দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। ব্যবসাবাণিজ্যের এই প্রধান কেন্দ্রে একসময় দিনরাত একাকার হয়ে যেত ট্রাকের হর্ন, কুলি-মজুরের হাঁকডাক আর ডিও হাতবদলের কোটি টাকার খেলায়। কিন্তু আজ সেই চেনা কোলাহলে কিছুটা ভাটার টান।
ইউক্রেনের গমের মাঠ কিংবা লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজে পড়া বোমার আওয়াজ হাজার মাইল দূরের এই খাতুনগঞ্জের সরু গলিতেও প্রবল ভূকম্পন তৈরি করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের দর ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। তবে নানান বাধায় খাদের কিনারা থেকে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে কৌশল বদল করে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন এখানকার লড়াকু ব্যবসায়ীরা।
দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ বাজার খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সহসম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ বলেন, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে হলে এখন সরকারের কার্যকর ‘পলিসি সাপোর্ট’ প্রণয়ন করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি খোলার ক্ষেত্রে ডলারের একটি স্থিতিশীল রেট নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলসি মার্জিন সহজ, বার্ষিক চাহিদার বিপরীতে পণ্য আমদানি অনুমতি (আইপি) দেওয়াসহ আমদানি সহজ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, একের পর এক ধাক্কার কারণে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুবই নাজুক। ব্যবসায়ীরা এখন টিকে থাকার সংগ্রাম করছেন। ব্যবসায়ীরা ‘রক্ষণশীল পদ্ধতি’ অবলম্বন করে ডিও এবং বাকিতে বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন। লোকসান এড়াতে অতিক্তি মজুত থেকে বের হয়ে প্রয়োজনভিত্তিক পণ্য আমদানি করছেন।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দেশের বৃহৎ এ বাজারের আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বর্তমানে নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রথম ধাক্কাটি এসেছে। এ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে গম, ভোজ্য তেল (সরিষা ও সূর্যমুখী), ডাল এবং মসলাজাতীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারদরে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। বিকল্প বাজার থেকে পণ্য আনতে গিয়ে আমদানিকারকদের গুনতে হয়েছে বাড়তি অর্থ।
সেই ধাক্কা পুরোপুরি সামলে ওঠার আগেই নতুন করে শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যের সংকট। সঙ্গে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো বাধ্য হয়ে তাদের রুট পরিবর্তন করছে। এতে পণ্য পৌঁছানোর সময় ১৫ থেকে ২৫ দিন বেড়ে গেছে। সঙ্গে জাহাজ ভাড়া এবং ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম বেড়েছে কয়েক গুণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই বাড়তি খরচের পুরো দায়ভার এসে পড়ছে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের কাঁধে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টাকার বিপরীতে ডলারের দামের ওঠানামা। একই সঙ্গে কিছু কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ মার্জিন দিয়ে এলসি করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে ব্যবসায়ীদের পুঁজি বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল আটকে যাচ্ছে। বাড়তি মূলধনের জোগান দিতে গিয়ে ব্যাংক ঋণের সুদের চাপ বাড়ছে। ফলে ছোট ও মাঝারি আমদানিকারকরা অনেকেই বাজার থেকে ছিটকে পড়ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক ও দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। তবে এত সব প্রতিকূলতা ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার পরও খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইয়ের ব্যবসায়ীরা হাল ছাড়তে রাজি নন।
এখানকার ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজস্ব কিছু কৌশল অবলম্বন করে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকি কমাতে তারা এখন আগের মতো বাকিতে পণ্য বিক্রি অনেকাংশেই কমিয়ে এনেছেন। লোকসান এড়াতে অতিরিক্ত মজুত করার প্রবণতা থেকে সরে এসে ‘প্রয়োজনভিত্তিক’ পণ্য আমদানির দিকে ঝুঁকছেন। এ ছাড়া আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অনেকেই দেশীয় উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও কনজ্যুমার গুডসের দিকে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নিষ্কাশন করার ফলে কমছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। নিয়ন্ত্রণে আসছে হ্রদে পানির উচ্চতা। তাই কাপ্তাই বাঁধের স্প্রিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ কমানো হয়েছে। এদিকে পানি সরে যাওয়ায় ভেসে উঠছে রাঙামাটির মনোরম ঝুলন্ত সেতু। শুক্রবার সেতুটির পাটাতন থেকে পানি নেমে