আমরা যখন “টেস্টোস্টেরন” শব্দটি শুনি, তখন অধিকাংশ মানুষের মনেই ভেসে ওঠে পুরুষত্ব, শক্তি কিংবা দেহের পেশীবহুল গঠন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, টেস্টোস্টেরন কেবল একটি “পুরুষ হরমোন” নয়; এটি মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক বার্তাবাহক, যা নীরবে আমাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শরীর ও মনের সুস্থতা রক্ষা করে চলে। কল্পনা করুন, আপনার শরীরটি একটি বিশাল ও ব্যস্ত নগরী। এই নগরীর প্রতিটি রাস্তা, কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে প্রয়োজন দক্ষ প্রশাসনের। টেস্টোস্টেরন ঠিক সেই দক্ষ প্রশাসকের মতো, যে দৃশ্যের আড়ালে থেকে শরীরের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সমন্বয় করে। শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যৌবন, আর যৌবন থেকে বার্ধক্য—জীবনের প্রতিটি ধাপে এর প্রভাব সুস্পষ্ট। বয়ঃসন্ধিকালে একজন কিশোরের জীবনে যে নাটকীয় পরিবর্তনগুলো দেখা যায়, তার পেছনের অন্যতম প্রধান শক্তি হলো টেস্টোস্টেরন। কণ্ঠস্বর গভীর হওয়া, মুখে ও শরীরে লোম গজানো, পেশী বৃদ্ধি, হাড়ের দৃঢ়তা অর্জন এবং প্রজনন অঙ্গের পরিপূর্ণ বিকাশ—সবকিছুর সঙ্গেই এই হরমোনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এটি যেন প্রকৃতির এক নিখুঁত নির্মাতা, যা একজন কিশোরকে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তবয়স্কে রূপান্তরিত করে। তবে টেস্টোস্টেরনের গুরুত্ব শুধুমাত্র কৈশোরেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে এটি আমাদের শক্তি, কর্মক্ষমতা এবং জীবনমানের অন্যতম ভিত্তি। যৌন আকাঙ্ক্ষা, উত্থান ক্ষমতা ও শুক্রাণু উৎপাদনের মাধ্যমে এটি প্রজনন স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে এটি পেশীর শক্তি ও গঠন বজায় রাখে, ফলে মানুষ দৈনন্দিন কাজ, খেলাধুলা কিংবা কর্মজীবনে সক্রিয় থাকতে পারে। হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা করে এটি অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমায়। আবার লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন বাড়িয়ে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, যা আমাদের শক্তি ও সহনশীলতার অন্যতম উৎস। টেস্টোস্টেরনের আরেকটি বিস্ময়কর দিক হলো এর মানসিক প্রভাব। অনেকেই জানেন না যে, এই হরমোন আমাদের আত্মবিশ্বাস, উদ্যম, প্রেরণা এবং মানসিক কর্মক্ষমতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। পর্যাপ্ত টেস্টোস্টেরন একজন মানুষকে প্রাণবন্ত, কর্মঠ ও ইতিবাচক অনুভব করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে এর ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, মনমরা ভাব, অনুপ্রেরণার অভাব, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা টেস্টোস্টেরন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও বিস্তৃত করেছে। এক সময় একে কেবল যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট হরমোন হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ Metabolic Hormone হিসেবেও বিবেচনা করেন। শরীরের চর্বি নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিনের কার্যকারিতা, গ্লুকোজ বিপাক এবং সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শুধু যৌন স্বাস্থ্য নয়, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে আজ টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি নির্ণয় ও চিকিৎসা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য হয়েছে। আধুনিক ল্যাবরেটরি প্রযুক্তির মাধ্যমে হরমোনের মাত্রা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি—ইনজেকশন, জেল, ওরাল এবং ন্যাসাল ফর্মুলেশন—রোগীদের জন্য আরও কার্যকর ও সুবিধাজনক সমাধান নিয়ে এসেছে। যথাযথ রোগী নির্বাচন ও নিয়মিত চিকিৎসক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই চিকিৎসা জীবনযাত্রার মান, শারীরিক সক্ষমতা, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং বিপাকীয় কার্যক্রম উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আজকের দ্রুতগতির জীবনে আমরা প্রায়ই ক্লান্তি, কর্মক্ষমতা হ্রাস, ওজন বৃদ্ধি, মানসিক অবসাদ বা যৌন স্বাস্থ্যের পরিবর্তনকে স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ বলে মনে করি। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই এসব লক্ষণের পেছনে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই সচেতনতা, সময়মতো মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই একটি মানসম্পন্ন ও আধুনিক ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (Health Check-up) অংশ হিসেবে টেস্টোস্টেরন মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাই ব্যক্তির হরমোনগত অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে এবং চিকিৎসককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা জীবনধারাগত পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে। টেস্টোস্টেরন তাই শুধু একটি হরমোন নয়; এটি আমাদের শক্তি, আত্মবিশ্বাস, সুস্থতা ও কর্মক্ষমতার নীরব রক্ষক। মানবদেহের এই অদৃশ্য শক্তিকে বোঝা এবং প্রয়োজনে মূল্যায়ন করা আধুনিক প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। কারণ সুস্থ জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে তখনই, যখন আমরা শরীরের নীরব সংকেতগুলোকেও গুরুত্ব দিতে শিখি।
বাংলাদেশের মাছের ঝোল, ভারতীয় চিকেন কারি, সুদানের উটের বিরিয়ানি, কিংবা মালয়েশিয়ার লাকসা - এই রান্নাগুলোয় একটা উপাদান থাকেই, আর সেটা হলো হলুদ। খাবারকে সুস্বাদু করার পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই মসলা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও কি অলৌকিক কিছু করতে পারে? "আমার পরিবারের শিকড় পাঞ্জাবে, আর হলুদ ছাড়া কোনো খাবারের কথা আমি ভাবতেই পারি না," বিবিসির ফুড চেইন অনুষ্ঠানে বলছিলেন দক্ষিণ এশীয় প্রবাসী জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করা খাদ্যবিষয়ক গবেষক ও পডকাস্টার রাগিনি কাশ্যপ। হলুদের প্রায় ৩০টি জাত রয়েছে, যা এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের সঙ্গে করে এর ব্যবহার পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরের বালি ও ফিজি দ্বীপপুঞ্জ থেকে পশ্চিমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। 'জোরালো বার্তা' কাশ্যপ জানান, আড়াই হাজার বছর আগের বিভিন্ন লেখাতেও হলুদের উল্লেখ পাওয়া গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এই মসলার জীবাণুনাশক ও প্রদাহনাশক গুণ রয়েছে বলে বদ্ধমূল বিশ্বাস অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের। "আমি অসুস্থ হলে প্রথমেই মনে হওয়া জিনিসগুলোর একটি এই হলুদ। এটা আমাকে খুব স্বস্তি দেয়। এর সাথে মিশে আছে কিছুটা আরাম, কিছুটা ওষুধ, আর কিছুটা নস্টালজিয়া," বলছিলেন বর্তমানে দুবাইয়ে বসবাস করা কাশ্যপ। ভারতে এটি বিয়ের একটি অনুষ্ঠানেরও অংশ, যেখানে বিয়ের আগে সৌন্দর্য বাড়ানো জন্য বর ও কনের মুখে হলুদের প্রলেপ লাগানোর রীতি রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের ভোক্তারা হলুদের নানা উপকারিতার বিষয়ে শোনার পর থেকে বিক্রি রকেটের গতিতে বাড়ছে। হলুদের সাপ্লিমেন্টও বাজারজাত করা হচ্ছে। সাধারণত হলুদে কারকিউমিন নামের একটি যৌগ থাকে এবং স্বাস্থ্যের জন্য এটি উপকারী বলেই মনে করা হয়। হাড় ও জয়েন্ট ভালো রাখা থেকে শুরু করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো পর্যন্ত নানা উপকারের কথা বলে হলুদের সাপ্লিমেন্ট বিক্রির চেষ্টা করা হয়। মানুষের হলুদ সেবনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়ার কারণেও আংশিকভাবে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে মনে করেন কাশ্যপ। "এক বিলিয়ন মানুষের বড় একটি অংশই যদি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে হলুদ অনেক ধরনের সমস্যা ঠিক করতে পারে, তাহলে সারা বিশ্বেই তা এক জোরালো বার্তা," বলেন তিনি। "এর সঙ্গে যদি লবিং, সাপ্লিমেন্ট কোম্পানির মতো বিষয়গুলো যুক্ত করেন, তাহলে সেই বার্তা খুবই শক্তিশালী হয়ে ওঠে।" 'সবচেয়ে খারাপ রাসায়নিক গঠন' তবে এর উপকারিতা নিয়ে সন্দেহও জানিয়েছেন কেউ কেউ। কারকিউমিন নিয়ে ১০০টিরও বেশি গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় কর্মরত রসায়নবিদ ড. ক্যাথরিন নেলসন। "আমরা দেখেছি, দাবিগুলো এমন যে, এটি সবকিছুই করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে, সম্ভবত তেমন কিছুই করে না," বলেন তিনি। ড. নেলসন ব্যাখ্যা করেন, হলুদের সমস্যা এর রাসায়নিক গঠনের মধ্যেই থাকতে পারে, যার কারণে এটি নিয়ে গবেষণা করা সহজ নয়। এটি অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল এবং পরীক্ষায় হস্তক্ষেপকারী যৌগ হিসেবেও কাজ করতে পারে; যার অর্থ হলো, আদতে কাজ না করলেও পরীক্ষার ফলাফলে এমন মনে হতে পারে যে এটি কাজ করছে। তিনি জানান, এটি শরীরে খুব ভালোভাবে শোষিত হয় না, আর মুখে খাওয়ার পরও এর খুব সামান্য অংশই রক্তসঞ্চালনে প্রবেশ করে। একে আরও ভালো করার চেষ্টায় অনেকেই কালো মরিচের সঙ্গে হলুদ খান। "কোনো কিছুকে কার্যকর ওষুধে পরিণত করার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের জন্য এটি সত্যিই অন্যতম বাজে রাসায়নিক কাঠামোগুলোর একটি", বলেন ড. নেলসন। 