নোয়াখালীর সদর উপজেলার বাঁধেরহাট এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. সেলিমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মী আহত হন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আকবর হোসেন সোহাগ, শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হৃদয় ও মোহাম্মদ রবিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে শুক্রবার বিকেলে বাঁধেরহাট এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির নেতাদের দাবি, ওই মিছিলের মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর প্রতিবাদে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে শনিবার বিকেলে বাঁধেরহাট বাজারে বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আমাদের বহরে থাকা প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে ১৪ থেকে ১৫টি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ৪ থেকে ৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বাঁধেরহাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান। ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, হামলার ঘটনায় বিএনপির পাশাপাশি এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকজন এনসিপি নেতাকর্মী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন রয়েছেন।
অন্যদিকে, এ ঘটনার পর সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা শুরু হলেও পুলিশ বলছে, এটি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ওসির পরিবর্তন নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়ার অংশ, এর সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নোয়াখালীর সদর উপজেলার বাঁধেরহাট এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. সেলিমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মী আহত হন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আকবর হোসেন সোহাগ, শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হৃদয় ও মোহাম্মদ রবিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে শুক্রবার বিকেলে বাঁধেরহাট এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির নেতাদের দাবি, ওই মিছিলের মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর প্রতিবাদে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে শনিবার বিকেলে বাঁধেরহাট বাজারে বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আমাদের বহরে থাকা প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে ১৪ থেকে ১৫টি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ৪ থেকে ৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে হামলার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বাঁধেরহাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান। ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, হামলার ঘটনায় বিএনপির পাশাপাশি এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকজন এনসিপি নেতাকর্মী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন রয়েছেন। অন্যদিকে, এ ঘটনার পর সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা শুরু হলেও পুলিশ বলছে, এটি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ। নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ওসির পরিবর্তন নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়ার অংশ, এর সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে এবং পরে একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি মিছিলের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বাজারে মিছিল করেন। এতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হানসহ জেলা নেতারা অংশ নেন। মিছিল শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে হামলার ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের অনুসারী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। অন্যদিকে, মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রদলের দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন। আহতদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি।’ সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। হামলা, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা কাজ করছেন।’ তবে হামলা ও সংঘর্ষের বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ট্রেজারার অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করেছে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। শনিবার (৬ জুন) রাত ৭টা ২৪ মিনিটে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো। ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক ট্রেজারার স্যারের কাছে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে। বিদায়ের সময় ক্রীড়া সম্পাদককে বলেন, ‘তোমাদের ডাকসুর ওই ছোটোখাটো চাকমা ছেলেটাকে আমার কাছে পাঠাইও। দেখি তার সাহস কেমন।’ কথার সুরে হুমকি আর ক্ষোভ। ইঙ্গিতটা আমাকে করেছেন। ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক। কারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি, শনিবারে বাস সার্ভিস চালু করেছি। যা আটকাতে তার শত প্রচেষ্টা ছিল। বিনীত অনুরোধ, ভুলে যাবেন না আপনি শিক্ষক। পাড়ার গুন্ডা মাস্তানের মতো কথা আপনার মুখে মানায় না। বয়স হয়েছে অনেক, নিজের ওয়েট বুঝুন। হাঁটুর বয়সী ছেলেদের সঙ্গে লাগতে যান কেন। দ্বিতীয়ত, মানুষ হিসেবে রেসিজম জিনিসটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন। অনুরোধ রইল।