অর্থনীতি

মূল্যস্ফীতি কমাতে বিএনপি সরকারের ‘ওষুধ’ কী?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চার বছর ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা মূল্যস্ফীতির চাপকে সঙ্গী করে নতুন অর্থবছর শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।

 

এ যাত্রায় মূল্যস্ফীতিকে কীভাবে সামলানো হবে, সেই পরিকল্পনা এখনো নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে খোলাসা করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণের ওপর থেকে এই বোঝা কমানোই সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথা হবে সরকারের।

 

করণীয় নিয়ে পরামর্শও বাতলে দিয়েছেন তারা। বলছেন, শুধু এক ওষুধে কাজ হবে না। সরকার যে পদক্ষেপই নিক, ‘সমন্বিত নীতি’ ছাড়া মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা সম্ভব নয়।

 

তাদের এ বক্তব্যের যুক্তি হল, সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা থেকে শুরু করে বাজারে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করার মত নানা পদক্ষেপ সরকার নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমেনি। কোনো মাসে একটু কমলেও পরের মাসেই ফের চড়ে যাচ্ছে। যার উদাহরণ সবশেষ চার মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র।

 

মূল্যস্ফীতি তখন ঘটে, যখন সময়ের সঙ্গে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। অর্থাৎ, টাকার মান কমে যায়।

 

এই মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বাংলাদেশে সরকার সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করে চলেছে। পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে; কোনো কোনো পণ্যের আমদানি শুল্ক শূন্যও করা হয়েছে।

 

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নীতি সুদহার (পলিসি রেট বা রেপো রেট) ১০ শতাংশ। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

 

মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতেই রেপো রেট বার বার বাড়ানো হয়েছে। ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুই মাসে তিন দফায় ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। কিন্তু মূল্যস্ফীতি বাগে আসছে না।

 

এমন প্রেক্ষাপটে ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দিতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

 

সেই বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার নানা প্রতিশ্রুতি আসছে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে ১৬ মাসের সর্বোচ্চ হয়েছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। গত এপ্রিলে এ হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এ নিয়ে টানা দুই ঊর্ধ্বমুখী হল মূল্যস্ফীতি।

 

এর আগে টানা চার মাস বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে উঠেছিল। মার্চ মাসে তা কমে ৯ শতাংশের নিচে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নামে। এপ্রিলে ফের তা ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

 

পয়েন্ট টু পয়েন্টে ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ দিয়ে বোঝায়, গত বছর মে মাসে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় মিলেছে, তা চলতি বছরে মে মাসে পেতে খরচ করতে হয়েছে ১০৯ টাকা ৪২ পয়সা।

 

দেশে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির যে পারদ, তা বাড়তে থাকে মূলত কোভিড মহামারীর ধাক্কায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মহামারীর পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধকেও সামনে আনে।

 

কিন্তু কোনো কোনো বিশ্লেষক এবং সরকারবিরোধী অনেক রাজনীতিক উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনে আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের হাত থাকার কথাও বলেন।

 

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রায় দেড় বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকার।

 

এ সময়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও গভর্নর আহসান এইচ মনসুর একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছিলেন মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

 

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসার কারণ হিসেবে অবশ্য সরকারের সঙ্গে ‘সমন্বয়হীনতার’ কথা বলেন তৎকালীন গভর্নর। গেল ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে তিনি বলেন, “মুদ্রানীতির শুধু মূল্যস্ফীতি ছাড়া বাকিগুলো কিন্তু অর্জন হয়েছে।

 

আমলাতান্ত্রিকতার কারণে অনেক কিছু ‘ধীরে হয়’ মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, এখানে মার্কেট পলিসির সঙ্গে রাজস্ব নীতির একটা সমন্বয় হতে হয়। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে না সেভাবে।’

 

দেশে কেন মূল্যস্ফীতি কমছে না, সেই প্রশ্নে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাধারণ মানুষ গত চার বছর ধরে টানা মূল্যস্ফীতির চাপে ভুগছে। উচ্চ সুদের হার চালু রেখে কিছুটা মূল্যস্ফীতি কমানোর ইঙ্গিত মিলেছিল, তা আবারে বেড়ে গিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি করছে।

 

বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত সরকারের নেওয়া কোনো পদক্ষেপই যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে পারেনি, তা আবার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

 

বাজার পরিস্থিতি উন্নত না হওয়ার পেছনে কিছু বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তহীনতা কাজ করেছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

 

সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়াসহ বিশ্ব-রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা আছে।

