জাতীয়

দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, ফের বন্যার শঙ্কা

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬
ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ছবি: সংগৃহীত
ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দুটি নদীর তিনটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব, উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

বুধবার (২২ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুশিয়ারা নদীর সুনামগঞ্জের মারকুলী স্টেশনে পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর ছাতক স্টেশনের পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৭৫টিতে পানি বাড়ছে, ৪৬টিতে কমছে ও ছয়টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। এখন সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

 

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই দিনে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এছাড়া হরিদাসপুরে ৫৮ মিলিমিটার ও জাফলংয়ে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় থাকায় বৃষ্টির এ প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

 

পূর্বাভাসে বলা হয়, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী এক দিন বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

 

অন্যদিকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে।

 

এছাড়া আত্রাই নদের পানি বাড়ার কারণে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নওগাঁর নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কায় বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

 

তবে নেত্রকোনায় সোমেশ্বরী নদীর পানি কমতে থাকায় আগামী তিন দিনে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

 

শুক্রবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। পরবর্তী পাঁচদিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

 

সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় ও বাংলাদেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, বুধবার নোয়াখালীর হাতিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
কয়লা পরিবহনে বিঘ্ন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে আদানি

ভারতের রেলপথে তীব্র যানজট ও পণ্য বোঝাইয়ের ওপর একাধিক বিধিনিষেধের কারণে কয়লা পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় দেশটির গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে বলে জানিয়েছে আদানি পাওয়ার।   বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লাবাহী রেক চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়লা সরবরাহ কমে গেছে এবং সাময়িকভাবে উৎপাদন সমন্বয় করতে হয়েছে।   আদানি পাওয়ারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতে রেলপথে তীব্র যানজট এবং বর্তমানে পরিবহন ব্যবস্থায় আরোপিত একাধিক পণ্য বোঝাই সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে আদানির গোড্ডা কেন্দ্রে মালবাহী ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম পরিমাণে কয়লা সরবরাহ হচ্ছে। যার ফলে উৎপাদন সাময়িকভাবে সীমিত বা সমন্বয় করতে হচ্ছে।’    এতে আরও বলা হয়, ‘সন্ধ্যায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিনের বেলা বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকার সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে এনেছে। আদানি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-কে এ বিষয়ে জানিয়েছে। সেই সঙ্গে রেল-র‌্যাকের স্বাভাবিক চলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য ভারতের রেলওয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তারা আশা করছে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এই সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের উপর সম্ভাব্য প্রভাব সর্বনিম্ন রাখতে কোম্পানি সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।’

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত, কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

চোরচক্রের তথ্যেই উদ্ধার ৭ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণ, গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী

ছবি: সংগৃহীত
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ভিয়েতনামের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্রেপ্তার

চিকিৎসা সরঞ্জাম চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ভিয়েতনামের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী ট্রান ভান থুয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।   বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভিয়েতনামের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   কমিউনিস্ট শাসিত ভিয়েতনামে গত এক বছর ধরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানে দেশটির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন।   ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী ট্রান ভান থুয়ান দেশটির একজন শীর্ষস্থানীয় ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। বিশাল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে আটক করা হলেও ঘুষের সুনির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ জানানো হয়নি। থুয়ান ২০২০ সালে ভিয়েতনামের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।   পরে ২০২৪ সালে তাকে ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করা হয়।   চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে অনিয়মের অভিযোগ: মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিয়েত মাই মেডিকেল ইনভেস্টমেন্ট জয়েন্ট স্টক কোম্পানির বিরুদ্ধে চোরাচালান এবং হিসাবরক্ষণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত চলছে। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই উপস্বাস্থ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই কোম্পানির আরও দুজন নির্বাহী কর্মকর্তা এবং একজন হিসাবরক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   অভিযোগ রয়েছে, সিঙ্গাপুর ও হংকং থেকে ভিয়েতনামে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ আমদানির আগে সেগুলোর ব্যবসা, পুনর্বিক্রি এবং মূল্য বাড়িয়ে দেখানোর উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছিল।   এ ছাড়া বেআইনিভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে কোম্পানিটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।   দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে একের পর এক গ্রেপ্তার: বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট তো লামের নেতৃত্বে ভিয়েতনামে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরালো হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তা আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। গত মে মাসে হাসপাতালের প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে ভিয়েতনামের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নগুয়েন থি কিম তিয়েনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।   সূত্র: এএফপি

