অন্যান্য

অভিযানে গিয়ে বারবার হামলার শিকার পুলিশ

মারিয়া রহমান মে ২৩, ২০২৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে অনেকটা গতি ফিরলেও অভিযানে গিয়ে একের পর এক হামলার শিকার হওয়ায় ঘটছে ছন্দপতন। এমনকি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ১ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানের মধ্যেও থেমে নেই আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। চলতি মাসে এ পর্যন্ত ঢাকাসহ ৯ জেলায় অন্তত ১৩টি স্থানে হামলা হয়েছে। এতে আহত হন পুলিশ ও র‍্যাবের অন্তত ৩২ সদস্য। এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম চার মাসে আরও ২১৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। পৃথক ঘটনায় সিলেট ও চট্টগ্রামে মারা গেছেন পুলিশ ও র‍্যাবের দুই সদস্য।  

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সারাদেশে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পট পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘মব’ ও হামলার শিকার হয় পুলিশ। এতে পুলিশের মনোবল ভেঙে যায়। আবার অনেক পুলিশ সদস্য মামলা, সংযুক্তি, প্রত্যাহার ও চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন– এমন আতঙ্কে রয়েছেন। তাই পুলিশ এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তাই অপরাধীরা মনে করছে, পুলিশ এখনও দুর্বল অবস্থানে আছে; হামলা করলে কিছুই হবে না। এর বিপরীতে তারা নিজেদের শক্তিশালী ভাবছে; তাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে। 

গতকাল শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, অনেকের মধ্যে আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। পুলিশের কোনো সদস্যদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের কিছুটা ঘাটতি আছে। আইন প্রয়োগ করতে গেলেও এক ধরনের ভয় কাজ করছে। কোথাও আবার এর জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়। আইন প্রয়োগ করা নিয়ে তাদের মধ্যে দোদুল্যমানতা দেখা যায়। কোনো অপরাধী মনে করেন, অপকর্মে জড়ালে শক্ত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে না।  

তিনি বলেন, কয়েকটি জায়গায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। অভিযানের মধ্যে পুলিশের ওপর হামলার কয়েকটি ঘটনার পর আমরা ফোর্সদের মনোবল শক্ত রাখার বার্তা দিয়েছি। প্রতি জায়গায় শক্ত মামলা নিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যদের আমরা সাহস দিচ্ছি। যাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।  

সিলেটে এক মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য্য নামের র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৯) একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে নগরের কোতোয়ালি মডেল থানার পাশে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ইমন ওই মাদক কারবারিকে জাপটে ধরার চেষ্টা করে। এ সময় র‍্যাব সদস্যের বুকের বাম পাশে চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়।  
এদিকে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার পুলিশকে ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিতে চান তারা। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন স্থানীয়রা। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।  

রাজধানীর দনিয়ায় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীর আত্মহত্যার জেরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পুলিশের সামনেই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার অবরুদ্ধ চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে পুলিশ বের করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং গণপিটুনি দেয়। 

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় মার্চ ও ফেব্রুয়ারিতে হামলার ঘটনা বেড়েছে। পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় জানুয়ারিতে ৪২, ফেব্রুয়ারিতে ৪২, মার্চে ৬৩ এবং এপ্রিলে ৬৬টি মামলা হয়। এর আগে ২০২৫ সালে পুলিশের ওপর হামলার ৬০১টি ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মার্চে সর্বাধিক ৯৬ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হন।

চলতি মাসে ১৩ হামলা 
এ মাসে বিশেষ অভিযানের মধ্যে অন্তত ১৩টি স্থানে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা। এর মধ্যে চারটিই ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে। 
সর্বশেষ গতকাল বরিশালের উজিরপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে শ্রমিক দল নেতা ও তার সহযোগীদের হামলার শিকার হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। অভিযানের সময় ডিবি পুলিশের এক কনস্টেবলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল জেলা ডিবির সাত সদস্যের একটি আভিযানিক দল উজিরপুর পৌরসভার খেয়াঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এসআই আরসেলের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মাদক উদ্ধারের সময় উজিরপুর পৌর শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ মোল্লার নেতৃত্বে তার সহযোগী শামীম মোল্লা, মুনসুর মোল্লা ও আলাউদ্দিন পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করেন।

পুলিশের দাবি, অভিযানের এক পর্যায়ে ডিবি সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিক দল নেতা আরিফ মোল্লা তার কাছে থাকা মাদকের একটি প্যাকেট পাশের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেয়। পরে ডিবির কনস্টেবল মৃণাল চন্দ্র পুকুর থেকে ওই মাদক উদ্ধারের চেষ্টাকালে আরিফ তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ভাষানিয়া ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে এবং ইতোমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

