জাতীয়

১৮ জন রাষ্ট্রপ্রধানের ৭ জনের বিদায় পদত্যাগে

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করেছেন।

 

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন সাহাবুদ্দিন। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্বাচিত সরকারের প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় পদত্যাগ করলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ছিলেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি।

 

মো. সাহাবুদ্দিনসহ ১৮ জন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছে, তাদের মধ্যে সাতজন বিদায় নিয়েছে পদত্যাগ করে।

 

সবশেষ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অভ্যুত্থানের পক্ষের কয়েকটি সংগঠন তার পদত্যাগের দাবিতে তুমুল আন্দোলন শুরু করেছিল। তখন বিএনপি সাংবিধানিক সংকট তৈরির আশঙ্কা তুলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিরোধিতা করেছিল। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার আর সে পথে হাঁটেনি। মো. সাহাবুদ্দিনও পদত্যাগ করেননি।

 

দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ারে থাকা সাহাবুদ্দিন নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

 

রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।”

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে কোণঠাসা করে রাখা, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় ‘অপমানবোধ’ করার কথাও পরে বলেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

 

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন।

 

এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।

 

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল বলেও দাবি করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

 

যে কারণে পদত্যাগ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন–এমন গুঞ্জনের মধ্যে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সে সুযোগ তার আছে, তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো ‘পদক্ষেপ নেই’।

 

সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাতে হয়। এক্ষেত্রে স্পিকার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

 

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে স্বাস্থ্যগত কারণে বা যে কোনো কারণে, তার সে অপশন আছে। আমরা তো জানি না।

 

শুক্রবার বিকালে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।

 

পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বলে দিছি, বুঝে নেন।

 

বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন।

 

রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান হাফিজ উদ্দিন।

 

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, “আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামে রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই।

 

রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমন অবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছি।

 

নব্বইয়ের পর বিএনপির আমলেই পদত্যাগ

স্বাধীনতার পর থেকে ২২ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৮ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। এই পদে কয়েকজন একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন।

 

সবশেষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন অষ্টাদশ ব্যক্তি।

 

স্বাধীনতার পর অন্তত পাঁচজন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা থাকলেও নব্বইয়ের পর বিএনপির শাসনামলে দল মনোনীত রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ঘটনা প্রথম ঘটে।

 

অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি হন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী)।

 

২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সাড়ে সাত মাসের মাথায় বঙ্গভবন ছাড়তে হল তাকে।

 

বিএনপির সঙ্গে দলের অনাস্থার মুখে ২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

 

তার পদত্যাগের দুই যুগ পরে এবারও বিএনপির আমলে আরেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করলেন। তবে এবারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ মনোনীত ছিলেন।

 

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। পতন ঘটে আওয়ামী সরকারের।

 

সেই সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে মেয়াদপূর্তির দেড় বছরের বেশি সময় আগেই বঙ্গভবন ছাড়তে হল।

 

আগে যারা পদত্যাগ করেছিলেন

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ২২ জন রাষ্ট্রপতি দেখেছে দেশ। মেয়াদ পূর্ণ করেছেন অনেকে, দ্বিতীয় মেয়াদেও ছিলেন কেউ।

 

বিজয়ের বছর দুয়েক পর রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে কেউ বিশেষ দূত হয়েছিলেন, আবার সামরিক শাসনামলে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন কেউ। প্রধান সামরিক শাসক যত দিন চাইবেন ততদিন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, এমনও ছিলেন কেউ।

 

নব্বইয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর দুই জন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।

 

বদরুদ্দোজা চৌধুরী চৌধুরী ও মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রসঙ্গে সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, “বিএনপি সরকারের আমলে বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ঘটনা প্রথম ২০০২ সালে। এটার একটা প্রেক্ষাপট ছিল বিএনপির সঙ্গে মতপার্থক্য। আর এবার ২০২৬ সালের পদত্যাগের প্রেক্ষাপট ভিন্ন; কারণ এবার বিএনপির মতপার্থক্যের কারণে নয়, আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি হওয়ায়, এমন হল।”

 

ভিন্ন দলের হওয়ায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা এবারই প্রথম বলে তুলে ধরেন তিনি।

 

সামরিক শাসনামলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রেক্ষাপট এই দুটির সঙ্গে মেলানো যাবে, বলেন সাবেক এই আমলা।

 

জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। এইচএম এরশাদের আমলে ১৯৮২ সালে পদত্যাগ করেছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার।

 

সাবেক সচিব আউয়াল মজুমদার বলেন, “সামরিক শাসন আমলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনাগুলো, এগুলোর সাথে মিলবে না, এসব বিবেচনার নয়। বিশেষ করে সায়েম সাহেব, সাত্তার সাহেবকেও পদত্যাগ করতে হয়।”

 

পরবর্তীতে বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহ্সানউদ্দিন চৌধুরীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটে একই আমলে, ১৯৮৩ সালে।

