স্বাস্থ্য

হামে আক্রান্ত শিশু। ছবি : সংগৃহীত
হাম উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৬৩টি শিশু হাসপাতালে এসেছে।   রোববার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এতে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৮৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৮০ জন শিশু মারা গেছে।   গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১। এ সময়ে ৯৫৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৯ শিশু।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯২ হাজার ৭৯০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৬ হাজার ৮৫৯ রোগী, যাদের মধ্যে ৭২ হাজার ৮৪৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

মারিয়া রহমান জুন ২১, ২০২৬
পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতিতে টিকা কর্মসূচিতে সংকট তৈরি হয়েছে

পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণে টিকা কর্মসূচি এবং পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সংগ্রহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।   তিনি বলেন, সরকারের কাছে বিষয়টা স্পষ্ট। তাই এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি।   রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে পুরাতন ১ নম্বর ভবনের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের শেষ দিকে নির্ধারিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত না হওয়ায় অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ কারণে চলতি বছরের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত হওয়া অধিকাংশ শিশুই ওই সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া। তবে মার্চে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা এবং এক মাসের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় সাফল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।   হাম নিয়ে তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই। কারণ, কী কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা সরকারের কাছে স্পষ্ট।   পূর্ববর্তী সরকারের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতির কারণেই ২০২৪ সালের টিকাদান কার্যক্রমের একটি পূর্ণাঙ্গ রাউন্ড মিস হয়েছে। ভ্যাকসিন সংগ্রহ হয়নি, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীও কেনা হয়নি। এসব ক্ষেত্রে গাফিলতি ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।   তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।   সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাদ দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পদ্ধতিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিক অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়।   তিনি বলেন, ডিপিপিগুলো দ্রুত অনুমোদন পাবে এমন ধারণা থেকে ওপি পদ্ধতি বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক ডিপিপির প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি অনুমোদন ও প্রকল্প কার্যালয় গঠন করা সম্ভব হয়নি। ফলে পূর্বের অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলেও নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা চালু হয়নি।   স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, এর ফলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সংকটে পড়েছে, যার বোঝা এখনো জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।   এই সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী বর্তমানে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তরে যাচ্ছেন। সেখানে প্রয়োজনীয় আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে দ্রুত ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করে যেসব খাবার

ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হলে লিভারের কোষগুলোতে অতিরিক্ত চর্বি জমে। সাধারণত লিভারে (যকৃৎ) কিছু পরিমাণ চর্বি থাকে। কিন্তু যখন চর্বির পরিমাণ বেড়ে লিভারের ওজনের ৫-১০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়, তখন এটিকে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হিসেবে ধরা হয়। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে প্রদাহ, সিরোসিস বা লিভার ফেইলিউরের মতো সমস্যা হতে পারে।   ফ্যাটি লিভারের দুটি শ্রেণিবিভাগ   অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ: অ্যালকোহল পানের কারণে যদি ফ্যাটি লিভার হয়, তবে দ্রুত এটি পান বন্ধ করা উচিত। অন্যথায় তা সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারে পরিণত হতে পারে।   নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ: এটি প্রধানত বিপাকীয় ব্যাধির কারণে হয়। এর কারণ অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি।   খাদ্যতালিকা জটিল কার্বোহাইড্রেট, সুষম চর্বি নির্বাচন ও পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। যেহেতু ফ্যাটি লিভার রোগে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স একটি বড় সমস্যা, তাই পরিশোধিত শ্বেতসার বা সাদা শর্করা এবং চিনি গ্রহণ কমালে লিভারে চর্বি উৎপাদন কমে।   খাদ্যতালিকায় বেশি শাকসবজি, শিম, ডাল, গোটা ফল, বাদাম, বিভিন্ন বীজ, মাছ, জলপাই তেল বা যেকোনো তেল পরিমিত খাওয়া লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।   ফ্যাটি লিভার রোধে উপকারী কিছু খাবার   হলুদ: এটি শুধু মসলাই নয়, এটি চর্বি হজমপ্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে ও লিভারে চর্বি জমা কমায়।   লেবু: লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে; যা একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি লিভারকে গ্লুটাথিওন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লেবুতে নারিঞ্জেনিন নামক একটি যৌগ রয়েছে, যা লিভারের প্রদাহ কমায়।   গ্রিন টি: গ্রিন টি মস্তিষ্কের কার্যকারিতাবাড়ায়, হজমশক্তি উন্নত করে, ব্যাকটেরিয়া দূর করে, চর্বি বিপাক ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।   পেঁপে: পেঁপের ফল ও বীজে চর্বি পোড়ানোর চমৎকার গুণ রয়েছে, যা ফ্যাটি লিভারের জন্য উপকারী।   লিন প্রোটিন: প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন চর্বিহীন মুরগি, মাছ, সামুদ্রিক খাবার, ডিম, সয়া পণ্য ও ডাল স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সহায়ক।   দুগ্ধজাত খাবার: ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য, যেমন স্কিম মিল্ক, লো-ফ্যাট দই ও পনির অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটুন, সুস্থ জীবনের পথে এগিয়ে যান

