অবস্থাটি ভীতিকর, তার চেয়েও বেশি শঙ্কার। বিষয়টিকে কখনো বলা হচ্ছে ‘অদৃশ্য মহামারি’, কখনো তুলে ধরা হচ্ছে একটি ‘প্রচ্ছন্ন অসুখ বলে’। যারা এই ব্যাধির শিকার, তারা চিহ্নিত হচ্ছে ‘যন্ত্র-পর্দা আসক্ত’ বা ‘যন্ত্রে বন্দী প্রজন্ম’ হিসেবে। মা–বাবা, অভিভাবক, শিক্ষক, বয়োজ্যেষ্ঠসহ গোটা সমাজই চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন।
ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে একটি সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে বিভিন্ন যন্ত্র-পর্দা শিশু-কিশোর-কিশোরীদের গ্রাস করেছে—সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে যন্ত্রগুলো। এমনটাই আন্দাজ করা গিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইসিডিডিআরবি) ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল সময়কালে ঢাকার তিনটি বাংলা মাধ্যম এবং তিনটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ৬ থেকে ১৪ বছরের ৪২০ জন ছেলেমেয়ের ওপর এই সমীক্ষা চালিয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ঢাকা শহরের ৬ থেকে ১৪ বছরের শিশু-কিশোর-কিশোরীরা প্রতিদিন প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় কাটায় যন্ত্র-পর্দা দেখে। প্রায় ৮৩ শতাংশ শিশু-কিশোর-কিশোরীরা নির্দেশিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় চোখ আটকে রাখে পর্দায়। অন্য কথায়, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনই সময়সীমা লঙ্ঘন করে।
এর প্রতিক্রিয়াও সহজেই অনুমেয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রতি ৩ জন শিশু-কিশোর-কিশোরীর ১ জন চোখের সমস্যায় ভুগছে; প্রতি ৫ জনের ৪ জনেরই নিয়মিত মাথাব্যথা হচ্ছে; ওজন বেড়ে যাচ্ছে ১৪ শতাংশ শিশু-কিশোর-কিশোরীর, প্রায় ২০ শতাংশের মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে দেখা যাচ্ছে ছেলেমেয়েদের দেরিতে ঘুমানো, বারবার মাথাব্যথা কিংবা চোখের অস্বস্তি, খিটখিটে মেজাজ, নিজেকে গুটিয়ে ফেলা, পড়ায় কম মনোযোগ, খেলাধুলার প্রতি অনীহা ইত্যাদি।
নানান সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবহির্ভূত যেসব প্রতিক্রিয়া আছে, যা বর্তমান সমীক্ষায় আসেনি। প্রথমত, যন্ত্রের সঙ্গে বেশির ভাগ সময় কাটালে তা মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক এবং অন্তর্মুখী করে ফেলে, যা সামাজিক প্রক্রিয়ায় মানুষকে সীমিত করে ফেলে। সর্বদা পর্দায় দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখলে কথা বলার স্বাভাবিক প্রবণতা এবং সেই সঙ্গে আলাপচারিতার দক্ষতাও বিঘ্নিত হয়। সামাজিক মেলামেশা, অন্যদের সঙ্গে গল্প করা, সামাজিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণও তখন বোঝা বলে মনে হয়। সামাজিক মিথস্ক্রিয়া সেখানে বিঘ্নিত হয়। শিশু-কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ মানসিক বিকাশে তা কাম্য হতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, যন্ত্র-পর্দায় চোখ রাখা বেশির ভাগ শিশু-কিশোর-কিশোরীরা খেলাধুলা কিংবা বইপড়ায় খুব একটা আগ্রহী হয় না। মানি, খেলার মাঠের অপ্রতুলতা আছে। কিন্তু তার পরে যেটুকু আছে, তার তো ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে যন্ত্র-পর্দায় আসক্ত ছেলেমেয়েরা মানসিকতার দিক থেকেই শারীরিক খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হয় না। একই রকম অনীহা তাদের গড় ওঠে বই পড়াতেও। ফলে বইয়ের আনন্দময় জগৎ থেকেও তারা বঞ্চিত হয়।
তৃতীয়ত, যন্ত্র-পর্দায় বিশাল সময়ে কাটালে ছেলেমেয়েদের শুধু যে সে পর্দায় আসক্তি কিংবা নির্ভরতা বাড়ে তা–ই নয়, অনেক সময় সে নির্ভরতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পর্দার যন্ত্রটি ছেলেমেয়েদের প্রাণভোমরা হয়ে দাঁড়ায় এবং সেটা থেকে কোনো রকমের বিযুক্তি তারা সহ্য করতে পারে না। নানান সময়ে দেখা গেছে যে এমন অবস্থা থেকে বহু মানসিক সমস্যার জন্ম হয়, যার ফলে অনেক অপঘাত ঘটে গেছে। ব্যক্তির জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য এটা অনভিপ্রেত।
