ক্যানসার নামটির সাথেই মিশে আছে এক অজানা আতঙ্ক। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি আমাদের জানাচ্ছে যে, অধিকাংশ ক্যানসারই প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে তা নিরাময় সম্ভব। বিশেষ করে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ক্ষেত্রে শুরুতেই কিছু দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা দেয়, যা আমরা অনেক সময় অবহেলা করি। সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মনদীপ সিং মালহোত্রা মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের এমন কিছু প্রাথমিক সতর্কবার্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন যা আমাদের জীবন বাঁচাতে পারে। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের লক্ষণগুলো এতই মৃদু হয় যে সাধারণ মানুষ সেগুলোকে গুরুত্বহীন মনে করে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। অথচ শুরুতেই রোগ নির্ণয় করা গেলে এই ধরনের ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। নিচে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সেই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো: ১. দীর্ঘস্থায়ী মুখের ঘা মুখের ঘা বা আলসার খুব সাধারণ একটি সমস্যা। পুষ্টির অভাব, অ্যাসিডিটি বা দাঁতের সমস্যার কারণে এটি হতে পারে এবং সাধারণত সঠিক চিকিৎসায় সেরে যায়। তবে ডা. মালহোত্রার মতে, যদি কোনো ঘা উপযুক্ত চিকিৎসার পরও ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে না সারে, তবে তা চিন্তার বিষয়। এই ধরনের স্থায়ী আলসার ক্যানসার-পূর্ব অবস্থা বা প্রাথমিক পর্যায়ের ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে, তাই দ্রুত টিস্যু বায়োপসি করানো প্রয়োজন। ২. গলার স্বরের পরিবর্তন বা খসখসে ভাব ঠাণ্ডা লাগলে বা সংক্রমণের কারণে সাময়িকভাবে গলার স্বর বদলে যেতে পারে। কিন্তু যদি গলার স্বরের এই কর্কশ বা খসখসে ভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে যারা ধূমপান বা তামাক সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। ল্যারিঙ্গোস্কোপিক পরীক্ষার মাধ্যমে কণ্ঠনালি বা গলার ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার ফলাফল খুব ভালো হয়। ৩. ঘাড়ের কাছে ফোলা ভাব বা চাকা ঘাড়ে কোনো পিণ্ড বা চাকা অনুভব করা এই ক্যানসারের অন্যতম বড় লক্ষণ। তবে ডা. মালহোত্রা সতর্ক করেছেন যে, ঘাড়ে চাকা হওয়া সাধারণত ক্যানসারের প্রাথমিক নয়, বরং কিছুটা পরের দিকের লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে এটি নির্দেশ করে যে ক্যানসার ইতোমধ্যে লিম্ফ নোড বা লসিকা গ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়েছে, যা সাধারণত রোগের তৃতীয় পর্যায় (Stage 3) বা তার পরবর্তী অবস্থা। তাই কেবল ঘাড়ে ফোলা ভাব হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে ওপরের অন্য লক্ষণগুলো দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আধুনিক চিকিৎসা ও আশার আলো বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতির ফলে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ডা. মালহোত্রা জানান, রোবোটিক এবং লেজার-অ্যাসিস্টড সার্জারির মতো উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে এখন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে টিউমার অপসারণ করা সম্ভব। এতে রোগীর কথা বলা বা খাবার গিলে ফেলার মতো জরুরি শারীরিক কাজগুলো ব্যাহত হয় না এবং সুস্থ হওয়ার হারও অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞের শেষ কথা: ঘাড়ের পিণ্ড বা চাকা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। মুখের দীর্ঘস্থায়ী ঘা বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনই হতে পারে আপনার জন্য প্রথম সতর্কবার্তা। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে জীবন বাঁচানো অনেক সহজ হয়ে যায়। তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা দিনের শুরুটা যেভাবে করি, তার ওপর নির্ভর করে আমাদের সারাদিনের শক্তি, কর্মদক্ষতা এবং মানসিক প্রশান্তি। একটি সুন্দর সকালের রুটিন হলো নিজের যত্নে নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে অনেক সময় অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমরা এমন কিছু অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি, যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ব্যস্ততার মাঝে আমরা অধিকাংশ সময়ই সঠিক রুটিন ভুলে ভুল কিছু অভ্যাসের ওপর নির্ভর করতে শুরু করি। মার্কিন গণমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সকালে এমন কিছু কাজ আমরা করি যা আমাদের সারাদিনকে আনন্দহীন এবং ক্লান্তিকর করে তুলতে পারে। জীবনযাপনে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন এনে কীভাবে আমরা আরও সুস্থ ও প্রাণবন্ত সকাল পেতে পারি, তা নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই ফিচার। চলুন তাহলে জেনে নিই সকালে ঘুম থেকে উঠেই যে ৫টি অভ্যাস আপনার এড়িয়ে চলা উচিত: ১. স্নুজ বাটন বারবার চাপা সকালে অ্যালার্ম বাজার পর ‘আর মাত্র ৫ মিনিট’ ভেবে স্নুজ বাটন টেপার অভ্যাস অনেকেরই আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্নুজ করার পর যে বাড়তি কয়েক মিনিট আমরা ঘুমাই, তা আসলে শরীরের জন্য মোটেও আরামদায়ক বা পুনরুদ্ধারকারী নয়। বরং এটি সকালের গভীর ঘুমের পর্যায়কে ব্যাহত করে, যা মানসিক অবসাদ এবং দীর্ঘমেয়াদে বিপাকীয় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ নিকেত সোনপাল পরামর্শ দেন, অ্যালার্মের সময় অন্তত ১৫ মিনিট পিছিয়ে দিয়ে সেটি বাজার সাথে সাথেই বিছানা ছাড়ার অভ্যাস করতে। ২. দিন শুরু করা ফোনের স্ক্রিন দেখে ঘুম থেকে চোখ মেলতেই হাতে ফোন নেওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা ইমেইল চেক করা অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি অভ্যাস। চিকিৎসক নাওমি প্যারেলা জানান, দিনের শুরুতেই বাইরের জগতের খবর বা ইমেইল চেক করার অর্থ হলো আপনার নিজের চিন্তা ও অনুভূতির নিয়ন্ত্রণ অন্য কারো হাতে তুলে দেওয়া। এর ফলে দিনের শুরুতেই আপনি অহেতুক দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের শিকার হতে পারেন। ফোনের বদলে সকালের শুরুটা করুন দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে, হালকা স্ট্রেচিং করে অথবা এক গ্লাস পানি খেয়ে। ৩. সকালের নাস্তায় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার সকালের নাস্তায় মিষ্টি জাতীয় খাবার, চিনিযুক্ত কফি বা সিরিয়াল খাওয়ার ফলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এটি আপনাকে সাময়িকভাবে শক্তি দিলেও দ্রুতই রক্তের শর্করা কমিয়ে দেয়, যার ফলে আপনি মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা দ্রুত ক্ষুধার্ত বোধ করার মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। বিশেষজ্ঞরা সকালে চিনি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যদি চিনিযুক্ত কিছু খেয়েও ফেলেন, তবে তার পরপরই কিছুটা শারীরিক কসরত বা হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন। ৪. সঠিক পদ্ধতিতে মুখ পরিষ্কার না করা ও সানস্ক্রিন এড়িয়ে যাওয়া অনেকেই মনে করেন রাতে মুখ ধুয়ে ঘুমানোর পর সকালে আর মুখ পরিষ্কারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু রাতে বালিশের ময়লা বা ধুলোবালি ত্বকে লেগে থাকতে পারে। তাই সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ঘরের বাইরে বের হন বা না হন, ত্বকের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সানস্ক্রিন (SPF) ব্যবহার করা উচিত। ঘাড় এবং বুকের ত্বকেও এটি লাগানো প্রয়োজন। ৫. মানসিক সুস্বাস্থ্যের দিকে নজর না দেওয়া সকালের ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যাই। দিনের শুরুটা যদি ভালো না হয়, তবে সারাদিন একটি বিষণ্ণ ভাব মনের মধ্যে থেকে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সকালে জানালার পর্দা সরিয়ে ঘরে প্রাকৃতিক আলো ঢুকতে দিন এবং অন্তত কয়েক মিনিট মেডিটেশন বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার অভ্যাস করুন। সামান্য এই সময়টুকু আপনাকে সারাদিনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ও প্রাণবন্ত রাখবে। সকালের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমেই আপনি নিজের জীবনকে আরও সুশৃঙ্খল এবং কর্মক্ষম করে তুলতে পারেন। তথ্যসূত্র: হাফিংটন পোস্ট
