স্বাস্থ্য

ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির বিশেষ অভিযান, মাঠে নামছেন ১ হাজার ৫০০ কর্মী

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে বিশেষ অভিযান শুরু করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে ২৪টি দলে ভাগ হয়ে ডিএনসিসির ১ হাজার ৫০০ কর্মী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, উৎসস্থল নির্মূল এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএনসিসি। ডিএনসিসি জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই ডিএনসিসির বিশেষ অভিযান শুরু হবে।   ডিএনসিসি জানায়, দিবসটি উপলক্ষে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি বিশেষ স্টল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নগরবাসীর জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও করণীয় সম্পর্কিত নানা উপকরণ প্রদর্শন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫, বিশেষ করে সংসদ ভবন ও এর পার্শ্ববর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহে বিশেষ সোর্স রিডাকশন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভা নিধন কার্যক্রম চালানো হবে।   কার্যক্রম সফল করতে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ নির্দেশনায় জানানো হয়, অঞ্চল-২, ৩ ও ৪ থেকে নির্ধারিত সংখ্যক সুপারভাইজার ও মশক কর্মী সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও অঞ্চল-৫-এর আশপাশের কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে অংশ নেবেন।   তিন অঞ্চলের অবশিষ্ট কর্মী এবং অঞ্চল-১, ৬, ৭, ৮ ও ৯-সহ অন্যান্য সব অঞ্চলের কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালাবেন। এতে চিহ্নিত হটস্পট ও এডিসের প্রজননস্থলগুলোকে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে জনবল মোতায়েন ও অগ্রগতি সরাসরি তদারকি (মনিটর) করবেন।   ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামীকাল শুধু মশক নিধনই নয়-উৎস ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ ও যথাযথ লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে ‘সোর্স রিডাকশন’ কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
এক বছরের আগে শিশুকে মধু কেন নয়? জানুন ঝুঁকির কারণ

মধুকে সাধারণত প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধারণা প্রযোজ্য নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বছরের কম বয়সি শিশুকে কোনোভাবেই মধু খাওয়ানো উচিত নয়। কারণ মধু থেকে এ বয়সি শিশুর বিরল হলেও গুরুতর একটি রোগ—ইনফ্যান্ট বোটুলিজম—হওয়ার ঝুঁকি থাকে।   মধুতে কী এমন আছে, যা শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ? মধুর মধ্যে কখনো কখনো ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম নামের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। বড় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের পরিপাকতন্ত্র সাধারণত এসব স্পোরের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু এক বছরের কম বয়সি শিশুর পাচনতন্ত্র এখনও পুরোপুরি পরিণত হয় না।   ফলে শিশু মধুর মাধ্যমে এসব স্পোর গ্রহণ করলে তা অন্ত্রে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ক্ষতিকর নিউরোটক্সিন তৈরি করতে পারে। এই বিষ শরীরের পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলেই দেখা দিতে পারে ইনফ্যান্ট বোটুলিজম।   তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি মধুর বোতলেই এই ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকে বা মধু খেলে প্রতিটি শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়বে। ইনফ্যান্ট বোটুলিজম একটি বিরল রোগ। তারপরও এক বছরের কম বয়সি শিশুর জন্য মধু কোনো প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে না। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এ বয়সে মধু সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।   মধুকে অনেক সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো কিংবা সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু শিশুর ক্ষেত্রে মূল উদ্বেগ মধুর চিনি বা মিষ্টতা নয়; বরং এতে থাকা সম্ভাব্য ব্যাকটেরিয়ার স্পোর।   বিশ্বজুড়েও দেখা যাচ্ছে রোগটির উপস্থিতি শিশুদের বোটুলিজমের ঝুঁকিকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় সাম্প্রতিক বৈশ্বিক তথ্যেও। Pediatrics জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৮টি দেশে ২০০৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের ২ হাজার ৯৪৩টি নিশ্চিত ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াল স্ট্রেন এই রোগের জন্য দায়ী হতে পারে। এর মধ্যে টাইপ এ ও টাইপ বি বোটুলিনাম টক্সিনের ঘটনাই ছিল বেশি।   গবেষকদের মতে, ইনফ্যান্ট বোটুলিজম সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে এখনও সচেতনতা তুলনামূলক কম। অনেক জায়গায় রোগটি শনাক্ত করার সীমিত সক্ষমতার কারণে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া ঘটনাগুলোর চেয়েও বেশি হতে পারে।   শিশুর শরীরে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে? ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক লক্ষণ হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। অনেক সময় শিশুর স্পষ্ট দুর্বলতা দেখা দেওয়ার আগেই এই সমস্যা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— কোষ্ঠকাঠিন্য খেতে বা দুধ পান করতে সমস্যা দুর্বলভাবে কান্না করা মুখের নড়াচড়া কমে যাওয়া চোখের পাতা ঝুলে পড়া মাথা ঠিকভাবে ধরে রাখতে না পারা গিলতে সমস্যা হওয়া বিষক্রিয়ার কারণে গিলতে ও শ্বাস নিতে ব্যবহৃত পেশিগুলোও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করার পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।   তাই এক বছরের কম বয়সি কোনো শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, খাওয়ানোর সমস্যা, দুর্বল কান্না, কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতীকী ছবি
ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৭৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১ জন করে মোট ২ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ১ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী রয়েছেন।    একই সময়ে সারা দেশে নতুন ৭৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ২৪৯ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত)।    এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৬২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৬১ জন, খুলনা বিভাগে ৬০ জন, রংপুরে ৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নারী ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ।    অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯,২২০ জনে। এর মধ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের এবং ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫,৬৪৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩,৪৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   মোট শনাক্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী হলেও মোট মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের হার বেশি, যা ৫২ দশমিক ১ শতাংশ।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফাইল ছবি
হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ১ হাজার ১২ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ১১১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মৃত্যু শিশুদের মধ্যে ২ জনই চট্রগ্রাম বিভাগের। এরমধ্যে একজন চট্রগ্রাম ও অন্যজন নোয়াখালীর। আর একজন শিশুর ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে।    হালনাগাদ প্রতিবেদন আরও বলছে, নতুন আক্রান্ত নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে। আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৭ জনে।   এছাড়া এই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন। তবে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু ঠেকাতে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান মেয়র শাহাদাতের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গার কমিশনার ঘাটা, দক্ষিণ পাড়া ও বাটারফ্লাই রোড এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।   মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতি তিন দিন পরপর জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে। বাসাবাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের অংশ এবং নির্মাণাধীন ভবন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।   তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।   চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, কোথাও ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে গাফিলতি বা অনিয়ম দেখা গেলে নাগরিকরা বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে জানাতে পারবেন। ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মেয়র আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোসা বা পরিত্যক্ত পাত্র ফেলে রাখা উচিত নয়। এসব বস্তুতে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বাড়ির ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।   ডেঙ্গুতে প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, কোনো মানুষের মৃত্যু কাম্য নয়। ডেঙ্গুতে যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।   তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরবাসীর পাশে রয়েছে এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং পানি জমতে না দিলে ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।   এ সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
রোগীদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শুক্রবার সকালে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
মুগদা হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাইরে পরীক্ষা করানোর অভিযোগ

অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শুক্রবার সকালে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ডেঙ্গু ওয়ার্ডও পরিদর্শন করেন। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে- এমন অভিযোগ পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকার অর্থ দিচ্ছে এবং হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা রয়েছে। পরিদর্শনের সময় রোগীদের কাগজপত্র দেখে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, অনেক রোগীকে বাইরে থেকে পরীক্ষা করানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। এরপরও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সম্প্রতি হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি নিজেই সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রোগীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
জ্বর হলে কি গোসল করা উচিত? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় জ্বর হয় ঘরে ঘরে৷ তবে জানেন কি, জ্বর নিজে কোনও রোগ নয়? বরং শরীরে কোনও সংক্রমণ হলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।    বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি খেলে জ্বর ধীরে ধীরে সেরে যায়। কিন্তু জ্বরের সময় প্রতিদিনের কিছু সাধারণ ভুল সুস্থ হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়৷    জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই জ্বরের সময় নিয়মিত অল্প অল্প করে জল খেতে থাকুন। পাশাপাশি ORS, ডাবের পানি, হালকা স্যুপ কিংবা তাজা ফলের রস খেতে পারেন। এতে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার মতো সমস্যা এড়ানো সম্ভব।   সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় শরীরের বেশিরভাগ শক্তি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে ব্যয় হয়। ফলে হজমের প্রক্রিয়াও কিছুটা ধীর হয়ে যেতে পারে। তাই জ্বরের সময় ভাজাভুজি, অতিরিক্ত মশলাদার বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। তার পরিবর্তে ভাত, খিচুড়ি, ডাল, পায়েস বা জাউয়ের মতো হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খেতে পারেন। টোস্টও খাওয়া যেতে পারে।   জ্বর কমানোর জন্য বরফঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা উপকারী, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং অতিরিক্ত ঠান্ডা জল শরীরে কাঁপুনি তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই জ্বরের সময় ঠান্ডা জলের পরিবর্তে হালকা গরম বা কুসুম গরম জলে স্নান করুন। প্রয়োজনে কুসুম গরম জলে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছেও নিতে পারেন।   জ্বর সারাতে শুধু ওষুধ খাওয়াই যথেষ্ট নয়। শরীরকে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রয়োজন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ দিতে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।    হালকা জ্বর হলেও নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
হাম প্রতিরোধে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন টিকাদান কর্মসূচির ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

হামের সংক্রমণ মোকাবেলায় আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।        বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজঅ্যাবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল আয়োজিত ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।       তিনি বলেন, হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ করার পরও যখন সংক্রমণ অব্যাহত থাকার বিষয়টি দেখা যায়, তখন সরকার মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ কার্যক্রমের আওতায় নতুন করে ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।     তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশে কোনো টিকা রেখে যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
পাথরকুচি পাতা একটি অত্যন্ত পরিচিত ঔষধি উদ্ভিদ।
পাথরকুচি পাতার ১১ অসাধারণ গুণ

