স্বাস্থ্য

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৭৮

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৭৮ জন।       বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।      এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২৬০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৩২৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৮০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৭৬ জন, খুলনা বিভাগে ২৫৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ২০৯ জন, রংপুর বিভাগে ১০১ জন এবং সিলেট বিভাগে রয়েছেন ১৬।        এ নিয়ে চলতি বছরে ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১ হাজার ৫৯৮ জন। 

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তরুণ বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় যে কারণ

সকালের শরীরচর্চা, তেল-মসলা ছাড়া ডায়েট— সব মানার পরও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে মুক্তি। কারণ রাতের একটা চেনা অভ্যাসই চুপিসারে ক্ষতি করছে হৃদযন্ত্রের। দেরি করে ঘুম আর মোবাইলের নীল আলোয় আসক্তিই অল্পবয়সে বাড়াচ্ছে হার্টের রোগের ঝুঁকি। এ বিষয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল সানসেট কোনো কঠিন কিছু নয়। এটি লাইফস্টাইল রিসেট। মাত্র ২১ দিন মেনে চললেই ঘুম ভালো হবে, মাথা হালকা লাগবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষিত থাকবে হৃদযন্ত্র।   আর সকালে ঘুম থেকে ওঠা, শরীরচর্চা করার পরও স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া— সবই করছেন। কিন্তু এতকিছু করার পরও আপনি নিশ্চিত হচ্ছে পারছেন না হৃদযন্ত্রটি ভালো আছে? সে জন্য হার্ট ভালো রাখতে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন একান্তই জরুরি। তবে রাতের এক সাধারণ অভ্যাসই নিঃশব্দে অল্পবয়সিদের হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে বলে মনে করছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।   রাত বাড়লেই বিছানায় শুয়ে মোবাইলে ডুবে দিচ্ছেন। এই এক অভ্যাসই নীরবে বাড়াচ্ছে রক্তচাপ, নষ্ট করছে ঘুম, আর ৩০ পেরোনোর আগেই ডেকে আনছে হৃদরোগের ঝুঁকি। কার্ডিয়োলজিস্টরা বলছেন, বাঁচতে চাইলে মেনে চলুন ‘ডিজিটাল সানসেট’। কী এই নিয়ম, আর কীভাবেই বা শুরু করবেন?   ‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’ উপলক্ষ্যে কার্ডিয়োলজিক্যাল সোসাইটি অব ইন্ডিয়া কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কীভাবে কম ঘুম ধীরে ধীরে অল্পবয়সিদের হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে চলেছে, তা নিয়ে এক আলোচনাসভা আয়োজিত হয়েছিল। দেশ-বিদেশের হৃদরোগ চিকিৎসক, শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী হাজির ছিলেন গত ২৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠিত সভায়। সেখানে কার্ডিয়োলজিস্টরা বলেছেন, দেরিতে ঘুম আর স্ক্রিনের আসক্তিই অল্পবয়সিদের হৃদরোগের নীরব ঘাতক হয়ে উঠছে। এখানেই আসছে ‘ডিজিটাল সানসেট’ ধারণাটি। সূর্যাস্তের মতোই দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর সব ডিজিটাল আলো নিভিয়ে দেওয়ার অভ্যাস কমাতে পারে হৃদরোগের আশঙ্কা। অর্থাৎ রাতের একটা নির্দিষ্ট সময়, ধরুন রাত ৮টা কিংবা ৯টার পর আর মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি ব্যবহার একেবারেই করা চলবে না।   কেন হার্টের সঙ্গে সম্পর্ক? চিকিৎসক বিএন ঝা বলেন, রাতে মোবাইল, টিভির নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে ঘুম দেরিতে আসে, ঘুম গভীর হয় না। বারবার ঘুম ভেঙে যায়। দিনের পর দিন কম ঘুম মানেই শরীরে ক্ষরণ বাড়ে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের। ফলে বেড়ে যায় রক্তচাপ এবং বাড়ে ওজন। এই তিনটিই হার্টের শত্রু।    একটানা ৭ ঘণ্টার কম ঘুম নিয়মিত হলে ৩০-এর আগেই হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। ডিজিটাল সানসেটের মাধ্যমে তাই আজ থেকেই ঘুমের চক্র ঠিক করে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করা জরুরি।   চিকিৎসক শুভাশিস গাঙ্গুলি বলেন, হৃদযন্ত্রকে যেমন খাটাতে হবে, ঠিক তেমনই বিশ্রামও দিতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় হৃৎপিণ্ড বিশ্রাম পায়। ঘুমের সময় রক্তচাপ সাধারণত ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে যায়, যা রক্তনালিকে শিথিল করে। হৃদযন্ত্রও বিশ্রাম পায়। ঘুম অসম্পূর্ণ হলে বা ঘন ঘন ভেঙে গেলে, স্বাভাবিক রক্তচাপ কমার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে হৃৎস্পন্দন যতটা কমা উচিত, ততটা কমে না এবং রক্তচাপও প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নামে না। ফলে হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না। এমনকি রাতের পর রাত চলতে থাকলে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক।   সে জন্য সানসেট টাইম ঠিক করুন। রাত ১০টা আদর্শ। সেই সময়ে ফোনে অ্যালার্ম দিন, নাম দিন ‘সানসেট’। ওই অ্যালার্মের পর সচেতন হয়ে মোবাইল ব্যবহার একেবারে বন্ধ করুন, টিভি দেখাও চলবে না।   আর ফোন রেখে দিলে হাত নিশপিশ করবে। তার বদলে বই পড়া, গান শোনা এবং পরিবারের সঙ্গে গল্প করা বা হালকা হাঁটার অভ্যাস করুন। ওই সময়টা কীসের জন্য বরাদ্দ করবেন, তা আগে থেকেই ভেবে রাখুন। এ ছাড়া শোবারঘরে ফোন নিয়ে ঢুকবেন না। চার্জ দিন বসার ঘরে। দরকারে সাধারণ অ্যালার্ম ঘড়ির ব্যবহার আবার শুরু করুন। যদিও এ অভ্যাস একদিনে বদলাবে না। প্রতি সপ্তাহে ১৫ মিনিট করে এগিয়ে আনুন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ঘুম তাড়ানোর পাশাপাশি কফির আরও যত উপকার