'আমরা হতাশ হয়েছিলাম' কয়েক দশক ধরে হলুদ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর ফলাফল প্রায়ই পরস্পরবিরোধী এবং গবেষণাগুলোর মানও একরকম নয়। যেসব গবেষণায় হলুদের উপকারিতার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে তার অনেকগুলোই মানুষের ওপর পরিচালিত হয়নি বলে জানান অধ্যাপক অমিত গার্গ, তিনি কানাডার অন্টারিওতে অবস্থিত লন্ডন হেলথ সায়েন্সেস সেন্টারের কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ। এই চিকিৎসক ও তার সহকর্মীরা হলুদ নিয়ে এখন পর্যন্ত করা সবচেয়ে বড় দুটি গবেষণা পরিচালনা করেছেন। প্রথম গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল, অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজমের অস্ত্রোপচার করা রোগীদের ক্ষেত্রে কারকিউমিন কিডনির ক্ষতি ও প্রদাহ প্রতিরোধ করতে পারে কি না, তা নির্ধারণ করা। অ্যাওর্টা হলো শরীরের বৃহত্তম রক্তনালী, যা হৃৎপিণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে রক্ত বহন করে। অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম হলো অ্যাওর্টার প্রাচীরে একটি অস্বাভাবিক স্ফীতি বা বেলুনের মতো ফুলে ওঠা। কিন্তু ৬০০ রোগীকে নিয়ে করা ওই পরীক্ষায় তারা উপকারী প্রভাবের কোনো প্রমাণ পাননি। এরপর তারা আরেকটি পরীক্ষা করেন। এটি কিডনির স্বাস্থ্যের উন্নতি করে কি না বা কিডনি রোগের অগ্রগতি ঠেকাতে পারে কি না তা দেখার জন্য কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কারকিউমিনের আরও ছোট একটি মাইক্রোপার্টিকল দিয়ে পরীক্ষা করেন। কিন্তু সেটারও কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেননি। "আমরা হতাশ হয়েছিলাম," বলছিলেন অধ্যাপক অমিত গার্গ। "কারণ খোলা মন নিয়েই আমরা এই গবেষণা শুরু করেছিলাম; এটা যে কাজ করে না তা প্রমাণ করা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না।" কিন্তু হাজার হাজার বছর ধরে, বিশেষ করে ভারতে, ঔষধি উপাদান হিসেবে এটিকে ব্যবহারের ইতিহাসকে তাহলে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? ড. গার্গ বলেন, কোনো জৈব উপাদান থেকে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি যৌগ আলাদা করে সেটিকে ওষুধে পরিণত করার চেষ্টা এবং পুরো জৈব উপাদানটি দিয়ে রান্না করা কিংবা তা ত্বকে ব্যবহার করার মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য রয়েছে। তাহলে কি বিশেষজ্ঞরা দামি সাপ্লিমেন্টগুলো কেনা সার্থক মনে করেন? খরচের বিষয়টি ছাড়াও এগুলো কার্যকারিতার যথেষ্ট প্রমাণ নেই, বলেন অধ্যাপক গার্গ। তার ব্যাখ্যায়, অন্যান্য ওষুধজাত পণ্যের মতো প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যপণ্য একই ধরনের নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়ে না। "আমি মনে করি, আমরা অবশ্যই খোলা মন রাখতে পারি। কিন্তু কোনো কিছুর নির্দিষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করলে সেটি উচ্চমানের প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত - এটুকু মানদণ্ড আমাদের থাকা উচিত," বলেন তিনি। তবে খাবারের অংশ হিসেবে মানুষ হলুদ খেলে তিনি কোনো সমস্যা দেখেন না। "মানুষ যদি হলুদ দিয়ে তৈরি খাবার উপভোগ করেন, তাহলে আমি তা চালিয়ে যেতেই উৎসাহিত করব।"
দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি আহত চিকিৎসকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার চিকিৎসায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও তাদের ওপর হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের বড় অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রতিটি উপজেলায় ১০ জন করে অস্ত্রধারী আনসার ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে পুলিশের টহল ও নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওই চিকিৎসকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার পরও মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া এবং খুদে বার্তার মাধ্যমে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট আইন বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার পেছনে চাঁদাবাজির বাইরে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে চেম্বার শেষে রিকশায় ওঠার সময় অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলায় তার মাথা, চোখ ও নাকে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
শিশুর কান দিয়ে বারবার পানি, পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হওয়াকে আমরা সাধারণভাবে ‘কান পাকা’ বলে থাকি। এটি শিশুদের একটি পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। এর পেছনে থাকতে পারে মধ্যকর্ণের সংক্রমণ, কানের পর্দায় ছিদ্র, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কিংবা নাক ও গলার কোনো সমস্যার প্রভাব। যেকোনো বয়সেই কানের সংক্রমণ হতে পারে। তবে শিশুদের মধ্যে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে বারবার সর্দি-কাশি হওয়া, নাকের সমস্যা এবং এডেনয়েড বড় হয়ে যাওয়ার সঙ্গে শিশুর মধ্যকর্ণের সমস্যার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কেন শিশুদের কান পাকে? শিশুদের কানের সমস্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ইউস্টেশিয়ান টিউব (Eustachian tube)। এটি মধ্যকর্ণকে নাকের পেছনের অংশের সঙ্গে যুক্ত করে। এর প্রধান কাজ হলো মধ্যকর্ণে বাতাসের চাপের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মধ্যকর্ণে জমে থাকা তরল নিষ্কাশনে সহায়তা করা। শিশুদের ইউস্টেশিয়ান টিউব প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট, সরল ও অনুভূমিক অবস্থানে থাকে। ফলে নাক ও গলার সংক্রমণ বা ফোলাভাবের কারণে এর স্বাভাবিক কার্যক্রম সহজেই ব্যাহত হতে পারে। ঘন ঘন সর্দি-কাশি কেন কানের সমস্যা বাড়ায়? শিশুদের ঘন ঘন সর্দি-কাশি হলে শুধু নাক ও গলাতেই সমস্যা হয় না, এর প্রভাব মধ্যকর্ণেও পড়তে পারে। সর্দি-কাশির সময় নাক ও নাকের পেছনের অংশের শ্লেষ্মা ঝিল্লি ফুলে যায়। এতে ইউস্টেশিয়ান টিউবের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। ইউস্টেশিয়ান টিউব মধ্যকর্ণে বাতাস চলাচল ও চাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং মধ্যকর্ণে জমে থাকা তরল নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই নালির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে মধ্যকর্ণে তরল জমে যেতে পারে। পরবর্তীতে সেই তরলে জীবাণুর সংক্রমণ হলে মধ্যকর্ণের প্রদাহ বা ‘Otitis Media’ হতে পারে। এ কারণেই অনেক শিশুর সর্দি-কাশির কয়েক দিন পর কান ব্যথা, জ্বর, কান বন্ধ লাগা বা শুনতে কম পাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কানের পর্দায় ছিদ্র তৈরি হলে কান দিয়ে পানি বা পুঁজও বের হতে পারে। তাই শিশুর ঘন ঘন সর্দি-কাশির সঙ্গে যদি বারবার কানের সমস্যা দেখা দেয়, বিষয়টি শুধু সাময়িক সর্দি-কাশি হিসেবে না দেখে নাক, কান ও গলার সামগ্রিক সমস্যা হিসেবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। শিশুদের কান পাকা প্রতিরোধে বুকের দুধ খাওয়ানোর ভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি—বুকের দুধ শিশুর কানের সংক্রমণের কারণ নয়; বরং বুকের দুধ শিশুর বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। তবে শিশুকে সম্পূর্ণ চিৎ করে বা সমতল অবস্থায় শুইয়ে দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। খাওয়ানোর সময় দুধ বা তরল নাক-গলার পেছনের দিকে উঠে গেলে ইউস্টেশিয়ান টিউবের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তাই শিশুকে কোলে নিয়ে মাথা ও শরীর কিছুটা উঁচু রেখে সঠিক ভঙ্গিতে বুকের দুধ খাওয়ানো ভালো অভ্যাস। কান পাকা সমস্যার পেছনে এডেনয়েড বড় হয়ে যাওয়ার ভূমিকা শিশুর নাকের পেছনে থাকা এডেনয়েড (Adenoid) হলো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক লিম্ফয়েড টিস্যু। তবে কোনো কোনো শিশুর এডেনয়েড অতিরিক্ত বড় হয়ে গেলে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে সমস্যা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, নাক ডাকা এবং ঘন ঘন নাক বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ইউস্টেশিয়ান টিউবের মুখের আশপাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে মধ্যকর্ণে চাপের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সেখানে তরল জমতে পারে এবং ‘Otitis Media with Effusion (OME)’ বা মধ্যকর্ণে পানি জমার সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন মধ্যকর্ণে পানি জমে থাকলে শিশুর শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে। এর প্রভাব শিশুর কথা বলা ও ভাষা শেখার ওপরও পড়তে পারে। শিশুদের কান পাকা: প্রতিকার ও করণীয় শিশুর কান দিয়ে পানি বা পুঁজ পড়লে নিজের ইচ্ছায় কানে ড্রপ বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে কানের পর্দায় ছিদ্র আছে কি না, মধ্যকর্ণে পানি বা পুঁজ জমেছে কি না এবং শিশুর শ্রবণশক্তিতে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না—এসব পরীক্ষা করা হতে পারে। শুধু বারবার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সংক্রমণ সাময়িকভাবে কমিয়ে দিলেই সব সময় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। শিশুর ঘন ঘন সর্দি-কাশির কারণ, নাকের অ্যালার্জি, এডেনয়েড বড় হয়ে যাওয়া কিংবা ইউস্টেশিয়ান টিউবের কার্যকারিতার সমস্যাও খুঁজে দেখা প্রয়োজন। কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? শিশুর— বারবার কান পাকা বা কান দিয়ে পানি/পুঁজ পড়া; কান বন্ধ লাগা; শুনতে কম পাওয়া; টিভির শব্দ অস্বাভাবিক বেশি করে শোনা; ডাকলে সাড়া দিতে দেরি করা; কথা বলা বা ভাষা শেখায় বিলম্ব দেখা দেওয়া এসবের কোনোটি থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন শিশুর কান, নাক ও গলা আলাদা অঙ্গ হলেও তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ শারীরবৃত্তীয় সম্পর্ক রয়েছে। তাই শিশুর বারবার কান পাকার ক্ষেত্রে শুধু কান নয়—নাক, ইউস্টেশিয়ান টিউব ও এডেনয়েডের সমস্যাও গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা জরুরি।
