আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ কে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের জার্সি পরে মক্কেলদের আইনি ফিতে ৫০ শতাংশ বিশেষ ছাড়ের অফার দিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন আইনজীবী মিঠুন শাহা। অভিনব এই বাণিজ্যিক প্রচারণা ও আচরণকে পেশাগত শৃঙ্খলার চরম পরিপন্থী উল্লেখ করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ওই আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে। একই সঙ্গে এই শোকজ নোটিশ পাওয়ার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তার ওকালতি বা আইনজীবী সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে না, সে বিষয়ে বার কাউন্সিলের ট্রাইব্যুনালের নিকট লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদারের বিশেষ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই কড়া শোকজ নোটিশটি আইনজীবী মিঠুন শাহার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়।
আইনজীবী মিঠুন শাহাকে পাঠানো বার কাউন্সিলের ওই অফিশিয়াল নোটিশে বলা হয়, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য সংবাদ এবং সংযুক্ত স্থিরচিত্রে দেখা গেছে যে, আপনি একজন নিবন্ধিত আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট পেশাগত পোশাকের (কালো কোট ও গাউন) পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি রাষ্ট্র আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে নিজস্ব চেম্বারে বা অফিসে বসে মক্কেলদের সরাসরি আইনি সেবা প্রদান করছেন। একই সঙ্গে আপনি আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি পরে আইনি পরামর্শ নিতে আসলেই আইনি ফি অর্ধেক বা ৫০% নেওয়ার একটি বিশেষ বাণিজ্যিক অফার ঘোষণা করেছেন। আপনার এমন সস্তা প্রচারণা ও আচরণ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত ঐতিহাসিক ‘ক্যাননস অব প্রফেশনাল কন্ডাক্ট অ্যান্ড ইটিকেটি’ এর সুস্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন।
বিশেষত, আইনজীবীর পেশাগত আচরণ সর্বদা সর্বোচ্চ শৃঙ্খলাপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে এবং দেশের পবিত্র আইনি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বাণিজ্যিক অফার, ডিসকাউন্ট বা ডিজিটাল প্রচারণা চালানো আইনজীবীদের মূল নীতি, মর্যাদা ও মহান পেশার আচরণের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’
বার কাউন্সিলের শোকজ নোটিশে আরও গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘আইনজীবী মিঠুন শাহার এ ধরনের খামখেয়ালি কর্মকাণ্ড সমগ্র আইনজীবী সমাজের পেশাগত ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণ জনগণের মনে আইনজীবীদের পেশাদারিত্ব নিয়ে গভীর আস্থা নষ্ট করেছে। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেসেঞ্জারের মতো ব্যক্তিগত যোগাযোগমাধ্যমে ইতোপূর্বে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বিজ্ঞ চেয়ারম্যান মহোদয় ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে এই বিষয়ে বারবার ও একাধিকবার সতর্ক করার পরও আপনি বার কাউন্সিলের সেই নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে এহেন কর্মকাণ্ড অবলীলায় চালিয়ে যাচ্ছেন, যা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।’
এই অবস্থায় বার কাউন্সিলের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি ভঙ্গ করার মতো কর্মকাণ্ড চলমান রাখায় কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আইনজীবী মিঠুন শাহার ওকালতি সনদ অবিলম্বে স্থগিত বা বাতিল করা হবে না, নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে বার কাউন্সিল সচিবালয়ে তার সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানীর ডেমরায় মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে দেলোয়ার হোসেন দেলু (৫০) নামে এক অটোরিকশাচালককে ইট দিয়ে থেতলে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রনি (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ডেমরার কামারগোপ ৪ নম্বর গেট মসজিদের পেছনের বালুর মাঠে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত দেলু ডেমরার কামারগোপ ৪ নম্বর গেট এলাকার দারোগাপাড়ার মৃত রাজ্জাকের ছেলে। আটক রনি একই এলাকার মো. আজমের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদক বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে দেলু ও রনির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রনি ইট দিয়ে দেলুর মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান দেলু। হামলায় তার বাম চোখ উপড়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ডেমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেলুর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় গণপিটুনিতে আহত রনিকেও চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা তাইফুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণসহ ঘটনার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে।
বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রতিবন্ধী এক নারীকে বাঁচাতে গিয়ে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী ঢাকা থেকে নিজের নির্বাচনি এলাকা জয়পুরহাট-২ আসনে যাচ্ছিলেন। পথে গোপীনাথপুর এলাকায় ফিরোজা নামে এক বৃদ্ধা হঠাৎ দৌঁড়ে সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িচালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে গাড়িটি সড়কের পাশে ধানখেতে গিয়ে পড়ে। ওসি জানান, দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় বৃদ্ধা ফিরোজাও আহত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য টিএমএসএস হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুষ্টিয়ায় গভীর রাতে অবৈধ বিড়ি কারাখানায় অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। এসময় দুই কাস্টমস কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে তাদের বহন করা গাড়ি। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটের দিকে ভেড়ামারার ধরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার বাঁধন বিড়ি কারখানায় অভিযান চালাতে গিয়ে এ হামলার শিকার হন কুষ্টিয়া রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ঘটনায় অজ্ঞাতানামা ১০-১২ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেল কুষ্টিয়া-২ এর রাজস্ব কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূইয়া। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনার কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। রাজস্ব অফিস ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার বাঁধন বিড়ি নামের একটি অবৈধ বিড়ি কারখানা গড়ে উঠেছে। কারখানাটির মালিক বাঁধন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে বিড়ি কারখানাটি পরিচালনা করে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবহিত না করে অত্যন্ত গোপনে অভিযানটি পরিচালনা করার জন্য রাজস্ব বিভাগের ৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি কুষ্টিয়া থেকে সেখানে রওনা দেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ, আলী হোসেন সরকার, আবদুল্লাহ মিয়া, রাহাত হোসেন, আল আমিন, নজিবুল্লাহ এবং গাড়ি চালক আবু হানিফসহ উপরোক্ত কর্মকর্তারা নিবারক কার্যক্রমে গাড়ি নং-ঢাকা-মেট্রো-চ-১৫-৮৭৪৯ নিয়ে বের হই। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২ টা ৫০ মিনিটের সময় ভেড়ামারা থানাধীন দক্ষিণ ভবানীপুর সাকিনস্থ বাঁধন বিড়ি ফ্যাক্টরির ১০০ গজ আগে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছাইলে অজ্ঞাতনামা আসামিরা বেআইনী জনতাবদ্ধে মুখে গামছা বাধা অবস্থায় আমাদের গাড়ির গতিরোধ করে সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের উদ্দেশ্যে ইট ও লাঠিসোটা দিয়ে গাড়ির উপর হামলা করে। তাদের ইটের আঘাতে আমাদের ব্যবহৃত গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-চ ১৫-৮৭৪৯) ডান পাশের হেডলাইট ও পিছনের গ্লাস এবং ডান পাশের গ্লাস ভেঙে যায়। অজ্ঞাতনামা আসামিদের ইট ও লাঠিসোটার আঘাতে রাজস্ব কর্মকর্তারা আহত হন। এরপর ৯৯৯ এ ফোন দিলে প্রায় আধা ঘণ্টা পর ভেড়ামারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। এসময় দুজন রাজস্ব কর্মকর্তা আহত হন। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুর রহমান হামলার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৮। তবে এজাহারে কাউরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশ এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।