বিশ্বের অনেক দেশেই মাশরুম একটি জনপ্রিয় এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার। মাশরুম রক্তচাপ কমাতে, টিউমার কোষের বিরুদ্ধে, বহুমূত্র রোগীদের জন্য, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, বাত-ব্যথার মতো রোগের বিরুদ্ধে উপকারী বলে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন। তবে প্রকৃতিতে মাশরুমের হাজার রকমের জাত রয়েছে এবং এগুলোর অনেকগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন শুধু উত্তর আমেরিকায়ই মাশরুমের ১০ হাজারের বেশি প্রজাতির রয়েছে। খাবার হিসেবে গ্রহণ করলে এগুলোর ২০ শতাংশই মানুষকে অসুস্থ করে দিতে পারে, আর শতকরা এক ভাগ তাৎক্ষণিকভাবে মানুষ মেরেও ফেলতে পারে। মাশরুমের নানা জাতের মধ্যে বাংলাদেশে ৮-১০টি জাতের চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশেই পাওয়া যায় মাশরুমের এমন অনেক জাত, বিশেষ করে বুনো মাশরুম, অনেক সময় শরীরের জন্য বিষাক্ত ও ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেছেন, পরিচিত জাতের বাইরে অন্য মাশরুম, বিশেষ করে বুনো মাশরুম কখনোই খাওয়া উচিত নয়। কারণ মাশরুম শরীরের জন্য উপকারী হলেও সব মাশরুম উপকারী নয়। বরং অনেক মাশরুম মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে ব্যাঙের ছাতা বলে পরিচিত বুনো মাশরুমে এক ধরনের ছত্রাক থাকে, যা লিভার-কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তথ্যসূত্র : বিবিসি বাংলা
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে সমন্বিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। রোগটির বিস্তার রোধ, আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশব্যাপী স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু বেড চালু এবং বিশেষ মশকনিধন অভিযান শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও বিনামূল্যে বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যাতে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুধু চিকিৎসা নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধেও জোর দেওয়া হচ্ছে। এজন্য সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা দূর করা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং লার্ভা নিধন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের খোলা স্থানে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার আশা করছে, সমন্বিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা আরও সহজ হবে।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৯ শিশু। এতে মৃত্যু বেড়ে ৫৮৮ তে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুগুলো হামের উপসর্গজনিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯০ শিশু এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৯৮ শিশুসহ মোট ৫৮৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে মোট ৭২ হাজার ৭০ শিশুর শরীরে। এর মধ্যে ৫৭ হাজার ৯০২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৭২২ শিশু। এ সময়ের মধ্যে ৯ হাজার ৯৪ শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ১৭৯ শিশুর মধ্যে ৪৫ জনের হামে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৩৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক হৃদ্রোগ সম্মেলন ‘ইউরো পিসিআর’-এ বাংলাদেশের প্রখ্যাত হৃদ্রোগবিশেষজ্ঞ ও গবেষক অধ্যাপক ডা. মো. আফজালুর রহমান তাঁর নতুন গবেষণা উপস্থাপন করেছেন। তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক। ১৯ থেকে ২২ মে আন্তর্জাতিক এই হৃদ্রোগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আফজালুর রহমানের গবেষণার বিষয় ছিল কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনাল টিম ট্রান্সফার পদ্ধতিতে হৃদ্রোগের ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা। তিনি নতুন ধারণার এই চিকিৎসা পদ্ধতির নাম দিয়েছেন, ‘রিভার্স পিসিআই’ পদ্ধতি। এই গবেষণা হৃদ্রোগের ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা দেশব্যাপী সম্প্রসারণে একটি নতুন ধারণা হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে ব্লক হলে অনেক ক্ষেত্রে করোনারি স্টেন্ট (হার্টের রিং) প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের চিকিৎসার জন্য দক্ষ ইন্টারভেনশনাল হৃদ্রোগবিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত ক্যাথ ল্যাব টেকনিশিয়ান ও নার্সের সমন্বয়ে বিশেষ টিম প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের দক্ষ জনবল সীমিত। আফজালুর রহমান তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, যেসব হাসপাতালে ক্যাথ ল্যাব রয়েছে কিন্তু দক্ষ টিম নেই, সেখানে বিশেষজ্ঞ টিমকে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানান্তরের মাধ্যমে সফলভাবে পিসিআই বা স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে ৫৫৯ জন রোগীর ওপর পরিচালিত গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করেন। গবেষণায় দেখা যায়, স্থানীয় চিকিৎসকদের সহযোগিতায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষজ্ঞ টিম বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে সফলভাবে চিকিৎসা দিতে পারে। এর মাধ্যমে সীমিত জনবল ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক হৃদ্রোগ চিকিৎসা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। পিসিআর অনলাইন জার্নাল ইতিমধ্যে গবেষণাপত্রটির সারমর্ম প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবলসংকটে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ‘রিভার্স পিসিআই’ মডেল একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।
সিট ফাঁকা না থাকায় রাজধানীর মহাখালী বিশেষায়িত হাসপাতালে হামের রোগী ভর্তি নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছন স্বজনরা। তারা জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের সাধারণ চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। অনেকে রোগীর অবস্থা গুরুতর দাবি করলেও হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারছেন না। এদিকে, যারা রোগী ভর্তি করাতে পেরেছেন তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের বেশিরভাগ ডাক্তার-কর্মচারী ঈদের ছুটিতে থাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না তারা। একই অভিযোগ মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধী হাসপাতাল নিয়েও। ফলে রোগীর প্রয়োজনীয় টেস্ট করানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্বজনদের। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৮৩ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ জনে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৯৩ জন। এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৯৯৬ শিশু আর সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ হাজার ৬১২।
স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত লাখো নারীকে ভবিষ্যতে কেমোথেরাপি ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। নতুন এক জিনগত (জেনোমিক) পরীক্ষার মাধ্যমে কোন রোগীর কেমোথেরাপি প্রয়োজন এবং কার প্রয়োজন নেই, তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। শনিবার (৩০ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্টি কলেজ অব লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে এ গবেষণা হয়। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপটিমা’ নামে আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় চার হাজার চারশোর বেশি রোগী অংশ নেন। এ তালিকায় যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের রোগীরা ছিলেন, যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি। এই গবেষণায় দেখা গেছে, হরমোন-সংবেদনশীল স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত যেসব রোগীর জিনগত পরীক্ষার স্কোর কম, তারা শুধুমাত্র হরমোন থেরাপি নিয়েই নিরাপদে চিকিৎসা নিতে পারেন। গবেষণায় ব্যবহৃত ‘প্রোসাইনা’ নামের পরীক্ষাটি টিউমারের ৫০টি জিনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ধারণ করে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কেমোথেরাপি প্রয়োজন হবে কি না। অংশগ্রহণকারীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষকে কেমোথেরাপি এড়িয়ে শুধু হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব বলে আন্তর্জাতিক এই গবেষণায় দেখা গেছে। কেমোথেরাপি দেওয়ার ফলে সাধারণত একজন রোগীর মধ্যে ক্লান্তি, বমিভাব, চুল পড়া, প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো নানা স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। গবেষকরা এ পরীক্ষার নাম দিয়েছেন ‘প্রোসিগনা’। এই পরীক্ষায় ৫০টি জিনের গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হয়, যেগুলো মূলত ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষণে মূলত এটাই হিসাব করা হয়, রোগটি ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটা। স্কোর যাদের কম, তাদের কেমোথেরাপি নেওয়া ছিল না। এই হার চার হাজারের দুই-তৃতীয়াংশ। এই দলে পাঁচ বছর পর্ন্ত বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের মধ্যে এই হার ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ। স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর ক্যান্সার কোষ ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে কেমোথেরাপি দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ক্যান্সার কোষ শুধু লিম্ফ নোডের আশপাশে ছড়িয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা এমন রোগীদেরও কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। ইউসিএল বলেছে, চিকিৎসকরা একটা বিষয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। সেটা হলো- স্তন ক্যান্সারের অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি সামান্যই কাজে আসে। ইংল্যান্ডের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার (এনএইচএস) অধীনে থাকা ৫ হাজারের বেশি রোগীর সামনে কেমোথেরাপি এড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে কার্ডিফের বাসিন্দা কারেন বনহ্যাম জানান, গবেষণার ফল তার জন্য ‘খুবই স্বস্তির’ একটা খবর; অনেকটা ‘বড়দিনের উপহার’ পাওয়ার মতো। জানা যায়, ‘প্রোসিগনা’ পরীক্ষার কারণে ৬৪ বছরের এই রোগী কেমোথেরাপি এড়াতে পেরেছেন। তিনি গত আট বছর রেডিওথেরাপি ও হরমোন থেরাপি নিয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া এবং এর চিকিৎসা শুরু হওয়া- দুটোই জীবনে ধাক্কা দেওয়ার মতো ঘটনা। এটি আপনাকে অনিশ্চয়তার এক জগতে ঠেলে দেয়। জীবনের অগ্রাধিকারের তালিকা বদলে যায়; একটাই ইচ্ছা বেঁচে থাকে, সেটা বেঁচে থাকা।’ পরীক্ষা কার্ক্রমের প্রধান ইউসিএল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রোব স্টেইন বলেন, এই ফল ক্যান্সার চিকিৎসাকে ব্যক্তিভেদে আলাদা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই গবেষণায় শুধু প্রচলিত ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করা হয়নি। পাশাপাশি টিউমারের জৈবিক বৈশিষ্ট্যকে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, রোগীদের জন্য এর অর্থ হলো, অনেকেই কেমোথেরাপির শারীরিক ও মানসিক ধকল এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এটি সম্পদের আরও যথাযথ ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে। তবে ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল প্রযোজ্য কি না, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি বলে জানিয়েছে ইউসিএল। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফল পেতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে।
সিরাজগঞ্জ জেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে রোগী ভর্তি পরিস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১৪ জনে। সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩২ জন রোগী হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৭ জন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৭৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে ১৭ মে পর্যন্ত জেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০০ জন। মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে আরও ২১৪ জন নতুন রোগী যুক্ত হয়েছে। আক্রান্ত রোগীরা বর্তমানে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জেলার অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আজকাল কবজিতে ফিটনেস ট্র্যাকার বা স্মার্টওয়াচ পরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সুস্থ থাকার তাগিদে অনেকেই এখন প্রতিদিনের হাঁটার হিসাব রাখেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে আসলে কত কদম হাঁটেন? গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পদক্ষেপ গণনা করেন, তারা অন্যদের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২,৫০০ কদম বেশি হাঁটেন। বয়স ও লিঙ্গভেদে হাঁটার তারতম্য মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটার পরিমাণ কমতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে— ১৮ বছরের নিচে: শিশুরা সাধারণত প্রতিদিন ১০,০০০ থেকে ১৬,০০০ কদম হাঁটে। প্রাপ্তবয়স্ক (১৮+): একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ গড়ে ৪,০০০ থেকে ১৮,০০০ কদম পর্যন্ত হাঁটতে পারেন। লিঙ্গভেদ: শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত পুরুষরা সাধারণত নারীদের তুলনায় বেশি হাঁটেন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা প্রতিদিন গড়ে ৫,৩৪০ কদম এবং নারীরা ৪,৯১২ কদম হাঁটেন। পেশা যখন হাঁটার নিয়ন্ত্রক আপনার প্রতিদিনের হাঁটার পরিমাণ অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কী কাজ করেন তার ওপর। একটি অস্ট্রেলীয় গবেষণায় ১০টি ভিন্ন পেশার মানুষের হাঁটার গড় হিসাব পাওয়া গেছে— ওয়েটার: প্রতিদিন গড়ে ২২,৭৭৮ কদম নার্স: ১৬,৩৯০ কদম খুচরা বিক্রেতা: ১৪,৬৬০ কদম শিক্ষক: ১২,৫৬৪ কদম অফিস কর্মী: ৭,৫৭০ কদম কল সেন্টার কর্মী: ৬,৬১৮ কদম বিশ্বজুড়ে হাঁটার চিত্র বিভিন্ন দেশের মানুষের হাঁটার গড়েও রয়েছে বড় পার্থক্য। ২০১৭ সালের একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে— হংকং: তালিকায় শীর্ষে, এখানকার মানুষ গড়ে ৬,৮৮০ কদম হাঁটেন। চীন: ৬,১৮৯ কদম যুক্তরাজ্য: ৫,৪৪৪ কদম ভারত: ৪,২৯৭ কদম ইন্দোনেশিয়া: তালিকার নিচের দিকে, মাত্র ৩,৫১৩ কদম। জলবায়ু, রাস্তার হাঁটার উপযোগিতা এবং আয়ের ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যার পরিবর্তন হতে পারে। সুস্থ থাকতে লক্ষ্য কত হওয়া উচিত? সাধারণত প্রতিদিন ১০,০০০ কদম হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করাকে আদর্শ মানা হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি (CDC)-র মতে, সুস্থ থাকতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা প্রয়োজন, যা দিনে গড়ে ২,০০০ কদমের মতো দ্রুত হাঁটার সমান। তবে সারাদিনের অন্যান্য কাজ মিলিয়ে ১০,০০০ কদমের লক্ষ্য পূরণ করা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো। প্রতিদিন হাঁটার পরিমাণ বাড়ানোর কিছু সহজ উপায় ১. লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। ২. কেনাকাটা বা কাজের প্রয়োজনে গাড়ি একটু দূরে পার্ক করে বাকি পথ হাঁটুন। ৩. বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে হাঁটুন। ৪. ঘরের কাজ নিজে করার চেষ্টা করুন। ৫. কাজের বিরতিতে ছোট ছোট হাঁটাহাঁটি করুন। প্রতিদিনের এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপহার দিতে পারে। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন
পিরিয়ডের নির্দিষ্ট তারিখ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেক নারীরই ত্বকে ব্রণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এটি কেবল কিশোরীদের নয়, বরং ৩০ বা ৪০ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রেও একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় দামি রূপচর্চা করেও এই সমস্যার সমাধান হয় না, যা অনেকের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেন এমন হয় এবং এর প্রতিকারই বা কী, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মুম্বইয়ের স্যার এইচ.