বিশ্ব

ডিসেম্বর থেকে ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৭, ২০২৫

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যাতায়াত আগামী ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ইকবাল হুসাইন খান।

 

তিনি এই উদ্যোগকে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

হাইকমিশনার জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো সরাসরি ফ্লাইট চালু ছিল না। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির পর পাকিস্তানের দুটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স ফ্লাই জিন্নাহ ও এয়ারসিয়াল এখন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে।

এছাড়া তিনি জানান, মাহান এয়ার ডিসেম্বর থেকে ঢাকা করাচি রুটে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট চালু করবে। যদিও সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

 

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও তিনি উল্লেখ করেন। এখন ভিসা তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই পাওয়া সম্ভব, যা দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণকে আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক করেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে গোপন টোল আদায়ের সংশয়ে চড়া তেলের দাম

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন আগের চেয়েও বেশি তেল রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু এত তেল বাজারে আসার পরও তেলের দাম কেন কমছে না? এর পেছনে কি কোনো গোপন চুক্তির হাত আছে?       সম্প্রতি জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো হয়তো ইরানকে মোটা অঙ্কের টোল বা ফি দিয়ে নিরাপদে তেল পারাপার করাচ্ছে। হতে পারে তেলের দামের একটি বড় অংশ তেহরানকে দেওয়া হচ্ছে। যদিও এর কোনো পাকা প্রমাণ নেই, তবে এর আগে মার্চ মাসে একটি শিপিং জার্নাল জানিয়েছিল যে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হরমুজে একটি টোল ব্যবস্থা চালু করেছে।      এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানকে কোনোমতেই এই টোল তুলতে দেওয়া হবে না।       বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পাহারা এবং জাহাজ বদলানোর কৌশল কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। ইরাকও দীর্ঘদিন পর এই পথ দিয়ে বড় ট্যাংকারে তেল পাঠানো শুরু করেছে।      তবে ইরান দাবি করছে, তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে খুব সামান্য তেলই পার হচ্ছে। সম্প্রতি প্রণালিতে চলাচলকারী একটি তেল ট্যাংকারকে ইরানের পক্ষ থেকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় আতঙ্ক এখনও কাটেনি।     বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো টোল আদায় না করলেও গোপনে এটি এক ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা হতে পারে। তবে তেলের চড়া দামের জন্য কেবল যুদ্ধ বা এই গোপন ফি দায়ী নয়। মূল সমস্যা হলো পর্যাপ্ত জাহাজের অভাব এবং বাড়তি ভাড়ার খরচ, যা পুরো বিশ্বকে বিপাকে ফেলছে।   সূত্র: আল-জাজিরা।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৫, ২০২৬
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

জাপান-ভারত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিতে নতুন সমঝোতা

সংগৃহীত ছবি

রেললাইনের বাইরেও আইএমইসিতে বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা প্রকাশ

কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন সহযোগিতা জোরদার করে : ফরাসি রাষ্ট্রদূত

কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন কোনো দেশের জন্য অন্যদের বিরোধিতা করার বিষয় নয়; বরং নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনায় স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহযোগিতা জোরদার করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে।   আজ রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ বক্তব্যকালে তিনি বলেন, ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অন্যদের বিরোধিতা করার কোনো বিষয় নয়। এটি শুধু নিশ্চিত করা যে আমরা যেন স্বায়ত্তশাসিতভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’   সেরে-শার্লে বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তা, জলবায়ু ও অর্থনৈতিকসহ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলো নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও দেশগুলোর জন্য স্বাধীনভাবে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   তিনি বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রান্সের নীতির অংশ এবং ধীরে ধীরে ইউরোপের কৌশলগত চিন্তাধারাতেও এটি স্থান করে নিচ্ছে।   রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটি কারও বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। এর লক্ষ্য হলো আমরা যেন নিজেদের সিদ্ধান্ত স্বায়ত্তশাসিতভাবে নেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী থাকি।’   তিনি বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের অর্থ বিচ্ছিন্নতা বা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়।   ‘স্বায়ত্তশাসিত হওয়ার অর্থ একা থাকা এবং বিশ্বের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা নয়,’ বলেন তিনি।   বরং এর অর্থ হলো, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এবং অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত থেকে একটি দেশ তার নিজস্ব অগ্রাধিকার অনুযায়ী কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেবে।   সেরে-শার্লে বলেন, ইউরোপ নিজেকে একটি ‘পার্টনারিং পাওয়ার’ বা অংশীদারিত্বভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে অন্যদের ওপর নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   তিনি বলেন, ‘প্রবণতা অনুসরণের চেয়ে অংশীদারিত্ব অনেক ভালো এবং সংঘাতের চেয়ে সহযোগিতা ভালো।’   রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তন মধ্যম শক্তির দেশগুলোর জন্য নিজেদের সক্ষমতা, মূল্যবোধ ও স্বার্থ নতুন করে মূল্যায়ন এবং গঠনমূলক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।   তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শীতল যুদ্ধের সময়ও ফ্রান্স সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিল, কিন্তু মস্কোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়নি। এর মাধ্যমে তিনি বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা মানেই তার ওপর নির্ভরশীলতা বা তার সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া নয়।   সেরে-শার্লে বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বড় শক্তিগুলো এবং তাদের ঐতিহ্যগত অংশীদারদের মধ্যেও ক্রমবর্ধমানভাবে উত্তেজনা ও মতপার্থক্য দেখা দিচ্ছে।   এ ধরনের পরিস্থিতিতে মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা, মূল্যবোধ এবং কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, তা আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বড় বৈশ্বিক সংকট এবং উদীয়মান ভূরাজনৈতিক চাপ কোনো দেশ এককভাবে মোকাবিলা করতে পারে না।   তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, জলবায়ু পরিবর্তন বা নতুন ভূরাজনৈতিক চাপের মতো বড় সংকট মোকাবিলা করতে হলে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’   তিনি বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগ এবং স্বচ্ছতা, সুশাসন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল অংশীদারদের সঙ্গে আরও জোরালো সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।   সেরে-শার্লে বলেন, দেশগুলোর উচিত অংশীদারদের সঙ্গে নিজেদের সক্ষমতা ও সম্পদ ভাগাভাগি করা এবং একই সঙ্গে টেকসই ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা।   প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠছে।   তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং পিছিয়ে পড়া এড়াতে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশকে নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।   রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং নতুন প্রযুক্তির ওপর দক্ষতা অর্জনই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।’   তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পরিবেশের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নিতে হবে।   সেরে-শার্লে বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে ফ্রান্স ও ইউরোপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শক্তিশালী, টেকসই ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।   তিনি বলেন, এ ধরনের অংশীদারিত্বের ভিত্তি হওয়া উচিত সহযোগিতা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার দেশগুলোর সক্ষমতা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৫, ২০২৬

