী স্বাস্থ্য বা পেশাগত সক্ষমতার পরীক্ষায় অনুপযুক্ত বিবেচিত হলে তিনি তার বর্তমান দায়িত্বে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে তার জন্য উপযুক্ত অন্য কোনো পেশা বা দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া কাজে যোগদানের সুযোগ থাকবে না। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, পেশাগত অসুস্থতা, কাজের ধরন পরিবর্তন অথবা নির্দিষ্ট সময় পরপর কর্মীদের পুনরায় স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পেশাগত ঝুঁকি হ্রাস এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সৌদি আরবে কর্মরত বিদেশি কর্মীদেরও নির্ধারিত স্বাস্থ্য ও সক্ষমতার মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের (২২) লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার লারনাকা জেলার কোফিনু এলাকার একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার পচনধরা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ১২ জুন নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমনকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহত শাহরুয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা থানার বাখর নগর এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে। তিনি সাইপ্রাসের লারনাকা জেলার ওরোক্লিনি এলাকায় বসবাস করতেন। ফাইলিনিউজ ও সাইপ্রাস টাইমসসহ স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, গত ১২ জুন কোফিনু এলাকার একটি কারখানায় নিজের প্রথম কর্মদিবসে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন ইমন। নিজের কোনো যানবাহন না থাকায় তিনি বাসে করে রওনা হয়েছিলেন। ওইদিন রাতেই তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক বন্ধুকে নিজের লোকেশন পাঠান এবং গ্রিসে অবস্থানরত তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে একটি বার্তা পাঠান। তারপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ইমন নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা সাইপ্রাস ও গ্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চান। নিখোঁজের পরদিন থেকেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ইমনের ফোন ব্যবহার করে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকারী মূলত অপহরণের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল। ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সিগন্যাল কোফিনু এলাকায় শনাক্ত করার পর স্থানীয় পুলিশ, সিআইডি এবং গোয়েন্দা দল সিসিটিভি ফুটেজ ও বাস রুট ধরে তল্লাশি শুরু করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ২২ বছর বয়সি অভিযুক্ত যুবক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ইমনের ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, কিছুদিন আগে একটি বাসে ভ্রমণের সময় ইমনের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় হয়। অভিযুক্তের দাবি, “ওই সময় ইমন তাকে অপমান করেছিলেন এবং সেই প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড। তবে পুলিশ মনে করছে, হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে অর্থ আদায় করা। ঘটনার দিন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে ওরেক্লিনি এলাকা থেকে কৌশলে গাড়িতে তুলে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাকে হত্যা করে একটি অগভীর গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়। বর্তমানে লাশ উদ্ধারের স্থানটি ঘিরে রেখেছে সাইপ্রাস পুলিশের ফরেনসিক বিভাগ এবং তদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত চলছে।
মালদ্বীপের শিক্ষা খাতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ আহমেদ মুত্তাকী। শনিবার (২১ জুন) রাজধানী মালের ইমাজউদ্দিন স্কুল অডিটোরিয়ামে মিয়ানজু কলেজের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষা সম্প্রসারণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের ভূমিকার জন্য তাকে এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, মালদ্বীপের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার প্রসারে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি সাজিদা মোহাম্মদ। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বক্তব্যে ফার্স্ট লেডি বলেন, মিয়ানজু কলেজ স্বল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গঠনে প্রতিষ্ঠানটির অবদান দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করে আহমেদ মুত্তাকী বলেন, “এই স্বীকৃতি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি মালদ্বীপে কর্মরত সমগ্র বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্যও গর্বের বিষয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন বাংলাদেশি হিসেবে এমন সম্মান পেয়ে আমি আনন্দিত ও সম্মানিত।” সংশ্লিষ্টদের মতে, আহমেদ মুত্তাকীর এ অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দক্ষতা, সুনাম ও সক্ষমতার ইতিবাচক প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, কল্যাণ ও সেবাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা ও গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। রোববার (২১ জুন) রাজধানী মালেতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসীদের সমস্যা-সম্ভাবনা, শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান এবং কনস্যুলার সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। দূতাবাসের কনস্যুলার সহকারী মো. ইবাদ উল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাছেম বিল্লাহ এবং তৃতীয় সচিব সৈয়দ হামজাদ আলী। সভায় হাইকমিশনার প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের অভিযোগ, মতামত ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, সাধারণ প্রবাসী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং হাইকমিশনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন প্রবাসীদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করবে এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানে সহায়ক হবে।