এন. রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সোনালী কোহলি। কেন বাড়ে ব্রণের দাপট? চিকিৎসকের মতে, পিরিয়ডসের ঠিক আগে শরীরে ইস্ট্রোজেন (Oestrogen) হরমোনের মাত্রা হঠাৎ কমে যায় এবং অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। এই অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ফলে ত্বকের নিচে থাকা সেবেসিয়াস গ্রন্থি বা তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থিগুলো উদ্দীপিত হয় এবং অতিরিক্ত ‘সিবাম’ তৈরি করতে শুরু করে। এই অতিরিক্ত তেল যখন ত্বকের মরা কোশ এবং ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে যায়, তখনই লোমকূপ বা পোরস বন্ধ হয়ে ব্রণ, হোয়াইটহেডস কিংবা যন্ত্রণাদায়ক সিস্টিক অ্যাকনে তৈরি হয়। থুতনি বা চোয়ালেই কেন বেশি হয়? হরমোনের তারতম্যের কারণে হওয়া এই ব্রণের একটি নির্দিষ্ট ধরণ বা প্যাটার্ন আছে। এটি সাধারণত মুখের নিচের অংশে, বিশেষ করে থুতনি, চোয়ালের রেখা এবং গালের চারপাশে বেশি দেখা যায়। কারও ক্ষেত্রে এটি সামান্য হলেও, অনেকের ক্ষেত্রে তা মারাত্মক লালচে ও যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। যেসব অভ্যাস সমস্যা বাড়িয়ে দেয় শুধুমাত্র হরমোন নয়, আমাদের প্রতিদিনের কিছু জীবনযাত্রার অভ্যাসও এই সমস্যাকে ত্বরান্বিত করে: মানসিক চাপ: স্ট্রেস বাড়লে শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা ত্বকে তেলের উৎপাদন ও প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। ঘুম ও জলের অভাব: পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং শরীর জলশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়লে ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। ভুল ডায়েট: অতিরিক্ত মিষ্টি, ফাস্টফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস এই সময়ে ব্রণের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। ভুল রূপচর্চা: পিরিয়ডসের আগে সংবেদনশীল ত্বকে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং বা কড়া রাসায়নিক ব্যবহার করলে ত্বকের সুরক্ষা স্তর বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরোয়া উপায়ে প্রতিকার ডা. কোহলি পরামর্শ দিচ্ছেন যে, পিরিয়ডসের আগে অনেক বেশি অ্যান্টি-অ্যাকনে প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে লাইফস্টাইলে ছোট কিছু বদল আনা জরুরি: ১. মাইল্ড স্কিনকেয়ার: মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন এবং সবসময় নন-কমেডোজেনিক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট বেছে নিন। ২. খাবারে নিয়ন্ত্রণ: ডায়েটে চিনি, তেল-মসলা এবং প্রসেসড ফুড কমিয়ে পুষ্টিকর খাবার যোগ করুন। ৩. পর্যাপ্ত জল ও ঘুম: দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস জল পান করুন এবং ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। ৪. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: নিজেকে শান্ত রাখতে যোগব্যায়াম বা প্রাণায়াম করতে পারেন। কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? পিরিয়ডসের আগে সামান্য ব্রণ হওয়া স্বাভাবিক হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি বড় সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। যদি ব্রণের সঙ্গে নিচের লক্ষণগুলো থাকে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি: অনিয়মিত পিরিয়ডস। মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম। আচমকা ওজন বৃদ্ধি। অতিরিক্ত চুল পড়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়া। এই উপসর্গগুলো থাকলে তা পিসিওএস, থাইরয়েডের সমস্যা বা শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির ইঙ্গিত হতে পারে। পরিশেষে, পিরিয়ডসের আগে ব্রণ হওয়া একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। নিজের শরীরের হরমোনের ধরন বুঝে সঠিক লাইফস্টাইল অনুসরণ করলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল
গত ২৪ ঘন্টায় দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে মোট আক্রন্ত রোগীর সংখ্যা ৮৭৭ জন। আজ (বৃহস্পতিবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮২৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৯০৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৫১ জন। আর গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৮৮৫ জন। ১৫ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪ হাজার ১৮২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫০ হাজার ৯২৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আর পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৪৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৩২ হাজার ৭২ জন হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ১৬৫ জন।
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের প্রাণহানির ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মগবাজারের ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ছয়টি প্রাণ ঝরে গেছে। বিষয়টি তদন্তে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে হঠাৎ করেই কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দুপুরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাসেবা, ওয়ার্ডের পরিবেশ ও রোগীদের খাবারের মান পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ নেন চিকিৎসা ব্যবস্থার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এর আগে সকালে মন্ত্রী পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফিরে যান তিনি।
ঈদুল আজহা সমাগত- যার অপর নাম কোরবানি ঈদ। ঈদ হলো আনন্দের দিন। এই আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার। কোরবানির ঈদের অন্য খাবারের সঙ্গে মূল আয়োজন বিভিন্ন রকমের গোশত খাওয়া, যেমন গরু, খাসি, মহিষ, এমনকি উটের গোশত। ঈদ উৎসবে সবারই মনের প্রবল ইচ্ছা বেশি করে গোশত খাওয়া। দু-এক দিন বেশি খেতে যদিও খুব বাধা নেই, তবুও খাওয়া উচিত রয়েসয়ে। স্বাস্থ্যবিধি এবং নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করলে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটার আশঙ্কা কমবে এবং ঈদকে আনন্দময় করে তোলা যাবে। আমাদের একটু নজর দেওয়া দরকার আমরা কী খাচ্ছি, কতটুকু খাচ্ছি, বিভিন্ন খাবারের প্রতিক্রিয়া কী তার ওপর। মূল সমস্যাটা নিঃসন্দেহে খাবারের পরিমাণে। অনেকেই একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে হজম করতে পারেন না। এ ছাড়া কোরবানির জন্য গোশতের পরিমাণটা একটু বেশিই খাওয়া হয়। ঈদ উৎসবে অনেকেরই মনের প্রবল ইচ্ছা বেশি করে মাংস খাওয়া। অনেকেই আছেন যারা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অনেক বেশি মাংস খেতে পছন্দ করেন। আবার এমনও কেউ আছেন যারা মাংসের ক্ষতির প্রভাব মনে করে একেবারেই খেতে চান না। মনে রাখতে হবে, মাংসের যেমন ক্ষতিকর দিক কিছু আছে, তেমনি এর কিন্তু যথেষ্ট উপকারও আছে। কারণ মাংস হচ্ছে প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম উৎস। তবে খাদ্য সচেতনতাও সবচেয়ে বেশি জরুরি। বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগেন, তাদের খাবার নিয়ে থাকে অনেক সংশয়। এক্ষেত্রে বলা যায়, দু-এক দিন বেশি খেতে যদিও খুব বাধা নেই, তবু খাওয়া উচিত রয়ে-সয়ে। সমস্যা হতে পারে যাদের পেটের পীড়া, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ আছে কিংবা যাদের এসব রোগের প্রাথমিক লক্ষণ আছে। ঈদের সময় সবার বাসায়ই কমবেশি নানা মুখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়। নিজের বাসায় তো বটেই, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের বাসায় এবং বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে সারা দিনই টুকিটাকি এটা-সেটা খাওয়া হয়, যেগুলো আমাদের সংস্কৃতিরই অংশ। মাংস পরিমাণমতো খাবেন : মাংস তো খেতেই হবে, তাতে বাধা নেই। মূল সমস্যাটা নিঃসন্দেহে খাবারের পরিমাণে। অনেকেই একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে হজম করতে পারেন না। তা ছাড়া কোরবানির মাংস পরিমাণে একটু বেশিই খাওয়া হয়। ফলে পেট ফাঁপা, জ্বালাপোড়া, ব্যথা এমনকি বারবার পায়খানা হতে পারে। অতি ভোজনে পেটে ভরা ভাব, অস্বস্তিকর অনুভূতি, বারবার ঢেকুর ওঠা, গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি এমনকি বুকে ব্যথা পর্যন্ত হতে পারে। বেশি মাংস খেলে তা পরিপূর্ণভাবে হজম হতে সময় লাগে। পর্যাপ্ত পানি পান না করার কারণে অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। যদিও কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেতে মানা নেই, কিন্তু পরিমাণ বজায় রাখা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে শুরু থেকেই পরিকল্পনা থাকা উচিত। যেহেতু দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলে সবাই মাংস খাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তাই সকাল আর দুপুরের খাওয়াটা কম খেলেই ভালো। আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের বাসায়ও যথাসম্ভব কম খাওয়া উচিত। এড়িয়ে চলুন চর্বি : অতিরিক্ত চর্বি খাওয়া এমনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কোরবানির সময় এ বিষয়টি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত। অনেক সময় দেখা যায়, রান্না সুস্বাদু হবে মনে করে মাংসে বেশ কিছু চর্বি আলাদাভাবে যোগ করা হয়, এসব পরিহার করা উচিত। মাংসের সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে সবজি খাওয়া যেতে পারে। টাটকা সবজি পাকস্থলী সাবলীল রাখে। পরিমিতিবোধ যেখানে রসনা সংবরণ করতে পারে, সেখানে ভয়ের কিছু নেই। মাংসে তেল বা ঘিয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিলে, ভুনা মাংসের বদলে শুকনো কাবাব করে খেলে, কোমল পানীয় ও মিষ্টি কমিয়ে খেলে কোরবানির ঈদের সময়ও ভালোই থাকা যাবে। বয়স ভেদে খাবার : যাদের বয়স কম এবং শারীরিক কোনো সমস্যা নেই, তারা নিজের পছন্দমতো সবই খেতে পারেন এবং তাদের হজমেরও কোনো সমস্যা হয় না, শুধু অতিরিক্ত না খেলেই হলো, বিশেষ করে চর্বি জাতীয় খাদ্য। মধ্যবয়সি এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের খাবার সম্পর্কে সচেতন থাকা খুব জরুরি। এমনকি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি ইত্যাদি না থাকা সত্ত্বেও এই বয়সের মানুষের ঈদের খাবারের ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক অবলম্বন করা দরকার। কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাইলসের সমস্যা : বেশি মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যায়। যাদের এনাল ফিশার ও পাইলস রোগ আছে, তাদের পায়ুপথে জ্বালাপোড়া, ব্যথা ইত্যাদি বাড়তে পারে, এমনকি পায়ুপথে রক্তক্ষরণও হতে পারে। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি, শরবত, ফলের রস, ইসবগুলের ভুসি ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি খাবেন। পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা : কারও পেটে গ্যাস হলে ডমপেরিডন, অ্যান্টাসিড, ওমিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। যাদের আইবিএস আছে, তারা দুগ্ধজাত খাবার পরিহার করুন। ডায়াবেটিস : ডায়াবেটিস রোগীকে অবশ্যই মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। গরু বা খাসির মাংস পরিমাণ মতো খেতে পারেন, তবে চর্বি না খেলেই ভালো। অ্যালার্জিজনিত সমস্যা : অনেকেরই গরুর মাংস খেলে অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকে, তাদের জন্য গরুর মাংস এড়িয়ে চলাই যুক্তিযুক্ত। যদি কেউ খেতে চান তবে আগে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে পারেন। রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং হৃদরোগী : অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শুধু গরু নয়, মহিষ, ছাগল ও খাসির মাংসে থাকে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও ফ্যাট। তাই অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস খেলে স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই এসব রোগে ভুগছেন তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। তাই মাংস খাওয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রেখে পরিমিত পরিমাণে এবং চর্বি ছাড়িয়ে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সারা বছর তারা যে ধরনের নিয়মকানুন পালন করেন খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে, কোরবানির সময়ও সেভাবে চলাই ভালো। কিডনি রোগী : যারা কিডনির সমস্যায় ভোগেন, যেমন ক্রনিক রেনাল ফেইলিওর, তাদের প্রোটিনজাতীয় খাদ্য কম খেতে বলা হয়। তাই মাংস খাওয়ার ব্যাপারে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনোক্রমেই অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক হবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সারা বছরের মতো ঈদের সময়ও কম মাংস খাওয়া ভালো। মাংস বাদে আর যা যা কম খাবেন বা এড়িয়ে চলবেন : মনে রাখতে হবে, মাংস তো খাওয়া হয়, এর সঙ্গে আরও কিছু মুখরোচক খেতে অনেকেই ভালোবাসেন যেমন কলিজা, মগজ, ভুঁড়ি, পায়া বা নেহারি ইত্যাদি। এগুলোও পরিমাণ মতো খেতে পারেন। দাওয়াতে গেলে অতিভোজন পরিহার করার চেষ্টা করবেন। হয়তো অনেক খাওয়াদাওয়া টেবিলে সাজানোই থাকবে, কিন্তু খেতে বসলেই যে সব খেতে হবে তা নয়। রাতের খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে পড়বেন না। খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর বিছানায় যাবেন। খাবারের ফাঁকে ফাঁকে পানি খাবেন না, এতে হজম রসগুলো পাতলা হয়ে যায়। ফলে হজমে অসুবিধা হয়। তাই খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর পানি পান করুন। খাবারের মাঝে বোরহানি খেতে পারেন। ব্যায়াম করতে হবে নিয়মিত : বয়স অনুযায়ী ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করতে ভুলবেন না, শরীর থেকে অতিরিক্ত ক্যালরি কমাতে সহায়ক হবে। মাংস সংরক্ষণ : কোরবানির পরে মাংস বিলিয়ে দেওয়ার পরেও দেখা যায় যে ঘরে অনেক মাংস জমা থাকে। এই গোশতগুলো ভালোভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। ফ্রিজে সংরক্ষণ সম্ভব হলে ভালো। তবে গ্রামেগঞ্জে এমনকি শহরে অনেকের বাসায় ফ্রিজ না থাকলে সঠিকভাবে মাংস জ্বাল দিয়ে রাখতে হবে। এমনকি মাংস সিদ্ধ করে শুকিয়ে শুঁটকির মতো করে অনেক দিন খাওয়া যেতে পারে। খাবার আগে খেয়াল রাখতে হবে যেন মাংসের গুণগত মান ঠিক থাকে। ঈদ আনন্দের। আর খাবারের তৃপ্তি না থাকলে এ আনন্দ যেন পূর্ণতা পায় না। কিন্তু তা হতে হবে পরিমিত। ঈদের উৎসব আনন্দ আগেও ছিল, চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলতেই থাকবে। খাওয়াদাওয়ারও উৎসব আনন্দ অতিভোজন একইভাবে চলবে। অন্তত একটা দিন হলেও সবার এমন ইচ্ছা থাকে। না খেলেও অনেক সময় আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব জোর করেই খাওয়াবে। তারপরও সবাইকে রয়েসয়ে খেতে হবে। ঈদ এবং ঈদপরবর্তী সময়ে ভালো থাকতে হবে, থাকতে হবে সচেতন। লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
ঈদ মানে উৎসব। ঈদ মানে আনন্দ। আর সেই ঈদ যদি হয় কুরবানির, তবে তো কথাই নেই। দরজায় কড়া নাড়ছে কুরবানির ঈদ। আর কয়েক দিন পরেই ঈদ। এ সময় গরু কিংবা খাসির মাংসের বেশ বড় একটা পরিমাণ ফ্রিজে রাখা হয়। ডিপ ফ্রিজে মাংস রাখার আগে কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি। কারণ ঠিকভাবে হিমায়িত না হলে মাংসের স্বাদ ও গুণমান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে মাংস ডিপ ফ্রিজে রাখবেন— প্রথমেই ফ্রিজ পরিষ্কার করুন এবং জায়গা খালি রাখুন। মাংস রাখার অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে ফ্রিজ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং জীবাণুমুক্ত করে নিন। আর ফ্রিজের ড্রয়ারে গাদাগাদি করে প্যাকেট না রেখে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখুন; যেন ভেতরে ঠান্ডা বাতাস সঠিকভাবে চলাচল করতে পারে। দ্বিতীয়ত মাংস ধুয়ে ফ্রিজে রাখুন। এতে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে স্বাদ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। মাংসের গা থেকে রক্ত ও অতিরিক্ত পানি ভালোমতো মুছে বা ঝরিয়ে তারপর ফ্রিজে রাখুন। সেই সঙ্গে মাংসের বড় অংশ বা সব মাংস একসঙ্গে এক ব্যাগে ফ্রিজে না রেখে আলাদা করুন। প্রতিবার রান্নার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকু পরিমাণ আলাদা আলাদা করে প্যাকেট রাখুন। এতে বারবার পুরো মাংসের বরফ গলানোর ঝামেলা ও স্বাদ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। সেই মাংস রাখার জন্য বায়ুরোধী ভ্যাকুয়াম-সিলার প্যাকেট বা ভালো মানের জিপলক ব্যাগ ব্যবহার করুন। আর প্লাস্টিক বা পলিথিনের মুখ খুব ভালোভাবে পেঁচিয়ে বন্ধ করুন, যেন বাতাস ঢুকতে না পারে। একটির প্যাকেটের সঙ্গে আরেকটি আটকে না যায়, সে জন্য মাঝে মোটা কাগজের টুকরো দিন। এরপর মাংসের প্রতিটি প্যাকেটের ওপর মার্কার দিয়ে সংরক্ষণের তারিখ পরিষ্কারভাবে লিখে রাখুন। ফ্রিজে সাধারণত চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত গরু বা খাসির মাংসের গুণগত মান একদম ভালো থাকে। তারিখ লেখা থাকলে কোন মাংসটি আগে বের করে রান্না করতে হবে, তা সহজেই বোঝা যায়। সবশেষে ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী ফ্রিজ চালু রাখুন। মাংস কাটার পরপরই ফ্রিজে বা প্লাস্টিকে রাখবেন না। কারণ এ সময় মাংস কিছুটা গরম থাকে। মাংস পুরোপুরি সাধারণ তাপমাত্রায় আসার পর ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। পশু জবাইয়ের অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা পর মাংস কিছুটা নরম হলে ফ্রিজে রাখা ভালো। সঠিক তাপমাত্রা নিশ্চিত করে ফ্রিজে মাংস রাখার আগে সেটির তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট (-১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তার নিচে রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, বিচারপতি, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশি কূটনীতিকরা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের এই প্রধান জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (২৫ মে) এক ব্রিফিংয়ে প্রশাসক জানান, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঈদ জামায়াতকে সুশৃঙ্খল ও আরামদায়ক করতে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের মোট ক্ষেত্রফল প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে ঈদগাহের প্যান্ডেলের ক্ষেত্রফল ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। ১২১টি কাতারে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে তিনি জানান। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ (ভিআইপি) পুরুষ ২৫০ জন এবং নারী ৮০ জনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লির জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের জন্য মোট ৪টি ফটকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্য ১টি, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য ২টি এবং নারী মুসল্লিদের জন্য ১টি আলাদা প্রবেশ ফটক থাকবে। অন্যদিকে বহির্গমনের জন্য মোট ৭টি ফটক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের জন্য ১টি, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য ৫টি এবং নারীদের জন্য ১টি পৃথক বহির্গমন ফটক নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদ জামায়াতে সর্বমোট ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ভিআইপি পুরুষদের জন্য ৫টি ও নারীদের জন্য ১টি কাতার, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য ৬৫টি বড় আকারের কাতার এবং নারী মুসল্লিদের জন্য ৫০টি ছোট আকারের কাতার থাকবে। অজুখানায় একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জন মুসল্লি অজু করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ১১৩ জন এবং নারীদের জন্য ২৭ জনের পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদগাহ ময়দানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, পর্যাপ্ত ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা, নিরাপদ খাবার পানি, নামাজের জন্য কার্পেট এবং ভিআইপি কাতারে জায়নামাজ সরবরাহ করা হবে। এছাড়া নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ পথ ও নামাজ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ঈদ জামায়াতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বৃষ্টির পানি নিরোধক সামিয়ানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মুসল্লিদের আকর্ষণ করতে ঈদগাহে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ৩টি ফটক। আয়োজকরা জানিয়েছেন, মুসল্লিদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমান সময়ে স্তন, কোলন, প্রস্টেট ও ফুসফুসের পাশাপাশি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সচেতনতার অভাবে রোগটি একেবারে শেষ পর্যায়ে (তৃতীয় বা চতুর্থ ধাপে) গিয়ে ধরা পড়ে। তবে চিকিৎসকদের মতে, দৈনন্দিন জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে এই মারণ রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সম্প্রতি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জানিয়েছেন, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নয়, বরং ঘরে তৈরি তিনটি পানীয় দারুণ কার্যকর হতে পারে। চলুন, জেনে নিই ক্যান্সার প্রতিরোধে পানীয়গুলো কি কি ও এর প্রস্তুতপ্রণালি। মাচা গ্রিন টি : এই চায়ে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, পলিফেনল ও অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সচল রাখে। বানানোর নিয়ম : প্রথমে এক কাপ ফুটন্ত পানির সঙ্গে ব্রাউন সুগার মিশিয়ে নিন। এবার অন্য একটি কাপে চায়ের গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য গরম পানি মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর সসপ্যানে এই দুটি মিশ্রণ একসাথে মিলিয়ে কম আঁচে নাড়তে থাকুন। সবুজ রঙের ঘন মিশ্রণ তৈরি হলে নামিয়ে নিন (চাইলে এর সঙ্গে দুধও মেশাতে পারেন)। সবুজ স্মুদি : শাকসবজির ফাইবার, ভিটামিন এ সি ই ও পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম ও আয়রনে ভরপুর এই স্মুদি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বানানোর নিয়ম : পালং শাক ভালো করে গরম পানিতে ধুয়ে নিন। এরপর খোসা ছাড়ানো কলা ও শসা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এবার সব উপকরণের সঙ্গে সামান্য আদা কুচি মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো করে পেস্ট করে নিন। গ্লাসে ঢেলে ওপর থেকে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়া ছড়িয়ে দিলেই তৈরি সবুজ স্মুদি। হলুদ দুধ : হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ নামক উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এর সঙ্গে গোলমরিচ ও দারচিনি মিশালে এর গুণাগুণ দ্বিগুণ হয়ে যায়। গোলমরিচের ‘পিপারিন’ উপাদানটি হলুদের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। বানানোর নিয়ম : গরুর দুধ সহ্য না হলে আমন্ড মিল্ক বা ওটসের দুধ ব্যবহার করতে পারেন। দুধের সঙ্গে এক চামচ হলুদ গুঁড়া, গোটা গোলমরিচ ও দারচিনি ফুটিয়ে নিলেই এই স্বাস্থ্যকর পানীয়টি তৈরি হয়ে যায়। সূত্র : আনন্দবাজার
বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)। রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন সরকারের পক্ষে এই সহায়তা গ্রহণ করেন। আইসিআরসির দেওয়া সহায়তার মধ্যে রয়েছে ১৪টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, ৫৭০টি এয়ারওয়ে ম্যানেজমেন্ট ডিভাইস, ১২টি ব্যাগ-ভাল্ভ-মাস্ক (BVM) রিসাসিটেটর এবং ম্যানুয়াল সাকশন ডিভাইস। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সরঞ্জাম হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার করবে এবং হামের কারণে সৃষ্ট শ্বাসকষ্ট ও জটিল রোগীদের চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে হাজার হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষ করে যারা টিকা পায়নি বা অসম্পূর্ণ টিকা নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকাদান, দ্রুত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। আইসিআরসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতেও সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সংস্থাটি।
ঈদকে সামনে রেখে গণপরিবহনে বাড়তি ভিড়, অবাধ যাতায়াত, বাড়তি জনসমাগম,আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া-আসা এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কারণে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সাথে ঈদ যাত্রায় শিশুদের নিয়ে বাস, লঞ্চে না উঠে সম্ভব হলে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াতের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও হাম সংক্রমণ এড়াতে ঈদের সময় শিশুদের নিয়ে সতর্কভাবে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাস ও ট্রেনযাত্রা এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আপনাদের অনুরোধ করছি, ঈদের সময় শিশুদের যেন সব জায়গায় নিয়ে না যাওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা অতিরিক্ত ভিড় রয়েছে, এমন জায়গায় না নেওয়াই ভালো।’ তিনি বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের কাছ থেকে সুস্থ শিশুদের দূরে রাখতে হবে। একইভাবে আক্রান্ত রোগীদেরও অন্যদের সঙ্গে মিশতে দেওয়া উচিত না। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর উপসর্গ স্পষ্ট হওয়ার আগেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই ঈদযাত্রা, শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র ও পারিবারিক সমাবেশ সংক্রমণ বৃদ্ধির বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা প্রদান। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে জনসমাগম এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ঈদ বা বড় উৎসবের সময় সতর্কতা আরো বেশি প্রয়োজন, কারণ এ সময় মানুষের চলাচল ও ভিড় বেড়ে যায়। জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বাসস’কে বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবার তাদের গ্রামের বাড়ি যাতায়াত করবেন। এ সময় সংক্রমণ ছড়ানোর ঝঁকি তৈরি হবে। তাই অভিভাবকদের বলব, যেসব শিশু শারীরিকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে বা কিছুটা অসুস্থ, তাদের নিয়ে এই ঈদে ভ্রমণ না করাই উত্তম। এতে ওই শিশুর নিজের যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, তেমনি তার সংস্পর্শে আসা সুস্থ শিশুরাও ঝুঁকিতে পড়বে। তিনি বলেন, যেসব শিশু অপুষ্টি বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতায় ভুগছে, তাদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি ভ্রমণ থেকে বিরত থাকাই ভালো। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বাসস’কে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শরীরে হামের জীবাণু প্রবেশের পর শুরুতে শুধু হালকা জ্বর দেখা দেয়, কিন্তু তখনো তীব্র উপসর্গ প্রকাশ পায় না। এ সময় থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ফলে অজান্তেই পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষ ঝুঁকিতে পড়ে। এ কারণে ঈদযাত্রা ও বড় ধরনের জনসমাগমের ফলে এ সংক্রমণ আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, হাম অতিসংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত আক্রান্তের হাঁচি, কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। হামের ভাইরাস এতটাই সংক্রামক যে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২-১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। সাধারণত র্যাশ ওঠার চারদিন আগে ও পরে আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রমণ ছড়াতে পারে। হামের ভাইরাস বাতাসে বা কোনো কক্ষের পরিবেশে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো ঘরে অবস্থান করার পর সেখানেও অন্যরা সংক্রমিত হতে পারে। বিশেষ করে গণপরিবহন, স্কুল, বাজার, হাসপাতাল, শপিং মল, কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হামের সংক্রমণের মধ্যে শিশুদের নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বাসস’কে বলেন, স্বাভাবিকভাবেই ঈদের সময়ে বড় ধরনের জনসমাগম হয়। বাস, ট্রেন, লঞ্চ এবং বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে মানুষের ভিড় বাড়ে। ঈদের জামাতে শিশুদের মাস্ক পরানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সচেতন না হলে অনেক সংখ্যক শিশু হামে আক্রান্ত হতে পারে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম রাশেদুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, বিভিন্ন গ্রামে বা শহরে যারা টিকা পায়নি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকবে। আমরা, যারা সাধারণ জনগোষ্ঠী, যারা আগে থেকেই আমরা হামের ভ্যাকসিন পেয়েছি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা অনেক কম এবং নাই বললেই চলে।
