বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেকের মুখ, হাত, কাঁধ ও পিঠের মতো শরীরের খোলা অংশে ছোট ছোট কালচে দাগ দেখা দেয়। এসব দাগকে বয়সের দাগ, সানস্পট বা লিভার স্পট বলা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এগুলো সোলার লেন্টিজিনেস নামে পরিচিত। সাধারণত দীর্ঘদিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকার কারণে ত্বকে এসব দাগ তৈরি হয়। বয়সের দাগ সাধারণত সমতল ও ডিম্বাকৃতির হয়। এগুলোর রং হালকা বাদামি থেকে গাঢ় বাদামি বা কালচে হতে পারে। আকারে ছোট ফ্রেকলসের মতো দাগ থেকে শুরু করে প্রায় ১৩ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। কখনো একাধিক দাগ একসঙ্গে জমা হয়ে ত্বকে ছোপ ছোপ ভাব তৈরি করে। হাতের উপরিভাগ, পায়ের ওপরের অংশ, মুখ, কাঁধ ও পিঠের ওপরের দিকে এসব দাগ বেশি দেখা যায়। ৫০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের মধ্যে বয়সের দাগ বেশি দেখা গেলেও কম বয়সিরাও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে যাদের ত্বক সহজে রোদে পুড়ে যায় এবং যারা দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকেন, তাদের ঝুঁকি বেশি। শিশুদের ত্বকে দেখা দেওয়া ফ্রেকলসের মতো এসব দাগ সূর্যের আলো এড়িয়ে চললে সাধারণত মিলিয়ে যায় না। বয়সের দাগ কেন হয় ত্বকের রং নির্ধারণ করে মেলানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন সূর্যের আলোতে থাকার ফলে ত্বকের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে মেলানিন জমা হতে পারে বা অতিরিক্ত উৎপন্ন হতে পারে। এ থেকেই বয়সের দাগ দেখা দেয়। বাণিজ্যিক ট্যানিং ল্যাম্প ও ট্যানিং বেড ব্যবহার করলেও এ ধরনের দাগ তৈরি হতে পারে। বয়সের দাগ সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে দেখতে ত্বকের ক্যানসারের কিছু লক্ষণের মতো হওয়ায় সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো দাগ কালো হয়ে গেলে, আকারে বড় হলে, সীমানা অসমান হলে, একাধিক রঙ দেখা দিলে কিংবা রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নতুন কোনো দাগ দেখা দিলেও তা পরীক্ষা করানো ভালো। এসব পরিবর্তন মেলানোমা নামের গুরুতর ত্বকের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। প্রতিরোধ করবেন যেভাবে বয়সের দাগ প্রতিরোধে সূর্যের আলো থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বেশি তীব্র থাকে। তাই সম্ভব হলে এ সময়ে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। বাইরে যাওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে কমপক্ষে এসপিএফ ৩০ যুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর এবং সাঁতার কাটার বা ঘামার পর আবার সানস্ক্রিন লাগান। এ ছাড়া হাত-পা ঢেকে রাখে এমন পোশাক ও চওড়া কিনারার টুপি ব্যবহার করুন। অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এমন ইউপিএফ ৪০ থেকে ৫০ মানের পোশাকও বেছে নিতে পারেন। বয়সের দাগ সৌন্দর্যগত কারণে হালকা করা বা অপসারণ করা সম্ভব। তবে আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন, দাগটি অন্য কোনো রোগের লক্ষণ নয়। সূত্র: মায়ো ক্লিনিক
স্মোকি আই, ক্যাট-আই লাইনার কিংবা কাজল—চোখের সাজে নানা প্রসাধনী ব্যবহার করেন অনেকে। তবে সৌন্দর্য বাড়ানোর এই অভ্যাসে পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল না রাখলে চোখে জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমনকি কিছু ভুল অভ্যাস চোখের সংবেদনশীল অংশেরও ক্ষতি করতে পারে। চোখের সাজে যে ৯ ভুল এড়িয়ে চলবেন ১. মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার: পুরোনো মাসকারা, আইলাইনার ও আইশ্যাডোতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। এগুলো ব্যবহারে চোখ ওঠা, চোখের পাতায় সংক্রমণ ও প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণত মাসকারা তিন মাস পরপর পরিবর্তন করা ভালো। অন্য প্রসাধনীগুলোও মেয়াদ ও অবস্থা বিবেচনায় নিয়মিত বদলাতে হবে। ২. অন্যের প্রসাধনী ব্যবহার: অন্যের মাসকারা, আইলাইনার বা মেকআপ ব্রাশ ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়াতে পারে। একবার ব্যবহার করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ৩. চোখের পাতার ভেতরের কিনারায় আইলাইনার লাগানো: চোখের পাতার ভেতরের অংশে কাজল বা আইলাইনার লাগালে অশ্রুর তৈলাক্ত স্তর তৈরির জন্য দায়ী গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে চোখের শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া ও দৃষ্টির স্বচ্ছতা ওঠানামার সমস্যা বাড়তে পারে। ৪. মেকআপ না তুলে ঘুমানো: রাতে চোখের মেকআপ না তুললে চোখের পাতার গ্রন্থি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে চোখের পাতা প্রদাহে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই ঘুমানোর আগে আলতোভাবে মেকআপ তুলে ফেলতে হবে। ৫. চোখের খুব কাছে প্রসাধনী লাগানো: গ্লিটার বা রঙের কণা চোখে ঢুকে কর্নিয়ায় আঁচড় সৃষ্টি করতে পারে। কিছু প্রসাধনী অ্যালার্জির কারণও হতে পারে। সহজে ঝরে পড়ে এমন প্রসাধনী চোখের পাপড়ির কাছাকাছি ব্যবহার না করাই ভালো। ৬. অপরিষ্কার ব্রাশ ব্যবহার: মেকআপ ব্রাশে তেল, মৃত ত্বককোষ ও ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে। তাই নিয়মিত ব্রাশ পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ শুকিয়ে ব্যবহার করতে হবে। ৭. অতিরিক্ত ওয়াটারপ্রুফ প্রসাধনী ব্যবহার: ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা ও আইলাইনার তুলতে বেশি শক্তিশালী রিমুভার এবং ঘষাঘষির প্রয়োজন হতে পারে। এতে চোখের পাতা জ্বালাপোড়া করতে পারে এবং পাপড়ি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ৮. চোখে সংক্রমণ থাকলেও মেকআপ করা: চোখে সংক্রমণ বা প্রদাহ দেখা দিলে মেকআপ ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে। এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। ৯. উপযুক্ত প্রসাধনী ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম উপেক্ষা করা: চোখের জন্য পরীক্ষিত প্রসাধনী বেছে নেওয়া এবং পরিষ্কার মেকআপ রিমুভার দিয়ে আলতোভাবে মেকআপ তোলা জরুরি। যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন মেকআপ ব্যবহারের পর চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, ফুলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া বা অতিরিক্ত পানি পড়াকে অবহেলা করা উচিত নয়। যে প্রসাধনী ব্যবহারের পর সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন। উপসর্গ না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে প্রসাধনীর মেয়াদ পরীক্ষা করা এবং পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা জরুরি। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী। বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি বছরে মৃত্যু ৩৬৪, আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৩৬৪ জন। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ২০ দিনেই ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবে সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা গেছেন। এদিকে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জনে। ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক রোগী ভর্তি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ২২৫ জন, চট্টগ্রামে ১৯৭ জন, খুলনায় ১৫৫ জন, রাজশাহীতে ১১১ জন, ময়মনসিংহে ৪৫ জন, রংপুরে ২৮ জন এবং সিলেটে ১০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৩৪০ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৬৫৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ডেঙ্গুর চলমান পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগের বিস্তার রোধে শুধু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা, বাহক শনাক্তে রক্ত পরীক্ষা এবং বিয়ের আগে বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার সময় প্রয়োজনীয় পরামর্শ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো পরীক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। জামালপুরের আবিয়ার সাত বছর বয়সে থ্যালাসেমিয়া শনাক্ত হয়। বিয়ের চার বছর পর অসুস্থতা ও চিকিৎসার ব্যয়কে কেন্দ্র করে স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে সন্তানকে নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করছেন তিনি। চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে এক থেকে দুবার ঢাকায় আসতে হয় তাকে। যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা মিলিয়ে পরিবারের মাসিক ব্যয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বেশি। গত বছর আবিয়ার যকৃতে সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি গত সাত মাস ধরে নিয়মিত রক্তদাতার ব্যবস্থা করতেও সমস্যায় পড়ছেন তিনি। আবিয়ার মতো থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি রোগীকে চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে রোগটির বিস্তার প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের জাতীয় থ্যালাসেমিয়া জরিপ অনুযায়ী, দেশের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। তাদের মধ্যে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশই নিজেদের বাহক হওয়ার বিষয়টি জানেন না। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯৬ শতাংশ কখনো থ্যালাসেমিয়া শনাক্তের পরীক্ষা করাননি। মোট ৮ হাজার ৬৮০ জনের ওপর এ জরিপ পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মাসুমা রহমান জানান, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ। বাবা-মা দুজনই এ রোগের বাহক হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিয়ের আগে কিংবা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার সময় উভয়ের বাহক শনাক্তকরণ পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারের মাধ্যমে রোগটির কারণ, পরীক্ষা ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। থ্যালাসেমিয়ার বাহক শনাক্তে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিসসহ প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করা হয়। ফাউন্ডেশনে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষার খরচ প্রায় এক হাজার টাকা। তবে সচেতনতার অভাব ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হন না। বিবিএসের জরিপে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ নিজেদের থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়ার বিষয়টি জানেন না। শহরাঞ্চলে এ হার ৬৭ দশমিক ২ শতাংশ। ময়মনসিংহ বিভাগে এ বিষয়ে অজ্ঞতার হার ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া পুরুষদের ৯৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং নারীদের ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ কখনো থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করাননি। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা, রক্ত সঞ্চালন, পরীক্ষাগার সুবিধা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির যাকাত তহবিল থেকে গত বছর ২ হাজার ৮০০ রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অমুসলিম দরিদ্র রোগীদের জন্যও পৃথক সহায়তা তহবিল রয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য তিন দিন বিনা মূল্যে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অনেক রোগীর নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে বারবার রক্ত গ্রহণের ফলে শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে যকৃৎ ও হৃৎপিণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন চিলেশন থেরাপি গ্রহণ করতে হয়। রোগের জটিলতা ও চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী একজন রোগীর মাসিক ব্যয় প্রায় ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি হতে পারে। নিয়মিত রক্ত, ওষুধ, পরীক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মাসুমা রহমানের মতে, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ ও রোগীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাশ্রয়ী মূল্যে পরীক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপদ রক্তের সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য করা এবং জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়া মানেই রোগে আক্রান্ত হওয়া নয়। তবে নিজেদের বাহক হওয়ার অবস্থা সম্পর্কে না জানলে ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় জেনেটিক কাউন্সেলিং থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাপানের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে বাংলাদেশি রোগীদের তথ্যপ্রাপ্তি এবং চিকিৎসা সমন্বয়ের সুযোগ বাড়াতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর ফলে জাপানের আধুনিক হৃদ্রোগের চিকিৎসা, রোবোটিক প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন বাংলাদেশের রোগীরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন (বিএমটিএ) এবং জাপানের ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কোঅর্ডিনেটর কম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (জিমকা) মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। অনুষ্ঠানে জাপানের কোবে ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের কার্ডিওভাসকুলার মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হিরোমাসা ওতাকে হৃদ্রোগের আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি হৃদ্রোগ নির্ণয়ে অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি (ওসিটি) প্রযুক্তি এবং জটিল করোনারি চিকিৎসার অগ্রগতি তুলে ধরেন। কোবে ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের আন্তর্জাতিক চিকিৎসা যোগাযোগ কেন্দ্রের প্রধান অধ্যাপক তোমো ইতো আন্তর্জাতিক রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে এ খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জিমকার মহাসচিব কাতসুয়া সাকাগামি, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) বাংলাদেশ প্রতিনিধি কিয়োশি আমাদা ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ইউকো মরিকাওয়া এবং শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ফুতাশি কোনো উপস্থিত ছিলেন। বিএমটিএর পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, সহসভাপতি এ এম আর মজুমদার লিটন, শাব্বির আহমেদ তামিম ও আবদুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুফাসসেরুল হকসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিএমটিএ ২০২১ সাল থেকে চিকিৎসা পর্যটন ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে জিমকা জাপানে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বিদেশি রোগীদের সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে জাপানের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে বাংলাদেশি রোগীদের জানার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি জাপানে চিকিৎসা নিতে আগ্রহীদের জন্য তথ্য সংগ্রহ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত যোগাযোগ সহজ হতে পারে। তবে এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া, চিকিৎসার ব্যয়, ভিসা-সংক্রান্ত সহায়তা এবং রোগী পাঠানোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থা কী হবে, তা সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত ও বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগে অসুবিধা, পেট ফাঁপা এবং পেটে অস্বস্তির মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দীর্ঘদিন এ সমস্যা চলতে থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হতে পারে। তবে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এনডিটিভি ফুড-এর এক প্রতিবেদনে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক পাঁচটি খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. শিলপা অরোরার পরামর্শের ভিত্তিতে খাবারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ১. কাঁচা পেঁপে পেঁপেতে রয়েছে প্যাপেইন নামের একটি এনজাইম, যা প্রোটিন ভাঙতে ও হজমে সহায়তা করে। এ ছাড়া পেঁপের খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পেঁপে খেলে মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। ২. ভেজানো কিশমিশ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে খাদ্যতালিকায় ভেজানো কিশমিশ রাখা যেতে পারে। কিশমিশে থাকা খাদ্যআঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে সরবিটল নামের একটি প্রাকৃতিক শর্করা অ্যালকোহল রয়েছে, যা অন্ত্রে পানি ধরে রাখতে এবং মল নরম করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে মলত্যাগ তুলনামূলক সহজ হতে পারে। ৩. শুকনো বরই বা প্রুন কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে শুকনো বরই, যা প্রুন নামেও পরিচিত, বেশ উপকারী একটি খাবার। এতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—দুই ধরনের খাদ্যআঁশ রয়েছে। অদ্রবণীয় আঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, দ্রবণীয় আঁশ অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া প্রুনে থাকা সরবিটল মল নরম করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে মলত্যাগের সময় চাপ দেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব। ৪. পর্যাপ্ত পানি পান কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে আঁশযুক্ত খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে মল শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, ফলে মলত্যাগ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সারা দিন নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তবে যাদের কিডনি, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা বা অন্য কোনো কারণে চিকিৎসক তরল গ্রহণ সীমিত রাখতে বলেছেন, তাদের সেই নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন। ৫. আঁশসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডাল এবং পূর্ণশস্যজাতীয় খাবার রাখুন। এসব খাবারে থাকা খাদ্যআঁশ মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচলে সহায়তা করে। তবে দীর্ঘদিন কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ করে আঁশের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দিলে পেটে গ্যাস ও ফাঁপা ভাব দেখা দিতে পারে। তাই ধীরে ধীরে আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়ানো এবং পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো। কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরও কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বমি, পেট অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া কিংবা মল ও গ্যাস একেবারেই বের না হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলেও নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৮৮ জন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিনে বলা হয়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনে মারা গেছে ১০৩ জন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুলেটিনে আরো বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৮৮ জন ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৮২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬ হাজার ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
আয়ুর্বেদে মধুর বহুবিধ উপকারিতা সকলেরই জানা। কেউ কেউ মধুকে সুপারফুডও বলে থাকে। ওজন কমাতে অনেকে সকালে কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খান। হজমশক্তি বাড়াতেও মধু বেশ কার্যকর। এ ছাড়াও সারাদিনের এনার্জিও থাকে বেশ ভালো। চলুন জেনে নেই সকালে কুসুম গরম পানিতে মধু খেলে শরীরের জন্য কী কী উপকার হতে পারে- হজমশক্তি বাড়ায় কুসুম গরম পানিতে মধু হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়ক। তাই যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা আছে তারা নিয়মিত কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার মেলে। ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক নিয়মিত সকালে মধু-পানি পান করলে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। মেটাবলিজম বাড়িয়ে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় মধুতে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ত্বক উজ্জ্বল রাখে শরীরের ভেতর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে মধু-পানি। এর ফলে ত্বক থাকে পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও সতেজ। সকালে কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। এনার্জি জোগায় সকালে খালি পেটে মধু-পানি পান করলে তাৎক্ষণিক এনার্জি পাওয়া যায়। সারাদিন কাজে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে এটি বেশ কার্যকর। যেভাবে খাবেন এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চা-চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন। চাইলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস যোগ করা যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস বা বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলে নিয়মিত মধু খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সূত্র : আনন্দবাজার
লবঙ্গ শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর মসলা নয়, এটি হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, যকৃতের কার্যকারিতা সমর্থন করা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সম্ভাব্য ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ এই মসলার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে গবেষণার তথ্য তুলে ধরেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন। লবঙ্গ আস্ত কিংবা গুঁড়া—দুইভাবেই ব্যবহার করা যায়। ভাজা মাংসে স্বাদ বাড়ানো, গরম পানীয়তে সুগন্ধ যোগ করা এবং কেক-বিস্কুট তৈরিতে মসলাটি বহুল ব্যবহৃত। হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে পারে লবঙ্গ প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের লাখো মানুষের হাড়ের ভর বা ঘনত্ব কমে যায়। এর ফলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ রোগে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ভর বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে ভিটামিন কে ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা সুস্থ হাড় বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এসব পুষ্টি উপাদানের পর্যাপ্ত সরবরাহ হাড়ের গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এগুলো অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সঙ্গে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের সম্পর্ক রয়েছে। লবঙ্গে ইউজেনল নামের একটি যৌগও রয়েছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে লবঙ্গসহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা নিশ্চিত নয় তবে লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাব্য উপকারিতার পক্ষে যেসব তথ্য রয়েছে, তার বড় অংশই প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণাভিত্তিক। মানুষের শরীরে একই ধরনের প্রভাব দেখা যায় কিনা, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড় মজবুত করার জন্য শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ওজন বাড়লেই অনেকে থাইরয়েডের সমস্যাকে দায়ী করেন। আবার কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকলে অনেকে মনে করেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস কিংবা ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে এমন হচ্ছে। কিন্তু কখনো কখনো এর পেছনে থাকতে পারে থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজনের পরিবর্তনের সঙ্গে অন্য কিছু উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। থাইরয়েড যেভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ করে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণেও এই হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। থাইরয়েড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন নিঃসৃত হলে হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়। এতে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে ওজন বাড়তে পারে। তবে এই বাড়তি ওজনের সবটুকু শরীরে চর্বি জমার কারণে হয় না। এর একটি অংশ শরীরে পানি জমে যাওয়ার কারণেও হতে পারে। অন্যদিকে, থাইরয়েড হরমোন অতিরিক্ত নিঃসৃত হলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়। এ অবস্থায় শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক পরিমাণে খাবার খেয়েও কারও কারও ওজন কমতে পারে। এমনকি ক্ষুধা বেড়ে গেলেও ওজন কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। কখন ওজন বাড়লে থাইরয়েডের সমস্যা সন্দেহ করবেন? শুধু ওজন বেড়ে যাওয়ার ভিত্তিতে থাইরয়েডের সমস্যা নির্ণয় করা যায় না। তবে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ওজন বাড়ার পাশাপাশি কিছু উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, ঠান্ডা বেশি অনুভব করা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, মুখ ফুলে থাকা, মাসিকের অনিয়ম, পেশিতে ব্যথা এবং হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইপোথাইরয়েডিজম একাই সাধারণত অতিরিক্ত মাত্রায় ওজন বাড়ার ব্যাখ্যা দিতে পারে না। থাইরয়েডের সমস্যা যথাযথভাবে চিকিৎসা করা হলে এর কারণে ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা কমতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার পরও ওজন বাড়তে থাকলে অন্য কারণগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অপর্যাপ্ত ঘুম, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ইনসুলিন প্রতিরোধ, মেনোপজ এবং অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যাও ওজন বাড়াতে পারে। কারণ ছাড়াই ওজন কমলে কী করবেন? কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকলেও বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে এর সঙ্গে বুক ধড়ফড় করা, হাত কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম, গরম