কেন ছেলেমেয়েরা ডিভাইসের প্রতি চরমভাবে আসক্ত? তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব তো সেখানে আছেই, যা অপ্রতিরোধ্য হলেও নিয়ন্ত্রিত করা যায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। অল্প বয়সীরা বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমেও যন্ত্র-পর্দায় উদ্বুদ্ধ হয়। অন্যান্যভাবে ব্যস্ত রাখার বিকল্প পন্থার অনুপস্থিতির ফলেও যন্ত্র-পর্দার দিকে তারা ঝোঁকে। মা–বাবার ব্যস্ততা এবং সময়ের অভাবও এখানে প্রভাব ফেলে। একান্নবর্তী পরিবারের ভাঙন এবং পাড়া কিংবা মহল্লার মতো সামাজিক কাঠামোর বিলুপ্তি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শিশুদের খাওয়ানোর সমস্যা মোকাবিলায় যন্ত্র-পর্দার ব্যবহার আজ ঘরে ঘরে।
প্রশ্ন হচ্ছে, কী করা যেতে পারে? অনেকেই বলেছেন যে ছেলেমেয়েদের যন্ত্র-পর্দা সময় দিনে দুই ঘণ্টার মধ্যেই বেঁধে দিতে। গবেষকেরা ছেলেমেয়েদের চোখের যত্নে ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট যন্ত্র-পর্দা ব্যবহারের পরে ২০ ফুট কোনো একটি বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে। সেই সঙ্গে যন্ত্র-পর্দানির্ভর শিক্ষার কার্যকারিতার ব্যাপারেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে যন্ত্র-পর্দানির্ভর শিক্ষা সামনাসামনি শিক্ষার মতো কার্যকর নয়। মায়াবী নীল আলোর ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে বাচ্চাদের গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ছেলেমেয়েদের দলবদ্ধভাবে পড়াশোনা করা, পাঠাগারে যাওয়া, বাগান করাও যন্ত্র-পর্দা সময় কমিয়ে আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
ছেলেমেয়েদের যন্ত্র-পর্দা বেঁধে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কিছু নির্দেশিকা আছে। তাদের মতে, স্কুলগামী ছেলেমেয়েদের জন্য বিনোদনমূলক যন্ত্র-পর্দা সময় দুই ঘণ্টার মধ্যে থাকাই উচিত। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো যন্ত্র-পর্দা সময় না রাখা এবং ৪ বছরের কম শিশুর জন্য যন্ত্র-পর্দা সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা। নানান দেশ, যেমন অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এ নির্দেশিকাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট।
যুক্তরাজ্য সরকার এ বছরের মার্চ মাসে একটি যন্ত্র-পর্দা সময় নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে যে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা যন্ত্র-পর্দা সময় থাকা বাঞ্ছনীয়। তা ছাড়া শিশুদের একা যন্ত্র-পর্দা দেখার চেয়ে পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে দেখা ভালো বলে বলা হয়েছে।
অস্ট্রেলীয় সরকার দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো যন্ত্র-পর্দা সময় না রাখার সুপারিশ করেছে। সেই সঙ্গে তারা বলেছে যে ৫ থেকে ১৭ বছরের ছেলেমেয়েদের জন্য বিনোদনমূলক যন্ত্র-পর্দা সময় দুই ঘণ্টার মধ্যে থাকাই উচিত। শিশু-কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্দেশিকা নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনটা থাকা দরকার এ বিষয়ে পারিবারিক কিংবা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। সবচেয়ে বড় কথা, প্রযুক্তির বিস্তার বন্ধ করা যাবে না। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি সুষম ভারসাম্য সম্ভব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরের ভর্তি কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থায় ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, তবে তা কেন্দ্রীয়ভাবে একক কোনও ব্যবস্থায় নয়। ক্যাচমেন্ট এরিয়া বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে সব জায়গায় একই ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে না। তিনি আরও জানান, আগে যেভাবে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হতো, নতুন ব্যবস্থাতেও সেভাবেই ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয় করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা সেভাবে যাচ্ছি না। আগে যেমন ভর্তি পরীক্ষা ছিল, তেমনই ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও পরীক্ষার সমন্বয়ে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।” ভর্তি পরীক্ষার ধরন ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে কাজ চলছে এবং সময়মতো পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জানানো হবে। প্রসঙ্গত, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরে লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করে নতুন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন ব্যবস্থায় এলাকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি মূল্যায়নেরও সুযোগ রাখা হচ্ছে।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর সাতারকুলে (বাড্ডা) গ্রিনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই গণিত, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। সে লক্ষ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করার সুযোগ পাবে। ম্যাথ ল্যাব সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ববি হাজ্জাজ আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আধুনিক, দক্ষতা-ভিত্তিক এবং প্রযুক্তিবান্ধব করে তুলবে এবং স্মার্ট ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
নতুন হিজরি বছরকে স্বাগত জানিয়ে পবিত্র কাবা শরিফে পরানো হয়েছে নতুন কিসওয়া। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র এই স্থাপনার ঐতিহ্যবাহী গিলাফ পরিবর্তনের মাধ্যমে আবারও সৌদি আরবের কারুশিল্প, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং কাবার প্রতি বিশেষ যত্নের অনন্য নিদর্শন ফুটে উঠেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, মক্কার কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়ায় প্রায় ১১ মাসের নিরলস পরিশ্রমের পর নতুন কিসওয়া তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কাবা শরিফে তা পরানো হয়। নতুন কিসওয়া তৈরিতে প্রায় ১৫০ জন সৌদি কারিগর অংশ নেন। ৪৭টি বিশেষ কালো রেশমি কাপড়ের খণ্ড একত্র করে এটি তৈরি করা হয়েছে। কিসওয়ার বিভিন্ন অংশে পবিত্র কোরআনের ৩০টি আয়াত নকশাকৃতভাবে সংযোজন করা হয়েছে। অলংকরণে রুপার সুতা এবং তার ওপর ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়েছে। পুরো কিসওয়ার ওজন প্রায় ১ হাজার ৪১০ কেজি। কাবার দরজার পর্দা, মিজাব, কোমরবন্ধ (হিজাম) এবং অন্যান্য অলংকরণে সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হয়েছে। এসব নকশা ও সজ্জা কিসওয়ার সৌন্দর্যকে আরও মহিমান্বিত করেছে। কিসওয়ার প্রধান আবরণ তৈরি হয়েছে উন্নতমানের কালো রেশম দিয়ে। এর ভেতরে টেকসই ও মজবুত কাঠামো নিশ্চিত করতে সুতি কাপড়ের একাধিক স্তর ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অলংকরণে লাল রেশম এবং কাবার অভ্যন্তরীণ আবরণ ও দরজার পর্দার পেছনে সবুজ রেশমি কাপড় ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতি বছর কিসওয়া পরিবর্তনের এই ঐতিহ্য মুসলিম বিশ্বের কাছে গভীর ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে এটি সৌদি কারিগরদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও শিল্পসৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।