দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন প্রায় অতিষ্ঠ। বাইরে যেমন প্রখর রোদ ও গরম, তেমনি ঘরের ভেতরেও যেন মিলছে না স্বস্তির ছোঁয়া। অনেকেই এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) কেনার কথা ভাবছেন। কিন্তু সবার পক্ষে এসি কেনা বা নিয়মিত চালিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বিদ্যুতের বাড়তি খরচও অনেকের জন্য বড় চিন্তার বিষয়। তবে কিছু সহজ, কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এসি ছাড়াও ঘর এবং শরীরকে অনেকটাই শীতল রাখা সম্ভব। জেনে নিন প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পাওয়ার ১৪টি কার্যকর কৌশল।
১. বেশি বেশি পানি পান করুন
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও জৈবিক প্রকৌশলের সিনিয়র লেকচারার ইমেরিটাস ওয়েনডেল পোর্টারের মতে, শরীরকে ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। পানি ঠান্ডা হোক বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার—এটি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ শরীরে প্রবেশ করার পর পানি নিজেই শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেয়।
পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরে ঘামের উৎপাদন স্বাভাবিক থাকে। আর ঘাম বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দেয়, ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা থাকে।
২. ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করুন
গরমে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে আসে এবং তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাওয়া যায়। সম্ভব হলে পেপারমিন্টযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। এতে থাকা মেনথল মস্তিষ্কের বিশেষ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে, যা শরীরে ঠান্ডার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
৩. আইসব্যাগ ব্যবহার করুন
ঘাড়, কবজি কিংবা কপালে আইসব্যাগ বা ঠান্ডা ভেজা কাপড় রাখলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। এসব স্থানে রক্তনালি ত্বকের খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে এসব অংশ ঠান্ডা হলে রক্ত দ্রুত ঠান্ডা হয়ে পুরো শরীরেও তার প্রভাব পড়ে।
৪. টেবিল ফ্যানের সঠিক ব্যবহার
সিলিং ফ্যানের পাশাপাশি একটি টেবিল ফ্যান ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস চলাচল আরও ভালো হয়। জানালার পাশে ফ্যান রাখলে এটি ঘরের গরম বাতাস বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং বাইরে থেকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করে। তবে বাইরে যদি প্রচণ্ড রোদ থাকে, তাহলে আগে জানালার পর্দা টেনে রাখুন। রোদ কমে এলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
শরীরের কাছাকাছি ফ্যান রাখলেও গরমের অস্বস্তি অনেকটাই কমে।
৫. জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করুন
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জানালার পর্দা টেনে রাখুন। এতে সূর্যের সরাসরি তাপ ঘরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং ঘরের ভেতরের তাপমাত্রাও তুলনামূলক কম থাকবে।
৬. সুতি কাপড় ব্যবহার করুন
গরমের সময় সুতি কাপড় সবচেয়ে আরামদায়ক। শুধু পোশাক নয়, বিছানার চাদর ও বালিশের কভারেও হালকা রঙের সুতি কাপড় ব্যবহার করলে ঘুমের সময় শরীর অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকে।
৭. ঘরে গাছ রাখুন
ইনডোর গাছ শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ঘরের পরিবেশও কিছুটা শীতল রাখতে সাহায্য করে। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং পরিবেশকে আরও সতেজ করে তোলে। কম আলোতে টিকে থাকতে পারে— এমন গাছ ঘরে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৮. প্রয়োজন শেষ হলে চুলা বন্ধ রাখুন
রান্না শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলা বন্ধ করে দিন। এতে যেমন গ্যাসের অপচয় কমবে, তেমনি রান্নাঘরের অতিরিক্ত তাপ অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে পড়বে না।
৯. অব্যবহৃত ঘরের দরজা বন্ধ রাখুন
যেসব ঘর ব্যবহার করা হয় না বা যেখানে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা কম, সেসব ঘরের দরজা বন্ধ রাখুন। এতে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বাতাস ব্যবহারযোগ্য ঘরেই থাকবে।
১০. বাথরুম ও রান্নাঘরে এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন
