বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ইউজারনেম ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগের মতোই ফোন নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে।
মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ কয়েক বছর ধরে ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কাজ করছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করতে পারবেন। তবে ফিচারটি ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে চালু হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের শেষ দিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
হোয়াটসঅ্যাপের তথ্যমতে, ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে যেকোনো ইউজারনেম নির্বাচন করতে পারবেন। তবে সেটি অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারবে না। এছাড়া জনপ্রিয় তারকা, ভিআইপি ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু ইউজারনেম সংরক্ষিত রাখা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কনটেন্ট নির্মাতারা চাইলে তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের একই ইউজারনেম হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যবহার করতে পারবেন।
যখন কোনো দেশে এই সুবিধা চালু হবে, তখন ব্যবহারকারীরা একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর Settings > Account > Username অপশনে গিয়ে নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সেট করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা চাইলে একটি Username Key নির্ধারণ করতে পারবেন, যা জানলে তবেই অন্য কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।
মেটা জানিয়েছে, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। তাই একই ইউজারনেম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই আগে থেকে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম সার্চ করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র যাদের কাছে নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকবে, তারাই সেই ব্যক্তিকে বার্তা পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় এই ফিচার বন্ধ করতে বা নিজেদের ইউজারনেম পরিবর্তন করতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, কারণ ফোন নম্বর ব্যক্তিগত তথ্য এবং জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে যুক্ত। ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবে, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।
তবে প্রাথমিকভাবে ইউজারনেম অন্যদের জানাতে হবে লিখিত বার্তা বা মুখে বলার মাধ্যমে। এখনই কিউআর কোড স্ক্যান করে শুধু ইউজারনেমের সাহায্যে যোগাযোগের সুবিধা থাকছে না।
উল্লেখ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং ওয়্যারের মতো অ্যাপগুলোতে বহু বছর ধরেই ইউজারনেমের মাধ্যমে ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
এআই-চালিত শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ (Phia)-কে ঘিরে ওঠা ‘কুকি স্টাফিং’ অভিযোগের কারণে বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা ও দেওয়ানি মামলার মুখে পড়তে হতে পারে। সাইবার ল’ ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার স্টার ক্যাশম্যান জানান, ফেডারেল ওয়্যার জালিয়াতির ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই দশকের কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রসিকিউটরদের প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে, ফিবি গেটস জেনেশুনেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই স্কিমে অংশ নিয়েছিলেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে ক্যাশম্যান বলেন, ‘এটি কোনো অসতর্ক বা অবহেলাজনিত ভুল হতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওয়্যার জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে এটি দেখাতে হবে যে, এই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর (অ্যাফিলিয়েট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) অর্থ আত্মসাৎ করার জন্য জেনেশুনে একটি সুসংগঠিত প্রতারণার ছক কষা হয়েছিল।’ ক্যাশম্যানের মতে, ফিবি গেটস ও ফিয়ার জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ হতে পারে আর্থিক ক্ষতি। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার সম্ভাবনাই বেশি।’ ক্যাশম্যান বলেন, ফিয়ার কথিত এমন কর্মকাণ্ডের কারণে যেসব পক্ষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা চাইলে কমিশন, চুক্তি ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের পাশাপাশি গোপনীয়তা এবং ভোক্তা-অধিকার সুরক্ষার ইস্যুতে দেওয়ানি মামলা করতে পারবেন। মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের ২৩ বছর বয়সী মেয়ে ফিবি গেটস এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী সোফিয়া কিয়ানি মিলে ‘ফিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি এআই-চালিত শপিং প্ল্যাটফর্ম, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাদের কনজ্যুমার অ্যাপ এবং ব্রাউজার এক্সটেনশন চালু করে। এ সপ্তাহে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফিয়ার ব্রাউজার এক্সটেনশনটি ক্রেতাদের ডিভাইসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাফিলিয়েট ট্র্যাকিং কুকি বসিয়ে দিত। এমনকি ক্রেতারা কোনো পণ্য না কিনলেও ফিয়া বিক্রির কৃতিত্ব দাবি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে রাখত। প্রযুক্তি বিশ্বে এই পদ্ধতিটি ‘কুকি স্টাফিং’ নামে পরিচিত। ব্লুমবার্গের মতে, এই চর্চার ফলে নাইকি, নর্ডস্ট্রম এবং গ্যাপ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব কোম্পানি এখনো এই কেলেঙ্কারি নিয়ে জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করেনি। প্রতিবেদনে ফিয়ার অভ্যন্তরীণ স্ল্যাক বার্তা এবং সোর্স কোড উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জনসমক্ষে এই সমস্যাটি প্রকাশ করার কয়েক মাস আগেই স্বয়ংক্রিয় কুকি-প্লেসমেন্ট ফিচারের বিষয়টি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতারা জানতেন। ফিয়া অবশ্য ব্লুমবার্গের এই প্রতিবেদনের কিছু বিষয় অস্বীকার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। ক্যাশম্যান বলেন, ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু করা হলেও, মামলা বা বিচার প্রক্রিয়া কখনোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হয় না।’ তিনি আরও যোগ করেন, পরিচ্ছন্ন অতীত থাকা একজন তরুণ উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে প্রথম অপরাধেই সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার ঘটনা ‘খুবই বিরল’। তবে আইনি মামলার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ক্যাশম্যান বলেন, ‘যদি এটি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এই কথিত প্রতারণার দায়ে তাকে এবং তার কোম্পানিকে আদালতে নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।’ এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লাভজনক অ্যাফিলিয়েট-মার্কেটিং সিস্টেম, যা ফিয়ার ব্যবসার মূল ভিত্তি। কোনো ক্রেতা যখন কোনো অ্যাফিলিয়েটের লিংক বা কুপন ব্যবহার করে পণ্য কেনেন, তখন একটি ট্র্যাকিং কুকি সেই অ্যাফিলিয়েটকে শনাক্ত করে, যার ফলে তারা কমিশন পেয়ে থাকে। ‘কুকি স্টাফিং’ এই সিস্টেমকে ম্যানিপুলেট করতে পারে। এর মাধ্যমে ট্র্যাকিং কুকি বসিয়ে কোনো অ্যাফিলিয়েট এমন বিক্রির কৃতিত্বও নিতে পারে, যা মূলত তারা বিক্রিই করেনি। দীর্ঘদিনের বিজ্ঞাপন গবেষক বেন এডেলম্যান ফিয়ার এই কার্যক্রম পর্যালোচনা করেছেন। তিনি নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেন, যখন ব্রাউজার এক্সটেনশনের মতো ক্লায়েন্ট-সাইড সফটওয়্যার জড়িত থাকে, তখন তিনি এটিকে ‘ফোর্সড ক্লিকস’ বা ‘জোরপূর্বক ক্লিক’ বলতে বেশি পছন্দ করেন। যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কুকি স্টাফিংয়ের সঙ্গে এর পার্থক্য ‘খুবই সামান্য’। এক ইমেইল বার্তায় এডেলম্যান বলেন, ‘ব্যবহারকারী যখন কোনো লিংকের সঙ্গে সেভাবে যুক্তই হননি, তখন একটি এক্সটেনশনের অ্যাফিলিয়েট লিংক চালু করার বা অ্যাফিলিয়েট কুকি বসানোর কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না।’ ‘তবে এর একটি সুস্পষ্ট অন্যায্য কারণ রয়েছে, আর তা হলো— আরও বেশি (প্রচুর) অর্থ উপার্জন করা।’ এডেলম্যান এই জোরপূর্বক ক্লিককে ‘নেটওয়ার্ক এবং ব্যবসায়িক নিয়মের সবচেয়ে মৌলিক লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এর ফলে একটি অ্যাফিলিয়েটের আয় দ্রুত বেড়ে যায়, অন্যদিকে বিক্রেতাদের খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। পারফরম্যান্স-মার্কেটিং শিল্পে কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্ব করা দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অ্যাটর্নি রিচার্ড নিউম্যান দ্য পোস্টকে জানান, অ্যাফিলিয়েট চুক্তিতে সাধারণত কুকি স্টাফিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। নিউম্যান বলেন, ‘কুকি স্টাফিং... সাধারণত এমন একটি পদ্ধতি যার কারণে কমিশন বাতিল হয়ে যায়।’ প্রসিকিউটররা যদি প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেন, তবে ফিবি গেটসকে আরও অনেক বড় আইনি ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে। তবে নিউম্যানের মতে, এই ধরনের বিবাদ ‘সাধারণত’ বেসরকারি পক্ষগুলোর মধ্যকার চুক্তিভিত্তিক বিষয় হয়ে থাকে। যেসব অ্যাফিলিয়েট এই ধরনের শর্ত লঙ্ঘন করে, তাদের সম্পর্কে নিউম্যান বলেন, ‘তারা তাদের কমিশন হারায়।’ ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, বিতর্কিত ফিচারগুলো বন্ধ করার পর ফিয়ার গড় দৈনিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার থেকে নেমে ১০ হাজার থেকে ২৮ হাজার ডলারের মধ্যে চলে আসে। যদিও ফিয়া দাবি করেছে, তাদের অধিকাংশ মনিটাইজেশন বা আয়ের খাত বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই মূলত এই পতন ঘটেছে। নিউ ইয়র্ক পোস্ট এই বিষয়ে ফিবি গেটস এবং ফিয়ার মন্তব্য জানতে চেয়েছে।