সকালের ঘুমঘুম ভাব কাটাতে এক কাপ কফিই যেন অনেকের ভরসা। তবে কফির কাজ শুধু চোখের ঘুম তাড়ানোতেই শেষ নয়। পরিমিত কফি পান শরীর ও মস্তিষ্কের জন্যও কিছু সম্ভাব্য উপকার বয়ে আনতে পারে।   কফির সবচেয়ে পরিচিত উপাদান ক্যাফেইন। এটি মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। ফলে কিছু সময়ের জন্য সতর্কতা, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়তে পারে। তাই দীর্ঘ সময় পড়াশোনা, কাজ কিংবা ব্যায়ামের আগে অনেকেই কফি পান করেন।   কফিতে ক্যাফেইনের পাশাপাশি রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ। গবেষণায় নিয়মিত ও পরিমিত কফি পানের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, কিছু যকৃতের রোগ এবং পারকিনসনস রোগের তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি নিয়েও কিছু গবেষণায় ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে এসব গবেষণার বেশির ভাগই সম্পর্ক দেখায়, সরাসরি কারণ-ফল প্রমাণ করে না।   শুধু মস্তিষ্ক নয়, শরীরচর্চাতেও ক্যাফেইন কিছুটা সহায়ক হতে পারে। ব্যায়ামের আগে উপযুক্ত পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণ কিছু মানুষের সতর্কতা ও শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।   কফির সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা ক্রিম যোগ করলে কফির ক্যালরি অনেক বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে কফি খেতে চাইলে চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত উপাদান কম রাখাই ভালো।   সবশেষে, কফি শরীরের সঙ্গে মানানসই পরিমাণে পান করলে এক কাপ কফি হতে পারে সতেজতার পাশাপাশি উপভোগ্য এক স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ত্বকে ঘি মাখার আগে জানুন উপকারিতা ও ঝুঁকি

রান্নাঘরের পরিচিত উপকরণ ঘি এখন জায়গা করে নিচ্ছে রূপচর্চাতেও। শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখা কিংবা ত্বককে সাময়িকভাবে নরম অনুভব করাতে অনেকে মুখে ঘি ব্যবহার করেন। ঘরোয়া ফেসপ্যাকেও অল্প পরিমাণ ঘি মেশানোর চল রয়েছে।   ঘিতে কিছু চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও অন্যান্য উপাদান থাকে। এগুলো ত্বকে মসৃণতা ও আর্দ্রতার অনুভূতি দিতে পারে। তবে মুখে ঘি লাগালেই দাগ দূর হবে, বলিরেখা কমবে বা সব ধরনের ত্বকের সমস্যা চলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই ত্বকের ধরন বুঝে ঘি ব্যবহার করা জরুরি।   মুলতানি মাটি ও ঘি শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে এক চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে সামান্য ঘি ও প্রয়োজনমতো পানি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। মুখে পাতলা করে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে মুলতানি মাটি অনেকের ত্বক আরও শুষ্ক করে দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকে এটি ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।   বেসন, হলুদ ও ঘি এক চামচ বেসনের সঙ্গে সামান্য হলুদ ও অল্প ঘি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা যায়। প্রয়োজন হলে এতে সামান্য পানি যোগ করা যেতে পারে। মুখে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট পর আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন।   এ ধরনের প্যাকে লেবুর রস মেশানোর বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো। লেবু বা অন্যান্য ফলের রস ত্বকে জ্বালা ও প্রদাহ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রোদে যাওয়ার পর ত্বকে প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।   ঘি ও জাফরান এক চিমটি জাফরানের সঙ্গে অল্প ঘি মিশিয়ে হালকা পেস্ট তৈরি করা যায়। মুখ ও গলায় খুব আলতোভাবে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। ঘি খুব বেশি ব্যবহার করলে মুখ অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে জোরে ঘষাঘষি বা দীর্ঘ সময় ম্যাসাজ না করাই ভালো। অতিরিক্ত ঘর্ষণে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে।   দুধ, বেসন ও ঘি শুষ্ক ত্বকের জন্য বেসন, সামান্য দুধ ও অল্প ঘি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।   তবে সপ্তাহে একবার এ ধরনের প্যাক ব্যবহার করলেই ত্বকের দাগ দূর হবে বা ত্বকের রং বদলে যাবে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। ঘরোয়া ফেসপ্যাক মূলত সাময়িকভাবে ত্বককে নরম ও মসৃণ অনুভব করাতে পারে।   সবার ত্বকে কি ঘি মানাবে? ঘি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকে। মুখে ভারী বা তেলতেলে উপাদান ব্যবহার করলে কারও কারও অস্বস্তি হতে পারে। ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে ত্বক বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ‘নন-কমেডোজেনিক’, অর্থাৎ ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ করার ঝুঁকি কম এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন।   নতুন কোনো ঘরোয়া উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। লালচে ভাব, চুলকানি, ফোলাভাব বা জ্বালাপোড়া দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।   তাই ত্বকের যত্নে ঘি ব্যবহার করতে চাইলে অল্প পরিমাণে এবং নিজের ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করাই ভালো। সুস্থ ত্বকের জন্য নিয়মিত মৃদু ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের মতো প্রমাণভিত্তিক যত্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৮

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অব্যাহতভাবে উদ্বেগ তৈরি করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৮ জন।   বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৫ জনে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে প্রথম ২৯ দিনে মারা গেছেন ১৪৮ জন। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—দুই মাসেই দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৪৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ৬১০ জনে।   এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৮৮২ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়েছেন মোট ৭৩ হাজার ৮৯০ জন।   গত এক দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে—৭১৯ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৩৪৩ জন, খুলনায় ২৪৮ জন, বরিশালে ২১২ জন, রাজশাহীতে ২১১ জন, ময়মনসিংহে ১০২ জন এবং রংপুর বিভাগে ৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪২