 

শঙ্কার কারণ তুলে ধরতে গিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, সরকার ১১ জুন নতুন বাজেট দেবে। এই বাজেটের বড় মাথাব্যথার কারণ হতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি সমন্বয়।

 

আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লা, গ্যাস ও জীবাশ্ম জ্বালানির দাম ‘অস্বাভাবিক’ বেড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ইতোমধ্যে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় বিদ্যুৎমূল্য ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।

 

বিদ্যুতের আগেই অবশ্য দেড় মাসের মধ্যে দুই দফায় চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার।

 

সরকারের দাবি, জ্বালানিপণ্যের দাম বাড়লেও তা মূল্যস্ফীতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।

 

গত ১৯ এপ্রিল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তেলের দাম একা তো মূল্যস্ফীতি বাড়ায় না। এটা একটা মূল কথা। খালি তেলের দামের জন্য কি মূল্যস্ফীতি বাড়বে?

 

তবে জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সবার ঘাড়ে একটা বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে মনে করেন জাহিদ হোসেন।

 

তিনি বলেন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে এখন যেটা করা হচ্ছে, সেটা ১ টাকা ২৫ পয়সা প্রতি কিলোওয়াট আওয়ারে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এটা যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতি আমার অনুমান, এখন যা আছে তার থেকে শুধু এই কারণে ১ শতাংশের কাছাকাছি বাড়তে পারে আগামী এক বছরের মধ্যে। এইটা তো একটা অতিরিক্ত চাপ সবার উপরেই তৈরি করছে।

 

২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুই মাসে তিন দফায় ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।

 

ওই বছরের নভেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি বা মাসভিত্তিক) মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। পরের মাস থেকে কমতে কমতে গত বছরের অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নামে। সেখান থেকে আবার বেড়ে নভেম্বরে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে আরও বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে ওঠে।

 

৩০ জুন ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ হবে। এই আর্থিক বছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি। তাতে নীতি সুদহার বা রেপো হার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়।

 

রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো এক দিনের জন্য টাকা ধার নেয়। একে বলা হয় ব্যাংকিং খাতের নীতি উপাদান (পলিসি টুলস)। এর সুদ হারকে বলা হয় নীতি সুদহার বা রেপো রেট। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে।

 

রেপোর সুদ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর তহবিল পাওয়ার খরচ আরও বাড়ে। তাতে ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুদহার বেড়ে যায়।

 

এই হার অপারিবর্তিত রাখার মানে হল, বাজারে মুদ্রাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত সুদহারের লাগাম শিথিল করছে না।

 

দেড় বছর রেপো সুদহার ১০ শতাংশ থাকায় ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেড়ে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। দেশে বিনিয়োগে যে খরা চলছে, এই উচ্চ সুদহার তার একটি কারণ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

 

করোনা মহামাররীর প্রথম ধাক্কার পর ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই মূল্যস্ফীতির হার সারা বিশ্বে বাড়তে শুরু করে। এরপর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়। ইউরোপ ও আমেরিকায় মূল্যস্ফীতির হার ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়।

 

তখন থেকে বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করে। কিন্তু উপমহাদেশের অন্যান্য দেশ বা ইউরোপ–আমেরিকা মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে আনতে পারলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার এখনো কমছে না।

 

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া প্রতিবেদন বলছে, গত মে মাসে দেশটিতে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। আগের মাস এপ্রিলে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

 

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি উঠেছিল প্রায় ৭০ শতাংশে। ওই সময় বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১০ শতাংশ।

 

২০২৪ সালের শেষের চার মাস শ্রীলঙ্কায় কোনও মূল্যস্ফীতি হয়নি; বরং মূল্য সংকোচন হয়। অর্থাৎ নেগেটিভ (-) মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ওই চার মাসে।

 

পাশের দেশ ভারতের মূল্যস্ফীতিও কম। সবশেষ গত এপ্রিলে ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে দেশটিতে।

 

তবে বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি এখন বেশি। এপ্রিলে ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে দেশটিতে। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে ২০২৩ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৫০ শতাংশে উঠেছিল।

 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছিল। ওই বাজেটের এক মাস যেতেই পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের; বাজেট বাস্তবায়ন করে অন্তবর্তী সরকার। ১০ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ গড় মূল্যস্ফীতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছর।

 

পাঁচ বছর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য দুই শতাংশে ওঠে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষ হয় ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ নিয়ে।

 