নওগাঁর রাণীনগরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিজয়কান্দি (বড়বড়িয়া) রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছে। রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, বিজয়কান্দি গ্রাম থেকে চারটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চোর ধরতে এবং মাদক কারবারিদের ধরতে বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযানকালে বিজয়কান্দি রেলক্রসিং এলাকায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ দুই কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।   
এর আগে ১৬ মে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পরোয়ানাভুক্ত আসামি জুবায়ের ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তারে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তবে অষ্টগ্রাম থানার ওসি মো. রুকনউজ্জামান দাবি করেন, গ্রেপ্তারের আগেই পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে আসামি পালিয়ে যায়। পুলিশের কেউ আহত হননি।

এদিকে ১৪ মে দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে আক্রান্ত হন দুই এএসআই। তখন গ্রেপ্তার আসামিও হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যায়। হাতীবান্ধা থানার ওসি রমজান আলী বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মাদক কারবারি রবিউল ইসলাম পটল ও তার ভাই রাসেল শেখকে গ্রেপ্তারে মধ্য সিঙ্গিমারী গ্রামে অভিযান চালানো হয়। তখন মাদক কারবারিদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। তারা সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল। পরে বাড়তি পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় করা মামলার আসামি রাসেলসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
গত ১৩ মে রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাদক ও জুয়াবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলায় চারজন আহত হন। তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অবৈধ জুয়া ও পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা হয়। দুই মামলার অভিন্ন সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নাটোরের লালপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হামলায় র‌্যাবের পাঁচ সদস্য আহত হন। ১২ মে রাত ৯টার দিকে লালপুরের নবীনগর কবরস্থান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, হামলাকারীরা মাদক কারবারি। তবে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলছেন, অভিযানের আগে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য যান র‍্যাব সদস্যরা। তখন স্থানীয়রা তাদের ‘ভুয়া র‍্যাব’ ভেবে আক্রমণ করে। এ ঘটনায় তিন আসামির নাম উল্লেখ করে মামলা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজধানীতে ২১ দিনে তিন দফায় আক্রান্ত
চলতি মাসে খোদ রাজধানীতেও তিন দফায় আক্রান্ত হয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ গত বুধবার দুপুরে পল্লবীর কালশীর বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় সরকারি জমি থেকে অবৈধ বস্তি উচ্ছেদ অভিযানে হামলার শিকার হয় তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে ওই অভিযানে বস্তির বাসিন্দারা হঠাৎ পুলিশের ওপর হামলা চালায়। 
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজেদের সুরক্ষায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালাতে বাধ্য হন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, হামলায় পুলিশের অন্তত পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন।
গত ১১ মে সকালে মোহাম্মদপুরে অভিযানে গিয়ে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন ধানমন্ডি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। আরও দুজন সামান্য আহত হন। ধানমন্ডি থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, আক্রান্ত হওয়ার পর পুলিশ গুলি ছুড়লে আহত হন শাকিব নামে সন্দেহভাজন এক ছিনতাইকারী। পরে তাকেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ৩ মে রাতে মোহাম্মদপুরের বিজলি মহল্লার চেকপোস্টে পুলিশের ওপর হামলা চালায় মাদক কারবারিরা। চেকপোস্টে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি পিচ্চি রাজাসহ তিনজনকে আটক করার পর তাদের সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটায়। পুলিশের ওপর হামলা হলেও কেউ আহত হননি বলে দাবি করা হয়। তবে পুলিশকে সহায়তা করতে এগিয়ে যাওয়া এক যুবক আহত হন।

নারায়ণগঞ্জেই ৪ হামলা
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চারটি হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১ মে ভোররাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার চৌধুরীবাড়ি এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনতাই করা হয়। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। ৪ মে রাতে রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কয়েক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে শামীমের স্ত্রীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ মে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের লিচুবাগ এলাকায় র‍্যাবের গোয়েন্দা দলের তিন সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া ৬ মে নারায়ণগঞ্জ সদরের কাশিপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়। 
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের ২৭ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অটোরিকশা থেকে ফেলে দেওয়া পুলিশ সদস্যের মৃত্যু
চট্টগ্রামে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় গুরুতর আহত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আবদুল কুদ্দুস (৫৫) মারা গেছেন। পাঁচ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পরে বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আবদুল কুদ্দুস চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বাসিন্দা। 

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৫ মে রাতে নগরের পাহাড়তলী থানার রাসমনি ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করেন কুদ্দুস। পরে চালকের সহায়তায় অটোরিকশাটি মনসুরাবাদ ডাম্পিং স্টেশনে নেওয়ার পথে চালক হঠাৎ তাকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। 