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।   এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুতে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ২৯ দিনেই ১৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।   এদিকে এক হাজার ৯৪২ জন গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৭৭ হাজার ৬৭২ জন।   আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিবেদনে সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার তথ্য জানানো হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য তিনজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছে এক হাজার ৭৫১ জন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের এই ২৯ দিনে ১৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের মাসে অর্থাৎ আগস্টে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছিল ৪৩ জনের। এ ছাড়া জুলাই মাসে ৩৬, জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।   এদিকে মে মাসে ১, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
লিভারের সমস্যা বুঝতে পায়ের যেসব লক্ষণে নজর রাখবেন

লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রোটিন তৈরি, পুষ্টি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং শরীর থেকে বিভিন্ন বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।     লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে এর প্রভাব পড়তে পারে। কখনো কখনো পায়ের পাতা, গোড়ালি বা পায়ের ত্বকেও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ শুধু লিভারের রোগের কারণে হয় না। অন্য অনেক শারীরিক সমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।     তাই লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।     পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যালবুমিন নামের প্রোটিনের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে শরীরে তরলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পা, পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে পানি জমে ফুলে যেতে পারে। একে পেরিফেরাল এডিমা বলা হয়।   তবে হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি ও অন্যান্য সমস্যার কারণেও পা ফুলতে পারে।     পায়ের তলায় চুলকানি কোনো কারণ ছাড়াই পায়ের পাতা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি থাকলে তা লিভারের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে কোলেস্টেসিসের মতো অবস্থায় পিত্তের উপাদান রক্তে জমে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে।     পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড়তা পায়ে বারবার ঝিনঝিন করা, জ্বালাপোড়া বা অসাড়তা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা কিংবা পুষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগের সঙ্গেও এ ধরনের উপসর্গের সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই এটি একা লিভারের রোগের নির্দিষ্ট লক্ষণ নয়।     ত্বক বা নখ হলদেটে হওয়া লিভারের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে শরীরে বিলিরুবিন বেড়ে জন্ডিস হতে পারে। এতে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যেতে পারে। কখনো নখেও হলদেটে ভাব দেখা যায়। প্রাকৃতিক আলোতে এ পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট বোঝা যায়।     লাল বা বাদামি দাগ পায়ের ত্বকে অস্বাভাবিক লাল বা বাদামি দাগ দেখা দিলে সেটিও অবহেলা করা উচিত নয়। তবে এ ধরনের দাগের পেছনে রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যা, ত্বকের রোগসহ নানা কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু দাগ দেখেই লিভারের রোগ নিশ্চিত করা যায় না।     স্পাইডার অ্যানজিওমাস ত্বকের ওপর ছোট রক্তনালির জাল বা মাকড়সার মতো লালচে দাগকে স্পাইডার অ্যানজিওমা বলা হয়। দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগে এটি দেখা যেতে পারে। তবে এ ধরনের দাগ থাকলেই লিভারের সমস্যা হয়েছে—এমন নয়।     চিকিৎসক অনুজ পাহুজার মতে, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা কারণেও এমনটা হতে পারে; কখনো কখনো এটি লিভারের সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত। লিভার পর্যাপ্ত অ্যালবুমিন তৈরি করতে না পারলে শরীরে তরল জমে পা ফুলে যেতে পারে।     বিশেষজ্ঞদের মতে, পা বা পায়ের পাতায় এসব পরিবর্তনের সঙ্গে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, সহজে রক্তপাত বা শরীরে পানি জমার মতো অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের কার্যকারিতা যাচাই করা যায়।       মনে রাখা জরুরি, শুধু পায়ের কোনো একটি লক্ষণ দেখে লিভারের রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
ফাইল ছবি
হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ শিশুর

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৫ শিশু।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।   বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৮৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০১ শিশু। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।   এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২০১। এই সময়ে ১ হাজার ৯৫ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৬৩ শিশু।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ১,৭৮২ রোগী

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৮২ জন।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ২৩ দিনেই মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।   বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।   একই সময়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৭৫৭ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।   গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৭১৬ জন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন এবং খুলনা বিভাগে ২৮৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।   এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক পরিসংখ্যানে প্রতিদিনের নতুন ভর্তি, সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগী এবং মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হামে ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১৫৭

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ১১৩ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি সন্দেহজনক ১ হাজার ১৫৭ জন।     আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম পরিস্থিতি-সংক্রান্ত তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।     তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় ছয়জন, চট্টগ্রামে দুজন এবং সিলেট, খুলনা ও রংপুর বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।       এনিয়ে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহজনক ৯৭৫ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ১০১ জনসহ মোট ১ হাজার ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।     স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৮৫১ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জন।       হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যায় ঢাকা বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত ৩৮২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এরপর চট্টগ্রামে ২৩৮ জন, সিলেটে ১৬৪ জন এবং বরিশালে ২৪৮ জনের হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিএমইউতে মাসে দুটি লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা, খরচ ভারতের এক-তৃতীয়াংশ

