অন্যান্য

কলেজ নয় যেন সনদ জালিয়াতির কারখানা

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১৯, ২০২৬

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাসরিন আক্তার ২০১৫ সাল থেকে এইচএসসির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। কিন্তু তাঁর পড়াশোনার গণ্ডি এইচএসসি পর্যন্ত; তাও আবার নিয়মিত নয়। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাস সনদ দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড, এনটিআরসিএর সনদ জালিয়াতিসহ নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চাকরি নেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তাঁর অনার্স পাস করা দূরে থাকুক, অনার্সে ভর্তির সুযোগই নেই। কারণ নাসরিন ২০০৪ সালে এসএসসি ও ২০০৯ সালে প্রাইভেটে এইচএসসি পাস করেছেন। নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তির সুযোগ মেলে না।

 

নাসরিনের মতো একইভাবে নানা প্রতারণা করে চাকরি করছেন খোদ কলেজটির অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হকও। ২০০০ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি নিম্ন মাধ্যমিক থাকাকালে তিনি নিম্ন মাধ্যমিকের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় ওই পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল বিএ, বিএড। অথচ তিনি বিএড পাস করার আগেই ওই পদে যোগদান করেন। এরপর এমপিওভুক্তির সময় স্নাতকোত্তর পাসের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সনদ দিয়েছেন সেটিও জাল। সম্প্রতি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে তদন্তকালে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর পাসের আরেকটি সনদ জমা দেন তিনি। সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কালো তালিকাভুক্ত। দুটি সনদ জালিয়াতি করে চাকরির জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

 

একইভাবে প্রভাষক (পালি) হিসেবে চাকরি করছেন শেফালী খাতুন। তিনি বাংলাদেশ সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড থেকে স্নাতক পাসের যে সনদ দিয়েছেন সেটি ভুয়া। এ ছাড়া পালি বৌদ্ধ দর্শন, ইতিহাস ও সংস্কৃতিবিষয়ক একটি বিশেষায়িত বিষয়। সেখানে শেফালী খাতুন মুসলিম হয়েও এ বিষয়ে পাঠদান করছেন। আবার বিষয়টি খোলার অনুমতি না থাকলেও অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে তাঁকে। এমপিওভুক্তি আবেদনের সময় প্রেরিত স্বীকৃতিপত্র, বিষয়ে অনুমতি, শিক্ষক নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত করা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়োগ প্রদান ও এমপিওভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারও দায়ী বলে মনে করছেন তাঁরা।

 

শুধু অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক কিংবা নাসরিন আক্তার নন, কলেজটির ৭৬ জন শিক্ষক-কর্মকর্তার মধ্যে ৭৩ জনই একাডেমিক কিংবা এনটিআরসিএর সনদ জালিয়াতি, নিয়োগ প্রতারণা করে চাকরি করছেন। বিভাগ খোলার অনুমতি না থাকলেও অবৈধভাবে বিভাগ খুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চাকরিকালে নেওয়া বেতন-ভাতার পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ফেরত আনার সুপারিশ করেছে ডিআইএ। এতসব অনিয়ম করে চাকরি করলেও পড়াশোনা করাতে মন নেই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের। কলেজটিতে পড়াশোনার পাশাপাশি অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই নাজুক। রোববার এ প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে এত শিক্ষকের প্রতারণার কথা শুনে হতবাক শিক্ষা বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, এটি কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, যেন দুর্নীতির কারখানা। সনদ জালিয়াতি করা শিক্ষকরা শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ সবার।

 

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে নিম্ন মাধ্যমিক, ২০১৪ সালে মাধ্যমিক এবং ২০১৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়। বর্তমানে কলেজটিতে ৪১৫ শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। এর মধ্যে ৮৫ জন কলেজে, আর বাকি ৩৩০ জন মাধ্যমিক বিভাগে পড়াশোনা করছেন। এত শিক্ষার্থী থাকলেও নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ। আবার বার্ষিক বা নির্বাচনি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ৮০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাতেগোনা। শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো পাঠাগার। বিজ্ঞান বিভাগ থাকলেও নেই ল্যাবরেটরি। নেই পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিও। আয়-ব্যয়ের হিসাব ঠিকমতো না করায় আরও লাখ লাখ টাকার অনিয়ম হয়।