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ১৩৭ শিশু। রোববার (২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৮ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৬ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৫ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ১ হাজার ২২ শিশু। এ সময়ে নতুন করে ৯৪৬ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৮৬ শিশু। এদিকে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ২৯৫ জন। তাদের মধ্যে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৬২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮ হাজার ২৮৩ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সংখ্যার হিসাবে যা ৩৬। শুধু তাই নয়, একই সময়ে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীও শনাক্ত হয়েছে গেল মাসে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হন ১১ জন। ১৫ জন ভর্তি হন দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ভর্তি হন আরও ৫০ জন। বিভাগের মধ্যে বরিশালে ৪ জন, চট্টগ্রামে ৬৯ জন, খুলনায় ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ১ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৩১০ জন, প্রাণ গেছে মোট ৫৪ জনের। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসে শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ২০৬ জন রোগী ও মারা গেছে ৩৬ জন রোগী। চলতি সপ্তাহে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৬৭০ জন ও প্রাণ গেছে ১৪ জনের। সর্বশেষ গত এক দিনে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু ও ১৫৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, গত জানুয়ারি মাসে দেশে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে মারা যায় ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মার্চে ১ জন, জুনে ১৩ জন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৩১০ জন রোগীর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮৯ জন। ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। একই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয়।
দুর্ভাগ্যবশত আমরা কেউ ত্বকের ঝুলে পড়া রোধ করতে পারব না। কারণ এটি বার্ধক্যের একটি অংশ। সঠিক যত্নের অভাবেও ত্বক আগেভাগে বুড়িয়ে যেতে পারে। সমস্যা থেকে উত্তরণে রয়েছে প্রাকৃতিক উপায়। সঠিক যত্ন নিলে ত্বকের ভাঁজ কিংবা ঝুলে যাওয়া চামড়া ইত্যাদি সমস্যা দূর করা সম্ভব। ত্বক কেন ঝুলে পড়ে? ‘জার্নাল অব কিউটেইনিয়াস প্যাথলজি’তে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘ইলাস্টিন’ একটি প্রোটিন, যা ত্বকে স্থিতিস্থাপকতা দান করে। বয়সের সঙ্গে ত্বকের ‘ইলাস্টিন’এর পরিমাণ কমে। ফলে কোমলতা ও নমনীয়তা হ্রাস পায়। কোলাজেনের হ্রাসের ফলে ত্বকের নিচের চর্বিও কমে আর শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের ফলে ত্বক সংকুচিত হয়। যে কারণে ত্বকে দেখা দেয় ভাঁজ ও ঝুলে পড়ার সমস্যা। প্রকৃতিতে এমন উপাদান আছে যা ত্বক টান টান করতে সহায়তা করে। শসা : ‘ফিটোটেরাপিয়া’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী- শসাতে আছে ইলাস্টিন, হায়ালুরনিক অ্যাসিড এবং ত্বক আর্দ্র ও মসৃণ রাখার ক্ষমতা। শসার খোসা ছাড়িয়ে ব্লেন্ড করে এর রস আলাদা করে নিতে হবে। তুলার বলের সাহায্যে রস নিয়ে ত্বকে ব্যবহার করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। অ্যালোভেরা : ত্বকের পরিচর্যায় সবচেয়ে উত্তম হারবাল অ্যালোভেরা। এর নির্যাসে আছে ত্বকের স্থতিস্থাপকতা বাড়িয়ে টানটান করার ক্ষমতা। এ ছাড়া কোলাজেন ও হায়ালুরনিক অ্যাসিড উৎপাদনে সহায়তা করে। অ্যালো-ভেরার পাতা থেকে জেল আলাদা করে নিতে হবে। সেটা ত্বকে ব্যবহারের পর ১০ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। মধু : ত্বক ‘ডিটক্সিফাই’ বা দূষণমুক্ত করে, স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় ও ভাঁজ দূর করতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ মধুর সঙ্গে সামান্য পানি যোগ করতে হবে। ত্বকের ভাঁজযুক্ত স্থানে মিশ্রণটি মেখে ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। ক্যাফেইন : কফিতে থাকা ক্যাফেইন ত্বককে বয়সভিত্তিক অক্সিডেটিভ চাপ থেকে সুরক্ষিত রাখে। ‘অক্সিডেটিভ মেডিসিন অ্যান্ড সেলুলার লংজিভিটি জার্নাল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়- ক্যাফেইন অতিবেগুনি রশ্মির কারণে হওয়া বয়সের ছাপ কমাতে পারে। কফির বীজ পানি যোগ করে পেস্ট তৈরি করে আলতো করে ত্বকে গোলাকারভাবে ব্যবহার করতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
সকালের নাশতায় একটি গরম সেদ্ধ ডিম কিংবা অমলেট না হলে যেন অনেকের চলেই না। সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিমের জুড়ি মেলা ভার। তবে এই অতিপরিচিত খাবারটি নিয়েই বিতর্কের শেষ নেই। কেউ বলেন, ডিমের কুসুম কোলেস্টেরল বাড়ায়, আবার কেউ বলেন প্রতিদিন ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। দীর্ঘদিনের এই দ্বিধা কাটিয়ে আধুনিক বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদরা কী বলছেন, তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিমকে প্রকৃতির অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি বড় ডিমে প্রায় ৬-৭ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যাতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিডই বিদ্যমান। এ ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১২, সেলেনিয়াম এবং কোলিন। বিশেষ করে কোলিন, লুটেইন এবং জেক্সানথিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। দিনে কয়টি ডিম নিরাপদ? ডিম খাওয়ার সংখ্যাটি নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স এবং শারীরিক অবস্থার ওপর। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ মানুষ সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার প্রতিদিন একটি করে আস্ত ডিম খেতে পারেন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুযায়ী, হৃদরোগের ঝুঁকি নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি করে আস্ত ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। শিশু: শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সতর্কতা: যাদের হৃদরোগ বা উচ্চমাত্রার ‘এলডিএল’ (খারাপ কোলেস্টেরল) রয়েছে, তাদের ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কুসুম কি বর্জনীয়? অনেকেই কোলেস্টেরলের ভয়ে ডিমের কুসুম ফেলে দিয়ে শুধু সাদা অংশ খান। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের কুসুমেই ভিটামিন এ, ডি, ই এবং বি১২ এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো থাকে। তাই আস্ত ডিম খাওয়াই শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। রান্নার সঠিক পদ্ধতি ও খাবার সমন্বয় ডিমের সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ: সেদ্ধ বা পোচ: ডিম সেদ্ধ, পোচ বা অল্প তেলে স্ক্র্যাম্বলড করে খাওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে অতিরিক্ত চর্বি যোগ হয় না। কাঁচা ডিম এড়িয়ে চলুন: কাঁচা ডিম খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে এবং শরীর প্রোটিন পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না। সবজি ও ওটস: ডিমের সঙ্গে সবজি বা ওটস খেলে ফাইবার বা আঁশের ঘাটতি পূরণ হয় এবং খাবারের ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে প্রক্রিয়াজাত মাংস বা অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে ডিম না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত ডিম কি ক্ষতিকর? যে কোনো পুষ্টিকর খাবারই অতিরিক্ত গ্রহণ করা ঠিক নয়। শুধু ডিমের ওপর নির্ভর করে আঁশযুক্ত খাবার না খেলে পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে এটি কোলেস্টেরলের মাত্রায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ কথা ডিম কেবল একটি খাবার নয়, এটি পুষ্টির একটি সহজ উৎস। তবে মনে রাখতে হবে, আপনি কতটি ডিম খাচ্ছেন তার চেয়েও জরুরি হলো কীভাবে সেটি রান্না করছেন এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন। পরিমিতিবোধ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
মধু কেবল একটি সুস্বাদু খাবারই নয়, এটি অসংখ্য ঔষধি গুণে ভরপুর একটি ‘সুপারফুড’। পুষ্টিবিদ এবং ডায়েটিশিয়ানদের মতে, দিনের যে কোনো সময়ে মধু খাওয়া গেলেও নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এটি গ্রহণ করলে শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যায়। নিচে মধু খাওয়ার সেরা সময় এবং এর উপকারিতাগুলো তুলে ধরা হলো: ১. সকালে খালি পেটে সকালে এক গ্লাস হালকা গরম পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য বিস্ময়কর কাজ করতে পারে। সকালবেলা মধু খাওয়ার ফলে শরীর দিনভর সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে। উপকারিতা: এটি দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। এ ছাড়া এটি ত্বক ভালো রাখতে এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ২. বিকেলে শক্তির উৎস হিসেবে দিনের অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর যখন শরীর ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়ে, তখন এক চামচ মধু আপনাকে নতুন করে চনমনে করে তুলতে পারে। এই সময়ে ক্যাফেইন বা চিনিযুক্ত নাশতার বদলে মধু খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। উপকারিতা: মধু একটি প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরে কার্বোহাইড্রেটের জোগান দেয় এবং দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। ৩. রাতে ঘুমানোর আগে বিশেষজ্ঞরা রাতের বেলা ঘুমানোর আগে মধু খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এক গ্লাস গরম দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তা শরীরের পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে। উপকারিতা: এটি গভীর ও প্রশান্তিদায়ক ঘুমে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়। এ ছাড়া রাতের বেলা মধু খেলে তা অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়া কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ৪. অসুস্থ অবস্থায় বা সর্দি-কাশিতে সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথায় মধু একটি অব্যর্থ ঘরোয়া টোটকা হিসেবে কাজ করে। এটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। উপকারিতা: মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে কফ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি শরীরের মেটাবলিক ফাংশন উন্নত করে। ৫. ব্যায়ামের আগে বা পরে যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত করেন, তাদের জন্য মধু একটি আদর্শ পানীয়। এটি এনার্জি ড্রিংকের চমৎকার বিকল্প হিসেবে কাজ করে। উপকারিতা: এটি শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয় এবং ব্যায়ামের পর পেশির ক্লান্তি দূর করে দ্রুত রিকভারিতে সাহায্য করে। এটি খুব সহজে হজম হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। শেষকথা মধু যে সময়েই খাওয়া হোক না কেন, এর পরিমিত ব্যবহার শরীরের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তবে সর্বোচ্চ উপকার পেতে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে উপরোক্ত সময়গুলোয় মধু অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
মেথি বীজের নাম শুনলেই অনেকে ভাবেন, এটি যেন এক জাদুকরী উপাদান! হজম ভালো রাখা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, প্রদাহ কমানো থেকে শুরু করে ত্বক ও চুলের যত্ন—সব কিছুতেই মেথির কদর রয়েছে। তাই অনেকেই প্রতিদিন সকালে ভেজানো মেথির পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। কিন্তু জানেন কী, এই মেথির পানি সবার জন্য মোটেও নিরাপদ নয়? কিছু ক্ষেত্রে এটি উপকারের চেয়ে ক্ষতিই ডেকে আনতে পারে! রক্তে শর্করা কমে গেলে বিপদ মেথি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং কার্বোহাইড্রেট শোষণ কমিয়ে রক্তে শর্করা হ্রাস করে। তাই যাদের রক্তে শর্করা স্বাভাবিকের নিচে বা যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করছেন, তাদের জন্য মেথির জল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে হঠাৎ রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে গিয়ে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অজ্ঞান হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গর্ভাবস্থায় নয় একেবারেই গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে মেথির পানি একেবারেই পরিহার করা উচিত। কারণ মেথিতে থাকা কিছু যৌগ জরায়ুতে সংকোচন সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে এটি প্রসব ত্বরান্বিত করলেও, শুরুর দিকের মাসগুলোতে এটি অকাল প্রসব বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। থাইরয়েড রোগীদের জন্যও সতর্কতা গবেষণা বলছে, মেথি থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে থাকা কিছু যৌগ আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়, যা থাইরয়েডের জন্য অপরিহার্য। তাই থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের এই পানি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পেটের সমস্যা হলে উল্টো ফল যদিও মেথি হজমে সাহায্য করে, তবু অনেকের ক্ষেত্রে এটি গ্যাস, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা পেটে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে খালি পেটে ভেজানো মেথির পানি খেলে এই সমস্যাগুলো আরও বেড়ে যায়। অ্যালার্জি থাকলে সাবধান থাকুন মেথি শিমজাতীয় পরিবারের অন্তর্ভুক্ত—যার মধ্যে রয়েছে ছোলা, মসুর ডাল ও চিনাবাদাম। তাই যাদের এসব খাবারে অ্যালার্জি আছে, তাদের মেথিতেও একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। শেষ কথা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক বলেই সব উপাদান সবার জন্য ভালো হয় না। মেথির জল খাওয়ার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা, ওষুধের ইতিহাস ও অ্যালার্জির বিষয়টি ভেবে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, তবেই উপকার পাবেন