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপনের তথ্য দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেছেন, এখন থেকে তারা মাসে দুটি করে লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা করছেন।   তিনি বলেন, এ ধরনের অস্ত্রোপচার আশেপাশের দেশের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ কম খরচে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এটি সফলতার একটি উদাহরণ। এ খরচ ভবিষ্যতে আরো কম হবে।   এখন পর্যন্ত যে কয়টি অস্ত্রোপচার হয়েছে সেগুলোর খরচ সরকার দিয়েছে বলেও তুলে ধরেন তিনি।   উপাচার্য বলেন, এমন অস্ত্রোপচারের খরচ ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের তহবিল থেকে বিনামূল্যে করা হবে।   মঙ্গলবার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন উপাচার্য৷   অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী সম্প্রতি ছয়টি সফল লিভার প্রতিস্থাপনের (ট্রান্সপ্ল্যান্টের) তথ্য তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে আরও চারটি প্রতিস্থাপনের জন্য রোগী নির্বাচন ও প্রস্তুতি চলছে। এখন থেকে মাসে দুটি করে লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর বছরে ২৪টি এমন সার্জারির পরিকল্পনা রয়েছে।   এমন অস্ত্রোপচারে ভারতে ব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সেই তুলনায় অর্ধেকের কম খরচে এ হাসপাতালে সফল অস্ত্রপাচার সম্ভব হচ্ছে। আশপাশের দেশে সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার মত খরচ হয়। কিন্তু এখানে সেটা ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকায় হবে।   তিনি বলেন, আগের ছয়টি ট্রান্সপ্ল্যান্টের মধ্যে দুটি হয়েছে ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর। বাকি চারটি হয়েছে চলতি বছরের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে এসব রোগীর ফলোআপ চিকিৎসা চলছে।   উপাচার্য বলেন, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিএমইউতে একটি করে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হলেও কার্যক্রমটি ধারাবাহিক ছিল না। তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার পর নিয়মিতভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।   “আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে আরও দুটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার প্রস্তুতি চলছে। এর জন্য চারজন রোগী ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছেন।”   ডোনার নির্বাচনের স্বচ্ছতার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম ঠেকাতে একাধিক ধাপে ডোনার ও গ্রহীতার সম্পর্ক, চিকিৎসাগত উপযুক্ততা ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হয়। এমনকি সব কিছু হওয়ার পর হাসপাতালের একটা বোর্ড রয়েছে, যেটি আবার সব কিছু যাচাই করে।   ‘‘বিভিন্ন সময় হাসপাতালের কমিটি ডোনারের পরিচয়, উৎপত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়, যাতে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম না থাকে।'’   মাসে দুটি করে ট্রান্সপ্ল্যান্টের লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়ে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, “একজন দাতা ও একজন গ্রহীতাকে প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিকিৎসাগত মিল, আইনগত অনুমোদন, মানসিক প্রস্তুতি এবং বিশাল লজিস্টিক সমন্বয় ছাড়া একটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব নয়।   ‘‘এই ধরনের সফল অস্ত্রপাচার কোনো একজন সার্জনের সাফল্য নয়; সার্জন, হেপাটোলজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, নার্স, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইনফেকশন কন্ট্রোল টিম—সবাই মিলে এটি সম্ভব হয়েছে।'’   ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘‘দ্রুতই নিজেদের এ অস্ত্রোপচারে শতভাগ বিশেষজ্ঞ সার্জন তৈরি করতে পারব। যারা এই হাসপাতালের বাইরে দেশের বিভিন্ন সেন্টারে এই ধরনের সফল অস্ত্রপাচার করবেন। কারণ দেশে এটির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমাদের বিষয়ে এখনো সেই ধরনের অস্থার জায়গা তৈরি হয়নি। আশা করি এখানে নিয়মিত অস্ত্রপাচার হওয়ার পর দেশের মানুষের কাছে সেই ইতিবাচক বার্তা যাবে।”   তিনি বিদেশের কিছু ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের বিষয়ে বলেন, ‘‘অনেক সেন্টার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সফলতার হার ঠিক রাখার জন্য কোনো ঝুঁকি নিয়ে অপারেশন করে না। কিন্তু আমরা দেশের মানুষের স্বার্থে শুধু সফলতার হার বৃদ্ধিতে নয়, সেবার জন্য কাজ করবো।”   বিএমইউ বলছে, ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগ অংশ নেয়। ভারতের হায়দ্রাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (এআইজি) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয়।   সম্প্রতি সফল হওয়া গৃহীনি জোৎসা বেগম লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে সুস্থভাবে চলাফেরা করছেন, যার দাতা হিসেবে ছিলেন তার ছেলে মো. সাজ্জাদ।   এ বিষয়ে ছেলে সাজ্জাদ বলেন, ‘‘আমি অস্ত্রপাচারের পরও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না বাংলাদেশে এটি সম্ভব। আমার মা খুব সুস্থভাবে এখন জীবনযাপন করছেন। অপারেশনের জন্য আমাদের প্রায় এক মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেন কিন্তু এই অস্ত্রপাচারের পর বুঝতে পারছি, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’’   সংবাদ সম্মেলনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র দাস, বিএমইউ অধ্যাপক ডা. সাইফ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমসহ ট্রান্সপ্ল্যান্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিএমইউতে মাসে দুটি লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা, খরচ ভারতের এক-তৃতীয়াংশ