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গতকাল শুক্রবার লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় এ মামলাটি করা করে দলটির এক কর্মী। হাসনাত হাসনাত আব্দুল্লাহ ছাড়া মামলায় অন্য আসামিরা হলেন এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমকে। তাদের মধ্যে জাকির চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এ ছাড়া অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আজ শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স। এ তথ্য জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমাদের নামে মামলা করেছে। এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এ বিষয়টি দেখছে।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির পর এবার নতুন নাটক শুরু করেছে। তারা হাসনাত আবদুল্লাহ, এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের “বেধড়ক পেটানোর” অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে পতিত আওয়ামী লীগ আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আবদুল্লাহর ঐতিহাসিক বক্তব্য, যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রবাসীদের সঙ্গে তার সফল মতবিনিময় এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে তারা বারবার চেষ্টা করলেও প্রতিবারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’
কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। যাদের পাঁচজনই বাংলাদেশের সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। অন্যজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে। নিহত পাঁচ বাংলাদেশি হলেন আগতালুক নিবাসী জসিম উদ্দিন, আমরপুর নিবাসী জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক নিবাসী মস্তাক আহমদম, মাঝতালুক নিবাসী জুবায়ের আহমদ এবং গাছবাড়ী নিবাসী কাদের আহমদ। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তানা। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান বলে জানান আহমেদ মালেক। তাদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ছাড়তে না পারা প্রবাসী ও বিদেশিদের জন্য ৩০ দিনের বিশেষ ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি)-এর বরাতে জানানো হয়েছে, এই সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো ধরনের ওভারস্টে জরিমানা ছাড়াই তাদের ভিসা বা আবাসিক অবস্থার বৈধতা নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করতে পারবেন অথবা চাইলে নির্বিঘ্নে দেশ ত্যাগ করতে পারবেন। আইসিপির ঘোষণায় বলা হয়, ২০২৬ সালের ১০ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর থাকবে। মূলত যেসব প্রবাসী বা ভ্রমণকারী অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে ইউএই ছাড়তে পারেননি, তারাই এ সুবিধার আওতায় পড়বেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সুযোগ নিতে আলাদা কোনো আবেদন বা অতিরিক্ত দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। যারা দেশটিতে অবস্থান বৈধ করতে চান, তারা এই সময়ের মধ্যেই ভিসা বা কর্মসংস্থানের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে পারবেন। আর যারা দেশে ফিরতে চান, তারা স্বাভাবিক নিয়মে প্রস্থান করতে পারবেন। আইসিপি আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই আইনগতভাবে অবস্থান ঠিক করতে পারেন বা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন।
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিদায়ী কাউন্সিলর (শ্রম) মো. সোহেল পারভেজ বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে পদায়িত হয়েছেন। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তিতে মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন। কর্মজীবনে পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বাক্ষর রাখা এই কর্মকর্তা ২০২০ সালে প্রথম সচিব হিসেবে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের দায়িত্বও পালন করেন। মালদ্বীপে দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শ্রমসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান, বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং সংকটাপন্ন নাগরিকদের সহায়তায় তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের নতুন দায়িত্বে সোহেল পারভেজ দেশের সামুদ্রিক পরিবহন খাতের উন্নয়ন, কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপির জীবন ও কর্ম নিয়ে রচিত গ্রন্থ ‘এ ম্যান অব অ্যাকশন’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি পূর্ব লন্ডনের একটি স্কুলের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন চ্যানেল এস-এর হেড অব প্রোগ্রাম ফারহান মাসুদ খান এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিসবাহ জামাল। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ইমাম আজিজুর রহমান খান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্যারোনেস পলা মনজিলা উদ্দিন, যিনি অতিথিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। বইটির লেখকের পুত্র তাহমিদ চৌধুরী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গ্রন্থটির পটভূমি তুলে ধরেন। এছাড়া সম্পাদক তৌহিদ শাকিল, লেখক ও গবেষক ফারুক আহমদ এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন গ্রন্থটির বিষয়ে মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন। গ্রন্থটির বিস্তারিত পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন ডা. জাকি রিজওয়ানা আনোয়ার। তিনি বলেন, আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী নন, বরং তিনি কমিউনিটি উন্নয়ন, গণমাধ্যম ও সমাজসেবায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ এমপি কিথ বেস্টসহ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, ‘এ ম্যান অব অ্যাকশন’ গ্রন্থটি আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীর জীবন, কর্ম এবং প্রবাসে সমাজসেবামূলক অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের লারনাকা এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে গত ছয় দিন ধরে নিখোঁজ আছেন এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তার বাবা সাইপ্রাসের পুলিশকে বলেছেন, গত ১২ জুন ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোনে যোগাযোগ করে ‘মুক্তিপণ’ চেয়েছে। বৃহস্পতিবার সাইপ্রাসমেইলের এক খবরে বলা হয়, শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নামের ২২ বছর বয়সি ওই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সন্ধান এখনও মেলেনি। সর্বশেষ তাকে সাইপ্রাসের কোফিনু এলাকায় দেখা গিয়েছিল। নিখোঁজ এই শিক্ষার্থী সাইপ্রাসের তুরস্ক নিয়ন্ত্রিত উত্তর অংশে চলে গেছেন, নাকি দ্বীপরাষ্ট্রটিই ত্যাগ করেছেন, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন। তবে সাইপ্রাসের ইলেকট্রনিক সিস্টেমে ইমনের চলে যাওয়ার কোনো রেকর্ড বা নিবন্ধন পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি অবৈধ উপায়ে উত্তর অংশ পার হয়েছেন নাকি সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের ভেতরেই আছেন, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা। সাইপ্রাসের আরেক সংবাদমাধ্যম ফাইলনিউজ ইংলিশ বলছে, লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকায় বসবাসকারী ইমন গত ১২ জুন একটি স্থানীয় কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি তার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান লিখে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া গ্রিসে থাকা তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে আরেকটি বার্তা পাঠানোর পরই ইমনের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুলিশ বলছে, ইমনের মোবাইল ফোনের শেষ সিগন্যালটি কোফিনু পর্যন্ত শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু সেখানে তল্লাশি চালিয়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইমন বাসে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল, কারণ তার নিজের কোনো বাহন নেই। ওই এলাকার বাস রুটগুলো এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশ সিসিটিভি ভিডিও খুঁজছে। এরইমধ্যে ইমনের বাবা ছেলের সন্ধান চেয়ে গ্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। ইমনের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে সিআইডি লারনাকা অথবা ১৪৬০ নম্বরে সিটিজেনস লাইনে যোগাযোগ করার জন্য পুলিশ অনুরোধ করেছে।
এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। নতুন চ্যাম্পিয়নের হাতে এখানেই তুলে দেওয়া হবে স্বপ্নের কাপ। আর এ স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জে ম্যুরাল এঁকেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ শিল্পী জিহান ওয়াজেদ। লাউঞ্জটির সৌন্দর্য বাড়াতে ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থের চিত্রকর্মটিতে নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো। সাড়ে ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে অনন্য সাজে সাজানো হয়েছে স্টেডিয়ামটি। বুধবার এ স্টেডিয়ামে নিজেদের গ্রুপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স। আগামী ১৯ জুলাই এখানেই অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ। জিহান ওয়াজেদের জন্ম লিবিয়ার বেনগাজিতে। তার পিতা ওয়াজেদ এ খান নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’-এর সম্পাদক। নিউ ইয়র্কেই শিক্ষাজীবন শুরু জিহানের। পড়াশোনা করেছেন স্টাইভ্যাসেন্ট হাইস্কুলে এবং ম্যাকাউলে অনার্স প্রোগ্রামের অধীনে বারুখ কলেজ থেকে পারসেপচুয়াল সাইকোলজিতে। ম্যানহাটনের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে স্টুডিও রয়েছে জিহান ওয়াজেদের। শুধু স্টেডিয়াম নয়, শিল্পী জিহানের আঁকা দেয়ালচিত্র সৌন্দর্য বাড়িয়েছে নিউ ইয়র্ক মহানগরীসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের। তার অন্যতম শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন, নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-ফোর, নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টার, কুইন্স হাসপাতালে সাড়ে বারোশ বর্গফুটের ম্যুরাল, এস্টোরিয়ায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ অগমেন্টেড রিয়ালিটি ম্যুরাল, এবং এস্টোরিয়ায় ১৭৭ ফুট দীর্ঘ ‘ওয়েলকাম এস্টোরিয়া’ ম্যুরাল। বাংলাদেশের চিরায়ত ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলিও স্থান পাচ্ছে তার আঁকা ম্যুরালে। চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ভাস্কর্য, কোরিওগ্রাফি এবং সৃজনশীল নানা মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত জিহান ওয়াজেদ। জিহান জানান, তার শুরুটা ছিল গ্রাফিতি দিয়ে। সেখান থেকেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন ম্যুরালের নিজস্ব নতুন ধারা। তার এই শৈলী পছন্দ করছেন নিউ ইয়র্কের শিল্পসমালোচকরা। চিত্রকর্মের ওপর তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও শৈশব থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক। গত বছর অক্টোবরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