পাথরকুচি পাতা একটি অত্যন্ত পরিচিত ঔষধি উদ্ভিদ, যা ঔষধি গুণাগুণের জন্য গ্রামীণ চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি বিশেষ করে কিডনির পাথর দূর করতে এবং মূত্রনালির নানা সমস্যা নিরাময়ে দারুণ কার্যকর বলে পরিচিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক, পাথরকুচি পাতার প্রধান প্রধান উপকারিতা ও এর ব্যবহার—   ১. মূত্রনালি ও কিডনির সমস্যা দূরীকরণে কিডনির পাথর অপসারণ পাথরকুচি পাতার রস কিডনি ও গলব্লাডারের পাথর গলাতে সাহায্য করে থাকে। সাধারণত সকালে খালি পেটে ২-৩টি পাতা চিবিয়ে বা রস করে খাওয়া হয়। মূলত কিডনির পাথর অপসারণে পাথরকুচি পাতা সাহায্য করে থাকে।    ২. মূত্রনালির সংক্রমণ দূর করে এটি ডায়াবেটিস রোগ নিরাময়ে কাজ করে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়। এ ছাড়া  প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া ও ইনফেকশন কমাতে এ পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী।    ৩. পেটের সমস্যা ও হজম প্রক্রিয়া পেট ফাঁপা ও গ্যাস পেট ফুলে যাওয়া বা প্রস্রাব আটকে থাকার মতো সমস্যায় সামান্য চিনির সঙ্গে ১-২ চামচ পাথরকুচির পাতার রস হালকা গরম করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে আরাম পাওয়া যায়।   ৪. ডায়রিয়া ও আমাশয় জন্ডিস বা লিভারের সমস্যাসহ রক্ত আমাশয় ও সাধারণ ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে এ পাতার রস হালকা গরম পানির সঙ্গে খাওয়ার চল রয়েছে।    ৫. ঠাণ্ডা ও ত্বকের যত্ন পুরোনো সর্দি-কাশি পুরোনো সর্দি ও কাশির সমস্যায় পাতার রস হালকা গরম করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুবার খেলে উপকার পাওয়া যায়।   ৬. ক্ষত ও ফোঁড়া ত্বকের কোনো স্থানে ফোঁড়া হলে বা মাংসপেশি থেঁতলে গেলে পাথরকুচি পাতা বেটে সরাসরি প্রলেপ দিলে দ্রুত উপশম হয়।    ৭. ত্বকের যত্নে পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সঙ্গে সঙ্গে এর মধ্যে জ্বালা-পোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে। যারা ত্বক সম্পর্কে অনেক সচেতন, তারা পাথরকুচি পাতা বেটে ত্বকে লাগাতে পারেন। ব্রণ ও ফুস্কুড়ি জাতীয় সমস্যা দূর হয়ে যাবে।   ৮. পাইলস ও অর্শ রোগ পাথরকুচি পাতার রসের সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।      ৯. জন্ডিস নিরাময়ে পাথরকুচি পাতা জন্ডিসের মহৌষধ। লিভারের যে কোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।   ১০. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ আমরা তো জানি, পাথরকুচি পাতার গুণাগুণ। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মূত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা তুলনা হয় না। চিরতরে মুক্তি দিতে পারে এই পাতা মূত্রথলির সমস্যা থেকে।   ১১. শরীর জ্বালাপোড়া দুই চামচ পাথর কুচি পাতার রস আধাকাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দু’বেলা সেবনে  শরীরের জ্বালাপোড়া দূর হয়।   কিছু জরুরি সতর্কতা প্রতিদিন ৪-৫টির বেশি পাথরকুচি পাতা খাওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া গর্ভবতী নারী, স্তন্যদায়ী মা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাওয়ানো একদম নিষেধ। দীর্ঘমেয়াদি যে কোনো চিকিৎসায় ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়ক যে ১০ খাবার

প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই লক্ষ করি যে, আমাদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে বা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার খাদ্যাভ্যাস সরাসরি আপনার মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে? সঠিক কিছু খাবার আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ রক্ষা এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারে।   দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের অনেকেরই দৈনন্দিন খাবারে ওমেগা-৩ বা কোলাইনের মতো মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য উপাদানের ঘাটতি থেকে যায়, যা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তার গতি কমিয়ে দেয়। এমনকি আমাদের অন্ত্র বা ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ সুস্থ না থাকলে তা আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্মৃতিশক্তিকে শাণিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সহায়ক এমন ১০টি বিশেষ খাবার নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের ফিচার।   ১. তৈলাক্ত মাছ মস্তিষ্কের জন্য অন্যতম সেরা খাবার হলো সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা মস্তিষ্কের কোষের গঠন এবং স্নায়ুকোষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।   ২. ডিম   ডিমকে বলা হয় স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতার জন্য আদর্শ খাবার। এটি কোলাইন নামক উপাদানের সেরা উৎস, যা অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরি করে; এটি স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা ধরে রাখে। এ ছাড়া ডিমের ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মন ভালো রাখার হরমোন ‘সেরোটোনিন’ তৈরিতে সাহায্য করে।   ৩. বেরি জাতীয় ফল স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা ব্ল্যাকবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। এর ফ্লেভোনয়েড উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং নতুন মস্তিষ্কের কোষ তৈরিতে উদ্দীপনা দেয়। এটি বয়সজনিত মানসিক অবক্ষয় রোধেও কার্যকর।   ৪. অ্যাভোকাডো পুষ্টিবিদদের মতে, এটি বিশ্বের অন্যতম নিখুঁত খাবার। এতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে [৯]। এর টাইরোসিন উপাদান আপনাকে কাজে মনোযোগী ও অনুপ্রাণিত রাখতে ভূমিকা রাখে।   ৫. কেল (সবুজ শাক) কেল বা এই জাতীয় সবুজ শাক পুষ্টির বোমা হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ভিটামিন ‘কে’ মৌখিক স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং ভিটামিন ‘সি’ প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে।   ৬. সামুদ্রিক শৈবাল আয়োডিন ও ভিটামিন বি-১২ এর চমৎকার উৎস হলো সামুদ্রিক শৈবাল। আয়োডিন বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে থাকা টাউরিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত ও প্রফুল্ল রাখে।   ৭. ডার্ক চকোলেট চকোলেটে থাকা ‘আনন্দমাইড’ নামক উপাদান মনকে পরম শান্তিতে ভরিয়ে দেয় [১৭]। এর সামান্য ক্যাফেইন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, তবে এটি আপনাকে অস্থির করে তোলে না।   ৮. আখরোট মস্তিষ্কের জন্য আখরোট হলো বাদামের মধ্যে সেরা। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে।   ৯. হলুদ রান্নার এই অতিপরিচিত মসলাটি বিষণ্নতা রোধে ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করতে পারে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়।   ১০. অলিভ অয়েল অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল স্মৃতিশক্তি এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় ফাংশন উন্নত করে। এটি মস্তিষ্কে আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী প্রোটিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।   সঠিক ডায়েট এবং পুষ্টিকর খাবার আপনার মস্তিষ্ককে কেবল সচলই রাখে না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনকে করে তোলে আনন্দময়।   নিউরো হেলথ অবলম্বনে

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৫৭১

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।   মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩০: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সাত দিনে ৩৩ জন মারা গেছেন।   এ ছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।   হাসপাতালে ভর্তি ৪৫ হাজারের বেশি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৫৭১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।   এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জনে।   একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৪১৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৪২ হাজার ১২৭ জন।   ঢাকায় রোগী সবচেয়ে বেশি: গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন করে ৭৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭৭ জন, খুলনায় ২৪২ জন, বরিশালে ১৪২ জন, রাজশাহীতে ১১৬ জন এবং ময়মনসিংহে ৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মাতৃমৃত্যু কমানো ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূলে বাংলাদেশের প্রশংসা ডব্লিউএইচওর