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপনের তথ্য দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেছেন, এখন থেকে তারা মাসে দুটি করে লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা করছেন।   তিনি বলেন, এ ধরনের অস্ত্রোপচার আশেপাশের দেশের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ কম খরচে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এটি সফলতার একটি উদাহরণ। এ খরচ ভবিষ্যতে আরো কম হবে।   এখন পর্যন্ত যে কয়টি অস্ত্রোপচার হয়েছে সেগুলোর খরচ সরকার দিয়েছে বলেও তুলে ধরেন তিনি।   উপাচার্য বলেন, এমন অস্ত্রোপচারের খরচ ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের তহবিল থেকে বিনামূল্যে করা হবে।   মঙ্গলবার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন উপাচার্য৷   অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী সম্প্রতি ছয়টি সফল লিভার প্রতিস্থাপনের (ট্রান্সপ্ল্যান্টের) তথ্য তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে আরও চারটি প্রতিস্থাপনের জন্য রোগী নির্বাচন ও প্রস্তুতি চলছে। এখন থেকে মাসে দুটি করে লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর বছরে ২৪টি এমন সার্জারির পরিকল্পনা রয়েছে।   এমন অস্ত্রোপচারে ভারতে ব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সেই তুলনায় অর্ধেকের কম খরচে এ হাসপাতালে সফল অস্ত্রপাচার সম্ভব হচ্ছে। আশপাশের দেশে সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার মত খরচ হয়। কিন্তু এখানে সেটা ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকায় হবে।   তিনি বলেন, আগের ছয়টি ট্রান্সপ্ল্যান্টের মধ্যে দুটি হয়েছে ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর। বাকি চারটি হয়েছে চলতি বছরের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে এসব রোগীর ফলোআপ চিকিৎসা চলছে।   উপাচার্য বলেন, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিএমইউতে একটি করে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হলেও কার্যক্রমটি ধারাবাহিক ছিল না। তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার পর নিয়মিতভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।   “আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে আরও দুটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার প্রস্তুতি চলছে। এর জন্য চারজন রোগী ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছেন।”   ডোনার নির্বাচনের স্বচ্ছতার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম ঠেকাতে একাধিক ধাপে ডোনার ও গ্রহীতার সম্পর্ক, চিকিৎসাগত উপযুক্ততা ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হয়। এমনকি সব কিছু হওয়ার পর হাসপাতালের একটা বোর্ড রয়েছে, যেটি আবার সব কিছু যাচাই করে।   ‘‘বিভিন্ন সময় হাসপাতালের কমিটি ডোনারের পরিচয়, উৎপত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়, যাতে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম না থাকে।'’   মাসে দুটি করে ট্রান্সপ্ল্যান্টের লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়ে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, “একজন দাতা ও একজন গ্রহীতাকে প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিকিৎসাগত মিল, আইনগত অনুমোদন, মানসিক প্রস্তুতি এবং বিশাল লজিস্টিক সমন্বয় ছাড়া একটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব নয়।   ‘‘এই ধরনের সফল অস্ত্রপাচার কোনো একজন সার্জনের সাফল্য নয়; সার্জন, হেপাটোলজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, নার্স, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইনফেকশন কন্ট্রোল টিম—সবাই মিলে এটি সম্ভব হয়েছে।'’   ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘‘দ্রুতই নিজেদের এ অস্ত্রোপচারে শতভাগ বিশেষজ্ঞ সার্জন তৈরি করতে পারব। যারা এই হাসপাতালের বাইরে দেশের বিভিন্ন সেন্টারে এই ধরনের সফল অস্ত্রপাচার করবেন। কারণ দেশে এটির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমাদের বিষয়ে এখনো সেই ধরনের অস্থার জায়গা তৈরি হয়নি। আশা করি এখানে নিয়মিত অস্ত্রপাচার হওয়ার পর দেশের মানুষের কাছে সেই ইতিবাচক বার্তা যাবে।”   তিনি বিদেশের কিছু ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের বিষয়ে বলেন, ‘‘অনেক সেন্টার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সফলতার হার ঠিক রাখার জন্য কোনো ঝুঁকি নিয়ে অপারেশন করে না। কিন্তু আমরা দেশের মানুষের স্বার্থে শুধু সফলতার হার বৃদ্ধিতে নয়, সেবার জন্য কাজ করবো।”   বিএমইউ বলছে, ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগ অংশ নেয়। ভারতের হায়দ্রাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (এআইজি) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয়।   সম্প্রতি সফল হওয়া গৃহীনি জোৎসা বেগম লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে সুস্থভাবে চলাফেরা করছেন, যার দাতা হিসেবে ছিলেন তার ছেলে মো. সাজ্জাদ।   এ বিষয়ে ছেলে সাজ্জাদ বলেন, ‘‘আমি অস্ত্রপাচারের পরও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না বাংলাদেশে এটি সম্ভব। আমার মা খুব সুস্থভাবে এখন জীবনযাপন করছেন। অপারেশনের জন্য আমাদের প্রায় এক মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেন কিন্তু এই অস্ত্রপাচারের পর বুঝতে পারছি, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’’   সংবাদ সম্মেলনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র দাস, বিএমইউ অধ্যাপক ডা. সাইফ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমসহ ট্রান্সপ্ল্যান্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৭২

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে ৫ জন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৭২ জন।   মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ১৯৫ জন মারা গেছেন। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন।   গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে দুজন এবং ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী।   এর আগে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৭৫৩ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৫৯৩ জন ও ৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক হাজার ৫৭১ জন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু চাই না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক। যা আছে, তা দিয়েই দরিদ্র মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চাই।’ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৫০ শয্যার হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধের সরবরাহ, খাবারের মান, চিকিৎসক সংকটসহ নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। জনগণের প্রতি আমাদের বড় দায়বদ্ধতা রয়েছে। এসব মানুষের সার্বিক দায়িত্ব আমাদের কাঁধে বর্তায়। অতীতের অজুহাত দিয়ে আর লাভ নেই। আমরা সারাদেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই না কোনো মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাক। যা আছে, তা দিয়েই গরিব মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে চাই। এ কারণে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।’ এসময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর অভিযোগও খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতালের সেবার মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতের চলমান সংস্কার ও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম দূর করে চিকিৎসাব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও সুশৃঙ্খল করতে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।’ পরিদর্শনকালে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আহমেদ তিথীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হামের উপসর্গে এক দিনে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ১,৩০৫

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩০৫ জন।   সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩ জনে।   বুলেটিনে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে। দুই বিভাগেই দুজন করে মারা গেছেন।   কোন বিভাগে কত রোগী গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৩০৫ রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৮৮ জন, চট্টগ্রামে ২৯১ জন, সিলেটে ১৩১ জন, বরিশালে ১৪৫ জন, খুলনায় ৯০ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, রাজশাহীতে ৩১ জন এবং রংপুরে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৮৮ জন।   সন্দেহজনক রোগী ১ লাখ ৮১ হাজারের বেশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জনে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ২০ হাজার ৬৪৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা অব্যাহত থাকায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ সংক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু ঠেকাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এগিয়ে আসার আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ ডিজিটাল সচেতনতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ইনফ্লুয়েন্সার ও তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।   সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বার্তায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা কিংবা মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য জনগণের ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।   তিনি বলেন, ডেঙ্গু সম্পর্কে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সচেতনতা বাড়াতে নাগরিকদের পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।   প্রতিমন্ত্রী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সারদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ভিডিও, রিলস, স্টোরি, ইনফোগ্রাফিক ও পোস্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের আহ্বান জানান।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে ইতোমধ্যে কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর যুক্ত হয়েছেন। তাদের তৈরি বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং অসুস্থ হলে করণীয় সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   আগামী তিন মাস এ ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আওতায় ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধসংক্রান্ত তথ্য ও সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হবে।   এ সময় বাড়ি, আঙিনা ও কর্মস্থলের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়েও জনসাধারণকে সচেতন করা হবে।   স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হামে আরও ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ১২০০

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭ জনে।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে দুই জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩৬ জন রোগী এসেছে।   বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫১৩ জন, রাজশাহীতে ৩০ জন, সিলেটে ১৪৫ জন, চট্টগ্রামে ২৮৪ জন, বরিশালে ১১৪ জন, ময়মনসিংহে ৫৪ জন, খুলনায় ৭০ জন এবং রংপুরে ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫২ হাজার ২২৫ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।   গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৫৬২ জন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ফাইল ছবি
টাইফয়েডের টিকা পায়নি যেসব শিক্ষার্থী, তাদের কী করণীয়