টোকিওতে টানা ৩৭ দিনের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের অবসান

যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা, চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে দুইজনের মৃত্যু: ফরাসি কর্তৃপক্ষ

সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় পুনরায় হুতিদের হামলা

ছবি : রয়টার্স
চীনকে মোকাবিলায় প্রথম চালানের দুটি যুদ্ধবিমান পেল তাইওয়ান

চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে নিজেদের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রথম চালানের দুটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান পেয়েছে তাইওয়ান। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে মোট ৬৬টি নতুন যুদ্ধবিমানের মধ্যে এই প্রথম দুটি বিমান তাইওয়ানে এসে পৌঁছাল।       রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার যুদ্ধবিমান দুটি দেশটির পাহাড়ি পূর্ব উপকূলের তাইতুং-এর চিহ্যাং বিমান ঘাঁটিতে এসে পৌঁছায়। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মুখে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতেই এই যুদ্ধবিমানগুলো আনা হয়েছে।     সফটওয়্যার সমস্যার কারণে কয়েক মাস দেরি হওয়ার পর অবশেষে এগুলো পৌঁছাল। চীনের সামরিক বিমানগুলোর ওপর নজর রাখতে তাইওয়ানের বিমান বাহিনীকে প্রায় প্রতিদিন আকাশে উড়তে হয়।       তাই এই নতুন দুটি বিমান তাদের বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে চীন প্রায়ই নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। এর ফলে তাইওয়ানকে প্রতিনিয়ত চীনের সামরিক হুমকির মুখে থাকতে হয়।       যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষক এবং অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।     কিন্তু সেই অস্ত্রগুলো পেতে দেরি হওয়ায়, তাইওয়ান এর আগে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।       এই সরবরাহটি এমন এক সময়ে সম্পন্ন হলো, যার ঠিক এক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র এই বিষয়ে পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তারা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মিত্রদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এর মধ্যে তাইওয়ানও অন্তর্ভুক্ত।       ফেসবুকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে লিখেছেন, ‘তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে এ এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।’ এই সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদও জানান তিনি।     তাইপের সংসদে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানিয়েছেন, আরো নতুন এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান শিগগিরই আসছে, যদিও তিনি এর কোনো বিস্তারিত বিবরণ দেননি।     ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে লকহিড মার্টিনের ৮শ কোটি ডলারের এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দেয়। এর ফলে তাইওয়ানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে।      গত মে মাসে চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠক করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন যে, তিনি তাইওয়ানের জন্য একটি নতুন ১৪০০ কোটি ডলারের প্যাকেজ স্থগিত রাখছেন, যদিও তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১১০০ কোটি ডলার মূল্যের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছিলেন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

১৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেডসহ ভারতের ত্রিমাত্রিক সক্ষমতার তথ্য প্রকাশ

সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের অভিযানে বাধা দিল চীনের জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি যুদ্ধে ইয়েমেনে অস্ত্র পাঠাল পাকিস্তান

0 Comments