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পূর্ব তিমুরের রাজধানী দিলিতে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কমিটির ৭৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের হাতে সংস্থাটির অভিনন্দনপত্র তুলে দেন মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস।   অভিনন্দনপত্রে ডব্লিউএইচও উল্লেখ করেছে, মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সরকারের দৃঢ় নেতৃত্ব, কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি, সংগঠিত প্রজনন ও মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অগ্রগতির ফলে এ সাফল্য এসেছে।   সংস্থাটির মতে, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব ও ধাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, জনগণের সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করাও মাতৃমৃত্যু কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   এ ছাড়া গত এক দশক ধরে মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার (টিটেনাস) নির্মূলের অবস্থান ধরে রাখায় বাংলাদেশকে আলাদাভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়।   ডব্লিউএইচও বলেছে, শক্তিশালী জাতীয় অঙ্গীকার, কার্যকর ও মানসম্মত টিকাদান কর্মসূচি এবং দেশব্যাপী নিরাপদ প্রসবের চর্চা মা ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূলে বাংলাদেশের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এ অর্জন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে মা ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূলের অগ্রগতি ধরে রাখার সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেও এগিয়ে নিচ্ছে।   বাংলাদেশ সরকারের এই অর্জন এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার স্বীকৃতিকে সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এসব জনস্বাস্থ্য সাফল্যের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে সংস্থাটি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৪ জনে।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।   এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৩ জন রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে ৯৫৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৩১৯ জন, রাজশাহীতে ২৩, সিলেটে ১১২, চট্টগ্রামে ২৩৮, বরিশালে ১১৬, ময়মনসিংহে ৪৮, খুলনায় ৮৫ এবং রংপুরে ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।   গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬৯৬ জন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সেপ্টেম্বরের শেষেই বাড়তে পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এ এম এ মুহিত বলেছেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।   রবিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের টানেলে এক ব্রিফিংয়ে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।   স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য ও ডাটার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।   তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর এখনো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।   ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. এ এম এ মুহিত বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাসপাতালসহ সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য খাতে ৭৩ হাজার শূন্য পদ পূরণে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু

দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট কাটাতে শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   ইতোমধ্যে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ঘোষিত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কমাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ রয়েছে। এরই মধ্যে ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ১৮৪ চিকিৎসক আগামী ৭ সেপ্টেম্বর কাজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬৫ জন সহকারী সার্জন এবং ১৯ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন। অনুমোদিত পদের প্রায় এক তৃতীয়াংশই খালি স্বাস্থ্য খাতের জনবল পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৪টি। এর মধ্যে খালি রয়েছে ৭৩ হাজার ৪৫টি পদ, যা মোট অনুমোদিত পদের ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ। এই বড় ধরনের জনবল ঘাটতি পূরণে গত ৩০ জুন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে কর্মরত জনবল এবং শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়। এরপর গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩৪ হাজারের বেশি পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৩৪ হাজার ৭১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে ২০ হাজার ৮১৬টি এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদ খালি রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব পদ দ্রুত পূরণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে। আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন নেওয়া হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি, সেসব ক্ষেত্রেও নতুন করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং আগের আবেদনকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করার কথা বলা হয়েছে। নিয়োগ নিয়ে কোনো মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে সেগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শূন্য পদ পূরণের কার্যক্রম ইতোমধ্যে অনেকটা এগিয়েছে। জনবল নিয়োগের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর ধাপে ধাপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের ১ হাজার ৮৫৫টি পদে নিয়োগের জন্য আগের ছাড়পত্রের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে ১৭ ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে চার ক্যাটাগরিতে ১৮৮টি পদ রয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যায়ক্রমে এক লাখ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী স্বাস্থ্যকর্মী রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেছেন, ইশতেহার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান শূন্য পদ পূরণ করে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোই এখন এই কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খালি পেটে ফল খেলে উপকার, নাকি ক্ষতি?