টাইফয়েড একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ। সালমোনেলা টাইফি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এ রোগ হয়। সাধারণত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে টাইফয়েড গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।   টাইফয়েড কী টাইফয়েড জ্বর মূলত সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। একই ধরনের আরেকটি সংক্রমণ সালমোনেলা প্যারাটাইফির কারণে হতে পারে, যাকে প্যারাটাইফয়েড বলা হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ঘাটতি থাকলে টাইফয়েড ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। শিশু এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগ কম থাকা মানুষ এ রোগে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।   টাইফয়েডের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী বা বেশি জ্বর, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া। গুরুতর ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।   টাইফয়েডের টিকা কীভাবে কাজ করে টাইফয়েডের টিকা রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টাইফয়েডপ্রবণ এলাকায় টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন বা টিসিভি ব্যবহারের সুপারিশ করে। এ টিকা এক ডোজে দেওয়া যায় এবং ছয় মাস বয়স থেকে শিশুদের দেওয়া সম্ভব। টিসিভি তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিতে পারে।   এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণকারীদের জন্য টাইফয়েডের অন্য ধরনের টিকাও রয়েছে। ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া টিকা সাধারণত দুই বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য এবং মুখে খাওয়ার জীবিত দুর্বল জীবাণুর টিকা ছয় বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। কোন টিকা কার জন্য উপযুক্ত, তা চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারণ করা উচিত।   টিকা নিলেও সতর্কতা জরুরি টাইফয়েডের টিকা নিলেই শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না। তাই নিরাপদ পানি পান, ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া, অপরিষ্কার ও সন্দেহজনক খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস জরুরি।   পদ্ধতি অনলাইনে নিবন্ধন: টাইফয়েডের টিকা নিতে vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নম্বর অথবা বাবা-মায়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করা যাবে। নিবন্ধনের পর ভ্যাকসিন কার্ড সংগ্রহ করা সম্ভব।   জন্মনিবন্ধন না থাকলেও সুযোগ: জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকলেও ক্যাম্পেইন চলাকালে নির্দিষ্ট নিয়মে টিকা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী বা স্কুলের শিক্ষকদের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।   বেসরকারিভাবে টিকা: সরকারি ক্যাম্পেইনের বাইরে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিবন্ধিত শিশু বিশেষজ্ঞ বা হাসপাতাল থেকে নিজ খরচে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টাইফয়েড কনজুগেট টিকা (টিসিভি) নেওয়া যেতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
যেকোনো বয়সেই হতে পারে অ্যালার্জি, নেপথ্যে কী কারণ?

