স্বাস্থ্য

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা, এগিয়ে ‘অল সমাধান’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশের উদীয়মান ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘অল সমাধান’। একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স বুকিং, ওষুধ সরবরাহ, ফার্মেসি নেটওয়ার্ক এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ সেবা একত্রে প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

 

স্বল্প সময়ের মধ্যেই অল সমাধান সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে ১৫ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছেন। একই সঙ্গে ৭৫০টির বেশি পার্টনার ফার্মেসি, ৩৫০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং প্রায় ১,০০০ জন স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা অল সমাধানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবা প্রদান করছেন। প্রতিদিনই এই নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

 

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ জন নতুন ব্যবহারকারী অল সমাধান অ্যাপে নিবন্ধিত হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ টি নতুন ফার্মেসি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। দ্রুত এই প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের বাড়তে থাকা আস্থা এবং প্রয়োজনীয়তারই প্রতিফলন।

 

বাংলাদেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনো অনেক মানুষ নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। প্রয়োজনের মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া, রাতের বেলায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করা কিংবা জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করা অনেক সময়ই রোগী ও তার পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অল সমাধান এই বাস্তব সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান দিতে প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।

 

অল সমাধান অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই নিকটস্থ পার্টনার ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ অর্ডার করতে পারেন। একই সঙ্গে নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের সুযোগও রয়েছে।

 

অল সমাধানের অন্যতম মানবিক উদ্যোগ হলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ সেবা। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে প্রায় ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা নিবন্ধিত রয়েছেন। এই সেবার জন্য রোগী, স্বজন কিংবা রক্তদাতার কাছ থেকে কোনো ধরনের নিবন্ধন ফি বা সেবা চার্জ নেওয়া হয় না। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে জরুরি সময়ে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পেতে মানুষকে সহায়তা করা হচ্ছে।

 

ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করতে অল সমাধান সারাদেশে একটি শক্তিশালী ফার্মেসি পার্টনার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। বর্তমানে ৭৫০টিরও বেশি ফার্মেসি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন ফার্মেসি অংশীদার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা নিজ এলাকার বিশ্বস্ত ফার্মেসি থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ বা ডেলিভারির সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ফার্মেসিগুলোকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে অল সমাধান একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

প্রতিষ্ঠানটি পার্টনার ফার্মেসিগুলোকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অল সমাধানের অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি ফার্মেসিগুলোর পরিচিতি বৃদ্ধি, নতুন গ্রাহক তৈরি এবং বিক্রি বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ও অফলাইন মার্কেটিং সহায়তাও প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম।

 

অল সমাধান কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে ফার্মেসিগুলোর ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও আয় উভয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও তাদের নিকটস্থ বিশ্বস্ত ফার্মেসি থেকে দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।

 

অ্যাম্বুলেন্স সেবার ক্ষেত্রেও অল সমাধান দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে। বর্তমানে ৩৫০টি অ্যাম্বুলেন্স প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জরুরি মুহূর্তে রোগী ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দ্রুত সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মূল্যবান সময় বাঁচাতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও সহজলভ্য করতে ঢাকা মেডিকেল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অল সমাধানের দুটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বুথ চালু হয়েছে। এই বুথের মাধ্যমে রোগী ও স্বজনরা জরুরি মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের তথ্য, বুকিং ও সমন্বয় সেবা পাচ্ছেন।

 

এই উদ্যোগের ফলে রোগী পরিবহনে সময় কমবে, সেবার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া আরও সহজ হবে।

 

শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে অল সমাধান। প্ল্যাটফর্মটির ডেলিভারি ম্যান (ডেলিভারি পার্টনার) হিসেবে যুক্ত হয়ে দেশের অনেক তরুণ নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বেকার যুবক এবং খণ্ডকালীন কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় আয়ের মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠছে। নিজস্ব মোটরসাইকেল বা সাইকেল ব্যবহার করে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে তারা আয় করতে পারছেন।

 

ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকরা দ্রুত সেবা পাচ্ছেন, অন্যদিকে তরুণদের জন্য স্বনির্ভর হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অল সমাধান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আরও বেশি ডেলিভারি পার্টনার যুক্ত করে এই কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।

 