নিরাপদে। তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্লাস্টিকের বোতল। অফিসে হোক বা ভ্রমণে, প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করা আমাদের নিয়মিত অভ্যাস। কিন্তু জনমনে দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন ও ভীতি রয়েছে, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানি পান করলে কি ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিবিসি নিউজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষ প্লাস্টিকের বোতল বা মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করাকে ক্যানসারের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ভুলভাবে বিশ্বাস করে বসে আছেন। ভুল বিশ্বাসের গোলকধাঁধায় জনস্বাস্থ্য ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং ইউনিভার্সিটি অফ লিডস-এর গবেষকরা ১৩৩০ জনের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেন, যার ফলাফল ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ক্যানসারে’ প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ৫ জনের মধ্যে অন্তত ১ জন (১৯ শতাংশ) বিশ্বাস করেন যে, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানি পান করলে এবং মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করলে ক্যানসার হতে পারে। অথচ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন আশঙ্কার পেছনে শক্ত কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিভ্রান্তি যখন বড় বাধা গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু প্লাস্টিকের বোতলই নয়, আরও অনেক অপ্রমাণিত বিষয়কে মানুষ ক্যানসারের কারণ হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করে। জরিপে অংশ নেওয়া অন্তত ৪০ ভাগ মানুষ মনে করেন মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ ক্যানসারের কারণ। এছাড়া প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফ্রিকোয়েন্সি এবং ৩৪ শতাংশ মানুষ জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) খাবারকে ক্যানসারের জন্য দায়ী মনে করেন। গবেষক ড. স্যামুয়েল স্মিথ এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ইন্টারনেটে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের কারণে মানুষ এখন বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন বিষয়গুলোকে অনেক বেশি বিশ্বাস করছে। প্রকৃত ঝুঁকি ও প্রতিকার যুক্তরাজ্যের ক্যানসার রিসার্চ প্রতিষ্ঠানের মতে, প্রতি দশটি ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার মধ্যে অন্তত চারটি ঘটনাই সঠিক জীবন যাপন বা লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। ক্যানসারের প্রকৃত এবং প্রতিরোধযোগ্য কারণগুলো হলো: ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান: যা জরিপে যথাক্রমে ৮৮% ও ৮০% মানুষ সঠিকভাবে শনাক্ত করেছেন। স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন ক্যানসারের অন্যতম কারণ। সূর্যরশ্মি বা সানবার্ন: প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ রোদে পোড়াকে ক্যানসারের কারণ হিসেবে জানেন। খাদ্যাভ্যাস: প্রচুর ফল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস ঝুঁকি কমায়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ক্যানসার রিসার্চ প্রতিষ্ঠানের ক্লেয়া হাইড জানিয়েছেন, ক্যানসারের বিরুদ্ধে গ্যারান্টি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তবে প্রকৃত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানলে এবং সে অনুযায়ী জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ভুল তথ্যের পেছনে আতঙ্কিত না হয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কারণগুলোর দিকে (যেমন—ধূমপান বর্জন করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা) আমাদের নজর দেওয়া উচিত। তাই প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে অহেতুক ভীতি নয়, বরং প্রমাণিত ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে সচেতন জীবন যাপন করাই হবে ক্যানসার প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার। তথ্যসূত্র: বিবিসি
সম্প্রতি এক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত গবেষণায় টুথপেস্টের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। বিএসটিআই জানিয়েছে, তারা নিজ উদ্যোগে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে, কোনো পণ্য বাংলাদেশ মান পূরণ করেনি অথবা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা খালি চোখে সাধারণত দেখা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয়। মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে এখনো গবেষণা চলমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে টুথপেস্টসহ কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয় আইনে টুথপেস্টসহ কসমেটিকস পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে উৎপাদনকারীদেরকে ২০২৭ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোজিত প্লাস্টিকের মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশের স্ট্যান্ডার্ডে বা আইএসও, এএসটিএম প্রভৃতি আন্তর্জাতিক মান সংস্থা প্রণীত মানে টুথপেস্ট পণ্যের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো মাত্রা বা ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয় উল্লেখ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা বা একক পরীক্ষাপদ্ধতি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। টুথপেস্ট পণ্যের জন্য ‘বিডিএস ১২১৬ :২০১২ স্পেসিফিকেশন ফর টুথপেস্ট’ শিরোনামে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। এসআরও নম্বর ৫০-আইন/২০১৯ এবং এসআরও নম্বর ৫১-আইন/২০১৯ জারির মাধ্যমে সরকার টুথপেস্ট বিক্রি-বিতরণের ক্ষেত্রে বিএসটিআই থেকে ওই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রাসায়নিক, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও সেফটি প্যারামিটার পরীক্ষার পর লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। বিএসটিআই প্রণীত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার সংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধি-নিষেধ না থাকলেও ওই স্ট্যান্ডার্ডে টুথপেস্ট উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক উল্লেখ নেই। বিএসটিআই থেকে সনদ দেওয়ার সময় টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করা হয়, বিধায় টুথপেস্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ নেই। শুধু কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেছে বলেই সেটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে বা সেটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এ জন্য আরও বিস্তারিত পরীক্ষা, কণার ধরণ, উৎস, পরিমাণ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন প্রয়োজন। এ কারণে বিএসটিআই এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষার র ডাটা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামাল, পণ্যের উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা টুথপেস্টকে অনিরাপদ বা নিম্নমানের বলে ঘোষণা করাও সঠিক হবে না বলে মনে করছে বিএসটিআই। সংস্থাটি আরও বলেছে, এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্ত চিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পরীক্ষাপদ্ধতি সংযোজনসহ বাংলাদেশ মান হালনাগাদ করা হবে।
আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসককে চাকরিচ্যুতির নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোববার (২৬ জুলাই) সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, অনুমতি ছাড়াই প্রায় এক বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক ডা. সোহানা সেলিম। এ কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্নাঘর, বাথরুম, চিকিৎসক-নার্সদের উপস্থিতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। উপস্থিতি রেজিস্টারে নিয়মিত স্বাক্ষর না করার প্রবণতা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। এর আগে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক নিরাপত্তাকর্মীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একই ঘটনায় এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যার বেশি সক্ষমতায় উন্নীত করা হবে। জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আধুনিক প্যাথলজি সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিমে রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। কেউ কেউ ডিমকে সুপারফুডও বলে থাকে। সকালের নাশতায় একটি বা দুটি ডিম খাওয়া শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। ডিমে থাকা প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও স্বাস্থ্যকর চর্বি দিনের কাজের শক্তি জোগায় এবং সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেদ্ধ ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, আয়রন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি, যা শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রতিদিন সকালে ডিম খাওয়ার উপকারিতা- দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে সেদ্ধ ডিমে থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। শক্তি বাড়ায় সকালের নাস্তায় সেদ্ধ ডিম খেলে শরীর দ্রুত শক্তি পায়। ব্যস্ত দিনের শুরুতে এটি কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। মস্তিষ্কের জন্য উপকারী ডিমে থাকা কোলিন নামের উপাদান স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। হাড় মজবুত করে সেদ্ধ ডিমে থাকা ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে, যা হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চোখের সুরক্ষায় সহায়ক ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং বয়সজনিত চোখের সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে। পেশি গঠনে সহায়তা করে নিয়মিত ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তিদের জন্য সেদ্ধ ডিম একটি আদর্শ খাবার। এর প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষয়রোধে সহায়তা করে। তবে যাদের কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ডিম যোগ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সারাদিন ক্লান্তি, অবসাদ ও শক্তিহীনতায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সমস্যার পেছনে শুধু মানসিক চাপ বা বয়স নয়, শরীরের কোষে শক্তি উৎপাদনের ঘাটতিও দায়ী হতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় কোষীয় ক্লান্তি (সেলুলার ফ্যাটিগ)। বিশেষজ্ঞরা জানান, শরীরের প্রতিটি কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি উৎপাদনের কাজ করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে মাইটোকন্ড্রিয়া ঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি তৈরি করতে পারে না। ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও মানুষ সারাক্ষণ ক্লান্ত অনুভব করতে পারেন। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অনিদ্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব এবং বয়স বৃদ্ধির কারণে মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর ফলে সিঁড়ি ভাঙা, অফিসের কাজ করা বা দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার মতো সাধারণ কাজও কঠিন মনে হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোষীয় ক্লান্তির লক্ষণ শুরুতে খুব একটা স্পষ্ট হয় না। ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ, মনোযোগের ঘাটতি, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এবং শরীরের ধীরে সুস্থ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এমন ক্লান্তি থাকলে তা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি সিনড্রোম, স্নায়বিক রোগ, অটোইমিউন রোগ, বিষণ্নতা এবং দ্রুত বার্ধক্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা আরও বলেন, ক্লান্তির কারণ সব সময় এক নয়। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, সংক্রমণ, পুষ্টির ঘাটতি, ঘুমের ব্যাধি কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।
বিশ্বজুড়ে অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে— হৃদরোগ। সাধারণ মানুষের ধারণা, বুকে কিংবা কাঁধ থেকে বাঁ হাতে তীব্র ব্যথাই বোধহয় হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র লক্ষণ। তা ঠিক নয়; বড় কোনো অঘটন ঘটার অনেক আগেই হৃদযন্ত্র অত্যন্ত গোপনে এবং নিঃশব্দে কিছু সংকেত দিতে শুরু করে। হৃদরোগের ক্ষেত্রে শরীর অনেক আগেই ছোট ছোট সতর্কবার্তা পাঠায়। কিন্তু সচেতনতার অভাবে আমরা সেগুলোকে ‘বয়স বাড়ছে’ কিংবা ‘সাধারণ ক্লান্তি’ ভেবে এড়িয়ে যাই। এই গোপন সংকেতগুলো আগভাগে চিনতে পারলে অকাল হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে শরীর কোন সংকেত দেয়— হৃদরোগীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষ মূল সমস্যা ধরা পড়ার আগেই তারা এ সমস্যায় ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে মূল রোগ দেখা দেওয়ার প্রায় পাঁচ বছর আগেই এ লক্ষণটি দেখা দেয়। আমাদের শরীরের ছোট ধমনিগুলোতে রক্ত সঞ্চালন বাধা পেলে যে সমস্যা তৈরি হয়, হৃৎপিণ্ডের মূল ধমনিতেও ঠিক একই পরিস্থিতি ঘটতে থাকে। তাই কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এমন সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অল্প কয়েকটি সিঁড়ি ভাঙা, সামান্য হাঁটাহাঁটি বা ঘরের ছোটখাটো কাজ করতেই যেন দম আটকে আসে? আমরা অনেকেই এটাকে ‘শরীরের ফিটনেস কমে যাওয়া’ বা ‘ক্লান্তি’ ভেবে ভুল করি। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়— ‘ডিসপনিয়া‘। আপনার হৃৎপিণ্ড যে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত পাম্প করতে পারছে না অথবা ফুসফুসের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে— এটি তার প্রমাণ। আর নতুন জুতা শক্ত হওয়ার কারণে কিংবা দীর্ঘ সময় বিমানে বা বাসে বসে জার্নি করার পর পায়ে সামান্য ফোলা ভাব হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পা, গোড়ালি বা নিচের অংশে ক্রমাগত ফ্লুইড জমতে থাকা বা ফুলে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর অর্থ হতে পারে— আপনার হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে রক্ত সারা শরীরে সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে রক্ত ও পানি পায়ে গিয়ে জমছে। এটি হার্ট ফেইলিওর বা কিডনির সমস্যার অন্যতম নীরব লক্ষণ। এ ছাড়া ফোলা ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্ট হলো হার্ট ফেইলিওরের প্রাথমিক উপসর্গ। মানুষ প্রায়শই এগুলোকে বার্ধ্যক্যের লক্ষণ মনে করে এড়িয়ে যায়। অথচ সময়মতো এ সংকেতগুলো ধরে সঠিক লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও চিকিৎসা শুরু করলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব। এখন প্রশ্ন আসতে পারে— সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক কী? সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হলো— এমন এক ধরনের সমস্যা, যেখানে বুকে তীব্র ব্যথা বা অস্বস্তি থাকে। এতে রোগী অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে, তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তবে শরীর কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দেয়। ১. বুকে ব্যথা ছাড়াও শরীর গোপনে হৃদরোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। ২. পুরুষের শারীরিক ক্ষমতার অভাব হৃদরোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। ৩. সামান্য পরিশ্রমে বা সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠা হৃৎপিণ্ড দুর্বল হওয়ার লক্ষণ। এতে হার্ট অ্যাটাক দেখা দিতে পারে। ৪. পায়ের পাতা বা গোড়ালিতে পানি জমা ও ফোলা ভাব হার্ট ফেইলিওরের লক্ষণ হতে পারে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বে হামে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত দেশে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ১৭৪ জন। একই সময়ে বিশ্বের আর কোনো দেশে এত রোগী শনাক্ত হয়নি। ডব্লিউএইচওর জেনেভা সদর দপ্তরে জমা হওয়া বৈশ্বিক নজরদারি তথ্য এবং সংস্থাটির জুলাই মাসের প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)ও তাদের মূল্যায়নে এই প্রতিবেদন ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাম সংক্রমণে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে ভারত। দেশটিতে ছয় মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৬০৭ জন। এরপর রয়েছে ইয়েমেন (১৪ হাজার ৫২১), মেক্সিকো (১২ হাজার ৪৯৫), পাকিস্তান (১১ হাজার ৩৭), ক্যামেরুন (৯ হাজার ৬৫৩), কাজাখস্তান (৭ হাজার ৭৩০), গুয়েতেমালা (৬ হাজার ৮৩২), অ্যাঙ্গোলা (৬ হাজার ৮১৫) এবং সুদান (৫ হাজার ৭৬৬)। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, একই সময়ে বিশ্বের ১৬৫টি দেশে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম বা হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭০৮ জনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭০২ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৯৫ শিশুসহ মোট ৭৯৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য বলছে, মার্চ মাসে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছায়। এপ্রিলে তা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যায় এবং মে মাসে নতুন রোগী শনাক্ত হয় প্রায় ১৫ হাজার। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, চূড়ান্ত হিসাবেও বাংলাদেশ হাম সংক্রমণে বিশ্বের শীর্ষেই থাকবে। শুধু সংক্রমণ নয়, হামে মৃত্যুর সংখ্যাও বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির কাভারেজ কমে যাওয়াই বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান কারণ। একসময় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে শতভাগ সাফল্য অর্জন করলেও ২০২৫ সালে নিয়মিত হাম টিকাদানের হার নেমে আসে ৫৯ শতাংশে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় টিকার সংকটও দেখা দেয়। ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ প্রয়োজনীয় দুই ডোজ টিকার একটিও পায়নি। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী এবং এক থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে টিকাবঞ্চিতের হার বেশি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হাম প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে না পারলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বজায় রাখা সম্ভব হবে না। ফলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি থেকে যাবে। এ পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্রুত টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করে টিকাদানের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ব্যস্ত দিনশেষে বিছানায় গা এলিয়ে দিলেও অনেকের চোখে সহজে ঘুম আসে না। সারাদিনের কাজের চাপ, দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে থাকা, স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা দুশ্চিন্তা; সব মিলিয়ে শরীর ও মন থাকে অস্থির। অনেকেই এই অস্থিরতা কাটাতে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভর করেন কিংবা ফোনের স্ক্রল করা শুরু করেন, যা আদতে ঘুমকে আরও দূরে ঠেলে দেয়। তবে গবেষকরা বলছেন, রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র কয়েক মিনিটের কিছু সহজ স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম আপনার শরীরকে শিথিল করে দ্রুত এবং গভীর ঘুমে সহায়তা করতে পারে। এই ব্যায়ামগুলো আপনার পেশীর জড়তা কাটায়, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে শরীরকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করে। জেনে নিন এমন ৭টি কার্যকর ব্যায়াম সম্পর্কে: ১. চাইল্ডস পোজ এটি ঘুমানোর আগের সবচেয়ে আরামদায়ক ব্যায়ামগুলোর একটি। মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে হিলের ওপর ভর দিয়ে বসুন। এরপর সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দুটি ছড়িয়ে দিন এবং কপাল ম্যাট বা বিছানায় রাখুন। এই পোজ পিঠ, কাঁধ এবং হিপসের পেশীর টান কমিয়ে মনকে শান্ত করে। ২. নেক স্ট্রেচ সারাদিন কম্পিউটারে কাজ করা বা ফোন ব্যবহারের ফলে ঘাড়ে যে আড়ষ্টতা তৈরি হয়, তা দূর করতে এটি সেরা। সোজা হয়ে বসে ধীরে ধীরে মাথা এক কাঁধের দিকে হেলিয়ে ২০-৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। একইভাবে অন্য পাশেও করুন। এটি ঘাড়ের পেশী শিথিল করে শরীরের উত্তেজনা কমায়। ৩. সিটেড ফরোয়ার্ড বেন্ড মেঝেতে পা ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। এবার কোমর থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দিয়ে পা বা আঙুল ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। পিঠ সোজা রেখে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। এই ব্যায়ামটি হ্যামস্ট্রিং, বাছুর এবং কোমরের নিচের অংশের পেশীকে শিথিল করে সারা শরীরে প্রশান্তি আনে। ৪. ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ হাঁটু ও হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গিতে থাকুন। শ্বাস নেওয়ার সময় পিঠ নিচের দিকে নামিয়ে মাথা ওপরের দিকে তুলুন (কাউ পোজ)। আবার শ্বাস ছাড়ার সময় পিঠ ধনুকের মতো বাঁকিয়ে থুতনি বুকের কাছে আনুন (ক্যাট পোজ)। এক-দুই মিনিট এটি করলে মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ে এবং পিঠের শক্ত ভাব দূর হয়। ৫. বাটারফ্লাই স্ট্রেচ বসে দুই পায়ের পাতা একে অপরের সাথে জোড়া লাগান এবং হাঁটু দুটি দুই পাশে ছড়িয়ে দিন। হাত দিয়ে পায়ের পাতা ধরে সোজা হয়ে বসুন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে হিপস বা নিতম্বের পেশীতে যে টান লাগে, তা মুক্ত করতে এই ব্যায়ামটি অত্যন্ত কার্যকর। ৬. স্ট্যান্ডিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড পা দুটি সামান্য ফাঁক করে সোজা হয়ে দাঁড়ান এবং কোমর থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দুটি মেঝের দিকে ছেড়ে দিন। হাঁটু সামান্য ভাঁজ রাখতে পারেন। এটি পা, পিঠ ও কাঁধের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। ৭. লেগস আপ দ্য ওয়াল বিছানা বা মেঝের দেয়াল ঘেঁষে শুয়ে পা দুটি দেয়ালের ওপর সোজাসুজি তুলে দিন। হাত দুটি শরীরের দুই পাশে রেখে ৫-১০ মিনিট এই অবস্থায় বিশ্রাম নিন। সারাদিন হাঁটাচলা বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পায়ে যে চাপ পড়ে, তা কমাতে এবং শরীরে প্রশান্তি আনতে এই ব্যায়ামটি অতুলনীয়। শেষ কথা রাতে ঘুমানোর আগে নিয়মিত এই স্ট্রেচিংগুলো করলে কেবল ঘুমের মানই উন্নত হয় না, বরং পরের দিন সকালে আপনি আরও সতেজ অনুভব করবেন। তবে দীর্ঘমেয়াদী কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে নতুন কোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