অ্যালার্জি সাধারণত শৈশবেই শুরু হয়—এমন ধারণা অনেকের। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, জীবনের যেকোনও পর্যায়েই নতুন করে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। এমনকি দীর্ঘদিন কোনও খাবার বা পরিবেশগত উপাদানে সমস্যা না থাকলেও প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে হঠাৎ সেটির বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।   অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ কেলি কোলাস বলেন, যেকোনও মানুষ জীবনের যেকোনও সময় নতুন কোনও অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হতে পারেন। গবেষকেরা এখন মনে করছেন, এর পেছনে শুধু বংশগত কারণ নয়; বরং সংক্রমণ, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার পরিবর্তন, অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্য, হরমোনের ওঠানামা এবং কিছু ক্ষেত্রে পোকামাকড়ের কামড়ও ভূমিকা রাখতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ফুড অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা রিসার্চের পরিচালক রুচি গুপ্তার মতে, কারও শরীরে অ্যালার্জির জিনগত প্রবণতা থাকলেও শুধু জিনই সবকিছু নির্ধারণ করে না। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমন একটি ঘটনা প্রয়োজন হয়, যা রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে অ্যালার্জির দিকে ঠেলে দেয়।   কোভিড-১৯ কি অ্যালার্জির ‘সুইচ’ চালু করতে পারে? নতুন অ্যালার্জির সম্ভাব্য উদ্দীপক হিসেবে এখন কোভিড-১৯ নিয়েও গবেষণা হচ্ছে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস—সাধারণভাবে যাকে হে ফিভার বলা হয়—এবং হাঁপানির ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে।   সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও গবেষণাটির সহলেখক ফিলিপ কারম্যান বলেন, সংক্রমণ অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়িয়েছে, আর টিকাদান সেই ঝুঁকি কমিয়েছে।   গবেষকদের ব্যাখ্যা, কোভিড-১৯-এর মতো সংক্রমণের সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীরে প্রদাহ বাড়তে পারে। এই প্রদাহের কিছু ধরন অ্যালার্জিজনিত রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।   শিশুদের ক্ষেত্রে রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) এবং সর্দি-জ্বরের জন্য দায়ী রাইনোভাইরাসের মতো ভাইরাসের সঙ্গেও পরবর্তী সময়ে অ্যালার্জি দেখা দেওয়ার সম্পর্কের ইঙ্গিত পেয়েছেন গবেষকেরা।   গুপ্তার ব্যাখ্যা, কোনও ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীর যখন তীব্রভাবে লড়াই করছে, ঠিক তখন খাবার বা পরিবেশের কোনও সাধারণ উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সেটিকেও হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। ফলে এমন কোনও পদার্থের বিরুদ্ধেও প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় ক্ষতিকর নয়।   অ্যান্টিবায়োটিকেও বদলাতে পারে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা শুধু সংক্রমণ নয়, কোনও রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও পরবর্তী সময়ে অ্যালার্জির ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়তে পারে—এমন সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।   এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের পরিবর্তনের কথা বলছেন। মানুষের অন্ত্রে বিপুলসংখ্যক ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব বসবাস করে, যাদের সামগ্রিকভাবে মাইক্রোবায়োম বলা হয়। হজম, বিপাক এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।   অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি অন্ত্রের উপকারী জীবাণুগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফলে মাইক্রোবায়োমের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যক্রমেও পরিবর্তন আসতে পারে।   গুপ্তার ভাষায়, এর ফলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় এক ধরনের ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ সাধারণত নিরীহ কোনও পদার্থকেও শরীর ভুল করে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।   গর্ভাবস্থা ও হরমোনের পরিবর্তনের প্রভাব নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থাও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ কেলি কোলাসের মতে, আগে থেকেই পরিবেশগত অ্যালার্জি থাকা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারীর গর্ভধারণের পর উপসর্গ আরও বেড়ে যেতে পারে।   আবার এমন একটি অবস্থাও দেখা যায়, যাকে ‘প্রেগন্যান্সি রাইনাইটিস’ বলা হয়। এতে আগে কখনও অ্যালার্জি না থাকা গর্ভবতী নারীরও হাঁচি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।   তবে এটি প্রকৃত অ্যালার্জি নয় বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সন্তান জন্মের পর সাধারণত এসব উপসর্গ চলে যায়। হরমোনের ওঠানামার সঙ্গে এ অবস্থার সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।   এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মতো নারী প্রজনন হরমোন রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। মেনোপজের সময়ও হরমোনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এ সময়ও কিছু নারীর নতুন করে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।   এঁটেল পোকার কামড়ে মাংসে অ্যালার্জি! নতুন অ্যালার্জির সবচেয়ে অদ্ভুত উদাহরণগুলোর একটি হলো আলফা-গাল সিনড্রোম—যেখানে এঁটেল পোকার কামড়ের পর গরু, খাসি বা শূকরের মতো স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাংসে অ্যালার্জি তৈরি হতে পারে।   এ ধরনের অ্যালার্জির সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত উত্তর আমেরিকার ‘লোন স্টার’ এঁটেল পোকা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই এঁটেল পোকার বিস্তার নতুন নতুন এলাকায় ঘটছে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক থমাস প্ল্যাটস-মিলস নিজেই এমন অ্যালার্জির অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন।   ২০০৭ সালে লন্ডনে এক সফরের সময় তিনি ভেড়ার মাংস খাওয়ার পর রাতে হঠাৎ সারা শরীরে চাকা ওঠার মতো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার শিকার হন। এর কয়েক মাস আগে হাঁটার সময় লার্ভা পর্যায়ের এঁটেল পোকা তার শরীরে লেগে কামড় দিয়েছিল।   পরবর্তী রক্ত পরীক্ষায় তার শরীরে অ্যালার্জির সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যান্টিবডির উচ্চমাত্রা পাওয়া যায়। তার নিজের অভিজ্ঞতা তার গবেষক দলকে এঁটেল পোকার কামড় ও মাংসে অ্যালার্জির মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে।   এঁটেল পোকার লালায় আলফা-গাল নামের একটি শর্করা অণু থাকতে পারে। অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীরে এটি স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায়, কিন্তু মানুষের শরীরে এটি থাকে না। ফলে এঁটেল পোকার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে আলফা-গাল প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সেটিকে বিদেশি উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। পরবর্তীতে কেউ গরু বা খাসির মাংস খেলে শরীরের ওই অ্যান্টিবডি আলফা-গালকে শনাক্ত করে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এতে চাকা ওঠা, শরীর ফুলে যাওয়া এবং পেটের অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে আলফা-গাল সিনড্রোমের শনাক্তকরণ দ্রুত বাড়ছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ এ সমস্যায় শনাক্ত হয়েছেন।   হঠাৎ হওয়া অ্যালার্জি কি পুরোপুরি ভালো করা যায়? সব ধরনের নতুন অ্যালার্জি প্রতিরোধ বা পুরোপুরি সারিয়ে তোলার নিশ্চিত উপায় এখনও নেই। কোনও সংক্রমণ, এঁটেল পোকার কামড় বা অন্য কোনও কারণে একবার অ্যালার্জি তৈরি হলে সেটি অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।   অ্যালার্জির মূল প্রক্রিয়াটি মোটামুটি একই। শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা কোনও নিরীহ পদার্থকে ভুল করে বিপজ্জনক বিদেশি উপাদান হিসেবে শনাক্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে একই পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে প্রতিরোধব্যবস্থা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায়।   এর ফলে নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, চোখ চুলকানো থেকে শুরু করে গুরুতর ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী অ্যানাফাইল্যাক্সিসও হতে পারে।   তবে নতুন অ্যালার্জির সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা যত বেশি জানতে পারছেন, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার সম্ভাবনাও তত বাড়ছে।   অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য রক্ষায় প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক, দই ও ফারমেন্টেড খাবার গ্রহণ সহায়ক হতে পারে বলে গুপ্তা মনে করেন। তবে এসব ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।   ভাইরাস সংক্রমণের সময় শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পরবর্তী সময়ে হাঁপানি বা অ্যালার্জির মতো জটিলতা কমানো সম্ভব কি না, সেটিও এখন গবেষণার বিষয়।   রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ‘প্রশিক্ষিত’ করার চেষ্টা অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে তৈরি কিছু ওষুধ নিয়েও গবেষণা এগোচ্ছে। জোলএয়ার (ওমালিজুমাব)-এর মতো ওষুধ রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া কমাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। হাঁপানির চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর এটি খাবারে অ্যালার্জির কিছু প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।   এছাড়া গবেষকেরা এমন ভ্যাকসিন তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন, যা অ্যালার্জেনের প্রতি রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া আরও নিয়ন্ত্রিত করতে পারে। আরেক ধরনের পরীক্ষামূলক চিকিৎসায় একবারের ডোজে সরাসরি অ্যালার্জেন-প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।   তবে এসব গবেষণা এখনও অ্যালার্জি পুরোপুরি নির্মূল করার নিশ্চয়তা দেয় না। গুপ্তার মতে, নতুন অ্যালার্জি পুরোপুরি উল্টে দেওয়ার নিশ্চিত পদ্ধতি এখনও হাতে আসেনি। তবে গত দুই দশকে বিশেষ করে খাদ্য অ্যালার্জি নিয়ে গবেষণায় যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে ভবিষ্যৎ চিকিৎসা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ফাইল ছবি
গরমে বাড়তে পারে ৭ রোগ, সুস্থ থাকতে যা করবেন