ফল খাওয়া নিয়ে বাংলা ভাষায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ আছে ‘খালি পেটে জল আর ভরা পেটে ফল।’ অর্থাৎ ফল খেতে হবে ভরা পেটে। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে এ প্রবাদ সম্পূর্ণ সঠিক নয়। তবে খালি পেটে পানি খাওয়ার অনেক উপকারিতা থাকলেও ফল খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই।   সকালবেলা খালি পেটে ফল খাওয়া যাবে কি যাবে না, এ নিয়ে নানা মতবিরোধ রয়েছে। এমনকী সকালে খালি পেটে ফল খেলে উপকারের চেয়ে অপকারিতা বেশি বলেও প্রচলিত আছে। আসলেই কি তাই?   আমাদের ঘুম ভাঙার পরে ব্লাড সেল এবং ব্রেন সেলকে পুনরায় সক্রিয় করতে প্রয়োজন হয় প্রচুর প্রাকৃতিক শর্করার। আর এ কারণেই খালি পেটে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে করে শরীরে চিনির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও কমে। ফলে দূরে থাকা যায় ডায়াবেটিস থেকে।   নিয়মিত খালি পেটে ফল খেলে শরীরে উপকারী ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং মিনারেলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে, যা খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে। তাই সুস্থ থাকতে সকালের নাস্তায় নিয়মিত ফল রাখুন। সকালের নাস্তা খাওয়ার আগে ভিটামিন সি যুক্ত ফল খেলে আমাদের শরীর খাবারে থাকা পুষ্টিকর উপাদানগুলো বেশি মাত্রায় গ্রহণ করতে পারে। এতে শরীরের ভেতরকার পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। এর পাশাপাশি অ্যানিমিয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। তবে আমেদের মাঝে ফল খাওয়ার সঠিক বা ভুল সময় নিয়ে অনেক ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। আসলে যেকোনো সময় ফল খাওয়া স্বাস্থ্যকর। ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই।   ফল খাওয়া নিয়ে প্রচলিত শীর্ষ পাঁচটি ভুল ধারণা এবং তার সত্যতা তুলে ধরা হলো-   খালি পেটে ফল খাওয়া উচিত নয় অনেকেই মনে করেন খালি পেটে ফল খাওয়া উপকারী নয়। এটি ভুল ধারণা। সকালে ফল খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে তবে সব ফল খেলে সমান পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় না। ফল না খেলে তা হজমে বাধা দেয় এবং পেটে পচে গ্যাস বা অস্বস্তি তৈরি করে। ফলের ফাইবার হজমের গতি কিছুটা ধীর করলেও খাবারকে পেটে পচিয়ে ফেলার মতো কোনো ঘটনা ঘটে না।   খাবার খাওয়ার আগে বা পরে ফল খেলে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় ধারণা করা হয় যে খাবারের ঠিক আগে বা পরে ফল খেলে তার পুষ্টি পাওয়া যায় না। এটি ভুল। আমাদের পরিপাকতন্ত্র এবং ক্ষুদ্রান্ত্র যেকোনো খাবার থেকে পুষ্টি শুষে নিতে অত্যন্ত পারদর্শী। তাই আপনি কখন ফল খাচ্ছেন তাতে পুষ্টি শুষে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না। আপনার হজম শক্তি কতটা তার উপর নির্ভর করে ফল খাওয়ার আসল পুষ্টিগুণ।   ডায়াবেটিস থাকলে খাবার খাওয়ার ১-২ ঘণ্টা আগে বা পরে ফল খাওয়া উচিত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শুধু ফল খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এতে রক্তের শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়। বরং ফলের সাথে প্রোটিন, ফাইবার বা চর্বিজাতীয় খাবারের সাথে মিশিয়ে খেলে শর্করা রক্তে ধীরে প্রবেশ করে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।   ফল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো সকালবেলা সকালে ফল খেলে তা হজমতন্ত্রকে ‘জাগিয়ে তোলে’ বা বিশেষ কোনো উপকার করে এমন কোনো প্রমাণ নেই। আপনার জিব্বা যখনই খাবারে স্পর্শ করে, তখনই হজমতন্ত্র কাজ শুরু করতে প্রস্তুত থাকে। যেকোনো সময় ফল খাওয়া সমানভাবে উপকারী।   দুপুর ২টার পর ফল খাওয়া উচিত নয় কোনো কোনো ডায়েট প্ল্যানে দুপুর ২টার পর ফল বা শর্করা জাতীয় খাবার খেতে নিষেধ করা হয় এই বলে যে এটি ওজন বাড়ায়। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিকেল বা রাতের দিকে শর্করা রক্তে বেশি শর্করার মাত্রা বাড়াবে এমন কোনো প্রমাণ নেই।   যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমিক মেডিকেল সায়েন্সবিষয়ক ওয়েবসাইট এমডিলিংক্সও খালি পেটে ফল খেলে বেশি পুষ্টিগুণ পাওয়ার ধারণাটিকে প্রচলিত ধারণা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এমডিলিংক্স জানায়, ফল খালি পেটে খাওয়া হোক বা ভরা পেটে, সেটির পুষ্টিগুণ একই থাকে। অন্যান্য খাবারের সঙ্গে ফল খাওয়া অথবা খাবারের পর ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। তবে এটি সত্য, খালি পেটে ফল খেলে সেটি দ্রুত হজম হয়ে যায়।   ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম খাবারের ক্রম নয়, সুষম খাদ্যাভ্যাস জরুরি। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণত সবজি, প্রোটিন ও চর্বির পর ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। মূল বিষয় হলো, কার্বোহাইড্রেট বা ফল একা না খেয়ে তার সঙ্গে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখা।   পুষ্টিবিদ এলিজাবেথ জানান, কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের কোন অংশ আগে বা পরে খাওয়া হলো, তা পুষ্টি শোষণে বড় কোনো প্রভাব ফেলে না। তাই যেকোনো সময় বা নাশতায় নিজের পছন্দমতো ফল খাওয়া যায়।   বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সময়ের গুরুত্ব বেশিরভাগ মানুষের জন্য যেকোনো সময় ফল খাওয়া নিরাপদ হলেও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সামান্য সতর্কতা জরুরি-   ডায়াবেটিস রোগিদের খালি ফল খাওয়ার বদলে প্রোটিন, ফাইবার বা ফ্যাটযুক্ত খাবারের সাথে ফল খেলে রক্তের শর্করা হঠাৎ বেশি বাড়ে না। আবার যাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয় তাদের সকালবেলা ফল বা বেশি শর্করা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এ সময় অনেকের সকালে রক্তের শর্করার মাত্রা বেশি থাকে। সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া এখানে বেশি কার্যকর।   সুতরাং, ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তাই সময়ভেদে ফল খেলে এর পুষ্টিগুণেও কোনো তারতম্য হয় না; বরং যেকোনো সময়েই ফল খাওয়া যায়।তবে খাওয়ার আগে অবশ্যই ফল ধুয়ে নিতে হবে।   সূত্র: হেলথ লাইন

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হাম ও উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় এক হাজার ছুঁই ছুঁই।   শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত একদিনে (২৪ ঘণ্টা) দেশে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯১৭ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৯১ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।   এ ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৩ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৫ জন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ২১৪ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান।
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন যেসব খাবার

হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান। ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস হিসেবে দুধের কথা বলা হলেও, আরও অনেক প্রাকৃতিক খাবার রয়েছে যা শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, রাগি, তিল, টোফু, শাকসবজি, ছোট মাছ ও বাদাম নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে ক্যালসিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়ে।   রাগি (ফিঙ্গার মিলেট) রাগি বা ফিঙ্গার মিলেট ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ একটি ক্ষুদ্র শস্য। রুটি, দোসা, পোরিজ কিংবা খিচুড়ির মাধ্যমে সহজেই এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যোগ করা যায়। ক্যালসিয়ামের বিকল্প উৎস হিসেবে রাগি বেশ জনপ্রিয়। সাদা ও কালো তিল স্বাস্থ্যকর চর্বির পাশাপাশি তিলে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যালসিয়াম। সালাদ, চাটনি, লাড্ডু কিংবা বিভিন্ন রান্নায় টপিং হিসেবে তিল ব্যবহার করা যায়। তবে এতে ক্যালোরি বেশি থাকায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। টোফু ও সয়া-ভিত্তিক খাবার যারা দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেতে পারেন না, তাদের জন্য টোফু ও কিছু সয়া-ভিত্তিক খাবার ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে বিভিন্ন পণ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ভিন্ন হওয়ায় কেনার আগে পুষ্টি তথ্যের লেবেল দেখে নেওয়া উচিত।   শাকসবজি পাতাকপি, বক চয়, ব্রোকলি এবং বিভিন্ন পাতাযুক্ত শাকে ভালো পরিমাণ ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। সরিষা পাতার মতো শাকও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খেলে শরীরের ক্যালসিয়াম চাহিদা পূরণে সহায়তা মেলে। পালং শাক পালং শাকে ক্যালসিয়াম থাকলেও এতে অক্সালেটের মাত্রা তুলনামূলক বেশি। এই উপাদান শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই কেবল পালং শাকের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও খাওয়া জরুরি। ছোট মাছ কাঁটাসহ খাওয়া যায় এমন ছোট মাছ ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। নিয়মিত এ ধরনের মাছ খেলে ক্যালসিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। বাদাম বাদামে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি আরও নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিশেষ করে যারা উদ্ভিজ্জ খাবারের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বাদাম ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলেই হবে না, শরীরে এটি সঠিকভাবে শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন ডিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয়। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এই চাহিদা আরও বেড়ে যেতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাদ পড়া শিশুদের জন্য ফের হাম টিকাদান কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকাদানের আওতায় আনতে আবারও বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   তিনি জানান, আগের টিকাদান কর্মসূচিতে নানা কারণে কিছু শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। অনেক অভিভাবক পরবর্তী সময়ে বিষয়টি জানতে পারেননি। কেউ কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানকে টিকাকেন্দ্রে আনতে পারেননি, আবার কেউ কেউ জানান, টিকাদানের সময় শিশু স্কুলে থাকায় তাদের টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এভাবে কিছু শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যায়।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার। তবে শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি নতুন করে আরও শিশু এই বয়সসীমার মধ্যে এসেছে। ফলে টিকাদানে কিছুটা ঘাটতি থেকে গেছে এবং বাদ পড়া শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণের ঘটনা দেখা যাচ্ছে।   তিনি বলেন, বাদ পড়া শিশুদের জন্য ইতোমধ্যে মপ-আপ ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। মূল ক্যাম্পেইন ২০ মে শেষ হওয়ার পরের দিন থেকেই এই কার্যক্রম শুরু করা হয়। সিলেটেও লক্ষ্যমাত্রার বাইরে ৩ হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে আরও বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।   সিলেটের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে টিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বান্দরবানেও এক পর্যায়ে টিকা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। পরে দ্রুত সেখানে টিকা পাঠানো হয় এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সিলেটের হাওর এলাকার শিশুদের টিকাদানের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   তিনি জানান, শুক্রবার সিলেটের সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে দুটি বৈঠক করবেন তিনি। আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।   অবৈধ চিকিৎসা বন্ধে অভিযান: গ্রামাঞ্চলে অবৈধ চিকিৎসা ও অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সিলগালা করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় লেবার রুম নেই, সেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ভুয়া সনদধারী ব্যক্তি, অবৈধ চিকিৎসক ও অননুমোদিত টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এ জন্য অন্তত ছয় মাস সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   হাসপাতাল পরিদর্শনে চিকিৎসকদের উপস্থিতি: হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে তিনি ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। যেসব হাসপাতালে তিনি গেছেন, সেখানে প্রায় সব জায়গাতেই চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। শুধু চিকিৎসকদের সঙ্গে নয়, রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শন শুরুর পর চিকিৎসকদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে রোগীরা জানিয়েছেন। হাসপাতালের খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রেও উন্নতি হয়েছে বলে রোগীদের কাছ থেকে মতামত পেয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো হাসপাতালে সমস্যা চিহ্নিত হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালের ড্রেনেজ, খাবারের মান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভুল-ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডায়াবেটিস থাকলেও কি আলু খাওয়া যায়? জানালেন পুষ্টিবিদ