প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটা কি সম্ভব? শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটার লক্ষ্য পূরণ করার জন্য বলিউড অভিনেত্রী নিকিতা দত্তের পাঁচটি কৌশল ফলো করুন। দারুণ কার্যকরী। আপনার জীবন বদলে যাবে। নিজের ব্যস্ত রুটিন থেকে সময় বের করে নিন। নিজেকে ফিট রাখুন। আর আপনার শরীরকে ফিট রাখতে এই সহজ অভ্যাসগুলো নিয়মিত মেনে চলুন, আপনার জীবন বদলে যাবে।   যদিও এই ব্যস্ত জীবনে নিয়মিত শরীরচর্চার জন্য আলাদা করে সময় বের করা খুব কঠিন। তাই এখন অনেকেই সহজ কিছু অভ্যাসের ওপর ভরসা করছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো হাঁটা।   শরীরচর্চা আর ফিট থাকা মানেই কেবল জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো নয়। এতে রয়েছে আরও নানা উপায়। এখন অনেকেই সহজ কিছু অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। তেমনি অভিনেত্রী নিকিতা দত্তও হেঁটেই নিজেকে সুস্থ রাখেন। এর জন্যতাকে  দিনে ১০ হাজার পা হাঁটতে হয়। যদিও এ কাজ বড্ড কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তারপরও নিকিতা সেই লক্ষ্যভেদে কিছু কৌশল প্রয়োগ করেন, যা আপনিও অনুসরণ করতে পারেন।   চলুন জেনে নেওয়া যাক, নিকিতার দিনে ১০ হাজার পা হাঁটার কৌশল— প্রথমত প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে ১০ মিনিট হেঁটে নেন নিকিতা। সঙ্গে সঙ্গে ‘অয়েল পুলিং’-এর কাজটিও সেরে নেন তিনি। অর্থাৎ মুখে তেল নিয়ে কুলকুচি করতে করতে হাঁটার প্রথম ধাপ শেষ করে ফেলেন এ অভিনেত্রী। দ্বিতীয়ত প্রাতঃরাশ, মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজ — তিন বার খাওয়ার পরেই ১০-১৫ মিনিট হাঁটেন নিকিতা। তাতে যেমন হজমের কাজটিও সারা হয়ে যায়, এর পাশাপাশি ১০ হাজার পা হাঁটার উদ্দেশ্য পূরণ করতেও সুবিধা হয়। তৃতীয়ত ফোনে কথা বলার সময়ে হাঁটেন নিকিতা। অর্থাৎ মাঝেমধ্যেই শরীর সচল থাকে তার। চতুর্থত প্রতিদিন বাড়ি পরিষ্কার ও হাটবাজার করে থাকেন অভিনেত্রী। কারণ বাড়ি পরিষ্কার, বাজারহাট ইত্যাদি কাজ নিজে করে নিলে শরীর অনেকটা সুস্থ থাকে। আর তাতে হাঁটার কাজও হয়ে যায় তাতে। পঞ্চমত অল্প সময় পেলেই চার-পাঁচতলা সিঁড়ি ভাঙার চেষ্টা করেন নিকিতা। আর তাতে ১০ হাজার পা হাটার কাজটির সমাপ্তি ঘটে। যে উপকার পাওয়া যাবে # ১০ হাজার পা হাঁটার লক্ষ্যভেদ হয় # শরীর সক্রিয় থাকে # ক্যালোরি খরচ বাড়ে # হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে # মানসিক চাপ কমে # দীর্ঘ ক্ষণ বসে থাকার ক্ষতি কিছুটা পূরণ হয়

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে, আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই ৬ জন। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮৭ জন।   শনিবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৬৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৮৪ জন।   একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ১০ হাজার ৯৪৯ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৯১ হাজার ৭৮৯ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩০৪ জন ও আক্রান্ত ৪৯ হাজার ৭৮৩ জন। এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ২০ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।  

