অর্থনীতি

মূল্যস্ফীতি কমাতে বিএনপি সরকারের ‘ওষুধ’ কী?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চার বছর ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা মূল্যস্ফীতির চাপকে সঙ্গী করে নতুন অর্থবছর শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।

 

এ যাত্রায় মূল্যস্ফীতিকে কীভাবে সামলানো হবে, সেই পরিকল্পনা এখনো নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে খোলাসা করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণের ওপর থেকে এই বোঝা কমানোই সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথা হবে সরকারের।

 

করণীয় নিয়ে পরামর্শও বাতলে দিয়েছেন তারা। বলছেন, শুধু এক ওষুধে কাজ হবে না। সরকার যে পদক্ষেপই নিক, ‘সমন্বিত নীতি’ ছাড়া মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা সম্ভব নয়।

 

তাদের এ বক্তব্যের যুক্তি হল, সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা থেকে শুরু করে বাজারে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করার মত নানা পদক্ষেপ সরকার নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমেনি। কোনো মাসে একটু কমলেও পরের মাসেই ফের চড়ে যাচ্ছে। যার উদাহরণ সবশেষ চার মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র।

 

মূল্যস্ফীতি তখন ঘটে, যখন সময়ের সঙ্গে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। অর্থাৎ, টাকার মান কমে যায়।

 

এই মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বাংলাদেশে সরকার সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করে চলেছে। পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে; কোনো কোনো পণ্যের আমদানি শুল্ক শূন্যও করা হয়েছে।

 

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নীতি সুদহার (পলিসি রেট বা রেপো রেট) ১০ শতাংশ। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

 

মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতেই রেপো রেট বার বার বাড়ানো হয়েছে। ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুই মাসে তিন দফায় ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। কিন্তু মূল্যস্ফীতি বাগে আসছে না।

 

এমন প্রেক্ষাপটে ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

 

সেই বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার নানা প্রতিশ্রুতি আসছে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে ১৬ মাসের সর্বোচ্চ হয়েছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। গত এপ্রিলে এ হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এ নিয়ে টানা দুই ঊর্ধ্বমুখী হল মূল্যস্ফীতি।

 

এর আগে টানা চার মাস বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে উঠেছিল। মার্চ মাসে তা কমে ৯ শতাংশের নিচে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নামে। এপ্রিলে ফের তা ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

 

পয়েন্ট টু পয়েন্টে ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ দিয়ে বোঝায়, গত বছর মে মাসে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় মিলেছে, তা চলতি বছরে মে মাসে পেতে খরচ করতে হয়েছে ১০৯ টাকা ৪২ পয়সা।

 

দেশে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির যে পারদ, তা বাড়তে থাকে মূলত কোভিড মহামারীর ধাক্কায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মহামারীর পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধকেও সামনে আনে।

 

কিন্তু কোনো কোনো বিশ্লেষক এবং সরকারবিরোধী অনেক রাজনীতিক উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনে আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের হাত থাকার কথাও বলেন।

 

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রায় দেড় বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকার।

 

এ সময়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও গভর্নর আহসান এইচ মনসুর একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছিলেন মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

 

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসার কারণ হিসেবে অবশ্য সরকারের সঙ্গে ‘সমন্বয়হীনতার’ কথা বলেন তৎকালীন গভর্নর। গেল ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে তিনি বলেন, “মুদ্রানীতির শুধু মূল্যস্ফীতি ছাড়া বাকিগুলো কিন্তু অর্জন হয়েছে।

 

আমলাতান্ত্রিকতার কারণে অনেক কিছু ‘ধীরে হয়’ মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, এখানে মার্কেট পলিসির সঙ্গে রাজস্ব নীতির একটা সমন্বয় হতে হয়। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে না সেভাবে।’

 

দেশে কেন মূল্যস্ফীতি কমছে না, সেই প্রশ্নে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাধারণ মানুষ গত চার বছর ধরে টানা মূল্যস্ফীতির চাপে ভুগছে। উচ্চ সুদের হার চালু রেখে কিছুটা মূল্যস্ফীতি কমানোর ইঙ্গিত মিলেছিল, তা আবারে বেড়ে গিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি করছে।

 

বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত সরকারের নেওয়া কোনো পদক্ষেপই যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে পারেনি, তা আবার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

 

বাজার পরিস্থিতি উন্নত না হওয়ার পেছনে কিছু বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তহীনতা কাজ করেছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

 

সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়াসহ বিশ্ব-রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা আছে।

 

শঙ্কার কারণ তুলে ধরতে গিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, সরকার ১১ জুন নতুন বাজেট দেবে। এই বাজেটের বড় মাথাব্যথার কারণ হতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি সমন্বয়।

 

আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লা, গ্যাস ও জীবাশ্ম জ্বালানির দাম ‘অস্বাভাবিক’ বেড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ইতোমধ্যে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় বিদ্যুৎমূল্য ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।

 

বিদ্যুতের আগেই অবশ্য দেড় মাসের মধ্যে দুই দফায় চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার।

 

সরকারের দাবি, জ্বালানিপণ্যের দাম বাড়লেও তা মূল্যস্ফীতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।

 

গত ১৯ এপ্রিল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তেলের দাম একা তো মূল্যস্ফীতি বাড়ায় না। এটা একটা মূল কথা। খালি তেলের দামের জন্য কি মূল্যস্ফীতি বাড়বে?