নারীর সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ চুল। সেই চুলকে ঘন ও কালো দেখাতে প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা। আর চুলের পরিচর্যা বাঙালি নারীর জীবনচর্চার এক অনুষঙ্গ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্য, জড়িয়ে আছে রুচি আর আভিজাত্য। আর চুলের পরিচর্যা নিয়ে নারীদের মনে রয়েছে একটি নিজস্ব জগৎ, যা বাইরের দুনিয়া থেকে আলাদা। চুলের পরিচর্যায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ঘরোয়া টোটকা। এসব টোটকায় রয়েছে মেহেদিপাতা, ডিম, অ্যালোভেরা, নিমপাতা, লেবুর রস, মধু, অলিভ অয়েল, কলা, ক্যাস্টার অয়েল, টক দই, আমলকী, জবা ফুল, বিভিন্ন মসলা, ফল, সবজি, রসুন-পিঁয়াজ ইত্যাদি। এগুলোর আবার একেকটির একেক রকম কাজ। কোনোটি চুল কালো ও উজ্জ্বল করে, কোনোটি চুল করে মসৃণ, কোনোটি আবার চুল গজায় তো কোনোটি চুল পড়া রোধ করে। একবিংশ শতকে চুলের যত্নে ভেষজ দ্রব্যের ব্যবহার যেমন হয়ে থাকে, তেমনি হয়ে থাকে রাসায়নিক দ্রব্যে তৈরি পণ্যেরও। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, হেয়ার কালার, হেয়ার কাট। তবে চুলের যত্নে রাসায়নিক দ্রব্যের চেয়ে মানুষ সম্ভবত ভেষজ দ্রব্যের প্রতিই বেশি আস্থাশীল। যা-ই ব্যবহার করা হোক- ঘন কালো চুলের আকাঙ্ক্ষা সব নারীরই আছে। নিয়ম মেনে চললে মিলবে কাঙ্ক্ষিত ফল। স্যাঁতসেঁতে আর্দ্র আবহাওয়ায় একদিন অন্তর তেল দেওয়া ঠিক নয়। চুল যদি শুষ্ক প্রকৃতির হয় তাহলে সপ্তাহে একবার তেল ম্যাসাজ করাই যথেষ্ট। স্বাভাবিক কিংবা তৈলাক্ত চুলের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহে একবার চুলে তেল দিন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার চুল ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু করলে খুব অল্প পরিমাণে শ্যাম্পু নিয়ে চুল এবং স্ক্যাল্প পরিষ্কার করুন। শেষবার চুল ধোয়ার সময় অ্যাপল সাইডার ভিনিগার ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুলে জেল্লা আসবে। দুই থেকে তিন মাস অন্তর একবার চুল ট্রিম করাতে পারেন। শুধু চুলের আগার খানিকটা অংশ কাটুন। এতে দৈর্ঘ্য বিশেষ কমবে না, আগা ফাটা সমস্যা থাকলে কমে যাবে। এ ছাড়া প্রতিদিন রাতে নন-অয়েলি হারবাল হেয়ার টনিক লাগাতে পারেন স্ক্যাল্পে। সারা রাত রেখে দিন। নিয়ম করে খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ঘুমও খুব জরুরি। মনে রাখবেন, শরীর সুস্থ থাকলে তবেই ত্বক এবং চুল ভালো থাকবে। অন্যদিকে, চুল লালচে বা বাদামি হওয়ার কারণ অনেকের ডায়েটে প্রোটিনের পর্যাপ্ত অভাব। অতিরিক্ত রোদ থেকেও অনেকের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হতে পারে। সব সময় চেষ্টা করুন পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন খেতে। নিয়মিত শাকসবজি, ডিম, মাছ, চিকেন, ডাল, টক দই, পনির ইত্যাদি খেতে পারেন। আর রোদে বের হলে চুলে স্কার্ফ বা টুপি দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন, যাতে সরাসরি রোদ না লাগে। এক চা চামচ ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে এক টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে গরম পানির ওপর পাত্রটি রেখে হালকা গরম করে নিন। সপ্তাহে অন্তত একবার এই তেলের মিশ্রণ চুলে লাগান। পরদিন সকালে ভালো করে ধুয়ে নিন। ঘরোয়া টোটকা চুলের গোড়া শক্ত করে ক্যাস্টর অয়েল। ফলে চুল হয় ঘন। ১ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল নিয়ে চুলের গোড়া এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে নিন। ঘণ্টাখানেক রেখে ধুয়ে ফেলুন। মেথি চুল ঘন ও কালো করে। সে জন্য আগের রাতে পরিষ্কার পানিতে মেথি ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে মেথির দানা পিষে নিন। মেথির পেস্টটি চুলে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন আধা ঘণ্টার মতো। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। মেথি এবং রসুন। এই দুটি জিনিস ব্যবহার করতে হবে সরষের তেলের সঙ্গে। রাতে কয়েকটি মেথির বীজ ভিজিয়ে রাখুন। সকালে তার সঙ্গে রসুনের একটি বা দুটি কোয়া মিশিয়ে নিয়ে থেঁতো করে নিন। তার পরে এতে হালকা গরম সরষের তেল মেশান। এই পেস্ট মাথায় লাগান। আধ ঘণ্টা রেখে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ড্রাগন ফলকে অনেকেই বলেন ‘সুপার ফ্রুট’। আকর্ষণীয় রং, মিষ্টি স্বাদ আর ভরপুর পুষ্টিগুণের কারণে এ ফলটি এখন বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছে ফলটি কিছুটা ভিন্ন মর্যাদা পেয়েছে। বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি হলেও শরীরের জন্য উপকারী জেনে অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এটি রাখছেন। কিন্তু যে কোনো খাবারের মতো ড্রাগন ফলেরও যেমন উপকারিতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। কেউ কেউ বেশি খেয়ে ফেলেন, আবার কেউ খাওয়ার পরই হজমজনিত সমস্যায় ভোগেন। তাই কারা খাবেন, কারা খাবেন না এবং কতটুকু পরিমাণে খাওয়া উচিত- এসব জানা জরুরি। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি দেশের একটি প্রভাবশালী টিভি চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড বিডিএন পল্লবী ডায়াবেটিস সেন্টারের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান। তিনি ড্রাগন ফল নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন। কারা খাবেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহানের ভাষায়, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার ও আয়রনসমৃদ্ধ এই ড্রাগন ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যাদের রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যা আছে, তাদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী এ ফল। এতে থাকা আয়রন দ্রুত কাজ করে। হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষও ড্রাগন খেতে পারেন। কারণ এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া সহজ করে। পাশাপাশি ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ফলটি সহায়ক। এ ছাড়া শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতেও ড্রাগন কার্যকর ভূমিকা রাখে। কারা খাবেন না যাদের হজমে সমস্যা আছে, তাদের জন্য খালি পেটে ড্রাগন ফল খাওয়া ঠিক নয়। এতে পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা অস্বস্তি হতে পারে। এ ছাড়া যাদের কিডনিতে পাথরের প্রবণতা রয়েছে, তাদেরও সাবধানে খেতে হবে। কারণ ড্রাগনে অল্প পরিমাণ অক্সালেট থাকে, যা কখনো কখনো কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। পুষ্টিবিদ আরও জানান, অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারীদের নিয়মিত ড্রাগন খাওয়া ঠিক নয়। তাদের অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। তা না হলে পেটব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা অ্যালার্জির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কতটা খাবেন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত ড্রাগন ফল যথেষ্ট। শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ অর্ধেক করা উচিত (৫০ থেকে ৭৫ গ্রাম)। যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা ড্রাগন ফল দই বা অন্যান্য ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।
রান্নাঘরের দৈনন্দিন কাজে আমরা সাধারণত ট্যাপের পানিই বেশি ব্যবহার করে থাকি। ডাল সেদ্ধ করা হোক কিংবা ভাতের চাল ধোয়া; ট্যাপের পানি ব্যবহার করাই যেন আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই আপাতদৃষ্টিতে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানি কি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সত্যিই নিরাপদ? এনডিটিভি ফুড-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে সম্প্রতি উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন পানি ফুটিয়ে নিলেই তা সব ধরণের জীবাণু ও ক্ষতিকারক উপাদান থেকে মুক্ত হয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। পানীয় জলের ক্ষেত্রে আমরা যতটা সচেতন হয়ে ওয়াটার ফিল্টার ব্যবহার করি, রান্নার পানির ক্ষেত্রে সেই একই সচেতনতা কেন নেই—এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ফুটানো কি সব দূষণ দূর করে? একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, পানি ফুটিয়ে নিলেই তা শতভাগ নিরাপদ। এটি ঠিক যে উচ্চ তাপমাত্রায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবী ধ্বংস হয়। তবে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অনুসারে, পানি ফুটালে কেবল জীবাণু মরে কিন্তু ভারী ধাতু (যেমন: সীসা, আর্সেনিক), ফ্লোরাইড, নাইট্রেট এবং শিল্প কারখানার রাসায়নিক পদার্থের মতো দ্রবীভূত উপাদানগুলো পানির মধ্যেই থেকে যায়। ইউরেকা ফোর্বসের প্রধান পানি বিজ্ঞানী ড. অনিল কুমার বলেন, ‘এটি একটি সাধারণ ভুল ধারণা যে কেবল পানি ফুটালে তা নিরাপদ হয়ে যায়। তাপ জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর হলেও রাসায়নিক দূষক দূর করতে পারে না।’ ফুটানোর ফলে কি বিপদ বাড়ে? আরেকটি আশ্চর্যজনক তথ্য হলো, পানি বেশিক্ষণ ফুটালে উল্টো কিছু ক্ষতিকর উপাদানের ঘনত্ব বেড়ে যেতে পারে। ড. কুমারের মতে, পানি যখন ফুটতে থাকে তখন জলীয় বাষ্প হয়ে কিছু পানি উড়ে যায়, কিন্তু দ্রবীভূত রাসায়নিকগুলো হাড়িতেই থেকে যায়। ফলে অবশিষ্ট পানিতে এই ক্ষতিকর উপাদানের ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়। এছাড়া মার্কিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইপিএ)-এর মতে, গরম পানি ঠান্ডা পানির তুলনায় দ্রুত সীসা দ্রবীভূত করতে পারে, যা ট্যাপের পানিতে সীসার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। অদৃশ্য শত্রু: মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে পানীয় জলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কণাগুলো এতই ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না এবং এর কোনো স্বাদ বা গন্ধও নেই। ড. কুমার সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ রান্নায় ট্যাপের পানির ব্যবহার কি সাথে সাথেই আমাদের অসুস্থ করে ফেলে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি তেমন নয়। এর আসল ঝুঁকি লুকিয়ে আছে দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসে। দিনের পর দিন খাবারের মাধ্যমে শরীরে এই ক্ষুদ্র পরিমাণের দূষক উপাদানগুলো জমা হতে থাকে যা এক সময় বড় রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ড. কুমারের ভাষায়, ‘রান্নার পানিকে কেবল একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবে না দেখে একে পুষ্টির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ এটি শরীরের ভেতরে যাওয়ার পর আমাদের শরীরেরই অংশ হয়ে যায়।’ তাই সময় এসেছে আমাদের রান্নাঘরের এই পুরনো অভ্যাসটি পরিবর্তনের। পান করার পানির মতো রান্নার পানিও ফিল্টার করা বা পরিশোধিত হওয়া জরুরি, যাতে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড
নদ-নদীর মাছ কিংবা টুথপেস্ট নানা মাধ্যমে খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের জন্য কতটা বিপজ্জনক, সেই জিজ্ঞাসা ক্রমে জোরালো হচ্ছে। প্লাস্টিকের এ ক্ষুদ্র কণা শরীরে ঢুকলেই কি বিপদ ডেকে আনতে পারে; কিংবা কতটুকু প্রবেশ করলে ক্ষতি হয়, আর কতটুকুতে ক্ষতি হয় না— এমন নানা প্রশ্ন আছে মানুষের। গবেষকরা বলছেন, খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকে পড়লেই যে তা বিপদ ঘটাবে, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে শরীরে এর পরিমাণ বেড়ে গেলে যে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, সেটা অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) দাবি করেছে, দেশে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে তারা ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছে। তিন বছরের গবেষণা শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একদল গবেষক বলেছে, সাগর ও নদ-নদী মিলিয়ে তারা ১৩ ধরনের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছে। এসব গবেষণার মানে দাঁড়াচ্ছে, প্লাস্টিকের এসব ক্ষুদ্র কণা মানবদেহে প্রবেশ করছে। মানবদেহে এসব প্লাস্টিক কণা কী কী বিপদ ঘটাচ্ছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তর গবেষণা হয়নি। তবে বাংলাদেশের একদল গবেষকের দাবি, মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাব বুঝতে তারা ইঁদুরের ওপর দুই বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। তাতে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সাত ধরনের ঝুঁকি তৈরির প্রমাণ পেয়েছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, হয় প্লাস্টিকের ব্যবহার থেকে ক্রমে সরে আসতে হবে, নয়ত বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। ইঁদুরের ক্ষেত্রে কী প্রভাব মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো, ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না। এই প্লাস্টিক কণার প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের তৈরি গবেষণা প্রতিবেদনটি সপ্তাহ দুয়েক আগে ছাপা হয় আন্তর্জাতিক ‘ইমার্জিং কনটামিনেন্টস’ সাময়িকীতে। চারজন মিলে এ গবেষণা করেছেন, যাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামানও আছেন। তিনি বলেন, “মানবশরীরে কী প্রভাব পড়তে পারে, সেটা পরীক্ষা করার জন্য আমরা নমুনা প্রাণী হিসেবে স্তন্যপায়ী ইঁদুরকে নিয়েছি। এর মানে হলো, ইঁদুরের যেভাবে ক্ষতি হচ্ছে, মানবদেহেরও একই রকম ক্ষতি হবে।” মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ফলে স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে নানা প্রভাব পড়ার তথ্য তুলে ধরেন এ গবেষক। ফিরোজ জামান বলেন, “অনেক রকমের ক্ষতি আছে। আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়; কিডনির ক্ষতি করে, লিভারে ক্ষতি করে, কোষ ড্যামেজ করে। ছয় থেকে সাতটা প্রভাব আছে।” তিনি বলেন, “আমরা দুই বছর কাজ করেছি। মাইক্রোপ্লাস্টিকের ফিড তৈরি করে ওদেরকে খাইয়েছি। তারপরে প্রভাব দেখেছি— কোষে কী প্রভাব পড়ে, কিডনিতে কী প্রভাব পড়ে, ব্লাড সেল ডেভলপমেন্টে কীভাবে প্রভাব পড়ে।” এ গবেষণায় ইঁদুরের খাবারে বিভিন্ন মাত্রায় পিভিসি মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশিয়ে এর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। প্রায় ১২৫ মাইক্রোমিটার আকারের এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারের সঙ্গে ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ হারে মিশিয়ে ১৩ সপ্তাহ ধরে ইঁদুরকে খাওয়ানো হয়। গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাত্রার, অর্থাৎ ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ইঁদুরের বৃদ্ধি, রক্তকণিকার গঠন এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের নির্দেশকের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এতে যকৃৎ, অন্ত্র ও কিডনির টিস্যুতেও ক্ষতিকর পরিবর্তন দেখা যায়। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমতে দেখা গেছে শুধু অন্ত্রের টিস্যুতে। উচ্চমাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক ইঁদুরের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। আবার শরীরের ওজনের তুলনায় যকৃতের ওজন বেড়ে যায়। মাইক্রোপ্লাস্টিক দেওয়া ইঁদুরগুলোর লোহিত রক্তকণিকার আকৃতি অস্বাভাবিক দেখা গেছে। তবে মোট রক্তকণিকার সংখ্যায় তেমন পার্থক্য পাওয়া যায়নি। সাগর, নদ-নদী ও খাল-বিলের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহজাহানসহ এক দল গবেষক ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে মাছের উপর গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণা দলের প্রধান এ অধ্যাপক জানান, সাগরের দুটি মাছে (চট্টগ্রাম ও কুয়াকাটায়) লইট্টা ও ছুরি শুটকিতে; বহ্মপুত্র নদে দুটি, চলনবিলে তিনটি মাছে এবং আড়িয়াল বিলে পাঁচটি দেশি মাছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মিলেছে। আড়িয়াল বিলের পাঁচ মাছ হলো, কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি। এছাড়া চট্টগ্রাম ও কুয়াকাটা থেকে সংগৃহীত বোম্বে ডাক, রিবন ফিশ ও ফাইসা মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। গবেষণা দেখা গেছে, মাছের অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কই মাছে গড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ১ থেকে ১ দশমিক ৯০টি। অধিকাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল ফাইবার আকৃতির, যেগুলোর আকার ১০১ থেকে ৩০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের সহনীয় মাত্রার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, “নরমালি অন্য টক্সিডেন্টের ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা ফুড অর্গানাইজেশন এর মাত্রা ডিটেক্ট করে। কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষেত্রে এরকম কোনো স্ট্যান্ডার্ড এখনো বৈশ্বিকভাবে তৈরি হয়নি।” তিনি বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখনো কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, এরকম প্রতিবেদন নেই। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক যখন ফ্রাগমেন্টেড হয়ে ন্যানোপ্লাস্টিক হয় এবং ন্যানোপ্লাস্টিক আবার ব্লাড স্ট্রিমে বা মাসেলে ডিপোজিট হয়, তখন সেটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়েছে বলে মনে করেন এই গবেষক। তার মতে, “এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালে গিয়ে দেখা যাবে, সমুদ্রে যে পরিমাণ মাছ, ওই পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক।” ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক শাহজাহান বলেন, কর্ণফুলী টানেল তৈরির সময় দেখা যায়, তলদেশ প্রায় দুই-তিন ফুট স্তর হয়ে গেছে প্লাস্টিক মেটেরিয়ালস পলিথিন দিয়ে। এই পলিথিনই তো ভাঙতে ভাঙতে মাইক্রোপ্লাস্টিক হয়। “ব্রাশ ব্যবহার করি, টুথপেস্ট ব্যবহার করি, প্রসাধনী ব্যবহার করি— এগুলোতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে। এগুলোই তো পরিবেশে যাচ্ছে।” মানবদেহে কী প্রভাব খাদ্যচক্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকে পড়ার তথ্য তুলে ধরে অধ্যাপক ফিরোজ জামান বলেন, “মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো ইকোসিস্টেমে ফুডের সঙ্গে কনটামিনেটেড হয়ে মাছের মাধ্যমে মানুষের দেহে চলে আসছে। মাছের মাধ্যমে অথবা শস্য যখন উৎপাদন হয়, ওই পানিটা যদি কেউ ব্যবহার করে, পানিটা শস্যের কোষের ধ্যে ঢুকে সেখান থেকে শাক-সবজি যা খাচ্ছি, সেগুলোর মাধ্যমেও চলে আসছে মানব শরীরে। মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক এলেও তা কতটুকু ক্ষতিকর হবে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গবেষক বলেন, “মানবদেহে ঢুকলেই যে ক্ষতি হবে, তা নয়। এটা পরিমাণমত আসতে হবে। এখন কোন পরিমাণে এলে ক্ষতি হবে, আর কোন পরিমাণে এলে ক্ষতি হবে না, তা আমাদের গবেষণায় তুলে ধরেছি। “আমাদের শরীরে ক্রমাগত যদি ঢুকতেই থাকে, তাহলে একসময় মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আর মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তো শরীরের ক্ষতি হবেই।” এক্ষেত্রে ফিরোজ জামানের পরামর্শ হলো, “মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহারটা কমাতে হবে। আর যদি ব্যবহার কমাতে অসুবিধা হয়, তাহলে কোনো প্লাস্টিক যেন কেউ পরিবেশে ছুড়ে ফেলতে না পারে, সেটা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে।” তার মতে, “প্লাস্টিকের ব্যবহার হয় বন্ধ করতে হবে। আর ব্যবহার বন্ধ না করতে পারলে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর ব্যবস্থাপনা করতে হবে, যেমনটা অন্যান্য দেশ করছে। “জাপানে দেখেছি, তাদের প্রত্যেকটা জায়গায় ওরা প্লাস্টিক ব্যবহার করে। কিন্তু ইন্টারেস্টিং হলো, কোথাও একটা প্লাস্টিকের টুকরাও পাওয়া যাবে না। ওরা এমনভাবে এগুলোর ব্যবস্থাপনা করে, রিসাইক্লিং করে…সেখানে প্লাস্টিকগুলো পরিষ্কার করে ডাস্টবিনের বিশেষ বিশেষ জায়গায় রাখতে হয়। না রাখলে জরিমান হয়।” ‘বেশি বেশি গবেষণা দরকার’ জনস্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, “আমাদের এখানে প্লাস্টিকের ব্যবহার একেবারেই অনিয়ন্ত্রিত। কাজেই আমাদের আশঙ্কা যে এখানে বিপজ্জনক মাত্রাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে।” কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্তের মধ্যে মিশে মস্তিষ্কে চলে যায়। আর দীর্ঘ মেয়াদে সেবা কর্মক্ষমতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ রোধে করণীয় নির্ধারণে আরও গবেষণায় জোর দেন মুশতাক হোসেন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক এ প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পরামর্শ হলো, “আমাদের গবেষণা করতে হবে এর উপরে, এটা কীভাবে কমানো যায়। “এটা কীভাবে আলাদা করা যায়, সেগুলোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বের করতে হবে। কীভাবে রিমুভ করা যায় খাদ্য শৃঙ্খল, পানীয় শৃঙ্খল, ওষুধপত্র থেকে, তা বের করতে হবে। বিদেশের গবেষণার দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, আমাদের নিজেদেরও করতে হবে।” তার মতে, “প্রথমেই তো প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করা, এগুলো পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অলরেডি বলা হয়েছে। সেগুলো মেনে চলার জন্য মানুষের মধ্যে একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। সেগুলোতে আবার নজরদারি চালানো উচিত।” প্লাস্টিক দূষণ বাংলাদেশে প্রতিদিন আট লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে শতকরা ৩৬ ভাগ পুনর্চক্রায়ণ, ৩৯ ভাগ ভূমি ভরাট এবং বাকি ২৫ ভাগ সরাসরি পরিবেশে দূষণ ঘটাচ্ছে। খাবার পানির শতকরা ৮০ ভাগ পানি মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণা দ্বারা দূষিত। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ একেক ঋতুতে একেক রকম থাকে। অধ্যাপক শাহজাহান বলেন, “বর্ষাকালে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব সর্বাধিক ছিল। গবেষকদের মতে, বৃষ্টির পানির সঙ্গে আশপাশের প্লাস্টিক বর্জ্য বিলের পানিতে প্রবাহিত হয়ে দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।” তিনি জানান, এ সময় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কণাগুলো পানির স্তরে ভেসে থাকে এবং সরাসরি পানির গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলো ধীরে ধীরে তলদেশে জমা হয়। সরকার কী ভাবছে? প্লাস্টিক হচ্ছে কৃত্রিমভাবে তৈরি পলিমার, যা মূলত জীবাস্ম জ্বালানি বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে রাসায়নিক উপায়ে তৈরি করা হয়। অ্যাক্রাইলিক, পলিস্টাইরিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড, সিনথেটিক রাবার, পলিইথিলিন (পলিথিন) ইত্যাদি প্লাস্টিকের আবিষ্কারের ফলে জীবনের সব স্তরে প্রয়োজনীয় প্রায় সব দ্রব্য ও দ্রব্যাদির অংশবিশেষ প্লাস্টিক দ্বারা তৈরি হচ্ছে। পরিবেশে অপচনশীল নানা রকম প্লাস্টিক বর্জ্যরে সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মি এবং পরিবেশের অন্যান্য উপাদানের মিথস্ক্রিয়ার ফলে মাইক্রো ও ন্যানো প্লাস্টিকের কণা এবং নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব মাইক্রো ও ন্যানো কণা এবং নিঃসৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মানুষ ও অন্যান্য জীবের হরমোনাল সিস্টেম নষ্ট করতে পারে। প্লাস্টিক দূষণ আমাদের স্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, উন্নত জীবনযাপন এবং নিরাপদ খাদ্যের জন্য বিরাট হুমকি। সময়োপযোগী আইন তৈরি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং প্লাস্টিকদূষণের ক্ষতিকর দিক ও করণীয় নিয়ে সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি সংশ্লিষ্টদের। মাছ, প্রাণীসহ খাদ্য চক্রে মাইক্রোপ্লিাস্টিকের বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “এটা এখন বৈশ্বিক সমস্যা; এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আরও জানার চেষ্টা করছি। বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে পুরো না জেনে কমেন্ট করতে চাই না।” দূষণ রোধে ব্যক্তিগত জনসচেতনতার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। প্লাস্টিক দূষণের বিষয়ে আরো গবেষণার পাশাপাশি সম্পৃক্ত অনেক মন্ত্রণালয় রয়েছে, বাস্তবায়নের বিষয় রয়েছে। যার যার জায়গা থেকে চিন্তা ও কাজের সমন্বয় করাই সঠিক হবে।
এক সময় তো অনেকেই নিমকাঠি দিয়েই দাঁত মাজতেন। তাতে দাঁত ভালোও থাকত। কেন জানেন? কী উপকার হয় নিমকাঠি দিয়ে দাঁত মাজলে? পুষ্টি-বিশেষজ্ঞদের মতে, নিমকাঠিতে এমন এক ধরনের তৈলাক্ত পদার্থ আছে যা ক্ষতিকর ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দিতে পারে। দাঁতের যত্ন নেওয়া সুস্থ শরীর রক্ষা করার জন্য একান্ত প্রয়োজন। সেই কারণেই দাঁতের সমস্যার গোড়া থেকে সমাধান জরুরি। কিন্তু খুব সহজেই প্রাকৃতিক উপায়ের মাধ্যমে দাঁতের যত্ন রাখা সম্ভব। সেই সমাধানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজা। মাউথফ্রেশনারসহ বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম উপায়ে সাময়িক কিছু উপকার হলেও,তা কখনোই দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হতে পারে না। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য নিম ডাল খুবই উপযোগী। দেখে নেওয়া যাক নিম ডাল কীভাবে দাঁতের উপকার করে- দাঁতের যেকোনো অংশ ফুলে ওঠা রোধ করে। মাড়ি শক্ত করে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করে দাঁতের সাদা রং অপরিবর্তিত রাখে। কিন্তু নিম ডাল ব্যবহারে কিছু সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন: নিমডাল ব্যবহারের আগে খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। গাছের ডালকে অবশ্যই ভালো করে ভেঙে ব্যবহার করতে হবে। উল্লেখ্য, নিমডালে দাঁত মাজার আগে সরিষার তেল ও লবণ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা বাঞ্ছনীয়।
গরমে অতীষ্ঠ জীবন। শরীর ঠাণ্ডা ও সতেজ রাখতে চাই প্রচুর পানি। এ ছাড়া উচ্চ পানিসমৃদ্ধ খাবার চাই। এসব শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং প্রাকৃতিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আর শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং গরমের অস্বস্তি দূর করতে প্রচুর পানিযুক্ত ফল, শাকসবজি ও পানীয় খাওয়া উচিত। ডাবের পানি, তরমুজ, শসা, টকদই, পুদিনাপাতা এবং লেবুর শরবত আপনার শরীর ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে দারুণ কাজ করে। এই প্রচণ্ড গরমে ক্লান্তিতে কাজে উৎসাহ পাওয়া যায় না। এই গরমে তৃপ্তি এনে দিতে পারে এমন কিছু পুষ্টিকর খাবার, যা গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমন কিছু সহজলভ্য খাবার সম্পর্কে, যা মাথা ঠান্ডা রাখবে— ১. কলা কলা সবারই পছন্দ। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখুন, তা কাঁচা হোক কিংবা পাকা। খেতে সুস্বাদু, সস্তা, সারা বছর মেলে— এমন সবজি বা ফলের মধ্যে কলায় রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম, যা ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’র গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, লৌহসহ অন্যান্য খনিজ উপাদান। কলা পাকা বা কাঁচা— দুই অবস্থায়ই খাওয়া যায়। অতিরিক্ত ঘামের শরীর থেকে যে তরল বের হয়ে যায়, তা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে পটাশিয়াম। গরমের সময় কলা খেতে পারেন। এ ছাড়া পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে আছে সবুজ শাকসবজি, শুষ্ক ফল ও শস্য। ২. শসা শসা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় লতানো সবজি, যাতে প্রায় ৯৫ শতাংশ জলীয় অংশ থাকে। এটি সালাদ হিসেবে কাঁচা খাওয়া হয় এবং চাষাবাদের জন্য এর বিভিন্ন হাইব্রিড জাত সারা বছরই বেশ উপযোগী। শসায় রয়েছে ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ পানি। এই গরমে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাইনিংয়ে শসার সালাদ রাখুন। শসার সঙ্গে ধনেপাতা মেশালে আরও স্বাদ বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি ননিবিহীন দুধের তৈরি দই, পুদিনাপাতা আর বরফ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে জুস তৈরি করুন। এ জুস আপনার শরীর সতেজ রাখবে এবং তৃষ্ণাও মেটাবে। ৩. পেঁয়াজ গরমের সময়ে শরীর ঠান্ডা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হজম শক্তি বাড়াতে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া দারুন উপকারী। তবে পকেটে পেঁয়াজ রাখলে হিটস্ট্রোক কমে— এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তবে আসল সুফল পেতে হলে পেঁয়াজ সালাদের সঙ্গে কিংবা খাবারে নিয়মিত খাওয়া উচিত। বিশেষ করে লাল পেঁয়াজ দারুণ উপকারী। কোয়ারসেটিন নামক এক রাসায়নিক উপাদান আছে এতে, যার অ্যান্টিহিস্টামিন প্রভাব রয়েছে। গরমে হিট র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। সুতরাং পেঁয়াজ এ সমস্যা দূর করতে পারে। ফাইটোকেমিক্যালস নামে একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে পেঁয়াজে, যা আপনার শরীরে ভিটামিন ‘সি’র কার্যকারিতা বাড়িয়ে। এতে শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়। পেঁয়াজে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ ও ‘ই’র মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এতে ত্বক সুস্থ থাকে। এবং ত্বক ভালো রাখতে বেশি করে খাবারে পেঁয়াজ রাখা উচিত। ৪. অ্যালোভেরা তীব্র গরমে আপনার শরীর ও ত্বক ঠান্ডা রাখতে অ্যালোভেরা অত্যন্ত কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। একদিকে যেমন ত্বকের রোদে পোড়া ভাব (সানবার্ন) দূর করে থাকে, অন্যদিকে জুস হিসেবে খেলে আপনার শরীরকে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে। যদিও অ্যালোভেরার নাম শুনে অনেকে ভুরু কোঁচকালেও একে সবাই অ্যালোভেরা নামে ভালোই চেনে। ঔষধি এই ভেষজের নানা গুণের কথা পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জানা। আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিতে আর অসুখ-বিসুখ সারিয়ে তুলতে অ্যালোভেরা অতুলনীয়। ৫. টমেটো গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষ ও খাওয়া আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তীব্র এই গরমে সঠিক জাত নির্বাচন, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সেচ প্রদান এবং গাছের বিশেষ যত্ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে গ্রীষ্মকালেও টমেটোর ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আর টমেটো আছে ৯৪ দশমিক ৫ ভাগ পানি। এ ছাড়া এতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’, লাইকোপেন, ক্যারোটিন, রিবোফ্লোবিন, ক্যালসিয়াম ও লোহা থাকে। টমেটোর জুস কিংবা সালাদ দুই সুস্বাদু। রান্নার পরও টমেটোর পুষ্টিগুণ কমে না। তাই গরমের সময় টমেটোর স্যুপ কিংবা ঝোল খেতে পারেন। ৬. তরমুজ যখনই গরম, তখনই এক ফালি তরমুজ খেয়ে নিন। বরফ দেওয়া শরবতও খেতে পারেন তরমুজের মাধ্যমে। হাঁপিয়ে যাওয়া প্রাণ জুড়ে যাবে। তরমুজ গরমেরই ফল। হাটবাজার বা ফলের দোকানে এখন থরে থরে সাজানো থাকে সুমিষ্ট পানিতে ভরপুর তরমুজ। তরমুজে রয়েছে শতকরা ৯১ দশমিক ৫ ভাগ পানি। এতে রয়েছে ক্যানসারপ্রতিরোধী উপাদান লাইকোপেন। প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ লবণে সমৃদ্ধ এই ফল গরমে স্বস্তি এনে দেয়। ৭. পুদিনাপাতা পুদিনাপাতা হলো একটি সুগন্ধি ও অত্যন্ত ঔষধি গুণসম্পন্ন ভেষজ উদ্ভিদ, যা বিশ্বজুড়ে নানা খাবার, পানীয় এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, মেন্থল ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে, যা আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার ক্ষমতা আছে পুদিনাপাতায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘এ’ দ্বারা পরিপূর্ণ পুদিনাপাতা এমন একটি উপকরণ, যা অতিরিক্ত গরমে ত্বকের ক্ষতি দূর করে থাকে। আর গরমের ঘাম জমে যে ঠান্ডা লেগে যায়, তা প্রতিরোধ করে থাকে। বয়সের ভারে বৃদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে পুদিনাপাতা। ত্বক ও চুলকে সতেজ রাখে। অতিরিক্ত গরমে ছোট-বড় প্রায় সবারই বদহজম বা ফুড পয়জনিংয়ের সমস্যা দেখা দিলে পুদিনাপাতা পেটের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে খাবার হজমে সাহায্য করে।
