খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে পিটিশন, মুখ খুললেন স্প্যানিশ তারকা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর, ম্যাচটি পুনরায় আয়োজনের দাবি তুলে একটি অনলাইন পিটিশন চালু করেছে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একটি অংশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং নতুন রেফারির অধীনে খেলা আয়োজনের দাবিতে ইতিমধ্যেই সেই পিটিশনে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। তবে এই পুরো বিষয়টিকে স্রেফ বাইরের গুঞ্জন হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো।

 

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ত’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে টটেনহ্যাম হটস্পারের এই তারকা ফুটবলার জানান, ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের কোনো পিটিশনের খবর তিনি পড়েননি বা এ নিয়ে ভাবছেন না। পোরোর মতে, এগুলো কেবল মাঠের বাইরের মানুষের নিজস্ব মতামত বা বক্তব্য। বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এসব অপ্রাসঙ্গিক চর্চা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন তিনি বোধ করেন না।

 

অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরে স্পেন। ম্যাচের শেষভাগে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে খেলার নিয়ন্ত্রণ স্প্যানিশদের দখলে চলে যায় এবং পরবর্তীতে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের এক গোল ম্যাচ বিজয়ী ব্যবধান গড়ে দেয়।

 

হারের পর আর্জেন্টাইন সমর্থকদের একাংশ অভিযোগ তোলেন, রেফারির সিদ্ধান্ত তাঁদের বিপক্ষে গেছে এবং স্বচ্ছতার স্বার্থে ফিফার কাছে ম্যাচ পুনর্নির্বাচনের আবেদন জানান। যদিও ফুটবলের ইতিহাসে অতীতে কোনো বিশ্বকাপ ফাইনাল পুনরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো উদাহরণ বা নিয়ম নেই।

 

বিশ্বজয়ের এই গৌরবময় অর্জনের পরও নিজের অর্জনের ক্ষুধা বিন্দুমাত্র কমেনি বলে জানান পেদ্রো পোরো। তিনি বলেন, ক্যারিয়ারে তাঁর এখনো অনেক দূর যাওয়ার বাকি এবং সবসময় নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত করতে পছন্দ করেন। তিনি নিজেকে একজন অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করে জানান, তাঁর পরিচিত সকলেই জানেন যে তিনি সবসময় আরও বড় অর্জনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করেন।

 

প্রায় দুই মাসের দীর্ঘ ও শারীরিক-মানসিকভাবে ব্যস্ত বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে নিজের শহরে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পোরো। দেশের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসাকে নিজের জীবনের সেরা উপহার উল্লেখ করে তিনি জানান, ভক্তদের জন্য দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে ট্রফি জিততে পারাটা তাঁর কাছে এক স্মরণীয় অনুভূতি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অবসরের পরও আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরতে পারেন মেসি

বিশ্বকাপের ফাইনালেই কি শেষ হয়ে গেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়? আপাতদৃষ্টিতে উত্তরটা ‘হ্যাঁ’। কিন্তু আর্জেন্টাইন ফুটবলে এখন নতুন এক সম্ভাবনার আলোচনা। জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণার পরও দেশের মাটিতে অধিনায়ককে আরেকবার মাঠে নামানোর কথা ভাবছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। তবে সেই ম্যাচ হবে প্রতিযোগিতামূলক নয়, মেসিকে সম্মান জানিয়ে একটি বিশেষ বিদায়ী আয়োজন। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে মেসির জন্য বিশেষ একটি বিদায়ী প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের কথা ভাবছে এএফএ। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মেসি নিজে এমন ম্যাচে খেলতে রাজি কি না। সাধারণত কিংবদন্তি ফুটবলারদের বিদায় হয় মাঠে, সমর্থকদের সামনে। মেসির ক্ষেত্রে সেই সুযোগ হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে হাতে লেখা তিন পাতার আবেগঘন বার্তায় অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ফলে আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে দেশের মাটিতে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানোর সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের পরবর্তী ফিফা উইন্ডোকে কেন্দ্র করে মেসির বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে এএফএ। ওই সময়ে আর্জেন্টিনা দুটি বা তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে। কয়েকটি প্রতিবেদনে ম্যাচের সংখ্যা তিন বা চারটি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক পাবলো গ্রাভেলোনের দাবি, সবকিছু ঠিক থাকলে মেসির শেষ ম্যাচটি হতে পারে আর্জেন্টিনার মাটিতেই। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল। আর্জেন্টিনা নিয়মিতই এই মাঠে নিজেদের হোম ম্যাচ খেলে। তবে মেসির জন্মশহর রোজারিওতেও ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া কর্দোবার নামও আলোচনায় এসেছে। টিএনটি স্পোর্টস আর্জেন্টিনার সাংবাদিক মাক্সিমিলিয়ানো গ্রিলো জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে দুটি বা তিনটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে এএফএ। ম্যাচগুলোর ভেন্যু হিসেবে বুয়েনস আইরেস, কর্দোবা ও রোজারিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে কোনো ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মেসির বিদায়ী ম্যাচের তারিখ, প্রতিপক্ষ কিংবা ভেন্যু, কিছুই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ফলে আপাতত পুরো বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালকেই ধরা হচ্ছে। তবে এএফএর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেই ম্যাচটি আর তার শেষ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি নাও হতে পারে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমে সমর্থকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়ার সুযোগও পেতে পারেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বয়সের নথিতে গরমিল, নিষেধাজ্ঞায় ভারতের যুব ক্রিকেটার; তালিকায় বিশ্বকাপজয়ীও