 

তবে জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সবার ঘাড়ে একটা বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে মনে করেন জাহিদ হোসেন।

 

তিনি বলেন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে এখন যেটা করা হচ্ছে, সেটা ১ টাকা ২৫ পয়সা প্রতি কিলোওয়াট আওয়ারে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এটা যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতি আমার অনুমান, এখন যা আছে তার থেকে শুধু এই কারণে ১ শতাংশের কাছাকাছি বাড়তে পারে আগামী এক বছরের মধ্যে। এইটা তো একটা অতিরিক্ত চাপ সবার উপরেই তৈরি করছে।

 

২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুই মাসে তিন দফায় ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।

 

ওই বছরের নভেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি বা মাসভিত্তিক) মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। পরের মাস থেকে কমতে কমতে গত বছরের অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নামে। সেখান থেকে আবার বেড়ে নভেম্বরে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে আরও বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে ওঠে।

 

৩০ জুন ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ হবে। এই আর্থিক বছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি। তাতে নীতি সুদহার বা রেপো হার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়।

 

রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো এক দিনের জন্য টাকা ধার নেয়। একে বলা হয় ব্যাংকিং খাতের নীতি উপাদান (পলিসি টুলস)। এর সুদ হারকে বলা হয় নীতি সুদহার বা রেপো রেট। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে।

 

রেপোর সুদ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর তহবিল পাওয়ার খরচ আরও বাড়ে। তাতে ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুদহার বেড়ে যায়।

 

এই হার অপারিবর্তিত রাখার মানে হল, বাজারে মুদ্রাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত সুদহারের লাগাম শিথিল করছে না।

 

দেড় বছর রেপো সুদহার ১০ শতাংশ থাকায় ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেড়ে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। দেশে বিনিয়োগে যে খরা চলছে, এই উচ্চ সুদহার তার একটি কারণ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

 

করোনা মহামাররীর প্রথম ধাক্কার পর ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই মূল্যস্ফীতির হার সারা বিশ্বে বাড়তে শুরু করে। এরপর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়। ইউরোপ ও আমেরিকায় মূল্যস্ফীতির হার ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়।

 

তখন থেকে বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। কিন্তু উপমহাদেশের অন্যান্য দেশ বা ইউরোপ–আমেরিকা মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে আনতে পারলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার এখনো কমছে না।

 

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া প্রতিবেদন বলছে, গত মে মাসে দেশটিতে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। আগের মাস এপ্রিলে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

 

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি উঠেছিল প্রায় ৭০ শতাংশে। ওই সময় বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১০ শতাংশ।

 

২০২৪ সালের শেষের চার মাস শ্রীলঙ্কায় কোনও মূল্যস্ফীতি হয়নি; বরং মূল্য সংকোচন হয়। অর্থাৎ নেগেটিভ (-) মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ওই চার মাসে।

 

পাশের দেশ ভারতের মূল্যস্ফীতিও কম। সবশেষ গত এপ্রিলে ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে দেশটিতে।

 

তবে বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি এখন বেশি। এপ্রিলে ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে দেশটিতে। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে ২০২৩ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৫০ শতাংশে উঠেছিল।

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছিল। ওই বাজেটের এক মাস যেতেই পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের; বাজেট বাস্তবায়ন করে অন্তবর্তী সরকার। ১০ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ গড় মূল্যস্ফীতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছর।

 

পাঁচ বছর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য দুই শতাংশে ওঠে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষ হয় ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ নিয়ে।

 

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে রাখার লক্ষ্য ধরে অন্তবর্তী সরকার। এপ্রিল পর্যন্ত (২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালে এপ্রিল) হিসাবে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ গড় মূল্যস্ফীতির তথ্য দিয়েছে পরিসংখ্যান ব্যুরো।

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ধরা হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে নতুন বাজেটে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তারেক রহমানের সরকার।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৩টি কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিও রয়েছে।

 

এ খাতে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে নতুন বাজেটে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি।

 

এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে।

 

এ প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির চাপের মধ্যে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও বিভিন্ন সামাজিক ভাতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে এর প্রাপ্তি ও বণ্টন নিয়ে সংশয় আছে।

 

বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য শতাধিক সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প সচল আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এসব প্রকল্পের পারফরম্যান্স একেবারেই সন্তোষজনক নয় এবং ১ টাকা দিতে গিয়ে দেড় টাকা খরচ হওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে।

 

তেমনটা যেন না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে, তাহলেই কেবল এর সুফল পাওয়া যাবে।

 

অন্য অনেক দেশ পারলেও বাংলাদেশ কেন মূল্যস্ফীতি কমাতে পারছে না, সেই প্রশ্নে জাহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে যাওয়া থেকে হয়ত ঠেকিয়ে রেখেছে। তবে এটিই মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়, কারণ বর্তমান সংকটটি মূলত সরবরাহভিত্তিক।

 

প্রশ্নটা হলো, যেখানে আপনার সরবরাহ সংকট, সেখানে সেইটাকে যদি আমরা এড্রেস করতে না পারি, এখন ধরেন গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার হচ্ছে না, যার কারণে সরবরাহ যেটা দেয়া সম্ভব, সেটা আমরা দিতে পারছি না। ওইটা যদি আমরা সমাধান করতে পারতাম, তাহলে সেটা মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক হতো।

 

মূল্যস্ফীতি কমাতে চাইলে চাঁদাবাজি কমানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন বলে মনে করেন জাহিদ হোসেন।

 

তিনি বলেন, যে দামে উৎপাদকরা বিক্রি করছেন, আর যে দামে ভোক্তারা কিনছেন, চাঁদাবাজির কারণে তার মধ্যে একটা বড় পার্থক্য তৈরি হয়। তো সেখানে যদি আমরা আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিকে উন্নত করতে পারতাম, যার ফলে চাঁদাবাজিটা বন্ধ হতো, তাহলে ওই অতিরিক্ত মূল্যটা ভোক্তাদের দিতে হতো না। সেটাও মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক হতো।

 

এদিক বিবেচনায় সরবরাহের সংকট সমাধান না করে ওই শুধু সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রেখে মূল্যস্ফীতি কমবে, এটা আশা করা যায় না।

 

প্রায় একই কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের (সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান।

 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমাদের জন্য এটা খুবই দুঃখজনক যে, আমরা মূল্যস্ফীতি কমাতে পারছি না। আমার মনে হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমাতে আমরা সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করতে পারছি না।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতিকে শুধু মুদ্রানীতির বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির বড় অংশ সরবরাহ ব্যবস্থা, আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার, জ্বালানি খরচ, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত।

 

তাই সমন্বিত নীতি দরকার। খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে হবে। বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। মজুতদারি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর তদারকি দরকার। আমদানি সিদ্ধান্তও সময়মতো নিতে হবে, যেন বাজারে ঘাটতি তৈরি না হয়। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও পাইকারি বাজার ব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়াতে হবে।

 

নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, স্থির আয়ের মানুষ এবং অনানুষ্ঠানিক শ্রমজীবীরা মূল্যস্ফীতির প্রধান ভুক্তভোগী। তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও লক্ষ্যভিত্তিক করতে হবে।

 

খাদ্যসহায়তা, স্বল্প মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, নগদ সহায়তা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক সহায়তার মতো কর্মসূচি বাস্তব চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে সম্প্রসারণ করা দরকার।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিল চীনের ১১ প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনের ১১টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও শীর্ষ কর্মকর্তারা এ আগ্রহের কথা জানান।   গত ২৫ জুন অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।   শনিবার (২৭ জুন) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এই ইতিবাচক বার্তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের করনীতি-সংক্রান্ত পূর্বাভাস (ট্যাক্স আউটলুক) প্রকাশ করেছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার বার্তা হিসেবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।   চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ প্রস্তাব   ১. চায়না ফিউচার এনার্জি গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়নে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।   ২. সাংহাই এসইউএস এনভায়রনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (ওয়েস্ট-টু-এনার্জি) উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপনে ৮৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   ৩. চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, বন্ডেড গুদাম নির্মাণ এবং মোংলাকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে রূপান্তরে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এ প্রকল্পে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।   ৪. শেনজেন কাইফা টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে স্মার্ট বৈদ্যুতিক মিটার উৎপাদনে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   ৫. এসএফ এক্সপ্রেস মোংলায় কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস ও বন্ডেড গুদাম সুবিধা গড়ে তুলতে ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে ই-কমার্স ও রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   ৬. হুয়াক্সিন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি লিমিটেড পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে পুনর্ব্যবহৃত তুলা ও সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সিলিন্ড্রিক্যাল লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদন এবং নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে।   ৭. ঝংসিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন গ্রুপ পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশসম্মত নিষ্পত্তি শিল্পপ্রকল্প স্থাপনে ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।   ৮. সিআরআরসি জিয়ান কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রেলগাড়ির যন্ত্রাংশ সংযোজন কারখানা স্থাপনে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   ৯. সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড জাতীয় যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিপিপি প্রকল্পে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।   ১০. চায়না কেপাই এডুকেশন গ্রুপ দীর্ঘমেয়াদে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক অ্যাপ্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা শিল্পপার্ক নির্মাণে ২৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে।   ১১. চায়না শানডং ঝংসিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডবাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে চীনা ভেষজ উদ্ভিদের চাষ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প গড়ে তুলতে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।   বিডার মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি, অবকাঠামো, পরিবেশ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লজিস্টিকস ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটমুক্ত রাখার আহ্বান দোকান মালিক সমিতির

ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দরপতন, বাজার মূলধন কমল ৯১৪ কোটি টাকা

বাজেটে উপেক্ষিত বীমা খাত, মিলেছে শুধু সীমিত কর-সুবিধা

ছবি : সংগৃহীত
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি পদে আবেদুর রহমান সিকদার মনোনীত

নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের নিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এনওসি পাওয়া গেলে দ্রুতই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবেন তিনি।   মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এমডি নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংকটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পর্ষদের অনুমোদনের পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদন করবে এবং অনাপত্তিপত্র মিলছে এমডি হিসেবে ব্যাংকে যোগদান করতে পারবেন।   যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার (২৪ জুন) আবেদুর রহমান সিকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকার তাকে নিয়োগ দিলেও একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে কয়েকটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।   তিনি বলেন, ‘প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এরপর পর্ষদের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি আমার বর্তমান কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়টিও সম্পন্ন করতে হবে।’   আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, ‘সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করেই নতুন দায়িত্বে যোগ দেব। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করব।’   আবেদুর রহমান সিকদার বর্তমানে বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।   এদিকে এমডি না থাকায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। পাঁচটি সংকটে থাকা ব্যাংকের সম্পদ, দায়, জনবল ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এগিয়ে নিতে একজন পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহীর প্রয়োজন হলেও পদটি শূন্য রয়েছে।   বিশেষ করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম, বড় অঙ্কের লেনদেন অনুমোদন, পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজগুলোতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে অনেক গ্রাহক সময়মতো তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।   এ ছাড়া পাঁচটি ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), জনবল ও শাখা কার্যক্রম একীভূত করার কাজও প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এমডি দায়িত্ব গ্রহণ করলে এসব কাজের গতি বাড়বে এবং ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা সহজ হবে।   দেশের ব্যাংক খাতে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলায় আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সম্পদ ও দায় একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে সরকার।   এদিকে বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে 'ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫'-এর আওতায় এনে তাদের সম্পদ ও দায় নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে।   তিনি জানান, 'আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬'-এর আওতায় এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।   সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর করতে সরকার ইতোমধ্যে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে এবং তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে কোম্পানি সেক্রেটারি, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।   সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমডি হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের যোগদান ব্যাংকটির পুনর্গঠন, গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আমানত ফেরত, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং পাঁচটি ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম পরিচালনায় তার নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।   আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটিতে সরকারের অংশীদারিত্ব রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের জমার বিপরীতে শেয়ারে রূপান্তর করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ নভেম্বর ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কঠোর হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

সাড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ৭৫৯০৩ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আর্থিক সংকটে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খাওয়া ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিন মঙ্গলবার (২৪ জুন) প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শারমীন আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।     লিখিত প্রশ্নে শারমীন আক্তার জানতে চান, তারল্য সংকটের কারণে যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিশ্চিত করতে সরকার কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা?     লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে সমস্যায় পড়েছে, সেসব ব্যাংককে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এ সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।’ তবে আর্থিক সংকটে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনও ধরনের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে তিনি সংসদকে জানান।   অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সরকার ইতোমধ্যে “ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬” প্রণয়ন করেছে। আইন অনুযায়ী সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’   প্রসঙ্গত, গত দেড় বছরে দেশের কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ও বেসরকারি ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। বিশেষ করে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে আমানত উত্তোলনে চাপ তৈরি হয়। অনেক গ্রাহক এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ তুলতে না পারা এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অভিযোগ করেন। ব্যাংক খাতে অনিয়ম, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বিতর্কিত ঋণ বিতরণকে এ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা চিহ্নিত করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাত সংস্কার, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করা হয়।   বাংলাদেশ ব্যাংক এরই অংশ হিসেবে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সহায়তা, আন্তব্যাংক সহায়তা এবং নীতিগত সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে আসছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সব ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি চালু রাখার নির্দেশনা

ছবি : সংগৃহীত

জুনেও রেমিট্যান্সের রেকর্ড গতি, ২৩ দিনেই ২২৩ কোটি ডলার

ঋণ নিয়ে ঋণ শোধ, বাড়ছে অর্থনীতির চাপ

0 Comments