 

প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় ৬২ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি ৬১ জনই এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে দুজন শিক্ষকের তথ্য না পাওয়ায় অধ্যক্ষসহ বাকি ৫৯ জনের নিয়োগে আপত্তি জানিয়ে নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি বেতন ফেরত আনার সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জন প্রভাষক, একজন সহকারী শিক্ষক, পাঁচজন প্রদর্শক, দুজন সহকারী গ্রন্থাগারিক, দুজন হিসাব সহকারী, চারজন ল্যাব সহকারী, একজন কম্পিউটার অপারেটর, বাকিরা অফিস সহকারী ও নিরাপত্তাকর্মী। আর মাধ্যমিক শাখায় ১৬ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ১৫ জনই এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে ডিআইএ। তাঁদের মধ্যে একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক, চারজন সহকারী শিক্ষক, বাকিরা অন্যান্য পদে কর্মরত। আপত্তি আসা বাকি তিনজনও বিভিন্ন পদে কর্মরত।

 

ডিআইএ সূত্র জানায়, অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক সনজয় চন্দ্র মণ্ডল, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মো. নুরুল আফছার ও অডিটর মো. সিরাজুল ইসলাম গত বছরের ১৫ ও ১৬ অক্টোবর বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শনকালে তাঁদের সনদ ও নিয়োগ জালিয়াতি নিয়ে সন্দেহ হয়। এরপর সনদগুলো অধিকতর যাচাইয়ের জন্য সনদ ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠায় ডিআইএ। এরপর সনদ ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান সেগুলো ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। এ ছাড়া নিয়োগের সময় নানা প্রতারণার বিষয়ও উঠে আসে।

 

সার্বিক বিষয়ে জানতে কলেজটির অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হকের সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

 

ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক এম এ ম সহিদুল ইসলাম বলেন, এক প্রতিষ্ঠানে এত শিক্ষকের অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা মন্ত্রণালয়কে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয় তাঁদের বরখাস্তের পাশাপাশি টাকা ফেরত আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

 

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ কালবেলাকে বলেন, চাকরিতে যোগদানের সময় অবহেলা করে কিংবা বাইরে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে সনদগুলো যাচাই না করার কারণে এসব হয়েছে। এটা কাঙ্ক্ষিত নয়। চাকরিতে যোগদানের সময় কেন সনদ যাচাই হয়নি—সে বিষয় খুঁজে বের করে জড়িতদেরসহ সনদ জালিয়াতি করা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
বিএনপির কোণঠাসা প্রবীণ নেতারা ঠাঁই পেতে পারেন মন্ত্রিসভায়

দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, লাখো মামলা, অমানবিক নির্যাতন আর জেল-জুলুম পার করে অবশেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। তবে দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলেও দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে এক নতুন সমীকরণ।   রাজপথের অনেক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতা আজ নিজেদের দলেই ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তরুণদের প্রভাব বাড়তে থাকায় অভিজ্ঞরা পড়ছেন ছিটকে। তবে হতাশার এই ঘোর অন্ধকারের মাঝেই উঁকি দিচ্ছে নতুন আশার আলো।   জানা গেছে, ঈদুল আজহা ও বাজেট অধিবেশনের পর মন্ত্রিসভার যে সম্প্রসারণ হতে যাচ্ছে, সেখানে দলের এই ত্যাগী ও প্রবীণ নেতাদের মূল্যায়নের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।   বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১২ ফেব্রুয়ারির বিপুল নির্বাচনী বিজয়ের পর যখন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়, তখন অনেকেই চমকে গিয়েছিলেন। দলের যে প্রবীণ নেতারা বিগত দেড় যুগ ধরে বুক চিতিয়ে দলকে আগলে রেখেছিলেন, তাঁদের অনেকেই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।   ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে মাত্র ছয়জন পূর্বে বিএনপি সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা প্রথম দফার মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন। পরবর্তীতে মির্জা আব্বাসকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়নি। প্রবীণ নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পিকার করে কার্যত দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে তিনি স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগও করেছেন।   দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার ও দলের নীতিনির্ধারণীতে এখন লন্ডনভিত্তিক তরুণ নেতাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সরকার বা দল পরিচালনার মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁরা এখন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। অনেক সিনিয়র নেতার মতে, তারেক রহমান বিশ্বাস করেন বিদেশ থেকে শিক্ষিত এই তরুণরা আরও আধুনিক ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা নিয়ে এসেছেন এবং দলের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য তাঁরাই বেশি যোগ্য। একসময় প্রভাবশালী থাকা সিনিয়র নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অস্বস্তিবোধ করেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।   পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নেতার ভাষায়, 'পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, চেয়ারম্যান নিজেই বয়স্কদের অবসরে পাঠাচ্ছেন'। এই পরিবর্তনের আভাস পেয়ে খোদ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বয়সের কারণ দেখিয়ে শিগগিরই অবসরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।   তিনি বলেছেন, 'আমার বয়স বাড়ছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছি। এখন একটি পরিবর্তন দরকার।'   ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীকে দেড় লাখ মামলায় আসামি করা হয়েছে। যাদের অনেকেই আজ নিস্ব। বাড়িঘর, জমিজমা, এমনকি গবাদিপশু বিক্রি করে, ঢাকায় রিকশা চালিয়েও অনেকে আন্দোলনের খরচ জুগিয়েছেন। আতঙ্কে অসংখ্য রাত কেটেছে ধানখেতে, খোলা আকাশের নিচে, সুপারি বাগানে কিংবা কবরস্থানে।   দলের অনেক ত্যাগী নেতার অভিযোগ, দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলে ত্যাগের স্বীকৃতি মিলবে, এমন প্রত্যাশা থাকলেও সরকার গঠনের পর তাঁদের ভাগ্য বদলায়নি। বরং আন্দোলনের সময় যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি বা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীই এখন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে নিচ্ছে।   ত্যাগী নেতাদের বঞ্চনার অন্যতম উদাহরণ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দলের হাল ধরা রিজভীকে মন্ত্রী না করে কেবল উপদেষ্টা করা অনেকেই বিস্মিত। সাড়ে চারশ মামলার আসামি হাবিব উন নবী খান সোহেল দীর্ঘ সময় কারাগার ও আদালতে কাটালেও তাঁকে এখনো কোনো পদে মূল্যায়ন করা হয়নি।   তিন শতাধিক মামলার আসামি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিনা চিকিৎসায় তাঁর একটি কিডনি অকেজো হয়েছে। ২০০১ সালে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিদ্ধ আলাল এখনো শরীরে গুলির ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। মায়ের মৃত্যুর সময় কারাগারে থাকায় শেষবার মায়ের মুখটাও দেখতে পারেননি। এত ত্যাগের পরও সরকারে তাঁকে মূল্যায়ন না করায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।   অবশ্য আলাল এখনো আশাবাদী। তিনি বলেন, 'তারেক রহমান নিজে আমাদের ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে উৎসাহিত করেছেন। তিনি সবকিছু অবগত রয়েছেন। চেয়ারম্যান যথাসময়েই দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস।'   বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, 'আমাদের দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর ত্যাগ অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। সবেমাত্র সরকার গঠন হয়েছে। দেশ গঠনের কাজ চলমান। আশা করি একটা সময় কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়িত হবেন।'   সরকারের পাশাপাশি দলের ভেতরেও বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। এ বছরের শেষের দিকে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে দলের প্রভাবশালী মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরবর্তী মহাসচিব হতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।     স্থায়ী কমিটি থেকেও বয়স্ক ও অসুস্থ নেতাদের সরিয়ে তরুণদের জায়গা দেওয়া হতে পারে। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং সেলিমা রহমানকে স্বাস্থ্যগত কারণে স্থায়ী কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া নব্বইয়ের দশকের ছাত্র আন্দোলনের অনেক নেতা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে জায়গা পেতে পারেন।   সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় মূল্যায়নের সম্ভাবনা প্রাথমিক বঞ্চনা ও হতাশার মধ্যেই দলের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের জন্য সুসংবাদ হিসেবে আসছে আসন্ন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ। সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, জনবান্ধব ও প্রশাসনের গতি বাড়াতে ঈদুল আজহা এবং বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পরই মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে যাচ্ছে। আর এই সম্প্রসারণেই দলের পোড়খাওয়া ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।   সূত্রমতে, নতুন মন্ত্রিসভায় কয়েক দশকের অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান এবং রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের দেখা যাবে। নোয়াখালী অঞ্চল থেকে মন্ত্রিসভায় কোনো প্রতিনিধি না থাকায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ছয়বারের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে।   এছাড়া তৃণমূলের দাবি মেনে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের মতো হেভিওয়েট নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকেও পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।   এর বাইরে হুইপের দায়িত্ব পালন করা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পাবনার সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং কুমিল্লার অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নামও পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।   প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তরুণ ও উদীয়মান নেতাদেরও সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই তালিকায় রয়েছেন খুলনার সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল এবং ফরিদপুরের শহিদুল ইসলাম বাবুল। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেল। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও দুই-একজনকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকার পরিচালনার শুরুতেই প্রবীণ ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে তরুণদের ওপর নির্ভরতা দলে কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের সৃষ্টি করেছিল। তবে তারেক রহমান খুব ভালো করেই জানেন, শুধু তারুণ্যের উচ্ছ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র চালানো সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন প্রবীণদের মেধা, প্রজ্ঞা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। আসন্ন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ সেই ভারসাম্য রক্ষারই একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। রাজপথে রক্ত ঝরানো এই প্রবীণ ও ত্যাগী নেতারা যদি সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় যথাযথভাবে মূল্যায়িত হন, তবে দলের ভেতরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও হতাশা যেমন দূর হবে, তেমনি দেশ গঠনেও তা এক নতুন মাত্রার যোগ করবে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১৯, ২০২৬