অল সমাধান শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও রক্তদাতা সংযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাই হেল্থ (My Health)-এর সহযোগিতায় প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নার্সিং কেয়ার, ফিজিওথেরাপি, কেয়ারগিভার সেবা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ (ডাক্তার কনসালটেশন)-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারছেন। এর ফলে একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সমাধান পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগী, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সেবাপ্রার্থী এবং বাসায় স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য এই সেবাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

অল সমাধান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও নতুন স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের মানুষ এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন।

 

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও অল সমাধান নিয়মিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নয়ন, দ্রুত সেবা নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা, পার্টনার ম্যানেজমেন্ট এবং আরও কার্যকর অর্ডার প্রসেসিং সিস্টেম গড়ে তুলতে অ্যাপটিতে ধারাবাহিকভাবে নতুন ফিচার সংযোজন করা হচ্ছে।

 

ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাসপাতাল ও ফার্মেসিভিত্তিক প্রচারণা, অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে অল সমাধান। পাশাপাশি নতুন পার্টনার, ডেলিভারি সহযোগী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

 

আগামী দিনে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় তাদের সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স, ফার্মেসি, স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ, ফার্মেসি এবং বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাকে একটি অ্যাপের মাধ্যমে একত্রে প্রদান করার উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

বর্তমান অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত চিত্র:

  • নিবন্ধিত ব্যবহারকারী: ১৫,০০০+
  • পার্টনার ফার্মেসি: ৭৫০+
  • সংযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স: ৩৫০+
  • স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা: প্রায় ১,০০০ (সম্পূর্ণ বিনামূল্যে)
  • প্রতিদিন নতুন ব্যবহারকারী: ৩০০–৪০০ জন
  • প্রতিদিন নতুন পার্টনার ফার্মেসি: ৩০–৩৫টি
  • প্রধান সেবা: অ্যাম্বুলেন্স বুকিং, ওষুধ সরবরাহ, ফার্মেসি নেটওয়ার্ক, বেকার তুরণদের জন্য আয়ের পথ সৃষ্টি এবং বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ

 

স্বাস্থ্যসেবায় সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান। সেই উপলব্ধি থেকেই অল সমাধান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য, সহজলভ্য এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, সময়মতো সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব, আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তাদের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৮৮ জন

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৮৮ জন।     রবিবার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।       বুলেটিনে বলা হয়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনে মারা গেছে ১০৩ জন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।       বুলেটিনে আরো বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৮৮ জন ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৮২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬ হাজার ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ফাইল ছবি

সকালে কুসুম গরম পানিতে মধু খাওয়ার যত উপকারিতা

ছবি: সংগৃহীত

হাড়ের শক্তি বাড়াতে কার্যকর হতে পারে লবঙ্গ, ইঙ্গিত গবেষণায়

ওজন হুট করে বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার পেছনে থাইরয়েড গ্রন্থির প্রধান ভূমিকা কী?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। ফাইল ছবি
ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, হাসপাতালে ভর্তি ১১৮১

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮১ জন।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।   বুলেটিনে বলা হয়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৫ দিনে মারা গেছে ৯০ জন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।    বুলেটিনে আরও বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৮১ জন ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। 

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ১২১০ রোগী

প্রতীকী ছবি।

পেট ভরে খেয়েও কমবে ওজন, মানতে হবে যেসব নিয়ম

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ মৃত্যু, সংক্রমণ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের কথা শুনলেই ভয়, এর পেছনে কী কারণ?