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আকস্মিক পরিদর্শনে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে ক্লোজড করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে হাসপাতালের অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি চিকিৎসকদের উপস্থিতি, ডিউটি রোস্টার, রোগীসেবা, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা এবং চলমান উন্নয়নকাজ পর্যালোচনা করেন।   এ সময় রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, নিম্নমানের খাবার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সেবাপ্রাপ্তিতে ভোগান্তির অভিযোগ তুলে ধরেন। কিছু ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসে।   হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ওয়ার্ড, প্যাথলজি ল্যাব ও টয়লেট ঘুরে দেখে বিভিন্ন অসঙ্গতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। নতুন ভবনের নির্মাণকাজের ধীরগতির বিষয়েও তিনি ক্ষোভ জানান এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।   পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্যখাত নানা সংকটে রয়েছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে অমানবিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়ায় তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। দালালচক্র, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।   পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন. এম. নাসিরুদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনসহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আদ-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল: সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।  সোমবার (১৫ জুন) সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ এ রিট দায়ের করেন। এর আগে গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে। গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্য হয়। মৃত নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন।  সদ্যজাত এসব শিশুর নামও রাখায় হয়নি। ফলে, মৃত শিশুদের তাদের মায়ের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান। ঘটনা তদন্তে দ্রুত ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে। এটিকে আদ দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, এই রিট দায়েরের সঙ্গে আদ্ দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।

মারিয়া রহমান জুন ১৫, ২০২৬
ফাইল ছবি
অনুমোদন পেল আরও  এক নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ, প্রজ্ঞাপন জারি

নরসিংদী জেলায় নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে রবিবার (১৪ জুন) প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা সম্প্রসারণ ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নরসিংদীতে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে নরসিংদীতে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। নরসিংদী-৪ (মনোহরদী–বেলাবো) আসনের সংসদ সদস্য সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজ জেলায় এ কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ ত্বরান্বিত হয় বলে জানা গেছে। বর্তমানে দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ নরসিংদী মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সরকারি অনুমোদন দেওয়া হলো।

মারিয়া রহমান জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অন্য হাসপাতালে চলবে আদ্-দ্বীনের শিক্ষা কার্যক্রম

হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করতে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজকে নির্দেশনা দিচ্ছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে, যা আজ রোববার (১৪ জুন) কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর কথা।   স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য জানিয়েছেন।   বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২২-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল স্থাপনের শর্ত রয়েছে।    এছাড়া মেডিকেল কারিকুলাম অনুযায়ী, তৃতীয় বর্ষ থেকেই হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। পাশাপাশি এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এক বছরের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হয়।   এ অবস্থায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।    এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলেও মেডিকেল কলেজ বন্ধ হচ্ছে না। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিচ্ছি। মেডিকেল কলেজটিকে যেকোনো জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করতে হবে। তারা নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের ওই হাসপাতালে নিয়ে যাবে এবং নিয়ে আসবে। তারা কোন হাসপাতালের সঙ্গে কাজ করতে চায়, তা আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আমাদের জানাতে হবে।   এদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত সরকারি-বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এবার আদ্-দ্বীনকে সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিকে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ হতে হবে। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
হাম উপসর্গে একদিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।   শনিবার (১৩ জুন) অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এ মৃত্যু হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ দিন হামে আক্রান্ত কারো মৃত্যু হয়নি। তবে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৯৬ জন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্যসেবা খাতে যাত্রা শুরু করল ‘আকিজ মেডিপ্লেক্স’

দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আকিজ রিসোর্স স্বাস্থ্যসেবা খাতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় প্রথম ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘আকিজ মেডিপ্লেক্স’।   গত বুধবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন আকিজ রিসোর্সের চেয়ারম্যান ফারিয়া হোসেন। এর মাধ্যমে নির্মাণ, ভোগ্যপণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা খাতেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করল প্রতিষ্ঠানটি।   আকিজ মেডিপ্লেক্সে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রোগনির্ণয় সেবার পাশাপাশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ধরনের ডায়াগনস্টিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা রাখা হয়েছে। রোগীদের সুবিধার্থে হোম স্যাম্পল সংগ্রহ এবং স্বয়ংক্রিয় ভাইটাল সাইনস পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফারিয়া হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। এ লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   আকিজ মেডিপ্লেক্স লিমিটেডের প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা আবু জাফর ইকবাল আহমেদ বলেন, প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং মানবিক সেবার সমন্বয়ে রোগীদের জন্য নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত রোগনির্ণয় সেবা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।   প্রতিষ্ঠানটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বার, জার্মান প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ল্যাবরেটরি, ডিজিটাল রিপোর্টিং ব্যবস্থা, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট, হোম স্যাম্পল সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার সুবিধা থাকছে।   অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আকিজ রিসোর্সের প্রধান ব্যবসা উন্নয়ন কর্মকর্তা তৌফিক হাসান, উপ-প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সোহানুর রহমান সোহান, ক্লাস্টার প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আশফাক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মুখে ঘা হয় কেন, এটি কি কোনো ভয়াবহ রোগের ইঙ্গিত?