প্রশিক্ষণের পরামর্শ  
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের ডিন ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মূলত পেশাদার অপরাধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ-র‍্যাবের ওপর আক্রমণ চালায়। এর মূল কারণ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের ওপর মানুষের আস্থার জায়গা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন করণীয়, বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পুলিশের এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ খুবই কম। তাও যুগোপযোগী নয়। তাই আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। 
তিনি আরও বলেন, পুলিশের অন্য ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ভালোভাবে তথ্য সংগ্রহ করে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে অভিযানে যেতে হবে। তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যাবে বলে আশা করা যায়। 
পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন সমকালকে বলেন, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান চালানোর সময় কিছু ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ অপরাধী, মাদক কারবারি বা স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা করে থাকে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা ও পেশাদারি সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আজ রাতে নতুন গিলাফে সাজবে পবিত্র কাবা

নতুন হিজরি বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে মুসলিম বিশ্ব। আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজরির প্রথম রাতেই পবিত্র কাবা শরিফে পরানো হচ্ছে নতুন গিলাফ (কিসওয়া)।   সোমবার (১৫ জুন) এশার নামাজের পর মক্কার মসজিদুল হারামে শুরু হবে এই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক আয়োজন, যেখানে প্রতিস্থাপিত হবে কাবার নতুন গিলাফ। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা সৌদির ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতি হিজরি বছরের প্রথম দিন (১ মহররম) পবিত্র কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হয়।   সৌদি প্রশাসনের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, আধুনিক কারিগরি দক্ষতা ও নিখুঁত কারুকার্যের এক অনন্য মেলবন্ধনে প্রস্তুত করা হয়েছে এবারের কিসওয়া। প্রতিবছরের মতো এবারও কোটি কোটি মুসলমান এই পবিত্র আয়োজন গভীর আগ্রহের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করবেন এবং নতুন বছরের সূচনায় কাবার নতুন সাজকে স্বাগত জানাবেন।   গিলাফ প্রস্তুত করতে সময় লেগেছে ১১ মাস অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারুকাজ ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে নতুন কিসওয়া। মক্কায় অবস্থিত ‘কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়া’র একদল বিশেষজ্ঞ কারিগর দীর্ঘ প্রায় ১১ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই গিলাফ তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন।   নতুন কিসওয়াটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৭টি বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক রেশমের প্যানেল। এতে সোনালি ও রুপালি প্রলেপযুক্ত সুতা দিয়ে অত্যন্ত নিখুঁত এমব্রয়ডারি ও ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের ৬৮টি আয়াত খচিত রয়েছে। পুরো গিলাফটির মোট ওজন প্রায় ১ হাজার ৪১৫ কেজি।   যেভাবে তৈরি হয় কিসওয়া একটি কিসওয়ার পরিপূর্ণতা পাওয়ার পেছনে সাতটি সুনির্দিষ্ট ধাপ রয়েছে। ধাপগুলো হলো: ১. রেশম প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ। ২. রেশম সুতা ধোয়া ও সুনির্দিষ্ট রঙে রাঙানো। ৩. স্বয়ংক্রিয় তাঁতে বয়ন করে সুতাকে কাপড়ে রূপ দেওয়া। ৪. কোরআনের আয়াত ও আলংকারিক নকশা মুদ্রণ (ক্যালিগ্রাফি)। ৫. কিসওয়ার বিভিন্ন অংশ সুনির্দিষ্ট মাপে সংযুক্ত করে সেলাই। ৬. সোনা ও রুপার প্রলেপযুক্ত সুতা দিয়ে ফুটিয়ে তোলা নান্দনিক সূচিকর্ম (এমব্রয়ডারি)। ৭. সর্বশেষ ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কিসওয়ার পরিপূর্ণতা নিশ্চিত করা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের অভিযোগ, এমপি পদ নিয়ে চাপে হান্নান মাসউদ

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের পরিবর্তে ক্ষুধার্তদের চাহিদা পূরণের আহ্বান শায়খ আহমাদুল্লার

সিলেটে মতবিনিময় সভায় কথা বলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হতো: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত সেক্রেটারি