ছবি: সংগৃহীত

জোন্সকে সরিয়ে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের দায়িত্বে মিশু

ছবি: সংগৃহীত

মেসির অবসরের পর সেপ্টেম্বরে প্রথমবার মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত
ব্যালন ডি’অর নিয়ে মরিনিয়ো-এনরিকের কথার লড়াই

ফুটবলারদের জন্য সবেচেয়ে মর্যাদপূর্ণ পুরষ্কার ব্যালন ডি’অর কে জিততে পারেন, সেটা নিয়ে এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেল কথার লড়াই। ২০২৬ ব্যালন ডি’অর ট্রফি উঁচিয়ে ধরার লড়াইয়ে নিজের শিষ্যদের পক্ষেই শক্ত অবস্থান নিয়েছেন লুইস এনরিকে। ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক এই ব্যক্তিগত পুরস্কারের বিজয়ী প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) স্কোয়াড থেকেই আসা উচিত বলে দাবি তাঁর। যেখানে কদিন আগেই রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনিয়োর কণ্ঠে ছিল নিজের এক শিষ্যকে এগিয়ে রাখার চেষ্টা।  আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী হিসেবে একজনের নাম ঘোষণা করবেন আয়োজকেরা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জেতা চমৎকার এক মৌসুমের পর বর্ষসেরার এই দৌড়ে পিএসজির বেশ কয়েকজন ফুটবলার ভালোভাবেই এগিয়ে আছেন। পিএসজিতে গত মৌসুমে নজর কাড়ছেন খিচা খিচা কাভারাস্কেইয়া, উসমান দেম্বেলে ও ফাবিয়ান রুইজ। তাঁদের মধ্যে আলাদাভাবে চোখ কাড়ছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজ, স্পেনের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতে নিজের সাফল্যের ঝুলিকে করেছেন আরও সমৃদ্ধ।  ব্যালন ডি’অর জয়ে ফেভারিট নিয়ে নিজের শিষ্যদেরই এগিয়ে রাখছেন। মোনাকোর বিপক্ষে পিএসজির তৃতীয় রাউন্ডের লিগ ওয়ান ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘কে ব্যালন ডি'অর জিতবে তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই, তবে আমার মতে বিজয়ী হওয়া উচিত পিএসজির কোনো খেলোয়াড়।’ এনরিকে আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে সবকিছুই আছে। আমাদের এমন খেলোয়াড় আছে যারা সবাই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে, ফাবিয়ান রুইজ বিশ্বকাপ জিতেছেন, আর উসমান দেম্বেলে গত মৌসুমে ব্যালন ডি'অর জিতেছেন। তাই আমার মতে, বিজয়ী হওয়া উচিত পিএসজি থেকেই। এটা আমার মতামত, আর আমি ভুলও হতে পারি।’ কদিন আগে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ মরিনিয়ো সরাসরি না বললেও, পরোক্ষভাবে নিজের দলের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপেকে ব্যালন ডি’অর জয়ে এগিয়ে রেখেছিলেন। ২০২৬  বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তিনিও এই দৌড়ে আছেন। এছাড়া  আছেন লামিন ইয়ামাল, হ্যারি কেইন, লিওনেল মেসি, রদ্রি এবং মাইকেল ওলিসের মতো তারকারা।  এনরিকে আসলে হোসে মরিনহোর কথার জবাবটাই যেন দিচ্ছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদের কোচের মতে, ‘এই বছরের ব্যালন ডি'অর বিজয়ী অগত্যা পিএসজি বা স্পেন জাতীয় দল থেকেই হতে হবে এমন কোনো কথা নেই।’  গত শনিবার মালাগার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মরিনিয়ো তাঁর যুক্তি তুলে ধরেন, ‘এটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে দারুণ একটা পুরস্কার। এই পুরস্কার একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। খুব উঁচু মানের প্রায় ১২ জন খেলোয়াড় আছে, আর তাদের মধ্যে ৩-৪ জন আমাদের (রিয়াল মাদ্রিদে) আছে।’ ‘স্পেশাল ওয়ান’ আরও বলেন, ‘আমার মতে, ব্যালন ডি'অর তাদেরই পাওয়া উচিত, যাদের অবসরের পর আমরা চিরকাল মিস করব। আমি ম্যারাডোন, (রোনালদো) নাজারিও, মেসি, জিদান আর মাথেউসকে মিস করি। শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ বা বিশ্বকাপ জেতার কারণেই কোনো খেলোয়াড়কে ব্যালন ডি'অর দেওয়া যায় না। চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ীকে পুরস্কৃত করতে চাইলে, তাহলে ব্যালন ডি'অর লুইস এনরিকেকে দিয়ে দাও।’ মরিনিয়ো আরও বলেন, ‘স্পেনের ব্যাপারে বলতে গেলে, দে লা ফুয়েন্তে অবশ্যই এটা প্রাপ্য। এটাই সর্বোচ্চ সম্মান। বিশ্বসেরা হওয়া আলাদা ব্যাপার, সেটার জন্য পিএসজি বা স্পেন থেকে হতেই হবে এমন নয়। দুই-তিন বা চারজন আছে, আর আমরা জানি তারা কারা। আমরা জানি তারা কোথায় আছে, তারা এখানেই আছে। আমরা জানি এই গ্রীষ্মে ব্যক্তিগতভাবে কে ইতিহাস গড়েছে।’ শেষ পর্যন্ত ‘সোনার বল’ কার হাতে উঠবে সেটাই দেখার অপেক্ষা। ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্সে সবার থেকে এগিয়ে থাকা কিলিয়ান এমবাপে নাকি দলীয় সাফল্যে পাওয়া অন্য কেউ? 