গরমকালে অনেকেরই চুল পড়া, শুষ্কতা এবং দুর্বল চুলের সমস্যা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দামি হেয়ার প্রোডাক্ট নয়—আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসও চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। স্ট্রেইটনার, কার্লার এবং হেয়ার ড্রায়ারের মতো হিট স্টাইলিং টুলস বেশি ব্যবহার করলে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। তাই এগুলোর ব্যবহার সীমিত করা এবং ব্যবহারের আগে হিট প্রোটেক্টেন্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন চুল ধোয়া চুলের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দিতে পারে, যা চুলের আর্দ্রতা ও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার চুল ধোয়া ভালো, তবে এটি চুলের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। কিছু শক্তিশালী বা হার্শ শ্যাম্পু চুলকে শুষ্ক ও প্রাণহীন করে তুলতে পারে। তাই মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো, যা স্কাল্প পরিষ্কার করলেও চুলের ক্ষতি করে না। খুব টাইট পনিটেইল বা বান করলে চুলের গোড়ায়চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে চুল পড়া বাড়াতে পারে। ঢিলেঢালা হেয়ারস্টাইল চুলের জন্য বেশি স্বাস্থ্যকর। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার না করলে চুলের আর্দ্রতা কমে যায় এবং চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। কন্ডিশনার চুলকে নরম করে। ভেজা চুল জোরে তোয়ালে দিয়ে ঘষে শুকালে চুল ভেঙে যেতে পারে এবং ফ্রিজি হয়ে যায়। তাই আলতোভাবে চুল শুকানো বা মাইক্রোফাইবার তোয়ালে ব্যবহার করা ভালো। ভেজা চুল খুবই নাজুক থাকে, তাই এ সময় চুল আস্তে আস্তে আঁচড়ানো উচিত। মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করে নিচের দিক থেকে চুল আঁচড়ানো ক্ষতি কমায়। খুব গরম পানি দিয়ে গোসল করলে চুল ও স্কাল্পের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অস্বাস্থ্যকর খাবার যেমন ফাস্ট ফুড, স্ন্যাকস এবং সফট ড্রিংকস বেশি খেলে চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। প্রোটিন, ফল এবং সবজি সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য চুলের জন্য উপকারী। নারিকেল, রোজমেরি এবং আর্গান অয়েলের মতো প্রাকৃতিক তেল স্কাল্প পুষ্টি দিতে সাহায্য করতে পারে। হালকা মাথা ম্যাসাজ রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর চুল শুধু দামি প্রোডাক্ট ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে না। সঠিক দৈনন্দিন অভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর রুটিন চুল পড়া কমাতে এবং চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সূত্র- সামা
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জেলায় বাড়তে শুরু করেছে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলার পাহাড়ি ও দুর্গম উপজেলা-কে এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্তত ১৭ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯ জন শনাক্ত হয়েছেন দীঘিনালায়। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় একজন, মাটিরাঙ্গায় তিনজন, রামগড়ে দুজন, মহালছড়িতে একজন এবং লক্ষ্মীছড়িতে একজন আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত জেলায় মোট ৪২ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু দীঘিনালাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন, যা মোট রোগীর অর্ধেকের বেশি। এ কারণে উপজেলাটিকে ম্যালেরিয়ার ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে জেলায় ৭৫ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৯। এছাড়া ২০২৩, ২০২২, ২০২১ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ৩৩, ৯, ৫ ও ১০ জন রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি, বনাঞ্চলঘেরা পরিবেশ এবং জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার দ্রুত হওয়ায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় সচেতনতার অভাব ও দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। , জেলা সার্ভেইলেন্স মেডিকেল অফিসার, বলেন—ম্যালেরিয়ার কিছু ধরন অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই জ্বর হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি মশার কামড় এড়াতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। তিনি পাহাড়ি এলাকায় কর্মরত ব্যক্তিদের ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরারও পরামর্শ দেন। খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন জানান, বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তার মতে, দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ম্যালেরিয়াজনিত মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশে টিকাদানের ঘাটতি এবং টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগের পুনরাবির্ভাব ভবিষ্যতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে গ্লোবাল অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স পার্টনারশিপ (গার্প)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক পলিসি ব্রিফে সংস্থাটি বলেছে, সংক্রমণ কমাতে এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতে টিকাদান অত্যন্ত কার্যকর ও সাশ্রয়ী একটি উপায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতির কারণে টিকাযোগ্য রোগ আবার বাড়ছে, যা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার ত্বরান্বিত করছে। ব্রিফে বলা হয়, সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, যেখানে হাজার হাজার সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত এবং শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতার ইঙ্গিত। গার্পের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স এখন বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য হুমকি। আগামী কয়েক দশকে এ কারণে কোটি মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে নবজাতকের ধনুষ্টংকার ও পোলিও নির্মূলসহ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই অর্জন স্থায়ী নয় বলেও সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়— শিশু টিকাদানের কভারেজ বজায় রাখা, টিকাবিষয়ক নতুন কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কৌশলের সঙ্গে টিকাদানকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা। বিশেষভাবে নিউমোকক্কাল, টাইফয়েড এবং রোটাভাইরাস টিকা কর্মসূচি সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে অ্যান্টিবায়োটিক নির্ভরতা কমানো যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান শক্তিশালী করা গেলে সংক্রমণ কমবে, চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য আরও সুরক্ষিত হবে।
দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৬০ শিশুর যে তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া গেছে, সেখানে নয় মাসের কম বয়সি রয়েছে ২৯ জন। বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি-ইপিআই যে সময়সূচি ধরে শিশুদের টিকা দেয়, সে অনুযায়ী নয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগে এই শিশুদের হাম-রুবেলা বা এমআর টিকা পাওয়ার কথা নয়। তাহলে নয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগে শিশুরা হাম থেকে কীভাবে সুরক্ষিত থাকে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি শিশুদের ছয় মাস পর্যন্ত সুরক্ষা দেওয়ার কথা। তাহলে কেন চলতি বছর নয় মাসের কম বয়সি এত শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে? এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা পাওয়ার আগে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ তাদের শরীরে হামের অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়া। এর পেছনে অপুষ্টিসহ আরো কারণ থাকতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। সরকারি হিসাবে সারাদেশে ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত ৪৮১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাম আক্রান্ত হয়ে এবং এ রোগের উপসর্গ নিয়ে। এর মধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮০ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য কী বলছে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬০ শিশু মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ছেলে ৩১ ও মেয়ে ২৯টি; ঢাকায় মারা গেছে ৪৮টি শিশু, বাকি ১২টি শিশু ঢাকার বাইরে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন মাস বয়সি চারজন, চারমাস বয়সি পাঁচজন, পাঁচ মাস বয়সি দুইজন, ছয়মাস বয়সি চারজন, সাত মাসের সাতজন, আট মাসের সাতজন রয়েছে মৃতদের এ তালিকায়। নয় মাস বয়সী তিনজন, ১০ মাস বয়সী আটজন এবং ১১ মাস বয়সী চারজন শিশু মারা গেছে। ১২ মাস বয়সী দুইজন, ১৩ মাস বয়সী দুইজন, ১৫ মাস বয়সী দুইজন এবং ১৬ মাস বয়সী একজন শিশু মারা গেছে। দুই বছর বা ২৪ মাস বয়সী একজন, ২৭ মাস বয়সী দুইজন, ৩০ মাস বয়সী একজন, তিন বছর বা ৩৬ মাস বয়সী দুইজন, ৪২ মাস বয়সী একজন, ৫১ মাস বয়সী একজন এবং নয় বছর বা ১০৮ মাস বয়সী একজন শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই বিশ্লেষণ বলছে, নয় মাস থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশু মারা গেছে ২১ জন। আর নয় মাসের কম বয়সী ২৯ শিশু মারা গেছে। ইপিআইয়ের টিকাদানের সময়সূচি অনুযায়ী ছয় মাস থেকে আট মাস বয়সী ১৮ শিশু হামের টিকার প্রথম ডোজ পাওয়ার কথা। আর নয় থেকে ১৫ মাস বয়সী ২১ শিশুই দুই ডোজ টিকাই পাওয়ার কথা। তাহলে কী এই শিশুরা টিকার কোনো ডোজ পায়নি অথবা পূর্ণ ডোজ টিকা পায়নি? বিগত সরকারগুলোর সময়ে কয়েক বছর ধরে টিকাদান কার্যক্রমে ছেদ পড়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ২০২০ সালে কভিড মহামারী ও ২০২৪ সালে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা আলোচনায় আসছে। টিকা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, টিকার কার্যকারিতা নির্ভর করে মূলত বয়স এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর। হামের টিকা ছয় থেকে নয় মাস বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কাজ করে। নয় থেকে ১২ মাস বয়সীদের ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ কাজ করে। আর ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কাজ করে। তবে দুই ডোজ নেওয়ার পরও কারো হাম হতে পারে। সেটি নির্ভর করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর,” বলেন এই বিশেষজ্ঞ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মৃত্যুর যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে তারিখ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভর্তির দিনই পাঁচটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভর্তির এক দিনের মধ্যে মারা গেছে নয় শিশু। ভর্তির দুই দিনের মধ্যে মারা গেছে নয় শিশু। দেখা যাচ্ছে, ভর্তির পর প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কত দিন পর শিশুরা মারা যাচ্ছে, তা সব শিশুর মৃত্যুর ক্ষেত্রে বলেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মৃত শিশুদের তালিকায়, বরিশালে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে মারা যাওয়া পাঁচজনের মৃত্যু তারিখ রয়েছে। তবে তারা কবে ওই হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছিল, সেই তারিখ নেই। এ ছাড়া শিশুদের টিকার তথ্য, হাসপাতালের আইসিইউ তথ্য বা অন্য কোনো জটিলতা ছিল কিনা, এ ধরনের তথ্যও নেই সেখানে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোগীদের মৃত্যু যাচাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটির জন্য রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি, শারীরিক অবস্থাসহ অনেক বিষয়ে তথ্য সংরক্ষণে রাখতে হয়। কারণ এর আলোকে জটিল রোগীদের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “মৃত্যু পর্যালোচনা করা খুব সহজ বিষয় নয়। তবে আমরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করে রাখছি। এ বিষয়ে আমাদের পরামর্শক সংস্থা নাইট্যাগ বা অন্যরা কোনো কিছু জানায়নি। তাই এ বিষয়ে অধিদপ্তর বিশেষভাবে কোনো কাজ করছে না। তবে আইসিডিডিআর,বি হাম নিয়ে কাজ করছে। এবার কেন হামে এত শিশুর মৃত্যু হল, মিউটেশনের মাধ্যমে ভাইরাসের কোনো নতুন ধরন তৈরি হল কিনা, সেসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ-আইসিডিডিআর,বি বিস্তারিত কাজ করছে। আলোচনায় ‘অ্যান্টিবডি’ অ্যান্টিবডি হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মূল উপাদান। গর্ভাবস্থায় মায়ের কাছে থেকে অ্যান্টিবডি পায় শিশুরা। আর জন্মের পর পর তাদের শরীরে নিজস্ব অ্যান্টিবডি তৈরি হতে থাকে। রাজধানীর মহাখালী ডিএনসিসি হাম ডেডিকেটেড হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আসিফ হায়দার বলেন, মায়ের শরীর থেকে মূলত বাচ্চারা অ্যান্টিবডি পায়। কিন্তু বর্তমানে অনেক মায়েরাই অপুষ্টিতে ভুগছেন, আবার নানা কারণে শিশুরাও অপুষ্ট হচ্ছে। এতে করে হামের প্রকোপ বাড়ছে। তাই মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা সবার আগে জরুরি। ডা. আসিফ বলেন, আগে আমরা এক ধরনের শক্তিশালী, ৯৫ শতাংশ মানুষের ‘হার্ড ইমিউনিটির’ বলয়ে ছিলাম। সেটি ভেঙে যাওয়ার ফলে এবার বড় প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি ফর মিজেলস অ্যান্ড রুবেলা এলিমিনেশন-এনভিসি চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, “মায়ের শরীরে যদি হামের অ্যান্টিবডি না থাকে বা টিকা নেওয়া না থাকে তাহলে শিশুরা অ্যান্টিবডি পাবে না। এ ছাড়া আরো কিছু কারণে অ্যান্টিবডি তৈরি নাও হতে পারে। এসব বিষয়ে নিয়ে আমাদের দেশের সেভাবে ‘স্টাডি’ নেই। তাই এসব বিষয়ে জানা-শোনা এবং গবেষণা হওয়া প্রয়োজন তারপর বোঝা যাবে আসলে কোন ‘ফ্যাক্টরের’ জন্য হামের এই পরিস্থিতি। হাম ভাইরাসের কোনো মিউটেশন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখন পর্যন্ত হামের কোনো মিউটেশনের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলছেন, শিশুরা মায়ের কাছ থেকে সঠিক ‘অ্যান্টিবডি’ পাচ্ছে কি না সেটা দেখা প্রয়োজন। ডা. বেনজিরের মতে, বর্তমানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেওয়া মায়ের যে শাল দুধ বাচ্চাকে খাওয়াতে হয়, এটি আর সম্ভব হয় না। এমন কিছু কারণে বাচ্চাদের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হচ্ছে। টিকা ও পুষ্টি ঘাটতি ইপিআইয়ের মাধ্যমে দেশের নয় মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাকে কার্যকর করতে হলে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা দরকার। কিন্তু করোনার কারণে ২০২০ সালে টিকাদান কর্মসূচি সেভাবে হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে আরেকবার এ কর্মসূচি হয়নি। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছে, গেল বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও হামের টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। হয়নি ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি। গেল ১১ মে ইউনিসেফ ও প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক রিয়াদ মাহমুদ তার উপস্থাপনায় বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হল, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ কোনো টিকাই পায়নি, আর ২১ শতাংশ আংশিক টিকাপ্রাপ্ত। এভাবে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুর সংখ্যা কয়েক বছর ধরে বেড়েছে। যার ফলে এবারের হামে এত মৃত্যু হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০২৫ সালে একাধিকবার বার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। তাই শিশুদের পুষ্টির ঘাটতিও হয়েছে। টিকাদানের সময়সূচি ইপিআই অনুযায়ী, রোগ প্রতিরোধের জন্য জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়সের মধ্যে শিশুকে মোট ১০টি টিকা দেওয়া হয়। এসব টিকা হল- • জন্মের পরপরই যক্ষ্মা প্রতিরোধে বিসিজি টিকা দেওয়া হয়। • ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহ বয়সে পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা (ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টঙ্কার, হুপিং কাশি, হেপাটাইটিস বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জি) এবং ওপিভি (পোলিও) ও পিসিভি (নিউমোনিয়া) টিাকা দেওয়া হয়। • ৬ ও ১৪ সপ্তাহ বয়সে ‘ইনজেকটেবল’ পোলিও (এফআইপিভি) দেওয়া হয়। • ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে দুই ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হয়। • টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধের জন্য ১৫ মাস বয়সে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দেওয়া হয়। এছাড়া জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে কিশোরীদের হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা দেওয়া হয়। মূলত পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা ১০–১৪ বছর বয়সীদের দেওয়া হয় এ টিকা। আর প্রজননযোগ্য বয়সী নারীদের (১৫–৪৯ বছর) ধনুষ্টঙ্কার বা টিটেনাস থেকে সুরক্ষার জন্য ৫ ডোজ টিকা দেওয়া হয়। এটি মা ও ভবিষ্যৎ সন্তানের দু’জনকেই প্রাণঘাতী ধনুষ্টঙ্কার থেকে রক্ষা করে। ইপিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে নাইট্যাগ শিশুদের টিকাদানের বয়স নির্ধারণ করে দেয়। হামের টিকা ছয় মাস বয়সে দেশে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয় নয় মাস ও ১৫ মাস বয়সে। এবার প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় বাংলাদেশের টিকাবিষয়ক সর্বোচ্চ কারিগরি কমিটি ন্যাশনাল ইমুনাইজেশন অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি গ্রুপ (নাইট্যাগ) ছয় মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। গেল ২০ এপ্রিল শুরু হয়ে বুধবার শেষ হওয়া মাসব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে নয় মাসের আগেই শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এবার পরিস্থিতি বিবেচনায় নয় মাসের পরিবর্তে ছয় মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনভিসি চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমরা দেখেছি দেশের শিশুরা টিকা নেওয়ার বয়সের আগে হামে আক্রান্ত হচ্ছে। পরে এটি নিয়ে ‘স্টাডি’ হয়েছে, সেটির ভিত্তিতে ইউনিসেফ, গ্যাভি ও আমাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে ক্যাম্পেইনের জন্য বয়স ছয় মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। এখনো নিয়মিত টিকার ক্ষেত্রে বয়স নয় মাসই রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নয় মাস বয়সী শিশুদের শরীরেও সেভাবে অ্যান্টিবডি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই টিকা দেওয়ার সময় কমিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। টিকা দেওয়ার বয়স কমিয়ে আনা এবং টিকার কার্যকারিতার বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন, “আসলে এবারের প্রকোপ থেকে বাঁচাতেই বয়স কমিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এই কম বয়সে টিকা খুব বেশি কাজ করে না। তবে যে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কাজ করে সেটার মাধ্যমেও অনেক শিশুকে প্রকোপ থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে। ইউনিসেফ বলছে টিকা পায়নি অনেকে হামের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রথম ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় টিকা দেওয়া শুরু হয়। ১২ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান শুরু হয়। ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকা দেওয়া শুরু হয়, চলে ২০ মে পর্যন্ত। টিকাদানের এই কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৮০ লাখ ১৬ হাজার ৯১৪ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। টিকাদান কর্মসূচির শেষ দিন বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তরফে বলা হয়েছে, ১ কোটি ৮৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭০ জন শিশু টিকা পেয়েছে। টিকার আওতায় ১০২ শতাংশ শিশুকে আনা হয়েছে বলেও দাবি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অন্যদিকে গেল ১১ মে টিকাদান পরিস্থিতি দ্রুত যাচাই পদ্ধতি-আরসিএমের ভিত্তিতে ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক রিয়াদ মাহমুদ বলেছিলেন, তখন পর্যন্ত শহর এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রাম এলাকায় ১৫ শতাংশ শিশু টিকা পায়নি। নাম প্রকাশ না করে ইপিআইয়ের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আসলে টার্গেট শিশুদের গণনার সময়ও কিছু শিশু বাদ পড়তে পারে। এই বাদ পড়া শিশুদের পরবর্তীতে টিকা দেওয়ার কার্যক্রমও চালু আছে আমাদের। টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম বলেন, আরসিএম পদ্ধতিতে যাচাই করে যেসব শিশু টিকা পায়নি তাদের খুঁজে বের করে টিকা দিতে হবে। এটির জন্য মাঠকর্মীদের ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। আর টিকার কভারেজ শুধু পাঁচ বছরের বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে নয়, বরং আরো কিছু বেশি বয়সী শিশুদেরও টিকায় আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। বাদ পড়া শিশুদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমাদের টিকা কার্যক্রম চালু আছে। যেসব শিশুরা এখনো টিকা পায়নি তারা যেকোনো সেন্টার থেকে টিকা নিতে পারবে। এটির জন্য আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছি। মৃত্যু থামবে কবে? বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৮৫৬। তাদের মধ্যে ৮ হাজার ৬৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এদিন সকাল ৮টার পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩৮ জনের। অর্থাৎ প্রতিদিনই হামের রোগী শনাক্ত হচ্ছে, মৃত্যুও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় যেভাবে ‘কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি)’ তৈরি করা হয়েছিল, তেমন একটি জরুরি টিম করা প্রয়োজন। এতে মৃত্যু কমানো যাবে। আর চলতি মাসের শেষের দিক থেকে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যু কমতে পারে, এমন আশার কথা বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, হামে মৃত্যু কবে কমবে, এটি বলা খুবই কঠিন। তবে হাম মোকাবিলার জন্য সর্বতোভাবে কাজ করলে দ্রুত সময়েই কমতে পারে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. মাহবুবুল হক বলেন, “হামের চিকিৎসায় কোনো ‘অ্যান্টিভাইরাল’ ওষুধ নেই। হামের কারণে নিউমোনিয়া হলে তা জটিল হয়। হাম হলে আরও অনেক জটিলতা দেখা দেয়। হাসপাতালে শিশুদের আনা হচ্ছে অনেক জটিলতা হওয়ার পর। লাইফ সাপোর্ট দিয়েও তাদের বাঁচানো যাচ্ছে না। তবে আমরা সব শিশুর ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। একটি জরুরি টিম থাকলে কাজ করা আরো সহজ হতো বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, করোনার সময় যেমন আদালত কোথায় বেড, আইসিইউ ফাঁকা রয়েছে সেগুলোর তথ্য প্রকাশ করার আদেশ দিয়েছিল, এটি করতে পারলে সাধারণ মানুষরা দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারবে। রোগীরাও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে। এখন প্রতিদিন গণমাধ্যমে খবর আসে রোগীরা হাসপাতালে-হাসপাতালে ঘুরছে। ডা. মুশতাক বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের চিকিৎসার ব্যয়সহ যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এটি না করলে অনেক মানুষই মনে করে হাসপাতালে নিয়ে আসা অনেক খরচের ব্যাপার। কিন্তু পরে যখন অবস্থা খুব খারাপ হয়, তারা হাসপাতালে শিশুদের নিয়ে আসে। এতে শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে। এসব ব্যবস্থা নিলে শিশুদের মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হবে মনে করেন তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “আসলে হাম মোকাবিলার প্রধান একটি বিষয় হলো টিকা প্রদান। আমরা সেটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। সরকার খুব আন্তরিকতার সঙ্গে হাম মোকাবিলায় চেষ্টা করছে। আসলে আমাদের ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে গত মাসের ২০ তারিখ থেকে। আর টিকা গ্রহণের পর অন্তত তিন সপ্তাহ লাগে শিশুদের শরীরে ইমিউনিটি বৃদ্ধি পেতে, তাই চলতি মাসের ২০ তারিখের পর থেকে হামের প্রকোপ কমবে। এখনো যারা টিকা পায়নি তাদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে তুলে ধরে তিনি আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে হামের প্রকোপ একেবারে কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। আমরা শুরুতে উচ্চঝুঁকি বিবেচনায় ৫ এপ্রিল থেকে যেসব এলাকায় টিকা দিয়েছিলাম সেখানে বর্তমানে হামের সংক্রমণ খুবই কম। সেদিক বিবেচনায় জুন মাসের শেষে হামের প্রকোপ দৃশ্যমানভাবে কমবে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে ‘কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ নামে নামকরণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৯ মে) মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।