আন্তর্জাতিক

আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনীর অবস্থান ফিরে পেয়েছেন। ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত আদানি গ্রুপভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে তার মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯.২ বিলিয়ন ডলারে।

 

এএনআই-এর বরাতে প্রকাশিত ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার আদানি গ্রুপের বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বৃদ্ধির ফলে গৌতম আদানির সম্পদ প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এর ফলে তিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকে পেছনে ফেলে আবারও এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির অবস্থান দখল করেন।

 

ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে গৌতম আদানির সম্পদের পরিমাণ ৮৯.২ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে মুকেশ আম্বানির সম্পদ ৮৮ বিলিয়ন ডলার এবং সফটব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মাসায়োশি সনের সম্পদ ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আদানি পাওয়ার, আদানি পোর্টস, আদানি এন্টারপ্রাইজেস, আদানি গ্রিন এনার্জি এবং আদানি এনার্জি সলিউশন্সসহ আদানি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণে তার সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

ফোর্বস জানায়, আদানি গ্রুপের আওতাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ব্যাপক ঊর্ধ্বগতির ফলে এই সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে আদানি গ্রিন এনার্জির শেয়ার ৬.৯ শতাংশ এবং আদানি এনার্জি সলিউশন্সের শেয়ার ৩.৮ শতাংশ বেড়েছে।

 

প্রতিবেদনে আদানি গ্রুপের ব্যবসায়িক পরিধির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত আদানি গ্রুপের ছয়টি প্রধান তালিকাভুক্ত কোম্পানির সম্মিলিত বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৯১ বিলিয়ন ডলার।

 

দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতার পর আবারও শীর্ষ অবস্থানে ফেরা আদানির জন্য বড় ধরনের প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফোর্বসের মতে, আদানি গ্রুপের শেয়ারের পুনরুদ্ধার গৌতম আদানিকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে এবং তিনি আবারও এশিয়ার ধনকুবেরদের তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছেন।

 

সূত্র:দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ২২ ভারতীয়ের মৃত্যু, নিশ্চিত করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতে ১৪ জন নাবিকসহ মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে  জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।    তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে দেশটির উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং প্রাণহানির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জয়সওয়াল বলেন, আমরা এই পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। অত্যন্ত দুঃখজনক, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ১৪ জন নাবিকসহ মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।   উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায় এবং সমুদ্রগামী কর্মীদের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে জয়সওয়াল জানান, ভারতের কূটনৈতিক মিশনগুলো সেখানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সেখানে আমাদের মিশন এবং ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছি।   ওই অঞ্চলে প্রাণহানির বিষয়ে আরও তথ্য দিতে গিয়ে তিনি জানান, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে সৌদি আরবেও তিনজন ভারতীয় নাগরিক মারা গেছেন। জয়সওয়াল বলেন, সৌদি আরবে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় তিনজন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত ভারতের কূটনৈতিক মিশনগুলো সেখানকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক পথে কর্মরত ভারতীয় কর্মী ও নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। এদিকে জেদ্দায় অবস্থিত ভারতের কনসুলেট জেনারেল একটি নতুন ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করেছে। এতে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ফ্লাইট বিঘ্নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিক বিশেষ করে ওমরাহ পালনকারীদের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত ফ্লাইট সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   পূর্ববর্তী নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় কূটনৈতিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্স এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে ভারতের বিভিন্ন গন্তব্যের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণ করা যায়।   এক্সে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জেদ্দায় ভারতের কনসুলেট জেনারেল জানিয়েছে, পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী  সৌদি আরব ও ভারতের মধ্যে বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আমাদের চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে, আমরা কিছু নতুন তথ্য জানাতে চাই। সৌদি আরবের প্রধান ট্রানজিট কেন্দ্রগুলো থেকে বিমান চলাচল সম্পর্কে কনসুলেট জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশের বিমানবন্দরগুলো থেকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পরিষেবাগুলো এখনও সচল রয়েছে। এদিকে সৌদি বিমান সংস্থাগুলো ভারতে তাদের পরিষেবা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোও তাদের নিজ নিজ হাবের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার সুযোগ (ওয়ান-স্টপ কানেকশন) দিচ্ছে।   সৌদি আরবের বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘ফ্লাইনাস’ পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে আটকা পড়া যাত্রীদের সহায়তার জন্য দাম্মাম ও রিয়াদ থেকে ভারতের প্রধান মহানগরী ও আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে।   রিয়াদ ও জেদ্দায় অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনগুলো হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের পরিচালনাকারী ট্যুর অপারেটরদের অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা এই বর্ধিত ফ্লাইট সূচি কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের সুশৃঙ্খলভাবে দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দূতাবাস ও কনস্যুলেট বিভিন্ন বিমান সংস্থা এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, যাতে ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকরা বিশেষ করে ওমরাহ যাত্রীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা পেতে পারেন।   কনস্যুলেট যাত্রীদের পুনরায় বুকিং নিশ্চিত না করে বিমানবন্দরে যেতে সতর্কতা জারি করেছে। বরং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সৌদি আরব ইয়েমেনের হুতিদেন গোষ্ঠীকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এটি ইরান-মধ্যস্থতাকারী একটি চুক্তির অংশ, যার লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ করা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান হুথিদের সাথে যুদ্ধবিরতির আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেছিলেন। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় ইরানের মাধ্যমে হুথি গোষ্ঠীকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হস্তান্তরের কথা রয়েছে।   সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত

নতুন নির্বাচন এড়ানোর আহ্বান ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের

সংগৃহীত

যুদ্ধের চাপে দিশেহারা ইরানিরা, ‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’

সংগৃহীত ছবি

বিক্ষোভে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, রাজপথে বিক্ষুব্ধ জনতা

ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের নির্বাচনে এবার ‘ডাবল খামের’ ভোট গণনা, বদলে যেতে পারে আসনের হিসাব

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের সাধারণ ব্যালট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবার শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ পদ্ধতিতে দেওয়া ‘ডাবল খামের’ ভোট গণনা। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ভোটারের এসব ব্যালট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ও আসন বণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোতের জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে।   ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী কোনো জোটই এককভাবে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।   তবে ‘ডাবল খামের’ ব্যালট গণনা শেষে আসনের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অধিকাংশ ভোটার নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ ব্যালটে ভোট দেন। তবে বিশেষ কিছু শ্রেণির ভোটারের জন্য রয়েছে ‘ডাবল খাম’ পদ্ধতি।   ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ভোটার এ পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন।   এই ব্যবস্থায় ভোটারের ব্যালট দুটি পৃথক খামের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। ভোটারের পরিচয় যাচাই ও ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।   ইসরায়েলে বিশেষ এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান সেনাবাহিনীর সদস্য, কারাবন্দি, হাসপাতালে অবস্থানরত রোগী ও কর্মী, বিদেশে কর্মরত কূটনীতিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে যেতে অক্ষম ভোটাররা।   তবে বিদেশে বসবাসরত সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য এই সুবিধা নেই। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে তাদের ইসরায়েলে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে হয়।   ‘ডাবল খাম’ পদ্ধতিতে একজন ভোটার প্রথমে পছন্দের প্রার্থী বা দলের পক্ষে ভোট দিয়ে ব্যালটটি একটি খামে রাখেন। এরপর সেই খামটি ভোটারের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত আরেকটি খামে রাখা হয়। পরে খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়।   নির্বাচন কমিশন প্রথমে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ভোটার অন্য কোনো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আবার ভোট দিয়েছেন কি না। দ্বৈত ভোটের প্রমাণ না পাওয়া গেলে ব্যালটটি বৈধ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।   এরপর পরিচয়সংক্রান্ত বাইরের খাম থেকে ভেতরের ব্যালটের খাম আলাদা করে ভোট গণনা করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের কারণে সাধারণ ব্যালটের তুলনায় এই প্রক্রিয়ায় বেশি সময় লাগে।   ইসরায়েলের সর্বশেষ ২০২২ সালের নির্বাচনে প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোটার ‘ডাবল খাম’ পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় সাড়ে ছয় লাখে পৌঁছেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভোটগুলোর প্রভাব সাধারণত ১২ থেকে ১৫টি আসনের বণ্টনের ওপর পড়তে পারে।   বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী জোটগুলোর মধ্যে আসনের ব্যবধান কম থাকায় বিশেষ ব্যালটের ফলাফল রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তবে এসব ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন জোট শেষ পর্যন্ত কতটি আসন পাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   সূত্র: সিএনএন

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

যুদ্ধ অবসানে ইরানের কাছে কাতারের নতুন প্রস্তাব, থাকছে যেসব বিষয়

শারেন হাস্কেল। ছবি: সংগৃহীত

আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান ইসরাইলি ডানপন্থি নেত্রীর

সংগৃহীত ছবি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: ওলেশকিতে দ্বিতীয় দিনেও বহাল যুদ্ধবিরতি, ত্রাণ পৌঁছানোর আশা

সংগৃহীত ছবি
রুয়ান্ডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) সংঘাতকে কেন্দ্র করে রুয়ান্ডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।   খবরে বলা হয়, মার্কিন অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়।   রয়টার্স বলছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অগ্রসর হয়ে কঙ্গোর উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীরা। ওই অভিযানে পূর্ব কঙ্গোর দুটি বৃহত্তম শহরও দখল করে গোষ্ঠীটি।   জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলোর সরকারগুলোর অভিযোগ, বিদ্রোহীরা রুয়ান্ডার সমর্থন পাচ্ছে। তবে কিগালি এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাসহ সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ চললেও লড়াই অব্যাহত রয়েছে। এসব প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।   সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি : রয়টার্স

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বহুমুখী কৌশলী রোডম্যাপ

ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইল নির্বাচনে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট, তবুও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

ছবি : রয়টার্স।

নেপালের আমা দাবলাম পর্বত থেকে পড়ে জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু

0 Comments