সহ্য করতে না পারা, উদ্বেগ, ঘন ঘন মলত্যাগ, পেশির দুর্বলতা কিংবা ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে হাইপারথাইরয়েডিজমের আশঙ্কা থাকতে পারে। কিছু রোগীর গলার সামনের অংশ ফুলে যেতে পারে। আবার গ্রেভস ডিজিজে আক্রান্ত কারও কারও চোখেও সমস্যা দেখা দেয়। সবার কি থাইরয়েড পরীক্ষা করা প্রয়োজন? ওজন নিয়ে সমস্যায় ভুগলেই সবার থাইরয়েড পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তবে ওজনের পরিবর্তনের সঙ্গে থাইরয়েডের অন্যান্য উপসর্গ, গলার সামনে গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, মাসিক বা প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা থাকলে চিকিৎসক পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। নিজের বা পরিবারের কারও থাইরয়েড কিংবা অটোইমিউন রোগের ইতিহাস থাকলেও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। সাধারণত থাইরয়েড পরীক্ষা শুরু হয় টিএসএইচ ও ফ্রি টি-ফোর পরীক্ষার মাধ্যমে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রি টি-থ্রি , থাইরয়েড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা কিংবা স্ক্যান করানো হতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজম নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শে থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ গ্রহণ করে হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক করা যায়। এতে থাইরয়েডজনিত ওজন বৃদ্ধির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে থাইরয়েডের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮১ জন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিনে বলা হয়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১৫ দিনে মারা গেছে ৯০ জন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুলেটিনে আরও বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৮১ জন ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে এক হাজার ২১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরে মোট মৃত্যু ১১৮৬ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন এক হাজার ৮২ জন। সব মিলিয়ে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৮৬ জনে। সর্বোচ্চ রোগী ঢাকা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে নতুন করে ৪৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭৭ জন ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ১৩৬ জন, বরিশালে ১০৮ জন, খুলনায় ১০৭ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন এবং রংপুরে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক লাখ ৮০ হাজার দুইজন। একই সময়ের হিসাবে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৪০ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৯৭২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিসংখ্যানে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য পৃথকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
পেট ভরে খেয়েও ওজন কমানো এবং শরীরের বাড়তি মেদ ঝরানো পুরোপুরি সম্ভব। তবে এর জন্য না খেয়ে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক খাবার নির্বাচন ও লাইফস্টাইলের কিছু সাধারণ পরিবর্তনই যথেষ্ট। সে জন্য খাবারের প্লেটে পুষ্টির ভারসাম্য আনা প্রয়োজন। প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, ডাল বা পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি রাখুন। প্রোটিন হজম হতে সময় নেয়, যা পেট দীর্ঘক্ষণ ভরিয়ে রাখে এবং মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি গলাতে সাহায্য করে থাকে। আর সাদা ভাতের বদলে লাল চালের ভাত, ওটস কিংবা ডালিয়া খেতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও সালাদ রাখুন। এগুলো কম ক্যালরিতে পেট ভরিয়ে দেয়। আর চর্বি কমানোর জন্য চর্বি খাওয়া একেবারে বন্ধ করবেন না। কারণ খাবারে বাদাম, অলিভ অয়েল কিংবা ঘির মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখুন। মনে রাখবেন, ওজন কমানোর নিয়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই। কেউ না খেয়ে থাকেন, কেউ শুধু প্রোটিন খান, কেউ প্রবল কায়িক শ্রম করে দুর্বল হয়ে পড়েন, আবার কেউ বা খাবার ত্যাগ করার ভয়ে শুরুই করেন না। কখনো প্রবল নিয়মে হিতে বিপরীত হয়, কখনো অনিয়মে মেদ জমতেই থাকে। আর তারপর হতাশা ছাড়া কিছুই থাকে না জীবনে। অথচ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি খাবারের ক্যালোরি গুনতে হবে কিংবা পেট ভরে খাওয়া যাবে না— এমন নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খাবারের পরিমাণ বুঝে খাওয়ার মতো কয়েকটি অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসতে পারে। সম্প্রতি পুষ্টিবিদ কৃতি ঠাকরে ওজন কমানোর এমন পাঁচটি স্বাস্থ্যকর নিয়মের কথা বলেছেন, যা শুনে কঠিন মনে হয় না এবং রোগা হওয়ার তাগিদ তৈরি হয়। স্লিম হয়ে থাকার জন্য পাঁচটি পন্থা অবলম্বন করা উচিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক রোগা হওয়ার পাঁচ পন্থা— ১. চিনি বাদ চা ও কফিতে অতিরিক্ত চিনি বা নরম পানীয় থেকে আইসক্রিম খাওয়া বন্ধ করতে হবে। চিনির সিরাপ দেওয়া শরবত হোক কিংবা খাবারে লুকিয়ে থাকা চিনি— এসবের মাধ্যমে শরীরে অনেকটা অতিরিক্ত ক্যালোরি ঢুকে পড়তে পারে। ২. ঠান্ডা পানি বাদ তরল খাবার বা ঠান্ডা পানীয় থেকে অতিরিক্ত চিনি সেবন করে ফেলেন অনেকেই। কিন্তু সেটা বোঝা যায় না। ধরা যাক— মিষ্টি খাচ্ছেন বেশি করে, তাতে যতটা পেট ভরবে, ঠান্ডা পানীয়ে সেটি হবে না। সেখানে পেট ভরার অনুভূতি তৈরি হয় না বলে অতিরিক্ত পান করা যায়। আর সেখান থেকে প্রচুর ক্যালোরি গ্রহণ করে দেহ। ৩. ৩-২-১ থালা সাজানোর পদ্ধতি প্রতিবার খাবার খাওয়ার সময়ে কতটা ভাত কিংবা রুটি নেবেন, কতটা সবজি খাবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন? এ সমস্যা এড়াতে কাজে আসতে পারে ৩-২-১ থালা সাজানোর পদ্ধতি। খাওয়ার থালাকে ছয় ভাগে ভাগ (৩, ২ ও ১) করে নিতে হবে। এর তিনটি ভাগে সবজি রাখতে হবে। তার পরের দুই ভাগে প্রোটিন রেখে বাকি কেবল এক ভাগে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। ৪. ৮০ শতাংশ পেট ভরলে খাওয়া বন্ধ খাবার সামনে থাকলে অনেকেই পেট ভরে যাওয়ার পরও খেতে থাকেন। কখন থামতে হবে, তা বুঝতে পারেন না। তাই খাওয়ার সময়ে পেট ভরার সংকেতের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদের মতে, ৮০ শতাংশ পেট ভরে গেলে খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। জাপানেও এ পদ্ধতি মেনেই খাবার খাওয়া হয়। এর ফলে হুট করে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হয় না। তাই খাবার খাওয়ার সময়ে মন দিয়ে খেতে হবে, যাতে পেট ভরলে সেটি বোঝা যায়। ৫. খাওয়ার পর হাঁটা পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাবার খাওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ১ হাজার পা হাঁটুন। সঙ্গে ৩০ বার ‘কাফ রেইজিং’ এবং ৩০ বার ‘চেয়ার সিট’ ব্যায়াম করুন। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পায়ের গোড়ালি মাটির ওপর তোলা এবং পায়ের পাতার সামনের অংশে ভর দিয়ে পুরো শরীরকে উপরের দিকে তুলে ধরাকেই ‘কাফ রেইজিং’ ব্যায়াম বলা হয়। আর ‘চেয়ার সিট’ হলো পোক্ত চেয়ার রেখে তাতে বসা এবং উঠে দাঁড়ানো। হাতে কোনো ভর না দিয়ে।
দেশে গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ৯৪৩ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে চলতি বছর এ নিয়ে ডেঙ্গুতে মোট ৩৩১ জনের মৃত্যু হল। এর মধ্যে চলতি অক্টোবর মাসেই প্রাণ গেছে ৮৬ জনের। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে বছরের সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয় হাসপাতালে; প্রাণ যায় ১৪৮ জনের। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এইডিস মশাবাহিত এ রোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭৭ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ভর্তি হন ২৩৮ জন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৩২ জন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৯৫ জন, চট্টগ্রামে ২৫৬ জন, খুলনায় ২৩৪ জন, ময়মনসিংহে ১০০, রাজশাহী ২৩০, রংপুরে ৭০ এবং সিলেটে ১১ জন ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় সর্বোচ্চ ৪ জন রয়েছেন। এরপর ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় ৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২ ও ঢাকা বিভাগে ১ জনের প্রাণ গেছে। বুলেটিনের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ৮০৩ জন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। চলতি বছর এ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৩১ জন হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।