গেছে। তবে এখনো সেতুতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানিয়েছেন। জানা গেছে, সম্প্রতি ভারি বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমা পার করে। তলিয়ে যায় হ্রদ তীরবর্তী জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। ডুবে যায় রাঙামাটি পর্যটন মোটেলে অবস্থিত ঝুলন্ত সেতুটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাপ্তাই বাঁধের স্প্রিলওয়ের ১৬ জলকপাট খুলে প্রতি সেকেন্ডে ৫৬ হাজার কিউসেক পানি ভাটি অঞ্চলের কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। এতে নিয়ন্ত্রণে আসায় তা থেকে কমিয়ে বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে ১৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। রাঙামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পানি সেতু থেকে নেমে গেলেও এখনো তা স্বাভাবিক হয়নি। তাছাড়া উজান থেকে এখনো পাহাড়ি ঢল নামছে। পানি আরও কিছু পরিমাণ কমে গেলে কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে পর্যটকদের জন্য সেতু উন্মুক্ত করে দেওয়া যাবে। এখন সেতুটির মেরামত ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর কমতে থাকায় কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট এক ফুট উচ্চতায় খোলা রেখে বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে ১৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। এছাড়া কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাঁচটি ইউনিট সচল রেখে আরও ৩২ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে কর্ণফুলী নদীতে নির্গত হচ্ছে। কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) জানান, উজান থেকে এখনো পাহাড়ি ঢল অব্যাহত রয়েছে। তবে হ্রদে পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকায় বাঁধের গেট আরও এক ফুট কমিয়ে খোলা রাখা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হ্রদের পানির স্তর ছিল ১০৫ দশমিক ৩৪ ফুট বা এমএসএল (মিন সি লেভেল)। কাপ্তাই হ্রদে সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট। হ্রদে পানি আরও কমে গেলে গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ফেনীতে কাভার্ড ভ্যানের পেছনে একটি বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে জেলার একটি সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কে চলাচলের সময় একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে দ্রুতগতির একটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে কাভার্ড ভ্যানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্টরা সেখানে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। দুর্ঘটনায় নিহত তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটির বেপরোয়া গতি কিংবা চালকের অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় সড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখার কারণে দেশের মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চালানোর সময় সামনে থাকা গাড়ির সঙ্গে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
ঢাকার ধামরাইয়ে এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে তার সৎ বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার কেলিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গ্রেফতার ব্যক্তি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার সমাসপুর সূতি গ্রামের বাসিন্দা। ধামরাইয়ের কেলিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকে। পেশায় রংমিস্ত্রি। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা রেডিও সেন্টারে রান্নার কাজ করেন। আগের সংসারে তার দুই মেয়ে রয়েছে। সাত বছর আগে আজাহারুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আজাহারুল কৌশলে তার দুই সৎ মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। ওষুধ খাওয়ার পর বড় মেয়ে ও ছোট মেয়ে আলাদা দুটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ৪টার দিকে আজাহারুল তার স্ত্রীর হাত-পা রশি দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে ফেলে এবং মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে দেন। পরে বড় মেয়ের কক্ষে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ছোট মেয়ে মায়ের হাতের বাঁধন খুলে দিলে তিনি বড় মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে ভুক্তভোগী জানায়, এর আগেও একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেছে তার সৎ বাবা। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আজাহারুল বাসায় ফিরলে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাকে আটকে রেখে মারধর করেন। খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আজাহারুলকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।