মুখের ভেতরে ছোট কোনো ক্ষত বা ঘা অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিষিয়ে তোলে। কথা বলা থেকে শুরু করে খাবার চিবানো: সবকিছুতেই যেন এক যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। আমাদের অনেকেরই ধারণা, মুখে ঘা হওয়া মানেই কেবল ভিটামিনের অভাব। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই সাধারণ সমস্যাটি মাঝে মাঝে বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির আগাম সতর্কবার্তাও হতে পারে।   কেন হয় মুখে ঘা? মুখে ঘা হওয়ার পেছনে অসংখ্য কারণ থাকতে পারে, যার কিছু অত্যন্ত সাধারণ আবার কিছু বেশ জটিল। আঘাতজনিত কারণ: অসাবধানতাবশত গালে বা জিভে কামড় লাগা, খুব শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজা, অতিরিক্ত গরম খাবার বা পানীয়তে মুখ পুড়ে যাওয়া কিংবা দাঁতের ব্রেস বা কৃত্রিম দাঁতের ঘর্ষণ থেকে ঘা হতে পারে। পুষ্টির অভাব: শরীরে ভিটামিন বি১২ , ফোলেট (B9) বা আয়রনের অভাব থাকলে ঘন ঘন মুখে ঘা দেখা দেয়। সংক্রমণ: হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের কারণে হওয়া কোল্ড সোর, ছত্রাকজনিত ওরাল থ্রাশ কিংবা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলেও এই সমস্যা হয়। মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রা: অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা এবং ধুমপান বা তামাক সেবনের অভ্যাস মুখে ঘা হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এটি কি কোনো ভয়াবহ রোগের ইঙ্গিত? অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুখের ঘা ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী বা জটিল রোগের লক্ষণ হতে পারে: মুখের ক্যান্সার : যদি মুখে সাদা বা লালচে দাগ দেখা দেয় এবং দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই ক্ষত না সারে, তবে তা ক্যান্সারের লক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অটোইমিউন রোগ: পেমফিগাস ভালগারিস বা ওরাল লাইকেন প্ল্যানাসের মতো জটিল অটোইমিউন রোগে মুখের ভেতর যন্ত্রণাদায়ক ব্লিস্টার বা জালের মতো সাদা দাগ হতে পারে। পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা: বারবার মুখে ঘা হওয়া ক্রোনস ডিজিজ বা সিলিয়াক ডিজিজের মতো অন্ত্রের রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? সাধারণ ঘা ভেবে অবহেলা না করে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত: যদি ঘা আকারে আধা ইঞ্চির বেশি বড় হয়। যদি ঘা ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং কোনোভাবেই না সারে। ঘায়ের সাথে যদি তীব্র জ্বর, ডায়রিয়া বা জয়েন্টে ব্যথা থাকে। যদি গালের ভেতরে কোনো পিণ্ড বা শক্ত চাকা অনুভব করেন। প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় মুখের ঘা থেকে মুক্তি পেতে এবং এটি প্রতিরোধ করতে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলা জরুরি: খাবারে সতর্কতা: অতিরিক্ত ঝাল, নোনতা বা অ্যাসিডিক খাবার (যেমন লেবু) এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে প্রচুর পানি পান করুন এবং সুষম খাবার খান। মুখের পরিচ্ছন্নতা: নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখুন । ঘরোয়া টোটকা: ব্যথানাশক হিসেবে হালকা গরম লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করা বা বেকিং সোডার পেস্ট ঘায়ের স্থানে লাগানো যেতে পারে। ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বি-কমপ্লেক্স বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। মুখে ঘা হওয়া মানেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে শরীর যখন বারবার এই সংকেত দেয়, তখন সচেতন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ আপনার হাসি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মাথার পেছনে ব্যথা কেন হয়? জেনে নিন সম্ভাব্য কারণ