বয়স বাড়ছে, পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের তাগিদ আসছে, আবার বন্ধুদের অনেকেই শুরু করেছেন নতুন সংসার। তারপরও বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই অনেকে অস্বস্তি বোধ করেন। কেউ বিষয়টি এড়িয়ে চলেন, আবার কেউ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা বিয়ে করতে চান না। সমাজে এমন মনোভাবকে অনেক সময় দায়িত্ব নিতে অনীহা কিংবা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার ভয় হিসেবে দেখা হয়। তবে মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর পেছনে থাকতে পারে আরও গভীর কিছু কারণ। বিয়ের ভয় কি মানসিক সমস্যা? বিয়ে বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে অতিরিক্ত ও তীব্র ভয়কে গ্যামোফোবিয়া (Gamophobia) বলা হয়। এ ধরনের ভয়ের কারণে স্থায়ী সম্পর্ক কিংবা বৈবাহিক বন্ধনের কথা ভাবলেই কারও মধ্যে উদ্বেগ, অস্বস্তি বা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তবে বিয়ে করতে না চাওয়া কিংবা এখনই বিয়ের জন্য প্রস্তুত না থাকাকে গ্যামোফোবিয়া হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হতে পারে ভয় বিয়ে নিয়ে আতঙ্কের পেছনে শৈশবের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া, পারিবারিক সহিংসতা, বিচ্ছেদ কিংবা অশান্তিপূর্ণ সম্পর্ক দেখলে কারও মনে বিয়ে সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। বড় হওয়ার পর সেই অভিজ্ঞতা থেকে তার মনে এমন বিশ্বাস জন্মাতে পারে যে, বিয়ে মানেই অশান্তি, মানসিক কষ্ট কিংবা ব্যক্তিস্বাধীনতা হারানো। ফলে সম্পর্কে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে তারা দ্বিধায় ভোগেন। অতীতের সম্পর্কের তিক্ততা আগের সম্পর্কে প্রতারণার শিকার হওয়া, বিচ্ছেদের কষ্ট কিংবা মানসিক আঘাতও বিয়ের প্রতি অনীহা তৈরি করতে পারে। যারা সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হওয়া বা প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয় বেশি অনুভব করেন, তাদের জন্য নতুন সম্পর্কে বিশ্বাস ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি করা কঠিন হতে পারে। একপর্যায়ে স্থায়ী সম্পর্কে জড়ানোর চিন্তাই তাদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কা বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ-তরুণী নিজেদের ক্যারিয়ার, আর্থিক নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সময় ও স্বাধীনতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, বিয়ের পর দায়িত্ব ও পারিবারিক প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়ায় নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণে বাধা আসার আশংকা থেকেও অনেকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন কিংবা বিয়ে এড়িয়ে চলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বিবাহবিচ্ছেদ, প্রতারণা, দাম্পত্য কলহ কিংবা বিষাক্ত সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত নানা ধরনের পোস্ট ও ভিডিও প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনা বারবার দেখতে দেখতে কারও কারও মনে বিয়ে সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা আরও দৃঢ় হতে পারে। বিশেষ করে বাস্তব জীবনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার তুলনায় নেতিবাচক ঘটনাগুলো বেশি চোখে পড়লে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বড় কারণ বিয়ে মানেই শুধু আবেগ কিংবা ভালোবাসা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আর্থিক পরিকল্পনা, পারিবারিক দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়ও। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেকে মনে করেন, তারা এখনও বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থানে পৌঁছাননি। দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে বিয়েকে ঘিরে পারিবারিক ও সামাজিক প্রত্যাশা বেশি থাকায় এই চাপ আরও তীব্র হতে পারে। কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় এই ভয়? বিয়ে নিয়ে ভয় থাকলেই যে কেউ মানসিকভাবে অসুস্থ, এমন ধারণা সঠিক নয়। কেউ ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে বিয়ে করতে না-ও চাইতে পারেন, আবার কেউ জীবনের নির্দিষ্ট পর্যায়ে গিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দুটিই স্বাভাবিক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে বিয়ে নিয়ে ভয় যদি অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরি করে, দৈনন্দিন জীবন বা সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিজের ভয় ও অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা, অনুভূতির কারণ বোঝার চেষ্টা এবং প্রয়োজনে মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উপকারী হতে পারে। সবশেষে মনে রাখা জরুরি, বিয়ে নিয়ে প্রত্যেক মানুষের অনুভূতি ও সিদ্ধান্ত আলাদা। কাউকে সামাজিক চাপের কারণে বিয়েতে বাধ্য না করে তার পছন্দ, মানসিক প্রস্তুতি ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে রাতে ঘুমাতে যান অনেকেই। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি পিঠের নিচের অংশে ব্যথা বা শক্তভাব অনুভূত হয়, তাহলে দিনের শুরুতেই অস্বস্তিতে পড়তে হয়। অনেকে বিষয়টিকে ঘুমানোর ভুল ভঙ্গির কারণে হচ্ছে বলে মনে করে এড়িয়ে যান। তবে নিয়মিত এমন সমস্যা দেখা দিলে এর পেছনের কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিকেল নিউজ টুডে-এর এক প্রতিবেদনে সকালে পিঠে ব্যথা হওয়ার সাতটি সম্ভাব্য কারণ, ব্যথা কমানোর উপায় এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, তা তুলে ধরা হয়েছে। সকালে পিঠে ব্যথা হওয়ার ৭টি সম্ভাব্য কারণ ১. মেরুদণ্ডের ডিস্কের ক্ষয় বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানে থাকা ডিস্কে ক্ষয় হতে পারে। এর ফলে আশপাশের স্নায়ুর ওপর চাপ পড়লে পিঠ বা কোমরে ব্যথা, শক্তভাব এবং নড়াচড়ায় অসুবিধা দেখা দিতে পারে। সকালে ব্যথা বেশি অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ঝুঁকে কাজ করা কিংবা ভারী জিনিস তোলার সময়ও ব্যথা বাড়তে পারে। ২. ফাইব্রোমায়ালজিয়া ফাইব্রোমায়ালজিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা, যার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা ও স্পর্শকাতরতা দেখা দেয়। এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সকালে পিঠে ব্যথা ও শরীর শক্ত হয়ে থাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা এবং মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হতে পারে। ৩. অতিরিক্ত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা খেলাধুলার সময় পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে পরদিন সকালে পিঠে ব্যথা হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে ব্যায়ামের আগে ওয়ার্মআপ করা এবং শেষে কুলডাউন করা উপকারী। শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়াম করাও গুরুত্বপূর্ণ। ৪. ভুলভাবে বিছানা থেকে ওঠা ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত উঠে বসা কিংবা কোমর অতিরিক্ত বাঁকিয়ে বিছানা ছাড়ার কারণে পিঠের পেশিতে চাপ পড়তে পারে। তাই ঘুম ভাঙার পর ধীরে পাশ ফিরে বসুন। এরপর বিছানার কিনারায় কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে পা মেঝেতে রেখে ধীরে দাঁড়ান। এতে হঠাৎ পেশিতে চাপ পড়ার ঝুঁকি কমতে পারে। ৫. ঘুমানোর ভুল ভঙ্গি ঘুমানোর সময় শরীরের অবস্থান ঠিক না থাকলে মেরুদণ্ড, কোমর ও ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পিঠে ব্যথা বা শক্তভাব অনুভূত হতে পারে। চিত হয়ে ঘুমালে হাঁটুর নিচে এবং কাত হয়ে ঘুমালে দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখতে পারেন। এতে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা হতে পারে। ৬. শরীরের সঙ্গে মানানসই নয় এমন তোশক অতিরিক্ত নরম, দেবে যাওয়া কিংবা শরীরকে যথেষ্ট সমর্থন দিতে পারে না—এমন তোশকে ঘুমালে পিঠে ব্যথা হতে পারে। এ কারণে তোশক বেছে নেওয়ার সময় শুধু আরামের দিকে নজর দিলেই হবে না, শরীর ও মেরুদণ্ডকে যথাযথ সমর্থন দেয় কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। ৭. গর্ভাবস্থা গর্ভাবস্থায় কোমর ও পিঠে ব্যথা হওয়া বেশ সাধারণ। এ সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পেলভিসের লিগামেন্ট ও জয়েন্ট শিথিল হয়ে যায়। পাশাপাশি গর্ভের শিশুর ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসে। এসব কারণে পিঠের ওপর চাপ বাড়ে এবং ব্যথা দেখা দিতে পারে। পিঠের ব্যথা কমাতে কী করবেন? সকালে পিঠে হালকা ব্যথা হলে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বিশ্রাম নেওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী হালকা নড়াচড়া করা উপকারী হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী গরম বা ঠান্ডা সেঁকও আরাম দিতে পারে। তবে সেঁক দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা ভালো। পিঠে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর পিঠে ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, হাত-পায়ে অসাড়তা বা দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে পিঠে ব্যথা হলেও জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া প্রয়োজন।
