অর্থনীতি

যুদ্ধের আঁচে তেলের দামে নতুন উল্লম্ফন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার (৮ জুন) সকালে ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।

 

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতি ব্যারেলের দাম প্রায় ৯৫ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে।

 

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ও জ্বালানি প্রবাহের ওপর যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীসহ বিনিয়োগকারীরা হিসাব-নিকাশ করছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাঁদের ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি শেয়ার, সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য আর্থিক হিসাবের লেনদেনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।   বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশের সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এসব তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ।     বিএফআইইউর চিঠিতে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর হিসাব খোলার ফরম, লেনদেনের বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য চিঠি পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ-সংক্রান্ত আইনের আওতায় এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে।     বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে অপেশাদার আচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনার তদন্ত চলছে।   সূত্র জানায়, প্রথম ঘটনাটি গত ২৬ ফেব্রুয়ারির। ওই দিন নতুন গভর্নর নিয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মদ ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে কয়েকটি আদেশে জোরপূর্বক সই করানোর অভিযোগ ওঠে মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে তদন্ত চলছে।   মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগটি তদবির-সংক্রান্ত। আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চিকিৎসক এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে বিএফআইইউ যাতে কোনও ব্যবস্থা না নেয়, সে বিষয়ে একজন নির্বাহী পরিচালকের কাছে তদবির করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতার রেফারেন্স দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ঘটনায় বিএফআইইউর পক্ষ থেকে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে লিখিত অভিযোগ করা হয়।   তবে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলবের বিষয়ে বিএফআইইউর চিঠিতে কী কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলও প্রকাশিত হয়নি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

সরকারি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকঋণ বাড়াচ্ছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ও সুশাসনে জোর ডেপুটি গভর্নরের

ছবি: সংগৃহীত

অক্টোবরের ২৭ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল পেমেন্টে দুই বছরে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়িয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৩ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ পয়েন্ট বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ উদ্যোগের লক্ষ্য দুর্নীতি ও লেনদেনের খরচ কমানোর পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়ানো।     জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।     বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ব্যাপক ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আরও বড় অংশকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব।     তিনি বলেন, পাকিস্তান লেনদেন ডিজিটাল করার মাধ্যমে গত দুই অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ৮ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করেছে।     বাংলাদেশেও নগদ লেনদেন থেকে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর ত্বরান্বিত করে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।     এ লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে (পিটুপি) অর্থ স্থানান্তর চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ব্যবস্থায় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে বা কোডের ছবি আপলোড করে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হিসাবের মধ্যে টাকা পাঠানো যাবে। ব্যাংক, এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য পেমেন্ট সেবাদাতাকে এ সুবিধা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।     ডিজিটাল লেনদেন সাশ্রয়ী করতে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেনের অর্থ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্টে উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে।     আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২২ সালের ‘বাংলাদেশ: সিলেক্টেড ইস্যুজ’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারি কার্যক্রমের ডিজিটালাইজেশন উন্নত দেশগুলোর পর্যায়ে নিতে পারলে মূল্য সংযোজন কর (মূসক), ব্যক্তিগত আয়কর ও করপোরেট আয়কর আদায়ের দক্ষতা বাড়িয়ে সম্ভাব্যভাবে জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশের সমপরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি একটি মডেল ভিত্তিক প্রাক্কলন, নিশ্চিত রাজস্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাস নয়।   বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলাদেশে নগদ অর্থের ব্যয়: নগদ ও ডিজিটাল পেমেন্টের তুলনামূলক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নগদ লেনদেনে দেশের অর্থনীতির বার্ষিক ব্যয় ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। বিপরীতে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা বা জিডিপির শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ। মাথাপিছু বার্ষিক ব্যয় নগদ লেনদেনে ৯ হাজার ৯৩৮ টাকা এবং ডিজিটাল পেমেন্টে ৩৪৮ টাকা।     সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক নোট ছাপানো, পরিবহন ও প্রচলন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়। ব্যবহারের ফলে নোট পুরোনো, ছেঁড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা বদলে নতুন নোট ছাপাতে হয়। ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়লে এসব ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দুর্নীতি, চুরি ও অর্থের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা মিলতে পারে।     গবেষণায় নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোর বার্ষিক ব্যয় ৩৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বা জিডিপির শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ভোক্তাদের ব্যয় ২৮ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব নগদ ব্যবস্থাপনা ব্যয় বছরে ৪০০ কোটি টাকা। এসব ব্যয়ের মধ্যে মুদ্রা ছাপানো ও বিতরণ, নগদ পরিবহন ও নিরাপত্তা, ব্যাংক শাখা ও এটিএম রক্ষণাবেক্ষণ এবং টাকা তোলা ও বহনে মানুষের ব্যয় করা সময় অন্তর্ভুক্ত।       ডিজিটাল লেনদেনের ইলেকট্রনিক রেকর্ড ব্যবহার করে কর কর্তৃপক্ষ অঘোষিত আয় শনাক্ত, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ এবং আয়কর ও মূসক পরিপালন বাড়াতে পারে। তবে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জনে শুধু ডিজিটাল পেমেন্ট যথেষ্ট নয়। ব্যাংকিং তথ্যের সঙ্গে কর প্রশাসনের সমন্বয়, ইলেকট্রনিক মূসক চালান, অনলাইনে কর রিটার্ন ও কর পরিশোধ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়াতে হবে।       বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ের পাশাপাশি করের আওতার বাইরে থাকা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় আনা এবং কর আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করাও জরুরি। এসব উদ্যোগ সফল হলে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমবে, জবাবদিহি বাড়বে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ শক্তিশালী হবে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ আদালতের