রান্নার সময় উৎপন্ন গরম বাতাস এবং গোসলের পর তৈরি হওয়া গরম বাষ্প দ্রুত বাইরে বের করে দিতে এগজস্ট ফ্যান কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
১১. দিনের বেলায় অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ রাখুন
প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলায় লাইট জ্বালিয়ে রাখবেন না। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ঘরের অতিরিক্ত তাপও কিছুটা কমবে।
১২. সম্ভব হলে ঘরের বাইরে রান্না করুন
সুযোগ থাকলে উঠান বা খোলা জায়গায় রান্না করুন। কারণ রান্নার সময় উৎপন্ন তাপ পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের ভেতরের পরিবেশ আরও গরম করে তোলে।
১৩. ঠান্ডা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান
গরমের সময় তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, ডাবের পানি, ঠান্ডা ফলের রস কিংবা অন্যান্য শীতল ফল খেতে পারেন। আইসক্রিম খেলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ অতিরিক্ত চিনি শরীরের ভেতরের বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে তাপের অনুভূতি বাড়াতে পারে।
১৪. ফ্যানের সামনে বরফের পাত্র রাখুন
টেবিল বা স্ট্যান্ড ফ্যানের সামনে একটি পাত্রে বরফ কিংবা খুব ঠান্ডা পানি রেখে দিন। ফ্যানের বাতাস বরফের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে ঘরে তুলনামূলক শীতল বাতাস ছড়িয়ে পড়ে। টেবিল ফ্যান না থাকলে সিলিং ফ্যানের নিচেও বরফের পাত্র রাখা যেতে পারে, যা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে শুধু ঘর ঠান্ডা রাখাই নয়, শরীরের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসি না থাকলেও কিছু সহজ অভ্যাস ও সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে গরমের অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান, ঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, হালকা পোশাক এবং সচেতন জীবনযাপন—এই ছোট ছোট পদক্ষেপই তীব্র গরমে এনে দিতে পারে বড় স্বস্তি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন প্রায় অতিষ্ঠ। বাইরে যেমন প্রখর রোদ ও গরম, তেমনি ঘরের ভেতরেও যেন মিলছে না স্বস্তির ছোঁয়া। অনেকেই এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) কেনার কথা ভাবছেন। কিন্তু সবার পক্ষে এসি কেনা বা নিয়মিত চালিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বিদ্যুতের বাড়তি খরচও অনেকের জন্য বড় চিন্তার বিষয়। তবে কিছু সহজ, কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এসি ছাড়াও ঘর এবং শরীরকে অনেকটাই শীতল রাখা সম্ভব। জেনে নিন প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পাওয়ার ১৪টি কার্যকর কৌশল। ১. বেশি বেশি পানি পান করুন ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও জৈবিক প্রকৌশলের সিনিয়র লেকচারার ইমেরিটাস ওয়েনডেল পোর্টারের মতে, শরীরকে ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। পানি ঠান্ডা হোক বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার—এটি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ শরীরে প্রবেশ করার পর পানি নিজেই শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরে ঘামের উৎপাদন স্বাভাবিক থাকে। আর ঘাম বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দেয়, ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা থাকে। ২. ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করুন গরমে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে আসে এবং তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাওয়া যায়। সম্ভব হলে পেপারমিন্টযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। এতে থাকা মেনথল মস্তিষ্কের বিশেষ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে, যা শরীরে ঠান্ডার অনুভূতি সৃষ্টি করে। ৩. আইসব্যাগ ব্যবহার করুন ঘাড়, কবজি কিংবা কপালে আইসব্যাগ বা ঠান্ডা ভেজা কাপড় রাখলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। এসব স্থানে রক্তনালি ত্বকের খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে এসব অংশ ঠান্ডা হলে রক্ত দ্রুত ঠান্ডা হয়ে পুরো শরীরেও তার প্রভাব পড়ে। ৪. টেবিল ফ্যানের সঠিক ব্যবহার সিলিং ফ্যানের পাশাপাশি একটি টেবিল ফ্যান ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস চলাচল আরও ভালো হয়। জানালার পাশে ফ্যান রাখলে এটি ঘরের গরম বাতাস বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং বাইরে থেকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করে। তবে বাইরে যদি প্রচণ্ড রোদ থাকে, তাহলে আগে জানালার পর্দা টেনে রাখুন। রোদ কমে এলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন। শরীরের কাছাকাছি ফ্যান রাখলেও গরমের অস্বস্তি অনেকটাই কমে। ৫. জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করুন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জানালার পর্দা টেনে রাখুন। এতে সূর্যের সরাসরি তাপ ঘরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং ঘরের ভেতরের তাপমাত্রাও তুলনামূলক কম থাকবে। ৬. সুতি কাপড় ব্যবহার করুন গরমের সময় সুতি কাপড় সবচেয়ে আরামদায়ক। শুধু পোশাক নয়, বিছানার চাদর ও বালিশের কভারেও হালকা রঙের সুতি কাপড় ব্যবহার করলে ঘুমের সময় শরীর অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকে। ৭. ঘরে গাছ রাখুন ইনডোর গাছ শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ঘরের পরিবেশও কিছুটা শীতল রাখতে সাহায্য করে। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং পরিবেশকে আরও সতেজ করে তোলে। কম আলোতে টিকে থাকতে পারে— এমন গাছ ঘরে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ৮. প্রয়োজন শেষ হলে চুলা বন্ধ রাখুন রান্না শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলা বন্ধ করে দিন। এতে যেমন গ্যাসের অপচয় কমবে, তেমনি রান্নাঘরের অতিরিক্ত তাপ অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে পড়বে না। ৯. অব্যবহৃত ঘরের দরজা বন্ধ রাখুন যেসব ঘর ব্যবহার করা হয় না বা যেখানে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা কম, সেসব ঘরের দরজা বন্ধ রাখুন। এতে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বাতাস ব্যবহারযোগ্য ঘরেই থাকবে। ১০. বাথরুম ও রান্নাঘরে এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন রান্নার সময় উৎপন্ন গরম বাতাস এবং গোসলের পর তৈরি হওয়া গরম বাষ্প দ্রুত বাইরে বের করে দিতে এগজস্ট ফ্যান কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ১১. দিনের বেলায় অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ রাখুন প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলায় লাইট জ্বালিয়ে রাখবেন না। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ঘরের অতিরিক্ত তাপও কিছুটা কমবে। ১২. সম্ভব হলে ঘরের বাইরে রান্না করুন সুযোগ থাকলে উঠান বা খোলা জায়গায় রান্না করুন। কারণ রান্নার সময় উৎপন্ন তাপ পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের ভেতরের পরিবেশ আরও গরম করে তোলে। ১৩. ঠান্ডা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান গরমের সময় তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, ডাবের পানি, ঠান্ডা ফলের রস কিংবা অন্যান্য শীতল ফল খেতে পারেন। আইসক্রিম খেলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ অতিরিক্ত চিনি শরীরের ভেতরের বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে তাপের অনুভূতি বাড়াতে পারে। ১৪. ফ্যানের সামনে বরফের পাত্র রাখুন টেবিল বা স্ট্যান্ড ফ্যানের সামনে একটি পাত্রে বরফ কিংবা খুব ঠান্ডা পানি রেখে দিন। ফ্যানের বাতাস বরফের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে ঘরে তুলনামূলক শীতল বাতাস ছড়িয়ে পড়ে। টেবিল ফ্যান না থাকলে সিলিং ফ্যানের নিচেও বরফের পাত্র রাখা যেতে পারে, যা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে শুধু ঘর ঠান্ডা রাখাই নয়, শরীরের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসি না থাকলেও কিছু সহজ অভ্যাস ও সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে গরমের অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান, ঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, হালকা পোশাক এবং সচেতন জীবনযাপন—এই ছোট ছোট পদক্ষেপই তীব্র গরমে এনে দিতে পারে বড় স্বস্তি।
মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে। যে কারণে এখন অধিকাংশ মানুষেরই চুল পড়ে যাচ্ছে। চুল পড়া বন্ধ করতে এবং নতুন চুল গজাতে অনেকেই দামি শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরোয়া কিছু উপাদান নিয়মিত চুলের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকতে সাহায্য করবে। গবেষণায় এমন তিনটি উপাদানের কথা বলা হয়েছে, যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। প্রথমেই রয়েছে রোজমেরি। রোজমেরি একটি সুগন্ধি ভেষজ উদ্ভিদ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রোজমেরি স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। ফলে চুলের গোড়ায় বেশি পুষ্টি পৌঁছয় এবং নতুন চুল গজানোর পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি চুল পাতলা হওয়ার সমস্যাও কিছুটা কমাতে পারে। দ্বিতীয় উপাদান হল মেথি। আমাদের রান্নাঘরে সহজেই পাওয়া যায় এই মশলা। মেথিতে প্রচুর প্রোটিন, আয়রন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। এগুলি চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়া চুল ভাঙা এবং অতিরিক্ত ঝরে পড়ার সমস্যাও কিছুটা কমতে পারে। তৃতীয় উপাদান হল কারি পাতা। এই পাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান। এগুলি চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। অনেকের মতে, নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং অকালপক্ক চুলের সমস্যাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। ব্যবহার পদ্ধতি প্রথমে নারকেল তেল বা আপনার ব্যবহৃত অন্য কোনও চুলের তেল হালকা গরম করুন। তারপর তাতে কয়েকটি রোজমেরি পাতা, এক চামচ মেথি এবং কিছু কারি পাতা দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর তেল ঠান্ডা করে ছেঁকে বোতলে ভরে রাখুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই তেল মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে লাগাতে পারেন। কিছুক্ষণ বা সারা রাত রেখে পরদিন শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তেল লাগালেই হবে না। চুল ভালো রাখতে সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত ঘুমানো এবং মানসিক চাপ কমানোও জরুরি।
ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হলে লিভারের কোষগুলোতে অতিরিক্ত চর্বি জমে। সাধারণত লিভারে (যকৃৎ) কিছু পরিমাণ চর্বি থাকে। কিন্তু যখন চর্বির পরিমাণ বেড়ে লিভারের ওজনের ৫-১০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়, তখন এটিকে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হিসেবে ধরা হয়। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে প্রদাহ, সিরোসিস বা লিভার ফেইলিউরের মতো সমস্যা হতে পারে। ফ্যাটি লিভারের দুটি শ্রেণিবিভাগ অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ: অ্যালকোহল পানের কারণে যদি ফ্যাটি লিভার হয়, তবে দ্রুত এটি পান বন্ধ করা উচিত। অন্যথায় তা সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারে পরিণত হতে পারে। নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ: এটি প্রধানত বিপাকীয় ব্যাধির কারণে হয়। এর কারণ অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। খাদ্যতালিকা জটিল কার্বোহাইড্রেট, সুষম চর্বি নির্বাচন ও পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। যেহেতু ফ্যাটি লিভার রোগে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স একটি বড় সমস্যা, তাই পরিশোধিত শ্বেতসার বা সাদা শর্করা এবং চিনি গ্রহণ কমালে লিভারে চর্বি উৎপাদন কমে। খাদ্যতালিকায় বেশি শাকসবজি, শিম, ডাল, গোটা ফল, বাদাম, বিভিন্ন বীজ, মাছ, জলপাই তেল বা যেকোনো তেল পরিমিত খাওয়া লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফ্যাটি লিভার রোধে উপকারী কিছু খাবার হলুদ: এটি শুধু মসলাই নয়, এটি চর্বি হজমপ্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে ও লিভারে চর্বি জমা কমায়। লেবু: লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে; যা একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি লিভারকে গ্লুটাথিওন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লেবুতে নারিঞ্জেনিন নামক একটি যৌগ রয়েছে, যা লিভারের প্রদাহ কমায়। গ্রিন টি: গ্রিন টি মস্তিষ্কের কার্যকারিতাবাড়ায়, হজমশক্তি উন্নত করে, ব্যাকটেরিয়া দূর করে, চর্বি বিপাক ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। পেঁপে: পেঁপের ফল ও বীজে চর্বি পোড়ানোর চমৎকার গুণ রয়েছে, যা ফ্যাটি লিভারের জন্য উপকারী। লিন প্রোটিন: প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন চর্বিহীন মুরগি, মাছ, সামুদ্রিক খাবার, ডিম, সয়া পণ্য ও ডাল স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সহায়ক। দুগ্ধজাত খাবার: ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য, যেমন স্কিম মিল্ক, লো-ফ্যাট দই ও পনির অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।