মাথাব্যথা আমাদের জীবনের এক অতি সাধারণ সমস্যা। তবে ব্যথার স্থান এবং ধরন অনেক সময় গুরুতর কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে মাথার পেছনের অংশে ব্যথা হলে আমরা অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়ি। এই ব্যথা কেন হয় এবং এটি কীসের সংকেত হতে পারে, তা নিয়ে আজকের আলোচনা।   ব্যথার নেপথ্যে সাধারণ কিছু কারণ মাথার পেছনের অংশে ব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ হলো টেনশন হেডেক বা দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা। প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাথমিক মাথাব্যথাই এই ধরনের হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মাথার পেছনের অংশে এক ধরনের চাপ বা আঁটসাঁট অনুভূতি হয়, যা অনেক সময় ঘাড় এবং চোখের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা অবসাদ এর অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া মাইগ্রেনও মাথার পেছনের ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। যদিও মাইগ্রেন সাধারণত মাথার একপাশে হয়, তবে অনেক সময় এটি পুরো মাথায় বা পেছনের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ‘অক্সিপিটাল মাইগ্রেন’ এর ক্ষেত্রে মাথার খুলির নিচ থেকে শুরু করে তালু পর্যন্ত জ্বালাপোড়া বা বৈদ্যুতিক শকের মতো অনুভূতি হতে পারে। জীবনযাত্রার প্রভাব ও সংকেত আমাদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসও মাথার পেছনের ব্যথার কারণ হতে পারে: বসার ভঙ্গি: দীর্ঘক্ষণ কুঁজো হয়ে বসে কাজ করলে কাঁধ এবং ঘাড়ের পেশিতে টান পড়ে। এর ফলে পেশিতে ছোট ছোট গিঁটের মতো সৃষ্টি হয় যা মস্তিষ্কে ব্যথার সংকেত পাঠায়। পানিশূন্যতা: শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। গরম আবহাওয়ায় এটি আরও বেশি দেখা দেয়। শারীরিক পরিশ্রম: অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কঠোর পরিশ্রমের পর রক্তনালী প্রসারিত হওয়ার কারণে মাথায় স্পন্দন বা দপদপানির মতো ব্যথা হতে পারে। গুরুতর কিছু ইঙ্গিত মাথার পেছনের ব্যথা সব সময় সাধারণ নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া বা স্নায়ুর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে হঠাৎ করে তীব্র ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা অনুভূত হয়। এছাড়া ঘাড়ের হাড়ের সমস্যা বা স্পাইনাল আর্থ্রাইটিস থেকেও সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথা হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের টিউমার বা রক্তচাপের অস্বাভাবিক পরিবর্তনও পেছনের ব্যথার কারণ হতে পারে। ঘরোয়া প্রতিকার ও সমাধান ব্যথা কমাতে কিছু সহজ উপায় মেনে চলা যেতে পারে: তাপ বা ঠান্ডা থেরাপি: পেশির টান কমাতে গরম সেঁক এবং প্রদাহ কমাতে বরফ বা ঠান্ডা সেঁক বেশ কার্যকর। লাইফস্টাইল পরিবর্তন: নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, প্রচুর পানি পান এবং সুষম খাবার গ্রহণ মাইগ্রেন ও টেনশন হেডেক কমাতে সাহায্য করে। ম্যাসাজ: ঘাড় ও কাঁধের পেশি শিথিল করতে হালকা ম্যাসাজ বেশ ফলদায়ক হতে পারে। ওষুধ: সাধারণ ব্যথায় আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসিটামিনোফেন জাতীয় ওটিসি ঔষধ সেবন করা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে হওয়া ভালো। কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন? মাথাব্যথা যদি নিচের লক্ষণগুলোর সাথে দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে: যদি এটি আপনার জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা হয়। মাথাব্যথার সাথে যদি উচ্চ জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়। শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা দৃষ্টিশক্তি ঘোলা হয়ে গেলে। মাথায় আঘাত পাওয়ার পর ব্যথা শুরু হলে। মাথার পেছনের ব্যথা অবহেলা না করে এর কারণ বুঝে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সুস্থ থাকা সম্ভব। সচেতনতাই হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে একজনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।   শুক্রবার (১২ জুন) অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এ মৃত্যু হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ দিন হামে আক্রান্ত কারো মৃত্যু হয়নি। তবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জন। সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৭ জন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গরমে পানিশূন্যতা এড়াতে পানির সঙ্গে মেশাতে পারেন ৫ উপাদান

গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, দুর্বলতা এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু পানি পান করাই নয়, পানির সঙ্গে কিছু উপকারী উপাদান যোগ করলে শরীরকে আরও কার্যকরভাবে হাইড্রেটেড রাখা সম্ভব।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদান পানির স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।   লেবু: পানিতে লেবুর রস মেশালে তা আরও সুস্বাদু ও সতেজ হয়ে ওঠে। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে লেবুর স্বাদ বেশি পানি পান করতে উৎসাহিত করে।   পুদিনা পাতা: গরমের দিনে পুদিনা শরীরে শীতল অনুভূতি এনে দেয়। কয়েকটি তাজা পুদিনা পাতা পানিতে মিশিয়ে রাখলে পানির স্বাদ ও ঘ্রাণ বৃদ্ধি পায়, যা পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। চিয়া সিড ভেজানো চিয়া সিড পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে দীর্ঘ সময় শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। চিয়া সিড পানি শোষণ করে জেল জাতীয় আবরণ তৈরি করে, যা শরীরে ধীরে ধীরে তরল সরবরাহ করতে সাহায্য করে।   এক চিমটি লবণ: অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে সোডিয়াম বেরিয়ে যায়। অল্প পরিমাণ লবণ পানিতে মিশিয়ে পান করলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করা উচিত নয়।   শসা: শসার প্রায় ৯৫ শতাংশই পানি। পানিতে শসার পাতলা টুকরা মিশিয়ে রাখলে তা পানিকে আরও সতেজ ও সুস্বাদু করে তোলে। পাশাপাশি শসায় থাকা কিছু খনিজ উপাদান শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করতে পারে।   গরমের দিনে পর্যাপ্ত পানি পান, ফলমূল গ্রহণ এবং অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি এসব উপাদান ব্যবহার করলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এই সহজ উপায়গুলো বেশ কার্যকর হতে পারে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু দেশে

