ব্যস্ত কর্মজীবন, দীর্ঘ যানজট কিংবা নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে অনেকেই রাতে খাবার না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। আবার কেউ কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের পর আর কিছু খান না। অনেকের বিশ্বাস, রাতের খাবার বাদ দিলে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এক-দুদিন কোনো কারণে রাতের খাবার না খেলেও সাধারণত বড় ধরনের ক্ষতি হয় না। কিন্তু এটি যদি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুমের সময়ই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শরীর খাবার ছাড়া থাকে। তাই ঘুমের আগে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার সামাজিক ও মানসিক গুরুত্বও রয়েছে। ২০২১ সালে আমেরিকান কলেজ অব পেডিয়াট্রিশিয়ানসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষাগত সাফল্য এবং সুস্থ ওজন বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
রাতের খাবার বাদ দিলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও প্রভাবিত হতে পারে। অনেকেই দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রাতে বেশি পরিমাণে সবজি খান। অথচ সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষই প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফল ও সবজি খেতে পারেন না। ফলে রাতের খাবার বাদ দিলে এসব পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগও কমে যায়।
শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে?
খাবারের সময়সূচিতে পরিবর্তন এলেই শরীরে নানা জৈবিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। ২০২১ সালে কারেন্ট ওপিনিয়ন ইন বায়োটেকনোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনা গবেষণায় বলা হয়েছে, অনিয়মিত সময়ে খাওয়া শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াও বিঘ্নিত হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়া আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ২০২৩ সালে জার্নাল অব দ্য অ্যাকাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দিনে মাত্র একবার খাবার খাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নিয়মিত দুপুর বা রাতের খাবার বাদ দেওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বল্প সময়ের জন্য রাতের খাবার না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। এতে দুর্বল লাগা, হাত কাঁপা কিংবা শক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে বা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে একদিন রাতের খাবার না খেলেও সাধারণত গুরুতর সমস্যা দেখা যায় না।
অন্যদিকে, ২০২২ সালে সেল মেটাবলিজম সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর রাতে খাবার খাওয়া ক্ষুধা বাড়াতে পারে এবং লেপটিন হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। এই হরমোন শরীরকে তৃপ্তির সংকেত দেয়। ফলে রাত করে খাওয়ার অভ্যাস স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া ইনোভেশন ইন এজিং সাময়িকীতে ২০২০ সালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত খাবার বাদ দেন, বিশেষ করে বয়স্করা, তাদের মধ্যে বিষন্নতা, উদ্বেগ এবং অনিদ্রার সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
সমাধান কী
মাঝে মধ্যে কোনো কারণে রাতের খাবার বাদ পড়লে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এটি যেন নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আর যদি ওজন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য থাকে, তাহলে রাতের খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।
সূত্র: এভরিডে হেলথ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ঢাকার মাদানী এভিনিউর ইউনাইটেড সিটিতে অবস্থিত ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সফলভাবে বাংলাদেশের প্রথম রোবোটিক সার্জারি সম্পন্ন করে দেশের চিকিৎসা খাতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেছে। এআই নির্ভর রোবোটিক সার্জিকাল প্রযুক্তির সংযোজনের ফলে বড় কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই আরও নিয়ন্ত্রিত অস্ত্রোপচার, কম রক্তক্ষরণ, অস্ত্রোপচার পরবর্তী কম ব্যথা এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন পিত্তথলিতে পাথরে আক্রান্ত ৩৪ বছর বয়সী একজন পুরুষ রোগীর ওপর সফল রোবোটিক কোলেসিস্টেকটমি করেন। অন্যদিকে অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান (শেলী) জরায়ু থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আক্রান্ত ৪৫ বছর বয়সী নারীর ওপর সফল রোবোটিক হিস্টেরেকটমি সম্পন্ন করেন। অত্যাধুনিক Medbot Toumai Endoscopic Surgical Robot-এর সহায়তায় এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল টিমের সহযোগিতায় এই দুটি সার্জারি সম্পন্ন করা হয়। সার্জারির সময় রোবোটিক সিস্টেমের মাধ্যমে চিকিৎসকরা 3D-তে শরীরের ভেতরে স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন এবং রোবোটিক আর্ম ৩৬০-ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরিয়ে খুব সংকীর্ণ ও জটিল স্থানেও নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারেন। ফলে আক্রান্তস্থলে আরও সহজে পৌঁছানো, আশপাশের টিস্যুর ক্ষতি কমানো এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন বলেন, ‘রোবোটিক সার্জারি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যেখানে প্রযুক্তির সমন্বয়ে চিকিৎসকরা আরও নিখুঁতভাবে অস্ত্রোপচার করতে পারেন। রোবোটিক আর্ম ৩৬০-ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে পারে, যা মানুষের হাতের স্বাভাবিক নড়াচড়ার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে শরীরের খুব সংকীর্ণ ও জটিল জায়গাতেও আরও নিখুঁতভাবে কাজ করা সম্ভব হয়। এতে রক্তনালি ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নিরাপদ রাখা, কম কাটাছেঁড়ায় চিকিৎসা করা, রক্তক্ষরণ কমানো এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।’ অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান (শেলী) বলেন, ‘রোবোটিক সার্জারির এই কার্যক্রম খুব শিগগিরই কার্ডিয়াক সার্জারি, নিউরোসার্জারি, ইউরোলজি, জেনারেল সার্জারি, গাইনোকোলজি ও থোরাসিক সার্জারিতে আরও বিস্তৃত করা হবে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো, যেসব উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশে যেতে হয়, তাদের দেশের মাটিতেই বিশ্বমানের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। এর ফলে রোগীরা দেশেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন এবং বিদেশে চিকিৎসার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পরিমাণও কমবে।’ রোবোটিক সার্জারির সংযোজন ইউনাইটেড হেলথকেয়ার-এর আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। দেশের মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি হসপিটালটি জরুরি ও ক্রিটিকাল কেয়ার, উন্নত রোগ নির্ণয় এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসার মান ও সেবার অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করার পাশাপাশি দেশের মানুষের ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা চাহিদা পূরণে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশ-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেও হাসপাতালটি কাজ করে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশেই আরও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান ও সক্ষমতা আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮৮৬ জনের শরীরে। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৫৭ জন। শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতি বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬৩ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৫৭ জনসহ ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১৮ হাজার ৮৫৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮৮৬ জনের। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৭ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ জন।
আমরা যখন “টেস্টোস্টেরন” শব্দটি শুনি, তখন অধিকাংশ মানুষের মনেই ভেসে ওঠে পুরুষত্ব, শক্তি কিংবা দেহের পেশীবহুল গঠন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, টেস্টোস্টেরন কেবল একটি “পুরুষ হরমোন” নয়; এটি মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক বার্তাবাহক, যা নীরবে আমাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শরীর ও মনের সুস্থতা রক্ষা করে চলে। কল্পনা করুন, আপনার শরীরটি একটি বিশাল ও ব্যস্ত নগরী। এই নগরীর প্রতিটি রাস্তা, কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে প্রয়োজন দক্ষ প্রশাসনের। টেস্টোস্টেরন ঠিক সেই দক্ষ প্রশাসকের মতো, যে দৃশ্যের আড়ালে থেকে শরীরের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সমন্বয় করে। শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যৌবন, আর