কলেজ নয় যেন সনদ জালিয়াতির কারখানা

বিএনপি ও জামায়াতের লোগো

বিএনপি-জামায়াতের বিরোধিতা কি ‘লোকদেখানো’

ছবি-সংগৃহীত

দেশে ইরেকটাইল ডিসফাংশন থাকা ৮০ ভাগ পুরুষের উচ্চ রক্তচাপ: জরিপ

হেফাজত আমিরের সঙ্গে মামুনুল হকের সাক্ষাত: জামায়াত নিয়ে বার্তা

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আদর্শিক বা আকিদাগত কোনো ঐক্য হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আকিদা, বিশ্বাস ও চিন্তাগত মতপার্থক্য আগে যেমন ছিল, এখনো তেমনি রয়েছে। এই রাজনৈতিক সমন্বয় কোনোভাবেই আদর্শিক বা আকিদাগত ঐক্য নয়, বরং বৃহত্তর জাতীয় প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত রাজনৈতিক ঐক্য।   রোববার চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মামুনুল হক এসব কথা বলেন।   প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বিভিন্ন মত ও পথের রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য গঠন করা হয়েছে। তাঁদের জোটে এমন কিছু দলও রয়েছে, যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ভিন্নমত পোষণ করে। তবে বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতির প্রয়োজনেই এই রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছে।   মামুনুল হক আরও বলেন, হেফাজতে ইসলাম কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ অনুসরণ করে পরিচালিত একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি। দেশ ও ইসলামের স্বার্থে, ইসলামের ওপর যে কোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক আঘাতের বিরুদ্ধে সংগঠনটি অতীতের মতো ভূমিকা রাখবে।   এ সময় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাহফুজুল হক, মুফতি জসিমউদ্দীন, যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১৭, ২০২৬

