বিশ্ব

ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব, ইরানের কঠোর সতর্কবার্তা

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দেওয়ার পর পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। খবর সিএনএনের।


বুধবার (২২ জুলাই) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন বাহিনী যদি ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে ইরান পুরো অঞ্চলের অবকাঠামো ও সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ জড়িত জ্বালানি স্থাপনাও থাকবে।


তিনি আরও বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বুঝে যাওয়া উচিত যে, ইরান যেখানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানেই হামলা চালাতে সক্ষম। তাই ট্রাম্প যদি এমন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন, তবে সেটি শেষ পর্যন্ত তার জন্য আবারও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।


একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে তেহরান। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইরান তার দৃঢ় অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসবে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পাশে পুতিন, পশ্চিমাদের পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

ইরানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে গ্রাস করতে চাইলে তাদের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেছেন পুতিন। খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের।   কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর এসব কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।   ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে রাশিয়া স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বলেও জানান পুতিন।   পুতিন বলেন, আমরা যাদের ভালোভাবে চিনি এবং সাধারণভাবে যাদের ওপর আস্থা রাখি, তাদের সঙ্গে কাজ করতে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’ তিনি বলেন, উইটকফ ও কুশনার ট্রাম্পের আস্থাভাজন ব্যক্তি।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ মস্কো সফর করে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সফরের বিষয়ে পুতিন বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ সময়েও দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তবে বর্তমানে এ ধরনের আলোচনা কিছুটা স্থগিত রয়েছে।   এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই পরস্পরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আকাশপথে হামলা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন গত কয়েক মাসে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জাহাজ ও বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি মস্কোর।   পুতিনের দাবি, ইউক্রেনের হামলায় গত ৪০ দিনে রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রাশিয়ার ক্ষতির পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমান।   এর জবাবে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান পুতিন। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলোতে রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।   পুতিন বলেন, ‘আমি বলছি না যে আমরা সেখানকার অর্থনীতি ধসিয়ে দেব। তবে এটি তাদের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।’   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি বলেছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপদ থাকবে না। এর প্রতিক্রিয়ায় পুতিন ওই মন্তব্যকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।   তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা হয় না।’ একই সঙ্গে দাবি করেন, ইউক্রেনই আবার রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চাইছে এবং ব্যক্তিগত বৈঠকের অনুরোধ করছে।   ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার নতুন করে সেনা নিয়োগের আশঙ্কা নিয়ে ওঠা আলোচনা উড়িয়ে দিয়ে পুতিন বলেন, এ ধরনের আশঙ্কা আজেবাজে কথা।   এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন। বৈঠকে ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের সাহস ও দৃঢ়তার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।   ইরানের প্রেসিডেন্টকে পুতিন বলেন, ‘এ কঠিন সময়ে আপনাদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যও আমরা সরবরাহ করছি।’   ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই তেহরানের পাশে রয়েছে মস্কো। রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি ড্রোন তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পরস্পরের ওপর হামলা শুরু করেছে।   এসসিও সম্মেলনে যাওয়ার আগে রাশিয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে মেরুভালুক ও ঘাতক তিমির উদাহরণ দিয়েছিলেন পুতিন।   বিশকেকে এ বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা দেশগুলোকে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো।   পুতিন বলেন, ‘কেউ যদি খাদ্যশৃঙ্খলে আমাদের নিচে নামিয়ে দিতে চায়, আমাদের গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তাহলে তারা দাঁতভাঙা জবাব পেতে পারে।’   তিনি আরও বলেন, ‘এসব হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁত দ্রুত বাড়লেও রাশিয়া তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।’   এদিকে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি নিয়েও দাবি করেন পুতিন। তিনি বলেন, আগস্টে ওই অঞ্চলের ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী ইউক্রেনীয় সংগঠন ডিপস্টেটের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে রাশিয়া সেখানে প্রায় ২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনো শেষ হয়নি: নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজে সৌদি ট্যাংকারে হামলা, কঠোর নিন্দা সৌদি আরবের

ছবি: এএফপি

যুদ্ধের মধ্যেই পুতিন-পেজেশকিয়ান বৈঠক, কী কথা হলো

দুই কার্গো জাহাজের সংঘর্ষের পর একটি নিখোঁজ

তুরস্কের কর্তৃপক্ষ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, দেশটির উপকূলে দুটি কার্গো জাহাজের মধ্যে মুখোমুখী সংঘর্ষের পর একটি কার্গো জাহাজের ১০ নাবিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।   ইস্তাম্বুলের দক্ষিণ-পশ্চিমে র্মর্ম সাগরে স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে জাহাজ দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর এএফপির।   ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘তুগবের্ক ইমামোগ্লু’ নামের কার্গো জাহাজটির সঙ্গে এবং এর ১০ নাবিকের সঙ্গে বর্তমানে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।   গভর্নরের কার্যালয় আরও জানিয়েছে, জাহাজটি খুঁজতে নৌযান ও একটি হেলিকপ্টার দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।   সংঘর্ষের শিকার অপর জাহাজ রাসায়নিকবাহী ট্যাংকার ‘আলসু’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে দুই জাহাজের সংঘর্ষ, ১০ ক্রুসহ একটি নিখোঁজ

আইআরজিসির রাজনৈতিক বিষয়ক ডেপুটি জেনারেল যাদুল্লাহ জাভানি।

আরব দেশগুলোকে মার্কিন ঘাঁটি সরানোর হুঁশিয়ারি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ, শিশুসহ নিহত ৫

ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি
ইমরান খান ও স্ত্রীকে একাকী কারাবন্দী রাখা যাবে না: হাইকোর্ট

পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দী রাখা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তাদের পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো এসব নির্দেশ দেন। ইমরান খান ও বুশরা বিবি বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইমরান খানকে কথিত একাকী কারাবন্দী রাখার অভিযোগে তার বোন আলিমা খান আদালতে আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে বুশরা বিবিকে নিয়ে পৃথক আবেদন করেন তার মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা। রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তার দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে হবে। ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে একটি বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই এসব মামলায় দেওয়া সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। তার পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরাও অভিযোগ করে আসছেন, কারা কর্তৃপক্ষ ইমরান খানকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে দুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বুশরা বিবিকে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবার কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় নয় মাস পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরে আরেকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুর্নীতিসংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় তাকে অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়। তিনি এখনো আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও সম্প্রতি তার পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতাল শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার পরিবার ও সমর্থকেরা কয়েক মাস ধরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে শনাক্ত হওয়া তার চোখের সমস্যা নিয়ে তারা উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তবে ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ইমরান খানের পরিবার আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের অভিযোগ, তাকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের লঙ্ঘন। ওই নির্দেশে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে ইমরান খানকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার পক্ষে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এ ঘটনায় আদালত অবমাননার আবেদনটির শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ওই শুনানি করবেন। বেঞ্চের সদস্যরা হলেন বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদ, নাঈম আখতার আফগান ও ইশতিয়াক ইব্রাহিম। একই বেঞ্চে ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগসংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলোরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল পেরু

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বাড়তেই বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

এক দশক পর মিশর সফরে গেলেন জিনপিং

0 Comments