যৌবন থেকে বার্ধক্য—জীবনের প্রতিটি ধাপে এর প্রভাব সুস্পষ্ট। বয়ঃসন্ধিকালে একজন কিশোরের জীবনে যে নাটকীয় পরিবর্তনগুলো দেখা যায়, তার পেছনের অন্যতম প্রধান শক্তি হলো টেস্টোস্টেরন। কণ্ঠস্বর গভীর হওয়া, মুখে ও শরীরে লোম গজানো, পেশী বৃদ্ধি, হাড়ের দৃঢ়তা অর্জন এবং প্রজনন অঙ্গের পরিপূর্ণ বিকাশ—সবকিছুর সঙ্গেই এই হরমোনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এটি যেন প্রকৃতির এক নিখুঁত নির্মাতা, যা একজন কিশোরকে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তবয়স্কে রূপান্তরিত করে। তবে টেস্টোস্টেরনের গুরুত্ব শুধুমাত্র কৈশোরেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে এটি আমাদের শক্তি, কর্মক্ষমতা এবং জীবনমানের অন্যতম ভিত্তি। যৌন আকাঙ্ক্ষা, উত্থান ক্ষমতা ও শুক্রাণু উৎপাদনের মাধ্যমে এটি প্রজনন স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে এটি পেশীর শক্তি ও গঠন বজায় রাখে, ফলে মানুষ দৈনন্দিন কাজ, খেলাধুলা কিংবা কর্মজীবনে সক্রিয় থাকতে পারে। হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা করে এটি অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমায়। আবার লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন বাড়িয়ে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, যা আমাদের শক্তি ও সহনশীলতার অন্যতম উৎস। টেস্টোস্টেরনের আরেকটি বিস্ময়কর দিক হলো এর মানসিক প্রভাব। অনেকেই জানেন না যে, এই হরমোন আমাদের আত্মবিশ্বাস, উদ্যম, প্রেরণা এবং মানসিক কর্মক্ষমতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। পর্যাপ্ত টেস্টোস্টেরন একজন মানুষকে প্রাণবন্ত, কর্মঠ ও ইতিবাচক অনুভব করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে এর ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, মনমরা ভাব, অনুপ্রেরণার অভাব, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা টেস্টোস্টেরন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও বিস্তৃত করেছে। এক সময় একে কেবল যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট হরমোন হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ Metabolic Hormone হিসেবেও বিবেচনা করেন। শরীরের চর্বি নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিনের কার্যকারিতা, গ্লুকোজ বিপাক এবং সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শুধু যৌন স্বাস্থ্য নয়, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আজ টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি নির্ণয় ও চিকিৎসা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য হয়েছে। আধুনিক ল্যাবরেটরি প্রযুক্তির মাধ্যমে হরমোনের মাত্রা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি—ইনজেকশন, জেল, ওরাল এবং ন্যাসাল ফর্মুলেশন—রোগীদের জন্য আরও কার্যকর ও সুবিধাজনক সমাধান নিয়ে এসেছে। যথাযথ রোগী নির্বাচন ও নিয়মিত চিকিৎসক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই চিকিৎসা জীবনযাত্রার মান, শারীরিক সক্ষমতা, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং বিপাকীয় কার্যক্রম উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আজকের দ্রুতগতির জীবনে আমরা প্রায়ই ক্লান্তি, কর্মক্ষমতা হ্রাস, ওজন বৃদ্ধি, মানসিক অবসাদ বা যৌন স্বাস্থ্যের পরিবর্তনকে স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ বলে মনে করি। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই এসব লক্ষণের পেছনে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই সচেতনতা, সময়মতো মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই একটি মানসম্পন্ন ও আধুনিক ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (Health Check-up) অংশ হিসেবে টেস্টোস্টেরন মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাই ব্যক্তির হরমোনগত অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে এবং চিকিৎসককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা জীবনধারাগত পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে। টেস্টোস্টেরন তাই শুধু একটি হরমোন নয়; এটি আমাদের শক্তি, আত্মবিশ্বাস, সুস্থতা ও কর্মক্ষমতার নীরব রক্ষক। মানবদেহের এই অদৃশ্য শক্তিকে বোঝা এবং প্রয়োজনে মূল্যায়ন করা আধুনিক প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। কারণ সুস্থ জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে তখনই, যখন আমরা শরীরের নীরব সংকেতগুলোকেও গুরুত্ব দিতে শিখি।