প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নানা ধরনের শারীরিক অস্বস্তি। প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে গিয়ে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা। এতে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে। এই সময়ে সুস্থ থাকতে আগে থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।   হিট স্ট্রোক   গ্রীষ্মের অন্যতম গুরুতর সমস্যা হিট স্ট্রোক বা হাইপারথারমিয়া। দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, দুর্বলতা ও বমি বমি ভাব এর সাধারণ লক্ষণ। সময়মতো চিকিৎসা না হলে অজ্ঞান হওয়া এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এড়াতে ঘন ঘন পানি পান করতে হবে এবং শরীর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।   খাদ্যে বিষক্রিয়া   গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল। ফলে এ সময়ে দূষিত খাবার বা পানি থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়া এর সাধারণ লক্ষণ। কাঁচা মাংস, রাস্তার পাশে খোলা খাবার ও দূষিত পানি এ রোগের জীবাণুর অন্যতম উৎস।   পানিশূন্যতা   গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত পানি পান করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস খেতে হবে। ডাবের পানি ও লেবুর পানিও শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।   মাম্পস   মাম্পস একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়। এতে কানের সামনের প্যারোটিড গ্রন্থি ফুলে যায়। গলা ফুলে যাওয়ার সঙ্গে তীব্র ব্যথা ও জ্বর হতে পারে।   চিকেন পক্স   গরমের সময়ে চিকেন পক্সও দেখা দিতে পারে। ত্বকে ছোট ছোট ফোসকা, চুলকানি, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, জ্বর, ক্ষুধা কমে যাওয়া ও মাথাব্যথা এ রোগের সাধারণ লক্ষণ। হাম   হাম শ্বাসযন্ত্রে প্রভাব ফেলে। এ রোগে প্রবল জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা ব্যথা ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়িও হয়।   টাইফয়েড   টাইফয়েড একটি পানিবাহিত রোগ, যা মূলত মল-মুখ পথের মাধ্যমে ছড়ায়। জ্বর, ক্লান্তি, দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা ও ক্ষুধা কমে যাওয়া এ রোগের সাধারণ লক্ষণ।   সুস্থ থাকবেন যেভাবে   গরমে বাইরে বের হলে ঢিলেঢালা সুতির ও হালকা রঙের পোশাক পরা ভালো। সঙ্গে ছাতা ও টুপি রাখতে হবে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা থাকা ব্যক্তিদের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে।   প্রচুর পানি পান করতে হবে। বাইরে থাকলে ভারী কাজ এড়িয়ে ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া উচিত। খাবার ধরার বা খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। কাঁচা ও রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। তরমুজ, শসা, আখ ও আমের মতো তাজা ফল খাওয়া যেতে পারে।   চা, কফি, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা ভালো। চোখের সংক্রমণ এড়াতে হাত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুতে হবে।   হাম, মাম্পস ও রুবেলার বিরুদ্ধে টিকা সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর এসব টিকা না দেওয়া থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা দিতে হবে। বাইরে বের হওয়ার আগে অন্তত ১৫ এসপিএফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে গেলে সানগ্লাস ও টুপি ব্যবহার করা উচিত।   সবশেষে, গরমে পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি। শোবার ঘর ঠান্ডা রাখতে ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ফাইল ছবি
আশাবাদী মানুষ কি সত্যিই বেশি দিন বাঁচেন, বলছে গবেষণা

জীবনকে আপনি অর্ধেক ভরা গ্লাস হিসেবে দেখেন, নাকি অর্ধেক খালি হিসেবে? বিষয়টি হয়তো ব্যক্তিত্ব বা সাময়িক মেজাজের ওপর নির্ভর করে বলে মনে হতে পারে। তবে জীবনের ভালো-মন্দ পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন, তার প্রভাব এর চেয়েও বেশি হতে পারে। মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি মানসিক চাপ সামলানো, কঠিন পরিস্থিতি থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো এবং প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি দীর্ঘায়ুর সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।   চিকিৎসকদের মতে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মানসিক চাপ, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা এবং দৈনন্দিন স্বাস্থ্যকর অভ্যাসকে প্রভাবিত করতে পারে।   আশাবাদীরা কি বেশি দিন বাঁচেন?   তারা জানান, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে দীর্ঘায়ুর সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। তবে সব সময় অতিরিক্ত আশাবাদী থাকার চেয়ে দীর্ঘদিন নেতিবাচক চিন্তায় ডুবে না থাকাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা জানান, কয়েক লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, আশাবাদীরা গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি দিন বাঁচেন এবং তাদের ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও বেশি। তবে নতুন গবেষণা বলছে, বিষয়টি শুধু আশাবাদী হওয়ার নয়, বরং অতিরিক্ত হতাশাবাদী না হওয়ার সঙ্গেও সম্পর্কিত।   মানসিক চাপ কমাতে পারে   ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অতিরিক্ত চিন্তার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফলে প্রতিটি পরিস্থিতি নিয়ে বারবার চিন্তা করা বা সব সময় সবচেয়ে খারাপ পরিণতির কথা ভাবার প্রবণতা কমে। এতে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও কমতে পারে। আশাবাদী বা হতাশাবাদী নন এমন মানুষ সাধারণত খারাপ পরিস্থিতির কথা ভেবে দীর্ঘ সময় মানসিকভাবে অস্থির থাকেন না।   বিপদ থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো   জীবনে প্রতিকূলতা আসবেই। তবে সেখান থেকে কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আশাবাদী মানুষ ব্যর্থতা বা হতাশার বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় পড়ে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্র ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমতে পারে।   স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন   আশাবাদী মানুষ সাধারণত নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশি সচেতন থাকেন। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মতো অভ্যাস গড়ে তোলার প্রবণতা তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে এসব অভ্যাস সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।   তবে তারা বলেন, এসব তথ্য মূলত পর্যবেক্ষণভিত্তিক এবং এ বিষয়ে গবেষণা এখনও চলছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্য আশাবাদী মানসিকতার সম্ভাব্য উপকারের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

অবশেষে প্রকাশ পেল মেসির শেষ ম্যাচের বিশেষ জার্সির ছবি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