ব্যস্ত জীবনে সহজে অনুসরণযোগ্য এমন স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের খোঁজে থাকেন অনেকেই। ঠিক তেমনই একটি সহজ উপায় হলো খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ খাওয়া। পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত এ অভ্যাস শরীরের ভেতর থেকে শক্তি জোগায়, হজমশক্তি উন্নত করে এবং নানা জটিলতা দূরে রাখতে সহায়তা করে। তাদের দাবি, কেউ যদি টানা এক মাস প্রতিদিন খালি পেটে ৮-১০টি ভেজানো কিশমিশ খান, তাহলে শরীরে দেখা দেবে একের পর এক ইতিবাচক পরিবর্তন। চলুন দেখে নেওয়া যাক কী কী পরিবর্তন আসতে পারে— ভেজানো কিশমিশ কেন শুকনো কিশমিশের চেয়ে ভালো শুকনো কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনি ও ফাইবারের ঘনত্ব বেশি থাকে, যা কখনও কখনও হজমে সমস্যা করতে পারে। কিন্তু পানি ভিজিয়ে রাখলে কিশমিশ নরম হয়, প্রাকৃতিক চিনি কমে আসে এবং এর ভেতরের পুষ্টি উপাদান সহজে শরীরে মিশে যায়। ফলে হজমের চাপ কমে ও পুষ্টি শোষণ বেড়ে যায়। ১. হজম ক্ষমতার উন্নতি কিশমিশে থাকা ফাইবার শরীরের প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে কাজ করে। সকালে ভেজানো কিশমিশ খেলে হজম দ্রুত হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমে এবং পেটের সমস্যা দূর হয়। এক মাসের ফল: নিয়মিত খেলে অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক থাকে, পেট হালকা লাগে ও হজম শক্তি বেড়ে যায়। ২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কিশমিশ হলো পটাশিয়ামের দারুণ উৎস, যা রক্তনালীকে শিথিল করে ও সোডিয়ামের প্রভাব কমিয়ে দেয়। এক মাসের ফল: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে, হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে এবং সারাদিন শরীর থাকে স্বস্তিতে। ৩. রক্তস্বল্পতা দূর করে আয়রন ও বি-কমপ্লেক্স ভিটামিনসমৃদ্ধ কিশমিশ রক্তে লোহিত কণিকা বাড়ায় ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করে। এক মাসের ফল: রক্তস্বল্পতা দূর হয়, দুর্বলতা কমে এবং শরীরে শক্তি ফিরে আসে। ৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ভেজানো কিশমিশে থাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি, যা শরীরকে ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এক মাসের ফল: সর্দি-কাশির মতো সাধারণ সংক্রমণ কম হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ৫. ত্বক উজ্জ্বল করে ও লিভার পরিষ্কার রাখে কিশমিশ রক্ত পরিশোধনে সহায়ক, যা ত্বক ও লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এক মাসের ফল : ত্বক হয় উজ্জ্বল ও দাগহীন, লিভার ডিটক্স হয়, বলিরেখা কমে এবং মুখে আসে প্রাকৃতিক জেল্লা। ভেজানোর পদ্ধতি রাতে ঘুমানোর আগে ৮-১০টি কিশমিশ একটি পরিষ্কার গ্লাসে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে কিশমিশগুলো চিবিয়ে খান এবং সেই ভেজানো পানিটিও পান করুন। সতর্কতা: ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন-সংবেদনশীল ব্যক্তিরা নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যেভাবেই হোক গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। তাদের জন্য সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত ও সহজ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই সহজে চিকিৎসা পান এবং চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে না হয়। একইসঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও আন্তরিক হতে হবে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে আরও কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দেন। বৈঠকের শুরুতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্য খাতের অর্জন সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান। জবাবে তারা জানান, বিগত সরকারগুলো স্বাস্থ্যখাত একেবারে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ দেখা যায় যে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকলেও রোগীরা সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পান না। চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয় উঠে আসে। এ ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিডনি রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। তিনি কিডনি রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জেলা পর্যায়ে যেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে, সেগুলো ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা। এ সময় তারা অবকাঠামোর নকশাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
ব্যস্ত দিন শেষে অনেকেরই রাতে বিছানায় যাওয়ার পর সহজে ঘুম আসে না। মানসিক চাপ, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, অতিরিক্ত স্ক্রিনে সময় কাটানো এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততায় শরীর শক্ত ও মন অস্থির হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের ওষুধ বা মোবাইল ফোনে সময় কাটানোর বদলে ঘুমানোর আগে মাত্র কয়েক মিনিটের হালকা স্ট্রেচিং দ্রুত ঘুমাতে এবং ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে কার্যকর হতে পারে। গবেষকদের মতে, সহজ কিছু স্ট্রেচিং শরীরের পেশির টান কমায়, নমনীয়তা বাড়ায় এবং সারাদিনের জমে থাকা চাপ দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ধীর ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে, যা শরীরকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করে। নিয়মিত এ অভ্যাস ভালো ঘুমের পাশাপাশি পরদিন সকালে সতেজ অনুভব করতেও সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা ঘুমানোর আগে কয়েকটি সহজ স্ট্রেচিং করার পরামর্শ দিয়েছেন— চাইল্ডস পোজ: হাঁটু গেড়ে বসে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত প্রসারিত করুন। এটি পিঠ, কাঁধ ও কোমরের চাপ কমাতে সাহায্য করে। নেক স্ট্রেচ: ধীরে ধীরে মাথা এক কাঁধের দিকে ঝুঁকিয়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, এরপর অন্য পাশে একইভাবে করুন। এতে ঘাড়ের জড়তা কমে। সিটেড ফরোয়ার্ড বেন্ড: পা সামনে সোজা রেখে ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকুন। এটি কোমর, উরু ও পায়ের পেশি শিথিল করতে সহায়ক। ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ: হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় পিঠ নিচের দিকে বাঁকান এবং শ্বাস ছাড়ার সময় পিঠ গোল করুন। এতে মেরুদণ্ড নমনীয় হয় এবং পিঠের চাপ কমে। বাটারফ্লাই স্ট্রেচ: দুই পায়ের পাতা একসঙ্গে মিলিয়ে হাঁটু দুটো দুই পাশে নামিয়ে বসুন। এটি কোমর ও উরুর ভেতরের পেশির টান কমায়। স্ট্যান্ডিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড: দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত নিচের দিকে ছেড়ে দিন। এতে পিঠ, কাঁধ ও পায়ের পেশি শিথিল হয় এবং রক্তসঞ্চালন বাড়ে। লেগস আপ দ্য ওয়াল: দেয়ালের সঙ্গে পা উঁচু করে ৫ থেকে ১০ মিনিট শুয়ে থাকুন। এটি পায়ের ক্লান্তি কমিয়ে শরীরকে আরাম দেয় এবং ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন রাতে কয়েক মিনিটের এই সহজ স্ট্রেচিংয়ের অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে, শরীরকে শিথিল রাখতে এবং দ্রুত গভীর ঘুমে যেতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ধূমপান ও বায়ুদূষণের মতো নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকির কারণগুলো মোকাবেলা করার মাধ্যমে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করা সম্ভব। বুধবার (১৮ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে এবং প্রতিরোধযোগ্য বিষয়গুলোর ওপর জোর দিতে সংস্থাটি একটি নতুন নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ হলো ডিমেনশিয়া। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি শারীরিক অক্ষমতা এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। এই রোগ মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা ও দৈনন্দিন সাধারণ কাজকর্ম করার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এবং প্রতি বছর নতুন করে প্রায় এক কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ডিমেনশিয়ার প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ রূপ হলো আলঝেইমার্স রোগ, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অসংক্রামক রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক দেবোরা কেস্টেল বলেন, ডিমেনশিয়া শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিকেই নয়, বরং তার পরিবার ও সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এটি মানুষের স্বাস্থ্য, মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ডিমেনশিয়ার কোনো স্থায়ী নিরাময় না থাকলেও ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রতিরোধযোগ্য। এই প্রতিরোধযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে তামাকের ব্যবহার, অ্যালকোহল সেবন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, বায়ুদূষণ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য অসংক্রামক ব্যাধি। স্বাস্থ্যকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের সহায়তার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের এই হালনাগাদ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানায়, ২০১৯ সালে প্রকাশিত তাদের প্রথম নির্দেশিকার পর থেকে ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের সপক্ষে বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ আরও জোরালো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়িসুস এ প্রসঙ্গে বলেন, মানুষের মানসিক ও জ্ঞানীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে স্পষ্ট এবং তথ্যপ্রমাণ-ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সুপারিশ রয়েছে। ডিমেনশিয়া সাধারণত ৬৫ বছর বয়সের পর বেশি দেখা দিলেও, এটি বার্ধক্যের কোনো অনিবার্য অংশ নয়। যেহেতু ডিমেনশিয়ার কোনো নির্দিষ্ট নিরাময় বা চিকিৎসাপদ্ধতি নেই, তাই একে প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। মৃদু মানসিক ও চিন্তাগত সমস্যায় ভুগছেন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কগনিটিভ স্টিমুলেশন বা মানসিক উদ্দীপনা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই সাথে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ডিমেনশিয়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতি বছর আনুমানিক ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়, যার অর্ধেক অর্থই মূলত আক্রান্ত রোগীর পেছনে পরিবার ও বন্ধুদের অবৈতনিক সেবা বা পরিচর্যার কারণে ব্যয় হয়ে থাকে। তাই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সঠিক সময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। সূত্র: সামা টিভি।
ব্যস্ত কর্মজীবন, দীর্ঘ যানজট কিংবা নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে অনেকেই রাতে খাবার না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। আবার কেউ কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের পর আর কিছু খান না। অনেকের বিশ্বাস, রাতের খাবার বাদ দিলে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এক-দুদিন কোনো কারণে রাতের খাবার না খেলেও সাধারণত বড় ধরনের ক্ষতি হয় না। কিন্তু এটি যদি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুমের সময়ই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শরীর খাবার ছাড়া থাকে। তাই ঘুমের আগে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার সামাজিক ও মানসিক গুরুত্বও রয়েছে। ২০২১ সালে আমেরিকান কলেজ অব পেডিয়াট্রিশিয়ানসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষাগত সাফল্য এবং সুস্থ ওজন বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। রাতের খাবার বাদ দিলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও প্রভাবিত হতে পারে। অনেকেই দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রাতে বেশি পরিমাণে সবজি খান। অথচ সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষই প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফল ও সবজি খেতে পারেন না। ফলে রাতের খাবার বাদ দিলে এসব পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগও কমে যায়। শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে? খাবারের সময়সূচিতে পরিবর্তন এলেই শরীরে নানা জৈবিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। ২০২১ সালে কারেন্ট ওপিনিয়ন ইন বায়োটেকনোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনা গবেষণায় বলা হয়েছে, অনিয়মিত সময়ে খাওয়া শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াও বিঘ্নিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়া আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ২০২৩ সালে জার্নাল অব দ্য অ্যাকাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দিনে মাত্র একবার খাবার খাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নিয়মিত দুপুর বা রাতের খাবার বাদ দেওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্বল্প সময়ের জন্য রাতের খাবার না খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। এতে দুর্বল লাগা, হাত কাঁপা কিংবা শক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে বা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে একদিন রাতের খাবার না খেলেও সাধারণত গুরুতর সমস্যা দেখা যায় না। অন্যদিকে, ২০২২ সালে সেল মেটাবলিজম সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর রাতে খাবার খাওয়া ক্ষুধা বাড়াতে পারে এবং লেপটিন হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। এই হরমোন শরীরকে তৃপ্তির সংকেত দেয়। ফলে রাত করে খাওয়ার অভ্যাস স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ ছাড়া ইনোভেশন ইন এজিং সাময়িকীতে ২০২০ সালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত খাবার বাদ দেন, বিশেষ করে বয়স্করা, তাদের মধ্যে বিষন্নতা, উদ্বেগ এবং অনিদ্রার সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। সমাধান কী মাঝে মধ্যে কোনো কারণে রাতের খাবার বাদ পড়লে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এটি যেন নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আর যদি ওজন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য থাকে, তাহলে রাতের খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়। সূত্র: এভরিডে হেলথ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।