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতে মৃত্যু হয়েছে ৬ শিশুর। এ সময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯ জন।     আজ (বুধবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।      স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৬৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯২ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৪৭ জন।     একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৯ হাজার ৯২৭ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৮২ হাজার ২৯ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৮৫ জন ও আক্রান্ত ৪৫ হাজার ১১০ জন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১০, ২০২৬
পাকা চুল ও মুখে হাত বুলাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ছবি : সংগৃহীত
পাকা চুল ও ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণায় ধাক্কা

চুল পেকে যাওয়া মানেই বার্ধক্য কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপের লক্ষণ—এমন ধারণাই দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। তবে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, চুল পাকা আসলে শরীরের একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থার অংশ হতে পারে।   গবেষকদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে ক্যানসারে রূপ নেওয়া থেকে বিরত রাখার প্রক্রিয়ার ফল হিসেবেই অনেক ক্ষেত্রে চুলের রং হারিয়ে যেতে পারে।   আমাদের অনেকেরই ধারণা, চুল পেকে যাওয়া মানে বার্ধক্য বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের ছাপ। কিন্তু সম্প্রতি টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের করা এক গবেষণা এই প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।   গবেষকরা বলছেন, চুল পাকার বিষয়টি আসলে শরীরের এক প্রাকৃতিক সেলুলার ডিফেন্স মেকানিজম, যা অপ্রত্যাশিতভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।   টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের বিজ্ঞানীদের মতে, চুলের রং তৈরির জন্য দায়ী মেলানোসাইট স্টেম সেলগুলো বয়স, মানসিক চাপ বা ডিএনএর ক্ষতির কারণে ঝুঁকির মুখে পড়লে তারা বিভাজন বন্ধ করে দেয় এবং এক ধরনের ‘অবসর’ গ্রহণ করে।   গবেষকদের যুক্তি, এসব ক্ষতিগ্রস্ত কোষ যদি বিভাজন অব্যাহত রাখত, তাহলে সেগুলো থেকে ক্যানসার কোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেত। ফলে চুলের রং হারানোকে তারা শরীরের আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।   গবেষক ড. ইয়াসুয়াকি মোহরি এবং অধ্যাপক ইমি নিশিমুরার নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ডিএনএর ক্ষতির মুখে মেলানোসাইট স্টেম সেলগুলো ‘সেনেসেন্স-কাপলড ডিফারেনসিয়েশন’ নামে একটি প্রক্রিয়ায় নিজেদের বিভাজন থামিয়ে দেয়। এর ফলে চুল ধীরে ধীরে সাদা হয়ে যায়, তবে একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কোষের ক্যানসারে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিও কমে।   গবেষণাটি আরও বলছে, চুল পাকা এক অর্থে শরীরের ‘প্রতিরোধমূলক বার্তা’। কারণ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর নিশ্চিত করে যে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো আর নতুন কোষে পরিণত হতে পারবে না এবং ক্যানসারের আশঙ্কাও কমবে। তাই চুল সাদা হওয়াকে শুধু বয়সের চিহ্ন হিসেবে না দেখে, শরীরের একটি সচেতন প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।   গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম জীবনযাপন মেলানোসাইট কোষের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে অকালপক্ব চুলের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বজায় থাকতে পারে।   সূত্র: টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শূকরের দুই কিডনি ও আস্ত লিভার মানুষের শরীরে: একসঙ্গে এত অঙ্গ বসানো প্রথমবার