বয়স বাড়ছে, পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের তাগিদ আসছে, আবার বন্ধুদের অনেকেই শুরু করেছেন নতুন সংসার। তারপরও বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই অনেকে অস্বস্তি বোধ করেন। কেউ বিষয়টি এড়িয়ে চলেন, আবার কেউ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা বিয়ে করতে চান না।   সমাজে এমন মনোভাবকে অনেক সময় দায়িত্ব নিতে অনীহা কিংবা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার ভয় হিসেবে দেখা হয়। তবে মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর পেছনে থাকতে পারে আরও গভীর কিছু কারণ।   বিয়ের ভয় কি মানসিক সমস্যা? বিয়ে বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে অতিরিক্ত ও তীব্র ভয়কে গ্যামোফোবিয়া (Gamophobia) বলা হয়। এ ধরনের ভয়ের কারণে স্থায়ী সম্পর্ক কিংবা বৈবাহিক বন্ধনের কথা ভাবলেই কারও মধ্যে উদ্বেগ, অস্বস্তি বা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তবে বিয়ে করতে না চাওয়া কিংবা এখনই বিয়ের জন্য প্রস্তুত না থাকাকে গ্যামোফোবিয়া হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।   শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হতে পারে ভয় বিয়ে নিয়ে আতঙ্কের পেছনে শৈশবের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া, পারিবারিক সহিংসতা, বিচ্ছেদ কিংবা অশান্তিপূর্ণ সম্পর্ক দেখলে কারও মনে বিয়ে সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। বড় হওয়ার পর সেই অভিজ্ঞতা থেকে তার মনে এমন বিশ্বাস জন্মাতে পারে যে, বিয়ে মানেই অশান্তি, মানসিক কষ্ট কিংবা ব্যক্তিস্বাধীনতা হারানো। ফলে সম্পর্কে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে তারা দ্বিধায় ভোগেন।   অতীতের সম্পর্কের তিক্ততা আগের সম্পর্কে প্রতারণার শিকার হওয়া, বিচ্ছেদের কষ্ট কিংবা মানসিক আঘাতও বিয়ের প্রতি অনীহা তৈরি করতে পারে। যারা সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হওয়া বা প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয় বেশি অনুভব করেন, তাদের জন্য নতুন সম্পর্কে বিশ্বাস ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি করা কঠিন হতে পারে। একপর্যায়ে স্থায়ী সম্পর্কে জড়ানোর চিন্তাই তাদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কা বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ-তরুণী নিজেদের ক্যারিয়ার, আর্থিক নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সময় ও স্বাধীনতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, বিয়ের পর দায়িত্ব ও পারিবারিক প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়ায় নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণে বাধা আসার আশংকা থেকেও অনেকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন কিংবা বিয়ে এড়িয়ে চলেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বিবাহবিচ্ছেদ, প্রতারণা, দাম্পত্য কলহ কিংবা বিষাক্ত সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত নানা ধরনের পোস্ট ও ভিডিও প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনা বারবার দেখতে দেখতে কারও কারও মনে বিয়ে সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা আরও দৃঢ় হতে পারে। বিশেষ করে বাস্তব জীবনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার তুলনায় নেতিবাচক ঘটনাগুলো বেশি চোখে পড়লে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।   অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বড় কারণ বিয়ে মানেই শুধু আবেগ কিংবা ভালোবাসা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আর্থিক পরিকল্পনা, পারিবারিক দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়ও। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেকে মনে করেন, তারা এখনও বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থানে পৌঁছাননি। দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে বিয়েকে ঘিরে পারিবারিক ও সামাজিক প্রত্যাশা বেশি থাকায় এই চাপ আরও তীব্র হতে পারে।   কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় এই ভয়? বিয়ে নিয়ে ভয় থাকলেই যে কেউ মানসিকভাবে অসুস্থ, এমন ধারণা সঠিক নয়। কেউ ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে বিয়ে করতে না-ও চাইতে পারেন, আবার কেউ জীবনের নির্দিষ্ট পর্যায়ে গিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দুটিই স্বাভাবিক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।   তবে বিয়ে নিয়ে ভয় যদি অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরি করে, দৈনন্দিন জীবন বা সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিজের ভয় ও অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা, অনুভূতির কারণ বোঝার চেষ্টা এবং প্রয়োজনে মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উপকারী হতে পারে।   সবশেষে মনে রাখা জরুরি, বিয়ে নিয়ে প্রত্যেক মানুষের অনুভূতি ও সিদ্ধান্ত আলাদা। কাউকে সামাজিক চাপের কারণে বিয়েতে বাধ্য না করে তার পছন্দ, মানসিক প্রস্তুতি ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সকালে ঘুম ভাঙতেই পিঠে ব্যথা, দায়ী যে ৭ কারণ

ছবি: সংগৃহীত

চার মেডিকেল কলেজ টিকিয়ে রাখতে রোগীদের সহায়তা দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

দেশে ৩০ শতাংশ মানুষ আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত

0 Comments