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি, ২৪ ঘণ্টায় ৫ মৃত্যু ও ১,১১০ আক্রান্ত

ছবি: সংগৃহীত

সামনে টানা ৬ দিনের সরকারি ছুটি, ছুটি পাবেন না যারা

ছবি: সংগৃহীত

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি, গাইবান্ধায় বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বরখাস্ত ও হয়রানি বন্ধে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনাল গঠন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ মিজানুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি, পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের কো-কনভেনার ড. এম. অহিদুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটুকে সাময়িক বরখাস্ত ও তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘটনায় আমরা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত’। বিবৃতিতে বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষকদের বিরূদ্ধে রাজনৈতিক বিবেচনায় তদন্ত কমিটি গঠন ও শাস্তিমূলক ব‍্যবস্থা গ্রহণ করতঃ শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করা থেকে বিরত থাকার জন‍্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটি।   বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে নানাবিধ মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হচ্ছে। এর বিস্তার শিক্ষাঙ্গন তথা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত হওয়ার কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উৎকর্ষতা বৃদ্ধি দূরের কথা, মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। মিথ্যা অজুহাতে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিরোধী মতকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক।  প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে হাই স্কুল, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের মাধ্যমে মব সৃষ্টিকে উৎসাহিত করে শিক্ষকদের শারীরিকভাবে আঘাত বা মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। নানা অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষকদের চাকুরীচ্যুত, পদাবনতি করা হয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে তা আত্মহত্যার প্ররোচনা পর্যন্ত যুগিয়েছে। ২০২৪-এর ৫ আগষ্টের পর শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপকভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, যার পিছনে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল বলে অনেকেই মনে করেন।  ২০২৬ এর ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঘটিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল যে, সরকার দেশে স্থিতিশীলতার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন করবে, শিক্ষাঙ্গনে সরকারের বিরোধী মনোভাবাপন্ন শিক্ষকদের বিরূদ্ধে নানাবিধ অজুহাত দাঁড় করিয়ে শিক্ষাঙ্গনে পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট করতে প্রশাসনকে নিবৃত্ত করবে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, জনগণের মধ্যে এসব বিষয়ে ব্যাপক হতাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে।    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র, অভিজ্ঞ, স্বনামধন্য অধ্যাপকদের চাকুরীচ্যুত করার লক্ষ্যে নানাবিধ অজুহাত সৃষ্টি করে তদন্ত কমিটি গঠন, সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষকদের মাঝে ভীতির সৃষ্টি করেছে। এই ধরণের বিতর্কিত পদক্ষেপ প্রকারান্তরে শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী মুক্তচিন্তা, রাজনৈতিক মতচর্চা, স্বাধীন মনোভাব নিয়ে চলাফেরা করার অধিকার রাখেন শিক্ষকরা।   তাদের স্বীকৃত মৌলিক অধিকার হরণ করার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলে তা পরবর্তীতে প্রয়োগের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়, যা সমাজে বিরাজমান বিভক্তিকে আরো বিষিয়ে তুলতে পারে। সম্প্রতি  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অভিজ্ঞ সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপিকা ড. সাদেকা হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আজমল হোসেন ভূইয়াসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরপূর্বে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডাঃ আহসান হাবীব হেলাল, অধ‍্যাপক ডাঃ সুবাস দে সহ বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ শিক্ষক - চিকিৎসকসহ ৩৬ জনকে অন্যায়ভাবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে।   ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক ড. পূর্বা ইসলাম সহ অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে মনগড়া অভিযোগে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের বিরূদ্ধে বানোয়াট অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সমস্ত তদন্ত কমিটির নিয়মনীতি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড কমিটির নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।আরো অনেক শিক্ষককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাকুরীচ্যুত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।   পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ, শিক্ষক, চিকিৎসক ও কৃষিবিদ সহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের বিরূদ্ধে এ সমস্ত নিবর্তনমূলক কর্মকান্ডকে চরম অমানবিক হিসেবে দেখছে। এ সমস্ত ন্যাক্কারজনক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করে শিক্ষাঙ্গনে সম্প্রীতি বজায় রাখার মাধ্যমে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন‍্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরে এলপিজির দাম কমল, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৫৮৫ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু বাড়ছেই, একদিনে শনাক্ত আরও ২২ জন

ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে দেড় দশকের ভুল নীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা: প্রতিমন্ত্রী

0 Comments