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
স্মৃতি মান্ধানা। সংগৃহীত ছবি

নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড স্মৃতি মান্ধানার

ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনার রিজার্ভ দল ছেড়ে কাতারের ক্লাবে রজার মার্টিনেজ

ছবি: সংগৃহীত

৫ রানে ৭ উইকেট, হ্যাটট্রিক করে লঙ্কান ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস আতাপাত্তুর

ছবি: সংগৃহীত
শ্রীলঙ্কার বদলে ভারত, বদলে গেল নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক

শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা ছিল ইতিহাসের প্রথম নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বদলে গেছে আয়োজক দেশ। শ্রীলঙ্কার পরিবর্তে এবার ভারতের মাটিতে বসছে আইসিসির এই নতুন টুর্নামেন্ট। ২০২৭ সালের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে প্রতিযোগিতাটি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে, উদ্বোধনী নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক হিসেবে ভারতকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর আগে শ্রীলঙ্কা থেকে টুর্নামেন্টটি সরিয়ে নেওয়ার খবর জানিয়েছিল ক্রিকবাজ। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা থেকে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভারতে দুটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্ট। মুম্বাইয়ের ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ার ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়াম এবং ভাদোদরার ভাদোদরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচগুলো। আইসিসির বিবৃতি অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য তিনটি দেশ—বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতকে মূল্যায়ন করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গত ১ সেপ্টেম্বর আইসিসি বোর্ডের অনুমোদন পায় ভারত। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বর্তমানে সরকার-নিযুক্ত একটি ‘ট্রান্সফরমেশন কমিটি’র অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ক্রিকেট বোর্ডের সংস্কার, সংবিধান ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে এই কমিটির ওপর। তবে আইসিসির নীতিমালা অনুযায়ী, রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া কোনো অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনার নিয়ম নেই।  যে কারণে এর আগেও শ্রীলঙ্কা ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকারও হারিয়েছিল। পরে সেই টুর্নামেন্ট দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। যে ছয় দল খেলবে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম আসরে অংশ নেবে ছয়টি দল—ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা। রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতা। অর্থাৎ প্রতিটি দল অন্য দলগুলোর বিপক্ষে খেলবে। এরপর সেরা দলগুলো শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে যাবে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

খেলোয়াড় বিক্রি করে ইংলিশ ক্লাব চেলসির বিশ্বরেকর্ড

ভারতের পর আবারও এশিয়া সফর করবে ব্রাজিল

সিরি ‘আ’-র বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার হাতে সেস্ক ফাব্রেগাস। ছবি: এএফফি

কোমোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তুলে সিরি ‘আ’-র বর্ষসেরা কোচ ফাব্রেগাস

0 Comments