জাতীয়

বাউলদের ওপর হামলা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৭, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাউল সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানান, হামলাকারীদের দ্রুত ধরতে পুলিশ ইতোমধ্যে দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করেছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেসসচিব সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বৈঠকে আলোচিত অন্যান্য বিষয়ও তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে প্রেসসচিব বলেন, দীর্ঘসময় গুরুত্ব হারানো এই সংকট এখন আবার সামনে আনা হয়েছে। তার মতে, পূর্বের সরকারের সময় সমাধানমূলক উদ্যোগের বদলে ব্যক্তিগত ইমেজ তুলে ধরার প্রবণতা বেশি দেখা গিয়েছিল, যার ফলে প্রকৃত সংকট আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের বাইরে চলে যায়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ জোরদার করে রোহিঙ্গা সমস্যা আবারও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। তৎক্ষণাৎ ফল পাওয়া না গেলেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ইতিবাচক অগ্রগতি আসবে বলে সরকার আশাবাদী।

 

দেশজুড়ে ভবন নিরাপত্তা ও তদারকির দুর্বলতা প্রসঙ্গে প্রেসসচিব বলেন, অননুমোদিত স্থাপনা শনাক্ত হওয়ার মাধ্যমে পূর্বের তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলেছেন যে অনুমোদন ছাড়া দেশের কোথাও কোনো ভবন বা বাড়ি নির্মাণ করা যাবে না। সব সিটি করপোরেশনে অনুমোদন প্রক্রিয়া ও নিয়ম-কানুন আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ : বিএনএন এশিয়া

  যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা বিএনএন এশিয়া বলেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের জন্য পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এশিয়াজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থাটি তাদের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিএনএন এশিয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন হুমকি, নির্যাতনের ঘটনা নথিবদ্ধ করা, ঝুঁকিতে থাকা সাংবাদিকদের জরুরি সহায়তা দেওয়া এবং সাংবাদিকদের মধ্যে সহযোগিতার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করে থাকে। প্রতিবেদনটিতে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া, নেপাল, জাপান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চীন, উত্তর কোরিয়া ও কম্বোডিয়াসহ ২০টি এশীয় দেশের সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ সময় সাংবাদিকরা শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি এবং বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে পড়েন। প্রতিবেদনে ২৭ জানুয়ারি নরসিংদীর একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়। সেদিন ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) একটি অনুষ্ঠান চলাকালে সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনা সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ হামলাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনী সংবাদ কভারেজকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধমূলক সহিংসতার খবরও পাওয়া যায়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা মব হামলা ও ডিজিটাল হয়রানির শিকার হন, যার কিছু ঘটনা রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনেক সাংবাদিক এখনো বিভিন্ন মামলায় আটক রয়েছেন, যেগুলোকে সংবাদমাধ্যমগুলো ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ অভিযোগ বলে বর্ণনা করেছে। এসব মামলার মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টের ঘটনাকে ঘিরে দায়ের করা হত্যা মামলাও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সম্পাদক পরিষদ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে এসব মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। সম্পাদক পরিষদের মতে, এসব মামলা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ৩০ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিন ধরে আটক থাকতে হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, এ পরিস্থিতি সংবাদমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিকর বার্তা’ পাঠাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৮ মাসে ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন এবং ২৯টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন এসেছে। আর্থিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক চাপকে এসব ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে এ প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের মালিকানা ও অংশীদারিত্বে পরিবর্তনের ফলে ‘অদৃশ্য’ বা অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতাকেন্দ্রের প্রভাব বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ARTICLE-19 অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় মিডিয়া কমিশন ও ব্রডকাস্টিং কমিশন সংক্রান্ত খসড়া অধ্যাদেশের সমালোচনা করেছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রকাশিত এ খসড়াগুলোর ওপর মতামত দেওয়ার জন্য মাত্র তিন দিনের সময় দেওয়া হয়, যা অনেক পর্যবেক্ষকের মতে তড়িঘড়ি ও ত্রুটিপূর্ণ। সমালোচকরা আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিএনএন এশিয়া জানিয়েছে, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল নাজুক অবস্থায়। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচনের পর গঠিত সরকার সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বাস্তবে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা এখনো বিভিন্ন হুমকি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভয়ের পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছেন।

মারিয়া রহমান মার্চ ১২, ২০২৬ 0

২ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, গেজেট প্রকাশ

৫ কর্মকর্তাকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন

সংগৃহীত ছবি

বিরোধীদলের ওয়াক আউট ছাড়াও সংসদে প্রথম দিনে যা যা ঘটল

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন | ছবি : সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল : রাষ্ট্রপতি

তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। নতুন সরকারের প্রশংসায় রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। এটা নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। সরকার নানা কাজ বাস্তবায়ন করছে। রাষ্ট্রপতি জানান, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন। মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়ে তথ্য জানান। কৃষি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

গোলাম পরওয়ারের আসনের ব্যালট সংরক্ষণের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি : সংগৃহীত

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে নতুন দুই অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত

মেঘনা-গোমতী সেতু টোল আদায়ে অনিয়ম : শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন ২৩ জুন

ছবি : সংগৃহীত
এই সংসদ যেন কারো চরিত্রহননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়: সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এরপর বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।   জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের এই সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ।” তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে অনেক সময় ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে জাতীয় সংসদ ডামি সংসদে পরিণত হয়েছিল।   তিনি বলেন, অতীতে সংসদে বহুবার ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্রহননের ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে যেন সংসদ কারো চরিত্রহননের কেন্দ্রে পরিণত না হয় সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।   স্পিকারকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকারের কাছে সরকার ও বিরোধী দল আলাদা হওয়া উচিত নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্পিকার সবার জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।   এ সময় তিনি বলেন, “আপনি একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা, আপনি পারবেন।” স্পিকারের কাছ থেকে ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১২, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি

নওগাঁয় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

নতুন পরিপত্রেও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর  সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ছবি: পিআইডি

পরিবেশ মন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

0 Comments