প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশের উদীয়মান ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘অল সমাধান’। একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স বুকিং, ওষুধ সরবরাহ, ফার্মেসি নেটওয়ার্ক এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ সেবা একত্রে প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
স্বল্প সময়ের মধ্যেই অল সমাধান সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে ১৫ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছেন। একই সঙ্গে ৭৫০টির বেশি পার্টনার ফার্মেসি, ৩৫০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং প্রায় ১,০০০ জন স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা অল সমাধানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবা প্রদান করছেন। প্রতিদিনই এই নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ জন নতুন ব্যবহারকারী অল সমাধান অ্যাপে নিবন্ধিত হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ টি নতুন ফার্মেসি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। দ্রুত এই প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের বাড়তে থাকা আস্থা এবং প্রয়োজনীয়তারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনো অনেক মানুষ নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। প্রয়োজনের মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া, রাতের বেলায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করা কিংবা জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করা অনেক সময়ই রোগী ও তার পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অল সমাধান এই বাস্তব সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান দিতে প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।
অল সমাধান অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই নিকটস্থ পার্টনার ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ অর্ডার করতে পারেন। একই সঙ্গে নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের সুযোগও রয়েছে।
অল সমাধানের অন্যতম মানবিক উদ্যোগ হলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ সেবা। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে প্রায় ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা নিবন্ধিত রয়েছেন। এই সেবার জন্য রোগী, স্বজন কিংবা রক্তদাতার কাছ থেকে কোনো ধরনের নিবন্ধন ফি বা সেবা চার্জ নেওয়া হয় না। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে জরুরি সময়ে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পেতে মানুষকে সহায়তা করা হচ্ছে।
ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করতে অল সমাধান সারাদেশে একটি শক্তিশালী ফার্মেসি পার্টনার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। বর্তমানে ৭৫০টিরও বেশি ফার্মেসি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন ফার্মেসি অংশীদার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা নিজ এলাকার বিশ্বস্ত ফার্মেসি থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ বা ডেলিভারির সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ফার্মেসিগুলোকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে অল সমাধান একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি পার্টনার ফার্মেসিগুলোকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অল সমাধানের অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি ফার্মেসিগুলোর পরিচিতি বৃদ্ধি, নতুন গ্রাহক তৈরি এবং বিক্রি বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ও অফলাইন মার্কেটিং সহায়তাও প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম।
অল সমাধান কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে ফার্মেসিগুলোর ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও আয় উভয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও তাদের নিকটস্থ বিশ্বস্ত ফার্মেসি থেকে দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।
অ্যাম্বুলেন্স সেবার ক্ষেত্রেও অল সমাধান দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে। বর্তমানে ৩৫০টি অ্যাম্বুলেন্স প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জরুরি মুহূর্তে রোগী ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দ্রুত সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মূল্যবান সময় বাঁচাতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও সহজলভ্য করতে ঢাকা মেডিকেল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অল সমাধানের দুটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বুথ চালু হয়েছে। এই বুথের মাধ্যমে রোগী ও স্বজনরা জরুরি মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের তথ্য, বুকিং ও সমন্বয় সেবা পাচ্ছেন।
এই উদ্যোগের ফলে রোগী পরিবহনে সময় কমবে, সেবার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া আরও সহজ হবে।
শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে অল সমাধান। প্ল্যাটফর্মটির ডেলিভারি ম্যান (ডেলিভারি পার্টনার) হিসেবে যুক্ত হয়ে দেশের অনেক তরুণ নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বেকার যুবক এবং খণ্ডকালীন কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় আয়ের মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠছে। নিজস্ব মোটরসাইকেল বা সাইকেল ব্যবহার করে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে তারা আয় করতে পারছেন।
ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকরা দ্রুত সেবা পাচ্ছেন, অন্যদিকে তরুণদের জন্য স্বনির্ভর হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অল সমাধান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আরও বেশি ডেলিভারি পার্টনার যুক্ত করে এই কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
অল সমাধান শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও রক্তদাতা সংযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাই হেল্থ (My Health)-এর সহযোগিতায় প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নার্সিং কেয়ার, ফিজিওথেরাপি, কেয়ারগিভার সেবা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ (ডাক্তার কনসালটেশন)-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারছেন। এর ফলে একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সমাধান পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগী, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সেবাপ্রার্থী এবং বাসায় স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য এই সেবাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অল সমাধান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও নতুন স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের মানুষ এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও অল সমাধান নিয়মিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নয়ন, দ্রুত সেবা নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা, পার্টনার ম্যানেজমেন্ট এবং আরও কার্যকর অর্ডার প্রসেসিং সিস্টেম গড়ে তুলতে অ্যাপটিতে ধারাবাহিকভাবে নতুন ফিচার সংযোজন করা হচ্ছে।
ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাসপাতাল ও ফার্মেসিভিত্তিক প্রচারণা, অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে অল সমাধান। পাশাপাশি নতুন পার্টনার, ডেলিভারি সহযোগী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
আগামী দিনে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় তাদের সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স, ফার্মেসি, স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ, ফার্মেসি এবং বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাকে একটি অ্যাপের মাধ্যমে একত্রে প্রদান করার উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমান অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত চিত্র:
স্বাস্থ্যসেবায় সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান। সেই উপলব্ধি থেকেই অল সমাধান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য, সহজলভ্য এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, সময়মতো সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব, আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তাদের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশের উদীয়মান ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘অল সমাধান’। একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স বুকিং, ওষুধ সরবরাহ, ফার্মেসি নেটওয়ার্ক এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ সেবা একত্রে প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই অল সমাধান সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে ১৫ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছেন। একই সঙ্গে ৭৫০টির বেশি পার্টনার ফার্মেসি, ৩৫০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং প্রায় ১,০০০ জন স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা অল সমাধানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবা প্রদান করছেন। প্রতিদিনই এই নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ জন নতুন ব্যবহারকারী অল সমাধান অ্যাপে নিবন্ধিত হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ টি নতুন ফার্মেসি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। দ্রুত এই প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের বাড়তে থাকা আস্থা এবং প্রয়োজনীয়তারই প্রতিফলন। বাংলাদেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনো অনেক মানুষ নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। প্রয়োজনের মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া, রাতের বেলায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করা কিংবা জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করা অনেক সময়ই রোগী ও তার পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অল সমাধান এই বাস্তব সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান দিতে প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। অল সমাধান অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই নিকটস্থ পার্টনার ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ অর্ডার করতে পারেন। একই সঙ্গে নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের সুযোগও রয়েছে। অল সমাধানের অন্যতম মানবিক উদ্যোগ হলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ সেবা। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে প্রায় ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা নিবন্ধিত রয়েছেন। এই সেবার জন্য রোগী, স্বজন কিংবা রক্তদাতার কাছ থেকে কোনো ধরনের নিবন্ধন ফি বা সেবা চার্জ নেওয়া হয় না। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে জরুরি সময়ে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পেতে মানুষকে সহায়তা করা হচ্ছে। ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করতে অল সমাধান সারাদেশে একটি শক্তিশালী ফার্মেসি পার্টনার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। বর্তমানে ৭৫০টিরও বেশি ফার্মেসি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন ফার্মেসি অংশীদার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা নিজ এলাকার বিশ্বস্ত ফার্মেসি থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ বা ডেলিভারির সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ফার্মেসিগুলোকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে অল সমাধান একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি পার্টনার ফার্মেসিগুলোকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অল সমাধানের অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি ফার্মেসিগুলোর পরিচিতি বৃদ্ধি, নতুন গ্রাহক তৈরি এবং বিক্রি বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ও অফলাইন মার্কেটিং সহায়তাও প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম। অল সমাধান কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে ফার্মেসিগুলোর ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও আয় উভয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও তাদের নিকটস্থ বিশ্বস্ত ফার্মেসি থেকে দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স সেবার ক্ষেত্রেও অল সমাধান দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে। বর্তমানে ৩৫০টি অ্যাম্বুলেন্স প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জরুরি মুহূর্তে রোগী ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দ্রুত সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মূল্যবান সময় বাঁচাতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও সহজলভ্য করতে ঢাকা মেডিকেল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অল সমাধানের দুটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বুথ চালু হয়েছে। এই বুথের মাধ্যমে রোগী ও স্বজনরা জরুরি মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের তথ্য, বুকিং ও সমন্বয় সেবা পাচ্ছেন। এই উদ্যোগের ফলে রোগী পরিবহনে সময় কমবে, সেবার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া আরও সহজ হবে। শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে অল সমাধান। প্ল্যাটফর্মটির ডেলিভারি ম্যান (ডেলিভারি পার্টনার) হিসেবে যুক্ত হয়ে দেশের অনেক তরুণ নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বেকার যুবক এবং খণ্ডকালীন কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় আয়ের মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠছে। নিজস্ব মোটরসাইকেল বা সাইকেল ব্যবহার করে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে তারা আয় করতে পারছেন। ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকরা দ্রুত সেবা পাচ্ছেন, অন্যদিকে তরুণদের জন্য স্বনির্ভর হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অল সমাধান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আরও বেশি ডেলিভারি পার্টনার যুক্ত করে এই কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। অল সমাধান শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও রক্তদাতা সংযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাই হেল্থ (My Health)-এর সহযোগিতায় প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নার্সিং কেয়ার, ফিজিওথেরাপি, কেয়ারগিভার সেবা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ (ডাক্তার কনসালটেশন)-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারছেন। এর ফলে একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সমাধান পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগী, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সেবাপ্রার্থী এবং বাসায় স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য এই সেবাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অল সমাধান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও নতুন স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের মানুষ এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও অল সমাধান নিয়মিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নয়ন, দ্রুত সেবা নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা, পার্টনার ম্যানেজমেন্ট এবং আরও কার্যকর অর্ডার প্রসেসিং সিস্টেম গড়ে তুলতে অ্যাপটিতে ধারাবাহিকভাবে নতুন ফিচার সংযোজন করা হচ্ছে। ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাসপাতাল ও ফার্মেসিভিত্তিক প্রচারণা, অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে অল সমাধান। পাশাপাশি নতুন পার্টনার, ডেলিভারি সহযোগী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় তাদের সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স, ফার্মেসি, স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ, ফার্মেসি এবং বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাকে একটি অ্যাপের মাধ্যমে একত্রে প্রদান করার উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত চিত্র: নিবন্ধিত ব্যবহারকারী: ১৫,০০০+ পার্টনার ফার্মেসি: ৭৫০+ সংযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স: ৩৫০+ স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা: প্রায় ১,০০০ (সম্পূর্ণ বিনামূল্যে) প্রতিদিন নতুন ব্যবহারকারী: ৩০০–৪০০ জন প্রতিদিন নতুন পার্টনার ফার্মেসি: ৩০–৩৫টি প্রধান সেবা: অ্যাম্বুলেন্স বুকিং, ওষুধ সরবরাহ, ফার্মেসি নেটওয়ার্ক, বেকার তুরণদের জন্য আয়ের পথ সৃষ্টি এবং বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ স্বাস্থ্যসেবায় সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান। সেই উপলব্ধি থেকেই অল সমাধান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য, সহজলভ্য এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, সময়মতো সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব, আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তাদের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ
মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সচিব বলেন, গবেষণায় কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত গবেষণাই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান দিতে পারে। তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন ধাপে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি গবেষণায় উদ্ভাবিত সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা, চলমান গবেষণার অগ্রগতি এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা ও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআর, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান।
ব্যস্ত জীবনের চাপে অনেক সময়ই আমাদের দুপুর বা রাতের খাবার খেতে দেরি হয়ে যায়। আর তখনই দেখা যায় অদ্ভুত এক সমস্যা—সামান্য কারণেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠছে, ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি আমরা। ইংরেজিতে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘হ্যাঙ্গরি’ (Hangry), যা মূলত ‘হাঙ্গার’ (Hunger) এবং ‘অ্যাংরি’ (Angry) শব্দের সমন্বয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ক্ষুধা লাগলে কেন এমন হয়? এটি কি কোনো শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ, নাকি কেবলই মনের খেয়াল? গবেষণা কী বলছে? সম্প্রতি জার্মানির টুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় ও বন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিলস ক্রোমার এবং তার গবেষক দল ৯০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর এক মাসব্যাপী একটি গবেষণা চালান। তাদের প্রত্যেকের শরীরে গ্লুকোজ মনিটর বসানো হয়েছিল এবং দিনে দুবার স্মার্টফোনের মাধ্যমে তাদের মেজাজ ও ক্ষুধার মাত্রা রেকর্ড করা হতো। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষুধা লাগলে মেজাজ বিগড়ে যাওয়াটা কেবল রক্তে শর্করার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। বরং যারা তাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ সংকেতগুলো দ্রুত বুঝতে পারেন না, তারাই বেশি মেজাজ হারা। মস্তিষ্কের খেলা মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশটি যখন শরীরে শক্তির ঘাটতি শনাক্ত করে, তখন ক্ষুধার সংকেত পাঠায়। অন্যদিকে, আমাদের মস্তিষ্কের ‘ইনসুলা’ নামক অংশটি স্বাদ এবং আবেগ উভয়টিই নিয়ন্ত্রণ করে। ক্ষুধা এবং মেজাজের এই মেলবন্ধন আসলে আমাদের বিবর্তনেরই অংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলেই মানুষের মেজাজ খারাপ হয় না; বরং যখন মানুষ সচেতনভাবে বুঝতে পারে যে সে ক্ষুধার্ত, তখনই তার মেজাজ বিগড়াতে শুরু করে। ইন্টারোসেপশন : সুস্থতার চাবিকাঠি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় শরীর যখন তার অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনগুলো (যেমন- ক্ষুধা, তৃষ্ণা বা ক্লান্তি) শনাক্ত করতে পারে, তখন তাকে বলা হয় ‘ইন্টারোসেপশন’। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ইন্টারোসেপ্টিভ ক্ষমতা বা শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা বোঝার ক্ষমতা বেশি, তারা ক্ষুধার্ত থাকলেও নিজেদের মেজাজ তুলনামূলক বেশি স্থিতিশীল রাখতে পারেন। অন্যদিকে, যারা এই সংকেতগুলো বুঝতে দেরি করেন, তারা হুট করে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এটি কি কোনো রোগ? ক্ষুধা লাগলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া সরাসরি কোনো রোগ নয়, তবে এটি শরীরের একটি সতর্কবার্তা। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের এই সংকেতগুলোকে উপেক্ষা করলে তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি পারিবারিক বা কর্মক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় এবং অনেক সময় মানুষকে আবেগপ্রবণ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে বাধ্য করে। কেন কেউ কেউ দ্রুত ‘হ্যাঙ্গরি’ হয়ে পড়েন? ১. সচেতনতার অভাব: অনেক সময় কাজে বা ডিজিটাল ডিভাইসে এত বেশি মগ্ন থাকা হয় যে, ক্ষুধার প্রাথমিক সংকেতগুলো আমরা খেয়াল করি না। ফলে হঠাৎ করেই শক্তির মাত্রা কমে যায় এবং মেজাজ বিগড়ে যায়। ২. শিশুদের ক্ষেত্রে: শিশুদের শরীর ও মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয়, তাই তারা তাদের শরীরের সংকেতগুলো বড়দের মতো বুঝতে পারে না। এ কারণেই খাবার খেতে দেরি হলে শিশুরা হঠাৎ করে কান্নাকাটি বা জেদ শুরু করে। মেজাজ ঠিক রাখার উপায় খাবারের নির্দিষ্ট সময় বজায় রাখা: যখনই আমরা খাবার এড়িয়ে যাই বা দেরি করি, তখনই মেজাজ বিগড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই নিয়মিত বিরতিতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা জরুরি। ব্যায়াম ও শারীরিক সক্রিয়তা: নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর তার ক্ষুধার সংকেতগুলো আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে এবং বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত হয়। শরীরের কথা শোনা: নিজের শরীরের চাহিদা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। মেজাজ বিগড়ানোর আগে যখনই সামান্য ক্ষুধা অনুভব করবেন, তখনই হালকা কিছু খেয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। পরিশেষে বলা যায়, ‘হ্যাঙ্গরি’ হওয়া কোনো রোগ নয়, বরং শরীর যখন জ্বালানি বা শক্তি চায়, তখন মস্তিষ্ক আমাদের এই মেজাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে সতর্ক করে দেয়। তাই নিজেকে এবং পরিবারকে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে বাঁচাতে ক্ষুধার লক্ষণগুলো সময়মতো চিনে নেওয়া এবং নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি