বিগত সরকারের সময় ‘পরিকল্পনা ছাড়াই’ আমদানি করা চিকিৎসা যন্ত্রপাতি প্যাকেটবন্দি অবস্থায় ভাঙারির দোকানে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, রেডিওথেরাপি মেশিন বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ‘সুরক্ষা বাংকার’ (রেডিয়েশন বাংকার) তৈরি না করেই খুলনা ও ফরিদপুরের জন্য ১৮ কোটি টাকা করে দুটি যন্ত্র কেনা হয়েছিল। সেগুলো এখন পড়ে আছে। সোমবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবিকুন্নাহার বলেন, প্রায় ছয় লাখ মানুষের জন্য হাসপাতালটিতে মাত্র ১০ জন চিকিৎসক কাজ করছেন। সেখানে ৬৮টি পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ ও নারী চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে নিয়োগ না হওয়া, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থ উপেক্ষার কারণে স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের সমস্যার কথা বলতে এক ঘণ্টা সময় পেলেও শেষ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অপরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, অনেক হাসপাতালে এক্সরে মেশিন পাঠানো হলেও সেগুলো চালানোর মানুষ নেই। একইভাবে ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি থাকলেও ল্যাব টেকনিশিয়ান নেই বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিছু পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তির সুযোগ দিতে বিভিন্ন শর্ত যুক্ত করায় সেগুলো নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপির সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ অনুযায়ী দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। তবে আক্রান্তদের ৯২ শতাংশের বেশি কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না। দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জনবল রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন। সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ৩৫০ জন।
প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দেশের উদীয়মান ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘অল সমাধান’। একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স বুকিং, ওষুধ সরবরাহ, ফার্মেসি নেটওয়ার্ক এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ সেবা একত্রে প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই অল সমাধান সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে ১৫ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছেন। একই সঙ্গে ৭৫০টির বেশি পার্টনার ফার্মেসি, ৩৫০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং প্রায় ১,০০০ জন স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা অল সমাধানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবা প্রদান করছেন। প্রতিদিনই এই নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ জন নতুন ব্যবহারকারী অল সমাধান অ্যাপে নিবন্ধিত হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ টি নতুন ফার্মেসি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। দ্রুত এই প্রবৃদ্ধি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের বাড়তে থাকা আস্থা এবং প্রয়োজনীয়তারই প্রতিফলন। বাংলাদেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনো অনেক মানুষ নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। প্রয়োজনের মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া, রাতের বেলায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করা কিংবা জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করা অনেক সময়ই রোগী ও তার পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অল সমাধান এই বাস্তব সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান দিতে প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। অল সমাধান অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই নিকটস্থ পার্টনার ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ অর্ডার করতে পারেন। একই সঙ্গে নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের সুযোগও রয়েছে। অল সমাধানের অন্যতম মানবিক উদ্যোগ হলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ সেবা। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে প্রায় ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা নিবন্ধিত রয়েছেন। এই সেবার জন্য রোগী, স্বজন কিংবা রক্তদাতার কাছ থেকে কোনো ধরনের নিবন্ধন ফি বা সেবা চার্জ নেওয়া হয় না। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে জরুরি সময়ে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পেতে মানুষকে সহায়তা করা হচ্ছে। ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করতে অল সমাধান সারাদেশে একটি শক্তিশালী ফার্মেসি পার্টনার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। বর্তমানে ৭৫০টিরও বেশি ফার্মেসি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন ফার্মেসি অংশীদার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা নিজ এলাকার বিশ্বস্ত ফার্মেসি থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ বা ডেলিভারির সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ফার্মেসিগুলোকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে অল সমাধান একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি পার্টনার ফার্মেসিগুলোকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অল সমাধানের অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি ফার্মেসিগুলোর পরিচিতি বৃদ্ধি, নতুন গ্রাহক তৈরি এবং বিক্রি বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ও অফলাইন মার্কেটিং সহায়তাও প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম। অল সমাধান কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে ফার্মেসিগুলোর ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও আয় উভয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও তাদের নিকটস্থ বিশ্বস্ত ফার্মেসি থেকে দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স সেবার ক্ষেত্রেও অল সমাধান দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে। বর্তমানে ৩৫০টি অ্যাম্বুলেন্স প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জরুরি মুহূর্তে রোগী ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দ্রুত সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মূল্যবান সময় বাঁচাতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও সহজলভ্য করতে ঢাকা মেডিকেল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অল সমাধানের দুটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বুথ চালু হয়েছে। এই বুথের মাধ্যমে রোগী ও স্বজনরা জরুরি মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের তথ্য, বুকিং ও সমন্বয় সেবা পাচ্ছেন। এই উদ্যোগের ফলে রোগী পরিবহনে সময় কমবে, সেবার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া আরও সহজ হবে। শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে অল সমাধান। প্ল্যাটফর্মটির ডেলিভারি ম্যান (ডেলিভারি পার্টনার) হিসেবে যুক্ত হয়ে দেশের অনেক তরুণ নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বেকার যুবক এবং খণ্ডকালীন কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় আয়ের মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠছে। নিজস্ব মোটরসাইকেল বা সাইকেল ব্যবহার করে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে তারা আয় করতে পারছেন। ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকরা দ্রুত সেবা পাচ্ছেন, অন্যদিকে তরুণদের জন্য স্বনির্ভর হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অল সমাধান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আরও বেশি ডেলিভারি পার্টনার যুক্ত করে এই কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। অল সমাধান শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও রক্তদাতা সংযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাই হেল্থ (My Health)-এর সহযোগিতায় প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নার্সিং কেয়ার, ফিজিওথেরাপি, কেয়ারগিভার সেবা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ (ডাক্তার কনসালটেশন)-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারছেন। এর ফলে একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সমাধান পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগী, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সেবাপ্রার্থী এবং বাসায় স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য এই সেবাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অল সমাধান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও নতুন স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের মানুষ এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও অল সমাধান নিয়মিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নয়ন, দ্রুত সেবা নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা, পার্টনার ম্যানেজমেন্ট এবং আরও কার্যকর অর্ডার প্রসেসিং সিস্টেম গড়ে তুলতে অ্যাপটিতে ধারাবাহিকভাবে নতুন ফিচার সংযোজন করা হচ্ছে। ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাসপাতাল ও ফার্মেসিভিত্তিক প্রচারণা, অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে অল সমাধান। পাশাপাশি নতুন পার্টনার, ডেলিভারি সহযোগী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় তাদের সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স, ফার্মেসি, স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ, ফার্মেসি এবং বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাকে একটি অ্যাপের মাধ্যমে একত্রে প্রদান করার উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত চিত্র: নিবন্ধিত ব্যবহারকারী: ১৫,০০০+ পার্টনার ফার্মেসি: ৭৫০+ সংযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স: ৩৫০+ স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা: প্রায় ১,০০০ (সম্পূর্ণ বিনামূল্যে) প্রতিদিন নতুন ব্যবহারকারী: ৩০০–৪০০ জন প্রতিদিন নতুন পার্টনার ফার্মেসি: ৩০–৩৫টি প্রধান সেবা: অ্যাম্বুলেন্স বুকিং, ওষুধ সরবরাহ, ফার্মেসি নেটওয়ার্ক, বেকার তুরণদের জন্য আয়ের পথ সৃষ্টি এবং বিনামূল্যের রক্তদাতা সংযোগ স্বাস্থ্যসেবায় সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান। সেই উপলব্ধি থেকেই অল সমাধান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য, সহজলভ্য এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, সময়মতো সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব, আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই তাদের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ
দিন শুরুর প্রথম কাজ হিসেবে এক পশলা গরম পানির নিচে ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা অনেকের কাছেই প্রশান্তির। আবার অনেকের কাছে সারাদিনের ক্লান্তি আর ধুলোবালি শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় যাওয়াটাই পরম তৃপ্তির। এই দুই দলের মানুষের মধ্যে বিতর্ক বেশ পুরোনো, গোসল করার সঠিক সময় আসলে কোনটি? বিজ্ঞান আসলে কী বলে? সকালে গোসল করার পক্ষের মানুষরা মনে করেন, এটি তাদের ঘুম কাটাতে এবং নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রিমরোজ ফ্রিস্টোনের মতে, সকালে গোসল করা শরীরের জন্য উপকারী। কারণ এটি রাতে ঘুমানোর সময় শরীর থেকে নিঃসৃত ঘাম এবং জমে থাকা জীবাণু দূর করে। এমনকি শীতকালেও মানুষ ঘুমের মধ্যে ঘামতে পারে এবং প্রচুর পরিমাণে মৃত চামড়া বিছানায় ত্যাগ করে, যা ধুলিকণা বা ডাস্ট মাইটের প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়ায়। তাই সকালের গোসল আপনাকে সারাদিনের জন্য একদম পরিচ্ছন্ন ও সতেজ রাখে। অন্যদিকে, রাতে গোসল করারও বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক সুবিধা রয়েছে। সারাদিনের বাইরের ধুলোবালি, ঘাম, এবং পরিবেশ দূষণ থেকে শরীরে যে ময়লা জমে, তা রাতে ধুয়ে ফেলা হয়। যদি আপনি রাতে গোসল না করে বিছানায় যান, তবে সেই ময়লা আপনার বিছানার চাদর ও বালিশে স্থানান্তরিত হয়। বিজ্ঞান আরও বলছে যে, ঘুমানোর এক বা দুই ঘণ্টা আগে ১০ মিনিটের একটি কুসুম গরম পানির গোসল দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে। গোসলের ফলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং পরে তা দ্রুত কমতে শুরু করে, যা শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সংকেত দেয়। তবে রাতে গোসল করার উপকারিতা কেবল তখনই পাওয়া যাবে, যখন আপনার বিছানার চাদর ও বালিশ নিয়মিত পরিষ্কার থাকে। চাদরে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক হাপানি বা অ্যালার্জির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষক হোলি উইলকিনসনের মতে, রাতে গোসলের চেয়েও বিছানার চাদর পরিষ্কার রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরিচ্ছন্ন বিছানায় ঘুমালে ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাহলে কখন গোসল করা সবচেয়ে ভালো? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসলে ব্যক্তিগত পছন্দ এবং আপনার পেশার ওপর নির্ভর করে। যেমন: একজন কৃষক বা কঠোর পরিশ্রমী মানুষের জন্য দিনের শেষে গোসল করা জরুরি, যেখানে অন্যদের জন্য দিনে একবার গোসল করাই যথেষ্ট। আসলে আপনি দিনে একবার যে সময়েই গোসল করুন না কেন, স্বাস্থ্যের ওপর তার খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। মূল বিষয়টি হলো শরীরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং একটি সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা। তাই আপনার শরীর ও মন যখন চায়, তখনই সতেজ হয়ে নিতে পারেন এক পশলা পানিতে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
ফল স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য, তবে এটি খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কেউ মনে করেন খালি পেটে ফল খাওয়া ভালো, আবার কেউ বলেন খাবারের পর ফল খেলে হজমে সমস্যা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব নিয়ে নানা তথ্য ঘুরে বাড়ালেও বিজ্ঞান আসলে কী বলে, তা জানা জরুরি। পাকস্থলীতে ফল কি পচে যায়? একটি প্রচলিত ধারণা হলো, খাবারের পর ফল খেলে তা পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে এবং পচে গিয়ে গ্যাস বা হজমের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, পাকস্থলী প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট একসাথে হজম করার জন্য তৈরি। ফল খাবারের সাথে বা পরে খেলে তা পেটে পচে যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এতে পুষ্টি শোষণেও কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না। ওজন কমাতে চাইলে খাবারের আগে আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তবে খাবারের আগে ফল খাওয়া আপনার জন্য ফলদায়ক হতে পারে। ফলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও জল থাকে, যা দ্রুত পেট ভরার অনুভূতি দেয়। একটি ছোট ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খাবারের আগে ফল খেয়েছেন, তারা মূল খাবারের সময় কম ক্যালরি গ্রহণ করেছেন। ফাইবার ধীরে ধীরে হজম হয় বলে এটি দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি বজায় রাখে। রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ও ডায়াবেটিস ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফলের টাইমিং কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত ফল যেকোনো সময় খাওয়া নিরাপদ। তবে মাঝারি বা উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত ফলের ক্ষেত্রে মূল খাবারের পর খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা কেন হয়? যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা নির্দিষ্ট শর্করার প্রতি সংবেদনশীলতা রয়েছে, তারা ফল খাওয়ার পর অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। তবে এটি খাবারের টাইমিংয়ের চেয়ে ফলের ধরন এবং পরিমাণের ওপর বেশি নির্ভর করে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শারীরিক লক্ষণ বুঝে খাবারের তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। ফল খাওয়ার কার্যকর উপায় পুষ্টিবিদরা ফলকে একা না খেয়ে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সাথে মিলিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন। উদাহরণস্বরূপ, আপেলের স্লাইসের সাথে পিনাট বাটার বা টক দইয়ের সাথে বেরি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এই সংমিশ্রণটি পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করে। শেষকথা ফল খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ‘পারফেক্ট’ সময় নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আপনি কখন খাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাচ্ছেন কি না। যদি খাবারের আগে ফল খেলে আপনার পেট ভরা লাগে এবং তা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে, তবে সেটিই আপনার জন্য সঠিক সময়। আবার খাবারের পর ফল খেয়ে যদি আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে তাতে কোনো বাধা নেই। আসল কথা হলো, ঘড়ির কাঁটা নয়, বরং আপনার শরীর যেভাবে ভালো থাকে সেভাবেই নিয়মিত গোটা ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা সবখানেই। তবে সাধারণত আমরা কাঁঠালের কোষ খাওয়ার পর এর বিচিগুলো ফেলে দিই। অথচ জানলে অবাক হবেন, একটি কাঁঠালে ১০০ থেকে ৪০০টি পর্যন্ত ভোজ্য এবং পুষ্টিকর বিচি থাকতে পারে। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই বিচিগুলো কেবল সুস্বাদুই নয়; বরং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে, যা আমাদের জেনে রাখা জরুরি। পুষ্টির পাওয়ার হাউস কাঁঠালের বিচি প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের চমৎকার উৎস। ১০০ গ্রাম কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে প্রায় ২৫.৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ১.৫ মিলিগ্রাম আয়রন। এ ছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। বিশেষ করে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের অন্তর্গত থায়ামিন এবং রিবোফ্লাভিন এতে প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা শরীরের শক্তি উৎপাদনে এবং পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে। কেন খাবেন কাঁঠালের বিচি? হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ: এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বিচি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক: কাঁঠালের বিচিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন—ফ্ল্যাভোনয়েড ও স্যাপোনিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতি মেরামত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ‘জ্যাকালিন’ নামক উপাদানটি ক্যানসার বিরোধী হিসেবে পরিচিত। জীবাণুনাশক গুণ: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ই-কোলাই এবং সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। কখন এটি ক্ষতিকর হতে পারে? উপকারী হলেও সবার জন্য বা সব অবস্থায় কাঁঠালের বিচি নিরাপদ নাও হতে পারে। বিশেষ করে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন: অ্যাসপিরিন, অ্যান্টিপ্লেটলেট বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ) গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য কাঁঠালের বিচি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ এটি রক্ত জমাট বাঁধার গতি কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া কাঁচা কাঁঠালের বিচিতে ট্যানিন এবং ট্রিপসিন ইনহিবিটর থাকে, যা শরীরকে সঠিক পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। সঠিক প্রস্তুতিই সুস্থতার চাবিকাঠি কাঁঠালের বিচি থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে এবং ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে এটি কখনোই কাঁচা খাওয়া উচিত নয়। তাপ প্রয়োগ করলে এর মধ্যকার ক্ষতিকর উপাদানগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কীভাবে প্রস্তুত করবেন? সিদ্ধ করা: ২০-৩০ মিনিট পানিতে সিদ্ধ করে নিয়ে সালাদ বা তরকারিতে ব্যবহার করতে পারেন। রোস্ট করা: ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ২০ মিনিট বেক করে বা খোলায় ভেজে মচমচে স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়। অন্যান্য ব্যবহার: এটি শুকিয়ে গুঁড়ো করে আটা হিসেবে বেকিংয়ে ব্যবহার করা যায়, এমনকি স্মুদি বা হুমাসেও যোগ করা সম্ভব। সুতরাং, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে কাঁঠালের বিচি আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি চমৎকার পুষ্টিকর যোগ হতে পারে। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন
মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সচিব বলেন, গবেষণায় কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত গবেষণাই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান দিতে পারে। তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন ধাপে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি গবেষণায় উদ্ভাবিত সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা, চলমান গবেষণার অগ্রগতি এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা ও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআর, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান।
অনেকেই মনে করেন, কম খেলে ওজন কমার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, খাবার কম খাওয়ার পরও ওজন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে শুধু অতিরিক্ত ক্যালরি নয়, আরও নানা কারণ কাজ করতে পারে। ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়া। বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য কিংবা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীর আগের তুলনায় কম ক্যালরি পোড়াতে পারে। ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমে যায়। এ ছাড়া অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও ওজন বৃদ্ধির বড় কারণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে বেশি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। আবার দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে পেটে চর্বি জমতে পারে। কিছু ওষুধ, যেমন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন ও স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও ওজন বাড়তে পারে। পাশাপাশি হাইপোথাইরয়েডিজম বা নারীদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যাও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু কম খাওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয় ও সাদা রুটি কমিয়ে শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, মাছ, ডাল ও চর্বিহীন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম, ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এসব পরিবর্তনের পরও যদি ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আমাদের শরীরে কোথাও হঠাৎ ফোলা দেখা দিলে অনেকেই সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দিই না। বিশেষ করে গলায় ছোট একটি ফোলা হলে অনেকেই মনে করেন— এটি সর্দি-কাশি কিংবা সংক্রমণের কারণে হয়েছে। আর দীর্ঘস্থায়ী গলাব্যথা, গলার স্বর পরিবর্তন, খাবার গিলতে সমস্যা এবং ঘাড়ে চাকা অনুভব করা গলার ক্যানসারের প্রধান লক্ষণ। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এ জাতীয় সমস্যা থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, গলার ফোলা সবসময় সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি থাইরয়েড ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। তবে এ ক্যানসার যদি শুরুতেই ধরা পড়ে, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়। থাইরয়েড ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা প্রথম দিকে শনাক্ত করা গেলে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যানসার ধীরে ধীরে বাড়ে। তাই সময়মতো পরীক্ষা করালে এবং চিকিৎসা শুরু করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। বিশেষ করে গলায় ফোলা থাকলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ যদি ফোলাটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া আরও কয়েকটি লক্ষণের দিকে নজর রাখা দরকার। যেমন— হঠাৎ কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া কিংবা দীর্ঘদিন কর্কশ হয়ে থাকা। খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া বা গলায় চাপ অনুভব করা। এ ধরনের সমস্যা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত। আর লক্ষণগুলোর মানেই যে ক্যানসার, এমন নয়। অনেক সময় থাইরয়েডের সাধারণ সমস্যা, সংক্রমণ বা অন্য কোনো কারণেও এমনটি হতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে শ্রেয়। থাইরয়েড ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বায়োপসি করা হয়। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক ঠিক করেন কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন। আবার রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করে থাইরয়েড গ্রন্থির আক্রান্ত অংশ বা পুরো গ্রন্থি বাদ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি, ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসাও দেওয়া হয়। আধুনিক চিকিৎসার ফলে এখন থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে এক চিলতে প্রশান্তির ঘুমের বিকল্প নেই। আর সেই ঘুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আমরা অনেকেই বেছে নিই নরম তুলতুলে আরামদায়ক বালিশ। তবে অনেক সময় দেখা যায়, এই বালিশই হয়ে ওঠে সকালের ঘাড় বা পিঠ ব্যথার কারণ। মূলত ঘুমের সময় মেরুদণ্ডকে সঠিক অবস্থানে রাখা এবং শরীরের সাথে ঘাড়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখাই বালিশের প্রধান কাজ। তবে বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে একটি প্রশ্ন বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে, সুস্থ থাকতে বালিশ কি আসলেই প্রয়োজন, নাকি বালিশ ছাড়াই ঘুমানো বেশি উপকারী? চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, বালিশ ছাড়া ঘুমানোর সুফল সবার জন্য এক নয়, বরং এটি অনেকাংশে নির্ভর করে আপনার ঘুমানোর ভঙ্গির ওপর ঘুমানোর ভঙ্গি ও এর প্রভাব যারা মূলত উপুড় হয়ে বা পেটে ভর দিয়ে ঘুমান, তাদের জন্য বালিশ ছাড়া ঘুমানো কিছুটা উপকারী হতে পারে। পেটে ভর দিয়ে ঘুমালে শরীরের অধিকাংশ ওজন মাঝের অংশে থাকে, যা মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতাকে বজায় রাখতে বাধা দেয় এবং ঘাড় ও পিঠে চাপ সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে বালিশ ছাড়া ঘুমালে মাথা বিছানার সমতলে থাকে, যা ঘাড়ের ওপর চাপ কমায় এবং শরীরের সঠিক সারিবদ্ধতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে আপনি যদি পিঠে ভর দিয়ে বা কাত হয়ে ঘুমান, তবে বালিশ ছাড়া ঘুমানো উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে। বালিশ ছাড়া ঘুমালে ঘাড়ের পেশি ও জয়েন্টে অসমভাবে চাপ পড়তে পারে, যার ফলে ঘাড় ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং মাথাব্যথাও হতে পারে। চুলের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব অনেকে মনে করেন বালিশ ছাড়া ঘুমালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বালিশ ব্যবহার করা বা না করার সাথে চুলের স্বাস্থ্যের কোনো সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ রেশমি বালিশের কভার ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও এর স্বপক্ষেও পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। বালিশ ছাড়া ঘুমানোর অভ্যাস করতে চাইলে যদি আপনি আপনার বালিশটি সরিয়ে ফেলার কথা ভাবেন, তবে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি: ধীরে ধীরে অভ্যাস করুন: হঠাৎ করে বালিশ সরিয়ে না ফেলে প্রথমে পাতলা ভাঁজ করা তোয়ালে বা কম্বল ব্যবহার করুন এবং ধীরে ধীরে সেটির উচ্চতা কমিয়ে আনুন। শরীরের অন্যান্য অংশে সাপোর্ট: পেটে ভর দিয়ে ঘুমানোর সময় মেরুদণ্ডের অবস্থান উন্নত করতে তলপেট ও পেলভিসের নিচে একটি বালিশ রাখুন। আবার পিঠে ভর দিয়ে ঘুমালে হাঁটুর নিচে এবং কাত হয়ে ঘুমালে দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখা উপকারী। সঠিক গদি নির্বাচন: বালিশ ছাড়া ঘুমানোর সময় গদিটি খুব নরম হলে মেরুদণ্ড ঝুলে যেতে পারে এবং পিঠে ব্যথা হতে পারে। তাই সঠিক সাপোর্ট দেয় এমন গদি বেছে নিন। সতর্কতা আপনার যদি ঘাড় বা পিঠের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা থাকে কিংবা মেরুদণ্ডের কোনো সমস্যা (যেমন: স্কোলিওসিস) থাকে, তবে বালিশ ছাড়া ঘুমানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সারকথা বালিশ ছাড়া ঘুমানোর উপকারিতা মূলত নির্ভর করে আপনার ঘুমানোর অভ্যাসের ওপর। পেটে ভর দিয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হলেও পিঠ বা কাত হয়ে ঘুমানোর জন্য বালিশ থাকাই শ্রেয়। দিনশেষে, আপনি বিছানায় কতটা আরামদায়ক এবং ব্যথামুক্ত বোধ করছেন, সেটিই সুস্থ ঘুমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন
ব্যস্ত জীবনের চাপে অনেক সময়ই আমাদের দুপুর বা রাতের খাবার খেতে দেরি হয়ে যায়। আর তখনই দেখা যায় অদ্ভুত এক সমস্যা—সামান্য কারণেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠছে, ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি আমরা। ইংরেজিতে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘হ্যাঙ্গরি’ (Hangry), যা মূলত ‘হাঙ্গার’ (Hunger) এবং ‘অ্যাংরি’ (Angry) শব্দের সমন্বয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ক্ষুধা লাগলে কেন এমন হয়? এটি কি কোনো শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ, নাকি কেবলই মনের খেয়াল? গবেষণা কী বলছে? সম্প্রতি জার্মানির টুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় ও বন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিলস ক্রোমার এবং তার গবেষক দল ৯০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর এক মাসব্যাপী একটি গবেষণা চালান। তাদের প্রত্যেকের শরীরে গ্লুকোজ মনিটর বসানো হয়েছিল এবং দিনে দুবার স্মার্টফোনের মাধ্যমে তাদের মেজাজ ও ক্ষুধার মাত্রা রেকর্ড করা হতো। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষুধা লাগলে মেজাজ বিগড়ে যাওয়াটা কেবল রক্তে শর্করার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। বরং যারা তাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ সংকেতগুলো দ্রুত বুঝতে পারেন না, তারাই বেশি মেজাজ হারা। মস্তিষ্কের খেলা মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশটি যখন শরীরে শক্তির ঘাটতি শনাক্ত করে, তখন ক্ষুধার সংকেত পাঠায়। অন্যদিকে, আমাদের মস্তিষ্কের ‘ইনসুলা’ নামক অংশটি স্বাদ এবং আবেগ উভয়টিই নিয়ন্ত্রণ করে। ক্ষুধা এবং মেজাজের এই মেলবন্ধন আসলে আমাদের বিবর্তনেরই অংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলেই মানুষের মেজাজ খারাপ হয় না; বরং যখন মানুষ সচেতনভাবে বুঝতে পারে যে সে ক্ষুধার্ত, তখনই তার মেজাজ বিগড়াতে শুরু করে। ইন্টারোসেপশন : সুস্থতার চাবিকাঠি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় শরীর যখন তার অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনগুলো (যেমন- ক্ষুধা, তৃষ্ণা বা ক্লান্তি) শনাক্ত করতে পারে, তখন তাকে বলা হয় ‘ইন্টারোসেপশন’। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ইন্টারোসেপ্টিভ ক্ষমতা বা শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা বোঝার ক্ষমতা বেশি, তারা ক্ষুধার্ত থাকলেও নিজেদের মেজাজ তুলনামূলক বেশি স্থিতিশীল রাখতে পারেন। অন্যদিকে, যারা এই সংকেতগুলো বুঝতে দেরি করেন, তারা হুট করে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এটি কি কোনো রোগ? ক্ষুধা লাগলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া সরাসরি কোনো রোগ নয়, তবে এটি শরীরের একটি সতর্কবার্তা। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের এই সংকেতগুলোকে উপেক্ষা করলে তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি পারিবারিক বা কর্মক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় এবং অনেক সময় মানুষকে আবেগপ্রবণ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে বাধ্য করে। কেন কেউ কেউ দ্রুত ‘হ্যাঙ্গরি’ হয়ে পড়েন? ১. সচেতনতার অভাব: অনেক সময় কাজে বা ডিজিটাল ডিভাইসে এত বেশি মগ্ন থাকা হয় যে, ক্ষুধার প্রাথমিক সংকেতগুলো আমরা খেয়াল করি না। ফলে হঠাৎ করেই শক্তির মাত্রা কমে যায় এবং মেজাজ বিগড়ে যায়। ২. শিশুদের ক্ষেত্রে: শিশুদের শরীর ও মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয়, তাই তারা তাদের শরীরের সংকেতগুলো বড়দের মতো বুঝতে পারে না। এ কারণেই খাবার খেতে দেরি হলে শিশুরা হঠাৎ করে কান্নাকাটি বা জেদ শুরু করে। মেজাজ ঠিক রাখার উপায় খাবারের নির্দিষ্ট সময় বজায় রাখা: যখনই আমরা খাবার এড়িয়ে যাই বা দেরি করি, তখনই মেজাজ বিগড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই নিয়মিত বিরতিতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা জরুরি। ব্যায়াম ও শারীরিক সক্রিয়তা: নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর তার ক্ষুধার সংকেতগুলো আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে এবং বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত হয়। শরীরের কথা শোনা: নিজের শরীরের চাহিদা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। মেজাজ বিগড়ানোর আগে যখনই সামান্য ক্ষুধা অনুভব করবেন, তখনই হালকা কিছু খেয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। পরিশেষে বলা যায়, ‘হ্যাঙ্গরি’ হওয়া কোনো রোগ নয়, বরং শরীর যখন জ্বালানি বা শক্তি চায়, তখন মস্তিষ্ক আমাদের এই মেজাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে সতর্ক করে দেয়। তাই নিজেকে এবং পরিবারকে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে বাঁচাতে ক্ষুধার লক্ষণগুলো সময়মতো চিনে নেওয়া এবং নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
সকালে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের কাপে চুমুক না দিলে অনেকেরই দিন শুরু হয় না। ক্লান্তি দূর করতে কিংবা কাজের মাঝে নিজেকে চনমনে রাখতে চায়ের ওপর আমাদের নির্ভরতা এক অবিচ্ছেদ্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, যদি টানা ৯০ দিন বা তিন মাস এই প্রিয় পানীয়টি পান করা ছেড়ে দেন, তবে আপনার শরীরে ঠিক কী কী পরিবর্তন ঘটবে? ভারতের থানের কিমস হাসপাতালের ডায়াবেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. বিজয় নেগালুর জানান, চা পান বন্ধ করলে শরীর প্রথমে ক্যাফেইনের আকস্মিক অভাব অনুভব করে এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে নতুন এক ভারসাম্য খুঁজে নেয়। দীর্ঘ তিন মাসের এই যাত্রায় ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে শরীর কীভাবে আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, তারই এক চমকপ্রদ বিশ্লেষণ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। প্রথম দুই সপ্তাহ: আসক্তি মুক্তির লড়াই যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের জন্য প্রথম এক থেকে দুই সপ্তাহ বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এ সময় ক্যাফেইন না পাওয়ার কারণে শরীরে কিছু প্রত্যাহারজনিত লক্ষণ দেখা দেয়। এ সময় প্রচণ্ড মাথাব্যথা, ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে চায়ের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষাও কাজ করে। ডা. নেগালুর জানান, এগুলো মূলত ক্যাফেইন না পাওয়ায় শরীরের সাময়িক প্রতিক্রিয়া, যা সময়ের সাথে সাথে কমে আসে। তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহ: স্থিতিশীলতা ফিরে আসা প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে শরীর নতুন অভ্যাসের সাথে মানিয়ে নিতে শুরু করে। এ সময় শক্তির মাত্রা সারাদিন স্থিতিশীল থাকে এবং চা পানের পর যে সাময়িক চনমনে ভাব বা পরবর্তীতে ক্লান্তিবোধের চক্র, তা দূর হয়ে যায়। চায়ের ওপর নির্ভর না করেই অনেকে আগের চেয়ে বেশি সতেজ বোধ করতে শুরু করেন এবং অহেতুক চায়ের তৃষ্ণা কমে আসে। উন্নত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি চায়ে থাকা ক্যাফেইন অনেকের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। চা ছেড়ে দিলে বা কমিয়ে দিলে ঘুমের মান নাটকীয়ভাবে উন্নত হয়। বিশেষ করে যারা বিকেলের পর চা পান করতেন, তারা লক্ষ্য করবেন যে এখন আরও দ্রুত ঘুম আসছে এবং গভীর ঘুম হচ্ছে। উন্নত মানের ঘুমের ফলে পরদিন মেজাজ ফুরফুরে থাকে এবং কাজের প্রতি একাগ্রতা বাড়ে। হজমশক্তি ও দীর্ঘমেয়াদী সুফল অনেকেই খালি পেটে চা পান করেন, যা থেকে অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা হতে পারে। ৯০ দিনের এই যাত্রায় এ ধরনের অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়। তিন মাস পর শরীর পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে গেলে শক্তির স্থিতিশীল মাত্রা বজায় থাকে এবং ক্যাফেইনের ওপর চিরস্থায়ী নির্ভরতা কমে যায়। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস ছাড়লে তা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং দাঁতের হলদেটে ছোপ বা দাগ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। সবশেষে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ সুস্থ থাকার জন্য যে চা পুরোপুরি বর্জন করতে হবে, বিষয়টি তেমন নয়। ডা. নেগালুর জানান, পরিমিত পরিমাণে চা পান করা ক্ষতিকর নয়। সমস্যা তখনই হয় যখন কেউ ক্লান্তির সাথে লড়াই করতে অতিরিক্ত চায়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তাই চা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে নিজের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপের ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
জ্বর আসলে শরীরে অস্বস্তি, ক্লান্তি এবং ঘাম হওয়া খুব স্বাভাবিক। এই অবস্থায় গোসল করা নিয়ে আমাদের সমাজে নানা রকম মত প্রচলিত আছে। কেউ বলেন জ্বর থাকলে একদমই গোসল করা যাবে না, আবার কেউ বলেন ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে জ্বর কমে যাবে। এই নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের ফরিদাবাদের অমৃতা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সঞ্জয় রায়না। ভ্রান্ত ধারণা ও বাস্তবতা সাধারণত মনে করা হয় যে জ্বরের সময় গোসল করলে শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, এটি একটি ভুল ধারণা। প্রকৃতপক্ষে, হালকা গরম বা কুসুম কুসুম গরম পানিতে গোসল করা অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ এবং এটি জ্বর নিরাময়ে সাহায্য না করলেও রোগীকে অনেকটা সতেজ ও আরামদায়ক অনুভব করতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীর থেকে ঘাম পরিষ্কার হয় এবং শরীর প্রাকৃতিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কেন ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলবেন? অনেকেই মনে করেন বরফ-ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমবে। কিন্তু চিকিৎসকরা এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। ডা. রায়নার মতে, খুব ঠান্ডা পানি শরীরে কাঁপুনি সৃষ্টি করতে পারে, যা পেশিতে তাপ তৈরি করে এবং শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া ঠান্ডা পানি অস্বস্তি এবং কাঁপুনি বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত গরম পানিও ক্ষতিকর ঠান্ডা পানির মতো অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করাও ঠিক নয়। কারণ অতিরিক্ত গরম পানি: ঘামের মাধ্যমে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে। মাথা ঘোরার সমস্যা বাড়াতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং শারীরিক অস্বস্তি তৈরি করে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, হালকা গরম পানি ব্যবহার করা, যা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে না। কখন গোসল করা থেকে বিরত থাকবেন? জ্বর থাকলেও গোসল করা নিরাপদ হলেও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। যদি রোগী: প্রচণ্ড দুর্বল অনুভব করেন। মাথা ঘোরে বা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হয়। বিভ্রান্তি বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকেন। নিজে নিরাপদভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে না পারেন। খুব বেশি জ্বরের সাথে গুরুতর অসুস্থতা থাকে। এমন অবস্থায় গোসলের চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বিশ্রাম নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সুস্থ হতে আরও যা প্রয়োজন মনে রাখতে হবে, জ্বর কোনো রোগ নয় বরং এটি শরীরে অন্য কোনো সংক্রমণের উপসর্গ। তাই শুধু শরীরের তাপমাত্রা কমানোর দিকে নজর না দিয়ে চিকিৎসকরা আরও কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলেছেন: প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও পানি পান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখা। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া। পুষ্টিকর ও হালকা খাবার খাওয়া। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা। কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি জ্বর দুই থেকে তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে, শ্বাসকষ্ট হয়, তীব্র মাথাব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, বারবার বমি হয় কিংবা রোগী বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জ্বরের বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। পরিশেষে বলা যায়, জ্বর মানেই গোসল বন্ধ নয়। নিয়ম মেনে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে আপনার শরীর পরিষ্কার থাকবে এবং আপনি মানসিকভাবেও স্বস্তি বোধ করবেন, যা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
ওজন কমানো অনেকের জন্যই জটিল হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ‘মিরাকল ড্রিংক’, কঠোর ডায়েট ও দ্রুত ফলের টিপস ঘুরে বেড়ায়। অনেকেই মনে করেন, একটিমাত্র সহজ সমাধানেই অতিরিক্ত ওজন কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, স্থায়ীভাবে চর্বি কমাতে কোনো শর্টকাট নেই—এটি নির্ভর করে নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের ওপর। ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেকেই ভুল কিছু ধারণায় ভরসা রাখেন, যার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। চর্বি কমানোর ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ ভুল ধারণা সম্পর্কে বর্ণনা দেন তারা। ১) অনেকে দ্রুত ওজন কমাতে চান, কিন্তু দ্রুত ফলের চেষ্টা করতে গিয়ে অতিরিক্ত কঠোর ডায়েট বা ব্যায়ামের পথ বেছে নেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। ২) শুধু কার্ডিও বা হাই-ইনটেনসিটি ট্রেনিং করলেই ফ্যাট লস হয় না। পেশি গঠন ও রিকভারি না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে মেটাবলিজম দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ৩) একদিনের কঠিন ব্যায়াম শরীর বদলে দেয় না। পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক ট্রেনিংই স্থায়ী ফল দেয়, শুধু ট্রেন্ড অনুসরণ করলে নয়। ৪) অতিরিক্ত ক্যালরি কমিয়ে দেওয়া দ্রুত ওজন কমালেও শরীর দুর্বল করে, ক্ষুধা বাড়ায় এবং পেশি কমিয়ে দেয়। সঠিক পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই জরুরি। ৫) ওজন প্রতিদিন পানি, হরমোন ও ঘুমের কারণে ওঠানামা করে। তাই এক দিনের স্কেলের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল। ৬) ঘাম ফ্যাট কমার নির্দেশক নয়, এটি শুধু শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া। পরিবেশ ও আবহাওয়াও এতে প্রভাব ফেলে। ৭) মোটিভেশন সবসময় থাকে না। ফল পেতে হলে নিয়মিত রুটিন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৮) লেবু পানি, জিরা পানি বা অ্যাপল সাইডার ভিনেগার—কোনো ‘ডিটক্স ড্রিংক’ একা চর্বি কমাতে পারে না। এগুলোর কিছু উপকার থাকলেও এগুলো কোনো জাদুকরি সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞরা যা খুব সহজ বা নাটকীয় মনে হয়, সেটির ওপর ভরসা না করে বাস্তব ও কার্যকর অভ্যাসগুলোর ওপর মনোযোগ দিতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
দেশে হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রোগটির প্রতিষেধক বা টিকা পেয়েছে যেই শিশুরা, সেই একই বয়সিদের খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল। অথচ কাগজ-কলমে দুই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশু সংখ্যায় ব্যবধান ৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৩ জন! জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচির তুলনায় হাম-রুবেলা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় চার মিলিয়ন কম হলেও সরকারি হিসাবে কী করে টিকার কাভারেজ ১০৩ শতাংশ হলো? তাহলে কি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার ক্ষেত্রে বড়সড় কোনো গলদ আছে? আবার শিশুদের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ উপাদান ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর লক্ষ্য ও পূরণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা। এর মধ্যে হাম কিংবা উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে বাস্তবে কোনো উল্লেখযোগ্য সফলতাও আসে নাই। দুই কর্মসূচিরই শিশুর বয়স ৬ থেকে ৫৯ মাস জানিয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) এক কর্মকর্তা বলেন, “ইপিআইয়ের টার্গেট শিশু হয়েছে আন্ডারএস্টিমেড, আর পুষ্টি প্রতিষ্ঠানেরটা (ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচি) হয়েছে ওভার। হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে মোট এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ হাজার শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্য ঠিক করা হয়। মাস দুয়েক আগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। হামের শুক্রবারের বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এক কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশুকে প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ। এর মধ্যে গত ২৮ জুন সারাদেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হয়েছে, যা দুর্গম অঞ্চলে চলেছে আরো চারদিন ধরে। এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ভিটামিন এ খাওয়ানো হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের (আইপিএনএইচ) পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বৃহস্পতিবার বলেন, “আমাদের টার্গেট ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর। তবে এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। এ ক্যাম্পেইনের আগে গত ২৫ জুন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, “জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত রোববার ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করে বলেন, “সারাদেশের বাচ্চাদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু করেছি; যার মধ্যে ছয় মাস থেকে ১১ মাস বয়সি ৩৫ লাখ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। দুটি মিলে ২ কোটি ৫৫ লাখের বেশি শিশুদের এই ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। আর হামের বুলেটিনের পরিসংখ্যান অনুসারে, টিকা নিয়েছে এক কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশু। গলদ কোথায়? ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে ঠিক করা হয়েছিল, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, “আমরা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে শিশুদের তথ্য চেয়েছিলাম, তাদের থেকে পাওয়া তথ্য একসঙ্গে করে আমরা ক্যাপসুল খাওয়ানোর শিশুদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছি। হামের টিকাদানের চেয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানোতে শিশুদের সংখ্যার তারতম্য নিয়ে তিনি বলেন, “সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কেন্দ্র কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে জানা নাই। আমরা আমাদের পদ্ধতিতে শিশুদের তালিকা করেছি। হামের টিকাদান কর্মসূচি এবং ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন কর্মকর্তা-বিশেষজ্ঞ বলেন, মাইক্রোপ্ল্যান করে টিকাদানের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়, এবার সেটি ঠিক করার মতো ‘পর্যাপ্ত সময় মেলেনি’। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মাইক্রোপ্ল্যানের জন্য সাধারণত দুই থেকে তিন মাস সময়ের দরকার পড়ে। এবার টিকার ক্যাম্পেইন মে মাসের শুরুতে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে তরিঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ফলে মে মাসের ক্যাম্পেইন শুরু হয় এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “ইপিআই জুন মাসের আগে টিকা ক্যাম্পেইনের পক্ষে ছিল না। কিন্তু সরকারি চাপ এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় টিকা দেওয়া শুরু হয়। হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সমালোচনার মধ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বা পাঁচ বছর বয়সি টিকা দেওয়া শুরু করে। এরপর ১২ এপ্রিল শুরু হয় চার সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একই বয়সি শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার, যা শেষ হয় ২০ মে। ইপিআই সম্পর্কে ওয়াকিবহাল—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবার পরিস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ের পরিকল্পনা বা ‘মাইক্রোপ্ল্যানের’ জন্য সেভাবে সময় পাওয়া যায়নি। তাই ২০২২ সালের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে টিকার জন্য টার্গেট শিশুর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। তার ভাষ্য, জরুরি ক্যাম্পেইনের জন্য ২ কোটি ১০ লাখের মতো টিকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। “সেই হিসাবে ক্যাম্পেইনে আরো শিশু টিকা পাওয়া কথা।” রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান ২৭ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “টিকাদানের ক্ষেত্রে গ্যাভি মূলত পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুসরণ করে। আর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে আমাদের শিশুদের সংখ্যা কিছুটা কম দেখানো হয়েছে। এই একটি কারণে টিকাদান এবং ক্যাপসুল খাওয়ানোর টার্গেট শিশু সংখ্যার বড় ব্যবধান দেখা দিতে পারে। “দ্বিতীয়ত, ইপিআইয়ের টিকাদানের ক্ষেত্রে এবার খুব ভালোভাবে মাইক্রোপ্ল্যান হয়নি, সেটি আরেকটি কারণ হতে পারে। সব শিশুর হামের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, “এটি ছাড়া হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। টিকার ‘কাভারেজ’ নিয়ে প্রশ্ন সরকারি হিসাবে লক্ষ্যের তুলনায় ১০৩ শতাংশ টিকাদানের তথ্য দেওয়া হলেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণেই যে গলদ আছে তা ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচিতে স্পষ্ট। দেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুর ‘প্রকৃত সংখ্যা’ কত তা জানার সুযোগ নেই। তবে ‘প্রকৃত সংখ্যার’ চাইতে ‘কম সংখ্যক’ শিশুকে টিকা দেওয়ায় এখনো হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি না বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ। সরকারি হিসাবেই শুক্রবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে ৭২৪ জনের প্রাণ গেছে। প্রতিদিনই এ পরিসংখ্যানে নতুন নতুন নাম যোগ হচ্ছে। সরকারি টিকার ‘কাভারেজ’র তথ্য নিয়ে সন্দিহান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারি যে টার্গেট শিশু—তারা কাভারেজের অংশ হয়েছে। সেখানে দেশের সব শিশু অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে। “সর্বশেষ ক্যাম্পেইনের আগে পর্যাপ্ত সময় পায়নি, তাই হয়তো মাইক্রোপ্ল্যানে অনেক শিশু বাদ পড়েছে। কিন্তু মহামারী মোকাবিলায় সবাইকে টিকা দেওয়া জরুরি। টিকার ‘কাভারেজ’ নিয়ে সংশয় রয়েছে আরেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদেরও। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটি এলাকায় টিকার কাভারেজ যদি ৯৫ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে সেই এলাকায় হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সরকারের ১০০ শতাংশের বেশি ‘কাভারেজের’ দাবির বিষয়ে অধ্যাপক বেনজির বলেন, “টিকার কাভারেজ সরকার যা বলছে তা হয়তো সঠিক নয়। “কারণ শতভাগ টিকা কাভারেজ হলে এত সময় পর অবশ্যই হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতো, যেটি হয়নি। এটি থেকে বোঝা যায়, টিকার কাভারেজে সমস্যা আছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের দাবি, টিকার ‘কাভারেজ’ খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি গত ১৮ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “বর্তমানে হামের সংক্রমণ, নিশ্চিত হাম রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা আগের চেয়ে কমে গেছে। আর হাম একবারে কমে যাবে না। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আশা করি, জুন মাসের শেষে একেবারে কমে যাবে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী রোববার বলেন, “এত বড় সংখ্যা ব্যবধানের একটি বিষয় হতে পারে যে, আমাদের দেশের কিছু জায়গায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আওতায় আগেই হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “টিকা কাভারেজে সংখ্যার ভুল হওয়ার কথা নয়। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা আমাদের টার্গেট শিশু সংখ্যা নির্ধারণে সাহায্য করে। তবে বিষয়টা নিয়ে আমরা আরেক বার মিলিয়ে দেখব। তবে জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী মনে করেন, এবার আসলে লক্ষ্যমাত্রায় গলদ হয়েছে। টিকার কাভারেজ সরকারিভাবে যা দেখানো হচ্ছে, সেটি ঠিক নয়। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর সংখ্যাই সঠিক। হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ টিকার কাভারেজ প্রয়োজন, তা থেকে আমরা দূরে আছি। এ জন্য হামের সংক্রমণ কমছে না। দ্রুত শিশুদের টিকা দিতে হবে। সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শুক্রবার বলেন, “দুটারই টার্গেট শিশুর সংখ্যা সঠিক। তবে টিকার গ্রহণের ভীতি থেকে অনেক বাচ্চা টিকা নেয়নি, সে কারণে টিকা ক্যাম্পেইনে শিশুর সংখ্যা কম হয়েছে। আর ক্যাপসুলের ক্ষেত্রে সেটা বেশি হয়েছে। তবে আমাদের টিকার ক্যাম্পেইন শেষ হলেও বাদ পরা শিশুদের এখনো টিকা দেওয়া হচ্ছে৷ আশা করি, বাদ পড়া বড় সংখ্য শিশুরাও টিকার আওতায় আসবে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৩৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৩৬ শিশু। এছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আরও ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২৯ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জন। এদিকে একই সময়ে আরও ৯৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬১ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৪৪ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুজনিত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। শুক্রবার (৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) ১৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১ জন, বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) ১০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) ৮ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন মোট ৫ হাজার ৯৮৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৫৮ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে একই সময়ে নতুন করে ৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১ জন, বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন রয়েছেন। একই সময়ে ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৯৮৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ৬ হাজার ৪৫৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত ছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন।
বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের একটি বড় অংশ সময়মতো চিকিৎসা শুরু করতে পারছেন না। ফলে রোগ জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে, চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছে বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (বিআরএফ)-এর একটি গবেষণা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ৫৬ শতাংশ নারীর ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর চূড়ান্ত চিকিৎসা শুরু হতে চার মাসেরও বেশি সময় লেগেছে। গবেষণাটি ঢাকার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ৩৫৫ জন স্তন ক্যানসার রোগীর ওপর পরিচালিত হয়। গবেষণার নেতৃত্ব দেন বিআরএফের বিজ্ঞানী ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন। গবেষণা দলে ছিলেন মোহাম্মদ নাঈম হাসান, সুমাইয়া খান তৃষা এবং ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. মো. ওয়াহিদ আখতার। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ৪১ শতাংশ রোগী উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তিন মাসের বেশি সময় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করেছেন। এছাড়া ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা, রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নানা কারণে পিছিয়ে গেছে। প্রথমবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী ক্যানসারের দ্বিতীয় ধাপে এবং ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ রোগী তৃতীয় ধাপে ছিলেন। গবেষকদের মতে, চিকিৎসা শুরুতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক রোগীর ক্যানসার এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যেখানে চিকিৎসা আরও জটিল, ব্যয়বহুল এবং সফলতার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম থাকে। চিকিৎসায় দেরির পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা কারণও চিহ্নিত হয়েছে। ৭৯ শতাংশ নারী মনে করেছিলেন স্তনের সমস্যাটি নিজে থেকেই ভালো হয়ে যাবে। ৭৬ শতাংশ অবহেলার কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি করেছেন এবং ৬৬ শতাংশ আর্থিক সংকটকে দায়ী করেছেন। এছাড়া ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ নারী স্তন পরীক্ষা করাতে বা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেছেন। অন্যদিকে ৩৮ শতাংশ নারী ক্যানসার ধরা পড়া বা কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসার ভয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষা, আয় এবং বসবাসের স্থান চিকিৎসা বিলম্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নিরক্ষর নারীদের চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। একইভাবে নিম্ন আয়ের পরিবার এবং গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী নারীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা শুরুতে বিলম্বের হার উল্লেখযোগ্য। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে রংপুরে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে গবেষকরা গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্যবিমাসহ আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছেন। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সফলতার হার অনেক বেড়ে যায়। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় এবং মৃত্যুঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১,১১৯ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আরও ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ সময়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২৪ জনে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫৪ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২,২৮৬ জনে। অন্যদিকে, গত এক দিনে আরও ৯৬৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,০২,৯৩৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৬,৪২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৮২,৭৫৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন প্রায় অতিষ্ঠ। বাইরে যেমন প্রখর রোদ ও গরম, তেমনি ঘরের ভেতরেও যেন মিলছে না স্বস্তির ছোঁয়া। অনেকেই এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) কেনার কথা ভাবছেন। কিন্তু সবার পক্ষে এসি কেনা বা নিয়মিত চালিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বিদ্যুতের বাড়তি খরচও অনেকের জন্য বড় চিন্তার বিষয়। তবে কিছু সহজ, কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এসি ছাড়াও ঘর এবং শরীরকে অনেকটাই শীতল রাখা সম্ভব। জেনে নিন প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পাওয়ার ১৪টি কার্যকর কৌশল। ১. বেশি বেশি পানি পান করুন ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও জৈবিক প্রকৌশলের সিনিয়র লেকচারার ইমেরিটাস ওয়েনডেল পোর্টারের মতে, শরীরকে ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। পানি ঠান্ডা হোক বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার—এটি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ শরীরে প্রবেশ করার পর পানি নিজেই শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরে ঘামের উৎপাদন স্বাভাবিক থাকে। আর ঘাম বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দেয়, ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা থাকে। ২. ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করুন গরমে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে আসে এবং তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাওয়া যায়। সম্ভব হলে পেপারমিন্টযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। এতে থাকা মেনথল মস্তিষ্কের বিশেষ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে, যা শরীরে ঠান্ডার অনুভূতি সৃষ্টি করে। ৩. আইসব্যাগ ব্যবহার করুন ঘাড়, কবজি কিংবা কপালে আইসব্যাগ বা ঠান্ডা ভেজা কাপড় রাখলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। এসব স্থানে রক্তনালি ত্বকের খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে এসব অংশ ঠান্ডা হলে রক্ত দ্রুত ঠান্ডা হয়ে পুরো শরীরেও তার প্রভাব পড়ে। ৪. টেবিল ফ্যানের সঠিক ব্যবহার সিলিং ফ্যানের পাশাপাশি একটি টেবিল ফ্যান ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস চলাচল আরও ভালো হয়। জানালার পাশে ফ্যান রাখলে এটি ঘরের গরম বাতাস বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং বাইরে থেকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করে। তবে বাইরে যদি প্রচণ্ড রোদ থাকে, তাহলে আগে জানালার পর্দা টেনে রাখুন। রোদ কমে এলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন। শরীরের কাছাকাছি ফ্যান রাখলেও গরমের অস্বস্তি অনেকটাই কমে। ৫. জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করুন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জানালার পর্দা টেনে রাখুন। এতে সূর্যের সরাসরি তাপ ঘরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং ঘরের ভেতরের তাপমাত্রাও তুলনামূলক কম থাকবে। ৬. সুতি কাপড় ব্যবহার করুন গরমের সময় সুতি কাপড় সবচেয়ে আরামদায়ক। শুধু পোশাক নয়, বিছানার চাদর ও বালিশের কভারেও হালকা রঙের সুতি কাপড় ব্যবহার করলে ঘুমের সময় শরীর অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকে। ৭. ঘরে গাছ রাখুন ইনডোর গাছ শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ঘরের পরিবেশও কিছুটা শীতল রাখতে সাহায্য করে। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং পরিবেশকে আরও সতেজ করে তোলে। কম আলোতে টিকে থাকতে পারে— এমন গাছ ঘরে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ৮. প্রয়োজন শেষ হলে চুলা বন্ধ রাখুন রান্না শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলা বন্ধ করে দিন। এতে যেমন গ্যাসের অপচয় কমবে, তেমনি রান্নাঘরের অতিরিক্ত তাপ অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে পড়বে না। ৯. অব্যবহৃত ঘরের দরজা বন্ধ রাখুন যেসব ঘর ব্যবহার করা হয় না বা যেখানে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা কম, সেসব ঘরের দরজা বন্ধ রাখুন। এতে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বাতাস ব্যবহারযোগ্য ঘরেই থাকবে। ১০. বাথরুম ও রান্নাঘরে এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন রান্নার সময় উৎপন্ন গরম বাতাস এবং গোসলের পর তৈরি হওয়া গরম বাষ্প দ্রুত বাইরে বের করে দিতে এগজস্ট ফ্যান কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ১১. দিনের বেলায় অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ রাখুন প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলায় লাইট জ্বালিয়ে রাখবেন না। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ঘরের অতিরিক্ত তাপও কিছুটা কমবে। ১২. সম্ভব হলে ঘরের বাইরে রান্না করুন সুযোগ থাকলে উঠান বা খোলা জায়গায় রান্না করুন। কারণ রান্নার সময় উৎপন্ন তাপ পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের ভেতরের পরিবেশ আরও গরম করে তোলে। ১৩. ঠান্ডা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান গরমের সময় তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, ডাবের পানি, ঠান্ডা ফলের রস কিংবা অন্যান্য শীতল ফল খেতে পারেন। আইসক্রিম খেলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ অতিরিক্ত চিনি শরীরের ভেতরের বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে তাপের অনুভূতি বাড়াতে পারে। ১৪. ফ্যানের সামনে বরফের পাত্র রাখুন টেবিল বা স্ট্যান্ড ফ্যানের সামনে একটি পাত্রে বরফ কিংবা খুব ঠান্ডা পানি রেখে দিন। ফ্যানের বাতাস বরফের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে ঘরে তুলনামূলক শীতল বাতাস ছড়িয়ে পড়ে। টেবিল ফ্যান না থাকলে সিলিং ফ্যানের নিচেও বরফের পাত্র রাখা যেতে পারে, যা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে শুধু ঘর ঠান্ডা রাখাই নয়, শরীরের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসি না থাকলেও কিছু সহজ অভ্যাস ও সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে গরমের অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান, ঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, হালকা পোশাক এবং সচেতন জীবনযাপন—এই ছোট ছোট পদক্ষেপই তীব্র গরমে এনে দিতে পারে বড় স্বস্তি।
সারা দেশে আজ রবিবার থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাম্পেইন-২০২৬। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সারা দেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৫০০ অস্থায়ী কেন্দ্র, যেমন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও ফেরিঘাটে ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই কাজে নিয়োজিত থাকবেন। নির্ধারিত দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরদিন সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তা গ্রহণ করা যাবে। এ ছাড়া ১২ জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলার জন্য আরো চার দিন বিশেষ কার্যক্রম চলবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।