আলু আমাদের প্রতিদিনের রান্নায় বহুল ব্যবহৃত একটি সবজি। ভর্তা, ভাজি, তরকারি থেকে শুরু করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই—বিভিন্নভাবে আলু খেতে পছন্দ করেন ছোট-বড় প্রায় সবাই। তবে ডায়াবেটিসের সঙ্গে আলুর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ডায়াবেটিস হলে খাদ্যতালিকা থেকে আলু পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে কি তাই?   পুষ্টিবিদ অমিতা গাদরের মতে, ডায়াবেটিস থাকলেও পরিমাণ ও রান্নার পদ্ধতির দিকে খেয়াল রেখে আলু খাওয়া যেতে পারে। তাই আলুকে একেবারে নিষিদ্ধ খাবার হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।   ডায়াবেটিস থাকলেও আলু খাওয়া যায় আলুতে জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকলেও এর প্রধান উপাদান স্টার্চ। শরীরে এই স্টার্চ তুলনামূলক দ্রুত ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হতে পারে। ফলে আলু বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে একসঙ্গে বেশি আলু খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো।   তবে এর মানে এই নয় যে, আলু খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। বরং কতটা আলু খাওয়া হচ্ছে, কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এবং আলুর সঙ্গে অন্য কোন খাবার থাকছে—এসব বিষয়ও রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলে।   যেভাবে আলু খাওয়া তুলনামূলক ভালো আলু রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, আলু সেদ্ধ, বেক বা রোস্ট করে খাওয়া তুলনামূলক ভালো। অন্যদিকে অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলু, বিশেষ করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, নিয়মিত খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে আলুর সঙ্গে বাড়তি চর্বি ও ক্যালোরিও শরীরে যোগ হয়।   তবে সেদ্ধ বা বেক করা হলেই আলুর স্টার্চের কারণে রক্তে শর্করা বাড়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি দূর হয়ে যায় না। স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি অতিরিক্ত তেল ও ক্যালোরি কমাতে পারে, কিন্তু আলুর কার্বোহাইড্রেটের প্রভাব থেকে যায়।   আলুর সঙ্গে কী খাবেন? শুধু আলু না খেয়ে এর সঙ্গে প্রোটিন ও নন-স্টার্চি সবজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ। যেমন, পরিমাণমতো আলুর সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি বা ডাল এবং প্রচুর শাকসবজি খাওয়া যেতে পারে। এতে পুরো খাবারে কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।   কোন আলু তুলনামূলক ভালো? বাজারে বিভিন্ন ধরনের আলু পাওয়া যায় এবং সব জাতের আলুতে স্টার্চ ও পুষ্টিগুণের পরিমাণ এক নয়। বিশেষজ্ঞের মতে, সাধারণ সাদা আলুর কিছু জাতের তুলনায় মিষ্টি আলু এবং কিছু ওয়াক্সি ধরনের আলু—যেমন কারিসমা ও নিকোলা—তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে। এসব আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কিছু ক্ষেত্রে কম এবং স্টার্চের পরিমাণও তুলনামূলক কম হতে পারে।   তাই ডায়াবেটিস থাকলেই আলু পুরোপুরি বাদ দিতে হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী আলুর পরিমাণ এবং গ্রহণের পদ্ধতি ঠিক করা উচিত। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। তিনি আপনার খাদ্যতালিকায় আলু কতটা এবং কীভাবে রাখা যেতে পারে, সে বিষয়ে উপযুক্ত পরামর্শ দিতে পারবেন। সূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, ধারণক্ষমতার চার গুণ রোগী

উপকূলীয় শিল্পনগরী খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতেই সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে রোগীদের।  খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নানা উদ্যোগ, ওষুধ ছিটানো ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও বাস্তবে কমছে না এডিস মশার উপদ্রব। সংক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসা-বাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে কেসিসি ও স্বাস্থ্য বিভাগ। শহরের ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে তৎপর রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো।   সোমবার (৩১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২২৩ জন এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ৬০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। জেলাভিত্তিক হিসেবে খুলনা জেলাতেই সর্বোচ্চ ১৪৬ জন (সরকারি ৮৭ ও বেসরকারি ৫৯) নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫৫ জন।   অন্যান্য জেলার মধ্যে যশোরে ৩২, নড়াইলে ১২, ঝিনাইদহে ৮, সাতক্ষীরায় ৭ (মেডিকেল কলেজসহ ১৩), বাগেরহাটে ৫, মাগুরায় ৫, মেহেরপুরে ৪ এবং কুষ্টিয়ায় ৩ জন রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে চুয়াডাঙ্গায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি।   ডেঙ্গুর হটস্পট খুলনা, হাসপাতালে ভর্তি ধারণক্ষমতার চার গুণ বেশি রোগী উপকূলীয় শিল্পনগরী খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতেই সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে রোগীদের।    বিজ্ঞাপন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নানা উদ্যোগ, ওষুধ ছিটানো ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও বাস্তবে কমছে না এডিস মশার উপদ্রব। সংক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসা-বাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে কেসিসি ও স্বাস্থ্য বিভাগ। শহরের ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে তৎপর রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো।   সোমবার (৩১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২২৩ জন এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ৬০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। জেলাভিত্তিক হিসেবে খুলনা জেলাতেই সর্বোচ্চ ১৪৬ জন (সরকারি ৮৭ ও বেসরকারি ৫৯) নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫৫ জন।   অন্যান্য জেলার মধ্যে যশোরে ৩২, নড়াইলে ১২, ঝিনাইদহে ৮, সাতক্ষীরায় ৭ (মেডিকেল কলেজসহ ১৩), বাগেরহাটে ৫, মাগুরায় ৫, মেহেরপুরে ৪ এবং কুষ্টিয়ায় ৩ জন রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে চুয়াডাঙ্গায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি হননি।   খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৪৮ জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৯৫৪ জন এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৯৫৪ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৭৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন।   বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে খুলনায়ই ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাটের একজন মারা গেছে। চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত গেল ৭ মাসে ৮ জনের মৃত্যু হয়। আর শুধু আগস্ট মাসেই মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। গেল ৮ মাসে আগস্টেই ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে।   সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের। বিভাগের সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন এই বিশেষায়িত হাসপাতালে। এখানে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৩৮৯ জন ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে চাপ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে ডেঙ্গু রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। রোগীর চাপ এতটাই বেশি, নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ড ছাড়িয়ে বারান্দা, মেঝে ও করিডোরে বেড পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পেডিয়াট্রিক (শিশু) ওয়ার্ডে শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। চিকিৎসক ও নার্সরা দিনরাত সেবা দিলেও বেড ও জনবল সংকটে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু সরকারি হাসপাতালই নয়, শয্যা মিলছে না বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও।   খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজার মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীদের জন্য হাসপাতালে ডেডিকেটেড ১৫টি বেড থাকলেও প্রায় চারগুণ ভর্তি রোগী রয়েছে। বর্তমানে ৫২ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। সংকটকালীন বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে তাদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।   খুলনার আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ম্যানেজার মো. হোসেন আলী বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চাপ অনেক বেশি। বর্তমানে হাসপাতালে সিঙ্গেল বেড দেওয়ার অবস্থা নেই। বর্তমানে ৬০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. হিমেল ঘোষ বলেন, প্রতি বছর জুলাইয়ের পর থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ে। বর্ষা এবং বর্ষার শেষে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার করে। ফলে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। আগে এডিস মশা শুধু দিনে কামড়াতো। বর্তমানে রাত-দিন সমানভাবে কামড়াচ্ছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।   খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শওকত আলী বলেন, ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। পানি জমে থাকা স্থানে মশা জন্ম নেয়। এখন দেখা যাচ্ছে এডিস মশা শুধু স্বচ্ছ পানিতেই নয়, ময়লাযুক্ত পানিতেও বংশ বিস্তার করছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ ও মেডিকেল টিম গঠন করেছি। স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা এবং প্রতিরোধে যে ধরনের কাজ করা যায়, সবই করছি।   খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আইসোলেশন ইউনিট বা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে এবং প্রতিটি ওয়ার্ড বা ইউনিটে অন্তত ৫টি করে শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নরমাল স্যালাইন, খাওয়ার স্যালাইন, প্যারাসিটামলসহ প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কোনো সংকট নেই। ভর্তি রোগীদের জন্য মশারিরও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে Dengue NS1 এবং Anti Dengue IgM কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে মহানগরে ডেঙ্গু হটস্পট (রেড, অরেঞ্জ ও ইয়েলো জোন) চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ওয়ার্ড নং ১৭, ২২ ও ৩০-এ অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিশেষ সচেতনতা ও চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বস্তি ও ডেঙ্গু প্রবণ এলাকায় উঠান বৈঠক ও বিশেষ সেশনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন সাব-সেন্টার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।   ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা নগরীর এই সংকট মুহূর্তে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে মাঠে দেখা যাচ্ছে। খুলনার বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে দ্রুত খুলনাকে ‘মহামারি এলাকা’ ঘোষণার দাবি জানায় মহানগর বিএনপি। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ড্যাব, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো, ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া, রক্তদান কর্মসূচিসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং, ডায়াগনস্টিক সাপোর্ট, রক্ত সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছেন দলটির নেতারা। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনের পাশাপাশি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় রোগীদের চিকিৎসার কাজও বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এজন্য আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসক পরামর্শ, অবস্থা বুঝে ওষুধ সরবরাহ ও সার্বক্ষণিক আপডেট রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহানগরের প্রতিটি আক্রান্ত থানা এলাকায় কমপক্ষে একটি ৫০ শয্যার কেন্দ্রীয় সেবাকেন্দ্র এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুযায়ী বড় ওয়ার্ডে ২০ শয্যা ও ছোট দুটি ওয়ার্ড মিলে সমমানের সেবাকেন্দ্র প্রস্তুতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সেন্টারে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং সুবিধাসহ ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে হটলাইন নম্বর টাঙানো থাকবে এবং স্বেচ্ছাসেবী দল সার্বক্ষণিক কাজ করবে।   উদ্যোগগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে খুলনা মহানগর বিএনপি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি শক্তিশালী পরিচালনা ও তদারকি পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল পর্ষদের চিকিৎসাসেবা সমন্বয়ে কাজ করছেন ডা. রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা সমন্বয়ের দায়িত্বে মাসুদ পারভেজ বাবু। সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপিকে।   অন্যদিকে সোমবার আড়ংঘাটা থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনকালে খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক উদ্যোগ। জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পথ। তিনি বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। টিকাসহ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিশেধক ও পরিসেবার পরিধি বাড়াতে হবে। খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুরসহ জনবহুল এলাকাগুলো ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়গুলো বন্ধ থাকায় এডিস মশার বিস্তার রোধে জমে থাকা পানি অপসারণসহ পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ওয়ার্ড পর্যায়ে সমাজকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে, নগরবাসীর পাশে দাঁড়াতে হবে। দুঃস্থ ও অসহায় রোগাক্রান্তদের পানীয় ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহেও যথাসম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে বিত্তবানদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে।   কেসিসির রেড, ইয়েলো ও অরেঞ্জ জোন ভাগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পুরো নগরীতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। সংক্রমণ ও লার্ভার ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে কেসিসি নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে। এরমধ্যে ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন। রেড জোন থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।   নগর স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, রেডজোন হিসেবে ঘোষিত ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ১৭, ১৮, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০। অতিসংক্রামক ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ১, ১৯, ২৬ ও ৩০ ওয়ার্ড। মৃদু আক্রান্ত ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ২, ১০, ১২।   সিটি করপোরেশন তিনটি ওয়ার্ডে সেবা কেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে।  রোগীদের ব্যয় কমাতে মঙ্গলবার থেকে কেসিসির তত্ত্বাবধানে ১৭, ২২ ও ৩০ নং ওয়ার্ডে ফ্রি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে নাপা ট্যাবলেট ও স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে।   কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শামিউল ইসলাম জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় নাপা ট্যাবলেট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ ছাড়া মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে কেসিসির সচিব, প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৩টি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে লার্ভা ধ্বংসে ‘অ্যাবেট’ স্প্রে এবং বিকেলে ফগিং মেশিন দিয়ে এডিস মশা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং করা হচ্ছে।   এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি রোধে কঠোর অবস্থানে গেছে সিটি কর্পোরেশন। কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পরিচালনায় নগরীর বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ড্রেন ও প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালিত হচ্ছে। পরিদর্শনে কোথাও জমা পানি বা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলেই তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।   খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলামু মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে তিন মাস পূর্ব থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যও সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছি। কিন্তু ডেঙ্গু সংক্রমণ হ্রাসে আশানুরূপ ফল আসছে না।   কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক মাঠে নামানো হয়েছে। তবে শুধু কেসিসির ওষুধ ছিটানো দিয়ে এই দুর্যোগ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। টব, এসি বা ছাদে যেন জমা পানি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রেখে লার্ভামুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে নগরবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে হলে শুধু সড়ক ও ড্রেন নয়, প্রত্যেকের বাড়ি-ঘরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ঝোপঝাড় ও বদ্ধ পানি অপসারণ করতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