২০২২ সালে আমেরিকার মেরিল্যান্ডে প্রথম শূকরের হৃদ্‌পিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল মানুষের শরীরে। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে ষাটোর্ধ্ব রিচার্ড স্লেম্যানের শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল প্রথম বার। সেই কিডনি নিয়ে রিচার্ড বেঁচেও ছিলেন বেশ কিছু দিন। যদিও শেষ পর্যন্ত শূকরের কিডনি প্রাপকের মৃত্যু হয়েছিল অঙ্গ বিকল হয়ে। তবুও প্রচেষ্টা বন্ধ হয়নি। প্রাণীর শরীর থেকে নেওয়া অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের যে চেষ্টা চলছে গত কয়েক বছর ধরে, তাতে আশার আলো দেখিয়েছ সাম্প্রতি এক গবেষণা। চিনে এক ব্যক্তির শরীরে একই সঙ্গে শূকরের দু’টি কিডনি ও আস্ত লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সেই সব অঙ্গ টানা পাঁচ দিনের বেশি কাজও করেছে বলে দাবি। চিনের গুয়াংশি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জিনগত ভাবে পরিবর্তিত শূকরের দু’টি কিডনি ব্রেন ডেড হওয়া এক ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। সেই ব্যক্তি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে ভুগছিলেন, তাঁর দুই কিডনিও বিকল হয়ে গিয়েছিল। গবেষকেরা দাবি করেছেন, শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের পরে সেই ব্যক্তির শরীর সাড়াও দেয়। তার পরে শূকরের লিভারও প্রতিস্থাপন করা হয় তাঁর শরীরে। এই প্রথম বার শূকরের শরীর থেকে নেওয়া একাধিক অঙ্গ একসঙ্গে একই মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হল এবং তা টানা কয়েক দিন কাজও করেছে বলে দাবি। হার্ট, কিডনি বা লিভার প্রতিস্থাপন যথেষ্টই ঝুঁকিপূর্ণ। অস্ত্রোপচার ঠিকমতো না হলে তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান বা ‘হাইপারঅ্যাকিউট রিজ়েকশন’ হয়ে যায়। অথবা প্রতিস্থাপনের পরেই তরল জমা হতে শুরু শরীরের নানা অঙ্গে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার এক বারেই সফল হয়। এই গবেষণা আগামী দিনে জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে বলেই দাবি চিনা গবেষকদের। সেই সঙ্গে অঙ্গদানের প্রতিবন্ধকতাও ঘুচবে।   ‘জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন’ কী? কেন বেছে নেওয়া হচ্ছে শূকরকেই? মানুষের দেহে কোনও পশুর অঙ্গ বা কোষ প্রতিস্থাপন করার পদ্ধতিকে ‘জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্ট’ বলা হয়। সাধারণত মানুষের শরীর অন্য কোনও প্রাণীর অঙ্গ সহজে গ্রহণ করতে চায় না। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তা করতে দেয় না। সেই অঙ্গটিকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করে এবং নষ্টও করে দেয়। তাই পশুর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করতে হলে, তাতে জিনগত বদল ঘটানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অঙ্গ সঙ্কটের সমস্যা দূর করতে গবেষকেরা শূকরকেই দাতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কারণ, শূকরের কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকার ও জিনের সঙ্গে মানুষের জিনগত মিল রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বানর, শিম্পাঞ্জির মতো প্রাইমেটদের সঙ্গে মানুষের মিল বেশি হলেও তাদের অঙ্গ নেওয়া বা তাদের নিয়ে গবেষণা করায় অনেক আইনত জটিলতা রয়েছে। তা ছাড়া প্রাইমেটদের থেকে ভাইরাস সহজেই মানুষের শরীরে ঢুকে পড়তে পারে, যা শূকরের ক্ষেত্রে হয় না। তবে শূকরকে দাতা হিসেবে বেছেও সন্তুষ্ট থাকেননি গবেষকেরা। তাঁরা মানুষের শরীর থেকে কিছু জিন বাছাই করে তা শূকরের শরীরে ঢুকিয়েছেন। তার পর কঠোর পর্যবেক্ষণে রেখে সেই শূকরকে গবেষণাগারে বড় করেছেন। তার পর সেই শূকরের অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করে দেখেছেন তা মোটামুটি ভালই কাজ করছে। যদিও অঙ্গগুলির কার্যকারিতা দীর্ঘ সময়ে স্থায়ী হয়নি এখনও। তবে আগামী দিনে জিনে আরও কিছু বদল ঘটিয়ে তা সম্ভব হবে বলেও দাবি করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিটি নাগরিককে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। তাই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। ফলে বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের এলাকায় কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।   তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। এটি একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলায় নাগরিক সমাজ, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা পান।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। তাই সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতন অংশগ্রহণই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “নিজের ঘর, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।”

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আম খাওয়ার পর ভুলেও খাবেন না এই ৫ খাবার

