বাংলাদেশে ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কম্পনগুলোর মাত্রা ছিল মৃদু থেকে মাঝারি।
তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মধ্যরাত ৩টার পর থেকে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে এই তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সর্বশেষ ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশাল। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। এটি মৃদু হওয়ায় অনেকেই কম্পনটি টের পাননি।
প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় গতকাল মধ্যরাতে। রাত প্রায় ৩টা ২৯ মিনিটে টেকনাফ থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে ৪ মাত্রার এ কম্পনটি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়। এর ফলে কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় হালকা কম্পন অনুভূত হয়, যদিও অধিকাংশ মানুষ তা টের পাননি।
আন্তর্জাতিক ভূকম্পন উৎসগুলো জানায়, টেকনাফের এই ভূমিকম্পটি মাটির প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছিল।
এর কিছুক্ষণ পরই রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে সিলেটে আরেকটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪। এটিও খুবই স্বল্পমাত্রার হওয়ায় অনেকেই বুঝতে পারেননি। সিলেট আবহাওয়া অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে ২১ নভেম্বর সকালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। ওই ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে সংঘটিত এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬ এবং উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জুলাই আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য ও 'অপপ্রচারের' অভিযোগে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম, মডেল ও আইনজীবী মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় ওই অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নেওয়া হয়েছে। 'রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের সদস্য মিল্লাত হোসেন এ অভিযোগ করেছেন বলে তথ্য দিয়েছেন শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম। তিনি বলেন, থানা পুলিশ পরে অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে এসআই আশরাফ আলীকে। এ তিনজন ছাড়া অভিযোগ আনা হয়েছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং মডেল ও অভিনেত্রী তুষ্টির বিরুদ্ধে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার সময় 'রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের’ সদস্য সচিব আ ন ম আয়াস এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক মুহাম্মদ শাহ আলম বাদশা ও তুহিন ফরাজী উপস্থিত ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে এখন জামিনে থাকা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কারামুক্ত হওয়ার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের 'বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে মিলে জুলাই আন্দোলনকে ব্যাহত করতে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন'। সোমা ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন টকশোতে জুলাই আন্দোলনকে 'তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা' করেছেন। জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়ার বিরুদ্ধে সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের সহযোগী হিসেবে আন্দোলনকারী ও আহতদের 'কটাক্ষ করার' অভিযোগ আনা হয়েছে। মোমিন মেহেদীর বিরুদ্ধে ঢাকা প্রেস ক্লাব এলাকায় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভে 'জুতা নিক্ষেপ ও আবু সাঈদকে নিয়ে' বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অপরদিকে মারিয়া কিসপট্টা জুলাই আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী আন্দোলন’ হিসেবে প্রচার করেছেন এবং মডেল তুষ্টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আন্দোলনকে ‘প্রতারণার মাস’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার মাজিবুল বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাইবার সংক্রান্ত হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এটি পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, বিষয়টি যেহেতু সাইবার সম্পর্কিত, তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্ভবত এটি সাইবার ইউনিটে পাঠাবেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সফল করবে সরকার। সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সেই পরিকল্পনার মধ্যদিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ, তিস্তা অববাহিকার মানুষ নতুন জীবন ফিরে পাবে। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে লালমনিরহাট এমটি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে মাদকবিরোধী ও সামাজিক অপরাধ দমনে গঠিত ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মাদক সমস্যা যদি আমরা দূর করতে পারি, সামাজিক অন্ধকারগুলো যদি দূর করতে পারি, তাহলে নিশ্চয় আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। তিনি আরও বলেন, আমাদের তরুণ নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। আমরা এমন একটা পরিবেশ পেয়েছি, যে পরিবেশে বাংলাদেশকে আবার নতুন করে গড়ে তুলতে একটা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। আলোকিত লালমনিরহাট গঠনে মাদকবিরোধী ও সামাজিক অপরাধ দমনের আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে যাবে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, মাদকের কারণে যুবসমাজ পরাজিত হচ্ছে, আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। আমাদেরকে অবশ্যই এর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য আমাদের কাজ করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের মধ্য থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যে কাজটি ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু তার এলাকায় শুরু করেছেন। মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আজকে অনন্য বিপ্লবের সূচনা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খালখনন কর্মসূচি, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদানসহ আরও অনেক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নারীদের ক্ষমতায়নসহ সব কিছুর মধ্যে দিয়ে আমরা একটা আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। তারেক রহমান শুধু প্রতিশ্রুতি দেন না, তিনি তা কার্যকর করার পদক্ষেপ নেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হাসান। বক্তব্য দেন লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য রাজীব প্রধান। পরে মাদকবিরোধী ও সামাজিক অপরাধ দমন শোভাযাত্রা বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে আবারও অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। এ সময় বিজিবির সঙ্গে ছিল স্থানীয়রাও। দ্রুত নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানের কারণে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চকপাড়া বিওপির বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্ত পিলার ১৮৩/৩-এস থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে মুসলিমপাড়া এলাকায় সীমান্তের নিরাপত্তা বাতি (বর্ডার সিকিউরিটি লাইট) বন্ধ থাকার পাশাপাশি কয়েকজন লোকের অবস্থানের তথ্য পায় বিজিবি। খবর পেয়ে একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্তজুড়ে সতর্ক অবস্থান নেয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, ভারতের মুসলিমপাড়া এলাকায় প্রায় ১২ জন ব্যক্তি অবস্থান করছেন এবং বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। এ তথ্যের পরপরই স্থানীয় গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়। বিজিবি ও স্থানীয়দের যৌথ সতর্কতায় সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ নিজস্ব যানবাহনে ওই ব্যক্তিদের ভারতের মালদা হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে গেছে। ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সতর্কতা আরও জোরদার করেছে বিজিবি। এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এই যৌথ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। বতমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১৯ জুন গভীর রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে একই কৌশলে ২০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে ভারতের ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সুকদেবপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।