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি, ছাত্রদল বলছে হাস্যকর

ছবি: সংগৃহীত

বেসিসের নেতৃত্বে ফিরছে আওয়ামী সিন্ডিকেট

ছবি: সংগৃহীত

জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন: ইবাদতের বিশেষ মৌসুম

ছবি: সংগৃহীত
এক পরিবারের কব্জায় সিকদার ইন্স্যুরেন্স

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে বীমা আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানিটির ১২ জন পরিচালকের মধ্যে ৯ জনই একই পরিবারের সদস্য; যা বিদ্যমান বীমা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বীমা কোম্পানিটিতে প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের কন্যা নাসিম হক সিকদার চেয়ারপারসন এবং পুত্র মমতাজুল হক সিকদার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পরিচালক হিসেবে রয়েছেন পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। তারা হলেন— নাতনি লিজা ফাতেমা সিকদার, মনিকা সিকদার খান, জেফরি খান সিকদার, জোনাস খান সিকদার, নাতনি মন্ডি খান সিকদার, নাতিন জামাই সালাউদ্দিন খান ও নাতি মোহতাসিম বিল্লাহ খান। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে তারাই প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ২০১৬ সালের সার্কুলার অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে একটি বীমা কোম্পানির ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবেন না। এছাড়া প্রত্যেক উদ্যোক্তা পরিচালকের ন্যূনতম শেয়ারধারণের হার ২ শতাংশ নির্ধারিত। সে হিসাবে ৯ পরিচালক যদি ন্যূনতম ২ শতাংশ করে শেয়ার ধারণ করেন, তাহলে তাদের সম্মিলিত শেয়ার দাঁড়ায় ১৮ শতাংশ; যা নির্ধারিত সীমার স্পষ্ট লঙ্ঘন । এ বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি বলেন, “বিদ্যামান বীমা আইনে কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারেন না। এককভাবে প্রত্যেক পরিচালক সর্বনিম্ন ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারেন। সে হিসাবে আইন অনুযায়ী বীমা কোম্পানিটিতে একসঙ্গে একই পরিবারের এত সদস্য পরিচালনা পর্ষদে কোনোভাবেই থাকতে পারেন না। যদি কোনো বীমা কোম্পানিতে এই ধরনের পরিচালকরা থাকেন তাহলে আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।’ এদিকে ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটির গত সাড়ে পাঁচ মাসে শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ১০৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে ১৯ টাকা ৯০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা ৯.৬৯ শতাংশ। ৬ এপ্রিল থেকে টানা ঊর্ধ্বমুখী কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে গত ৬ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বীমা কোম্পানিটিকে চিঠি দেয়। জবাবে কোম্পানি জানায়, কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোম্পানিটির পেশাদার ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে এবং অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতার অভাব দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আইপিওর মাধ্যমে তোলা ১৬ কোটি টাকা ‘অযৌক্তিকভাবে’ ব্যবহার করা হয়েছে। সিকদার পরিবারের আর্থিক অনিয়ম ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে পরিবারটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৮৯টি দেশীয় ও ১৪টি বিদেশি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বীমা কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের প্রায় সবাই বিদেশে পলাতক রয়েছেন। আইনগত ঝামেলা এড়াতে তারা মিডিয়ার সামনে আসছেন না। দীর্ঘদিন অংশ নিচ্ছেন না বীমা কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়েও; যা বীমা আইনের লঙ্ঘন । কোম্পানির সচিব আব্দুর রাজ্জাক শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, পূর্বের আইনগত বিষয় সম্পর্কে এখনো অবগত নই। এ সময় পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের এত সদস্য সম্পর্কে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, পর্ষদের সদস্যরা যদি কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে থাকেন তাহলে পরিচালনা পর্ষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে শেয়ারদরের গত পাঁচ মাস ধরে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু জানে না বলেও জানান । ‘ ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি আইপিও সম্পন্ন করার পর কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে। ডিএসইতে এর ট্রেডিং কোড ‘এসআইসিএল’ এবং কোম্পানিটি বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন করছে। সবশেষ ডিএসইর তথ্য মতে, বর্তমানে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৫০ দশমিক ৪০ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী রয়েছেন ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৪৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকদার ইন্স্যুরেন্সের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি। আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর) সিকদার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৭৭ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৩৫ পয়সায়। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ আলোচ্য হিসাব বছরে সিকদার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮২ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ২৮ পয়সায় । ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ 1 আলোচ্য হিসাব বছরে সিকদার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ২২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এসএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৪৯ পয়সায়।

মারিয়া রহমান মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকার, ভারত ও প্রতিপক্ষকে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের পারফরম্যান্সেই নির্ভর করবে মধ্যবর্তী নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম

এনসিপি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

0 Comments