গ্রীষ্মের এই তাপদাহে ফলের রাজা আমের কোনো তুলনা নেই। স্বাদে অনন্য এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি যেমন তৃষ্ণা মেটায়, তেমনি শরীরকে সতেজ রাখতেও সাহায্য করে। তবে আম খাওয়ার সময় আমাদের কিছুটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ কিছু খাবার আছে যা আম খাওয়ার পর পরই গ্রহণ করলে উপকারের বদলে শরীরের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। আম খাওয়ার পর যে ৫টি খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন, নিচে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো: ১. দই অনেকেই আমের সঙ্গে দই মিশিয়ে খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এই সংমিশ্রণটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আম এবং দই একসঙ্গে খেলে পেটের নানা রকম সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। ২. করলা গ্রীষ্মকালীন সবজি হিসেবে করলা বেশ জনপ্রিয়। তবে আম খাওয়ার পর করলা খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, আম খাওয়ার পর করলা খেলে বমি ভাব বা বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ৩. ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার অনেকেই দুপুরের খাবারের শেষ পাতে আম খেয়ে থাকেন। তবে আপনার মূল খাবারটি যদি খুব বেশি ঝাল বা মশলাযুক্ত হয়, তবে তার পর পরই আম খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এই দুটি খাবারের সংমিশ্রণ আপনার হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ৪. কোমল পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকস আম খাওয়ার পর পরই সোডা বা কোল্ড ড্রিংকস পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আম এবং কোল্ড ড্রিংকস—উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। ফলে এই দুটি জিনিস একসঙ্গে গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যেতে পারে। ৫. পানি ফল খাওয়ার পর পানি পান করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু আম খাওয়ার ঠিক পরপরই পানি খেলে তা হজম প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং এর ফলে ডায়রিয়া পর্যন্ত হতে পারে। তাই আম খাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা পর জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আমের পুষ্টিগুণ ও কিছু জরুরি পরামর্শ আম ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ফাইবার এবং পটাশিয়ামের একটি চমৎকার উৎস, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বক ও চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে আম খাওয়ার আগে তা কিছুক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখা ভালো। এতে আমের আঁশ নরম হয়, ফলে এটি সহজে হজম হয় এবং গলায় কোনো ধরনের অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া হওয়ার ভয় থাকে না। আপনার খাদ্যতালিকায় আম রাখার সময় এই ছোট ছোট সতর্কতাগুলো মেনে চললে আপনি যেমন ফলের স্বাদ পাবেন, তেমনি শরীরকেও রাখতে পারবেন সুস্থ ও নিরাপদ। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
গোসলের পানিতে এক চিমটি লবণ মেশালে মিলবে যেসব উপকারিতা

প্রতিদিনের ক্লান্তি দূর করতে গোসলের জুড়ি নেই। তবে শুধু ক্লান্তি নয়, শরীর ব্যথা কিংবা মানসিক চাপ দূর করতেও গোসল হতে পারে ভালো উপসম। এজন্য অবশ্য গোসলের পানিতে মেশাতে হবে এক চিমটি লবণ। এমনটাই জানানো হয়েছে ‘টিভি নাইনে’র এক প্রতিবেদনে।    ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদিন ল্যাপটপের সামনে বসে কাজ, কিংবা শহরের জীবনের দৈনন্দিন ধকল শেষে পেশিতে টান ধরা বা শরীর ম্যাজম্যাজ করা খুব পরিচিত একটা সমস্যা। বাড়িতে ফিরে হালকা গরম পানিতে যদি এক চিমটি লবণ বিশেষ করে যদি রক সল্ট বা এপসম সল্ট মিশিয়ে নিয়ে গোসল করা যায় তাহলে তা পেশির ক্লান্তি দূর করতে দারুণ কাজ করে। লবণে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও খনিজ উপাদান ত্বকের মাধ্যমে শরীরে শোষিত হয়ে পেশিকে নরম করে। এর ফলে মুহূর্তেই দূর হয় সব ক্লান্তি।   ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন ত্বকের ছিদ্রে ছিদ্রে জমে ওঠে ধুলোবালি আর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ। লবণ পানি প্রাকৃতিকভাবেই একটি চমৎকার ‘ডিটক্সিফায়ার’হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের রোমকূপগুলো খুলে দেয় এবং শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর টক্সিন বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীর ভেতর থেকে হালকা এবং সতেজ মনে হয়।   লবণ পানি খুব মৃদু এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। গোসলের সময় এই পানি ত্বকের উপরিভাগের মরা কোষ বা ডেড স্কিন সেলগুলোকে আলতো করে সরিয়ে দেয়। এর ফলে ত্বক হয়ে ওঠে নরম, মসৃণ এবং ভেতর থেকে উজ্জ্বল। যাদের পিঠে বা কাঁধে ব্রন বা র‍্যাশের সমস্যা রয়েছে, তারা গোসলে লবণ পানি ব্যবহারে ভালো উপকারিতা পাবেন। কারণ লবণে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ এই ধরনের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।    বিভিন্ন ঋতুতে অনেকের শরীরে নানা রকম অ্যালার্জি, চুলকানি বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সমস্যা দেখা দেয়। লবণে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক ত্বকের ছোটখাটো ইনফেকশন, র‍্যাশ বা চুলকানির অস্বস্তি কমাতে ভালো কাজ করে। ত্বককে রাখে সুরক্ষিত ও জীবাণুমুক্ত।   যাদের উদ্বেগ কিংবা মানসিক চাপের কারণে রাতে ঢ়ুমাতে সমস্যা হয় তারা গোসলের পানিতে লবণ মেশানো শুরু করুন। লবণ পানি শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয় এবং স্নায়ু শান্ত করতে সাহায্য করে। এই পানি দিয়ে গোসল করলে আপনার শরীরে এক ধরণের আরামদায়ক অনুভূতি এনে দেবে, যা মনকে শান্ত করবে এবং আপনার ঘুম ভালো হবে। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৬, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

শেয়ারবাজারে ৬২ কোম্পানিতে ‘রেড এলার্ট’

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