চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বে হামে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত দেশে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ১৭৪ জন। একই সময়ে বিশ্বের আর কোনো দেশে এত রোগী শনাক্ত হয়নি।
ডব্লিউএইচওর জেনেভা সদর দপ্তরে জমা হওয়া বৈশ্বিক নজরদারি তথ্য এবং সংস্থাটির জুলাই মাসের প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)ও তাদের মূল্যায়নে এই প্রতিবেদন ব্যবহার করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাম সংক্রমণে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে ভারত। দেশটিতে ছয় মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৬০৭ জন। এরপর রয়েছে ইয়েমেন (১৪ হাজার ৫২১), মেক্সিকো (১২ হাজার ৪৯৫), পাকিস্তান (১১ হাজার ৩৭), ক্যামেরুন (৯ হাজার ৬৫৩), কাজাখস্তান (৭ হাজার ৭৩০), গুয়েতেমালা (৬ হাজার ৮৩২), অ্যাঙ্গোলা (৬ হাজার ৮১৫) এবং সুদান (৫ হাজার ৭৬৬)।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, একই সময়ে বিশ্বের ১৬৫টি দেশে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম বা হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭০৮ জনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭০২ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৯৫ শিশুসহ মোট ৭৯৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য বলছে, মার্চ মাসে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছায়। এপ্রিলে তা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যায় এবং মে মাসে নতুন রোগী শনাক্ত হয় প্রায় ১৫ হাজার।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, চূড়ান্ত হিসাবেও বাংলাদেশ হাম সংক্রমণে বিশ্বের শীর্ষেই থাকবে। শুধু সংক্রমণ নয়, হামে মৃত্যুর সংখ্যাও বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির কাভারেজ কমে যাওয়াই বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান কারণ। একসময় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে শতভাগ সাফল্য অর্জন করলেও ২০২৫ সালে নিয়মিত হাম টিকাদানের হার নেমে আসে ৫৯ শতাংশে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় টিকার সংকটও দেখা দেয়।
ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ প্রয়োজনীয় দুই ডোজ টিকার একটিও পায়নি। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী এবং এক থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে টিকাবঞ্চিতের হার বেশি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হাম প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে না পারলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বজায় রাখা সম্ভব হবে না। ফলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি থেকে যাবে।
এ পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্রুত টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করে টিকাদানের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বে হামে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত দেশে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ১৭৪ জন। একই সময়ে বিশ্বের আর কোনো দেশে এত রোগী শনাক্ত হয়নি। ডব্লিউএইচওর জেনেভা সদর দপ্তরে জমা হওয়া বৈশ্বিক নজরদারি তথ্য এবং সংস্থাটির জুলাই মাসের প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)ও তাদের মূল্যায়নে এই প্রতিবেদন ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাম সংক্রমণে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে ভারত। দেশটিতে ছয় মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৬০৭ জন। এরপর রয়েছে ইয়েমেন (১৪ হাজার ৫২১), মেক্সিকো (১২ হাজার ৪৯৫), পাকিস্তান (১১ হাজার ৩৭), ক্যামেরুন (৯ হাজার ৬৫৩), কাজাখস্তান (৭ হাজার ৭৩০), গুয়েতেমালা (৬ হাজার ৮৩২), অ্যাঙ্গোলা (৬ হাজার ৮১৫) এবং সুদান (৫ হাজার ৭৬৬)। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, একই সময়ে বিশ্বের ১৬৫টি দেশে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম বা হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭০৮ জনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭০২ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৯৫ শিশুসহ মোট ৭৯৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য বলছে, মার্চ মাসে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছায়। এপ্রিলে তা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যায় এবং মে মাসে নতুন রোগী শনাক্ত হয় প্রায় ১৫ হাজার। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, চূড়ান্ত হিসাবেও বাংলাদেশ হাম সংক্রমণে বিশ্বের শীর্ষেই থাকবে। শুধু সংক্রমণ নয়, হামে মৃত্যুর সংখ্যাও বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির কাভারেজ কমে যাওয়াই বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান কারণ। একসময় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে শতভাগ সাফল্য অর্জন করলেও ২০২৫ সালে নিয়মিত হাম টিকাদানের হার নেমে আসে ৫৯ শতাংশে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় টিকার সংকটও দেখা দেয়। ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ প্রয়োজনীয় দুই ডোজ টিকার একটিও পায়নি। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী এবং এক থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে টিকাবঞ্চিতের হার বেশি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হাম প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে না পারলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বজায় রাখা সম্ভব হবে না। ফলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি থেকে যাবে। এ পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্রুত টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করে টিকাদানের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ব্যস্ত দিন শেষে অনেকেরই রাতে বিছানায় যাওয়ার পর সহজে ঘুম আসে না। মানসিক চাপ, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, অতিরিক্ত স্ক্রিনে সময় কাটানো এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততায় শরীর শক্ত ও মন অস্থির হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের ওষুধ বা মোবাইল ফোনে সময় কাটানোর বদলে ঘুমানোর আগে মাত্র কয়েক মিনিটের হালকা স্ট্রেচিং দ্রুত ঘুমাতে এবং ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে কার্যকর হতে পারে। গবেষকদের মতে, সহজ কিছু স্ট্রেচিং শরীরের পেশির টান কমায়, নমনীয়তা বাড়ায় এবং সারাদিনের জমে থাকা চাপ দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ধীর ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে, যা শরীরকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করে। নিয়মিত এ অভ্যাস ভালো ঘুমের পাশাপাশি পরদিন সকালে সতেজ অনুভব করতেও সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা ঘুমানোর আগে কয়েকটি সহজ স্ট্রেচিং করার পরামর্শ দিয়েছেন— চাইল্ডস পোজ: হাঁটু গেড়ে বসে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত প্রসারিত করুন। এটি পিঠ, কাঁধ ও কোমরের চাপ কমাতে সাহায্য করে। নেক স্ট্রেচ: ধীরে ধীরে মাথা এক কাঁধের দিকে ঝুঁকিয়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, এরপর অন্য পাশে একইভাবে করুন। এতে ঘাড়ের জড়তা কমে। সিটেড ফরোয়ার্ড বেন্ড: পা সামনে সোজা রেখে ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকুন। এটি কোমর, উরু ও পায়ের পেশি শিথিল করতে সহায়ক। ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ: হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় পিঠ নিচের দিকে বাঁকান এবং শ্বাস ছাড়ার সময় পিঠ গোল করুন। এতে মেরুদণ্ড নমনীয় হয় এবং পিঠের চাপ কমে। বাটারফ্লাই স্ট্রেচ: দুই পায়ের পাতা একসঙ্গে মিলিয়ে হাঁটু দুটো দুই পাশে নামিয়ে বসুন। এটি কোমর ও উরুর ভেতরের পেশির টান কমায়। স্ট্যান্ডিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড: দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত নিচের দিকে ছেড়ে দিন। এতে পিঠ, কাঁধ ও পায়ের পেশি শিথিল হয় এবং রক্তসঞ্চালন বাড়ে। লেগস আপ দ্য ওয়াল: দেয়ালের সঙ্গে পা উঁচু করে ৫ থেকে ১০ মিনিট শুয়ে থাকুন। এটি পায়ের ক্লান্তি কমিয়ে শরীরকে আরাম দেয় এবং ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন রাতে কয়েক মিনিটের এই সহজ স্ট্রেচিংয়ের অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে, শরীরকে শিথিল রাখতে এবং দ্রুত গভীর ঘুমে যেতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিগত সরকারের সময় ‘পরিকল্পনা ছাড়াই’ আমদানি করা চিকিৎসা যন্ত্রপাতি প্যাকেটবন্দি অবস্থায় ভাঙারির দোকানে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, রেডিওথেরাপি মেশিন বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ‘সুরক্ষা বাংকার’ (রেডিয়েশন বাংকার) তৈরি না করেই খুলনা ও ফরিদপুরের জন্য ১৮ কোটি টাকা করে দুটি যন্ত্র কেনা হয়েছিল। সেগুলো এখন পড়ে আছে। সোমবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবিকুন্নাহার বলেন, প্রায় ছয় লাখ মানুষের জন্য হাসপাতালটিতে মাত্র ১০ জন চিকিৎসক কাজ করছেন। সেখানে ৬৮টি পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ ও নারী চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে নিয়োগ না হওয়া, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থ উপেক্ষার কারণে স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের সমস্যার কথা বলতে এক ঘণ্টা সময় পেলেও শেষ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অপরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, অনেক হাসপাতালে এক্সরে মেশিন পাঠানো হলেও সেগুলো চালানোর মানুষ নেই। একইভাবে ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি থাকলেও ল্যাব টেকনিশিয়ান নেই বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিছু পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তির সুযোগ দিতে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত করায় সেগুলো নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপির সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ অনুযায়ী দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। তবে আক্রান্তদের ৯২ শতাংশের বেশি কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না। দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জনবল রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন। সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ৩৫০ জন।