হাম উপসর্গে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের কারও হাম শনাক্ত হয়নি। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশে ৯৭২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৭৯৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৯ শিশু। এই পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৮৯৪ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৮ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ শিশু বাড়ি ফিরেছে। ১৫ মার্চ থেকে দেশে ১৭ হাজার ৭৩০ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ক্লান্তি দূর কিংবা অতিথি আপ্যায়নে চায়ের জুড়ি নেই। তবে চায়ের সাথে আদা ব্যবহার করতে পারেন। এতে রয়েছে দারুণ উপকারিতা। হার্ট ভালো রাখে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মিত আদা চা পান করলে হার্ট ভালো থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। রক্ত জমাট বাঁধা নিয়ন্ত্রণ করে, কোলেস্টরল কমিয়ে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে আদায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আছে। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে ও স্ট্রেস কমায়। আদা পানির বাষ্প নিলে বন্ধ নাক খুলে যায়। মাথা ঘোরা কমে প্লেনে উঠলে বা পাহাড়ি রাস্তায় যদি মাথা ঘোরার সমস্যা থাকে, তা হলে আদা চা পান করলে সেটা কমে যায়। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে যাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য প্রতিদিন আদা চা পান করার সুফল অনেক। কারণ এই চা এইচবিএ১সি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মস্তিষ্ক সচল রাখে এবং অ্যালঝাইমারের মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ক্রনিক ইনফ্লেমেশন এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মানুষকে আরও বুড়ো করে তোলে। আর এটাই পরবর্তীকালে অ্যালঝাইমার নামক অসুখে রূপান্তরিত হয়। আদার মধ্যে উপস্থিত বায়ো-অ্যাকটিভ উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট মস্তিষ্কের এই ইনফ্লেমেশন রোধ করে মস্তিষ্ক সচল ও সক্রিয় রাখে। বদহজমের সমস্যা দূর করে পেটের উপরিভাগে ব্যথা বা অস্বস্তির কারণ হলো বদহজম। আদা চা এই সমস্যা দূর করে এবং তার সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে সেটাও কম করতে সাহায্য করে। ঋতুস্রাবের সময় পেট ব্যথা কম করে। অনেক মহিলাই ঋতুস্রাবের সময় তলপেটের ব্যথায় ভোগেন। আদা চা হলো এর কার্যকরী সমাধান। আদা চায়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে আরাম পাওয়া যায়। তা ছাড়া গরম পানিতে আদা দিয়ে সেই পানি তোয়ালে ভিজিয়ে তলপেটে ধরলেও উপকার পাওয়া যায়। স্ট্রেস কমায় আধুনিক যুগে আমরা কম-বেশি সকলেই স্ট্রেসের শিকার। আদার কড়া গন্ধ ও স্বাদ স্ট্রেস, টেনশন দুটোই দূর করে। ক্যানসার প্রতিরোধ করে। প্যানক্রিয়াস ও কোলোন ক্যানসারে দারুণ কাজ দেয় আদা চা। নিয়মিত আদা চা পানে এই জাতীয় ক্যানসারের কোষ সহজে ছড়িয়ে পড়ে না। রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে আদা চায়ে আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও মিনারেল। এগুলো রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং কার্ডিও ভাস্কুলার সমস্যা থাকলে সেটা দূর করে। ধমনীর চারপাশে মেদ জমতেও বাধা দেয় আদা চা। এটি একটি প্রাকৃতিক পেন কিলার। পেন কিলার না খেয়ে আদা চায়ের উপরে ব্যথা উপশমের জন্য ভরসা রাখা যেতে পারে। অস্টিয়ো আরথ্রাইট্রিস, মাথা ব্যথা, ঋতুস্রাবের ব্যথা, গলা ব্যথা এবং পেশীর ব্যথার মতো নানা ব্যথার দূর করে এই চা। ওজন কমায় আদা চা পান করলে পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে, ফলে বাড়তি খাওয়া অনেক কম হয়। এতে ওজন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৬ সালে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫৫০ জনে। একই সময়ে ৭১২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। চলতি বছরে মোট ১৯ হাজার ৮৯৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া বরিশালে ১০১ জন, চট্টগ্রামে ৮৩ জন, খুলনায় ৯৮ জন, ময়মনসিংহে ৪৫ জন এবং রাজশাহীতে ৬৩ জন ভর্তি হয়েছেন। মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে এ পর্যন্ত ৯ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
যাদের বয়স ৭৫ বছরের বেশি, আগে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়নি, তারা স্ট্যাটিন বন্ধ করলেও তিন বছরে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে না- এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। তবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল দেখে নিজের সিদ্ধান্তে স্ট্যাটিন বন্ধ করা উচিত নয়। গত ১১ আগস্ট গবেষণাটি দ্য ল্যানসেট হেলদি লংজেভিটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্য অনুসারে, ফ্রান্সের বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের গবেষকরা গড়ে ৮০ বছর বয়সী ১ হাজার ১৬০ জনকে নিয়ে গবেষণাটি করেন। অংশগ্রহণকারীদের কারও আগে হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস ছিল না। তাদের একদল স্ট্যাটিন চালিয়ে যান, অন্যদল ওষুধটি বন্ধ করেন। তিন বছর পর দেখা যায়, স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ৭ দশমিক ২ শতাংশ মারা গেছেন। স্ট্যাটিন চালিয়ে যাওয়া দলের মৃত্যুর হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে মৃত্যুর হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। তবে স্ট্যাটিন বন্ধ করা ব্যক্তিদের মধ্যে বড় ধরনের হৃদ্রোগজনিত সমস্যা কিছুটা বেশি দেখা গেছে। এ দলের ৫ শতাংশের এমন সমস্যা হয়। ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রেও কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ২ দশমিক ১ শতাংশের হার্ট অ্যাটাক হয়। অন্যদিকে, ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ১৪ জনের নন-ফ্যাটাল স্ট্রোক হয়, যেখানে ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ১২ জনের এমন স্ট্রোক হয়। তবে গবেষকরা জানান, এসব পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়। অর্থাৎ এই গবেষণার ফল থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে স্ট্যাটিন বন্ধ করলে হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, স্ট্যাটিন বন্ধ করার পর রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তিন মাসের মধ্যে স্ট্যাটিন বন্ধ করা ব্যক্তিদের গড় এলডিএল ১১৫ থেকে বেড়ে ১৭১ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারে পৌঁছায়। যারা ওষুধ চালিয়ে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। স্ট্যাটিন মূলত রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক এই ওষুধ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখের বয়স ৭৫ বছরের বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এর ফল সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অন্য কোনো হৃদ্রোগ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই গবেষণার ফল প্রযোজ্য নয়। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজির অধ্যাপক রবার্ট স্টোরি বলেন, গবেষণার ফল দেখে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী অধিকাংশ স্ট্যাটিন ব্যবহারকারীর ওষুধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা ব্রায়ান উইলিয়ামসও সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা স্ট্যাটিনের উপকারিতা শেষ হয়ে গেছে- এটি প্রমাণ করে না। বরং কারও স্ট্যাটিন বন্ধ বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া উচিত।
দেশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক এবং মেডিকেল চেকআপ সেন্টারগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের মেয়াদ ১ বছরের পরিবর্তে বাড়িয়ে ২ বছর করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম ২০২৬-২০২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে। নির্দেশনা ও শর্তগুলো- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা প্রজ্ঞাপনে লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলার কথা বলা হয়েছে- ফি জমাদান: ২ বছরের লাইসেন্স ফি এবং ভ্যাট একসাথে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে HSM ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। পরিবেশ ছাড়পত্র: নতুন লাইসেন্স গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্র বা পরিবেশ ছাড়পত্র আবশ্যিকভাবে নিতে হবে। নারকোটিক লাইসেন্স: যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান নারকোটিক বা মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে, নতুন লাইসেন্স পাওয়ার পর তাদের অবশ্যই নারকোটিক লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। নিয়মিত তদারকি: পরিবেশ অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিজ নিজ দপ্তরের হালনাগাদ লাইসেন্স তদারকি করবে। এছাড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনে কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় পাওয়া গেলে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হবে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলেই দেখা যায় ‘ডাক্তার নেই, কখন আসবে কউ জানে না’, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের কাছে এ যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা। গত ৭ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরের জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১২ জন চিকিৎসককে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছিলো। দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগে জেলার মানুষের মনে আশা জেগেছিলো—এবার হয়তো হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কিছুটা হলেও গতি ফিরবে। তবে সেই আশা টিকে ছিলো মাত্র এক মাস। যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই সুপারিশের মাধ্যমে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন পাঁচজন চিকিৎসক। ফলে আবারও চিকিৎসক সংকটে পড়েছে ২৫০ শয্যার রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিনই ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা, যার সরাসরি ভুক্তভোগী সাধারণ রোগীরা। অধিদফতরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে যে ১২ জন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছিলো, তাদের মধ্যে ছিলেন মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন ও বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগের চিকিৎসক। তবে যোগদানের এক মাসের মধ্যেই বদলি হয়ে চলে গেছেন—ডা. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন, ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, ডা. মো. মেহেদী হাসান, ডা. মো. এনামুল হক এবং ডা. অতীশ দীপংকর। অর্থাৎ নতুন পদায়ন পাওয়া চিকিৎসকদের প্রায় ৪২ শতাংশই অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। চিকিৎসক মহলের একাধিক সূত্রের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যে যারা রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন, তাদের অনেকেই নানাভাবে ওপরের মহলে তদবির ও সুপারিশের মাধ্যমে নিজেদের সুবিধাজনক কর্মস্থলে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন। চিকিৎসকের সংকট থাকায় সেবা পেতে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পরবর্তীতে আরও একজন মেডিসিন ও একজন কার্ডিওলজির জুনিয়র কনসালটেন্ট পদায়ন করা হয়। তবে কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সফিকুল ইসলাম এখনও রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে যোগদান করেননি। ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটি কার্যত শূন্যই থেকে গেছে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সার্জারি, মেডিসিন, শিশু, কার্ডিওলজি, গাইনি, চর্ম ও যৌনরোগ, ফরেনসিক মেডিসিন, অর্থোপেডিক সার্জারি, ইএনটি (নাক-কান-গলা) এবং অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া চক্ষু, কার্ডিওলজি ও প্যাথলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্টের পদগুলো খালি থাকায় চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে। সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক ডা. অপূর্ব রায়ের কক্ষের সামনে অপেক্ষমাণ রোগীর ভিড় ক্রমেই বাড়ছিলো। তবে তিনি ইনডোরে ভর্তি রোগীদের রাউন্ডে থাকায় বহির্বিভাগে সময়মতো রোগী দেখা শুরু করতে পারেননি। ফলে সকাল থেকে অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে। সত্তরোর্ধ্ব মজিবর প্রামাণিক চোখের চিকিৎসার জন্য দূর থেকে হাসপাতালে এলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা না নিয়েই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। শুধু মজিবর প্রামাণিক নন, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আশায় এসে ফিরে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই দরিদ্রতা সত্ত্বেও বেশি খরচে ফরিদপুর বা ঢাকায় চিকিৎসা নিতে ছুটছেন। একাধিক চিকিৎসক বলেন, রোগীর তুলনায় আমাদের চিকিৎসকদের সংখ্যা খুবই কম। প্রচণ্ড চাপের মুখে একেকজন চিকিৎসককে একাধারে বহির্বিভাগ, ভর্তি রোগী ও জরুরি বিভাগের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ডিউটি করেও একজন রোগীকে দুই-তিন মিনিটের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। সার্বিক বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ১২ জন চিকিৎসক পেয়েছিলাম। কিন্তু যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই পাঁচজন বদলি হয়ে চলে যান। পরে অধিদফতর থেকে আরও দুজন চিকিৎসক পদায়ন করা হলেও এখন পর্যন্ত একজন যোগদান করেননি। বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের বদলির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোন কারণে তারা হঠাৎ বদলি নিয়ে চলে গেছেন, তা আমার জানা নেই। নিশ্চয়ই তারা বদলির আবেদনে নিজ নিজ কারণ উল্লেখ করেছেন।’ স্বাস্থ্যাকর্মীদের মতে, শুধু কাগজে-কলমে চিকিৎসক পদায়ন করলেই রাজবাড়ীর মতো জেলাগুলোর সংকট মিটবে না। স্থায়ীভাবে চিকিৎসক ধরে রাখার কঠোর ও কার্যকর নীতিমালা না থাকলে এ চক্র থেকে মুক্তি মিলবে না, আর দিন শেষে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও হারিয়ে যাবে।
ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে মানুষের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বাড়তে পারে। গবেষকরা বলছেন, ধূমপান ও দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকা মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক প্রবেশের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে। গবেষণায় রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকেরও একটি শক্তিশালী সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ইতালির রোমের সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত'আন্দ্রেয়া হাসপাতালের গবেষক পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষকরা হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি থেকে ৬১ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে কেউ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ছিলেন, কেউ হার্ট অ্যাটাক ছাড়াই হৃদ্রোগে ভুগছিলেন এবং কিছু রোগীর রক্তনালি ছিল সুস্থ। গবেষণায় দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। হৃদ্রোগ থাকলেও হার্ট অ্যাটাক হয়নি, এমন রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ। আর সুস্থ রক্তনালির রোগীদের ৩২ শতাংশের রক্তে এসব কণা পাওয়া যায়। তবে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি ছিল ধূমপান ও বায়ুদূষণের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্পর্ক। গবেষকদের হিসাবে, ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। নিয়মিত বেশি মাত্রার বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। ধূমপান ও বায়ুদূষণ দুই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির রক্তে উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বিপরীতে, এসব ঝুঁকির কোনোটির সংস্পর্শে না থাকা ব্যক্তিদের মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আরও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক রক্তপ্রবাহে প্রবেশের সুযোগ বাড়তে পারে। গবেষণার প্রধান লেখক পাসকুয়ালে পাওলিসো বলেন, ধূমপান ও বায়ুদূষণ দুটিই ফুসফুসের মাধ্যমে এসব কণা শরীরে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতো অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায় এমন প্রমাণ দেয় না। তবে পরিবেশগত দূষণ, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদ্রোগের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ১৫ জুলাই ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে মাত্র ৬১ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে শরীরে প্রবেশ করে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকিতে এর প্রকৃত ভূমিকা কী, তা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন। সূত্র: ইউএস নিউজ
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে দুজন এবং উপসর্গে দুজন মারা গেছেন। একই সময়ে ৬৭৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৯৯ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪০ জন। একই সময়ে হাম উপসর্গে শনাক্ত হয়েছেন মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭৭ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে দুজনের মৃত্যুসহ ১৫ মার্চ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬৯ জন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যুসহ মোট ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধার সুযোগ নিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের পরিমাণ বাড়ছে ব্যাংকগুলোতে। বছর কয়েক ধরে এ প্রবণতা চলতে থাকার মধ্যে ২০২৫ সালে এক বছরের ব্যবধানে পুনঃতফসিল বেড়েছে ৮৪ হাজার ৮২৪ কোটি টাকার বেশি বা ৯৯ শতাংশ। খেলাপি ঋণের বোঝা বাড়তে থাকার মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদনের স্বাস্থ্য ভালো দেখাতে গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর এমন কৌশল নেওয়ার কথা বলছেন ব্যাংকার ও বিশ্লেষকরা। ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিল করা ঋণের তথ্য বলছে, গত ৫ বছরে পুনঃতফসিল করা ঋণের হার বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ গুণ। ২০২৫ সালে খেলাপি হওয়ার আগে পুনঃতফসিল করা হয়েছে ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং খেলাপির পরে পুনঃতফসিল করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে যা বেড়েছে ৮৪ হাজার ৮২৪ কোটি টাকার বেশি বা ৯৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে পুনঃতফসিল করা ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৫ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ে সময়ে বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতি ও কারণে খেলাপি ঋণকে নিয়মিত করার সুবিধা দিতে বিশেষ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়। এর বাইরে সাধারণ নীতিমালা মেনেও ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, এখন সেই সুযোগের ‘অপব্যবহার’ করা হচ্ছে। বারবার পুনঃতফসিল করা মানেই বিশেষ সুযোগটি জায়েজ হয়ে যায় না। খেলাপি ঋণের পরিমাণ যখন বেড়ে যায় তখনই মূলত পুনঃতফসিলে যায় ব্যাংক।” এক বছরে বিশাল অঙ্কের ঋণ পুনঃতফসিলের পরও ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতে নতুন ঋণ খেলাপি হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার বেশি। খেলাপি ঋণ বেশি হলে ব্যাংকের মুনাফা থেকে সেই অনুপাতে বেশি অর্থ নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এতে ব্যাংকের মুনাফা কমে যায়। এজন্য পুনঃতফশিলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো খেলাপির পরিমাণ কম দেখানোর চেষ্টা করে বলে ব্যাংকাররা তুলে ধরেন। নিয়মিত ঋণের বিপরীতে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশি এবং খেলাপি ঋণের বিপরীতে মানভেদে শতভাগ পর্যন্ত নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সার্বিকভাবে ১০০ টাকা ঋণের মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে বড় ঋণ গ্রহীতার ঋণ ৪০ শতাংশ। ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বারবার পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন মোস্তফা কে মুজেরি, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদের দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো এ নীতিমালার যথেচ্ছ ব্যবহার করছে কি না, তা মূল্যায়ন করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে। বারবার পুনঃতফসিল করা মানেই হচ্ছে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য এক সময়ে আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। গত ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে পুনঃতফসিল করা ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা বা ২৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। পুনঃতফসিল করা ঋণের এ অঙ্ক গত ডিসেম্বরের মোট খেলাপি হওয়া ঋণের ৮০ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপির পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। ব্যাংকাররা বলছেন, পুনঃতফসিল করার সুযোগ না দিলে ডিসেম্বর শেষেই মোট খেলাপির অঙ্ক বেড়ে ১০ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, প্রভিশন রাখার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্ত পদক্ষেপের কারণে ‘প্রভিশন শর্টফল’ থেকে বাঁচতে ব্যাংকগুলো পুনঃতফসিলে বেশি আগ্রহী উঠেছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘খেলাপি ঋণের পুরো তথ্য এখনো উঠে আসছে না। নানা কারণেই সেটি করা হচ্ছে না। ব্যাংক চায় তার ব্যালেন্স শিট (আর্থিক প্রতিবেদন) ভালো দেখাতে। তাই পুনঃতফসিলের প্রস্তাব পেলেই আগ্রহী হয়ে ওঠে। এখন দেখা দরকার কতটা যৌক্তিকভাবে এটা বিচার করা হল।’’ এভাবে পুনঃতফসিলের হার বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তার। বলেন, “এগুলো এক সময়ে খেলাপি হয়েই যাবে। কেন আমরা আগেই দেখাব না। ব্যাংকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ বিষয়ে আরো শক্ত হতে হবে। কেন পুনঃতফসিল করা হচ্ছে তার প্রকৃত ব্যাখ্যা থাকা উচিত।’’ ৫ বছরে পুনঃতফসিল বেড়েছে সাড়ে ৫ গুণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে পুনঃতফসিল করা হয় ২৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। কোভিডের মধ্যে বিশেষ সুযোগ থাকার কারণে তা ২০২২ সালে এক লাফে বেড়ে হয় ৬৩ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা। পরের দুই বছরও এ ধারা বজায় থাকে; ২০২৪ সালে কিছু কমে ৮৫ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা হলেও ২০২৫ সালে পুনঃতফসিল করা হয় ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ। ২০২১ সাল শেষে ব্যাংকিং খাতে পুনঃতফসিল করা ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এ বছরে পুনঃতফসিল করা ঋণের স্থিতি বাড়ে ৫৯ হাজার ৯২০ কোটি টাকা বা ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। সবশেষ ২০২৫ সাল শেষে পুনঃতফসিল করা ঋণের স্থিতি ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। বড় ঋণে পুনঃতফসিল বেশি পুনঃতফসিল করা ঋণের মধ্যে প্রায় শিল্প ঋণের অংশই বেশি; ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সাধারণ বড় ঋণ গ্রহীতারা এমন ঋণ নিয়ে থাকেন। টাকার অঙ্কে শিল্প ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩২ হাজার ১০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বড় বা করপোরেট ঋণ ৭২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বা ৯৫ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। মধ্যম মানের শিল্প খাতে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, ছোট আকারের ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, ক্ষুদ্র ও কুটির খাতের ১ দশমিক ৬ শতাংশ ও অন্যান্য খাতের ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, চলতি মূলধনের ১৩ শতাংশ, আমদানি ঋণের ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ, বাণিজ্যিক ঋণের ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, নির্মাণ খাতের ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং কৃষি ঋণের ৩ শতাংশ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। অন্য খাতগুলোর মধ্যে জাহাজ ভাঙা খাতের ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ, রপ্তানি খাতের শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ, ভোক্তা ঋণের শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ এবং অন্যান্য ঋণের মধ্যে পুনঃতফসিল করার হার ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। পুনঃতফসিলে আগ্রহ কেন শুধু যে খেলাপি হলেই ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে, এরকম কোনো বিধিনিষেধ নেই। নিয়মিত ঋণও পুনঃতফসিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে ২০২২ সালের জুলাই মাসে জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সার্কুলারে। পুনঃতফসিল করার ক্ষেত্রে মেয়াদী, চলমান ও তলবী ঋণের বেলায় মোট বকেয়া ঋণের আড়াই থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ নগদ টাকায় ডাউন পেমেন্ট দিতে হয়। অন্যদিকে নিয়মিত ঋণের বেলায় কোনো ডাউনপেমেন্ট দিতে হয় না। আবেদনের পরই ব্যাংক চাইলে তা মঞ্চুর করতে পারে। মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়ে ঋণের অঙ্ক বা সীমা বাড়ানোরও সুযোগ থাকে সেখানে। এ কারণে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিলেই ব্যাংক ও গ্রাহক নিজ নিজ স্বার্থে ঋণ পুনঃতফসিল করতে এগিয়ে আসতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘অনেক সময় সময়মত গ্যাস, বিদ্যুৎ না পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব হয় না। তাদের রিলিফ দিতেই এমন সুযোগ।” এ সুযোগের অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “সবসময়ই কিছু গ্রাহক অ্যাডভ্যানটেজ নিতে চাইবে। এখন ব্যাংক কাকে দেবে, কাকে দিলে ভালো হবে, কোন ক্ষেত্রে ব্যাংকের কোনো সমস্যা হবে না, সেটা ব্যাংকের বুঝে নিতে হবে। অনেক সময় প্রভাব বিস্তার করা হয়। সেটাও কতটুকু নেওয়া যায় দেখতে হবে।’’ নীতি সুবিধার যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনেক সময়ে দেখা গেছে, মেয়াদী ঋণ পাঁচ বছরের জন্য নিয়েছে, কিন্তু তিন বছর পরে ব্যবসার আয় হয়ত আসছে না, কিংবা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বা সময় মত বিদ্যুৎ, জ্বালানি বা অন্য কোনো কারণে ব্যবসা শুরু করা করা যায়নি। “এখন ঋণের মেয়াদ যদি না বাড়ায়, তাহলে এত টাকা দিতে পারবে না আগেই বুঝতে পারেন অনেকে। খেলাপি হওয়ার দায় থেকে মুক্তি পেতে তখন মেয়াদী ঋণ পুনঃতফসিল বা পনর্গঠনের সুযোগটি নিতে চান।” ঝুঁকিতে থাকা এসব ঋণ পুনঃতফসিল করা হলেও ভবিষ্যতে অর্থপরিশোধে ব্যর্থ হলে খেলাপির পরিমাণ আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, এ সমস্যার সমাধানের উপায় হতে পারে উদ্যোক্তাদের বন্ড মার্কেট বা পুঁজিবাজার থেকে অর্থ তুলতে উৎসাহিত করা। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেবে। এর বেশি সময়ের জন্য কোনোভাবেই না। তাদেরকে (ব্যবসায়ীদের) পুঁজিবাজারে পাঠাতে হবে। এটাই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাজ। যে যে সুবিধা দিলে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাজারে যাবে, তা দিতে হবে। ‘‘যতই মিষ্টি কথা বলি, এমনি এমনি বললে কেউ আসবে না। তাদের আনতে হবে, বাধ্য করতে হবে। বিনিয়োগকারীরা তো বসে আছে টাকা দিতে। এটা না করলে খেলাপী ঋণ কোনোভাবে কমবে না।”
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৮ জন শিশু। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৬৪ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি একই সময়ে আরও ৭৩৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৬ হাজার ৭৪০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
দেশে হামের প্রকোপে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দেশে গত এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে আরও ৮৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগে মারা গেছে। বাকি দুজন সিলেট বিভাগের। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেছে ৭৬৪ জনের। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৩৪ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১১৭ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৫, ময়মনসিংহে ৭১, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৩ জন মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩৩ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৬৪৫ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২২৭ জন, রাজশাহীতে ১৬, সিলেটে ৭৪, চট্টগ্রামে ২১১, বরিশালে ৫৬, ময়মনসিংহে ৩৩, খুলনায় ১৮, রংপুরে ১০ জন ভর্তি হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জন। তাদের মধ্যে এক লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৫৮৭ জন। গত এক দিনে নমুনা পরীক্ষার যেসব ফল এসেছে, তাতে আরও ৮৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর ১৫ মার্চের পর থেকে ১৬ হাজার ৭৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। যদিও হামের উপসর্গ নিয়ে যারা হাসপাতালে যাচ্ছে বা যাদের মৃত্যু হচ্ছে, তাদের সবার নমুনা পরীক্ষা করা হয় না। ফলে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দিয়ে হামের বিস্তারের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।