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে রাখার লক্ষ্য ধরে অন্তবর্তী সরকার। এপ্রিল পর্যন্ত (২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালে এপ্রিল) হিসাবে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ গড় মূল্যস্ফীতির তথ্য দিয়েছে পরিসংখ্যান ব্যুরো।

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ধরা হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে নতুন বাজেটে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তারেক রহমানের সরকার।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৩টি কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিও রয়েছে।

 

এ খাতে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে নতুন বাজেটে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি।

 

এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে।

 

এ প্রসঙ্গে জাহিদ হোসেন বলেন, মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির চাপের মধ্যে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও বিভিন্ন সামাজিক ভাতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে এর প্রাপ্তি ও বণ্টন নিয়ে সংশয় আছে।

 

বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য শতাধিক সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প সচল আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এসব প্রকল্পের পারফরম্যান্স একেবারেই সন্তোষজনক নয় এবং ১ টাকা দিতে গিয়ে দেড় টাকা খরচ হওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে।

 

তেমনটা যেন না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে, তাহলেই কেবল এর সুফল পাওয়া যাবে।

 

অন্য অনেক দেশ পারলেও বাংলাদেশ কেন মূল্যস্ফীতি কমাতে পারছে না, সেই প্রশ্নে জাহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে যাওয়া থেকে হয়ত ঠেকিয়ে রেখেছে। তবে এটিই মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়, কারণ বর্তমান সংকটটি মূলত সরবরাহভিত্তিক।

 

প্রশ্নটা হলো, যেখানে আপনার সরবরাহ সংকট, সেখানে সেইটাকে যদি আমরা এড্রেস করতে না পারি, এখন ধরেন গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার হচ্ছে না, যার কারণে সরবরাহ যেটা দেয়া সম্ভব, সেটা আমরা দিতে পারছি না। ওইটা যদি আমরা সমাধান করতে পারতাম, তাহলে সেটা মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক হতো।

 

মূল্যস্ফীতি কমাতে চাইলে চাঁদাবাজি কমানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন বলে মনে করেন জাহিদ হোসেন।

 

তিনি বলেন, যে দামে উৎপাদকরা বিক্রি করছেন, আর যে দামে ভোক্তারা কিনছেন, চাঁদাবাজির কারণে তার মধ্যে একটা বড় পার্থক্য তৈরি হয়। তো সেখানে যদি আমরা আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিকে উন্নত করতে পারতাম, যার ফলে চাঁদাবাজিটা বন্ধ হতো, তাহলে ওই অতিরিক্ত মূল্যটা ভোক্তাদের দিতে হতো না। সেটাও মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক হতো।

 

এদিক বিবেচনায় সরবরাহের সংকট সমাধান না করে ওই শুধু সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রেখে মূল্যস্ফীতি কমবে, এটা আশা করা যায় না।

 

প্রায় একই কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের (সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান।

 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমাদের জন্য এটা খুবই দুঃখজনক যে, আমরা মূল্যস্ফীতি কমাতে পারছি না। আমার মনে হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কমাতে আমরা সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করতে পারছি না।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতিকে শুধু মুদ্রানীতির বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির বড় অংশ সরবরাহ ব্যবস্থা, আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার, জ্বালানি খরচ, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত।

 

তাই সমন্বিত নীতি দরকার। খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে হবে। বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। মজুতদারি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর তদারকি দরকার। আমদানি সিদ্ধান্তও সময়মতো নিতে হবে, যেন বাজারে ঘাটতি তৈরি না হয়। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও পাইকারি বাজার ব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়াতে হবে।

 

নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, স্থির আয়ের মানুষ এবং অনানুষ্ঠানিক শ্রমজীবীরা মূল্যস্ফীতির প্রধান ভুক্তভোগী। তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও লক্ষ্যভিত্তিক করতে হবে।

 

খাদ্যসহায়তা, স্বল্প মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, নগদ সহায়তা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক সহায়তার মতো কর্মসূচি বাস্তব চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে সম্প্রসারণ করা দরকার।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।   মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।   নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।   এর আগে, সবশেষ গত ৮ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।   এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।   এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০১ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫০ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫০ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পুনর্গঠিত ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদসীমা সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা কিউআরে ক্ষুদ্র লেনদেনে খরচ কমাতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দুই বছরের সীমা বাতিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত পাঁচ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ

একীভূত হওয়া ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকরা মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার যে সুযোগ ছিল, ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের (১৮ ক) ধারা বাতিলের মাধ্যমে সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চট্টগ্রামভিত্তিক আলোচিত শিল্পগোষ্ঠীর এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যাংক পরিচালকদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেল।   আইনের খসড়ায় বলা হয়, তপশিলি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব কিংবা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রণীত ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬-এর (১৮ ক) ধারা বিলুপ্ত করেছে সরকার। আইনটির ১৮ক ধারার আওতায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এ লক্ষ্যে ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’র খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় খসড়াটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তপশিলি ব্যাংকের আর্থিক সংকটের সময়োপযোগী সমাধান এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি বিল আকারে উত্থাপন করা হলে তা বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় ‘বিশেষ কমিটি’র কাছে পাঠানো হয়। বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করে। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে অধ্যাদেশের কয়েকটি বিধান বিধিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য আলাদা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক দায়ভার, গ্রাহকদের স্বার্থ এবং ব্যাংকিং খাতের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে নতুন করে ১৮ক ধারা সংযোজন করা হয়।   এই ধারার মাধ্যমে প্রচলিত রেজ্যুলেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি বাজারভিত্তিক একটি বিকল্প ব্যবস্থা চালুর সুযোগ রাখা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সংকটে পড়া ব্যাংককে সচল রেখে পুনর্গঠন করা, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট কাটিয়ে ওঠা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংক উদ্ধারে সরকারের আর্থিক সম্পৃক্ততা কমানো।   পরে উত্থাপিত আকারেই ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬ সংসদে পাস হয়। তবে আইনটির ১৮ক ধারায় নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি।   এ কারণে ১৮ক ধারাটি আর কার্যকর রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করছে সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ধারাটি বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন(সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে।   মন্ত্রিসভায় খসড়াটি অনুমোদনের পর এখন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং নেওয়া হবে। ভেটিং শেষে সংশোধনী আইনটি পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলায় রেজ্যুলেশন কাঠামো চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়াকে সংশ্লিষ্টরা সরকারের নীতিগত অবস্থানের পরিবর্তন হিসেবেও দেখছেন। তবে ১৮ক ধারা বাতিল হলেও ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট কিংবা অস্তিত্বের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের অন্যান্য ব্যবস্থা বহাল থাকবে।   উল্লেখ্য, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারাটি ছিল একটি বিতর্কিত বিধান, যার মাধ্যমে নামে-বেনামে ঋণ বিতরণের মাধ্যমে সংকটে পড়া বা একীভূত হওয়া ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকরা মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ ছিল। ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের তীব্র সমালোচনা ও বিশ্বব্যাংকের আপত্তির মুখে সরকার এ ধারাটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান অকার্যকর ঘোষণা, প্রশাসক নিয়োগ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত

জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ২১ শতাংশ, বিমান ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা

বিল-রিচার্জে টাকার টান পড়লে মিলবে ডিজিটাল ঋণ, সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা

বেনাপোল হয়ে এলো ৮০ টন কাঁচা মরিচ, দাম নামলো অর্ধেকে

  যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমে অর্ধেক দামে ১৬০ টাকায় হচ্ছে। পাঁচ দিন আগেও এসব বাজারে ৩০০ টাকায় কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে। সারা দেশে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করে। গত পাঁচ দিনে ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ৮০ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।   গত সোমবার প্রথম চালানে রাত ৮টার দিকে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি (৯ দশমিক ২ টন), মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২ হাজার ২২০ কেজি (৪২ দশমিক ২২ টন), বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি (১৪ টন) এবং শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫ হাজার কেজি (১৫ টন) কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৮০ টন কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি শুরু হওয়ায় শার্শা উপজেলার সব বাজারে মরিচের দাম অর্ধেক কমে বর্তমানে বাজারে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।    মরিচ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে ৩০৫ ডলারে প্রতি টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে আমরা বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরও কমে আসবে। তবে কাস্টমসের হয়রানি ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন এবং সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।    এদিকে, বেনাপোল বন্দরের কাঁচা বাজারে পাঁচ দিন আগেও প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও আজ রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা আশা করছেন আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কমে একশ’র নিচে নেমে আসবে।   ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালান বন্দরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোই দ্রুত দাম কমে আসছে। এ চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।   বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আরও কাঁচা মরিচবাহী অনেকগুলো ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ফের বাড়ল সোনার দাম

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে আনারস আমদানির অনুমতি দিল পাকিস্তান

ফাইল ছবি

দেশের বাজারে কমল সোনার দাম

0 Comments