স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি ফিচার চালু করেছে। আর এই ফিচারের নাম ‘নাও প্লেয়িং’, যার মাধ্যমে এখন বন্ধুদের রিয়েল টাইমে শোনা গান দেখা যাবে। ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচারটি স্ন্যাপ ম্যাপে যুক্ত করা হয়েছে। শুরুতে এটি স্পটিফাইয়ের সঙ্গে কাজ করবে। টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে জানা যায়, নতুন এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে নিজের স্পটিফাই অ্যাকাউন্ট স্ন্যাপচ্যাট-এর সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এরপর তিনি বর্তমানে যে গানটি শুনছেন, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ন্যাপ ম্যাপে বন্ধুদের কাছে দেখা যাবে। একইভাবে বন্ধুরাও কী গান শুনছেন, তা রিয়েল টাইমে জানা যাবে। স্ন্যাপচ্যাটের মিউজিক বিভাগের প্রধান ম্যানি অ্যাডলার বলেন, গান মানুষের অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বন্ধুদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগই দেবে ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচার। ‘নাও প্লেয়িং’ ফিচারটি শুধু স্ন্যাপ ম্যাপেই সীমাবদ্ধ নয়। স্পটলাইট ভিডিওর সঙ্গেও এটি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কোনো স্পটলাইট ভিডিওতে পছন্দের গান শুনলে সেটি সরাসরি স্পটিফাইয়ে সংরক্ষণ করা যাবে। চাইলে গানটির স্পটিফাই পেজেও প্রবেশ করা যাবে। তবে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছে স্ন্যাপচ্যাট। কে আপনার শোনা গান দেখতে পারবেন, তা আপনি নিজেই নির্ধারণ করতে পারবেন। এ ছাড়া আপনার আগের শোনা গান বা পুরো প্লেলিস্ট কেউ দেখতে পারবেন না। শুধু বর্তমানে যে গানটি বাজছে, সেটিই দেখা যাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গান শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ার মধ্যেই নতুন এই ফিচার এনেছে স্ন্যাপচ্যাট। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং স্পটিফাই ইতিমধ্যে এ ধরনের সুবিধা চালু করেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো স্ন্যাপচ্যাটও। যেসব দেশে স্পটিফাই ও স্ন্যাপচ্যাট উভয় সেবা চালু আছে, সেখানে ধাপে ধাপে নতুন এই ফিচার উন্মুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্ন্যাপচ্যাট।
বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ইউজারনেম ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগের মতোই ফোন নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে। মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ কয়েক বছর ধরে ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কাজ করছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সংরক্ষণ (রিজার্ভ) করতে পারবেন। তবে ফিচারটি ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে চালু হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের শেষ দিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। হোয়াটসঅ্যাপের তথ্যমতে, ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে যেকোনো ইউজারনেম নির্বাচন করতে পারবেন। তবে সেটি অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারবে না। এছাড়া জনপ্রিয় তারকা, ভিআইপি ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু ইউজারনেম সংরক্ষিত রাখা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কনটেন্ট নির্মাতারা চাইলে তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের একই ইউজারনেম হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যবহার করতে পারবেন। যখন কোনো দেশে এই সুবিধা চালু হবে, তখন ব্যবহারকারীরা একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর Settings > Account > Username অপশনে গিয়ে নিজেদের পছন্দের ইউজারনেম সেট করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা চাইলে একটি Username Key নির্ধারণ করতে পারবেন, যা জানলে তবেই অন্য কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। মেটা জানিয়েছে, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। তাই একই ইউজারনেম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই আগে থেকে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম সার্চ করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র যাদের কাছে নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকবে, তারাই সেই ব্যক্তিকে বার্তা পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় এই ফিচার বন্ধ করতে বা নিজেদের ইউজারনেম পরিবর্তন করতে পারবেন। হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, কারণ ফোন নম্বর ব্যক্তিগত তথ্য এবং জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে যুক্ত। ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই গোপনীয়তা রক্ষা এবং ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবে, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে। তবে প্রাথমিকভাবে ইউজারনেম অন্যদের জানাতে হবে লিখিত বার্তা বা মুখে বলার মাধ্যমে। এখনই কিউআর কোড স্ক্যান করে শুধু ইউজারনেমের সাহায্যে যোগাযোগের সুবিধা থাকছে না। উল্লেখ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং ওয়্যারের মতো অ্যাপগুলোতে বহু বছর ধরেই ইউজারনেমের মাধ্যমে ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।