রপ্তানি বহুমুখীকরণে ১৫-১৭ নভেম্বর দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান

বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার জাপান। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বছরে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ৪০ শতাংশের আশপাশে; বাকিটা আমদানি।     বাংলাদেশ থেকে প্রধানত ওভেন ও নিট পোশাক এবং চামড়াজাত পণ্য জাপানে রপ্তানি হয়। তার বিপরীতে জাপান থেকে আমদানি হয় লোহা, ইস্পাত, জাহাজ, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি। জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) করেছে বাংলাদেশ। তবে তার সুফল এখনো পুরোপুরি রপ্তানিতে পড়েনি।     জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সে দেশে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার কারখানা ও জেরার এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।     জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া বলছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করতে চায় জাপান। অটোমোবাইল ও অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এই বিনিয়োগে আগ্রহী দেশটির উদ্যোক্তারা।   রপ্তানির শীর্ষে পোশাক, আমদানিতে ইস্পাত বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬–১৭ অর্থবছরে জাপানে ১০১ কোটি ২৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় বাংলাদেশ থেকে। সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৬ কোটি ডলারে। সেই হিসাবে এক দশকে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। তার বিপরীতে একই সময়ের ব্যবধানে দেশটি থেকে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।     ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে জাপানে প্রায় ৪০০ ধরনের পণ্য রপ্তানি হয়। রপ্তানির বেশির ভাগই তৈরি পোশাক। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এ ছাড়া হিমায়িত মাছ ও জলজ প্রাণী, দুগ্ধজাত পণ্য, ফলমূল ও বাদাম, চা-কফি-মসলা, শস্য, তেলবীজ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী রপ্তানি হয় দেশটিতে। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় আরও আছে আসবাব ও প্রকৌশল পণ্য, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি, বয়লার ও মেশিনারিজ; বিভিন্ন ধাতু ও ধাতুসামগ্রী, রাসায়নিক ও প্লাস্টিক পণ্য, রাবার, ওষুধ, সাবান, খেলনা ও খেলাধুলার সামগ্রী, ঘড়ি, কাঠের পণ্য, কাগজ ও মুদ্রিত বইপত্র।     বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে প্রায় ১৮৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। আমদানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় স্থান দখল করে আছে লোহা ও ইস্পাত, যা দেশটি থেকে মোট আমদানির ৩৭ শতাংশ। দেশটি থেকে আমদানির দ্বিতীয় শীর্ষ পণ্যের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও এর যন্ত্রাংশ। এ ছাড়া জাহাজ, নৌকা, ভারী যন্ত্রপাতি, বয়লার, খনিজ জ্বালানি, তেল ও বিটুমিনাস পদার্থ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সুতা, প্লাস্টিক সামগ্রী, ফটোগ্রাফিক ও সিনেমাটোগ্রাফিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে আমদানির তালিকায়।       বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জাপান থেকে ৫২ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এসেছে ট্রেডিং খাতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ এসেছে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে। এ ছাড়া পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ ও রাসায়নিক খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও মৎস্য খাতেও কিছু কিছু জাপানি বিনিয়োগ এসেছে। এর আগে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি ডলারের বেশি এফডিআই এসেছিল। ২০১৮ সালে জাপান টোব্যাকো ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করে। এ ছাড়া জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, মিৎসুবিশি, মারুবেনিসহ বাংলাদেশে নিবন্ধিত জাপানি কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ৩৫০।     জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কো–অপারেশনের (জেবিআইসি) তথ্য অনুসারে, জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে টানা তিন বছর ধরে ব্যবসা প্রসারের জন্য সেরা ২০টি সম্ভাবনাময় দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। আর জাপানি বিনিয়োগ সহায়তাকারী সংস্থা জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) জরিপে উঠে এসেছে, প্রায় ৭২ শতাংশ জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহী। জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ইতিমধ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল) গড়ে তোলা হয়েছে।       জাপানের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে জাপান–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া বলেন, ‘এখন অনেক বেসরকারি জাপানি প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এই বিনিয়োগ এলে স্থবির অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে। এ জন্য বাংলাদেশকে কিছু নীতি পদক্ষেপ নিতে হবে। উভয় দেশের পার্লামেন্টে দ্রুত ইপিএ অনুমোদন (র্যাটিফিকেশন) করিয়ে তা কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ ও তা বহাল রাখতে হবে।’

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বজুড়ে আগামী বছরেও কাটবে না জ্বালানি সংকট: আইইএ প্রধান

সংগৃহীত ছবি

আগামী ১৫ বছরে এশিয়ার জ্বালানিতে প্রয়োজন ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত

এক দশকে ধাপে ধাপে পতন, অবশেষে বন্ধ কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স

0 Comments