 

আহ্সান সাহেবকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে, এটা ছিল আরও বিচিত্র, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির ছিল না। আহ্সানউদ্দিন চৌধুরীর অ্যাপয়েন্টমেন্টে লেখা ছিল, প্রধান সামরিক প্রশাসক যতদিন সন্তুষ্ট থাকবেন উনি ততদিন রাষ্টপতি থাকবেন। এটা বিষ্ময়কর,” বলেন সাবেক সচিব।

 

স্বাধীনতা পরবর্তী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি একই দিনে তিনজন শপথ নিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতি হিসেবে এবং আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি হিসেবে।

 

আবু সাঈদ চৌধুরী তৃতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনিও পদত্যাগ করেছিলেন, পরে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বিশেষ দূত হিসেবে বিদেশে দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

 

রাষ্ট্রপতি ছিলেন যারা

  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১২ জানুয়ারি ১৯৭২
  • সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত): ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  • আবু সাইদ চৌধুরী: ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩
  • মোহাম্মদ উল্লাহ: ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ থেকে ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫
  • খন্দকার মোশতাক আহমেদ: ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫
  • আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম: ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ থেকে ২১ এপ্রিল ১৯৭৭
  • জিয়াউর রহমান: ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৩০ মে ১৯৮১
  • আবদুস সাত্তার (ভারপ্রাপ্ত): ৩০ মে ১৯৮১ থেকে ২০ নভেম্বর ১৯৮১
  • আবদুস সাত্তার: ২০ নভেম্বর ১৯৮১ থেকে ২৪ মার্চ ১৯৮২
  • আবুল ফজল মোহাম্মদ আহ্সানউদ্দিন চৌধুরী: ২৭ মার্চ ১৯৮২ থেকে ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩
  • হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ: ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০
  • শাহাবুদ্দিন আহমদ (অস্থায়ী): ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ থেকে ৯ অক্টোবর ১৯৯১
  • আবদুর রহমান বিশ্বাস: ৯ অক্টোবর ১৯৯১ থেকে ৯ অক্টোবর ১৯৯৬
  • শাহাবুদ্দিন আহমদ: ৯ অক্টোবর ১৯৯৬ থেকে ১৪ নভেম্বর ২০০১
  • একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী: ১৪ নভেম্বর ২০০১ থেকে ২১ জুন ২০০২
  • মো. জমির উদ্দিন সরকার (দায়িত্বপ্রাপ্ত): ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২
  • ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯
  • জিল্লুর রহমান: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে ২০ মার্চ ২০১৩
  • মো. আবদুল হামিদ (ভারপ্রাপ্ত ও অস্থায়ী): ১৪ মার্চ ২০১৩ থেকে ২৪ এপ্রিল ২০১৩
  • মো. আবদুল হামিদ: ২৪ এপ্রিল ২০১৩ থেকে ২৪ এপ্রিল ২০২৩
  • মো. সাহাবুদ্দিন: ২৪ এপ্রিল ২০২৩ থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬

 

পরবর্তী রাষ্টপতি নির্বাচন কীভাবে?

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

 

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আর ৪৮(১) অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।

 

ফলে পছন্দের তালিকায় নাম থাকলেই কাউকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সুযোগ নেই। তাকে প্রার্থী হতে হবে এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে।

 

বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলটির সিদ্ধান্তই নির্ধারক হবে।

 

সংসদ বিষয়ক গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হবে স্পিকারের কাছে এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হবেন স্পিকার।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদে পরোক্ষ ভোটে। সংসদ সদস্যরাই এই নির্বাচনে ভোট দেন। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ভোটের ব্যবস্থা করবে।

 

সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদের কক্ষে ভোট করতে হয়েছিল।

 

পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

 

শূন্য হওয়াা ও নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী শূন্য পদে ৯০ দিনের মধ্যে আমাদের নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুয়ায়ী রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকেন এ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার।”

 

শুধু ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। আর বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও সমমনারা বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে। সেসময় সংসদে ভোটের আয়োজন করা হয়।

 

সবশেষ ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়, বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হন মো. সাহাবুদ্দিন।

 

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়।

 

মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে এর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরোনো ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর ঘিরে দুই দেশে প্রস্তুতি

আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।     সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি হবে প্রথম ভারত সফর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দিনের এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।     সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সফরটি মূলত দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকেন্দ্রিক হবে। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ও কর্মসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতেই তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত।     এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় দশটি দেশ নিয়ে গঠিত একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা ব্রিকসের আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।     গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা কালবেলায় ‘দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন তারেক রহমান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।     তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।     ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বেশ কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার অনুরোধ দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।     তবে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ারও ইঙ্গিত মিলেছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পর গত ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করেন।     দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।       মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাদির হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন আসামিদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।     চলতি মাসের শুরুতে নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, ভারতীয় ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।       সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকেও প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে দুই দেশই চাইবে, এই বিরোধ যেন সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত না করে।     তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন বাস্তব ইস্যুও গুরুত্ব পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ।     ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত এবং ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগ রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এসব ক্ষেত্রেও দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।     পানি বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটির নবায়ন নিয়ে আলোচনা সামনে আসতে পারে।     অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা চেয়ে আসছে ঢাকা।     বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও এর সঙ্গে যুক্ত।     ঢাকা-নয়াদিল্লি; দুই পক্ষই বর্তমানে সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। তবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরেই সব বিরোধের সমাধান হয়ে যাবে; এমন প্রত্যাশা নেই।       শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, পানি বণ্টন, বাণিজ্য ও সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার প্রয়োজন হবে। তবে মোদি ও তারেক রহমানের সরাসরি বৈঠক দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে নতুন যোগাযোগের পথ তৈরি করতে পারে।     সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। একইভাবে নরেন্দ্র মোদিও নতুন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ভারতের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারবেন।     সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি হলে আগামী সপ্তাহের তারেক রহমানের দিল্লি সফরই হতে পারে বাংলাদেশ-ভারতের নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

আগামী সপ্তাহেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ভারতীয় গণমাধ্যম

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে চলতি অর্থবছরেই : মীর শাহে আলম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের সাবেক চেয়ারপারসন মরহুম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।   শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।   কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেবেন।   এতে আরও বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এসব দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।   কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর, উপজেলা ও অন্যান্য পর্যায়ে দলীয় কার্যালয় কিংবা স্থানীয় মসজিদে অনুরূপ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।   দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের এসব আয়োজনে অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে দলটি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আজই আমার শেষ দিন: নাছির

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙ্গা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৮, আহত বেশ কয়েকজন

সরকারের সমালোচনায় কোনো বাধা নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালের যুগে ঢাকা, কমবে কী যানজট?

প্রতিদিনের যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, বাড়ছে ভোগান্তি। যানজট নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগের পর এবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। এরই অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা।   আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক এই সিগন্যাল সিস্টেম চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এই আধুনিক সিগন্যাল সিস্টেম চালুর লক্ষ্য আমরা নির্ধারণ করেছি। এর মধ্যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে।’   নতুন এই ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পথচারী ও চালকেরা বলেন, ‘সবাই এখন সিগন্যাল ফলো করছে। যে সময় রেড সিগন্যাল, তখন সবাই অটোমেটিকভাবে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। যে সময় সবুজ সিগন্যাল দিচ্ছে, আবার চলে যাচ্ছে। ডাইরেক্টলি এনফোর্স করার চেয়ে এই যে প্রযুক্তির সুবিধা, এই প্রযুক্তির সুবিধাগুলো এখানে আমরা সরাসরি দেখলাম। একটা প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা কীভাবে লাভবান হতে পারি।’   এদিকে বিজয় সরণির ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সুজা চৌধুরী বলেন,‘ভয় পাচ্ছে যে তাদের মামলা হচ্ছে এবং মামলার কপি তাদের ঠিকানায় চলে যাচ্ছে। এজন্য যারা গাড়ি চালাচ্ছে, তারা একটু সতর্ক হচ্ছে।’   তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার সুফল পেতে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। শুধু স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চালু করলেই হবে না; সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ উল্লেখ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘এআইকে শতভাগ কার্যকরী করতে হলে বৈধ যানবাহন সড়কে থাকতে হবে। তার নাম্বার প্লেটটা থাকতে হবে। যে নাম্বার প্লেটটা আমার এআই লেন্সের মধ্যে ধরা পড়বে। কিন্তু যেহেতু অটোরিকশাগুলোর নাম্বার প্লেটের সমস্যা আছে, নাম্বার প্লেটই আসলে নাই। এখন পর্যন্ত সে জায়গায় আসলে আমরা এখন যেভাবে কাজটা করছি, পুলিশ এখানে এনগেজড আছে। মূলত আমরা এআই সাপোর্টের একটা সফটওয়্যার বানানো হয়েছে, সেখানে পাঁচ থেকে ছয় ধরনের সড়কে কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, তখন একটা ভিডিও ট্রিগার করে। ২০ থেকে ২৫ সেকেন্ডের একটা ভিডিও চলে আসে। সেটা অ্যানালাইসিস করে, তারপরে মামলাটা দেয়া হচ্ছে।’   প্রযুক্তির এই ব্যবহার রাজধানীর যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-কসোভো বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ

‘শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের সমাপ্তি’, নতুন জীবন শুরু করতে চান ছাত্রদলের রাকিব

নেতাকে থাপ্পড় মেরে এমপির সঙ্গে বৈঠক করে দুঃখ প্রকাশ, শেষে ইউএনও প্রত্যাহার

0 Comments