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পর এবার ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বাংলাদেশের অখণ্ডতাবিরোধী সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের কাছে সেই বক্তব্যের সুরাহা চাইলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মিয়া গোলাম পরওয়ার।   রবিবার (১৪ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এই সুরাহা চেয়েছেন।   বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে এ দেশের জনগণ অতীতের ন্যায় যেকোনও ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।   তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কূটনৈতিক শিষ্টাচার, আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি এবং রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্মানবোধের পরিপন্থি। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণকে একীভূত জনসংখ্যার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং এমন কিছু মন্তব্য করা, যা বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রসত্তা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণার জন্ম দিতে পারে, তা কোনও দায়িত্বশীল কূটনীতিকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। তার এ মন্তব্যে সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে দেশের জনগণ মনে করে।   তিনি আরও বলেন, দীনেশ ত্রিবেদী ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেওয়া। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। আমাদের সরকারের কাছে বিষয়টির মর্যাদাপূর্ণ সুরাহা চাই।   গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি। কোনও পক্ষের আধিপত্যবাদী বা কর্তৃত্ববাদী মনোভাব এ সম্পর্কের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।   এ সময় আমি ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের অনুরোধ করেন জামায়াত সেক্রেটারি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সমর্থক মির্জা ফখরুল

বিশ্বজুড়ে সোনার দাম কমার প্রবণতার কারণ কী

ছবি: সংগৃহীত

এমপিদের উন্নয়ন দেখাতে কেন্দ্র, অথচ নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী: প্রতিমন্ত্রী নুর

ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত

যশোরের মনিরামপুরে নদী খননের মাটি নিলামের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ, হাট ইজারাসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটনসহ তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে।    শুক্রবার উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সভাশেষে জেলা জামায়াতের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পদস্থগিত হওয়া আরও দুই নেতা হলেন- জেলার শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম ও পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন। পদ স্থগিতের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে তিন নেতার পদ স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতারা স্বীকার করলেও চাঁদাবাজিসহ দলের নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন , 'ওই তিন নেতার পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। এটি দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। চাঁদাবাজি, মাটি বিক্রয়ের টাকা ভাগাভাগি, টেন্ডারবাজি অভিযোগ সত্য নয়।' শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনও কাজ করায় বহিষ্কার করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, বাইরে প্রকাশ করা যাবে না। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল মনিরামপুরে ‘হরিহর নদ’ খনন থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন সন্ধ্যায় মনিরামপুর বাজার এলাকায় সংঘটিত ওই ঘটনায় উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলামসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছিলেন। উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে মনিরামপুর থানায় মামলা করলেও পরে তা আপস করেন দল দুটির নেতারা। ওই ঘটনার পর বিষয়টির কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্তে কমিটি গঠন করে জেলা জামায়াত। যার প্রধান ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলম। সদস্য ছিলেন জেলা সহকারি সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম এবং দলটির সহযোগী সংগঠন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মালেক। তারা সরেজমিনে মনিরামপুরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করেন। তদন্তে আহসান হাবিব লিটনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে আসে। গত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই লিটনের প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, গরুর হাট ইজারার অংশগ্রহণের নামে অর্থ আয়সহ নানা বিতর্কিত কাজের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত কমিটি। এছাড়া ৩০ এপ্রিলের সংঘর্ষের ঘটনায় আহসান হাবিব লিটন, মহিউল ইসলাম এবং পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেনের সংশ্লিষ্টতাও উঠে আসে তদন্তে। যার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা জামায়াত এই তিন নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। গত শুক্রবার উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জরুরি দায়িত্বশীল বৈঠকে’ আহসান হাবিব লিটনকে দুই মাসের জন্য এবং মহিউল ইসলাম তিনমাস ও ফারুক হোসেনকে দুই মাসের জন্য দলীয় পদ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ের আমির ও সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।  সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলা আমির ফজলুল হক ওই সময় ঢাকায় দলীয় বৈঠকে অবস্থান করায় জেলার জামায়াতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি উপজেলা সেক্রেটারি খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। বিষয়টি প্রথমদিকে চাপা থাকলেও এখন তা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এছাড়া সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করা নিয়েও ব্যাপক গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভোজগাতী, ঢাকুরিয়া, নেহালপুর, চালুয়াহাটী ও খেদাপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলটির তৃণমূলে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। যার নেপথ্যে উপজেলা জামায়াতের আমির ও দুই সহকারি সেক্রেটারি লিটন ও শামীম বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।  সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন পদ স্থগিতের কথা স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। তিনি দাবি করেন, কখনও এ ধরনের কাজ আমি বা আমার সংগঠন সর্মথন করে না।  জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান আরশাদুল আলম বলেন, মনিরামপুরের তিন নেতাকে দুই মাসের জন্য পদ স্থগিত করা হয়েছে। কী কারণে স্থগিত করা হয়েছে, তা তিনি বলতে রাজি হননি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

টাকা ধার দেওয়া-নেওয়া সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় সমাবেশে সরকারের সমালোচনা শফিকুর রহমানের

ছবি : সংগৃহীত

চবি ছাত্রদল নেতা নোমানকে ডেকে খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

0 Comments