কাতারে রেসিডেন্স পারমিট (আকামা) বাতিল হলে প্রবাসীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়ার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন থেকে আকামা বাতিলের পর সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে দেশ ত্যাগ করতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে এই ক্ষেত্রে ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড থাকলেও তা কমিয়ে ১৪ দিন করা হয়েছে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে প্রতিদিনের জন্য জরিমানা গুনতে হবে। আকামা বাতিল হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০ কাতারি রিয়াল জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া ভিজিট ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম রয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাতারে অবস্থান করলে প্রতিদিন ২০০ কাতারি রিয়াল জরিমানা দিতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের জটিলতা এড়াতে প্রবাসীদের মেতরাশ (Metrash) অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের ভিসা, আকামা ও জরিমানার অবস্থা নিয়মিত যাচাই করা উচিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন পাসপোর্টে রেসিডেন্স পারমিট স্থানান্তরসহ অন্যান্য সেবা এই অ্যাপের মাধ্যমেই সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও জানানো হয়েছে। কাতার সরকার বলছে, নিয়ম মেনে চলাই জরিমানা ও আইনি জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ওমানে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম আলিফ মজুমদার। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকে পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্রে গোসল করতে নামেন আলিফ। বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে হঠাৎ তিনি পানিতে তলিয়ে যান। পরে বন্ধুরা ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বুধবার সমুদ্রতীর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার সঠিক কারণ জানতে রয়্যাল ওমান পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে মরদেহটি ওমান পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মালদ্বীপের সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন খাতে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশি প্রবাসী মোশারফ হোসেন সাগর। দীর্ঘ পরিশ্রম ও ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমে তিনি বর্তমানে একটি সাফারি বোটের কোর্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মুন্সিগঞ্জের কুদ্দুস ব্যাপারীর ছেলে মোশারফ হোসেন প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে মালদ্বীপে পাড়ি জমান। শুরুতে সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ধাপে ধাপে নিজেকে দক্ষ ডাইভিং পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলেন। ২০২৪ সালে স্কুবা ডাইভার হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সাফারি বোটের কোর্স ডিরেক্টরের দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ডাইভিং কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে যুক্ত রয়েছেন। মালদ্বীপের সামুদ্রিক পর্যটন খাতে হাজারেরও বেশি ডাইভার এবং শত শত ইনস্ট্রাক্টর কাজ করছেন। পাশাপাশি ৫২টির বেশি সাফারি বোট নিয়মিত পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছে। মোশারফ হোসেন বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও মানসম্মত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তার জন্য গর্বের বিষয় এবং ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালনের আশা রাখেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মালদ্বীপের পর্যটন খাতে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। মোশারফ হোসেন সাগরের এই অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।
লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সৌদি আরবে মারা গেছেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের প্রবাসী তৈওয়েব আলী (৫৩)। মৃত্যুর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও দেশে ফেরেনি তার মরদেহ। শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখতে এবং বাবাকে একনজর দেখতে অপেক্ষায় রয়েছেন তার স্ত্রী ও তিন কন্যা। নিহত তৈওয়েব আলী মহম্মদপুর উপজেলা সদরের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের মৃত হালিম মোল্যার ছেলে। গত ১২ জুন সৌদি আরবের রিয়াদের একটি হাসপাতালে লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় ২০২৪ সালের শুরুতে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তৈওয়েব আলী। ধারদেনা করে বিদেশে যাওয়া এই প্রবাসীর এখনও প্রায় দুই লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। সৌদি আরবে তিনি রড মিস্ত্রির কাজ করতেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। স্বজনরা জানান, মৃত্যুর পর সৌদি আরবে থাকা পরিচিতজন ও আত্মীয়রা মরদেহ গ্রহণ ও দেশে পাঠানোর দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ফলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, ‘ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে গিয়েছিলেন। এখনও দুই লাখ টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। তিন মেয়েকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবো জানি না। সাত দিন হয়ে গেল, এখনও তার মরদেহ দেশে আসেনি। শুধু শেষবারের মতো স্বামীর মুখটা দেখতে চাই।’ স্থানীয়রা জানান, দেশে থাকাকালে তৈওয়েব আলী কৃষিকাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। স্ত্রী ও তিন কন্যার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু জীবিত অবস্থায় আর পরিবারের কাছে ফেরা হলো না তার। এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রি বলেন,‘তৈওয়েব আলী বৈধভাবে সৌদি আরবে গিয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।’ নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়ে যারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকা পড়েছিলেন এবং ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণের জরিমানা থেকে আগেই অব্যাহতি পেয়েছিলেন, তাদের জন্য আরও একটি সুযোগ এনে দিয়েছে আমিরাত সরকার। দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটি (আইসিপি) ৩০ দিনের একটি বিশেষ গ্রেস পিরিয়ড ঘোষণা করেছে, যা ১০ জুন থেকে শুরু হয়ে আগামী ৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রবাসী বাংলাদেশিসহ লক্ষাধিক অভিবাসীর জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন এই ছাড়? চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে আমিরাতের আকাশসীমায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। বহু ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ দেশে ফিরতে পারেননি। এই অসহায় পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে গত মার্চ মাসে আইসিপি এক বিশেষ আদেশে ওই সময়কালে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের জরিমানা মওকুফ করে দেয়। সুবিধাভোগীদের মধ্যে ছিলেন ভিজিট ভিসাধারী, প্রস্থানের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং যাঁদের রেসিডেন্সি ভিসা বাতিল হয়ে গেলেও ফ্লাইট না থাকায় দেশ ছাড়তে পারেননি। নতুন গ্রেস পিরিয়ডে কী করবেন? আইসিপি জানিয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সেই ব্যতিক্রমী অবস্থার অবসান ঘটেছে। তাই পূর্বের ছাড়কালীন সুবিধাভোগীদের এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে: যারা আমিরাতে থাকতে চান, তারা এই এক মাসের মধ্যে ভিসা বা রেসিডেন্সির মেয়াদ নবায়ন করে নিজেদের অবস্থান বৈধ করে নিতে পারবেন। আর যাঁরা দেশে ফিরতে চান, তারা কোনো জরিমানা ছাড়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন। এ জন্য আলাদা কোনো আবেদন বা পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। সতর্কতা ৯ জুলাইয়ের পর এই বিশেষ ছাড় আর প্রযোজ্য হবে না। তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হালনাগাদ তথ্যের জন্য আইসিপির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটি (আইসিপি) গতকাল এই ঘোষনা দিয়েছে। আমিরাতে কর্মরত প্রায় লাখো বাংলাদেশির মধ্যে যারা এই পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন, তাদের জন্য এই সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে ভিসা জটিলতা ও প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।
বরিশাল নগরীর বান্দরোডে বেপরোয়া গতির অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী এক সৌদি আরব প্রবাসী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরীর বান্দরোডে বেলস পার্ক সংলগ্ন কেডিসির মোড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হলেন- পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী গ্রামের হেলাল প্যাদার ছেলে মেহেদী হাসান শুভ (২৫), এবং আহত মো. আরিফ (২৫) একই গ্রামের গনি হাওলাদারের ছেলে। আহত আরফকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের বন্ধু রাকিব খান জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাতে তারা এক বন্ধুকে বরিশাল লঞ্চঘাটে পৌঁছে দিয়ে পুনরায় দুটি মোটরসাইকেলযোগে লেবুখালী ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নগরীর বান্দ রোডের কেডিসি গলির মুখে পৌঁছালে শুভর মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার পিছনে ধাক্কা দিয়ে সড়ক ডিভাইডারের লোহার পাইপের সাথে প্রচণ্ড আঘাত পান চালক শুভ ও আরোহী আরিফ। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ভাই আল-আমিন জানান, ‘শুভ সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। পাঁচ মাস আগে তিনি ছুটি নিয়ে দেশে আসেন এবং বর্তমানে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তবে কী কারণে শুভ বরিশালে এসেছিলেন, সে বিষয়ে জানা নেই তার।’ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আহত ব্যক্তির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর অটোরিকশাসহ চালক পালিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।