রাজধানীর চারটি রুগ্ণ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি পূরণে রোগী দিয়ে সহায়তা করবে সরকার। এসব রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ সরকারই দেবে। তবে রোগীপ্রতি কত টাকা দেওয়া হবে এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কীভাবে বিল পরিশোধ করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। হাসপাতাল চারটি হলো– শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইমপাল্স হাসপাতাল, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। পাইলট প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে হাসপাতালগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। পরে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব কলেজের নিজস্ব হাসপাতালে পর্যাপ্ত রোগী না থাকায় হাতে-কলমে চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার ঘাটতি নিয়ে চিকিৎসক হয়ে বের হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি হাসপাতালের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি নতুন হাসপাতাল নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান বেসরকারি হাসপাতালের অব্যবহৃত শয্যা ব্যবহার করলে সরকারের অর্থ ও সময় সাশ্রয় হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতাল নির্বাচন, রোগী পাঠানো, চিকিৎসার মান নিশ্চিত করা এবং বিল পরিশোধে স্বচ্ছতা না থাকলে এ উদ্যোগে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কেন চার হাসপাতাল স্বাস্থ্য বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে, নির্বাচিত চারটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তুলনামূলক অনেক শয্যা খালি থাকে। তেজগাঁওয়ের শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০০, ইমপাল্স হাসপাতালের ৪০০, গুলশানের শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ এবং ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০০ শয্যা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের একটি দল হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে সক্ষমতা যাচাই করেছে। শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালের রোগীর চাপ সামলাতে আমাদের হাসপাতালে রোগী পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আমরা দেব; সরকার বিল পরিশোধ করবে। তাঁর মতে, মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনিবিষয়ক রোগীদের একটি অংশ বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হলে সরকারি হাসপাতালের মেঝে বা বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি কমবে। মেডিকেল শিক্ষার ঘাটতি কমানোর দিকে নজর স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন বলেন, কিছু বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামো ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও রোগী কম। ফলে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত রোগী দেখে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পান না। তিনি বলেন, মেডিকেল শিক্ষানীতির হিসাবে ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য ৫০০ শয্যার হাসপাতাল থাকা প্রয়োজন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত রোগী থাকাও জরুরি। রোগী না থাকলে শুধু অবকাঠামো দিয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নাজমুল হোসেন বলেন, এসব হাসপাতালে রোগী বাড়ানোর জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় রোগী পাঠানো হলে একদিকে সরকারি হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বাড়বে। দুই বেসরকারি হাসপাতালের চিত্র সাধারণত বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের যে উপস্থিতি ও ব্যস্ততা দেখা যায়, গতকাল ইমপালস ও শমরিতা হাসপাতালে গিয়ে ব্যতিক্রম চোখে পড়ল। রোগীদের উপস্থিতি একেবারে কম। ইমপাল্স হাসপাতালে বর্তমানে কতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন, তা জানতে চাইলে এ বিষয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। ইমপাল্স হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহা বলেন, আমি হাসপাতালটির পরিচালক হলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখানে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের একাধিক কর্মকর্তা এই কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সঙ্গে কথা বললে বিস্তারিত জানতে পারবেন। হাসপাতালটির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। শমরিতা হাসপাতালেও একই চিত্র। রোগীর উপস্থিতি কম। স্বাভাবিক ভিড় ও কর্মচাঞ্চল্যও তেমন নেই। গতকাল পুরো হাসপাতালে ৬৭ জন রোগী ভর্তি পাওয়া যায়। সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী স্বাস্থ্য বিভাগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যা দুই হাজার ৬০০। এর বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক রোগী ভর্তি থাকেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার ৩৫০ শয্যার বিপরীতে রোগীর চাপ অনেক বেশি। স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, নতুন করে ১০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ব্যয় হতে পারে ৫০ কোটি টাকার বেশি। এর বদলে বিদ্যমান বেসরকারি হাসপাতালের অব্যবহৃত শয্যা ব্যবহার করা গেলে তুলনামূলক কম সময়ে চিকিৎসাসেবা বাড়ানো সম্ভব। কীভাবে রোগী যাবে খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের সমন্বয় থাকবে। কোন রোগীকে কখন এবং কী প্রক্রিয়ায় বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে, সে বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। ভাড়া, কনসালট্যান্ট ফি, সরকার নির্ধারিত ওষুধ এবং সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ সরকার বহন করবে। মাস শেষে চিকিৎসাসেবার হিসাব অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে বিল পরিশোধ করা হবে। তবে রোগী কীভাবে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে যাবেন, পরিবহন কে করবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব কার– এসব বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, কোন কোন হাসপাতাল থেকে সেবা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন রোগী পাঠানোর প্রক্রিয়া, চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সুযোগ কতটুকু থাকবে– এসব বিষয়ে নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। সফটওয়্যারে নজরদারির পরিকল্পনা সরকারি অর্থে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ঠেকাতে পুরো প্রক্রিয়াকে সফটওয়্যারনির্ভর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোগী রেফারাল, হাসপাতালে ভর্তি, চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ছাড়পত্র– প্রতিটি ধাপ সফটওয়্যারে নথিভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালের কার্যক্রম তদারকির জন্য সাত সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভুয়া রোগী দেখানো, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা অতিরিক্ত বিল করার মতো অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে। হাসপাতাল বাছাই নিয়ে প্রশ্ন নির্দিষ্ট চারটি হাসপাতাল নির্বাচন করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক ডা. আব্দুস সবুর খান বলেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি হাসপাতাল বেছে নেওয়ার বদলে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হাসপাতাল নির্বাচন করা উচিত। কোন হাসপাতালের চিকিৎসার মান, জনবল ও অবকাঠামো কেমন, তা মূল্যায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকা দরকার। তিনি বলেন, কোন হাসপাতাল কী ধরনের রোগী নিতে পারবে, চিকিৎসার মান কীভাবে নিশ্চিত হবে, কোন সেবার জন্য সরকার কত টাকা পরিশোধ করবে– এসব বিষয় আগে থেকেই স্পষ্ট করা প্রয়োজন। ভুয়া বিল ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ সরকারি অর্থে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে বিল নিয়ে অনিয়ম। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, কার্যকর তদারকি না থাকলে প্রকৃত রোগীর চেয়ে বেশি রোগী দেখানো, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো কিংবা চিকিৎসার ব্যয় বাড়িয়ে বিল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। করোনা মহামারির সময় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচের বিল নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রোগী রেফারাল থেকে ছাড়পত্র পর্যন্ত প্রতিটি তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি অবকাঠামো আগে ব্যবহার করা উচিত? বেসরকারি হাসপাতালের শয্যা ভাড়া নেওয়ার আগে সরকারি অব্যবহৃত অবকাঠামো পুরোপুরি কাজে লাগানোর বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ রাজধানীর ডিএনসিসি কভিড-১৯ হাসপাতালের উদাহরণ দিয়েছেন। করোনাকালে তৈরি করা এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে ২১২টি আইসিইউ সুবিধা রয়েছে। হাসপাতালটির বিপুলসংখ্যক শয্যা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নতুন করে বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি অর্থ ব্যয় করার আগে বিদ্যমান সরকারি অবকাঠামোকে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ হাসপাতালে রূপান্তরের সম্ভাবনা যাচাই করা দরকার। ঢাকার বাইরে বিনিয়োগের তাগিদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন ও অধ্যাপক বেনজির আহমেদের মতে, শুধু ঢাকার হাসপাতালগুলোর চাপ কমানোর উদ্যোগ নিলে সমস্যার মূল কারণ দূর হবে না। তারা বলছেন, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে। এতে ঢাকা মেডিকেলসহ রাজধানীর বড় হাসপাতালগুলোর ওপরেও চাপ কমবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রাজধানীর বাইরে চিকিৎসা অবকাঠামো, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আর্থিক কাঠামো এখনও চূড়ান্ত নয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সমকালকে বলেন, সরকারি হাসপাতালের রোগীর চাপ কমাতে প্রাথমিকভাবে চারটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শয্যা খালি থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে খরচ ভাগাভাগির একটি ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা চলছে। আর্থিক কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর পাইলট প্রকল্পটি শুরু হবে। রোগীরা এতে সন্তুষ্ট হলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের পরিসর বাড়ানো হতে পারে।
জাতীয় অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা ক্যানসারের মতোই আর্থ্রাইটিসের বিশাল অক্ষমতা ও অর্থনৈতিক বোঝাকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এখন সময়ের দাবি। বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস উপলক্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) বাত ব্যথার রোগীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিএনআরএফআর) ট্রাস্ট’ এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান। ১২ অক্টোবর ‘বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস’ ছিল। ১৯৯৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী আর্থ্রাইটিস এবং অন্যান্য মাস্কুলোস্কেলেটাল রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আসুন স্বপ্ন পূরণ করি’। আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগী যেন শারীরিক ব্যথা বা অক্ষমতার কাছে হার না মেনে সঠিক চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে তাদের জীবনের লক্ষ্য ও স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারেন, এটিই এই প্রতিপাদ্যের মূল সুর। বিবৃতিতে ডা. নজরুল বলেছেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭১ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস ও মাস্কুলোস্কেলেটাল সমস্যায় আক্রান্ত। বাংলাদেশেও আর্থ্রাইটিস আজ এক আশঙ্কাজনক জনস্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০.৪% মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাস্কুলোস্কেলেটাল বা আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি। আর্থ্রাইটিস কেবল সামান্য জয়েন্ট ব্যথা বা অস্বস্তির বিষয় নয়; পরিসংখ্যান অনুযায়ী: আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ২৪.৮% কোনো না কোনো মাত্রার শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। একইসঙ্গে প্রায় ২৪.৪% রোগী বছরের কোনো না কোনো সময় সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতা হারান। আর একজন কর্মক্ষম মানুষ যখন কাজ করার ক্ষমতা হারান, তখন কেবল তার আয়ই বন্ধ হয় না, বরং তার ভবিষ্যৎ জীবনের অনেক সুন্দর স্বপ্নও থমকে যায়। স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে অর্থনৈতিক চাপ অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগগুলো একজন মানুষের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা ও জীবনযাত্রার মান ক্ষুণ্ন করে। আর্থ্রাইটিসের দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, ফিজিওথেরাপি, নানা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের প্রত্যক্ষ ব্যয় রোগীর পরিবারের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে স্বাস্থ্য ব্যয়ের সিংহভাগ মানুষকে নিজ পকেট থেকেই বহন করতে হয়, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি আর্থ্রাইটিস অনেক পরিবারকে ঋণগ্রস্ত করে তোলে এবং ধীরে ধীরে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয় বিশেষজ্ঞ সংকট ও বিলম্বিত চিকিৎসা প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে প্রয়োজনের তুলনায় রিউমাটোলজি ও আর্থ্রাইটিস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় (Early Diagnosis) এবং উপযুক্ত চিকিৎসা (Appropriate Treatment) শুরু করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। অথচ প্রাথমিক অবস্থায় আর্থ্রাইটিস ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা ও থেরাপি নিলে জয়েন্টের স্থায়ী ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। জাতীয় অসংক্রামক রোগ (NCD) নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা ক্যান্সারের মতোই আর্থ্রাইটিসের বিশাল অক্ষমতা ও অর্থনৈতিক বোঝাকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এখন সময়ের দাবি। করণীয় ও সুপারিশ আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনের স্বপ্ন ও লক্ষ্যগুলো বাঁচিয়ে রাখতে সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এজন্য কিছু পরামর্শও দেয়া হয়েছে। তা হলো-প্রাথমিক লক্ষণ চেনা ও দ্রুত চিকিৎসা: জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা ভাব বা শক্ত হয়ে যাওয়াকে অবহেলা না করে প্রাথমিক অবস্থাতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, যাতে স্থায়ী পঙ্গুত্ব এড়ানো যায়। সঠিক থেরাপি ও সুষম জীবনযাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে জয়েন্টের সক্ষমতা ধরে রেখে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতায় ফিরে আসা। পাশাপাশি আর্থ্রাইটিসের রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্যই নিয়মিত ভ্যাকসিন নিতে হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা, যেন তারা সমাজে স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকতে পারেন। পিআরআরএফআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসে সবার অঙ্গীকার হোক- আর্থ্রাইটিসের কারণে কারও জীবন যেন থেমে না যায়। সঠিক চিকিৎসা, সচেতনতা ও সামাজিক সহযোগিতার মাধ্যমে যেন প্রতিটি আক্রান্ত মানুষকে তাদের 'স্বপ্ন পূরণের' পথে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা যায়।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট নিরসনে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারে কাজ চলছে। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে সমস্যা হচ্ছে। তবে বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন। উপজেলা পর্যায়ে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন ও যন্ত্রপাতি সচল করা গেলে রোগ নির্ণয় সহজ হবে এবং রোগীদের ভোগান্তি কমবে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলে সম্প্রসারিত টিকাদান ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাই মিলে সারাদেশে ডেঙ্গু ও হাম নিয়ে কাজ করছি দীর্ঘদিন ধরে। আমরা প্রতিদিনই আলাপ করছি ডেঙ্গু এবং হাম নিয়ে। হামের বিষয়টা আমরা দেখেছি। আগেও আমরা বেশ একবার বলেছি যে এই জিনিসটা (হাম) কিন্তু আমরা পেয়েছি উত্তরাধিকার সূত্রে। এটা আমরা সৃষ্টি করি নাই। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটা টিকা দেয়নি বলে এই অবস্থায় এসেছে। এখন হাম একটা অত্যন্ত ইনফেকশিয়াস একটা ডিজিজ। এটা একবার যখন শুরু হয়ে যায় এটাকে থামানো অত্যন্ত কঠিন। কোভিডেরর চেয়েও কিন্তু হামের ইনফেক্টিভিটিটা অনেক বেশি। তিনি বলেন, আমাদের শতচেষ্টা সত্ত্বেও এটাকে আমরা এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হইনি। কিন্তু আমাদের চিকিৎসকরা কাজ করছে। যাতে মৃত্যুর হারটা কমে। আমাদের যেই ক্যাম্পেইনগুলো চলছে হামের ক্ষেত্রে আপনারা জানেন, ইতোমধ্যে আমরা প্রায় দুই কোটির উপরে শিশুকে টিকা দিয়েছি এবং সেই ক্যাম্পেইন চলমান আছে। এখনো আমাদের ক্যাচাপ ক্যাম্পেইন চলছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারগুলো, বিগত সময়ে যখন ঘটনা ঘটে যেত অনেক মানুষের মৃত্যু হতো। তারপরে এই নিউজগুলো যখন আসত তখন দেখে সরকার একটু নড়েচড়ে বসত। কিন্তু এই বছর আমরা তিন-চার মাস আগে থেকে এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি। এই বিষয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আমরা প্রেডিক্ট করেছি যে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর মাসটায় এটার প্রকোপ বাড়তে পারে। সেই অনুযায়ী আমরা আরও তিন মাস আগে থেকে ব্যবস্থা নিয়েছি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ নিয়ে এই ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি , এটাকে প্রতিরোধ করতে গেলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। যাতে এই মশার প্রকোপটা না বাড়ে। তিনি বলেন, যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের জন্য আমরা আরও দুই মাস আগেই সারাদেশে ২০ হাজার চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছি। যাতে প্রতিটা হাসপাতালে সঠিকভাবে এদের চিকিৎসা হয়। এই পদক্ষেপগুলো নেওয়ার কারণ, যদি তিন-চার বছর আগের তথ্য দেখবেন, এখনকার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিন থেকে চার গুণ এবং মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক বেশি ছিল। সম্ভবত ২০১৯ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক আমরা দেখেছিলাম। আজকে সেই সংখ্যার সাথে তুলনা করেন, বর্তমান সরকারের সমন্বিত চেষ্টায় এবং জনগণের সচেতন হওয়ার কারণেই এটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগে এবার প্রকোপটা একটু বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই তুলনায় রাজশাহী বিভাগে কম। তো এটা একটা সামগ্রিক চিত্র। এই জিনিসগুলো একদিনে হয় না এবং একদিনে চলে যায় না। দীর্ঘমেয়াদে যদি আমরা জনগণকে স্বাস্থ্য সেবার সাথে সচেতন করতে পারি তাহলেই কেবল এই রোগগুলোর প্রতিকার সম্ভব। টিকার সেখানে ভূমিকা রয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্যনীতির মূল ভিত্তি কিন্তু প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিওর। আমরা সব কিছুতে রোগ প্রতিরোধের উপর সবচেয়ে জোর দেব যাতে আরো কম মানুষ অসুস্থ হন। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
বিষণ্নতা কোনো জৈবিক অবস্থা নয়; বরং রোগনির্ণয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে মস্তিষ্কের কার্যকলাপের কয়েকটি স্বতন্ত্র ধরন। সম্প্রতি বিষণ্নতায় আক্রান্ত ২৬৩ জন মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের কার্যকলাপের পাঁচটি ভিন্ন ধরন শনাক্ত করেছেন। প্রতিটি ধরনের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং উদ্বেগ, মানসিক আঘাত ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের মতো উপসর্গের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিষণ্নতা আক্রান্ত দুজন মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। একজন হয়তো ক্রমাগত উদ্বেগ ও বারবার নেতিবাচক চিন্তায় ভুগছেন, অন্যজনের মধ্যে দেখা দিতে পারে মানসিক আঘাতজনিত উপসর্গ কিংবা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের প্রবণতা। কিন্তু এই পার্থক্যগুলো কি তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপেও প্রতিফলিত হয়? ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হেলসিঙ্কির গবেষকেরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একটি চমকপ্রদ বিষয় আবিষ্কার করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একই বিষণ্নতার রোগনির্ণয় থাকা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপের ধরন একে অপরের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শক্তিশালী, আবার অন্যদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। বিষণ্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের পাঁচটি ধরন গবেষকেরা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের শক্তি এবং তাদের কার্যকলাপ কোন কোন কম্পাঙ্কে সমন্বিত হয়, তার ভিত্তিতে বিষণ্নতায় আক্রান্ত অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করেন। প্রতিটি দলের মস্তিষ্কের সংযোগের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল এবং সেগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গের সম্পর্কও পাওয়া গেছে— গ্রুপ ১: শক্তিশালী সংযোগ ও গুরুতর উপসর্গ এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী সংযোগ দেখা গেছে। এই ধরনটির সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, একই নেতিবাচক চিন্তা বারবার করতে থাকার মতো একাধিক উপসর্গের সম্পর্ক ছিলো। গ্রুপ ২: দুর্বল সংযোগ ও তুলনামূলকভাবে মৃদু বিষণ্নতা এই দলের বৈশিষ্ট্য ছিল মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে দুর্বল যোগাযোগ। অন্য দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে, এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাধারণত বিষণ্নতার উপসর্গগুলো কম তীব্র ছিল। গ্রুপ ৩: মস্তিষ্কজুড়ে দুর্বল সংযোগ ও মানসিক আঘাতজনিত উপসর্গ এই দলের মানুষের মস্তিষ্কের বিস্তৃত অংশজুড়ে সংযোগের দুর্বলতা দেখা গেছে। বিশেষ করে, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা পিটিএসডি— অর্থাৎ গুরুতর মানসিক আঘাতের পর দেখা দিতে পারে এমন মানসিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত উপসর্গগুলো এই দলে বেশি স্পষ্ট ছিল। গ্রুপ ৪: কোথাও শক্তিশালী, কোথাও দুর্বল সংযোগ এবং একাধিক সমস্যা এই দলের মস্তিষ্কে কিছু অঞ্চলের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী সংযোগ দেখা গেছে, আবার অন্য কিছু অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ ছিল দুর্বল। এই ধরনের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে গুরুতর বিষণ্নতা, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের বেশি সমস্যা এবং সামগ্রিক সুস্থতার নিম্নমানের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গ্রুপ ৫: সবচেয়ে শক্তিশালী সংযোগ ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত উপসর্গ গবেষণায় শনাক্ত পাঁচটি দলের মধ্যে এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। এই দলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অন্যদিকে, মানসিক আঘাত-সম্পর্কিত উপসর্গগুলো এই দলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম প্রকট ছিল। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁচটি দলের মস্তিষ্কের কার্যকলাপই সুস্থ অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ থেকে আলাদা ছিল। এই পার্থক্য শুধু সংযোগ শক্তিশালী না দুর্বল—তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মস্তিষ্কের কোন কোন অঞ্চল এতে যুক্ত ছিল এবং কী কী কম্পাঙ্কে তাদের কার্যকলাপ সমন্বিত হচ্ছিল, সেসব ক্ষেত্রেও দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। সব মিলিয়ে, এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে বিষণ্নতা নির্ণয় করা হলেও বিভিন্ন মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়বিক নেটওয়ার্ক কার্যপ্রণালিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে। সূত্র: সাইন্স ডেইলি
দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৯ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৬৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চারজন বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে মারা গেছেন ৫৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ২৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৬৩১ জনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৯২ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৪০৬ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০৫ জন। ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে, ২৩৪ জন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২১৯, খুলনায় ১৮৪, রাজশাহীতে ১৪১, রংপুরে ৭৫, ময়মনসিংহে ৬১ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৭ হাজার ৮২ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯১ হাজার ৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৭৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।